Thursday, June 24, 2010

পাঁচ বছর পরে একদিন by ফিরোজ জামান চৌধুরী

পাঁচ বছর আগে এমন এক বাদল দিনের ভোরে সূর্য উঠেছিল কান্নামাখা চোখে। বন্ধুর টেলিফোনে খবর পেলাম, সিতারা পারভীন নেই...। ‘পৃথিবীর সব রং মুছে’ দিয়ে ‘প্রিয়তম পাতাটি’ ঝরে গেল। ২০০৫ সালের ২৩ জুন ড. সিতারা পারভীন, আমাদের প্রিয় সিতারা আপা যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে ক্যানসাসে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। ২৩ জুন ছিল তাঁর জীবনের শেষ পথচলা। তারপর, বাকি সব ইতিহাস। আজ সেই কালরাত ২৩ জুন। এই দিনে আমরা আমাদের প্রিয় শিক্ষক, প্রিয় মানুষ সিতারা পারভীনকে স্মরণ করছি গভীর শ্রদ্ধা, পরম মমতা আর ীম ভালোবাসায়।
যখন ‘চারপাশে সব মুখস্থ মানুষ দেখি’, ভণ্ডামি আর শঠতায় ভরা সম্পর্কের ভান দেখি, তখনই মনে পড়ে সিতারা আপার কথা। আজকের সমাজে ক্ষমতার মোহ আর ক্ষমতার অপপ্রয়োগ যখন সমাজকে কলুষিত করে চলেছে, তখন সিতারা পারভীন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে দেখা দেন।
পাঁচ বছর হলো তাঁর বিদায়ের কাল। নাজিম হিকমতের প্রিয় পঙিক্তটি ইদানীং ফিরে ফিরে মনে পড়ে, ‘বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোর এক বছর।’ হিকমতের কাছেই উল্টো জানতে ইচ্ছে করে, একবিংশ শতাব্দীতে শোকের আয়ু তবে কত? মহাকালের গর্ভে সময় দ্রুত চলে যায়, মানুষ স্মৃতি খুঁজে ফেরে আজীবন। পাঁচ থেকে দশ। দশ থেকে কুড়ি—অপেক্ষার হয় না শেষ। জীবনানন্দ যেমন বলেন, ‘আবার কুড়ি বছর পরে তার সাথে যদি দেখা হয়, আবার বছর কুড়ি পরে...।’
২.
সিতারা পারভীন আমাদের শিক্ষক ছিলেন। আমারও। বলা ভালো এখনো আছেন। নিয়মনিষ্ঠ এ মানুষটির কাছে আমি আমার জীবনের অনেক জটিল ধাঁধার সরল সমাধান পেয়েছি। সিতারা আপা বলতেন, ‘অ্যাভয়েড নেগেটিভ থিংকিং, দেখো, এতেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ এ দর্শনটি সে সময় আমাকে আমূল আলোড়িত করেছিল। আমি এখনো আপার এ কথাটি বিশ্বাস করি, মান্য করি এবং প্রয়োগ করার চেষ্টা করি।
সিতারা পারভীন শুধু বড় মাপের শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বড় মনের মানুষও। অল্প পরিচিত কোনো শিক্ষার্থীর ছোট্ট প্রয়োজনেও তিনি এগিয়ে আসতেন। যে কেউই তাঁর কাছে যেকোনো সমস্যা নিয়ে হাজির হতে পারত। আপা সবার কথা শুনতেন অকাতরে, শিক্ষার্থীরা তার স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপ করত। তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের কাছে যেমন প্রিয় ছিলেন, তেমনি প্রিয় ছিলেন তাঁর সহকর্মীদের কাছেও। তাঁর সহকর্মী, এমনকি সাধারণ কর্মচারীরাও তাঁকে আশ্রয়ের ক্ষেত্র মনে করতেন।
তাঁর কথা মনে হলেই হেলেন কেলারের একটি উক্তি কানে বাজে, ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য চোখে দেখে বা কানে শুনে উপলব্ধি করা যায় না; এটা উপলব্ধি করতে হয় হূদয় দিয়ে।’ তাই সই। সিতারা আপাকে হূদয় দিয়েই উপলব্ধি করে যাব সারা জীবন।
৩.
অধ্যাপক সিতারা পারভীনের জন্ম ১৯৫৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (সম্মান) ও এমএ এবং পুনরায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি পিএইচডি করেন ইংল্যান্ডের ব্রাডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে আমৃত্যু অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি বিভাগের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অধ্যাপক সিতারা পারভীন সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তাঁর স্বামী তাঁরই সহকর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী। তাঁর একমাত্র সন্তান এষা শ্রাবণী।
২০০৫ সালের ২৩ জুন ড. সিতারা পারভীন যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তিনি আইডব্লিউপিআরের আমন্ত্রণে একটি সম্মেলনে অংশ নিতে ২০০৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন।
ড. সিতারা পারভীনের গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র ছিল গণমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, নারী ও আদিবাসী। আদিবাসীবিষয়ক গবেষণায় তিনি বেছে নিয়েছিলেন মাতৃতান্ত্রিক মান্দি (গারো) সম্প্রদায়কে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের মান্দি-অধ্যুষিত টাঙ্গাইলের মধুপুর ও নেত্রকোনার দুর্গাপুর-বিরিশিরিসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণার কাজ করেছেন। তাঁর অনেক গবেষণাকর্ম অপ্রকাশিত অবস্থায় রয়েছে। এগুলো প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
৪.
সিতারা পারভীন নারী-পুরুষ সাম্যের নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি নীরবে নারী-অধিকার বিষয়ে কাজ করে গেছেন। সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান থাকাকালে তিনি ‘চেয়ারপারসন’ শব্দটির প্রয়োগ শুরু করেন, চেষ্টা করেছিলেন নারী-পুরুষ সব শিক্ষকের জন্য এ শব্দটির ব্যবহার স্থায়ীভাবে চালু করতে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তন স্থায়ী করতে পারেননি। সাংবাদিকতা বিভাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকাশনা বা একাডেমিক কাজে এখনো ‘চেয়ারম্যান’ শব্দটিই দেখা যায়। এ শব্দটির পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শব্দটির পরিবর্তন করে তাঁর প্রতি সম্মান জানানোর উদ্যোগ নেবে কি? সিতারা পারভীনের সহকর্মী অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তিনি উদ্যোগ নিলে কাজটি অনেক সহজ হয়।
firoz.choudhuryঅ্যাটgmail.com

‘ভূমিদস্যু’ ঠেকাতে দল ঠিক রাখুন by আব্দুল কাইয়ুম

মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বয়ং পূর্ত প্রতিমন্ত্রীকে সেদিন দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ীরা যেভাবে অপদস্থ করেছেন, তা এককথায় নজিরবিহীন। সেখানে ঢাকা মহানগরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ ও আবাসনব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত নেতাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক ছিল। ওই বৈঠকে সরকারদলীয় সাংসদ নসরুল হামিদও উপস্থিত ছিলেন। তিনি এসেছিলেন রিহ্যাবের সভাপতি হিসেবে। প্রতিমন্ত্রীর বিরোধী পক্ষে ছিল তাঁর অবস্থান। ঘটনার পর সন্ধ্যায় প্রথিতযশা সাংবাদিক ও কলাম লেখক এবিএম মূসা মুঠোফোনে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘খবর শুনেছ?’ আমি বলি, ‘খবর তো অনেক, কোনটার কথা বলছেন?’ তিনি বললেন, ‘আজ তো পূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে ভূমি ব্যবসায়ীদের কথাকাটাকাটি থেকে শুরু করে প্রায় হাতাহাতি হয়ে গেছে!’ আমি বললাম, ‘মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা তাহলে কী করলেন?’ এবার মূসা ভাই আমার অজ্ঞতায় হেসে ফেলে বললেন, ‘ওরা তো সারা বাংলাদেশ কিনে রেখেছে, কে তাদের ধরবে?’ তিনি বললেন, ‘আজ রাতে বাংলাভিশনে আমার টক শো দেখবা, ওদের আমি ধৃষ্টতা সম্পর্কে প্রশ্ন করব।’
পরদিন পত্রিকায় দেখেছি, প্রতিমন্ত্রীকে হুমকির ঘটনায় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। জানা গেছে, ‘ভূমিদস্যুদের’ আচরণে প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি একান্তভাবেই চাইছেন, রাজধানী ঢাকা যেন বসবাসযোগ্য থাকে। কিছু অর্থলোলুপ ব্যবসায়ীর নির্বিচার ভূমিগ্রাস ঠেকাতে তিনি আগ্রহী। এ ব্যাপারে প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান সঠিক অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে তিনি মনে করেন।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) বাস্তবায়নে রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাভূমি ও জলাশয় চিহ্নিত করে গেজেট করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকার চারপাশের জলাশয় ও কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। রাজধানীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য ড্যাপ বাস্তবায়ন করতে হবে।
কিন্তু যেখানে প্রধানমন্ত্রী ভূমিগ্রাস ঠেকাতে চান, সেখানে তাঁরই দলের সাংসদেরা উল্টা মোচড় দিয়ে বসেছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার সাংসদেরা নাকি ড্যাপ কার্যকর হতে দিতে চান না। তাঁরা দাবি করছেন, ড্যাপ কার্যকর হলে তাঁদের নির্বাচনী এলাকার নাকি বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। অথচ ড্যাপ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগরের সার্বিক মঙ্গলের কথা চিন্তা করে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এমনকি যে সাংসদদের আপত্তির কথা এখন পত্রিকায় বলা হচ্ছে, তাঁদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাজউকের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা বলেছেন, ‘২০০৪ সালে ড্যাপ প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তখনকার সাংসদেরা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। ...বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় সাংসদদের অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। সে জন্য আহূত প্রথম সভায় সংশ্লিষ্ট সাংসদেরা ড্যাপের পরিবর্তে রাজউকের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। তখন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয় যে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের প্রত্যেককে আলাদাভাবে ডেকে তাঁর এলাকার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। সেটা করাও হয়েছে এবং ৫৯০ বর্গমাইল এলাকার ঢাকা মহানগরের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি এলাকার সাংসদ এটা শুনেছেন। লিখিতভাবে মতামতও দিয়েছেন। নসরুল হামিদও দিয়েছেন’ (প্রথম আলো, ১৫ জুন ২০১০)।
রাজউকের চেয়ারম্যানের কথা এতই সুনির্দিষ্ট যে অবিশ্বাসের কোনো সুযোগ নেই। তাহলে এখন দেখতে হবে, সাংসদদের বরাতে যে আপত্তির কথা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে সেগুলো কি তাঁদের কথা, নাকি অন্য কারও কথা তাঁদের মুখে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কথার সঙ্গে দলের সাংসদদের দ্বিমত থাকলে তো প্রথমে দলের মধ্যে তাঁদের আলোচনা করা উচিত।
অবশ্য সাংসদদের মধ্যে যে ড্যাপের বিরোধিতা আছে, তা সেদিন পূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময়ই বোঝা গেছে। ওই বৈঠকে রিহ্যাবের সভাপতি, সরকারি দলের সাংসদ নসরুল হামিদ সরাসরি বিরোধিতা করে বলেছিলেন, ড্যাপের পর্যালোচনা প্রতিবেদন মেনে নেওয়া যায় না। তাহলে প্রতিমন্ত্রী কাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর উল্লিখিত ‘ভূমিদস্যুদের’ বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন? আর প্রধানমন্ত্রীই বা কী যুক্তি দেবেন? তাঁর নিজের দলের নেতারা যদি তাঁর কথা না শোনেন, তাহলে দেশ চালাবেন কীভাবে?
বিশ্বের কোনো দেশেই অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ণ করা হয় না। একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অধীনে রাস্তাঘাট, ভবন নির্মাণ, বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা নির্ধারণ প্রভৃতি গড়ে তোলা হয়। কিন্তু রাজধানী ঢাকা একশ্রেণীর ভূমি-দুর্বৃত্তের পাল্লায় পড়ে গেছে। তারা রাজউকের নিয়মকানুন মানতে চায় না। সরকারের খাসজমি তো দখল করেই, সাধারণ মানুষকেও কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করে অথবা তাদের জমি স্রেফ জবরদখল করে নেয়। ঢাকার চারপাশের নিম্নাঞ্চলে পানির মধ্যে সাইনবোর্ড লাগিয়ে প্লট বিক্রি করে। টাকার জোরে এসব অপকর্ম ধামাচাপা দিতে তারা সিদ্ধহস্ত।
এই ‘ভূমিদস্যুতা’ অবাধ গতিতে চলছিল। এর প্রতিকারের প্রয়োজন যখন জরুরি হয়ে ওঠে সেই সময়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৯৯৭ সালে কিছু পদক্ষেপ গৃহীত হয়। তারা ‘জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ পাস করে। ওই আইনে বলা হয়েছে, জলাভূমি ভরাট করা যাবে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই যে রাজধানীর বিরাট অংশ ডুবে যায়, তার একটি কারণ হলো বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার জায়গার অভাব। সুতরাং ভূমি উন্নয়ন ও আবাসিক ভবন নির্মাণের নামে যদি জলাশয় ভরাট চলতে থাকে, তাহলে রাজধানীতে মানুষের বসবাস অসম্ভব হয়ে উঠবে। রাজধানীবাসী এখনই তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য যুক্তরাজ্যের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিএমডিপি) প্রণীত হয় ১৯৯৩-৯৫ সালে, যা ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার অনুমোদন করে গেজেট প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগরের ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে। সম্প্রতি তা পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়। দেশের বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, স্থপতি, পেশাজীবী প্রমুখ বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তিতে এসব করা হয়েছে। তাই কেউ বলতে পারবেন না যে একতরফাভাবে ড্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তাহলে আবাসন ব্যবসায়ীদের আপত্তি কেন?
আগেও অনেক চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু আবাসন ব্যবসায়ীদের কোনোভাবেই বাগে আনা যায়নি। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ওরা বুঝি দুর্দমনীয়। বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে ‘ভূমি-দুর্বৃত্তরা’ সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সাধারণ মানুষ ছিল অসহায়। চোখের সামনে জমি কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঢাকার চারপাশে এত বেশি ঘটেছে যে তা বলে শেষ করা যাবে না।
কিন্তু যা হোক, শেষ পর্যন্ত সরকার একটা অবস্থান নিয়েছে। রিহ্যাব ফেয়ার ২০০৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী পরিষ্কার বলেন, ‘বর্তমান সরকার ভূমিদস্যু-দুর্বৃত্তদের কাছে মাথা নত করবে না। খাল, বিল, নদী-নালা, ডোবা-জলাশয় ভরাট করে কাউকে স্বর্গরাজ্য বানাতে দেওয়া হবে না। এ দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। হুমকি দিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কোনো কাজ আদায় করা যাবে না’ (প্রথম আলো, ৬ জানুয়ারি ২০১০)।
আপাতদৃষ্টিতে বলা যায়, প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত সাহসী অবস্থান নিয়েছেন। আগে কাউকে এই ভাষায় কথা বলতে শোনা যায়নি। তিনি অবশ্য কোনো বাড়তি কথা বলেননি, আইন অনুযায়ী কথা বলেছেন। জনবহুল রাজধানীতে আরও আবাসনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। বিশৃঙ্খলভাবে কোনো রাষ্ট্র চলতে পারে না। সরকারকে প্রমাণ করতে হবে, টাকার জোরে হয়তো অনেক কিছু করা যায়, কিন্তু আইন অবজ্ঞা করা যায় না। যারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সময় এসেছে।
এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সবচেয়ে আগে দল ঠিক করতে হবে। সাংসদেরা যদি ‘ভূমি-দুর্বৃত্তদের’ কাছে নতি স্বীকার করেন, তাহলে সরকার কিসের ওপর দাঁড়াবে? ঢাকার আবাসন যে কী বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তা কারও বুঝতে বাকি আছে? সম্প্রতি বেগুনবাড়িতে একটি ভবন উপড়ে পড়ে ২৫ জনের করুণ মৃত্যু ঘটেছে। এর প্রধান কারণ ছিল জলাশয়ের ওপর অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ। ‘ভূমিদস্যুরা’ চেনে শুধু মুনাফা। মানুষের জীবন তাদের কাছে কোনো ব্যাপার নয়। এদের বাড়াবাড়ি বন্ধের ব্যবস্থা করা অতি জরুরি হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী যখন এই সব ‘ভূমিদস্যুতার’ বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, শক্ত পায়ে দাঁড়ান। আর লক্ষ রাখুন, দলের সাংসদেরা যেন উল্টা পাশে চলে না যান।
ঢাকা বাঁচান। মানুষ বাঁচান।
আব্দুল কাইয়ুম: সাংবাদিক।
quayum@gmail.com

প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই by ফেরদৌস ফয়সাল

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় অর্ধ লাখ লোক হজ পালন করতে যান। এবার চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৭ নভেম্বর হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবারও ৭৫ হাজার বাংলাদেশি পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে যেতে পারবেন ৬০ হাজার। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের পাশাপাশি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত এজেন্সির ব্যবস্থাপনায়ও হজ করে আসার ব্যবস্থা থাকছে। যাঁরা এবার হজে যেতে চান, তাঁদের প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই।
খেয়াল করবেন, কোন এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন, বিমানের ফ্লাইট, মক্কা-মদিনায় আবাসন মসজিদুল হারাম থেকে কত দূরে। কত নম্বর মোয়াল্লেমের অধীনে হজ করবেন। খাবার, কোরবানি, অভিজ্ঞ গাইড, কত দিনের প্যাকেজ, হজ এজেন্সির শর্তাবলি, বৈধতা ও সুনাম ইত্যাদি।
পত্রিকায় খবর বের হয়েছে ২০০৯ সালে ২৫০টি হজ এজেন্সির মধ্যে ৬৭টি বেসরকারি এজেন্সির বিরুদ্ধে দেশে এবং সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত এজেন্সির কার্যক্রম তদন্তের পর ধর্ম মন্ত্রণালয় তিনটি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, ১৩টির স্থগিত করাসহ ৪৭টি বেসরকারি হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে। এর মধ্যে ২৬টি এজেন্সির জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। বাকিদের সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হবে।
গত বছর হাজিদের অভিযোগ ছিল, হাজিকে না জানিয়ে তাঁর বা তাঁদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অন্য এজেন্সিকে দেওয়া, হাজিদের যথোপযুক্ত স্থানে না রাখা, হাজিদের বিমানবন্দরে রেখে সটকে পড়া, এজেন্সি বাড়ি ভাড়ার টাকা পরিশোধ না করায় বিড়ম্বনায় পড়া, আবাসনের অব্যবস্থাপনা, পাসপোর্ট করতে নির্ধারিত ফির পাঁচ গুণ টাকা নেওয়া, খাবারের মান নিম্ন ও ঠিকমতো খাবার না দেওয়া, চুক্তিপত্র না দেখাতে পারা, হাজিদের যেখানে রাখা হয়েছে সেখানকার বাথরুমে পানি না থাকা, ৪৫ দিনের প্যাকেজ ২৮ দিনে শেষ করা, মদিনায় নামাজ পড়তে না দেওয়া, হাবের সদস্য হয়েও চুক্তি ভাঙা এবং মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক দলের সঙ্গে হজ এজেন্সির যোগাযোগ রক্ষা না করা ছিল অন্যতম অভিযোগ।
হজ ব্যবস্থাপনায় খরচের খাতগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে কোন খাতে খরচ কতটা, তা সুবিধা হয়। যেমন—খরচের খাতগুলো হলো বিমান ভাড়া বাবদ খরচ হবে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা (এক হাজার ৩৫০ মার্কিন ডলার)। জেদ্দা ডিপারচার ট্যাক্স ৯২৫ টাকা, এম্বারকেশন ফি ৩০০ টাকা, ইন্স্যুরেন্স সারচার্জ ৭০০ টাকা, স্থানীয় সার্ভিস চার্জ ৩০০ টাকা, আপদকালীন ফান্ডে জমা ৫০ টাকা, মিনা- আরাফাতে তাঁবু ভাড়া, জেদ্দা-মক্কা ও মদিনায় যাতায়াত বাবদ খরচ ২০ হাজার ১৪৭ টাকা, মিনা ও আরাফাতে মোয়াল্লেম ফি নয় হাজার ২৫০ টাকা, হজযাত্রীদের খাবার ১৭ হাজার টাকা, হজ গাইড ও প্রশিক্ষণ চার্জ চার হাজার ৪৩ টাকা, মক্কা ও মদিনায় বাড়ি ভাড়া ক্যাটাগরি অনুযায়ী ৮১ হাজার ৪০০ টাকা ।

সরকারি ব্যবস্থাপনায়
মক্কায় ৪ বর্গমিটার ও মদিনায় ৪ দশমিক ৫ বর্গমিটার থাকার ব্যবস্থাসহ একই রকম সুবিধা নিশ্চিত করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি মাত্র হজ প্যাকেজে হজযাত্রী পাঠানো হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনে ইচ্ছুকদের সার্বিক খরচ বাবদ দুই লাখ ২৮ হাজার ৬১৫ টাকা। আগামী ২২ জুলাই ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় জমা দেওয়া যাবে। হজ আবেদন ফরম (ওয়েবসাইট থেকে তথ্যসংগ্রহ করা যাবে) পূরণ করে নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হজের আবেদন ফরমের সঙ্গে জমাকৃত টাকার স্লিপ সংযুক্ত করতে হবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে গমনকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধার মধ্যে আছে প্রতি ৬০ জন হজযাত্রীর জন্য একজন হজ গাইড নিয়োগ করা হবে। অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা ও সেবা প্রায় বিগত বছরগুলোর মতোই রাখা হয়েছে।
হজ ব্যবস্থাপনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হজযাত্রীদের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে www. hajj.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে তথ্যসংগ্রহ করা যাবে। নির্দিষ্ট আবেদনপত্র সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং হজ কর্মকর্তা ঢাকার কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ করে তা স্ব-স্ব্ব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিল করতে হবে। বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানায়: হজ কর্মকর্তা, হজ কার্যালয়, আশকোনা, উত্তরা, ঢাকা; ফোন: ৮৯১৬৫৭৪, ৮৯১৬৫৭০, ৭১৬৪৮০৭, ৭১৬৪৮১৯, ৭১৬৩৬৭৮। এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের কার্যালয় থেকে জানা যাবে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়
আগে যাঁরা হজে গিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলে অনুমোদিত এজেন্সির প্যাকেজ যাচাই-বাছাই করে হজে যাবেন। চুক্তি ছাড়া কোনো এজেন্সি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না। কোনো হজ এজেন্সি দুই লাখ ২৮ হাজার ৬১৫ টাকার নিচে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না। কোনোভাবেই এজেন্সির কাছে নগদ টাকা দেওয়া যাবে না। অনুমোদিত বেসরকারি হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে টাকা জমা দিতে হবে। প্রত্যেক এজেন্সি সর্বনিম্ন ৫০ জন, সর্বোচ্চ ৪০০ জন হজযাত্রী প্রেরণ করতে পারবে।

খেয়াল করুন
হজ প্যাকেজ অনুযায়ী নারী হজযাত্রীদের মাহরামের সঙ্গে একত্রে টাকা জমা দিতে হবে। মাহরাম ছাড়া কোনো নারী এককভাবে হজে যাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড বেশির ভাগ হজযাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করবে। বিমানে অল্প পানি ব্যবহার করে টয়লেট ব্যবহারবিধি, হাইকমোড, রাস্তা পারাপারে ট্রাফিক সিগন্যাল ইত্যাদি সম্পর্কে জানা থাকলে সুবিধা হয়। সংশোধিত জাতীয় হজনীতি অনুযায়ী, শুধু আবেদনকারীর মৃত্যুজনিত কারণে জমা টাকা ফেরত দেওয়া হবে। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ, স্বাস্থ্য সনদ, পুলিশ ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৪০ দিন। কোনো হজযাত্রী বিমানে ৩০ কেজির বেশি মালামাল বহন করতে পারবেন না। কোনো খাদ্যদ্রব্য চাল, ডাল, শুঁটকি, গুড়, পচনশীল খাবার, রান্না করা খাবার, পান-সুপারি নেওয়া যাবে না। নিজের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, হজ এজেন্সির নাম, টেলিফোন নম্বর হজযাত্রীর লাগেজে ইংরেজিতে লিখতে হবে, যাতে ব্যাগ হারালেও পাওয়া যাবে। কোরবানি বা দম দেওয়ার জন্য ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকে দেওয়া সৌদি সরকারের একমাত্র স্বীকৃত ব্যবস্থা। ডায়াবেটিস, হূদরোগসহ ক্রনিক রোগের রোগীরা চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী ৪৫ দিনের ওষুধ সঙ্গে নিয়ে যাবেন। চশমা ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত একটি চশমা সঙ্গে রাখবেন। ভিড়ে কোনো কারণে ভেঙে যেতে পারে।
ফেরদৌস ফয়সাল: সাংবাদিক।
afef78@yahoo.com

পোশাকশিল্পে মজুরি-বিবাদ -যৌক্তিক ও মানবিক সমাধানের দায়িত্ব সরকারের

তৈরি পোশাক কারখানায় মজুরি বাড়ানোর দাবি শ্রমিকের। মালিকপক্ষের দিক থেকে কেবলই আশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই দাবি ও আশ্বাসের টানাটানি প্রায়শই বিক্ষোভ ও ভাঙচুরে পরিণত হয়। পুলিশ নামে, কারখানা কিছুদিন বন্ধ থাকে। এই গল্পের যেন শেষ নেই। মালিক-শ্রমিকের এই রেষারেষিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিল্প ও সম্পদ এবং মাঝেমধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও বিরল নয়। সম্প্রতি আশুলিয়ায় এ রকমই বিক্ষোভ-সংঘর্ষের জের ধরে অজস্র কারখানার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে এবং মালিকপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে এক দিন পর আজ থেকে কারখানা খোলার ঘোষণা দিয়েছে মালিকপক্ষ।
গত মঙ্গলবার শ্রমমন্ত্রী আগামী মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের বেতন-সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এ বছরের ২৮ এপ্রিল সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে সদস্য নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। এরই মধ্যে বোর্ডের নয়টি সভায় বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে সবাই নীতিগত সম্মতি দিলেও বাড়ানোর পরিমাণ নিয়ে এখনো কোনো মীমাংসা হয়নি। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে হতে হবে।
বৈদেশিক মুদ্রা অজর্নকারী খাত হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বিভিন্ন সরকারি সহযোগিতা ও অনেক ক্ষেত্রে ছাড় পেয়ে থাকে। এ রকম একটি শিল্পের শ্রমিককে কীভাবে মাত্র এক হাজার ৬৬২ টাকা ৫০ পয়সায় জীবনধারণে বাধ্য করা হয়, তা বোধগম্য নয়। ২০০৬ সালে সরকার-নির্ধারিত ওই মজুরি থেকে বর্তমানে মালিকেরা মাত্র ৩২৭ টাকা বেশি দিতে চান, অর্থাৎ নতুন মজুরি এক হাজার ৯৮৯ টাকার বেশি তাঁরা দিতে নারাজ। এ হিসাবে দৈনিক মজুরি দাঁড়ায় ৬৬ টাকা মাত্র। মাত্র দুই কেজি চালের মূল্যে একজন শ্রমিক কীভাবে পরিবারের ভরণপোষণ চালাবেন, যেখানে এই বেতনে একজনেরই চলবার কথা নয়!
সরকারের উচিত, যৌক্তিক মাত্রা পর্যন্ত মালিকপক্ষকে নিম্নতম বেতন বাড়াতে বাধ্য করা। দীর্ঘদিন এ ধরনের পরিস্থিতি বজায় থাকা পোশাকশিল্পের সঙ্গে জড়িত সবাই তো বটেই, দেশের জন্যও ক্ষতিকর। প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিকের এত বড় লাভজনক খাত নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে আসতে আর দেরি করা উচিত নয়।

দুর্নীতি রোধে বাজেটীয় নির্দেশনা -সরকারকে গুরুত্বসহকারে বিষয়টি ভাবতে হবে

কথাটা তোলা হয়েছে ব্যবসায়ী ও গবেষকদের এক আলোচনায়। বলা হয়েছে, ২০১০-১১ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি রোধের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ঢাকায় মেট্রোপলিটান চেম্বার ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এই সভায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক একজন উপদেষ্টা এ বিষয়টি উল্লেখ করে আরও বলেছেন যে আগের বার দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয় যতখানি গুরুত্ব পেয়েছিল, এবার তা হয়নি। কথাটি সাম্প্রতিক কালের একাধিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) শক্তিশালী করায় অনীহা, সরকারি ক্রয়বিধিতে শিথিলতা ও সর্বশেষ মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত এখানে উল্লেখযোগ্য। আর এসব কিছু থেকেই জনমানসে এ রকম একটা ধারণাই প্রতিষ্ঠা পেতে পারে যে সরকার দুর্নীতি রোধের বিষয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা থেকে কিছুটা সরে আসছে।
২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেট-বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে দুটি অনুচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু তাতে সরকারের দৃঢ় সদিচ্ছার বিষয়টি জোরালোভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, এমনটি বলা যাবে না। আর বাজেটে দুদকের জন্য ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার পুরোটাই অনুন্নয়ন-ব্যয়। অথচ চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থার জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তার মানে বাজেট বরাদ্দে তেমন কোনো হেরফের হয়নি। আবার সুপ্রিম কোর্টের জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ২০০৯-১০ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ থেকে মাত্র এক কোটি টাকা বেশি। এসব বরাদ্দ থেকেও সরকারের মনোভাব সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে শুধু দুদকের বরাদ্দের আলোকেই বিষয়টি বিচার করা যুক্তিযুক্ত হবে না। বরং অন্য বরাদ্দগুলোর ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নে কীভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে, সেটাই দেখার বিষয়।
বস্তুত দুর্নীতি দমন করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা একটি বিস্তৃত ব্যাপার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়। আর তাই সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়, নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হয়। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে দুর্নীতি যেখানে একটি অন্তর্নিহিত সত্তা, সেখানে এই বাজার অর্থনীতির দর্শন আঁকড়ে ধরে অগ্রসর হতে চাইলে দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে বের হয়ে আসা কঠিন ব্যাপারই বটে। সে জন্য আর্থ-রাজনৈতিক দর্শনগত ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন দরকার। দরকার শাসন পরিচালনাগত ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন। যেমন: আয়কর বিবরণী অনলাইনে দাখিল করা। এ রকম অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা যায়। বাজেটে অবশ্য অর্থমন্ত্রী এ রকম কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আভাস দিয়েছেন। সরকারি কেনাকাটায় দরপত্র-প্রক্রিয়া অনলাইনে নিয়ে আসার উদ্যোগের কথাও বলেছেন। সুতরাং, দুর্নীতি রোধে বাজেটীয় নির্দেশনার কমতি থাকলেও একেবারে কিছু নেই, তা বলা যাচ্ছে না। এটাই আশার জায়গা। আর তাই সরকার বিষয়টি নিয়ে আরও গুরুত্বসহকারে ভাববে ও কাজ করবে—এটাই এখন প্রত্যাশা।

বিশ্বের সবচেয়ে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ সোমালিয়া

বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার বহুল আলোচিত দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তান রয়েছে। ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় এবারও শীর্ষস্থানে রয়েছে সোমালিয়া। এর পর রয়েছে জিম্বাবুয়ে, সুদান ও শাদ। পাকিস্তান তালিকার দশম স্থানে রয়েছে। তিন ধাপ ওপরে রয়েছে আফগানিস্তান। গত সোমবার প্রসিদ্ধ সাময়িকী ফরেন পলিসি ‘ফেইলড স্টেট ইনডেক্স’ নামের ২০১০ সালের ব্যর্থ রাষ্ট্রগুলোর তালিকা প্রকাশ করে।
১৭৭টি ব্যর্থ রাষ্ট্রের মধ্যে ভারত রয়েছে ৮৭তম স্থানে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ১৩তম স্থান দখল করেছে। শ্রীলঙ্কা ২২তম ও নেপাল ২৫তম স্থানে রয়েছে। ৫৭তম স্থান পেয়েছে চীন। তালিকায় সবচেয়ে নিচে রয়েছে নরওয়ে।
ফরেন পলিসি ও ফান্ড ফর পিস ২০০৫ সাল থেকে এ তালিকা প্রকাশ করে আসছে। সাময়িকীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ব্যর্থ রাষ্ট্রের তালিকায় বিধ্বস্ত সোমালিয়া পরপর তিনবার প্রথম হলো। বর্তমান শীর্ষ দশে যেসব রাষ্ট্র স্থান পেয়েছে, গত কয়েক বছরে এসব দেশের পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
সাময়িকী আরও জানায়, গত ছয় বছরে ১৫টি অস্থিতিশীল দেশের মধ্যেই শীর্ষ ১০টি স্থান ঘুরপাক খাচ্ছে। এর মধ্যে সোমালিয়ার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সে দেশে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে, অন্যদিকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগেই আছে। দেশটির উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে। রাজধানী মোগাদিসুর রাস্তায় রাস্তায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইসলামি মিলিশিয়ারা।

কঙ্গোতে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৫০ জন নিহত

কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে গত সোমবার রাতে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ আরোহী নিহত হয়েছে। দেশটির উপকূলীয় তেল সমৃদ্ধ পোয়ান্তে নোয়াখ শহর থেকে রাজধানী ব্রাজাভিলে যাওয়ার পথে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কঙ্গোর রেল বিভাগের একটি সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় ট্রেনের চারটি বগি খাদে পড়ে যায়। এতে ৫০ জন নিহত হয়েছে।
২০০১ সালে একই স্থানে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৫০ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। তা ছাড়া আট বছর আগে অন্য একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় ১০০ জন মারা যায়।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল হুমকির মুখে জনজীবন

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণে ফুঁসে উঠেছে জিয়াংজি প্রদেশের ফু নদীর পানি। পানির প্রবল চাপে গত সোমবার রাতে ফাটল ধরেছে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে। এতে নিকটবর্তী ফুজহাও নগরের জনজীবন এখন হুমকির মুখে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন। সেনা ও পুলিশের শত শত কর্মকর্তা বালির বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে বাঁধ মেরামতে সহযোগিতা করছেন। চ্যাংকাই বাঁধের নিকটবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে এক হাজার ২০০ জন বন্যাকবলিত মানুষকে।
গত সোমবার বেসামরিক-বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির ফলে কমপক্ষে ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে ১০৭ জন। বৃষ্টির কারণে নদীগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে, ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তাঘাট। বন্যায় ফসল ডুবে গেছে, যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে টেলিযোগাযোগব্যবস্থা। মোট ১৭ লাখ লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী কয়েক দিনও ভারী বর্ষণ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
চায়না ইয়ুথ ডেইলি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গুয়াংজি এলাকায় কয়েক শ বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বাঁধে নির্মাণসংক্রান্ত ত্রুটি রয়েছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর অর্থ যাচ্ছে তালেবানের হাতে

আফগানিস্তানে নিয়োজিত মার্কিন বাহিনী দেশটির বিভিন্ন স্থানে সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ নিরাপদ করতে স্থানীয় নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠানকে কোটি কোটি ডলার দিতে বাধ্য হচ্ছে। তা না হলে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী বাহনগুলো হামলার শিকার হচ্ছে। আর এসব অর্থ তালেবানসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। ছয় মাস তদন্তের পর মার্কিন কংগ্রেসের এক উপকমিটির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
গত সোমবার রাতে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে বিভিন্ন নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতি সপ্তাহে ৪০ লাখ ডলার দিতে হচ্ছে।
তদন্ত কমিটি জানায়, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে তালেবান, প্রায় প্রতিটি প্রদেশের গভর্নর, স্থানীয় পুলিশের প্রধান ও সামরিক বাহিনীর প্রধানকে ঘুষ দিতে হয়। সামরিক সরঞ্জামের বহর যেসব অঞ্চল দিয়ে যায়, তার প্রায় সব অঞ্চলের এই কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হয়।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের দুজন চাচাত ভাই এমন একটি নিরাপত্তা কোম্পানির মালিক, যে প্রতিষ্ঠানকে নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তারক্ষী দিচ্ছে। এ কাজে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তাও করছে। কিন্তু তারা নিরাপত্তার নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থের একটি বড় অংশ তালেবান জঙ্গিদের হাতে চলে যাচ্ছে। সাধারণত ঠিকাদারেরা বিভিন্ন নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে মার্কিন বাহিনীর সরঞ্জাম সরবরাহ নিরাপদ করার কাজটি করে থাকেন। এই ঠিকাদারেরা মার্কিন সামরিক কমকর্তাদের জানান, নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠানের আয় জঙ্গিদের হাতে চলে যায়। তবে তাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে তেমন কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের অন্যতম নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ওয়াটান রিস্ক ম্যানেজমেন্টের কাজকর্ম খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। ভার্জিনিয়ার ফোর্ট বেলভোরের আর্মি ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন কমান্ডের একজন মুখপাত্র এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক সরঞ্জাম বিভিন্ন ঘাঁটিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রায় তেমন কিছুই জানে না। প্রতিবেদনে নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এর পুরো দায়িত্ব প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে জাতীয় নিরাপত্তা উপকমিটির চেয়ারম্যান জন টিয়ার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, নিরাপত্তার নামে অসদুপায়ে অর্থ উপার্জনের জন্য গভর্নর, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আরও কিছু লোকজন অদৃশ্য নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।
আফগানিস্তানে জঙ্গি হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা যখন দিন দিন বাড়ছে, তখন এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।

ভারতের ৫ রাজ্যে মাওবাদীদের আবার বন্ধ আহ্বান

ভারতের পাঁচটি রাজ্যে ফের ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ ডেকেছে মাওবাদীরা। মাওবাদীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত নীতির প্রতিবাদে আগামী ৩০ জুন ও ১ জুলাই এ বন্ধ ডাকা হয়েছে।
রাজ্য পাঁচটি হলো পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা ও বিহার। এ ছাড়া তারা মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মাওবাদী অধ্যুসিত এলাকায়ও একই সময় বন্ধ ডেকেছে। গতকাল মঙ্গলবার মাওবাদী নেতা কিষানজির তরফে এই বনেধর ঘোষণা দেওয়া হয়।

রিগির ফাঁসির প্রতিশোধ নেবে জুন্দুল্লাহ

ইরানের সুন্নি বিদ্রোহী গোষ্ঠী জুন্দুল্লাহ তাদের নেতা আবদুল মালেক রিগির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা গত সোমবার এ কথা জানিয়েছে।
রিগির নেতৃত্বাধীন জুন্দুল্লাহ গোষ্ঠী সম্প্রতি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের ওপর হামলা চালিয়ে এর পদস্থ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন সদস্যকে হত্যা করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ওই হত্যাকাণ্ডের দায়ে গত রোববার তেহরানের এভিন কারাগারে রিগিকে ফাঁসি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরই ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি ইরান সরকারকে ওয়েবসাইটে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়।
সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ নামের পর্যবেক্ষক সংস্থাটি জানায়, এক বার্তায় জুন্দুল্লাহ বলেছে, তাদের নেতা আবদুল মালেক শহীদ হয়েছেন। ইতিহাস প্রমাণ করবে একদিন তাঁর মতো আরও অনেক আবদুল মালেক জন্ম নেবে। তারা ইরানের অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ঠিকই বিজয়ী হবে।

মঙ্গলে রহস্যজনক গহ্বর চিহ্নিত করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সপ্তম গ্রেডের শিক্ষার্থীদের একটি দল মঙ্গল গ্রহে রহস্যজনক একটি গহ্বর বা জ্বালামুখ চিহ্নিত করেছে। মার্কিন মহাকাশ কেন্দ্র নাসার মঙ্গল গ্রহ প্রদক্ষিণরত নভোযানের ক্যামেরায় তোলা ছবি পর্যবেক্ষণ করে এই গহ্বরটি খুঁজে পায় ক্ষুদে এসব গবেষক। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি আয়োজিত একটি শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ১৬ জন ক্ষুদে অনুসন্ধানীর এই দলটি ক্যালিফোর্নিয়ার কটনউডের এভারগ্রিন মিডল স্কুলের শিক্ষার্থী।
‘মার্স স্টুডেন্ট ইমেজিং প্রোগ্রাম’ নামের এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঙ্গল গ্রহ পর্যবেক্ষণে ব্যবহূত ‘মার্স স্পেস ফ্লাইট ফ্যাসিলিটি’ ব্যবহার করার সুযোগ পায়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা একটি গবেষণা প্রশ্নপত্র তৈরি করে। ওই প্রশ্নপত্রের উত্তর খুঁজতে তারা মঙ্গলকে প্রদক্ষিণকারী নভোযানের ক্যামেরার মাধ্যমে গ্রহটির ছবি তোলার সুযোগ পায়। আর এভাবেই নতুন ওই গহ্বরের সন্ধান মেলে।
মঙ্গলে খুঁজে পাওয়া নতুন গহ্বরটির সঙ্গে এর আগে ওই গ্রহে শনাক্ত করা অন্য গহ্বরের মিল পাওয়া গেছে। ২০০৭ সালে গ্লেন কাশিং নামের একজন মার্কিন বিজ্ঞানীর গবেষণায় ‘মার্সিয়ান স্কাইলাইট’ নামের এ ধরনের গহ্বরের সন্ধান মেলে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে এ ধরনের গহ্বর বা জ্বালামুখের সৃষ্টি।
কাশিং শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘এই গুহা বা জ্বালামুখ অবশ্যই আমাদের কাছে নতুন। মঙ্গল গ্রহের দক্ষিণাংশে অবস্থিত প্যাভোনিস মোনস নামের আগ্নেয়গিরির একটি অংশ। এর আগে প্যাভোনিস মোনসের সঙ্গে যুক্ত এ ধরনের মাত্র একটি গহ্বরের সন্ধান পাওয়া গেছে।’
ওই শিক্ষার্থীদের শিক্ষক ডেনিস মিশেল বলেন, ‘মার্স স্টুডেন্ট ইমেজিং প্রোগ্রাম অবশ্যই এ পর্যন্ত হাতে নেওয়া অন্যতম সেরা শিক্ষা কর্মসূচি। গবেষণা কীভাবে হয় এবং গবেষণা বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য কেন দরকার সে সম্পর্কে এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একটি ভালো ধারণা পায়। এটা খুবই ভালো একটি অভিজ্ঞতা।’

ওবামাকে ব্যঙ্গ করার জন্য ক্ষমা চাইলেন মার্কিন জেনারেল

আফগানিস্তানে নিযুক্ত শীর্ষ মার্কিন জেনারেল স্ট্যানলি ম্যাকক্রিস্টাল মার্কিন সাময়িকী রোলিং স্টোন-এ প্রকাশিত তাঁর লেখা এক নিবন্ধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। ‘দ্য রানঅ্যাওয়ে জেনারেল’ শিরোনামের ওই নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ ওবামা-প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের ব্যঙ্গ করেছিলেন তিনি। এমনকি আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল আইকেনব্যারি ঠিকমতো কথা শুনছেন না বলেও মন্তব্য করেন স্ট্যানলি। তাঁর এক সহকর্মী অবশ্য বলেছেন, ওবামা-প্রশাসনের ওপর হতাশ হয়েই তিনি এ সব লিখেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জেনারেল স্ট্যানলি বলেন, ওই কাজের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ই-মেইলে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তিনি ওই নিবন্ধটি প্রকাশ করতে চাননি। অনেকটা বাছবিচার না করেই তিনি সেগুলো লিখেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে তিনি জানান। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পেশাগত জীবনে তিনি সারা জীবন সততার সঙ্গে চলার চেষ্টা করলেও তাঁর লেখায় ছিল তা অনুপস্থিত। প্রেসিডেন্ট ওবামা ও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা দলের প্রতি স্ট্যানলির গভীর শ্রদ্ধা আছে।
উল্লেখ্য, স্ট্যানলি তাঁর নিবন্ধে ওবামা-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যথেচ্ছ সমালোচনা ও উপহাস করেন। এক বছর আগে ওভাল অফিসে ওবামার সঙ্গে বৈঠকের একটি বিষয় উল্লেখ করে তিনি নিবন্ধে লেখেন, ওটা ছিল ১০ মিনিটের একটা ফটোসেশন। ওবামা নিজেও নিজের সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু জানেন না। তাঁকে খুব একটা আকর্ষণীয় মনে হয়নি। বসকে খুব আশাহত মনে হলো।

মিসরে প্রাচীন নগরের সন্ধান

মিসরের নীলনদের ব-দ্বীপে একটি প্রাচীন নগরের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। রাডারের সাহায্যে আবিষ্কৃত এ নগরকে সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরোনো অ্যাভারিস নগর বলে মনে করা হচ্ছে। এটি ছিল হাইকসস জাতিগোষ্ঠীর রাজধানী। মিসরের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।
অস্ট্রিয়ার এক দল প্রত্নতাত্ত্বিক রাডারের সহায়তায় মাটির নিচে চাপা পড়া এ নগরের সন্ধান পেয়েছে। এশিয়া থেকে হাইকসস জাতিগোষ্ঠীর লোকজন সেখানে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছিল। ১০০ বছর তারা সেখানে বসবাস করে। হাইকসসের শাসকেরা অ্যাভারিস নগরকে তাঁদের রাজধানী বানিয়েছিলেন। এ নগর ছিল তাঁদের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী। বর্তমানে এটি তাল আল-দাবা নামে পরিচিত। সেখানে এখন প্রচুর লোকের বসবাস।
মিসরের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা জাহি হাওয়াস বলেছেন, নতুন আবিষ্কৃত প্রাচীন এ নগর অ্যাভারিসের একটি অংশ হতে পারে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৬৬৪ থেকে ১৫৬৯ পর্যন্ত হাইকসস জাতিগোষ্ঠীর দখলে ছিল এ নগর। তিনি বলেন, রাডারে তোলা ছবিতে মাটির নিচে রাস্তা, বাড়ি ও সমাধিসহ আধুনিক ধাচের একটি পূর্ণাঙ্গ নগরের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ভিক্ষুক সম্মেলন

পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়ার যুগে বসে নেই ভিক্ষুকেরাও। তারা যে সমাজে এখনো অবহেলিত এবং তাদের অনেক দাবি-দাওয়া রয়েছে, সে কথাটি রাজ্য সরকারের কানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এবার রীতিমতো সম্মেলন করেছে পশ্চিমবঙ্গের ভিক্ষুকেরা। গত সোমবার উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত সদর থানার খড়িবাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় এ ভিক্ষুক সম্মেলন। এতে যোগ দেয় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ভিক্ষুকেরা। পশ্চিমবঙ্গ ভিক্ষুক সমিতি এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এ সম্মেলনে বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুরা, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা থেকে পাঁচ শতাধিক ভিক্ষুক যোগ দেয়। সম্মেলন হয় রীতিমতো রাজনৈতিক দলের মতো। এতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ভিক্ষুকেরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে। সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয়, তাদের ১২ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে। সম্মেলনে ভিক্ষুকেরা নিজেদের চাঁদায় ভূরিভোজনও করে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ভিক্ষুক সমিতির আহ্বায়ক আবদুল লতিফ। তিনি ভিক্ষুকদের ১২ দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দেন তিনি।

আসন্ন দুটি বৈঠকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পথ খুঁজবে ভারত

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আসন্ন দুটি বৈঠকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পাকিস্তান পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে তারা। দুই দেশের মধ্যকার সমস্যাগুলো সমাধানে সহজ পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে। ভারতের দাবি, পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে ভারতের ওপর আবার জঙ্গি হামলা চালানো হতে পারে, এমন নতুন সতর্ক বার্তা পাওয়ার পরও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়াদিল্লি।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও বৈঠক করবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব সালমান বশিরের সঙ্গে। ২৬ জুন শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মুখোমুখি হবেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম।
আগামীকালের বৈঠকটি হবে মুম্বাই হামলার পর দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক। এর আগে দুই সচিবের মধ্যে প্রথম বৈঠকটি হয় গত বছর নিউইয়র্কে। দ্বিতীয় বৈঠকটি হয় গত ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে। ইসলামাবাদে এই সফরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গেও বৈঠক করবেন নিরুপমা রাও। আগামী ১৫ জুলাই দুই দেশের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মুম্বাই হামলার পর প্রথম ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে পাকিস্তান সফর করছেন নিরুপমা।
ইসলামাবাদের তরফ থেকে তোলা সবগুলো বিষয়েই নয়াদিল্লি আলোচনা করতে আগ্রহী উল্লেখ করে একজন শীর্ষ ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, ‘অভিযোগ জানানোর মনোভাব নিয়ে আমরা সেখানে যাচ্ছি না, বরং একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করার মনোভাব নিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি জানান, আলোচনায় তাঁরা পাকিস্তানি পক্ষকে জানাবেন সে দেশের ‘আমর্ড ফোর্সেস (স্পেশাল পাওয়ার) অ্যাক্ট’ নামের আইনে আদালতের সামনে হাজির করার বিধান নেই। একটি সম্ভাবনা রয়েছে নিরুপমা-বশির বৈঠকে পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীর থেকে এ ধরনের আইন প্রত্যাহার করার ব্যাপারে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানাতে পারে।
চলতি সপ্তাহের বৈঠকে মুম্বাই হামলা সম্পর্কে ভারতের দেওয়া নথিপত্রের ১১তম চালানের বিষয়ে সাড়া দিতে পারে। গত ১৮ জুন এ ব্যাপারে ১১তম চালানটি পাকিস্তানকে হস্তান্তর করে ভারত। এর আগে মুম্বাই হামলার বিভিন্ন তথ্য ও দলিলের ১০টি চালান ইসলামাবাদের কাছে পাঠায় নয়াদিল্লি। এতে দাবি করা হয়েছে, মুম্বাই হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হয়েছিল পাকিস্তানের মাটি থেকে এবং এতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টারসার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) সদস্যরা জড়িত।
আগামীকাল ও শনিবারের বৈঠকে ভারতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর নতুন করে হামলার পরিকল্পনার ব্যাপারে উদ্বেগের কথা ইসলামাবাদকে জানাবে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি মুম্বাই হামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষ করা, পাকিস্তানে বর্তমানে বিদ্যমান সন্ত্রাসী অবকাঠামো, জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি এবং নিয়ন্ত্রণরেখায় অস্ত্রবিরতি ভঙ্গ ও মাদক পাচারের বিষয়েও নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরবে ভারতীয় পক্ষ। আর এসব ব্যাপারে পাকিস্তানকে কিছু শক্ত কথা শোনাতে পারেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। জাল নোটের বিষয়টিও উত্থাপন করবেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তানে জাল নোট তৈরি করে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত ব্যবহার করে তা ভারতে পাচার করা হয়।
পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার সহযোগী মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলির ব্যাপারে তথ্য-সংবলিত একটি দলিলও পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরম। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি এই তথ্য সংগ্রহ করে। এ ছাড়া মুম্বাই হামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হাফিজ সাইদের ব্যাপারেও পাকিস্তানের কাছে জানতে চাইবে ভারত।
ভারতীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি কমিয়ে আনতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয় এবং কাশ্মীরে আন্তনিয়ন্ত্রণরেখা বাণিজ্য চালু করার বিষয় বৈঠকে স্থান পাবে। পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাওয়ের আজ পাকিস্তান পৌঁছানোর কথা।

গোল্ডেন সনের এজিএম অনুষ্ঠিত

তালিকাভুক্ত কোম্পানি গোল্ডেন সন লিমিটেডের ষষ্ঠ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। চট্টগ্রাম ক্লাবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এজিএমে কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন বর্তমানের ৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ কোটি টাকা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ ছাড়া ১:১ অনুপাতে রাইট শেয়ার, বর্তমানের ৫০০ শেয়ারের গুচ্ছের (লট) পরিবর্তে ২৫০ শেয়ারের গুচ্ছ করারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং গত বছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদন দেওয়া হয়। এজিএমের আগে অনুষ্ঠিত হয় কোম্পানির বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম)।
কোম্পানির চেয়ারম্যান লিউ ইউ শেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এমডি বেলাল আহমেদ, আইসিবি মনোনীত পরিচালক ইফতেখার উজ জামান, স্বতন্ত্র পরিচালক মনিরুজ্জামান, কোম্পানিসচিব দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বুড়ি তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে ১৫০ কোটি টাকা



নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দীর্ঘ ৪৩ বছরেও যে বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্প সফলতার মুখ দেখেনি, সেটাকে নিয়েই এখন এলাকাবাসীকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে তুসুকা রিসোর্স নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
পরিত্যক্ত প্রায় এ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণসহ মৎস্য চাষ ও পশুপালনে আগামী দুই বছরে তুসুকা রিসোর্স প্রায় দেড় শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এবং এতে দুই হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে সেখানে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেচনালাসহ জলাধারে বিভিন্ন প্রজাতির এক কোটি মৎস্যপোনাও অবমুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, থাইল্যান্ডের প্রযুক্তিতে মাছ চাষ ছাড়াও হাঁস ও পশুপালন, পোনা উৎপাদন, মাছ প্রক্রিয়াকরণ, শুঁটকি তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করাও তুসুকা রিসোর্সের লক্ষ্য।
মিজানুর রহমান আরও জানান, প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ১০০ শ্রমিক দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে আগামী এক বছরের মধ্যে এখানে দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার ১৬৪টি মৎস্যজীবী পরিবারের প্রায় এক হাজার মানুষও সারা বছর সুবিধা পাবে। এ ছাড়া এলাকার কৃষকেরা শুষ্ক মৌসুমে এ প্রকল্পের খাল থেকে স্বল্পমূল্যে সেচসুবিধা পাবেন।
এ প্রকল্প থেকে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে প্রতিদিন দেড় শ টন মাছ আহরণ এবং এক হাজার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মিজানুর রহমান।
এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি শুরুর পর এবারই প্রথম কৃষকেরা অল্প খরচে বেশি সেচ সুবিধা পেয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সুশীল কুমার রায় আশা করেন, প্রকল্পটি পুরোমাত্রায় শুরু হলে এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে।
নাউতরা ইউনিয়ন ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে থাকা এ জায়গায় তারা যদি ভালো কাজ করেন, তাহলে আমরা সহযোগিতা দেব। তারা কিছু করতে চায়। এটা আমাদের জন্য সুখবর।’
মাঝিপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য অভিলাষ চন্দ্র রায় বলেন, আগে বছরে এক হাজার টাকাও পাই নাই। এখন তারা আমাদের কাজ দেবে, এটাই তো ভালো। তা ছাড়া মাছ ধরার ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে তাদের চুক্তিও হয়েছে।
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তুসুকা রিসোর্সকে বুড়ি তিস্তা সেচ প্রকল্পের রিজার্ভারের ৪৯২ দশমিক ৭১ হেক্টর জমিতে মৎস্য ও পশুসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। শর্তানুযায়ী, তুসুকা রিসোর্স প্রতিবছর ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে (যা পরবর্তী বছরগুলোয় ১০% হারে বাড়বে) এটি লিজ নিয়েছে। এভাবে তারা ১০ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা দেবে।
১৯৫৭ সালে নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় এ প্রকল্পটির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরপরে ১৯৬৩ সালে শুরু হয়ে ১৯৬৭ সালে বুড়ি তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

বাস্তবায়নে জন-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে

২০১০-১১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকারের জন্য বরাদ্দ আগের বারের তুলনায় টাকার অঙ্কে বাড়লেও তা পর্যাপ্ত নয়। বরং স্থানীয় সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গভর্নেন্স কোয়ালিশনসহ ৩৫টি সংগঠনের প্লাটফর্ম ‘গভর্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম’ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ও স্থানীয় সরকার’ শীর্ষক বাজেটোত্তর এক মতবিনিময় সভায় মঙ্গলবার বক্তারা এ অভিমত প্রকাশ করেন।
গভর্নেন্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের সমন্বয়কারী মহসিন আলীর সঞ্চালনায় এ মতবিনিময়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ। প্রধান বক্তা ছিলেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম মোজাম্মেল হক, সাংসদ মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম, ড্যানিডার প্রোগ্রাম অফিসার কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল প্রমুখ। সংগঠনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।
বক্তারা স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যুক্ত সবার দায়দায়িত্ব ও কার্যপরিধি সুনির্দিষ্ট করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকারের আর্থিক ক্ষমতায়নের যেসব প্রতিশ্রুতি শোনা যায়, বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে তার প্রতিফলন চোখে পড়ে না।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাজেটে স্থানীয় সরকারের জন্য আপেক্ষিক বরাদ্দ ১.০৭ থেকে কমে ০.৯৭ শতাংশে নেমে গেছে।
অতিথি ও বক্তারা আরও বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য সব স্থানীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও লোকবল প্রয়োজন, যার প্রতিফলন এ বাজেটে ঘটেনি। স্থানীয় সরকারের আইনগুলোতে যেটুকু ভালো বিষয় রয়েছে, তাও কার্যকর করা সম্ভব হয় না লোকবলের অভাবে আর প্রকৃত ক্ষমতা ও সম্পদ না থাকার কারণে।
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকারকে নিজস্ব সম্পদ আহরণে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের পক্ষে বক্তব্য দেন মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ম্যাব) মহাসচিব শামীম আল রাজী, বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের সভাপতি মাহবুবুর রহমান টুলু, পূর্ণিমাগাঁতী ইউপি চেয়ারম্যান গাজী খোরশেদ আলম, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া হক প্রমুখ।a

স্ট্যানচার্ট তিন বছরের মধ্যে এ দেশে ব্যবসা দ্বিগুণ করবে

সম্প্রতি ঢাকা সফরকালে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের গ্রুপ নির্বাহী পরিচালক ও গ্লোবাল কনজ্যুমার ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভ বের্টামিনি প্রথম আলোর সঙ্গে বাংলাদেশে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আসজাদুল কিবরিয়া।

বাংলাদেশের আর্থিক বাজারকে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড কীভাবে দেখছে?
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কাছে বাংলাদেশের বাজার গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যাংকের কিছু সেবা ও পণ্য পরীক্ষামূলকভাবে এখানে প্রথম চালু করা হয়। তারপর সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অন্য দেশে তার বিস্তার ঘটানো হয়। হংকং ও সিঙ্গাপুরের মতো বাংলাদেশের বাজারও এখন স্ট্যানচার্টের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিকভাবে ঋণমান (ক্রেডিট রেটিং) প্রকাশ করাও বাংলাদেশের জন্য এখন সহায়ক হবে।
তাহলে আগামী দিনগুলোয় এই দেশে কীভাবে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন?
আগামী তিন বছরের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বর্তমানের দ্বিগুণ করতে চায়। এ জন্য একদিকে যেমন উন্নততর প্রযুক্তিতে ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হবে, অন্যদিকে গড়ে তুলবে দক্ষ মানবসম্পদ। আর এই মানবসম্পদ গড়ার পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ছয় মাসে প্রায় ৪০০ নতুন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় ও কার্যক্রমে। মানবসম্পদকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিই। সে কারণেই একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর কর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণকে জোরদার করতে একটি শাখাও করা হচ্ছে। মূলত ছয় মাসে আগে স্ট্যানচার্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর তা নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যৎ বাজার সম্ভাবনা যাচাই করে।
কী কী ধরনের পণ্য-সেবা নিয়ে আপনারা অগ্রসর হচ্ছেন?
বর্তমানে আমরা ফিন্যান্সিয়াল কিয়স্ক চালু করেছি। এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ঢাকাসহ সারা দেশে ৩০টি কিয়স্ক খোলা হবে। কিয়স্ক হলো একধরনের সীমিত সেবাকেন্দ্র, যেখানে এটিএমের পাশাপাশি বিল পরিশোধ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ইত্যাদি সুবিধা থাকছে। এখানে নিযুক্ত কর্মীরা গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর জন্য সব ধরনের সহযোগিতাও দিচ্ছেন। সার্বিকভাবে আমরা এখন আরও গ্রাহকমুখী হচ্ছি। অর্থাৎ গ্রাহকের প্রয়োজন মেটানোর দিকে আগের তুলনায় অনেক বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। এ জন্যই আমরা কনজ্যুমার ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও দেশে এখন ভালো করছে। তাহলে কী প্রতিযোগিতা বাড়ছে?
প্রতিযোগিতা আছে। তবে স্ট্যানচার্ট প্রতিযোগিতা নিয়ে চিন্তিত নয়। যদি গ্রাহকের প্রয়োজনমতো সেবা দেওয়া যায়, গ্রাহকের চাহিদা সময়মতো মেটানো যায়, তাহলে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
কিন্তু আপনারা তো চড়া সুদ আরোপ করে, উচ্চ হারে বিভিন্ন সেবা মাশুল নেন।
আমরা যদি বাজারের প্রচলিত সুদ বা মাশুলের চেয়ে বেশি হারে মাশুল নিই, তাহলে তো গ্রাহক আমাদের কাছে আসবে না। তাদের যাচাই-বাছাই করার সুযোগ আছে। তবে শুধু ক্রেডিট কার্ডেই আমাদের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় চার লাখ, যা এ দেশে ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতিবছর গড়ে আমাদের ব্যবসা ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ হারে বাড়ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ছে ধীরে

দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রায় দেড় যুগের। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কিছুটা গতি পেয়েছে। এর জের ধরে দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ছে।
বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সংকলিত পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে ২০০৬-০৭ অর্থবছরের দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি প্রথম কোটি ডলারের ঘরে উন্নীত হয়। সে বছর বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় এক কোটি ২২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করে।
অবশ্য এর আগের বছরই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পণ্য আমদানি লাখ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে প্রথমবারের মতো কোটি ডলারে গিয়ে ঠেকে। সে বছর বাংলাদেশ দেশটি থেকে আমদানি করে প্রায় এক কোটি ২২ লাখ ডলারের পণ্য।
বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের মধ্যে রয়েছে: তৈরি পোশাক ও নিট পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশের প্রধান আমদানি-সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে: মৌলিক ধাতু ও ধাতব সামগ্রী, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ বর্তমানে দেশটির ৭১তম বাণিজ্যিক অংশীদার।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় রপ্তানি-বাজারের শীর্ষে রয়েছে চীন। আর ভারতের অবস্থান দশম স্থানে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানির ক্ষেত্রেও প্রথম অবস্থানটি চীনের। উল্টোভাবে বললে, চীন দক্ষিণ আফ্রিকার এক নম্বর রপ্তানি গন্তব্য।
তবে জোর চেষ্টা চালানো গেলে দক্ষিণ আফ্রিকা বিভিন্ন পণ্যের জন্য বাংলাদেশের আরেকটি সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বাজার সম্ভাবনা যাচাই করতে গত বছর বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) একটি প্রতিনিধিদল গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে।
যোগাযোগ করা হলে বিকেএমইএ সভাপতি ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজার তৈরির অনেক বাধা আছে। প্রথমত, দেশটি সম্পর্কে আমাদের জানাশোনা এখনো অনেক কম। একইভাবে ওই দেশের অধিবাসীরাও বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব কম জানে। ফলে একটা মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ থেকে যেতে হলে ভিসা নিতে হয় শ্রীলঙ্কা থেকে। তাই যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা রয়েছে।’
ফজলুল হক আরও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় আমদানি শুল্ক হার অনেক বেশি, যা সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ। এর ফলে পণ্য আমদানি সেখানকার আমদানিকারকদের জন্য অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ এখনো সেখানে কোনো শুল্ক ছাড় পায়নি।
তাদের সফরের পর সে দেশ থেকে কোনো সাড়া মিলেছে কি না—জানতে চাইলে ফজলুল হক বলেন, গত ছয়-সাত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অনেক ক্রেতাই বাংলাদেশে এসেছেন এবং বাংলাদেশি নিট পোশাক ক্রয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া অনেকেই নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। এর ফলে সেখান থেকে কিছু কার্যাদেশও পাওয়া গেছে। তবে রপ্তানি কতটা বাড়ছে, তা বুঝতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যেসব পণ্য রপ্তানি হয়, তার প্রায় সবটাই সমুদ্রপথে সম্পন্ন হয়। চট্টগ্রাম থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে ডারবান বন্দরে গিয়ে বাংলাদেশি পণ্য খালাস করা হয়।
তৈরি পোশাক ও নিট পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্য হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্যতম রপ্তানিযোগ্য পণ্য। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা যে পরিমাণ পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি করে, তার বড় অংশই আসে ভারত থেকে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ২২ থেকে ২৫ লাখ ডলারের সমপরিমাণ পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।
ফজলুল হক আরও বলেন, শুল্কহার কমানোর বিষয়ে তাঁরা দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সরকারি পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে।
বিকেএমইএর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়টিও অবহিত করা হয়।

আজ আবার শেয়ারবাজারে দরপতন



এক দিনের ব্যবধানে ঢাকা শেয়ারবাজারে আজ বুধবার দরপতন হয়েছে। শুরুতে লেনদেন চাঙা থাকলেও ধীরে ধীরে তা নিম্নমুখী হয়ে যায়। দিনশেষে সাধারণ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬১৮৭ পয়েন্টে। আজ বাজারে মোট এক হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এতে মোট ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৬টির, কমেছে ১৩৫টির। সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
আজ লেনদেনের শীর্ষে থাকা পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো বেক্সিমকো, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, তিতাস গ্যাস ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক।
শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রেকিট বেনকিসার বাংলাদেশ, ইমাম বাটন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস।
দাম কমায় শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নাভানা সিএনজি লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, কোহিনুর কেমিক্যালস, রহিমা ফুড ও সামতা লেদার।

ওয়েসিস-ভক্ত মেসি

ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ব্যান্ড ওয়েসিসে মুগ্ধ লিওনেল মেসি। ২০০৯ থেকেই ওয়েসিসের দুই প্রাণ—নোয়েল ও লিয়াম ভ্রাতৃদ্বয়ের মধ্যে বনিবনা নেই মোটেও। দলটাও ভেঙে গেছে সেই কারণেই। মেসির আশা, এই দুই ভাই আবার একসঙ্গে হবেন, গান করবেন। মেসি শুধু নিজে নন, সতীর্থদেরও বানিয়ে ফেলেছেন ওয়েসিস-ভক্ত। ওয়েসিসের কনসার্ট দেখার জন্য একবার তো ম্যানচেস্টারেও উড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। ওয়েসিস ভেঙে যাওয়ায় সেটা আর হয়নি। মেসি তাই সতীর্থদের কাছে নতুন প্রস্তাব রেখেছেন—আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে সেলিব্রেশন পার্টিতে ওয়েসিস ব্যান্ডকে চাই-ই চাই। সতীর্থরাও একবাক্যে রাজি। এখন শুধু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষা!

উসকানি দেননি জিদান

২০০৬ বিশ্বকাপে তাঁরা ছিলেন কোচ-অধিনায়ক। কিন্তু রেমন্ড ডমেনেখের সঙ্গে জিনেদিন জিদানের সুসম্পর্কের কথা শোনা যায়নি। বরং সংবাদমাধ্যমের খবর ছিল, দুজনে রীতিমতো গন্ডগোলই চলছে। এক ম্যাচে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার পর ক্যামেরার সামনেই যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, তাতে গুজবটাকে সত্যিই মনে হচ্ছিল।
সে সময়ই ডমেনেখ বারবার বলেছেন, জিদানের সঙ্গে তাঁর কোনো গোলমাল নেই। কিন্তু এত দিন পর আবার সংবাদমাধ্যমে ফিরে আসছে জিদান-ডমেনেখ সম্পর্কের কথা। ফরাসি কিংবদন্তি নিজেই সম্প্রতি ডমেনেখকে ‘কোনো কোচই না’ বলে বিতর্কটা আবার সামনে নিয়ে এসেছেন।
অনেক পত্রিকার ভাষ্য, ডমেনেখের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক বিদ্রোহে উসকানি দিয়েছেন আসলে জিদানই। ডমেনেখকে তিনি পছন্দ করেন না, এটা জানিয়ে দিয়েই বিস্মিত জিদান বলছেন, ‘অবসরে যাওয়ার চার বছর পর আমি খেলোয়াড়দের বলব, কোচের ওপর চাপ সৃষ্টি করো; এটা ভাই তো বিপজ্জনক। আমার ডমেনেখের সঙ্গে কখনোই কোনো সমস্যা ছিল না। হ্যাঁ, তাঁকে আমি পছন্দ করতাম না। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করতাম। অধিনায়ক হিসেবে আমি তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতাম। কিন্তু তিনিই কোচ ছিলেন, ফলে তাঁর সিদ্ধান্তকে আমি মেনে নিতাম।’
জিদান যে এই বিদ্রোহে উসকানি দেননি, তার স্বপক্ষে বলছেন, ‘খেলোয়াড়েরা যে অনুশীলন করেনি, সেটা আমি সমর্থন করি ন। আগেই এক সাংবাদিককে আমি বলেছি, এই বিশ্বকাপের দুটো জিনিস মানুষ মনে রাখবে—বিজয়ীকে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার আগে অনুশীলন বর্জন করা ফ্রান্স দলকে।’
এমনি দলে কে থাকবে না থাকবে, এসব বিষয় নিয়ে খেলোয়াড়দের মাথা ঘামানোও উচিত নয় বলে মনে করছেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

কেচাপের মতোই

বিশ্বকাপে গোল-খরা নিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণের আক্ষেপ কোনোভাবে পর্তুগিজদের কাছে পৌঁছে থাকবে! এক ম্যাচেই ৭ গোল করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরা তাই কবির দুঃখ ঘুচিয়ে দিয়েছেন। তবে নির্মলেন্দু গুণ এতে আরও বেশি দুঃখ পেলেন কি না, কে জানে!
তার আগে চাই সমাজতন্ত্র বলে যাঁর কবিতার বই আছে, সমাজতন্ত্রের ঝান্ডা তুলে ধরে থাকা উত্তর কোরিয়ার এই নিগ্রহ তাঁকে কষ্টই দেওয়ার কথা।
সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস থাকুক না-থাকুক, উত্তর কোরিয়ানদের জন্য যে কারোরই মায়া হবে। ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপে গিয়ে প্রথম ম্যাচে প্রবল প্রতাপান্বিত ব্রাজিলকে ৫৫ মিনিট পর্যন্ত গোল-বঞ্চিত রাখার পর ১-২ গোলে হেরে যে সমীহটা অর্জিত হয়েছিল, তা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে পর্তুগিজ গোল-বন্যা। এই ম্যাচেও তো ৫৩ মিনিট পর্যন্ত মাত্র এক গোল। অথচ এরপর কঠিন হয়ে গেল গোলের হিসাব রাখাই!
এই বিশ্বকাপে রাত সাড়ে ১২টার খেলাটাই শুধু শান্তিমতো দেখতে পারছি। বাকি ম্যাচগুলো দেখতে হচ্ছে কাজের ফাঁকে ফাঁকে অথবা কাজ করতে করতে। গত পরশু ১-০ দেখে টিভির সামনে থেকে একটু সরেছি, ফিরে দুই চোখ বস্ফািরিত—৪-০! দেখতে না-দেখতেই ৫-০, ৬-০...। আর দেখার আগ্রহ থাকল না। মনে পড়ে গেল ফরাসি সাংবাদিক এমানুয়েল গাম্বারডেলার সেই অমর বাণী। ১৯৩৮ বিশ্বকাপে কিউবাকে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল সুইডেন। ৫-০ হওয়ার পর প্রেসবক্সে টাইপরাইটার বন্ধ করে দিয়ে গাম্বারডেল ঘোষণা করেন, ‘৫ গোল পর্যন্ত এটা সাংবাদিকতার বিষয়। এরপর নিছক পরিসংখ্যান।’
তা এমন ‘পরিসংখ্যানের ম্যাচ’ বিশ্বকাপ খুব কম দেখেনি। কমপক্ষে ৭ গোলের ব্যবধানে জয়ের সংখ্যা গত পরশু দুই অঙ্কে নিয়ে গেল পর্তুগাল। এই সব কটি ম্যাচের গল্পই এমন একতরফা যে, মাত্র একটিতেই পরাজিত দলের কোনো গোল ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
পরিহাসই বলতে হবে, সেটি যারা দিয়েছে, বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের লজ্জাটিও সেই এল সালভাদরের। ১৯৮২ বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ১০-১ গোলে হার। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে এল সালভাদরের একমাত্র গোলটি ৫ গোল খাওয়ার পর। গোলদাতা রামিরেজের বাঁধনছেঁড়া উল্লাসই এল সালভাদরের চূড়ান্ত সর্বনাশটা করেছিল। ‘৫ গোল খাওয়ার পর একটা দিয়েই মনে হয় বিশ্বকাপ জিতে ফেলেছিস’—হাঙ্গেরিয়ানরা প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিল। ৬৯ থেকে ৮৩—১৪ মিনিটের মধ্যে আরও পাঁচ গোল ‘উপহার’ দিয়ে মিটিয়েছিল সেই রাগ। ওই পাঁচ গোলের তিনটিই বদলি হিসেবে নামা লাসলো কিসের। বিশ্বকাপে কোনো বদলি খেলোয়াড়ের তিন গোল করার একমাত্র ঘটনা হয়ে আছে এটি।
নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে হাঙ্গেরির প্রথম ও শেষ গোলটি করেছিলেন অধিনায়ক টিবর নিলাসি। এল সালভাদরের খেলোয়াড়দের চেয়েও যেন বেশি বিস্মিত হয়েছিলেন তিনি, ‘এটা অবিশ্বাস্য! ওদের সঙ্গে আরও এক শ বার খেললেও হয়তো আমরা আরেকবার ১০ গোল করতে পারব না।’ ১০-১ যা বলে, এল সালভাদর যে ততটা খারাপ দল নয়—সেটি বোঝানোও দায়িত্ব বলে মনে করেছিলেন নিলাসি। পরের দুই ম্যাচে তা প্রমাণিতও হয়েছিল। বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাত্র এক গোল খেয়েছিল এল সালভাদর। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুটি।
তবে বয়েই গেছে তাতে, এল সালভাদরকে তো বিশ্বকাপ মনে রেখেছে শুধু ওই ১০-১-এর কারণেই। গৃহযুদ্ধের আগুনে পুড়তে থাকা দেশটির ওই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠাটাই ছিল এক বিস্ময়। হাঙ্গেরির কাছে অমন অপদস্থ হওয়ার পর হয়তো ওদের মনে হয়েছিল, বিশ্বকাপে না এলেই ভালো হতো! এল সালভাদর দল যে হোটেলে ছিল, ওই ম্যাচের পরদিন সে হোটেলের ওয়েটাররা পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসে ছিল—বিশ্বকাপ খেলতে এসেছ, আগে আমাদের হারাও তো দেখি! সেই ম্যাচে কী হয়েছিল, কৌতূহল হচ্ছে? না, না, আপনি যা ভাবছেন তা নয়। সে ম্যাচে এল সালভাদর জিতেছিল।
কদিন আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো খুব মজার একটা কথা বলেছেন। কোন গ্রেট নাকি তাঁকে বলেছেন, ‘গোল হলো কেচাপের মতো। বোতল থেকে বেরোতে চায় না, কিন্তু যখন বেরোতে শুরু করে, বেরোতেই থাকে।’ কথাটা খুব সত্যি। গোল যখন হয় না, হয়ই না। আর যখন হতে থাকে, হতেই থাকে। বিশ্বকাপে বড় ব্যবধানে জয়ের ম্যাচগুলোই এর বড় প্রমাণ। পর্তুগাল-উত্তর কোরিয়ার ম্যাচটিই যেমন ৫৩ মিনিট পর্যন্ত ছিল ১-০। হাঙ্গেরি-এল সালভাদর ১০-১ ম্যাচটির প্রথম ৫০ মিনিটে গোল হয়েছিল মাত্র ৩টি।
গোল তাহলে আসলেই কেচাপের মতো!

বিশ্বকাপ কুইজে বিজয়ী যারা

বিশ্বকাপজুড়ে প্রথম আলো পাঠকদের জন্য নানা মাত্রিক কুইজের আয়োজন করছে। যে দিন খেলা, সে দিনই পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকছে ২৮ জেলার প্রথম আলোর কার্যালয়ে। সাত বিভাগীয় শহরেও আছে প্রতিদিনকার আলাদা আয়োজন। সারা দেশের পাঠকেরা অংশ নিতে পারেন এসএমএস কুইজে। থাকছে সাপ্তাহিক, পর্বভিত্তিক ও অনলাইন কুইজ। মাসজুড়ে ১২টি কুইজে অংশ নিয়ে বিশ্বকাপ শেষে থাকছে মেগা পুরস্কার জিতে নেওয়ার সুযোগ। প্রথম আলোর এই কুইজ আয়োজনের দশম দিনের কুইজের ফলাফল ছাপা হলো আজ।

এসার-প্রথম আলো বিশ্বকাপ এসএমএস কুইজ
এসার-প্রথম আলো বিশ্বকাপ কুইজে প্রতিদিনের ল্যাপটপ পুরস্কারের দশম দিনের বিজয়ী ঢাকা ঝিগাতলার সানজিদা হক রীমা। ২১ জুন প্রথম আলো কার্যালয়ে ২০ জুনের কুপনের ড্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের কৃতী ফুটবলার মো. শাহাজউদ্দীন টিপু। তিনি ফোন করে বিজয়ীকে লটারি জেতার সুখবরটি জানান।

নাভানা ইন্টারলিংকস প্রথম আলো ফুটবল কুইজ
নাভানা ইন্টারলিংকস প্রথম আলো ফুটবল কুইজে এসএসএস করে লটারির মাধ্যমে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ফুটবল ‘জাবুলানি ফুটবল’ জিতে নিয়েছেন রাজশাহীর মো. আদিল হোসেন।

ট্রান্সটেক-প্রথম আলো বিশ্বকাপ কুইজ
২০ জুনের কুপনগুলোর ড্র হয় ২১ জুন। সেদিনের বিজয়ীদের তালিকা ও সাত বিভাগীয় শহরে প্রথম আলোর কার্যালয়ে ড্র অনুষ্ঠানের খবর নিচে দেওয়া হলো। পুরস্কার সংগ্রহের জন্য প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
ঢাকা: রনি, মিরপুর ১১।
চট্টগ্রাম: নাজমুন নাহার, পূর্ব ষোলশহর।
খুলনা: সাহিনা আক্তার, হাউজিং, খালিশপুর।
বরিশাল: মো. রিপন হোসেন, শায়েস্তাবাদ।
রাজশাহী: শেখ মোহাম্মদ আলী, রাজশাহী কলেজ হোস্টেল।
সিলেট: সমীরন চন্দ্র চন্দ, ছড়ারপার।
রংপুর: নিবিড়, মুন্সিপাড়া।

এসকেএফ-প্রথম আলো প্রতিদিনের কুইজ
২০ জুনের কুপনগুলোর ড্র হয় ২১ জুন। সেদিনের বিজয়ীদের তালিকা ও ২৮ জেলা শহরে প্রথম আলো কার্যালয়ে ড্র অনুষ্ঠানের খবর নিচে দেওয়া হলো। এই তালিকার সব বিজয়ীকে পুরস্কার সংগ্রহের জন্য প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
ঢাকা: প্রথম: সুশান্ত সিংহ, শাহবাগ; দ্বিতীয়: শাহিন, ২০৯ মিরপুর; তৃতীয়: ওবায়দুল হক সবুজ, ২৪/এ শেরশাহ সুরী রোড, মোহাম্মদপুর এবং চতুর্থ: মো. ইলিয়াছ খান, ফকিরাপুল।
চট্টগ্রাম: প্রথম: আবু জাহেদ, রাঙ্গুনিয়া; দ্বিতীয়: আরশাদ মোমেন খান, ৫১ ঘাটফরহাদবেগ; তৃতীয়: অভিজিৎ চক্রবর্ত্তী, ২৪৫ ঘাটফরহাদবেগ এবং চতুর্থ: মহিউদ্দিন আহমেদ, ৮৪ এস এস খালেদ রোড।
খুলনা: প্রথম: কাকলী, দৌলতপুর; দ্বিতীয়: মনিকা মৃধা, হাজী মহসীন রোড; তৃতীয়: সাইদুল্লাহ ৩২, খান এ সবুর রোড এবং চতুর্থ: জয়নাব, খালিশপুর। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় বিরেন দাস বীরু।
বরিশাল: প্রথম: এস এম নূরে আলম সিদ্দিক, কলেজ এভিনিউ; দ্বিতীয়: আ জ ম কামরুল হোসেন, বিএম কলেজ; তৃতীয়: মুহিম, অক্সফোর্ড মিশন রোড এবং চতুর্থ: মো. আরিফুর রহমান, করিম কুটির।
রাজশাহী: প্রথম: মিজানুর রহমান, লক্ষ্মীপুর; দ্বিতীয়: মাসুদ, সিঙ্গার প্লাস রেল মার্কেট; তৃতীয়: শাওন, লক্ষ্মীপুর এবং চতুর্থ: নূর উর রশিদ খান, সাধুর মোড় । ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট।
সিলেট: প্রথম: মোস্তাহিদ আলম, মেডিকেল রোড; দ্বিতীয়: তরুণ সিংহ, জিন্দাবাজার; তৃতীয়: নিধিরঞ্জন দাস, শিববাড়ী এবং চতুর্থ: সুধারঞ্জন দাস, শিববাড়ী । ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি সৈয়দ মনির হেলাল।
রংপুর: প্রথম: মারুফা রহমান ইমা, মুন্সিপাড়া; দ্বিতীয়: মো. শাহান, পত্রিকা বিপণি; তৃতীয়: উৎস, কাচারিবাজার এবং চতুর্থ: মোরশেদ উদ্দিন মৃদুল, লালকুঠি লেন। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কৃতী খেলোয়াড় আফজাল টিটু ও এ কে এম ফরিদ।
দিনাজপুর: প্রথম: মো. রিয়াজ হোসেন, নিউ হোটেল; দ্বিতীয়: ডন চৌধুরী, মুন্সিপাড়া; তৃতীয়: অবদান টেলিকম, সুইহারী এবং চতুর্থ: আদনান ফাইয়াজ, ঈদগা আবাসিক এলাকা।
ময়মনসিংহ: প্রথম: মো. রুবেল, চৌধুরী, প্যারাডাইস কেব্লস; দ্বিতীয়: মো. মুসা, জিলা স্কুল রোড; তৃতীয়: মো. মহিউদ্দিন আহাম্মেদ, তারাকান্দা এবং চতুর্থ: মো. আসাদুজ্জামান, নওমহল। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম শ্রেণীর ফুটবল রেফারি মো. বুরহান উদ্দিন।
যশোর: প্রথম: মঈনুল ইসলাম, ২৭ মুজিব সড়ক; দ্বিতীয়: বাপ্পি ঘোষ, রবীন্দ্রনাথ সড়ক; তৃতীয়: আকাশ বিশ্বাস, বেজপাড়া এবং চতুর্থ: দেলোয়ার হোসেন দিলশান, ষষ্ঠিতলা। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিবর্তন যশোরের সভাপতি বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সানোয়ার আলম খান।
ফরিদপুর: প্রথম: মো. রাশেদুল হাসান, ১/১৮ ঝিলটুলী; দ্বিতীয়: কৌশিক বিশ্বাস, ২ নম্বর হাবেলী গোপালপুর; তৃতীয়: মো. জাহিদুল ইসলাম, সালথা এবং চতুর্থ: কুশ সেন, মধুখালী। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবলের সাবেক খেলোয়াড় নৃপেন্দ্র নাথ রায়।
কুমিল্লা: প্রথম: নাবিলা আক্তার, চান্দিনা; দ্বিতীয়: শামীম ইকবাল, ১১৬, বজ্রপুর; তৃতীয়: সাইফুল, কান্দিরপাড় এবং চতুর্থ: ফেরদৌস আমিন, দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসিড-সন্ত্রাস নির্মূল কমিটি কুমিল্লার সভাপতি ও বিশিষ্ট নারীনেত্রী দিলনাশি মোহসেন।
পাবনা: প্রথম: রাজ পোদ্দার, পাথরতলা; দ্বিতীয়: কাজী পরিচয়, শান্তিনগর; তৃতীয়: দিবাকর চক্রবর্তী, দিলালপুর এবং চতুর্থ: শুভ রায়, দিলালপুর। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক ফুটবলার।
বগুড়া: প্রথম: রুবেল হোসেন, নামুজা; দ্বিতীয়: গোলাম সিদ্দিকুর রহমান, খান্দার; তৃতীয়: এরশাদ আলম, ভাই পাগলা মাজার এবং চতুর্থ: সেজান মাহমুদ, আটাপাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ খেলোয়াড় ও কোচ ফজলুল হক মুরাদ।
কক্সবাজার: প্রথম: মোস্তফা কামাল, শেখ রাসেল সড়ক; দ্বিতীয়: স্নেহা নন্দী, উত্তর বাহারছড়া; তৃতীয়: অরিন্দম বড়ুয়া উৎস, অ্যান্ডারসন সড়ক এবং চতুর্থ: নাজমুল হাসান, সদর। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ফুটবল খেলোয়াড় নুরুল আবছার।
রাঙামাটি: প্রথম: প্রিয় লাল চাকমা, রাজবাড়ী সড়ক; দ্বিতীয়: বিটু চাকমা, পশ্চিম ট্রাইবেল আদাম; তৃতীয়: চন্দ্র বিকাশ চাকমা, চক্রপাড়া এবং চতুর্থ: ত্রিজীবন চাকমা, পাবলিক হেলথ। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মো. আতাউর রহমান দীপু।
নোয়াখালী: প্রথম: তাছলিম আহমেদ, দত্তেরহাট; দ্বিতীয়: মো. খুরশিদ আলম, বেগমগঞ্জ; তৃতীয়: নুর মহাম্মদ, মাইজদী এবং চতুর্থ: শাহদাত হোসেন, মাইজদী। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত।
ফেনী: প্রথম: জালাল আহম্মদ লিটন, ট্রাংক রোড; দ্বিতীয়: মাজেদুল হক মিশাল, বিমানবন্দর সড়ক; তৃতীয়: মহারাজ চন্দ্র দাস, ট্রাংক রোড এবং চতুর্থ: সাদিয়া আলম, এসএসকে রোড। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফেনী সকার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. গোলাম রাব্বানী এবং ফেনী থিয়েটারের সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী কাজী ইকবাল আহমেদ পরান।
কুষ্টিয়া: প্রথম: মুরতোজা কামাল, আমলাপাড়া; দ্বিতীয়: লিয়াকত আলী, নাহার মঞ্জিল; তৃতীয়: যোয়াকীম সৌরভ হালদার, পশ্চিম মজমপুর এবং চতুর্থ: তোছাদ্দেক হোসেন, অগ্রণী ব্যাংক। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্লাব উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুর রহমান।
কিশোরগঞ্জ: প্রথম: মো. মাজহারুল হক; দ্বিতীয়: সাদিনা আক্তার; তৃতীয়: মো. তাজউদ্দিন আহমেদ বকুল এবং চতুর্থ: আসাদুল হাসান আসাদ। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল পরিষদের সদস্য ইয়াহিয়া ভূঁইয়া।
কুড়িগ্রাম: প্রথম: তানভিরুল ইসলাম, থানা পাড়া রোড; দ্বিতীয়: স্বর্ণা, সবুজ পাড়া; তৃতীয়: মো. আব্দুর রউফ, কামাত আঙ্গারীয়া ভূরুঙ্গামারী এবং চতুর্থ: আব্দুল্লাহ আল সাঈফ, পুরাতন থানা পাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ইসমাঈল হোনেস।
সিরাজগঞ্জ: প্রথম: জনি, ভাঙ্গাবড়ী; দ্বিতীয়: প্রিন্স, মাসুমপুর; তৃতীয়: ইমরান, বাহির গোলা এবং চতুর্থ: নাসরিন সুলতানা। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ ভাসানী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. জহুরুল ইসলাম।
বরগুনা: প্রথম: এনায়েত হোসেন, কলেজ রোড; দ্বিতীয়: মিঠু, সিনেমা হল রোড; তৃতীয়: আরিফ হোসেন, পশ্চিম বরগুনা এবং চতুর্থ: মনি আকতার, কলেজিয়েট স্কুল। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত বরগুনার সংবাদপত্র এজেন্ট শাপলা নিউজ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী খাইরুল আলম।
ভৈরব: প্রথম: আবুল, হাসপাতাল সড়ক; দ্বিতীয়: বাহার মিয়া, ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া; তৃতীয়: জুম্মান, কালিপুর দক্ষিণপাড়া এবং চতুর্থ: পবিত্র, পলতাকান্দা। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. সায়দুল্লাহ মিয়া ও নিরাপদ সড়ক চাই ভৈরব শাখার সভাপতি এসএম বাকী বিল্লাহ।
পটুয়াখালী: প্রথম: অরুণ রায়, শেরেবাংলা রোড; দ্বিতীয়: আলমগীর, নতুন বাজার; তৃতীয়: বিকাশ সরকার, চরপাড়া এবং চতুর্থ: শেখ মানিক, চকবাজার। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী একেএম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক অশোক দাস।
টাঙ্গাইল: প্রথম: রিপন মাহসুদ, করটিয়া; দ্বিতীয়: বিশ্বাস বেতকার সম্পা; তৃতীয়: নাজমুস সাকিব দীয়া এবং চতুর্থ: হূদিতা, আকুরটাকুর পাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার ওবায়দুর রহমান খান।
সাতক্ষীরা: প্রথম: অভিষেক দাস, মুনজিতপুর; দ্বিতীয়: মুহা. আসাদ, মধুমোল্যার ডাঙ্গী; তৃতীয়: ওবায়দুল্যাহ, সুলতানপুর এবং চতুর্থ: কাজী আরিফুল, কাছারিপাড়া। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক ফুটবলার জিয়াউল হক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: প্রথম: মতিউর রহমান, নিউমার্কেট; দ্বিতীয়: ফয়সাল, রেহাইচর; তৃতীয়: মাইসা ইসলাম, পাঠানপাড়া এবং চতুর্থ: বাইরুন নাহার ববি, পুরাতন সিঅ্যান্ডবি ঘাট। ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফুটবলার ইসরাইল সেন্টু।

উসমানের ইতিহাস

১৮৭৭-এ ইতিহাসের প্রথম টেস্ট থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৭২১টি টেস্টে ৪১৩ জন ক্রিকেটার খেললেও টেস্ট স্কোয়াডে কখনোই ডাক পাননি কোনো মুসলমান ক্রিকেটার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া গতকাল যে ১৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে, তাতেই প্রথমবারের মতো ঘটল ঘটনাটা। ওপেনার ফিলিপ হিউজের ইনজুরির সুযোগে দলে সুযোগ পেলেন উসমান খাজা।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটে রানের বন্যা বইয়েই দলে এসেছেন ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান উসমান। তাঁকে দলে নেওয়ার পেছনে প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচের ব্যাখ্যা, ‘উইট-বিক্স শেফিল্ড শিল্ডে ভালো পারফরম্যান্সের কারণেই উসমানকে দলে নেওয়া হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো পজিশনেই ব্যাট করার যোগ্যতা প্রমাণ করেছে সে।’ অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে নতুন মুখ আরও একটি—একটি ওয়ানডে ও ১২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা স্পিনার স্টিভেন স্মিথ। ইনজুরি মুক্ত হয়ে ফিরেছেন ফাস্ট বোলার মিচেল জনসন ও উইকেটকিপার ব্র্যাড হাডিন।
অস্ট্রেলিয়া দল
রিকি পন্টিং (অধিনায়ক), মাইকেল ক্লার্ক (সহ-অধিনায়ক), বলিঞ্জার, ব্র্যাড হাডিন, রায়ান হ্যারিস, নাথান হরিজ, বেন হিলফেনহস, মাইক হাসি, মিচেল জনসন, সাইমন ক্যাটিচ, উসমান খাজা, মার্কাস নর্থ, স্টিভেন স্মিথ ও শেন ওয়াটসন।

কুইন্স ব্যাটন রিলে

আগামী ৩-১৪ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ গেমস সামনে রেখে কাল কুইন্স ব্যাটন রিলে হলো ঢাকায়। চার বছর পরপর কমনওয়েলথ গেমসের আগে এই রিলে হয়। ৬৮টি দেশ ঘুরে এই ব্যাটন এসেছে ঢাকায়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ব্যাটন গ্রহণ করেন স্পিকার আবদুল হামিদ। একই দিনে ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে উদ্যাপিত হয়েছে অলিম্পিক ডে রান।

অঁরিই বিদ্রোহের ‘মূল হোতা’

ফ্রান্সকে তিনি বিশ্বকাপে নিয়ে এসেছেন মহা বিতর্কের মধ্য দিয়ে। থিয়েরি অঁরি, বাছাইপর্বের প্লে অফে তাঁর সেই হ্যান্ডবল না হলে ফ্রান্সের বিশ্বকাপেই খেলা হতো না। কাল রাতেই সেই ফ্রান্সের কপালে ভাগ্যের সিল পড়ে গেছে। অনিবার্য বিদায় কি এড়াতে পেরেছে ফ্রান্স? না পারারই কথা। ফ্রান্সকে বিশ্বকাপে নিয়ে আসতে রীতিমতো ‘ভিলেন’ বনে গিয়েছিলেন যিনি, সেই অঁরি আবারও হয়তো কাঠগড়াতেই উঠতে চলেছেন। দ্য সান-এর খবর, ফ্রান্স দলে বিদ্রোহের মূল হোতা এই অঁরিই!
সূত্রপাত আনেলকার বহিষ্কার নিয়ে। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলোয়াড়েরা একদিন অনুশীলনও বয়কট করেছেন। শোনা যাচ্ছে, আনেলকার ঘনিষ্ঠ বন্ধু অঁরিই নাকি খেলোয়াড়দের উসকে দিয়ে ওই বিদ্রোহ ঘটিয়েছেন। অঁরির সঙ্গে ছিলেন উইলিয়াম গালাস আর এরিক আবিদাল।
ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তা অঁরি মঁতিল বলেছেন, ‘তিন থেকে চারজন ছিল নেতৃত্বে, তারাই পুরো দলকে উসকে দিয়েছে। বাকিরা তো বয়সে তরুণ। তারাই নেতৃত্ব দিয়েছে, যাদের আরেকটি বিশ্বকাপ খেলার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারা? উইলিয়াম গালাস, এরিক আবিদাল আর অঁরি, যারা আনেলকার বন্ধু।’
এই বিদ্রোহে খেলোয়াড়েরা কিন্তু কারোরই সমর্থন পাননি। জিনেদিন জিদানের মতো সাবেক ফুটবলাররা তো বটেই, দেশের সংবাদমাধ্যমও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। এবার খোদ দেশটির রাষ্ট্রপতি নিকোলা সারকোজিও মুখ খুলেছেন। বিশ্বকাপের পর পুরো ঘটনা নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী রোজেলিন বাশেলটও ঝাঁঝালো মন্তব্য করেছেন, ‘আমি খেলোয়াড়দের বলেই দিয়েছি, ওরা ফ্রান্সের ভাবমূর্তি ধ্বংস করে দিল।’
ফ্রান্স দলটি হারিয়ে ফেলছে স্পনসরদের সমর্থনও। বাজে পারফরম্যান্সের সঙ্গে নেতিবাচক এসব ঘটনা মিলে এই দলটার ভাবমূর্তি, জনপ্রিয়তা কোনোটাই নেই ফ্রান্সে। আর তাই স্পনসররা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে খবর। এরই মধ্যে শীর্ষস্থানীয় একটি স্পনসর প্রতিষ্ঠান তাদের চুক্তি বাতিল করেছে। ফ্রান্সের জার্সি ও অনুশীলন সরঞ্জামে ওই প্রতিষ্ঠানের লোগো তাই দেখা যাচ্ছে না। টিভি বিজ্ঞাপনও বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ রকমই যে হবে কোচ রেমন্ড ডমেনেখ আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। আর তাই সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের আচমকা বয়কটের সিদ্ধান্তকে তিনি বলছেন, ‘নির্বুদ্ধিতা’। আনেলকাকে বয়কটের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সমর্থন করেছেন কোচ। ওই সংবাদ সম্মেলনে ডমেনেখের পাশে ছিলেন না অধিনায়ক প্যাট্রিস এভরা।

বিতর্ক দিয়েই শেষ ডমেনেখের

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে পুরো সময়টা জুড়েই বিতর্কের সঙ্গে ছিল নিত্য বসবাস। রেমন্ড ডমেনেখ শেষটাও করলেন নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়ে। খেলা শেষে তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা কোচ কার্লোস আলবার্তো পাহেইরা। কিন্তু হাত মেলাননি ডমেনেখ। কারণ ভেবে অবাক হতে পারেন, পাহেইরার সঙ্গে তাঁর ঝামেলার কোনো খবর তো সম্প্রতি পাওয়া যায়নি!
‘এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই’—হাত মেলানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডমেনেখের উত্তর। বারবার চেষ্টা করেও ডমেনেখের মুখ থেকে কারণটা বের করা যায়নি। তবে কারণ জানা গেছে পাহেইরার মুখে, ‘আমার মনে হয়, বাছাইপর্বের প্লে-অফে ফ্রান্সের জয় নিয়ে সমালোচনা করেছিলাম বলে সে এমন করেছে। তার সহকারী আমাকে এমনই বলল। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম, এসব আমার মনে থাকে না।’
হাত না মেলালেও ম্যাচ শেষে দুই কোচের প্রতিক্রিয়া কিন্তু প্রায় একই রকম। বাদ পড়ে দুজনই হতাশ কিন্তু কালকের ম্যাচ নিয়ে খুশি দুদলই। পরাজয়েও ডমেনেখ খুশি দল তাঁর চাওয়া মতো খেলেছে বলে, ‘আর সবার মতো আমিও হতাশ, কষ্ট পাচ্ছি। তবে আজ (কাল) ছেলেরা হূদয় দিয়ে খেলেছে, দারুণ লড়াই করেছে, স্পিরিট ছিল দুর্দান্ত। ওদের কাছে আমি এটাই চাইছিলাম।’ র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭৪ ধাপ পেছনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াই করতে পেরেই সন্তুষ্ট কোচ, এই বিশ্বকাপের ফ্রান্সকে বোঝাতে এটুকুই যথেষ্ট।
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ছয় বছরের ক্যারিয়ারের শেষ দিনটিতে ডমেনেখ জানালেন দলের জন্য তাঁর আবেগ কতটা, ‘আমি ফ্রান্স দলকে ভালোবাসি, এই ভালোবাসা কখনোই মরবে না, সব সময়ই থাকবে। এই দলটা খুব সম্ভাবনাময়, সফল হওয়ার সব সম্ভাবনাই দলটার আছে। আমার উত্তরসূরির জন্য শুভ কামনা থাকল।’
বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোচ পাহেইরা সান্ত্বনা পাচ্ছেন কালকের জয়ে, ‘আমি ছেলেদের নিয়ে গর্বিত, ওরা দেশকে গর্বিত করেছে। এই দল দেখিয়েছে যে তারা উন্নতি করছে।’ বাদ পড়ার লজ্জা নয়, বরং পুরো দক্ষিণ আফ্রিকাতেও কাল ছিল ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের উল্লাস। সমর্থকেরা নেচে-গেয়ে উৎসব করেছে সারা দেশেই। মেক্সিকোর সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে স্বাগতিকেরা বাদ পড়েছে গোল পার্থক্যে।
উরুগুয়ের কাছে হেরেও শেষ ষোলোয় জায়গা পেয়েছে মেক্সিকো। দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। কোচ অস্কার তাবারেজ তাই বুঝতে পারছেন করণীয়, ‘আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, আমাদের পারফরম্যান্স আমাদের হাতেই। আমাদের তাই গুছিয়ে উঠতে হবে, ফ্রান্সের বিপক্ষে যেমন খেলেছিলাম, তেমন খেলতে হবে।’ গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল মেক্সিকো।
অন্যদিকে গ্রুপ শীর্ষে শেষ করে আর্জেন্টিনাকে এড়ানোর ক্ষেত্র তৈরি করেছে উরুগুয়ে। দলের সবচেয়ে বড় তারকা ডিয়েগো ফোরলান তাই বলেছেন, ‘গ্রুপের শীর্ষে থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা ভাগ্যবান, আজ (কাল) আমরা জিতেছি।’ এএফপি।
‘এ’ গ্রুপ
খেলা জয় ড্র হার গোল পয়েন্ট
উরুগুয়ে ৩ ২ ১ ০ ৪/০ ৭
মেক্সিকো ৩ ১ ১ ১ ৩/২ ৪
দক্ষিণ আফ্রিকা ৩ ১ ১ ১ ৩/৫ ৪
ফ্রান্স ৩ ০ ১ ২ ১/৪ ১

ইতালি জার্মানি ইংল্যান্ড দ্বিতীয় রাউন্ডে যাচ্ছে তো



উত্তর কোরিয়াকে ৭-০ গোলে হারাল পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে একপর্যায়ে উত্তর কোরিয়া সাত মিনিটে তিন গোল খেল। গ্যালারিতে বসা ছিলেন পর্তুগালের ফুটবল লিজেন্ড মোজাম্বিকে জন্মগ্রহণকারী ইউসেবিও। পর্তুগালের যখন পাঁচ গোল হলো, তখন তিনি হাত নেড়ে মাঠের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানালেন। কারণ হলো, চুয়াল্লিশ বছর আগে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এসে উত্তর কোরিয়া ফুটবলের পরাশক্তি ইতালিকে ১-০ গোলে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের বিরুদ্ধে প্রথম ২২ মিনিটে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়। তারপর শুরু হয় ইউসেবিওর ম্যাজিক। একে একে তিনি চার গোল করলেন, আরেকজন করলেন বাকি গোলটি, পর্তুগাল জিতল ৫-৩-এ।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে হেরে সেবার (১৯৬৬) বিদায় নিতে হয়েছিল ইতালিকে। ম্যাজোলা, ফ্যাচেটি, বুলগেরিলির মতো শীর্ষ তারকারা দলে থাকলেও ইতালির ছিটকে পড়া ঠেকানো যায়নি। এর ষোলো বছর আগে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত খেলায় ইউএসএর হাতে ১-০ গোলে মার খেয়ে শিরোপাপ্রত্যাশী ‘তিন সিংহের’ ইংল্যান্ডকে বাড়ি ফিরতে হয়। ফেরার আগে অবশ্য তাদের স্পেনের কাছেও ১-০তে হারতে হয়।
১৯৬৬-এর বিশ্বকাপে ইতালির সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিলকেও প্রত্যাবর্তন করতে হয়। ১৯৯০ সালের ইতালির বিশ্বকাপে ম্যারাডোনাকে যেমন মেরে মেরে নুলো করে দিয়েছিল প্রতিপক্ষ দলগুলো, তেমনি ১৯৬৬তে পেলেকেও বুলগেরিয়া খোঁড়া বানিয়ে দেয়। আজকাল রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা স্ট্রাইকারদের গা ছুঁলেই যেমন রেফারির বাঁশি বেজে ওঠে, কার্ড দেখানো হয়, আগে তা ছিল না। ব্রাজিল এরপর হাঙ্গেরির কাছে ১-৩ গোলে হারে। সেবার চমৎকার একটি দল ছিল হাঙ্গেরি।
২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে পরাশক্তি ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনাকে ফেরার দরজা দেখতে হয় প্রথম রাউন্ড শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। বাতিস্তুতা আর আইমারসমৃদ্ধ আর্জেন্টিনা সেবার ফেবারিট দল। কিন্তু ও হরি! ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহামের হাতে পেনাল্টি খেয়ে তাদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে ওঠে। সুইডেনের সঙ্গে খেলাটিও ড্র হয়। আর্জেন্টিনার বিদায়। আর্জেন্টিনার চেয়েও খারাপ অবস্থা ছিল তখন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ শিরোপাধারী দল ফ্রান্সের। প্রথম খেলায় তারা নবাগত সেনেগালের কাছে ০-১ গোলে পরাভূত হয়। তার পরের খেলাটা উরুগুয়ের সঙ্গে হলো ০-০ ড্র। তৃতীয় খেলায় ডেনমার্কের কাছে ০-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তারাই হয়ে গেল একমাত্র শিরোপাধারী দল, যারা পরবর্তী বিশ্বকাপে কোনো গোল দেওয়া ছাড়া বিদায় নেয়। এবারও ফ্রান্স প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিল।
নড়বড়ে অবস্থা ইংল্যান্ডেরও। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অবস্থান ২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়। শীর্ষে আছে স্লোভেনিয়া চার এবং যুক্তরাষ্ট্র দুই পয়েন্ট নিয়ে। স্লোভেনিয়ার সঙ্গে হেরে গেলে ইংল্যান্ডের ১৯৫০-এর দলের মতো ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন হতে হবে, ড্র করলেও তা হবে নিতান্ত ঝুঁকির।
জার্মানি ‘ডি’ গ্রুপে তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়, শীর্ষে আছে চার পয়েন্ট নিয়ে ঘানা। গ্রুপের শেষ খেলায় ঘানার সঙ্গে জার্মানিকে জিততেই হবে, তা না হলে অস্ট্রেলিয়া বনাম সার্বিয়ার খেলার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে তাদের ভাগ্য। আর ইতালি ‘এফ’ গ্রুপে দুই পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে। শীর্ষে আছে প্যারাগুয়ে, যাদের সঙ্গে দ্বিতীয় অবস্থানের নিউজিল্যান্ড (দুই পয়েন্ট) গ্রুপের শেষ খেলায় পারবে বলে মনে হয় না। কিন্তু ইতালি স্লোভাকিয়ার সঙ্গে হয়তো পারবে, পারলে তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হবে।
ইতালির বিশ্বকাপ চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলাটা এ রকমেরই। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে কোনোমতে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেয়ে তারপর তারা স্বরূপে খেলে। এ রকম মাজাভাঙা খেলা খেলে ১৯৮২-এর স্পেনের বিশ্বকাপে গোল-গড়ে নবাগত ক্যামেরুনকে টপকে ইতালি শুধু দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়েছিল তা নয়, ফাইনালে জার্মানিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপাও জিতে নিয়েছিল।
এখন দেখা যাক, গ্রুপ পর্যায়ের তৃতীয় পর্বের খেলাগুলোতে শেষ পর্যন্ত কী হয়।

ফোরলানের গোলটিই এখন পর্যন্ত সেরা

বিশ্বকাপ জমে উঠছে। খুব সুন্দর কিছু গোল আপনারা দেখেছেন। সামনে আরও দেখবেন। কিন্তু প্রতি দলের দুটি করে খেলার পর কোন গোলটি সেরা?
আপনি হয়তো একটা গোলকে সেরা মানবেন, আরেকজন বলবেন অন্য একটিকে সেরা। কারও সঙ্গে কারও না-ও মিলতে পারে। তবে আমাকে যদি সেরা ৫টি গোল বেছে নিতে বলেন, আমি অতগুলোর কথা বলব না। সব খেলা তো আর দেখার সুযোগও হয় না। পরশু পর্যন্ত যতটুকু দেখেছি, তাতে আমি তিনটি সেরা গোলের কথা আপনাদের বলতে পারি। দেখুন তো আপনাদের সঙ্গে মিলে যায় কিনা!
তার আগে একটা সত্যি কথা বলি। প্রথম আলোর বিশ্বকাপ বিশেষ সংখ্যায় আমার লেখায় বলেছিলাম, এবার বিশ্বকাপের সেরা গোলদাতা হতে পারে স্পেনের ডেভিড ভিয়া। প্রথম ম্যাচে ভিয়া গোল করতে পারেনি। স্পেন তো হেরেই গেল। বিশ্বাস করুন, ভিয়াকে এগিয়ে রেখেছি বলেই কিনা এখন ভিয়ার পায়ে গোল দেখতে উন্মুখ আমি। পরশু রাতে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ওর দুটি গোল দেখে খুব ভালো লেগেছে।
ভিয়ার ওই দুটি গোলই আমি আমার সেরা তিনে রাখব। তবে ভাববেন না, ভিয়ার প্রতি আমার পক্ষপাত রয়েছে। এক নম্বরে অবশ্যই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উরুগুয়ের ডিয়েগো ফোরলানের গোলটি। প্রায় ২৫ মিটার দূর থেকে দারুণ এক শটে ওই গোল করেছে ফোরলান। এমন নয় যে দূর থেকে মেরে দিয়েছে আর সৌভাগ্যক্রমে গোল হয়ে গেছে। ফোরলানের খেলা আমি আগেও অনেক দেখেছি। সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকার সময় এভাবে দূরপাল্লার শটে গোল করেছে। পায়ে আছে কামানের গোলার মতো সব শট। এভাবে সে প্রায়ই দূর থেকে পোস্টে মারে।
ম্যানইউতে জায়গা করতে না পেরে ২০০৪ সালে প্রথমে গিয়েছে স্পেনের ভিয়ারিয়ালে, প্রথম মৌসুমেই ৩৮ ম্যাচে ২৫ গোল করে হয়েছিল স্প্যানিশ লিগে সেরা গোলদাতা। তারপর স্পেনেরই আরেক ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে গিয়েছে ২০০৭ সালে। এই ক্লাবের হয়েও ২০০৮-০৯ মৌসুমে স্প্যানিশ লিগের সেরা গোলদাতা ফোরলান (৩৩ ম্যাচে ৩২ গোল)। দূরপাল্লার শটে গোল করার অভ্যাস থাকায় ফোরলানের ওই গোল ‘কোনোভাবে’ হয়ে গেছে বলার উপায় নেই।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেরা হিসেবে ভিয়ার দুটি গোলই আমার মনে দাগ কেটেছে। প্রথম গোলটা এসেছে তিন-চারজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে। অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্য। অনেকে ভিয়ার এই গোলটিকে সেরা বলতে পারেন। আমার সেরা তিনের দ্বিতীয় গোল এটি।
প্রয়োজনের সময় দলকে গোল এনে দিয়েছে ভিয়া। স্পেন ভালো খেললেও গোল পাচ্ছিল না। দলে গোল করার মতো খেলোয়াড় আছে ৫-৬ জন। কিন্তু ভিয়া নিজের জাতটা চিনিয়ে দিয়েছে ওই গোল করে। এগুলো হলো জাত স্ট্রাইকারের গোল। ভিয়ার দ্বিতীয় গোলটা হয়েছে দূর থেকে মারা দারুণ এক শটে। দেখার মতো শট ছিল ওটা। যদিও প্রতিপক্ষের কারও পায়ে লেগে বল জালে গেছে।
স্পেন আরও সামনে এগোলে ভিয়ার গোল্ডেন বুট পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। কিন্তু পেনাল্টি মিসের মূল্য তাকে দিতে হতে পারে। স্পেন দলের জন্য ওই মিসটা এমন কিছু নয়। ভিয়ার জন্য অনেক কিছুই। আমি নিশ্চিত, রাতে ওর ঘুম হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের মাইকনের গোলটা ছিল খুবই চমৎকার। তবে আমার মতে, মাইকন গতির ওপর ক্রস করেছে। পোস্টে মারেনি। গোল হয়ে গেছে। তাই ওটা আমার সেরা তিনে নেই।
ফ্যাবিয়ানোর গোল দুটি খুব ভালো গোল। দ্বিতীয়টি ‘হ্যান্ডবল গোল’। এটা ফুটবলে হতেই পারে, নতুন কিছু নয়। তবে ফ্যাবিয়ানোর প্রথম গোলটা জাত স্ট্রাইকারের গোল। এটাও অবশ্য ঠিক, পিওতর চেক, ক্যাসিয়াস, বুফনদের মতো গোলরক্ষক থাকলে গোলটি হতো কি না সন্দেহ।
তোরেসকে নিয়ে একটু বলি। গোল্ডেন বুটের দাবিদারদের তালিকায় ভিয়ার পরই তোরেসকে রেখেছিলাম আমি। কিন্তু ফিটনেসের অভাব আছে তার। এ কারণে পরশু সহজ সুযোগও নষ্ট করেছে। তবে আশা করি, গোল পাবে তোরেস।
আজ এ পর্যন্তই। বিশ্বকাপে ভালো গোল দেখুন। গোলের জন্যই তো ফুটবল এত উপভোগ্য।

খুব রেগেছেন ডমেনেখের মা

পাড়ার খেলায় এমন হয়। ছেলের সঙ্গে কারও কথা কাটাকাটি হলে তেড়ে আসেন মা। বয়সের কারণেই হয়তো ফ্রান্স থেকে লন্ডনে তেড়ে যেতে পারছেন না ভদ্রমহিলা। কিন্তু ছেলেকে অপমান করায়, গালিগালাজ করায় চটেছেন জার্মেইন ডমেনেখ।
নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, ভদ্রমহিলা রেমন্ড ডমেনেখের মা। ছেলে রেমন্ড ডমেনেখকে কদিন আগে অশ্লীল গালিগালাজ করে বিশ্বকাপ দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন নিকোলাস আনেলকা। আনেলকার এই গালাগালির মধ্যে ডমেনেখের মায়ের প্রতিও অবমাননাকর কথা ছিল।
তাই চটে গিয়ে ভদ্রমহিলা বলছেন, ‘আমি মিস্টার আনেলকার সঙ্গে দেখা করে একজন মা হিসেবে তাকে একটু কড়া কথা বলে আসতে চাই।’ কড়া কথা কেন বলতে চান, তাও বুঝিয়ে বলেছেন এই ফরাসি ভদ্রমহিলা, ‘এভাবে অপমানিত হওয়াটা খুবই কষ্টের ব্যাপার। ও (রেমন্ড ডমেনেখ) শুধু একজন কোচ না, আমার তো ছেলেও বটে। একই সঙ্গে আমার ছেলেকে অপমান করা হয়েছে, আবার আমাকে তার মা হিসেবে গালি দেওয়া হয়েছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে লন্ডন চলে গেছেন, তবে আনেলকার শিগগির ফ্রান্সে না ফেরাই ভালো।

স্পেনের খেলায় এত পাস

বক্সের কাছে গিয়েও পাস, পাস আর পাস! পরিসংখ্যান বলে টানা ৪টা পাস থেকে ৮৬ ভাগ গোল আসে। ৫টা বা এর চেয়ে বেশি পাসে গোলসংখ্যা নেমে আসে ১৯-এ। উদাহরণটা মনে পড়ল স্পেনের খেলা দেখে। হন্ডুরাসের বিপক্ষে খুব বেশি পাস খেলেছে স্পেন, যা দলের জন্য আদতে কোনো ফল আনেনি।
স্প্যানিশ খেলোয়াড়েরা কখনো বল ডানে নিচ্ছে, কখনো বাঁয়ে। নিজেদের মধ্যে এত বল চালাচালি করে তো লাভ নেই। ডিফেন্স-চেরা পাস বা ব্যক্তিগতভাবে কারও অসাধারণ কিছু করে ফেলা, রানিং করে ঢোকা—এই জিনিসগুলোর তো দরকার। সেটির অভাব ছিল।
স্প্যানিয়ার্ডরা ভেতরে ঢুকে বিনা প্রয়োজনে বল ফ্লাংকে নিয়ে গেছে বারবার। কিন্তু ফ্লাংকে গিয়ে আবার তো সেই ভেতরে আসতেই হবে। তাহলে অহেতুক ফ্লাংকে নেওয়া কেন? নেওয়ার পর দেখা গেল, ক্রসগুলো ঠিকমতো হচ্ছে না। হবে কী করে? কেউ তো তেমন দায়িত্বই নিচ্ছিল না।
ভিয়া ব্যতিক্রম, সে দায়িত্ব নিয়েছে। তার নামের পাশে তাই দুটি গোল। ভিয়া প্রথম যে গোলটা করল, সেটি ছিল একক চেষ্টার ফল। এভাবে কাউকে না কাউকে বাড়তি চেষ্টা করতে হবে। দ্বিতীয় গোলটাও সে বক্সের বেশ বাইরে থেকে মারল। এই যে ব্যক্তিগতভাবে কারও না কারও উদ্যোগ নেওয়া, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলে গোল আদায় করা, এটাই কম ছিল স্পেনের খেলায়। ভিয়াই এ ম্যাচে স্পেনের নায়ক। সে হ্যাটট্রিক করলে খুশি হতাম। সেটি তার প্রাপ্যও ছিল। তবে তোরেস হতাশ করেছে। দৃষ্টিকটু কিছু মিস ছাড়া তার তো কোনো উদ্যমই দেখলাম না।
আগের ম্যাচে হারের পর স্পেনের ওপর বাড়তি চাপ ছিল। যতই আমরা বলি, এটা ভালো হতে পারত-ওটা ভালো হতে পারত, কিন্তু যে অবস্থা থেকে তারা ফিরে এসেছে সেটা দেখা উচিত। কিন্তু কথা হলো, প্রতিপক্ষের ওপর আতঙ্ক তৈরি করারও তো দরকার আছে। সেটিই তারা করতে পারল না। তার পরও জয়টা এসেছে খুব সহজেই।
হন্ডুরাসের খেলোয়াড়দের শারীরিকভাবে আমাদের বাঙালিদের মতোই মনে হলো। একেকজন একেক রকম। এমন শারীরিক গঠন নিয়ে এই পর্যায়ের ফুটবলে টিকে থাকা কঠিন। এমনিতে তাদের চেষ্টা-উদ্যম ঠিক ছিল। সমস্যার নাম—টেকনিক। লম্বা পাসগুলো সঠিক হচ্ছিল না। শুধু লম্বা পাসের কথাই বলি কেন? ছোট পাসগুলোও কখনো বেশি গতি, কখনো খুব ধীর ছিল।
চিলি ওদের নিয়ে ভালোভাবে হোমওয়ার্ক করে এসেছে। সুইসরা শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী, জানত ওরা লম্বা পাসে খেলবে। রানিং দিয়ে এই জায়গাগুলোয় সুইসদের আটকে দিয়েছে চিলি। বদ্ধপরিকর ছিল, যেভাবেই হোক জিততে হবে। লাতিন দল হিসেবে চিলির খেলায় কিছু স্কিলের ঝলকও দেখলাম।
পায়ে বল পেলে সুইসদের চেয়ে ভালো কিছু করতে পেরেছে চিলি। পাস এবং দেওয়া-নেওয়ায় তারাই এগিয়ে ছিল। স্পেনকে হারানোর পর সুইসদের উজ্জীবিতই থাকার কথা, কিন্তু এদিন সেটা তারা ছিল না। বড় কারণ তো অবশ্যই লাল কার্ড। ৬০ মিনিট এই পর্যায়ের খেলায় দশজন নিয়ে খেলা কঠিন।

পোডলস্কির পাশে ভিয়া

১৮ জুন পোর্ট এলিজাবেথের নেলসন ম্যান্ডেলা বে স্টেডিয়ামের একটি মুহূর্ত লুকাস পোডলস্কিকে ঘুমোতে দেয়নি। তিন দিন পর জোহানেসবার্গ এলিস পার্কের একটি মুহূর্তও ঘুমোতে দিল না ডেভিড ভিয়াকে। চোখের দুটো পাতা এক করলেই স্বপ্ন আসে, আর স্বপ্ন এলেই চোখে ভাসে সেই মুহূর্ত। পোডলস্কিকে যদি ওই মুহূর্তটি বারবার ব্যর্থতার আগুনে পোড়ায়, ভিয়াকে না পাওয়ার বেদনায় করছে নীল।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ গোলের বিধ্বংসী জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা জার্মানি পোর্ট এলিজাবেথে গিয়েছিল সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ডে নাম লিখিয়ে ফেলতে। পারেনি। মিছিলের সামনে থেকে তাদের সরে আসতে হয়েছে পেছনে। আর পেছনে এসে দাঁড়াতে হয়েছে ওই পোডলস্কির কারণে। পোর্ট এলিজাবেথে সার্বিয়ার বিপক্ষে পোডলস্কি যদি ওই পেনাল্টিটা মিস না করতেন, তাহলে আজ তাদের সকার সিটিতে ঘানার বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয় না। আজ নিশ্চয়ই পোডলস্কি কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করছেন আর যেন তাঁকে পেনাল্টির পরীক্ষাও দিতে হয় না। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে তিনি যে জার্মানির একটা বাজে রেকর্ডের ‘নায়ক’ হলেন। ১৯৮২ বিশ্বকাপে সর্বশেষ জার্মানির হয়ে পেনাল্টি মিস করেছিলেন উলি স্টাইলি।
লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও যেমনটি পারেননি, তেমনই এক অর্জন আছে পোডলস্কির। গত জার্মানি বিশ্বকাপে জিতেছিলেন সেরা যুব ফুটবলারের পুরস্কার। গত বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে গড়ে ওঠা তাঁর জুটিটি ছিল ভয়ংকর। ৩ গোল করেছিলেন তিনি, সঙ্গী ক্লোসা তো টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে ৫ গোল করে জিতে নিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার—সোনার জুতা। এই বিশ্বকাপে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠারই কথা ছিল দুই ‘পোলিশ’ জার্মানির। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দেওয়া জয়ে একটি করে গোলও করেছেন তাঁরা। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে এসে দুর্ভাগ্যকে বরণ করতে হলো জোড় বেঁধে। ক্লোসা দেখলেন লাল কার্ড, আর পোডলস্কি পেনাল্টি মিস করার পাশাপাশি গোলের সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন আরও দুটি। হিসাব করলে হ্যাটট্রিকই তো হয়ে যায় ‘পোল্ডি’র। তবে হ্যাটট্রিক মিস করার হতাশা নয়, তাঁকে ঘুমোতে দিচ্ছে না পেনাল্টি মিস করার যন্ত্রণা। স্টাইলি পেনাল্টি মিস করলেও ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পেনাল্টি শ্যুট আউটে হারিয়েছিল জার্মানি। আর পোডলস্কির এই মিস যে সার্বিয়ার সঙ্গে পয়েন্টই পেতে দিল না!
সেদিন ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে পোডলস্কি নিজেকে বলেছিলেন, ‘ইডিয়ট’—মূর্খ। পেনাল্টি হলো জুয়া খেলা। ১২ গজ দূর থেকে গোলরক্ষকের স্নায়ুটাকে মেপে আপনি যদি ঠিকঠাকভাবে কিক নিতে পারেন, কোনো গোলরক্ষকের সাধ্য নেই রুখে দেওয়ার। কথাটা বলেছিলেন ইকার ক্যাসিয়াস, ২০০২ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের দুটি স্পট কিক ঠেকিয়ে বলেছিলেন স্পেনের তরুণ গোলরক্ষক। আর এদিন পোডলস্কি তো সার্বিয়ান গোলরক্ষক ভ্লাদিমির স্টয়কোভিচ যে দিকে ঝাঁপ দিয়েছেন, সেদিকে মেরে দিয়েছেন বলটি। স্টয়কোভিচ পেনাল্টি রুখে হয়ে গেলেন ‘নায়ক’।
পোডলস্কি তাও গোল সোজা বল রেখেছিলেন। কিন্তু দুর্দান্ত দুটি গোল করা ভিয়া হন্ডুরাসের বিপক্ষে বলটাকে মেরেছেন পোস্টের বাইরে। এই গোল হলে হ্যাটট্রিক পেয়ে যান ভিয়া। গঞ্জালো হিগুয়েইনের পর তাহলে আরেকজন ‘হ্যাটট্রিক হিরো’ পেয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ। এত ‘নেই’ আর ‘হাহাকারের’ মধ্যে এই বিশ্বকাপ কিছু অন্তত তখন পেত।
পেনাল্টি মিস করে হ্যাটট্রিক পেলেন না। উল্টো আরেকটা দুর্নাম কুড়োতে হয়েছে ভিয়াকে। এলিস পার্কে পরশু রাতের ম্যাচে হন্ডুরান ডিফেন্ডার এমিলিও ইজাকুইরির মুখে আঘাত করেছিলেন তাদের ফ্রি-কিক নেওয়ার সময়। জাপানি রেফারি ইউয়িচি নিশিমুরার চোখ তা এড়িয়ে গেছে। কিন্তু সাংবাদিকেরা ভিডিও দেখে নিশ্চিত, ভিয়া লাল কার্ডের সমান অপরাধ করে পার পেয়ে গেছেন। এই নিয়ে শুরু হয়েছে হইচই। ফিফা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। রেফারির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। ভিয়ার জন্য কোনো বিপদ কি ওত পেতে আছে? ফিফার তৎপরতা দেখে মনে হচ্ছে, বিপদমুক্ত নন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার।
দুটি পেনাল্টি মিস পোডলস্কি আর ভিয়াকে মিলিয়ে দিয়েছে একই বিন্দুতে। যদিও দুজনের কাছে এখন দুই রকম অনুভূতি। পোডলস্কির জন্য এটি যন্ত্রণার। আজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বারবার নিজেকে হয়তো বলবেন, ‘একবার মূর্খ হয়েছ। দ্বিতীয়বার আর নয়। সেটি হলেই ১৯৩৮ বিশ্বকাপের পর প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেবে জার্মানি।’ জার্মান শিবির টগবগ করে ফুটছে, ঘানা আজ নির্ঘাত উড়ে যাবে। বারবার পেনাল্টি মিস করে না জার্মানি, বারবার গোল মিস করে না ‘ম্যানশাফট’।

আনন্দে মিশে অতৃপ্তি

একটিকে বলা যায়, এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সেরা গোল, আরেকটিকে সেরাগুলোর একটি। তবে ওই দুটি গোল নয়, ম্যাচ শেষে বেশি আলোচনায় ডেভিড ভিয়ার পেনাল্টি মিস। বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ তো আর প্রতিদিন আসে না! তার ওপর এটা হতো বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৫০তম হ্যাটট্রিক। কঠিন-সহজ মিলিয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন আরও কয়েকটি, কিন্তু পেনাল্টির চেয়ে বড় সুযোগ আর কী আছে!
হন্ডুরাস গোলকিপার নোয়েল ভ্যালাদোরেসকে বোকা বানাতে পেরেছিলেন ভিয়া। তিনি কিক নিয়েছিলেন ডানদিকে, গোলকিপার ডাইভ দিয়েছিলেন বাঁদিকে। কিন্তু বল বাইরে চলে যায় বার ঘেঁষে! বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ আর হ্যাটট্রিকের সুযোগ—এই দুই চাপেই কি তবে মিস করলেন ভিয়া? তিনি নিজে কিন্তু চাপের কথা স্বীকার করছেন না, ‘আমরা ২-০ তে এগিয়ে ছিলাম, তেমন কোনো চাপ তাই ছিল না। শটটা স্রেফ মিস হয়ে গেছে। সারা জীবনই আমি এটা অনুশীলন করে আসছি, কিন্তু আজ (পরশু) মিস হয়ে গেল... এই তো!’
শুধু হ্যাটট্রিকই মিস করেননি, আরেকটি গোল পেলে পরশুই এককভাবে হয়ে যেতে পারতেন বিশ্বকাপে স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০০৬ বিশ্বকাপে করেছিলেন তিন গোল, এবার দুটি। বিশ্বকাপে ৫টি করে গোল আছে স্পেনের আরও চারজনের—রাউল গঞ্জালেস, ফার্নান্দো হিয়েরো, ফার্নান্দো মরিয়েন্তেস ও এমিলিও বুত্রাগুয়েনোর। আরেকটি রেকর্ডে এই দু গোল তাঁকে নিয়ে গেছে রাউলের আরও কাছে। ১০২ ম্যাচে ৪৪ গোল করে স্পেনের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রাউল। পরশুর দু গোলে ভিয়ার গোল এখন ৪০, মাত্র ৬০ ম্যাচে!
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা দলের মতো বাজে কেটেছিল ভিয়ারও। ফার্নান্দো তোরেসের ইনজুরিতে ভিয়াকে একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে খেলিয়েছিলেন দেল বস্ক, কিন্তু চূড়ান্ত হতাশ করেছিলেন ভিয়া। জাতীয় দলের হয়ে প্রতি দেড় ম্যাচে এক গোল করার অসাধারণ রেকর্ড যাঁর, তিনি কি আর টানা দু ম্যাচ ব্যর্থ হতে পারেন? পরশু ভিয়ার গোল পাওয়াটা তাই যেন অবধারিতই ছিল। বিশ্বকাপের আগে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া স্ট্রাইকারের অবশ্য ধারণা, সুইজারল্যান্ড ম্যাচের হারটা একদিক থেকে ভালোই হয়েছে, বাস্তবতাটা তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, ‘সুইজারল্যান্ডের কাছে হারটা আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। এটা নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে, আমরা ঘুরেও দাঁড়িয়েছি। চাপের মধ্যে আমাদের সব সময়ই খেলতে হয়, আর এটা তো বিশ্বকাপ! এখানে সব ম্যাচই কঠিন।’
হন্ডুরাসের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ম্যাচে পেনাল্টি মিস ছাড়া আরেকটা কলঙ্কও সঙ্গী হয়েছে ভিয়ার। ৪১ মিনিটে হন্ডুরাসের বক্সের ভেতর ডিফেন্ডার এমিলিও ইজাগুইরেকে কনুই মেরে বসেন ভিয়া। ইজাগুইরে সঙ্গে সঙ্গে মুখ চেপে বসে পড়েন। খুব গুরুতর আঘাত নয়, কিন্তু অপরাধটা গুরুতর। ভিয়া ও স্পেনের ভাগ্য ভালো, রেফারির চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল ঘটনাটা। না হলে হয়তো বড় শাস্তিই পেতে হতো এই স্ট্রাইকারকে। বড় ভুল করেছিলেন, স্বীকার করছেন ভিয়াও, ‘আসলে মুহূর্তের উত্তেজনায় হয়ে গেছে। আমি ওকে হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। আমি এর জন্য একটু লজ্জিতই। ভবিষ্যতে মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করব।’
ভিয়া যদি সত্যিই মাথাটা ঠান্ডা রাখতে পারেন, স্পেনের জন্য হয়তো সামনে আরও সুসময়ই আসছে।

উসকানি দেননি জিদান

২০০৬ বিশ্বকাপে তাঁরা ছিলেন কোচ-অধিনায়ক। কিন্তু রেমন্ড ডমেনেখের সঙ্গে জিনেদিন জিদানের সুসম্পর্কের কথা শোনা যায়নি। বরং সংবাদমাধ্যমের খবর ছিল, দুজনে রীতিমতো গন্ডগোলই চলছে। এক ম্যাচে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার পর ক্যামেরার সামনেই যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন, তাতে গুজবটাকে সত্যিই মনে হচ্ছিল।
সে সময়ই ডমেনেখ বারবার বলেছেন, জিদানের সঙ্গে তাঁর কোনো গোলমাল নেই। কিন্তু এত দিন পর আবার সংবাদমাধ্যমে ফিরে আসছে জিদান-ডমেনেখ সম্পর্কের কথা। ফরাসি কিংবদন্তি নিজেই সম্প্রতি ডমেনেখকে ‘কোনো কোচই না’ বলে বিতর্কটা আবার সামনে নিয়ে এসেছেন।
অনেক পত্রিকার ভাষ্য, ডমেনেখের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক বিদ্রোহে উসকানি দিয়েছেন আসলে জিদানই। ডমেনেখকে তিনি পছন্দ করেন না, এটা জানিয়ে দিয়েই বিস্মিত জিদান বলছেন, ‘অবসরে যাওয়ার চার বছর পর আমি খেলোয়াড়দের বলব, কোচের ওপর চাপ সৃষ্টি করো; এটা ভাই তো বিপজ্জনক। আমার ডমেনেখের সঙ্গে কখনোই কোনো সমস্যা ছিল না। হ্যাঁ, তাঁকে আমি পছন্দ করতাম না। কিন্তু তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করতাম। অধিনায়ক হিসেবে আমি তাঁর সঙ্গে আলোচনা করতাম। কিন্তু তিনিই কোচ ছিলেন, ফলে তাঁর সিদ্ধান্তকে আমি মেনে নিতাম।’
জিদান যে এই বিদ্রোহে উসকানি দেননি, তার স্বপক্ষে বলছেন, ‘খেলোয়াড়েরা যে অনুশীলন করেনি, সেটা আমি সমর্থন করি ন। আগেই এক সাংবাদিককে আমি বলেছি, এই বিশ্বকাপের দুটো জিনিস মানুষ মনে রাখবে—বিজয়ীকে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার আগে অনুশীলন বর্জন করা ফ্রান্স দলকে।’
এমনি দলে কে থাকবে না থাকবে, এসব বিষয় নিয়ে খেলোয়াড়দের মাথা ঘামানোও উচিত নয় বলে মনে করছেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

গতকালের ফল

আর্জেন্টিনা ২: ০ গ্রিস
দক্ষিণ কোরিয়া ২: ২ নাইজেরিয়া
দক্ষিণ আফ্রিকা ২: ১ ফ্রান্স
উরুগুয়ে ১: ০ মেক্সিকো