Showing posts with label উৎসব. Show all posts
Showing posts with label উৎসব. Show all posts

Tuesday, January 14, 2020

পৌষ সংক্রান্তি ও পুরান ঢাকার সাকরাইন উৎসব by শফিক রহমান

পৌষসংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিসহ উপমহাদেশে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা বর্ষপঞ্জির নবম মাস ‘পৌষ’-এর শেষ দিন এই উৎসব পালন করা হয়। তবে উৎসবটি পুরান ঢাকায় সাকরাইন নামে পরিচিত। দিনটি উদযাপনে নানা আয়োজনের মধ্যে আকর্ষনীয় পর্ব দিনভর ঘুড়ি উড়ানো। পশ্চিম ভারতের গুজরাট রাজ্যে দিনটিতে সূর্য দেবতার কাছে নিজেদের ইচ্ছা বা আকূতিকে পৌঁছাতে পালন করা হয় ঘুড়ি উৎসব।
১৭৪০ সালে ঢাকার নবাব নাজিম নওয়াজেস মোহাম্মদ খাঁনের উদ্যেগে ঢাকায় ঘুড়ি উড়ানোর প্রচলন শুরু হয়। আজও উৎসবের দিনে আকাশ ছেয়ে যায় বাহারি রঙ্গে ঘুড়িতে। চলে সুতায় সুতায় কাটাকাটি।
সন্ধ্যায় শুরু হয় মুখে কেরোসিন নিয়ে আগুনে ফু দিয়ে আকাশে অগ্নিকুণ্ড তৈরির খেলা (ফায়ার ব্রিদ), আতশবাজির মেলা আর ফানুস উড়ানো। হালে যোগ হয়েছে লেজার লাইটের আঁকি-বুকি। এভাবে বিদায় জানানো হয় পৌষ মাসকে।
পঞ্জিকার হিসাব মতে গত ১৪ জানুয়ারি ছিল পৌষ সংক্রান্তি। নাটাই, ঘুড়ি আর আতশবাজির কেনাবেচা, সুতোয় কাচের গুড়া ও রং দিয়ে ‘মাঞ্জা’ দেয়া এবং খাবারের আয়োজনের প্রায় ১ মাসের প্রস্তুতি শেষে ওই দিন সকালে পুরান ঢাকার সব কিশোর-যুবক যোগ দেয় ঘুড়ি উড়ানোর উৎসবে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গেণ্ডারিয়া, মুরগীটোলা, ধুপখোলা, দয়াগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, সূত্রাপুর, কাগজিটোলা, বাংলাবাজার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, কলকতাবাজার, ধোলাই খাল, নারিন্দা ও সদরঘাট এলাকার পুরো আকাশ ছেয়ে যায় ঘুড়িতে।
আগে এ উৎসবটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে পুরান ঢাকায় সাড়ম্বরে পালিত হয়। উৎসবে অংশ নেন সব ধর্মের সব বয়সী মানুষ। সাকরাইন পরিণত হয়েছে পুরান ঢাকায় বসবাসকারী সকল মানুষের উৎসবে। এখন সাকরাইনে অংশ নিতে নতুন ঢাকাসহ নানা এলাকা থেকে মানুষ পুরান ঢাকায় হাজির হয়। আসেন অনেক বিদেশি পর্যটকও।
আমরা যখন পৌঁছালাম তখন বিকাল ৩টা। কিন্তু ঘুড়ি, সুতা ও নাটাইয়ের দোকানে তখনও ভিড়। পাড়া মহল্লার গলিতে গলিতে কিশোর-যুবকরা ছুটছে ঘুড়ি নিয়ে। ছাদে ছাদে তখন বাগট্টা বয়েজ ক্লাব (ঘুড়ির সুতা কেটে দিলে পুরান ঢাকায় বাগট্টা বলা হয়), কাইট বয়েজ ক্লাব, সুতা ক্লাব, রঙ সুতা ক্লাবসহ নানা নামের কিশোর ক্লাবের প্রস্তুতি শেষ। এর মধ্যেই ২/৩টি ছাদ পেড়িয়ে আমাদের ঠাঁই হয় সূত্রাপুরের কাগজিটোলার ‘রুটলেস ক্লাবের’ আয়োজনে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই কিশোরদের এ আয়োজনে যুক্ত হন শিশু থেকে বয়স্ক পুরুষ-মহিলা সবাই। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সামান্য বিরতির পরেই এছাদ-ওছাদের আলোর ঝলকানি, আতশবাজির আলোর বিচ্ছুরণ, রঙিন ফানুস আর লেজার লাইটের আঁকি-বুকিতে ঝলমল করে ওঠে পুরান ঢাকার আকাশ। সঙ্গে চলে কান ফাটা আওয়াজের গান-সঙ্গীত।
তবে সাকরাইন উদযাপনের চলমান এ রীতিতে আপত্তি পুরনোদের। তারা বলেন, এ পদ্ধতিতে ছাদে ছাদে বন্ধুবান্ধবদের দলের টাকা তুলে লাখ লাখ টাকার বাহারি আয়োজনে উদযাপন জমজমাট হচ্ছে কিন্তু হারিয়ে গেছে শৈল্পিক নৈপূন্য।। আগে ঘুড়ি-নাটাই প্রত্যেকে হাতে বানাতো। থাকতো ঢাউস ‘ল্যাঞ্জার’ ঘুড়ি (ঘুড়ির লেজকে পুরান ঢাকায় বলে ল্যাঞ্জা)। একই পদ্ধতিতে সুতায় হাতে মাঞ্জা মারা হতো। আর ঘরে ঘরে বানানো হতো পিঠা বিশেষ করে পাটিসাপটা, দুধ চিতই, মালপোয়া, ক্ষীর পুলি। সঙ্গে থাকতো নলেন গুড়ের পায়েশ। কিন্তু এখন এসবকিছু নেই। জায়গাটি দখল করেছে কারখানায় তৈরি বাণিজ্যিক পণ্য।
তারপরও মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদ, হিন্দুদের পুজা, খ্রিস্টানদের বড় দিন আর শিয়া মুসলিমদের আশুরাসহ সব উৎসবেরই উদযাপন মাটির সংস্পর্শে। কিন্তু পৌষসংক্রান্তি বা সাকরাইন উদযাপনে ঢাকাইয়ারা উঠে যায় ওপরে, উদযাপন করে খোলা আকাশের নিচে। বিউটি আর ভাইবরেন্সিতে এই একটি দিনে তারা যেন জানান দেন, ‘ঢাকাইয়ারা আলাদা’।
এশিয়ার অন্যান্য দেশেও বর্ণিল আয়োজনে উৎসবটি পালিত হয়। নেপালে দিবসটি ‘মাঘি’, থাইল্যান্ডে ‘সংক্রান’, লাওসে ‘পি মা লাও’ নামে পরিচিত। এছাড়া মিয়ানমারে ‘থিং ইয়ান’, কম্বোডিয়ায় ‘মহাসংক্রান’ এবং পশ্চিমবঙ্গে মকরসংক্রান্তি নামে উদযাপিত হয়।
এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে মকরসংক্রান্তিতে নতুন ফসলের উৎসব ‘পৌষ পার্বণ’ উদযাপিত হয়। নতুন ধানের চাল, খেজুরের গুড় এবং পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয়।
ফসলের উৎসব বা ‘পৌষ পার্বণ’ ছাড়াও ভারতীয় সংস্কৃতিতে এটি ‘উত্তরায়ণের সূচনা’ হিসেবে পরিচিত। একে অশুভ সময়ের শেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই দিনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সাগরদ্বীপে কপিল মুনির আশ্রমকে কেন্দ্র করে পুণ্যস্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আর বীরভূমের কেন্দুলী গ্রামে দিনটিকে ঘিরে হয় জয়দেব মেলা।
গুজরাটে গুড় দিয়ে তৈরি তিলের লাড্ডু এই উৎসবের অন্যতম উপাদেয় খাবার। মহারাষ্ট্রে একে বলা হয় ‘তিলগুল’। কর্ণাটকে একে বলা হয় ‘ইল্লু বিল্লা’।
ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্রে ‘মকরসংক্রান্তি’র অর্থ-নিজ কক্ষপথ থেকে সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশকে বোঝানো হয়।

Thursday, October 17, 2019

কেনিয়ার যে নাচের পার্টিতে পুরুষদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে

কেনিয়ায় নারীদের নাচের পার্টি
নাইরোবিতে শুধুমাত্র নারীদের জন্য নাচের পার্টির আয়োজনে কাজ করে যাচ্ছে একটি দল। তাদের দাবি এ ধরণের পার্টি নারীদের জন্য রাতের বেলায় একটি নিরাপদ উৎসবের পরিবেশ তৈরি করতে পারবে।
কেনিয়ার রাজধানীর একটি শহরতলিতে একটি উষ্ণ সন্ধ্যায়, এক আবাসিক ভবনের বাইরের একটি অংশ ভাড়া করা হয়েছে ডান্স ফ্লোর হিসেবে ব্যবহার করার জন্য।
জোরেশোরে গান বাজছে এবং নারীরা তার তালে তালে নাচছে।
"পুরুষদের সাথে কোনও জায়গায় গেলে আপনাকে একটু সাবধানে থাকতে হয়। আপনি সেখানে একা যাওয়ার পরিবর্তে আপনার বন্ধুবান্ধব অথবা কোন পুরুষের সঙ্গে সেখানে যেতে চান," বলছিলেন ২৬ বছর বয়সী জেন।
তিনি তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু শানির সাথে এই পার্টিতে এসেছেন।
"সুতরাং এমন একটি জায়গা যেখানে সবাই নারী, সেখানে মেয়েরা সাথে সাথেই নিরাপদ বোধ করে এবং আপনি অনুভব করবেন যে আপনি এমন মানুষদের সাথেই আছেন যারা আপনাকে বোঝে।"
এই পার্টির নিরাপত্তা বেশ কড়া। শুধুমাত্র কয়েকজন পুরুষকে কিছু সময়ের জন্য ঢুকতে দেওয়া হয়, যারা হয়তো তাদের বান্ধবীকে পার্টিতে পৌঁছে দিতে আসেন।
তারপরে, সেই পুরুষদের তাৎক্ষণিকভাবে চলে যেতে হয়।
এসব পার্টিতে শুধুমাত্র অংশগ্রহণকারীরাই যে নারী তা নয়। বরং এখানকার বারটেন্ডার, নিরাপত্তা কর্মী, ডিজে, সাউন্ড মিক্সার, এবং পার্টির আয়োজক সবাই নারী।
মিশ্র ক্লাব, অর্থাৎ ছেলে-মেয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত ক্লাবগুলোয় বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার সময় অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কারণে শুধুমাত্র নারীদের নিয়ে পার্টির এই ধারণা আসে কয়েকজন নারীর মধ্যে।

'কেনিয়ার নারীদের জন্য একটি কঠিন বছর'

শানি বলেন, "যখন আমি জানতে পারলাম যে এটি নারীদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান তখনই আমি সঙ্গে সঙ্গে সাইন আপ করলাম।"
শানি এবং জেন ক্লাবিং বেশ উপভোগ করেন এবং সম্প্রতি টুইটারে তারা এই অল-উইমেন ডান্স পার্টির কথা জানতে পারেন।
নারীদের নিয়ে আয়োজিত এই পার্টির নাম রাখা হয়েছে স্ট্রেটলি সিল্ক।
এই পার্টির উদ্ভাবক হলেন, কেনিয়ার শিল্প প্রতিষ্ঠান দ্য নেস্ট কালেক্টিভের সদস্য জোকি গুমি, জেরি গাতুনগো এবং আকাটি খাসিয়ানি।
এই প্রতিষ্ঠানটি শিল্প, চলচ্চিত্র, সংগীত, ফ্যাশন এবং শিল্পকলার অন্যান্য শাখাগুলো নিয়ে কাজ করে।
২০১৮ সালে তারা এই অল-উইমেন নৃত্য পার্টির আয়োজন শুরু করেন।
কেনিয়ার ক্লাবগুলিতে পুরুষরা অযাচিতভাবে নারীদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে।
আর এমন আয়োজনের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিল কেবল মজাদার একটি রাতের আড্ডা।
"কেনিয়ার নারীদের জন্য ২০১৮ সাল বেশ কঠিন একটি বছর ছিল। প্রতিদিনই সহিংসতার খবর শোনা যেতো। এ ব্যাপারে নারীদের বলার ছিল অনেক। আজকাল মানুষজনও অনলাইন এবং অফলাইনে নির্দ্বিধায় নারী বিদ্বেষ ছড়ায়," বলেন জোকি গুমি।
তিনি আরও বলেন, "নারীদের ওপর যৌন নিপীড়নের অনেক খবরও প্রকাশ পায় প্রতিনিয়ত। এমন অবস্থায় আমরা চাইতাম নারীদের শক্তিকে কয়েকগুন বাড়িয়ে নারীদের জন্য উৎসবের একটি স্থান তৈরি করতে। যেখানে নারীদের সচরাচর স্বাগত জানানো হয়না।, বিশেষ করেন নৈশকালীন উৎসবকে ঘিরে তো নয়-ই।"
সম্প্রতি ধর্ষণ এবং ফেমিইসাইড অর্থাৎ নারীদের হত্যার কয়েকটি আলোচিত ঘটনার কারণে কেনিয়া খবরের শিরোনাম হয়ে আসে।
২০১৮ সালে, আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ২২টি শহরের একটি তালিকা তৈরি করে, যে শহরগুলোয় নারীরা সবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির শিকার হন।
সেই তালিকায় নাইরোবি ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে কেনিয়ায় যেকোনো জনসমাগমে নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ৫০% আশঙ্কা থাকে।
২০১৯ সালের মে মাসে দেশটির নারী আইনজীবীদের সংগঠন ফেডারেশন অফ উইমেন ল'য়ারস কেনিয়া (ফিদা কেনিয়া) এই সমস্যা সামনে আনে।
সংস্থাটি জানায়, কেনিয়ায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৫০টিরও বেশি ফেমিসাইড বা নারী হত্যার মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

শুধু লেসবিয়ানদের জন্য নয়

মুনিরা (২২) এবং খাদিজা (২৫) দুই বন্ধু। প্র্যাকটিসিং মুসলমান হিসাবে, রাতের পার্টির মতো জায়গাগুলোয় তাদের যাওয়ার সুযোগ খুবই কম থাকে।
তারা জানায়, যদিও সব ধর্মের নারীরা এই অল উইমেন্স পার্টিতে অংশ নেয়, তবে মুসলমান নারীদের একটু খাপ খাইয়ে নিতে হয়।
"যখন আমরা নাচতে যাব তখন আমাদের অনেকেই নিজেদের হিজাবগুলো খুলে ফেলে, ভিড়ের সাথে মিশে যাওয়ার জন্য। যখন আপনাকে হিজাব পরা অবস্থায় কেউ দেখে তখন তারা অবাক হয়ে যায় আর ভাবে, তুমি এখানে কি করছো?"
খাদিজা বলেন, "আমাদের ধর্মে অবাধে পুরুষদের সাথে মিশতে নিষেধ করা হয়েছে, এজন্য এরকম একটি স্থান আমাদের জন্য বেশ ভাল।,"
সব সম্প্রদায়ের নারীদের এই পার্টিতে স্বাগত জানানো হয়।
"শুধুমাত্র নারীদের নিয়ে করা এমন একটি ক্লাব পাওয়া আসলেই দুষ্কর। এমনটা সচরাসচর দেখা যায় না," বলেন মুনিরা।
তবে কিছু লোকের মধ্যে একটি বিশ্বাস আছে যে নারীদের আমোদ মানেই এটি সমকামী নারীদের স্থান।
এ ব্যাপারে মিজ গুমি বলেন, "আমরা সানন্দে সমকামীদের গ্রহণ করি এবং তাদের নিয়ে উদযাপন করি। এজন্য লোকজন ধারণা করতে পারে যে এটি শুধুই সমকামীদের নিয়ে কোনো আয়োজন। এটা ঠিক যে কিছু অনুষ্ঠান রয়েছে যেগুলো কুইর ইভেন্ট হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। তবে এই পার্টি তেমনটি নয়। আমরা সবাইকে স্বাগত জানাই। "
"এলজিবিটি সম্প্রদায়ের যেসব নারী কেনিয়ার জনসাধারণের হুমকি এমনকি সহিংসতার মুখে পড়েন, তাদের জন্য এই অল উইমেন্স পার্টির দরজা সবসময় খোলা থাকে।"
কেনিয়ায় সমকামী যৌনতা অবৈধ, এজন্য ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান দেয়া আছে।
এই আইনটিকে বাতিল করার দাবি উঠলেও চলতি বছরের মে মাসে, কেনিয়ার হাই কোর্ট সমকামীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক আইনটিকে বহাল রাখে।
"অনেকেই এটা জানেনা যে নাইরোবিতে একটি বিশাল সমকামী নারী সম্প্রদায় রয়েছে এবং কখনও কখনও আমরা শুধুমাত্র নারীদের সাথে একটি জায়গায় থাকতে চাই যেখানে সবাই আমাদের মতো ভাবে, যেখানে আমি নিরাপদ বোধ করবো।," বলেন ২২ বছর বয়সী অ্যান মারি। যিনি একজন উভকামী বা বাইসেক্সুয়াল।
২৩ বছর বয়সী বিন্তিও একজন সমকামী। তার কাছে অল উইমেন পার্টি এই বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়। তিনি এখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মিজ গুমি আশা করছেন যে এই অল-উইমেন্স ডান্স পার্টি শুধু কেনিয়াতে নয়, পুরো আফ্রিকায় তিনি জনপ্রিয় করে তুলবেন।
"ক্লাব সংস্কৃতি এবং নাইট লাইফ অনেক সময় নারীদের জন্য নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়। শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণেই তাদের এ ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।" তিনি বলেন।
"মূলধারার ক্লাব সংস্কৃতির দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে আমাদের অবশ্যই নারীদের জন্য এমন একটি স্থান নিশ্চিত করতে হবে যেন তারাও নিরাপদে মূলধারার উৎসবের ভাগীদার হতে পারে।" বলেন মিজ গুমি।
আয়োজকরা চান এই পার্টি তারা আফ্রিকাজুড়ে ছড়িয়ে দিতে।

Sunday, September 8, 2019

এখনো হারিয়ে যায়নি নৌকাবাইচ by রাশিম মোল্লা

নদীতে পর্যাপ্ত পানির অভাব ও রাজনৈতিক মতানৈক্যের কারণে বিলুপ্তির পথে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। আবহমান গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে রোয়িং ফেডারেশনের নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। কেবল মাত্র বুড়িগঙ্গা নদীতে বছরে একবার নৌকাবাইচ আয়োজন করেই তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। তবে গত বছর অনুষ্ঠিত হয়নি এই আসর। এবারকার আয়োজনেরও হদিস নেই। তবুও থেমে নেই বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য নৌকাবাইচ। গ্রামবাসীর উদ্যোগে এখনো হচ্ছে সুস্থ বিনোদনের এই উৎসব।
এক সময় বর্ষায় নৌকাবাইচ ছিল দেশের প্রধান উৎসব। প্রতি বছর বর্ষাকালে ভরা ভাদ্রে এ উৎসব পালিত হতো। এখন সেটা আর নেই। তবে একেবারে নেই সেটা বলা যাবে না। গতকাল মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইরে অনুষ্ঠিত হলো নৌকাবাইচ। উপজেলার বালিরটেকের কালিগঙ্গা নদীর দুইপারে লাখো মানুষের উপস্থিতি ছিল। গত বুধবার অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান বলেছেন, নৌকাবাইচ বাঙালির জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাজার বছরের গ্রামবাংলার সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে সুস্থ বিনোদন হিসেবে চলে আসছে। তাই এই নৌকাবাইচকে ধরে রাখতে হবে। হারিয়ে যেতে দেয়া যাবে না। নৌকাবাইচ বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ। তবে কবে এদেশে গণবিনোদন হিসেবে নৌকাবাইচের প্রচলন হয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে দুটি জনশ্রুতি রয়েছে। একটি জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে। জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার সময় স্নানার্থীদের নিয়ে বহু নৌকার ছড়াছড়ি ও দৌড়াদৌড়ি পড়ে যায়। এতেই মাঝি-মাল্লা-যাত্রীরা প্রতিযোগিতার আনন্দ পায়। এ থেকে কালক্রমে নৌকাবাইচ শুরু। দ্বিতীয় জনশ্রুতি পীর গাজীকে কেন্দ্র করে। ১৮ শতকের শুরুর দিকে কোনো এক গাজী পীর মেঘনা নদীর এক পারে দাঁড়িয়ে অন্য পারে থাকা তার ভক্তদের কাছে আসার আহ্বান করেন। ভক্তরা তার কাছে আসতে একটি ডিঙ্গি নৌকা খুঁজে বের করেন। যখনই নৌকাটি মাঝ নদীতে এলো তখনই নদীতে তোলপাড় আরম্ভ হলো। নদী ফুলেফেঁপে উঠলো। তখন চারপাশে যত নৌকা ছিল তারা খবর পেয়ে ছুটে আসে। তখন সারি সারি নৌকা একে অন্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলে। এ থেকেই নৌকাবাইচের গোড়াপত্তন হয়। মুসলিম যুগের নবাব-বাদশাহর আমলে নৌকাবাইচ বেশ জনপ্রিয় ছিল। অনেকে মনে করেন, নবাব বাদশাহদের নৌবাহিনী থেকেই নৌকাবাইচের গোড়াপত্তন হয়। পূর্ববঙ্গের ভাটি অঞ্চলের রাজ্য জয় ও রাজ্য রক্ষার অন্যতম কৌশল ছিল নৌশক্তি। বাংলার বারো ভূঁইয়ারাও নৌ-বলেই মোগলদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন। মগ ও হার্মাদ জলদস্যুদের দমনে নৌশক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখে। এসব রণবহর বা নৌবহরে দীর্ঘাকৃতির ছিপ জাতীয় নৌকা থাকতো। একেক অঞ্চলে একেক রকমের নৌকার প্রচলন রয়েছে। তবে নৌকাবাইচের জন্য যে নৌকা ব্যবহার করা হয় সেটা হয় সরু ও লম্বাটে। কারণ, সরু ও লম্বাটে হওয়ায় পানি কেটে দ্রুত চলতে সক্ষম এ নৌকা। নৌকার সামনের গলুইটাকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়। কখনো করা হয় ময়ূরের মুখ, কখনো রাজহাঁস বা অন্য কোনো পাখির মুখাবয়ব। ঢাকা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ অঞ্চলগুলোতে বাইচের জন্য সাধারণত কোশা নৌকা ব্যবহৃত হয়। এর গঠন সরু এবং লম্বায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ফুট পর্যন্ত হয়। কোশা নৌকার সামনের ও পেছনের অংশ একেবারে সোজা। বাইচের নৌকাগুলোর রয়েছে বিভিন্ন নাম। মাসুদ রানা, চার ভাই, দাদা-নাতী, পানির রাজ, শেখ বাড়ি, শিকদার বাড়ি, হাতনীর রাজ, বাংলার ঐতিহ্য, সোনার বাংলা, খান বাড়ি, জয় বাংলা, মধু মাঝি, নীল সবুজ, শাহজালাল, অগ্রদূত, ঝড়ের পাখি, পঙ্খিরাজ, ময়ূরপঙ্খি, সাইমুন, তুফানমেইল, সোনার তরী, দীপরাজ ইত্যাদি। নৌকায় ওঠার ক্ষেত্রে রয়েছে অনেক আনুষ্ঠানিকতা। সকলে গেঞ্জি গায়ে মাথায় একই রঙের রুমাল বেঁধে নেয়। সবার মধ্যখানে থাকেন নৌকার নির্দেশক। প্রতিটি নৌকায় ৫০ থেকে ১০০ জন মাঝি থাকে। যে কেউই নৌকার মাঝি হতে পারতো না। মাঝি হতে হলে তাকে একটু রুষ্টপুষ্ট হতে হতো। ছয় মাস আগে থেকেই বাছাই করা হতো মাঝিদের। সাধারণত ভাদ্র মাস আসার আগেই নদীপারের মানুষ প্রস্তুতি নেয় বাইচ উৎসবের। চলে নৌকার ঘষামাজা। সবার বাড়িতে চলে উৎসবের আয়োজন। বাড়ির বধূরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন নৌকাবাইচ দেখতে আসা আত্মীয়দের জন্য পিঠাপুলি বানাতে। সকালে দলবেঁধে ছোটে নৌকাবাইচ দেখতে। বিকালবেলা শুরু হয় নৌকাবাইচের মূল আসর। ‘হেইয়ো রে হেইয়ো’ বলে মাঝিরা একসঙ্গে বৈঠা লাগায় নদীতে। জোড়ায় জোড়ায় শুরু হয় প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় চলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী টান। তবে এখন আর আগের মতো দেখা যায় না নৌকাবাইচ। তবে স্বল্প পরিসরে এর আয়োজন এখন হলেও উৎসবের আনন্দ কিন্তু ভাটা পড়েনি। প্রতিবছরই আয়োজন করা হয় নৌকাবাইচ। ইতিমধ্যে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জে স্থানীয়দের উদ্যোগে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী নৌকাবাইচ। এ ব্যাপারে নৌকাবাইচ ঐতিহ্য রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. মাসুদ মোল্লা বলেন, এলাকার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য কষ্ট হলেও প্রতিবছরই নৌকাবাইচের আয়োজন করছি। আবহমান গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে রোয়িং ফেডারেশনের কোনো পৃষ্ঠপোষকতা নেই। তিনি বলেন, এক সময় নবাবগঞ্জে ইছামতি নদীতে প্রায় ৩০টি পয়েন্টে আয়োজন করা হতো নৌকাবাইচ। কিন্তু সরকারি সহায়তা না পেয়ে এখন অনেক স্থানেই বন্ধ হয়ে গেছে এ উৎসব। নবাবগঞ্জের শাহজালাল নৌকার মালিক ও নবাবগঞ্জ রোফিং ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব জামান বলেন, আমাদের এ এলাকায় পাঁচটি বাইচের নৌকা ছিল। এসব নৌকা উত্তাল পদ্মায় বাইচ দিতে যেত। ১৯৭৫ সালে আমাদের গ্রামের একটি নৌকা উত্তাল পদ্মায় বাইচ দিতে গিয়ে ডুবে যায়। তা আর পাওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, এখন নৌকাবাইচে ফ্রিজ, মোটরসাইকেল ও টেলিভিশন পুরস্কার দেয়া হলেও আজ থেকে ৪০ বছর আগে পুরস্কার দেয়া হতো কলস ও শিল্ড।

Saturday, August 17, 2019

ডেঙ্গু ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে by আদিত্য রিমন

দর্শনার্থীশূন্য ওন্ডারল্যান্ড
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের ছুটিতে অনেকটাই ফাঁকা রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ডেঙ্গু ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী দর্শনার্থী নেই বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। ফলে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার কোনও কোনও বিনোদন কেন্দ্র সংস্কার কাজ ও ঈদের ছুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। রাজধানীতে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ সময়ের চেয়ে ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীর আগমন সব সময় বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু এবার ঈদের দ্বিতীয় দিনেও তার চিত্র উল্টো। গত কয়েকটি ঈদের তুলনায় এবার দর্শনার্থীর সংখ্যা কম। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগের ভয়ের পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে আশানুরূপ দর্শনার্থী হয়নি বলে তারা মনে করছেন। তবে পরিবেশের উন্নতি হলে ধীরে ধীরে আশানুরূপ দর্শনার্থীর আগমনে কেন্দ্রগুলো জমে উঠবে বলে তাদের আশা।
হাতেগোনা কিছু শিশু ওন্ডারল্যান্ডে
হাতেগোনা কিছু শিশু ওন্ডারল্যান্ডে
সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ান্ডারল্যান্ডে (সাবেক শিশুমেলা) গিয়ে দেখা যায় দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারেই হাতেগোনা। এ কারণে ‍শিশুদের অনেক রাইড ফাঁকা। শ’খানেক দর্শনার্থী এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেবল। অথচ অন্য বছরগুলোতে এই বিনোদন কেন্দ্রে ঈদের সময় থাকতো উপচে পড়া ভিড়।
ওয়ান্ডারল্যান্ড (সাবেক শিশুমেলার) ম্যানেজার মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে দর্শনার্থীশূন্য ওয়ান্ডারল্যান্ড। সকাল থেকে তিন-চারশ’ লোক এসেছেন। সাধারণ ছুটির দিনগুলোতে এ সময় কমপক্ষে ২-৩ হাজার টিকিট বিক্রি হয়। তবে আবহাওয়ার উন্নতি হলে বিকালে দর্শনার্থী বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর
বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর
উল্লেখ্য, আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিকেলে আরও খারাপ হয়েছিল। ফলে শিশুদের নিয়ে বাইরে বের হয়নি রাজধানীতে বসবাসকারী পরিবারগুলো। বিকেল থেকে সড়কেও জন-উপস্থিতি ছিল কম।
বউ-ছেলেকে নিয়ে ওয়ান্ডারল্যান্ডে ঘুরতে এসেছিলেন নিয়াজ জামান সজিব। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর কারণে এবারের ঈদে শহরের অধিকাংশ লোক গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। আমরা ঘুরতে এসেও বাচ্চাকে নিয়ে চিন্তায় আছি। কখন আবার কী হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ওয়ান্ডারল্যান্ডে এবারের ঈদে প্রবেশমূল্য রাখা হচ্ছে ৬০ টাকা। আর ভেতরের শিশুদের রাইডগুলোর টিকিটের মূল্য রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা করে।
মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এবার ঈদে ওয়ান্ডারল্যান্ডে নতুন কোনও রাইড যুক্ত হয়নি। তবে আগেরগুলো সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া পার্কে রঙও করা হয়েছে।
জাতীয় জাদুঘর
জাতীয় জাদুঘর
শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরেও গত ঈদের তুলনায় দর্শণার্থীর সংখ্যা অনেক কম। দর্শনার্থী ও জাদুঘর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয় ঢুকে গেছে। এ কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এছাড়া সকালে বৃষ্টি ছিল আর সারা দিন আবহাওয়া ভালো ছিল না। ফলে অন্য ঈদগুলোর তুলনায় দর্শনার্থী অনেক কম।
দুপুর ১টার দিকে জাদুঘরের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বরত রুহুল আমিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ৪ জন সেলসম্যান জাদুঘরের টিকিট বিক্রি করেন। তিনি সকাল থেকে ৪৩৩টি টিকিট বিক্রি করেছেন। অন্যরাও এই রকম বিক্রি করেছেন। গত ঈদে এ সময়টাতে প্রত্যেকে কমপক্ষে ৩-৪ হাজার টিকিটে বিক্রি করেছেন। কাউন্টার লোকজন না থাকায় অন্যরা খেতে গেছেন। অথচ অন্য ঈদগুলোতে এই সময় খাওয়া তো দূরের কথা, দম ফেলানোর সময় পাওয়া যেত না।
নেই সাধারণ দিনের কোলাহলও
নেই সাধারণ দিনের কোলাহলও
তিনি আরও বলেন, সবার মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে একটা আতঙ্ক রয়েছে। এ কারণে ঘর থেকে মানুষ বের হতে ভয় পাচ্ছেন। অন্য ঈদগুলোতে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা বেশি আসতো। এবার সেটা কম।
পুরান ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে জাদুঘর ঘুরে দেখতে এসেছেন ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন। তিনি বলেন, সারাদেশ ডেঙ্গুতে ভরে গেছে। কীভাবে মানুষ ঈদের ছুটিতে ঘুরে বেড়াবে? এছাড়া পুরো শহরে কোরবানির বর্জ্য রয়েছে। তারপরও আমি ছেলেমেয়েদের নিয়ে এসেছি। এখন ভালোয় ভালোয় বাসায় ফিরতে পারলেই হলো।
জানা গেছে, জাতীয় জাদুঘরে দেশের নাগরিকদের জন্য টিকিটের মূল্য রাখা হচ্ছে ২০ টাকা। আর ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য রাখা হচ্ছে ১০ টাকা। আর সার্কভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য টিকিটের মূল্য রাখা হচ্ছে ৩শ’ টাকা আর অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য  ৫শ’ টাকা। 
চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীরা
চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীরা
এদিকে অন্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোর তুলনায় মোটামুটি দর্শনার্থীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো ছিল জাতীয় চিড়িয়াখানায়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ঈদের তুলনায় এবার অর্ধেক দর্শনার্থী হয়েছে। আজ (১৩ আগস্ট) প্রায় দেড় লাখ দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখে গেছেন। গত ঈদে এই সংখ্যাটা ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার।
সন্ধ্যায় চিড়িয়াখানার কিউরেটর নজরুল ইসলাম বলেন, সকালের দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা কম থাকলেও দুপুরের পর  বেড়েছে। আজকে প্রায় দেড় লাখ দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা ঘুরতে এসেছেন।
ওন্ডারল্যান্ডের সামনে দর্শনার্থী
ওন্ডারল্যান্ডের সামনে দর্শনার্থী
গাজীপুর থেকে আলী আহসান পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন চিড়িয়াখানায়। তিনি বলেন, এখন কারখানা বন্ধ। তাই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। রাস্তাঘাটও কিছুটা যানজটমুক্ত আছে। এখানে ছেলেমেয়ের ভালো লাগছে। তারা আনন্দ করছে।   
জানা গেছে, চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৩৭ প্রজাতির ২ হাজার ৭৬২টি প্রাণী রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বাঘ, চিতাবাঘ, বানর, ভাল্লুক, সিংহ, হাতি, জলহস্তী, গণ্ডার, ঘোড়া, হরিণ, জিরাফ, জেব্রা, মায়া হরিণ, সাদা হংস, উট, বানর, বনগরু, অজগর, ময়ূর ইত্যাদি।
চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থী
চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থী
এর বাইরে সংস্কার কাজ চলায় বন্ধ আছে শাহবাগ শিশুপার্ক। আর ঈদের ছুটির কারণে বন্ধ আছে বিজয় সরণি মোড়ের বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বৃষ্টিতেও দর্শনার্থীদের সমাগম by রায়হানুল ইসলাম আকন্দ

ঈদের দিন গাজীপুরের আকাশ ছিল অনেকটাই পরিষ্কার। কিন্তু পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে বেড়িয়েছেন দর্শনার্থীরা। ঈদের পরদিন হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন মঙ্গলবারও (১৩ আগস্ট) পার্কটি খোলা ছিল। এদিন ভ্রমণপ্রেমীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। আজ বুধবারও পার্কে ব্যাপক দর্শনার্থীর সমাগম চোখে পড়েছে।
মূলত ঈদের পরদিন থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার আনিসুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বিশেষ দিনগুলো ছাড়া স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচ হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে পার্কে। ছুটিতে সেই সংখ্যা বেড়ে যায়। আর ঈদের ছুটিতে তা হয়ে যায় কয়েকগুণ বেশি।
পার্কের ইজারাদার শেখ সফিকুর রহমান সফিক জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য পার্ক খোলা থাকে। ঈদের পরদিন মঙ্গলবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বুধবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে আবহাওয়ার কারণে ঈদুল আজহায় দর্শনার্থী সমাগম তুলনামূলক কম হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে অভিভাবকের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের ঈদ আনন্দ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কটি পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো কোর সাফারি, সাফারি কিংডম, বায়োডাইভার্সিটি পার্ক, এক্সটেনসিভ এশিয়ান সাফারি পার্ক ও বঙ্গবন্ধু স্কয়ার। ঈদে পাঁচভাগের সবটিতেই ছিল দর্শনার্থীদের সমাগম।
বরাবরের মতোই এবারের ঈদেও বন্যপ্রাণীর প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহ ছিল বেশি। প্রাণীজগতের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে উঠে সুবিশাল সবুজ প্রকৃতি উপভোগের জন্য ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ময়ূর, ধনেশ, ক্রাউন্ট ফিজেন্টসহ দেশি-বিদেশি নানান জাতের পাখির পাখিশালা, প্রজাপতি কর্নার, বিভিন্ন প্রাণীর প্রজনন কেন্দ্র, মেরিন অ্যাকুরিয়াম, লেকজোন ও কুমির পার্ক সাফারি কিংডমের বৈচিত্র্য আনন্দ দিয়ে সবাইকে।
কোর সাফারিতে বাড়তি মাত্রা
বাঘ, সিংহ, সাদা সিংহ, ভালুক, চিত্রা, মায়া ও সাম্বার হরিণ, বিভিন্ন প্রজাতির বক, আফ্রিকার ওয়াইল্ড বিস্ট, অরিক্স, কমন অ্যালান্ড, থমসন গ্যাজেল, জেব্রা, জিরাফ পার্কের কোর সাফারিতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। এগুলো আলাদা আলাদা সীমানা প্রাচীরের ভেতর উন্মুক্তভাবে বিচরণ করছে। পার্কের নির্ধারিত মিনিবাস-গাড়িতে চড়ে এসব প্রাণী দেখতে হয়। এজন্য রয়েছে ২৮-৩০ আসনের ছয়টি মিনিবাস। গাড়ির আসন অনুযায়ী দর্শনার্থীরা বেড়ানোর সুযোগ পান।
প্রবেশমূল্যে নজরদারির দাবি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা, ১৮ বয়সীদের নিচে দর্শনার্থীদের জন্য ২০ টাকা। শিক্ষা সফরে আসা বা সাধারণ স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। গাড়িতে করে কোর সাফারি পার্ক পরিদর্শনে জনপ্রতি টিকিট ফি ১০০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পার্কের কোর সাফারি
তবে ভাড়া নিয়ে আপত্তি জানালেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার খোকন মিয়া। গাজীপুরের এসএসআর সোয়েটার কারখানার নিটিং অপারেটর তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাফারি পার্কে ঘুরতে এসেছেন। তার মন্তব্য, ‘কোর সাফারি পার্কে ১৮ বছরের নিচে সবার জন্য ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটা অতিরিক্ত। কর্তৃপক্ষের বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।’
একই আপত্তি তুললেন চুয়াডাঙ্গার শাহরিয়াত হোসেন ফয়সাল। মেয়েকে বাঘ দেখাতে নিয়ে এসেছেন। তার অভিযোগ, ‘শিশু-কিশোরদের জন্য কোর সাফারি দেখার জন্য ১০০ টাকা করে টিকিট নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ঘোরাঘুরির সময় পার্ক কর্তৃপক্ষের কোনও লোক সঙ্গে না থাকায় আমার ছেলে ও সঙ্গী কেউ বাঘ বা কোনও প্রাণীর দেখা পায়নি। এটি দর্শনার্থীদের সঙ্গে পার্ক কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতামূলক আচরণ।’
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে আসার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল মাদারীপুরের সোনিয়া আক্তারের। এবার অফিস ছুটি ও বাড়িতে ঝামেলা না থাকায় সেই সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুই ঘণ্টা ঘুরে দেখলাম, ভালো লাগছে। তবে শিশুদের আলাদাভাবে বাঘ ও বিভিন্ন প্রাণী দেখানো গেলে অভিভাবকরা আরও উৎসাহ পেতেন।’
পার্ক কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান
জামালপুরের সরিষাবাড়ি থেকে বন্ধু সোনিয়া আক্তারকে নিয়ে সাফারি পার্কে এসেছেন শফিকুল ইসলাম সুজন। তার অভিযোগ, পার্কের লোকজনের সঠিক তদারকি ও নিয়মশৃক্সখলা না থাকার কারণে অনেক দর্শনার্থী পরিবার নিয়ে এসেও না বেড়িয়ে ফিরে যাচ্ছে। তাই বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এদিকে নজর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। পার্ক কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এই দর্শনার্থী।
কাপাসিয়া থেকে স্বামীকে নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছেন আমরিনা হক। তিনি বলেন, ‘এখানে দর্শনার্থীদের গাইড করার মতো কাউকে পাওয়া যায় না। পার্ক কর্তৃপক্ষ শুধু দর্শনার্থীদের টিকিট দিয়েই খালাস, যেন তাদের কোনও দায়িত্ব নেই।’ এছাড়া বিভিন্ন প্রাণী দেখার জন্য ৩০ টাকা টিকিট নেওয়া হলেও তা চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ তার। এক্ষেত্রে কচ্ছপের উদাহরণ দেন তিনি।
তবে সাফারি পার্কের ব্যবস্থাপনা দেখে খুশি বগুড়ার শেরপুরের ইসমাইল হোসেন। ঈদের ১৫ দিন আগে নতুন বিয়ে করেছেন তিনি। শ্বশুরবাড়ি থেকে নতুন গাড়ি পেয়ে বউকে নিয়ে সাফারি পার্কে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই চাকরিজীবী।
পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মোতালেব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রত্যেক সাফারির প্রবেশদ্বার ও কোর সাফারির ভেতরের উল্লেখযোগ্য স্থানে প্রাণীবৈচিত্র্যের নানান বৈশিষ্ট্য সংবলিত ফেস্টুন রয়েছে। এগুলো দর্শনার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রাণীর ব্যাপারে প্রাথমিক জ্ঞান লাভে সহযোগিতা করে। একদিনে ও অল্প সময়ে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ঘুরে প্রাণীবৈচিত্র্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়। পার্কটি প্রাণীবৈচিত্র্য নিয়ে নিয়মিত চর্চার নিরাপদ জায়গা।’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রবেশপথ

Friday, August 16, 2019

৪০ ঘণ্টা পর যমুনায় ভেসে উঠলো শিশু রাবেয়ার লাশ

ছবি তুলতে গিয়ে যমুনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার ৪০ ঘণ্টা পর ৫ বছরের শিশু রাবেয়ার লাশ পেয়েছে পরিবার। আজ শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই লাশের অপেক্ষায় দিনরাত নদীর তীরেই পড়ে থাকতেন মা নাসরিন বেগম,  বাবা এরশাদ আলী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
আজ সকালে ৯ টার দিকে বালুবাহী সেই ভলগেটের পাশে হঠাৎ করেই রাবেয়ার লাশ  ভেসে উঠে। পরে লাশটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় রাবেয়ার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সিরাজকান্দি গ্রামের এরশাদ আলী ঈদ উপলক্ষে বুধবার বিকালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ল্যাংড়া বাজার এলাকার যমুনা নদীর তীরে ঘুরতে যায়। এ সময় রাবেয়াকে বালুবাহী ভলগেটের ওপর দাঁড় করিয়ে ছবি তুলতে গেলে সে নদীতে পড়ে যায়। স্রোত বেশি থাকায় পরিবারের সদস্যরা চেষ্টা করেও তার কোন খোঁজ পায়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় টাঙ্গাইল ও ভূঞাপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তারা উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও অতিরিক্ত বালুবাহী ভলগেট থাকায় রাত ৯ টার দিকে প্রথম দফা উদ্ধার কাজ চালিয়ে ফিরে যায়। বৃহস্পতিবার পুনরায় দ্বিতীয় দিনের মতো তারা উদ্ধার কাজ চালিয়েও ব্যর্থ হয় ফায়ার সার্ভিস।

Sunday, August 11, 2019

জমজমাট পশুর হাট, পছন্দের গরু কিনতে গাবতলীতে by আবদুস সালাম ও সোয়েল রানা

নগরবাসীর একাংশ ঈদুল আজহার আনন্দ স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকা ছাড়া শুরু করেছে। আরেক অংশ পছন্দের কোরবানির পশু কিনতে ঘুরছে হাটে হাটে। আশা করা হচ্ছে আজ শুক্রবার থেকে পশুর বেচা–কেনা জমে উঠবে। রাজধানীর অন্যতম বড় ও ঐতিহাসিক কোরবানির পশুর হাটটি বসে গাবতলীতে। এই হাটে এসেছে নানা জাতের গরু। গরুর গালভরা সব নাম—ডন, বেল্টু, লালটু, বিগ বস, রাজা বাহাদুর, রাজ বাহাদুর, রাজাবাবু, পাগলু, কালু, লালু, যুবরাজ...। একেকটি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৪০ লাখ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, এবার গরুর দাম চড়া। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, গরু বিক্রি হচ্ছে না। ছবিগুলো ৮ ও ৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের।
রাজাবাবুর (সাদা–কালো) আর বীর বাহাদুর উভয়েরই দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। রাজাবাবুর (সাদা–কালো) আর বীর বাহাদুর উভয়েরই দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে গরুর নামসংবলিত ব্যানার টানানো হয়েছে।ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে গরুর নামসংবলিত ব্যানার টানানো হয়েছে।দূর–দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে এই হাটে এসেছেন।দূর–দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা গরু নিয়ে এই হাটে এসেছেন।মাঝারি আকারের গরুর সারি।মাঝারি আকারের গরুর সারি।গরুটির নাম কালা তুফান। ১২ লাখ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে।গরুটির নাম কালা তুফান। ১২ লাখ টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে।হাটে গরু সাজানোর সরঞ্জাম বিক্রি করেন নজরুল ইসলাম।হাটে গরু সাজানোর সরঞ্জাম বিক্রি করেন নজরুল ইসলাম।গরুর সঙ্গে সেলফি তুলছে একদল শিশু।গরুর সঙ্গে সেলফি তুলছে একদল শিশু।
জমজমাট পশুর হাট by সোয়েল রানা
কোরবানির পশুর হাটে বেচাকেনা জমে উঠতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য গরু আনা হচ্ছে। বগুড়ার অন্যতম প্রসিদ্ধ মহাস্থান হাটের কিছু ছবি:
হাটে বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে নেওয়া হচ্ছেহাটে বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে নেওয়া হচ্ছেহাটে গিয়ে মেজাজ বিগড়ে গেছে এক গরুরহাটে গিয়ে মেজাজ বিগড়ে গেছে এক গরুরহাটের গরুর ছবি তুলে নিচ্ছেন ক্রেতাহাটের গরুর ছবি তুলে নিচ্ছেন ক্রেতাহাটে বিক্রির জন্য গরু আনা হচ্ছেহাটে বিক্রির জন্য গরু আনা হচ্ছেগরমে অতিষ্ঠ গরুর মাথায় পানি দিচ্ছেন এক বিক্রেতাগরমে অতিষ্ঠ গরুর মাথায় পানি দিচ্ছেন এক বিক্রেতাহাটে গরুগুলোকে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাজানো হয়েছেহাটে গরুগুলোকে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাজানো হয়েছেরাহাত খান নামের এক খামারি দুটি উলবারি জাতের গরু বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৮০০ কেজি। দুটি গরুর দাম হেঁকেছেন ১২ লাখ টাকারাহাত খান নামের এক খামারি দুটি উলবারি জাতের গরু বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। প্রতিটি গরুর ওজন প্রায় ৮০০ কেজি। দুটি গরুর দাম হেঁকেছেন ১২ লাখ টাকাহাটে নানা জাতের গরুহাটে নানা জাতের গরুহাট থেকে কিনে নেওয়া হচ্ছেহাট থেকে কিনে নেওয়া হচ্ছে

Monday, August 5, 2019

দুইটি হাতে দুইটি আম, এই হাসিটার অনেক দাম by নওরিন আক্তার

স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করেছিলেন তহবিল। কেউ হাতে তৈরি জিনিস বিক্রি করেছেন, কেউবা পরিচিতদের কাছ থেকে সাধ্যমতো সাহায্য এনেছেন। ফেসবুক সংগঠন ‘আমরা খাঁটি গরিব’ এর সদস্যরা দিয়েছেন সাধ্যমতো। সবমিলিয়েই আমের রসে রাঙলো ২ হাজার শিশুর মুখ। ঢাকাসহ এক যোগে ৬ বিভাগে আয়োজিত হয়ে গেল পথশিশুদের আম উৎসব। এবার সঙ্গে ছিল বিদ্যানন্দ। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় আমের পাশাপাশি খাবারও পেয়েছে অসহায় শিশুরা।
পথশিশুরা উঠবে হেসে, রঙিন আমের বাংলাদেশে; দুইটি হাতে দুইটি আম, এই হাসিটার অনেক দাম- এমনই সব উক্তি মোড়ানো পিকআপ ভর্তি আম নিয়ে গতকাল ৬ জুলাই রাজধানীর এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত ছুটে বেরিয়েছেন আমরা খাঁটি গরিব ও বিদ্যানন্দের স্বেচ্ছাসেবীরা।
রাজধানীর কল্যাণপুরের ব্রাইট স্টার স্কুলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিশুরা আম পেয়ে দুই হাত উঁচু করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। পোড়া বস্তি আনন্দ স্কুল, শিশুতরী সংস্থাসহ বিভিন্ন স্কুল থেকে দলে দলে বের হচ্ছিল শিশুরা। সবার হাতে আম, মুখে হাসি।
স্বেচ্ছাসেবী ফারজানা হোসেন তিথি বলেন, ‘শিশুদের এই উচ্ছল হাসি দেখার জন্যই সব আয়োজন। অনুষ্ঠানটির সফলতার ভাগীদার তারাও, যারা খুব অল্প পরিমাণে হলেও সামর্থ্য মতো টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন।’
‘পাকা আমের মধুর রসে রাঙিয়ে দেব মুখ’ স্লোগান নিয়ে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, চট্টগ্রাম, রংপুর, সিলেট, খুলনা ও বরিশালে একযোগে হয়েছে পথশিশুদের এই উৎসব। সারাদেশে এবছর ২ হাজারেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশু পেয়েছে আমের স্বাদ।
২০১০ সাল থেকে ‘আমরা খাঁটি গরিব’ সংগঠন বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম করে আসছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে আম উৎসব ও শীতবস্ত্র বিতরণ।

Thursday, June 6, 2019

সাজে উৎসবের স্পন্দন by মরিয়ম চম্পা

ঈদের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। দুর্দান্ত ত্বক আর চুলের জেল্লার জোরে স্পটলাইট কেড়ে নিতে চাইলে শেষ সময়ের তোড়জোড় প্রয়োজন এখন থেকেই। সারতে হবে সাজপ্রস্তুতিও এমনটিই পরামার্শ দিয়েছেন পারসোনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান।
পরিবারের সবাই মিলে হৈ হৈ আড্ডা, বাইরে ঘুরতে যাওযা, মেহমান থেকে রান্নার রণক্ষেত্র সামাল দেয়াÑ ঈদে কাজের তালিকার শুরু আছে, শেষ নেই। উৎসবের দিন বলে আরাম করে ছু্িটর দিন হিসেবে পার করার কোনো সুযোগই মিলবে না। বরং বাড়তি কসরত রয়েছে বিশেষ দিনগুলোর জন্য। সাজপোশাকে সব সময় ফিটফাট থাকতে হবে তো। আর ঈদে সাজবেন বলে তার মাত্র কয়েকদিন আগে মনস্থির করে বসে গেলেন আর কাজ হয়ে গেল, ব্যাপারটা মোটেই তা নয়। তাই ঈদের স্পেশাল রূপচর্চা সময় থাকতে শুরু করে দিলেই ভালো।
এতে ঈদের সাজটাও হবে দেখার মতো। তার জন্যও চাই প্রস্তুতি। সমকালীন ট্রেন্ড ঘেটে তবেই সেট করতে হবে ঈদ মেকআপ লুক। মাথায় রাখতে হবে পোশাক, উপলক্ষ্য আর সময়টাও। সবশেষে যাচাই করে নিতে হবে পুরো লুকটা ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কতটুকু মানাচ্ছে।
ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে একবার ফেশিয়াল করিয়ে নিতে পারলে ভালো হয়। চুলের যতেœও চলতে পারে হাইএন্ড সব হেয়ার ট্রিটমেন্ট। মুখের সঙ্গে মানিয়ে মানানসই হেয়ার কাট করিয়ে নিতে হবে ঈদের আগে। এতে নতুন হেয়ারস্টাইলের সঙ্গে নিজের সম্পূর্ণ লুক মানিয়ে নেয়ার সময় পাওয়া যাবে। যারা নতুন কোন হেয়ারস্টাইল ট্রাই করতে ইচ্ছুক নন তারা পুরানো স্টাইলই সামান্য টাচ আপ করিয়ে নিন। ট্রিমিং সেরে নেয়া যেতে পারে। যাদের হেয়ার কালার করা আছে তাঁরা কালার টাচ আপ করিয়ে নিতে পারেন। আর ঈদের কয়দিন আগে স্পাতে গিয়ে আপাদমস্তক স্পেশালাইজড ট্রিটমেন্ট সেরে নেয়া যায় ফ্রেশ দেখাবে। লাগবে সতেজ। তবে সেক্ষেত্রে সময় নিয়ে যাওয়া উচিত। তাড়া দিলে পুরো কাজটাই খারাপ হবে। হীতে বিপরীতটাও হয়ে যেতে পারে।
এতো গেল ঈদের আগের সার্বিক প্রস্তুতি। ঈদের কয়টা দিন কিভাবে সাজবেন সেটা কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের চার পাঁচ দিন নানারকমভাবে সেজে দেখা যেতে পারে। তবে পোশাক, মেকআপ, হেয়ারস্টাইলÑ সবক্ষেত্রেই কিন্তু কমফর্টটাই শেষ কথা।
প্রথমেই স্টক চেক করে নেয়া প্রয়োজন। কোন কোন প্রসাধনী শেষ হয়ে গিয়েছে বা নতুন কিনলে ভালো হয় সেটা যাচাই-বাছাই করে নেয়া দরকার। ঈদের আগেই বিউটি বক্সে পুরে ফেলুন সব প্রয়োজনীয় সামগ্রী। রানওয়ে, রেড কার্পেট থেকে ম্যাগাজিনের পাতা ঘেটে সাম্প্রতিক সাজ প্রবণতা বের করে ফেলা এখন খুব কঠিন নয়। সেগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিত্ব আর ব্যক্তিগত পছন্দের মিশেলে সেজে উঠুন এবারের ঈদে। সেজন্য এ বছরকার মেকআপ ট্রেন্ডগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা থাকা চাই। এত করে লুক সাজানোর কাজটা সহজ হয়। সেজে ওঠা যায় ভিন্ন ভিন্ন রূপে।
বদলে গেছে বেইজ
শিশিরসিক্ত স্বাভাবিক সুন্দর ত্বকের সময় এ বছর। তাই নো মেকআপ মেকআপ লুকটাই প্রাধান্য পাবে বেজ তৈরির ক্ষেত্রে। তবে আরও তীব্র ভাবে। যেটুকু না করলেই নয়, শুধু সেটুকু মেকআপ ব্যবহার করে চেহারায় আবেদনময় আকর্ষণ তৈরি করাটাই হবে কাজ। কিন্তু দাগছোপ মুক্ত ঝলঝকে নিখুঁত যেন হয়। খুব বেশি কনট্যুর করার প্রয়োজন নেই ত্বক। বরং হাইলাইটারের উজ্জ্বলতা যেন যোগ হয়। আর ব্লাশন ব্যবহার অত্যাবশ্যক। ট্রেন্ডোমিটার তাই বলছে। আর্দি টোন থেকে পিচি পিঙ্ক ব্লাশ দিয়ে প্রাণ সঞ্চারন যেন হয় ত্বকে।
চোখচরিত
ক্লাসিক কালো চোখের দাপট থাকবে বছরজুড়ে। একদম সাদামাটা লাইন থেকে চোখের পুরোটা জুড়ে কাজল টানা ড্রামাটিক লুকের রমরমা থাকছে। কালোর পাশাপাশি নীলও হয়ে উঠবে জনপ্রিয়। রহস্যমোদির আই মেকআপের জন্য দারুন অপশন এটি। চোখের পাতার পুরোটায় কিংবা লাইন ঘেঁষে, এমনকি ল্যাশও রঙিন হয়ে উঠতে পারে নীলে। থাকবে পিঙ্ক, পার্পল, অরেঞ্জ এর মত শেডগুলোও। রঙের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি পাল্টে গেছে আইলাইনারের টানের পদ্ধতি। ক্যাটলাইন আর গ্রাফিক আর্ট তো ছিলই তালিকায় যোগ হয়েছে ফ্রি স্টাইল অ্যাবস্ট্রাক্ট আইলাইনারও। গ্লিটার, শিমার আইশ্যাডোর সঙ্গে ট্যানড, কালার ব্লক আর স্মোকিতেও সাজানো হবে চোখের পাতা। একদম মাসকারাবিহীন লুক যেমন থাকছে কালারড মাসকারাও।
ওষ্ঠ সজ্জায়
নো মেকআপ মেকআপ লুকের সঙ্গে মানিয়েই ট্রেন্ডে সেট হয়েছে বোল্ড লিপস্টিকের শেডগুলো। ম্যাজেন্টা রেড, ব্রাইট ফুশিয়া থেকে কালো আর নীলও তাই ঠোঁটে মেখে নিতে পারবেন অনায়াসে। লালের বিভিন্ন শেডের আলাদা কদর থাকবে বছরজুড়ে। থাকবে ওয়াইন লিপসও। তাই বলে যে ন্যুডের বাজার কমবে তা কিন্তু নয়। ম্যাট শেডের মভ, ট্যান, ক্যারামেল কিন্তু কোথাও যাচ্ছে না। জাস্ট বিটেন কিংবা কিসড লুক তৈরি করা হবে ন্যুড শেডগুলো দিয়ে। লিপস্টিকের ফর্মুলাতেও থাকছে নতুনত্ব। পাউডারি, স্টেইন আর গ্লসের নাম থাকবে তালিকার শীর্ষে। এদের সঙ্গত দেবে শিমার আর গ্লিটারও।
কেশে কেতাদুরস্ত
সাম্প্রতিক সৌন্দর্যপ্রবণতার প্রভাবে পুনরায় পাল্টে গেছে কেশের বেশ। তো অপেক্ষা কিসের? আরামদায়ক, সাহসী ও স্টাইলিশÑ এসব কাটে কেটে নিন চুল। পাল্টে ফেলুন পুরোনো আর একঘেয়ে লুক।
হেয়ারকাট ট্রেন্ডে এসেছে দারুণ সব পরিবর্তন। যার শীর্ষে জ’ লাইন বা মিডলেন্থ ববের অবস্থান। গেল বছরের মতো এবারও থাকবে ব্লান্ট জ’ লাইন বব। কিন্তু এমনভাবে কাটা চাই, যেন কানের পেছনে গুঁজে দিলে তা এ-লাইন ববের ইফেক্ট দেয়। চুলকে ঘন দেখাতে দারুণ অপশন এটি। সোজা চুলে সবচেয়ে ভালো দেখায়, তবে ঢেউখেলানো বা কোঁকড়া চুলেও কেটে নেওয়া যাবে অনায়াসে। মানিয়ে যায় সব ধরনের ফেস শেপে। আরও আধুনিক ও স্বতন্ত্র লুক চাইলে ববের সঙ্গে জুড়ে দিতে পারেন ব্যাঙস। এতে চেহারায় বাড়তি ফ্রেম যোগ হবে। চুল কার্লি হলে খুব বেশি ছোট করা যাবে না ব্যাঙস। তবে যাদের চুল সোজা, তারা দৈর্ঘ্য নিয়ে নিরীক্ষা করতে পারেন পছন্দ অনুযায়ী। চুল ছোট রাখতে স্বচ্ছন্দ হলে শুধু ব্যাঙস কেন, চুল কেটে নিতে পারেন পিক্সি কাটে। নব্বইয়ের গ্রোন আউট পিক্সি এবারে ট্রেন্ডের শীর্ষে। এর বিশেষত্ব হচ্ছে দুই পাশে ছোট রেখে মাথার ওপরের চুল চপি লেয়ারে কেটে নেওয়া হয়। পিক্সির সঙ্গে অ্যাসিমেট্রিক্যাল আন্ডারকাটেও চুল কেটে নেওয়া যেতে পারে। যারা এত ছোট চুলে স্বচ্ছন্দ নন, তাদের জন্য রয়েছে সত্তর স্টাইলের শ্যাগ। তবে নতুন চমক নিয়ে। ব্লান্ট ব্যাঙস সমেত। কলার বোন পর্যন্ত লম্বা চুল আর আইব্রো ছোঁয়া ব্যাঙস-এর বিশেষত্ব। চুল আরও বড় রাখতে চাইলে এ বছরের ট্রেন্ড লং হুইস্পি লেয়ার। যা চুলে ভলিউমের সঙ্গে যোগ করবে বাড়তি মুভমেন্ট। সোজা, ঢেউ খেলানো, কোঁকড়াÑ সব ধরনের চুলে কেটে নেওয়া যাবে অনায়াসেই। এবারের বিভিন্ন স্টাইলের ফ্রিঞ্জ রয়েছে ট্রেন্ডে। বেবি, কার্টেন, বারডট হুইস্পির মতো ফ্রিঞ্জগুলো জুড়ে দেওয়ার ট্রেন্ড থাকবে বছরজুড়ে। আর যারা চুল রাঙাতে চানÑ বেছে নিতে পারেন লাইলাক কিংবা রিচ কপারের শেডগুলো। অ্যাশি সিলভার, স্ট্রবেরি হানি, মাশরুম ব্রাউনও কিন্তু করা যাবে অনায়াসে। আর স্টাইলিংয়ের ক্ষেত্রে ব্রেইড আর বানকে হটিয়ে শীর্ষস্থান পনিটেইলের দখলে। তা-ও আবার যেনতেন স্টাইলে নয়। চুড়োয় বাঁধা পনিটেইল। জেল বা তেল দিয়ে টেনে করা সিøক আপডুর দাপট থাকবে এ বছরও। সঙ্গে লুজ লেট ডাউন কার্লও করে নেওয়া যাবে পছন্দ অনুযায়ী।
ছেলেদের চুলের ট্রেন্ডে এসেছে পরিবর্তন। সিøক ব্যাক হেয়ার হয়ে উঠেছে ম্যাট এবং মেসি। ফেড হেয়ারস্টাইলের জায়গা দখল করে নিয়েছে টেপারড স্টাইল। জনপ্রিয়তা বেড়েছে শর্ট হেয়ারস্টাইলেরও। স্পাইক স্টাইল, টেক্সচারড ক্রপ ছাড়াও শর্ট মেসি লুক থাকবে ট্রেন্ডে। শেভড হেয়ারলাইন, মডার্ন মুলেট আর মোহকও কিন্তু বাদ পড়ছে না তালিকা থেকে। যারা চুল ছোট রাখতে চান, তারা অনায়াসেই বেছে নিতে পারেন ক্লিন কাটের আলট্রা শর্ট টেক্সচারড হেয়ার। চাইলে ফ্রিঞ্জ জুড়ে নিতে পারেন সঙ্গে। পাশে ছোট করে ছাঁটা লুজ পম্প স্টাইলও দারুণ দেখাবে। যাদের চুল কার্লি, তারা টেক্সচারড ক্রপ স্টাইলের সঙ্গে ড্রপ ফেড করে চুলে কেটে নিতে পারেন। চমক দিতে পারেন শেভড লাইন যোগ করে।
স্পাইক আবার ফিরেছে ট্রেন্ডে। ফাইন থেকে ফুল স্পাইক, স্পাইকি কুইফ আর ফেডেড স্পাইক থাকছে তালিকায়। ক্রপের সঙ্গে যোগ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ব্যাঙস। লেয়ারড ব্লান্ট, ডায়াগনাল, জ্যাগড-এর মতো ব্যাঙস রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। যাদের চুল মাঝারি থেকে লম্বা, তারা কেটে নিতে পারেন মুলেট আর মোহক। মেসি ভাব ছাড়াও এতে যোগ করে নিন টেম্পল ফেড, টেপারড সাইড বা লং সাইড ফ্রিঞ্জ। সিøক ব্যাক স্টাইলে টেনে আঁচড়ে রাখলে দারুণ দেখাবে। সঙ্গে যদি টাসলড কিংবা মেসি টেক্সচার করে নেওয়া যায়, তাহলে তো কথাই নেই।

Wednesday, June 5, 2019

এই ঈদ আমাদের কাছে একটা নতুন সূর্যোদয়ের মতো : মমতা

ঈদের নামাজে ‌ক্বারি ফজলুর রহমানের সঙ্গে মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই ঈদ আমাদের কাছে একটা নতুন সূর্যোদয়ের মতো। কেউ যদি কখনো আপনাদের ক্ষতি করতে চায় তাহলে সে উপযুক্ত শিক্ষা পাবে।
তিনি আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডের ঈদের জামাতে উপস্থিত হয়ে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেয়া ভাষণে ওই মন্তব্য করেন।
মমতা বিজেপির নাম না করে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘ইতনা ডরনেকা বাত নেহি হ্যায়। এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সূর্যের তেজ কখনো কখনো খুব বেড়ে যায়। কিন্তু পরে কমেও যায়। টাইম বিইং, যত দ্রুত ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোট যন্ত্র) ক্যাপচার করেছিল, তত দ্রুত চলেও যাবে। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। যে ভয় পায়, সে মরে যায়। যে লড়ে, সেই সফল হয়।’
মমতা সবাইকে অভয় দিয়ে বলেন, ‘সর্বধর্ম সমন্বয় বজায় রাখার ক্ষেত্রে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব। কোনো কিছুতে আপনারা ভয় পাবেন না।’
মমতা বলেন, ‘আপনারা ভালো থাকুন, সুন্দর থাকুন।  ইনশাআল্লাহ্‌ মানুষের জয় হোক। জয়হিন্দ, জয় বাংলা, জয় ভারত।’

তিনি বলেন, ‘যে আমাদের সঙ্গে সংঘর্ষে নামবে সে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। এত ভয় পাওয়ার কিছু নেই। মুরদই লাখ্ বুরা চাহে তো কেয়া হোতা হ্যায়, ওহি হোতা হ্যায় যো মঞ্জুরে খোদা হোতা হ্যায়। অর্থাৎ শত্রুরা লাখো অমঙ্গল কামনা করুক তাতে কিছুই হবে না। সেটাই ঘটবে যা খোদাতালা  নির্ধারন করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘তুমমে অউর মুঝমে তো ফরখ হ্যায় হি, কিঁউ কি তুম কবর সে ডরতে হো। অউর কাফন মেরা ইন্তেজার করতি  হ্যায়!’ অর্থাৎ ‘তোমার ও আমার মধ্যে ফারাক তো আছেই। তুমি কবরে যেতে ভয় পাও আর কাফন আমার প্রতীক্ষা করে।’
মমতা বলেন,‘সবাই আমরা এক। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আল্লাহতায়ালা আপনাদের ভালো রাখুক। 
আপনাদের ঘরে আলোর রোশনি আসুক। আপনারা সবাই খুশিতে ঈদ যাপন করুন।’ আপনাদের পরিবার, আপনাদের ভবিষ্যৎ, আপনাদের সমাজ, আপনাদের সংস্কার, আপনার রাজ্য, আপনার দেশ, সারা বিশ্বে ইনশাআল্লাহ আপনাদের জন্য ঈদ খুশির হয়ে উঠুক বলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।
ঈদের নামাজে মমতার ভাষণ

‘এখন ঈদের আয়োজন বেশি, আন্তরিকতা কম’ -অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক by মুনির হোসাইন

অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে কর্মজীবন শেষ করেছেন। রাজনীতি, সমাজ সংস্কৃতির ওপর তীক্ষè রাখেন সব সময়। বাস্তবতার নিখুঁত পর্যালোচনা করেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময়ই অগ্রগন্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন খেলায় এবং কথায়। হাল সময়ের ঈদ এবং আগেকার সময়ের ঈদ নিয়ে কথা বলেছেন মানবজমিন এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ছোট বেলায় দু’টো বিষয় ছিল। নিজের বয়স কম থাকার কারণে সব কিছুর প্রতি জানবার বুঝবার কৌতুহল ছিল। আরেকটি ব্যাপার ছিল আমাদের সমাজের অবস্থা- মানুষের চিন্তা ভাবনা মন এগুলোর প্রতি জানার অনেক আগ্রহ ছিল।
তখন যেভাবে দেখেছি যে ঈদ আসার অনেক আগ থেকেই আমরা ছোটরা বাবা মাকে বড়দেরকে ঈদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম। তাছাড়া ঈদের সময় একটু খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করা হয় সেগুলো সম্পর্কে আমরা জানতে চেয়েছি। আত্মীয় স্বজন আসছে কিনা তা নিয়ে জানতে চাইতাম। ছোটরা আসবে কিনা এবং আমরা নিজেদেরও ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়ার সীমাহীন আগ্রহ ছিল।
তিনি বলেন, ঈদ উৎসবে আগে আন্তরিকতা ছিল কিন্তু আয়োজন কম ছিল। কিন্তু এখনতো অনেক বেশি আয়োজন হয়, আগে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে ঈদটা উদযাপন করা হতো। কিন্তু এখন ঈদ মানে মুসলমান পরিবারের উৎসব। কিন্তু এখন ধর্মীয় দিক থেকে ঈদকে কম বিবেচনা করা হয়। গত কয়েক বছরের মধ্যে ধর্ম আবার পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। অনেক সাধারণ পরিবারে ঈদ সম্পর্কে পবিত্রতার বোধ জাগ্রত হয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদ মানে আনন্দ এবং আনন্দের মধ্যে দিয়ে ঈদ উদযাপন করা এবং ঈদের দিন বিষণœতা না রাখা এটি হওয়া উচিত। সকলের সঙ্গে কোলাকুলি করা। ঈদ জামাতে নামাজ পড়া এগুলোতো একই রকমেই আছে। উৎসব এখন অনেক বেশি ব্যায় বহুল হয়েছে। আগে অতটা ব্যায় বহুল ছিল না।
নিজের ঈদ প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ঈদের দিন এখন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে যাই। এবং সকালে গোসল করে ঈদের জন্য নির্ধারিত পাঞ্জাবি পায়জামা পড়ে ঈদ জামাতে যাই। আমার সঙ্গে আমার নাতিদেরও নিয়ে যেতে চেষ্টা করি। এভাবে ঈদ উদযাপন করি। এবং ঈদের জামাত থেকে আসার পরে সকলে মিলে সেমাই খাই। খাওয়ার পরে আমি সাধারণত অন্যদের বাড়িতে যাই না। কিন্তু আত্মীয় স্বজন আসলে তাদের সময় দিয়ে থাকি। ছোটরা সালাম করে থাকে। তাদের ঈদ সালামি দেই।
তিনি বলেন, আমার উপলব্ধি অনুযায়ী রাজনীতির যদি উন্নত হয় তাহলে ঈদ সম্পর্কে যে আনন্দের কথা বলা হয় সম্প্রীতির কথা বলা হয় সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব এ বিষয়গুলো সাফল্যের দিকে যেতে পারে। আমরা চেষ্টা করি কিন্তু কার্যক্ষেত্রে খুনাখুনি মারামারি এবং আমরা চাই না এমন অনেক ঘটনা ঘটে। তো সমাজের ভেতর থেকে সমাজকে ভালো করা যায় কিন্তু বেশি ভালো করা যায় না। যদি দেশে সার্বজনীন কল্যাণে কাজ করার মতো সরকার থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি পারস্পরিক সম্প্রীতির মনোভাব থাকে তাহলে দেখা যায় গোটা সমাজের মধ্যে এ ব্যাপারগুলো কার্যকর হয়। আমরা চাই আমাদের দেশের রাজনীতির উন্নতি ঘটুক। আমরা চাই আমাদের গণতন্ত্রকে জনগণের প্রকৃত গণতন্ত্র রূপে নতুন করে আমাদের জনগণ উপলব্ধি করতে শিখুক এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চর্চা নতুন করে গড়ে উঠুক। এবং তার মধ্যে ঈদের সম্প্রীতি গড়ে উঠুক। এবং সারা বছরই এ সম্প্রীতির মনোভাব আমাদের মধ্যে থাকুক এটাই প্রত্যাশা করি।

মিলেমিশে তাদের পাশে by আশরাফ উল্লাহ

আট বছরের জেরিন। এসেছিল চাচার হাত ধরে। পোশাকের দোকানে ঢুকেই তার বিস্ময়মাখা দৃষ্টি। চারপাশে চোখধাঁধানো সব নতুন পোশাক। ইশারা পেতেই বেছে নিল লাল নেটের ঝকমকে ফ্রক। সেটি পরিয়ে দেওয়ার পর সেকি উচ্ছ্বাস তার! ঈদের আনন্দ যেন তার চোখেমুখে খেলে গেল।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি সদরের একটি বিপণিবিতানে জেরিনের মতো আরও অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মধ্যে আনন্দের ফোয়ারা এনে দিয়েছেন একদল তরুণ। তাঁরা সবাই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া। এই তরুণদের সাংগঠনিক রূপ—এক টাকায় শিক্ষা। মূলত শিক্ষা নিয়ে কাজ করলেও ঈদে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে বিতরণ করে নতুন পোশাক।
২৯ মে ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকার ৬৫ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে নিজেদের পছন্দমতো পোশাক কেনার সুযোগ করে দেন সংগঠনটির সদস্যরা। উপজেলা সদরের বাবুনগর গ্রাম থেকে আসে জেরিন। তারা দুই ভাইবোন। জেরিনের বয়স যখন দুই বছর আর ভাই জিসাদের বয়স কেবল এক মাস, তখন মা মারা যায়। কিছুদিন পর বাবা আবার বিয়ে করে আলাদা হয়ে যান। এরপর থেকে দিনমজুর চাচার ঘরে তাদের ঠাঁই হয়। দেখাশোনা করেন দাদি। দিনমজুর চাচার অভাবের সংসার। সেখানে পছন্দমতো নতুন জামা কেনা স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন পূরণ করলেন এই তরুণেরা।
২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। প্রধান কাজ শিক্ষা নিয়ে। সংগঠনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে সব সদস্য দিনে দেবেন এক টাকা করে। তা মাস শেষে দিলেও হয়। এই টাকা খরচ হয় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাসহ নানা কাজে।
সংগঠনের মূল উদ্যোক্তা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো. রিজুয়ান বলেন, বর্তমানে সংগঠনের সদস্যসংখ্যা দুই হাজারের বেশি, যাঁরা প্রতিদিন এক টাকা করে দিয়ে আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আর দুই হাজার জন প্রতিদিন এক টাকা করে দিলে মাস শেষে বেশ ভালো একটা অর্থ আমাদের কাছে আসে; যা দিয়ে আমরা বিভিন্ন জায়গার শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিয়ে থাকি। ইতিমধ্যে আমরা সাতটা স্কুল ইভেন্ট করেছি, যার ১ হাজার জন ছাত্রছাত্রী আমাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের চট্টগ্রামের বাইরে ফাউন্ডেশনের আরও দুটি শাখা রয়েছে ‘এক টাকায় আলোকিত ফেনী’ এবং ‘এক টাকায় আলোকিত বরিশাল’। বরিশালের একটি মাদ্রাসার ২০ জনের জন্যও আমরা ঈদের জামার ব্যবস্থা করছি।
ফটিকছড়িতে ২৯ মে বিবিরহাট, নাজিরহাট ও সরকারহাট—তিনটি জায়গায় শিশুদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়া হয়েছে। আরও শতাধিক শিশুকে নতুন পোশাক কিনে দেওয়া হবে। মো. রিজুয়ান বলেন, ঈদে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন পোশাক কিনে দিতে তহবিল গঠন করা হয়। এতে সংগঠনের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা অনুদান দিয়েছেন। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার তহবিল হয়েছে।
শিশুদের নিয়ে কাজ করতে কেমন লাগে? এমন প্রশ্নে রিজুয়ানের উত্তর, শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর আনন্দই অন্য রকম।
‘এক টাকায় শিক্ষা’ সংগঠন শিশুদের কাছে হাজির নতুন জামা নিয়ে। ছবি: সংগৃহীত

Monday, June 3, 2019

সাত শিক্ষার্থীর অন্যরকম ঈদ by রাশিম মোল্লা

ঈদ উৎসব ঘিরে কত মানুষ কত স্বপ্ন বুনেন। পরিবার পরিজন নিয়ে ছোট-বড় সবার সঙ্গে নতুন জামা পরে ঈদ উদযাপন করবেন। এজন্য পরিবার পরিজনের জন্য কেনাকাটা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পিতামাতারা। কিন্তু দুস্থ অসহায় পরিবারের শিশুদের পিতা মাতার সামর্থ্য নেই সন্তানদের নতুন জামা দেয়ার। এমন দুস্থদের জন্য সাতজন কলেজ শিক্ষার্থী নেমেছেন মাঠে। শিশুদের মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে তাদের ঈদের টাকায় দুস্থদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তারা বিতরণ করেছেন নতুন জামা। শিক্ষার্থীদের হাতে খুব বেশি পরিমাণে টাকা পয়সা থাকে না।
তবুও তারা নিজেদের টাকায় যতটুকু সম্ভব অসহায় শিশুদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই সামান্য ঈদ উপহার দুস্থদের এ যেন এক বাড়তি সুখ, বাড়তি তৃপ্তি নিয়ে এসেছে। সাত শিক্ষার্থীর হলেন- উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর মো. ইউসুফ নিলয়, ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের রাসেল মোল্লা ও ফাতেমা আক্তার, হাবিবুল্লাহ বাহার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনিকা রহমান, ঢাকা উদ্যান মহা বিদ্যালয়ের জাহিদ হাসান ইমন, তেজগাঁও কলেজের প্রিয়া আক্তার ও রাজিয়া রহমান। তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কিছু অসহায় দুস্থদের মাঝে নতুন জামা বিতরণ করেছেন। নতুন জামা নিতে আসা সাজ্জাদ জানায়, আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদ, কিন্তু মা তার জন্য নতুন জামা কিনতে পারেনি, তাই এই জামা পেয়ে তার খুশি লাগছে। এখন ঈদ তার ভালই কাটবে। ১০ বছরের নুসরাত, কাজ করেন রেল লাইনের পাশে সবজির দোকানে। অনেকদিন ধরে তার নতুন কোনো জামা নেই। এই জামা পেয়ে তার যে কী আনন্দ!  সখিনা বেগম তিন সন্তানের মা। তার স্বামী রিকশাচালক। এবছর ঈদ নিয়ে চিন্তায় ছিলেন তিনি। কারণ তার সন্তানদের ঈদে পোশাক কেনার জন্য হাতে টাকা ছিলো না। পরে  শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নতুন পোশাক পেয়ে চিন্তা মুক্ত হলেন।
সাত শিক্ষার্থীর এক উদ্যোক্তা মো. ইউসুফ বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। অনেক দিনের ইচ্ছা গরিব দুঃখীর জন্য কিছু একটা করার। হঠাৎ ১২ রমজানে মাথায় আসলো যাদের ঈদ আনন্দ করার মত কোনো সামর্থ্য নেই তাদের মুখে একটু হাসি ফুটাবো। কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বললাম। কেউ পাশে থাকার আশ্বাস দিলো। আবার কেউ কেউ অন্যরকম মন্তব্য করলো। তবে আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিলো, যে যাই বলুক ছোট করে হলেও কিছু একটা করব। যাই হোক আমরা সাত বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম। দিন ঠিক করলাম। ২৫ রমজান আমরা দুস্থদের মাঝে ঈদের নতুন জামা বিতরণ করব। আমরা সবাই যেহেতু শিক্ষাথী, সবার পক্ষে বেশি টাকা দেয়া সম্ভব নয়। যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততো টাকা ওঠালাম। সব মিলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ালো ১০ হাজার টাকা। ওটা দিয়ে ২৫ রমজানেই সকলে মিলে বের হলাম মার্কেটে। কিছু নতুন জামা কেনাকাটা করে  গেলাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে দেখলাম অনেকে সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিছু মানুষকে যার যার মত জামা কাপড় দিয়ে দিলাম। আশা ছিল বড় করে করবো কিন্তু সবার সাহায্য না পাওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি। তবুও কিছু মানুষের ঈদ আনন্দে অংশ নিতে পারে ভাল লাগছে। অপর আরেক উদ্যোক্তা কলেজ শিক্ষার্থী ফাতেমা বলেন, খুব সামান্য আয়োজনে শিশুর সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে শুরু হয়েছে আমাদের এই কার্যক্রম। উপহার হিসেবে সামান্য হলেও শিশুদের মুখের হাসি আর ওদের প্রাপ্তির আনন্দই আমাদের কষ্টকর আয়োজনের স্বার্থকতা। কারণ আমাদের নিজস্ব সঞ্চয় থেকেই এই আয়োজন। রাসেল মোল্লা বলেন, সমাজের বিত্তবান মানুষ নিজ নিজ এলাকায় এমন আয়োজন করলে ছিন্নমূল, সুবিধা বঞ্চিত এসব শিশুও পাবে ঈদের আনন্দ, খুশিতে মেতে উঠতে পারবে প্রতিটি শিশু।

শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরতে পারেননি মশিউল, জায়ানের পরিবারে ঈদ নেই by জিয়া চৌধুরী

ক’দিন বাদে ঈদুল ফিতর। ঘরে ঘরে সবাই মাতবে ঈদের আনন্দে। কিন্তু এবার অন্যরকম এক ঈদ এসেছে শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলায় নিহত শিশু জায়ান চৌধুরীর পরিবারে। ইস্টার সানডের দিন  গত ২১শে এপ্রিল শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে ভয়াবহ বোমা হামলায় প্রাণ হারায় আট বছরের ছোট্ট জায়ান। তার বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সও বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন।
তিনি এখনও সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী বাবা-মা আর দেড় বছরের ছোট ভাইকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। হোটেলের কক্ষে থাকায় হামলা থেকে বেঁচে যান জায়ানের মা শেখ আমেনা সুলতানা এবং জায়ানের ছোট ভাই জোহান চৌধুরী।
হামলার তিন দিন পর ২৪শে এপ্রিল জায়ানের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে জানাজা শেষে তাকে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। ১৫ই আগস্টের শহীদদের কবরের পাশে জায়গা হয় ছোট্ট জায়ানের। শেখ ফজলুল করিম সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স তখন শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসাধীন।
এমনকি জায়ানের মাও সেদিন তার ছেলেকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে বাংলাদেশে আসতে পারেননি। এমন ট্র্যাজেডির পর কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছে না জায়ানের পরিবার। গতকাল বনানীতে জায়ানের নানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় নীরব-নিথর পরিবেশ। এই বাড়িটিতেই বেশিরভাগ সময় কাটাতো জায়ান। সুযোগ পেলেই নানার কোলে চড়তো। শেখ ফজলুল করিম সেলিমও সময় দিতেন তার প্রিয় নাতিকে। তবে ঈদ কিংবা বিশ্বকাপ আমেজ কোন কিছুই যেন এবার বাড়িটিকে ছুঁতে পারেনি। জায়ানের পছন্দের খেলা ছিল ক্রিকেট। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলা থাকলে সে উন্মাদনা ছুঁয়ে যেত জায়ানকেও। তবে এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জায়ান চৌধুরীর পরিবারের কাছে বেদনার অন্য নাম।
ঘর আলো করে রাখা পুত্র জায়ান অন্য পারে আর তার বাবা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জায়ানের পছন্দের খেলা ছিল ক্রিকেট, নানা বাড়িতে থাকলে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি মাঠে খেলত সে। বাড়িটির একজন নিরাপত্তাকর্মী জানান, জায়ান আসলে বাড়িটিতে অন্যরকম আনন্দ বয়ে যেত। মাঠে ক্রিকেট খেলতো, হই-হুল্লোড় লেগে যেত। ঈদেও সব আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়ে জায়ান আলাদা জায়গা করে নিত। তবে, এবার পরিস্থিতি আসলেই ভিন্ন। জায়ান চৌধুরীর বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স এখনো সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার একটি পা এখনো সেরে উঠেনি। তবে, মশিউল হক চৌধুরী আগের চেয়ে অনেক সুস্থ আছেন বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের একজন সদস্য। স্বামীর দেখভাল করতে দেড় বছরের সন্তান জোহান চৌধুরীকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে আছেন আমেনা সুলতানা সোনিয়া। ঈদের আগের দিন চিকিৎসাধীন জামাতাকে দেখতে সিঙ্গাপুর যাবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম।

Tuesday, May 28, 2019

বর্ষবরণে পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব

ফুল বিজুর দিন ভোর থেকে বাড়ির পাশের নদী ও খালে গিয়ে প্রার্থনারত হয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় জানান চাকমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সী নরনারী।

ফুল ভাসানো শেষে তরুণ তরুণীরা মেতে উঠেন আনন্দ উৎসবে। নদীতে স্লান শেষে বাড়ি গিয়ে বড়দের প্রণাম করেন ছোটরা।

ভোরে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন খাল ও ছড়ায় গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে বাহারী রঙের ফুল দিয়ে প্রার্থনা করে বৈসাবি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এটি ফুল বিজু নামে পরিচিত।

Friday, April 12, 2019

খুলনায় জোড়া ইলিশ ৭০০০ টাকা

পহেলা বৈশাখ দরজায় কড়া নাড়ছে। একদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। এ জন্য চলছে নানা প্রস্তুতি। আর এ জন্য প্রভাব পড়েছে ইলিশের বাজারে। বেসামাল হয়ে উঠেছে খুলনার ইলিশ বাজার। দেড় কেজি সাইজের হিমাগারে রাখা জোড়া ইলিশের দাম হাঁকানো হচ্ছে সাত হাজার টাকা। ইলিশের সরবরাহ কম থাকার কারণ দেখিয়ে আকাশ ছোঁয়া দাম চাচ্ছে।
নগরীর ময়লাপোঁতা মোড়স্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগারে রাখা প্রায় দেড় কেজি সাইজের ইলিশ আড়াই হাজার টাকা, এক কেজি সাইজের ২ হাজার টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সাইজের ১২শ’ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম সাইজের ১ হাজার টাকা, ৪০০ গ্রাম সাইজের ৮০০ টাকা এবং সদ্য ধরা (টাটকা) ইলিশ ১ কেজি সাইজের ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম সাইজের ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম সাইজের ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ এক সপ্তাহ আগে দেড় কেজি সাইজের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২২শ’ টাকা, এক কেজি সাইজের ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম সাইজের ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম সাইজের ৭শ’ টাকা, ৪০০ গ্রাম সাইজের ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা এবং সদ্য ধরা (টাটকা) ইলিশ ১ কেজি সাইজের ১৫শ’ থেকে ১৮শ’ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম সাইজের ১ হাজার থেকে ১২শ’ টাকা, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম সাইজের ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বরিশাল, ভোলা, পাথরঘাটা, চরখালী, বেকুটিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ইলিশ খুলনার চাহিদা মেটায়। একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এখন ইলিশের মওসুম না হওয়ায় ইলিশ ধরা পড়ছে কম। এ কারণেই বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম।
নগরীর ময়লাপোঁতা মোড়স্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারের ব্যবসায়ী শাহজালাল ফিশের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার হাওলাদার বলেন, ‘সাধারণত আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে নদীতে ইলিশ ধরা পড়ে। এখন ইলিশ ধরা মওসুম না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ অনেক কম। তিনি বলেন, বাজারে কোল্ড স্টোরে রাখা ইলিশের পরিমাণ বেশি। শাহজালাল ফিশের আরেক স্বত্বাধিকারী মো. কবির হাওলাদার একই মন্তব্য করেন। নগরীর ময়লাপোঁতা মোড়স্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে আসা ক্রেতা মো. জামিল হোসেন বলেন, ‘পহেলা বৈশাখকে পুঁজি করে ইলিশের চড়া দাম হাঁকানো হচ্ছে। তিনি বলেন, টাটকা ইলিশের কথা বলে কোল্ড স্টোরে রাখা ইলিশ বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।’ বাজারে আসা আরেক ক্রেতা এম এ জলিল বলেন, ‘ইলিশ চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।’

Monday, June 18, 2018

আসছে মানুষ, যাচ্ছে মানুষ

ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। পরিবার- পরিজনের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগ করে নিতে অনেকেই ছুটছেন আপন  গন্তব্যে। অন্যদিকে, কর্মজীবী মানুষেরা  ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন। সোমবার (১৮ জুন) কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে এরকম চিত্র দেখা গেছে।
কমলাপুর স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে  অপেক্ষা করছেন কয়েকশ’ যাত্রী। তাদের সবাই ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। অন্যদিকে, ঢাকার বাইরে থেকে আসা ট্রেনগুলোতে উপচে পড়া ভিড় না থাকলেও আসছে প্রচুর যাত্রী। ফিরে আসা যাত্রীদের বেশির ভাগই চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থী। তেমনই একজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমেশ কুমারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি আর  মাত্র একদিন আছে। তাই আগেই চলে এসেছেন তিনি। এই একটাদিন ঢাকায় বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
চাকরির টানে ঈদের ছুটি শেষ করে ফিরে এসেছেন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি ব্যাংকের অফিস শুরু হয়ে গেছে। না আসলে তো চাকরি থাকবে না। তাই চলে আসা। ঈদের ছুটি আরও  কয়েকদিন হলে ভালো হতো।’
এদিকে, ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি যাচ্ছেন একটি বেসরকারি কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মী অমল রায়। তিনি বলেন, ‘ঈদের আগের দিন থেকে গতকাল (রবিবার) পর্যন্ত ডিউটি করেছি। এবার ছুটি পাইলাম। অনেক দিন পর বাড়ি যাইতেছি।’
কমলাপুরের স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের জন্য শুধু ঢাকা থেকে পাঁচটি বিশেষ ট্রেন রয়েছে। সারাদিনে ৬৯টি ট্রেন কমলাপুর স্টেশন থেকে চলাচল করে। এছাড়া, যাত্রীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সংখ্যায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আছেন।