Friday, April 20, 2018

মাদক: ৩ মাসে ১৩ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা by আল আমিন

মাদক কেনাবেচায় জড়িত পুলিশের কতিপয় সদস্য। ইতিমধ্যে কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত মার্চ মাসে পুলিশের সদর দপ্তরে অপরাধ সভায় ডিএমপি তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার মাদকের বিরুদ্ধে শক্তভাবে অবস্থান নেয়ার জন্য পুলিশের আইজির প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের তিন মাসে মাদকের কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ২৬ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনালার্স স্টান্ডার্ড (ডিঅ্যান্ডপিএস) সূত্রে জানা গেছে চলতি বছরের ২২শে ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় মালখানা থেকে মাদক সরানোর অভিযোগ ওঠে মালখানার দায়িত্বে থাকা এসআই আহসান হাবিব এবং থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) তপন বকশীর বিরুদ্ধে। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ৭ই মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার টিআলী মোড় থেকে দুটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশের একটি দল। পরে তারা মাত্র ৪০ কেজি গাঁজা থানায় জমা দিয়ে বাকি গাঁজা থানার পাশের একটি ঝোপে লুকিয়ে রাখে। বিষয়টি জেলার ডিবি পুলিশের একটি দল জানতে পারলে সেই ঝোপ থেকে গাঁজাগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কসবা থানার এসআই শ্যামল মজুমদার, মনির হোসেন, এএসআই ফারুক, সালাউদ্দিন ও কনস্টেবল শাহজাহান ও কাশেম নামে ছয় সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
গত গত ৮ই মার্চ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই সোহরাওয়ার্দী রুবেলের বাসা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল প্রায় ৫০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। নারায়ণগঞ্জে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে তাদের কাছে যেসব মাদক পাওয়া যেত সেইসব মাদক থানায় জমা দিত না এএসআই রুবেল।
গত ১৫ই মার্চ বরিশালের উজিরপুরের শিকারপুর গ্রামে শামীম নামে এক যুবককে বিপুল পরিমাণের ইয়াবা ট্যাবলেটসহ   গ্রেপ্তার করেন এএসআই আমিনুল। ওই ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো অন্যস্থানে বিক্রয় করে দেন আমিনুল এবং ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে শামীমকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় আমিনুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ডিএন্ডপিএস সূত্রে জানা গেছে, মাদকের কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে কুমিল্লায় দুই জন, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ছয় জন, নারায়ণগঞ্জে দুই জন, বরিশালে এক জন, চট্টগ্রামে এক জন ও কক্সবাজারে এক জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিসহ ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
 জানা গেছে, পুলিশের বিরুদ্ধে নানামুখী অভিযোগের মধ্যে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে মাঠপর্যায় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানামুখী শাস্তির ব্যবস্থা করলেও এই অপরাধপ্রবণতা থামানো যাচ্ছে না।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১শে জানুয়ারি মাদক দমনে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কীভাবে মাদক দমন করা যাবে তা উল্লেখ ছাড়াও মাদকের কারবারে পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানানো হয়েছে। ওই নির্দেশনায় প্রত্যেক জেলার এসপির কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ টিমকে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে বলা হয়েছে। যাতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে না হয়ে পড়ে।
কেন পুলিশ মাদকে জড়াচ্ছে বিষয়টি জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান জানান, পুলিশ মাদকে জড়াচ্ছে এটা একটা অপরাধ। এটা নতুন কিছু নয়। পুলিশের মধ্যে এই অপরাধ প্রবণতা আগেও ছিল। এখনও আছে। তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিষয় দেশের গণমাধ্যমগুলোতে আসার কারণে এই অপরাধ সম্বন্ধে জানা যাচ্ছে। এই অপরাধ থেকে বের হয়ে আসতে হলে পুলিশের মধ্যে স্বচ্ছতা আনতে হবে। মাদকের সঙ্গে যত বড়ই পুলিশের কর্মকর্তা জড়িত থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) বিভাগের এআইজি সহেলী ফেরদৌস মানবজমিনকে জানান, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে পুলিশ। যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা মাত্রই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

‘যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে মাদক চক্রের দ্বারস্থ বিপুল বাংলাদেশী’

মেক্সিকো থেকে টেক্সাসের লারেদো অঞ্চল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে যাওয়া বাংলাদেশীদের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার পথে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে রক্ষণশীল পত্রিকা ওয়াশিংটন টাইমস। পত্রিকাটি লিখেছে, ‘সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশ থেকে এটি হলো সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগজনক অভিবাসী স্রোত।’ এই পত্রিকা সহ আরেক রক্ষণশীল পত্রিকা ওয়াশিংটন এক্সামিনার সরকারী কর্মকর্তাদেরকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, এশিয়া থেকে আমেরিকায় ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য অবৈধ অভিবাসীরা আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোকে সর্বোচ্চ ২৭ হাজার ডলার বা প্রায় ২২ লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করে থাকেন।
বুধবার আমেরিকার বর্ডার প্যাট্রলের লারেডো সেক্টর ৪ বাংলাদেশীকে আটক করেছে। এই অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে এ নিয়ে ১৮৮ জন বাংলাদেশী আটক হয়েছেন। অথচ, ২০১৭ সালে পুরো বছরে আটক হন ১৮১ জন। ২০১৬ সালে ঢোকার চেষ্টা করেন মাত্র ১ জন বাংলাদেশী।
ওয়াশিংটন টাইমস লিখেছে, বাংলাদেশে ইসলামিস্ট সন্ত্রাসী চক্রের উপস্থিতির কারণে এই অভিবাসন স্রোত উদ্বেগজনক।
লারেডো সেক্টর উপ প্রধান প্যাট্রল এজেন্ট স্কট গুড বলেন, ‘নিশ্চিতভাবে এই কাজ আন্তঃদেশীয় অপরাধী সংগঠনগুলোর।’ অপরদিকে সহকারী প্রধান প্যাট্রল এজেন্ট গ্যাব্রিয়েল অ্যাকোস্তা ওয়াশিংটন এক্সামিনারকে বলেন, বাংলাদেশীরা একা এই অবৈধ পথে আসছেন, তা নয়। তারা আসছেন মাদক চক্রের মাধ্যমে, যারা এশিয়া থেকে মনুষ্যবাহী যান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তারা দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথমে মানুষদের নিয়ে যায়। সেখান থেকে বিভিন্ন পরিবহণের মাধ্যমে মধ্য আমেরিকা থেকে মেক্সিকোতে মানুষদের নিয়ে যায়। এটা আসলে একটা পাচারকারী সংগঠনের কাজ। বাংলাদেশীরা আসলে জানেই না যুক্তরাষ্ট্রের কোন জায়গায় তারা ঢুকতে চায়।’

দখলদার-বিরোধী বিক্ষোভ: ইহুদিবাদীদের গুলিতে ৪ ফিলিস্তিনি শহীদ

ইহুদিবাদী সেনাদের গুলিতে শহীদ ফিলিস্তিনি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের সেনাদের গুলিতে অন্তত চার ফিলিস্তিনি শহীদ ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করতে গিয়ে এসব ফিলিস্তিনি শহীদ হলেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা এক বিবৃতিতে জানান, নাবিল আবু আকেল, আহমাদ রাশাদ আল-আসামনা, মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আইয়ুব ও সা’দ আবুসে নামের যে চার ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন তাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। এর মাঝে মুহাম্মাদ ইব্রাহিম আইয়ুবের বয়স ১৫ বছর। ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ
আশরাফ কিদরা জানান, ইসরাইলি সেনাদের গুলি ও টিয়ারগ্যাসের শেলে আহত হয়েছেন ৪০ জন।
গত ৩০ মার্চ থেকে গাজা সীমান্তে ইসরাইল-বিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৪ জন ফিলিস্তিনি শহীদ ও কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের জাতীয় ভূমি দিবস উপলক্ষে গাজাবাসী ওইদিন থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে এবং আগামী ১৫ মে চলমান বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১৫ মে ফিলিস্তিনের নাকাব দিবস পালন করা হবে। ইসরাইলি সেনাদের মোকাবেলায় ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ
৭০ বছর আগে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে অবৈধ ইহুদিবাদী ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনিরা নাকাবা দিবসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। ১৯৪৮ সালের ওই দিনে অন্তত সাত লাখ ৬০ হাজার ফিলিস্তিনিকে উদ্বাস্তু করে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে এসব উদ্বাস্তু ফিলিস্তিনিকে নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরতে দেয় নি ইসরাইল

ট্রাম্প-কিম বৈঠক: আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন ট্রাম্প

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে’র সঙ্গে দেয়া এক যৌথ সম্মেলনে কিমের সঙ্গে তার পরিকল্পিত বৈঠক নিয়ে এমন কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরো জানান, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত রাখা হবে। উল্লেখ্য, বর্তমানে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রিসোর্ট মার-ই-লাগোতে অবস্থান করছেন শিনজো আবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, বুধবার এক টুইটে ট্রা¤প নিশ্চিত করেন যে, কিম এর সঙ্গে দেখা করতে এক গোপন সফরে উত্তর কোরিয়া গিয়েছিলেন সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও। তিনি বলেন, কিম এর সঙ্গে বেশ ভালো স¤পর্ক স্থাপন করে এসেছেন পম্পেও। তিনি আরো বলেন, উভয়ের মধ্যকার বৈঠকটি বেশ সুষ্ঠুভাবে স¤পন্ন হয়েছে। এটা ছিল, ২০০০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। জুন মাসের মধ্যে কিম এর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। তবে এখনো, বৈঠকটির জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যৌথ সম্মেলনে বলেন, তিনি যদি মনে করেন যে কিমের সঙ্গে তার বৈঠক সফল হবে না তাহলে তিনি সেখানে যাবেন না। আর যদি বৈঠক হয় কিন্তু ফলপ্রসূ না হয় তাহলে তিনি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসবেন। তিনি যোগ করেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক শক্তিচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চাপ অব্যাহত রাখবো। আমি যেমনটা আগেও বলেছি, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পর একটি পূর্ণ ও প্রমাণসাধ্য ও অপরিবর্তনীয় উপায়ে তাদের একটি আলোকিত পথ প্রাপ্য রয়েছে। এটা তাদের জন্য অসাধারণ হবে, এটা বিশ্বের জন্য অসাধারণ হবে। এ ছাড়া, আরো কিছু ইস্যুতে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প ও আবে। তারা উভয়ে অবাধ, ন্যায্য ও পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। উল্লেখ্য, অন্য মিত্রদেশের ক্ষেত্রে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম এর ওপর শুল্ক আরোপ না করলেও জাপানকে ছাড় দেননি ট্রাম্প।

যক্ষা রোগী, ডাক্তার করলেন অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন

ফেরিওয়ালা মো: রমজান আলী তার অসুস্থ স্ত্রী মোছা: নূরজাহানকে (৪০) একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে স্বজনদের জানান, নূরজাহান অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগে আক্রান্ত। জরুরী অপারেশন করতে হবে। স্বজনরা কালবিলম্ব না করে ওই সময় তাকে ভর্তি করে। ভর্তির পরপরই নূরজাহানকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রপচার করেন। অপারেশন টেবিলে নূরজাহানকে রেখে দীর্ঘ আড়াই ঘন্টা অস্ত্রপচারের পর চিকিৎসক তার স্বজনদের জানান তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস নেই। টিবি হয়েছে। এদিকে অপারেশনের পর যন্ত্রনায় ছটফট করলেও নূরজাহানকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ডা. আজহারুল ইসলাম হাসপাতালে এ ঘটনাটি ঘটে। ফেরিওয়ালা মোঃ রমজান আলীর বাড়ি ভূয়াপুর উপজেলার নিকরাইল গ্রামে।
জানা যায়, নাগরপুর-দৌলতপুর সড়কে ফালগুনী সিনেমা হলের পাশে ২০১৭ সালের ৭ই জুলাই ডা. আজহারুল ইসলাম হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করে। অনুমোদনহীন এ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে নিরীহ রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন ডা. আজহারুল ইসলামের হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন নূরজাহান। তিনি জানান, পেটে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে চিকিৎসা নিতে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোঃ জসিমউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। সাক্ষাত শেষে ওই চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা করান। নূরজাহানের স্বামী রমজান আলী জানান, অপারেশনের জন্য ছয় হাজার টাকা চুক্তির পর দুপুর ২ টার দিকে আপারেশন টেবিলে নেয়া হয় নূরজাহানকে। প্রায় আড়াই ঘন্টাব্যাপী অপারেশনের পর সাড়ে চারটার দিকে তাদের জানানো হয় নূরজাহানের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়নি। একই সঙ্গে হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন নুরজাহানের স্বামী রমজান আলী। রমজান আলী কান্নাজড়িত কন্ঠে তার স্ত্রী নূরজাহানের সুচিকিৎসার দাবি করেন।
ডা. আজহারুল ইসলাম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোঃ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে তার চেম্বারে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ল্যাবরেটরি পরীক্ষা নিরীক্ষায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস দেখা গেছে কিন্তু অস্ত্রপচারের সময় তা পাওয়া যায়নি। এটা ভুল চিকিৎসা নয় বলেও তিনি দাবি করেন।
ওই হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. হুমায়ূন কবির জানান, ল্যাবরেটরি টেষ্টের পর রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব আমার আর রোগ শনাক্তের দায়িত্ব চিকিৎসকের।

বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে না -সাক্ষাৎকারে ড. আতিউর রহমান by এমএম মাসুদ

আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আইনের ৯ নম্বর ধারা বলে কাজ করতে পারছে না, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বলতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নিজস্ব সাহস-শক্তি নিয়ে আগাতে পারছে না। তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা উচিত। সম্প্রতি দেশের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০৩ সালের সংশোধনী আইন নিয়ে আতিউর রহমান বলেন, এই আইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্ট্যাটাসটা অনেক উপরে নিয়ে গেছে। সংশোধিত ৯ নম্বর  ধারা অনুযায়ী, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে সময় সময় নির্দেশ দিতে পারবে না। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকার সময় সময় নির্দেশ দিতে পারতো। তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করতে পারে। সেটা নেবেন কি  নেবেন না তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ব্যাপার। এই বেসিক কনসেপ্ট-এ গোলমাল হয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমার সময় আমি ওটা অনুসরণের চেষ্টা করেছি। নীতির প্রশ্নে আমি অটল থেকেছি।
তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী মাঝে মাঝে লিখতেন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হলো যে, এই এই করতে হবে। আমি ওর মধ্যে লিখতাম- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশোধনী আইন ৯ নম্বর ধারা বলে, এমন নির্দেশনার কোনো সুযোগ নেই। তবে সরকার যদি সত্যি মনে করে, কোন কোন জায়গায় তাদের সহযোগিতা করা দরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পূর্ণ সহযোগিতা করতে রাজি আছে। এবং আমি করেছিও তাই।
যেমন কৃষি ঋণ প্রদানে জোর দেয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা করেছে। কারণ এতে করে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ে। খাদ্যের দাম কমে। ফলে জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল থাকে। এবং এটা হয়েও ছিল। এতে করে কার লাভ? সরকারের লাভ হয়েছে। দেশ উপকৃত হয়েছে। আমার সময় ৭ বছর মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল ছিল।
আতিউর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩টি ধর্ম থাকে। সুদ হার নিয়ন্ত্রণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা। এই ৩টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সুদ হার কমতে থাকে। আস্তে আস্তে মূল্যস্ফীতি কমে। আর মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকে। এই ৩টি এক সঙ্গে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটা খুবই কঠিন কাজ। তবে আমার সময় এটা সম্ভব হয়েছিল। দেখা গেছে, ৭ বছর এই ৩টি বিষয় স্থিতিশীল ছিল। বর্তমানে এই ৩টি জিনিসে গোলমাল হয়ে গেছে।
৯ নম্বর ধারা বলে যেটা ভালো মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটা করতে পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এটা দুর্বলতাই বলবো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নিজস্ব সাহস শক্তি নিয়ে আগাতে পারছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করা উচিত। তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। এতে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না। ক্ষমতা যেটা আছে সেটা যেন পরিপালনের সুযোগ পায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্যে সাবেক এই গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংক আইন ভঙ্গ করবে তাকে আইন পরিপালনের ব্যবস্থা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেউ না মানলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অযথা সার্কুলার জারি করে পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির কোনো মানে হয় না। কারণ ব্যাংক ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলে পুঁজিবাজার শান্ত থাকে। ২০১০ সালের পর পুঁজিবাজার একটা স্থিতিশীল অবস্থায় ছিল বলে তিনি মনে করেন। বলা হয়ে থাকে ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট। এটা কোথা থেকে এলো এই তারল্য সংকট। আমার সময় এমন কোনো খবর ছিল না।
তিনি বলেন, ব্যাংক মেলা ছিল। এখন নেই। মোবাইল ব্যাংকিং বিপ্লব হয়েছে। অথচ এটা নিয়ে অনেকেই বিরোধিতা করছে। কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন। সব মিলিয়ে সার্বিক অর্থনীতি আগামীতে চ্যালেঞ্জে পড়বে। এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। জিনিসপত্রের দাম বাড়া শুরু করেছে। মুদ্রার বিনিময় হার বাড়বে। ইতিমধ্যেই বাড়া শুরু করেছে। সুদ হার বাড়বে। ইতিমধ্যেই দুই অঙ্কে চলে এসেছে সুদ হার। এর জন্য ক্ষুদ্র ও কৃষি ঋণে জোর দিতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে। জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে। দেশ উপকৃত হবে।

দখল উৎসব আখাউড়ায়

পঞ্চান্ন জনের দল। তন্তর-ভাটামাথা, ধরখার গ্রামের প্রভাবশালী সবাইকে এ দলভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিজনে টাকা দিয়ে ২০/২৫ লাখ টাকার ফান্ড করেছেন। এই ফান্ড ব্যবহার হচ্ছে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পূর্বপাশে ভাটামাথা বাজার লাগোয়া সরকারি ও ব্যক্তির জায়গা দখলে।  সেখানে মার্কেট করার পরিকল্পনা তাদের। ভাটামাথা গ্রামের হাশিমপুরের মো: নূর মিয়া, ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও বাছির আহমেদ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই দখলের। আর আড়াল থেকে সহায়তা দিচ্ছেন আখাউড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ভাটামাথা গ্রামের মুরাদ হোসেন ভূইয়া। এ নিয়ে ভাটামাথা গ্রামে বিরাজ করছে উত্তেজনা। আদালত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখার কথা বললেও আখাউড়া থানার ওসি নির্বিকার। সড়ক বিভাগ তাদের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় মামলা করতে গেলেও থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার মামলাটি ফিরিয়ে দেন। ওই ইউনিয়নের ধরখার এলাকায় থাকা ফাঁড়ির পুলিশও নিরব। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন- যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধতে পারে এ ঘটনায়। গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে মাটি ভরাট কাজ।
সরজমিন দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে সড়ক বিভাগের ১০ শতক এবং পার্শ্ববর্তী ব্যক্তি মালিকানাধীন সাড়ে ১৫ শতক জায়গা মাটি ফেলে ভরাট করা হচ্ছে।  নিজের ট্রাক্টরে করে মাটি সরবরাহ করছেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ ইয়াকুব রহমান খোকন। খোকন জানান- জায়গাটিতে গরুর বাজার করা হবে। খাসের এই জায়গা রোডসের সঙ্গে কথা বলেই ভরাট করা হচ্ছে। তিনি শুধু মাটি সরবরাহ করছেন। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বাছির মিয়া অবশ্য জানান, বাজারে আসা-যাওয়ার জন্যে তারা একটি রাস্তা করছেন। একটি রাস্তার জন্যে অনুমান একশ’ ফুট প্রস্থে কেন মাটি ফেলা হচ্ছে- এ প্রশ্নে তার উত্তর কিছু মাটি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। তবে সড়ক বিভাগের লিখিত অনুমতি না থাকার কথাও স্বীকার করেন বাছির। সড়ক বিভাগের পরের জায়গাটির মালিক মো: এনামুল কবির, আবদুস সালামসহ ৩০ জন। তাদের মালিকানাধীন জায়গাও মাটি ভরাট করে দখল করা হচ্ছে। আর তা অসহায় হয়ে দেখছেন জায়গার মালিকরা। ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। জায়গার মালিক মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণ সেন, মিন্টু চন্দ্র পাল ও আবদুল মতিন মিয়া বলেন, এনিয়ে কথা বলায় আমাদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। থানায় গিয়ে ওসিকে তারা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে এসেছেন। ভাটামাথা বাজার কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম জানান- ১৯৮২ সালে তন্তর মৌজার সাবেক ৪৫১ দাগের এ জায়গাটি ক্রয় করেন তারা। এরপর সেখান থেকে মাটি কেটে পার্শ্ববর্তী বাজারে মাটি ভরাট করে  দোকানভিটি করেন। পরে জলাশয় হওয়া ওই জায়গায় মাছ চাষ করতে থাকেন। এ ভাবে ৩৫ বছর ধরে তাদের ভোগদখলে থাকা জায়গাটি দখল করতে গত নভেম্বরে তৎপর হয় ভাটামাথা গ্রামের নূর মিয়া, মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. আবদু মিয়া, মো. বাবুল মিয়া ও মো. ইয়াছিন মিয়া। তারা ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাট করার চেষ্টা চালায়। এরপরই ২০১৭ সালের ২৮শে নভেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারা জারি চেয়ে মামলা করেন জায়গার মালিকদের একজন মো. এনামুল কবির। আদালত আখাউড়া থানার ওসিকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এবং এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়। ২৪শে ডিসেম্বর ধরখার ফাঁড়ির এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন সরজমিন তদন্ত করে আদালতে একটি প্রতিবেদন দেন। যাতে জায়গাটি এনামুল কবির গংয়ের দখলে রয়েছে এবং মো. নূর মিয়া গং তাদের মালিকানার স্বপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে বলা হয়। পাশাপাশি ধরখার ইউনিয়ন ভূমি অফিসও এ বিষয়ে সরজমিন তদন্ত করে এ বছরের ১১ই জানুয়ারি আদালতে একটি প্রতিবেদন দেয়। যাতে মো: বাবরু মিয়া, মো. আবরু মিয়া ও মো. আবদু মিয়ার কাছ থেকে সাড়ে ১৫ শতক ভূমি ক্রয় করে রেজিস্ট্রি দলিলমূলে আবু তাহের, আবদুস সালামসহ ৩০ জন মালিক হন বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে নূর মিয়া গং জায়গার অন্য ওয়ারিশদের কাছ থেকে বায়নাপত্র দলিল সূত্রে সোয়া ৬ শতক জায়গার মালিকানা দাবি করলেও তারা এ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে ভূমি অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তারপরও সড়ক বিভাগের জায়গার পাশাপাশি আবদুস সালামদের জায়গা মাটি ভরাট করে দখলে মত্ত নূর মিয়া ও তার লোকজন। ভাটামাথা বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন- দেশে কোনো আইন-কানুন আছে বলে মনে হয় না। তা না হলে আমাদের ৩৫ বছর আগে কেনা জায়গা এভাবে দখল করে। এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এটা আমার গ্রামের দরবার। আমি এটা মিটমাট করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এক পক্ষ না আসায় তা সম্ভব হয়নি। তবে এর সঙ্গে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও  জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ বলেন একজন আমাকে ফোন করে বলেছিলো তারা গ্রামে যাওয়ার রাস্তা করছে। তখন আমি বলেছি এখানে কোন মার্কেট, বাজার বা স্থাপনা হলে আমি ছাড়ব না। তিনি আরো বলেন- আমরা এ ব্যাপারে আখাউড়া থানায় মামলা দিয়েছিলাম। কিন্তু থানা মামলা নেয়নি। আখাউড়া থানার ওসি মোশাররফ হোসেন তরফদার বলেন-আইনশৃঙ্খলা যে খারাপ সেটা আমরা কয়েকদিন ধরেই দেখছি। আমরা কন্ট্রোলে রাখার চেষ্টা করছি।

র‌্যাফেল ড্রয়ে পুরস্কার নারী মডেল by রুদ্র মিজান

‘হাই, শুভ সকাল, কেমন আছেন। আশা করি ভালো। আর যাদের মন খারাপ কিংবা একাকিত্বে ভুগছেন তাদের একটু আনন্দ দিতে আমি আমার টিম নিয়ে হাজির হয়েছি। আমার আজকের টিমে রয়েছে বেশ কিছু অসাধারণ সুন্দরী, স্মার্ট, ভদ্র, শিক্ষিত মেয়ে ও ভাবি বয়সের...। যাদের দেখে আপনি হবেন মুগ্ধ। আপনাকে কিছু সময়ের মধ্যে সুখের সাগরে ভাসাবে।... কল দিয়ে চলে আসুন গুলশানে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, কোলাহলমুক্ত পরিবেশ।’
সূত্রে জানা গেছে, এভাবেই অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে এসকর্ট সার্ভিস দেয়া হয়। এই এসকর্ট প্রোভাইডারদের মধ্যে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রয়েছে। আরো ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে, এসকর্টদের মধ্যে রয়েছে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যাললের ছাত্রী, ব্যাংকার, মডেল, প্রেজেন্টার, ডিজে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, বারিধারা এলাকায় বিভিন্ন ফ্ল্যাট বাসায় অবাধে চলতো এসকর্ট সার্ভিস। নয় জন এসকর্ট প্রোভাইটারকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুধু দেশে না, বিদেশেও এসকর্ট সার্ভিস দিতো এই চক্র। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়াতে যৌনকাজের জন্য পাঠানো হতো নারীদের। চক্রটি প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশাপাশি কম বয়সী মেয়েদের যৌনকর্মে ব্যবহার করতো। এই চক্রের হোতাদের অন্যতম মাহতাব রফিক। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের এই ব্যবসায়ী দেশেব্যাপী গড়ে তুলেছে অনলাইনভিত্তিক এসকর্ট সার্ভিস।
ইন্টারন্যাশনাল সেক্স গাইডে ঢাকার যেসব তথ্য রয়েছে সেখানে পাওয়া গেছে, এই চক্রের রিকন খানের নাম। সেইসঙ্গে এসকর্ট সার্ভিস এজেন্সির ঠিকানা। তথ্যটি জানার পর তদন্ত শুরু করে সাইবার ক্রাইম ইউনিট। এই সূত্র ধরেই অনলাইনে খদ্দের সেজে রিকন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। জানানো হয়, প্রয়োজন কম বয়সী মেয়ে। রিকন খান জানায়, তাদের কাছে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সের বেশ কয়েকজন মেয়ে রয়েছে। গত ১৫ই এপ্রিল রাতে পার্টিতে এনজয় করা যাবে তাদের সঙ্গে। নিকেতনের একটি বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে পার্টি। এ উপলক্ষে বিক্রি করা হয় টিকিট। প্রতিটি টিকিটের মূল্য আট হাজার টাকা। রাতভর অনুষ্ঠানে থাকবে ডিজে পার্টি, নুড ড্যান্স ও র‌্যাফেল ড্র। র‌্যাফেল ড্র’তে বিজয়ী পাবেন এক রাতের জন্য একজন নারী মডেল। দুটি টিকিট সংগ্রহ করে পুলিশ। এর মধ্যেই রেকি করা হয় নিকেতনের ওই গেস্ট হাউজ। কিন্তু ওই দিন পার্টিটি হয়নি। তারপরও থেমে থাকেনি পুলিশ। সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে শুরু হয় অভিযান। খদ্দের হিসেবে যোগাযোগ করা হয় ‘পাশা ভাই’ নামে এই চক্রের এসকর্ট প্রোভাইটারের সঙ্গে। তার কথামতো গুলশানের ১১৩ নম্বর সড়কে গেলে সাক্ষাত হয় তার সঙ্গে। সেখানেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। তারপর তার দেয়া তথ্যমতে নিকেতন, উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক দিনে গ্রেপ্তার করা হয় নয় জনকে। গতকাল ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসকর্ট প্রোভাইটারদের হোতা মাহতাব রফিক চট্টগ্রামে লালাপাড়ার বাসিন্দা। লন্ডনের কিংস্টোন ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল বিভাগে লেখাপড়া করেছে সে। ক্রিসমাস নামে চট্টগ্রামে তার একটি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসকর্ট সার্ভিসের সাইটগুলোর এডমিন হচ্ছে মাহতাব রফিক। এই চক্রের প্রত্যেকের ছদ্ম নামে ফেসবুকে রয়েছে বিভিন্ন আইডি, পেইজ। এগুলো থেকে মূলত এসকর্ট সার্ভিসের প্রচারণা চালানো হতো। তারা এসকর্ট এজেন্সির নামে বিশেষ অ্যাপস তৈরি করেছিল। বিশ্বস্ত খদ্দের ও নিজেদের মধ্যে এই অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হতো।
তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের বায়োটাডা পাওয়া গেছে। এসব মেয়েরা এসকর্ট হিসেবে সার্ভিস দিতে তাদের কাছে ছবিসহ বায়োডাটা জমা দিতো। এই ছবিগুলো মুখ ঢেকে প্রকাশ করা হতো অনলাইনে। স্বল্প বসনা এসব ছবিতে সহজেই আকৃষ্ট হন খদ্দেররা। এসকর্ট সার্ভিসের জন্য ইউটিওব চ্যানেল ও ফেসবুকে নানা ধরনের বিজ্ঞাপন দিতো এই চক্র। যেখানে হাই প্রোফাইল এসকর্ট, মিডিল ক্লাস ও রিজিনেবল এসকর্ট, স্পা সার্ভিসের কথা উল্লেখ রয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ের পরিচিত মুখ যেমন এসকর্ট হিসেবে সার্ভিস দিয়ে থাকে তেমনি তাদের এজেন্সির সেবা নিয়ে থাকেন দেশের অনেক পরিচিত মুখ। মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের তথ্য দিয়েছে চক্রটি। যারা এই এসকর্ট সার্ভিসের সঙ্গে জড়িত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা ছদ্মনাম ব্যবহার করে।
এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার আলিমুজ্জামান বলেন, একাধিক অভিযোগে  ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। দেশে-বিদেশে এই চক্রটি এসকর্ট সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছিল। তারা নানাভাবে অল্প বয়সী মেয়েদের বিপথগামী করছিল।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- চট্টগ্রামের মাহতাব রফিক, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মাহবুব, জামালপুরের আসিফ হাসান তুষার, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোস্তাফা মোশাররফ, চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কাদের নেওয়াজ, চুয়াডাংগার আলমডাঙ্গার রেজয়ানুল হায়দার, বাগেরহাটের সৈয়দ বিপ্লব হাসান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নুরুন নাহার নুরী, রাজশাহী নয়ন নূর রহমান, সিরাজগঞ্জের আবদুল হাকিম, ঢাকা মোহাম্মদপুরের মোর্শেদুল আলম, নওগাঁর মাহফুজুল আলম প্রমুখ।

এবার কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটালেন রনি

চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকায় বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর নিয়ে সমালোচনার রেশ না কাটতেই এবার এক কোচিং সেন্টারের মালিককে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সমপাদক নুরুল আজিম রনির বিরুদ্ধে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড় এলাকার ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক মোহাম্মদ রাশেদ মিয়া নগরীর পাঁচলাইশ থানায় এই বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনি ও তার বন্ধু নোমানের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত সাত-আটজনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, এ মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচনার মুখে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন রনি।
ওদিকে, লিখিত অভিযোগে রাশেদ জানান, গত প্রায় আট বছর যাবৎ তিনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের জিইসি মোড় শাখার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনি ও তার অনুসারীরা তার প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতো এবং চাঁদা নিতো। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি রনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের অফিসে এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় রাশেদ এতগুলো টাকা কোথা থেকে দেবে বলতেই নুরুল আজিম রনি তাকে মারধর শুরু করেন।
ইউনিএইড কোচিং সেন্টার অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে ইউনিএইড কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে আঙ্গুল তুলে শাসাতে ও পরে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায় নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সমপাদক নুরুল আজিম রনিকে। এর একপর্যায়ে রাশেদের গালে থাপ্পড় মারতে দেখা যায় রনিকে। পরে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করে বারবার রাশেদের গালে থাপ্পড় মারতে থাকেন রনি। এর মধ্যে মাঝে মধ্যে চলতে থাকে তার শাসন। এভাবে প্রায় আড়াই মিনিট চলার পর রুম ছেড়ে বেরিয়ে যান রনি। কয়েক মুহূর্ত পর আবারো ফিরে এসে তর্কে জড়ান রনি। পরে দীর্ঘ সময় কারো সঙ্গে ফোনালাপে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। পুরো ঘটনায় রাশেদকে করজোড়ে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা গেছে।
ঘটনার শেষ এখানেই নয়, মারধরের এ ঘটনার প্রায় দুইমাস পর আবারো রনির নির্মমভাবে মারধরের শিকার হন রাশেদ মিয়া। গত ১৩ই এপ্রিল সুগন্ধার বাসা থেকে মুরাদপুর যাওয়ার পথে মোহাম্মদপুর মাজার এলাকায় আবারো রনি ও তার সঙ্গীদের আক্রমণের শিকার হন রাশেদ।
সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে এজাহারে তিনি লিখেছেন, আসামিগণ আমাকে একা পেয়ে টানাহেঁচড়া করে মুরাদপুর বুড়িপুকুর পাড় এলাকায় নিয়ে যায়। এসময় তারা আগের মতোই ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমি বলি, এতগুলো টাকা আমি কেমনে দেব? সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুল আজিম রনি অফিসে থাকা হকিস্টিক দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করলে আমি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি আমার বাম কানে লাগে। মারাত্মকভাবে জখমপ্রাপ্ত হয়ে আমার বামকানের শ্রবণশক্তি এখন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
এরপর ২ নম্বর আসামি হকিস্টিক দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন। এসময় রনি আমাকে ২০ লাখ টাকা না পেলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ পর্যায়ে অনেক বুঝিয়ে বাসা থেকে ৪০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলি। এসময় ১ নম্বর আসামি বাকি টাকা না দেয়া পর্যন্ত আমার এবং আমার স্ত্রীর পাসপোর্ট জমা দিতে বলে। পরে রনির এক সহযোগী আমাকে সুগন্ধার বাসায় নিয়ে আসে। এসময় বাসায় ৩৫ হাজার টাকা পাই এবং সঙ্গে সঙ্গে তা হামলাকারীদের হাতে তুলে দেই। সেই সঙ্গে রনির কথা মেনে আমার এবং আমার স্ত্রীর পাসপোর্টও দেই। পরে তারা আমাকে মোটরসাইকেলে করে চট্টগ্রাম কলেজের গেটে ফেলে দিয়ে চলে যায়।
একাধিক সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় রনি ইউনিএইড কোচিং সেন্টারে তার মালিকানা আছে বলে দাবি করতেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ার পরেও এ কোচিং সেন্টারকে রনি নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কোচিং সেন্টারের মালিক রাশেদ মিয়াকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে নুরুল আজিম রনি বলেন, রাশেদ মিয়া আমার পার্টনার। কোচিং সেন্টারে আমার শেয়ার আছে। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ব্যবসায়িক হিসাব দিচ্ছিলেন না। আমার কাছ থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছিলেন না। এসব বিষয়ে তার সঙ্গে আমার দূরত্ব হয়। তার কাছ থেকে কোনোরকম চাঁদা দাবি করা হয়নি।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, একটি কোচিং সেন্টারের মালিককে মারধরের বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি এবং একটি ভিডিও ফুটেজ আমরা পেয়েছি। যাচাই-বাছাই করে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

লন্ডনে আরিফ খান জয় লাঞ্ছিত

লন্ডনে হামলার শিকার হয়েছেন ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। বুধবার স্থানীয় সময় বিকালে ওয়েস্টমিনস্টারের দ্বিতীয় কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে বিক্ষোভ করা বিএনপি নেতাকর্মীরা  জয়ের ওপর চড়াও হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে খবর প্রকাশ। এ ছাড়া হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। লন্ডন বিএনপি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছে, তাদের দলের নেতাকর্মীরাই প্রতিমন্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটা থেকে দ্বিতীয় কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারে সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কনফারেন্স সেন্টারের বাইরে বিক্ষোভ করছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা। পাশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বিএনপির বিক্ষোভের পাশ দিয়ে হেঁটে সম্মেলন স্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির বিক্ষোভ থেকে তার উদ্দেশে কটু মন্তব্য করা হয়। একপর্যায়ে উপমন্ত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন কয়েকজন। এ সময় আরিফ খান দৌড়ে পাশের বারক্লেস ব্যাংকের সামনে আশ্রয় খোঁজেন। হামলাকারীরাও তার পিছু নেন। পরে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তাকে রক্ষা করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বারক্লেস ব্যাংকের সামনে উপমন্ত্রীকে ঘিরে রেখে হামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন বিএনপির কিছু নেতাকর্মী। তাঁরা হামলাকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তবে হামলাকারীরা উপমন্ত্রীর উদ্দেশে কটু মন্তব্য করেন। একজন দূর থেকে তার দিকে পানি ছুড়ে মারেন। এর মধ্যে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিক্ষোভ করার সময় আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের কাছে আসেন না। তিনি (আরিফ খান জয়) কেন আসলেন, আমরা বুঝলাম না। এমএ মালেক দাবি করেন, তারা উপমন্ত্রীকে রক্ষা না করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতো। এ ঘটনায় মারুফ ও বাপ্পি নামে দুজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানান তিনি। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, বিদেশের মাটিতে বিএনপি যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তারা আবারও প্রমাণ করল, প্রচলিত রাজনীতির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কেবলই সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সমস্ত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের গণমানুষের কোনো সম্পর্ক নেই। উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার এই সফরের বিরুদ্ধে প্রতিদিন বিক্ষোভ করছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা।

জার্মানি থেকে ফিরতে হচ্ছে ১,০০০ বাংলাদেশিকে by মিজানুর রহমান

জার্মানিতে ‘অবৈধ’ হয়ে পড়া ১ হাজার বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হচ্ছে। এরই মধ্যে দেশটির উদ্যোগে দু’টি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৬৭ জনকে ঢাকায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ দু’বছরের আলোচনায় জার্মানিসহ ইউরোপের দেশে দেশে থাকা অবৈধ বা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে চুক্তি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস-এসওপি) সই হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধরা দেশে ফিরছেন। গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইড লাইনে সই হওয়া এসওপি মতে, স্বেচ্ছায় ফিরতে আগ্রহীদের দেশগুলোর নিজস্ব খরচে ঢাকায় পৌঁছানো হচ্ছে। এসওপি মতে জার্মানিও দু’টি ভাড়া করা বিমানে দু’দফায় মোট ৬৭ জনকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে আইওএম এর মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় দেশটি সহায়তা করছে বলে জানান সরকারের প্রতিনিধিরা। তারা এ-ও বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা দেশগুলোতে বৈধ হওয়ার জন্য দফায় দফায় চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের সবাইকে দেশে ফিরতে হবে। বাংলাদেশ সরকার চাপে পড়ে কিংবা নিজে থেকেই হোক এখন অবৈধ অভিবাসনকে নিরুৎসাহিত করছে জানিয়ে সরকারের এক প্রতিনিধি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরাতে চায় সরকার। আর এতে বৈধ অভিবাসনের পথ উন্মুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, জার্মানি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে অন্তত ৩ বছর আগে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৬ সালের এক ঘোষণায় জার্মান সরকার এক লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে উদ্যোগী হয়। সেই সময়ে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডি মেইজার বলেন, ২০১৫-তে জার্মানিতে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসীর আগমন ঘটেছে। সেই বিবেচনায় তারা এ কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু যে পরিমাণ অবৈধ অভিবাসী জার্মানিতে রয়েছেন তার তুলনায় মাত্র ১ লাখকে বিতাড়ন, এটি মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। জার্মান সরকারের ‘কঠোর এ অবস্থানের’ ব্যাখ্যা করে ঢাকার এক কর্মকর্তা দাবি করেন- অবৈধদের ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বরাবরই ইতিবাচক। আর এ কারণে জার্মান সরকারের ঢাকার প্রতি ততটা কঠিন হয়নি। তারা বাংলাদেশ দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে অবৈধ বাংলাদেশিদের দেশে ফেরাতে রাজি হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানে জার্মান সরকার সন্তুষ্ট এবং দেশটিতে বাংলাদেশিদের বৈধ অভিবাসনের পথ সহজ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও সচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে জার্মান সরকারের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বৈঠকে দেশটিতে ৫০০ বাংলাদেশি থাকার কথা বলা হলেও সামপ্রতিক সময়ে বলা হচ্ছে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। প্রায় ১০০০ জনের বৈধতা পাওয়ার আইনি লড়াইয়ের শেষ ধাপ অতিক্রান্ত হয়েছে জানিয়ে জার্মান সরকার বাংলাদেশকে আড়াইশ’ জনের একটি তালিকা দিয়েছে। এরমধ্যে থেকে ২০০ জনের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে। তাদের যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত নোট পাওয়ার পর বার্লিনের বাংলাদেশ দূতাবাস ১৮০ জনের ট্রাভেল পাস ইস্যু করেছেন। ওই তালিকার ৩৬ জন গত ডিসেম্বরে ফিরেছেন। আর দ্বিতীয় দফায় ৩১ জনকে গত ১১ই এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ৬৯ জনকে ফেরানোর কথা থাকলেও ৩৮ জন ফের আইনি লড়াইয়ের সূযোগ চাওয়ায় তাদের সেটি নিশ্চিত করতে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। উল্লেখ্য, ইউরোপ থেকে ‘অবৈধ’ বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয়ে গেল বছরে এতটাই চাপে ছিল ঢাকা ইইউ রীতিমতো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে এ সংক্রান্ত আইনি কাঠামো ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস বা এসওপি’র সইয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। ইউরোপের ২৮ রাষ্ট্রের জোট ইইউ’র তরফে সেই সময় বলা হয়েছিল ইউরোপের দেশগুলোতে থাকা আনডকুমেন্টেড বা অবৈধ অভিবাসীদের অবশ্যই ফিরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া কঠোর করা হবে। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, ইইউ’র চাপে নয়, বাংলাদেশ তার জাতীয় স্বার্থেই বিশ্বের কোথাও আন-ডকুমেন্টেড বা বৈধ ডকুমেন্টবিহীন কোনো বাংলাদেশি থাকুক- এটা চায় না। এদের বৈধকরণের প্রচেষ্টা নতুবা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব যাছাই করে ফেরত নিয়ে আসার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত।

স্ত্রীকে ‘ফার্স্টলেডির’ মর্যাদা দিলেন কিম জং উন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠক সামনে রেখে নিজের স্ত্রী রি সল জুকে ‘ফার্স্টলেডির’ মর্যাদা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। দেশটির রাষ্ট্র     নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রি সল জু’কে ‘সম্মানিত ফার্স্টলেডি’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ায় গত ৪০ বছর সময়ে এই প্রথম ‘ফার্স্টলেডি’ উপাধি দেয়া হলো। এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
খবরে বলা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে রি সল জু’কে বিভিন্ন সময়ে কিম জং উনের পাশে দেখা গেছে। তবে গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া সফররত চীনা সেনাদের একটি অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো যুগলভাবে উপস্থিত হন কিম জং-রি সল দম্পতি। ওই অনুষ্ঠানের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদে রি সল জুকে ফার্স্টলেডি সম্বোধন করা হয়। এতে তাকে এমন বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয় যা শুধু সে দেশের নেতার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
চীনা সেনাদের ওই অনুষ্ঠানে কিম জং উনের সঙ্গে মৃদু গোলাপি রংয়ের স্কার্টের ওপর কোট পরে হাজির হন রি সল জু।  এসময় তাদের সঙ্গে কিমের ছোট বোন ইয়ো জং সহ উত্তর কোরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রি সল মূলত একজন সংগীত তারকা। তার সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা বলছেন, তার বয়স ২৯ বছর। খুবই সাধারণ পরিবারের সন্তান। তার বাবা শিক্ষক, মা ডাক্তার। কিম জং-রি সল দম্পতির ৩টি সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে কমপক্ষে একজন মেয়ে। কিমের স্ত্রী হিসেবে এতদিন প্রকাশ্যে তার ভূমিকা ছিল খুই সামান্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রি সলকে ফার্স্টলেডির মর্যাদা দিয়ে কিম উত্তর কোরিয়াকে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে সে বিষয়টিই বুঝাতে চান কিম। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ফার্স্টলেডি কিম জং সুক ও মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়ার মতোই উত্তর কোরিয়ার ফার্স্টলেডি হিসেবে রি সল জুকে বিশ্বের সামনে পরিচিত করতে চাইছেন।

সুফিয়া কামাল হলে প্রতিবাদকারীরাই এখন আতঙ্কে

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ও ছাত্রলীগ নেত্রীর ‘নির্যাতনের’ প্রতিবাদ করে এখন আতঙ্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ ছাত্রীরা। ইতিমধ্যে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ২৬ জনকে। ছাত্রলীগ নেত্রী ইফফাত জাহান এশাকে হেনস্তার ঘটনায় ২৬ শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে জানিয়ে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তাদের শোকজ করা হবে। অন্যদিক যার নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় এখন তোপের মুখে পড়েছে সাধারণ ছাত্রীরা সেই ইফফাত জাহান এশাকে পুনরায় পদে বহাল করেছে ছাত্রলীগ। এখন চলছে হলে ওঠানোর তোড়জোড়।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের আন্দোলনে অংশ নেয়া সাধারণ ছাত্রীদের গত ৮ই এপ্রিল থেকেই মারধর, জুনিয়রদের সামনে সিনিয়রদের কান ধরে উঠবোস করানোসহ নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ই এপ্রিল দিবাগত রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের কয়েকজন সাধারণ ছাত্রীকে নিজ কক্ষে মারধর করেন এশা। এক পর্যায়ে এক ছাত্রীর চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেরে এশার কক্ষের সামনে গিয়ে জড়ো হয় হলটির পলিটিক্যাল ও সাধারণ ছাত্রীরা। ছাত্রী নির্যাতনের দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার ওইদিন সম্মিলিত প্রতিবাদ করেন তারা।
এদিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গেলে ঘটে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। হেনস্তা করা হয় এশাকে। যেখানে মাত্রা ছাড়িয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা। অন্যদিকে এশার কক্ষে সাধারণ ছাত্রীকে মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করতে গিয়ে জানালায় লাথি দিয়ে পা কেটেছেন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোর্শেদা খানম। গুজব রটে যায় রগ কেটেছেন এশা। যদিও পরবর্তীতে রগ কাটা নয়, জানালায় পা কেটেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন মোর্শেদা নিজেই। হলটির একাধিক সাধারণ ছাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, এশার সঙ্গে পরবর্তীতে যা হয়েছে সেটি নিন্দনীয়। তাই বলে- হলে এশার দীর্ঘদিনের অপকর্মের বৈধতা দেয়ার সুযোগ নেই। ওইদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্রী (যিনি ছাত্রলীগেরও পদধারী নেত্রী- এখন বহিষ্কৃত) নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এশা হল সভাপতি হওয়ার ৬ মাস পর থেকেই হলটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সময় তুচ্ছ কারণে ছাত্রীদের গায়ে হাত তুলেছেন। কারণে-অকারণে সিটে ওঠানো নামানোর কাজও করেন এশা।’ তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারাই অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের নানাভাবে জবাবদিহিতা নিতেন এশা। তিনি প্রথম থেকেই এ যৌক্তিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। আর এটি তীব্রতর হয় ৮ই এপ্রিল থেকে। নিজ কক্ষে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাওয়া ছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজের একটি অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সেটি নিশ্চয় আপনারা শুনেছেন। এখনো আমাদের নিয়মিত হুমকি দেয়া হচ্ছে বিভিন্নভাবে। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।’ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত কলা অনুষদের এক ছাত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগ তদন্ত কমিটি করে নাকি আমাদের বহিষ্কার করেছে, অথচ তদন্ত কমিটির কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তাহলে কিসের ভিত্তিতে এটি করেছে সেটি স্পষ্ট। এশা তার ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরেই আমাদের বহিষ্কার করিয়েছে। এখন শুনছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ২৬ জনকে চিহ্নিত করেছে, সেখানেও হয়তো আমাদের নামই থাকবে।’ হলটির তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী বলেন, ‘এশা হলে ফিরলে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর আগের থেকে কয়েকগুণ চড়াও হবে। আমাদের নানা ধরনের হুমকিও দেয়া হচ্ছে। এখন নতুন আতঙ্ক শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ২৬ জন চিহ্নিত করা। যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।’ বহিষ্কৃত এক সহ-সভাপতি বলেন, ‘এমনি সংগঠনের পদ হারিয়েছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এক পেশে আচরণ করছে। তারা এশার আগের কর্মকে প্রকারান্তরে বৈধতা দিচ্ছে। আর আমাদের সবাইকে দোষী চিহ্নিত করছে। ভয়ে আছি কখন আবার ছাত্রত্ব বাতিল হয়।’
এদিকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হওয়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্রী শারমিন মনিরা হল ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়েও বলির পাঁঠা হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গত ৯ই এপ্রিল রাতে হল ত্যাগ করি এবং চিকিৎসার জন্য ভারতে আছি। অবাক হলাম ছাত্রলীগ হল সভাপতিকে হেনস্তার ঘটনায় আমাকে বহিষ্কার করেছে। দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্রসংগঠনের থেকে এ ধরনের আচরণে আমি খুবই হতাশ।’ সংগঠন থেকে বহিষ্কার হওয়ায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসাইন মুন দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকেন না। অথচ তাকেও একই ঘটনায় স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর প্রতিবাদ ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছেন মুন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হলের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি আমার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। আমার কোনো বক্তব্যও নেয়নি। ফলে আমি দোষী না, নির্দোষ বা আমি কি দোষ করেছি তা নিয়ে অন্ধকারে রয়েছি। ঘটনায় প্রকৃত যারা দোষী আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি। কিন্তু যে ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই সেখানে একটি অসম্পন্ন তদন্তে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করে গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
গতকাল হলের একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ওই ঘটনার পর থেকে অনেকে হল ছেড়েছেন। এখনো হলে ফেরেননি। সবার মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। একদিকে ছাত্রলীগ নেত্রীদের, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এশার কর্মকে বৈধতা দিয়ে ২৬ জনকে চিহ্নিত করা। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি থেকে ২৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়, যারা এশাকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত বলে জানা গেছে। এছাড়াও এশার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। গতকালের শৃঙ্খলা কমিটির একটি সূত্র জানায়, হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কারের পক্ষে ছিলেন না বলে চিহ্নিত ২৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকে শৃঙ্খলা কমিটি। এছাড়াও গত ১২ তারিখ হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিতা রেজওয়ানা রহমান হলের সাধারণ ছাত্রীদের নিয়ে এক সাধারণ সভার আয়োজন করে। যেখানে শিক্ষার্থীরা এশার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। সেই সাধারণ সভায় সুফিয়া কামাল হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ম্যাম আমরা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হল চাই’। সেখানে কেন সিট বাণিজ্য থাকবে? কেন পলিটিক্যাল ফ্লোর এবং নন পলিটিক্যাল ফ্লোর থাকবে। আমরা এখানে সিটের আশায় উঠেছি, রাজনীতি করার জন্য উঠিনি। একজন পদত্যাগ করেছে। আরো একজন হলে আছে। তারা আমাদের সমস্যা করবে। আমাদের দায়ভার কে নিবে।’

ডিজিটাল আইনের ৬টি ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের আপত্তি: তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

প্রস্তাবিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) ছয়টি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দেশের জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সংগঠন এডিটরস কাউন্সিল। সম্পাদকদের আপত্তিগুলো ‘অনেকাংশই যৌক্তিক’ বলে মত দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে এডিটরস কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম আলাদাভাবে এসব তথ্য জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের কিছু ধারার বিষয়ে এডিটরস কাউন্সিল আপত্তি জানিয়েছে। সেগুলো তারা আমাদের সামনে পেশ করেছে। আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আলোচনা শেষে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, যে আপত্তিগুলো তুলে ধরা হলো সেগুলো অনেকাংশেই যৌক্তিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এডিটরস কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল ও দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারায় নিজেদের আপত্তির কথা তুলে ধরেন। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাবিত আইনের ২১, ২৫, ২৮, ৩১, ৩২ ও ৪৩ ধারায় আমাদের আপত্তি। আমরা এ ধারাগুলোকে মনে করেছি বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি। বাংলাদেশে যে স্বাধীন সাংবাদিকতা, সেটা নিয়ে আমরা খুবই গর্ববোধ করি। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে গভীরভাবে ব্যাহত করবে। এ বিষয়গুলো আমরা মন্ত্রীদের বুঝিয়েছি এবং তারা বিষয়গুলো সানন্দে গ্রহণ করেছেন। মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা আশা করি, যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনটি প্রণয়ন হবে, সেটা সত্যিকার অর্থে সাইবার ক্রাইমকেই প্রতিহত করবে। সাংবাদিকতার কোনো স্বাধীনতা খর্ব করবে না। আমরা এটা বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে একটা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রয়োজন। কেননা, এখন যে ধরনের সাইবার ক্রাইম হচ্ছে, সোস্যাল মিডিয়া, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন মিডিয়া- এগুলো আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। তাই আইনটি হোক, তবে যেন সেটা সুষ্ঠু হয়; আসলেই সেটা যেন তার পারপাস সার্ভ করতে পারে। গতকাল আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকার পক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মাদ শহিদুল হক উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় এডিটরস কাউন্সিলের পক্ষে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, নিউজটুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নয়াদিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, নিউএজের সম্পাদক নূরুল কবীর, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এএইচএম মোয়াজ্জেম হোসেন, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন এবং বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি এখন আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে রয়েছে। আগামী ২২শে এপ্রিল আইনটি নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় এডিটরস কাউন্সিলের প্রতিনিধিকে রাখার জন্য প্রস্তাব করা হবে। ২২শে এপ্রিলের পর যেকোনো সময়, একটা নির্ধারিত তারিখে আপত্তি বা উদ্বেগগুলো এডিটরস কাউন্সিল লিখিতভাবে স্থায়ী কমিটিকে জানাবে। তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল অ্যাক্ট করা হয়েছিল। বাকস্বাধীনতা বা স্বাধীন সাংবাদিকতা বন্ধ করার জন্য নয়। সেই ক্ষেত্রে যদি এ আইনের মধ্যে ত্রুটি থেকে থাকে বা ?দুর্বলতা থাকে সেগুলো যেন অপসারণ করা যায় সেই আলোকে এডিটরস কাউন্সিলের সঙ্গে এ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দুই পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি, তাদের (এডিটরস কাউন্সিল) যে উদ্বেগ সেগুলো দূর করতে পারবো। এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটা আইন করতে চাই, যেটা শুধু গ্রহণযোগ্য নয়, যুগোপযোগী হবে। সেই ক্ষেত্রে টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসার জন্যও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রস্তাব দেব। আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করে সেই ধারার বিষয়বস্তুগুলো ঘুরেফিরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাখা হয়েছে- এমন অভিযোগ ছিল সর্বমহলে। গত জানুয়ারিতে প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়ার পর এটি নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আপত্তি ওঠা কিছু ধারা বাদ দেয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু গত ৯ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে আইনটি উত্থাপনের পর দেখা যায়, তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এমনকি ‘ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তি’ বিষয়ক ৩২ ধারার মতো আরো কঠিন একটি ধারা জুড়ে দেয়া হয়েছে। সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিলটিতে আপত্তি জানায়। পরে সেটি চার সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় নির্বাচনে মন্ত্রী এমপিদের প্রচারণার সুযোগ দিতে বিধি সংশোধন হচ্ছে

সিটি করপোরেশনের ভোটে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন মন্ত্রী এমপিরা।   নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি সংশোধনের ফের উদ্যোগ নিয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্থানীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রচারণার সুযোগ চেয়ে প্রস্তাব দেয়ার পরে এক সপ্তাহের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানায়। কমিশনের আইন ও বিধি সংস্কার কমিটিকে বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ইসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বৈঠক শেষে বিষয়টি অস্বীকার করে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসি সচিব বলেন, এমপিরা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আওতায় আছেন। এটা যদি ইউপি পৌরসভায় প্রযোজ্য হলেও সিটি করপোরেশন এলাকা বিরাট এলাকায় যদি নির্বাচন হয় যারা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাদের বাইরে থাকতে হয়। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলোচনাটা হয়েছে। এমপিরা কোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কি না বা সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কি না- এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনাররা একটা কমিটি গঠন করেছেন কবিতা খানমের নেতৃত্বে আইন ও বিধিমালা সংস্কারে যে কমিটি আছে ওই কমিটি উনারা ইস্যুটি পর্যালোচনা করে একটা রিপোর্ট দেবেন। এরপরে বিষয়টি উনারা কমিশনে উত্থাপন করবেন। বিএনপিও কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল। এগুলো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না বা কমিশন সভা করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এটা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এটা নিয়ে আলোচনা হয়নি। যেহেতু আচরণবিধি সংশোধনের বিষয় আছে। কী কী সংশোধন আসতে পারে কমিটি একটি প্রস্তাব দেবে। এজন্য কমিটিকে কোনো সময় বেঁধে দেয়া হয়নি। দ্রুত সম্ভব প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। তফশিল ঘোষণার পর এই উদ্যোগ কেন? সচিব বলেন, আচরণবিধি মাঝেমধ্যে আপডেট করা লাগে। আগে দলীয় প্রতীকে হতো না, এখন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে। তখন এক ধরনের প্রেক্ষাপট, এখন আরেক ধরনের প্রেক্ষাপট। স্বাভাবিকভাবে এমপিরা এলাকায় যেতে পারেন না। এটা আপডেট করার জন্য আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের চাপে এই উদ্যোগ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, চাপে না। যেকোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের স্টেক হোল্ডার। তাদের নিয়ে কাজ করতে হয়। তাদের নিয়ে পরামর্শ করে আলাপ-আলোচনা করে তাদের সুবিধা অসুবিধাগুলো আমরা বিবেচনা করি। আবেদন-নিবেদন করলে ইসি বিষয়গুলো বিবেচনা করে। অন্য এমপি আসতে পারবে কি না- এগুলো বিবেচনা করে কমিটি প্রতিবেদন দেবে। আইন মন্ত্রণালয়ে যেতে হয়।  বিষয়টি কমিশন ইতিবাচকভাবে দেখছে বলে সচিব জানান। এই নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে কি না তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। এটা প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে কার্যকর হতেও পারে, নাও হতে পারে। গাজীপুরের এসপির বিষয়ে বিএনপির দাবির বিষয়ে সচিব বলেন, বিএনপির অভিযোগ ঢালাও। যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না দেয়া হলে একজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। এর আগে ২০১৫ সালে দলভিত্তিক স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রী-এমপিদের প্রচারের সুযোগ দেয়া না দেয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে তৎকালীন কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নাম উল্লেখ না করে সরকারি সুবিধাভোগীদের প্রচারের (সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বাদ দিয়ে) সুযোগ করে দিয়ে খসড়া তৈরি করে। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মধ্যে সরকারি সুবিধাভোগীদের সফর ও প্রচারণায় অংশ নেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আচরণবিধি করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এবার গাজীপুর ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রী-এমপির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণারোপ না করার দাবি জানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চার সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছিলেন, সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন রয়েছে। মন্ত্রী-এমপিদের চলাফেরার ওপরে যাতে নিয়ন্ত্রণ না করা হয়। যাতে স্বাভাবিক কাজে বাধা না দেয়, তা দেখতে বলেছি।

স্বল্প পরিসরে প্রবাসীদের ভোটার করার সুপারিশ -ইসি’র সেমিনার

স্বল্প পরিসরে হলেও প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেয়ার কাজ শুরুর তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। একই সঙ্গে আগামী সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট ও প্রক্সির মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান ও ভোটাধিকার প্রয়োগ’ সংক্রান্ত সেমিনার আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। এ সেমিনারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতা; সাবেক নির্বাচন কমিশনার, রাষ্ট্রদূত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রবাসী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব এ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন। মূল প্রবন্ধে প্রবাসীদের এনআইডি দেয়ার প্রক্রিয়ায় সুবিধা-অসুবিধা, চ্যালেঞ্জ ও ইসির উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রবাসীদের ভোটার করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে সুবিধা-অসুবিধা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান সেমিনারে ইসির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রবাসীদের ভোটার করতে এনআইডি উইং ও এমআরপি যৌথভাবে কাজ করতে পারে। ভোটের বিষয়টি জটিল হলেও এনআইডি দেয়ার প্রক্রিয়া নেয়া যেতে পারে। তবে দ্বৈত নাগরিকদের ভোটার করায় সমস্যা রয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার ব্যবস্থাও বেশ কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে ভোট দেয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ, ভোট দিতে এনআইডি লাগে না। সেক্ষেত্রে প্রবাসীদের এনআইডি দেয়ার দ্রুত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা উচিত। প্রবাসীদের ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা থাকতে পারে। কিন্তু এনআইডি দেয়ার কাজটা কষ্টকর হলেও কঠিন নয়। এমআরপি দেয়া সম্ভব হলে এনআইডিও দেয়া যাবে। যত দ্রুত সম্ভব তা বাস্তবায়ন করলে প্রবাসীদের জন্য বেশ ফলোপ্রসূ উদ্যোগ হবে। সাবেক এ রাষ্ট্রদূত বলেন, সৌদি আরবের মতো বড় কোনো দেশে কাজ শুরু না করে ছোট্ট কোনো দেশে যেখানে কম প্রবাসী রয়েছে তাদের পরীক্ষামূলকভাবে এনআইডি দেয়া যায়। এ অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য হয়তো প্রবাসীদের ভোটার করা যাবে না। তবে এরপরেই বাস্তবতা বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেয়া যায়। পাশাপাশি এমআরপি রয়েছে তাদেরকেই প্রথমে অগ্রাধিকার দিয়ে এনআইডি দেয়া যেতে পারে। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন তাদের সময়কার নেয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা উদ্যোগ শুরু করেছিলাম। বর্তমান কমিশনও তাদের মেয়াদে প্রবাসীদের বিষয়ে কাজ করতে পারলে ভালো হবে। তাড়াহুড়ো করলে জাতীয় নির্বাচনের আগে তা  সম্ভব হবে না। তবে কাজটা যেন চলমান থাকে। সৌদি আরবের নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের চিত্র তুলে ধরে জানান, ২১ লাখ প্রবাসীর মধ্যে ৪৫ শতাংশ লোকের হাতে এনআইডি নেই। ইসি উদ্যোগ নিলে দূতাবাস সব ধরনের সহায়তা করবে। প্রবাসীদের এনআইডির প্রয়োজন প্রতিটি ক্ষেত্রে। ভোট দেয়ার ব্যবস্থা লাগবে না। ভোট বড় কথা নয়। কিন্তু এনআইডি যেন পায়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, এনআইডি দেয়াও ভীষণ রকমের কঠিন কাজ। প্রবাসী অনেকেই দেশে এসে এনআইডি করেছে। কিন্তু যাদের নেই তাদের মধ্যে এমআরপিধারীদের অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আরো আলোচনার তাগিদ দেন তিনি। ইতালিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান শিকদার ও যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ মিশনের ডেপুটি চিফ মাহবুব হাসান সালেহ জানান, দ্বৈত ভোটারদের এনআইডি দেয়ার সুযোগ নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নাহিদা রহমান সুমনা, ইয়াসমিন আকবরী আলোচনায় অংশ নেন। সেমিনারের শুরুতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার করতে দ্বৈত নাগরিকতা প্রধান সমস্যা। বর্তমানে প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ভোটের নিয়ম আছে। এর মাধ্যমে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারেন। আগামী নির্বাচনের আগে এসব পদ্ধতি নিয়ে প্রচারণা চালানো হবে। ইসি কর্মকর্তারা বলেন, দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে প্রবাসে তাদের ভোটার করলে এ নিয়ে সমস্যা বাড়বে।

নবাবগঞ্জে ভণ্ড ফকিরের হাতে দুই নারী খুন

হত্যাকারী মোকলেছের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে দুই নারীর খুনের মূল রহস্য। ঢাকার নবাবগঞ্জ  উপজেলায় ৭ হাজার টাকার জন্য মোকলেছ নামে এক ভণ্ড ফকিরের হাতে খুন হয় নার্গিস আক্তার (৪০) ও তার সঙ্গে থাকা বান্ধবী ময়না বেগম (৫৫)। ৯ই এপ্রিল সন্ধ্যায় মা নার্গিস আক্তার ও তার মায়ের সঙ্গে থাকা ময়না বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে ১০ই এপ্রিল ছেলে তানভীর আহমেদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ১৩ই এপ্রিল ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা চকের একটি পুকুরে এক মহিলা পানি আনতে গিয়ে দুই নারীর লাশ দেখে পুলিশকে জানায়।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ঐ দুই নারীর লাশ উদ্ধার করে। এরপর থেকে পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টায় সার্বক্ষণিক লেগে থাকে। মামলার বাদী নার্গিস আক্তারের ছেলে তানভীর আহমেদ পুলিশকে জানায়, ৯ই এপ্রিল সন্ধ্যায় মা নার্গিস আক্তারকে কে বা কারা মোবাইল ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময় ময়না বেগম তার সঙ্গে যায়।
এ সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ১৫ই এপ্রিল সকালে উপজেলার মাহাতাপ পুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মোকলেছ মিয়া (৩২) কে আটক করে পুলিশ।
আটকের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন মোকলেছ এবং ১৬ই এপ্রিল মোকলেছকে আদালতে পাঠালে সিনিয়র ডিভিশন ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর রহমানের আদালতে সে নিজেই ওই দুই নারীকে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 
মোকলেছ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও হত্যার দায় স্বীকার করে থানায় ও আদালতে যা বলেছেন, স্বামীকে বাদ্যগত (বশ) করতে নার্গিস আক্তার চর দরি কান্দা গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে মো. কাউছার উদ্দিনের ফকিরের শরণাপন্ন হন। কাউছারের কাছে কয়েকদিন ঘোরাফেরা করে নার্গিস। একপর্যায়ে এ কাজ করতে পারবে না বলে কাউছার অপারগতা জানিয়ে বলেন আপনার স্বামীকে বাদ্য করতে চাইলে মোকলেছ ফকিরের কাছে যেতে হবে। নার্গিস কাউছারের কাছে মোকলেছ ফকিরের  ঠিকানা জানতে চায়। ঘটনার ১মাস আগে নার্গিস আক্তারকে সহযোগী কাউছার চরদরি কান্দা গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে মোকলেছ ফকিরের কাছে নিয়ে তাকে পরিচয় করে দেন। স্বামীকে বাদ্যগত (বশ) করতে হলে ৭ হাজার টাকা দিতে হবে বলে নার্গিসের কাছে দাবি করেন মোকলেছ। সে ৭ হাজার টাকা দেয়। মোকলেছ ফকিরি কেরামতি দিয়ে কিছু করতে না পারলে নার্গিস টাকা ফেরত চায়। মোকলেছ টাকা ফেরত দিতে অপারগতা জানায়।
এ সময় নার্গিস থানা পুলিশ ও  রাজনৈতিক নেতা তার এক খালাতো ভাইকে জানাবে বলে মোকলেছকে হুমকি দেয়। এরপর থেকে মোকলেছ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকে এবং একপর্যায়ে ৯ই এপ্রিল সন্ধ্যায় মোকলেছ টাকা ফেরত দিবে বলে লোকমান নামে এক ইজিবাইক চালকের মোবাইল ফোন নিয়ে নার্গিসকে ফোন দেয়। ফোন দিয়ে তাকে আওনার চকে আসতে বলে। এ সময় নার্গিস বলে এখন যদি টাকা ফেরত দাও তাহলে সেখানে আসবো। মোকলেছ রাজি হলে নার্গিস ও ময়না আওনার চকে একটি পুকুর পারে আসে। এ সময় মোকলেছ হাতুড়ি দিয়ে নার্গিসের মাথায় একাধিক আঘাত করে নার্গিসকে হত্যা করে। এ ঘটনা দেখে ফেললে  মোকলেছ নার্গিসের সঙ্গে থাকা ময়নাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে। এ বিষয়গুলো মামলার তদন্ত অফিসার নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসান জানায়।
কামরুল হাসান জানায়, মোকলেছের সহযোগী কাউছার উদ্দিনকেও আটক করেছে পুলিশ। নিহত নার্গিসের  মোবাইলের শেষ মোবাইল কলটি ছিল ইজিবাইক চালক লোকমানের। লোকমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে লোকমান জানায় তার কাছে থেকে মোবাইল নিয়ে মোকলেছ নামে এক ব্যক্তি ফোন দিয়েছিল। সেই সূত্রে মোকলেছকে আটক করি। মোকলেছ ওই দুই নারীকে নিজেই হত্যা করেছে বলে স্বীকার করলে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মোকলেছ ওই পুকুর থেকে হত্যার আলামত হাতুড়ি দুই নারীর পরিহিত বোরকা ও নার্গিস আক্তারের সালোয়ার বের করে দেন। লোকমানকে মামলার সাক্ষী রাখা হয়েছেও বলেও জানান কামরুল হাসান।
এছাড়া তদন্ত অফিসার সাংবাদিকদের একটি প্রেস লিস্ট দিয়ে আরো জানায়, মামলার ঘটনার বিষয় তদন্ত অব্যাহত থাকবে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরো কেউ আছে কি-না তা পুলিশ খতিয়ে দেখছেন বলে তদন্ত অফিসার জানান।
উল্লেখ্য ১৩ই এপ্রিল লাশ উদ্ধারের পর নিহত নার্গিসের ছেলে তানভীর আহমেদে জানান, ৯ বছর যাবৎ মায়ের সঙ্গে বাবার দ্বন্দ্ব চলছে। সে এ বাড়িতে থাকে না। গত ৫ বছর আগে বাড়িতে এসে তার মাকে বাবা ইমান আলী বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় সে দেখতে পেয়ে মাকে বাঁচায়। বাবা মায়ের এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে লজ্জায় অন্য কাউকে জানান না। তবে  একাধিকবার তার মাকে বাবা হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সে।

ফেসবুক লাইভে যুবকের আত্মহত্যা

‘হার্ট করা খুব খারাপ একটা জিনিস। মানুষ থাকতে পারে না হার্ট করলে। মানুষের অনেক কষ্ট হয়।’ ফেসবুক লাইভে বন্ধুদের সঙ্গে নিজের কষ্টের কথা বলতে বলতেই ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণ। নিহত তরুণ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের ছাত্র আরিফ জাহান সায়েম। তার স্বজনরা দাবি করেছেন, প্রেমিকার কাছ থেকে মানসিক আঘাত পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এই তরুণ। মৃত্যুর আগে লাইভে কথা বলতে বলতে বারবার কান্না করেছেন তিনি। দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা মোছাম্মদ শানু।
গত ১৭ই এপ্রিল পৌনে ৩টার দিকে রাজধানীর উত্তরার দক্ষিণখানের আশকোনায় ঘটনাটি ঘটে। আত্মহত্যার আগে ফেসবুক লাইভে আসেন সায়েম। দর্শন অপশনে ওনলি ফ্রেন্ড করা থাকায় ভিডিওটি সবার নজরে পড়েনি। তবে ফেসবুকের লাইভের ১৭ মিনিটের ওই ভিডিওটি এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। এতে দেখা গেছে, টিশার্ট, জলপাই রঙের প্যান্ট পরনে সায়েম একটি চেয়ারে বসেছেন। তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। বিমর্ষ চেহারা। বারবার মাথায় হাত দিয়ে চুল টানছিলেন তিনি। ঘরের ভেতরে রয়েছে সূর্যের আবছা আলো। ইয়েস বলেই কথা শুরু করেন সায়েম। ফোনে তখন ক্ষুদেবার্তার টুসটাস শব্দ। এক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে সায়েম বলছেন, ‘আরাফাত, মেসেজটা না দেয়া বেটার। আর একটা কথা কী, মানুষ... মানুষতো মানুষই। মানুষতো আল্লাহ তৈরি করছে। সবারতো একটু আধটু মন আছে। সবার লাইফে একটা স্টোরি থাকে। সেটা হলো টাইম পাস করা। তবে টাইম পাস করা কারও উচিত না। কারণ সবারই একটা ফিলিংস আছে। ইমোশন আছে। এটা হার্ট করে মানুষকে। কথা হচ্ছে কি যে, আমরা মানুষ সবারই একটা ফিলিংস আছে। কেউ কাউরে ভালোবাসি, কেউ কাউরে ভালোবাসি না। তবে কাউকে হার্ট করা উচিত না। হার্ট করা খুব খারাপ একটা জিনিস। মানুষ থাকতে পারে না হার্ট করলে। মানুষের অনেক কষ্ট হয়...।’
বলতে বলতে কাঁদতে থাকেন সায়েম। চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। আরেক বন্ধুর নাম ধরে আবার বলেন, ‘এইহানে জীবন আছস না, একটা কথা কই ভাই আরাফাত, জীবন- সবাই একটু কষ্ট কইরা বাসায় আসিস। আমার যত ভাই। যা দেখার দেখবা, আল্লাহ দিলে চলে যাব।’ তারপর নিজেকে গালি দিয়ে সায়েম বলেন, ‘ভালো হইতে পারলাম না কারও কাছে।’ আবার কাঁদতে থাকেন।
চোখের পানি মুছতে মুছতে সায়েম বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বাসায় আসিস একবার। আর একটা কথা কী- তোরা ভালো থাকিস। তগো লগেতো অনেক কিছু করছি, গায়ে হাত দিছি। আর কত কমু ক। আমি পোলাপান দেইখা যে আমার মন নাই- তাতো না, আমার মন আছে। মন থাকা সত্ত্বেও অনেকেরই পাই না।’ এ সময় লাইভে যোগ দেয়া আরেক বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে সায়েম বলেন, ‘হৃদয় আইয়া পড়ছে। কি অবস্থা। একবার আইস ভাই আমারে দেখতে। আমিও মানুষরে ভাই। ঠিক আছে ভাই, ভালো থাকবি তোরা।’
এটাই ছিল তার শেষ কথা। তারপর চোখ মুছতে মুছতে খাটের ওপরে আগে থেকে রাখা একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে উঠেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, আগে থেকেই ফ্যানের সঙ্গে রশি বেঁধে রেখেছিলেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই চেয়ারটি পা দিয়ে সরিয়ে ঝুলে যান সায়েম। প্রায় ১১ মিনিট পরে দরজা খোলা ও কান্নার শব্দ, চিৎকার শোনা যায়।
এ বিষয়ে সায়েমের মা শানু জানান, লাইভে সায়েমের এসব কথা শুনে তার বন্ধুরা শানুর ফোনে বারবার কল দিয়েছেন। কিন্তু তিনি তখন ঘুমে ছিলেন। একপর্যায়ে বন্ধুরা সায়েমের বাসায় ছুটে গেলে তার মা শানুসহ বন্ধুরা মিলে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে যান। এ সময় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। শানু বলেন, আফসানা মিমি নামে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের একটি মেয়ের সঙ্গে কয়েক মাস যাবৎ  প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সায়েমের। তাদের সম্পর্ক ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ। মিমি তাদের বাসায়ও এসেছিল সায়েমের সঙ্গে। ওই মেয়েটির কারণেই তার ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন শানু। তবে আফসানা মিমির বিস্তারিত পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
সায়েমের ফেসবুক আইডিতে দেখা গেছে, ৯ই এপ্রিল ফাঁসির দড়ির ছবি কাভার করা হয়েছে। তার আইডিতে বিভিন্ন ছবি পোস্ট করে বিচার দাবি করেছেন সায়েমের বন্ধুরা। এসব বিষয়ে সায়েমের মা শানু বলেন, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আমি মামলা করব। আমি বিচার চাই।
সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়েম মা ও একমাত্র বোনের সঙ্গে থাকতেন আশকোনার মসজিদ সংলগ্ন বাড়িতে। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন তিনি।

অষ্টগ্রামে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে কিশোরীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬

অষ্টগ্রামে প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে ছয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান ও স্কোয়াড কমান্ডার এডি চন্দন দেবনাথ-এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জের কালীবাড়ী এলাকার দয়ার বাজার থেকে তাদের   গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, হযরত আলী (২০), আসাদ মিয়া (২০), সুশেন মিয়া (১৯), এমদাদুল মিয়া (১৭), মাসুম মিয়া (২৩) ও জাহের মিয়া(২৭)। তারা সবাই অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বরাগির কান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে হযরত আলীর বাবা সামছু মিয়া, আসাদ মিয়ার বাবা মৃত উছমান মিয়া, সুশেন মিয়ার বাবা আজিজ মিয়া, এমদাদুল মিয়ার বাবা শাহাবুদ্দিন, মাসুম মিয়ার বাবা সুজি মিয়া ও জাহের মিয়ার বাবা মৃত আসমত আলী মিয়া। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান।
র‌্যাব জানায়, গত ১২ই এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের বরাগিরকান্দি গ্রামে ১৪ বছরের ওই কিশোরীর মুখে ওড়না পেঁচিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের পতিত জমিতে ছয় জনে মিলে জোর করে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। মুমূর্ষু অবস্থায় পরিবারের লোকজন কিশোরীকে প্রথমে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। জঘন্য এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই র‌্যাব-১৪ ধর্ষণের সাথে জড়িত অপরাধীদের ধরার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব -১৪, ভৈরব ক্যাম্প এর কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান এবং স্কোয়াড কমান্ডার এডি চন্দন দেবনাথ এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জের কালীবাড়ী এলাকার দয়ার বাজার থেকে অভিযুক্ত ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে।
অষ্টগ্রাম থানা সূত্র জানায়, গণধর্ষণের এই এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে গত ১৫ই এপ্রিল চারজনের নামোল্লেখসহ ৬জনকে আসামি করে অষ্টগ্রাম থানায় মামলা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্যাতিত কিশোরী তার বড় ভাইয়ের সাথে চট্টগ্রামে বসবাস করত। মাস খানেক আগে সে অষ্টগ্রামের বরাগির কান্দি গ্রামের বাড়িতে আসে। বাড়িতে আসার পর সম্প্রতি একই গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে হযরত আলী কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিশোরী প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে হযরত আলী তার সহযোগীদের নিয়ে এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায়।

খালেদার সঙ্গে দেখা করতে পারলেন না বিএনপির তিন নেতা

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে বিফল হয়ে ফিরে এসেছেন দলটির সিনিয়র তিন নেতা। কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগে সময় নিয়ে সাক্ষাতে গেলেও আইজি প্রিজন ঢাকার বাইরে থাকায় সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়নি বলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছে। তবে রোববার নেতারা সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গতকাল বিকাল তিনটায় পুরান ঢাকার নিজামউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান। কারাগারের অভ্যর্থনা কক্ষে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করে সাক্ষাতের সুযোগ না পেয়ে তারা বেরিয়ে আসেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিলাম। কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে গত পরশুদিন আমাদের সময় দিয়েছিল। সেটা বাতিল করে আজকে (বৃহস্পতিবার) সাক্ষাতের দিন নির্ধারণ করেছিল। সে অনুযায়ী আমরা আমাদের চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ আজকেও সাক্ষাতের  সুযোগ দেয়নি। তারা বলেছেন, সাক্ষাতের জন্য আজ সময় দেয়া যাচ্ছে না। মির্জা আলমগীর বলেন, কি কারণে আমাদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হলো না তা জানি না। তবে আমাদের বলা হয়েছে, আজকে আইজি প্রিজন ঢাকার বাইরে কাশিমপুর কারাগারে গেছেন। তাই দেখা করতে সময় দেয়া যাচ্ছে না। কারাফটকে দায়িত্বরত হাসান নামের এক কারা কর্মকর্তা জানান, আগামী রোববার বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। এর জন্য নতুন করে কোন অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
এর আগে গত ২৯শে মার্চ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য, গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। ওইদিন থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে তাকে রাখা হয়েছে। মাঝে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়েছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

সাজা শেষ হলেও ১৪ নাগরিককে ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার by রাসেল চৌধুরী

হাফেজ আহমদ মিয়ানমারের মংডুর আকিয়াবের মাইদি এলাকার আবুল হোসাইনের ছেলে। ২০০০ সালের ৫ই অক্টোবর অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে টেকনাফে আটক হন তিনি। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় পাসপোর্ট আইনে মামলা করা হয় (জিআর-১৭৯/২০০০ ও টেকনাফ থানা নম্বর-২/২০০০)। আদালতের দেয়া দন্ডে ৬ অক্টোবর ২০০০ সাল থেকে ২০০১ সালের ১৮ই জুলাই তার সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু তিনি এখনো কারান্তরীণ রয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সে কারাগারে ঢুকে আদালতের নির্দেশে ১০ মাস সাজা খাটলেও দীর্ঘ ১৮ বছর অকারণে কারাভোগ করে তিনি এখন মধ্য বয়সে এসে দাঁড়িয়েছেন। শুধু তিনি নন, তার দেশের এক নারীসহ আরো ১৩ জন একই ভাবে সাজা ভোগের পর এক বছর থেকে এক যুগ বিনাকারণে কারাগারের অন্ধ প্রকোস্টে দিনযাপন করছেন। তারাও পাসপোর্ট আইনসহ বিদেশী নাগরিক আইনে অভিযুক্ত। কক্সবাজার কারা সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, অভিযুক্তদের মাঝে মিয়ানমারের মংডুর আকিয়াবের বদলাপাড়ার খলিলুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিম (৩৮) ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর কারান্তরীন হয়ে ২০০৬ সালের জুলাই মাসে সাজার মেয়াদ শেষ করেন। মংডুর ফকিরাবাজার এলাকার মৃত ইউছুফ আলীর ছেলে আলী আকবর (২৮) ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ঢুকে সাজা শেষ করেন ২০০৫ সালের মার্চে। বুচিদংয়ের জব্বারপাড়ার মু. ইউনুছের ছেলে মো. সেলিম (৩২) ২০০১ সালের নভেম্বরে কারান্তরীণ হয়ে সাজা শেষ করেন ২০১১ সালের মে মাসে। একই এলাকার সাব্বির রহমানের ছেলে মুহাম্মদ রফিক (৩০) ২০০৭ সালের মে মাসে কারান্তরীণ হয়ে সাজা শেষ করেন ২০১১ সালের জুলাই মাসে। মংডুর পোকখালীর হাবিব উল্লাহর ছেলে বশির আহমদ (২৯) ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ঢুকে সাজা শেষ করেন ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে। আকিয়াব বলিবাজার এলাকার বসরের ছেলে নুরুল আমিন (২৪) ২০০৯ সালে কারান্তরিন হন আর সাজা শেষ করে ২০১৪ সালে।
বুচিদংয়ের হ্নীলা এলাকার মৃত মুজিবুরের ছেলে রাসেল (৪৫) ২০১৬ সালের অক্টোবরে কারান্তরিন হয়ে সাজা শেষ করেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বর। একই এলাকার ইয়ং চয়ং পাড়ার আবদু শুক্কুরের স্ত্রী খতিজা (৫০) ২০১৭ সালের জানুয়ারি কারান্তরিন হয়ে একই বছরের সেপ্টেম্বরে কারাভোগের মেয়াদ শেষ করে। মংডুর তাতুইং গ্রামের মৃত
মংচিং মারমার ছেলে আবুচিং মারমা (২২) ২০১৭ সালের মে মাসে কারান্তরিন হয়ে একই বছরের জুলাই মাসে সাজাভোগ শেষ করেন। রাখাইন স্টেটের মমবা গ্রামের ওমারিন মিউ মারমার ছেলে হিং থাই নাই মারমা (২৪) ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে কারান্তরীণ হয়ে একই বছরের নভেম্বরে সাজাভোগের মেয়াদ শেষ করেন। মিয়ানমারের বুচিদং মায়ুকং ওরফে মং কং মারমার ছেলে নিতওয়া (৫০) ২০১৩ সালের নভেম্বর কারান্তরীণ হয়ে ২০১৭ সালের জুনে সাজার শেষ করেন।  পলোয়া খায়ংপল্লীর মৃত লেচং-এর ছেলে হেইটং (৪৫) ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে কারান্তরীণ হয়ে ২০১২ সালের জানুয়ারি সাজা শেষ করেন আর কেপ্রু এলাকার চউইং রাখাইনের ছেলে চিং অং রাখাইন ২০০৩ সালে কারান্তরীণ হয়ে ২০০৯ সালের অক্টোবরে সাজা শেষ করলেও এখনো কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি রয়েছেন।
তথ্যমতে এমনিতেই ধারণ ক্ষমতার ৫ গুণ বন্দির চাপে রয়েছে কক্সবাজার জেলা কারাগার। তার ওপর সাজাভোগের পরও বছরের পর বছর এসব বন্দিদের রাখতে বাধ্য হওয়ায় অন্যদের জন্য এটি ভোগান্তিস্বরূপ। কারা কর্তৃপক্ষের হিসেবে প্রতি বছর শুধু আহার সংস্থানে এ ১৪ বন্দির পেছনে সরকারে খরচ প্রায় সোয়া ৪ লাখ টাকা। তাই বছরের পর বছর সরকারের লাখ লাখ টাকা এদের পেছনে গচ্ছা যাচ্ছে। এটার চেয়ে বড় কথা হলো মানব হিসেবে তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে চরমভাবে। কক্সবাজার জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. বজলুর রশিদ আখন্দ জানান, তাদের কারভোগের মেয়াদ শেষ হবার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে মিয়ানমারে পত্র পাঠানো হয়। কিন্তু এদের গ্রহণে মিয়ানমার কোন ধরণে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সাধারণ সমপাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রেজাউল করিম রেজা বলেন, সাজার মেয়াদ শেষেও কারান্তরীণ থাকা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। মিয়ানমারে যেহেতু রোহিঙ্গা সংকট চলছে তাই বিশেষ বিবেচনায় এসব বন্দিদের ক্যামপ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেয়া বাঞ্ছনীয়। জেলা লিগ্যাল এইডের প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কর্তৃপক্ষ চাইলে আমরা আইনিভাবে আন্তরিক সহযোগিতা দেব। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সে বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক

দুই দিনব্যাপী ২৫তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ বাকিংহাম প্যালেসে এ সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। কমনওয়েলথ সদস্যভুক্ত ৫৩টি দেশের সরকার প্রধানরা বৈঠকে অংশ নেন। এদিকে ওই অনুষ্ঠান শেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাইড লাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায় বৈঠক শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেন লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রানী বলেন, কমনওয়েলথ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্থিতিশীলতাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরবে এবং ১৯৪৯ সালে আমার পিতার শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ কাজটি প্রিন্স অব ওয়েলস আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রিন্স চালস, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে এবং কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি বক্তব্য দেন। গার্ড অব অনার প্রদান এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পতাকা বহনের মধ্যদিয়ে এ অনুষ্ঠানের শুভসূচনা হয়।
বিশেষ পোশাকে সজ্জিত শতাধিক কর্মকর্তা ও সেনা ব্যান্ড ও ড্রাম বাজিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দ ল্যানকাস্টার হাউজে তিনটি কর্ম অধিবেশনে যোগ দেন। কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দ পরে ল্যানকাস্টার হাউজে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা এবং কমনওয়েলথ মহাসচিব প্যাট্রিসিয়ার দেয়া আনুষ্ঠানিক সংর্বধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দ বিকালে সেন্টস জেমস প্যালেসে কমনওয়েলথ মহাসচিবের দেয়া অপর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
সম্মেলনে মাল্টার প্রধানমন্ত্রী ড. জোসেফ মাসকাটের কাছ থেকে কমনওয়েলথ চেয়ার ইন অফিস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র কাছে স্থানান্তর হবে। টেরেসা মে ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় ২৬তম সিএইচওজিএম পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন। ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ ২৫তম সিএইচওজিএম অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল। স্বাগতিক দেশ ছিল ভানুয়াতু। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরবর্তীকালে যুক্তরাজ্যে আয়োজন করা হয়। সিঙ্গাপুরে ১৯৭১ সালে কমনওয়েলথ নেতৃবৃন্দের প্রথম সিএইচওজিএম অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ সিএইচওজিএম অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে মাল্টায়।
১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে সই: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন থেকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি ২৫তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে এখন লন্ডনে রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, লন্ডনে ব্যস্ত কর্মসূচি সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল ব্যবস্থায় অফিস চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ফাইলে স্বাক্ষর ও নিষ্পত্তি করছেন।
২৫তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠকে যোগ দিতে ১৭ই এপ্রিল লন্ডনে পৌঁছার পর প্রধানমন্ত্রী এ পর্যন্ত ক্রয় কমিটি, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও জননিরাপত্তা বিভাগ সংশ্লিষ্ট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রনিক্স ফাইলে (ই-ফাইলে) স্বাক্ষর করেছেন। প্রেস সচিব আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে সব গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তার কাছে পাঠানোর জন্য অফিসকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশের পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের ডিজিটাইজেশনের সুবিধা ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো ই-মেইল করেছেন।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে ভাবছে বিইআরসি by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

বাসাবাড়ি বাদ দিয়ে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে কোম্পানিগুলো। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)’র কাছে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয় গত ২০শে মার্চ।  কিন্তু  প্রস্তাবের পর বিইআরসি এখন পর্যন্ত গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো  গণশুনানির সিদ্ধান্তই নেয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। অথচ জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত করার জন্য প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। প্রথম দফায় জাতীয় গ্রিডে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে মে’র প্রথম সপ্তাহে। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আবাসিক ছাড়া অন্য সব খাতেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তবে আবাসিক গ্রাহকের আশান্বিত হওয়ার কিছু নেই। এলএনজি আমদানি আরো বাড়লে আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের দামও  বাড়বে। নতুন প্রস্তাবনায় বিদ্যুৎ, সারকারখানা, শিল্প, ক্যাপটিভে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সিএনজিতে ২০ শতাংশ দাম বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রতি ঘনমিটার শিল্পে ১৬ টাকা, বিদ্যুতে ১০ টাকা,  সারে ১২ টাকা ৮০ পয়সা, সিএনজিতে ৪০ টাকা থেকে ৪৮, ক্যাপটিভে ১৬ টাকা এবং চা শিল্পে ১২ টাকা ৮০ পয়সা নতুন দাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মীর মশিউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, তারা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব বিইআরসিতে জমা দিয়েছেন ২০শে মার্চ। তিনি আরো জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই প্রস্তাব তৈরি করেছেন তারা। এখন বিইআরসিই সিদ্ধান্ত নেবে কত টাকা দাম বাড়ানো হবে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাসাবাড়ির জন্য গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি।
সূত্র জানায়, প্রথম দফায় যুক্ত হবে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি। এজন্য মহেশখালীর টার্মিনাল থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এক্সিলেরেটর এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের (ইইবিএল) মাধ্যমে  বাস্তবায়িত ভাসমান টার্মিনাল থেকে এই গ্যাস গরম করে প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরিত করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।  চলতি মাসের শেষের দিকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি বাংলাদেশে এসে পৌঁছবে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কোম্পানি এক্সিলেরেটর এনার্জি এই ভাসমান টার্মিনালটি স্থাপন করবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এলএনজি আমদানি ও টার্মিনাল স্থাপনে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল থেকে অর্থসংস্থানে অনুমোদন দেয়া হয়েছে গত দু’মাস আগেই। টার্মিনাল স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলেছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো বিইআরসি’র কাছে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও বিইআরসি এখনো কোনো গণশুনানির সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে এই নিয়ে পেট্রোবাংলা খুব চিন্তায় আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
 এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) মো. তৌহিদুল হাসনাত খান মানবজমিনকে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব গত মাসেই দেয়া হয়েছে বিইআরসি’র কাছে। বিইআরসি আরো কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে। আমরা তা দু-এক দিনের মধ্যে সরবরাহ  করবো।
এ প্রসঙ্গে বিইআরসি’র সদস্য মিজানুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী অনেক প্রক্রিয়ায় আগাতে হয়। এজন্য দীর্ঘ সময় লাগে। জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হলেও সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের দামে বিল দিবেন গ্রাহকরা। তিনি বলেন, গণশুনানির জন্য আরো দেড় থেকে দু’মাস সময় লাগতে পারে।