Sunday, January 19, 2025
জিয়াউর রহমানের যে নীতির কারণে বিএনপি টিকে গেল by মারুফ মল্লিক
ঠিক এই সময় দেশের ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালে তিনি ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের অংশ ছিলেন না বা উল্লেখযোগ্য কোনো চরিত্রও নন। কিন্তু ৭ নভেম্বর তিনিই আসল নায়ক। সিপাহী জনতার বিপুল সমর্থন ও সময় তাঁকে নায়কের আসনে বসিয়ে দিয়েছে। এর আগে তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধেরও অন্যতম নায়ক ছিলেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বাকশালের একদলীয় শাসনের পতনের পরপরই জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। অর্থনীতির অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এমনই একসময়ে জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাজনীতির মঞ্চে চলে আসেন। ওই পরিবর্তনের বিপক্ষ শক্তিও ছিল। এর প্রভাব জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পরিলক্ষিত হয়। সুনির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না হলেও কমবেশি ২৪ থেকে ২৫টি ছোট–বড় সামরিক অভ্যুত্থান জিয়াউর রহমানকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। সর্বশেষ এক ঘটনায় তিনি সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্যদের হাতে নিহত হন।
মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও সেক্টর কমান্ডার সামরিক কর্মকর্তা থেকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শাসকে পরিণত হওয়া জিয়াউর রহমানের আজ ৮৯তম জন্মবার্ষিকী। খুব দ্রুতই তিনি দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। এর মূল কারণ হচ্ছে, তিনি রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজজীবন—সবর্ত্রই তিনি উদারনীতির প্রচলন করেছিলেন।
সেই সময়ের অনেক শাসকই কর্তৃত্ববাদের রাজনীতির ভাবনা থেকে বের হতে পারেননি। শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশালই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। জিয়াউর রহমানের সামনে দুটি বিকল্প ছিল। এক, বাকশালের ধারাবাহিতা রক্ষা করে ওই সময়ের তৃতীয় বিশ্বের অনেক শাসকের মতো কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠ করা; দুই, জনগণের কাছে যাওয়া। জিয়া দ্বিতীয় পথ অনুসরণ করে উদারপন্থী রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে গেলেন। তিনি সব মত ও পথের দল নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্নির্মাণে অগ্রসর হন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকেও তিনি মধ্যপন্থী উদার দল হিসেবেই প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপির নীতি–আদর্শ বিবেচনা করলে দেখা যাবে, জিয়াউর রহমান ইউরোপের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের রাজনীতির দর্শন এখানে প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বাকশালের একদলীয় শাসনের পরিবর্তে ফিরিয়ে আনেন বহুদলীয় গণতন্ত্র। এমনকি বাকশালে বিলুপ্ত হওয়া আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনেন। পাশাপাশি অন্যান্য দলকেও রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। সমালোচকেরা অভিযোগ করেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন; কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, তিনি একই সঙ্গে বিলুপ্ত আওয়ামী লীগকেও বাকশালের গহ্বর থেকে তুলে এনেছিলেন।
কে রাজনীতি করতে পারবে বা কে করতে পারবে না, সেই সিদ্ধান্ত জিয়াউর রহমান জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি বরং প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে মোকাবিলা করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। বহুপক্ষীয়, উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজগঠনের জন্য ১৯ দফা ঘোষণা করে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে জনসাধারণকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এই প্রচেষ্টায় তিনি সফল হয়েছিলেন।
প্রথমত, জিয়াউর রহমান সব জাতি–ধর্ম–বর্ণের সমান পরিচয় ও অধিকারের ভিত্তিতে একটি সমাজগঠনে উদ্যোগী হন। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রচার করেন রাষ্ট্রের নাগরিকদের একক রাজনৈতিক পরিচয় নির্মাণের জন্য। সংকীর্ণ জাতিবাদী বাঙালি বা ধর্মীয় জাতিয়তাবাদের ধারণা থেকে বের হয়ে এসেছিলেন তিনি। মূলত পশ্চিম বা উত্তর ইউরোপের দেশগুলোর আদলে রাষ্ট্রের ভিত্তিতে তিনি নাগরিকদের পরিচয় নির্মাণের প্রয়াসী হন।
উল্লেখ্য যে জিয়াউর রহমান ওই সময় এশিয়া, আফ্রিকা বা লাতিন আমেরিকায় প্রবল জাতিবাদী জাতীয়তাবাদের ঢেউ থেকে নিজের রাজনৈতিক দর্শনকে আলাদা করতে পেরেছিলেন। উত্তর ঔপনিবেশিক সময়ে দেশগুলো তখন জাতিবাদীতায় আচ্ছন্ন ছিল। তারা মনে করত, জাতিবাদী জাতীয়তাবাদই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সম্ভাব্য দর্শন। কিন্তু জাতিবাদী ধারণা সমাজে, রাষ্ট্রে বিভাজন সৃষ্টি করে। ইউরোপ তখন এই ধারণা থেকে বের হয়ে এলেও এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিনের দেশগুলোর তখনো এ ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। এমন অবস্থায় যুদ্ধবিধ্বস্ত, অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির একটা দেশের শাসক হিসেবে জিয়াউর রহমানের পক্ষে খুব একটা সহজ বিষয় ছিল না জাতিবাদী কর্তৃত্বের ধারণা থেকে বের হয়ে পশ্চিম ইউরোপের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের আদলে একটি দল গঠন করা এবং রাজনীতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
রাজনৈতিক দর্শনকে জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যম প্রয়োগ করেন। তিনি গ্রহণ করেছিলেন রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পুঁজির বিকাশের ধারণাকে। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিকাশে নীতি ও কৌশল প্রয়োগ করেন। তাঁর সময়ই বেসরকারি খাতে শিল্পকলকারখানার পাশাপাশি এনজিওগুলোর বিস্তার ঘটতে থাকে। সামাজিক উন্নয়নে এনজিওগুলো ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে এই এনজিওগুলোই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
সারা দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জিয়াউর রহমান ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদানপ্রথা তাঁর আমলেই শুরু হয়। কিন্তু এরপরও বিএনপি কি মধ্যডান না ডানপন্থী দল, এ নিয়ে বিতর্ক আছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পারলে বিএনপিকে ইসলামপন্থী দল হিসেবেই পরিচয় দেয়। কিন্তু আমরা যদি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন বিশ্লেষণ করি, বিশেষ করে তাঁর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আমলে নিই, তাহলে বিএনপিকে একটি উদার মধ্যবাম ধারার দল হিসেবেই উল্লেখ করতে হয়। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে ইউরোপীয় মধ্যবাম ধারার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট বা লেবার পার্টির সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। তবে ভোটের রাজনীতিতে ধর্মপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করায় বিএনপির উদার পরিচয় অনেকটা আড়ালে চলে গিয়েছিল।
মধ্যবাম ধারার সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে রাজনৈতিক উদারতা, মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, কেইনজিয়ান অর্থনৈতিক নীতি, সম্পদের সুষম বণ্টনের নিশ্চয়তা ও কল্যাণমূলক ব্যবস্থা। জিয়াউর রহমান দেশে একটি বহুদলীয় উদার রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তিনি রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সুযোগ রেখেছিলেন। অর্থনীতিকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেননি। পাশাপাশি তিনি শহর ও গ্রামের ব্যবধান কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষির উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি সমন্বিত যৌথ খামার পদ্ধতিরও পরিকল্পনা করেছিলেন।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে জিয়াউর রহমান একটি উদার, বহুপক্ষীয়, সামাজিক উন্নয়ন রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। কর্তৃত্ববাদের স্রোতে গা না ভাসিয়ে সময়ের চেয়ে জিয়াউর রহমানের ভিন্নতর এই অবস্থান দেশের রাজনীতিতে তাঁকে বিশেষ স্থান দিয়েছে।
কোনো শাসকের মতো জিয়াউর রহমানেরও সমালোচনা আছে। তবে রাজনৈতিক দর্শনের জায়গা থেকে বিবেচনা করলে তিনি সমসাময়িক আশপাশের অন্যান্য শাসকের তুলনায় ছিলেন ব্যতিক্রম। তাঁকে নিয়ে অপপ্রচার, নিন্দামন্দ আওয়ামী লীগ কমে করেনি। তাঁর নাম–নিশানা মুছে দিতে চেয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব কেড়ে নিয়েছিল। কিন্তু দেশের পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এখন পলাতক। আর চরম দমন, নির্যাতনের মুখেও জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল টিকে গেল হিমালয়সমান বাধাকে মোকিবেলা করে। এর কারণ, জিয়াউর রহমানের নীতি ও উদারপন্থী রাজনৈতিক দর্শন।
ড. মারুফ মল্লিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনামুলক রিপোর্ট প্রত্যাহার করেছে এপিপিজি -গার্ডিয়ানের রিপোর্ট

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ প্রচারের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বৃটিশ ব্যারিস্টারের কাছে যায় হাসিনা সরকার
গণভবনে পাওয়া নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়্যাল বৈঠক করেছিলেন ব্যারিস্টার ডেসমন্ড ব্রাউনি। সেখানে তার কথায় মনে হয়, ভবিষ্যতে আল-জাজিরার বিরুদ্ধে তাদের হয়ে (হাইকমিশনের কর্মকর্তা) মামলা লড়তে তিনি প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের আগে একজন আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা দরকার, যিনি তাকে (ব্যারিস্টার ব্রাউনি) পরামর্শ দেবেন। এরপর ব্রাউনির পরামর্শে লন্ডনের আইনি সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পেনিংটন মানচেস কুপারের বিশেষজ্ঞ জেরেমি ক্লার্ক- উইলিয়ামসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল শেখ হাসিনা সরকার। কিছুদিন বাদে তিনিও বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ২০২১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রতিনিধিরা ক্লার্ক-উইলিয়ামসকে বলেছিলেন, আল-জাজিরার ওই প্রামাণ্যচিত্রে ‘সারবত্তা তেমন কিছু না থাকলেও’ তা শেখ হাসিনার সুনাম ‘ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন’ করেছে। বাংলাদেশ সরকার বা সেনাবাহিনীর মতো কোনো প্রতিষ্ঠান বা সেনাপ্রধানের মতো কোনো ব্যক্তি এই প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আদালতে মানহানির মামলা করবে কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা যিনি এই প্রামাণ্যচিত্রে নেই, তবে মনে করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানহানি হয়েছে, তার মতো তৃতীয় কোনো পক্ষ মানহানির মামলা করবে কি না, সে বিষয়েও পরামর্শ নিতে বলা হয়েছিল লন্ডন হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের।
নথির তথ্য অনুযায়ী, আল-জাজিরার ওই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে কাজ করা বৃটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানকে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনাও করেছিল শেখ হাসিনা সরকার। ক্লার্ক-উইলিয়ামসকে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তারা বার্গম্যানের বিরুদ্ধেও মামলা করার জন্য প্রস্তুত। ওই কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ওই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের পেছনে ছিলেন ডেভিড বার্গম্যন। তাকে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হবে।
বাংলাদেশ সরকার শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর বিপরীতে তারা নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে আল-জাজিরার প্রামাণ্যচিত্রটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ফেসবুক ও ইউটিউবকে চাপ দেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছিল। এ নিয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টের রায়ের পরও প্রামাণ্যচিত্রটি সরিয়ে ফেলার বিষয়টি নাকচ করে দেয় দুই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এখনো প্রামাণ্যচিত্রটি ফেসবুক ও ইউটিউবে দেখা যায়।
ডেসমন্ড ব্রাউনি সম্প্রতি আইন পেশা থেকে অবসরে গেছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি সানডে টাইমসকে বলেন, ‘এটা সত্যি যে ১০ ফেব্রুয়ারি আমার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার পর আমি ও ক্লার্ক উইলিয়ামস (বাংলাদেশ) হাইকমিশনকে পরামর্শ দিয়েছিলাম। তবে আমার জানামতে, ওই পরামর্শের পর আমি বা ক্লার্ক-উইলিয়ামস আর কোনো পদক্ষেপ নিইনি। ২০২১ সালের মার্চ মাসে ক্লার্ক-উইলিয়ামস ও আমার দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী কোনো চিঠিপত্র দেওয়া বা মামলা-মোকদ্দমা করা হয়নি।’ এ বিষয়ে জানতে ই-মেইল ও ফোনকল করা হলে জবাব দেননি ক্লার্ক উইলিয়াম।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কোন ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে
যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় গাজায় জিম্মি থাকা ইসরায়েলিদের বিনিময়ে ঠিক কতসংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।
হামাস-ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তির লিখিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি বন্দী বিনিময়ের বিভিন্ন অনুপাতের কথা বলা হয়েছে।
অনুপাতের বিষয়টি নির্ভর করছে ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দীরা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন কি না, তার ওপর।
ফিলিস্তিনি বন্দী ও সাবেক বন্দীবিষয়ক কমিশন এবং প্যালেস্টাইন প্রিজনার্স সোসাইটির তথ্যমতে, বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে ১০ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গত ১৫ মাসের সংঘাতকালে গাজা থেকে আটক ফিলিস্তিনিরা অন্তর্ভুক্ত নন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন শুরু হলে আজ রোববার ৯৫ জন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশু বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয়। তবে এর বাইরে যেসব বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে, তাঁদের নাম জানা যায়নি।
চুক্তির রূপরেখা অনুসারে, আজ স্থানীয় সময় বিকেল চারটার আগে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হবে না।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েল প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর একটা বড়সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার আগে ১০ জনের কম ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
প্রথম ধাপ
হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি তিন ধাপের। চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে। গাজায় থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের সংখ্যা আনুমানিক ১০০ জন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দোহায় উভয় পক্ষের (হামাস-ইসরায়েল) পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী যে অনুপাতের বিষয়ে সম্মত হয়েছে, সে হিসেবে জিম্মি-বন্দী বিনিময় করা হবে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলি আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১১০ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে ৯ জন অসুস্থ ও আহত ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে।
এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দীদের সঙ্গে ৫০ বছরের বেশি বয়সী ইসরায়েলি জিম্মি পুরুষদের বিনিময়ের অনুপাত হবে ১: ৩। অন্যান্য মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করা ফিলিস্তিনি বন্দীদের সঙ্গে ইসরায়েলি জিম্মিদের অনুপাত হবে ১: ২৭।
আগের বন্দী বিনিময়
অতীতেও বন্দী বিনিময় হয়েছে। যেমন ২০১৩ সালে শান্তি আলোচনা চলাকালে ইসরায়েল ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সম্মত হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল আলোচনাকে জোরদার করা।
১৯৮৩ সালে ছয় ইসরায়েলি সেনার বিনিময়ে ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
একইভাবে ১৯৮৫ সালে ৩ জন ইসরায়েলি সেনার বিনিময়ে প্রায় ১ হাজার ১৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
বড় মাপের বন্দী
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, আজ যেসব ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন খালিদা জারার। তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরের সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব ফিলিস্তিনের (পিএফএলপি) নেতা।
ফিলিস্তিনিরা আরও কয়েকজন বড় মাপের বন্দীর মুক্তির আহ্বান জানাচ্ছেন।। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
তাঁদের মধ্যে একজন ফিলিস্তিনি সংগঠন ফাতাহর নেতা মারওয়ান বারগুতি। তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্তি বারবার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আটকে দিয়েছে।
মারওয়ানের প্রতিনিধি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গত শুক্রবার যোগাযোগ করেছিল আল-জাজিরা। তাঁরা বলেন, মারওয়ানের মুক্তির ব্যাপার তাঁরা আশাবাদী। কিন্তু তাঁর সম্ভাব্য মুক্তির বিষয়ে তাঁরা কোনো তথ্য পাননি।
আরেকজন বড় মাপের ফিলিস্তিনি বন্দী হলেন পিএফএলপির প্রধান আহমেদ সাদাত। ২০০১ সালে ইসরায়েলের তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রী রেহাভাম জেইভিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার জন্য তাঁকে ইসরায়েল অভিযুক্ত করেছিল। যদিও ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তাঁকে অভিযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
![]() |
| ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।.ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরাইলের গড়িমসির পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি আজ
যুদ্ধবিরতির ডাক উঠেছে বহুবার। আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ফল আসেনি। অবশেষে মিশর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতারের দোহায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল ও হামাস। হামাস শর্ত মেনে নিলেও টালবাহানা করতে থাকে ইসরাইল। দফায় দফায় তাদের মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা হয়। শনিবার কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা মিটিং করে চুক্তি অনুমোদন দেয় ইসরাইল। এরপরই তা বাস্তবায়নের সুখবর আসে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারী শনিবার এ বিষয়ে এক্সে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন- স্থানীয় সময় রোববার সকাল সাড়ে আটটায় (গ্রিনিচ মান সময় সকাল সাড়ে ছয়টায়) এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ভাইদেরকে পরামর্শ দিই আগে থেকে সতর্ক থাকার, সর্বোচ্চ সতর্কতা চর্চা করতে এবং অফিসিয়াল সোর্স থেকে পাওয়া নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করবো। ওদিকে যুদ্ধবিরতির সময় সম্পর্কে নিশ্চিত করেছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। হামাসের হাতে এখনও আছে ৩৩ জন জিম্মি।
ইসরাইলের হাতে আটক ফিলিস্তিনি শত শত বন্দিবিনিময়ের অংশ হিসেবে পরবর্তী ৬ সপ্তাহে ওই সব জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে। বাকি যেসব পুরুষ সেনা থাকবে, তাদেরকে মুক্তি দেয়া হবে দ্বিতীয় দফায়। একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং ইসরাইলিদের পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বাকি জিম্মিদের মুক্তি দেবে না হামাস। জর্ডান থেকে আল- জাজিরার সাংবাদিক হামদাহ সালহাট বলেন, এখন সবার চোখ গাজার দিকে। তারা দেখতে চাইছেন শেষ সময়টিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সেখানে কি করে। কারণ, ঐতিহাসিকভাবে সর্বশক্তি নিয়ে গাজা উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়েছিল ইসরাইলি সেনাবাহিনী। একটি চুক্তিতে পৌঁছার পর ফিলিস্তিনিদের অভিনন্দন জানিয়েছেন লেবাননের যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম। তিনি বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের অবিচল (হামাস), এটাই প্রমাণ করে এ ঘটনা। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের মে মাসে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রস্তাব করা হয়েছিল এবারের চুক্তিতে তার কোনো পরিবর্তন নেই। এটা প্রমাণ করে যে প্রতিরোধ যোদ্ধাগোষ্ঠীই সঠিক। ইসরাইল যা চেয়েছিল, তা তারা পায়নি। এর আগে নভেম্বরে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। গাজার পাশাপাশি লেবাননেও যুদ্ধ করছিল ইসরাইল। চুক্তি কার্যকরের পথে থাকলেও ইসরাইল গাজায় হামলা চালিয়ে গেছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনিবার দিনের শুরুতে আল মাওয়াসি ‘মানবিক এলাকায়’ ইসরাইল আকাশপথে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে কমপক্ষে ৫ জনকে। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই হামলায় তিন সন্তানসহ এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়া শুক্রবার গাজা সিটির পূর্বদিকে তুফফা এলাকায় তিন ফিলিস্তিনিকে ইসরাইল ড্রোন হামলা করে হত্যা করেছে। বুধবার যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সম্মতির ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ইসরাইলি বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২০ ফিলিস্তিনি।
ওদিকে ওদিকে আল মাওয়াসি এলাকায় ইউনিসেফের কর্মী রোজালিয়া বোল্লেন সতর্ক করেছেন যে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতি এখনও করুণ। যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে সেখানে কাজ করছেন ত্রাণ বিষয়ক কর্মীরা। তারা বলছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফে কাজ করেন রোজালিয়া বোল্লেন। তিনি বলেছেন, হাজার হাজার মানুষ সম্পূর্ণ বঞ্চনার মধ্যে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, মানুষগুলো যে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন সেখানে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নাজুক। গাদাগাদি করে তারা বসবাস করেন। ফলে রোগব্যাধি ভয়াবহভাবে দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু বোমা আর বুলেটই নয়, গাজায় বসবাসের পরিস্থিতি এমনই। তিনি বলেন, এটা যুদ্ধবিরতি হলে ত্রাণ সরবরাহ হবে। এটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
![]() |
| ইসরাইলের পূর্ণ মন্ত্রিসভায় যুদ্ধবিরতি অনুমোদন >> হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তি অনুমোদন করেছে ইসরাইলের পূর্ণ মন্ত্রিসভা। ৪৬০ দিনের বেশি যুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনী ৪৬ হাজার ৭৮৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর অবশেষে এই চুক্তির অনুমোদন দিলো বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনার পর শনিবার সকালে ইসরাইলি সরকার এই চুক্তি অনুমোদন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার বন্দীদের মুক্তির জন্য কাঠামো অনুমোদন করেছে। এটি রোববার থেকে কার্যকর হবে। ইসরাইলি মন্ত্রিসভার কিছু কঠোরপন্থির তীব্র বিরোধিতার মুখেও নেতানিয়াহুর জোট সরকারের ২৪ জন মন্ত্রী এই চুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া আটজন সদস্য এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডোম ঘরের কান্না by মোহাম্মদ রায়হান
২০২০ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, সারা দেশে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৬টি মর্গ রয়েছে। এরমধ্যে রাজধানীতে ৩টি। ঢাকা শহরের মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে সর্বেশেষ শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গ স্থাপন করা হয়।
ঢামেক মর্গের নিজস্ব সবক’টি ফ্রিজই অকেজো: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের নিজস্ব লাশ রাখার জন্য ৫টি ফ্রিজের সবক’টিই অকেজো। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান বলেন, মর্গে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য হাসপাতালের নিজস্ব ৫টি ফ্রিজ ছিল, তবে এই মুহূর্তে ৫টি ফ্রিজই বিকল। এর মধ্যে ৩টি ফ্রিজ প্রায় সাত বছর আগে থেকেই নষ্ট। এর বাইরেও একটি মাত্র সচল ফ্রিজ যা ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেডক্রস (আইসিআরসি) সোসাইটির ডোনেশনে পাওয়া। সেই ফ্রিজেই সংরক্ষণ করা হচ্ছে মরদেহগুলো। আশপাশের সর্বমোট ১৭টি থানার লাশ আসে এখানে। ধারণক্ষমতা বেশি হলেও এই একটা ফ্রিজ দিয়ে চলে না মৃতদেহ সংরক্ষণ সেবা। নষ্ট ফ্রিজগুলোর প্রতিটিতে চার থেকে ৬টি মৃতদেহ রাখা যেতো। বর্তমানে সচল ফ্রিজে ৪৬টি মরদেহ রাখা যায়।
ঢামেক সূত্রমতে, গতবছর ঢামেক ফরেনসিক বিভাগে মোট ২০৯৬ টি লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। গড়ে প্রতিমাসে ২৭৬টি মৃতদেহের সুরতহাল করা হয় ঢামেকে। এছাড়াও মর্গে মৃতদেহ সংরক্ষণাগারে এখনো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত অজ্ঞাতনামা ৭টি লাশসহ ৭ থেকে ৮ জন বিদেশি নাগরিকের লাশও জমা আছে ফ্রিজে। এ বিষয়ে অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান বলেন, একটামাত্র ফ্রিজ দিয়ে আমাদের হয় না। কমপক্ষে ৪/৫ টা ফ্রিজ লাগে। ঢাকা মেডিকেলে সারা দেশ থেকেই লাশ আসে। নির্দিষ্ট থানা ব্যতিত অন্য থানার লাশও সঠিক সুরতহালের জন্য এখানে আনা হয় অনেক সময়। তাই এখানে পর্যাপ্ত ফ্রিজিং ব্যবস্থা থাকা দরকার। কর্তৃপক্ষকে বলেছি এ বিষয়ে এখনো সমাধান হয়নি।
নাজুক অবস্থা সলিমুল্লাহ মেডিকেলের মর্গ: দেশের অন্যতম ও প্রাচীন সরকারি হাসপাতাল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। তালাবদ্ধ পড়ে আছে মর্গটি। একটু পরেই আসে মর্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডোম সহকারী। মিনিটছয়েক থেকে আবারও তালা বন্ধ করে বের হয়ে পড়েন তিনি। তার কিছুক্ষণ পরেই ভ্যানে করে একটি লাশ নিয়ে এলে ভ্যানসহ লাশটি পড়ে থাকে মর্গের সামনে। সরজমিন দেখা গেছে, হাসপাতালের অনেকটা পরিত্যক্ত একটি জায়গায় পড়ে আছে লাশ রাখার এ ঘরটি। আশপাশে গাছপালার ঝোপ, পেছনে বাবুবাজার ব্রিজ, সামনের ফাঁকা জায়গায় সারি করে রাখা হয়েছে এম্বুলেন্স। টিনশেড়, পুরাতন জরাজীর্ণ। ভেতরে অকেজো ফ্রিজগুলো পড়ে আছে, সামান্য জায়গার এই মর্গে অনেকটা জায়গা দখল করে আছে এই অকেজো ফ্রিজগুলো।
সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিভাগীয় প্রধান ও ডা. নাজমুন নাহার রোজী কোনো তথ্য দিবেন না বলে জানান। তবে সুযোগ- সুবিধার অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে তা ঠিক, কিন্তু সবাইকে নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
মর্গের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ মাজহারুল শাহীন বলেন, আমাদের জায়গা সংকট। অনেক লিমিটেশনের মাধ্যমে হাসপাতাল চালাচ্ছি। আর মর্গের অবস্থা জানতে হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগে যেতে হবে। বিভাগই ভালো বলতে পারবে।
সর্বশেষ সংযোজিত মর্গে নিম্নমানের ফ্রিজ: প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পর ২০১৭ সালে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গ চালু করা হয়। মর্গটি নির্মাণে দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। মর্গে ৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (মরচুয়ারি) লাশ রাখার ব্যবস্থা করা হলেও তখন স্থাপিত এসব মরচুয়ারি বা ফ্রিজিং ব্যবস্থার সবগুলোই এখন মোটামুটি অকেজো। ৯টি হীমাগারের ১টি চেম্বার ভালো রয়েছে যেখানে একটিমাত্র লাশ সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা থাকলেও ফ্রিজিং ব্যবস্থার অপ্রতুলতার জন্য একাধিক লাশ সেখানে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালের নতুন স্থাপিত ১২টি মরচুয়ারি রয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে- ফ্রিজগুলো খুব কম দামে কেনা এসব যা বাসা বাড়িতে ব্যবহার করার ফ্রিজিং মেশিনের মতোই কাজ করে। ফ্রিজের বরফ হয় না, সর্বনিম্নতাপমাত্রায় রাখলেও বরফ হয় না। সর্বনিম্ন যে তাপমাত্রায় মরদেহ সংরক্ষণ করলে দেহ অক্ষত থাকবে সে তাপমাত্রায় ও চলে না ফ্রিজগুলো। নিম্নমানের কেনা এসব ফ্রিজে মৃতদেহ সংরক্ষণের মতো পরিবেশ না থাকলেও রাখা হচ্ছে মরদেহ।
সরজমিন হাসপাতালের লাশ রাখার ঘর, ময়নাতদন্ত কক্ষ ঘুরে দেখা গেল, হাসপাতালের পুরাতন মরচুয়ারিগুলোর অকেজো ৬টি সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে সচল মরচুয়ারিগুলোর পাশে। বাকি তিনটি মরচুয়ারি মর্গের বারান্দায় রাখা হয়েছে। বারান্দার তিনটির মধ্যে একটির চেম্বারে রাখা যায় লাশ। জানা গেছে, ওই সচল চেম্বারে পুরাতন বিদেশি নাগরিকদের লাশ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। লাশ রাখার ঘরে অকেজো মরচুয়ারিগুলো মেরামতের বিষয়ে মর্গের ডোম একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ডোমের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে ফরেনসিক বিভাগের মর্গের ডোম যতন কুমার বলেন, ‘মর্গে ১২টি ফ্রিজ সচল আছে। ৯টা ফ্রিজ ছিল শুরুতে। সেগুলো অকেজো হয়ে গেছে। নতুন ১২ টা খুব একটা ভালো না। আইস জমে না ঠিকমতো। আর পুরাতনগুলোর মধ্যে একটা চেম্বার ভালো আছে। পুরাতনগুলো পড়ে আছে। ঠিক করানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গ চালু হওয়ার পর শুরুর দিকে ১২টি থানার লাশ নিয়ে আসার কথা ছিল। ১২টি থানা হলো: মিরপুর মডেল, পল্লবী, কাফরুল, দারুস সালাম, শাহ্ আলী, ভাষানটেক, রূপনগর, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ২৮ থেকে ৩০টা থানার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে আশা হয় সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে। গতবছর সোহ্রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে ১১৫১টি মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সে হিসাবে গড়ে মাসে ৩৮টি মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয় হাসপাতালটিতে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শফিউর রহমান বলেন, আমাদের এখানে একটা মর্গ আছে কিন্তু এটা সিস্টেমের কারণে খুব ভালো কাজ করে না। আমরা ফ্রিজ মেরামত করার উদ্যোগ নিয়েছি। নিতমতান্ত্রিক উপায়ে মেরামত হচ্ছে। আশা করি এটা সমাধান হয়ে যাবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করলে পাল্টা জবাব দেবে কানাডা
এদিকে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, কানাডা ও কানাডার জনগণকে রক্ষায় দ্ব্যর্থহীন থাকবে তার সরকার। উল্লেখ্য, স্কটিয়া ব্যাংকের এক দৃশ্যপট বলছে, সম্ভাব্য বাণিজ্য যুদ্ধে কানাডার জিডিপি কমতে পারে শতকরা ৫ শতাংশের বেশি। ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতি। ২০শে জানুয়ারি মার্কিন মসনদে প্রত্যাবর্তন করতে যাচ্ছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসার পর কানাডার ওপর ২৫ শতাংশ কর আরোপ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। নিজের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্র নীতির অধীনে এমন সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কানাডা ছাড়াও মেক্সিকো ও চীনা পণ্যের ওপরও কর আরোপের কথা জানান ট্রাম্প। তার এমন সিদ্ধান্ত হৈচৈ শুরু হয় কানাডার রাজনীতিতে। এমনিতেই করোনার পর থেকে আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ার কারণে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করতে থাকে দেশটির সাধারণ জনগণ। এরপর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কথা জনসম্মুখে আসার পর ট্রুডোর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন জনগণ। এর পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগ করেন ট্রুডো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প কি সব প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন!
ক্যাটো ইনস্টিটিউটের বাজেট ও এনটাইটেলমেন্ট বিষয়ক পরিচালক রোমিনা বোচ্চিয়া বলেন, এই লক্ষ্যগুলো পূরণ করার কোনো সুস্পষ্ট পথ নেই। কারণ, এর একটির সঙ্গে অন্যটি সাংঘর্ষিক। ট্রাম্প বার বার তার প্রতিশ্রুতিতে বলেছেন- জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে। কিন্তু বিবিসির খবরে বলা হচ্ছে, এটা একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। কারণ, কোনো কিছুর দাম বেড়ে গেলে তা কমার ঘটনা বিরল। মুদ্রাস্ফীতি সাধারণত পণ্যের দামের মাত্রা বোঝায় না। কি হারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তা বোঝায়। এরই মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি অনেকটা সহনীয় অবস্থায় এসেছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি একেবারে কমিয়ে আনা খুব কঠিন বিষয়। ট্রাম্প জ্বালানি খরচ কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমনিতেই সেখানে এরই মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ উত্তোলন হয়। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি মূল্যকে প্রভাবিত করে যেসব শক্তি বা বিষয় তা প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। তারা বলেছেন, ট্যাক্স কর্তন, শুল্ক ও অভিবাসী প্রত্যাবর্তনের মতো ট্রাম্পের অনেক ধারণা সমস্যাকে আরও খারাপ করবে। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সব রকম পণ্যের ওপর শতকরা কমপক্ষে ১০ ভাগ ট্যাক্স আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক বেড়ে শতকরা কমপক্ষে ৬০ ভাগ হতে পারে। এরপরই তিনি কানাডা, মেক্সিকো এবং ডেনমার্কের মতো বিশেষ কিছু মিত্র দেশের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের কিছু উপদেষ্টা মনে করছেন শুল্ক আরোপের বিষয়টি দেশগুলোকে অন্য ইস্যুতে সংলাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবে। এর মধ্যে আছে সীমান্ত নিরাপত্তা। কিন্তু এরই মধ্যে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, ট্রাম্প যদি এত আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেন তাহলে চলমান অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পণ্যমূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পকেট থেকে অর্থ বেরিয়ে যাবে। বিদেশিদেরকে শাস্তি দিতে গিয়ে তিনি নিজের দেশের কোম্পানিগুলোকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারেন। ওদিকে রিপাবলিকান দলের যাবজ্জীবন সদস্য বেন মাউরার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কলকারখানায় উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করতে বিস্তৃত লক্ষ্য নেয়া উচিত ট্রাম্পের।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টিউলিপ দুই ভুবনের রাজনীতিতেই স্বস্তিতে নেই by সলিল ত্রিপাঠি
সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূস ব্রিটিশ মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ‘সরাসরি লুটপাটের’ সুবিধাভোগী হওয়ার অভিযোগ আনেন এবং তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলেন। এ ঘটনার পরপরই দ্রুত পরিস্থিতি বদলাতে থাকে।
ট্রেজারি মন্ত্রী হিসেবে টিউলিপের চীনে একটি সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেই সফর থেকে নিজেকে সরিয়ে আনেন এবং নিজেই মন্ত্রিত্ববিষয়ক নৈতিকতার উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাসের কাছে নিজের অভিযোগ মূল্যায়নের আহ্বান জানান এবং শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। (অবশ্য টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ‘সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছেন।)
এই মাসে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে দুই বেডরুমের একটি ফ্ল্যাট উপহার পেয়েছিলেন এমন এক আবাসন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে, যিনি টিউলিপের খালা ও বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
টিউলিপ প্রথমে দাবি করেছিলেন, ফ্ল্যাটটি তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন। তবে পরে তিনি লরি ম্যাগনাসকে জানান, ফ্ল্যাটটি আসলে একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর দেওয়া উপহার ছিল এবং এই তথ্য তিনি অল্প কিছুদিন আগে জানতে পেরেছেন।
টিউলিপ ২০১৮ সাল পর্যন্ত হ্যাম্পস্টেডের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। সেই ফ্ল্যাটটি ছিল তাঁর বোনের নামে। সেটি আরেকজন ব্যবসায়ী দিয়েছিলেন এবং সেই ব্যবসায়ীও হাসিনার সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমানে টিউলিপ যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন, সেটির মালিকও ব্রিটেনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক ব্যবসায়ী।
টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জয়ের পর এক বিজয় সমাবেশে তিনি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আওয়ামী লীগ নেতাদের অবিচল সমর্থনের জন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
এদিকে ২০১৩ সালের একটি ছবি সামনে এসেছে। সেই ছবিতে টিউলিপ সিদ্দিককে তাঁর খালা শেখ হাসিনা এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা গেছে। বাংলাদেশে ১২ বিলিয়ন ডলারের (৯.৮ বিলিয়ন পাউন্ড) একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের ছবি ছিল সেটি।
মন্ত্রিত্ববিষয়ক নৈতিকতার স্বাধীন উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাসের কাছে টিউলিপ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তিনি সে সময় সামাজিক সফরে মস্কোয় ছিলেন এবং পর্যটক হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। লরি ম্যাগনাস টিউলিপের সে ব্যাখ্যা গ্রহণও করেছিলেন। তবে এই চুক্তি নিয়ে এখন বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে।
টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের ফ্ল্যাটগুলোর বিষয়ে কোনো নিয়ম ভেঙেছেন বা এসব ফ্ল্যাটবিষয়ক লেনদেন অবৈধ ছিল—তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ ম্যাগনাস পাননি। তবে ম্যাগনাস বলেছেন, তাঁর কাছে এ বিষয়ে যত তথ্য এসেছে, তা অপ্রতুল। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত ভাবমূর্তির ঝুঁকি সম্পর্কে টিউলিপের ‘আরও সচেতন’ থাকা উচিত ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, টিউলিপের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের চিন্তা করা উচিত।
এ পরিস্থিতিতে টিউলিপের পক্ষে আর নিজের অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত তাঁর সামনে একমাত্র পথ ছিল পদত্যাগ করা।
শেখ হাসিনা যদি এ মুহূর্তে ক্ষমতায় থাকতেন, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু তাঁর শাসন উত্তরোত্তর অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তিনি গত বছরের আগস্টে লজ্জাজনকভাবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ কোটার অবসান চেয়ে ঢাকার রাস্তায় ছাত্ররা বিক্ষোভে নেমেছিল। মূলত এই কোটা ছিল একধরনের স্বজনপ্রীতির সুবিধা। এই কোটা রাজনৈতিক সমর্থকদের সরকারি চাকরি পেতে সহায়তা করত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই কোটা চালু থাকার সুযোগ ছিল।
কোটাবিরোধী ছাত্রদের দমনে হাসিনা পুলিশকে বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাসিনা ছাত্রদের দাবি শোনার বদলে তাঁদের ‘রাজাকার’ (এটি একটি ঘৃণিত শব্দ, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরদের বোঝাতে ব্যবহৃত হয়) বলে আখ্যায়িত করেন। একপর্যায়ে এই আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয় এবং সহিংস ঘটনায় সহস্রাধিক ছাত্র ও অন্যান্য বিক্ষোভকারী নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের অনেকেই নিরস্ত্র ছিলেন এবং তাঁদের খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল রক্তক্ষয়ী। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দেশভাগের পর যে পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল, বাংলাদেশ সেই পাকিস্তানের অংশ ছিল। পাকিস্তান মূলত উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে উর্দু ছিল জাতীয় ভাষা। দেশটির পশ্চিম অংশ ছিল পাঞ্জাবি-অধ্যুষিত, আর পূর্ব অংশ যা পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল, তারা ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এ দুই অংশের মধ্যে ছিল এক হাজার মাইলের দূরত্ব। এই দূরত্বের মাঝখানে ছিল হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ ভারত।
পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বাংলা ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তান তাতে বাধা দেয়। ১৯৬০-এর দশকে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় লাভ করে। এই জয় তাঁকে পুরো পাকিস্তানের শাসনক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ এনে দেয়। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা, বিশেষ করে সামরিক শাসকেরা, এতে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালায়। এ অভিযানে হাজার হাজার পূর্ব পাকিস্তানিকে হত্যা করা হয় এবং নেতাদের (যাঁদের মধ্যে শেখ মুজিবও ছিলেন) গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তী ৯ মাসের যুদ্ধে লক্ষাধিক বাংলাভাষী ও অন্যান্য পূর্ব পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন; অসংখ্য নারী ধর্ষণের শিকার হন এবং এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রথমে নৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দেন এবং পরে বাংলাদেশি গেরিলা বাহিনীকে প্রশিক্ষণও দেন।
ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তান ভারত আক্রমণ করলে ভারত পাল্টা আঘাত হানে এবং মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ভারত বাংলাদেশকে মুক্ত করে। এরপর বেশির ভাগ শরণার্থী বাংলাদেশে ফিরে আসে। কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে শেখ মুজিব বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।
কিন্তু ১৯৭৪ সালের পর শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। ওই সময়টাতে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশের অনেক অংশকে বিপর্যস্ত করে ফেলে। ক্ষমতা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখার জন্য শেখ মুজিব একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেন এবং নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দেশ চালাতে থাকেন।
১৯৭৫ সালের আগস্টে কিছু জুনিয়র সেনা কর্মকর্তা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের বেশির ভাগ সদস্যকে হত্যা করে। তবে হাসিনা ও তাঁর বোন রেহানা (টিউলিপ সিদ্দিকের মা) বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
হাসিনা ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে দেশে ফেরেন এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জোরালো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে জোট সরকার গঠন করেন।
এরপর ২০০৮ সালে তিনি আবার ক্ষমতায় আসেন। এটি ছিল বাংলাদেশের সর্বশেষ সত্যিকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাসিনাও কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠেন। আওয়ামী লীগ পরবর্তী টানা তিনটি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হলেও প্রধান বিরোধী দল দুটি নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং একটিতে ভোট শুরুর পরপরই ব্যাপক কারচুপি ও ভয়ভীতির মাত্রা বুঝতে পেরে বর্জন করেছিল।
হাসিনার শাসনামলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল; গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল এবং ভিন্নমতাবলম্বী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শেখ মুজিবের ভাবমূর্তি পুনর্বাসনে হাসিনা অনেক চেষ্টা করলেও তাঁর শাসনের প্রতি এতটাই ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর মুজিবের ঐতিহাসিক বাড়িতে হামলা চালিয়ে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়, তাঁর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয় এবং তাঁর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
শেখ মুজিবের এই অবমাননার জন্য হাসিনাই মূলত দায়ী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি নিজেকে ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর শক্তিশালী মিত্র হিসেবে পেয়েছিলেন।
অন্যদিকে টিউলিপ সিদ্দিক বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার ইস্যুতে, বিশেষ করে সিরিয়া ও গাজার বিষয়ে সোচ্চার থাকলেও বাংলাদেশের ক্রমেই অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে একদম নীরব ছিলেন। বাংলাদেশের গুম, খুন নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করলে তিনি সব সময় বলতেন, তিনি ‘একজন ব্রিটিশ এমপি’।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত, বাংলাদেশে টিউলিপের পারিবারিক সম্পর্কই তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হাসিনার শাসনামলে দুর্নীতি ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছিল। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও আইএমএফের সাবেক কর্মকর্তা আহসান মনসুর বলেছেন, আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা ব্যাংক জোর করে একীভূতকরণ, অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে আমদানি বিল তৈরি ও অন্যান্য সন্দেহজনক পন্থায় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন টাকা (১৩.৫ বিলিয়ন পাউন্ড) দেশ থেকে পাচার করেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে টিউলিপ সিদ্দিক ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের সময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে মামলা ও তদন্তের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। তবে হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং টিউলিপ সিদ্দিকের বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়।
বিশ্বব্যাংক যখন ১.২ বিলিয়ন ডলারের পদ্মা সেতুর ঋণ বাতিল করেছিল, তখন সেটির ভিত্তি ছিল বিশ্বাসযোগ্য দুর্নীতির অভিযোগ। এ ছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার–বিশেষজ্ঞরা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মানবাধিকারকর্মীদের দমন করার কারণে হাসিনার সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
রাজনীতি এক নির্মম খেলা। টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের এমন দুটি ভিন্ন জগতের অংশ হয়ে গিয়েছিলেন, যেখানকার নিয়মকানুন একেবারে আলাদা ছিল।
এখন বাংলাদেশ ও ব্রিটেন—কোনো জায়গাতেই তাঁর পরিবারের ভাবমূর্তি আর আগের মতো নেই। ফলে এই দুই ভুবনের কোথাও তিনি প্রকৃত স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন না।
*সলিল ত্রিপাঠি দ্য কর্নেল হু উড নট রিপেন্ট: দ্য বাংলাদেশ ওয়ার অ্যান্ড ইটস আনকোয়াইট লেগাসি বইয়ের লেখক।
*দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া ইংরেজি থেকে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিয়ানমারে আটক ১৮ বাংলাদেশির ফেরার আকুতি by মিজানুর রহমান
সেগুনবাগিচার এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে গতকাল বলেন- রিপোর্ট ভয়াবহ। বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে প্রলুব্ধ হয়ে উন্নত জীবনের আশায় তারা আজ কঠিন পথে পড়েছেন। তাদের হয়তো উদ্ধার করা যাবে কিন্তু জীবন-ঝুঁকিতে পড়া এই পথসহ দুনিয়ার দেশে দেশে অবৈধ মানব পাচারের রুটগুলো বন্ধ করতে এখনই আন্তঃসরকার উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। ঢাকায় প্রাপ্ত রিপোর্ট মতে, হাত বদলের পর স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে জিম্মিদের ওপর চলে বর্বর নির্যাতন। বাংলাদেশিদের অবস্থাও তাই। প্রাণে বাঁচতে তারা বিভিন্ন মারফতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন। কিন্তু দুর্গম এবং বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় স্ক্যাম সেন্টারের রিয়েল টাইম পিকচার পাচ্ছে না সরকার। তাদের উদ্ধারেরও কূলকিনারা নেই। এ বিষয়ে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মনোয়ার হোসেন সম্প্রতি ঢাকায় মানবজমিনকে বলেন, আমরা আমাদের মতো করে চেষ্টা চালাচ্ছি। মিয়ানমার সরকারকে বিষয়টি দফায় দফায় অবহিত করেছি। থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী ওই এলাকাটা কারেন বিদ্রোহীদের দখলে। স্ক্যাম সেন্টারগুলোর নিয়ন্ত্রণও তাদেরই হাতে। তাই এটা একটি জটিল প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে গেছে।
থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার তাদের উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব পূর্ব এশিয়া ড. নজরুল ইসলামও প্রায় অভিন্ন অভিমত দেন। অবশ্য অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনায় সবার আগে থাইল্যান্ডের সঙ্গে বোঝাপড়া জরুরি। কারণ তাদের অপরাধী চক্র বিদেশিদের চাকরির অফার করে প্রথমে থাইল্যান্ডে নেয়। সেখান থেকে মিয়ানমারের গহীন অরণ্যে পাচার করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। এটাকে ‘মানুষ বিক্রি’ আখ্যা দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এটা নিশ্চিতভাবে থাইল্যন্ডের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের নলেজের বাইরে নয়। হয় তারা বিষয়টি ওভার লুক করে বখরার বিনিময়ে, অন্যথায় তারাই এই চক্রের পৃষ্ঠপোষক। সেগুনবাগিচার দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, থাইল্যান্ড সীমান্তের গহীন অরণ্যে মিয়ানমার অংশে থাকা স্ক্যাম সেন্টারে জিম্মি বাংলাদেশিদের উদ্ধারকল্পে দফায় দফায় বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হচ্ছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি এখনো নেই। সূত্রমতে, ওই স্ক্যাম সেন্টারগুলোর নিয়ন্ত্রক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকেন্দ্রিক একটি আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র। ওই অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সক্রিয় অবস্থানের সুযোগ নিয়ে তারা এটি গড়ে তুলেছে। মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় অনেকগুলো স্ক্যাম সেন্টারের অস্তিত্ব রয়েছে বলে রিপোর্ট পেয়েছে ঢাকা। রিপোর্ট মতে, অপরাধী চক্রটি বিভিন্ন দেশে মোটামুটি কম্পিউটার জানা লোকদের টার্গেট করে। তাদের বড় মাইনের চাকরি অফার করে নিটকজনকে দিয়ে। বিশ্বাস জন্মানোর জন্য তারা এমনটি করে। এরমধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তাদের আকর্ষণ বা টার্গেট সবচেয়ে বেশি। যারা তাদের ফাঁদে পা দেয় তাদের প্রথমে ব্যাংকক নেয়া হয়। চূড়ান্ত গন্তব্য মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তের মিয়ানমার অংশে অবস্থিত স্ক্যাম সেন্টারগুলো।
সেখানে তাদের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হয় স্ক্যামিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনলাইনে অর্থ বিনিয়োগের জন্য পরিচিতদের প্রলুব্ধ করা। অনলাইনভিত্তিক ওই অপকর্মে অনেকে মজাও পেয়ে যায়। কিছুদিন তাদের ভালো বেতন দেয়া হয়। বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রিলেভেলে চাকরির সঙ্গে যেভাবে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেয়া হয় সেভাবে তাদেরও একটি লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। সেটি অর্জনে ব্যর্থ হলেই নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে যা অবর্ণনীয়। তাদের জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকেও অর্থ নেয়ার রেকর্ড রয়েছে। সূত্র বলছে, বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু কোনো অ্যাকশনে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে। চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে সংশ্লিষ্ট ওই এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে। তাই মিয়ানমার কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। ঢাকা রিপোর্ট পেয়েছে, জিম্মি বাংলাদেশিরা যে স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে আটকে আছেন তা থাইল্যান্ড সীমান্তের শো কেকো শহরে অবস্থিত। শহরটি কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন নামের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর দখলে। যাদের নিজস্ব কারেন ‘স্টেট বর্ডার গার্ড ফোর্স’ নামে একটি বাহিনী রয়েছে। ওই শহরে তাদের সদর দপ্তর। আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের কাছে বখরা আদায় তাদের আয়ের অন্যতম উৎস। আন্তর্জাতিক অপরাধ বিশেষজ্ঞদের বিবেচনায় এই অঞ্চল বহুমুখী অপরাধের ‘হাব’ হিসেবে কুখ্যাত।
পালিয়ে প্রাণে বাঁচা এক বাংলাদেশির বর্ণনা: সরকারি সূত্র বলছে, ওই স্ক্যাম সেন্টার থেকে বেশ ক’জন পালিয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচতে পেরেছেন। তাদেরই একজন বেলাবো, নরসিংদীর মো. জুনায়েদ হোসেন। তার ভাষ্য মতে, ‘তিনিসহ পাঁচজন ফেনী জেলার ইফতেখারুল আলম রনি, (পাসর্পোট নং-অ ০৪৭৬১৭১৬, ঠিকানা: ফাজিলপুর, ওয়ার্ড নং-০৭, ফেনী সদর, ফাজিলপুর-৩৯০১, ফেনী) এর প্ররোচনায় বিগত ১২ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে দুবাই থেকে থাইল্যান্ড যান। এরপর তাদের একজনকে থাইল্যান্ডের মাইসর্ট শহরে মাসিক ১২০০ ডলার বেতনে কম্পিউটার অপারেটর পদের চাকরির অফার দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাদের থাই-মিয়ানমার সীমান্তের দুই নদী পার করে মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কম্পিউটার সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাদের মাসে ১৫০০০ ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ইলেকট্রিক শক ও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করা হতো। দেশে ফিরে আসার কথা বললে উপর্যুপরি নির্যাতন চালানো হতো। ভুক্তভোগী সুযোগ বুঝে মুই নদী পার হয়ে থাইল্যান্ড সীমান্তে ফিরে আসেন। এরপর থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং এনজিও’র সহায়তায় দেশে ফিরেন। তার বর্ণনায় বোঝা যায়, স্ক্যাম সেন্টারটি মিয়ানমারের ‘ডেমোক্রেটিক কারেন বোদ্ধিস্ট আর্মি’ নামের প্রতিষ্ঠিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্ক্যাম সেন্টারে তাদের সশস্ত্র প্রহরা রয়েছে এবং স্ক্যাম সেন্টারের অবস্থান কিছুদিন পরপরই পরিবর্তন করা হয়। স্ক্যাম সেন্টারের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো চাইনিজ নাগরিকরা নিয়ন্ত্রণ করে।
ইয়াঙ্গুন মিশনের রিপোর্ট কি বলছে: ঢাকায় পাঠানো মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন মিশনের রিপোর্টে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সেইসঙ্গে মিশনের পদক্ষেপের খানিকটাও উল্লেখ ছিল। সেই রিপোর্ট মতে, আগস্ট-২০২৪ তারিখে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের একটি তালিকা পায় বাংলাদেশ মিশন। যারা স্ক্যাম সেন্টারে আটক রয়েছেন। ১৫ জনের মধ্যে ৪ জনের দুবাইয়ে অবস্থানের ভিসা ছিল। বাকিরা বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণ ভিসায় দুবাই যান। সেখান থেকে ভ্রমণ ভিসা জোগাড় করে থাইল্যান্ড পৌঁছান। ডেমোক্রেটিক কারেন বোদ্ধিস্ট আর্মি এবং থাইল্যান্ডের বর্ডার গার্ড সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করায় ভিসা ছাড়া লোকজন মিয়ানমারে প্রবেশ করতে পারে। ফলে মিয়ানমার ইমিগ্রেশনের কাছে বাংলাদেশি কতোজন প্রবেশ করলো সে তথ্য থাকে না। উদ্ভূত জটিল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃটেনভিত্তিক ফরেন ফান্ডেড এনজিও’র মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে ঢাকাকে জানিয়েছে বাংলাদেশের ইয়াঙ্গুন মিশন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খালেদা জিয়ার কাছে খবর ছিল বিএনপিকে ৩০-৪০টি আসন দেয়া হবে -কামারুজ্জামানের বই থেকে
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামান সদ্য প্রকাশিত ‘ফাঁসির সেল থেকে দেখা বাংলাদেশ’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লিখেছেন।
তিনি লিখেছেন, আমরা কেউ কেউ চেয়েছিলাম যে, এই বৈঠকটি হওয়া উচিত। আমরা অনুভব করেছিলাম, সেনাবাহিনীর সঙ্গে হয়তো-বা আওয়ামী লীগের একটি সমঝোতা হয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে মইন ইউ আহমেদ একটা চাপের কারণেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন। এ বৈঠক হলেও তা আদৌ কোনো ফলদায়ক হতো নাকি একটি লোক দেখানো ব্যাপার ছিল, তা বলা মুশকিল। ওদিকে মইন ইউ আহমেদের ছয়দিনের ভারত সফরে বিপুল সংবর্ধনা এবং সেটা যে একটি বড় ধরনের মিশন ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য, সে বার্তাও আমরা পাচ্ছিলাম। ভারতীয় নেতৃবৃন্দ যেভাবে মইন ইউ আহমেদকে রেড কার্পেট সংবর্ধনা দিয়েছেন তা নজিরবিহীন। আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারি, ভারত সফরকালে কতিপয় বিষয়ে মইন ইউ আহমেদের সঙ্গে সেখানকার সংশ্লিষ্টদের একটি চুক্তি হয়। এ চুক্তির প্রধান শর্ত ছিল- আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে সহায়তা করা। দ্বিতীয় শর্ত ছিল- বাংলাদেশে ইসলামী শক্তির উত্থান রোধ করতে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা এবং তথাকথিত যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করা। বিনিময়ে মইন ইউ আহমেদকে রাষ্ট্রপতি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে আয়োজন করা হচ্ছিল, সেটা ছিল মূলত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর একটি নীলনকশা। ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে খতম করে ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদারদের ক্ষমতায় বসানোর এ সাজানো নির্বাচনের পেছনে পশ্চিমাশক্তি ও ভারত একযোগে কাজ করেছে। যেকোনো কারণেই হোক, বিএনপি বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তির আস্থা হারিয়েছিল এবং বিএনপিকে তারা পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে চায়নি।
নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না এবং বিএনপিকে পার্লামেন্টে একটি নগণ্য দলে পরিণত করে সংবিধান সংশোধন করার মতো দুই-তৃতীয়াংশ আসনে ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগকে জিতিয়ে আনার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, তার সব পদক্ষেপই নেয়া হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার কাছে এ খবর ছিল যে, কোনোমতেই নির্বাচনে বিএনপিকে ভালো করতে দেয়া হবে না এবং ৩০-৪০টি আসন দেয়া হবে। তিনি চারদলীয় জোটের এক বৈঠকে এ ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে এ কথা বলেছিলেন। তিনি নির্বাচনে যেতে চাননি। আবার তিনি নির্বাচনবিরোধী এমন দায়দায়িত্বও নিতে দ্বিধান্বিত ছিলেন।
জামায়াত নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে ছিল। জামায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল- জামায়াত নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে, যদি বিএনপিকে সঙ্গে নেয়া যায়। নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে জামায়াতের শক্ত অবস্থান দেখার পরও তিনি বলেছিলেন- ‘দেখুন, এটা নীলনকশার নির্বাচন। তারা বিএনপিকে হয়তো কয়েকটা আসন দিবে এবং জামায়াতকে একটি আসনেও বিজয়ী হতে দেবে না।’ যাহোক, বেগম খালেদা জিয়ার ধারণা ছিল- জামায়াত বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচনে চলে যেতে পারে। মনে করা হয়, শেষপর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া এসব বিবেচনা করেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে বিএনপি’র পক্ষ থেকে জামায়াতকে দোষারোপ করা হয়ে থাকে। তবে ডিজিএফআইয়ের এটা সাফল্য যে, বিএনপি ও জামায়াতকে নীলনকশার নির্বাচনে নিতে পেরেছে।
দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ফলে হাসিনা-এরশাদ-মইন ইউ আঁতাতের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন সহজ হয়ে যায়। ফখরুদ্দীন-মইন ইউ আহমেদ তাদের তথাকথিত দুই বছরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আয়ু দীর্ঘায়িত করতে না পারলেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনায় শতভাগ সফল হন। এভাবে ত্রিমুখী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়াটা ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রের জন্য এক ঘন ঘোর অশনিসংকেত।
নির্বাচনটা ছিল বিএনপি বনাম আওয়ামী লীগ। অন্য কথায় চারদলীয় জোট বনাম মহাজোট। আসন বণ্টনে আওয়ামী লীগ যথেষ্ট উদারতার পরিচয় দিয়ে শরিকদের দাবি অনুযায়ী অনেক আসন ছেড়ে দেয়। পক্ষান্তরে বিএনপি শরিকদের আসন ছেড়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কৃপণতার পরিচয় দেয়।
কামারুজ্জামান আরও লিখেছেন, তাছাড়া প্রার্থী মনোয়নে বিএনপি’র যে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল, তা হয়নি। ক্ষমতায় থাকার কারণে যেসব মন্ত্রী বা এমপির বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল, তাদের মনোনয়ন না দিয়ে সেসব আসনে নতুন মুখের ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নেয়া রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির পরিচায়ক হতো; কিন্তু তা করা হয়নি। অথচ আওয়ামী লীগ কিন্তু এ ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ককতার পরিচয় দিয়েছিল।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। কিন্তু বিএনপি’র নির্বাচনী অভিযানে ফখরুদ্দীন-মইন ইউ আহমেদের সমালোচনাই প্রাধান্য পায়। ফলে আওয়ামী লীগের জন্য সুবিধা হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে এলে যে গণতন্ত্রের সংকট হবে এ বিষয়টি আড়ালে চলে যায়। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট চরিত্র জনগণের দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। একদলীয় শাসন, বাকশাল, মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিশেষ দেশের প্রতি আনুগত্য, সংবাদপত্র দলন, জনগণের অধিকার হরণ-এসব বিষয়ে প্রচারাভিযানে জোর দেয়ার পরিবর্তে ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নানা ব্যর্থতা এবং সেনাপ্রধান তথা সেনাবাহিনীর ভূমিকার সমালোচনা প্রাধান্য পায়। এই প্রচারাভিযানের ফলে মইন ইউ আহমেদরা সশস্ত্র বাহিনীকে বুঝাতে সক্ষম হয় যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জরুরি আইন জারি এবং দুই বছর অবৈধ ক্ষমতায় থাকার জন্য তাদের বিচার হবে। ফলে নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই তারা নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচনী প্রচার কৌশলের এই মারাত্মক ভুলের কারণে বিপুল জনমত বিএনপি’র পক্ষে থাকা সত্ত্বেও সেনাপ্রশাসন নির্বাচনকে প্রভাবিত করে এবং তাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
January
(191)
-
▼
Jan 19
(11)
- জিয়াউর রহমানের যে নীতির কারণে বিএনপি টিকে গেল by ম...
- অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনামুলক রিপোর্ট প্রত্যাহা...
- ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ প্রচারের পর সাংবাদি...
- কোন ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে
- ইসরাইলের গড়িমসির পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি আজ
- ডোম ঘরের কান্না by মোহাম্মদ রায়হান
- ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করলে পাল্টা জবাব দেবে কানাডা
- ট্রাম্প কি সব প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন!
- টিউলিপ দুই ভুবনের রাজনীতিতেই স্বস্তিতে নেই by সলিল...
- মিয়ানমারে আটক ১৮ বাংলাদেশির ফেরার আকুতি by মিজানুর...
- খালেদা জিয়ার কাছে খবর ছিল বিএনপিকে ৩০-৪০টি আসন দেয়...
-
▼
Jan 19
(11)
-
▼
January
(191)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

