Tuesday, July 19, 2016

কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানকে দুষল ভারত

এখনো থমথমে কাশ্মীর। এএফপি
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর পরিস্থিতির অবনতির দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং পুরোপুরি পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দিলেন। উপত্যকার পরিস্থিতি নিয়ে চলা দিনভর বিতর্কের শেষে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ঘাড়ে এই দায় চাপানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যা চাইছে তা কখনো সফল হতে দেব না।’ রাজনাথ বলেন, তিনি নিজে উপত্যকায় গিয়ে সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। নিরাপত্তারক্ষীদের বলা হয়েছে, প্ররোচনার মুখে ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করতে। এই নির্দেশ নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা কারফিউয়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জোগান দিতে রাজ্য সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গুরুতর আহত ব্যক্তিদের বিশেষ বিমানে দিল্লি এনে চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব নিতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তুত। কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দাবি সরকার মেনে নেয়।
বিতর্ক শুরু করে বিরোধী নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেন, বন্দুক দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে যদি সরকার মনে করে, তাহলে তা ভুল। সরকার মনে করছে, গোটা উপত্যকার মানুষজনই সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় যা করা হয়, সেই বুলেট ও পেলেট দিয়ে মারা হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। সরকারের কাছে আজাদের আরজি, ‘দয়া করে উপত্যকার মানুষজনের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দেবেন না। তাতে হিতে বিপরীত হবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে সব রকমের সহযোগিতায় কংগ্রেস প্রস্তুত। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রতি এই ব্যবহার সমর্থন করতে পারব না।’ হিজবুল মুজাহিদীনের নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকে উত্তাল উপত্যকায় এখনো পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৬০০ জন পেলেটের আঘাতে দৃষ্টিশক্তি হারাবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবারও উপত্যকা অশান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা। কারণ, পাকিস্তান সরকার এই দিনটিকে ‘কালা দিবস’ পালনের ঘোষণা করেছে। এই উপলক্ষে উপত্যকায় পাকিস্তানপন্থীরাও সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে গোয়েন্দারা আগে থেকেই সরকারকে সতর্ক
করে দিয়েছে।

কেন ব্যর্থ হলো?

আঙ্কারায় কোকাতেপ মসজিদের সামনে স্মরণ
অনুষ্ঠানে সতর্ক প্রহরা। এএফপি
অনেকের মতেই তুরস্কে গত শুক্রবার রাতের সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টাটি ছিল অত্যন্ত অপরিকল্পিত। এতে দেশটির বেশ কয়েকজন বড় মাপের সামরিক কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইস্তাম্বুলে তৃতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল এরদেল ওজতুর্ক এবং দেশের ঠিক বিপরীত দিকে দ্বিতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকা জেনারেল আদেম হুদুতি উল্লেখযোগ্য। তবে শীর্ষ জেনারেলদের কেউই এতে জড়িত ছিলেন না। ট্যাংকবহর ও বিমানবাহিনীর কয়েকটি অংশ জড়িয়ে পড়লেও পদাতিক বাহিনীর অধিকাংশ সৈনিকই এতে যোগ দেননি। বিমানবাহিনীর বাকি অংশগুলোও এরদোয়ানের প্রতি ছিল অনুগত। কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস নামের একটি থিঙ্ক ট্যাংকের তুরস্কবিষয়ক বিশ্লেষক সিনান উলগেন বলেন, ‘সরকার উৎখাতের এমন একটা চেষ্টা হওয়ায় আমি স্তম্ভিত। অভ্যুত্থানকারী কর্মকর্তারা সেনাবাহিনী থেকে যথেষ্ট সমর্থন পাননি। চেইন অব কমান্ডের বাইরে গিয়ে তাঁরা এই চেষ্টাটি চালিয়েছিলেন।
আর তাই সফল হতে পারেননি।’ বিশ্লেষকেরা বলছেন, সফল অভ্যুত্থানে সাধারণত যা যা করা হয়ে থাকে, তুরস্কের অভ্যুত্থানচেষ্টায় বিদ্রোহী সেনাদের সেদিকে মনোনিবেশ করতে দেখা যায়নি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দখল খুব দ্রুত নিয়ে নিলেও বাকি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোয় তারা গিয়েছে বহু পরে, যার সুযোগে সরকার সারা রাতই জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছে। বিদ্রোহী সেনারা সেনাপ্রধান হুলুসি আকারকে গ্রেপ্তার করেছে, ইস্তাম্বুলে বড় একটা ব্রিগেড অবরোধ করেছে এবং আঙ্কারায় সেনা সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সরকারের চূড়ায় থাকা এরদোয়ান এবং তাঁর প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম ঠিকই থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকারের একটি সূত্র বলেছে, অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিরা হয়তো আশঙ্কা করছিলেন, তাঁদের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেছে। নতুবা তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, সেনাবাহিনীর ভেতরে থাকা হিজমত অনুসারীদের বিদায় করতে আগামী আগস্টে শুরু হতে যাওয়া সরকারের অভিযানে তাঁরা গ্রেপ্তার হতে পারেন। আর তাই তাড়াহুড়ো করেই কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন তাঁরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফে তদন্ত প্রয়োজন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনিয়ম বাড়ছে। রোগীদের জন্য বরাদ্দ বিনা মূল্যের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বাইরে, চলছে অ্যাম্বুলেন্স-বাণিজ্য এবং অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে টাকা। এ তিনটি অপচর্চা যাঁরা চালাচ্ছেন, তাঁরা হাসপাতালেরই কর্মকর্তা-কর্মচারী। অনিয়মকে নিয়ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, অথচ প্রতিকারের চেষ্টা নেই। এ অবস্থা চলতে পারে না। যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার দুটি দিক। সরাসরি চিকিৎসার দিকটি দেখেন চিকিৎসক ও নার্সরা। রোগীর ভোগান্তি কমানোর দ্বিতীয় দিকটিতে জড়িত হাসপাতালের প্রশাসন। প্রথমআলোয় সম্প্রতি তিন কিস্তিতে প্রশাসনিক অনিয়মের কয়েকটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ ওষুধের অর্ধেকই চোখের সামনে বাইরে বিক্রি করা হয়। এভাবে বিক্রি করা ওষুধের মূল্য কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা।
হাসপাতালের মোট সাতটি অ্যাম্বুলেন্স প্রায়ই অচল রাখার ব্যবস্থা করে চলছে অ্যাম্বুলেন্স-বাণিজ্য। একশ্রেণির কর্মচারীর মালিকানার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে বাধ্য করা হয় রোগীর স্বজনদের। লাশ পরিবহনের বেলায়ও তাদের খপ্পরের বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। এই চক্র নিয়মিতভাবে পুলিশকেও ঘুষ দিয়ে ব্যবসাটি চালিয়ে আসছে। এমনকি হাসপাতাল ছাড়তেও আদায় করা হচ্ছে টাকা। হাসপাতালের সব যাতায়াতের মুখে আনসার রাখা হয়েছিল চুরি-অনিয়ম ঠেকাতে। কিন্তু হাসপাতাল ছাড়ার সময় রোগীদের কাছ থেকে তাঁরাই টাকা আদায় করেন। বিষয়টা অনেকটা খোলাখুলিভাবেই চলছে। প্রতিবেদন থেকে দেখা যাচ্ছে, তিনটি ক্ষেত্রেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ না জানার অজুহাত দেয়। নিয়মিত ও ব্যাপকভাবে অনিয়ম চলছে, বিপুল পরিমাণ ওষুধ বাইরে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, অথচ হাসপাতালের পরিচালক বা তাঁর অধীন প্রশাসকেরা কেউই তা জানবেন না, তা হয় না। এই না জানা সরাসরি গাফিলতির নমুনা। আমরা আশা করব, প্রথমআলোর প্রতিবেদনের আলোকে নিজস্ব তদন্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনিয়মগুলো দূর করবে এবং দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দেবে।

আইনের শাসন কঠোর করতে হবে

২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ১৬১ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে গত বছরের প্রথম চার মাসের চেয়ে ধর্ষণ বেড়েছে ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের শিশু অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এ ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে। শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা দিনে দিনে বেড়ে চলা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর ৫২১টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এর মধ্যে ৯৯টি শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়। ৩০টি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ধর্ষণের শিকার চারটি শিশু আত্মহত্যা করে। ২০১৪ সালে ধর্ষণের শিকার ১৯৯টি শিশুর মধ্যে ২২টি শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা নাজুক। নানাভাবেই দেশে শিশুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ধর্ষণ ছাড়াও শিশুরা রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিদ্যালয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তুচ্ছ কারণে খুন হচ্ছে শিশুরা।
শিশুদের ওপর চলা এসব নির্যাতন দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রতিহত করা যাচ্ছে না। এটা পরিষ্কার যে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতি থাকায় শিশুদের ওপর নানা পর্যায়ের সহিংসতা কমছে না। শিশুদের ওপর সহিংসতা যখন উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে, তখন কিছু বাড়তি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।  শিশু অধিকার ফোরামের প্রতিবেদনে শিশু নির্যাতন বন্ধে বেশ কিছু সুপারিশ       করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, ধর্ষণসহ শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচারের উদ্যোগ নেওয়া, অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা ও দ্রুত রায় কার্যকর করা। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে তা দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। আমরা আশা করব এসব সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবে এবং দ্রুত তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। পরিস্থিতি যে গুরুতর আকার ধারণ করেছে তাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

তবুও অনিশ্চিত গন্তব্যে তুরস্ক

অভ্যুথান ব্যর্থ হওয়ার পর ইস্তাম্বুলে জনসমুদ্রের মাঝে বিজয় উদযাপন করছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তাকে বহনকারী বাসের ওপরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘আমাদের মাথা শুধু আল্লাহর কাছে নত হয়।’ এরদোগানের এ প্রতীকী কথা তুরস্কের রাজনৈতিক ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে। রক্ষণশীল মুসলিমদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা এরদোগান প্রায়ই তার বক্তব্য ‘ইসলামী ভাষায়’ উপস্থাপন করেন। এ দৃশ্য থেকে বোঝা যায়, গত দুই দশকে তুরস্ক কতটা বদলে গেছে। ঐতিহ্যগতভাবে তুরস্কের সেনাবাহিনী দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। গত শতাব্দীতে তারা তিন তিনটি সফল অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। কিন্তু এবারের ব্যর্থতায় রাতারাতি দেশের শত্রু হয়ে উঠেছে। এখন তাদের জেলে ভরা হচ্ছে। রাষ্ট্রের সব বিভাগ থেকে তাদের সমর্থকদের বিতাড়িত করা হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর অন্তত ৬ হাজার সদস্য এখন কাঠগড়ায়।
প্রশ্ন উঠেছে, সেনাবাহিনীর ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পরিণতি কী? এখন কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান আরও বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠবেন? নাকি নিজেকে দুর্বল নেতা মনে করে বিরোধীদের সঙ্গে সংহতির চেষ্টা করবেন? যেসব রাজনৈতিক দল এরদোগানের রাজনীতির অতিমাত্রায় বিরোধিতা করত, তারাও গণতন্ত্র রক্ষায় অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির একটা সুযোগ এরদোগানের সামনে রয়েছে। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, গণতন্ত্রের চেয়ে তুরস্কে ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ আরও শক্তিশালী হয়েছে। এরদোগান জয়ী হলেও তুরস্কের ভবিষ্যৎ গন্তব্য কোথায়, তা অনিশ্চিত। তুরস্কের ধর্মনিরপেক্ষ কিংবা লিবারেল মানুষ সামরিক অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করেছে, গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু এরদোগানের বিশাল সমর্থক দল, যারা দেশজুড়ে রাজপথ দখলে নিয়েছিলেন, তারা ধর্মীয় স্লোগান দিয়েছেন এবং ইসলামী নেতার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। রক্ষণশীল এ মুসলিম জনশক্তির অবস্থান যতটা না গণতন্ত্রের প্রতি, তার চেয়ে বেশি এরদোগানের প্রতি। দলে দলে মহিলারাও রাস্তায় বেরিয়েছেন। হিজাব মাথায় দিয়ে কিংবা নিকাব পরে এরদোগানের পক্ষে প্লাকার্ড উঁচু করে ধরেছেন। তুরস্কের অন্তত ৮৫ হাজার মসজিদের মাইক থেকে এরদোগানের পক্ষে ঘোষণা এসেছে। অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান মার্শাল ফান্ডের আঙ্কারা অফিসের পরিচালক ওজগুর আনলুহিসারকিলি বলেন, অভ্যুত্থানের বিপক্ষে যারা রাস্তায় নেমেছিলেন, তাদের অধিকাংশের ভাষা গণতান্ত্রিক ছিল না।
তারা সেসব লোক, যাদের জীবনে ইসলামের ভূমিকাই বড়। আবার অনেকেই ইসলাম পালন করেন না। তুর্কি জনগণ এখন দেখার অপেক্ষায় তাদের তেজস্বী ও ক্ষমতাবান নেতা এরদোগান দেশকে কোন পথে পরিচালিত করেন। রোববার এরদোগান তার ভাষণে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার দেশে ফের মৃত্যুদণ্ড চালু হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়ার শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রহিত করা হয়েছিল। এরদোগান বলেছেন, ‘ওদের ট্যাংক আছে, কিন্তু আমাদের আছে ঈমান (বিশ্বাস)। তাই প্রতিশোধ নয়, প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কাজ করতে হবে যুক্তি এবং অভিজ্ঞতার আলোকে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র তুরস্ক বিশ্লেষক নাইজার গোকসেল বলেন, এখন প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সামনে দুটি পথ খোলা। হয়তো তিনি রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে নিজের স্বার্র্থের আলোকে পুনর্বিন্যস্ত করবেন। অথবা বিরোধী দলসহ সমাজের সব শ্রেণীপেশা মতাদর্শের মানুষের সঙ্গে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে আইনের শাসন বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন। তবে এরদোগানের অতীত ইতিহাস বলে, দ্বিতীয়টির তুলনায় প্রথম পথেই হাঁটবেন তিনি। আনলুহিসারকিলির মতে, সরকার এখন প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজের ইচ্ছেমতো পরিবর্তন আনতে পারবে। এতে তুরস্ক এমন দেশে পরিণত হবে, যেখানে ভিন্নমত কিংবা বিরোধী মতাদর্শের স্থান একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়বে।

ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিতে রিপাবলিকান সম্মেলন শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের জাতীয় কনভেনশন সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে রিপাবলিকানরা। প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় দলটি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পই যে দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটা অনেকটা নিশ্চিত। ক্লিভল্যান্ডের বাস্কেটবল স্টেডিয়ামের কুইকেন লোন সেন্টারে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) শুরু হয়। চার দিনের এ জাতীয় কনভেনশন শেষ হবে ২১ জুলাই। খবর এএফপি, গার্ডিয়ান ও নিউইয়র্ক টাইমসের। চার দিনের এ কনভেনশনের শেষ দিনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। ট্রাম্পকে নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও দলীয় ডেলিগেটদের সমর্থনে তিনিই মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। ট্রাম্পের সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই রণে ভঙ্গ দিয়েছেন। এছাড়া চূড়ান্ত প্রার্থীর রানিংমেটের নামও সেদিন ঘোষণা করা হবে। ইতিমধ্যে শনিবার এক সামবেশের মাধ্যমে পেন্সকে রানিংমেট হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
প্রাইমারি আর ককাসের পর ২ হাজার ৪৭২ জন নির্বাচিত ও মনোনীত ডেলিগেটস ছাড়াও ২ হাজার ৩০০ বিকল্প ডেলিগেটস, ৫০ হাজার মানুষ আর ১৫ হাজার গণমাধ্যম প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন এ কনভেনশনে। আমেরিকাকে মহান করুন থিমকে সামনে রেখে চারদিনে চার স্লোগান নিয়ে মাঠে নেমেছেন রিপাবলিকার সমর্থকরা। প্রথম দিন সোমবারের স্লোগান হল- মেক আমেরিকা সেফ এগেইন (আমেরিকাকে আবার নিরাপদ করুন), দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবারের স্লোগান হল- মেক আমেরিকা ওয়ার্ক এগেইন (আমেরিকাকে আবার কর্মক্ষম করুন), তৃতীয় দিন বুধবারের স্লোগান হল- মেক আমেরিকা ফার্স্ট এগেইন (আমেরিকাকে আবার গতিশীল করুন), শেষদিন বৃহস্পতিবারের স্লোগান হল- মেক আমেরিকা ওয়ান এগেইন (আমেরিকাকে আবার শীর্ষে তুলুন)। এ কনভেনশনে চমক থাকবে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়ার বক্তব্য, ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন স্বয়ং ট্রাম্প। এদিকে কনভেনশন উপলক্ষে ক্লিভল্যান্ডে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনীর আড়াই হাজার অতিরিক্ত সদস্য। ট্রাম্প একমাত্র মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী হলেও তাকে নিয়ে খোদ রিপাবলিকান দলেই মতবিরোধ রয়েছে। এরই মধ্যে ক্লিভল্যান্ডে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ করেছে কয়েকশ’ মানুষ। বিবসনা হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ১০০ নারী।

রফতানি বাজার হারাচ্ছে আলু

গুণগত মানের অভাবে কমছে আলু রফতানি। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে গত বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিনশ’ শতাংশ কমেছে রফতানি। দীর্ঘ সময়ে হিমাগারে সংরক্ষণে কালচে ধরন হচ্ছে আলুর রং। এতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে বিদেশীরা। রফতানি কমে যাওয়ার সঙ্গে নতুন বাজার সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে রফতানিকারকরা চিঠি দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এ তথ্য। সূত্র মতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানি আয় কমেছে ৩৪৭ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিশ্ব বাজারে আলু রফতানি আয় কমেছে ৫ শতাংশ। ওই বছর রফতানি আয় হয় ৩ কোটি ২২ লাখ মার্কিন ডলার। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, আলু রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। কৃষি পণ্যের বাণিজ্যকরণে আলু রফতানি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেয়া হচ্ছে বিশেষ প্রণোদনাসহ নানাবিধ সুবিধাদি। এ প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারাও সম্পৃক্ত হয়েছেন।
তারা ব্যক্তি প্রচেষ্টায় বাজার খোঁজার পাশাপাশি বাণিজ্যিক মিশনের মাধ্যমেও আলুর বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, প্রতি বছর গড়ে আলু উৎপাদন হচ্ছে ৮৭ লাখ টন। দেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়েও গড়ে ১৭ লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকছে। কিন্তু বিদেশে রফতানির পরিমাণ এক লাখ টনের কোটা অতিক্রম করতে পারছে না। বাংলাদেশ পটেটো এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিইএ) উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। সেখানে বলা হয়, দেশে রফতানি উপযোগী জাতের আলু উৎপাদন ও প্রাপ্যতা হ্রাস পেয়েছে। রফতানি বাজারে বাংলাদেশী আলুর চাহিদা ও মূল্য কমেছে। এর থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দ্রুত রফতানি পরিস্থিতি গতিশীল করতে সংগঠনটি প্রতিযোগী বিদেশী জাত ও জাতের বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলীর নিরিখে বাংলাদেশী আলু নিরূপনের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে আরও বলা হয়, আলু রফতানিতে দেশ পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে জাতের অনুপযোগিতা। অন্যদিকে রফতানিকারকরা বলছেন, বিশ্ব বাজারে আলুর ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সেখানে বাংলাদেশের মার্কেট শেয়ার ৩ শতাংশেরও কম।
সংশ্লিষ্টরা এর নেপথ্য কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী আলুর চাহিদা খুব কম। উৎপাদনের পর হিমাগারে সংরক্ষণ অবস্থাতেই এ দেশীয় আলুর গায়ে চামড়ার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়। ধারণ করে কালচে রূপ। অমসৃণ ও বিবর্ণ রঙের এ আলু বিদেশী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। যারা নিচ্ছে, তারা দরও দিচ্ছে কম। ফলে প্রতিযোগী দেশের রফতানি হওয়া আলুর চেয়ে পরিমাণে এক হওয়া সত্ত্বেও আমরা মূল্য পাচ্ছি কম। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পটেটো এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিইএ) উদ্বেগ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশ থেকে আলু রফতানি হয়েছিল ৩৩.১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ওই রফতানি অবস্থান থেকে ৫ শতাংশ কমে ৩২.২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রফতানির এ হার আগের বছরের তুলনায় ৩৪৭ শতাংশ কমে তা আশংকাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে রফতানি উপযোগী জাতের আলু উৎপাদন ও প্রাপ্যতা হ্রাস পেয়েছে।
রফতানি বাজারে বাংলাদেশী আলুর চাহিদা ও মূল্য কমেছে। এর থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে দ্রুত রফতানি পরিস্থিতি গতিশীল করতে সংগঠনটি প্রতিযোগী বিদেশী জাত ও জাতের বৈশিষ্ট্য এবং গুণাবলীর নিরিখে বাংলাদেশী আলু নিরূপনের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানায়। এতে বলা হয়, আলু রফতানিতে দেশ পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে জাতের অনুপযোগিতা। এদিকে রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে জাতীয় কর্মসূচি অব্যাহত আছে। কিন্তু আশানুরূপভাবে রফতানি বাড়ছে না। এর কারণ হিসেবে রফতানিকারকরা বলেন, আলু জাতের এই পণ্যটির এককজাত নির্ভরশীলতা রয়েছে। এটিই মূলত সমস্যা। প্রায় দুই দশক ধরে ‘গ্রানোলা’ নামের একটি জাত থেকে উৎপাদিত আলুর ওপর ভর করে রফতানি বাজারের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি রফতানি উপযোগী জাতের আলুবীজ ছাড় করা হচ্ছে। সেগুলো এখন পর্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকার কৃষক পর্যায়ে পৌঁছেনি। অথচ প্রতিযোগী দেশগুলোর অনেক আগেই আলুর নতুন জাত উদ্ভাবন ও কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করেছে। এই জাতের আলুর গুণাবলী ভালো থাকায় বিশ্ববাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। মূল্যও বেশি পাচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ উইং সূত্রে জানা গেছে, রফতানিকারকদের এ দাবি সঠিক নয়।
গত এক যুগে দেশের বিজ্ঞানীরা ৬১টি আলুর জাত উদ্ভাবন করেছেন। গত দু’বছরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) আলুর নতুন জাত উদ্ভাবনে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে। ২০১৪ সালে বারি-৪৭ থেকে বারি-৬১ পর্যন্ত আলুর মোট ১৫টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন বারির বিজ্ঞানীরা। উদ্ভাবিত জাতগুলো থেকে বর্তমানে দেশের ৭৫ শতাংশ আলু উৎপাদিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পটেটো এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিইএ) সভাপতি ড. শেখ আবদুল কাদের বলেন, আলু রফতানি গতিশীল করতে আধুনিক রফতানি উপযোগী জাতের প্রবর্তন জরুরি। পাশাপাশি রফতানিকৃত আলুর উজ্জ্বল এবং চাকচিক্যময় হলুদ চামড়ার আলুর প্রয়োজন। উৎপাদিত আলু লম্বা আকৃতির হয়, যা মূল্য সংযোজনে সহায়ক হয়। তিনি আরও বলেন, আলু উৎপাদন বাড়লেই হবে না, বড় আকারের এবং বেশি পরিমাণ রফতানি উপযোগী আলু উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। জানা গেছে, দানা শস্যের তুলনায় আলু উৎপাদন দেশে সাড়ে ৪ গুণ বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। এ কারণে অনেক এলাকা এখন আলু চাষে এমনভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, যেখানে আলুর চাষ বাদ দিলে দেশ থেকে বাৎসরিক একটি ফসলের আবাদই বাদ পড়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ কারণে ওই এলাকার কৃষকরা আলু চাষ থেকে সরে আসতে নারাজ। ফলে দেশে প্রতি বছর আলু উৎপাদন বা পটেটো গ্যাট সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আলু রফতানি গতি বৃদ্ধিই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের ২৬টির বেশি দেশে কমবেশি আলু রফতানি হচ্ছে। বছর দুই হয় রাশিয়ায় আলু রফতানি শুরু হয়েছে। পাশের দেশ ভারতও সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক ইংল্যান্ড

বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড। গুলশান ট্র্যাজেডি ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে ইসিবি একটি ইমেইল পাঠিয়েছে। যাতে নেতিবাচক একটি শব্দও নেই। বরং আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট উপাদান আছে। গুলশান হামলার পর ইসিবি জানায়,
তারা বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানান, ‘ক’দিন আগে ইসিবি থেকে বিসিবিতে একটি মেইল পাঠানো হয়েছে। যেখানে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সফর বাতিল সংক্রান্ত একটি কথাও নেই। বরং সফর হওয়ার পরোক্ষ ইঙ্গিত রয়েছে।’ ইসিবি জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশ সফরে ঢাকার অংশ শেষে ইংলিশ ক্রিকেট দল চট্টগ্রামে কোন ধরনের বাস ব্যবহার করবে। এছাড়া কতটি বাস থাকবে। সেগুলো ঠিক করে জানাতে বলা হয়েছে। বিসিবি থেকে যথা সময়েই জবাব পাঠানো হয়েছে।

জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় আইরিন

র‌্যাম্প মডেলিং থেকে চলচ্চিত্রে পথচলা আইরিনের। দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’ দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে তার। এরপর ‘ইউটার্ন’ ও ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’ ছবিগুলো তাকে কিছুটা আলোচনায় রাখে। মাঝে আরও বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে গেল ৯ মাসে তার কোনো ছবি মুক্তি পায়নি। অবশেষে দীর্ঘদিন পর আবারও পর্দায় আসছেন এ নায়িকা।
এসএ হক অলীকের ‘এক পৃথিবী প্রেম’ ছবির মধ্য দিয়ে আবারও দর্শকরা এই গ্ল্যামার গার্লকে পর্দায় দেখতে পাবেন। ছবিটি মুক্তি পাবে ১২ আগস্ট। এ প্রসঙ্গে আইরিন বলেন, ‘এই ছবিটি নিয়ে আমি আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, আইরিনের এ ছবিটি দর্শকরা ভালোভাবেই গ্রহণ করবেন।’ পরিচালক সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী প্রবীণদের জীবনযাপন নিয়ে ছবির গল্প তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে নতুন প্রজন্মের প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক।