Thursday, August 11, 2011

রিয়ালেও আসছে এক মেসি!

লিওনেল মেসির জবাব ‘মেসি’কে দিয়েই দেবে রিয়াল মাদ্রিদ। অবশ্য এর জন্য বেশ কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হবে। ‘নতুন মেসি’র বয়স যে মাত্র সাত বছর!
হ্যাঁ, সাত বছরের এক ‘বিস্ময় বালক’কে সই করিয়েছে রিয়াল। মেসির মতো তারও বাড়ি আর্জেন্টিনায়, মেসির মতোই তার ডাকনাম ‘লিওনেল’! মিল এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না, লিওনেল অ্যাঙ্গেল কয়রা নামের সেই ছেলেটি নাকি খেলেও মেসির মতো। না হলে রিয়াল তাকে সই করাবে কেন?
মেসির সঙ্গে আরেকটা জায়গায় মিল আছে কয়রার। মেসির বাবা ছিলেন ছোট্ট একটা ক্লাবের কোচ, কয়রার বাবাও তা-ই। মাদ্রিদের শহরতলির এক ক্লাবের কোচ মিগুয়েল। তিন বছর ধরে বাবার সঙ্গে স্পেনে আছে কয়রা। ফুটবলে তার আদর্শ মেসিই, তবে শেষ পর্যন্ত মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবেই যোগ দিতে হলো তাকে। আপাতত এক বছরের জন্য চুক্তি। পরে এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো যাবে। সত্যি সত্যিই যদি প্রতিভা দিয়ে মুগ্ধ করতে পারে, ১৬ বছর বয়স হলে কয়রা সুযোগ পাবে রিয়ালের মূল দলে।
তার বাবা মিগুয়েল জানিয়েছেন, কয়রার ব্যাপারে আগ্রহী ছিল রিয়ালের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদও, ‘অ্যাটলেটিকোর স্কাউটরা ওকে দেখেছে, ওকে ট্রায়াল দেওয়ার জন্য ওরাও ডেকেছিল। কিন্তু দুই দলে পরীক্ষা দেওয়ার পর ওর কাছে রিয়ালই বেশি পছন্দ হয়েছে। আমারও এই ক্লাবের ওপর আস্থা আছে। আমি জানি, ওরা ওর ভালো যত্ন নেবে।’
আগামী মাস থেকে রিয়ালের কিশোর দলের হয়ে অনুশীলন শুরু করবে কয়রা। দেখা যাক, ‘মেসি’ সে হয়ে উঠতে পারে কি না।

আরও দেওয়ার আছে ফেদেরারের

‘ফেদেরারের দিন শেষ’—টেনিস-বিশ্বে মৃদু আকারে হলেও এ রকম একটা রব উঠে গেছে। ফেদেরারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও এই গুঞ্জন মৃদু প্রতিফলিত! কোর্টে আগের সেই ‘একাধিপত্য’ আর নেই। রেকর্ড ১৬টি গ্র্যান্ড স্লাম এককের সর্বশেষটি জিতেছিলেন ২০১০ অস্ট্রেলিয়া ওপেনে। এর পরের ছয়টি গ্র্যান্ড স্লামের একটিতেই মাত্র উঠতে পেরেছেন ফাইনালে, এ বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনে।
খরা যাচ্ছে অন্য পেশাদার টুর্নামেন্টেও। এ বছর সব মিলিয়ে ১০টি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে শিরোপা জিতেছেন মাত্র একটিতে! সেও বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া ওপেনেরও আগে, কাতার ওপেনে। পরে নোভাক জোকোভিচের কাছে তিনবারের সাক্ষাতে দুবারই হেরেছেন, রাফায়েল নাদালের সঙ্গে হার তিনবারই। এসব তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন্দুকেরা ‘ফেদেরারের দিন শেষের’ আলোচনাতেই আগ্রহী। যদিও ফেদেরার নিজে নিন্দুকদের এই দাবির সঙ্গে একমত নন।
সর্বকালের সেরাদের একজন ফেদেরার বরং প্রত্যাশার দৃষ্টিতেই তাকিয়ে আছেন সামনের দিকে। গত পরশু ৩০তম জন্মদিনের পার্টিতেই ফেদেরার আকার-ইঙ্গিতে স্পষ্ট করে দিলেন, এখনই অবসরের কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই, ‘ফেদেরার এক্সপ্রেস’ চলবেই।
ক্যারিয়ারের কঠিন এই বাঁকে দাঁড়িয়ে অনেক সাবেক তারকাকেই পাশে পাচ্ছেন ফেদেরার। পিট সাম্প্রাস ফেদেরারের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন আগেই। এবার পাশে এসে দাঁড়ালেন জিমি কনর্সও। মার্কিন টেনিস কিংবদন্তি বলেছেন, টেনিসকে এখনো অনেক দেওয়ার বাকি ফেদেরারের, আরও অনেক দিনই খেলাটা চালিয়ে যেতে পারবেন তিনি। এমনকি ফেদেরারের আবার এক নম্বরে না ওঠারও কোনো কারণ দেখছেন না ১৯৭০-এর দশকের অন্যতম শীর্ষ এই তারকা। তবে এ জন্য তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ‘আমি মনে করি, বয়স ৩০ হলেও ফেদেরার এখনো তরুণ। সে যদি সময়ের প্রতি সত্যিই মনোযোগী হয় এবং প্রয়োজনীয় কাজটা করে, আমি এটা (এক নম্বর) ফিরে না পাওয়ার কোনো কারণই দেখি না’—বলেছেন আটটি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী কনর্স।
ইউএস ওপেনের প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট হিসেবে পরিচিত কানাডার রজার্স কাপ খেলতে ফেদেরার এখন মন্ট্রিয়লে। পরশু সেখানেই অনাড়ম্বরে ৩০তম জন্মদিনটা উদ্যাপন করলেন সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী। এই দিনই কানাডিয়ান টেনিসের ‘হল অব ফেমে’ অভিষিক্ত হলেন জিমি কনর্স। সেখানেই ফেদেরারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে গিয়ে কনর্স সামনে নিয়ে এলেন বাস্তবতাকেও। বয়সের ধাক্কাটা কাটাতে কঠোর পরিশ্রম এবং বেশি বেশি সময় দিয়ে নিজেকে ফিট রাখতে হবে জানিয়ে বলছেন, ‘ওর (ফেদেরার) এখন যমজ সন্তান আছে। কাজেই অনেক বিষয়ই ওর মাথায় থাকবে। তবে ওকে মনে রাখতে হবে, টেনিসই ওকে এখানে এনেছে।

কোণঠাসা ভারত, উজ্জীবিত ইংল্যান্ড

এখন পর্যন্ত যা হয়েছে, সেই অর্জনও কম নয়। এ এমন এক অর্জন, ইংল্যান্ড হয়তো মনে রাখবে অনেক দিন। কিন্তু অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস বলছেন, ‘ভুলে যান!’ ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলছেন, তাঁর দলের এখন কাজ হবে প্রথম দুই টেস্টের কথা ভুলে যাওয়া! আশ্চর্য, এই কথা তো মহেন্দ্র সিং ধোনির বলার কথা, ম্রিয়মাণ দলকে উজ্জীবিত করতে। বলা উচিত, ‘এসো, প্রথম দুই ম্যাচের কথা ভুলে আমরা নতুন করে শুরু করি।’
কথাটা স্ট্রাউস বলছেন, এর পেছনে নিশ্চয়ই কারণ আছে। শেষ দুটো টেস্টকে নতুন লক্ষ্য ধরে নিয়ে নতুন উদ্দীপনায় ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় ইংল্যান্ড। প্রথম দুই টেস্টের বড় জয়ের স্মৃতিতে বুঁদ হয়ে থাকলে পাছে সেটা আত্মতৃপ্তির সর্বনাশা কারণ হয়ে দাঁড়ায়! এ কারণেই শেষ দুটো ম্যাচ ড্র করলেও চলে—এমন স্বস্তিদায়ক সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েও স্ট্রাউস বলছেন, এই ম্যাচ তাঁদের জিততেই হবে, ‘আমরা সবাই এই ম্যাচটা জেতার জন্যই খেলব।’
ড্রয়ের রাস্তা খুঁজতে তাই মরা উইকেট নয়, ইংল্যান্ড এজবাস্টনে বানাচ্ছে ঘাসে ঢাকা উইকেট। উদ্দেশ্য ফর্মে থাকা পেসারদের আরও বেশি রসদ এনে দেওয়া। কোণঠাসা ভারতকে আরও কোণঠাসা করে ফেলা। ভারতের জন্য এই টেস্টে অবশ্য একটা সুখবর আছে—নিয়মিত ওপেনিং জুটি ফিরে পাওয়া। বীরেন্দর শেবাগ দলে ফিরেছেন। কিন্তু একই সঙ্গে ভারত পাচ্ছে না তাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই বোলার হরভজন সিং আর জহির খানকে। চোটের কারণে ছিটকে পড়েছেন যুবরাজ সিংও। তাঁদের জায়গায় প্রজ্ঞান ওঝা, আরপি সিং আর বিরাট কোহলিকে ডাকা হয়েছে।
পিঠের চোটের কারণে ইংল্যান্ড অবশ্য এই ম্যাচেও ক্রিস ট্রেমলেটকে পাচ্ছে না। কিন্তু এটা দুঃসংবাদের চেয়ে সুখবরই হয়ে এসেছে ইংল্যান্ডের জন্য। ট্রেমলেটের জায়গায় গত ম্যাচে সুযোগ পেয়ে টিম ব্রেসনান ব্যাট হাতে ৯০ রানের একটা ইনিংস খেলার পর বল হাতেও নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ট্রেমলেট ফিরলে একাদশ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতো। সেই সমস্যায় পড়তে হলো না। অবশ্য রান-মেশিন জোনাথন ট্রটকে পাচ্ছে না ইংল্যান্ড। তাঁর বদলে সুযোগ পেয়েছেন রবি বোপারা। অপ্রত্যাশিতভাবে পেয়ে যাওয়া সুযোগটা কাজে লাগাতে যিনি মুখিয়ে আছেন।
উজ্জীবিত ইংল্যান্ডের সামনে কোণঠাসা ভারত এমন একটা মাঠে মুখোমুখি হচ্ছে, যেখানে পাঁচ টেস্ট খেলে একটিতেও তারা জেতেনি। চারটি হেরেছে, অন্যটি ড্র।
ফলে ইংল্যান্ডের জন্য প্রেরণার অভাব নেই। সিরিজটাকে ৩-০ করতে ঝাঁপিয়ে তারা পড়তেই পারে। ৩-০ করা মানে শুধু সিরিজ নিশ্চিত নয়, নিশ্চিত টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গাটিও দখল করে ফেলা।
ভারত নিজেদের এই বলে উজ্জীবিত করতে পারে, নিজেদের এক নম্বরের যথার্থতা প্রমাণের এই তো সবচেয়ে ভালো সুযোগ। হয়ে যাক সেই অগ্নিপরীক্ষা। সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে চাইলে ব্যাটসম্যানদের আগে জ্বলে উঠতে হবে। শেবাগ প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করেননি।
তবে ভারত সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে থাকবে শচীন টেন্ডুলকারের দিকে। শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির পূর্বাভাস নাকি পাওয়া যাচ্ছে টেন্ডুলকারের ব্যাটে!

টেস্টের গায়ে দাঙ্গার আঁচ

লন্ডনে শুরু হওয়া দাঙ্গার আঁচ এসে লেগেছে এজবাস্টন টেস্টের গায়েও। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের বেশ কিছু খেলা বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হয়ে গেছে ইংল্যান্ড-হল্যান্ড ফুটবল প্রীতি ম্যাচটিও। স্থগিত হয়েছে কার্লিং কাপেরও কয়েকটি ম্যাচ।
এজবাস্টন টেস্ট নিয়েও কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ, লন্ডনের দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে বার্মিংহামেও, এখানকার মাঠেই হবে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট। অবশ্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ম্যাচটি ঠিক সময়ে হবে বলেই খবর পাওয়া যাচ্ছিল।
এদিকে লন্ডনের দাঙ্গা নিয়ে ইংল্যান্ড দলের ক্রিকেটাররা তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ক্রিকেটাররা এই পরিস্থিতিতে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। আশাবাদ জানিয়েছেন পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হয়ে আসারও।

অলিম্পিকেই বিদায় নয় ক্লাইস্টার্সের

লন্ডন অলিম্পিকের পরই অবসরে যাবেন—এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন কিম ক্লাইস্টার্স। মেয়েদের টেনিসের দুই নম্বর তারকা বলেছেন, অলিম্পিক নয়, অন্য কোনো কম গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলেই বিদায় জানাবেন টেনিসকে। চারটি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী বেলজিয়ান এখন রজার্স কাপ খেলতে কানাডায়।
ক্লাইস্টার্স সেখানেই বলেছেন, অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়াতেই এখন তাঁর পূর্ণ মনোযোগ, ‘আমি বলছি না অলিম্পিকের পরই শেষ। তবে এখন ওই পর্যন্তই আমার শিডিউল এবং সেভাবেই প্রস্তুত হচ্ছি। এরপর কী হয়, সেটা দেখার বিষয়।’
বিদায় বলার জন্য কেন কম গুরুত্বের টুর্নামেন্ট বেছে নেবেন বলেছেন সেটাও, ‘আমি ক্যারিয়ার শেষ করার জন্য হয়তো ছোট টুর্নামেন্টই বেছে নেব। কারণ, ব্যাপারটাকে একটু ঘরোয়া রূপ দিতে চাই। যেখানে আমি আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও কোচদের সঙ্গে সময়টা উপভোগ করতে পারব।’
কোন টুর্নামেন্ট খেলে বিদায় নেবেন, সেটা ঠিক করার সময় এখনো হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন ক্লাইস্টার্স।

সোমালিয়ায় বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা

সোমালিয়া সরকার সে দেশের জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব বিদ্রোহীদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এর আগে গত শনিবার দেশটির রাজধানী মোগাদিসু শহর থেকে বিদ্রোহীরা চলে যান।
জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই বিদ্রোহীরা ২০০৭ সাল থেকে পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট অন্তর্বর্তী সরকারের পতনের জন্য লড়াই চালিয়ে আসছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক মুখপাত্র আবদিরহমান ওসমান বিদ্রোহীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করছি, অস্ত্রশস্ত্র ও বন্দুক ত্যাগ করুন। জনগণ ও সমাজের সঙ্গে যোগ দিন।’ তিনি আরও বলেন, যাঁরা জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের দ্বারা ভুল পথে চলে গেছেন, তাঁদের জন্য যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর এখনই উপযুক্ত সময়।
গত শনিবার চলে যাওয়ার আগে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে মোগাদিসুর প্রায় অর্ধেক শহর ছিল। তবে তাঁদের কিছু ইউনিট এখন সেখানে সক্রিয় রয়েছে। বিদ্রোহীদের চলে যাওয়ার পর আফ্রিকান ইউনিয়নের (এইউ) সমর্থনপুষ্ট সরকারি সেনাদের সঙ্গে বিদ্রোহীদের লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে।
এএফপির এক সাংবাদিক জানান, মোগাদিসুতে গতকাল সকালে বন্দুকযুদ্ধের খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির সরকার বিদ্রোহীরা শহর ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাঁদের স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু আল-শাবাব বিদ্রোহীরা এই প্রস্থানকে নিজেদের ‘সামরিক কৌশলের পরিবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ন্যাটোকে সন্ত্রাসী সংগঠন বললেন রবার্ট মুগাবে

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে বলেছেন, আল-কায়েদার মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠন ন্যাটো। কারণ, সংগঠনটি লিবিয়ায় বোমা হামলা করছে।
তিনি বলেন, লিবিয়ায় ন্যাটোর হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
জিম্বাবুয়ের সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের শাসনামলে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে মুগাবে এসব কথা বলেন।
মুগাবে বলেন, ন্যাটোর বোমা হামলায় নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তারা (ন্যাটো) গাদ্দাফিকে হত্যা করতে চাচ্ছে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর সন্তানদের হত্যা করেছে। এটা ঠিক, তালেবান ও আল-কায়েদাও মানুষ হত্যা করছে। কিন্তু ন্যাটে লিবিয়ায় যা করছে, তাতে ওই দুটি সংগঠনের সঙ্গে তাদের পার্থক্য কোথায় থাকল? এ জন্য আমি ন্যাটোকেও সন্ত্রাসী সংগঠন বলব।’

স্ত্রস-কানের বিরুদ্ধে মামলা করলেন সেই হোটেলকর্মী

ক্ষতিপূরণ দাবি করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান দমিনিক স্ত্রস-কানের বিরুদ্ধে গত সোমবার মামলা করেছেন নিউইয়র্কের সেই নারী হোটেলকর্মী। এ হোটেলকর্মী স্ত্রস-কানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন।
নাফিসাতৌ দিয়াল্লো নামের ওই নারী হোটেলকর্মীর আইনজীবী মামলার অভিযোগে বলেন, স্ত্রস-কান ইচ্ছাকৃতভাবে, নিষ্ঠুরভাবে ও প্রচণ্ডভাবে তাঁর মক্কেলকে হয়রানি করেছেন।
মামলায় দিয়াল্লোর শারীরিক, আবেগজনিত ও মানসিক ক্ষতিসহ তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামের যে ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য নির্ধারণের জন্য শুনানির আবেদন জানানো হয়।
গত মে মাসে গ্রেপ্তারের কয়েক দিন পরই আইএমএফের প্রধানের পদ ছেড়ে দেন স্ত্রস-কান। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্ত্রস-কান বর্তমানে জামিনে মুক্ত।

পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপদ বিকল্প চাই

জাপানের নাগাসাকি শহরের মেয়র তোমিহিসা তাউয়ে জ্বালানির জন্য পারমাণবিক শক্তির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। নাগাসাকিতে আণবিক বোমা নিক্ষেপের ৬৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গতকাল মঙ্গলবার তিনি এ আহ্বান জানান।
মেয়র তোমিহিসা বলেন, জাপানকে নিরাপদ জ্বালানির সংস্থান করতে হবে। তা হতে পারে সৌর বা বায়ু ব্যবহার করে উৎপাদিত শক্তি। তিনি আরও বলেন, ‘গত মার্চে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়ের ঘটনায় আমরা স্তম্ভিত হয়েছি। এটা ছিল ২৫ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিলের সংঘটিত দুর্ঘটনার মতোই।’
মেয়র বলেন, ‘পারমাণবিক ভয়াবহতার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জাতি হওয়া সত্ত্বেও আমরা এমন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘পারমাণবিক ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমরা কি অতি আত্মবিশ্বাসী?’
গত ১১ মার্চ সুনামি ও ভূমিকম্পে ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়; দেখা দেয় পারমাণবিক বিপর্যয়। এর আগ পর্যন্ত দেশটি প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৩০ শতাংশের জন্যই নির্ভর করত পারমাণবিক শক্তির ওপর। শুধু তা-ই নয়, ২০৩০ সালের মধ্যে এই নির্ভরতা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছিল জাপান, তবে ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর দেশটি সেই পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৫ সালের ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে আণবিক বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ৩৯ হাজার মানুষ নিহত হয়। আহত হয় ২৫ হাজারের বেশি।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন বাশার

ক্রমেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার।
সরকারবিরোধীদের ওপর দমন-নিপীড়নের প্রতিবাদে সৌদি আরবের পর কুয়েত ও বাহরাইনও দামেস্ক থেকে তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা আরব দেশগুলোর এই সাহসী পদক্ষেপে উৎসাহিত হয়েছে।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-নিপীড়ন বন্ধের কঠিন বার্তা নিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু গতকাল মঙ্গলবার দামেস্ক পৌঁছেছেন। তবে এর মধ্যেও সরকারি বাহিনীর দমন-নিপীড়নমূলক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তুরস্ক দূতাবাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাভুতোগলু গতকাল সকালে দামেস্ক পৌঁছান।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, দাভুতোগলুর সফরের উদ্দেশ্যে হচ্ছে দামেস্কের কাছে এই বার্তা পৌঁছানো যে, সিরিয়ার চলমান সহিংসতায় আঙ্কারা ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন সিরীয় কর্তৃপক্ষকে তাদের সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে আনতে চাপ প্রয়োগের জন্য দাভুতোগলুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সিরিয়া সতর্ক করে বলেছে, সফরকালে দাভুতোগলু নিজেই কঠিন বার্তা পাবে।
সিরিয়ার বিক্ষোভকারীরা দাভুতোগলুকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের ফেসবুকের পাতায় লিখেছে, ‘রাজধানীর আল-মিদান এলাকার মসজিদে প্রার্থনায় এসো। সিরিয়ার জনগণের প্রকৃত দাবির বিষয়ে কাছে থেকে জানতে পারবে।’
এদিকে দাভুতোগলুর দামেস্ক সফরের মধ্যেই তুরস্কের সীমানা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের একটি শহরে ট্যাংকবহর নিয়ে অভিযান চালিয়েছে সেনারা। মানবাধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানে দুই বেসামরিক লোক নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। সেখান থেকে পালিয়ে আসা এক বাসিন্দা বলেন, রাতে তারাবির নামাজ শেষে শহরের অধিবাসীরা একটি বিক্ষোভে অংশ নেয়। এরপর গতকাল সেখানে অস্ত্রে সজ্জিত সেনারা অভিযান চালায়।
একই দিনে ইরাক সীমান্তসংলগ্ন পূর্ব সিরিয়ার দেইর-আল জর শহরে তৃতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়েছে সেনারা। সেখানে গত রোববার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আহতদের মধ্যে দুজন মারা গেছে। ইয়াদ নামের শহরের এক বাসিন্দা বলেন, সেনারা বাড়িতে প্রবেশ করে যাকে পাচ্ছে, তাকেই ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া হামা শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গতকাল আরও দুজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট বাশার গত সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলী হাবিবকে বরখাস্ত করেছেন। আলী হাবিব ইউরোপীয় ইউনিয়নের কালো তালিকাভুক্ত ব্যক্তি। নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দাউদ রাঝাকে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সিরিয়াজুড়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে ৫২ জন নিহত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার সৌদি আরব, কুয়েত ও বাহরাইন তাদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। মানবাধিকারকর্মীদের হিসাবে, গত মার্চ মাসে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত এক হাজার ৭০০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত সপ্তাহেই নিহত হয়েছে তিন শতাধিক।

লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের নির্বাহী পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে

লিবিয়ায় বিদ্রোহীদের ‘মন্ত্রিসভা’ হিসেবে পরিচিত বেনগাজিভিত্তিক ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) নির্বাহী কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এনটিসির প্রধান মুস্তাফা আবদেল জলিল গত সোমবার এ কমিটি ভেঙে দেন। এ ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রাত একটা থেকে দুইটার মধ্যে ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ফেরনেজ নামক জায়গায় কয়েকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর আগে কয়েকটি হালকা বিস্ফোরণও ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, একটি অস্ত্রের গুদামে হামলা হয়েছে। এ ছাড়া ভোর ছয়টার দিকে আরও দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।
বিদ্রোহীদের মুখপাত্র আবদেল হাফিজ গোগা জানান, বিদ্রোহীদের সামরিক শাখার প্রধান আবদেল ফাত্তাহ ইউনিস হত্যার জের ধরে নির্বাহী কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। ইউনিস হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাহী কমিটির কিছু সদস্যের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এনটিসির সদস্য ফাথি তুরবেল বলেন, এটা স্পষ্ট যে ইউনিস হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ‘সামরিক, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে অদক্ষতার’ কারণে নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠনের প্রয়োজন ছিল।
বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী মাহমুদ জিবরিলকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনটিসির সদস্যরা জানান, বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন মন্ত্রীর নির্বাহী কমিটিতে পুনরায় নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেনারেল ইউনিস গত ফেব্রুয়ারিতে গাদ্দাফির পক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে যে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গাদ্দাফি লিবিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন, সেই অভ্যুত্থানে তরুণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে ইউনিসও ছিলেন।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন ইউনিস। একপর্যায়ে গাদ্দাফি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁকে গাদ্দাফির ডান হাত বলেও ধারণা করা হতো। এ কারণে গাদ্দাফির পক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিলেও তাঁকে কিছুটা সন্দেহের চোখে দেখা হতো।
গত ২৮ জুলাই ইউনিসকে বিদ্রোহীদেরই একটি গোষ্ঠী হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ এখনো অজ্ঞাত। দুই সহযোগীসহ তাঁর পুড়ে যাওয়া লাশ বেনগাজির নিকটবর্তী একটি স্থানে পাওয়া যায়।
ইউনিস যে গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ভুক্ত, তারা এ হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ তদন্ত দাবি করেছে। ইউনিসের কোনো কোনো সমর্থক জানিয়েছেন, একটি ইসলামি গোষ্ঠী তাঁকে হত্যা করেছে। ওই গোষ্ঠীটি এনটিসির সঙ্গে মিত্র হিসেবে কাজ করছে।

গল্প- চুপি চুপি বাঁশি বাজে by রাহাত খান

নিবার। বাইরে পড়ন্ত দুপুর। খাওয়ার কিছুক্ষণ পর, আলস্য ও আরাম—এই দুই প্রিয় সঙ্গীকে নিয়ে বিছানায় শুয়েছিল আয়াজ। ঠিক ঘুম নয়, ঘুম আর তন্দ্রার মাঝামাঝিতে ছিল। তন্দ্রার ভাগ খানিকটা বেশি। সময়টা বৈশাখের শেষ দিক। বাইরে রোদ-বাতাস দুই-ই গলাগলি করে ছিল। জানালা গলিয়ে বাতাসের একেকটা মৃদু বা মাঝারি ঝাপটা স্যান্ডো গেঞ্জি পরা আয়াজের এলিয়ে থাকা শরীরে এসে লাগছিল। সে তো ঠিক ঘুমের মধ্যে নয়। বেশ লাগছিল তার শুয়ে থাকতে আর মাঝেমধ্যে বাতাসের ঝাপটা খেতে।

গল্প- বিধুহীন by রাশিদা সুলতানা

কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙালি গবেষক নিজাম আহমেদের দাওয়াতে ওখানকার গিয়ন এলাকায় একটা ক্যাফেতে যাই। সকালে আমার ল্যাবে এসে একসঙ্গে লাঞ্চ করার দাওয়াত দিয়েছেন। বাংলাদেশি চিত্রকর মাহবুব জামানের সঙ্গে নিজাম সাহেব পরিচয় করিয়ে দেন। গাঢ় ফ্রেমের চশমা পরা মাহবুব জামান জানান, কাছেই ইবারাকি শহরে তিনি থাকেন। আমি হেসে বলি, ‘কিয়োটোর অদূরে আরাশিয়ামায় থাকি।’ লাঞ্চ ও আড্ডার দুই ঘণ্টার পুরো সময় আমার কথা বলা এই একবারই। জাপানি খাবার সুশি, সাশিমি, তাকিয়াকি খেতে খেতে নিজাম আর মাহবুব পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ, তেলের জন্য বুশ-ব্লেয়ারের ইরাক যুদ্ধ, চীন-জাপান সম্পর্ক, জাপানি সাহিত্যে চীনের প্রভাব নানা কিছু নিয়ে কথা বলেন।

গল্প- অসমাপ্ত চুম্বনের ১৯ বছর পর... by আনিসুল হক

‘মা, বাবাকে তুমি প্রথম কিস্ করেছ কখন?’ পরশ জিজ্ঞেস করে। হাইস্কুলে যাচ্ছে পরশ (১৭), এখনো যে মাকে এই সব প্রশ্ন করছে, তার মানে ছেলেটা এখনো সরল আছে—সুমি আড়চোখে দেখে নেয় ছেলেটাকে। কত বড় হাত-পা হয়ে গেছে ছেলের, খালেদের চেয়েও মনে হয় লম্বা হয়েছে সে। মনে মনে মাশাল্লাহ বলে দুবার, মায়ের নজর না আবার লাগে ছেলের গায়ে। সুমির মনের মধ্যে গুঞ্জরিত হতে থাকে রবীন্দ্রসংগীত, এত দিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে, দেখা পেলেম ফাল্গুনে। বাংলাদেশের বসন্ত! ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, গাছে গাছে পুঞ্জিত আম্রমুকুল। আমগাছে কালচে পাতা, তার ওপরে লালচে মুকুল, মাছি ভনভন করছে আর কেমন একটা মাদকতাভরা গন্ধ!

গল্প- বসন্ত বিলাপ by হুমায়ূন আহমেদ

খন চিটগং কলেজিয়েট স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ি। ক্লাসটিচার বড়ুয়া স্যার আমাদের বাংলা পড়ান। স্যার একদিন ক্লাসে এসে বললেন, ‘রচনা লেখো “আমার প্রিয় ঋতু”।’ এই বলেই চেয়ারে পা তুলে তিনি ঘুমের প্রস্তুতি নিলেন। আমাদের সময়ে ক্লাসওয়ার্ক দিয়ে শিক্ষকদের ঘুমানো এবং ঝিমানো স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। এটাকে কেউ দোষের ধরত না। ছাত্ররা তো ক্লাসওয়ার্ক করছেই। খাতা খুলে বসে আছি, আমার প্রিয় ঋতু কী বুঝতে পারছি না। শীত হওয়ার সম্ভাবনা কি আছে? শীতের সময় আমরা নানাবাড়ি মোহনগঞ্জে যাই। তখন লেপ নামানো হয়। লেপের ভেতর হুটোপুটি। রাতের উঠানে আগুন জ্বেলে চারদিকে গোল হয়ে বসে ভূতের গল্পের আসর। দিনের বেলা ডোবা সেঁচে মাছ ধরা।

খোয়াবের প্রতিলিপি by আফসানা শারমিন

খন বালগোর অ্যাক্রেলিক পেইন্টিং ১৯৮০ সালে প্রথম প্রকাশ হলো, তখন তা ট্রাডিশনাল আদিবাসী শিল্পকে পৃথিবী এত দিন ধরে যেভাবে বুঝত, সেই ধারণায় মস্ত ঝাঁকুনি দিল। সেই সঙ্গে সমকালীন চিত্রকলার সমকালীনতার ধারণাও নাড়া খেল। বোল্ড, উজ্জ্বল ও রঙিন ছবিগুলো একটি জনপদের গল্প বলে। এক কথায় ছবিগুলোকে মনে হয় পুরোপুরি আধুনিক, আপাত বিমূর্ত ও খুবই ব্যতিক্রম। সেন্ট্রাল অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম মরুভূমির অনেক গভীরে অবস্থিত বালগো পার্বত্য এলাকা। বালগো (Balgo) শব্দটি এসেছে অস্ট্রেলিয়ার কুকাটজা (kukatja) শব্দ পালগু (Palgu) থেকে। পালগু মানে দূষিত বাতাস। সম্প্রতি এই বালগো পার্বত্য এলাকার সমকালীন শিল্পকর্ম নিয়ে ‘বালগো’ শিরোনামে একটি প্রদর্শনী চলছে ঢাকার কসমস গ্যালারিতে।