Monday, April 21, 2014

ধুরুং জীপ ষ্টেশনে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি চরমে by এম.এ মান্নান

কুতুবদিয়া ধুরুং বাজার জীপ ষ্টেশনে ব্যস্ত সড়কে নর্দমার পানিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জানবাহন সহ সাধারণ পথচারীদের চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ভূক্তভোগীরা জানান,উপজেলার অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র ধুরুং বাজার জীপ ষ্টেশন এলাকায় স্থানীয় ধুরুং হাই স্কুল ও ধুরুং স.প্রা.বিদ্যালয়ের নলকুপের পানি নর্দমা দিয়ে ব্যস্ত সড়কে গড়িয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত।

স্থানটি মূলত: নীচু হওয়ায় দু‘টি বিদ্যালয়ের নালা-নর্দমার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের উপর জমা থাকছে ময়লা পানি। এখানে জীপ ও টেক্সী ষ্টেশন  ছাড়াও শত শত জানবাহন চলাচল করায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে নর্দমার দূর্গন্ধ পানি জমা হয়ে জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। হাঁটু পানি জমে যায় সেখানে।এতে যানবাহন সহ পথচারিদের সড়ক পারাপার বন্ধের উপক্রমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জীপ ষ্টেশনের দায়িত্বরত লাইনম্যান আহমদ উল্লাহ ,কুতুবদিয়া জীপ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক চালক মো.কেফায়েত উল্লাহ বলেন,বিদ্যালয়ের ড্রেনের পানি গড়িয়ে রাস্তায় জমা হয়ে থাকছে। বর্ষা মওসুমে বৃষ্টি হলেই যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নালা দিয়ে আসা ময়লা পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ছাড়াও যানবাহন ঘোরাতে-ফেরাতে ভোগান্তি বেড়েছে।বিদ্যালয়ের ড্রেনের পানি নিষ্কাশনে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।

ধুরুং হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদুল আলম বলেন,আগে পাইপ দ্বারা ড্রেনেজ ব্যবস্থাা ছিল। রাস্তায় ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে সেটি ফেটে যাওয়ায় নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে। আর্থিক সংকটে নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্ভব হয়নি।নলকুপের পানি ছাড়াও সেখানে বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিকল্প ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন বলে জানান।

সমুদ্রস্নানে কেনো হারায় তাজাপ্রাণ! বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর নাগরিক মন্তব্য

সমুদ্রস্নানে ভেসে গেলো তাজা ক’টি প্রাণ! কয়েকটি বন্ধু হৈ-হুল্লোড় করে পানিতে নেমেছিলো, কেউ ফিরলো কেউ ফিরলো না। সমুদ্র টেনে নিয়ে গেলো তার কড়াল গ্রাসে। যারা ফেরেনি প্রাণ নিয়ে, তাদের চার জন লাশ হয়ে ফিরেছে, আর দুজন ফিরলেনই না। প্রায়শঃই এমন করে ভেসে যায় তাজা-তাজা প্রাণ। কিন্তু কি হয় সেই সমুদ্রে। সেন্ট-মার্টিনসের সমুদ্র কেনই এত মানুষখেকো? আর কিই বা তার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। কোনপথে তারুণ্যের সমুদ্র স্নান বাধা পড়ে থাকবে না নিষেধাজ্ঞার আড়ালে? কোনপথে বন্ধ হবে এমন মৃত্যু?

পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনা নিয়ে দুবাহু বিছিয়ে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। স্বচ্ছজলে প্রবালের সৌন্দর্য ছড়িয়ে পর্যটকের চোখজুড়িয়ে দেয় সেন্ট-মার্টিনস। কিন্তু সে সম্ভাবনার কতটুকুই বা সম্ভব হয়েছে কাজে লাগানো>...

এই সব প্রশ্ন সামনে রেখে বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’এর ‘নাগরিক মন্তব্য’ আয়োজন। শুরু হবে  ২২ এপ্রিল মঙ্গলবার ২০১৪ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে। চলবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০মিনিট পর্যন্ত।

পাঠকের প্রশ্নের উত্তর দেবেন তারা যারা হারিয়েছেন বন্ধুদের। যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তারাও থাকবেন পাঠকের নাগালের মধ্যে। পর্যটন বিশেষজ্ঞরাও দেবেন তাদের মত।

বাংলানিউজের এই নাগরিক মন্তব্যে অংশ নিয়ে পাঠক যেমন তার মনের কথা বলতে পারবেন। লিখে পাঠাতে পারবেন কোনো অভিজ্ঞতার কথাও।

অংশ নিতে বরাবরের মতোই পাঠকের ফোন রিসিভ করতে নিউজরুমে সক্রিয় থাকবে ০১৭৯২১০৪৪৬২, ০১৮৫১৬৯২৩৬৭, ০১৬২১৭৪৬৯০৬, ৮৪০২১৮১ ও ৮৪০২১৮২ নম্বরগুলো।

পাঠক অ্যালার্ট কল দিলে ফিরতি কল করে কথা বলবেন বাংলানিউজের কর্মীরা টেলিফোনেই জেনে নেবেন পাঠকের কথা। পাঠক নিজেই মন্তব্য কিংবা প্রশ্ন লিখে ইমেইল করতে পারবেন- nagorikmontobyo@gmail.com এই ঠিকানায়। পাঠকের মন্তব্য নির্ভুল ও সঠিকভাবে প্রতিবেদন আকারে অনলাইনে তুলে ধরতে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করবে বাংলানিউজ টিম।

রানা প্লাজার ঘটনায় ৩১% উদ্যোগ বাস্তবায়িত: টিআইবি

সাভারে রানা প্লাজায় দুর্ঘটনার পর তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ১০২টি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে। অগ্রগতি হয়েছে ৬০ শতাংশের। আর বাকি ৯ শতাংশের কোনো অগ্রগতি নেই। সার্বিক বিবেচনায় বিষয়টি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আজ সোমবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দিয়েছে।

স্বেচ্ছানির্বাসিত নেতার মতবিনিময় ও কিছু প্রশ্ন by কামাল আহমেদ

নির্বাসন, তা সে স্বেচ্ছায় হোক আর অন্য কোনো বাধ্যবাধকতার কারণেই হোক, রাজনীতিকদের জন্য সেটা যে শেষ কথা নয়, তার উদাহরণ প্রচুর। আমাদের উপমহাদেশেই পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ কিংবা বেনজির ভুট্টো দুজনেই দেশান্তরি হতে বাধ্য হয়েছিলেন। আবার দুজনের বিরুদ্ধেই বড় বড় দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। কিন্তু সেগুলোর কোনো কিছুই রাজনীতিতে তাঁদের সফল প্রত্যাবর্তনকে ঠেকাতে পারেনি।

অপহরণের দিনগুলোতে সাংবাদিকেরা- গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস by ফারুক ওয়াসিফ

জীবন গল্পের চাইতেও আশ্চর্যকর! একসময়কার ঝাঁ-চকচকে নায়িকা বনশ্রীর অপহূতা কিশোরী মেয়েটি সংবাদও হয়নি উদ্ধারও পায়নি। এই জীবন নিয়ে উপন্যাস রচনা বা সিনেমা বানানো কি সম্ভব? বিশ্বনন্দিত লেখক সদ্যপ্রয়াত গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসকে কখনো পেলে জিজ্ঞাসা করা যেত, আপনার গল্পের সেই সব বিষণ্ন মেয়েদের কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন? উত্তরে তিনি বলতেন, বাস্তবে।

স্বেচ্ছানির্বাসিত নেতার মতবিনিময় ও কিছু প্রশ্ন

নির্বাসন, তা সে স্বেচ্ছায় হোক আর অন্য কোনো বাধ্যবাধকতার কারণেই হোক, রাজনীতিকদের জন্য সেটা যে শেষ কথা নয়, তার উদাহরণ প্রচুর। আমাদের উপমহাদেশেই পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ কিংবা বেনজির ভুট্টো দুজনেই দেশান্তরি হতে বাধ্য হয়েছিলেন। আবার দুজনের বিরুদ্ধেই বড় বড় দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। কিন্তু সেগুলোর কোনো কিছুই রাজনীতিতে তাঁদের সফল প্রত্যাবর্তনকে ঠেকাতে পারেনি।
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাগার থেকে জামিনের পর তাঁকে যখন লন্ডনগামী বিমানে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন বাংলাদেশে একটি বৃহৎ দলের নেতৃত্বের সম্ভাব্য উত্তরাধিকার তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তাতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা কিছুটা খুশিই হয়েছিলেন। ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল নাটকীয় এবং বিএনপির সমর্থকেরা অনেকেই তখন দাবি করেছিলেন যে সেনা-সমর্থিত সরকার তাঁকে জোর করে নির্বাসনে পাঠাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে পিজি হাসপাতালে তাঁর ছেলের সঙ্গে দেখা করে যেভাবে চোখের পানিতে ভিজিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন, সেই দৃশ্যকে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের জবরদস্তির আলামত বলেই অনেকের কাছে মনে হয়েছিল। খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্যও সে সময়ে সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হলো, যাতে তিনি বলেছিলেন, পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তারেক রাজনীতি থেকে বিরত থাকবেন। সেই রাতেই অন্য একটি বিবৃতিও আবির্ভূত হয়, যাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদ থেকে তারেক রহমানের পদত্যাগের ঘোষণাও ছিল।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, তারেক রহমান ও হাওয়া ভবন অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বেশ কিছুদিন পর প্রথমে পারিবারিকভাবে এবং পরে দলের তরফে বলা হলো, এটা সাময়িক নির্বাসন এবং তা অবশ্যই চিকিৎসাজনিত। ব্রিটেনে সাড়ে পাঁচ বছরের চিকিৎসাতেও যদি তাঁর নিরাময় না হয়ে থাকে, তাহলে তাঁর এই স্বেচ্ছানির্বাসন আরও দীর্ঘায়িত হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। স্বেচ্ছানির্বাসিত একজন রাজনীতিক ৮ এপ্রিল প্রবাসী সুশীল সমাজের সঙ্গে প্রথমবারের মতো এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন বলে যখন খবর পাওয়া গেল, তখন তাতে সবার মধ্যে আগ্রহ একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। জমা হওয়া অনেক প্রশ্নের জবাব পাওয়ার আশাই ছিল ওই আগ্রহের কারণ। দেশত্যাগের প্রায় সাড়ে পাঁচ বছরের মাথায় একটি সাধারণ নির্বাচনের আগে ও পরে কিছু মন্তব্য করে তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন, সেটাও এই ঔৎসুক্যের কারণ। এমন বিতর্ক যে মন্ত্রীদের মধ্যে মাথা গরম হিসেবে খ্যাত ব্যক্তিরা মা-ছেলেকে গালিগালাজের পাশাপাশি তাঁর প্রয়াত বাবাকে মরণোত্তর বিচারের কথাও বলেছেন। গণতন্ত্রের তীর্থকেন্দ্র, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যে ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেসে প্রতিষ্ঠিত, তার থেকে ঢিল-ছোড়া দূরে বেশ জমকালো মিলনায়তন— ওয়েস্টমিনস্টার হল। যুক্তরাজ্য বিএনপির সব ধরনের আয়োজনেরই কয়েক বছর ধরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছে যে পেশাদার কোম্পানি জে ফোর এস, তাদের নিরাপত্তাকর্মীদের একটি দল মিলনায়তনের দায়িত্ব পালন করছিল, আর অন্য দলটির কাজ ছিল তারেক রহমানের নিরাপত্তা। মিলনায়তনে ঢুকে তিনি সব টেবিলে গিয়ে অতিথিদের সঙ্গে (আমাদেরটি বাদে) পরিচিত হলেন এবং কুশল বিনিময় করলেন।
তারপর ডজন খানেক পেশাজীবীর বক্তব্যের পর তিনি তাঁর বক্তৃতা শুরু করেন। ৭২-এ বঙ্গবন্ধু ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন’—ওই অনুষ্ঠানের এই বক্তব্য পরদিনের অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় তাঁকে জায়গা করে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর সংকটাপন্ন দলকে তা যেমন কোনো নতুন পথনির্দেশ করেনি, তেমনি দেশের মানুষকেও বিএনপির ব্যর্থতাগুলো ভুলে নতুন কিছুতে আকৃষ্ট করতে পারেনি। আধুনিক কালের রাজনৈতিক চর্চাগুলো অনুসরণ করে বিএনপি একটি জনমত জরিপ চালিয়েই তা যাচাই করে নিতে পারে যে দেশের কত শতাংশ মানুষ এখন মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার উপযুক্ত স্বীকৃতিকে অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে। কোনো প্রশ্নোত্তর নেই, কোনো সমালোচনার জবাব নেই, নেই আত্মসমালোচনা। তবু নাম তার মতবিনিময় সভা। কেউ যদি বলেন, তিনি যা শুনলেন, তা তাঁর এক কান দিয়ে ঢুকে আরেক কান দিয়ে বেরিয়ে গেছে, তাহলে তা যে খুব একটা ভুল হবে, তা নয়। যেমন ধরা যাক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোদাব্বের হোসেনের কথা। তিনি বলেন, আজকের বিএনপি এবং জিয়ার বিএনপির মধ্যে বিরাট পার্থক্য। আমলারা দলে ভিড় করেছেন, যাঁরা শুধু বক্তৃতা-বিবৃতি আর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন। মাঠে থাকেন না। যে কারণে নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাবে বললেও নির্বাচন বন্ধ করা যায়নি। মানবাধিকার সংগঠক হাসনাত এম হোসেন জানান, বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার বাসার রাস্তায় বালুভর্তি ট্রাক ফেলে এবং পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করে যখন তাঁকে অবরোধ করে রাখা হয়, তখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাংলাদেশবিষয়ক গ্রুপের এমপিদের কাছে ধরনা দিয়েও তাঁরা কোনো সাড়া পাননি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সে সময়ে ঢাকায় বিএনপির নেতারা আত্মগোপনে থাকলেও রাস্তায় নামার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ার ব্যাখ্যা কী? কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির রসায়নের শিক্ষক এম এ মালেক বলেন,
মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রতিপক্ষকে হারানোর কৌশলে আওয়ামী লীগ সফল হয়েছে এবং বিএনপি পিছিয়ে পড়েছে। আকারে-ইঙ্গিতে অনেকেই যে প্রশ্নটি ছুড়ে দিয়েছেন, সেটা হলো, দেশে ফিরে তিনি কবে দলের হাল ধরবেন? প্রশ্নটি সরাসরি না করেই তাঁরা বলেছেন, দলে এখন পরিবর্তন প্রয়োজন এবং তিনিই সেই পরিবর্তন আনতে পারেন। ভোটারবিহীন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ, সরকারের কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠা এবং আইনের শাসন ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে আসে অধিকাংশ বক্তার কথায়। বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যেসব অমীমাংসিত প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, এগুলোকে তার খণ্ডচিত্র বিবেচনা করা বোধ হয় ভুল হবে না। নেতৃত্বে উত্তরাধিকারের নিশ্চয়তা ছাড়া দলে এবং দলের বাইরে সাধারণের মধ্যে আস্থা অর্জনের মতো কোনো কিছু এখনো দৃশ্যমান নয়। বরং পরিবর্তনের যে আভাসটুকু মিলছে, তা নতুন নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে— রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক উভয় ক্ষেত্রেই। রাজনৈতিক বিতর্কে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের উত্তেজিত করা সম্ভব হলেও তাতে বিএনপির স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, সে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যায়। দেশে কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচন কবে ও কীভাবে আদায় হবে, তার কোনো নির্দেশনা তাঁর সাম্প্রতিক কোনো বক্তব্যে কেউ পেয়েছেন, এমনটি তাঁর অন্ধ অনুগতরাও দাবি করতে পারবেন না। অথচ এ জন্য দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীকেই নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের আলামত পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী আরও গুরুতর। যুক্তরাজ্য বিএনপির কোন্দল মেটাতে বছর খানেক আগে তিনি যাঁদের নেতৃত্বের জন্য বেছে নিয়েছেন, তাঁদের কারও কারও বিরুদ্ধে দলের মধ্যেই এখন আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে; তাও আবার তাঁর এই মতবিনিময় সভার আয়োজনকে ঘিরে। ব্রিটেনের বাংলা সাপ্তাহিকগুলোয় গেল সপ্তাহে খবর বেরিয়েছে যে ওয়েস্টমিনস্টার হলের ভাড়ার মধ্যে ছয় হাজার পাউন্ড পরিশোধ করা হয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে।
দলের যুক্তরাজ্য শাখার একজন সহসভাপতি শাহ আক্তার হোসেনের কাছ থেকে ৬০০ পাউন্ড চাঁদা নেওয়ার কথা বলে তাঁর ক্রেডিট কার্ডের নম্বর ও ব্যক্তিগত পরিচয় নিশ্চিতকারী গোপন নম্বর (পিন) ব্যবহার করে নেওয়া হয়েছে ছয় হাজার পাউন্ড। কমিটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওই জালিয়াতির অভিযোগ এখন পুলিশের তদন্তাধীন। জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ করে দেওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। যেসব নেতার বিরুদ্ধে এই জালিয়াতির অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা গত ১০ দিনেও জানা যায়নি। ব্রিটেনে সাধারণ জীবনযাত্রার মতো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও বেশ ব্যয়বহুল। তার মধ্যে যদি আবার একটু আভিজাত্য এবং কিছুটা রাজকীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো যুক্ত হয়, তাহলে তো কথাই নেই। অতীতের দলীয় কোন্দলের পেছনেও চাঁদাবাজির বিষয়টি জড়িত ছিল বলে লন্ডনের এক বাংলা সাপ্তাহিকে খবর বেরিয়েছিল। যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করায় লন্ডনে নিজের উপস্থিতি যদি কাজে না লাগে, তাহলে কয়েক হাজার মাইল দূরে দেশে সংগঠনকে তিনি কীভাবে পুনর্গঠন করে চাঙা করবেন? সেদিনের সেই সভায় মিলনায়তন ব্যবহারের সময় শেষ হয়ে আসায় তারেক রহমানকে হঠাৎ করেই তাঁর বক্তৃতা গুটিয়ে নিতে হয়েছিল। আয়োজকেরা সম্ভবত ব্রিটিশ রীতিনীতির কথা বিবেচনায় নেননি অথবা সেগুলো সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণাই নেই। এ দেশে যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনে সময় বেঁধে দেওয়া হলে তা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকে। এমনকি হাইড পার্কে নামীদামি তারকাদের কনসার্ট হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার নজির সাম্প্রতিক সময়েই রয়েছে। অবশ্য, চাইলে পরে এই সময় ফুরিয়ে যাওয়াকেই তিনি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সমালোচনার জবাব এড়িয়ে যাওয়ার অজুহাত হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। তবে এসব প্রশ্নের জবাব যত বেশি দিন অনুচ্চারিত থাকবে, রাজনীতিতে তাঁর দলের অবস্থা তত বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকবে।
কামাল আহমেদ: প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন।

অপহরণের দিনগুলোতে সাংবাদিকেরা

সদ্যপ্রয়াত সাহিত্যিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
জীবন গল্পের চাইতেও আশ্চর্যকর! একসময়কার ঝাঁ-চকচকে নায়িকা বনশ্রীর অপহূতা কিশোরী মেয়েটি সংবাদও হয়নি উদ্ধারও পায়নি। এই জীবন নিয়ে উপন্যাস রচনা বা সিনেমা বানানো কি সম্ভব? বিশ্বনন্দিত লেখক সদ্যপ্রয়াত গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসকে কখনো পেলে জিজ্ঞাসা করা যেত, আপনার গল্পের সেই সব বিষণ্ন মেয়েদের কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন? উত্তরে তিনি বলতেন, বাস্তবে। এক ক্ষমতাবান বিনোদন ব্যবসায়ী যে সত্যিই বনশ্রীর প্রজাপতির মতো মেয়েকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সে কথা বিশ্বাস করানোর জন্য চোখের পানি ছাড়া আর কোনো প্রমাণ নেই এই মায়ের।
সেটা নায়িকা মৌসুমীর কেয়ামত থেকে কেয়ামত আর শাবনূরের চাঁদনী রাতে ছবির দিন। সে রকম দিনেই বনশ্রী দর্শকপ্রিয় ব্যবসাসফল ছবি সোহরাব রুস্তম-এর নায়িকা। সেই বনশ্রীকে দেখি, কারওয়ান বাজারের ফুটপাতে অসুস্থ আরেক শিশুসন্তানের জন্য মানুষের সাহায্য চাইতে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাস্তার মোড়ে এক রুক্ষ চুলের বালিকাকে দেখে পাঁচালির দুর্গাকে পেয়েছিলেন। বনশ্রীর মধ্যে আমাদের লেখকেরা কাকে দেখতে পাবেন জানি না, তবে সাংবাদিক তৈমুর রেজা তাঁর অসাধারণ গদ্যে বনশ্রীর রোদনভরা মর্সিয়া তুলে ধরেছিলেন। জাদুকরি ক্ষমতার লেখক মার্কেস হয়তো লিখতেন: বনশ্রীর চোখের জল গাল দিয়ে গড়াতে না-গড়াতেই চৈত্রের গরমে বাষ্প হয়ে উবে যায় আকাশে। সেই বাষ্পজমা মেঘ তারপর উড়ে উড়ে কোথায় কোন দৈত্যপুরীর জানালার কাছে গিয়ে বৃষ্টি ঝরায়। সেই জানালার পাশে বন্দিনি মেয়েটি হয়তো চিঠির কাগজ দিয়ে পাখি বানিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছিল মায়ের ঠিকানায়। তখনই মায়ের অশ্রুতে ভিজে মাটির পুতুলের মতো গলতে থাকে মেয়েটি, যতক্ষণ না সেই দৈত্য তাকে প্লাস্টিকে মুড়ে দেয়, যাতে সে আর কখনো ভিজতে না পারে, গলে যেতে না পারে। মার্কেসের সরলা এরেন্দিরা বা লাভ অ্যান্ড আদার ডেমন হতভাগ্য কিশোরীরা কি বনশ্রীর মতো মায়েদের মেয়ের মতো নয়? সাহিত্যিকেরা ডুবুরির মতো মানুষের মনের সমুদ্রে ডুব দিয়ে অন্তরাত্মার খবর বের করেন, আর সাংবাদিকেরা খনন করে বের করেন ঘটনার রহস্য। গত শতকের ষাটের দশকে কলম্বিয়ায় নিয়মিতভাবে মানুষ অপহূত হতো। ডানপন্থী খুনে, বামপন্থী গেরিলা, সরকারি মিলিশিয়া—সবাই সবাইকে অপহরণ করত।
সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী কেউ বাদ যেত না। এ রকম কিছু অপহরণের ঘটনা নিয়ে মার্কেস লিখলেন নিউজ অব কিডন্যাপিং। সেটা পড়ে মনে হবে রোমাঞ্চকর উপন্যাস। আমাদের দেশে যখন রহস্যময়ভাবে ইলিয়াস আলী গুম হলে পরে গুজব রটে যে তাঁকে পাচার করা হয়েছে ভিনদেশে; একদিন তিনি ফিরে আসবেন। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করে, নদী দিয়ে বেওয়ারিশ ভেসে যাওয়া লাশগুলোর কোনো একটি তিনি। আমাদের এক বাবা অপহূত সন্তানের খোঁজে ভৈরব ও মেঘনা নদীতে নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়ান; ভেসে যাওয়া লাশ হাত দিয়ে উল্টে দেখেন তাঁর সন্তান কি না। সেই সময় হয়তো পাশ দিয়েই মাইকে হিন্দি গানের ঝামাকা তুলে কারও প্রমোদতরি যাচ্ছিল। একদিকে গুম-অপহরণ-ভয়, অন্যদিকে লাগাতার উৎসবের এই বাংলাদেশে এখনো লেখা হয়নি মার্কেসের কলেরার দিনগুলিতে প্রেমের মতো উপন্যাস, যার বঙ্গীয় নামকরণ হতে পারত ‘উৎসবের দিনগুলিতে গুম-খুন’! এই মার্কেস ছিলেন সাংবাদিক। উঁচু মানের সাহিত্য অথচ বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়; এই অসম্ভবকে তিনিই সম্ভব করেছেন। বিশ্বজোড়া খ্যাতি তাঁর আশ্চর্য ও জাদুকরি কল্পনাশক্তির জন্য। অথচ এক সাক্ষাৎকারে তিনিই বলেন, তাঁর সব রচনার ভিত্তি হলো নিরেট বাস্তব।
সেই বাস্তবের খোঁজ তিনি পেয়েছিলেন তাঁর দাদির মুখে শোনা রূপকথায়। দাদি তাঁকে ছোটবেলায় শুনিয়েছিলেন এক আশ্চর্য সুন্দর কিশোরীর গল্প। সে যখন হাঁটত, কয়েকজন দাসি তার দীর্ঘ সোনালি চুল বয়ে নিয়ে যেত। বাস্তবে পুরোনো এক ভবন ভাঙার কথা শুনে খবরের আঁচ পেয়ে মার্কেস হাজির হলেন সেখানে। এবং তাঁর চোখের সামনেই ঘটল রূপকথায় শোনা সেই গল্পের সত্যায়ন। ভবনের চত্বরের কবরগুলোর একটির কফিন ভাঙতেই নেমে এল সোনালি চুলের ঢল। সাড়ে বাইশ মিটার লম্বা ঝলমলে চুলের নিচে পড়ে আছে কচি কিশোরীর গুটি কতেক হাড়গোড়। ২০০ বছর আগের সেই কবরের মেয়েটিকে নিয়ে মার্কেস লিখলেন অব লাভ অ্যান্ড আদার ডেমনস নামের মন খারাপ করা এক উপন্যাস। মার্কেসের সিয়েরভা মারিয়ার সমবয়সী ফেলানী সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে রক্ত ঝরিয়ে মরে গিয়েছিল বিএসএফের গুলিতে, ইচ্ছা করে গিয়ে দেখি সেখানকার মাটিতে লাল দোপাটি ফুটেছে কি না। এটা সেই দেশ, যেখানে এক বোন ইয়াসমিনের জন্য সাত ভাই জীবন দেয় দিনাজপুরে। এটা সেই দেশ, যেখানে ফুলবাড়ীর জমি বাঁচাতে শহীদ হয় তিন কিশোর। এটা সেই দেশ, যেখানে চাঁদে মানুষ দেখতে পায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মুখ। এটা সেই দেশ, যেখানে এক নিহত কিশোরের বাবা দেশের সবচেয়ে বড় দুর্বৃত্ত পরিবারের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন নিরস্ত্র ডেসপারাডোর মতো। এই দেশে এক বৃদ্ধ জেনারেল বৈশাখ এলে উত্তেজিত হন। বয়সকালে যিনি ১০টি বছর দেশকে বুটের তলায় রেখেছিলেন, জীবনসায়াহ্নে তিনি গণতন্ত্রের জন্য আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে পরিহাস করেন। এটা ট্র্যাজেডি না কমেডি, তা তুলে ধরবে কে? সাহিত্যিক না সাংবাদিক? যে দেশে জাদু আর বাস্তবের মধ্যে ফারাক করা কঠিন, সেই দেশে সাংবাদিক আর কাহিনিকারের মধ্যে পার্থক্য করা দুষ্কর।
যে দেশে অপহরণ থেকে কেউই প্রায় যখন ফেরে না, তখন আশ্চর্যভাবে এক খ্যাতনামা স্ত্রীর স্বামী অপহরণের ৩৫ ঘণ্টা পরে ফিরে আসেন। একের পর এক অপহরণ আর গুম-খুনের কোনো ব্যাখ্যাই যখন মেলে না, তখন কেউ বিশ্বাস করতেই পারে যে ভিনগ্রহবাসীরাই মানুষকে নিয়ে যায়। আর তাদের সঙ্গে যোগাযোগের টেকনোলজি রপ্ত করার কারণেই পুলিশ পেরেছে হারিয়ে যাওয়া আবু বকর সিদ্দিককে ফিরিয়ে আনতে। সাংবাদিকেরা যখন সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডসহ অজস্র রহস্যময় ঘটনার গুমর ফাঁসে ব্যর্থ হন, তখন র‌্যাব প্রচার করে স্বরচিত কাহিনি। এই দেশে রানা প্লাজার গহ্বরে আবিষ্কৃত হয় গ্রিক ভাস্কর্যের মতো সুন্দর এক আলিঙ্গনের ছবি। অথচ কী নারকীয়ভাবেই না তারা মরে যেতে যেতে পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে ছিল। সেই মৃত্যুকূপের অন্ধকার দোজখের বাস্তবতা জানতে শুধু সাংবাদিকের বস্তুনিষ্ঠতা হলে চলে না, তখন দরকার হয় দরদি শিল্পীর গভীর কল্পনাশক্তি। সে রকম কল্পনাপ্রতিভার ছাপ আমাদের সাংবাদিকতার ভাষায় দেখা যায় কি? কল্পনা শব্দটিও অদ্ভুত। যা কল্প বা বানানো নয়, তা-ই কল্পনা। লেখকের কল্পনা তাই সত্যের মতো বিশ্বাস্য হতে হয়। সাংবাদিকের প্রতিবেদনের মধ্যেও তো বেদনা শব্দের রেশ। প্রতি শব্দের সঙ্গে বেদন যোগ হয় বলেই মানুষের দুঃখ-কষ্টের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হয় সাংবাদিককে। আমাদের সাংবাদিকতার মধ্যে বেদনার এই ছাপ কতটা? মার্কেস বিশ্বাস করতেন, উপন্যাস যা পারে, তা সাংবাদিকতাও পারে। একবার সমুদ্রতীরে ভেসে এল জাহাজডুবির এক নাবিক। তাকে নিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিক প্রতিবেদন লিখলেন। তখন যা ছিল প্রতিবেদন, সাহিত্যিক খ্যাতির চূড়ান্তে পৌঁছানোর পর সবাই সেটাকে বলল কী আশ্চর্য এক উপন্যাস! সেন্ট মার্টিনের সমুদ্রসৈকতে ডুবে মরে যাওয়া ছাত্রদের নিয়ে কি আমরা লিখতে পারি ডুবন্ত দেবদূতদের মতো গল্প? কিংবা রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলো নিয়ে লিখতে পারি ‘একটি পূর্বঘোষিত মৃত্যুর দিনপঞ্জি?’
মার্কেস সাংবাদিকতা আর উপন্যাসের মধ্যে কোনো পার্থক্যই দেখেন না। তাঁর ভাষায়, ‘উভয়ের উৎস এক, উপাদান এক, ভাষাও এক। তবে সাংবাদিকতায় একবিন্দু মিথ্যা পুরো প্রতিবেদনকে নষ্ট করতে পারে, আর উপন্যাসে একবিন্দু সত্য পুরো কাহিনিকেই বৈধতা দিতে পারে। সরকারি ভাষ্যে এরকম একবিন্দু মিথ্যার অস্তিত্ব পেলে পুরোটাই মিছা মনে হয়। আবার হুমায়ূন আহমেদের গল্পগুলোকে সত্য মনে হয় বাস্তবতার একবিন্দু তাতে দেখা যায় বলে। যা বহু মানুষকে মুগ্ধ করে, তার মধ্যে সত্যি না থেকে পারে না। এ দেশে অপহরণ, গুম, গরম আর নৈরাজ্যের জীবনে লেখক ও সাংবাদিকেরাই এখন ভরসা। আবার তাঁরা নিজেরাও কম বিপন্ন নন। তাহলেও তাঁদের লেখনী ছাড়া আমাদের জাতীয় জীবনের শতবর্ষের নিঃসঙ্গতার গল্প বলবে কে? সময় যে পেরিয়ে যায়। দুঃসময়ে মূক জনতার কথাকে বধির ক্ষমতার সামনে ছুড়ে দেবে কে? বেদনামেশা প্রতিবেদন আর কল্পনার শক্তিতে ভরপুর কাহিনি প্রকাশের দায় তো লেখক আর সাংবাদিকেরই।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com