Saturday, September 8, 2018

গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিশ্চিতে বড় সুযোগ আগামী নির্বাচন -সিনেট শুনানিতে পরবর্তী মার্কিন দূত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশিদের জন্য গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার বড় সুযোগ। নির্বাচনটি অবাধ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে যাতে জনগণের ইচ্ছার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে। ঢাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মনোনয়ন পাওয়া আর্ল রবার্ট মিলার তার নিয়োগ চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত মার্কিন সিনেটের শুনানিতে এসব কথা বলেন। গত ২৩শে আগস্ট সিনেটের শুনানিতে দেয়া বক্তৃতায় মিলার বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশে অবশ্যই সব দলকে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুষ্ঠু গণতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, বিরোধীদল ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের অবশ্যই মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। পালটা কোনো শাস্তির ভয় ছাড়াই তারা যেন পরিস্থিতির পরিবর্তনে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে চূড়ান্ত নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা আর্ল মিলার বলেন, ঢাকায় দায়িত্ব পালনরত রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব পক্ষের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে চলেছেন।
চূড়ান্তভাবে আমাকে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দেয়া হলে, আমি আমার পূর্বসূরী বার্নিকাটের রেখে যাওয়া প্রশংসনীয় দৃষ্টান্তগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করবো। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রে সাম্প্রতিক পটপরিবর্তনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে জানিয়ে আর্ল মিলার বলেন, বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর সাম্প্রতিক হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার প্রয়াসে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়ার সর্বময় ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে। মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিকে সিনেটের শুনানিতে অংশ নিতে হয়। শুনানির ভিত্তিতেই সিনেট সদস্যরা মনোনীত ব্যক্তি নিয়োগ চূড়ান্ত বা প্রত্যাখ্যান করে থাকে। অবশ্য হোস্ট কান্ট্রির তরফে তাকে (মনোনীত ব্যক্তিকে) গ্রহণে অনাপত্তির (এগ্রিমো) বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়। সিনেটের সবুজ সংকেত পেলেই প্রেসিডেন্ট মনোনীত ব্যক্তির নিয়োগ চূড়ান্ত করেন। সেগুন বাগিচার দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া আল মিলারের গ্রহণে অনাপত্তি সংক্রান্ত নোট ভারবাল এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। সিনেটের গ্রিন সিগনাল পেলেই বিশ্বের আটটি দেশে কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে কাজ করা মিলার তার ঢাকা মিশন শুরু করবেন। সিনেট শুনানিতে অংশ নিয়ে মিলার যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কীভাবে এগিয়ে নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সঙ্কট রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকাকে সর্বাত্মকভাবে সহায়তার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।
ঢাকা এসেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন মিলার: ওদিকে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে রোহিঙ্গা সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন পরবর্তী মার্কিন দূত আর্ল রবার্ট মিলার। বলেন, রোহিঙ্গা সংকটই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বাংলাদেশ নিজেদের সীমান্ত ও হৃদয় উন্মুক্ত করে দিয়েছে। দেশটির জনগণ আন্তরিকভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। সিনেটের নিশ্চয়তা পেলে রাষ্ট্রদূত তার ঢাকা মিশনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেয়ার ঘোষণাও দেন। শুনানিতে দেয়া সূচনা বক্তৃতা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বেও রোহিঙ্গা সঙ্কটসহ বাংলাদেশ পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। বলেন, আমি ঢাকায় যাওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবো। পুঞ্জীভূত ওই সঙ্কটের চটজলদি বা রাতারাতি কোনো সমাধান আসবে না উল্লেখ করে মার্কিন দূত বলেন, আমি মনে করি আগামী বছরই এর সমাধান হয়ে যাবে না। সম্ভবত দুই বা তিন বছরেও এর পুরোপুরি সমাধান হবে না। কাজেই আমাদের তাদের (বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের) পড়াশোনা, জীবিকা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণে জোর দিতে হবে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও সম্মানজনক।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার জন্য তিনি মিয়ানমারের প্রতি আহ্বানও জানান। বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমার মিলিটারি ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা জাতিগত নিধন ও অন্যান্য নির্যাতন করেছে, তাদের অবশ্য আইনের আওতায় নিতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মিলার বলেন, ‘এটি একটি বিচ্ছিন্ন জায়গা। এর ফলে তারা ডাকাতি, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হতে পারে। প্রতিটি নির্যাতিত লোকের জানা জরুরি যে, তারা একা নয় বা তাদের কেউ ভুলে যায়নি। তাদের স্বাধীনতা আমাদের ওপর নির্ভর করছে। আর্ল মিলার আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে কাজ করবো। মিয়ানমারকে চাপ দেবো, যেন রোহিঙ্গারা নিরাপদে, স্বতঃপ্রণোদিত ও সম্মানজনকভাবে ফেরত যেতে পারে। রোহিঙ্গা সংকটে মিলার যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বড় দাতা দেশ উল্লেখ করে বলেন, গত বছরের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য ২০৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে।
বাস্তুচ্যুত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিজ ভূমে নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বা ফোকাস ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে ঢাকার পরবর্তী মার্কিন দূত বলেন, তা নাহলে এরা আইএস ও আল কায়েদার ভিকটিমে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মিলার তার বক্তব্যে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি। বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে অষ্টম ও তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। এটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশ শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের একটি দেশ হবে। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগসূত্র। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করার অবস্থা তৈরি হয়েছে।

ক্ষুব্ধ প্রেমিকার কামড়ে পুরুষাঙ্গ হারিয়ে প্রেমিকের মৃত্যু

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার অভিযোগ আগেই করেছিলেন। এ নিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে মনোমালিন্যও চলছিল। শেষে ফাঁকা বাড়িতে ডেকে এনে প্রেমিকের পুরুষাঙ্গ কামড়ে রক্তাক্ত করে দেন ক্ষুব্ধ প্রেমিকা।
ঘটনায় প্রেমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত প্রেমিকের নাম হাবিবুর রহমান (৩৫)। বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা এলাকার গাড়া দাইড়পাড়া গ্রামের মঙ্গলবার বিকেলের ঘটনা। এদিন রহমান মাছুরা নামে এক মহিলার সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত ছিলেন প্রেমিক হাবিবুর রহমান। প্রেমিকের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতেই প্রেমিকের পুরুষাঙ্গে কামড় বসিয়ে দেন মাছুরা। যন্ত্রণায় চিত্কার শুরু করলে পাড়া প্রতিবেশীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ ও স্থানীয়দের কথায়, আল্লারদর্গার মৃত সাইদ মাস্টারের ছেলে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ওই এলাকার গাড়া দাইড়পাড়ার স্বামী পরিত্যক্তা মাছুরা খাতুনের (৩২) বেশ কয়েকবছর ধরেই সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করবেন বলে মাছুরাকে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ালে রহমান প্রতিশোধের সুযোগ খোঁজে। বোনের বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রেমিককে উচিত শিক্ষা দেয় ক্ষুব্ধ প্রেমিকা। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার শাহ দারা খান জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মাছুরা খাতুনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল হাবিবুরের। মাছুরাকে বিয়ে করতে অনিচ্ছার কথা জানালে ক্ষুব্ধ প্রেমিকা এই নিষ্ঠুর আচরণ করে বসেন। ঘটনায় অভিযুক্ত মাছুরা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সূত্র: এই সময়

প্রধানমন্ত্রীকে অরুন্ধতি রায় ও নোয়াম চমস্কির অনুরোধ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদেরকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছি, এখন তোমরা এর সংরক্ষণ করো।’ বঙ্গবন্ধুর এ বাণীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে নন্দিত আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে মুক্তি দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহবান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী বিখ্যাত দার্শনিক ও বিজ্ঞানী নোয়াম চমস্কি, বুকার পুরস্কারজয়ী সাহিত্যিক অরুন্ধতি রায়সহ বিশ্বের প্রভাবশালী পাঁচ ব্যক্তিত্ব।
এক বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর পিতার বক্তব্যের প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করছি। কেননা স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা মানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংরক্ষণ করা। এ বিবেচনায় হলেও শহিদুল আলমকে মুক্তি দিন।’ শুক্রবার এ বিবৃতিটি লেখকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের রাইটার্স ইন প্রিজন কমিটির চেয়ারম্যান সলিল ত্রিপতি তার ভেরিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন। নোয়াম চমস্কি ও অরুন্ধতি রায় ছাড়াও এতে স্বাক্ষর করেছেন কানাডার মানবাধিকারকর্মী নাওমি ক্লেইন, ভারতীয় ইতিহাসবিদ বিজয় প্রসাদ ও মার্কিন মানবাধিকারকর্মী ইভ এনস্লার।
গত ৫ই আগস্ট দেয়া ওই বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে শহিদুল আলমের মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। এক মাস আগে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। বিশ্বজুড়ে শহিদুলের মুক্তির দাবি উঠলেও বাংলাদেশের সরকার অবিচল। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তরুণদের আন্দোলনের সময় তার ভূমিকার জন্য ৫৭ ধারায় আইসিটি আইনে মামলা দায়ের করা হয়। একসঙ্গে আটক হওয়া অন্যরা জামিন পেলেও তিনি মুক্তি পাননি। বারবার তার জামিনের শুনানি স্থগিত করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্র বিদ্বেষমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ আনতে পারে।’
বিবৃতিতে শহিদুলের আটকের ঘটনা উল্লেখ করে তারা আরো বলেন,  নন্দিত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে বিতর্কিত ৫৭ ধারায় আইসিটি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। গত ৫ই আগস্ট তাকে ধানমন্ডির বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে যায়। পরদিন পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ৬ই আগস্ট তাকে ঢাকা জজ কোর্টে তুলে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে তাকে ৭ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। কোর্টে শহিদুল পুলিশ কাস্টডিতে তার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেন। তিনি উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। ৭ দিনের রিমান্ড শেষে ১৩ই আগস্ট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়।

৭৭ সনের সামরিক অভ্যুত্থানের অজানা কাহিনী by হাজিমে ইশিই

একটি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছিল ঢাকা। আতঙ্ক ছড়িয়েছিল জাপানেও। ঘটনা ঘটিয়েছিল জাপানি লাল ফৌজ। যাকে বলা হয় রেড আর্মি। জাপানের উগ্রপন্থি একটি গোষ্ঠী। ১৯৭৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর। ১৩৭ জন যাত্রী ও ১৪ জন ক্রু নিয়ে জাপান এয়ারলাইনসের একটি বিমান জঙ্গিরা ছিনতাই করে ঢাকায় জরুরি অবতরণ করে। চারদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।
ঘটনার নেপথ্যে ছিল রেড আর্মির ৯ সদস্যের মুক্তি ও ৬০ লাখ মার্কিন ডলার আদায়। ঘটনা সুরাহায় ঢাকায় এসেছিলেন সে সময়ের জাপান সরকারের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাজিমে ইশিই। তাঁর নেতৃত্বে সমঝোতা বৈঠকের সময়ই বাংলাদেশের বিমানবহিনীতে ঘটে নাটকীয় এক অভূত্থান।
হাজিমে ইশিই খুব কাছ থেকে সেই অভূত্থানের নানা ঘটনা অবলোকন করেছেন। মানবজমিন অনলাইন পাঠকদের জন্য সামরিক অভূত্থানের অজানা কাহিনী তুলে ধরা হলো হাজিমে ইশিই’র বয়ানে-
হঠাৎ গুলির আওয়াজ শোনা গেল। কী হয়েছে? তৎক্ষণাৎ কিছুই বুঝতে পারিনি। এটাই ছিল সেই সামরিক অভ্যুত্থানের সূচনার সংকেত, যার ফলে জাপান এয়ারলাইনসের বিমান ছিনতাই ঘটনার গতি-প্রকৃতি একেবারে অন্যদিকে মোড় নিতে বাধ্য হয়।
ভোর পাঁচটা। কয়েক দিন ধরে অব্যাহত উত্তেজনাপূর্ণ ও ক্লান্তিকর ঘটনাবলীর দরুন ঢাকা বিমানবন্দর যেন মোটা চাদরের নিচে চাপা পড়েছে। সেই ভারী ঢাকনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে ফেলার মতো করে বাজুকা কামান ও মেশিনগানের শব্দ প্রতিধ্বনিত হতে থাকে বিমানবন্দরের উপরের আকাশে। তখন আমরা সরকারি প্রতিনিধিদলের সব সদস্য না ঘুমিয়ে জঙ্গিদের মোকাবিলার পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা করছিলাম। কানফাটা আওয়াজ শুনে প্রথমে আদৌ বুঝতে পারিনি সেটা কিসের শব্দ। আর সেই শব্দ মনে হয় আস্তে আস্তে বিমানবন্দরের কাছে, অর্থাৎ আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ভয় ও অস্বস্তিতে আমাদের মন ভরে গেল। এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদসহ বাংলাদেশি সামরিক অফিসারদের কাছ থেকে কিছু জানা যায়নি। যেন কিছুই হয়নি, এমন মুখ করে তাঁরা বরাবরের মতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সামরিক অভ্যুত্থানের অবসানের পর আমরা জানতে পেরেছিলাম, ঢাকা বিমানবন্দর সেই সময় প্রায় বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাচ্ছিল। বিদ্রোহী সৈন্যরা নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের নিচে টার্মিনাল বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়েছিল। তা সত্ত্বেও এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ শান্ত মনোভাব বজায় রেখেছিলেন। তিনি সম্ভবত নতুন পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াকিবহাল ছিলেন, কিন্তু আমাদের কাছে সেটা গোপন রাখতে চেয়েছেন।
এক সময় বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ হঠাৎ আমাকে বললেন, ‘মি. ইশিই, আমি গিয়ে একটু ঘুমাবো। বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ১০০ ঘণ্টার বেশি সময় চলে গেছে। এর মধ্যে আমার বিশ্রাম নেয়ার কোনো সুযোগ হয়নি। আর পারছি না। দুই ঘণ্টা ঘুমিয়ে আসি, কী বলেন?’
তাঁর কথার ভঙ্গিতে অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। আমি সরলভাবে বললাম, ‘অবশ্যই। আপনার বিশ্রাম নেয়া দরকার। তবে বিমানটি চলে যাবে না তো?’
‘না। আপনাকে আগেও বলেছি, আমাদের অনেক গাড়ি দিয়ে রানওয়েতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। ওরা কখনো উড়ে যেতে পারবে না। তাছাড়া জঙ্গিরা তাদের দাবি করা লোকজন ও টাকা পেয়ে স্বস্তিবোধ করছে। তারাও এখন একটু বিশ্রাম নিতে চাইবে। দুই পক্ষের উচিত হবে খানিকক্ষণ মাথা ঠা-া করে আবার আলোচনা শুরু করা। আপনি তো জানেন, আমাদের পাশে সব সময় আল্লাহ থাকেন।’
তবে যতটুকু পারেন তাড়াতাড়ি ফিরে আসুন, আমার এমন মিনতিতে হাসিমুখে সায় দিয়ে মি. মাহমুদ নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে বেরিয়ে পড়েন। এটাই ছিল তাঁকে সেখানে প্রত্যক্ষ করার শেষ সুযোগ। তিনি আর নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ফিরে আসেননি।
আবার কানফাটা গুলির আওয়াজ হলো। বিমানবন্দরের মূল ভবনের ভেতরে গুলি বিনিময় শুরু হয়ে গেল। পরে জানতে পারলাম যে, বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর মুখে এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ বিদ্রোহী সৈন্যদের হাতে প্রায় ধরা পড়েছিলেন, তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার আমার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের কক্ষে ছিলেন। কিন্তু আমার অজান্তেই তিনি অন্যান্য সামরিক অফিসারের সঙ্গে সেখান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন।
ব্যাপারটা বুঝতে না পেরে শুধু ভয় বাড়তে থাকে। ভোর সাড়ে পাঁচটা। এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদের একজন সহযোগী মাইক্রোফোন তুলে জঙ্গিদের ডাক দিলেন। তিনি গ্রুপ ক্যাপ্টেন আনসার চৌধুরী। দীর্ঘদেহী ও সুদর্শন তরুণ অফিসার। তাঁর মিলিটারিসুলভ চেহারা আমার বেশ ভালো লাগতো। তবে তিনি আমাকে অবাক করে দিয়ে জঙ্গিদের জানান, ‘সামান্য সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আপনাদের বিমানে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে আপনাদের বিমান থেকে ৩০০ মিটারের পরিধির মধ্যে যদি নিয়মিত বাহিনী-বহির্ভূত কোনো সৈন্য ঢুকে পড়ে, সে ক্ষেত্রে তাদের গুলি করে হত্যা করতে পারেন।’
কথাটা শুনে আমার মতো জঙ্গিরাও রীতিমতো বিস্মিত হয়ে গিয়েছিল। কী উত্তর দেবে, বুঝতে না পেরে তারা কেবল গর্জনের মতো শব্দ করতে থাকে। তারপর তরুণ অফিসারটি চিৎকার করে বলেন, ‘তাদের গুলি করে হত্যা করতে পারেন!’
‘আপনি কি সত্যি সত্যিই বলছেন,’ জানতে চাইলো জঙ্গিরা।
‘হ্যাঁ, সত্যিই। আপনাদের নিজেদের নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।’
তারপর আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে মি.  চৌধুরী বললেন, ‘স্যার সামান্য অভ্যন্তরীণ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনাদের কোনো ক্ষতি হবে না।’
এ কথা বলে তিনি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে বেরিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি কখনো ‘অভ্যুত্থান’ কথাটা বলেননি। আমরা পরে জানতে পারলাম, বিমানবন্দর ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় বিদ্রোহী সেনাদের গুলিতে তিনি নিহত হন।
পরিস্থিতি এমন উত্তেজনাপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও আমরা জাপানিরা বুঝতে পারিনি যে, একই ভবনের মধ্যে হত্যাকা- চলছে। কারণ, জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য আমাদের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের বাইরে যাওয়া সম্ভব ছিল না। রাত পার হয়ে সকাল হলে সবকিছু যখন পরিষ্কার দেখা যেতে শুরু করে, তখন প্রথম আমরা জানতে পেরেছিলাম পরিস্থিতির ভয়াবহতা।

এবার সিন্ডিকেট সৌদি আরবে by রোকনুজ্জামান পিয়াস

মালয়েশিয়ার পর এবার জনশক্তি প্রেরণে নতুন সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার সৌদি আরবে। হাতেগোনা কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির সমন্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘ড্রপ বক্স’ নামের এই সিন্ডিকেট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই পদ্ধতি কার্যকর হলে দেশটিতে কর্মী প্রেরণে জিম্মি হয়ে পড়বে প্রায় সহস্রাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি। বাড়বে জটিলতা। ইতিপূর্বে মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট নিয়ে এজেন্সি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল।
গত ৩১শে আগস্ট সেই সিন্ডিকেট  ভেঙে দিয়েছে মালয়েশিয়ার নতুন সরকার। কিন্তু সপ্তাহ না পেরোতেই সৌদি আরবের এই নতুন সিন্ডিকেটের গুঞ্জন আবারো অস্বস্তিতে ফেলেছে সংশ্লিষ্টদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে সিন্ডিকেট চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। জানা গেছে, ২০-২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে এই ‘ড্রপ বক্স’ সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের বিনিময়ে সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে নির্দিষ্ট কিছু এজেন্সি। তবে ড্রপ বক্সের কর্ণধার বলছেন, এটি সৌদি দূতাবাসের সিদ্ধান্ত। তারা তাদের সুবিধার্থে নতুন এই পদ্ধতি চালু করতে চাচ্ছে। 
সূত্র জানায় লাইসেন্সধারী প্রায় ১২০০ রিক্রুটিং এজেন্সির প্রায় প্রতেকেই সৌদি আরবে কর্মী পাঠাতে পারে। এক্ষেত্রে সৌদি দূতাবাসের সত্যায়িত চাহিদাপত্রের বিপরীতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কর্মী প্রেরণের নিয়োগানুমতি সংগ্রহ করে। কর্মীর ভিসা সংগ্রহের জন্য ঢাকার সৌদি দূতাবাসে প্রত্যেক রিক্রুটিং এজেন্সি প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রসহ পাসপোর্ট স্ব-স্ব উদ্যোগে জমা দেয়।
বর্তমানে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সৌদি দূতাবাসের দেয়া গোপন ইন্টারনেট পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে প্রত্যেক কর্মীর জন্য ভিসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ভিসা ফি যেমন, ইনজাজ নেট ফি ও ওয়েবসাইটে মেডিকেল স্ট্যাটাস আপডেট ফি ইত্যাদি অনলাইনে পরিশোধ করা হয়। অতঃপর অনলাইনে ওই কর্মীর একটি বারকোড পাওয়া যায়। বারকোডটি কর্মী প্রেরণকারী এজেন্সি, সৌদি আরবের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, সেদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি মন্ত্রণালয়ের বাইরে কেউ জানে না।
কর্মীর নাম, পাসপোর্ট নাম্বার, কর্মীর বারকোড, ভিসা নাম্বার, মালিকের নাম, মালিকের ঠিকানা, মালিকের ফোন নাম্বার ও কর্মীর কর্মস্থল, কর্মীর পেশা ইত্যাদি প্রয়োজনীয় ডাটা সম্বলিত ভিসা আবেদন ফরম সৌদি দূতাবাসে জমা প্রদান করা হয়। যা একটি রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য। ভিসা আবেদন পত্রের সঙ্গে এনজাজ ডকুমেন্ট, এমপ্লয়মেন্ট এগ্রিমেন্ট, কর্মীর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়পত্রসহ দূতাবাসের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়। এরপর ভিসা আবেদনপত্র জমা করার পর সকল তথ্যাদি যাচাই করে সঠিক বলে প্রমাণিত হলে পাসপোর্টে ভিসা প্রদান করে। ভিসাসহ ওই পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি সংগ্রহ করে। এই প্রক্রিয়া সবক’টি এজেন্সি স্বাধীনভাবে কর্মী নিতে পারে। কিন্তু নতুন গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ১২০০ এজেন্সিকে সিন্ডিকেটের অন্তর্ভুক্ত গুটিকয় এজেন্সির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। 
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে যোগসাজশে গ্রিন ল্যান্ড ওভারসিজ মালিক মো. আবদুল হাই এর নেতৃত্বে ২০-২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির সমন্বয়ে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠছে। তাদের মাধ্যমে সৌদির ভিসা সংগ্রহের এই পদ্ধতিকে তারা ‘ড্রপ বক্স’ বলছে।
সূত্র আরো জানিয়েছে, ড্রপ বক্স পদ্ধতি চালু করার জন্য ইতিমধ্যে সৌদি অ্যাম্বাসির সঙ্গে তাদের কয়েকদফা বৈঠক হয়েছে। আবদুল হাইয়ের অফিসেও বিভিন্ন সময়ে এই বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। গঠন করা হয়েছে একটি কমিটি। বৈঠকে ড্রপ বক্সের সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে আবদুল হাই নিজেই। ড্রপ বক্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওই ২০-২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি সৌদি অ্যাম্বাসিতে ভিসা জমা দেয়ার চূড়ান্ত তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অফিস পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি পররাষ্ট্র বা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানে না। তবে মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় থেকেই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।  
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ড্রপ বক্সের নামে নতুন এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সৌদি আরবে কর্মী প্রেরণ করা হলে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হবে। তারা বলছেন, যেসকল এজেন্সি ড্রপ বক্সের তালিকাভুক্ত থাকবে সৌদি নিয়োগকর্তা শুধু তাদেরকেই চিনবে। নিয়োগকর্তা মনে করবে, বাংলাদেশ থেকে এরাই শুধু কর্মী পাঠাবে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই পদ্ধতির আওতায় নির্ধারিত এজেন্সি তাদের ভিসা সংগ্রহের জন্য পাসপোর্টসহ আবেদনপত্র সৌদি অ্যাম্বাসিতে জমা দিলে ব্যবসায়িক গোপনীয়তা হারাবে। একইসঙ্গে অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সির নিয়োগকর্তার তথ্যাদিও জানবে তারা। এতে করে ড্রপ বক্সের আওতাধীন এই সিন্ডিকেট একচেটিয়া ব্যবসা করবে। বাকি এজেন্সিগুলো বঞ্চিত হবে। নিজেদের মধ্যে অন্তঃকলহের কারণে ভিসা সংক্রান্ত সকল ধরনের মূল কাগজপত্র জমাদানের পরেও এটা নকল বা জাল বলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে ব্লক করে দেয়ার প্ররোচনা তৈরি হবে।
এ ব্যাপারে গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজের মালিক আবদুল হাই বলেন, এরকম একটি পদ্ধতির কথা চিন্তা করছে সৌদি আরবের দূতাবাস। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক এ ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। তবে এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত কিছু হয়নি। চূড়ান্ত হতে অনেক সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। আবদুল হাই বলেন, ড্রপ বক্স নামের এই পদ্ধতিকে সিন্ডিকেট বলা যাবে না।
এটা মূলত: তাদের সার্ভিস সেন্টার। বলেন, বর্তমানে যে পদ্ধতি চালু রয়েছে তাতে অ্যাম্বাসিতে ভোগান্তি হয়। প্রায় ১২০০ এজেন্সি সেখানে ভিড় করে। এছাড়া কূটনৈতিক জোনে তাদের অ্যাম্বাসি স্থানান্তর হলে ভোগান্তি আরো বাড়বে। এসব বিষয় বিবেচনা করে তারা (সৌদি অ্যাম্বাসি) চাচ্ছে, সার্ভিস সেন্টারের  মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং করতে। এক্ষেত্রে ড্রপ বক্সের বাইরে থাকা এজেন্সিগুলো সমস্যায় পড়বে কিনা জানতে চাইলে আবদুল হাই বলেন, তাদের সুবিধার্থেই এই পদ্ধতির কথা ভাবছে সংশ্লিষ্টরা। তিনি এই পদ্ধতির নেতৃত্বে কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমাদের বিষয়টি তদারকি করার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) চেয়ারম্যান সাকিরুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট নিয়ে দীর্ঘদিন কথা হয়েছে। অবশেষে সেই সিন্ডিকেটের নানা অনিয়ম ধরা পড়েছে। এখন যদি সৌদিতে একই ধরনের সিন্ডিকেট হয় তাহলে আবারও নানা সমস্যার মুখে পড়বে দেশটির অভিবাসন খাত। সবচেয়ে বড় বিষয় অভিবাসন ব্যয় বাড়বে। সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়েছে পড়বে অনেকে। সেক্ষেত্রে দেশটিতে কর্মী প্রেরণে বড় ধরনের হুমকির সম্মুখীন হবে। এই ধরনের সিন্ডিকেট যেনো গড়ে ওঠতে না পারে সেদিকে সরকারের নজর রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
বায়রার সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন স্বপন বলেন, এমন একটি পদ্ধতির কথা আমরা শুনেছি। এই ড্রপ বক্স পদ্ধতিতে ৩০-৩৫টি এজেন্সি থাকবে বলে জানতে পেরেছি। ড্রপ বক্স পদ্ধতি চালু হলে অন্য এজেন্সিগুলো তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএমইটির মহাপরিচালক সেলিম রেজা বলেন, নতুন এই পদ্ধতির ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। কেউ জানায়নি।

ইসরায়েলকে পস্তাতে হবে: সহায়তা না পেয়ে সিরীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর ক্ষোভ

সিরিয়ায় যুদ্ধরত অন্তত ১২টি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে গোপনে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দিয়েছিল ইসরায়েল। সিরিয়ায় সক্রিয় থাকা ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে সীমান্ত থেকে দূরে রাখতে ইসরায়েলের এই গোপন প্রচেষ্টা। কিন্তু রাশিয়ার সমর্থনে অগ্রসরমান আসাদ বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা না করায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ এতদিন ধরে ইসরায়েলি সহায়তা পেয়ে আসা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার কারণে বিদ্রোহীদের সরকারি বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়ার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে, ইসরায়েলের মানবতার প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা নেই। তার মূল লক্ষ্য, তার নিজের স্বার্থ। সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আপোষ করতে বিদ্রোহীরা বাধ্য হয়েছে। আর এর ধারাবাহিকতায় নিকট ভবিষ্যতে ইসরায়েলকেই ভুগতে হবে। দক্ষিণ সিরিয়ার হামলার বিষয়ে নিষ্ক্রিয় থাকা ইসরায়েল তার সিদ্ধান্তের কারণে পস্তাবে। মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসি জানিয়েছে, গত জুন মাসে ইসারায়েল বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। সংশ্লিষ্ট ১২টি সশস্ত্র গোষ্ঠীর দুই ডজন কমান্ডার ও উচ্চপদস্থ নেতারা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার এই প্রক্রিয়া চলেছে গত কয়েক বছর ধরে। ইসরায়েলের কাছ থেকে অ্যাসাল্ট রাইফেল, মেশিন গান, মর্টার লঞ্চার এবং যানবাহন পেয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। এসব সরবরাহ করা হয়েছে গোলান মালভূমিতে অবস্থিত সিরিয়া-ইসরায়েল সীমান্তের তিনটি চৌকি দিয়ে। ওই একই সীমান্ত দিয়ে ইসরায়েল এতদিন দক্ষিণ সিরিয়ায় যুদ্ধপীড়িত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়ে এসেছে। অস্ত্রের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের বেতন বাবদ অর্থ পরিশোধ করেছে ইসরায়েল। এসব যোদ্ধারা মাসে ৭৫ ডলার করে পেত। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সিরিয়ার বিদ্রোহী এসব গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র কেনার জন্য আলাদা বরাদ্দও দিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সহায়তা পেতে থাকা গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রত্যাশা করেছিল, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের বাহিনী যদি দক্ষিণ সিরিয়ায় হামলা চালায় তাহলে ইসরায়েল মধ্যস্ততার জন্য এগিয়ে আসবে। কিন্তু রাশিয়ার সহায়তায় বাসার বাহিনী যখন সত্যি দক্ষিণ সিরিয়ায় হামলা চালায়, তখন তাদের হতাশ করে দিয়ে ইসরায়েল নীরবতা বজায় রেখেছে। ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এককালে ইসরায়েলের সহায়তা পাওয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো।  ফোরসান আল জোলান নামের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোদ্ধা মন্তব্য করেছেন, ‘ইসরায়েলের বিষয়ে এই শিক্ষা আমরা কোনও দিন ভুলব না। ইসরায়েলের মানুষের প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা নেই। মানবতার প্রতি দায়বদ্ধতা নেই।  ইসরায়েল শুধু নিজের স্বার্থ দেখে।’
ফরেন পলিসি লিখেছে, ইসরায়েল এতদিন এই সমঝোতা গোপন রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া ও দক্ষিণ সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের রক্ষায় পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রেক্ষিতে বিদ্রোহীরা এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। আগে কয়েকটি প্রকাশনায় ইসরায়েলের এমন সম্পৃক্তরা বিষয়ে অল্প বিস্তর তথ্য উঠে আসলেও, এবারই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা গেল। ক্ষুব্ধ বিদ্রোহী যোদ্ধারা ফরেন পলিসিকে ইসরায়েলি সম্পৃক্তরা বিষয়ে তথ্য দিতে রাজি হয়েছে। তবে তাদের শর্ত, নাম-পরিচয় গোপন রাখতে হবে।
ইসরায়েল সিরিয়া হাজারখানেক সদস্যকে সহায়তা দিয়েছে। সিরিয়া যুদ্ধে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্কে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর চেয়ে ঢের বেশি যোদ্ধাকে সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু ফরেন পলিসির মতে, সংখ্যায় কম হলেও বিদ্রোহীদের সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইসরায়েলের এমন সম্পৃক্ততা যেখানে ছিল সেখানে যুদ্ধ পরবর্তী সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের প্রশ্নে ইসরায়েলের ভূমিকার গুরুত্ব নতুন করে হিসেব করার দরকার হয়ে পড়েছে। সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীকে সহায়তা করা ইরানের দেশটি থেকে চলে যাওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। ফলে ইসরায়েল-ইরান দ্বন্দ্বের নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে সিরিয়া। তাছাড়া, সিরিয়া যুদ্ধে ইসরায়েলের সম্পৃক্ততার প্রকৃত চিত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন ধরে মূলত ইরানি স্থাপনায় ইসরায়েলি বিমান হামলার কথাই জানা গেছে। ইসরায়েল যে ইরানকে ঠেকাতে সিরিয়ায় মাঠ পর্যায়ের যোদ্ধাদের ব্যবহার করছে তা আগে স্পষ্টভাবে জানা ছিল না।
ইসরায়েল ২০১৩ সাল থেকে ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মির’ সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়া শুরু করে। প্রথমে তাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রস্তুত করা এম-১৬ অ্যাসাল্ট রাইফেল দেওয়া হতো। পরে সহায়তার উৎস গোপন রাখতে ইসরায়েল অন্য পরিকল্পনা করে। তারা লেবাননের হেজবুল্লাহর জন্য পাঠানো ইরানের একটি অস্ত্রের চালান আটক করেছিল ২০০৯ সালে। সেই চালানে আটক ইরানি অস্ত্র সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সরবরাহ শুরু করেছিল ইসরায়েল।
প্রথম দিকে শতাধিক যোদ্ধাকে সহায়তা করলেও পরের দিকে ইসরায়েলের সিরিয়া নীতিতে আসে বিশাল পরিবর্তন। সিরিয়ায় সক্রিয় ইরান সমর্থিত যোদ্ধাদের ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে দেশটি ক্রেমলিন ও হোয়াইট হাউজের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু সেই দুই জায়গা থেকে আশানুরূপ কোনও সাড়া না পেয়ে ইসরায়েল আরও বেশি আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করে। দেশটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর শখানেক সদস্যের  বদলে এরপর গোষ্ঠীগুলোর হাজারখানেক সদস্যেকে সহায়তা দেওয়া শুরু করে। এর ধারাবাহিকতাতেই সিরিয়ার মধ্যে ইরানি অস্ত্রের চালান ও ইরানি ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো শুরু করে দেশটি।
সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সিরিয়াতে সক্রিয় অন্যন্য শক্তিগুলোর মতো সাংগঠনিকভাবে হস্তক্ষেপ করেনি ইসরায়েল। তারা বরং বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে। এসব বাহিনীগুলোর মধ্যে অন্তত দুইটির নাম প্রকাশ্যে চলে এসেছে। একটি হলো কুনেইত্রার যুবাতা আল খাশাব শহরের ফোরসান আল জোলান এবং অপরটি হচ্ছে বেইত জিন শহরের লিওয়া ওমর বিন আল খাত্তাব। সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রধানরা মূলত ফোনে ইসরায়েলি সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। কখনও কখনও গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি দেখাও হয়েছে। কমান্ডাররা যখন গোষ্ঠী ত্যাগ করেছে বা স্থান পরিবর্তন করেছে তখন ইসরায়েলি সহায়তাও তাদের অনুসরণ করেছে। তবে আন্তঃকোন্দলের ক্ষেত্রে স্থগিত রাখা হয়েছিল ইসরায়েলি সহায়তা।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের সবচেয়ে প্রিয় ছিল ফোরসান আল জোলান। ইসরায়েল তাদের কাছে অস্ত্র পাঠাত অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর কাছে সরবরাহ করার জন্য। ইসরায়েলের অর্থ সহায়তাও বেশি পেয়েছে গোষ্ঠীটি। তার যখন ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিল তখন বিমান হামলা করে সহায়তা দিয়েছে ইসরায়েল। কিন্তু ইসরায়েল সমর্থিত অন্যান্য বাহিনীগুলো যখন আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তখন তারা ইসরায়েলের কাছ থেকে এমন বিমান হামলার সহায়তা পায়নি।
এক পর্যায়ে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তা দেওয়াও শুরু করে। সিরিয়ার অনেক অসুস্থ নাগরিককে চিকিৎসা দেওয়া ইসরায়েলি হাসপাতালে। প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ভাবের যে কার্যক্রম ইসরায়েল শুরু করেছিল তা আরবিতে প্রচারও করেছিল ইসরায়েল।  স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ সিরিয়ার সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা ইসরায়েলকে বন্ধু হিসেবে দেখ শুরু করে। কিন্তু হিসেব পাল্টে যায় যখন রাশিয়ার সমর্থনে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ায় বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালায়। ইসরায়েল তার সমর্থনে কাজ করা গোষ্ঠীগুলোকে রক্ষার জন্য এগিয়ে যায়নি। এ প্রসঙ্গেই ফোরসান আল জোলানের একজন যোদ্ধা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েল কেন সরে গেল? এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা দরকার রাশিয়ার সঙ্গে হওয়া তার সমঝোতার প্রসঙ্গটি। সিরিয়া যুদ্ধে আসাদ বাহিনীর প্রতি অব্যাহত রুশ সহায়তার প্রেক্ষিতে ইসরায়েল গত জুলাই মাসে রাশিয়ার সঙ্গে এক সমঝোতায় উপনীত হয়। ওই সমঝোতার কারণে ইসরায়েলের কাছে বিদ্রোহীদের সহায়তা করার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়। রাশিয়া ও ইসরায়েল একমত হয় যে আসাদ বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ার এলাকাগুলো পুনর্দখল করবে, যাতে ইসরায়েল বাধা দেবে না এবং বদলে রাশিয়া ইরান সমর্থিত বাহিনীগুলোকে ইসরায়েলের সীমান্ত থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে থাকতে বাধ্য করবে।
দক্ষিণ সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর হামলা শুরু হলে স্থানীয়রা আশা করেছিল, ইসরায়েল তাদের প্রতিরোধে সহায়তা করবে। কিন্তু ইসরায়েল তা করেনি। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করা বাহিনীগুলোর কমান্ডারদের অনেকে ইসরায়েলের কাছ রাজনৈতিক আশ্রয় চায়। ইসরায়েল মাত্র কয়েকজন কমান্ডার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আশ্রয় দেয়। কিন্তু ফিরিয়ে দেওয়া হয় বাকিদের। এদের কেউ কেউ পরবর্তীতে ইসরায়েলি সংশ্লিষ্টতার জন্য সিরীয় বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। বাকিরা নির্যাতন থেকে বাঁচতে আসাদ সমর্থিত বাহিনীতে যোগ দেন।
নিজেকে আবু খালেদ নামের পরিচয় দিতে সম্মত হওয়া পশ্চিম দারার একজন নেতা বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সহায়তাপূর্ণ সম্পর্ক রাখার ভুল এখন তারা বুঝতে পারছেন। তার ভাষ্য, ‘বিশ্বাস করুন, দক্ষিণ সিরিয়ার বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করার জন্য ইসরায়েল একদিন অনুতাপ করতে বাধ্য হবে। পার্শ্ববর্তী শহরেগুলোর বাসিন্দারাসহ আমরা সবাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও আসাদ বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু এই সমঝোতার কারণেই নিকট ভবিষ্যতে ইসরায়েলকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।’
ইসরায়েলের সহায়তা পাওয়া বিদ্রোহীদের একাংশ
ইসরায়েলের সহায়তা পাওয়া বিদ্রোহীদের একাংশ

ইভিএম প্রকল্পে বিলাসী কেনাকাটা by সিরাজুস সালেকিন

নির্বাচন কমিশনের ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্পে কেনাকাটায় বিলাসিতার অভিযোগ উঠেছে। নতুন ইভিএম প্রস্তুতে কমিটি হলেও মূল্য নির্ধারণে কোনো কমিটি হয়নি। প্রকল্পে খরচের ক্ষেত্রে বাজার যাচাই করা হয়নি। কেনাকাটায় বাজার দরের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মূল্যে আসবাবপত্র  ক্রয় করা হচ্ছে।
সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রায় ৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার এ প্রকল্প প্রস্তাব করেছে ইসি। ইসির এমন কার্যক্রমকে বিলাসিতা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ‘নির্বাচনব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে দেড় লাখ ইভিএম ক্রয়ের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত মাসে পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) প্রস্তাবের ওপর বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়। সেখানে যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ সামগ্রিক কেনাকাটার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়।
পরবর্তীতে ডিপিপি প্রস্তুত করে পিইসিতে জমা দেয় ইসি। নির্বাচন কমিশনের জমা দেয়া ডিপিপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,  প্রকল্পের আওতায় ইভিএম ছাড়াও আনুষঙ্গিক আসবাবপত্র কেনা হচ্ছে উচ্চমূল্যে। নতুন ইভিএমের প্রতি ইউনিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। যা পূর্বের ইভিএমের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। আসবাবপত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রেও বাজার দর অনুসরণ করা হয়নি। আসবাবপত্রের যে মূল্য তালিকা দেয়া হয়েছে তাও কয়েক গুণ বেশি।
প্রকল্পে একটি নরমাল চেয়ার ১০ হাজার টাকা, এক্সিকিউটিভ চেয়ার ৪০ হাজার, এক্সিকিউটিভ টেবিল ৮০ হাজার, সাইড টেবিল ১৫ হাজার, ড্রেসিং টেবিল ১৫ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরকম প্রায় ২০ ধরনের আসবাবপত্র ক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে উচ্চমূল্যে। রাজধানীর পান্থপথে বেশ কিছু ফার্নিচারের শো-রুমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক্সিকিউটিভ চেয়ারের বিভিন্ন ধরন আছে। শো-রুম গুলোতে সাধারণ চেয়ারের মূল্য এক থেকে তিন হাজারের মধ্যে। আর এক্সিকিউটিভ চেয়ারের মূল্য দশ থেকে বিশ হাজারের মধ্যে। দেশের নামকরা ফার্নিচারের শো-রুম হাতিলে ঘুরে ১৮ হাজার টাকার ওপর কোনো এক্সিকিউটিভ চেয়ার পাওয়া যায়নি। এক্সিকিউটিভ টেবিলের মূল্য সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৫ হাজার টাকার ওপরে কোনো সাইড টেবিল ফার্নিচারের শো-রুমে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম মানুষের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করে। এটাকে অর্থের অপচয় এবং একই সঙ্গে বিলাসিতা বলা যেতে পারে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পিইসির মূল্যায়ন কমিটির মতামতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হয়েছে কিনা সে সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এর জবাবে ডিপিপিতে বলা হয়েছে, এ প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নের পূর্বে কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা প্রাক-বিনিয়োগ সমীক্ষা করা হয়নি।
তবে অত্যাধুনিক ও নির্ভরযোগ্য ইভিএম প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও আইটি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীকে উপদেষ্টা করে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। এ কারিগরি কমিটির পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) নতুন কনফিগারেশনের উন্নতমানের ইভিএম প্রস্তুত করে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রতি ইউনিট ইভিএমের দাম পড়ছে প্রায় দুই লাখ টাকা। যা আগের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ বেশি। এর আগে ড. শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন প্রথমবার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে। প্রথম পর্যায়ে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ১১ হাজার ৫৫৬ টাকা দরে ১৩০ ইউনিট ইভিএম সংগ্রহ করে ওই কমিশন। দ্বিতীয় ধাপে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩২ হাজার ৫৪৭ টাকা দরে ৪০০টি ও তৃতীয় পর্যায়ে মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) থেকে ৪৬ হাজার ৫০১ টাকা দরে ৭০০টি সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৩০ ইউনিট কিনেছিল ড. হুদা কমিশন।
জানা গেছে, ইসির এ প্রকল্পে ৬টি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। এতে দেড় লাখ ইভিএম মেশিন ক্রয়, ভোটারদের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এসব মেশিন বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে বলেও প্রকল্পের ডিপিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পটি ৫ বছর মেয়াদে (জুলাই ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের জুন) বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য- দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ফল প্রকাশ ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আস্থা ফেরানো।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতি ইউনিট ইভিএমের দর প্রথমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে তা কমিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। সর্বশেষ কমিশন যে ১৯০ সেট ইভিএম সংগ্রহ করেছে তার দর পড়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯৭৫ টাকা। যদিও প্রকল্পে প্রস্তাবিত ইভিএমের দর ড. হুদা কমিশনের কেনা ইভিএমের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও ইভিএম ব্যবহারে তাড়াহুড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পের অধীনে দেড় লাখ ইভিএম কেনার পরিকল্পনা করছে ইসি।
এজন্য জাতীয় নির্বাচনের চার মাসেরও কম সময় সামনে রেখে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়। ইভিএম যুক্ত করে আরপিও সংশোধনে উঠেপড়ে লাগে ইসি। ৩০শে  আগস্ট কমিশন সভায় আরপিও সংশোধনের বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। কমিশন সভাও বর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে বাকি কমিশনারদের সম্মতির ভিত্তিতে আরপিও’র খসড়া ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

কুইক রেন্টালে কতটা লাভবান বাংলাদেশ?

বাংলাদেশের সরকার বলছে, তারা এখন ২০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এই সাফল্যকে তারা বড় ধরনের অর্জন হিসেবেও জনগণের সামনে তুলে ধরছে।
কারণ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সালে যখন প্রথম ক্ষমতায় আসে, সে সময় তাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং লোডশেডিং থেকে মানুষকে মুক্তি দেয়া। সেসময় এটি ছিল অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যুও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দশ বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই সফলতার বড় অংশটি এসেছে আমদানিকৃত তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে, যেগুলো বিদ্যুতের সঙ্কট মোকাবেলায় কুইক-রেন্টাল নামে বিশেষ ব্যবস্থায় স্থাপন করা হয়েছিল।
কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ব্যবস্থাকে দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই বলে মনে করেন না বিশেষজ্ঞদের অনেকেই।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে: ২০০৯ সালে প্রথম দফায় ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকার বিদ্যুৎ খাতে যে একটি টেকসই ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে?
একজন গৃহিনীর অভিজ্ঞতা
রেহানা হক পলি রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুরের থাকেন গত এক বছর ধরে। দৈনিন্দন সাংসারিক কাজের পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, গত এক বছরে বিদ্যুৎ নিয়ে তাকে কোন ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি, যদিও তিনি বলছেন যে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি ঠিক একই রকম নয়।
রেহানা হক পলি বলেন, "এখানে লোডশেডিং তেমন একটা হয়ই না। এখনকার জীবন তো বিদ্যুৎ ছাড়া একেবারে অচল, মাইক্রোওয়েভ ওভেন চালানো বলুন, আর ঘরে এসি চালানো বলুন। কিন্তু ঢাকার বাইরে অবস্থা কিন্তু একই রকম না।"
"আমার বাবার বাড়ি খুলনা আর শ্বশুর বাড়ি ফেনী, দুই জায়গাতেই বছরে অন্তত তিন-চারবার যাই আমি। সেখানে দেখেছি সারাদিন এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়," বলেন তিনি।
তবে বিদ্যুতের বাড়তি দাম নিয়ে কিছুটা হতাশার পরেও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট মিজ হক। তার এই সন্তুষ্টির কারণ বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি।
বিদ্যুতের উৎপাদন
গত এক দশকে বাংলাদেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় চারগুণ। সরকার বলছে, এই মূহুর্তে তারা ২০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম।
সরকারের হিসেবটা এরকম:
দেশের ১২৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৭৪৩ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট অর্থাৎ যা শিল্পকারখানার নিজস্ব ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ তা থেকে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়াও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পাওয়া যাচ্ছে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
সে হিসেবে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২০,১৩৩ মেগাওয়াট।
যদিও সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মূহুর্তে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো গড়ে প্রায় সাড়ে ১১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করতে পারে।
বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা
বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়ে বর্তমান সরকার ২০১৬ সালে একটি মহা-পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। তাতে ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।
কিন্তু এই পরিকল্পনা থেকে এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। তার কারণ কি?
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলছেন, এই সফলতার পেছনে সরকারকে নির্ভর করতে হয়েছে আমদানিকৃত তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর, যার খরচ অনেক বেশি।
"বড় ধরণের যেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মূলত যেগুলো কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সেগুলো সব পিছিয়ে আছে। যত জ্বালানি আছে তার মধ্যে কয়লাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানি। সেই সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারে ব্যর্থ হওয়ায় আমাদেরকে তেলের উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়তে হচ্ছে।"
"এখন পর্যন্ত প্রায় ২২০০০ মেগাওয়াটের কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুতের অনুমতি দেয়া হয়েছে, পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টর মিলে। সেখানে একমাত্র পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেটা ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার, সেটার চল্লিশ-পঞ্চাশ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। সেটার কয়লা আমদানি নিয়েও বিরাট অনিশ্চয়তা আছে, আর রামপাল বলা হচ্ছে ২০২১ সালে আসবে," বলেন ম. তামিম।
'টেকসই নয়'
খরচ বেশি হওয়ায় তরল জ্বালানি নির্ভর এই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই ব্যবস্থা বলে মনে করেন না।
কিন্তু সরকার বলছে, কয়লা-ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যকর হতে এখনো পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগবে, আর ততদিন পর্যন্ত সরকারের হাতে বিকল্প কিছু নেই।
বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, "বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি তো লাগবে, কয়লা, তেল বা গ্যাস যেটাই হোক। এখন বাংলাদেশে যদি গ্যাস না থাকে, তাহলে বিকল্প কি? কয়লা না হয় তেল। কয়লার জন্য তো আমরা বৃহৎ প্রকল্পগুলো হাতে নিয়েছি। কিন্তু এই সময়ের জন্য তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণে আমার তো অন্য কোন উপায় নেই।"
সেক্ষেত্রে বাড়তি খরচ কিভাবে সামলানো হবে- বিবিসির এমন প্রশ্নে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, "আমার হাতে বিকল্প কি বলেন? ১০০০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারছি না গ্যাসের স্বল্পতার জন্য। কিন্তু কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তো কার্যকর হতে পাঁচ থেকে ছয় বছর সময় লাগবে।"
তিনি বলেন, ধীরে ধীরে এগুলো যখন কার্যকর হবে, তখন তেল-ভিত্তিকগুলো কেন্দ্রগুলো 'রিপ্লেস হয়ে যাবে।"
কিন্তু কয়লা-ভিত্তিক বড় ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে না আসলে, বাড়তি খরচ দিয়ে এ সফলতা কতটা ধরে রাখা যাবে- তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সংশয় তো আছেই।
সূত্রঃ বিবিসি

ভারতের গ্রামাঞ্চলে সমকামীদের জীবন যেমন

ভারতে সমকামিতাকে বৈধতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে মনে করা হচ্ছে ঐতিহাসিক। সেখানকার লেসবিয়ান ও সমকামী সংগঠনগুলো এই রায়ের পর উল্লাসে মেতে ওঠে। তারা একে মনে করছেন, "নতুন অধ্যায়ের সূচনা" হিসেবে।
কিন্তু গ্রামীণ এলাকার এলজিবিটি সম্প্রদায়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলাতে এখনো অনেক সময় বাকী বলে মনে করেন তারা।
এখানে ভারতের গ্রামীণ এলাকার তিনজন সমকামী মানুষ তাদের জীবনের কথা তুলে ধরেছেন:
অরুণ কুমার(বয়স ২৮ বছর) উত্তর প্রদেশ থেকে-
আমি আদালতের সিদ্ধান্তে সত্যিই ভীষণ আনন্দিত। এটা শহর এলাকার মানুষদের আইনের কোনও ভয় ছাড়াই নিজেদের প্রকাশের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।
কিন্তু দু:খজনকভাবে যারা আমার মত গ্রামে বাস করে তাদরে জন্য বিষয়টি ভিন্ন। এখানে আমরা যে বিষয়টিকে ভয় পাই সেটি আইন নয়, সেটি হল মানুষের ধারণা- যা আমাদের বিপদে ফেলে। আমি আশা করি, এই রায় সম্পর্কে মিডিয়ার প্রচার মানুষকে এটা বোঝাতে সাহায্য করবে যে, সমকামিতা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।
কিন্তু এলজিবিটি সম্প্রদায়কে এই আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দীর্ঘ সময় লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে। আমি আমার পুরো জীবনটাই আতঙ্ক-ভয় নিয়ে পার করছি এবং সম্ভবত অদূর ভবিষ্যতে এ অবস্থার কোন হেরফের হচ্ছে না।
আমার বয়স তখন ১৪ বছর। সেসময় আমি বুঝতে পারলাম যে ছেলেদের প্রতি আমি আকর্ষণ অনুভব করছি। প্রাথমিকভাবে আমি কনফিউজড ছিলাম। আমি চেষ্টা করতাম এসব না ভাবতে। কিন্তু এই অনুভূতি আমাকে তাড়া করতো, তখন এক বন্ধুর সাথে বিষয়টি আলাপ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
কিন্তু তার প্রতিক্রিয়া আমাকে স্তব্ধ করে দিল। সে বললো, সমকামিতা নিয়ে ভাবাও ন্যক্কারজনক। সে আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করলো এবং এরপর থেকে আমাদের কথা-বার্তাও বন্ধ হয়ে গেলো। এরপর অনেক বছর আমি আমার যৌনতা নিয়ে কারো সাথে কথা বলিনি।
যখন আমার খারাপ লাগতো আমি মাঠে চলে যেতাম এবং গাছপালার সাথে কথা বলতাম। তারা আমার বন্ধু হয়ে গেল। আমি এখনো তাদের সাথে কথা বলি।
আমার বয়স যখন ১৮ তখন কাছের এক শহরে চলে যাই লেখাপড়ার স্বার্থে। কিন্তু কোনকিছুর পরিবর্তন হল না। আমি হতাশ হয়ে পড়ি এবং এমন হল যে পৃথিবী তখন আমার কাছে কোন অর্থ বহন করছিল না।
সবসময় আমার মধ্যে অপরাধ-বোধ কাজ করতো কিন্তু কেন- তা জানা ছিল না। আমি খারাপ কোনকিছু করিনি। একজন শিক্ষক যাকে অনেকটা বন্ধু-ভাবাপন্ন বলে মনে হতো অনেক সাহস করে তাকে বিষয়টি জানালাম। ভেবেছিলাম তিনি বিষয়টি বুঝবেন, কিন্তু সেটা ছিল ভুল।
সেই শিক্ষক আমার বাবা-মাকে খবর দিলেন এবং তারা আমাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। আমার বাবা প্রচণ্ড ক্রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন এটা একধরনের রোগ যা হয়তো সেরে যেতে পারে।
তিনি আমাকে হাতুড়ে ডাক্তার ও ওঝাদের কাছে নিয়ে গেলেন। তারা আমার ওপর সব ধরনের টোটকা ঝাড়ফুঁক চালালো। একজন বললেন সাতদিন আমাকে তালাবন্ধ ঘরের ভেতর রাখতে হবে। আমার বাবা সেটাই করলেন।
এখনো আমি এই গ্রামেই আছি। তবে বড় শহরে একটি চাকরির প্রস্তাব পেয়েছি আমি। আশা করি সবকিছু বদলাবে একদিন। আমি একজন সঙ্গী চাই। আমি ভালবাসতে চাই এবং কারও ভালবাসার মানুষ হতে চাই।
কিরণ যাদব(বয়স ৩০ বছর) বিহারের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ থেকে---
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৭৭ ধারা সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। এমনকি আমি সমকামিতা যে অপরাধ তাও জানতাম না। আমি কেবল জানতাম বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামে লেসবিয়ান নারী হিসেবে আমার কোনও স্থান হবে না।
আদালতের রুলিং নিয়ে আমি খুব খুশি কিন্তু সেটা আমাকে কোন সাহায্য করছেনা। আমি আশা করি একটা আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে যা প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছাবে।
যখন আমার বয়স ১৫ তখন বুঝতে পারলাম যে আমি লেসবিয়ান। এর আগ পর্যন্ত ছোট্ট একটি মেয়ে ছিলাম, কখনো মেয়েদের মত পোশাক আমি পছন্দ করতাম না। গ্রামের ছেলেদের মত আমি ট্রাউজার এবং শার্ট পরতে পছন্দ করতাম।
আমার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে কখনো বাধা দেয়নি। আমার ভাই ছিলনা তাই তারা আমাকে তাদের ছেলের মতই দেখেছেন এবং ছেলেদের মত পোশাক পরায় তারা কিছুই মনে করেননি। কিন্তু তারা আমার সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
সত্যি বলতে আমিও বেশিকিছু জানতাম না। আমি কেবল বুঝতাম যে মেয়েদের প্রতি আমি আকর্ষণ অনুভব করি এবং এটাও বুঝতাম যে বিষয়টি সঠিক নয়।
সুতরাং কখনো আমি বাবা-মাকে জানাই নি। তারা এখনো কিছু জানে না। আমার ঘনিষ্ঠ কেউই জানেনা। বিয়ে-শাদীর অনুষ্ঠানের সময় আমি অনেক সুন্দরী মেয়েদের দেখি কিন্তু কখনো সাহস করে তাদের সাথে কথা বলতে পারি নি।
আমার বয়স যখন ২০ বছর, আমি নিজেকে প্রকাশ করার একটা সুযোগ পেলাম। গ্রামের কারও সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারছিলাম না। কিন্তু মোবাইল ফোন এসে আমাকে বাঁচিয়ে দিল। আমি বিভিন্ন ফোন নম্বরে র‍্যানডম কল করতাম এবং অচেনা লোকজনকে আমার গল্প বলতে থাকতাম। একবার একটি মেয়ে বললো যে, আমার কণ্ঠস্বর তার খুব ভাল লেগেছে। এটা আমাকে গর্বিত করলো। এটাই ছিল প্রথম কোন মেয়ের কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসা।
এগুলোই ছিল আনন্দের ক্ষণস্থায়ী কিছু মুহূর্ত। এছাড়া আমি যেন আবার বেদনার গভীর খাদে বাস করতাম।
যখন আমার বয়স ২৪, তখন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। বাবা-মা ভেবেছিল বিয়ে না হওয়ায় আমি হতাশ হয়ে পড়েছি। কয়েক সপ্তাহ পরে তারা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যে আমার বিয়ে ভেঙে গেল।
সময়ের সাথে সাথে বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে গেল আমার। প্রতিটি দিন ছিল কঠিন। আমার জীবনের ৩০টি বছর কেটে গেছে কোন একজন সঙ্গী ছাড়া। এখন আমি কেবল একটি কাজ চাই বেঁচে থাকার জন্য। একজন সঙ্গীর দেখা পাবো সে আশা ছেড়েই দিয়েছি কারণ আমি যে লেসবিয়ান সে কথা খোলাখুলি কাউকে বলতে পর্যন্ত পারিনি কখনোই।
রাহুল সিং(৩২ বছর) বিহার থেকে-
আদালতের রায়কে স্বাগত জানাই। কিন্তু ৩৭৭ ধারা কখনোই আমার জন্য কোন সমস্যা ছিলনা। আমার গ্রামে এই কারণে কাউকে কোনদিন পুলিশ হেনস্থা করেনি। যেটা এখানে সমস্যার কারণ সেটি হল - সমাজ।
যখন ১৬ বছরে পদার্পণ করি তখনই বুঝতে পারি যে আমি সমকামী। দুইবছর পরে আমি বিয়ে করি। বাবা-মা কিংবা স্ত্রী কারো কাছেই বলতে পারিনি। কেবল নিজেকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখানোর ভান করেছি। এখন আমার দুই ছেলে।
কিন্তু বিষয়টি নিজের স্ত্রীকে বলতে না পারায় আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। সে এখন জানে যে আমি সমকামী কিন্তু বাচ্চাদের কথা ভেবে সে এখনো আমার সাথে আছে।
সঙ্গী খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। বড় শহর ছাড়া এসব এলাকায় সমকামী সংগঠন বা ক্লাব নেই। অল্প কিছু সংখ্যক সমকামী লোকজনকে চিনি কিন্তু তারা সবাই সমকামিতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সমাজ থেকে একঘরে হওয়ার ভয়ে আতঙ্কের মধ্যে বাস করছে ।
লোকজনের বিশ্বাস সমকামীদের সম্মান বা ভালবাসা কোনটাই পাওয়ার অধিকার নেই।
এটা এক কঠিন জীবন। আমি কতটা ভাল বা কতটা সহযোগিতাপূর্ণ সেটা কোন ব্যাপার নয়। যখন তারা জানবে আমি সমকামী তারা আমাকে ত্যাগ করবে।
কেউ কেউ হয়তো সহানুভূতিশীল কিন্তু তারা এখনো মনে করে এটা একধরনের রোগ যার চিকিৎসা প্রয়োজন। কেউ বুঝতে চেষ্টা করেনা কেন আমরা এমন।
এভাবে বেঁচে থাকলে বারবার ভেঙে পড়বেন। সবসময় মনে হয় কেউ আমার দিকে এগিয়ে আসবে আমাকে হয়তো মারবে বা খুব খারাপ কিছু করবে কারণ আমি সমকামী।
আমার ভয়, আমাদের বাচ্চারা যখন বড় হবে তাদের নিপীড়িত হতে হবে। একবার আমি পালিয়েছি। মাঝে মাঝে সব ত্যাগ করতে ইচ্ছে হয় কিন্তু বাচ্চাদের কথা ভাবি।
পেছনে ফিরে তাকালে ভাবি যদি বাবা-মাকে বলার সাহস থাকতো...আমি হয়তো বিয়েই করতাম না। যারা কাউন্সিলিং করে তাদের কাছে যাওয়ার সুযোগ যদি হতো...
সূত্রঃ বিবিসি

নিজ ঘরেই বিশ্বাসঘাতক দেখছেন ট্রাম্প

ঘরের শত্রু বিভীষণ! চোখে-মুখে যেন ঠিক এমনটাই দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ প্রশাসনের ভেতর থেকেই চাপের মুখে পড়ছেন তিনি। এরইমধ্যে ৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসে বেনামে একটি উপসম্পাদকীয় লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। এতে তিনি ট্রাম্পকে একজন অস্থির ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ব্যবহার শুধু অস্বাভাবিকই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী। তার এমন কর্মকাণ্ডের ক্ষতিকর প্রভাব এড়াতে প্রশাসনের অভ্যন্তরে তৎপর রয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। তাদেরই একজন এই বেনামি লেখক।
ট্রাম্প, তার আচরণ ও তার প্রেসিডেন্সি নিয়ে আপনার ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে প্রশাসনের ভেতর থেকে পত্রিকায় বেনামি উপসম্পাদকীয় লেখার মতো পদক্ষেপকে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে। ফলে কে এই নিবন্ধের লেখক, তা খুঁজে বের করতে মরিয়া ট্রাম্প। এরইমধ্যে সম্ভাব্য লেখক হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস এবং চিফ অব স্টাফ জন কেলির দিকেও আঙুল তুলেছেন কেউ কেউ। তবে এমন আঙুল তুললেই এটা প্রমাণিত হয় না যে, এরাই নিবন্ধটি লিখেছেন।
জিম ম্যাটিস এবং জন কেলির কেউই এখনও নিবন্ধটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আগ বাড়িয়েই বলেছেন, পত্রিকায় প্রকাশিত ওই নিবন্ধ তারা লেখেননি। তবে এটি যিনিই লিখে থাকুন তাতে ট্রাম্পের ইমেজ যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেটা বলাই বাহুল্য। এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের খ্যাতনামা সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের নতুন বই, ‘ফিয়ার, ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’ নিয়ে আরেক দফায় বিপাকে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বইটিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। উঠে এসেছে খোদ নিজ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বয়ানে ট্রাম্পের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ডের বিবরণ। তারা বলছেন, ট্রাম্প শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবেই অযোগ্য নন; বরং তার উদ্ভট ও অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড রিপাবলিকান পার্টি এবং বিশ্ব ব্যবস্থাকেই ঝুঁকিতে ফেলছে। তবে সবকিছুর পরও একেবারেই বন্ধুহীন নন টাম্প।
ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা শিবিরে কাজ করেছেন মাইকেল ক্যাপুটো। তিনি সিএনএন’কে বলেন, প্রেসিডেন্টের জন্য খুব উচ্চ পর্যায়ে কাজ করা কেউ ট্রাম্পকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পের ‘অনৈতিক’ ও ‘আবেগতাড়িত’ আচরণের ফলে প্রশাসনকে অনেক অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় খোদ ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যেই একটি ‘নীরব প্রতিরোধ’ চলছে।
এই নিবন্ধ নিয়ে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হলেও এখনও পর্যন্ত তিনি বা তার পক্ষে কেউ সরাসরি লেখাটিকে মিথ্যা বলে দাবি করেননি। তবে এর লেখককে বলেছেন কাপুরুষ হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনেছেন ট্রাম্প। লেখাটি প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে ওই নিবন্ধের লেখকের পরিচয় প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লেখকের পরিচয় গোপন রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিবন্ধটি প্রকাশ করতে পেরে আমরা গর্বিত। ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটছে তা বুঝতে এই লেখা সাধারণ পাঠকের জন্য সহায়ক হবে।’
নিউ ইয়র্ক টাইমসে বেনামি নিবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার হওয়ার আগের দিন সংবাদমাধ্যমে আসে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের প্রকাশিতব্য বই ‘ফিয়ার, ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস’-এর অংশবিশেষ। এতে বলা হয়, হোয়াইট হাউসের কিছু কর্মকর্তা একটি ‘প্রশাসনিক অভ্যুত্থানচেষ্টায়’ জড়িত। তারা প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে রাষ্ট্রকে বাঁচাতে চাইছেন। ট্রাম্পের স্বাক্ষরের আগেই তার টেবিল থেকে জরুরি নথিপত্র সরিয়ে ফেলছেন এসব কর্মকর্তারা। আর নিজ ঘরের এসব ‘বিশ্বাসঘাতকদের’ই এখন খুঁজে বের করত চাইছেন ট্রাম্প। এ চেষ্টায় তিনি কতটা সফল হবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: সিএনএন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

রোহিঙ্গাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত by শেখ শাহরিয়ার জামান

রোহিঙ্গা সংকটই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক সিনেট শুনানিতে তিনি বলেন, ‘যদি সিনেট আমাকে নিশ্চিত করে, তবে আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা মিশনের কাছে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে অগ্রাধিকার পাবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। সিনেট তার মনোনয়ন নিশ্চিত করে। এই নিশ্চিতের জন্য শুনানির মুখোমুখি হতে হয় রাষ্ট্রদূতকে।
শুনানিতে মিলারের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘এই সমস্যা আগামী বছর সমাধান হবে না। সম্ভবত দুই বা তিন বছরেও হবে না। কাজেই আমরা পড়াশোনা, জীবিকা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণে জোর দিচ্ছি। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বতঃপ্রণোদিত, নিরাপদ ও সম্মানজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমারকে অবশ্যই রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমার মিলিটারি ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা জাতিগত নিধন ও অন্যান্য নির্যাতন করেছে, তাদের এর দায়িত্ব নিতে হবে।’
আটটি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার প্রথম দিকের সফর হবে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করা, যেন আমি সেখানে কী হচ্ছে, বুঝতে পারি।’
বাংলাদেশের প্রশংসা করে মিলার বলেন, তারা তাদের সীমান্ত উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ আন্তরিকভাবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে।
রোহিঙ্গাদের একটি দ্বীপে স্থানান্তরের বিষয়টির বিরোধিতা করে মিলার বলেন, ‘এটি একটি বিছিন্ন জায়গা। এর ফলে তারা ডাকাতি, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নির্যাতিত লোকের জানা জরুরি যে, তারা একা নয় বা তাদের কেউ ভুলে যায়নি। তাদের স্বাধীনতা আমাদের ওপর নির্ভর করছে কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার গুণগত মান তাদের স্বাধীনতার ওপর নির্ভর করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে কাজ করবো। মিয়ানমার চাপ দেবো, যেন রোহিঙ্গারা নিরাপদে, স্বতঃপ্রণোদিত  ও সম্মানজনকভাবে ফেরত যেতে পারে।’
বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি।’  তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে অষ্টম ও তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। এটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশ শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের একটি দেশ হবে। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মধ্যে যোগসূত্র। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর আশা করে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে বিনিযোগ করার অবস্থা তৈরি হয়েছে।’
জাতীয় নির্বাচন
জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে মিলার বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ। কারণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতি আবারও পুনর্ব্যক্ত করতে পারবে।’ এ জন্য সব দলকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার স্বাধীনতা দিতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উদ্বেগের জায়গা
সিনেট শুনানিতে মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশের চলমান গণগন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর সাম্প্রতিক হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের কারণে আমরা উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে সুযোগ দিলে দায়বদ্ধতা বাড়ানো, মানবাধিকার ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করার ওপর আমি জোর দেবো।’