Wednesday, May 7, 2014

আত্মপক্ষ সমর্থনে ইংলাক আদালতে, আজ রায়

ইংলাক সিনাওয়াত্রা
ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা আত্মপক্ষ সমর্থনে গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়েছেন৷ তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারাতে হবে কি না, সে ব্যাপারে সাংবিধানিক আদালত আজ বুধবার রায় (রুলিং) দেবেন৷ ইংলাককে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলে থাইল্যান্ডে চলমান রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ ইংলাকের সমর্থক ও বিরোধীরা রাজপথে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের হুমকি দিচ্ছে৷ ২০১১ সালে নির্বাচনের পর ইংলাকের দলীয় স্বার্থে তৎকালীন নিরাপত্তাপ্রধান থাওইল প্লিনেস্রিকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়৷ সাংবিধানিক আদালতের প্রধান চারুন ইনতাচান গতকাল বলেন, অভিযোগের শুনানিতে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ নেওয়া হয়েছে এবং নয় সদস্যের বেঞ্চ আদালত বুধবার (আজ) রুলিং দেওয়ার জন্য প্রস্তুত৷
ধানচাষিদের ভর্তুকি প্রদানসংক্রান্ত একিট দুর্নীতির ঘটনায় ইংলাক দািয়ত্বে অবহেলা করেন বলে জাতীয় দুর্নীতি দমন কমিশন (এনএসিসি) অারেকটি অভিযোগ আনে৷ এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর পাশাপাশি পার্লামেন্টে অভিশংসনের মধ্য দিয়ে রাজনীতি থেকে পাঁচ বছরের জন্য িনষিদ্ধ হতে পারেন ইংলাক৷ তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে গতকাল আদালতে বলেন, ‘আমি কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি৷ নিরাপত্তাপ্রধান নিয়োগের মাধ্যমে আমি কোনো সুবিধা নিইনি৷ সরকারপন্থী ‘লাল শার্ট’ কর্মীরা ইংলাকের অব্যাহতি ঠেকানোর অঙ্গীকার করেছে৷ ফলে আদালতের রায় ইংলাকের বিরুদ্ধে গেলে ভয়াবহ রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ ছয় মাস ধরে বিক্ষোভের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশটিতে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হয়েছে৷ থাই রাজনীতিতে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সাংবিধানিক আদালত৷ সমালোচকদের অভিযোগ, আদালতের তড়িঘড়ি তৎপরতা রাজনৈতিকভাবে সিনাওয়াত্রা পরিবারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে৷ বিরোধীরা অভিযোগ করছে, ইংলাক তাঁর ভাই থাকিসনের নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন৷ এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি৷

পশ্চিমবঙ্গে দৃষ্টি থাকবে দুই আসনে

মুনমুন সেন, বাসুদেব আচার্য, বাবুল সুপ্রিয়
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে আজ বুধবার চতুর্থ দফায় ভোট হচ্ছে৷ রাজ্যের মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও আসানসোল-এই ছয় আসনের জনগণ আজ বেছে নেবেন তাঁদের পছন্দের প্রার্থী৷ তবে আজ সবার দৃষ্টি থাকবে আসানসোল আর বাঁকুড়া আসনের দিকে৷ রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে আসানসোল একমাত্র ব্যতিক্রমী কেন্দ্র, যেখানে বাংলাভাষী মানুষের চেয়ে অবাঙালি সামান্য হলেও বেশি৷ সেখানেই নরেন্দ্র মোদির হাওয়া এখন প্রবল৷ গত রোববার ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে এখানে নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী জনসভায় এক লাখ মানুষ এসেছিল৷ মোদির জনসভার পরদিন একই জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের সভায় মিঠুন চক্রবর্তীকে এনেও মুকুল রায়রা মাঠের এক কোনাও ভরাতে পারেননি৷ আসানসোলের প্রায় ১৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ২৮ শতাংশ হিন্দিভাষী আর ২২ শতাংশ মানুষ উর্দুভাষী মুসলমান৷ তবে বিজেপির প্রভাব এখন হিন্দিভাষীদের সঙ্গে এলাকার বাঙালি তরুণ প্রজন্মকেও যে আকর্ষণ করছে, তা বিজেপি কার্যালয়ে হাজির একদল বাঙালির উপস্থিতিতেই স্পষ্ট৷ এলাকার বেকার ও শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম বিজেপির ‘উন্নয়ন ও বিকাশ’-এর ডাকে সাড়া দিচ্ছে৷ পশ্চিমবঙ্গের অন্য এলাকার মতো এখানেও শিল্পে মন্দা বহুদিনের রোগ৷ বহুদিন ধরেই এলাকার বেকার যুবকদের রোজগারের উৎস ছিল বেআইিন কয়লাখনি৷
তাতে কম করে ২০ হাজার মানুষ কাজ করে খাচ্ছিলেন৷ ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর কিছুদিন বেআইিন কয়লাখনির কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ এ সম্পর্কে অভিজ্ঞ পরিতোষ ঘোষ জানান, কাজ হারানো যুবকদের মধ্যে ক্ষোভ যথেষ্ট৷ তাঁরা এখন তৃণমূল থেকে মুখ ফিরিয়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন৷ বিজেপির প্রার্থী বলিউডের সুপরিচিত সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়৷ স্থানীয় অজয় সরকার মনে করেন, তৃণমূল বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা করেই তাঁকে পাদপ্রদীপের সামনে এনে দিয়েছে৷ সাধারণ মানুষের সহানুভূতিও এখন বাবুলের দিকে৷ তৃণমূলের প্রার্থী ট্রেড ইউনিয়নের রাজ্য সভানেত্রী দোলা সেনের সঙ্গে দেখা হলো স্থানীয় দুর্গা ম্যানশনে৷ হুগিলর বন্ধ ডানলপ কারখানার শ্রমিকনেতা, রুগ্ণ হিন্দমোটর কারখানার শ্রমিকনেতা, এমনকি উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের শ্রমিকনেতারা এসেছেন তাঁর প্রচারণার কাজে৷ আসানসোলে ‘বহিরাগত’ দোলা সেনের প্রচারের নিয়ন্ত্রণও বহিরাগতদের হাতেই৷ এই ‘বহিরাগত’ প্রশ্নটিই আসানসোলে বিজেপির বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে৷ এ অবস্থায় শঙ্কিত কসাই মহল্লা, চাঁদমারি, বাবুয়া তালাও, ঝিংড়ি মহল্লা প্রভৃতি এলাকার প্রায় ৩০ হাজার সংখ্যালঘু ভোটার৷ তাঁদেরই একজন সুলতানের কথায়, তবু মুসলমান ভোট তৃণমূল বা সিপিএম একা পাবে না; কিছু ভাগাভাগি হবেই৷ আর এই ভাগাভাগির কারণেই আসানসোলের ভোটের ফলাফল এবার চরম অনিশ্চিত৷ বাঁকুড়া: একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ৷
অন্যজন মহানায়িকার মেয়ে, নিজে অভিনেত্রী৷ প্রথমজন নয়বার টানা লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে থাকলে দ্বিতীয়জনের নির্বাচনী লড়াই কেন, রাজনীতিরও কোনো পূর্বাভিজ্ঞতা নেই৷ প্রথমজন বাসুদেব আচার্য৷ অন্যজন মুনমুন সেন৷ বাসুদেব আচার্যের শক্তি যদি হয় একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ সংগঠন, মুনমুনের শক্তি তাঁর পারিবারিক পরিচয়৷ তিনি সদ্যপ্রয়াত সুচিত্রা সেনের মেয়ে৷ সর্বোপরি, তাঁর পাশে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুনমুনের প্রচার দেখতে মানুষ ভালোই ভিড় করছে৷ কারণ, তাঁর রোড শোর সঙ্গী কখনো তাঁর দুই মেয়ে চলচ্চিত্রাভিনেত্রী রাইমা ও রিয়া সেন, আবার কখনো টালিউডের অন্য শিল্পীরা৷ বাসুদেব আচার্যের প্রচার অনেকটা নিচু স্বরের৷ হেঁটে লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কথা বলার মাধ্যমে জনসংযোগ করছেন তিনি৷ স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষক রণজিৎ পালের কথায়, গোড়ায় বাসুদেব আচার্যের বিরুদ্ধেই জনমত ছিল৷ কিন্তু তৃণমূল মুনমুনকে প্রার্থী করার পরই ধাক্কাটা এল৷ কেন? রণজিতের সাফ জবাব, বাসুদেবকে তবু কালেভদ্রে পাওয়া যেত, মুনমুন যে ভোটের পরে আর বাঁকুড়ায় পা দেবেন না, তা নিশ্চিত৷ সিপিএমের জেলার শীর্ষনেতা অমিয় পাত্র জানান, এখানে তৃণমূল-সন্ত্রাসের দাপট তত নেই৷ ফলে, সিপিএম আসন ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী৷ তিনিও স্বীকার করছেন, বিজেপির ভোট কিছু বাড়বে৷ কিন্তু তা কতটা, সেই অঙ্কই এখন ভাবাচ্ছে সিপিএম ও তৃণমূলকে৷

১০০–এর কম আসন পেলে গান্ধী পরিবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে

নরেন্দ্র মোদি
লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ১০০টির কম আসন পেলে দলটির নেতৃত্ব নিয়ে গান্ধী পরিবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি৷ ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ায় গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সাক্ষাত্কারে তিনি কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন৷ গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোদি বলেন, গান্ধী পরিবারের সদস্যরা কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রশ্নের উর্ধ্বে থাকতে পারেন কি না, সেই প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই এখন লড়াই চলছে৷ তাঁদের লক্ষ্য এখন ১০০টি আসনে জয়, যাতে করে তাঁদের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি না হয়৷ তবে দলটি ১০০টির কম আসন পাবে, এমন আশঙ্কাই তিনি দেখতে পাচ্ছেন৷
নেতৃত্বে রাহুলের জায়গায় প্রিয়াঙ্কার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর কংগ্রেসই এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে৷ তবে এ রকম একটি দল গান্ধী পরিবারের বাইরে কিছু ভাবতে পারবে না, এটা অস্বাভাবিক৷ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তাঁকে নিয়ে ভীতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মোদি বলেন, কংগ্রেস এবং অারও কয়েকটি দল ভীতি ছড়িয়ে স্বার্থ হাসিল করতে চাইছে৷ তবে এসব কৌশল কাজে আসবে না৷ ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণেই ভারতে গত ৬০ বছরে সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে৷ এখন এ ধরনের রাজনীতির দিন ফুরিয়েছে৷ বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ে মোদি বলেন, পাকিস্তান যদি নিজ ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়, তবেই তাদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন সম্ভব৷ তবে এখন যদি সমস্যা সমাধানের নতুন কোনো সম্ভাবনা তৈরি হয়, তাহলে অতীতে কী হয়েছে, তা নিয়ে না ভেবে এগিয়ে যেতে হবে৷

আমি প্রেসিডেন্ট হলে ফিরতে পারবে না ব্রাদারহুড

আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
মিসরের সাবেক সেনাপ্রধান ও আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শীর্ষস্থানীয় প্রার্থী আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গত সোমবার বলেছেন, পদচ্যুত মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলন মিসরে ‘শেষ’ হয়েছে৷ তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ব্রাদারহুড আর ফিরে আসবে না৷ সিসির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী গত জুলাইয়ে মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে৷ এরপর মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ হয় এবং সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের ব্যাপক হারে গ্রেপ্তার করা হয়৷ এ ছাড়া সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৪০০ মানুষ নিহত হয়৷ এদের অধিকাংশই ছিলেন মুরসির সমর্থক৷ 
সিসি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার পর প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সোমবার বলেন, তিনি ব্রাদারহুডের আন্দোলন শেষ করেননি, মিসরের জনগণই তা করেছে৷ তারা ব্রাদারহুডের আদর্শ প্রত্যাখ্যান করেছে৷ সিসির এই ঘোষণায় মিসরের শাসকদের সঙ্গে কালো তালিকাভুক্ত ব্রাদারহুডের সমঝোতার সম্ভাবনা বাতিল হয়ে গেল৷ দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারককে ২০১১ সালে উৎখাতের পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুড-সমর্থিত মোহাম্মদ মুরসি জয়ী হন৷ তবে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকতে পারেননি তিনি৷ তাঁকে পদচ্যুত করে সেনা-সমর্থিত সরকার ক্ষমতা দখল করে এবং ব্রাদারহুডকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যা দেয়৷ মুরসি ছাড়া মিসরে যাঁরাই প্রেসিডেন্ট হয়েছেন, সবাই সেনাবাহিনী েথকে এসেছিলেন৷ সিসি দাবি করেন, তিনি সেনাবাহিনী থেকে প্রার্থী হননি৷ নির্বাচনে সিসির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হামদিন সাবাহি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মিসর ফের মোবারক যুগের স্বৈরশাসনে ফিরে যেতে পারে৷ এএফপি৷

ওবামার দুই মেয়েকে অনুসরণ নিয়ে তোলপাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দুই মেয়ের মোটর শোভাযাত্রা অনুসরণের অভিযোগে এক গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হোয়াইট হাউসে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তোলপাড় হয়। গতকাল মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউয়ে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে ম্যাথু ইভান গোল্ডস্টেইন (৫৫) নামের গাড়িচালককে গ্রেপ্তার করেছেন সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা। গাড়িটির চালক ওবামার দুই মেয়ের মালিয়া ও শাসার মোটর শোভাযাত্রা অনুসরণ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।  হোয়াইট হাউস থেকে ২০০ মিটার দূরে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংরক্ষিত এলাকায় ওই গাড়িটি প্রবেশ করে। তাত্ক্ষণিকভাবে সিক্রেট সার্ভিসের উর্দিধারী কর্মকর্তারা গাড়িটি থামান। তাঁরা গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার ও গাড়িটি তল্লাশি করেন। এ ঘটনার সময় হোয়াইট হাউসে সংশ্লিষ্টদের আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মোটর শোভাযাত্রায় মালিয়া ও শাসা ছিল বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

এই ব্যর্থতার দায়িত্ব কে নেবে?

আজকাল ঘর থেকে বের হলেই যাদের সঙ্গে দেখা হয়, পরিচিত-অপরিচিত, সবার মুখে একই প্রশ্ন, কোন পথে যাচ্ছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি? এর সোজাসাপ্টা উত্তর দেওয়া আমার মতো সামান্য জ্ঞানবুদ্ধির মানুষের পক্ষে সহজ নয়। এসব প্রশ্নকর্তা আমার অতীত অভিজ্ঞতার কারণে মনে করেন, আমি নিরাপত্তা বিষয়ে পারঙ্গম। তেমনটি নয়। যৎসামান্য লেখাপড়া থাকলেও বর্তমান বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সোজাসাপ্টা উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনকার হত্যা, গুম আর অপহরণের ঘটনা দেশবাসীকে যেমন উদ্বিগ্ন করেছে, তেমনি আমরা যারা কিঞ্চিৎ সমাজসচেতন মানুষ, নিরাপত্তা নিয়ে সামান্য নাড়াচাড়া করা মানুষেরা উদ্বিগ্ন। কোন পর্যায়ে রয়েছে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, যার অন্যতম উপাদান জননিরাপত্তা (হিউম্যান সিকিউরিটি)। বর্তমান বিশ্বের উন্নত আর উন্নয়নকামী রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় নিরাপত্তার, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার, সবচেয়ে বড় উপাদান জননিরাপত্তা। জাতীয় নিরাপত্তা বলতে আমরা রাষ্ট্রের প্রচলিত নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখি। তার দায়দায়িত্ব যেমন রাষ্ট্রের, তেমনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। বস্তুত, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্বই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, যার প্রধান জননিরাপত্তা। জননিরাপত্তা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত উপাদান, যা জাতিসংঘেরও স্বীকৃত, দুটি।
এক. জনচাহিদার নিরাপত্তা (সিকিউরিটি ফ্রম ওয়ান্ট) দুই. আতঙ্ক থেকে নিরাপত্তা (সিকিউরিটি ফ্রম ফিয়ার)। জননিরাপত্তার এই দুই উপাদান নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্বই রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রের সংজ্ঞার মধ্যে জনগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে, সেই জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা দিতে যখন রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়, তখন রাষ্ট্র অরাজক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। ক্রমেই অব্যবস্থা চরমে উঠে রাষ্ট্র ব্যর্থতার দিকে পতিত হতে থাকে। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় একটি সরকার দ্বারা। রাষ্ট্রের ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব সরকারের ওপরেই যে বর্তায়, এ কথা নতুন করে বলার বিষয় নয়। বাংলাদেশ একটি বিরল রাষ্ট্র, যেটি একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছিল, যার চেতনার মধ্যে জননিরাপত্তার বিষয়টি ছিল প্রধান। ছিল মানবাধিকার সংরক্ষণের চেতনা। বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বদরবারের অন্যতম রাষ্ট্র বলে বিবেচিত হলেও আমরা ক্রমেই সেই অবস্থান থেকে ছিটকে পড়ছি বলে অনেকের মনে হতে পারে। ইদানীং হত্যা, গুম আর অপহরণ শুধু দেশবাসীই নয়, আন্তর্জাতিক মহলও বাংলাদেশের হালের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে চিন্তিত। অপহরণ, গুম আর হত্যা এখন বাংলাদেশের প্রতিদিনকার খবরে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে দেশে-বিদেশে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশবাদী নেতা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামীর অপহরণ ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। যদিও আবু বকর সিদ্দিককে অক্ষত অবস্থায় অপহরণকারীরা ফেরত দিয়েছিল কিন্তু বহু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং গুম হয়ে যাওয়া অন্যদের মধ্যে অনেকের হদিস এখনো মেলেনি। গুম হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক নেতা ইলিয়াস আলীকে আজও পাওয়া যায়নি।
তেমনি পাওয়া যায়নি বহু মানুষকে। অনেকের লাশ বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া গেছে আর অনেকেই জীবিত অবস্থায় মৃত হয়ে রয়েছেন। অপহরণের ঘটনা বাড়া ছাড়া কমছে না। প্রথম দিকে এক-দুজনের গুমের তথ্য প্রকাশিত হলেও হালে একই সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির অপহরণের চিত্র সমাজকে অস্থিরতায় ঠেলে দিয়েছে। মাত্র কয়েক দিন আগে রাজধানীর অদূরে জনবহুল জনপদ নারায়ণগঞ্জের আদালত থেকে বের হওয়ার পর একই সঙ্গে সাত ব্যক্তি, যাঁদের মধ্যে একজন আইনজীবীও রয়েছেন, দিনদুপুরে ব্যস্ততম মহাসড়ক থেকে অপহরণ সরকার এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে যে নড়বড়ে করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। শুধু অপহরণ নয়, নির্মমভাবে তাঁদের সবাইকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে। প্রশ্ন উঠছে রাষ্ট্রব্যবস্থার অবনতি নিয়ে। প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা নিয়ে। বাংলাদেশে অপহরণ এখন যে পর্যায়ে পড়েছে, তা বিগত শতাব্দীর লাতিন আমেরিকায় ঘটে যাওয়া একই ধরনের ঘটনাগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। মনে করিয়ে দেয় মেক্সিকো নামক রাষ্ট্রের অরাজক পরিস্থিতির কথা। বাংলাদেশ বর্তমানে কোনো স্বৈরশাসক দ্বারা শাসিত হচ্ছে না। রয়েছে গণতান্ত্রিক সরকার। ২০১৪ সালের আগের সরকার ছিল ব্যাপক জনসমর্থনের ভিত্তিতে, কিন্তু সেই সরকারের শেষ সময়ে শুরু হয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিম্নমুখী প্রবণতা, যা ২০১৪ সালে একটি বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের সময় দ্রুত অবনতির পথে। বর্তমান সরকার যেভাবে গঠিত হয়েছে, তাকে যেমন অবৈধ বলা যায় না, তেমনি বিপুল জনসমর্থনের সরকার তেমনটাও বলা যায় না। তবু এ সরকারেরই দায়িত্ব

দুষ্টচক্রে আবদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা

নানা অপসংস্কৃতি জেঁকে বসেছে আমাদের সমাজে, জীবনে। উন্নয়ন প্রতিকূল এসব দুষ্টচক্রের জন্য আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারছি না, যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থতার দায় বহন করছি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক সূচকেই আমরা এখনো পাকিস্তানের নিচে। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যে পাকিস্তানের চেয়ে উন্নত, তা বলা যাবে না। হরতাল-অবরোধে যে দেশের অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যায়, তার প্রমাণ আমরা বহু বছর ধরে পেয়ে আসছি। বলতে গেলে ২০১৩ সালজুড়েই চলে হরতাল-অবরোধ ও রাজনৈতিক সহিংসতা। বর্তমানে হরতাল-অবরোধ না থাকলেও ছাত্রদের পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠানে বিড়ম্বনা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা ঘটে চলেছে। একটি জাতিকে অনুন্নয়নের দুষ্টচক্রের মধ্যে ধরে রাখতে হলে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতিই যথেষ্ট। আজ থেকে ৫০ বছর আগে পৃথিবীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যদি র‌্যাংকিং করা হতো, নিশ্চয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানজনক তালিকায় থাকত। কিন্তু এখন বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। তাতে আমাদের চৈতন্যোদয় হয়েছে বলে মনে হয় না। 
কবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে হবে, সে কথা কিন্তু শিক্ষাবিদেরা সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিটি ওয়ার্ল্ড ক্লাস ইউনিভার্সিটি কনফারেন্সে মনে করিয়ে দিচ্ছেন। পঞ্চাশ বছরের কম বয়সী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে কোরিয়ার পোস্টেক হলো দুনিয়াসেরা আর একই দেশের কাইস্ট হলো তৃতীয়। এই পরিসংখ্যান থেকে কোরিয়ার উন্নয়নের কারণ পরিষ্কার। শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম হয়নি। বিশেষ করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসির সঙ্গে মিলে এবং বিদেশের অনুরূপ গ্রেডিং প্রবর্তনও শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারছে—এ কথা জোর দিয়ে বলা যাবে না। যেমনটি পারেনি বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পগুলো। প্রতিটি বাজেটেই আমরা শিক্ষাকে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত হিসেবে উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করি কিন্তু সত্য হচ্ছে, শিক্ষায় আমাদের বরাদ্দ কমতে কমতে জিডিপির ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে করা উচিত ৬ শতাংশের বেশি। আমাদের শিক্ষার ভৌত অবকাঠামো উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনীয় নয়, যেমনটি নয় উন্নত দেশের শিক্ষকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানের সঙ্গে আমাদের। আমাদের একমাত্র সম্বল প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে সীমিত সম্পদ দিয়ে অফুরন্ত চাহিদা মেটাতে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা ও প্রাণশক্তি।
একসময় মেধাতালিকায় স্থান পাওয়ার জন্য হাজার হাজার ছেলেমেয়ে চোখের