Saturday, November 1, 2025

রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেবে

রাশিয়া ২১ অক্টোবর বুরেভেসতনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। এটি পরমাণু-শক্তিচালিত দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, যা বর্তমান বিশ্বের উন্নত সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রুশ সেনা কমান্ড ঘাঁটি পরিদর্শনের সময় চিফ অব দ্য জেনারেল স্টাফ ভ্যালেরি গেরাসিমভ এই পরীক্ষার ঘোষণা দেন।

গেরাসিমভের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বহু ঘণ্টা আকাশে উড়েছে। নির্ধারিত উল্লম্ব ও অনুভূমিক—সব কৌশল শেষ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পাল্লাই ক্ষেপণাস্ত্রটির চূড়ান্ত সীমা নয়।

পুতিন এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘বিশ্বের আর কারও কাছে নেই, এমন অনন্য এক পণ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষার সব মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য এটিকে প্রস্তুত করতে এখনো ‘অনেক কাজ বাকি আছে।’

পুতিন বলেন, ‘আমাদের আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঠিক করতে হবে—এই নতুন ব্যবস্থাটি কোনো শ্রেণির অস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, এর সম্ভাব্য ব্যবহার পদ্ধতি কী হতে পারে। এ ছাড়া আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের লক্ষ্যে অবকাঠামো প্রস্তুত করতে হবে।’

এই পরীক্ষার মাধ্যমে বুরেভেসতনিক পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপের ক্ষেত্র থেকে পরিচালনা করার মতো একটি অস্ত্রে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্ব মঞ্চের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিরক্ষায় অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন

চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্চাভিলাষী ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ শুরু করেন। আধুনিক হুমকি বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক অস্ত্র এবং উন্নত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য একটি বিস্তৃত জাতীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা ছিল এটি।

গোল্ডেন ডোম যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ফাঁকগুলো পূরণ করতে এবং বিস্তৃত পরিসরের আকাশভিত্তিক বিপদ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছিল।

সবচেয়ে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও এমন হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেটাও এই রুশ ক্ষেপণাস্ত্রকে থামাতে পারবে না। ওয়াশিংটন যখন তাদের নতুন ঢাল তৈরির পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে, ঠিক তখনই রাশিয়া এমন একটি অস্ত্রকে ধারণা থেকে বাস্তবতার কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। এটি পৃথিবীতে বিদ্যমান অন্য কোনো অস্ত্রের মতো নয়। এটি হচ্ছে সীমাহীন পাল্লার পরমাণু-শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি এমন এক হুমকি, যার বিরুদ্ধে গোল্ডেন ডোমকে লড়াই করতে হবে।

বুরেভেসতনিকের মতো নতুন ধরনের এই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বিমান প্রতিরক্ষার ধারণাকে মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারে।

তাই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাবিদদের এমন অপ্রচলিত হুমকি নিয়ে আগে থেকে ভাবাটা স্বাভাবিক। এমটি–অ্যান্ডারসনের মতো ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স গবেষকেরা সম্প্রতি উপগ্রহের চিত্র শেয়ার করেছেন, যাতে বুরেভেসতনিক উৎক্ষেপণের জন্য ভলোগদার কাছে স্থাপনা নির্মাণের সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা যাচ্ছে। এটি সত্য হলে, বিশ্বব্যাপী কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখা একটি অস্ত্রের মোতায়েন প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হয়েছে বলা চলে।

বুরেভেসতনিক কীভাবে কাজ করে

দৃশ্যত, বুরেভেসতনিক দেখতে একটি প্রথাগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই, যার ভাঁজ করা ডানা এটিকে সহজে সংরক্ষণে সহায়তা করে। এটি সলিড-ফুয়েল বুস্টার ব্যবহার করে ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় এবং ক্রুজিং গতিতে পৌঁছানোর পর এটি একটি বায়ুমণ্ডলীয় পরমাণু-শক্তিচালিত জেট ইঞ্জিনে রূপান্তর হয়। তত্ত্বগতভাবে, এই ইঞ্জিন ছোট একটি পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে বাইরের বাতাসকে উত্তপ্ত করে, যা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে জ্বালানি ছাড়া সপ্তাহ এমনকি মাসব্যাপী আকাশে থাকতে সাহায্য করে।

সূত্রমতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরিচালন পাল্লা ২২ হাজার কিলোমিটার বলে অনুমান করা হয়েছে। বাস্তবে এটি কার্যত সীমাহীন হতে পারে। এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভাব্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অনির্দিষ্টকালের জন্য টহল দিতে পারে। উৎক্ষেপণ করার পাওয়ার পর এটি অপ্রত্যাশিত পথ ধরে লক্ষ্যের দিকে কৌশলগতভাবে এগোতে পারে। ফলে এটিকে বাধা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

রাশিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ২১ অক্টোবরের পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে ছিল, ১৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লম্ব ও অনুভূমিক কৌশলগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

কার্যকরভাবে বুরেভেসতনিককে ‘ডুমসডে অস্ত্র’ অর্থাৎ পরমাণু যুদ্ধের ক্ষেত্রে নিশ্চিত পাল্টা আঘাত হানার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করার মতো ডিজাইন করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি

পরমাণু-শক্তিচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যেকোনো দিক থেকে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবহার করে উড্ডয়নের পথ হালনাগাদ করতে পারে, বাধা এড়াতে পারে, এমনকি মাঝ-আকাশে নতুন লক্ষ্যবস্তুর তথ্যও গ্রহণ করতে পারে।

১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে অর্জন করা প্রযুক্তিগত সাফল্যের ফল হচ্ছে নিরাপদে চালানোর ক্ষমতাসম্পন্ন পরমাণু-শক্তিচালিত ইঞ্জিন। সেই সময় রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা সফলভাবে ছোট পারমাণবিক চুল্লি তৈরি করেছিলেন। এসব অগ্রগতি কেবল বুরেভেসতনিকের জন্যই নয়, বরং ডুবো ড্রোনের মতো অন্যান্য প্রকল্পের পথও প্রশস্ত করেছে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পরমাণু-শক্তিচালিত বিমানের ধারণা নিয়ে গবেষণা করেছিল। বি–৩৬ এবং টিইউ–৯৫–এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যাপক গবেষণা সত্ত্বেও প্রকৌশলগত কঠিন চ্যালেঞ্জ, অত্যাধিক খরচ এবং বিকিরণ সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগের কারণে দুই দেশই শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাতিল করে।

রাশিয়া স্নায়ুযুদ্ধের প্রকৌশলীরা যা স্বপ্ন দেখতেন, আজ আরও উন্নত চুল্লি প্রযুক্তির সাহায্যে সেই সাফল্য অর্জন করতে চলেছে।

বুরেভেসতনিক কি প্রস্তুত

সর্বশেষ পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ছিল, বুরেভেসতনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রোটোটাইপ পর্যায় অতিক্রম করতে পারবে কি না। এখন ১৪ হাজার কিলোমিটারের সফল উড্ডয়ন রেকর্ড করা হয়েছে। ‘পরীক্ষায় সব লক্ষ্য অর্জিত’ হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বিবৃতি দিয়েছেন। তাই এখন প্রশ্নটি ‘যদি’ থেকে সরে ‘কবে’ এটি কার্যক্ষম হবে—সেই দিকে চলে এসেছে।

একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করার আগে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—এই ক্ষেপণাস্ত্রের শ্রেণি নির্ধারণ, ব্যবহারের ধারণা পরিমার্জন করা এবং মোতায়েনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা।

কয়েকটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া ২০২৬ সালের প্রথম দিকেই বুরেভেসতনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করতে পারে। সম্ভবত বিপুল সংখ্যায়। এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সীমাহীন পাল্লার কারণে এগুলো আর্টিক, সাইবেরিয়া বা প্রশান্ত মহাসাগরের মতো বিশাল এলাকায় টহল দিতে পারবে। একই সঙ্গে প্রচলিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কাছে অদৃশ্য থাকতে পারবে।

যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ডোম প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হবে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত এবং ট্র্যাক করা। এ জন্য সম্ভবত মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে নজিরবিহীন সমন্বয় এবং মহাকাশভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সম্পূর্ণ ব্যবহার প্রয়োজন হবে।

মহাকাশ: ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার শেষ সীমানা

সব মিলিয়ে বুরেভেসতনিকের মতো একটি অস্ত্রকে পরাজিত করতে হলে সম্পূর্ণরূপে সমন্বিত মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা লাগবে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ট্র্যাকিং, উৎক্ষেপণ অঞ্চলগুলো দ্রুত শনাক্তকরণ এবং প্রতিহত করার জন্য বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতা অপরিহার্য হয়ে উঠবে। এমনকি এজিস-সজ্জিত জাহাজের মতো উন্নত নৌসম্পদও বিরাট এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

আপাতত, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কোনো সহজ সমাধান নেই। ওয়াশিংটন যখন প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত তখন ডুবো পারমাণবিক ড্রোনের মতো পরবর্তী-প্রজন্মের অস্ত্রের বিবেচনায় মস্কো বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় রাশিয়া সম্ভবত ইতিমধ্যেই কৌশলগত খেলার ছক বদলে দিয়েছে এবং এমন এক ‘চেকমেট’ বানিয়ে ফেলেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন ডোম হয়তো ঠেকাতে পারবে না।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতীকী ছবি
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতীকী ছবি

নিউইয়র্কের এত ইহুদি কেন জোহরান মামদানির পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন

ইসরায়েলের বাইরে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইহুদির বসবাস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরে। প্রায় ১০ লাখ ইহুদির আবাসস্থল এই মহানগর।

জাতিগত, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যময় এই সম্প্রদায়কে কোনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিই উপেক্ষা করতে পারেন না।

আগামী ৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী নির্বাচনের প্রাইমারিতে ৪৪ বছরের নিচের ৬৭ শতাংশ ইহুদির ভোট পেয়েছিলেন জোহরান মামদানি। জরিপ অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে তিনি মোট ৪৩ শতাংশ ইহুদির ভোট পেয়েছিলেন।

জোহরান মামদানিকে নিয়মিতভাবে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এরপরও ডেমোক্রেটিক পার্টির এই মেয়র প্রার্থী ইহুদিদের ব্যাপক সমর্থন আদায় করে নিয়েছেন। তাঁর পক্ষে প্রচারের জন্য ইহুদি–সমর্থকদের একটি অংশ ‘জিউশ ফর জোহরান’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে।

ব্যক্তিপর্যায়ের সমর্থক ছাড়াও এই সংগঠনে আছেন জিউশ ফর রেসিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিস, জিউশ ভয়েস ফর পিসসহ বিভিন্ন ইহুদি সংগঠনের সমর্থকেরা। ইহুদিদের সংগঠনটি নিজেদের সম্প্রদায়ের পাশাপাশি নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রচার চালাচ্ছে।

যেসব ইহুদি জোহরান মামদানিকে সমর্থন দিচ্ছেন এবং তাঁর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন, তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে মিডল ইস্ট আই।

জ্যাকব ব্লুমফিল্ড হাজারো প্রচারকর্মীর সঙ্গে রাস্তায় নেমে জোহরানের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, সমাজের সবারই বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, পুষ্টিকর খাবার ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক অধিকার পাওয়া উচিত। কিন্তু স্থিতিশীল জীবনের জন্য এই উপাদানগুলো এখন অনেকের নাগালের বাইরে।

ব্লুমফিল্ড বলেন, এমনকি ৩০ বছর আগে যাঁদের মধ্যবিত্ত ধরা হতো, তাঁরাও আজ টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছেন। এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। জোহরান একমাত্র প্রার্থী, যিনি এ পরিস্থিতির গভীরতা ও করুণ বাস্তবতা নিয়ে সত্যিই ভাবছেন।

জোহরানের এই ইহুদি–সমর্থক বলেন, তিনি নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন। কারণ, মানুষের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলা এবং ধারণা বিনিময় করা রাজনীতির সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর মতে, তরুণ ইহুদিরা জোহরানকে সমর্থন করছেন। কারণ, তাঁরা মনে করেন, ইসরায়েল তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁরা বরং নিউইয়র্কে টিকে থাকার সংগ্রাম নিয়েই বেশি চিন্তিত।

‘আমি তাঁর নীতিগুলো ভালোবাসি’

অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী ম্যাট কেটাইও (৩৬) জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জোহরানের ব্যক্তিত্বে বিশ্বাস করি। আমি তাঁর নীতিগুলোকে ভালোবাসি, তাঁর ভাবনাকে ভালোবাসি। তিনি প্রাণবন্ত ও উদ্যমী। তিনি সত্যিই নিউইয়র্ককে ভালোবাসেন এবং এই শহরকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করতে চান। অন্য কোনো রাজনীতিকের মধ্যে আমি এটা দেখি না।’

নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো ও অন্যরা জোহরানকে নিয়ে ইসলামবিরোধী যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তাঁকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে যে প্রচার চালাচ্ছেন, তাতে উদ্বিগ্ন ম্যাট।

ম্যাট বলেন, ‘যেভাবে ইসলামোফোবিয়া ছড়ানো হচ্ছে এবং ইহুদিবিদ্বেষের মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তাতে একজন ইহুদি হিসেবে আমি কম নিরাপদ বোধ করছি।’

জোহরানের এই ইহুদি–সমর্থক আরও বলেন, ‘মুসলিন ও ইহুদিদের নিরাপত্তা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। আমি বিশ্বাস করি, জোহরান এমন অনেক কিছু করবেন, যা ইহুদি সমাজসহ পুরো নিউইয়র্কের জন্যই ভালো হবে এবং আমাদের নিরাপদ বোধ করাবে।’

নিউইয়র্কের সাংবাদিক ক্যালেব এসপিরিতু-ব্লুমফিল্ডও জোহরানের উদ্যমী মনোভাবের কারণে তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এবার সেই উদ্দীপনা টের পাচ্ছি, যা বারাক ওবামার উত্থানের সময় পেয়েছিলাম।’

জোহরান বাড়িভাড়া স্থগিত করা কিংবা বিনা মূল্যে বাস চালু করার মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না বলে মনে করেন ওই সাংবাদিক। তবে তাঁর বিশ্বাস, জোহরান সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। কারণ, জাতি-ধর্মনির্বিশেষে নিউইয়র্কের মানুষ কী চান, তা তিনি জানেন।

প্রজন্মগত বিভাজন

এসপিরিতু-ব্লুমফিল্ড বলেন, ইসরায়েল ইস্যু নিয়ে প্রজন্মগত বিভাজনই জোহরানের প্রতি ইহুদি–সমর্থনের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, বয়স্ক ইহুদিরা ইসরায়েলকে তাঁদের নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো কঠিন।

এই সাংবাদিক বলেন, ‘আমি জোহরানকে কখনোই সরাসরি ইসরায়েলবিরোধী বলব না। মজার বিষয় হলো, এ মন্তব্য জায়নবাদী ও জায়নবাদবিরোধী—উভয় পক্ষকেই ক্ষুব্ধ করবে। কারণ, জায়নবাদীরা তাঁকে শত্রু মনে করেন। আর জায়নবাদবিরোধীরা তাঁকে নিজেদেরই একজন বলে বিশ্বাস করেন।’

এসপিরিতু-ব্লুমফিল্ড আরও বলেন, ইসরায়েলের প্রসঙ্গ এলে সাবেক গভর্নর কুমো এমন আচরণ করেন, যেন তিনি নিজেই ইহুদি, ইহুদিদের রাজা। আসলে তিনি তা নন।

এসপিরিটু-ব্লুমফিল্ড বলেন, তিনি সান্ত্বনা পান এই ভেবে যে জোহরান একজন মুসলিম। কারণ, ইহুদিধর্ম ও ইসলাম একই শিকড় থেকে এসেছে। দুটিই সেমিটিক। দুই ধর্মের ভাষার মধ্যেও মিল পাওয়া যায়, খাবারের ধরনও কাছাকাছি। এমনকি ইহুদিধর্মের অনেক নীতিই ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিলে যায়।

এসপিরিটু-ব্লুমফিল্ড বলেন, ‘দিন শেষে আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, সব ইহুদিই জোহরান মামদানির নিউইয়র্ক নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনার অংশ।’

সংখ্যালঘুদের সংহতি

ম্যানহাটানের ৬৬ বছর বয়সী এক ইহুদি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইহুদি সমাজের ভেতরে এখন ভয়াবহ বিভাজন দেখা দিয়েছে। একদিকে ইসরায়েল নিয়ে বিভাজন, অন্যদিকে জোহরান মামদানিকে নিয়ে।

এই ব্যক্তি বলেন, নিউইয়র্কের প্রার্থী নির্বাচনে তিনি ব্র্যাড ল্যান্ডারকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন সাধারণ নির্বাচনে জোহরানকে সমর্থন দিচ্ছেন। এ কারণে তাঁকে নানা রকম সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে।

এই ব্যক্তি আরও বলেন, ‘জোহরানকে সমর্থন করায় আমাকে অনেক নোংরা কথা শুনতে হয়েছে। আমি একটি অভিজাত সিনাগগে গিয়েছিলাম। সেখানে লোকেদের বলতে শুনেছি, তাঁরা আর নিরাপদ বোধ করছেন না। তাঁদের নাকি শহর ছেড়ে দিতে হবে, অথচ তারা লাখ লাখ ডলার মূল্যের বাড়িতে থাকেন।’

জোহরানের এই সমর্থক বলেন, ‘আমাদের সমাজে নগ্নভাবে ইসলামবিদ্বেষ ঢুকে পড়েছে। এটি আমাদের মূল্যবোধের পরিপন্থী। এ কারণে অনেক ইহুদি ক্ষুব্ধ।’

এই ব্যক্তির মতে, জোহরান ইহুদি সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আন্তরিক চেষ্টা চালাচ্ছেন। কারণ, তিনি বোঝেন, খ্রিষ্টানপ্রধান সমাজে ইহুদি ও মুসলিমদের সংখ্যালঘু হিসেবে কীভাবে বাঁচতে হয়।

জোহরানের এই ইহুদি সমর্থক আরও বলেন, অনেক ইহুদি জোহরান মামদানিকে ভোট দেবেন, কিন্তু তাঁরা চুপচাপ আছেন। কারণ, এ বিষয়ে কথা বললেই ঝামেলা। তিনি ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে জোহরানের জয় নিয়ে আশাবাদী।

নিউইয়র্ক সিটির ডেমোক্রেটিক পার্টির মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি
নিউইয়র্ক সিটির ডেমোক্রেটিক পার্টির মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি। ছবি: রয়টার্স

ভোটের আগে মামদানি-কুমোর এগিয়ে থাকার লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচন ঘিরে জোরেশোরে চলছে প্রচার–প্রচারণা। বিভিন্ন জরিপ এবং আগাম ভোট পড়ার হার জোহরান মামদানির জয়ের আভাস দিলেও, হাল ছাড়ছেন না তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমো। নির্বাচনে এগিয়ে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন দুজনই। মামদানি ও কুমো—দুজনেরই ভাষ্য, শেষ হাসিটা কে হাসবেন, তা বলা যাচ্ছে না এখনই।

মেয়র নির্বাচনে ভোট ৪ নভেম্বর। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এক ভিডিও বার্তায় মামদানি বলেন, ‘মানুষ বলছে, “আমরাই জিতছি”, “খেলা শেষ হয়ে গেছে”, “কুমোর জারিজুরি শেষ”—এসব কথায় বিশ্বাস করবেন না। যেসব ধনকুবের শতকোটিপতি আমাদের অর্থনীতি নিয়ে কারচুপি করেছে আর নির্বাচন কিনে নিতে চেয়েছে, তারা সহজে হাল ছাড়বে না।’

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী মামদানির এ আশঙ্কা একেবারে অমূলক নয়। বৃহস্পতিবার তাঁর ভিডিও বার্তায় ধনকুবের বিল আকম্যানকে দেখানো হয়। শতকোটিপতি এই ব্যক্তি মামদানির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে ১৫ লাখ ডলার দিয়েছেন। এমনই আরেকজন সাবেক মেয়র ও ধনকুবের মাইকেল ব্লুমাবার্গ। স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমোর পক্ষে প্রচারের জন্য তিনি ঢেলেছেন আরও ১৫ লাখ ডলার।

কুমোর পেছনে অর্থ থাকলেও মামদানির আছে জনসমর্থন। সবশেষ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এমারসন কলেজ, পিআইএক্স–১১ ও দ্য হিল পোলের জরিপ অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ২৫ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন মামদানি। ভোটারদের ৫০ শতাংশ তাঁর পক্ষে। এরপরই ২৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন কুমো। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া আরও পেছনে। তাঁর জনসমর্থন ২১ শতাংশ।

এর আগের বিভিন্ন জরিপের ফলও ছিল অনেকটা একই। সব কটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে দুই অঙ্কে এগিয়ে ছিলেন মামদানি। যেমন মারিস্ট ইউনিভার্সিটির জরিপে কুমোর চেয়ে ১৬ পয়েন্টে, কুইনিপিয়্যাক ইউনিভার্সিটির জরিপে ১০ পয়েন্টে এবং ম্যানহাটান ইনস্টিটিউটের জরিপে ১৬ শতাংশ এগিয়ে ছিলেন মামদানি। এসব জরিপ দিয়েই ভোটের দিন পর্যন্ত সমর্থকদের উজ্জীবিত রাখতে চাচ্ছেন তিনি।

এবারের নির্বাচনের আরও বড় একটি বিষয় হলো, আগাম ভোট পড়ার হার। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিউইয়র্কে আগাম ভোট দিয়েছেন প্রায় ৪ লাখ বাসিন্দা। এদিকে ইঙ্গিত করে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের হারলেম এলাকায় দেওয়া ভাষণে কুমো বলেন, ‘বিভিন্ন জরিপকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কী বলছে, তা তারা নিজেরাও জানে না। কারণ, এর আগে তারা এত বেশি আগাম ভোট পড়ার হার দেখেনি।’

আগাম ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগেরই বয়স ৫৫ বছরের ওপরে। জরিপ অনুযায়ী, বয়স্ক ভোটারদের সমর্থন মামদানি ও কুমো—দুই পক্ষের প্রতিই প্রায় সমান সমান। তবে মামদানির হাতিয়ার তরুণ বা জেন–জিরা। তাঁদের বড় সমর্থন পাচ্ছেন তিনি। এমনই একজন ২২ বছর বয়সী এলিসা এফ। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মামদানি জিতলে, আমার জীবন ভালো হবে।’

মারিস্কের জরিপ বলছে, তিন ভাগের দুই ভাগ ভোটার মনে করেন, নিউইয়র্ক শহর ভুল দিকে যাচ্ছে। এই সুযোগ নিতে পারেন রাজনীতিতে নতুন ৩৪ বছর বয়সী মামদানি। বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হাইটসসহ আরও বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালানোর কথা ছিল তাঁর। এদিন বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ ও প্রচার চালিয়েছেন কুমোও।

নির্বাচনে যিনিই জিতুন, নিউইয়র্ককে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে বলে মনে করেন নাগরিক অধিকার নেতা আল শার্পটন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। নিউইয়র্কবাসী যে রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ, তা আমাদের বিভক্তকারী পানির চেয়ে শক্তিশালী।’

ছবি আঁকার একট অনুষ্ঠানে জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে
ছবি আঁকার একট অনুষ্ঠানে জোহরান মামদানি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। ছবি: এএফপি

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের বিরুদ্ধে জেরুজালেমে রক্ষণশীল ইহুদিদের ব্যাপক বিক্ষোভ

ইসরায়েলের জেরুজালেমে গতকাল বৃহস্পতিবার কয়েক লাখ অতি রক্ষণশীল ইহুদি (আলট্রা–অর্থোডক্স) বিক্ষোভ করেছেন। ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে যোগদানের জন্য দেশটিতে সরকারিভাবে যে আদেশ জারি রয়েছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

‘ডেমোনেস্ট্রেশন অব দ্য মিলিয়ন’ নাম পাওয়া এ বিক্ষোভে ইসরায়েলের সব আলট্রা–অর্থোডক্স পক্ষের মধ্যে বিরল এক ঐক্য দেখা গেছে।

গতকাল চাবাদ নামের একটি আলট্রা–অর্থোডক্স গোষ্ঠীর র‍্যাবাইরা (ইহুদি ধর্মীয় নেতা) ওই বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন। চাবাদের সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় নেই।

গতকাল বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী তরুণ ইয়েহুদা হির্শ বলেন, ‘আজ সব আলট্রা–অর্থোডক্স গোষ্ঠী একত্র হয়েছে। আমরা কোনো পরিস্থিতিতেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেব না।’

ইয়েহুদা আরও বলেন, ‘আমরা দুই বিপরীত পক্ষ।’ এর মধ্য দিয়ে হির্শ মূলত বুঝিয়েছেন, আলট্রা–অর্থোডক্স পক্ষ একদিকে আর অন্যদিকে সেনা ও রাষ্ট্রপক্ষ।

ইয়েহুদা বলতে থাকেন, ‘সর্বশেষ লড়াইয়ের ১০ বছর পর প্রথমবারের মতো সবাই একত্র হয়েছেন। আমরা যেমন হামাসে যোগ দেব না, তেমনি আমরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতেও যোগ দেব না।’

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম বলেছে, গতকাল আলট্রা–অর্থোডক্সদের অনেকে ট্রেনে বিক্ষোভস্থলে গেছেন। এ জন্য রেলস্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় ছিল।

পুলিশ জেরুজালেম যাওয়ার প্রধান সড়ক হাইওয়ে এক এবং শহরের অন্যান্য সড়ক বন্ধ করে দেয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা যেন বেশি না হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের অনেকে পায়ে হেঁটে শহরের উদ্দেশে রওনা হন।

ইসরায়েলে বহু বছর ধরে আলট্রা–অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগ দেওয়ার আদেশ নিয়ে জটিলতা চলছে।

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়ন তাঁদের সেনাবাহিনীতে আলট্রা–অর্থোডক্সদের বাধ্যতামূলক যোগদান থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন, তবে তা নিয়ে কোনো আইন হয়নি।

সত্তরের দশক থেকে আলট্রা–অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। তখনো তাদের অন্তর্ভুক্ত করার কয়েকটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পরে গাজায় ইসরায়েলের জাতিগত নিধন শুরু হলে এতে অংশ নেওয়ার জন্য লাখ লাখ ইসরায়েলি নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়। এমন অবস্থায় আলট্রা–অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়।

গত সপ্তাহে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে রাজি না হওয়া কয়েকজন আলট্রা–অর্থোডক্স শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে সামরিক পুলিশ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।

গতকাল ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ নিউজের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক নতুন কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ একটি নতুন খসড়া আইন প্রস্তুত করেছেন।

নতুন পরিকল্পনাটি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কারণ, এটিকে চলতি বছরের শুরুতে সরকার থেকে পদত্যাগকারী আলট্রা–অর্থোডক্স পক্ষগুলোকে শান্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কমিটির–পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান ইউলি এডেলস্টেইন জটিলতা তৈরি করায় তাঁকে সরিয়ে দিয়ে বিসমুথকে কমিটির প্রধান করা হয়। লিকুদ পার্টির দলের আরেকজন নেতা এবং আলট্রা–অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিষয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি করেছিলেন।

জেরুজালেমে আলট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিরা বিক্ষোভ করেন
জেরুজালেমে আলট্রা-অর্থোডক্স ইহুদিরা বিক্ষোভ করেন। ছবি: রয়টার্স