Sunday, December 24, 2017

কোটি কোটি ডলার খরচ করেও ব্যর্থ ইসরাইল

অপপ্রচারের জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেও ব্যর্থ হলো ইসরাইল। বৃহস্পতিবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়ে ও একক সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত অকার্যকর ঘোষণা করার জন্য জাতিসংঘের এক সাধারণ অধিবেশনে উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে সংস্থাটির ১২৮ সদস্য দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ৯টি দেশ। আর ভোটদানে বিরত ছিল ৩৫টি দেশ। সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও একই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিল।
সে প্রস্তাবের পক্ষে পরিষদের ১৫ সদস্যের ১৪ সদস্য ভোট দিলে তাতে ভেটো দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বৃহস্পতিবার এক সাধারণ অধিবেশনে একই প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। বিশ্বজুড়ে অবস্থিত ইসরাইল ও ইহুদিপন্থি সংগঠনগুলো ফিলিস্তিনের পক্ষে যাওয়া এই জয়ের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, এটি ফিলিস্তিনিদের কোনো কাজে আসবে না। অর্থহীন হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা ঠিক, এই জয় বাস্তব অর্থে ফিলিস্তিনিদের তেমন কোনো সাহায্যে আসবে না। কিন্তু এটা কি অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন? না, বরঞ্চ এটি তার উল্টোটা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের এই জয় উদযাপন করার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যেমন প্রথমত- এর মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দেয়া হলো যে, বিশ্ব সমপ্রদায়ে ইসরাইলের কোনো নীতিগত বা রাজনৈতিক অবস্থান নেই। আরো বুঝিয়ে দেয়া হলো যে, এটি বিশ্ব সমপ্রদায়ের গলার ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া একটি ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারী কলোনি। এর প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটি অপপ্রচার ছড়ানোর জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। কিন্তু তবুও নিজের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ত- এই ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষ করে ট্রাম্পের শাসনামলে একটি নির্যাতনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। এই ভোটের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য রাষ্ট্রকে শাস্তি দেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তৃতীয়ত- এই ভোটের মাধ্যমে ১২৮টি দেশ, জেরুজালেমকে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দের সামরিক ঘাঁটির রাজধানী হওয়ার ফরমান বাতিল বলে ঘোষণা করেছে। মাত্র ৯টি ছোট ও দুর্বল রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়েছে। এর মানে হচ্ছে, ওই ৯টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলো ছাড়া বিশ্ব সমপ্রদায়ের আর কোনো দেশের যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলকে সমীহ করে চলার কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা এই দেশ দুটি নীতিগত দিক থেকে দেউলিয়া হয়ে আছে। রাজনৈতিকভাবে এরা নির্বুদ্ধ। পুরো বিশ্বকে এরা শুধু সামরিক শক্তির ভয়ই দেখাতে পারে। আর কিছু নয়।
চতুর্থত- এই ভোটের মাধ্যমে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির কূটনীতিক অক্ষমতা প্রকাশ পেয়ছে। এটা প্রকাশ পেয়েছে যে, হ্যালি ও জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন কেবল এসব বলে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে ভয়ই দেখাতে পারেন  যে, তাদের কথার বিরুদ্ধে কোনো দেশ গেলে সে দেশকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
পঞ্চমত- এই ভোট, এটাও প্রমাণ করেছে যে, ফিলিস্তিনিদের লড়াই নিয়ে উদ্বেগ শুধু আরব ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুরো বিশ্বই ওই ইস্যু নিয়ে চিন্তিত।
ষষ্ঠত- ট্রামেপর জামাতা জ্যারেড কুশনার ও ইসরাইলের অর্থায়নকারীরাই মূলত ইসরাইল সমর্থকদের মধ্যে নৈতিক বিচ্যুতি সৃষ্টির জন্য দায়ী।  তারাই এটা নিশ্চিত করে দিয়েছে যে, প্রত্যেক মার্কিন নাগরিক ও ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশবাদীরা আয়নায় নিজদের চেহারা দেখবে ও নিঃসন্দেহে সেখান থেকে চোখ ফিরিয়ে নেবে।
সপ্তমত- ট্রামেপর ঘোষণা প্রত্যাখ্যানকারী জাতিসংঘের এই আহ্বান দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে আর কখনো শান্তির কোনো ন্যায্য ও যথাযথ মধ্যস্থকারী হিসেবে মেনে নেয়া হবে না।
অষ্টমত- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ অধিবেশনের ভোটদান  উভয় জায়গায় শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। আর এতে করে, অসলো শান্তি চুক্তি নামের প্রহেলিকার সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। তার সঙ্গে শেষ হতে চলেছে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নামের বিভ্রমেরও। নবমত- ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এই ভোটকে হাউজ অফ লাইস (মিথ্যার ঘর) হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। অন্যকথায়, তিনি পুরো বিশ্বকে ভ্রমাত্মক ঘোষণা করেছেন। এ থেকে তার মানসিক অবস্থা বোঝা যায়, একটি বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সমপূর্ণ আলাদা একটি ব্রহ্মাণ্ডে বসবাস করেন।
আর সর্বশেষ বিষয়টি হচ্ছে- জাতিসংঘে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাপ্য অপমানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি উঠতি ফিলিস্তিনপন্থি চিন্তাধারার সম্মুখীন- এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও দেশটিকে এর মোকাবিলা করতে হবে।
(আল জাজিরার মতামত অংশে প্রকাশিত হামিদ দাবাসি’র লেখা প্রতিবেদন অবলম্বনে। হামিদ দাবাসি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানিয়ান স্টাডিস অ্যান্ড কমপারেটিভ লিটারেচার বিষয়ক হাগপ কেভরকিয়ান অধ্যাপক)

একদিন আমরা যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করব

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ধীরে ধীরে ‘বায়ার নেভি’ থেকে ‘বিল্ডার নেভি’তে পরিণত করা হবে এবং আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ধীরে ধীরে “বায়ার নেভি” থেকে ‘বিল্ডার নেভি”তে পরিণত করা হবে এবং একদিন আমরা যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি করব ইনশা আল্লাহ।’ প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ মিডশিপম্যান-২০১৫ পরিদর্শন এবং বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে দিচ্ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে এসেই দেশে নৌবাহিনীর দক্ষ ব্যবস্থাপনায় খুলনা শিপইয়ার্ড এবং নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মিত হচ্ছে। গত মাসে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত দুটি সাবমেরিন-বিধ্বংসী লার্জ পেট্রল ক্র্যাফট ‘দুর্গম’ ও ‘নিশান’ নৌবহরের কমিশন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডে আধুনিক ফ্রিগেট তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে সর্বদা ঊর্ধ্বতনদের প্রতি আনুগত্য ও অধস্তনদের সহমর্মিতা প্রদর্শন করবে। চেইন অব কমান্ড মেনে চলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিশ্ব দরবারে আরও গৌরবোজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তিনি পাসিং আউট ক্যাডেটদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তিন বছরে প্রশিক্ষণে সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী ক্যাডেটকে ‘সোর্ড অব অনার’ প্রদান করেন। ২০১৫ ব্যাচের সোহানুর রহমান সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সোর্ড অব অনার লাভ করেন।ৎ এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে মিডশিপম্যান সীমান্ত নন্দী আকাশ ‘নৌবাহিনীপ্রধান স্বর্ণপদক’ এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার অ্যাক্টিং সাব-লেফটেন্যান্ট এ জেড এম নাসিমুল ইসলাম ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ গ্রহণ করেন। পরে প্যারেড কমান্ডার নবীন অফিসারদের শপথগ্রহণ করান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছালে নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ তাঁকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য বহির্বিশ্বে এখন পথিকৃৎ ধরা হয়। বর্তমান সরকার সমুদ্রসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি টেরিটোরিয়াল সি, ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশের সম্পদের অধিকার লাভ করেছি।’
তাঁর সরকারের সময়ে নৌবাহিনীকে একটি অত্যাধুনিক ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করার ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জলসীমায় নজরদারি বাড়াতে আরও মেরিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট ও হেলিকপ্টার ক্রয় প্রক্রিয়াধীন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে অ্যাভিয়েশন সুবিধাসংবলিত নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ নৌঘাঁটি ও ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নৌঘাঁটি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সাবমেরিনের সুষ্ঠু পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও জেটি-সুবিধা প্রদানের জন্য কুতুবদিয়ায় একটি সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে, সন্দ্বীপ চ্যানেলে জাহাজ বার্থিং সুবিধাসংবলিত ফ্লিট সদর দপ্তরের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে সমুদ্র এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে। সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন সময় দেশে ও পার্শ্ববর্তী দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং যেকোনো ক্রান্তিকালে নৌবাহিনীর সদস্যদের নিবেদিতপ্রাণ অংশগ্রহণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে গৌরবান্বিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসায় নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্র অর্থনীতির উন্নয়নে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরিতে নৌবাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতির পিতার ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণকে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্ট হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানে জাতি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে আরও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। শীতকালীন এই কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২১ জন নারী, একজন শ্রীলঙ্কান, মালদ্বীপের একজনসহ ৯২ জন মিডশিপম্যান এবং ১২ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ১০৪ জন কমিশন লাভ করেছেন।

সীমান্তে মানব পাচার বাড়ার পেছনে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি

আমেরিকার সীমান্তে মানবপাচার বেড়েছে আগের চেয়ে। আর এর পেছনে বর্তমান ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকেই মুখ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকেরা। ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একরকম যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি তা বাস্তবে রূপ দিতে নিয়েছেন বিভিন্ন পদক্ষেপ। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অভিবাসন ও কাস্টমস এজেন্টদের তৎপরতা বেড়েছে ব্যাপকভাবে। দীর্ঘদিন আমেরিকায় থাকা অনেকেই শিকার হয়েছেন বিতাড়নের। আর সীমান্তে কঠোর যাচাই-বাছাই তো রয়েছেই। এ অবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে আমেরিকা অভিমুখী মানুষেরা মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তাদের চাওয়া একটাই কোনোমতে সীমান্ত পার করে আমেরিকায় প্রবেশ। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশ যখন অভিবাসন নীতি কঠোর করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ওই দেশকে কেন্দ্র করে মানবপাচার চক্রের তৎপরতা বাড়ে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড মার্টিন স্কুলের গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিবেদন মতে, ‘সীমান্তে অতি নিয়ন্ত্রণই মানবপাচারের মুখ্য কারণ। সীমান্ত যত কঠোর হয়, শরণার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে ততই মানবপাচার চক্রের প্রতি আস্থা বাড়ে। কঠোর অভিবাসন নীতিই মূলত মানুষকে এ ধরনের ঝুঁকি গ্রহণে প্ররোচিত করে।’ বর্তমান মার্কিন অভিবাসন নীতিতে মানবপাচারের হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্তে।
এই সীমান্তে মানবপাচারকারীরা ‘কয়োটস’ নামে পরিচিত। এ বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন ওয়াশিংটন অফিস অন ল্যাটিন আমেরিকার সামরিক পর্যবেক্ষণ বিভাগের পরিচালক অ্যাডাম আইজাকসন বলেন, ‘বর্তমানে কোনো অভিবাসন প্রত্যাশীই কয়োটস কিংবা আমেরিকায় প্রবেশের পথ সম্পর্কে অভিজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার কথা ভাবতে পারে না। আর কঠোর অভিবাসন নীতির সুবিধাটি নিচ্ছে মূলত এই মানবপাচার চক্র। বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা ঠিকই মানুষকে আমেরিকায় নিয়ে যাচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাও ঘটছে।’ আমেরিকার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বিভাগের তথ্য বলছে, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মানবপাচারের হার বেড়েছে। এমনকি এই হার ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার চলাকালেই বাড়তে শুরু করে, যখন ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন বক্তব্য দিতে শুরু করেন। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১১৭টি মানবপাচারের ঘটনা আইসিই শনাক্ত করেছে। অথচ পুরো ২০১৬ সালেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ২ হাজার ১১০ টি। আর এর আগের বছর এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৮৬ টি। অন্য সব ক্ষেত্রের মতোই এখানেও চাহিদা ও জোগানের হিসাব মিলিয়ে পাচার চক্র তাদের দাম বাড়িয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদনমতে, ২০১৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর মানবপাচার ফি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সীমান্ত এলাকার ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে সে সময় গড়ে প্রতি জন ব্যক্তিকে আমেরিকায় প্রবেশ করাতে কয়োটস সাড়ে তিন থেকে চার হাজার ডলার নিত। ২০০৯ সালে এ ফি ছিল জনপ্রতি এক থেকে দুই হাজার ডলার। আর সাম্প্রতিক অন্তত একটি ঘটনায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে মানবপাচারকারীরা ৯ হাজার ২০০ ডলার নিয়েছিল বলে জানা গেছে। মানবপাচারকারীদের তৎপরতা বৃদ্ধি একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রাণসংশয়েরও কারণ হয়ে উঠছে। অনেকেই আমেরিকায় আসতে পাচারকারীদের সহায়তা নিলেও শেষ পর্যন্ত জীবন নিয়ে আসতে পারেন না।
ফেডারেল কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ১৯৯৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শুধু দক্ষিণ সীমান্তেই সাত হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী পথেই মারা গেছেন। কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বিভাগের মুখপাত্র নিউজউইককে বলেন, আমেরিকায় প্রবেশ করতে গিয়ে পথেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের সবাই মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতার শিকার। গত জুলাইয়েই সান আন্তোনিওতে ওয়ালমার্টের একটি বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে পাওয়া একটি ট্রাক থেকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এই ১০ জন মূলত মানবপাচারকারী চক্রের শিকার। আর আরও ভালো করে বললে পেছনের মুখ্য কারণটি ওই কঠোর অভিবাসন নীতিতেই। অ্যাডাম আইজাকসন বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পানিশূন্যতার কারণেই এসব ব্যক্তি মারা পড়েন। পাচারকারী চক্র এসব ক্ষেত্রে মরদেহ রেখে সটকে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়টি নির্ভর করে পাচারকারীকে কত দেওয়া হয়েছে, তার ওপর। উচ্চ মূল্য পরিশোধ করলে, মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় আসতে দুই দিনের মতো সময় লাগে। আর কম মূল্যের ক্ষেত্রে যাত্রাপথের বিড়ম্বনা বেড়ে যায়। সে ক্ষেত্রে হাঁটতে হয় প্রচুর। এমনকি নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়। আর নিশ্চিতভাবেই সীমান্ত এলাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ছেড়ে পাচারকারীরা সটকে পড়ে, কোনো দায়িত্ব না নিয়েই।

দেশের বেশিরভাগ শিশুর যৌন নিপীড়ক নিকটাত্মীয়রাই

দেশে বয়োঃসন্ধির আগেই নির্যাতনের শিকার হয় ৯০ শতাংশ শিশু। যার মধ্যে ৮৩ শতাংশই আক্রান্ত হয় নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে। শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠন 'গ্রাউন্ড জিরো'র গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

'নিরাপদ শৈশবর উদ্দেশ্যে' শীর্ষক ওই গবেষণা জরিপে বলা হয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে যৌন নিপীড়নের শিকার হয় ৩০ শতাংশ শিশু।

পঞ্চম শ্রেণিতে যেতে না যেতে নির্যাতনের হার দাঁড়ায় ৯০ শতাংশে। যা শিশুর নিকটাত্মীয় ও পূর্ব পরিচিতদের মাধ্যমে হয়।

সংগঠনটি ঢাকা ও সাতক্ষীরার ১০টি স্কুলের ৬শ' শিশুর উপর এ জরিপ পরিচালনা করে। এর মধ্যে দু’টি বিশেষ স্কুলও রয়েছে।

গ্রাউন্ড জিরো'র সমন্বয়ক ইফফাত জাহান তুষার ‍আরটিভি অনলাইনকে জানান, শিশুদের যৌন নির্যাতন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা খুবই ভয়ানক।

শিশুদের সঙ্গে যারা এ ধরনের ‍আচরণ করছে সবাই তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পূর্বপরিচিত। ফলে শিশুরা অনেক ক্ষেত্রে খারাপ আদর বুঝতে পারলেও তার প্রতিব‍াদ করতে পারে ‍না।

গবেষণা জরিপের অন্যতম সমন্বয়কারী রিফাহ শারমিলি বাঁধন বলেন, বাবা-মা, শিক্ষক ও আত্মীয়-স্বজনরা শিশুদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন না। এতে করে শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঝুঁকি বাড়ে।

বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের বন্ধু হয়ে তার কথা শোনা। তাতে করে শিশুদের নিরাপদ থাকার সুযোগ অনেকটাই তৈরি হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, দেশের শিশুরা এখন ঘরেও নিরাপদ নয়। যৌন নিপীড়কের তালিকায় পরিবারের সদস্যরাও জড়িয়ে পড়ছেন।

দেশে শিশুদের রক্ষা আইন প্রণীত হলেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ জন্য সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হওয়াকেই দায়ি করলেন এ মানবাধিকার কর্মী। 

নিউইয়র্কে বাড়ির দাম এক বছরেই বেড়েছে ১১ ভাগ

বাড়ির দাম ও ভাড়া দুটোই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের। এই দুটি বিষয় আবার পরস্পর সম্পর্কিত। বাড়ির দাম বেশি বলেই তার মর্টগেজ ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি। সম্প্রতি পরিসংখ্যান বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পর অর্থনীতির সূচক যে ঊর্ধ্বমুখী, তার সঙ্গে বাড়ির দামের সূচকও বেড়েছে ১১ ভাগ। নিউইয়র্কে বাড়ির দাম মুদ্রাস্ফীতির মতোই বেড়েছে মূলত ২০১৬ সালে। পণ্যের দাম যতটুকু বেড়েছে, বাড়ির দাম তার চেয়েও দুই গুণ বেশি বেড়েছে।  ১৯৪০ সালে অর্থাৎ এখান থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে নিউইয়র্কে মধ্যমানের একটি বাড়ির দাম ছিল ৪৫ হাজার ৭০০ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের গৃহশুমারি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সেই একই বাড়ি ১৯৮০ সালে বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার ডলারে। ৪০ বছরে সেই বাড়ি দাম হয়েছিল দ্বিগুণ। সেই হিসাবে ২০২০ সাল নাগাদ ওই সব বাড়ির দাম ২ লাখ ডলারের বেশি যাওয়ার কথা নয়। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ওই একই রকম বাড়ির মূল্য নিউইয়র্কে এখন ন্যূনতম ৬ লাখ ডলার। একটু ভালো জায়গায় হলে সেটা এখন ১০ লাখ বা ১ মিলিয়ন ডলার।  বাড়ির মূল্য নিরূপণ করার জন্য বহুল ব্যবহৃত ইনডেক্স জিলোর হিসাব অনুযায়ী, এখন নিউইয়র্কে বাড়ির দাম ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯০০ ডলার (নিউইয়র্ক সিটিতে এটার দাম দ্বিগুণ), যেটা মধ্যম মানের একটি বাড়ি। এটা এক বছর আগে কিনলে আরও ৪০-৫০ হাজার ডলার কমে কেনা যেত, অর্থাৎ এক বছরেই দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৯ বা প্রায় ১১ শতাংশ। তবে জিলোর হিসাব বলছে, এটা ২০১৮ সালেও প্রায় আড়াই ভাগ বাড়বে। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়ি কেনাবেচার কাজ করেন তরুণ রিয়েলেটর মঈনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাড়ির দাম খুব শিগগির কমবে, এমন আভাস নেই। এই সময়টা মূলত যাঁরা বাড়ি বিক্রি করছেন, তাঁদের জন্য ভালো। কেননা তাঁরা ভালো দাম পাচ্ছেন। সাম্প্রতিক উদাহরণ দিয়ে মঈনুল বলেন, গত সপ্তাহে তাঁর এক পরিচিত ৭০০ হাজার ডলার দিয়ে বাড়ি কিনেছেন, মাত্র ৩৫ হাজার ডলার ডাউন পেমেন্ট দিয়ে। দুই বছর আগে হলে এই বাড়ি কিনতে তাঁকে প্রায় দেড় লাখ ডলার ডাউন পেমেন্ট দিতে হতো। ভবিষ্যতে ব্যাংক সুদের হার বাড়লে বাড়ির দাম কমে যেতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে মঈনুল বলেন, এ গুজব আছে। তবে এই গুজন শুনছি ১০ বছর ধরে। এখনো ব্যাংক সুদের হার ৪ শতাংশের নিচে। সুতরাং ব্যাংক সুদের হার বাড়ালে ক্রেতারাও বিপাকে পড়বেন। অনেকেই বলেন, এটা বাবল বা বেলুনের মতো। অচিরেই পড়ে যাবে বাড়ির দাম। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হলো, এই দাম আগামী বছরেও বেশ কিছুটা বাড়ার লক্ষণ আছে।
অপর রিয়েলেটর শামীম আহমেদ কাজ করেন উইনজোন রিয়েলিটিতে। তাঁর হিসাবমতে, ‘এটা ক্রেজি মার্কেট’। কারণ, বাড়ির দামের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। ব্যাংক মর্টগেজ হিসেবে যে বাড়ির দাম ঠিক করছে পাঁচ লাখ ডলার, সেটি আরও দেড় লাখ ডলার বেশি ক্যাশ টাকা দিয়ে কিনছেন অনেকেই। তিনি বলেন, মূলত চীনারাই বাড়ির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে শহর জুড়ে। এটা কদিন থাকে, সেটা বোঝা যাচ্ছে না।
বাড়ির দামের উত্থান-পতন
পরিসংখ্যান বলছে, নিউইয়র্ক শহরের বাইরে এখন যে বাড়ির দাম ৩ লাখ ৪ হাজার ডলার, সেটা আগামী বছর আরও চার ৫ হাজার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই একই বাড়ির দাম পাঁচ বছর আগে ২০১৩ সালে ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ডলার। কিন্তু এটাই শেষ বাড়তির চিত্র নয়, ওই একই বাড়ির দাম তারও পাঁচ বছর আগে ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ডলার। অর্থাৎ ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল এই পাঁচ বছরে বাড়ির দাম পড়ে গিয়েছিল অস্বাভাবিক হারে। সেই দামে এখনো পৌঁছাতে পারেনি। ২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত দুই–পাঁচ হাজার করে বাড়লেও ২০১৭ সালের আগে সেটা ৪০–৫০ হাজার এক লাফে বেড়ে যায়। হিসাব বলছে, আগের চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটলে আরও দুই–এক বছর বাড়ির দাম কিছুটা বেড়ে হয় স্থিতিশীল হবে, নতুবা পড়তির দিকে যাবে। বাড়ির দামের স্থিতি অবস্থা বা পড়তি নির্ভর করবে আবার অনেকখানি ব্যাংকের ঋণের সুদের হারের ওপর। ফেডারেল সরকার এরই মধ্যে বাড়িতে দেওয়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার বাড়াবে বলে উদ্যোগ নিচ্ছে বলে সংবাদ বের হয়েছে।
এলাকাভিত্তিক বাড়ির দাম
এই মুহূর্তে নিউইয়র্কের মধ্যে বাড়ির দাম সবচেয়ে বেশি নিউ রচলতে। যেটা পেলহাম বে পার্ক থেকে বেশ কিছুটা উত্তরে। আর সবচেয়ে কম দাম এখন অন্টারিও লেকের কাছাকাছি রচেস্টার এলাকায়। সেখানে মধ্যম মানের একটি বাড়ি এখনো ৬৬ হাজার ডলারে পাওয়া যাচ্ছে, সিরাকাসে যার দাম ৭৮ হাজার ডলার। আলবানিনে যে বাড়ির দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার, সেটা পুকোস্পিতে প্রায় ২ লাখ ডলার। ইয়োঙ্কারসে এ রকম একটি বাড়ির দাম ৪ লাখ ১০ হাজার ডলারে মতো। আর নিউইয়র্ক সিটির মধ্যে সেটির দাম কমপক্ষে ৫ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। এই একই বাড়ির দাম শহরের বাইরে রচলেতে ৬ লাখ ১২ হাজার ডলার।
বাড়ি না কিনতে চাওয়াটা একটা বোকামি!
নিউইয়র্ক টাইমস-এর বেস্ট সেলিং বই দ্য অটোমেটিক মিলিয়নার-এর একটি হিসাব প্রণিধানযোগ্য। লেখক ডেভিড বেস বলছেন, বাড়ি কিনে রাখলেই আপনি আপনা–আপনি ৩০ বছর পরেই ধনী হবেন। একটি হিসাব সেখানে দেওয়া আছে। একজন ভাড়াটে হিসেবে ধরুন প্রতি মাসে আপনি খরচ করছেন ১ হাজার ৫০০ ডলার। এই হিসাবে আগামী ৩০ বছরে আপনি একটি বাড়ির সমান টাকা পরিশোধ করছেন, ভাড়া দিয়ে। (১৫০০X১২X৩০)=৫,৪০,০০০ ডলার। সে ক্ষেত্রে একজন ভাড়াটে ৩০ বছর পরে তাঁর হাতে কিছুই থাকার কথা নয়। কিন্তু আপনি এই পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে মর্টগেজ নিয়ে বাড়ি কিনে রাখলে, কিছু টাকা হয়তো বাড়তি যাচ্ছে, তবু ৩০ বছর পর আপনি যখন ওই বাড়ির মালিকানা পাচ্ছেন, তখন সেটির দাম গিয়ে পৌঁছেছে বাড়তি কয়েক লাখ ডলারে।
বাড়ি কিনতে যাওয়ার আগে বিবেচ্য
প্রথমবার বাড়ি কিনতে গেলে ব্যাংক ঋণের বিপরীতে সাড়ে ৩ থেকে ২০ ভাগ পর্যন্ত সুদ গুনতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাড়ি মোট মূল্যের ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাড়ি কিনতে চাইলে সেটাতে উৎসাহ দেন বিশেষজ্ঞরা। এর বাইরে বেশি ঋণের বোঝা মাথায় নিলে, সমস্যা নেই। কিন্তু যদি কোনো বছর বাড়ির দাম পড়ে যায় এবং সেটা বিক্রি করার মানুষ থাকে, তাহলে তখন প্রকৃত বিপদ নেমে আসতে পারে। কেননা বাড়ির দাম কমতে শুরু করলে, ভাড়াটেরাও ভাড়া কম দিতে শুরু করবেন। কিন্তু ব্যাংকের মর্টগেজ রেট তো আর কমতে শুরু করবে না।

জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা যাবেন নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে!

প্রতিষ্ঠিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তুলনামূলক কম প্রতিষ্ঠিত (নতুন) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেষণে পাঠানোর সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এ জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা দিতে বলেছে সংস্থাটি। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন আরও বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি অতি সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সুপারিশের কারণ হিসেবে ইউজিসি বলছে, অপেক্ষাকৃত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক নেই। ফলে সেখানে শিক্ষাক্ষেত্রে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ২০১৬ সালের তথ্য নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ইউজিসি উচ্চশিক্ষা নিয়ে সরকারকে সুপারিশ করে। সরকার সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়। দেশে বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪২টি। তবে ৩৭টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে বাকি ৩৪টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ এবং শিক্ষক ১৩ হাজার ৭২। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ২০। ইউজিসির একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এখন প্রতিনিয়ত নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। জামালপুর ও নেত্রকোনায় আরও দুটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে যাচ্ছে। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুণগত মানসম্পন্ন পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। দলীয়করণ করতে গিয়ে আরও কম যোগ্য ব্যক্তিরাও শিক্ষক হচ্ছেন। সেগুলোতে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকও হাতে গোনা। ফলে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা পাচ্ছেন না।
ইউজিসি মনে করছে, পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রয়েছেন। সেখান থেকে কিছুসংখ্যক শিক্ষককে নতুনগুলোয় পাঠালে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। ইউজিসি নতুন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর পদগুলোয় স্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে বলেছে। সংস্থাটি অবসরপ্রাপ্ত অথবা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেষণে শিক্ষকদের ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিয়ে তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া অভিজ্ঞ শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন, তাঁদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছে ইউজিসি। এ জন্য প্রয়োজনে ইউজিসি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম-ঠিকানার (ডাইরেক্টরি) তালিকা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবে। ইউজিসি বলছে, জাতীয়, উন্মুক্ত এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক নতুন সরকারি ও অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষকসংকট বিরাজ করছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানত প্রভাষক ও কনিষ্ঠ শিক্ষক দিয়ে চলছে। এ ক্ষেত্রে দেশ-বিদেশের প্রথিতযশা অধ্যাপকদের বক্তৃতা (লেকচার) ভার্চ্যুয়াল ক্লাসের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া দেশে দক্ষ শিক্ষক ও গবেষক (ফ্যাকাল্টি) তৈরির জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্বমানের একটি ‘গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়’ অতি দ্রুত করা দরকার। যেখানে শুধু স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হবে এবং দেশের আর্থসামাজিক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করবে। ইউজিসি বলছে, বর্তমানে যেসব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, তারা প্রয়োজনীয় উচ্চ ডিগ্রিসম্পন্ন জনবল তৈরি করতে পারছে না। এসব সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রস্তাবগুলো খুব ভালো। তবে নতুন ‘গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়’ করা বেশ জটিল হবে। তার চেয়ে বরং প্রতিষ্ঠিত যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যেখানে আলাদা করে গবেষণার জন্য অধ্যাপকেরা থাকবেন, তাঁদের মূল কাজই হবে গবেষণা করা ও করানো। তাঁরা মাঝেমধ্যে ক্লাস নেবেন। আর প্রেষণে পাঠানোর জন্য শিক্ষকদের প্রথমে পছন্দ দিতে হবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যবেক্ষক
দেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও ৮৬টির কার্যক্রম চলছে। ইউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায়ই দেখা যায়, বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সভা করে না। অনেকগুলোতে আচার্যের নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নেই। প্রতিবছর এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিরীক্ষিত বার্ষিক হিসাব ইউজিসিতে জমা দেয় না, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব কার্যকলাপ বন্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইউজিসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজে ইউজিসির একজন সদস্য বা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২০ বছরের শিক্ষকতাসহ গবেষণা বা প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ একজন শিক্ষাবিদকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা যাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পারেন, সে জন্য নীতিমালা করতে বলেছে ইউজিসি।

ঝলমলে মডেলিং জগতের অন্ধকার সুড়ঙ্গ!

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ২০ তলা ভবনের ৬ তলার বারান্দা থেকে এক মডেলের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেদিন ২০ তলায় একটি পার্টি চলছিল। ইভানা স্মিত নামের ১৮ বছর বয়সী ডাচ্‌ মডেলের ওই পার্টিতেই থাকার কথা ছিল। কিন্তু পার্টি চলা অবস্থায় ৬ তলার বারান্দায় তাঁর নগ্ন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ইভানার পরিবারের দাবি, তাঁকে হত্যা করে ২০ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে তদন্তে এখনো কোনো অপরাধমূলক প্রমাণ পায়নি পুলিশ।
নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুর দিকের এই ঘটনায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন অনেক কিছুই। এরই মধ্যে মডেলিং জগৎ নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন। কেউ কেউ বলছেন, আলো ঝলমলে মডেলিং জগতে এখন যৌনতা ও মাদকের অন্ধকার থাবা পড়েছে। সে কারণেও ইভানার মৃত্যু হতে পারে। সম্ভাব্য সব দিক ক্ষতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইভানার সহকর্মী মডেল ইমিতসা শজ বলেন, ‘মডেলিং জগতে এসব এখন হরহামেশাই হচ্ছে। আমাদের মাঝে যে-কেউ যেকোনো সময় এসবের শিকার হতে পারেন।’ নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া ইভানা ছোটবেলা থেকেই মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে তাঁর দাদা-দাদির সঙ্গে থাকতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সেখানে মডেলিং শুরু করেন। কয়েক বছর আগে তিনি মা-বাবার কাছে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তাঁর ভালো লাগত না। তাই আবারও ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে গত মাসে মালয়েশিয়া ফিরে আসেন ইভানা। পেনাংয়ে ইভানার বাল্যবন্ধু নাটালি উডওয়ার্থ বলেন, ‘এখানে আবারও ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল ইভানা। ফিরে এসে দারুণ খুশি ছিল সে।’ ইভানা মৃত্যুর এখনো কোনো কারণ খুঁজে পায়নি পুলিশ। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ভোরের দিকে। কিন্তু ৬ তলার ব্যালকনি থেকে বিকেল লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাঁর রক্তে অ্যালকোহল ও মাদকের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইভানার এই ঘটনায় মডেলিং ইন্ডাস্ট্রিতে নানা রকম পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন অনেকেই। অনেকে আবার হ্যাশট্যাগ #ট্রুথফরইভানা লিখে সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী মডেল ইমিতসা শজ মালয়েশিয়ার বেশ কয়েক বছর ধরে মডেলিং পেশায় আছেন। তিনি বলেন, এই পেশায় অতিমাত্রায় চাপ থাকে। মডেলদের এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে হয়। এ ছাড়া অ্যালকোহল ও মাদকের মতো ভয়ংকর বিষয়গুলো এখন এই জগতে ঢুকে পড়েছে। ইমিতসা বলেন, ইভানার ক্ষেত্রে কী ঘটেছিল তা জানা নেই। তবে এই পেশায় অনেক প্রস্তাব আসে। প্রলোভনে পড়ে অনেকেই।
কোনো পার্টিতে পাঁচ ঘণ্টা সময় ব্যয় করলেই একজন মডেলের পকেটে প্রায় এক লাখ টাকা (১২০০ ডলার) ঢোকে। কুয়ালালামপুরে একটি মডেল এজেন্সির পরিচালক ও মডেল কার্ল গ্রাহাম বলেন, মডেলিং পেশায় এখন মাদক ও অ্যালকোহল বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ মডেলই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এ কারণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতা ভোগেন। এসব হতাশা আর চাপ কাটাতে তাঁরা একসময় পার্টিতে ঢুকে পড়েন। আর সেখানেই মাদক ও অ্যালকোহলের আখড়া।’ মডেলিং পেশায় তরুণীরা অল্প বয়সেই ঢুকে পড়েন। তাই তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতাও অনেক কম থাকে। এ কারণে অনেক চাপের মুখে পড়ে তাঁদের সংগ্রাম করে টিকে থাকতে হয়। কার্ল গ্রাহাম বলেন, ‘তাঁদের (মডেল) “না” বলাটা শিখতে হবে। তাঁদের জানতে হবে অর্থের বিনিময়ে কোনো পার্টিতে যাওয়াটা মডেলিং নয়। এ ছাড়া তাঁরা এজেন্সি থেকেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সহযোগিতা পান না। বিশ্বের অল্প বয়সী মডেলরাই প্রায় সময় ক্লাব ও বারে অনুষ্ঠান করতে যান।’ তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া মডেলিং পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। আর মডেলরাও পার্টিতে গিয়ে অ্যালকোহল নিয়ে নিজেদের তারকা ভাবতে শুরু করেন। তাঁরা সাময়িক আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন। ইমিতসা শজ বলেন, মডেল তরুণীদের ভাবতে হবে, তাঁরা আসলে কী করছেন। এ ছাড়া তাঁদের এ ধরনের পার্টির ব্যাপারে ‘না’ বলতে হবে এবং মডেলের আসল কাজটাই করে যেতে হবে। তবে মডেলদের কাজের ব্যাপারে খুব যত্নশীল বলে জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের মডেল এজেন্সিগুলো। এম এল মডেল নামে একটি এজেন্সির কর্মকর্তা নিকোলাস চ্যান বলেন, ‘এখানে অনেক ঘটনাই ঘটে। অ্যালকোহল নেওয়া, মডেলদের পার্টিতে যাওয়া এবং সেখানে গিয়ে মাদক নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এজেন্সি হিসেবে আমরা কেবল মডেলদের এসব ব্যাপারে সতর্ক করতে পারি। এর বেশি আর পারি না।’ ইমিতসা শজ বলেন, অবশ্যই, সব এজেন্সিই খারাপ নয়। কিছু কিছু এজেন্সি শুধু মুনাফাই দেখে। সেই অর্থে মডেলদের যথেষ্ট নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষার কথা ভাবে না। ইভানার মতো ঘটনা প্রায় সময় ঘটে। গণমাধ্যম বিষয়টিকে তুলে ধরে। এর কিছুদিন পর সবাই তা ভুলে যায়। চলতি বছরের অক্টোবরে ইভানার মতো আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। চীনে ১৪ বছর বয়সী রাশিয়ার মডেল ভ্লাদা জ্যুবার মৃত্যু হয়। সাংহাই ফ্যাশন উইকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই কাজ করা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযোগ উঠেছিল, অতিরিক্ত কাজের চাপে ভ্লাদার মৃত্যু হয়। তবে তাঁকে নিয়োগকারী মডেলিং সংস্থা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইমিতসা বলেন, প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন্তু এতে এই জগতে পরিবর্তন আসে না। মডেলিং সংস্থাগুলোর জবাবদিহির ব্যবস্থা নেই বলেই এমনটা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি কাজ করতে চীনে গিয়ে যে গল্প শুনেছি, তা আরও ভয়ংকর। কোনোভাবে যদি আপনার আধা কেজি ওজন বেড়ে যায় তাহলে সংস্থাগুলো খারাপ আচরণ করে। তাঁরা মোটা বলে তাচ্ছিল্য করে এবং বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেয়।’ ইমিতসা আরও বলেন, এই পেশায় অধিকাংশ মেয়ে দরিদ্র পরিবার থেকে আসেন। এখান থেকে অর্জিত অর্থেই তাঁদের পরিবার নির্ভর করে। ইভানা স্মিতের মৃত্যুর পর কার্ল গ্রাহাম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানেই তিনি ইভানার মৃত্যু সঠিক তথ্য জানানোর দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ইভানার মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে আরও ভয়ংকর কিছু আছে। ইভানার মৃত্যুরহস্য জানতে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা সবাই আশাবাদী যে এই ঘটনায় মডেলিং পেশায় একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কার্ল বলেন, ‘এত বড় মর্মান্তিক ঘটনাও ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। কারণ, ইভানার চেয়েও বড় বড় তারকার এভাবে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কোনো পরিবর্তন আসেনি।’

কেন এই মার্কিন বিমান হামলা?

১৭ বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে আফগান যুদ্ধ, কিন্তু এত দিনেও বাগরাম বিমানঘাঁটির আকাশে যুদ্ধবিমানের ওড়াউড়ি বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কাছে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিই ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফগান যুদ্ধ জয়ের প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রবিন্দু। যদিও তার পূর্বসূরি বারাক ওবামাও ব্যর্থ হয়েছেন এই যুদ্ধ শেষ করতে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের আফগান যুদ্ধনীতি নিয়ে এক মাসের পর্যালোচনার ইতি টানেন গত আগস্টে। দীর্ঘ ওই পর্যালোচনার পর হোয়াইট হাউজ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে, পূর্ববর্তী ওবামা প্রশাসন আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা যথাযথভাবে কাজে লাগায়নি। তারা মনে করছে, এই যুদ্ধ শেষ করার একমাত্র হাতিয়ার হতে পারে আকাশপথে যুদ্ধ। ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো কয়েক হাজার সৈন্য প্রেরণ করতে যাচ্ছেন আফগানিস্তানে।
তবে এক লাখ মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রেখে যুদ্ধ করার সেই দিন আর নেই। স্থলযুদ্ধের দায়িত্ব আরো বেশি করে আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর হাতে ন্যস্ত হতে পারে এবং পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় পাওয়া বন্ধ করতে রাজনৈতিক প্রচেষ্টা যতদ্রুত সম্ভব জোরদার করা হবে। তবে তালেবানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করা এই যুদ্ধের একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি। আফগানিস্তানে বর্তমানে একমাত্র বিদেশী বাহিনী হিসেবে উপস্থিত আছে মার্কিন বাহিনী। নিয়মিতই তারা তালেবান ও আইএস ঘাঁটি লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরেও তারা ৭৫১টি বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের আফগান নীতি পর্যালোচনার পর প্রথম মাসেই এই হামলা চালিয়েছে তারা, যা ছিল ২০১০ সালের পর পার কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ। বিমান হামলা বৃদ্ধির ফলে দেশটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর স্থলসেনাদের কাজের পরিধি অনেকটাই কমে এসেছে বলে জানা গেছে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম কোনো শীর্ষকর্তা হিসেবে আফগানিস্তান সফর করেন। তিনি বলেছেন, নতুন এই যুদ্ধকৌশলের উদ্দেশ্য তালেবানের মনোবল ভেঙে দেয়া। কাবুলে মাইক পেন্স বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট গনি আমাকে জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে আমরা বেশ কিছু সিনিয়র তালেবান নেতাকে হত্যা করেছি, যা সংখ্যায় আগের কয়েক বছরের চেয়ে বেশি।’ তিনি বলেন, তালেবানের আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের চির ধরতে শুরু করেছে। গোষ্ঠীটি এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। আমাদের বিশ্বাস, আমরা শত্রুদের পরাজিত করে অগ্রসর হবো।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই ইউক্রেনে ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

নরওয়েতে মোতায়েন মার্কিন মেরিন কোরের কমান্ডার জেনারেল রবার্ট নিলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জেনারেল নিলার তার বাহিনীকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেন। রবার্ট নিলার বলেন, ‘আমি আশা করছি, আমার কথা ভুল প্রমাণ হোক; কিন্তু (বাস্তবতা হচ্ছে) একটি যুদ্ধ অত্যাসন্ন হয়ে পড়েছে।’
তিনি রাশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরকে ‘পরবর্তী বড় ধরনের সঙ্ঘাতের এলাকা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন আর আমাদের দৃষ্টি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে নেই।’ তবে আরো কিছু দিন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। নরওয়েতে মোতায়েন মার্কিন এই কমান্ডার বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু সেনাকে প্রত্যাহার করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সাথে যখন রাশিয়ার সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ছে তখন মার্কিন সেনা কমান্ডার এ বক্তব্য দিলেন। রাশিয়া নরওয়েকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দেশটিতে যেন মার্কিন সেনা মোতায়েন করা না হয়; কিন্তু জেনারেল নিলার বলেছেন, ওয়াশিংটন চাইলে যেকোনো সময় নরওয়েতে মোতায়েন ৩০০ সেনাকে তিন হাজার সেনায় উন্নীত করতে পারে।

জেরুসালেমে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে গ্রেফতার ৩ তুর্কি মুক্ত

ফিলিস্তিনের আল-আকসা মসজিদ থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে গত শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া তুরস্কের ৩ নাগরিককে জামিন দিয়েছে ইসরাইলের একটি আদালত। শনিবার সন্ধ্যায় তারা জামিন পান। এ তিন তুর্কি নাগরিকের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা ইসরাইলি পুলিশ ও বাসিন্দাদের ‘মারধর’ করেছেন। তৃতীয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি সরকারি আদেশ ‘অমান্য’ করে ‘অবৈধ বিক্ষোভে’ অংশ নিয়েছেন। গত ৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বিশ্বব্যাপী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্ব বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগান এবং অন্য শীর্ষ তুর্কি নেতারা মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ ১২৮-৯ ভোটের বিপুল ব্যবধানে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

‘মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা হবে’

দেশে মাদক চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং  সীমান্তবর্তী সংসদ সদস্যরা সমন্বয় করে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রোববার দুপুরে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান ও সীমান্ত এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় এ কথা জানান মন্ত্রী। বিজিবি সদর দফতর পিলখানার শহীদ আশরাফ হলে এ মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইজিপি একেএম শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামালউদ্দীন, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আহমেদ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার ৩৩ সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মাদক তৈরি হয় না। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও টেকনাফ থেকে মাদকদ্রব্য আসে। দেশে যাতে কোনো মাদক না ঢুকতে পারে, সে জন্য বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলে এই সমস্যার সমাধান হবে। এ সময় মাদক, চোরাচালান ও সীমান্তে হত্যা বন্ধে সংসদ সদস্যরা পরামর্শ ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আসাদুজ্জামান বলেন, সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বন্ধে কোস্টগার্ডকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের জন্য দুটি জাহাজ মোংলা সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছেছে।
আর বিজিবিতে ১৫ হাজার লোকবল বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বিজিবির চেক পোস্ট সংখ্যাও বাড়ানো হবে। সীমান্ত দিয়ে কোনো কিছু ঢুকে যেন দেশে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পুলিশ বাহিনীকেও সজাগ থাকার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মাদক চোরাচালান রোধে সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় না থাকার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সব বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। তবে যেসব জায়গায় সমন্বয়হীনতা রয়েছে, যেই জায়গায় কাজ করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে হত্যা ক্রমন্বয়ে কমছে। এ সময় তিনি একটি পরিসংখ্যান দেখিয়ে বলেন, ২০০৮ সালে সীমান্তে মারা গিয়েছিল ৬৮ জন। ২০০৯ সালে ৬৭, ২০১০ সালে ৬০, ২০১১ সালে ৩৯ জন এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে ২১ জন মারা গেছে। মাদক চোরাচালানে কতিপয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারদলীয় নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এসব কাজে যারাই জড়িত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমিতে ফিরে আসার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করতে চায় আমেরিকা!

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের পলিটব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়া সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ফিলিস্তিন ও জেরুসালেমের ব্যাপারে ওয়াশিংটন আরো কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি শনিবার গাজায় এক অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে বলেছেন, 'আমাদের কাছে গোপন তথ্য আছে যে, মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায়। সেইসাথে দখলীকৃত বসতিগুলো ইসরাইলকে দিয়ে দিতে এবং ফিলিস্তিনিদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে আসার সুযোগ চিরতরে বন্ধ করে দিতে চায় ওয়াশিংটন।' এ কারণে তিনি ইসরাইলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশ্ব মুসলিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষকে আমেরিকা ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়ারও আহ্বান জানান।
হামাস প্রধান বলেন, ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিসহ আমেরিকার মধ্যস্থতায় ইহুদিবাদীদের সাথে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি বাতিল করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর ওইসব চুক্তি বহাল রাখার আর কোনো অর্থ হয় না বলে হানিয়া মন্তব্য করেন। হামাসের পলিটব্যুরো প্রধান জোর দিয়ে বলেন, অখণ্ড জেরুসালেম হচ্ছে ফিলিস্তিনের রাজধানী এবং এই নগরীর উপর দখলদার ইহুদিবাদীদের কোনো অধিকার নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৬ ডিসেম্বর জেরুসালেম শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। বিশ্বব্যাপী তার এ ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বৃহস্পতিবার জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।

পাকিস্তানি গুলিতে ভারতের ৪ সেনা নিহত

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে ভারতের চার সেনা নিহত হয়েছে। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে। খবর এপির। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার দিনের শুরুর দিকে রাজৌরি সেক্টরে এ ঘটনা ঘটে। বিবৃতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, পাকিস্তানি সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবে গোলাগুলি শুরু করে। এদিকে, জম্মু-কাশ্মির পুলিশের মহাপরিচালক শেষ পাল ভাইদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সেনা ও গেরিলারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। নয়াদিল্লি প্রায় নিয়মিতভাবে অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তান অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কাশ্মিরি গেরিলাদেরকে। পাশাপাশি গেরিলাদেরকে সীমান্ত পেরিয়ে গিয়ে ভারতীয় সেনাদের ওপর হামলার সুযোগ করে দেয়। পাকিস্তান এসব অভিযোগ জোরালো ভাষায় নাকচ করে থাকে। দেশটি বলছে, ভারতই বরং জম্মু-কাশ্মিরে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ঘটাচ্ছে এবং পাকিস্তানে সন্ত্রাসী পাঠাচ্ছে।
‘কাশ্মির সংকট একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হতে পারে’
ভারতের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস বা 'র'এর সাবেক প্রধান অমরজিৎ সিং দৌলত বলেছেন, কাশ্মির সংকট একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে পারে। গত অক্টোবরে লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স বা এলএসই'র দক্ষিণ এশিয়া ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা না করার যে কৌশল ভারত নিয়েছে তার কোনো অর্থ নেই বলেও উল্লেখ করেন। গত পনর মাসে কাশ্মিরের পরিস্থিতি ভারত মারাত্মক ভাবে খারাপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বল প্রয়োগ করে কাশ্মিরে কখনোই কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। আসলে এ ভাবে কোথাও কখনোই সুফল পাওয়া যায়নি এবং বর্তমানে স্পেনে তা দেখতে পাচ্ছি বলে উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে, একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স বা আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান এসাহনুল হক। তিনি বলেন, গত জুলাই থেকে কাশ্মির পরিস্থিতি অবনতির দিকে মোড় নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, নির্বিচারের ছররা গুলি ব্যবহার করে এবং দমন-পীড়ন চালিয়ে কাশ্মিরে বিক্ষোভ সামাল দিয়েছে ভারত।

‘সন্ত্রাসবাদে’ যুক্ত থাকার অভিযোগে তুরস্কে ২৭৬৬ কর্মচারী বহিষ্কার

সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই হাজার ৭৬৬ জন সরকারি কর্মচারীকে বহিষ্কার করেছে তুরস্ক সরকার। এ বিষয়ে একটি জরুরি আদেশ দেশটির অফিসিয়াল লিগ্যাল ডাটাবেজে প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার অফিসিয়াল গ্যাজেটের এক ফরমানে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে ৬৩৭ জন সেনা, ৩৬০ জন বিশেষ বাহিনীর সদস্য, ৬১ জন পুলিশ ও ৪ জন কোস্টগার্ড সদস্য রয়েছেন। ৩৪১ জনের মতো কর্মচারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে ধর্মবিষয়ক অধিদফতর থেকে। এছাড়া বাকিরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। ডিক্রিতে আরো বলা হয়েছে, পূর্বে বহিষ্কার করা ১১৫ জনকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই দিন পৃথক আরেক ফরমানে বলা হয়েছে, আদালতে হাজির হলে ‘সন্ত্রাসবাদে’ অভিযুক্তদের একটি ইউনিফর্ম পরতে হবে।
সূত্র: আল জাজিরা

বিশ্বের বৃহত্তম উভচর বিমান

চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশাল আকারের উভচর বিমান এজি৬০০ রোববার তার প্রথম যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে বিমানটি এ যাত্রা সম্পন্ন করে। সিনহুয়া এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় ৯টা ৩৯ মিনিটে বিমান এজি৬০০ ঝুহাই নগরীর জিনওয়ান সিভিল অ্যাভিয়েশন এয়ারপোর্ট থেকে সফলভাবে উড্ডয়ন করে।
পরে ‘কুনলং’ কোড নামের এ বিমান প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আকাশে উড়ে। চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম উভচর এই বিমানের প্রধান ডিজাইনার হুয়াং লিংকাই বলেন, ‘এ ধরণের বিমান তৈরীর ক্ষেত্রে চীনের একটি একটি বড় সফলতা। কেননা, বিশ্বের হাতে গণা মাত্র কয়েকটি দেশের এ ধরণের বিশাল আকারের উভচর বিমান তৈরীর সক্ষমতা রয়েছে।’ বিমানটির প্রস্তুতকারক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অব চায়না (এভিআইসি) জানায়, বিমানটির কাঠামো ৩৯.৬ মিটার দীর্ঘ এবং এটির পাখার দৈর্ঘ ৩৮.৮ মিটার। এভিআইসি সূত্র জানায়, বিমানটি সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ৫৩.৫ টন। এটি প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫শ’ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। বিমানটি একটানা ১২ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম। এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উভচর বিমান বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল : উ. কোরিয়া

জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাকে "যুদ্ধ ঘোষণার শামিল" বলে অভিহিত করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ পুরোপুরিভাবে অর্থনৈতিক অবরোধের সমতুল্য। কেসিএনএ নিউজ এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, 'উত্তর কোরিয়ার শক্তি বৃদ্ধিই যুক্তরাষ্ট্রকে হতাশ করার একমাত্র উপায়।' পিয়ংইয়ংয়ের ব্যালিস্টিক মিসাইল টেস্টের প্রতিক্রিয়ায় জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ নতুন এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অতীতের তুলনায় আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনা হয় এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাকে বলা হয়েছে "প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে এবং 'যুদ্ধ ঘোষণার শামিল' যা কোরীয় উপদ্বীপ ও বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধ্বংস করছে।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে ভীত এবং পারমাণবিক শক্তি সম্পূর্ণ করা-ই এর ঐতিহাসিক কারণ । যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি উন্মত্ত হয়ে উঠছে এবং একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে বিবৃতিতে। "আমরা আমাদের আত্মরক্ষার জন্য পারমাণবিক শক্তি-বৃদ্ধিকরণ অব্যাহত রাখবো মূলত মার্কিন পারমাণবিক হুমকি, প্রতারণা এবং প্রতিকুল কর্মসূচির মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারিক শক্তি স্থাপনের জন্য।'' দেশটি ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসঙ্ঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এটি ছিল উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১০ম নিষেধাজ্ঞা আরোপ। নতুন প্রস্তাবে তেল ও পেট্রোল আমদানি কমিয়ে আনার কথা বলা হয়।

ষোড়শ সংশোধনী রায়ের রিভিউ দাখিল

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন দাখিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০৮ পৃষ্ঠার এই রিভিউ আবেদন দাখিল করা হয়। এর আগে ১৮ ডিসেম্বর ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের রিভিউ শুনানিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য অনুমতি চেয়ে বার কাউন্সিলে আবেদন করে বাদীপক্ষ। বার কাউন্সিলে করা ওই আবেদনে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবীর কথা বলা হয়। তারা হলেন- আগারওয়াল আমবুজ, আগারওয়াল অনামিকা গুপ্তা ও অধিমুলাম ভেঙকোটেরমান। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান সরকারের আমলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। শুনানি শেষে ১৩ জুলাই আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে ওই আপিল খারিজ করে রায় দেন। উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি গত ১ আগস্ট প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্ট। ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। রায় ঘোষণার পর থেকে এ রায়ের বিরুদ্ধে সমালোচনা করে আসছে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

বব মারলের নামে মাকড়সা

বিশ্বখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব জ্যামাইকার বব মারলে গানে গানে বয়ান করে গেছেন কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর শোষণ-নিপীড়নের কথা। বিজ্ঞানীরা এবার এই মানুষটার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে মাকড়সার নতুন একটি প্রজাতির নাম দিয়েছেন, দেসিস ববমারলেই। অস্ট্রেলিয়ার উপকূল ঘেঁষে প্রবালপ্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে নতুন প্রজাতির এই জলজ মাকড়সার সন্ধান পাওয়া গেছে। এই প্রজাতির নারী ও পুরুষ মাকড়সার বিবরণ প্রকাশ করেছে জীববিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী এভল্যুশনারি সিসটেমেটিকস। দেসিস ববমারলেই সামুদ্রিক মাকড়সারই একটি প্রজাতি। তবে এই প্রজাতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এরা ডুবন্ত অবস্থায়ও বেঁচে থাকতে পারে। বব মারলের ‘হাই টাইড অর লো টাইড’ গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে মাকড়সাটির নামকরণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। জোয়ারের সময় এই মাকড়সাগুলো নিজেদের আবাসে একধরনের সিল্ক প্রকোষ্ঠ তৈরি করে। এতে আবাসে পানি ঢুকতে পারে না। একই সঙ্গে এগুলো বাতাসপূর্ণ থাকে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাসে কোনো সমস্যা হয় না।
আবার ভাটার সময় আবাস থেকে বেরিয়ে এরা উপকূলে ছোট ছোট প্রাণী শিকার করে বেড়ায়। তবে মাকড়সার নতুন এই প্রজাতি কেবল এ কারণেই বব মারলের নাম পায়নি। গবেষণা নিবন্ধটির সহলেখক কুইন্সল্যান্ড জাদুঘরের মাকড়সা বিশেষজ্ঞ বারবারা বায়ের বলেন, ‘বব মারলের “হাই টাইড অর লো টাইড” গানটি জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের বার্তা দেয়।’ দেসিস ববমারলেই প্রজাতির মাকড়সাগুলো প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম জাদুঘর অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের মাইক গ্রের কথাতেও দেসিস ববমারলেই প্রজাতির জীবনসংগ্রামের বিষয়টি উঠে এসেছে। এক ব্লগপোস্টে তিনি লিখেছেন, সিডনি বন্দর এলাকার অধিবাসীদের কাছে একসময় এই সামুদ্রিক মাকড়সাগুলো খুবই পরিচিত ছিল। কিন্তু দিনে দিনে এদের সংখ্যা এতটাই কমে এসেছে যে এখন বিলুপ্তপ্রায়। সিডনি বন্দরের মানুষদের কাছে এখন এ ধরনের মাকড়সা অপরিচিতই বলা চলে।

ট্রাম্পের হুমকিতেই ভোট দেয়নি কিছু দেশ!

জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনা প্রস্তাব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে খুব সহজে পাস হবে, এমনটা আগে থেকেই ধারণা ছিল। বাস্তবেও তা-ই ঘটেছে। কিন্তু ভোটাভুটির আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালির হুমকি কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিল। এই কারণে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে কিছু দেশ বিরত থেকেছে বলে মনে করা হয়। ১২৮টি দেশ কেন জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল, তা স্পষ্ট। তারা জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘের প্রস্তাবের পক্ষে আছে, যাতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মাঝে সমঝোতার কথা বলা হয়েছে। আর যে ৩৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল, তাদের অধিকাংশই আগে থেকে এই ধারা অনুসরণ করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে অন্যতম ব্যতিক্রম কানাডা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী এই দেশটি মার্কিন নীতি অনুসরণ করে আসছিল। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের আদলেই তারা ভোট দিত। কিন্তু এবার কানাডা ভোটদানে বিরত থাকে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, কানাডা প্রস্তাবের বিপক্ষেই ভোট দিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধমকি তাদের ভালো লাগেনি, তাই কানাডা  ভোটদানে বিরত ছিল। মার্কিন হুমকিতে যে দেশগুলো প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ক্ষুদ্র দেশ গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, টোগো, মার্শাল আইল্যান্ড, ফেডারেল স্টেট অব মাইক্রোনেশিয়া এবং নাউরু। এই দেশগুলো জেরুজালেম ইস্যুতে মার্কিন নীতির মতো নীতি অনুসরণ করে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যে নয়টি দেশ প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে তাদের মধ্যে একটি বিষয় অভিন্ন। দেশগুলোর অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ। ভোটদানে বিরত থাকা অন্য দেশগুলোর ওপরও ট্রাম্পের হুমকির প্রভাব পড়েছিল বলেই মনে করা হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের একই মত। আফ্রিকার দেশগুলো সফরের আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ৩৫টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল মার্কিন চাপের কারণেই। যদি চাপ না থাকত তবে তারা প্রস্তাবের পক্ষেই ভোট দিত।

চাকরি ছাড়লেন ২০০ বিজ্ঞানী

বিশ্ব পরিবেশ সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখা সংস্থা ‘দ্য এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি (ইপিএ)’ ছেড়ে চলতি বছর দুই শতাধিক বিজ্ঞানী চলে গেছেন। পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিতে অসন্তোষ-হতাশার জেরে ও তাঁর নেতিবাচক পরিবেশ নীতির প্রতিবাদেই এতসংখ্যক বিজ্ঞানী সংস্থাটি ত্যাগ করেন। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ ও স্কট প্রুইটকে ইপিএর প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ার পর সংস্থাটি ছেড়ে গেছেন ওই দুই শতাধিক বিজ্ঞানী ছাড়াও ৭০০-এর বেশি কর্মী। জলবায়ু পরিবর্তনে মানুষের কর্মকাণ্ডের যে বিরাট প্রভাব রয়েছে, তা অস্বীকার করে থাকেন প্রুইট। ইপিএর দায়িত্ব গ্রহণের পর এ সংস্থাকে নানা আইনি ঝামেলাতেও জড়িয়েছেন তিনি। বিজ্ঞানী ও পরিবেশকর্মীর ইপিএ ছেড়ে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে টাইমস বলেছে, সংস্থাটির কর্মীরা বলছেন, এই বিজ্ঞানীদের চলে যাওয়ার সঙ্গে এ সংস্থা থেকে বায়ু ও পানি রক্ষায় দশকের পর দশক ধরে অর্জিত জ্ঞানের এক সমৃদ্ধ ভান্ডারও বিদায় নিয়েছে।

সাবেক মেরিন সেনা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর একটি ব্যস্ততম পর্যটন এলাকায় আসন্ন বড়দিনের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত সন্দেহে দেশটির চাকিরচ্যুত এক মেরিন সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এভরিট অ্যারন জেমসন নামের ওই ব্যক্তি আইএসের মতাদর্শ ধারণ করে পিয়ার-৩৯ নামক এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করছিলেন বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে। এফবিআই কর্মকর্তাদের দাবি, জেমসনকে আটকের পর তাঁর বাসায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, তাঁর একটি শেষ ইচ্ছাপত্র ও চিঠি উদ্ধার করা হয়। জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদ রয়েছে চিঠিতে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মৌলবাদী জিহাদিদের প্রতি সংহতি এবং হামলার ব্যাপারে আলোচনা করতে আইএসের প্রতিনিধি ভেবে এফবিআইয়ের এক এজেন্টের সঙ্গে জেমসন যোগাযোগও করেন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী আমেরিকানদের হত্যার আরেকটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে।’ ২০০৯ সালে মার্কিন নৌবাহিনীতে নিয়োগ পেলেও নিয়োগপ্রক্রিয়াকালে তথ্য গোপনের দায়ে জেমসনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ববির পার্টি সং



হলিউডের সিনেমায় সুপার হিরো আছে স্পাইডারম্যান, সুপারম্যান, আয়রনম্যান, ওয়ান্ডার ওমেন এবং বলিউডে আছে বলিউডে রাওয়ান, কৃষ, রোবট।

হলিউডে-বলিউডে যদি এধরনের সিনেমা হতে পারে তাহলে বাংলাদেশে নয় কেন? এমন ভাবনা থেকে গ্লামারাস চিত্রনায়িকা ববি নিজের প্রোডাকশন হাউস ববস্টার ফিল্মস থেকে প্রযোজনা করেছেন 'বিজলি' সিনেমাটি। এই সিনেমার নাম ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। 

তিনি বলেন, সুপারহিরো সুপার হিরোইন মুভি হলেও গল্পটি এদেশের প্রেক্ষাপটেই তৈরি হয়েছে। সিনেমার গল্পটি ইলেকট্রিক পাওয়ার নিয়ে। নিজের প্রযোজিত প্রথম সিনেমাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।

পরিচালক ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত সিনেমাটির শুটিং হয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও আইসল্যান্ডে। নতুন বছরে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে জানিয়েছেন নির্মাতা। 

এদিকে বড়দিন ও নতুন বছরকে কেন্দ্র করে সিনেমার একটি পার্টি সং ইউটিউবে প্রকাশ করা হবে। আকাশের কম্পোজিশনে করা গানটি গেয়েছেন আকাশ ও নন্দিনী। ২৫ ডিসেম্বর ইউটিউবে দর্শকদের উন্মুক্ত করা হবে গানটি। 

গেলো ১ ডিসেম্বর থেকে ভারতের হায়দরাবাদ ফিল্ম সিটিতে 'নোলক' সিনেমার শুটিং করছেন ববি। এতে তার বিপরীতে আছেন শাকিব খান। এই সিনেমার শুটিং শেষে 'বেপরোয়া' সিনেমার গানের শুটিংয়ে অংশ নেবেন ববি।

২০১০ সালে ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমায় নাম লেখান ববি। এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে ‘দেহরক্ষী’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। মূলত এই সিনেমার পর থেকেই একের পর এক সিনেমায় ডাক পেতে থাকেন ববি। দর্শকদের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্যে করে তুলতে সমর্থ হন।

শীত কাটিয়ে গণিতের উৎসবে শিক্ষার্থীরা

শিশিরভেজা শীতের সকালে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বাগেরহাটে শুরু হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো আঞ্চলিক গণিত উৎসব। আজ রোববার সকাল নয়টার দিকে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, জাতীয় গণিত উৎসব ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস। জাতীয় গণিত উৎসবের পতাকা উত্তোলন করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খোন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখী। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বেলুন ওড়ানো হয়। গণিত শেখার প্রতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘গণিত মানুষকে যুক্তিবাদী করে। যুক্তিবাদী মানুষ কখনো অন্যায় বা বিপথে পরিচালিত হতে পারে না। গণিত মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক করে। গণিত নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য প্রথম আলোকে সাধুবাদ জানাই। শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আগামী দিনে তারাই দেশের নেতৃত্বে দেবে। গণিত নিয়ে এমন উৎসব শিশুদের গণিত ও বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলবে। তাদের সৃজনশীল মেধা বিকাশ ও উৎসাহ প্রদানে এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে।’ পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় বলেন, শিক্ষার্থীদের ভেতরে একধরনের গণিতভীতি রয়েছে। এই ভীতি দূর করতে এ ধরনের আয়োজন বেশি বেশি করতে হবে। তাহলে একদিকে শিশুদের গণিতভীতি দূর হবে, অন্যদিকে তারা বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে। বিজ্ঞান মানুষকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন থেকে মুক্তি দেয়। তাই গণিত উৎসবের বিকল্প নেই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী সোয়া এক ঘণ্টার মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরপর শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় উৎসব আয়োজনে যুক্ত রয়েছে গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। উৎসব আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতা করছেন প্রথম আলোর বন্ধুসভার বন্ধুরা।

এ বছর যাদের হারালাম

চলতি বছর চলচ্চিত্র, সঙ্গীতসহ শোবিজের নানা অঙ্গনের বহু গুণী-প্রিয় মানুষেরা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে গেলেন। 
তাদের হারানোর শোক বুকে নিয়েই নতুন শুরুর যাত্রা হবে আমাদের। তারা স্থান করে নিয়েছেন আমাদের অন্তরের মণিকোঠায়।

মিজু আহমেদ
চলতি বছরের ২৭ মার্চ মাসে শুটিং করতে ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাত্রা পথে ট্রেনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান চলচ্চিত্রের গুণী অভিনেতা মিজু আহমেদ। তিনি আহমেদ ইলিয়াস ভূঁইয়ার পরিচালনায় ‘মানুষ কেন অমানুষ’ নামের একটি ছবির শুটিং করতে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন। কয়েক দফায় জানাজা শেষে পরদিন তার মরদেহ কুষ্টিয়া জেলার কোটপাড়ায় নিজ গ্রামে দাফন করা হয়।

লাকী আখন্দ
‘আগে যদি জানতাম’ খ্যাত সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক লাকী আখন্দ মারা যান চলতি বছরের ২১ এপ্রিল। দীর্ঘদিন ধরেই দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর আরমানিটোলায় নিজ বাসভবনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে দ্রুত স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাকী আখন্দ একজন মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন। তাকে দাফন করা হয় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে।

নাজমুল হুদা বাচ্চু 
চলচ্চিত্র ও নাটকের প্রবীণ অভিনেতা নাজমুল হুদা বাচ্চু মারা গেছেন চলতি বছরের ২৮ জুন। সেদিন বুধবার ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ৭৮ বছর বয়সী এই অভিনেতার। তার স্ত্রী লিনা জানান, ঈদের দুদিন আগে শুটিং থেকে ফিরে জ্বরে আক্রান্ত হন বাচ্চু। সেইসঙ্গে রক্তচাপ অনেক কমে যাওয়ায় ঈদের দিন দুপুরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিকেল পরীক্ষার পর মঙ্গলবার ওর হৃদযন্ত্রে সমস্যা ধরা পড়ে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভোরের দিকে সব শেষ হয়ে যায়।

নায়করাজ রাজ্জাক
চলতি বছরের ২১ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। রাজধানীর ইউনাইটেড চিকিৎসাধীন অবস্থা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্জাক। নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুর খবরে গোটা চলচ্চিত্রপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কয়েক দফায় জানাজা শেষে ২৩ আগস্ট দুপুরে তাকে বনানী গোরস্তানে দাফন করা হয়।

আবদুল জব্বার
৩০ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সংগীত শিল্পী আবদুল জব্বার। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জব্বার কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। পরদিন ৩১ আগস্ট বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আব্দুল জব্বার।

বারী সিদ্দিকী
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুরকার, গীতিকার, বংশীবাদক ও সংগীতশিল্পী বারী সিদ্দিকী রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২৪ নভেম্বর। দুটি কিডনি অকার্যকর ছিল। তিনি বহুমূত্র রোগেও ভুগছিলেন। পরদিন বারি সিদ্দিকীর বাউল বাড়ি নেত্রকোনার চল্লিশা বাজারে তাকে দাফন করা হয়।

আনিসুল হক
বছরের শেষদিকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে গেলেন নন্দিত উপস্থাপক, সংস্কৃতি অঙ্গনের সুধীজন আনিসুল হক। ব্যবসায়ী এই মানুষটি চিরকাল করেছেন সংস্কৃতির চর্চা। তিনি শেষকালে রাজনীতিতে জড়িয়েছিলেন, ঢাকা উত্তরের মেয়র নির্বাচিত হয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। গেল ৩০ নভেম্বর লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের বিপক্ষে ৬৪% আমেরিকান

জেরুজালেম ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪ শতাংশ জনগণ।

সিএনএন’র জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়া এবং অঞ্চলটিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্পের স্বীকৃতির পক্ষে মাত্র ৩৬ শতাংশ আমেরিকান।

জরিপ অনুসারে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেনি ৪৫ শতাংশ আমেরিকান। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে তার সরে আসা উচিত বলে মনে করেন ৪৪ শতাংশ আমেরিকান।

ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত ৭৯ শতাংশ রিপাবলিকান মেনে নিলেও শুধু দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন, তেল আবিব থেকে দেশটির দূতাবাস জেরুজালেমে সরানো যেতে পারে। তবে ৭১ শতাংশ ডেমোক্র্যাট ট্রাম্পের উভয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে।

জরিপের দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নেয়া ঠিক নয় বলে মত দিয়েছে। তবে পক্ষ নিলে ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর পক্ষপাতি ২৪ শতাংশ এবং মাত্র ২ শতাংশ আমেরিকান ফিলিস্তিনের পক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইসরায়েলের পক্ষেই থাকা উচিত বলে মনে করেন ৪৮ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ১২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট। তবে ৭৮ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৭০ শতাংশ স্বাধীনচেতা মার্কিন নাগরিক মনে করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বে আমেরিকানদের নিরপেক্ষ থাকা উচিত। এতে মত রয়েছে ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকানেরও।
গত ১৪ থেকে শুরু করে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ জরিপ পরিচালনা করে সিএনএন।

সৌদি আরবে গ্রেপ্তার দুই লাখ ৫৩ হাজার

সৌদি আরবে আবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গত পাঁচ সপ্তাহে দুই লাখ ৫৩ হাজার ৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে এক লাখ ৩৬ হাজার ৯৯৭ জন, শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৮৩ হাজার ১৫১ জন ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩২ হাজার ৯৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশে চেষ্টা করতে গিয়ে তিন হাজার ১৫৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৬ শতাংশই ইয়েমেনের নাগরিক।

আইন লঙ্ঘনকারীদের সহায়তা করায় ৫৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩৬ হাজার ৯৪২ জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ ৩৭ হাজার ২৩০ জনকে তাদের সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরো ৪১ হাজার ৩২৬ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে তাদের দেশে পাঠানো হবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, পাঁচ সপ্তাহের অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৯২ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে তাদের দেশে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় কার?

জাতীয় সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যে স্থায়ী কমিটি আছে, তাদের কাজ হলো সরকারের জবাবদিহি আদায় করা। নির্বাহী বিভাগে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কিংবা কেউ দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করে থাকে এই কমিটি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তারা এখন নির্বাহী বিভাগের মুখপত্রের ভূমিকা নিয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহের হোসেন মঙ্গলবার বৈঠক করে বলে দিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষায় যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, তার দায় সরকারের নয়। কয়েকটি জেলায় চতুর্থ শ্রেণির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বক্তব্য ভুল বার্তা দেবে। সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোতাহের হোসেন যুক্তি দেখিয়েছেন, এসব পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি হয় স্থানীয় পর্যায়ে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন কি প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের অংশ নয়? স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্নপত্র তৈরি হলেও তার সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারা থাকেন।
সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রশ্নফাঁসের দায়ও তাঁরা এড়াতে পারেন না। সংসদীয় কমিটির সভাপতির কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা, সেই স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে তিনি ও তাঁর কমিটি কী করেছে? এবারে কয়েকটি জেলায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হয়েছে। ভবিষ্যতে হয়তো এই ধারা চলতে থাকলে সব পরীক্ষাই স্থগিত বা বাতিল করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব বা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের কেউ কথাটি বললে হয়তো আত্মপক্ষ সমর্থন হিসেবে চালিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু তিনি যে চেয়ারে বসে আছেন, সেখান থেকে প্রশ্নের জবাবই চাওয়ার কথা। উত্তর দেওয়ার জন্য মন্ত্রী বা প্রশাসন আছে। তিনি নিজেই যদি মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নেন, তাহলে মন্ত্রী কিংবা ওই মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কী করবেন? প্রশ্নপত্র ফাঁস এখন মহামারিতে রূপ নিতে যাচ্ছে, সেখানে এ ধরনের দায়িত্বহীন কথাবার্তা তাঁরাই বলতে পারেন, যাঁরা দেশ ও জনগণ সম্পর্কে কোনো দায়দায়িত্ব অনুভব করেন না। সরকারের মুখপত্র বা জনসংযোগ কর্মকর্তার ভূমিকায়ও আমরা সংসদীয় কমিটির কোনো সভাপতি বা সদস্যকে দেখতে চাই না। স্থানীয়, জাতীয় বা যেকোনো পর্যায়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও তা রোধ করতে না পারার দায়িত্ব সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গা ছাড়া ভাব থাকার কারণে সব ধরনের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন শোচনীয় হচ্ছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না।

ফিলিপিন্সে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ১৯৫


ফিলিপিন্সের দক্ষিণাঞ্চলে ঝড়ের ঘটনায় একশ ৯৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। দেশটির পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
টেমবিন ঝড়ের প্রভাবে মিন্দানাও দ্বীপে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

তবে সেখানকার টুবোড ও পিয়াগাপো শহর বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিধসে সেখানকার অনেক ঘরবাড়ি মাটি চাপা পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় টেমবিন ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে মিন্দানাও দ্বীপের ওপর দিয়ে পালাওয়ানে আঘাত করে। তবে এটি আরো পশ্চিমে সরে যাচ্ছে।

টেমবিন ঝড় যেটি ফিলিপিন্সে ভিনতা নামে পরিচিত। ঝড়টি শুক্রবার মিন্দানাও দ্বীপে আঘাত করে। এর ফলে লানাও দেল নর্তে ও লানাও দেল সুর এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করে কর্তৃপক্ষ।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম জানিয়েছে, লানাও দেল নর্তেতে ১২৭ জন নিহত হয়েছে। জাম্বোয়াংগা উপদ্বীপে ৫০ জন ও লানাও দেল সুরে কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছে।

এদিকে দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন।
অন্যদিকে জরুরি উদ্ধারকর্মী, সৈন্য, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

ফিলিপিন্সে প্রতিবছর প্রায় ২০টি টাইফুন আঘাত হানে। এর আগে গেলো সপ্তাহে দেশটিতে একটি টাইফুন আঘাত হানলে ৪৬ জন নিহত হন।

২০১৩ সালে সুপার টাইফুন হাইয়ানের আঘাতে প্রায় আট হাজার লোক নিহত হয়। আর গৃহহীন হয় দুই লাখ মানুষ।

ইরানে মদের পার্টি থেকে গ্রেপ্তার ২৩০

পার্টিতে মদপান ও নাচ-গান করার সময় দুইশ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের পুলিশের। দেশটির রাজধানী তেহরানের দুটি পার্টি থেকে ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে নৈতিক পুলিশ। খবর বিবিসির। 

উইন্টার সলস্টিস অর্থাৎ শীতকালের সবচেয়ে ছোট দিনটিতে এই পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। ইরানে এই উৎসব 'ইয়াল্ডা' নামে পরিচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, লাভাসান এলাকার একটি বাগান থেকে ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর বাকি ৯০ জনকে উত্তরাঞ্চলীয় ফেরমানিয়েহ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন দুইজন সঙ্গীতশিল্পীও। সেখান থেকে কিছু মদের বোতল এবং মাদকও আটক করা হয়েছে।

তেহরানের নৈতিক পুলিশ বাহিনীর প্রধান কর্নেল জুলফিকার বার্ফার জানিয়েছেন, এই পার্টিতে যাওয়া লোকজন মদ খেয়ে ফুর্তি করছিল।

কর্নেল বার্ফার আরো জানিয়েছেন, এই পার্টির অনেক ছবি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হয়েছিল।
ইরানের নৈতিক পুলিশের ফার্সি নাম হচ্ছে এরশাদ অর্থাৎ পথনির্দেশ। মহিলারা পর্দা মেনে চলছে কিনা সেটা দেখাও এই পুলিশের কাজ।

দেশটিতে মদপানের জন্য শাস্তি হিসেবে আশি ঘা পর্যন্ত দোররা মারার বিধান আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দোররা মারার পরিবর্তে জরিমানাই বেশি করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আজ মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় যাবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সদ্যপ্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্বজনদের সমবেদনা জানাতে আজ রোববার চট্টগ্রামে তার বাসায় যাবেন। 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহিউদ্দিনের ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আসবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনও সিডিউল পাইনি। সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেলে কখন আসবেন সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

নৌবাহিনীর বার্ষিক রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে রোববার সকালে চট্টগ্রামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে বিকাল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন চৌধুরীর নগরীর চশমা হিলের বাড়িতে যেতে পারেন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী গত ১৫ ডিসেম্বর মারা যান।

গত ১১ নভেম্বর রাতে তিনি হার্টের সমস্যা ও কিডনিজনিত রোগে গুরুতর অসুস্থ নগরীর ম্যাক্স হাসাপাতালে ভর্তি হন। পরের দিন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে এনে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ১৬ নভেম্বর অসুস্থ মহিউদ্দিনকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে এনজিওগ্রাম সম্পন্নের পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্রায় ১০ দিন পর গত ২৬ নভেম্বর তিনি দেশে ফিরে পুনরায় স্কয়ার হাসাপাতালে ভর্তি হন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর জন্ম ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম হোসেন আহমেদ চৌধুরী ও মা বেদুরা বেগম।

ছাত্র জীবনেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য; মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন, যুদ্ধের পর জড়িয়ে পড়েন শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার পর প্রতিশোধ নিতে পালিয়ে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর ১৯৭৮ সালে দেশে ফেরেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহিউদ্দিন চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদে ছিলেন। চট্টগ্রামে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বন্দর রক্ষা আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

৭৪ বছরের জীবনে মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন ১৬ বছর। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি।

দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে প্রাইমারি শিক্ষকরা

প্রধান শিক্ষকের পরের স্কেলেই বেতন নির্ধারণের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আমরণ অনশন শুরু করেছেন সারাদেশ থেকে আসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।

শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে এ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়।
এতে মহাজোটের অধীনে থাকা ১০টি সংগঠনের শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষক এসেছেন এক দফা দাবি আদায়ের এ কর্মসূচিতে।

অনশনকারী শিক্ষকরা জানিয়েছেন, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ। এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০টাকা) বেতন পাচ্ছেন।

আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিতে ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০) বেতন চান।

অনশন কর্মসূচিতে সহকারী শিক্ষক সমাজ, সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন, সহকারী শিক্ষক সমাজ-২, সরকারি সহকারী শিক্ষক সমিতি, সহকারি শিক্ষক সমাজ-৩, সহকারী শিক্ষক সমিতি-২, সহকারী শিক্ষক ফোরাম, সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক অনলাইন সমিতির সভাপতি কাজী আবু নাসের আজাদ বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, আর কোনো উপায় নেই। সরকার যদি বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে আমাদের আর কিছু করার থাকবে না। তাই নিরুপায় হয়ে অনশনের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১০ লাখ রোহিঙ্গাকেই দ্রুত ফেরত পাঠাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

১০ লাখ রোহিঙ্গাকেই দ্রুত মিয়ানমার ফেরত পাঠাবে সরকার। মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ীই সবকিছু করা হবে। বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। 

এর আগে রোববার বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট বিজি-০৪১১ ফ্লাইটে সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। 

প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের বিএনএ ফ্লোটিলায় রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ মিডশিপম্যান-২০১৫ পরিদর্শন এবং বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পটুয়াখালীতে এভিয়েশন সুবিধাসহ দেশের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি ও রাজধানীর খিলক্ষেতে বঙ্গবন্ধু নৌঘাঁটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কুতুবদিয়াতে সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্নত্যাগে নবীন নৌ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে তিনি সদ্য প্রয়াত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় যাবার কথা রয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের পক্ষে মত

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর মিয়ানমার–বিষয়ক বিশেষ দূত বব রায়ে বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা রাখা উচিত। আর এই বিচার–প্রক্রিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কানাডার সমর্থন করা উচিত।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ঘুরে রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে বব রায়ে এই অভিমত দিয়েছেন। কানাডার দৈনিক গ্লোব অ্যান্ড মেইল এবং কানাডার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিবিসি-রেডিও কানাডা গতকাল শনিবার জানিয়েছে, বব রায়ে তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি অপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি নিপীড়নের শিকার হওয়া লোকজনের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির অংশ হিসেবে বব রায়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করেন। এ সময় তিনি সরেজমিনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পেলেও তাঁকে রাখাইন সফরের অনুমতি দেয়নি মিয়ানমার সরকার। বব রায়ে তাঁর প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের যে বক্তব্য আমি শুনেছি, তা একদিকে গা শিউরে ওঠার মতো। সুনির্দিষ্ট ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহ করতে হলে নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ের ভিত্তিতে তা পদ্ধতিগতভাবে করতে হবে। এ জন্য গত কয়েক বছরের ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখা উচিত। এসব ক্ষেত্রে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে, তাদের সম্পৃক্ততাও খুঁজে দেখতে হবে।’ রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নৃশংসতাকে কানাডা ও জাতিসংঘ ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে বব রায়ে তাঁর প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নির্যাতনকে ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে উল্লেখ করেননি। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বব রায়ে তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনে আরও লিখেছেন,
‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণ আর নৃশংসতার পাশাপাশি নারীদের যৌন নিপীড়ন, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের হত্যার বীভৎস বর্ণনা শুনেছি।’ কক্সবাজারের অস্থায়ী শিবিরগুলোতে গাদাগাদি করে রোহিঙ্গাদের বসবাস নিয়ে নিজের অসন্তুষ্টির কথাও তিনি লুকাননি। এ নিয়ে তাঁর মত হচ্ছে, ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া আর মহামারির আশঙ্কার কারণে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে। বাংলাদেশে যেহেতু সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর আর মার্চ থেকে জুলাই—এ সময়কালে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে, এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি রোধে কানাডাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব নেওয়া উচিত। চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির জন্য আগামী জানুয়ারিতে আবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করবেন বব রায়ে। কারণ, এ ধরনের ‘চ্যালেঞ্জিং’ কাজে আরও অনেক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে সুপারিশ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বলুন তো ক্রমিক সংখ্যা তিনটি কী?

ক্রমিক সংখ্যা তিনটি বের করার আগে আসুন গণিতের কতগুলো সাধারণ কিন্তু বেশ মজার বিষয় দেখি। যেমন ধরুন, প্রশ্ন করলাম, ১০০-এর ১৫% আর ১৫-এর ১০০% কেন সমান হয়? অর্থাৎ, ক-এর খ% ও খ-এর ক% কেন সব সময় সমান? এর উত্তর আমরা কীভাবে বের করব? খুব সহজ। কারণ, ক-এর খ% = (ক) × খ/১০০ = ক × খ/১০০। অন্যদিকে, খ-এর ক% = (খ) × ক/১০০ = খ × ক/১০০ = ক × খ/১০০। দুটি হিসাব একই। সে জন্যই সমান। এখন দেখুন, ১০০-এর ১৫% = ১০০ × ১৫/১০০ = ১৫। এবং ১৫-এর ১০০% = ১৫ × ১০০/১০০ =১৫। দুটিই সমান। এবার একটি সহজ সমস্যা দেখুন। তিনটি ক্রমিক বিজোড় সংখ্যার যোগফল ১৫ এবং এই যোগফল মাঝখানের বিজোড় সংখ্যাটির ৩ গুণ। সংখ্যা তিনটি কত? আমরা খুব সহজে এর উত্তর বের করতে পারি। কারণ, বলেই তো দিয়েছি, যোগফল, মানে ১৫ হলো মাঝের সংখ্যাটির ৩ গুণ। সুতরাং মাঝের সংখ্যাটি = ১৫/৩ = ৫। সুতরাং সংখ্যা তিনটি ৩, ৫ ও ৭। এদের যোগফল ১৫ এবং মাঝের সংখ্যা ৫, যার ৩ গুণ = ১৫। কিন্তু গাণিতিক হিসাবে আমরা বেশ কঠিন করেও এর সমাধান বের করতে পারি। যেমন: মনে করি, ‘ক’ একটি বিজোড় সংখ্যা। সুতরাং, ক্রমিক তিনটি বিজোড় সংখ্যা হলো, (ক - ২), (ক), (ক + ২)। এদের যোগফল = ৩ক = ১৫। তাহলে ক = ৫। সুতরাং, সংখ্যা তিনটি হলো ৩, ৫ ও ৭।
এ সপ্তাহের প্রশ্ন
এমন তিনটি ক্রমিক সংখ্যা বের করুন, যাদের যোগফল ও গুণফল অভিন্ন, অর্থাৎ একই। আপনাদের উত্তর অনলাইনে মন্তব্য আকারে অথবা ই-মেইলে ( quayum@gmail.com) পাঠাতে পারেন।
গত সপ্তাহের প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্নটি ছিল, দুটি সংখ্যার বর্গের বিয়োগফল একটি বর্গসংখ্যা। সংখ্যা দুটি কত?
প্রায় সবাই সঠিক উত্তর দিয়েছেন। ধন্যবাদ।
উত্তর: সংখ্যা দুটি ৫ ও ৩। এদের বর্গের বিয়োগফল (২৫ - ৯) = ১৬ = (৪)২, একটি বর্গ সংখ্যা। এ রকম সংখ্যা আরও অনেক আছে। যেমন: ৫ ও ৪। এদের বর্গের বিয়োগফল (২৫ - ১৬) = ৯ = (৩)২
কীভাবে উত্তরটি বের করলাম
প্রথমে শুরুর দিকের বর্গসংখ্যাগুলো পরীক্ষা করে দেখি। ওগুলো হলো ১, ৪, ৯, ১৬, ২৫, ৩৬ ... ইত্যাদি। এবার পরীক্ষা করে দেখলেই বোঝা যায় সংখ্যা দুটি ৫ ও ৩। এদের বর্গসংখ্যা দুটি যথাক্রমে ২৫ ও ৯। তাদের বিয়োগফল ১৬, যা ৪-এর বর্গ। ইত্যাদি।
তবে আমরা এভাবেও সমাধান বের করতে পারি: মনে করি ক, খ ও গ তিনটি রাশি, যাদের মধ্যে সম্পর্ক হলো (ক)২ - (খ)২ = (গ)২
এখন ক ও খ-এর ভিন্ন ভিন্ন মান বসাই। প্রাপ্ত ফল যদি পূর্ণবর্গ সংখ্যা হয়, তাহলেই আমরা একটি উত্তর পাব। যেমন: ক = ১৩ ও খ = ১২ হলে, (ক)২ - (খ)২ = (১৩)২ - (১২)২ = (১৬৯ - ১৪৪) = ২৫ = (৫)২। সুতরাং, সংখ্যা দুটি ১৩ ও ১২। ইত্যাদি।

৫৯ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস মঙ্গলবার থেকে

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘসময় ধরে পড়ে থাকা নষ্ট ও পচা পণ্য আবারও ধ্বংস করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এবার ৫৯ কনটেইনার নষ্ট ফল, আদা ও রসুন ধ্বংস করা হবে। পাঁচ দিনব্যাপী এই ধ্বংস কার্যক্রম শুরু হবে আগামী মঙ্গলবার। কাস্টমস সূত্র জানায়, ৪ ডিসেম্বর থেকে ৮৯ কনটেইনার ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নগরের পতেঙ্গা এলাকার বিজয় নগরে গর্ত খুঁড়ে দুই দিনে ৩০ কনটেইনার নষ্ট পণ্য পুঁতে ফেলা হয়। এ সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাবাসীর আপত্তির মুখে ধ্বংস কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এ পরিস্থিতিতে হালিশহরের আনন্দবাজার এলাকায় সিটি করপোরেশনের জায়গায় নষ্ট পণ্য ধ্বংস করার উদ্যোগ নেয় কাস্টমস।  কাস্টমস সূত্র জানায়, নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব পণ্য আমদানি করা হয় ২০১০ সাল থেকে এ বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। পণ্য আমদানির পর ব্যবসায়ীরা নানা কারণে তা খালাস না নেওয়ায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিক্রির জন্য নিলামে তোলে।
কিন্তু নিলামেও বিক্রি হয়নি। পরে নষ্ট হয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় তা ধ্বংস করা হয়নি। জানতে চাইলে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মিয়া মো. নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, টানা পাঁচ দিন ধরে ৫৯ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হবে। এ জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পণ্য ধ্বংসের পর খালি হয়ে যাওয়া কনটেইনার ব্যবহার করতে পারবে জাহাজ কোম্পানিগুলো। বন্দর কর্তৃপক্ষও বন্দরের খালি জায়গায় কনটেইনার সংরক্ষণ করতে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস না নিলে আমদানির সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। যেমন আমদানি-প্রক্রিয়ার শুরু থেকে বন্দরে আসা পর্যন্ত পণ্যের দামের পুরোটা বা আংশিক বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয় ব্যবসায়ীকে। কিন্তু পণ্য আসার পর ব্যবসায়ী তা খালাস না করলে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করে কাস্টমস। নিলামে বিক্রি না হলে রাজস্ব হারায় কাস্টমস। আবার ওই ব্যবসায়ী পণ্য খালাস না নেওয়ায় তাঁর কাছ থেকেও শুল্ককর পায় না। বন্দর কর্তৃপক্ষও কনটেইনার রাখার ভাড়া পায় না। কনটেইনারের মালিকপক্ষও কনটেইনার ভাড়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে না। কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকলেও ক্ষতিপূরণও আদায় করতে পারে না আমদানিকারকের কাছ থেকে।

অ্যাপলের বিরুদ্ধে ঠকানোর অভিযোগে মামলা

আপনি কি পুরোনো মডেলের আইফোন ব্যবহার করছেন? তবে নিশ্চয়ই অনেক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে গিয়ে ফোনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতার চেয়ে কম পাচ্ছেন? অনেকেই অভিযোগ করছেন, পুরোনো আইফোনের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদের নামে অ্যাপল ইচ্ছে করেই এর গতি কমিয়ে দিচ্ছে। কারণ অ্যাপল চাইছে সবাই তাদের নতুন আইফোন কিনুক। অভিযোগের বিষয়টি মেনে নিয়েছে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ। ফোনের গতি কমে যাওয়ায় মেসেজ লিখতে ও পাঠাতে দেরি হচ্ছে। ফোনে মেইল লোড হতে সময় বেশি লাগছে। অ্যাপলের দাবি, তারা এ কাজ করেছে মূলত একটি কারণে। অনেক দিন ধরে ব্যবহৃত ব্যাটারির প্রভাবে হুট করে ফোন যাতে বন্ধ না হয়, তা ঠেকাতে। পুরোনো ফোন যাতে দ্রুত কাজ না করে ধীরে ধীরে কাজ করে, সে বিষয়টির জন্য অ্যাপল কিছু পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। গত বুধবার অ্যাপল দাবি করেছে, এটি মূলত ফোনকে সুরক্ষা দিতেই করা হয়েছে। ফোনের বয়স হয়ে গেলে এর লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি নতুনের মতো দক্ষতায় প্রসেসিং চাহিদা মেটাতে পারে না। এতে ফোন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফোন যাতে এভাবে বন্ধ না হয়, এ জন্য সফটওয়্যার হালনাগাদ করা হয়েছে।
এতে ফোনের কার্যক্ষমতা ধীরগতির হবে। অ্যাপলের এ স্বীকারোক্তিমূলক ব্যাখ্যাকে অনেকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন। আইফোন ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, অ্যাপল পরিকল্পিতভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আইফোন বাজারে আসায় আগের ফোনগুলোতে সমস্যা তৈরি করে নতুন ফোনে আগ্রহ সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য। স্বভাবতই অ্যাপলের ব্যাখ্যা অনেকের পছন্দ হয়নি। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা স্টেফান বোগদানোভিচ ও ডাকোটা স্পিজ অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাঁদের অভিযোগ, আইফোনের গতি কমিয়ে দিতে অ্যাপল কখনো তাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। স্টেফান বোগদানোভিচ ও ডাকোটা স্পিজ দুজনই আইফোন ৭ ব্যবহার করেন। তাঁদের দাবি, গতি কমিয়ে দেওয়ায় আইফোন ব্যবহারে তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। অ্যাপলের এ সমস্যার কারণে তাঁরা অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ জন্য ক্ষতিপূরণ চান তাঁরা। এ মামলায় এখন যুক্তরাষ্ট্রের সব পুরোনো আইফোন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। অ্যাপল কর্তৃপক্ষ মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সূত্র: আল–জাজিরা

দলকে রাহুমুক্ত করতে পারবেন রাহুল?



দলের দুঃসময়ে রাহুল গান্ধী যে গুরুদায়িত্বটি পেলেন, তা হলো সভাপতির পদ। আগুয়ান বছরটা পেরোলেই লোকসভা নির্বাচন। মেলা দায়িত্ব, বিস্তর কাজ। রাজনীতির ময়দানে কংগ্রেসের যে মন্দা, গুজরাটের নির্বাচনে তুলনামূলক ভালো অবস্থান শুভযোগের আভাস দিচ্ছে। অনেকেই বলছেন, রাহুলই পারবেন দলকে রাজনৈতিক মন্দার রাহু থেকে মুক্ত করতে। তবে মতভেদও আছে।
২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো আমেথির সাংসদ হয়ে রাজনীতিতে নাম লেখান রাহুল। ২০১৩ সালে কংগ্রেসের সহসভাপতি হন। তিনি যে দলের ভবিষ্যৎ কান্ডারি হবেন, তা আগেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। এক যুগের বেশি সময় ধরে কংগ্রেসের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা রাহুলের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে প্রশ্ন রয়েছে। এই সময়ে রাহুল কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ‘ম্যাজিক’ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ পরপর দুবার ক্ষমতায় থেকেছে। দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও লোকসভায় রাহুলের ভূমিকা ছিল অনেকটাই ‘নিষ্প্রভ’। দলের নেতা-কর্মী তো বটেই, রাজনীতি-সচেতন সাধারণ মানুষকেও হতাশ করেছেন তিনি। ‘লাজুক’ রাজনীতিবিদের তকমাও জুটেছে তাঁর। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়। তারা মাত্র ৪৪টি আসন পায়। এমন পরাজয়ের পর বিধ্বস্ত কংগ্রেস ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু বিগত বছরগুলোয় তাদের সেই চেষ্টার দৃশ্যমান ফল খুব কমই দেখা গেছে। কেন্দ্রের ক্ষমতা হারানোর পর নানা দিক থেকে কংগ্রেসের জন্য দুঃসংবাদ আসতে থাকে। পরবর্তী সময়ে বিধানসভা নির্বাচনে একের পর এক রাজ্য হারিয়েছে কংগ্রেস। ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র এখন গেরুয়াময়। ১৯ রাজ্যের ক্ষমতা বিজেপির দখলে। কংগ্রেসের ঝুলিতে আছে মাত্র চারটি রাজ্য। এই চার রাজ্যের মধ্যে তিনটিতে আগামী বছর নির্বাচন। সেই নির্বাচনে রাজ্য তিনটি দখলের আগাম হুংকার দিয়ে রেখেছে বিজেপি। সদ্য শেষ হওয়া গুজরাট নির্বাচনকে রাহুলের নেতৃত্বের জন্য একটা বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হলেও তাদের আসন কমে গেছে। আর পরাজয়ের পরও আসন বেড়েছে কংগ্রেসের। গুজরাট নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে বলা যায়, নিজেদের দুর্গে বিজেপি একটা ধাক্কা খেয়েছে। ২২ বছর ধরে গুজরাটের ক্ষমতায় বিজেপি। খোদ নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটির ঘাঁটিতে বিজেপিকে ধাক্কা দিতে পারা কম কথা নয়। গুজরাট নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির কপালের ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গুজরাটে কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচারে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাহুল। তিনি পুরো গুজরাট চষে বেড়িয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেয়, গুজরাটে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কাজটা রাহুল ভালোভাবেই করতে পেরেছেন। ‘এ প্লাস’ না পেলেও তিনি সম্মানজনক একটা ‘নম্বর’ পেতেই পারেন। তা ছাড়া গুজরাট হতে পারে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রেরণার উৎস।
মোদির ভারতে ধর্ম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ভারতে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে জয় পেতে বিজেপি যে হিন্দুত্ববাদকে পুঁজি করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গুজরাট নির্বাচনের ফল দেখে মোদি ইতিমধ্যে নড়েচড়ে বসেছেন। দলের সাংসদদের এখনই কাজে নেমে পড়তে বলেছেন তিনি। বোঝাই যাচ্ছে, সামনে কংগ্রেসকে আরও কোণঠাসা করতে মরিয়া থাকবে বিজেপি। রাহুলের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। রাজনীতিতে ‘অনাগ্রহী’ হিসেবে তাঁর দুর্নাম আছে। বিজেপি তো বলেই বেড়ায়, টুইটার ছাড়া অন্যত্র রাহুলের উপস্থিতি নেই। লোকসভা নির্বাচনের বেশি বাকি নেই। তাই ‘কোকুন’ ছেড়ে রাহুলের বেরিয়ে আসার এখনই সময়। অল্প সময়ের মধ্যে তাঁকে দল গোছাতে হবে। নেতা-কর্মীদের সংগঠিত ও উজ্জীবিত করে কংগ্রেসের পালে হাওয়া লাগাতে হবে। অনেক দিন পর কংগ্রেস একজন তরুণ নেতা পেয়েছে। রাহুল নিজের তারুণ্য ও নতুন চিন্তাধারার মাধ্যমে কংগ্রেসকে বদলে দিতে পারেন। একই সঙ্গে জয় করতে পারেন সাধারণ ভোটারদের মন। রাহুলের তারুণ্য এবং দলের প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানো গেলে কংগ্রেসের পক্ষে বিজেপিকে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। রাহুল ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের পরিণতি আরও করুণ হবে। কংগ্রেস দুর্বল হলে ভারতজুড়ে উড়বে হিন্দুত্ববাদের পতাকা। দল, দেশ ও জনগণের স্বার্থেই রাহুলকে সব রাহু কাটাতে হবে। কাজটি কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।