Monday, July 3, 2017

আরবদের অনৈক্যে যেভাবে জন্ম হয় ইসরাইল নামক ইহুদি রাষ্ট্রের

ফিলিস্তিনের গাজা থেকে দুই মাইল উত্তরে কিবুটস এলাকা। এখানে ১৯৩০'র দশকে পোল্যান্ড থেকে আসা ইহুদীরা কৃষি খামার গড়ে তুলেছিল। ইহুদিদের পাশেই ছিল ফিলিস্তিনী আরবদের বসবাস। সেখানে আরবদের কৃষি খামার ছিল। তারা কয়েক শতাব্দী ধরে সেখানে বসবাস করছিল। সে সময় মুসলমান এবং ইহুদীদের মধ্যে সম্পর্ক মোটামুটি বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল।
কিন্তু ১৯৩০'র দশকে ফিলিস্তিনীরা বুঝতে পারলো যে তারা ধীরে-ধীরে জমি হারাচ্ছে। ইহুদিরা দলে-দলে সেখানে আসে এবং জমি ক্রয় করতে থাকে।
ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় প্রায় সাত লাখের মতো ফিলিস্তিনী বাস্তু-চ্যুত হয়েছে। তারা ভেবেছিল দ্রুত সমস্যার সমাধান হলে তারা বাড়ি ফিরে আসতে পারবে। কিন্তু ইসরাইল তাদের আর কখনোই বাড়িতে ফিরতে দেয়নি।
ইসরাইলের সাবেক প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ বছর দশেক আগে বিবিসি’র সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনীদের কেন এই দশা হলো সেজন্য তাদের নিজেদেরই প্রশ্ন করা উচিত।
মি: পেরেজ বলেন, ‘অধিকাংশ জমি ফিলিস্তিনীদের হাতেই থাকতো। তাদের একটি আলাদা রাষ্ট্র হতো। কিন্তু তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ১৯৪৭ সালে তারা ভুল করেছে। আমরা কোনো ভুল করিনি। তাদের ভুলের জন্য আমরা কেন ক্ষমা চাইবো?’
১৮৯৭ সাল থেকেই ইহুদিরা চেয়েছিলেন নিজেদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।
১৯১৭ সালে থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে ব্রিটেন।
তখন ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে।
ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন ইহুদি আন্দোলনের নেতা ব্যারন রটসচাইল্ডকে।
তৎকালীন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সে চিঠি ‘বেলফোর ডিক্লারেশন’ হিসেবে পরিচিত।
ইহুদীদের কাছে ব্রিটেন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ফিলিস্তিনের জমিতে তাদের জন্য একটি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ করে দিবে। যদিও রোমান সময় থেকে ইহুদিদের ছোট্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী সে জায়গায় বসবাস করতো।
ইউরোপে ইহুদীদের প্রতি যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সেটি তাদের একটি নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের ভাবনাকে আরো তরান্বিত করেছে।
১৯৩৩ সালের পর থেকে জার্মানির শাসক হিটলার ইহুদিদের প্রতি কঠোর হতে শুরু করেন।
ইতোমধ্যে জাহাজে করে হাজার হাজার ইহুদি অভিবাসী ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে আসতে থাকে। তখন ফিলিস্তিনী আরবরা বুঝতে পারে যে তাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে।
ফিলিস্তিনী আরবরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বিদ্রোহ করে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্য এবং ইহুদি নাগরিকরা। কিন্তু আরবদের সে বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করেছে ব্রিটিশ সৈন্যরা। ফিলিস্তিনীদের উপর ব্রিটিশ সৈন্যরা এতো কঠোর দমন-পীড়ন চালিয়েছিল যে, আরব সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছিল।
ইহুদীরা তাদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনে বদ্ধপরিকর ছিল। ব্রিটেনের সহায়তায় সে অনুযায়ী তারা কাজ এগিয়ে নিচ্ছিল।
১৯৩০’র দশকের শেষের দিকে ব্রিটেন চেয়েছিল হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অবস্থান জোরালো করতে। সেজন্য আরব এবং ইহুদী- দু’পক্ষকেই হাতে রাখতে চেয়েছে ব্রিটেন।
১৯৩৯ সালের মাঝামাঝি ব্রিটেনের সরকার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে যেখানে বলা হয়েছিল পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য পঁচাত্তর হাজার ইহুদি অভিবাসী আসবে ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে। অর্থাৎ সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছিল।
ব্রিটেনের এ ধরনের পরিকল্পনাকে ভালোভাবে নেয়নি ইহুদিরা। তারা একই সাথে ব্রিটেন এবং হিটলারের বিরুদ্ধে লড়াই করার পরিকল্পনা করে।
তখন ৩২ হাজার ইহুদি ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। সেখান থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়ে ইহুদি সৈন্যরা ব্রিটেন এবং আরবদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের বাহিনীর দ্বারা লাখ-লাখ ইহুদি হত্যাকাণ্ডের পর নতুন আরেক বাস্তবতা তৈরি হয়।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর যেসব ইহুদি বেঁচে ছিলেন তাদের জন্য জন্য কী করা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে ইহুদীদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা আরো জোরালো হয়।
আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান ইসরায়েল রাষ্ট্রের পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। মি: ট্রুম্যান চেয়েছিলেন হিটলারের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া এক লক্ষ ইহুদিকে অতি দ্রুত ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে জায়গা দেয়া হোক। কিন্তু ব্রিটেন বুঝতে পারছিল যে এতো বিপুল সংখ্যক ইহুদিদের ফিলিস্তিনী ভূখণ্ডে নিয়ে গেলে সেখানে গৃহযুদ্ধ হবে।
এ সময় ইহুদিদের সশস্ত্র দলগুলো ব্রিটিশ সৈন্যদের উপর ফিলিস্তিনের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো শুরু করে। তখন ইউরোপ থেকে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে জাহাজে বোঝাই হয়ে আসা হাজার-হাজার ইহুদিদের বাধা দেয় ব্রিটিশ বাহিনী। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি।
ইহুদি সশস্ত্র দলগুলো ব্রিটিশ বাহিনীর উপর তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতির তৈরি করা যাতে ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের জন্য ব্রিটেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়। তখন সমাধানের জন্য ব্রিটেনের উপর চাপ বাড়তে থাকে। এরপর বাধ্য হয়ে ব্রিটেন বিষয়টিকে জাতিসংঘে নিয়ে যায়।
১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দু’টি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ। একটি ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটি আরবদের জন্য।
ইহুদিরা মোট ভূখণ্ডের ১০ শতাংশের মালিক হলেও তাদের দেয়া হয় মোট জমির অর্ধেক। কিন্তু আরবদের জনসংখ্যা এবং জমির মালিকানা ছিল ইহুদিদের দ্বিগুণ।
স্বভাবতই আরবরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। তারা জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয়।
কিন্তু ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ডে তখন ইহুদিরা বিজয় উল্লাস শুরু করে। অবশেষে ইহুদিরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড পেল। কিন্তু আরবরা অনুধাবন করেছিল যে, কূটনীতি দিয়ে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তের পর আরব এবং ইহুদিদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। তখন ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড ছেড়ে যাবার জন্য ব্রিটিশ সৈন্যরা দিন গণনা করছিল।
তখন ইহুদিদের সশস্ত্র দলগুলো প্রকাশ্যে আসা শুরু করে। তাদের গোপন অস্ত্র কারখানাও ছিল। কিন্তু ইহুদিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিল তাদের বিচক্ষণ নেতৃত্ব।
এর বিপরীতে আরবদের কোনো নেতৃত্ব ছিল না। ইহুদীরা বুঝতে পেরেছিল যে, নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর আরবরা তাদের ছেড়ে কথা বলবে না। সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য আগে থেকেই তৈরি ছিল ইহুদিরা।
সবার দৃষ্টি ছিল জেরুজালেম শহরের দিকে। মুসলমান, ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের জন্য পবিত্র এ জায়গা।
জাতিসংঘ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সেখানে জেরুজালেম আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আরব কিংবা ইহুদি- কোন পক্ষই সেটি মেনে নেয়নি। ফলে জেরুজালেম শহরের নিয়ন্ত্রণের জন্য দু’পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
জেরুজালেমে বসবাসরত ইহুদীদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিল আরবরা। অন্য জায়গার সাথে জেরুজালেমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ইহুদীরা আরবদের উপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
অনেক বিশ্লেষক বলেন, তখন ইহুদীরা আরবদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করেছিল।
যেহেতু আরবদের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না সেজন্য ইহুদিরা একের পর এক কৌশলগত জায়গা দখল করে নেয়।
তখন ফিলিস্তিনের একজন নেতা আল-হুসেইনি সিরিয়া গিয়েছিলেন অস্ত্র সহায়তার জন্য। কিন্তু সিরিয়া সরকার ফিলিস্তিনদের সে সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সেখান থেকে ফিরে এসে আল হুসেইনি আবারো যুদ্ধে নামেন। এর কয়েকদিন পরেই তিনি নিহত হন।
ইহুদিরা যখন তাদের আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে দিলে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ বহু ফিলিস্তিনী আরব তাদের বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
ইহুদি সশস্ত্র গ্রুপগুলোর নৃশংসতা আরবদের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনী সশস্ত্র দলগুলো ইহুদিদের উপর কয়েকটি আক্রমণ চালায়। কিন্তু ইহুদিদের ক্রমাগত এবং জোরালো হামলার মুখে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে ফিলিস্তিনীরা। তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ এবং অন্য আরব দেশগুলোর সরকার তাদের নিজ দেশের ভেতরে চাপে পড়ে যায়। সেসব দেশের জনগণ চেয়েছিল, যাতে ফিলিস্তিনদের সহায়তায় তারা এগিয়ে যায়।
১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যায় ব্রিটেন। একই দিন তৎকালীন ইহুদি নেতারা ঘোষণা করেন যে সেদিন রাতেই ইহুদি রাষ্ট্রের জন্ম হবে।
ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্মের এক ঘন্টার মধ্যেই আরবরা আক্রমণ শুরু করে। একসাথে পাঁচটি আরব দেশ ইসরাইলকে আক্রমণ করে।
যেসব দেশ একযোগে ইসরায়েলকে আক্রমণ করেছিল তারা হচ্ছে - মিশর, ইরাক, লেবানন, জর্ডান এবং সিরিয়া। তাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ত্রিশ হাজারের মতো। অন্যদিকে ইসরায়েলের সৈন্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ হাজার।
কিন্তু আরব দেশগুলোর মধ্যে কোন সমন্বয় ছিল না। তাছাড়া আরব নেতৃত্ব একে অপরকে বিশ্বাস করতো না।
জেরুজালেম দখলের জন্য আরব এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলছে তীব্র লড়াই।
ইহুদিরা ভাবছিল জেরুজালেম ছাড়া ইহুদি রাষ্ট্রের কোনো অর্থ নেই। অন্যদিকে মুসলমানদের জন্যও জেরুজালেম পবিত্র জায়গা।
তীব্র লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনী পিছু হটতে থাকে। তাদের অস্ত্রের মজুত শেষ হয়ে যায়।সম্ভাব্য পরাজয় আঁচ করতে পেরে ইহুদিরা নিজেদের শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সময় নেয়।
আর কিছুদূর অগ্রসর হলেই মিশরীয় বাহিনী তেল আবিবের দিকে অগ্রসর হতে পারতো। তখন জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতির সময় দু’পক্ষই শক্তি সঞ্চয় করে। কিন্তু ইসরায়েল বেশি সুবিধা পেয়েছিল। তখন চেকোস্লোভাকিয়ার কাছ থেকে আধুনিক অস্ত্রের চালান আসে ইসরায়েলের হাতে।
যুদ্ধবিরতী শেষ হলে নতুন করে আরবদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি বাহিনী। একর পর এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নেয় ইহুদিরা।
তেল আবিব এবং জেরুজালেমের উপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়।
জাতিসংঘের মাধ্যমে আরেকটি যুদ্ধ বিরতির মাধ্যমে সে সংঘাত থামে। ইসরাইলী বাহিনী বুঝতে পারে তারা স্বাধীনতা লাভ করছে ঠিকই কিন্তু লড়াই এখনো থামেনি।
১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ছয় হাজার ইহুদি নিহত হয়েছিল।
ইহুদিরা মনে করে তারা যদি সে যুদ্ধে পরাজিত হতো তাহলে আরবরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতো।
ইসরাইলিরা মনে করেন, ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ সেভাবে দু'টি দেশের স্বীকৃতি দিয়েছিল, সেটি যদি ফিলিস্তিনীরা মেনে নিতো তাহলে ফিলিস্তিন এবং ইসরাইল নামের দুটি দেশ এখন পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতো।
আরব দেশগুলোর মধ্যে পারষ্পরিক আস্থা না থাকার কারণেই ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে তারা পরাজিত হয়েছে এবং ইসরাইল দেশটির জন্ম হয়ে সেটি স্থায়ী হতে পেরেছে। অনেক ঐতিহাসিক বিষয়টিকে এভাবেই দেখেন।
১৯৪৮ সালের পর থেকে সামরিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অতি দ্রুত উন্নতি লাভ করে ইসরাইল। তারা সুপার পাওয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি

পাপারাজ্জিদের খপ্পরে শাহরুখ-কন্যা সুহানা

গাড়ি থেকে বেরিয়ে জোরে হাঁটতে  শুরু করলেন সুহানা খান। পেছনে তখন ক্যামেরা নিয়ে তাড়া করছেন অন্তত ডজন খানেক সাংবাদিক। শাহরুখ খানের মেয়ে বলে কথা! ছবি তো তুলতেই হবে! স্পষ্ট অস্বস্তি ধরা পড়ছে সুহানার চোখে-মুখে। কিন্তু পাপারাজ্জিদের তাতে থোড়াই কেয়ার। সম্প্রতি ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ‘স্টার কিড’ হওয়ার সমস্যা নিয়ে কথা বলেছিলেন শাহরুখ খান। বলেছিলেন, ‘ওরা কোনো স্টার নয়। ওরা শুধু স্টার কিড। আমি মনে করি ওরা খুবই ভদ্র ও শ্রদ্ধাশীল। আমার সঙ্গে আমার ছেলেমেয়েরা বাইরে গেলে আমিও চাই ওদের ছবি তোলা হোক। এটা প্রয়োজন। তবে আমি অনুরোধ করছি, ওদের একা দেখলে ভাববেন না ওরাও আমার মতো মিডিয়াকে সামলাতে পারে। এটা খুবই বিরক্তিকর। ওরা বাইরে বের হয় মানেই ওরা অভিনেতা হতে চায় এমনটা নয়।’
কী কারণে হঠাৎ এমন মন্তব্য করেছিলেন শাহরুখ, সেটা নিয়ে আলোচনা চলছিলই। এর পরই প্রকাশ্যে এল এই ভিডিওটি। ভিডিওটি ঈদের কয়েক দিন আগের।
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, শাহরুখের মেয়ে সুহানা খান ও চাঙ্কি পাণ্ডের ভাইপো আহানকে কীভাবে তাড়া করছেন ছবি শিকারিরা। মুম্বাইয়ে ‘টিউবলাইট’ ছবির স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে গিয়েছিল ওরা। সেখানেই পার্কিং লট থেকে লিফট লবি। লিফট লবি থেকে ফের পার্কিং লট। শুধু তাড়া করাই নয়, সুহানাকে রীতিমতো ঘিরে ধরে অসংখ্য ক্যামেরা। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কতটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সুহানা। সাংবাদিকদের এমন আচরণে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘স্টার কিড’ বলে কি তাদের প্রতি এমন আচরণ করা যায়? তবে শেষ পর্যন্ত যেভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে সুহানা ও আহান পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় বলে মনে করছে বলিউড।

টাওয়ার খুঁড়তেই ৬৭৫ নারী ও শিশুর খুলি

টাওয়ারজুড়ে থরে থরে সাজানো নারী আর শিশুদের খুলি। মোট ৬৭৫টি। মেক্সিকো সিটিতে এক মন্দিরে দেড় বছর ধরে খননের ফলে উঠে এসেছে এই ‘অদ্ভুত’ ছবি। যা নতুন করে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ভাবিয়ে তুলেছে আজটেক সভ্যতা সম্পর্কে।
টেনোকটিটলান’-এর (যা কালে কালে হয়ে উঠবে মেক্সিকো সিটি) অন্যতম প্রধান মন্দির ‘টেম্পলো মেয়র।’ এই মন্দিরের কাছেই খননের ফলে মিলেছে খুলির টাওয়ার। এই শহর জয়ের পরে ‘হুয়ে জোম্পান্তলি’ দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন স্পেনীয় শাসকরা (কনকিস্তাদোর)। তাদের লেখাতেও এই খুলির টাওয়ারের উল্লেখ আছে। ১৫২১ সালে মেক্সিকো জয়ের পরে আন্দ্রে দে টাপিয়া নামে এক স্পেনীয় যোদ্ধা এই টাওয়ারটির কথা জানিয়েছিলেন। প্রত্নতত্ত্ববিদ রাউল বারেরা জানিয়েছেন, টাপিয়া লিখেছিলেন এমন হাজার হাজার খুলি রয়েছে ওই এলাকায়। প্রত্নতত্ত্ববিদদের বিশ্বাস, খনন যত এগোবে, মিলবে আরো খুলি। আজটেক এবং মেসোআমেরিকান জনতা সূর্যদেবকে উৎসর্গ করতে মানুষ বলি দিত।
এই সব খুলি কি সেই মানুষদের? প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা ছিল, আজটেকের বিভিন্ন উপজাতির মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বে যারা প্রাণ হারাতেন, সেই সব পুরুষ যোদ্ধাদের বলি দিয়ে খুলি এভাবে জমা রাখা হয়। বস্তুত ঐতিহাসিকরাও বলেন, স্পেনের শাসনের আগে মেসোআমেরিকান সংস্কৃতিতে হেরে যাওয়া যোদ্ধাদের মাথা কেটে জোম্পান্তলি-তে রাখা হতো।
কিন্তু শিশু ও মহিলাদের এত খুলি কেন? নৃতত্ত্ববিজ্ঞানী রডরিগো বোলানোস বলছেন, ‘‘আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম ওগুলো শুধু পুরুষের খুলি। লড়াকু যুবকদের। কিন্তু ওই সময়ে মহিলা বা শিশুদের তো যুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই নেই।
এটা সত্যি নতুন ব্যাপার। এর কোরো রেকর্ডও নেই আমাদের কাছে।’’ আগে ধরে নেয়া হতো, শুধু পুরুষদেরই মাথা কাটা হতো, সে বিশ্বাস থেকে সরে আসার দিন এসেছে— এখন প্রত্নতত্ত্ববিদরা এটাই মনে করছেন।
রাউল বলছেন, জোম্পান্তলি-তে সাধারণের দর্শনের জন্য রাখার পরে ওই খুলিগুলো টাওয়ারে নিয়ে যাওয়া হতো।
এই টাওয়ারের কাছেই হুইৎজিলোপোচিটলি (আজটেক সভ্যতায় সূর্য, যুদ্ধ এবং বলির দেবতা) চ্যাপেল। এটির নিচে এখনো খনন শুরু হয়নি।

দেশে নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে যে কারণে

অহনা (ছদ্ম নাম)। পড়াশোনায় অত্যন্ত ভালো ছিলেন, কিন্তু এখন সেসব বাদ দিয়েছেন। বছরখানেক হল তিনি মাদক গ্রহণ করছেন। প্রথমে সিগারেট দিয়ে শুরু আর এখন ইয়াবা।
অহনা বলছিলেন, ‘বাসায় বাবা-মায়ের সাথে সমস্যা। সিগারেট খাওয়া শুরু করলাম। একদিন বন্ধুরা বললো ইয়াবা নে। আমি ভাবলাম দুই-একটা খাবো তারপর ছেড়ে দেবো কিন্তু আমার অবস্থা এমন হলো আর ছাড়তে পারলাম না।’
অহনা মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ হিসেবে দাবি করছিলেন বাবা-মায়ের সাথে কলহ এবং তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সময় তিনি পাচ্ছিলেন না। একটা পর্যায়ে বন্ধুবান্ধবের সাথে কৌতুহলবশত তিনি মাদক নেন।
বাংলাদেশের মাদকবিরোধী সংস্থা মানস বলছে, দেশে প্রায় ৭০ লাখ মাদকাসক্ত ব্যক্তির ১৬ শতাংশই নারী। ঢাকায় আহছানিয়া মিশনে মেয়েদের জন্য একটি আলাদা মাদক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে।
সেখানকার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ইকবাল মাসুদ বলছিলেন, স্কুল-কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়েদের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার একটা প্রধান কারণ পরিবার বা বাবা-মায়ের সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকা বা বাবা-মায়ের কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশামত সময় না পাওয়া।
মাদক বিরোধী সংস্থা মানস বলছে, পাঁচ বছর আগে নারীদের মধ্যে মাদক নেয়ার প্রবণতা ছিল ৫ শতাংশ।
তবে পুরুষদেরকে যতটা সহজে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব বা নিরাময় কেন্দ্রে আনা যায়, মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টা বেশ জটিল।
ঢাকা আহছানিয়া মিশন বলছে নারীদের মধ্যে ৮৪ শতাংশকে পরিবারের সদস্যদের চাপে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
এখন মেয়েরা মূলত কী ধরণের শারীরিক সমস্যায় শিকার হচ্ছে। বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসক ড. অরূপ রতন চৌধুরী বলছিলেন, যেহেতু মেয়েদের সন্তান জন্মদানের বিষয় রয়েছে তাই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে একজন মাদকাসক্ত নারী ও তার শিশু।
মি. চৌধুরী বলছিলেন, ‘মেয়েদের পরিবার অত্যন্ত গোপনীয়তা মেইনটেইন করতে চায়। যার ফলে চিকিৎসাটা সময় মতো হয় না। যখন নিয়ে আসে তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।’
কথা হলো আরেকজনের সাথে যিনি বিবাহিত, এক সন্তানের মা। তিনিও মাদকাসক্ত। কারণ হিসেবে তার অভিযোগ স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়াতে, হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি এক পর্যায়ে মাদক গ্রহণ করতে শুরু করেন।
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের ইকবাল মাসুদ বলছেন, দাম্পত্য কলহের কারণে অনেক গৃহিণী মাদকাসক্ত হচ্ছেন।
মি. চৌধুরী বলছিলেন, ‘একটা মেয়ে বিয়ের সময় হয়তবা গোপন করে কিন্তু পরে ঠিকই প্রকাশ পায়। এবং সে সন্তান নেয়ার সময় চরম ঝুঁকিতে পরে। হয় অ্যাবরশন হয়ে যায় না হলে বিকলাঙ্গ সন্তান হয়।’
বাংলাদেশের শুধু ঢাকা শহরে নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকাসক্ত নারীরা মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আসছেন।
১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে পনের শতাংশ নারী নানা ধরণের মাদকে আসক্ত বলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। আর এদের ৪৩ শতাংশ নারী সেবন করছেন ইয়াবা।
গবেষকরা বলছেন, দিন দিন এই নির্দিষ্ট মাদকটির সহজপ্রাপ্যতার কারণেই এর দিকে ঝুঁকে পড়ছে মেয়েরা।
সূত্র: বিবিসি

গরিলা দেখে ভিডিও

গরিলা আর মানুষ। একসঙ্গে উপভোগ করছে ইউটিউবে ভিডিও। তাতে বাচ্চা গরিলাকের কান্ডকারখানা দেখানো হচ্ছে। তা মনোযোগ দিয়ে দেখছে গরিলাটি। একের পর এক ভিডিও আসছে আর সে তার বাচ্চাদের ভিডিও উপভোগ করছে। না, এটা কোনো হলিউডি সিনেমার দৃশ্য নয়। বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে অবস্থিত লুইসভিলে চিড়িয়াখানায়। এই চিড়িয়াখানাটি দেখতে গিয়েছিলেন লিন্ডসে কস্টেলো নামে এক নারী। তার চোখে বিষয়টি ধরা পড়ে। তিনি দেখতে পান একজন যুবতী একটি গরিলাকে তার বাচ্চার ভিডিও দেখাচ্ছেন। গরিলা ও ওই যুবতী একসঙ্গে মোবাইলের সুইট টিপে চলে যাচ্ছে পরের ভিডিওতে। এ দৃশ্য দেখে কস্টেলোও তাদের সঙ্গী হয়ে যান। তিনিও গরিলার সঙ্গে সঙ্গ দেন। একের পর এক ভিডিও দেখেন একসঙ্গে। আর এর মধ্য দিয়ে ওই গরিলাকে বানিয়ে ফেলেন বন্ধু। তার এ ছবি ইন্টাগ্রামে ছেড়ে দেয়ার পর ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে।

উড়ন্ত বিমানে ভিজলেন যাত্রীরা

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে ফ্লোরিডা যাচ্ছিলেন টম ম্যাককালাহ নামে এক ব্যক্তি। বিমানে উঠে যথারীতি বসলেন নিজের আসনে। আর তখন থেকেই শুরু হল বিপত্তি। বিমানটির সিলিং ফুটো হয়ে টপটপ করে পানি পড়তে শুরু করল ম্যাককালাহর গায়ে। এর পর হাতে থাকা একটি সাময়িকী ওপরে ধরে গায়ে পানি পড়া থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু এতেও শেষরক্ষা হয়নি। পুরো যাত্রায় টপটপ করে পড়া পানিতে তার পুরো শরীর ভিজে যায়। একই পরিণতি হয় বিমানের অন্য আরও কয়েকজনের। গত শুক্রবার ডেলটা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভুক্তভোগী যাত্রী ম্যাককালাহর ছেলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে পোস্ট করেন। তবে এ ঘটনার জন্য ম্যাককালাহ টুঁ শব্দটিও করেননি। তিনি বেশ আনন্দের সঙ্গেই ঘটনাটি উপভোগ করেছেন।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানের ফুটো ছাদ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ার পরও টমসহ কয়েকজন যাত্রীকে তাদের সিটে বসে থাকতে বাধ্য করা হয়। বিমান ছাড়ার আগ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে বিমান ছাড়ার পর টিস্যু পেপার দিয়ে পানি আটকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ হয়নি। গন্তব্যে পৌঁছতে পৌঁছতেই ভিজে যান বেশ কয়েকজন যাত্রী। ভিডিওতে দেখা যায়, পাইলট যখন বিমান ছাড়ার ঘোষণা দিচ্ছেন, তখন যাত্রী ম্যাককালাহ একটি ম্যাগাজিনের সাহায্যে সেই পানিকে ভিন্ন দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন। বিমানটিতে যাত্রীবোঝাই ছিল। ফলে যাত্রীরা এদিক-সেদিক নড়াচড়া করারও কোনো সুযোগ পাননি। এক হাজার ৮০০ ডলার দিয়ে টিকিট কেটেছিলেন ম্যাককালাহ। এরপরও যাত্রাপথে এমন অসুবিধায় পড়তে হয়েছে তাকে। অবশ্য বিমান কর্তৃপক্ষ মাশুল হিসেবে তাকে ১০০ ডলার দিয়েছে।

১০ ইস্যুতে সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনী আইন সংশোধন, সীমানা পুনঃনির্ধারণ অধ্যাদেশ সংশোধনসহ ১০ ইস্যুতে সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, পর্যবেক্ষক সংস্থা ও সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় এসব ইস্যু এজেন্ডাভুক্ত করেছে কমিশন সচিবালয়। ৩০ জুলাই সুশীল সমাজের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু হবে। কমিশন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে সংলাপে বসবে।
দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। রোববার সংলাপের এ নতুন সময়সূচি ও আলোচ্য বিষয়ের খসড়া প্রস্তুত করেছে কমিশন সচিবালয়। আজ কমিশন সভায় এসব বিষয় তোলা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী ১৬ জুলাই নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করবে কমিশন। বই আকারে প্রকাশিত এ রোডম্যাপ রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। এতে কবে কখন সংলাপ ও নির্বাচনী অন্যান্য কার্যক্রম নেয়া হবে তার সময়সূচি উল্লেখ থাকবে। এছাড়া এবার সংলাপে কমিশন রাজনৈতিক দলসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কাছে যে কোনো বিষয়ে মতামত নেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, পর্যবেক্ষক সংস্থা ও সিনিয়র সাংবাদিকরা সংলাপে লিখিত সুপারিশ বা মতামত দিলে তা গ্রহণ করবে কমিশন। এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘৩০ জুলাই সুশীল সমাজের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু করার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংলাপে যেসব পয়েন্ট বা বিষয় থাকবে, তার বাহিরেও সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা উন্মুক্ত মত দিতে পারবেন। আমরা উন্মুক্ত ও উদারভাবে এসব মতামত নেব।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগস্টে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা ছিল। তবে ওই সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। সব বিষয় ইসির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’ প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা। জানা গেছে, ইসির খসড়া অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ১০টি বিষয়ে আলোচনার জন্য সংলাপের এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। এগুলো হল- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) সংশোধন এবং এটি বাংলায় অনুবাদ করা, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আদেশ- ১৯৭৬ এর সংশোধন ও এ আইন বাংলায় অনুবাদ করা, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব ও ভূমিকা (ইসির সক্ষমতা বাড়ানো), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ও ভূমিকা, নির্বাচন কেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করা, নির্বাচনী দায়িত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান, পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশনের সহায়তা, সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের নিজস্ব পরামর্শ এবং রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির কয়েক কর্মকর্তা বলেন, ‘সংলাপে আলোচনার এসব বিষয় অনুমোদনের জন্য কমিশন সভায় তোলা হবে। ওই সভায় আলাপ-আলোচনার পর এজেন্ডা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এজেন্ডার সংখ্যা কমে আসতে পারে।’ তারা আরও বলেন, ‘এবার সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- নির্বাচনী আইন আরপিওতে কী কী সংশোধন দরকার, সে বিষয়ে মতামত নেয়া। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আরপিওতে যেসব সংশোধনী দরকার তার ওপর মতামত নেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, পর্যবেক্ষক, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকদের মতামত পাওয়ার পর যেসব সংশোধনী গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে সেগুলো একীভূত করা হবে।’
সংলাপের নতুন সময়সূচি : সংলাপের সময়সূচির নতুন খসড়া রোববার প্রস্তুত করেছে কমিশন সচিবালয়। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপ আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৭ জুলাই এ সংলাপের কার্যপত্র তৈরি ও ২৪ জুলাই সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সংলাপের খসড়া প্রতিবেদন আগামী ২ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করা হবে। এরপর ৮ আগস্ট থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধিত পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি। এর আগে ২৭ জুলাই পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ হবে ১৬-১৭ আগস্টের মধ্যে। এ সংলাপের অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে ২৭ জুলাই। নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা হবে ২২-২৪ আগস্টের মধ্যে। তাদেরকে ১০ আগস্টের মধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হবে। আর সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সংলাপ হবে। এর আগে ২৩ আগস্টের মধ্যে রাজনৈতিক দলের সংলাপে অংশ নেয়া নেতাদের নামের তালিকা তৈরি ও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সংলাপের ওপর বিস্তারিত প্রতিবেদন বই আকারে প্রকাশ করা হবে।

পল্লবীতে শিশু গৃহকর্মীকে নির্মম নির্যাতন

পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকায় গৃহকর্ত্রীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে সাবিনা ইয়াসমিন (১১) নামে এক শিশু গৃহকর্মী। তাকে গুরুতর অবস্থায় রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। ওই শিশুটি জানায়, সে পল্লবী থানাধীন মিরপুর ডিওএইচএসে একটি বাসায় ৬ মাস আগে কাজে যোগ দেয়। এরপর থেকেই গৃহকর্ত্রী তাকে বেধড়ক মারধর করত। কখনও খুন্তির ছ্যাঁকা দিতেন। কখনও রুটি বেলার বেলুন দিয়ে পেটাতেন। শনিবার রাতে গৃহকর্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে একটি ডিমপোচ করতে বলেন। সে ঠিকমতো ডিমপোচ করতে না পারায় গৃহকর্ত্রী তাকে বেলুন দিয়ে বেধড়ক পেটান। এতে সে গুরুতর আহত হয়। তার দু চোখের নিচে জখম হয়। সে জানায়, রোববার সকাল ১১টার দিকে বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে বেলকনি দিয়ে বেরিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে আসে।
তাকে উদ্ধার করা জামাল উদ্দিন জানান, মিরপুর ১২ নম্বরে সাত্তার মোল্লা রোডের মাথায় এসে সাবিনা ইয়াসমিন তার কাছে আশ্রয় চায়। এরপর সাবিনা ইয়াসমিনের কাছ থেকে ঘটনা শুনে তিনি তাকে নিয়ে পল্লবী থানায় যান। এরপর পল্লবী থানা পুলিশ ওই শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে পল্লবী থানার এসআই প্রবীর রঞ্জন ধর বলেন, পল্লবী থানার ওসির নির্দেশে তিনি মেয়েটিকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন। এর বেশি তিনি কিছুই জানেন না। এ ব্যাপারে পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকিরের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সাবিনা ইয়াসমিন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার ক্যারামজালি গ্রামের বাদল মিয়ার মেয়ে। চার বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়।

জেএমবি প্রধানের স্ত্রীসহ তিন নারী জঙ্গি ৮৪ ঘণ্টার রিমান্ডে

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক নব্য জেএমবির প্রধান আইয়ুব বাচ্চু ওরফে সজীবের স্ত্রী আশরাদী জাহান তিথিসহ তিন নারী জঙ্গির ৮৪ ঘণ্টার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক এম এম মোর্শেদ এ আদেশ দেন। আদালত সুত্রে জানা যায়, সকালে ভোড়ামারা থানার ওসি (তদন্ত) আননুর যায়েদ তিন নারী জঙ্গিকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে ওই তিন নারী জঙ্গির ৮৪ ঘণ্টার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে নেয়া নারী জঙ্গিরা হলেন- নব্য জেএমবির বর্তমান আমির আইয়ুব বাচ্চু ওরফে সজীবের স্ত্রী আশরাদী জাহান তিথি ও নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড তালহার স্ত্রী সুমাইয়া এবং ভেড়ামারা উপজেলার ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার আরমানের স্ত্রী টলি বেগম।
রোববার দুপুরে ভেড়ামারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান বাদী হয়ে ওই তিন নারী জঙ্গির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এদিকে বাড়ির মালিক নাসিমা খাতুনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, শনিবার গভীর রাতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের বামনপাড়া এলাকার জঙ্গি আস্তানায় ‘টেপিড পাঞ্চ’ অপারেশন চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। ২২ ঘণ্টার অভিযান শেষে ওই দিন রাত ৯টার দিকে জঙ্গি আস্তানা থেকে তিন নারী জঙ্গিকে আটক করে আইনশৃংখলা বাহিনী। এসময় বাসার ভেতর থেকে ১০ কেজি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য ছাড়াও উদ্ধার করা হয় দু’টি সুইসাইডাল ভেস্ট, গানপাউডার, হাত বোমা ও একটি অত্যাধুনিক পিস্তল। সেখান থেকে এই তিন নারী জঙ্গিকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় দুই শিশুকে ওই জঙ্গি আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়।

উত্তরায় তিন ভবনে আগুন, ২ লাশ উদ্ধার



রাজধানীর উত্তরায় তিন ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ ঘটনায় দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।  সোমবার বেলা ১১টার দিকে সি-শেল ভবন, একে টাওয়ার ও পরী ম্যানশনের আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক অপারেশন মেজর শাকিল যুগান্তরকে জানান, সকাল সোয়া ১০টার দিকে উত্তরার রাজলক্ষ্মীতে পরী ম্যানশনে অবস্থিত সী-শেল আবাসিক হোটেলের ৩০২  নং কক্ষ থেকে দুই লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের একজন নারী ও একজন পুরুষ। তারা হোটেলে গেস্ট হিসেবে উঠেছিলেন। এদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে, তিনি হলেন- রাসের মিয়া (৩০)  হাইমচর চাঁদপুর এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে। তবে তিনি পল্লবী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন ও আরএফএল গ্রুপে চাকরি করতেন। তবে ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়া ওই ভবনের ছাদ থেকে দুইজনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বেলা ১১টার দিকে ওই তিন ভবনের আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
নিহতের লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সী-শেল আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার সোহেল জানান,  ওই নারী পুরুষের নাম হোটেলের এন্ট্রি খাতায় নেই। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার উত্তরার রাজলক্ষ্মীতে সী-শেল ভবন, একে টাওয়ার ও পরী ম্যানশনের আগুন লাগে। প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর ৪টার দিকে সী-শেল নামে চার তলা ভবনে প্রথমে আগুন লাগে। পরে আগুন পাশের  একে  টাওয়ার (ছয় তলা) ও পরী ভবনে (ছয়তলা) ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। তদন্ত কমিটি গঠন: অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ফায়ার ব্রিগেডের ডেপুটি ডিরেক্টর দেবাশীষ বর্ধনকে প্রধান করে সোমবার দুপুরের দিকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত গঠন করা হয়েছে।তাদেরকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডিমলায় জমি সংঘর্ষে প্রাণ গেল হালচাষ শ্রমিকের

নীলফামারীর ডিমলায় জোরপূর্বক জমি নিয়ে সংঘর্ষে এক হালচাষের শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে নিহত ওই কায়িম শ্রমিকের নাম ফজলে রহমান (৫৫)। তিনি নাউতরা ইউনিয়নের নাউতরা গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র। ফজলে রহমান কায়িম শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন স্থানে আমন ধানের চারা লাগানোর কাজ করত। আহত অবস্থায় তাকে ডিমলা হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৭টার দিকে নাউতরা ইউনিয়নের নাউতরা বাজার সংলগ্ন বোরহান উদ্দিনের জমি দখল করে আনিছুর রহমান হালচাষ করছিল। উক্ত জমিনে আমন ধানের চারা লাগানের জন্য ফজলে রহমানকে নিয়ে যায়। উক্ত জমিতে আনিছুর রহমানের সঙ্গে বোরহান উদ্দিনের সংঘর্ষে বাঁধে। এতে উভয় পরিবারের ৯জন আহত হয়েছে। আহতের মধ্যে কায়িম শ্রমিক ফজলে রহমানকে হাসপাতাল নেয়ার পথে মারা যান। এ ঘটনায় আনিছুর রহমান (৩৮), আনিছুর রহমানের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৫), জুয়েল রানা (৪৫), নযন ইসলাম (২২) ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অপরদিকে বোরহান উদ্দিনের পরিবারের ৫জন সদস্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বোরহান উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, উক্ত জমিটি আমার কেনা। উক্ত জমিতে জোরপূর্বক দখল করতে গিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে তার পরিবারের ৫জন সদস্য জলঢাকা ও রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহতদের মধ্যে আনিছুর রহমান ও তার স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে ডিমলা হাসপাতাল থেকে রংপুর হাসাপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রংপুর নাউতরা ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম লেলিন বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত হয়েছে। ডিমলা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, জমি নিয়ে সংঘর্ষে শ্রমিক নিহত হওয়ার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ হাসপাতালে রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলার মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

ফেনীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' একরাম হত্যা মামলার আসামি নিহত

ফেনীর বহুল আলোচিত ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মো. সোহেল (রুটি সোহেল) র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৫টার দিকে শহরের বিরিঞ্চি এলাকায় এ 'বন্দুকযুদ্ধের' ঘটনা ঘটে। র‌্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক সাফায়াত জামিল ফাহিম জানান, ভোরে বিরিঞ্চি এলাকায় সামসুল হক চেয়ারম্যান বাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে শীর্ষ সন্ত্রাসি রুটি সোহেলকে আটকের চেষ্টা করে র‌্যাব। এসময় টের পেয়ে র‌্যাবকে লক্ষ্য করে সোহেল ও তার সহযোগীরা গুলি ছুঁড়লে র‌্যাবও পালটা গুলি চালায়। এ সময় রুটি সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়। ফেনী মডেল থানার ওসি রাশেদ খান চৌধুরী জানান, নিহত সোহেল ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একরাতুল হক একরাম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি। এছাড়াও তিনি  বিরিঞ্চি এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ঘটনায় মোট ছয়টি মামলা ও বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত একুশে মার্চ তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক ছিলেন। তিনি জানান, রুটি সোহেল জেলার অপরাধীদের তালিকা ভুক্ত সন্ত্রাসী। একরাম চেয়ারম্যান হতা মামলায় জামিনে বেরিয়ে শহর জুড়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। সকালে ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মৃতদেহ বুঝে নিয়ে পরবর্তি কার্যক্রম শুরু করে বলে জানান ওসি।

এক গাছে ৫১ প্রজাতির আম

কোনোটা লাল, কোনোটা হলুদ, কোনোটা আবার সবুজ। কোনোটা দেখতে গোল, কোনোটা আবার ঠিক যেন বাংলার পাঁচ! থোকা থোকা হয়ে একটি গাছেই ঝুলছে এমন হরেকরকম আম। সম্প্রতি একটি গাছে ৫১ প্রজাতির আম ফলিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ভারতের এক ব্যক্তি। তার নাম রবি মারশেতওয়্যার। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রবি ২০০১ সালে উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে মহারাষ্ট্রে তার জন্মস্থান ওয়াসিম গ্রামে চলে যান। তারপর সেখানেই চাষাবাদ শুরু করেন। চাষীদের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্যেই তার এই সিদ্ধান্ত বলে তিনি জানান। দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে বলেছে, অবশ্য প্রথমেই এই পরিকল্পনা আসেনি রবির মাথায়। তিনি তার প্রায় ৩ একর জমিতে বিভিন্ন ফল এবং সবজি চাষ শুরু করেন। জৈব সার তৈরি করে কীভাবে চাষের কাজে লাগানো যায়, গ্রামের চাষীদের তা শেখানো শুরু করেন। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্বন্ধেও চাষীদের জানান। এ সময়েই পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক সুভাষ পালেকরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। প্রথমে তার থেকেই গ্রাফটিং পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। সুভাষ পালেকর তাকে দেভরিকর নামে আর এক ব্যক্তির সন্ধান দেন।
রবি বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের ওসমানাবাদ জেলায় গিয়ে দেভরিকরের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি একটি গাছে ১৫ ধরনের আম ফলিয়েছিলেন। তার থেকেই গ্রাফটিং পদ্ধতি শিখেছি। তারপর সিদ্ধান্ত নিই লুপ্তপ্রায় আমের প্রজাতি রক্ষা করব।’ বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে একটি গাছে মোট ৫১ প্রজাতির আম ফলান তিনি। আলফানসো থেকে মহারাজা প্রায় সব প্রজাতির আমই ফলেছে একটি গাছে! রবি জানান, তবে তার সবকটি গ্রাফটিং সফল হয়নি। ওই আমগাছে ১ হাজার ৩৫০টি গ্রাফটিং করেছিলেন তিনি। তার মধ্যে মাত্র কয়েকশ’ সফল হয়। তিনি আরও জানান, তার বাগানের ওই আমগাছ ৫০ বছরের পুরনো। বয়স বাড়ায় ফলনও কমে যায়। কমে যায় আমের মিষ্টতাও। আর এখন গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে সব মিলিয়ে মোট ৫১ প্রজাতির আম ফলেছে গাছটিতে। আগে যেখানে আম বিক্রি করে মাত্র ১ হাজার টাকা উপার্জন করতেন, চলতি মৌসুমে তিনি একটি মাত্র গাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা উপার্জন করেছেন।

ষোড়শ সংশোধনী ছিল দূরভিসন্ধিমূলক: মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, বিচারপতি অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ছিল সরকারের ষড়যন্ত্র ও দূরভিসন্ধিমূলক। সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণের অপচেষ্টা করেছিল। আদালতের রায়ে তা নস্যাৎ হয়েছে। বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে নেয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে সোমবার হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর প্রতিক্রিয়ায় সাবেক আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। মওদুদ আহমেদ বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে আদালতের মর্যাদা ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রইলো। ‍সরকারের দূরভিসন্ধি নস্যাৎ হলো। বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের ভরসার জায়গা অটুট থাকলো। প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৪ সালে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। এতে ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হয়, যা ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল। সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে- এমন যুক্তিতে সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন। গত বছরের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন। একই বছরের ১১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত আজ তা খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখলেন। এর আগে গত ৩০ মে দশম দিনের আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরিদের মতামত প্রদান শেষ হয়। মোট ১০ জন অ্যামিকাস কিউরি আদালতে মতামত দিয়েছেন। যার মধ্যে ৯ জনই ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পক্ষে মতামত দেন।

ডা. ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

মানহানি মামলায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক আওয়ামী লীগ সাংসদ ডা. এইচ বি এম ইকবালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের পান্না স্পিনিং মিলস লিমিটেডের পরিচালক আমিনুর রহমানের দায়ের করা এক মামলায় রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী পরোয়ানা জারি করেন। দুদকে মিথ্যা অভিযোগ আনা এবং পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বাদীর ২০০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে এই মামলা হয়। বাদীর আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, বারবার আদালতের সমন পেয়েও বিচার ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টার কারণে আসামিদের গ্রেফতারে পরোয়ানা জারির আদেশ দেয় আদালত। অপর দুই আসামি হলেন- প্রিমিয়ার ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হানিফ খান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার ফজলে রশিদ।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি দায়ের করা মামলায় বলা হয়, আসামিরা অন্যায়ভাবে ব্যাংকের নির্ধারিত সুদের হার না মেনে বাদীর প্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ শতাংশের জায়গায় ১৮ শতাংশ হারে সুদ, পেনাল্টি সুদ, মনিটরিং ফি এবং অনেক রকমের ভুয়া চার্জ কেটে নেয়। এছাড়া ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের পরও এলসি করতে বাধা দিয়ে ব্যবসায়িক ক্ষতি, দুদকে ‘অন্যায়, অযৌক্তিক’ অভিযোগ দিয়ে ঋণের জামিনদার সাবেক এমপি মকবুল হোসেনসহ বাদীর প্রতিষ্ঠানের অপর পরিচালকদের সমাজে হেয় করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। “শুধু তাই নয়, বাদী ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টে ও অর্থঋণ আদালতে মামলা করার পরও তার সম্পত্তির ওপর নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আসামিরা বাদীর তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ বিক্রয়ের জন্য পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তার মানহানি করেছেন,” বলা হয়েছে মামলায়।

মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে ত্যাগী ও সক্রিয়রা

বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির যেসব সাবেক এমপি-মন্ত্রী সক্রিয় ছিলেন, আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন তারাই। জেল-জুলুমসহ নানা ধরনের নির্যাতন উপেক্ষা করে দলকে সংগঠিত করেছেন- এমন ত্যাগী নেতাদেরই দেয়া হতে পারে অগ্রাধিকার। এসব নেতার মধ্যে বয়সে তরুণ ও ক্লিন ইমেজধারীরাই মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে ক্ষমতায় থাকাকালে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ ছিল, তাদের পাশাপাশি কথিত সংস্কারপন্থী এবং আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের মনোনয়ন পাওয়া এবার কঠিন হতে পারে। দীর্ঘদিন এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা, সরকারের সঙ্গে গোপন আঁতাতসহ যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ, তারা মনোনয়ন না পাওয়ার শঙ্কায় আছেন। শুধু তা-ই নয়, যেসব সংসদীয় আসনে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে, সেখানে সাবেক এমপিকে মনোনয়ন না দিয়ে তৃতীয় কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এদিকে সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা যেখানে মনোনয়নবঞ্চিত হবেন, সেসব আসনে বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের অনেকেই মনোনয়ন পেতে পারেন- এমন প্রত্যাশায় তারা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম ও দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় থাকার পরও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে তাদের নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। যে কোনো মূল্যে দলীয় মনোনয়ন পেতে শুরু করেছেন লবিং-তদবির।
আগামী নির্বাচনে কারা মনোনয়ন পেতে পারেন জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় যুগান্তরকে বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হতে হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপিও অংশ নেবে। আর এমন নির্বাচনের জন্য বিএনপি সব সময়ই প্রস্তুত। সাধারণ মানুষ ও দলে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, এমন নেতাদেরই দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে। সাবেক মন্ত্রী বা এমপি যাই হোক, সেটা বড় বিষয় নয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে এমপি হিসেবে চায় কিনা, সেটাই হচ্ছে বড় ব্যাপার। মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান দলটির এ নীতিনির্ধারক। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট- দুর্নীতিবাজ, নিষ্ক্রিয়তার ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। আমাদের প্রত্যাশা- দলের এ ধরনের সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা আগামী নির্বাচনে কোনোভাবেই মনোনয়ন পাবেন না। যতদূর জানি, দলের হাইকমান্ডও এ নিয়ে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারপরও যদি ফাঁকফোকর দিয়ে কোনোভাবে দুর্নীতিবাজ, নিষ্ক্রিয় কেউ মনোনয়ন নেয়ার চেষ্টা করেন, তাদের আমরা ওয়ান-ইলেভেনের মতো প্রতিহত করব। এ ব্যাপারে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও বেশ সতর্ক। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন আলী আজগর লবী। বিগত ওয়ান ইলেভেন সরকার আমলে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় গ্রেফতারও হন তিনি। জামিনে ছাড়া পেয়ে বিদেশে পাড়ি জমালে তিনি আর দেশে ফেরেননি। এ ধরনের নেতাদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে বিএনপি সতর্ক থাকবে। মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে শারীরিকভাবে অসুস্থদের বিবেচনায় নাও নেয়া হতে পারে। মূলত এ ধরনের আসনগুলোতেই তরুণদের মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। ২০০১ সালে রাজশাহীর (চারঘাট বাঘা) থেকে কবির হোসেন ও বাগমারা-মোহনপুর থেকে আবু হেনা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এদের মধ্যে কবির হোসেন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তার নির্বাচন করার সম্ভাবনা কম। এ আসনে আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ জেলা বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আর আবু হেনা সংস্কারপন্থী ও বিভিন্ন সময়ে বিএনপি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করায় তাকে মনোনয়ন দেয়ার সম্ভাবনা কম। নওগাঁ-৬ থেকে ২০০১ সালে এমপি ছিলেন আলমগীর কবির। তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে। পটুয়াখালী-২ থেকে ২০০১ সালে এমপি হয়েছিলেন শহিদুল আলম তালুকদার। সংস্কারপন্থী অভিযোগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার পরিবর্তে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদারকে মনোনয়ন দেয়া হয়।
কিন্তু ফারুক তালুকদারের বিরুদ্ধে তৃণমূলের নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি এলাকায় না গিয়ে ঢাকায় ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। তাই আগামী নির্বাচনে তাকে বিবেচনা করা হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় আছে। নবম সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক এমপি মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। এ আসনে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন। ফরিদপুর সদর আসন থেকে কয়েকবার এমপি নির্বাচিত হন সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। সংস্কারপন্থী হওয়ার কারণে নবম জাতীয় সংসদে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। ওই আসনে জোটের পক্ষে মনোনয়ন পান জামায়াতের আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এরই মধ্যে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এ আসন থেকে আবারও মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। সংস্কারপন্থী হওয়ার কারণে এখনও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি। তার পাশাপাশি যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুল হাসান ভুইয়া পিংকুও মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত উপজেলা নির্বাচনে সদর থেকে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন। অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও ধানের শীষের পক্ষে প্রায় এক লাখ ভোট পান তিনি। শহীদুল হক জামাল বরিশাল-২, ইলেন ভুট্ট ঝালকাঠি-২, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালী-১ থেকে এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু শহীদুল হক জামাল ওয়ান ইলেভেনে সংস্কারপন্থী অংশের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ইলেন ভুট্ট দীর্ঘদিন থেকেই নিষ্ক্রিয়। আলতাফ হোসেন চৌধুরী সংস্কারপন্থী অংশের হলেও তিনি মূলধারার রাজনীতিতে ফিরেছেন বেশ আগেই। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতিও তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- তিনি নিয়মিত ঢাকাতেই অবস্থান করেন। এ অবস্থায় পটুয়াখালীতে তার বিপক্ষে দলের বড় একটি গ্রুপ দাঁড়িয়ে গেছে। এ কারণে বলা যায়, পটুয়াখালীর দলীয় কর্মকাণ্ড স্থবির। এ অবস্থার শেষ পর্যন্ত সমাধান না হলে মনোনয়ন নিয়ে শঙ্কায় পড়তে পারেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী। চলমান সংকট নিরসন না হলে ওই এলাকার এক শিল্পপতিকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।
আলতাফ হোসেন চৌধুরী বিদেশে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। নাটোর-১ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান পটল মারা যাওয়ায় এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদকসহ একাধিক নেতা। একই অবস্থা পঞ্চগড়-২ আসনেও। সেখানকার সাবেক এমপি মোজাহার হোসেন মারা যাওয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা একক প্রার্থী হিসেবে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। মাদারীপুর-১ থেকে ২০০১ সালে প্রথমে মনোনয়ন পান সাবেক মহিলা এমপি নাবিলা চৌধুরী। কিন্তু পরে তা পরিবর্তন করে ঠান্ডু চৌধুরীকে দেয়া হয়। ঠান্ডু চৌধুরী বর্তমানে অসুস্থ। এ আসনে মনোনয়ন দৌড়ে ছিলেন দুই নেতা। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। ফলে অপর নেতা জামান কামাল মোল্ল্যা নুরুদ্দিনের ভাগ্যে মনোনয়ন শিকে ছিঁড়তে পারে বলে দলের সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু প্রমুখ। তৃণমূলের নেতা বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, আমরা যারা তৃণমূলে রাজনীতি করি, তারা সবাই বর্তমান সরকারের সীমাহীন নির্যাতনের শিকার। এর আগে ওয়ান ইলেভেনের কঠিন মুহূর্তেও আমরা আমাদের নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলাম। আমাদের মতো তৃণমূল নেতাকর্মীদের ত্যাগের বিষয়টি দলের হাইকমান্ডও জানেন। দল পুনর্গঠনে চেয়ারপারসন যেমন তৃণমূলের মতামত আমলে নিচ্ছেন, তেমনি সামনে দলের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত নেবেন। এটা আমাদের প্রত্যাশা নয়, এটা চেয়ারপারসনের কাছে আমাদের দাবি। তিনি বলেন, যদি তৃণমূলের মতামতে মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলে অর্ধশতাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপির এবার মনোনয়ন মিলবে না।

৮ জুলাই আ’লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা

আগামী ৮ জুলাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক। বিকাল ৫টায় দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রোববার এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সব সদস্যকে ওই সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

মারাত্মক ঝুঁকিতে ব্যাংকিং খাত

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় নতুন করে মূলধন জোগান দিতে গত অর্থবছরের শেষ মাসে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর মাধ্যমে দেশটির ব্যাংকিং খাত যে ক্রমবর্ধমানভাবে বিভিন্ন কঠিন ঝুঁকি মোকাবেলা করছে, তার লক্ষণ বোঝা যাচ্ছে। আর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা অপর্যাপ্ত। ঋণখেলাপিদের শাস্তি দেয়া, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সামান্যই। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, অতিরিক্ত তারল্যের কারণে ব্যাংকিং খাতে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকিং খাতে পরিস্থিতির উন্নয়ন নির্ভর করবে সমস্যা মোকাবেলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এসব তথ্য উঠে এসেছে। আইএমএফের তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। এসব দুর্বলতার পেছনে বহুলাংশে দায়ী বড় অংকের ঋণগ্রহীতাদের দেয়া ঋণ, যাদের অর্থ পরিশোধের তাগিদ কম। পাশাপাশি রয়েছে আইনি সীমাবদ্ধতা, যা অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রয়েছে মোট ব্যাংকিং খাতের সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তাদের সঙ্গে আছে রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি বিশেষায়িত উন্নয়ন ব্যাংক, ৪০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ৯টি বিদেশি ব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ বেশি। রাষ্ট্রায়ত্ত ৮টি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো নন-পারফর্মিং লোনস (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণ, কম মুনাফা, বড় ধরনের পুঁজি ঘাটতি এবং ব্যালেন্স শিট দুর্বলতায় ভুগছে। এ সমস্যার মূলে রয়েছে দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। দশকের পর দশক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বড় ও দাপুটে ঋণগ্রহীতাদের কাছে মোটা অঙ্কের ঋণ দিয়ে আসছে। তারা অর্থ পরিশোধে গাফিলতির জন্য পরিচিত। ঋণখেলাপিদের শাস্তি দেয়ার নজির বিরল। এর পরিবর্তে একই ঋণগ্রহীতাদের ফের ঋণ প্রদানের অনুমোদন দিতে ঋণ পুনর্বিন্যাস করা হয় নিয়মিত।
বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১০-১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকগুলো প্রতিবছর গড়ে নয়ছয় হওয়া ঋণ (ব্যাড লোনস) পুনর্বিন্যাস করেছে ১০ হাজার ৯১০ কোটি টাকার। এসব কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে মারাত্মক হারে। এ পরিস্থিতিতেও সরকার অব্যাহতভাবে অর্থায়ন করে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। অর্থায়ন করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা হয়েছে। অনেকে বিষয়টি এভাবে দেখছেন যে, সামাজিক খাতগুলোয় প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করার পরিবর্তে করদাতাদের অর্থ সেখানে দিচ্ছে সরকার। অবকাঠামোগত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ২০১৭ সালের মার্চে এক বৈঠকে সরকারের অর্থ বিভাগ জানায়, বাজেট তহবিল থেকে নিয়মিত অর্থায়ন সত্ত্বেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো তাদের খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির উন্নয়ন হয়নি। এদিকে গত দু’বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকে পুঁজির জোগান দেয়ার সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে করেনি। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে নিজেদের উদ্যোগে, যেমন- ব্যবসায়ী কর্মকাণ্ড জোরদার করে পুঁজি ঘাটতি মেটানোর নির্দেশ দেয়। তা সত্ত্বেও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ফের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে অর্থায়নের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা পুঁজি ঘাটতির বিপরীতে এ বরাদ্দ রাখা হয়। সবচেয়ে বড় অঙ্ক যাচ্ছে বেসিক ব্যাংকে (১ হাজার কোটি টাকা)। ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উন্নতি প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সামান্যই। প্রয়োজন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। বড় ঋণগ্রহীতাদের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াও নিয়ন্ত্রকরা উদ্বিগ্ন যে বেশি কঠোর পদক্ষেপ কর্পোরেট দেউলিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ব্যাংকিং খাতের গভীরে প্রোথিত দুর্নীতির সমস্যা, ঝুঁকির দুর্বলচর্চা এবং শিল্পের সঙ্গে যোগসাজশের সমস্যা মোকাবেলায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রয়োজন। আইএফএফ যেমনটা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। অর্থায়ন করার পরোক্ষ সরকারি নিশ্চয়তা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় অধিকমাত্রায় তারল্য সৃষ্টি করছে। কিন্তু তাদের হিসাব-নিকাশে আরও অবনতি ঘটলে তা আর্থিক ভারসাম্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্মত হওয়া অঙ্কের টার্গেটের প্রতি কঠোরভাবে জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে ব্যাংকগুলোকে। আর সংস্কারের মনোযোগ হতে হবে তত্ত্বাবধানের উন্নয়ন, লোন কনসানট্রেশনের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঋণ উদ্ধারের জন্য আইনি ও আর্থিক অবকাঠামোর উন্নয়ন। তবে শেষ কথা হল- বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সমস্যার সমাধান শুরু হতে হবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দিয়ে; কিন্তু এখন পর্যন্ত যা খুব সীমিতই দেখা যাচ্ছে।

জাইকার সঙ্গে ১৩ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকার ঋণচুক্তি

মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বাংলাদেশের ছয় প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৭৮ দশমিক ২২ বিলিয়ন ইয়েন দিচ্ছে জাপান। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা (প্রতি ইয়েন ৭৫ পয়সা হিসেবে)। এ জন্য জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সঙ্গে বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয় বলে সংস্থাটি সূত্রে জানা গেছে। এ ঋণের অর্থে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে সেগুলো হচ্ছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৭৬ দশমিক ৮২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড পাওয়ার প্লান্ট প্রজেক্টে ১০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ইয়েন ব্যয় হবে। কাঁচপুর-মেঘনা এবং গোমতি দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সেতুর সংস্কার প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫২ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ইয়েন ব্যয় হবে। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট (মেট্রোরেল) প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ইয়েন, ঢাকা আন্ডারগ্রাউন্ড সাবস্টেশন কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ২০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ইয়েন এবং স্মল স্কেল ওয়াটার রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (ফেজ-২) বাস্তবায়নে ১১ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ইয়েন ব্যয় করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ঋণের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেই আলোচনার অংশ হিসেবে জাপান বড় অংকের এই ঋণ দিচ্ছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে যেতে এ ঋণ ভূমিকা রাখবে। জাইকা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

গরমে চর্মরোগ

গরমকালে বেশি ঘাম হয় এবং শরীর ভেজা থাকে। ঘাম এবং ভেজা শরীরে ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ছত্রাকজনিত চর্মরোগ যেমন দাউদ, ছুলি ও ক্যানডিডিয়াসিস বেশি পরিলক্ষিত হয় যা মূলত ত্বকের বাইরের অংশকে আক্রমণ করে যা স্যাঁতসে্যঁতে, নোংরা, ঘর্মাক্ত দেহে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
ছুলি : ত্বকের অক্ষতিকারক ছত্রাক প্রদাহ যা অনেকদিন পর্যন্ত এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গ্রীষ্মকালে এই প্রদাহ বেশি দেখা যায়। শরীরের প্রায় সব জায়গায় সাদা বা বাদামি রঙের গোলাকৃত বা বিভিন্ন আকৃতির এই রোগ দেখা যায়। এতে কোনো রকম ব্যথা বা জ্বালাপোড়া এসব কিছুই থাকে না। বিভিন্ন রোগের সঙ্গে এ রোগের মিল রয়েছে যেমন শ্বেতি রোগ, লেপরসি, টিনিয়াকরপরিস ইত্যাদি।
দাউদ : শরীরের যে কোনো স্থানে গোলাকার চাকা দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণত তলপেট, পেট, কোমর, নিতম্ব, পিঠ, মাথা, কুঁচকি ইত্যাদি স্থানে বেশি দেখা যায়। আক্রমণের স্থান লক্ষ্য করে একে স্থান ভিত্তিক বিভিন্ন নামে নামকরণ করা হয়।
রোগ নির্ণয় : ত্বকের ফাঙ্গাস পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ খুব সহজেই নিরূপণ করা সম্ভব।
ক্যানডিডিয়াসিস : এটি একটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যেমন- শিশু, বৃদ্ধ কিংবা রোগাক্রান্ত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, দীর্ঘদিন ধরে যারা স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেছেন কিংবা যাদের ত্বকের খাঁজ ঘামে সব সময় ভেজা থাকে তাদেরই এই রোগটি বেশি হয়। আবার যারা সব সময় পানি নাড়াচাড়া করেন তাদের আঙুলের ফাঁকে, হাতের ভাঁজে, শিশুদের জিহ্বায়, মহিলাদের যোনিপথে এবং গর্ভবতী মহিলারা এতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এতে ত্বকের আক্রান্ত স্থান লালচে ধরনের দেখা যায় এবং সঙ্গে প্রচণ্ড চুলকাতে থাকে।
জ্বর ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ
আলরাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা।
মোবাইল- ০১৭১৫৬১৬২০০

চিলিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন জার্মানি

ম্যাচটি ছিল চিলির অভিজ্ঞতা বনাম জার্মানির তারুণ্যের। তাতে জয় হয়েছে তারুণ্যের। চিলির মার্সেলো দিয়াজের মারাত্মক ভুলে ম্যাচের ২০ মিনিটে খেলার ধারার বিরুদ্ধে গোল পেয়ে যায় জার্মানি। চিলির বক্সে দিয়াজের ভুলে বল পেয়ে যান জার্মানির ফরোয়ার্ড টিমো ওয়ার্নার। এ যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টি। এমন সুযোগ কেউ কি হাতছাড়া করে? লিপজিগের স্ট্রাইকার ওয়ার্নারের স্কোয়ার পাসে মিডফিল্ডার লারস স্টিনডল হার মানান চিলির গোলকিপার ক্লদিও ব্রাভোকে। শেষ পর্যন্ত ওই গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে রবিবাসরীয় ফাইনালে জার্মানি ১-০ ব্যবধানে চিলিকে হারিয়ে কনফেডারেশন্স কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রথমার্ধে ভালো খেলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে গোল পায়নি চিলি। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা অনেকটা শরীরসর্বস্ব হয়ে ওঠে। মৃদু ধাক্কাধাক্কিতেও জড়িয়ে পড়েন দু’দলের খেলোয়াড়রা। এ সময় রেফারিকে সাতবার হলুদ কার্ড দেখাতে হয়। বল দখলে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও চিলির ফরোয়ার্ডরা পেরোতে পারেননি জার্মানদের সাদা ঢেউয়ের বাধা। এই আসরে জার্মানির এটি প্রথম শিরোপা জয়।

মেক্সিকোকে হারিয়ে তৃতীয় পর্তুগাল

অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে করা আদ্রিয়ান সিলভার গোলে মেক্সিকোকে হারিয়ে কনফেডারেশন্স কাপে তৃতীয় হয়েছে পর্তুগাল। মস্কোয় রোববার ২-১ গোলে জেতে ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা অমীমাংসিত থাকে ১-১ গোলে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে খেলা শুরু হলেও প্রথমার্ধে কেউই গোল পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পর্তুগালের ডিফেন্ডার লুইস নেতোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় মেক্সিকো।  যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে রিকার্দো কারেসমার ক্রস থেকে পেপে গোল করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান। অতিরিক্ত সময়ে হ্যান্ডবলের সুবাদে পেনাল্টি পায় রোনাল্ডোবিহীন পর্তুগাল। ১০৪ মিনিটে স্পটকিকে জয়সূচক গোলটি করেন সিলভা। ওয়েবসাইট।

বিসিবির সভাপতির পদ ছাড়ছেন পাপন

আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে আর থাকবেন না বলে জানিয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। রোববার ধানমণ্ডিতে নিজের চাকরিরত অফিসে একথা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। এর আগেও এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। পাপন জানান, মন থেকেই তিনি আর সভাপতি থাকতে চান না। তিনি এতো চাপ নিতে পারছেন না। তবে পরিচালক হিসেবে থাকার ইচ্ছে রয়েছে তার। এছাড়া আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নেতৃত্ব নিয়েও চিন্তাভাবনা করছে বিসিবি। কয়েকদিন আগে শ্রীলংকান মিডিয়ায় এসেছে তারা কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিসিবি নির্ভার যে, কোচ ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকছেন।
বিসিবির বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের অক্টোবরে। কিন্তু নাজমুল হাসান জানালেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর মধ্যে একটি কিন্তুও জুড়ে দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। পাপন বলেন, ক্রিকেট থেকে দূরে সরে থাকাটা আমার জন্য কঠিন। আমার মনের কথা ক্রিকেটে থাকলে পরিচালক হয়েই থাকা আমার জন্য ভালো। সভাপতি হয়ে থাকাটা আমার জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেক বেশি সময় দিতে হচ্ছে। পাপন বলেন, ‘দেখা যায়, কোনো না কোনো খেলোয়াড়ের সমস্যা আছে। তারা যেহেতু আমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাই অনেক বেশি সময় চলে যায়। এছাড়া আইসিসি, এসিসি, চাকরি, রাজনীতি সব কিছু মিলিয়ে অনেক বেশি চাপ হয়ে যাচ্ছে।’ নতুন যেই আসুক না কেন এই অবস্থা থেকে আরও ভালো করবে বলে ধারণা নাজমুল হাসানের। তিনি বলেন, নতুন যেই আসুক খারাপ হবে না। ক্রিকেট একটা জায়গায় চলে গেছে। আর কেউ এসে তো চাইবে না তার সময়টা খারাপ যাক। যে অবস্থায় আছে সেখান থেকে আগামী ৮ বছরে কোনো সমস্যা হবে না।

শূন্য রানে চার উইকেট!

দু’জনই লেগ-স্পিনার। অনেকটা একইরকম বোলিং অ্যাকশন। সোনালী চুল। শেন ওয়ার্নকে আদর্শ মানেন ডানে ফন নিকার্ক। দক্ষিণ আফ্রিকা নারী দলের এই লেগ-স্পিনার এমন এক কীর্তি গড়লেন, যা পারেননি ওয়ার্নও। পারেননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছেলেমেয়ে মিলিয়ে আর কোনো ক্রিকেটারই। শূন্য রানে চার উইকেট! মেয়েদের বিশ্বকাপের ম্যাচে রোববার লেস্টারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনন্য এ নজির গড়েছেন এই লেগ-স্পিনিং অলরাউন্ডার। নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসে। গ্রেস রোড মাঠে যখন আক্রমণে এলেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ততক্ষণে হারিয়ে ফেলেছে পাঁচ উইকেট। নিজের প্রথম তিন ওভারেই একটি করে উইকেট নেন ফন নিকার্ক। মাঝে একটি উইকেট নেন মারিজান ক্যাপ। নিজের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে আরেকটি উইকেট নিয়ে ফন নিকার্ক ইতি টানেন ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসের। তার বোলিং ফিগার ৩.২-৩-০-৪! ২৫.২ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুটিয়ে যায় মাত্র ৪৮ রানে। মেয়েদের ওয়ানডেতে এর আগে শূন্য রাতে তিন উইকেট নেয়ার কীর্তি ছিল দু’জনের।
১৯৯৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান লেগ-স্পিনার অলিভিয়া ম্যাগনো, ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ইংলিশ পেসার অ্যারান ব্রিন্ডল। মেয়েদের টেস্টে শূন্য রানে দুই উইকেটও নেই কারও। টি ২০তে শূন্য রানে তিন উইকেট আছে শুধু একজনের। ২০১২ সালে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলংকার সান্দামালি দোলাভাত্তের। ছেলেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়েই শূন্য রানে তিন উইকেট আছে একজনেরই। ১৯৫৯ সালে ভারতের বিপক্ষে দিল্লি টেস্টে ৩.৪ ওভারে কোনো রান না দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছিলেন রিচি বেনো। ছেলেদের ওয়ানডেতে কোনো রান না দিয়ে দুই উইকেট পর্যন্ত নিতে পেরেছেন দু’জন। ২০০৩ বিশ্বকাপে নামিবিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার অ্যান্ডি বিকেল, গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার। ছেলেদের টি ২০তে শূন্য রানে দুই উইকেটও নেই কারও। এ জায়গায় তাই ছেলেমেয়ে মিলিয়েই সেরা ফন নিকার্ক! ওয়েবসাইট।

টুটুল-তানিয়া দম্পতির নতুন মিশন

নতুন মিশন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন সঙ্গীতশিল্পী এসআই টুটুল ও অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ। সম্প্রতি ‘হাই ফইভ এন্টারটেইনমেন্ট’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন এ দম্পতি। গত শুক্রবার থেকে চ্যানেলটির যাত্রা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তানিয়া আহমেদ বলেন, ‘দর্শকের বিনোদনের কথা ভেবেই আমরা এ চ্যানেলেটির কাজ শুরু করেছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দর্শককে বিনোদন দেয়া। চ্যানেলটি নিয়ে আমরা বেশ আশাবাদী।’ এসআই টুটুল বলেন, ‘এখন থেকে আমার নতুন গান এ চ্যানেলেই প্রকাশ পাবে। এছাড়া, আমাদের চ্যানেলে গানে ও অভিনয়ে নতুনদেরও সুযোগ দেয়া হবে। এর মাধ্যমে যাদের নিজেদের সামর্থ্য নেই কাজ করার তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।
পাশাপাশি এটিও বলতে চাই এ চ্যানেলটি একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান।’ উল্লেখ্য, নতুন পুরনো শিল্পীদের ওয়েব ড্রামা, বিনোদনমূলক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, নতুন গানের মিউজিক ভিডিও, নতুন শিল্পীদের মিউজিক ভিডিও, ড্রেস ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানসহ আরও নানা ধরনের অনুষ্ঠানে এ ইউটিউব চ্যানেলে স্থান পাবে। এ দম্পতি বর্তমানে তাদের ইউটিউব চ্যানেলের প্রচার ও প্রসারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

গাজীপুরে আবাসিক হোটেলে জমজমাট যৌন ব্যবসা by ইকবাল আহমদ সরকার

প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায়, কোথাও আবার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের পাহারায় গাজীপুরে আবাসিক হোটেলের নামে চলছে অবৈধ দেহ ব্যবসা। প্রতারণার স্বীকার হয়ে স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষার্থীও এসব হোটেল ছাড়াও শুটিং স্পটে গিয়ে জড়িয়ে পড়ছে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তরুণ ও যুব সমাজ। এলাকাবাসীর অনুরোধে গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ ধরনের কমপক্ষে ১০টি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক যৌনকর্মীসহ খদ্দের ও সংশ্লিষ্টদের আটক করা হয়েছে। হোটেল সিলগালা করা হয়। আবার অনেককে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাৎক্ষণিক জেলও দেয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘণ্টা প্রতি ৫শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে রুম আর যৌনকর্মী দিয়ে নগরের তেলিপাড়ায় মসজিদ ও স্কুলের পাশেই একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ-অসামাজিক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। শুধু রাতেই নয়, দিনেও চলে এই অবৈধ ব্যবসা। গত বছর যৌনকর্মী ও খদ্দেরসহ ওই হোটেলটি স্থানীয় জনতা অবরুদ্ধ করে রাখে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হোটেল ম্যানেজার, খদ্দের ও নারীসহ ১৫ জনকে আটক করে। আটক করার পর আবারো  অবাধে চলে অবৈধ ব্যবসা। ওই হোটেলের মতোই নগরের চান্দনা চৌরাস্তা, আউটপাড়া, তেলিপাড়া, ভোগড়া, নলজানি, দীঘিরচালা, কোনাবাড়ি, হোতাপাড়া, মাওনা চৌরাস্তা ও টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এলাকাবাসী ও নানা শ্রেণি-পেশার লোকজনের অনুরোধে এবার রোজায় এর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে নির্দেশ দেন গাজীপুরে জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। এরপরই জেলা প্রশাসককে হোটেল রাজমনির মালিক পরিচয়ে মোবাইল ফোনে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হয়। হুমকির পর জেলা প্রশাসক জয়দেবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরদিন থেকে শুরু হয় আবাসিক হোটেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। চান্দনা চৌরাস্তার আবাসিক হোটেল রাজমনি, দক্ষিণ বাংলা আবাসিক হোটেল ও টঙ্গীসহ অন্তত ১০টি আবাসিক হোটেল সিলগালা করা হয়। শনিবার বিকালে হোতাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির কাছের আবাসিক হোটেল রোজ ভ্যালিতে অভিযান চালিয়ে ২০ জন যৌনকর্মীসহ ৩৫ জনকে আটক করা হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আবাসিক হোটেলের সামনে অবস্থান করে দালাল চক্র। টার্গেট করা পথচারীদের তারা ধরিয়ে দেয় ভিজিটিং কার্ড। এসব কার্ডে হোটেল-যৌনকর্মীদের মধ্যস্থতাকারীর মোবাইল নম্বর থাকে। আর এভাবেই খদ্দেররা পৌঁছে যায় যৌনকর্মীদের কাছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়তে পারে গাজীপুরের যুবসমাজ। নগর ও জেলাবাসীর দাবি। চলমান অভিযানের পর আগের মতো আবারো যাতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক হোটেলের নামে গড়ে ওঠা এসব মিনি পতিতালয় জমজমাট না হয়ে ওঠে। সমাজের ক্ষতিকারক এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

তারিশির কাছে ভাইয়ের মর্মস্পর্শী চিঠি

হলি আর্টিজান বেকারিতে মর্মান্তিক জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারানো একজন ছিলেন তারিশি জৈন। ১৮ বছরের এই তরুণী গেল বছর ১লা জুলাই সেখানে গিয়েছিলেন বন্ধু ফারাজ আইয়াজ হোসাইন ও অবিন্তা কবিরের সঙ্গে দেখা করতে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির অর্থনীতি বিষয়ের ছাত্রী ছিলেন। জুনের প্রথমদিকে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন ঢাকায়। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে অবস্থানরত পিতা-মাতার সঙ্গে অবকাশ যাপনের পাশাপাশি বেসরকারি একটি ব্যাংকে ইন্টার্নশিপ সমপন্ন করা।
কানাডাপ্রবাসী ভাই সঞ্চিত জৈনেরও ঢাকায় আসার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা জটিলতায় তার আসা হয়নি। তারিশির মৃত্যুবার্ষিকীতে সঞ্চিত ছোট বোনকে উদ্দেশ্য করে আবেগভরা এক চিঠি লিখেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ইংরেজিতে লেখা সঞ্চিতের লেখা সেই চিঠির অনুবাদ মানবজমিনের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
প্রিয় তারিশি,
তোকে ছাড়া পেরিয়ে গেছে একটি বছর। যখন ভাবি কি বলবো- তখন কত কিছু যে মনে আসে। এতো কিছু যে সেগুলোর জট ছাড়াতে হয় একটা একটা করে। তুই জানিস আমি কেমন হয়ে যাই। আমি এখানে এটা লিখছি- কেননা, আমি ফের এটা পড়তে চাই- তুই মানুষটা যেমন ছিলি,  তোর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হতে। হয়তো নিজেকে ও আমার চারপাশের মানুষদের পরিবর্তন করার জন্য অনুপ্রাণিত হতেও লিখছি। তেমন একটা পৃথিবীর উদ্দেশ্যে পরিবর্তন হওয়া, যেমনটা তোর আর তোর বন্ধুদের প্রাপ্য।
আমি যদি বলি, তুই আমার কাছে আমার পুরো দুনিয়া; তাহলে সেটা সত্যি হবে। তবে, আমি ভাবি যদি তুই দেখতে পেতি তুই গোটা বিশ্বের কাছে কি। তুই যেখানেই গেছিস, তোকে নিয়ে কারো না কারো একটা বা দশটা গল্প আছে বলার। আর তারা সেগুলো বলেও, মুখে হাসি নিয়েই বলে। তোর এক বন্ধু আমাকে একবার বলেছিল, ‘তারিশির সঙ্গে থাকা নিজের বাড়িতে থাকার মতো।’ অন্য আরেকজনের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য তুই নিজের সেরাটা ঢেলে দিতিস- হোক সেটা স্কুলে যোগ দেয়া নতুন কেউ, বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কোনো শিক্ষার্থী। পুরো সময়টা নীরবে একই সঙ্গে অস্বস্তিটা নিজে বয়ে বেড়িয়েছিস। আরেকজনকে সাদরে গ্রহণ করে নেয়ার অসামান্য সামর্থ্য ছিল তোর। সেটা শুধু বাহ্যিকভাবেই নয়, বরং আবেগিক ও আত্মিকভাবেও।
তোর কাছ থেকে আমি প্রথম যে শিক্ষাটা নেই সেটা সহমর্মিতার। স্বপ্নের যেই জগৎটা তোর প্রাপ্য সেটা সহমর্মিতায় পূর্ণ। আমি লক্ষ্য করেছি যে, তোর নিজের অবস্থা যেমনই হোক না কেন তোর হৃদয়ে সবসময় অন্যকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেয়ার জায়গা ছিল। অনেকে হয়তো যুক্তি দেখাবে যে সহমর্মিতা আত্মগত আর বোকামির মতো কোনো বিষয়। হতাশাবাদী কেউ হয়তো বলবে, সহমর্মিতা আর স্বার্থপরতা একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। তবে, তুই তোর জীবনে দেখিয়েছিস যে, গোপন কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই সহমর্মিতা অনুভব করা যায়। আবার আমাদের জগতে কাপুরুষেরাও আছে যারা সকল ধরনের নৃশংসতা চালানোর অজুহাত হিসেবে অন্যের হতাশার পেছনে লুকায়। তুই আমাকে দ্বিতীয় যেটা শিখিয়েছিস তা হলো প্রতিকূলতার মুখেও নিঃস্বার্থপরতা।
তোর দৃঢ়চিত্ততা আর উদ্যমী দৃষ্টিভঙ্গির কথা না বললেই নয়। তোর শেষ বছরটা ছিল অসম্ভব কঠিন। বার্কলির মতো স্কুলে প্রথম বছর, লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, এরপর অস্ত্রোপচার, নতুন বন্ধু বানানো, পুরনোদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, আর নিজের একটা ক্যারিয়ার গড়ে তোলা। তুই সবই করেছিস। সকল প্রতিকূলতার মুখেও তুই সবকিছু উৎরে গেছিস সাবলীলভাবে। শেষে জয়টা তোরই হয়েছে। 
আমার মনে আছে আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন থাইল্যান্ডে পাহাড়ে চড়তে যেতাম। তুই বার বার পড়ে যেতিস আর পিছলে পড়তিস- কিন্তু পথ শেষ করার আগ পর্যন্ত থামতিস না। এই বিষয়টা কখনও তোর কাছে স্বীকার না করার আফসোস আমার সবসময় থাকবে। সেটা হলো তোর কাছ থেকে পাওয়া তৃতীয় শিক্ষা- অধ্যবসায়, আমার সবটুকু শ্রদ্ধাবোধ রইলো তোর প্রতি।
এতোদূর লেখার পর সত্যিই মনে হচ্ছে আমি তোকে একজন সাধু-সন্তুর মতো করে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি। এটা আমার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু কে জানে! উপরে বলা তোর শিক্ষাগুলো তো ছিল অনেক বড়।
ছোটখাট বিষয়গুলো না বলাটা গাফিলতি হবে, যে বিষয়গুলো তোকে তোর মতো বানিয়েছে। নতুন কিছু খাওয়া বা নতুন কোনো গান শোনা নিয়ে তোর উদ্দীপনা। মা আর পাপা আমাদের জন্য যা কিছু করেন তার জন্য তুই যে অসামান্য কৃতজ্ঞতা বোধ করতিস এবং প্রকাশ করতিস। এই গুণটা ছিল তোর ভেতরে প্রোথিত; এটাই তোর কাছ থেকে পাওয়া চতুর্থ শিক্ষা- কৃতজ্ঞতাবোধ।
জীবন আমাদের যা কিছু দিয়েছে তার জন্য কৃতজ্ঞতাবোধ আর জীবন আমাদের যা কিছু দিতে পারে তা নিশ্চিতভাবে মানবতার আধ্যাত্মিক বিবর্তনের এক মাইলফলক। কৃতজ্ঞতাবোধ, অধ্যবসায়, সহমর্মিতা আর নিঃস্বার্থপরতা। তোর সঙ্গে কাটানো ১৮টি বছরের দিকে ফিরে তাকালে এই চারটি বিষয় আমার দিকে প্রতিফলিত হয়। এই গুণগুলো কখনই ফুরিয়ে যাবার নয়। কেননা, আমি নিশ্চিত যে, এরপর যখন মা, পাপা আর আমি বসে আমাদের চার জনের কাটানো জীবনের দিকে ফিরে তাকাবো তখন আমরা আরো কিছু খুঁজে পাবো আর তোর বিশালত্ব অনুধাবন করার আরেকটু কাছে যাবো। আর তাই, আমি তোর গুণগুলো শেয়ার করতে চেয়েছি যা আমার ও বাকি বিশ্বের জন্য শিক্ষা। যেন, হয়তো কোনোদিন এমন এক ভবিষ্যৎ আসবে যেখানে তোর মতো মানুষ যাদের উষ্ণতাপূর্ণ ও সত্যিকারের উদারতার এক জীবন প্রাপ্য তাদের জীবন কেড়ে নেয়া হবে না।
সেই লক্ষ্যে কাজ করার একটা অংশ হলো তোর মতো মানুষদের খোঁজা; যারা তোর মতোই একই গুণাবলী ধারণ করে। এবং প্রয়োজনে তাদের যেকোনোভাবে সাহায্য করা। এটাই ‘লিভ লাইভ লাইক তারিশি অ্যাওয়ার্ডের’ সারকথা। আর এটা সবে শুরু।
তোর শিক্ষাগুলোর জন্য ধন্যবাদ তারিশি। এটা জেনে রাখ যে, প্রতিবার যখন এগুলোর একটা আমি মেনে চলবো তোর একটি অংশ বেঁচে থাকবে। তারিশি, আমি তোকে বাঁচিয়ে রাখবো।
ভালোবাসা,
ভাইয়া

‘বিষয়টি এখনো পাকাপাকি নয়’ by ফয়সাল রাব্বিকীন

গেল রোজার ঈদটি বেশ ফুরফুরে মেজাজে উদযাপন করেছেন চলতি প্রজন্মের আলোচিত সংগীতশিল্পী ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী। কারণ ঈদটি ছিল তার জন্য বিশেষ। এ ঈদে বেশ কিছু নতুন গান প্রকাশ হয়েছে তার। গেয়েছেন টিভি লাইভেও। আর প্রথমবারের মতো হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র একটি গানে পারফর্ম করেছেন তিনি। এটা তার জন্য বেশ বড় পাওয়া ছিল বলেই মনে করেন ঐশী। পাশাপাশি আনজাম মাসুদের ‘পরিবর্তন’ ম্যাগাজিনেও পারফর্ম করেছেন। এ বিষয়ে ঐশী বলেন, এবারের ঈদটি আমার জন্য বিশেষ ছিল। আসলে ‘ইত্যাদি’ তো দেশের সবারই খুব প্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এখানে গান গাইতে পেরে। প্রতীক ও প্রীতম হাসান ভাইয়া এবং কনা আপুর সঙ্গে এ গানটি গেয়েছি আমি। অনুষ্ঠানটি দেখার পর প্রশংসা করেছেন সবাই। পাশাপাশি ‘পরিবর্তন’ ম্যাগাজিনে কর্ণিয়ার সঙ্গে একটি গান গেয়েছি। সেটিরও ভালো সাড়া পেয়েছি। আর গানবাংলা টিভির উইন্ড অব চেঞ্জ’স-এর এবারের মৌসুমে গেয়েছি। অনেক সাড়া মিলেছে। ঈদের মধ্যে এসএ টিভিতেও লাইভ করেছি। ভক্ত-শ্রোতা থেকে শুরু করে সেই লাইভের প্রশংসা করেছেন অনেক সিনিয়র শিল্পীও। এর মাধ্যমে অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। সব মিলিয়ে বলতে পারেন খুব ভালো গেছে ঈদ। ঈদে নতুন গানওতো প্রকাশ হয়েছে। সেগুলোর সাড়া কেমন মিলছে? ঐশী বলেন, ঈদের খুব বেশিদিন আগে গানগুলো প্রকাশ হয়নি। তাই সময় গেছে খুব অল্প। কিন্তু এরই মধ্যে বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। লেজারভিশন থেকে প্রকাশিত ‘নীলিমা’ ও ‘রঙিন ঘুড়ি’ এবং সিডি চয়েজের ব্যানারে প্রকাশিত ‘আলতা রাঙা পায়’ গানগুলোর ভালো সাড়া পেয়েছি। এর মধ্যে ‘নীলিমা’ গানটির ভিডিও নির্মাণের কথাও চলছে। আমার মনে হয় ভিডিও হলে সাড়া আরো ভালো পাবো। সামনের পরিকল্পনা কি? ঐশী বলেন, আসলে আমি পরিকল্পনা করে কিছু করতে পারি না। যেটা যখন ভালো মনে হয় করি। আর আমি যেহেতু ডাক্তারি পড়ি তাই আমার জন্য সময় বের করাটা কঠিন। সে কারণে শো কিংবা রেকর্ডিংয়ের শিডিউলটা আগে থেকেই করে নিতে হয়। তারপরও ডাক্তারি পড়া ও গান চালিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে বাবা-মা আমাকে খুব সহযোগিতা করেন, উৎসাহ দেন। না হলে আমার পক্ষে দুটো দিক সামলানো সম্ভব হতো না। একক অ্যালবামের পরিকল্পনা কি আছে? ঐশী বলেন, বিষয়টি এখনো পাকাপাকি নয়। তবে এখনতো আর অনেক গান নিয়ে একক অ্যালবাম  করে লাভ নেই। হয়তো তিন গানের ইপি করবো। আর সিঙ্গেলস করবো। ভিডিও ছাড়া গান এখন শ্রোতারা শুনছেনও খুব কম। তাই সব মিলিয়ে ঠিক করেছি সিঙ্গেলসই বেশি করবো। ফোক, রক, মেলোডি- এসব ধরনের গানেই ঐশীকে পাওয়া গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতাও এসেছে। কিন্তু কোন ধরনের গানে ঐশী নিজে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে বেশি? এ শিল্পী আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, সব ধরনের গান গাইতে আমার ভালো লাগে। তবে যখন শো করি তখন ফোক গান গাওয়ার অনুরোধই বেশি থাকে আমার কাছে। আর ফোক গানে আমি কিছুটা হলেও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে রক কিংবা মেলোডি গান গাইতেও ভালো লাগে। আমি আসলে সব ধরনের গান গাইতে চাই। তবে গতানুগতিক ধারার বাইরের গান গাইতে বেশি পছন্দ করি। ভিন্নধারার গান পেলে আমি একেবারে নিজেকে উজাড় করে গাওয়ার চেষ্টা করি। এ সময়ের একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা কেমন মনে হচ্ছে? ঐশী বলেন, এখনতো ভালোই মনে হচ্ছে। অনেক গান প্রকাশ হচ্ছে। তবে সিডিতো উঠেই গেছে প্রায়। ডিজিটালি গান শুনছেন শ্রোতারা। এর ফলে গান শোনাটা সহজ হয়েছে। শিল্পীরা নিজেরাও নিজেদের গান ইচ্ছে করলেই প্রকাশ করতে পারছেন। সব মিলিয়ে অবস্থা এখন ভালোই।

শোভা-সাথী চক্রের অভিনব প্রতারণা by রুদ্র মিজান

একজন সাথী। অন্যজন শোভা। সম্পর্কে দুই বোন। পোশাক, চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ। আর এটাকে পুঁজি করেই প্রতারণার ফাঁদ পাতেন তারা। এ ফাঁদে আটকা পড়ে ইতিমধ্যে অনেকেই হয়েছেন নিঃস্ব। তাদের বিরুদ্ধে হয়েছে মামলা। তাদের প্রতারণার ধরন দেখে পুলিশও অবাক। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। কিন্তু কিভাবে চলে তাদের প্রতারণা? পুরো নাম নুরুননাহার সাথী ও কামরুননাহার শোভা। দুই বোন। কখনো তাদের পরিচয় ব্যবসায়ী, কখনো আইনজীবী, কখনো সাংবাদিক। প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাদের চলাফেরা। পোশাক আর চেহারায় আভিজাত্যের চাপ। সহজেই যে কারও সঙ্গে গড়ে তোলেন বন্ধুত্ব। তারপর রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ, ডিনারের নামে আড্ডা। সুযোগ পেলেই শোনান তাদের ব্যবসার নানা গল্প। এভাবে এগিয়ে যান নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। ব্যবসায় বড় অংকের বিনিয়োগ বা ধার চেয়ে বসেন সুযোগ মতো। বিনিময়ে লভ্যাংশ দেয়ার লোভনীয় প্রস্তাব। মূলত ব্যবসার নামে প্রতারণা তাদের পেশা। এই চক্রের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাতে হয়েছে অনেককে। কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছে তারা। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার কারণে উল্টো মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে ভুক্তভোগীকে।
সাথী ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলা তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সাথী ও শোভা অত্যন্ত চতুর। যে কারণে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের পরও তাদের কিছুই হয়নি। উল্টো অভিযোগকারীরাই তাদের ভয়ে তটস্থ থাকেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে জাহিদুর রহমান ফারাজী জানান, ২০১৫ সালে সহকর্মী সানজিদা লাবণীর মাধ্যমে নুরুননাহার সাথীর সঙ্গে পরিচয়। পরিচয়ের শুরুতেই সাথী জানিয়েছিল সে একজন ব্যবসায়ী। প্রতি মাসে একাধিকবার তাকে ভারতে যেতে হয়। ভারত থেকে থ্রিপিস এনে ঢাকার বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করে। এমনকি এলিফ্যান্ট রোডসহ বিভিন্ন স্থানে তার নিজেরও শোরুম রয়েছে। এতে অনেক লাভ। কিন্তু প্রয়োজন মতো টাকা বিনিয়োগ করতে পারছে না সাথী। প্রতিটি থ্রিপিসে কি পরিমাণ লাভ হয় তার হিসাব দিয়ে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। আগ্রহ জন্মে জাহিদুর রহমান ফারাজী ও তার সহকর্মী সানজিদা লাবণীর। একসময় কৌশলে টাকা চায় সাথী। সাথী জানায়, বছরে ২০ ভাগ করে লভ্যাংশ দেবে ফারাজীকে। কথা চূড়ান্ত। কথা অনুসারে ওই বছরের ২২শে ডিসেম্বর প্রথমে ৬ লাখ টাকা দেন ফারাজী। কিছুদিন পর লভ্যাংশ হিসেবে কিছু টাকা দেয়া হয় ফারাজী ও সানিজদাকে। ওই বছরের ২২শে ডিসেম্বর থেকে গত বছরের ৩রা মে পর্যন্ত  ফারাজী দেন ৬০ লাখ ১৬ হাজার এবং সানজিদা দেন ৮০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। দু’জনে মোট  ১ কোটি ৪০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দেন সাথীকে। তারপরই প্রকাশ পায় সাথীর আসল চেহারা। নানা টালবাহানা করতে থাকে। লভ্যাংশ দেয়া দূরে থাক, মূল টাকা চেয়েও ফেরত পান না ফারাজী ও সানজিদা।
ওই টাকা দেই দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে সাথী। বারবার তাগদা। বারবার তারিখ।
ফারাজী ও সানজিদা লাবণী জানান, গত বছরের ৩রা মে ২০ পার্সেন্ট লভ্যাংশসহ পাওনা ১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা গত বছরের ১০ই মের মধ্যে ফেরত দেবে স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা করে সে। পরে টাকা না দিয়ে  ভিন্নপথে হাঁটে সাথী। সাথী ও তার বোন শোভা নানাভাবে হুমকি দেয় তাদের। প্রভাবশালী নেতা, উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সব তাদের হাতের মুঠোয়। যা খুশি করতে পারবে তারা। প্রতিবাদ করারও সুযোগ পাবে না। উল্টো নিজের জানটা খোয়াতে হবে বলে হুমকি দেয় সাথী ও তার সঙ্গীরা। এভাবে ভয়ভীতি দেখালে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন ফারাজী। পরবর্তীতে গত বছরের ২৫শে জুলাই জাহিদুর রহমান ফারাজী বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন।
তাদের ফাঁদে পা দিয়েছেন আরও অনেকেই। তাদের মধ্যে একজন সাভারের আমিনবাজার সরকারি বালিরমাঠ এলাকার মাওলানা কামাল উদ্দিন। পেশায় ইমাম কামাল উদ্দিনের বাড়ি নাটোরে। গ্রামের বাড়ির জমি, পুকুর চালের ব্যবসা তার আয়ের প্রধান উৎস। কামাল উদ্দিনের প্রতি নজর পড়ে তাদের। পাড়ার এক বাসিন্দার আত্মীয় পরিচয়ে কামালকে দেখতে আসে সাথী। মামা সম্বোধন করে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা। এভাবেই শুরু। তারপর ব্যবসার কথা বলে প্রথমে দুই লাখ টাকা নেয়। লভ্যাংশ হিসেবে প্রতি মাসেই কয়েক হাজার টাকা তুলে দিতো কামালের হাতে। ইস্টার্ন মল্লিকার সাথীর লেডিস কানেকশনে ডেকে নিতো কামালকে। এ প্রতিষ্ঠানে কামালের বিনিয়োগ জানিয়ে তাকে সেভাবেই আপ্যায়ন করতে দেয়া হতো সেখানে। এভাবেই আস্থা বাড়ে। শুধু তা-ই না, কয়েক দফা পাঁচ লাখ টাকা করে ধার নিয়ে যথাসময়েই ফেরত দেয় সাথী। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৯ লাখ টাকা নেয়। সর্বশেষ নিজের সমস্যার কথা বলে ধার চায় ১৫ লাখ টাকা। ততদিনে সাথী অনেক বিশ্বস্ত, আপনজনের মতো। তাই ঘনিষ্ঠ দুজনের কাছ থেকে ঋণ করে সাথীর হাতে ১৫ লাখ টাকা তুলে দেন কামাল। এভাবে কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে মোট ২৪ লাখ টাকা নেয় সাথী। তারপরই প্রকাশ পায় তার আসল চেহারা। ফোন বন্ধ। বাসায় গেলে কামালকে গালিগালাজ করে বের করে দেয়া হয়। কামাল উদ্দিন বলেন, দেই, দিচ্ছি বলে টাকা ফেরত দেয়নি। উল্টো সন্ত্রাসী দিয়ে দু’বার মারধর করেছে। টাকা চাইলে হত্যার হুমকি দিয়েছে। কামাল বলেন, সাথী ও শোভা কখনো সাংবাদিক, কখনো আইনজীবী পরিচয় দিয়েও হুমকি-ধমকি দেয়। এমনকি একজন মন্ত্রীর নামও ব্যবহার করে হুমকি দেয়। এ বিষয়ে গত বছরের ১৭ই আগস্ট পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন কামাল। একই কৌশলে ২০১২ সালের ১৩ই জুলাই ঢাকার আশুলিয়ার দুর্গাপুরের ফরহাদ হোসেনের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নেয় সাথীচক্র। টাকা চাইতে গেলেই ঘটে বিপত্তি। গত বছরের ১১ই আগস্ট ফরহাদকে হত্যার হুমকি দেয় নুরুননাহার সাথী ও তার স্বামী আবু হানিফ এবং তাদের ঘনিষ্ঠজন জুয়েল চন্দ্র সাহা। এ বিষয়ে ৭ই নভেম্বর আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ফরহাদ। একই এলাকার আমিনবাজার চানপুরের মকিবুল হাসানের কাছ থেকে ৫৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নেয় এই চক্র। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ বিষয়ে ২৯শে সেপ্টেম্বর সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মকিবুল হাসান। এতে নুরুননাহার সাথী, তার স্বামী আবু হানিফ, বোন বীথি ও কামরুননাহার শোভার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে ব্যবসার কথা বলে গুলশান-২-এর বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমতিয়াজ করিমের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেয় সাথী। ওই টাকা ফেরত দিতে চাপ দিলে ইমতিয়াজ ও তার ঘনিষ্ঠদের আসামি করে অপহরণ মামলা করে সাথী। ইমতিয়াজ বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে মামলাটি ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে ২১১ ধারায় সাথীচক্রের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা হয়েছে। মিরপুর-১২ পল্লবীর ১৬ নম্বর সড়কের আট নম্বর আইডিএস স্কাইলার্কের চতুর্থতলার বাসিন্দা আবু হানিফের স্ত্রী নুরুননাহার সাথী। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের জয়দেবপুরের পূর্ব বাগবাড়ি।
সাথীচক্রের বিরুদ্ধে একটি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। এ বিষয়ে সিআইডি’র তদন্ত কর্মকর্তা নিউটন কুমার দত্ত বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনেক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যবসার কথা বলে তারা কৌশলে টাকা ধার নেয়। পরে আর ফেরত দেয় না। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের বারবার ডাকলেও তারা সাড়া দিচ্ছে না বলে জানান তিনি।