Saturday, December 20, 2014

দেশ অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে

(‘বাংলাদেশের শাসন পরিস্থিতি ২০১৩: গণতন্ত্র দল রাজনীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। শনিবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইজিডি) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ছবি: প্রথম আ​লো) বাংলাদেশ একটি অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে হলে এখনই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপ শুরু করতে হবে বলে মনে করেন রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সমান তালে রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও উন্নতি ঘটাতে হবে। আজ শনিবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিআইজিডি) পরিচালিত ‘বাংলাদেশের শাসন পরিস্থিতি ২০১৩: গণতন্ত্র দল রাজনীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইজিডির গবেষণাপ্রধান মিনহাজ মাহমুদ। তিনি বলেন, প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের বিদ্যমান রীতি-পদ্ধতি ও চর্চা এ দেশে আধুনিক ও সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তীব্র বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের আচরণের কারণে অর্জিত সাফল্য বিপরীতমুখী ধারায় পরিচালিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত ও একে আরও বিকশিত করতে সামাজিক সমঝোতা অথবা জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে রাজনৈতিক অনুন্নয়নের কারণ, প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের মাত্রা, রাজনৈতিক সহিংসতা, অর্থ জোগানদাতা বেসরকারি খাতের সঙ্গে দলগুলোর ক্রমবর্ধমান যোগসূত্র, নারীদের অপ্রতুল ও বাঁধাধরা ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে চার গুণ
প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মিনহাজ বলেন, রাজনৈতিক বিকাশের তিনটি মৌলিক অংশ রাষ্ট্র গঠন, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জন্মলগ্ন থেকেই প্রধান দুই দলের প্রবল প্রভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে বহুত্ববাদের ধীরগতি। তিনি রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর দলগুলোর প্রভাবকে দলতন্ত্র বলে আখ্যা দেন।
মিনহাজ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের দ্বৈত আচরণ দ্বারা দলতন্ত্র রাজনেতিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে। এ থেকে উত্তরণে সুপারিশ হলো, নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষমতায়ন করা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা মূলত দলপ্রণোদিত সহিংসতা। বিগত বছরের তুলনায় ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে প্রায় চার গুণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংবিধানপ্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, প্রতিবেদনটি সময়োপযোগী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তাঁরা প্রতিবেদনটির তথ্য অস্বীকার করেননি। এটি একটি ভালো দিক।’ তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য প্রধান দুই জোটকে সংলাপে বসার আহ্বান জানান। এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকেও রাখার কথা বলেন। তিনি বলেন, সংলাপ কেবল একটি ইস্যুতে নয়, জাতীয় স্বার্থের সব ইস্যুতেই হতে হবে। সংলাপ বা রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা কী? একজন দর্শকের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মেনে আসতে পারলে তারা আসবে।
দলের ভালো ও যোগ্যদের প্রতিষ্ঠানে বসানো যেতে পারে: কামাল
ড. কামাল বলেন, দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে একটি উপায় খুঁজ বের করতে হবে। শুধু নির্বাচন হলেই হয় না। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর যে প্রত্যাশা ক্ষমতাসীনদের কাছে ছিল, জনগণ তা পায়নি। কিছু অসন্তুষ্টি রয়ে গেছে। বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, দলের ভালো ও যোগ্যদের ভালো জায়গায় ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বসানো যেতে পারে। এটা কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু অযোগ্য ও মেধাহীনদের বসানো হলে সেটা সমস্যা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাম্প্রতিক অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করে এ থেকে উত্তরণের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ক্ষমতাসীনেরা জাতিকে রক্ষা করেছেন: সুরঞ্জিত
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে আরেকটি এক–এগারো তৈরি হতে পারত। সেটা থেকে ক্ষমতাসীনেরা জাতিকে রক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, সংলাপের পরিবেশ তো তৈরি হতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষের সঙ্গে পরাধীনতার সংলাপ হতে পারে না। যেমনটা আগুন-পানি আর তেল-জলে মেলে না। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এবার নির্বাচনে যাননি। তাই সংসদে যেতে পারেননি। তাতে কী হয়েছে? আগামীতে যাবেন। এ জন্য অবশ্য নতুন করে তাদের রাজনীতি নিয়ে ভাবতে হবে।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অপর সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘বিএনপির বাইরের একটি দেশের ওহির ওপর নির্ভর করে নির্বাচনে যায়নি। এর দায় আওয়ামী লীগের নয়। নির্বাচনে না আসলে আওয়ামী লীগের কী করার আছে। সংলাপ চাইলে বিএনপিকে পূর্বশর্ত ছাড়া আসতে হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের অর্থনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত যেভাবে এগোচ্ছে, রাজনীতিও সেভাবে এগোবে। দলে পরিবারতন্ত্র এটা সময়ের চাহিদার সঙ্গে পরিবর্তন হবে। চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা ভালো হবে না।
এখন জরুরি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন: আমীর খসরু
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দলের মধ্যে গণতন্ত্র অবশ্যই জরুরি। তবে এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন। কেননা এখন দেশে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার নেই। তিনি বলেন, এতে চরমপন্থী ও মৌলবাদ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়ছে। পুলিশ আর প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে সরকার চলছে। প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বিএনপি কার সঙ্গে জোট করবে, সেটা তাদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। এখানে অন্য দলের বলার কিছু নেই।’
রাজনীতিবিদদের ভাষা সুন্দর করতে হবে: অধ্যাপক ইমতিয়াজ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নির্বাচনে ত্রুটিগুলো দূর করতে হবে। রাজনীতিবিদদের ভাষা সুন্দর করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সুশাসনের অভাবকে লাভজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। সুশাসন থাকলে এই লাভ পাওয়া যায় না, ফলে এ দেশের শাসকেরা সুশাসনের থেকে দূরে থাকেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গা যেমন খুলনা ও সাতক্ষীরায় চরমপন্থীরা সক্রিয়। যদিও এটা সারা দেশে নয়, তার পরও এটি বড় সমস্যা।
মধ্যবিত্তরা দ্বৈত চরিত্রের কারণে ভূমিকা রাখতে পারছে না: বিনায়ক
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন বলেন, গণতন্ত্র কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই সমস্যা বিদ্যমান। বাংলাদেশে রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক শাসন একভাবে চলছে। কিন্তু এখানে অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নও অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, এদেশে একটি মধ্যবিত্ত সমাজ আছে। এর সংখ্যাও বাড়ছে। তবে তাদের দ্বৈত চরিত্রের কারণে আগের মতো সমাজের এই অংশটি ভূমিকা রাখতে পারছে না। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উল্টোপথে যাত্রা করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমান।

যৌনকর্মীরা সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে চান

সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যৌনকর্মীরা। আজ শনিবার মহানগর নাট্যমঞ্চে যৌনকর্মীদের জাতীয় সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা বলেন, সমাজে চাহিদা আছে বলেই পেশাটির অস্তিত্ব আছে। তাই সমাজ থেকে যৌনকর্মীদের বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। দুর্জয় নারী সংঘের সাবেক সভানেত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, ‘সমাজে চাহিদা আছে বলেই আমরা আছি। তাহলে আমরা আলাদা থাকব কেন? আমরা আলাদা কবরস্থান চাই না। বাচ্চাদের জন্য আলাদা স্কুল চাই না। আমরা সবার সঙ্গে থাকব।’
দুর্জয় নারী সংঘ ও বাংলাদেশ উইমেনস হেলথ কোয়ালিশন যৌথভাবে ‘যৌনকর্মীদের আত্মমর্যাদা, সামাজিক স্বীকৃতি ও বাঁচার অধিকার’ শীর্ষক এই জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে যৌনকর্মীরা বলেন, ‘বাংলাদেশে যত যৌনকর্মী আছেন, তাঁদের কেউ স্বেচ্ছায় এ পেশায় আসেননি। সমাজের প্রভাবশালী অংশের অনেকেই তাঁদের কাছে যান। এঁরা রাতের বেলা যৌনকর্মীদের কাছে গেলেও দিনের বেলা তাঁদের এড়িয়ে চলেন এবং বেশ্যা, পতিতা, খারাপ মেয়েছেলে, মাগী বলে গাল দেন। এরা কখনো যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেন না।’
সম্মেলনে বলা হয় বাংলাদেশে এখন ৭৪ হাজার ৩০০ নারী যৌনপেশায় রয়েছেন। এঁদের ৫৪ শতাংশ যৌনপল্লিতে, ৪১ শতাংশ ভাসমান এবং ৫ শতাংশ হোটেলে কাজ করেন। জাতীয় সম্মেলনে সারা দেশ থেকে ৭০০-র মতো যৌনকর্মী আসেন। এঁদের অনেকের সঙ্গেই ছিল তাঁদের সন্তানেরা। যৌনকর্মী মায়েরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। মুক্তি মহিলা সমিতির সভাপতি দৌলতদিয়া যৌনপল্লির মর্জিনা বেগম বলেন, দৌলতদিয়ায় ৮৮৬টি শিশু আছে। ২০০৪ সাল থেকে চলে আসা কর্মসূচির কারণে মাত্র ৩৮৩ শিশুকে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকিরা বাইরে থেকে গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘শিশু শিশুই। আপনার বাচ্চা হোক বা আমার বাচ্চাই হোক। তাহলে বৈষম্য কেন? যৌনপল্লির ছোট্ট একটা কামরায় মা কাস্টমার ঢোকাবে, না বাচ্চাটা পড়বে?’
‘খুশি হব, শান্তি পাব, প্লিজ আমার কথা একটু শোনেন’
সম্মেলনে দুজন যৌনকর্মী এ পেশায় তাঁদের যুক্ত হওয়ার ইতিহাস বলেন। এঁদের একজন বলেন, ‘আমি খুব খুশি হব, শান্তি পাব। প্লিজ আমার কথা একটু শোনেন।’ ওই কর্মী বলেন, পেটের দায়ে ঢাকায় এসে ঠিকে ঝির কাজ নিয়েছিলেন। একটি বাসায় গৃহকর্তা ও অন্যটিতে মালিকের দুই ছেলে তাঁকে যৌন নির্যাতন করে। গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পর এক নারী ঢাকায় এক বাসায় ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেচে দেয়।
অপর এক যৌনকর্মী বলেন, তিনি স্রেফ একটা গেঞ্জি আর হাফপ্যান্ট পরে ঢাকায় এসেছিলেন। এলাকার এক মহিলা তাঁকে মিরপুর মাজারে বকুলগাছের তলায় ফেলে চলে যান। কান্দুপট্টিতে সর্দারনীর ‘কাস্টমার’ ধরতে পারলে ভাত জুটত, নইলে মারধর। একপর্যায়ে তাঁকে সর্দারনী ‘কাস্টমার’ নিতে বাধ্য করে। বহুবার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তখন অন্য যৌনকর্মীরা তাঁকে বোঝান, সমাজ আর তাঁকে গ্রহণ করবে না। একজনকে ভালোবেসেছিলেন, সন্তানও হয়েছে। কিন্তু সেই সন্তান স্বীকৃতি পায়নি।
নতুন আইন দরকার
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন কমিশনের সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, যৌনকর্মীদের সুরক্ষায় নতুন আইন করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিলোপ আইনের খসড়া হয়েছে। ওই আইনের একটি ধারায় বলা হয়েছে, বাবা-মায়ের পেশার কারণে কোনো শিশু শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হবে না। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়া যৌনকর্মীদের উচ্ছেদ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের ন্যাশনাল এইডস ওএসটিডি গ্রোগাম, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউএনএইডসের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

সাতকানিয়ায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পাটানীপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ঠাকুরদীঘি এলাকার অমূল্য দাশ (৫০), একই ইউনিয়নের আলী সিকদারপাড়ার মো. শাহরিয়ার (১৫), কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাহ এলাকার জসিম উদ্দিন (৩৫), বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের সোনারখীল এলাকার শামশুল আলম (৬০), সাতকানিয়া উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের জানারপাড়া এলাকার মো. শোয়াইব (২২) ও মো. আবু ছৈয়দ (৩৫)। তাঁদের মধ্যে আবু ছৈয়দ অটোরিকশার চালক, অন্যরা যাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তি ও পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পাটানীপুল এলাকায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী এস আলম পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃত্যু হয়।
দোহাজারী মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম কাওছার চৌধুরী দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অটোরিকশা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

চট্টগ্রামে শতকোটি টাকার জায়গা বেদখল

চট্টগ্রামে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকায় সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের (সাবীক) ১২০ কোটি টাকা মূল্যের ৪৫ কাঠা জায়গার ওপর তৈরি ৫ তলাবিশিষ্ট বিশাল আকৃতির চারটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। ওই চার ভবনে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৭০ পরিবারের আবাসন ব্যবস্থা থাকলেও এখন বসবাস করেন মাত্র ২৮ পরিবার। অন্যসব বাসা বহিরাগতদের দখলে। যারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে তাদেরকেও বাসা ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সাল থেকে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বাসা বরাদ্দ বন্ধ রেখেছে। এদিকে চট্টগ্রামের সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সব জায়গা এখন বেদখলে। এমনকি এসব জায়গার পরিমাণ কত তাও জানে না কর্তৃপক্ষ। বীমা কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, কলোনিটির জন্য ২০১২ সালে ২৫ হাজার, ২০১৩ সালে ১০ হাজার ও ২০১৪ সালে ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় কর্পোরেশন। এ টাকা দিয়ে কলোনি সংস্কার দূরের কথা একটি গ্রিলও সংস্কার করা হয়নি। ফলে কলোনিটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর কলোনিটির অগ্নিবীমার বিপরীতে ১১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৭ টাকা দাবি অনুমোদিত হয়। ২০০৮ সালের ৩০ জুলাই এই টাকা সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের হিসাবে জমা হয়। কিন্তু সাবীক ভবনগুলো সংস্কারের জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে কলোনিটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
কলোনিতে বসবাসকারী বাসিন্দারা জানান, বাসা বরাদ্দ বন্ধ রাখার একমাত্র কারণ হচ্ছে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বীমা কর্পোরেশনের জায়গাটি পানির দামে বিক্রি করে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। আর না হয় বাসা বরাদ্দ বন্ধ রাখবে কেন? এর ফলে কলোনিতে বসবাসরত কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতংকে দিন কাটাচ্ছে।
সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের কলোনিতে গিয়ে দেখা যায়, কলোনিতে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। বাউন্ডারি দেয়ালগুলোর অবস্থা আরও করুণ। যে কোনো সময় ভেঙে পড়বে এমন। কলোনিটির ভেতরে উত্তরপাশের এলাকা এখন সন্ত্রাসী মাস্তানদের আড্ডাস্থল। এখানে প্রতিদিন বসে গাঁজা, মদ ও হেরোইনসেবীদের আড্ডা। ভবনগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারে ছোঁয়া লাগেনি। এক ভবন থেকে অপর ভবনে যাওয়ার পথগুলোও আগাছায় ভরে গেছে। কলোনির মধ্যে থাকা মসজিদটিও সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে প্রধান ফটকটি। জেনারেটর ভবন ও পানির পাম্পের রুমগুলোর অবস্থা আরও করুণ।
তবে নগরীর সিডিএ আবাসিক এলাকার ১৬নং রোডে অবস্থিত সাধারণ বীমা স্টাফ কলোনির একাধিক বাসিন্দা জানান, এ কলোনিটি বিক্রি করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন কর্পোরেশনের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। এর আগেও বীমা কর্পোরেশনের জায়গা অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল।
পানির দরে জায়গা বিক্রি : কলোনির একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর আগে খুলশীর ২৮ কাঠা জায়গা অর্ধেক মূল্যে বিক্রি করে দিয়েছে বীমা কর্পোরেশন। খুলশীর ওই জায়গাটি প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করেছে মাত্র ৮ কোটি টাকা দামে। জায়গাটি কিনেছেন ঢাকার এবিসি নামে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। সাধারণ কর্পোরেশনের টাকার কোনো অভাব নেই অথচ মূল্যবান জায়গাটি পানির দরে বিক্রি করে দেয়ার পেছনে কিছু কর্মকর্তার হাত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক মহিলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা পাশের বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা করে। বাসা ছেড়ে দিয়ে আমরা কোথায় যাব। যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। আবার বাসা ভাড়া কোথা থেকে দেব। তবে তারা ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
শত কোটি টাকার জায়গা বেদখল : চট্টগ্রামে বীমা কর্পোরেশনের পৃথক তিনটি কয়েকশ’ কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল হয়ে গেছে। বেদখল হওয়া জায়গাগুলো হচ্ছে নগরীর লালখান বাজার এলাকার আলপাইন হিল, পটিয়া টি এস্টেট এবং রাঙ্গামাটিতে একটি জায়গা বেদখল হয়ে আছে। আলপাইন হিল নামের জায়গাটির পরিমাণ প্রায় ১ একর। যার বর্তমান বাজার মূল্য কয়েকশ’ কোটি টাকা। তবে আলপাইন হিল জায়গার জন্য সাধারণ বীমা কর্পোরেশন বাদী হয়ে ২০০৭ সালে কেরামত আলী গংয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম ২য় সাব জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১৬৯/২০০৭। মামলাটি বর্তমানে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে বলে বীমা কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান।
তবে অন্য দুটি জায়গা উদ্ধারের ব্যাপারে কর্পোরেশন একেবারে নীরব। পটিয়া উপজেলার ২৬ একর টি এস্টেট জায়গাটির অবস্থানও বীমা কর্পোরেশন শনাক্ত করতে পারেনি। এমনকি জায়গাটি কারা অবৈধভাবে দখল করে আছে এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। অথচ চল্লিশ বছর ধরে সাধারণ বীমা কর্পোরেশন প্রতিবছর ট্যাক্স ও খাজনা দিয়ে আসছে।
মদ ও জুয়ার আসর : সন্ধ্যা হলেই কর্পোরেশনের কলোনিটিতে বসে মদ ও গাঁজার আসর। সরেজমিনে দেখা যায়, কলোনির উত্তর পাশের ভবনের সঙ্গে লাগোয়া একটি চৌকি ও ছাউনি দিয়ে গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ও মদের আসর বানানো হয়েছে। সারারাত ধরে চলে মাদক সেবনের কর্মযজ্ঞ। একটি সূত্র জানায়, প্রতিদিন এ আসর থেকে বিক্রি হয় কয়েক লাখ টাকার ইয়াবা। স্থানীয় অনেকে কলোনিটিতে ইয়াবা কলোনি বলে ডাকেন। স্থানীয় সাকিল, রফিক, জনি ও বিপ্লব এদের বিরুদ্ধে অবৈধ মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এরা সবাই এলাকার পাতি সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় লোকজন তাদের মুখ খুলতে সাহস পান না। ফলে তারা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অপকর্ম।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জোনের ইনচার্জ ও ডিজিএম খসরু দস্তগীর আলম যুগান্তরকে জানান, বিভিন্ন সময় ভূমিকম্প ও মেরামতের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যয় নেমে এলে কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার কে নেবে? এর ফলে বিগত কয়েক বছর ধরে বাসা বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে কলোনিতে যারা থাকছেন তারা সবাই নিজ নিজ দায়িত্বে থাকছেন। কোনো অঘটন ঘটলে সাধারণ বীমা কর্তৃপক্ষ তার দায়ভার নেবে না।
তিনি জানান, ২০১১ সালের ৪ অক্টোবর বুয়েটের ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একদল বিশেষজ্ঞ কলোনির দালানগুলো পরিদর্শন করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদল ভবন পরীক্ষার জন্য ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন। এতটাকা দাবি করায় সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পক্ষে ভবনগুলো পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এরপর ২০১৩ সালের ২ মে প্রধান কার্যালয়ের এক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আবাসিক কলোনির বরাদ্দ বাতিল করা হয়।
কর্পোরেশনের বিভিন্ন জায়গা বেদখল থাকা প্রসঙ্গে খসরু দস্তগীর আলম বলেন, লালখানবাজারের আলপাইন হিল জায়গাটি নিয়ে মামলা চলছে। বিবাদীদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তারা আদালতে আসছে না। ফলে মামলাটি দীর্ঘায়িত হচ্ছে। পটিয়া টি এস্টেটে আমরা দখলে যেতে পারছি না। আমি পটিয়া ভূমি অফিসকেও কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি। ফলে অনেক বছর ধরে জায়গাটির দখলে যেতে পারছি না। খুলশীর জায়গাটি কম মূল্যে বিক্রি সম্পর্কে তিনি বলেন, জায়গাটি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বিক্রি হয়েছে। এতে কর্পোরেশন লাভবান হয়েছে। জায়গাটি বিক্রি না করলে হয়তো এটিও বেদখল হয়ে যেত।

বগুড়ায় কিশোরীর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে প্রাণ হারাল কিশোর

বগুড়ার পল্লীতে ফুটবল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এক কিশোরীর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার অপরাধে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার নন্দীপাড়া গ্রামে জনরোষে পড়ে অকালে প্রাণ হারাল হতভাগ্য কিশোর রায়হান আলী (১৮)। রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে মৃত্যুর খবরটি প্রচার হলে নিহত রায়হানের সমর্থকরা দক্ষিণ নন্দীপাড়া গ্রামে ৭-৮টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এতে তিন নারী আহত হয়েছেন। তাদের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা সদর থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। হত্যায় জড়িত চয়ন নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানান, শুক্রবার বিকালে বগুড়া সদরের লাহিড়িপাড়া ইউনিয়নের নন্দীপাড়া স্কুল মাঠে ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণকালে ওই গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে রায়হান আলী দক্ষিণ নন্দীপাড়া গ্রামের এক কিশোরীর সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে। এর প্রতিবাদ করা নিয়ে দুই গ্রামের জনগণের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত রায়হান আলীকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শনিবার সকালে রায়হানের মৃত্যুর খবর প্রচার হলে তার স্বজন ও গ্রামবাসী দক্ষিণ নন্দীপাড়া গ্রামের রাজ্জাক, রফিকুল, সাইফুল, আনিসার, কোব্বাদ ও সোহেলসহ কয়েকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। মারধরে রওশন, চায়না ও জ্যোৎস্না নামে তিন নারী আহত হন। তাদের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোহেলের বাড়িতে হামলার সময় সাতটি গরু, চারটি ছাগল ও দুটি বাইসাইকেল লুটের অভিযোগ উঠেছে। সদর থানার ওসি (তদন্ত) নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, নিহতের বাবা সোলায়মান আলী একটি হত্যা মামলা করেছেন। হত্যায় জড়িত দক্ষিণ নন্দীপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে চয়নকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার সন্ধ্যায় এ খবর পাঠানোর সময় দুগ্রামের জনগণের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গ্রেফতার এড়াতে অনেক পুরুষ বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। রায়হানের লাশ মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে একই অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র

বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা তার শেষ সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বাংলাদেশে ক্ষমতায় নেয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এটা সম্পূর্ণই বাংলাদেশের জনগণের কাজ। তবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ব্যাপারে তার দেশ নির্বাচনের পরের দিন যে অবস্থান ব্যক্ত করেছিল, এখনও ওই অবস্থান অপরিবর্তিত আছে। তিনি শনিবার ঢাকায় আমেরিকান ক্লাবে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের শেষ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিমত ব্যক্ত করেন। মজিনা ২০১১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেন। তারপর থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচিত এই কূটনীতিককে বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের তরফে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরের ভূমিকার জন্য সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করা হয়। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই নির্বাচন যাতে না হয় তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মার্কিন এই কূটনীতিককে কটাক্ষ করে ‘কাজের মেয়ে মর্জিনা’ হিসেবে মন্তব্য করেন। ড্যান মজিনা অবশ্য সরকারের উচ্চ মহলের এমন সব মন্তব্যের প্রশ্নে ‘টুঁ’ শব্দটি পর্যন্ত করেননি। বরং এ সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্ন কাটিয়ে মজিনা বলেন, ‘গুগলে সার্চ দিয়ে দেখুন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরের দিন যুক্তরাষ্ট্র কী অবস্থান ব্যক্ত করেছিল। এখনও একই অবস্থান বহাল আছে।’ উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্র হতাশা ব্যক্ত করেছে। মজিনা অবশ্য বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন। ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আপনার সাক্ষাৎ হচ্ছে’ এই প্রশ্নের জবাবে মজিনা বলেন, ‘আমি জানি না।’
বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে মজিনা ছিলেন অনেকটা আবেগাপ্লুত। ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কে এই মুহূর্তে বেশ টানাপোড়েন চলছে বলে কোনো কোনো মহলের মন্তব্য পুরোপুরি নাকচ করেন তিনি। মজিনা বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক এই মুহূর্তে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে গভীর, বিস্তৃত ও জোরালো। কেননা দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, লক্ষ্য হল প্রাইস তার মানে হল অংশীদারিত্ব। আমার দৃষ্টিও সেই দিকেই।’
বাংলাদেশের ব্যাপারে বরাবরের মতোই উচ্চাশা ব্যক্ত করে মজিনা বলেন, ‘আমি যে বাংলাদেশকে চিনি তা মোটেও গরিব নয়, সমৃদ্ধ এক দেশ। এই দেশে আছে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদ। এই দেশ আগামীতে এশিয়ার টাইগার হবে। এই টাইগারের চার পা হল পোশাক তথা বস্ত্রশিল্প, চামড়া শিল্প, ওষুধ শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাত।’
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে আজ রোববার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের পর তিনি মূলত দীর্ঘ কূটনীতিক ক্যারিয়ার থেকে অবসরে যাচ্ছেন। তবে অবসরের পর তিনি কিছু একটা করবেন। তবে সেটা যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয় তবে খুশি হবেন বেশি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার দায়িত্ব পালনকালে সবচেয়ে বড় অর্জন হল যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিকতা দিতে সমর্থ হওয়া। সবচেয়ে বড় হতাশার ব্যাপার হল মার্কিন পিসকোরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে না পারা।’ উল্লেখ্য, মজিনা পিসকোরের একজন সাবেক স্বেচ্ছাসেবক। বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্ল–ম বার্নিকাট দায়িত্ব গ্রহণ করতে জানুয়ারির শেষদিকে ঢাকা আসছেন।
ড্যান মজিনা বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতি বছর চারবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। প্রতিবারেই তিন সপ্তাহ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়েছেন। এই সময়টায় তার দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো ওকালতি করেছেন। বাংলাদেশ মানে যে শুধু রাজনৈতিক অস্থিরতা আর রানা প্লাজার দেশ নয়, সেটা জানানো তার দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেছেন।
শেষবেলায় মজিনা বাংলাদেশের শুধু প্রশংসাই করেছেন তা নয়। বরং বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, সুশাসনের অভাব এসব সীমাবদ্ধতা এদেশের রয়েছে।
বাংলাদেশের ৬৪ জেলা সফর করা মজিনার দায়িত্ব পালনকালের উল্লেখযোগ্য দিক। তিনি বলেছেন, ‘৬৪ জেলা সফর করে আমি খুবই উপভোগ করেছি। বিশেষ করে মানুষে উষ্ণতা অতুলনীয়। এ সময়ে সরকার আমাকে পুলিশি নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে। আমি সার্কিট হাউসে থেকেছি যদিও নিজ খরচে তবুও সরকারের সহযোগিতা ছিল।’ মজিনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী কোনো বিষয়েই একমত হই না। কিন্তু একটা বিষয়ে একমত হয়েছি যে, বাংলাদেশে সবচেয়ে সুন্দর পথ হল রাজশাহী থেকে দিনাজপুর যাওয়ার পথ, যার একদিকে হলুদ শর্ষেক্ষেত আর অন্য পাশে সবুজের বিশাল সমারোহ।’
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে জাদু আছে উল্লেখ করে মজিনা বলেন, এই ম্যাজিক দেখিয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য এনেছে। ১৯৭১ সালে প্রতি নারী যেখানে গড়ে ছয় দশমিক তিনটি সন্তান জন্ম দিতেন; আগামী বছর প্রতি নারী গড়ে দুই দশমিক একটি সন্তান জন্ম দেবে।’ কোনো দেশে স্বেচ্ছায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সত্যিই অভাবনীয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতির বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলা বিরাট সাফল্য। এখন বছরে ৫০ হাজার টন খাদ্য শ্রীলঙ্কায় রফতানি করবে বাংলাদেশ। এটা হল কৃষির এক বিপ্লব।’ শেষ সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে মজিনা গ্রামে কৃষকের সঙ্গে কথা বলছেন এমন একটি ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়।
তার আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ৩৭৮ ফুট দীর্ঘ জাহাজ দিয়েছে নৌবাহিনীকে যার নাম ‘সমুদ্র জয়’। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও একটি বৃহৎ জাহাজ আসবে শিগগিরই। ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় দুই জাহাজই হবে যুক্তরাষ্ট্রের। তার ভাষায়, এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জলসীমায় ডাকাতি কমিয়েছে ৭০ শতাংশ।
মজিনা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের বস্ত্র খাত কর্মপরিবেশ ও শ্রমমানের উন্নয়নে বর্তমানে যে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে এই দেশ সফল হবে। বাংলাদেশের পোশাক হবে বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ড। তার মতে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পোশাক খাতের পরিবর্তন সফলভাবে সম্পন্ন করা। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনকালে হিলারি ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফর ও অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করা এবং এই চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে অংশীদারি সংলাপ ও নিরাপত্তা সংলাপ হওয়া অর্জন হিসেবে দেখেন। পাশাপাশি, টিকফা চুক্তি সই করাকেও এক অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

রাজপথ দখলে নামবে বিএনপি

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করবে বিএনপি। সরকার এতে অনুমোদন না দিলে টানা তিন দিনের হরতাল দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলের নেতারা। বিএনপি নতুন বছরের শুরু থেকেই রাজপথ দখলে রাখার জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি দেয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা সেরে নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মার্চ ফর ডেমোক্রেসি স্টাইলে কর্মসূচির বিষয় নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। সিদ্ধান্ত হলে ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের সমাবেশ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে। একই দিনে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কালো পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপনের জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজকালের মধ্যে সিনিয়র কয়েকজন নেতার সঙ্গে বসবেন। সেখানেই এ কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। ৫ জানুয়ারিকে ‘কালো দিবস’ আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। এদিন অনুষ্ঠেয় সমাবেশে কালো পতাকা হাতে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চায় দলটির নেতারা। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।
জানা গেছে, ৫ জানুয়ারির আগেই রাজপথে নামা যায় কিনা সে বিষয়ে আলোচনা চলছে বিএনপিতে। ২৯ বা ৩০ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র রক্ষার শোভাযাত্রা’ বা ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেচি’র মতো কর্মসূচির চিন্তাভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ধরনের কর্মসূচি দেয়া যায় কিনা তা নিয়ে কয়েকজন সিনিয়র নেতা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। খালেদা জিয়া সম্মতি দিলে ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের জনসভা থেকে এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে এদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। ওইদিনটি দেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সে গণতন্ত্রকে অকার্যকর করা হয়েছে। জনগণের রায়ে নয়, তাদের মতামতকে অগ্রাহ্য করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা দখল করে বসে আছে।
তিনি বলেন, এ দিনে অবশ্যই দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি দেয়া হবে। সে কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন থাকবে বলে আশা করি।
সূত্র জানায়, ৫ জানুয়ারির কর্মসূচির ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বরকতউল্লা বুলু, যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু ও সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উপস্থিত নেতাদের মতের ভিত্তিতে ৫ জানুয়ারি ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ সমাবেশ করার স্থান ঠিক করা হয়। সমাবেশের অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করা হবে। সরকার ওইদিনের সমাবেশের অনুমতি না দিলে পরের দিন ৬ জানুয়ারি থেকে টানা হরতাল দেয়ার পক্ষে সবাই মত দেন। সেক্ষেত্রে টানা তিন দিনের হরতাল দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে নেয়া এসব কর্মসূচি নিয়ে আজ-কালের মধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েক নেতা। সেখানেই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
সূত্র জানায়, সরকার শেষ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারির সমাবেশ করতে অনুমতি দিলে সেখানে ব্যাপক শোডাউন করা হবে। ওই সমাবেশ থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দ্রুত নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে সরকারকে শেষ আলটিমেটাম দিতে পারেন খালেদা জিয়া। আলটিমেটামের মধ্যে দাবি মেনে না নিলে পরবর্তীকালে টানা কর্মসূচি দেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে তাদের।
এদিকে ৫ জানুয়ারি সরকারের প্রতি অনাস্থা জানানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এমন নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। ওইদিনের কর্মসূচি সফল করতে গত সপ্তাহে মহানগর যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন খালেদা জিয়া। তাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যে কোনো সময় আন্দোলনের ডাক আসতে পারে। তাই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এর আগে দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষনেতা, দল সমর্থিত চিকিৎসক সংগঠন, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন খালেদা জিয়া। সবশেষ ১৮ ডিসেম্বর নব্বইয়ের ছাত্রনেতাদের সক্রিয় করার লক্ষ্যে ছাত্র কনভেনশনে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। আগামীকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
এদিকে খালেদা জিয়ার নির্দেশের পর মহানগর বিএনপির পাশাপাশি অন্য অঙ্গসংগঠনগুলো ৫ জানুয়ারি নিয়ে পৃথক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে প্রস্তুতি নেয়ার ক্ষেত্রে তারা কিছুটা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। প্রকাশ্যে কর্মসূচির ব্যাপারে গণমাধ্যম বা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কিছুই জানানো হচ্ছে না। আগেই কর্মসূচি সম্পর্কে সরকার অবহিত হয়ে গেলে তাতে বাধাসহ নেতাকর্মীদের গণহারে গেফতার করতে পারে। তাই অনেকটা গোপনে নেয়া হচ্ছে প্রস্তুতি।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল যুগান্তরকে বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি অবৈধ স্বৈরাচার সরকারের উত্থান হয়েছে। ওইদিন দলের চেয়ারপারসনের ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ ভোটকেন্দ্র যায়নি। ওই নির্বাচন ছিল ইতিহাসের এক কলংকজনক নির্বাচন। ৫ জানুয়ারি ২০ দলের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচি দেয়া হবে তাতে সাধারণ মানুষ শুধু সমর্থন দেবে না তারা রাজপথে নেমে এ সরকারের প্রতি অনাস্থা জানাবে বলে আশা করেন তিনি।
মহানগরের এ নেতা বলেন, ২০ দলীয় জোট নেত্রী যে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তা পালনে মহানগরসহ দলের সব অঙ্গসংগঠন প্রস্তুত রয়েছে। এবার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এ সরকারের পতন নিশ্চিত করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে।

২০২১ সালের মধ্যেই ভারতকে মুসলিম খ্রিস্টান মুক্ত করা হবে

২০২১ সালের মধ্যে ভারতকে মুসলিম এবং খ্রিস্টানমুক্ত করা হবে। মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ভারতে থাকার অধিকার নেই। ইসলাম বিদেশী ধর্ম। যদি ওরা মুসলমান হয়ে ভারতে থাকতে চায়, ওদের থাকতে দেয়া হবে না। তা সে বাংলাদেশী হোক বা অন্য কেউ হোক। এই দেশ মুসলমানদের সম্পত্তি নয়। ধর্মান্তকরণ বিবাদ নিয়ে যখন খোদ ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তখন ফের আপত্তিকর এ বিবৃতি দিলেন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের শাখা ধর্ম জাগরণ মঞ্চর সভাপতি রাজেশ্বর সিং।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রাজেশ্বর সিং বলেন, ইন্ডিয়া ইন্ডিপেনডেন্টস অ্যাক্ট পড়–ন, তাতে লেখা আছে, ভারত হিন্দুদের এবং পাকিস্তান মুসলিমদের। তারা আরও বলেন, ভারত মুসলমানদের জন্য নয়, পাকিস্তান আছে, বাংলাদেশ আছে, আপনারা সেখানে গিয়ে থাকুন। খ্রিস্টানদের নিয়ে তার মতামত হল, এখানে তাদের শাসন নেই। যখন তাদের শাসন ছিল, তখন তারা থাকতে পারতেন। যদি ভারতীয় খ্রিস্টান হয়, তাহলে তাদের হিন্দু হয়ে থাকতে হবে। বিদেশী হলে, তাদের ফিরে যেতে হবে। এটা আমাদের সত্য অনমনীয় নীতি। ডেইলি মেইল।

যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা নতুন সম্পর্কের দশ জিজ্ঞাসা

১. কেন ওবামা এটা করছেন?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, কিউবাকে বিচ্ছিন্ন রাখার নীতি সেকেলে ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ অর্জন বা দেশটির অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ঘটেনি। ওবামা প্রশাসন মনে করে বিচ্ছিন্ন নয়, সম্পর্কযুক্ত থাকলেই মার্কিন লক্ষ্য পূরণে তা অধিক ফলপ্রসূ হবে। তাছাড়া ল্যাটিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বজায় রাখতে কিউবাকে বাইরে রাখা যাবে না। এটা যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্র-বিশ্ব সম্পর্ক।
২. অবরোধ কি শেষ?
না, কিউবার ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ সম্পূর্ণ উঠবে না। ওবামা তার নিজের আমলে অন্তত তা পারছেন না। কারণ এর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। ওবামা চাইলেও কংগ্রেস শিগগিরই তা করছে না।
৩. কূটনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে?
হাভানায় মার্কিন দূতাবাস খোলার অর্থ ১৯৬১ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার চালু হওয়া। এতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন উপায়ে কিউবা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করত। এখন অফিসিয়ালি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে করা হবে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর পুনরায় শুরু হবে।
৪. কিউবার নান্দনিক সৈকতগুলোতে আমেরিকানরা ঘুরতে পারবে?
আপাতত তা পারছেন না। আমেরিকানদের কিউবা ভ্রমণ নিষিদ্ধ ছিল। ২০০৯ ও ২০১১ সালে ওবামা প্রশাসন পরিবার, সাংবাদিকতা, ধর্ম ও শিক্ষার কাজে কিছু লোককে হাভানা ভ্রমণের অনুমোদন দেয়। নতুন সম্পর্কে মানুষের তালিকাটা প্রশস্ত হবে। কিন্তু পর্যটনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে।
৫. মার্কিন কালো তালিকায় কিউবার নামের কী হবে?
এটা বিবেচনাধীন রয়েছে। ওবামা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো কালো তালিকা থেকে কিউবার নাম বাদ দেয়ার বিষয়ে পুনর্বিবেচনা করতে এবং ছয়মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে। ১৯৮২ সালে কিউবাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।
৬. ফেসবুক চালাতে পারবে?
কিউবায় ফেসবুক নিষিদ্ধ। সবার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারের অনুমোদন নেই। নতুন সম্পর্কের ফলে দেশটির টেলিকমিউনিকেশন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়বে ও হার্ডওয়্যার-সফটওয়্যার রফতানি হবে। কিউবানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্র চেষ্টা চালাবে।
৭. বাণিজ্য খাত কতটা উন্মুক্ত হবে?
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কিউবার টেলিকমিউনিকেশন খাতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পণ্য ও কৃষিদ্রব্যে সহযোগিতা করা হবে। কিউবার প্রাইভেট সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন আনতে আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র।
৮. মানবাধিকার কতটা উন্নত হবে?
হোয়াইট হাউস বলছে, কিউবার মানবাধিকার পরিস্থিতি শিগগিরই উন্নতির পথে আসবে না। রাতারাতি স্বাধীন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাও ওবামা রাখেন না। তবে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে কথা বলে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে ওবামা উদ্বেগ জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন মনে করছে সুসম্পর্ক রাখাটাই এখনকার কাজ।
৯. ফিদেল ক্যাস্ত্রো কতটা প্রাসঙ্গিক?
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত নন। তার ভাই ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোই নীতিনির্ধারক। রাউলই এই চুক্তির কর্তৃপক্ষ।

ফিদেল ক্যাস্ত্রো কোথায়?

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার নতুন কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চুক্তিতে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ত্রোর অবস্থান কি? এ প্রশ্নের উত্তর জানতে উৎসুক বিশ্ববাসী। কিন্তু ফিদেল ক্যাস্ত্রো গণমাধ্যমের সামনে আসা বা এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি প্রদান থেকে বিরত রয়েছেন। ১৯৫৬ সালে মার্কিন মদদপুষ্ট কিউবার শাসক ফুলগেনিকো বাতিস্তার বিরুদ্ধে ৮১ জন গেরিলা নিয়ে বিপ্লবী যুদ্ধে নেমেছিলেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। ১৯৫৯ সালে বাতিস্তাকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তিনি। কমিউনিস্ট শাসনে অত্যন্ত কঠোরতায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন ক্যাস্ত্রো। তারপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এই সময়কালে সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
ফিদেল ক্যাস্ত্রো সর্বশেষ জনসম্মুখে এসেছেন চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি একটি আর্ট গ্যালারি পরিদর্শনে। সর্বশেষ গত অক্টোবরে নিউইয়র্ক টাইমস সম্পাদকীয়র জবাবে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নামে কিউবার রাষ্ট্রীয় পত্রিকায় একটি কলাম ছাপা হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অসুস্থতার কারণেই তিনি এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারছেন না। অথবা ভাইয়ের সিদ্ধান্তে তার অমত নেই।

কার লাভ কার ক্ষতি স্বপ্ন সংশয়ে কিউবা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের আকস্মিক ঘোষণায় একইসঙ্গে বিস্মিত ও হতভম্ব হাভানার অধিবাসীরা। পুরাতন বোতলে হঠাৎ নতুন মদের মাদকতায় কে দুলবে- কে পড়বে কার লাভ- কার ক্ষতি এমন বহুমুখী চিন্তায় বৃহস্পতিবার কিউবার অধিবাসীদের সারাদিনটাই কেটেছে স্বপ্ন ও সংশয়ে দোটানায়। কিউবানরা এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি আসলে কী হতে যাচ্ছে। সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিস্তারিত মানে খুঁজে ফিরছে তারা।
আমি এখনও স্তব্ধ! খবরটা নিয়ে এখনও চিন্তা করছি বললেন রোনালদো রদ্রিগেজ (৪৪)। রাজধানীর ভেদাদো জেলায় গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করেন তিনি। রোনালদো বলেন, সত্যিই আমি এই ধাঁধার রহস্য এখনও উদ্ধার করতে পারিনি। প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো এই ঐতিহাসিক খবরটা বুধবার খুব সংক্ষেপে জানিয়েছেন। আমাদের পত্রিকায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু আসেনি। স্নায়ুযুদ্ধকাল হতে শত্রুতার জালে জড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র-কিউবার সম্পর্কের শীতলতা নাটকীয়ভাবে উষ্ণতায় ফিরেছে যখন মার্কিন এজেন্ট অ্যালন গ্রসকে মুক্তি দিয়েছে হাভানা। অন্যদিকে কিউবার তিন গুপ্তচরকে মুক্তি দিয়েছে ওয়াশিংটন। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কালো তালিকা থেকে কিউবার নাম বাদ দেয়ার ব্যাপারে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় খবর হচ্ছে পাঁচ দশকের বেশি সময় (৫৩ বছর) পর হাভানায় আবার দূতাবাস খোলার ঘোষণা দিয়েছেন ওবামা।
এবার নোবেল পাওয়ার যোগ্য হলেন ওবামা
টেলিভশনের সামনে আনন্দাশ্র“ ফেলে উল্লাস করছেন ৬২ বছল বয়সী ম্যানুয়েল রামোস। ৫৪ বছর আগে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর বিপ্লবের সময় তার বাবা-মা কিউবা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এখন তিনি চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বজনরা আসতে পারবেন। এই অঞ্চলে এতদিনে শান্তি আসবে। ট্যাক্সি ড্রাইভার ইয়োরদানিস হেরেরা বলেন, এবার আমাদের অনেক উন্নতি হবে। আমেরিকা থেকে টাকা আসবে। ইলেকট্রিশিয়ান আরমানদো রদ্রিগেজ (৪৯) আশা করেন এখন দেশে আমেরিকার বিনিয়োগ হবে, পর্যটকরা আসবে। এতে অনেক লাভ হবে। তিনি বলেন, এবার ওবামা নোবেল পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। ২০০৯ সালে যখন ওবামা শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন, তখন তার এই সম্মান পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন।
নতুন বিপ্লবের জন্য কিউবা কতটা প্রস্তুত?
কিউবার ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ স্বপ্ন দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে দেশটি ব্যাপক উন্নতির পথে যাবে। কঠোর কমিউনিস্ট শাসনের আষ্টেপৃষ্টে আর ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক অবরোধে মৃতের মতো দেশটি নতুন করে চাঙা হয়ে উঠবে। কিন্তু নতুন এই বিপ্লবের জন্য কতটা প্রস্তুত কিউবা? বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের পথে উঠলেও রাজনৈতিক স্বাধীনতা কিছুই পাবে না কিউবানরা। ২০০৮ সালে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর কাছ থেকে যখন তার ভাই রাউল ক্যাস্ত্রো দেশের ক্ষমতা নিলেন, তখন থেকে বেশ কিছু অর্থনৈতিক সংস্কার এসেছে। পাঁচ লাখ শ্রমিক রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ পেলেন। প্রথমবারের মতো নিজের বাড়ি ও গাড়ি কেনার অধিকার পেলেন কিউবানরা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের ফলে দেশটিতে আমেরিকান বিনিয়োগ ঘটবে। দেশটির টেলিকমিউনিকেশন খাতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশটির মাত্র ৫ শতাংশ জনগণ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার নিষিদ্ধ। গত বছর শুধু ই-মেইল ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাই মানবাধিকার, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সামগ্রিক জীবনমানের উন্নয়নে কতটা অগ্রগতি হবে তা অনেকটাই অনিশ্চিত। তবে ফিদেল ক্যাস্ত্রো যে বিপ্লব শুরু করেছিলেন তার ভাই রাউল ক্যাস্ত্রোর হাতে তা নতুনভাবে আবর্তিত হয়ে উন্নতি ও প্রগতির পথে যাবে এমনটাই মনে করছেন দেশটির নতুন প্রজন্ম।
হাভানার পর্যটন, ওয়াশিংটনের টেলিকম
৫৩ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা থাকার পর সম্প্রতি কিউবা এবং আমেরিকার মধ্যকার বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা উঠানোয় কিউবা কিংবা আমেরিকার অর্থনীতিতে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোন দেশ প্রকৃতপক্ষে বেশি লাভবান হবে তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। উভয় দেশের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনও কিউবার বেশির ভাগ ব্যবসা, শিল্প, অর্থনীতি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন। তারপরও ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে (যদিও অর্থনীতির সূচকে এই ভাগ্য সুপ্রসন্ন বলে কিছু নেই) ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হয়তো লাভবান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমেরিকাস সোসাইটি এবং কাউন্সিল অব দ্য আমেরিকাসের পলিসি ডাইরেক্টর ক্রিস্টোফার সাবাতিনি বলেন, আমরা কিউবায় খুব বড় ধরনের কার্যকারিতা কিংবা অর্থনৈতিক পরিবর্তন আশা করি না। সাবাতিনি আরও বলেন, কিউবা কোনোভাবেই বিনিয়োগের জন্য কোনো স্বর্গ নয়। কেননা আগামী বছর নাগাদ কিউবার অর্থনীতি ৩% বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এখন থেকে কিউবান আমেরিকান ৫০০ ডলারের পরিবর্তে ২০০০ ডলার পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবে নিজ দেশে পাঠাতে পারবেন। ফলে জনগণের স্পেন্ডিং পাওয়ারের ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবর্তন হবে। তবে, কিউবার পর্যটন শিল্পে ব্যাপক উন্নতি হবে। কেননা এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে কিউবার ট্র্যাভেলস ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে। এতে উভয় দেশের ট্যুরিস্ট লাভবান হবে। এদিকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে একজন আমেরিকান কিউবা থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত জিনিস কিউবা থেকে নিয়ে যেতে পারবেন যার মধ্যে অবশ্য ১০০ ডলারের অ্যালকোহল সামগ্রী থাকবে। অবশ্য এই ১০০ ডলারের ভেতরে কিউবার বিখ্যাত রম এবং সিগারও থাকছে।
এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ফলে আমেরিকার টেলিকমস ইন্ডাস্ট্রি সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। কেননা বারাক ওবামার প্রশাসন জানে কিউবাতে এখনও টেকনোলজির ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি সাধিত হয়নি। আমেরিকা সেই সুযোগে কিউবাতে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিপুল পরিমাণে রেভিনিউ উঠিয়ে নেবে, পাশাপাশি কিউবা এর ফলে টেকনোলজির ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও এই সেক্টর উন্নয়নের সুযোগ পেয়ে যাবে। এএফপি, নিউইয়র্ক টাইম, ওয়াশিংটন পোস্ট, টেলিগ্রাফ

‘৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের অবস্থানের হেরফের হয়নি’ -ড্যান ডব্লিউ মজিনা

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, রাজনীতির মাঠে কোন বিশেষ দলকে সর্মথন করে না যুক্তরাষ্ট্র। ৩৭ মাসের ঢাকা মিশন শেষ করে আগামীকাল রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। এ উপলক্ষে আজ আমেরিকান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সর্ম্পক রয়েছে মর্মে সরকারি মহল থেকে যে অভিযোগ করা হয় তার প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মজিনা বলেন, রাজনৈতিক দৌড়ে কোন শক্তিকেই যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেয় না। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৬ই জানুয়ারি মার্কিন স্টেট ডির্পাটমেন্টের তরফে যে অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছিল তার কোন হেরফের হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশকে ‘ল্যান্ড অফ ম্যাজিক এন্ড স্ট্রেনথ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আগামী দিনেও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার উপায় খুঁজছেন বলে জানান তিনি।

শাহজালালে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেপ্তার

(শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে রামদা হাতে মোশাররফ হোসেন (লাল গোলচিহ্নিত)। ছবি: প্রথম আলো) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রলীগের কর্মীর নাম মোশাররফ হোসেন ওরফে রাজু (২১)। তিনি কেমিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের নয়াবাজার এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ। গত ২০ নভেম্বর সংঘর্ষের দিন দেশীয় অস্ত্র (রামদা) হাতে তাঁকে অংশ নিতে দেখা গেছে। পুলিশ ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে এক অভিযানে আজ সকাল ১০টার দিকে নয়াবাজার এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংঘর্ষের দিন দেশীয় অস্ত্র (রামদা) নিয়ে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তীর পক্ষে তিনি সংঘর্ষে অংশ নেন। সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় তোলা অস্ত্রসহ ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ সংঘর্ষে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ছাড়া ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সংঘর্ষের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন (আদালতে) করা হবে।’
উপপরিদর্শক আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশাররফ ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। পরে বিকেলে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রী শেখর রায়ের আহত হওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। গত ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় সুমন চন্দ্র দাস নামের ছাত্রলীগের এক কর্মী নিহত হন। ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। সংঘর্ষের ঘটনায় সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

যৌন প্রতারণার ফাঁদে হাজারো পুরুষ

অনলাইনে হাজারো পুরুষ যৌন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ফাঁদে পা দেওয়া পুরুষদের জিম্মি করে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে অপরাধ চক্র। আজ শনিবার বিবিসি বাংলা অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফিলিপাইনে যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমগুলোতে পুরুষদের যৌনতার ফাঁদে ফেলে অর্থ কামানোর এই ব্যবসাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফিলিপাইনে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় দেশটির রাজধানী ম্যানিলার অনেক বস্তি ও গলিতেও এ অপরাধমূলক ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে। অপরাধীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওয়েবক্যামে চ্যাট করার জন্য ভুয়া ছবির সঙ্গে মেয়েদের কৃত্রিম কণ্ঠ ব্যবহার করে কৌশলে পুরুষদের প্রলুব্ধ করছে অপরাধীরা। এরপর পুরুষেরা খেলামেলা আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন। এই চ্যাট ধারণ করে তা ফাঁস করার হুমকি দিয়ে পুরুষদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে অপরাধীরা। অপরাধ চক্রের দাবি করা অর্থ না দিতে পেরে অনেক পুরুষ আত্মহত্যাও করছেন।

পাঁচ বছর পর পিলখানায় প্রধানমন্ত্রী

(‘বিজিবি দিবস ২০১৪’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবিটি আজ পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা) পাঁচ বছর পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় গেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বিজিবি দিবস উপলক্ষে নেওয়া নানা কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হয়েছে। একই সঙ্গে বিজিবির সুনাম ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিজিবির দরবার হলে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘শৃঙ্খলাবোধ, মানবিকতা, জ্যেষ্ঠতার সম্মান এবং সর্বোপরি পারস্পরিক সহানুভূতিশীলতাই এ বাহিনীর সদস্যদের বন্ধনকে আরও দৃঢ়তর করবে। বিজিবি সদস্যদের আনুগত্য ও বিশ্বস্ততা এখন প্রশ্নাতীত। পুনর্গঠিত বাহিনী হিসেবে বিজিবি সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধই কেবল এ বাহিনীকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।’
এর আগে সকাল নয়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁকে স্বাগত জানান। পরে বিজিবি সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিজিবি সদস্যদের মধ্যে ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক, ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক, ১০ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সেবা পদক, ২০ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড সেবা পদক প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দেন।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা দেশপ্রেম ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, বাহিনীর সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন।’ তিনি বলেন, ‘বিজিবির সদস্যদের ওপর দেশের সীমান্ত রক্ষায় মহান দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। সীমান্তে দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আপনারা অনেক বেশি সাফল্য দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। চোরাচালান, মাদক পাচার, নারী-শিশু পাচার এবং সীমান্ত অপরাধ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। প্রত্যাশা থাকবে আগামীতে এ সাফল্য আরও বৃদ্ধি পাবে।’
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালে সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতা আপনারা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছেন।’ এ সময় নির্বাচনকালীন সংহিসতায় নিহত বিজিবি সদস্যদের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
২০০৯ সালের ২৫-২৬ জানুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে এ বাহিনীর ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় কতিপয় বিপথগামী ও উচ্ছৃঙ্খল বিডিআর সদস্য তথাকথিত বিদ্রোহের নামে বিশৃঙ্খলা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। আমরা ৫৭ জন অফিসারসহ ৭৪টি মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি।’ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সহযোগিতায় ওই অবস্থা কাটিয়ে উঠেছি, বিচার সম্পন্ন করেছি। চক্রান্তকারীদের সব অপতৎপরতা আমরা ধৈর্য ও সর্তকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছি, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।’
বিজিবি পুনর্গঠনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনার পর আমরা এ বাহিনীর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এবং একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০১০ পাস করেছি। এ জন্য ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, বিজিবির নতুন সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী চারটি রিজিয়ন সদর দপ্তর স্থাপন করে কমান্ড বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এ বাহিনীকে গতিশীল ও বেগবান করা হয়েছে। বিজিবির গোয়েন্দা সংস্থাকে শক্তিশালী করতে বর্ডার গার্ড সিকিউরিটি ব্যুরো স্থাপন করা হয়েছে। চারটি নতুন সেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদিত নতুন ১৫টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১০টি স্থাপন করা হয়েছে।
এই পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। পিলখানা থেকে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের নানা প্রান্তের বিভিন্ন ইউনিটেও, যার অবসান ঘটে ২৭ ফেব্রুয়ারি।

পার্বত্য অঞ্চলে ড. মিজানুর রহমানকে অবাঞ্চিত ঘোষনা

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের অনত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে অসাংবিধানিক ও ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে বাঙালি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানকে পার্বত্য অঞ্চলে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেন। এ সময় বিক্ষুদ্ধ বাঙালিরা মিজানুর রহমানের কুশ পুত্তলিকা দাহ করতে চাইলে পুলিশী বাধাঁয় তা পন্ড হয়ে যায়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুম (রানা), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের সিনিয়র সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক আজম খান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৮ই ডিসেম্বর ঢাকায় জাতিসংঘ ইউনিভার্সাল পিরিউডিক রিভিউর (ইউপিআর) আদিবাসি শীর্ষক সেমিনারে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে বাঙালিদেরকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হোক। তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদে ছাত্রপরিষদের নেতারা বলেন, ড. মিজানুর রহমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। অথচ তার কার্যকলাপ কথাবার্তা অমানবিক, অসাংবিধানিক এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক। কারণ বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে একজন নাগরিক দেশের যে কোন জায়গায় বসবাস করার অধিকার রাখে।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা যে অর্ধলক্ষ নিরিহ বাঙালি হত্যা করেছে, অগনিত বাঙালি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করেছে, নিয়মিত গুম,খুন ও অপহরনের মত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এখনো চালিয়ে যাচ্ছে, তিনি কি এগুলো দেখেননা। একটি জাতীয় কমিশনের প্রধান হয়ে কোন বিবেকের তাড়নায় লক্ষ বাঙালিকে বাপ-দাদার ভিটে মাটি ছাড়া করার পরামর্শ দেয়। ড.মিজানুর রহমান বিদেশী দালাল গোষ্ঠি এবং সন্তু লারমাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত বাঙালিদের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রমুলুক কাজ করার জন্য পার্বত্য অঞ্চল থেকে ড. মিজানুর রহমান, খুশি কবির, সুলতানা কামাল, সালমা জাহান, সাদেকা হালিম ও সঞ্জিব গংদেরকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেন।
দালালরা যদি সেনাবাহিনী এবং বাঙালিদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করা অব্যহত রাখে তাহলে বাঙালি ছাত্র পরিষদ পার্বত্য অঞ্চলের সকল বাঙালিদের সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন ছাত্রপরিষদ নেতারা।

নদীর জায়গায় তৈরি করা হচ্ছে পুকুর

(বগুড়ার ​শিবগঞ্জের মিল্কীপুরে করতোয়া নদীর জায়গায় বাঁধ দিয়ে বানানো হচ্ছে পুকুর। গত বৃহস্পতিবার তোলা ছবি l প্রথম আলো) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ ইউনিয়নের মিল্কীপুর গ্রামে করতোয়া নদী দখল করে পুকুর বানানো হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) একজন সদস্য মাছ চাষের কথা বলে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে নদী দখল করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার কয়েকজন বলেন, বর্ষার সময় করতোয়া নদীতে মাছ ধরে জীবিকা চালান অনেকে। এ দিকেই নদীর পানি প্রবাহিত হয়। নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে মাছ চাষের পরিকল্পনা করেছেন শিবগঞ্জ ইউপির সদস্য শিহাবুল ইসলাম। তাঁর নেতৃত্বে এলাকার কয়েকজন এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এখানে মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুকুর তৈরি করে মাছ চাষ করা হবে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মিল্কীপুর গ্রামের দক্ষিণ পাশে গোলশামারী দহ নামক স্থানে করতোয়া নদীর প্রায় তিন একর জায়গা দখল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য ভ্যানে করে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এনে এখানে ফেলা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিল্কীপুর গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, শিহাবুল এলাকায় প্রভাবশালী। চোখের সামনে নদী দখল হলেও তাঁর ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না।
জানতে চাইলে শিহাবুল ইসলাম বলেন, ‘আমার নিজের জমি নদীর মধ্যে গিয়েছিল, তা বের করে নিয়ে পুকুর করছি। তবে দু-চার শতক নদীর জমিও থাকতে পারে। এটা আর তেমন দোষের কী।’
শিবগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ারেছ আলী বলেন, ঘটনা এ রকম হলে তা বড় ধরনের অন্যায় এবং দ্রুত এর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি জরুরি বলে মন্তব্য করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাশার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম জানান, নদীতে বাঁধ দিয়ে পুকুর বানানোর বিষয়টি তিনি জানেন না। এটাকে অবৈধ উল্লেখ করে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

আধুনিক সান্তার রহস্য উপহার

সাদা চুল। সাদা দাড়ি। দেখতে একেবারে সান্তা কজের মতো। সান্তা কজ শিশুদের বন্ধু। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড় দিন উৎসবের আগের রাতে পৃথিবীর এ প্রাপ্ত থেকে ও প্রান্তে ঘুরে বেড়ান উপহার নিয়ে।
সান্তার বাহনটি টেনে নিয়ে যায় বলগা হরিণ। সারা বিশ্বের শিশুদের তালিকা আছে তার কাছে। তালিকা ধরে ধরে তিনি প্রতিটি শিশুর ঘরে ঘরে উপহার বিতরণ করে আসেন। তাই শিশুরা সান্তা কজ বলতেই পাগল।
শিশুদের সাথে সাথে বড়রাও সান্তা কজ নিয়ে মাতামাতি করেন। এবার কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে বড়দিন উৎসব। এর আগেই অর্থাৎ গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে গেলো আশ্চর্য্য এক কাণ্ড।
হ্যাঁ, সাদা চুল আর সাদা দাড়িওয়ালা এক লোক এসে প্রবেশ করলেন ম্যারিলউস কফি শপে। তবে মাথায় সান্তার মতো লম্বা টুপি নয়, ছিলো রাখাল টুপি। কফি শপে প্রবেশ করেই কোনো কথা নেই, পকেট থেকে ১৫টি চকচকে খাম বের করলেন। কাউন্টারের পেছনে থাকা কর্মীদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে ধরিয়ে দিলেন। এরপর ভেলকিবাজির মতো উধাও হয়ে গেলেন সেই রহস্যমানব।
পরে কর্মীরা খামগুলো খুলে দেখেন প্রতিটিতে ১০০ ডলার করে রাখা। কড়কড়ে এ নোটগুলো দেখে কর্মীরা হতবাক। কে এই রহস্য মানব, কি কারণেই বা তাদেরকে উপহার দিলেন?
কফি শপের ম্যানেজার ভিকটোরিয়া গ্র্যান্ডি ক্যাপ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বেনামি খামগুলোর ওপর লাল রঙের ছাপ দিয়ে লেখা ‘মেরি ক্রিস্টমাস’। আমার কোনো কর্মীরা তাকে চিনতে পারেনি। তবে এক কর্মী জানিয়েছে, তাকে সান্তা কজের মতো দেখাচ্ছিলো।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শপের কর্মী অ্যালেক্স ডুউকেটি। তিনি বলেন, তার মাথায় ছিলো তামাটে রঙের রাখাল টুপি। আর ছিলো সান্তার মতোই সাদা চুল ও দাড়ি।
এর দুই দিন পর। অর্থাৎ সোমবারের ঘটনা। একই এলাকায় অন্য একটি কফিশপে আবারো হাজির হলেন সেই রহস্য সান্তা কজ। ডানকিন নামের এ কফি শপেও আট কর্মীর মধ্যে বিতরণ করে গেলেন একই রঙের খাম। কর্মীরা জানান, তারাও লোকটির মাথাভর্তি ছিলো সাদা চুল এবং মুখে সাদা দাড়ি দেখেছেন। তবে এবার রাখাল টুপি নয়, গোল একটি টুপি পরে এসেছিলেন রহস্যসান্তা।
সূত্র: গালফ নিউজ

৭ সন্তানসহ ৮শিশু খুন : ঘাতক মা আটক

নিজের সাত সন্তানসহ আট শিশুকেকে খুন করার অভিযোগে মাকে আটক করা হয়েছে। ৩৭ বছরের ওই নারী এই মুহূর্তে নিজে ছুরিকাহত হয়ে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে। তার জন্য কড়া পুলিশি প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পুলিস সূত্রে খবর, নিজের বাড়ি থেকে শুক্রবার আট শিশুকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ওই নারীকে। তার গ্রেফতারির সময় ঘরের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল আটটি শিশুর মৃতদেহ। বয়স ১৮ মাস থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। মৃত শিশুদের মধ্যে ৭ জনই সম্ভবত ওই নারীর সন্তান। আততায়ী নারীর বাড়ি থেকে বেশ কিছু ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, শিশুদের হত্যা করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল ওই ছুরিগুলো।  গ্রেফতারির সময় ওই নারীও ছুরিকাহত ছিল। অভিযুক্তার তুতোবোন লিসা থাইডে জানিয়েছেন নারীর ২০ বছরের আরেক ছেলে বাড়ি ফিরে আবিষ্কার করে মরে পরে রয়েছে তার ভাই-বোনরা।

পাকিস্তানে ৮৫ জনের ফাঁসি চূড়ান্ত

পাকিস্তানে আরও ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য জেল প্রধানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই ২২ জনকেই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত রহিত করার পর থেকে এ নিয়ে ৮৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। তাদের প্রাণভিক্ষাও নাকচ করা হয়েছে। ফলে, শুক্রবার রাতেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা। খবর পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহেল শরিফ কট্টর ৬ সন্ত্রাসীর মৃত্যুদণ্ডে সই করেছেন। ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে জঙ্গি হামলায় ১৪১ জন নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানে প্রাণদণ্ড স্থগিত রাখার বিষয়টি তুলে নেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তারপরই সই করা হল এ দণ্ডাদেশ। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সামরিক আদালত এ ৬ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। অবশ্য বিবৃতিতে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ এবং সেনা সদর দফতরের হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল এ ৬ ব্যক্তি। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে শুক্রবার রাত ৩টায় এ ৬ ব্যক্তির প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের এরই মধ্যে কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর একটি টিম কারাগারটিও পরির্দশন করেছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসাইন বৃহস্পতিবার ১৭ জনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করায় ওই ১৭ ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। এদের মধ্যে ১০ জন পাঞ্জাবের, ছয়জন সিন্ধু এবং একজন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা। প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় শিগগিরই তাদের দণ্ড কার্যকর করা হবে। এছাড়া এরই মধ্যে প্রায় ৪০০ প্রাণভিক্ষার আবেদন খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন উপ-সচিব (আইন)। সোমবারের মধ্যে এ কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওদিকে খাইবার পাকতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন কারাগারে আটক প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের আত্মীয়রা তাদের সঙ্গে দেখা করতে শুরু করেছেন। প্রাণদণ্ডের কার্যকর করার ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর তারা দেখা করতে শুরু করেন। এ প্রদেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রাণদণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় ৩০০ ব্যক্তি রয়েছে।
দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রদেশের কারাগারগুলোর ফাঁসিকাষ্ঠ মেরামত শুরু হয়েছে। পেশোয়ারের কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। পাকিস্তানে বিমান, স্থল ও ড্রোন হামলায় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় দু’দিনে ৬৮ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবারই মারা গেছে ৪০ জঙ্গি।
পেশোয়ারের একটি স্কুলে ১৩২ শিশুসহ ১৪১ জনকে হত্যার পর জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে সামরিক বাহিনী। সামরিক বাহিনী জানায়, বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার খাইবার এজেন্সি অঞ্চলে বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়। এতে বৃহস্পতিবার স্থল অভিযানে ১০ জঙ্গি এবং বিমান হামলায় ১৭ জঙ্গি মারা যায়।
এরপর শুক্রবারের অতর্কিত অভিযানে মারা যায় আরও ৩২ জঙ্গি। তারা খাইবার থেকে আফগানিস্তান পালিয়ে যাচ্ছিল। অভিযানে তিন নিরাপত্তাকর্মীও আহত হয়েছেন। জঙ্গিরা তাদের সহযোগীদের লাশ ফেলে পালিয়ে গেছে। পাকিস্তানে যে দুটি অঞ্চলে সামরিক বাহিনী জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে তার একটি খাইবার এবং অন্যটি উত্তর ওয়াজিরিস্তান। এদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তের জিরোলাইনে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। শুক্রবার এ হামলা চালানো হয়। হামলাস্থলটি আফগানিস্তানের নানগরহার প্রদেশের নাঝিয়ান প্রদেশে অবস্থিত। এটি পাকিস্তানের তালেবান অধ্যুষিত খাইবার সীমান্তে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নাঝিয়ান জেলার কোর্ট গ্রামে তালেবানদের একটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। এদিকে পেশায়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত স্কুলে জঙ্গি হামলার ঘটনায় এক নারীসহ সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। শুক্রবার পাঞ্জাবের ভাওয়াল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। খবর ডনের।
সন্দেহভাজন এই চারজনকে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আটক করা হয়েছে। তাদের সিমকার্ড ওই হামলার সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে। সিমকার্ডটি একজন নারীর নামে রেজিস্ট্রেশন করা। তাকেও আটক করা হয়েছে। ওই সিমবিক্রেতা স্থানীয় একজন ডিলারকেও জিজ্হাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পুলিশ ইন্সপেক্টর জেনারেল নাসির দুরানি জানিয়েছেন, প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তার দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সুন্দরবনে আন্তর্জাতিক সংস্থার সুপারিশে পদক্ষেপ নেয়া হবে

বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ট্যাংকার ডুবির পর তা থেকে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও জলজপ্রাণীর অবশ্যই ক্ষতি হয়েছে। তেলেমাখা গাছপালা ও লতাপাতা মরে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তবে শুরুতে তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির (জীববৈচিত্র্য ও জলজপ্রাণীর) আশংকা করা হয়েছিল এখন দেখে মনে হচ্ছে তা অনেক কম হয়েছে। পরিস্থিতি যতটা খারাপ মনে করেছিলাম পরিস্থিতি আসলে ততটা খারাপ না। এখনও কোনো জলজ বা বণ্যপ্রাণী মারা যায়নি। সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করেছে। তারপরও ওই ফার্নেস অয়েলে আগামীতে সুন্দরবনের কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে তা মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য নিয়ে সরকার গবেষণা কাজ শুরু করবে। ওই গবেষণা ছাড়া এখনই কিছু বলা যাবে না। ওই সব সংস্থার গবেষণায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও জলজপ্রাণীর ক্ষতির আশংকা থাকলে পরবর্তীতে যা করণীয় তা করবে সরকার। সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির ১০ দিন পর শুক্রবার দুপুরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, নদীখালে তেল ছড়িয়ে পড়ায় শ্যালা নদীর দুপাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছে এখনও তেল লেগে রয়েছে। যেসব গাছের শ্বাসমূলে তেল ঢুকে রয়েছে সেসব গাছ আস্তে আস্তে শুকিয়ে মরে যাবে। তবে কিছুদিন গেলে পরে ওই সব স্থানে আবার নতুন করে গাছ জন্মাবে। সুন্দরবনের নদীখালে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে যারা সহযোগিতা করছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তেল অপসারণের কাজ আরও এগিয়ে নিতে বনবিভাগকে নির্দেশ দেন তিনি। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সি-প্লেনে করে তিনি সুন্দরবন পরিদর্শনে আসেন। তিনি এসময় মংলা নদীর নারকেলতলা এলাকায় নেমে স্পিডবোটযোগে ট্যাংকার ডুবির ঘটনাস্থল শ্যালা নদীর জয়মনি বাদামতলাসহ অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকা পরিদর্শন করেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় তিনি সি-প্লেনে করে ঢাকার উদ্দেশে সুন্দরবন ত্যাগ করেন। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার রাকিবুর রহমান, বনবিভাগের প্রধান বনসংরক্ষক মো. ইউনুস আলী, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক রাইসুল আলম মণ্ডল, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আবদুস সামাদ, পরিবেশ অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন, সুন্দরবন-খুলনাঞ্চলের বনসংরক্ষক কার্তিক চন্দ্র সরকারসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা এসময় তার সঙ্গে ছিলেন।
এদিকে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মংলার আহ্বায়ক মো. নূর আলম জানান, জলজপ্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে যা দৃশ্যমান নয়। বনের এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরুতেই যে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন ছিল তা করা হয়নি। অগণিত গাছের শ্বাসমূল তেলে আবৃত হয়ে আছে- যা অপসারণ করা কতটা সম্ভব তা ভাববার বিষয়।
তিনি জানান, বনের বৃক্ষরাজির শ্বাসমূলসহ বন্যপ্রাণীর খাবারের উৎস বন্যঘাস লতায় তেল লেগে থাকার ফলে বনের ইকো সিস্টেম ভেঙে পড়ছে। বন্যপ্রাণী বিশেষ করে হরিণের খাদ্যাভাব দেখা দেবে- গভীর সংকটে পড়বে সুন্দরবনের উদ্ভিদ।

ড. লিলন হত্যার মূল হোতা উজ্জ্বল ভারতে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. শফিউল ইসলাম লিলন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল রাজশাহী সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত গ্রাম শেখপাড়ায় অবস্থান করছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও এলাকাবাসীর সূত্র এ তথ্য জানায়। পুলিশের সূত্রগুলোও উজ্জ্বলের অবস্থান সম্পর্কে একই তথ্য দিয়েছেন।
রাজশাহী জেলা যুবদলের দুই নেতা ও এক ছাত্রদল নেতা সীমান্তের জিরোপয়েন্টে গিয়ে মাঝে মাঝেই উজ্জ্বলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন এমন তথ্যও দিয়েছেন একাধিক সূত্র। শুক্রবারও জেলা ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বলের সঙ্গে জিরোপয়েন্টে দেখা করেছেন। তার এই অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ অবগত বলে জানান ড. লিলন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন। ১৫ নভেম্বর বিকাল সোয়া ৩টার দিকে নগরীর চৌদ্দপায়ায় বাসার সামনে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে ড. শফিউল ইসলাম লিলনকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ ও র‌্যাব হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে একযোগে মাঠে নামে। এরই অংশ হিসেবে ২২ নভেম্বর রাজশাহী ও গাজীপুর থেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাটাখালি পৌর যুবদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম মানিকসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৫ এর সদস্যরা। পরের দিন গ্রেফতারকৃতদের মিডিয়ার সামনে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিতে বলেন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের পরিকল্পনা ও সহায়তায় ড. লিলনকে খুন করা হয়। কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীরা গ্রেফতারের পরপরই টের পেয়ে গাঢাকা দেন উজ্জ্বল। র‌্যাব তাকে গ্রেফতারে রাজশাহীর কাজলায় তার বাসাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু উজ্জ্বলকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তার সঙ্গে কিলিং মিশনের অন্যতম হোতা হুন্ডি ও অস্ত্র ব্যবসায়ী জামাই বাবুও রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সূত্রগুলো থেকে আরও জানা যায়, ২২ নভেম্বর রাতে যুবদল নেতা উজ্জ্বল দুই সঙ্গীসহ রাজশাহীর চরমাঝারদিয়াড় সীমান্তপথে ভারতে প্রবেশ করেন। তিনি বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গি থানার সীমান্তবর্তী গ্রাম শেখপাড়ায় অবস্থান করছেন। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সুবাধে শেখপাড়ার প্রভাবশালী কয়েকজন চোরাকারবারির সঙ্গে আগে থেকেই উজ্জ্বলের গভীর যোগাযোগ ও সখ্য রয়েছে। সেখানে থেকেই জিরোপয়েন্টে এসে উজ্জ্বল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ অব্যাহত রেখেছেন। শেখপাড়া গ্রামে বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক সহজলভ্য হওয়ায় দলীয় লোকজন ছাড়াও সহযোগীদের সঙ্গে উজ্জ্বলের যোগাযোগ অটুট রয়েছে। উজ্জ্বল সীমান্তের এই ভারতীয় গ্রামে বসেই তার রাজনীতি ও অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে জেলা বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন।
ওই নেতার মতে, মূলত মতিহার থানা পুলিশের সঙ্গে উজ্জ্বলের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। মাদক ও অবৈধ অস্ত্র কারবারের কারণে পুলিশের সঙ্গে উজ্জ্বলের রয়েছে আর্থিক লেনদেন। আর এ কারণেই হাতের নাগালে পেয়েও পুলিশ উজ্জ্বলকে গ্রেফতার না করে নিরাপদে চলে যেতে দিয়েছে। এখনও উজ্জ্বলের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। ড. লিলন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যুবদল নেতা উজ্জ্বলকে পুলিশ খুঁজছে। তাকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হলেও তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া উজ্জ্বলের সহযোগী জামাই বাবু বা হুন্ডি বাবুকেও পুলিশ গ্রেফতারে চেষ্টা করছে। তবে তিনি জানান, উজ্জ্বল রাজশাহী এলাকাতে নেই বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। রাজশাহী সীমান্তের ওপারে উজ্জ্বল অবস্থান করছে এমন তথ্য পাওয়া গেলেও পুলিশের কিছু করার নেই বলে তিনি জানান।

সিংড়ায় আলীগ-বিএনপি সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৩১

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অঞ্চলের ডাহিয়া ইউনিয়নের বেড়াবাড়ী গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দু’গ্রুপের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া ছাড়াও বগুড়া, সিংড়া ও নাটোরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি বন্দুক ও রামদাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বেড়াবাড়ী গ্রামের বিবদমান গোয়ালপাড়ার সাইফুল ইসলাম গ্র“প ও মোল্লাপাড়ার আমজাদ হোসেন গ্র“পের নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় চারঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় করে। এতে বেশ কয়েকজন নারীসহ ৩১ জন গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে জাহানারা বেগম (৪৫), বাবু সরকার (৩৫) ও খুকুমনিকে (২৬) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমজাদ স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাইফুল আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন।
দুপুর ১টার দিকে সরেজমিন বেড়াবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বন্দুক যুদ্ধে ছররা গুলিতে বিভিন্ন হাসপাতালে আহত ২৮ জন চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টা করছে। এরা হলেন- একই গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু (২৪), আছমা খাতুন (৪০), রেজাউল (২৫), স্বপন (২৭), খোরশেদ আলম (৬০), শফিকুল ইসলাম (২৬), তফিজ উদ্দিন (৩৫), ফেরদৌস প্রামাণিক (৩২), আবদুল আলিম (২০), কাওসার আলী (২৮), জামাল হোসেন (২০), মজনু মোল্লা (২২), সোহরাব হোসেন সর্দার (২০), সবুজ সর্দার (২২), গোলজার মোল্লা (৫০), আকাশ তালুকদার (১৭), সোহাগ তালুকদার (২৫), আনিসুর রহমান (৩২), আফসার প্রামাণিক (৫০), রানা আহম্মেদ (২৪), আবদুর রহিম (২২), সাইদুর রহমান (২৫), সুজন (২২), আলম মোল্লা (৩৫), মুকুল প্রামাণিক (২৫), রফিকুল ইসলাম (৪৩), জহুরুল ইসলাম (৩০) ও আতিকুর রহমান (২৪)। আহতরা বেশির ভাগই বিএনপিপন্থী মোল্লাপাড়ার আমজাদ গ্র“পের সদস্য বলে জানা গেছে।
পুলিশ দুপুরে একটি বন্দুক, অব্যবহৃত গুলি ও একটি রামদাসহ গোয়ালপাড়া গ্র“পের প্রধান সাইফুল ইসলাম, তার সহকারী দানেশ আলী ও আসালত প্রামাণিককে আটক করেছে। আটক সাইফুল ইসলাম নিজেকে জেলা যুবলীগের নেতা পরিচয় দিলেও জেলা যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম ভোলা বলেছেন, সাইফুল যুবলীগ নয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তবে স্থানীয়রা দাবি করেন, আহতরা রাজনৈতিক দলের কর্মী হলেও শুক্রবারের সংঘর্ষের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই।

ফিলিস্তিনের গাজায় ফের ইসরাইলি বিমান হামলা শুরু

ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত গাজায় ইসরাইল নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। ফিলিস্তিনি যোদ্ধা সংগঠন ‘হামাসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে’ এ হামলা চালানো হচ্ছে। ইসরাইলে হামাসের একটি রকেট হামলার জবাব দিতেই পাল্টা-হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি ইসরাইলের। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। আজ হামাসের একটি সাইট লক্ষ্য করে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ করে ইসরাইলি বাহিনী। গাজার খান ইউনিস এলাকার বাসিন্দারা জানান, তারা দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এ হামলায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। গত আগস্ট মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটা প্রথম হামলার ঘটনা। ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল পিটার লার্নার দাবি করেন, গতকাল ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় এশকোল এলাকায় হামাসের একটি রকেট হামলার জবাবে পাল্টা-হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। ওই রকেট হামলায় কোন ইসরাইলি হতাহত হননি বা কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গত আগস্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ইসরাইলি আগ্রাসনে ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে মাত্র ৭০ ইসরাইলি বাদে বাকি সবাই ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক এবং তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল

সরকারদলীয় সিবিএ নেতা ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেটের দখলে রয়েছে দেশের বৃহত্তম পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আমিন জুট মিলের প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ একর জমি। দিনে দিনে বাড়ছে দখলের এ মাত্রা। বিজেএমসির আওতাধীন এ প্রতিষ্ঠানটির জায়গা অবৈধভাবে দখল হওয়ার পেছনে সরকারদলীয় নেতাদের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই পাটকলের জমিতে প্রায় ৬০ হাজার ঘর তুলে ভাড়া দেয়া হয়েছে। গড়ে উঠেছে আমিন কলোনি নামে বিশাল এক বস্তি। এতে বাস করেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। ভাড়া দেয়া ঘর থেকে প্রতি মাসে আয় হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা। সিবিএ নেতা ও কর্মকর্তাদের মধ্যে এ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হয়। ১১ আগস্ট অভিযান চালিয়ে আমিন জুট মিলের অবৈধ দখলে থাকা একাংশ উদ্ধার করা হয়। ১২৭ দাগের উদ্ধারকৃত ১ দশমিক ৭৬ একর জমির মূল্য ১৬ কোটি টাকা। অভিযান চলাকালে অবৈধ দখলে থাকা বিভিন্ন বাড়িঘর ও স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এরপর আর কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
আমিন জুট মিলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) খান কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান আমিন জুট মিল এলাকা পরিদর্শনে আসলে শ্রমিকরা তাদের আবাসন সমস্যার কথা তার কাছে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, মিলের অনেক জায়গা আছে। আপনারা নিজ উদ্যোগে ঘর তুলে এখানে বসবাস করতে পারেন। এত শ্রমিকের আবাসনের ব্যবস্থা করে দেয়া সম্ভব নয়। এরপর থেকে শ্রমিকরা ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। শ্রমিকরা চাকরি ছেড়ে চলে গেলে তাদের বানানো ঘর বহিরাগতদের কাছে বিক্রি করে (কোনো ধরনের দলিলপত্র ছাড়া) দেন। এভাবেই মিলের অনেক জায়গা বহিরাগত, সাবেক শ্রমিক বা তাদের পরিবারের কাছে বেদখল হয়ে আছে। মিলের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার প্রসঙ্গে খান কামরুল ইসলাম বলেন, মিলের কিছু জায়গার বিএস খতিয়ান নেই। জায়গাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ও বিএস সংশোধনীর জন্য মিলের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অবৈধ দখলদার ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। তবে মিল কর্তৃপক্ষ মিলের জায়গা পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট রয়েছে। মিলের জায়গা বসবাসকারীদের সবাইকে ভাড়াটিয়া চুক্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।
মিলের কিছু কর্মকর্তা ও সিবিএ নেতার যোগসাজশে দখল করার বিষয়ে তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাবেক শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী সড়কের পাশে প্রায় ৮০ একর জায়গার ওপর এ মিলটি প্রতিষ্ঠা করেন পাকিস্তানি শিল্পোদ্যোক্তা আমিন উদ্দিন। শুরু থেকে এ মিলটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। ১৯৭১-এ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই মালিক আমিন উদ্দিন পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওই শিল্পোদ্যোক্তা আর ফিরে না আসায় সরকার আমিন জুটমিলকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করে নবরূপে আমিন জুট মিল চালু করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর গবেষণা কেন্দ্র পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে আমিন কলোনিকে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি জনবসতির বস্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানকার প্রতি শতক জায়গার দাম ১২ লাখ টাকা। সে হিসাবে বেদখল হওয়া জায়গায় দাম প্রায় ২০০ কোটি টাকা। জানা যায়, বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধীন আমিন জুট মিলের ৮০ একর জায়গা রয়েছে। এ জায়গার ১৫ একরজুড়ে গড়ে ওঠা বস্তিতে প্রায় ৬০ হাজার ঘর রয়েছে। এখানে কাঁচা ও পাকা ঘরে ৬০-৭০ হাজার পরিবার বাস করে। প্রতিটি ঘরের ভাড়া ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। সেই হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ১০০০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হলে ৬০ হাজার ঘর থেকে মাসে ভাড়া উঠে ৬ কোটি টাকা। এ টাকা আমিন জুট মিলের সিবিএ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জুট মিলের অসাধু কর্মকর্তাদের পকেটে যায়। এখানে অবৈধ বসতঘর ও প্লট বানিয়ে তা বহিরাগতদের কাছে ভাড়া ও দখল স্বত্বেও বিক্রি করা হয়েছে। কলোনিবাসী জুট মিলের বিদ্যুৎ ও পানির অবৈধ সংযোগও নিয়েছে। গভীর নলকূপও রয়েছে এখানে। বসবাসকারীদের বেশিরভাগই বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নিু আয়ের মানুষ। জানা যায়, ১৯৭৮ সাল থেকে মূলত এই দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। ’৯১ সালের পর দখলের এ মাত্রা আরও বেড়ে যায়। কলোনিজুড়ে রয়েছে ওয়াসা ও পিডিবির অবৈধ সংযোগ। ৩০ থেকে ৪০ হাজার পরিবার এসব অবৈধ সংযোগের আওতায় আছে। ১২৪ ও ১২৭ দাগে অবৈধ বসতিঘরগুলোতে জুট মিলের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি গভীর নলকূপও রয়েছে। মিল এলাকায় শান্তিনগরের পশ্চিম পাশে ও মোহাম্মদপুর নগরের উত্তর পাশে ৫ একর ৫৩ শতাংশ জায়গাজুড়ে একটি খেলার মাঠের চারপাশে ২৫টি প্লটে গড়ে উঠেছে ২০০ থেকে ৩০০টি অবৈধ বসতঘর। এখানকার প্রতিটি প্লট বিক্রি করা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা থেকে ৬০ লাখ টাকায়। প্লট বেচাকেনায় লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। মাঠের উত্তর পাশে একটি কাঁচাবাজারসহ তিনটি মার্কেট স্থাপন করা হয়েছে। এসব মার্কেটের দোকানের মূল্য আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা। শ্রমিক কোয়ার্টারের উত্তর পাশে আরও ৫ একর জায়গায় গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতঘর। এছাড়া জুট মিলের উত্তর গেটের পাশজুড়ে নির্মিত হয়েছে কয়েকটি গ্যারেজ ও দোকানঘর। আমিন জুট মিল সিবিএ সভাপতি মহাব্বত আলী বলেন, আমাদের আগে যারা সিবিএর নেতৃত্বে ছিলেন তারাই এসব দখলসংক্রান্ত কর্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। আবদুল খালেক নামে আমাদের সাবেক সিবিএ নেতা জুট মিলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে কারখানার বহু জায়গা বহিরাগতদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাদের সম্পৃক্ততায় মিল এলাকার প্রায় দশ একর জায়গা বহিরাগতদের হাতে চলে গেছে।
এমন অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বলেন, আমার সময়কালে আমি কোনো জায়গা দখল বা বিক্রি করিনি। সিবিএ নেতা মহাব্বত আলী নিজেই ১২৪ নম্বর দাগে আমিন কোয়ার্টারের সামনে অবৈধভাবে জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন। এছাড়া তিনি মসজিদের জায়গা দখল, ফুটবল খেলার মাঠের পাশে ২০০-৩০০ ঘর বানিয়ে বিক্রি করেছেন। জুট মিলের উত্তর গেটে রাস্তার পাশ গ্যারেজ নির্মাণ করে সেখান থেকে প্রতি মাসে ৬০ হাজার টাকা ভাড়া আয় করছেন। আমিন জুট মিলের জায়গা বেদখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন বলেন, আমিন জুট মিলের অনেক জায়গা বেদখলে রয়েছে এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু প্রশাসন অসহায়। রাজনৈতিক নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রভাবশালীরা এসব দুষ্কর্মে রয়েছে। সিবিএ নেতৃত্বে যারাই আসেন তারাই দখল উৎসবে মেতে উঠেন।

পাকিস্তানে স্কুলে হামলার পর ২ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর

পাকিস্তানের পেশোয়ারের সেনা নিয়ন্ত্রিত স্কুলে তালেবানের হামলায় ১৩২ স্কুলশিক্ষার্থীসহ ১৪৫ জন নিহত হওয়ার পর দেশটিতে মৃত্যুদ- কার্যকরের উপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। এরপর শুক্রবার রাতেই পাকিস্তানে আকিল এবং আরশাদ মেহমুদ নামের দুই বন্দির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। ২০০৯ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদরদপ্তরে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আকিলকে ফাঁসি দেয়া হয়। আর আরশাদের মৃত্যুদ- হয় পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে হত্যা চেষ্টার জন্য। আগামী সপ্তাহে আরও কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে পাঞ্জাব প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুজা খানজাদা বলেছেন, এই মৃত্যুদ- কার্যকরের মাধ্যমে জাতির মনোবল বাড়ব। পাকিস্তানের সেনা প্রধান এপর্যন্ত সন্ত্রাসের সাথে সম্পৃক্ততার দায়ে ৬ জনের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেছেন বলে খবরে জানা গেছে। তবে শাস্তি হিসেবে ফাঁসি কার্যকর করার প্রক্রিয়া পুনরায় ফেরত না আনতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। জাতিসংঘের মুখপাত্র রুপার্ট কোলভিল বলেন, এখন যাদের মৃত্যুদ- কার্যকর করা হচ্ছে, তাদের অপরাধ ভিন্ন। ফলে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে নিরপরাধ ব্যক্তিদেরও ফাঁসি কার্যকর হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। এদিকে, শুক্রবার আফগান সীমান্তের কাছে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েজেঙ্গি তৎপরতায় জড়িত সন্দেহে ৫৯ জনকে হত্যা করার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিশেষ তদন্ত প্রস্তাব নাকচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

সমালোচনার ভয়ে ব্যাংক পরিচালকদের নামে-বেনামে থাকা ঋণের বিষয়ে একটি বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করার প্রস্তাব অনুমোদন করেননি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা। প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত তদন্তের সময় পরিচালকদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ঋণগুলোর ব্যাপারে খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষভাবে শুধু ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের ব্যাপারে কোনো তদন্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিশেষ তদন্ত প্রস্তাব নাকচ : সূত্র জানায়, গত সেপ্টেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলো পরিদর্শনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যাংক পরিদর্শক বিভাগ-১ থেকে পরিচালকদের ঋণের বিষয়ে একটি বিশেষ তদন্ত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিষয়ে তৈরি করা হয় একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনাও। এতে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রান্তিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে একযোগে শুধু পরিচালকদের ঋণের বিষয়ে একটি বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করার কাঠামো ঠিক করা হয়। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য ব্যাংকের কোন পরিচালকের কোন শাখায় ঋণ রয়েছে সেসব তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। তদন্তের মাধ্যমে পরিচালকরা ওইসব ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের অনিয়ম করেছেন তা খুঁজে বের করার কথা। কিন্তু এ প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন করা হয়নি। গভর্নর অন্য নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবটি নাকচ করে দিয়েছেন।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোতে তদন্ত করে। কোনো অভিযোগ পেলে তা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়। এর বাইরে কোনো ইস্যু এলে উপরের নির্দেশে বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উত্তরাঞ্চলের চালের চাতালের ঋণ, পুরনো জাহাজ কেনায় ঋণ, এলটিআর (লোন এগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিপ্ট বা আমদানির জন্য সহজ শর্তের ঋণ), গ্রাহক সেবার অনিয়ম, মানি চেঞ্জারদের অনিয়মের বিষয়সহ আরও নানা বিষয়ে বিশেষ তদন্ত পরিচালনা করেছে। এসব ক্ষেত্রে দুই বা তিন সদস্যের একাধিক পরিদর্শক দল গঠন করে একসঙ্গে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়।
পরিচালকদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ওই ধরনের একটি বিশেষ তদন্ত করতে চেয়েছিলেন। দুই বা তিন সদস্যের একাধিক পরিদর্শক দল গঠন করে একসঙ্গে প্রায় সবগুলো ব্যাংকে এ তদন্ত হতো। প্রস্তাব অনুযায়ী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর- এ তিন মাস ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের কর্মকর্তারা শুধু পরিচালকদের ঋণ নিয়েই তদন্ত করতেন। প্রস্তাবটি নাকচ করায় সেটি আর হল না।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন না হলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের একটি বিশেষ তদন্ত হয়তো হবে। কেননা, একবার যেহেতু এ বিষয়ে একটি নথি উপস্থাপিত হয়েছে, ভবিষ্যতে সময় সুযোগ এলে এটি আবারও উপস্থাপিত হবে। তখন হয়তো এ ধরনের প্রস্তাব আর আটকে রাখা যাবে না।
সমালোচনার ভয় : সূত্র জানায়, ওই প্রস্তাব নাকচ করার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহীরা বলেছেন, শুধু ব্যাংক পরিচালকদের ঋণ নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত করা হলে সমালোচনা হবে। অনেকে মনে করতে পারে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুধু শুধু নিজ থেকেই পরিচালকদের অনিয়ম খুঁজে বের করছে। এতে পরিচালকদের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ক্ষুদ্ধ হবে। এছাড়া ব্যাংক পরিচালকদের একটি বড় অংশেরই সরকারের ওপর মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তারা উচ্চপর্যায় থেকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্ত করে পাওয়া অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। এ কারণে বিশেষ ধরনের তদন্ত না করে নিয়মিতভাবে তদন্তের মাধ্যমে পাওয়া অনিয়মগুলোর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যবস্থা নিলে তা হবে আরও বেশি কার্যকর। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের বিষয়ে বিশেষ তদন্ত করা থেকে বিরত থেকেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, শুধু পরিচালক নয়, যে কোনো বিষয়ে অভিযোগ পেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এখনও নিচ্ছে, ভবিষ্যতেও নেয়া হবে।
পরিচালকদের ঋণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আগে থেকেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতি তিন মাস পরপর ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে পরিচালকদের ঋণের বিষয়ে তথ্য পাঠিয়ে থাকে। ওইগুলো সমন্বয় করে নিয়মিত পরিচালকদের ঋণ তদারকি করা হয়।
সূত্র জানায়, পরিচালকদের প্রভাবে ওপর মহলের চাপের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আসার পরেও বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতির বিরুদ্ধে যথাসময়ে ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। একই ঘটনা ঘটেছে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক জালিয়াতির ক্ষেত্রেও। বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত করার পরেও একই কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
অনিয়মের পাহাড় : সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পরিচালকদের বেআইনি হস্তক্ষেপের মাত্রা ভয়াবহ রকম বেড়ে গেছে। এভাবে তারা ব্যাংক থেকে নিচ্ছে নানা ধরনের বেআইনি সুবিধা- যা একদিকে আমানতকারীদের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সুশাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।
গত কয়েক বছরে ব্যাংকগুলোতে পরিচালকদের হস্তক্ষেপে বেশ কিছু আলোচিত জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কিছু পরিচালকের স্বার্থ-সংশ্লিষ্টতায় সোনালী ব্যাংকে ঘটেছে হলমার্ক কেলেংকারি। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর সরাসরি যোগসাজশে হয়েছে নজিরবিহীন লুটপাট। কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালকদের সংশ্লিষ্টতায় ঘটেছে বিসমিল্লাহ গ্র“পের জালিয়াতি। পরিচালকদের হস্তক্ষেপে গত বছর অগ্রণী ব্যাংকের সিএসআরের টাকা নিয়ে নয়ছয় হয়েছে। প্রাইম ব্যাংক পরিচালকদের স্বার্থে সিএসআরের টাকায় কিনেছে ক্রিকেট ক্লাব। শাহজালাল ব্যাংকে বেনামি ঋণ নিয়ে পরিচালকদের আন্তঃকলহ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। পছন্দের লোককে পরিচালক করা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। ফার্মার্স ব্যাংক পরিচালককে বেআইনি সুবিধা দেয়ায় এমডিকে জরিমানা দিতে হয়েছে। ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংকে পরিচালকদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ঋণের কোনো গতি হয়নি। এবি ব্যাংকে পরিচালকদের হস্তক্ষেপে বেনামি ঋণ দেয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালকের হস্তক্ষেপে গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা আÍসাতের ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরেও পরিচালকরা নিজ ব্যাংকে আমানত রেখে বাড়তি সুদ আদায়, কম সুদে ঋণ নেয়া, নিজস্ব ভবন ব্যাংকের কাছে বাড়তি টাকায় ভাড়া দেয়া, বেনামে ব্যাংকের বিভিন্ন কাজ করে বাড়তি মুনাফা নেয়ার ঘটনাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে উদঘাটিত হয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মাহফুজুর রহমান বলেন, পরিচালকদের ঋণের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিতভাবে তদারকি করা হয়। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাও তদন্ত করে দেখা যায়। এ কারণে বিশেষ আর কোনো তদন্তের প্রয়োজন পড়ে না।
বিএবির প্রতিক্রিয়া : এসব বিষয় নিয়ে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, নতুন নতুন বিধান করে পরিচালকদের বিপাকে ফেলা হচ্ছে। পরিচালকদেরও একটি সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। তাদেরকে টার্গেট করে কিছু করা হলে সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এটি বিব্রতকর। তিনি আরও বলেন, যারা ব্যাংকের পরিচালক তারা প্রত্যেকেই ভালো ব্যবসায়ী হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তিনি পরিচালকদের হস্তক্ষেপে অনিয়মের ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে মন্তব্য করেন।

বেচাকেনায় ধস

বিনিয়োগ স্থবিরতায় নতুন শিল্প হচ্ছে না। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রবণতা। যেসব শিল্প চালু আছে অর্থনৈতিক মন্দায় সেগুলোতেও দেখা দিয়েছে রুগ্ন দশা। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদনমুখী শিল্প উৎপাদন কমাচ্ছে- যা বিরূপ প্রভাব ফেলছে কর্মসংস্থানে। যাদের কর্মের সংস্থান আছে, তাদের অনেকের মাস শেষে বেতনের নিশ্চয়তা নেই। অধিকাংশ ব্যবসায় এখন চরম মন্দা। মার্কেটগুলোতে ক্রেতা নেই। ধস নেমেছে বেচাকেনায়। খাঁ খাঁ করছে ক্রেতাশূন্য দোকানপাট। বিনিয়োগের বড় ক্ষেত্র জমি কেনাবেচাও থমকে আছে। দীর্ঘদিন ধরেই সারা দেশে জমির দাম পড়তির দিকে। তারপরও ক্রেতা নেই। আবাসন খাতেও স্থবিরতা। শেয়ারবাজারে মন্দা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। কোথাও আশার আলো নেই। সর্বত্রই হতাশা। মন্ত্রী-আমলাদের আশ্বাস, প্রবৃদ্ধির দাবি- কাগজে-কলমেই, বাস্তবের সঙ্গে তার মিল নেই। নিত্যপণ্যমূল্য বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত কমছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে চাহিদার অতিরিক্ত বা ভোগ্যপণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। একেবারে জরুরি চাহিদার পণ্যটি ছাড়া তারা বাজারমুখী হচ্ছেন না। এসবের প্রভাবে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে, শিল্প উৎপাদনে মন্দা দিন দিনই প্রকট হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বেচাকেনায় মন্দা চলছে। সংগঠিতভাবে ব্যবসায়ীরা কেউ মুখ খুলছেন না। তারা এর নাম দিয়েছেন ‘নীরব মন্দা’। তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে দেশের ব্যবসায়ীদের ভালো থাকার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আস্থাহীনতার কারণে দীর্ঘসময় ধরেই ভালো যাচ্ছে না তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য। এটি দৃশ্যমান না হলেও প্রকৃত চিত্র হচ্ছে, সার্বিক ব্যবসায়িক পরিস্থিতি স্মরণকালের মধ্যে ভয়াবহ নীরব মন্দায় আক্রান্ত। এই অবস্থা বেশি দিন চলতে থাকলে মন্দার প্রকাশ্য রূপটা বেরিয়ে পড়বে। তার আগেই এর সমাধান দরকার।
সূত্র জানায়, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৪ দশমিক ৭৫ শতাংশই আসে ব্যবসা খাত থেকে। পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, হোটেল-রেস্তোরাঁ, শিল্প, নির্মাণ, রিয়েল এস্টেট, ভাড়া ও অন্যান্য ব্যবসায়িক খাত এই অংশের জোগান দেয়। কিন্তু এ খাতেই চলছে চরম সংকট। পরিকল্পনা কমিশন তথ্য দিয়েছে দেশে মাথাপিছু আয় ১১৯৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মাথাপিছু ওই আয় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, আয় যেটুকু বেড়েছে মূল্যস্ফীতি তা খেয়ে ফেলছে। আর মাথাপিছু আয়ের একটি বড় অংশই যাচ্ছে ধনীদের পকেটে।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইএর তথ্য মতে, ব্যবসায়িক খাতে ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটি ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হবে ২৫ লাখের বেশি। সার্বিক পরিস্থিতি মন্দা হওয়ায় জনগোষ্ঠীর বড় এ অংশটির এখন ত্রিশঙ্কু দশা। এর নেপথ্যের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনায় একদিকে উপর্যুপরি ট্যাক্স, শুল্ক ও ভ্যাটের বোঝা, অন্যদিকে পুঁজি বিনিয়োগে নেয়া ব্যাংক ঋণের চড়া সুদ ও গলাকাটা সার্ভিস চার্জ প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরাচ্ছে ব্যবসার। সেই সঙ্গে সেবা উপকরণের দাম বৃদ্ধি, পরিবহনে দীর্ঘসূত্রতা আর ঘাটে ঘাটে উপরি খরচও ব্যবসার আয়কে সংকুচিত করে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, মন্দা সত্ত্বেও বিক্রির আশায় ব্যবসায়ীরা দোকানের পসরা খুলে বসছেন ঠিকই। কিন্তু আয়-ব্যয়ের খাতায় হিসাব মেলাতে গিয়েই বাধছে যত গণ্ডগোল। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায় নতুন পুঁজি খাটানো দূরের কথা, অনেকে পুরনো পুঁজি ভেঙে ব্যবসা সংকুচিত করে আনছেন। কেউ আবার চলমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখবেন কিনা তা নিয়েও ভুগছেন সিদ্ধান্তহীনতায়। যারা সুদিনের অপেক্ষায় কোনো মতে ব্যবসাটি আঁকড়ে ধরে আছেন, তাদের অনেককেই ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযমী কৌশল বেছে নিতে হয়েছে। এর ফলে অনেক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানকেই ছাঁটাই করতে হয়েছে দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মীদের।
সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল, রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বর্তমান ব্যবসা-বাণিজ্যের এসব চিত্র উঠে এসেছে।
মানুষের চাহিদা বাড়াতে হলে আয় বাড়াতে হবে- মন্তব্য করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, আয় বাড়াতে হলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এর জন্য দেশে বেকারের চেয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে হবে বেশি। তাহলে ভোক্তারা কর্ম পরিবর্তন করে প্রতিযোগিতামূলক আয়ের পথে এগোতে পারবে। কিন্তু সেই সুযোগ কম হওয়ায় তাদের আয় বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে মানুষের ভোগব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসার পরিবেশ কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য যতোটা খারাপ দাবি করা হচ্ছে আসলে ততোটা নয়।
তবে এফবিসিসিআইএর আরেক সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পূর্ব শর্ত হচ্ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকলে ব্যবসায় বিনিয়োগে আস্থার সংকট তৈরি হয়। মূলত ব্যবসায়ীরা এখন দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সংকটে ভুগছেন।
সরেজমিন খুচরা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের চিত্র : রাজধানীর মগবাজারের ওয়ারলেস গেটসংলগ্ন বিশাল সেন্টার। ৮ ডিসেম্বর, বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার চিত্র। এ মার্কেটের ২০টি দোকানের কোনোটিতেই নেই ক্রেতা। দোকানের কর্মচারীরা ডিসপ্লে সাজিয়ে বসেছেন ঠিকই। কিন্তু ক্রেতার দেখা না মেলায় অনেককেই এ দোকান থেকে সে দোকানে পায়চারী করতে দেখা গেছে।
কথা হয় প্রিয়া ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের একাধিক বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে। বেচাবিক্রি কেমন- প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে একজন বলে ওঠেন, নিজের চোখেই তো দেখলেন। এরপর আর কি বলব। মানুষের চাহিদা কমে গেছে, না কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছে বলা মুশকিল। শুধু জানি মালিকের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না।
রাজধানীর মৌচাকে অবস্থিত বিলাসবহুল ফরচুন সুপার মার্কেট। মেইন রোড-সংলগ্ন এক্সেলেটরসমৃদ্ধ সুপরিসর এই মার্কেটেও ক্রেতার দেখা নেই। এটি গত ৮ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা ১টার চিত্র। এই মার্কেটে চারটি ফ্লোরে প্রায় ৪৫০টি দোকান রয়েছে। টপফ্লোরে ফুড আইটেমের কয়েকটি দোকানে স্কুল-কলেজ পড়–য়া কিছু শিক্ষার্থীকে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। এছাড়া এ মার্কেটের হাতেগোনা দু-একটি ছাড়া অধিকাংশ দোকানই ছিল ক্রেতাশূন্য। দোকানিরা জানান, এভাবেই চলছে এ মার্কেটের বেচাকেনা।
জানতে চাইলে মার্কেটের দোতলায় অবস্থিত শাড়ির বাজারের ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিকী জানান, স্মরণকালের ভয়াবহ মন্দা যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। কিন্তু কেউ বলছে, কেউ বলছে না। বাস্তবতা হচ্ছে ব্যবসার পরিস্থিতি দিন দিন খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। ফলে ব্যয় কমাতে এরই মধ্যে ৫ জন কর্মচারী থেকে ২ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগে যেখানে প্রতি মাসের বিক্রি ৭ থেকে ৮ লাখ টাকায় ওঠানামা করত, সেখানে তা কমতে কমতে নভেম্বর মাসজুড়ে তা নেমে এসেছে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মধ্যে। তার আগের মাসের বিক্রি মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অথচ দোকানে প্রতিদিন খরচই আছে ৪ হাজার টাকা। ফলে প্রতি মাসেই লোকসান হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি শুধু আমাদের দোকানের নয়, এ মার্কেটের প্রায় সবার অবস্থাই এক।
এরপরের গন্তব্য ছিল রাজধানীর মৌচাক, আনারকলি ও সেন্টার পয়েন্ট মার্কেট। এর মধ্যে মৌচাকে বেশকিছু ক্রেতার আনাগোনা চোখে পড়লেও বেশিরভাগ ক্রেতাকেই দেখা গেছে সিজনাল পণ্যের দোকানে। অর্থাৎ শীতের পোশাকের দোকানেই ছিল ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। জুয়েলারি, কসমেটিক্স, ইমিটেশন, জুতা, সাধারণ পোশাক, শাড়ির দোকান, ক্রোকারিজ কিংবা অন্যান্য দোকানে ক্রেতার দেখা মিলেছে কদাচিৎ।
জানতে চাইলে আনারকলি সুপার মার্কেটের প্রোপ্রাইটার সিরামিক পণ্য বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, মানুষ আগে নিত্যপণ্যের চাহিদা পূরণ করে। তারপর উদ্বৃত্ত থাকলে শৌখিন পণ্য কেনায় আগ্রহ দেখায়। বছর দেড়েকের বেশি হবে এ ব্যবসায় মন্দা চলছে। আগে যেখানে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা মাসে বিক্রি হতো। এখন তা নেমে এসেছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায়। আগে কর্মচারী রেখেছিলাম তিনজন। এখন খরচ বাঁচাতে একজনকে বাদ দিয়ে ছোট ভাইকেও ব্যবসায় আনতে হয়েছে।
বেলা ২টায় গন্তব্য কনকর্ড টুইন টাওয়ার মার্কেটে। ঘণ্টাব্যাপী এ মার্কেটে অবস্থান করে দেখা যায়, ফরচুন কিংবা বিশাল সেন্টারের মতোই অবস্থা এ মার্কেটেও। এখানকার সাড়ে ৪০০ দোকানের মধ্যে ক্রেতার উপস্থিতি দেখা গেছে হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে।
বিক্রেতাদের দাবি, দেশে ব্যবসার পরিস্থিতি এখন সিজনাল বা মৌসুমভিত্তিক হয়ে পড়েছে। সারা বছর ব্যবসার স্থিতিশীলতা আর দেখা যাচ্ছে না। এ চিত্র শুধু মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, শান্তিনগরে সীমাবদ্ধ নয়। নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর, মহাখালী, টিকাটুলী, উত্তরা, গুলশান, বারিধারায় অবস্থিত সব মার্কেট ও শপিংমলেই অভিন্ন পরিস্থিতি। বেচাকেনায় এখন ভয়াবহ মন্দা চলছে। এ মন্দা থেকে রেহাই পাচ্ছে না ফুটপাতের ব্যবসাও। আবার এটি শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। সারা দেশেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। আয়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের খরচ, শিক্ষা ও চিকিৎসায় ব্যয় বেড়ে যাওয়া মানুষ অযাচিত খরচ কমিয়ে দিচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেইন বলেন, সুষ্ঠু ব্যবসায়িক পরিবেশ ছাড়া ব্যবসার প্রসার হবে না। আস্থার সংকট দূর না হলে বিনিয়োগ বাড়বে না। অলস টাকা মোভিলাইজড না হলে অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে না।
আসবাবপত্র : অর্থনৈতিক মন্দায় দেশের আসবাবপত্র শিল্পেও মন্দা নেমে এসেছ। ভয়ানকভাবে কমে গেছে আসবাবপত্র বিক্রির পরিমাণ। আগে যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন শাখা খুলত, এখন উল্টো আগের শাখাগুলোই বন্ধ করার উপক্রম হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দ্বীন টিম্বার ইন্ডাস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. শামসুল হক জানান, দেশের অর্থনীতিতে নীরব মন্দা চলছে। এ মন্দার কবল থেকে কোনো ব্যবসায়ীই বাদ যাচ্ছে না। বছর বছর বাড়ছে ভ্যাট, ট্যাক্স ও শুল্কের বোঝা। সেই সঙ্গে উপর্যুপরি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও প্রযুক্তি সেবার মূল্যবৃদ্ধি এবং কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির কারণে ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে, মুনাফা কমে গেছে। তিনি দাবি করেন, বড় ব্যবসায়ীরা কোনো মতে টিকে থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি পুঁজির ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি নাজুক।
আবাসন খাত : সবচেয়ে নাজুক আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের অবস্থা। বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় হাজার-হাজার ফ্ল্যাট বানিয়ে রাখলেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব তৈরি ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এগুলো বিক্রিও হচ্ছে কম। এদিকে তৈরি ফ্ল্যাটের বিপরীতে ব্যাংক ঋণ থাকায় ঋণের অংক বেড়ে গিয়ে উদ্যোক্তার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্লটের ব্যবসায়ও দারুণ মন্দা। এ পরিস্থিতিতে প্লট কিংবা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে না পারায় আবাসন খাতের কোম্পানিগুলোর আয় কমে গেছে। ফলে ব্যয় কমাতে তারা প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মী ছাঁটাইয়ে বাধ্য হচ্ছে। চলমান মন্দায় ছোটখাটো আবাসন প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতির স্বীকার হলেও বড় বড় কোম্পানিগুলোতেও এর ধাক্কা লেগেছে।
বর্তমানে আবাসন শিল্পের সঙ্গে সংশিষ্ট আনুষঙ্গিক ২৬৯টি খাতের বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে। এই শিল্পে বরং আগের নিয়োগ দেয়া জনবলই ছাঁটাই করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বড় আবাসন কোম্পানির মালিক বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে আগে ২৫ জন প্রকৌশলী কাজ করতেন। এখন আছেন ১১ জন। তাদেরও বিশেষ কোনো কাজ নেই। কারণ এখন কেবল একটি প্রকল্প চলছে। তিনি আরও বলেন, বছর পাঁচেক আগেও প্রতি বছর আমরা বিজ্ঞাপন দিয়ে কর্মী নিয়োগ দিতাম। এ ছাড়া বিভিন্নজনের অনুরোধে অনেককে নিয়োগ দেয়া হতো। কিন্তু এখন ছাঁটাই করতে হচ্ছে।
সুপারশপ ব্যবসায় ধস : ১৩ বছরে ৬টি প্রতিষ্ঠান সুপারশপ ব্যবসায় এসেছে। ৩০ জন উদ্যোক্তা মিলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছেন। দেশের মোট খুচরা ব্যবসায় এর হিস্যা মাত্র ২ শতাংশ। এক ডজনের বেশি আউটলেট রয়েছে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের। জোরেশোরে শুরু করেও ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার নজির রয়েছে এখানে। বর্তমানে মন্দার কারণে ব্যবসাটি ছেড়ে দেয়ার কথাও ভাবছেন কেউ কেউ।
জানা গেছে, সুপারশপ ‘স্বপ্ন’-তে পুঁজি বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছে এসিআই। প্রতিষ্ঠানের ঋণের কিস্তি পরিশোধে এসিআই গ্র“পের মুনাফার একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে গ্র“পের সার্বিক মুনাফায়। ব্যবসায়িক সংকটে রয়েছে আরেক সুপারশপ নন্দন। পাঁচটি আউটলেটের মধ্যে ধানমণ্ডির একটিই কেবল চালু আছে। বাকি সব আউটলেটই এখন বন্ধ।
সুপারশপ ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ শিল্পের শুরুতেই বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হয়। পছন্দের জায়গায় ভবন ভাড়া নিয়ে বা ক্রয় করে এ ব্যবসা শুরু করা খুবই ব্যয়বহুল। পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে তাদের বড় অঙ্কের শুল্ক দিতে হচ্ছে। আর পণ্য বিক্রির ওপর ২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করেছে সরকার। বিনিয়োগের তুলনায় মুনাফাও কম। বিনিয়োগের রিটার্ন পেতে অনেক সময় লাগে।

কোনো দলকে ক্ষমতায় বসাতে কাজ করে না যুক্তরাষ্ট্র : মজিনা

বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে কাজ করে না। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছে- প্রচলিত এ ধারণার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশে তিন বছর দাায়িত্ব পালনশেষে বিদায়ের প্রাক্বালে আজ শনিবার গুলশানের আমেরিকান ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বক্তব্য দেন। যুক্তরাষ্ট্র ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর এমন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বিদায়ী সাক্ষাত হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এ সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই। মার্কিন এ রাষ্ট্রদূত রোববার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবেন। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সাথে বিদায়ী সাক্ষাত হলেও প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত হয়নি। মজিনা বলেন, বাংলাদেশের সামনে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনের শাসনের অভাব। তিনি বলেন, তিন বছর দাায়িত্ব পালনকালে তার সবচেয়ে বড় অর্জন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা, সামরিক ও অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠান ও টিকফা চুক্তি সই।