Wednesday, October 8, 2014

বিমানবন্দর ঘেরাওয়ের হুমকি ফয়জুল্লাহর

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুতে বিমানবন্দর ঘেরাও এবং হরতাল কর্মসূচি দিয়ে সারা দেশ অচলের হুমকি দিয়েছেন।
তিনি বুধবার দলের লালবাগ কার্যালয়ে বাদ যোহর এক সভায় এ হুমকি দেন। সভা থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়।

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, মুরতাদ আব্দুল সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজন ইসলাম, মহানবী (সা.), হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিষোদগার করেই চলেছেন। অথচ সরকার তাদের ব্যাপারে নির্বিকার।
তিনি বলেন, ‘নাস্তিক্যবাদীদের এসব ঘৃণ্য অপকর্ম ও অমার্জনীয় ধৃষ্টতার বিচার আল্লাহর জমিনে হবেই। আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তার দুনিয়ায় কেউ থাকতে পারবে না।’
মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসির বিকল্প নেই। সরকার শরীয়তের বিধান অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর না করে, তবে আল্লাহ ও রাসূল প্রেমিক জনতা সরকারকে ছেড়ে দেবে না।’
তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাইলে এবং সরকার তাকে প্রশ্রয় দিলে বিমানবন্দর ঘেরাও, হরতালসহ ‘সব অচল’ কর্মসূচি দিয়ে গোটা দেশ অচল করে দেওয়া হবে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি তৈয়্যেব হোসাইন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিম উদ্দীন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল, মাওলানা শেখ লুকমান হোসাইন, মাওলানা সালমান, মাওলানা রিয়াজতুল্লাহ, মাওলানা ইসহাক প্রমুখ।

আইএস নিয়ে তুরস্কে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, নিহত ১৪

সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তৃত এলাকা দখলে রাখা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তুরস্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।
এ বিক্ষোভে সরকারি বাহিনীর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। আটজন পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে ৩০ জন এবং শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রোসেফ তাইয়েপ এরদোগান সতর্ক করে মঙ্গলবার বলেন, সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোবানি আইএস যোদ্ধাদের হাতে চলে গেছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী সেখানে ব্যর্থ হয়েছে।
তার এ বক্তব্যের পর মঙ্গলবার রাতে তুরস্কের কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তুরস্কের পদক্ষেপের প্রতিবাদে কুর্দিরা রাস্তায় নেমে আসে। ক্রমান্বয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে বাধা না দিলেও এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের নিবৃত করার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা সড়কে আগুন জ্বেলে প্রতিবাদ ও গাড়িতে ভাঙচুর করতে থাকে এবং পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে।
এক পর্যায়ে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ জলকমান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। আর শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ।
তুরস্কের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে কোবানি শহরে আইএস জঙ্গিদের ওপর হামলা করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাতে থাকে।
এই বিক্ষোভ দেশটির রাজধানী আঙ্কারা এবং সবচেয়ে বড় শহর ইস্তাম্বুলেও ছড়িয়ে পড়ে। আর এই দুটি শহর থেকেই শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। এখানে সংঘর্ষে আট পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হয় বলে বুধবার সকালে সরকারি তরফে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় কুর্দি অধ্যুষিত শহর দিয়ারবাকিরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়। সংঘর্ষের সময় পূর্বাঞ্চলের মাস- এর ভার্তো শহরে ২৫ বছর বয়সী একজন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম খবর দিয়েছে।
আর দুজন মারা গেছে দক্ষিণাঞ্চলের সিরতে প্রদেশে এবং আরো একজন মারা গেছে পার্শ্ববর্তী ব্যাটম্যানে।
এছাড়া কর্তৃপক্ষ দিয়ারবাকির, সিরতে এবং ভ্যানসহ ছয়টি শহরে কারফিউ জারি করেছে। এসব এলাকায় সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী কোবানিতে আইএস ঢুকে পড়ায় বিক্ষোভ করে।
এর আগে ১ অক্টোবর সংসদে এরদোগান ভাষণে বলেন, তুরস্ক আইএসসহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এ সময় তিনি প্রয়োজনে ইরাক এবং সিরিয়াতে আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব করেন।
এরদোগান বলেন, ‘আমরা আইএস এবং অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে কার্যকরি যুদ্ধেই রয়েছি। এ অঞ্চলের নিরাপত্তাই সব সময় আমাদের অগ্রাধিকার।’
উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আযহার দিন থেকে কোবানি দখলে এসে আইএস যোদ্ধারা বাধার সম্মুখীন হয়। এ সময় পথে পথে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়। সোমবার রাতভর লড়াই শেষে তারা মঙ্গলবার ভোরে কোবানিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
কোবানির দখল নিলেও এখনো থেমে থেমে কুর্দি এবং সিরীয় পুলিশের সঙ্গে আইএস যোদ্ধাদের সংঘর্ষ হচ্ছে।
কোবানি দখল করার ফলে আইএস যোদ্ধারা এখন সিরিয়া এবং তুরস্কের সীমান্তের শক্ত নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হবে। ইতোমধ্যে দুই লাখ লোক কোবানি থেকে তুরস্ক এবং পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে।
এদিকে, আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সর্বশেষ শান্তিপ্রিয় কানাডা যোগ দিয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে ভোটাভুটিতে আইএস জঙ্গিদের ওপর বিমান হামলার পক্ষে ভোট পড়ে। হোয়াইট হাউস কানাডার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা, আলআহরাম

ভারতে মুসলমানের উপর হিন্দুদের কি নির্মম অত্যাচার দেখুন... সহ্য করা যায়?

আপডেট -৮ অকটোবর ২০১৪
মাত্র ২ দিন আগে শেষ হল হিন্দুদের বৃহৎ উৎসব দুর্গা পুজা কিন্তু বাংলাদেশ এর কোথাও কোন বাধা দেয়া হল না কিন্তু এ দৃশ্য দেখে চোখের জল আটকাতে পারলাম না ...
ভারতে কুরবানির গোস্ত দেখায় এক মুসলমানের উপর হিন্দুদের কি নির্মম অত্যাচার দেখুন। সহ্য করা যায় ?
এখন কোন মানবাধিকার, মানবতা নাই...
এখন মিডিয়া এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করবেনা।
এদেশে হিন্দুরা মুসলমানের থেকেও ভালো থাকে আর ভারতে মুসলমান প্রতি পদে পদে নির্যাতিত

ইয়াবা সেবনে এগিয়ে শিক্ষার্থীরা

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ইয়াবা সেবনকারীর সংখ্যা। তবে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যেই ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা বেশি। তুলনামূলক সহজলভ্য হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম নিছক আড্ডার ছলেই জড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা এই মাদকের জালে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষিতে ব্যবসার নেটওয়ার্ক বদলাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
ইয়াবাসহ সব ধরণের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ঢাবি, জাবি, জবি ও ইডেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভাবে জড়িয়ে পড়ছে এ নেশায়। ফলে ক্রমেই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ভবিষৎ প্রজন্ম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছরই আশংকাজনকভাবে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে আটক করা ইয়াবার পরিমানও।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইয়াবার বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে এর রুট হিসেবে পরিচিত মায়ানমার-কক্সবাজার বদলে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যসংলগ্ন বাংলাদেশী সীমান্ত ব্যবহার করা হচ্ছে।
ডিএমপি ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিনিয়ত যেভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা শহরে প্রবেশ করে তার মধ্যে থেকে মাদকের সকল চালান ধরা আসলে কঠিন ব্যাপার। আমরা যখন মাদক আমদানিকারকদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠাই, তারা যেন সেখান থেকে জামিন পেয়ে বেরিয়ে না যেতে পারে আমরা সেটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করি।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আমির হোসেন বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি প্রতিনিয়ত মাদকের বড় বড় রুটগুলো বের করে অভিযান পরিচালনা করেন কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীরা আরও সুচতুর। তারাও নিয়মিত রুট পরিবর্তন করে।
মাদকসেবীদের পুনর্বাসনে কাজ করে এমন একটি সংগঠনের কর্মকর্তারা জানালেন, ইয়াবার সহজলভ্যতার কারণে সেবনকারীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
ক্রিয়া পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ১০০জনের মধ্যে ৮০ জনকেই ইয়াবা সেবী হিসেবে পাচ্ছি। আর মেয়েদের মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে এটি ছড়িয়ে গেছে। এমনটি স্বামী-স্ত্রী মিলেও মাদকসেবী হয়ে উঠছে। এখন এটি উচ্চবিত্ত থেকে সকল স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।’
সর্বনাশা এই মাদকের কবল থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে সরকারের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে এখনি সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিএনপির আন্দোলন প্রেস রিলিজ-ভাষণে সীমাবদ্ধ: ওবায়দুল

বিএনপির আন্দোলন প্রেস রিলিজ ও ভাষণে সীমাবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনের ঘোষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রমজানের ঈদের পরও তারা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিল। বিএনপির আন্দোলন প্রেস রিলিজ ও ভাষণে সীমাবদ্ধ।’
আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের বালুছড়ায় বিআরটিএর কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে তারা (বিএনপি) বাকশিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। প্রেস রিলিজ আর ভাষণ ছাড়া জাতিকে তারা কিছুই দিতে পারেনি। এবারও তারা কিছুই দিতে পারবে না। তাদের আন্দোলন প্রেস রিলিজ আর ভাষণে সীমাবদ্ধ থাকবে। জনসমর্থন পাবে বলে বিশ্বাস করি না।’
সাংবাদিকেরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৪টি বাইপাস সড়কের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া করা যাবে।

সিএনজি অটোরিকশার লাইসেন্স বন্ধ প্রসঙ্গে
চট্টগ্রামে নতুন করে চার হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়ার নামে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আছে, পুরোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আসা পর্যন্ত নতুন লাইসেন্স দেওয়া হবে না।’
মন্ত্রী জানান, নতুন অনুমোদনের কথা বলে অনেকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে বিআরটিএর সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলামকে ক্লোজ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে।

বিলবোর্ড সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ
চট্টগ্রাম নগরে অবৈধ বিলবোর্ড ব্যবসার সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জড়িত অভিযোগ করে সিন্ডিকেটটির বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।
মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় কোনো কারণে বিষণ্ন হলে আমি চট্টগ্রামে আসি সেই ছাত্রজীবন থেকেই। কিন্তু এখন বিলবোর্ডের কারণে আকাশ, নদী, পাহাড়, প্রকৃতি, বৃষ্টি কিছুই দেখতে পারি না, মর্মাহত হলাম। এবার এসে দেখলাম, বিলবোর্ড আরও বেড়েছে।’
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে কয়েক হাজার অবৈধ বিলবোর্ড আছে। একটি চক্র সক্রিয়। মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে যে কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগে ওএসডি হয়েছিলেন, তিনি কী করে আবার বিলবোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন?’
ওই কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট আছে। সরকার বিলবোর্ডে রাজস্ব পায় মাত্র আড়াই কোটি টাকা। আর ওই সিন্ডিকেট প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা আয় করে। এ বিষয়ে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।’
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে দুর্গাপূজা ও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিলবোর্ডে লাগানো ব্যানারের বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘অনুমোদন না নিয়ে লাগালে অবশ্যই অবৈধ। আমি জানতাম না। যেহেতু অভিযোগ এসেছে, তাঁর (সিএমপি কমিশনার) সাথে আলাপ করব।’

নগ্ন ছবি নিয়ে মুখ খুললেন জেনিফার লরেন্স

নগ্ন ছবি প্রকাশ করায় প্রচ- ক্ষেপেছেন অস্কার পুরস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স। সম্প্রতি তিনি সহ সেলিব্রেটি জগতের বেশ কিছু তারকার নগ্ন ছবি ফাঁস করে দেয় হ্যাকাররা। এ ঘটনায় জেনিফার এতদিন চুপ থাকার পর নীরবতা ভেঙেছেন। তিনি এ ঘটনাকে ‘সেক্স ক্রাইম’ বা যৌন অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।  শীর্ষ স্থানীয় একটিট ম্যাগাজিনকে ২৪ বসন্তের এই নায়িকা এক সাক্ষাতকারে তার ্এই ক্ষোভের কথা জানান। এতে তিনি বলেন, এটা আমার শরীর। এটা আমার সম্পদ। তাই আমার শরীর নিয়ে কি করব তা নির্ধারণ ক্ষমতার অধিকার শুধু আমার। কেউ যদি আমার মতের সঙ্গে একমত না হন তাহলে বলবো এটা একেবারেই বেমানান একটি বিষয়। ‘দ্য হান্টার গেমস’ খ্যাত এই অভিনেত্রী আরও বলেন, আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারি না যে, এমন দুনিয়ায় কিভাবে আমরা বসবাস করব। নগ্ন ছবি ফাঁসের ঘটনা একটি স্ক্যান্ডাল নয়। বরং এটা যৌন জীবনের যে অধিকার তার লঙ্ঘন। ভার্চুয়াল বিশ্বকে শাসন করে এমন আইনের পরিবর্তন চান এখন জেনিফার লরেন্স। তিনি বলেন, কেউ কেউ যৌন জীবনে বখে যেতে পারে, নিয়মের লঙ্ঘন করতে পারে। তাই আমি মনে করি আমি চাই এক্ষেত্রে আইনের ব্যত্যয় ঘটুক।

আফগানিস্তানে ৫ ধর্ষকের ফাঁসি আজ

মানবাধিকার গ্রুপগুলো আফগানিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদ- পাওয়া ৫ আসামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। আজ কোন এক সময় ওই ৫ ধর্ষকের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। আগস্ট মাসে একটিট বিয়ে থেকে ফেরার পথে পাগমান শহরে চার নারীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় অভিযুক্ত ৫ ব্যক্তি। এ নিয়ে মামলা হওয়ার পর আদালত তাদেরকে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- দেয়। সেই মৃত্যুদ- আজ কার্যকর হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছেছ, এ নিয়ে যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে তাতে অনেকটা ব্যত্যয় ঘটেছে। রয়েছে সাক্ষ্য প্রমাণের অভাব। অভিযুক্তদের শক্তি প্রয়োগ করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। ধর্ষণের এ ঘটনাটি তখন আফগানিস্তানে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। মিডিয়ায় ব্যাপক আকারে লেখালেখি হয়। আজ ধর্ষকদের ফাঁসি কার্যকর করার কথা থাকলেও এটর্নি জেনারেল আত্তা মোহাম্মদ নূরী বলেছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্তও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে। ওদিকে মানবাধিকার বিষয়ক আরেক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সব ধরণের মৃত্যুদ- বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, এ বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবে। তাই প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির উটিত এ ধরণের মৃত্যুদ- রহিত করা। অবিলম্বে সব ধরনের মৃত্যুদ- রহিত করতে একটি ডিক্রি জারি করতে হবে। এটা হবে মৃত্যুদ- বাতিল করার প্রথম পদক্ষেপ। একই ভাভে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে এ মামলাটির নিরপেক্ষ পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে। এ মামলার বিচার শুরুর আগেই আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সুপ্রিম কোর্টের কাছে অভিযুক্তদের ফাঁসি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি নতুন প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব বুঝে দেয়ার আগে এই মৃত্যুদ-ের রায়ে সই করেছেন।

অ্যাপেল-জনকের জীবনের আটটি নীতি

আই ফোনের নবতম সংস্করণ ইতিমধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে বিশ্ব বাজারে। আর এ বছরই অ্যাপলের সৃষ্টিকর্তা স্টিভ জোবস-এর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি যে জিনিয়াস ছিলেন এ নিয়ে নতুন করে কোনো কথা বলার প্রয়োজনই পড়ে না। কিন্তু এই উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছানোর জন্যে কিছু নীতি মেনে চলতেন তিনি। কী ছিল তার ম্যাজিক ফর্মুলা?

ক্স    ভবিষ্যৎকে দেখার ক্ষমতা থাকা উচিত

বর্তমানের মাটিতে পা-কে শক্ত করে টিকিয়ে রেখে ভবিষ্যতের আকাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আর এক নাম স্টিভ জোবস। তার মতে আমরা যদি ভবিষ্যৎকে আগাম চিনতে না-শিখি তাহলে কোনও দিনই কোনও মহৎ আবিষ্কার করা সম্ভব হবে না।
ক্স    পজিটিভ থাকার চেষ্টা করুন
জীবনে যতই কঠিন পরিস্থিতি আসুক না কেন, মনের জোর হারালে কখনোই সাফল্য আসবে না।
ক্স    শেখার কোনো  শেষ নেই
জীবনে জানার ইচ্ছে চলে গেলে তা মৃত্যুরই সমান। যেখানে যা ভালো, তা শিখে নিতে পারলে কবে কখন তা কাজে এসে যাবে আগাম বলা যায় না।
ক্স    ভ্রমণ সমৃদ্ধ করে
হ্যাঁ, ঠিক এমনটাই বিশ্বাস করতেন স্টিভ জোবস। তার মতে ভ্রমণ মানুষের চিন্তা ভাবনার পরিধি বাড়াতে সাহায্য করে। মানুষকে সমৃদ্ধ করে। অ্যাপেল লঞ্চ করার আগে জোবস ভারত ভ্রমণে এসেছিলেন। জীবনে তিনি কী করতে চান, শুধু এই প্রশ্নের খোঁজই তাকে টেনে এনেছিল ভারতে।
ক্স    ভালো মানুষের সংস্পর্শে থাকুন
ভালো সঙ্গের প্রভাব আমাদের জীবনকে আরো সুন্দর করে তুলতে বাধ্য। ঠিক এই কারণেই স্টিভ এমন মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন যাঁদের। সান্নিধ্য তাকে আরও সমৃদ্ধ করত।
ক্স    ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করুন
হ্যাঁ, জীবনে ব্যর্থ না হলে সাফল্যের স্বাদ পাওয়া যায় না। তবে সেই ব্যর্থতাকে নিজের খামতি মনে না করে, তাকে নিজের শক্তি বানিয়ে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। আর ঠিক এভাবেই সাফল্যে পেয়েছেন স্টিভ জোবসও।
ক্স    কাজের প্রতি ভালোবাসা
ভালোবেসে কাজ করলে সেই কাজে সাফল্য আসতে বাধ্য। এই মন্ত্রই আজীবন বিশ্বাস করে এসেছেন স্টিভ জোবস।
ক্স    ঝুঁকি নিতে শিখুন
ঝুঁকি নিতে না জানলে কোনোদিন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার মানসিক জোর থাকলে তবেই কোনো মহৎ কিছু করা সম্ভব জীবনে।

ভারতীয় হামলায় পাকিস্তানে নিহত ১৫, ৩৭টি চৌকি আক্রান্ত

জম্মু সীমান্তে ভারতীয় হামলায় ১৫ জন নিহত এবং ৩৭টি পাকিস্তানি চৌকি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তানের অব্যাহত আক্রমণের মুখে ভারত এই হামলা চালিয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমস মঙ্গলবার রাতে এ খবর প্রকাশ করেছে। তবে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম বা বিবিসির মতো সংবাদমাধ্যমগুলো এত বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়নি। এর আগে এপি জানায়, সোমবার উভয় পক্ষের ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী মঙ্গলবার জম্মুতে ২০০ কিলোমিটার বিস্তৃত আন্তর্জাতিক সীমান্তে (আইবি) ‘ব্যাপক পাল্টা প্রতিশোধ’ গ্রহণ করে। এতে বলা হয়, পাকিস্তান র‌্যাঞ্জার্স ১ অক্টোবর থেকে কোনো ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই হামলা চালাতে থাকে।

এতে বলা হয়, ভারতীয় হামলায় ৩৭টি পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিকে লক্ষ করে হামলা চালায়। এতে প্রায় ১৫ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়। পাকিস্তানি র‌্যাঞ্জার্সের চৌকিগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে গোয়েন্দা সূত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, জম্মু সেক্টরে পাকিস্তানি গুলিবর্ষণে ছয়জন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছে।
অব্যাহত গুলিবিনিময়ের মধ্যে দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও পারস্পরিক অভিযোগের মধ্য দিয়ে তা শেষ হয়।

এদিকে বার্তা সংস্থা এপির খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তানেন ডন পত্রিকা জানিয়েছে, মঙ্গলবার পাকিস্তান-ভারত সীমান্ত গোলাগুলিতে একজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। এর আগে সোমবার ৯ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়।

পাকিস্তান পক্ষ দাবি করেছে, ভারত একতরফাভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানি বাহিনী এখন পর্যন্ত এর জবাব দেয়নি।

ডননিউজকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক তালাত মাসুদ জানিেেছন, কাশ্মীর প্রশ্নে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি অত্যন্ত কঠোর। মনে হচ্ছে, তারা কোনো ধরনের সংলাপ চায় না।

পাকিস্তান ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে অব্যাহতভাবে গুলিবর্ষণের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা অব্যাহত

জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গুলির লড়াই অব্যাহত আছে। ভারি মর্টার হামলা ও গুলি বিনিময় হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীরের জম্মু-সামবা জেলার আন্তর্জাতিক সীমারেখার কাছে এ উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বশেষ পাকিস্তান রেঞ্জারদের গুলিতে কমপক্ষে তিন জন আহত হয়েছে। এর আগে কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রচ- গুলি বিনিময় হয়। এতে উভয়পক্ষে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছে। ভারতে নিহত হয়েছে ৯ জন। পাকিস্তানে নিহত হয়েছে ৫ জন।  ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অরুণ জেটলি পাকিস্তানকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত পূর্ণাঙ্গ জবাব দিতে প্রস্তুত। এর মধ্য দিয়ে দু’দেশের মধ্যে আবার রক্তক্ষয়ী লড়াই শুরু হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ পাচ্ছে। গুলি বিনিময়ের জন্য এক দেশ অন্যদেশের ওপর দায় চাপাচ্ছে। ভারত বলছে, পাকিস্তানি সেনারা উস্কানিমুলক গুলি করেছে। তারা সীমান্ত থেকে ৬ কিলোমিটার ভিতরে গুলি করে হত্যা করেছে সাধারণ বেসামরিক মানুষ। একই রকম বক্তব্য পাকিস্তানের। তবে এ নিয়ে দু’দেশে মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মুসলমানদের পবিত্র ঈদুল আযহার দিনেও এ গুলির লড়াই অব্যাহত ছিল। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, কোন উস্কানি ছাড়াই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ সদস্যরা শিয়ালকোট সীমান্ত এলাকায় গুলি করে। এতে সেখানে কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ জন। সোমবার  গুলিতে নিহত হয়েছে আরও ৪ জন। এর মধ্যে দুটি শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। আইএসপিআর বলেছে, বিএসএফের গুলির জবাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান রেঞ্জারস। এছাড়া ভারতীয় বাহিনী উস্কানি ছাড়াই গুলি করেছে নাইকিয়াল, কেরেলা, কোট কেত্তেরা, হট স্প্রিয় ও জানদ্রোত সেক্টরে গুলি করেছে।  এর আগে রোববার ভারতীয় সেনারা নিয়ন্ত্রণ রেখায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে। কোটলি এলাকায় জানদ্রোত এলাকায় গোলাগুলি শুরু করে। অন্যদিকে ভারতীয় বিএসএফের ইন্সপেক্টর জেনারেল রাকেশ কুমার অভিযোগ করেছেন যে, সীমান্ত থেকে তিন কিলোমিটার ভিতরে আরনিয়া গ্রামে গতকাল সকালের দিকে গুলি করে পাকিস্তানি সেনারা। এতে কমপক্ষে ৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২০ জনের বেশি। ওদিকে এ ঘটনায় পাকিস্তানকে সতর্ক করেছেন অরুণ জেটলি। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের এটা বোঝা উচিত যে, তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তা যে দিকে মোড় নিচ্ছে তাতে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখায় সহায়ক হবে না। পাকিস্তানের এমন পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত ভারত।

‘এবার পুলিশ গুলি চালালে দাঁড়িয়ে থাকবো’ by কাজী সুমন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এখন আর আলোচনা প্রস্তাব নয়, পদত্যাগের দাবি জানাবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  মহাত্মা গান্ধী যেভাবে অহিংস আন্দোলন করে বৃটিশদের হঠিয়েছিল একইভাবে আন্দোলন করে বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে চায় বিএনপি। তবে অহিংস আন্দোলনে যদি পুলিশ গুলি চালায় তাহলে রাজপথে দলের নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে থেকে গুলির জবাব দেবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস। মানবজমিনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর কমিটিকে সুসংগঠিত করার দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে। এই দায়িত্বটা আমাকে না হলে অন্য কাউকে নিতে হতো। তবে মহানগর দীর্ঘদিনের যে বন্ধ্যত্ব রয়েছে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। মহানগরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয় তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের নতুন কমিটি কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, ঢাকা মহানগরের কোন থানা বা ওয়ার্ডে সুসংগঠিত কোন কমিটি নেই। বিভিন্ন থানায় নানা গ্রুপ, দলাদলি কিংবা নতুন করে তৈরি হওয়া কোন্দলে জর্জরিত। আবার যারা অনেকদিন ধরে একই পদে আছেন তারা অবস্থান ছাড়তে চাচ্ছেন না। অথচ তিনি নিজেও কিছু করতে পারছেন না। এ ধরনের কিছু প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই সংগঠন করে এই পর্যায়ে এসেছি। আগে সংগঠনের সম্মেলনের জন্য কোন এলাকার কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করতাম। সেখানে দিনব্যাপী আলোচনা চলতো। ইলেকশন বা সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচিত হতো। কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে, আমরা যেমন রাস্তায় মিছিল করতে পারি না তেমনিভাবে কোন কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করলে সেখানেও পুলিশ বাধা দেয়। যেটা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক। তবে সেসব বাধাও অতিক্রম করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বেঁধে দেয়া দুই মাস সময়ের মধ্যে থানা-ওয়ার্ড কমিটিগুলো করতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করে মহানগর বিএনপির এই আহ্বায়ক বলেন, আমাদের নতুন কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর এক মাস চলে গেছে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে। কালো পতাকা মিছিল, মানববন্ধন, জনসভা, হরতালের মতো বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করেছি। তার ওপর সপ্তায় ৫ দিন আমাদের কোর্টে যেতে হয়। সেই হিসাবে ২ মাস পূর্ণাঙ্গ হয়নি আমাদের। ঘণ্টার হিসাবে এক মাসও হয়নি। তবে ঘণ্টা আর মাস হিসাব করে কমিটি করা যাবে না। সুষ্ঠু, সুন্দর কমিটি করার জন্য আমার যতটুকু সময় প্রয়োজন ততটুকু ব্যয় করবো। তাতে আমি অনেকখানি এগিয়ে গেছি।  মহানগরের গঠিত টিমপ্রধানদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে মির্জা আব্বাস বলেন, আসলে ১৫টা টিম করা হয়নি। কথাটা ছড়িয়ে গেছে। আমিই সব করছি। যাকে আমি এক্সপার্ট মনে করছি তাকে এলাকাগুলোর দায়িত্ব দিচ্ছি। সেই হিসাবে কেউ যদি বাসা বাড়িতে কিংবা নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক আলোচনা সেরে নেন তাহলে তো দোষের কিছু নেই। আমিও তো অফিসে সবার সঙ্গে আলোচনা করছি। মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকার অনুসারীদের সমন্বয় করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি না আমার কোন আলাদা অনুসারী আছে। সাদেক হোসেন খোকারও কোন অনুসারী আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না। তবে তিনি যেহেতু মেয়র ছিলেন তাকে কেন্দ্র করে কিছু লোকের একটি বলয় গড়ে উঠেছিল। সেটা ছিল স্বার্থান্বেষী মহল। এছাড়া আর কোন অনুসারী নেই। সবাই জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের অনুসারী। এবং সবাই বিএনপির রাজনীতি করেন। আন্দোলন সফল করার জন্য কোন সমন্বয় কমিটি করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ২০ দলের তো একটা সমন্বয় কমিটি আছে। এছাড়া বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সমন্বয় কমিটির কোন প্রয়োজন নেই। সবাই তো বিএনপি করেন। সহিংসতার জন্য সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, অতীতে ’৫২ ভাষা আন্দোলন ছিল অহিংস। রাজপথে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যখন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হয়েছিল তখন পুলিশ গুলি চালিয়েছে। সহিংতা করেছিল পুলিশ। একইভাবে আমাদের অহিংস আন্দোলনে পুলিশ সহিংসতা করছে। আমরা কোন রেজিমেন্টাল ফোর্স কিংবা সশস্ত্র দল নই। আমরা সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে রাজপথে অহিংস আন্দোলন করবো। অহিংস আন্দোলনে সরকার পতনের বিষয়ে তিনি বলেন, গান্ধী যদি অহিংস আন্দোলন করে বৃটিশদের হঠাতে পারে তাহলে আমরা পারবো না কেন? আমরাও এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরাতে পারবো।  পুলিশের গুলির ভয় দেখিয়ে যদি এবার বিরোধী জোটের আন্দোলন ঠেকানোর চেষ্টা করে সরকার তাহলে বিএনপির কৌশল কি হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, গত ২৯শে ডিসেম্বরের আগে পুলিশ যা করেছে এবারও তা করবে নিশ্চিতভাবে অনুমান করা যায়। এবারও যদি পুলিশ গুলি করে আমরা রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকবো। আমি দলের নেতাকর্মীদের বলেছি, গুলি ওরা করুক। অহিংস আন্দোলনে পুলিশ যখন সহিংতা করবে তখন সাধারণ মানুষ এর জবাব দেবে। সাধারণ মানুষ যখন দেখবে, আমার ভাই রাস্তায় গুলি খেয়েছে তখন তারা ঘরে বসে থাকবে না। এটা অতীতে বাংলাদেশে কখনও হয়নি।

ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিমের ওপর হামলার প্রতিবাদে লন্ডনে সভা

বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও  ঢাকা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিমের ওপর হামলা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজনে গত সোমবার পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় একটি হলে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদের  পরিচালনায় প্রতিবাদ  সভায়  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীমের স্ত্রী ব্যারিষ্টার মেহরাজ মান্নান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সহসভাপতি আলহাজ্ব তৈমুছ আলী, আখতার হোসেন, তাজুল ইসলাম।
সভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিমের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের দু:শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দেশে বিদেশে তুলে ধরা এবং জিয়া পরিবারের আইনজীবি হবার কারণে তার ওপর এমন নগ্ন হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো এমন একটি সহাবস্থানের দেশে এ ধরণের হামলা দুঃখজনক । অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিমকে অত্যন্ত বিচক্ষণ, সাহসী ও উদীয়মান নেতা উল্লেখ করে মাহিদুর রহমান বলেন,  সরকারের এই হুমকিতে ভয় পাবার পাত্র তিনি নন। দেশে বিদেশে এই স্বৈরাচারী সরকারের দু:শাসনের চিত্র তুলে ধরা অব্যাহত রাখবেন তিনি। ব্রিটিশ ফরেন এন্ড কমনওয়েথ অফিস, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিমের ওপর সরকারের নগ্ন হামলার বিষয়টি তুলে ধরা হবে বলে তিনি জানান। তিনি অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপির সকল স্থরের নেতাকর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। মাহিদুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে, তার আর বেশী দিন ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার সময় নেই। নিজের পিঠ বাঁচাতে অবিলম্বে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, তাজ উদ্দিন, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম হোসেন চৌধুরী নিয়াজ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সেলিম, জাসাস সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, যুবদল নেতা আফজল হোসেন, তরুণ দল নেতা তুরণ মিয়া প্রমুখ। সভায় বক্তারা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিমের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই হামলার মাধ্যমে সরকার স্বৈরাচারী মনোভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। বক্তারা বলেন, অতীতে যেমন দেশের সংকটময় মুহুর্তে প্রবাস থেকে আন্দোলন করা হয়েছে, তেমনি এবারও শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত প্রবাস থেকে তীব্র আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, সরকারের এসব নগ্ন হামলা বন্ধ না হলে বিদেশের মাটিতে সকল মন্ত্রী এমপিদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হবে। বক্তারা হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান। প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন  যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট খলিলুর রহমান, টাওয়ার হ্যামলেটস বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাঈদ আলী রাজন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক শাহীন আহমেদ নাসির ,স্বেচছাসেবক দল নেতা মিছবাহুজ্জামান সোহেল, আবুল হোসেন, জাসাস সভাপতি এম এ সালাম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা শামীম, ব্যবসা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, ব্যারিষ্টার জোহা, জাসাস নেতা বদরুল ইসলাম,আহমেদ চৌধুরী মনি, এস এম লিটন, খলকু মিয়া, আব্দুল হক রাজু, মোতাহের হোসেন লিটন, বিএনপি নেতা সেলিম আহমদ, যুবদল নেতা ময়না মিয়া, দেওয়ান আব্দুল বাছিত, সোয়ালেহীন করিম চৌধুরী, হেভেন খান, তরুণ দল সভাপতি বাছির খান, তরুণ দল নেতা শফরাজ আহমেদ শরফু, আমিনুল ইসলাম আমিন প্রমূখ।

মৃত্যুর পরও জীবনের প্রমাণ মিলেছে বিশ্বের বৃহত্তম সমীক্ষায়

মৃত্যুর পরও জীবন রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মেডিক্যাল সমীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন বৈজ্ঞানিকরা।

ব্রিটেনের বৈজ্ঞানিকদের একটি দল গত চার বছরে ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের উপর এক সমীক্ষা চালায়। তাদের মধ্যে অন্তত ৪০ শতাংশ রোগীই হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ায় ‘মৃত’ বলে ঘোষিত হওয়ার পরও বেঁচে উঠে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথার বেশ খানিকটা অংশ মনে করতে পেরেছেন।
বিশেষজ্ঞরা এত দিন মনে করতেন, হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার অন্তত ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড পর মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তাই মৃত্যুর পর বেঁচে উঠলেও পূর্বজন্মের কথা স্মরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই সমীক্ষা প্রমাণ করে দিল, আনুষ্ঠানিক মৃত্যুর প্রায় মিনিট তিনেক পরও রোগীরা পূর্বজন্মের কথা মনে করতে পারেন।
নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডা: দ্যাম পার্নিয়া বলেন, আমরা জানি যে হৃদস্পন্দ বন্ধ হওয়ার পর মস্তিষ্ক কাজ করতে পারে না। কিন্তু এক্ষেত্রে আমরা দেখেছি ৫৭ বছরের সমাজসেবী সাউদাম্পটনের হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়ার মিনিট তিনেক পরও তিনি তার আগের জীবনের অনেক কথাই হুবহু মনে করতে পেরেছেন। ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়ার মোট ১৫টি হাসপাতালের প্রায় দুই হাজারেরও বেশি রোগীদের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
নয়া এই সমীক্ষা মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে গবেষণায় নয়া দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছে চিকিৎসা মহল।
সূত্র : ওয়েবসাইট।

সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৩ হাজার টন বর্জ্য অপসারণ

আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রথম আলো​কে এই তথ্য জানান। পশুর হাট ছাড়াও রাজধানীর প্রধান সড়ক ও অলিগলি থেকে বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। নগরের মতিঝিল, কমলাপুর, গোপীবাগ বালুর মাঠ, ধোলাইখাল, ধূপখোলা, কারওয়ান বাজার, আগারগাঁও, বনানী-কাকলী প্রভৃতি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সিটি করপোরেশন ছাড়াও অনেক এলাকার বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে বর্জ্য পরিষ্কার করেছেন। আগের বছরগুলোর তুলনায় দুর্গন্ধও কম।

ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বিপন কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত নয় হাজার টনের মতো বর্জ্য অপসারণ করা হয়। সাড়ে পাঁচটার মধ্যে আরও দুই হাজার টনের মতো অপসারিত হয়। তিনি বলেন, মূলত ঈদের আগের দিন রাত থেকেই পশুর হাটগুলোতে বর্জ্য পরিষ্কারের কাজে হাত দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের দিন বেলা দুপুর দুইটা থেকে কাজ শুরু হয়।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান ক্যাপ্টেন রকিব উদ্দন ভূঁইয়া বলেন, মোট বর্জ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থাৎ ১২ হাজার টনের মতো বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
দুই সিটি করপোরেশন থেকেই গতকাল সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম’ উদ্বোধনের সময় ঘোষণা করা হয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ শেষ করা হবে।
রাজধানীর কমলাপুরে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক ইব্রাহীম হোসেন খান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেন। এ সময় করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় জানান, কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাত হাজার কর্মী নিয়োজিত আছেন। পশু কোরবানির জায়গা স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণে ৬০০ ভ্যান সার্ভিস আছে। সেখানে কাজ করছেন দুই হাজার ৪০০ কর্মী। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণকক্ষে ৯৫৫৬০১৪ নম্বরে ফোন করে যে কেউ বর্জ্য অপসারণের জন্য বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক রকিব উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ২৬ সদস্যের এক কমিটি বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে তদারক করছে বলেও জানান উত্তম কুমার রায়।
অন্যদিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চলের সাতটি পশুর হাট থেকে বর্জ্য অপসারণ কাজ অনেকটা শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বিপন কুমার সাহা। হাটগুলো হচ্ছে আগারগাঁও, সোনারগাঁও জনপদ, বনানী-কাকলী, বারিধারা জে ব্লক, খিলক্ষেত, মিরপুরে বনরূপা এলাকার হাট।
আজ বেলা একটার দিকে বিমানবন্দর সড়কের পাশে বনানী এলাকার পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, পে-লোডারের সাহায্যে মাটি থেকে বর্জ্য তুলে ডাম-ট্রাকে ভর্তি করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় পাঁচটি ট্রাক আছে। সেখান থেকে বর্জ্য নেওয়া হবে উত্তরের বর্জ্য রাখার স্থান আমিনবাজার আবর্জনা ক্ষেত্রে। ময়লাবাহী ৩০০ গাড়ি করে উত্তরের নিয়মিত ও অনিয়মিত প্রায় সাড়ে সাত হাজার শ্রমিক দিয়ে কাজ করা হয়। এঁদের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে ১০ জন করে শ্রমিক কাজ করছেন।
এদিকে সিটি করপোরেশন থেকে পরিষ্কার করার পর আবারও রাস্তায় পশু কোরবানি দিতে দেখা যায়। দুপুর দেড়টার দিকে পরিবাগ গার্ডেন সিটির কাছে রাস্তায় দেখা যায়, বড় আকারের একটি গরু কোরবানি দেওয়া হচ্ছে। রামকৃষ্ণ মিশন রোড, পূর্ব গোলাপবাগ প্রভৃতি এলাকা ঘুরেও এই দৃশ্য দেখা যায়।
হাজারীবাগ এলাকায় আজ দুপুরেও রাস্তায় বর্জ্য ও রক্ত দেখা যায়। রিসেন্ট ট্যানারির সামনের রাস্তায় পথচারীদের নাকে হাত দিয়ে চলতে দেখা যায়। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জানানো হয়, বারবার পশুর চামড়া আনা-নেওয়ার কারণে এসব রাস্তা আবর্জনাপূর্ণ থাকছে।

তারুণ্যের জয়, তারুণ্যের অপচয় by সোহরাব হাসান

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা চার কোটি আট লাখ ৩২ হাজার ৩৮৭ জন। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৩১ জন। দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি হলে ২৫ শতাংশ মানুষই এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। আর মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ৬৫ লাখ আট হাজার। এই হার প্রতিবেশী ভারত ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশি।
তবে আমরা এখানেই থেমে থাকব না। বাংলাদেশে প্রতিটি নারী-পুরুষ মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করুক। কেবল জনজীবন নয়, রাজনীতিও এনালগ থেকে ডিজিটাল পর্বে প্রবেশ করুক।
অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই তরুণ। সব দেশেই তরুণেরাই আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সহজে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে।
এই যে বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা ব্যবহার করছে, এতে কার ভূমিকা বেশি? সরকার না সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর? মানুষ চায় দ্রুত ও স্বল্প খরচে এই সুবিধা পেতে। সরকার সেখানে অনেক ক্ষেত্রেই বাধা সৃষ্টি করে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
এই যে বিপুলসংখ্যক তরুণ ইন্টারনেট সুবিধা নিচ্ছে, তারাই তো দেশের ভবিষ্যত্। এই তরুণেরা জাতির আশা ও ভরসার স্থল। আজ যারা তরুণ, আগামীকাল তারাই দেশের দায়িত্ব নেবে, নেতৃত্ব দেবে। কিন্তু এই তরুণদের যে বিপুল শক্তি ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা আমরা কাজে লাগাতে পারছি কি? কেন পারছি না? এসব ব্যাপারে সরকারের নীতি-কৌশলই বা কী?
সরকারের নীতিনির্ধারকেরা মুখে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের কথা বললেও তাদের আচরণ ঠিক বিপরীত। জাতীয় রাজনীতি যখন তীব্র হিংসা ও হানাহানিতে লিপ্ত হয়, যখন রাজনীতিতে আদর্শ ও নীতি বিসর্জনের প্রতিযোগিতা চলে, তখন তার কুপ্রভাব তরুণদের মধ্যেও পড়তে বাধ্য। নিকট অতীতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ যে আশা জাগিয়েছিল, সরকারের ভুল নীতি ও সিদ্ধান্তের কারণে তা হারাতে বসেছি। অমিত তারুণ্যের মহাজাগরণকে চোরাগলিতে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের স্বার্থান্ধ ও ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতি।
জাতীয় রাজনীতির মতো ছাত্ররাজনীতিতেও যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না, যখন সংগঠনবিশেষের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তারাও নিজেদের মধ্যেই মারামারি, কাটাকাটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। গত সাড়ে পাঁচ বছরে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনটি প্রতিপক্ষ সব সংগঠনকে হলছাড়া, ক্যাম্পাসছাড়া করে এখন আত্মকলহ ও আত্মবিনাশে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। একশ্রেণির শিক্ষকও তাদের এই উপদলীয় কোন্দলে মদদ দিচ্ছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুবায়ের হত্যার পেছনে ছিল ছাত্রলীগের উপাচার্য গ্রুপ ও উপাচার্যবিরোধী গ্রুপের বিরোধ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সায়াদকেও খুন করেছে নিজ সংগঠনের প্রতিপক্ষ গ্রুপ।
ছাত্ররাজনীতির নামে এই রক্তক্ষয় চলছে বহু বছর ধরেই। ছাত্ররাজনীতিতে সুস্থধারা ফিরিয়ে আনার একটি উপায় হতে পারত ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্কুল পর্যায়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। খুবই সাধু উদ্যোগ। কিন্তু কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন নির্বাচন হচ্ছে না? ঘরে-বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিহীন সরকার কেন শিক্ষাঙ্গনে নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে?

২.
দেশে ফি বছর ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২৮ থেকে ৩০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অর্ধেকেরও কর্মসংস্থান করতে পারে না। সরকার একদিকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস-বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে পারছে না। অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগ কী করে হবে? আর বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান বাড়বে না। সরকার পরিকল্পনা নিয়েছিল ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান করবে। কিন্তু এই পাঁচ বছরে নতুন দেড় কোটি লোক কর্মবাজারে প্রবেশ করছে বা করবে। অর্থাত্ আরও ৫০ লাখ বেকারের মুখোমুখি হবে দেশ।
বেকারত্ব মানে পরিবারের বোঝা। বেকারত্ব মানে সমাজ ও দেশের বোঝা। দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষিত বেকারের হার বাংলাদেশেই সর্বোচ্চ। একজন নিরক্ষর বেকারের পেছনে রাষ্ট্রের কোনো বিনিয়োগ না থাকলেও শিক্ষিত বেকারের পেছনে বিনিয়োগ থাকে। বিনিয়োগ থাকে পরিবারেরও।
এই যে দেশে শিক্ষিত বেকারের হার বেড়ে চলেছে, তা নিয়ে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না। থাকলে তারা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করতেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা সময়ের চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে অনেক স্নাতক ডিগ্রিধারী, অনেক প্রকৌশলী ও চিকিত্সক বেকার বসেন আছেন। আমাদের দেশ থেকে বিদেশে যাচ্ছেন অদক্ষ শ্রমিকেরা, আর বিদেশ থেকে দেশে আসছেন দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।
একটি জাতি তখনই বড় হয় যখন সেই জাতি শিক্ষায় বড় হয়। কিন্তু গত ৪৩ বছরে বাংলাদেশ একটি বিজ্ঞানমনস্ক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১৯৭৪ সালের কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট আমরা পরিত্যাগ করেছি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত। অনেক কাটাছেঁড়ার পর ২০১০ সালে যে শিক্ষানীতি চালু হলো, তাতে অনেক প্রগতিশীল উপাদান থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষকদের অদক্ষতার কারণে এখন সব আয়োজনই ভেস্তে যেতে বসেছে। আমরা সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের নামে এমন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছি, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানপিপাসু না করে কোচিং সেন্টারের দিকে ধাবিত করছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৮০ বা ৯০ শতাংশ  পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া আমাদের শিক্ষাপদ্ধতির অন্তঃসারশূন্যতাই প্রমাণ করে। প্রমাণিত হলো পাসের হার এবং জিপিএ-৫ বাড়ানোই শিক্ষার উন্নতির মাপকাঠি নয়।

সোহরাব হাসান: কবি ও সাংবাদিক