Sunday, July 4, 2010

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ by সাঈদ আহমেদ

একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আকাঙ্ক্ষা বহুদিন ধরে লালন করে আসছে দেশের মানুষ। সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের আগ্রহ সব সময় মেলে না। কিন্তু জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষেত্রে সেই মেলবন্ধনটা ছিল। এর ফলস্বরূপ এবং কিছুটা আন্তর্জাতিক চাপে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর জারি করা হয় ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০০৭’। এরপর কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দিতে লেগে যায় প্রায় এক বছর। ২০০৮ সালের ১ ডিসেম্বর বিচারপতি আমিরুল কবীর চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং মুনিরা খান ও অধ্যাপক নীরুকুমার চাকমাকে সদস্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হয়।
এর অল্প কিছুদিন পরই ক্ষমতায় আসে বর্তমানের নির্বাচিত সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে নতুন সরকার কীভাবে গ্রহণ করে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ ছিল। সংসদের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে অনুমোদন না দেওয়ায় কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এরপর ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০০৮’ নামে একটি আইন সংসদে উত্থাপন করা হয়। বিলটি আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। স্থায়ী কমিটি খসড়া এই বিলে অনেক সুপারিশ প্রদান করে এবং সংসদে উত্থাপনের এক দিন আগে নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময়ও করে। ৭ জুলাই ২০০৯ সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ সংসদে উত্থাপিত হয় ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯’। ৯ জুলাই ২০০৯ তা সংসদে পাস হয় এবং ১৪ জুলাই ২০০৯ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করে। নতুন আইনটিকে ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে ২০০৭ সালের অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাজকর্মকে বৈধতা দেওয়া হয়।
২০০৭ সালের অধ্যাদেশ অনুমোদন না করে সরকারের নতুনভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ প্রণয়নের কারণ খানিকটা অনুমান করা যায়। বর্তমান সরকার হয়তো চায়নি, ঐতিহাসিকভাবে এটা প্রতিষ্ঠিত হোক যে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠিত হয়েছে একটি অনির্বাচিত সরকারের হাতে। তা ছাড়া ২০০৭ সালের অধ্যাদেশে অনিবার্য কিছু সংশোধনী আনারও প্রয়োজন ছিল।
নতুন আইনে কমিশনের সদস্যদের সর্বোচ্চ বয়স ৭২ থেকে কমিয়ে যেহেতু ৭০ করা হয়, সেই বয়সসীমা অতিক্রম করায় কমিশনের সদস্য মুনিরা খান পদত্যাগ করেন ২০০৯-এর জুলাই মাসে এবং একই সময়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের অপর সদস্য অধ্যাপক নীরুকুমার চাকমাও ফিরে যান তাঁর অধ্যাপনা পেশায়। সেই থেকে চেয়ারম্যান একাই ছিলেন কমিশনে। তাঁর কাজ সীমাবদ্ধ ছিল কিছু বিবৃতি আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দেওয়ার মধ্যে। এরপর প্রায় এক বছর কমিশন সদস্যহীন অবস্থায় থাকে। ২০০৯-এর ডিসেম্বরে বাছাই কমিটি একটি বৈঠক করে কমিশনের জন্য যোগ্য লোক খোঁজার দায়িত্ব দেয় আইন মন্ত্রণালয়কে।
এদিকে কমিশনের চেয়ারম্যানের অবসর নেওয়ার বয়স পূর্ণ হয় ২২ জুন ২০১০। তার মাত্র কয়েক দিন আগে ১৭ জুন ২০১০ বাছাই কমিটি পুনরায় বৈঠকে বসে এবং আমরা দেখি, ২২ জুন ২০১০ রাষ্ট্রপতি ড. মিজানুর রহমানকে চেয়ারম্যান করে একজন সার্বক্ষণিক এবং পাঁচজন অবৈতনিক সদস্যের সমন্বয়ে কমিশন পুনর্গঠন করেন। অনেক দিন পরে হলেও কমিশন পুনর্গঠন করাটা অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হলো, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের পথে তার প্রভাব কী হতে পারে, একটু আলোচনা করে দেখা যাক—
প্রথমত, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯ অনুযায়ী কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ-প্রক্রিয়া হচ্ছে—জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বাছাই কমিটি প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করবে এবং রাষ্ট্রপতি তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে নিয়োগ দেবেন (ধারা-৭)। বাছাই কমিটি যথেষ্ট ভারসাম্যপূর্ণ না হওয়ায় (স্পিকার, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদসচিব এবং সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় দুজন সাংসদ) নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে আমাদের এমনিতেই উদ্বেগ ছিল। উপরন্তু, বাছাই কমিটির আইন মন্ত্রণালয়কে যোগ্য লোক খোঁজার দায়িত্ব দেওয়াটা শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ মানবাধিকার কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে খুব একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ নয়। এরপর যখন দেখা গেল, নিয়োগের মাত্র এক দিন পর একজন সদস্যের বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁকে সরিয়ে দিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলো এবং তা জানানো হলে আইন মন্ত্রণালয় প্রেরিত বিজ্ঞপ্তি মারফত তখন নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় সরকার তথা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্বের বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে গেল। আমরা পরিষ্কারভাবে জানতে পারলাম না, নতুন যাঁকে নিয়োগ দেওয়া হলো তাঁর নাম কি বাছাই কমিটির প্রস্তাবনায় ছিল? এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জনগণের কাছে স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
আবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যেহেতু একটি ‘সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন সংস্থা’, এর চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অপসারণের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আইনেই উল্লেখ রয়েছে (ধারা-৮)। সেখানে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক যেসব কারণ ও যে পদ্ধতিতে অপসারিত হতে পারেন, সে রকম কারণ ও পদ্ধতি ব্যতীত চেয়ারম্যান বা কোনো কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে না। আরও বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্য যদি কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন বা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিজের দায়িত্ববহির্ভূত অন্য কোনো পদে নিয়োজিত হন (চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যের ক্ষেত্রে), কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত হন বা নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে রাষ্ট্রপতি তাঁকে অপসারণ করতে পারবেন।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যে খারাপ নজির স্থাপন করা হলো তা হচ্ছে, মন্ত্রণালয় প্রায় এক বছর ধরে যোগ্য লোক খোঁজার পরও এমন একজন ব্যক্তি নিয়োগ পেলেন, যাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগ রয়েছে। আর সেটাকে যে প্রক্রিয়ায় শোধরানো হলো তার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় খারাপ নজির স্থাপিত হলো। প্রথমত, নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় সরকারের কর্তৃত্বের বিষয়টি প্রকাশ্য হয়ে গেল এবং দ্বিতীয়ত, কমিশনের কোনো সদস্যকে অপসারণের আইনি-প্রক্রিয়াকেও ঠুনকো বিষয়ে পরিণত করা হলো। আমরা এর আগে ’৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তার নিয়োগ নিয়েও এ ধরনের বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হতে দেখেছি। শুরুতেই আমাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জন্য এটা একটা বাজে নজির স্থাপিত হলো এবং একই সঙ্গে কমিশনকে শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতাও দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হলো। আমরা মনে করি, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে যেন আস্থার সংকট তৈরি না হয় সেদিকে সরকারের সতর্ক নজর রাখা উচিত।
সাঈদ আহমেদ: মানবাধিকারকর্মী, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

একুশ শতকের মহামন্দা - পল ক্রুগম্যান

মন্দা (রিসেশন) সচরাচর দেখা যায়, কিন্তু মহামন্দার (ডিপ্রেশন) দেখা মেলে কদাচিৎ। আমি শুধু এতটুকুই বলতে পারি যে অর্থনৈতিক ইতিহাসে মাত্র দুবার এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল, যাকে সেই সময় ব্যাপকভাবে ‘মহামন্দা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে: ১৮৭৩ সালের আতঙ্ক-পরবর্তী মূল্য সংকোচন ও অস্থিতিশীলতার বছরগুলোতে একবার, আরেকবার ১৯২৯-৩১ সালের অর্থনৈতিক সংকট-পরবর্তী গণবেকারত্বের বছরগুলোতে।
১৯ শতকের ‘লং ডিপ্রেশন’ কিংবা ২০ শতকের ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’ যে সময়ের কথাই বলা হোক, এর কোনো যুগেই অর্থনীতি একটানা নিম্নমুখী হয়ে চলেনি। বরং এই দুই যুগের মধ্যেই এমন কিছু সময় ছিল, যখন অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু শুরুর ধসের ফলে যে ক্ষতি হয় তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য অর্থনৈতিক উন্নতির এই পর্যায়গুলো কখনোই যথেষ্ট ছিল না।
আমার আশঙ্কা, আমরা এখন তৃতীয় মহামন্দার প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। এই মহামন্দা সম্ভবত ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’-এর মতো তীব্র না হয়ে অনেকটা ‘লং ডিপ্রেশন’-এর মতো হবে। বিশ্ব অর্থনীতিকে এবং চাকরির অভাবে বিবর্ণ লাখ লাখ মানুষকে এ জন্য অপরিমেয় মূল্য দিতে হবে।
আর এই তৃতীয় মহামন্দা হবে মূলত নীতিরই ব্যর্থতা। দুনিয়াজুড়ে সরকারগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ে মেতে আছে এমন এক সময়ে, যখন সত্যিকারের হুমকি মূল্য সংকোচন; মিতব্যয়ী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে তারা নসিহত করছে, যখন সত্যিকারের সমস্যা অপর্যাপ্ত ব্যয়। সর্বশেষ জি-২০ সম্মেলনটিও এ ব্যাপারে ছিল সবচেয়ে হতাশাব্যঞ্জক।
২০০৮ ও ২০০৯ সালে মনে হয়েছিল, আমরা বোধহয় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছি। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় আগের বছরগুলোর মতো সুদের হার বাড়ানোর পথে যায়নি ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের নেতারা। তাঁরা ঋণবাজারকে সহায়তায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। অতীতের সরকারগুলো অর্থনীতির নিম্নমুখিতার সময়ে বাজেটকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে চেষ্টা করেছে, কিন্তু বর্তমান সরকারগুলো সে পথ অনুসরণ না করে ঘাটতি বাড়তে দিয়েছে। আর অধিকতর ভালো নীতি গ্রহণ দুনিয়াকে সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া এড়াতে সহায়তা করেছে: অর্থনৈতিক সংকটের ফলে যে মন্দা (রিসেশন) এসেছিল, সেটি বহুজনের মতে গত গ্রীষ্মে শেষ হয়েছে।
কিন্তু ভবিষ্যতের ঐতিহাসিকেরা আমাদের বলবেন যে তৃতীয় মহামন্দার শেষ এটা ছিল না, ঠিক যেমন করে ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’-এর সমাপ্তি ছিল না ১৯৩৩ সালে এসে ব্যবসায়ের ঊর্ধ্বমুখিতা। বেকারত্ব, বিশেষত দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব, এখন যে স্তরে রয়ে গেছে, সেটিকে মাত্র কিছুদিন আগেও বিপর্যয়কর হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। বেকারত্বের হার দ্রুত কমে আসারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ উভয়ই জাপানের মতো মূল্য সংকোচনের ফাঁদের দিকে ধাবিত হওয়ার পথে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে।
এমন ভয়ানক অবস্থায়, লোকে প্রত্যাশা করে নীতিনির্ধারকেরা উপলব্ধি করবেন যে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে নিতে তাঁরা এখনো যথেষ্ট কাজ করেননি। কিন্তু না, গত কয়েক মাসে কাঁচা টাকা এবং ভারসাম্য বাজেট গোঁড়ামির বিস্ময়কর পুনরাবির্ভাব ঘটেই চলেছে।
ভাষাগত দিক থেকে এই পুরোনো আমলের কথামালার ফিরে আসা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে ইউরোপে। ইউরোপের কর্মকর্তারা হারবার্ট হুভারের বক্তৃতামালা থেকে তাঁদের আলোচ্য বক্তব্যগুলো পাচ্ছেন বলে মনে হয়। তাঁরা যখন দাবি করেন যে কর বৃদ্ধি এবং ব্যয় হ্রাসের ফলে ব্যবসায়ে আস্থার উন্নতি ঘটানোর মাধ্যমে আসলে অর্থনীতি বিস্তৃত হবে, তখন হারবার্ট হুভারের কথাই মাথায় আসে। অবশ্য, বাস্তবিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রও তেমন ভালো করছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ-ব্যবস্থা মূল্য সংকোচনের ঝুঁকি বিষয়ে সচেতন বলেই মনে হয়; কিন্তু এসব ঝুঁকির ব্যাপারে এর প্রস্তাবনা কী? না, কোনো প্রস্তাবনা তো নেই। ওবামা প্রশাসন বোঝে অকালীন আর্থিক কৃচ্ছ্রসাধনের বিপদ—কিন্তু যেহেতু কংগ্রেসের রিপাবলিকান এবং রক্ষণশীল ডেমোক্র্যাটরা রাজ্য সরকারগুলোকে বাড়তি সহায়তা অনুমোদন করবেন না, তাই রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে বাজেট বরাদ্দ কমানোর আকারে কৃচ্ছ্রসাধন তো এসেই যাচ্ছে।
নীতিগত প্রশ্নে এই ভুল পথে যাত্রা কেন? চরমপন্থীরা তাঁদের কর্মকাণ্ডের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যে গ্রিস ও ইউরোপের সীমান্তবর্তী অন্য দেশগুলো যে সমস্যা মোকাবিলা করত, সেসবের কথা বলেন। এটা তো সত্যি যে বন্ড বিনিয়োগকারীরা দুর্দমনীয় ঘাটতিতে থাকা সরকারগুলোর ওপর বৈরী। কিন্তু মন্দাভারাক্রান্ত অর্থনীতি মোকাবিলায় স্বল্প সময়ের আর্থিক কৃচ্ছ্রতা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে, সেটিরও কোনো লক্ষণও তো নেই। উল্টো, গ্রিস কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনে সম্মত হওয়ার ফলে দেখতে পাচ্ছে যে ঝুঁকি শুধু বেড়েই চলেছে। আয়ারল্যান্ড সরকারি ব্যয় নির্মমভাবে ছেঁটে দেওয়ার নীতি আরোপ করেছে, ফলে বাজারের কাছে আয়ারল্যান্ড শুধু হয়ে উঠেছে স্পেনের চেয়েও ঝুঁকিপূর্ণ, যেই স্পেন এসব চরমপন্থীর দাওয়াই গিলতে অনেক বেশি অনিচ্ছুক।
অবস্থা দেখে মনে হয়, আর্থিক বাজার যা বুঝতে পারে তা নীতিনির্ধারকেরা যেন বোঝে না। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়িত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি কোনো মহামন্দার সময় ব্যয় প্রচণ্ডভাবে কমানোর পদক্ষেপ, যা সেই মহামন্দাকে গভীরতর করে এবং ব্যয় সংকোচনের পথ করে দেয়, আসলে নিজেই ব্যর্থতার বীজ বহন করে।
তাই আমি মনে করি না এটা আসলে গ্রিসের অথবা ঘাটতি ও চাকরির মধ্যে আপসের কোনো বাস্তবসম্মত উপলব্ধির ব্যাপার। উল্টো, এটা সেই গোঁড়ামিরই বিজয়, যে গোঁড়ামি যৌক্তিক বিশ্লেষণের ধার ধারে না, যার মূল বিশ্বাস হলো কঠিন সময়ে আপনি আপনার নেতৃত্ব প্রদর্শন করেন অন্য মানুষের ওপর ভোগান্তি চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
গোঁড়ামির এই বিজয়ের দাম দিতে হবে কাকে? উত্তর: কোটি কোটি কর্মসংস্থানহীন মজদুরকে। তাদের অনেককে বছরের পর বছর কাজহীন থাকতে হবে আর কেউ কেউ আর কোনো দিনও কাজ পাবে না।
নিউইয়র্ক টাইমস থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
পল ক্রুগম্যান: নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ, কলামিস্ট ও লেখক

বুদ্ধদেবের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল শুক্রবার সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা বিধানসভার অধিবেশন হলে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
গতকাল সকালে যথারীতি বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলে তৃণমূলের বিধায়কেরা সংঘবদ্ধ হয়ে অধিবেশনস্থলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। বিক্ষোভকারী বিধায়কদের হাতে ছিল প্লাকার্ড, ফেস্টুন। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান লেখা ছিল। লেখা ছিল ‘খুনি’ বুদ্ধের পদত্যাগ করতে হবে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই ইত্যাদি। বিক্ষোভকারীরা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের গত বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া এক বিবৃতিকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা ওই বিবৃতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বিধানসভায় অসত্য ভাষণ ও ভুল তথ্য দিয়েছেন। তবে এই বিক্ষোভে শামিল হয়নি কংগ্রেস। অবশ্য এই বিক্ষোভের মধ্যেই স্পিকার বিধানসভার অধিবেশন চালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বীরভূমের নানুরের সাবেক বিধায়ক আনন্দ দাস খুন হন। এই খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যে ১৪ জন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলকে দায়ী করে বিধানসভায় বিবৃতি দিলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা।

ভারতে শীর্ষ মাওবাদী নেতা আজাদ নিহত

ভারতের মাওবাদী-অধ্যুষিত রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশের শীর্ষ মাওবাদী নেতা চেরিপুরি রাজকুমার ওরফে আজাদ পুলিশের সঙ্গে এক সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। সঙ্গে নিহত হয়েছেন আরেক মাওবাদী নেতা চন্দ্রাননা। আজাদ গত চার দশক ধরে মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাড়ি অন্ধ্র প্রদেশের কৃষ্ণা জেলায়।
চেরিপুরি রাজকুমারের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে ৩২০টি মামলা রয়েছে। অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য সরকার আজাদকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১২ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
অন্ধ্র প্রদেশের আদিলাবাদ জেলার ভানখিডির জঙ্গলে মহারাষ্ট্র থেকে একদল মাওবাদী আস্তানা গেড়েছে—এ খবরের ভিত্তিতে রাজ্য পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওই জঙ্গলে ওত পাতে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাওবাদীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, নয়টি পিস্তলসহ বেশ কিছু গোলাবারুদ উদ্ধার করে। আজাদের নিহত হওয়ার পর মাওবাদী প্রভাবিত ছত্রিশগড়, ওডিশা, বিহার, ঝাড়খন্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নেপালে জাতীয় সরকার গঠন নিয়ে মতৈক্য হয়নি

নেপালে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো গতকাল শুক্রবারও মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নেপালের গণপরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নতুন সরকারের নেতৃত্ব দাবি করেছে সাবেক গেরিলা নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ডর দল ইউনিফাইড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (মাওবাদী)। তবে গণপরিষদের অন্য দুটি বড় দল নেপালি কংগ্রেস (এনসি) ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (সিপিএন-ইউএমএল) মাওবাদী নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
সিপিএন-ইউএমএলের জ্যেষ্ঠ নেতা রবীন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কিছুটা সময় লাগতে পারে।’ এই দলটিই বিদায়ী সরকারের নেতৃত্ব দেয়। দলটি আগেই জানিয়ে দেয়, মাওবাদী নেতৃত্বাধীন সরকারে তারা যোগ দেবে না। এর আগে গণপরিষদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল নেপালি কংগ্রেসও নিজেদের নেতৃত্বে ঐকমত্যের সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়।
দেশটির ৬০১ আসনের গণপরিষদে মাওবাদীদের ২২৯, নেপালি কংগ্রেসের ১১৫ ও সিপিএন-ইউএমএলের ১০৮টি আসন রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদব ৭ জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ করেন।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এক বিবৃতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঐকমত্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এটা জরুরি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপালের পদত্যাগের পর শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ায় এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক বলেন, গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে সব পক্ষকে মতৈক্যে পৌঁছাতে হবে।
১০ বছর সশস্ত্র সংগ্রামের পর ২০০৬ সালে ক্ষমতাসীন দলগুলোর সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে মাওবাদীরা। ২০০৮ সালের ১০ এপ্রিল নেপালে সংবিধান রচনার জন্য দুই বছরের মেয়াদের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দুই বছরেও সংবিধান প্রণয়ন করতে ব্যর্থ হয় গণপরিষদ। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে গত মে মাসের শেষ দিকে গণপরিষদের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়

শিরিন এবাদির সহযোগীকে মুক্তি দিয়েছে ইরান

শান্তিতে নোবেল জয়ী শিরিন এবাদির ঘনিষ্ঠ সহযোগী নার্গিস মোহাম্মাদীকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে ইরান সরকার। গত বছর ইরানের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক দিন আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ইরানের সরকারবিরোধী একটি ওয়েবসাইটে গতকাল শুক্রবার এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিরোধী দলের নেতা মীর হোসেইন মৌসাভির ওয়েবসাইট কালেম ডট কম নার্গিস মোহাম্মাদীর স্বামী তাঘি রহমানির বরাত দিয়ে জানায়, ‘আমি এইমাত্র ওর (নার্গিস) সঙ্গে কথা বললাম। সে কারাগারের ফটক থেকে বের হয়েছে।’
গত বছরের ১১ জুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক দিন আগে নার্গিসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই ইরান ত্যাগ করেন এবাদি।

ভানুয়াতুতে শক্তিশালীভূমিকম্প

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ভানুয়াতুতে গতকাল শুক্রবার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পাওয়া যায়নি। কোনো সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
মার্কিন ভূতত্ত্ববিদেরা জানিয়েছেন, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বন্দরনগর লুংগানভিলার ২২২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। গত অক্টোবরেও দেশটিতে তিন দফা বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছিল।

সেরা প্রেসিডেন্টের তালিকায় ওবামা ১৫তম

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্টদের তালিকায় ১৫তম স্থান দখল করে নিয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা। এ তালিকায় তাঁর কিছুটা ওপরে স্থান পেয়েছেন বিল ক্লিনটন। তিনি হয়েছেন ১৩তম সেরা প্রেসিডেন্ট। সেরা প্রেসিডেন্টদের তালিকায় সবার ওপরে স্থান করে নিয়েছেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩ জন প্রেসিডেন্টের মধ্যে এ তালিকায় ওবামার পূর্বসূরি ও ইরাক যুদ্ধের হোতা জর্জ ডব্লিউ বুশের স্থান হয়েছে ৩৯ নম্বরে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েনা কলেজ কর্তৃপক্ষ ২৩৮ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এ তালিকাটি তৈরি করে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা প্রেসিডেন্টদের চারিত্রিক সরলতা, সততা, বিজ্ঞতা, ঝুঁকি নেওয়ার যোগ্যতা বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তালিকা তৈরি করতে বলা হয়। তাঁদের তালিকানুসারে পরবর্তীকালে সেরা প্রেসিডেন্ট নির্ধারণ করা হয়।
তালিকায় ১৮তম স্থানে আছেন রোনাল্ড রিগ্যান। ১৯৮২ সাল থেকে তিনি এ অবস্থানেই আছেন। বিশেষজ্ঞদের বিচারে তালিকায় সেরা পাঁচজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন থিওডোর রুজভেল্ট, আব্রাহাম লিঙ্কন, জর্জ ওয়াশিংটন ও টমাস জেফারসন।

এ বছর থাইল্যান্ডে নির্বাচন নয়

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যে নির্বাচন করার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই। কারণ হিসেবে তিনি জানান, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পর সমঝোতার জন্য আরও সময়ের প্রয়োজন। গতকাল শুক্রবার টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিওয়া বলেন, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়া কিংবা আগাম নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনার অযোগ্য বলে ঘোষণা করছে না সরকার। তবে পরিবেশ আরও বন্ধুত্ব হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছর শেষ হওয়ার আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। ভেজ্জাজিওয়া বলেন, ২০১১ সালে নির্বাচন করাই ভালো হতে পারে।
‘লাল শার্ট’ বিক্ষোভকারীদের প্রশমিত করতে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া। কিন্তু ‘লাল শার্ট’রা ব্যাংককের কেন্দ্রস্থল থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরিকল্পনা স্থগিত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, ‘লাল শার্ট’ বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক।
এর আগে গত মাসে থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসিত পিরোমাইয়া ব্রাসেলসে বলেছিলেন, ২০১১ সালের শুরুর দিকে নির্বাচন হতে পারে।
আগাম নির্বাচনের দাবিতে ব্যাংককে ‘লাল শার্ট’ বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভের সময় সহিংসতায় ৯০ জন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় এক হাজার ৬০০ জন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বেসামরিক লোক

লাহোরের মাজারে আত্মঘাতী বোমায় নিহত ৫০

এক মাসের ব্যবধানে আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় নগর লাহোর। এক সুফি সাধকের মাজারে গত বৃহস্পতিবার রাতে পরপর দুটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুই শতাধিক।
এর আগে গত ২৮ মে লাহোরে আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের দুটি মসজিদে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র জঙ্গি হামলা চালানো হয়।
দাতা গানজ্ বখ্শ নামে পরিচিত সুফি হজরত সৈয়দ আলী বিন উসমান হাজবেরির মাজারে এ হামলা চালানো হয়। গতকাল রাত পর্যন্ত এ ঘটনার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি। মাজারটি পাকিস্তানের সবচেয়ে পবিত্র ধর্মীয় স্থানগুলোর একটি।
ঘটনার পর ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধারণ হওয়া একটি নাটকীয় ভিডিওচিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, একজন নিরাপত্তারক্ষী সন্দেহভাজন বোমা হামলাকারীকে ধাওয়া করছেন। এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিস্ফোরণের পরমুহূর্তেই পুরো এলাকা সাদা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ভক্তরা চারদিকে ছোটাছুটি করতে থাকেন। সাদা মার্বেল পাথরের মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে থাকে রক্ত, শরীরের বিভিন্ন অংশ ও ভক্তদের ছিটকে পড়া জিনিসপত্র।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে দুই আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধার করা হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে তারা হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ হামলা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কাছে কোনো ধর্মবিশ্বাস ও আদর্শের মূল্য নেই। যে করেই হোক, এ হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
এ হামলার পর গতকাল শুক্রবার লাহোরজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়। জুমার নামাজ সামনে রেখে মসজিদগুলোতে নেওয়া হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।
কয়েক বছর ধরে তালেবান ও আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিরা পাকিস্তানে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে।
কর্মকর্তারা জানান, ওই মাজারে প্রতি রাতেই ভক্তরা সমবেত হন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়।
ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, মাজারের প্রবেশমুখে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী কর্মী সালিম রেজা স্ক্যানার দিয়ে তল্লাশি করে ভক্তদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন। তখন মাজারের ভেতরে সবুজ পাগড়ি, সাদা আলখাল্লা ও চাদর পরিহিত ব্যাগ হাতে এক ব্যক্তিকে তাঁর দৃশ্যত সন্দেহ হয়। সালিম তাঁকে ধাওয়া করেন। কিন্তু কাছে যাওয়ার আগেই ওই ব্যক্তি সঙ্গে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।
স্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে গতকাল এ ভিডিওচিত্র প্রচার করা হয়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে মাজারের ভূগর্ভস্থ অংশে। এর পরপরই দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘হামলার পর রক্তস্নাত মেঝেতে নিহত ব্যক্তিদের শরীরের অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। আর আহত ব্যক্তিদের কাতরাতে দেখেছি।’
মাজারের তত্ত্বাবধায়ক মিয়া মোহাম্মদ মুনির বলেন, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, এ সময় মাজারে দুই থেকে আড়াই হাজার ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
লাহোরের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী শফিক বলেন, হামলাকারীদের একজন মাজার প্রাঙ্গণে নিজেকে উড়িয়ে দেন। আরেকজন মাজারের ভূগর্ভস্থ অংশে বিস্ফোরণ ঘটান। এ হামলার কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন কনস্যুলেট ও লাহোর প্রেসক্লাবের পাশে দুটি পটকা ধরনের হাতে তৈরি বোমা ফাটানো হয়। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মাজার প্রাঙ্গণে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর লাহোরের ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও অন্য নিরাপত্তাকর্মীরা জোরদার টহল দেন।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির মুখপাত্র ফারাহনাজ ইস্পাহানি বলেন, ‘চরমপন্থীদের এই ঘৃণ্য অভিশাপ পাকিস্তান থেকে দূর করা হবে। সন্ত্রাসীদের হামলায় আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।’
লাহোরে সম্প্রতি তালেবান ও আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের হামলা বেড়ে গেছে। গত বছরের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নয়টি হামলা চালানো হয়েছে সেখানে। এতে অন্তত ২৬৫ জন মারা গেছে।
এক মাসের ব্যবধানে লাহোরে এটি হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম হামলা। ২৮ মে আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের দুটি মসজিদে সশস্ত্র জঙ্গি হামলায় ৮০ জন নিহত হয়।

ইরাক যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল ব্লেয়ারকে

ইরাক যুদ্ধের আগেই এ যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর তিন মাস আগে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল লর্ড গোল্ডস্মিথ একটি গোপন স্মারকে এ সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলেন। সে দেশের একটি পত্রিকায় সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ডেইলি এক্সপ্রেস-এর অনলাইন সংস্করণ জানিয়েছে, ব্রিটেনের মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয় অ্যাটর্নি জেনারেল গোল্ডস্মিথের লেখা একটি স্মারকের খসড়া প্রকাশ করেছে। এই স্মারকে তিনি ইরাক যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া এ যুদ্ধে অংশ নিলে তা হবে অবৈধ।
২০০৩ সালের ১৪ জানুয়ারি এই স্মারক লেখা হয়। এতে জাতিসংঘের পূর্ববর্তী একটি প্রস্তাবের উল্লেখ করে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের প্রস্তাব ইরাকের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ অনুমোদন করে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া ইরাকে শক্তি প্রয়োগের বৈধতা নেই।’
এ স্মারক লেখার কয়েক দিনের মধ্যে গোল্ডস্মিথ যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান। সেখানে তিনি তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এ বৈঠকের পর অ্যাটর্নি গোল্ডস্মিথ তাঁর অবস্থান থেকে সরে আসেন বলে পত্রিকাটি জানায়।
ডেইলি এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গোল্ডস্মিথের সঙ্গে বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসের সাবেক আইনি উপদেষ্টা জন বিলিঞ্জার ব্রিটিশ উপদেষ্টাদের বলেছিলেন, ‘আপনাদের অ্যাটর্নির সঙ্গে আমাদের অনেক বাদানুবাদ হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আমরা তাঁর মত পাল্টাতে সক্ষম হয়েছি।’
মার্কিন উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গোল্ডস্মিথ ব্রিটিশ সরকারকে ইরাক যুদ্ধে যাওয়ার সবুজ সংকেত দেন। এরপর ২০০৩ সালের ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে হামলা চালানো হয়।
অ্যাটর্নি গোল্ডস্মিথ ডেইলি এক্সপ্রেস-এর এ প্রতিবেদনকে ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ইরাক যুদ্ধের ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি।
ইরাক যুদ্ধের বৈধতা নিয়ে ব্রিটিশ সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করছে। তদন্ত দলের প্রধান হচ্ছেন স্যার জন চিলকট। ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এ তদন্ত দলের ঘোষণা দেন।
তদন্ত দলের কাছে ব্রিটেনের কয়েকজন সরকারি কৌঁসুলি বলেছেন, তাঁরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, ইরাকে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত ছিল অবৈধ।

পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে জঙ্গিরা

আফগান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা থেকে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা এখন পাকিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। তালেবান-সমর্থক প্রদেশভিত্তিক দলগুলোর মূল লক্ষ্যস্থল এখন সিন্ধু ও পাঞ্জাব। সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর ইশরাতুল এবাদ গতকাল শুক্রবার পাকিস্তান সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্র ও সরকারকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা এখন লাহোর ও করাচিতে আত্মঘাতী বোমা হামলাসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক তৎপরতা চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার রাতে লাহোরে এক প্রখ্যাত সুফি সাধকের মাজার ঐতিহাসিক দাতা গান্জ বখেশ (দাতা দরবার হিসেবে বহুল পরিচিত) বোমা হামলার ঘটনায় ৫০ জন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরে এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় হামলা।
তাৎক্ষণিকভাবে কেউ দায়িত্ব স্বীকার না করলেও পাঞ্জাবের একটি তালেবান-সমর্থক জঙ্গিগোষ্ঠী দাতা দরবারে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
গভর্নর ইশরাতুল এবাদ বাংলাদেশি সাংবাদিকদের বললেন, জঙ্গি তৎপরতাই এখন পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অল্পসংখ্যক মানুষ পুরো পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনায় লিপ্ত। করাচি পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অবদান রাখছে। অন্যদিকে লাহোর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। এই দুটি এলাকাকে অস্থিতিশীল করে জঙ্গি দলগুলো তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে চাইছে। এবাদ আরও মন্তব্য করেন, প্রতিবেশী আফগানিস্তানে অস্থিতিশীলতা বজায় থাকলে পাকিস্তানকেও স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে না।
তবে গভর্নর দাবি করেন, আগে সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে তেমন গা না করলেও এখন রাজনৈতিক শক্তি, সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষ একযোগে কাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে কিছুটা সময় লাগছে, কিন্তু এ ধরনের নাশকতা বন্ধে জোর তৎপরতা চলছে এবং সফলতা আসবেই।
দক্ষিণের প্রদেশ সিন্ধুর সরকার নিশ্চিত করেছে, গতকাল শুক্রবার প্রাদেশিক রাজধানী করাচিতে নাশকতার ঘটনা ঘটতে পারে এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল। সে কারণে জুমার নামাজের সময় মসজিদ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে দিনভর কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল।
পাঞ্জাবে এখন বেশ কটি উগ্রপন্থী দল সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হয় লস্কর-ই-জাংভিকে। তারা এই এলাকার সবচেয়ে প্রভাবশালী জঙ্গিগোষ্ঠী। লস্কর পাঞ্জাবের স্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে একত্রে কাজ করছে। ইসলামাবাদের ম্যারিয়ট হোটেল, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দলসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া জইশে-মুহাম্মদ, লস্কর-ই-তাইয়েবা, তেহরিখ-ই-তালিবানসহ প্রধান জঙ্গি দলগুলোর প্রতিটিরই সমর্থকেরা এখন পাঞ্জাবে কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় সেনাবাহিনীর দমন অভিযান জোরদার হতে থাকায় এখন এই সংগঠনগুলো পাকিস্তান জুড়ে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, বিচ্ছিন্নভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি তাদের সংঘবদ্ধ হামলার পরিকল্পনা থাকতে পারে।
কয়েক দিন আগেই পাঞ্জাবের গভর্নর সালমান তাসীর বলেন, সেনাবাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে। সার্ক দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমেও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।
পাকিস্তানের ডিফেন্স জার্নাল-এর প্রধান সম্পাদক একরাম সেহগাল প্রথম আলোকে বলেন, পাকিস্তানের দরবার শরিফগুলোতে তারাই আক্রমণ চালাচ্ছে, যারা মাজারে বিশ্বাস করে না। সাধারণত কট্টরপন্থী জঙ্গিরাই সুফি-সাধকদের মাজারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। সেহগাল বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যথেষ্ট প্রস্তুতি নেই। আর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে যে দক্ষতা দেখাচ্ছে, জঙ্গিবাদকে সমাজ থেকে নির্মূলে ততটা দক্ষতা দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচিত হবে সেনাবাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে এখন একটি পৃথক সংস্থা গঠন করা, যারা আক্রমণের ঝুঁকি আছে এমন সব জায়গায় সক্রিয় থাকবে।

ইরানের বিরুদ্ধে কঠোরতম নিষেধাজ্ঞায় ওবামার স্বাক্ষর

ইরানের ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ওই আইনে স্বাক্ষরের আগে তিনি বলেছেন, নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে পরমাণু প্রকল্পে ইরানের বিনিয়োগের সক্ষমতা আরও কমে যাবে এবং তারা আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে ইরানের ওপর বাধানিষেধ আরোপ এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ সীমিত করার উদ্দেশ্যেই নতুন করে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব বিদেশি কোম্পানি ইরানকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করতে পারবে না। এ ছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসহ কালো তালিকাভুক্ত ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে, তাদের জন্যও মার্কিন বাজার বন্ধ করে দেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘নতুন ও পুরোনো অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আমরা পরমাণু প্রকল্পে ইরান সরকারের অর্থায়নের সক্ষমতার ওপর আঘাত হানছি। ইরানের সরকারকে আমরা বুঝিয়ে দিচ্ছি, নিজেদের কাজের পরিণাম তাদের ভোগ করতে হবে। তার পরও তারা যদি আগাতে থাকে, তাহলে তাদের ওপর চাপও অব্যাহত থাকবে এবং তারা আরও বেশি একা হয়ে পড়বে।’
ওবামা আরও বলেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে ইরানকে প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে উত্থাপিত বিল গত সপ্তাহে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়। সিনেটে ৯৯-০ এবং প্রতিনিধি পরিষদে ৪০৮-৮ ভোটে বিলটি পাস হয়। বিলের সমর্থকেরা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এ যাবৎ যতগুলো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কঠোর।
গত মাসে জাতিসংঘও ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ে কয়েক মাস ধরে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ পর্যন্ত দেশটির ওপর চার দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জাতিসংঘ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ গত সোমবার জানিয়েছেন, জাতিসংঘের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে তিনিও বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে পরমাণু আলোচনা বন্ধ করে দেবেন।

সৌরজগতের বাইরের নতুন গ্রহের ছবি তোলা হলো

প্রায় দেড় দশক পর সৌরজগতের বাইরে নতুন আরেকটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আমাদের সৌরজগতের বাইরে বলে এসব গ্রহকে বলা হয় এক্সট্রাসোলার প্লানেট বা সংক্ষেপে এক্সোপ্লানেট। প্রমাণ হিসেবে এর একটি ছবিও তুলেছেন তাঁরা। এবারই প্রথম সরাসরি এক্সোপ্লানেটের ছবি তোলা হলো।
এর আগ পর্যন্ত ৪৬৪টি এক্সোপ্লানেটের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। দিন দিন এমন গ্রহ আবিষ্কারের সংখ্যা বাড়ছে।
এই গ্রহগুলোর অধিকাংশই বিভিন্ন পরোক্ষ পদ্ধতিতে ‘দেখেছেন’ বিজ্ঞানীরা। যেমন যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে তারা ঘুরছে, তার সঙ্গে মাধ্যাকর্ষণের টান ও নক্ষত্র ও টেলিস্কোপের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করার সময় ছায়া হিসেবে ধরা পড়ে তারা।
সর্বশেষ এই এক্সোপ্লানেটটির অবস্থান পৃথিবী থেকে ৫০০ আলোকবর্ষ দূরে। এই গ্রহটি ‘ওয়ানআরএক্সএস ১৬০৯’ নামের সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে। নক্ষত্রটি স্করপিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জের অন্তর্গত। গ্রহটি অতি উত্তপ্ত বলে এতে প্রাণসত্তা থাকার সম্ভাবনা নেই। তা ছাড়া এটি অতিকায় বলে মূলত গ্যাস দিয়েই গঠিত হবে, সে বিষয়টিও অনেকটা নিশ্চিত। গ্রহটি তার নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। এটি পৃথিবী থেকে সূর্যের অবস্থানের দূরত্বের চেয়ে ৩৩০ গুণ বেশি। আর মাত্র ৫০ লাখ বছর আগে গ্রহটি গঠিত হয়েছে বলে প্রাণসত্তার সৃষ্টি ও বিকাশের জন্য এটি খুবই নবীন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রে জয়বর্ধনে বলেন, ‘প্রাণ থাকার সম্ভাবনা আছে এমন গ্রহের দিকেই আমাদের আকর্ষণ বেশি।’ তিনি বলেন, সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ছবি তোলা সম্ভব হলে নতুন গ্রহগুলো সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।

সৌভাগ্য জার্সিতে

আর্জেন্টিনা কি আজ জিতবে? না, অক্টোপাস বা ডলফিনের ওপর ভরসা করতে হবে না। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে আপনিই বুঝে ফেলবেন, কোন দল জিততে যাচ্ছে। কিচ্ছু না, স্রেফ আর্জেন্টিনার জার্সিটা খেয়াল করবেন। নিয়মিত আকাশি-সাদা জার্সিটা পরে নামলেই মেসিদের জয় নিশ্চিত!
কুসংস্কার বললে বলতে পারেন। কিন্তু ইতিহাস বলছে, আর্জেন্টিনা তাদের প্রথম জার্সি পরে বিশ্বকাপে কখনোই জার্মানির কাছে হারেনি। ১৯৫৮ সালে আর্জেন্টাইনরা জার্মানির বিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল কমলা রঙের জার্সি পরে।
হ্যাঁ, সত্যি—কমলা রং! কারণও বিচিত্র, অতিরিক্ত জার্সি না থাকায় স্থানীয় একটি দলের কাছ থেকে জার্সি ধার করে খেলতে হয়েছিল তাদের। ফল তো জানাই ৩-১ গোলের হার! ১৯৬৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আবার আকাশি-সাদা জার্সি পরল, ফল গোলশূন্য ড্র, হার তো নয়।
১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপের চিত্রটা তো চোখে ভাসার কথা। ছিয়াশিতে আর্জেন্টিনা ফাইনাল জিতেছিল নিয়মিত জার্সি পরে। পরের বিশ্বকাপ ফাইনালে যেই না নীল জার্সি পরে মাঠে নামা, অমনি হার।
গত বিশ্বকাপেও একই ‘ভুল’ করলেন পেকারম্যান। ফল তো জানাই, টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার হার। এখনো সময় আছে ম্যারাডোনা, জার্সিটা ঠিক করে ফেলুন!

প্রতিশোধ নিতে পারবে আর্জেন্টিনা?

বুয়েনস এইরেস থেকে বিশ্বকাপ দেখতে আসা একদল তরুণ কেপটাউনে না থেকে চলে এসেছে পোর্ট এলিজাবেথে। তাদের কাছে ‘মূল শত্রু’ ব্রাজিলের পরাজয়ই কাম্য আগে। কিন্তু আর্জেন্টিনা কী করবে জার্মানির বিপক্ষে? ‘কী করবে আবার, জিতবে’—রদ্রিগেজ পকেটে আর্জেন্টিনার জয়টা পুরে নিয়েই যেন ঘুরে বেড়াচ্ছেন স্টেডিয়ামের সামনে দিয়ে। ‘ভাগ্য তোমাদের সহায় হোক’— কথাটা শুনে আর্জেন্টাইন তরুণ যেন তেড়ে এলেন। ‘কী বলেন, ভাগ্য? আর্জেন্টিনা খেলেই জিতবে।’
কথাটা কি ঠিক! এই দুটো দলের বিশ্বকাপ-ইতিহাসে ভাগ্য তো জড়িয়ে রয়েছে অক্টোপাসের মতো। ১৯৮৬ আর ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনাল, ২০০৬-এর কোয়ার্টার ফাইনাল এবং তার পর এবারও শেষ আটে মুখোমুখি। বাজি ধরে বলা যায়, দুই পক্ষই প্রার্থনা করেছে, ফাইনালের আগে যেন দেখা না হয়। কিন্তু তা-ই হলো শেষ পর্যন্ত।
তবে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন চাকাটা এবার উল্টো দিকে ঘুরবে। গতবার টাইব্রেকারে কাটা পড়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার জেতার পালা। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যেমন হচ্ছে, তাতে এটা হবেই। ৪৪ বছর আগে জিওফ হার্স্টের শট গোললাইন না পেরোলেও ইংল্যান্ড গোল পেয়ে গিয়েছিল জার্মানির বিপক্ষে। আর সেদিন জার্মানির বিপক্ষে গোল করেও গোল পেলেন না ইংল্যান্ডের ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। তবে আর্জেন্টিনা-জার্মানির কাছে পুনরাবৃত্তি হতে নাকি বেশি সময় নেয় না ইতিহাস। চার বছর পর পরই হয়ে যায়। অধিবর্ষের ২৯ ফেব্রুয়ারি তারিখটির মতো। বায়ার্ন মিউনিখ কর্মকর্তা ও জার্মানির সাবেক তারকা উলি হোয়েনেসই তো মনে করছেন, এবার জার্মানি হারবে।
জার্মানি কেন পারবে না, তার কতগুলো লক্ষণ দেখছেন তিনি—
গত বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা গ্যালারিতে বসে নিজের জার্সি ঘুরিয়ে দলকে জাগিয়ে তুলতেন, আর্জেন্টিনা জিতত। কিন্তু এবার তিনি দলের সঙ্গেই। এবার আর টিকিটের জন্য হা-পিত্যেশ করতে হচ্ছে না। বার্লিনের ওই কোয়ার্টার ফাইনালে টিকিট পাননি বলে মাঠে যেতে পারেননি। হেরে বসেছিল আর্জেন্টিনা। এবার তাঁর না থাকার প্রশ্নই উঠছে না।
‘বুদ্ধিভ্রষ্ট’ হোসে পেকারম্যান এবার নেই যে, দলের সবচেয়ে দামি মুক্তাটাকে বসিয়ে রাখা হবে বেঞ্চে! চার বছর আগের সেই এখন আরও বেশি উজ্জ্বল মুক্তাখণ্ড। তাঁকে আটকানোর সাধ্য এই গ্রহে কারও নেই।
মেসি-ম্যারাডোনা যুগলবন্দী ছাড়া হোয়েনেস যা বলেছেন, তা সংস্কারগ্রস্ত মনের কথা। উল্টো দিক দিয়েও এমন অনেক সংস্কার আছে। ধরুন পেলের কথা। পেলে বলেছেন, এই আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত, তারাই জিতবে। জ্যোতিষী হিসেবে পেলে যে কতটা খারাপ, সেটি আর নতুন করে না বলে দিলেও চলছে। তাহলে কেপটাউনের গ্রিন পয়েন্টে আজ কাদের মুখে থাকবে শেষ হাসি?
অবশ্য ম্যারাডোনার ভাবভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস ছলকে উঠছে তাঁর পাত্র থেকে। পরশু প্রিটোরিয়ার হাইপারম্যান্স ট্রেনিং সেন্টারের অনুশীলনে মুখে চুরুট নিয়ে ছেলেদের সঙ্গে খেলতে শুরু করে দিলেন ‘চোর-পুলিশ’। জাবুলানি বলকে খেলোয়াড়দের কাছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল মনে হতে পারে, তাঁর কাছে নয়। গোলে ১৯টি শট নিয়ে ১৭ গোল করে শিষ্যদের দেখিয়ে দিলেন, বল নিয়ে তোমরা ভেবো না। সর্দি-জ্বর মেসির, তবু তিনি পরশু চলে এলেন অনুশীলনে। ম্যারাডোনা গায়ে হাত দিয়ে মেসির ওপর মহাখাপ্পা, ‘তোমাকে কে বলেছে জ্বর নিয়ে প্র্যাকটিসে আসতে, অ্যাঁ? যাও ঘরে গিয়ে শুয়ে থাকো।’
একটা দল সাড়ে ষোলো শ কিলোমিটার দূরের একটা ভেন্যুতে খেলতে যাবে, একটু আগেভাগে গিয়ে সেখানকার আবহাওয়া, মাঠ ইত্যাদির সঙ্গে মানিয়ে নেবে, তা না আর্জেন্টিনা কেপটাউন রওনা হলো পরশু বিকেলে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্র্যাকটিস করে তারপর। বুঝে দেখুন, কতটা আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা! অথচ জার্মানি কেপটাউনে গিয়ে বসে আছে দুই দিন আগে। আসলে আত্মবিশ্বাসী, না স্নায়ুকাতর?
স্নায়ুকাতর হলে তো কথার লড়াই চলে। কার্লোস তেভেজ যেমন বলেছেন, জার্মানির চেয়ে মেক্সিকো ভালো দল। জার্মানির বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার যেমন বলেছেন, আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষ দল কিংবা রেফারিকে সম্মানই করতে জানে না। অধিনায়ক ফিলিপ লাম আবার সমর্থন করেছেন ‘শোয়েইনি’কে। এসব কথার জবাব দিতে কোনো খেলোয়াড়ের দরকার নেই। ম্যারাডোনা একাই এক শ। এ কথাটাও মাটিতে পড়তে দিলেন না আর্জেন্টিনা কোচ, জার্মান উচ্চারণ নকল করার ভঙ্গিতে বললেন, ‘আর ইউ নার্ভাশ্শ্ শোয়েইনি!’
ভাগ্য, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, কথার লড়াই—যাই চলুক না কেন, আর্জেন্টিনা-জার্মানি ম্যাচ বিশ্ব ফুটবলের এক অনুপম লড়াই। কে জিতবে কেউ বলতে পারে না আগাম। বিশেষজ্ঞরা কোনো দলকেই এগিয়ে রাখতে পারছেন না। হ্যাঁ, জার্মানি দলটা তারুণ্যদীপ্ত। ২০ পেরোনো কয়েক তরুণ মেসুত ওজিল, সামি খেদিরা, টমাস মুলার, জেরোম বোয়াটেং, পল নয়্যাররা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন। সেই তুলনায় আর্জেন্টিনা অভিজ্ঞ, কিন্তু দলটাকে খেলাচ্ছেন তো একজনই—মেসি। প্রতিটি ম্যাচে ভালো খেলা তাঁর পক্ষে সম্ভব? তা ছাড়া রক্ষণটা এখনো অরক্ষিত। মার্টিন ডেমিকেলিস যদি দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচের মতো ও রকম গোটা দুয়েক ভুল করেন, তাহলেই জার্মানির প্রতি-আক্রমণের ফলায় তারা বিদ্ধ হবে। আর্জেন্টিনা মিডিয়ার বিশ্বাস, ম্যারাডোনা ৪-৩-১-২ ছক বদলে ফিরে যাবেন ৪-৪-২ ছকে। যাতে মাঝমাঠটা শক্ত হয়। জার্মান কোচ জোয়াকিম লো অবিচল ৪-৪-২ ছকে। দলেও নাকি কোনো পরিবর্তন নেই।
মেসিকে আটকানোর পরিকল্পনা ফেঁদেছে জার্মানি। মেসিই যে আর্জেন্টিনার প্রাণভোমরা। আগের ম্যাচে কোচের সঙ্গে বাজি ধরেছিলেন একটা গোল করবেন। গোল পাননি। আবারও বাজি ধরেছেন, গোল পাবেনই। অন্তত দুই গোল। তাহলে তো জিতেই গেল আর্জেন্টিনা! ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। ম্যারাডোনা-মেসির মনের মধ্যে কী ঝড় বইছে, সে খবর কজন জানেন? প্রতিপক্ষের নাম যে জার্মানি।

কোচদের ঐতিহ্য থাকছেই

দক্ষিণ আফ্রিকা একটা রেকর্ড করেই ফেলেছে। তারাই প্রথম স্বাগতিক দল হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকে ছিটকে পড়েছে। আরেকটা রেকর্ড করার সুযোগ ছিল ফ্যাবিও ক্যাপেলোর। তিনি পারলেন না!
এবারের আগ পর্যন্ত ১৮টি বিশ্বকাপের মধ্যে কোনো বিশ্বকাপ কোনো দল বিদেশি কোচ নিয়ে জিততে পারেনি। এবারও শিরোপাপ্রত্যাশী দলগুলোর মধ্যে একমাত্র বিদেশি কোচ নিয়ে খেলতে এসেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ইতালিয়ান ক্যাপেলো জার্মানির বাধা পার হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আসতে পারেননি।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালের আট দলের নাম ও তাদের কোচদের পরিচয় বলছে, এবার বিশ্বকাপেও ঐতিহ্যটা ভঙ্গ হওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। এই আট দলের মধ্যে শুধু ঘানা ও প্যারাগুয়ের দায়িত্বে আছেন ভিনদেশি কোচ।
ঘানার কোচ সার্বিয়ান মিলোভান রাজেভাচ ও প্যারাগুয়ের কোচ আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্টিনো। প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেই প্যারাগুয়ে বা ঘানা শিরোপা জিতে ফেলবে, এমন আশাবাদী লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।
এ ছাড়া বাকিরা, মানে জার্মানির জোয়াকিম লো, উরুগুয়ের অস্কার তাবারেজ, হল্যান্ডের বার্ট ফন মারউইক, স্পেনের ভিসেন্তে দেল বস্ক—সবাই নিজের দেশকে নিয়েই এসেছেন। নিজের দেশকে নিয়ে এসেছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও কার্লোস দুঙ্গাও। এই দুজন আবার বাকি সবার চেয়ে শুরু থেকেই আলাদা। দুজনই দেশের জার্সি গায়ে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন।
এবার বিশ্বকাপটাকে ক্যাপেলো তো ব্যতিক্রম বানাতে পারলেন না। দুঙ্গা-ম্যারাডোনা চাইলে পারেন। দুজন যদি ফাইনালে উঠে যান, বিশ্বকাপ এক অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী হয়ে যাবে। ফাইনালে তো বটেই, এর আগে কখনো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ প্রতিপক্ষ দু দলের কোচ হিসেবে দুই সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে দেখেনি। দেখবে কী করে? বিশ্বকাপজয়ী দুই অধিনায়ক কোচ হিসেবেই তো এই প্রথম এলেন!

ক্রুইফের স্পেন-ভিয়া বন্দনা

বিশ্বকাপের শেষের দিকে এসে আবার বহুল উচ্চারিত কথাটির পুনরাবৃত্তি করলেন ইয়োহান ক্রুইফ। সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী হিসেবে ভিসেন্তে দেল বস্কের স্পেনকেই দেখতে পাচ্ছেন ডাচ কিংবদন্তি, ‘তাদের সব সুযোগই (শিরোপা জয়ের) আছে।’
আজ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ‘লা ফুরিয়া রোজা’দের কোয়ার্টার ফাইনাল। এই ম্যাচের দুই দিন আগে ক্রুইফের মতো সাবেকের মুখে এমন কথা শুনে নিশ্চয়ই জাভি-ভিয়ারা আরও আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে উঠছেন! অন্যদের কথা বাদ দিন, ডেভিড ভিয়া বিশেষ অনুপ্রাণিত না হয়ে পারেনই না! সাবেক ডাচ তারকার মুখে যে ভিয়া-বন্দনাও, ‘সে ভালো করছে, আক্রমণভাগে কঠোর পরিশ্রম করছে। সতীর্থদের সঙ্গে তার যোগাযোগও ভালো।’
বার্সেলোনায় বসে বার্সা টিভিকে যখন কথাগুলো বলছিলেন ক্রুইফ, তাঁর দেশ হল্যান্ড তখন পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিলের সামনে দাঁড়ানোর। তবে কি নিজের দেশ হল্যান্ডকে নিয়ে তাঁর কোনো আশাই নেই? নাকি প্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে মানসিকভাবে দুর্বল করার চাল চালতেই টোটাল ফুটবলের রূপকারের এই স্পেন-স্তুতি?
অন্য আর দশজনের মতো দুঙ্গার ব্রাজিলের রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার সমালোচনা বরাবরই করেছেন। তবে ‘অত্যন্ত রক্ষণাত্মক ব্রাজিল’, ক্রুইফের সমালোচনার ভাষাটা একটু কড়াই ছিল। বলেছিলেন, ‘এই ব্রাজিলের খেলা দেখার টিকিটের জন্য আমি এক পয়সাও খরচ করতে রাজি নই। আমরা যে ব্রাজিলকে জানি, এই বিশ্বকাপে সেই ব্রাজিল কোথায়? কোথায় ব্রাজিলিয়ান সেই জাদু?’ ক্রুইফের ছোড়া তীরে দুঙ্গা এবং তাঁর দল বিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হয় কি না, নাকি হল্যান্ডকেই আরেকবার হারিয়ে ক্রুইফের সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়ে দিয়েছেন দুঙ্গাবাহিনী, সেই উত্তর নিশ্চয় জেনেছেন গত রাতেই

পদক পাচ্ছেন সেই কোমানো

পেনাল্টি মিস করা মানেই দেশবাসীর কাছে খলনায়কে পরিণত হওয়া। ইতিহাস অন্তত তা-ই বলে। ভাগ্যবান কোমানোর ক্ষেত্রে ঘটছে ঠিক উল্টোটা। তিরস্কারের পরিবর্তে পেতে যাচ্ছেন পদক!
টাইব্রেকারে তাঁর মিসেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে জাপানের। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায়। অথচ কোমানোর রাজ্য ওয়াকায়ামার পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া হবে পদক। ওয়াকায়ামার গর্ভনর ইয়োসিনোবু নিসাকা নিজেই দিয়েছেন এই খবর।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জাপানের টাইব্রেকার ওয়াকায়ামার গভর্নর দেখেছেন সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত এলাকায় বড় পর্দায়। যেখানে কোমানোর মাও ছিলেন। গভর্নরের কথা, ‘জনগণকে স্বপ্ন এবং আবেগ উপহার দেওয়ার জন্য আমরা কোমানোকে পদক দিতে চাই।’
শুধু গভর্নর নন, মনঃকষ্টের সেই সময়টাতে সতীর্থরাও ছিলেন তাঁর পাশে। কোমানো বলেছেন, ‘আমি শুধুই নিচের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু সতীর্থরা আমাকে হালকা হতে সাহায্য করেছে। তুলিও (ডিফেন্ডার) আমাকে বলেছে, সেও এটা মিস করতে পারত। আমি তাই মাথা উঁচু করেই বাড়ি ফিরেছি।’

মেসিভক্ত ইউসেবিও

গোল্ডেন বুট জিতবে গঞ্জালো হিগুয়েইন, ডেভিড ভিয়া বা টমাস মুলারের একজন। শিরোপা জিততে পারে ব্রাজিল, তবে ফাইনালে তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী কে হতে পারে, তা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না—সব ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েই যেন একটু সংশয় আছে ইউসেবিওর। একটা ব্যাপারেই শুধু কোনো সংশয় নেই পর্তুগিজ গ্রেটের, এ বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার হবেন লিওনেল মেসি।
এখনো পর্যন্ত খেলেছেন দুর্দান্ত, কিন্তু গোলের দেখা পাননি বলে মেসির শ্রেষ্ঠত্বে সংশয় অনেকের। কিন্তু ইউসেবিও নিশ্চিত, সেরা হবেন মেসিই, ‘আমার কোনো সন্দেহই নেই, আর্জেন্টিনার ওই বাচ্চা ছেলেটা...মেসি, ও-ই হবে টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলার।’ কাল রাতের ম্যাচগুলোর আগ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি শট নিয়েছেন মেসি, সতীর্থদের বেশির ভাগ গোলেই অবদান আছে তাঁর, মেসির আক্ষেপ শুধু ওই নিজের গোল না পাওয়া নিয়েই। বেশ কবার গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছেনও, কিন্তু হয় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গোলবার কিংবা দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়েছেন গোলকিপার।
পর্তুগালের সর্বকালের সেরা ফুটবলার ইউসেবিও পরশু জোহানেসবার্গে গিয়েছিলেন অ্যাডিডাসের এক অনুষ্ঠানে। দুদিন আগেই স্পেনের কাছে হেরে তাঁর দেশ বিদায় নিয়েছে, প্রকাশ্যে কোচের সমালোচনা করেছেন রোনালদো-ডেকোরা, কোচ থেকে শুরু করে মিডিয়া আবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সমালোচনায় মুখর, সব মিলিয়ে পর্তুগালের ফুটবলে এখন চলছে অস্থিরতা। ক্ষিপ্রতার জন্য খেলোয়াড়ি জীবনে ‘কালো চিতা’ নামে পরিচিতি পাওয়া ইউসেবিও অবশ্য যোগ দিচ্ছেন না সমালোচকদের মিছিলে। তাঁর ময়নাতদন্তের ফল যে অন্য রকম, ‘আমার মনে হয় না পর্তুগাল খুব একটা খারাপ খেলেছে, বরং খুব ভালো খেলেছে। মনে রাখতে হবে ওরা স্পেনের মতো দলের কাছে হেরেছে, সেটাও মাত্র ০-১ গোলে। ওই গোলটিও আবার ছিল বিতর্কিত।’ পর্তুগালের বিপক্ষে ডেভিড ভিয়ার করা গোলটিকে অনেক পর্তুগিজ ফুটবলারই অফসাইড বলে দাবি করেছিলেন। ‘বিতর্কিত’ বলে ইউসেবিও ইঙ্গিত দিলেন সেদিকেই।
পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার হয়ে ৩০১ ম্যাচে ৩১৭ গোলের অবিশ্বাস্য কীর্তি আছে তাঁর। পর্তুগালের জার্সি গায়েও ইউসেবিও ছিলেন একই রকম বিধ্বংসী। ৬৪ ম্যাচে করেছেন ৪১ গোল, ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ৯ গোল করে জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। কিন্তু যাকে মনে করা হয় তাঁর উত্তরসূরি, সেই রোনালদো এবার চরম ব্যর্থ। দলের ব্যর্থতার দায়ভারও অনেকেই চাপাচ্ছেন সাবেক ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের ওপর। ইউসেবিও দাঁড়াচ্ছেন রোনালদোর পাশেই, ‘রোনালদো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, পর্তুগালের জন্য এটা দুর্ভাগ্য। তবে ওকে একা দোষ দিতে আমি রাজি নই। আমি নিজেও ফুটবলটা খেলেছি, তাই জানি খেলোয়াড়দের জীবনে ভালো-খারাপ সময় আসেই।’ একই কারণে বিশ্বকাপে খারাপ করেছেন বলে ওয়েইন রুনিকেও বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছেন না ইউসেবিও।
তবে ‘কালো চিতার’ আপত্তি আছে আইভরিকোস্টের বিপক্ষে কাকার পাওয়া লাল কার্ড নিয়ে, ‘কাকাকে আমি খুব ভালোভাবে চিনি, সে দারুণ পেশাদার। প্রতিপক্ষ কাকাকে চটিয়ে যাচ্ছিল বলেই এমনটা হয়েছিল। আমার তো মনে হয়, এই টুর্নামেন্টে লাইন্সম্যানরা সব ঘুমিয়ে আছে।

রাউলকে ছোঁয়ার অপেক্ষায় ভিয়া

এমনিতেই দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। বিশ্বকাপে চার ম্যাচে চার গোল। আজ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামার সময় ডেভিড ভিয়াকে হাতছানি দেবে একটা রেকর্ডও। দুটি গোল করলেই ছুঁয়ে ফেলবেন রাউলকে। হয়ে যাবেন স্পেনের পক্ষে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের যৌথ মালিক। ১০২ ম্যাচে ৪৪ গোল করেছেন রাউল। ভিয়ার ৪২ গোল মাত্র ৬২ ম্যাচে।
ইনিয়েস্তা-জাভিদের নিয়ে গড়া মাঝমাঠ এখন বিশ্বের সেরা। তার পরও গোলের দেখা পেতে কষ্টই করতে হচ্ছে স্পেনকে। ৪ ম্যাচে এখন পর্যন্ত গোল মাত্র ৫টি। এর চারটিই বার্সেলোনায় এই মৌসুমে যোগ দেওয়া ভিয়ার। বোঝাই যাচ্ছে, কেমন ফর্মে আছেন এই স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে এখন তাঁর ৭ গোল। স্পেনের পক্ষে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন এরই মধ্যে।
নিশ্চিতভাবেই রাউলকে টপকে এক সময় জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটাও হয়ে যাবে ভিয়ার একার। বিশ্বকাপের মতো আসরেই সেটি করতে পারলে তো সোনায় সোহাগা!