Wednesday, July 8, 2026

গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার সুযোগ দেব না: বিরোধীদলীয় নেতা

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করতে দেব না। জনগণের এই রায় বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। সংসদে সবাই মিলে চিৎকার দেব, রাজপথের আন্দোলনও আরও বেগবান হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এ দেশকে আমরা ভালোবাসি, কোনো অশুভ শক্তিকে মাঝখান থেকে খেলতে দেব না। নাক-কান সজাগ রেখেই আমাদের সব কাজ চলবে এবং সময়মতো জনগণের আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা নতুন বা পুরানো কোনো ফ্যাসিবাদ মেনে নেব না।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মাল্টিপারপাস হলে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন। ‘অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সব গণহত্যার বিচারের দাবিতে’ এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। প্রবন্ধ পাঠ করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে-অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনারা সংযত হোন, নইলে জনগণের উত্তাল ঢেউ আর জোয়ারে সব খড়কুটা ভেসে যাবে। তিনি বলেন, আইন আমরা হাতে তুলে নেয়ার পক্ষে নই, তবে কেউ শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে জুলাইকে অপমান করার দু:সাহস আর দেখাবেন না। দু:সাহস দেখালে এই যুব সমাজ ও জনতা এখনো ঘুমিয়ে যায়নি। যারা সশস্ত্র বাহিনীর সামনে খোলা হাতে দেশপ্রেম নিয়ে দাঁড়াতে পারে, আজও তারা দাঁড়িয়ে আছে। আমরা ঘুমাইনি, আমরা ঘুমাবো না।

গণভোট নিয়ে প্রতারণার বিষয়ে জাতীয় সংসদে আত্মস্বীকৃত সাক্ষী পাওয়া গেছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হায়া শরম থাকলে এটা হওয়ার কথা ছিল না। তবে, ভালো হয়েছে, জাতি চিনে ফেলছে, এখন আর অন্য কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ সংসদে যা বলা হয় কার্যপ্রণালিতে তা লেখা হয়ে যায়, ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। যেহেতু এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হয় নাই, কাজেই এই আত্মস্বীকৃতিও রেকর্ড হয়ে থাকল।

তিনি বলেন, তারা (সরকারি দল) এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- জুলাই সনদ একটা অন্তহীন প্রতারণার দলিল, আর এই সংসদেই দাঁড়িয়ে তারা আবার প্রমাণ করলেন তারাই জাতির সঙ্গে অন্তহীন প্রতারণা করেছে। তাদের কাছে তাদের আপন সঙ্গীদেরও রক্তের কোনো মূল্য নেই। যদি সে মূল্য থাকতো তাহলে আগে দেশবাসীর পাশে দাঁড়াতো। নির্বাচন কার জন্যে, সরকার কার জন্যে? জনগণের জন্যে। সেই জনগণ প্রমাটাইজ, আহত, দারুণ কষ্টে আছে। তাদের কষ্টে পাশে না দাঁড়িয়ে আমাদেরকে অপবাদ দেওয়া হয়েছে যে, আমরা নির্বাচন চাই না। নির্বাচন না চাইলে পরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলাম কিভাবে?

জামায়াত আমির বলেন, আমরা নির্বাচন চেয়েছি, তবে আমরা নির্বাচনের নামে ষড়যন্ত্র চাই নাই। ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, আমরা নিন্দা জানাই। দল-নিরপেক্ষ পরিচয়ের অন্তর্বর্তী সরকারও এই ষড়যন্ত্রে শরিক ছিল। নিজেরাই তারা স্বীকার করেছে, ষড়যন্ত্র করে ১১ দলকে হারানো হয়েছে।

তারপরও এই রায় মেনে নেয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাড়ে ১৭ বছর পরে এই নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের ফসল হিসেবে যদি আমরা সেদিন রিভোর্ট করতাম, এই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করতাম, তাহলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো কেউ জানে না। ১১ দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে ১১ দল এটাও বলেছে, নির্বাচনের এই ষড়যন্ত্রের ফল মেনে নিলেও আমরা গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করতে দেব না।

সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিশন গঠনে এ পর্যন্ত ১০-১১ বার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংশোধনের জন্য কমিটি লাগে না। আর সংশোধনী কমিশনের জন্য গণভোট হয়নি। গণভোট হয়েছে দেশের পচা রাজনীতির আমূল পরিবর্তন সাধনের জন্য। ফ্যাসিবাদের মূল কেটে দেওয়ার জন্য। আমরা সেই সংস্কার চাই।

তিনি বলেন, বিএনপি ওয়াদা থেকে সরে গিয়েছে। আমরা বেঈমানি করতে পারব না। আমরা জাতিকে কথা দিয়েছিলাম, সেই জায়গায় আমরা আছি এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা গভীর আস্থাশীল। জনগণের এই রায় বৃথা যাবে না ইনশাআল্লাহ। সংসদে সকলে মিলে চিৎকার দেব। রাজপথের আন্দোলন চলছে, এটা আরো বেগবান হবে।

তিনি বলেন, লোহা গরম হয়ে লাল হতে সময় লাগে। কিন্তু লাল যখন হবে, তখন জনগণ মুগুর নিয়ে ঠিকমতোই পিটাবে ইনশাআল্লাহ।

জামায়াত আমির বলেন, আমরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে মজলুম ছিলাম, একসঙ্গে জেল খেটেছি, একসঙ্গে রাজনীতি করেছি, জেল-জুলুম সহ্য করেছি। সরকার গঠনও করেছি। কিন্তু এখন কোন কোন বন্ধুর বক্তব্য ভাষায় মনে হয়, তারা জীবনেও আমাদেরকে দেখেননি। ভুলে গেছেন এততাড়াতাড়ি? স্মরণ হতে সময় লাগবে না। একটা ঝাঁকুনিই যথেষ্ট।

মান-অভিমান ভুলে গিয়ে জনগণের এই রায়কে সম্মান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাহলে জনগণের কাছে সম্মানিত হবেন। সম্মান না করলে যেখানে স্পিকারের অনুমতি লাগে না, ওখানে বক্তব্য হবে।

জেল-জুলুমের ভয় না দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদে একজন পরিণতির কথা বলেছেন, আমরা বলেছি, ৫৫ বছর পরিণতি দেখে দেখেই বাংলাদেশ এই জায়গায় এসেছে। সর্বোচ্চ পরিণতি ফাঁসির তক্তা অথবা একটা গুলি। আমরা দেশ-জাতির ও আল্লাহর জন্য প্রস্তুত আছি। আমাদের লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ জনগণের বিজয় হবে।

তিনি বলেন, আমাদের আলোচনা চলবে, সরকারের ন্যায্য কাজে সহযোগিতা করবো। কিন্তু জনগণের অধিকারের বিষয়ে একচুলও ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের রায়ের অপমান আমরা সহ্য করবো না। জনগণকে নিয়ে বাংলাদেশ নিয়েই বিজয় হবো ইনশাআল্লাহ। আমাদের কোনো মামু বাড়ি নেই, এই বাংলাদেশ নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটাকরি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার প্রমুখ।

গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করার সুযোগ দেব না: বিরোধীদলীয় নেতা
কাকরাইলে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে বিরোধীদলীয় নেতা। ছবি: সংগৃহীত

‘আমার খেজুরবাগানের এখন যে অবস্থা, তাতে চৌদ্দ পুরুষ বসে খেতে পারবে’ by মোস্তাফিজুর রহমান

সৌদি আরবে খেজুরবাগানে কাজ করতে গিয়ে কিছু বীজ দেশে আনেন আবদুল মোতালেব নামের এক ব্যক্তি। এরপর নিজের একটি খেজুরবাগান তৈরির কাজ শুরু করেন। হতাশা কাটিয়ে কয়েক বছর পর সফলতার দেখা পান। বর্তমানে তাঁর খেজুরবাগান থেকে বছরে ৫০ লাখ টাকার বেশি আয় হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। মোতালেবের দেখাদেখি স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন খেজুর চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

আবদুল মোতালেব ময়মনসিংহের ভালুকার উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিন বছর খেজুরবাগানে কাজ করেছেন। ২০০১ সালের শেষ দিকে নিজে খেজুর চাষের পরিকল্পনা দেশে ফেরেন। এ সময় উন্নত জাতের খেজুরের প্রায় ৩৫ কেজি বীজ নিয়ে আসেন। বাড়ির আঙিনায় ৭০ শতাংশ জমিতে রোপণ করে ২৭৫টি চারা। বর্তমানে মোতালেবের ৭ বিঘা খেজুরবাগানে প্রায় ৩ হাজারের বেশি খেজুরগাছ আছে। এগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের আজোয়া, শুক্কারি, আম্বার, লিপজেল ও মরিয়ম জাতের দেখা মেলে।

গত বুধবার মোতালেবের খেজুরবাগানে গিয়ে দেখা যায়, বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে নানা জাতের খেজুর। মোতালেব জানান, আজোয়া খেজুর ৩ হাজার টাকা, শুক্কারি এক হাজার, আম্বার আড়াই হাজার, লিপজেল সাড়ে ৪ হাজার ও মরিয়ম খেজুর ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। এ ছাড়া বিক্রি হয় খেজুরের চারাও। কাটিং করা প্রতিটি চারা ১৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এ ছাড়া বীজ থেকে তৈরি চারা ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন।

আবদুল মোতালেব বলেন, ‘আমি পড়ালেখা করি নাই। দেশেও কৃষিকাজ করি এবং সৌদি আরবে গিয়ে আমি কৃষিকাজ পাই। সেখানে খেজুরবাগানে কাজ করে খেজুর খেয়ে মনে হলো, যদি দেশে একবার এই খেজুর চাষ করতে পারি তাহলে জীবন সার্থক, আর বিদেশে যেতে হবে না। ২০০১ সালে বাড়িতে আসার সময় ৩৫ কেজি বীজ নিয়ে আসি, সেখান থেকে মাত্র ২৭৫টি গাছ তৈরি করা হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর গবেষণা করে ৭টি মাতৃগাছ পাই, বাকিগুলো সব পুরুষ গাছ। পুরুষ গাছগুলো কেটে মাতৃগাছগুলো থেকে কাটিং করে চারা উৎপাদন শুরু করি। এখন আমার বাগানের যে অবস্থা, তাতে আমার পরবর্তী চৌদ্দ পুরুষ বসে খাবে, আমার সন্তানদের আর কষ্ট করতে হবে না। বাগানে এখন শুধু মাতৃ গাছ আছে। আমাদের বাগানে উৎপাদিত খেজুর পুরোপুরি সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাদে-গন্ধে মেলে।’

বাবার পাশাপাশি মোতালেবের ছেলে মিজানুর রহমানও পড়ালেখার পাশাপাশি খেজুরবাগান নিয়ে কাজ করছেন। দেশি ও বিদেশি জাতের চারা ক্রস করে রসের জন্য ৮ বিঘা জমিতে প্রায় ৮ হাজার গাছ নিয়ে নতুন একটি বাগান করেছেন বাবা-ছেলে। এর মাধ্যমে গুড় উৎপাদন করার কথা জানিয়েছেন।

অনার্স প্রথম বর্ষ পড়ুয়া মিজানুর রহমান বলেন, ‘২০২৩ সাল থেকে বাবার সঙ্গে খেজুরবাগানে কাজ শুরু করি। আমি খেজুর গাছে কাটিং করে নতুন চারা উৎপাদন কৌশল শিখেছি। এ ছাড়া দেশি ও সৌদি খেজুরগাছ ক্রস করে একটি জাত উদ্ভাবন করেছি, যেটি থেকে প্রচুর রস উৎপাদন সম্ভব।’

মোতালেবের খেজুর চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার আরও অনেকে খেজুর বাগান করতে শুরু করেছেন। তাঁর বাগানে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্যোক্তারা গিয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ধারণা নেন ও গাছের চারা কেনেন। মোতালেবের বাগানের পাশেই ২০০৮ সাল থেকে বাগান শুরু করেন আফাজ পাঠান। তিনি বলেন, মোতালেবের কাছ থেকে চাষ প্রযুক্তি শিখে এখন চারটি স্থানে ১০ একরের বাগান করেছেন। বাগানগুলোয় ভালো ফলন হচ্ছে। বছরে ২০-৩০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। শিক্ষিত বেকার তরুণ-যুবকেরা এই খেজুরবাগান করে জীবন পাল্টে দিতে পারে।

বাগানটিতে ঘুরতে আসা শফিউল্লাহ আনসারি নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘এখানে উৎপাদিত খেজুরগুলো তুলনামূলকভাবে বড় ও খেতে সুস্বাদু। দেশের চাহিদা পূরণের জন্য সৌদি খেজুর আমদানি করতে হয়। কিন্তু দেশে এটি সম্প্রসারিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকেরাও লাভবান হবেন।’

সৌদি খেজুর চাষের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভালুকা উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘খেজুরে রোগবালাই খুব কম হয়। আমরা এমন উদ্যোক্তাদের নিয়মিতভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকি। তবে সরাসরি কোনো প্রকল্পের মাধ্যমে খেজুরবাগানে আমরা কোনো সহযোগিতা দিতে পারি না। সরকারিভাবে প্রকল্প নিয়ে কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় নিয়ে আসলে তাঁরা উপকৃত হবেন ও চাষি বৃদ্ধি পাবে।’

গত বুধবার দুপুরে খেজুরবাগানটি দেখতে যান ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ। তিনি বলেন, মোতালেব সৌদি আরবে চাকরি করতে গিয়ে সেখান থেকে প্রযুক্তিজ্ঞান নিয়ে দেশের মাটিতে চাষাবাদ শুরু করেন। সৌদি খেজুর চাষের সম্প্রসারণ ও প্রণোদনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনার বিষয়টি নিয়ে কেবিনেট মিটিংয়ে উত্থাপন করা হবে।

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজের বাগানে খেজুরগাছের পরিচর্যা করছেন চাষি আবদুল মোতালেব ও তাঁর ছেলে। সম্প্রতি উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামে
ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজের বাগানে খেজুরগাছের পরিচর্যা করছেন চাষি আবদুল মোতালেব ও তাঁর ছেলে। সম্প্রতি উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামে। ছবি: প্রথম আলো

বিয়ে করলেই নাগরিকত্ব পাবেন যেসব দেশের by আনিকা তায়্যিবা

জন্মসূত্রে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে বিশ্বায়নের যুগে সম্ভাবনার দ্বার খুলতে অনেকেই চান নিজ দেশের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকত্ব থাকুক। এ ক্ষেত্রে অনেকেই ভিনদেশি মানুষকে বিয়ে করে নাগরিকত্ব নেন। একসময় চিঠিই ছিল যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। মানুষ পত্রমিতালির মাধ্যমে খুঁজে নিতেন বন্ধু বা প্রিয়জন। দিন বদলেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে আজকাল ভিনদেশি মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা কিংবা জীবনসঙ্গী খুঁজে নেওয়া কঠিন কিছু নয়। এ ছাড়া বিদেশে পড়তে যাওয়া বা কাজের সূত্রে অন্য দেশে ভ্রমণের ফলে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। যা গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত। পৃথিবীতে এমন কিছু দেশ আছে, যেসব দেশের নাগরিকদের বিয়ে করলে পেয়ে যাবেন সেই দেশের নাগরিকত্ব। কোনো কোনো দেশে এটি হয় খুব সহজ প্রক্রিয়ায়, আবার কোনো দেশে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই মেলে নতুন পাসপোর্ট। চলুন, জানা যাক এমনই কয়েকটি দেশ সম্পর্কে, যেসব দেশ তাদের নাগরিককে বিয়ে করার মাধ্যমে বৈধ উপায়ে নাগরিকত্ব দেয়।

কেপ ভার্ড
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্ড। এটি এমন একটি দেশ, যেখানকার নাগরিককে বিয়ের পরই আপনি সেই দেশের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন, কোনো কালক্ষেপণ না করে। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধভাবে কেপ ভার্ডের নাগরিককে বিয়ে করতে হবে। নাগরিকত্বের যোগ্যতা অর্জনের জন্য দেশটিতে বসবাসের পূর্বশর্তও নেই। কাজেই প্রক্রিয়াটি সহজ ও সময় সাশ্রয়ী।

স্পেন
দক্ষিণ ইউরোপের সবচেয়ে বড় দেশ স্পেন, যেখানে আপনি কেবল এক বছরেই পেতে পারেন নাগরিকত্ব। স্পেনের আইনে বলা আছে, স্প্যানিশ নাগরিককে বিয়ে করলে তাঁর সঙ্গে এক বছরের বসবাসেই আপনি স্পেনের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। একবার এই দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে গেলে এর পাশাপাশি আপনি পাবেন লাতিন আমেরিকা, ফিলিপাইন, পর্তুগাল ইত্যাদি দেশের দ্বৈত নাগরিকত্বের সুবিধা। নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য আপনার লাগবে স্প্যানিশ নাগরিককে বিয়ের বৈধ সনদ ও একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ। এ ছাড়া স্প্যানিশ ভাষার প্রাথমিক দক্ষতা ও তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানও অনেক সময় কাজে লাগে।

আর্জেন্টিনা
ফুটবলপ্রেমী অনেকের কাছেই এক আবেগের নাম আর্জেন্টিনা। স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পেয়ে যেতে পারেন, যদি বিয়ে করেন আর্জেন্টিনার কোনো নাগরিককে। মাত্র দুই বছর পরই আপনি নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বৈধ বিয়ের প্রমাণের পাশাপাশি লাগবে সেই দেশে কোনো অপরাধ না করার প্রমাণ ও সাধারণ স্প্যানিশ ভাষার জ্ঞান।

মেক্সিকো
মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী, একজন মেক্সিকান নাগরিককে বিয়ে করলে তাঁর সঙ্গে মাত্র দুই বছর বসবাস করলেই আপনি দেশটির নাগরিকত্ব পেতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার থাকতে হবে স্প্যানিশ ভাষার মৌলিক দক্ষতা, বিয়ের বৈধ সনদ ও একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, মেক্সিকোর নাগরিকত্ব পেলেও আপনি আগের দেশের পাসপোর্ট রাখতে পারবেন। এই দেশে জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক কম এবং দেশটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও নিকটবর্তী।

তুরস্ক
অনেকের কাছেই ‘ড্রিম ডেসটিনেশন’ বা স্বপ্নের গন্তব্য তুরস্ক। অপরূপ তুরস্কে বিয়ের পর তিন বছর একসঙ্গে থাকলেই মেলে নাগরিকত্ব। মজার বিষয় হলো, লাতিন আমেরিকা বা ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো তুরস্কের নাগরিকত্বের জন্য সেই দেশের ভাষা বা সংস্কৃতি জানার প্রয়োজন নেই। তিন বছর একসঙ্গে বৈধভাবে দাম্পত্য জীবন কাটালেই করতে পারবেন নাগরিকত্বের আবেদন। এ ছাড়া তুরস্কের নাগরিক হলে আপনি পাবেন এক বিশেষ সুবিধা। তুরস্কের পাসপোর্ট দিয়ে পৃথিবীর ১১০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া যায়।

সুইজারল্যান্ড
সুইজারল্যান্ড সাধারণভাবে কঠোর অভিবাসন নীতির দেশ হলেও বৈধ বিয়ের মাধ্যমে দেশটিতে নাগরিকত্বের সুবিধা পাওয়া যায়। প্রক্রিয়াটি বেশ সহজও বটে। আপনার স্বামী বা স্ত্রী যদি সুইস নাগরিক হন এবং আপনারা যদি তিন বছর একসঙ্গে থাকেন, তাহলে পাঁচ বছর বসবাসের পর আপনি নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারেন। আপনি যদি দেশের বাইরেও থাকেন, তারপরও ছয় বছরের বিবাহিতকাল অতিক্রান্ত হলেই আবেদন করতে পারবেন নাগরিকত্বের জন্য। সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্বের প্রক্রিয়া সাধারণত বেশ দ্রুত সম্পন্ন হয়। একবার এই দেশের নাগরিকত্ব পেয়ে গেলে আপনি পাবেন ইউরোপে বসবাসের সুযোগও। আবেদনের জন্য লাগবে সুইস সমাজে ভালোভাবে মিশে যাওয়ার প্রমাণ; যেমন সুইজারল্যান্ডের ভাষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে জানা; যেকোনো অপরাধমূলক কাজে যুক্ত না থাকার রেকর্ড ও বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় আছে, এমন প্রমাণ।

বৈধভাবে বিয়ে হলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে
বৈধভাবে বিয়ে হলে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকে। ছবি: পেক্সেলস