Monday, April 12, 2010

ভারতে বদল দরকার, সংঘাত নয় -কুলদীপ নায়ার

বর্তমান ব্যবস্থা নিয়ে অনেক ভারতীয়ই নাখোশ। ব্যাপক বৈষম্যের মধ্যে বিপুল মানুষের জীবন একেবারে কোণঠাসা। আমলাতন্ত্রের দুর্নীতি এত প্রকাশ্য এবং বলতে বলতে ভোঁতা হয়ে গেলেও সত্য যে, অপরাধের রাজনৈতিকীকরণ ঘটেছে এবং রাজনীতি হয়েছে অপরাধময়।
কীভাবে এ ব্যবস্থা বদলানো যায়, তা নিয়ে জাতি ভাবিত। মাওবাদী ও তাদের সমর্থকেরা যেমনটা বিশ্বাস করে, বন্দুকের মাধ্যমে কি একে বদলানো সম্ভব? নাকি জনগণই ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত দেবে?
মাওবাদীদের অব্যাহত সহিংসতার মুখে প্রশ্নটি আরও সামনে চলে এসেছে। গত সপ্তাহে ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াদার গভীর অরণ্যে মাওবাদীদের হাতে ৭৬ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এটাই প্রমাণ করে যে মাওবাদীরা ক্ষমতা দখল করতে চায়। খারাপের খারাপ হলো, তারা পুলিশের অস্ত্রশস্ত্র নিয়েও কেটে পড়তে পারছে। তার মানে, তাদের কৌশল ও অস্ত্রক্ষমতা অনেক বিকশিত হয়েছে। সরকারি সব প্রশিক্ষণেও পুলিশ তাদের সঙ্গে পারছে না। পুলিশের অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য ও সরঞ্জামাদিও তাদের জয়ী করতে পারছে না। একটি খবর জানাচ্ছে যে, অন্ধ্রপ্রদেশের চার মাওবাদী ক্যাডার পরিকল্পিতভাবে পুলিশ বাহিনীকে মৃত্যুফাঁদে আটকানোর নেতৃত্ব দিয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ সরাসরি মৃত্যুফাঁদের মধ্যে গিয়ে পড়েছিল।
মাওবাদীদের এই হত্যাকাণ্ডই হলো সশস্ত্র বিপ্লব করার পন্থা। ভারত যখন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম করছিল, তখন ব্রিটিশ পরাশক্তির বিরুদ্ধে একটা গুলিও ফোটাতে হয়নি। গান্ধী সেটা পেরেছিলেন, কারণ জনগণের শক্তি তাঁর পেছনে ছিল। গরিব, অশিক্ষিত ও পশ্চাৎপদ জনগণ তাঁর পেছনে ছিল। এভাবে মহাত্মা জিতেছিলেন।
মাওবাদীরা যদি গরিব জনগণেরই প্রতিনিধিত্ব করে থাকে, তাহলে নির্বাচনেই তাদের সমর্থনের জোর প্রমাণ করা উচিত। জনগণের মন জয়ের জন্য দরকার লেগে থাকা, ধৈর্য ও যুক্তি। মাওবাদীদের বিশ্বাস, তাদের সেটা করার দরকার নেই, বন্দুকই ওই কাজ করে দেবে। এটাই তো সাম্রাজ্যবাদীদেরও ভাষা।
মাওবাদীরা বুঝতে পারছে না যে তাদের বন্দুককে নিস্তব্ধ করার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা রাষ্ট্রের রয়েছে। শাসকদের তারা পছন্দ করতে না পারে, কিন্তু তারা এসেছে ভোট অর্জনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। বন্দুক দিয়ে এই শাসকদের উচ্ছেদ করতে গেলে, বন্দুকের জোর অথবা অন্য কোনো পদ্ধতি দিয়ে মাওবাদীদের দমন করা শাসকদের পক্ষে যুক্তিসংগত।
আজকের দুনিয়ায় সহিংসতার দিন শেষ। এমনকি সীমিত মাত্রার সন্ত্রাসও বিপজ্জনক। ভারতে যেহেতু ক্ষোভ-বিক্ষোভের অজস্র রন্ধ্র থেকে রক্ত ঝরছে, সেহেতু এখানে অস্ত্র ব্যবহার অনেক বিপজ্জনক।
ভগত সিংও বিপ্লবী ছিলেন। তিনিও সশস্ত্র সংগ্রামে বিশ্বাস করতেন। তার পরও তিনি সহিংসতাকে আদর্শ করেননি, তাঁর সংগঠন হিন্দুস্তান সোশ্যালিস্ট পার্টিও সহিংসতাকে উসকে দেয়নি। তাঁর কাছ থেকে মাওবাদীদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। ব্রিটিশরা ভগত সিংকে ফাঁসি দিয়েছিল তাঁর এই আদর্শের ভয়ে, তাঁকে ভয় পেয়ে নয়।
বিপ্লবীদের কাছে হত্যার কী তাৎপর্য? ভগত সিংয়ের ভাষায়: ‘আমরা মানবতার মহত্তকে ধারণ করি; আমরা মনে করি মানুষের জীবন পবিত্র। তাই কাউকে আহত করার বদলে আমরা আমাদের জীবনকেই মানবতার মুক্তির জন্য নিবেদন করি।’ এর মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা, কোনো নৃশংসতা ও প্রতিশোধের ব্যাপার ছিল না। তিনি তাঁর ২১ বছর বয়সে ‘বোমার দর্শন’ নামক লেখায় বলেছিলেন, বিপ্লবীদের উচিত তাদের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড বিষয়ে জনগণের সমালোচনাকে আমলে নেওয়া; বরং এসবের সুযোগেই তাদের উচিত, তাদের নীতি ও বিপ্লবী আন্দোলন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করা ও বোঝানো।
সিং তাঁর বিচারের সময় পরিষ্কার করে বলেছিলেন, সহিংসতা তাঁর আদর্শ নয়। তিনি চেয়েছিলেন মানুষকে জাগিয়ে কৃষক, শ্রমিক ও ছাত্র-যুবদের গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে। মাওবাদীদের বুঝতে হবে, তাদের সশস্ত্র বিপ্লব নির্বিকার সহিংসতায় পর্যবসিত হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের সবকিছু আমার পছন্দ নয়। কিন্তু তিনি মাওবাদীদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে চেয়েছিলেন। তিনি তাদের অস্ত্রসমর্পণও করতে বলেননি; বরং বলেছিলেন সহিংসতা ত্যাগ করতে। তা করলেই কেন্দ্রীয় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি।
আর সে সময়টায় সরকার আদিবাসীদের এলাকা থেকে খনিজ আহরণ-প্রক্রিয়া বন্ধ করতে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের বোঝাতে পারে। এসব সম্পদ ব্যবহারের সময় আদিবাসীদেরও যাতে উন্নতি হয়, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। মাওবাদীরা আদিবাসীদের বঞ্চনাকে কাজে লাগিয়ে তাদের সশস্ত্র বিপ্লবকে জায়েজ করতে চায়। আদিবাসীরা যদি একবার বুঝতে পারে যে তাদের খনিজ সম্পদের ওপর মাওবাদীদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তখনই তারা মাওবাদীদের সমর্থন করা বন্ধ করবে।
বিপ্লবের নামে মাওবাদীরা ‘সন্দেহজনক উৎস’ থেকে টাকা ও অস্ত্র-সহযোগিতা পাচ্ছে। সরকার যতই দুর্বল হোক, তারা ভারতীয় রাজনৈতিক সমাজকে পরাজিত করতে পারবে না। নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার বদল হতে পারে, কিন্তু সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতের যে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, তা সারানোর অযোগ্য।
গালফ নিউজ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক। সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার ও সাবেক রাজ্যসভা সদস্য।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিপীড়নবিরোধী ব্যবস্থা

বাংলাদেশে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা এখনো নাজুক। নারী-শিক্ষার্থীরাও এ থেকে মুক্ত নয়। ছাত্রের দ্বারা ছাত্রীর ওপর নিপীড়নের ঘটনা আমরা অতীতে দেখেছি। প্রায় সব কটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের হাতে ছাত্রী-নিপীড়নের ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। এসবের বিহিত ও প্রতিকারে আন্দোলন হয়েছে, তদন্ত কমিটি হয়েছে, কিন্তু কার্যত অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো শাস্তি হয়নি। অপরাধের বিরুদ্ধে শাস্তি যেখানে ন্যায়ের প্রথম রক্ষাকবচ, সেখানে শাস্তি না হওয়ায় নিপীড়নের মাত্রা ও পরিধি তাই আরও বাড়ছে।
প্রথম আলোর গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ অনুযায়ী, দেশের স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নিপীড়নের ১২টি ঘটনা বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়েছে। অথচ এগুলোর মধ্যে ১১টি ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্থায়ী শাস্তি হয়নি বা হলেও মামুলি সাজার পর তাঁরা পুনরায় পুনর্বাসিত হয়েছেন। কেবল একটি ক্ষেত্রে কিছু ছাত্রের বহিষ্কার এবং একজন শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির নজির রয়েছে।
বলা বাহুল্য, শিক্ষক বা ছাত্রদের মধ্যে নগণ্যসংখ্যক ব্যক্তিরই এ ধরনের নৈতিক স্খলন ঘটে। কিন্তু এতে সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আস্থার সম্পর্কে চির ধরে। এর সামান্যই বাইরে প্রকাশিত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতিতকে বিপর্যস্ত মন নিয়ে চুপ হয়ে যেতে হয়। অথচ শাস্তি না হওয়ায় নির্যাতনকারীরা দিব্যি হয়রানিমূলক আচরণ চালিয়ে যেতে থাকে।
শিক্ষকতা বা ক্ষমতাশালী অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের হয়রানির প্রতিকারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পক্ষে সব সময় আদালতে যাওয়া সম্ভব হয় না। আবার বিদ্যমান আইনে নানা ধরনের যৌন হয়রানিকে চিহ্নিত করার ব্যবস্থাও নেই। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও অভিযোগ সেল গঠনের দাবি উঠছে এবং তা জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে। ২০০৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এ রকম একটি নীতিমালা তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পাঠায়। ২০০৯ সালে উচ্চ আদালতও হয়রানিবিরোধী দিকনির্দেশনা দেন। অথচ এ সবই যেন পড়ে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসিত হিমঘরে। ওদিকে নারী-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, ঘটনা ঘটে চলেছে ঘটনার নিয়মে।
আমরা আশা করি, পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি অভিযোগ দা

পাকিস্তানে সামরিক মহড়া শুরু, চলবে ১৩ মে পর্যন্ত

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী গতকাল শনিবার থেকে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। ভারত সীমান্তের কাছে তারা এ মহড়া করছে। এটা সে দেশের সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া। এতে ২০ হাজার সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্য অংশ নিয়েছে। ছয় সপ্তাহব্যাপী এ মহড়া চলবে। এটি শেষ হবে আগামী ১৩ মে। এ মহড়ার সাংকেতিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘আজম-ই নওত’।
১৯৮৯ সালে পরিচালিত ‘জার্ব-ই-মমিন’ সামরিক মহড়ার পর থেকে এটাই সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া।

নাম বদলাতে ব্যয় ৮০০ কোটি রুপি

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখা হচ্ছে খাইবার-পাখতুন খাঁ। এ জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করতে প্রায় আট শ কোটি রুপি ব্যয় হবে। ডন পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সব কাগজপত্র হালনাগাদ ও পুনঃ নামকরণে প্রাদেশিক সরকারের খরচ হবে অন্তত ৫০০ কোটি রুপি। আর কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় হবে ৩০০ কোটি রুপি।
ইতিমধ্যে যেসব নামপত্রে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ লেখা রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করা হবে। দলিলপত্র হালনাগাদকরণ ও নাম বদলের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পাকিস্তান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে গত বৃহস্পতিবার সংবিধান সংশোধন বিল পাস হয়েছে। ‘১৮তম সংশোধনী বিল’ নামের ওই বিলে উত্তর পশ্চিম-সীমান্ত প্রদেশের নাম বদলে পাখতুন খাঁ নাম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি তালিকায় ২৩টি মুসলিম গোষ্ঠী

পশ্চিমবঙ্গে এখন আরও আটটি মুসলিম গোষ্ঠী ওবিসি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। বুধবার রাজ্যের ‘কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস’ ওই আটটি মুসলিম গোষ্ঠীকে ওবিসি শ্রেণীভুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে। বর্তমানে ওবিসি শ্রেণীভুক্ত মুসলিম গোষ্ঠীর সংখ্যা ১৫টি। রাজ্য সচিবালয় মহাকরণ সূত্র থেকে শুক্রবার এ তথ্য জানা গেছে ।
সূত্র জানায়, বুধবার যে আটটি গোষ্ঠীকে ওবিসি অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে সেগুলো হলো—কান, আবদাল, বসনি বা বাসনি, মাল, পাটনি বা মাঝি, ডুকরে, মাহালদার এবং নিকারি। এসব গোষ্ঠীর সংখ্যা এখন ১৪ লাখ।
রাজ্যের তফসিলি জাতি, আদিবাসী ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ আটটি গোষ্ঠীকেও রাজ্য সরকার শিগগিরই ওবিসি অন্তর্ভুক্ত করছে। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনগ্রসর মুসলিমদের ২৩টি গোষ্ঠী ওবিসি অন্তর্ভুক্ত হবে।

তৃতীয় প্রজন্মের সেন্ট্রিফিউজ চালুর ঘোষণা ইরানের

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ ‘তৃতীয় প্রজন্ম’র সেন্ট্রিফিউজের উদ্বোধন করেছেন। গত শুক্রবার ইরানের জাতীয় পরমাণু দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহ এ কথা জানান। তিনি বলেন, এর ফলে তেহরান আরও দ্রুতগতিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। নতুন প্রজন্মের এই সেন্ট্রিফিউজ প্রথম প্রজন্মের তুলনায় ছয় গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরোধিতা করে আসছে। পশ্চিমা বিশ্বের আশঙ্কা, তেহরান পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টা করছে। পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে ইরানের ওপর জাতিসংঘের নতুন করে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলো। এ লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক বসছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এই বৈঠক সামনে রেখে শুক্রবারের ইরানের ঘোষণা এই বার্তাই দিচ্ছে যে, তেহরান পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে এখনো অটল রয়েছে। কোনো হুমকি-ধমকিকে তেহরান তোয়াক্কা করে না।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাবেক প্রধান মোহাম্মদ এল বারাদি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পশ্চিমা বিশ্ব হতাশ হয়ে ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে। এল বারাদি বলেন, ‘আমি মনে করি না ইরান পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টা করছে। এ-সংক্রান্ত নতুন কোনো তথ্যও আমাদের হাতে নেই।

শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতাসীনদের বিশাল জয়ে সমর্থকদের আনন্দ-উল্লাস

নির্বাচনে জয়ের পর গতকাল শনিবার আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন জোটের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। গত বছর তামিল বিদ্রোহীদের পরাজিত করার পর দেশের প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনে তারা বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে।
২২৫ আসনের পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স (ইউপিএফএ) পেয়েছে ১১৭টি আসন। প্রধান বিরোধী দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) আসন পেয়েছে ৪৬টি। এ ছাড়া ৪৫টি আসনের ফলাফল গতকাল পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি। ১৯ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ ফলাফল সরকারিভাবে ঘোষণা করা হবে।
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল জাতীয় পতাকা উড়িয়ে ও আতশবাজি পুড়িয়ে আনন্দে মেতে ওঠে সরকার-সমর্থকেরা; যদিও প্রকাশ্যে আনন্দ-উল্লাসের ওপর সপ্তাহব্যাপী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। শান্তিপূর্ণভাবে বিজয় উদ্যাপন ও আনন্দ-উল্লাস করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান মাহিন্দা বালাসুরিয়া।
প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে গত শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী পার্লামেন্ট গঠনের জন্য আমি আপনাদের ভোট চেয়েছিলাম, যাতে করে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। আমাকে সেই নজিরবিহীন সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেওয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।’
তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নেতৃত্ব দানকারী দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান শরত্ ফনসেকা বন্দী অবস্থায় নির্বাচন করে নিজের আসনে জিতেছেন। কলম্বোর একটি আসন থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। ফনসেকা বর্তমানে কলম্বোয় নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে বন্দী আছেন।
তবে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট বিশাল জয় পেলেও আসন হারিয়েছেন কয়েকজন মন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিথা , বিচারমন্ত্রী মিলিন্দা এবং অন্যতম একজন মুসলিম মন্ত্রী ফেরিয়াল আশরফ।

ব্যাংককে সেনা ও বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৭১

থাইল্যান্ডে লাল শার্ট পরা থাকসিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গতকাল শনিবার ব্যাংককে লক্ষাধিক সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে দমনাভিযান শুরু করেছে। তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক সেনা ও পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ১৭১ জন আহত হয়েছে। গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে সেনাবাহিনী রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ছুড়েছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরাও ইট-পাটকেল ছুড়ে সেনাদের পাল্টা জবাব দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার জন্য ‘চরমপত্র’ দেওয়া হলেও তারা সরকারের পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। খবর এএফপির।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সুনসার্ন কায়েওকুমনার্দ বলেছেন, ব্যাংককের বিখ্যাত পর্যটন শহরের খাও সান রোডে অবস্থান নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাঁরা সেখানে গতকাল অভিযান শুরু করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরাও তাদের ওপর ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ ছাড়া বিক্ষোভকারীরা সেনাদের লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়ে। এতে দুই সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হন। জানা গেছে, আহত ১৭১ জনের মধ্যে ৬৪ জনই সেনা ও পুলিশ সদস্য।
তবে ব্যাংককের প্রধান প্রধান বিপণিকেন্দ্র ও পাঁচতারকা হোটেলগুলো গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের দখলে ছিল। তাদের সেখানে দোকানপাট বন্ধ করে উৎসবমুখর পরিবেশে নেচে-গেয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। ব্যাংকক ছাড়াও উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াংমাই শহরেও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সকালে ব্যাংককে বিক্ষোভকারীরা একটি সেনাঘাঁটিতে জোর করে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
সরকারের মুখপাত্র প্যানিতান ওয়াত্তানাইয়াগর্ন বলেছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইন প্রয়োগ করা ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। যেসব জায়গায় সাধারণের অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে সেখানে যারাই থাকবে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেপ্তার করবে।
তবে গতকাল ব্যাংককে এক বিক্ষোভ সমাবেশে ‘লাল শার্ট’ পরা নেতা নাত্তাউত্ সাইকুয়ার বলেছেন, ‘আমি অভিজিেক (প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা) বলতে চাই, আমাদের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে আপনি যেকোনো সময় অভিযান চালাতে পারেন। তবে তাতে কাজ হবে না। পার্লামেন্ট ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে একচুলও নড়ব না।’
বিক্ষোভকারীরা তাদের সরকারবিরোধী টেলিভিশন চ্যানেল পিটিভি দখল করলেও সেনাবাহিনী আবার সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। বিরোধী বহু নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এখনো তাদের কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি।
সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে আশ্রয় নেওয়া প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিভা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
থাইল্যান্ডে ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় থাই সংবিধান সংশোধন করে সাধারণ নির্বাচন দেওয়া হয়। থাকসিন সমর্থকেরা ওই সংবিধান সংশোধনকে অবৈধ বলে দাবি করে। ২০০৮ সালে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর থাকসিন দেশে ফেরেন এবং একটি মামলায় আদালত তাঁকে কারাদণ্ড দেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সিনাওয়াত্রা আবার দেশ ছাড়েন।
গত মাসে থাইল্যান্ডের সর্বোচ্চ আদালত সিনাওয়াত্রার ১৪০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করার আদেশদেন।এ আদেশের প্রতিবাদে তাঁর সমর্থকেরা গত ১৪ মার্চ থেকে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে।

বুশ জানতেন গুয়ানতানামোর অনেক বন্দী নির্দোষ

কিউবার গুয়ানতানামো বের মার্কিন বন্দিশিবিরের বন্দীদের অনেকেই ছিলেন নির্দোষ। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এ তথ্য জানতেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে ওই বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেননি তিনি। বুশ প্রশাসনের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিবৃতিতে এ তথ্যের সন্ধান মিলেছে। বিবৃতির একটি অনুলিপি গত শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএফপি সংগ্রহ করেছে।
ওই বিবৃতিতে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল লরেন্স উইলকারসন অভিযোগ করেন, বুশ প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড জানতেন গুয়ানতানামোর বন্দীদের অনেকেই নির্দোষ।
সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০২ সালে যেসব নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করে গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবিরে চালান করা হয়, তাঁদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধও ছিলেন। তাঁদের কোনো দোষ নেই জেনেও কেবল রাজনৈতিক কারণে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। গত ২৪ মার্চ উইলকারসন বিবৃতিটি দেন।
এতে উইলকারসন দাবি করেন, ২০০২ সালের আগস্টে গুয়ানতানামোর বন্দীর সংখ্য বেড়ে দাঁড়ায় ৭৪২ জনে। তাঁদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশু ছিল। ছিল ৯২ থেকে ৯৩ বছর বয়সী বৃদ্ধরা।এসব বন্দীর কে দোষী আর কে নন, এ ব্যাপারে তখন কোনো বিচার-বিবেচনাই করা হয়নি। এ বিষয়টি তখন ডিক চেনিকে অবহিত করা হয়েছিল।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চান ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত শুক্রবার বলেছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জন্য তাঁরা নিরাপদ ও নিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চান। আর এটিই তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এবিসি টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলো আমরা ধ্বংস করতে চাই। আফগান কৌশলের ক্ষেত্রে এটি আমাদের প্রধান বিষয়।’ ওবামা বলেন, ‘আমরা আফগান ও পাকিস্তান উভয়ের সঙ্গে কাজ করে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই, যাতে করে জঙ্গি সংগঠনগুলো নির্মূল হয়ে যায়।’ খবর দ্য ডন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত আরও প্রসারিত করব।’ ওবামা আল-কায়েদার সঙ্গে লড়াইয়ে কারজাইকে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হিসেবে অভিহিত করেন।
ওবামার বক্তব্যের পর তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল জিম জোনস সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে আফগান প্রেসিডেন্ট আগামী মাসে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর আগে ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল আন্ডার ফগ রাসমুসেন শিকাগোতে বলেন, ‘কারজাই হয়তো সব সময় ন্যাটো জোট যা চায় তা করেন না বা বলেন না। কিন্তু আমরা তাঁর ও তাঁর সরকারের কাছ থেকে অনেক ভালো সহায়তা পেয়েছি। যদিও সম্প্রতি কারজাই কিছু সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন।’ তিনি আফগান বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের জন্য বিদেশিদের দায়ী করেন।
ওবামা বলেন, ‘২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালিয়ে যারা তিন হাজার লোক হত্যা করেছে, সেসব জঙ্গি আফগান ও পাকিস্তানে লুকিয়ে আছে। তাই আমরা সেখানে অবস্থান করছি।’ তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, এখনো তারা আমেরিকানদের হত্যার জন্য পরিকল্পনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি শুরুতেই বলেছি, আফগান কৌশলের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান বিষয় হলো আল-কায়েদাকে নির্মূল করা। এরপরই আমরা সেখান থেকে ফিরে আসব।’
কারজাইকে ওবামার চিঠি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইকে তাঁর সরকারের অব্যাহত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। গতকাল শনিবার আফগান সরকার এ খবর জানায়।
তারা জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিঠিতে সম্প্রতি তাঁর কাবুল সফরে উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কারজাইকে ধন্যবাদ জানান। চিঠিতে ওবামা বলেছেন, আগামী ১২ মে আফগান প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসবেন। তাঁর ওই সফরের জন্য তিনি অধীর আগ্রহে বসে আছেন। আফগানিস্তানের মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই চিঠিটি হস্তান্তর করেন। তবে কবে চিঠিটি লিখেছেন বা কবে কারজাই এটি গ্রহণ করেছেন এ সম্পর্কিত কোনো তারিখ জানা যায়নি।

রকিবুলের সেঞ্চুরি

রকিবুলের সেঞ্চুরিতে আন্তজেলা ক্রিকেটের চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফাইনালে কুমিল্লা ৭ উইকেটে হারিয়েছে কক্সবাজার জেলাকে। কুমিল্লা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২৬৩ রানে অলআউট হয় কক্সবাজার। জবাবে ৩ উইকেটে ২৬৫ রান করে কুমিল্লা। রকিবুল ১০৭ বলে করেন ১২৫ রান।

নিজেরাই আঁকলেন নিজেদের

লমের আঁকিবুঁকিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষের অবয়ব। ছবিগুলো দেখে ভ্রূ কুঁচকে কেউ বলতে পারেন, এ আবার কেমন চিত্রকলা! এটা ঠিক, রয়্যাল একাডেমির অনিন্দ্যসুন্দর চিত্রকর্ম এগুলো নয়। তবে এসবই নাকি ফুটবলের অবিস্মরণীয় সম্পদ হয়ে থাকবে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এমনটিই।
চিত্রকর্মগুলো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ৪০ জন খেলোয়াড় ও কোচের। সবগুলোই আত্মপ্রতিকৃতি। ছবিগুলো প্রকাশ করা হবে চামড়ায় বাঁধানো বইয়ে। সেই বইয়ের নাম দেওয়া হবে দি আর্ট অব ফুটবল। আগামীকাল এই বই তোলা হবে নিলামে। ব্রিটিশ সংগীত চ্যারিটি নরডফ রবিনস করছে পুরো কাজটা। নিলাম থেকে পাওয়া অর্থের সবটাই ব্যয় করা হবে শিশু এবং অভাবী বয়স্কদের সাহায্যে। যে ৪০ জনের আত্মপ্রতিকৃতি বইটিতে থাকছে এর মধ্যে আছেন ওয়েইন রুনি, রায়ান গিগস, দিদিয়ের দ্রগবা, স্টিভেন জেরার্ড, মাইকেল ওয়েনসহ আরও অনেকে। আত্মপ্রতিকৃতিতে সাধারণত ভেতরের মানুষটা উঠে আসে। ছবির অন্তর্গত বিষয় বিশ্লেষণ করার জন্য অঙ্কন বিশেষজ্ঞ এমা বাচিকে নিয়োগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাচি এই এলোমেলো দাগের মধ্যেও বিশেষ কিছু খুঁজে পেয়েছেন। এই যেমন রুনির ছবিটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘সে চিন্তার দিক থেকে অনেক এগিয়ে। একজন বিশ্লেষক যে কি না সবকিছু জানতে চায়। কখনো কিছু হালকা করে নেয় না

এবার ড্র

বাংলাদেশ লিগের প্রথম পর্বে নিজেদের মাঠে রহমতগঞ্জকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল চট্টগ্রাম মোহামেডান। ফিরতি পর্বে কেউ জেতেনি। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এই দুই দলের ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। ১৫ ম্যাচে চট্টগ্রাম মোহামেডানের পয়েন্ট ১৫। ১৪ ম্যাচে রহমতঞ্জের পয়েন্ট ১৬। এখনো অবনমন অঞ্চলেই আছে এই দুই দল। এবং নিজেদের নিরাপদ একটা জায়গায় নিয়ে যাওয়ার লড়াই-ই করছে তারা। এ অবস্থায় কালকের এক পয়েন্ট দুই দলের জন্যই মহার্ঘ।
আজকের খেলা: (ঢাকা আবাহনী-মুক্তিযোদ্ধা; ৫টা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম আবাহনী-ব্রাদার্স; ৩-৩০ মি., এমএ আজিজ স্টেডিয়াম।)

ব্রাজিলের সমস্যা

২০১৪ বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণ ও মেরামতকাজ শুরুর জন্য আয়োজক ব্রাজিলকে ৩ মে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ফিফা। নির্ধারিত সময়সীমা এগিয়ে এলেও এখনো কাজই শুরু হয়নি। ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশন সভাপতি রিকার্ডো টিসেইরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, ‘কাজ শুরু করতে না পারলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে আমাদের।’ ব্যাংকগুলোর ঋণ দানে অনীহার কারণেই এ সমস্যা বলে মনে করেন আয়োজকেরা।

মৌসুমে বোল্টের প্রথম দুই শ

আগামী ১ মে জ্যামাইকায় শুরু হবে আন্তর্জাতিক আমন্ত্রণমূলক অ্যাথলেটিকস। ২০০ মিটারে মৌসুমের প্রথম দৌড়টা এখানেই দৌড়াবেন উসাইন বোল্ট। ১০০ ও ২০০ মিটারের বিশ্ব রেকর্ডধারী এই জ্যামাইকান ছাড়াও থাকবেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জজয়ী ওয়ালেস স্পিয়ারমন। থাকবেন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ভেরোনিকা ক্যাম্পবেল এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন (৪০০ মিটারে) যুক্তরাষ্ট্রের সানিয়া রিচার্ডস।

কলকাতার হার

সেমিফাইনালের পথটা একটু মসৃণ করার জন্য জয় যখন গুরুত্বপূর্ণ, তখন হেরে বসল কলকাতা নাইট রাইডার্স। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে কাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে কলকাতা হেরেছে ৭ উইকেটে। এই হারে আইপিএলের প্রথম দুই আসরে ব্যর্থ কলকাতার এবারও সেমিফাইনালের আগেই বিদায়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে সৌরভের দল। অন্যদিকে এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বেঙ্গালুরু। ১০ খেলায় ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস।ওয়েবসাইট।
কলকাতার ফিফটিশূন্য ১৬০/৯ স্কোরে সর্বোচ্চ ৪৫ রান ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। গেইল করেন ৩৪ রান, সৌরভ ৩৩। রান তাড়া করতে এসে রাহুল দ্রাবিড় (৩৫ বলে ৫২) ও রবিন উথাপ্পার (২২ বলে ৫২*) ফিফটিতে ১৭ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে যায় বেঙ্গালুরু (১৬৪/৩)।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে তিরুমালাসেত্তি সুমনের হাফ সেঞ্চুরিতে (৫৫) ডেকান চার্জার্স (১৩৯/৪) ৬ উইকেটে হারিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসকে। সুরেশ রায়নার হাফ সেঞ্চুরিতে (৫২) ৮ উইকেটে ১৩৮ রান তুলেছিল চেন্নাই। ৫ বল বাকি থাকতেই এ রান টপকে যায় ডেকান।

বিমানবন্দরে পড়ে আছে অ্যাথলেটিকসের গুলি

গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় গেমসের সময় অ্যাথলেটিকসের জন্য এক হাজার গুলি আনা হয়েছিল কানাডা থেকে। ওই গুলি আসতে দেরি দেখে শ্রীলঙ্কা থেকে গুলি এনে গেমসের কাজ চালিয়ে নেওয়া হয়। কানাডার গুলি এসে পৌঁছায় গেমসের অ্যাথলেটিকস মিটের এক দিন আগে, যখন আর তা ছাড় করে কাজে লাগানোর সময় ছিল না। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও সেই গুলি এখনো পড়ে আছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে!
অ্যাথলেটিকসে দৌড় শুরুর সংকেত দেওয়া হয় যে গুলি ফুটিয়ে, এবার তা আনা হয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এবং এসএ গেমসে বাংলাদেশ দলের শেফ ডি মিশন মিজানুর রহমানের (মানু) নামে। এ নিয়েই গোল বেধেছিল। গুলি এনেছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মিজানুর রহমানের দাবি, ‘আমি জানতাম না আমার নামে আনা হয়েছে গুলি। সে জন্যই একটু সমস্যা হয়েছে।’ এই তথ্য দিয়ে তিনি আরও জানান, ‘বিওএ ছাড়পত্র দিয়েছে। গুলি ছাড় হয়ে যাওয়ার কথা এরই মধ্যে।’
এই গুলি হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। বিওএ-মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি করে অবশেষে একটা রফা হয়েছে বলে দাবি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের, ‘আমরা বিওএ এবং মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। সাড়াও পেয়েছি। আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে ছাড় হয়ে যাবে।’
শিগগিরই ছাড়ানো না হলে গুলি কানাডায় ফেরত যাবে এবং এটা নিয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পড়তে হবে ঝামেলায়।

সাময়িক অবসরে ইসিনবায়েভা

মাত্র ২৭ বছরই বয়স তাঁর। এর মধ্যেই কি ক্লান্তি ঘিরে ধরল ইয়েলেনা ইসিনবায়েভাকে? আর না হলে পোল ভল্টকে সাময়িক বিদায় জানাবেন কেন তিনি? অনির্দিষ্টকালের জন্য সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাটা গতকালই দিয়েছেন পোল ভল্টের রেকর্ড-কন্যা।
অলিম্পিক সোনাজয়ী এবং বিশ্বরেকর্ডের অধিকারিণী ইসিনবায়েভা তাঁর এজেন্টের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি এবং এর পরই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, সাময়িক ছুটি নেওয়াটা আমার জন্য খুব জরুরি হয়ে পড়েছে।’
ইসিনবায়েভার হঠাৎ এই অবসরের সিদ্ধান্তে একটা গুঞ্জন অবশ্য ছড়িয়ে পড়েছে। হয়তো দোহার ব্যর্থতায় হতাশ হয়েই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি, অনেকে এমনও ভাবছে। দোহায় হয়ে যাওয়া ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে কোনো পদক পাননি তিনি, অতিক্রম করতে পারেননি গত বছর বার্লিনে পার করা উচ্চতাও।
তা যে কারণেই এটা করে থাকেন, আপাতত কোনো প্রতিযোগিতায় না নামলেও যে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাবেন, আউটডোর (৫.০৬ মিটার) ও ইনডোরের (৫ মিটার) রেকর্ডধারী জানিয়ে দিয়েছেন সেটা, ‘নিজেকে ফিট রাখতে অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ারই ইচ্ছা আমার।’
আসছে জুলাইয়ে বার্সেলোনায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। তাতে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও ভাবনায় আছে অনেকবারই নিজের গড়া রেকর্ড ভাঙা রুশ-কন্যার, ‘পুরো গ্রীষ্মটাই বাইরে থাকব বা বার্সেলোনায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেব না—বিষয়টি এমন নয়।’

অবিক্রীত টিকিট ও আল-কায়েদার হুমকি

বিশ্বকাপ ঘিরে দুটি শঙ্কা জেগেছে নতুন করে। ভয় শূন্য গ্যালারির। ভয় আল-কায়েদার হামলার। বিশ্বকাপ শুরু হতে ঠিক দুই মাস বাকি। অথচ এখনো ৫ লাখ টিকিট অবিক্রীত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বকাপ আয়োজকেরা। ওদিকে আল-কায়েদার উত্তর আফ্রিকান শাখা থেকে হুমকি এসেছে, বিশ্বকাপে বোমা হামলা করবে তারা।
অবিক্রীত টিকিটের পরিমাণটা একটু শঙ্কিতই করে তুলছে ফিফা এবং আয়োজকদের। শেষে না আবার গ্যালারি ফাঁকা পড়ে থাকে কোনো কোনো ম্যাচে! আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী ড্যানি জর্ডান বলেছেন, ‘আমাদের স্টেডিয়ামগুলো যদি শূন্য থাকে তাহলে সবাই বলবে এখানের মানুষ ফুটবল ভালোবাসে না। আর এটা খুব দুঃখজনক হবে।’ ফিফার সাধারণ সম্পাদক জেরোম ভালক বললেন এটা একটা চ্যালেঞ্জ এবং সব টিকিট বিক্রি করে এই চ্যালেঞ্জে জিততে হবে আমাদের।’
সবচেয়ে বেশি টিকিট অবশ্য স্বাগতিক দেশের দর্শকেরাই কিনেছে এ পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ২.২ মিলিয়ন টিকিট বিক্রি হয়েছে, এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ২৫ হাজার ও ৪৩৭টি টিকিট কিনেছে আফ্রিকানরা। এর পর যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ও ৯৪৫টি টিকিট। কিন্তু ব্রিটেনে কেবল ৬৭ হাজার ৬৫৪টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। জার্মানিতে আরও কম—৩২ হাজার ২৬৯।
স্বাগতিক দেশে আরও বেশি টিকিট বিক্রি করতে ১৫ এপ্রিলের পর থেকে নেওয়া হবে বিশেষ উদ্যোগ। বিশেষ বুথ ছাড়াও টিকিট পাওয়া যাবে বিভিন্ন সুপার মার্কেটে আর ব্যাংকে।
টিকিট অবিক্রীত থেকে যাওয়ার শঙ্কার সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার যোগ হয়েছে বোমা হামলার ভয়। আল-কায়েদা এই বলে হুমকি দিয়েছে, ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে বোমা হামলা চালানো হবে।
তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই বলেই জানিয়েছেন জর্ডান, ‘এ রকম কিছু ঘটতেই পারবে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা আমাদের আছে।’ জর্ডান বিশেষ করে বলেছেন নতুন নিয়োগ পাওয়া ৩০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তার কথা। ওদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ মন্ত্রী নাথি মাথেথাওয়া বলেছেন, সন্ত্রাসবাদীদের হুমকিকে তারা উপেক্ষা করছে না, তবে এটিকে খুব পাত্তা দেওয়ারও কিছু নেই।

বুকোলা-ড্যামিকে রেখে এমেকাকে বিদায়

বিদ্রোহী তিন নাইজেরিয়ান ফুটবলারের ব্যাপারে আলোচনা করতে কাল সভায় বসেছিল মোহামেডানের ফুটবল কমিটি। রাতে আড়াই ঘণ্টার সভা শেষে কমিটির চেয়ারম্যান এম এ সালাম জানিয়েছেন, ‘স্ট্রাইকার বুকোলা ওলালেকান ও ডিফেন্ডার ড্যামি ইমানুয়েলকে বেতন দিয়ে আগামী ম্যাচেই মাঠে ফেরাতে চায় কমিটি। তবে মিডফিল্ডার এমেকা ক্রিস্টিয়ানোর পারফরম্যান্সে খুশি নন কমিটির বেশির ভাগ সদস্য এবং তাঁকে বেতন দিয়ে বিদায় দেওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন অনেকে। অবশ্য কোচ মারুফুল হক যদি এমেকাকে দলে চান, তাহলে ভিন্ন কথা।’
সালাম যোগ করেছেন, ‘ফুটবল কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে। তারা বিষয়টি দেখবে। এমেকার ব্যাপারে যেহেতু আপত্তি এসেছে, তাই অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। বিদেশিদের সঙ্গে কথা বলবেন ম্যানেজার এবং আশা করি, সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।’
তবে তা ১৪ এপ্রিলের আগে নয়। ক্লাব সভাপতি মোসাদ্দেক আলী ওই দিন লন্ডন থেকে দেশে এলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
‘চার মাস বেতন পাচ্ছি না’—এ অভিযোগ তুলে গত দুই ম্যাচে মাঠে নামেননি বুকোলা-এমেকা। তাঁদের স্বদেশি ড্যামি ইমানুয়েলের অভিযোগ, ‘আমি বেতন পাচ্ছি না পাঁচ মাস।’ ম্যাচ বর্জন করেও টাকা না পেয়ে বাফুফের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিন ফুটবলার।
ওদিকে তিন বিদেশির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আছে মোহামেডানের। বেতন দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়টিরও সুরাহা চায় ক্লাব। কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—জানতে চাইলে ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান বলেছেন, শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি ক্লাবের ডিসিপ্লিনারি কমিটি দেখবে।
যা-ই করা হোক, খেলোয়াড়দের বেতন পরিশোধই এখন বড় চ্যালেঞ্জ মোহামেডানের সামনে। কেন বেতন বাকি পড়ল? মোহামেডানের কর্মকর্তা মোস্তাকুর রহমান দায়ী করেছেন বাফুফেকে, ‘পাঁচ মাসের লিগ ১০ মাসে শেষ করলে ক্লাব তো সমস্যায় পড়বেই।’

রোনালদো নন, রুনি

লিওনেল মেসি অন্য গ্রহের। বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন প্লে-মেকার তুলনার বাইরে। তাই তো সেরার প্রশ্নে মেসিকে না টেনে ওয়েইন রুনি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মধ্যে কে সেরা, সেটা নিয়েই বললেন দানি আলভেজ। বার্সেলোনার এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডারের চোখে ইংলিশ স্ট্রাইকার রুনিই সেরা।
‘সত্যিকার অর্থে রুনির প্রতি আমার দুর্বলতা আছে...। সে অসাধারণ, সত্যি অসাধারণ। যেভাবে সে সবকিছু করে তাতে বলতেই হবে রুনি একেবারে নিখুঁত। আসল কথা হচ্ছে রুনি রোনালদোর চেয়ে ভালো ফুটবলার’—কাল রাতের ‘এল ক্লাসিকো’র আগে বলেছেন আলভেজ।
গত মৌসুমে দুজনে প্রায় সমানে সমান খেললেও এ মৌসুমটা যে রুনিরই, আলভেজ সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন সেটাই। পরিসংখ্যান অবশ্য দুজনের পার্থক্যটা দেখাবে উনিশ-বিশ। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে চোট পাওয়ার পরও দ্বিতীয় লেগে খেলেছিলেন রুনি। গোল করতে পারেননি। ম্যানইউর জার্সি গায়ে ৪১টি ম্যাচ খেলে ৩৪টি গোল করেছেন। সতীর্থদের দিয়েও করিয়েছেন প্রায় আধা ডজন। আর রোনালদো সতীর্থদের দিয়ে খুব একটা গোল করাতে না পারলেও নিজে ২৭ ম্যাচে ২৫ গোল করেছেন। রুনির কাঁধে ভর করে এবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও ভালো খেলেছে বলে দাবি আলভেজের।
আর মেসি? এই আর্জেন্টাইন ক্লাব সতীর্থকে কীভাবে দেখছেন ব্রাজিলিয়ান আলভেজ? ‘সে এখন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়’—নির্দ্বিধায় ঘোষণা করে দিলেন তিনি।