Wednesday, February 6, 2019

ছদ্মবেশে দুই বোনের ভাগ্য জয়

জয়তী কুমারী ও নেহা কুমারী। ভারতের উত্তর প্রদেশের এই দুই কিশোরী এখন ভাসছে সকলের প্রশংসায়। কারণ তারা দুইবোন মিলে যা করেছে তা এক কথায় বিরল।
জয়তী ও নেহার বাবা পেশায় ছিলেন নাপিত। দুইবোন, মা এবং বাবা মিলে টানাপড়েনের সংসার। হঠাৎ করেই তাদের বাবা পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়ে। জয়তী ও নেহা তখন মাত্র তেরো ও এগারো বছরের কিশোরী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় অকুল পাথারে পড়ে তাদের পরিবার। এদিকে বাবার চিকিৎসায় তাদের পরিবারের সামান্য সঞ্চয়টুকু শেষ হয়ে যায়।
সবকিছু হারিয়ে যখন দিশেহারা তাদের মা, তখন এগিয়ে আসে জয়তী ও নেহা। বাবার বন্ধ সেলুনটি পুনরায় চালু করে দুইবোন। কিন্তু মেয়েরা কাটবে ছেলেদের চুল-দাড়ি? অনেকেই ভ্রু কুঁচকে তাদের দোকানে আসা বন্ধ করে দেয়। একদিকে অসুস্থ বাবার চিকিৎসার অর্থ, অন্যদিকে মমতাময়ী মায়ের অসহায় মুখ, সবকিছু মিলিয়ে এক চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয় দুইবোন। তারা মেয়ে নয়, ছেলের ছদ্মবেশ ধরবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ! পরদিন ছেলেদের মতো করে নিজেদের চুল ছেটে, ছেলেদের পোশাক গায়ে চাপিয়ে, হাতে ছেলেদের ব্রেসলেট পরে দোকানে হাজির হয় দুইবোন। শুধু পোশাক নয়, জয়তী ও নেহা নাম ছেড়ে তারা দীপক ও রাজু নাম ধারণ করে।
এবার ভাগ্যদেবী সুপ্রসন্ন হয়। আবার গ্রাহক আসা শুরু করে তাদের সেলুনে। একটু একটু করে তাদের আস্থা জন্মাতে থাকে দীপক ও রাজু নামধারী জয়তী ও নেহার উপর। ধীরে ধীরে উপার্জনও বাড়তে থাকে তাদের। পরিবারে ফিরে আসে স্বচ্ছলতা। গত চারবছর তারা এভাবেই মানুষের চুল-দাড়ি কেটে আসছে। একদিনের জন্যও কেউ জানতে পারেনি তাদের পরিচয়। 
সম্প্রতি তারা যখন বুঝতে পেরেছে গ্রাহকের আস্থা তারা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে তখন তারা তাদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। এরপর থেকে রীতিমতো তারকা বনে গেছে দুইবোন। পত্র-পত্রিকায় তাদের ছবি ছাপা হচ্ছে। মানুষের আশীর্বাদে ভাসছে তারা।

যাজক, বিশপদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেন পোপ

পোপ ফ্রাঁনসিস প্রথমবার প্রকাশ্যে স্বীকার করলেন, অনেক ধর্মযাজক ও বিশপ নান বা মঠবাসিনীদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে সিস্টার বলে পরিচিত ওইসব মঠবাসিনীকে যৌনদাসী বানানো হয়েছে। তিন আরো বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন এই নির্যাতন বন্ধ হয় নি। এখনও চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রোমে ফেরার পথে নিজের বিমানের ভিতর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পোপ। যৌন নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা এমন নয় যে, সবাই এই অন্যায়টি করছেন। তবে কিছু ধর্মযাজক ও বিশপ এই অন্যায়টি করছেন। এই ধারা অব্যাহত আছে।
এই ধারার বিরুদ্ধে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের কি আরো কিছু করার আছে? হ্যাঁ আছে। আমাদের কি ইচ্ছা আছে? হ্যাঁ। কিন্তু যে পথটি আছে তা আমরা এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্কাই নিউজ।
পোপ ফ্রাঁনসিসের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, নারীদের বিরুদ্ধে গির্জায় যাজকদের যৌন নির্যাতনের বিষয়টি মোকাবিলার জন্য সার্বজনীন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা। এমন প্রশ্নের জবাবে পোপ বলেন, এখন এ ইস্যুটি একটি একটি ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কার্ডিনাল থিওডোর ম্যাকরিকের বিরুদ্ধে শিশু সহ প্রাপ্ত বয়স্কদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আছে। তার পরিণতি কি হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন পোপ। এ বিষয়টি তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। ওই ঘটনাটি প্রকাশ করে দেয় যে, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ক্ষমতার কিভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে।

ইরান সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্টেট অব দ্যা ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের বিরুদ্ধে তার আগের অভিযোগগুলোর পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি ইরানকে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় সমর্থক বলে অভিহিত করেন।
দৃশ্যত ২০১৬ সালে নিজের নির্বাচনি প্রচারাভিযানের সময় সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টিতে ওয়াশিংটনের ভূমিকা থাকার যে স্বীকারোক্তি তিনি দিয়েছিলেন মঙ্গলবারের ভাষণ দেয়ার সময় ট্রাম্প তা বেমালুম ভুলে গেছেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, তৎকালীন বারাক ওবামা প্রশাসন উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস সৃষ্টি করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের স্টেট অব দ্যা ইউনিয়ন ভাষণে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে বের করে নেয়ার পদক্ষেপ সমর্থন করেও বক্তব্য রাখেন। ইরানকে কথিত পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার জন্য এ পদক্ষেপ জরুরি ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অথচ পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি দেশ ও পক্ষগুলো এমনকি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা পর্যন্ত একবাক্যে স্বীকার করে এসেছে যে, ইরান পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি মেনে চলছে। এ কারণে তারা ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে গত নভেম্বর থেকে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে ওয়াশিংটনের ইচ্ছার কাছে মাথানত করতে বাধ্য করা যাবে।
ট্রাম্প এমন সময় এ দাবি করলেন যখন আমেরিকার ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কারণ, পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি দেশ ও পক্ষগুলো ইরানে ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আরোপের নীতির কঠোর বিরোধিতা করেছে।
এদিকে ট্রাম্প তার ভাষণে ইরানকে ইহুদি-বিদ্বেষী হিসেবেও তুলে ধরেছেন। তিনি তার ভাষায় বলেন, “যে সরকার আমেরিকা ধ্বংস হোক বলে স্লোগান দেয় এবং ইহুদিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর হুমকি দেয় তাকে আমরা সারাক্ষণ পর্যবেক্ষণে রাখি।”
ট্রাম্প এমন সময় এ অভিযোগ করলেন যখন তেহরান শুরু থেকেই বলে এসেছে ইহুদি ধর্মের প্রতি দেশটির কোনো বিদ্বেষ নেই। বরং যে ইহুদিবাদী দর্শনের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জবরদখল করে ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তেহরান তার শত্রু। ট্রাম্প বর্তমানে ইসরাইলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন এবং এই পৃষ্ঠপোষকতার অংশ হিসেবে তিনি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ইরানের সাম্রাজ্যবাদ ও ইহুদিবাদ বিরোধী নীতি হচ্ছে তেহরানের প্রতি ট্রাম্পের সব আক্রোশের মূল কারণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভাবছেন ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে পারলেই তেহরানের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী নীতিতে পরিবর্তন আনা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। তিনি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক সংকট চাপিয়ে দিয়ে এদেশের জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা সম্ভব হবে বলে ধারণা করলেও এ ধরনের চাপে উল্টো বরং ইরানি জনগণের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বাড়বে এবং সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন জোরালো হবে।

বাংলাদেশে ব্লগিং-এর আগ্রহ কী কমে গেছে?

বাংলাদেশে ছয় বছর আগে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিলো তার মুলে ছিলো অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বিশেষ করে ব্লগারদের একটি অংশ।
ওই আন্দোলন চলাকালেই ঢাকার মিরপুরে খুন হয়েছিলেন ব্লগার রাজীব হায়দার। এরপর একে একে বিভিন্ন সময় খুন হয়েছেন আরও কয়েকজন ব্লগার।
অন্যদিকে শাহবাগের আন্দোলন শেষ হবার পরে নানা সময়ে দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গেছেন সুপরিচিত কয়েকজন ব্লগার।
ব্লগার আরিফ জেবতিক বিবিসি বাংলাকে বলছেন বাংলা ব্লগিংয়ের সেই ক্রেজ এখন আর নেই।
"তবে এর কারণ আসলে ওই অর্থে হুমকি বা খুনের ঘটনাগুলো নয়। এগুলোর একটা প্রভাব হয়তো কিছুটা আছে। কিন্তু ব্লগিং কমে যাওয়ার মূল কারণ সেই প্রযুক্তিই।"
তার মতে, তখন ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগের অন্য মাধ্যমগুলোও ছিলোনা বলেই ব্লগিং জনপ্রিয় হয়েছিলো। কিন্তু এখন সবাই নিজের ফেসবুক পাতায় লিখছে এবং মূহুর্তে সেগুলো ছড়িয়ে পড়ছে।
আরেকজন সুপরিচিত ব্লগার বাকী বিল্লাহ বলছেন এটা ঠিক যে ২০১৩ সালে বাংলা ব্লগিংয়ের বিষয়টি ব্যাপক প্রচার পেয়েছে শাহবাগের কারণে।
"কিন্তু কমিউনিটি ব্লগিং (কোনো একটা ব্লগিং প্লাটফরমে অনেকে মিলে লেখা) আসলে ততদিনে কমে আসতে শুরু করেছিলো। বরং ব্যক্তিগত ব্লগিং বেড়ে যাচ্ছিলো তখনি। এরপর যখন ফেসবুক আসলো তখন আর সেটার প্রয়োজনীয়তাই থাকলোনা।"
ব্লগারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০০৫ সালের দিকে মূলত বাংলা ব্লগিং শুরু হয়েছিলো।
কয়েক বছরের মধ্যে বাংলা প্রায় ৫শ ব্লগিং সাইট বিশ্বব্যাপী দেখা যায়। পরবর্তীকালে বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয় সামহোয়ার ইন ব্লগ ও সচলায়তনসহ আরও কয়েকটি। ২০১৩ সাল থেকে পরবর্তী কয়েক বছর ঘুরে ফিরে এসেছে এই ব্লগার ও ব্লগিং বিষয়গুলো।
ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজত ইসলাম শাহবাগ আন্দোলনের পরপর ৮৪ সাল ব্লগারের নাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করেছিলো।
এর মধ্যেই বেশ কয়েকজন খুন হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে আবার কয়েকজন আটক হয়ে জেল খেটেছেন।
আবার ওই তালিকার কয়েকজন হামলা ও হুমকির শিকার হয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন।
প্রচলিত ধারার বাইরে বেশ কিছু কমিউনিটি ব্লগ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
তেমনি একটি পেচাব্লগ.কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক তরুণদের একটি অংশ অত্যন্ত সক্রিয় ছিলো এই ব্লগে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সক্রিয় থাকা এই ব্লগের সদস্য ছিলো এক হাজারেরও বেশি।
ব্লগটিতে মূলত রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এসব বিষয়ে ক্যাম্পেইন হতো বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন এর এডমিন এনায়েত শাওন।
"আমরা এসব বিষয়ে ক্যাম্পেইন করেছি এটা সত্য। তবে নোংরা বা অশ্লীল লেখাও প্রকাশ করতে দিতামনা। তারপরেও একের পর এক হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত বন্ধই করে দিয়েছি।"
তার মতে ব্লগিংয়ের বিরুদ্ধে এতো বেশি পাল্টা ক্যাম্পেইন হয়েছিলো যে সাধারণত কবি সাহিত্যিকরাও ব্লগ থেকে সরে ব্যক্তিগত পেজ খুলতে শুরু করে দিয়েছিলেন, বিশেষ করে ফেসবুক আসার পর।
এনায়েত শাওন বলেন, "ফেসবুকে যখন বাংলায় আনলিমিটেড লেখার সুযোগ তৈরি হলো তখন সেটিই মূলত ব্লগিংয়ে ধ্বস নিয়ে এসেছে।"
প্রায় একই মত দিয়েছেন আরিফ জেবতিকও।
তিনি বলেন, "সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন সহজে কথা বলা যায়। অল্প কথাতেও বোঝানো যায়। সে কারণে বেসিক লেখালেখিটাও কমে এসেছে। বলা যায় প্রজন্মের পরিবর্তন এসে গেছে প্রযুক্তির হাত ধরে।"
আবার মোবাইল হাতে হাতে এসে পড়ায় ব্লগিংয়ের চেয়ে ফেসবুকেই বেশি সক্রিয় সবাই, যার প্রভাব পড়েছে ব্লগিংয়ে, বলছিলেন মিস্টার জেবতিক।
আর বাকী বিল্লাহ বলছেন ব্লগিং বিষয়টাকে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
"শাহবাগ আন্দোলনের সংগঠকদের অনেকেই ব্লগার ছিলেন সেটাই হয়তো এর কারণ ছিলো। তবে ব্লগার পরিচেয় খুন হওয়ার মধ্যে এমনো আছে যারা কোনোদিন ব্লগিং করেননি।"
সামহোয়ারইন ব্লগে অত্যন্ত সুপরিচিত এই ব্লগার বাকী বিল্লাহ বলছেন, "এখন ফেসবুকেই লিখি। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার এক্সপানশনটাই আসলে ব্লগিংয়ের প্রতি সবার আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। আর অন্য ঘটনাগুলোর কিছু প্রভাব তো ছিলোই।"
তিনি বলেন ব্লগের জায়গায় ফেসবুক ঠিক তেমনি ফটো ব্লগিংয়ের জায়গা নিয়ে নিচ্ছে ইন্সটাগ্রাম।

দুদকের ভুল স্বীকার, বড় চক্রের শিকার জাহালম

সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা ৩৩টি মামলায় নিরপরাধ জাহালমের তিন বছর কারাভোগের ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা দেশজুড়ে। যে আবু সালেকের কারণে জাহালমের জীবন থেকে তিনটি বছর হারিয়ে গেছে কোনো হদিস মিলছে না তার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবু সালেক একা নয়, অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনার সঙ্গে রয়েছে একটি বড় চক্র। এদিকে নিরপরাধ জাহালমের কারাভোগে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে এই আত্মসাতের ঘটনায় তদন্তে দুদক ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের গাফলতি ছিল কি না তা জানতে পুনরায় এক সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল সংস্থাটির সচিব ড. শামসুল আরেফিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পরিচালক আবু হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। অন্যদিকে দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলামও গতকাল সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে জানান, দুদকের কিছু ভুলে জাহালমকে কারাভোগ করতে হয়েছে। তার কারাভোগে কার গাফলতি ছিল তা ২০ কর্মদিবসের মধ্যে এক সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
যে বা যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান দুদক কমিশনার। এসময় তিনি কীভাবে জাহালম এই মামলায় ফেঁসেছেন তারও সারমর্ম তুলে ধরেন।
আমিনুল ইসলাম জানান, গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি টিভি চ্যানেলে জাহালমকে নিয়ে রিপোর্ট করার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। যেদিন ওই রিপোর্টটি দেখেছি তার পরদিন থেকেই আমরা নতুন করে তদন্ত শুরু করি। একই সঙ্গে গত বছরের মার্চ মাসেই ৯ কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য নিয়োগ করি। পাশাপাশি মামলাগুলো স্থগিত রাখার জন্য আদালতে পিপিগণকে চিঠি পাঠানো হয়।
তিনি জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদন থেকে জানা যায় জাহালম নির্দোষ। তিনি প্রকৃত আবু সালেক নন। পরবর্তী সময়ে আমরা দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক জাহালমকে মামলা থেকে অব্যাহতি এবং মুক্তি দেয়া হয়। নির্দোষ এই ব্যক্তি যার কারণে কারাভোগ করলেন সেই আবু সালেকের বিষয়ে দুদক কমিশনার জানান, আবু সালেকের ব্যাপারে কমিশন নতুন করে তদন্ত করবে। তবে এরই মধ্যে  যেটা কমিশন পেয়েছে তা হলো- আবু সালেক এক সময় এনআইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) প্রকল্পে কাজ করতো। সেখান থেকেই কীভাবে আইডি কার্ড জাল করা যায় সেসব রপ্ত করেছেন। জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে তিনি শুধু ছবি পরিবর্তন করে ব্যাংকে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটান। যে কারণে ব্যাংক কর্মকর্তারা জাহালমকেই চিহ্নিত করেন। একই সঙ্গে দুদকে অনুসন্ধানের সময়ও নিরীহ ব্যক্তিটিই আবু সালেক হিসেবে চিহ্নিত হয়।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিনা অপরাধে জাহালমের কারাভোগের পেছনে শুধু আবু সালেকই জড়িত নয়। একটি চক্র কাজ করেছে। আর তাতে গোলাম মর্তুজা নামের আরো একজনের নাম উঠে এসেছে।  অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোলাম মর্তুজার বর্তমান আবাস নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা সদরের দক্ষিণপাড়া (পাইলট স্কুলের পূর্ব পাশে) হলেও তার আসল বাড়ি পার্শ্ববর্তী মল্লিকপুর ইউনিয়নের জোগিয়া গ্রামে। এই গ্রামের মধ্যপাড়ার মৃত ছামাদ মোল্লার ছেলে তিনি। তার বড় ভাই মৃত তবিবুর রহমান রুনু ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। আর মর্তুজার তিন সন্তানের মধ্যে দুজন ছেলে ও একজন মেয়ে। তারা সবাই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পড়ছেন এবং স্ত্রী কালনা সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। ঢাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে এখন লোহাগড়াতেই আছেন গোলাম মর্তুজা। জড়িয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিতেও।
গোলাম মর্তুজার আরো একটি পরিচয় হচ্ছে- তিনি একটি বড় ধরনের জালিয়াতি চক্রের সদস্য। তার প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৩টি চেকে ১৮ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে লুট হয়েছে। এই চক্রটির অনুসন্ধানের নামে ভুল তদন্তে প্রায় তিন বছর জেল খেটেছেন ঘোড়াশালের একটি পাটকল শ্রমিক টাঙ্গাইলের নাগরপুরের জাহালম। অথচ, কোনো মামলার চার্জশিটে জাহালমের নামই নেই। আবার কোনোটিতে আছে জাহালম ওরফে আবু সালেক ওরফে গোলাম মর্তুজা (৩০)। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, এই তিনজনের বাড়ি তিন জেলায়। বয়সেরও ফারাক রাত আর দিন। কোনো মামলায় আবার জাহালমের বাড়ি টাঙ্গাইল, আবু সালেকের বাড়ি ঠাকুরগাঁও ও গোলাম মর্তুজার বাড়ি নড়াইলে দেখানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সব মামলার এজাহার, চার্জশিট ও সম্পূরক চার্জশিটে গোলাম মর্তুজা ‘মেহেরুন ছামাদ ট্রেডার্সে’র প্রোপাইটার বা স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানায় বলা হয়েছে- গ্রাম: লোহাগড়া (দক্ষিণ পাড়া), নড়াইল। আবার অন্য একটি মামলার অধিকতর তদন্তে মর্তুজার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে দুদক। এছাড়া কোনো কোনো মামলায় মর্তুজার বাড়ি দেখানো হয়েছে, টাঙ্গাইলের নাগরপুরে।  মামলার নথিপত্র, দুদকের এজাহার ও চার্জশিট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আবু সালেক ‘মেহেরুন ছামাদ ট্রেডার্সে’র প্রোপাইটার মর্তুজাকে ৩৩টি অ্যাকাউন্ট পে চেক দিয়েছেন। যদিও তার ওই অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই ছিল না। এরপরও ‘চেক বাউন্স’ না হয়ে কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা গোলাম মর্তুজার মেহেরুন ছামাদ ট্রেডার্স’র হিসাবে ১৮ কোটি টাকা যোগ হয়েছে। পরে এই টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেছে চক্রটি। তবে এসব ঘটনার তদন্তে নেমে আবু সালেককেই জাহালম হিসেবে চিহ্নিত করেন দুদক কর্মকর্তারা। আবু সালেক জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জালিয়াতির মাধ্যমে জাহালমের ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। ঠিকানা জালিয়াতির এ ঘটনায় তিন বছর কারা ভোগ করেছেন জাহালম।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালের এপ্রিলে ৩৩টি মামলা করে দুদক। দুদক তদন্ত করে বলে, জালিয়াত চক্র সোনালী ব্যাংকের ক্যান্টনমেন্ট শাখায় আবু সালেকসহ তিনজনের হিসাব থেকে ১০৬টি চেক ইস্যু করে। চেকগুলো ১৮টি ব্যাংকের ১৩টি হিসাবে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জমা করে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের কর্মচারী মাইনুল হক জালিয়াতির ব্যাপারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখেন। ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যাপারে সালেককে সহায়তাও করেন মাইনুল। সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংকের ক্যান্টনমেন্ট শাখার কর্মচারী মাইনুল সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিস (মতিঝিল) থেকে ভাউচার, চেক, কম্পিউটার প্রিন্ট আনা-নেয়া করতেন। আনা-নেয়ার পথে আবু সালেক স্বাক্ষরিত চেকগুলো সরিয়ে আলাদা রাখতেন। ওই চেকগুলো ছাড়া বাকি চেকের জন্য আলাদা ভুয়া ভাউচার তৈরি করে তা ক্যান্টনমেন্ট শাখায় দাখিল করতেন। লোকাল অফিসের কর্মকর্তা শাখা অফিসের কর্মকর্তার স্বাক্ষর যাচাই-বাছাই না করে পুরো অর্থ ক্লিয়ারিং হাউসে পাঠাতেন। এভাবে ক্লিয়ারিং হাউসের সোনালী ব্যাংকের হিসাব থেকে ভুয়া ভাউচার তৈরির মাধ্যমে সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

মেয়েদের খৎনা সম্পর্কে আপনি কতটা জানেন?

জাতিসংঘের হিসাবে, বিশ্বের প্রতিটি ২০জন মেয়ে শিশু বা নারীর মধ্যে একজনের খৎনা করা হয়ে থাকে, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় এফিএম বা ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন।
বর্তমান বিশ্বে এরকম বিশ কোটি নারী রয়েছেন, যাদের আংশিক অথবা পুরো খৎনা অর্থাৎ যৌনাঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে।
নারীদের এরকম যৌনাঙ্গ কর্তন বন্ধের আহবান জানিয়ে প্রতিবছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে 'জিরো টলারেন্স' দিবস হিসাবে পালন করে জাতিসংঘ।
অনেক নারী ও মেয়ের শিশু অবস্থাতেই এরকম খৎনা করা হয়, এমনকি শিশুদেরও। অনেক সময় বয়ঃসন্ধির সময় এটি করা হয়।
কিন্তু এর ফলে নারীদের শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে তাদের সারাজীবন ধরে বয়ে বেড়াতে হয়। নারীদের খৎনা আসলে কী?
নারীদের খৎনার মানে হলো ইচ্ছাকৃতভাবে মেয়েদের যৌনাঙ্গের বাইরের অংশটি কেটে ফেলা। অনেক সময় ভগাঙ্কুর এর পাশের চামড়া কেটে ফেলা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছে, '' চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যতীত এমন যেকোনো প্রক্রিয়া, যা নারীদের যৌনাঙ্গের ক্ষতি করে থাকে।''
এ ধরণের কাজে নারীদের শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতি করে থাকে, যার স্বাস্থ্যগত কোন উপকারিতা নেই।
নারীদের জন্য উদ্বেগ এবং তাদের পরবর্তী সম্পর্কের ওপর মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে এই বিষয়টি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা জোর করে এটি করা হয়ে থাকে।
এরকম খৎনার শিকার একজন নারী বিশারা বলছেন, আরো চারটি মেয়ের সঙ্গে খৎনা করা হয়েছিল।
''প্রথমে আমার চোখ বেধে ফেলা হয়। এরপর আমার দুই হাত পেছনে শক্ত করে বাধা হয়। আমার দুই পা দুইদিকে মেলে ধরে যৌনাঙ্গের বাইরের চামড়া দুইটি শক্ত করে পিন কিছু দিয়ে আটকে দেয়া হয়।"
"কয়েক মিনিট পর আমি তীক্ষ্ণ একটি ব্যথা অনুভব করলাম। আমি চিৎকার করতে লাগলাম, আর্তনাদ করলাম, কিন্তু কেউ আমার কথা শুনলো না।
আমি লাথি মেরে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু দানবের মতো কেউ আমার পা চেপে ধরে রাখল।''তিনি বলছেন, এটি ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। পরে অন্য সব মেয়েদেরও একই অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়। ব্যথা নিরাময়ের জন্য ছিল শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে তৈরি ভেষজ ওষুধ।
''একটা ছাগলের মতো করে তারা আমার দুই পা টেনে ধরে ক্ষত স্থানে সেই ভেজষ ওষুধ মাখিয়ে দিল। এরপর বলতে লাগলো, পরের মেয়েটিকে নিয়ে আসো।''
যদিও মেয়েদের এরকম খৎনা অনেক দেশেই বেআইনি, তবে দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশি এটি করা হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যেও এটি প্রচলিত আছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে চার ধরণের খৎনা
১. ভগাঙ্কুর এবং আশেপাশের চামড়ার পুরোটাই বা আংশিক কেটে ফেলা।
২. ভগাঙ্কুর, যৌনাঙ্গের বাইরের বা ভেতরের চামড়া অপসারণ করে ফেলা।
৩. যৌনাঙ্গের বাইরের বা ভেতরের অংশের চামড়ার অংশটি কেটে ফেলে পুন:স্থাপন করা।
যৌনাঙ্গের বাইরের এবং ভেতরের চামড়া কেটে এমনভাবে পুনঃ স্থাপন করা হয়, যাতে শুধুমাত্র মূত্র ত্যাগের জন্য ছোট একটি ফাঁকা থাকে। এতে অনেক সময় নারীদের নানা সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
অনেক সময় এই ফাঁকা জায়গাটি এতো ছোট হয়ে থাকে যে, যৌন মিলনের জন্য পরবর্তীতে আবার কেটে বড় করতে হয়। অনেক সময় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৪. ওপরের তিনটির বাইরে ভগাঙ্কুরের বা যৌনাঙ্গের সবরকম কাটা ছেড়া বা ক্ষত তৈরি করা কেন এটি করা হয়?
নারীদের খৎনার পেছনে যেসব কারণ মূলত কাজ করে: সামাজিক রীতি, ধর্ম, পরিছন্নতার বিষয়ে ভুল ধারণা, কৌমার্য রক্ষার একটি ধারণা, নারীদের বিয়ের উপযোগী করে তোলা এবং পুরুষের যৌন আনন্দ বৃদ্ধি করার মতো বিষয়।
অনেক সংস্কৃতিতে নারীদের খৎনাকে মেয়েদের সাবালিকা হয়ে ওঠা মনে করা হয়। এটিকে অনেক সময় বিয়ের পূর্বশর্ত হিসাবেও দেখা হয়।
যদিও পরিছন্নতার বা স্বাস্থ্যগত কোন সুবিধা নেই, কিন্তু এ ধরণের রীতিতে অভ্যস্ত সমাজগুলোর মানুষেরা মনে করেন, যেসব মেয়েদের এরকম খৎনা করা হয়নি, তারা তারা অস্বাস্থ্যকর, অপরিছন্ন বা গুরুত্বহীন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এটি করা হয় এবং বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি নারীদের বিরুদ্ধে একটি সহিংস আচরণ। কোথায় এ ধরণের রীতি চালু আছে?
বর্তমানে আফ্রিকার অনেক এলাকায়, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার কিছু অংশে এই রীতি চালু আছে। তবে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু অভিবাসী সমাজে, উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকার কোন কোন গোষ্ঠীর ভিতর এই প্রবণতা রয়েছে।
ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ২৯টি দেশে ব্যাপকভাবে এই রীতি চালু রয়েছে, যদিও এদের মধ্যে ২৪টি দেশেই এটি নিষিদ্ধ। এমনটি যুক্তরাজ্যে নারীদের খৎনা বেআইনি, তবে মেয়ে শিশুদের ওপর এরকম খৎনা করার প্রবণতা বাড়ছে। এসব শিশুরা স্কুলে না পড়ায় বা যথেষ্ট বড় না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সহজে সনাক্ত করতে পারেন না।
অনেকে দেশে বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের সাজা হতে পারে, এরকম আশঙ্কা থেকে ভুক্তভোগীরা আর অভিযোগ সামনে আনেন না।
কিছুদিন আগে উগান্ডা থেকে আসা একজন মা প্রথম ব্যক্তি হিসাবে এ ধরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
সূত্রঃ বিবিসি

অনলাইনে ৩২ শতাংশ বাংলাদেশী শিশু হয়রানির শিকার

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩২ শতাংশ শিশু অনলাইনে সহিংসতা,  ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ডিজিটাল উৎপীড়নের শিকার হওয়ার মতো বিপদের মুখে রয়েছে। শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফ আজ বাংলাদেশকে সতর্ক করে এ কথা বলেছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি অনলাইনে শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা মোকাবেলা ও প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
‘নিরাপদ ইন্টারনেট দিবসে’ জানানো এই আহ্বান এসেছে তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর সম্প্রতি ইউনিসেফ পরিচালিত এক জরিপ এবং ‘#এন্ডভায়োলেন্স ইয়ুথ টকস’ শিরোনামে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত একটি ধারাবাহিক আলোচনা অনুষ্ঠানের ভিত্তিতে। ১৬০টিরও বেশি দেশে ইউনিসেফ পরিচালিত জরিপে পাঁচ সপ্তাহ ধরে ১০ লাখেরও বেশি সাড়া আসে।
‘বাংলাদেশে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা’ শিরোনামে ইউনিসেফ বাংলাদেশ পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার জন্য দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ১ হাজার ২৮১ জন স্কুল-বয়সী (১০ থেকে ১৭ বছর) শিশুর ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়, যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের মধ্যে ধর্মীয় উস্কানি দেয়ার বিষয়টিও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ১০ শতাংশ শিশু ধর্মীয় উস্কানিমূলক বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করে। কিশোর বয়সীরা (১৬ থেকে ১৭ বছর) অন্য বয়সী শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি এই ধরনের উস্কানিমূলক বিষয়বস্তুর সম্মুখীন হয়।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীর কথা আমরা শুনেছি এবং তারা যা বলছে তা পরিষ্কার-  ইন্টারনেট একটি নির্দয় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এজন্য নিরাপদ ইন্টারনেট দিবসে ইউনিসেফ তরুণ জনগোষ্ঠীর নেতৃত্ব অনুসরণ করছে ও অনলাইনে তাদের প্রতি সদয় হতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
একইসঙ্গে সবার জন্য, বিশেষ করে শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে নিরাপদ একটি জায়গায় পরিণত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানাচ্ছে ইউনিসেফ।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ২৫ শতাংশ শিশু (১০-১৭ বছর বয়সী) ১১ বছর বয়সের আগেই ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করতে শুরু করে। এ ছাড়া, শিশুদের একটি বড় অংশ (৬৩%) প্রাথমিকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের স্থান হিসেবে তাদের নিজেদের কক্ষটিকেই ব্যবহার করে। এটা “বেডরুম কালচার”-এর ব্যাপকতা নির্দেশ করে, যা অপেক্ষাকৃত কম নজরদারির মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশে উচ্চমাত্রায় অনলাইনে প্রবেশাধিকারে সুযোগ ও ব্যবহারের দিক থেকে ছেলেরা (৬৩%) মেয়েদের (৪৮%) চেয়ে এগিয়ে আছে। ইন্টারনেটে নিয়মিত সবচেয়ে বেশি যে দুটি কাজ করা হয় তা হচ্ছে, অনলাইন চ্যাটিং (বার্তা আদান-প্রদান) ও ভিডি দেখা। প্রতিদিন গড়ে ৩৩ শতাংশ সময় অনলাইন চ্যাটিং এবং ৩০ শতাংশ সময় ভিডিও দেখা হয়ে থাকে। সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, ৭০ শতাংশ ছেলে ও ৪৪ শতাংশ মেয়ে অনলাইনে অপরিচিত মানুষের বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করে। এমনকি জরিপে অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলে সেই অনলাইন ‘বন্ধুদের’ সঙ্গে সরাসরি দেখা করার কথাও স্বীকার করে।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। ২০০০ সাল থেকে এই সংখ্যা ৮০০ গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশে অনলাইন জনগোষ্ঠীর গড় বয়স ক্রমেই কমছে। এমনকি ১১ বছরের শিশুরাও প্রতিদিন ইন্টারনেটে প্রবেশ ও ব্যবহার করছে। যদিও ছোট শিশুদের তুলনায় বেশি বয়সী শিশুরা অনলাইনে ভয়ভীতির সম্মুখীন হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তবে ক্ষতিকর সামগ্রী, যৌন নিগ্রহ ও অপব্যবহার এবং ভয়ভীতির সম্মুখীন হওয়ার ঝুঁকি থেকে শিশুরা কখনোই মুক্ত নয়।
অনলাইনে হয়রানী এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ এটা দ্রুত অনেকের কাছে পৌঁছে যেতে পারে এবং অনলাইনে অনির্দিষ্টকাল ধরে এগুলো থেকে যেতে পারে। অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় যারা অনলাইনে ভয়ভীতির শিকার হয়, তাদের অ্যালকোহল ও মাদকে আসক্ত হওয়ার এবং স্কুল ফাঁকি দেওয়ার হার বেশি। এছাড়া তাদের পরীক্ষায় ফল খারাপ করা, আত্ম-সম্মান কমে যাওয়া ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেওয়ার সমূহ আশঙ্কা থাকে।

ইয়েমেন যুদ্ধে মিত্রকে দেয়া মার্কিন অস্ত্র এখন শত্রুর হাতে

আঞ্চলিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। পাশাপাশি ওয়াশিংটনে তৈরি অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা এই দুই দেশ। এদের সঙ্গে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি রয়েছে ওয়াশিংটনের। কিন্তু মিত্র দেশ হিসেবে সৌদি আরব ও আমিরাতকে যুক্তরাষ্ট্র যেসব অস্ত্র দিয়েছে, তা শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হাত ঘুরে এখন সেগুলো ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি জোটের মিত্র হয়ে ওঠা কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠন ও সালাফি মিলিশিয়াদের হাতে পৌঁছেছে। অথচ আল-কায়েদা সম্পৃক্ততার অভিযোগে অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্র এই গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। অর্থাৎ মিত্র দেশ হিসেবে সৌদি আরবকে দেয়া অস্ত্র এখন যুক্তরাষ্ট্রেরই শত্রুদের হাতে। এমনকি ইরান সমর্থিত কয়েকটি সংগঠনের কাছেও মার্কিন অস্ত্র পৌঁছে গেছে।
ফলে  মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের কাছে মার্কিন অস্ত্রের গোপনীয় প্রযুক্তি ফাঁস হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। আর এতে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্য সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মদতপুষ্টদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে যুদ্ধরত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে আনুগত্য প্রকাশের বিনিময়ে অস্ত্র সরবরাহ করছে সৌদি জোট। এর মাধ্যমে সেখানে প্রভাব বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তারা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুসারে, তৃতীয় পক্ষের কাছে অস্ত্র হস্তান্তর করে সৌদি আরব তাদের অস্ত্র চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র তদন্ত করে দেখছে। তবে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি জোটের ওপর কর্তৃত্ব হারিয়েছে কিনা, এখন সে প্রশ্নও উঠেছে। একই সঙ্গে মার্কিন অস্ত্র কেনা অব্যাহত রাখার জন্য সৌদি আরব যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে কিনা সে বিষয়টিও এখন সামনে এসেছে। এর আগে, সিএনএনের আরেক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা অস্ত্র দিয়ে সৌদি আরব বাছবিচারহীনভাবে ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে। যাতে শিশুসহ ডজন ডজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছে।
এদিকে, কলামিস্ট জামাল খাসোগির হত্যার ঘটনায় বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস সৌদি আরবের প্রতি ক্ষুব্ধ। এর মধ্যে দেশটির বিরুদ্ধে তৃতীয় পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। ওয়াশিংটনের দেয়া অস্ত্র দিয়েই আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনা করে সৌদি আরব। এমন পরিস্থিতিতে রিয়াদকে সমর্থন দেয়া বন্ধ করার জন্য কংগ্রেস ট্রাম্প প্রশাসনকে বাধ্য করার উদ্যোগও নিতে পারে।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট ২০১৫ সালে ইয়েমেনে হামলা শুরু করে। তারা রাজধানী সানা থেকে ইরানের মদতপুষ্ট হুতি বিদ্রোহীদের উৎখাত করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট আব্দুরাবু মানসুর হাদির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে বর্তমানে ইয়েমেন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এখন সেখানে বন্দুকের পাশাপাশি প্রায় সব ধরনের সামরিক অস্ত্রের প্রয়োগ করা হচ্ছে। অস্ত্রের বন্যায় সয়লাব হয়েছে গোটা ইয়েমেন। সেখানে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্র যেমন ঢুকছে, অন্যদিকে ইরান সাধ্যমতো সব ধরনের অস্ত্র দিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে।

কোটি ডলার উপার্জনকারী মডেল এখন গৃহহীন, ঘুমান রাস্তায়

বিশ্বখ্যাত ‘ভৌগ’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদকন্যা তিনি। নামীদামী মডেল। ক্যারিয়ারের শীর্ষে ছিলেন এক সময়। মাত্র ২০ দিনে কামিয়েছেন ২০ লাখ ডলার। মডেলিং করেছেন সুপারমডেল লিন্ডা ইভানজেলিস্তার মতো মডেলদের সঙ্গে। কাঁধে কাঁধ রেখে চলেছেন জ্যাক নিকলসন ও ম্যাডোনার মতো তারকাদের সঙ্গে। তিনি নাস্তাসিয়া আরবানো (৫৭)। মডেলিং ক্যারিয়ারের উত্তুঙ্গু সময়ে তার ছিল হাত ভরা ডলার। হাওয়ায় হাওয়ায় উড়তেন। কখনো ভবিষ্যতনিয়ে ভাবেন নি। কিন্তু সেই বিখ্যাত হয়ে ওঠা ভৌগ মডেলকন্যা নাস্তাসিয়া আরবানো এখন গৃহহীন। রাত কাটে তার বারসেলোর রাস্তায়। স্পেনের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। ঘুমান যেখানে রাত হয় সেখানেই। কেন? তার উপার্জনের এত্ত অর্থ গেলো কোথায়? এমন প্রশ্ন যে কেউ করে বসবেন। নাস্তাসিয়া বলেছেন, তার সাবেক স্বামী এর মূলে। তিনিই তার সব অর্থ নিয়ে চলে গেছেন।
স্পেনের এল পেরিডিকো’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, আমি যেসব ম্যাগাজিনের জন্য কাজ করেছি, সেখানে সবাই আমাকে ভালবাসতেন। বছরে মাত্র ২০ দিন কাজ করার জন্য আমাকে দেয়া হয়েছিল ১০ লাখ ডলার। এভাবে উপার্জন করেছি তিন থেকে চার বছর। এক রাতে আমি জ্যাক নিকলসনের সঙ্গে নৈশভোজ করেছি তো পরের রাতে অ্যান্ডি ওয়ারহোল অথবা রোমান পোলানস্কির সঙ্গে। পার্টি করেছি মেলানি গ্রিফিথ, ডন জনসন, সিমন ও গার  ফানকেলের সঙ্গে। নাস্তাসিয়া আরো বলেন, সিন পেনের সঙ্গে ম্যাটেরিয়াল গার্লখ্যাত ম্যাডোনার বিয়ে ঠিক হলো। তাতে ডেভিড কিথকে আমন্ত্রণ জানানো হলো। ওই বিয়েতে আমি তো প্রায় যোগ দিয়েই ফেলেছিলাম। কারণ, ওই সময় আমি ডেভিড কিথের সঙ্গে ডেটিং মারছিলাম। কিন্তু ম্যাডোনার বিয়ের ওই অনুষ্ঠানে যেতে পারি নি আমাদের কিছুটা সমস্যার জন্য। ওই সময় আমার সবই ছিল। আমি যেন একজন রানী ছিলাম।
তার ভাষায়, আমার জীবনধারায় জৌলুস শেষ যায়। কারণ, আমার সাবেক স্বামী ও আমার সন্তানদের পিতা আমার শুধু কাপড় চোপড় ছাড়া সব কিছু নিয়ে যায়। তার সঙ্গে সম্পর্কের সবচেয়ে ভাল যে জিনিসটি পেয়েছি তা হলো সন্তান। বাকি যা ছিল তার সবটাই হরিবল বা ভয়াবহতা। আমার অর্থ দিয়েই তিনি সব কিছুর বিল দিতেন। তার সঙ্গে পরিচয় হওয়ার মাত্র দু’দিন পরেই তিনি আবদার করলেন তাকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি কিনে দিতে। আমিও বোকা ছিলাম। একটি চেক সই করে দিলাম। কারণ, তাকে যে আমি ভালবাসতাম। প্রচন্ড- হতাশায় ভেঙে পড়েছেন নাস্তাসিয়া আরবান। তিনি সেই হতাশায় দীর্ঘ নিঃশ্বাস টেনে বলেন, ভাড়া দিতে পারেন না তাই তাকে বেশ কতগুলো বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এখন তিনি রাত কাটান কোনো বন্ধুর বাসার সোফায় না হয় নদীর তীরে। অথবা কোনো রাস্তায়। অথবা কোনো এটিএম বুথের বাইরে সামান্য পরিসরে।
নাস্তাসিয়া বলেন, আমি শুধু বেঁচে থাকতে চাই না। সম্মানের সঙ্গে জীবন চালাতে চাই। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আমি বড় ক্লান্ত। এর ওর কাছে অর্থ চেয়ে আমি লজ্জিত। আমার চারপাশে যারা ছিলেন তারা সরে গেছেন। সবাই সরে যায়। আমি চাই অন্তত আমার সন্তানরা আমাকে একটু দেখাশোনা করুক। আমি আমার সম্মান ফিরে পেতে চাই।

লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ হচ্ছেন নারী

আরবিএস ইন্ডিয়ায় চাকরি করেন প্রহাসিনি অরুমুগাম। তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্চেন। ১১ বছর আগে তিনি এই ব্যাংকে চাকরি শুরু করেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন একজন পুরুষ। এখন তিনি আর পুরুষ নন। তিনি এখন নারীতে পরিণত হচ্ছেন। ফলে ইংরেজিতে তার নামের সর্বনাম ‘হি’র স্থলে এখন ব্যবহার হচ্ছে ‘শি’। সাত মাস ধরে তার হরমোন পরীক্ষা করা হয়েছে।
এখন যৌনাঙ্গের পরিবর্তন ঘটানানের জন্য তিনি অপারেশনের জন্য প্রস্তুত। এ অপারেশনের মাধ্যমে তিনি পুরুষ থেকে একজন পরিপূর্ণ নারীতে রূপান্তরিত হবেন। প্রহাসিনি যখন এত বড় একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিলেন তিনি তখন চেয়েছিলেন চাকরিটা ছেড়ে দেবেন। পরে নতুন চাকরি খুঁজে নেবেন। কিন্তু তাকে অনুমতি দিল না আরবিএস ইন্ডিয়া ব্যাংক। তাকে ধরেই রাখলো। তারা তাকে তার এই রূপান্তরের সময়ে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। প্রহাসিনির স্কুলে নাম ছিল প্রভু। সেই প্রভুই আস্তে আস্তে নিজের ভিতর পরিবর্তন অনুভব করেন। তিনি বুঝতে পারেন তার ভিতর ‘পুরুষ’ বাস করে না। তার অন্তরাত্মায় রয়েছেন একজন ‘নারী’।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আর্টিকেল ৩৭৭ লেখার পর বেশ কিছু সংগঠন এখন এলজিবিটি বা সমকামি সম্প্রদায়কে সহায়তা করার নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে প্রহাসিনি বিষয়টি নিয়ে আরবিএস ইন্ডিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন যে, প্রভু থেকে তিনি প্রহাসিনি হতে চান। এতে তাকে কিভাবে তার কোম্পানি সহায়তা করতে পারে। তিনি বলেন, এ সময়ে আমর ছুটির দরকার ছিল। তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্থিক সহযোগিতা। এমন লিঙ্গ পরিবর্তন করে পুরুষ থেকে মেয়ে হতে গেলে অপারেশন ও তা থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরতে সময় লাগে কমপক্ষে দেড় মাস। ওই সময়টাতে আমি তো অফিসেও যেতে পারবো না। এমন কি বাসায়ও থাকতে পারবো না। আমার কথা শুনে আরবিএস ইন্ডিয়া বললো, তারা হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য তাদের নীতি পর্যালোচনা করবে। এখন তাদের সাড়া কি হয় সেই অপেক্ষায় আছি।
লিঙ্গ পরিবর্তনের এমন একটি অপারেশনের খরচ হতে পারে কমপক্ষে ২ লাখ রুপি। আরবিএস ইন্ডিয়ার কর্মকর্তা রীতি দুবে বলেন, অর্থের বিষয়টি বড়। এটা ইনসুরেন্স কোম্পানি বা কোম্পানির তহবিল থেকে দেয়া যেতে পারে। এই অপারেশনে একটি মানুষের জীবন পরিবর্তন হচ্ছে। এ নিয়ে ভীতি ও উদ্বেগ থাকতে পারে। এভাবে লিঙ্গ পরিবর্তন করা মানুষের মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ আবার কাজে ফিরতে পারেন। তারা দেশ ছেড়েও যান। এক্ষেত্রে প্রচুর কাউন্সেলিং প্রয়োজন।
এলজিবিটি সম্প্রদায়কে সমর্থন দেয় এমন আরেকটি কোম্পানি হলো টেক টেক মাহিনদ্্র। এর প্রধান জনসংযোগ কমৃকর্তা হর্ষবেন্দ্র সোইন বলেছেন, যারা এমন অপারেশন করাতে চান তাদেরকে আমরা ৩০ দিনের ছুটি প্রস্তাব করেছি। এক্ষেত্রে নীতি অনুযায়ী আমরা পুরোপুরি গোপনীয়তা বজায় রাখি। মেডিকেল খরচ চালিয়ে নেয়ার জন্য আমরা ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।

নেপালে মাসিকের ঘরে আরো এক নারীর মৃত্যু

ঋতুস্রাবের সময় নিঃসঙ্গ থাকা আরেক নেপালি যুবতী শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ২১ বছর বয়সী ওই যুবতীকে মাসিক ঋতুস্রাবের সময় নিঃসঙ্গ এক ঘরে রাখা হয়েছিল। এ সময়টাতে সংসারে ও সমাজে নারীরা থাকেন নিষিদ্ধ। তারা খাবার স্পর্শ করতে পারেন না। পুরুষের ছোঁয়া লাগতে পারে না তাদের। এক কথায় তারা থাকেন সমাজ থেকে নিষিদ্ধ। তাদেরকে ঋতুস্রাবের সময় আলাদা করে রাখার জন্যই তৈরি করা হয়েছে ‘মেনস্ট্রুয়েশন হাট’ বা মাসিকের ঘর। ঋতুস্রাব বা সন্তান প্রসব করলেই তাদেরকে ওইসব ঘরে রাখা হয়।
এ ঘরগুলোতে নেই কোনো জানালা।
২১ বছর বয়সী ওই যুবতীর বিয়ে হয়েছে। তার নাম পার্বতী বোগাতি। তার ঋতুস্রাব হওয়ার পর তাকে ওই মাসিকের ঘরে নিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ভীষণ ঠান্ডা পড়েছে নেপালে। এ জন্য ওই ঘরের ভিতরটা উষ্ণ রাখার জন্য ওই যুবতী ভিতরে খরকুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়েছিলেন। সেই থেকে সৃষ্ট ধোয়ায় তিনি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
যেদিন এ ঘটনা ঘটে তার পরদিন পার্বতীর মাসিক শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। গোসল করে, কাপড়চোপড় কেঁচে শুচিশুদ্ধ হয়ে পরিবারে অন্যদের কাছে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু পরদিন তার শাশুড়ি লক্ষ্মী বোগাতি তাকে দেখতে গিয়ে চোখ আকাশে উঠে যায়। তিনি পার্বতীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন ঘরের মেঝেতে। লক্ষ্মী বোগাতি বলেছেন, পরের দিনই সংসারে ফিরে আসতে পারবে বলে পার্বতী খ্বু উৎফুল্ল ছিল। কিন্তু সে সবাইকে চিরদিনের জন্য কাঁদিয়ে চির বিদায় নিয়েছে। এ রিপোর্ট করেছে কাঠমান্ডু পোস্ট।
নেপালের দোতি জেলায় এ ঘটনা ঘটেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে একই ঘটনায় একই রকম ঘরের ভিতর একজন মা ও তার দুই ছেলে সন্তান মারা যান।
সর্বশেষ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা লাল বাহাদুর ধামি বলেছেন, আমাদের সন্দেহ পার্বতী ধোয়ার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। কারণ, তার ঘরে কোনো জানালা নেই। রাতের বেলা একটু উষ্ণতা পাওয়ার জন্য তিনি মেঝেতে আগুন জ্বালিয়েছিলেন। এ থেকে সৃষ্ট ধোয়ায় তিনি মারা গিয়ে থাকতে পারেন।
নেপালে মাসিক অথবা সন্ত্রাস প্রসব করা নারীদের এভাবে নিঃসঙ্গ করে রাখা একটি বহু প্রাচীন চর্চা। চৌপদী হিসেবে পরিচিত এই রীতি। এ প্রথায় মনে করা হয়, ঋতুস্রাব বা মাসিকের সময় এবং বাচ্চা জন্ম দেয়ার পর পরই নারীরা অপবিত্র থাকেন। তারা সংসারের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনেন। তাই তাদেরকে সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় ওই সময়ে। জোর করে তাদেরকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ঘরের বাইরে। বাধ্য করা হয় গরুর গোয়ালের মতো স্থানে সময় কাটাতে। এ সময় খাদ্য, ধর্মীয় কোনো ব্যক্তিত্ব বা পুরুষের স্পর্শ তাদের জন্য নিষিদ্ধ। এমন সময়ে নারীদের আলাদা করে রাখার জন্য কোথাও কোথাও নির্মাণ করা হয়েছে মাসিকের ঘর। এসব ঘর ভীষণ ঠান্ডা। তাছাড়া তাতে থাকা নারী যেকোন সময় ক্রিমিনালদের হামলার শিকারে পরিণত হতে পারেন।
এ ব্যবস্থায় অনেক নারীর শ্বাসরুদ্ধ হয়েছে। তবে আরো ভয়াবহ খবর হলো সম্প্রতি এমন এক ঘরে একজন টিনেজ বালিকাকে সাপে দংশন করে। এ থেকে তার মৃত্যু হয়। এমন ঘরে ২০০৫ সাল থেকে নারীদের আলাদা করে রাখা নিষিদ্ধ করেছে নেপাল। ২০১৭ সালে এমন ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তা সত্ত্বেও বহু গ্রামীণ অঞ্চলে এই চর্চা প্রচলিত আছে।
এই জানুয়ারিতেই পশ্চিমাঞ্চলীয় বাজুরা জেলায় মারা গেছেন একজন নেপালি মা ও তার দুটি ছেলে। একটি চৌপদী আশ্রয়কেন্দ্রে এ ঘটনার পর গ্রামের ক্ষুব্ধ লোকজন ওই ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। আইনে বলা আছে, কোনো নারীকে এই রীতি চর্চা করতে কেউ বাধ্য করলে তাকে তিন মাসের জেল দেয়া হবে। সঙ্গে রয়েছে ৩৯ ডলারের জরিমানা।

মিটফোর্ড হাসপাতালের দালালরা ‘স্বাগত’ জানায় রোগীদের by মারুফ কিবরিয়া

সকাল সাড়ে ১১টা। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ২নং ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন এক রোগীর স্বজন। টিকিট হাতে নিয়ে ভেতরে যাওয়ার আগেই দুই ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেন। একজন  
 জানতে চাইছেন কোথায় যাবেন।
অন্যজন হাত থেকে রোগীর টিকিটটি নিয়ে দেখছেন। কাছে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা ওই রোগীর স্বজনকে চুপিসারে বলছেন, লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন ওই দুই ব্যক্তি। এ সময় তার কাছে তারা ২শ’ টাকা দাবি করেন। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার চেয়ে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করে বের হতে পারবেন এমনটা ভেবে রাজি হয়ে যান ওই রোগীর স্বজন।
এখানেই শেষ নয়, চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে হঠাৎ লাপাত্তা দুই ব্যক্তি। ওই রোগীর স্বজনের নাম তাসলিমা। তিনি এসেছিলেন কেরানীগঞ্জ থেকে। বৃদ্ধ খালুকে নিয়ে বেশ দূর থেকে হাসপাতালে আসেন। এসেই খোয়ান দুই শ’ টাকা। রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের এই চিত্র নিত্য দিনের।
বেশ কয়েকটি অসাধু চক্র হাসপাতালের চারপাশে ঘোরাফেরা করে। ভুক্তভোগী তাসলিমা বলেন, টিকিট নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লোক দুটি পিছু নেয়। পরে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেয়ার কথা বলে কোথায় যেন চলে যায়। দুই শ’ টাকাও নিয়ে গেছে। এভাবে প্রতারকের খপ্পরে পড়বো ভাবতেই পারিনি। এখন লাইনে দাঁড়িয়েই ডাক্তার দেখাতে হবে। তাসলিমার মতো এমন অনেকেই প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে প্রতারকের খপ্পরে পড়ছেন। আবার অনেকে টাকার বিনিময়ে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও করে দিচ্ছেন। পুরো হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, মিটফোর্ডের আনাচে কানাচে প্রকাশ্যে দালাল চক্রের নারী-পুরুষ সদস্যরা ঘোরাঘুরি করছে। এদের কারো উদ্দেশ্য লাইনে না দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করে দেয়ার ব্যবস্থা করা, কারো নির্দিষ্ট সিরিয়াল ভেঙে বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়া, আবার কেউবা হাসপাতাল থেকে রোগীদের কম খরচে চিকিৎসার কথা বলে পাশের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে আবার অনেকে আছেন যারা, হাসপাতালের ওয়ার্ডে ও কেবিনে ভর্তির জন্য তদ্বির করেন। সরজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালটির মোট চারটি প্রবেশ ফটক রয়েছে। এসব প্রবেশ ফটক দিয়ে হাজার হাজার রোগী আসা যাওয়া করেন। মেইন গেট থেকে ভিতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এম এইচ নামে একটি ফার্মেসি। এখানে শখানেক রোগী ও স্বজনদের ভিড়। একাধিক রোগী ও অন্যদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালের ডাক্তাররাই এই ফার্মেসি থেকে ঔষুধ কেনার পরামর্শ দেন। বাহিরের ফার্মেসি থেকে কিনলে তারা বেশি দাম ও ভেজাল ঔষুধ দিতে পারে বলে জানান তারা। এই দৃশ্য ছাড়া মিটফোর্ডের সবচেয়ে বেশি যে চিত্রটি চোখে পড়ে তাহলো- একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে সিরিয়ালের বাইরে গিয়ে রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।
হাবিব মোল্লাহ নামের এক রোগী বলেন, সকালে আসছি ডাক্তার দেখাতে। লম্বা লাইনে প্রায় ২ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ডাক্তার দেখাতে পারছি। কিন্তু আমার পিছনে যারা সিরিয়ালে ছিল তাদের অনেকে আগে আগে ডাক্তার দেখাতে পারছে। তিনি জানান, ভেতরে ডাক্তারের সহকারীকে ৫০ অথবা ১০০ টাকা দিলেই তাড়াতাড়ি দেখানোর ব্যবস্থা করে দেয়। আবার অনেকে বাইরে থেকে এসে পাশে দাঁড়িয়ে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব করে। তারাও ওই সহকারীকে অর্ধেক টাকা দিয়ে দেয়। হাবিব মোল্লাহ বলেন, আমি এক টাকাও দিইনি। সময় লাগলে লাগুক। লাইনে দাঁড়িয়েই ডাক্তার দেখাইছি।
এদিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন বোরকা পরিহিত নারী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাদের কাজ কোনো নতুন রোগী এলেই তাকে ঘিরে ধরা। ওই রোগীকে টিকিট করিয়ে দেয়া থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা করে দেন। রোগী হিসেবে পরিচয় দিলে বোরকা পরা এক নারী এসে বলেন, ডাক্তার দেখাবেন আসেন ব্যবস্থা করে দেবো। এসময় ওই নারী একটি টিকিট কিনে নিয়ে আসেন। বলেন, আপনি অপেক্ষা করেন। আমাকে ২শ’ টাকা দেন। ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করাইয়া দেবো। কিভাবে ব্যবস্থা করবেন জানতে চাইলে আকস্মিক সেই জায়গা থেকে সটকে পড়েন ওই নারী। হাসপাতালের ফটকে বসে এক কলা বিক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এরা একটা চক্র এখানে কাজ করে। ভেতরে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করা, ওয়ার্ডে বেড ও কেবিন পাইয়ে দেয়ার কাজও করে। আবার অনেকে সদরঘাট থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে আসার কাজও করে। প্রতি কাজের জন্য একেক নারী আয় করেন ৩ থেকে চার শ’ টাকা। ওই কলা বিক্রেতা জানান, হাসপাতালের বাইরে থেকে ভেতরের কাজই বেশি করেন। অন্যদিকে সরজমিনে মিটফোর্ড হাসপাতালের ২নং ভবনের নিচতলায় গিয়ে  দেখা যায়, চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করার জন্য লম্বা একটি লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন প্রায় শ’ খানেক রোগী। এর মধ্যে সিরিয়াল ভেঙে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে তিন জন রোগী জলদি চিকিৎসকের কক্ষে যেতে পেরেছেন। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন ডিউটি ডাক্তারের এক সহকারী।
রোগীরা অভিযোগ করেন, এই নিয়ে তিনজনকে টাকার বিনিময়ে ভেতরে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই সহকারী কথা বলার সময় নেই বলে এড়িয়ে যান। তবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রোগীরা জানান, ওই ব্যক্তিকে ৫০ বা তার  বেশি কিছু টাকা দিলেই ভেতরে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দেন। এদিকে বংশাল থেকে আসা শারমিন আক্তার নামের এক রোগী বলেন, সকাল ১০টার দিকে এসেছি এক্সরে করাতে। কিন্তু লম্বা লাইন। এখনও দাঁড়িয়ে আছি। একজন এসে বললো ১শ’ টাকা দেন এক্সরে করিয়ে দেবো। আমি দিইনি। আমার পরিবারের অনেকেই এখানে আসেন ডাক্তার দেখাতে। সবসময় দালালরা গেট থেকে পিছু নেয়। যার কাছ থেকে যেভাবে নিতে পারে।
দালালের এসব চক্র সম্পর্কে জানতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, এক ধরনের শ্রেণি-পেশার লোক আছে যারা এগুলো করেই জীবিকা নির্বাহ করে। আমার হাসপাতালে ২৪ থেকে ২৫ জন আনসার সদস্য। এই কয়জন দিয়ে তো আর পুরো হাসপাতাল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তবে যখনই এ ধরনের বিষয় আমাদের নজরে আসে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই। শুধু দালাল চক্রের সদস্য না হাসপাতালে প্রচুর চোরও রয়েছে। দুইদিন আগেই একজনের গলার চেইন চুরি করে নেয়ার সময় আনসার সদস্যের হাতে ধরা পড়েছে। আমরা চোখে পড়লেই ব্যবস্থা নিই। আর হাসপাতালের গেটেই কিছু মানুষ ঘোরাঘুরি করে রোগী ভাগিয়ে নেয়ার জন্য। এর সব ব্যাপারই আমাদের অবগত। কিন্তু সব তো আমাদের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তিনি বলেন, আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী হাসপাতাল দালালমুক্ত রাখার চেষ্টা করছি।

সেলিব্রেটি নাদিয়া হয়ে উঠেছিলেন পর্নো তারকা

এখন থেকে ১০ বছর আগে বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন নাদিয়া সুলেমান। কারণ, ওই সময় তিনি একসঙ্গে ৮টি সন্তান প্রসব করেছিলেন। এর আগে বিশ্বে এমন ঘটনা আর ঘটেনি। ফলে মিডিয়া সেনসেশনে পরিণত হন তিনি। ইংরেজিতে এক সঙ্গে আট সন্তানের জন্ম দিলে সেই মাকে বলা হয় অক্টোমম। এই নামেই তখন বিশ^জুড়ে পরিচিতি পান তিনি। তো নাদিয়া সুলেমানের আগে থেকেই ছিল ৬ সন্তান। তার ওপর একসঙ্গে ৮ সন্তান।
সব মিলে তার ঘরে কিলবিল করে ১৪টি সন্তান। ঠেলাটা তিনি টের পান যখন তারা বড় হয়ে উঠতে থাকে। খরচের অঙ্ক তর তর করে উপরের দিকে উঠে যেতে থাকে। তিনি বসবাস করেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যানজেলেসে। সেখানে সন্তানদের এমন অবস্থা দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে উদ্ধার করে সন্তানদের। এ সময় সেলিব্রেটি হয়ে উঠা নাদিয়া অর্থ উপার্জনের জন্য যে যা বলেছেন তাই করেছেন। তাকে বক্সিং ম্যাচে দেখা গেছে। নগ্ন হয়ে নৈশক্লাবে নেচেছেন। তার চেয়েও গর্হিত হলো তিনি পর্নো ছবিতে পর্যন্ত অভিনয় করেছেন।
এক পর্যায়ে তিনি মদে আসক্ত হয়ে পড়েন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে তিনি মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েন মাদক দ্রব্যে। তবে তিনি ফিরেছেন। মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে যে ধারণা জন্মেছিল তা ভেযে দিয়েছেন। তিনি নিরন্তর লড়াই করতে করতে এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে এখন আর তিনি সেই অক্টোমম শব্দটি ব্যবহার করেন না। এখন তিনি অরেঞ্জ কাউন্টিতে তিন বেডরুমের বাসায় থাকেন। সেখানেই সন্তানদের নিয়ে এসেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একজন সাংবাদিক তা পরিদর্শন করেছেন।

সরজমিন কুর্মিটোলা হাসপাতাল: কোনো অভিযোগ নেই by জিয়া চৌধুরী

ঝকঝকে, তকতকে মেঝে, ওয়ার্ড ও কেবিন। কোথাও কোনো দুর্গন্ধ নেই। পরিচ্ছন্ন পুরো হাসপাতাল। সামনের চত্বরে ফুল বাগান আর দৃষ্টিনন্দন শোভাবর্ধনকারী গাছের সারি। আছে বিশাল এক পুকুরও। বনানী থেকে রেডিসন হোটেল হয়ে উত্তরার দিকে যাওয়ার পথে বাঁ দিকেই দেখা মিলবে এমন এক হাসপাতালের। এটি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যয়ে পরিচালিত এ হাসপাতালটি একেবারেই ভিন্ন অন্যসব সরকারি হাসপাতালের চেয়ে।
এখানে কোনো দালালের দৌরাত্ম্য নেই।
মাত্র দশ টাকায় নেয়া যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, ১৫ টাকায় ভর্তি হওয়া যায় হাসপাতালে। সরজমিন ঘুরে রোগীদের থেকে তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। নানা সেবা আর চিকিৎসায় সন্তুষ্ট দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষজন। গতকাল সরজমিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে এ হাসপাতালে। বেলা বারোটার দিকে মেডিসিন   বহির্বিভাগে রোগীদের ভিড় ছিল বেশ। বাড্ডা থেকে ডাক্তার দেখাতে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। হাতে দশ টাকার একটি টিকিট। ডাক্তার দেখানো শেষে কথা হয় তার সঙ্গে। বলেন, অন্য সব হাসপাতালের তুলনায় আউটডোরে সেবা ভালো। তবে, প্যাথলজি বিভাগের সেবা আরো উন্নত করা দরকার। বহির্বিভাগের আরেক রোগী আল-আমিন জানান, মিরপুর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে এসেছেন। অন্যসব হাসপাতাল থেকে এখানকার চিকিৎসকদের আন্তরিক মনে হয়েছে তার কাছে। হাসপাতাল চত্বরে কথা হয় গাইবান্ধার মোহাম্মদ মোজাফফর ভাণ্ডারীর সঙ্গে। থাকেন ঢাকার উত্তরায়। মাত্র সাত মাস বয়সের ফুটফুটে মেয়ে রাফিয়াকে নিয়ে হাসি মুখে হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছেন বাড়ির উদ্দেশে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় প্রতিবেশীদের থেকে তথ্য নিয়ে সাত দিন আগে মেয়েকে নিয়ে আসেন কুর্মিটোলার এ হাসপাতালে। চিকিৎসকদের পরামর্শে ভর্তি করান রাফিয়াকে।
এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে কোনো কষ্ট হয়নি বলে জানান। মেয়ে সুস্থ হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন চিকিৎসকদের প্রতি। সোমবার দুপুরে হাসপাতালের বার তলা ভবনের সামনে রোদ পোহাচ্ছিলেন নোয়াখালীর হেলাল। পায়ের আঙ্গুলে টিউমার হওয়ায় অপারেশন করতে ১২ দিন আগে ভর্তি হন কুর্মিটোলা হাসপাতালে। অপারেশন হয়েছে ছয় দিন হলো। হাসপাতালের পরিবেশ, চিকিৎসকদের তদারকিতে বেশ সন্তুষ্ট হেলাল। জানান, পায়ের প্লাস্টার খুলতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে। এরপর বাড়ি ফিরে যাবেন তিনি। হাসপাতালের এমন সুন্দর পরিবেশ এর আগে দেখেননি হেলাল। বলেন, সব সময় হাসপাতালে দেখেছি উৎকট গন্ধ। দম ফেলার উপায় থাকে না সরকারি হাসপাতালগুলোতে। এখানে ঠিক তার উল্টো। হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশেও মুগ্ধ তিনি। দিনের বেলা মাঝে মধ্যেই ক্র্যাচে ভর করে হাসপাতালের সামনের চত্বরে যান হেলাল। রোগী হিসেবে কাটানো ১২ দিন সময়ে দালালের উৎপাত দেখেন নি। সরাসরি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এজন্য কাউকে কোনো টাকাও দিতে হয়নি। হেলালের পাশেই বসেছিল কিশোর রাকিব হোসেন। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জের কিশোর রাকিব ট্রলারে মাছ ধরতে গিয়ে পা ভেঙে ফেলেন। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল হয়ে এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন কুর্মিটোলায়। আগের দুই হাসপাতালের সঙ্গে কুর্মিটোলার রাতদিন তফাৎ বলে মানবজমিনকে জানান রাকিব। বলেন, ‘মনডা চাইতেছে আরো কয়ডা দিন থাইকা যাই।’ স্ত্রী মোসাম্মৎ আকলিমা আক্তারকে নিয়ে টঙ্গী থেকে হাসপাতালে এসেছেন স্বামী আব্দুল মান্নান। স্ত্রীর দেখভাল শেষে হাসপাতালের সামনের পুকুর পাড়ে ছেলের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, এত সুন্দর পরিবেশ, তাই পোলার লগে একটা ছবি তুলে রাখলাম। এমন সময় একটি গাড়ি এসে থামে হাসপাতালের সামনে। মুখে ও পায়ে আঘাত পাওয়া ষাটোর্ধ্ব শুকুরি বেগমকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দিকে ছুটছেন তার ছেলে আহমদ আলী। জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। আহমদ আলী জানান, কালাচাঁদপুর এলাকায় প্রতিবেশীদের হামলায় আহত হয়ে নিজে ও মাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। এত হাসপাতাল থাকতে কুর্মিটোলায় কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালটির সুনাম আছে। আর এখানে জরুরি বিভাগে এসেও ভালো ব্যবহার পেয়েছি।
কেবিন বরাদ্দ বিভাগে কথা হয় একজন রোগীর সঙ্গে। হাসপাতালে মশার উপদ্রব আছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সে অনুপাতে মশারির সংখ্যা কিছুটা কম বলেও জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই রোগী। কিডনি চিকিৎসা নিতে আসা আনিসুর রহমান বলেন, বাস মাঝে মধ্যে থামাতে চায় না, শেওড়া পর্যন্ত চলে যায়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আহমেদ সামি আল হাসান জানান, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই তিন মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে তিনশ’ রোগী সার্জারি সংক্রান্ত রোগে বহির্বিভাগে আসেন। তবে মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে রোগীর সংখ্যা বেড়ে সাড়ে পাঁচশ’র মতো হয়। সব বিভাগ মিলিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২০০-১৫০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে ভিড় করেন। তবে কোনো কোনো দিন সর্বোচ্চ সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার রোগীও দেখতে হয় চিকিৎসকদের। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের রোগীর সংখ্যাও ছাড়িয়ে যায় তখন।
এত বিশাল সংখ্যক রোগী দেখতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হয়। আর ইনডোরে গড়ে প্রায় ৫০০ জন রোগীও ভর্তি থাকে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তবে, শুরুর দিকে এমন পরিস্থিতি ছিল না কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। ২০১২ সালের ১৩ই মে উদ্বোধনের পর আংশিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয় এখানে। পুরোদমে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত রোগীদের তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যেত না। সুউচ্চ ভবন আর সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় অনেকেই ভাবতেন হাসপাতালটি সাধারণের জন্য নয়। আশানুরূপ হারে রোগী না পাওয়ায় সে সময় ‘সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত’ লেখা সাইনবোর্ড টানায় কর্তৃপক্ষ। সেবা আর হাসপাতালের কর্মীদের আন্তরিকতার খবর পৌঁছে যায় ঢাকার নাগরিকদের কাছে। মিরপুর, বাড্ডা, উত্তরা, টঙ্গী এলাকার মানুষের এখন ভরসা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেও অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন এখানে।
১২ তলা ভবনে ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে মেডিসিন, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি এবং সার্জারি পূর্ণাঙ্গ বিভাগের সঙ্গে আছে শিশুরোগ, চক্ষু, প্যাথলজি, হৃদরোগ, অর্থোপেডিক্স, অনকোলজি, রেডিওলজি, নাক-কান-গলা, চর্ম ও যৌন, রক্ত পরিসঞ্চালন, দন্তরোগ ও ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ। আরো আছে বিশেষ ফিজিওথেরাপি বিভাগ, ব্রেস্ট ক্লিনিক, ইনফার্টিলিটি ক্লিনিক, কেমোথেরাপি ডে কেয়ার সেন্টার, যক্ষ্মা শনাক্তকরণ সেন্টার, ইউনানী, আয়ুবের্দিক ও হোমিওপ্যাথি বিভাগ। বহির্বিভাগে সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সেবা নিতে পারেন রোগীরা। আউটডোরে শতকরা ৯০ ভাগ ও ইনডোরের রোগীদের ৭০ ভাগ ওষুধ হাসপাতাল ফার্মেসি থেকেই দেয়া হয়। আর এতসব কিছু সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশীদ-উন নবী। গতকাল সেবার মান আরো বাড়াতে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করায় সরাসরি সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি।
পরে  টেলিফোনে তিনি মানবজমিনকে বলেন, সব কৃতিত্বের দাবিদার হাসপাতালের রোগীবান্ধব চিকিৎসকরা। আউটডোরে সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত একটানা রোগী দেখেন তারা। ইনডোরেও চিকিৎসকদের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। সারা দিন বিভাগ থেকে ওয়ার্র্ডে ঘুরে ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন হাসপাতালের পরিচালক। চিকিৎসা ও সেবার বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন নিয়মিত। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে আলাদা করে বসেন সেই রোগীর সঙ্গে। তিনি জানান, এমনও হয়েছে কোনো রোগী একটি বিষয়ে অস্পষ্ট অভিযোগ দিয়েছেন। তারপরও আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কয়েক দফা মেইলে যোগাযোগ করেছি। যে কোনো অভিযোগকেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখি। প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করার চেষ্টা করি।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিন: পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ বাহিনীকে আরো ‘জনবান্ধব’ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মামলায় পুলিশের কার্যক্রম যথাসময়ে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সপ্তাহ ২০১৯ উপলক্ষে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তব যে  যথাসময়ে পুলিশি মামলা শেষ হয় না এবং যিনি এই দায়িত্ব পালন করেন এটি তার দুর্বলতা। এজন্য এই বিষয় তদারকিতে আপনাদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। আপনাদের একটি টিম মামলার পরিণতির প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন এবং অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোকলেসুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) (হাইওয়ে) আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম, তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং রাজবাড়ী পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালতে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকছে। এর নিষ্পত্তিতে সরকারি কর্মকর্তার পাশাপাশি আইনজীবীদেরও প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি এ বিষয়গুলো দেখার জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুই দানবের মোকাবিলায় সরকার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। যেকোনো জঙ্গি আক্রমণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ করতে আমাদের কৌশল থাকতে হবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তদারকি ও প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে এই আইনের সমালোচনা করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, নিরপরাধ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এই আইন করা হয়েছে। জনগণের জীবন ও সম্পদ এবং তাদের অধিকার সুরক্ষায় আইনটি প্রণীত হয়েছে।
তিনি সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও মাদকের মূলোৎপাটনে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘুষ হচ্ছে উন্নয়নের প্রতিবন্ধক এবং মাদক একটি দেশ ও একটি জাতিকে ধ্বংস করে। মাদকের কারণে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এমনকি সন্তানরা তাদের পিতা-মাতাকেও হত্যা করে। প্রধানমন্ত্রী মেগা প্রকল্প পাহারায় বিশেষায়িত পুলিশ বাহিনীর সদস্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা পদ্মা সেতুর মতো অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। এসব প্রকল্পের নিরাপত্তায় আমাদের আরো বিশেষায়িত পুলিশ সদস্য প্রয়োজন।
পুলিশের যথাযথ প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার যে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে, সেগুলোতে বিশেষায়িত ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ মোতায়েন করা হবে। তিনি নৌ-পুলিশ, বিমানবন্দর পুলিশ এবং ট্যুরিজম পুলিশের মতো অন্যান্য বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটগুলোর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অপরাধীদের কর্মকাণ্ডের ধরন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে পুলিশকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি দ্রুততার সঙ্গে মোকাবিলার লক্ষ্যে সক্ষম করে তুলতে তাদেরকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে তাদের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করায় আমরা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছি এবং এজন্য আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্পর্কে শেখ হাসিনা পুলিশ সদস্যদেরকে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশনে পদায়নের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

নাচ নয় যেন পর্নো ছবি

রাতে রঙিন আলোর ঝলকানি। তার মাঝে বার বার ঝলকে উঠছিলেন ‘লাভ আইল্যান্ড’ তারকা ২৪ বছর বয়সী মেগান বার্টন হ্যানসন। সবেমাত্র ‘লাভ আইল্যান্ড’ আরেক তারকা ওয়েস নেলসনের সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়েছে। প্রেম থেকে সেই মিলন, কাছাকাছি, পাশাপাশি থাকার স্মৃতিগুলো যেন মেগান বার্টন হ্যানসনের হৃদয়ে দাগ কাটে নি। তিনি প্রেমিকের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি করে ফেলার পর গত শনিবার রাতে বৃটেনের ব্রাইটনের এক নাইটক্লাবে নিজের শরীরকে তুলে ধরলেন। আপত্তিকর সব অঙ্গভঙ্গি করে বুঝিয়ে দিলেন তিনি একটি ‘পার্টি এনিম্যাল’। অর্থের বিনিময়ে ব্রাইটনের ওই পার্টিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি সংক্ষিপ্ত পোশাকে। মঞ্চে উঠার আগেই যেন বন্য হয়ে উঠলেন তিনি। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে শরীরের আবরণ খুলে ফেললেন। খুলে ফেললেন পাদুকা। গায়ে তখন ঢিলেঢালা ছোট একটি আলখাল্লা।
তা উপচে গড়িয়ে পড়ছিল যৌবন। সেই অবস্থায়ই তিনি উন্মাতাল নাচ শুরু করেন। কখনো জিহ্বা বের করে ‘এক্স-রেটেড’ অঙ্গভঙ্গি করেন। কখনো নিতম্ব দুলিয়ে এমন নাচ করেন যা পর্নো ছবির পর্যায়ে পড়ে। তিনি বুঝিয়ে দিলেন শরীরের প্রতিটি ভাঁজ। বুঝিয়ে দিলেন ওয়েস নেলসনের সঙ্গে তার অবাধ প্রেম থাকলেও কিছুই হারান নি তিনি।
সবকিছু পুঁজি করে জমিয়ে রেখেছেন। মঞ্চের বাইরে বসা পার্টির যুবকরা। তাদের দিকে তিনি নিজেকে বার বার এমনভাবে মেলে ধরছিলেন যে তা এখানে বর্ণনা করাও কছিন। ওই পার্টিতে তার সঙ্গী হয়েিেছলেন ‘লাভ আইল্যান্ডে’র আরেক তারকা সামিরা (২২)। তারা যেন পুরো পার্টিকে উন্মাতাল করে তোলেন। তবে পার্টিতে নর্তকীদের তালিকায় সামিরার নাম ছিল না। ফলে তার উপস্থিতি সবাইকে বিস্মিত করেছে। তাকে সঙ্গে করে নিয়ে যান মেগান বার্টন হ্যানসন। দু’জনে রাতের ওই রঙিন আলোর পার্টিকে করে তোলেন বেসামাল।

দুদকের বিচার চান জাহালম, তদন্ত কমিটি

বিনা অপরাধে জাহালমের তিন বছর কারাভোগের ঘটনা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি কমিটি গঠন করেছে। জেলা জজ পদমর্যাদার দুদকের পরিচালক (লিগ্যাল) আবুল হাসনাত মো. আবদুল ওয়াদুদকে প্রধান করে এই কমিটি করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, জাহালমের ঘটনায় দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের যদি কোনো গাফিলতি থেকে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটির সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি ইকবাল মাহমুদ। সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ২৬টি মামলা থেকে জাহালমকে এক দিনের মধ্যেই অব্যাহতি দিয়ে রোববার সকালে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে রাত ১টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুরের কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি মুক্তি পান।
দুদকের দায়ের মামলায় দীর্ঘ ৩ বছর মূল আসামি আবু সালেকের বদলে জাহালমকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়। রাতে মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের জাহালম বলেন, আমাকে বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছিল। আমি দুদকের বিচার চাই। ক্ষতিপূরণ চাই। যাদের জন্য বিনা বিচারে জেলে আটকে ছিলেন, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর সেটি নজরে আনা হলে হাইকোর্ট জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে জাহালমের গ্রেপ্তারের ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা, স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতিনিধি ও আইনসচিবের প্রতিনিধিকে ৩রা ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান, মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাহিদ, স্বরাষ্ট্র সচিবের (সুরক্ষা) প্রতিনিধি যুগ্ম সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেন ও আইন সচিবের প্রতিনিধি সৈয়দ মুশফিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন।
প্রসঙ্গত সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। এরপর সালেককে তলব করে দুদক চিঠি দিলে সেই চিঠি পৌঁছায় জাহালমের টাঙ্গাইলের বাড়ির ঠিকানায়। নরসিংদীর ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের শ্রমিক জাহালম তখন দুদকে গিয়ে বলেন, তিনি আবু সালেক নন, সোনালী ব্যাংকে তার কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবু সালেকের যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও তার নয়। কিন্তু দুদকে উপস্থিত বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা সেদিন জাহালমকেই ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঘোড়াশাল থেকে জাহালমকে গ্রেপ্তার করে দুদক।
আদালতেও জাহালম দুদকের পরিচয় বিভ্রাটের বিষয়টি তুলে ধরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। কিন্তু কেউ তার কথা কানে তোলেনি। কারো কাছে সমাধান না পেয়ে জাহালমের বড় ভাই শাহানূর মিয়া গত বছর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যান। তার আবেদনে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে জাহালমের সঙ্গে কথা বলেন কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। পরে মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে আসে, আবু সালেক আর জাহালম একই ব্যক্তি নন।
এদিকে বিনা অপরাধে কারাভোগের কারণে জাহালমের জীবন থেকে তিন বছর নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণ ও দুদকের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিরপরাধ জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ ও ভুল তদন্তে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে আদালত ন্যায়বিচারের গুরুতর বিচ্যুতির অবসান ঘটিয়েছেন। তবে জাহালম মুক্তি পেয়ে গেছেন, এটা ভেবেই আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই।
বরং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে অবিলম্বে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদিও জাহালমকে যে অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তার প্রকৃত ক্ষতিপূরণ কখনই সম্ভব নয়। এ বিবেচনা থেকেই এই ঘটনার গুরুত্ব নির্ধারণ করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় দুদক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এতে করে কমিশনের প্রতি দেশের জনগণের আস্থাহীনতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তাই কিভাবে এই ঘটনা সংঘটিত হলো, কারা জড়িত ছিল, কেন এমন ভুল তারা করল, নাকি প্রকৃত অপরাধীর সঙ্গে যোগসাজশে তারা এই জালিয়াতিতে অংশ নিয়েছে এই সবগুলো বিষয়ই তদন্ত করে দেখতে হবে। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এধরনের অবিচার আর কারও সঙ্গে না হয়। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুদক যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সেই কমিটি সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং তদন্তের ফল ও তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ গৃহীত হলো সে সম্পর্কে দুদক দেশের জনগণকে অবহিত করবে সেটাই আমরা প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই, জাহালমের মতো আর কেউ এভাবে বিনাবিচারে কারভোগ করছেন না এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। শুধু দুঃখপ্রকাশ নয়, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দুদক আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।