Monday, April 17, 2017

উত্তর কোরিয়ায় হঠাৎ হামলার নির্দেশ দিচ্ছেন ট্রাম্প!

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেকোনো সময় হামলার নির্দেশও দিতে পারেন তিনি হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলের এই খবর সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার মিসাইল টেস্ট ব্যর্থ হওয়ার পরই ট্রাম্প ওই দেশের বিরুদ্ধে মিলিটারি অ্যাকশন নিতে চাইছেন। প্রয়োজনে আচমকা হামলাও চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন। তবে ট্রাম্পের প্রবল ইচ্ছা যে উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে সবার আগে ব্যবস্থা নিক চীন। এনবিসি টিভিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, উত্তর কোরিয়াকে দমাতে চীনের বিকল্প নেই। বড় বিপর্যয় এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে দেশটি। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় পরীক্ষা উত্তর কোরিয়া সংকট।
তবে, এ ব্যাপারে ট্রাম্প ভালো কোননো সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই মনে করছেন তিনি। আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার জেনারেল এইচ আর ম্যাকমাস্টার বলেন, উত্তর কোরিয়ার ব্যবহারে পুরোপুরি বিরক্ত আমেরিকা। ইতোমধ্যেই ট্রাম্প নির্দেশ দিয়েছেন যাতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আমেরিকার সেনা ও গোয়েন্দাদের সঙ্গে এই বিষয়ে দ্রুত কথা বলে। উত্তর কোরিয়ার এই ধরনের ব্যবহার জারি থাকলে ট্রাম্পের যেকোনো নির্দেশের জন্য প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়েছে। সিরিয়া ও আফগানিস্তানে যেভাবে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে আমেরিকা, তাতে ট্রাম্প যে আচমকা অভিযান চালাতে পছন্দ করেন সেটা স্পষ্ট বলেও উল্লেখ করেছেন ম্যাক মাস্টার। কিম জং উনের নৃশংসতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, কিম যেভাবে তার নিজের ভাইকে ও পরিবারের অন্যদের খুন করেছে তাতে এই দেশ গোটা বিশ্বের কাছেই আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তুরস্কে গণভোটে এরদোগানের ঐতিহাসিক বিজয়

জনপ্রিয়তার আরও একটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। সংবিধান সংশোধন বিষয়ক গণভোটে তার পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ব্যালটে ভোট দিয়েছে দেশটির অধিকাংশ জনগন। রোববার অনুষ্ঠিত গণভোটে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সংবিধান সংশোধন প্রস্তাব। মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএন জানিয়েছেন, গণভোটে বিজয়ের পর তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম দেশটির জনগণকে এই ‘সাহসী সিদ্ধান্তের’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এই বিজয়ের ফলে তুরস্কের প্রায় একশো বছরের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো। দেশটি এবার পার্লামেন্টারি শাসন ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন ব্যবস্থায় প্রবেশ করবে। এর ফলে নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারি হবেন প্রেসিডেন্ট। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেই এমন পন্থা অবলম্বন করছে দেশটি। তবে গণভোটে এরদোগানের বিরোধীতাও ছিলো প্রায় সমান হারে। ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছে ‘না’ ব্যালটে। নির্বাচনে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। তবে শেষ পর্যন্ত এরদোগানের জনপ্রিয়তা আর যাদুকরী নেতৃত্বেও প্রতিই আস্থা রেখেছে বেশির ভাগ ভোটার। তুর্কিদের স্বনির্ভর জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাড়ানোর যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়ে চলছেন তার ওপর যে জনগন আস্থা রাখছে-এই গণভোট তারই প্রমান। গত বছরের ১৫ জুন এরদোগানের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একটি অংশের অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছিল জনগন। এবার আর রাজপথে নয়, ব্যালটের মাধ্যমে এরদোগানের প্রতি আবারো আস্থা প্রকাশ করলো তারা।
কী পরিবর্তন আনতে চান এরদোগান
তুরস্কে গণভোটের ফল যদি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে যায় তাহলে দেশটির শাসনপদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ক্ষমতার ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। এ জন্য তার বিরোধীরা প্রবলভাবে চেষ্টা করেছেন এটা ঠেকানোর জন্য। পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনার সময় এমপিদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। কী পরিবর্তনের কথা আছে এ গণভোটের বিষয়বস্তুতে যা নিয়ে এমন বিতর্কের সৃষ্টি হয়। প্রথমত, এই সাংবিধানিক পরিবর্তনে তুরস্কের পার্লামেন্টারি পদ্ধতি বদলে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির সরকার প্রবর্তনের কথা বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হবেন নির্বাহী প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাজনৈতিক দলের সাথেও তার সম্পর্ক বজায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা বিলুপ্ত করে দুই বা তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ তৈরি করা হবে। প্রেসিডেন্ট হাতে পাবেন নতুন ক্ষমতা। তিনি মন্ত্রীদের নিয়োগ দেবেন, বাজেট তৈরি করবেন,
সিনিয়র বিচারপতিদের বেশির ভাগকে নিয়োগও দেবেন তিনিই এবং ডিক্রি জারি করে কিছু বিষয়ে আইনও করতে পারবেন। প্রেসিডেন্ট একাই জরুরি অবস্থা জারি করতে এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারবেন। পার্লামেন্ট আর মন্ত্রীদের ব্যাপারে তদন্ত করতে পারবে না। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে এমপিরা প্রেসিডেন্টকে ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। প্রেসিডেন্টের বিচারের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ এমপির সমর্থন লাগবে। এরদোগানের বিরোধীরা প্রচারাভিযানে বলেছেন, এমপিদের সংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ করা হবে। প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন একই দিনে হবে। প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। এরদোগান বলছেন, সরকার পদ্ধতির এ পরিবর্তন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে। কিন্তু তার সমালোচকেরা অভিযোগ করছেন, এতে এরদোগানের স্বৈরশাসন কায়েম হবে, গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা বাজবে। তুরস্কের জনগণ কী রায় দেয় সেটি দেখার বিষয়।

কোরীয় উত্তেজনা : ডিএমজেডের কাছে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট

মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স সোমবার দুই কোরিয়াকে বিভক্তকারী অসামরিকীকরণ অঞ্চলের (ডিএমজেড) কাছে পৌঁছেছেন। উত্তর কোরিয়ার নতুন করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর তিনি সেখানে গেলেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট হেলিকপ্টার যোগে ডিএমজেডের মাত্র কয়েকশ’ মিটার দক্ষিণে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জাতিসঙ্ঘ কমান্ড কেন্দ্র ক্যাম্প বনিফাসে যান। সেখান থেকে তিনি অস্ত্র বিরতি পালন করা পানমুনজম গ্রামে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বিশ্বের সুরক্ষিত সীমান্তগুলোর অন্যতম।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পিয়ংইয়ং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা অনেক বেড়ে গেছে। উত্তর কোরিয়া একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দেয়ার পর তাদের মধ্যে এ উত্তেজনা বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও অনভিজ্ঞ প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন আন্ত:মহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর কোরিয়া তৈরি করুক তা তিনি মেনে নেবেন না। হোয়াইট হাউজের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক এক শীর্ষ উপদেষ্টা রোববার বলেন, উত্তর কোরীয় সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক চাপ বেশি প্রত্যাশিত হলেও মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি থাকবে।

বিএনপি একটা ইস্যু তৈরির দল : ওবায়দুল কাদের

বিএনপিকে একটি ইস্যু তৈরির দল হিসেবে অভিহিত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বিএনপি হচ্ছে একটা ইস্যু তৈরির দল, এখন তাদের হাতে ভারতবিরোধী ইস্যু। আসলে তিস্তা চুক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে যাতে না হয়, এর জন্য যত রকমের চেষ্টা আছে তা বিএনপি করে যাচ্ছে। কথায় বলে, ‘যাকে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা’। তাদের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি শেখ হাসিনার আমলে যাতে না হয়, এটাই তাদের লক্ষ্য।
সোমবার সকালে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিএনপির বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চের শপথ ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে দেশকে মুক্ত করা, বিজয়ী হওয়া, স্বাধীনতা অর্জন করা। আমরা পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছি। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার অনেক বছর পর ২০১৭ সালের এই দিনে আমাদের শপথ হবে, পচাত্তর পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যারা ভুলন্ঠিত করেছে, অসম্প্রদায়িক চেতনাকে ভুলন্ঠিত করে সাম্প্রদায়িক ডালপালা বিস্তৃতি করে বিষবৃক্ষ তৈরি করেছে, তাদের মূল উৎপাটন করা। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোজাফফর হোসেন পল্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, ডা. দীপু মনি, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ

‘রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া’ সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দায়ের করেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরুপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি- (ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।’ আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

সবাই স্মার্ট কার্ড দিতে আরো প্রিন্টার দরকার

আগামী ডিসেম্বের মধ্যে দেশের ৯ কোটি ভোটারের সবাইকে স্মার্ট কার্ড দিতে হলে বাড়তি ১৮টি প্রিন্টার মেশিনের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, পাশাপাশি সময় মতো দিতে হলে প্রিন্টের কাজ তিন শিফটে করতে হবে। তবে কার্ড বিতরণ হবে থানা অফিস থেকে। আজ দুপুরে আগারগাঁওস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে এনআইডি প্রকল্পের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে একথাগুলো তিনি জানান। এসময় নির্বাচন কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান ও আবদুল বাতেন। ডিজি বলেন, আগে ১০টি মেশিনে ১টি শিফটে কাজ করা হতো।
নতুন মেশিনগুলো নির্বাচন ভবনের আন্ডার গ্রাউন্ডে বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারী বেসরকারি মিলে ৭৪টি সংস্থায় এই কার্ড ব্যবহার হচ্ছে। তিনটি বিদেশী দূতাবাস এই কার্ড ব্যবহারের জন্য আবেদন করেছে। জাতীয় ও ব্যক্তি নিরাপত্তার স্বার্থে বিষযটি ভেবে দেখছি। তিনি বলেন, যারা পাচ্ছে তাদের তথ্য অসম্পূর্ণ। অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে কার্ড প্রিন্ট হচ্ছে না। এই কার্ডের স্থায়িত্বকাল ১০ বছর। কার্ড দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ৭৫ দিন আগে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে ঘোষনা দেয়া হবে। তিনি জানান, ফ্রান্স থেকে ৯ কোটি খালি কার্ড এনে এখানে প্রিন্ট করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫ কোটি কার্ড পাওয়া গেছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বাকি কার্ড দিতে বলা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী না দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ডিজি জানান।

‘মারুথা’ আরো দুর্বল হচ্ছে!

চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদফতর একথা জানিয়েছে। তাপমাত্রার পূর্বাভাস সম্পর্কে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, মায়ানমারের উপকূলের অদূরে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মারুথা’ সামান্য উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আজ রাত ৩টায় (১৭এপ্রিল ২০১৭) স্যান্ডওয়ের নিকট দিয়ে মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে স্থল গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
সূত্র : বাসস

ব্যাংকিং খাতের ১৬ হাজার কোটি টাকা হাওয়া

অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত দেশের ব্যাংকিং খাত। নামে বেনামে ঋণ যেমন বেড়েছে; তেমনি বেড়েছে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেয়ার প্রবণতা। এ কারণে ব্যাংকিং খাতে বেড়ে গেছে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ। বলা চলে ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮০ শতাংশই হচ্ছে কুঋণ, এর পরিমাণ প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে মোটা দাগে গত কয়েক বছরে ঋণ অনিয়মের সবচেয়ে আলোচিত ৯ ঘটনায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা হওয়া হয়ে গেছে। এ ঋণের বেশির ভাগই আদায় করা যাবে না, যা ব্যাংকগুলোর জন্য এখন বোঝা। এর বাইরে আলোচিত ঘটনার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি। এতে চুরি হয়ে যায় ৮০০ কোটি টাকা। এই টাকার কিছু অংশ পাওয়া গেলেও বেশির ভাগই এখনো পাওয়া যায়নি। আদৌ পাওয়া যাবে কি না তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। হলমার্ক গ্রুপ: ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা সোনালী ব্যাংক থেকে অখ্যাত কোম্পানি হলমার্কের ঋণ অনিয়মের ঘটনা। সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন শাখা থেকে এ কোম্পানি হাতিয়ে নেয় প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। ভুয়া অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয়ের (আইবিপি) মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপসহ ছয়টি প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নেয় প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংকের স্বীকৃত বিল কিনে বিপাকে পড়ে আরো ৪১ ব্যাংক। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ বর্তমানে আটক রয়েছেন। তবে চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম সোনালী ব্যাংকের অর্থ ফেরতের শর্তে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। যদিও তিনি মুক্তি পেয়ে কোনো অর্থই সোনালী ব্যাংককে ফেরত দেননি। এতে করে সোনালী ব্যাংক পুরো অর্থ খেলাপি হিসেবে দেখিয়েছে এবং অন্য ব্যাংকের স্বীকৃত বিলের দায় পরিশোধে বাধ্য হয়েছে। এত বড় আর্থিক জালিয়াতির নেপথ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কিছু ব্যক্তির নাম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে এলেও সে ব্যাপারে দুদক নিশ্চুপ রয়েছে। ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন চিহ্নিত সদস্য।
বেসিক ব্যাংক : হলমার্কের রেশ কাটতে-না-কাটতেই ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে আবির্ভূত হয় বেসিক ব্যাংকের ঘটনা। একসময় বেসিক ব্যাংককে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ভালো ব্যাংক হিসেবে উদাহরণ দেয়া হতো। সেই বেসিক ব্যাংক ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মাত্র তিন বছরে ফোকলা করে ফেলা হয়। এই সময়ে বেসিক ব্যাংক থেকে বের হয়ে যায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী থেকে শুরু করে সব মহলে বেসিক ব্যাংকের এ ঘটনার জন্য দায়ী হিসেবে তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুর নাম উঠে এলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তিনি। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু চাপে পড়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেও তার বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো আইনি পদক্ষেপ। ফলে অনেকটা নির্বিঘেœ বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। অথচ ঋণপ্রক্রিয়ায় যেসব কর্মকর্তা সহায়তা করেছিলেন, সেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনেকে বর্তমানে জেল খাটছেন। আর পুরো সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ অনিয়মের ঘানি টানতে হচ্ছে বেসিক ব্যাংককে। ইতোমধ্যে ব্যাংকটিকে রক্ষার জন্য কয়েক দফা রাষ্ট্রের অর্থ দিয়েছে সরকার।
বিসমিল্লাহ গ্রুপ : হলমার্ক ও বেসিকের পর ব্যাংকিং খাতে অপর আলোচিত ঘটনা হলো বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম। টেরি টাওয়েলস রফতানির ভুয়া তথ্যে ব্যাংক খাত থেকে ওই টাকা হাতিয়ে নেয় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরী। জনতা, প্রাইম, প্রিমিয়ার, শাহজালাল, সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেন তিনি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে উদঘাটিত হওয়ার পর থেকে খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরী, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরীন হাসিবসহ অন্যান্য পরিচালক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ঘটনার মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হলেও ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা জেলহাজতে আছেন।
আনন্দ শিপইয়ার্ড : জাহাজ রফতানির চুক্তিপত্র দেখিয়ে দেশের ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৬ শ’ কোটি টাকার ঋণ নেয় আনন্দ শিপইয়ার্ড। শুরুতে দু’টি জাহাজ রফতানি করতে পারলেও বাকি আটটি জাহাজের রফতানি আদেশ বাতিল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছিল, তাতেও আনন্দ শিপইয়ার্ডের মালিকানা। ভুয়া রফতানিকারক সেজে ক্রয়াদেশ দিয়েছিল আনন্দ শিপইয়ার্ড নিজেই। বিপুল অঙ্কের এই অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার প্রমাণও মেলে। তবে দুদকের অনুসন্ধানে ঋণ অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীকালে জনতা ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক বকেয়া ঋণ পুনঃতফসিল করে। আর ইসলামী ব্যাংককে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঋণের সমপরিমাণ প্রভিশন রাখতে হয়েছে।
রানকা সোহেল : জনতা ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা থেকে সুতা রফতানির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে রানকা সোহেল লিমিটেডের ১১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা বেরিয়ে আসে। ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিদর্শনে অনিয়ম উদঘাটন হয়। সব ঋণ খেলাপি করার নির্দেশ দেয়া হয়। তবে আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসে রানকা সোহেল। বর্তমানে রানকা সোহেল কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস্, রানকা ডেনিম টেক্সটাইল মিলস্সহ সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ৩৫২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে। তার পরও এই গ্রাহক জনতা ব্যাংক থেকে আরো ঋণসুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে সূত্রে জানা গেছে।
এইচ আর গ্রুপ : চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২০টি ব্যাংকের শাখা থেকে এইচ আর গ্রুপ অভিনব কৌশলে ৯৩৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করে। ব্যাংকগুলোও নিয়মকানুন ভঙ্গ করে গ্রুপকে বেআইনি ঋণ দিয়েছে। গ্রুপটিও ভুয়া বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছে। গ্রুপের যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব আছে সেগুলোও বর্তমানে বন্ধ। যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য আমদানির ঘোষণা দেয়া হয় বাস্তবে বেশির ভাগের অস্তিত্ব নেই। এভাবে বন্ধ প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ, ভুয়া প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য আমদানির নামে বিপুল অর্থ নেয়া হয়েছে। এসব কাজে সহায়তা করেছে ব্যাংকগুলোর কিছু কর্মকর্তা। ব্যাংকের শাখাপর্যায় থেকে প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও এই জালিয়াতির সাথে জড়িত। গ্রুপের খেলাপি প্রতিষ্ঠানকে বেআইনিভাবে নতুন ঋণ দেয়ার নজিরও রয়েছে। ব্যাংকের দুর্নাম ঘোচাতে খেলাপি হওয়ার এক বছরের মধ্যে নজিরবিহীনভাবে ঋণ অবলোপন করা হয়। ২০১৪ সালে পরিচালিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে এসব তথ্য উঠে আসে।
৮ ব্যাংক থেকে ৭৫০ কোটি টাকা মেরে লাপাত্তা : আর্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি ও বেসরকারি আটটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন দুই ভাই। মিজানুর রহমান শাহিন ও মজিবুর রহমান মিলন নামে এ দুই ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম মহানগর হালিশহরের বাসিন্দা। জানা গেছে, তারা গোপনে দেশ ছেড়েছেন। একজন আছেন কানাডায়। অন্যজন সিঙ্গাপুরে। তাদের নেয়া সব ঋণই এখন খেলাপি তালিকায়।
দুদকের কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিতে চিহ্নিত দুই ভাইয়ের আটটি প্রতিষ্ঠান হলো- মিশম্যাপ শিপ ব্রেকিং, ফয়জুন শিপ ব্রেকিং, বিআর স্টিল মিলস, মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রি-সাইকিং, এমআরএম এন্টারপ্রাইজ, এমআর শিপিং লাইনস, আহমেদ মোস্তফা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ ও সানমার হোটেলস লিমিটেড। এসব সিলভিয়া গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। তাদের সবচেয়ে বেশি ২৯৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ঋণ দিয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। এ ছাড়া ঋণ দিয়েছে ব্যাংক এশিয়া ১৫১ কোটি ৩৭ লাখ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৮৫ কোটি ৫৭ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৪৮ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৭০ কোটি ৫২ লাখ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৭ কোটি ২০ লাখ এবং যমুনা ব্যাংক ৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। এসব ঋণের বেশির ভাগই খেলাপি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি : সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ অনিয়মে ব্যাংকিং খাতে যখন টালমাটাল পরিস্থিতি তখন হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এতে খোদ ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফিলিপাইনের বাণিজ্যিক ব্যাংক রিজাল ব্যাংকের মাধ্যমে জুয়াড়িরা এ অর্থ নগদায়ন করে। এ পর্যন্ত দেড় কোটি ডলার উদ্ধার হয়েছে, বাকি অর্থ ফেরত আনার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে অর্থ ফেরতে নানান শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সিরিয়ায় বাসে হামলায় নিহতদের ৮০ জনই শিশু

সিরিয়ার আলেপ্পোর কাছে একটি বাসে বোমা হামলায় নিহত ১২৬ জনের মধ্যে ৮০ শিশু রয়েছে। রোববার বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি বাসটিকে আঘাত করলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি, এএফপি। বাসটি আলেপ্পোর কাছাকাছি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি জায়গায় অপেক্ষা করছিল। এ সময় গাড়িটি বাসটিকে আঘাত করলে তাতে আগুন ধরে যায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানিয়েছে, বাসে করে অধিকৃত শহরের মানুষদের নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই বাসে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মী, বিদ্রোহী সৈন্য ও শিশু ছিল।

'মানবঢালে' সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে এক যুবককে বেঁধে মানবঢাল বানানোর ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র বলছে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপহরণ ও ওই যুবকের জীবন হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর এনডিটিভির। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী অভ্যন্তরীণভাবে এ ঘটনা তদন্ত করছে। কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি পুলিশের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে একটি ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জিপের সামনে দড়ি দিয়ে বাঁধা রয়েছে এক যুবক। জিপটি সমানে সামনে ধাবমান। এ সময় এক সেনা সদস্যকে বলতে শোনা যায়,
'যারা পাথর নিক্ষেপ করবে, তারা একই পরিণতি ভোগ করবে।' যুবককে মানবঢাল বানানোর ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ন্যাক্কারজনক ঘটনার শিকার ওই যুবকের নাম ফারুক আহমেদ দার। বাদগামের সিতাহরন গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ফারুক জানিয়েছেন, তিনি পাথর নিক্ষেপকারী নন। জীবনে কখনও এমন কাজ করেননি। শাল ও কার্পেটে অ্যাম্বড্রয়েরির কাজ করেন তিনি। তদন্তকারীদের ফারুক জানিয়েছেন, তিনি ভোট দিতে বেরিয়েছিলেন। সেখান থেকে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে জওয়ানেরা তাকে আটক করে জিপে বেঁধে প্রায় ১০-১২টি গ্রামে ঘোরায়।

ফেসবুক লাইভে খুন!

ফেসবুক লাইভে এসে মানুষ খুন করে, এমন এক ব্যক্তির সন্ধান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডের পুলিশ বিভাগ। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম স্টিভ স্টিফেন্স। তিনি সর্বশেষ রবার্ট গুডউইন নামের ৭৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে খুন করে ফেসবুকে লাইভ দেখান। পরে তিনি ফেসবুকে পৃথক আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত তিনি ১৩ জনকে হত্যা করেছেন এবং আরও মানুষকে হত্যা করতে চান। ক্লিভল্যান্ডের পুলিশ প্রধান ক্যালভিন উইলিয়ামস বলেছেন, তারা একটি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে নিশ্চিত, বাদবাকি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানা নেই। তিনি জানান, খুনি ব্যক্তিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। একই সঙ্গে সর্বত্র তার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ক্লিভল্যান্ডের পুলিশ তাদের ওয়েবসাইটে অভিযুক্ত স্টিফেন্সের একটি ছবি প্রকাশ করে বলেছে ৬ ফুট ১ ইঞ্চি দীর্ঘ এই ব্যক্তি একজন কৃষ্ণাঙ্গ। ধারণা করা হচ্ছে, সাদা অথবা ক্রিম রঙের একটি এসইউভি'র আরোহী তিনি। গুডউইনকে তিনি দৈবচয়নের মাধ্যমে বেছে নিয়ে খুন করেছেন বলে মনে করছে পুলিশ। ফেসবুকে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার এটাই প্রথম নয়। গত জুন মাসে শিকাগোর রাস্তায় এক ব্যক্তি নিজের ভিডিও সরাসরি সম্প্রচারের সময় গুলিতে নিহত হন।

ইউরোপে ঢুকল মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বহর

যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এর একটি বহর ইউরোপে ঢুকেছে। রাশিয়াকে ঠেকানোর লক্ষ্যে ন্যাটোর সামরিক মহড়ায় যোগ দিতে বহরটি প্রথমবারের মতো ইউরোপে পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ রাজ্যের হিল বিমান ঘাঁটি থেকে বিমান বহরকে ইউরোপে পাঠানো হয়েছে। এরই মধ্যে মার্কিন এফ-৩৫ এর লাইটিনিং-২ মডেলের যুদ্ধবিমানগুলো ইংল্যান্ডের লাকেনহিথ বিমান ঘাঁটিতে নেমেছে। এই প্রথম ইউরোপে এ বিমান মোতায়েন করল আমেরিকা। মহড়া শেষ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ এসব বিমান ইউরোপে থাকবে বলে এর আগে ঘোষণা করা হয়।

সঠিক পথকে এগিয়ে নিতে হবে

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেছেন, তার দেশের জনগণের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই। সবাই সঠিক পথের পক্ষেই রয়েছেন। এখন নতুন ব্যবস্থার (প্রেসিডেন্ট শাসিত) মাধ্যমে এটিকে এগিয়ে নিতে হবে। ঐতিহাসিক গণভোটে রায় পাওয়ার পর রোববার ইস্তাম্বুলে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। এরদোগান বলেন, 'বিশ্বের অন্য জাতির দ্বারা আমরা বহু আক্রান্ত হয়েছি। আপনারা দেখেছেন পশ্চিমারা আমাদের ওপর কি ন্যাক্কারজনক আক্রমণই না করেছে।' গণভোটের রায় সম্পর্কে তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের সঠিক গন্তব্যেই আছি। এখন এটিকে (প্রেসিডেন্ট শাসিত নতুন ব্যবস্থা) এগিয়ে নিতে হবে। দেশের জন্য আমাদেরকে আরও পরিশ্রম করতে হবে।' রোববারের গণভোটে এরদোগানের ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে বেশিরভাগ ভোট পড়েছে। গণভোটের এ রায়ে দেশটিতে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। ফলে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দেশটি প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সি জানায়, ৯৮ ভাগের বেশি ভোট গণনার পর দেখা যায়, সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান পরিবর্তন তথা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রায় ৫১ দশমিক ৩৬ ভাগ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে না ভোট পড়েছে ৪৮ দশমিক৬৪ ভাগ। বিজয়ের পর এরদোগান বলেন, 'তুর্কি জনগণের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ আমাদের দেশের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম, আমরা আমাদের ক্ষমতাসীন ব্যবস্থা জনগণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে পরিবর্তন করতে যাচ্ছি।'
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট জানান, ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে স্পষ্টতই সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। এখন সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। তবে রিপাবলিকান পিপলস পার্টিসহ (সিএইচপি) প্রধান দুই বিরোধী দল গণভোটের এই ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনে অনিমের অভিযোগ তুলে দল দুটি বলছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ভোটের হিসেবে গড়মিল করেছে। তারা এই ফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৬০ শতাংশ ভোট পুনর্গণনার দাবি তুলেছে। এদিকে, ইস্তাম্বুলসহ তুরস্কের বিভিন্ন শহরে গণভোটে 'জয়' উদযাপন করছেন এরদোগানের সমর্থকরা। রাতভর তারা সড়কে দেশের পতাকা হাতে উল্লাস করে। আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদর দফতরে সমর্থকরা ভিড় করেন এবং তারা স্লোগান দিয়ে, গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে উল্লাস করেন। এরদোগানের সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট নির্বাহী ক্ষমতা পেলে তা দেশকে উন্নত করবে। এরদোগানের বক্তব্যের আগে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়ায় দেশটির জনগণেকে ধন্যবাদ জানান। আঙ্কারায় একে পার্টির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় শুরু হল। অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা সবাই এক দেহে ভাই-বোনের মতো। আমরা একই সত্তা, একই জাতি।' সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা, বিবিসি, আনাদলু

তুরস্কের গণভোটে এরদোগানের জয়

তুরস্কের ঐতিহাসিক গণভোটে জনগণ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগানের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। রোববারের নির্বাচনে এরদোগানের ক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষে বেশিরভাগ ভোট পড়েছে। ফলে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দেশটি প্রেসিডেন্ট শাসিত ব্যবস্থায় ফিরছে। গণভোটের এ ফলে দেশটিতে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদলু এজেন্সি জানায়, ৯৮ ভাগের বেশি ভোট গণনার পর দেখা যায় যে, সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান পরিবর্তন তথা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রায় ৫১.৩৬ ভাগ ভোট পড়েছে। অন্যদিকে না ভোট পড়েছে ৪৮.৬৪ ভাগ। নির্বাচনের এ ফল প্রত্যাশিতই ছিল। ২০০৩ সাল থেকে দল ক্ষমতায় আসার পর এরদোগান ১১টি নির্বাচনে- পাঁচটি সংসদ নির্বাচন, দুটি গণভোট, তিনটি স্থানীয় নির্বাচন ও একটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করেছেন এবং প্রতিটিতেই জয়ী হয়েছেন। মঞ্চে তিনি অতুলনীয়, তার বাগ্মিতার কৌশলও প্রায় অনন্য। রোববারের নির্বাচন ছিল এরদোগানের সামনে দ্বাদশ চ্যালেঞ্জ। তিনি সেটিতে জয়ী হয়েছেন।
হ্যাঁ ভোট জয়ী হওয়ায় তুরস্কের বর্তমান সংবিধানে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট এরদোগান প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হবেন। ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশটির ক্ষমতায় থাকতে পারবেন তিনি। ফলে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের পর এরদোগানই হতে যাচ্ছেন তুরস্কের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রভাবশালী নেতা। দেশজুড়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪০টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটার ছিল ৫ কোটি ৫০ লাখ।  ইস্তাম্বুলের একটি কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের এরদোগান বলেন, 'জনগণের গণতান্ত্রিক জ্ঞানের প্রতি আমার আস্থা আছে। আশা করি জনগণ দ্রুত উন্নতির পক্ষে রায় দেবেন। আমাদের দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও পদক্ষেপ দরকার।' এ সময় তার স্ত্রী এবং নাতিরা তার সঙ্গে ছিলেন। স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকাল ৫টায় শেষ হয়। দেশটির বহু কারাবন্দিও ভোট দিয়েছেন। কারাগারে স্থাপিত ৪৬৩টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। ৭৮ হাজার ৮৯৪ কারাবন্দি ভোট দেয়ার যোগ্য ছিলেন। তবে যেসব অপরাধী ইচ্ছাকৃত অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন তারা এ সুযোগ পাননি। প্রবাসী নাগরিকদের ভোট গ্রহণ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।  ভোটের আগের দিন শনিবার রাতে দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা পর্যায়ের এক নেতার গাড়িতে হামলা চালায় কুর্দি বিদ্রোহীরা। এতে ওই নেতার এক দেহরক্ষী নিহত ও আরেক রক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানায় নিরাপত্তা বাহিনী। একটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে সংঘাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে নাকি জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়। গণভোটের রায়ের ফলে সংবিধান অনুমোদনের প্রস্তাব পাস হলে দেশটিতে চালু হবে পূর্ণ প্রেসিডেন্টশাসিত সরকার ব্যবস্থা। এতে নির্বাহী ক্ষমতার একচ্ছত্র মালিক হবেন প্রেসিডেন্ট। থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর পদ। তবে এক বা অধিক ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ তৈরি করা হবে।
প্রেসিডেন্ট মন্ত্রীদের নিয়োগ, বাজেট তৈরি, সিনিয়র বিচারপতিদের নিয়োগ দেবেন। এছাড়া ডিক্রি জারি করে কিছু বিষয়ে আইনও করতে পারবেন তিনি। তিনি একাই জরুরি অবস্থা জারি এবং পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে পারবেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভোটে এমপিরা প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। এমপিদের সংখ্যা ৫৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬০০ করা হবে। প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন একই দিনে হবে। প্রেসিডেন্ট দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। এ গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশটির মানুষ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এরদোগান সমর্থকরা বলছেন, চলতি সংবিধান আরও উন্নত করার জন্য এ পরিবর্তন জরুরি। অপরদিকে বিরোধীরা বলছে, এ পদক্ষেপ দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইইউয়ের সঙ্গে এক চুক্তির পর সিরিয়া ও ইরাক থেকে ইউরোপ অভিমুখী অভিবাসনপ্রত্যাশীদের স্রোতের লাগাম টেনে ধরে তুরস্ক। সম্প্রতি গণভোটের প্রচারণা নিয়ে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নাজুক হওয়ার পর ওই চুক্তি পুনর্বিবেচনার হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। ধারণা করা হচ্ছে, গণভোটে জয়ী হোয়ার ফলে তিনি ওই হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন।

ফের ‘যুদ্ধে ফিরছে’ আমেরিকা

২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আর কখনও বিশ্ব-পুলিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে না।’ কিন্তু প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের তিন মাসের মধ্যেই দুই দেশে মার্কিন সামরিক হামলার ঘটনায় মনে হচ্ছে ট্রাম্প তার মনোভাব বদলে ফেলেছেন। আগের প্রেসিডেন্টদের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় তার পররাষ্ট্রনীতি চালিত করা ছাড়া তার সামনে উপায় নাই বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। বৈশ্বিক নাট্যমঞ্চ থেকে নিজেদের গুটিয়ে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন তিনি। বলা যায়, এই প্রচারণা ও নীতিতেই তিনি নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। যদিও প্রশাসনিক অনেক নীতিতে ট্রাম্প তার ‘সংরক্ষণবাদ’ ধরে রেখেছেন, বিশেষ করে মার্কিন কূটনীতি খাতের বাজেট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে। কিন্তু সিরিয়া ও আফগানিস্তানে বোমা হামলার পর বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক পরিসরে মার্কিন ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করে যাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আটলান্টিক কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্যারি পাভেল বলেন, ‘ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজের কোনো ডকট্রিন আছে কিনা, তা এত আগে বলা কঠিন। তবে নিশ্চিতভাবেই আমরা তার সামরিক শক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার লক্ষ্য করছি।’ ক্ষমতা গ্রহণের পর ২৯ জানুয়ারি ইয়েমেনে আল কায়দা সংশ্লিষ্ট গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অনুমোদন দেন ট্রাম্প। ওই অভিযানে একজন নেভি সিল কর্মকর্তা নিহত ও তিনজন আহত হন এবং অন্তত ২০ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। ইরাক-সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়তে কয়েকশ’ অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছেন তিনি। সোমালিয়ায় আল শাবাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউএস-আফ্রিকা কমান্ডকে তিনি সমরশক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। ৪ এপ্রিল সিরিয়ায় দেশটির সরকারি বাহিনীর রাসায়নিক হামলায় শতাধিক বেসামরিকের মৃত্যুর পর তিনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দেন। সিরীয় বিমানঘাঁটিতে ৫৯টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন বাহিনী। আর বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে আইএস যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তবে এই হামলায় ট্রাম্প নিজে নির্দেশ দিয়েছেন কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেছেন, আমি সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনমতো পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ইরাক যুদ্ধে অভিজ্ঞ মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও বর্তমানে ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পিটার মানসুর বলেন, প্রেসিডেন্ট সেনাবাহিনী কমান্ডারদের হামলা করার ক্ষমতা দিয়েছেন, আর তারা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা বিশ্বকে এই বার্তাই দেয় যে, আমেরিকা আবার যুদ্ধে ফিরেছে।’ পিটার আরও বলেন, আগেরবার সিরিয়ায় সরকারি বাহিনীর রাসায়নিক হামলার পর ২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ রেডলাইন অতিক্রম করেছেন। কিন্তু তিনি হামলার নির্দেশ দেননি। ২০১৩ সালের শেষ সময় পর্যন্ত এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে যারাই যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছে, ওবামা প্রশাসন তার প্রতিক্রিয়ায় সামরিক শক্তি ব্যবহার করেননি। তারা জনত আমাদের ক্ষমতা আছে, কিন্তু আমরা তা ব্যবহারে ইচ্ছুক নই।’
এখন ট্রাম্পের যখন-তখন সামরিক শক্তির ব্যবহার রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়াকে ক্ষুব্ধ করে তুলছে। পিয়ংইয়ংয়ের ষষ্ঠ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার আশঙ্কা ঘিরে রীতিমতো যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিরিয়া-আফগানিস্তানে হামলা উত্তর কোরিয়ার জন্য বার্তা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জানি না। উত্তর কোরিয়া একটা সমস্যা। আর তার জন্য কী করা যায় আমি দেখছি।’ আফগানিস্তানে ‘সব বোমার জননী’ বোমা ফেলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আমি যেটা করেছি, তা হচ্ছে আমার সেনাবাহিনীকে কর্তৃত্ব দিয়েছি। খোলামেলা বলতে গেলে, আমি তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব দিয়েছি। সে-কারণে তারা সম্প্রতি এত সফলতা পেয়েছে।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনীকে এই ‘পূর্ণ কর্তৃত্ব’ দেয়াটা বিপজ্জনক। বোঝা যাচ্ছে, এর মাধ্যমে ট্রাম্প কূটনৈতিক সমস্যাগুলোতে সামরিক সমাধানে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে দায়িত্বও এড়াতে চাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার মনে হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেনাবাহিনীকে ব্যাপক কর্তৃত্ব দিয়েছেন। তাদের অনেক বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছেন। আর সেজন্য তিনি বেশ সুখী এবং কৃতিত্ব দাবি করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যখন দুর্ভাগ্যক্রমে পরিস্থিতি বেসামাল হবে, তখন কি তিনি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হবেন? সেনাবাহিনী তো প্রায়ই ভুল করে থাকে। আপনি কর্তৃত্ব বণ্টন করতে পারেন, দায়িত্ব নয়। অন্যকে বিশ্বাস করে ক্ষমতা দিলে, সিনিয়র কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব আপনার। আর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার দায়ভার নিতে হবে।’

সিরিয়ায় গাড়িবোমা হামলায় নিহত বেড়ে ১১২

সিরিয়ায় একটি গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১২ জনে। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠে রাশেদিন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। একটি চুক্তির আওতায় যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তরা সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকা ত্যাগ করছিল। তাদের বহনকারী বাসগুলো সেখানে পার্ক করা ছিল। এসব বাসে কয়েক হাজার মানুষ ছিল। এ অবস্থায় সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বোমা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কয়েকটি বাস রাস্তার পাশে পড়ে আছে। লোকজন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে। বাসের বাইরে হামলায় নিহতদের লাশও পড়ে থাকতে দেখা যায় ওই ভিডিওতে। শনিবার সকালে বিদ্রোহী অধ্যুষিত ইউলিবের ফোয়া ও কেফ্রায়া থেকে গৃহহীনদের বাসে করে আলেপ্পোতে নেয়া হচ্ছিল। রাজধানীতে ঢোকার আগে রাশেদিন এলাকায় বহর দাঁড়াতেই হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদুর রহমান বলেন, গাড়িতে খাবার আছে দাবি করে হামলাকারী একটি পেট্রুল পাম্পে প্রবেশ করে। এরপর আত্মঘাতী হামলা চালায়। তবে হামলার দায় এখনও কেউ স্বীকার করেনি। শিয়া-সুন্নি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের এলাকা ত্যাগের অনুমতি দেয়া হয়।
সিরীয় সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সম্প্রতি ওই চুক্তি করা হয়। সিরিয়ায় রাশিয়ার নতুন বোমার ব্যবহার : সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে রাশিয়া নতুন ধরনের বোমা ফেলেছে বলে আরবি ওয়েবসাইট আল মাসদার নিউজের এক খবরে দাবি করা হয়েছে। খবরে বলা হয়, সিরিয়ার হামা প্রদেশের চারটি শহরে এ বোমা ফেলা হয়। হামলায় রাশিয়ার পাঁচ যুদ্ধবিমান এবং দুই হেলিকপ্টার অংশ নিয়েছিল। হামা প্রদেশের সৌরান, তাইবাত আল ইমাম, হালফইয়া এবং লাতামানিয়া শহরে নতুন ধরনের এ বোমা ফেলা হয়। বোমার বিস্ফোরণে আশপাশের বহু এলাকাজুড়ে মাটি কেঁপে ওঠে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজে বিস্ফোরণের পরই আগুন ও ধোঁয়ার বিশাল মেঘকুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। এ বোমা আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায় আল মাসদার। আফগানিস্তানে আমেরিকা ‘সব বোমার জননী’ (এমওএবি) ফেলার পরই সিরিয়ায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নতুন বোমা ব্যবহারের এ দাবি করা হল। অবশ্য এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি রাশিয়া। আফগানিস্তানে আইএসের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এমওএবি ব্যবহারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু কোনো কোনো মার্কিন সংবাদমাধ্যম মনে করছে, মূলত রাশিয়াকে নিজ শক্তি দেখানোর জন্য এ বোমা ব্যবহার করেছে আমেরিকা। কিন্তু রাশিয়ার কাছে ‘সব বোমার পিতা’ (এফওএবি) বোমা রয়েছে। এটি মার্কিন এমওএবির চেয়ে চারগুণ বেশি শক্তিশালী হওয়ায় মার্কিন এ কৌশল তেমন কার্যকরী হয়নি বলে মনে করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম।

যুদ্ধের আশংকা কতটুকু

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির ফলে সামরিক দিক থেকে শক্তিধর দুটি দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার দিয়ে যাচ্ছেন আর জবাবে উত্তর কোরিয়া বলছে, উসকানি অব্যাহত রাখলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু হামলা চালাবে। দুটি দেশের এই বাকযুদ্ধে মনে হচ্ছে বিশ্ব বুঝি আরেকটি ভয়ংকর যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, যুদ্ধ বেধে যাওয়ার আশঙ্কা অমূলক। পরমাণু নীতি বিশেষজ্ঞ এবং সিডনি ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিসের অনারারি অধ্যাপক পিটার হায়েস অস্ট্রেলিয়ার নিউজ ডটকমকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের আশঙ্কা তিনি করছেন না। তিনি বলেন, এটা সত্য যে উত্তর কোরিয়া পরমাণু সক্ষমতা প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে এবং ভূগর্ভে পাঁচ দফায় পরমাণু ডিভাইস পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে গত বছরই করেছে দু’বার। পিটার বলেন, ‘সার্বিকভাবে আমি বলব যে যুদ্ধের ঝুঁকি যথেষ্ট নিচুতে। হ্যাঁ, ভুলের সম্ভাবনা, বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণের অভাব অথবা ভুল বোঝাবুঝির কারণে আশঙ্কাটা বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ব্যাপক ঝু্কির কারণে যুদ্ধের সামান্য সম্ভাবনাও বেশ উদ্বেগের। পিটার বলেন, উত্তর কোরিয়ার হয়তো ব্যবহার উপযোগী পরমাণু অস্ত্র ও নির্ভরযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নেই। তবে তার আছে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। তিনি বলেন, ‘তারা নিশ্চিতভাবেই স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক (সাবমেরিন থেকে ব্যবহারোপযোগী) ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য তাড়াহুড়া করছে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি এবং দক্ষিণ কোরীয় বাহিনী এবং জাপানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পরমাণু হামলার মতো মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পেতে পারে। পিটার বলেন, উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত উন্মত্ততা রয়েছে। তবে এটা বিশ্বাস করা যায় না যে দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।
পিটার বলেন, বাস্তবে যুদ্ধ করতে হলে শুধু একটি বিমানবাহী রণতরী বানানোই যথেষ্ট হবে না, প্রয়োজন হবে নৌ ও স্থলবাহিনীর। তবে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন যে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে নীতি ছিল উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে কৌশলগত ধৈর্যধারণ। কিন্তু ট্রাম্পের কৌশল কী তা এখনও অজ্ঞাত। সিডনি ইউনিভার্সিটির ইউনাইটেড স্টেটস স্টাডিস সেন্টারের রিসার্চ ফেলো ব্রেনডান টমাস-নুনে বলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচির গতি দেখে অনেক বিশ্লেষকই হতবাক। তিনি বলেন, ক্ষমতাধর রকেট ইঞ্জিন থেকে কারিগরি উৎকর্ষ- প্রতিটি ক্ষেত্রেই উত্তর কোরিয়া উন্নতি সাধন করেছে। বোঝাই যাচ্ছে যে তাদের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও যথেষ্ট ছিল না। নুনে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় উত্তর কোরিয়ার আরও কতদিন লাগবে তা নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এখন একমত যে এটার জন্য বড়জোর দুই বছর লাগতে পারে।’ অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের (আইসিবিএম) মালিকানা এখন বিচ্ছিন্ন দেশটির হাতে। নুনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভালো কোনো সামরিক পছন্দ নেই। আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে ভুল হিসাব। তিনি বলেন, ‘এখন ক্ষমতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কিম জং উনের মতো নেতা। তারা নিজেদের যথেষ্ট সাহসী মনে করেন। ট্রাম্প যেভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকালেই গুলি করে ভূপাতিত করবেন। এটা করা হলে সামরিক উত্তেজনা বাড়বে। এটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়াবে এবং তা এই অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হবে কিনা তা নিয়ে পূর্বাভাস দেয়া কঠিন।’ নিউজ ডটকমডট এইউ থেকে ভাষান্তর ইলিয়াস হোসেন

বিজেপির নতুন ডাক ‘বিরোধীমুক্ত স্বর্ণযুগ’

লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে শোনা যেত ‘কংগ্রেসমুক্ত’ ভারতের স্লোগান। উত্তরপ্রদেশের বিপুল সাফল্যের পর বদলে গেল স্লোগান। বিজেপির নতুন ডাক ‘বিরোধীমুক্ত’ ভারত। শনিবার বিজেপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলের সভাপতি অমিত শাহ বলেন, দেশের সব রাজ্যের পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত বিজেপিকে দখল করতে হবে। যার অর্থ, গোটা দেশকেই বিরোধীশূন্য করে দিতে চায় বিজেপি। ওই বৈঠকে মোদিও উপস্থিত ছিলেন। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের। বিজেপি সভাপতি বলেন, গত লোকসভা ভোটের পর বলা হতো, বিজেপি চরম উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয়ের পরও বলা হচ্ছে, বিজেপি এখন পৌঁছেছে চরম উচ্চতায়। এনডিএর ৩১টি শরিক দল পরের লোকসভায় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভোটে লড়ার সংকল্প করেছে। সব রাজ্যের পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত বিজেপির দখলে এলে সেটাই হবে আসল স্বর্ণযুগ। তিনি পশ্চিমবঙ্গ দখলেরও কথা তোলেন সভায়। অমিত শাহ বলেন, ‘বাংলাসহ বাকি রাজ্যে যতক্ষণ না বিজেপি সরকার গড়ছে, ততক্ষণ দলের স্বর্ণযুগ আসবে না।’ আসলে বিজেপি জানে, সামনের লোকসভায় তাদের ঠেকাতে সব বিরোধী দল একজোট হবে। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিল মোদি-শাহ জুটি।
অমিত শাহ বলেন, বিজেপি এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষের ভোটব্যাংক দখল করতে পেরেছে। বাকিটাও দলের দখলে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের মন্তব্য, ‘বিরোধীরা হারের ভয়েই এখন একজোট হচ্ছে। কিন্তু পরিবর্তনের দেয়াল লিখনটা তারা পড়তে পারছেন না। সবাই একজোট হলেও বিরোধীদের হারানোর কৌশলই তৈরি করছে বিজেপি।’ ভুবনেশ্বর বিমানবন্দর থেকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভাস্থল পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার পথে রোডশো করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। রোডশোর সাড়ায় আপ্লুত বিজেপি। মোদি বলেন, ‘যেসব জায়গায় বিজেপি দুর্বল, সেখানেই জোর দিতে হবে।’ মোদির এ ঘোষণার আলোকে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন অমিত শাহ। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৫ দিন তিনি নিজে বিভিন্ন রাজ্যে সফর করবেন। সব মন্ত্রী ও পদাধিকারীকে ১৫ দিন সফরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রায় ৪ লাখ কর্মী বাছাই করা হয়েছে, যাদের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হবে বুথ পর্যায়ে সংগঠনকে শক্ত করার জন্য।

ধান পাহারা দেয়ার সময় কৃষক খুন

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় রহস্যজনকভাবে  রানা বিশ্বাস (৫৫) নামে এক কৃষক খুন হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে গোলায় ধান পাহারা দেয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রানা বিশ্বাস উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদশ্রী গ্রামের মৃত যোগেশ বিশ্বাসের ছেলে। নিহত রানার স্ত্রী রুমা বিশ্বাস বলেন, রোববার রাত ১১টার দিকে স্বামীর কাছে গেলে তাকে সজাগ পেয়েছি। তার সঙ্গে আমি কথাও বলেছি। সকালে ডাক দিলে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পাই। মনে হয় রাত ১টার দিকে  আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাক্তার আব্দুল কদ্দুছ বলেন, রানা বিশ্বাসকে সোমবার হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথায় ও হাতে আঘাতের চিহৃ রয়েছে এবং কানও কাটা ছিল। এলোপাতাড়ি কোপানোয় অধিক রক্তকরণে তার মৃত্যু হয়েছে। গোবিন্দশ্রী  ইউপি চেয়ারম্যান একে এম নুরুল ইসলাম ছদ্দু বলেন, রানা বিশ্বাস খুবই সহজ সরল লোক ছিলেন। তার কোনো শত্রু আছে বলে আমার  জানা নেই। তবে খুনের বিষয়টি রহস্যজনক।  মদন থানার ওসি মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

স্কুলছাত্রী রিশা হত্যার বিচার শুরু

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের স্কুলছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার একমাত্র আসামি ওবায়দুল খানের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আবুল কাশেম এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে আগামী ৮ মে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। এদিন মামলার একমাত্র আসামি ওবায়দুল খানকে আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগ গঠনের সময় নিজেকে তিনি নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। রিশার মা তানিয়া হোসেনও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি ও আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। আদালতে রিশার মায়ের পক্ষে এ মামলা লড়ছেন মহিলা আইনবীবী সমিতির ফাহমিদা আক্তার রিংকি। গত বছরের ২৪ আগস্ট কাকরাইলে ফুটওভার ব্রিজে ওবায়দুল খান রিশাকে ছুরিকাঘাত করে।
পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। রিশা রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। বাবা রমজান হোসেন ও মা তানিয়া হোসেনের সঙ্গে পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারের এক বাসায় থাকত সে। হামলার ঘটনার পরদিন রিশার মা তানিয়া রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই ঘটনার প্রায় ছয় মাস আগে মায়ের সঙ্গে বৈশাখী টেইলার্সে গিয়েছিল রিশা। এরপর থেকে ওবায়দুল প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। প্রথমে ফোনে এবং পরে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সাড়া না পেয়ে ওবায়দুল স্কুলছাত্রী রিশাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন তদন্ত শেষে গত বছরের নভেম্বরে ওবায়দুলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ২২ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ঠিক করে মামলাটি অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়ে দেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে রিট

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট দাখিল করেন। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে। তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।

প্রধানমন্ত্রীর হাতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের রেপ্লিকা

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর রেপ্লিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে এটি হস্তান্তর করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের পর ২০১৮ সালের এপ্রিল নাগাদ এ স্যাটেলাইট বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,
ফ্রান্সের থালিস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে এ স্যাটেলাইট নির্মাণের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। এ স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার (আইটিইউ) ‘রিকগনিশন অফ এক্সিলেন্স’ পুরস্কার অর্জন করেছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সকালে ধানমণ্ডি ৩২ এ তিনি এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিন সকাল ৭টায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। পরে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের পক্ষে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগ,
এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক আহমদ হোসেন ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।

রাজধানীতে 'বন্দুকযুদ্ধে' যুবক নিহত

রাজধানী ঢাকার ভাসানটেক এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ আরেকজনকে আটক এবং পিস্তল, দুটি রিভলবার ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। রোববার গভীর রাতে মিরপুরের ভাসানটেক থানার দেওয়ানপাড়া লোহার ব্রিজের কাছে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। পুলিশের ভাষ্যে, নিহত মো. সোহেল (৩০) স্থানীয় পিকু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, রোববার গভীর রাতে ভাসানটেক থানার দেওয়ানপাড়া লোহার ব্রিজের কাছে সন্ত্রাসীদের অবস্থান করার খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযানে যায়।
উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।  পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও হিরণ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান মাসুদুর রহমান। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওই এলাকায় পিকু জামান নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। আটক হিরণ এবং বন্দুকযুদ্ধে নিহত সোহেল সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। দিবসটি কেন্দ্রীয়ভাবে মেহেরপুরের মুজিবনগরে পালিত হবে। এ উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে দেশের তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতিগঠনমূলক কাজে অবদান রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন। প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৭ এপ্রিল একটি অবিস্মরণীয় দিন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার ১৯৭১ সালের এ দিনে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে।
দিবসটি স্মরণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিকেন্দ্রে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ৯টায় মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজিবি, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি, স্কাউট ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ এবং গার্ড অব অনার প্রদর্শন। সকাল সাড়ে ১০টায় মুজিবনগর শেখ হাসিনা মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন মুজিবনগর দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একই স্থানে বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে দেশবরেণ্য শিল্পীদের নানা পরিবেশনা থাকবে। এছাড়া রাতে বিশেষ আতশবাজির কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
মুজিবনগর আলোয় আলোকিত : মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, দিবসটি উপলক্ষে মুজিবনগরকে আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। মেহেরপুরের প্রবেশ মুখ থেকে মুজিবনগর আম্রকানন পর্যন্ত করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ। রাস্তার দু’পাশের গাছ রং করা হয়েছে। ভাঙাচোরা সড়ক মেরামত ছাড়াও দু’পাশের আবর্জনা পরিষ্কার এবং অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মুজিবনগর কমপ্লেক্সজুড়ে নানা রঙের আলোয় আলোকিত করা হয়েছে।
মুজিবনগরবাসীর প্রত্যাশা : ২০১০ সালে শেষবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিবনগর এসেছিলেন। জেলাবাসীর দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুজিবনগর কলেজ জাতীয়করণ ও রেল যোগাযোগ চালুর। মুজিবনগর কলেজটি জাতীয়করণ হলেও প্রতিশ্রুতির রেললাইন বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে মুজিবনগরবাসীর প্রত্যাশা মুজিবনগরে একটি স্থলবন্দর, একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ, গ্যাস সংযোগ, একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ, মুজিবনগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালকে মুজিবনগর মেডিকেল কলেজে রূপান্তরসহ মেহেরপুর জেলাকে একটি আধুনিক মানের জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এবারের মুজিবনগর দিবসে এখানে দ্বিতীয় সংসদ ভবন স্থাপনসহ বছরে অন্তত একবার মন্ত্রিপরিষদের সভাসহ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিবালয়ের ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এছাড়াও মুজিবনগরে শুল্কবন্দর স্থাপন, দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মেহেরপুরের বারাদি হর্টিকালচার সেন্টার, বারাদি বীজ উৎপাদন খামার, আমঝুপি বীজ উৎপাদন খামার ও চিৎলা বীজ উৎপাদন খামারকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নকল পুলিশ সরঞ্জামাদি পাচ্ছে আসল পুলিশের কাছ থেকে!

পুলিশের অসাধু সদস্যদের যোগসাজশে পুলিশি সরঞ্জামাদি যাচ্ছে অপরাধীদের কাছে। আর ওই সব সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হচ্ছে অপরাধ তৎপরতায়। কখনও কখনও চিহ্নিত অপরাধীদের সঙ্গে ভুয়া অভিযানেও অংশ নিচ্ছে পুলিশের ওই সব অসাধু সদস্যরা। বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অসাধু পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৬ এপ্রিল রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার এএসআই আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। দ্রুতই আরও কয়েকজন অসাধু পুলিশ সদস্য গ্রেফতার হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুই দফা রিমান্ডে এএসআই আলমগীর স্বীকার করেছেন যে, অপরাধীদের হাতে অপরাধ কর্মকাণ্ডের জন্য প্রায়ই তিনি পুলিশি সরঞ্জামাদি তুলে দিতেন। বিনিময়ে অপরাধীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিতেন।
কখনও কখনও তিনি নিজে ভুয়া পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিতেন। ৪ এপ্রিল উত্তরার রাজলক্ষ্মী মার্কেটের সামনে এ ধরনের একটি অভিযানে অংশ নেন আলমগীর। ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়রা মাসুম বিল্লাহ নামে এক চাকরিচ্যুত সেনা সদস্যকে আটক করে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মাসুম বিল্লাহর কাছ থেকেই এএসআই আলমগীরের নাম জানতে পারে ডিবি। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বৃহস্পতিবার মাসুম বিল্লাহ জানান, এএসআই আলমগীরের সহযোগিতায় ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে তিনি এর আগে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ৪ এপ্রিল বিকালে উত্তরা পূর্ব থানাধীন রাজলক্ষ্মী মার্কেটের সামনে থেকে এইচএস মানি এক্সচেঞ্জের মালিক ইলিয়াসকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রাইভেটকারে তুলে নেন। পরে ইলিয়াসের চোখ বেঁধে তার কাছ থেকে ১৮ হাজার ৮০০ ইউএস ডলার ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ইলিয়াস চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন গাড়ি থামিয়ে দেয়। তখন এএসআই আলমগীরসহ আরও চারজন গাড়িতে থাকলেও তারা কৌশলে পালিয়ে যান। ওই সময় অন্য যে তিনজন পালিয়ে যান তাদের নাম হাবিব ডলার, রাশেদ ও সুমন। ডিবি পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এএসআই আলমগীরের কাছে থাকা অস্ত্র, ওয়াকিটকি এবং হ্যান্ডকাফ ব্যবহার করে ২৬ আগস্ট উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির পাশ থেকে জেবিকো মানি এক্সচেঞ্জের সাইফুর রহমান সুজনের কাছ থেকে ১৮ হাজার ইউএস ডলার ছিনিয়ে নেয়া হয়। ডিএমপি সূত্র জানায়, আগে রাজধানীর পলওয়েলসহ বিভিন্ন মার্কেটে পুলিশের পোশাক, ওয়াকিটকি সেট, হ্যান্ডকাফ এবং সিগন্যাল লাইটসহ নানান সরঞ্জমাদি অবাধে বিক্রি হতো। অপরাধীরা এসব কিনে পুলিশ সেজে সহজেই নানান অপরাধ কর্মককাণ্ডে লিপ্ত হতো। এ কারণে পুলিশি সরঞ্জামাদি বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা দোকানগুলোকে পুলিশ সদর দফতর থেকে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এসব কেনা বা তৈরির অর্ডারের ক্ষেত্রে এখন পুলিশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রায় তিন বছর ধরে পলওয়েলসহ পুলিশের সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা মার্কেটগুলো থেকে কেউ পুলিশি সামগ্রী কিনতে পারছে না। পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরঞ্জমাদির অর্ডার দিতে হচ্ছে। তারপরই সরবরাহ করা হচ্ছে। এরপরও ভুয়া পুলিশের তৎপরতা বন্ধ হয়নি। কড়া নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কিভাবে পুলিশের সরঞ্জামাদি অপরাধীদের হাতে আসছে- তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে বেরিয়ে আসে ভুয়া পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আসল পুলিশের সংশ্লিষ্টতা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম যুগান্তরকে জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অসাধু সদস্যদের পাশপাশি নানান উপায়ে পুলিশের সরঞ্জামাদি সরবরাহ করছে ভুয়া র‌্যাব-পুলিশের সদস্যরা। কোনো কোনো ভুয়া পুলিশ সদস্য অনেক আগেই বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে রেখেছিল। এসব এখন ব্যবহার করছে। আদালত এবং থানা থেকে অনেক সময় সরঞ্জামাদি চুরি হয় বা হারিয়ে যায়। পরে এসব সরঞ্জামাদি অপরাধ তৎপরতায় ব্যবহার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী পুরাতন সরঞ্জামাদি ড্যামেজ (নষ্ট) করে ফেলার কথা। কখনও কখনও দেখা যায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্যের মাধ্যমে সেগুলো অপরাধীদের হাতে চলে যায়। মাঝে মধ্যেই অকেজো সরঞ্জামাদি নিলামে তোলা হয়। সেখান থেকেও এসব চলে যায় অপরাধীদের হাতে। ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সবুজবাগে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি চক্রের ১১ জনকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় পাইপগান, একটি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, পাঁচটি হ্যান্ডকাফসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। এ চক্রের দলনেতা ইউসুফ কাজী রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ডিবিকে জানায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় কর্মরত একাধিক সদস্যদের সহযোগিতায় তারা পুলিশের সরঞ্জামাদি সরবরাহ করে। পরে এসব সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে তারা ডাকাতি করে। ২ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরা থানাধীন শেখের জায়গা এলাকা থেকে চার ভুয়া ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তলের পোছ, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি সিগন্যাল লাইট এবং ছিনতাইকৃত নগদ ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ নানান সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের ডেমরা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, গ্রেফতার আবুল কাশেম জীবন, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে রনি, মোস্তফা কামাল ওরফে লিঙ্কন এবং স্বপন আকন এখন জেলহাজতে। রিমান্ডে তারা স্বীকার করেছে- অস্ত্র, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ ও সিগন্যাল লাইট দেখিয়ে তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকে। তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পুলিশের সরঞ্জামাদি কোথা থেকে কিভাবে সংগ্রহ করা হয়, সে বিষয়ে আসামিরা রিমান্ডে তেমন কোনো তথ্য দেয়নি। তার ধারণা, এসব সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করতে কোনো না কোনো পুলিশ সদস্যের হাত থাকতে পারে। যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক রাহাৎ খান যুগান্তরকে জানান, এসআই মো. আইয়ুবের নেতৃত্বাধীন পুলিশের একটি দল ২২ মার্চ মাতুয়াইল থেকে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় শাহীন নামের একজনকে গ্রেফতার করে। শাহীনের কাছ থেকে পুলিশের শার্ট, প্যান্ট এবং নেমপ্লেট ছাড়াও একটি চাপাতি এবং চারটি চাকু উদ্ধার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানায়, নাননু নামের একজনের কাছ থেকে তারা পুলিশের সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে থাকে। তবে নাননুর বিষয়ে সে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। নাননু কোনো অসাধু পুলিশ সদস্য কি-না, সে বিষয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পিএসআই শফিউল আজম গভীর রাতে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীতে মাঝে-মধ্যে ভুয়া অভিযানে নামেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নামধারী অভিযানের সময় সফিউল ও তার সহযোগীরা (পুলিশের ভুয়া সদস্য) পুলিশের পিস্তল, হ্যান্ডকাফ, সিগন্যাল লাইট ব্যবহার করে। পুলিশ পরিচয়ে তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। শফিউলের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দফতর থেকে তদন্ত হচ্ছে উল্লেখ করে সূত্রটি জানায়, শফিউল এখন গোয়েন্দা নজরদারিতে। যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

সিটিং সার্ভিস বন্ধে চিটিংবাজি



রাজধানীতে সিটিং, গেটলক ও স্পেশাল নামধারী বাসগুলোর লোকাল চলার শুরুর প্রথম দিনেই ভাড়া নিয়ে চরম বাড়াবাড়ি হয়েছে। মিনিবাসে সর্বনিন্ম ৫ টাকা ও অন্য বাসে ৭ টাকা আদায়ের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। বাসগুলোতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট ছিল না। শুধু তাই নয়, স্পেশাল ও সিটিং সার্ভিসগুলো আগে যে ভাড়া আদায় করত রোববার সেই বাড়তি ভাড়াই আদায় করা হয়েছে। এ নিয়ে বাসচালক ও কন্ডাকটরের সঙ্গে যাত্রীদের তর্কাতর্কি, হইচই, হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে কোথাও শ্রমিকদের মারধরের শিকার হয়েছেন যাত্রীরা। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানিয়েছেন, সির্টিং সার্ভিস লোকাল হয়েছে, কিন্তু ভাড়া কমেনি। লোকাল বাসের মতো যাত্রী তুলছে। অথচ সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করছে। এহেন ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসনকে অভিযান জোরদার করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। বিআরটিএ ও মালিকদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রোববার থেকে রাজধানীতে সিটিং বা স্পেশাল বাস সার্ভিস বন্ধ করে লোকাল চলার কথা। ভাড়া আদায় করার কথা সরকার নির্ধারিত হারে। গাড়িতে থাকার কথা ভাড়ার চার্ট। নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী উঠা ও নামানোর কথা। কিন্তু সরেজমিন দেখা গেছে, বাসগুলোতে লোকাল যাত্রী তোলা হয়েছে। গরমের মধ্যে গাদাগাদি করে যাত্রী তোলা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ বাস ও মিনিবাসে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করেছে। সামান্য কিছু বাসে সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে। মিরপুর থেকে ফার্মগেট আসা একটি গ্রুপ অব কোম্পানির কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দিশারী পরিবহনের বাসে সিটিং সার্ভিস অবস্থায় চলাকালে মিরপুর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১৫ টাকা আদায় করত। রোববার ওই পরিবহনের বাসে উঠলেই কারও কাছ থেকে ১০ আবার কারও কাছ থেকে ১৫ টাকা ভাড়া আদায় করেছে। এ কারণে যাত্রীরা হইচই করেন। বাসের কন্ডাকটরও যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। তিনি প্রশ্ন করেন, আগের মতোই যদি বাড়তি ভাড়া দিতে হবে, তাহলে এটা করে লাভ কী হল?
বিআরটিএর চার্টে দেখা গেছে, মিরপুর-১ থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত দূরত্ব ৭ দশমিক ২ কিলোমিটার। বাসে প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৭০ পয়সা হিসাবে এ পথের ভাড়া দাঁড়ায় ১২ টাকা ২৪ পয়সা এবং মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৬০ পয়সা হিসাবে ভাড়া দাঁড়ায় ১১ টাকা ৫২ পয়সা। অথচ ওই রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে ১৫ টাকা ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে। সরেজমিন আরও দেখা গেছে, মিরপুর থেকে গাজীপুরগামী বসুমতি গাড়িতে আগের মতোই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রোববার মিরপুর থেকে উত্তরা পর্যন্ত সর্বনিন্ম ভাড়া ৩০ টাকা ও গাজীপুর পর্যন্ত ৫৫ টাকা আদায় করা হয়েছে। বাড়তি ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় রোববার মিরপুরে যাত্রীদের মারধর করে পরিহন শ্রমিকরা। অথচ গাড়ির মালিক ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, যিনি বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে সড়কে সোচ্চার। পোস্তগোলা থেকে উত্তরা দিয়াবাড়ী রুটে চলাচলকারী রাইদা পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রী মো. শাহ আলম খান। তিনি বলেন, মালিবাগ আবুল হোটেল থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা পর্যন্ত ২০ টাকা ভাড়া নিয়েছে। অথচ এ পথের ভাড়া ১০ টাকা বেশি হওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) জানিয়েছে, বাস ও মিনিবাসে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পেয়েছেন তারা। অনেক বাসে ভাড়ার তালিকা ছিল না। এছাড়া গাড়িতে অ্যাঙ্গেল ও বাড়তি সিট পাওয়া গেছে অনেক গাড়িতে।
এসব অপরাধে রাজধানীর পাঁচটি স্থানে পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ১২২টি মামলা করেছেন। জরিমানা আদায় করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৬০০ টাকা। জব্দ করা হয়েছে ৩টি গাড়ি। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর দায়ে ৪ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সরেজমিন আরও দেখা গেছে, অন্যদিনের তুলনায় রোববার গাড়ি চলাচলের সংখ্যা কম ছিল। এতে যাত্রীরাও দুর্ভোগের শিকার হন। আবার অনেক গাড়ি যত্রতত্র যাত্রী তুলতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে। এতে যাত্রীদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। জানা গেছে, মোবাইল কোর্টের সাজা এড়াতে এবং লোকাল সার্ভিস হিসেবে না চালানোর সিদ্ধান্তের কারণে অনেক বাস মালিক গাড়ি নামাননি। এতে পরিবহন সংকটের সৃষ্টি হয়। এদিকে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরে না আসা পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রোববার তেজগাঁও সাতরাস্তায় গাড়ির বাম্পার, অ্যাঙ্গেল ও হুক খোলার অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে যাত্রীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরে না আসা পর্যন্ত অভিযান চলবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। এখানে ভাড়ায় বিশৃঙ্খলা। চলাচলে বিশৃঙ্খলা। প্রকৃত যারা পয়সা দিয়ে গাড়িতে ওঠেন তারা বসতে পারেন না, দাঁড়িয়ে থাকেন। বাসগুলো খুবই ওভার লোডিং হয়। তিনি বলেন, ‘সিটিং সার্ভিস বন্ধ হলে জনগণ এর সুফল পাবে। এখানে ডিসিপ্লিন মোস্ট ইমপর্টেন্ট, ডিসিপ্লিন ফিরে এলে এর সুফল জনগণই পাবে। যতদিন না শৃঙ্খলা ফিরে আসে ততদিন অভিযান চলবে।’ বিআরটিএর পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) নাজমুল আহসান মজুমদার জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, গাড়িতে ভাড়ার চার্ট টানানো নিশ্চিত করা এবং অনুমোদনের বাইরে সিট ও অ্যাঙ্গেল রয়েছে এমন গাড়ির বিরুদ্ধে রোববার বিআরটিএ’র পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন। এ অভিযান নিয়মিত করা হবে। অভিযানে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারাও সহযোগিতা করছেন। সরেজমিন ঘুরে আরও দেখা যায়, মাওয়াঘাট থেকে আসা স্বাধীন এক্সপ্রেস ‘সিটিং সার্ভিস’ (ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৮১৯১) লেখা একটি বাস বেলা পৌনে ১২টায় গুলিস্তান মোড়ে এসে দাঁড়ায়। সেখান থেকে এই প্রতিবেদক বাসটিতে উঠতেই কন্ডাকটর বললেন, ‘ভাই সিটিং সার্ভিস, কোথায় যাবেন? মিরপুর ১০ নম্বর যাব-বলতেই ওই কন্ডাকটর বললেন, ‘বসেন, তবে তাড়াতাড়ি ভাড়া দেন।
 বাসটি রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট বরাবর আসতেই ৩-৪ জন আনসার সদস্য বাসটিকে দাঁড় করায়। ওই সময় বাসে থাকা হেল্পার ও কন্ডাকটর নেমে আনসার সদস্যদের সঙ্গে রফাদফা করছিল। লাইসেন্স রাখা একটি সবুজ প্যাকেটে ৫শ’ টাকার একটি নোট ভরে দেয় কন্ডাকটর নাসিম। টাকাসহ ওই প্যাকেটটি নিয়ে সঙ্গীয় আনসার সদস্যরা কিছুটা সময় বিলম্ব করেন। এদিকে বাসচালক তার আসনে বসে বসে কন্ডাকটরের উদ্দেশে বলছিল, ‘তাড়াতাড়ি কর, ঝামেলা মিটা, জলদি কর।’ দু’জন আনসার সদস্য প্যাকেটটি নিয়ে মোবাইল কোর্ট পর্যন্ত গিয়ে পুনরায় চলে এলেন বাসের কাছে। তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ মো. মাজহারুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা মেট্রো-ব ১৪-৮১৯১ নম্বর স্বাধীন এক্সপ্রেস নামে কোনো মামলা হয়নি। কন্ডাকটর নাসিম জানান, আনসার সদস্যরাই বাঁচালেন। ওই জায়গা (মোবাইল কোর্ট) পর্যন্ত যেতে হয়নি। বিনিময়ে ৫শ’ টাকা দিতে হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের খানিকটা সামনে ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৩৫৯৮ নামক বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাস দাঁড় করিয়ে চালক মো. আলমগীর হোসেন বাসের ভেতর তাড়াহুড়া করে লুঙ্গি পাল্টিয়ে প্যান্ট পরছিলেন। নিচ থেকে ২ জন আনসার সদস্য বলছিলেন, লুঙ্গি পরা অবস্থায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গেলেই জরিমানা এমনকি জেলও হতে পারে। ওই সময় ওই বাসটির পেছনে দাঁড়ানো বিহঙ্গ পরিবহন ঢাকা মেট্রো-ব ১১-৩৩২২ নম্বর বাসে যাত্রীরা চিৎকার করছিল। ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ করে বলছিল, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কথা। ৩-৪ যাত্রী বাস থেকে নেমে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশ করলেন, ১০ টাকার নিচে তারা ভাড়া নিচ্ছে না। অথচ সরকারি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিন্ম ৭ টাকা। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে চালক আলীম খানকে ৭ দিনের জেল দেন ম্যাজিস্ট্রেট। মিরপুর থেকে গুলিস্তান ও মতিঝিল চলাচলকারী বাসগুলোর সর্বনিন্ম ভাড়া ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। মিরপুর ১০ নম্বর থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত চালাচলকারী প্রজাপতি পরিবহন ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৮৫৭০ নম্বরে চড়ে বিশ্বরোড পর্যন্ত আসতে এই প্রতিবেদককে ভাড়া দিতে হয়েছে ৩০ টাকা। প্রজাপতি পরিবহনের সুপারভাইজার কবির হোসেন জানান, প্রজাপতি পরিবহন রাজধানীতে ৯০টি চলাচল করত, এখন মাত্র ১২-১৫টি চলছে।
গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই চালক, হেল্পার ও কন্ডাকটররা যাত্রীদের হাতে মার খাচ্ছে। চালকরা গাড়ি চালাতে চাচ্ছেন না। একাধিক যাত্রী জানান, মিরপুর থেকে আবদুল্লাহ পর্যন্ত পর্যন্ত ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু এ রুটে প্রতি বিরতিতে ৭ টাকা করে ভাড়া হলেও নেয়া হচ্ছে ১০ টাকা। তাতে মিরপুর থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এদিকে আগের মতোই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ওয়েবিল সই করিয়ে বাস চলছে। খামারবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ওই স্থানে মিরপুর ও সাভারগামী ওয়েলকাম, স্বজন, দিশারী, এভারেস্ট, নিউ ভিশন, তানজিলসহ কয়েকটি পরিবহনের কর্মীরা ওয়েবিলে যাত্রী সংখ্যা লিখে দিচ্ছেন। পরিবহন কর্মীরা জানান, ওয়েবিলে যাত্রীসংখ্যা লেখার পর যেখানেই যাত্রী নামবে ১৫ টাকা আদায় করা হতো। এখন তা কমিয়ে ১০ টাকা নেয়া হচ্ছে। ওয়েলকাম পরিবহনের কর্মী অনিক যুগান্তরকে বলেন, গাড়িতে কতজন যাত্রী উঠছেন তার হিসাব রাখতেই ওয়েবিলে সই করা হচ্ছে। তবে সরকার নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতি যুগান্তরকে জানিয়েছে, সিটিং সার্ভিস বন্ধ হলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। অনেক মালিক গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। যেসব যানবাহন চলেছে সেগুলো লোকাল যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করলেও আগের মতো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে। বাড়তি ভাড়া আদায় ও গণপরিবহনে এসব নৈরাজ্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পরিবহন নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যা বলেন, পাঁচটি স্থানে মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি আমাদের লোকজন রয়েছে। আমি নিজেও দুটি স্থানে উপস্থিত থেকে কাজ করছি। পরিবহনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম একদিনে যাবে না। এজন্য কিছু দিন সময় দিতে হবে।

টেকনাফে সাড়ে ৬ লাখ ইয়াবা জব্দ, আটক ৩

কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে ইয়াবা পাচারকারীদের ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ একজনসহ মিয়ানমারের তিন নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- আকিয়াব এলাকার মুহাম্মদ ইউনূচ (৪৫), মুহাম্মদ নুরুল হুদা (৩০) ও মুহাম্মদ আনোয়ার (২৭)। এদের মাধ্যে গুলিবিদ্ধ মুহাম্মদ ইউনূচকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গুলি বিনিময়ে আহত বিজিবির চার সদস্যও চিকিৎসা নিয়েছেন। সোমবার ভোর থেকে দুদফা টেকনাফের নাইটংপাড়া ও জালিয়ারদীপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয় বলে জানান কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. রকিবুল হক। তিনি বলেন, নাফ নদীর নাইটংপাড়া সীমান্ত দিয়ে ইয়াবার চালান আসছে এমন গোপন সংবাদে অভিযানে গেলে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আটকদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান রকিবুল হক। এদিকে, ভোরে নাফ নদীর জালিয়ার দ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বলে বিজিবি টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ।

অদৃশ্য বায়ু দূষণে বাড়ছে হৃদরোগে মৃত্যু

বর্তমানে বায়ু দূষণে হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। বায়ু দূষণে উচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন (এইচডিএল) নামে ‘ভালো কোলেস্টেরল’ মাত্রা কমে যাওয়ায় এমনটা হচ্ছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বাতাসে উচ্চমাত্রায় কালো কার্বণ, ট্রাফিক সংক্রান্ত দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে ‘ভালো কলেস্টেরলের’ মাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়, যা এ্যাথারসক্লিরোসিস (Atherosclerosis) রক্তে প্লাক তৈরি করে, যা প্রতিরোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। থ্রমবোসিস অ্যান্ড ভাসকুলার বায়োলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক গ্রিফিথ বেল জানান, বায়ু দূষণ ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএলের ক্ষতি করে।
আর যারা এ ঝুঁকির লাইনের নিচে রয়েছেন তাদেরও হৃদরোগে আক্রান্তের আশংকা বেড়ে যায়। ৬ হাজার ৬৫৫ জন মাঝবয়সী ও বয়স্ক ব্যক্তির ওপর মার্কিন বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালান। দেখা যায়, উচ্চমাত্রায় বায়ু দূষণ রয়েছে এমন অঞ্চলে বসবাসকারী অংশগ্রহণকারীদের নিম্ন এইচডিএল মাত্রা চোখে পড়ে। জীবনযাত্রার অভ্যাস পরিবর্তনের তিন মাস পরও তাদের রক্তে এইচডিএল কণিকার সংখ্যায় কম ছিল বলে জানান গবেষকরা। বায়ু দূষণের মাত্রা মাঝারি বা দৈর্ঘ্য হলে এইচডিএল মাত্রা কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।  মার্কিন গবেষকরা এ নিয়ে তাদের গবেষণা অব্যাহত রেখেছে। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে জীবনধারা পরিবর্তনে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

বগুড়ায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৩

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে খাদে পড়ে তিনজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার দিনগত  রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উপজেলার সীমাবাড়ী বগুড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার খেয়ারঘাট গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩০), একই উপজেলার মণ্ডলপাড়া গ্রামের সাইদার রহমানের ছেলে তারেক ২৭) ও আবদুল করিম (৪৫) শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. সোহেল রানা জানান,
নিউ সেফা পরিবহনের রাসেল-রাব্বি নামে বাসটি (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-০০১৪) গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে ওই স্থানে পৌঁছে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি মহাসড়কের পাশে লাগানো গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের ভেতরে দু'জন এবং ছাদ থেকে ছিটকে সড়কের পাশে পুকুরে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। আহত ১৫ যাত্রীকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান সোহেল রানা। এসময় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশের তৎপরতায় আধাঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শেরপুর থানার ওসি খান মো. এরফান জানান, এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত সবাই ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। বাসটি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কুলি থেকে কোটিপতি নাইটগার্ড সাইদুর

এক সময় তিনি ছিলেন কুলি। মাথায় মালামাল বহন করাই ছিল তার কাজ। কুলিগিরি করে যে আয় হতো তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলত। সাইদুর রহমানকে এলাকায় এখনও ‘কুলি সাইদুর’ নামেই চেনেন মুরব্বিরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু পাল্টে গেছে। রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডমালা পৌর এলাকার বাসিন্দা সাইদুর এখন কোটিপতি। শুধু তাই নয়, তিনি মুন্ডমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও। দলের কার্যালয় করার নাম করে সরকারি জমি লিজ নিয়ে তাতে নিজের নামেই নির্মাণ করছেন বহুতল মার্কেট। অবাক করার মতো বিষয় হল, এই সাইদুর কাগজে-কলমে এখনও একটি কলেজের নাইটগার্ড। তার বদলে ভাড়ায় এক লোককে খাটান তিনি। আর মাস শেষে কলেজ থেকে তুলে নেন বেতনের টাকা।
স্থানীয়রা জানান, সাইদুর রহমানের বাবা সাইনাল হকের জন্ম ভারতের মুর্শিদাবাদে। পাকিস্তান আমলে মুন্ডমালা এসে শ্যালক নোমান মাস্টারের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। সাইনাল ছিলেন মুন্ডমালা বাজারে পানের দোকানদার। সাইদুর প্রথমে মুন্ডমালায় কুলির কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে কুলির সর্দার হন। এরপর পেশা পরিবর্তন করে হন ভুটভুটির চেইন মাস্টার। ২০০১ সালে বিএনপির একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে মুন্ডমালা মহিলা কলেজে নাইটগার্ডের চাকরি পান। ওই সময় তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শীশ মোহাম্মদের ছত্রছায়ায় সাইদুর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে প্রভাবশালী নেতা শীশের মৃত্যুর পর খানিকটা দমে যান তিনি। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে ভোল পাল্টে ফেলেন সাইদুর। এ সময় তানোর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম রাব্বানীর হাত ধরে যুবলীগের রাজনীতি শুরু করেন। ২০১২ সালে মুন্ডমালা পৌর যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান। সাইদুর ২০১৫ সাল থেকে মুন্ডমালা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদে আছেন। মুন্ডমালা পৌরসভার বর্তমান মেয়র গোলাম রাব্বানীর খুবই আস্থাভাজন সাইদুর। এর অন্যতম কারণ হিসেবে এলাকাবাসী যুগান্তরকে জানান, সাইদুরের আশ্রয়েই পাঁচন্দর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাব্বানী মুন্ডমালা পৌরসভার ভোটার হয়েছিলেন। এরপর দলের সমর্থন পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। রাব্বানী মেয়র হওয়ার পরই কপাল খুলে যায় সাইদুরের। পৌরসভার প্রায় সব কাজই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। বেনামেই করেন কনস্ট্রাকশনের কাজ। বর্তমানে সাগর এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার হয়ে মুন্ডমালা পৌরসভার প্রায় কোটি টাকার কাজ করছেন সাইদুর। পৌরসভায় ঠিকাদারির নামে অবৈধ কর্মকাণ্ডই তার আয়ের মূল উৎস বলে অভিযোগ রয়েছে। মুন্ডমালা মহিলা কলেজের নাইটগার্ড হয়েও অন্যের ঠিকাদারি লাইসেন্সে ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। এখনও তিনি ওই কলেজের কর্মচারী। তবে নিজে ডিউটি করেন না। স্থানীয় শাওন নামে এক ব্যক্তিকে কিছু টাকা দিয়ে পাহারাদার রেখেছেন। কলেজে নিয়মিত হাজিরা দেখিয়ে তুলে নিচ্ছেন বেতন-ভাতা। এ বিষয়ে মুন্ডমালা মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও মুন্ডমালা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা যুগান্তরকে বলেন, সাইদুর রহমানের বাবা পাকিস্তান আমলে মুন্ডমালায় যে বাড়িতে থাকত, সেই পরিবারের দুই ভাই রাজাকার।
আর সেই রাজাকারদের ভাগ্নেই হল সাইদুর। শূন্য থেকে সে এখন কোটিপতি। পৌর মেয়র রাব্বানীর ডান হাত হিসেবে পরিচিত। আমি সভাপতি, কিন্তু সাইদুর আমার কথা শোনে না। একেবারেই বেপরোয়া। কলেজের পাহারাদারের কাজ না করেও বেতন-ভাতা তোলার বিষয়টিও স্বীকার করেন মোস্তফা। অভিযোগ উঠেছে, দলের কার্যালয় নির্মাণের কথা বলে জেলা পরিষদের কাছ থেকে দেড় শতক জমি নিজের নামে লিজ নেন সাইদুর। পরে ওই জমি সংলগ্ন সরকারি রাস্তা ও মাদ্রাসার জমি দখলে নেন। এরপর সেখানেই নির্মাণ করছেন বহুতল মার্কেট। এরই মধ্যে দুটি তলার নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। নিচতলায় দোকান ভাড়াও দিয়েছেন। এ বিষয়ে মুন্ডমালা কামিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য তাসির উদ্দিন জানান, সাইদুর স্থানীয় সরকারি দলের নেতা হওয়ায় যা ইচ্ছা তাই করছেন। মাদ্রাসার জমি দখলে নিয়ে তিনি ভবন নির্মাণ করছেন। কিন্তু প্রভাবশালী হওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কিছু করতে পারছে না। এ ব্যাপারে মুন্ডুমালা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা (তহশিলদার) মিজানুর রহমান বলেন, লিজের শর্ত লংঘন করে সাইদুর রহমান পাকা ভবন নির্মাণ করেছেন। এ প্রসঙ্গে মুন্ডমালা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, দলীয় কার্যালয় করার কথা ছিল। এ কারণে জেলা পরিষদ দেড় শতক জমি তাকে লিজ দেয়। কিন্তু ওই জমিসহ রাস্তা ও মাদ্রাসার জমি দখলে নিয়ে মার্কেট তৈরি করছে সাইদুর। এসব অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জেলা পরিষদের কাছ থেকে ৩-৪ বছর আগে দেড় শতক জমি লিজ নিয়ে দোকান করি। এখন বিল্ডিং করেছি। লিজ নেয়া সরকারি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণের নিয়ম নেই বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন সাইদুর।

চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ প্রার্থীদের জয়জয়কার

সাধারণ নির্বাচন, উপ-নির্বাচন ও বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচন মিলে দেশের ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদে রোববার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়জয়কার। ৪২টি ইউপিতে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ৩, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ৮, বিএনপির বিদ্রোহী ৩ এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ৮ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। যুগান্তর রিপোর্ট, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
কুমিল্লা ও দাউদকান্দি : হোমনা উপজেলার ভাষানিয়ায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা কামরুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির আবু নাসের। তিতাসের জিয়ারকান্দিতে আ’লীগের আলী আশরাফ বিজয়ী হয়েছেন।
পীরগঞ্জ (রংপুর) : বড়আলমপুরে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজার রহমান (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে বড়দরগা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের নুরুল হক বিজয়ী হন।
সিরাজগঞ্জ : সলঙ্গায় ঘুড়কা ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগ প্রার্থী জিল্লুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
ভোলা, দৌলতখান ও মনপুরা : মনপুরায় আমানতউল্লাহ আলমগীর, দৌলতখানের সৈয়দপুর ইউনিয়নে গোলাম সরোয়ার ভুট্টু ও হাজিপুর ইউনিয়নে (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) হামিদুর রহমান টিপু চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন। তিনজনই আ’লীগের।
জকিগঞ্জ (সিলেট) : জকিগঞ্জের বিরশ্রী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সালাম চৌধুরী বিজয়ী।
জামালপুর ও ইসলামপুর : সাপধরি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. জয়নাল আবেদীন বিএসসি, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো. গোলাম মোস্তফা, বেলগাছা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আবদুল মালেক ও কুলকান্দি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান সনেট বিজয়ী।
মানিকগঞ্জ : হরিরামপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ হোসেন ইমাম সোনা বিজয়ী।
গাইবান্ধা : ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহাতাব উদ্দিন সরকার বিজয়ী।
তালতলী : পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা মো. নজির হোসেন কালু পাটোয়ারী (আওয়ামী লীগ), ছোটবগী ইউনিয়নে মুহা. তৌফিকউজ্জামান তনু (আওয়ামী লীগ), কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নে মো. আলতাফ হোসেন আকন (স্বতন্ত্র), বড়বগী ইউনিয়নে মো. আলমগীর মিঞা আলম মুন্সী (আওয়ামী লীগ), নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে দুলাল ফরাজী (আওয়ামী লীগ) বিজয়ী হয়েছেন।
পাবনা ও সাঁথিয়া : উপজেলার করমজা ইউনিয়নে আ’লীগ প্রার্থী হোসেন আলী বাগছি বিজয়ী।
নাজিরপুর : দেউলবাড়ি দোবরায় আ’লীগের মাস্টার মো. অলিউল্লাহ, কলারদোয়ানিয়ায় বিএনপির মো. হাসানাত ডালিম ও শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নে আ’লীগের উত্তম কুমার মৈত্র বিজয়ী।
নোয়াখালী ও সেনবাগ : উপজেলার মোহাম্মদপুর ও কেশরপাড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তারা হলেন মো. রুহুল আমিন ও বেলাল হোসেন ভুঁইয়া।
সাতক্ষীরা : শ্যামনগরের রমজাননগরে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ আল মামুন জয়ী হয়েছেন।
দিনাজপুর : বিরলে বিজোড়া ইউনিয়নে আ’লীগের আমজাদ হোসেন ও পলাশবাড়ীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস শুকুর (আনারস) বিজয়ী হয়েছেন।
কলাপাড়া ও কুয়াকাটা : পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধুলাসার ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. আবদুল জলিল এবং লতাচাপলীতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা বিজয়ী হয়েছেন।
সন্দ্বীপ : দীর্ঘাপাড়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন টিটু জয়ী হয়েছেন।
শরীয়তপুর : জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্র্থী মাহবুবুর রহমান লিটু সরদার ও বিকেনগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান জয়ী হয়েছেন।
জয়পুরহাট : ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নে হাইকুল ইসলাম লেবু (আ’লীগ বিদ্রোহী) ও  বড়তারা ইউনিয়নে বোরহান উদ্দিন (আ’লীগ) জয়ী হয়েছেন।
কাঁঠালিয়া (ঝালকাঠি) : সদর ইউপিতে আ’লীগ প্রার্থী রবিউল ইসলাম কবির নির্বাচিত হয়েছেন।
লালমনিরহাট : পাটগ্রামের বাউড়ায় আ’লীগ প্রার্থী আবুল কালাম আযাদ নির্বাচিত হয়েছেন।
লোহাগড়া (নড়াইল) : উপজেলার কোটাকোলে আ’লীগ প্রার্থী মারিয়া হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁদপুর : মতলব দক্ষিণের খাদেরগাঁওয়ে আ’লীগের সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন রিপন ও মতলব উত্তরের সুলতানাবাদে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুর মোর্শেদ স্বপন নির্বাচিত হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর : রামগঞ্জের লামচরে আ’লীগ প্রার্থী মাহেনারা পারভিন পান্না নির্বাচিত হয়েছেন।
কোটালীপাড়া : হিরন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
দশমিনা : পটুয়াখালীর দশমিনার চরবোরহানে আ’লীগ প্রার্থী নজির সরদার নির্বাচিত হয়েছেন।
কালকিনি (মাদারীপুর) : এনায়েতনগরে আ’লীগ প্রার্থী শহিদুল্লাহ মারুফ ও পূর্বএনায়েতনগরে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেহেনা নেয়ামুল আকন নির্বাচিত হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : বাঞ্ছারামপুরের আইয়ূবপুরে আ’লীগ প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও দরিয়াদৌলতে আ’লীগ প্রার্থী শরিফুল ইসলাম রিপন নির্বাচিত হয়েছেন।
টেকেরহাট (মাদারীপুর) : রাজৈরের হোসেনপুরে হাবিবুর রহমান (আ’লীগ, বিদ্রোহী), খালিয়ায় হামিদুল শাহআলম (আ’লীগ বিদ্রোহী), আমগ্রামে জাহিদুর রহমান টিপু (আ’লীগ, বিদ্রোহী) ও বদরপাশায় সাবিনা আক্তার মিরু (আ’লীগ প্রার্থী) নির্বাচিত হয়েছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : শিবগঞ্জের কানসাটে আওয়ামী লীগের বেনাউল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।
মির্জাপুর, সখীপুর ও গোপালপুর (টাঙ্গাইল) : মির্জাপুরের ভাওড়া ইউনিয়নে আ’লীগের মো. আমজাদ হোসেন, লতিফপুর ইউনিয়নে আ’লীগের মো. জাকির হোসেন, আজগানা ইউনিয়নে আ’লীগের মো. রফিকুল ইসলাম সিকদার রফিক, তরফপুর ইউনিয়নে বিএনপির মো. সাইদ আনোয়ার, বহুরিয়া ইউনিয়নে বিএনপির মো. আবদুস সামাদ এবং ফতেপুর ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী মো. আবদুর রউফ মিয়া। অন্যদিকে সখীপুর উপজেলার গজারিয়ায় আ’লীগ প্রার্থী আবদুল মান্নান মিঞা ও দাড়িয়াপুরে আ’লীগ প্রার্থী আনছার আলী আসিফ বিজয়ী হয়েছেন। গোপালপুর উপজেলার নগদাশিমলায় আ’লীগ প্রার্থী হোসেন আলী নির্বাচিত হয়েছেন।
সুনামগঞ্জ : জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাজ্জাদ মাহমুদ সাজিব ও উত্তর ইউনিয়নে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রজব আলী বিজয়ী হয়েছেন।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) : মৌচাক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের লোকমান হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।

বাগমারায় জিন তাড়ানোর নামে গৃহবধূকে ধর্ষণ

জিন তাড়ানোর নামে এক গৃহবধূকে এক ভণ্ড কবিরাজ ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোপালপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভণ্ড কবিরাজ গা ঢাকা দিয়েছে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামীর বরাত দিয়ে বাগমারা থানার ওসি নাসিম আহমেদ জানান, অভিযোগকারীর বাড়ি উপজেলার দেওলিয়া গ্রামে। কিছুদিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন ওই গৃহবধূ। স্থানীয়দের পরামর্শে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার স্বামী তাকে চিকিৎসার জন্য কবিরাজ সাইদুর দেওয়ানের বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় সাইদুর জানায়,
গৃহবধূর শরীরে পাগলা জিন ভর করেছে। গভীর রাতে ‘চিকিৎসার’ মাধ্যমে জিন তাড়াতে হবে। সাইদুর গৃহবধূকে তার বাড়িতে রেখে সবাইকে চলে যেতে বলে। তার কথামতো গৃহবধূর স্বামী তাকে কবিরাজের বাড়িতে রেখে বাসায় চলে আসেন। ঘণ্টা দুয়েক পর তিনি গিয়ে দেখেন, তার স্ত্রী আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ সময় গৃহবধূ তাকে ধর্ষণের কথা জানান। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হলে কবিরাজ সাইদুর কৌশলে বাড়ির পেছন দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। এদিকে স্থানীয়রা জানান, কবিরাজ সাইদুরের অন্যায় এবারই প্রথম নয়। ২০১১ সালের আগস্টে রাহেলা বেগম নামে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক বৃদ্ধাকে চিকিৎসার নামে পাঁচ ঘণ্টা কোমর পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখে।

বিএনপি অহেতুক ইস্যু তৈরির কারখানা: ওবায়দুল

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। দলটি শুধুমাত্র বিরোধিতা করার জন্য অহেতুক ইস্যু তৈরি করে। ঐতিহাসিক মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে সোমবার সকালে ধানমণ্ডি ৩২ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মুজিবনগর দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, 'আজকের দিনে সবাইকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিতে হবে।' বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'বিএনপি ইস্যু তৈরির কারখানা। একের পর ইস্যু নিয়ে অহেতুক বিরোধিতা করে তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।' ওবায়দুল কাদের বলেন, 'শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি যেন না হয় সেটাই বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।'

এখনও অপেক্ষায় ইলিয়াস আলীর পরিবার

‘পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। এখনও অপেক্ষায় আছি, তিনি ফিরবেন। সব সময় একটি ব্রেকিং নিউজের অপেক্ষায় থাকি। কখনও হয়তো টেলিভিশন স্ক্রলে দেখা যাবে ইলিয়াস আলীর খোঁজ মিলেছে।’ রোববার যুগান্তরের কাছে এভাবেই স্বামীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষার কথা জানান ৫ বছর ধরে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের পাঁচ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে ইলিয়াস আলীর ব্যবহৃত গাড়িটি রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই থেকে ইলিয়াস আলীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে নিখোঁজ হন ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলী। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে স্বামীকে খুঁজে পাওয়ার আশায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার কাছে গিয়েছেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও গিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মতিন যুগান্তরকে বলেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বিষয়ে এখনও অনুসন্ধান চলছে।
নিখোঁজের পর থেকেই আদালতে প্রতিমাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ মার্চ মাসেও প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অগ্রগতি নেই। তবে তদন্ত অব্যাহত আছে। পুলিশ জানায়, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ব্যাপারে বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। ওই সময় হাইকোর্টে একটি রিটও হয়েছিল। সেই রিট অনুযায়ী হাইকোর্ট পুলিশকে প্রতিমাসে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলেছিল। ইলিয়াস আলীর সন্ধান না মিললেও প্রতিবেদন নিয়মিত দেয়া হচ্ছে। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা বলেন, অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চায় না। পাঁচ বছরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। পরিবারের সবাই প্রতিটি মুহূর্ত তার ফেরার অপেক্ষায় থাকে। আমরা এখনও বিশ্বাস করি তিনি বেঁচে আছেন এবং আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। এদিকে ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়া এবং গুম-হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে আজ সকালে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে বিএনপি।
সিলেটে বিক্ষোভ সমাবেশ : সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি : সিলেট ব্যুরো জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ। রোববার প্রথম দিনে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইলিয়াস আলী গুমের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতাকর্মীরা ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার শপথ গ্রহণ করেন। এ সময় বক্তারা বলেন, সরকার জনগণের প্রতিবাদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে ইলিয়াস আলীকে গুম করেছে। জনগণকে ভয় পায় বলেই ইলিয়াস আলী গুমের প্রতিবাদ করার সুযোগও সরকার দিতে চায় না। ভোটারবিহীন সরকার আজ সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন। এজন্য রাস্তায় জনগণ দেখলেই সরকার ভয় পায়। সরকারের পতন ঘটিয়ে ইলিয়াস আলী গুমের বিচার করা হবে। এই গুমের বিচার হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের আইনে। এ সময় ছাত্রনেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ, আনসার আলীসহ দেশের গুম হওয়া সব নেতাকে ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া ইলিয়াস আলী গুমের প্রতিবাদে আন্দোলনের রূপকার অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ কারাবন্দি সব বিএনপি নেতার মুক্তির দাবি জানান বক্তারা।
ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক শেখ মখন মিয়া চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে ও সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আজমল হোসেন রায়হানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন, প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব, সুদীপ কুমার সেন বাপ্পু, শাহাজামাল নুরুল হুদা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিন লস্কর, সিটি কাউন্সিলর দিনার খান হাসু, জেলা জাসাস’র আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন, নুরুল কবির খোকন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, মহানগর মহিলা দলের সভাপতি অধ্যাপক সামিয়া জামান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সিসিকের প্যানেল মেয়র রুকশানা বেগম শাহনাজ, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জহুরা জেসমিন, সহসভাপতি আসমাউল হাসনা খান, সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর সালেহা কবির শেপী, বিএনপি নেতা মতিউল বারী চৌধুরী খুর্শেদ, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাউন্সিলর আমিনা বেগম রুমি, জেলা জাসাস যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আহমদ রানু প্রমুখ।

হাইকমান্ডের অরণ্যে রোদন

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরোধ ৩০ বছরের পুরনো। সম্প্রতি তারা ফের বাকযুদ্ধে নেমেছেন। দুই নেতার বিরোধ বর্তমানে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, এ দুই নেতার কারণে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিষ্ক্রিয় হয়েছেন এবং দল ছেড়েছেন অনেক ত্যাগী নেতা। বিরোধের জের ধরে খুন হয়েছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। তাদের দ্বন্দ্ব মেটাতে স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয়ভাবে দফায় দফায় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ দলের সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রামে এসে দু’জন নিয়ে বসেছেন। কিন্তু স্থায়ীভাবে সমাধান হয়নি। কোনো কোনো সময় বিভিন্ন ইস্যুতে দু’জন এক হয়েছেন। একে অপরের বাসায় গেছেন। মিষ্টিমুখ হয়েছে। গড়ে ওঠে ঐক্য। কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি। ‘বালির বাঁধের’ মতোই ভেঙে গেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমানে সেই আগের অবস্থা শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে দুই নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে সাপে-নেউলে।
একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলছেন। একজন অপরজনকে বলছেন ‘খুনি’। এই বাকযুদ্ধে বিব্রত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। এ ধরনের বক্তব্য নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছড়াচ্ছে উত্তাপ। এতে টালমাটাল হয়ে উঠেছে নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি। এ পরিস্থিতিতে অতীতের মতো এবারও বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বুধবার ক্ষমতাসীন দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দু’নেতাকে ঢাকায় তলবের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর থেকে শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এরপরও বিরোধিতা ও আপত্তিকর বক্তব্য দেয়া থেকে তাদের নিবৃত্ত করা যাচ্ছে না। শীর্ষ নেতারা বলছেন, এর আগে বহুবার বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হলেও কোনো কাজে আসেনি। তারা ব্যর্থ হয়েছেন। এবার কি হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ঢাকায় ডেকে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ভুটান সফরের (১৮ এপ্রিল) আগে-পরে যে কোনোদিন তাদের ডাকা হবে। চট্টগ্রামের দুই নেতাকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কি ডেকে পাঠাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদক নিজে অথবা প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা তাদের ঢাকায় আসার কথা বলতে পারেন। এটা দুই দিক থেকেই হতে পারে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম রোববার যুগান্তরকে বলেন, তাদের দু’জনের সঙ্গে আমার এবং সাধারণ সম্পাদকের কথা হয়েছে।
আমরা ২২ এপ্রিল চট্টগ্রামে যাচ্ছি। সেখানেও কথা হবে। বারবার উদ্যোগ নেয়ার পরও কেন দুই নেতার বিরোধ নিরসন করা যাচ্ছে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে শামীম বলেন, তাদের বিরোধ রাজনৈতিক নয়। বিষয়টি ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গেছে। যদি এ দ্বন্দ্ব থানা, ওয়ার্ড কমিটি বা অন্য কোনো সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে হতো তাহলে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারতেন বলে মন্তব্য করেন। এদিকে বিভিন্ন সময়ে দুই নেতার এই বিরোধ নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হলেও খুব বেশি সাফল্য আসেনি। অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু খুব অল্প সময়ের জন্য তা স্থায়ী হয়েছে। এ বিষয়ে অনেকেই দুই নেতার পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সাবেক গণপরিষদ সদস্য ইসহাক মিয়া বলেন, মহিউদ্দিন ও নাছিরের এই বিরোধ দলের জন্য বিব্রতকর। নাছির ছোট। মহিউদ্দিন চৌধুরীর তাকে সহযোগিতা করা উচিত। মেয়রকে ‘খুনি’ বলাটা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কাছে সাধারণ নেতা-কর্মীরা কখনই আশা করেনি। নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন যুগান্তরকে বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীকে অপমান করার জন্য মেয়রের অনুসারী কিছু কাউন্সিলরকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। যারা সংবাদ সম্মেলন করে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো মানুষকে ‘খুনি’ হিসেবে অভিহিত করার স্পর্ধা দেখিয়েছে। এটা দলের জন্য শুভ নয়। কেন দুই নেতার মধ্যে এমন সাপে-নেউলে সম্পর্কের নিরসন হচ্ছে না এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে খোদ আওয়ামী লীগেই। তাদের মধ্যে কেন স্থায়ী ঐক্য গড়ে উঠছে না? এমন প্রশ্নের উত্তরে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা-বাণিজ্য, নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। এ বিরোধ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। সুষ্ঠু রাজনীতির স্বার্থে এ বিরোধ দ্রুত স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে নগর বিএনপির সধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল দুই নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা বলছেন, ব্যক্তিগত বিষয়কে যেভাবে রাজনীতিতে টেনে এনে একে অপরকে আক্রমণ করছেন, তা রাজনীতির জন্য শুভ নয়। এতে করে সাধারণ মানুষ সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়বে। এটা সামগ্রিকভাবে রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত।
৩০ বছরের বিরোধ : দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালেই আ জ ম নাছিরের প্রতি বৈরী ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। এক আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারী হয়ে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন আ জ ম নাছির। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজসহ নগরীর সরকারি-বেসরকারি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আ জ ম নাছিরের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের আ জ ম নাছির গ্রুপ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ১৯৯৭ সালে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন আ জ ম নাছির। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে মহিউদ্দিন চৌধুরী বের হয়ে যাওয়ার সময় আ জ ম নাছিরকে জড়িয়ে ধরেন। নিয়ে যান তার বাসায়। ওই সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হবেন এমন আশায় ছিলেন আ জ ম নাছির। বিকালের অধিবেশনে দেখা যায়, এমএ মান্নানকে (প্রয়াত) সভাপতি ও মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়েছে। ওই কমিটিতে সদস্য করা হয় আ জ ম নাছিরকে। ২০০১ সালে আ জ ম নাছিরকে সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে কেন্দ্রে চিঠি পাঠান মহিউদ্দিন চৌধুরী। ২০০৬ সালে নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। ওই সময়ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন আ জ ম নাছির। এ সম্মেলনে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও কাজী ইনামুল হক দানুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে কেন্দ থেকে ঘোষিত কমিটিতে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও আ জ ম নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। মূলত তখনই আ জ ম নাছির নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুনরূপে আবির্ভূত হন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েই আ জ ম নাছির ছুটে যান মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসভবনে। সেখানে মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রতিপক্ষ আ জ ম নাছিরকে মিষ্টিমুখ করান। নির্বাচনের একদিন পর শুভেচ্ছা জানাতে আ জ ম নাছিরের আন্দরকিল্লার বাসভবনে আসেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।
দু’জনের মধ্যে এ আসা-যাওয়া ও ভাববিনিমিয়ের কারণে সবাই ধরে নিয়েছিলেন সম্পর্কের বরফ গলেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, পরে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কেনা-কাটা, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও শ্রমিক রাজনীতি নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছিরের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার অপারেটর নিয়োগ নিয়ে আন্দোলনে নামেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। ‘চট্টগ্রাম বন্দর ৫ মাফিয়া ও ডাকাতের হাতে জিম্মি’ উল্লেখ করে বন্দর গেটে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘এই ডাকাতদের সর্দার আঁরার (আমাদের) নাছির।’ অন্যদিকে আ জ ম নাছির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় নিয়োজিত সিটি কর্পোরেশনের ১২ কর্মচারীকে প্রত্যাহার করে নেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিলবোর্ড ব্যবসায় হাত দেন আ জ ম নাছির। সৌন্দর্য ঢেকে ফেলার কারণে নগরীর সব বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে বাদ দেয়া হয়। মহিউদ্দিন চৌধুরী আইনি লড়াইয়ে জিতে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর কর্পোরেশন থেকে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাতে চলে যায়। সর্বশেষ গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রামে ছুটে আসেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসভবনে দুই নেতাকে দুই পাশে নিয়ে বসেন। বিরোধ ভুলে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এ উদ্যোগও কাজে আসেনি। যার সর্বশেষ প্রমাণ সাম্প্রতিক সময়ে মহিউদ্দিন-নাছিরের পরস্পর বিরোধী মারমুখী অবস্থান।
সংঘর্ষ-খুন : স্থানীয় দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে এ দু’নেতার বিরোধ ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের কারণে ৩০ বছরে অসংখ্য নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। মহিউদ্দিন চৌধুরী নিজেই অভিযোগ করেছেন আ জ ম নাছির ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মী খুনে জড়িত। অন্যদিকে আ জ ম নাছির অনুসারী কাউন্সিলররাও সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৩ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীসহ ৫ খুনে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছেন। নগরীর এমইএস কলেজ ও সিটি কলেজের নিয়ন্ত্রণ ছিল মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের। কমার্স কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের নিয়ন্ত্রণ ছিল আ জ ম নাছির অনুসারীদের। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই নেতার অনুসারীরা নিয়ন্ত্রণ করেন। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব-প্রতিপত্তি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনাখুনির ঘটনা ঘটে। ১৯৯৩ সালের ২৭ জানুয়ারি আ জ ম নাছির অনুসারী কমার্স কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মোমিন খুন হন। লালদীঘি মাঠে ২৪ জানুয়ারির সমাবেশে নাছির অনুসারীরা হামলা করে। তিন দিন পর ওই খুনের ঘটনা ঘটে। মিজান নামে মাদারবাড়ী ছাত্রলীগের আরও এক নেতা খুন হন এর কিছু দিন পর। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দিদারুল আলম মাসুমসহ মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আ জ ম নাছির অনুসারী দুটি গ্রুপের অবস্থান। সর্বশেষ ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ও ছাত্রলীগ নেতা তাপস সরকার খুনের ঘটনাটি আলোচিত। ১৯৮৪ সালে মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলোশহর চশমা হিলের বাসায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত হন স্ত্রী সাহেদা মহিউদ্দিন, কাজের মেয়ে রানু, ছাত্রলীগ নেতা সন্তোষ, রবি ও ওয়াজিউল্লাহ। এটি কি হামলা, না অন্য কোনো ঘটনা- সেই রহস্যের কূলকিনারা হয়নি ৩১ বছরেও। ১৩ এপ্রিল আ জ ম নাছির অনুসারী চসিকের প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরী জড়িত বলে অভিযোগ করেন। ২০১৬ সালের ২৯ মার্চ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন করা হয় মহানগর ছাত্রলীগ কর্মী ও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাসিম আহমেদ সোহেলকে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে হবেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী না আ জ ম নাছির- এ দ্বন্দ্বে দু’নেতার অনুসারীরা বিরোধে জড়ায়। ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একই গ্রুপের গুলিতে নিহত হন ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ এলাকায় খুন হন যুবলীগ নেতা মেহেদি হাসান বাদল। ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি নগরীর সিআরবি এলাকায় দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হয় সাত বছরের শিশু আরমান এবং সাজু পালিত নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী।
মহিউদ্দিন-নাছিরের সাম্প্রতিক বিরোধ : গত ১০ এপ্রিল চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য সমবায় সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত একটি সমাবেশে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ‘খুনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সংশোধনের পরামর্শ দেন। তাকে দখলবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা বলা হয়। পরের দিন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে নাছির ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মী খুনে জড়িত বলে মহিউদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করে বলেন, এর প্রমাণপত্র তার কাছে আছে। শহরের মানুষের ওপর জুলম করে গৃহকর বাড়ানোর অভিযোগও আনেন তিনি। পরের দিন ১১ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশনে অনানুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিংয়ে আ জ ম নাছির বলেন, আমি নাকি ১২টা খুন করেছি। তার কাছে কি এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ আছে? নাছির বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকার অন্তর্জ¡ালা থেকেই মহিউদ্দিন চৌধুরী পাগলের প্রলাপ বকছেন। কোনো সুস্থ মানুষের মুখে এ ধরনের বক্তব্য উচ্চারিত হওয়ার কথা নয়। উনি নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। আমি সাধারণ সম্পাদক। আমাদের ফোরাম আছে। ফোরামে উনার বক্তব্য দিতে পারতেন। যদি ফোরামে আলোচনার সুযোগ না পান তবে কেন্দ্রকে জানাতে পারতেন।
দুই নেতার বক্তব্য : ৫ খুনসহ আ জ ম নাছিরের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি যা করছি তা চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থে করছি। দলের স্বার্থে করছি। একজন অথর্ব ও অযোগ্য লোক দলের ক্ষতি করবে, মেয়রের চেয়ারে বসে নগরবাসীর স্বার্থের ক্ষতি করবে, তা আমি চেয়ে চেয়ে দেখতে পরি না। শুধু নাছিরের বিরুদ্ধেই নয়; যারাই চট্টগ্রাম নগরবাসীর স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, দলের ক্ষতি হয় এমন কাজ করেছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার ছিলাম। এখনও আছি। ভবিষ্যতেও থাকব। তিনি বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে নাছির প্রমাণ করুক। কিন্তু আমি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রমাণ করতে পারব। ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মী খুনসহ মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিভিন্ন অভিযোগ প্রসেঙ্গ চসিক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই উনি (মহিউদ্দিন চৌধুরী) প্রমাণ করতে পারবেন না। আমাকে উনি ৩০ বছর ধরেই ছলে-বলে কৌশলে দাবিয়ে রাখতে চেয়েছেন। কিন্তু পারেননি। ভবিষ্যতেও পারবেন না। কারণ আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে সত্য ও ন্যায়ের রাজনীতি করছি। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে আমি বিশ্বাস করি না। কখনও করিনি। ভবিষ্যতেও করব না। তিনি বলেন, এত কিছুর পরও আমি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দলের মুরব্বি হিসেবে শ্রদ্ধা করে এসেছি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আমার বিরুদ্ধে নগ্নভাবে কথা বলছেন, মিথ্যাচার করছেন। যা শুধু আমাকেই না, দল এবং সরকারকে অপমান করছেন। এ অপমানের বিচারের ভার আমি নগরবাসী ও দলের শীর্ষনেতাদের ওপর ছেড়ে দিলাম।