Monday, December 11, 2017

প্যাডেলে বন্দি জীবন তাদের by তামান্না মোমিন খান

অভাবের সঙ্গে নিত্য সংগ্রাম তার। ছোট থেকেই খেয়ে না খেয়ে বড় হয়েছে। ভিক্ষুক বাবার সঙ্গে নেমেছে রাজপথে। এখন প্যাডেলে বন্দি তার জীবন। অভাবী হলেও স্বপ্ন দেখতে তো মানা নেই। তাই সেও স্বপ্ন দেখতো সংসার হবে। সন্তান হবে। সেই সংসারের রানী হবেন। একদিন সংসারও হয়েছিল। কিন্তু সংসারের রানী হওয়া হলো না তার। সুখী হওয়া তো দূরের কথা। কোল জুড়ে সন্তান এলেও ধরে রাখতে পারেননি স্বামীকে। প্রেম-ভালোবাসা সব ছেড়ে স্বামী অন্য নারীকে নিয়ে ঘর বাঁধে। ফের ঠাঁই হয় তার পিতার সংসারে। কিন্তু কি করবে সে। চিন্তা করে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় রিকশা চালাবে। একদিন রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামে। এটি তিন বছর আগের কথা। এখনও রিকশাই তার আপন। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছে। সংগ্রামী এ নারী সুমি বেগম। নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে। সুমি জানান, প্রথম প্রথম রিকশা চালাতে দেখে অনেকে হাসতো আবার অনেকে উপহাস করতো। তবে কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাকে। বলেন, আল্লাহর রহমতে কামাই রোজগারও ভালো। প্রতিদিন রিকশা জমার তিন শ’ টাকা দেয়ার পরও আমার চার থেকে পাঁচ শ’ টাকা থাকে। এত কাজ থাকতে রিকশা চালানো কেন? সুমি জানান, ছেলেরা যে সব কাজ করতে পারে মেয়েরা কেন তা পারবে না? শৈশব কেটেছে বাবার সঙ্গে সায়েন্স ল্যাবে বসে ভিক্ষা করেই। কৈশোরে এসে ভিক্ষা করতে আর ভালো লাগতো না তার। ভিক্ষা ছেড়ে পানি বিক্রি শুরু। তখন নিউমার্কেটের এক দোকানের কর্মচারীর সঙ্গে চলে মন দেয়া-নেয়া। চৌদ্দ বছর বয়সে প্রিয় মানুষটিকে বিয়ে করে সুমি। বিয়ের দশ মাস পরই সুমির কোল জুড়ে আসে কন্যা সন্তান। কিন্তু সুখ আর বেশিদিন সইলো না তার। দেড় বছরের মাথায় সুমির স্বামী অন্য এক নারীকে বিয়ে করে। সুমি স্বামীর সংসার ছেড়ে কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রামে তার বাবার বস্তিঘরে গিয়ে উঠে। সেই থেকে সুমি এই বস্তিতেই আছে। সুমি বলেন- তিন বছর আগে বাবা মারা গেছে। মা, মেয়ে আর প্রতিবন্ধী এক ভাইকে নিয়ে আমার সংসার। যেদিন রিকশা চালাই সেদিন কামাই করি। আর যেদিন শরীর খারাপ থাকে সেদিন বসে খাই। কিন্তু জমার টাকা ঠিকই দিতে হয়। আমার যদি একটা নিজের রিকশা থাকতো তাহলে কষ্টটা আরো কম হইতো। একটা রিকশা কিনতে ৪৫ হাজার টাকা লাগে। এত টাকা আমি কই পামু। রাজধানীর আরেক নারী রিকশাচালক লায়লা। চার মাস ধরে রিকশা চালায়। সুমিকে দেখে রিকশা চালাতে অনুপ্রাণিত হয় বলে জানায়। লায়লা বলেন, ‘একদিন কামরাঙ্গীরচরের রাস্তায় দেখি সুমি আপা রিকশা চালায় যাইতেছে। তখন তারে দেইখ্যা মনে হইছে আমিও তো রিকশা চালাইতে পারি। আমি আট বছর বয়সে সাইকেল চালানো শিখেছিলাম। এই কারণে রিকশা চালাইতে আমার কষ্ট হয় না। আল্লাহ্‌র রহমতে রিকশা চালাই। ভালো কামাই হয়। শাহবাগ, চানখাঁরপুল, গুলিস্তান এই সব এলাকায় রিকশা চালাই। একদিন বৃষ্টির মধ্যে আমি রেইন কোর্ট পইরাছিলাম। সেই সময় এক হুজুর আমার রিকশায় আইসা বইছে। কিছুদূর যাওয়ার পর হজুররে জিগাইসি কোনদিকে যামু হুজুর। আমার কণ্ঠ শুইনা কয় তুমি মেয়ে মানুষ। আমি তো চিনতে পারি নাই। তোমার রিকশায় উঠা কি আমার ঠিক হইছে। আমি হুজুররে কইলাম ঠিক- বেঠিক বুঝি না। কাম কইরা খাই। চুরি তো করি না। আগে গার্মেন্টসে কাজ করতাম। তিন হাজার টাকা ঘর ভাড়া দিয়া তখন চলতে খুব কষ্ট হইতো। মা, এক পোলা আর এক মাইয়া নিয়া আমার সংসার। ছয় বছর আগে স্বামী আরেকটা বিয়া কইরা চইলা গেছে। তখন থেইকা কষ্ট কইরাই চলি। আল্লাহ যতদিন সুস্থ রাখবো ততদিন রিকশা চালামু। এখন শুধু একটাই স্বপ্ন পোলা মাইয়াকে মানুষ করা।

ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের ১৯ সদস্যে কার্যকরী পরিষদ গঠন



  ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত অন্যতম এনজিও আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের নবম দ্বি-বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সবাই ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।

সোমবার নগরীর সিডিএ এভিনিউস্থ একটি হোটেলের  কনফারেন্স হলে আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের ৯ম দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতির করেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি।

আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সাতকানিয়া লোহাগাড়া-১৫ আসনের সাংসদ প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, মহানবী (স.) এর বিদায় হজ্বের ঐতিহাসিক ভাষণের বিরাট অংশজুড়ে ছিল মানবতার কল্যাণ সাধনের উপর গুরুত্বারোপ।

মহানবীর (স.) উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, “তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই উত্তম যে মানুষের কল্যাণ সাধন করে”।

তিনি বলেন, মহানবী (স.) এর উপরোক্ত হাদিসের আলোকে মানবসেবার মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় বর্তমানে দেশের শীর্ষ স্থানীয় এনজিও সংস্থা আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশন। আর্ত-মানবতার সেবায় এই ফাউন্ডেশনের চ্যারিটি কার্যক্রম সারাদেশে পরিব্যাপ্ত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই ফাউন্ডেশন বিশেষ সুখ্যাতি ও সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিভিন্ন সময় পুরস্কৃত হয়েছে।


স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদায়ী কার্যকরী পরিষদের মহাসচিব ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। ৮ম কার্যকরী পরিষদের অডিট রিপোর্ট, ৯ম কার্যকরী পরিষদের পরিকল্পনা এবং বাজেট পেশ করেন অর্থ সচিব কামরুল আলম চৌধুরী।

মাওলানা মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ ও এরফানুল করিম চৌধুরী’র যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সৌদি আরবের বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ড. আব্দুল্লাহ আল মারুফ, প্রবীণ সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মুহাম্মদ ইসমাঈল মানিক, ফাউন্ডেশনের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিউল্লাহ কুতুবী, ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী, সাংগঠনিক, গবেষণা ও প্রকাশনা সচিব অধ্যাপক ড. আবুল আলা মুহাম্মদ হোছামুদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ ও জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার কামাল, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মাহী, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাস্টার ফরিদুল আলম, সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মুহাম্মদ জুবায়ের প্রমুখ।

১৯ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদের নাম ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশন ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেক। নবনির্বাচিত কমিটির সদস্য হলেন- চেয়ারম্যান- প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এম.পি, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান- মুহাম্মদ ইসমাঈল মানিক, ভাইস চেয়ারম্যান এড. জহির উদ্দিন, মহাসচিব- মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, যুগ্ম মহাসচিব- অধ্যাপক শফিউল্লাহ কুতুবী, অর্থ সচিব- কামরুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক, প্রকাশনা ও গবেষণা সচিব- ড. আবুল আলা মুহাম্মদ হোছামুদ্দিন, প্রকল্প সচিব- আবুল আতা মুহাম্মদ এমাদুদ্দিন, মহিলা, শিশু ও স্বাস্থ্যসেবা সচিব- মিসেস রিজিয়া রেজা চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সচিব- অধ্যাপক মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, সমাজসেবা সচিব- আ.ন.ম সেলিম চৌধুরী, দপ্তর সচিব- আরমান বাবু (রোমেল), প্রচার সচিব- অধ্যাপক শাব্বির আহমদ, সদস্য- লায়ন আবিদ হোসেন মানু, মিসেস সিতারা গাফ্ফার, আলহাজ্ব শফিক উদ্দিন আহমদ, আনোয়ার কামাল, এরফানুল করিম চৌধুরী, মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ।

সাধারণ সভা শেষে ২০১৮-২০১৯ এর জন্য ৯ম দ্বি-বার্ষিক কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।

কেমন জীবনসঙ্গী পছন্দ করেন এই ‘মিস ওয়ার্ল্ড’

এ বছর বিশ্বের সেরা সুন্দরীর খেতাব পেয়েছেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মানুষী চিল্লার। ১৭ বছর পর বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট পরলেন একজন ভারতীয় নারী।

‘মিস ওয়ার্ল্ড-২০১৭’ খেতাব জয়ী এই সুন্দরী একটি সাক্ষাৎকারে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তার পছন্দের মানুষের মধ্যে কীরূপ গুণ থাকা উচিৎ সে সম্পর্কে জানান।

কেমন জীবনসঙ্গী তার পছন্দ? কী কী গুণ থাকা চাই তার মধ্যে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরো সৌন্দর্য নিয়ে আমি কী করব? আমার সৌন্দর্যের অভাব নেই।

আমার স্বপ্নের পুরুষ বলুন আর জীবনসঙ্গীই বলুন, তার মধ্যে হিউমার এবং বুদ্ধি থাকতে হবে। সৌন্দর্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।

মিস ওয়ার্ল্ড এর স্টেজে মুকুট জেতার আগ মুহূর্তে কেমন অনুভব হচ্ছিল তার, কাকে মনে করেছিলেন তিনি, জানতে চাইলে মানুষী বলেন, যখন আমি সেরা-৫ এ নির্বাচিত হলাম, তখন অনুভব করলাম যে আমি প্রতিযোগিতায় রয়েছি।

সবাই জুলি মর্কেলের কাছ থেকে ঘোষণা শোনার জন্য উদগ্রীব ছিল। মুকুট জেতার পর শুধুমাত্র মায়ের কথাই মনে হচ্ছিল। যদিও আমি বাবার খুব কাছের, কিন্তু আমি একেবারেই ‘মাম্মাস গার্ল’।

কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন রাহুল গান্ধী

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়  ভারতের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন রাহুল গান্ধী। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে রাহুল গান্ধীর যুগ শুরু হচ্ছে। ওইদিন তিনি প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নিচ্ছেন। দলের রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ৪৭ বছরের রাহুলের হাতে কংগ্রেসের দায়িত্ব তুলে দেবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং তার মা সোনিয়া গান্ধী। খবর এনডিটিভি।

আজ সোমবারই ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এখনো পর্যন্ত রাহুল গান্ধী ছাড়া কেউ প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। তাই আজ তার দায়িত্বের ঘোষণা এসেছে।

দলের প্রধান কার্যালয় দিল্লির ২৪ নম্বর আকবর রোডে মনোনয়ন দাখিল করেন রাহুল গান্ধী। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সহ দলীয় নেতৃত্ব। মনোনয়ন দাখিল করতে এসে দলের বর্ষীয়ান নেত্রী তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতকে জড়িয়ে ধরেন রাহুল।

রাহুলের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়।  ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে পাঞ্জাব ছাড়া একের পর এক রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে কংগ্রেস। ১৩২ বছরের দলের এখন লোকসভায় সদস্য মাত্র ৪৪। রাহুলের ওপর ভর করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে দলটি।

উল্লেখ্য, গত ১৯ বছর ধরে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের পদে আছেন রাহুলের মা সোনিয়া গান্ধী। এখন থেকে নেতৃত্বে রাহুল। নেহরু-গান্ধী পরিবারের পঞ্চম প্রজন্ম হিসেবে তিনি দলের ভার সামলাবেন।

ইসরাইল একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র- এরদোগান

ইসরাইলকে একটি সন্ত্রাসী ও শিশু হত্যাকারী রাষ্ট্র বলে আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির সমালোচনা করে রোববার তুরস্কের সিটি অব সিভাস-এ দেয়া এক ভাষণে এমন কথা বলেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। তিনি বলেন, জেরুজালেম আমাদের চোখের মণি। আমরা এই পবিত্র নগরীকে একটি হত্যাকারী রাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে পারি না। তিনি ইসরাইলকে দখলদার রাষ্ট্র বলেও উল্লেখ করেন। বলেন, আমরা গণতন্ত্র এবং আইনের আওতার মধ্যে থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে যাবো। সঙ্কট নিরসনে ইস্তাম্বুলে ওআইসির বৈঠকে মুসলিম দেশসমূহকে একাট্টা করার উদ্যোগ নেয়া হবে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতৃবৃন্দকে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা তাদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবো। এছাড়াও, জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণাকে তিনি ভুল এবং অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। এরদোগানের এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রোববার তিনি বলেছেন, এরদোগানের মতো একজন নেতার কাছ থেকে আমার নৈতিকতার পাঠ নেবার প্রয়োজন নেই। তিনি এরদোগানকে একজন স্বৈরাচারী বলে অভিহিত করেন। নিজের বিবৃতিতে তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের শাশ্বত রাজধানী উল্লেখ করে বলেন, জেরুজালেমের ওপর ইসরাইল ছাড়া অন্য কারো অধিকার নেই।

প্রয়োজনে জেরুজালেমে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের জবাবে জেরুজালেমে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত মালয়েশিয়া। এমন ঘোষণা দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামউদ্দিন হোসেন। বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এর প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে বাংলাদেশ সহ মুসলিম বিশ্ব। শুধু মুসলিম বিশ্বই নয়, ইউরোপের অনেক দেশও প্রতিবাদে শরিক হয়েছে। তাই দৃশ্যত জেরুজালেম যে ফিলিস্তিনের, মুসলিমদের ঐতিহ্য ধারণ করে তার পক্ষে সেখানে স্বেচ্ছায় সেনা পাঠানোর জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়ে দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনবিসি। তারা দ্য মালয় মেইল অনলাইনকে উদ্ধৃত করে এমন খবর প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, শনিবার এক বক্তব্যে হিশামউদ্দিন হোসেন বলেছেন, প্রয়োজন হলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফের যেকোনো নির্দেশে সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত। অর্থাৎ প্রয়োজন হলে তারা জেরুজালেমে সেনা পাঠাতে প্রস্তুত এমনটাই জানান দিয়েছেন। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। দীর্ঘ সময় তারা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে। এই ফিলিস্তিন তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে জেরুজালেমকে। এ নিয়েই ইসরাইলের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব ঘোরতর। ফলে ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই জেরুজালেম মুসলিমদের কাছে যেমন পবিত্র, ইহুদি, খ্রিস্টানদের কাছেও তেমনি পবিত্র। ইসরাইলও তাদের রাজধানী দাবি করে জেরুজালেমকে। এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন সহ বড় বড় শক্তিধর দেশগুলো সমাধানের সূত্র খুঁজেতে গিয়ে গলদঘর্ম। কিন্তু কোনো সমাধানই বের করে আনা যায় নি। যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক এ ইস্যুতে যে অবস্থান নিয়েছে তা হলো এ সমস্যা সমাধান হতে হবে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে। কিন্তু গত বুধবার সেই বৃত্ত ভেঙে ফেললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এতদিনের মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দিলেন। কিন্তু তার এ ঘোষণার প্রতি শুধু ইসরাইল বাদে অন্য কোনো দেশের সমর্থন দৃশ্যত এখনও পাওয়া যায় নি। বিশেষ করে আরব লীগ, ওআইসি, মুসলিম বিশ্ব সহ বড় বড় সংস্থা এমন ঘোষণা বাতিল করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা এ ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এরই প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামউদ্দিন হোসেন ওই মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বোদ্ধা, বিশ্লেষক মনে করছেন ট্রাম্পের ওই ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা দেখা দেবে। অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। পুরো অঞ্চলে দেখা দিতে পারে উগ্রপন্থার বিস্তার। এমন কি এর প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে। এতে মার্কিন স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ট্রাম্প একজন ভীমরতিগ্রস্ত বৃদ্ধ: উত্তর কোরিয়া

ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো ভীমরতিগ্রস্ত বৃদ্ধ বলে উল্লেখ করলো উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামেপর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবার সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উন বলেছেন, তিনি (ট্রামপ) একজন ভীমরতিগ্রস্ত বৃদ্ধ। তার এ সিদ্ধান্ত বেপরোয়া এবং বিদ্বেষপূর্ণ। এ খবর দিয়েছে আইবিটি ইউকে। উল্লেখ্য, পূর্বেও ট্রামপকে (ডটার্ড) ভীমরতিগ্রস্ত বৃদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেমকে নিয়ে গ্রহণ করা সিদ্ধান্তের ফলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ট্রামেপর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিবাদ জানানো উচিত। এমন একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ট্রামপ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের মতামতকে উপেক্ষা করেছেন। আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বিধ্বংসী সিদ্ধান্ত মোটেই বিস্ময়কর নয়, কারণ একজন ভীমরতিগ্রস্ত বৃদ্ধ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া অরাজকতার দায় দেশটিকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, পূর্বে তাকে বুড়ো বলাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উনকে বেঁটে এবং মোটা উল্লেখ করে টুইট করেন ট্রামপ।

দুঃসহ অপেক্ষা কান্না, আকুতি

ওদের কারও ছেলে, কারও স্বামী, কারও ভাই, কারও বাবা গুমের শিকার হয়েছেন। চার বছর ধরে তাদের অন্তহীন অপেক্ষা। নিখোঁজ হওয়া বাবা ফিরবেন- এমন আশায় ভোর হয় সন্তানের। বৃদ্ধ মা আর বাবার প্রতিটি সকাল আসে প্রিয় সন্তানের শূন্যতা নিয়ে। গতকাল এমন ২৭টি পরিবারের সদস্যরা জড়ো হয়েছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবে। স্বজন হারানো এসব মানুষের কান্না আর আকুতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় দেশের বিশিষ্টজন আর মানবাধিকার কর্মীরা গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক গুম বা নিখোঁজ হলে তাদের খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যারা গুম হয়েছেন তাদের বিষয়ে বছরের পর বছর কোনো তথ্য না মেলা সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার প্রমাণ বহন করে।
গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ‘মায়ের ডাক- সন্তানদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দাও’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা খাতুন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০১৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর তেজগাঁও থানার বর্তমান ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আটজন নিখোঁজ হয়। একই বছরে ঢাকার বিভিন্নস্থান থেকে আরো ১৯ জন নিখোঁজ হয়। এছাড়াও সারা দেশে গুমের তালিকা দিন দিন বাড়ছে। এটা থামানোর জন্য কেউ যেন নেই। যেখানে রাষ্ট্রের দিকে সবাই তাকিয়ে থাকে সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের সদস্যরা যখন নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যায় তখন সাধারণ মানুষ কার কাছে গিয়ে আশ্রয় নেবে। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশ একটি গুম রাজ্যে পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ ফিরে এলেও এখনো অধিকাংশ নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে। মাঝে মধ্যে ডোবায় ও নালায় পচা লাশ ভেসে উঠে। ওই লাশ শনাক্ত করে কবর দিয়ে স্বজনেরা এইটুকু সান্ত্বনা পায় যে অবশেষে হলেও লাশ তো পেলাম।
কিন্তু, বছরের পর বছর এখনো যারা গুম রয়েছে তাদের পরিবারের অবস্থা একবারও কি কেউ গভীরভাবে চিন্তা করেছে? গুম হওয়া অনেক সদস্যের পরিবারের কারও বাবা অথবা কারও মা দুঃখ যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে অকালে জীবন দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, আজও যারা বেঁচে আছেন তাদের এখনো আকুতি জীবনের শেষ দিন হলেও প্রিয় স্বজনকে যেন কাছে পান। হাজেরা খাতুন আরো বলেন, প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসেও সকল মানবাধিকার সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঐ অসহায় পরিবার তাদের সন্তানদের ফিরে পাওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছে। এ বিষয়ে কেউ কেউ কথা বললেও অধিকাংশই কেন জানি মুখে কুলুপ এঁটেছে। অতি সম্প্রতি গত ৪ঠা ডিসেম্বর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বের হাসান নিখোঁজ হয়েছেন। গত আগস্ট মাসে নিখোঁজ ১২ জনের মধ্যে ৪ জন ফিরে এসেছেন। গত ১০ই অক্টোবর সাংবাদিক উৎপল দাস বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। গত ২৭শে আগস্ট কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান নিখোঁজ হন। আজ তার নিখোঁজের ৯৮তম দিন। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাদাত আহমেদ গত ২২শে আগস্ট নিখোঁজ হন। কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইশরাক আহমেদ গত ২৬শে আগস্ট ধানমন্ডির বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। কুমিল্লার লাকসামে বিএনপি নেতা হুমায়ুন পারভেজ ২০১৩ সালের ২৭শে নভেম্বর নিখোঁজ হন।
তিনি বলেন, আজ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। নিখোঁজ পরিবারের সদস্যরা নতুন করে আর কোনো গুমের তালিকা দেখতে চায় না। তারা সকলে চান স্বজনদের কাছে তারা ফিরে আসুক। আমরা আবারো আজকের এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের দিনে জাতিসংঘ, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি আপনারা আমাদের সন্তানদের তাদের মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন।
তিনি বলেন, আমার সন্তানের কোনো অপরাধ ছিল না। সে শুধু বিরোধী দলের রাজনীতি করতো। প্রায় চার বছর ধরে গুম হয়ে গেছে। তার নিখোঁজের কারণে আমি একটি রাত্রিও ঘুমুতে পারি না। তিনি চিৎকার করে কেঁদে বলেন, আমার সুমন বেঁচে আছে কিনা জানি না। তবে আমি আমার সন্তানকে কোলে ফিরে পেতে চাই। সরকারের কর্ণকোহরে যেন আমার এই আকুতিটি পৌঁছায়। মরে যাওয়ার আগে আমার ছেলেকে দেখে যেতে চাই।
গুম হওয়া সুমনের বোন মারুফা ইসলাম বলেন, সবাই আমাদেরকে গুমের মা, বোন বা স্ত্রী হিসেবে চিনে। এ পরিচয় থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। ভাইকে ফিরে পেতে এমন কোনো জায়গা নেই আবেদন করিনি। কিন্তু ভাইকে আর ফিরে পাচ্ছি না।
নিখোঁজ পিন্টুর স্ত্রী বলেন, ঘরের দরজা খুললে সন্তানরা মনে করে বাবা ফিরে এসেছে। কবে কখন আসবে তার উত্তর আমার কাছে নেই। এর সঠিক উত্তর সরকারই দিতে পারবে?
অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গত ৬ মাসে ৫২ জন গুম হয়েছে। গুম বিষয়ে সরকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেসব বক্তব্য দিচ্ছেন সেই বক্তব্যগুলো শুনে মনে হচ্ছে তারা মানবতার সঙ্গে প্রহসন করছেন।
তিনি আরো বলেন, যেসব ব্যক্তি গুম হন তাদের পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট থানায় যান অভিযোগ করতে। কিন্তু, তাদের সেইসব অভিযোগ আমলে নেয়া হয় না। যদিও বা নেয়া হয় তাহলে সেগুলো গভীরভাবে তদন্ত করা হয় না। কেন ওই ব্যক্তি গুম হলেন এ বিষয়ে গভীর তদন্ত না হওয়ার কারণে তদন্তের অগ্রগতিও হয় না। একারণে গুম হওয়া ব্যক্তিরা দিনের পর দিন নিখোঁজ হয়ে থাকছেন। রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পারে না সেই রাষ্ট্রের আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।
মান্না আরো বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশন পুলিশের কাছে গত ৫ বছরের মানবাধিকার প্রতিবেদন চেয়েছিল। কিন্তু, পুলিশ ওই প্রতিবেদন দেয়নি। এসব কারণে গুম হয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো রহস্যজনক হিসেবে থেকে যাচ্ছে। মান্না আরো বলেন, আজকের অনুষ্ঠান ভিডিও করে ইউটিউবে ছড়িয়ে দেয়া হোক। বিশ্ববাসী দেখুক, বাংলাদেশে কিভাবে দিন দুপুরে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। কিভাবে আইনের শাসনকে দিন দিন দুর্বল করা হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকারের হুকুম ছাড়া কিছুই হচ্ছে না দেশে। ফরহাদ মজহার আল্লাহর রহমতে ফিরে এসেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায়। তিনি বলেন, গুম হওয়া মানুষের কান্না সরকারের কাছে পৌঁছে না। সরকারের কিছু কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে বলে বেড়াচ্ছেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মানবতার মা? এই অমানবিক কাজ বন্ধ করুন। প্রধানমন্ত্রী আপনি গুম ও খুন বন্ধ করতে না পারলে রোবট সুফিয়াকে দায়িত্ব দিয়ে দেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, আমরা অব্যাহতভাবে দেখতে পাচ্ছি যে, গত কয়েক বছর ধরে দেশে নিখোঁজের ঘটনা ঘটছে। যারা ভিকটিম তাদের কাছে শুনতে পাই যে, বাড়ি থেকে অথবা রাস্তা থেকে অথবা কর্মস্থল থেকে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যারা ধরে নিয়ে গেছেন তারা নিজেদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক বলে পরিচয় দিয়েছেন। কারও শরীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক দেখা গেছে বলে আমরা ভিকটিমের পরিবারের মুখ থেকে শুনেছি। তারা নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর এখনও অবধি খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যরা এখনো পথ চেয়ে বসে আছেন। এটা যে কি কষ্টের যারা গুম হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাই বুঝতে পারেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, হঠাৎ করে যখন একটা মানুষ হারিয়ে যায় তখন সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের মধ্য থেকে কিছু অতি উৎসাহী লোক রাষ্ট্রকে অশান্ত করার জন্য এসব কাজ করছে কি-না তা আমাদের জানা দরকার। তিনি আরো বলেন, গুমের যন্ত্রণা কোনো দিন শেষ হয় না। গুমের পর অপেক্ষা করা মৃত্যুর চেয়ে অনেক কঠিন। অনেক স্বজন শোক সহ্য করতে না পেরে মারা গেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা ভিকটিমের স্বজনদের কাছে শুনতে পাই যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে তাদের ধরে নিয়ে গেছে। কেউ বলেছেন যে, ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। কেউ বলেছেন, র‌্যাব ধরে নিয়ে গেছে। ইউনিফরম না থাকলেও সাদা পোশাকে তারা নিজেদেরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সি আর আবরার বলেন, একটা ভয়ের আবহাওয়া ও পরিস্থিতির মধ্যে এখানে গুম হওয়া স্বজনরা এসেছেন। এই ভয়ের আবহাওয়ার মধ্যে আমাদের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই। আমরা একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই না যে, কেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই নিখোঁজ হওয়া সদস্যদের কান্না পৌঁছায় না, না তিনি শুনতে চান না।
তিনি আরো বলেন, গুমের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার করতে হবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা দান করা এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এটা না করলে রাষ্ট্র ও আইনের প্রতি কারও আস্থা থাকে না। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন তারা কেন গুমের ব্যাপারে নীরব রয়েছেন তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
বাম নেতা কমরেড ফয়জুল হক লালা বলেন, গুমবাদীদের বিদায় ঘণ্টা বেঁজে গেছে। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ধরে ধরে গুম করছে। তাদের এখন বিচার না হলেও ভবিষ্যতে বিশেষ আদালতের মাধ্যমে বিচার করা হবে।

মিয়ানমারের সেনাদের ধর্ষণযজ্ঞ -এপির সর্বশেষ প্রতিবেদন

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বালিকা, যুবতী, নারীদের ওপর সেনাবাহিনীর ধর্ষণযজ্ঞ ব্যাপক। বার বার তাদের দ্বারা এই নিকৃষ্টতম অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ২৫ শে আগস্ট থেকে তা আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ২৯ জন রোহিঙ্গা নারীর সাক্ষাতকার নিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। এরপর ১১ই ডিসেম্বর দীর্ঘ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা। তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে অবস্থান করছেন এসব রোহিঙ্গা নারী। তারা মিয়ানমারের বিভিন্ন গ্রাম থেকে এমন নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে এসেছেন। ততে তাদের সবার কাহিনী মোটামুটি একই রকম। তবে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এমন অভিযোগ বার বার অস্বীকার করেছে। সাক্ষাতকার দেয়া ২১ নারীর জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে এই রিপোর্টে। এতে তারা শুধু তাদের নামের প্রথম অংশ প্রকাশে রাজি হয়েছেন। পুরো নাম প্রকাশ করলে দেশে ফিরলে তাদেরকে অথবা তাদের পরিবারের সদস্যদের সেনারা হত্যা করবে এমন আতঙ্ক রয়েছে। এমন একজন বালিকার বয়স মাত্র ১৩ বছর। সে নিজেকে নামের প্রথম অংশের ইংরেজি প্রথম অক্ষর ‘আর’ দিয়ে প্রকাশ করেছে। বলেছে, তাকে মিয়ানমারের সেনারা ভয় দেখিয়েছে। গত বচর তার পিতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে সেনারা। এ বছরে আগস্টের একদিনে তার বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে ১০ সেনা সদস্য। তার কাছ থেকে কেড়ে নেয় তার ছোট দুই ভাইকে। তাদেরকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলে তারা। এরপর তাকে প্রহার করে। এ অবস্থা দেখে ‘আর’ বাড়ির সামনের দরজা দিয়ে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু সেনারা তাকে ধরে ফেলে। তার দু’হাত বেঁধে ফেলে দুটি গাছের সঙ্গে। একে একে তারা কান থেকে টেনে ছিড়ে নেয় কানের দুল ও হাত থেকে ব্রেসলেট। তারপরই ঘটতে থাকে সবচেয়ে জঘন্য অধ্যায়। তার পোশাক একেবারে কেড়ে নেয়া হয়। এ সময় ‘আর’ চিৎকার করতে থাকে। তাদেরকে থামতে বলে। কিন্তু হায়েনার বুকে কোনো অনুকম্পা থাকে না। একে একে তার দিকে পিশাচের চেহারা নিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে সেনারা। প্রথমজন তাকে ধর্ষণ শুরু করে। এ সময় ভয়াবহ বেদনায় কুঁকড়ে যাচিছল ‘আর’। এমনি করে একে একে ১০ জন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারপর তাকে ফেলে যায়। এ অবস্থায় তার বড়ভাই তাকে নিয়ে আসে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে। বাংলাদেশে প্রবেশের পর চিকিৎসকরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে জন্মবিরতিকরণ চিকিৎসা দেন। জীবন বাঁচাতে পারলেও নিজের সেই ছোট্ট দুই ভাইয়ের কোনো খোঁজ আজও পায় নি ‘আর’। এখনও ঘুমাতে গেলে সেই আতঙ্ক তাকে গ্রাস করে। খেতে পারে না ঠিকমতো।
‘এফ’কে দু’বার ধর্ষণ করা হয়
আরেক ধর্ষিতার নামের প্রথম অক্ষর ইংরেজি ‘এফ’। তিনি ও তার স্বামী জুনে বাড়িতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন। এমন সময় সাত জন সেনা সদস্য তাদের বেডরুমে প্রবেশ করে। তারা তার স্বামীকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। একটি স্কার্ফ গুঁজে দেয় তার মুখের ভিতর। এরপর ‘এফ’-এর স্বর্ণালংকার কেড়ে নেয় তারা। একে একে কেড়ে নেয় সব পোশাক। তারপর তাকে ছুড়ে মারে মেঝেতে। সেখানেই প্রথম একজন সেনা সদস্য তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। এ সময় তার স্বামী মুখ থেকে ওই স্কার্ফ খুলে ফেলতে সমর্থ হন এবং চিৎকার করেন। তখন এক সেনা সদস্য তাকে গুলি করে হত্যা করে। আরেকজন সেনা সদস্য তার গলা কেটে ফেলে। ধর্ষণ শেষে সেনা সদস্যরা বাড়ির বাইরে এনে ফেলে রাখে ‘এফ’-এর নগ্ন শরীর। তারপর তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে যায়। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে উদ্ধার করেন তাকে। দু’মাস পরে ‘এফ’ বুঝতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এই যখন অবস্থা তখন সেপ্টেম্বরে আবার সেই ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি। এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গভীরঘুমে ‘এফ’ তখন ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে ৫ সেনা সদস্য। এ সময় তারা ৫ বছর বয়সী একটি শিশুর গলা কেটে ফেলে। হত্যা করে তার পিতাকে। আবারও ‘এফ’-এর পোশাক কেড়ে নেয় সেনারা। দু’সেনা সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। অন্য তিনজন ধর্ষণ করে ‘এফ’-এর এক বান্ধবীকে। এরপর তারা মেঝেতে তাদেরকে ফেলে চলে যায়। এর পরে এই ধর্ষিতারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন।
নাস্তা খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ‘কে’
আগস্টের শেষ। এক সকালে স্বামী সন্তানদের নিয়ে নাস্তা খেতে বসবেন কে। এ সময় তিনি শুনতে পেলেন গ্রামে ব্যাপক শোর চিৎকার। তার স্বামী ও বড় তিন সন্তান বাইরে বেরিয়ে এলেন। ওই সময় ‘কে’ ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার ছিল দুটি ছোট্ট শিশুও। ফলে তিনি তাদেরকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন নি। এ সময় সেনা সদস্যরা তার বাড়িতে প্রবেশ করলো। ‘কে’কে বিছানার ওপর ফেলে দিল। কেড়ে নিল প্রথমে তার স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থ সম্পদ। এরপর তার পোশাক কেড়ে নিতে থাকে। হাত ও পা বেঁধে ফেললো রশি দিয়ে। তিনি এতে বাধা দিলে তাকে প্রহার করা হয়। এরপরই তাকে ধর্ষণ শুরু করে তারা। ভয়ে তিনি নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। একজন সেনা সদস্য তার চোখের মণির ওপর একটি ধারলো ছুরি ধরে রাখে। আরেকজন তার বুকের ওপর বন্দুক তাক করে রাখে। অন্য একজন তাকে ধর্ষণ করে। পর্যায়ক্রমে তিন জনই তাকে ধর্ষণ করে। রক্তাক্ত হয়ে পড়েন ‘কে’। তিনি তখন নিশ্চিত হয়ে যান, তার গর্ভস্থ শিশু হয়তো মারা গেছে ততক্ষণে। তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। যখন চেতনা ফেরে তখন নরপিশাচরা চলে গেছে। এরপর ধর্ষিত হওয়ার জন্য তাকে দায়ী করতে থাকেন তার স্বামী। কারণ, তিনি তাদেরকে অনুসরণ করে পালাতে পারেন নি। এরপর ওই পরিবারটি পালিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। এর দু’সপ্তাহ পরে এখানেই একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ‘কে’।

দোহাজারীতে মাটির ঘর ধসে মা ও মেয়ের মৃত্যু

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় মাটির ঘর ধসে মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। সোমবার বেলা দেড়টার দিকে দোহাজারি পৌরসভার ঈদপুকুরিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- মমতাজ বেগম (৫০) ও তার মেয়ে পান্না বেগম (২৭)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ফেরদৌস আরা বেগম (১৮)।

দোহাজারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. আবদুল খালেক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছিল দোহাজারীতে। সোমবার একটি পুরনো মাটির ঘর ধসে পড়ে। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়। এরপর দেখা যায় মা-মেয়ে দুইজন মারা গেছেন। আহত অন্যজন চিকিৎসাধীন আছেন।

‘জেরুজালেমের জন্য মালয়েশিয়ার সেনারা প্রস্তত’

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামুদ্দিন হুসেইন বলেছেন, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতি ‘মুসলিম বিশ্বের মুখে চপেটাঘাত’মারার শামিল। এর জন্য প্রয়োজনে দেশটির সামরিকবাহিনী প্রস্তুত। খবর আল জাজিরার।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে মালয়েশিয়ার সংবাদ সংস্থা বারনামায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুসেইন বলেন, আমাদের যেকোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মালয়েশিয়ার সশস্ত্রবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। তারা শুধু শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষায় আছে।

তিনি আরো বলেন, চলুন সবাই মিলে দোয়া করি যেন এ দ্বন্দ্ব বিশৃঙ্খলায় পরিণত না হয়।

জেরুজালেমকে নিয়ে ওয়াশিংটনের নাটকীয় ঘোষণায় মালয়েশিয়া, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, ইরাকসহ বিশ্বের অনেক দেশই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ইসরায়েলের বর্তমান রাজধানী তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস নতুন রাজধানী জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণাও দেয়া হয় তখন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরপরই মালয়েশীয় জনগণ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান দেয় এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি কোরিয়া

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে। এখানে উত্তেজনার পারদ প্রায় স্ফুটনাংকে। সামান্যতম ভুলে গর্জে উঠতে পারে পারমাণবিক অস্ত্র। মুহূর্তে সৃষ্টি হতে পারে আরেকটি হিরোশিমা-নাগাসাকি। তাই যুদ্ধকে এড়িয়ে এ সমস্যাকে দ্রুততার সঙ্গে এবং কূটনৈতিক উপায়ে মিটিয়ে ফেলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতিসংঘের একজন শীর্ষ স্থানীয় দূত। তিনি সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া সফর করেছেন। এমন সফর বিরল। এরপর তিনি ওই সতর্কবাণী দিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা হলেন রাজনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জেফ্রে ফেল্টম্যান। তিনি গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সফর করেন উত্তর কোরিয়া। গত ৬ বচরের মধ্যে এটাই জাতিসংঘের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার উত্তর কোরিয়া সফর। এ সময়ে তিনি সাক্ষাত করেছেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হো’র সঙ্গে। এর এক সপ্তাহ আগে উত্তর কোরিয়া দূরপাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। তার জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে সামরিক মহড়া করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশে গর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। উত্তেজনা তখন তুঙ্গে। এমন সময়ে ওই বৈঠক করেন জেফ্রে। এরপর তারা দু’জনেই একমত জন যে, বর্তমান পরিস্থিতি সবচেয়ে উত্তেজনাকর। এটা বর্তমান বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও সবচেয়ে বিপদজনক। এমন কথা বলা হয়েছে জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এই উত্তেজনা নিরসনে জেফ্রে ফেল্টম্যান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্তরিক সংলাপের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক সমাধান বের করা যেতে পারে। সাংবাদিকদের কাছে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ভুল হিসাবনিকাশ বন্ধ করতে জরুরি ভিত্তিতে উন্মুক্ত চ্যানেলের মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে আনা জরুরি। তিনি আরো বলেন, কোরিয় উপদ্বীপ অঞ্চলে যে উত্তেজনা বিরাজ করছে সে বিষয়ে বিশ্ববাসী উদ্বিগ্ন। সবাই চান এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান। কোরিয়া যুদ্ধের পর থেকেই প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কৌশলগত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের ফুলকোর্ট সভা কাল

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের ফুলকোর্ট সভা আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়। সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, আগামী ১২ ডিসেম্বর রোজ মঙ্গলবার বেলা ৪ ঘটিকায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি মহোদয়গণের অংশগ্রহণে অত্র কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

ভারত সীমান্তে আবারো চীনের সেনাবাহিনীর অবস্থান

বিরোধপূর্ণ ডোকলাম নিয়ে আবারো মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও চীন। সিকিম-ভুটান-তিব্বতের সীমান্তবর্তী অঞ্চল ডোকলামে প্রায় পাকাপাকিভাবে ঘাঁটি গেড়েছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ চীনা সৈন্য। ইতোমধ্যে তারা তৈরি করে ফেলেছে দুটি হেলিপ্যাড, উচ্চমানের রাস্তা, বেশ কিছু আগাম তৈরি করা ছাউনি এবং নিত্য প্রয়োজনের দোকানও। এদিকে, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, ভারত তার কৌশলগত উদ্দেশ্যে সফল হয়েছে। ডোকলাম থেকে দক্ষিণ দিকে জামফেরি সেতুবন্ধ পেরিয়ে নতুন কোনো রাস্তা তৈরি করতে পারেনি চীন, তবে পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনা নিজেদের অবস্থান প্রায় পাকাপাকিই করে ফেলেছে এ অঞ্চলে। এর আগে সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে এবং অক্টোবর-নভেম্বর মাসে চীনা সেনা টহল দিতে আসত এ অঞ্চলে। তাদের উদ্দেশ্যই ছিল নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়া। এবছর আগস্টের ২৮ তারিখে প্রায় ৭৩ দিনের টানাপোড়েনের পর ডোকলাম সীমান্ত থেকে সরে গিয়েছিল ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী। এই প্রথম শীতে এই অঞ্চলে থেকে গেছে চীনা সৈন্যদল। চীন যে এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে সে বিষয়ে সেপ্টেম্বর মাসেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। ডোকলাম দখলের পিছনে চীনের প্রধান লক্ষ্যই হল চুম্বি উপত্যকার আয়তন বাড়ানো। উল্লেখ্য, ভুটান ডোকলামকে নিজেদের দাবি করে। ভারতও তাদের দাবিকেই সমর্থন দেয়।
ডোকলামের মতো ঘটনা ভবিষ্যতে বাড়তে পারে : ভারতীয় সেনাপ্রধান নয়া দিগন্ত অনলাইন, ২৭ আগস্ট ২০১৭ ভারতের সঙ্গে সীমান্তের ‘স্থিতাবস্থা বদলাতে’ চাইছে চীন। এ কারণে ডোকলামের মতো অচলাবস্থা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তিনি বলেছেন, চীনের এই পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। বিপিন রাওয়াত আরও বলেছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার বিন্যাসের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত থাকার জন্য কিছু কিছু জায়গায় বিতর্ক রয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করার ঘটনা ঘটেই থাকে এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে তা সীমান্তে মোতায়েন দুই পক্ষের বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। এ ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে যৌথ ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান। শনিবার সাবিত্রীবাই ফুলে পুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাওয়াত বলেছেন, ডোকলাম নিয়ে চীনের সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে ভারতীয় বাহিনী বলেছে যে, দুই পক্ষকেই গত ১৬ জুনের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনও কোনো সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে অচলাবস্থার সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিকভাবে এবং রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের প্রয়োজন। জেনারেল রাওয়াত সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সীমান্তের অন্য সেক্টরের বাহিনীদের মধ্যে কোনোরকম আত্মসন্তুষ্টির অবকাশই নেই। তিনি বলেছেন, এরকম আর ঘটবে না ভাবার চেয়ে প্রস্তুত ও সতর্ক থাকাই বাঞ্ছনীয়। তাই তিনি বাহিনীকে সদাসতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান আরও বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করছে চীন। তিনি আরও বলেছেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে চীন-পাকিস্তান আর্থিক করিডোর ভারতের সার্বভৌমত্বের পক্ষে একটা চ্যালেঞ্জ। এনডিটিভি।

প্যারিসের পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়ান প্লানেট শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনদিনের সরকারি সফরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের পথে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিং এবং জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিয় গুতেরেসের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী এই শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করছেন। আজ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফর সঙ্গীদের নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমান হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্যারিসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিমানবন্দরে জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আসম ফিরোজ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটির দুবাই হয়ে চার্লস দ্য গল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্যারিসে নিযুক্ত বাংলদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রাসহ ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ড (অপেরা) হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী এই হোটেলে অবস্থান করবেন। ফরাসি রাজধানীর প্যারিসের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলীর ইল সেঁগুই দ্বীপের সঙ্গীত ও পারফর্মিং আর্টস সেন্টার লা সেইন মিউজিকাল-এ ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্যারিসে ২০১৫ সালে বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জলবায়ু চুক্তি সই হয়। এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে পুনরায় এ সম্মেলন মিলিত হচ্ছেন বিশ্ব নেতারা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আমাদের অভিন্ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন কিভাবে কাজ করে তা নির্ধারণ এই সম্মেলনের মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হবে।
সম্মেলনে ২ হাজার অংশগ্রহণকারীর মধ্যে একশ’টি দেশের নেতৃবৃন্দ বেসরকারি সংস্থা, ফাউন্ডেশন এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী লা সেইন মিউজিকাল-এ ওয়ান প্লানেট সামিটের উচ্চ পর্যায়ের এক অধিবেশনে যোগ দেবেন। এরপর সামিট থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রী ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্যারিস লা গ্রান্ড (অপেরা)-তে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সরকারি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকালে এলিসি প্যালেসে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। এছাড়া তিনি সামিট উপলক্ষে আগত সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানসহ আয়োজক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্মানে একই স্থানে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দেওয়া এক মধ্যাহ্ন ভোজেও অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর বুধবার সন্ধ্যায় প্যারিস ত্যাগ করার এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে।

বুধবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করবে বিএনপি

আগামী বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। চাল, ডাল, পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাগুলোতে হোল্ডিং ট্যাক্স এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকা আগামী ১৩ ডিসেম্বরের কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে। এসময় দলের পক্ষ থেকে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করেন রিজভী। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুকে সদস্য সচিব করে এ কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম, যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল খালেকসহ দলটির নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগের সদস্য ও জেলা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আব্দুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুউদকান্দিতে দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুইজনসহ নিতহ ৪

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে একই পরিবারের দুজনসহ চারজন নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দিতে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছে আরো অন্তত ১০ জন। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস দাউদকান্দির সিঙ্গুলা এলাকায় পৌঁছালে বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছে ধাক্কায় দেন। এরপর বাসটি সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চট্টগ্রাম লোহাগড়া উপজেলার শাহাবউদ্দিন ও তার ছেলে আবু হানিফ এবং একই এলাকার নুরুল হাসান ও সাতকানিয়ার আমজাদ হোসেন মারা যায়।

ফাও খে‌তে বাধা দেয়ায় ঢা‌বি‌তে ছাত্রলীগ নেতার মারধ‌রে ক্যা‌ন্টি‌ন ব্যবস্থাপকসহ আহত ২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল‌য়ে হল ক্যান্টিনে ফাও খে‌তে বাধা দেয়ায় ছাত্রলীগ নেতার মারধ‌রে ক্যা‌ন্টি‌নের ব্যবস্থাপকসহ দুইজন আহত হ‌য়ে‌ছে। আহতরা হ‌লেন- ক্যান্টিন ব্যবস্থাপক শফিক ও কর্মচারী মনির। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত‌দের‌কে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হ‌য়ে‌ছে। র‌বিবার রা‌তে বিশ্ববিদ্যালয় স‌লিমুল্লাহ মুস‌লিম (এসএম) হ‌লে এ ঘটনা ঘ‌টে। ঘটনায় হ‌লের সহকারী আবা‌সিক শিক্ষক ড. জা‌হিদ উল আরে‌ফিন চৌধুরীরকে প্রধান ক‌রে তিন সদ‌স্যের এক‌টি তদন্ত ক‌মি‌টি গঠন ক‌রে‌ছে হল প্রশাসন। অভিযুক্ত ওয়াসিফ হাসান পিয়াস সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি। তি‌নি বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলের অনুসারী। হ‌লের প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, খাওয়ার আগে ক্যান্টিনে টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ কর‌তে হয়। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতা পিয়াস টো‌কেন না নি‌য়ে কর্মচারী মনিরকে খাবার দিতে বলেন। কর্মচারী টোকেন ছাড়া খাবার দি‌তে অপারগতা প্রকাশ করায় ছাত্রলীগ নেতা পিয়াস মনিরকে এলোপাড়ারি মার‌তে থা‌কেন। পরে খাবার খেয়ে চলে যাবার সময় ক্যান্টিন ব্যবস্থাপক শফিক তাঁকে বলেন, একটা ছেলেকে না মেরে আমাকে বললেই খাবার দিয়ে দিতাম।
এই কথা বলার সা‌থে সা‌থেই শফিককেও মারধর শুরু ক‌রে পিয়াস। এ সময় পিয়াস টেবিলের ওপর উঠে ক্যাশ বাক্স লাথি দিয়ে নি‌চে ফেলে দেন। প্রহা‌রে ক্যান্টিন ব্যবস্থাপক রক্তাক্ত অবস্থায় মা‌টি‌তে পড়ে থাকেন। প‌রে তা‌দের‌কে ঢাকা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি করা হয়। এ বিষ‌য়ে জান‌তে চাই‌লে ক্যান্টিন কর্মচারী মনির বলেন, আমি শুধু বলেছি টোকেন ছাড়া খাওয়া দি‌তে নিষেধ করা হ‌য়ে‌ছে। সাথে সাথে আমার পেটে এসে লাথি দেয়। মারতে থাকে। নি‌জের অনুসারীর এধর‌নের আচরণ সম্প‌র্কে জান‌তে চাই‌লে এসএম হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, আমরা ছাত্রলীগ থেকে এ বিষ‌য়ে ব্যবস্থা নিব। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধ‌ারণ সম্পাদক মোতাহার হো‌সেন প্রিন্স‌কে একাধিবার কল দিলেও তারা রিসিভ করেননি। এস এম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কার্য‌দিব‌সের ম‌ধ্যে তা‌দের‌কে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দি‌তে বলা হ‌য়ে‌ছে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।

‘বিদেশে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের নামে প্রোপার্টির অস্তিত্ব নেই’

জনগণকে ‘বিভ্রান্ত করতে খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের নামে মিথ্যা’ সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক সমাবেশে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুর এসব কথা বলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার সকালে হাই কোর্ট মাজার প্রাঙ্গণে বিএনপির মহানগর দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে গরীব ও দুঃস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন মির্জা ফখরুল। এসময় ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের নামে বিদেশে যে সম্পত্তির কথা বলা হচ্ছে বাস্তবে তার কিছুই নেই। তিনি বলেন, আমরা সারা পৃথিবীতে খোঁজ নিয়ে দেখেছি এমন প্রোপার্টির কোনো অস্তিত্ব নেই। তিনি বলেন, আমরা তো পরিষ্কারভাবে বলেছি, সরকার তা প্রমাণ করুক। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহসভাপতি শামসুল হুদা, মোহাম্মদ মোহন এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।

চট্টগ্রামে মাটির ঘর ধসে মা-মেয়ে নিহত : আহত ১

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে মাটির ঘর ধসে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার দোহাজারি পৌর সদরের আওতাধীন ইদপুকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের মমতাজ বেগম (৫০) ও তার মেয়ে পান্না বেগম (২৭)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ফেরদৌস আরা বেগম (১৮) নামে একজন। দোহাজারি হাসপাতালের আরএমও ডা: আ: খালেক ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম আহত-নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, গত ৪ দিনের বৃষ্টিতে পুরনো সেই মাটির ঘরটি আজ দুপুরে হঠাৎ ধসে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির প্রতিবাদে মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। সোমবার দুপুরের দিকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী যুব আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে তিনটি ইসলামিক দল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশি বাধার শিকার হয় তারা। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে তাদের সামনে যেতে বাধা দেয়া হয়। পরে সেখানে রাখা ব্যারিকেডের উপরে দাঁড়িয়ে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মো. রেজাউল করিম বলেন, সরকারের এ রকম বাধা কতদিন চলবে? জোয়ার এলে কোনোভাবেই তা ঠেকানো যাবে না। পরে তিনি শুক্রবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। মিছিল থেকে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা।

গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ

গ্যাস-বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূ্ল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বুধবার ঢাকা ও সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। রিজভী বলেন, ‘চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূ্ল্য বৃদ্ধি, সিটি করপোরেশনসহ পৌর সভার ট্যাক্স এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বুধবার ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী প্রতিবাদ সভা অথবা প্রতিবাদ মিছিল করা হবে।’ ঢাকা ও সারাদেশের সব থানায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান রিজভী। সিপিবিসহ বাম সংগঠনগুলো গত ৩০ নভেম্বর সারাদেশে বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারাদেশে অর্ধবেলা হরতালে কর্মসূচি দেয় তাতে বিএনপিসহ নতুন গঠিত চারদলীয় যুক্তফ্রন্ট ওই কর্মসূচিতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন, সাবেক সাংসদ আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়েছে

মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী রাখাইন সন্ত্রাসীদের বর্বরতার হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়েছে। রোববার পর্যন্ত ৮ লাখ ৪৭১ রোহিঙ্গা নাগরিকের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকের হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের (আরআরআরসি) রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা ছয় লাখ ৩৯ হাজার ৩২০ জন। আর ২৫ আগস্ট ২০১৭-এর আগে আগত মিয়ানমার নাগরিকের সংখ্যা দুই লাখ চার হাজার ৬০ জন। সব মিলিয়ে আট লাখ ৪৭১ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছেন। এদিকে চলতি বছরে মিয়ানমারে সেনা বাহিনীর নিপীড়ন শুরু হলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১২ অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় দেয়া হয়।

ডাক্তার না হয়েও অপারেশন দুঃখজনক: হাইকোর্ট

ডাক্তার না হয়েও অপারেশন খুবই দুঃখজনক এবং এ ঘটনা কসাইয়ের মত আচরন।  পটুয়াখালীর বাউফল নিরাময় হাসপাতালে রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অপরাধে রাজন দাসসহ চারজনের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার সময় এমন মন্তব্য করেছেন আদালত। সন্তান প্রসবের সময় এক নারীর পেটে গজ রেখে অপারেশন শেষ করায় কথিত চিকিৎসক রাজন দাস ওরফে অর্জুন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ৬ নভেম্বর বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টর বেঞ্চ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সোমবার রাজন দাস হাইকোর্টে হাজিরা দিতে আসলে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত এবং নিরাময় হাসপাতালের মালিক, মেডিকেল সহকারী ও নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেয়া হয়। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। এই ঘটনায় আদালত বলেন, ডাক্তার না হয়েও অপারেশন। মানুষের কি কোন দাম নেই। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। ক্লিনিকটি টি চিকিৎসালয় না কসাইখানা? কসাইয়ের মত আচরণ এগুলো। কোন যুগে বাস করছি। এটাতো হত্যার মত। গত মার্চে পটুয়াখালীর বাউফলে নিরাময় ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের প্রসব ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন মাকসুদা নামের এক নারী। সেখানে কথিত ডাক্তার রাজন দাস পেটে গজ রেখেই অপারেশন সম্পন্ন করেন। ১২ জুলাই আবার অপারেশন করে সেই গজ বের করা হয়।

সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব: এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা

বরিশালে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাতে নগরীর রুপাতলীর শেরে বাংলা সড়কের জাহিতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম আবু সালেহ। সে শেরে বাংলা সড়ক এলাকার লিটন মৃধার ছেলে ও নগরীর নুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। নিহতের মামা মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ১৮ নভেম্বর সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে আবু সালেহর সঙ্গে সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের ছাত্র হৃদয় রহমানের মারামারি হয়। পরে শালিসি বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। রোববার প্রাইভেট পড়ে বাসায় ব্যাগ রেখে চায়ের দোকানে আসে সালেহ। এসময় রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে হৃদয়। পরে তাকে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী কমিশনার ফরহাদ সরদার জানান, হামলাকারীকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২০ টাকার জন্য যুবক খুন

ময়মনসিংহ শহরের মাসকান্দা এলাকায় বন্ধুর ছুরিকাঘাতে শাহাব উদ্দিন (২৮) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন। সোমবার ভোরে মাইক্রোবাসে যাত্রী উঠানোর টাকা ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মাত্র ২০ টাকার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত শাহাব উদ্দিন শহরের মাসকান্দার আগ্রাকান্দা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, শহরের মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা খালি মাইক্রোবাসগুলোতে যাত্রী উঠানোর কাজ করেন শাহাব উদ্দিন ও জুয়েলসহ আরও ৪/৫ শ্রমিক। ঢাকাগামী এসব যাত্রীপ্রতি তারা ২০ থেকে ৩০ টাকা হারে একটি মাইক্রোবাস থেকে ২০০-৩০০ টাকা পান। পরে তারা সেগুলো ভাগবাটোয়ারা করে নেন। সম্প্রতি জুয়েল উপস্থিত না থেকেও মাইক্রোবাসে যাত্রী উঠানো বাবদ শাহাব উদ্দিনের কাছে ২০ টাকা দাবি করে। এ নিয়ে ভোরে শাহাব উদ্দিন ও জুয়েলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে জুয়েল পাশের বাসা থেকে ছুরি এনে শাহাবকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা শাহাব উদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শিশুকে ধর্ষ‌ণ করতে গিয়ে শ্র‌মিক লীগ নেতা আটক

সুনামগঞ্জ পৌর এলাকায় নবীনগরে শিশুকে ধর্ষ‌ণচেষ্টার অ‌ভি‌যো‌গে এক শ্র‌মিক লীগ নেতা‌কে আটক ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। আটক মলয় চন্দ জেলা শ্র‌মিক লী‌গের আহ্বায়ক ক‌মি‌টির সদস্য বলে জানিয়েছেন ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হোসেন আহমেদ রাসেল। পুলিশ জানায়, রোববার রা‌তে পৌর এলাকায় ধর্মীয় কীর্তন চলছিল।
শিশুটির পরিবারের সবাই ওই কীর্তনে যায়। এ সুযোগে ওই শিশুকে কীর্তন থেকে ডেকে খালি ঘরে নিয়ে মলয় ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরে মেয়েটির চিৎকা‌রে আ‌শপা‌শের লোকজন ছুটে এ‌সে মলয়কে আটক ক‌রে। খবর পে‌য়ে পুলিশ ঘটনাস্থ‌লে এসে মলয়কে আটক ক‌রে থানায় নি‌য়ে যায়। সদর থানার ও‌সি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় মলয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

‘নাটক’ প্রমাণ করতে পুলিশই নাটক করছে

কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার বলেছেন, পুলিশ তাদের (ফরহাদ মজহার দম্পতি) নিয়ে তামাশা করছে। স্বামী ফরহাদ মজহারের অপহরণের ঘটনাটি নাটক এবং সাজানো প্রমাণ করতে গিয়ে উল্টো পুলিশই ‘নাটক’ করছে বলে দাবি করেন তিনি। রোববার যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে ফরিদা আখতার এ দাবি করেন। তিনি বলেন, আদালতে দেয়া পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) প্রত্যাখ্যান করে তিনি আদালতে আবেদন দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়ায় এখন তিনি উচ্চ আদালতে অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জানাবেন। উচ্চ আদালতে তিনি সুবিচার পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ সদর দফতর।
রোববার পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে ফরহাদ মজহার দম্পতি ঢাহা মিথ্যা বলেছেন। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায়ের কোনো সুযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, আদালতে হাজিরের পর সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ডের সময় সেখানে পুলিশ থাকে না। এছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে লিখে দেয়া কোনো কাগজ জবানবন্দি হিসেবে আদালত গ্রহণ করার প্রশ্নই ওঠে না। সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সহেলী ফেরদৌস আরও বলেন, সরকারকে বিব্রত করার জন্য ফরহাদ মজহার স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছিলেন এবং অপহরণের গল্প রটিয়েছিলেন। শনিবার নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমি নাটক করিনি, আমাকে যা বলা হয়েছে, তাই করেছি। আদালতে দেয়া জবানবন্দি তার নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে তারা নিজেরাই সেটি আমার জবানবন্দি বলে চালিয়ে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য তাকে লিখিত কপিসহ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়। ‘গুম’ করার উদ্দেশ্যেই তাকে অপহরণ করা হয়েছিল দাবি করে ফরহাদ মজহার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো ভূমিকার কারণে তিনি জীবন রক্ষা পেয়েছেন। চলতি বছরের ৩ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্যামলীর রিং রোডের ১নং হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ফরহাদ মজহার। ১৯ ঘণ্টা পর যশোরের অভয়নগরে হানিফ পরিবহনের বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় ৩ মাস তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করে। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত ও হয়রানির অভিযোগ এনে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কছে দণ্ডবিধির ২১১ ও ১০৯ ধারায় ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি চান। বৃহস্পতিবার পুলিশের দেয়া প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের আবেদন জানান ফরহাদ মজহারের স্ত্রী ফরিদা আখতার। দু’পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওই আবেদন নাকচ করে দেয়ার পর শনিবার ওই ঘটনায় মুখ খোলেন ফরহাদ মজহার। নিজ বাসায় সাংবাদিকদের ডেকে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন তিনি।

শিল্প-সংস্কৃতিতে গতি সঞ্চার করেছে আমাদের বিজয়

দেশ সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়। স্বাধীনতার পর উন্নতি, উন্নয়ন ইত্যাদির মূল্যায়নে প্রত্যাশা এবং প্রাপ্তি নিয়ে। দৈনিক যুগান্তরের পক্ষ থেকে তেমনটির সম্মুখীন আমাদেরও হতে হল। উত্তরটি মৌখিক না হয়ে লিখিত দেয়ার অনুরোধও করা হয়েছে। তো, এসব নিয়ে বলার মতো জ্ঞান-গরিমা আমার প্রায় শূন্যের কোঠায়। বলা যায়, খালি চোখে দেখার বাইরে গভীর হিসাব-নিকাশ তেমন করিনি কখনও। তবে অবস্থাদৃষ্টে বলতেই হয়, শিল্পকলা বা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেশকিছু প্রাপ্তি ঘটেছে। যেমন- ভালো হোক বা মন্দ, গ্রহণযোগ্য হোক বা সমালোচিত, দেশে প্রচুর ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে। এ নিয়ে ভাস্করদের ব্যস্ততা বেড়েছে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এটি শিল্পকলা চর্চার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলার একটি ভালো লক্ষণ। আধুনিক চিত্রকলা দিকটিতে তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের চর্চা বেগবান হয়েছে গত কয়েক বছরে। তাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিস্তৃত হয়েছে এবং প্রশংসা প্রাপ্তি ঘটেছে। বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। সৃজনশীল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। এসবের প্রধান কারণটি হল শিল্পকলা চর্চার ক্ষেত্রে বৈরী দিনকালের সম্মুখীন হতে হয়নি গত কয়েক বছর। দেশে শিল্পকলার সংগ্রাহক এখন অনেকাংশে বেড়ে গেছে। গ্যালারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক। সেগুলোতে প্রচুর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দর্শক সমাগমও সন্তোষজনক। লোকশিল্পের বেলায়ও একই কথা খাটে। জামদানিসহ বেশকিছু দিকে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে আমাদের নকশি শীতল পাটি। ইউনেস্কো বিশেষ ঐতিহ্যিক বিষয় হিসেবে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিটি দিয়েছে। যেমন একইভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ইনট্রানজিবল হেরিটেজ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি। এসব গুরুত্ববাহী অর্জনের এবং প্রাপ্তির দরজাগুলো খুলতে পারা গেছে বর্তমান সরকারের আমলে, পৃষ্ঠপোষকতায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নাট্যকলা, নৃত্য, সৃজনশীল চলচ্চিত্র ইত্যাদির চর্চা বেড়েছে। মোটকথা সুরুচির দিকগুলো নিয়ে চমৎকার একটি আবহ বিরাজমান সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কয়েক বছর ধরে বিশাল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে ধ্রুপদী, উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের আসর বসছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এসব আয়োজন আমাদের অর্জন। সুরুচি বিস্তরণের এসব দিক আমাদের প্রাপ্তির অংশ।
এখানে একটি কথা না বললেই নয় যে, স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কাজ করার যে স্পৃহা এবং চর্চার বেগবান গতি পাওয়ার কারণ আমাদের বিজয়, আমাদের স্বাধীনতা এবং একটি নিজস্ব ভূখণ্ড। বঙ্গবন্ধুর একটি ভাষণ জনগণের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকে প্রোজ্জ্বলিত করেছিল। সেই ভাষণকে শিরোধার্য করে বাঙালির নিজস্ব বাসভূমি হিসেবে এ স্বাধীন দেশটি অর্জিত হয়েছিল। একাত্তরের ৭ মার্চের সেই অসাধারণ উদ্বুদ্ধকারী ভাষণ বিশ্বের সেরা ঘটনার স্বীকৃতি পেয়েছে ইউনেস্কোর আয়োজনে। এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সব প্রজন্মের জনগণকে দেশাত্মবোধে চিরকাল উজ্জীবিত রাখবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিভূত। গর্বিত বোধ করছি ভেবে যে, সেই ভাষণ শোনার কোটি মানুষের ঢলে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা পাথেয় হয়ে আছে আজও। শিল্পকলার ক্ষেত্রে এসব প্রাপ্তি চোখে পড়ার মতো। তবে অতৃপ্তিও আছে চারুশিল্পীদের। তা হল রং-তুলি, কাগজ-ক্যানভাসের অগ্নিমূল্য। বিদেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এসব মেটেরিয়াল বা সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি আমদানি করে থাকেন। দেশে কোনো কারখানা নেই। অতএব, পরমুখাপেক্ষী থাকাই নিয়ম। নির্ভরতাও তাদের ওপর। কিন্তু বেঁধে দেয়া অগ্নিমূল্যের কারণে শিল্পীদের চর্চা অনেকটাই ব্যাহত হয়। তার পরও থমকে যায়নি শিল্পীদের কর্মকাণ্ড। বিশ্বমানের শিল্প সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তারা আমাদের গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত করছেন। এটা অনেক বড় পাওয়া।

সাতকানিয়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদ হোসেন সিকদার সড়ক দুর্ঘনায় নিহত হয়েছে।

সোমবার ভোরে কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর মাদার্শা এলাকায়।

জানা যায়, চট্টগ্রামগামী সৌদিয়া পরিবহণের একটি বাস ঘটনাস্থলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে আমজাদসহ লোহাগাড়ার ৩ জন নিহত হন।

দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, উক্ত সড়ক দূর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে।
এদিকে আমজাদের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমজাদের  এই মৃত্যু সাতকানিয়া আওয়ামী রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার মত সৎ, আদর্শবান নেতৃত্ব এখন বিরল।

আজ বাদে মাগরিব উত্তর মাদার্শা এলাকায় মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে মাইকিং সূত্রে জানা গেছে।


১০০ জোট হতে পারে তাতে আমার কী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় পার্টি। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বিশ্বাস করি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে সারা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ অধিবেশন বসেছে। আমরাও গোটা বিশ্বের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে অবিলম্বে জেরুজালেমকে ইসরাইলের দখলমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।’ রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এসব কথা বলেন। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরশাদ বলেন, ‘আমি ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারি না। তারপরও রংপুরে আমাদের দলের, প্রার্থীর যে অবস্থান, তাতে আমরা জিতব।’ এ সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে কথা বলার সময় এখনও আসেনি। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর এ ব্যাপারে কথা বলব।’ বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং নাগরিক ঐক্য- এ চারটি রাজনৈতিক দল নিয়ে গঠিত ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামের নতুন জোট প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে এরশাদ বলেন, ‘১০০ জোট হতে পারে, তাতে আমার কী?’ রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নিজের ভাতিজা এইচএম আসিফ শাহরিয়ারকে জাতীয় পার্টি থকে বহিষ্কার করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। এরশাদ বলেন, ‘সে আমারই আপন ভাতিজা। তাকে বহিষ্কার করার একটাই কারণ। সে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছে। ভাই হোক ভাতিজা হোক, যেই হোক না কেন, আমার কাছে দল বড়।’ আসিফ এরশাদের ছোটভাই মোজাম্মেল হোসেন লালুর ছেলে।
উল্লেখ্য, রসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই জাতীয় পার্টির রংপুর শাখার সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে দলের মনোনয়ন দেন এরশাদ। তার সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এইচএম আসিফ শাহরিয়ার। এ কারণে জাতীয় পার্টির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পদবি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘৃণ্য ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এ ঘোষণা জাতিসংঘের সিদ্ধান্তেরও পরিপন্থী। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনিদের বিতারিত করে ইসরাইল নামের এ ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইহুদিরা আরবীয় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মম নির্যাতন-অত্যাচার ও দখলদারিত্ব শুরু করেছে এবং এখনও তা চলমান আছে। দিন দিন তাদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলছে।’ জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, এসএম ফয়সল চিশতী, সুনীল শুভ রায়, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, মীর আবদুস সবুর আসুদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম সেন্টু, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, জোটের নেতাদের মধ্যে ইসলামিক ফ্রন্টের নেতা আবদুল মতিন, বিএনএফের সেকান্দার আলী প্রমুখ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এবার পর্বত চূড়ায় কিম জং উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন শনিবার সকালে দেশটির সর্বোচ্চ পর্বত চূড়ায় ওঠেন। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম রোববার এ কথা জানিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ২,৭৪৪ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট পায়েকতু পর্বতে তুষারের স্তরের ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়িয়েছেন তৃতীয় প্রজন্মের এ নেতা। এসময় তার গায়ে ছিল কালো রঙের চিরাচরিত পোশাক ও পায়ে চামড়ার কালো জুতা। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের। উত্তর কোরিয়ার সরকারি পত্রিকা রোদং সিনমুনে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কিম জং উন বরফাবৃত পর্বতের চূড়ায় হাস্যোজ্জ্বল দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মকর্তাও ছিলেন। পাহাড়ের চূড়ায় উঠে তিনি এর কাছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, একটি শিক্ষা স্থাপনা, একটি নতুন হোটেল ও কয়েকটি বিশ্রামস্থল বানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পায়েকতু ২,৭৪৪ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট একটি আগ্নেয় পর্বত। চীন সীমান্তে এর অবস্থান। কোরীয় লোকগাথায় একে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিম পরিবারের বীরত্ব প্রচারেও এটি মূল ভূমিকা পালন করে আসছে। যেমন রাষ্ট্রীয়ভাবে কিম জং উনের বাবা কিম জং ইলের যে জীবনী রয়েছে তাতে বলা আছে, পায়েকতু পর্বতের চূড়ায় তার জন্ম। অনেক ইতিহাসবিদের মতে তার জন্ম রাশিয়ায়। রোদং সিনমুনে জানায়, কিম জং উন প্রায়ই এ পর্বতের চূড়ায় ওঠেন। কিন্তু শীতকালের মাঝামাঝি সময়ে তার এ পর্বতারোহন বিরল। উত্তর কোরিয়া ৩ সেপ্টেম্বর তাদের ষষ্ঠ ও সর্ববৃহত্তম পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালায়। দেশটির এ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রভাবে শনিবার দেশটিতে ভূমিকম্প হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস)। এদিন ক্ষুদ্রমাত্রার দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। ভিয়েনাভিত্তিক কম্প্রেহেনসিভ টেস্ট ব্যান ট্রিইটি অর্গানাইজেশনের নির্বাহী প্রধান লাসিনা জারবো বলেন, ভূমিকম্প দুটি ছিল ২.৯ ও ২.৪ মাত্রার। ইউএসজিএস জানায়, উত্তর কোরিয়ার পুনগিয়ি-রি পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছে ভূমিকম্প দুটি অনুভূত হয়েছে। সেপ্টেম্বরের পরমাণু বোমা পরীক্ষার প্রভাবে এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের কর্মকর্তারা। এদিকে যুদ্ধ ঝুঁকি এড়াতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের দরজা খোলা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। শনিবার জাতিসংঘের বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ায় বিরল সফরকালে দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা জেফরি ফেল্টম্যান। জবাবে উত্তর কোরিয়াও জাতিসংঘের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপনে সম্মত হয়েছে। ফেল্টম্যান বলেন, ‘যুদ্ধ এড়াতে নিয়মিত যোগাযোগ চালুর বিকল্প নেই। সাম্প্রতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক মহলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং এটি শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। সবাই এর শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।’ ৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়া চারদিনের বিরল সফরে ফেল্টম্যান উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ংসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ৬ বছরের মধ্যে বিচ্ছিন্ন থাকা উত্তর কোরিয়ায় জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কোনো নেতার প্রথম সফর এটি। জানা গেছে, সফর শেষে ফেল্টম্যান চীনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে মাইক পেন্সকে প্রত্যাখ্যানের হিড়িক

জেরুজালেম শহরকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রতিবাদে আসন্ন মধ্যপ্রাচ্য সফরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে প্রত্যাখ্যানের হিড়িক পড়েছে। পেন্সের সফরের সময় তার সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নির্ধারিত বৈঠক হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালিকি। শনিবার মিসরের কায়রোতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে ‘ধিক্কারের মধ্যে’ পেন্সের সঙ্গে দেখা করবেন না ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আরব লীগে ট্রাম্পের এ ঘোষণার বিরুদ্ধে খসড়া প্রস্তাব ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান মালিকি। আলজাজিরা জানায়, চলতি মাসে পেন্সের এ সফর হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে ১৯ ডিসেম্বর তার সঙ্গে মাহমুদ আব্বাসের বৈঠক নির্ধারিত ছিল। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আব্বাসের পাশে দাঁড়াতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধা একমত হয়েছেন। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা টেলিফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাবেন। মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মিনা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রতিবাদে পেন্সের মিসর সফরের সময় তার সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন দেশটির কপটিক গির্জার পোপ। এক বিবৃতিতে মিসরের কপটিক গির্জা জানায়, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে লাখ লাখ আরবীয়র অনুভূতি বিবেচনায় নেয়া হয়নি।’ শনিবার গির্জার পোপ দ্বিতীয় তাওয়াদ্রস বলেন, পেন্সের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হচ্ছে না। ২০ ডিসেম্বর পেন্সের কায়রো সফরের কথা রয়েছে। শুক্রবার কায়রোর আল আজহার মসজিদের প্রধান ইমাম শেখ আহমেদ আল তাইয়্যেব বলেন, তিনিও পেন্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না। এই সফরে পেন্স ইসরাইলেও যাবেন।
তিনি ফিলিস্তিনের শহর বেথেলহেমে যাত্রা বিরতি করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ফিলিস্তিনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী সায়েব ইরিকাত বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত বাতিল না করবেন ততক্ষণ ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না।’ এদিকে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করতে যাচ্ছেন মাহমুদ আব্বাস। প্রেসিডেন্ট আব্বাসের প্রধান উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। জেরুজালেমকে স্বীকৃতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার জরুরি বৈঠকে বসেন ফিলিস্তিনের জ্যেষ্ঠ নেতারা। ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক শেষ হবে আগামী সপ্তাহে। এ বৈঠকেই পেন্সের সঙ্গে আব্বাসের বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত এসেছে। দশকের পর দশক ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলে বুধবার ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় গাজা, পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গাজা ও ইসরাইল সীমান্তে অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনি যুবক ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পাথর ছুঁড়েছে। ইসরাইলের পাল্টা গুলিতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। শনিবার ইসরাইলি বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে হামাস। এর আগে শুক্রবার গাজায় ফিলিস্তিনিদের ডাকা ‘ক্ষোভ দিবসে’ ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ২ ফিলিস্তিনি নিহত হন।

আইসিটিই হবে রফতানির সবচেয়ে বড় খাত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, ভবিষ্যতে আইসিটি খাতই দেশের রফতানিতে সবচেয়ে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে আমাদের উৎপাদিত পণ্য ভবিষ্যতে রফতানিতে সব থেকে বড় অবদান রাখবে। কাজেই ছেলেমেয়েদের আমরা সেভাবেই প্রশিক্ষণ দিতে চাই। রোববার যশোরে ‘শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’র উদ্বোধনকালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ আইটি পার্কের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে সকালে ভিডিও কনফারেন্সে দুটি সোলারসহ চারটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন এবং শতভাগ বিদ্যুতায়িত ১০টি উপজেলার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নের ছোঁয়াকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়াই তার সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক জেলায় আমরা একটি করে হাইটেক পার্ক করে দেব। সরকার আশা করছে, ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি খাতের আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে এবং জিডিপিতে সফটওয়্যার ও আইসিটি সেবা খাতের অবদান ৫ শতাংশে উন্নীত হবে। অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন। গণভবনে এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী অনুষ্ঠানে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, মানুষ তখন কম্পিউটার ব্যবহার করতেন না। কেউ কেউ শখ করে কম্পিউটার কিনলেও শোপিসের মতো সাজিয়ে রাখতেন আর ব্যবহার করতেন টাইপরাইটার মেশিন হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকার প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে খেয়াল করেনি। শুধু হাওয়া ভবন খুলে অনিয়ম-দুর্নীতি করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটা সরকার সেখানে ছিল। তিনি বলেন, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। শুধু যশোর নয়, ওই অঞ্চলের ১৩ জেলার তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হল। এতে মেধা ও জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতির চাকা সচল হবে। প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে তারা কেউ আর ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করতে পারবে না। কারণ তখন বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বিদ্যুৎ চলে গেলে আমাদের প্রতিপক্ষ (বিএনপি) বলে উঠত, ওই তো ডিজিটাল বিদ্যুৎ গেল। এখন আর কেউ ঠাট্টা-তামাশা করে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে সরকারে আসার পর আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যেসব পদক্ষেপ নিই, সেসবেরই একটা অংশ আজকের আইটি পার্ক। আর কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কও তৈরি হচ্ছে, সেটার কাজও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আজ এ টেকনোলজি পার্ক যশোরে করা হয়েছে। আমি মনে করি, আমাদের বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকাকে উন্নয়নের জন্য সুনির্দিষ্ট করেই আমাদের কাজ করা উচিত। সেটাই আমরা করে যাচ্ছি।
যশোরে অনুষ্ঠান : যুগান্তরের যশোর ব্যুরো জানায়, যশোরে আইটি পার্কের উদ্বোধন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন। ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা খাতুন, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী নাজিফা তাসনিম শেফা, যশোর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র ধীমান আল হামি, আইটি প্রফেশনাল অনএয়ার ইন্টারন্যাশনাল সিইও শাহীন আজাদ ও আমরা নেটওয়ার্কের এমডি সৈয়দ ফরহাদ আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ আসনের এমপি মনিরুল ইসলাম, যশোর-৩ আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪ আসনের এমপি রণজিৎ কুমার রায়, যশোর-৫ আসনের এমপি স্বপন ভট্টাচার্য, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি প্রফেসর আনোয়ার হোসেন, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। ৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন ও শতভাগ বিদ্যুতায়িত ১০ উপজেলা : রোবাবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চারটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন এবং ১০টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ায় তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যতীত কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘একটি দেশের উন্নয়নে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। আমরা দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী। কাজেই আমাদের লক্ষ্য শুধু শহরেই নয়, তৃণমূলের গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সেবা পৌঁছে দেয়া।’ চারটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে- শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকল পাওয়ার প্লান্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, শাল্লা ৪০০ কিলোওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্ট এবং সরিষাবাড়ি ৩ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্ট। শতভাগ বিদ্যুতায়িত ১০ উপজেলা হচ্ছে- ফরিদপুর সদর, রাজৈর, নওগাঁ সদর, কামারখন্দ, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, শালিখা, মেহেরপুর সদর, মদন ও বেলাবো। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, দেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ক্যাপটিভ জেনারেশনসহ ১৬ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেমন সোলার পাওয়ার প্লান্ট করছি, তেমনি পরমাণু ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রও করছি। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি আবার ভারত থেকেও বিদ্যুৎ কিনে নিয়ে আসছি। তিনি বলেন, ১৬শ’ মেগাওয়াট নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে ক্যাপটিভ জেনারেশনসহ ১৬ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়ত-বিএনপি সরকার বিদ্যুৎ রেখে গিয়েছিল ১৬শ’ মেগাওয়াট আর আমরা দিচ্ছি ১৬ হাজার মেগাওয়াট। আশা করি, বাংলাদেশের জনগণ এটা একটু ভালোভাবে মনে রাখবেন। প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নসরুল হামিদ বিপু গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম, ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ এইচএম মুতাইরি, কুয়েতের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল হায়াৎ এবং সৌদি এক্সপোর্টের প্রোগ্রাম ও সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তারা এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, এ ১০টিসহ এ পর্যন্ত ৩৬টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা হয়েছে।

দিলীপ কুমারকে স্ত্রীর বিশেষ উপহার

xভারতীয় চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনেতা দিলীপ কুমারের জন্মদিন আজ (১১ ডিসেম্বর)। ৯৫ বছরে পা রেখেছেন তিনি। এই জন্মদিনকে বিশেষভাবে উদযাপন করবেন দিলীপ কুমারের স্ত্রী সায়রা বানু।

দিলীপ কুমারের অফিসিয়াল টুইটারে সায়রা লিখেছেন, দিলীপের ভাই, বোন, আত্মীয় ও কয়েকজন বন্ধুকে পার্টিতে ডেকেছেন তিনি।

সায়রা আরো লিখেছেন, এই অভিনেতার জন্মদিনে প্রতি বছর ফুলে ফুলে সেজে ওঠে তাদের বাড়ি। আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব- সবার জন্য সেদিন তাদের দরজা খোলা থাকে। যাতে তারা এসে দিলীপের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন।

এবারের জন্মদিনে একটু কড়াকড়ি থাকবে উল্লেখ করে সায়রা বলেন, কিন্তু আজ একটু কড়াকড়ি থাকবে, কারণ দিলীপ অসুস্থ। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার সংক্রমণ যাতে না হয়।

গত মাসে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন দিলীপ, তবে এখন ভালো আছেন।

প্রতিবারের মতোই এবারের জন্মদিনেও স্বামীর জন্য বিশেষ রান্না করবেন তিনি। সায়রা বানু বলেন, দিলীপ যেসব খাবার পছন্দ করে সেগুলো রান্না করা হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই খাবারের মেন্যু সাজাবো।

জন্মদিনে দিলীপ কুমারের জন্য নতুন পোশাক কিনেছেন সায়রা বানু। কী পোশাক কিনেছেন জানতে চাইলে ভারতীয় গণমাধ্যমকে সায়রা বানু বলেন, দিলীপ সাদামাটা থাকতেই পছন্দ করে। তার জন্য খুবই কম দামি, কিন্তু ওর প্রিয় রঙের পোশাক কিনেছি।

ঘুমের ঘোরে আর গন্তব্য পেরোতে দেবে না গুগল ম্যাপ

গুগল ম্যাপ। এ অ্যাপটি এখন থেকে ট্রেন বা বাসে আপনার ভ্রমণকে আরো সহজ করে দেবে। খবর ইএনগ্যাজেট, টেকক্রাঞ্চ।

টেকক্রাঞ্চ’র একটি রিপোর্ট জানিয়েছে, কোনো গণপরিবহনে ওঠা থেকে নামা পর্যন্ত সবগুলো ধাপে আপনাকে নির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করবে গুগল ম্যাপ।

বাস বা ট্রেন থেকে আপনি যেখানে নামবেন সে জায়গায় পৌঁছে গেলে আপনাকে সতর্ক করে দেবে অ্যাপটি। এর ফলে আপনি যদি বাসে বা ট্রেনে উঠে ঘুমিয়ে পড়েন তাহলে আপনার গন্তব্য স্টেশনটি আর মিস করবেন না।

আপনি কোনো জায়গায় কিভাবে যাবেন তা গুগল ম্যাপে খুঁজলে স্ক্রিনের নিচের দিকে একটি ‘স্টার্ট’ বাটন দেখাবে। বাটনটি ক্লিক করলে আপনি গন্তব্যের এগিয়ে যাওয়ার সময় পথের কোথায় আছেন তা দেখিয়ে দেবে গুগল ম্যাপ।

গাড়ির পরিবর্তে হেঁটে গেলেও আপনি একই পদ্ধতিতে আপনার অবস্থান নিশ্চিত হতে পারবেন। আপনি ফোন লক করে দিলেও অ্যাপটি ফোনের স্ক্রিনে আপনার বর্তমান অবস্থান দেখাবে এবং গন্তব্যে পৌঁছে গেলে নোটিফিকেশন দিয়ে জানিয়ে দেবে।

চেনা রাস্তায় এই ফিচারটি কোনো কাজে না আসলেও, অচেনা কোন শহরে বা এলাকায় গেলে এটি ভীষণ দরকার পড়বে।

উল্লেখ্য, ট্রানজিট নামের একটি অ্যাপ এখন একই রকম কাজ করে। তবে গুগল ম্যাপ এটি চালু করায় এখন আর আপনাকে আলাদা করে কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না এ কাজে।

ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং চালু

দেশের মোবাইল ব্যাংকিং প্রসারে এবার এগিয়ে এসেছে সরকারের ডাক বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ডাক টাকা নামের মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন।

সোমবার দুপুরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এই ডাক টাকার উদ্বোধন হয়।

এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমসহ ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বনিম্ন দুই টাকা স্থিতি রেখে এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবা  পরিচালনা করা যাবে। 

ডাক টাকার উদ্বোধন শেষে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশের গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের জীবনমান উন্নয়নে দেশের প্রতিটি ডাক ঘরে ব্যাংকিং সিস্টেম চালু করা হলো।

এই ডাক টাকা ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজ, দ্রুত ও বৈধ পথে টাকা সংগ্রহ এবং লেনদেন করতে পারবেন। 

অনুষ্ঠানে তারানা হালিম বলেন, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আনতে ডাক টাকা চালু করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ডাক বিভাগ সম্পূর্ণ ডিজিটাল হবে।

গাজীপুরে ট্রেনের ধাক্কায় যুবকের মৃত্যু

ঢাকা-জয়দেবপুর রেলরুটের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ধীরাশ্রম এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত পরিচয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাতে রেলওয়ে পুলিশ মর‌দেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। তার পরনে নীল গেঞ্জি ও কালো রংয়ের প্যান্ট রয়েছে। টঙ্গী জংশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. আরব আলী স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ধীরাশ্রমের আক্কাস মার্কেট এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মর‌দেহ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আজ

আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আজ (সোমবার)। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘পার্বত্য অঞ্চলের ঝুঁকি, জলবায়ু, ক্ষুধা, অভিবাসন’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন।

পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যতকে সামনে রেখে জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ১১ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিবসটি পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে গেলো ৭ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ৫ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়।

পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবন-সংস্কৃতি, পোশাক পরিচ্ছদ ইতিহাস ঐতিহ্য বিষয়ক তথ্যাদি সমতলের মানুষের মাঝে পরিচয় করিয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণী বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ও মানুষের অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে বিশ্বব্যাপী পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, খরা, ঝড়ঝঞ্ঝা অন্যদিকে বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে বন উজাড়; দুইয়ের প্রভাবে পার্বত্য অধিবাসীদের জীবনজীবিকা আজ হুমকির মুখে।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস পালনের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। পার্বত্য মানুষের টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনের মৌলিক উপাদানসমূহ নিশ্চিত হবে।

সংকেত উঠল, তবে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি থাকবে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে শনিবার থেকে সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছিল। সোমবার সকাল ১০টা থেকে এই সতর্ক সংকেত তুলে নিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে আজও আকাশ মেঘলা থাকবে। সেই সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন সোমবার সকালে এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘সোমবার সকাল ১০টার পর থেকে সমুদ্র বন্দরগুলোর সতর্ক সংকেত আর থাকছে না। আজও আকাশে মেঘ থাকবে। হালকা বৃষ্টি হতে পারে।’

শীত বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সম্ভাবনা যখন একেবারে কেটে যাবে, আকাশে কোনো মেঘ থাকবে না। তখন রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমা শুরু হবে এবং শীতের প্রকোপ বাড়বে।’

প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে শনিবার ভোর থেকে সারাদেশে বৃষ্টি শুরু হয়। আর এই বৃষ্টি সোমবার গভীর রাত পযর্ন্ত অব্যাহত ছিল।

নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না প্রধান বিরোধী দল!

ভেনেজুয়েলার ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দলসহ তিনটি দল অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। খবর বিবিসির। মেয়র নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় দল তিনটির ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রোববার ভেনেজুয়েলার ৩০০টির বেশি নগরীতে মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি দেশটির শক্তিশালী তিনটি বিরোধী দল। বিসিসির খবরে বলা হয়েছে, গত অক্টোবরে জাস্টিস ফার্স্ট, পপুলার উইল ও ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন পার্টি ডিসেম্বরের মেয়র নির্বাচন বয়কট ঘোষণা করেছিল। আর এ কারণেই তারা রোববারের নির্বাচনে অংশ নেয়নি। মেয়র নির্বাচনে ভোট গ্রহণের পর দেয়া এক বক্তৃতায় মাদুরো বলেছেন, আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশ নিতে পারবে না। তবে যেসব দল মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তারা পরের বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে বিরোধী দল হারিয়ে গেছে। যে দল আজকের নির্বাচনে অংশ নেয়নি, নির্বাচন বয়কট করেছে, তারা আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তবে মেয়র নির্বাচনে অংশ না নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সরকারের নির্বাচন পদ্ধতি নিরপেক্ষ নয়। তা ছাড়া মাদুরো একনায়কতন্ত্র কায়েম করছেন।

ফিলিস্তিনে পুড়ছে সৌদি রাজতন্ত্র!

জেরুজালেম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন দেয়ার প্রতিবাদে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার অধিবাসীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সৌদি বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ছবিতে আগুন দিয়েছে।

রোববার গাজাবাসী এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে এভাবেই তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। খবর পার্সটুডের।

ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে গাজা শহরে এ বিক্ষোভের ডাক দেয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী পপুলার ফ্রন্ট।

মুসলমানদের প্রথম কেবলাসমৃদ্ধ শহর জেরুজালেমের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে হাজার হাজার গাজাবাসী বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকারীরা মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতিতে আগুন দেয়। বিক্ষোভকারী সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের ছবিতেও আগুন জ্বালায়।

ইসরায়েল গোটা জেরুজালেম শহরকে নিজেদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে তাদের সম্ভাব্য রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দেখতে চায়।

গাজা উপত্যকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে পপুলার ফ্রন্টের শীর্ষস্থানীয় নেতা জামিল মাজহার বলেন, আল কুদস হচ্ছে ফিলিস্তিনের চিরন্তন রাজধানী। এই নগরীর এক ইঞ্চি ভূমিও ইসরায়েলকে দেয়া হবে না।

এসময় বিক্ষোভকারীরা ‘সৌদি রাজতন্ত্র ধ্বংস হোক’লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে।