Monday, November 26, 2018

পর্যবেক্ষক নয়, বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়নে ইইউ by মিজানুর রহমান

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে ব্রাসেলস বাংলাদেশের ভোট পূর্ব ও উত্তর পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। ভোটের আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন? তা সরজমিন পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নে প্রায় দেড় মাসের অফিসিয়াল সফরে কাল আসছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দুই সদস্যের নির্বাচন বিশেষজ্ঞ দল। ইইউ’র ভোট বিশেষজ্ঞ দলটি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবে জানিয়ে দায়িত্বশীল একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সূচনাতে খানিক আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া সফরের পুরো সময়ই বিশেষজ্ঞরা নীরবে তাদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন চালিয়ে যাবেন।
তারা সরকার, নির্বাচন কমিশন, আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে বৈঠকাদি ছাড়াও স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলবেন। এ নিয়ে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। তবে ওই দুই বিশেষজ্ঞই ইইউ’র সদর দপ্তরে প্রতিনিধি হিসাবে ভোট পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকবেন। এখানে তারা ‘নিঃশব্দে’ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে দূতাবাসের পাশাপাশি তারাও ব্রাসেলসে রিপোর্ট পাঠাবেন। বিশেষজ্ঞ দলের সফরটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ওপরে কিছুটা হলেও প্রভাব রাখবে। সরকারের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, বিশেষজ্ঞরা জাতীয় নির্বাচনে কোনো নাক গলাবেন না এবং তারা জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করা থেকেও বিরত থাকবেন বলে আমাদের জানানো হয়েছে।
প্রয়োজন হলে তাদের রিপোর্ট বিষয়ে ব্রাসেলসের মুখপাত্র কথা বলবেন। বিশেষজ্ঞ দলের বাংলাদেশ সফরের শুরুতে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা এবং প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া, পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মাদ জাভেদ পাটোয়ারী, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এবং বিভিন্ন দলের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ভোট পরিস্থিতি নিয়ে ইইউ সতর্ক পর্যবেক্ষণ থাকে বরাবরই। নির্বাচন কমিশনসহ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণে তারা অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে থাকে। ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি বহুল আলোচিত নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠায়নি ইইউ। তারা আগাম ঘোষণা দিয়েই প্রশ্নবিদ্ধ ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তবে তার আগের নির্বাচনে (২০০৮ সালে) প্রায় ৮০০ পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে নির্বাচনটি সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছিল ইইউ।

স্বামীর হাতে ধর্ষণ: বাংলাদেশে এক নারীর অভিজ্ঞতা

বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণকে জাতিসংঘ ভয়াবহ ধরনের পারিবারিক সহিংসতা বলে মনে করে। কিন্তু বাংলাদেশের সমাজের এ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?
বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন এমন নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, স্বামী দ্বারাও যে ধর্ষণ সম্ভব সেটি সামাজিকভাবেও একটি অদ্ভুত ধারনা বলে বিবেচিত হয়। তাছাড়া, বাংলাদেশের কোন আইনেই বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণ বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত নয়।
নিজেদের অধিকার নিয়ে দিন দিন সরব হচ্ছেন বাংলাদেশের নারীরা। কিন্তু স্বামীর হাতে ধর্ষণের ইস্যুটি এখনও কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে সমাজে?
স্বামীর কাছে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন এক নারী বিবিসির কাছে তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে রাজী হন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে। ফলে, এই নারীর প্রকৃত নাম-পরিচয় তার অনুরোধে আমরা গোপন রাখছি।
বেশ লম্বা সময় প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন (ছদ্মনাম)। তবে মাত্র মাসখানেকের মতো টিকেছিল ভালবাসার মানুষকে পাওয়ার সেই আনন্দ।
খুব শীঘ্রই নাসরিনের মোহ কেটে গেলো যখন বুঝতে পারলেন স্বামী তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক চান। আর তাতে সায় না দিলেই জুটত ভয়াবহ নির্যাতন।
"যখন তার ইচ্ছে হতো তখনই আমি বিছানায় যেতে বাধ্য হতাম।
ঘরে আমার মা থাকতো, ছোট একটা ভাই থাকতো। না বললে সে প্রচণ্ড মারধোর করতো। সে আমার অসুস্থতাও মানত না। আমার যখন পিরিয়ড হতো তখন আমি একটু হাফ ছেড়ে বাঁচতাম। ভাবতাম হয়ত কয়েকটা দিন আমি টর্চারের হাত থেকে বেঁচে যাবো।"
দৈহিক ও মানসিকভাবে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন নাসরিন। তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে দেড় বছরের মাথায় বিচ্ছেদের এটিই ছিল মূল কারণ।
উচ্চশিক্ষিত এবং প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত এই নারী বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ বলে মনে করেন।
নারীরাএ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নয়
কিন্তু বিবিসির সাথে আলাপকালে আরও কজন এই ধারণাটিই বুঝতেই পারলেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, "যদি আমি না করি, তবুও ও (স্বামী) আমাকে সব কিছু করতে পারবে।"
কিন্তু সেই আচরণ কি সঠিক? এই প্রশ্নে ঐ নারী প্রথমে বললেন - "না, ঠিক নয়।"। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বললেন, "মানুষে বলে স্বামীতো এরকম করতেই পারে।"
বৈবাহিক সম্পর্ক থাকাকালীন স্বামীর হাতে ধর্ষণ- বিষয়টি বেশিরভাগের মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী মানুষও খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর।
অধিকার বিষয়ক সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নীনা গোস্বামী বলেন, তাদের কাছে এ বিষয় নিয়ে কোনো নারী অভিযোগ করেন না।
"আমাদের কাছে যারা আসেন তারা সুনির্দিষ্টভাবে এমন অভিযোগ করেন না। কিন্তু পারিবারিক সহিংসতা বা মারধোরের অভিযোগ নিয়ে কথা বলার সময় তারা ম্যারিটাল রেপের কথাও বলেন। তাদের সাথে কথা বলার পর কিন্তু ভয়াবহতাটা ধীরে ধীরে বের হয়।"
বাংলাদেশের আইন কী বলে
নীনা গোস্বামী বলছেন, বাংলাদেশের কোন আইনেই বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণ বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত নয়।
"বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ইচ্ছের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সও যে রেপ, ম্যারিটাল রেপ বলতে যা বোঝায় - সেটার কোন সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা নেই এবং সেখানে কোন শাস্তির ব্যবস্থা নেই। ফলে আমরা তার প্রতিকারও দিতে পারিনা।"
বাংলাদেশে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন যাবত বিষয়টিকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে স্বীকৃতির জন্যে আন্দোলন করেছে।
বাংলাদেশে সরকারি হিসেবেই ৪৭ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হয়। অপরিপক্ব শরীরে তাদেরও একই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
নীনা গোস্বামী বলছেন, "এটা নিয়ে সরকার যেমন আগ্রহ দেখায়নি তেমনি শুধু সরকারকে দোষ দিলে হবে না, এটা নিয়ে যখন পাবলিক ডিসকাশন হয়েছে সেখান থেকেও খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায়নি।"
সুত্রঃবিবিসি

সিইসিকে সরিয়ে দেয়ার দাবি ড. কামালের

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে সরিয়ে একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, আমরা আগেও সিইসির প্রতি অনাস্থা জানিয়েছি। আমরা তার সঙ্গে কথা বলেও সন্তুষ্ট নই। এজন্য আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (রিপ্লেস) পরিবর্তন চাই। আমাদের দাবি হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিবর্তে একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে দায়িত্ব দেয়া উচিত।
তিনি একজন বয়স্ক মানুষ ও সিনিয়র অফিসার। আমি আগেও বলেছি আপনার ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) আমসাআ আমিন ও একুশে টিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম গণফোরামে যোগ দেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলে নতুন যোগদানকারীদের স্বাগত জানান গণফোরাম সভাপতি।
ড. কামাল আরো বলেন, আপনার (সিইসি) কাজের মধ্য দিয়ে আমাদের মত পরিবর্তনও করতে পারি। যদি দেখি, আগে যাই করছেন, আজকে থেকে আপনি নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা রাখেন। গ্রেপ্তার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কামাল বলেন, কোন লোককে ধরানোর ব্যাপারে আপনি আদেশ দিচ্ছেন, ভেঙে বলুন, তথ্য সহকারে বলুন। যাতে আমরা এটা যাচাই করে দেখতে পারি যে আপনি যুক্তিসঙ্গত কারণে ধরাচ্ছেন, নাকি সরকারের একজন সহায়ক হিসেবে করছেন। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, যেভাবে ধরপাকড় ও অন্তরীণ করা হচ্ছে, তা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়ক নয়। আমরা বলতে চাই, পাইকারি হারে গ্রেপ্তার বন্ধ করা দরকার। বিএনপি নেতা, কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে আদালতে হাজিরের আলোকচিত্র সাংবাদিকদের দেখান ড. কামাল। পুলিশকে রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিসেবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কামাল হোসেন বলেন, গণগ্রেপ্তার হচ্ছে। জেলখানা কীভাবে ভর্তি হয়ে গেছে, আমরা পরিসংখ্যান দেব। সেখানে লোক রাখারও সুযোগ নেই। এটা তো সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হতে পারে না। সরকারি দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন প্রটোকলসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কিন্তু বিরোধী দলের প্রার্থীদের প্রচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই বলে তিনি মনে করেন। ইভিএম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটা বাতিল হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গণভবন, মন্ত্রীদের বাসভবন ও সরকারি অফিস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন ১৪(১), ১৪(২) হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে দেশে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের পুরোপুরি কর্তৃত্বের মধ্যে থাকলেও আজ-অবধি তা দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইনবহির্ভূতভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী বিরোধী পক্ষের ওপর হাজার হাজার হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তার বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে। এমনকি নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবে তাদেরকেও উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মামলা দেয়া হচ্ছে। উক্ত ব্যক্তিরা যাতে অল্প সময়ে জামিন পেতে না পারে, বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, সরকারি দলের প্রার্থী ও মন্ত্রীরা দাপটের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার ও ভোটারদের কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন তাদের প্রটোকলসহ সার্বিক সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের প্রার্থীদের যার যার নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এমনকি প্রার্থীদের এলাকায় নিজ বাড়িতে কর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক ও মতবিনিময়ের ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করছে। সভার উপরে বিধি নিষেধ দিচ্ছে। নেতাকর্মীদের সভা থেকে গ্রেপ্তর করা হচ্ছে।
গণফোরামে যোগদানের পর অনুষ্ঠানে ২০০১ সালের নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী আমিন বলেন, আমি আওয়ামী লীগে ছিলাম, জেলা পরিষদেও দায়িত্ব পালন করেছি। একটা পর্যায়ে আমি সরে আসতে বাধ্য হই, সরে এসেছি। আমি মনে করি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে প্লাটফরম দাঁড়িয়েছে, এই প্লাটফরমের মাধ্যমে আমি কাজ করতে পারবো। এই নেতৃত্বের জন্য আমি গর্বিত। ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের প্রতি আমি গর্বিত। আমার ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক অনেক পুরনো। আমি যখন অক্সফোর্ডে পড়াশুনা করতাম, তখন উনি সেখানে অধ্যাপনা করতেন। এখনই সময় সবাইকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দেশের ভবিষ্যৎ, কী রকম বাংলাদেশ চাই, সেই ধরনের বাংলাদেশের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের সাড়ে ৯ বছরে দেশে আইনের শাসন ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেন রেজা। সালাম বলেন, ২০১৫ সালের ২৫শে নভেম্বরে ইটিভি দখল হয়েছে। আজকে সেদিনটি। আমি আড়াই বছর যাবৎ জেলে ছিলাম। সত্যের জন্য এবং এই মিডিয়ার জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে আমার এই অবস্থা। আমি মনে করি, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পরিবর্তন হবে। এখন যে দুঃসহ অবস্থা, এর পরিবর্তন হবে। আমরা একটা সুন্দর দিন পাব।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোকাব্বির খান, ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

৩ হাজার বছর আগের অক্ষত মমি উদ্ধার মিশরে

মিশরে তিন হাজারেরও বেশি বয়সী একটি মমি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একজন নারীর মৃতদেহকে মমি করে রাখা হয়েছিল। তা একটি কফিনের ভিতর পাওয়া গেছে। শুরুতে যেমনভাবে রাখা হয়েছিল, এখনও ঠিক সেইভাবেই আছে তা। নিল নদের তীরে লুক্সোরে আল আসাসেফ এলাকায় দুটি মমি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ওই নারীর মমি রয়েছে। প্রাচীনকালে যে পদ্ধতিতে মমি সংরক্ষণ করতেন মিশরীয়রা তাকে বলা হয় সারকোফ্যাগাস। এমন একটি সারকোফ্যাগাস শনিবার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সামনে উন্মুক্ত করে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে একটি সারকোফ্যাগাস সপ্তদশ শতাব্দীর। অন্যটি অষ্টাদশ শতাব্দীর। মিশরের প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক মন্ত্রী খালেদ আল আনানি বলেছেন, এ মমিগুলো যে সমাধিক্ষেত্রে পাওয়া গেছে তার বাইরে এমন চিহ্ন দেয়া ছিল যে, ভিতরে মমি রাখা আছে। মার্চে এ সমাধিক্ষেত্রের খনন কাজ শুরু করেন ফরাসি গবেষকরা। পরে মে মাসে এসে আবার বন্ধ করে দেন কাজ। আবার আগস্টে শুরু করেন খনন। এরপরই উদ্ধার হয় ওই দুটি মমি। এ সময় তারা ৫টি রঙিন মুখোশও উদ্ধার করেন।

মাঠের পর মাঠ সবুজ by ইমাদ উদ দীন

সবজির গ্রাম নাদামপুর। এমন উপাধি কৃষি বিভাগের। ভালো সবজি চাষে তাদের এমন পরিচিতি। গ্রামজুড়ে মাঠের পর মাঠ চোখে পড়ে সবজির রাজত্ব। বছর জুড়ে সবজি চাষে মগ্ন থাকেন ওই এলাকার কৃষক। চাষীদের এমন একাগ্রতায় সফলতাও আসছে। এরই সঙ্গে বদলাচ্ছে তাদের ভাগ্য ও পরিচিতি। তাদের এমন সফলতায় সবজি চাষে উজ্জীবিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাদামপুর গ্রামে গেলে চোখে পড়ে মাঠের পর মাঠ সবুজের সমারোহ আর সবজির রাজত্ব। ক্ষেতের মাঠে ব্যস্ত কৃষক। সবজির পরিচর্যায় রাত-দিন তাদের শক্ত খাটুনি। তারপরও তারা মহাখুশি কারণ তাদের এই পরিশ্রম কাজে আসছে। সফলতাও মিলছে। কথা হয় নাদাম পুরের বিশিষ্ট বীজ ব্যবসায়ী ও সফল চাষি সুহেল আহমদের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে জানান, ২০০১ সাল থেকে সবজি ও ধান চাষ শুরু করেন। মূলত সবজি চাষেই ফিরে তার আর্থিক সচ্ছলতা। এই আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খুলেছেন। এখন ব্যাপক হারে সবজি চাষের জন্য নাদামপুর সবজি গ্রাম হিসেবেও আলাদা পরিচিতি পাচ্ছে। আর বছরজুড়ে সবজি চাষে বেকারত্বও ঘুচাচ্ছে যুব ও তরুণ সমাজের। সরজমিন নাদামপুর ঘুরে দেখা গেল চাষিরা পরম মমতায় সবজি ক্ষেতের যত্ন নিচ্ছেন। তাদের এই পরিচর্যায় যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রয়েছে নানা নতুনত্ব। সুহেল আহমদ তার সবজি ক্ষেত অতি বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে শেড তৈরি করেছেন। এখন বৃষ্টি না থাকায় শেডের উপর অংশ খুলে রাখা হয়েছে। তার এ টমেটো চাষসহ অন্যান্য সবজি চাষ দেখে এলাকার নাদামপুর, দাউদপুর. হামরকোনা, মোবারকপুর, বাহাদুরপুর, বাদে ফতেপুর, শ্রীধরপুর, করিমপুর, ফতেপুর, মোজেফরাবাদ, হলিমপুর সহ মোট ১১ গ্রামের অসংখ্য মানুষ সবজি চাষ করছেন। কম পরিশ্রম ও অল্প পুঁজিতে অধিক আয়ের উৎস সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় টমেটো চাষের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম ও তরমুজ চাষ করে কয়েক গ্রামের মানুষ এখন স্বাবলম্বী। পাশাপাশি এলাকায় কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। সুহেল আহমদ জানান ২৮ কিয়ার (বিঘা) জমিতে সবজি চাষ করেছেন টমেটো-১৩ কেয়ার, বারি-৪, বারি-৮, রাজা, সফল ও সোনালী জাতের টমেটো। এর মধ্যে বারি-৪ ও বারি-৮ দেশীয় জাতের টমেটোর ফলন ভাল হয়। এ দুটি জাত গ্রাফটিং পদ্ধতিতে করে থাকেন। রোগবালাই কম ও ফসল বেশি হওয়ায় গ্রাফটিং পদ্ধতির চারা কিনে জমিতে লাগান। শ্রাবণ মাস থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু করেন জমিতে চারা লাগানোর কাজ। গত বছরও ১৩ কেয়ার (বিঘা) জমিতে টমেটো চাষ করেন সুহেল। প্রতি কেয়ারে ফলন হয়েছে ১৫ টন। সব মিলিয়ে ১৯৫ টন টমেটো বিক্রি করে প্রায় ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা পান। এতে খরচ হয়েছে ১২ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। চারা লাগানোর ৮০-৯০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করে বাজারজাত করা যায়। পারপল কিং জাতের বেগুন ৭ বিঘা জমিতে চাষ করছেন গত বছর। এ বছর চারা লাগানো হয়েছে। ফলন ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে সংগ্রহ করে বিক্রি করতে পারবেন। গত বছরর ১৭৫ টন বেগুন বিক্রি করে ১৪ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। আরলি সুইট জাতের মিষ্টি কুমড়া ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ৪২ টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি ১০ টাকা করে বিক্রি করে ৪ লক্ষ ২০ টাকা পান। খরছ হয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা। তিনি জানান মিষ্টি কুমড়া চাষে তেমন পরিচর্চা লাগেনা। এ ছাড়াও মিষ্টি কুমড়া সংরক্ষণ করে রাখা যায় ৬-৭ মাস পর্যন্ত। চলতি মৌসুমেও মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে গত বছরের চেয়ে বেশী টাকা আয় করতে পারবেন এমনটি জানান সুহেল আহমদ। গেন্ডরী জাম্বু তরমুজ জাতের চাষ করেন ১ বিঘা জমিতে। সব খরচের পর ১০ টন তরমুজ বিক্রি করে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। সুহেল আহমদ তার সবজি চাষ করতে বছরের ৮ মাস ৮-১০ জন শ্রমিক স্থায়ী এবং অস্থায়ী আরো ৭-৮ জন কাজ করেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শে সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় শেরপুর এলাকায় কৃষি সরাঞ্জাম ও সার, কিটনাশক, বীজ বিক্রির প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি সবজির পাশাপাশি নিচু জমিতে ধান চাষ করছেন। সবজি ও ধান চাষে সফল হওয়ায় সুহেল আহমদ এখন চাষীদের অনুকরণীয় দৃষ্ঠান্ত। নাদামপুর গ্রামের আজিজ মিয়া বলেন ৭-৮ বছর আগেও তিনি অন্যের জমিতে দিনমজুরি কাজ করতেন। এর ফাঁকে গাড়ি চালাতেন। সুহেল আহমদের সবজি চাষ দেখে সবজি ক্ষেত শুরু করেন। এখন বছর জুড়ে টমেটো, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে ভালোই চলছে তার সংসার। তিনি বলেন তার মতো আরও অনেকেই আছে যারা আগে অন্যের জমিতে কাজ করত অথবা বেকার থাকত। এখন তারা তার মতো নিজের জমিতে সবজি চাষের আয় দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ ও সংসার চালাচ্ছেন। একই কথা জানালে ওই এলাকার কৃষক জনি আহমদ। তিনিও ৮-১০ বছর যাবৎ টমেটো, লাউ, বেগুন ও মরিচ চাষ করে পরিবার চালাচ্ছেন। মৌলভীবাজার কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহাজাহান জানান বছরে একাধিক সময় সুহেল আহমদের সবজি চাষ পর্যবেক্ষণে যান তিনি ও তার দল। এ বছর তার ক্ষেতে ভালো টমেটো ধরেছে। কুশিয়ারা নদীর পাশেই সবজি চাষের অধিকাংশ জমি। নদী পাড়ের মাটি সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় সবজিও ভালো মানের হয়। এখানে সেচ ও সার কম লাগে। ওই এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক কৃষক ভালো সবজি উৎপাদনের কারনে আমরা নাদামপুরকে ‘সবজি গ্রাম’ নাম দিয়েছি।

নখগুলো তার ‘সন্তান’

নিজের সন্তানের মতো হাতের নখ লালন পালন করেন রাশিয়ান যুবতী ইলেনা শিলেনকোভা (৩৫)। চার বছরে তার সেই নখ বেড়ে এখন ১২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়েছে। আর সেই সুবাদেই তিনি এখন রাশিয়ায় সবচেয়ে দীর্ঘ নখের অধিকারী হিসেবে রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। একটি বাজি জিততে তিনি এমন সাধনা করে এসেছেন চার বছর ধরে। একবার এক বন্ধু তার সঙ্গে বাজি ধরেছিলেন। বলেছিলেন, ইলেনা তার নখ এত বড় করতে পারবেন না। কিন্তু সেই বাজিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন ইলেনা। সে জন্য তিনি সমুদ্রে সাঁতার কাটতে যান না। টেনিস খেলেন না। রাশিয়ায় হিমাঙ্কে তাপমাত্রা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরেন নি কোন গ্লোভস। এর কারণ, তার নখকে রক্ষা করা। ইলেনা বলেন, আমার কখনো এত বড় নখ ছিল না। চার বছর তিন মাসে আমি সন্তানের মতো লালন পালন করেছি এদের। আমি নখগুলোকে আমার সন্তান হিসেবে ডাকি। আমার এসব সন্তানের বয়স চার বছর। তাদের যত্ন নিতে হয়। যেমনটা একটি সন্তানের যত্ন নিতে হয়, তেমনি এদের যত্ন নিই। রাশিয়ার সেইন্ট পিটারর্সবুগে বাড়ি ইলেনার। তিনি বলেন, এসব সন্তানকে নিয়ে নিত্যদিনের কাজ করতে গিয়ে তিনি কোনো জটিলতার মুখোমুখি হন না। তবে এত বড় নখের জন্য তাকে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে হয়। যেমন তিনি সমুদ্রে সাঁতার কাটতে যান না।

ওদের সুখ নিদ্রা

ওরা ভাসমান। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন রাজধানী ঢাকায়। ওদের ভবিষ্যৎ গাঢ় অন্ধকার। ফেলে আসা দিনগুলো আর মনে করতে চান না। তারপরও জীবন চালিয়ে নিত হবে। দিন পার করতে হবে। হউক না সেটা ফুটপাতে কিংবা কোন ঝুপড়ি ঘরে। সারাদিন এখানে সেখানে দিনমজুরি কিংবা ঝি-এর কাজ করে রাতে এসে সড়কের পাশের ফুটপাতে আশ্রয় নেয়।
সন্তান, সংসার সবই তাদের এখানে। সারাদিনের পরিশ্রমের শরীর। মাথার নিচে ইটের টুকরা কিংবা কিছু একটা দিয়ে হেলান দিয়েই গভীর নিদ্রায় আচ্ছন্ন তারা। সড়ক দিয়ে শত শত গাড়ির শব্দ কিংবা হর্ণ তাদেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না। ভাসমান মানুষের সখু নিদ্রার এ ছবি তুলেছেন আমাদের আলোকচিত্রি জীবন আহমেদ।

আকাশরা আসলে এমনই হয় by জীবন আহমেদ

আকাশ। বয়স আর কত হবে? আট কি দশ। সংসার কি? এটা বোঝার বয়স তার হয়নি। বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত। বিছানায় দিন কাটে তার। মা ঝি-এর কাজ করে যা পায় তা দিয়ে সংসার চালাবে, না স্বামীর ওষুধ কিনবে? তাইতো আকাশ বেছে নেয় বিশাল আকাশের নিচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণগ্রন্থাগারের পাশের ফুটপাত। ছোট বোন চাঁদনীকে কোলে নিয়ে হাত পাতে মানুষের কাছে। থাকে কামরাঙ্গীরচরে। মা আর বাবা হয়তো সখ করে তাদের নাম রেখেছিল আকাশ আর চাঁদনী। কি ভাগ্য তাদের। চাঁদ ভরা আকাশের নিচে একটু সহায় খুঁজে পেতে হাতে তুলে নিয়েছে থালা। যে থালা তাদের আশার স্থল। ভরসার স্থল। সারাদিন যা পায় তা নিয়ে তুলে দেয় মায়ের হাতে। এভাবেই আকাশ আর চাঁদনীর দিন যায়। হাজারো মানুষ হেঁটে যায় তাদের পেছনে ফেলে। কারো দয়া হলে থালায় ফেলে যায় এক কিংবা দুই টাকা। এ সময় আকাশ হেসে ওঠে। ছবিটি আজ তোলা হয়েছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে।