Saturday, June 28, 2025

গাজায় সাহায্যপ্রার্থী নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ: স্বীকার করলো ইসরাইলি সেনারা

ইসরাইলি সেনারা গাজায় খাদ্য সাহায্যের জন্য অপেক্ষমাণ নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালিয়েছে। এই কাজটি তারা তাদের কমান্ডারদের সরাসরি আদেশে করেছে। এমন বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলের প্রভাবশালী পত্রিকা হারেৎস। খবরে বলা হয়, কয়েকজন ইসরাইলি সেনা সরাসরি জানিয়েছেন, ভিড়ের মধ্যে থাকা মানুষজন কোনো হুমকি সৃষ্টি না করলেও তাদের লক্ষ্য করে মেশিনগান ও গ্রেনেড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একজন সেনা বলেন, আমরা ট্যাংক থেকে গুলি চালিয়েছি, গ্রেনেড ছুঁড়েছি। একবার কুয়াশার মধ্যে একদল বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

অন্য এক সেনা বলেন, আমরা যে এলাকায় ছিলাম, সেখানে প্রতিদিন ১ থেকে ৫ জন পর্যন্ত নিহত হতো। পুরো জায়গাটা যেন হত্যার ময়দান। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আইন বা সেনাবাহিনীর নির্দেশের ব্যত্যয় হলে তা তদন্ত করা হবে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা আমাদের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাতজ এই প্রতিবেদনকে আইডিএফের বিরুদ্ধে রক্তমাখা অপবাদ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে হারেৎস জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক আদালতের ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং অ্যাসেসমেন্ট মেকানিজম’ ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধের সম্ভাব্য ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত সাহায্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ৫৪৯ জন নিহত এবং ৪,০৬৬ জন আহত হয়েছেন। জিএইচএফের বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ বহু সংস্থা সমালোচনা করছে। কারণ এই কেন্দ্রগুলো এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) এই কেন্দ্রগুলোকে মানবিক সাহায্যের ছদ্মবেশে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে।

জর্ডানের আম্মান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হামদা সালহুত বলেন, গাজার মানুষ বলছে এই সাহায্য কেন্দ্রগুলো এখন মৃত্যুর ফাঁদ। পছন্দ মাত্র দুটো— না খেয়ে মরো, অথবা খাবার নিতে গিয়ে গুলিতে মরো। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এ ধরনের একটি রিপোর্ট ছাড়াও এটা বোঝা যায় যে গাজায় আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যখন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হয়, তখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি স্বীকার করলো ইসরাইলি সেনারা

নিরস্ত্র ফিলিস্তিনের ওপর গুলি চালানোর বিষয়টি স্বীকার করলো ইসরাইলি সেনাবাহিনী। শুক্রবার ইসরাইলের হারেৎজ পত্রিকায় ওই খবর প্রকাশ করা হয়। যেখানে ইসরাইলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে, তাদেরকে কোনো কারণ ছাড়াই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমান  নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর আল জাজিরার

mzamin

বিলিয়নিয়ারের বিয়ে: ৩০-ক্যারেট হীরেও যথেষ্ট নয়

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের একজন জেফ বেজোস তার দ্বিতীয় স্ত্রী লরাঁ সানচেজকে নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। এ জন্য ভেনিসে আয়োজন করা হয় এক অভাবনীয় অনুষ্ঠান। যা একইসাথে ছিল বিলাসবহুল ও কিছুটা অদ্ভুত। এমনটাই জানিয়েছেন লন্ডনের ডেইলি মেইলের সাংবাদিক আলিসন বোশফ। এই বিয়ের অনুষ্ঠান  শুক্রবার হয়েছে ইতালির ভেনিসের সান জর্জিও মাজিওর দ্বীপে। একটি পুরনো গ্রিন থিয়েটার পুনঃর্নির্মাণ করে, যা দেখতে এক জাদুকরি বাগানের মতো। আছে ঝাড়বাতি, ফুল, লণ্ঠন, গোলকধাঁধা আর রূপকথার টেবিল সাজানো। দুই বছর আগে বেজোস যে ৩০-ক্যারেটের গোলাপি হীরা দিয়ে লরাঁ’কে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন (মূল্য ৩ মিলিয়ন ডলার), তা এদিন সরিয়ে রাখা হয় ডান হাতে। তার পরিবর্তে সানচেজ পরেন ৩৫ ক্যারেটের সাদা হীরা, যার মূল্য ৮-১০ মিলিয়ন ডলার।

বোশফ ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, আপনি জানেন আপনি সত্যিই সেই এক হাজার ভাগের এক ভাগের শ্রেণিতে পৌঁছেছেন, যখন ৩০-ক্যারেট হীরাও বিয়ের জন্য যথেষ্ট মনে হয় না।
বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, অপরা উইনফ্রে, কারদাশিয়ান পরিবার, অভিনেত্রী সিডনি সুইনি এবং অনেকে। যদিও দাবি করা হয়েছিল এটি ছিল নিকট আত্মীয়দের জন্য একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান, বাস্তবে তা ছিল এক তারকামণ্ডিত আয়োজন।
লরাঁ সানচেজ পরেছিলেন ডলসে অ্যান্ড গাব্বানের ডিজাইন করা একটি সাদা করসেট ওয়েডিং গাউন। শরীরঘেঁষা, ফুলেল স্লিভস ও বিশাল ট্রেইনের সেই গাউন ছিল ইতালির মিলানে তৈরি। তার হেয়ার-মেকআপ টিমের সদস্য ছিলেন পাঁচজনেরও বেশি। বিয়ের আগে ভোগ ম্যাগাজিনের ফটোশুটে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজেকে রাজকন্যার মতো মনে করেছিলাম।
জেফ বেজোসও ডলসে অ্যান্ড গাব্বানের কালো টাক্সেডো পরে আসেন, সানগ্লাস পরে, চওড়া হাসি নিয়ে। বিয়ের সময় গান গেয়ে মন জয় করেন বিখ্যাত টেনর আন্দ্রেয়া বচেলির পুত্র মাত্তেও বচেলি। বিয়ের ডিনারটি হয়েছিল ঝাড়বাতি ও মোমবাতির আলোয়। খাবারের মধ্যে ছিল  স্প্যাগেটি আলা  নেরানো- সোরেন্তো উপদ্বীপের ৩-তারকা রেস্টুরেন্ট কুয়াত্রো পাসি থেকে। লেমন-রিকোটা ডেজার্ট নেয়া হয় সাল ডে রিসো পেস্ট্রি দোকান থেকে। বিয়ের কেক তৈরি করেন ফ্রান্সের লা মোরিস রেস্টুরেন্টের প্রধান পেস্ট্রি শেফ সেদ্রিক গ্রোলে। অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুম এবং সাবেক ফুটবল তারকা টম ব্র্যাডি ঘনিষ্ঠ সময় কাটান। ব্লুমকে দেখা যায় রোমান আব্রামোভিচের সাবেক স্ত্রী ডাশা ঝুকোভার পাশে, যা রটনার খোরাক হয়ে দাঁড়ায়। কেটি পেরির অনুপস্থিতিতে লরাঁ ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন — ‘উই মিস ইউ, কেটি’।
পরবর্তী আয়োজন
এই বিয়ে ছিল শুধু শুরু। পরদিন রাতেই অর্থাৎ শনিবার রাতে ভেনিসের আর্সেনালে’তে একটি গালা পার্টি এবং পরদিন সকালে পাজামা ব্রাঞ্চ পার্টি আয়োজন করা হয়েছে।  জেফ ও লরাঁ আগে থেকে থাকা মোট ৭ সন্তানও বিয়েতে উপস্থিত ছিল। এমনকি লরাঁর সাবেক প্রেমিক এবং সন্তানের পিতা টনি গনজালেজ ও তার স্ত্রী টোবি-ও অতিথি হিসেবে ছিলেন।

mzamin

নিউইয়র্কের মেয়র প্রার্থী জোহরান আসলেই কি ‘কমিউনিস্ট’, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি নিজেকে ‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেন। তবে অনেক রিপাবলিকান রাজনীতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী তাঁকে ভুলভাবে ‘কমিউনিস্ট’ বলে থাকেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৫ জুন নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘জোহরান মামদানি ১০০ ভাগ পাগলাটে কমিউনিস্ট।’

রক্ষণশীল ঘরানার পডকাস্ট উপস্থাপক নিক সোরটর ২৩ জুন এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘জোহরান মামদানি শুধু সমাজতন্ত্রী নন, তিনি একজন পুরোপুরি কমিউনিস্ট।’ তিনি একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে জোহরান নগর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন মুদির দোকানের নেটওয়ার্ক তৈরির কথা বলছেন। সোরটরের ভাষায়, ‘(জোহরান) বার্নি স্যান্ডার্সের চেয়েও অনেক বেশি বামপন্থী। তিনি সরকার পরিচালিত মুদির দোকান চান।’

দ্য ডেইলি ওয়্যারের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং পডকাস্টার বেন শ্যাপিরো বলেন, ‘আজকের সবচেয়ে বড় খবর: নিউইয়র্কের পরবর্তী মেয়র হতে যাচ্ছেন একজন কমিউনিস্ট।’ রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এলিস স্টেফানিকও এক্সে জোহরানকে ‘কমিউনিস্ট’ বলে উল্লেখ করেছেন।

জোহরানের নির্বাচনী মঞ্চের পক্ষ থেকে গণপরিবহন, বাসস্থান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় করার কথা বলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি শিল্পকারখানা ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির ওপর সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের মতো কমিউনিজমের মূল বৈশিষ্ট্যের পক্ষে অবস্থান নেননি।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিষয়ক অধ্যাপক আনা গ্রিজমালা-বুস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট পলিটি-ফ্যাক্টকে বলেছেন, ‘জোহরান কমিউনিস্ট নন। কমিউনিজম অর্থ হলো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পিত অর্থনীতি, যেখানে বাজারের ভূমিকা নেই। এ ব্যবস্থায় সব দাম ও পরিমাণ ঠিক করে কেন্দ্রীয় সরকার। একদলীয় শাসন চলে, গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে না—জোহরান এসবের কিছুই চান না।’

মার্কিন রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাটদের ‘কমিউনিস্ট’ বা কমিউনিস্টদের দোসর বলে দাগিয়ে দেওয়া বহু পুরোনো একটি বিভ্রান্তকর কৌশল, যা বার্নি স্যান্ডার্সের মতো কিছু গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীর জনপ্রিয়তার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নতুনভাবে দেখা যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে জোহরানের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নেন। এর মধ্য দিয়ে জোহরানের নাম জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আগামী নভেম্বরে নিউইয়র্ক নগরে মেয়র পদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জোহরানের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়া। তিনি সিভিলিয়ান ক্রাইম ফাইটিং গ্রুপ গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলসের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসও আগামী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। অন্যদিকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ কুমো স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা এখনো নাকচ করে দেননি।

জোহরানের মঞ্চের প্রচার

জোহরান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য। তিনি নিউইয়র্ক নগরের কুইন্স বরোর একটি অঞ্চলে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। জোহরান নিউইয়র্ক নগরের ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার একজন সদস্য। সংগঠনটি মেয়র পদে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে।

এই সংগঠনের লক্ষ্য হলো ‘জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনের মতো আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতগুলো যৌথ মালিকানায় আনা’ এবং ‘এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষের কর্মক্ষেত্র, পাড়া ও বৃহত্তর সমাজে বাস্তব ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়’।

জোহরানের নির্বাচনী ইশতেহারের কয়েকটি ঘোষণা হলো যেসব ভবনে আগে থেকেই ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারিত আছে, সেসব স্থানে ভাড়া বৃদ্ধি পুরোপুরি স্থগিত রাখা। প্রতিটি বরোতে সিটি করপোরেশন পরিচালিত একটি মুদিদোকান চালু করা। চলতি মাসে স্পেকট্রাম নিউজ এনওয়াইওয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোহরান মামদানি বলেন, এসব দোকান যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের পৌর মালিকানাধীন মুদিদোকানের আদলে গড়ে তোলা হবে।

জোহরানের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে বিনা ভাড়ায় গণপরিবহন ও শিশুদের দেখাশোনার সুবিধা দেওয়া; করপোরেট কর বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা অন্যতম।

জোহরান ব্যক্তিগত মালিকানা বিলুপ্ত করার কোনো দাবি তোলেননি। তাঁর ওয়েবসাইটে উল্লেখিত লক্ষ্যগুলোর একটি হলো, ‘ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করা আরও দ্রুত, সহজ এবং সাশ্রয়ী করা।’ অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যেন সহজেই ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করতে পারেন, সেটাই তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য।

জোহরান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, আবাসন নির্মাণে ব্যক্তিগত বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা এখন তিনি পরিষ্কারভাবে স্বীকার করেন। তাঁর পরিকল্পনায় সরকার সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ করবে, তবে পুরো আবাসন খাত নিয়ন্ত্রণ করবে না।

এই মেয়র প্রার্থী নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, আবাসন নির্মাণে বেসরকারি বাজারের ভূমিকা সম্পর্কে তাঁর আগের মত বদলে গেছে। তাঁর কথায়, ‘আমি এখন স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি, এখানে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।’

জোহরানের ওয়েবসাইটের সঙ্গে এ বক্তব্য মিলে যায়, যেখানে বলা হয়েছে, সরকারি উদ্যোগে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ করা উচিত। তবে সম্পূর্ণ আবাসন খাতের নিয়ন্ত্রণ সরকারের নেওয়া ঠিক হবে না।

কমিউনিস্ট ও গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীর মূল পার্থক্য

জোহরান মামদানির নীতি-আদর্শ নিয়ে সাতজন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছে আল–জাজিরা। তাঁদের কেউই তাঁকে কমিউনিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করেননি।

নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির বরো অব ম্যানহাটান কমিউনিটি কলেজের রাজনীতিবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক জেফ্রি কার্টজ বলেন, ‘জোহরানকে কমিউনিস্ট বলা একেবারে মানহানিকর একটি বিষয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদেরা যখন ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিজম’ বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন তাঁরা সাধারণত ইউরোপীয় দেশগুলোতে বিদ্যমান উদার সামাজিক বিমা কর্মসূচিগুলোকে বোঝান। এর মধ্য দিয়ে তাঁরা শিশুসেবায় উচ্চ ভর্তুকি, পাশাপাশি ধনীদের ওপর উচ্চ করারোপকে বোঝান, যা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়।

বারুচ কলেজের অধ্যাপক টেড হেনকেন বলেন, জোহরান ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা শেষ করে দেওয়ার বা কোনো শিল্প সরকার কর্তৃক দখল করার পক্ষে নন; বরং তিনি নিউইয়র্ক নগরের জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় মোকাবিলায় লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের পক্ষে।

এই অধ্যাপক বলেন, ‘জোহরানকে যাঁরা সমর্থন করছেন, তাঁরা কমিউনিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী নন। তাঁরা তাঁকে সমর্থন করছেন; কারণ, তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলার সমাধান প্রস্তাব করেছেন।’

এই ডেমোক্র্যাট মেয়র প্রার্থীর একটি নির্বাচনী টিকটক ভিডিওতে বলেছেন, ‘করপোরেট সুপারমার্কেটগুলোর জন্য যেসব সরকারি অর্থ বা ভর্তুকি বরাদ্দ থাকে, সেগুলো সরিয়ে এনে শহর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন মুদিদোকানগুলোর পেছনে খরচ করা হবে। নগর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত দোকানগুলো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ছোট ব্যবসা ও খামারিদের সঙ্গে কাজ করবে।’

রাজনৈতিক তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, জোহরানের অধিকাংশ প্রস্তাবই পশ্চিমা গণতন্ত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান।

ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক অক্সানা শেভেল বলেন, ‘ফ্রান্স থেকে কানাডা পর্যন্ত বহু পশ্চিমা গণতন্ত্রে বিনা মূল্যে বা ব্যাপক ভর্তুকির শিশুসেবা এবং গণপরিবহনের মতো নীতিমালা রয়েছে।’

অন্যদিকে কমিউনিস্ট সরকার শুধু ভাড়া বা কিছু সুপারমার্কেট নয়; বরং বাজারব্যবস্থাসহ সবকিছুর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। সবচেয়ে বড় কথা, কমিউনিজমে কমিউনিস্ট পার্টি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল থাকে না।

অক্সানা বলেন, ‘তিনি এমন কিছু প্রচার করছেন না। তাই তিনি কমিউনিস্ট নন।’

আমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান কমিউনিজমের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ হার্ভে ক্লেহার বলেন, ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিজম কমিউনিজমের বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

ক্লেয়ার বলেন, ‘অন্তত তত্ত্বগতভাবে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীরা কমিউনিজমের কিছু ধারণা প্রত্যাখ্যান করে থাকে। যেমন শ্রমিকশ্রেণির অগ্রদূত বা নেতৃত্বদানকারী দল (ভ্যানগার্ড অব দ্য প্রলেতারিয়েত), প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং উৎপাদনের উপকরণের ওপর রাষ্ট্রীয় মালিকানার মতো ধারণাগুলোকে তাঁরা স্বীকার করেন না। তবে পুঁজিবাদের প্রতি বিরূপ মনোভাবের মতো কিছু বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মিল আছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, জোহরানের ইশতেহারের যুক্তিযুক্ত সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু তিনি যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলোর কারণে তাঁকে কমিউনিস্ট বলা যাবে না।

বিশেষজ্ঞ মতামত -আল জাজিরা

নিউইয়র্ক নগরের মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটিতে, ২৫ জুন ২০২৫
নিউইয়র্ক নগরের মেয়র পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জোহরান মামদানি। নিউইয়র্ক সিটিতে, ২৫ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

মামদানির জয় থেকে ডেমোক্র্যাটরা কি শিক্ষা নেবেন by বার্নি স্যান্ডার্স

ডেমোক্রেটিক পার্টি এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। পার্টি চাইলে আগের মতোই এমন সব নীতি চালিয়ে যেতে পারে, যেসব নীতি বস্তাপচা ও পক্ষপাতদুষ্ট অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আঁকড়ে বসে আছে। চাইলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সেই ৬০ শতাংশ মানুষের কষ্টকে কোনো রকম পাত্তা না দিয়েও চলতে পারে, জীবন চালাতে হিমশিম খাওয়া যে মানুষগুলো সপ্তাহ শেষে বেতন পাওয়ার পরের দিনই পরবর্তী বেতনের জন্য দিন গোনে।

ডেমোক্র্যাটরা চাইলে সেই তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে অবহেলা করতে পারেন, যে প্রজন্ম সম্ভবত তাদের মা-বাবার চেয়েও খারাপ সময়ের মুখোমুখি হবে। তাঁরা চাইলে কোটি কোটি ডলার চাঁদা দেওয়া ধনকুবের আর বাস্তবতা না-জানা সেই পরামর্শকদের ওপর নির্ভর করে চলতে পারেন, যাঁরা লাখ লাখ ডলার খরচ করে দলের প্রচারে একঘেয়ে, ক্লিশে ও সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বহীন ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বানান।

ডেমোক্র্যাটরা চাইলে সেই ভয়াবহ বাস্তবতাকেও এড়িয়ে যেতে পারেন, যে বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি নাগরিক গণতন্ত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কারণ, তারা অনুভব করে না যে সরকার তাদের জীবনযন্ত্রণা বোঝে বা কোনো সমাধান দিতে চায়। অথবা ডেমোক্র্যাটরা চাইলে জোহরান মামদানির মঙ্গলবারের বিজয় থেকে একটি শিক্ষা নিতে পারেন। সেই শিক্ষা হলো, মানুষের মুখোমুখি হয়ে প্রকৃত অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটগুলো সাহস করে তুলে ধরতে হবে। সেই সঙ্গে ধনিক শ্রেণির লোভ ও ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং এমন একটি কর্মসূচির পক্ষে লড়তে হবে, যা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনকে উন্নত করতে পারে।

মোদ্দাকথা, ডেমোক্রেটিক পার্টির সামনে এখন দুটি রাস্তা। একটি হলো পুরোনো ভুল পথে চলতে থাকা; আরেকটি হলো, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন কিছু করা। অনেকে বলছেন, মামদানির বিজয় কেবল তাঁর ব্যক্তিত্ব আর ক্যারিশমার ফল। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি এক চমৎকার প্রার্থীর উদাহরণ। কিন্তু শুধু ভালো প্রার্থী থাকলেই এমন বিজয় আসে না। জয়ের পেছনে থাকতে হয় অসাধারণ এক তৃণমূল আন্দোলন। হাজার হাজার মানুষ যদি আগ্রহ নিয়ে দরজায় দরজায় গিয়ে তাঁর পক্ষে প্রচার না করত, তবে এমন জয় সম্ভব হতো না।

আর এই আন্দোলন গড়ে ওঠে তখনই, যখন এর পেছনে থাকে এমন একটি অর্থনৈতিক কর্মসূচি, যা সাধারণ মানুষের প্রয়োজন আর কষ্টের কথা বলে। নিউইয়র্কের মানুষ এবং গোটা আমেরিকান জনতা জানে, এই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে পরিচিত একটি দেশে কারও জন্য শুধু খাওয়া, ঘরভাড়া দেওয়া বা ডাক্তার খরচ মেটাতে যুদ্ধ করার মতো কষ্ট করা উচিত নয়।

ডেমোক্রেটিক পার্টির পেইড কনসালট্যান্টরা হয়তো জানেনই না, এই সাধারণ মানুষগুলো আসলে কী চায়, তারা কোথায় থাকে। মামদানির ‘চরমপন্থী’ বা ‘অবাস্তব’ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা হচ্ছে ঠিকই; কিন্তু তৃণমূল মানুষ জানে, এই নীতিগুলো আসলে তাদেরই কথা বলছে।

আজকের দুনিয়ায় যেখানে ধনী আর সাধারণ মানুষের মধ্যে আয় ও সম্পদের পার্থক্য ভয়াবহ রকম বেড়ে গেছে, সেখানে ধনী ব্যক্তি আর বড় করপোরেশনগুলোর উচিত তাদের ন্যায্য পরিমাণ কর দেওয়া। মামদানির মতো নেতাদের দাবি এটিই। যখন অনেক নিউইয়র্কবাসী আর সস্তায় ভাড়া বাসা খুঁজে পাচ্ছে না, তখন ভাড়া না বাড়ানোর জন্য একটি স্থগিতাদেশ দরকার—এটিও মামদানির দাবি। যখন একজন শ্রমিকের প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পেছনে বেতনের একটি বড় অংশ চলে যায়, তখন গণপরিবহন বিনা মূল্যের হওয়া উচিত। এটিও মামদানির ভাবনা।

যখন অনেক নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া পরিবার ভালো খাবার কিনতে পারছে না; তাদের জন্য সরকার পরিচালিত পাড়াভিত্তিক মুদিদোকান প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এই দাবিও এসেছে তাঁর পক্ষ থেকে। এসব দাবি শুনে অনেকেই বলবে ‘চরমপন্থী’। কিন্তু আসলে এগুলো খুবই সাধারণ মানুষের বাস্তব চাহিদা। হ্যাঁ, ধনীরা বা বড় দাতারা বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা হয়তো এসব চান না। কিন্তু সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ঠিক এই জিনিসগুলোই চায়। তাই হয়তো এখন সময় এসেছে এই মানুষগুলোর কথা শোনার।

মামদানির জয় কোনো তারকাখ্যাতির জন্য হয়নি। এটি হয়েছে সাধারণ মানুষের শক্তিতে। এই আন্দোলন মানুষকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছে, গণতন্ত্র মানে কেবল ভোট নয়, বরং নিজের জীবনে যেসব সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলে, সেগুলো নিয়ে কথা বলার অধিকার দাবি করাও গণতন্ত্র। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মামদানি সেই নৈতিক প্রশ্ন থেকে পালিয়ে যাননি, যা শুধু নিউইয়র্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কোটি মানুষের মনে আঘাত দিচ্ছে। সেটি হলো ইসরায়েলের চরমপন্থী নেতানিয়াহুর সরকারের গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র যেন সামরিক সহায়তা না দেয়। গাজার শিশুদের অনাহারে মারা যাওয়া কেউ চোখ বন্ধ করে মেনে নিতে পারে না।  

মামদানি জানেন, আসলেই, ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) একটি জঘন্য ও বিপজ্জনক চিন্তাধারা। কিন্তু নেতানিয়াহুর মতো একজন নেতার অমানবিক নীতির সমালোচনা করা মানেই ইহুদিবিদ্বেষ নয়। মামদানির নির্বাচনী লড়াই আমাদের শেখায়, শুধু ট্রাম্পের বা তাঁর ধ্বংসাত্মক নীতির সমালোচনা করলেই চলবে না; আমাদের দরকার একটি ইতিবাচক ভবিষ্যৎ চিন্তা। দরকার এ প্রশ্নের জবাব—এই পরিস্থিতি কেন হলো, কেন আজ অধিকাংশ আমেরিকান পিছিয়ে পড়ছে?

বর্তমান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা মামদানির নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শিক্ষা নেবেন কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। সম্ভবত নেবেন না। কারণ, তাঁদের অনেকেই এমন অবস্থায় আছেন, যেখানে তাঁরা নিজেরাই সেই ডুবতে থাকা জাহাজ ‘টাইটানিক’-এর ক্যাপ্টেন হয়ে থাকতে চান; কিন্তু দিক পরিবর্তন করতে চান না। তবে তাঁরা কী ভাবছেন, সেটা এখন খুব একটা গুরুত্বপূর্ণও নয়। কারণ, মামদানির বিরুদ্ধে এই ‘সিস্টেম’-এর পক্ষ থেকে সবকিছুই মাঠে নামানো হয়েছিল। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের সুপার প্যাক অর্থায়ন, নামীদামি মানুষের সমর্থন, পক্ষপাতদুষ্ট গণমাধ্যম—সব নামানো হয়েছিল। তবু তাঁরা মামদানিকে হারাতে পারেননি।

বার্নি স্যান্ডার্স, মার্কিন সিনেটর এবং সিনেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশন-সংক্রান্ত কমিটির প্রধান সদস্যদের একজন
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জোহরান মামদানি। পাশে মা মিরা নায়ার (বাঁয়ে), বাবা মাহমুদ মামদানি ও স্ত্রী রমা দুওয়াজি। যুক্তরাষ্ট্র, ২৫ জুন ২০২৫
নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জোহরান মামদানি। পাশে মা মিরা নায়ার (বাঁয়ে), বাবা মাহমুদ মামদানি ও স্ত্রী রমা দুওয়াজি। যুক্তরাষ্ট্র, ২৫ জুন ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

জুলাই সনদ ও যোদ্ধা নিয়ে এলোমেলো কিছু প্রশ্ন by মহিউদ্দিন আহমদ

চব্বিশের জুলাই থেকে পঁচিশের জুন। প্রায় এক বছর। সময়টা একটু অন্য রকম। গত বছর জুলাইয়ের ১ তারিখে কি কেউ ভেবেছিলেন, মাস ঘুরতেই পাল্টে যাবে চালচিত্র? শুরুতে ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন। সেটি রূপান্তরিত হলো এক দফার আন্দোলনে, হাসিনা হটাও। তারপর ঘটে গেল মিরাকল। শেখ হাসিনা তল্পিতল্পা নিয়ে পগারপার। এটা ছিল একটা ভয়ংকর, অবিশ্বাস্য, শ্বাসরুদ্ধকর, নাটকীয়, বিয়োগান্ত পালাবদল। কয়েক দিন দেশে সরকার ছিল না। তারপর এল একটা অন্তর্বর্তী সরকার। ১০০ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার এই রোমাঞ্চকর পর্বটি নিয়ে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই সিনেমা হবে।

কিন্তু তারপর? দেশে এখন অনেক স্টেকহোল্ডার। শত শত রাজনৈতিক দল। সবাই সরব। যে দল যত ছোট, তার নেতার গলার স্বর তত চড়া। সবাই পাবলিকের অভিভাবক হয়ে গেছেন। এখন সবার নজর একটা সনদের দিকে। তৈরি হবে জুলাই সনদ। এটা নাকি হবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে।

জুলাই আন্দোলনের কেন্দ্রে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা। আপাতত আমরা এটুকুই জানি। ভেতরের খবর জানি না। আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত নেতারা অবশ্য বলছেন, এই আন্দোলনের পেছনে ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এ দেশের রাজনীতির একটি উপাদেয় খাদ্য। আমরা সেটি চর্বণ করে চলেছি দশকের পর দশক, শতাব্দীর পর শতাব্দী। যেকোনো পরিবর্তনের পেছনে আমরা ষড়যন্ত্র দেখি। এই তত্ত্বের ফেরিওয়ালারা শিগগিরই ষড়যন্ত্রকারীদের হদিস বের করে আনবেন আশা করি।

কথা হচ্ছিল জুলাই সনদ নিয়ে। চব্বিশের ৫ আগস্ট ছিল পরিবর্তনের ডি-ডে বা মাহেন্দ্রক্ষণ। সে সময়ই এই সনদ উপস্থাপিত হওয়ার কথা। আমরা কী চাই, কোথা থেকে কোথায় যেতে চাই, কী প্রক্রিয়ায় যেতে চাই—এসব কথা নিয়ে একটা প্যারাগ্রাফ তখনই আশা করা গিয়েছিল। তখন সমন্বয়কদের কথা মানুষ শুনত। তাঁদের প্রতি মানুষের আস্থা আর ভালোবাসা ছিল। সেটি হয়নি। এতে বোঝা যায়, সবাই ডি-ডের জন্য অপ্রস্তুত ছিলেন।

যে সনদ দেওয়ার কথা আন্দোলনকারীদের, সেটির খসড়া এখন তৈরি করছে সরকার। মানে, এটি হতে যাচ্ছে একটি সরকারি সনদ, যেখানে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমর্থন চাওয়া হবে। এটি কাটছাঁট করে গৃহীত হবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে। রাজনৈতিক ঐকমত্য? সে আবার কী? সব পক্ষই চাইছে নিজেদের কিছু ‘পেট ওয়ার্ড’ বা বাঁধা বুলি সনদে ঢুকিয়ে দিতে। এ নিয়ে সবাই একমত হবে, এট দুরাশা বৈ কিছু নয়। আমার বুঝে আসে না, এই সনদের শব্দাবলি নিয়ে পরস্পরবিরোধী দলগুলো কীভাবে একমত হবে। যদি হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে এটি হবে আরেকটি বিপ্লব।

আচ্ছা, সনদ নিয়ে আমরা এত ধস্তাধস্তি করি কেন? সনদের লেখাগুলো কি আমাদের জীবন পাল্টে দেবে? বাহাত্তরের সংবিধানের প্রস্তাবনায়—এ দুনিয়ার সব সুন্দর ও মুখরোচক শব্দ ছেঁকে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে আমরা গণতন্ত্র পেলাম, সমাজতন্ত্রও পেলাম। ধর্মনিরপেক্ষতাও জ্বলজ্বলে করে জ্বলল। জাতীয় রাষ্ট্রের আবশ্যিক অনুষঙ্গ হলো জাতীয়তাবাদ। সেটিকে তো আর বাদ দেওয়া যায় না! তারপর মানবাধিকারের মোহন শব্দাবলিও ঠাঁই হলো এই কিতাবে। তাতে হলোটা কী? শুরু থেকেই একটির পর একটি হোঁচট খেয়ে পড়তে লাগল।

সংবিধানের এই শব্দগুলো থেকে গেল কাগজেই। যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ লেখাপড়া জানেন না, সাক্ষরতা বলতে শুধু নাম সই বা বড়জোর ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত যাওয়া, তাঁরা জানতেও পারলেন না যে এই পবিত্র কিতাবে তাঁদেরকে দেশের মালিকানা দেওয়া আছে। জানেন না বলেই তাঁদের প্রতি ভুঁইফোড় মালিক সমিতির দায় নেই। নতুন আরেকটি সনদ নাজিল হলে তাতে পরিস্থিতির কি হেরফের হবে? দেশের প্রকৃত মালিকেরা তো জানতেই পারবেন না, কী লেখা আছে তাতে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সংবিধান চোখে দেখেননি। পড়ে দেখা তো দূরের কথা। সেখানে কী থাকল আর কী বাদ গেল, তাতে তাঁদের কী যায় আসে?

------- দুই.

একাত্তরে ছিল মুক্তিযোদ্ধা। চব্বিশে দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। আমরা এখন পাচ্ছি ‘জুলাই যোদ্ধা’। জুলাই যোদ্ধাদের দেওয়া হবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তাঁরা নানান রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন। চিকিৎসা পাবেন, চাকরি পাবেন, ভাতা পাবেন। এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে ভাগ্যান্বেষণে আসা যোদ্ধারা টাকা, তালুক ও গনিমতের মালের জন্য রাজশক্তির হয়ে লাঠি-তলোয়ার-বন্দুক ধরত। এরা ছিল মার্সেনারি বা ভাড়াটে সৈন্য। নানান ইহজাগতিক সুবিধা পাইয়ে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশকে আমরা ইতিমধ্যেই ভাড়াটে সৈনিক বানিয়ে দিয়েছি। সেখানে গজিয়ে উঠেছে অসংখ্য ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’। কোনোমতে একটা সনদ জোগাড় করতে পারলেই বসে বসে মোটা অঙ্কের একটা ভাতা পাওয়া যায়।

আবার রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কপালে সনদ জোটেনি। জুলাই যোদ্ধাদের নিয়েও হচ্ছে এই তেলেসমাতি। যে কোটার বিরুদ্ধে তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন, সেই কোটার ফাঁদেই আবার ফেলা হচ্ছে তাঁদের। এর ফলে জনগণের অবশিষ্ট অংশ থেকে তাঁদেরকে সহজেই বিচ্ছিন্ন করা যাবে।

যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, যাঁরা চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দায়িত্ব অবশ্যই সমাজকে নিতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এটি করা হয়নি। কিন্তু একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের নামে যে মোটাতাজাকরণ প্রকল্প চালু হয়েছিল, সেটির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে সমাজের চোখে তাঁদেরকে একটা বিশেষ সুবিধাভোগী সম্প্রদায় হিসেবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার এ ধারণা সুবিবেচনা থেকে আসেনি।

একাত্তরে ও চব্বিশে যাঁরা লড়াই করেছেন, তাঁরা এটা তাঁদের নিজেদের জন্য করেননি। তাঁরা লড়েছেন দেশের সব মানুষের মুক্তির জন্য। নানান উৎকোচ দিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করে, তাঁদের আনুগত্য কিনে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এখনো হচ্ছে। যোদ্ধাদের উচিত, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। তা যদি না হয়, এসব উৎকোচের ভাগ পেতে কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে। ব্যাঙের ছাতার মতো অগুনতি যোদ্ধা পয়দা হবে। চলবে ঘুষবাণিজ্য, যেমনটি করেছিল আগের সরকারগুলো। তার আলামত দেখা যাচ্ছে।

--------- তিন.

ভোটার হওয়ার ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার একটা ন্যূনতম বয়স আছে। সেটি আরও কমানোর প্রস্তাব উঠেছে। রাজনৈতিক মতলব থেকেই এই চিন্তা এসেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন বিলুপ্ত করার একটা প্রবল আকাঙ্ক্ষা আছে অভিভাবকদের। এমনকি যাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোর হোমরাচোমরা, তাঁরাও তাঁদের সন্তানদের ছাত্ররাজনীতি করতে দেন না। বিশ্বাস না হলে জরিপ চালিয়ে দেখতে পারেন। এ নিয়ে যাঁরা বিরাজনীতিকীকরণের উদ্ভট চিন্তা করেন, তাঁদের সন্তানদের খোঁজ নিয়ে দেখুন, তারা কে কোথায় কী করছে, কী পড়ছে। আমার সন্তান দেশে বা বিদেশে পড়াশোনা করবে আর অন্যের সন্তান আমার লাঠিয়াল হবে—এই হচ্ছে এ দেশের তথাকথিত ছাত্ররাজনীতির মোজেজা। মালিক রাজনৈতিক দলের নেতার নামে জিন্দাবাদ আর প্রতিপক্ষ দলের নেতাকে পেটানো ছাড়া এদের আর কী কাজ?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লাঠি, চাপাতি, রামদা, ককটেল, বন্দুক—সবই আছে। শিক্ষকদের দলাদলি আছে। তাঁরা রাজনৈতিক আনুগত্য দেখিয়ে প্রভোস্ট, উপাচার্য, নানান কমিশনের সদস্য কিংবা রাষ্ট্রদূত হতে চান। নেই শুধু লেখাপড়াটা। কতটুকু অবক্ষয় হলে হাতে গোনা কয়েকজনের দাবি আর অবরোধের ধুয়া তুলে গোটা একটা ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের অটো প্রমোশন দিয়ে দেওয়া হয়! মব কালচারের শুরু তো এখান থেকেই।

একদিকে তারুণ্যের জয়গান গাইবেন, অন্যদিকে তাদেরকে ধরেবেঁধে দলীয় রাজনীতির কুয়ার ভেতরে ছুড়ে দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ ঝরঝরে করে দেবেন। একটা প্রজন্ম পরীক্ষা না দিয়েই ডিগ্রি পেয়ে যাবে। জেনেবুঝে কেউ তাদেরকে চাকরি দেবে? তাহলে তারা যাবে কোথায়? ঘটিবাটি বেচে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে গিয়ে দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে ১০ বাই ১০ একটা কামরায় ২০ জন গাদাগাদি করে শুয়ে থাকার বন্দোবস্ত, নাকি দালাল ধরে স্বপ্নের স্বর্গ ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরা? অথবা কোনো নেতার লাঠিয়াল হয়ে তাঁর উচ্ছিষ্ট খেয়ে কিংবা চাঁদাবাজি করে জীবন কাটানো?

মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক
* মতামত লেখকের নিজস্ব

জুলাই সনদ ও যোদ্ধা নিয়ে এলোমেলো কিছু প্রশ্ন

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চীন কেন দূরে বসে দেখেছে by লাইল গোল্ডস্টিন

কয়েক বছর আগে আমি সাংহাই সফরে গিয়েছিলাম। সেই সফরে গিয়ে চীনের এক শীর্ষ কৌশলবিদকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বাধলে বেইজিং সেই যুদ্ধকে কীভাবে দেখবে? তখনো এ ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ছিল প্রবল। আমি ভেবেছিলাম, তিনি বলবেন তেলের দাম বেড়ে কীভাবে চীনের উৎপাদন খাতের ওপর হুমকি তৈরি করবে, সে বিষয়ে।

কিন্তু এর পরিবর্তে তিনি যেটা বললেন, সেটা আমাকে বিস্মিত করেছিল। তিনি ব্যাখ্যা দিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যে আবারও একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়ায়, তাহলে সেটি চীনের জন্য লাভজনক হবে। কারণ, এ ধরনের যুদ্ধ ‘যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক আধিপত্য অবসানের’ সূচনাবিন্দু হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। চীনারা বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যকে ‘সম্রাজ্যের কবরস্থান’ হিসেবে বিবেচনা করে।

বর্তমানে বৈরিতা কিছুটা স্তিমিত হলেও ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার বড় ধরনের আশঙ্কাও রয়েছে। সেটা ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইসরায়েলের পক্ষে লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হতে পারে। আর চীন যদি ইরানকে (যেমনটা তারা পাকিস্তানকে করেছে) যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধ ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করে, তাহলে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাবে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত চীন অন্য কোনো দেশে তার সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রেখে চলেছে। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈরিতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এর ভূরাজনৈতিক সুফল চীন ঘরে তুলতে পারে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে চীন সরকার। বিবৃতিতে চীন বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের লক্ষ্য ও নীতির মারাত্মক লঙ্ঘন। এটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।’

২২ জুন চীনের দ্য গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ‘যুদ্ধের আগুনে ঘি ঢালছে এবং ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষকে আরও অনিয়ন্ত্রিত অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে’।

এটাও ঠিক যে মধ্যপ্রাচ্যে চীন তাদের উপস্থিতি ক্রমে বাড়াচ্ছে। মাসখানেক আগে চীনের বিমানবাহিনী মিসরে এক যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আকাশে জ্বালানি ভরার মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।

এক দশক ধরেই চীনের যুদ্ধজাহাজগুলো নিয়মিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে আসছে। গত মার্চে রাশিয়া, ইরান ও চীনের নৌবাহিনীর মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এখন প্রতিবছরের নিয়মিত আয়োজন।

অবশ্য এই সামরিক মহড়াগুলো ছোট পরিসরে হয়েছে। এই মহড়াকে শক্তি প্রদর্শনের হুমকি হিসেবে দেখা যায় না। সামগ্রিকভাবে চীন তার মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের নীতি নেয়নি।

২০১৯ সালের মাঝামাঝি ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন চীনের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালিতে টহল দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, সে সময় দেশটির নীতিনির্ধারকেরা সরাসরি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল।

একইভাবে হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নিতে বেইজিং অস্বীকৃতি জানিয়েছে; বরং হুতিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চীন লোহিত সাগরে নিজেদের জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চেয়েছে।

চীন তার পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক শক্তির বদলে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেয়। তবে এটা সত্য যে জিবুতিতে একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে চীনের। তবে জিবুতি এমন একটি স্থানে অবস্থিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানেরও সামরিক ঘাঁটি আছে। ফলে জিবুতি বৈশ্বিক ক্ষমতা প্রদর্শন বা আঞ্চলিক আগ্রাসন বিস্তারের কেন্দ্র নয়।

এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চীন মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে। আরব দেশগুলোর মধ্যে চীনের অবস্থান ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি চীনের সহানুভূতির এখানে ভূমিকা রেখেছে। তবে চীন শুধু কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মরক্কো ও ওমানের মতো তুলনামূলক শান্ত দেশগুলোতেও উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে ২০২৩ সালে। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় চীন। এটা পারস্য উপসাগরের ভূকূটনৈতিক রাজনীতিতে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হয়।

যাহোক, এ পরিস্থিতি যে যেকোনো সময় খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে, সেটা ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকেই স্পষ্ট। এ সময়ে ইরানে চীন গোপনে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে—এমন গুজবও রটে।

আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে এমন খবর আসে যে তেহরানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সরবরাহ করেছে চীন। ইরানে চীনের সামরিক সহায়তা পৌঁছনোর পথ হতে পারে পাকিস্তান—এমন কল্পনাও কেউ সহজেই করতে পারেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন এ বিষয়কে সতর্কতার সঙ্গে নিতে পারে।

এসব জল্পনার মধ্যে আমরা যেন মূল বিষয়টা ভুলে না যায়। সেটা হলো চীনের সঙ্গে ইরানের কোনো সামরিক জোট নেই। মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চীন ইরানের কাছে বড় কোনো অস্ত্রব্যবস্থা বিক্রি করেনি।

এটি বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রশংসনীয় সংযমের নজির। ওয়াশিংটনকে অবশ্যই এটাকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত, কেননা, তারা আবারও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে।

এই মুহূর্তে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। একইভাবে চীনও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক দিক থেকে সক্রিয় না হওয়ায় পথে হাঁটছে। এটা এক দিক থেকে আশার কথা। কেননা, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে চীনের এই সংযমী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

সম্ভবত বেইজিং ‘পাহাড়ে বসে বাঘের লড়াই দেখার’ নীতি নিয়েছে।

* লাইল গোল্ডস্টিন, ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ প্রোগ্রামের এশিয়া কর্মসূচির পরিচালক
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। ছবি : রয়টার্স

দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনা, আনিসাকে উদ্বিগ্ন না হতে বার্তা: এ কেমন মানবিকতা?

আনিসা আহমেদ এইচএসসি’র প্রথম পরীক্ষায় বসতে না পারার আক্ষেপ যেন ছুঁয়ে যায় পুরো দেশের মানুষকে। পরীক্ষা দিতে না পারায় তার কান্না আর অসুস্থ মাকে হাসপাতালে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসার বর্ণনা শুনে আহত, ক্ষুব্ধ করেছে বহু মানুষকে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়মের জালে মানবতা হেরে যাওয়ার এই ঘটনাকে বড়ই অমানবিক বলছে মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে এমন অমানবিক ঘটনার জন্ম দেয়া পুরো শিক্ষা কাঠামো নিয়ে। ঘটনা সংশ্লিষ্টদের দায় এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এ ঘটনায় নেট দুনিয়ায় আলোড়ন ওঠার পর অবশ্য টনক নড়েছে শিক্ষা বিভাগের। ঘোষণা দেয়া হয়েছে আয়েশার পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা নেয়ার।

গত বৃহস্পতিবার সকাল। আনিসা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার। এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন। হঠাৎ আনিসার মা সুবর্ণা আহমেদ অসুস্থতা অনুভব করেন। বুকে ব্যথা নিয়ে মাথা ঘুরে পড়ে যান। বাবা নেই আনিসার। কী করবেন না করবেন কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। মাকে নিয়ে প্রতিবেশীর সহযোগিতায় যান মিরপুর ১ নম্বরে বাড়ির পাশের একটি হাসপাতালে। এরপর আসেন তার আত্মীয়স্বজনরা। মায়ের পাশে স্বজনদের রেখে তিনি রওনা দেন পরীক্ষা কেন্দ্রে। প্রায় দেড় ঘণ্টা দেরি হয়ে যায় কেন্দ্রে পৌঁছাতে। কিন্তু বাদ সাধে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা। বিলম্বের কারণে তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি কেন্দ্রে। পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনেই বসে পড়েন তিনি। দিগ্বিদিক ছুটে বেড়ান। কান্নাভেজা কণ্ঠে আকুতি জানান কেন্দ্রে প্রবেশের। এক হাত মাথায়, আরেক হাতে ফাইল। চোখে পানি। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত লোকজন বিচলিত হলেও গলাতে পারেনি পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরতদের মন। আনিসার কান্নার ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। নেট দুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে সরকারের তরফে অবশ্য আনিসার পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আনিসার মা সুবর্ণা আহমেদ চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। চিকিৎসকরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছেন তিনি শঙ্কামুক্ত। তবে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। গতকাল টেলিফোনে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেন সুবর্ণা আহমেদ। তিনি বলেন, আল্লাহ আমার বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকে সুস্থ করে দিয়েছেন। আমি ভালো আছি। আমাকে জানানো হয়েছে আনিসা পরীক্ষা দিতে পারবে।

আনিসার মিরপুরে অবস্থিত ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি নির্দেশনা জারি করে শিক্ষা বোর্ড। এরমধ্যে উপস্থিতির বিষয়ে বলা হয়, পরীক্ষার কেন্দ্রে নির্ধারিত কক্ষে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট আসনে পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে বসতে হয়। পরীক্ষার প্রথম দিন অবশ্যই সকাল ৯টার মধ্যে পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিন পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে প্রবেশ করলেই হবে।
তবে বিশেষ কারণে কোনো পরীক্ষার্থী দেরি করে কেন্দ্রে পৌঁছালে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ারও কেন্দ্রগুলোকে দেয়া আছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র প্রধান এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে পরীক্ষায় এমসিকিউ অংশ শেষ হওয়ার পর কাউকে আর প্রবেশ করার সুযোগ না দিতে নির্দেশনা রয়েছে।

অনেকে বলছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় আনিসার পরীক্ষা নেয়া যেতো। আনিসার সঙ্গে থাকা তার খালা গণমাধ্যমকে জানান, মেয়েটির বাবা নেই। সকালে তার মা স্ট্রোক করেছেন। পুরো পরিবারে কেউ নেই যে, দায়িত্ব নিতে পারে। তাই মেয়েটিই মাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যায়। সেখান থেকে দৌড়ে এসে পরীক্ষা দিতে এলেও হলে ঢুকতে পারেনি।

এ বিষয়ে বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ কামরুল হাসান বলেন, এখানে মানবিকতা ও আইন দুটোই আছে। এই ঘটনার পর আমি মেয়েকে বলেছিলাম, এমসিকিউ পরীক্ষা তো হয়ে গেছে। এখন তো তুমি পরীক্ষা দিলে পাস করতে পারবে না। কারণ এমসিকিউতে আলাদাভাবে পাস করতে হবে। আমি জানি তার খারাপ লাগছিলো। খুবই স্বাভাবিক। আবার মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে ঢুকতে দিলে দেরি করে আসায় কেন ঢুকতে দেয়া হলো সেটা নিয়েও হয়তো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো।

তিনি আরও বলেন, আমি ওই মেয়ের কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে অনুরোধ করেছি যাতে যোগাযোগ করে পরবর্তী পরীক্ষা দিতে আসতে বলেন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল হায়দার বলেন, মেয়েটি যখন পরীক্ষা কেন্দ্রে আসে তখন প্রায় দেড় ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষে এই সময় প্যাকেজিংও হয়ে যাওয়ার কথা। এই সময়ে পরীক্ষা নেয়া কতোটা সম্ভব ছিল এটাও একটা প্রশ্ন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার এহসানুল কবির বলেন, পরীক্ষার্থীদের জন্য যে নিয়ম আছে এটা তারা পালন করেছেন। তবে এই মেয়েটির পরিস্থিতির বিবেচনায় মানবিকতার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারতেন।

এদিকে, আনিসার বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা না নেয়া হলে তার হয়ে বিনা পারিশ্রমিকে আইনি লড়াই করতে প্রস্তুত আছেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস (কাজল)।

এই পরীক্ষার্থীকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জেরে বার্তা এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকেও। শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, সেই পরীক্ষার্থীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। এ বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার বলেন, মানবিক বিবেচনায় ওই শিক্ষার্থীর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধির আলোকে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার এ দুঃসময়ে আমরাও সমব্যথি। এ পরীক্ষার্থীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

mzamin

মুসলিমদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে নির্বাসন দিচ্ছে ভারত

কোনোরকম বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই শতশত ভারতীয়কে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন শত শত মানুষকে কোনোরকম বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এর নিন্দা জানিয়েছেন উচ্চ পর্যায়ের আইনজীবীরা। তারা বলেছেন এভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে মানুষ পাঠানো অবৈধ। যদিও নয়াদিল্লির দাবি বহিষ্কৃত লোকজন অবৈধ অভিবাসী। সম্প্রতি কথিত এমন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বেশ চড়াও হয়েছেন ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের প্রধান নরেন্দ্র মোদি। বিশেষ করে যারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী বাংলাদেশের কথিত অভিবাসী তাদের বিরুদ্ধে বেশ কঠোর দিল্লি। 

মোদি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতারাও এসব কথিত অভিবাসীদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের এই পদক্ষেপ প্রায় ২০ কোটি ভারতীয় মুসলমানের মধ্যে বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এরমধ্যে বাংলাভাষীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এখানে বলে রাখা ভালো ভারতের পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশে বাংলাভাষীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রবীণ ভারতীয় মানবাধিকার কর্মী হর্ষ মান্ডার বলেছেন, ভারত সরকারের এমন পদক্ষেপে দেশের পূর্বাঞ্চলের মুসলিমরা বেশ আতঙ্কিত। এর মাধ্যমে লাখ লাখ ভারতীয় মুসলিমকে উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে বর্তমান ভারত সরকার।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ সীমান্তই ভারত বেষ্টিত। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার পতন হওয়ায় ঢাকার-দিল্লি সম্পর্কের বরফ আরও শক্ত হয়েছে। এদিকে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নাগরিক নিহত হওয়ার পর অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করে দিল্লি সরকার। কেননা ২৪ এপ্রিলের ওই হামলায় নিহত বেশির ভাগই ছিল হিন্দু। ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে ৪ দিনের সংঘাত হয় এবং তাতে ৭০ জনের বেশি নিহত হন।

এদিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, মে মাসের শেষের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে যায়। যদিও তিনি ও তার পরিবার তাদের গোটা জীবন ভারতেই কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আমার পুরো জীবন এখানেই কাটিয়েছি। আমার বাবা-মা, দাদা-দাদিরাও এখানের বাসিন্দা। এরপরেও তাকে কেন জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। রহিমা বেগমের সঙ্গে আরও পাঁচজনকেও আটক করে সীমান্তে নিয়ে যায় পুলিশ। যাদের সকলেই মুসলমান। এদের সবাইকে জোর করে অন্ধকারে ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ। রহিমা বেগম এএফপিকে বলেন, পুলিশ আমাদের দূরের একটি গ্রাম দেখিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে সেদিকে যেতে বলেন। পাশাপাশি আমাদের দাঁড়িয়ে হাঁটতে নিষেধ করেন, যদি এমনটি করা হয় তাহলে পেছন থেকে গুলি করা বলে ভয় দেখান।

রহিমা বেগম আরও বলেন, একসময় তারা বাংলাদেশিদের হাতে ধরা পড়েন। তারা তাদেরকে বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষীদের কাছে হস্তান্তর করে। এদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করে রহিমা বলেন, তারা আমাদের ভারতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আমরা যখন সীমান্তে পৌঁছলাম তখন আমাদের লক্ষ্য করে অপর প্রান্ত (ভারত) থেকে গুলি করা হয়। আমরা ভেবেছিলাম এটাই হয়ত আমাদের শেষ দিন, আর হয়ত বাঁচব না। তবে অলৌকিকভাবে রহিমা বেঁচে গেলেন। পরে তাকে চুপ থাকার শর্তে আসামে ফিরে যেতে দেয়া হয়েছে।

এভাবে জোরপূর্বক অন্য দেশে ঠেলে পাঠানোর কড়া সমালোচনা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলেছেন এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। নয়াদিল্লি ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী সঞ্জয় হেগদে বলেন, অন্য কোনো দেশ গ্রহণ করার আগ পর্যন্ত আপনি কাউকে সে দেশে ঠেলে পাঠাতে পারবেন না। এটা আইন বহির্র্ভূত। ভারতের আইন এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেনা। বাংলাদেশ জানিয়েছে গত মে থেকে এভাবে অন্তত ১৬০০ ভারতীয়কে সীমান্তে ঠেলে দিয়েছে দিল্লি। তবে এই সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওই সংখ্যা প্রায় ২৫০০। 

mzamin

এ বিজয় আমেরিকার মুখে শক্তিশালী চপেটাঘাত -খামেনি

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। যুদ্ধে জয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে খামেনি বলেন, আমাদের বিজয় আমেরিকার মুখে কঠিন চপেটাঘাত। ইহুদিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জয়ে আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। ইরানের জনগণের ঐক্যের প্রশংসা করেন খামেনি। বলেন, ৯ কোটি জনসংখ্যার একটি জাতি সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছে। ইরান দেখিয়েছে প্রয়োজনে এই জাতির পক্ষ থেকে একটি কণ্ঠস্বর শোনা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করে খামেনি বলেন, এখন ইরানিদের আমেরিকান আধিপত্যের বিরুদ্ধে জয় উদ্‌যাপনের সময়। যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। কেননা, তারা বুঝতে পেরেছে যদি তারা না আসে তাহলে ইহুদিবাদীরা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। এমন এক সময় জাতির উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তা দিলেন তিনি যখন তাকে নিয়ে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে নানা কথা চাউর হতে থাকে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে তার ভিডিও বার্তা রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রকে ফের হুঁশিয়ারি দেন খামেনি। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানে হামলা চালানোর সাহস দেখায় তাহলে মার্কিন ঘাঁটিতে আবারও পাল্টা হামলা চালানো হবে। খামেনি আরও বলেন, বিষয় হলো, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে ইরানের অ্যাক্সেস রয়েছে। যখন প্রয়োজন হবে ইরান তখনই এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এটি ছোট কোনো ঘটনা নয়। এটি বড় ঘটনা। যদি ভবিষ্যতে কোনো হামলা হয় তাহলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই অর্জন করতে পারেনি বলেও উল্লেখ করেন খামেনি। খামেনি বলেন, যা ঘটেছে তা অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এটা স্পষ্ট যে, তাকে এটা বাধ্য হয়েই করতে হয়েছে। খামেনি আরও বলেন, যারা শুনেছেন তারা বলতে পারবেন যে, আমেরিকা সত্যকে বিকৃত করে অতিরিক্ত তথ্য দিচ্ছে। এ ছাড়া কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলাকে খাটো করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন খামেনি। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভিডিও বার্তায় খামেনি আরও বলেন, ইরানের শব্দভাণ্ডারে আত্মসমর্পণ নামক কোনো শব্দ নেই। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের কথা বলেছিলেন, তবে ইরানের মতো বৃহৎ দেশ এবং জাতির জন্য আত্মসমর্পণের আহ্বান অপমানের। তিনি আরও বলেন যে, ডনাল্ড ট্রাম্প দুর্ঘটনাক্রমে একটি সত্য প্রকাশ করেছেন, তা হলো আমেরিকানরা শুরু থেকেই ইরানবিরোধী। মার্কিন বিমান হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ছিল না বলেও উল্লেখ করেছেন খামেনি। বলেছেন, ইরানকে আত্মসমর্পণ করানোই ছিল তাদের লক্ষ্য। তারা একদিন মানবাধিকার, অন্যদিন নারীর অধিকার এবং সর্বশেষ পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইস্যু বানিয়েছে। এসবের পেছনে একটাই উদ্দেশ্য, সেটা হলো যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান আত্মসমর্পণ করুক। 
mzamin

গাজার উত্তরাঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করেছে ইসরাইল: আরও ৭০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা

গাজার উত্তরাঞ্চলে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ করেছে ইসরাইল। এর আগে হামাসের বিরুদ্ধে ত্রাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগ করে তেল আবিব। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের সঙ্গে বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে দুই দিনের মধ্যে একটি পরিকল্পনা উত্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে হামাস ত্রাণ সামগ্রীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়েছে, ইসরাইলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনকার সাংবাদিকদের বলেছেন, গাজায় দক্ষিণ দিক দিয়ে ত্রাণ প্রবেশ অব্যাহত আছে। তবে উত্তরে ত্রাণ প্রবেশের বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি। গাজার দক্ষিণাঞ্চল ও কেন্দ্রস্থলে ত্রাণ সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত ত্রাণ বিতরণ সংস্থা গাজা হিউম্যানটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শুধুমাত্র তাদেরকেই গাজায় খাদ্য বিতরণের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, দুই দশক ধরে গাজার নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে থাকলেও দুই বছরের যুদ্ধে উপত্যকাটির অল্পকিছু অংশ সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণে আছে। ফিলিস্তিনের বেসরকারি সংগঠনগুলোর জন্য ছায়া সংস্থার পরিচালক আহমেদ আল-শাওয়া বলেছেন, উপত্যকাটিতে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র সংকট বিদ্যমান। ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোর কাছে সবসময় ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়।

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করলো ইসরাইল
একদিনে আরও ৭০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, চার সপ্তাহে ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫৪৯ জন। আহত আরও ৪ হাজার ৬৬ জন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৫৬ হাজার ২৫৯ জন। আহত ১ লাখ ৩২ হাজা ৪৫৮ জন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা করে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। এতে প্রাণ হারায় ১ হাজার ১৩৯ ইসরাইলি। হামাস জিম্মি করে কমপক্ষে ২০০ জনকে। এদিকে গাজার দক্ষিণাঞ্চলে আল মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবুতে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে এক ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ও তার ভাতিজি নিহত হয়েছেন।

mzamin

বইপত্র- বাংলাদেশি নারীর লাতিন আমেরিকা ভ্রমণবৃত্তান্ত by লোকমান হোসাইন

আজ থেকে ১০০ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গিয়েছিলেন আর্জেন্টিনায়। সেখানে তিনি আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন আর্জেন্টাইন কবি ও মানবাধিকারকর্মী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর। দুজনের মধ্যে গড়ে উঠেছিল হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত সেসব জায়গায় ছুটে গিয়েছেন এক বাংলাদেশি নারী। খুঁজে ফিরেছেন বাঙালি এই কবির স্মৃতিচিহ্ন। কান পেতে যেন শোনার চেষ্টা করেছেন দুই কিংবদন্তির সম্পর্কের আদ্যোপান্ত। বলছিলাম লেখক মহুয়া রউফের ভ্রমণ বই লাতিনের নাটাই–এর ‘প্লাতা সব জানে’ গল্পটির কথা।

মূলত দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে এই বইয়ে। লেখক জানাচ্ছেন, কিশোর বয়সেই লাতিন আমেরিকান সভ্যতা, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন তিনি। কথোপকথন ও গল্পের ঢঙে লেখা ভ্রমণ গল্পগুলোতে লেখক নিজের দেখা বর্তমানের লাতিন আমেরিকার সমান্তরালে এ অঞ্চলের বিচিত্র ভূগোল, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম, সভ্যতা ও ইতিহাসের নানা বিষয় তুলে এনেছেন। বইয়ের সর্বত্রই স্বদেশকে কেন্দ্রে রেখে এই সব দেশ, সমাজ ও রাজনীতি সম্পর্কে লেখকের একধরনের তুলনামনস্কতা চোখে পড়ে।

বইয়ের ‘ভ্রমণের ভগবান’ গল্পে লেখক আর্জেন্টিনা ছেড়ে পাড়ি দিয়েছেন বলিভিয়ায়। এই ভ্রমণের ভগবান আর কেউ নয়—স্বয়ং চে গুয়েভারা! তিনি ঘুরে ঘুরে চের স্মৃতিধন্য প্রতিটি জায়গা পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন—কোথায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, কোথায় গোপনে কবর দেওয়া হয়েছিল—সবকিছু। এ জন্য তাঁকে বলিভিয়ার দুর্গম লাইগেরা ভ্রমণ করতে হয়েছিল। একজন নারী, নিজের প্রাণ ও অচেনা পুরুষের ভয়কে তুচ্ছ করে পাহাড়ি বিপৎসংকুল পথে, রাত্রিকালীন, অনিরাপদ যাত্রা করেন অচেনা ড্রাইভারকে সঙ্গী করে লাইগেরার উদ্দেশে। এ যাত্রা তাই নিছক ভ্রমণ নয়, তীর্থযাত্রা।

দক্ষিণ-পশ্চিম বলিভিয়ার আন্দিজ পর্বতমালার কাছে অবস্থিত ‘সালার দে উইউনি’ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে ‘নুনের মতো ভালোবাসি’ গল্পে। এখানে চারদিকে বিস্তীর্ণ ধু ধু লবণের মরুভূমি দেখার দারুণ এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন লেখক।

বলিভিয়া থেকে লেখকের পরের গন্তব্য চিলি। সেখানকার দুই বিখ্যাত কবি ভিক্তর হারা ও পাবলো নেরুদা। সাম্যবাদী কবি ও সংগীতজ্ঞ ভিক্তর হারা সামরিক স্বৈরশাসকের হাতে নিহত হন। তাঁর স্মৃতিময় জায়গা দেখার অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে ‘ভিক্তর হারার শেষ কবিতা—এস্তাদিও চিলি’ অংশে। আর সান্তিয়াগোতে পাবলো নেরুদার বাড়ি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা হয়েছে ‘নেরুদা, বাড়ি আছ’ অংশটি। লেখক জানাচ্ছেন, নেরুদা বাড়ির নামকরণ করেছেন তৃতীয় স্ত্রীর চুলের নামানুসারে—‘লা চাসকোনা’ যার অর্থ কোঁকড়ানো চুল!

উত্তর চিলিতে অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক মরুভূমি আতাকামা। আতাকামা দেখতে গিয়ে লেখক বৈরী আবহাওয়ার সম্মুখীন হন। সেই প্রতিকূলতার বর্ণনা রয়েছে ‘আটকা পড়েছি আতাকামায়’ ভ্রমণগল্পে ‘সেনোরিতা’ ও ‘সভ্যতায় বেঁধেছি প্রাণ’ গল্প দুটি পেরুর ইনকাদের সমৃদ্ধ সভ্যতার গল্প। ৫০০ বছর আগে ইনকা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল পেরুর আন্দিজ পর্বতকে কেন্দ্র করে। লেখক ইনকাদের বয়নশিল্পের রঙিন ইতিহাস, তাদের বিস্ময়কর স্থাপত্যশৈলী, অনন্য কৃষিপ্রযুক্তির নানা বিষয় জানিয়েছেন এখানে।

‘কৃষ্ণ গেছেন রিও’ গল্পটি ব্রাজিলের কর্কোভাডো পর্বতে প্রসারিত বাহুতে সফেদ যিশুখ্রিষ্টের মূর্তি দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে। আবার মেক্সিকোর চিচেন ইতজায় ভ্রমণের বৃত্তান্ত স্থান পেয়েছে ‘চিচেন ইতজা: বিস্ময় এক’ গল্পে। এখানে মায়াসভ্যতার বিস্ময়কর নিদর্শন পিরামিড ও তাঁদের আবিষ্কৃত বর্ষপঞ্জি দেখার অভিজ্ঞতা যেমন উঠে এসেছে, তেমনি এই সভ্যতার পৈশাচিকতার নিদর্শন ‘বল কোর্টে’র বর্বরতার কাহিনিও তুলে ধরেছেন লেখক। ক্যারিবিয়ান সাগরের তীরবর্তী মধ্য আমেরিকার দেশ নিকারাগুয়া ভ্রমণের বর্ণনা আছে ‘ওলা নিকারাগুয়া’, ‘দূরদেশের বড়দিন’, ‘আগুন পাহাড়’—এই তিন গল্পজুড়ে। এসব গল্পে আছে হ্রদ ও আগ্নেয়গিরির দেশ নিকারাগুয়ার বৃষ্টিবন, জলপ্রপাত, মুগ্ধতা ছড়ানো ফুলের শহর মাসায়ার শরৎ কার্নিভ্যাল আর সেরো নেগ্রো’ সামিটে গিয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির অভিজ্ঞতার কথা।

এক বাংলাদেশি লেখকের লাতিন আমেরিকা ভ্রমণের বৃত্তান্ত জানার সমান্তরালে এই ভ্রমণ বইয়ের ঝরঝরে গদ্য ও ছবি পাঠককে নিয়ে যাবে এই অঞ্চলের ইতিহাস–ঐতিহ্যের কাছে, তা সহজেই বলা যায়।

লাতিনের নাটাই

মহুয়া রউফ

প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন

প্রচ্ছদ: মাসুক হেলাল

মূল্য: ৩৪০ টাকা; পৃষ্ঠা: ১৬০

প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৫

বাংলাদেশি নারীর লাতিন আমেরিকা ভ্রমণবৃত্তান্ত

বাংলাদেশের একটি বড় ভুল

গণঅভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। যেই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের সেই অভ্যুত্থানে এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান, আহত হন অনেক।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতে পালিয়ে যাওয়ার  পরেই, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেলজয়ী বাংলাদেশি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সরকার শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করে। যেগুলো বহু বছরের দুর্নীতিপরায়ণ শাসনে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ১১ মাস পার হলেও পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। রাজনৈতিক বিক্ষোভ চলছেই। অনেক রাজনীতিবিদ প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। তারা সমঝোতার পথে হাঁটতে অনিচ্ছুক। অন্যদিকে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ।
মার্কিন সহায়তা হ্রাস ও শুল্ক আরোপ বাংলাদেশের উন্নয়নকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আর দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও সংকটে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ১৭ কোটি ৪০ লাখ মানুষের এই দেশ কি নতুন সুযোগটিও নষ্ট করে ফেলবে?

মুহাম্মদ ইউনূস জোর দিয়ে বলেছেন, তার পরিকল্পনা সঠিক পথেই আছে। সম্প্রতি দ্য ইকোনমিস্ট-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ৮৪ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, বাংলাদেশিরা যে গভীর সংস্কারের প্রত্যাশা করছে, তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। তবে অন্তত অর্থনীতির ক্ষেত্রে তার সরকারের পক্ষে ভালো খবর রয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ধারণা করছে, জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। এটা খুব চমকপ্রদ না হলেও গত বছরের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ভালো। প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবাহ রয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, এছাড়া বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার  শেষ বছরের জুলাইয়ের প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে এ বছরের মে মাসে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। সরকার ব্যাংক খাত থেকে অপরিশোধিত ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আগের সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে।

এসব ইতিবাচক অগ্রগতির ফলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)- উভয়েই কয়েক বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের চন্দন সাপকোটার মতে, এখন পর্যন্ত সরকারের সংস্কার কার্যক্রমগুলো  ‘সহজলভ্য ফলাফলের’ ওপর সীমাবদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ এখনও প্রধানত পোশাক রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। তবে অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং যুবসমাজের জন্য এখনও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না বাংলাদেশ। বিশেষ করে এখন মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের কারণে এসব সমস্যা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিতে অগ্রগতির কারণে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা পেলেও, সরকারের বৈদেশিক নীতি নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সকলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। মার্চে চীন সফর করেন তিনি। সেটি ছিল তার প্রথম বৃহৎ কোনো দ্বিপক্ষীয় সফর। সেখানে তিনি কিছু চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সম্ভবত চীনের জে১০সি ও জেএফ১৭ মডেলের যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি এসব বিমান ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। ১৯ জুন প্রথম ত্রিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয় চীন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।

এ সব ঘটনা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল ভারত। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয়ে আছেন। যদিও বাংলাদেশ এসব বিষয় তেমন পাত্তা দিচ্ছে না। গত বছরের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ মানুষ চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। আর ভারতকে পছন্দ করা মানুষের সংখ্যা মাত্র ১১ শতাংশ। তবে বৃহদাকার কোনো প্রতিবেশী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ঝুঁকি রয়েছে। এপ্রিলে একটি ট্রান্স-শিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছে ভারত । এর আগে বাংলাদেশি পণ্য বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতীয় বিমানবন্দর ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন সে সুযোগ নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় আগের তুলনায় বাড়বে।

চীনমুখী সম্পর্ক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সহায়তা কমানোর আগে সুবিধাভোগী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশ। যেই সহায়তার বেশির ভাগ অংশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ব্যবহার করা হতো।  এছাড়া  বাংলাদেশি পণ্যের সর্ববৃহৎ বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মাসে বাংলাদেশ বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেছে, কারণ তারা ৯ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক এড়ানোর চেষ্টা করছে।

তবুও বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কত দ্রুত দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং সেই অর্জন কতদিন স্থায়ী হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইঙ্গিত দিয়েছেন ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে। তার আগে তিনি চান রাজনীতিবিদরা ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করবেন, যা নির্বাচনের মূলনীতি নির্ধারণ করবে এবং জয়ী দলের প্রয়োজনীয় সংস্কারের তালিকা ঠিক করবে। তবে রাজনীতিবিদরা ঠিক কোন শর্ত এই সনদে যুক্ত করতে রাজি হবে তা এখনো অস্পষ্ট।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত দলের সংখ্যা প্রায় ১৫০টি। যা আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। নতুন দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)। এটি ছাত্র নেতৃত্বাধীন দল, যা গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার নতুন রাজনৈতিক প্রজন্ম গড়ে তোলায় আগ্রহী। তাই এটি একটি আশা জাগানো সংবাদ। তবে সমস্যা হলো, এসব ছোট দলগুলো সম্ভবত খুব ভালো ফল করতে পারবে না।

একটি জরিপে দেখা গেছে, যারা ইতিমধ্যে ভোট দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেবে। পুরনো দলগুলো অনেক ভালো অবস্থানে আছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সিদ্ধান্ত নেয়া ভোটারদের ৪২ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছে। ইসলামী দল জামায়াত-ই-ইসলামি ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে।  উদারপন্থিরা আশঙ্কা করে ইসলামপন্থীরা ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের প্রাধান্য দেবে। আর বিএনপির ব্যাপারে অনেক বাংলাদেশি মনে করে এটি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মতোই দূর্নীতিগ্রস্ত।

সেই দল—আওয়ামী লীগ—এবার নির্বাচনে অংশ নেবে না। অন্যান্য দলগুলোর দীর্ঘ মাসব্যাপী চাপের পর, অন্তর্বর্তী সরকার মে মাসে ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ কারণ দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করে। তাত্ত্বিকভাবে বিচারকার্য শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে বিষয় হচ্ছে এই আইনি লড়াই অনেক সময় ধরে চলতে পারে। এক্ষেত্রে ঝুঁকি হচ্ছে- বহু ভোটার মনে করতে পারেন এমন সিদ্ধান্ত তাদের ভোটাধিকারের সুযোগ সীমিত করেছে।

আশ্চর্যজনকভাবে এখনও আওয়ামী লীগের কিছুটা জনপ্রিয়তা রয়ে গেছে। জরিপের তথ্যমতে, অন্তত ১৪ শতাংশ ভোটারের পছন্দের তালিকায় আওয়ামী লীগ শীর্ষে আছে। আওয়ামী লীগের এক নেতা মোহাম্মদ আরাফাত জোর দিয়ে বলেন, দেশের অর্ধেক মানুষ এখনও তার দলের প্রতি সহানুভূতিশীল।

আওয়ামী লীগের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পুলিশি হেফাজতে  দলটির অন্তত ২৪ জন নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ আওয়ামী সমর্থকদের লক্ষ করে হামলা করার অভিযোগ করেছে, যা আগের সরকারের ‘রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমন নীতিরই প্রতিচ্ছবি’ বলেও উল্লেখ করেছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের আইনবিদ আখতার খান বলেন, টেকসই পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশের সবাইকে একসঙ্গে আনা প্রয়োজন, সাজা দেয়ার মাধ্যমে নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের  ‘নেলসন ম্যান্ডেলা মুহূর্তের’ অত্যন্ত প্রয়োজন।

সূত্র- দ্য ইকোনমিস্ট

mzamin
ছবিটি দ্য ইকোনমিস্টের উক্ত আর্টিকেল থেকে নেয়া