Tuesday, January 18, 2011

মূল লেনদেন ব্যবস্থায় ফিরছে ১০ কোম্পানি

দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওটিসি (ওভার দ্য কাউন্টার) নামের আলাদা লেনদেন ব্যবস্থা থেকে মূল লেনদেন ব্যবস্থায় ফিরছে তালিকাভুক্ত ১০ কোম্পানি। আগামী রোববার (২৩ জানুয়ারি) থেকে এসব কোম্পানির শেয়ার মূল বাজার বা নিয়মিত লেনদেন ব্যবস্থায় ফিরবে।
গতকাল রোববার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে।
কোম্পানিগুলো হলো: বাংলাদেশ সার্ভিসেস, সমতা লেদার, আনলিমা ইয়ার্ন, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, মডার্ন ডায়িং, ঝিল বাংলা, শ্যামপুর সুগার মিলস, রেনউইক যোগেশ্বর, নর্দান জুট ও ওরিয়ন ইনফিউশন।
এসইসির আদেশে বলা হয়, কোম্পানিগুলো এরই মধ্যে ডিম্যাট-প্রক্রিয়া (কাগুজে শেয়ার থেকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর) সম্পন্ন করায় ফের সেগুলোকে মূল লেনদেন ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসইসির বেঁধে দেওয়া সময়ে ডিম্যাট-প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তালিকাভুক্ত ২৫ কোম্পানিকে মূল বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করে ১ অক্টোবর থেকে ওটিসি বাজারে পাঠানো হয়। ওই ২৫ কোম্পানির মধ্যে উল্লিখিত ১০ কোম্পানিও ছিল।
এসইসির এই উদ্যোগের ফলে গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে ডিএসইর মূল বাজার কাগুজে শেয়ারমুক্ত হয়।
এর আগে ২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে ওটিসি নামের বিকল্প বাজার চালু করা হয়। দুর্বল মৌলভিত্তি ও মন্দ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের জন্যই এটি চালু হয়। ওই বাজার চালু হওয়ার পর ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর এসইসি প্রথমে ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত ৫১টি কোম্পানিকে মূল বাজার থেকে তালিকাচ্যুত করে লেনদেনের জন্য ওটিসি বাজারে পাঠায়। এরপর ২০১০ সালে দুই দফায় মোট ২৯ কোম্পানিকে ওটিসিতে পাঠানো হয়। সব মিলিয়ে ওটিসি বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০টি।
পরবর্তী সময়ে বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) মামলা-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ায় সেটি মূল বাজারে ফিরে আসে। এতে ওটিসি বাজারে কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৯টি। সর্বশেষ গতকাল আরও ১০ কোম্পানিকে মূল বাজারে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এসইসি। এই সিদ্ধান্ত আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।
এই ১০ কোম্পানি মূল বাজারে ফিরে এলে ওটিসিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৬৯টিতে।
কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসইসি ২০০৪ সালে ইলেকট্রনিক শেয়ার লেনদেন ব্যবস্থা চালু করে।

আইসিবিকে ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার

দেশের শেয়ারবাজারে গতকাল রোববার আবারও ধসের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আর্থিক খাতের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তৎপরতায় সেই শঙ্কা কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে। কিন্তু মূল্যসূচকের পতন ঠেকানো যায়নি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেনের প্রথম থেকেই সূচক কমতে শুরু করে। বেলা দেড়টার মধ্যে সূচক ৩১২ পয়েন্ট পড়ে যায়। এ অবস্থায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আরেকটি ধসের আতঙ্ক ভর করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক শেয়ার কেনা শুরু করে। এতে সূচক আবার বাড়তে থাকে। অবশ্য দিনশেষে সাধারণ মূল্যসূচক ১৪১ পয়েন্ট কমে সাত হাজার ৪৩৫ পয়েন্টে নেমে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইসিবি গতকাল ১৫৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। এর মধ্যে ১২৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনা হয় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব এবং ইউনিট ফান্ড ও মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ কোষ বা পোর্টফোলিতে।
প্রতিষ্ঠানটির তিনটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের পোর্টফোলিওতে কেনা হয়েছে ১৬ কোটি টাকার শেয়ার। আর আইসিবির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা ১৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে।
এ ছাড়া সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক আইসিবি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে পৃথকভাবে ৭৬ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে।
সব মিলিয়ে আইসিবির মাধ্যমে ২৩৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনা হয়েছে। তার মানে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২১ শতাংশই করেছে আইসিবি। ডিএসইতে গতকাল এক হাজার ১৬৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আইসিবিকে ২০০ কোটি টাকা জোগান দিয়েছে। গতকালের ধস ঠেকাতে এ টাকা কাজে লাগানো হয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে আইসিবির মহাব্যবস্থাপক ইফতেখার-উজ-জামান এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সমর্থন দিতে আইসিবি প্রস্তুত রয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বর্তমান বাজারের দুটি প্রধান সমস্যা হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও তারল্য-সংকট। বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে পুঁজিবাজারে তারল্য-সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাজারে একের পর এক বড় ধরনের সূচক পতনের ঘটনা ঘটতে থাকে। এতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমতে শুরু করে।
শেষ পর্যন্ত গত সোমবার বাজারে বড় ধরনের ধস হলে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে তারল্য বাড়াতে কয়েকটি নীতি শিথিল করার ঘোষণা দেয়। এতে আশ্বস্ত হয়ে পরের দিন বিনিয়োগকারীরা অতি প্রতিক্রিয়া দেখায়। ফলে ওই দিন দেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ সূচক বাড়ে। কিন্তু এর পরপরই বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারেন, বাজারে তারল্য পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি ঘটেনি। তাই বাজার আবার কমতে শুরু করে।
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে ফোন করে বিক্রির চাপ না বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসইসির এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বাজারের এ পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মতো আচরণ করছে, যা খুবই দুঃখজনক। দরপতনের সময় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মিউচুয়াল ফান্ডের পোর্টফোলিওতে শেয়ার কেনার কথা। কিন্তু তারা সবাই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যেন তারা সবাই সর্বনিম্ন দরপতনের অপেক্ষা করছে।
এসইসির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝতে চাইছে না যে, অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারিয়ে গেলে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দাম স্থিতিশীল রাখতে বহুমুখী উদ্যোগ জরুরি-খাদ্যপণ্য পরিস্থিতি

বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম সামনের দিনগুলোতে বাড়বে—এমন পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। কারণ, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৬ শতাংশ খাদ্যপণ্য বাজারে কম আসবে। বিশ্বের অনেক দেশে এরই মধ্যে এর চাপ পড়তে শুরু করেছে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার দিকে থাকলেও বাংলাদেশ এখনো বড় চাপে পড়েনি। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রস্তুতি না নিতে পারলে সামনে বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে। আমরা সামগ্রিকভাবে আরও কিছু বিষয়ের প্রতি সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই।প্রথমেই বলা প্রয়োজন, খাদ্যসংকটের যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। ২০০৭-০৮-এর খাদ্যসংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে। যে পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এটা বোঝা যাচ্ছে যে এবারের এই সংকট দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় যেমন সংকট দেখা দিতে যাচ্ছে, তেমনই উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামনের দিনগুলোয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির যে প্রবণতা, তাতে সামনের দিনগুলোতে দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত তেলের দাম বাড়ার প্রভাব খাদ্যপণ্যের ওপর পড়ে মাস ছয়েক পর। তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সার ও সেচের সম্পর্ক থাকায় কৃষিপণ্যেরও দাম বেড়ে যায়। ফলে খাদ্যসংকট ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।বর্তমান বাস্তবতায় দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী তিন মাসের মধ্যে বহুমুখী তৎপরতা ও উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোথা থেকে কী খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করা যাবে, তা নিশ্চিত না করলে এবং সামনে দাম আরও বেড়ে গেলে বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়বে। সরকার ইতিমধ্যে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ সেরে ফেলেছে এবং অর্ধেক চাল দেশে চলেও এসেছে। ভারত থেকে পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির বিষয়টি তাদের নানা শর্তের কারণে ঝুলে আছে। এর বাইরে সরকার থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগগুলো জরুরি এবং এখনই সামনে চাল আমদানির জন্য এই দেশগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কিছু চুক্তি করে রাখা উচিত।এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে পাশের দেশ ভারত থেকে চাল আমদানি দাম বা পরিবহন যেকোনো বিবেচনায়ই সাশ্রয়ী। ভারত থেকে আনা গেলে সবচেয়ে ভালো, কিন্তু দেশটির নানা শর্ত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ভারতীয় চালের ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সুযোগ নেই। বিকল্প সব সম্ভাবনা বিবেচনায় নিতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটও সক্রিয় হয়ে ওঠে, বাজার থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে। এই বিষয়গুলোও সরকারের বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের বেসরকারি খাত খুব স্বাভাবিক কারণেই চাল ও গমের মতো খাদ্যপণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। সরকারের খাদ্য মজুদের ক্ষমতা বা দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, শুধু সরকারের পক্ষে চাল বা খাদ্যপণ্য আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বেসরকারি খাতকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা সে কারণেই জরুরি। কীভাবে এই প্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে সরকার আমদানিকারকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করতে পারে। রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্য দেশের সঙ্গে খাদ্যপণ্য আমদানির সমঝোতার ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের জন্যও কোটা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।আমরা আশা করব, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এগোবে। এ ক্ষেত্রে দেরি করার কোনো সুযোগ নেই।

সোমালীয় জলদস্যুর কবলে এবার দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ

সোমালীয় জলদস্যুরা এবার দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ছিনতাই করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে গত শনিবার এ কথা জানানো হয়েছে।সামহো জুয়েলারি নামের রাসায়নিক পণ্যবাহী ওই জাহাজটি শ্রীলঙ্কা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছিল। জাহাজটি আরব সাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

তেলের ব্যারেল ১০০ ডলার ছুঁই ছুঁই

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের মূল্য ১০০ ডলার ছুঁই ছুঁই করছে। গত শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ৯৯ ডলার ২০ সেন্ট মূল্যে বিক্রি হয়েছে। গত দুই বছরে এটাই তেলের সর্বোচ্চ মূল্য।বাজার বিশ্লেষক মাইকেল হিউসন জানান, সম্প্রতি যে হারে তেলের দাম বাড়ছে, তাতে শিগগিরই ব্যারেলপ্রতি তেলে দাম ১০০ ডলার ছুঁয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি ইউরোপজুড়ে তীব্র শীতের কারণে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ বলে মনে করছেন তিনি। এ ছাড়া ট্রান্স-আলাস্কান পাইপ লাইনে ছিদ্রের কারণে তা বন্ধ করে দেওয়ায় সপ্তাহজুড়ে অশোধিত তেলের জোগান কমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মজুদ-ঘাটতিও এ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।শুধু অপরিশোধিত তেলই নয়, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টা, কফি ও সয়াবিনের দাম রেকর্ড হারে বেড়েছে

ইরানের ভূখণ্ড দিয়ে আফগানিস্তানে তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা

ইরান তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে আফগানিস্তানে তেলবাহী ট্যাংকার অতিক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওই তেল আফগানিস্তানে যুদ্ধরত ন্যাটো বাহিনীকে সরবরাহ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাকতে পারে।ইরান-আফগান সীমান্তে প্রায় দুই হাজার তেলবাহী ট্যাংকার আটকে আছে। আফগানিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের এই সিদ্ধান্তের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এতে জনগণ আরও দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।তবে ন্যাটো জোর দিয়ে বলেছে, ইরানের ভেতর দিয়ে যেসব জ্বালানি আসে, তা তারা ব্যবহার করে না। আর ইরানের ওই সিদ্ধান্ত তাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। আফগানিস্তানের উপ-বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ইরান গত ডিসেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো জ্বালানি তেলের ট্যাংকার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তিনি আরও বলেন, ইরানের ধারণা, এই তেল মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তানে অভিযানকালে ব্যবহার করে থাকে।

ইরানের পরমাণুু বোমা তৈরি রুখতে ইসরায়েলের কম্পিউটার ভাইরাস

ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা রুখতে একটি ভয়ংকর কম্পিউটার ভাইরাস তৈরি করেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা। স্টুক্সনেট নামের এই ভাইরাস ইরানের পরমাণু প্রকল্পের কম্পিউটারে আঘাত হেনে তাদের তথ্য ধ্বংস করে দেবে। নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছে।গোয়েন্দা ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, ইরানের কম্পিউটারে হামলা চালিয়ে ভাইরাসটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখেছে ইসরায়েল। গত নভেম্বরে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের পঞ্চম সেন্ট্রিফিউজটি বন্ধের পেছনে ওই ভাইরাসের আক্রমণই দায়ী বলে দৃশ্যত মনে হচ্ছে। এতে করে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনে ইরানের বিলম্ব হবে।ইসরায়েলের নেগাভ মরুভূমিতে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রকল্প নেগাভ পরমাণু গবেষণাকেন্দ্রে স্টুক্সনেট ভাইরাসের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্টুক্সনেট ভাইরাস সৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি যৌথ প্রকল্প। আর এ কাজে সহযোগিতা করছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানি।গত নভেম্বরে ইরানের কম্পিউটারে আঘাত হানে স্টুক্সনেট ভাইরাস। এর পেছনে ইসরায়েলের হাত ছিল বলে সবাই অনুমান করে। এ ছাড়া নভেম্বর ও জানুয়ারিতে ইরানের দুই পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। এ জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে।
ইরান সম্প্রতি জানিয়েছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।

ইসরায়েলের আরও বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে একটি বড় ধরনের নির্মাণ-প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় কমপক্ষে এক হাজার ৪০০ বাড়ি নির্মাণ করা হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বেতারে গতকাল রোববার এ খবর প্রকাশ করা হয়।বেথলেহেমের কাছে গিলোতে এই বসতি গড়ে করা হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকার পরিকল্পনা কমিশন এই বসতি নির্মাণের ব্যাপারে কয়েক দিনের মধ্যে অনুমতি দেবে। ওই বেতারে পৌর কাউন্সিলররা এই প্রকল্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপনের কারণে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে। এ ব্যাপারে জেরুজালেম শহরের কাউন্সিলর মিয়ার মারগালিত বলেন, এই বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, বসতি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হলে ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি-প্রক্রিয়া ভেঙে যাবে।

স্বাধীনতার পক্ষে দক্ষিণ সুদানে ব্যাপক সাড়া

স্বাধীনতার পক্ষে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দারা। গত শনিবার সরকারিভাবে ঘোষিত একটি কেন্দ্রের ফলাফল থেকে এ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে ৬৪০ জন ভোটারের ৯৭ শতাংশই স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন। এদিকে সুদানের ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা বলেছেন, গণভোটে দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দারা স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিলে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির তা মেনে নেবেন। গত সপ্তাহের গণভোটের সময় ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার পরিচয় দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সুদানের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মুসলিম অধ্যুষিত উত্তর সুদান ও খ্রিষ্টান অধ্যুষিত দক্ষিণ সুদানের মধ্যে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে চলা সংঘাত অবসানের জন্য গত সপ্তাহে দক্ষিণ সুদানে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। গত শনিবার একটি কেন্দ্রের সরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। দক্ষিণ সুদানের ওই কেন্দ্রের নির্বাচনী কর্মকর্তা ফেডরিকো ভুনি ফলাফল ঘোষণার সময় বলেন, এ কেন্দ্রের ভোটাররা স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তিনি জানান, তাঁর কেন্দ্রে কোনো ভোট বাতিল হয়নি। একটি ব্যালটে কোনো সিল ছিল না। ১৩ জন ভোটার ঐক্যবদ্ধ সুদানের পক্ষে রায় দিয়েছেন। স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৬২৬ জন ভোটার।
গত শুক্রবার শেষ হওয়া সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত এ গণভোটের চূড়ান্ত ফল জানা যাবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। তবে ভোট নিয়ে কোনো ওজর-আপত্তি করা হলে ফল ঘোষণা করা হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। ফল স্বাধীনতার পক্ষে এলে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে আগামী ৯ জুলাই। ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুদানের জাতীয় সংগীত ও পতাকা ঠিক করা হয়ে গেছে। তবে স্বাধীন দেশ হিসেবে দক্ষিণ সুদানের নাম কী হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।
এদিকে সুদানের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির নেতা রাবি আবদুল আতি শনিবার বলেছেন, গণভোটে দক্ষিণ সুদানের পক্ষ থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া বা একসঙ্গে থাকার—যে রায়ই আসুক না কেন, তাদের দল তা মেনে নেবে। প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের দল গণভোটের যেকোনো ফলাফলকে মেনে নিতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, গণভোট শুরুর আগে প্রেসিডেন্ট বশির দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা সফর করেন। সে সময় তিনি গণভোটের ফল মেনে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। দক্ষিণ সুদানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘সুদান ভাগ হয়ে গেলে ব্যক্তিগতভাবে আমি খুব কষ্ট পাব। তবে আমরা যদি শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করতে পারি, সেটিও হবে আমার জন্য আনন্দের বিষয়।’
নুবায় বিক্ষোভ: উত্তর সুদানের নুবা পার্বত্য এলাকার বাসিন্দারা অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ করেছে। এ এলাকাটি উত্তর সুদানের অন্তর্ভুক্ত হলেও একসময় এটি ছিল দক্ষিণ সুদানের সশস্ত্র বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি।
গণভোটের ফলাফল গণনা শুরু হওয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সুদানের সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে গণভোট অনুষ্ঠান সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্য জানান।

ব্রিটিশ অভিনেত্রী সুজানা ইয়র্ক মারা গেছেন

ব্রিটিশ অভিনেত্রী সুজানা ইয়র্ক মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও থিয়েটারের খ্যাতিমান এই তারকা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন। তাঁর ছেলে অরল্যান্দো ওয়েলস এ তথ্য জানিয়েছেন।
সুসানা ইয়র্ক ষাটের দশকে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু করেন। এরপর থেকে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও থিয়েটারে তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য জনপ্রিয়তা লাভ করেন। সেই সঙ্গে ছিনিয়ে নেন একাধিক গৌরবময় পুরস্কার।
দে সুট হরসেস, ডোন্ট দে? চলচ্চিত্রে পার্শ্ব-অভিনেত্রীর ভূমিকায় অসাধারণ অভিনয়ের জন্য অস্কারে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। একই চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি অব ফিলম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (বাফটা) পুরস্কার ছিনিয়ে নেন। টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অরল্যান্দো বলেন, তাঁর মা ছিলেন অত্যন্ত চমৎকার মানুষ। স্বভাবে অনেকটা ঘুরকোনো ছিলেন তিনি। ছুটির দিনের রোস্ট রান্না করতে ভালো বাসতেন। শীতের বিকেলগুলোয় আগুনের পাশে বসে সময় কাটাতেও ভালোবাসতেন তিনি। মায়ের জন্য গর্ববোধ করেন অরল্যান্দো। এমন একজন মা পেয়ে অরল্যান্দো ও তাঁর বোন সাশা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন।

কংগ্রেস-তৃণমূল আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আগামী মে মাসে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে নির্বাচন এপ্র্রিলে এগিয়ে আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত শনিবার আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেসের নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলোচনা শুরু করেছেন। শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরের সেরিমনিয়াল লাউঞ্জে প্রণব মুখোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ লক্ষ্যে বৈঠকে বসেন। দুই নেতা বৈঠকের ব্যাপারে কোনো কথা না বললেও তাঁদের ঘনিষ্ঠ সূত্র সাংবাদিকদের জানায়, তিন-চারটি বিষয় নিয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। শিগগির আবার দুজন আলোচনায় বসবেন। যেকোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে দুই দলই মরিয়া বলে জানা গেছে। তাই রাজ্য নেতাদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনায় না গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গেই আলোচনা শুরু করেছেন। রাজ্য কংগ্রেসের একটা অংশ এখনো মনে করে, সম্মান বিসর্জন দিয়ে কোনো রকম সমঝোতায় যাওয়া ঠিক হবে না। আবার আর একটি অংশ মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বামদের হটানোর এই সুযোগ কাজে লাগাতে জোটে যাওয়াই উচিত।

তামিলদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব রাজাপক্ষের

শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু তামিল জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে।
গত শুক্রবার কলম্বোয় অবস্থিত রাজাপক্ষের সরকারি বাসভবনে বিদেশি সংবাদদাতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তামিল জাতিগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা মোচনে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিল টাইগারদের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দুই বছর পর রাজাপক্ষে এ প্রস্তাব দিলেন।রাজাপক্ষে বলেন, ‘কেন্দ্রের ক্ষমতা ভাগাভাগি করার জন্য আমি প্রস্তুত।’ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের চেয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতা ভাগাভাগি করাটা বেশি কার্যকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই তামিল জাতিগোষ্ঠীর রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্র হয়ে এ ব্যাপারে সমঝোতাপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’রাজাপক্ষে আরও বলেন, ‘আমি চাই না দেশটিতে আবার বিচ্ছিন্নতাবাদী যুদ্ধ শুরু হোক। দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের তামিল-অধ্যুষিত অঞ্চলে ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য ১৯৮৭ সালে যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, সেটিকে আরও যুগোপযোগী করার জন্য আমি প্রস্তুত।’১৯৮৭ সালের ওই পরিকল্পনায় তামিল-অধ্যুষিত এলাকায় আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হয়েছিল। সংবিধানের ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে ওই পরিকল্পনা নেওয়া হলেও আজও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।রাজাপক্ষে সংবিধানের ওই বিকেন্দ্রীকরণের ধারাটিকে আরও যুগোপযোগী করার আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেন, তিনি চান জাতীয় পার্লামেন্টে তামিলদের বড় ধরনের প্রতিনিধিত্ব থাকুক।

গেইলদের সঙ্গে রিচার্ডসন

আর্থিক ক্ষতি পোষাতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হলেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের জন্য ভালো হতো। কিন্তু ৫টি নয়, তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে আবারও শ্রীলঙ্কায় আসছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে হবে ৩১ জানুয়ারি। ৪ ও ৬ ফেব্রুয়ারি হবে বাকি দুটি।গত বছরের শেষ দিকে তিন টেস্ট ও পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় এসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বৃষ্টির কবলে পড়ে তিনটি টেস্টই দেখেছে ড্র। টানা বর্ষণে খেলা সম্ভব নয় বলে ওয়ানডে সিরিজটি স্থগিত রেখে দেশে ফিরে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাঁচের পরিবর্তে তিন—দুটি ওয়ানডে কম বটে; তবে বিশ্বকাপের কেবলই আগে বলে সিরিজটি শ্রীলঙ্কা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুই দলের কাছেই হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির দারুণ এক মঞ্চ।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি তো আছেই, শ্রীলঙ্কা সফরটি স্যামি-গেইলদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আসছে রিচি রিচার্ডসনকে ম্যানেজার হিসেবে পাওয়াতেও। সাবেক এই অধিনায়ককে পরশু দলের ম্যানেজার হিসেবে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট। ৮৬টি টেস্ট ও ২২৪টি ওয়ানডে খেলা রিচার্ডসন অবসর নেন ১৯৯৬ বিশ্বকাপের পরপরই।

গোল করে তেভেজ, না করেও দ্রগবা

গত মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৩৭ গোল করেছিলেন চেলসির দিদিয়ের দ্রগবা। ম্যানচেস্টার সিটির কার্লোস তেভেজও ভালোই করেছিলেন। তবে দ্রগবার মতো নয়। এবারও দ্রগবার শুরুটা দারুণ হলেও শেষ পর্যন্ত দুজন যেন উল্টো পথের যাত্রী! নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন দ্রগবা। তেভেজ আবির্ভূত স্বমহিমায়।পরশু উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ম্যান সিটির ৪-৩ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন তেভেজ। কিন্তু ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে চেলসির ২-০ গোলের জয়ে গোলহীনও থেকেছেন দ্রগবা। দুজনের দুই রকম দিন গেলেও একটা জায়গায় তেভেজ-দ্রগবার মিল। দুজনেই ভেসেছেন তাঁদের গুরুর প্রশংসায়। গোল না পেলেও দ্রগবার পারফরম্যান্সে খুশি চেলসি কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তেভেজের ওপর মানচিনির বিরক্তি একেবারেই উধাও, বরং আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারে মুগ্ধতা ক্রমেই বাড়ছে সিটি কোচের।দ্রগবার শুরুটা এবারও দুর্দান্তই হয়েছিল। লিগের প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্টব্রমের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। কিন্তু এর পরই আক্রান্ত হন ম্যালেরিয়ায়, যেটি কেড়ে নিয়ে যায় তাঁর দুর্দান্ত সেই ফর্মটাও। ওই হ্যাটট্রিকের পর ২২ ম্যাচে করতে পেরেছেন মাত্র ৬ গোল। অবস্থা এখন এমনই যে, দ্রগবার প্রথম একাদশে জায়গা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেছে। তবে ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্সে আশার আলো দেখছেন আনচেলত্তি, ‘দিদিয়ের ওর সেরা ফর্মের কাছাকাছি চলে এসেছে। গোল না করলেও ও দারুণ খেলেছে।’তেভেজের ব্যাপারটা ভালো খেলা না-খেলা নয়। হঠাৎ করে ম্যান সিটি ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েই সমর্থকদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত বদলে সমর্থকদের আবারও জয় করার মতো খেলাই খেলে যাচ্ছেন। তেভেজকে দেখে মানচিনির মুগ্ধতা তাই কমছেই না, ‘আমি ওকে নিয়ে ভীষণ খুশি। দারুণ দুটি গোল করেছে ও। বিশেষ করে প্রথম গোলটি তো ছিল অসাধারণ।’এই জোড়া গোলে ম্যানইউর বারবেতভের সঙ্গে যৌথভাবে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ (১৪) গোলদাতা এখন তেভেজ। আর ১২ ঘণ্টার জন্য হলেও সিটি উঠে গিয়েছিল পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। ওদিকে ওয়েস্টহামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে আছে আর্সেনালও। পয়েন্ট তালিকার তিনে থাকা দলটির জন্য সুখবর, ডাচ স্ট্রাইকার রবিন ফন পার্সির ফর্মে ফেরা। লিগের প্রথম ১৭ ম্যাচের ৭টি খেলে কোনো গোল পাননি। পরশু এক ম্যাচেই করলেন ২ গোল। ইংল্যান্ডে তেভেজ-ফন পার্সির মতো ইতালিতে জোড়া গোল পেয়েছেন স্যামুয়েল ইতোও। সঙ্গে স্টানকোভিচ ও মিলিতোর গোলে বোলোনিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইন্টার মিলান।

ধোনির জুয়ায় জিতল ভারত

আউট হওয়ার পর মাথা নিচু করে অনেকক্ষণ মূর্তির মতো বসে রইলেন ওয়েইন পারনেল। ১ রানের অভাবিত, অসাধারণ এক জয় পেয়ে তখন উৎসবে মেতেছে ভারতীয়রা। মধ্যমণি ৪ উইকেট নেওয়া মুনাফ প্যাটেল। আর শেষ ক্যাচটি নেওয়া যুবরাজ সিং তখন দৌড়ে প্রায় পুরো মাঠ চক্কর দিয়ে ফেলেছেন! যাঁর ৪ উইকেট দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দিয়েছিল টানা দ্বিতীয় জয়ের সুযোগ, সেই লোনওয়াবো সতসোবে তখন শূন্যদৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে।২ উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ৪ রান। বল বাকি তখনো ৪৮টি। ৪৩তম ওভারেই খেলা শেষ করে দিলেন মুনাফ, ২ রান দিয়ে আউট করলেন মরনে মরকেল ও পারনেলকে। দুজনই কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ। প্রায় পুরোটা সময় যে ভারতের হারটাকে মনে হচ্ছিল অবধারিত, তারাই হাসল জয়ের হাসি। সিরিজে এখন ১-১-এ সমতা। ওই ওভারের আগে পয়েন্ট ফিল্ডার ছিল একটু পেছনে। এগিয়ে আনতেই দুটো ক্যাচ জমা পড়ল সেখানে! ধোনি জানালেন, তিনি স্রেফ জুয়া খেলেছিলেন, ‘যখন একটি-দুটি উইকেট প্রয়োজন আর প্রতিপক্ষের দরকার ৩ রান, তখন মাথায় অনেক কিছুই কাজ করে। ফিল্ডার কাছে রাখব নাকি বাউন্ডারিতে! টস হারার পর অনেক সময় যেমন মনে হয়, ‘‘ইস, টেল না চেয়ে যদি হেড চাইতাম’, পয়েন্ট এগিয়ে আনার ব্যাপারটাও ছিল ও রকম। আমি ইউসুফকে এগিয়ে আনলাম, ক্যাচ ওখানেই গেল।’সহজ জয়ের রাস্তায় থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার পথ হারানোর শুরু অবশ্য ব্যাটিং পাওয়ার প্লেতে। জয়ের জন্য ১৯ ওভারে দরকার মাত্র ৪৬ রান, হাতে ৬ উইকেট। ছড়ানো মাঠে দু-এক রান করে নিলেই যখন জয় এসে যায় অনায়াসে, গ্রায়েম স্মিথের হঠাৎই মনে হলো খেলা দ্রুত শেষ করে দেওয়া দরকার। নিলেন ব্যাটিং পাওয়ার প্লে, দ্বিতীয় ওভারেই মুনাফের স্লোয়ার স্টাম্পে টেনে বোল্ড হন ৭৭ রানে থাকা স্মিথ। পরের ওভারে আউট ডেভিড মিলার, এক ওভার পরে বোথা। পাওয়ার প্লের ৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২০ রান স্মিথ অবশ্য পাওয়ার প্লেকে না দুষে দায় নিয়েছেন নিজের কাঁধেই, ‘পাওয়ার প্লে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা অনেক উইকেট হারালাম। এই ম্যাচ জিততে না পারাটা হতাশাজনক। আমরা মোটেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছিলাম না, তবে আমরা স্মার্ট ব্যাটিং করতে পারিনি। উইকেটে শট খেলা সহজ ছিল না। তাড়াহুড়ো না করে আমাদের উচিত ছিল দেখেশুনে খেলা।’
সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ আগামীকাল, কেপটাউনে।

পথ দেখালেন সেই ভেট্টোরি

দারুণ একটা দিন কাটানোর পরও পরশু মিসবাহ-উল হকের রাতটি নির্ঘুম গিয়েছিল কি না, কে জানে! রেকর্ড মাথায় থাকলে পাকিস্তান অধিনায়কের দুশ্চিন্তা হওয়ারই কথা। রেকর্ড বলছে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরির প্রিয় প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। ছয় টেস্ট সেঞ্চুরির অর্ধেকই পাকিস্তানের বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিটিও পেয়েছিলেন এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই।
৩৮ রানে অপরাজিত থেকে আগের দিন শেষ করা ভেট্টোরি সত্যি সত্যিই পাকিস্তানের গলার কাঁটা হয়ে গেলেন কাল। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ১৬৬ বলে করলেন ১১০। আগের দিনের সঙ্গী রিস ইয়াংও ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ইনিংসে দাঁড় করিয়েছেন ৩৫৬ রানে। জবাবে ২ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ওয়েলিংটন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে পাকিস্তান। হাতে ৮ উইকেট, পিছিয়ে তারা ২২২ রানে।
প্রথম দিন নিউজিল্যান্ড উদ্ধার হয়েছিল ইয়াং-ভেট্টোরি ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে। কাল লাঞ্চের খানিক আগে তানভির আহমেদের শিকার হয়ে ইয়াংয়ের ফেরার আগে জুটিতে যোগ হয় আরও ৭২ রান। পরে সঙ্গী হিসেবে আর কাউকেই বেশিক্ষণ পাননি ভেট্টোরি। তবে নিজে স্ট্রাইক পেয়েই রান বাড়িয়ে নিয়েছেন। পেয়েছেন প্রাপ্য সেঞ্চুরিটাও। আটে নেমে চারটি সেঞ্চুরির নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরি কামরান আকমলের।
কামরান এই দলে নেই। তাঁর বদলে উইকেটের পেছনে ছোট ভাই আদনান। প্রথম দিন ছয় ব্যাটম্যানের পাঁচজনই তাঁর গ্লাভসে প্রাণ দিয়েছিলেন বলে একটা সম্ভাবনা জেগেছিল সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড ছোঁয়ার। কাল আরেকটি ক্যাচ নিয়েছেনও। কিন্তু বিশ্ব রেকর্ড ছোঁয়া হয়নি। সাত ডিসমিসালের (সাতটিই ক্যাচ) বিশ্ব রেকর্ডটি অবশ্য ভাগাভাগি করছেন চার উইকেটকিপার।
বল হাতে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ভালোই হয়েছিল। দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান রান-খরায় ভুগতে থাকা মোহাম্মদ হাফিজ। যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তবে পাকিস্তান দ্রুতই এই ধাক্কা সামলে ওঠে দ্বিতীয় উইকেটে তৌফিক উমর ও আজহার আলীর ১৩২ রানের জুটিতে।
সাত বছর পর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও দেখছিলেন তৌফিক। কিন্তু দিনের শেষ বলে আউট হয়ে ফিরেছেন। ৬২ রানে অপরাজিত আজহার আজ আবার নামবেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বপ্ন নিয়ে।

বাজার চলে কার নিয়ন্ত্রণে by মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

দৈনন্দিন সাংসারিক বাজার করতে যাওয়াটা এখন অনেকটাই ঘাম দিয়ে জ্বর আসার মতো একটি ব্যাপার হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের জীবনে বহুদিন ধরেই এটি একটি নিত্যদিনের যন্ত্রণা। বছরের শেষ দিকে এসে এই যন্ত্রণার মাত্রায় এক অসহনীয় উলস্নম্ফন ঘটেছে। দেশের আপামর গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষকে তা দিশাহারা করে তুলেছে। চাল, তেল, পেঁয়াজসহ অতি আবশ্যক খাদ্যসামগ্রীর দাম বিস্ময়কর-ভাবে হঠাৎই লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এভাবে বাজার দর বেড়ে যাওয়ার কারণ কি? 'সরবরাহ কম, তাই দাম তো বাড়বেই'_ মহল- বিশেষের এই গৎবাঁধা অজুহাত মানুষের অতি সহজ-সরল যুক্তি-বুদ্ধির সামনে ধোপে টিকছে না। সরবরাহে ঘাটতিই যদি দাম বাড়ার কারণ হবে তাহলে আমনের ভরা মৌসুমে কেন বাজারে চালের দাম কমার বদলে উল্টো প্রতিদিনই তা বাড়ছে, এই পাল্টা প্রশ্ন এ প্রসঙ্গে সব মানুষের মনে উদয় হওয়াটা স্বাভাবিক। বাজারের এহেন বৈরী খামখেয়া-লিপনার কারণ মানুষের কাছে রহস্যাবৃতই হয়ে থাকছে। হালচাল অবলোকন করে তার মনে ক্রোধান্বিত এই প্রশ্নটি উথাল-পাথাল করছে 'বাজার তবে চলে আসলে কার নিয়ন্ত্রণে?'
এ প্রশ্নের জবাবটি এক অর্থে খুবই সহজ। আবার আরেক বিচারে তা বেশ কঠিন। সহজ জবাব হলো,_ বাজার চলে 'টাকার' নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এহেন অতি সহজ জবাবের বিষয়ে জোরালো আপত্তি করা যেতে পারে এই কথা দিয়ে যে,_ 'বাজার চলে কার নিয়ন্ত্রণে' মর্মে প্রশ্নটিই ত্রুটিপূর্ণ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় 'বাজার' এবং 'নিয়ন্ত্রণ'_ এ দুটো হলো পরস্পর বিরোধী (সঁঃঁধষষু বীপষঁংরাব) ধারণা। পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বাজার নিজেকেই নিজে পরিচালনা করে। বাজারের বিভিন্ন শক্তি ও উপাদানের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়ার মাধ্যমে স্বতঃস্ফর্ূতভাবে বাজার পরিচালিত হয়। বাজারের তাই কোনো 'বাজার-উপাদান বহিভর্ূত' নিয়ন্ত্রক নেই। বাইরে থেকে বাজারের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হলে সেটা তখন আর বিশুদ্ধ বাজার (ঢ়বৎভবপঃ সধৎশবঃ) থাকে না।
পুঁজিবাদের তাত্তি্বকদের কথা হলো, বাজারকে তার স্বতঃস্ফর্ূত ধারায় স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে দিলেই সব সমস্যা আপনা-আপনি সমাধান হয়ে যাবে। বাজারের যে উত্থান-পতনের প্রক্রিয়া আমরা অবলোকন করি তা কোনো রোগ নয়। বরং তা হলো রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থা। যেটাকে বাজারের খামখেয়ালিপনা ও নৈরাজ্য বলে মনে হয় আসলে তা হচ্ছে বাজারের স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে প্রয়োজনীয় একটি অত্যাবশ্যক প্রক্রিয়া মাত্র। এই উত্থান-পতনের আপাত খামখেয়ালি-পনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কোনোরূপ চেষ্টা সমস্যার সমাধান না করে তাকে শুধু আরো বাড়িয়ে তুলবে। সুতরাং প্রেসক্রিপশন হলো একটিই,_ বাজারকে তার মতো করে স্বাধীনভাবে চলতে দাও!
'বিশুদ্ধ বাজার'-এর তত্ত্বের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল কখনই ঘটে না। অগণিত ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি, পণ্যের অবাধ স্থানান্তরের সুযোগ, বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বব্যাপী ব্যাপ্ত তাৎক্ষণিক ও পরিপূর্ণ তথ্যের নিশ্চয়তা ইত্যাদি হলো বিশুদ্ধ বাজারের জন্য আবশ্যিক শর্ত। এসব শর্ত কখনই বাস্তব জীবনে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই, বিশুদ্ধ বাজার-এর তত্ত্বের দ্বারা পরিচালিত হওয়ার কথা বলে মন ভুলানো কল্পস্বর্গের চিত্র অাঁকলেও বাস্তবে পুঁজিবাদ 'অবিশুদ্ধ বাজার' (রসঢ়বৎভবপঃ পড়সঢ়বঃরঃরড়হ) কাঠামোতে পরিচালিত হয়ে থাকে। 'অবিশুদ্ধ বাজারে' টাকার শক্তির প্রভাব বাজারের চালচিত্রে অনুপার্জিত আয় আত্মসাৎসহ নানা বিকৃতি ঘটায়। তাছাড়া, এমনকি 'বিশুদ্ধ বাজারের' তত্ত্বে বিনিয়ন্ত্রণের (ফব-ৎবমঁষধঃরড়হ) ধ্বজা তুলে ধরলেও সেক্ষেত্রেও এক অদৃশ্য শক্তি বাস্তবে বাজারের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। এই অদৃশ্য নিয়ন্ত্রক-শক্তি চোরাগোপ্তা পথে বাজারে তার স্থান করে নেয়। 'বাজার কার নিয়ন্ত্রণে চলে?'_ এই প্রশ্নকে ঘিরে রহস্যময়তার কারণ প্রধানত এখানেই নিহিত।
বাজার নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে যে রহস্যময়তা, তার সুযোগে চাহিদা-সরবরাহসহ বাজারের সামগ্রিক শক্তি ও উপাদানসমূহের ওপর আধিপত্য স্থাপন করে নিতে সক্ষম হয় বাজারে ক্রিয়ারত সবচেয়ে সচল উপাদান,_ বাজারের প্রবাহমান 'টাকার শক্তি'। টাকার জোরে প্রভাবিত করা সম্ভব হয় কার্যকর চাহিদা ও সরবরাহ (বভভবপঃরাব ফবসধহফ ধহফ ংঁঢ়ঢ়ষু) ইত্যাদি। এভাবেই 'টাকা' হয়ে ওঠে বাজারের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রক এবং বাজারের ওপর স্থাপিত হয় 'টাকাওয়ালাদের' আধিপত্য।
বাজারে টাকা খাটাতে পারার সামর্থ্যকে ব্যবহার করার মাধ্যমে 'টাকাওয়ালাদের' দ্বারা পণ্যের সরবরাহ বা চাহিদা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। কারণ, কোনো বাজারই 'বিশুদ্ধ বাজার' নয় যে সেখানে অগণিত ক্রেতা ও বিক্রেতা থাকবে। বাস্তবে যে 'অবিশুদ্ধ বাজার' নিয়ে আমাদের জীবন সেখানে টাকার ওপর মুষ্টিমেয় ধনকুবেরের আধিপত্য দ্বারা বাজারের বাস্তবতা, তাৎপর্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে। বিক্রেতা হিসাবে টাকা দিয়ে পণ্য কিনে তা মজুদ করে কৃত্রিম সরবরাহ-সঙ্কট সৃষ্টির মাধ্যমে তারা বাজারে পণ্যের দাম অনেকটা পরিমাণেই তাদের নিজস্ব সুবিধামতো নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। কিংবা টাকা আটকে রেখে কৃত্রিম ক্রেতা সঙ্কট তৈরি করে (চালকল মালিক কর্তৃক কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা বন্ধ রেখে কৃষককে কম দামে তা বিক্রি করতে বাধ্য করা) তারা তাদের সুবিধামতো বাজার দর নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পায়।
এভাবেই লোকচক্ষু থেকে আপাত আড়ালে অবস্থানে নিয়ে ও সাধারণ জ্ঞানে বুঝতে পারার সক্ষমতার বাইরে, অনেকটাই অদৃশ্য পরোক্ষ উপায়ে, বাজার পরিচালিত হয় 'টাকার' ও 'টাকাওয়ালাদের' নিয়ন্ত্রণে। এসব টাকা-ওয়ালারা বাজারের একটি শক্তি হিসেবে সক্রিয় থাকে তাদের মুনাফার হার আরো বেশি বাড়ানোর তাগিদে। মুনাফার হার বাড়ানো যেতে পারে প্রধানত 'টাকার ক্ষমতায়' যারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল সেসব অগণিত গরিব ও মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে, যারা কিনা দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। সাধারণ মানুষকে, সে মেহনতি কৃষক হিসেবে খাদ্যপণ্যের বিক্রেতা হোক কিংবা ভোক্তা হিসেবে ভোগ্যপণ্যের ক্রেতা হোক, যত বেশি বঞ্চিত করা যাবে বাজারের লুটেরা টাকা-ওয়ালাদের মুনাফাও তত বৃদ্ধি পাবে। এটাই পুঁজিবাদী বাজারের একটি অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্য। এখানেই সাধারণ মানুষের স্বার্থের সাথে পুঁজিবাদী বাজারের মৌলিক বৈরিতার উৎপত্তিস্থল।
বাজার যেভাবে 'টাকা' ও 'টাকাওয়া-লাদের' নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয় তা থেকে উদ্ধার পাওয়ার চূড়ান্ত উপায় হলো তাদের জন্য এই নিয়ন্ত্রণকে অসম্ভব করে তোলা। সেজন্য প্রয়োজন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সাম্যবাদী সমাজ নির্মাণ করা। সেটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। কিন্তু সেই লক্ষ্যে আপাত কিছু স্বস্তিও যদি গরিব-মধ্যবিত্ত জনগণের জন্য প্রদান করতে হয় তাহলে তার জন্য একটিই পথ রয়েছে। সে পথ ও পদক্ষেপ হলো 'টাকার' নিয়ন্ত্রণের বিপরীতে বাজারের ওপর একই সাথে সামাজিক স্বার্থের কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা। এ কাজটি করতে হবে সরকার ও রাষ্ট্রকে। আর করতে হবে সরকারের সহযোগিতায় জনগণের সমবায়কে।
এখন বাস্তব জীবনে আসলে কি ঘটে চলেছে সে দিকেও একটু তাকিয়ে দেখা যাক। চাল, তেল, পেঁয়াজের বাজারে কি ঘটছে? গত পক্ষকালের মধ্যে চালের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। আমনের ভরা মৌসুমে চালের দাম কমার কথা। অথচ তা বাড়ছে। এই অস্বাভাবিকতার একটি কারণ হলো উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত চালের সরবরাহ লাইনে স্তরে স্তরে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের উপস্থিতি। প্রধানত ধানকলের মালিকরা কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার পর সিন্ডিকেট করে ব্যাপক পরিমাণ ধান-চালের মজুদ গড়ে তুলেছে। ধান-চালের স্বাভাবিক সরবরাহ লাইনকে শর্ট-সার্কিট করে তারা ভোক্তা স্তরে কৃত্রিম সরবরাহ সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। পাইকারি স্তরেও রয়েছে এ ধরনের বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি। এসব লুটেরা টাকাওয়ালারা টাকার জোরে তাদের সুবিধামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে দেদারছে 'মুনাফা' কামিয়ে নিচ্ছে। ধান-চালের সরবরাহ লাইনের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ, হস্তক্ষেপ ও সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনার কোনো ব্যবস্থা সরকার নিজের হাতে রাখেনি। সরকারের ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রমও পরিচালিত হয় হাস্কিং মিল মালিকদের মাধ্যমে। এসব মিল মালিকদেরকে (যারা অবৈধভাবে অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবেও ভূমিকা পালন করে থাকে) মজুদ গড়ে তোলার জন্য সরকারের অনুগ্রহে ব্যাংক থেকে উদারভাবে ঋণসহ আর্থিক মদদ দেয়া হচ্ছে। ভোক্তা স্তরেও রেশনিং ব্যবস্থা, ন্যায্যমূলের দোকান ইত্যাদি ধরনের কোনো স্থায়ী কার্যক্রম সরকারের নেই। অস্থায়ীভাবে স্বল্পকালীন যে ন্যায্যমূল্যে চাল বিক্রি কার্যক্রম আছে তা খুবই স্বল্প পরিসরে হওয়ায় সেটা দিয়ে বাজারের ওপর 'টাকাওয়ালাদের' প্রভাব খর্ব করা সম্ভব হয় না।
ভোজ্যতেলের বাজারকে কেন্দ্র করে 'টাকাওয়লাদের' কারসাজি চলছে বছরের পর বছর ধরে। দেশে ভোজ্যতেলের মোট চাহিদা ১৪ লক্ষ টন। তার মধ্যে ১২ লক্ষ টনই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে সোয়াবিন তেল ও পামঅয়েল প্রধান। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও তেলের শোধনাগারসমূহ অল্প সংখ্যক টাকাওয়ালাদের মালিকানায় পরিচালিত। তাদের মধ্যে আবার দু'চার জন আছেন যাদেরকে এই খাতের রুই-কাতলা বলে আখ্যায়িত করা যায়। বস্তুত মাত্র ৯টি প্রতিষ্ঠান ভোজ্যতেলের পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও সেই সূত্রে তার বাজারদর কার্যত প্রায় পরিপূর্ণভাবে তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। ভোজ্যতেল আমদানি, পরিশোধন, পাইকারি ও খুচরা সরবরাহ প্রভৃতি কোনো পর্যায়েই সরকারের কোনো অংশগ্রহণ নেই। বাণিজ্যমন্ত্রী মাঝেমধ্যে ধমক দেন, গরম গরম কথা বলেন, মালিক সমিতির সাথে উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠক করেন। চারদিকে হৈচৈ ফেলে দেন। আর তারপর? মালিক সমিতিকে সন্তুষ্ট রাখার মতো নূ্যনতম দাম নির্ধারণ করে একটি ঐক্যমতের ঘোষণা জারি করা হয়। ভোজ্যতেলের লুটেরা আমাদানিকারী-পরিশোধনকারী কোম্পানির নির্ধারিত ফুলানো-ফাঁপানো মূল্যকেই এভাবে সরকারি বৈধতার সিল দিয়ে দেয়া হয়। তা সত্ত্বেও দু'দিনের জন্য বাজার সেই নির্ধারিত দাম অনুযায়ী চললেও অচিরেই তেলের দাম আরেক দফা লাফ দিয়ে বৃদ্ধি পায়। চক্রাকারে আবার শুরু হয়ে যায় বাজার নিয়ে আরেক দফায় একই খেলা।
সরকার কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ভোজ্যতেল ও চিনির ক্ষেত্রে ডিও প্রথা বাতিল করে ডিলারশিপ অথবা পরিবেশক প্রথার প্রচলন ঘটাবে। দু'বছর ধরে এসব খাতে বাজার প্রতিযোগিতা আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণকারী এই টাকাওয়ালা চক্রের কারণে এসবের কোনো কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। কয়েকদিন আগে সরকার ভোজ্যতেলের পাইকারি দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর পরপরই মিলগুলো তেলের সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। মনিটরকৃত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ১০টাকা বেশি দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার ঘোষণা করেছে যে, আমদানিকারক ও তেলকল মালিকদের সাথে আলোচনা করে প্রতি ১৫ দিন অন্তর-অন্তর ভোজ্য তেলের দাম পুনঃনির্ধারণ করা হবে। মিল মালিকরা যেভাবে সব সময়ই ভোজ্যতেলের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য ঘোষিত দামের চেয়ে ৮/১০ টাকা বেশি রাখার ব্যবস্থা করছে তাতে সরকারকেও প্রতিবারই ঘোষিত দাম বাড়িয়ে চলতে হবে। ভোজ্যতেলের ওপর বর্তমানে যে ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য আছে তা প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্যও মিল মালিকরা আবদার শুরু করেছে। এজন্য তারা নানাভাবে চাপ বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার হলে তেলের দাম বর্তমানের চেয়ে কমপক্ষে ১০ টাকা কমে ভোক্তাদের পাওয়ার কথা। এই যুক্তিতে তারা এই দাবি তুলেছে। কিন্তু তা যে ঘটবে সে নিশ্চয়তা কোথায়? শুল্ক রেয়াতের সুবিধাটা ভোক্তাদের কাছে পেঁৗছাবে না, তার সর্বাংশই মিল মালিকদের স্ফীত মুনাফাকে আরো স্ফীত করবে মাত্র। কারণ, বাজার নিয়ন্ত্রণ করে জনগণ ও সাধারণ ভোক্তগণ নন, তাদের পক্ষে সরকার কিংবা ভোক্তাদের সমবায় সংস্থা নয়,_ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে টাকাওয়ালা আমদানিকারক ও তেল শোধনাগারের মালিকরা। শুল্ক রেয়াতের সুবিধা তাই তাদের পকেটেই যাবে।
বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে বাজারের ওপর জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাটা জনস্বার্থে একটি ফরজ কর্তব্য। এই অত্যাবশ্যক কাজটিকে পাশ কাটিয়ে যত হুমকি-ধামকি বা তোয়াজ-তদবিরই করা হোক না কেন, বাজার হয়ে থাকবে টাকা ও টাকাওয়ালাদের নিয়ন্ত্রিত ও তাদের জন্য একটি উৎকৃষ্ট লুটপাটের ক্ষেত্র। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার ঊধর্্বশ্বাস-দৌড়ে গরিব-মধ্যবিত্ত জনগণের পকেট খালি হতে থাকবে এবং দিন দিন তাদের দুর্গতির মাত্রা বাড়তেই থাকবে। এটা চলতে দেয়া যায় না। তাই প্রয়োজন বাজার-ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন র্যাডিক্যাল ভাবনা ও পদক্ষেপ।
=========================

দৈনিক ইত্তেফাক এর সৌজন্যে
লেখকঃ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

দক্ষিণ সুদানে গোষ্ঠীগত সহিংসতায় নিহত ৫১, আহত ২২

দক্ষিণ সুদানের উপজাতি অধ্যুষিত জংলেই প্রদেশে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের গুলিতে কমপক্ষে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২২ জন। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের রাজধানী জুবায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। প্রাদেশিক গভর্নর কুওল ম্যানিয়াংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে অনলাইন বিবিসি জানিয়েছে, গোষ্ঠীগত সহিংসতার জেরে এ ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ওদিকে হামলাকারীরা হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর সম্পূর্ণ গ্রামটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মুরলে গোষ্ঠী তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ডিনকা গোষ্ঠীর ওপর এ প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালনা করে। গত মাসে পিবো শহরের কাছে

উঠতি বয়সের সংকট : অভিভাবকের দায়িত্ব by মাহবুবা আহসান

বুজ সমাজে ইভটিজিং এক হলুদ ব্যাধি। ২০১০ সালের শুরুতে তা ভয়াবহ আলোড়ন সৃষ্টি করে। চলে বছর ভরে। সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা বিরাজ করছে। এ নিয়ে অনেক আলোচনা, পর্যালোচনা, সেমিনার ও লেখালেখি হয়েছে। আমাদের দেশে সব শ্রেণীর পেশার নারী প্রতিনিয়ত এই ইভটিজিং নামক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাই প্রত্যাশা- ধুয়ে যাক মুছে যাক সকল কালো।