Friday, March 26, 2010

মাদক চোরাচালান দমনে মেক্সিকোকে আরও সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

মাদক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে মেক্সিকোকে আরও সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। গত মঙ্গলবার মেক্সিকো সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হিলারি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘মাদক চোরাচালান চক্র দুই দেশের সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এদের দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।’ হিলারির এই সফরে মাদক চক্র দমনে মেক্সিকো সরকারকে ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়।
১১ দিন আগে মেক্সিকোর সিউদাদ জুয়ারেজ এলাকায় তিনজন মার্কিন কনসুলেট নিহত হন। এতে মাদক চোরাচালান চক্রের হাত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে মেক্সিকো সফরে গেলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি। প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি জ্যানেট ন্যাপোলিতানো।

মিয়ানমারের নির্বাচনী আইন নিয়ে বৈঠক ডেকেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব

মিয়ানমারের নতুন নির্বাচনী আইন নিয়ে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশকে বৈঠকে বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। নতুন আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি। আজ বৃহস্পতিবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন নেসিরকি বলেন, বান কি মুনের ধারণা, মিয়ানমারের মিত্রদের জোটের আরেকটি বৈঠক করার এখনই যথাযথ সময়।
এই জোটে মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশ, মিয়ানমার সম্পর্কে আগ্রহী এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশসহ প্রায় ১৫টি দেশ রয়েছে।
গত মঙ্গলবার অং সান সুচির আইনজীবী বলেছেন, নির্বাচনের জন্য তাঁর ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি পার্টির নিবন্ধনের বিপক্ষে তিনি। কারণ ক্ষমতাসীন জান্তা নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তা ‘অন্যায্য’।
পাঁচটি নির্বাচনী আইন বাতিল করার জন্য সুচির দলের একটি আবেদন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অং সান সুচি ওই মন্তব্য করলেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে নতুন নির্বাচনী আইন ঘোষণা করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সুচিকে নির্বাচনী লড়াই থেকে বাইরে রাখতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না। দোষী সাব্যস্ত সদস্যদের দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো দল ওই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে ওই দলের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
জান্তা সরকার গত বছর অং সান সুচির গৃহবন্দিত্বের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া তাঁর দলের অনেক জ্যেষ্ঠ সদস্য কারাগারে রয়েছেন। নতুন নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তাঁরা নির্বাচনে নিষিদ্ধ হতে পারেন।

নাইজেরিয়ায় নতুন মন্ত্রিসভার ২৫ সদস্যের নামের তালিকা চূড়ান্ত

নাইজেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তাঁর পছন্দের ২৫ জনের নামের একটি তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। তাঁদের মন্ত্রিত্ব অনুমোদনের জন্য তালিকাটি ইতিমধ্যে তিনি সিনেটে পাঠিয়েছেন। গত সপ্তাহে ৪২ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভার সব সদস্যকে বরখাস্ত করেন জনাথন।
মন্ত্রিসভায় নতুন সদস্যদের বিষয়ে সরকারের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মুখ না খুললেও সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গতকাল বুধবারই সিনেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নাম ঘোষণা করার কথা।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট উমারু য়ার আদুয়া অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য সৌদি আরব গেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। সম্প্রতি অসুস্থ প্রেসিডেন্ট দেশে ফিরলেও জনাথন প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়াননি।
সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নাইজেরিয়ায় কয়েক শ লোক নিহত হয়। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনাথন প্রেসিডেন্ট উমারুর নিয়োগকৃত সব মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে নিজের অনুগত নেতাদের সেখানে স্থলাভিষিক্ত করার উদ্যোগ নেন।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, জনাথন নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য অনুগত নেতাদের মন্ত্রী বানাচ্ছেন। সিনেটে পাঠানো তালিকায় নতুন মন্ত্রী হিসেবে যে ২৫ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে সদ্য বরখাস্ত হওয়া সাতজনের নামও রয়েছে।

ওবামা-নেতানিয়াহু দুই দফা বৈঠক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে দুই দফা বৈঠক করেছেন। ইসরায়েল এ বৈঠক ‘বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। তবে হোয়াইট হাউস বৈঠকের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, নেতানিয়াহু আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার পথে বাধার সৃষ্টি করছেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রথম দফায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ওবামা তাঁর বাসভবনে যান। পরে নেতানিয়াহুর অনুরোধে আবারও আধা ঘণ্টার বৈঠকে মিলিত হন এ দুই নেতা। বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে বা কোনো চুক্তির প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে কি না সে ব্যাপারেও কোনো কিছু বলতে রাজি হননি হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা।
এর আগে মার্কিন কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপন বন্ধ করতে ফিলিস্তিনিদের দাবি ‘অযৌক্তিক’। তিনি বলেন, জেরুজালেম কোনো অধিকৃত এলাকানয়, এটা আমাদের রাজধানী। বসতি স্থাপন বন্ধেফিলিস্তিনিদের দাবিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করলে মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্কের কোনো অবনতি হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাবিল আবু রায়না বলেন, নেতানিয়াহু এখন একটি নীতিই গ্রহণ করেছেন। সেটি হলো মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনার পথে বাধার সৃষ্টি করা। পশ্চিম তীরের রামাল্লায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
২০টি ভবন নির্মাণে চূড়ান্ত অনুমোদন
হোয়াইট হাউসে যখন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক চলছিল তখন পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতির জন্য ২০টি ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়। পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় বিলাসবহুল এই ২০টি ভবন নির্মাণ করা হবে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিন-ইসরায়েল পরোক্ষ আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে নতুন করে এক হাজার ৬০০ বসতি নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।

ইরান সফরে মার্কিনিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ

মার্কিনিদের ইরান ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার ওই সতর্ক বার্তা জারি করে। এতে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকেরা ইরান ভ্রমণে গেলে বৈরিতা, হেনস্তা বা গ্রেপ্তারের মতো নানা ঝামেলায় পড়তে পারেন।
সতর্কবার্তায়ইরান-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিকদের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়, ইরান সরকার ২০০৯ সালে বেশ কয়েকজন ইরানি-আমেরিকানকে সে দেশ ত্যাগে বাধা দেয়। তাই ইরান সফরে যাওয়ার আগে বিষয়টি তাঁদের মাথায় রাখতে হবে। ইরান অবশ্য দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না।

হিটলারের চিঠি বিক্রি হলো আট হাজার পাউন্ডে

জার্মানির সাবেক স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারের লেখা একটি চিঠি নিলামে আট হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের একটি নিলামঘরে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
চিঠিতে তারিখ লেখা আছে ১৯৩১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই সময় ব্রিটেনের চলমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখার ব্যাপারে ব্রিটিশ সাংবাদিক সেফটন ডেলমারের অনুরোধের জবাবে এই চিঠি লেখেন হিটলার। এই বিষয়ে লিখলে সেটিকে সমালোচনা হিসেবে দেখা হতে পারে এবং ব্রিটিশ জনগণের একটি অংশ একে ধৃষ্টতা হিসেবে বিবেচনা করতে পারে—এই যুক্তি দেখিয়ে অনুরোধটি প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
চিঠিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্রিটেন ও জার্মানির মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি চুক্তি করার আশাবাদ ব্যক্ত করে হিটলার লিখেছেন, ‘আমি আশা করছি যুদ্ধের পর গত ১২ বছরে ব্রিটেনের জনগণের মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছে। আমি খুশি হব জার্মানি ও ব্রিটেনের মধ্যে যদি আবার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’
চিঠিটি কিনেছেন কেনেথ রেনডেল নামের একজন মার্কিন নাগরিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার জাদুঘরের মালিক।
চিঠিটি যার মালিকানায় ছিল সেই ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেলমার ওই সময়ে অন্যতম নামকরা সাংবাদিক ছিলেন।

আইনে পরিণত হলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্যসেবা খাত সংস্কার বিলে সই করেছেন। এর মাধ্যমে বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে। এই আইন করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন ওবামা। এখন তাঁর নাম ফ্রাংকলিন ডি রুজভেল্ট ও লিন্ডন জনসনের মতো সফল সমাজ সংস্কারক প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে উচ্চারিত হবে।
ওবামার নির্বাচনী প্রচারের সময় অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল এই আইন প্রণয়ন করা। মঙ্গলবার আইনটি প্রণয়ন করার পর সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন তিনি। হোয়াইট হাউসে বিলে সই করা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, ‘প্রায় এক শতাব্দীর প্রচেষ্টা, এক বছরের দীর্ঘ বিতর্ক, ভোটগ্রহণ—সবকিছুর পর আজ যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবীমা খাতের সংস্কার আইনে পরিণত হয়েছে।’
ওবামা বলেন, ‘যে বিলটিতে আমি সই করছি, তা অনেকগুলো সংস্কার নিয়ে আসবে। এর জন্য মার্কিন জনগণ সংগ্রাম করেছে, অপেক্ষায় থেকেছে। এই আইনে প্রতিটি মার্কিন নাগরিকের জন্য কিছু মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।’
এদিকে রিপাবলিকানরা এই আইনের কঠোর বিরোধিতা করেছেন। তাঁরা এই বিরোধিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন। ওবামা বিলটিতে সই করার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এই আইনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের চাপিয়ে দেওয়া এই সংস্কার কর্মসূচি অসাংবিধানিক।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের এই সংস্কার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভক্ত হয়ে আছে। ওবামাকে এখন সংস্কারের পক্ষে জনগণকে বোঝাতে হবে এবং এক করতে হবে। এ জন্য আজ বৃহস্পতিবার তাঁর আইওয়া অঙ্গরাজ্য সফরের কথা। সেখানে তিনি স্থানীয় ব্যক্তিদের বোঝাবেন যে কীভাবে নতুন আইন স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যয় কমিয়ে আনবে এবং এতে জনগণ কী ধরনের উপকার পাবে।
রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারা সতর্ক করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা এই বিল অুনমোদন করায় নভেম্বরের নির্বাচনে জনগণ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করবে। রিপাবলিকান-দলীয় সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা এই বিল অনুমোদন করায় বছরের বাকি সময়ে রিপাবলিকানরা তাঁদের আর কোনো সহযোগিতা করবেন না।
গত রোববার রাতে ২১৯-২১২ ভোটে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পায় স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিল। গত ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেট এটি অনুমোদন করে।

কৃষির নিয়মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপখাতে ঋণ দেওয়ার আহ্বান

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কৃষির উপখাত হলেও এর সঙ্গে এই খাতের বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। সে জন্য কৃষি খাতের মতো একই হারে ও নিয়মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপখাতে ঋণসুবিধা দেওয়া প্রয়োজন।
বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এ কথা বলেন। মৎস্যজীবী, পোলট্রি ও ডেইরি উপখাতের প্রান্তিক খামারিদের স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার উপায় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় জানানো হয়, দেশে বর্তমানে দুই লাখেরও বেশি জেলে রয়েছেন। যাঁরা একদিকে চড়া সুদে মহাজন ও ফড়িয়াদের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছেন, অন্যদিকে ওই সব ঋণদাতার কাছে আবার কম মূল্যে মাছ বিক্রি করতেও বাধ্য হচ্ছেন। তাই প্রান্তিক জেলেদেরও কৃষকদের মতো একই নিয়মে ঋণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় মন্ত্রী বলেন, ব্যাংকগুলো কৃষির চেয়ে ১ থেকে ৩ শতাংশ বেশি সুদে এই উপখাতটিতে ঋণ দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সভায় এ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শরফুল আলম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গত সোমবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী রাজধানীর একটি হোটেলে চিংড়িচাষিদের জন্য তৈরি করা একটি গাইড বুক বা নির্দেশিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সফরে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশিকা তৈরি হয়। ইউনিডো ও ইইউর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় মৎস্য অধিদপ্তর এ নির্দেশিকা তৈরি করে।

দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতির শঙ্কা নাকচ করলেন অর্থমন্ত্রী

চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে দেশে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ছয় শতাংশের মধ্যেই থাকবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, দুষ্ট লোকেরা দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতির কথা বলে বেড়াচ্ছে। ব্যাপারটি মোটেও সত্য নয়।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মুদ্রা, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর অনুষ্ঠিত সমন্বয় কমিটির এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ভারপ্রাপ্ত বাণিজ্যসচিব গোলাম হোসেনসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থবছরের শুরুর দিকে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ছয় শতাংশের মধ্যে রাখার যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল, বছর শেষেও তাই থাকবে। এর চেয়েও বেশি যাতে না বাড়ে, সে ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানে ১১ শতাংশ, ভারতে ১৩ শতাংশ এবং প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোতেও বাংলাদেশের চেয়ে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুই অঙ্কে যাওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই।
বাজারে মুদ্রাপ্রবাহ কমানো হবে কি না—প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি একান্তই বাংলাদেশ ব্যাংকের। তবে আগামী দিনে তা বিবেচনা করে দেখা হবে।
বার্ষিক গড় হিসেবে এ বছর জানুয়ারি মাসে এসে জাতীয় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে মাত্র পাঁচ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর গত বছর জানুয়ারি মাসে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল আট দশমিক ৪৬ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে। কারণ, সরকারিভাবে চলতি অর্থবছর বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ছয় শতাংশে ধরে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব থেকে দেখা যায়, এ বছর জানুয়ারি মাসে এসে মাসওয়ারি হিসেবে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে আট দশমিক ৯৯ শতাংশে যা কার্যত নয় শতাংশ। অথচ গত বছর জানুয়ারি মাসে এই মূল্যস্ফীতির হার ছিল ছয় শতাংশের সামান্য ওপর।
অর্থা মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। এবং তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মতোই বাড়ছে।
তবে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির হার এখনো ভারত বা পাকিস্তানের মতো দুই অঙ্কের ঘরে উপনীত হয়নি।
বাংলাদেশে ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়। পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) এই সূচক ছিল ২১৪ পয়েন্ট। আর এই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল সাড়ে তিন শতাংশ।
এর পর আস্তে আস্তে প্রতি মাসেই মূল্যস্ফীতির হার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এসেছে। আর এর পেছনে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি একটা বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিবিএসের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সাত মাসের মধ্যে এই প্রথম খাদ্যের মূল্যস্ফীতির হার দুই অঙ্কের ঘরে উপনীত হলো।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারি মাসে সামান্য কমেছে বলে বিবিএসের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়।
ডিসেম্বর মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার ছিল সাত শতাংশ যা জানুয়ারি মাসে নেমে আসে সাড়ে ছয় শতাংশে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বাইরে থেকে জোগানজনিত অভিঘাতই মূল্যস্ফীতির হারকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্যের অস্থিরতা দেশের ভেতরের মূল্য পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলছে।

আইএমএফের তিন ধরনের সহায়তা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান গভর্নরের

বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তিন ধরনের ঋণ-সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
তাঁর মতে, কম আয়ের দেশ হলেও বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় কোনো সহায়তা দরকার নেই। সংস্থাটি বরং বাজেট-সহায়তা দেওয়ার কথা ভাবতে পারে।
২০০৭-০৮ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা মোকাবিলায় আইএমএফ কম আয়ের দেশগুলোর জন্য এই তিন ধরনের ঋণ প্রকল্প ও তহবিল গঠন করে। এগুলো হলো: বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয় মধ্য মেয়াদি ঋণসুবিধা, সার্বক্ষণিক সময়ের জন্য স্বল্প মেয়াদি ঋণসুবিধা এবং যেকোনো ধরনের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ঋণসুবিধা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মিলনায়তনে গতকাল বুধবার ‘বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষিতে কম আয়ের দেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে আইএমএফের প্রতিনিধি ও সংস্থার অর্থনীতিবিদ জানকিস মারটিন ও ইয়াংঝেং ইয়াং প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। আইএমএফ নিজেই এই সেমিনারের আয়োজক ছিল।
আইএমএফের এসব প্রস্তাবের জবাবে আতিউর রহমান বলেন, ‘যেসব কারণে আইএমএফ এ ধরনের সহায়তাগুলো দিতে চায়, তার কোনোটার মধ্যেই বাংলাদেশ পড়ে না। বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে যথেষ্ট উদ্বৃত্ত রয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা মোকাবিলায় বাংলাদেশ শিল্প ও কৃষিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নীতি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।’
গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের মূল সাহায্য দরকার অবকাঠামো উন্নয়নে। আইএমএফ চাইলে বাংলাদেশকে পুরস্কার হিসেবে অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সেই সহায়তা করতে পারে।
আইএমএফের অর্থনীতিবিদেরা বলেন, বিশ্বব্যাপী কম আয়ের দেশগুলো খাদ্য ও জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক মন্দার অভিঘাতে পড়েছে। আইএমএফ তাই কম আয়ের দেশগুলোর বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে নতুন এই তিন ধরনের ঋণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। অর্থনীতিবিদেরা বলেন, এ জন্য আইএমএফ তহবিল বাড়াচ্ছে।
২০১৪ সালে আইএমএফ এক হাজার ৭০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে বলে তারা জানান।
সেমিনারে ঢাকায় আইএমএফ মিশন প্রধান এতেরি কিনত্রাজে, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অযৌক্তিকভাবে সুতার দাম বাড়ায় নিট খাত বিপাকে

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের পাশাপাশি অযৌক্তিকভাবে সুতার দাম বাড়ানোয় নিট পোশাক খাতের উৎপাদনব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে চীন ও ভিয়েতনামের মতো বাংলাদেশি নিট পোশাকের দর কমানো যাচ্ছে না, যাচ্ছে না আমেরিকা-ইউরোপের বাজার ধরে রাখা।
নিট খাতের এই চিত্র তুলে ধরে বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য সিএনজি এবং সার উৎপাদনে রেশনিংয়ের দাবি জানিয়েছে। এ জন্য সমিতি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
গতকাল বুধবার বিকেএমইএ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এসব দাবি জানান। এ সময় তাঁরা রপ্তানিমুখী শিল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত ডিজেলের ওপর থেকে কর প্রত্যাহার, ‘সুতার দাম তদারকি সেল’ গঠন এবং সরকারঘোষিত প্রণোদনা গুচ্ছ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
বিকেএমইএর ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য দেন সমিতির সভাপতি মো. ফজলুল হক। এ সময় সমিতির প্রথম সহসভাপতি আবদুর রাশেদ, দ্বিতীয় সহসভাপতি এম এ বাসেত, সহসভাপতি জাহিদুল হক ভুঁইয়া, সহসভাপতি (অর্থ) এম এ রহমান, পরিচালক মো. সোহরাওয়ার্দী ও আবু জাফর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
ফজলুল হক বলেন, মন্দার কারণে ২০০৯ সালে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের নিটপণ্যের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায় (শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ)। আর মোট পণ্য রপ্তানিতে কোনো প্রবৃদ্ধিই হয়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিট পোশাকের রপ্তানি প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। অথচ ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের নিট পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, ‘চীন ও ভিয়েতনামের সরকার পোশাক রপ্তানিকারকদের প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ায় তারা দর কমিয়ে বাজার ধরে রাখছে।’
ফজলুল হক আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে নিট এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি কমেছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও সাত শতাংশ। বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, এক ঘণ্টা গ্যাস-সংযোগ বন্ধ থাকলে প্রতিদিন নিট খাতে কাপড় ও সুতার উৎপাদন চার শতাংশ কমে যায়। আর গ্যাস-সংকটের এ খাতে উৎপাদনব্যয় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাড়ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সমস্যার পর বর্তমানে নতুন যুক্ত হয়েছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সুতার দাম বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে সুতার দাম বাড়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশীয় সুতার দাম তাত্ক্ষণিকভাবে অতি উচ্চহারে বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বিকেএমইএর নেতারা সুতার দাম পর্যবেক্ষণ, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনে বাজার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি সেল গঠনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছেন।

বদলে যাচ্ছে একটেলের নাম, প্রতীক by অনিকা ফারজানা

গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের পর এবার বদলে যাচ্ছে দেশের মোবাইল ফোন বাজারে তৃতীয় অবস্থানধারী প্রতিষ্ঠান একটেলের নাম। সেই সঙ্গে বদলে ফেলা হচ্ছে তাদের প্রায় দেড় দশকের পুরোনো প্রতীক (লোগো) ও স্লোগান।
আগামী সপ্তাহে পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে একটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
একটেলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা বিদ্যুৎ কুমার বসুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন পরেই আপনারা সব জানতে পারবেন।’
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্র জানিয়েছে, নাম-লোগো-স্লোগান পরিবর্তনের জন্য তাদের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ‘একটেল’ নাম বাদ দিয়ে একটি বাংলা নাম দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। এই নাম ‘রবি’ও হতে পারে।
এর আগে গ্রামীণফোন পুরোনো লোগো বদলে টেলিনরের মূল লোগো নিয়ে আসে। বাংলালিংকও ২০০৫ সালে সেবা টেলিকম কিনে প্রথমে ব্র্যান্ডনেম ও প্রতীক এবং পরবর্তীতে লাইসেন্সের নামও পরিবর্তন করে। কিছুদিন আগে ওয়ারিদও প্রতীকে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। এ ছাড়া ভারতীয় মোবাইল কোম্পানি ভারতী এয়ারটেল ওয়ারিদ অধিগ্রহণ করায় ওয়ারিদের পুরোনো ব্র্যান্ডনেম ও লোগোতে পরিবর্তন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে পোশাক শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে চায় ক্যারিবীয় রাষ্ট্র ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের ওই রাষ্ট্রে তৈরি পোশাকশিল্প স্থাপন করে সেখান থেকে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা সফররত নয়াদিল্লির ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর রাষ্ট্রদূত পন্ডিত মনিইদো পারসাদ।
গত মঙ্গলবার ঢাকায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগো বাণিজ্য কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক নৈশভোজ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি তাঁর দেশে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাহাবউল্লাহ প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি আবু আলম চৌধুরী।
আরও বক্তব্য দেন ঢাকায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগো বাণিজ্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম হাকিম আলী, বিকেএমইএর সাবেক সহসভাপতি মো. হাতেম প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাহাবউল্লাহ বলেন, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশি পণ্যের একটি প্রদর্শন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। একজন অনারারি কনসুলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পন্ডিত মনিইদো পারসাদ বলেন, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর জনসংখ্যা ঢাকা শহরের চেয়ে কম। তারপর এখানে প্রচুর ব্যবসার সুযোগ রয়েছে। এখানে অনেক বড় বড় কোম্পানি অফিস স্থাপন করে ব্যবসা চালাচ্ছে। বাংলাদেশি শিল্প উদ্যোক্তারা চাইলে তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপন করে লাতিন আমেরিকার বাজারে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা নিতে পারেন।
মনিইদো আরও জানান, বাংলাদেশি কোনো উদ্যোক্তা ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপন করতে চাইলে তাঁকে কারখানার জন্য পাঁচ একর ও বাড়ির জন্য এক একর জমি দেওয়া হবে। এ ছাড়া শ্রমিক নিয়ে যাওয়ার সুযোগও পাওয়া যাবে।

রাজস্থানের জয়

আইপিএলে কাল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ৩১ রানে হারিয়েছে রাজস্থান রয়েলস। রাজস্থান করেছিল ১৮৩ রান, ৫ বল বাকি থাকতে ১৫২ রানে অলআউট পাঞ্জাব। রাজস্থানের এই জয়ে ব্যাট হাতে বড় অবদান লাম্ব (৩০ বলে ৪১), ফজল (৩৮ বলে ৪৫) ও ভোজেসের (২৪ বলে ৪৫)। বল হাতে ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তাঁদের কৃতিত্বে ভাগ বসিয়েছেন টেইট।
৫ ম্যাচে রাজস্থানের এটি দ্বিতীয় জয়। চেন্নাই সুপার কিংস, কলকতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লির ডেয়ার ডেভিলসের সঙ্গে চতুর্থ স্থানে উঠে এল শেন ওয়ার্নের দল। চার দলেরই পয়েন্ট ৪। সমান ম্যাচে একটি মাত্র জয় নিয়ে সবার শেষে পাঞ্জাব।

চেন্নাইয়ের হার

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম ম্যাচে আউট হলেন জ্যাক ক্যালিস। তাঁকে আউট করলেন লক্ষ্মীপতি বালাজি। পরশু বেঙ্গালুরু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের বড় রান করার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল ১৬.৫ ওভারে, তখন তাদের স্কোর ছিল ১১৯/৫। সেখান থেকেই তারা ১৭১ পর্যন্ত গেল ‘উথাপ্পা-ঝড়ে’। ৬টি ছক্কা ও ৩টি চারের সাহায্যে ৩৮ বলে ৬৮ রান করে অপরাজিত থাকেন রবিন উথাপ্পা। জবাবে ৭ উইকেটে ১৩৫ রান তুলতেই শেষ চেন্নাইয়ের ইনিংস। চেন্নাইয়ের ম্যাথু হেইডেন করেন সর্বোচ্চ ৩২ রান।

জাতীয় সাব-জুনিয়র দাবা

নাটোরের শংকর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়াম ভবনে অনুষ্ঠানরত ৩০তম জাতীয় সাব-জুনিয়র দাবার ( অনূর্ধ্ব-১৬) শিরোপা লড়াইটাকে এবার বেশ জমবে বলেই মনে হচ্ছে। গতকাল ষষ্ঠ রাউন্ডের খেলা শেষে সাড়ে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে মিলিতভাবে শীর্ষে রয়েছে আবদুল্লাহ আল সাইফ ও ইকরামুল হক। তাহমিনা আক্তার (তিশা) পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছেন দ্বিতীয়স্থানে। ষষ্ঠ রাউন্ডে সাইফ শহিদুল ইসলামকে, ইকরামুল ফাহাদ রহমানকে এবং তাহমিনা শাওনকে হারিয়েছে।

স্বাধীনতা কাপ হ্যান্ডবল

আরএন ট্রেডিংয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কাল স্বাধীনতা দিবস হ্যান্ডবলের উদ্বোধনী দিনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ রাইফেলস। ৩৭-১১ গোলে বাংলাদেশ আনসারকে হারিয়েছে তারা। বিএইচএফ সভাপতি যুবদল ও বাংলাদেশ পুলিশ দলের মধ্যকার দিনের অন্য ম্যাচটি ড্র হয়েছে ৩১-৩১ গোলে।

ঢাকায় আসছে পাকিস্তানি আম্পায়ার প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স এবং স্কোরার্স অ্যাসোসিয়েশনের আমন্ত্রণে পাকিস্তানের আম্পায়ারদের একটি প্রতিনিধিদল আগামী ৪ এপ্রিল বাংলাদেশে আসছে। ১৭ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পাকিস্তান ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী শাহ। আসছেন আইসিসির বর্ষসেরা আম্পায়ার আলিম দার, সাবেক টেস্ট আম্পায়ার মিয়া মো. আসলাম, মাহবুব শাহ, শাকিল খান, ফিরোজ বাট, সেলিম বদররাও।
১০ দিনের সফরে বাংলাদেশের আইসিসি প্যানেল এবং প্রথম শ্রেণীর আম্পায়ারদের সঙ্গে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের দুটি কর্মশালা হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। এ ছাড়া ৫ এপ্রিল ফতুল্লায়, ৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে এবং ১১ এপ্রিল বিকেএসপিতে তিনটি প্রদর্শনী টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট আম্পায়ার্স একাদশ দলের বিপক্ষে। সব আয়োজনেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটার উপস্থিত থাকবেন।

টি-টোয়েন্টি দলে ফিরবেন না টেন্ডুলকার

আগামী মাসে তিনি সাঁইত্রিশে পা দিচ্ছেন। অথচ যে খেলাটায় তারুণ্যের অধিকার ঘোষিত উচ্চ রবে, সেই টোয়েন্টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের চার ম্যাচে তাঁর ১৭৬ রান। গড় ৫৮.৬৬! গত সোমবার ৪৮ বলে তাঁর অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংসই হারিয়ে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। আর চলমান আইপিএলের এই ম্যাচের পরই অনেকে বলতে শুরু করেছেন, ভারতের শিরোপা পুনরুদ্ধারের জন্যই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা খেলা উচিত শচীন টেন্ডুলকারের। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেট জানিয়ে দিলেন বিশ্বকাপে তিনি খেলছেন না।
আগের দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও খেলেননি টেন্ডুলকার। তরুণদের দলে সুযোগ করে দিতেই স্বেচ্ছায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু তৃতীয় আইপিএলে এবার তাঁর যে ফর্ম তাতে, দলের স্বার্থেই টেন্ডুলকারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা উচিত বলে মনে করেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটাররা। ‘তার যে ফর্ম এবং ফিটনেস তাতে সে যদি (টি-টোয়েন্টি দলে) ফিরে আসতে চায় তবে সেটা দারুণ হবে’—বলেছেন সাবেক ক্রিকেটার আব্বাস আলী বেগ।
টেন্ডুলকারের ছেলেবেলা থেকেই তাঁর ব্যাটিংয়ের ভক্ত যিনি, সেই সুনীল গাভাস্কারও চান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক টেন্ডুলকার, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার খেলা উচিত।’ ভারতের আরেক সাবেক ওপেনার নভজ্যোত্ সিং সিধুও জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলে দেখতে চান টেন্ডুলকারকে, ‘আমার মনে হয় তার বর্তমান ফর্মটা নির্বাচকেরা বিবেচনা করবে। আইপিএলে যেভাবে ব্যাটিং করছে তাতে ওর দাবিটা জোরালো হয়ে উঠেছে।’
কিন্তু সমর্থকদের হতাশ করে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের অধিনায়ক জানিয়ে দিলেন আগামী মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত বদলাবেন না। টেন্ডুলকারের এই অনড় চরিত্র অবশ্য জানাই। গত বছরও দক্ষিণ আফ্রিকায় আইপিএল চলার সময় নির্বাচক যশপাল শর্মা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। রাজি হননি টেন্ডুলকার।

মাঠের বাইরেই তো বড় গলদ by তারেক মাহমুদ

সিরিজ শেষে বোর্ড সভাপতির রুমে কোচ-অধিনায়কের ডাক পড়াটা এখন নিয়মিত। কাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টের পরও জেমি সিডন্স-সাকিব আল হাসান জুটি বেঁধে গেলেন আ হ ম মোস্তফা কামালের রুমে। এই সিরিজে ভালো খেলার জন্য দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সভাপতি। আশ্বাস দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে দলের জন্য তাঁর সাহায্যের হাত থাকবে প্রসারিত।
এই প্রয়োজন এবং সভাপতির সাহায্য অনেক রকমই হতে পারে। তবে একটু যদি ডানে-বাঁয়ে তাকান, প্রশ্নটা জাগবেই—মাঠের পারফরম্যান্স ভালো করতে বোর্ডের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব সমর্থনই কি পাচ্ছে বাংলাদেশ দল?
ক্রিকেটে ভালো খেলাটা শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের ওপরই নির্ভরশীল নয়। ক্রিকেটে আসলে মাঠের বাইরেও একটা বড় ‘খেলা’ আছে এবং সেই ‘খেলাটা’ খেলতে হয় ক্রিকেট বোর্ডকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সে খেলায় এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। বলতে পারেন মাঠে বাংলাদেশ দল যতটাই খেলছে, মাঠের বাইরে বিসিবি তার ধারেকাছেও নেই।
ক্রিকেটারদের নিয়ে কোচ জেমি সিডন্স সকাল-বিকেল মাঠে ঘাম ঝরানো অনুশীলন করলেও ইংল্যান্ড সিরিজের আগে মাঠের বাইরের প্রস্তুতিটা কি ঠিকমতো হয়েছিল? পরিষ্কার ঘাটতি ছিল চিন্তাভাবনা আর পরিকল্পনার জায়গাতে। হোম কন্ডিশনের সুবিধাটাই তো পেল না বাংলাদেশ! ঢাকা-চট্টগ্রাম কোনো টেস্টের উইকেট দেখেই মনে হয়নি সেগুলো বাংলাদেশ দলের শক্তিমত্তা বা দুর্বলতার কথা ভেবে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশের মূল শক্তি স্পিন, স্পিনারদের কথা ভেবেই তাই উইকেট বানানো উচিত। অথচ এই সিরিজের উইকেটে চতুর্থ-পঞ্চম দিনেও বল ঘুরল না! স্বাগতিক দলের নিজস্ব কন্ডিশনের সুবিধা নেওয়ার রীতিটা যেন ভুলেই গেল বাংলাদেশ!
ব্রিটিশ মিডিয়ার কারণে ইংল্যান্ডের পতনে সব সময়ই সবচেয়ে বেশি শব্দ হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজটা ছিল তাই পুরো বিশ্বকে সচকিত করে তোলার একটা সুবর্ণ সুযোগ। প্রস্তুতির সব ছক সেভাবেই কষতে হতো। কিন্তু চিন্তাভাবনাতেই ঝামেলা থেকে গেলে কি আর সেটা হয়? ইংল্যান্ড সিরিজটা দেশে, অথচ তার আগে বাংলাদেশ সিরিজ খেলল কি না সম্পূর্ণ উল্টো কন্ডিশনের নিউজিল্যান্ডে! ইংল্যান্ড সিরিজের আগে এ রকম একটা সিরিজ খেলার আদৌ কি কোনো দরকার ছিল? নিউজিল্যান্ড সফর আর ইংল্যান্ড সিরিজের সূচিতেও আছে সমন্বয়হীনতা। নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ টেস্ট খেলল সবার শেষে, অথচ ইংল্যান্ড সিরিজে ওয়ানডেটাই আগে। তা ছাড়া নিউজিল্যান্ড সফরের আগে দেশে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। দুই সিরিজের সূচি এমনই ঠাসাঠাসি ছিল যে ভারত সিরিজ যেদিন শেষ, সে রাতেই ক্রিকেটারদের নিউজিল্যান্ডের বিমানে ওঠার কথা (টেস্টটা চার দিনে শেষ হয়েছিল বলে অবশ্য একটা দিন হাতে পেয়েছিলেন খেলোয়াড়েরা)।
সাকিব আল হাসান কাল সংবাদ সম্মেলনে দলে লেগ স্পিনারের অভাবের কথা বললেন। কিন্তু লেগ স্পিনার তো আর এমনি এমনি চলে আসবে না দলে। ক্রিকেটীয় সামর্থ্যের ঘাটতি পূরণে কী করছে বোর্ড? উইকেটকিপার খালেদ মাসুদের পর যে নির্ভরযোগ্য আর কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না, সে দায়ও তাদেরই নিতে হবে। মুশফিকুর রহিমের ঘাড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার গরম নিঃশ্বাস ফেলতে পারে, সে রকম কাউকেই তো উঠিয়ে আনা যাচ্ছে না! এসব প্রশ্নে বোর্ড বা নির্বাচকদের পছন্দের উত্তর, ‘আমাদের তো অপশন নেই।’ ‘অপশন’ কীভাবে তৈরি হবে সেটা কিন্তু কেউই বলেন না।
‘অপশন’ তৈরি হতো যদি জাতীয় দলে আসার পথটা আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানানসই হতো। নির্বাচকেরা ‘প্রসেসের’ কথাও বলেন, যে ‘প্রসেসের’ মূল যন্ত্র জাতীয় ক্রিকেট একাডেমি এখনো চলছে নবিশি চালে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পাশে একাডেমির জন্য সুরম্য ভবন হয়েছে, এখন পর্যন্ত যে ভবনের ডাইনিংটাই চালু হয়েছে কেবল। চাইলে হয়তো একাডেমির সুসজ্জিত কক্ষে আরামে রাতও কাটানো যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ভবন এখনো বিসিবির সংবাদ সম্মেলন কক্ষের মাঝেমধ্যেই বিকল হয়ে পড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মতো। অলঙ্কার হয়ে থাকাটাই যার সবচেয়ে বড় ভূমিকা।
শোনা যাচ্ছে, বিসিবির ২৫ সদস্যের পরিচালনা পরিষদের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে নাড়াচাড়া চলছে। বড় অদ্ভুত! বোর্ড পরিচালকের সংখ্যা বাড়লে দেশের ক্রিকেটের কী উন্নতি হবে কে জানে, অথচ সেটার ভাবনাতেও ব্যস্ত ক্রিকেট নীতিনির্ধারকদের মস্তিষ্ক!
সান্ত্বনা এই, যে দেশের মাঠের বাইরের ‘ক্রিকেট’ এখনো এতটা পিছিয়ে, সে দেশের জাতীয় দল ইংল্যান্ডকে টেস্টের পঞ্চম দিন পর্যন্তও চোখ রাঙাতে পারছে। সাকিব আল হাসান আর তাঁর দলকে ধন্যবাদ। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়েও তো তাঁরা লাখ টাকার স্বপ্ন দেখাতে পারছেন

অতীত অনুসন্ধানের সহজ চেষ্টা by দীপংকর চন্দ

উজ্জ্বল সূর্যকিরণ চারদিকে। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বৈশাখের ছন্দময় গান। রুক্ষ-শুষ্ক-জীর্ণ বেশ ছুড়ে ফেলে নতুন রঙে নিজেকে সাজিয়ে নিতে ব্যস্ত প্রকৃতি। চেনা-অচেনা বৃক্ষরাজির শাখায় শাখায় নবীন পাতার উচ্ছলতা। অকৃত্রিম সেই উচ্ছলতার জোয়ার স্পর্শ করেছে বাতাসকে। সমস্ত পিছুটান অগ্রাহ্য করে বাতাস তাই ছুটে বেড়াচ্ছে বল্গাহীন ঘোড়ার মতো, কেশর ফুলিয়ে দিগন্ত দাপিয়ে। অসাধারণ, উপভোগ্য মুহূর্তের কি নান্দনিক উপস্থাপন! স্বর্গীয় সময়ের কী মনোমুগ্ধকর সংযোজন! আচ্ছা, অলৌকিক কোনো মন্ত্রবলে স্থির করে কি ধরে রাখা যায় না এই স্বর্গীয় সময়কে? ধূসর অতীত হওয়ার হাত থেকে কি রক্ষা করা যায় না বর্তমানের এই সুখচ্ছবিকে? না, যায় না। ভাবনার অতল থেকে নেতিবাচক উত্তর উঠে আসে অবলীলায়। কারণ, নশ্বর মানুষের সাধ্য নেই সময়কে স্থির করে ধরে রাখার! সাধ্য নেই বর্তমানের সুখচ্ছবিকে অতীত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার! মহাজাগতিক নিয়মে ঘটমান বর্তমান বিলীন হবেই অতীতের গর্ভে। তবে চিত্রাঙ্কন কিংবা আলোকচিত্র গ্রহণের মতো কিছু প্রতিষ্ঠিত কলাকৌশলে, স্মৃতিবিজড়িত স্মারক সংগ্রহের মতো কিছু উদ্যোগ-আয়োজনের মাধ্যমে কালের বিস্মৃতিপ্রবণ অঞ্চল থেকে স্মৃতিকে তুলে এনে অতীত অনুসন্ধানের চেষ্টায় প্রবৃত্ত হতে পারে বর্তমান সময়ে বসবাসকারী মানুষ। চিত্রে-আলোকচিত্রে চোখ বুলিয়ে, সংগৃহীত স্মৃতিস্মারকে দৃষ্টি রেখে ইচ্ছে করলেই তারা হারিয়ে যেতে পারে পুরোনো দিনে, অন্তর্দৃষ্টি একটু প্রসারিত করলেই তারা ফিরে যেতে পারে ফেলে আসা প্রাচীন প্রহরে—আর এ কাজে মানুষের দিকে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে দিতে প্রস্তুত ‘জাদুঘর’।
ময়মনসিংহ সদরে পৌঁছে তাই রিকশায় চেপে বসলাম প্রথমেই। গন্তব্য ‘ময়মনসিংহ জাদুঘর’। শহরের পৌর ভবনের কাছেই অমৃত বাবু সড়ক। অপ্রশস্ত এই সড়কের একপ্রান্তে দেয়ালঘেরা একটি স্থানের মধ্যবর্তী অংশে প্রবেশপথ। মোটা গ্রিলে তৈরি সেই প্রবেশপথের দুই কোনায় দুটো পাখি আকৃতির অমসৃণ দেয়াল মিশে গেছে সীমানা দেয়ালের সঙ্গে। দ্বাররক্ষীর বাড়াবাড়িহীন প্রবেশপথ নিশ্চিন্তে অতিক্রম করলাম আমরা। শান বাঁধানো সরু পথ আমাদের পায়ের নিচে। হাতের ডান দিকে প্রাণোচ্ছল কাঁঠালিচাপা গাছ। বাঁ দিকে গোলাপসমৃদ্ধ সাজানো বাগান এবং একটু সামনেই একটি বিবর্ণ হলুদ রঙের একতলা ভবন। আগে এই ভবনটি ছিল জমিদার মদনমোহন বাবুর বাগানবাড়ি। দেশভাগের পর বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বেশ কিছুদিন। ১৯৬৯ সালের ১ আগস্ট মদনমোহন বাবুর এই বাগানবাড়িতে স্থাপন করা হয় ‘মোমেনশাহী জাদুঘর’। সে সময় জাদুঘরটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পিত হয় ময়মনসিংহ পৌরসভার ওপর। ১৯৮৯ সালে জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর।
পুরোনো এই জাদুঘর ভবনের সামনের দিকে প্রায় অর্ধবৃত্তাকার একটি কক্ষ। সুউচ্চ বহু জানালাবিশিষ্ট কক্ষটির কেন্দ্রভাগে মাঝারি আকৃতির প্রবেশদ্বার। আলোর প্রাচুর্যময় এ কক্ষটির অভ্যন্তরে দুটি হাতির মাথার কঙ্কাল সংরক্ষিত। অবিশ্বাস্য বিশালাকৃতির এই কঙ্কাল দুটো মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি থেকে সংগৃহীত। কক্ষের দুই পাশের বর্ধিতাংশের চার কোনায় চারটি মূল্যবান কাঠের শোকেস এবং একপাশে সিমেন্ট ও ঝিনুক দিয়ে নির্মিত একটি রাজহাঁসের প্রতিকৃতি বিদ্যমান। ‘জাদুঘরের কক্ষসংখ্যা সর্বমোট ১১। অফিসের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কক্ষ ব্যতীত অন্য কক্ষগুলো বর্তমানে ব্যবহূত হচ্ছে সংগৃহীত প্রত্নতাত্ত্বিকসামগ্রী প্রদর্শনের জন্য’—জানালেন জাদুঘরের পরিচালক মো. আসলাম উদ্দিন খান।
ময়মনসিংহ জাদুঘরের সংগৃহীত প্রত্নসামগ্রীর সুবিশাল অংশই বহন করছে মুক্তাগাছার বিখ্যাত জমিদারদের স্মৃতি। অফিসসংলগ্ন কক্ষটিতে বিভিন্ন আকৃতির দেবদেবীর মূর্তির পাশাপাশি নৃত্যরত মহাশ্রীধর বিগ্রহটির উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জাদুঘরের সবচেয়ে বড় কক্ষটিতে রয়েছে মহিষের শিংয়ের সুরা-পানপাত্র, হুক্কা, ধোবাউড়া থেকে সংগৃহীত শিবলিঙ্গ বেদি, আঠারবাড়ী জমিদারবাড়ি থেকে প্রাপ্ত মার্বেল পাথরের গোলটেবিল, গৌরীপুর জমিদারবাড়ি থেকে সংগৃহীত শ্বেতপাথরের টেবিল ছাড়াও সুখস্মৃতিপূর্ণ অতীতের নানা উপাদান। কিন্তু অতীত কি শুধুই সুখস্মৃতিপূর্ণ? না, অতীতের অধিকাংশ অধ্যায়ই ভীষণ বেদনাদায়ক। কিন্তু ইতিহাস সংরক্ষণের প্রচলিত নিয়মে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই গুরুত্ব পায় শাসকশ্রেণীর ভোগবিলাসী জীবন ও তাঁদের জীবনোপকরণসামগ্রী। বিপরীতে সাধারণ প্রজাদের যাপিত জীবনের বেদনাদায়ক দিকগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে, অনুল্লেখ্য থাকে শাসক কর্তৃক প্রজা নিপীড়নের উপাত্ত-প্রমাণগুলো। বিষয়টি শুধু ময়মনসিংহ জাদুঘরের ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য জাদুঘরের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য। তবু ময়মনসিংহ জাদুঘরের প্রাচীন অস্ত্রে সজ্জিত তিনটি শোকেসের এককোনায় অবহেলায় পড়ে থাকা হাত কাটার যন্ত্রটি অতীতের সেই বেদনাদায়ক অধ্যায়ের একটি নির্মম চিত্র ফুটিয়ে তোলে আমাদের সামনে। মুক্তাগাছা থেকে প্রাপ্ত এই যন্ত্রটি দিয়ে অবাধ্য প্রজাদের শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করতেন জমিদাররা। ক্ষমতা নিরঙ্কুশ রাখতে শাসকগোষ্ঠী আর কী ধরনের অত্যাচার চালাতেন প্রজাদের ওপর? সে ইতিহাস জানা কতটুকুই বা সম্ভব আজ? বিষণ্ন মনে ভাবতে থাকি আমরা। অতীত অনুসন্ধানের সহজ চেষ্টায় সহসাই ছেদ টেনে বেরিয়ে আসি জাদুঘরের বাইরে। মাথার অনেক ওপরে আকাশ দেখি, দেখি জলভরা মেঘ, হঠাৎ পাল্টে যাওয়া প্রকৃতি, বিবর্ণ সময়।