Monday, August 10, 2026

সরেজমিনে ইরান ঘুরে কী দেখলেন বিবিসির সাংবাদিক, যুদ্ধে মানুষের জীবন কতটা বদলেছে

দ্য গার্ডিয়ানঃ বিবিসির জ্যেষ্ঠ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক নওয়াল আল-মাগাফির ইরান সফরের এই প্রতিবেদনে যুদ্ধের বহুমুখী প্রভাব উঠে এসেছে। মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তূপ, বন্দর আব্বাসের অচলাবস্থা ও তেহরানের জনসমাগম ঘুরে তিনি যুদ্ধকবলিত ইরানের সাধারণ মানুষের ভাবনা বুঝতে চেষ্টা করেছেন। বিবিসির ‘গ্লোবাল আই’-এর জন্য করা প্রতিবেদনটি দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত হয়েছে। সেখান থেকে অনুবাদ করা হলো।

খননযন্ত্রটি হঠাৎ থেমে যায়। এক শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে কিছু একটা বের করে আনেন। সেটি প্যাঁচানো ধাতু বা ভাঙা কংক্রিট নয়। একটি শিশুর খাতা। পাতাগুলো এখনো অক্ষত, পরিপাটি হাতের লেখায় ভরা। প্রচ্ছদে একটি নাম লেখা—মাহিয়া সালারি। তার বয়স ছিল আট বছর।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পাঁচ মাস পরও খননযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো এক শিশুর মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার মরদেহের সন্ধানে শ্রমিকেরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আমাইনে নাদেমির সঙ্গে কথা বলছেন বিবিসির জ্যেষ্ঠ অনুসন্ধানী প্রতিবেদক নওয়াল আল-মাগাফি।

মিনাবের প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় এখানে ১৫৬ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২০ জনই শিশু।

শহরজুড়ে দেয়াল, দোকানের শাটার আর রাস্তার ধারের বিলবোর্ডে টাঙানো রয়েছে মৃত মানুষের ছবি। ফলে মিনাব শহরটি যুদ্ধের কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও কষ্টের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের ‘নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা ঘটেনি; বরং এই সংঘাত ইরানকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যা খুব কম মানুষ প্রত্যাশা করেছিলেন। দেশটির এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণ করলে যুদ্ধের প্রভাব ইরানের মানুষের জীবনে কতটা পড়েছে, তা স্পষ্ট ধরা পড়ে।

তেহরান থেকে বন্দর আব্বাসগামী রাতের ট্রেনটি প্রায় ৯০০ মাইল (১ হাজার ৪৪৮ কিলোমিটার) পথ পাড়ি দিয়ে সেখানে পৌঁছায়। এটি ইরানের রাজনৈতিক কেন্দ্রকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ উপকূল ও হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত করেছে। ট্রেনটি পাহাড়, মরুভূমি এবং নাতাঞ্জ ও ফোর্দোর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পেরিয়ে উপসাগরের দিকে যায়।

ট্রেনে রয়েছেন শিক্ষার্থী, ফুটবলার, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পরিবার। ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এসব মানুষের প্রত্যেকের কাছে যুদ্ধের অর্থের নিজস্ব একটি গল্প রয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেক বছর ধরে চলা কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং ইরানের নেতৃত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক দমন–পীড়ন চালানো হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আরও অনেকে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে মোট হতাহতের সংখ্যা কত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এরপর শুরু হয় যুদ্ধ। যুদ্ধের প্রথম কয়েকটি দিন ভীতিকর ছিল জানিয়ে আইনজীবী আজাদেহ বলেন, ‘মানিয়ে নেওয়া প্রত্যেক ইরানির স্বভাবের মধ্যে রয়েছে। আমরা আমাদের জীবন চালিয়ে যাওয়ার, দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখার এবং আশাবাদী থাকার চেষ্টা করেছি।’

বিক্ষোভ ও যুদ্ধের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসতে পারে বলে যাঁরা বিশ্বাস করতেন, তাঁদের বিষয়ে আজাদেহের মতামত জানতে চাইলে তিনি কিছুক্ষণ চুপ থাকেন। এরপর জবাব দিতে শান্তভাবে অস্বীকৃতি জানিয়ে আলাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন তিনি।

ট্রেনের স্লিপার কামরার ভেতরে দ্রুত প্রসঙ্গ পরিবর্তন হয়। পরিবার, কাজকর্ম ও দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় ঘুরেফিরে আসতে থাকে। তবে রাজনীতির প্রসঙ্গ এলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ইরানে প্রকাশ্যে রাজনীতি নিয়ে কথা বলা যে ঝুঁকিপূর্ণ, তা এতে স্পষ্ট।

আজাদেহের সফরসঙ্গী রূপচর্চাবিশেষজ্ঞ সেপিদেহ অবশ্য কথা বলতে বেশ আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমি ইরানকে ভালোবাসি। ভীষণ ভালোবাসি। কিন্তু যখন দেখি আমার তারুণ্য ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং আমার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যাচ্ছে, তখন (দেশ ছেড়ে) চলে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকে না।’

ট্রেনের আরও সামনের দিকে একটি কামরায় বসেছেন দুই তরুণ ফুটবলার। তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন। কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর ঘরোয়া লিগ আবার শুরু হয়েছে। কথা হলো তাঁদের সঙ্গে।

যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি কী মনে আছে, জানতে চাইলে ফুটবলার আবদুল্লাহ বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) শিশুভর্তি একটি স্কুলে হামলা করেছিল…তাদের বয়স ছিল ৭, ৮ ও ৯ বছর। পুরো দেশ শোকে ভেঙে পড়েছিল। জানাজার দিন…সবাই কেঁদেছিল।’

বন্দর আব্বাস থেকে একটি রাস্তা দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে ভেতরের দিকে মিনাব শহর অভিমুখে চলে গেছে। শহরটি খেজুরগাছ ও বৃহস্পতিবারের জমজমাট বাজারের জন্য পরিচিত। তবে বর্তমানে এখানকার প্রায় প্রতিটি গলি বা রাস্তায় যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট।

স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের ছবি এখানকার ভবন ও সড়কের বাতির খুঁটিতে টাঙানো হয়েছে। শহরের প্রান্তে শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখন ধ্বংসাবশেষ ছাড়া কিছু নয়। কংক্রিটের মেঝেগুলো একটির ওপর আরেকটি ধসে পড়েছে। বিধ্বস্ত শ্রেণিকক্ষ থেকে বাঁকা রড বেরিয়ে আছে। সেখানে এখনো ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে আছে মাহিয়া সালারির খাতাটি।

মাহিয়া তার ছোট ভাই আলীর সঙ্গে স্কুলে ছিল। হামলার কিছুক্ষণ আগে মা তাদের নিয়ে যেতে স্কুলে এসেছিলেন। হামলায় তিনজনই নিহত হন।

আমাইনে নাদেমি এই স্কুলে ছয় বছর ধরে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটিকে আর স্কুল বলা যায় না। এখানে শুধু দেয়ালগুলো দাঁড়িয়ে আছে, যেগুলো থেকে মৃত্যু, শোক আর রক্তের গন্ধ ভেসে আসে।’

হামলার পর শিক্ষার্থীদের বাবা–মায়েদের খালি পায়ে ভবনটির দিকে ছুটে আসার কথা স্মরণ করে নাদেমি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, সবাই বেরিয়ে গেছে। আমি জানতাম না, তারা সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।’

সংলগ্ন একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার সময় স্কুলটিতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। কিন্তু এ বিষয়ে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।

ওই দিন সকালের ঘটনা এখনো চোখে ভাসে উল্লেখ করে রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মী রেজা বেসারাতি বলেন, ‘আমি এখনো সবকিছু মনে করতে পারি।’

যেসব ইরানি বাইরের চাপ সরকারকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করতেন, তাঁদের কারও কারও কাছে মিনাব একটি বাঁকবদলের জায়গা হয়ে উঠেছে।

সরকারের বিরুদ্ধে একসময় রাস্তায় নেমেছিলেন, এমন এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমি যুদ্ধ মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিনিময়ে নয়। যুদ্ধ সবকিছু ধ্বংস করে দেয়। এটি ভালো মানুষ আর খারাপ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।’

মিনাবের কবরস্থানে সারিবদ্ধ ছোট ছোট কবরের মাঝখান দিয়ে শিশুরা ছোটাছুটি করছে। আর পরিবারগুলো দুপুরের চড়া রোদ থেকে বাঁচতে সেখানে ছায়া খুঁজছে।

মাসুমেহ মেহরান শেখাবাদি প্রায় প্রতিদিন এখানে আসেন। তাঁর ৯ বছর বয়সী মেয়ে সেতায়েশ ওই হামলায় নিহত হয়েছে।

শেখাবাদি বলেন, ‘আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন শুধু ধোঁয়া আর শিশুদের চুলের গন্ধ। আমি একটি হাত দেখেছিলাম। একটি পা দেখেছিলাম। তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।’

মিনাবের পশ্চিমে অবস্থিত বন্দর আব্বাস ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্দর এবং হরমুজ প্রণালির মূল প্রবেশদ্বার। মিনাব যেমন এই যুদ্ধে ইরান সরকারের বয়ানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, তেমনি বন্দর আব্বাস এমন এক জায়গা, যেখান থেকে সরকার তার শক্তির প্রকাশ ঘটিয়ে থাকে।

বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবহন করা মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই সামুদ্রিক করিডরের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতা দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বন্দর আব্বাসে ইরানের প্রচলিত নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী—দুটিরই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। ফলে শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নিশানায় পরিণত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে এই শহর ও এর আশপাশে অন্তত ৯৬টি মার্কিন হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

আমি যখন এই এলাকায় পৌঁছাই, তখন সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় জেলেরা নোঙর করে রাখা পণ্যবাহী জাহাজের আশপাশে কাজ করছেন। এসব জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কয়েক মাস ধরে চলা অচলাবস্থার কারণে অনেকের রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে।

তেহরানে ফিরে এসে দেখি, পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। তখন যুদ্ধের মধ্যে সাময়িক বিরতি চলছিল। এই ফাঁকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাস পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লাখো মানুষ অংশ নেন। সরকারি হিসাবমতে, তা কয়েক মিলিয়ন।

সড়কের দুই পাশে খামেনির ছবি টাঙানো হয়েছে। মাইকে বিপ্লবী সংগীত বাজছে। মানুষের মুখে মুখে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান ঘুরেফিরে আসছিল। এই জানাজা একই সঙ্গে শোক প্রকাশের মুহূর্ত এবং রাজনৈতিক ঐক্যের একটি সুচিন্তিত প্রদর্শনী।

জীবনে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নেওয়া সুরাইয়া বলেন, ‘আমি এমন অনেক মানুষকে চিনি, যাঁরা সরকারের বিরোধিতা করতেন।...আজ তাঁরা সরকারকে সমর্থন করছেন।’ সুরাইয়ার এই কথায় দেশটির বৃহত্তর জনমতের প্রতিফলন আছে কি না, তা জানা অসম্ভব। এর কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ে।

যুদ্ধ নিয়ে ইরানজুড়ে একক কোনো ভাষ্য নেই। কেউ মনে করেন, এই যুদ্ধ জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে। আবার কেউ বলেন, এতে মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বেড়েছে। কিন্তু চলতি বছরের শুরুতে যে ক্ষোভ থেকে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, তার কোনো সমাধান হয়নি।

মিনাবের একটি স্কুলের ধ্বংসাবশেষ থেকে হরমুজ প্রণালির ব্যস্ত নৌপথ হয়ে তেহরানের জনবহুল চত্বর—এই পুরো যাত্রা এমন একটি দেশের চিত্র তুলে ধরেছে, যা যুদ্ধের কারণে আমূল বদলে গেছে। যুদ্ধ এখনো চলছে। তাই এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কী ধরনের উত্তরাধিকার রেখে যাবে, তা নির্ধারণের লড়াইও সমানতালে চলছে।

ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছেন ইরানের দুই তরুণ ফুটবলার। তাঁরা ঘরোয়া লিগে খেলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা হয় বিবিসির সাংবাদিক নওয়াল আল-মাগাফির
ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছেন ইরানের দুই তরুণ ফুটবলার। তাঁরা ঘরোয়া লিগে খেলেন। তাঁদের সঙ্গে কথা হয় বিবিসির সাংবাদিক নওয়াল আল-মাগাফির। ছবি: বিবিসি/ দ্য গার্ডিয়ান থেকে স্ক্রিনশট

ডিনায়াল ও ডিফেমেশনের রাজনীতি by দিলশানা পারুল

২০২৪-এর জুলাই মাসে আন্দোলনের হত্যা এবং নৃশংসতার যেসব ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আসত, সেটি ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ার পর আওয়ামী লীগপন্থিরা সঙ্গে সঙ্গে কমেন্ট সেকশনে এসে বলত, এটা ফেক ভিডিও, আপনি প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। কোনো ধরনের ভ্যালিডেশন ছাড়া সব ভিডিওকে তারা ফেক ভিডিও বলে হত্যাকাণ্ডগুলোকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিত। এমনকি আন্দোলনের যে ছবিগুলো আসত, প্রতিরোধের যে ভিডিওগুলো আসত, সেগুলোর পোস্টের নিচে এসেও বলত, এসব ভিডিও ফেক, আপনি প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন।

আজকে দুই বছর পর, ২০২৬-এর জুলাই মাসেও একইভাবে দেখবেন, পুরো এই দুই বছর জুড়েই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে যে রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করা হয় এবং এই দুই বছর যাবৎই যেটা করা হয়েছে, সেটি হচ্ছে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এসব হত্যাকাণ্ডকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা। এমনকি এই ছাত্র-জনতার প্রতিরোধগুলোকেও অস্বীকার করা এবং এই যে ঘটমান সত্যকে তারা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে, ডিনাই করে, এটি কোনো র‍্যান্ডম ঘটনা না; বরং এটা ডেলিবারেটলি দুই বছর ধরে করে আসা ঘটনা। এটাই তাদের সচেতন রাজনৈতিক অবস্থান যে, আওয়ামী লীগের দ্বারা সংঘটিত সব অপরাধকে চোখ বন্ধ করে অস্বীকার করে ফেলতে হবে। তাহলে বোধহয় তাদের দায়মুক্তি ঘটে গেল। এটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান। অনেকটা এ রকম, যতক্ষণ অপরাধী অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত অপরাধী অপরাধ ঘটিয়েছে—এর কোনো প্রমাণ নেই। আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এটা মনে করে এবং রিলিজিয়াসলি এটা চর্চা করে।

এটাই হচ্ছে অস্বীকার বা ডিনায়ালের রাজনীতি। খুব দুঃখজনকভাবে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে গত দুই বছরে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্টেকহোল্ডার আরো অনেক দল এই অস্বীকারের রাজনীতিকে এনডোর্স করেছে, প্যাট্রোনাইজ করেছে।

আরো কতগুলো রাজনৈতিক গোষ্ঠী আছে, যারা আওয়ামী লীগের দ্বারা হত্যাকাণ্ডকে স্বীকার করে, কিন্তু তার বিপরীতে জুলাইয়ের সময় মাঠে যে ছাত্র-জনতার রেজিস্ট্যান্স ছিল, সেই প্রতিরোধকারী স্টেকগুলোকে ক্রমাগত অস্বীকার করে। জুলাই অভ্যুত্থানে পরিষ্কার দুটি ভাগ ছিল। একটা হচ্ছে শেখ হাসিনা রেজিম দ্বারা ছাত্র-জনতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা আর দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে রাস্তায় ছাত্র-জনতার গড়ে তোলা রেজিস্ট্যান্স। আওয়ামী লীগ সরাসরি ডিনাই করে তাদের দ্বারা যে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে সেটাকে আর বাংলাদেশের অপরাপর অনেক রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডার তারা অস্বীকার করে ছাত্র-জনতার যে শক্তিটা মাঠে রেজিস্ট্যান্স গড়ে তুলেছিল সেই অংশটাকে। তারা প্রধানত অস্বীকার করে মাঠের রেজিস্ট্যান্সের যে নিউক্লিয়াস ছিল, যারা খুব পরিকল্পিতভাবে অন্তত নিউক্লিয়াসের অংশটাকে সংগঠিত করেছে এবং দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়েছে, সেই রেজিস্ট্যান্সের নিউক্লিয়াসটাকে তারা অস্বীকার করে। এটাও ডিনায়ালের রাজনীতিই। ঘটমান সত্যকে অস্বীকার করা।

এবার একটু দেখতে চাই ডিফেম বা কলঙ্কিতকরণের রাজনীতিটা কীভাবে ঘটেছে। তার আগে একটু বলে নিই, ডিফেম বা কলঙ্কিতকরণ কেন করা হয়। আপনি যখন কোনো কিছুর গ্রহণযোগ্যতাকে নষ্ট করতে চান, তখন সে বিষয় বা ব্যক্তিকে ধরে ডিফেম করবেন বা কলঙ্কিত করবেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে যদি ওই বিষয় বা ব্যক্তির ওপর কলঙ্ক আরোপ করা যায়, তাহলে তার গ্রহণযোগ্যতাকে সরাসরি নষ্ট করে দেওয়া যায় এবং রাজনীতিতে এটা খুবই কার্যকর একটা পন্থা। ঠিক এ বিষয়টিকেই আমরা দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলন এবং তার পরবর্তী গত দুই বছর।

এবার একটু দেখতে চাই এই কলঙ্কিতকরণ প্রকল্পটা কী কীভাবে চলেছে

পুরো জুলাই মাসে ছাত্ররা যখন মাঠে আন্দোলন গড়ে তুলছে, তখন এটাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়েছে জঙ্গিদের আন্দোলন হিসেবে।

আওয়ামী লীগ যেহেতু নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পোর্ট্রে করতে পেরেছিল, কাজেই এই আন্দোলনকে তারা ট্যাপ ইন করার চেষ্টা করল ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় হেরে যাওয়া শক্তি জামায়াত-শিবির-রাজাকারের চক্রান্ত হিসেবে’।

আন্দোলনের মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে—এই ন্যারেটিভ মাঠে আমদানি করে। তবে এই কলঙ্কিতকরণ সবচেয়ে বেশি চলেছে ৫ আগস্টের পর। ৫ আগস্টের পর যেটি হলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারের পেছনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যে ছাত্র সংগঠনটি নেতৃত্বদানকারী এবং অন্যতম প্রধান সংগঠকের ভূমিকায় ছিল, সেই ‘ছাত্রশক্তি’ সংগঠনটিকে ভিলেন হিসেবে হাজির করা হলো। কোনো ধরনের ডকুমেন্ট এবং ঐতিহাসিক রেফারেন্স ছাড়া ছাত্রশক্তি সংগঠনটিকে বাংলাদেশের রাজনীতির বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক, রাজনীতি না বোঝা, ক্ষমতালোভী একদল ছেলেমেয়ের ক্ষতিকারক ক্লাব হিসেবে হাজির করলেন। একটি লেজিটিমেট, শক্তিশালী নতুন ধরনের ছাত্র সংগঠনের ক্রেডিবিলিটিকে সম্পূর্ণভাবে ধসিয়ে দেওয়া সম্ভব হলো এই কলঙ্কিতকরণের মধ্য দিয়ে।

আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যানারের নিচে ‘ছাত্র সমন্বয়ক’ এই পদটা। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে সবচেয়ে বেশি কলঙ্কিত করা হয়েছে এই ছাত্র সমন্বয়ক দাবি করা এবং পরিচয়ে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আন্দোলনের যে সংগঠকরা ছিল, তাদের। সত্য-মিথ্যা জড়িয়ে অথবা বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ—এসব কিছু প্রয়োগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র সমন্বয়ক পদটাকে সম্পূর্ণভাবে কলঙ্কিত করা গেছে। বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজনীতিতে যে আন্দোলনের ব্যানারটা হতে পারত অসম্ভব শক্তিশালী একটা ব্যানার এবং রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারত, তাকে সম্পূর্ণভাবে ধসিয়ে দেওয়া গেছে।

পরে এই অভ্যুত্থানের মধ্যে থেকে উঠে আসা ছাত্র নেতৃত্বরা যখন রাজনৈতিক দল করতে চাইল, সে রাজনৈতিক দলের সম্মুখভাগে থাকা নেতৃত্বদের একজন একজন করে ধরে ভিলিফাই করা হয়েছে, কলঙ্কিত করা হয়েছে। তার অর্থনৈতিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, পদবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত—এই ধরনের বহুবিধ সত্য-মিথ্যা অ্যালিগেশন এনে, যেগুলো পরে প্রমাণও করা যায়নি, এগুলো করার মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক ফোর্সটাকেও খুব সফলভাবে কলঙ্কিত করা গেছে।

অভ্যুত্থানপন্থি রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে কলঙ্কিত করার জন্য বা ডিফেম করার জন্য কতগুলো মতাদর্শিক অবস্থানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন : অভ্যুত্থানপন্থি যে দলীয় রাজনৈতিক এবং নির্দলীয় রাজনৈতিক বর্গ বা এনটিটিগুলো ছিল, তাদের হরেদরে ডানপন্থি, উগ্রবাদী, নারীবিদ্বেষী, সংস্কৃতিবিদ্বেষী অথবা ধর্মবিদ্বেষী, শাহবাগি—এ ধরনের বিভিন্ন মতাদর্শিক কম্পাসের নিক্তিতে মেপে এই জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোকে ভিলিফাই করা হয়েছে এবং তারা সমাজের জন্য ক্ষতিকারক, এই মতাদর্শিক অবস্থানগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়—সেটি প্রমাণ করা গেছে এবং এই মতাদর্শিক স্কেলে মেপে তাদের কলঙ্কিত করা হয়েছে, তাদের গ্রহণযোগ্যতাকে খারিজ করা হয়েছে। রাজনীতির ময়দানে এই ডিনায়াল এবং ডিফেমেশন খুবই কার্যকর দুটি টুলস। অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে পারপেট্রেটর বা অপরাধী সব অপরাধকে যেমন ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, একইভাবে গণমানুষের রেজিস্ট্যান্সকে অস্বীকার করে গণমানুষের যে সম্ভাবনা, সেটাকেও ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আর ডিফেমেশন বা কলঙ্কিতকরণ টুলসের মধ্য দিয়ে সব সম্ভাবনাময় যে বিপ্লবী বা পরিবর্তনকামী রাজনৈতিক ফোর্স ছিল, তাদের গণমানুষের সামনে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে হাজির করা হয়েছে। যেন গণমানুষের রাজনৈতিক শক্তি গড়ে ওঠার জন্য ন্যূনতম শর্তও মাঠে হাজির না থাকে।

* দিলশানা পারুল, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ডিনায়াল ও ডিফেমেশনের রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে উৎপাদন বৃদ্ধির তাগিদ দিল পেন্টাগন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন দেশটির অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে অস্ত্রের মজুত কমে গেছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল গত শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক বাহিনীর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করতে প্রতিরক্ষা দপ্তর অস্ত্র ক্রয় বৃদ্ধির তাগিদ দিচ্ছে। এ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য গত এক সপ্তাহে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে শন পারনেল বলেন, শুধু ইরানের সঙ্গে চলমান পাঁচ মাসের যুদ্ধের কারণেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার আধুনিকায়নের একটি বড় উদ্যোগ চলমান ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ গত বুধবার অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা জানাতে তাদের সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় দেওয়া হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট চিঠিটির একটি অনুলিপি পেয়েছে।

ফেইনবার্গ চিঠিতে লেখেন, বছরের পর বছর ধরে অস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া চালানো আর গ্রহণযোগ্য নয়। এখন থেকে অনেক দ্রুত উৎপাদন করতে হবে এবং উৎপাদনের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র–প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত কমে আসছিল। সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে সেই মজুতে আরও টান পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ধরনের অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হলে মার্কিন সেনারা নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির মিত্ররা এসব প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারে আরও সতর্ক হতে পারে। যেমন ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে মার্কিন বাহিনী কম প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বৃহস্পতিবার তিনি আবারও দাবি করেন, পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো কৌশলগত সমস্যায় পড়েনি।

ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র আছে, বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের মজুত অনেক বেশি। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রের বড় চালান তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিরক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র তৈরির কারখানা নির্মাণ করছে।

শনিবার পেন্টাগনের মুখপাত্র পারনেল বলেন, দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে ফেইনবার্গের চিঠি পাঠানোর খবরটি সত্য। এই নির্দেশনা ২০২৮ অর্থবছরের বাজেট তৈরিতে কাজে লাগবে, যা অর্থ বরাদ্দের জন্য কংগ্রেসে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাশিল্পের সক্ষমতা পুনর্গঠনের চলমান উদ্যোগের সঙ্গেও এটি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি বিল আটকে আছে। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক অভিযান নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের বাজেট গত বছরের প্রায় ৯০ হাজার কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার (১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার) করার জন্য হোয়াইট হাউস যে অনুরোধ জানিয়েছে, তা নিয়েও তাঁরা আপত্তি করছেন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে বিপুল অর্থ বরাদ্দ হলেও যুদ্ধের আগের অবস্থায় প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মজুত পরিপূর্ণ করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ২ হাজার ৩৩০টি। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সময় তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩০টিতে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ের পর মজুত আরও কমে এখন ৭৫৯ থেকে ৮২৭টিতে ঠেকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় মজুত কমেছে অন্তত ৬৫ শতাংশ।

থাড প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমেছে। যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল ৪৫২টি। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির শুরুতে তা কমে ২৩২ থেকে ২৬২টির মধ্যে দাঁড়ায়। পরে আবার মজুতে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র যোগ হওয়ায় এ সংখ্যা ২৩৪ থেকে ২৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। তারপরও যুদ্ধের আগের তুলনায় মজুত অন্তত ৩৮ শতাংশ কম।

চলতি মাসের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের উৎপাদন বাড়াতে প্রতিরক্ষা খাতের বড় দুই প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ও নর্থরপ গ্রুম্যানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষকদের একজন এবং সাবেক মার্কিন মেরিন কর্মকর্তা মার্ক ক্যানসিয়ান বুধবার আল–জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এসব ক্ষেপণাস্ত্র খুব বেশি নেই এবং এর ভালো বিকল্পও নেই। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে গেলে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করে ঢুকে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প চাইলেও গাজা পরিকল্পনা মানছেন না নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাস এই পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছিল। নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। খবর এএফপির।

রোববার (৯ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, জুলাইয়ের শেষ দিকে হামাস যে ১৫ দফা পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছিল, ইসরায়েল তা গ্রহণ করছে না। হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলেও জানান তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলি সেনা ও নাগরিকদের জন্য হুমকি তৈরি হলে তা মোকাবিলা করা অব্যাহত থাকবে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিনি এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজ দলের কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের চাপের মুখে তিনি প্রকাশ্যে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প এই পরিকল্পনাকে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ইসরায়েলের ‘হোয়াইট হাউসে সবচেয়ে বড় বন্ধু’ বলে উল্লেখ করলেও জানান, প্রয়োজন হলে তার সঙ্গে মতবিরোধে যেতেও তিনি প্রস্তুত।

নেতানিয়াহু বলেন, পরিকল্পনার কিছু বিষয় ইসরায়েলের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেও কিছু বিষয় তারা মেনে নিতে পারবে না। এসব বিষয়ে ইসরায়েল নিজের অবস্থানে অটল থাকবে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম নির্বাচন। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহু তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন বা কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন।

এদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি সমর্থকদের মধ্যেও গাজা পরিকল্পনাটি খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। তার সরকারের কট্টর ডানপন্থি নেতারাও পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করার জন্য চাপ দিয়ে আসছেন।

গাজার একটি এলাকা। পুরোনো ছবি
গাজার একটি এলাকা। পুরোনো ছবি

কোনো দিন অন্যের ফ্যাশন ফলো করিনি by রুনা লায়লা

স্টার জলসার জনপ্রিয় টক শো ‘ঘোষ অ্যান্ড কোম্পানি’তে কলকাতার প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ একবার আমার কাছে জানতে চেয়েছিল, আমার ফ্যাশন স্টাইলগুলো কীভাবে আমি ক্রিয়েট করতাম।

বলেছিলাম, এটা আমি সচেতনভাবে করিনি। আমি সাধারণ পোশাকই পরতাম।

শুধু ঋতুপর্ণ ঘোষ একাই নয়, বিভিন্ন সময়ই আমাকে শুনতে হয়, আমি নাকি ‘স্টাইল আইকন’। লোকে আমাকে কেন স্টাইল বা ফ্যাশন আইকন বলে জানি না, তবে বললে আমি আনন্দ পাই। লোকে যে এত বছর আগের রুনাকেও মনে রেখেছে, তার পোশাক, গয়নাগাটি থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছে, ভাবলে ভালো লাগে।

ছোটবেলা থেকেই সাজগোজের শখ ছিল। মা চুল বেঁধে দিত। পোশাক কিনে দিত। আমাদের জামাকাপড়গুলো অন্যদের মতোই সাধারণ। তারপর স্কুল থেকেই পেশাদার শিল্পী হিসেবে গান গাওয়া শুরু। গান গাইতে কোথাও গেলে ফ্রক পরে যেতাম। বাড়ি থেকে মেকআপ করার অনুমতি ছিল না। শুধু টিভি অনুষ্ঠান হলে মেকআপ দেওয়ার অনুমতি ছিল।

করাচিতে একটা অনুষ্ঠানে প্রথম স্পনসর হিসেবে একটি ব্র্যান্ডের কাপড় নিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানের নাম ‘বাজমি লায়লা’। ওই অনুষ্ঠানে পাঁচটি গান গেয়েছিলাম। সেটা আবার আমিই উপস্থাপনা করেছিলাম। পাঁচটা গানে পাঁচ রকমের পোশাক পরেছিলাম। একবার শাড়ি, একবার ম্যাক্সির মতো একটা পোশাক, একবার জিনস। আর ছিল সালোয়ার–কামিজ। প্রতিটি ড্রেসের সঙ্গে মানানসই মেকআপ নিয়েছিলাম। চুলের স্টাইলও করেছিলাম একটু ভিন্ন। এরপর যত অনুষ্ঠান করেছি, সব নিজের মতো করে সেজেছি। সেই থেকে মনে হয় নিজের অজান্তেই একটা স্টাইল হয়ে গেছে।

কোনো দিন ফ্যাশন ফলো করিনি। আমি আমার ফ্যাশন ফলো করি। আমাকে যেটা মানায়, সেটাই পরি। যখন যেটা ভালো লেগেছে, সেটাই কিনেছি, পরেছি। আসলে ফ্যাশন সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটাই সবচেয়ে বড় কথা। আমাকে কোন ড্রেসটা মানাচ্ছে বা মানাবে, ভাবতে হবে; সেই মতো কাপড় নির্বাচন করে পরব। অন্যের ফ্যাশন ফলো করে নিজে স্টাইল করব, এমনটা আমি করিনি। কখনো কোনো ম্যাগাজিন খুলে দেখিনি, এখন কী ট্রেন্ড চলছে, কোন শাড়ি আসছে।

এখন তো সব জায়গাতেই শাড়ি পরি। এ ছাড়া বিশেষ কিছু পরি না। এটাকে কি ‘ফ্যাশন স্টেটমেন্ট’ বলা যায়? ঠিক জানি না। অনেক সময় অনেকে এসে জিজ্ঞেস করে, এটা কী শাড়ি? আমি বলতে পারি না। কারণ, শিফন জর্জেট ছাড়া অন্য কোনো শাড়ি আমি চিনি না। অত গভীরে আমি যাই না। যেটা ভালো লাগে, আমার বাজেটের সঙ্গে মিলে যায়, সেটাই কিনি।

আমি কখনো ৪০ হাজার, ৫০ হাজার টাকার শাড়ি কিনিনি। অযথা টাকা নষ্ট করাটা আমি পছন্দ করি না। আমি কম টাকার কাপড় কিনে বাকি টাকাটা অন্যকে দিয়ে হেল্প করতে পারলেই আনন্দ পাই। এখনো খুব দামি কাপড় পরি না। যেগুলো পরি, সেগুলো অত দামি না কিন্তু মনে হয় অনেক দামি।

আমার মেয়ে তানির যখন বাগ্‌দান হয়, মনে আছে, আংটিবদল অনুষ্ঠানটি হোটেল সোনারগাঁওয়ে হয়েছিল। সে অনুষ্ঠানে একটা শাড়ি পরেছিলাম। সবাই দেখে বলল, খুব সুন্দর শাড়ি, নিশ্চয়ই খুব দামি।

বললাম, দামি না খুব, দাম শুনলে তোমরা অবাক হবে।

শুনে সবারই আগ্রহ বেড়ে গেল, কত দাম?

বললাম, পনেরো শ রুপি।

দাম শুনে সবাই অবাক, হতেই পারে না। আপনি বানিয়ে বলছেন। পনেরো শ রুপির শাড়ি আপনি পরবেন! দেখে মনে হচ্ছে পনেরো হাজার টাকার শাড়ি।

আসলে অল্প দাম, দেখতে সুন্দর, মানানসই কাপড়—এটাই তো আমি কিনব। এটার দাম পনেরো শ–ই, তোমরা বিশ্বাস করো আর না করো, আমার কিচ্ছু করার নেই।

নিজের স্টাইল নিজেই তৈরি করি। ফ্যাশন আইকন হব, এটা ভেবে পোশাক পরি না। শাড়ির সঙ্গে গয়না কী হবে, চুলের স্টাইল কী হবে, নিজেই ঠিক করি। আমার মনে হয়, সবাই যদি নিজস্ব স্টাইল করে, সেটাই ভালো। ফ্যাশন সেন্স সবারই থাকে, কারও হয়তো কম, কারও বেশি। নিজস্বতা দিয়ে কোনো স্টাইল করলে সেটা দেখতেও ভালো লাগে। আবার দিন দিন নিজের জ্ঞানও সমৃদ্ধ হয়।

ঈদের অনুষ্ঠানগুলোতে সাধারণত পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই থাকি। সেই সময় সালোয়ার–কামিজ পরি। নতুন কাপড় কিনতেই হবে, সেটা কখনো ভাবি না। ঈদে কখনো নিজের জন্য কেনাকাটা করি না, তবে পরিবারের জন্য কিনি। কেনাকাটা যখন করা দরকার, বেশির ভাগ সময় কোনো বড় মলে গিয়ে সেরে ফেলি। আর এখন তো অনলাইন আছে, সেখানেও কেনাকাটা করি।

বছর দুই আগে ভারতের জনপ্রিয় ডিজাইনার সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের একটি ঘটনা আমাকে অবাক করে। আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয় এই ডিজাইনার আবার আমার গানের ভক্ত। বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে কথাও হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ে তার নতুন স্টোর চালু করে আমাকে সে চমকে দিয়েছিল। সে আমাকে জানাল, মুম্বাই স্টোরে সে একটি ফলক লাগিয়েছে। সেই সঙ্গে আমার চান্দবালির অনুপ্রেরণায় বানিয়েছে গয়না। ছবি তুলেও সে পাঠাল।

বিষয়টি আমার জন্য সম্মানেরই। তার মতো একজন প্রতিভাবান ডিজাইনার আমার স্টাইল ছোটবেলা থেকে মনের মধ্যে পুষে রেখেছে, শুনে ভালো লেগেছিল।

অনুলিখন: কবির বকুল

খাটো চুলে টপ আর প্যান্টে রুনা লায়লা
খাটো চুলে টপ আর প্যান্টে রুনা লায়লা। ছবি: রুনা লায়লার পারিবারিক অ্যালবাম থেকে

গাজা চুক্তি বাস্তবায়নে স্পষ্ট সময়সূচি চায় হামাস

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে স্পষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে হামাস। একই সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত ১৫টি শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি এই গোষ্ঠী।

রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, সীমান্ত খুলে দেওয়া, ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ দেওয়া এবং পুনর্গঠন শুরু করা।

চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছে হামাস। গাজা পরিচালনায় এই কমিটি কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

হামাস বলেছে, গাজার মানুষের দুর্ভোগ বন্ধ এবং তাদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় যে কোনো উদ্যোগে তারা ইতিবাচক ও দায়িত্বশীলভাবে অংশ নিতে প্রস্তুত।

তবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া এবং তাদের সামরিক অবকাঠামো ভেঙে না দেওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের পিকেকে নিরস্ত্রীকরণ বিলে কারাবন্দি কুর্দি নেতার সমর্থন

তুরস্কে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি বা পিকেকের সাবেক যোদ্ধাদের বেসামরিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবিত একটি বিলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কারাবন্দি কুর্দি নেতা সালাহউদ্দিন দেমিরতাশ। তুরস্কের পার্লামেন্টে বিলটি নিয়ে ভোট হওয়ার একদিন আগে রোববার (৯ আগস্ট) তিনি এ সমর্থন জানান।

২০১৬ সাল থেকে কারাগারে থাকা দেমিরতাশ কুর্দিপন্থি পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (এইচডিপি) সাবেক সহসভাপতি। রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে গেলেও তিনি এখনো তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কুর্দি নেতা হিসেবে বিবেচিত।

দেমিরতাশ বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি তুরস্ক ও পুরো অঞ্চলের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বিভেদ তৈরি করা, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া বা কোনো ফলহীন আলোচনা চালিয়ে যাওয়া নয়।

পিকেকে ও তুরস্কের মধ্যে ১৯৮৪ সাল থেকে চলা সংঘাতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করা পিকেকেকে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

পার্লামেন্টের বিচারবিষয়ক কমিটি শুক্রবার বিলটি অনুমোদন করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পিকেকের সাবেক যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও সাজা কার্যকর পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে তারা নতুন কোনো অপরাধে জড়ালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কোনো নতুন অপরাধ না হলে মামলাগুলো বন্ধ এবং সাজা শেষ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে। কার্যত এটি সাধারণ ক্ষমার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ কিছু গুরুতর অপরাধ এই সুবিধার আওতায় থাকবে না। ২০০৫ সালের ১ জুনের আগে সংঘটিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধও এর বাইরে রাখা হয়েছে।

পিকেকের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওজালানের বিষয়টিও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ১৯৯৯ সাল থেকে মারমারা সাগরের ইমরালি দ্বীপের কারাগারে বন্দি ওজালান প্রস্তাবিত আইনকে দীর্ঘদিনের সংঘাত সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি, তাদের জাতীয়তাবাদী মিত্র এমএইচপি ও কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টি এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে।

এর আগে গত বছর ওজালান পিকেকেকে কংগ্রেস ডেকে অস্ত্র ত্যাগ ও সংগঠনটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কয়েক দশকের সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টায় তার ওই আহ্বানকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হয়।

সূত্র: শাফাক নিউজ 

কারাবন্দি কুর্দি নেতা সালাহউদ্দিন দেমিরতাশ। ছবি: সংগৃহীত
কারাবন্দি কুর্দি নেতা সালাহউদ্দিন দেমিরতাশ। ছবি: সংগৃহীত

সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন শি by সাইমন টিসডাল

ভাবুন তো, লন্ডনে বসে কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যদি স্কটল্যান্ডের মানুষকে বলতেন, তাদের নিজস্ব পার্লামেন্ট থাকতে পারবে না। থাকতে পারবে না তাদের নিজস্ব জাতীয় ফুটবল দল। তারা নিজেদের জাতীয় পতাকা উড়াতেও পারবে না। কিংবা ওয়েলসের মানুষকে যদি বলা হতো, তাদের ভাষা ও কবিতা নিষিদ্ধ। স্কুলেও তা আর পড়ানো যাবে না। এর পর যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হতো, তাতে সম্ভবত যুক্তরাজ্যই ভেঙে পড়ত। অথচ চীনের কমিউনিস্ট সম্রাট শি জিনপিং প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে ঠিক এমন কথাই বলছেন। এই মানুষগুলো চীনের ৫৫টি জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সদস্য। তারা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯ শতাংশ। দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী হান চীনা।

শি তার চীনীকরণ নীতির পক্ষে যুক্তি দেন। নতুন একটি ‘জাতিগত ঐক্য’ আইনের মাধ্যমে এ নীতিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। শির দাবি, এ নীতি জাতীয় পরিচয় ও সামাজিক সংহতি বাড়াবে। ম্যান্ডারিন ভাষার বাধ্যতামূলক ব্যবহার বাড়ানো হলে মানুষের জীবনযাপন ও কর্মসংস্থানের সুযোগও উন্নত হবে। শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ চীন গড়তে সংখ্যালঘুদের ‘ডালিমের দানার মতো শক্ত করে একসঙ্গে জড়িয়ে থাকতে হবে’, তিনি বলেন। কিন্তু তিব্বতি, মঙ্গোল, উইঘুর এবং অন্য সংখ্যালঘুরা নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে মূল্য দেয়। তারা এ নীতির তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের দৃষ্টিতে এটি কমিউনিস্ট পার্টির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে একটি একরৈখিক, অসহিষ্ণু সংস্কৃতির মধ্যে জোর করে আত্মীকরণের চেষ্টা। তাদের কাছে এর অন্য নাম জাতিগত নির্মূল।

নতুন আইনটির নিন্দা করেছে পশ্চিমা সরকারগুলো। তবে তারা খুব জোরালোভাবে তা করেনি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও জোরালোভাবে এর প্রতিবাদ করেছে। গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বাইরে প্রতিবাদ জানাতে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া ফ্রি তিব্বত আন্দোলনের কর্মী লবগা রাংজেনের মৃত্যু অল্প সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছিল। কিন্তু এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা নতুন নয়। তিব্বতে ব্যাপক দমনপীড়ন এবং জিনজিয়াংয়ে নির্মম ‘পুনর্শিক্ষা’ শিবির শির ভিন্নমত, স্বাতন্ত্র্য এবং বৈচিত্র্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জোরদার হয়ে ওঠা অভিযানের দীর্ঘদিনের দুটি দিক মাত্র। নতুন আইন এবং এর কঠোর শাস্তির বিধান এ অভিযানে আরও আইনি ভিত্তি দিয়েছে। এসব শাস্তি বিদেশে বসবাসকারী চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এর মাধ্যমে শি এবং কমিউনিস্ট পার্টির ইচ্ছা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বর্তমান চীনে শি এবং পার্টির ইচ্ছার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। এর লক্ষ্য হলো এমন একটি রাজনৈতিকভাবে অনুগত ও ভীত জনগোষ্ঠী তৈরি করা, যারা প্রতিবাদ করার সাহস পাবে না। বর্তমানে চীনকে এখন এমন একটি দেশ হিসেবে দেখা হয়, যাকে প্রভাবিত করা তো দূরের কথা, নিয়ন্ত্রণ বা মোকাবিলা করাও সম্ভব নয়। দেশটি এত বড়। এর অর্থনৈতিক শক্তি এত বেশি। এর সামরিক হুমকিও এত প্রবল। চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয় যখন সামনে আসে, তখন এসব বিষয় থেকে দূরে থাকাই সহজ বলে মনে হয়। বাণিজ্য ও নিরাপত্তার মধ্যে কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নিন্দনীয়ভাবে নীরব থেকে ব্রিটেন একা নয়। পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অনেকেই চীনকে নিয়ে একটি সুস্পষ্ট ও সমন্বিত নীতি প্রণয়নে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু শির ক্রমেই আগ্রাসী ও আপসহীন হয়ে ওঠা নীতি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই। প্রায় ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ৭৩ বছর বয়সী শি এখন তার আন্তর্জাতিক উত্তরাধিকার গড়ার লক্ষ্যে আরও আত্মবিশ্বাসী ও কঠোর হয়ে উঠেছেন। তার সেই তালিকায় কয়েকটি বড় লক্ষ্য রয়েছে। চীনকে বিশ্বের প্রধান শক্তিতে পরিণত করা। যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দেওয়া। একটি নতুন বহুমেরুকেন্দ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যবস্থার অপরিহার্য কেন্দ্র হিসেবে চীনকে প্রতিষ্ঠা করা। এ তালিকায় শির ক্ষমতা ছাড়ার আগে তাইওয়ান দখল করার লক্ষ্যও রয়েছে। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চ্যালেঞ্জহীন আধিপত্য প্রতিষ্ঠাও তার অন্যতম লক্ষ্য। সবকিছুই যেন একটি দিকেই এগোচ্ছে। সেই দিক হলো মাও সে তুংয়ের পর চীনের সবচেয়ে মহান নেতা হিসেবে শির অভিষেক।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ২১তম কংগ্রেস সামনে। ২০২৭ সাল তাই শির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হতে পারে। তিনি এরই মধ্যে সেই বছরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এখন প্রায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের আরও দৃঢ় অবস্থানের লক্ষণ সর্বত্র দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় চীন জাপানের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী উত্তেজনা উসকে দিয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত এলাকাগুলোয় ফিলিপাইনকেও ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিয়েছে। তাইওয়ানকে ভয় দেখানোর নীতিও অব্যাহত রয়েছে। এ সপ্তাহে জাপানের সর্বশেষ প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে চীনকে ‘নজিরবিহীন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ হুমকি জাপানের আরও কাছাকাছি চলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারোও চীনের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। তার ভাষায়, আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীন ‘জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ’ নিচ্ছে।

শির আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার পেছনে ট্রাম্পের একটি বড় ভূমিকা আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বৈশ্বিক ব্যবস্থা ট্রাম্প যেভাবে ভেঙে দিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি তার যে অবজ্ঞা দেখা যাচ্ছে, তার প্রভাব চীনের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে তার অবস্থান এর উদাহরণ। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মতো ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। অনেক দেশই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে দেখছে। চীনের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ট্রাম্প এশিয়া থেকে মনোযোগ সরিয়ে পশ্চিম গোলার্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। চীন এই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়। সম্ভবত এ কারণেই শি একটি অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আগামী মাসে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে সম্মত হয়েছেন। এর মাত্র কয়েক মাস আগে (মে মাসে) বেইজিংয়ে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল। এই শীর্ষ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে, এআই প্রতিযোগিতায় তারা পিছিয়ে পড়ছে। অন্তত চীনা বিশ্লেষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, চীন ২৮টি দেশের সঙ্গে এআই অংশীদারত্বে সম্মত হওয়ার পর ট্রাম্পই এই বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এসব দেশের অধিকাংশই গ্লোবাল সাউথ বা বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশ।

গত মাসে ট্রাম্প বলেছেন, ‘এআই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিস্ময়। এ প্রতিযোগিতায় যারা এগিয়ে যাবে, সম্ভবত শেষ পর্যন্ত একুশ শতকের পরাশক্তির মুকুট তাদের মাথায় থাকবে।’ এই শীর্ষ বৈঠক আগের বৈঠকের রেখে যাওয়া ধারণাকেই আরও শক্তিশালী করতে পারে। সেই ধারণা হলো, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা ও তাইওয়ান প্রশ্নে শি ট্রাম্পকে কৌশলে পেছনে ফেলছেন। একই সঙ্গে তিনি ভূরাজনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছেন। বাণিজ্য ও প্রযুক্তির লড়াইয়েও তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে শি অনেক দূর এগিয়ে গেছেন বলে মনে হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত শি একজন অনির্বাচিত স্বৈরশাসক। তিনি স্যুট পরা একজন দমনকারী শাসক, যিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতে শক্তির ওপর নির্ভর করেন। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য দিতে পারছেন না। ভারতসহ বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মতো চীনের শহুরে জনগোষ্ঠী তার কর্তৃত্ববাদ অনির্দিষ্টকাল মেনে নেবে না। শি পশ্চিমাদের বন্ধু নন। ইরান, গাজা ও ইউক্রেনের দিকে যখন সবার চোখ, তখন তিনি ধীরে ধীরে প্রকাশ্য শত্রুতে পরিণত হতে পারেন। প্রতীকী অর্থে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ওঠা শি দেশে এবং বিদেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন।

লেখক: দ্য গার্ডিয়ানের বৈদেশিক বিষয়ক ভাষ্যকার। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত নিবন্ধটি ভাষান্তর করেছেন আবিদ আজাদ
সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন শি

নির্বাচনে জয়ের আশায় গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের নাটক নেতানিয়াহুর

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রত্যাখ্যান অক্টোবরের নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর গাজা পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশ্য প্রত্যাখ্যান মূলত আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত, বলে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহুর সাবেক সহযোগী মিচেল বারাক। খবর আলজাজিরার।


এটিকে নেতানিয়াহুর চূড়ান্ত অবস্থানের পরিবর্তে একটি প্রাথমিক অবস্থান আখ্যা দিয়ে বারাক বলেন, এমন একটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এই প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন যেখানে নেতানিয়াহু ও তার ‘কট্টর ডানপন্থি সরকারের … আর বেশিদিন ক্ষমতা নেই।

বারাক বলেন, এই পদক্ষেপটি ওয়াশিংটনের পরিবর্তে তার রাজনৈতিক ভিত্তিকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে।

বারাক বলেন, তিনি এখনও আশা করেন ‘ইসরাইল শীঘ্রই হোক বা দেরিতে হোক, ট্রাম্পের পরিকল্পনা মেনে নেবে। তিনি এই প্রত্যাখ্যানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী বিচ্ছেদ নয়, বরং হামাসের নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে যুক্ত একটি ‘ক্রম ও সময়ের’ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি যুক্তি দেন যে, নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর আসল দর কষাকষির হাতিয়ার হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক – ‘যেকোনো বিশ্বনেতার সঙ্গে সেরা সম্পর্ক” – এবং নেতানিয়াহু সেটি হারাতে চান না’।

নির্বাচনে জয়ের আশায় গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের নাটক নেতানিয়াহুর
ছবি: সংগৃহীত।

ব্যান্ড সংগীতের সোনালি সময়ের গল্প শোনাবেন নকীব খান

নকীব খান স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায় ব্যান্ডের পথে যাত্রা শুরু করেন। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম এই শিল্পী প্রথমে চট্টগ্রামের স্থানীয় ব্যান্ড ‘বালার্ক’, পরবর্তীকালে ‘সুরেলা’ থেকে যোগ দেন ‘সোলস’-এ। প্রায় দশ বছর ছিলেন ঐতিহ্যবাহী এই ব্যান্ডে। সোলসের ‘মুখরিত জীবনের চলার পথে’, ‘মন শুধু মন ছুঁয়েছে’, ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’সহ অনেক জনপ্রিয় গানের সুরকার তিনি।

একপর্যায়ে সোলস ছেড়ে ঢাকায় এসে ’৮৫ সালে গঠন করেন ব্যান্ড ‘রেনেসাঁ’। শুরু হয় আরেক সাফল্যযাত্রা।
রেনেসাঁর প্রধান ভোকালিস্ট, কি-বোর্ডিস্ট, সুরকার ও কম্পোজার হিসেবে কাজ করছেন তিনি। উপহার দেন ‘ভালো লাগে জোছনা রাতে’, ‘আচ্ছা কেন মানুষগুলো এমন হয়ে যায়’, ‘হৃদয়! কাদামাটির কোনো মূর্তি নয়’, ‘ও নদী রে, তুই যাস কোথায় রে’, ‘আজ যে শিশু’র মতো অনেক জনপ্রিয় গান।

ব্যান্ড সংগীতের এই দীর্ঘ যাত্রায় নব্বই দশককে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন নকীব খান। তাঁর ভাষায়, ‘নব্বই দশক ছিল আমাদের ব্যান্ড সংগীতের স্বর্ণালি সময়।’
সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের ‘নাইনটিজ মিউজিক স্টোরি’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি। নব্বইয়ে ব্যান্ড সংগীতের জাগরণের গল্প বলার পাশাপাশি নিজের ব্যান্ড ক্যারিয়ার, সোলসের দিনগুলো, রেনেসাঁ গঠন, জনপ্রিয় গানগুলো সৃষ্টির ইতিহাস তুলে ধরেন।

জানান অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম গানের সুর করেন তিনি। আরও অনেক স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েন। অকালে হারানো ব্যান্ড শিল্পীদের কথা বলতে গিয়ে বিষণ্ন হন।

মঞ্চে রেনেসাঁর নকীব খান
মঞ্চে রেনেসাঁর নকীব খান। ফাইল ছবি