Tuesday, January 7, 2014

উলঙ্গ ছবি উপহার দিয়ে ভালোবাসার প্রমাণ!

অবশেষে নিজের বন্ধুর জন্য নগ্ন হয়ে ছবি তুলে উপহার দিয়ে ভালবাসা প্রমাণ করলেন অস্ট্রেলিয়ান সুপারমডেল মডেল মিরান্ডা ক্যার। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সেলিব্রেটি ফটোগ্রাফার ক্রিস কোলসের জন্য নগ্ন হয়ে পোজ দিলেন। জি নিউজ জানায়, একটি-দুটি নয়, মিরান্ডার অনেকগুলো নগ্ন ছবি তোলেন কোলস। সেগুলো নিজের ইনস্টেগ্রামে একের পর এক পোস্ট করে যাচ্ছেন তিনি। যে সপ্তাহে ক্রিস কোল নিজের ইনস্ট্রেগ্রাম একাউন্টে মিরান্ডার নগ্ন ছবি পোস্ট করেন, সে সপ্তাহে স্বামী অরল্যান্ডো বুমের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটান মিরান্ডা।

‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’ নামের একটি পত্রিকা জানিয়েছে, মিরান্ডা-কোলসের এ বন্ধুত্ব নতুন না হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। এ নিয়ে গত বছর স্ত্রী ফিয়ার্নের সাথে বিচ্ছেদ হয়ে যায় কোলসের। সম্প্রতি নাওমি ক্যাম্পবেলের রিয়েলিটি শো ‘দ্য ফেস’-এ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মিরান্ডা। খুব শিগগির কাজ শুরু করবেন তিনি। এ জন্য টিভিতে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এ মডেল।

শ্বাসনালি পোড়ার ঝুঁকি বেশি

শ্বাসনালি পোড়ার ঝুঁকি বেশি
ত্বক বা চামড়া মানবদেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই সঙ্গে মুখ ও মুখগহ্বর, নাসিকা ও শ্বাসনালির গতিপথে যে মিউকাস মেমব্রেন আছে, তা-ও খুব গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ও শরীরের চামড়ার সঙ্গে কলা ও কলার খোসার তুলনা করলে বোঝা যাবে যে একটি কলাকে তার খোসা খুলে ফেললে যে অবস্থা হয়, মানবদেহের চামড়া, এমনকি শ্বাসনালি পুড়ে গেলেও একই অবস্থা হয়। ত্বকের কারণে প্রতিকূল অবস্থায়ও মানবদেহের অভ্যন্তরীণ সব জৈবিক-রাসায়নিক ও বিপাক-প্রক্রিয়া প্রায় অক্ষুণ্ন থাকে এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রা ঠিক রাখে। যখন এই ত্বক বা শ্বাসনালির মিউকাস মেমব্রেন পুড়ে যায়, তখন দেহের সব প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক জৈবিক ও রাসায়নিক বিপাক-প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় গ্রন্থি, যেমন লিভার, কিডনি, এমনকি সব দেহকোষের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়। সেই সঙ্গে বার্ন স্ট্রেচ শরীরের সব রাসায়নিক উত্তেজক গ্রন্থির সিক্রেশন আরও দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যায় এবং অতি অল্প সময়ে ওই পোড়া রোগীর সারা শরীর ফুলে-ফেঁপে যায়।
একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইডিমা ফরমেশন বলে। ইডিমার কারণে বাতাসের মধ্যে থাকা অতি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন নিঃশ্বাসের সঙ্গে দেহকোষে পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছাতে পারে না বিধায় পোড়া রোগী চিকিৎসায় ভালো বা আবার মন্দও হতে পারে। তার পরও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের সবাইকে মনে রাখতে হবে, স্মোক ইনহলেশন ইনজুরি সব সময়ই শ্বাসনালির চরম ক্ষতির কারণ নয়। রোগীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, পরিমাপ করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যক্তির মুখ, মুখগহ্বরের ওপর-নিচ ও শ্বাসনালি কতটুকু ফুলে-ফেঁপে গিয়েছে, ধোঁয়ার তীব্রতা কেমন ছিল, কী পরিমাণ গরম ছিল, তা কতক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে বার্ন করেছে, শ্বাস-প্রশ্বাস কতটুকু সীমিত, দম নিতে বা ঢোক গিলতে কতটুকু কষ্ট, নাকের লোম, গলার স্বর পরিবর্তন কেমন, নাকে ঝুল বা কার্বনিয়াস স্পুটাম আছে কি না, এসবই অভিজ্ঞ নিবিড় পরিচর্যাকারী পরখ করতে পারেন। তবে ফাইবার অপটিক ন্যাসোফারেঙ্গোস্কপি করে উপরিউক্ত শ্বাসনালির গতিপথ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। অহেতুক বা অনভিজ্ঞতার কারণে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালানোর জন্য শ্বাসনালিতে টিউব দিলে শ্বাসনালির অত্যন্ত ঢেলিকেট মিউকাস মেমব্রেন, ভোকাল কর্ড, এপিগ্লোটিস, সাবগ্লোটিক, সুপ্রাগ্লোটিক ইত্যাদি জায়গায় আঘাতের কারণে আরও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় Intubation induced injury ev Ventilator induced injury I Thermal induced injury বলা হয়। তাই পর্যাপ্ত কৃত্রিম শ্বাস প্রদানের প্রয়োজনীয় প্রমাণ ছাড়া শ্বাসনালিতে টিউব দেওয়া যুক্তিযুক্ত নয়। শুধু অভিজ্ঞ নিবিড় পরিচর্যাকারী গভীর পর্যবেক্ষণ করে যদি বুঝতে পারেন, ওই শ্বাসনালি পোড়া রোগীর উল্লিখিত লক্ষণগুলো আছে এবং যদি ফাইবার অপটিক ন্যাসোফারেঙ্গোস্কপি করে দেখতে পারেন,
শ্বাসনালির গতিপথ গাঠনিক বিকৃত পরিবর্তন হয়ে রোগী রেসপিরেটর ফেইলরের দিকে যাচ্ছে, কেবল তখনই শ্বাসনালিতে টিউব দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের যান্ত্রিক সাপোর্ট দেওয়ার বিধান আছে। তাই অতীত গবেষণায় বিজ্ঞানী ক্লাক ইট অল প্রমাণ করেছেন, শ্বাসনালি পোড়া রোগীর শতকরা ৫১ ভাগের অধিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম শ্বাসের জন্য শ্বাসনালিতে টিউব দেওয়ার দরকার হয় না। অন্যথায়, এই শ্বাসনালির কৃত্রিম শ্বাসের জন্য যান্ত্রিক সাপোর্ট রোগীর অকালমৃত্যুর কারণ হতে পারে। অধ্যাপক ডেমলিং ও চেন শ্বাসনালি পোড়া রোগীর মৃত্যুর বৈজ্ঞানিক রহস্য নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, শ্বাসনালি পোড়া রোগীর প্রথমত শ্বাসনালির গতিপথে অতিরিক্ত রক্তরস জমা হতে থাকে। একে বলে পালমোনারি কনজেশন। তারপর পালমোনারি হাইপার টেনশন, পরবর্তী সময়ে শ্বাসনালির সব গতিপথ সরু হয়ে যায়। এই গতিপথে ধীরে ধীরে ইপিথেলিয়াল স্লাফ, ইপিথেরিয়াল কাস্টস জমা হয়। এ কারণে শ্বাসনালির সিলিয়ারি মুভমেন্ট বাধাগ্রস্ত হয় এবং এর গতিপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তখন শ্বাসনালির ভেতরের অপ্রয়োজনীয় আবর্জনা বের হতে পারে না বিধায় জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন ফুসফুসে গিয়েও ইচেঞ্জ হতে পারে না। এ অবস্থায় রোগীর শ্বাসনালির চারপাশের ক্ষতিকারক জীবাণু শ্বাসনালিকে সংক্রমিত করে এবং রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে যায়। এতে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, প্রায় সব ধরনের ওষুধের কার্যকারিতা সীমিত হয়ে যায়। শরীরের সব স্বাভাবিক জৈবিক রাসায়নিক ও বিপাক-প্রক্রিয়া ছিন্নভিন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় গ্রন্থিগুলো, যেমন লিভার, কিডনি, এমনকি সব দেহকোষের কার্যকারিতা বিপন্ন হয়। তাই শ্বাসনালি পোড়া রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি শতভাগ বেড়ে যায়।
ডা. মো. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী: সহকারী অধ্যাপক (অ্যানেসথেসিয়া), বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

নির্বাচন ও গণতন্ত্রের বাপ

আজকাল উপলক্ষের অভাব হয় না। নানা উপলক্ষে নানা রকম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী তো আছেই। অনেকে জীবদ্দশাতেই প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর আয়োজনটাও দেখে যেতে চান। সেদিন রবীন্দ্র-পরবর্তী বাংলা কাব্যের এক ক্ষণজন্মা কবির ২৭ বা ২৮তম জন্মবার্ষিকীর মস্ত বড় প্রেস রিলিজ প্রকাশিত হলো একটি বা একাধিক জাতীয় দৈনিকে। আরেক কবি ও নাট্যকার যিনি জীবদ্দশায় জন্মদিন উদ্যাপন করেননি, তাঁর মৃত্যুর ১১ দিন পর, কুলখানির এক সপ্তাহ পর, জন্মদিন উদ্যাপনের প্রকাণ্ড খবর। জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকী ছাড়াও আরও কত রকম বার্ষিকী। কারও জেলে যাওয়ার বার্ষিকী। কারও কারামুক্তির বার্ষিকী। উপনিবেশ-পরবর্তী বাংলার মাটিতে প্রথম যে সাধারণ নির্বাচনটি হয়, এবার তার ৬০তম বার্ষিকী।
সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনটি হয়েছিল ১৯৫৪ সালে। ৬০ বছর পর এবার আরেকটি ঐতিহাসিক নির্বাচন হলো সোনার বাংলায়। প্রথম নির্বাচনটির কথা আমার অল্পস্বল্প মনে আছে। ঈদ নয়, দুর্গাপূজা নয়—সে এক অন্য রকম উৎসব। আমরা যারা ছোট ছিলাম, ভোট দেওয়ার সৌভাগ্য হয়নি, ভোটাভুটির সেই উৎসব উপভোগ করেছি। ৬০ বছর পর গতকাল টিভির পর্দায় উপভোগ করলাম জাতির জীবনের সর্বশেষ ভোটাভুটি। উপভোগই করেছি, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিরোধীদলীয় নেতার মতো।’৫৪-এর নির্বাচন ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন। পাকিস্তানি শাসকেরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন। তাঁরা জানতেন, তুর্কি অটোম্যান সুলতানেরা বিনা নির্বাচনেই শত শত বছর ক্ষমতায় ছিলেন। মোগল সম্রাটেরা কোনো নির্বাচন ছাড়াই আড়াই শ বছর প্রকাণ্ড ভারতবর্ষ শাসন করেছেন। মুসলিম লীগের নেতারা সবেমাত্র দেশ স্বাধীন করে ক্ষমতা হাতে পেয়েছেন। এত তড়িঘড়ি নির্বাচনের প্রয়োজনটা কী? সে এক মস্ত ঝামেলার ব্যাপার। অর্থের অপচয়। তাঁরা নির্বাচন ছাড়াই, কোনো শাসনতন্ত্র ছাড়াই সিকি শতাব্দী ক্ষমতায় থাকার মনোবাসনা করেন। তা ছাড়া বুদ্ধিমান লীগের নেতারা জানতেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্ধেকের বেশি আসনে নির্বাচিত হওয়া সম্ভব নয়।
নির্বাচনে গেলে পূর্ব বাংলার বেইমানেরা কোন দলকে ভোট দিয়ে বসে, তার ঠিক নেই। সুতরাং নো নির্বাচন। কিন্তু বাঙালি নেতাদের চাপের মুখে ও জনমত পরীক্ষা করতে নির্বাচনটা তাঁরা দেন। তাঁরা জানতেন না ওই নির্বাচনেই বাংলার ও পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যাবে। ওই নির্বাচনে বাংলার মাটিতে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের কবর হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার তা থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় সত্তরের নির্বাচনের পর ষোলোকলা পূর্ণ হয়। পূর্ব পাকিস্তান সমাধিস্থ হয়। অভ্যুদয় ঘটে সেখানে বাংলাদেশের। ভৌগোলিক সুবিধার কারণে ’৫৪-এর নির্বাচনের সময় আমি তিন নেতা ফজলুল হক, ভাসানী ও সোহরাওয়ার্দীকে কাছে থেকে দেখেছি। তখন বর্তমান আরিচাঘাটের কাছে শিবালয় ছিল একটি ছোটখাটো বন্দরবিশেষ। সেকালের পদ্মা নদী ছিল প্রমত্তা। শিবালয়ঘাটে সিরাজগঞ্জ ও গোয়ালন্দ থেকে বড় বড় স্টিমার আসত। সেখান থেকে যেত চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা। দক্ষিণ বাংলা থেকে ঢাকায় যাতায়াত করতে বড় বড় নেতাকে অবশ্যই শিবালয় হয়ে যেতে হতো। যে স্টিমারে শীর্ষ নেতারা থাকতেন, সেটি ঘাটে ভিড়লে মানুষের ভিড় জমে যেত। আমার বাবার সঙ্গে গিয়ে তাঁদের কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। ঢাকা-ফরিদপুর এলাকার আরও দুই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ও ইউসুফ আলী চৌধুরীকেও (মোহন মিয়া) তখনই দেখি। বিশেষ করে,
ওই সময় কয়েক দিন মোহন মিয়া আমাদের বাড়িতেও এসেছেন। তিনি ও আমার বাবা উভয়ই হক সাহেবের কৃষক-শ্রমিক পার্টি করতেন। আমাদের এলাকার প্রার্থীও ছিলেন কেএসপির আবদুল লতিফ বিশ্বাস। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন লীগের রাজা মিয়া। লতিফ বিশ্বাসই বিজয়ী হন। মন্ত্রীও হয়েছিলেন হক মন্ত্রিসভায়। নির্বাচনের আগে মাস খানেক আমাদের বাংলাঘরে লোকজনের আনাগোনা। নির্বাচনে তখন টাকাপয়সার ছড়াছড়ি ছিল না। কেউ দোকান থেকে এক টাকা দিয়ে এক দিস্তা সাদা কাগজ কিনে রঙিন কালিতে লিখত: ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন’। কারুকর্মে যাদের কিঞ্চিৎ দক্ষতা ছিল, তারা বাঁশের বাখারি দিয়ে নৌকা বানিয়ে তা রঙিন কাগজে মুড়ে রাস্তার পাশের গাছের ডালে লটকে রাখত। মাইক ছিল না, মুখে চোঙা দিয়ে চলত প্রচারকাজ: ভাই সব, আপনারা... জয়যুক্ত করুন। ওই নির্বাচনের একটি দৃশ্য আমার মনে আছে। আমাদের পাশের গ্রামের এক যক্ষ্মার রোগীকে তক্তায় শুইয়ে ভোটকেন্দ্রে নেওয়া হয়। মুরব্বিদের কাছে শুনেছি, কোনো কেন্দ্রে নাকি এক ভোটার ভোট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মারা যান। এক বৃদ্ধকে তাঁর ছেলেরা পাঁজাকোলা করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যায়। ভোট এক অমূল্য সম্পদ। ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে কেউ আগে বঞ্চিত হতে চাইতেন না। ’৫৪-এর নির্বাচনে লীগের ভরাডুবির পর কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। লীগের নেতারা জানতেন, নির্বাচন হলে তার পরিণাম কী হতে পারে।
তবু জনগণের দাবির মুখে সরকার ঘোষণা করে ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে নির্বাচন হবে। আওয়ামী লীগ ও ন্যাপ একটি চার দফা নির্বাচনী চুক্তি করে। তাতে সরকার ও সেনাবাহিনী আরও শঙ্কিত হয়। অক্টোবর ’৫৮-তে জারি হয় সামরিক শাসন। লৌহমানব জেনারেল আইয়ুব খানের আবির্ভাব ঘটে। যেমন-তেমন গণতন্ত্র আইয়ুব খানের পছন্দ ছিল না। চালু করেন তাঁর মনের মতো মৌলিক গণতন্ত্র। মৌলিক গণতন্ত্রের ভোটাভুটিতে কোনো প্রাণ ছিল না। ষাটের দশকে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়েছে। সর্বজনীন ভোট নয়। পূর্ব পাকিস্তানের ৪০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী ভোট দিতেন। আইয়ুব ও ফাতেমা জিন্নাহ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হয়েছিলেন। আমরা ফাতেমা জিন্নাহকে সমর্থন দিই। কিন্তু তিনি পরাজিত হন। কারণ, আইয়ুবকে বিজয়ী হতেই হবে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পর সারা দেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয় ইয়াহিয়া খানের সামরিক শাসনের মধ্যে ১৯৭০ সালে। বস্তুত সেটি ছিল পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে ম্যান্ডেটের নির্বাচন। বঙ্গবন্ধু আমাদের মহানায়ক। আওয়ামী লীগের বাইরের অন্য দলমতের মানুষেরও তিনি নেতা। বাঁশ ও কাপড়ের তৈরি বড় বড় নৌকায় ভরে গিয়েছিল ঢাকা নগর।
বাঙালির ভাগ্য নির্ধারণের নির্বাচন। উদ্দীপনার অন্ত নেই। কাঙ্ক্ষিত ফলাফলই পাওয়া যায়। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরীক্ষা হয়ে যায়। জীবনে প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ শুধু নয়, নির্বাচনী প্রচারণায় কিছু কাজও করি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচন হয় মার্চ, ১৯৭৩ সালে। ব্যক্তিগত আগ্রহ-অনাগ্রহের ব্যাপার নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয় ওই নির্বাচনে। মাস খানেক ঘুম হারাম। বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগে অন্যান্য নেতার সঙ্গে সারা দেশ ঘুরেছি। হেলিকপ্টারে তাঁর সঙ্গে সফর করার সময় ওই কয়েক সপ্তাহে বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। স্টেটসম্যান, আনন্দবাজার পত্রিকা, হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড, যুগান্তর, পিটিআই প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ভারতীয় সাংবাদিকও আমাদের সঙ্গে থাকতেন। খুব বড় হেলিকপ্টার। কোনো অসুবিধা হতো না। যেখানেই যেতাম, আমাদের খাওয়াদাওয়ার খোঁজ না নিয়ে বঙ্গবন্ধু খেতে বসতেন না। ভোটের দুই দিন আগে তাঁর সঙ্গে শেষ নির্বাচনী প্রচারণায় যাই মুন্সিগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে। সংক্ষিপ্ত সভা শেষে স্থানীয় নেতা হাবু মিয়া ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু হাস্যরস করছিলেন। তিনি তাঁদের লক্ষ করে আমাদের দেখিয়ে বললেন, ‘ওদের খাঁটি ছানার মিষ্টিমণ্ডা কিছু খাওয়াও।
তা না হলে কিসের মধ্যে কী লেখে।’ হেলিকপ্টারে ওঠার সময় এসডিও (মহকুমা প্রশাসক) হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড-এর তুষার পণ্ডিত ও আমার হাতে কয়েক হাঁড়ি মিষ্টি তুলে দিলেন। নির্বাচনটি ভালোই হয়েছিল। কিন্তু ওই নির্বাচনেই বাঙালি প্রথম পরিচিত হলো দুটি শব্দের সঙ্গে: ব্যালট বাক্স ছিনতাই। ছাত্রজীবনে আমরা তিনটি অভিধান অনবরত ঘাঁটতাম—এ টি দেবের বাঙ্গালা অভিধান, রাজশেখর বসুর চলন্তিকা এবং কাজী আবদুল অদুদের ব্যবহারিক শব্দকোষ। এগুলোয় ছিনতাই শব্দটি ছিল না। কারচুপি শব্দটিও ছিল কি না, বলতে পারব না। কিন্তু বঙ্গীয় নির্বাচনের সঙ্গে ছিনতাই ও কারচুপি শব্দ দুটি একেবারে অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেল। প্রথম বাংলাদেশি নির্বাচনটি কলঙ্কমুক্ত হতে পারল না। বঙ্গবন্ধু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ডেপুটি বঙ্গবন্ধু হতে চাইলেন অনেকে। পাঁচ প্রার্থীর ক্যাডারদের হাতে চায়নিজ রাইফেলের নল দূর থেকে তাক করা দেখে দ্বিতীয় কেউ মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে পোঁ দৌড়। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন দেখা গেল আরও পাঁচজনের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। অর্থাৎ ১০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। একদিন যে বাংলার মাটিতে দেড় শতাধিক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন, সে পথ দেখিয়ে দেয় প্রথম নির্বাচনটিই। কয়েকজন বিজয়ী প্রার্থীকেও পরাজয়ের গ্লানি ভোগ করতে বাধ্য করা হয়।
তাঁদের মধ্যে ছিলেন ন্যাপের আলীম আল রাজী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, জাসদের মেজর এম এ জলিল, মস্কো ন্যাপের অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ প্রমুখ। বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারদের নিয়তিও প্রথম নির্বাচনেই নির্ধারিত হয়ে যায়। সত্তরের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আবদুস সাত্তার। তিনি স্বাধীনভাবে কাজ করেছেন। স্বাধীন দেশের প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি এম ইদ্রিস রাত ১২টার পর থেকে বিপন্ন বোধ করতে থাকেন। রাত চারটায় বোধ করেন অসহায়। পরদিন ভোরে করেন আত্মসমর্পণ। সেই আত্মসমর্পণ অব্যাহত আছে। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের আগে-পরে প্রায় মাস দুই আমি দেশে ছিলাম না। প্যারিসে এএফপি অফিসে বসে খোঁজ নিতাম। সেটি ছিল একটি পরিকল্পিত বোঝাপড়ার নির্বাচন। শাসকেরা চাইছিলেন, সব দলের প্রধান নেতারাই ‘নির্বাচিত’ হয়ে সংসদে আসুন। সংসদে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগই ছিল। নেতা ছিলেন আসাদুজ্জামান খান। অতি ভালো মানুষ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনটিও ছিল পাতানো। স্বৈরশাসক এরশাদকে বৈধতা দেওয়ার নির্বাচন। সে নির্বাচনের অমর কীর্তি জামায়াতে ইসলামীকে জাতীয় রাজনীতিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করে। জাতীয় পার্টিকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল ১৫৩, আওয়ামী লীগকে ৭৬, জামায়াতে ইসলামী ১০, সিপিবি ৫, এনএসি ৫, মুসলিম লীগ ৪ প্রভৃতি।
ওই নির্বাচনকে বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘চর দখলের নির্বাচন’। শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ভোট ডাকাতির নির্বাচন’। মৃদু হেসেছিলেন জামায়াতের নেতারা। তখন চর্মচক্ষুতেই দেখতে পেয়েছি, জামায়াতিরা জোহরের নামাজের আগে যদি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বসেন তো আসরের নামাজের পরে বসেন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে। পল্লিবন্ধু তাঁরই ধাক্কায় পড়ে যাওয়া সাত্তার সাহেবের মতো নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হতে চাইলেন। ’৮৬-তেই হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করে। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিতে নেতার অভাব হলো না। এরশাদ সাহেব তাঁর সাবেক জুনিয়রকে ডেকে বললেন, ‘তুই দাঁড়িয়ে যা!’ তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হন ফ্রিডম পার্টির নেতা একালের ‘খালেদ বিন ওয়ালিদ’ সৈয়দ ফারুক রহমান। আমাদের টাকায় পরিচালিত বাংলাদেশ টেলিভিশনে ভাষণদানকালে সৈয়দ সাহেব যেসব অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আব্বাসীয় খলিফাদের রাজত্বের মতো হয়ে যেত। বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য, কর্নেল সাহেব জেনারেল সাহেবের চেয়ে কম ভোট পেয়ে পরাজিত হন। বাংলার অসচেতন জনগণের মদদ থাকলে ’৮৬-তে সৈয়দ ফারুক রহমানই হতেন দেশের চতুর্থ রাষ্ট্রপতি। ’৭৫-এর সাধ ’৮৬-তে পূরণ হতো। বাংলার মাটির নির্বাচনী স্মৃতিকথা লিখে শেষ করা যাবে না। কারণ, এ মাটিতে গণতন্ত্র না থাকলেও গণতন্ত্রের বাপ আছে।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

ভারতীয় আমলা-সাংসদদের হীনম্মন্যতা

আম আদমি পার্টির আন্দোলনের ফলে ভারতের রাজনীতিতে যে নৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে, তা উপেক্ষা করে কংগ্রেসশাসিত দক্ষিণের রাজ্য কর্ণাটকের ১৬ জন আইনপ্রণেতার একটি দল সরকারি খরচে দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশে বেড়াতে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছিল। কিন্তু জনগণের করের টাকায় তাদের এই আনন্দভ্রমণের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ভন্ডুল হয়েছে কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর হস্তক্ষেপে, যিনি রাজস্থান ও দিল্লির নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। তবে সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, যেসব আইনপ্রণেতা এই আনন্দভ্রমণের পেছনে সরকারি অর্থ নষ্ট করার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন, তাঁরা রাজ্যের হিসাবসংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য। অথচ এই কমিটির দায়িত্বই হচ্ছে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা। প্রস্তাবিত ওই ভ্রমণে কংগ্রেস ও বিজেপি উভয় দল থেকেই প্রতিনিধি ছিলেন। তাঁদের এই প্রমোদভ্রমণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার মুখে বিজেপির সদস্যরা হঠাৎ করে পিছিয়ে যান। আর কংগ্রেসের সদস্যরা গর্তে ঢুকে গেলেন যখন রাহুল গান্ধী বললেন, রাজ্যটির ৬০টি জেলায় যখন খরা চলছে আর দুই শতাধিক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন, তখন ১৬ কোটি রুপি খরচ করে বিদেশে প্রমোদভ্রমণে যাওয়া সরকারি অর্থের বিরাট অপচয়। নিয়মকানুনের দিক থেকে ওই ভ্রমণকে জায়েজ করা হয়েছিল এই বলে যে আইনপ্রণেতারা তাঁদের পাঁচ বছরের মেয়াদকালে সরকারি খরচে দুবার বিদেশভ্রমণে যেতে পারবেন।
অন্য অধিকাংশ রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের জন্যও সম্ভবত একই বিধান রয়েছে। খবর বেরিয়েছে, অন্ধ্র প্রদেশের আইনপ্রণেতারা একটি বিদেশ সফরের আয়োজন করছেন। আর ঘরের কাছে আকালি দলের সরকার তাদের আইনপ্রণেতাদের স্কটল্যান্ড পাঠিয়েছে স্কচ হুইস্কি কীভাবে তৈরি করা হয়, তা দেখার জন্য। এ ধরনের সব বিদেশভ্রমণকে বিবেচনা করা হয় শিক্ষা সফর হিসেবে। সফর শেষে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় না। আইনপ্রণেতারা কাগজে-কলমে আদৌ কিছু জমা দেন কি না, তা-ও অনুমানের বিষয়। আসলে এগুলো সবই আনন্দ-ফুর্তি করার জন্য বেতনসহ ছুটি; সরকার মাঝেমধ্যে এসবের আয়োজন করে নিজ দলীয় ও বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতাদের খুশি করার উদ্দেশ্যে। আর এই সুবিধা দেওয়াটা শুধু আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কর্ণাটকের তফসিলি সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘুদের কমিটির সদস্যরাও ১৬ দিনের বিদেশভ্রমণ শেষে সদ্য দেশে ফিরেছেন। তাঁদের ভ্রমণসূচিতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকত, ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্ট, প্রমোদ রিসোর্ট ইত্যাদি জায়গা। বিদেশভ্রমণের প্রতি একই ধরনের তীব্র আকর্ষণ আমি লক্ষ করেছি সংসদ সদস্যদের মধ্যেও। আমি যেহেতু রাজ্যসভার সদস্য মনোনীত হয়েছিলাম, তাই এ ধরনের কোনো সফরে আমি কখনো অন্তর্ভুক্ত হইনি। গণমাধ্যমে লেখালেখির কারণে অপচয় বন্ধ করার লক্ষ্যে একটি নৈতিকতা কমিটি গঠনের প্রচেষ্টা হয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত নিজেদের লোকজনের মধ্যেই ‘শিক্ষাসফরে’ যাওয়ার সুযোগ বণ্টন করত। তাজ্জব বিষয় হলো, বহির্বিশ্বে হিন্দি ভাষার বিস্তার মূল্যায়ন করতে ভাষা কমিটির সদস্যরা প্রতিবছর ইংল্যান্ড ও আমেরিকা সফর করেন। তাঁদের মধ্যে এমন লোকজনও থাকেন, যাঁরা সংসদ সদস্য নন।
আসলে বিদেশভ্রমণের প্রতি আকর্ষণ ভারতের মতো পাকিস্তান আর বাংলাদেশেও প্রবল। ওই দুই দেশেও সংসদ সদস্যরা কোনো না কোনো অজুহাতে বিদেশভ্রমণে যান। এটা দেড় শ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের খোঁয়াড়ি, নাকি বর্ধনশীল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অর্থহীন টাকা খরচের প্রবণতার অংশ, তা বলা কঠিন। সম্ভবত দুটি অনুমানই সঠিক। কিন্তু এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে নিখরচায় বিদেশভ্রমণ সরকারের তরফ থেকে সেরা ‘ঘুষ’। পশ্চিমা দেশগুলো এটা জানে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনগুলো এভাবে ঘুষ দিয়ে অনেক সুবিধাই আদায় করে থাকে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় আমলাদের কাছে বিদেশ থেকে ‘আমন্ত্রণ’ আসে। সরকারের সচিবদের কতজন ছেলেমেয়ে বিদেশে পড়াশোনা করে, তাঁদের কতজন বিদেশি বৃত্তি নিয়ে গেছে আর কতজন নিজেদের খরচে পড়তে গেছে—এসব তথ্য বের করা গেলে অনেক কিছু জানা যেত। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ছেলেমেয়েদের টিকিট-ভিসা, ভ্রমণের সম্পূর্ণ খরচ, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে দেখভাল করে বিদেশি মিশনগুলো। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের আমলারা বিদেশি মিশনগুলোর যৎসামান্য আদর-আপ্যায়নের জন্যও লালায়িত থাকেন। বিনা মূল্যে অঢেল সুরার ব্যবস্থা থাকে বলে বিদেশি মিশনগুলোর নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের পার্টিতেও আমাদের শীর্ষ আমলাদের উপস্থিতি দেখা যায়। এই লোভ নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার অল্প কয়েক বছর থেকেই এটা শুরু হয়েছে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু বিদেশি মিশনগুলোর তৃতীয় সচিবদের দেওয়া পার্টিতে ভারত সরকারের সচিবদের যোগ দেওয়ার কথা জানতে খেপে গিয়ে এই মর্মে একটা নির্দেশনা জারি করেছিলেন, ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা শুধু তাঁদের সমমর্যাদার বিদেশি কূটনীতিকদের আমন্ত্রণই গ্রহণ করবেন। যতই দিন গড়িয়েছে, নেহরুর সেই নির্দেশনা লঙ্ঘনের ঘটনা ততই বেড়েছে। আজ আর ওই নির্দেশনার কোনো কার্যকারিতাই নেই। এখন সংসদ সদস্যরা পর্যন্ত বিদেশি কূটনীতিকদের আতিথ্য প্রার্থনা করেন। নেহরুর মতো প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়েরও একটা নির্দেশনা জারি করা উচিত।
কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের হাতে ভারত সরকার যেভাবে অপদস্ত হলো, তাতে আমি হতাশ। আমাদের কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়েকে হাতকড়া পরিয়ে ক্রিমিনালদের সঙ্গে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারপর জানা গেল, দেবযানীকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তাঁর সম্পূর্ণ কূটনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ ঘটনায় আমি অবাক হয়নি, কারণ আমেরিকার ক্ষমতার দম্ভ আমার জানা। প্রেসিডেন্ট ওবামাকে শুরুতে অন্য রকম মনে হতো, কিন্তু তিনিও এখন আমেরিকান দাম্ভিক প্রশাসনের অংশে পরিণত হয়েছেন। তাঁর প্রতি আমার কোনো আশা বা ভরসা নেই। তাঁর উচিত ছিল অনুতপ্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে টেলিফোন করা। কারণ এই ঘটনায় ক্ষতি যা হয়েছে, তা আমেরিকার। ভারত অনুভব করতে শুরু করেছিল যে আমেরিকা পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আলাদা। কিন্তু এই ঘটনার পর তাদের সেই অনুভূতি মার খেয়েছে। ওয়াশিংটন ভারতের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে পারে আর নয়াদিল্লিও বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির সঙ্গে একই উচ্চতায় থেকে কথা বলতে পারে। কিন্তু এই সম্পর্ক থেকে যাবে নেহাতই সরকারি পর্যায়ে, আনুষ্ঠানিকভাবে। ভারতের জনগণ থেকে যাবে অনেক অনেক দূরে। তাদের কাছে দেবযানীর সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তার সঙ্গে কূটনৈতিক সৌজন্যের কোনো সম্পর্ক আছে বলে ভারতের জনগণ মনে করে না। তাদের কাছে এটা ওয়াশিংটনের দম্ভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
ইংরেজি থেকে অনূদিত, সামান্য সংক্ষেপিত
কুলদীপ নায়ার: ভারতের সাংবাদিক।

তৈরি হলো কৃত্রিম কিডনি!

গবেষণাগারে তৈরি হৃৎপিণ্ডের সফল প্রতিস্থাপনে গোটা বিশ্ব আলোড়িত হয়েছিল। সেই সাফল্যের আগে, অনেকটা নিশ্চুপেই তৈরি হয়েছিল কৃত্রিম কিডনি। জৈব কিডনির সঙ্গে এর ব্যবহারিক এবং চারিত্রিক কোনো পার্থক্য নেই। শুধু আয়তনে প্রকৃত কিডনির অতি ক্ষুদ্র সংস্করণ। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের ইনস্টিটিউট ফর মলিকিউলার বায়োসায়েন্স গবেষকরা সম্প্রতি স্টেম সেলের সাহায্যে ল্যাবরেটরির পেট্রি ডিসের কৃত্রিম পরিবেশে এই ক্ষুদ্র কিডনি সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছেন। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে বিকল হওয়া রোগীদের নতুন জীবন দেবে এই কৃত্রিম কিডনি। একই সঙ্গে কিডনির ওপর কোনো ওষুধের প্রভাব কেমন, তাও বোঝা যাবে এ কিডনি দিয়ে। কৃত্রিম কিডনির তৈরির শুরুতে বিশেষ তাপমাত্রা এবং রসায়ন মিশ্রণে স্টেম সেল রাখা হয়। এরপর সময়ে সময়ে সেই স্টেম সেলগুলোকে বিভিন্ন অনুঘটক রসায়নে ভেজানো হয়। প্রথমে স্টেম সেলগুলোকে কিডনির ভিতরের কোষের মতো কোষে পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়। গবেষকরা এই পদ্ধতিতে কিডনি গঠনকারী দুটি বিশেষ ধরনের কোষ তৈরিতে সফল হন। কৃত্রিম পরিবেশ সৃষ্টি করে সেই কোষগুলোকে আয়তনে বাড়ানো হতে থাকে। গবেষক দলের প্রধান মেলিসা লিটল জানান, 'প্রথমে আমরা এক ধরনের কোষ তৈরি করতে চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম দুই ধরনের কোষ তৈরি হয়ে গেছে। এই দুই প্রজাতির কোষের সমষ্টিই কিডনি গঠন করে। এই কিডনি মূলত বহু কোষের জটিল সমষ্টি এবং আয়তনে খুবই ছোট। তবে এই ছোট কিডনিটা সময়ের সঙ্গে আয়তনে বাড়বে।'
অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত। সমস্যা সমাধানে আছে শুধুই ডায়ালিসিস এবং কিডনি প্রতিস্থাপন। ভারতবর্ষে কিডনির রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেই তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের পরিকাঠামো যথেষ্ট নয়। চিকিৎসকদের মতে, এই গবেষণা কিডনি রোগীদের নতুন আশা দেখাবে।
প্রদীপ সাহা, সূত্র : নেচার

সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা কেন?

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় রোববার যশোরের অভয়নগরে হিন্দু অধ্যুষিত মালোপাড়ায় বাড়িঘর ভাংচুর, অগি্নসংযোগ, বোমাবাজি ও লুটপাটের ঘটনা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মানুষকেই ক্ষুব্ধ করবে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আক্রান্ত পরিবারগুলোর নারী-শিশুসহ শত শত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে শীতের রাতে সাঁতরে ও নৌকায় ভৈরব নদ পেরিয়ে মন্দিরে আশ্রয় নেয়। একই দিন দিনাজপুর সদর উপজেলার একটি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামেও সংখ্যালঘুদের শতাধিক বাড়িঘর,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভোট দেওয়ার কারণে হামলা, অগি্নসংযোগ ও লুটপাট চালায় জামায়াত-শিবির। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ধরনের ঘটনা বাংলদেশে নতুন নয়। নির্বাচন হোক আর রাজনৈতিক আন্দোলনই হোক একটি চিহ্নিত মহল সংখ্যালঘুদের এভাবেই টার্গেটে পরিণত করছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে-পরে হিন্দুদের ওপর হামলা, হতাহত করা, নারীদের প্রকাশ্যে সম্ভ্রমহানির ঘটনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে অনেক আলোচিত-সমালোচিত হয়েছে। জঙ্গিরা, জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনেককেই তখন এসব নির্যাতন, দস্যুতার ঘটনার সঙ্গে জড়িত দেখা যায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে এর বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পরিণতি পর্যন্ত পেঁৗছায়নি। সেবারের ঘটনাগুলোর সঠিক বিচার ও দোষীদের কঠোর শাস্তি হলে এ প্রবণতা হ্রাস পেত। সম্প্রতি প্রায়ই হিন্দু উপাসনালয়গুলোর ওপর হামলা, অগি্নসংযোগ বা মূর্তি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা প্রায় ক্ষেত্রেই হচ্ছে না। এবার আন্দোলন এবং ভোট বর্জনে যেহেতু সহিংসতার প্রধান হোতাই হচ্ছে জামায়াত-শিবির, তাই সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হতে পারে, তেমন তথ্য প্রশাসনের কাছেও থাকার কথা। কিন্তু প্রশাসন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লিপ সার্ভিস দেওয়ার বাইরে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এতে স্বার্থান্বেষী মহল এবং বিরোধী দল ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও চিহ্নিত অপরাধীরা সংখ্যালঘু নির্যাতনের রাস্তা নিতে উৎসাহী হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায়, বিশেষ করে সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা চালানোর সময়ও মৌলবাদীদের বিশেষ টার্গেট ছিল সংখ্যালঘুরাই। এসব কারণে কেউ কেউ জানমাল ও সম্মান বাঁচানোর জন্য মাতৃভূমি ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছে জানা যায়। তাই সরকারের উচিত, কালবিলম্ব না করে সংখ্যালঘু নির্যাতন, হামলা, সম্ভ্রমহানি, অগি্নসংযোগের মতো ঘটনাগুলো দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। শুধু ভোট দেওয়ার অপরাধে নির্বাচন বয়কটকারীরা দিনাজপুরের একটি গ্রাম ও যশোরের অভয়নগরে সংখ্যালঘু পল্লী যেভাবে বিরানভূমিতে পরিণত করেছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। এ ঘটনায় দায়ীদের ক্ষমা হতে পারে না। আর কালবিলম্ব না করে এদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

দেশ বাঁচাতে হাত মেলান

পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কীভাবে এ নির্বাচন হয়েছে, দেশ-বিদেশের সবাই তা টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে জেনেছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল না। তারপরও একতরফা এ নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। কিছু কেন্দ্র ভোটারবিহীন ছিল। নির্বাচনী উৎসব কার্যত দেশের কোথাও ছিল না; কিন্তু বহু কেন্দ্রে দেখা গেছে জাল ভোটের মহোৎসব। নির্বাচন কমিশন এবং তাদের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এর মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য এ ধরনের নির্বাচন কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। তারা ব্যথিত হয়েছেন। অনেকে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কারও কাছে এ নির্বাচন 'প্রহসন ও ভোটারবিহীন', কেউবা বলছেন 'কলঙ্কিত'। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এবং তাদের ১৮ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন শুধু নয়, প্রতিহতের ডাক দিয়েছিল। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিনে তারা বিভিন্ন স্থানে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে। বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামীর নাশকতামূলক তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়। এটাও মনে রাখতে হবে যে, এই নির্বাচন একটি নতুন সংসদ জন্ম দেবে, একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু নির্বাচনের পর দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন আশা পোষণকারী লোক খুব বেশি পাওয়া যাবে না। বিরোধীদের হরতাল-অবরোধ চলছে এবং তারা আরও কঠোর অবস্থানে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। জনমনে স্বভাবতই প্রশ্ন_ কী হবে দেশের? তাদের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে। দুঃসময় কবে কাটবে, কেউ বলতে পারে না। অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে।
সরকার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে নির্বাচন সম্পন্ন করায় ছিল অনড়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাস ও নাশকতার পরাজয় ঘটেছে। জনগণ স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র প্রত্যাখ্যান করেছে। অশুভশক্তির হাত থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। তার এ রাজনৈতিক অবস্থান অনেকে সমর্থন করবেন, অনেকে ভিন্নমত পোষণ করবেন। কিন্তু এখন একটি বিষয়ে সবাই কমবেশি একমত হবেন যে, যে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হতে চলেছে তা বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তেমনভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। নতুন যে সরকার গঠিত হবে, তার সাংবিধানিক ভিত্তি খুঁজলে অবশ্যই মিলবে, কিন্তু নৈতিক ভিত্তি থাকবে খুবই দুর্বল। সঙ্গত কারণেই দশম সংসদ নির্বাচনের দিন পার হতে না হতেই একাদশ সংসদের নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদের সঙ্গে আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কথা বলেছেন। এ আলোচনা প্রধানত বিএনপির সঙ্গেই হতে হবে এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য, সেটা নিয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই। খালেদা জিয়া সংসদে বিরোধী দলের নেতা থাকুন আর না-ই থাকুন, এটাই বাস্তবতা। বিরোধীদের অবশ্যই সন্ত্রাস-নাশকতা পরিহার করতে হবে_ এ বিষয়ে এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐকমত্য লক্ষণীয়। জামায়াতে ইসলামীর হিংসাশ্রয়ী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার প্রতিও রয়েছে সাধারণভাবে সর্বমহলের সমর্থন। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপিকে অবশ্যই এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় পেঁৗছাতে সচেষ্ট হতে হবে। এই দুই পক্ষ পারস্পরিক আস্থার প্রকট অভাব কাটিয়ে উঠতে না পারলে দেশের সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলেই আমরা মনে করি। ইতিমধ্যেই দেশ অনেক খেসারত দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ সত্যিই বিপন্ন। প্রধান রাজনৈতিক শক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট সবার শুভবুদ্ধির জয় হোক, এটাই প্রত্যাশা।

চার তরুণের স্বপ্ন 'ড্রোন'

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন আগামী
পহেলা বৈশাখে বাংলার আকাশে উড়বে তাদের তৈরি ড্রোন
নির্দিষ্ট গন্তব্যে পেঁৗছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেই ফিরে আসছে চালকবিহীন বিমান। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এ ধরনের বিমান ড্রোন নামে সুপরিচিত। তবে আশার কথা হচ্ছে, দেশের শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক আকাশে উড়িয়েছে আমাদের ড্রোন। তরুণ স্বাপি্নক ড্রোন উদ্ভাবকদের কথা লিখেছেন ইমদাদুল হক দেশের আকাশে উড়ছে চালকবিহীন বিমান ড্রোন। দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরাই তৈরি করছে এমন বিমান। ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের [কুয়েট] শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন খান আকাশে উড়িয়েছেন 'বাংলার ড্রোন-কুয়েট'। গত বছরের ১০ জুলাই তিনি প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় বিমান আকাশে ওড়াতে সমর্থ হন। সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীও ড্রোন তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। রেজওয়ানুল হক নাবিল, রবি কর্মকার এবং মারুফ হোসেন রাহাত উদ্ভাবিত ড্রোনের নাম 'বিডি-শাস্ট-০১'।
বাংলার ড্রোন-কুয়েট
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতক শেষ করেছেন আবদুল্লাহ আল মামুন খান। কুয়েটে স্নাতক করার সময় ড্রোনটি তৈরির কাজে হাত দেন কুমিল্লার উত্তর হাজতিয়া নামক গ্রাম থেকে উঠে আসা তরুণ মামুন। থিসিস সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহানের পরামর্শে প্রথমে একটি কপ্টার তৈরির পরিকল্পনা করেন। কাজের শুরুতে বন্ধু রিজভী আহমেদ কপ্টারের ফ্রেম তৈরির প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশে সাহায্য করেন। বিমানের চূড়ান্ত ফ্রেমটি বন্ধুর সঙ্গে বসেই অ্যাসেম্বল করেন তিনি। বন্ধু জিএম সুলতান মাহমুদ রানার সহায়তার কথাও জানান তিনি। তবে
চালকবিহীন বিমান তৈরির স্বপ্ন প্রথমবারেই মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রথম কপ্টারটি আকাশে ওড়ানোর সময়ই সেটি ভূপাতিত হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বড় ভাইয়ের সহায়তায় ড্রোন তৈরির কাজে আবার মনোনিবেশ করি। টানা সাড়ে তিন মাস কাজ করার পর অবশেষে রিমোট দিয়ে ড্রোনটি ওড়াতে সক্ষম হই। মামুনের তৈরি ড্রোন গুগল আর্থের ম্যাপের সাহায্যে নির্ধারিত গতিপথে উড়তে পারে। পরিভ্রমণ শেষে এটি আবার ফিরে আসে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই রিমোট ছাড়া। নজর রাখতে পারে ৩৫০ ফুট ওপর থেকে।
দীপের তৈরি বর্গাকৃতির [২ ফুট বাই ২ ফিট]। ওজন ১৮০০ গ্রাম। এটি দেড় কেজি ওজনের যে কোনো কিছু নিয়ে উড়তে সক্ষম। তবে যদি কেউ এর চেয়ে ওজনের বস্তু বহন করতে চায় তাহলে এর মোটর আর প্রপেলার চেঞ্জ করলেই চলবে বলে জানালেন উদ্ভাবক। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ড্রোনটি পরিচালনের জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে জিপিএস ও ম্যাগনেটো মিটার। সংযুক্ত আছে ওয়্যারলেস ট্রান্সরিসিভার। উড়ন্ত অবস্থায় এর মাধ্যমে ড্রোনের ব্যাটারি ভোল্টেজ, অবস্থান, উচ্চতা এবং আবহাওয়া মনিটর করা যায়। একই সঙ্গে এই ড্রোন থেকে লাইভ ভিডিও পাঠানো যাবে যা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্টোর হয়।কুয়েটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহজাহান জানান, মামুনের তৈরি ড্রোনে পরিপূর্ণ সুবিধা পেতে এটিতে 'ইমেজ প্রসেসিং কার্ড' ব্যবহার করতে হবে। তবে এটি ব্যয়সাপেক্ষ এবং সাধারণের ব্যবহারের জন্য সচরাচর বিক্রি করা হয় না। তাই বাণিজ্যিকভাবে না হলেও মামুনের কপ্টারটিকে মিনিয়েচার ড্রোন বলা যায়। প্রকৌশলী বাবা দৌলত খান এবং গৃহিনী মায়ের স্বপ্নও মামুন পরিপূর্ণ চালকবিহীন বিমান তৈরি করতে সক্ষম হবে। মামুন তার স্বপ্ন পূরণে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অজর্ন করতে চান। মামুন স্বপ্ন দেখেন তার উদ্ভাবিত ড্রোনটি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ পরিবহন, দুর্গত এলাকায় মানবিক সহায়তায় ব্যবহৃত হবে।
শাবি শিক্ষার্থীদের ড্রোন-ঘুড়ি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের [শাবি] পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক নাবিল, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রবি কর্মকার এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মারুফ হোসেন রাহাত মিলে তৈরি করছেন চালকবিহীন বিমান ড্রোন-ঘুড়ি। তারা তিনজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যারোনোটিক্স অ্যান্ড ইন্টারফেসিং রিসার্চ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ড্রোন তৈরিতে তাদের প্রেরণা অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ইতিমধ্যে দলটি ৫০ হাজার টাকা খরচে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন বানিয়েছেন। অবকাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এটি তৈরি করা হয়েছে অনেকটা ই৫২ বোমারু বিমানের নকশায়। আকার হবে ৩ বাই ৪ ইঞ্চি। দুই পাখায় দুটি লাল-সবুজের পতাকা। তবে এটি কোনো ঘুড়ি নয়, মানুষবিহীন বিমান! দেশেই তৈরি ৃহচ্ছে এই ড্রোন! এটি ব্যবহার করা যাবে তীক্ষষ্ট নজরদারির কাজে। চলবে নিজস্ব প্রযুক্তিতে। ওয়্যারলেস ট্রান্সরিসিভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তথ্য পাঠানোর কাজে। তাই ভূপাতিত হলেও নজরদারির তথ্য থাকবে সুরক্ষিত। দুর্ঘটনায় পতিত হলেও সমস্যায় পড়তে হবে না। কেবল নজরদারি নয়, ড্রোনটি বহুমুখী কাজ করতে সক্ষম। আবহাওয়ার খবরও জানাতে পারবে। একটু আপগ্রেড করলে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরাসরি ভিডিও পাঠাতে সক্ষম হবে। তবে এ জন্য স্বাভাবিক কাজের ব্যবহৃত 'এফপিভি' ক্যামেরার বদলে জুড়ে নিতে হবে 'ডিএসএলআর'।
তবে অর্থ সংকট আর যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতার অভাবে একটু সময় লাগছে। সব ঠিকঠাক থাকলে পহেলা বৈশাখে আকাশে উড়বে 'বিডি-শাস্ট-০১' নামের মাইক্রো ড্রোনটি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ২০১৪ by হাসান জাকির

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। ইন্টারনেটে যেন নীরবে বিপ্লব ঘটে চলেছে। গত বছর তৃতীয় প্রজন্মের [থ্রিজি] ইন্টারনেট চালুর মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। চলতি বছর বেসরকারি সেলফোন অপারেটর কোম্পানির মাধ্যমে পুরো দেশ থ্রিজির আওতায় আসবে। সেলফোন অপারেটররা ব্যন্ডউইথের দামও সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির মতে, দেশে সেলফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটি ৬৬ লাখ। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দ্বিগুণ হবে। ল্যাপটপ প্রকল্পে লুটপাটের পর নতুন করে এ বছর ল্যাপটপ প্রকল্পে হাত দিচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেশিস। চতুর্থ প্রজন্মের প্রসেসর সমৃদ্ধ হয়ে আবারও আসছে বহুল আলোচিত ল্যাপটপ দোয়েল। তবে সাশ্রয়ী মূল্যের দোয়েল গ্রাহকের হৃদয় জয় করতে পারবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।
এদিকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের গত বছর তেমন কোনো সাফল্য নেই বললেই চলে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কথা বললেও আইসিটি মন্ত্রণালয় ছিল অবহেলিত। পদ্মা সেতু দুর্নীতির ঘটনায় তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর আবুল হোসেনকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় সত্তরোর্ধ্ব বয়সী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদকে। তবে মন্ত্রী হিসেবে মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ ছিলেন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। এদিকে ঘন ঘন বিদেশ সফর করে সমালোচিত হয়েছেন বর্তমান আইসিটি সচিব নজরুল ইসলাম খান। বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরে একটিও হাইটেক পার্ক কিংবা সফটওয়্যার পার্ক চালু করতে না পারাকে চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়াতে চায় আইসিটি মন্ত্রণালয়। সমকালের সঙ্গে আলাপকালে আইসিটি সচিব নজরুল ইসলাম খান নতুন বছরে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানালেন। গত বছর জুড়েই হ্যাকারদের উৎপাত ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতরসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ের শিকার দেশীয় হ্যাকাররাই মূলত হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে এসব ওয়েবের নিরাপত্তা দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন। এ বছর দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা আরও জোরদারের চলতি বছর সাইবার সিকিউরিটিতে জোর দেওয়ার কথা জানালেন আইসিটি সচিব। তিনি বলেন, 'সাইবার জগতে ব্যবকারীদের তথ্যের সুরক্ষা দিতে 'সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট' প্রণয়ন করা হবে। সরকারি ২৫ হাজার ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএল [সিকিউরড সকেট লেয়ার] সার্টিফায়িড করা হবে। বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে মাল্টিমিডিয়া বই তৈরি, ভার্চুয়াল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বছরের শেষ দিকে জনতা সফটওয়্যার পার্কের কার্যক্রম শুরু, যশোরসহ আরও কয়েকটি আইসিটি পার্ক চালু, ট্রান্স ইউরো সুপার হাইওয়েতে সংযুক্তি, সরকারি অফিসগুলোকে অটোমেশনের আওতায় আনা, কমপক্ষে ২ এমবিপিএস কানেক্টিভিটি, ময়মনসিংহে ব্যক্তি উদ্যোগে হাইটেক পার্ক, ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রগুলোকে অটোমেশনের আওতায় আনা, এনজিও'র সহায়তায় 'বাড়ি বসে বড়লোক' শীর্ষক কর্মসূচি, 'ওয়ান ফ্যামিলি ওয়ান ইউমেন' শীর্ষক কর্মসূচি, ইউনিয়ন সার্ভিস অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন [ইউএসডি], আউটসোর্সিংয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যে 'লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং' কর্মসূচির নতুন পর্যায় চালু, বেসিসের সঙ্গে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এবং সব উপজেলায় ডিজিটাল ফেয়ার, দেশের বাইরে একাধিক মেলায় অংশগ্রহণ প্রভৃতি পরিকল্পনার কথা জানান আইসিটি সচিব। তবে এসব পরিকল্পনার কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে তা জানার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে।

নতুন বছরে নতুন প্রযুক্তি by আমিনুর রহমান

আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে শুরু হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা তথ্যপ্রযুক্তি মেলা কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো [সিইএস]। বছরজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা প্রযুক্তি পণ্যগুলো সাধারণত এ মেলার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়। এবারও তার বিকল্প হচ্ছে না। তিন দিনের এ প্রদর্শনিতে উন্মোচিত হচ্ছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় প্রযুক্তিপণ্য।
বাঁকানো টিভি
স্মার্টফোনের পর এবার বাঁকানো টিভি আনতে যাচ্ছে স্যামসাং এবং এলজি। বছরের শুরু থেকেই এ ধরনের টেলিভিশন নিয়ে কয়েকবার মহড়া দিতে দেখা গেছে। ৪কে মানের ছবির সঙ্গে পর্দা হিসেবে মিলবে ওএলইডি গ্গ্নাস। প্রস্তুতকারকদের মতে, এই টিভির বক্রতা নিজের মতো করে পরির্বতন করা যাবে। রিমোট থেকে কমান্ড করে টিভির পর্দাকে যে কোনো দিকে বাঁকানো যাবে।
স্মার্ট হাতঘড়ি
আগামী বছরটিকে বলা হচ্ছে বহনযোগ্য প্রযুক্তির বছর। শুরুটা এ বছরের প্রথম দিকে হলেও প্রতিযোগিতা শুরু হবে সামনের বছর থেকে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি গিয়ার২ হাতঘড়ি উন্মোচনের সব কিছু চূড়ান্ত করলেও অ্যাপলের হাতঘড়ি আসার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাইরে এপসনও বহনযোগ্য ডিভাইস আনার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে।

৬৪ বিটের স্মার্টফোন
গতিময় স্মার্টফোন রাজ্যে নতুন অতিথি ৬৪ বিটের প্রসেসর। অ্যাপলের আইফোন ৫এস দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয় চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া এবং কোয়ালকম। বাজার হারানোর শঙ্কায় পড়তে হয় প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংকে। তবে কি হেরে যাবে স্যামসাং? এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে প্রদর্শনীতে ৬৪ বিটের প্রসেসর সংযোজিত নিজেদের পরবর্তী স্মার্টফোন গ্যালাক্সি এস৫ আনার ঘোষণা দিয়েছে। স্যামসাংয়ের ভাষ্যমতে, উচ্চ মাত্রার অ্যাপস এবং অপারেটিং সিস্টেম চালনায় এই চিপ বিশেষভাবে কার্যকর।
স্মার্টফোনের পসরা
বরাবরের মতোই এবারের প্রদর্শনীতে বসতে যাচ্ছে নতুন স্মার্টফোনের পসরা। উন্মোচিত হবে বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্মার্টফোন সনির এক্সপেরিয়া জেড ওয়ান এফ, এলজির বাঁকানো স্মার্টফোন জি টু এবং স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস৫। ধারণা করা হচ্ছে, সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে এই তালিকা আরও বাড়বে।
গ্যালাক্সি ট্যাবলেট
চার মডেলের গ্যালাক্সি ট্যাবলেট আনার ঘোষণা দিয়েছে স্যামসাং। এর মধ্যে আছে বড় মাপের ১২.২ ইঞ্চি এবং ১৩.৩ ইঞ্চি ট্যাবলেট। ট্যাব সিরিজের নতুন সংস্করণ গ্যালাক্সি ট্যাব৩ লাইট এবং সাশ্রয়ী দামের সাত ইঞ্চি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট। দামের ব্যাপারে তথ্য জানানো না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, গ্যালাক্সি ট্যাব৩ লাইট ১০০ ইউরোর মধ্যে পাওয়া যাবে।
চমক দেখাবে আসুস : চমক আনতে যাচ্ছে আসুস। খোলাসা করে কিছু জানানো না হলেও ধারণা করা হচ্ছে আসুসের চমক হতে যাচ্ছে কোনো হাইব্রিড ট্যাবলেট অথবা আল্ট্রাবুক। অন্যদিকে, ট্রান্সফরমার প্যাড এমনকি প্যাডফোন আনার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। বহনযোগ্য ডিভাইসের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে।
গাড়ির চালক মোবাইল
স্মার্টফোনে দিকনির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে চালানো যাবে গাড়ি। এড়িয়ে চলা যাবে দুর্ঘটনা। প্রদর্শনীকে সামনে রেখে অদি, মাদজা, মার্সিডিস এবং টয়োটা_ স্মার্টফোনের সঙ্গে সেতুবন্ধন করা যায় এ রকম গাড়ি প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়েছে। যেখানে স্মার্টফোনে দিকনির্দেশনা ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকবে ড্রাইভাদের জন্য ভার্চুয়াল সহযোগী অ্যাপ্লিকেশন।
ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার
চলতি বছর প্রযুক্তি পণ্যের উদ্ভাবনে অন্যতম আলোতি হতে পারে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার। চাহিদা মতো পণ্য প্রিন্ট করে নেওয়ার অসাধারণ এ প্রযুক্তি ইতিমধ্যে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এবারের প্রদর্শনীতে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের আরও নতুন চমক আসতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে দামের দিক থেকে অনেক চড়া ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার। সেদিক বিবেচনা করে স্বল্পমূল্যের ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার ও ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারে মুদ্রিত পণ্যের পসরা দেখা যাবে এ বছর।
গুগল রোবট
ব্যতিক্রমী পণ্য নিয়ে হাজির হবে সার্চ জায়ান্ট গুগল। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। দেখাবে দ্রুত গতিশীল রোবট চিতা এবং কুকুর। বছরের শেষ ছয় মাসে সাতটি রোবট নির্মাতা কোম্পানি কিনে নেয়। যে কারণে চমক জাগানো কোনো প্রযুক্তি উন্মোচন করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

গ্রামীণ গীত রক্ষার সংগ্রাম দুই বোনের by ফয়সাল মাহমুদ

পিঠাপুলির আয়োজনে প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়েরা মেতে উঠেছে নবান্ন উৎসবেষ ছবি
শৈত্যপ্রবাহের কনকনে শীত। শিশিরভেজা সড়ক। সড়কের দু'ধারে গগনবিস্তৃত সরষে ক্ষেত। আঁকাবাঁকা পিচঢালা সড়ক আমাদের নিয়ে গেল ছোট্ট একটি গ্রামে। গ্রাম ঘেঁষে বয়ে গেছে পুনর্ভবা নদী। নদীর কারণে বিশেষ আকৃতি পাওয়া এই গ্রামের নাম বাবুরঘোন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার নিভৃত একটি গ্রাম। ২৬ ডিসেম্বর, সকাল পৌনে ১০টা। সূর্যের দেখা মেলেনি তখনও। আমরা গিয়ে থামলাম গ্রামের মসজিদের পাশের একটি বাড়ির সামনে। বাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসছে গ্রামীণ গীতের সুর। সমবেত কণ্ঠের ওই সুর সুমধুরও বটে। ভেতরে যেতেই দেখলাম, একটি মাটির উনুনকে ঘিরে বসে আছে শিশু-কিশোরী-তরুণী থেকে মধ্য বয়সীরাও। সাজেও ষোলআনা বাঙালিআনা। লাল পেড়ে হলুদ শাড়ি। খোঁপায় ফুল। কেউবা নাকে নথ পরেছেন। কারও সিঁথিতে ঝুলছে মানটিপ। কম বয়সী সবার মাথায়ই কমলা রঙের কাগজের ফুলের মালা।
কিছুক্ষণ পরই দল বেঁধে তারা বেরিয়ে গেলেন ঘাটে পানি আনতে। সেখানে গাইলেন 'জল আনার গীত'। ফিরে এসে ঢেঁকিতে ধান ভানলেন। সেখানে 'ধান কুটার গীত'। গীত গাইলেন যাঁতায় আটা পেষার সময়ও। এরপর আবারও উনুন ঘিরে গোল হয়ে বসলেন পিঠা তৈরি করতে। আবারও গীত। একেক স্থানে একেক ধরনের গীত।
গ্রামের নারীরাই রচনা করেছেন এসব গীত। কিন্তু কোন সময়ে তা কেউ জানে না। মুখে মুখে চলে আসছে এসব। লিখিতও নেই কারও কাছে। শুধু এতটুকু জেনেছেন, ওই সময়ের নারীরা কাজকে উপভোগ্য করে তুলতে গীত গাইতেন। জা, ননদ বা প্রতিবেশীদের নিয়ে একসঙ্গে গাইতেন। এসব গীতে ফুটে উঠেছে গ্রামের বধূর ভালোলাগা, ভালোবাসা, আবেগ-অনুভূতি, আবার যন্ত্রণা-কষ্ট_ সবকিছুই। আগে বিয়েসহ যে কোনো উৎসবে গাওয়া হতো এসব গীত। কিন্তু এখন সেটা আর হয় না। আয়োজক তরুণী জানালেন, একটি একটি করে তারা ৬৯টি গীত সংগ্রহ করেছেন। নিয়মিত চর্চাও করেন এগুলোর। উৎসবের এই দিনে যতগুলো গাওয়া যায়, গাইবেন। এটি মূলত নবান্ন উৎসব। কৃষিনির্ভর এই গ্রামে ধান কাটা-মাড়াই শেষ। বাড়িতে বাড়িতে গোলাভর্তি ধান। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান তুলেই এই আয়োজন। তিন বছর ধরে নিয়মিতই হচ্ছে।
গীতে মগ্ন আমরা। আয়োজকদের একজন সামনের টেবিলে রাখলেন পিঠা-পুলি। ভাপা পিঠা, তিল পিঠা, আন্ধাসা, ক্ষীর। ছয় ধরনের পিঠা বানানো হয়েছে। পুুলি আছে দুই ধরনের। একটু একটু করে সবই খেলাম। যে স্বাদ পেয়েছি, মনে থাকবে অনেক দিন।
আয়োজনের সমন্বয় করেন গ্রামের দুই বোন মমতাজ ও শামীমা। দু'জনেই শিক্ষিকা। গ্রামের গোঁড়ামি কাটিয়ে তারাই তিন বছর ধরে নিয়মিত আয়োজন করছেন এই উৎসবের। এবারও অনেক পরিবার থেকে ধান দেওয়া হয়নি। আসতে দেওয়া হয়নি ছেলেমেয়েদের। একটি গোষ্ঠী গ্রামের প্রচার দিয়েছে_ ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে নাচ-গান করলে মেয়েদের বিয়ে হবে না। আরও কত কী বলেছে! কিন্তু যারা এসেছে তাদের নিয়েই এই আয়োজন।
'আমার কাছে এটা একটা সংগ্রাম। গীত রক্ষার সংগ্রাম। সংস্কৃতি-ঐতিহ্য রক্ষার সংগ্রাম।' বলছিলেন মমতাজ খাতুন। যারা আজও এর বিরোধিতা করছে এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার জন্য তারাই দায়ী। গ্রামের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি বিলুপ্তির জন্যই তারা সুকৌশলে এটা করেছে। কারণ সংস্কৃতিই একটি জাতির রক্ষাকবচ। কে, কী ভাবল বা কে কীভাবে সমর্থন দিল-দিল না এতে আমাদের কিছুই যায়-আসে না। সংগ্রাম চালিয়ে যাব, আমার মেয়েদের নিয়ে। মমতাজের বলা অনেক কথার সারমর্ম এটাই। তবে শেষে তিনি এভাবেই বললেন, 'আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছি, তা ছড়িয়ে পড়ুক আবহমান বাংলার গ্রামে গ্রামে। তবেই মৌলবাদ আগ্রাসন বন্ধ হবে বাংলাদেশে।'
সময়ের কাঁটা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে ধাবিত হচ্ছে। আজকের মতো থামবে সমবেত কণ্ঠ, সুর। কিন্তু সংগ্রাম থামবে না। মমতাজ-শামীমার সংগ্রাম চলছে, চলবে। ঐতিহ্যের ধারক এই সংস্কৃতি বেঁচে থাকবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

দিনাজপুর সিরাজগঞ্জ রংপুর ও লালমোহনে খুন ৫

দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, রংপুর ও ভোলার লালমোহনে ৫ ব্যক্তি খুন হয়েছেন। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মাদারীপুরে দু'জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
দিনাজপুর :জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায় ঝগড়া থামাতে গিয়ে চাচাতো ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে একজন নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে। সোমবার বিকেলে সোবহান আলীর দুই পুত্রবধূর মধ্যে ঝগড়া বাধে। একপর্যায়ে ওই ঝগড়ায় সোবহান আলীর দুই ছেলে আবদুল মোমিন ও নূর আলমও জড়িয়ে যায়। তাদের ঝগড়া থামাতে সোবহান আলীর বড় ভাই সায়মত আলীর ছেলে আবুল হোসেন এগিয়ে গেলে মোমিন ছুরি দিয়ে আবুলের বুকে কোপ দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সিরাজগঞ্জ :জেলায় পৃথক ঘটনায় দু'জন খুন হয়েছেন। একটি খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ দু'জনকে আটক করেছে। রোববার সকালে পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শহরের রেলওয়ে কলোনির বটতলা এলাকায় মুদি দোকানদার মহির উদ্দিন এলাকার যুবক গোলাম হোসেনকে মারধর করে। এ ঘটনার জেরে রাত ৯টার দিকে কয়েক যুবক মহির উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি সেখানে মারা যান। এরপর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিরপুর রেলওয়ে কলোনির এরশাদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল ও আনছার আলীর ছেলে গোলাম হোসেনকে আটক করে। নিহত মহির উদ্দিন একই এলাকার হারান সেখের ছেলে।
অন্যদিকে কাজীপুর উপজেলার পাঁচগাছি গ্রামের আবদুল ওয়াহাবের ছেলে ও সোনামুখী সিনিয়র মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র শাকিলকে রোববার রাতে দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যা করে। সোমবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
রংপুর :নগরীর মাহিগঞ্জে সোমবার সকালে ফজলুল হক নামে এক ট্রাকচালকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। নগরীর মাহিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওয়ালিউর রহমান জানান, মাহিগঞ্জ কলেজ রোড এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে গাড়িচালক ফজলুল হক স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়েসহ থাকতেন। রোববার রাতে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর থেকে নিহত ফজলুল হকের স্ত্রী, বড় ছেলে ও পুত্রবধূ পলাতক রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের এক মেয়ে ও এক ছেলেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে তার মা, ভাই ও ভাবি জড়িত।
ভোলা/লালমোহন :জেলার লালমোহনে জোসনা বেগম নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে পাষণ্ড স্বামী। রোববার রাতে উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মহেষখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক স্বামী ইউসুফ আলীকে লালমোহন থানা পুলিশ আটক করেছে। সে ওই গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে। সাত বছর আগে ইউসুফ আলীর সঙ্গে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের জোসনা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। এ ব্যাপারে লালমোহন থানায় মামলা করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ :সদর উপজেলার আকুন্দবাড়িয়া এলাকায় মহানন্দা নদী থেকে সোমবার দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সদর থানার এসআই লুৎফর রহমান বলেন, ওই যুবক কোথায়, কীভাবে মারা গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই যুবকের শরীরে নেভি ব্লু রঙের চেকশার্ট ও খাকি রঙের হাফ সোয়েটার ছিল।
মাদারীপুর :সদর উপজেলার বিসিক সংলগ্ন এলাকার কুমার নদ থেকে সোমবার সকালে বাদল বেপারী নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তার বাড়ি সদর উপজেলার পূর্বরাস্তি গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আলফাতুন বেপারীর পালকপুত্র। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মাদারীপুর সদর থানার ওসি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনেছি বাদল বেপারী মৃগী রোগী ছিলেন। তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা আমরা তদন্ত করে বের করার চেষ্টা করছি।

নির্বাচিত হলেন যারা

(১৪৭ আসন) দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রোববার যে ১৪৭টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে তারমধ্যে আওয়ামী লীগ একাই পেয়েছে ১০৪টি আসন। এ ছাড়াও স্থগিত হওয়া ৮টি আসনের মধ্যে বেশিরভাগ আসনেই নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। এসব আসনের স্থগিত কেন্দ্রে আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। স্থগিত আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে কুড়িগ্রাম-৪, দিনাজপুর-৪, গাইবান্ধা-১, গাইবান্ধা-৩, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৭, যশোর-৫ ও লক্ষ্মীপুর-১। ইসি সচিবালয়ের হিসাব অনুযায়ী ১৩৯ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের শতকরা হার ৩৯ দশমিক ৮১ ভাগ। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ভোট গ্রহণের চূড়ান্ত হার জানতে আরও দু'একদিন অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়াও ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও তরীকত ফেডারেশন একটি করে আসন পেয়েছে। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১৪টি আসন। নিজ দলের হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টি পেয়েছে ২টি ও মশাল প্রতীক নিয়ে জাসদ পেয়েছে আরও একটি আসন। নবগঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএনএফ) টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে পেয়েছে একটি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ১৪টি আসনে।
এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ১৫৩ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১২৭, জাতীয় পার্টি ২০, জাসদ ৩, ওয়ার্কার্স পার্টি ২ ও জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি আসন লাভ করেছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকা :পঞ্চগড়-১ নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (মশাল)। পঞ্চগড়-২ মো. নুরুল ইসলাম সুজন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঠাকুরগাঁও-১ রমেশ চন্দ্র সেন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঠাকুরগাঁও-৩ মো. ইয়াসিন আলী, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি)। দিনাজপুর-১ মনোরঞ্জন শীল গোপাল, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। দিনাজপুর-৩ ইকবালুর রহিম, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। দিনাজপুর-৫ মোস্তাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। দিনাজপুর-৬ মো. শিবলী সাদিক, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নীলফামারী-১ মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নীলফামারী-৩ গোলাম মোস্তফা, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। লালমনিরহাট-১ মো. মোতাহার হোসেন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। লালমনিরহাট-৩ আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ দুলাল, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। রংপুর-৩ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। রংপুর-৪ টিপু মুনশি, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। রংপুর-৬ শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। কুড়িগ্রাম-১ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। কুড়িগ্রাম-৪ মো. জাকির হোসেন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। গাইবান্ধা-২ মোছা. মাহাবুব আরা বেগম গিনি, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। বগুড়া-৪ একেএম রেজাউল করিম তানসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নওগাঁ-৩ মো. ছলিম উদ্দীন তরফদার, স্বতন্ত্র (কলস)। নওগাঁ-৪ মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রাং, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নওগাঁ-৫ মো. আবদুল মালেক, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। রাজশাহী-৩ মো. আয়েন উদ্দিন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। রাজশাহী-৬ মো. শাহরিয়ার আলম, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নাটোর-৩ জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। সিরাজগঞ্জ-৫ আ. মজিদ মণ্ডল, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। পাবনা-১ মো. শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। পাবনা-৩ মো. মকবুল হোসেন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। মেহেরপুর-১ ফরহাদ হোসেন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। মেহেরপুর-২, মো. মকবুল হোসেন, স্বতন্ত্র (ফুটবল)। কুষ্টিয়া-১, মো. রেজাউল হক চৌধুরী, স্বতন্ত্র (আনারস)। কুষ্টিয়া-৩ মো. মাহবুবউল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। কুষ্টিয়া-৪ আবদুর রউফ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। চুয়াডাঙ্গা-১ সোলায়মান হক জোয়ার্দার (ছেলুন), আওয়ামী লীগ (নৌকা)।
চুয়াডাঙ্গা-২ মো. আলী আজগর, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঝিনাইদহ-১ মো. আবদুল হাই, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঝিনাইদহ-২ তাহজীব আলম সিদ্দিকী, স্বতন্ত্র (আনারস)। ঝিনাইদহ-৩ মো. নবী নেওয়াজ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঝিনাইদহ-৪ মো. আনোয়ারুল আজিম (আনার), আওয়ামী লীগ (নৌকা)। যশোর-২ মো. মনিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। যশোর-৪, রণজিত কুমার রায়, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। যশোর-৬ ইসমাত আরা সাদেক, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। মাগুরা-১ মোহাম্মদ সিরাজুল আকবর, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। মাগুরা-২ বীরেন শিকদার, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নড়াইল-২ শেখ হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (নৌকা)। বাগেরহাট-৪ মো. মোজাম্মেল হোসেন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। খুলনা-১ পঞ্চানন বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। খুলনা-২ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। খুলনা-৩ বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। সাতক্ষীরা-১, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (নৌকা)। সাতক্ষীরা-২, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। বরগুনা-১ ধীরেন্দ্র দেবনাথ সম্ভু, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। বরগুনা-২ শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), আওয়ামী লীগ (নৌকা)। পটুয়াখালী-১ এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। পটুয়াখালী-৩ আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ভোলা-২ আলী আজম, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ভোলা-৩ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। বরিশাল-২ তালুকদার মো. ইউনুস, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। বরিশাল-৩ টিপু সুলতান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি)। বরিশাল-৪ পংকজ দেবনাথ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঝালকাঠি-১ বজলুল হক হারুন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। পিরোজপুর-৩ মো. রুস্তম আলী ফরাজী, স্বতন্ত্র (আনারস)। টাঙ্গাইল-২ খন্দকার আসাদুজ্জামান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। টাঙ্গাইল-৫ মো. ছানোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। টাঙ্গাইল-৬ খন্দকার আবদুল বাতেন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। জামালপুর-১ আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। জামালপুর-২ মো. ফরিদুল হক খান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। জামালপুর-৪ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। জামালপুর-৫ মো. রেজাউল করিম হীরা, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। শেরপুর-১ মো. আতিউর রহমান আতিক, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। শেরপুর-২ মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। শেরপুর-৩ একেএম ফজলুল হক, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ময়মনসিংহ-৩ মজিবুর রহমান ফকির, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ময়মনসিংহ-৬ মো. মোসলেম উদ্দিন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ময়মনসিংহ-৭ এমএ হান্নান, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। ময়মনসিংহ-১০ ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ময়মনসিংহ-১১ মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নেত্রকোনা-১, ছবি বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নেত্রকোনা-২, আরিফ খান জয়, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নেত্রকোনা-৩ ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। কিশোরগঞ্জ-৩ মো. মুজিবুল হক, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। মানিকগঞ্জ-১ এএম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। মুন্সীগঞ্জ-১ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। মুন্সীগঞ্জ-২ সাগুফতা ইয়াসমিন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঢাকা-১ সালমা ইসলাম, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। ঢাকা-৪ সৈয়দ আবু হোসেন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। ঢাকা-৫ হাবিবুর রহমান মোল্লা, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঢাকা-৬ কাজী ফিরোজ রশীদ, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। ঢাকা-৭ হাজী মোহাম্মদ সেলিম, স্বতন্ত্র (হাতি)। ঢাকা-১৫ কামাল আহমেদ মজুমদার, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঢাকা-১৬ মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ঢাকা-১৭ এসএম আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) (টেলিভিশন)। ঢাকা-১৮ সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগ, (নৌকা)। গাজীপুর-৪ সিমিন হোসেন (রিমি), আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নরসিংদী-১ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। নরসিংদী-২ কামরুল আশরাফ খান, স্বতন্ত্র, (দোয়াত-কলম)। নরসিংদী-৩ মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, স্বতন্ত্র (হাঁস)। নারায়ণগঞ্জ-১ গোলাম দস্তগীর গাজী, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ফরিদপুর-৪ মজিবুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র (আনারস)। গোপালগঞ্জ-১ মুহাম্মদ ফারুক খান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। গোপালগঞ্জ-২ শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। গোপালগঞ্জ-৩ শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। সুনামগঞ্জ-১ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। সুনামগঞ্জ-৩ এমএ মান্নান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। সুনামগঞ্জ-৫ মুহিবুর রহমান মানিক, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। সিলেট-২ মো. ইয়াহিয়া চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। সিলেট-৪ ইমরান আহমদ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। মৌলভীবাজার-১ মো. শাহাবউদ্দিন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। মৌলভীবাজার-২ মো. আবদুল মতিন, স্বতন্ত্র (আনারস)। হবিগঞ্জ-২ মো. আবদুল মজিদ খান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। হবিগঞ্জ-৩ মো. আবু জাহির, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। হবিগঞ্জ-৪ মো. মাহবুব আলী, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হক মৃধা, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ ফয়জুর রহমান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। কুমিল্লা-১ মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। কুমিল্লা-৩ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, স্বতন্ত্র (আনারস)। কুমিল্লা-৪ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, স্বতন্ত্র (হাতি)। কুমিল্লা-৫ আবদুল মতিন খসরু, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। কুমিল্লা-৬ আ. ক. ম বাহাউদ্দীন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। কুমিল্লা-৮ নূরুল ইসলাম মিলন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। কুমিল্লা-৯ মো. তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। ফেনী-৩ রহিম উল্লাহ, স্বতন্ত্র (হরিণ)। নোয়াখালী-৬ আয়েশা ফেরদাউস, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। লক্ষ্মীপুর-৪ মো. আবদুল্লাহ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। চট্টগ্রাম-২ সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, তরীকত ফেডারেশন (নৌকা)। চট্টগ্রাম-৩ মাহফুজুর রহমান, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। চট্টগ্রাম-৪ দিদারুল আলম, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। চট্টগ্রাম-৯, জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)। চট্টগ্রাম-১১ এম. আবদুল লতিফ, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। চট্টগ্রাম-১২ সামশুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। চট্টগ্রাম-১৩ সাইফুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। চট্টগ্রাম-১৫ আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। চট্টগ্রাম-১৬ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। কক্সবাজার-৪ আবদুর রহমান বদি, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। পার্বত্য খাগড়াছড়ি কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা, আওয়ামী লীগ (নৌকা)। পার্বত্য রাঙামাটি উষাতন তালুকদার, স্বতন্ত্র (হাতি)। পার্বত্য বান্দরবান বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, আওয়ামী লীগ (নৌকা)।

ভাংচুর অগি্নসংযোগ গ্রেফতার ২০

নির্বাচনের ফল বাতিল ও ১৮ দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল সোমবারও হরতাল-অবরোধ পালিত হয়েছে। হরতাল উপলক্ষে বেশ কিছু স্থানে যানবাহন ভাংচুর, অগি্নসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হরতালে নাশকতার আশঙ্কায় গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েকজনকে। অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
জয়পুরহাট :জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত-শিবিরের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জলঢাকা (নীলফামারী) :জালেক নামে এক শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) :পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও গলাচিপা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মু. শাহ আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বরগুনা :জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এজেডএম সালেহ ফারুক ও বিএনপিকর্মী খানজাহান আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :পুলিশ অভিযান চালিয়ে আড়াইবাড়ী গ্রামের শিবিরকর্মী শরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে কামালপুর গ্রাম থেকে সোহাগ সরকারকে গ্রেফতার করা হয়।
ডোমার (নীলফামারী) :ডোমারে বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে। মাদ্রাসার মোড়ে একাধিক মোটরসাইকেল ভাংচুর, পিকেটিং করার সময় উপজেলার ধরনীগঞ্জ বাজার থেকে শাহিনুর আলমকে পুলিশ আটক করে।
উখিয়া (কক্সবাজার) : উখিয়ায় জালিয়াপালং ইউনিয়নের পাইন্যাশিয়া গ্রামের অছিউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ রফিককে আটক করেছে পুলিশ।
সিলেট :সিলেটে শিবিরকর্মীসহ ১০ জনকে আটক করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। সোমবার ভোরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসএমপির ৬ থানা পুলিশ তাদের আটক করে। এর মধ্যে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ৩, জালালাবাদ, দক্ষিণ সুরমা ৪, শাহপরাণ ও এয়ারপোর্ট ২ ও মোগলাবাজার থানা ১ জন।
মাগুরা :মাগুরায় ঢাকারোড বাসস্ট্যান্ড, ভায়না মোড় এবং চৌরঙ্গী মোড়ে ১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। তাছাড়া শহরের ভায়না মোড়ে ১৫টি যাত্রীবাহী পরিবহনে ভাংচুর ও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে ৬-৭ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
বাগেরহাট :বাগেরহাট মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস ভাংচুর করা হয়। পরে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা খানজাহান আলী দরগাহ মোড়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে।
জয়পুরহাট :জয়পুরহাট শহরের আমতলীতে একটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেয় হরতালকারীরা। তাছাড়া ৩টি দোকান ও ১৭টি রিকশা ভাংচুর করে তারা। পাঁচবিবিতে একটি কাপড়ের দোকান এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ৪টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) :উপজেলার কাঁঠালতলীতে ১টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে হরতাল সমর্থকরা।
গাইবান্ধা :উপজেলার মীরগঞ্জ বাজারের আশপাশের এলাকা থেকে হরতাল সমর্থকরা তীর-ধনুক, বর্শা ও লাঠিসোটাসহ বাজারের দোকানপাট বন্ধ করতে এলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ অর্ধশতাধিক গুলি ও ৫ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়ে হরতাল সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের গুলিতে ৭ হরতাল সমর্থক আহত হয়।
রংপুর :ককটেল বিস্ফোরণ ও বিক্ষোভ সমাবেশের মধ্য দিয়ে রংপুরে হরতালের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। পায়রা চত্বরে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মোজাফফর হোসেন, শহিদুল ইসলাম মিজু, জহির আলম নয়ন, শাহীন হোসেন জাকির প্রমুখ।
গৌরনদী (বরিশাল) :উপজেলার কাছেমাবাদ এলাকায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ওপর একাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
জিয়ানগর (পিরোজপুর) :উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে। উপজেলার কালাইয়া, সাঈদখালী, বালিপাড়া ও চণ্ডীপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্টেম্ফারণ ঘটায় হরতাল সমর্থকরা।
সাতক্ষীরা :সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় আবদুস সাদের নামের এক আওয়ামী লীগকর্মীকে পিটিয়ে জখম করেছে জামায়াত-শিবির।
সেনবাগ (নোয়াখালী) :নোয়াখালীর সেনবাগের ছমিরমুন্সিরহাট বাজারে একটি ট্রাক ভাংচুর করে হেলপারকে পিটিয়ে জখম করা হয়। উপজেলার ভূঞারদীঘি বাজারে গভীর রাতে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্টেম্ফারণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।
ঈশ্বরদী :ঈশ্বরদীতে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা।

রাষ্ট্রীয় টিভিতে গাইবেন চীনের সেই রক তারকা

চুই জিয়ান
চীনে অনেক দিন বড় পরিসরে গান করা তাঁর নিষিদ্ধ ছিল। কারণ, আশির দশকে গণতন্ত্রকামী মানুষের মুখে তাঁর গান শোনা যেত। গণতন্ত্রপন্থীদের অনুপ্রেরণা দিতে তিনি ওই গান গেয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল। সেই রক তারকা চুই জিয়ান এবার বড় আসরে সংগীত পরিবেশনের সুযোগ পাচ্ছেন। তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি। চুইয়ের ব্যবস্থাপক ইউ ইউ গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। বার্ষিক বসন্তকালীন বড় উৎসব সম্প্রচার করবে সিসিটিভি।
ওই অনুষ্ঠানেই গান গাইবেন একসময়ের লাখো গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রিয় তারকা চুই। ব্যবস্থাপক ইউ ইউ বলেন, ‘আমরা এখন সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ চুইয়ের গাওয়া গান আশির দশকে প্রথম রেকর্ড করা শুরু হয়। তাঁর গাওয়া ‘নাথিং টু মাই নেম’ গানটি ১৯৮৯ সালে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে ছাত্রবিক্ষোভের সময় সবার মুখে মুখে শোনা যেত। স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ছিলেন চুই। কর্তৃপক্ষ কঠোর হাতে ওই বিক্ষোভ দমন করে। তখন চীনা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সহস্রাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছিল। তখন বড় পরিসরে চুইয়ের সংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে গত কয়েক বছরে সেই নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে শুরু করে। দেশে বিভিন্ন গানের উৎসবে দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন চুই।
তবে অধিকাংশ তরুণ রক্তঝরা সেই দিনের কথা ভুলে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। চুই বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি অধিকার ও বাকস্বাধীনতা দেখতে চাই। কিন্তু বিষয়টি বিরক্তিকর। কারণ, অনেকে মনে করেন, এ নিয়ে কথা বলা বিপজ্জনক।’ নতুন বছরের উৎসবে সাধারণত দেশের গান, কৌতুক ও ঐতিহ্যবাহী নাচ পরিবেশন করা হয়। কমিউনিস্ট পার্টির স্লোগান দেওয়া হয়। খ্যাতিমান রাজনীতিবিদদের কীর্তি তুলে ধরা হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্ত্রী পেং লিউয়ান গালা উৎসবে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারা বিশ্বে অন্তত ১০০ কোটি দর্শক ২০১২ সালের গালা উৎসব উপভোগ করেছিলেন। এএফপি।

ফালুজা থেকে ‘সন্ত্রাসীদের’ বিতাড়িত করুন: মালিকি

নুরি আল-মালিকি
ইরাকের ফালুজা শহর থেকে ‘সন্ত্রাসীদের’ বিতাড়িত করতে গতকাল সোমবার বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি। আরেক শহর রামাদিতে বিমান হামলায় সন্দেহভাজন ২৫ জঙ্গির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরাকের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, মালিকি ফালুজার জনগণ ও উপজাতি গোষ্ঠীগুলোর উদ্দেশে বলেছেন, ওই এলাকায় সেনা হামলার ভয়াবহতা এড়াতেই তাদের নিজ উদ্যোগে ‘সন্ত্রাসীদের’ বিতাড়িত করতে হবে। তিনি আবাসিক এলাকায় হামলা না করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর ফালুজায় মার্কির সেনাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার জঙ্গিদের লড়াই হয়। মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়ার পর চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রকাশ্যে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভান্টের (আইএসআইএস) জঙ্গিরা। পাশাপাশি আনবার প্রদেশের রাজধানী রামাদি শহরের কিছু এলাকাও জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গতকাল খুব সকালে রামাদি শহরের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ এলাকায় লড়াই হয়। অন্যদিকে একজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা গত রোববার জানান, ফালুজায় বড় ধরনের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাকি বাহিনী।
গত তিন দিনের লড়াইয়ে আনবার প্রদেশে ২০০ জনের বেশি লোকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। কয়েক বছরের মধ্যে প্রদেশটিতে এটাই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা। বিমান হামলায় ২৫ জঙ্গি নিহত: স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানান, রোববার সরকারি বাহিনী রামাদি শহরে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা শুরু করেছে। এতে সন্দেহভাজন অন্তত ২৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।সরকারি কর্মকর্তারা আনবার প্রদেশের উপজাতি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তাঁরা আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জঙ্গিদের উৎখাত করতে উপজাতি নেতাদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। তবে ফালুজা শহরে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উপজাতিরা জঙ্গিদের পক্ষ নেওয়ায় পরিস্থিতি বেশি প্রতিকূল হয়ে পড়েছে। ইরানের সহায়তার প্রস্তাব: ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা জানান, তেহরান আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিবেশী ইরাককে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। সেনাকর্মকর্তা মোহাম্মদ হেজাজি বলেন, বাগদাদ চাইলে তেহরান সামরিক সরঞ্জাম ও উপদেষ্টা পাঠাতে পারে। তবে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেন তিনি। এএফপি, রয়টার্স ও এপি।

খালি হাতে ফিরতে হলো কেরিকে

জন কেরি
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য একটি কাঠামো দাঁড় করানোর প্রাণান্ত চেষ্টায় গত চার দিন নিবিড়ভাবে দৌড়ঝাঁপ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তবে দৃশ্যমান কোনো সাফল্য ছাড়াই গতকাল সোমবার তিনি স্বদেশের উদ্দেশে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছেন। অবশ্য, মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের আগে বলেছেন, ব্যর্থতা সত্ত্বেও কিছু অগ্রগতি হয়েছে।
টানা চার দিনের এই সফরে কেরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলাদা বৈঠক করেন। পাশাপাশি অপ্রত্যাশিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মিত্র দেশ জর্ডান ও সৌদি আরব সফর করেন। সোমবার সকালে মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে জেরুজালেমে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন। এই ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এক বছর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এই অঞ্চলে কেরি তাঁর ১০ দিনের সফর শেষ করেন। এর আগে তিনি ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা আইজ্যাক হেরজোগের সঙ্গে বৈঠক করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা কেরির এই প্রচেষ্টার ব্যাপারে শুরু থেকেই অনেকটা গোপনীয়তা রক্ষা করে চলছেন। তবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমানোর জন্য কেরির প্রস্তাবনার ব্যাপারে তাঁরা সামান্য কিছু খবর প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র মূলত দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে। তবে এবারের আলোচনায় পশ্চিম তীর ও জর্ডানের মধ্যে সীমান্ত এলাকা জর্ডান উপত্যকার নিরাপত্তার পাশাপাশি জেরুজালেমের ভাগ্য নিয়েই বেশি আলোকপাত করা হয়েছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছে।  জেরুজালেমকে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয়ই তাদের ভবিষ্যৎ রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন কোনো চুক্তি হলে, সে ক্ষেত্রে জর্ডান ও সৌদি আরবের ভূমিকাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
পশ্চিম তীরের সঙ্গে জর্ডানের সীমানা থাকার পাশাপাশি দেশটি ইসরায়েল দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমে মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর অভিভাবকও। ১৯৯৪ সালের ইসরায়েল-জর্ডান শান্তিচুক্তি অনুযায়ী তাদের এই কর্তৃত্ব স্বীকৃত। আর সৌদি আরব ২০০২ সালে একটি শান্তি পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দেয়। কোনো ধরনের বসতি নির্মাণের ক্ষেত্রে এটিই আরবদের আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তি। কেরি রোববার রাতে সৌদি বাদশা আবদুল্লাহর সঙ্গে তাঁর বাসভবনে বৈঠকের পর বলেন, তিনি প্রভাবশালী আরব নেতাদের সমর্থন লাভ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাদশা কেবল উৎসাহীই ছিলেন না, তিনি আমাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন, আমরা সামনের দিনগুলোতে সফল হবো... এবং আমরা সফল হলে তা এই অঞ্চলের সবার জন্য বিরাট উপকার হবে।’ সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সউদ আল-ফয়সালও স্বীকার করেছেন, সেটা ছিল একটি ‘চমৎকার বৈঠক’। গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া কেরি মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়াকে নিজের ব্যক্তিগত আগ্রহ হিসেবে নিয়েছেন। এই সফরে তিনি ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরে যেসব আলোচনা করেছেন, তা জানাতে চলতি সপ্তাহেই তিনি আরব লিগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে কেরি জোর প্রচেষ্টা চালালেও এবারের সফরটি ছিল অনেকটা তিক্তকর। বিশেষ করে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় দেশের নেতারাই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলেন, প্রতিপক্ষ শান্তির অন্বেষায় আন্তরিক নয়। পাশাপাশি কেরিকে উভয় পক্ষের কাছ থেকে এই অভিযোগও শুনতে হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অন্য পক্ষের জন্য অনুকূল নয়। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার যে উদ্দেশ্য নিয়ে কেরি মধ্যপ্রাচ্য সফরে এসেছিলেন, তা অধরাই থেকে গেছে। অবশ্য, মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই বলেছিলেন, এ সফরে যুগান্তকারী অর্জন আসবে, এমনটি ভাবা ঠিক হবে না। এএফপি।

শীতাতপব্যবস্থা, টিভি সোফা গণশৌচাগারে!

শীতাতপব্যবস্থা, টিভি সোফা গণশৌচাগারে
মুম্বাইয়ের মতো মহানগরে যখন স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের (টয়লেট) অভাব প্রকট, তখন সেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গণশৌচাগার স্থাপনের বিষয়টি নিতান্তই অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা বলে মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু সে রকমই ঘটেছে এবার। বাড়তি সুবিধা হিসেবে সেই পাবলিক টয়লেটে রাখা হয়েছে ‘অপেক্ষার জন্য নির্ধারিত’ কক্ষ। আর সেখানে থাকছে একটি অত্যাধুনিক এলসিডি টেলিভিশন ও আরামদায়ক আসন (সোফা)। রাজনৈতিক দল মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) সাংসদ প্রবীণ দারেকারের উদ্যোগে ওই বিশেষ টয়লেট স্থাপন করা হয়। দলটির প্রধান রাজ ঠাকরে গত শনিবার এটি উদ্বোধন করেন। সমাজকর্মীরা ওই পাবলিক টয়লেটে আড়াই লাখ রুপি দামের সোফা এবং অন্তত দুই লাখ রুপি মূল্যের ৪২ ইঞ্চি এলসিডি টেলিভিশন রাখার বিষয়টিকে ‘অনর্থক’ আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে। তিন হাজার বর্গফুটের ওই টয়লেটে নারী-পুরুষদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে। এ ছাড়া থাকছে গোসল ও পোশাক পরিবর্তনের জন্য নির্ধারিত ঘর। সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে দুজন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন দুই প্রহরী।
দারেকার বলেন, প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চাইলেও অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিরত থাকেন নারীরা। কিন্তু এই টয়লেটে নিরাপত্তা জোরদার থাকায় তাঁরা নিরাপদ বোধ করবেন। অভিনব টয়লেটটি নির্মাণে প্রায় চার মাস সময় লাগলেও যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতায় লেগেছে আরও প্রায় ছয় মাস। দারেকারের তহবিল থেকে নির্মাণব্যয় পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সোফা সেট ও টেলিভিশনটি জনগণেরই দান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরও বলেন, মুম্বাইয়ে প্রতিদিন অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী দিনের কাজ সেরে ফিরে যান। নিজেকে ফ্রেশ করতে কোনো হোটেলে কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সাধ্য তাঁদের নেই। নতুন পাবলিক টয়লেটটি তাঁদের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে। এতে বিনা মূল্যে প্রস্রাবখানা ব্যবহার করা গেলেও শৌচাগার বা পোশাক পরিবর্তনের ঘর ব্যবহার করতে চাইলে প্রতিবার পাঁচ রুপি করে গুনতে হবে। সমালোচকেরা অবশ্য বলছেন, এত বিলাসবহুল ব্যবস্থা না রাখলেও চলত। দামি সোফা ও টেলিভিশনের পরিবর্তে আরও বেশি মানুষের স্থান সংকুলান করার সুযোগ ছিল। এনডিটিভি।

যুক্তরাষ্ট্রে বিপজ্জনক শীত, ঘরে থাকার পরামর্শ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখ লাখ মানুষ তীব্র শীত মোকাবিলার শেষ প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত। মেরু আবর্তের প্রভাবে ওই দেশে তাপমাত্রা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কানাডার কয়েকটি অঞ্চল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলতি বছরের শুরু থেকেই শূন্যের নিচে তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এসব এলাকায় ইতিমধ্যে বড় ধরনের তুষারপাত ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে দুই ফুট পুরু তুষারের স্তর পড়েছে। এই দুর্যোগে গত বুধবার থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া বাতিল করা হয়েছে উড়োজাহাজের অন্তত তিন হাজার ৭০০টি ফ্লাইট। বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর স্থানীয় লোকজনকে খাবারের মজুদসহ ঘরের ভেতরে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলীয় টেনেসি ও অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যও হুমকির মুখে পড়েছে। মিনেসোটা ও নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যেও স্মরণকালের সবচেয়ে খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। ‘বিপজ্জনক’ ঠান্ডা থেকে মিনেসোটার শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সব বিদ্যালয় গতকাল সোমবার বন্ধ ঘোষণা করেন গভর্নর মার্ক ডেটন। এবারের ব্যতিক্রমী তীব্র ঠান্ডার কারণ হিসেবে সুমেরু অঞ্চল থেকে প্রবাহিত বিশেষ ধরনের আবর্তকে দায়ী করা হচ্ছে।
ঘড়ির কাঁটার বিপরীতমুখী ওই শৈত্যপ্রবাহ এবং বাতাসের সমন্বয়ে তৈরি আবর্তটির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ সূত্র জানায়, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চল দিয়ে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ওহাইও, সাউথ ডাকোটা ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে ওই প্রবল শীত জেঁকে বসবে। এ ছাড়া টেনেসি ও কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যেও কয়েক ইঞ্চি পুরু তুষার পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের অনাবৃত ত্বক তুষারের সংস্পর্শে পাঁচ মিনিটেই আক্রান্ত হতে পারে। এবারের শৈত্যপ্রবাহ মানুষের ‘জীবনের জন্য হুমকি’। এদিকে, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে গত রোববার একটি উড়োজাহাজ অবতরণের পর তুষারে পিছলে পার্শ্ববর্তী সড়কে চলে যায়। এ ঘটনায় কেউ আহত না হলেও সেখানকার সব ফ্লাইট দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চল, নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তুষারপাত অব্যাহত রয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যভাগ পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রিক স্নাইডার জনসাধারণকে রাস্তায় বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন। এএফপি।

ফালুজার নিয়ন্ত্রণ হারাল সরকার

ইরাকের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ফালুজার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে দেশটির সরকার। সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এ কথা বলেছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জঙ্গিরা কয়েক দিন ধরে ফালুজা ও রামাদি শহরের নিয়ন্ত্রণ দখলের জন্য লড়াই করছে। এদিকে ইরাকে সামরিক অভিযানের পর দীর্ঘদিন সেনা মোতায়েন রাখা যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে, তারা এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকি সরকারের পক্ষে থাকবে। তবে নিজেরা আর সেনা পাঠাবে না। একটি নিরাপত্তা সূত্র বিবিসিকে জানায়, আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ জঙ্গিরা বর্তমানে রাজধানী বাগদাদের পশ্চিমে অবস্থিত ফালুজা শহরের দক্ষিণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। আর একজন ইরাকি সাংবাদিক জানান, আল-কায়েদার সঙ্গে যৌথভাবে উপজাতীয় গোষ্ঠীর সদস্যরা শহরটির বাকি এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা গত শনিবার রাতে জানান, আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংগঠন ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লিভান্টের (আইএসআইএস) জঙ্গিদের ফালুজার রাস্তাগুলোতে দেখা গেছে। তারা ট্রাকে চড়ে রাস্তায় টহল দেয়। এসব ট্রাকে বিমানবিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্রও ছিল। সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, ফালুজার দখল নিতে সরকারি সেনারা গোলা নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। আনবার প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর প্রধান হাদি রাজেইজির উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়,
পুলিশ শহরটির কেন্দ্রস্থল থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে এসেছে। তারা এখন শহরের বাইরে অবস্থান নিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার জঙ্গিরা রামাদি ও ফালুজা শহরের ভবনগুলোতে কালো পতাকা ওড়ায় এবং মসজিদগুলোর মাইক ব্যবহার করে জনগণকে তাদের পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানায়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকজুড়ে সুন্নি জঙ্গিরা আক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শিয়া গোষ্ঠীগুলোও পাল্টা হামলা করে যাচ্ছে। ফলে দেশটিতে পুরোদমে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল রোববার জেরুজালেমে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইরাক সরকারের পাশে দাঁড়াব।... তবে এটা তাদের লড়াই। এটা আমরা আগেই উপলব্ধি করেছি।’ সিরিয়ায় হামলার মুখে আইএসআইএস: উত্তর সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ আইএসআইএস জঙ্গিরা স্থানীয় অন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এর ফলে তারা শহরটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এক অডিও বার্তায় আইএসএইএসের অজ্ঞাতনামা মুখপাত্র বলেন, অন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তাদের অনেক সদস্যকে হত্যা এবং আটক করেছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটা বন্ধ না হলে আইএসআইএস শহরটি সিরীয় সরকারের বাহিনীর হাতে ছেড়ে দেবে। এএফপি ও বিবিসি।

তাপমাত্রা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্নে নামতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মৌসুমের এ পর্যন্ত তীব্রতম শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের তাপমাত্রা রেকর্ড মাত্রার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার আশঙ্কায় লোকজনকে ঘরের ভেতরে অবস্থান ও খাবার মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুষারঝড়ের কারণে দুই ফুট পর্যন্ত বরফের আবরণ জমে গেছে। এ দুর্যোগে গত বুধবার থেকে এ পর্যন্ত ১৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া বিমানের অন্তত পাঁচ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। আবহাওয়া বিভাগ সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি (শূন্যেরও ৫০ ডিগ্রি নিচে) সেলসিয়াসে নামার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ অঞ্চলের মানুষকে নিজেদের নিরাপত্তা ও রাস্তার বরফ অপসারণের সুবিধার্থে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড দ্বীপের ১০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ভারী তুষারপাতের কারণে সেখানকার একটি শক্তিশালী ট্রান্সফর্মার বিকল হয়ে পড়েছে। মার্কিন জাতীয় আবহওয়া বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর মেরু অঞ্চল থেকে প্রবাহিত অতি শক্তিশালী শৈত্যপ্রবাহের কারণে ওহাইও,
সাউথ ডাকোটা, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যসহ আশপাশের এলাকায় গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ঠান্ডা পড়তে পারে। এ শৈত্যপ্রবাহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সম্প্রসারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা বব অরাভেক বলেন, উত্তর মেরু অঞ্চল থেকে এর আগে খুব জোরালো শৈত্যপ্রবাহ হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। এ রকম ঠান্ডা সচরাচর পড়ে না। কানাডার টরন্টোর তাপমাত্রা গত বৃহস্পতিবার মাইনাস ২৯ এবং কুইবেক সিটিতে মাইনাস ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, কানেটিকাট ও ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ভারী তুষারপাতের কারণে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বোস্টন শহরে প্রায় ১৮ ইঞ্চি পুরু বরফ পড়েছে বলে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া গত শনিবার প্রায় ছয় হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। কানাডার আবহাওয়া বিভাগ একটি বিশেষ সতর্কতা জানিয়ে বলেছে, অন্টারিও প্রদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে ভারী তুষারপাত হতে পারে। বিবিসি।

অভিবাদন অস্ট্রেলিয়া!

অভিবাদন আর প্রশংসার বৃষ্টিতে ভিজছে অস্ট্রেলিয়ানরা। সাত বছর পর অ্যাশেজের ভস্মাধার পুনরুদ্ধার করা অসিদের প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বিজয়কে সকলেই চিহ্নিত করছেন অনন্য অর্জন হিসেবে। প্রশংসাকারীদের দলে রয়েছে অসি মিডিয়াও। কীর্তিমানদের কৃতিত্বও যথার্থ মর্যাদা পাচ্ছে। বিজয়ীর মুকুটে প্রশংসার পালকই সবচেয়ে বেশি শোভা পায়! টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৭ বছরের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে এর আগেও দু'বার হোয়াইটওয়াশ করেছে। কিন্তু তৃতীয়বার মাইকেল ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়া যা করেছে তা অতীতকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। ১৯২০-২১ মৌসুমে ওয়ারউইক আর্মস্ট্রংয়ের অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ড করেছিল ৯৮ উইকেটে ২,৭৭৯ রান। রিকি পন্টিংদের বিপক্ষে ২০০৬-০৭ সালে করেছিল ৯৬ উইকেটে ২,৫৩০ রান। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ডকে শুধু ধরাশায়ীই করেনি; ইংলিশদের ১০ ইনিংসে ১০০ উইকেটই তুলে নিয়ে শতভাগ শিকারের অনন্য নজির গড়েছে ইতিহাসে প্রথমবার। তুলনায় ইংল্যান্ড রান করেছে অতীতের ওই দুই সিরিজের চেয়েও কম। মাত্র ২০.৩০ গড়ে ২,০৩০! সিরিজ জিততে ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়ার সময় লেগেছে ২১ দিন। পন্টিংয়ের লেগেছিল ২২ দিন। আর্মস্ট্রংয়ের ২৪ দিন। এই অস্ট্রেলিয়া নিঃসন্দেহে বাহবা পাওয়ার মতো শ্রেয়তম ও যোগ্যতম দল। ১০০ উইকেট তুলে নেওয়ার কথাটা দ্য সিডনি ডেইলি টেলিগ্রাফ লিখেছে এভাবে_ 'টেস্ট ক্রিকেটের ১৩৭ বছরের ইতিহাসে এর আগে অস্ট্রেলিয়া এত পরিপূর্ণভাবে কখনোই ইংল্যান্ডকে হারায়নি। তিন দিনেই পঞ্চম টেস্ট শেষ জয় করে সিরিজে ১০০টি ইংলিশ উইকেট নেওয়া এবারই প্রথম।' তারা প্রশংসা করেছে অস্ট্রেলিয়ার অপরিবর্তনশীল একাদশ ও মানসিকতারও, 'ম্যান অব দ্য সিরিজ মিচেল জনসন ও পুরস্কারটার জন্য তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যাড হ্যাডিনকে পুনরায় ডাকা হয়েছিল এবং তাদেরকে নিয়েই অস্ট্রেলিয়া পুরো পাঁচটা টেস্টেই কাজটা করল অপরিবর্তনশীল একাদশ হিসেবে।' দ্য অস্ট্রেলিয়ান নিউজপেপারে এই জনসন-হ্যাডিনদেরই প্রশংসা, 'স্বাগতিকরা কাজটা করল পুনর্গঠিত ওপেনার ক্রিস রজার্স, পুনঃউত্থিত ফাস্ট বোলার মিচেল জনসন ও পুনর্ভিষিক্ত উইকেটকিপার ব্র্যাড হাডিন এবং ক্রিকেট খেলার পুনঃআবিষ্কৃত অস্ট্রেলিয়ান মস্তিষ্ক দিয়ে।' অন্যদিকে মাইকেল ক্লার্ক অ্যাশেজ জয়ের পেছনে তার দলের পরিকল্পনার কথা বলেছেন। 'আমরা সিরিজ শুরুর আগে কথা বলেছিলাম এবং প্রতিটি ব্যাটসম্যানের বিপক্ষেই আমরা পরিকল্পনা করেছি। তবে পরিকল্পনা করা সহজ। কিন্তু কার্যকর করাটা কঠিন। সিরিজ শুরুর আগে আমি তাদেরকে বলেছিলাম যে, তোমরাই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আক্রমণভাগ এবং আমার মনে হয় পাঁচটি টেস্টেই তারা সেটা প্রমাণ করেছে।' বিশেষত অসি পেসাররা ক্লার্ককে সত্য প্রমাণ করে ইংলিশদের চার ভাগের তিন ভাগ (৭৫) উইকেট নিয়েছেন।

ফুটবলারের চেয়েও বড়

লিসবনে বেনফিকা স্টেডিয়ামের সামনে ইউসেবিওর মূর্তিতে চুমু খাচ্ছেন এক ভক্ত ইন্টারনেট
নিমন্ত্রণটা পেয়েছিলেন শৈশবের আদর্শ আলফ্রেড ডি স্টেফানোর কাছ থেকে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার, ৮০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বৈশ্বিক এ তারকা যখন বার্নাব্যুর মঞ্চে দাঁড়িয়ে, ডি স্টেফানো তখন কনুই দিয়ে গুঁতো মারলেন তার অনুজপ্রতিম বন্ধুকে। ইউসেবিওকে কিছুটা খোঁচার স্বরেই রিয়াল কিংবদন্তি বললেন, 'তুমি চাইলে ওই জায়গাটাও দখল করতে পারতে!'
জর্জ উইয়াহ, দিদিয়ের দ্রগবা, মাইকেল এসিয়েন কিংবা স্যামুয়েল ইতোদের আগমনের অনেক আগেই তার আবির্ভাব ঘটেছিল। তিনি ইউসেবিও দ্য সিলভা ফেরেইরা। পেলে, জর্জ বেস্ট, ইয়োহান ত্রুক্রয়েফদের যুগে তার উত্থান অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো! জন্ম মোজাম্বিকে। বাবা ছিলেন জাতিতে অ্যাঙ্গোলিয়ান। দুটি দেশই তখন পর্তুগালের অধীনে থাকায় বর্তমানের 'ইউরোপের ব্রাজিল'দের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে যান ইউসেবিও। দেশের জার্সিতে ৬৪ ম্যাচে তার করা ৪১ গোল কেবলই কিছু নীরেট সংখ্যা মাত্র। বোকা পরিসংখ্যান কি আর কখনও প্রতিভার তল ঠাহর করতে পেরেছে? বেনফিকা এখন তাই করছে। পর্তুগালের ক্লাবটির বাইরে ইউসেবিওর একটি মূর্তি আছে। রোববার থেকেই সেখানে পা ফেলার জায়গা নেই। ফুল, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুনের শ্রদ্ধার্ঘ্যে মৌ মৌ করছে জায়গাটা। কিন্তু যার জন্য এত নৈবেদ্য, সেই ইউসেবিওই এখন না ফেরার দেশে।
ফুটবলের গুটিকয় কিংবদন্তির উঠে আসার মতোই ইউসেবিওর গল্পটা। শৈশবে কী দিয়ে বল বানাননি তিনি! মোজা, প্লাস্টিকের টুকরা, কাগজ, যা পেয়েছেন তা দিয়েই গোলাকার বস্তুটি বানিয়ে ছুটেছেন। তখন দম ছিল। ১০০ মিটার স্প্রিন্ট শেষ করতেন মাত্র ১১ সেকেন্ডে! তা দেখে বেনফিকার তৎকালীন কোচ বেলা গাটম্যান মন্তব্য করেছিলেন, 'এ তো সোনার টুকরো।' ইউসেবিওর বয়স তখন ১৮ বছর। স্পোর্টিং লিসবনও আগ্রহী ছিল তাকে কেনার জন্য; কিন্তু গোপনে মোজাম্বিকের ক্লাব স্পোর্টিং লরেন্সের হাতে সাড়ে সাত হাজার পাউন্ড ধরিয়ে দিয়ে ইউসেবিওকে কিনে নেয় বেনফিকা। তাকে লুকিয়ে রাখা হয় পর্তুগালের গ্রাম আলভাগ্রেতে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ১৯৬১ সালে বেনফিকার হয়ে অভিষেক ম্যাচেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে ইউসেবিওর উত্থান ঘটে হ্যাটট্রিক করে। বাকিটা ইতিহাস।
পরবর্তী ১৫ বছরে বেনফিকাকে তিনি উপহার দিয়েছেন একটা যুগ। প্রীতি ম্যাচগুলো বাদ দিয়েই ৪৪০ ম্যাচে ৪৭৩ গোল! ১১টি লীগ শিরোপা, সাতবার পর্তুগিজ লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১৯৬২ সালে ডি স্টেফানো-পুসকাস-জেন্টোর রিয়াল মাদ্রিদকে পরাজিত করে জিতে নেন ইউরোপিয়ান কাপের (চ্যাম্পিয়ন্স লীগ) শিরোপা। বিশ্বকাপ খেলেছেন মাত্র একটি। ১৯৬৬ সালের সেই আসরের সেমিতে ইংলিশদের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল; কিন্তু ইউসেবিও ততক্ষণে ইতিহাস। কোয়ার্টার ফাইনালে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২৫ মিনিটেই ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে পর্তুগাল। তারপর একাই চার গোল করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের রূপকথাটা লিখে রাখেন গতি, ক্ষিপ্রতা আর ডান পায়ে কামানের গোলা দাগার ক্ষমতার জন্য সবার আদরের 'কালো চিতা'।
হোসে মরিনহোর চোখে তাই ইউসেবিওর জায়গা পেলে, চার্লটন, বেকেনবাওয়ারের পাশে। বাকি তিনজনকে এখনও দেখা যাচ্ছে। শুধু ইউসেবিওকে হারানোর মাতম করতেই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক প্রকাশ করেছে পর্তুগাল সরকার। গতকাল লিসবনে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে জমায়েত হন ফুটবলের অগণিত সাবেক ও বর্তমান তারকা। সেখানে ছিলেন সাবেক ম্যানইউ গোলরক্ষক অ্যালেক্স স্টেপানি। '৬৮-তে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে ১৫ গজ দূর থেকে নেওয়া ইউসেবিওর একটি শট রুখে দেওয়ার পর তাকে 'স্যালুট' করেছিলেন পর্তুগিজ এ কিংবদন্তি। সম্মানটা ফিরিয়ে দিতে এসে স্টেপানি শুধু বলতে পেরেছেন, 'বিদায় কিংবদন্তি'।

ইরাকে আল কায়দার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই

(সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দিতে প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির আহ্বান) আল কায়দার কাছ থেকে আল আনবার প্রদেশের ফালুজা শহর পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক লড়াই চালাচ্ছে ইরাকি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে প্রদেশটির প্রধান শহর রামাদিতে বোমা নিক্ষেপ করেছে ইরাকি বিমানবাহিনী। এতে আল কায়দার ২৫ সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফালুজায় সন্ত্রাসীদের আশ্রয় না দিতে এবং তাদের বের করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি। খবর এএফপি ও রয়টার্স অনলাইনের। গত শনিবার আনবার প্রদেশের ফালুজা শহর নিয়ন্ত্রণে নেয় আল কায়দা। এ ছাড়া রামাদি শহরও দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে আল কায়দা জঙ্গিরা। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানের ঘোষণা দেয় ইরাক সরকার। রোববার ফালুজায় আল কায়দার সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ১২ সেনা ও ১৫ বেসামরিক লোকসহ কমপক্ষে ৩৪ জন মারা গেছে। এ সংঘর্ষে ৫৮ জন মানুষ আহত হয়েছে। তবে বিরোধীদের কতজন আহত হয়েছে, তা জানা যায়নি। অন্যদিকে রামাদি থেকে আল কায়দা যোদ্ধাদের হঠাতে বিমান থেকে হামলা চালিয়েছে ইরাকি সেনাবাহিনী। এতে আল কায়দার ২৫ জঙ্গি নিহত হয়। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি বলেন, আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করব। আমি ফালুজাবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নিজ নিজ এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের বহিষ্কার করুন। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক হামলা চালানো হলেও আবাসিক এলাকাগুলোতে অভিযান চালাবে না সরকারি সেনারা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা অভিযান দেরিতে শুরু হলেও আল কায়দাসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইরাকের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফালুজা থেকে সন্ত্রাসীদের হটাতে ইতিমধ্যেই উপজাতি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। আনবার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ফালিহ এসা বলেন, আমরা ফালুজার ভেতরে সেনাদের পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে প্রবীণ উপজাতি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেনারা শহরের ভেতরে কীভাবে প্রবেশ করবে এবং কোন কোন অঞ্চলে অভিযান চালাবে সে বিষয়ে উপজাতি নেতাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হবে। এক সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছে, ফালুজা শহরটি কয়েকদিনের জন্য ত্যাগ করতে উপজাতি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বেসামরিক প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে।

অস্তিত্ব সংকটে ব্রাদারহুড

(মুরসির পতনের পর থেকেই আমরা সংগ্রাম করছি। মুসলিম ব্রাদারহুডের অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটি) মুসলিম ব্রাদারহুডের সক্রিয় সদস্যরা এখন বসবাস করছেন শহরের বাইরে। আগে নিয়মিত যেখানে তাদের বৈঠক হতো সেগুলো এখন শূন্য। যখন বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছেন তখন মুখমণ্ডল ঢাকা। নিজেদের আত্মরক্ষার যুদ্ধে এভাবেই মাঠে নেমেছে মুসলিম ব্রাদারহুড। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের আইন অনুযায়ী মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রত্যেক নেতাই সন্ত্রাসী। জঙ্গি নেতাদের মতো পুরোপুরি আন্ডারগ্রাউন্ড জীবনযাপন করছেন তারা। দলটির শীর্ষ অনেক নেতা এখন কারাগারে। ঠিক নেই চেইন অব কমান্ড। দমন অভিযানে ব্রাদারহুডের প্রতিবাদ করার সামর্থ্য কমলেও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ইসলামপন্থি দলটি এখন ছাত্র সদস্যদের ওপর নির্ভর করছে।
এ বিষয়ে দলটির কর্মীরা বলছেন, বর্তমানে তারা সংগঠনকে ফের সুসংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। তবে দলের মূল কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে কায়রোর বাইরের ব্রাদারহুডের শাখাগুলো। সমন্বয় না থাকার কারণেই এমনটি হচ্ছে। কায়রোর উপকণ্ঠ ফায়ুম শহরে ৩৩ বছর বয়সী ব্রাদারহুড নেতা পেশায় স্থাপত্য প্রকৌশলী বলেন, 'মুরসির পতনের পর থেকেই আমরা সংগ্রাম করছি। মুসলিম ব্রাদারহুডের অস্তিত্ব রক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এটি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে সামরিক সরকারের পতন।' বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক সরকারবিরোধী যুদ্ধে ব্রাদারহুড শিগগিরই বিজয়ী হবে এটা আশা করা যায় না। ঠিক তেমনি আশা করা যায় না যে, সামরিক বাহিনী সমর্থিত সরকার ব্রাদারহুডের পতন ঘটাবে। যেখানে দেশটিতে মুসলিম ব্রাদারহুডের হাজার হাজার সক্রিয় কর্মী আছে। আছে লাখ লাখ সমর্থক। ফায়ুম শহরের ২৭ বছর বয়সী এক তরুণ বলেন, 'সাধারণ মিসরীয়দের অধিকাংশই বলছেন, তারা মুসলিম ব্রাদারহুডকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন। এমনকি অনেকেই ব্রাদারহুডকে রক্ষায় হাতে অস্ত্র তুলে নিতেও রাজি।' পেশায় ডাক্তার মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন নেতা বলেন, 'আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। নিজেদের আত্মরক্ষায় আমাদের এখন শুধু একটি পথই আছে_ তা হচ্ছে পাল্টা আক্রমণ। ব্রাদারহুডের একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শহরে নিজেদের আদর্শ প্রচার করছে। নতুন নতুন সদস্য সংগ্রহ করছে।' ঊর্ধ্বতন নেতারা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পদবণ্টনে মনোযোগ দিয়েছেন। এর পরই শুরু হবে সামরিক জান্তা পতনের চূড়ান্ত আন্দোলন। তবে আপাতত অত্যন্ত কৌশলী ভূমিকায় ব্রাদারহুড। দলটির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, 'আমরা নেতা-সমর্থকদের জানিয়ে দিয়েছি, এক জায়গায় বেশিদিন থাকবেন না। আপাতত আপনাদের প্রাণ ও সম্পদের হেফাজত করুন। সরকারবিরোধী আন্দোলনে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।' বিশেষ করে সমর্থকদের নিজ নিজ সম্পদ আত্মীয়স্বজনদের কাছে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা সবাই একই নৌকার যাত্রী। এখন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে এই দুঃসময় পাড়ি দিতে পারি।'

রাজনীতিবিদরাই আশার শেষ বাণীটি শোনাবেন by ড. মাহবুব উল্লাহ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট যে কত গভীর সেটি বোঝা গেছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে। নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত-সহিংসতায় ২২ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। তাদের অনেকেই নিহত হয়েছে পুলিশের গুলিতে। দুই শতাধিক নির্বাচন কেন্দ্র ভস্মীভূত হয়েছে। ৫৩৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্নভাবে পরিবেশিত হয়েছে। তবে বড় ধরনের হেরফের নেই। কোনো বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আসেনি। ইইউ, কমনওয়েলথ ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। কিছু বিলম্বে হলেও রুশ রাষ্ট্রদূত জানিয়ে দিয়েছিলেন, তার দেশও পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। নির্বাচনের দু'দিন আগে জানা গেল ভারত ও ভুটান চারজন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। তারাও শেষ পর্যন্ত এসেছিলেন কি-না সেটিও সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়নি। আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি সক্রিয় উদ্যোগ ছিল। সেই উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত কোনো ফল বয়ে আনেনি। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর বেশিরভাগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছে। ফলে নির্বাচন হয়েছে মূলত মহাজোটের অংশীদার দলগুলোর মধ্যে। এর মধ্যেও আমরা লক্ষ্য করেছি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির অবস্থান নিয়ে প্রচুর বিভ্রান্তি। দেশীয় পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছেন বলে শোনা যায়নি। ফলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হয়েছে সে ব্যাপারটি অন্ধকারেই থেকে গেল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হওয়ার আগেই ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে গেছে। অর্থাৎ এসব আসনে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সংবিধানের স্পিরিট হলো নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দেশ চালাবেন। সেই বিবেচনায় ৫২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এক কথায়, নির্বাচনটি ছিল একতরফা এবং কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন।
দেশীয় সাংবাদিক, যারা বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহের জন্য উপস্থিত ছিলেন তারা প্রায় একবাক্যে জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। হয়তো ৫ শতাংশের বেশি নয়। ভোটাররা কেন ব্যাপক সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে এলেন না তার নানাবিধ ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কেউ বলছেন, শীত ও কুয়াশার কারণে ভোটাররা আসেননি। কেউ বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় ভোটাররা উৎসাহিত বোধ করেননি। আবার কেউ বলছেন, নিরাপত্তার অভাববোধ করায় অনেকেই ভোটকেন্দ্রে আসেননি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেও স্বীকার করেছেন, ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছিল।
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল যখন জানা গেল, তখন কত শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তা ঠিকভাবে জানা গেল না। তবে বাস্তবতার সঙ্গে বেসরকারি ফলাফলের এই তফাতকে অনেকের দৃষ্টিতে তেলেসমাতি বলে প্রতীয়মান হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বেশ কিছুদিন ধরেই বলে আসছিলেন কোন দল নির্বাচনে এলো বা এলো না সেটা বড় কথা নয়, বিবেচ্য বিষয় হলো কত শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, ৫০ শতাংশের বেশি ভোটার যদি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। তবে এ ব্যাপারে জাতিসংঘের মাপকাঠি একটু ভিন্ন। তাদের দৃষ্টিতে সর্বশেষ নির্বাচনে যে দলটি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয় সেই দল যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয় না। শাসক দল এই মাপকাঠিকে গুরুত্ব দেয়নি। তাদের দৃষ্টি ছিল ভোটাধিকার প্রয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ানোর দিকে। সে কারণেই হয়তো জাল ভোট দেওয়ার অপপ্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে। একটি প্রধান জাতীয় দৈনিকে প্রথম পাতায় ব্যালট পেপারে সিল মারার ছবিতে দেখা গেছে নির্বাচনী কর্মকর্তারা কতটা সক্রিয়। এসব ছবি যখন আন্তর্জাতিক মাধ্যমেও প্রচারিত হবে তখন এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও তীক্ষষ্ট হবে।
সময় থাকতে নির্বাচন নিয়ে একটি সমঝোতা কেন হলো না, কেন এত প্রাণক্ষয়, কেন জাতীয় অর্থনীতির এত ক্ষতি, সেটি একটি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হিসেবে থেকে যাবে। সংবাদপত্র পড়ে এবং টেলিভিশনে বিদেশি মিডিয়ার সংবাদ থেকে যতদূর বুঝতে পেরেছি তা হলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে পাশ্চাত্য শক্তিগোষ্ঠী ও গণচীন সহমত পোষণ করেছিল, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছিল ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং যখন সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফরে এলেন তখন তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বেশিসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসাটাই যথেষ্ট। তিনি প্রধান বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেননি। ভারত বাংলাদেশের নির্বাচনকে তার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার নিরিখেই বিবেচনা করে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বক্তব্য থেকে জানা গেছে, সুজাতা সিং তাকে জানিয়েছেন, ভারত আশঙ্কা করছে বাংলাদেশের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে, যা ভারতের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের এই একদেশদর্শী মনোভাবই শাসক দল আওয়ামী লীগকে বিরোধী জোটের সঙ্গে কোনো প্রকার সমঝোতায় পেঁৗছাতে নিবৃত্ত করেছে কি-না সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। ভারত বাংলাদেশের বৃহৎ প্রতিবেশী। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করার শক্তি, সামর্থ্য ও সুযোগের সঙ্গে অন্য কোনো রাষ্ট্রের তুলনা হয় না বললেই চলে। ভারত আওয়ামী লীগকে তার বন্ধু দল বিবেচনা করে। বিএনপি সম্পর্কে ভারত সন্দিগ্ধ। কিন্তু এই সন্দেহের ওপর ভর করে ভারত যে কূটনীতি করল সেটি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের কতটা অনুকূল হয়েছে সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য হিন্দু এবং বিশিষ্ট বোদ্ধা সুব্রামানিয়াম সে প্রশ্নই উত্থাপন করেছেন।
বাংলাদেশের নির্বাচনকে ঘিরে যে সংঘাত-সহিংসতা হলো তার ফলে বাংলাদেশ পরবর্তী দশটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। উন্নয়নের ধাঁধা হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কোথায় পর্যবসিত হলো তা নিয়ে দেশে যাদের ক্ষমতা আছে তাদের মধ্যে দুর্ভাবনার লেশমাত্র আছে কি-না সন্দেহ। আসলে এই নির্বাচনটি নিয়ে কোনো রকম সমঝোতায় পেঁৗছাতে হলে সর্বোৎকৃষ্ট সময় ছিল জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব তারানকোর শেষ সফরের সময়। জাতিসংঘের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আপস-মীমাংসা হলে কোনো পক্ষই দাবি করতে পারত না তাদের জয় হয়েছে। কাজেই এ নিয়ে নির্বাচনী পুঁজি করারও সুযোগ থাকত না। এ ছাড়া সংসদ তো এখন জীবিত। নির্বাচনে বিরোধীপক্ষকে আনার জন্য কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী করতে হলে সেটাও করা সম্ভব ছিল। এবারকার পরিস্থিতি ১৯৯৬ সালের মতো নয়। সুতরাং একতরফা, একপক্ষীয় নির্বাচনের কলঙ্ক এড়ানো যেত। এর জন্য শাসক দল আওয়ামী লীগ কিছুটা হলেও প্রশংসা পেতে পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ইগোর কাছে মহৎ চিন্তাগুলো পরাজিত হয়ে যায়।
যত প্রশ্নবিদ্ধই হোক নিয়তির লেখা হিসেবে দশম সংসদ নামের নির্বাচনটি হয়ে গেল। অচিরেই হয়তো নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহল নবগঠিত সরকারের সঙ্গে কতটা সহযোগিতা করবে তা অনিশ্চিত থেকে গেল। বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কোনোক্রমেই বহির্বিশ্বের অসহযোগিতার ঝুঁকি ধারণ করতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলের কট্টরপন্থিরা হয়তো বোঝাতে চাইবেন, নির্বাচন যখন করা গেছে তখন সামনের ৫টি বছর এভাবেই চালিয়ে দেওয়া হোক না কেন। কিন্তু এরকম অবস্থান বাংলাদেশকে আরও বড় রকমের হুমকির মধ্যে ঠেলে দেবে। হয়তো দমনপীড়ন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হবে। কিন্তু প্রশ্ন, দমনপীড়ন সহ্য করার জন্যই কি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম? গণতন্ত্রের সুবাতাস বইতে না দিলে যে গুমোট ভাবের সৃষ্টি হবে তা যে কোনো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের জন্ম দেবে না তা কি কেউ হলফ করে বলতে পারে? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুটি শর্ত দিয়েছেন। জামায়াত দল হিসেবে নিবন্ধন হারিয়েছে। সুতরাং তার নির্বাচন করার সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, সহিংসতা পরিহারের শর্ত তিনি দিয়েছেন। দেশের কোনো মানুষই সহিংসতা চায় না। তবুও অনেকের ঝাপসা স্মৃতিকে উজ্জ্বল করার জন্য বলতে হয়, ১৯৯৫ সালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আলোচনার মধ্য দিয়ে সমঝোতা হয়ে গিয়েছিল। সেই সমঝোতাকে কেন্দ্র করে তখনকার ক্ষমতাসীন দল বিএনপি দাবি করেছিল আওয়ামী লীগকে কথা দিতে হবে, তারা আর হরতাল-অবরোধ করবে না। কিন্তু সেদিনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা সেই শর্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, আমরা মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি করি না এবং এই বলে তিনি তার দল ও মিত্রদের সংসদ থেকে পদত্যাগ করিয়ে নেন। অতীতমুখী না হওয়াটাই শ্রেয়। এখনও যদি আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা থাকে তাহলে পূর্বশর্তের কথা বলে আলোচনার টেবিলে না বসার অজুহাত সৃষ্টি করা শ্রেয় নয়। আমাদের মতো লোকেরা রাজনীতি করি না। দেশ শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের কামনা। আশা করি, অনেক হতাশার মধ্যেও রাজনীতিবিদরাই আশার শেষ বাণীটি শোনাবেন।
অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়