Monday, August 18, 2025

গাজা যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলজুড়ে ধর্মঘট-বিক্ষোভ

গাজায় জিম্মি ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে হাজারো ইসরায়েলি গতকাল রোববার দেশজুড়ে ধর্মঘটসহ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

হামাসের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে যুদ্ধের অবসান এবং অবশিষ্ট জিম্মি ব্যক্তিদের মুক্ত করতে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানান।

বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি পতাকা ও জিম্মি ব্যক্তিদের ছবি হাতে নিয়ে স্লোগান দেন। স্লোগানের পাশাপাশি বাঁশি, হর্ন ও ঢাকের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে সারা দেশ। কেউ কেউ জেরুজালেম-তেল আবিব মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেন।

তেল আবিবে জিম্মি ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ইসরায়েলি হলিউড অভিনেত্রী গাল গাদত।

জিম্মি মাতান আংগ্রেস্টের মা আনাত আংগ্রেস্ট তেল আবিবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ সবকিছু থেমে গেছে সর্বোচ্চ মূল্যবোধ-জীবনের পবিত্রতাকে স্মরণ করার জন্য।’

ইসরায়েলজুড়ে এ ধর্মঘট-বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় জিম্মি ব্যক্তিদের পরিবারসহ যুদ্ধবিরোধীরা।

কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউট আগেই জানায়, তারা তাদের কর্মীদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেবে।

ইসরায়েলে গতকাল রোববার কর্মদিবস হওয়ায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালু ছিল। আবার বিক্ষোভের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। গ্রীষ্মকালীন ছুটির কারণে স্কুলগুলোতে বিক্ষোভের প্রভাব পড়েনি।

ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় রোববার বেরা ২টা পর্যন্ত ৩৮ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। কেউ কেউ সড়ক অবরোধ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

বিকেল ৪টার দিকে তেল আবিব, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন স্থানে সাইরেন বাজতে শুরু করলে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ কিছু সময়ের জন্য থেমে যায়। ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে কেন্দ্র করে এই সাইরেন বাজানো হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়।

ইসরায়েলের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ তেল আবিবের এক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে লিখেছেন, ‘আজ যাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ইসরায়েলি সংহতির ডাক দিচ্ছেন, তাঁরাই দেশকে শক্তিশালী করছেন।’

গাজা সিটির বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করল হামাস

গাজা সিটির বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। তাদের দাবি, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকায় নতুন করে জাতিহত্যা (জেনোসাইড) শুরু হবে এবং অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। গতকাল রোববার এ কথা বলেছে হামাস।

ইসরায়েলি সেনারা বলেছেন, তাঁরা রোববার থেকে তাঁবু ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের যুদ্ধক্ষেত্রগুলো থেকে দক্ষিণাঞ্চলে সরানোর পরিকল্পনা মাথায় রেখে এমনটা করছেন তাঁরা। ইসরায়েলের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন পরিকল্পনা করেছে তারা।

হামাস এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মানবিকতার ছদ্মবেশে তাঁবু স্থাপন করাটা স্পষ্টত প্রতারণা। দখলদার বাহিনী যে নৃশংস অপরাধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা ঢাকতে এমনটা করা হচ্ছে।’

ইসরায়েল চলতি মাসের শুরুতে বলেছে, তারা উত্তর গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নিতে নতুন অভিযান চালাবে। ওই শহরটি গাজার সবচেয়ে বড় নগরকেন্দ্র এবং সেখানে প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস। ইসরায়েলের এ পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় হামাস। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুসারে, এ হামলায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন। বন্দী করা হয় ২৫১ জনকে। এর মধ্যে এখনো ৫০ জন গাজায় জিম্মি আছেন। ধারণা করা হয়, এ ৫০ জনের মধ্যে জীবিত আছেন ২০ জন।

হামাসের হামলার জবাবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকেই গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুসারে, হামলায় ৬১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার বেশির ভাগ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

উপত্যকার একটা বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। গাজায় তীব্র খাদ্যসংকট চলছে।

রয়টার্স: তেল আবিব/জেরুজালেম/কায়রো

 জিম্মি ব্যক্তিদের মুক্তি ও গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলের জেরুজালেম-তেল আবিব মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ১৭ আগস্ট ২০২৫
জিম্মি ব্যক্তিদের মুক্তি ও গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ইসরায়েলের জেরুজালেম-তেল আবিব মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ১৭ আগস্ট ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

গাজায় না খাইয়ে মানুষ মারা ও আমাদের বৈশ্বিক লজ্জা by বিনাইফার নওরোজি

অনাহার হলো ধীরে ধীরে শরীরকে ভেঙে দেওয়ার এক প্রক্রিয়া। প্রয়োজনীয় খাবার না পেলে শরীর প্রথমে লিভারে বা যকৃতে জমে থাকা শর্করা ব্যবহার করে। এরপর শুধু মস্তিষ্ক আর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্য শরীর পেশি ও চর্বি গলিয়ে ফেলে এবং টিস্যু ভেঙে ফেলে। একসময় এ ভান্ডারও শেষ হয়ে যায়। তখন হৃৎপিণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভেঙে যায়, মস্তিষ্ক কাজ করার ক্ষমতা হারাতে শুরু করে।

চামড়া হাড়ের সঙ্গে লেগে যায়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। একে একে অঙ্গগুলো বিকল হয়। দৃষ্টিশক্তি কমে আসে। শরীর ফাঁকা হয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। এটি এক দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু।

আজ আমরা সে দৃশ্যই গাজায় দেখছি। কঙ্কালসার নবজাতক আর শিশু মায়ের কোলে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাচ্ছে অনাহারে। এর মধ্যেই ইসরায়েল যুদ্ধ আরও তীব্র করেছে। তারা গাজা সিটি ‘দখল’ করার নামে নতুন অভিযান শুরু করেছে। ফলে আরও হাজার হাজার ফিলিস্তিনি হয় বোমার আঘাতে, নয়তো অনাহারে মারা যাবেন।

জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ মানবিক কর্মকর্তা রমেশ রাজাসিংহাম ১০ আগস্ট নিরাপত্তা পরিষদে বলেছেন, ‘এটি আর ভবিষ্যতের দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি নয়, এটি সরাসরি অনাহারে মানুষ মেরে ফেলা।’ দুর্ভিক্ষবিশেষজ্ঞ অ্যালেক্স ডি ওয়াল জানান, গাজার হাজারো শিশু এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তারা খাবার পেলেও খেতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, তাদের শরীর এখন আর খাবার হজম করতে সক্ষম নয়।

ইতিমধ্যে ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে যে গাজায় ইসরায়েল গুরুতর অপরাধ করছে। তারা যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার করছে। যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছিল। এরপর বিশ্বের প্রতিটি মহাদেশের দেশ থেকেই এ বিষয়ে সতর্কবার্তা এসেছে। এমনকি ইসরায়েলের ভেতর থেকেও অনেকে স্বীকার করেছেন।

সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট বলেছেন, গাজায় যা ঘটছে, তা যুদ্ধাপরাধ। আর শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি গণহত্যার সমান।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি ইসরায়েলি নিহত এবং ২০০ জনের বেশি জিম্মি হওয়ার দুই দিন পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট ঘোষণা দেন, ‘আমি গাজা উপত্যকায় পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছি। সেখানে কোনো বিদ্যুৎ থাকবে না, খাবার থাকবে না, জ্বালানি থাকবে না। সেখানে সবকিছু বন্ধ থাকবে। আমরা মানবপশুর সঙ্গে যুদ্ধ করছি এবং সে অনুযায়ী কাজ করব।’

এ ঘোষণায় পুরো গাজার মানুষকে অমানবিকভাবে চিত্রিত করা হয়। সেখানে আর বেসামরিক ও যোদ্ধাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখা হয়নি। এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেই অবরোধ টানা ৭০ দিন চলেছিল এবং সব সরবরাহ বন্ধ ছিল। এটি ছিল সরাসরি সমষ্টিগত শাস্তি।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে ইসরায়েল সামান্য কিছু সরবরাহ গাজায় ঢুকতে দেয়। কিন্তু সেই এপ্রিলেই ইউএসএইডের প্রধান সামান্থা পাওয়ার সতর্ক করেন, গাজার কিছু এলাকায় দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। এর পরের মাসে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক সিন্ডি ম্যাককেইন ঘোষণা দেন, উত্তর গাজায় পূর্ণমাত্রার দুর্ভিক্ষ চলছে।

আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্টভাবে বলেছে, যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে অনাহার ব্যবহার নিষিদ্ধ। দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতা হলো বেসামরিকদের যথেষ্ট খাবার, পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিশ্চিত করা। যদি গাজার ভেতরে এগুলো জোগাড় না হয়, তবে বাইরে থেকে, এমনকি ইসরায়েল থেকেই সরবরাহ করতে হবে।

কিন্তু ২১ মাস ধরে অনেক দেশ ও সংস্থা সাহায্য পৌঁছাতে চাইলে ইসরায়েল বাধা দিয়েছে। এ অনুমতি দেওয়া শুধু নৈতিক নয়, আইনি দায়িত্বও। ইসরায়েলের কর্তব্য ছিল অন্যদের ত্রাণ কার্যক্রম সহজ করা। কিন্তু তারা বারবার তাতে বাধা দিয়েছে। এখনো মানবিক সংস্থাগুলোকে সাহায্য পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না।

স্পষ্টতই ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে মারা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই এর লক্ষণ স্পষ্ট ছিল, কিন্তু অনেক সরকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা বলেছে, সাহায্য নাকি হামাস পাচ্ছে। যার কোনো প্রমাণ ইসরায়েলের কাছেই নেই। বরং এসব সরকার গাজায় সাহায্য পাঠানোর তুলনায় ইসরায়েলকে বেশি অস্ত্র দিয়েছে। এখন তারা গণহত্যা ঠেকানো ও থামানোর দায়িত্বে ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।

ইতিহাস এ মুহূর্তকে চিরকাল বৈশ্বিক লজ্জা হিসেবে মনে রাখবে। কঙ্কালসার শিশুদের ছবি যোগ হবে অতীতের সেই ছবিগুলোর পাশে, যখন পৃথিবী তাদের জন্য কিছু করেনি। আশা একটাই, পৃথিবী যেন এখনই জেগে ওঠে, মানবতার শেষ আলোটা অন্তত বাঁচিয়ে রাখে। তার আগে যদি কিছু করা না যায়, তবে আরও অসহায় শিশু ক্ষুধার্ত চোখ মেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।

বিনাইফার নওরোজি, ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনসের সভাপতি
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত

গাজায় খাবার ঢুকতে না দেওয়ায় সেখানে চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে
গাজায় খাবার ঢুকতে না দেওয়ায় সেখানে চরম খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। ছবি: এএফপি

পুতিনের কৌশলের কাছে ট্রাম্প কি অবস্থান বদলেছেন! by অ্যানড্রু হিগিন্স

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টঃ শুক্রবারের শীর্ষ সম্মেলনের আগে ভূখণ্ড বিনিময় আর সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির নানা কারিগরি আলোচনা হলেও, আলাস্কায় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট করে দিলেন- তার মূল উদ্বেগ রক্তপাতের তিন-সাড়ে তিন বছর শেষ করা নয়। বরং, তার কথিত ‘ইউক্রেন ঘিরে পরিস্থিতি’- যা আসলে রাশিয়ার হারানো গৌরব নিয়ে ক্ষোভের পুনরাবৃত্তি। তিনি আবার ফিরলেন সেই অভিযোগগুলিতে, যা তিনি প্রথম ২০০৭ সালে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে তীব্র ভাষায় তুলেছিলেন এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আক্রমণ ঘোষণা করার সময় পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। আলাস্কায় সম্মেলনের পর দেয়া মন্তব্যে তিনি দাবি করলেন যে, ইউরোপ ও বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ন্যায্য ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, কেবল এভাবেই ইউক্রেন সংকটের মূল কারণ দূর করা সম্ভব হবে। ক্রেমলিনের ভাষায় এর মানে হলো- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ার পর রাশিয়ার মর্যাদা কমে যাওয়া এবং পূর্ব ইউরোপে মস্কোর প্রভাব হারানো। যুদ্ধের কথা তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি। শুধু বলেছেন, তিনি আন্তরিকভাবে চান যা ঘটছে তা থেমে যাক, কারণ রাশিয়ান আর ইউক্রেনিয়ানরা একই শিকড়ের এবং আমাদের জন্য এটি এক ট্র্যাজেডি ও গভীর বেদনা।

রাশিয়াকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা, অথচ যুদ্ধের সূচনা তারাই করেছে- এটি ক্রেমলিনের প্রচারণার অংশ হয়ে আছে ২০২২ সালে পুতিনের তথাকথিত বিশেষ সামরিক অভিযান ঘোষণার পর থেকে। লিথুয়ানিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লরিনাস কাসচিউনাস বলেন, পুতিন আর রাশিয়া পুনর্মূল্যায়নবাদী। তারা ঠাণ্ডা যুদ্ধ হেরে যাওয়াকে মেনে নিতে পারে না। লিথুয়ানিয়া একসময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল এবং এখন ন্যাটোর সদস্য। একইভাবে পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া ও ওয়ারশ চুক্তির অন্য সাবেক সদস্যও এখন ন্যাটোতে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আলাস্কার হোটেলে পৌঁছান এমন একটি সোয়েটশার্ট পরে, যেখানে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতীকী লেখা সিসিসিপি খোদাই করা ছিল। কিন্তু পুতিন ও ট্রাম্পের বৈঠকের ঠিক আগে, ওয়ারশতে পোল্যান্ড রাশিয়াকে স্মরণ করিয়ে দিল পুরোনো শাসন চলে গেছে। ভিসচুলা নদীর তীরে তারা ট্যাঙ্ক ও সামরিক সরঞ্জামের এক শোভাযাত্রা আয়োজন করল, যার অধিকাংশই আমেরিকান তৈরি। এই প্রদর্শনী ১৯২০ সালে লাল সেনার বিরুদ্ধে পোল্যান্ডের বিজয় উদযাপন করল এবং বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনী হিসেবে পোল্যান্ডের শক্তি প্রদর্শন করল।

পুতিনের ক্ষতিগ্রস্ত অহং মেটাতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্মেলনের পর সিয়ান হ্যানিটিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার মর্যাদা বাড়িয়ে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে উপেক্ষা করে তিনি বললেন, ‘আমরা নাম্বার ওয়ান, আর তারা নাম্বার টু।’ রাশিয়ার সরকারি প্রচারমাধ্যম ও জাতীয়তাবাদী বিশ্লেষকরা এটিকে রাশিয়ার ‘সম্মানিত দেশগুলির ক্লাবে’ পুনঃঅভ্যর্থনা হিসেবে উদযাপন করল।

আক্রমণাত্মক ভূরাজনৈতিক তাত্ত্বিক আলেকজান্ডার দুগিন টেলিগ্রামে বললেন, আমি এমন ফল আশা করিনি। আমাদের সবাইকে অভিনন্দন। এটি ছিল বিশাল। সবকিছু জয় করা আর কিছুই না হারানো- এমন কেবল আলেকজান্ডার তৃতীয়ই করতে পেরেছিলেন।

জাতীয়তাবাদী সিনেটর আন্দ্রেই ক্লিশাস বললেন, সম্মেলন প্রমাণ করেছে রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি ও ন্যায্য শান্তির ইচ্ছা এবং দেশটি এখন বিশেষ সামরিক অভিযান সামরিক বা কূটনৈতিক- যেকোনো পথে চালিয়ে যেতে স্বাধীন। তিনি আরও দাবি করলেন, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে এগিয়ে আছে এবং ক্রমশ নতুন নতুন এলাকা মুক্ত করছে।

এই নতুন বিশ্ব নিরাপত্তা কাঠামো আসলে কী রূপ নেবে তা পরিষ্কার নয়। তবে এর মূল স্তম্ভ হলো- রাশিয়াকে ঠাণ্ডা যুদ্ধকালীন মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া, আঞ্চলিক প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমান বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে। ২০২২ সালের আক্রমণের ঠিক আগে, রাশিয়া ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রকে খসড়া চুক্তি দিয়েছিল, যাতে বলা হয়েছিল ন্যাটোকে পূর্ব ইউরোপ থেকে সরে যেতে হবে এবং ইউক্রেনকে কখনো ন্যাটোতে নেয়া যাবে না। এই দাবিগুলি দ্রুত প্রত্যাখ্যান করা হয়।

ইউক্রেনে আক্রমণ ঘোষণা করার সময় টেলিভিশন ভাষণে পুতিন মূলত পশ্চিমাদের হয়রানি আর রাশিয়ার স্বার্থকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন- ৩০ বছর ধরে আমরা ধৈর্যের সঙ্গে ন্যাটো দেশগুলির সঙ্গে সমান নিরাপত্তার নীতি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছি। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবের জবাবে আমরা পেয়েছি প্রতারণা, চাপ ও হুমকি- এবং ন্যাটো আমাদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও সম্প্রসারণ চালিয়ে গেছে।

ঠাণ্ডা যুদ্ধপরবর্তী ব্যবস্থাকে বদলানোর প্রচেষ্টার একটি কেন্দ্রীয় অংশ ছিল রাশিয়ার উদ্যোগ-দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ক দুর্বল করা, যা ১৯৯১ সালের পর ন্যাটোর সম্প্রসারণে আরও শক্তিশালী হয়। কিন্তু ইউক্রেন আক্রমণ উল্টো ফল দিয়েছে- ন্যাটোর উপস্থিতি রাশিয়ার সীমান্তের কাছেই বেড়েছে। ২০২৩ সালে ফিনল্যান্ড, যার সঙ্গে রাশিয়ার ৮৩০ মাইল সীমান্ত রয়েছে, সামরিক নিরপেক্ষতা ছেড়ে ন্যাটোতে যোগ দিল। সুইডেনও যোগ দিল। তবুও, আলাস্কায় ট্রাম্প তার অবস্থান দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করলেন। তিনি আগে যেমন বলেছিলেন জরুরি যুদ্ধবিরতির পক্ষে, তার বদলে পুতিনের বিস্তৃত শান্তিচুক্তি প্রস্তাবের সঙ্গে তাল মেলাতে দেখা গেল। ইউরোপীয় নেতারা এটি ভালোভাবে নেননি, কারণ তারা আগেও দেখেছেন- পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পর ট্রাম্প বারবার ইউক্রেন নিয়ে অবস্থান বদলেছেন।

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, রাশিয়া একটি বিশাল শক্তি, আর তারা (ইউক্রেন) নয়। তিনি যোগ করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়া নির্ভর করছে ইউক্রেন ও ইউরোপের ওপর, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নয়। এখন সত্যিই প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দায়িত্ব এটি শেষ করার। আমি আরও বলব, ইউরোপীয় দেশগুলিকে কিছুটা বেশি জড়িত হতে হবে।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ সম্মেলনকে স্বাগত জানালেন এভাবে যে, এটি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের বৈঠকের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ফিরিয়ে দিয়েছে। তার মতে, এটি প্রমাণ করে- দুই শক্তির মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব।

(নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে অনূদিত) 

 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার বলেছেন, ‘যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করা। কারণ, রাশিয়া খুব বড় একটি শক্তি। তারা (ইউক্রেন) তা নয়।’ ট্রাম্প জেলেনস্কিকে জানান, যদি কিয়েভের পক্ষ থেকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের পুরোটা ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে রাশিয়া বেশির ভাগ জায়গায় যুদ্ধ থামাবে—এমন শর্ত দিয়েছেন পুতিন।

যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের প্রস্তাবের ‘পক্ষে’ ট্রাম্প

যুদ্ধ বন্ধে দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার যে প্রস্তাব রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তুলে ধরেছেন, তাতে সমর্থন দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের আলাপে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আলাপের বিষয়টি গতকাল শনিবার প্রকাশ্যে আসায় এমনটা জানা যায়।

ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের বলেছেন, তিনি মনে করেন, যদি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দনবাস অঞ্চল ছেড়ে দিতে সম্মত হন, তাহলে একটি শান্তিচুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। ইউরোপের জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে। তিন বছর ধরে চলা লড়াইয়ে দনবাস অঞ্চলটি পুরোপুরি দখল নিতে পারেনি রাশিয়া।

আলাস্কায় অনুষ্ঠিত আলোচনার বিষয়ে সরাসরি অবগত দুটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত হিসেবে পুতিন দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চল নিয়ে গঠিত দনবাস থেকে ইউক্রেনকে সরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি যুদ্ধের বাকি সম্মুখভাগে লড়াই বন্ধ রাখার কথা বলেছেন।

যদিও লুহানস্ক প্রায় পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে ইউক্রেন এখনো দোনেৎস্কের ক্রামাতোর্স্ক ও স্লোভিয়ানস্ক শহরসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশ ধরে রেখেছে এবং সেখানে অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থান বজায় রেখেছে। এই শহরগুলো রক্ষা করতে গিয়ে হাজারো প্রাণহানি হয়েছে।

পুতিন ট্রাম্পকে বলেছেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কের বিনিময়ে তিনি দক্ষিণ ইউক্রেনের খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে অগ্রসর হওয়া বন্ধ করবেন এবং লড়াইয়ের সম্মুখভাগে স্থিতি বজায় রাখবেন। এ দুটি অঞ্চলে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য এলাকা দখল করে আছে।

কয়লা, লোহার আকরিকসহ খনিজসমৃদ্ধ ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে ট্রাম্পের সমর্থনের বিষয়টি এমন সময় এসেছে, যখন তিনি যুদ্ধবিরতির পথে না গিয়ে সরাসরি একটি শান্তিচুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি ‘প্রায়ই টেকে না’।

দনবাস অঞ্চলকে রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কথার বরখেলাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা এ ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করছে।

ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বাদ দিয়ে সরাসরি শান্তিচুক্তিতে গেলে আলোচনায় মস্কো বাড়তি সুবিধা পাবে। আগামীকাল সোমবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে জেলেনস্কির। কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় নেতার সঙ্গে হোয়াইট হাউসে যোগ দিতে ইউরোপীয়দেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প শনিবার তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, সরাসরি একটি শান্তিচুক্তির সমঝোতার দিকে যাওয়াটা ভালো হবে বলে ‘সবার মত নিয়ে ঠিক করা হয়েছে’। যদিও ইউরোপীয় নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এটি তাঁদের মত নয়।

ইউরোপীয় নেতাদের একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউরোপের সহায়তায় একটি ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে তাঁরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তবে নিজের ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ইউক্রেনের ওপর নির্ভর করবে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত শক্তি প্রয়োগ করে পরিবর্তন করা যাবে না।

ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপের পর জেলেনস্কিও একটি বিবৃতি দিয়েছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ওই বিবৃতিতে তিনি টেকসই শান্তি অর্জনসহ বেশ কয়েকটি শর্ত দেন। জেলেনস্কি বলেন, প্রথমে যুদ্ধবিরতি ছাড়া সরাসরি শান্তিচুক্তিতে গেলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর দপ্তরের এক বিবৃতি বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক সামনে রেখে আজ রোববার ভিডিও কলে জেলেনস্কির সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ, জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আলাপ হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে টানা প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বাঁয়ে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে, ১৫ আগস্ট ২০২৫
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে টানা প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (বাঁয়ে) ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের অ্যাঙ্কোরেজ শহরের এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে, ১৫ আগস্ট ২০২৫ ছবি: এএফপি