Sunday, April 30, 2017

গ্রুপিংয়ের রাজনীতি by শামীমুল হক

রাজনীতি যেখানে, গ্রুপিং সেখানে। এটা যেন স্লোগানে পরিণত হয়েছে। শীর্ষ থেকে তৃণমূল সর্বত্র গ্রুপিং। সভাপতির এক গ্রুপ থাকলে, সাধারণ সম্পাদকের আরেক গ্রুপ। কোথাও আবার দুয়ের অধিক গ্রুপ মাঠে সক্রিয়। দেশের প্রধান দুটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রুপিংয়ের জেরেই রাজনীতিতে নামেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আওয়ামী লীগের সভাপতি তখন আব্দুল মালেক উকিল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৮১ সালের কথা। হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের সম্মেলন। দ্বন্দ্ব তখন চরমে। নেতায় নেতায় গ্রুপ। ভাঙনের মুখে আওয়ামী লীগ। এক গ্রুপের নেতৃত্বে মালেক উকিল। আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে জোহরা তাজউদ্দিন। এ দুজনকে ঘিরে নেতারাও দু’ভাগে বিভক্ত। দেশজুড়ে শঙ্কা কে হবেন আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি?  মালেক উকিল, জোহরা তাজউদ্দিন, আবদুস সামাদ আজাদ, ড. কামাল হোসেন, আব্দুল মান্নান, আব্দুর রাজ্জাক নাকি তোফায়েল আহমেদ? হোটেল ইডেনের বাতাস গরম। সম্মেলনে হাজির সারা দেশের নেতাকর্মীরা। টানটান উত্তেজনা। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা সবার মাঝে। বক্তৃতা পর্বের পর শুরু হয় নেতা নির্বাচনের বৈঠক। কি হবে সেখানে। কে হবেন দলের সভাপতি? বৈঠকের শুরুতেই নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর স্বামী আকবর হোসেন চৌধুরী বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়তে থাকেন। তিনি শেখ হাসিনাকে সভাপতি করার চূড়ান্ত ফর্মুলা নিয়ে হাজির হন। আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব বৈঠকের শুরুতেই উপস্থাপন করান। শেখ হাসিনার নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব আসার পর ইডেনের টান টান উত্তেজনা মুহূর্তেই মিইয়ে যায়। গ্রুপিংয়ে লিপ্ত নেতারাও একেবারে চুপ হয়ে যান। সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনা হন আওয়ামী লীগের সভাপতি। কিন্তু শেখ হাসিনা যে নির্বাসনে। কি করা যায়। তা নিয়েও সেখানে আলোচনা হয়। সভা শেষে সবাই হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন। ভাঙন থেকে রক্ষা পায় আওয়ামী লীগ। এখানেই শেষ নয়। বছর দুয়েক না যেতেই ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে ফের গ্রুপিং দেখা দেয় আওয়ামী লীগে। সে সময় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয় আব্দুর রাজ্জাক, মালেক উকিল, মহিউদ্দিন আহমেদ, আব্দুল মমিন তালুকদার, অধ্যাপক আবু সাঈদসহ ৬ জনকে। অবশ্য দুই দিন পর মালেক উকিল আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। মহিউদ্দিন-রাজ্জাক বাকশাল গঠন করেন। অবশ্য এ দুজনই ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে বাকশাল বিলুপ্ত করে আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। ১৯৯৩ সালে ফের গ্রুপিংয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গঠন করেন গণফোরাম। সে সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান মোস্তফা মহসিন মন্টু, সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমানসহ অনেকেই গণফোরামে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়  আসে। এর দুই বছরের মাথায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখানেও কাজ করেছে দলীয় গ্রুপিং। তখন কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিক হয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। এ দলের সাধারণ সম্পাদক হন একসময়ের ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ফজলুর রহমান। অন্যদিকে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের হাত থেকে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপিতে দেখা দেয় চরম অরাজকতা। আব্দুস সাত্তার তখন বিএনপি প্রধান। সে সময় স্পিকার শামসুল হুদা চৌধুরী ও ডাক্তার এমএ মতিনের নেতৃত্বে বিএনপির একটি বড় অংশ যোগ দেয় এরশাদের সঙ্গে। সে সময় বিএনপিতে হুদা-মতিন গ্রুপ নামে আলাদা গ্রুপই ছিল। বাকি যারা ছিলেন তাদের অনেকেও প্রকাশ্যে বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। সেসময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান খান দুদু ও কৃষি সম্পাদক শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ তৈরি হয়। এ গ্রুপের দুদু দলীয় প্রধান চেয়ারম্যান পদে বিচারপতি আবদুস সাত্তারের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এমন চরম এক দুর্যোগ মুহূর্তে অন্য নেতারা খালেদা জিয়াকে সামনে ঠেলে দেন। তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত হন। আর চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার। এর কিছুদিন পরই খালেদা জিয়াকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কেন্দ্রীয় নেতা কে এম ওবায়দুর রহমানও গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বিএনপি ছেড়ে নিজে জনতা দল নামে পার্টি গঠন করেন। যদিও পরে তিনি ফের বিএনপিতে ফিরে এসেছিলেন। আর গ্রুপিংয়ের জেরে তো বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিএনপি ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন তিনি। আর বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তো একাধিকবার দল ছাড়েন আবার নতুন দল গঠন করেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের মন্ত্রী কর্নেল অলি আহমদও গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে বিএনপি ছাড়েন। তিনি গঠন করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি নামে নতুন দল। তার সঙ্গে যোগ দেন বিএনপির এমপি ও মন্ত্রী অনেকে। গ্রুপিংয়ের শিকার হয়ে দল ছাড়াই নয়, একই নামে পৃথক দল গঠন করে দলীয় সম্পত্তিও ভাগ-ভাটোয়ারার ঘটনা ঘটে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিতে। এর এক গ্রুপে মঞ্জুরুল আহসান খান ও মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম। অন্য গ্রুপে সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ও নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক গণফোরামে ও নুরুল ইসলাম নাহিদ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আশির দশকে গ্রুপিং এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, জাসদ ভাঙনের শিকার হয়। জাসদ থেকে বেরিয়ে যান খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, হাবিবুল্লাহ বাহার, শুদ্রাংশু চক্রবর্তী, আ.ফ.ম মাহবুবুল হক, সাবেক এমপি আবদুল্লাহ সরকারসহ অনেকে। তারা গঠন করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। এরপর জাসদ ফের ভাঙনের শিকার হয়। এবার জাসদ ব্র্যাকেট বন্দি হয়। একপক্ষে আসম আব্দুর রব, অন্যপক্ষে শাজাহান সিরাজ। যাদের পরিচয় ছিল জাসদ (রব) ও জাসদ (সিরাজ)। এরপর শাজাহান সিরাজ থেকে পৃথক হয়ে শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও হাসানুল হক মিলে গঠন করেন জাসদ (ইনু)। ওদিকে শাজাহান সিরাজ থেকে পৃথক হয়ে মহিউদ্দিনও আলাদা জাসদ গঠন করেন। পরে মহিউদ্দিন গ্রুপ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আর শাজাহান সিরাজ বিএনপিতে যোগ দেন। সর্বশেষ গতবছর হাসানুল হক ইনুর জাসদ (ইনু) ভেঙে যায়। এক গ্রুপে হাসানুল হক ইনু, শিরিন আক্তার, জিকরুল হকসহ অন্যরা। অপর গ্রুপে শরীফ নূরুল আম্বিয়া, মাঈনুদ্দিন খান বাদল, শরীফুল ইসলাম জিন্নাহসহ অনেকেই। গ্রুপের কারণে ন্যাপ ভেঙে এখন দলটিই প্রায় বিলুপ্তির পথে। পাকিস্তান আমলে আদর্শিক কোন্দলে মওলানা ভাসানী ও মোজাফফর দু’ভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। স্বাধীনতার পর যাদু মিয়ার নেতৃত্বে মওলানা ভাসানী গ্রুপের একাংশ যোগ দেয় বিএনপিতে। আর কাজী জাফরের নেতৃত্বে গঠন হয় ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি)। কাজী জাফর সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার পর ভেঙে যায় ইউপিপি। আর তখনই ইউপিপি ছেড়ে রাশেদ খান মেনন ও হায়দর আকবর খান রনো গঠন করেন ওয়ার্কার্স পার্টি। অন্যদিকে ইউপিপির চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম যোগ দেন বিএনপিতে। অপরদিকে ন্যাপের মোজাফফর গ্রুপ ছেড়ে চলে যান চৌধুরী হারুনুর রশীদ ও মতিয়া চৌধুরী। গঠন করেন ন্যাপের হারুন-মতিয়া গ্রুপ। এর কিছুদিন পরই মতিয়া চৌধুরী যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ন্যাপ এখানেই থেমে থাকেনি। হামিদুল কবীরের নেতৃত্বে গঠন হয় একতা পার্টি। যাতে যোগ দেন সুরঞ্জিৎ সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ আফজালসহ আরো অনেকে। এরশাদের জাতীয় পার্টি এখন বহু ভাগে বিভক্ত। গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে একাধিক নেতা জাপা ছেড়ে নতুন দল গঠন করেন। ৯০-এর পর নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এরশাদকে ছেড়ে যান। তারা জাতীয় পার্টি (মঞ্জুর) নামে নতুন দল গঠন করেন। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে জেপি (মঞ্জু) গঠন করেন। সর্বশেষ কাজী জাফরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ভেঙে যায়। কাজী জাফর আরেক জাতীয় পার্টি গঠন করেন। এছাড়াও গ্রুপিংয়ের কারণে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন অনেক নেতা। এমন নেতার তালিকাও কম নয়। আবার অনেক নেতাকে গ্রুপিং রাজনীতির শিকার হয়ে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে। আর জেলায় জেলায় নিজ দলের নেতাদের গ্রুপিং প্রকাশ্যে। এখানে কোনো রাখঢাক নেই। মন্ত্রীর প্রভাব বেশি না এমপির- এনিয়ে গ্রুপিং সর্বত্র। আবার জেলা সদরের এমপির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আসনের এমপির দা-কুমড়া সম্পর্ক। নেতারাও থাকেন দুই এমপিকে ঘিরে দুই বলয়ে।  এর রেশ ধরে অঙ্গ সংগঠনেও গ্রুপিং ডালপালা ছড়ায়। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সদস্যকে জিজ্ঞেস করলে সে অকপটে বলেন আমি সভাপতি বলয়ের কিংবা বলেন সম্পাদক বলয়ের। মধুর কেন্টিনে বসলেও ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক এক সঙ্গে বসেন না। দু’জন দুপাশে বসেন। তাদের ঘিরে রাখেন নিজ নিজ বলয়ের নেতারা। ছাত্রদলেও এমন পরিস্থিতি। তারা প্রকাশ্যে রাজনীতির মাঠে হরহামেশা না থাকলেও গ্রুপিংয়ে কেউ পিছিয়ে নেই।

আল কায়েদায় যোগ দেয়া কেরালার আবু তাহির সিরিয়ায় নিহত

আল কায়েদায় যোগ দেয়া সন্দেহভাজন আবু তাহির যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছে সিরিয়ায়। সে ভারতের কেরালার পালঘাট এলাকার বাসিন্দা। বার্তা সংস্থা এএনআই’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এতে বলা হয়, ২০১৩ সালে ওমরাহ করতে যায় আবু তাহির। কিন্তু ওমরা থেকে আর ফিরে আসে নি। সন্দেহ করা হয় এ সময়ে সে যোগ দিয়েছিল আল কায়েদায়। শারজায় বসবাস করেন তার আত্মীয়-স্বজনরা। তারা খবর পেয়েছেন গত ৪ঠা এপ্রিল নিহত হয়েছে সে। এর আগে আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশে আচিন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের বিমান হামলায় নিহত হয় কেরালার আরেক যুবক। সে যোগ দিয়েছিল আইসিসে। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের টানেল ও সদস্যদের লক্ষ্য করে এ মাসে সবচেয়ে শক্তিশালী, অথচ পারমাণবিক নয় এমন বোমা হামলা করে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ড্রোন হামলায় একই গ্রুপের আরো এক যুবক নিহত হয়। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ দেশের ভিতরে ও বাইরে ক্রিমিনাল ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার করে দু’জনকে। তারা আইএস বা একই রকম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ আছে।

‘পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিতে চান কিম জং উন’

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বিশ্বকে ধ্বংস করে দিতে চান। তাই এক্ষেত্রে তার হাতের খেলনা না হয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তে। ওদিকে উত্তর কোরিয়া পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উত্তেজনাকর বলে আখ্যায়িত করেছেন পোপ ফ্রাঁসিস। এক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার জন্য নরওয়ের মতো তৃতীয় কোনো দেশের প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অনলাইন স্কাই নিউজ। শনিবার প্রেসিডেন্ট দুতের্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর ধৈর্য্য প্রদর্শন করুন। কিম জং উনের হাতের খেলনা হওয়া এড়িয়ে যান। কারণ, কিম জং উন বিশ্বকে ধ্বংস করে দিতে চান। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যে ভয়াবহ, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক উদ্বেগ। তিনি আরো বলেন, একটি ভুল পদক্ষেপই ঘটিয়ে দিতে পারে বিপর্যয়। আর তাতে একটি পারমাণবিক যুদ্ধের প্রথম শিকার হবে এশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন এমন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সময় নষ্ট করছে, যে কিনা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েই আনন্দ পায়। উল্লেখ্য, এসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস-এর (আসিয়ান) বর্তমান চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্ট দুতের্তে। শনিবার দিনশেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করার কথা তার। এ ফোনে কিমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে না যেতে তিনি ট্রাম্পকে আহ্বান জানাবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পকে ফোন করেছেন কিনা তা জানা যায় নি। আসিয়ান সম্মেলনের পরে রাজধানী ম্যানিলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, দৃশ্যত এই দুটি দেশ তাদের খেলনা নিয়ে খেলছে। কিন্তু এই খেলনাগুলো প্রকৃত অর্থে কোনো বিনোদন নয়। ওদিকে মিশরের রাজধানী কায়রো সফর শেষে পোপ ফ্রাঁসিস সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি এই দুটি দেশের মধ্যে কোনো যুদ্ধ লাগে তাহলে মানবিকতার সৎগুণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তার ভাষায়, আমি সব নেতার প্রতি আহ্বান জানাই এবং জানিয়ে যাবো, বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছে আহ্বান জানাই কূটনৈতিক উপায়ে সঙ্কট সমাধানের একটি উপায় বের করার জন্য। বিশ্বে এমন অনেক সুযোগ রয়েছে। অনেক মধ্যস্থতাকারী রয়েছে, যারা এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে। উদাহরণ হিসেবে নরওয়ের নাম বলা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি ভাল চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছিল নরওয়ে। ওই চুক্তি অসলো চুক্তি নামে পরিচিত। পোপ ফ্রাঁসিস এক্ষেত্রে জাতিসংঘের প্রতিও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এরই মধ্যে অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। আগামী মাসে ইউরোপ সফরে আসার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের। তখন তার সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পোপ।

সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন বাতিলে পিছপা হবো না : প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার সিনহা বলেছেন, জনগনের অধিকার ক্ষুণ্ন করে ভবিষ্যতে সংবিধানের কোনো বিধান বা অন্য কোনো আইন সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্ট পিছপা হবে না। রোববার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রথম ব্যাচের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান প্রণয়ন করেছেন তাতে সুপ্রিম কোর্টকে জুডিশিয়াল রিভিউ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সংবিধানের এই ক্ষমতাবলেই সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম, অষ্টম ও ১৩তম সংশোধনী বাতিল করে দিয়েছে। এতে কোনো দ্বিমত নেই। তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য ঐক্যমত হলেই সংবিধান সংশোধন করতে পারেন। শুধু দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যই নয়, পুরো সংসদ মিলে যদি সংবিধানকে বাতিল করে দেয় কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ইচ্ছা করলে রেখে দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট যদি দেখে সংবিধানের মূল ভিত্তি নষ্ট হয়ে গেছে, আইনের শাসনও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে ও জনগণের অধিকারের ওপর আঘাত করেছে তাহলে সংসদের ওই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্ট বেইআইনি ঘোষণা করতে পারে। ভূমি আইন বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক আইনজীবী এবং বিচারপতিরাও ভূমি আইন বিষয়ে অজ্ঞ। ভুমি আইনের বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। উচ্চ আদালতেও এ সংক্রান্ত বিচারপতির সংখ্যা কম। ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া এবং আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরকার আলী আককাস উপস্থিত ছিলেন।

কিশোর প্রেম পরিণতি নির্মম by মহিউদ্দিন অদুল

বাপ্পীর বয়স সবেমাত্র ১৭-এর কোঠায় পড়েছে। রাজধানীর বাড্ডার আলাতুন্নেছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়  থেকে এসএসসি পাস করে কলেজে পড়ছে। তারা তিন বন্ধু বাপ্পী-রিমন ও কামাল নবম শ্রেণিতে থাকতে এক শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তো। একই ব্যাচে পড়তো একই ক্লাসের আরো চার ছাত্রী। শ্রাবন্তী, রিমি, শিল্পা ও রিনা। এর মধ্যে রিনা ছাড়া বাকি তিনজনই ওই তিন বন্ধুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এরপর ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি। মা-বাবার কাছে মিথ্যা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে ডেটিং। রাত জেগে গোপনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে কথা। ফেসবুকে রাতদিন চ্যাটিং। এভাবেই চলছিল ওই তিন কিশোর-প্রেমিক প্রেমিকার দিনকাল। চলে এলো এসএসসি পরীক্ষা। ফেল করলো বাপ্পী ও রিমন। তখন সে প্রেমিকাকে বুঝালো গুলশানেসহ কয়েক স্থানে আমাদের দোকান আছে। আমি তো পড়াশুনা করবোই। তাছাড়া পড়াশুনা করে তো আমি এখনকার মতো বাবার ব্যবসাই দেখবো। কিন্তু তা কিছুতেই শুনতে নারাজ মেয়ের পরিবার। আবার শ্রাবন্তীকেও তার বাবা বারবার বুঝাতে না পেরে মেয়েকে বহুবার মারধর করেছে। মারাত্মকভাবে আহতও করে। কিছুতেই তাদের বিচ্ছেদ ঘটাতে পারেনি। এক পর্যায়ে শাবন্তী পরিবারের দোহাই দিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে নেশার দিকে ঝুঁকে বাপ্পী। তখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে। কিশোর প্রেমের স্মৃতি রোমন্থন করে এখন বিমর্ষভাবে কাটছে সময়।
কিন্তু তার অপর বন্ধু রিমনের প্রেমের আত্মঘাতী নির্মমতা তার কাছেও ছিল অকল্পনীয়। রিমনের প্রেমিকা বাড্ডার স্থানীয় রিমি মোটরসাইকেলে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে চাইতো। রিমনের তা ছিল না। ফলে রিমি প্রায় সময় পরিচিতদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতো। তা রিমনের খুব খারাপ লাগাতো। এজন্য রিমন পরীক্ষায় পাস করলে বাবা-মার কাছে মোটরসাইকেল উপহার চায়। বাবা-মা এসএসসি পাস করলে তা দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু সেও এসএসসিতে ফেল করে। রিমিও অন্যদের সঙ্গে মোটর সাইকেলে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। এসব সইতে না পেরে গত বছরের মাঝামাঝিতে বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে বসে। এরপর তাকে উদ্ধার করে গুলশান লিংক রোডের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। তখনও জীবিত ছিল। সেখান থেকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ততক্ষণে সব শেষ। কিশোর প্রেমের নির্মম বলি হলো রিমন। অপর জুটি কামাল ও শিল্পার সম্পর্ক অবশ্য এখনও টিকে আছে। দু’জন রাজধানীর দু’কলেজে পড়ছে।
কিন্তু বাপ্পীর অপর এক বন্ধু ফয়সালের নির্মম পরিণতি ঘটে প্রায় দু’বছর আগে। বাড্ডার ওই বন্ধু ষষ্ঠ শ্রেণিতেই প্রেমে পড়ে সহপাঠী সায়মার। প্রেমের নেশায় অষ্টম শ্রেণিতেই ফয়সাল পড়াশুনার পাঠ চুকায়। উভয় পরিবার নানা চেষ্টায় তাদের নিবৃত্ত করতে পারেনি। কয়েক বছরেও এই অপরিণামদর্শী প্রেমের ছেদ ঘটাতে পারেনি দু’পরিবার। অগত্যা গত দু’বছর আগে তাদের প্রেমও মেনে নেয় দু’পরিবার। দু’জনের বাল্যবিয়ে দিয়ে সংসারে তোলে কিশোরী বউ সায়মাকে। কিন্তু নতুন সংসারে হাঁটতে বসতে শাশুড়ি-ফুফু শাশুড়ির খোঁচা। কয়েকদিনেই ধৈর্যহারা হয়ে অতীষ্ট হয়ে উঠে সায়মা। এক পর্যায়ে সে স্বামীকে বলে, ‘তুমি আমাকে এই নরক যন্ত্রণায় কেন এনেছো। তোমার পরিবার মেনে নিতে না পারলে তুমি আমাকে বলতে। আমি ঘর না বেঁধেই তোমাকে সারাজীবন ভালোবেসে যেতাম। আমি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে তোমাকে ভালোবাসার প্রমাণ দিয়ে যেতাম। এখানে এভাবে আমি থাকতে পারবো না। আমি জীবন দিয়ে তোমার ভালোবাসার প্রমাণ দিয়ে যাবো। আত্মহত্যা করবো’। কিন্তু সায়মা নয়, প্রাণ দিয়েছে ফয়সাল। কিশোর প্রেমে সদ্য বিবাহিতা স্ত্রীর এমন কথায় মারাত্মকভাবে মনোকষ্টে ভোগে ফয়সাল। এরপরই সে কাউকে তা বুঝতে না দিয়ে আত্মহননের দিকে এগিয়ে যায়। বিয়ের পঞ্চম দিনই মা’কে বলে স্ত্রীকে তার বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আর নিজের মায়ের সব স্বর্ণালঙ্কার গোপনে নিয়ে স্ত্রীকে দিয়ে দেয়, যা তার নিজের কাছে রাখতে বলে। স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেয়ার পর নিজ কক্ষে ঢুকে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণেও বের হওয়ার নাম নেই। এরপর বাপ্পী বাসায় গেলে ফয়সাল বের হচ্ছে না কেন তা দেখতে বলে মা। বাপ্পী নানাভাবে উঁকিঝুঁকি দিয়ে এক পর্যায়ে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে চিৎকার করে উঠে। তারপর দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
গতকাল দুপুরে ফার্মগেট মোড়ের পার্কের এক বেঞ্চে অপর দুই বন্ধু ও দু’বান্ধবীর সঙ্গে আড্ডারত বাপ্পীর কাছে প্রেমের কথা জানতে চাইতেই তার ও বন্ধুদের সাম্প্রতিক অতীতের এই করুণ কাহিনী বর্ণনা করেন। 
বাপ্পী বলেন, কিশোর বয়সে বন্ধু-বান্ধবী বা ছেলে-মেয়ের শুধু হাসি, চাহনি, চোখ, মুখ, চলাফেরা, পোশাক-আশাক ইত্যাদির ভাললাগা থেকেই আবেগের বশে প্রেম হয়ে যাচ্ছে। তখন ভালো-মন্দ বা পরিণাম না বুঝেই তাতে ঝুঁকে পড়েছি। আমি তো শুধু শ্রাবন্তীর হাসি ও গালের টোল দেখেই প্রেমে পড়ি। তারপর তার সবকিছুই আমার কাছে খুব ভালো লাগাতো। ফেসবুক মোবাইলে তার সঙ্গে ডুবে থাকতাম। সেও আমার জন্য প্রাণ দিতে পারতো। তার পরিবারের চাপে এক সময় ঝরে পড়লো। আত্মহত্যার চিন্তা এলেও পরে নিজেকে সামলে নিয়েছি। কিন্তু কষ্টটা যায়নি। আর প্রেমের বলি দু’বন্ধুর কাহিনী সারাজীবন আমাকে কষ্ট দেবে।
একই পার্কে কিছুটা দূরে বসে কথা বলছিলেন অপর কিশোর জুটি শাকিল ও রাজিয়া। চলতি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে রাজিয়া ইউনিফর্মসহ হাজির পার্কে। আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল তার প্রেমিক শাকিল। তাদের দু’জনের বাড়ি দু’জেলায় হলেও ফার্মগেটে কোচিংয়ের সূত্রে জানাশোনা। প্রেম। এ বিষয়ে কথা বলতে চায়নি এই প্রেমিক যুগল।
মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে আসা অভিভাবক শায়লা খানম বলেন, টেলিভিশনের নাটক, সিনেমার প্রেম কাহিনী, ফেসবুক, ইন্টারনেট ইত্যাদির কারণে স্কুলে পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা প্রেমে জড়িয়ে যাচ্ছে। একবার জড়িয়ে গেলে তার প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়া আর কিছু বোঝে না। বাবা-মার সম্মান, ভবিষ্যতের ভাবনা চুলায় যাক। যেন প্রেমই সব। আর কিছুই নেই। এসব আতঙ্কে মেয়েকে প্রতিদিন স্কুলে আনা-নেয়া করি।
জানা যায়, রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন নিম্ন মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কলেজে পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। ইন্টারনেট, ফেসবুক, টেলিভিশনের কল্যাণে দ্রুত বিস্তার ঘটছে কিশোর প্রেমের। ঘটছে প্রেম ঘটিত ঝগড়া-ঝাটিসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। রাজধানীর পার্ক, রাস্তাঘাট, রেস্তরাঁ, হোটেলে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের। বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়ছে পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের পড়াশুনা ও ভবিষ্যৎ। অনেকে ঝরে পড়ছে পড়াশুনা থেকে। সমাজের পরিবর্তন ও অবক্ষয় এবং পরিবারের কাঠামো ভেঙে যাওয়ার কারণে ক্রমবর্ধমান একই অপরিণামদর্শী অপরিণত প্রেমের লাগাম এখনই টেনে ধরা না গেলে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তানিয়া হক মানবজমিনকে বলেন, পরিবারে এখন বাবা-মা সন্তানদের সময় দিতে পারছে না। সুস্থ বিনোদন হারিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে এখন শিশু-কিশোরদের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। গ্লোবালাইজেশন ও তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে ইন্টারনেট সবার জন্য উন্মুক্ত। হাতের কাছেই ভালো-মন্দ সবকিছু। এত এত টিভি চ্যানেলে প্রেমের উপরই অধিকাংশ নাটক-সিনেমা-অনুষ্ঠান। তাহলে এখন এত উল্টো পথ তৈরি করে রেখে সোজা পথে হাঁটতে বললে কী হবে? শিশু-কিশোররা তো পথ হারাবেই। ১৮ বছরের আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার আইন করাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এখনই নেয়া জরুরি বলে মনে করছেন তিনি।

ভয়ঙ্কর খেলা

উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনের অস্ত্রভাণ্ডারে খুব শিগগিরই যোগ হতে যাচ্ছে দূরপাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দিচ্ছেন সামরিক জবাবের হুমকি। ফলে অকস্মাৎ পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি জাগ্রত হয়েছে। বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। দু’পক্ষ থেকেই চলছে তীব্র বাগাড়ম্বর। মার্কিন রণতরী ও পারমাণবিক সাবমেরিন নোঙর ফেলেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। সঙ্গে যোগ দিয়েছে জাপানের রণতরী। কিন্তু টলেনি উত্তর কোরিয়া। গতকালও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি। উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিস্ফোরিত হয়ে পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে বটে। কিন্তু পরীক্ষা করাটাই দেশটির নতি না স্বীকার করার লক্ষণ। কিন্তু যুদ্ধের হুমকি আসলে কতটুকু গুরুতর? জার্মানির প্রখ্যাত পত্রিকা দার স্পাইগেল এই প্রশ্নেরই জবাব দিতে চেয়েছে।
ম্যাথিউ ভন রোর, ক্রিস্টফ শিরম্যান, উইল্যান্ড উইগন্যার ও বার্নার্ড জ্যান্ড- দার স্পাইগেলের এই চার সাংবাদিকের লেখা এক বিশ্লেষণী নিবন্ধে বলা হয়, মহাপ্রলয়ের মহড়া অনেকদিন ধরেই চলছিল। প্রতি দুই মাস অন্তর অন্তর বিকালের শুরুর দিকে সাইরেন বেজে উঠে সিউলে। সঙ্গে সঙ্গে থমকে দাঁড়ায় গাড়ি-ঘোড়া। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ব্যস্ত সড়ক মোড়ে অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। হলদে বাহুবন্ধনী পরা স্বেচ্ছাসেবীরা পথচারীদের নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী আশ্রয়স্থলে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী শহরে এমন আশ্রয়স্থলের সংখ্যা আছে কয়েকশ’।
প্রস্তুত সামরিক বাহিনীও। সিউল ও সীমান্তমুখী মহাসড়কের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ওয়াচটাওয়ার। কয়েক কিলোমিটার অন্তর অন্তর সড়কের ওপর রাখা আছে কংক্রিটের তৈরি ভারী প্রতিবন্ধক। যুদ্ধ বাধলেই, স্বয়ংক্রিয় বিস্ফোরণ ঘটবে, আর সড়কের ওপর পড়ে যাবে এই প্রতিবন্ধক। ফলে আক্রমণকারীর এগুনোর পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।
উপকূলবর্তী সমুদ্র সৈকতেও পুঁতে রাখা আছে ট্যাংক-ফাঁদ আর কাঁটাতারের বেড়া। এসব কিছুই করা হয়েছে কোরিয়ান উপদ্বীপের দরিদ্র কিন্তু সামরিকভাবে শক্তিশালী উত্তরের হুমকি থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় অর্ধকে সুরক্ষিত রাখতে। সমস্ত সরঞ্জামই প্রতিরক্ষামূলক। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর আক্রমণের পরিকল্পনাও আছে। ‘কোরিয়া ম্যাসিভ পানিশমেন্ট অ্যান্ড রিটালিয়েশন’ বা সংক্ষেপে ‘কেএমপিআর’ নামে পরিচিত এই পরিকল্পনা। এর বিস্তারিত গোপন রাখা হয়েছে। কিন্তু সম্ভাব্য এক কোরিয়ান যুদ্ধের প্রথম দৃশ্যপট হবে এমন: উত্তর কোরিয়া হামলার আগেই দক্ষিণ কোরিয়া চেষ্টা করবে প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলগুলো নিজেদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করে দিতে। আর উত্তর কোরিয়ার যেসব ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট ফাঁক-ফোকর দিয়ে উৎক্ষিপ্ত হয়ে যাবে, সেগুলোকে ধ্বংস করতে গুলি ছুড়বে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। উত্তর কোরিয়া তাদের পদাতিক সৈন্যবাহিনীকে দক্ষিণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করানোর আগেই, দক্ষিণের বিশেষ বাহিনী পিয়ংইয়ং-এ ঢুকে শেষ করে দেবে একনায়ক কিম জং উনকে। মোটামুটি এটাই হলো কেএমপিআর পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাথমিক দৃশ্যপট।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই পরিকল্পনা প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এশিয়ার সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু এখন এই দৃশ্যপটকে বরং বাস্তবই মনে হচ্ছে। ২০০৬ সালের পর কোরিয়ান উপদ্বীপ একটি সামরিক সংঘাতের এতটা নিকটবর্তী কখনই ছিল না বলে মন্তব্য করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট থেকে চিন্তা করলে পরিস্থিতি এর চেয়ে সংবেদনশীল হতেই পারে না। পিয়ংইয়ং-এ ক্ষমতায় বসে আছেন কিম জং উন নামে এক একনায়ক। দৃশ্যত, তিনি নিজের শাসনক্ষমতার অস্তিত্বের স্বার্থে যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত। কিন্তু এই যুদ্ধে মারা যেতে পারে হাজার হাজার, এমনকি লাখ লাখ মানুষ। পৃথিবীর অপরপ্রান্ত ওয়াশিংটনের ক্ষমতার গদিতে বসে আছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এই ভদ্রলোক গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বটে, কিন্তু দুনিয়ার সম্পর্কে তার জ্ঞান খুব কম। পারমাণবিক অস্ত্রের কোড ছাড়াও, তার হাতে আছে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট, যেটি তিনি ব্যবহার করেন অবোধ ব্যক্তির মতো। সিরিয়া ও আফগানিস্তানে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, ক্রুজ মিসাইল কিংবা প্রকাণ্ড বোমা ফেলতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করেন না।
ফলে এই সংঘাত উস্কে দেয়ার জন্য কিম জং উনই একমাত্র দায়ী নন। হোয়াইট হাউসে বসে থাকা ওই লোকটিও এক্ষেত্রে অনুঘটক। এই দুই লোক তাবৎ দুনিয়ার মানুষের  স্নায়ু নিয়ে খেলছেন।
ট্রাম্পের ক্ষমতাগ্রহণের তিন সপ্তাহ আগে নববর্ষের দিনে কিম জং উন ঘোষণা করেন যে, তার দেশ শিগগিরই আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করবে। এ ধরনের একটি রকেট পৌঁছে যেতে পারে উত্তর আমেরিকা মহাদেশেও। কিমের এই ঘোষণাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর উত্তর কোরিয়ার সরাসরি হামলার সবচেয়ে গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকি। জবাবে ট্রাম্প এক টুইটে লিখেন, ‘এমনটা কখনই হবে না।’ ট্রাম্প মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো পিয়ংইয়ং-এর পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার। কিন্তু পররাষ্ট্র নীতির প্রশ্নে ট্রাম্প শুধু অনভিজ্ঞই নন, প্রায়ই তিনি আনাড়িপনার পরিচয় দেন। এর সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ দেখা গেছে দুই সপ্তাহ আগে, যখন ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, সতর্কতার জন্য তিনি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে তিনি উত্তর কোরিয়া অভিমুখে পাঠিয়েছেন। পরে অবশ্য দেখা যায় ওই রণতরী অস্ট্রেলিয়ার দিকে যাচ্ছিল একটি মহড়ায় অংশ নিতে। হতে পারে ট্রাম্প ধাপ্পাবাজি করেছেন, কিংবা কোনকিছু নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। কিন্তু এই ঘটনায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই কমান্ডার-ইন-চিফের অধীনে পরিস্থিতি কোনদিকে ঘুরে যেতে পারে।
বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় জেরবার ট্রাম্প দৃশ্যত উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে বাগাড়ম্বরেই মনোযোগ সরানোর পথ বলে মনে করছেন। এক্ষেত্রে তিনি দৃশ্যত সফলও। তিনি যখন সিরিয়ায় এ মাসের শুরুতে ৫৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেন, তখন খোদ তার সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়িয়েছেন ট্রাম্প।
ফলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক প্রকল্প এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প- এ দুয়ের অর্থ হলো, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ং-এর বিবাদ এক নতুন ও অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অতীতে সংঘাতের এমন সমূহ ঝুঁকি সৃষ্টির নজির বেশ বিরল। আরো ভয়াবহ বিষয় হলো, কোরিয়ান উপদ্বীপে যেকোনো যুদ্ধ পারমাণবিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। জড়িয়ে পড়তে পারে কয়েকটি বৃহৎ আঞ্চলিক শক্তিধর রাষ্ট্র। এ যুদ্ধে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের চেয়েও বেশি পরিমাণ মানুষ শরণার্থী হবে।
চীনের তীব্র আপত্তির মুখেও দক্ষিণ কোরিয়ায় মার্কিন থাড আকাশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের কাজ শুরু হয়েছে। সংঘাতের আরো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এ সপ্তাহে। মঙ্গলবার, ইউএসএস মিশিগান নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫০টি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রধারী পারমাণবিক সাবমেরিন দক্ষিণ কোরিয়ায় থেমেছে। এটি মোতায়েন করা হয়েছে ২৫শে এপ্রিল, যেদিন উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কর্মকর্তারা বলছেন, এটি স্রেফ রুটিন কাজ, কিন্তু পিয়ংইয়ং একে অন্যভাবে নিতে পারে। একই দিনে উত্তর কোরিয়াও এক বিশাল আর্টিলারি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। সেদিন অস্বাভাবিকভাবে ট্রাম্প সিনেটের প্রত্যেক সদস্যকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানাতে।
কোরিয়ান উপদ্বীপে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষের বসবাস। এর চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, বিশ্বের তিন শীর্ষ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপান যদি কোনো সংঘাতে জড়িয়ে যায়, তবে বিশ্ব কেবল বিপর্যয়কর এক মানবিক পরিস্থতিই প্রত্যক্ষ করবে না, অর্থনৈতিক ধস হতে পারে বিশাল। এমনকি রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাহলে কি কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর পৃথিবী আরো একবার পারমাণবিক যুদ্ধের সম্মুখীন? উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র প্রকল্প থামাতে বছরের পর বছর বিপল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর সামরিক সংঘাত কি অনিবার্য?
ওয়াশিংটন ডিসির উইড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের পারমাণবিক বিস্তার রোধকরণবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট লিটওয়াক বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের দিক থেকে এক যুগান্তকারী অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে উত্তর কোরিয়া। তিনি বলেন, দেশটি আগামী দুই-তিন বছরে আন্তঃমহাদেশী ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করা যাবে এমন ১০০টি পারমাণবিক ওয়্যারহেড তৈরি করতে চায়। লিটওয়াক বলেন, ‘দেশটি সফল হলে, সমীকরণ একেবারেই পাল্টে যাবে।’ শুধুমাত্র এ বছরই কিম জং উন পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালান। সর্বশেষটি ছিল গতকাল। যদিও এ পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু এই পরীক্ষা করাটাই বিশ্বচাপের মুখে দেশটির অবাধ্যতা প্রমাণ করে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত হুমকি দিয়ে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বশান্তির প্রতি হুমকি অব্যাহত রাখে, আর নিজের মোড়ালিপনার যুক্তি বহাল রাখে, তাহলে ‘যেকোনো মুহূর্তে পারমাণবিক যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে।’
পুরো সমীকরণে চীনের অবস্থান বেশ অদ্ভুত। মূলত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তর কোরিয়ার একমাত্র বন্ধু চীন। যদিও কিম জং-উন মাঝেমাঝে চীনকেও ছেড়ে কথা বলেন না, তবুও একমাত্র এ দেশই উত্তর কোরিয়ার সহযোগী। চীনের প্রকাশ্যে অবস্থান হলো, উত্তর কোরিয়াকে তার পারমাণবিক প্রকল্প পরিত্যাগ করতে হবে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অবরোধে সমর্থনও দিয়েছে চীন। কিন্তু ডনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, চীন উত্তর কোরিয়াকে নিবৃত করতে যথেষ্ট কাজ করছে না। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ অবস্থান থেকে খানিকটা সরেছেন ট্রাম্প। তিনি এখন মনে করেন, চীন উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে খুবই চেষ্টা করছে। এমনকি উত্তর কোরিয়া গতকাল যে ব্যর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে তা ‘চীন ও দেশটির খুবই শ্রদ্ধাভাজন প্রেসিডেন্টের প্রতি অসম্মানজনক’ বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। চীনও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে সিএনএন’র খবর, পরিস্থিতি অন্যদিকে গড়ালে বসে থাকবে না চীনও। মার্কিন বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনের সামরিক বাহিনী তাদের যুদ্ধবিমানকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রেখেছে।
উত্তর কোরিয়া অতীতে অনেকবারই যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়েছে। কিম জং উন তার দেশকে সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে উদগ্রীব। তার আতঙ্ক ও ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতা আছে। ফলে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগাম আঁচ পাওয়া যায়। কিন্তু ট্রাম্পের বেলায় নয়। প্রশ্ন হলো, তিনি প্রতিক্রিয়া দেখাবেন কীভাবে? যুদ্ধ ও শান্তির প্রসঙ্গ উঠলে ট্রাম্পের মুখ দিয়ে বেরোনো প্রতিটি বাক্য ও অসতর্ক শব্দই প্রাসঙ্গিক। আর ট্রাম্পের দিক থেকে এটাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তার অনভিজ্ঞতা, আত্মবড়াই এবং টুইটারে তাৎক্ষণিক উস্কানি দেওয়ার অভ্যেস - সব মিলিয়ে তিনি এমন একজন প্রেসিডেন্ট যিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। আর এমন প্রেসিডেন্ট নিজেই নিরাপত্তা ঝুঁকি।
নিজের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় আমেরিকার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের কথা বারবার বলেছেন ট্রাম্প। আর এ দিয়ে তিনি আসলে সামরিক শক্তির কথাই বোঝাতেন তিনি। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আমাদের আবার যুদ্ধ জেতা শুরু করতে হবে।’ এই বার্তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ট্রাম্প সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা বরাদ্দ ৫৪০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেন। তিনি সামরিক বাহিনী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়তে আরো স্বাধীনতা দিয়েছেন। আর এর ফলে মার্কিন বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহতের ঘটনা সম্প্রতি বেড়েছে।
উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ৫ সপ্তাহ আগে তার এশিয়া সফরে বলেন, দেশটির পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সহিষ্ণুতার দিন ফুরিয়েছে। গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গিয়ে প্রায় একই কথা বলেন। পেন্স সদর্পে ঘোষণা করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লক্ষ্য নিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা না চালালেই বরং উত্তর কোরিয়ার জন্য ভালো।
দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে অভিজ্ঞ নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক কর্মকর্তার একজন ও আইনপ্রণেতা কিম জং ডাএ বলেন, ‘কিম জং উন কী চান, তা বোঝা সহজ। কিন্তু ট্রাম্পকে অনুমান করা যায় না।’ তিনি জানান, সিউল বিশেষভাবে যা নিয়ে উদ্বিগ্ন তা হলো আমেরিকা সম্ভবত কমান্ডো হামলা চালিয়ে কিম জং উনকে টার্গেট করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে উদ্বিগ্ন এ সম্ভাবনা নিয়ে যে, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ার অনুমতি ছাড়াই উত্তর কোরিয়ায় হামলা চালাতে পারে।’
তবে ট্রাম্প যদি সত্যিই হামলা চালাতে চান, তাহলে তার হাতে উপায় থাকবে তিনটি। প্রথমত, পারমাণবিক শক্তিসমেত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত করতে হবে। কিন্তু এ ধরণের স্থান আছে অনেক। সবগুলোকে একসঙ্গে ধ্বংস করাটা প্রায় অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সকল পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারেন। কিন্তু চ্যালেঞ্জ হলো প্রায় একই সময়ে সব হামলা চালাতে হবে। যদি এই হামলা কেঁচে যায়, তাহলে সমূহ ঝুঁকি রয়েছে যে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে। কিংবা দক্ষিণের বিরুদ্ধে প্রচলিত ধাঁচে হামলা চালাতে পারে পিয়ংইয়ং। তৃতীয় সম্ভাবনা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উত্তর কোরিয়া দখলে অভিযান শুরু করা। কিন্তু উত্তরের দিক থেকে রাসায়নিক হামলা চালানোর ঝুঁকি থাকায় এই সম্ভাবনা আগেই বাতিলের খাতায়।
কিন্তু সামরিক সংঘাত যদি এড়ানো সম্ভব হয়, ট্রাম্প ও কিম জং উন যদি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখান, আলোচনাই যদি হয় চূড়ান্ত পথ, তাহলে ট্রাম্প খুব একটা খারাপ অবস্থানে থাকবেন না। বিশ্বজুড়ে রাজনীতিবিদদের কাছে নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ট্রাম্প এক চিন্তার নাম। কিন্তু আলোচনার টেবিলে তার এই অনিশ্চয়তামাখা বৈশিষ্ট্যই বয়ে আনতে পারে সাফল্য। হয়তো, এ কারণেই ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছিলেন, এ দেশকে হতে হবে আরো কম অনুমানযোগ্য।
(মূল: জার্মানির দার স্পাইগেল। ছবি: লন্ডনের ফিনান্সিয়াল টাইমসের সৌজন্যে।)

তুরস্কে চার হাজার কর্মকর্তা বরখাস্ত

তুরস্কের আরও চার হাজার সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বছর ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন বিচারক, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা ও বিমান বাহিনীর সদস্য। খবর বিবিসির। পৃথক একটি আদেশে তুর্কি সরকার দেশটিতে টিভি ডেটিং শো নিষিদ্ধ করেছে।
এদিকে, শনিবার সকালে দেশটিতে অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া উইকিপিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার সন্দেহে ৯ হাজার পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং আরো এক হাজার পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। গত বছরের ওই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে ফেতুল্লা গুলেনকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

বারবার কেন ব্যর্থ হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

গত কয়েক মাসে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে শক্তিমত্তা দেখানোর চেষ্টা করছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের হুমকি উপেক্ষা করে শনিবারও নতুন করে আরেকটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। তবে সেটি ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের। এ নিয়ে পরপর চারটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ব্যর্থ হল উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যে চলতি মাসেই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ হয়েছে দেশটির। বিশ্বের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালেও বারবার কেন তা ব্যর্থ হচ্ছে সেটিই এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। যুক্তরাজ্যের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যালকম রিফকিন্ড মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার হামলার কারণেই উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ হয়ে থাকতে পারে। অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি। শনিবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় দক্ষিণ পিয়ংগান এলাকার একটি সেনা ঘাঁটি থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে দেশটির পূর্ব উপকূলে সিনপো এলাকা থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তা বিস্ফোরিত হয়। রিফকিন্ড আরও বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগুলো ব্যর্থ হচ্ছে, কারণ তা কাজ করার মতো যথোপযুক্ত ব্যবস্থা পিয়ংইয়ংয়ের ছিল না। তবে মার্কিন সাইবার হামলার ধারণাটিও যথেষ্ট পোক্ত। এর আগেও এমন হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকবার এ ধরনের পরীক্ষা ব্যর্থ করে দিয়েছে দেশটি।’
তবে সাইবার হামলার বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি উৎসাহিত হতে নিষেধ করেছেন রিফকিন্ড। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়া এর আগে এমন বহু পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষক পল বিভার বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত আছে, এটা সম্ভব। তাদের সাইবার সক্ষমতা অনেক উচ্চপর্যায়ের। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) পক্ষে এটা সম্ভব। তারা যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড থেকেও ওই ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে পারে।’ ডেইলি সানের খবরে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার হ্যাকারদের কাছে তার সংকেত চলে যায়। সংকেত পাওয়ামাত্র হ্যাকাররা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রের ভেতরে থাকা ভাইরাসকে সক্রিয় করে তোলে। আর এতেই ধ্বংস হয়ে যায় ক্ষেপণাস্ত্রটি। নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়, এর আগে ২০১৪ সালে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিরুদ্ধে পেন্টাগনকে সাইবার ও ইলেকট্রুনিক হামলা চালানোর প্রযুক্তি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিবিসির সাংবাদিক স্টিফেন ইভান্স বলেন, উত্তর কোরিয়ার এ ব্যর্থতার দ্বারা এটি আবারও বোঝা যাচ্ছে, পিয়ংইয়ংয়ের বিশাল সামরিক প্যারেড এবং সারি সারি ক্ষেপণাস্ত্রের অর্থ এই নয় যে, তাদের কাছে একটি কার্যকর পরমাণু অস্ত্রের বহর আছে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো উত্তর কোরিয়ার জন্য নতুন কিছু নয়। যদিও তাদের সফলতার হার আগের চেয়ে বেড়েছে, তবে তা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো যথেষ্ট সফল এখনও নয়।

কাশ্মীর নিয়ে সমাধানের আহ্বান এরদোগানের

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। প্রথমবারের মতো ভারত সফরের প্রাক্কালে শনিবার তিনি এ আহ্বান জানান। রোববার থেকে এ সফর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। খবর আনাদুলো নিউজ। এরদোগান বলেন, এ সফরের সুবাদে ভারত ও তুরস্কের মধ্যে সম্পকোর্ন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অন্যান্য নানা দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হবে। বক্তব্যে এরদোগান কাশ্মীর ইস্যুটিও তুলে ধরেন।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘ ৭০ বছরের মতো সময় ধরে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য সংঘাত চলছে। নিজেদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হলেও এই বিষয়ে সমাধানে আসা প্রয়োজন। কাশ্মীরের উন্নয়নে ও ভবিষ্যতের জন্য এ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার দাবি জানান এরদোগান। এর জন্য দুই দেশকেই উন্মুক্ত আলোচনায় বসার তাগিদ দেন তিনি। তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা দক্ষিণ এশিয়াতে শান্তি দেখতে চাই। বিশ্বশান্তি বজায় রাখার জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরি। এখন পর্যন্ত কাশ্মীর নিয়ে সংঘাতে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর ভারত তার নিজ অংশের শান্তি বজায় রাখার জন্য পাঁচ লাখেরও বেশি সৈন্য মোতায়েন করে রেখেছে।

'দেহব্যবসা চালাচ্ছেন নারী এমপি'

খোদ জনতা ভবনে দেহব্যবসা চালাচ্ছেন বিজেপির নারী সংসদ সদস্য। নিজের ফেসবুকে এমনই বিতর্কিত একটি পোস্ট করেন অসম পুলিশের রিজার্ভ ব্যাটেলিয়নের ডিএসপি অঞ্জন বরা। পরে শনিবার সিআইডি তাকে গ্রেফতার করেছে। ২৫ এপ্রিল অঞ্জন বরা ফেসবুকে লেখেন, 'অসম সচিবালয় জনতা ভবনে নিজের কক্ষে নির্লজ্জ দেহব্যবসা চালাচ্ছেন বিজেপির এক বিধায়িকা। প্রতি তিন ঘণ্টার জন্য নিচ্ছেন এক লাখ টাকা। রমরমিয়ে চলছে ওই ব্যবসা। ওই বিধায়িকার পদবি কিন্তু চক্রবর্তী নয়।'
বিজেপির দুই নারী এমপির একজন বিজয়া চক্রবর্তীর মেয়ে সুমন হরিপ্রিয়া, অন্যজন অভিনেত্রী আঙুরলতা। এমন পোস্টের পরে রাজ্যজুড়ে নিন্দা শুরু হয়। ফের অঞ্জন বরা ফেসবুকে লেখেন, তিনি সঠিক জেনেই সব বলেছেন। ডিজিপি মুকেশ সহায় সিআইডিকে অঞ্জন বরার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন। এরপর শনিবার অঞ্জন বরাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগেও ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বরখাস্ত হয়েছিলেন ডিএসপি অঞ্জন বরা। দেহব্যবসার মন্তব্যের আগের দিনেও বরা লিখেছিলেন, সংবিধান সংশোধন করে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করা দরকার। তার সব মন্তব্যের শেষেই হিন্দুত্বের স্লোগান থাকে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

জয়ললিতার চা বাগান ঘিরে রহস্যময় সিরিজ খুন

ভারতে তামিলনাডু রাজ্যের প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার চা বাগানকে কেন্দ্র করে গত পাঁচদিন ধরে যা চলছে, সেরকমটা দেখা যায় ইংরেজি থ্রিলার ছবিতেই। প্রথমে একটা খুন, তারপর একে একে সন্দেহভাজন খুনিদেরও পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা। এক সন্দেহভাজন খুনির মৃত্যু, তারপর অন্যজনের অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া! তারপরে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির নথির হদিস গায়েব! খবর বিবিসির। পুলিশ বলছে, নীলগিরি পাহাড়ের কোঢানাড এলাকায় জয়ললিতার যে বিশাল চা বাগানটি রয়েছে, তার এক রক্ষী ওম বাহাদুর খুন হন ২৪ এপ্রিল রাতে। সেই রাতে বাগানে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতকারী। বাগানের বাংলো বাড়িটিতে চালানো হয় লুটপাট। গ্রামবাসীদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে যে দুটি গাড়িতে করে এসেছিল হামলাকারীরা। তদন্ত করে পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে জয়ললিতারই প্রাক্তন গাড়িচালক কনগরাজের ওপরে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী শ্যামও ওই ঘটনায় জড়িত ছিল বলে পুলিশের সন্দেহ হয়। তিনজনকে গ্রেফতারও করা হয়। আর আহত রক্ষীর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে হামলাকারীদের চেহারার স্কেচ তৈরি করে পুলিশ। তারপরেই শুক্রবার রাতে একটি গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটে- সালেম জেলায় একটি বাইকে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা দেয় একটি গাড়ি। ঘটনাস্থলেই বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানোর পরে পুলিশ বুঝতে পারে ওই দেহটি আসলে জয়ললিতার প্রাক্তন চালক কনগরাজের, যাকে চা বাগানে হামলা আর রক্ষী হত্যায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। যে গাড়িটি কনগরাজের বাইকে ধাক্কা মারে, তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবার ভোর চারটে নাগাদ আরেকটি পথ দুর্ঘটনার খবর পায় পুলিশ। পার্শ্ববর্তী রাজ্য কেরালার থ্রিসুর থেকে কোয়েম্বাতুর যাওয়ার পথে একটি ট্রাকে গিয়ে ধাক্কা মারে একটি গাড়ি। ওই গাড়িতে ছিল কনগরাজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শ্যাম। তাকেও পুলিশ রক্ষী হত্যা মামলায় খুঁজছিল। ঘটনাচক্রে দুর্ঘটনায় শ্যাম বেঁচে গেছে, কিন্তু তার স্ত্রী ও শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়েছে। ওদিকে জয়ললিতার বাগান আর বাংলোয় যে রাতে হামলা হয়, সেখান থেকে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তির নথির হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানিয়েছে। তিনটি সুটকেসে ওইসব নথি রাখা ছিল বলে পুলিশ বলছে।

মিডিয়াকে ফের এক হাত নিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দেশটির গণমাধ্যমের ওপর নিজের ঝাল ঝেড়েছেন। ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের সমালোচনাকে 'ভুয়া' বলে উড়িয়ে দেন। খবর বিবিসির। ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তিতে শনিবার পেনসিলভানিয়ায় এক সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, 'আমি একের পর এক প্রতিশ্রুতি পূরণ করে যাচ্ছি। অথচ সাংবাদিকেরা কোনো খবর না জেনেই আমার সমালোচনা করছেন।' এ সময় প্রথম ১০০ দিন খুবই সফল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিন হারিসবার্গের আরেক সমাবেশেও ট্রাম্প গণমাধ্যমকে এক হাত নেন। তিনি বলেন, '১০০ দিন নিয়ে গণমাধ্যম যেসব কথা বলেছে, সেজন্যে তাদের 'বিশাল একটা ফেলের গ্রেড' দেয়া উচিত।' উল্লসিত সমর্থক উদ্দেশে তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ১০০ মাইলের বেশি দূরে আসতে পেরে তিনি রোমাঞ্চিত। ট্রাম্প উপহাস করে বলেন, 'নৈশভোজের বিষয়ে হলিউড তারকাদের একটি বড় দল এবং ওয়াশিংটনের গণমাধ্যম এখন নিজেদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছে। নৈশভোজটি হবে খুবই নিরস।' তিনি বলেন, ওবামা প্রশাসন সব কিছু অগোছালো করে রেখেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি বড় সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অবশ্য আগে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনকে ভাঁওতাবাজি বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেবেন। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প গণমাধ্যমকে আক্রমণ করে চলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের পৃথিবীর সবচেয়ে 'দুর্নীতি পরায়ণ' বলে বিতর্কের জন্ম দেন। এর চেয়েও অবাক করা ঘটনা ঘটান সাংবাদিকদের নৈশভোজে অংশ না নিয়ে। রীতি ভেঙে ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগানের পর ট্রাম্পই প্রথম সাংবাদিকদের বার্ষিক নৈশভোজ প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগান গুলিবিদ্ধ হবার পর পুরোপুরি সেরে না ওঠার কারণে ওই নৈশভোজে অংশ নেননি।

যোগীর রাজ্যে মিলাদুন্নবীসহ ১৫ সরকারি ছুটি বাতিল

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.), জুমাতুল বিদাসহ আরও ১৫টি সরকারি ছুটি বাতিল ঘোষণা করেছে। বিবিসি উর্দুকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের ডন। মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের টুইটারে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
আরও যেসব ছুটি বাতিল করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র.), চন্দ্র শেখর ও চৌধুরী চরণ সিংয়ের জন্মদিন উদযাপনের ছুটি। ধারাবাহিক টুইটে আদিত্যনাথ আরও বলেছেন, মহান ব্যক্তিদের জন্মদিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচিত হবে কমপক্ষে এক ঘণ্টার সমাবেশ করা। সেখানে ছাত্রছাত্রীদের এসব ব্যক্তির জীবন, তাদের অর্জন ও শিক্ষা নিয়ে তথ্য বিনিময় করতে হবে।

'ছৌপদী প্রথার' কুসংস্কারে প্রাণ গেল আরেক কিশোরীর

তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে এসেও অনেকে এখনো পড়ে আছেন অন্ধকার যুগের ধ্যান-ধারণা নিয়ে। কুসংস্কারে আচ্ছন্ন এমনই এক নেপালি পরিবারের কিশোরী রোশনি তিরুয়াকে (১৫) প্রাণ দিতে হলো কেবল 'মাসিক' শুরু হওয়ার কারণে। কাঠমান্ডু থেকে ৪৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে আচাম জেলার গিজরা গ্রামে গত রোববার এ ঘটনা ঘটে। খবর আনন্দবাজার'র। মাসিক হলে কিশোরীদের পরিবার থেকে আলাদা রাখার এ প্রথাকে বলা হয় 'ছৌপদী প্রথা'। নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। 'ছৌপদী প্রথা'র বীজ পোঁতা এ অঞ্চলের ঘরে ঘরে। মাসখানেক আগে এ অঞ্চলে একইভাবে মৃত্যু হয়েছিল আরেক কিশোরীর। ঋতুমতী হওয়ায় সমাজের প্রথা অনুয়ায়ী ওই কিশোরীকে পাঠানো হয়েছিল কাদা, মাটি ও গোবরে ভর্তি গোয়ালের প্রায় বদ্ধ একটা ঘরে। সেখানেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বদ্ধ-গুমোট ঘরে দম বন্ধ হয়ে মারা যায় পনেরো বছরের রোশনি তিরুয়া।
খুব স্বাভাবিকভাবে প্রকৃতির নিয়মে ঋতুমতী হয়েছিল রোশনি তিরুয়া। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে তা মানতে পারল না পরিবার। পরিবারের নির্দেশ- মাসের 'ওই' দিনগুলোয় বাড়ির অন্যদের সঙ্গে থাকতে পারবে না রোশনি।  হাতের কাছে একমাত্র উপায় বাড়ির পাশের গোয়ালঘর। সেখানেই জোর করে ঠেলে পাঠানো হয় মেয়েটিকে। ঠান্ডার রাতে ঘুমনোর জন্য কোনো কম্বলও দেয়া হয়নি তাকে। কেন না সেটাই নাকি 'নিয়ম'। পুলিশ জানায়, ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে রাতে ঘুমনোর আগে আগুন জ্বালিয়েছিল রোশনি। কিন্তু ওই গোয়ালঘরে যথেষ্ট বাতাস চলাচলের জায়গা ছিল না। ফলে গত শনিবার রাতে ঘুমের মধ্যেই দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তার। রোববার সকালে রোশনির বাবা গোয়ালঘরে গিয়ে দেখতে পান মারা গেছে তার মেয়ে। সানফিবাগার পুলিশ সুপার বদরি প্রসাদ ধকল জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করা হচ্ছে- শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে রোশনির। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

'চামড়া ছিলব, মালাই বের করে নেব'

উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার শরীর থেকে 'চামড়া ছাড়িয়ে' নেয়ার হুমকি দিয়েছেন এক নারী সংসদ সদস্য। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির এমপি প্রিয়াঙ্কা সিংহ রাওয়াত উত্তরপ্রদেশের বারাবাঁকির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জ্ঞানাঞ্জয় সিংহকে এ হুমকি দেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। পুলিশ কর্মকর্তা জ্ঞানাঞ্জয়ের আচরণ পছন্দ না হওয়ায় বারাবাঁকির এই সংসদ সদস্য তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। এ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলেও নিজের মন্তব্য সম্পর্কে অনুতপ্ত নন প্রিয়াঙ্কা। পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা ঠিকমতো কাজ না করলে ছেড়ে কথা বলবেন না বলেও জানান তিনি। প্রিয়াঙ্কা সিংহ দাবি করেন, একটি খুনের মামলার তদন্তে ঠিকমতো কাজ করছেন না বারাবাঁকির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জ্ঞানাঞ্জয় সিংহ। তদন্তের বিষয়ে খোঁজ নিতে তিনি ফোন করেছিলেন জ্ঞানাঞ্জয়কে। ফোনেই দু'জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জ্ঞানাঞ্জয় এমপিকে প্রিয়ঙ্কাকে বলেন, 'আমি পুলিশ,
আমি জানি আমি কী করছি।' তার এ কথাতেই চটে যান প্রিয়াঙ্কা। পুলিশ কর্মকর্তাকে তিনি বলেন, 'সব মালাই বার করে নেব। চামড়া ছাড়িয়ে নেব।' বিজেপি এমপির এই মন্তব্যে প্রবল বিতর্ক শুরু হয়। পুলিশকর্তাকে এমপির হুমকি দেয়ায় বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। তবে বিজেপির তরুণী এই এমপি তাতে একটুও ঘাবড়াচ্ছেন না। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে এসব পুলিশকর্তা অনেক অনিয়ম করেছেন। এখন আর কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন এই নারী এমপি। সেখানে তিনি বলেন, 'কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির, আর রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার রয়েছে। যারা কাজ করবেন, শুধু তারাই এই জেলায় থাকতে পারবেন।' প্রিয়াঙ্কা সিংহ কড়া ভাষায় বলেন, 'পুলিশ প্রশাসনের কর্তাদের আচরণ যদি না বদলায়, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।' অবশ্য প্রিয়াঙ্কার দল বিজেপি তার আচরণকে সমর্থন করছে না। উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী তথা মুখপাত্র শ্রীকান্ত শর্মা বলেছেন, 'আগের সরকারের আমলে শাসক দলের কর্মীরা বা আইন প্রণেতারা যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করতেন, আমাদের আইন প্রণেতারা বা দলীয় কর্মীরা তেমন ভাষা ব্যবহার যাতে না করেন, আমরা সেই চেষ্টাই করছি।'

প্রাইভেট না পড়ায় ছাত্রীকে পিটিয়ে হাসপাতালে

প্রাইভেট না পড়ার জেরে মাদারীপুরের কালকিনিতে জাসিয়া আক্তার (১১) নামের এক  শিক্ষার্থীকে বেদম মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন সরোয়ার হোসেন নামের এক শিক্ষক। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীর বাবা আতিকুর রহমানকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষকের নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী কালকিনি পৌর এলাকার ৩নং রাজদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, পৌর এলাকার দক্ষিণ রাজদী গ্রামের আতিকুর রহমান শিকদারের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে জাসিয়া আক্তার তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  সরোয়ার হোসেনের কাছে দীর্ঘদিন প্রাইভেট পড়ে আসছে। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে বর্তমানে প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দিলে প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে শনিবার বিকালে জাসিয়া আক্তারকে শ্রেণিকক্ষে বেদম মারধর করেন। শিক্ষকের পিটুনিতে জাসিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মেয়েকে মারধরের প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ওই শিক্ষর্থীর বাবা আতিকুর রহমান শিকদারও। এ বিষয় অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শরীফুল ইসলাম ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন। শিক্ষার্থীর মা আফরোজা বেগম বলেন, প্রাইভেট পড়া বন্ধ করে দেয়ায় আমার মেয়েকে শিক্ষক মারধর করেছেন। এমনকি আমার স্বামীকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বলেন, এসব ঘটনা মিথ্যা ও সাজানো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ওই ছাত্রীকে আমরা দেখতে হাসপাতালে গিয়েছি। তাকে শারীরিকভাবে যে নির্যাতন করা হয়েছে তা অমানবিক। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে 'রাজাকার' আখ্যা নয়

বিচার শেষ হওয়ার আগে অভিযুক্ত কাউকে 'রাজাকার' হিসেবে আখ্যা দেয়া যাবে না বলে আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার চার আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার শুনানিকালে আদালত এ নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তাপসকান্তি বল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন কোনো মামলার আসামির বিচার শেষ হওয়ার আগে নথিপত্রে আসামিকে ‘রাজাকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাপসকান্তি বল আরো জানান,
আজ নওগাঁর ৪ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সেফহামে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আবেদনে সবার নামের আগে রাজাকার শব্দ লেখা থাকায় ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘কেবল তদন্ত সংস্থা নয়, প্রসিকিউশন ও গণমাধ্যমেও বিচার শেষ হওয়ার আগে নামের আগে রাজাকার শব্দ লেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। পরে ট্রাইব্যুনাল এই চার আসামির বিরুদ্ধে শুনানি শেষে আগামী ৮ ও ৯ মে তাদের ধানমণ্ডি সেফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। প্রশিকিউশন সূত্র জানায়, এ মামলায় চার আসামির মধ্যে রেজাউল করিম মন্টু, ইসহাক আলী, শহীদ মণ্ডল গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। বাকি একজন পলাতক।

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম তদন্তে নামছে দুদক

অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছেন এমন ১৫ জনের নাম পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে সাতজন রাজনীতিবিদ, সাতজন ব্যবসায়ী এবং একজন পেশাজীবী আছেন। এই ১৫ জন সম্পর্কে বিস্তারিত এবং অন্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে দুদকের একটি দল মালয়েশিয়ায় তদন্তে যাচ্ছে। উপপরিচালক জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচার ও সেকেন্ড হোমের মালিকদের নিয়ে কাজ করছেন। সম্প্রতি অনুসন্ধান টিম কমিশনের কাছে এ সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তাতেই সন্দেহভাজন অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয়েছে। এতে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কেও আভাস দেয়া হয়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)  অর্থ পাচারকারীদের নিয়ে কাজে দুদককে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী জুলাই মাসে দুদক ও এফবিআইর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এ নিয়ে একটা টিম কাজ করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট দফদতরের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়া হচ্ছে। দলটি কবে নাগাদ মালয়েশিয়া যেতে পারে এমন প্রশ্নে দুদক সচিব বলেন, এখনও বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। পরে এ বিষয়ে বলা যাবে। জানা  গেছে, গত এক যুগে অন্তত ৩ হাজার ৩৪৫ জন  বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায়  সেকেন্ড  হোম সুবিধা নিয়েছেন। এতে পাচার হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা। মালয়েশিয়া সরকার ২০০২ সালে বিশেষ কর্মসূচির আওতায় ‘সেকেন্ড  হোম’ প্রকল্প শুরু করে। ওই বছর কোনো বাংলাদেশি এ সুবিধা না নিলেও  ২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৯১ জন  সেকেন্ড  হোম সুবিধা নিয়েছেন।
তালিকাভুক্ত বাংলাদেশিরা দেশ  থেকে টাকা সরিয়ে সেকেন্ড হোমে বিনিয়োগ করেছেন; যা   সরাসরি মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধের শামিল। ১৯৪৭ সালের ফরেন এক্সচেঞ্জ  রেগুলেশন অ্যাক্টের ৫(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া  কেউই  দেশ  থেকে টাকা বিদেশে পাঠাতে পারেন না। দুদক বলছে, দেশের বাইরে অর্থ পাচার ঠেকাতে তারা মডেল কেস হিসেবে মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচারের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এজন্য মালয়েশিয়ায় গিয়ে তদন্তের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। সূত্র জানায়, দুদক টিম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর থেকে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেই তথ্যের পাশাপাশি সুনির্দিষ্টভাবে নামের তালিকাও চেয়েছে। অর্থ পাচারে জড়িত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সন্দেহভাজন কতজনের নাম আছে তাও চেয়েছে দুদক। অনুসন্ধান টিমের সঙ্গে যুক্ত এমন কর্মকর্তাদের কাছে নামের তালিকা আছে। তবে তারা এখনই এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এ ধরনের এক কর্মকর্তা বলেন, সন্দেহের ভিত্তিতে ১৫ জনের একটি তালিকা করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে আসার আগেই নাম প্রকাশ করা হলে অনুসন্ধানে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর আগে ২০১৪ সালে  মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করে দুদক। তখন অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে  মালয়েশিয়ার সরকারের কাছে সেকেন্ড হোমধারীদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে এমএলএআর (মিচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ওই দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, এভাবে ঢালাও তথ্য চাইলে দেয়া সম্ভব নয়। কোনো ব্যক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে তথ্য চাইলে তা দেয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, যে ১৫ জনের নাম দুদকের হাতে এসেছে তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রক্ষিত সন্দেহভাজনদের নামের বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা এ সংক্রান্ত তথ্য আনার একটা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু মালয়েশিয়া থেকে তেমন সাড়া মেলেনি। তবে টিম যদি এ ব্যাপারে সোচ্চার হয় এবং অর্থ পাচারকারীদের নাম সুনির্দিষ্টভাবে বলা যায়, তবে হয়তো তথ্য মিলবে। দুদকের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, মালয়েশিয়া হচ্ছে দুর্নীতিবাজদের স্বর্গরাজ্য। সেখানে পুঁজি বিনিয়োগ করতে তেমন কোনো বাধা নেই। সেকেন্ড হোম করতেও বাধা নেই। যারা ওই দেশে বাড়ি-গাড়ি বা ব্যবসা করছেন, কোন পথে সেই টাকা নিয়ে যাচ্ছেন সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দুদক টিম এবার বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা মালয়েশিয়ায় লোক পাঠানোর কাজে কনসালটেন্সির সঙ্গে জড়িত এমন অন্তত এক ডজন লোককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান রিপোর্টে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, এসব ইমিগ্রেশন কনসালটেন্সি ফার্মের মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে কিনা তাও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে। দুদক নিজ থেকে অর্থ পাচারকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এফবিআইয়ের সহযোগিতাও চেয়েছে। সম্প্রতি এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা ডেভিড জে. ইটন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে তার দফতরে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় অর্থ পাচারসহ সন্ত্রাস ও জঙ্গি অর্থায়নের বিষয়টি আলোচিত হয়। পরে এফবিআই থেকে দুদকের কাজে সহায়তা দেয়ার আশ্বাসও দেয়া হয়। জানা গেছে, আগামী জুলাইয়ে এ বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানি লন্ডারিং অপরাধ দমনে এফবিআইর সহযোগিতা চেয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে অর্থ পাচার হচ্ছে। এটা বন্ধ করা দরকার। তিনি বলেন, আন্তঃদেশীয় মানি লন্ডারিং রোধেও দুদকের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়ে এমওইউ স্বাক্ষর করতে চায় এফবিআই।

হাওর এলাকায় বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে

হাওর এলাকায় বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘হাওর অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনযুদ্ধে থাকে। বাওর এলাকা আমারও এলাকা, আমি বুঝি আপনাদের কষ্ট। এসব এলাকার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এসব এলাকায় বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে। রোববার  সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাওর এলাকা হাওর এলাকা পরিদর্শনের পর উপজেলার শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ফসলের ওপর নির্ভরশীল না থেকে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। মাছ উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে মাছের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতের ব্যবস্থা যেন নেওয়া হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে। হাওর অঞ্চলের বাঁধ নির্মাণে কারও কোনও ধরনের গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জনগণকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হাওর অঞ্চলে মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এসব বাঁধ নির্মাণে কোনও ধরনের অবহেলা থাকলে তা ছাড় দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাওর বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ হাওরে যে পানি জমা হয়, এই পানিই সারা বছর নদীতে যায়। এই পানি এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত।’
হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাওর এলাকার নদীগুলো যেন ভরাট না হয়ে যায়, সেজন্য নদীগুলো ড্রেজিং করা হবে। হাওর এলাকায় খাল কাটা হবে এবং এসব খাল যেন বেশি পানি ধারণ করতে পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাওর উন্নয়ন বোর্ড সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।’ তিনি বলেন, ‘হাওর, চর ও পাহাড়ি এলাকায় আবাসিক স্কুল করতে আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলেছি। কারণ এসব এলাকার ছেলে-মেয়েদের দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। হাওরের ছেলে-মেয়েরা নৌকায় করে প্রতিদিন স্কুলে আসে। আসা-যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়তে পারে। তাই স্কুলগুলো আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের আর কষ্ট করে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হবে না। তারা স্কুলেই থেকে যেতে পারবে। এজন্য হাওর এলাকায় আবাসিক স্কুল করে দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল হক, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়া সেনগুপ্তা।

দেশের একটি মানুষও না খেয়ে কষ্ট পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যত বড় দুর্যোগই আসুক, বর্তমান সরকার তা মোকাবেলার ক্ষমতা অর্জন করেছে। তাই দেশের কোন মানুষই না খেয়ে কষ্ট পাবে না। তিনি বলেন, আগামী বোরো ফসল পর্যন্ত আপনাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে বোরো ফসলের সমস্ত কৃষি উপকরণ বিনামূল্যে বিতরণ করবে সরকার। হাওরে ফসলহানির পর রোববার সকালে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা শাহিদ আলী স্কুল মাঠে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাওরের ফসল যাতে আর নষ্ট হতে না পারে সেই ব্যবস্থা করতেই দ্রুত বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে কাজ শুরু করবে সরকার। দ্রুত নদী এবং ভরাট হয়ে যাওয়া খাল বিল খননের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, একটি এলাকার ফসল নষ্ট হলেও  খাদ্যে ঘাটতি হবে না। সাহস নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। বর্তমান সরকার সব সময় এ অঞ্চলের মানুষের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কেউ না খেয়ে কষ্ট পাবেন না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, আপনারা নিশ্চিত থাকবেন দুর্নীতি প্রমাণ হলে কেউই রেহাই পাবে না। শাস্তি পেতেই হবে। আগামী বছর কিভাবে বাঁধ নির্মাণ হবে, কখন করতে হবে এই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে যাতে করে সঠিক সময়ে বাঁধ নির্মাণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য চলমান ওএমএস এর কেন্দ্র ইউনিয়ন পর্যায়ে নেয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রনালয়কে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুর্যোগের সময় যারা জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করবেন তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নিতে হয় তা জানা আছে। সুতরাং কেউ মজুদদারি করে দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়ে পার পাবেন না। পরে প্রধানমন্ত্রী ২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩৮ কেজি চাল ও ১০০০ টাকা করে ত্রাণ দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ত্রাণ বিতরন শেষে প্রধানমন্ত্রী যাত্রাপুর গ্রামে গিয়ে সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী জয়া সেনগুপ্ত।

দুর্দশা দেখতে হাওর এলাকায় প্রধানমন্ত্রী

বন্যাকবলিত হাওর এলাকার মানুষের দুর্দশা দেখতে ও ত্রাণ বিতরণে সুনামগঞ্জের শাল্লায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি স্থানীয় শাহেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। এ বিদ্যালয় মাঠেই বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনি দুর্দশার কথা শুনতে কৃষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীর স্থানীয় বন্যাকবলিত যাত্রাপুর গ্রাম পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এছাড়া শাল্লায় উপজেলার পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। বিকালে ঢাকায় ফিরে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণায় শাল্লা এসেছিলেন শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারো হাওর এলাকার দুর্দশা দেখতে তিনি শাল্লায় পৌঁছেছেন। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে এলাকার উঠতি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা এবং ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রাজধানীতে স্ত্রী ও সিলেটে স্বামীর লাশ উদ্ধার

রাজধানীর মধুবাগ এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় তাসলিমা (২৩) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর দিকে দুপুরে তার স্বামী সুজন মিয়ার (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকা থেকে। পুলিশের ধারণা, শুক্রবার স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী সিলেটে গিয়ে আত্মহত্যা করেছে। রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান যুগান্তরকে জানান, শনিবার রাতে তাসলিমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্বামীর লাশ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ওসি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে মুধবাগ এলাকার ৩৫৭/১২/এ/বি ঝিলপাড়ের বাসা থেকে তাসলিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে শনিবার রাতে এসআই মোজাফফর হোসেন যুগান্তরকে জানান, যে বাসা থেকে তাসলিমার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি দোতলা ভবন। তবে দ্বিতীয়তলায় টিনশেড। ওই ভবনে বেশ কিছু রুম আছে। প্রত্যেকটি রুম পৃথকভাবে ভাড়া দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়তলার একটি রুম ভাড়া নিয়ে চলতি মাসেই সুজন এবং তাসলিমা সেখানে ওঠেন। তারা ফ্লোরিং করে থাকতেন। ফ্লোর থেকে শোয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই রুমে তেমন কোনো আসবাবপত্র নেই বলেও মোজাফফর হোসেন জানান।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এসআই জানান, সুজন ও তাসলিমা তাদের রুম থেকে খুব একটা বের হতেন না। একসময় তারা দু’জনই গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। পরে গ্রামের বাড়ি চলে যান। সম্প্রতি তারা আবার ঢাকায় আসেন। তাসলিমার বাবার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার হাসানপুর গ্রামে। সুজন মিয়ার বাবার নাম নওশাদ মিয়া। গ্রামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মহেশপুর গ্রামে। এসআই মোজাফফর হোসেন আরও জানান, তাসলিমার গলায় কালো দাগ আছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাশ দেখে মনে হচ্ছে, শুক্রবার রাত ১২টার পর যে কোনো সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি হারুন আর রশিদ জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার বড়ইকান্দি গ্রামের গেদামিয়ার কলোনি থেকে সুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, সুজনের লাশ একটি গাছে ঝুলছিল। গলায় রশি পেঁচিয়ে সুজন আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সাংবাদিক ওমর ফারুক আর নেই

সাংবাদিক ওমর ফারুক আর নেই। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)। এর আগে শনিবার দুপুরে নিজ কর্মস্থলে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ইসিজি ও এনজিওগ্রাম করার পর হার্টের শিরায় দু’টি ব্লক ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে তাৎক্ষণিকভাবে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। তবে শুরুতে রিং পরাতে চাইলেও কিছু জটিলতা দেখা দেয়ায় তার বাইপাস সার্জারির প্রয়োজন বলে জানান চিকিৎসকরা। কর্মজীবনে ওমর ফারুক দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক সমাচার, দৈনিক রুপালি, দৈনিক আজকের কাগজ ও সর্বশেষ বাংলা ট্রিবিউনে (বিশেষ প্রতিনিধি) কাজ করেছেন।
এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য ও নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫১ বছর। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও দুই কন্যা রেখে গেছেন তিনি। পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। তার প্রথম মেয়ে ফারিহা ওমর ইরা দশম শ্রেণিতে পড়েন এবং দ্বিতীয় মেয়ে দীপিকা ওমর দিয়া ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জানা গেছে, আজ (রোববার) দুপুর ১টায় রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ২টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনে তার দ্বিতীয় জানাজা এবং বাদ আসর মীর হাজিরবাগ খালপাড় জামে মসজিদে তার শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর জুরাইন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।

পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ও জামায়াত জড়িত!

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে প্রায় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিরা জিজ্ঞাসাবাদে এ সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শুরু করেছে। সিটিটিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনীতিক এবং সে দেশের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর যোগসাজশের বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। ভারতীয় জাল মুদ্রা পাচারের সঙ্গে আইএসআইর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য মিলেছে। সন্ত্রাসী অর্থায়নে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ব্যবহার করে জাল রূপি ভারতে পাচার করছে আইএসআই। এমনকি আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের সঙ্গে তাদের যোগসাজশের তথ্যও পেয়েছেন গোয়েন্দারা। শুধু জঙ্গি অর্থায়ন নয়, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহে তাদের যোগসূত্র রয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হ”েচ্ছ। সূত্র আরও জানায়, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর শিবিরের অনেক দুর্ধর্ষ ক্যাডার নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়েছে। তাদের অনেকেই নব্য জেএমবিতে সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছে। একাধিক ক্যাডার পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহতও হয়েছে। সর্বশেষ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত রফিকুল ইসলাম আবুর পরিবার এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিয়ের পর তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনের মাধ্যমে সে জঙ্গিবাদে জড়ায়। সে নিজেও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি জেএমবির কোনো কোনো সদস্য জাল মুদ্রা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ জাল মুদ্রা আবার একটি বিশেষ দেশ থেকে তৈরি হয়ে আসে। এগুলো ভারতীয় জাল মুদ্রা। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় বিশেষ দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই ওই বিশেষ দেশের দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তাকে জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাহারও করে নেয়া হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে। মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, জঙ্গিবাদে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের কারও কারও সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। এ বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যাবে না। অনেক জঙ্গির ব্যাকগ্রাউন্ড দেখেছি, তাদের অনেকেই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে আইএসআইর সম্পৃক্ততার বিষয়টি নতুন নয়। ২০১৫ সালের নভেম্বরে ইদ্রিস শেখসহ চার জেএমবি সদস্য গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। সে আইএসআইর চর হিসেবে কাজ করছিল। তার কাছ থেকে একটি স্পাই মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। ওই মোবাইল সেটটি পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই সরবরাহ করেছিল। এ ঘটনায় ইদ্রিস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার জবানবন্দিতে উঠে আসে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ফারিনা আরশাদ কাজ করছেন। ইদ্রিসের সঙ্গে ফারিনার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ওই ঘটনায় তখন পাকিস্তান সরকার তাকে প্রত্যাহার করে নেয়। এছাড়া ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তা মাজহার খানকে বাংলাদেশ সরকার বহিষ্কার করে। সিটিটিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা বা কূটনীতিক নন, পাকিস্তানভিত্তিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ বিস্তারের চেষ্টা করছে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে আইএসআই। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা, তেহরিক-ই-তালিবান ও জইশ-ই-মুহাম্মদের অনেক সদস্য দেশের গোয়েন্দাদের হাতে বিভিন্ন সময় ধরা পড়েছে। তারা এখন কোথায় আছে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। আইএসআইর সহায়তায় ভারতীয় জাল রুপির ব্যবসার বিষয়টিও নতুন নয়। ২০০৮ সালের শেষের দিকে ভারতীয় জাল রুপিসহ কলকাতায় গ্রেফতার হয় পাকিস্তানি নাগরিক সরফরাজ। সে ঢাকার কর্ণফুলী গার্ডেন সিটির একটি ফ্ল্যাটে থাকত। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে জাল রুপি এনে সে বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করে ভারতে পাচার করত। তার সঙ্গে দেশীয় জঙ্গিদের যোগসাজশ ছিল। গোয়েন্দারা বলছেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এবং সে দেশের জঙ্গি সংগঠন স্বর্ণ চোরাচালান, জাল মুদ্রা পাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশি জঙ্গিদের অর্থায়ন করছে।
নব্য জেএমবির ভয়ঙ্কর সামরিক কমান্ডাররা শিবিরের ক্যাডার : জেএমবির নতুন ধারার (নব্য জেএমবি) দুর্ধর্ষ সামরিক কমান্ডারদের অনেকেই আগে শিবিরের ক্যাডার ছিল। গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার অপারেশনাল কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজান শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাথী ছিল। জঙ্গিদের মগজ ধোলাইয়ের প্রশিক্ষক রায়হান কবির ওরফে তারেকও শিবির করত। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলাকারী জঙ্গিদের প্রশিক্ষক ছিল এ রায়হান। তারা দু’জনই পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ২০১৫ সালে সাভারে দুর্ধর্ষ ব্যাংক ডাকাতি, গাবতলী ও আশুলিয়ার চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে পুলিশ হত্যা এবং পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে শিয়া মসজিদে হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল দুর্ধর্ষ জঙ্গি আলবানী ওরফে হোজ্জা ওরফে শাহদত ওরফে মাহফুজ। সে আগে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সে গোয়েন্দা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। সে নব্য জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের কমান্ডার ছিল। এছাড়া ২০১৫ সালের শেষ দিকে রাজশাহীর বাগমারায় আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে আত্মঘাতী হামলাকারী তারেক আজিজ এবং তার সহযোগী জামালউদ্দিন শিবিরের রাজনীতি করত। হামলার সময় তারেক এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জামালউদ্দিন মারা যায়। জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে যুক্ত একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কানেকশন রয়েছে। জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গেও জামায়াত-শিবিরের কানেকশন পাওয়া যাচ্ছে।

জঙ্গি কার্যক্রমে বিদেশি বিশেষ গোষ্ঠীর অর্থায়ন থাকতে পারে

বাংলাদেশের জঙ্গি কার্যক্রমে বিদেশি বিশেষ গোষ্ঠীর অর্থায়ন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিচালিত জঙ্গিবিরোধী অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়নের উৎস নিয়ে কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, জঙ্গি সংগঠনগুলোর সমমনা ব্যক্তি ও প্রবাসীরা এতে অর্থায়ন করছেন। যেসব ব্যক্তি জঙ্গিবাদে যুক্ত হচ্ছেন তারাও নিজেদের সহায়-সম্পত্তি সংগঠনকে বিলিয়ে দিয়েছেন।
এছাড়া জঙ্গিবাদ ছড়াতে বিদেশি বিশেষ গোষ্ঠীর অর্থায়নের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ঝিনাইদহের জঙ্গি আস্তানায় পরিচালিত অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ। তিনি শিবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানায় পরিচালিত অভিযানে নিহত হয়েছেন। আব্দুল্লাহ তিন বছর আগে ধর্মান্তরিত হন। পরে নব্য জেএমবির টাকায় বাড়ি কিনেন তিনি। শিবগঞ্জের বাড়িটি জঙ্গিদের বিস্ফোরকের সংরক্ষণাগার হিসেবে ব্যবহার হতো বলে জানান পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে রাজউক ও জেলা প্রশাসন!

রাজধানীর রামপুরা থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত প্রগতি সরণি সড়কের দুই পাশের ২ হাজার ১০০ একর জমির অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নতুন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ঢাকা ডিসি অফিস। দুইজন রাষ্ট্রপতির অধিগ্রহণ অবমুক্ত আদেশের পরও ওই জমি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত করার ঘটনাকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের অভিমত, বর্তমান সরকার যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে সময় সরকারকে বিপাকে ফেলতেই নিষ্পত্তিকৃত ইস্যুকে সামনে এনে পরিকল্পিতভাবে জনরোষ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা সরকারবিরোধী একটি পক্ষ। যারা সরকারি দলের সমর্থকের লেবাসে কাজ করছেন সরকারের বিরুদ্ধে। এ এলাকার ভুক্তভোগী বিক্ষুব্ধ লোকজনের অনেকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রশাসনের হাস্যকর ও চরম ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তারা পাড়ায় পাড়ায় কমিটি করে একত্রিত হচ্ছেন। সরকার যদি দ্রুত ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত না দেয় তাহলে তারা একযোগে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানাতে বাধ্য হবেন। তাদের সঙ্গে সরকারদলীয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। তারা আশা করছেন, কয়েক লাখ লোক এ প্রতিবাদ সমাবেশে যুক্ত হবে। জানা যায়, ২০১৩ সালে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জোয়ার সাহারা, ভাটারা, বাড্ডা, উলন, সুতিখোলা, ভোলা, সামাইর, শাহাজাদপুর, খিলক্ষেত, নূরের চালা, কুড়িল, নয়ানগর, কালাচাঁদপুর, জগন্নাথপুর, নর্দ্দা, কুড়াতলীসহ আশপাশের আরও বেশকিছু মৌজার জমির খাজনা, নামজারি বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড এবং তহসিল অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয় জারিকৃত পরিপত্রে ২০০০ সালের ১২ মার্চ ১১৭ নম্বর স্মারকের পরিপত্রে এসব এলাকার জমির খাজনা এবং নামজারির বিষয়ে আপত্তি জানানোয় এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা ডিসি অফিসের এ আদেশের পর ওইসব এলাকার প্রায় ১৫ লাখ মানুষ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা বিএনপি-জামায়াতপন্থীরা সরকারকে বিপাকে ফেলতে এই ষড়যন্ত্রকে আরও ত্বরান্বিত করলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে মোড় নেবে। সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট এলাকার জমিগুলো অবমুক্ত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে গত ১৭ মার্চ যৌথ প্রতিবেদন দিয়েছে রাজউক ও ঢাকার ডিসি অফিস। ওই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী ও ঢাকার ডিসি মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। এ কারণে সংক্ষুব্ধরা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এই দুই কর্মকর্তার কোনো দুরভিসন্ধি রয়েছে বলে অভিযোগ করছেন। এলাকাবাসী বলছেন, তাদের কোনো দুরভিসন্ধি না থাকলে নিষ্পত্তিকৃত পুরনো ইস্যুকে কেন তারা সামনে আনলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এল. এ কেস (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) ১৩৮/১৯৬১-৬২, ৯১/১৯৫৭-৫৮ ও ২৩/১৯৬৬-এর কারণে ওই এলাকাবাসীর দুর্দশা শুরু হয়। আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।
প্রথম অধিগ্রহণ জমির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৬০ একর। ৬৫২ একর চূড়ান্তভাবে অধিগ্রহণ করলেও বাকি জমি ফিরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জমি অবমুক্ত করে লাখ লাখ মানুষের দুর্দশা লাঘব করার জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ এবং সাহাবুদ্দীন আহমদ লিখিত নির্দেশও দেন। এরপরও নানা অজুহাতে কিছু সরকারি আমলা এবং ডিসি অফিসের কর্মকর্তা এলাকাবাসীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেন। দুই রাষ্ট্রপতির অর্ডারের পরও কিভাবে সে জমি অধিগ্রহণভুক্ত থাকে, সেই প্রশ্ন ক্ষতিগ্রস্তদের।   ভাটারার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আশি বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করছি। নিজ চোখে এখানকার অনেক উত্থান-পতন দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধিগ্রহণ অবমুক্তের পর রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ঢাকার ডিসি কিভাবে সেটাকে বিতর্কিত করলেন। এমন তথ্য জানার পর শুধু হতবাক হইনি বরং মনে হয়েছে এ ধরনের কর্মকর্তা রাষ্ট্রের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলে সরকারের ডুবতে আর কোনো কিছুর প্রয়োজন হবে না। এলাকাবাসী জানান, ১৯৮৯ সালের দিকে সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের কারণে অধিগ্রহণকৃত এলাকার মানুষ ফুঁসে উঠেছিল। তারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে অধিগ্রহণ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায়। তখন ওই আন্দোলন বন্ধ করতে রাস্তায় পুলিশ নামানো হয়। কিন্তু সর্বস্ব হারানো উত্তেজিত জনতা পুলিশের বাধা অমান্য করে বিক্ষোভ করে। এতে পুলিশের গুলিতে একজন নিহত হওয়াসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ অবস্থা সামাল দিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদ ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে মৌখিকভাবে সব জমি অবমুক্ত বলে ঘোষণা দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি এক আদেশে সেটা কার্যকর করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা ডিসি অফিসকে নির্দেশ দেন। কিন্তু যথাযথ অফিসিয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করে সেটা কার্যকর করা হয়নি। যদিও ওইসব জমিতে ১৯৯১ সাল থেকে ভবন নির্মাণের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন দেয়া শুরু করে রাজউক। ওই এলাকায় ৫, ৭, ১০, ১৫ তলা পর্যন্ত রাজউক অনুমোদিত ভবন রয়েছে। এসব ভবনের ফ্ল্যাটও অনেকে বিক্রি করেছেন। ভবন নির্মাণসহ অন্যান্য প্রয়োজনে এসব জমি বাবদ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক লোন রয়েছে। ঢাকার ডিসি অফিস সূত্রমতে, অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি সরকারের প্রয়োজন না হওয়ায় ১৯৬৫ সালে তা অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৬৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর একটি নোটিশের মাধ্যমে ওই বছরের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে উত্তোলিত ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দেয়ার জন্য তৎকালীন বিশেষ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক ভূমি মালিকরা ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত দেন। ১৯৯২ সালে ঢাকা জেলা প্রশাসনও একইভাবে নোটিশ করে ক্ষতিপূরণের টাকা ফেরত নেয়। তবে ওই সময়ে সবাই জমির টাকা পরিশোধ করেনি। রাজউক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত এবং প্রতিষ্ঠানের নিষ্কণ্টক মালিকানা নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে রাজউক তাদের প্রয়োজনীয় জমির তালিকা প্রকাশ করে ১৩৮ নম্বর এলএ কেসের সব সম্পত্তি ছেড়ে দেয়। সেই তালিকায় স্বাক্ষর করেন রাজউকের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা। মূলত রাজউক এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির স্বত্ব আলাদা করার জন্য চূড়ান্তভাবে এ তালিকা প্রস্তত করা হয় বলে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা জানান। এ প্রসঙ্গে ঢাকার ডিসি মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ৩ মে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি সভার আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তারা থাকবেন। আশাকরি ওই বৈঠকে একটি সুষ্ঠু সমাধান বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, আমরা ব্যক্তিগতভাবে কারো ক্ষতি চাই না। ওই এলাকার বিদ্যমান সমস্যার নিরসন হলে জমির বর্তমান মালিকরাও লাভবান হবেন, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে’। এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, কুড়িল প্রগতি সরণি সড়কের দুইপাশের বেশ কয়েকটি মৌজার অধিগ্রহণকৃত জমি নিয়ে একটি ঝামেলা রয়েছে। এটি অনেক পুরনো। বিগত সময়ে কেউই এটা সুরাহার উদ্যোগ নেয়নি। এতে করে ঝামেলা থেকেই গেছে। এখন সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটা কার্যকর হলে জমির মালিকরাই লাভবান হবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়- যিনি বা যারা যে জমিতে যেভাবে আছেন, সেভাবেই থাকবেন। এখানে শুধু আইনগত জটিলতার বিষয়টি নিরসন করা হবে। এটা হলে রাজউকও ওই এলাকায় স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারবে।’

এবারের আনন্দ পুরস্কার পেলেন আনিসুজ্জামান

বাংলাদেশের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সাহিত্য গবেষক ড. আনিসুজ্জামান ১৪২৩ সালের আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন। তার আত্মজীবনীর নতুন পর্ব ‘বিপুলা পৃথিবী’র জন্য তাকে আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠীর তরফে এ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। এর আগেও তিনি আনন্দ সম্মাননা পেয়েছেন। নব্বইয়ের দশকে তাকে উপদেষ্টা করে বাংলাদেশ থেকে বেরিয়েছিল হাজার বছরের বাংলা কবিতা, গান ও নাটক নিয়ে ১৪টি ক্যাসেটের সংকলন ‘ঐতিহ্যের অঙ্গীকার’। ১৯৯৪ সালে সে জন্য আনন্দ সম্মাননা দেয়া হয়েছিল তাকে।
আশি বছর বয়সী আনিসুজ্জামানই ছিলেন এবারের বাছাই করা গ্রন্থের লেখকদের মধ্যে প্রবীণতম। তার আত্মজীবনীর নতুন খণ্ড ‘বিপুলা পৃথিবী’ গত বছরেই ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। বলা হয়েছে, এ বই ব্যক্তির জীবন ছাপিয়ে হয়ে উঠেছে উপমহাদেশের সার্বিক ট্র্যাজেডির প্রতিচ্ছবি। এবারের আনন্দ পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন কৃষ্ণা বসু, রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, সেলিনা হোসেন ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। মনোনীত করা হয়েছিল তিনটি বই। সেই তালিকায় আনিসুজ্জামানের বই ছাড়াও ছিল অনিতা অগ্নিহোত্রীর ‘মহানদী’ এবং পথিক গুহের ‘ঈশ্বরকণা, মানুষ ইত্যাদি’। তবে পাঁচ বিচারক প্রবীণ সাহিত্য গবেষকের বই-ই চূড়ান্তভাবে বাছাই করেছেন। আনিসুজ্জামানের আত্মজীবনীর প্রথম দুই খণ্ড ‘কাল নিরবধি’ ও ‘আমার একাত্তর’ সাহিত্যরসিকদের কাছে পরিচিত। তৃতীয় খণ্ড ‘বিপুলা পৃথিবী’র বৃত্তান্ত শুরু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে।

হেফাজত রাজনীতিতে জড়াবে না, ভোটেও সমর্থন দেবে না

হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম সাংগঠনিকভাবে কখনোই রাজনীতিতে জড়াবে না, ভোটের রাজনীতিতে কাউকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সমর্থনও জোগাবে না। কিন্তু কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দেয়ার পর হেফাজতে ইসলামকে কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে একাকার করে বিদ্বেষমূলক নানা মিথ্যা কাহিনী ফেঁদে ঈমান-আকিদাভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠনটিকে রাজনৈতিক রূপদানের ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে কোনো কোনো মিডিয়া। ব্যক্তিগতভাবে আমার নামেও মিথ্যা গল্প তৈরি করছে। তিনি বলেন, স্কুলের পাঠ্যবই, গ্রিক দেবী থেমিস ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসঙ্গে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তে রুষ্ট হয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করে জনবিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা থেকেই এসব করা হচ্ছে। শনিবার রাত সোয়া ৮টায় এক বিবৃতিতে হেফাজত আমীর এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন হেফাজত আমীরের প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ। বিবৃতিতে বলা হয়, একদিকে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা পদ্ধতির ছিদ্রান্বেষণে হাস্যকর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করছে এ মহলটি। অন্যদিকে সিলেবাস নিয়ে অমূলক প্রশ্ন তুলছে এবং কওমি সনদের মানদণ্ড নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছে। কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি ধরে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্সের (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান করায় বাম সেকুলারপন্থী গোষ্ঠী ও ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়াগুলোর গায়ে জ্বালা ধরেছে বলেও অভিযোগ করা হয় বিবৃতিতে। বিবৃতিতে হেফাজত আমীর বলেন, কওমি মাদ্রাসার প্রয়োজনীয় সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি উচ্চতর আরবি ভাষাজ্ঞান ও পবিত্র কোরআন-হাদিসের সর্বোচ্চ স্তরের মৌলিক শিক্ষা দেয়া হয়। পূর্বসূরি বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম ব্যাপক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই কওমি মাদ্রাসার জন্য মানোত্তীর্ণ সিলেবাস প্রণয়ন করেছেন। তিনি বলেন, কোরআন-হাদিস ও ইসলামী জ্ঞানে পাণ্ডিত্য রাখা একজন বিজ্ঞ আলেম ছাড়া কওমি শিক্ষার মান নিয়ে বাইরের কারও মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা কখনোই যথার্থ হবে না। যেমন মেডিকেল শিক্ষার পদ্ধতি নিয়ে একজন প্রকৌশলী বা আলেমের পর্যালোচনা যথার্থ হওয়ার কথা নয়। হেফাজত আমীর বলেন, সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার নানা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনে সময় এবং পদ্ধতিগত তারতম্য থাকাটা স্বাভাবিক। কোন কোন বিষয়ে সর্বোচ্চ জ্ঞান অর্জন করতে কত বছর সময় লাগবে, সেটা সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিজ্ঞজনরাই গবেষণা করে নির্ধারণ করে থাকেন। সব বিভাগে পৃথক পৃথকভাবে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত পাঠদানের সময় তো একরকম হয় না। তিনি বলেন, যারা কওমি সিলেবাস ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, মূলত তারা ধারাবাহিকভাবে ইসলামী আকিদা-বিশ্বাসের নানা দিক এবং মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার ও কটূক্তির জন্য আগে থেকেই পরিচিত। তারা অসৎ উদ্দেশ্য থেকেই এসব প্রশ্ন তুলে থাকতে পারেন।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, ভোগবাদী চিন্তা থেকে তারা মনে করেন, শিক্ষাকে হতে হবে টাকা উপার্জনের উপায়। অর্থাৎ, টাকা কামানোই হবে শিক্ষার লক্ষ্য- এ ছাড়া শিক্ষার আর কোনো ভূমিকা থাকতে পারবে না। এমন ভোগবাদী চিন্তা থেকেই তাদের মানসিক, আত্মিক কিংবা প্রজ্ঞার বিকাশ ঘটানোর কারণে তারা ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে ঘোরতর বিরোধিতা শুরু করে। তিনি বলেন, ভোগবাদীরা এমন শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তার ঘটাতে চায়, যা দিয়ে সে ফ কলকারখানা কিংবা তাদের ব্যবসার জন্য শ্রমিক, কর্মকর্তা তৈরি হয়। তারা তখন আধ্যাত্মিক শিক্ষা তথা আধ্যাত্মিক, নৈতিক কিংবা দার্শনিক শিক্ষা- যাকে এখনও পাশ্চাত্যে ‘লিবারেল এডুকেশন’ বলা হয়, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তারা দাবি করে, আমাদের কোনো আধ্যাত্মিক শিক্ষার দরকার নেই। ধর্ম শিক্ষার তো প্রশ্নই আসে না। নীতিবিদ্যা পাঠ করা কিংবা নৈতিক শিক্ষারও বা কী দরকার? হেফাজত আমীর বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থায় কখনও শিক্ষার্থীদের অন্যের গোলামি করার বা শ্রমের বাজারে সস্তা শ্রমিক হিসেবে নিজেকে বেচা-বিক্রি করার শিক্ষা দেয় না। মাদ্রাসা শিক্ষার বিরোধিতা করতে গিয়ে এ ভোগবাদীরা ভুলে যায় যে, ধর্মশিক্ষা ও ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ইসলাম যেহেতু মানুষকে ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ বা সৃষ্টির সেরা জীব গণ্য করে এবং মানুষ আল্লাহর খলিফা হিসেবেই ইহলৌকিক জগতে হাজির। অতএব প্রতিটি মানুষের এমন কিছু আধ্যাত্মিক গুণ রয়েছে, যার বিকাশ ঘটানোই শিক্ষার কাজ।

ফরিদপুরে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবক নিহত

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে জিয়া (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এসময় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০জন। রোববার সকালে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শনিবার রাতে ক্ষমতাসীনর দলের বাবলু মামা গ্রুপের বর্তমান আটঘর চেয়ারম্যান সোহাগ খানের সমর্থক সুজনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সমর্থক নিশান খানের কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে রোববার ভোরে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ঢাল-সড়কি, কাতরা-টেঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। এসময় প্রতিপক্ষের দোকানপাট, বাড়িঘরসহ প্রায় ২৫টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এসময় হামলায় গুরুতর আহত হন জিয়া। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। আহতদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি এ কে এম আমিনুল হক জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।তবে বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও জানান ওসি।

সিরাজগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের আত্মহত্যা

সিরাজগঞ্জে সদর উপজেলায় এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। নিহত ইন্তেজার শক্তি মির্জা উল্লাপাড়া উপজেলার লাহিড়ীমোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত আব্দুল লতিফ মির্জার ছেলে। রোববার সকাল ১০টার দিকে  সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় নিজ বাসভবনে তিনি আত্মহত্যা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছে তা জানা যায়নি।

জাতীয় নির্বাচন হবে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সাধারণ ভোটাররাও। নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর বাকি থাকতে বড় দুই দলের প্রস্তুতি দেখে তেমনটাই মনে হচ্ছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে- এমনটা ধরে নিয়েই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি এখন থেকেই মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে চাইছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে কিনা, এ নিয়ে দু’দলেই রয়েছে সংশয়। কয়েক বছর ধরেই মাঠ পুরোপুরি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দলটির সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠ ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। অপরদিকে নির্বাচনের আগে মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে কিনা, তা নিয়ে বিএনপিতেও নানা সংশয় আছে। এক্ষেত্রে ভোটের আগে নির্বাচনী মাঠ যাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ফল তাদের পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। কারণ মাঠের পরিস্থিতি ভোটে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। অতীতে এমনটাই ঘটেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, তা খোদ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়েছে।
জানিয়েছেন, আগামীতে তিনি অংশগ্রহণমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন দেখতে চান। দলটির নীতিনির্ধারকরাও তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে সেরকম বার্তাই দিচ্ছেন। বিগত ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনে ক্ষমতায় এসে দলটিও যে স্বস্তিতে রয়েছে, তেমনটা বলা যাবে না। প্রকাশ্যে যাই বলুক, নৈতিকতার দিক থেকে তাদের অবস্থান বেশ দুর্বল। তাই ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি একতরফা নির্বাচন করা হলে দল হিসেবেও আওয়ামী লীগকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। এ দফা পার পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে দেশে-বিদেশে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। আর এবার চাইলেও একতরফা নির্বাচন করার সুযোগও নেই। কারণ শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে আসবেই। এছাড়া কারণ যাই হোক না কেন, সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন করার জন্য এখন থেকে দেশি-বিদেশি নানা চাপও ভেতরে ভেতরে অব্যাহত আছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরের পর অনেকেই মনে করছেন, ২০১৪ সালের মতো আগামী নির্বাচনে প্রভাবশালী বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো কোনো দলের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো সমর্থন নাও জানাতে পারে। সে কারণে সরকারি দল আওয়ামী লীগ মনে করছে, একটি তমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সবার জন্য অপেক্ষা করছে। তাই ভোটের হিসাব করতে গিয়ে এখন হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনের সঙ্গে আপস করতেও দ্বিধা করছে না সরকারি দল। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, সব পক্ষকে আস্থায় এনে আগামী জাতীয় নির্বাচন করার ব্যাপারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এক ধরনের নমনীয়তা প্রদর্শন করছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে একাধিক বক্তব্যে বলেছেন, আগামী নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। নির্বাচনকালীন মাঠ দখলের বিষয়ে বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আবুল মকসুদ যুগান্তরকে বলেন, টানা ২ মেয়াদে সরকারে থাকলে যে কোনো দলের অবস্থান শক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এবং দলটির নেতাদের আচরণ বলে দিচ্ছে, তারা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। তাদের চিরাচরিত সমর্থকদের ওপরও আস্থা রাখতে পারছেন না। যে কারণে এমন শক্তিকে কাছে টানছেন, যারা আদর্শিক এবং রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের বিরোধী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাইছে। সে লক্ষ্যে এখন থেকেই মাঠ দখলের কাজও শুরু করেছে। বেতন বাড়িয়ে এবং ঘন ঘন অন্যায্য পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসনও হাতে রাখতে চাইছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তারাও যে আওয়ামী লীগের পাশে থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগ দলের অভ্যন্তরের সমস্যা দূর করাসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরোধী শক্তির সঙ্গেও আপস করছে। কিন্তু মূল সমস্যার সমাধানের দিকে যাচ্ছে না। আসল সমস্যা হল ফায়দার রাজনীতি, আইনের শাসনের অভাব এবং দলীয় ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
সুবিধার জন্য দলীয় লোকজনরা একে অপরের বিরুদ্ধে লাগছে, অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়কারীদের বিচার না হওয়ায় অন্যরা উৎসাহিত হচ্ছে। এভাবে পরিস্থিতি খারাপ দিকে গড়াচ্ছে। মাঠ দখলের জন্য যতই প্রস্তুতি নিক, যদি শেষ মুহূর্তে প্রশাসন পক্ষে না থাকে তাহলে সেটা দুরূহ হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, নেতাদের বক্তব্য স্পষ্ট করে তুলছে যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আর সরকার বিএনপিকে সে নির্বাচনে চাইছে। কিন্তু কথা হল, আওয়ামী লীগ যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। আর সেজন্য চরম বিপক্ষের শক্তির সঙ্গেও হাত মেলাচ্ছে, প্রশাসনকে হাতে রাখার মেকানিজমও করছে। এসবের মাধ্যমে আগে যেমন মনে করা হতো, সহজেই আগামী নির্বাচনে জিততে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ, সেই ধারণায় চিড় ধরছে। আর যত দিন যাচ্ছে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। বিএনপি মাঠে নামছে। এ দলটির রিজার্ভ ভোটও আছে। তা ছাড়া সরকারবিরোধী সেন্টিমেন্ট জনগণের মধ্যে প্রবল। আর প্রশাসন এখন সরকারকে যে রকম সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, সেটা তফসিল ঘোষণার পর না দিলে আওয়ামী লীগের পক্ষে মাঠ দখলে রাখা কঠিন হবে। দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতা এবং কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি আওয়ামী সমর্থকদের অনেকে ভালোভাবে নেয়নি। নির্বাচনী মাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল হিসেবে এ আপসকামিতা উল্টো দলটির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, বর্তমানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ক্ষমতাসীনদের যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর তা নাও থাকতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। আওয়ামী লীগের হাত ধরেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমাদের দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।
শেখ হাসিনা কোনো অন্যায়ের কাছে আপস করেননি, দুর্র্নীতি ও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এ দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে, আগামী নির্বাচনে তারা নৌকাকেই ভোট দেবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ইতিমধ্যে জাতিকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন উপহার দিয়েছে, আগামীতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনও উপহারও দেবে। আমরা আশা করি, বিএনপি সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তার পরীক্ষা দেবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিনিয়র নেতা যুগান্তরকে বলেন, সারা দেশে একশ্রেণীর নেতাকর্মীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ক্ষমতা অপব্যবহারে সাধারণ ভোটাররা ক্ষুব্ধ। তবে বিলম্বে হলেও বিষয়টি হাইকমান্ডও বুঝতে পেরেছে। তাই এখন থেকে নেতাদের লাগাম টেনে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। বিতর্কিত এবং জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন নেতাদের ডেকে কঠোর হুশিয়ারি দেয়া হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ বিরোধ মেটানোর চেষ্টা চলছে। অপর দিকে, বিএনপিও যে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে সেটা বলা যাবে না। সরকারবিরোধী কয়েক দফা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সাংগঠনিকভাবে দলটি পর্যুদস্ত। মামলা-হামলায় নেতাকর্মীরা এখনও অনেকে এলাকা ছাড়া। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠ তারা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে দলটির ব্যাপক জনসমর্থনকে বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। আগামী নির্বাচনে নিজ দলের ভোটার সমর্থক ছাড়াও সরকারবিরোধী বড় একটি অংশের সমর্থন তারা পাবে। এ পরিস্থিতিতে বর্তমানে প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদী কর্মকর্তারা রাতারাতি ভোল পাল্টাতে পারেন। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয়াই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে পরিস্থিতিও দ্রুত পাল্টাতে থাকবে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের উদাহরণ টেনে তারা বলেন, ওই সময় অনেকেই বলেছিলেন, দেশে বিএনপি বলতে কিছু নেই। কিন্তু নির্বাচনে দলটির জনপ্রিয়তা প্রমাণ হয়েছে। মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংশয়ের কিছুই নেই।
জনগণই বিএনপির পক্ষে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে। এ জন্য প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু পরিবেশ। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে। এটাই আমরা চাই। সেজন্য প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। আমরা সেই দাবিটিই জানিয়ে আসছি। নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো সাংগঠনিক অবস্থায় বিএনপি নেই- ক্ষমতাসীনদের এমন দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাহলে সরকারি দলের তো দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। নির্বাচনে জয়ী হওয়া তাদের জন্য সহজ হবে। ফখরুল ইসলাম কলেন, ‘অপেক্ষা করেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হোক। তখন দেখা যাবে মাঠ কাদের দখলে থাকে।’ তিনি বলেন, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে এখন বিএনপিকে মাঠে নামতে না দিয়ে ক্ষমতাসীনরা ভাবছেন পুরো মাঠ তাদের দখলে। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। সময় সব কিছু বলে দেবে। এই নেতার দাবি, নির্বাচন হলে বিএনপির পক্ষে জনেস্রাত নামবে এবং নির্বাচনে ভোটবিপ্লব হবে। সেই ভয়েই সরকার সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে।