Tuesday, June 13, 2017

নিরাপদ মাতৃত্ব গর্ভাবস্থায় শারীরিক সমস্যা by ডা: আবু আহনাফ

গর্ভাবস্থায় বমি ও বমিভাব : বমি সাধারণত সকালের দিকেই হয়। বিশেষত সকালে বিছানা থেকে ওঠার পরপরই এ রকম হয়। প্রথম গর্ভাবস্থায় সাধারণত এটি বেশি হয়। এটি সাধারণত মাসিক বন্ধের মাস অথবা তার পরের মাস থেকে শুরু হয়। প্রথম তিন মাসের পর এই কষ্ট ক্রমে কমে যায়। এই উপসর্গ সাধারণত মায়ের শরীরের খুব বেশি ক্ষতি করে না। তবে খাওয়া কমে যাওয়ার জন্য দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
তাই ভাবী মাকে বুঝানো দরকার যে সন্তান ধারণের জন্য এইটুকু কষ্ট তাকে সহ্য করতে হবে। এ সময় ভাবী মায়ের জন্য কিছু পরামর্শ দেয়া উচিত। যেমন সকালে বিছানা থেকে ওঠার আগে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিছুক্ষণ নাড়াচড়া করা দরকার। এ ছাড়া বিছানা থেকে ওঠার পর শুকনো টোস্ট বা বিস্কুট খেতে খেতে পায়চারী করলে বমিভাব দূর হয়। খালি পেটে তরল খাবার বা চর্বিজাতীয় খাবার না খাওয়া ভালো। এ সময় একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প খাবার বারবার খেতে হবে। প্রয়োজনে বমি বা বমিভাব নিয়ন্ত্রণে নিরাপদ হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।
ঘন ঘন প্রস্রাব : গর্ভাবস্থায় সাধারণত ঘন ঘন প্রস্রাব হয়। বিকাশমান জরায়ু প্রস্রাব থলিতে চাপ দেয়ার জন্য অথবা প্রস্রাবথলিতে রক্ত চলাচলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্রাব ঘন ঘন হয়। তবে প্রস্রাবের সাথে জ্বালা থাকলে প্রস্রাবে জীবাণু সংক্রমণের সন্দেহ করা হয়। তাই এ রকম হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য : গর্ভাবস্থায় বেশির ভাগ মহিলাই কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। এ জন্য প্রচুর পানি পান করতে হবে। প্রচুর টাটকা ফলফলাদি, শাকসবজি খেতে হবে। নিয়মিত হাঁটাচলা এবং ঘরের কাজ বজায় রাখতে হবে। খাবারের সাথে নিয়মিত সালাদ খেতে হবে।
বুক জ্বালা : গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা একটি অতি সাধারণ বিষয়। ক্রমবর্ধমান ভ্রুণের জন্য জরায়ু পাকস্থলীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ফলে খাবার অনেকক্ষণ পাকস্থলীর মধ্যে থেকে যায়। যার জন্য পাকস্থলীর এসিড খাদ্যনালীতে চলে আসে এবং গলা-বুক জ্বালা করে। এ জন্য এ সময় ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করতে হবে। চর্বি ও মশলাদার খাবারও বন্ধ রাখতে হবে। সহজপাচ্য খাবার অল্প অল্প বারে বারে খেতে হবে। খাবার পর ঘণ্টাখানেক হাঁটাচলা করা ভালো। রাতে খাওয়ার পর পরই শুইতে যাওয়া উচিত নয়।
কোমর ব্যথা : গর্ভাবস্থায় মেরুদণ্ড ও তলপেটের গিটগুলো ক্রমে প্রসারিত হতে থাকে বিভিন্ন অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির নিঃসৃত হরমোনের প্রভাবে। এ জন্য কোমর ব্যথা হয়। এ ছাড়া ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামের অভাবেও এমনটি হতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্যও কোমর ব্যথা হতে পারে।
অর্শ : গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃহদন্ত্র ও মলনালীর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শিরা-উপশিরার ওপর চাপের জন্য অর্শ দেখা দেয়। এ ছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যও এর অন্যতম কারণ।
পা ফোলা : শিরা বা মেদক নারীর ওপর শিশুর চাপের ফলে রক্ত মেদক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং পা ফোলে।
দাঁতের গোড়া থেকে রক্তপাত : গর্ভাবস্থায় মাড়ি ফুলে যায় এবং রক্তপাত হয়। এই সময় অন্যান্য খাদ্যের ঘাটতির মতো ভিটামিন সি’র অভাব এর প্রধান কারণ।
গর্ভাবস্থায় পায়ে খিলধরা : গর্ভাবস্থায় এটি সাধারণ সমস্যা। রক্ত ধমনির ওপর স্ফীত জরায়ুর চাপের জন্য এটা হয়ে থাকে। রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমের জন্য অথবা ফসফরাসের পরিমাণ বেশির জন্য এটি হতে পারে।
ত্বকের পরিবর্তন : গর্ভাবস্থায় পেটের মাঝামাঝি লম্বাভাবে একটা কালো দাগের সৃষ্টি হয়, তাকে বলে লিনিয়া নাইগ্রা। চামড়ার ভেতরের স্তর ফেটে যাওয়ায় পেটের দুই পাশে প্রথমে গোলাপি দাগের সৃষ্টি হয়, যাকে বলে স্ট্রাই গ্র্যাভিডেরাম এবং পরে তা উজ্জ্বল সাদা দাগে পরিণত হয়। এই দাগগুলোকে বলে লিমিয়া অ্যালবাক্যান্টিস। এই দাগগুলোই পূর্বের গর্ভধারণের চিহ্ন বহন করে চলে। যখন মায়ের ও শিশুর ওজন বেশি হয়, তখন এই দাগগুলো বেশি দেখা যায়। নিয়মিত অলিভ অয়েল মালিশ করলে এ দাগ কিছুটা কমে যায়।
চুলকানি : অনেক মহিলারই গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে শেষের দিকে সারা শরীরে চুলকানি দেখা দেয়। এর সঠিক কোনো কারণ জানা নেই। অনেকে মনে করেন ভ্রুণের শরীরের দূষিত পদার্থ মায়ের শরীরে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে। তবে সন্তান প্রসবের পরপরই এ ধরনের চুলকানি কমে যায়।
সাদা স্রাব : গর্ভাবস্থায় যোনি নিঃসৃত স্রাবের পরিমাণ আপনা থেকেই বেড়ে যায়। এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। স্রাবের রঙ হলুদ বা সবুজ হলে, দুর্গন্ধ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : গর্ভাবস্থায় হোমিওপ্যাথি ওষুধ নিরাপদ

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামস্থ সাতকানিয়া সমিতির ইফতার, প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন

আগামী ১৫ই জুন বৃহষ্পতিবার সাতকানিয়া সমিতি-চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে নগরীর এসএ খালেদ রোডস্থ রিমা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
উক্ত ইফতার ও দোয়া মাহফিল সফল করার লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা রবিবার রাত ১০টায় আন্দরকিল্লাস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সমিতির আহ্বায়ক ও চিটাগাং চেম্বারের পরিচালক অহীদ সিরাজ চৌধুরী স্বপনের সভাপতিত্বে এবং সাতকানিয়ার পৌর মেয়র ও সমিতির সদস্য সচিব মোহাম্মদ জোবায়েরের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠিত উক্ত প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন সমিতির উপদেষ্টা ও টেরিবাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ওসমান গণি চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক, আমানুল আলম, আব্দুল মাবুদ চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সমিতির সদস্য এটিএম রশিদ উদ্দিন শাহীন, অধ্যাপক শাব্বির আহমদ, ফারুক-এ- আজম, নুরুল আলম মন্টু, বশির উদ্দিন চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন দিনার প্রমুখ।
প্রস্তুতি সভায় ইফতার মাহফিলকে সফল ও সার্থক করে তুলতে বিস্তারিত আলোচনা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়। যথাসময়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে উপস্থিত থাকার আহবান জানানো হয়েছে।

মিঠা পানির ১০৮ প্রজাতির মাছ অস্তিত্ব সংকটে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেছেন, ১০৮ প্রজাতির দেশীয় মিঠা পানির মাছের অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ২৮টি প্রজাতি বিলুপ্তির পথে, ৫৪টি প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে, ১২টি প্রজাতির মাছ মহাসংকটে এবং ১৪টি প্রজাতির মাছ ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আজ মঙ্গলবার স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে সরকারি দলের বেগম পিনু খানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এসব তথ্য জানান। মন্ত্রী ছায়েদুল হক বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৮০০ প্রজাতির মাছ ও চিংড়ি আছে, এর মধ্যে ২৬০ প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ রয়েছে। আইইউসিএন’র তথ্য মতে, দেশের স্বাদুপানির ৬৪টি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার পথে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিলুপ্তপ্রায় মৎস্য প্রজাতির ওপর ধারাবাহিক গবেষণা করে ১৭ মাছের প্রজনন ও চাষ বিষয়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় এসব মাছের মধ্যে রয়েছে- বাটা, সরপুটি, ভাঙ্গনা, কালিবাউশ, গণিয়া, মহাশোল, পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুর, ভেদা, গুজি, আইড়, চিতল, ফলি, কুচিয়া ও টেংরা। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব প্রজাতির মাছ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে বাজারে দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রাপ্যতা সাম্প্রতিককালে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এসব মাছের ক্রয়মূল্য ভোক্তাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে এ কার্যক্রমের আওতায় দেশব্যাপী ১ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার পোনা অবমুক্তির ফলে ৭ হাজার ৬৫২ দশমিক ৬৯ মেট্রিক টন মাছ অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাত থেকে দেশব্যাপী পোনা অবমুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
৩ বছরে দেশে চামড়া উৎপাদন বেড়েছে ১৩.১৬ শতাংশ
সরকারি দলের সদস্য মো: আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, বিগত ৩ বছরে দেশে ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ চামড়া উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে চামড়া উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ পিস, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬০২ পিস এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চামড়া উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার ৪১ পিস।
প্রতিদিন দুধের ঘাটতি ২ কোটি ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮০৮ লিটার
সরকারি দলের সদস্য পিনু খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ১ কোটি ৯৯ লাখ ৩১ হাজার ৫০৭ লিটার দুধ এবং ৩ কোটি ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৩ টি ডিম উৎপাদিত হয়। সারাদেশে প্রতিদিন দুধের চাহিদা ৪ কোটি ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৫ লিটার এবং ডিমের চাহিদা ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৩টি। সারাদেশে প্রতিদিন দুধের ঘাটতির পরিমাণ ২ কোটি ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮০৮ লিটার এবং ডিমের ঘাটতির পরিমাণ ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬০টি।
সরকারি দলের সদস্য দিলারা বেগমের অপর এক প্রশ্নের তিনি বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে জনপ্রতি দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা ছিল গড়ে ৪৩ দশমিক ৩৫ মিলিলিটার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ৫৯ মিলিলিটার।
মৎস্য খাতে ৩৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করা হয়েছে
সরকারি দলের অ্যাডভোকেট মো: রহমত আলীর এক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, সারাদেশে ৩৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। যার ফলে ৫৮ হাজার ৫৩৩ জন সুফলভোগী উপকৃত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় দেশের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট খামারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে মৎস্যচাষীদের ঋণ দেয়া হয়। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ নির্দেশিকা মোতাবেক বিতরণকৃত অর্থ আদায়পূর্বক বিদ্যমান তহবিলের সাথে যোগ করে রিভলভিং ফান্ড হিসেবে পুনরায় দরিদ্র ও প্রান্তিক মৎস্যচাষীদের মাঝে বিতরণ করা হয়, যা একটি চলমান প্রক্রিয়া। মৎস্য খাতে এ ক্ষুদ্রঋণ সম্পূর্ণ সুদমুক্ত। শুধুমাত্র শতকরা ৫ ভাগ হারে সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য।

দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রায় ১৪ লাখ

জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদে জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে মোট ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৩৯৩ জন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, যার মধ্যে ১ম-৯ম গ্রেড পর্যন্ত প্রথম শ্রেণীর পদ রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮১৯টি। আজ মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর-১ আসনের এমপি এম এ আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রীর দেয়া হিসাব অনুযায়ী, গ্রেড-১ এ ৩৩৫, গ্রেড-২’এ ২৩২৪টি, গ্রেড-৩’এ ৪৬৭৭,
গ্রেড-৪’এ ৮১৩৪, গ্রেড-৫’এ ১৫৭৯৪, গ্রেড-৬’এ ৩৩৪১১, গ্রেড-৭’এ ৫৪৯৪, গ্রেড-৮’এ ৪৬৭৩ এবং গ্রেড-৯ম এ রয়েছে ৭৩৮৭৬ জন। ফিক্সড বেতনে ১০১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া জনপ্রশাসনে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত মোট কর্মকর্তার সংখ্যা ২৬৫ জন। চট্টগ্রাম-৩ আসনের এমপি মাহফুজুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৩১১টি শূন্য পদ রয়েছে। এসব শূন্য পদে লোক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ফলদ বৃক্ষের চারা তৈরি আব্দুর রশিদের নেশা ও পেশা

নিজ উদ্যোগে নতুন নতুন ফলদ বৃক্ষের চারা তৈরী করা তার নেশা ও পেশা। তিনি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার আমতলা গ্রামের আব্দুর রশিদ। এলাকায় সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে পুষ্টি ও অর্থ দুই চাহিদা পূরণ সম্ভব- এমন চেতনা নিয়েই ৪২ বছর এ পেশা নিয়ে আছেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ৪ একর জমির উপর ‘ফরিদ নার্সারী’ নামে একটি নার্সারী রয়েছে তার। মালিক আব্দুর রশিদ জানান, দিনমজুর পিতা সামসুল সেখের ৬ সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। অভাবের তাড়নায় ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের সময় ১২ বছর বয়সে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা তাকে ভারতের মালদা এলাকায় আমবাগান দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। সেখানে ৩ বছর থাকার পর আমসহ বিভিন্ন জাতের চারা তৈরী করতে সক্ষম হন। পরে বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ির পাশ্ববর্তী আব্দুস ছত্তার বিশ্বাসের ৪০ শতাংশ পতিত জমি বার্ষিক কিছু খাজনা ও বাগান করিয়ে দেওয়ার শর্তে গ্রহণ করেন। বর্তমানে ৪ একর জমিতে নার্সারী রয়েছে তার।
তিনি আরো জানান, ১৪০ শতাংশে রুপালী, ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা, বারী-৪, বারী-৮, মল্লিকা, সুবর্ন, আশ্বিনে, ফজলি, কালোলতা, বারমাসি, কাচামিঠা, কালোবাহার, চুষা প্রভৃতি উন্নত জাতের আমের চারা রয়েছে। ১১০ শতাংশ জমিতে মেহগিনির চারা। অবশিষ্ট জমিতে লিচু, সবেদা, জামরুল, পেয়ারা, কদবেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের চারা রয়েছে। এ মৌসুমে কত টাকার চারা বিক্রি হবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ভাসমান অসাধু ব্যবসায়ীদের চারা আমদানীর প্রবণতা কম থাকলে স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থায় ৫-৬ লাখ টাকা লাভ হবে। নার্সারী করে ৮ সদস্যের সংসারের খরচ চালিয়ে তিনি ২টি চৌচালা টিনের ঘর দিয়েছেন। লেখাপড়া না জানা পরিবারের ছোট ছেলে ফরিদ সেখকে ফরিদপুর সরকারী রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্সের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। আব্দুর রশিদ বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি বৃক্ষপ্রেমে কাটাতে চান। কৃষি ও বন বিভাগের নিকট তার প্রাণের দাবি গাছ লাগানোর মৌসুম এলে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী নি¤œমানের চারা কম দামে বিক্রি করে প্রকৃত নার্সারী মালিক ও উদ্যোক্তাদের ঠকানোর প্রবণতা বন্ধের হস্তক্ষেপ কামনা।

মুসলিম দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা : আবার হেরে গেলেন ট্রাম্প

ছয়টি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা আবারো আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেয়া পূর্ববর্তী একটি রায় বহাল রেখেছে দেশটির একটি আপিল আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ওপর সূক্ষ্ম যাচাই বাছাইয়ের ক্ষমতা বহাল রাখা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষমতায় যাওয়ার একশো দিনের মধ্যে তিনি কী কী করবেন।
তার একটি ছিলো অভিবাসনের ওপরে কঠোর অবস্থান। জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেয়ার পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব নির্বাহী আদেশ সই করেন তার একটি হলো ছটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর ৯০ দিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার নির্বাহী আদেশ দেয়ার সাথে সাথেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। দেশটিতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদও হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ইতিমধ্যেই বেশ কবার রুখে দিয়েছেন মার্কিন বেশ কজন বিচারক। এখন নতুন করে আরো একবার ট্রাম্পের আইনি পরাজয় হলো। এ দফায় হেরে গেলেও এই আইনি লড়াই অবশ্য এখনি শেষ হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত তা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

চুরি ও হামলার দায়ে কারাদণ্ড ভারতীয় বিমানবাহিনী পাইলটের

ভারতীয় বিমানবাহিনীর হয়ে জাতীয় স্তরে রাইফেল শুটিং প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন তিনি। কাজের জন্য কুড়িয়েছেন প্রসংশাও। তবে আজ তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত সাজাপ্রাপ্ত দাগী আসামি। অভিযোগ, তিনি শৃঙ্খলাভঙ্গ করেছেন। শীর্ষ কর্মকর্তার উপর হামলা করেছেন। সঙ্গে আছে চুরির দায়ও। তবে সমস্তই ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন সাজাপ্রাপ্ত বিমানবাহিনীর পাইলট। ২০১৩ সাল। তখন বিমানবাহিনী পরিবহণ বিমান Antonov-32 চালাতেন ওই ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। চালক হিসেবে বেশ নামডাকও হয়েছে। এমন সময় হঠাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাত। খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর চোট পান তিনি। সেরে উঠলেও পাইলট হিসেবে তার জীবন শেষ হয়ে যায়। চোটের দরুণ বিমানবাহিনীর বিমান চালানোর অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। তারপরই তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় গুজরাটের ভুজ বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে। সেখানেই সমস্যার সূত্রপাত। শৃঙ্খলাভঙ্গ, শীর্ষ কর্মকর্তার উপর হামলা ও চুরির অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তারপর কোর্টমার্শালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। চাকরি থেকে বরখাস্ত ও দু’বছরের জেলের সাজা দেওয়া হয় তাঁকে। যদিও দিল্লির একটি সামরিক আদালতে ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে জামিন পেতে সক্ষম হয়েছেন দোষী সাব্যস্ত ওই পাইলট। তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ওই পাইলট দাবি করেছেন যে শীর্ষ কর্মকর্তারা তার চিকিৎসায় গাফিলতি করেছেন যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে তাকে। এছাড়াও তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। এসব কথা তুলে ধরার জন্যই তাকে নিশানা করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন তিনি। তেজবাহাদুর প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর অন্দরে চলা দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে উঠেছিল গোটা ভারতে। জওয়ানদের নিম্নমানের খাবার ও অফিসারদের হাতে হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ করায় শৃঙ্খলাভঙ্গ করার নামে কৈফিয়ত গুণতে হচ্ছে ওই বিএসএফ জওয়ানকে। ওই ঘটনার পর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন খোদ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধান। তবে সেই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে তা সময়ই বলবে।

এবার গোরক্ষকদের মারধরের শিকার সরকারী কর্মীরা, ট্রাকে আগুন

ভারতের বিজেপিশাসিত রাজস্থানে পুনরায় গো-রক্ষকদের তাণ্ডব প্রকাশ্যে এসেছে। কথিত গো-রক্ষকরা গরু বোঝাই ট্রাক আটকে চালককে মারধর, ট্রাকে ভাঙচুর করাসহ তাতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি তামিলনাড়ুর সরকারি কর্মকর্তারাও। এর আগে রাজস্থানের আলওয়ারে পহেলু খান নামে এক দুধ ব্যবসায়ীকে গরু পাচারের মিথ্যা অভিযোগে গণপিটুনিতে হত্যা করেছিল গো-রক্ষকরা। আজ মঙ্গলবার ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ, রোববার গভীর রাতে তামিলনাডু প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা রাজস্থানের জয়সালমীর থেকে ৫০টি গরু এবং ৩০টি বাছুর কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তথাকথিত গোরক্ষকরা ১৫ নম্বর জাতীয় সড়কে তাদের আটকায় এবং ট্রাক চালকদের মারধর করে। উন্মত্ত জনতা একটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিলে পরে পুলিশি প্রচেষ্টায় তা নিভিয়ে ফেলা হয়। তামিলনাডুর সরকারি কর্মী ও কর্মকর্তারা জয়সালমীরের বিভিন্ন জায়গা থেকে উন্নত প্রজাতির গরু কিনে প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। এনওসি বা আপত্তিহীন শংসাপত্র ছাড়াও তাদের কাছে গরু অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এমনকি স্থানীয় থানার অনুমতিপত্রও ছিল। ট্রাকের সামনে ‘অন ডিউটি-গভর্নমেন্ট অব তামিলনাড়ু’ লেখা থাকলেও কোনো কিছুকে আমল দেয়নি দুর্বৃত্তরা।
কথিত গো-রক্ষকদের হামলার মুখে পড়তে হয় তাদের। গরু পাচার করা হচ্ছে গুজব তুলে ওই তাণ্ডব চালানো হয়। সোমবার সকালে হামলাকারী ৪ দুর্বৃত্তকে পুলিশ গ্রেফতারসহ কমপক্ষে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। বাড়মের পুলিশের এসপি গগনদীপ সিংহলা বলেন, সঠিক সময়ে পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য এক কর্মকর্তাসহ ৭ পুলিশকর্মীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে রাজস্থানেরই আলওয়ার জাতীয় সড়কে পশুমেলা থেকে বৈধভাবে গরু কিনে নিয়ে যাওয়ার সময় গো-রক্ষকদের হাতে চরমভাবে নিগৃহীত হন পহেলু খান নামে এক ব্যক্তি। তাকে গরু পাচারের গুজব তুলে পিটিয়ে হত্যা করে উন্মত্ত জনতা। এবার সরকারি কর্মীরাও রেহাই পেলেন না গো-রক্ষক নামধারী ধর্মান্ধদের হাতে। দেশের বিভিন্ন অংশে গো-রক্ষকদের দুর্বৃত্তপনা প্রকাশ্যে আসলেও বিজেপিশাসিত রাজস্থান সরকারের গাছাড়া মনোভাব ও প্রকারান্তরে প্রশ্রয়ের ফলে গো-রক্ষকদের বাড়বাড়ন্ত চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্ত্রীকে খুন করে থানায় হাজির স্বামী!

ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর সাড়ে বারোটা৷ সোমবার নিজের রুটিন কাজ সারছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাগুইআটি থানার ডিউটি অফিসার৷ আচমকা হন্তদন্ত হয়ে ভিতরে ঢুকলেন বছর তিরিশেকের যুবক৷ দরদরিয়ে ঘামছেন৷ অফিসার কিছু বলার আগেই বলে বসলেন, ‘গলাটিপে খুন করে ফেলেছি স্ত্রীকে!’ শুনে হতবাক অফিসারের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কী বলছেন! আপনি ঠিক আছেন তো?’ উত্তরে রনি পোদ্দার নামে ওই যুবক বলেন, ‘বিশ্বাস না হলে আমার বাড়িতে গিয়ে দেখুন৷’কেষ্টপুরের রবীন্দ্রপল্লির বাড়ি থেকে স্ত্রী বেবির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ গ্রেফতার করা হয়েছে রনিকে৷তা সত্ত্বেও এই মামলায় নানা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে৷ জেরায় পুলিশের কাছে ধৃতের দাবি, দিন পনেরো আগে বিয়ে হয়েছিল তাদের৷ বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে স্ত্রীর৷ ঘটনাটি জানার পরে রনি স্ত্রীকে অনুরোধ করেন পুরুষবন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করতে৷ যদিও স্ত্রী জানিয়ে দেন, তার পক্ষে তা সম্ভব নয়৷ ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দু’জনের মধ্যে গত শনিবার রাতে তুমুল ঝগড়া হয়৷ স্ত্রীকে বাপের বাড়ি রেখে আসার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন বলে দাবি রনির৷ তাতে কোনো কাজ হয়নি বলে জেরায় জানিয়েছেন তিনি৷ এ দিন সকালে কর্মসূত্রে বাইরে গিয়েছিলেন রনি৷
কথা ছিল, রাতে ফিরবেন৷ তবে কাজ মিটে যাওয়ায় ফিরে আসেন দুপুরে৷ রনির দাবি, ঘরে ঢুকতেই তিনি দেখেন মোবাইলে এক বন্ধুর সঙ্গে গল্প করছেন স্ত্রী৷ রনির বক্তব্য, ‘স্ত্রীর এই আচরণ দেখেই আমার মাথায় আগুন জ্বলতে শুরু করেছিল৷ ওই রাগ থেকেই ওকে গলা টিপে মেরে ফেলেছি৷’ যদিও তার স্ত্রীর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন মেলেনি৷ গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, বেবির গলায় আঘাতের চিহ্ন নেই কেন? ফলে ঘোরালো হয়েছে রহস্য৷ প্রশ্ন হল, তা হলে কি অন্য কোনো কারণ রয়েছে এর আড়ালে? বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দাপ্রধান সন্তোষ পাণ্ডে বলেছেন, ‘আদৌ রনি তার স্ত্রীকে খুন করেছেন, না অন্য কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সবটাই আমরা খতিয়ে দেখছি৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে অনেক কিছু পরিষ্কার হবে৷’ প্রতিবেশী অবিনাশ কুণ্ডু বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই ওদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল৷ তবে রনি খুন করার মতো ছেলে নয়৷’ সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সৌদির চেয়ে ইরান-তুরস্কের খাবার বেশি পছন্দ করছেন কাতারবাসী

সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের অবরোধের প্রেক্ষাপটে কাতারে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতদিন কাতারের মোট খাদ্যসামগ্রীর ৪০ শতাংশ আমদানি করা হত সৌদি আরব থেকেই। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে কাতার-সৌদির সব সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। কাতারকে পাঁচটি বিমান বোঝাই বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছে ইরান। এমন প্রেক্ষাপটে কাতারের বাজারে প্রয়োজনীয় খাদ্য-পন্যের সরবরাহ কতটা আছে? তার দামই বা কতটা সহনীয় পর্যায়ে আছে? কাতারের দোহায় একটি হোটেলে কর্মরত বাংলাদেশী আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রথম কয়েকদিন খাবারের দাম উর্ধ্বমুখী থাকলেও এখন সেটি স্থিতিশীল হয়েছে। ইরান এবং এবং তুরস্ক থেকে কাতারের জন্য খাদ্য পাঠানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "প্রথম দুই দিন তো কেউ সাপ্লাই দিতে পারে নাই। ইরানও দিতে পারে নাই তুরস্কও দিতে পারে নাই। ওদের খাবারের গুণগত মানও সৌদি আরব থেকে ভালো। সবাই এখন এটাকে পছন্দ করছে।" সৌদি আরবসহ আরো তিনটি উপসাগরীয় দেশ কাতারের উপর অবরোধ আরোপ করায় ফল এবং সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। তুরস্ক থেকে দুগ্ধজাত পণ্য আসছে কাতারে।
এ অবরোধের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী খাদ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কাতার সরকার হুশিয়ারি দিয়ে বলে খাদ্য মজুত করে দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আতিকুর বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদী হলে কম রোজগারের মানুষ সমস্যায় পড়তে পারে। এক্ষেত্রে যাদের বেতন এক হাজার রিয়ালের কম তাদের জন্য পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বরে তিনি আশঙ্কা করছেন। "খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ার কারণেই এর প্রভাব আসতে পারে, যেহেতু তাদের বেতন এক হাজার রিয়ালের কম। সাধারণত খাবারের জন্য প্রতিমাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ রিয়াল খরচ করতে হয়। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে ৫০০ রিয়ালের উপরে চলে আসবে। এতে করে তাদের সমস্যা হতে পারে," বলছিলেন তিনি। তবে যাদের রোজগার বেশি, তারা কোনো সঙ্কটে পরবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। কাতারের নাগরিকরা আশা করছেন দ্রুত এ সঙ্কটের সমাধান হবে। যদিও এখনো পর্যন্ত সে ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে অবরোধের কারণে ওমান হয়ে পণ্য আমদানি শুরু করেছে কাতার। সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেবার অভিযোগ এনে কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং আরো কয়েকটি দেশ। যদিও সন্ত্রাসবাদে মদদ জোগানোর অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করছে কাতার। সূত্র : বিবিসি

সবচেয়ে দ্রুতগতির যুদ্ধযান তৈরি করছে চীন

চীন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী উভচর সাঁজোয়া যুদ্ধযান তৈরি করছে। শান্ত পানিতে এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। বিশ্বে নানা ধরণের সাঁজোয়া যুদ্ধযান থাকলেও সেগুলো খুবই ধীর গতির। নর্থ চায়না ইন্সটিটিউট অব ভেহিকেল রিসার্চ তৈরি করেছে এ সাঁজোয়া যুদ্ধযান বা এএফভি।
এটি শান্ত পানিতে ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। এএফভিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির উভচর যান হিসেবে ধরা হয়েছে। মার্কিন মেরিন বাহিনী যে ধরণের উভচর যান ব্যবহার করে তার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় মাত্র নয় কিলোমিটার। পানির সংঘর্ষ কমাতে এএফভি’কে ভি আকারে তৈরি করা হয়েছে এবং পানিতে চলার সময় এর চাকা শরীরের সাথে ভাঁজ হয়ে সেটে থাকে। ওজনের দিক থেকেও এটি তুলনামূলক ভাবে হালকা। এর ওজন মাত্র সাড়ে পাঁচ টন।

যোগীর রাজ্যে গ্রামের নাম পাল্টে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির’!

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলার সিমরনপুর পরিণত হলো ‘পিওকে’ বা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরে। নাহ, তথাকথিত পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীরা এই এলাকা দখল করেনি। নিজেদের গ্রামের নাম নিজেরাই পাল্টে ফেললেন সিমরনপুরের বাসিন্দারা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে এ কী কাণ্ড ঘটতে চলেছে! কেন এমনটা করলেন তারা? আসলে সরকার আসে, যায়। কিন্তু এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে থেকে যায় অন্ধকারেই। এই গ্রামের কোনো উন্নতি হয়নি। আর তাই নিজেদের গ্রামকে পাক অধিকৃত কাশ্মির নাম দিয়ে অভিনব প্রতিবাদে নেমেছেন বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকায় লেখাপড়ার, চিকিৎসার সুব্যবস্থা নেই। নেই বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তা, বিদ্যালয় অথবা কোনো ফার্মেসি। একটি হ্যান্ড পাম্প ছিল। যা গত আট বছর ধরে অচল। এখন তা ব্যবহার করা হয় গবাদি পশু বেঁধে রাখতে। পানির অভাবে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ছে গ্রামের শিশুরা। দৌলতপুর পঞ্চায়েত এলাকার অন্তর্ভুক্ত এই গ্রামের মানুষ সব নিয়ে তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছেন। গত বৃহস্পতিবার গ্রামের এক দোকানি জানান, “পাক অধিকৃত কাশ্মিরের মানুষজন কী শোচনীয় অবস্থায় দিনযাপন করেন, সে কথা আমরা শুনেছি। আমাদের অবস্থা অনেকটা তেমনই। আর সেই কারণেই এভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। যতদিন না গ্রামের উন্নতির জন্য সরকার এগিয়ে আসছে ততদিন এই গ্রাম পিওকে নামেই পরিচিতি পাবে।” আর এ বিষয়ে একজোট হয়েছেন গ্রামের ৮০০ বাসিন্দা। আরেক প্রতিবাদী সোনু যাদব বলেন, “গ্রামে বৈদ্যুতিক পোস্ট রয়েছে, কিন্তু তাতে কোনো তার নেই। গত ৭০ বছরে ছবিটা পাল্টায়নি। বিজেপি এমপি অভিজিত সিং সঙ্গার কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম আমরা। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। আগে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি।” সমস্যা আরো রয়েছে। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, এলাকায় মাত্র ৩০ জনের রেশন কার্ড রয়েছে। তা সত্ত্বেও সেই কার্ড দেখিয়ে কেরোসিন তেল পান না তারা। বিদ্যুৎহীন গ্রামে কেরোসিনের অভাবেও ভুগতে হয় তাদের। আর এসব কারণে অন্যান্য গ্রামের পরিবার নিজেদের মেয়ের বিয়ে সিমরনপুরের যুবকদের সঙ্গে দিতে চায় না। গ্রামবাসীর আশা, নাম পাল্টে প্রতিবাদ করলে নিশ্চয়ই নড়েচড়ে বসবে প্রশাসন।

ঈদের সাজের প্রস্তুতি

ঈদের দিন মানেই নতুন পোশাক। সেই সাথে আকর্ষণীয় সাজের মাধ্যমে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা। কিন্তু একদিনের সাজে সেটা সম্ভব নয়। তাই ঈদের আগেই নিতে হবে প্রস্তুতি। এ বিষয়ে জানাচ্ছেন নভীনসের বিউটি কনসালট্যান্ট আমিনা হক।
ত্বকের যত্ন
সুন্দর ত্বক সৌন্দর্যচর্চার প্রথম কথা। প্রথমেই কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন, এতে ত্বকের রোমকূপ খুলতে সাহায্য করবে। এরপর নিচের ধাপ অনুযায়ী স্ক্রাবিং, মাস্কিং, টোনিং ও ময়শ্চারাইজিং করে নিন।
স্ক্রাবিং ও ক্লিনজিং : এক চা চামচ সয়াবিন পাউডার, এক চা চামচ চালের গুঁড়া, এক টেবিল চামচ টকদই একত্রে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। পুরো মুখে লাগিয়ে দু-এক মিনিট হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের জন্য সফ্ট স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে।
মাস্কিং : এক চা চামচ শসা পেস্ট, তিন চা চামচ ওটমিল অথবা জবগুঁড়া, এক চা চামচ টকদই (তৈলাক্ত ত্বকে) বা দুধ (শুষ্ক ত্বকে) এবং এক চা চামচ মধু একত্রে মিশিয়ে মুখে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের গ্লো বা উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
টোনিং : আধা চা চামচ মধু এবং আধা চা চামচ গুঁড়োদুধ একত্রে মিশিয়ে এক মিনিট মুখে ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে টিউন করে ইনস্ট্যান্ট গ্লো দেবে।
ময়শ্চারাইজিং : দুই চা চামচ মধু এবং এক চা চামচ গোলাপজল একত্রে মিশিয়ে ফ্রিজে রাখুন। প্রতিদিনের ময়শ্চারাইজার হিসেবে এটি ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।
এভাবে প্রাকৃতিক উপাদানের স্পর্শে ঈদের দিনটিতে আপনি পেতে পারেন আরো সুন্দর ও দীপ্তিময় ত্বক।
চুলের যত্ন
এক টেবিল চামচ মধু ও দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল সামান্য গরম করে পুরো চুলে ভালো করে লাগাতে হবে; পরে গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে জড়িয়ে রাখতে হবে। স্কাল্পে বেশি তেল দেয়ার দরকার নেই, কারণ এ সময় এমনিতেই স্কাল্প তেলতেলে থাকে। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। চুলের কন্ডিশনার হিসেবে এই মিশ্রণটি চমৎকার কাজ করে। দুই টেবিল চামচ মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে মিহি পেস্ট বানিয়ে নিন। স্কাল্পে এই পেস্ট লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। তারপর রিঠা বা শিকাকাই দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। চুল নিয়মিত ট্রিম করলে স্লিট এন্ডস বা চুলের আগা ফাটার সমস্যা অনেক কমে আসবে। এ ছাড়া ঈদের আগে অন্তত দুইবার কোনো স্পাতে গিয়ে হেয়ার স্পা অথবা হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়ে নেয়া যেতে পারে। এবার ঈদের দিনটির জন্য প্রয়োজন শুধু একটি মানানসই হেয়ার কাট কিংবা মানানসই হেয়ার কালার। বিশেষ এই দিনটিতে আপনার চুলই হবে সবচেয়ে ঝলমলে এবং সুন্দর।

রাঙ্গামাটিতে বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে ১৩ জনের মৃত্যু

দুদিনের টানা বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নয়জনের লাশ রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। এছাড়া কাপ্তাই উপজেলায় তিনজন ও কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তিদের পরিচয়ের ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গতকাল সোমবার থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখনো সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। রাঙামাটি সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন শহীদ তালুকদার আজ জানান, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাহাড়ধসে মারা যাওয়া নয়জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।

ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুর্ঘটনা : ট্রলার উদ্ধার

শতাধিক যাত্রী নিয়ে কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়েছে। বেলা ১২টার দিকে ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চৈতী নামের এক কিশোরী নিখোঁজ রয়েছেন। রাতে আলোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দুটি বালুর ট্রলারের সাথে যাত্রীবাহী এ ট্রলারটির সংঘর্ষ হয়। ট্রলারের যাত্রী দিপক হাওলাদার এ কথা জানান।
তিনি আরো জানান, ট্রলারটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। ঘটনার পর তিনি বেঁচে যান। এর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এস আই শরিফুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ওয়াইজঘাট থেকে জিনজিরা ফেরিঘাট যাওয়ার পথে ট্রলারটি ডুবে যায়। একজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। বাকিদের উদ্ধার করা হয়েছে।

৩ জেলায় পাহাড়ধসে সেনা সদস্যসহ ৩৭ জন নিহত

অতি বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রামে ৩৭ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে রাঙামাটিতে। সেখানে ২৩জন নিহত হবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার। নিহত ২৩ জনের মধ্যে সেনাবাহিনীর তিনজন সৈনিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার। তারা মানিকছড়ি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে পাহাড় ধসে বান্দরবানে ছয়জন এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া এবং চন্দনাইশে আট জন নিহত হয়েছেন এছাড়া খারাপ আবহাওয়ার কারণে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
তবে সব জায়গায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। রাঙামাটির পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, সেখানে মঙ্গলবারও প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সস্পর্কে পরিষ্কার চিত্র পেতে আরো অপেক্ষা করতে হবে। বান্দরবানের পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার বিবিসিকে বলেন, প্রবল বর্ষণে ভূমি ধসের সাথে গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। জেলার অধিকাংশ জায়গায় কোন বিদ্যুৎ নেই। উদ্ধারকাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মি: কুমার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার এবং সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী অনেক বাড়ি মাটি চাপা পড়েছে।

যশোরে কলেজছাত্র হত্যামামলায় স্কুলশিক্ষকের যাবজ্জীবন

জেলার মনিরামপুর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের কলেজ ছাত্র হেলালউজ্জামান হত্যামামলায় স্কুলশিক্ষক এনাম আহম্মেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জজ ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এ রায় ঘোষণা করেন। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর ৮ আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন বিচারক। দন্ডপ্রাপ্ত হেলালউজ্জামান জোকা-কমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ও উপজেলার হানুয়ার গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৫ এপ্রিল উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারে চা খাওয়াকে কেন্দ্র করে খাঁ পাড়ার পলাশ ও রিপনের মধ্যে মারামারি হয়।
এ ঘটনার জের ধরে পরদিন সকাল ৯টার দিকে কলেজ ছাত্র হেলালউজ্জামান বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভানুর মোড়ে পৌঁছালে আসামিরা তার গতিরোধ করে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। প্রথমে তাকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর তিনি ১৭ এপ্রিল মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সামছুল হক মন্টু বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক তরুন কুমার কর তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৬ জুলাই ৯জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানী শেষে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক স্কুল শিক্ষক এনাম আহম্মেদকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এনাম আহম্মেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবানে পাহাড়ধসে শিশু ও মহিলাসহ ৬ জন নিহত

বান্দরবানে প্রবল বর্ষণে পৃথক তিনটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনায় ৪ শিশু ও মহিলাসহ ৬ জন নিহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে শহরের কাছে কালাঘাটা ও লেমু ঝিড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। চাপাপড়া মাটির গভীরতা বেশি হওয়ায় এখনো দুজনের লাশ উদ্ধার করা যায়নি। এদিকে প্রবল বর্ষণে সাংঙ্গু মাতামুহারী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই সহস্রাধিক পরিবার। দমকল বাহিনী সূত্র ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোর রাত ৩টার দিকে প্রবল বর্ষণের সময় শহরের কালাঘাটা এলাকার কবরস্থানের পাশে ঘরের উপর মাটি চাপা পড়লে রেবা ত্রিপুরা (২২) নামের বান্দরবান সরকারি কলেজের এক কলেজছাত্র নিহত হয়। মাটি চাপা পড়ে আহত হয় আরো ৪ কলেজছাত্র। এরা হলো বীর বাহাদুর ত্রিপুরা সূর্য চাকমা ও প্রশেন ত্রিপুরা। তারা ঐ এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতো। রেবা ত্রিপুরা রাতে তার বন্ধুৃদের সাথে কালাঘাটার ঐ এলাকায় থাকতে আসে। রাতে প্রবল বৃষ্টির সময় মাটি চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে লেমু ঝিড়ি জেলে পাড়া ও আগা পাড়া এলাকায় এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে গিয়ে মা মেয়ে নিহত হয়েছে। এরা হলো মা কামরুন্নাহার বেগম (৪০) ও তার মেয়ে সুখিয়া বেগম (৮)। আহত হয় কারুন্নাহারে স্বামী আবদুল আজিজ। এদিকে লেমু ঝিড়ি আগা পাড়া এলাকায় লাল মহন বড়ুয়ার ঘরে উপর মাটিচাপা পড়লে তার ৩ শিশু নিহত হয়।
এরা হলো মিতু বড়ুয়া, শুভ বড়ুয়া ও লতা বড়ুয়া। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে লেমু ঝিড়ির জেলে পাড়া এলাকার ধসে পরা মাটির গভীরতা বেশি হওয়ায় মা-মেয়ের লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেখানে দমকল বাহিনীর সদস্যরা লাশ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে। দমকল বাহিনীর সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে দককল বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে প্রবল বৃষ্টি ও ধসে পরা মাটির গভীরতা বেশি হওয়ায় মা-মেয়ের দুটি লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে বলে জানান দমকল বাহিনীর এই কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান, প্রশাসনের পক্ষ হতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রবল বর্ষণ ও পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খোজ খবর নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে প্রশাসনের পক্ষ হতে। এদিকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলে জেলা শহর, লামা ও আলীকদম উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার দুই সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়ায় ও পানি উঠায় বান্দরবানের থানছি, রুমা, লামা ও আলীকদম উপজেলার সড়ক যোগযোগ বন্ধ রয়েছে। বান্দরবানের সাথে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগও বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা শহরের মেম্বার পাড়া, আর্মি পাড়া ওয়াপদা ব্রীজ কাশেম পাড়া এলাকা পানিতে তালিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া শিক্ষা প্রািতষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় নতুন শহরে ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকেই পুনর্বাসন করা হবে

চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকেই পুনর্বাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন। জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বরাত দিয়ে তিনি একথা জানান। সোমবার পুলিশ সুপারের বাসভবনে নবাগত ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝির সংবর্ধনা ও সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমরা মনে করেছিলাম যতগুলো পরিবারকে পুর্নবাসন করা যায় ততগুলোই করবো। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রী সবগুলো পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে ঘোষণা দিয়েছেন। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ভূমিহীনদের খাস জমিতে পুনর্বাসন করা হবে। দুঃস্থ হলে তাদের জন্য নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়া হবে। আপনারা জনপ্রশাসন মন্ত্রীর এ ঘোষণা ছাপাবেন। এতে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে বলেও মনে করেন তিনি। ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও আধুনিক বিভাগীয় শহর গড়ার লক্ষ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পুর্বপাড়ের চরাঞ্চলে চার হাজার ৩৬৬ একর ভূমি অধিগ্রহণে প্রায় ১৭ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। এসব পরিবারের মানুষ উচ্ছেদের আশঙ্কায় বসতভিটা রক্ষার দাবিতে বিগত প্রায় নয় মাস ধরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা লাগাতার কর্মসূচি পালন করে আসছেন। তারা বসতভিটা রক্ষা করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় নতুন শহর গড়তে প্রস্তাবিত নকশা পরিবর্তন করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনাও করেন। এমতাবস্থায় নতুন শহর গড়ার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। তবে নতুন শহর গড়ার কার্যক্রম বাস্তবায়নে খুব শিগগিরই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও আভাস দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতাও কামনা করেছেন বিভাগীয় কমিশনার। অনুষ্ঠানে নবাগত ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোজাম্মেল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন ভুইয়া, জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, জেলা নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান, আনন্দমোহন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জাকির হোসেন, রেঞ্জ পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারগণ এবং প্রিণ্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বুড়িগঙ্গায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবি

কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। তবে প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের মধ্যে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাত থেকে সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এস আই শরিফুল ইসলাম বলেন, গতরাত ১১টার দিকে অর্ধশত যাত্রী নিয়ে ওয়াইজঘাট থেকে জিনজিরা ফেরিঘাট যাওয়ার পথে ট্রলারটি ডুবে যায়। একজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। বাকি সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী মূলধন সংরক্ষণ হচ্ছে না

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য রোডম্যাপ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৫ সালে দেয়া এ রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী বছরের মধ্যে দেশের ব্যাংকিং খাতকে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে সাড়ে ১২ শতাংশ হারে মূলধন সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু রোডম্যাপ অনুযায়ী মূলধন সংরক্ষণ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত মূলধন সংরক্ষণ হয়েছে ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ হারে। অথচ এ সময়ে হওয়ার কথা ছিল ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ জন্য প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে সরকারি ব্যাংকগুলোকে। এ কারণেই আন্তর্র্জাতিক মানদণ্ডে দেশের ব্যাংকিং খাত পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রোডম্যাপ অনুযায়ী মূলধন সংরক্ষণ করতে না পারার অন্যতম কারণ ঊর্ধ্বমুখী খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের আধিক্য বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর চেয়ে সরকারি ব্যাংকগুলোর বেশি। এ কারণে সরকারি ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারেনি। ফলে মূলধন ঘাটতির মুখে পড়েছে সরকারি ব্যাংকগুলো। আর এর প্রভাব পড়েছে গোটা ব্যাংকিং খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত মার্চ শেষে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে পুরো ব্যাংকিং খাত গড়ে মূলধন সংরক্ষণ করতে পেরেছে ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ হারে। এর মধ্যে ৩৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক গড়ে মূলধন সংরক্ষণ করতে পেরেছে ১২ দশমিক ২২ শতাংশ হারে। আর ৯টি বিদেশী ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ করেছে ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ হারে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণ করেছে মাত্র ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ হারে। আর বিশেষায়িত দুই ব্যাংক (বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক) ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণ করেছে ঋণাত্মক ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ হারে। মূলধন সংরক্ষণের এ পরিসংখ্যানে দেখা যায়,
২০১৮ সাল শেষে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে বেসরকারি ব্যাংকগুলো মূলধন সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা দুই বছর আগেই অতিক্রম করতে পেরেছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় মূলধন সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার প্রভাব গোটা ব্যাংকিং খাতের ওপর পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র জানিয়েছে, আগামী দ্ইু বছরের মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি রাতারাতি উন্নীত হওয়া সম্ভব নয়। বরং ব্যবসাবাণিজ্যে মন্দা ও নানা কারণে সরকারি ব্যাংকসহ সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ আরো বেড়ে যেতে পারে। আর এটা হলে প্রভিশন ঘাটতি আরো বেড়ে যাবে। এমনি পরিস্থিতিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের রোডম্যাপ অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতের মূলধন সংরক্ষণ কিভাবে সাড়ে ১২ শতাংশে উন্নীত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধন সংরক্ষণ করতে না পারলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেবে। এর অন্যতম হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিষ্পত্তিতে ব্যয় বেড়ে যাবে। কারণ মূলধন ঘাটতি থাকলে ব্যাংকিং খাতের রেটিং খারাপ হবে। ফলে পণ্য আমদানিতে দেশীয় ব্যাংকগুলোর গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে। ফলে থার্ডপার্টি গ্যারান্টির মাধ্যমে পণ্য আমদানি করতে হবে। এতে ব্যয় স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাবে। পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে ব্যাংকগুলোকে আরো সতর্কতার সাথে ঋণ বিতরণ করতে হবে। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

নিম্নচাপটি সিলেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গতকালের নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে সিলেট ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপে অবস্থান করছে। এটি আরো উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার এক পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়,
ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এতে বলা হয়, সেই সাথে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে। সূত্র : বাসস

তিস্তা ও ফেনী নদীর পানিবণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত : পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের দিকনির্দেশনার প্রেক্ষিতে তিস্তা নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানিবণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া ফেনী নদীর অন্তবর্তীকালীন পানিবণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্কও চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া মনু, মুহুরী খোয়াই গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বণ্টন বিষেয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। অচিরেই সমতা, ন্যায়ানুগতা এবং পারস্পরিক ক্ষতি না করার নীতির ভিত্তিতে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদন করা হবে। ভারতের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার ও ভারত সরকারের মধ্যে শুকনো মৌসুমে ফারাক্কার গঙ্গা নদীর প্রবাহ বন্টনের লক্ষ্যে ৩০ বছর মেয়াদী একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুসারে ১৯৯৭ সাল হতে প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সবোর্চ্চ গুরুত্ব প্রদান করে বিভিন্ন পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। বিশেষভাবে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে শুকনো মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি স্বল্পতার কারণে দু’দেশের জনদুর্ভোগের কথা অনুধাবন করে জরুরি ভিত্তিতে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া প্রয়োজন মর্মে যৌথ ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা বেগমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর ভাঙ্গন রোধে সরকার এফআরইআরএমআইপি শীর্ষক একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থীক সহায়তায় প্রকল্পটি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে শুরু হয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে মোট ৩টি পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। প্রতিটি পর্যায়ে এর কাজ ৩টি পৃথক ডিপিপির আওতায় বাস্তবায়িত হবে। তিনি জানান, প্রকল্পটি বঙ্গবন্ধু সেতুর ভাটি থেকে আরিচা পর্যন্ত যমুনা নদীর উভয় তীর, গঙ্গা নদীর প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারেজের ভাটি থেকে আরিচা পর্যন্ত উভয় তীর এবং পদ্মা নদীর আরিচা থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত নদীর উভয় তীর পর্যন্ত বিস্তৃত।
গত ২০১৪ সালের ১৭ জুনে মোট ৮২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের ডিপিপি অনুমোদন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। টেন্স-১ প্রকল্পের আওতায় মোট ১৭ কিলোমিটার ৮০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ, ২৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণ, ৪টি রেগুলেটর নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার পাইলটিং কাজ এবং ৬০টি কমিউনিটি বেইজড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ইউনিট স্থাপন করা হবে। মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষের এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত দেশে মোট ৩৯৭ দশমিক ৭২ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং ও খনন করা হয়েছে। আরো ৯৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার পুনঃখননের কাজ চলমান রয়েছে। নদীর ভাঙন রোধ, নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এ নদী খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চট্টগ্রাম এম আবদুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের সমগ্র পোল্ডারগুলোকে জলবায়ু ক্রমবর্ধমান উষ্ণতার কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, ভাঙন ইত্যাদির কবল থেকে রক্ষার জন্য বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘কোস্টাল এমবার্কমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-ফেজ ১’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা এবং মেয়াদকাল ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এছাড়া উপকুলীয় পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুরে জেলার ৭০৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ইমারজেন্সি ২০০৭ সাইক্লোন রিকোভারী অ্যান্ড রেস্টোরেশন’ প্রজেক্টের কাজ চলমান রয়েছে।

দেশে চামড়া উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে : প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী

মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেছেন, বিগত ৩ বছরে দেশে ১৩ দশমিক ১৬ শতাংশ চামড়া উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আজ মঙ্গলবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো: আবুল কালামের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে চামড়া উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ পিস, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চামড়া উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ৬০২ পিস এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চামড়া উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ২৫ হাজার ৪১ পিস। সরকারি দলের সদস্য দিলারা বেগমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে জনপ্রতি দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা ছিল গড়ে ৪৩ দশমিক ৩৫ মিলিলিটার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ দশমিক ৫৯ মিলিলিটার। সরকারি দলের সদস্য পিনু খানের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ১ কোটি ৯৯ লাখ ৩১ হাজার ৫০৭ লিটার দুধ এবং ৩ কোটি ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৩ টি ডিম উৎপাদিত হয়। তিনি বলেন, সারাদেশে প্রতিদিন দুধের চাহিদা ৪ কোটি ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৫ লিটার এবং ডিমের চাহিদা ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৩টি। সারাদেশে প্রতিদিন দুধের ঘাটতির পরিমান ২ কোটি ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮০৮ লিটার এবং ডিমের ঘাটতির পরিমান ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৭ হাজার ২৬০টি।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কূটনীতিক গ্রেফতার

নিউইয়র্কে এক বাংলাদেশী কূটনীতিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, নিউইয়র্কে তার বাসায় আরেকজন বাংলাদেশী নাগরিককে তিন বছরের বেশি সময় ধরে সহিংস নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য করেছেন। কুইন্স কাউন্টির অ্যাটর্নির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত বিশদ বিবরণও রয়েছে। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম শাহেদুল ইসলাম এবং বয়স ৪৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে । তার পদবী উল্লেখ করা হয়েছে ডেপুটি কনসাল জেনারেল অব বাংলাদেশ। সে কুইনসের পাশেই জ্যামাইকা স্টেটে বসবাস করছে। ওই শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর পরই অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলাম তার পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং তাকে দিয়ে দৈনিক আঠারো ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করান বলেও অভিযোগ এসেছে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামিম আহসান জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মি. ইসলামকে ৫০ হাজার ডলার বন্ডে তিনি জামিন আদেশ দেয়া হয়েছে তবে তিনি এখনো মুক্ত হননি। তাকে ১২ জুন সকালে আটক করে পুলিশ। নিউ‌ইয়র্কের কুইন্সবরোর অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউন এমন অভিযোগকে খুবই উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী ২৮ জুন তাকে আবারও আদালতে হাজির হতে হবে। বাংলাদেশি দূতাবাস কর্মকর্তা আনুমানিক ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মে মাস পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থ ছাড়াই একজন ব্যক্তিকে তার বাড়িতে কাজ বাধ্য করেন। এরপর মোহাম্মদ আমিন নামে ওই ব্যক্তি গত বছর মে মাসে পালিয়ে যায় এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড এ ব্রাউন বিবৃতিতে বলেন, "এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন কনস্যুলার তার বাড়িতে আরেকজনকে কাজে বাধ্য করতে শারীরিক জোর খাটিয়েছেন এবং হুমকি দিয়েছেন। সেই সাথে প্রথমদিন থেকেই ওই কর্মীকে কাজে আটকে রাখার জন্য তার পাসপোর্ট নিয়ে নিয়েছেন। তাকে বেতন দিতে অস্বীকার করেছেন এবং অন্যদেশে থাকা তার পরিবারকে বিপদে ফেলার ভয়-ভীতি দেখান। এইসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিশ্চিতভাবেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার জন্য শাস্তি পেতে হবে"। তার বিরুদ্ধে সবগুলো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে ১৫ বছরের জেল খাটতে হতে পারে। কনস্যুলেট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সবোর্চ্চ চেষ্টায় আছেন আইনি পদক্ষেপ মোকাবেলার জন্য। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামিম আহসান বলেন, তারা মনে করেন অভিযোগকারী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়িভাবে বসবাসের আশায় এ ধরনের অভিযোগ করেছেন, যা সত্য নয়। সূত্র : বিবিসি

রাশিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের ডাক

রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে ফের গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। রাজধানী মস্কোতে সোমবার তার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নাভালনির স্ত্রী। মস্কোয় অননুমোদিত দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দেয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনি এক টুইট বার্তায় বলেন, আমাদের বাসার সামনে থেকে অ্যালেক্সাই আটক হয়েছেন। তবে আমাদের বিক্ষোভ পরিকল্পনার কোনো পরিবর্তন হবে না। বিবিসি জানায়, সারা দেশে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। ভ্লাদিভস্টক শহরে ১০ জন, ব্লাগোভেশছেঙ্কে ৪ এবং কাজানের অন্তত ১ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। প্রভাবশালী অধিকারকর্মী ড্যানিল কেন বলেন, সোমবার সেন্ট পিটার্সবার্গের বাসা থেকে তিনি আটক হন। চাম্প দি মার্স স্কয়ারে বিক্ষোভ র‌্যালিতে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, দয়া করে আমার জন্য বিক্ষোভে এসো! সোমবার আরও পরের দিকে মস্কোর কেন্দ্রে বিক্ষোভে অংশ নেয়ার কথা ছিল নাভালনির। প্রথমে শাখারোভা এভিনিউয়ে র‌্যালি করার জন্য অনুমতি দেন তিনি।
তবে সরকারদলীয় সমর্থকদের পাল্টা বিক্ষোভের জেরে ক্রেমলিনের পাশে ভার্সকায়া স্ট্রিটে বিক্ষোভ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ বিক্ষোভের জন্য রাশিয়ায় ১৬৯টি স্থানে র‌্যালি করার অনুমতি পান নাভালনি। তবে সেন্ট পিটার্সবার্গ ও মস্কোয় সমাবেশ করার অনুমতি পাননি তিনি। এর আগে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে নামেন রাশিযার হাজারও মানুষ। নাভালনির দল এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। ৫ বছরের মধ্যে রাশিয়ায় এটিই সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। নাভালনির দাবি, রাশিয়ার ৯৯ টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে ৭৭টিতেই স্থানীয় প্রশাসন বিক্ষোভ মিছিল আয়োজনের অনুমতি দেয়নি। ওই বিক্ষোভে নাভালনি যোগ দিলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ২০১৮ সালে রাশিয়ার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়েছেন নাভালনি। তবে কোনও মামলায় যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন হবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

ভয়ে ব্রিটেন সফরে যাচ্ছেন না ট্রাম্প!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনালাপের সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেকে বলেছেন, ব্রিটেনের জনগণ তার সফরের প্রতি সমর্থন না জানানো পর্যন্ত দেশটিতে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন না। ট্রাম্প আরও বলেন, বিশাল বিক্ষোভ প্রতিবাদ হলে যুক্তরাজ্য সফর করবেন না তিনি। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ও তেরেসা এ ফোনালাপ করেছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের এক উপদেষ্টা। ফোনালাপের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ট্রাম্পের এ বক্তব্যে বেশ বিস্মিত হন তেরেসা। খবর গার্ডিয়ানের। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার মাত্র সাত দিনের মাথায় ওয়াশিংটন সফর করেন তেরেসা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের শপথের পর তিনি হয়েছিলেন আমেরিকা সফরকারী প্রথম বিদেশি নেতা। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়াকে ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের আমন্ত্রণের কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন। ব্রিটেনের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা লর্ড রিকেটসসহ অনেক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিবিদ সে সময়ে বলেছিলেন, এ আমন্ত্রণ আগাম জানানো হয়েছে। একবার আমন্ত্রণ জানানোর পর তা বাতিল করা অসম্ভব।
তবে এ সফরের সরকারি কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। অবশ্য এ ফোনালাপের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র। তিনি একে ব্যক্তিগত ফোনালাপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন। তিনি এক টুইটে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করাকে স্বাগত জানাই। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে অস্বীকৃতি ও লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের সমালোচনা করার কারণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন অবস্থান নিয়েছেন করবিন। ব্রিটেনের রাজনীতিতে এ মুহূর্তে বেশ জনপ্রিয় নেতা করবিন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের প্রধানমন্ত্রিত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন। নির্বাচনে তাকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। পরক্ষণেই তিনি তেরেসাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। তিনিই এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। যদিও ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর সরকারিভাবে বা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়নি। তবে এ সফর নিয়ে জন অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে- এমন আশঙ্কায় তা আপাতত স্থগিত আছে। লন্ডন ব্রিজ হামলার পর মন্তব্যের কারণে করবিন ছাড়াও ট্রাম্পের সফর বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন আরও কিছু ব্রিটিশ এমপি। ওই সময়ে ট্রাম্প টুইট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছেন। লন্ডনের মেয়র বলছেন, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তার এ টুইটকে ভুল বলে উল্লেখ করেছেন তেরেসা। ট্রাম্পের ব্রিটেন সফর বাতিল করার দাবি জানান লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও।

কাতারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে সৌদি কী জিততে পারবে

উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী দেশ সৌদি আরব ছোট্ট প্রতিবেশী দেশ কাতারের সঙ্গে সর্বাত্মক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। তবে কাতার সংকটে যদি সৌদি আরব জয়ীও হয়, তারপরও তার অনেক কিছুর হারাতে হবে। আঞ্চলিক অন্যান্য সংঘর্ষের মতো বহিঃশক্তিগুলোকে উপসাগরীয় অঞ্চলের এ ফ্যাসাদে ডেকে আনা হচ্ছে, যে শক্তিগুলোর সবাই রাজতান্ত্রিক সৌদি আরবের পক্ষে নয়। কাতারের সঙ্গে সৌদির দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কাতার সংকট একেবারেই আনকোরা।সিরিয়ায় গত ছয় বছর ধরে ও ইয়েমেনে প্রায় দুই বছর ধরে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে সৌদি আরব। এখন সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ এনে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো নিয়ে সৌদি অপর প্রতিবেশী কাতারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। বৈরুতভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্নেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনালের একজন জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ইয়েজিদ সেইগ বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হচ্ছে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সেই একই ভুল করতে পারে, যে ভুল ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সৌদি নেতৃত্ব করেছে। তাদের স্পষ্ট কোনো রাজনৈতিক কৌশল নেই। শুধু ভুল অনমানের ওপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নিয়েছে। সূচনা করেছে বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং এখন সম্ভবত নিজেদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাজে অবস্থায় রয়েছে তারা।’ কাতার সংকট যেকোনো সময় যুদ্ধে মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আঞ্চলিক অন্যান্য সংঘাতের মতো, উপসাগরীয় এ দ্বন্দ্বে বহিঃশক্তিগুলোও জড়িয়ে পড়তে পারে এবং সেক্ষেত্রে তাদের সবাই সৌদির পক্ষে নাও থাকতে পারে। কাতারে নিজেদের অন্যতম বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে কাতার সংকটে সৌদিকে সমর্থন করে টুইট করেছেন, যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংকটে অনেকটা নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। এদিকে কাতার সংকটে সর্বাত্মক নিরাপত্তা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে তুরস্ক দেশটিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে এ সংকটকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে সৌদির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান। কাতারকে ইরান তার আকাশপথ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে এবং খাদ্য সরবরাহ শুরু করেছে। কাতারের প্রয়োজনীয় খাদ্যে বেশিরভাগ এতদিন সৌদি আরব থেকেই আমদানি করা হতো। তুরস্ক ও ইরানসহ অন্যান্য দেশের এ সমর্থন ও সহযোগিতা সৌদির দ্রুত বিজয়ের সুযোগ নিশ্চিতভাবেই কমিয়ে দিচ্ছে। ওয়াশিংটনের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ পল সুলিভান বলেন, ‘তুরস্কের রয়েছে বিশাল এক সামরিক শক্তি। ইরান পাঠাচ্ছে খাদ্য ও পানীয়। তার মানে এই মুহূর্তে কাতারের সমর্থনে দুটো গুরুত্বপূর্ণ শক্তি কাজ করছে।’ সৌদি, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলে কাতারের ওপর সার্বিক অবরোধ আরোপ করেছে। এছাড়া সৌদি ও আরব আমিরাত আরও বড় ধরনের আর্থিক অবরোধের ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এ অবরোধ মোকাবেলা করার মতো যথেষ্ট গ্যাস সম্পদে সমৃদ্ধ কাতারের রয়েছে। জার্মানির ভক্সওয়াগন থেকে শুরু করে ব্রিটিশ বারক্লেস পর্যন্ত বিশ্বের বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে দেশটির ৩৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। লন্ডনের চাথাম হাউসের মিডল ইস্ট অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকা প্রোগ্রামের সহযোগী ফেলো সানাম ভাকিল বলেন, সৌদির এ পদক্ষেপে কাতার এ ভাবনা দিয়ে তাড়িত হবে যে, সৌদি আসলে তার দেশের সরকার পরিবর্তন চাচ্ছে। তিনি যুক্তি দেখান, সৌদির এ সব দাবির কাছে কাতারের আত্মসমর্পণের মানে হচ্ছে তার সার্বভৌমত্বের প্রতিই চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ কাতারের ক্ষমতাসীন পরিবারের বৈধতাকেই চ্যালেঞ্জ। ভাকিল বলেন, আমার পক্ষে এটা বিশ্বাস করা কঠিন, তারা এটা মেনে নেবে।’

পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে মিলল ৪০০ কোটি রুপি!

পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন কনস্টেবল হিসেবে। এরপর দফায় দফায় পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে ডিএসপি। এরপর অবসর নিয়ে কাজ করছেন পুলিশেরই উপদেষ্টা হিসেবে। পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও। আর তার বাড়িতেই কিনা মিলল ৪০০ কোটি রুপি! সম্প্রতি নাগাল্যান্ড পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা তথা বর্তমান পরিবহন উপদেষ্টা এমকে রাজেন্দ্র পিল্লাইয়ের কোচির বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালিয়ে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত এই ৪০০ কোটি রুপি উদ্ধার করে আয়কর দফতরের গোয়েন্দা শাখা। গোয়েন্দা দফতর থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৭১ সালে নাগাল্যান্ডের মককচং জেলায় কনস্টেবল হিসেবে কাজ যোগ দেন পিল্লাই।
২০০৫ সালে রাষ্ট্রপতি পদক পাওয়া পিল্লাই ২০১১ সালে ডিএসপি হিসেবে অবসর নেন। এরপর তৈরি করেন শ্রীবালাসাম গ্রুপ নামের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি নাগাল্যান্ড পুলিশের পরিবহন বিভাগে উপদেষ্টা পদে এখনও নিযুক্ত তিনি। কিছুদিন আগে ভারতে ৫০০-১০০০ রুপির নোট বাতিলের সময় পিল্লাই ৫০ কোটি রুপির সম্পদের ঘোষণা দেন। একজন ডিএসপির এত সম্পদ সন্দেহে খোঁজ নেয় আয়কর দফতর। গোপন তদন্তে জানা যায়, পুলিশের তেমন বড় কর্মকর্তা না হলেও সরকারের উঁচু পর্যায়ে বেশ ঘনিষ্ঠতা আছে তার।

নতুন কেবিনেটের নাম ঘোষণা তেরেসা মে’র

ব্রিটেনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো কনজারভেটিভ পার্টি নতুন কেবিনেটের নাম ঘোষণা করেছে। তেরেসা মে’র মন্ত্রিসভায় কিছুটা রদবদল এসেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোতে আগের মুখগুলোই ফের দেখা যাবে। খবর এএফপির। সাবেক শ্রম ও পেনশনমন্ত্রী ডেমেইন গ্রিনকে উপ-প্রধানমন্ত্রী (ফার্স্ট সেক্রেটারি) করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব ডেভিড গাউকিকে শ্রম ও পেনশনমন্ত্রী করা হয়েছে। হাউস অব কমন্স নেতা ডেভিড লিডিংটনকে করা হয়েছে আইনমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব করা হয়েছে লিজ ট্রু–জকে। বহুল আলোচিত কনজারভেটিভ পার্টির নেতা মাইকেল গভকে পরিবেশ ও কৃষিমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন তেরেসা মে। কারণ বছর খানেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিয়ে এই গভকেই মন্ত্রিসভা থেকে ছেঁটে ফেলেছিলেন তেরেসা। আর হাউস অব কমন্স নেতা হয়েছেন এন্ড্রো লিডসন। তিনি আগে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তেরেসা মে’র নতুন কেবিনেটে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জেরেমি হান্ট। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রাখা হয়েছে লিয়াম ফক্সকে।
যিনি আগে একই পদে ছিলেন। এর আগে শুক্রবারই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর ১০নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তেরেসা মে’র নতুন কেবিনেটে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল আনা হবে না। ফিলিপ হ্যামন্ডকে আগের মতো অর্থমন্ত্রীর পদে রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে রাখা হয়েছে বরিস জনসনকে। ডেভিসকে রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক্সিট মন্ত্রী পদে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পেয়েছেন অ্যাম্বার রুড। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মাইকেল ফ্যালনের প্রতিই ফের আস্থা রেখেছেন তেরেসা মে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকছেন গ্রেক ক্লার্ক। শিক্ষা এবং নারী ও সমঅধিকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জাস্টিন গ্রিনিংকে। যোগাযোগ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পদে রাখা হয়েছে সাজিদ জাভিদকে। ওয়েলস মন্ত্রী করা হয়েছে অ্যালন কেয়ার্নসকে। চিফ হুইপ করা হয়েছে গাবিন উইলিয়ামসনকে। স্কটল্যান্ডবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে ডেভিড মনডেলকে। আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী করা হয়েছে প্রীতি প্যাটেলকে। ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় এককভাবে সরকার গঠন করতে পারছে না কনজারভেটিভ পার্টি। ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সঙ্গে জোট করে নতুন সরকার গঠনের ঘোষণা দেয় মে’র দল। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি ৩১৮ আসন পায়। আর ২৬১ আসন পায় দ্বিতীয় হওয়া লেবার পার্টি। এর মধ্য দিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায় কনজারভেটিভ পার্টি। আগের নির্বাচনে ৩৩০টি আসন পেয়েছিল এ দলটি।

রায়পুরে এক জুতা কারখানায় ১৩শ’ নারীর কর্মসংস্থান

জুতা তৈরিতে প্রতিদিন ব্যস্ত সময় কাটান প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক। সূর্যোদয়ের পর হেঁটে অথবা অটোরিকশা বা রিকশায় চড়ে তারা লম্বা লাইনে কারখানার পথে ছুটে চলেন। এ অঞ্চলের সাধারণ নারীদের হাতে উৎপাদিত শতভাগ রফতানিমুখী চামড়াজাত জুতা তৈরির কারখানা এটি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া বেঙ্গল সু ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ১৫শ’ শ্রমিক কাজ করেন, যার বেশির ভাগই স্থানীয় নারী শ্রমিক। কারখানায় কাজ করে বদলে যাচ্ছে পুরুষের পাশাপাশি স্থানীয় হাজারও নারীর ভাগ্য। লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে প্রায় ১৫ দশমিক ৭৩ একর জায়গা জুড়ে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া গ্রামে জুতা কারখানাটির অবস্থান। অধিকাংশ নারী নিয়ে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি পরিদর্শনে যান লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক হোমায়ারা বেগম। কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেই প্রথম চালান রফতানি করা হয় বিদেশে। প্রতি মাসে দেড় লাখ জোড়া জুতা তৈরির ক্ষমতা রয়েছে এ কারখানাতে। কারখানার শ্রমিক ঝুমু আক্তার, পপি ও আসমা আক্তারসহ কয়েকজন জানান, স্থানীয় পর্যায়ে এমন একটি প্রতিষ্ঠান থাকায় এ অঞ্চলের পুরুষের পাশাপাশি অনেক অসহায় নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। মাস শেষে নিয়মিত বেতন, দুপুরের খাবার ফ্রি, চিকিৎসা ফ্রি ও আবাসন ব্যবস্থা পাচ্ছেন তারা। নিজ বাড়িতে থেকেই কাজ করতে পারছেন অনেক নারী। এতে করে পরিবার থেকে যেমন দূরে থাকতে হচ্ছে না, তেমনি বসবাসের পেছনে বাড়তি কোনো অর্থও ব্যয় হয় না। ফলে মাসের পুরো বেতনটাকে পরিবারের কাজে ভালোভাবে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি সংসারের ভালোমন্দ দেখভাল করতেও পারছেন। কারখানার ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম জানান, ২০১৪ আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এক কাভার্ডভ্যান জুতা ইউরোপে রফতানির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিশাল শিল্প কারখানাটি থেকে প্রতিদিন ৬ হাজার জুতা (ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান) রফতানি হচ্ছে। পুরুষের পাশাপাশি বেশির ভাগ নারী শ্রমিক (প্রায় তেরোশ’) নিয়ে সুন্দরভাবে জুতা উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক টিপু সুলতান জানান, পরিবারের ইচ্ছায় নিজ জন্মস্থানে এ কারখানাটি সরকারের কাছ থেকে কিনে নিয়ে আবার সচল করি। এ কারখানায় স্থানীয় পুরুষের পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে। কারখানার পণ্য নিয়মিতভাবে ইতালি, জার্মানি, ইংল্যান্ড, কানাডা ও জাপানে রফতানি হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রতিষ্ঠানের পেছনে থাকা সরকারের সাড়ে ৯ শতাংশ জমি পেলে উৎপাদন প্রক্রিয়া বৃদ্ধিসহ আরও বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে বলে তিনি জানান। প্রসঙ্গত, বেসরকারিকরণ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে কারখানাটি দায়দেনাসহ প্রায় চার কোটি টাকায় ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ওই স্থানে ১৯৭৮ সালে সরকারি উদ্যোগে নোয়াখালী টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যেটির উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। নব্বইয়ের দশকে এসে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নানা সমস্যায় পড়ে এটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কারখানাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

শেয়ারবাজারে টানা দরপতন

শেয়ারবাজারে টানা দরপতন চলছে। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। ফলে মূল্যসূচক ও বাজারমূলধনে এর প্রভাব পড়েছে। আর দিন শেষে মূল্যসূচক কমেছে ৫ পয়েন্ট। এ ছাড়া উভয় শেয়ারবাজারেই এদিন লেনদেনও কমেছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে সোমবার ৩২৭টি কোম্পানির ১০ কোটি ৬৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩৭০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ১০০ কোটি টাকা কম। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৩টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১৫৭টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রডসূচক আগের দিনের চেয়ে ৫ দশমিক ০৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৫০ দশমিক ১২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৭ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২৪ দশমিক ৭২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ১ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৬২ দশমিক ৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজারমূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। শীর্ষ দশ কোম্পানি : ডিএসইতে যেসব কোম্পানির শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল : প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ইফাদ অটো, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স, ইউনাইটেড পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, বিডি ফাইন্যান্স, স্কয়ার ফার্মা, মবিল যমুনা বাংলাদেশ এবং সিটি ব্যাংক। ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল : রূপালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, এশিয়ান প্যাসেফিক ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড-১, ইউসিবিএল, ন্যাশনাল টিউবস, এনসিসি ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড-১, এমসিএল (প্রাণ) এবং ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল : সাভার রিফ্রেক্টরিজ, আইসিবি সোনালী ১, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, সোনারগাঁও টেক্সটাইল, নদার্ন ইন্স্যুরেন্স, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

সশস্ত্র বাহিনীর ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার সেনানিবাসের সেনামালঞ্চে এ ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী সেনামালঞ্চে উপস্থিত হওয়ার পর ঘুরে ঘুরে অতিথিদের সঙ্গে কুশলবিনিময় ও তাদের খোঁজখবর নেন। ইফতারের আগে সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ও অগ্রগতিসহ দেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহত, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ইফতারে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান এবং কূটনৈতিক কোরের ডিন উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর সাবেক প্রধান এবং কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সেনামালঞ্চে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তিন বাহিনী প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও তাকে স্বাগত জানান।

রুহ পরিশুদ্ধ হয় রোজায়

রুহ মানে আত্মা। রুহের খোরাক মানে আত্মার খাদ্য। মানুষ খাবার খায়, পানাহার করে ক্ষুধা মেটানোর জন্য। মানুষের স্বাভাবিক খাবারের মতোই রুহকেও খাবার দিতে হয়। আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন করতে হয়। পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী মানুষই মূলত প্রকৃত মানুষ। গায়ে-গতরে সুন্দর মানুষ হলেও যদি আত্মা পরিশুদ্ধ না হয় তবে এ মানুষের কোনো দাম নেই। তাই মানুষকে ইহ-পারলৌকিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন করতে হয়। পবিত্র মাহে রমজান হচ্ছে আত্মার পরিশুদ্ধি ঘটানোর শ্রেষ্ঠ সময়। আত্মা হল মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু, আপনজন। মানুষ যে কোনো কাজ করার আগে আত্মার সঙ্গে বোঝাপড়া করে। আত্মা যদি কোমল ও শান্তিময় হয় তখন মানুষের পুরো কাজই হয় কল্যাণময়, শান্তিময় ও সুশৃঙ্খল। পবিত্র কোরআনে আত্মা পরিশুদ্ধ করার জন্য মহান আল্লাহতায়ালা বান্দাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করল সেই সফল হল আর ব্যর্থ সেই বান্দা যে নিজের আত্মাকে কলুষিত করল। [সূরা শামস : আয়াত ০৯-১০] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের হিজরত (দেশত্যাগ) হল রোজা। (ইবনে মারদুইয়া)।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র এরশাদ করেছেন, হিজরত যেমন কষ্টসাধ্য, রোজাও তেমন কষ্টকর সাধনা। ইবনু উয়াইনা (রা.) বলেন, রোজাদার পানাহার-কাম-সম্ভোগ ত্যাগ করে বলে তাকে মুহাজির বলা হয়েছে। (রুহুস সিয়াম)। হিজরতের মতো সিয়াম সাধনা করে বান্দাকে সবকিছু পরিত্যাগ করার মানসিকতা অর্জন করতে হয়। এতেই বান্দা কলুষমুক্ত হয়। এতে তার শুদ্ধি অর্জন হয়। আল্লাহকে হাজির জেনে আমল করতে হয়। আমলের ক্ষেত্রে শুদ্ধতা থাকলে আত্মশুদ্ধি অর্জন সহজ হয়। অন্যথায় বান্দা পরিশুদ্ধি অর্জন করতে পারে না। এটা নবীজিও বলেছেন। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, অনেক রোজাদার এমন আছে, যাদের রোজা শুধু ক্ষুধার্ত থাকা ছাড়া অন্য কিছু অর্জন হয় না। বহু নামাজ আদায়কারী এমন আছে, যাদের জাগ্রত থাকা ছাড়া অন্য কিছু অর্জন হয় না। এরা হল তারা যাদের দেহ রোজা পালন করেছে, কিন্তু অন্তর রোজা পালন করেনি। সিয়াম সাধনা করে নিজেকে রাঙিয়ে তুলে পরিশুদ্ধ বান্দা হওয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদের।
লেখক : বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্র্যান্ড ইমাম

চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা : সড়কে চলেছে নৌকা

আবারও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরবাসী। রোববার রাতভর ও সোমবার সারাদিনের বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাসা-বাড়ি, দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে গাড়ির পরিবর্তে চলেছে নৌকা। খাতুনগঞ্জের বৃহৎ পাইকারি বাজারে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে ভারি বর্ষণে টানা চার দিন নগরী জলাবদ্ধ থাকার আট দিন না যেতেই আবারও এমন জলাবদ্ধতা নগরবাসীকে ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে ফেলে দেয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমী নিম্নচাপের প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। এতে নগরীর নিম্নাঞ্চল বিশেষ করে আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, শান্তিবাগ, হালিশহর, ছোটপুল, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, দুই নম্বর গেটসহ কোথাও কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমেছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সব শ্রেণীর মানুষকে। বিশেষ করে অফিসগামী লোকজনকে পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে নৌকায় চড়ে অনেকে গন্তব্যে গেছেন। আর আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রাবার বোটে করে শিশুদের সড়ক পারাপার করিয়েছেন। দুপুরে কোমর পানিতে তলিয়ে যাওয়া নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোড পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের বেপারিপাড়া অংশ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে মহেশখাল খনন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, খালের দু’পাড়ে রাস্তা নির্মাণ, এক্সেস রোড উঁচু করে পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম চালু করা হবে। আগামী বছর বর্ষা মৌসুমের আগে এসব কাজ সম্পন্ন করা গেলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ ও দুর্গতি থেকে নগরবাসী মুক্তি পাবে বলে জানান মেয়র। তিনি বলেন, গত বছর এখানে এভাবে পানি ওঠেনি। এ বছর পানির পরিমাণটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মহেশখালের মুখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রভাবে এটি হয়েছে বলেই অনেকের ধারণা। পানি উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ (চসিক) আরও বেশ কিছু সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মিলে বৈঠক করে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে যত দ্রুত সম্ভব বাঁধটি অপসারণ করা হবে। জনস্বার্থে বাঁধটি তৈরি করা হলেও নগরবাসী এর সুফল এখন আর পাচ্ছে না। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে দ্রুত বাঁধটি অপসারণ করা হবে। এছাড়া এক্সেস রোডে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিকল্পিত ছিল না উল্লেখ করে মেয়র আরও বলেন, ‘আমরা জাইকার অর্থায়নে প্রকল্প গ্রহণ করেছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজ শুরু হবে। পিডির সঙ্গে কথা হয়েছে।  রাস্তা অনেক জায়গায় উঁচু, কোথাও নিচু। আমরা কোথাও এক-দেড় ফুট কোথাও আরও বেশি উঁচু করব। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে পারব। এটি দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা। আমাদের ইক্যুইপমেন্ট ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাছাড়া চসিক জলাবদ্ধতা নিরসনে আলাদা কোনো বরাদ্দ পাইনি।’ সূত্র জানায়, নগরীর নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়া কিংবা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া সাগরের জোয়ার-ভাটার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করে। ফলে অধিকাংশ সময় একই সঙ্গে জোয়ার ও ভারি বর্ষণে তলিয়ে যায় নগরীর নিম্নাঞ্চল। বিশেষ করে মহেশখালের ওপর বন্দর কর্তৃপক্ষের দেয়া অস্থায়ী বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় নগরীর সিডিএ আবাসিক, গোসাইলডাঙ্গা, বেপারিপাড়া, শান্তিবাগ, হালিশহর, ছোটপুলসহ বড় একটি এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় জোয়ার আসে। একই সময় ভারি বর্ষণ থাকায় পানি নামতে পারেনি। নিয়মিত জলাবদ্ধতার শিকার আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘এ যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ১-২ ঘণ্টার ভারি বর্ষণেই এসব এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। সেহরির সময় এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে হাঁটুপানি ঢুকেছে। সকালে পুরো এলাকা কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এখানে রাস্তায় যানবাহনের পরিবর্তে চলছে নৌকা।’

সুনীতির অপেক্ষায়

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রভাবশালী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বীকার করেছেন সড়কপথে চাঁদাবাজি হয়। আর এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষ, আইন প্রণেতা, প্রশাসনের কর্তা আর পুলিশের লোক। সাধারণ মানুষের কাছে এসব অজানা নয়, তবু দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি জানেন ভেবে স্বস্তি পেলাম। সাধারণ ভুক্তভোগীরা জানেন প্রতিটি সেবা খাতে কী পরিমাণ ঘুষের চাপে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। শুনেছি গ্যাস স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত সিলিন্ডার এনে গ্যাস ভরে নিয়ে তা দিয়ে কোনো ফ্যাক্টরি বা শিল্পকারখানা চালানো নিষেধ। অথচ চন্দ্রা থেকে নবীনগর আর আশুলিয়া থেকে সাভারের বলিয়ারপুর পর্যন্ত অধিকাংশ গ্যাস স্টেশনে দিনে-দুপুরেই চলছে অবৈধ গ্যাস সরবরাহ। দুই সিলিন্ডার বহনকারী ছোট গাড়ি থেকে শুরু করে বিশাল কাভার্ড ভ্যানের ভেতর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ১০-১৫টি বিশাল আকারের সিলিন্ডার বোঝাই গাড়ি এসে থামে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসব সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হয়। এই অবৈধ গ্যাস দিয়েই অনেক ফ্যাক্টরি চলে। সংশ্লিষ্ট সব দফতরের দায়িত্বশীলদের চোখের সামনে বছরের পর বছর এমন অবৈধ গ্যাস চুরি চলছে। সংশ্লিষ্টজনদের সন্তুষ্ট না করে কি এ ‘পুণ্য’ কাজটি করা সম্ভব! কত ওপর পর্যন্ত এ পুণ্য কর্ম হয় কে জানে! এখন আতঙ্ক নিয়ে পত্র-পত্রিকা পড়ি। কারণ চাই না বড় মানুষদের সব সুকীর্তি জেনে ফেলি। এর মধ্যে এক কাগজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন চোখে পড়ল। পড়ার সময় আমার প্রয়াত শিক্ষক ভারতীয় ইতিহাসের গুরুনানক অধ্যাপক বিদগ্ধ ইতিহাসবিদ অধ্যাপক অমলেন্দু দে’র কথা মনে পড়ল। ১৯৯১-৯২-এর কথা বলছি। স্যার তখন ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আমাদের দেশে যতটুকু আছে, ওখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ আরও কম। স্যার থাকেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫-৭ কিলোমিটার দূরে বাঘাযতীনে নিজ বাড়িতে। স্যারের কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। অটোতে শেয়ারে যাওয়া-আসা করেন। একদিন স্যারের কক্ষে বসে আছি।এমন সময় রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ফোন এলো। পরদিন সিন্ডিকেটের একটি জরুরি বৈঠক আছে। রেজিস্ট্রার সাহেব জানতে চাইছেন তাকে আনার জন্য বাসায় গাড়ি পাঠাবেন কিনা। জবাব শুনে মনে হল স্যার অদ্ভুত একটি কথা শুনছেন। বললেন, ‘সেকি রেজিস্ট্রার সাহেব! অটোতে যাওয়া-আসায় আমার ৫ টাকা খরচ হয়, আপনি মিছিমিছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ টাকার তেল পোড়াবেন কেন!’ বড় মানুষদের সান্নিধ্যে এসে জীবনের অনেক ছোট-বড় সঞ্চয় ধারণ করার চেষ্টা করি। এ ঘটনাটি আমার একটি বড় সঞ্চয় হয়ে আছে। কিন্তু আমাদের দেশের হিসাব আলাদা। দেশপ্রেমের সঙ্গে নিশ্চয় আচরণের সম্পর্ক থাকে। এখন তো বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. মোহাম্মদ এনামুল হক, সৈয়দ আলী আহসান বা জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীর মতো প্রফেসররা পাণ্ডিত্যের ছটায় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান না। তাই তেমন আচরণ আশা করি না। অনেক বছর আগে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম একটি অপচয় দেখে। একজন নতুন উপাচার্য নিযুক্ত হলেন। আগের উপাচার্য বছরখানেক আগে একটি ঝকঝকে গাড়ি কিনেছিলেন। এখনও নতুনের মতোই দেখায়। একদিন জানলাম সেটি বাতিল করে নতুন গাড়ি কেনা হয়েছে। এ রেওয়াজ এখন কমবেশি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাড়ি-ঘোড়ার সুবিধা কম।
তবুও এমন দু-চারটা উদাহরণ দেখলে কেমন বাধো বাধো লাগে। এখন পত্রিকার রিপোর্টের কথায় আসি। আমাদের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের নতুন গাড়ির প্রয়োজন হয়। তাতে সমালোচনার কিছু নেই। কয়েক বছর আগে মন্ত্রীরা নাকি দামি জিপ গাড়ি বরাদ্দ চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী রাজি হননি। বদলে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ৫০টি হাইব্রিড বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়। এসব গাড়ির বিশাল অঙ্কের জ্বালানি আর ড্রাইভার খরচ তো রাষ্ট্রই বহন করে। প্রতিবেদনের সারকথা- অল্প কয়েকজন মন্ত্রী ছাড়া অধিকাংশই এই গাড়ি ব্যবহার না করে পুলে রেখে দিয়েছেন। এর বদলে নিখরচায় সরকারি পুলের গাড়ি ব্যবহার করছেন। আর নতুন গাড়ির বরাদ্দকৃত জ্বালানি খরচের টাকা জমা হচ্ছে সম্মানিত মন্ত্রী মহোদয়দের বেতনের সঙ্গে। ব্যবহার না করায় দামি গাড়িগুলো নষ্ট হচ্ছে। আমার এক সহকর্মী জীববিজ্ঞান অনুষদের প্রবীণ অধ্যাপক। অনেক বছর আগের কথা বলছি। আমাকে বিস্মিত করে জানালেন, তার বাসায় কোনো খবরের কাগজ রাখেন না। নিজে পড়েন না, চেষ্টা করেন ছেলেমেয়েরা যাতে বিরত থাকে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও টেলিভিশন থেকে বিরত রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আতঙ্ক থেকে মুক্তি নেই আত্মভোলা এ বিজ্ঞানীর। তার দৃষ্টিতে ভালো কোনো খবর থাকে না পত্রিকায়। সন্ত্রাস, খুনোখুনি, দুর্ঘটনা, ঘুষ-দুর্নীতি, রাজনৈতিক ঝগড়া এসব নেতিবাচক বিষয় পত্রিকার পাতাজুড়ে থাকে। ভালো কথা লেখার সুযোগই যেন নেই। অধ্যাপক মহোদয়ের শঙ্কা- এসব পড়ে আর শুনে নতুন প্রজন্মের এখন বড় হওয়ার আকাক্সক্ষাটিই মরে যাবে। রাজনীতি ঘরানার ক্ষমতাবান নেতানেত্রীরা যে ভাষা, শব্দ চয়ন ও দেহভঙ্গিতে কথা বলেন, টেলিভিশনের পর্দায় তা দেখে এ প্রজন্মের স্বপ্নভঙ্গ হবে। আমার এ সহকর্মীটি একদিন খুব চমকে গিয়েছিলেন। সদ্য কলেজেপড়ুয়া ছোট ছেলে আবীর বিশেষজ্ঞের মতামত দিয়ে বলল- চোর, ডাকাত, খুনিদের নিজ পেশা ঠিক রাখতে রাজনীতিতে যোগ দেয়া উচিত। অবশ্যই সরকারি বা ভবিষ্যতে সরকারি দল হবে তেমন দলে। কারণ চুরি, ডাকাতি বা খুন-খারাবি করে ধরা পড়লে, জেলে গেলে ক্ষতি নেই। দল ক্ষমতায় থাকলে বা ক্ষমতায় গেলে এগুলো রাজনৈতিক মামলা বলে চিহ্নিত হবে। দেশের আদালত নয়- রাজনীতিকদের গড়া আদালত থেকে এক কলমের খোঁচায় মুক্তি পেয়ে যাবে এসব অপরাধী। আমাদের অধ্যাপক মহোদয় এমন অন্যায়ের অক্টোপাস থেকে মুক্তি পেতে চান বলেই চলমান সময়টি নিয়ে তার হতাশা। তারপরও মনের ভেতর প্রত্যাশা লুকিয়ে রাখেন- ‘আবার সুনীতির সঙ্গে দেখা হবে আমাদের।’ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির সঙ্গে আমাদের কমবেশি বসবাস বহুকাল থেকেই। যদি খুব বেশি পেছনে না যেতে চাই তবে স্বাধীন বাংলাদেশ পর্ব থেকে দৃষ্টি বোলাতে পারি। এ সত্যটি মানতেই হবে যে, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে দুর্নীতি রাহুর মতো আমাদের ঘাড়ে চেপে আছে। তবে ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যেভাবে রাজনৈতিক দুর্নীতির খেরোখাতা উন্মোচিত হয়েছিল, তা সে সময়ের বিচারে অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিল। সাধারণের কাছে রাজনীতি আর দুর্নীতি সমান্তরালে এসে দাঁড়িয়েছিল। ব্যক্তি-দুর্নীতি বরাবরই ছিল। তবে সাম্প্রতিককালের মতো এত বাড়বাড়ন্ত হয়তো ছিল না। আগে প্রশাসনিক দুর্নীতি হিসেবে ঘুষ শব্দটির সঙ্গেই মানুষের জানাশোনা ছিল বেশি। সুযোগ থাকলেও ঘুষ সব পেশাজীবী খেতেন না। যারা ঘুষ খেতেন, সমাজে তারা খুব মাথা উঁচু করে চলতেন না। নিন্দনীয় বলে ‘ঘুষখোর’ শব্দটির জন্ম হয়েছিল। এখন ঘুষের পরিধি অনেক বেড়েছে। ঘুষখোরের সংখ্যাও বেড়েছে অনেক। নানা নামে ঘুষ শাখা-প্রশাখা মেলেছে, যা সাধারণ শব্দে ব্র্যাকেটবন্দি করা হয় ‘দুর্নীতি’ নামে। এখন নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সেবা খাতে কমিশন বা পারিতোষিক, চাকরি বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা নামে দুর্নীতির দাপুটে অবস্থান। দুর্নীতিবাজরা সমাজে বুক ফুলিয়ে চলে। কারণ রাজনীতির গুরুরা তাদের আশ্রয়স্থল। ঘুষ বা কমিশনবাজদের আয়ের ওপর আবার ক্ষমতাবান রাজনৈতিক ব্যক্তি বা দলের কমিশন আছে। এভাবে রাজনীতি এখন লাভজনক চাকরিতে পরিণত হয়েছে। এ কারণে দুর্নীতির গোড়াঘর এখন ক্ষমতাধর রাজনীতি। আমার এক বন্ধু তার অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। বললেন, তার মতো নিরানব্বইজন ভুক্তভোগীরই একই অভিজ্ঞতা। পৈতৃক সূত্রে ঢাকায় একখণ্ড জমি ছিল তার। নিজের সামর্থ্য নেই, তাই ডেভেলপারের হাতে তুলে দিয়েছেন জমিটি। ডেভেলপার কোম্পানির এমডি বললেন, আপনি কাছে থেকে লক্ষ্য করুন হাড়গিলারা কীভাবে হাঁ করে থাকে। প্ল্যান পাস করাতে রাজউকের মুখে ঢালতে হল কয়েক লাখ টাকা। এরপর গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স, ফ্ল্যাট মালিকদের নামজারি, খারিজ ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে যেভাবে ঘুষ দিতে হল তা দেখে বন্ধুটি বললেন, স্বাধীন দেশে নাগরিকদের জিম্মিদশা চলছে। ঘুষ যেন ঘুষখোরদের অধিকার! প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ নেই। না হলে কাজ বন্ধ হয়ে থাকবে। আর এসব দুর্নীতিবাজের এমন প্রকাশ্য দাপট কেন? কারণ ঘুষখোরদের ওপর চাঁদা আরোপিত আছে ক্ষমতার রাজনীতির আর দলের। তাই রাজনৈতিক দুর্নীতির ছাতার নিচেই এদের অবস্থান। বিষয়গুলো আরও প্রামাণ্য করতে চারপাশের উদাহরণে মহাভারত রচিত হয়ে যাবে। সাম্প্রতিক একটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করতে চাই। ‘দুর্ভাগ্যক্রমে’ বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণ ঘটনায় ধরা পড়েছেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলেসহ আরও কয়েকজন। মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার না পেলে এসব পর্দার আড়ালে চলে যেত কিনা কে জানে। এ সূত্রে এতদিনে পুলিশ, র‌্যাব আর শুল্ক গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন- এত যে স্বর্ণ চোরাচালানি হয়, সেসবের গডফাদার কারা। ‘দুর্ভাগা’ আপন জুয়েলার্সের মালিক সময়ের ফেরে বাটে পড়ে গেছেন। মণে মণে স্বর্ণ আর হীরার মজুদ পেয়েছেন গোয়েন্দারা, যা বৈধ কাগজপত্রের অভাবে চোরাচালানির স্বর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এরা অবৈধ এসব স্বর্ণের ব্যবসা করে যাচ্ছে অথচ তা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা জানত না, দেশবাসীকে তা মানানো কঠিন হবে। দেশের অধিকাংশ বড় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর পথ যে একই, তা তো তারাই স্বীকার করেছেন। স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিক্রিয়া দেখলাম টিভিতে। টাকা ছড়িয়ে তারা যে অবৈধ ব্যবসা করাকে অধিকারের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তা বোঝা যায়। সমিতির নেতা প্রকাশ্যে দাবি করলেন আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ (অবৈধ) ফিরিয়ে দিতে। সেই সঙ্গে যা জানালেন তার মর্মার্থ হচ্ছে, তাদের কাছে এলেও তারা কাগজপত্র দেখাতে পারবেন না। এভাবেই তারা ব্যবসা করে আসছেন। যেভাবে বুক ফুলিয়ে বলছিলেন, তাতে চোরাচালানটাকে এক ধরনের বৈধতার পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তারা। বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে মানতেই হবে কোনো না কোনোভাবে সরকারের নানা সংস্থার প্রশ্রয় তারা পেয়ে আসছেন। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, এরা আবার ধর্মঘটও ডেকেছিলেন। আবার সরকারি আশ্বাসে ধর্মঘট উঠিয়েও নিয়েছেন। সরকার বলেছে, দাবিমতো স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নীতিমালা করে দেবে। তার আগ পর্যন্ত হয়রানি বন্ধ রাখা হবে। এই ‘হয়রানি’ শব্দটি আমাদের কাছে দুর্বোধ্য রয়ে গেল। বুঝলাম না নীতিমালা করে কি অবৈধ স্বর্ণ সব বৈধ করে দেয়া হবে? রাষ্ট্র কি আমাদের বলবে, এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমাদের রাজনৈতিক সরকারগুলোর দায়িত্ববানদের কোনো সুবচন সাধারণ মানুষের অন্তরে প্রবেশ করবে? অসাধারণরা কী ভাবেন জানি না, আমরা সাধারণরা তবু স্রোতের শ্যাওলা ধরতে চাই। চাতক পাখির দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করছি একদিন নিশ্চয় সুনীতি ধরা দেবে।
এ কে এম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
shahnaway7b@gmail.com

রাজধানীতে দিনভর বৃষ্টি : জলজট যানজটে দুর্ভোগ

দিনভর বিরামহীন বৃষ্টিতে রাজধানীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি পর্যন্ত তলিয়ে যায়। রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি হচ্ছিল। এতে বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দিনভর জলজট আর যানজটে নাকাল হন নগরবাসী। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত মানুষের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উন্নয়ন কাজের কারণে খানাখন্দে ভরা সড়কগুলোয় শ্লথগতিতে পরিবহন চলাচল করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে অনেককে বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে রামপুরা থেকে কুড়িল পর্যন্ত সড়কে ছিল সীমাহীন দুর্ভোগ। সরেজমিন দেখা যায়, শান্তিনগর, মৌচাক, মালিবাগ, রাজারবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, নতুনবাজার, জোয়ার সাহারা, কুড়িল এলাকার সড়কে জলজটের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার, বাড্ডা ইউলুপ, নতুনবাজার থেকে জোয়ার সাহারা পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের কারণে জলজটে ভোগান্তির মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া মিরপুর শেওড়াপাড়া, কাজিপাড়া, কালশী, পুরান ঢাকার আলাউদ্দিন রোড, যাত্রাবাড়ী মোড়, জুরাইন, শহীদনগর, ধানমণ্ডি মধুবাগ এলাকায় জলজটে নাকাল হতে দেখা গেছে নগরবাসীকে। কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন কাজের নামে প্রগতি সরণি সড়ক খুঁড়ে ক্ষতবিক্ষত করে রেখেছে। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে যাচ্ছে। এই সড়কে চলাচল করতে চরম ভোগান্তি মাড়াতে হচ্ছে পথচারীদের। কিন্তু সেদিকে সংশ্লিষ্ট কারও খেয়াল নেই। ঢাকা উত্তরের মেয়রও এ ব্যাপারে নির্বিকার রয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। দ্রুত তারা বিদ্যমান দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান। সোমবারের টানা বৃষ্টিতে মিরপুর সাংবাদিক কলোনি এলাকার অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলীরা। তারা জানান, সাংবাদিক কলোনি খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। খালটি পরিষ্কারের ব্যাপারে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সভা করবেন বলে জানান।
বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা উবায়দুল্লাহ বাদল যুগান্তরকে বলেন, ‘বৃষ্টিতে মোটরবাইকে শাহজাহানপুর থেকে কুড়িল যেতে জলজট ও যানজটে নাকাল হয়েছি। এর মধ্যে উন্নয়ন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে খানাখন্দে ভরা সড়কে দুর্ঘটনায় কবলে পড়তে হয়েছে। গর্তে পানি জমে থাকায় অসতর্কভাবে সেখানে চলে যায় মোটরবাইকের চাকা। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছি।’ এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী কামরুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীর জলজট নিরসনে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে ঢাকা ওয়াসাও কাজ করছে। কোথাও বড় ধরনের জলাবদ্ধতার খবর পাইনি। তবে বিভিন্ন স্থানে যে জলজটের সৃষ্টি হয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা নিষ্কাশন হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খোন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ঢাকার দক্ষিণাংশের মধ্যে শুধু পুরান ঢাকার কিছু অংশে জলজট হয়েছে। অন্য এলাকায় তেমন জলজট হয়নি। তারপরও যেটুকু হয়েছে, সেটুকু নিষ্কাশনে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা উত্তরের কালশীর সাংবাদিক কলোনি এলাকায় জলজট হয়েছে। এর মূল কারণ সাংবাদিক কলোনি খাল আবর্জনায় ভরাট। এ ব্যাপারে দ্রুত ঢাকা ওয়াসার সঙ্গে সভা করা হবে। এ ছাড়া উন্নয়ন কাজের কারণে যেসব সড়কে ভোগান্তি হয়েছে, সেগুলোও দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরসনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান এই প্রকৌশলী।