Monday, May 22, 2017

আরেকটি ৯/১১ থেকে রক্ষা পেতে ইরানের ফর্মুলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরান। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে কিভাবে আরেকটি ৯/১১ থেকে রক্ষা পেতে পারে তা নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ট্রাম্পের। তিনি অযথাই, ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসের জন্য ভিত্তিহীনভাবে দায়ী করছে অন্য দেশকে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ডনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তব্যে বার বারই আক্রমণ শাণিয়েছেন ইরানের বিরুদ্ধে। তিনি অভিযোগ করেছেন অস্ত্র, জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ধ্বংসাত্মক কাজকর্ম ও বিশৃখংলা ছড়িয়ে দিচ্ছে ইরান। তারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দিচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা যে অপরাধ বা ক্রাইম করছে তা অবর্ণনীয়। ট্রাম্প আরো উল্লেখ করেছেন, ইরানের নেতাদের সংঘাতপূর্ণ ও সন্ত্রাসী মানসিকতার কারণে সেখানকার জনগণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলা হয় যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে। সেখানে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। হামলাকারীদের ১৯ সন্ত্রাসীর মধ্যে বেশির ভাগই সৌদি আরবের নাগরিক। বার বার অভিযোগ তোলা হয়েছে, সৌদি আরবের আরো অনেকে ওই হামলায় জড়িত। এ জন্য মামলা করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে ইরানের পররাষ্ট্র সচিব জাভেদ জারিফ এর আগে দেয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যই তুলে ধরেন। তাতে ট্রাম্প ৯/১১ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছিলেন।

হাতিরঝিলে প্রেম by রোকনুজ্জামান পিয়াস

প্রেম সাদা-কালো জীবনকে রাঙিয়ে দেয়। আবার বিবর্ণ-রংহীনও করে তোলে জীবন। রাজধানীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হাতিরঝিলে নানা বয়সীর, নানা শ্রেণি-পেশার, নানা জাতের প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনমেলা বসে প্রতিদিন। আবার কারো প্রেমের শুরুটা এখান থেকে। কারো প্রেমের সমাপ্তিও এখানে। আবার কারো প্রেম পরিণত হয়েছে এখানে। কোনো প্রেমের সমাধিও হয়েছে এখানেই। ঘটন-অঘটনের এতসব হিসাব-নিকাশের মধ্যেই হাতিরঝিলে ছুটে আসেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। অসংখ্য প্রেমিক যুগলের ভিড়ে দু’জন দু’জনে একান্তে সময় কাটানোর এমন দৃশ্য রাজধানীতে বিরল। মুক্ত আকাশ, হিমেল বাতাস- এই পরিবেশে প্রেম যেন হয়ে ওঠে আরো মোহনীয়। হাতিরঝিলের লেকের দু’ধারে প্রতিদিনই অসংখ্য প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনমেলা হয়, বসে ভালোবাসার হাট। তবে এখানে প্রেমের বিড়ম্বনাও কম নয়। অসংলগ্ন প্রেম করতে গিয়ে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখিও হতে হয় অনেককে।
প্যারিসের সিন নদীর ওপর ‘পু দে আ’ ব্রিজ। এ ব্রিজের দু’পাশের রেলিংয়ে হাজার হাজার তালা ঝুলানো। সেই তালা ঝুলিয়েছে প্রেমিক-প্রেমিকারা। তাদের বিশ্বাস এ ব্রিজের রেলিংয়ে তালা আটকে দিয়ে চাবিটি নদীতে ছুড়ে ফেললেই ভাঙবে না তাদের প্রেম। তাই প্রেমকে আমৃত্যু টিকিয়ে রাখতে অদ্ভুত এক বিশ্বাস থেকে সেখানকার প্রেমিক-প্রেমিকারা এ কাণ্ড করে। ভালোবাসার মানুষকে ধরে রাখতে প্যারিসের ‘পু দে আ’ ব্রিজের দু’পাশের রেলিংয়ের মতো কিছুদিন হাতিরঝিলের লেকের ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ব্রিজের রেলিংয়েও তালা ঝুলিয়েছিলো কোনো কোনো প্রেমিক-প্রেমিকা। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীদের নজরদারিতে এই রেওয়াজ বন্ধ হয়েছে। ‘পু দে আ’ ব্রিজের রেলিংয়ে তালা ঝুলানোর এই সুযোগ হারিয়েছে হাতিরঝিলে আসা প্রেমিক-প্রেমিকারা। তবে রয়েছে উন্মুক্ত আকাশ। যে আকাশ প্রেমিক হৃদয়কে বিস্তৃতি দেয়। রয়েছে নির্মল বাতাস। এ হাতিরঝিলেই ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে অজস্র স্বপ্নের জাল বুনে চলে প্রেমিক-প্রেমিকারা।
সূত্র মতে, রাজধানী ঢাকার ওপর দিয়ে এক সময় ১৩টি খাল-নদী বহমান ছিল। এরই একটি নগরীর কেন্দ্রবিন্দুতে বেগুনবাড়ী খাল আর হাতিরঝিল। বিস্তীর্ণ এই ঝিলে ছিল বিভিন্ন ধরনের পশু-পাখির অভয়ারণ্য। এ সবকে কেন্দ্র করে সে সময় এর আশপাশে গড়ে ওঠে শ্বাশত বাংলার বিভিন্ন পেশাজীবী সমপ্রদায়ের বসতি। মগবাজার, মধুবাগ, উলন, দাসপাড়া, রামপুরা, মেরুল বাড্ডা, বেগুনবাড়ী ইত্যাদি নামে এসব সম্প্রদায়ের লোকজনের ছাপ রয়েছে। এখানে বাস করতো মাউত, ঢুলী, ধোপা, মালি, মগ, জেলেসহ বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর লোকজন, যারা নগর ও নগরবাসীর বিভিন্ন সেবামূলক কাজে নিয়োজিত ছিলেন। প্রায় প্রতিবছর বন্যা হতো এবং বন্যার পানিতে নগরীর ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে-মুছে যেতো। রামপুরা-হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ী-ধানমন্ডি খাল (বর্তমানে লেক) আর কল্যাণপুর-ইব্রাহিমপুর খাল হয়ে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তীর্ণ জলাভূমির মাধ্যমে তুরাগ ও বালু নদীর মধ্যে সংযোগ ছিল। সে সময় এই পথ দিয়ে পালতোলা নৌকা চলতো। পর্তুগীজরা এই নদীপথে ঢাকায় এসে তেজতুরি বাজার ও তেজগাঁও এলাকায় তাদের বসতি গড়েছিল। ঢাকার রাজাধীরাজ ভাওয়াল রাজাও এই পথে ঢাকায় আসা-যাওয়া করতেন। তার হাতির পাল স্নান করতে বা পানি খেতে এই জলাভূমিতে বিচরণ করতো। কালের বিবর্তনে একসময় এই জলাভূমিই পরিচিতি পায় হাতিরঝিল নামে।
এরপর এই হাতিরঝিল নিয়ে ঘটে গেছে কত কি! একটা সময় এলাকাটি পরিণত হয় দুর্বৃত্ত আর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে। ময়লার ভাগাড়ে দুর্গন্ধময় হয়ে ওঠে এলাকা। দিনের বেলাতেও মানুষ হাতিরঝিল এলাকা দিয়ে যেতে ভয় পেতো। এলাকা পার হওয়ার সময় নাকে রুমাল চেপে দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু এ চিত্র পাল্টে যায় ২০১৩ সালে। এ বছরের ২রা জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন হাতিরঝিল প্রকল্প। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, হাতিরঝিল শুধু দেশের জন্যই নয়, সারা বিশ্বের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নতুন বছরের শুরুতে ঢাকাবাসীকে তিনি এই প্রকল্প উপহার দিয়েছিলেন।
এ প্রকল্প উদ্বোধনে নগরবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা এবং দৃষ্টিনন্দন ব্রিজগুলো নান্দনিকতা আরো বাড়িয়ে তোলে। সন্ধ্যার পর রঙিন বাতির ঝলকানি আগন্তুকদের অভিভূত করে। ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণ এই হাতিরঝিল। উন্নত বিশ্বের আদলে গড়ে তোলা এ ঝিল দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসেন সৌন্দর্য্যপ্রেমীরা। এখানে প্রতিদিন হাজারও মানুষ প্রাতঃভ্রমণ করেন। ইট-পাথরের নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করতে কিংবা নির্মল বায়ুতে শ্বাস নিতে বিকালে নামে জনতার ঢল। কখনো কখনো গভীর রাত অবধি থাকে জনতার আনাগোনা। তারা উপভোগ করেন নয়নাভিরাম দৃশ্য। তবে সবচেয়ে বেশি টানে প্রেমিকযুগলদের। মাথার ওপরের সূর্যটা পশ্চিমে যতই হেলতে থাকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়ও বাড়তে থাকে ততই। সূর্য তার আলো নিভিয়ে দিলে কৃত্রিম আলোয় ঝলমলে হয়ে ওঠে পুরো হাতিরঝিল। নানা রঙের পানির ফোয়ারা নজর কাড়ে সকলের।  নাল-নীল বাতির নিচে বসে, লেকের দৃষ্টিনন্দন ব্রিজের রেলিং ধরে, ব্রিজের দু’মাথায় ঝকঝকে গোলচত্বর বা সবুজ ঘাসের ওপর পা ছড়িয়ে বসে প্রেমিকজুটি। কখনো হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভাবের আদান-প্রদান করে। কখনো প্রেমিকার কোলে মাথা রাখে প্রেমিক। আবার কখনো প্রেমিকের ঘাড়ে পড়ে প্রেমিকার নিঃশ্বাস। কারো কারো মধ্যে চলে মিষ্টি-মধুর খুনসুটি। কোন কোন যুগলদের মধ্যকার মতদ্বৈধতায় সৃষ্টি হয় তুমুল ঝগড়া। যা উৎসুক মানুষ ও অন্য প্রেমিকজুটির কৌতূহলের কারণও হয়ে ওঠে। কোনো কোনো প্রেমিক-প্রেমিকা মান-অভিমানে আশেপাশের মানুষ থেকে নিজেদের কান্না লুকানোরও চেষ্টা করেন। আবার হাতিরঝিলে গড়ে ওঠা রেস্টুরেন্টে অর্ডার দিয়ে হাত হাত স্পর্শ করে খাবারের অপেক্ষায় সময় কাটে কারো কারো। এরই মাঝে চলতে থাকে প্রেমালাপ। ভবিষ্যৎ সাজানোর গল্প।
সরজমিন হাতিরঝিলে বেশ কয়েকজন প্রেমিক-প্রেমিকার সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে দেখা হয় হাতিরঝিলের রামপুরা ব্রিজ প্রান্তে দুই কিশোরের সঙ্গে। এদের একজন রাশেদ, অপরজন জয়। রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র তারা। কারোর অপেক্ষায় ছিলো তারা। তাদের কথাবার্তায় এমনটাই মনে হলো। জয় জানালো তার বন্ধু রাশেদ একই ক্লাসের অন্য একটি বিদ্যালয়ের একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেম করে। তার আজ এখানে আসার কথা। সেজন্যই তারা দু’জন ক্লাসে না গিয়ে এখানে এসেছে। কিন্তু এখন জানতে পেরেছে মেয়েটি স্কুলে গেছে। কথায় কথায় জানা গেলো, রাশেদ এবং মেয়েটির পরিবার এক সময় একই বাড়িতে ভাড়া থাকতো। তখন থেকেই তাদের মধ্যে চেনাজানা। কিন্তু বছরখানেক আগে মেয়েটির পরিবার অন্য এলাকায় বাসা নিয়েছে। এখন তাদের যোগাযোগের সুযোগ নেই। তাই মাঝে-মধ্যে স্কুল পালিয়ে তারা হাতিরঝিলে প্রেম করতে আসে। একটু এগুতেই লেকের পাশে বসানো বেঞ্চে বসে খাতায় কিছু লিখে একটি মেয়ে তার সঙ্গী ছেলেটিকে বুঝাচ্ছিলেন। কথা প্রসঙ্গে জানা গেলো- তারা দু’জনেই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। একই ক্লাসে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পড়াশোনার বিষয়াদি শেয়ার করতে ক্লাসের পর তারা মাঝে-মধ্যে এই লেকের ধারে বসেন। এখন উভয়েই ৮ম সেমিস্টারে রয়েছেন। তবে বন্ধুত্ব ছাড়িয়ে এখন দু’জন ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছেন। তবে তার আগে লেখাপড়া শেষ করে ভালো চাকরি পেতে চান। যেহেতু দু’জন দু’জায়গায় থাকেন আর তাদের বিশ্ববিদ্যালয়টিও কাছেই, তাই তারা এখানেই বেশি সময় কাটান। প্রচণ্ড রৌদ্রের মধ্যে লেকের ধারে এক ছাতার নিচেই সবুজ ঘাসের ওপর বসে খোশ-গল্প করছিলেন পিংকী ও জিয়াদ। এরমধ্যে পিংকী স্কুলে ও জিয়াদ কলেজে পড়ে। উভয়েই মা-বাবার সঙ্গে থাকেন। মাঝে-মধ্যে তারা পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দেখা করেন। তবে বেশি আসেন এই হাতিরঝিলেই। বসার সুবিধার কারণেই তারা এই জায়গাটিকে পছন্দ করেন।       
বগুড়ার মান্নান ও রংপুরের বৃষ্টি। তারা দু’জনেই নিজ নিজ এলাকায় পড়াশোনা করেন। ঢাকায় একটি কাজে এসে উঠেছেন নিজ নিজ আত্মীয়র বাসায়। তবে এর বাইরে তাদের আরেকটি কাজ ছিলো পরস্পরের সঙ্গে দেখা করা। মঙ্গলবার রাতেই তাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার কথা। তাই দুপুর-বিকালটা একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এসেছেন হাতিরঝিলে। এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের দু’জনের পরিচয় থেকে প্রেম। সন্ধ্যার পর হাতিরঝিলে এসেছেন তানিয়া ও মোবাশ্বের। তানিয়া এখনো পড়ালেখা করছেন। আর মোবাশ্বের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করেন। খুব শিগগিরই তারা বিয়ে করবেন বলে জানান। মোবাশ্বের অফিস শেষ করে বাসায় ফেরার পথে প্রায়ই তানিয়ার সঙ্গে কিছুটা সময় হাতিরঝিলে কাটিয়ে যান। এ লেকে বেশি প্রেম করতে যারা আসেন তাদের বেশির ভাগই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। রয়েছেন চাকরিজীবী। এছাড়া চোখে পড়ে অসম প্রেমিকযুগলকেও। চোখে পড়ে দিনমজুর, গার্মেন্টকর্মী থেকে শুরু করে গৃহকর্মীরাও। এমনই এক গৃহকর্মী আকলিমা। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিচয় হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শওকতের। এরপর একজন অপরজনকে ভালোবেসে ফেলেন। শওকতের রড-সিমেন্টের দোকান আছে বলে জানান। তিনি আকলিমাকে বিয়েও করতে চান। শনিবার আকলিমা কাজ ছেড়ে নিজ জেলায় বাপের বাড়িতে চলে যাবে। গৃহকর্তার কাছ থেকে বিকাল পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন আকলিমা। একজন আরেকজনের জন্য উপহার সামগ্রীও নিয়ে এসেছেন। শিগগিরই বিয়ে করবেন তারা এমনটাই জানালেন এই যুগল। তাদের প্রথম দেখা এই হাতিরঝিলেই।        
তবে ২০১৪ সালের ৩রা জুন ভোরে প্রেমিক যুগলের লেকে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা এখন মানুষ মনে করে। এদিন দুই কিশোর প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের প্রেম আত্মাহুতি দিতে আসে। উভয়ের পরিবার তাদের এই প্রেম মেনে না নেয়ায় তারা হাতিরঝিলের লেকে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে কিশোর প্রেমিক এহসানুল হক তন্ময় (১৬) মারা গেলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় মেয়েটি।

স্কার্ফ ছাড়াই...

দু’বছর আগের কথা। তখন সৌদি আরব সফরে এসেছিলেন সেই সময়ের ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। কিন্তু মুসলিম দেশটিতে তিনি হেডস্কার্ফ পরেন নি বলে সমালোচনার তীর ছুড়েছিলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, হেডস্কার্ফ না পরে মিশেল ওবামা ইসলামিক দেশটিকে অবমাননা করেছেন। কিন্তু এবার তার সঙ্গে সৌদি আরব সফরে এলেন তারই স্ত্রী, ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও ফার্স্ট ডটার ইভানকা ট্রাম্প। কিন্তু তাদের কেউই হেডস্কার্ফ পরেন নি। এ নিয়ে টুঁ-শব্দটি পর্যন্ত করেন নি ডনাল্ড ট্রাম্প। ফলে সমালোচকরা বলছেন, মিশেল ওবামা হেডস্কার্ফ না পরায় যদি সৌদি আরবকে অবমাননা করা হয় তাহলে মেলানিয়া, ইভানকা ট্রাম্প সেই একই ধারা অনুসরণ করায় কি সৌদি আরবকে অবমাননা করা হয় না? বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অনলাইন ডেইলি মেইল লিখেছে, শনিবার সকালে সৌদি আরবের মাটি স্পর্শ করে ট্রাম্প, ফার্স্টলেডি, ফার্স্টডটার সহ অন্যদের বহনকারী বিমান। এ সময় মেলানিয়া ট্রাম্প ছিলেন পুরোপুরি কালো একটি পোশাক পরা। তাদেরকে নিয়ে রিয়াদে বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারফোর্স ওয়ানের বিমান অবতরণ করার পর তা থেকে বেরিয়ে আসেন মেলানিয়া। এ সময় তার ভাবধারা ছিল পুরোপুরি রক্ষণশীল। ৪৭ বছর বয়সী এই সাবেক মডেলের পরনে ছিল স্টিলটোস। ধারণা করা হয় এটি স্টেলা ম্যাককার্টনির ১৪৯৫ পাউন্ড দামের কালো জাম্পসুট। কোমরে একটি চওড়া স্বর্ণের বেল্ট। কিন্তু তার মাথায় কোনো স্কার্ফ ছিল না। অথচ দু’বছর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ মারা যাওয়ায় তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সৌদি আরব সফরে আসেন তখনকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তার সঙ্গে ছিলেন ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। তিনিও মাথায় তখন স্কার্ফ পরেন নি। তা নিয়ে টুইটারে ডনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, অনেকেই বলছেন, এটা বিস্ময়কর যে, সৌদি আরবে স্কার্ফ পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মিসেস ওবামা। এতে তারা (সৌদি আরব) অপমানিত হয়েছে। আমাদের তো অনেক শত্রু আছে। তাহলে এবার কি সৌদি আরবকে সম্মান দেখানো হলো! এ প্রশ্ন জনে জনে।

সচিবালয়ে সুন্দরী তদবির পার্টির ভিন্ন কৌশল

দেশের প্রশাসনযন্ত্র সচিবালয়ে সুন্দরী নারী তদবির পার্টির আনাগোনা আগের মতো নেই। সচিবালয়ের সামনে দর্শনার্থীদের অপেক্ষা কক্ষে তাদের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের বারান্দায় এখন তাদের পায়চারিও চোখে পড়ে না। তাদের দৃশ্যমান এসব উপস্থিতি না থাকলেও সুন্দরী তদবির পার্টি কৌশলে সক্রিয় রয়েছে। অনুসন্ধান জানা গেছে, সুন্দরী তদবির পার্টির খদ্দেররা এখন ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ, ম্যাসেঞ্জার বা ইমোতে যোগাযোগ করে কাজ করছে। বিনিময়ে ওই সব সুন্দরীদের এজেন্টরা দিনে সচিবালয়ে ঢুকে কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরী ললনারা বিভিন্ন সংস্থার নজরদারির কারনে সচিবালয়ে ঢুকতে এখন ইতস্তত বোধ করেন।
এক সময় সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সামনে সুন্দরী তদবিরবাজদের আনাগোনা থাকতো। তারা কৌশলে তদবির করে নানা কাজ বাগিয়ে নিতো। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে রিপোর্টও হয়েছে। তবে সম্প্রতি সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার ও তদবিরবাজদের ওপর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের পর্যŸক্ষণ বাড়ানোয় তাদের উপস্থিতি কমে যায়।

টানা দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া আজ সোমবার মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইআরবিএম'র সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। দেশটি টানা দ্বিতীয় দিন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল এবং এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয় দফা সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বা কেসিএনএ’র বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহ্যাপ সংবাদ সংস্থা। এতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের উপস্থিতিতে ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য পুকগুকসং-২ নামের ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। 
কেসিএনএ জানিয়েছে, এবারের পরীক্ষায় সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কিম জং যুদ্ধে ব্যবহারের লক্ষ্যে এ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের অনুমতি দিয়েছেন বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়। উত্তর কোরিয়া গতকাল যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল তা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জাপান সাগরে পড়ে। অন্যদিকে, গত ১৪ মে পরীক্ষা করা মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছিল। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে উত্তর কোরিয়া।

ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা দিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি উ. কোরিয়ার

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার দেশের সর্বশেষ মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ‘নিখুঁত’ বলে প্রশংসা করেছেন। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, এ ক্ষেপণাস্ত্রকে সম্ভাব্য যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি বা কেসিএনএ আজ সোমবার জানিয়েছে, পুকগুকসং-২ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি কিম জং উন নিজেই পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং পরীক্ষার সফলতায় তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি এ ক্ষেপণাস্ত্রকে তিনি যুদ্ধে মোতায়েন জন্য অনুমতি দিয়েছেন।
ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ‘খুবই নিখুঁত ও সফল কৌশলগত অস্ত্র’ বলে মন্তব্য করেছেন কিম জং উন। কেসিএনএ জানিয়েছে, পুকগুকসং ক্ষেপণাস্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা, নিখুঁতভাবে আঘাত হানার ক্ষমতা এবং লেট-স্টেজ ওয়ারহেড গাইডেন্স সিস্টেমকে পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পুকগুকসং ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষা চালানো হয়। এবার এর দ্বিতীয়দফা পরীক্ষা হলো। এ ক্ষেপণাস্ত্রে ‘সলিড ফুয়েল’ ব্যবহার করা হয়েছে যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে একে নিক্ষেপ করা সম্ভব হবে। উত্তর কোরিয়া সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ‘তরল জ্বালানি’ ব্যবহার করে থাকে। সূত্র : ওয়েবসাইট

আফগানিস্তানে নতুন সামরিক অভিযানে ৭১ উগ্রবাদী নিহত

সংঘাতপূর্ণ আফগানিস্তানে গত ২৪ ঘন্টার সামরিক অভিযানে ৭১ উগ্রবাদী নিহত হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়। খবর সিনহুয়ার। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘আফগান জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী কিছু এলাকা উগ্রবাদ ও শত্রু মুক্ত করতে সন্ত্রাস বিরোধী ১২টি অভিযান চালায়। এরফলে গত ২৪ ঘন্টায় ৭১ জঙ্গি নিহত হয়।’ অভিযান চলাকালে আরো ৪০ উগ্রবাদী আহত এবং সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। নানগড়হড়, হেলমান্দ, লঘমান, ফারাহ, কুন্দুজ, ঘর, ওয়ারদাক ও জাবুল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। তবে এ সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কোন সদস্য হতাহত হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।

ভেনিজুয়েলায় বিক্ষোভ : মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮

ভেনিজুয়েলায় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে এক তরুণ বিক্ষোভকারী বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এই নিয়ে সাত সপ্তাহ ধরে চলমান সহিংস বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৪৮ জন মারা গেলেন। রোববার দেশটির কর্মকর্তারা একথা বলেছেন। ভেনিজুয়েলার পশ্চিমাঞ্চলীয় নগরী ভালেরায় বিক্ষোভ চলাকালে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার বন্দুকধারীরা সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়। ওই সময় তেরান আগুইলার নামের ওই ব্যক্তি বুকে গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ৫০ বছর বয়সী এক নারীও আহত হন। তেরানের বয়স ২৩ বছর। এদিকে প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে অপর এক ব্যক্তির ওপর এ ধরণের নির্মম হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এ ব্যক্তিকে সরকারি সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করেন। লোকটির নাম অরল্যান্ডো ফিগুয়েরা (২১)। তাকে পিটিয়ে, ছুরিকাঘাত করে ও গায়ে আগুন দিয়ে হত্যা করা হয়। মাদুরো বলেন, ‘ইসলামিক স্টেট এর সন্ত্রাসীরা এভাবে মানুষকে হত্যা করে।’

এভারেস্টে তিন পর্বতারোহীর মৃত্যু, নিখোঁজ ১

এভারেস্টে সপ্তাহান্তে তিন পর্বতারোহী মারা গেছেন এবং আরো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। হেলিকপ্টার উদ্ধারকর্মীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আট হাজার ৮৪৮ মিটার উঁচু পর্বতটি থেকে বেশ কয়েকজন পর্বতারোহীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই তিনজনকে নিয়ে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত পাঁচজন মারা গেলেন। বৈরী আবহাওয়া, শক্তিশালী বাতাস ও অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা আবহাওয়াকেই এই প্রাণহানির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। নেপালের পর্যটন বিভাগ নিশ্চিত করেছে, রোববার স্লোভাক পর্বতারোহীকে এভারেস্ট শৃঙ্গ থেকে মাত্র কয়েক 'শ মিটার নিচে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। একই এলাকায় মার্কিন পর্বতারোহী রোনাল্ড ইয়ারউডও মারা গেছেন।
অস্ট্রেলীয় পর্বতারোহী এভারেস্টের তিব্বতের দিক দিয়ে উঠতে গিয়ে মারা গেছেন বলে তিব্বত মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী কুইন্সল্যান্ডের এই বাসিন্দা ৭ হাজার পাঁচ শ’ মিটার উঁচুতে উঠার পর উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় ভুগতে শুরু করেন। তিনি পর্বত থেকে নেমে আসার চেষ্টাকালে মারা যান। চতুর্থ পর্বতারোহী শনিবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পর্বতশৃঙ্গে ওঠার কিছুক্ষণ পরই তিনি নিখোঁজ হন। তার নেপালী গাইডকে ৪ নম্বর ক্যাম্পে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেছে।

আরো রাফায়েল অর্ডার দিচ্ছে ভারত

আরো বেশি রাফায়েল বিক্রির ব্যাপারে ভারতের সাথে কথা বলতে প্রস্তুত ফরাসি সংস্থা ‘ড্যাসল্ট অ্যাভিয়েশন। চলতি বছরের শেষেই এই রাফায়েল কেনার ব্যাপারে কথা হবে বলে জানা গেছে। ২০১৮ তে চুক্তি সম্পূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে, ওই ফরাসি সংস্থার কর্ণধার এরিক ট্রিপার। তিনি আরো জানান, কানাডাকেও ফাইটার জেট বিক্রি করবে ওই সংস্থা। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ফরাসি সংস্থার সাথে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি হয় ভারতের। ট্রিপার জানান, এয়ারফোর্স ও নেভির জন্য কমপক্ষে ৫৭টি রাফায়েলের অর্ডার আসতে চলেছে ভারত থেকে। তবে বোয়িং-এর সাথেও কথা চলছে ভারতের। অন্যদিকে, পাকিস্তানের আচরণ এবং চীনের সাথে দেশটির ঘনিষ্ঠতা দেখেই এবার সীমান্তবর্তী এলাকায় রাফেল জেট মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। পাকিস্তান এবং চীনের দিক থেকে আসা কোনোরকম বিপদের সাথে মোকাবিলা করতে সক্ষম এই রাফায়েল যুদ্ধবিমান। হরিয়ানার আম্বালা এবং পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারাতে এই যুদ্ধবিমান রাখা হবে বলে জানা গেছে। ইন্দো-চীন সীমান্তে চীনা সেনাদের বিশেষ টহলদারিতে ভারতের চিন্তা বেড়ে গেছে আরো বহুগুণ। আর এই চিন্তা ভারতকে রাফায়েল জেট মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। পাকিস্তান এবং চীনের যে কোনো ধরনের আক্রমণের প্রত্যুত্তর দিতে সক্ষম এই যুদ্ধবিমান। গতবছর সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের যুদ্ধবিমান নির্মাতা ডেসাল্ট অ্যাভিয়েশনের সাথে ৬০ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করে ভারত। ৩৬টির মধ্যে ১৮টি যুদ্ধবিমান আম্বালা এবং বাকি গুলি হাসিমারাতে রাখতে চলেছে ভারত। এই হাসিমারা চীন সীমান্তের সবচেয়ে কাছের সামরিক ঘাঁটি।

ভারতের সাথে ইসরাইলের ৬৩ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি

ইসরাইল ভারতের সাথে নতুন করে ৬৩ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুসারে, ইসরাইল ভারতীয় নৌবাহিনীকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য দূরপাল্লার উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র দেবে। রোববার এক বিবৃতিতে ইসরাইলের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ বলেছে, ইসরাইলের এ কোম্পানি ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা কোম্পানি ‘ভারত ইলেক্ট্রেনিক্স লিমিটেড’কে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বারাক- সরবরাহ করবে।
এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের চারটি যুদ্ধাজাহাজে বসানো হবে। দাবি করা হয়, বিমান, হেলিকপ্টার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানসহ সব ধরনের আকাশভিত্তিক হুমকি নস্যাৎ করতে পারে এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এর এক মাস আগে ইসরাইল জানিয়েছিল, তারা ভারতের সাথে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি করেছে। তেল আবিব বলেছে, ইসরাইলের ইতিহাসে এটাই অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চুক্তি।

শ্রেণী কক্ষের অভাবে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের খামার মাগুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণী কক্ষ সংকট, বেঞ্চ সংকট, বিদ্যুৎ নেই, খেলার মাঠে পানি জমে থাকার কারণে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। শ্রেণী কক্ষ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে বাধ্য হচ্ছে। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল হক মন্ডল জানান, খামার মাগুরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু,টি টিনের ঘর রয়েছে। ঘরে দরজা-জানালা নেই। ৩টি কক্ষ থাকলেও বেঞ্চ না থাকার কারণে ও সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে ক্লাস নেওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। খেলার মাঠে পানি জমার কারণে ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করতে পারে না। একটি টিউবয়েল থাকলেও নেই কোন ল্যাট্রিন। ৪জন শিক্ষকের মধ্যে ১জন ট্রেনিংয়ে রয়েছে। স্কুলে ১৬৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রচন্ড তাপদাহ ও বেঞ্চ সংকটের কারণে খোলা আকাশের নিচে গাছতলায় ক্লাস নিতে হয়। স্কুলের পাশেই বিদ্যুৎ থাকলে স্কুলে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ।
স্কুলের ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী কাজল, মনিয়া, মুন্নি, ৪র্থ শ্রেণীর হাফিজা, মিজান জানায়, বসার ব্যবস্থা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেয়। মাঠে পানি জমার কারণে খেলাধুলা করতে পারিনা। অন্যান্যে স্কুল পাকা আর আমাদের স্কুলে ঘরের নেই কোন দরজা-জানালা। আমরা সরকারের নিকট একটি ভবন করার জন্য দাবী জানাচ্ছি। সহকারী শিক্ষক নিভা মন্ডল জানান, স্কুলের শ্রেণী কক্ষ না থাকার কারণে ও বসার ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই গাছতলায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দরকার। স্কুলের সভাপতি মোঃ ইসরাইল শেখ জানান, তার প্রচেষ্টায় ও জমি দান করে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে জাতীয়করণ ঘোষনায় স্কুলটি সরকারী হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাগ্যেন্নয়ন ঘটলেও ঘটেনি স্কুলটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন। তিনি কমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা পুর্বক স্কুলটির সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উত্তরের ১৬ জেলায় পণ্য পরিবহনে কর্মবিরতি আরো ২৪ ঘন্টা বৃদ্ধি

সড়ক ও মহাসড়কের যেখানে সেখানে যানবাহন থামিয়ে পুলিশের চাঁদাবাজী, নতুন খসড়া আইন প্রত্যাহার, বিভিন্ন স্থানে ওয়ে স্কেলের নামে চাঁদাবাজি ও হয়রানী বন্ধ, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে উত্তরের ১৬ জেলায় চলমান পণ্য পরিবহণ ধর্মঘটের মেয়াদ আরো ২৪ ঘন্টা বাড়িয়ে ২৪ মে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তরবঙ্গ ট্রাক,
ট্যাংকলরী, কাভার্ড ভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্যপরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান আকন্দ এ ঘোষনা দেন। এসময় তিনি বলেন, এরপরেও যদি আমাদের নায্য দাবী মানা না হয় তাহলে রমজান মাসের পর লাগাতার কর্মবিরতি পালন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির নেতা আব্দুল মান্নান মন্ডল, আব্দুল মতিন প্রমুখ। এদিকে এসব পরিবহন বন্ধের কারণে উত্তরবঙ্গ থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। সড়ক ও মহাসড়কে মালিক ও শ্রমিকরা পরিবহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে। এ কারণে কাঁচাবাজারে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

রোজার আগেই মানিকগঞ্জের বাজারে নিত্যপন্যের দামের উত্তাপ

চলতি মাসের শেষের দিকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে। আর রমজানকে সামনে রেখে ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জে দিন দিন বেড়েই চলেছে নিত্য পণ্যের দাম। ইতোমধ্যে ছোলা, চিনি, জিরা, এলাচ, তেল, ডাল ও চাল এর দাম বেড়েছে। দর দাম নিয়ে বিভিন্ন বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রায়ই বাকবিতন্ডায় জড়াচ্ছেন। ঘিওরের বানিয়াজুরী এলাকার নুরুল করিম বাবু জানান, হঠাৎ করে পণ্যের দাম বাড়লেও বেতন বাড়েনি। রোজার মাস এবার যে কীভাবে চলবো সে ভাবনায় দিশেহারা হতে হচ্ছে। গত দুইদিনে জেলার বিভিন্ন বাজারে ছোলা ৮৩/৮৫ টাকা, চিনি ৭০ টাকা, এলাচ এক হাজার ৭০০ টাকা, সয়াবিন ৮৫ টাকা, পামওয়েল ৭৫ টাকা, সরিষার তেল ১৩০ টাকা, মোটা মুগ ডাল একশ বিশ টাকা, মাঝারি মুগ ডাল ১০০ টাকা, সোনা মুগ ডাল ১০৮/১১০ টাকা, পরশ মিনিকেট চিকন ও মজুমদার বালাম চাল ৫৫ টাকা, আতপ চিকন চাল ৫০ টাকা, মোটা আতপ চাল ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির মধ্যে শাক প্রতি আঁটি ১০/১৫ টাকা, লাল শাক ১০/১৫ টাকা, পুঁই শাক ২০/২৫ টাকা, কলমি ও পুঁদিনা পাতা ১০ টাকা, পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫ টাকা, রসুন ১০০/১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রোজা শুরু হওয়ার আগেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে মানিকগঞ্জের সবজির বাজারেও। রাতারাতি বেড়ে গেছে বেশ কিছু সবজির দাম। এতে করে বেকায়দায় পড়েছে নিম্ন আয়ের লোকজন। বরংগাইল হাট, বানিয়াজুরী বাসষ্ট্যান্ড, বাঠইমুরি আড়ৎ, তরা আড়ৎ, মানিকগঞ্জ কাঁচা বাজার ও সজবির আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, দাম বেড়েছে আলু ও কাঁচামরিচ। আলুর দাম কেজি প্রতি ৪ টাকা, কাঁচামরিচ ২০ টাকা বেড়েছে। রমজানে সবজির বাজারে প্রায় প্রতিটি সবজির দামই বেড়েছে অস্বাভাবিক। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে বেড়েছে পটল ৫ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, বরবটি ১০ টাকা, বেগুন ১০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫ টাকা, পেপে ১০ টাকা, কাকরল ১০ টাকা, চাল কুমড়া ৫ টাকা, ঝিঙ্গা ৫ টাকা, কাঁচা কলা ৫ টাকা, করলা ১০ টাকা, শষা ২০ টাকা। সবজির মধ্যে পটল ৪০ টাকা, ভেন্ডি ৩০, পেঁপে ৪০ টাকা, কুমড়া ২০/৩০ টাকা, ঝিঙ্গে ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, উ¯েত ৪০ টাকা, বেগুন ৪০/৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানিকগঞ্জ বাসষ্ট্যান্ড এলাকার কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোঃ তৈয়ব বলেন, রমজানের আগে হঠাৎ করে জিনিস পত্রের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
কাঁচা বাজারের মোঃ আলী হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বেশি দরে মোকাম থেকে আমাদের পন্য কিনতে হয় তাই দাম একটু বেশি। আমদানি বাড়লে ও পণ্যের ভ্যাট কমানো হলে জিনিসপত্রের দাম কমতে পারে। অন্যদিকে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস ৬৭০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ১৫০ টাকা, পাকি¯তানি মুরগী ২২০ টাকা, দেশি হাঁস ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ টাকা কেজি, বড় রুই ৪শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, ছোট ও মাঝারি রুই ১৩০ থেকে ৩শ’ টাকা, কাতলা মাছ (বড়) ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা, বড় পাতাড়ী (ভেটকী) ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা, ছোট পাতাড়ী ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকা, চিংড়ী প্রকারভেদে ২৭০ থেকে ৪৫০ টাকা, বাগদা ৬০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা, বেলে মাছ ৪শ’ থেকে ৬শ’, চাষের কই ৪শ’, দেশি কই (মাঝারী) ৫৫০ টাকা, টেংরা ছোট ৪শ’, বড় টেংরা ৭শ’ টাকা, শিং ৬শ’ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানিকগঞ্জ দুধবাজারে বাজার করতে আসা শহরের কম্পিউটার ব্যাবসায়ী রানা হামিদ জানান, হঠাৎ পণ্যের দাম বাড়ার কারণে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রোজার সপ্তাহখানেক আগ থেকেই বাজার গরম হয়ে উঠেছে। পণ্য মূল্য ক্রমেই ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এবার বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। রমজানে সবজির কমতি না থাকলেও দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এছাড়া বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাও কার্যকর নেই বলে ক্রেতারা জানান। এসবের ফলে সবজি ও নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে বলে জানান তারা। ক্রেতারা মনে করেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকিয়ে নিচ্ছেন।

ধর্ষকদের শায়েস্তা করতে এবার অভিনব জুতা

এবার ধর্ষণ থেকে বাঁচতে মেয়েদের হাতিয়ার হতেই পারে এলেক্ট্রো শু। এই অভিনব আত্মরক্ষার হাতিয়ারটি ১৭ বছরের এক কিশোরের মস্তিষ্ক প্রসূত। ভারতের হায়দরাবাদের সিদ্ধার্থ মন্ডলার বানানো এই জুতোটির পিছনে রয়েছে স্কুলে পড়ে পদার্থবিদ্যার জাদু এবং কিছু বেসিক কোডিং স্কিল। কীভাবে কাজ করবে ইলেক্ট্রো শু, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিদ্ধার্থ জানায়, এই জুতোতে রয়েছে একটি বিশেষ ধরনের সার্কিট বোর্ড। হাঁটার উপর নির্ভর করবে এর চার্জিং প্রক্রিয়া।
অর্থাত্‍, যিনি যত বেশি হাঁটবেন এই জুতো পরে, তত বেশি চার্জ স্টোর থাকবে এর ব্যাটারিতে। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় একে ‘পিয়েজোইলেক্ট্রিক এফেক্ট’ বলে। কোনও মহিলাকে কেউ আক্রমণ করলে এই জুতো পরা পা সেই দুষ্কৃতির শরীরে শুধু ছোঁয়াতে হবে। তাহলেই সেই ব্যক্তির শরীরে ছড়িয়ে পড়বে ০.১ এএমপি তড়িত প্রবাহ। শুধু তাই নয়, সঙ্গে সঙ্গে খবর পৌঁছে যাবে স্থানীয় পুলিশ স্টেশন এবং পরিবারের কাছে। এই অভিনব জুতোটির পেটেন্ট পাওয়ার জন্যে ইতোমধ্যে আবেদন করেছে সিদ্ধার্থ। পেটেন্ট হাতে এলেই শুরু হবে বাজারে যাচাই পর্ব। সেই মতো আগামীদিনে তার ডিজাইনে পরিবর্তন করবে সিদ্ধার্থ। ২০১২ সালে নির্ভয়ার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নারকীয় ধর্ষণকাণ্ডের পরেই মেয়েদের সুরক্ষার জন্যে আত্মরক্ষার হাতিয়ার তৈরি করার ভাবনা মাথায় আসে সিদ্ধার্থ মন্ডলার। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

দেশজুড়ে তাপপ্রবাহ

আবারো তাপপ্রবাহের কবলে দেশ। ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ রাজশাহী, পাবনা, নোয়াখালী ও চাঁদপুর অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর বাইরে অন্যান্য অঞ্চলে তাপপ্রবাহ না থাকলেও অসহনীয় গরমে কাতর মানুষ। তপ্ত রোদের মধ্যেও মানুষ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় অনেকেই হিটস্ট্রোকে রাস্তায় অথবা কর্মক্ষেত্রেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গরমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল অথবা ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এ সময় ডায়রিয়ার জন্য দায়ী জীবাণুুগুলো নতুন করে সক্রিয় হয়ে থাকে। পানির স্বল্পতাও থাকে। ফলে অনেকেই দূষিত পানি পান করে ডায়রিয়াসহ জন্ডিস, আমাশয়ের মতো রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল মহাখালীর আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে শতাধিক ডায়রিয়া আক্রান্ত মানুষ ভর্তি হয়েছে। এদের প্রায় সবাই নি¤œবিত্ত পরিবারের দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। এদের সবার পরিবারেই বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট রয়েছে। পানি ফুটিয়ে পান করার সামর্থ এদের কারো নেই।  আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সোমবার সার্বিক তাপমাত্রা আরো কিছুটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় সেখানকার তাপমাত্রা একটু সহনীয় রয়েছে। তবে বৃষ্টি হ্রাস পেলেই এসব অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অঞ্চলগুলো ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টি নেই দীঘর্ দিন থেকে। আশির দশকের চেয়ে বর্তমানে বৃষ্টির ধরনে বেশ পরিবর্তন এসেছে। মে মাসে সারা দেশের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত প্রায় দুই মিটার হলেও আবহাওয়া অফিস এরই মধ্যে পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে যে চলতি মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে। তবে গত এপ্রিলের চেয়ে চলতি মাসে বৃষ্টির গত ২০ দিনে বেশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।  দেশের উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টি হচ্ছে।
চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ও বৃষ্টি হলেও তাপ কমেনি। খুলনা, রাজশাহী অঞ্চল আবারো তপ্ত হতে শুরু করেছে। আবহাওয়ার মাসব্যাপী পূর্বাভাস অনুযায়ী এ মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে।  গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনা ও যশোরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ মাসেই একটি নি¤œচাপ থেকে ঝড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড় অথবা নিচাপ হওয়ার আগে অনেক সময় বেশ গরম হাওয়া বইতে থাকে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও এর আশপাশের এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। এ লঘুচাপটির কারণে দেশে কিছুটা বৃষ্টি হচ্ছে। হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণ কি জানতে চাইলে আবহাওয়া অফিস জানায়, মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় দেশের নিচু অঞ্চল, নদী-বিল ছোট ছোট ডোবা-গর্তে পানি জমেছে। এমনকি ভাঙা রাস্তার গর্তেও পানি জমে আছে। এসব পানি রোদের তাপে বাষ্প হয়ে যাচ্ছে। এ বাষ্প মেঘ হতে না পেরে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। এ কারণে বেড়ে যাচ্ছে আর্দ্রতা। পানি অনেক বেশি তাপ ধারণ করে রাখতে পারে। ফলে সার্বিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে তাপমাত্রা। তবে আগামী সপ্তাহে দেশের উচ্চ তাপমাত্রার অবসান হতে পারে বর্ষণে। আগামী সপ্তাহে সারা দেশেই আবার শুরু হয়ে যেতে পারে বৃষ্টিপাত। রংপুর বিভাগের সর্বত্রই গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে এ বিভাগেই ছিল গতকাল সর্বনি¤œ তাপমাত্রা। গতকাল রংপুর শহরে দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবার রংপুর বিভাগেই সবচেয়ে ৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর বাইরে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে।

রমজানে নিম্ন আদালতসমূহের সময়সূচি নির্ধারণ

পবিত্র রমজান মাসে দেশের নিম্ন আদালতসমূহের কোর্ট ও অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট কতৃক দেশের অধস্তন আদালতসমূহের কোর্ট ও অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, রমজান মাসে প্রতি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ৩টা পযন্ত অধস্তন আদালতসমূহের কোর্টের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেলা সোয়া ১ থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের জন্য বিরতি রাখা হয়েছে। এছাড়া রমজান মাসে প্রতি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পযন্ত অধস্তন আদালতসমূহের অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেলা সোয়া ১ থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের জন্য বিরতি রাখা হয়েছে। সূত্র : বাসস

আপন জুয়েলার্সের অসহযোগিতা : গ্রাহকরা এখনই স্বর্ণ ফেরত পাচ্ছে না

অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ীপ্রতিষ্ঠান আপন জুয়েলার্স থেকে শুল্ক কর্তৃপক্ষ যে স্বর্ণ আটক করেছে সেখান থেকে গ্রাহকদের স্বর্ণ ফিরিয়ে দেবার বিষয়টি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তারা সে স্বর্ণ আটক করেছে সেখান থেকে প্রকৃত গ্রাহকদের অনুকূলে স্বর্ণ ফিরিয়ে দেবার জন্য সোমবার নির্ধারিত দিন থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আপন জুয়েলার্সের 'অসহযোগিতার' কারণে এটি আপাতত সম্ভব হচ্ছেনা। গত সপ্তাহে ঢাকায় আপন জুয়েলার্সের কয়েকটি বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৮০ কোটির টাকার স্বর্ণ আটক করে শুল্ক গোয়েন্দারা। ঢাকার বনানীর একটি হোটেলে দুজন ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের বিরুদ্ধে মামলার পর তাদের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানেও হানা দেয় শুল্ক কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব স্বর্ণ আটক করা হয়েছে সেগুলোর পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি আপন জুয়েলার্স। আপন জুয়েলার্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল স্বর্ণ কেনার জন্য অনেক গ্রাহক এরই মধ্যে তাদের বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 

আপন জুয়েলার্সের পক্ষ থেকে প্রকৃত গ্রাহকদের তালিকা দেয়ার কথা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত তা দেয়া হয়নি। 'ন্যায়বিচারের স্বার্থে' আগামী ২৫ মে মালিক-পক্ষকে স্বর্ণের দোকানে উপস্থিত হয়ে কাগজপত্র বুঝে নিতে পুনরায় সময় দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানায়, এইসব কাগজপত্র অনুযায়ী তালিকা তৈরির পর প্রকৃত গ্রাহকদেরকে জমাকৃত স্বর্ণ ফেরতের জন্য পুনরায় সময় নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশে শুল্ক গোয়েন্দারা বলছেন, আপন জুয়েলার্সের জব্দ করা সাড়ে ১৩ মন স্বর্ণের মধ্যে ১০ কিলোগ্রামের মত গ্রাহকদের। গত বুধবার আপন জুয়েলার্সের মালিকদের শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদে সন্তুষ্ট হননি শুল্ক গোয়েন্দারা। কিন্তু সোমবার ২২ মে অর্থাৎ সোমবারের মধ্যে 'জনস্বার্থের বিবেচনায়' গ্রাহকদের স্বর্ণ, গহনা ফেরত দেয়ার ঘোষণা করেন তারা। এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আপন জুয়েলার্সের বিভিন্ন শাখায় রিপেয়ারিং এবং এক্সচেঞ্জের জন্য যেসব গ্রাহক তাদের স্বর্ণ এবং অলংকার গচ্ছিত রেখেছিলেন, তাদেরকে সোমবার বেলা ২টায় রসিদসহ সেগুলো অক্ষত অবস্থায় ফেরত দেয়া হবে।" শুল্ক গোয়েন্দারা আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে যে অসহযোগিতার অভিযোগ করছেন, সে বিষয়ে কথা বলার জন্য আপন জুয়েলার্সের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে গত সপ্তাহে আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদ বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেন, চোরাচালানের সাথে তাদের এই পারিবারিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত নয়। দিলদার আহমেদ বলেন, "আমাদের ৪০ বছরের ব্যবসা। চোরাচালানের সাথে আমরা যুক্ত থাকবো কেন?" কিন্তু আমদানি না করে এত বড় ব্যবসা কীভাবে চলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরনো স্বর্ণ রিফাইন (পুনঃব্যবহার) করে এবং বিদেশ থেকে ১০০ গ্রাম করে যে স্বর্ণ আনে, সেটা তাদের কাছে অনেকে বিক্রি করেন। তবে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বলেন তদন্তে তিনি সহযোগিতা করবেন। সূত্র : বিবিসি

নারায়ণগঞ্জের ৭ খুন মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে মামলার পেপারবুক থেকে পড়ছেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ মান্নান মোহন। নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

আনুষ্ঠানিকভাবে শীর্ষ নিউজের পুনঃযাত্রা শুরু

দেশের প্রধান জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম শীর্ষনিউজ ডটকম আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয়বারের মতো পুনঃযাত্রা শুরু করেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় মগবাজারস্থ শীর্ষ নিউজ কার্যালয়ে কেক কেটে আনুষ্ঠানিক এ পুনঃযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ। এ সময় শীর্ষ নিউজের সম্পাদক একরামুল হক, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মোরসালীন নোমানী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ফেরদৌস আহমদ ভুইয়া, শীর্ষ নিউজের চিফ রিপোর্টার সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, ঢাকাস্থ সিরাজগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ‘সব খবরই সবার আগে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ হাউজ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট অনলাইন সংবাদ মাধ্যম শীর্ষ নিউজের যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরু থেকেই শীর্ষ নিউজ পাঠকের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট ছিল। অত্যন্ত কম সময়ে শীর্ষনিউজ দেশের অনলাইন সংবাদ মাধ্যম জগতে শীর্ষস্থান অধিকার করতে সক্ষম হয়। সব খবর সবার আগে- স্লোগানের পাশাপাশি শীর্ষ নিউজ সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনেও ছিল অঙ্গীকারাবদ্ধ। তবে সত্য মানে কঠিন বাস্তবতা। এ বাস্তবতায় শীর্ষ নিউজ দুই দফায় হোঁচট খেয়েছে, কিন্তু পিছপা হয়নি। সর্বশেষ, গত ৪ আগস্ট, ২০১৬ সরকারের পক্ষ থেকে অঘোষিতভাবে শীর্ষনিউজ ডটকম বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই থেকে জনপ্রিয় এই সংবাদ মাধ্যমটির সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে শীর্ষনিউজ অবশেষে আবারো পাঠকের সামনে এলো। শীর্ষনিউজ তার এ পুনঃযাত্রায় আপনাদের একান্ত সহযোগিতা কামনা করছে।

বাংলাদেশ সফরে ট্রাম্পের আগ্রহ প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে সফরে আসার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। রোববার আরব ইসলামিক-আমেরিকান সামিটে (এআইএ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ আমি বাংলাদেশে আসব।’ পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক সম্মেলনের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ট্রাম্পকে উদ্বৃত করে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং উপ প্রেস সচিব মো. নজরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের কক্ষে আরব ইসলামিক-আমেরিকান সামিট (এআইএ) শুরুর পূর্বে দুই নেতা এই কুশলাদি বিনিময় করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সে সময়ই প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ট্রাম্প তাঁর বাংলাদেশ সফরে আসার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। এদিকে, বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আরব ইসলামিক-আমেরিকান সামিটের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমনের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে তাজিকিস্তান ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আমরা আশা করছি এ বছরই হয় তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করবেন, নাহলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাজিকিস্তান সফরে যাবেন। তিনি বলেন, তাজিক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশকে ব্যবসা জোরদার করার জন্য সম্ভবনাময় দেশ হিসেবেই দেখছে। এছাড়াও, এদিন সম্মেলনের সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজাকের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বহুকাল ধরেই বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন এবং দুই নেতা বৈঠকে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। সূত্র : বাসস

ছাত্রীকে যৌন হয়রানি : আহসানউল্লাহর শিক্ষককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায়  রাজধানীর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিচ্যুত শিক্ষক মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বাতিল করে এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ সোমবার হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খন্দকার দিলীরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান ওই শিক্ষকের জামিন বাতিল করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধন ২০০৩) এর ১০ ধারায় যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে কলাবাগান থাকায় একটি মামলা করেন। পরে এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। আজ সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত মাহফুজুর রশিদ ফেরদৌসের জামিন বাতিল করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

খালেদা জিয়ার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার আদেশ ২৮ মে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা চলবে বলে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী ২৮ মে রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, রাগীব রউফ চৌধুরী প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম। পরে এ মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন খালেদা জিয়া। ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি মামলার কার্যক্রম তিন মাস স্থগিত করেন। একই সঙ্গে মামলা দায়ের ও কার্যক্রম কেন অবৈধ ও বেআইনি হবে না জানতে চেয়ে সরকারকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়ে রুলও জারি করেন।

তাপপ্রবাহ আরো ৪ দিন থাকবে

দেশের কোথাও কোথাও মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থা আরো চার দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়াবিদ আফতাব উদ্দিন জানান, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। রাজশাহী, ঈশ্বরদী,পাবনা ও মাইজদীকোর্ট অঞ্চলসহ কোথাও কোথাও মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তিনি জানান, আবহাওয়ার এ অবস্থায় আগামী দুই-তিন দিন বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোর ও খুলনায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার এক পূর্বাভাসে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুস্ক থাকতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংল্গ এলাকায় অবস্থান করছে,যা উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। সূত্র : বাসস

সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থায়নের যোগান বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোরভাবে উগ্রবাদ মোকাবেলা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থায়নের যোগান বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রোববার সৌদি আরবের রাজধানীতে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আরব-ইসলামিক-আমেরিকান সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থের উৎস বন্ধ করতে চাই।’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি বন্ধ ও শান্তির নীতি অবলম্বনের জন্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এটি সকলের জন্য বিজয়-বিজয় পরিস্থিতি তৈরি করবে।’ অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের বাদশা ও দু’টি বড় মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানগণ বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও চরমপন্থা বিশ্বের শান্তির জন্য কেবল বড় হুমকিই নয়, এটি উন্নয়ন ও মানব সভ্যতার জন্যও। তিনি বলেন, ‘এটি যে কোন দেশ, ধর্ম ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সকল প্রকার চরমপন্থার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বদাই যে কোন ধরনের একক বা সম্মিলিত সন্ত্রাস ও উৎসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
ইসলামকে সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম, বিশ্বাস বা মৌলিক পরিচয় নেই, তারা যে কোন ধর্ম থেকে আসুক না কেন।’ ইসলাম শান্তি ধর্ম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম কখনো সহিংসতা বা হত্যাকান্ড সমর্থন করে না এবং ‘আমরা যে কোন ধরনের চরমপন্থা ও সহিংসতায় ধর্মকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচার্য মনে করি না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার মতো যুদ্ধাবিধ্বস্ত দেশগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনসমূহের অভিযান এবং সদস্য সংগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল পরিকল্পনা অনুসরণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আশঙ্কা করে বলেন, বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সংকটের কারণে সন্ত্রাস ও সহিংসতা বেড়ে যেতে পারে। কারণ শরণার্থী সংকট সন্ত্রাস ও সহিংসতার একটি সম্ভাবনাময় উৎসে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকা তিন বছরের শিশু আয়লানের লাশের ছবি অথবা আলেপ্পোতে ওমরানের রক্তাক্ত মরদেহ প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। একজন মা হিসেবে আমাকেও এ ছবি কঠিনভাবে নাড়া দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, শরণার্থীদের বেদনা আমি বুঝি। কারণ আমিও শরণার্থী ছিলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর পরিবারের বন্দিত্ব এবং ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের শাহাদাত বরণের পর প্রবাস জীবনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৬ বছর আমি ও আমার ছোট বোন বিদেশে শরণার্থী ছিলাম। তাই শরণার্থীদের বেদনার বাস্তবতা আমি বুঝতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, ফিলিস্তিনী জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও বঞ্চনা নতুন প্রজন্মের মনে অন্যায়-অবিচারের প্রতি ঘৃণার মনোভাবের সৃষ্টি হয়।
তাই একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রস্তুত এবং অস্ত্রসহ যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তারা দেশে গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের কার্যকরভাবে মোকাবেলা করছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তাঁর সরকার জনগণকে যুক্ত করে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কার্যকরভাবে দেশে গজিয়ে ওঠা উগ্রবাদীদের মোকাবেলা করছি। বেশ কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠী কোন কোন মহল থেকে সমর্থন পেয়ে আসছিল। পাশাপাশি সরকার এদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালাচ্ছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সমাজের সকল শ্রেণী বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ছাত্র এবং দেশব্যাপী মসজিদগুলোর ইমামদের সঙ্গে সভা ও মতবিনিময় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামিক-আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি বাদশা সালমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা রিয়াদে ইসলামিক কাউন্টার টেররিজম সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ার জন্যও বাদশা সালমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে সন্তুষ্ট। সূত্র : বাসস

'চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে না পারা ও. ইন্ডিজের জন্য লজ্জাজনক'

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়াটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে স্বীকার করলেন দেশটির সাবেক কিংবদন্তী কার্টলি এ্যাম্ব্রোস। আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে ইংল্যান্ডে শুরু হচ্ছে আট দল নিয়ে টুর্নামেন্টের অষ্টম আসর। আইসিসির এ ইভেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় টুর্নামেন্টের সময় নিজ দেশে দুর্বল আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন টি-২০ ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (ডব্লিআইসিবি)। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার আইসিসির এ ইভেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এক সময়ের প্রভাবশালী দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে না পেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে ক্যারিবিয়রা। স্থানীয় রয়্যাল গেজেটা পত্রিকাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক ফাস্ট বোলার এ্যাম্ব্রোস বলেন, ‘সত্যিই এটা লজ্জার। এটা অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না- এমনটা কখনোই ভাবিনি।’ ‘এমন ভাবতেই খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এটাই হচ্ছে।
আমরা সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ক্রিকেট খেলছি না। সুতরাং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পুনরায় ক্রিকেটের শীর্ষে তোলার জন্য একটা জাতি হিসেবে এবং ক্রিকেটারদের নিজেদের ভাবতে হবে।’ টুর্নামেন্টের ইতিহাসে ২০০৪ সালে একবারই শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওভালে অনুষ্ঠিত ফাইনালে সাত বল বাকি থাকতেই ২ উইকেটে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেবার শিরোপা জয় করেছিল ব্রায়ান লারার নেতৃত্বাধীন ক্যারিবিয়রা। টেস্ট ক্রিকেটে ৪০৫ উইকেট শিকার করা এ্যাম্ব্রোসের বিশ্বাস ওয়েস্ট ইন্ডিজের বর্তমান দলটিতে অনেক যোগ্য খেলোয়াড় আছে। তবে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা ও মেধা নিয়ে কখনোই কোনো প্রশ্ন নেই। বিষয়টি কেবলমাত্র আমরা প্রত্যাশা মতো ফল করতে পারছি না। সব সময়ই দলে কেউ কেউ ভালো পারফরমেন্স করে আসছে। কিন্তু আমরা যথেষ্ট ধারাবাহিক নই।’ ‘র‌্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি ঘটাতে হলে প্রতি ম্যাচে, প্রতিটি দলের বিপক্ষেই আপনাকে ধারাবাহিক হতে হবে এবং তেমটনা শুরু করতে না পারা পর্যন্ত আমাদের অবস্থার উন্নতি হবে না। আমাদের অধিক ধারাবাহিক হতে হবে।’

লা লিগা জয় বিশ্বকাপ থেকেও বড় : জিদান

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে লা লিগার শিরোপা জয়কে পেশাদার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে মনে করছেন জিনেদিন জিদান। এমনকি গত বছর মাদ্রিদের কোচ হিসেবে প্রথম বছরেই চ্যাম্পিয়নস লীগের শিরোপা অর্জনের থেকেও লীগ শিরোপা অর্জনকে এগিয়ে রাখছেন এই ফ্রেঞ্চম্যান। খেলোয়াড় হিসেবেও লা লিগার শিরোপা অর্জনের অভিজ্ঞতা রয়েছে জিদানের। কিন্তু সবকিছুর উর্ধ্বে তিনি কোচ হিসেবে শিরোপা প্রাপ্তিকেই বড় করে দেখছেন। গতকাল এ্যাওয়ে ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও করিম বেনজেমার গোলে মালাগাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ৩৩তম স্প্যানিশ শিরোপা জয় করেছে মাদ্রিদ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে জিদান বলেছেন, ‘পেশাদার জীবনে এটাই আমার সবচেয়ে আনন্দের দিন। এই মুহূর্তে আমার এখানে উঠে দাঁড়িয়ে নাচতে ইচ্ছা করছে।’ নিজের সময়ের বিশ্বের অন্যতম একজন সেরা খেলোয়াড় হিসেবে জিদান বিশ্বকাপ, ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নশীপ ও চ্যাম্পিয়নস লীগের শিরোপা জিতেছেন। কিন্তু তিনি স্বীকার করেছেন কোচ হিসেবে এই অর্জনগুলো অতিরিক্ত একটি দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তিনি বলেন, রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে তার কাছে প্রত্যাশার মাত্রাটা সবাই জানে। খেলোয়াড় হিসেবে আমার এই অভিজ্ঞতা আছে।
আর সে কারণেই দিনটিকে সবচেয়ে আনন্দের হিসেবে দেখছি। কারণ কোচ হিসেবে অনুভূতিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ক্লাব ও জার্সির হয়ে আমি সবকিছু জয় করেছি, কিন্তু লা লিগা শিরোপা জয় সবকিছুর উর্ধ্বে। আজ আমি অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত কারণ নয় কিংবা দশ মাস পরে আমরা লা লিগা জয় করেছি। কোচ হিসেবে জিদানের প্রশংসা করতে ভুল করেননি মাদ্রিদের মূল খেলোয়াড় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আট বছর আগে রিয়ালে যোগ দেয়ার পরে এই নিয়ে দ্বিতীয় শিরোপার দেখা পেলেন সি আর সেভেন। জিদান সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পর্তুগীজ এই তারকা বলেছেন, সবকিছুই সে বেশ বিচক্ষণতার সাথে পরিচালনা করেছে। আর তার প্রমাণ হলো আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল বার্সেলোনার কাছ থেকে শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছি। রোনালদো আরো বলেছেন, সব মিলিয়ে বলতে গেলে রিয়াল মাদ্রিদে এটাই আমার সেরা মৌসুম। প্রতিটি মিনিট প্রতিটি খেলোয়াড় ভালো খেলেছে এবং এই শিরোপা জয়ে পুরো দলের কৃতিত্ব রয়েছে।

নতুন বিদেশি কোচ পাচ্ছে জুনিয়র টাইগাররা

ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্য নতুন বিদেশি কোচ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ঢাকা পৌঁছে দলের সাথে যোগ দিয়ে খুব শিগগিরই কাজ শুরু করবেন বিসিবির নিয়োগকৃত নতুন কোচ। ত্রিদেশীয় সিরিজকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ২৪ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবির জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে ২২ মে থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি ক্যাম্প। ঘোষিত স্কোয়াডে আছেন ১২ জন ব্যাটসম্যান, দু'জন উইকেটরক্ষক, চারজন স্পিনার ও দু'জন পেসার। টুর্নামেন্টের জন্য দল দেশ ছাড়ার আগে এখান থেকে ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবে বিসিবি। এ প্রসঙ্গে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দেখাশোনা করা দেশীয় কোচ আবদুল করিম জুয়েল বলেন, ‘আমাদের বেসিক একটা দল আছে যারা শ্রীলঙ্কায় যুব এশিয়া কাপ খেলেছে। যুব ক্রিকেট লীগ থেকে আমরা আরো কিছু খেলোয়াড় বাছাই করেছি। এই দলগুলোর মিশ্রণেই মূলত আমরা ২৪ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম দুই সপ্তাহ আমরা ফিটনেসে নজর দেবো এবং এরপর বিভিন্ন ভেন্যুতে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবো। ম্যাচগুলো সিলেট, ফতুল্লা, খুলনা এবং সাভারের বিকেএসপিতে হতে পারে।’

এমন সৌম্যকেই চান হাবিবুল বাশার

জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম বছর ভালো পারফর্ম করলেও গত বছর তেমন ভালো করতে পারেননি সৌম্য সরকার। রব উঠেছিল, সৌম্যকে বেশি সুযোগ দেয়া হচ্ছে। সেই খারাপ সময়ে সৌম্যর পাশে দাঁড়ান সতীর্থরা ও টিম ম্যানেজমেন্ট। আশা হারাননি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনও। সৌম্যকে নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, ক্লাস ইজ পারমানেন্ট, ফর্ম ইজ টেম্পোরারি। আমার মনে হয় সৌম্য একটা ক্লাস। ওর শুধু একটি ইনিংসের দরকার। হয়তো তাতেই ঘুরে দাঁড়াবে।’ এবার নিজকে ফিরে পেয়েছেন সৌম্য। তার ব্যাট হেসেই চলেছে রীতিমতো। নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আবারও শুরু। ছোট-বড় ইনিংস দিয়ে দারুণভাবে ফর্মে ফিরেছেন। সর্বশেষ দুটি ম্যাচেই ফিফটি করেছেন। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ৬১ রান। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন অপরাজিত ৮৭ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস। আইরিশদের বিপক্ষে পেরিস্কোপ শটে ক্রিকেট বিশ্বকে মুগ্ধ করেছেন সৌম্য। ছিলো আরো কিছু নান্দনিক শট। ফর্মের তু‡ঙ্গ থাকা এই ক্রিকেটারকে নিয়ে আশাবাদী হাবিবুল বাশার সুমন। আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এমন সৌম্যকেই চান জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের গ্রুপে আছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড। আস্থার প্রতিদান দেয়া সৌম্যকে নিয়ে সুমন বলেন, ‘খারাপ সময়ে সৌম্যর প্রতি টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছিল, তার প্রতিদানই দিয়ে চলেছে সে। সৌম্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের খুব বড় সম্পদ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। ইংল্যান্ডের উইকেটে পেস ও বাউন্স আছে। এমন উইকেটে ভালো ব্যাটিং করতে পারে সৌম্য। নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে তার প্রমাণ রেখেছে।’ আইরিশদের বিপক্ষে ম্যাচের ফিনিশিং টেনেছেন সৌম্য। যা মুগ্ধ করেছে হাবিবুল বাশার সুমনকে, ‘এ ধরনের উইকেটে সৌম্যর অপরাজিত ৮৭ রানের ইনিংসটি সত্যিই অসাধারণ। ৮০ রানের বেশি করেছে বলে এটা বলছি- তা কিন্তু নয়। ম্যাচটা শেষ করে এসেছে। যদি সৌম্যর মতো কেউ এভাবে দীর্ঘ সময় থিতু হতে পারে, তা বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জন্য বড় পাওয়া। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে একটি ছক্কা মেরেছে, তা দেখে আমি মুগ্ধ। আবার মিড উইকেটের চেয়ে কভারে শট খেলেছে সে।’ বাংলাদেশ দলের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ইনিংস আরো লম্বা হোক, এমন প্রত্যাশায় সাবেক অধিনায়ক নিজেও, ‘টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানের থেকে ভালো একটি ফিফটিই যথেষ্ট নয়। লম্বা ইনিংস খেলতে হবে তাকে। যা সহায়ক হবে দলের বড় স্কোরের জন্য। যখন আমরা বড় দলগুলোকে হারাতে চাই, তখন এটা খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে।’ সূত্র : বাসস

শ্বাসরূদ্ধকর ফাইনালে আইপিএল শিরোপা মুম্বাইর

টানটান উত্তেজনাকর এক ফাইনাল ম্যাচে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টসকে ১ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মত আইপিএল শিরোপা জিতলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচটি মীমাংসা হয়েছে শেষ বলে। লো স্কোরিং উত্তেজনার কমতি ছিলা না কখনোই। কখনো এদিকে, আবার কখনো ওদিকে হেলে পড়েছে ম্যাচ। শেষ দুই ওভারে স্টিভেন স্মিথের ক্যাপ্টেন্স নকে পুনে যখন প্রথম শিরোপা ছোয়ার স্বপ্ন দেখছিল, তখনই মিচেল জনসনের জোড়া আঘাত ম্যাচে ফিরেছে মুম্বাই। জনসনের শেষ ওভারে ১১ রান দরকার ছিল পুনের, ক্রিজে তখনও ৫১ রানে অপরাজিত স্মিথ। প্রথম বলে বাউন্ডারি হাকিয়ে দ্বিতীয় বলে আউট মনোজ তিওয়ারি। পরের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট স্মিথ।
এখানেই ম্যাচে ফিরে আসে শচীনের উত্তরসুরীরা। শেষ বলে জয়ের জন্য চার রান দরকার ছিলো পুনোর। তিন রান নিতে গিয়ে আউট হয়েছেন পুনের । রানটি পুর্ণ হলে ম্যাচ টাই হতো। সব মিলে শেষ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে পুনে করতে পেরেছে ১০ রান। মুম্বাই জিতেছ ১ রানে। এর আগে টস জিতে ব্যাট করে মুম্বাইর সংগ্রহ ছিলো ৮ উইকেটে ১২৯ রান। ক্রুনাল পান্ডে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেন। পুনের পক্ষে স্মিথের হাফ সেঞ্চুরি ছাড়াও আজিঙ্কা রাহানে ৪৪ রান করেন। অন্য ব্যাটস্যানরা সবাই ছিলেন ব্যর্থ। মুম্বাইর অসি পেসার মিচেল জনসন ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন।

রোনালদো-বেনজিমার গোলে লা লিগা রিয়ালের

লা লিগা জিতল রিয়াল মাদ্রিদ৷ রোববার অ্যাওয়ে ম্যাচে মালাগাকে ২-০ হারিয়ে শিরোপা জিতলেন রোনালদো-বেনজিমারা৷ ২০১২ শেষ বার স্প্যানিশ লিগ জিতেছিল তারা৷ তারপর এ’বার৷ সবমিলিয়ে এটি তাদের ৩৩ নম্বর খেতাব৷ কোচ হিসেবে জিদানের প্রথম লা লিগা এটি৷ এদিন ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ৷ দু’মিনিটে ইসকোর পাস থেকে গোল করেন সিআর সেভেন৷ পর্তুগিজ সুপারস্টারের এই গোলে প্রথমবার লিগের সব ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানোর কীর্তি গড়ে ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা৷ সব মিলিয়ে টানা ৬৪ ম্যাচে গোল করল তারা৷ তবে নিজেদের মাঠে মাদ্রিদের দলকে চাপে রেখেছিল মালাগা৷ রামিরেজ ও কেকোর শট অল্পের জন্য বাইরে যায়৷ ৫৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ফরাসি স্ট্রাইকার বেনজিমা৷ আর গোল না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দু’গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে রিয়াল৷ এই ম্যাচ জয়ের সঙ্গে জিদানের মুকুটে যোগ হয় আরেকটি পালক৷ খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে স্প্যানিশ লিগ জিতে তিনি স্পর্শ করলেন ক্রুয়েফ, গুয়ার্দিওয়ালা, এনরিকেকে৷

‘আইন মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় বিচার বিভাগ অকেজো হয়ে যাচ্ছে’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার বিধানকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত সাত বিচারকের আপিল বিভাগ আগামী ২রা জুলাই পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ দেন। সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশের ফলে ওই সময় (২রা জুলাই) পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত চলবে বলে জানান আইনজীবীরা। দণ্ডবিধির অনেক আইন ভ্রাম্যমাণ  আদালত আইনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি গতকাল শুনানিতে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতার কারণে বিচার বিভাগ অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এটি সরকারকে বলে দেবেন। আইন কমিশনের সুপারিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আইনবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আইন করা উচিত বলে শুনানিতে মত দেন আপিল বিভাগ। 
এর আগে গত ১১ই মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিধানকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করে আদালত। এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন হাইকোর্ট। ঘোষিত রায়ে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি বিধান বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ-সংক্রান্ত সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরপন্থি। এ ছাড়া আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়া ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অতীত সিদ্ধান্ত মার্জনা করা হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। পরে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ চেম্বার আদালতে আবেদন করে। শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা ১৮ই মে পর্যন্ত স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। গতকাল আদালতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসান এম এস আজিম। গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আসন্ন রমজান মাসসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে  শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ২রা জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, ওই সময় (২রা জুলাই) পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত আপিল করতে হবে।

টিভি দেখতে পারবেন দৃষ্টিহীনরাও

অন্ধ ও বধিরদের জন্য টিভি অনুষ্ঠান উপভোগ করার নতুন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেছ স্পেনের বিজ্ঞানীরা। নতুন এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির সহযোগিতা ছাড়াই অন্যদের সাথে একই সাথে টিভি অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবে অন্ধ ও বধির ব্যক্তিরা। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের তৃতীয় চার্লস বিশ্ববিদ্যালয় (ইউনিভার্সিদাদ চার্লস থ্রি দ্য মাদ্রিদ) ও স্পেনের অন্ধ-বধির সংস্থাগুলোর জোট যৌথভাবে এমন একটি সফটওয়ার তৈরি করেছে যেটি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানের সাবটাইটেল একত্রিত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে পাঠাবে। সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোন বা ট্যাবে চলে যাবে। এজন্য একটি বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। টিভির সাবটাইটেলকে স্মার্টফোন বা ট্যাবে ব্রেইলি পদ্ধতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ভাষায় উপস্থাপন করবে ওই অ্যাপ।
বিষয়টি এত দ্রুততার সাথে হবে যে টিভিতে প্রচারিত অনুষ্ঠান কোনো বিলম্ব ছাড়াই সাথে সাথে উপভোগ করতে পারবেন বধির-অন্ধ ব্যক্তিরা। মূলত এর মাধ্যমে যথাসময়ে সঠিক তথ্যগুলো জানতে পারবেন তারা। এই সফটওয়্যারটির সাবটাইটেল ব্রেইলি ভাষায় অনুবাদ করার এবং দেখা ও পড়ার গতির মধ্যে সমন্বয় করার আশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে। মূলত অন্ধ ও বধিরদের তথ্য জানা ও বৈশ্বিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুবিধা সৃষ্টি করতেই এটি তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই মাদ্রিদের বিভিন্ন চ্যানেলে এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়েছে। শিগগিরই এটি সমগ্র স্পেনে ছড়িয়ে দিতে আশাবাদী এর উদ্ভাবকরা। তারা এটি বিনামূল্যেই সরবরাহ করছেন আগ্রহী অন্ধ-বধির লোকদের। সূত্র : এনডিটিভি

নখের এই অর্ধচন্দ্রই বলে দিবে আপনি সুস্থ কিনা

আপনি কি জানেন নখ আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক কিছুই বলে দিতে পারে? আপনার নখ ভাল করে খেয়াল করে দেখুন তো এ রকম সাদা অর্ধচন্দ্র দেখতে পান কিনা? সবচেয়ে স্পষ্ট ভাবে দেখতে পাবেন বুড়ো আঙুলের নখে। আর এই অর্ধচন্দ্রই আমাদের নখ ভাল রাখার জন্য সবচেয়ে জরুরি। এর পোশাকি নাম লুনুলা। এই লুনুলা যদি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা হলে আপনার নখের বৃদ্ধিই চিরকালের মতো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই লুনুলা দেখতে সাদা লাগলেও আসলে এর রঙ মাংসের মতো। কারণ লুনুলা নখেরই অংশ মনে হলেও বাস্তবে তা নয়। এই অংশের উপরই বসে থাকে নখ। তাই উন্মুক্ত থাকলে লুনুলা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অংশ। নখের ঠিক নিচে থাকা চামড়ার একেবারে উপরের এই অংশ রক্তনালীকে ঢেকে রাখে। যদি লুনুলার আবরণ না থাকতো তা হলে অংশে ক্রমাগত যন্ত্রণা হতো।
যদি নখ সম্পূর্ণ তুলে ফেলা হয় তা হলেও কিন্তু থেকে যাবে লুনুলা। প্রত্যেকের নখের নিচেই থাকে লুনুলা। কারো হাতে স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়, আবার কারো হাতে বোঝা যায় না। এ বার জেনে নিন এই লুনুলা আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে কী বলে। সাধারণত লুনুলা যদি খুব ছোট হয় তা হলে সেই ব্যক্তি রক্তাল্পতা বা অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে। আবার খুব বেশি হজমের সমস্যা হলেও ছোট হতে পারে লুনুলা। যাদের লুনুলা ছোট হয় তারা অনেক বেশি ক্লান্ত বোধ করেন। যদি লুনুলা নীলচে হয় তা হলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। লালচে হলে আপনার হার্টের সমস্যা থাকতে পারে। আইভরি রঙের লুনুলা সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ। এ ক্ষেত্রে নখের প্রায় এক পঞ্চমাংশ জুড়ে থাকে লুনুলা। যদি দেখেন আপনার লুনুলা ছোট হয়ে আসছে ও রঙ গাঢ় হচ্ছে তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সূত্র : ইন্টারনেট

ধসে পড়েছে এভারেস্টের হিলারি স্টেপ

মাউন্ট এভারেস্টে উঠার শেষের দিকের সর্বশেষ বড় চ্যালেঞ্জ হিলারি স্টেপ ধসে পড়েছে। এতে করে এভারেস্ট জয় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছর কিছু ছবিতে দেখা গিয়েছিল, হিলারি স্টেপের আকার বদলে গেছে। সম্পূর্ণ খাড়াভাবে উঠে যাওয়া এই পথটি ছিল ১২ মিটার। ব্রিটেনের পর্বতারোহী টিম মোসডেল এ সপ্তাহের শুরুতেই এভারেস্টের চূড়ায় উঠার পর প্রথম আবিষ্কার করেন, হিলারি স্টেপ ধসে পড়েছে। বেজ ক্যাম্পে নামার পর নিজের ফেসবুক পাতায় তিনি লিখেছেন তার অভিজ্ঞতার কথা। বিশ্বে প্রথমবার এভারেস্টের চূড়ায় উঠার কৃতিত্ব নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী স্যর এডমুন্ড হিলারির। তিনি উঠেছিলেন ১৯৫৩ সালে। তার নামেই ঐ পথটির নামকরণ।
তাঁর পরে হিমালয়ের নেপাল অংশ হয়ে পৃথিবীর যত পর্বতারোহী এভারেস্টের চুড়ায় উঠেছেন, বরফে ঢাকা ঐ পাথুরে পথটি তাদের সবাইকে পার হতে হয়েছে। এটি ছিল এভারেস্টে ওঠার সর্বশেষ বড় চ্যালেঞ্জ। এভারেস্টে ওঠার সবচেয়ে জটিল অংশ ছিলো এই হিলারি স্টেপ। ২৯ হাজার ফিট উচ্চতায় এর অবস্থান। ২০১৫ সালে নেপালে ৭.৮ মাত্রার যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিলো তাতেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এখন সেখানে অবশিষ্ট আছে পাথরের কয়েকটি চাই। ঐ ভূমিকম্পে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতাও কমে গিয়েছিল এক ইঞ্চির মতো। নেপাল ও তিব্বতের অংশে হিমালয়ের পর্বতগুলোর চূড়ায় উঠা এমনিতেই বিপজ্জনক। মাত্র গতকালই চারজন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। এখন হিলারি স্টেপ ধসে পড়ায় এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত যাওয়া আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে পর্বতারোহীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সূত্র : বিবিসি

এভারেস্ট চূড়ায় উঠার পথে ধস

ব্রিটেনের পর্বতারোহী টিম মোসডেল চলতি সপ্তাহের শুরুতে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় উঠেন। এরপর তিনি প্রথম আবিষ্কার করেন এভারেস্টেরে চূড়ায় উঠার পথ হিলারি স্টেপ ধসে পড়েছে। খবর বিবিসির। অবশ্য এভারেস্টের চূড়ায় উঠার এই পথের যে আকার বদলে গেছে, গতবছরের কিছু ছবিতে দেখা গিয়েছিল। সম্পূর্ণ খাড়াভাবে উঠে যাওয়া এই পথটি ছিল ১২ মিটার। এটি ছিল এভারেস্টে উঠার সর্বশেষ বড় চ্যালেঞ্জ। বেজ ক্যাম্পে নামার পর নিজের ফেসবুক পাতায় মোসডেল তার অভিজ্ঞতার কথা লেখেন। বিশ্বে প্রথমবার এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার কৃতিত্ব নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী স্যার এডমুন্ড হিলারির। তিনি উঠেছিলেন ১৯৫৩ সালে, তার নামেই ওই পথটির নামকরণ।
তারপরে হিমালয়ের নেপাল অংশ হয়ে পৃথিবীর যত পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছেন, বরফে ঢাকা ওই পাথুরে পথটি তাদের সবাইকে পার হতে হয়েছে। এভারেস্টে ওঠার সবচেয়ে জটিল অংশ ছিল এই হিলারি স্টেপ। ২৯ হাজার ফিট উচ্চতায় এর অবস্থান। ২০১৫ সালে নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার যে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল, তাতেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন সেখানে অবশিষ্ট আছে পাথরের কয়েকটি চাই। ওই ভূমিকম্পে মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতাও কমে গিয়েছিল এক ইঞ্চির মতো। নেপাল ও তিব্বতের অংশে হিমালয়ের পর্বতগুলোর চূড়ায় ওঠা এমনিতেই বিপজ্জনক। মাত্র রোববারই চারজন পর্বতারোহী নিহত হয়েছেন। এখন হিলারি স্টেপ ধসে পড়ায় এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত যাওয়া আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে বলে পর্বতারোহীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

সৌদি থেকে ইসরাইলে যাচ্ছেন ট্রাম্প

সৌদি সফর শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে দু'দিনের সফরে তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সফর করবেন। খবর বিবিসির। এদিকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ভূখণ্ড সফরে ট্রাম্প ইসরাইল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সংঘর্ষ ও অশান্তির অবসানে কথা বলবেন। তিনি দু'দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে শান্তি চুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে একে 'চূড়ান্ত চুক্তি' বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এই চুক্তি কীভাবে নিরুপিত হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা তিনি দেননি।
এর আগে ট্রাম্প বলেছেন, দু'পক্ষের নেতাদের পারস্পরিক আলোচনার মধ্য দিয়েই এই শান্তি চুক্তি হতে হবে। এতে কেউ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে না। সৌদি সফরকালে রোববার রিয়াদে আয়োজিত মুসলিম বিশ্বের নেতাদের এক সম্মেলনে ট্রাম্প আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের একজোট হয়ে সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি সন্ত্রাসবাদকে 'পৃথিবীর বাইরে ছুড়ে ফেলার' কথা বলেন। ট্রাম্প এ সময় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার জন্য ইরানকেও দায়ী করেন।

হাসান রুহানির বিজয়ে রাতভর নাচগান

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, ভোটাররা চরমপন্থার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন এবং তারা বহির্বিশ্বের সঙ্গে আরও সম্পর্ক বাড়াতে চান। শুক্রবারের নির্বাচনে ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন মধ্যপন্থী রুহানি। ফলে রান অফ বা দ্বিতীয় পর্বের ভোটাভুটিতে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কট্টরপন্থী বিচারক ইব্রাহিম রাইসি পেয়েছেন ৩৮ শতাংশ ভোট। বিজয়ের পর টেলিভিশন ভাষণে রুহানি বলেন, তিনি তার প্রতিপক্ষের সমালোচনাকে শ্রদ্ধা করেন। ২০১৫ সালে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে দূরে রাখতে ঐতিহাসিক চুক্তি করেন ৬৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সংস্কার প্রচেষ্টা ও দুর্বল অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করায় ঐতিহাসিক এ জয় পেয়েছেন রুহানি। খবর বিবিসি ও এএফপির। রুহানি বলেন, ইরানি জাতি আবারও আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এ কারণে আমি আগের চেয়ে আরও বেশি দায়িত্ব অনুভব করছি। এ সময় তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা খামেনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ইরানিরা সংঘাত ও কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন। উদারপন্থাকে সমর্থন দিয়েছেন। ভোটের এ ফল প্রমাণ করে, তারা বহির্বিশ্বের সঙ্গে আরও সংযোগ স্থাপন করতে চান। জীবনমানের উন্নতি চান।’ রুহানি বলেন, ইরান জাতীয় স্বার্থ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহী। তিনি বলেন, ইরানের নির্বাচন প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি এ বার্তাই দিচ্ছে যে, বিদেশি শক্তির ওপর নির্ভরতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বরং গণতন্ত্র ও ধর্মভিত্তিক জনগণের শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই এটা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে।
এখন আমি ইরানি জাতির প্রেসিডেন্ট। এখন আমার প্রত্যেক ইরানির কাছ থেকে সহায়তা প্রয়োজন, এমনকি যারা আমার বিরোধিতা করেন বা আমার নীতির বিরোধিতা করেন।’ এদিকে শনিবার নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সারারাত তেহরানের খোলা আকাশের নিচে বিরল বিজয়োল্লাস করেছেন রুহানির সমর্থকরা। তেহরানের ভালি আসর স্কয়ারে তরুণ-তরুণীরা নাচ ও গানের মধ্যে বিজয় উদযাপন করেন। এ সময় তারা রুহানির ছবি সংবলিত ফেস্টুন আকাশে উড়ান। ২৭ বছর বয়সী আফসিন বলেন, এ উল্লাস সংস্কারপন্থী কোনো প্রেসিডেন্টের জয়ের উল্লাস। এ বিজয় উৎসবে অংশ নেয়া একদল তরুণ-তরুণী সংস্কারপন্থী মুভমেন্ট পার্টির নেতা মির হোসাইন মাউসাভির পক্ষেও স্লোগান দেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দি রয়েছেন। অনেকেই আবার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহম্মাদ খাতামির পোস্টার হাতেও স্লোগান দেন। ২৫ বছর বয়সী পেগাহ বলেন, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ আমরা যা চেয়েছিলাম তাই পেয়েছি। যদিও রুহানি তেমনটা নন। কিন্তু তিনি সংস্কার, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের পক্ষে।’ আফসিন বলেন, রুহানি যে প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলেন আমরা সেটারই বাস্তবায়ন চাই। এ সময় শতাধিক তরুণ-তরুণী একসঙ্গে চিৎকার দিয়ে ওঠেন।

সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি উ.কোরিয়ার

দুই দফা ব্যর্থ হবার পর উত্তর কোরিয়া রোববার সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, মাঝারি ধরনের এই ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এরপর সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য অস্ত্রটি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মিসাইলটি আগের তিনবার পরীক্ষা চালানো ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই স্বল্পপাল্লার। গত সপ্তাহে বড় ধরনের পরমাণু বহনে সক্ষম নতুন ধরনের রকেট উৎক্ষেপণের পর এ পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া। গত ১৫ মে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ পিয়ংইয়ং ফের এ ধরনের পরীক্ষা চালালে কঠোর পদক্ষেপের হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল। নতুন করে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর আগামীকাল মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক আহ্বান করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উপস্থিত থাকবে।

পাঁচ দিনে দু’বার এভারেস্ট জয়ের রেকর্ড

ভারতের পর্বতারোহী দুঃসাহসী নারী অংশু জামসেনপা। ৩৭ বছর বয়সী এই নারী বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে ওঠাকে ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলেছেন। ৫ দিনের মধ্যে তিনি দুবার এভারেস্টের চূড়ায় উঠে নারী আরোহণকারীদের আগের রেকর্ডটি ভেঙেছেন। সর্বশেষ রোববার সকালে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আরোহণ করেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। এভারেস্ট আরোহণকারীদের সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ড্রিম হিমালয় অ্যাডভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাওয়া লামা বলেন, ‘অংশু এ মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো রোববার সকাল ৮টায় এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছে রেকর্ড গড়েছেন।’ পর্বতারোহী এ নারীর দলে থাকা অন্যদের ভাষ্য, সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠে রেকর্ড গড়ার আগে তিব্বতের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা দালাইলামার আশীর্বাদ নিয়েছিলেন দুই সন্তানের জননী অংশু। তার আগে ২০১২ সালে নেপালি পর্বতারোহী নারী চুরিম শেরপা এক মৌসুমে দুবার এভারেস্টে উঠে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। ১৬ মে সর্বোচ্চ চূড়া থেকে নামেন অংশু। এরপর সংক্ষিপ্ত বিরতি নিয়ে আবার পর্বত অভিযানে যান তিনি।

ট্রাম্পের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরবের মধ্যে অস্ত্র খাতে ১১ হাজার কোটি ডলারের স্বাক্ষরিত চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে ব্যাখ্যা চাইবেন ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এ কথা জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট। শনিবার প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান ট্রাম্প। সফরের প্রথম দিনেই সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৩৮ হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা, ব্যবসা এবং প্রযুক্তিবিষয়ক বেশ কয়েকটি চুক্তি হয়। এর মধ্যে অস্ত্র খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১১ হাজার কোটি ডলার। দুটি দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার হিসেবে ‘জয়েন্ট স্ট্র্যাটেজিক ভিশন ডিক্লারেশন’ স্বাক্ষর করে। নেতানিয়াহুর এক ঘনিষ্ঠ ইউভাল স্টেইনিজ বলেন, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির মধ্যে চুক্তির বিষয়ে অবগত হয়েছেন। সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইসরাইল সফর করবেন তখন তার কাছ থেকে এ চুক্তির ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। স্টেইনিজ আরও বলেন, ‘আরব বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যে আমাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
তবে নতুন এ অস্ত্র চুক্তি অবশ্যই আমাদের বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলবে।’ এদিকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল-জুবায়ের ট্রাম্পের এ সফরকে আরব বিশ্বের জন্য ‘এক নতুন সূচনা’ বলে উল্লেখ করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের জানান, দেশ দুটি সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আগামী ১০ বছরে এসব চুক্তি বাস্তবায়ন হবে। যার মূল্যমান ৩৮ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। টিলারসন জানান, ২০টি বৃহৎ মার্কিন কোম্পানিকে সৌদিতে সরাসরি বিনিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর ফলে সৌদিতে মার্কিন পণ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। এতে রিয়াদ উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহযোগিতা, সৌদি এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপত্তা দেবে। বিশেষ করে ইরানের হুমকির মুখে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা জোরদার করা খুবই জরুরি। হোয়াইট হাউস জানায়, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অস্ত্রচুক্তির মূল্যমান ১১ হাজার কোটি ডলার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক অস্ত্রচুক্তি।

সালমানের সামনে মাথা নোয়ালেন ট্রাম্প

পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সৌদি আরব সফরে দেশটির বাদশার সামনে মাথা নোয়ানোর ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি নিজেও সেই একই কাণ্ড ঘটালেন। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, ২০০৯ সালে সৌদি সফরে বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে করমর্দন করার সময় কোমর বাঁকিয়েছিলেন ওবামা। কয়েক বছর পর নির্বাচনী প্রচারণায় এ নিয়ে তীব্র কটূক্তি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, ‘ওবামা প্রার্থনা ও আবেদনের ধাঁচে মাথা নোয়ালেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম বিদেশ সফরের অংশ হিসেবে শনিবার সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি একই ঘটনার জন্ম দেন। শনিবার রাতে ট্রাম্পকে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদক পরিয়ে দেন সৌদি বাদশা। ‘মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য’ ট্রাম্পকে এ সম্মাননা দেয়া হয় বলে রিয়াদ দাবি করেছে। শনিবার রিয়াদের আল ইয়ামায়াহ প্রাসাদে ট্রাম্পকে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘অর্ডার অব আবদুল আজিজ আল-সৌদ মেডেল’ দেয়া হয়। তাকে স্বর্ণের মেডেলটি পরিয়ে দেন ৮১ বছর বয়সী বাদশা সালমান। এ সময় বাদশার সামনে মাথা নত করে মেডেল পরেন ট্রাম্প। তার এক ঘনিষ্ঠ বলছেন, ‘এটা মাথা নোয়ানো নয়। তিনি মাথা নিচু করেছেন মাত্র। কারণ এ সময় প্রেসিডেন্ট মেডেল গ্রহণ করছিলেন।’
ট্রাম্পের এ আচরণের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস। ওবামার ওই ঘটনা সম্পর্কে ২০০৯ সালে পলিটিকো ম্যাগাজিনে প্রেসিডেন্টের এক ঘনিষ্ঠ জানান, এটা মাথা নোয়ানো ছিল না। ওবামা সৌদি বাদশার হাত ধরে করমর্দন করছিলেন এবং তিনি (ওবামা) ছিলেন একটু লম্বা। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ জাপানের সম্রাটের সামনেও একই কাণ্ড করেছিলেন। এছাড়া সৌদি বাদশার হাত ধরে তাতে চুমু দিয়েছিলেন জর্জ বুশ। তবে ওবামার ওপর মাথা নোয়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। উইকলি স্টান্ডার্ড জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট বিদেশি বিশিষ্টজনদের সামনে মাথা নোয়ান না, এমনকি তিনি বাদশা, সম্রাট বা প্রিন্স হলেও। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তাকে আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ আল সৌদের নামে চালু করা সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দেয়া হয়। পদকটি সৌদি আরবের সেবা করার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিদেশি নাগরিকদের দেয়া হয়। এর আগে যেসব বিদেশি ব্যক্তিত্ব এ পদক পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ডব্লিউ বুশ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। এরই মধ্যে রিয়াদের কাছে ১১,০০০ কোটি ডলারের সমরাস্ত্র বিক্রির চুক্তি সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ‘তলোয়ার’ নাচ : প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সৌদি বাদশা সালমানের সঙ্গে ঐতিহাসিক এক নৃত্যে অংশ নিয়েছেন। শনিবার রাতে রিয়াদের মোরাব্বা প্যালেসে সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী ‘আরধা নাচে’ অংশ নেন ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন এবং হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননসহ অন্য কূটনীতিকরাও তাদের সঙ্গে এ নাচে অংশ নেন। এক লাইনের বিশেষ কবিতা পাঠের মাধ্যমে ‘আরধা নাচ’ হয়ে থাকে। এ সময় ঢোলের তালে তালে পুনরায় কবিতা পাঠ করা হয়। আর জাতীয় অনুষ্ঠান হিসেবে সবাই তরবারি প্রদর্শন করেন। ট্রাম্পকেও এ রীতি অনুসরণ করে উৎফুল্লচিত্তে নাচতে দেখা গেছে। এ সময় তার হাতেও তরবারি ছিল। সৌদি আরবে এ নাচের মাধ্যমে নৃত্যকারীরা তাদের আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করে থাকেন। একই সঙ্গে বাদশার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। সাধারণত সৌদি সেনাবাহিনীর কোনো অর্জন উদযাপনে ‘আরধা নাচ’ হয়ে থাকে। তবে ইদানীং দেশটির বিশেষ অনুষ্ঠান বা উৎসবেও এ নাচ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

যমজ বোনের একশ’তম জন্মদিন

দু’জনের মুখের অদ্ভুত মিল! এ ছাড়াও দু’জনের শরীরের গড়ন, চুলের স্টাইল একেবারে এক রকম। তফাত বলতে, একজনের চোখে চশমা, অন্যজনের তা নেই। দু’জনের মধ্যে এত মিল কী করে! এরা যে যমজ বোন। ছোটবেলা থেকে জীবনের অনেক ভালোমন্দ সময় তারা একসঙ্গে কাটিয়েছেন, পাশে থেকেছেন একে অপরের। আর এভাবেই দেখতে দেখতে নিজেদের একশ’ বছরের জন্মদিনও একসঙ্গে পালন করতে চলেছেন দুই বোন! আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলের মার্লিয়া পিগনাটোন পন্টিন ও পাওলিনা পিগনাটোন পান্ডলফির একশ’তম জন্মদিন ২৪ মে। ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে জোড়া সেলিব্রেশনের প্রস্তুতি। তাদের জন্মদিনের গোটা সেলিব্রেশনটা স্মরণীয় করে রাখতে উদ্যোগী হন ক্যামিলা লিমা নামে এক চিত্রগ্রাহক। সেই অনুরোধেই নিজেদের একশ’ বছরের জন্মদিন আগাম উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুই বোন। একটা গোটা দিন ধরে নানা ভঙ্গিতে, নানা রঙের পোশাকে, ফুলের মুকুট পরে সুন্দর করে সেজেগুজে একের পর এক ছবি তুলেছেন তারা। সারাদিন মার্লিয়া-পাওলিনা ও তাদের পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে আপ্লুত চিত্রগ্রাহক ক্যামিলাও। জানা যায়, ২৪ মেয়ে দুই বোন তাদের ১১ জন ছেলেমেয়ে (মার্লিয়ার পাঁচ আর পাওলিনার ছয় ছেলেমেয়ে), ৩১ জন নাতি-নাতনি এবং তাদের ১৬ জন ছেলেমেয়েসহ মোট ৬০ জনের একটি ‘ছোটখাটো’ ফ্যামিলি পার্টিতে কাটবেন জোড়া ‘বার্থ ডে কেক’। দুই বোনের প্রি-বার্থ ডে সেলিব্রেশনের ছবি আপাতত ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইতোমধ্যেই তাদের ছবির নিচে অসংখ্য মানুষ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

পণ্যজট লেগেই আছে

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। বছরে এখান থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও বন্দর অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। বন্দরটিতে আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া না লাগায় ব্যবসায়ীরা হতাশা প্রকাশ করছেন। এখানে সার্বক্ষণিক পণ্য ও যানজট লেগেই থাকে। অভ্যন্তরে জায়গা না থাকায় বন্দর এলাকায় পণ্য খালাসের জন্য কয়েক হাজার ভারতীয় ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। আর বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল ও কালিতলা ট্রাক পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৫ হাজারেরও বেশি পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোলে প্রবেশের অপেক্ষায়। এ বন্দরের গুরুত্ব বাড়লেও অবকাঠামোর কোনো পরিবর্তন হয়নি। বহাল রয়েছে পুরনো আমলের কার্যব্যবস্থা। নানা অনিয়মের মধ্যে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। দিন দিন সমস্যা বাড়ছে বন্দরের। দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। কাগজ-কলমে উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে এ বন্দরে কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এই বন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রফতানি হয়।
এছাড়া বছরে প্রায় ১৩ লাখ যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। সম্প্রতি এ বন্দরে ৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে পুরাতন আধলা ইট, খোয়া এবং নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী। এডিবির অর্থায়নে (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) এ বন্দরে নির্মাণ কাজ করছেন ঢাকার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মনিকো লিমিটেড। দুই বছরের মধ্যে তাদের এই কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। এসব উন্নয়ন কাজের মধ্যে রয়েছে- নতুন দুটি আমদানি পণ্য রাখার গুদাম, চারটি ওপেন শেড, পানি নিষ্কাশনের ড্রেন, বন্দরের অভ্যন্তরের সড়ক ও ইয়ার্ড নির্মাণ। তবে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের কাজে এমন দশা অবাক করেছে তাদের। ৪৫ বছরের পুরনো বিল্ডিং ভেঙে সেখান থেকে ইট নিয়ে নতুন করে শেড তৈরি করলে ধসে যেতে পারে যে কোনো সময়। এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, প্রতিবছর এই বন্দর থেকে সরকার প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু এখানে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোর চিত্র বেহাল। এতে পণ্য খালাসে বিলম্ব ও অর্থনৈতিক ক্ষতিতে ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আজ ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে কিছু কাজ শুরু হলেও সেখানে পুরনো আধলা ইট খোয়ার ব্যবহার দুঃখজনক। তিনি বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর এ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। স্থলবন্দরটি খুবই অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার বন্দরে প্রতিদিন ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন পণ্য ওঠানো-নামানো হয়ে থাকে। প্রতিদিন পণ্য বোঝাই অন্তত ৩৫০ ট্রাক লোড-আনলোডের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। ধীরে ধীরে বন্দরটি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এই বন্দরকে আরও গতিশীল করে তোলার জন্য প্রথমেই দূর করতে হবে জায়গার সংকট। জায়গা সংকটের কারণে অনেক পণ্য রাখা যাচ্ছে না।
শত শত কোটি টাকার পণ্য খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। ফলে ভারত থেকে পণ্য প্রবেশে বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলোকে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের জন্য ৮ থেকে ১০ দিন অপেক্ষায় থাকতে হয়। তিনি আরও বলেন, এ বন্দরকে ব্যবসা-বাণিজ্যের উপযোগী করে তুলতে এর ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করতে হবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। বাড়াতে হবে বন্দরের অত্যাধুনিক নতুন ইকুইপমেন্ট। জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল রাখার জন্য একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদামসহ ১৫টি শেড নির্মাণের দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে বন্দরটির কর্মচাঞ্চল্য কমে এটি খুব শিগগিরই অচল হয়ে পড়বে। বেনাপোল স্থলবন্দর উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) রেজাউল করিম জানান, বন্দরে ১০০ কোটি টাকার কাজ শুরু হয়েছে। বেনাপোল বন্দরে নতুন ২টি শেড, ফ্লোর পাকাকরণ, ড্রেন নির্মাণসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। সাময়িক কিছু সমস্যা আছে কাজ শেষ হলে বন্দরে কোনো সমস্যা থাকবে না। বন্দরে পণ্যজটও কমে যাবে বলে আশা করছি।

গ্রাহকদের তালিকা দিতে পারেনি আপন জুয়েলার্স

শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগে গ্রাহকদের প্রকৃত তালিকা জমা দিতে পারেনি আপন জুয়েলার্স। যার কারণে বিভিন্ন শোরুম থেকে জব্ধ করা স্বর্ণ ফেরত দেয়া হয়নি। সোমবার শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ সূত্র জানায়, আপন জুয়েলার্স এখনো প্রকৃত গ্রাহকদের তালিকা জমা দেয়নি, এ কারণে স্বর্ণ ফেরত দেয়া হয়নি। আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত গ্রাহকদের তালিকা আগামী ২৫ মে'র মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। গ্রাহকদের তালিকা জমা দেয়া হলে ওই দিনই স্বর্ণ ফেরত দেয়া হবে বলে জানায় শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ বলছে, বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক। এ পরিবারের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগ থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে একটি অনুসন্ধান কমিটি করে তদন্ত চলছে। এর অংশ হিসেবে আপন জুয়েলার্সের বেশ কয়েকটি বিক্রয় কেন্দ্রে ইতোমধ্যে অভিযান চালানো হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক মইনুল খান যুগান্তরকে বলেন, আপন জুয়েলার্স ব্যাখ্যাহীনভাবে বিভিন্ন শোরুমে স্বর্ণ ও হীরা মজুদ রেখেছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির মালিক দিলদার আহমেদকে গত ১৭ মে কাকরাইলে সংস্থাটির কার্যালয়ে তলব করে স্বর্ণের হিসাব ও প্রকৃত গ্রাহক তালিকা চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি হিসাব ও গ্রাহক তালিকা দিতে পারেননি। এখন ২৫ মে'র মধ্যে গ্রাহকদের তালিকা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এর মধ্যে তালিকা দেয়া সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটির জব্ধ করা স্বর্ণ ফেরত দেয়া হবে।

বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলার রায় ২৮ মে

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলায় খালাস চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি শেষ, আগামী ২৮ মে রায় দেয়া হবে। সোমবার প্রধান বিচারপতির এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রায়ের এ দিন ধার্য করেন। আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানি অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম। মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া এবং তার মন্ত্রিসভার ১০ সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা দায়ের করা হয়।
চীনা প্রতিষ্ঠান কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারিজ ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) সঙ্গে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। ওই বছর ৫ অক্টোবর ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে দুদক। পরে এ মামলার বৈধতা প্রশ্নে রিট করে করেন তিনি। ওই সময় হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেন। পরে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ফের এ মামলা সচল হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতি, জামায়াত নেতার মেয়ে গ্রেফতার

দিনাজপুরে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত ও কটূক্তির ঘটনায় দায়ের মামলায় মাকসুদা আক্তার সুমি নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার দিনগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার বামনগড় (বাগানবাড়ি) গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সুমি (২২) স্থানীয় জামায়াত নেতা মোকছেদ আলীর মেয়ে। তিনি নবাবগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে রাত ১১টার দিকে নবাবগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. তবিবুর রহমান। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে সুমি তার ফেসবুক আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি বিকৃত ও তাকে নিয়ে কটূক্তি করেন। নবাবগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়ে রাতেই সুমিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

থানা হাজতে মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না পুলিশ

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, থানা হাজতে আসামির মৃত্যু যেভাবেই হোক, এর দায় এড়াতে পারে না পুলিশ। সোমবার সকালে সিলেট কারাগার পরিদর্শন শেষে জৈন্তাপুর থানায় আসামির মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। রিয়াজুল হক বলেন, থানা হাজতে মৃত্যুর শাস্তি শুধু প্রত্যাহার হতে পারে না। আরও কঠোর শাস্তি দিতে হবে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি পাঠানো হবে। তিনি জানান, যারা দীর্ঘদিন ধরে বিনা বিচারে জেল খাটছেন তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। প্রয়োজনে তাদের আইনি সহায়তা দিয়ে বিচারকাজ যাতে দ্রুত শেষ করা যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন ধরে জেল খাটছেন বিচার শেষে যাতে তাদের সাজা সমন্বয় করা হয় সেই দাবি জানান রিয়াজুল হক। এছাড়া বৃদ্ধ, অচল যারা কারাগারে রয়েছেন, তাদের মুক্তির বিষয়ে সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানানোর জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেন তিনি। কাজী রিয়াজুল হক সাংবাদিকদের বলেন,
যারা ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের ২০ বছর সাজা খাটার পরই মুক্তি দেয়া উচিত। তিনি বলেন, ২০ বছর সাজা খাটার পর আর কারও অপরাধ করার মানসিকতা থাকার কথা নয়। সুতরাং তাদের মুক্তি দিয়ে এসব বন্দিদের স্বাধীন রাষ্ট্রের সব অধিকার ফিরিয়ে দেয়া উচিত। এ সময় সিলেটের জৈন্তাপুর থানা হাজাতে এক আসামি মৃত্যুর বিষয়টি তার নজরে আনলে রিয়াজুল হক বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে। তারা ভিডিও দেখিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন এটা আত্মহত্যা। কিন্তু প্রশ্ন হল, এতো সময় ধরে থানা হাজতে একজন আসামি আত্মহত্যার চেষ্টা করছে, থানার কেউই দেখল না সেটা কিভাবে হয়? এ দায় এড়াতে পারে না পুলিশ। তিনি বলেন, এটি একটি মডেল থানা। সেখানে দেখভালের জন্য আধুনিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এতো সুবিধা থাকতেও যারা তা থামাতে পারেনি তাদের এর দায় নিতেই হবে। তিনি আরও বলেন, এর দায়ে একজন এএসআই ও সেন্ট্রিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর শাস্তি আরও কঠোর হওয়া উচিৎ। শুধু প্রত্যাহার নয় অন্তত সাময়িক বরখাস্ত করে দ্রুত বিভাগীয় মামলা করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি তদন্তের জন্য জাতীয় মানবাধিকার একটি দল পাঠাবে বলেও জানান তিনি। এর আগে প্রায় দেড় ঘণ্টা কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। কারাগার পরিদর্শনের সময় কাজী রিয়াজুল হকের সঙ্গে ছিলেন ডিআইজি প্রিজন্স ফজলুল হক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম প্রমুখ।

দুর্নীতি মামলায় কক্সবাজারের সাবেক ডিসি কারাগারে

দুর্নীতি মামলায় কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিক আজিজ এ আদেশ দেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক থাকাকালীন রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মাদার বাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এ মামলায় এডিসি জাফর আলম ও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার আরও দুই কর্মচারী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থায়নের যোগান বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জঙ্গিবাদ কঠোরভাবে মোকাবেলা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও অর্থায়নের যোগান বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সৌদি আরবের রাজধানীতে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আরব-ইসলামিক-আমেরিকান সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা অবশ্যই সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থের উৎস বন্ধ করতে চাই। খবর বাসসের। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি বন্ধ ও শান্তির নীতি অবলম্বনের জন্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি সবার জন্য বিজয়-বিজয় পরিস্থিতি তৈরি করবে। অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আরব ও অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানগণ বক্তব্য রাখেন। শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও চরমপন্থা বিশ্বের শান্তির জন্য কেবল বড় হুমকিই নয়, এটি উন্নয়ন ও মানব সভ্যতার জন্যও। তিনি বলেন, ‘এটি যে কোন দেশ, ধর্ম ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সকল প্রকার চরমপন্থার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং সর্বদাই যে কোন ধরনের একক বা সম্মিলিত সন্ত্রাস ও উৎসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ইসলামকে সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম, বিশ্বাস বা মৌলিক পরিচয় নেই, তারা যে কোন ধর্ম থেকে আসুক না কেন।’ ইসলাম শান্তি ধর্ম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম কখনো সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে না এবং ‘আমরা যে কোন ধরনের চরমপন্থা ও সহিংসতায় ধর্মকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচার্য মনে করি না।’ শেখ হাসিনা বলেন, ইরাক ও সিরিয়ার মতো যুদ্ধাবিধ্বস্ত দেশগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনসমূহের অভিযান এবং সদস্য সংগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল পরিকল্পনা অনুসরণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা আশংকা করে বলেন, বিশ্বব্যাপী শরণার্থী সংকটের কারণে সন্ত্রাস ও সহিংসতা বেড়ে যেতে পারে। কারণ শরণার্থী সংকট সন্ত্রাস ও সহিংসতার একটি সম্ভাবনাময় উৎসে পরিণত হতে পারে। তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকা তিন বছরের শিশু আয়লানের লাশের ছবি অথবা আলেপ্পোতে ওমরানের রক্তাক্ত মরদেহ প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। একজন মা হিসেবে আমাকেও এ ছবি কঠিনভাবে নাড়া দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘শরণার্থীদের বেদনা আমি বুঝি। কারণ আমিও শরণার্থী ছিলাম।’
এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পরিবারের বন্দিত্ব এবং ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের শাহাদাতবরণের পর প্রবাস জীবনের কথা উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৬ বছর আমি ও আমার ছোট বোন বিদেশে শরণার্থী ছিলাম। তাই শরণার্থীদের বেদনার বাস্তবতা আমি বুঝতে পারি। শেখ হাসিনা বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও বঞ্চনা নতুন প্রজন্মের মনে অন্যায়-অবিচারের প্রতি ঘৃণার মনোভাবের সৃষ্টি হয়। তাই একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমাদেরকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশে সন্ত্রাস দমনে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রস্তুত এবং অস্ত্রসহ যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তারা দেশে গজিয়ে ওঠা সন্ত্রাসীদের কার্যকরভাবে মোকাবেলা করছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে (বাংলাদেশ) সরকার জনগণকে যুক্ত করে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কার্যকরভাবে দেশে গজিয়ে ওঠা উগ্রবাদীদের মোকাবেলা করছি। বেশ কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব গোষ্ঠী কোনো কোনো মহল থেকে সমর্থন পেয়ে আসছিল। পাশাপাশি সরকার এদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালাচ্ছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সমাজের সকল শ্রেণী বিশেষ করে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ছাত্র এবং দেশব্যাপী মসজিদগুলোর ইমামদের সঙ্গে সভা ও মতবিনিময় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত আরব-ইসলামিক-আমেরিকান শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেয়ার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি বাদশা সালমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা রিয়াদে ইসলামিক কাউন্টার টেররিজম সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়ার জন্যও বাদশা সালমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পেরে সন্তুষ্ট।

তাপপ্রবাহ আরও ৩ দিন

সারাদেশের তাপপ্রবাহ আগামী তিন দিনেও অপরিবর্তীত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। সোমবার সকাল ৯টায় আবহাওয়ার সর্বশেষ বার্তায় বলা হয়, চাঁদপুর, মাঈজদীকোর্ট, রাজশাহী এবং পাবনা অঞ্চলসহ ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধিসহ রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় (তিনদিন) আবহাওয়ার অবস্থা উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। আজ সকালে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর যশোর ও খুলনা ছিল ৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যা উত্তর বঙ্গেপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এতে বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দম্কা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এসময় ঢাকায় বাতাসের গতি হতে পারে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। এছাড়া আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়- রংপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার গতিতে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর (পুন:) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।