Sunday, August 17, 2014

সাংসদের দপ্তরে ‘আদালত’ by কামরুল হাসান

সালিসের নামে প্রচলিত আইনের বাইরে বিশেষ একধরনের বিচারব্যবস্থা চালু করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদার। বিচার করার জন্য তিনি গঠন করেছেন পাঁচ সদস্যের কমিটি। প্রতি শনিবার এই কমিটি বৈঠকে বসে শুনানি করে। কথিত আদালতের নাম ‘সামাজিক বিচার কমিটি’। এলাকার মানুষের লিখিত অভিযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ পাঠিয়ে ভয় দেখিয়ে হাজির হতে বলা হয়। হাজির না হলে একতরফা রায় দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। রায় মানতেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পুলিশ অস্বস্তিতে রয়েছে। পুলিশ এই সালিসি আদালতের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। সাংসদ কামাল মজুমদার অবশ্য পুলিশের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন যে তাদের ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ কমে যাওয়ায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
রাজধানীর পল্লবীতে সাংসদের ব্যক্তিগত কার্যালয় মোহনায় বিচার কমিটির দপ্তর। স্থানীয় মানুষ এটাকে ‘আদালত’ বলেন। কমিটির সদস্যরা দাবি করেছেন, ২০০৯ সাল থেকে তাঁরা প্রায় ২৫০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন।
এভাবে ‘আদালত’ বসিয়ে বিচার করা সাংসদের কাজ কি না, জানতে চাইলে আইনজ্ঞ শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে সাংসদদের কোনো বিচারিক ও নির্বাহী ক্ষমতা নেই। দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে তাঁরা পারিবারিক বা সামাজিক কোনো বিরোধ মীমাংসা করতে পারেন কিন্তু এর বাইরে গিয়ে কাউকে হাজির করার নোটিশ দেওয়া, ভয় দেখানো বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন না।
এ বিষয়ে কথা হয় সাংসদ কামাল মজুমদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার দুই পক্ষ মারামারি করবে, আর আমি এমপি হয়ে বসে বসে তামাশা দেখব! আমার এলাকার লোকদের বিচার-সালিস করার ক্ষমতা আমার আছে, আমি সেটাই করি।’
সামাজিক বিচার কমিটির কার্যক্রম দেখতে ১৯ জুলাই আমি হাজির হই কামাল মজুমদারের কার্যালয় মোহনাতে। মোহনার নিচের তলায় ‘সাংসদের রাজনৈতিক কার্যালয়’ লেখা কক্ষে চলছিল বিচার কমিটির কাজ। প্রবেশ করতেই দেখা গেল জনা বিশেক লোক বসে আছেন। প্রায় সবার হাতেই দলিল-দস্তাবেজ। কমিটির নোটিশে তাঁরা হাজির হয়েছেন।
পাঁচ সদস্যের কমিটির দুজন তখনো আসেননি, তিনজন বসে আছেন। একজন এগিয়ে এসে জানতে চান, কী ধরনের অভিযোগ। আবেদনপত্রে সাংসদের সুপারিশ আছে কি না। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে কামাল মজুমদারের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এগিয়ে আসেন। তাঁর মাধ্যমে কমিটির দুই সদস্য প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা জানান, সামাজিক বিচার কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। তখন কমিটি ছিল সাত সদস্যের। ২০১৩ সালে সেই কমিটি বিলুপ্ত হয়। ২০১৪ সালে নতুন পাঁচ সদস্যের কমিটি হয়। এর আহ্বায়ক হলেন সাংসদের ঘনিষ্ঠ আবদুল ওহাব। অন্য চারজন হলেন: মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি ও সাবেক সরকারি চাকুরে আবুল খায়ের ভুইয়া, কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল আলী চৌধুরী, আওয়ামী লীগের নেতা সিরাজউদ্দিন আহমেদ ও কাফরুল থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর।
প্রথম আলো প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁদের সামনে মধ্যবয়স্ক এক নারী বসে ছিলেন। কমিটির এক সদস্য তাঁর হাতে ৫০০ টাকার একটি স্ট্যাম্প ধরিয়ে তাতে সই দিতে বলেন। এ সময় কমিটির সদস্য আবুল খায়ের ভুইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বর্ণালী হাউজিংয়ের সঙ্গে ওনার একটু ঝামেলা হয়েছিল। এখন দুই পক্ষ সমঝোতায় এসেছে।’ পাশে একটি লোককে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘উনি কোম্পানির এমডি।’ এরপর লোকটির দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি সই দেন।’ এমডি পরিচয় দেওয়া লোকটি মুখ কালো করে স্ট্যাম্পে সই করলেন।
কী হয়েছিল আবাসন কোম্পানির সঙ্গে? জানতে চাইলে আবুল খায়ের ভুইয়া বলেন, ‘সে এক লম্বা কথা ভাই। ম্যালা ঝামেলা। এত শুনে কী করবেন। অনেক দিন আলোচনা হলো। এই দ্যাখেন কত মোটা ফাইল। একেবারে আদালতের মতো, প্রতিদিনের প্রসিডিং লেখা আছে।’ অবশ্য এমডি পরিচয় দেওয়া লোকটি এ নিয়ে আর কোনো কথা বলতে চাইলেন না।
এ আদালতে কী ধরনের বিচার হয়? প্রশ্ন করতেই মুখের কথা কেড়ে নিয়ে কমিটির আহ্বায়ক আবদুল ওহাব বলেন, ‘এটাকে আদালত বলছেন কেন, এটা তো সালিস কমিটি। এমপি সাহেব চিঠি দিয়ে কমিটি করেছেন। কোনো ফৌজদারি বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করি না। শুধু জমি বা অ্যাপার্টমেন্ট-সংক্রান্ত ঝামেলা হলে আমরা শুনানি করি। বলতে পারেন, দেওয়ানি বিষয় নিয়ে বিরোধ হলে আমরা তা নিষ্পত্তি করি। রায় ঘোষণা করি। তবে কাউকে জোর করি না।’
আবার মুখ খোলেন আবুল খায়ের ভুইয়া—‘আপনি নিয়মটা ভালো করে শোনেন আগে। লোকজন এমপি সাহেবের কাছে আবেদন করেন। তিনি সেই আবেদন কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর আমরা বিবাদীকে নোটিশ করি। দুই পক্ষ রাজি হলে তবেই সমঝোতা। ৫০০ টাকার স্ট্যাম্পে সই নিয়ে তা থানা ও অন্যান্য স্থানে পাঠানো হয়। আপসের ব্যাপারে কাউকে জোর করা হয় না।’
আবুল খায়ের এ দাবি করলেও কমিটির পাঠানো নোটিশ দেখে তার সত্যতা মেলেনি। এমন কয়েকটি নোটিশের অনুলিপি প্রথম আলো প্রতিনিধির হাতে রয়েছে। এতে দেখা গেছে, মিরপুরের মুক্তি হাউজিংয়ে এক ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি মুক্তি হাউজিংয়ের বাসিন্দা লুৎফর নেছা নাহারকে নোটিশ দিয়ে হাজির হতে বলেন। কিন্তু ওই নারী হাজির না হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর কমিটির সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে পরপর তিনটি চিঠি দেন। এর একটি চিঠিতে বলেন, ‘আপনি অত্র কার্যালয়ে হাজির না হয়ে থানায় জিডি করেছেন। এবং বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে অজুহাত সৃষ্টি করেছেন, সালিস কমিটিতে হাজির না হয়ে উদ্দেশ্যমূলক আচরণ করেছেন। সংসদ সদস্য কর্তৃক গঠিত কমিটিকে আমলে না নিয়ে অপমানিত করেছেন।’
এভাবে হুমকি দিয়ে চিঠি দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা হুমকি দেব কেন? তাঁকে আসতে বলা হয়েছে। তিনি আমাদের কথা না শুনে আদালতে যাবেন, সেটা তাঁর ইচ্ছে।’ ওই দিন সামাজিক বিচার কমিটির সামনে এ অভিযোগের আবেদনকারীও বসেছিলেন। শফিউদ্দিন আহমেদ নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই আওয়ামী লীগের নেতা বলেন, প্রতিবেশী দেয়াল তুলে দেওয়ায় তিনি বাড়ির ভেতরে গাড়ি ঢোকাতে পারেন না। এর প্রতিকার চাইতে কমিটির কাছে এসেছেন।
জানতে চাইলে মিরপুর পুলিশের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই কমিটির আইনগত কোনো বৈধতা নেই। তারা আদালতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কথায় কথায় লোকজনকে হাজির হতে নোটিশ দিচ্ছে। আবার নিজের খেয়ালখুশিমতো রায় দিচ্ছে।
মিরপুর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের সাবেক পরিচালক এ বি এম বারেকের মুক্তি হাউজিংয়ের বাসার সীমানাপ্রাচীর ভেঙে দেওয়ার জন্য কমিটি তাঁকে চাপ দেয়। এরপর তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ এতে হস্তক্ষেপ করার কারণে তিনি রক্ষা পান। কমিটির নির্দেশে মিরপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানার সীমানাপ্রাচীরও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আছে।
এ ব্যাপরে জানতে চাইলে কামাল মজুমদার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে পুলিশ এসব কথা রটাচ্ছে। আসলে সামাজিক বিচার কমিটির কারণে পুলিশের মামলা কমে গেছে। তারা টাকাপয়সা কামাতে পারছে না। এ কারণে এসব কথা বলছে।’ সামাজিক বিচার কমিটির বিচার নিয়ে ৯০ শতাংশ মানুষই খুশি বলে জানান সাংসদ।
স্থানীয় লোকজন জানান, মিরপুরে জমিজমা নিয়ে ঝামেলা অনেক বেশি। এ কারণে বিচার কমিটি শুধু জমিজমা-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিচার করে। তারা রায় দেয় খেয়ালখুশিমতো । কিন্তু কামাল মজুমদার ও তাঁর লোকদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না।
তার পরও কয়েকজন সামাজিক বিচার কমিটির কার্যক্রম নিয়ে থানা-পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন ও পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ জিয়াউজ্জামান এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

কেউ ভারতকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না

অভিষেকের পর গতকাল শনিবার মুম্বাইয়ে নৌবাহিনীর এক
ঘাঁটিতে ভিড়িয়ে রাখা আইএনএস কলকাতা। অত্যাধুনিক
অস্ত্র ও সরঞ্জাম সজ্জিত ১৬৩ মিটার দীর্ঘ এ যুদ্ধজাহাজটি
ঘণ্টায় ৩০ নট গতিতে চলতে পারে। ছবি: রয়টার্স
দেশে তৈরি অত্যাধুনিক রণপোত ‘আইএনএস কলকাতা’ যুক্ত হলো ভারতীয় নৌবহরে। গতকাল শনিবার মুম্বাইয়ে ছয় হাজার ৮০০ টনের এই যুদ্ধজাহাজ দেশবাসীকে উৎসর্গ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এটি চালু হওয়ার পর কেউ ভারতকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। প্রতিরক্ষা বাহিনীকে এমন উপযুক্তভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে কেউ চোখ তুলে তাকাতে না পারে। মুম্বাইয়ের ম্যাজাগাঁও ডকইয়ার্ডে ১১ বছর ধরে এই ‘ডেস্ট্রয়ারটি’ তৈরি হয়েছে। এ রকম আরও দুটি রণতরি আইএনএস কোচি ও আইএনএস চেন্নাই তৈরি হচ্ছে এখন। ২০০৩ সালে এই তিন রণপোত তৈরির মোট খরচ ধরা হয়েছিল তিন হাজার ৬০০ কোটি রুপি, ২০১১ সালে যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৬৬৭ কোটি রুপিতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও অসম্পূর্ণ অবস্থায়ই শনিবার এই ডেস্ট্রয়ারটি ‘কমিশনড’ হলো নৌবাহিনীতে। কমিশন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা আধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সবাই সমীহ করে। সেই দেশকে কেউ অযথা ঘাঁটাতে সাহস করবে না। ‘আইএনএস কলকাতা’ ভারতের কারিগরি সামর্থ্যের চমৎকার নজির হিসেবে উল্লেখ করে মোদি বলেন, এটি সারা বিশ্বে একটি বার্তা পাঠাবে। প্রধানমন্ত্রী ঘটা করে অভিষেক করলেও আইএনএস কলকাতায় দুটি প্রধান অস্ত্র এখনো দেওয়া যায়নি। দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ‘বারাক-এনজি’ এবং ডুবোজাহাজ শনাক্তকারী ‘অ্যাকটিভ টোড অ্যারে সোনার’। বারাক-এনজি ভারত ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে তৈরি। এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপক বা ‘লঞ্চার’ব্যবস্থা রণপোতে প্রস্তুত। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র লাগানো সম্ভব হয়নি। প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করার কথা ছিল আজ থেকে দুই মাস আগে।
কিন্তু গাজায় যুদ্ধ করতে ব্যস্ত থাকায় ইসরায়েল সেই সহযোগিতা করতে পারেনি। সেই পরীক্ষা দেশটি করবে সেপ্টেম্বরে। ডুবোজাহাজ শনাক্তকারী ‘সোনার’ব্যবস্থা কেনার কথা ছিল জার্মানির এক কোম্পানি থেকে। কিন্তু সেই কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে। অবশ্য এই ডেস্ট্রয়ারে ‘ব্রাহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র বসানো হয়েছে। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রাহ্মোস দিয়ে যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুম্বাইয়ে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি ও নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আর কে ধোয়ান। অরুণ জেটলি বলেন, ‘এটি ভারত ও এর জনগণের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। আমার প্রত্যাশা এ জাহাজ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।’ ক্ষেপণাস্ত্রসহ নানা বৈশিষ্ট্যের জন্য আইএনএস কলকাতা অন্য সহযোগী জাহাজবহরের সহায়তা ছাড়াই কাজ করতে পারবে। বর্তমানে ১৪০টি জাহাজ থাকা ভারতীয় নৌবাহিনীতে ব্যাপক সম্প্রসারণ চলছে। বলা হচ্ছে, নতুন জাহাজটির অভিষেক ভারতের জাহাজ নির্মাতাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। এ মুহূর্তে ভারতের শিপইয়ার্ডগুলোতে নানা আকার ও ধরনের জাহাজ নির্মাণ চলছে। ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে সম্প্রতি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের হার ২৬ থেকে বাড়িয়ে ৪৯ শতাংশ করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে মোদি বলেন, এখন পর্যন্ত ভারত অধিকাংশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সমরসম্ভার বিদেশ থেকে আমদানি করে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত একদিন দেশকে স্বাবলম্বী করে তুলবে। তিনি বলেন, যুবসমাজের উদ্ভাবনী ক্ষমতায় ভর করে একদিন ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সমরসম্ভার রপ্তানি করবে।

ইসরায়েলি পদক ফেরত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে ইহুদি এক শিশুকে রক্ষা করেছিলেন নেদারল্যান্ডসের হেঙ্ক জ্যানোলি। এই অবদানের জন্য ২০১১ সালে জ্যানোলি ও তাঁর মাকে ‘রাইচাস অ্যামং দ্য নেশনস’ সম্মাননা দেয় ইসরায়েল। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ছয়জন আত্মীয় নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সেই পদক ফেরত দিলেন ৯১ বছর বয়সী জ্যানোলি।
খবর বিবিসির। নেদারল্যান্ডসে ইসরায়েলের দূতাবাসে চিঠি দিয়ে পদক ফেরত দেন জ্যানোলি।তবে এ বিষয়ে দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানানো হয়। ইসরায়েলের হারেৎজ পত্রিকায় প্রকাশিত ওই চিঠিতে জ্যানোলি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সম্মাননা ধরে রাখা হবে আমার পরিবারের জন্য অপমানজনক।ইসরায়েলি হামলায় আমার মায়ের ছয়জন আত্মীয় প্রাণ হারিয়েছেন।’ জ্যানোলি আরও বলেন, তাঁর এক ভাগনের সন্তান একজন ডাচ কূটনীতিক। তিনি বিয়ে করেছেন ফিলিস্তিনি অর্থনীতিবিদ ইসমাইল জিয়াদাহকে। ইসরায়েলি হামলায় ইসমাইলের মা, তিন ভাই, এক ভাবি ও নয় বছর বয়সী ভাতিজা নিহত হয়। নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় তাঁদের বাড়িটিও। অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী জ্যানোলি গাজায় ইসরায়েলি হামলার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এই হামলার জন্য ইসরায়েল ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে’ অভিযুক্ত হতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইহুদি নিধন চলার সময় অন্য ধর্মবিশ্বাসের যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইহুদিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাঁদের সম্মাননা জানাতে ‘রাইচাস অ্যামং দ্য নেশনস’ পদক দেয় ইসরায়েল।

বাদ পড়লেন বরুণ গান্ধী

বরুণ গান্ধী
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।  বিজেপির নতুন সভাপতি অমিত শাহ দলে বড় ধরনের রদবদল করলেন। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ‘পুনর্বাসিত’ বি এস ইয়েদুরাপ্পা, জগৎ প্রকাশ নদ্দা ও রাম মাধব। সভাপতি অমিত শাহ গতকাল শনিবার এই নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। হিমাচল প্রদেশের নেতা ও দলের সভাপতি পদের অন্যতম প্রার্থী জগৎ প্রকাশ নদ্দা, বিহার থেকে রাজীব প্রতাপ, তেলেঙ্গানা থেকে মুরলীধর রাও ও ছত্তিশগড় থেকে বিজেপির নারী সংগঠনের নেত্রী সরোজ পান্ডেকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কর্ণাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পাকে করা হয়েছে অন্যতম সহসভাপতি। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আগের পদেই রাখা হয়েছে রামলালকে। কমিটি থেকে বাদ পড়া ৩৪ বছর বয়সী বরুণ গান্ধী কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর চাচাতো ভাই।
তিনি উত্তর প্রদেশের সুলতানপুর থেকে বিজেপির লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিজেপি নেতারা এ কমিটিকে ‘নুতন তরুণ দল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও ১১ জন সহসভাপতির অন্যতম বি এস ইয়েদুরাপ্পার বয়স ৭১। সাধারণ সম্পাদক জগৎ প্রকাশ নদ্দা এ প্রসঙ্গে বলেন, নতুন কমিটির ৬০ শতাংশের বয়সই ৫০-এর নিচে। তিনি আরও বলেন, অমিত শাহর নেতৃত্বে এ তরুণ দল মোদিজির মিশন বাস্তবায়ন করবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং গত মাসে দলীয় পদ ছাড়লে ৫১ বছর বয়সী অমিত শাহ সভাপতি হন। এবারের সাধারণ নির্বাচনে বিজেপির চমকপ্রদ সাফল্যের পেছনে প্রচারণায় অমিত শাহর ভূমিকার বড় অবদান রয়েছে। অমিত শাহ মোদির ঘনিষ্ঠতম সহযোগী। তাঁর গঠিত নতুন কমিটি দলে মোদির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি আরএসএস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাম মাধবকে অন্ধ্র প্রদেশ বিজেপির সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে। দলের মুখপাত্রের ভূমিকায় থাকবেন সৈয়দ শাহনেওয়াজ হুসেইন, সুধাংশু ত্রিবেদি, মিনাক্ষী লক্ষ্মী, এম জে আকবর, নলিন কোহলি ও জি ভি এল নরসীমা রাও। বিজেপির নারী সংগঠন মহিলা মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিজয়া রাহাতকারকে। অনুরাগ ঠাকুর আগে থেকে পালন করা যুব শাখা প্রধানের দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।

স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে বান্ধবীকে বাধ্য করলেন স্ত্রী

বান্ধবীকে স্বামীর সঙ্গে যৌন আচরণ করতে বাধ্য করার অভিযোগে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত ওই নারীর স্বামীকেও পুলিশ আটক করেছে।

পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে এনডিটিভিতে প্রকাশিত খবরে পুলিশ জানায়, আটক ওই নারী ঘটনার শিকার নারীটির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন। তাঁদের বাড়ি ছিল পাশাপাশি। একে অন্যের বাড়িতে প্রায়ই তাঁরা আসা-যাওয়া করতেন।

পুলিশের কাছে ঘটনার শিকার ওই নারী জানান, গত মাসে ওই নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে যৌন আচরণ করতে তাঁকে বাধ্য করেন। আটক নারীটি নিজে পুরো ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি তাঁকে হুমকি দিয়ে বলেন, স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করলে তাঁকে হত্যা করা হবে।

পরে ১০ আগস্ট আবার তাঁকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এর পর নারীটি তাঁর স্বামীকে নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। পুলিশ ওই দম্পতিকে আটক করেছে।

অক্সফোর্ডে নতুন শব্দ ইলো

নতুন নতুন শব্দের সংযোজন অক্সফোর্ড অভিধানের নিয়মিত কাজ। তারই ধারাবাহিকতায় অনলাইন অভিধানে সর্বশেষ দুটি নতুন শব্দ যুক্ত করেছে অক্সফোর্ড অভিধান। এর একটি হল ‘Yolo’ যার পূর্ণরূপ করলে দাঁড়াবে 'you only live once' বা শুধু একজনের জন্যই বেঁচে আছো তুমি। এছাড়া ‘Binge’ নামে আরেকটি শব্দ যুক্ত হয়েছে। তবে এই শব্দটি একটি শব্দ যুগলের (pharse) সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে along with adorbs ফ্রেসের অর্থ আকর্ষণীয় অথবা মোহনীয়। আর ‘binge-watch’ অর্থ লোভাতুর দৃষ্টিতে কোনো কিছু পর্যবেক্ষণ করা। অক্সফোর্ডের অনলাইন (oxforddictionaries.com) অভিধানে যেসব নতুন নতুন শব্দ ব্যবহার হচ্ছে, তার আলাদা বর্ণনামূলক ক্যাটাগরি করে দেয়া রয়েছে।

রাশিয়ার ত্রাণবহরে সমরাস্ত্র থাকতে পারে : ইউক্রেন

ইউক্রেনের রাশিয়াপন্থী বিদ্রোহীদের উদ্দেশে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী পরীক্ষা করতে চায় ইউক্রেন সরকার। শুক্রবার ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী রাশিয়ার পাঠানো ওইসব ত্রাণ পরীক্ষা করে দেখবে। তারপরই সেগুলো বিদ্রাহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যেতে দেয়া হবে। ইউক্রেন বলেছে, বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউক্রেনের উদ্দেশে আসা ওইসব কার্গো (ত্রাণের গাড়ি) পরীক্ষার জন্য পরিদর্শকরা সেখানে পৌঁছেছেন। ইউক্রেন আশংকা করছে, কার্গোগুলোতে বিদ্রোহীদের জন্য সমরাস্ত্র থাকতে পারে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সে ধরনের আশংকা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই সাংবাদিক বলেছেন, তারা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর একটি বহর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের দিকে যেতে দেখেছেন। ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী বলেছে, তারা বেশকিছু অস্ত্রবহনকারী গাড়ি ও সামরিক কার্গো আটকে দিয়েছে। এদিকে, সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল বিল্ট বলেছেন, ইউক্রেনের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।
তিনি ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার সময় এ মন্তব্য করেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, ৮০ সদস্যের একটি পরিদর্শক দল এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্য পরীক্ষা করার পরই ওইসব কার্গো লুহানস্কে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। অন্যদিকে, ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ার রেডক্রস পরিচালক লরেন্ট কার্বোজ বলেছেন, রেডক্রস কর্মকর্তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরই সেগুলো বিতরণ করা হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ইউক্রেনের লুহানেস্ক ও দোনেস্ক রাজ্যের রাশিয়াপন্থী বিদ্রোহীরা বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তারপর পর থেকেই সেখানে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত আছে। চলমান সংঘর্ষে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। ইউক্রেন সরকার এবং তার মিত্র আমেরিকা ও ইইউ অভিযোগ করছে, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের অস্ত্রসহ নানাভাবে সহায়তা করছে। কিন্তু রাশিয়া বরাবর সে ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়া এবং আমেরিকা ও ইইউর মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। এমনকি ইইউ ও আমেরিকা রাশিয়ার ওপর বেশকিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন ক্রিমিয়া সফর করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ইউক্রেন সরকার এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে দেশটির সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইউক্রেন সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ করতে চান। পুতিন বলেন, এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবেশে তারা যেমন বাধা দেবে না তেমনি কাউকে উদ্ধতভাবে প্রবেশ করতেও দেবে না। টেলিগ্রাফ