Monday, November 25, 2013
অবৈতনিক বনাম বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা by মহিউদ্দিন আহমদ
সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ খরচ বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী অন্যতম আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিষয়টি অধিকতর গুরুত্ব বহন করে, কারণ এসব দেশের অধিকাংশ পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। তাই শিশুর শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের সঙ্গে অভিভাবকের আর্থিক সক্ষমতা সরাসরি জড়িত। দেশে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালু থাকলেও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নানারকম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ খরচের কারণে একই মানের প্রাথমিক শিক্ষায় রাষ্ট্রের সব শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
দরিদ্রতা ও জনসংখ্যার ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে পরিগণিত। তবে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ভর্তির হার এবং জেন্ডার সমতা অর্জনে উল্লেখযোগ্য সফলতা থাকলেও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর উচ্চহারের কারণে অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও ২০১৫ সালের মধ্যে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের শিক্ষাবিষয়ক মাইলফলক ছুঁতে পারবে না বলে ধরে নেয়া যায়। বর্তমানে বহু প্রতীক্ষিত শিক্ষা আইন অনুমোদন ও কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে, কিন্তু বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এর কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাই বিরাজমান আইন ও নীতিমালাগুলো বিশ্লেষণ করে সেই ভিত্তিতে শিক্ষা আইনের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে এ আইন প্রকৃত অর্থেই শিক্ষা অধিকার নিশ্চিত করার অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা : সরকার প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলক) আইন ১৯৯০-এর মাধ্যমে দেশের সব শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করেছে। এ আইন অনুযায়ী সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়ভার মূলত বাবা-মার অর্থাৎ সরকার সচেতনভাবেই প্রধান দায়িত্ব বাহকের ভূমিকা থেকে সরে এসে তার জবাবদিহিতার জায়গাটি অস্বচ্ছ করে রেখেছে। অথচ একটি রাষ্ট্রের নাগরিকের শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান ও একমাত্র কর্তৃপক্ষ হল সরকার এবং সংবিধানে বিধৃত আছে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, তাই সরকার কোনোভাবেই প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার দায়ভার অন্য কোনো পক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে বা দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারে না।
আবার ১৯৯০-এর আইনের ন্যূনতম অঙ্গীকার হচ্ছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রাথমিক শিক্ষায় কোনো ফি লাগবে না এবং ক্রমান্বয়ে সব স্তরে অবৈতনিক শিক্ষা চালু করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা হল, প্রাথমিক ও মৌলিক শিক্ষায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে এখনও পরিবারকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়। যদিও প্রাথমিক শিক্ষায় সরকারি ব্যয় ও বরাদ্দ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে প্রাথমিক শিক্ষার পরিধিও। শিক্ষাব্যয়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের বেতন খাতে কোনো ব্যয় না থাকলেও অর্থাৎ শিক্ষা অবৈতনিক হলেও এখনও তা বিনামূল্যের নয় দেখে দরিদ্র পরিবারগুলোতেই এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
আলোচনা অবৈতনিকে সীমাবদ্ধ : জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ রাষ্ট্রের শিক্ষার নীতিগত তাগিদ সম্পর্কে বলা হয়েছে সব নাগরিকের জন্য শিক্ষা গ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি করার কথা। যেখানে প্রতি ৯ জনের মধ্যে ৩ জন অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে এবং শতকরা ৭৬ ভাগ মানুষ দৈনিক ১৬০ টাকার নিচে জীবনব্যয় নির্বাহ করে, সে দেশে সব মানুষের জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি করা বলতে অবশ্যম্ভাবীভাবে বোঝায় বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ। শুধু তাই নয়, শিক্ষা বিনামূল্যে করার পাশাপাশি শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বাড়তি প্রণোদনা তৈরির দায়িত্বও রাষ্ট্রেরই। অথচ শিক্ষানীতিতেও এ ব্যাপারে আলোচনা শুধু অবৈতনিকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। শিক্ষানীতির প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অংশে বলা হয়েছে ... প্রাথমিক শিক্ষা হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, অবৈতনিক এবং সকলের জন্য একই মানের। কিন্তু এর পরপরই বলা হয়েছে- কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে এক ও অভিন্ন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বাধ্যতামূলক করা হবে। সব শিশুর জন্য একই মানের শিক্ষা কেবল একই ধারার শিক্ষা চালু করার মধ্য দিয়েই সম্ভব। কিন্তু দ্বিতীয় অংশে দেশে বর্তমানে প্রচলিত যে ভিন্ন ভিন্ন ধারা তাকে স্বীকার করে নেয়া হয়েছে এবং সমাধান হিসেবে কেবল কিছু মৌলিক বিষয়ে এক ও অভিন্ন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি করার কথা বলা হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন ধারার শিক্ষার প্রচলন হয়েছে অভিভাবকদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে- এই চাহিদার পার্থক্য প্রধানত অভিভাবকদের অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে হয়ে থাকে, কারণ একেকটি ধারার শিক্ষার খরচে বিপুল পার্থক্য বিদ্যমান। যে কারণে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের প্রধানত মাদ্রাসায় পড়তে দেখা যায় এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের শিশুদের ইংরেজি মিডিয়ামে- একটি ধারায় বিশেষভাবে পারলৌকিক ও ধার্মিক বিষয়াদির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং অন্যটিতে ইংরেজি ভাষা এবং ইউরোপীয় ইতিহাস ও কৃষ্টি! বৈষম্য টিকিয়ে রাখার কী প্রয়াস! এমনিভাবে অর্থনৈতিক অবস্থার পার্থক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থায় ভর্তি হওয়ার প্রক্রিয়া চালু রেখে বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার যে মূল উদ্দেশ্য- রাষ্ট্রের সকল শিশুর জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি করা তাকেই অস্বীকার করা হচ্ছে।
আবারও উপেক্ষিত : বরাবরের মতো ২০১৩ সালের প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনেও শিক্ষাকে অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়নি, যাতে করে প্রত্যেক শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে সমাজে বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। যদিও খসড়া আইনের ৪র্থ পৃষ্ঠার ৫(১) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা সব শিশুর জন্য অধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে, তবে মৌলিক অধিকার হিসেবে শিক্ষার সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টি বরাবরের মতো উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রের সব শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দিক থেকে আইনগত দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি। আইনে কোথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই যে, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা সবার জন্য বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক হবে এবং এ পর্যায়ের শিক্ষায় কোনো পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ খরচ থাকবে না।
একটি কার্যকর, মানসম্পন্ন ও সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশদ, সময়োপযোগী শিক্ষানীতির পাশাপাশি এর পরিপূরক আইন, শিক্ষা খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একটি টেকসই অর্থায়ন কাঠামো তৈরি করতে হবে। একটি সার্বিক কৌশলগত পরিকল্পনার ভিত্তিতে শিক্ষা খাতের চলমান এবং নতুন করে আবশ্যকীয় ব্যয়ের খাতগুলো চিহ্নিত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ বিবেচনায় একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় কাঠামো প্রস্তুত করতে হবে। সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি ধারাবাহিক সচেতন নাগরিক প্রয়াসের মধ্য দিয়ে সব শিশুর জন্য শুধু অবৈতনিক নয়, বরং বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি শিক্ষা আইনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউইয়র্কে ইউনিসেফ-এর সদর দফতরে গৃহদাসী আদুরী, নিলুফা এবং রিতাদের কথা by মহিউদ্দিন আহমদ

ড. সুসান বিসেলের এই ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে আমার কাজটি সহজতর হল। বাংলাদেশের শিশুদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি সম্যক অবগত আছেন। দুনিয়ার আরও কতগুলো দেশে শিশুদের ওপর কেমন নির্যাতন নিষ্ঠুরতা চলছে এবং তার মোকাবেলায় তারা কী করছেন তারও একটু বর্ণনা দিলেন তিনি আমাকে। আমাদের দেশে অনেক পরিবারে গৃহকর্মী ছাড়া চলে না, শিশুদের বাবা-মায়েরা বাধ্য হয়েই শিশুগুলোকে শুধু বাঁচিয়ে রাখতে, কখনও কখনও শুধু খাওয়া-পরার বিনিময়ে তাদের শিশু ছেলেমেয়েগুলোকে এমন নিষ্ঠুর পরিবার ও পরিবেশে রেখে যেতে বাধ্য হন- আমাদের আলোচনায় তা-ও এলো। আমাদের দেশে এখনও ৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে, এই পরিবারগুলোর শিশু সদস্যদের রুজি-রোজগারে অনেক পরিবারের খাওয়া-পরা চলে, অনেক পরিবারে এই ছোট শিশুগুলোর গতরের ছোট ছোট আয়ও প্রবল ভূমিকা রাখে।
জনসচেতনতার সৃষ্টি, পরিবারের কর্তা-কর্ত্রীদের শিশু গৃহদাসীদের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতা থেকে বিরত রাখতে পারে, এ বিষয়ে আমরা একমত হলাম। এই জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ঢাকার ‘ইউনিসেফ’ অফিস কিছু কাজ করছে, যেমন শুভেচ্ছা দূত নিয়োগ। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে ‘সেলিব্রিটি’দের জাতিসংঘ এবং ইউনিসেফ তাদের আদর্শ, উদ্দেশ্য প্রচারে ‘গুডউইল এম্বাসেডর’ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে থাকে। তারা নিয়মিত কোনো বেতন-ভাতা পায় না; তবে চাইলে বছরে এক মার্কিন ডলার প্রতীক সম্মানী নিতে পারেন।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের আদর্শ, উদ্দেশ্য প্রচারে মাস কয়েক আগে সিনেমা অভিনেত্রী মৌসুমী, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ এবং ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে এমন শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ইউনিসেফ নিয়োগ দিয়েছে। এ তিনজনই বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় সেলিব্রিটিদের মধ্যে আছেন, সুতরাং যোগ্যতম তিন বাংলাদেশীকেই বাংলাদেশের ‘ইউনিসেফ’ কাজে লাগাতে চেয়েছে। তবে এ তিন সেলিব্রিটি দৃশ্যমান কী কাজ গত তিন-চার মাসে করেছেন, তা নিয়ে আমার ‘সিরিয়াস’ প্রশ্ন আছে, এ প্রশ্নটি আমি করেছি আমার নিউইয়র্ক যাওয়ার আগে, গত ৩ অক্টোবর এই দৈনিক যুগান্তরে ‘শিশু গৃহদাসী আদুরী ও নিলুফাদের ঠিকানা ঢাকা মহানগরের ডাস্টবিন’ শিরোনামে লেখায়। আমার এ লেখায় আমি প্রশ্ন তুলেছিলাম, ঢাকা মহানগরের পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ শিশু আদুরীকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে যেতে পারলেন, কিন্তু এই তিন শুভেচ্ছা দূতের একজনও তা পারলেন না কেন? বেনজীর আহমেদ মৃত ভেবে ডাস্টবিনে রেখে আসা আদুরীর জন্য কিছু ফলমূলও নিয়ে গিয়ে একটি অনুসরণীয় উদাহরণ সৃষ্টি করলেন, কিন্তু এই উদাহরণটি মৌসুমী, জুয়েল আইচ বা সাকিব আল হাসানদের চোখে পড়ল না কেন? নাকি তারা টিভি দেখা, পত্রপত্রিকা পড়া ছেড়ে দিয়েছেন।
শিশু নির্যাতনের এমন কোনো ঘটনার পরপরই আমাদের ‘সেলিব্রিটি’দের কেউ শিশু ‘ভিকটিম’টি দেখতে বা ঘটনাস্থলে গেলে, মিডিয়াতে তারা একটু ‘একটিভ’ হলে, খবরটি আরও গুরুত্ব পায়, খবরটি আরও বড় হয় এবং তাতে মানুষের সচেতনতা আরও বাড়ে। এমন কিছু শুভেচ্ছা দূতদের তিনজনের কেউ আদুরীর ক্ষেত্রে করেননি। করেননি অতি সম্প্রতি মাত্র গত সপ্তাহে গত ১৮ নভেম্বর ঢাকার পূর্ব শেওড়াপাড়ায় মৃত গৃহদাসী রিতার ক্ষেত্রেও। সুসান বিসেল শিশু আদুরীর ওপর গত ৩ অক্টোবর যুগান্তরে প্রকাশিত আমার লেখাটির একটি কপি আগ্রহের সঙ্গে আমার কাছ থেকে নেন এবং বলেন যে, এ লেখাটি তিনি তাদের ঢাকা অফিসে পাঠিয়ে দেবেন। নিউইয়র্কে থাকতেই আমাদের বাংলাদেশের কোনো একটি টিভি চ্যানেলে আমাদের এই তিন শুভেচ্ছা দূতের বাণী প্রচার হতে দেখেছি। এই বাণীতে তারা শিশুদের ওপর নিষ্ঠুরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
কিন্তু এখানে আমার দাবি- ঢাকার ‘ইউনিসেফ’কে এমন বিজ্ঞাপনচিত্র বেশি বেশি প্রচার করতে হবে; আর আমাদের শুভেচ্ছা দূতদেরও নির্যাতিত শিশুদের হাসপাতাল বা ঘটনাস্থলে দেখতে যেতে হবে। মিডিয়াকে আগে খবর দিয়ে এবং দরকার হলে একাধিকবার যেতে হবে; যেমন করেছেন পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ।
দুই.
পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদের প্রশংসা আমি আগের লেখায় করেছি, এই লেখায়ও এখন করছি।
(আমার আগের লেখাটির কথা জানাতে বেনজীর আহমেদকে টেলিফোন করেছিলাম। তিনি আমার টেলিফোন ধরেননি। তার এক স্টাফ অফিসার নুরুন্নবীকে টেলিফোন করে মেসেজ রেখেছিলাম, কিন্তু তারপরও কোনো টেলিফোন পাইনি। বুঝলাম না, তার জন্য আমার প্রশংসা তার চোখে পড়েছে কিনা। এক বছর আগে চ্যানেল একাত্তর-এর সামিয়া জামানকে প্রশংসা জানাতে টেলিফোন করেছিলাম। তিনিও আমার টেলিফোন ধরেননি, ই-মেইলের জবাব দেননি। তখনও এক নির্যাতিত গৃহদাসীর ওপর তাদের প্রচারিত সংবাদচিত্রের প্রশংসা করতে চেয়েছিলাম)। পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ, কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর শিশু আদুরী এবং তার মাকে তিন সপ্তাহ আগে তার অফিসে ডেকে এনে আরও কিছু উপহার দিয়েছেন। তার পুলিশ বাহিনীর কোনো এক কর্মকর্তার আত্মীয় কানাডা থেকে আদুরীর জন্য ৭৬ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন, সেই টাকা আদুরীর মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছেন; এ টাকা দিয়ে আদুরীর মা কয়েকটি রিকশা কিনে ভাড়ায় খাটাবেন। এতে তার একটি নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা হবে। এসব খবর নিউইয়র্কেই জেনেছি। টিভিতে দেখেছি।
জামায়াত-শিবিরের হামলায় গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। জামায়াত-শিবিরের এমন হামলা টিভিতে দেখছি, পত্রপত্রিকায় মর্মান্তিক সচিত্র খবরও পড়ছি। দিনরাত তারা ডিউটি করছেন, আইন মান্যকারী নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার চেষ্টা করে চলেছেন, তারপরও তারা নিন্দিত হচ্ছেন কোনো কোনো গণমাধ্যমে। গণমাধ্যমের লোকজন কোনো অন্যায় করে না, যেন ঘুষ খায় না, ব্ল্যাকমেইল করে না।
একদিকে এমন কঠোর কঠিন প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব পালন অন্যদিকে শিশু আদুরীদের জন্য এমন দরদ, মমত্ববোধ। তারিফ অবশ্যই করতে হয়।
কিন্তু এমন মর্মস্পর্শী মায়া-মমত্বের বিপরীতে সেদিন গত ১৮ নভেম্বর এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী সোনিয়া আখতারকে শেওড়াপাড়ায় তার বাসা থেকে গৃহকর্মী রিতাকে ধাক্কা মেরে উপর তলা থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলেছে, এমন গুরুতর অভিযোগ গত কয়েকদিন ধরে চলছে। এই বাহিনীর নিষ্ঠুরতা অবশ্যই আমাদের পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি কলংক।
শেওড়াপাড়ার এ মহিলার শাস্তির দাবিতে ওখানকার স্থানীয় লোকজন যেমন জেগে উঠেছে তা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। অভিযুক্ত মহিলাকে ওখানকার পুলিশ প্রোটেকশন দিচ্ছে, এমন অভিযোগে লোকজন রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও করেছে। একজন দৃশ্যত অভিযুক্ত মহিলার শাস্তির দাবিতে একজন পুলিশ সদস্যকে আহত করা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। এমন জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ‘ইউনিসেফ’-এর বাংলাদেশী শুভেচ্ছা রাষ্ট্রদূত- মৌসুমী, জুয়েল আইচ এবং সাকিব আল হাসানদের কাছে প্রত্যাশিত। তাদের কোনো একজনও যদি সেদিন শেওড়াপাড়ায় যেতেন, লোকজনকে আইনি পথে প্রতিকার চাইতে, সংঘবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন লোকজন হয়তো সেদিন সহিংস হয়ে উঠত না।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি মর্মান্তিক দৃশ্যের কথা বলি, আদুরীর নির্যাতনকারী মহিলা নওরীন আখতার নদী এবং রিতাকে উপরের ছাদ থেকে ঠেলে নিচে ফেলে মেরে ফেলার অভিযোগে অভিযুক্ত মহিলা সোনিয়া আখতার, তাদের দু’জনকে যখন আদালত থেকে জেলে নেয়া হচ্ছে- দেখি তাদের দু’জনের কোলেই এক বছর বা তারও কম বয়সী শিশু!! তাদেরই শিশু। তারাও মা, বুকে তাদের শিশু সন্তানদের তারা আঁকড়ে ধরে আছে। শিশুগুলো কিছুই বুঝছে না, হয়তো ঘুমাচ্ছে। এখন এই নির্দোষ শিশুগুলোকেও তো মায়ের সঙ্গে জেলে থাকতে হবে। এ শিশুদের কিভাবে রক্ষা করা যায়, টিভিতে তাদের দেখার পর, এই চিন্তা-দুশ্চিন্তাও আমাকে তাড়া করে চলেছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, মা হয়েও এই মহিলাগুলো কিভাবে অন্য শিশুদের ওপর এমন নিষ্ঠুরতা দেখাতে পারে।
তিন.
ড. সুসান বিসেলের অফিসে যাওয়ার পথে এখন একটি আমোদজনক (বা উদ্বেগজনক) অভিজ্ঞতার কথা। নিউইয়র্কের সেকেন্ড এভিনিউর খান্দানী এলাকায় অবস্থিত আমাদের স্থায়ী মিশনের পাশেই ‘ইউনিসেফ’-এর সদর দফতর। মাত্র দু’তিন মিনিটের হাঁটা পথ।
সুসান বিসেলের অফিসে সেদিন আমার সঙ্গে ছিলেন আমাদের স্থায়ী মিশনের ইকোনমিক মিনিস্টার বরুণ দেব মিত্র। এখানে এই দায়িত্বে আসার আগে তিনিই বাংলাদেশের সরকারের খাদ্য সচিব ছিলেন। বাংলাদেশে তার এত বড় সাম্রাজ্য ত্যাগ করে এখানে নিউইয়র্কে তার এই দায়িত্ব গ্রহণের কারণ বোধহয় তার স্ত্রী রাখী মিত্র। ভদ্রমহিলা ঢাকার ‘ইউনিসেফ’ অফিসে কাজ করতেন, এখন নিউইয়র্কের সদর দফতরে। স্ত্রী, প্রেমিকার টানে দুনিয়ার কত জায়গায় যুগে যুগে কত ত্যাগই না কত পুরুষ করেছেন। বরুণ মিত্রের স্ত্রীর জন্য ভালোবাসা সম্রাট শাজাহানের তাজমহল নির্মাণের মতো কিছু নয়, তবে ত্যাগ অবশ্যই।
আমরা দু’জন হাঁটতে হাঁটতে ইউনিসেফ সদর দফতরে পৌঁছলাম ঠিকই, কিন্তু হাঁটু সমান গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকতে পারছিলাম না। জাতিসংঘ থেকে আমাকে আমার ছবিসহ যে আইডি দেয়া হয়েছে, তা গ্রাউন্ড ফ্লোরের গেটের ওপর একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলে বা ছোঁয়া দিলেই হাঁটু সমান গেট আপনা-আপনি খুলে যাবে, তারপরই উপরের এক কামরায় সুুসান বিসেলের কামরায় যাব; তাই নিয়ম। জাতিসংঘের সদর দফতরে এমন করেই বারবার ঢুকেছি। নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি এত বেশি যে জাতিসংঘে ঢুকতে হলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেই ঢুকতে হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে ‘ইউনিসেফ’ সদর দফতরে ঢুকতে এই পদ্ধতি কাজ করছিল না।
পাশেই রিসেপশন, দু’তিন জওয়ান উপবিষ্ট, মনে হল পাকিস্তানি। তারাও চেষ্টা করল। তাতেও কাজ হচ্ছিল না। তারা কম্পিউটারে কী সব কয়েকবার টেপাটিপি করল। কিন্তু ‘নো সাকসেস’। তখন তারা প্রস্তাব করল, আমাদের ছবি তুলতে হবে, গেট দিয়ে ঢুকতে হলে এখন অন্য এক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তাই মেনে নিলাম। কাউন্টারে আগে ফিট করা ছোট্ট একটি ক্যামেরায় ছবি তোলা হয়, তারপর কয়েক সেকেন্ডের ফরমালিটি। রিসেপশনের ওরা দুঃখ প্রকাশ করল গেটও খুলে গেল।
বললাম আমি, দুঃখ প্রকাশ করার কিছু নেই। আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন জার্মানির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলকেও বোধ হয় একজন আমেরিকাবিরোধী হিসেবে সন্দেহ করে। তাই এঙ্গেলা মারকেলের টেলিফোনের কথাবার্তাও আড়িপেতে রেকর্ড করে আমেরিকানরা সম্প্রতি ধরা খেয়েছে, আর এখন মাফও চাইছে। আমরা অর্ডিনারি মরণশীল মানুষ কোন ছার!
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্রিকেট ও নির্বাচনী খেলার টিকিট by মোঃ মাহমুদুর রহমান

About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রচার কাদের স্বার্থে? by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

বাংলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার রিপাবলিকান নিক্সন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রকাশ্যে পাকিস্তানের হানাদারদের পক্ষাবলম্বন করেছিল এবং মার্কিন মদদে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বাংলাদেশে গণহত্যা ও বুদ্ধিজীবী হত্যায় উৎসাহিত হয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যাতে সফল না হয় সেজন্য আমেরিকা বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহরও পাঠাতে চেয়েছিল। এ সময় ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন (সাবেক) এবং পূর্ব ইউরোপীয় তখনকার সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে না দাঁড়ালে বাংলাদেশ সহসা স্বাধীনতা অর্জন করত কিংবা পশ্চিম পাকিস্তানের জেলে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে বন্দি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন রক্ষা পেত কিনা সে সম্পর্কে সন্দেহ আছে। এ সময়ে ‘দি নিউইয়র্ক টাইমস’-এর ভূমিকা ছিল নিক্সন প্রশাসনের বাংলাদেশবিরোধী নীতির পক্ষে। তারপর দীর্ঘ চার দশকের বেশি কেটে গেছে। বাংলাদেশে আবার নতুন করে যে রাজনৈতিক পোলারাইজেশন ঘটেছে, তা গত শতকের সত্তরের দশকের অনুরূপ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির মধ্যে একটা বড় রাজনৈতিক পোলারাইজেশন ঘটেছে। একাত্তরে যে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলো মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তারা এখন আবার বিএনপির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ। তারা ক্ষমতায় আসীন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতান্ত্রিক সরকারকে যে কোনোভাবে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদে বদ্ধপরিকর। সেজন্য আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী জামায়াতের সহায়তায় দেশে নানা রকম ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তা আন্দোলন নয়, তা নিষ্ঠুর সন্ত্রাস।
এখন আমেরিকায় ডেমোক্র্যাট ওবামা প্রশাসন ক্ষমতায়। তারা নিক্সন আমলের কিসিঞ্জার-ডকট্রিন দ্বারা প্রভাবিত নয় বলেই অনেকের ধারণা। তাছাড়া আমেরিকা এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ওয়ার এগেইনস্ট টেরোরিজম বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত। এই সন্ত্রাস ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী সন্ত্রাস। বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এই মৌলবাদী সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয়ার জন্য আমেরিকা কর্তৃক সমালোচিত হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এই উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাস দমনে সাফল্য দেখানোর পর মার্কিন ডেমোক্র্যাট প্রশাসন কর্তৃক একাধিকবার প্রশংসিত হয়েছে।
এখন হঠাৎ সেই আমেরিকাই একটি বিশ্বময় পঠিত ও প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা বিএনপির নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ উগ্র মৌলবাদী শক্তির পাশে অবস্থান গ্রহণ করে ক্ষমতাসীন গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে কীভাবে অপপ্রচারে অংশ নেয় তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার। এ জন্যই অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতিতে কিসিঞ্জার ডকট্রিনের প্রেতাত্মা কি এখনও প্রভাব বিস্তার করে রয়েছে এবং ওবামার ডেমোক্র্যাট প্রশাসনও কি বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের সত্তরের ব্যর্থ ও পরিত্যক্ত নীতিতে ফিরে যেতে চাইছে? গত ২০ নভেম্বর দি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত নিবন্ধটি কি তারই আভাস বহন করছে?
দি নিউইয়র্ক টাইমসের ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট’ শীর্ষক নিবন্ধটি পাঠ করে বিস্মিত হয়ে ভাবতে হয়, বিশ্বের একটি বহুল প্রচারিত প্রথম শ্রেণীর ইংরেজি দৈনিকে তৃতীয় বিশ্বের কোনো তৃতীয় শ্রেণীর কাগজের মতো এত অসত্য ও দায়িত্বহীন কথা কী করে বলা হতে পারে? নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্য যদি সত্য ও সঠিক বলে মানতে হয় তাহলে মানতে হবে বর্তমান হাসিনা সরকার আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সাবেক কোনো স্বৈরতন্ত্রের মতো একটি স্বৈরতান্ত্রিক সরকার। বিরোধী দল, মানবাধিকার কর্মীদের এই সরকার নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে। আদালত বিচার ব্যবস্থায় ন্যূনতম স্ট্যান্ডার্ডও বজায় রাখছে না।
পত্রিকাটির মতে, এই সংকটের জন্য শেখ হাসিনাই একমাত্র দায়ী। তিনি ক্ষমতায় ঝুলে থাকার জন্য সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিধানটি মুছে ফেলেছেন। ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও আসলে হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমনের একটা হাতিয়ার। জামায়াতকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে বস্তুত তাদের রাস্তার আন্দোলনে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে তারা রাস্তায় নেমেছে। সিরিজ অব হরতালে দেশটিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর সংঘর্ষে শত শত লোক মৃত্যুবরণ করেছে। সুতরাং এসব অবস্থার প্রতিকার ও হাসিনা সরকারকে স্বৈরতন্ত্রের পথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্যাংশনসসহ বিভিন্ন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে এই মার্কিন দৈনিকটি সুপারিশ করেছে।
এই ‘ইনফরমেশন এজের’ একটি আন্তর্জাতিক দৈনিক হয়ে মার্কিন এই পত্রিকাটি কী করে বাংলাদেশ সম্পর্কে এত অসত্য ও মনগড়া কথা ছড়াল, তা ভেবে বিস্মিত হই। যে ‘মরাল হাই গ্রাউন্ড’ মেনে আমেরিকার প্রশাসন ও মিডিয়া কথা বলে তার সঙ্গে এই প্রচারণার কোনো মিল আছে কি? এটা বাংলাদেশের বিএনপির হ্যান্ডবিলে যেসব কথা বলা হয় তার পুনরুক্তি মাত্র। প্রথম কথা, হাসিনা সরকার বিপুল ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার। বিএনপির মতো স্বৈরশাসন, অপশাসন ও নির্বাচন-জালিয়াতির কোনো রেকর্ড তার নেই। দেশকে সুশাসন দিতে তার অনেক ব্যর্থতা আছে, ভুলত্র“টি আছে। কিন্তু এই সরকার মূলত অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক। একে স্বৈরতান্ত্রিক সরকার বলা সত্যের ডাহা অপলাপ। দেশকে সুশাসন উপহার দিতে ব্যর্থ হওয়ার নজির মার্কিন প্রশাসনেরও রয়েছে।
হাসিনা সরকার জনগণকে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ যেসব নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন করে চলেছে। নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ করা কি স্বৈরতান্ত্রিক কাজ? এক সময় সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এখন সময়ের পরিবর্তনে সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে আবার পুরনো নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া হয়েছে। তাও সংসদে বিতর্ক ও আলোচনার পর। বিএনপি এই বিতর্কে সংসদে আসেনি। সংসদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে, তাও সুপ্রিমকোর্টের রায় মেনে। এখানে শেখ হাসিনা স্বৈরতান্ত্রিক পন্থায় কোথায় সংবিধান ছিঁড়ে-খুঁড়ে (ঝপৎধঢ়ঢ়বফ) ফেললেন? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তো কংগ্রেসে বা সিনেটে বাধা পেলেও নিজের ডিসক্রেশনারি ক্ষমতার জোরে অনেক বিল পাস করেন। তা কি সংবিধান লংঘন? শেখ হাসিনা তো তাও করেননি।
নিউইয়র্ক টাইমস কোথায় পেল বাংলাদেশের আদালতগুলো বিচার ব্যবস্থায় নিুতম নিয়মকানুন ও মান বজায় না রেখে অভিযুক্তদের দণ্ড দেন? তাহলে একটি বড় ধরনের দুর্নীতির মামলায় তারেক রহমানের সহযোগী দণ্ডিত হন এবং তারেক রহমান কী করে খালাস পান? আমেরিকায় যেখানে রাশিয়ার কাছে আণবিক গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে (সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নয়) বিখ্যাত বিজ্ঞানী রোজেনবার্গ দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে, বিশ্ববাসীর প্রাণ ভিক্ষাদানের আবেদনে পর্যন্ত কর্ণপাত করা হয়নি, সেখানে বাংলাদেশে ’৭১-এর বর্বর যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে শুধু মানবতা বোধ থেকে বয়সের বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের বদলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, তা কি দেশটির বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা, মান ও সুবিবেচনার পরিচয় বহন করে না?
আমেরিকা তার স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও কোলাবরেটরদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অনেককে বিনা বিচারে হত্যা করেছে। সেই দেশটির একটি পত্রিকা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এবং ঘাতক ও দালালদের বিচার সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না বলে মায়াকান্না জুড়েছে এবং এই ঘাতক ও দালালদের হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ (চড়ষরঃরপধষ ঙঢ়ঢ়ড়হবহঃং) হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের আপামর মানুষের দাবি। এটা হাসিনা সরকারের নির্বাচনী কমিটমেন্ট। এ কমিটমেন্ট থেকে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সরে আসে কী করে? তাছাড়া ২০০৯ সালে গঠিত বিশেষ আদালত যেসব যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও দণ্ড দিয়েছেন তারা ৪০ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধী, ঘাতক ও দালাল হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। হঠাৎ দি নিউইয়র্ক টাইমস আবিষ্কার করল, এই দণ্ডিত ও বিচারাধীন ব্যক্তিরা আসলে যুদ্ধাপরাধী নয়, তারা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং আওয়ামী লীগ সরকার তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য এই বিচারকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এত বড় মিথ্যাচার দি নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকা কীভাবে করে এবং কী উদ্দেশ্যে? তাহলে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের নাৎসি ঘাতক হিটলার, মুসোলিনী কি যুদ্ধাপরাধী ছিল না? ছিল কেবল চার্চিল ও রুজভেল্টের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ? এবং এই প্রতিপক্ষকে দমনের জন্যই কি তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছে?
নিউইয়র্ক টাইমসের অদ্ভুত যুক্তি, জামায়াতের মতো সন্ত্রাসী দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে রাস্তায় আন্দোলন সৃষ্টি করার জন্য ঠেলে দেয়া হয়েছে। জামায়াতকে শুধু নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেয়া নয়, দলটিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি সারা দেশের। আওয়ামী লীগ সরকার এই দেশব্যাপী দাবির মুখেও জমায়াতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। দলটির সন্ত্রাসী চরিত্রের জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাতিল করে দিয়েছে। এটা যদি অন্যায় হয়, তাহলে আমেরিকার মতো গণতান্ত্রিক দেশে মহাযুদ্ধের ৬৮ বছর পরও নাৎসি পার্টি নিষিদ্ধ কেন?
আমেরিকায় ঢুকতে হলে ভিসা পেতে যে ফরম পূরণ করতে হয় তাতে লেখা আছে আপনি নাৎসি পার্টির সমর্থক হলে অথবা ওই পার্টির সঙ্গে অতীতে কোনো যোগাযোগ থাকলে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন না। তাহলে বাংলাদেশের নব্য নাৎসিদের প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের এত অনুকম্পা কেন? জার্মানির নাৎসি পার্টি এবং ইতালির ফ্যাসিস্ট পার্টি যেমন সঠিক অর্থে কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না, তেমনি বাংলাদেশের জামায়াতও কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসী দল। কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই এ ধরনের সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি দেয়া হয় না।
বিএনপি এই সন্ত্রাসীদের সাহায্যে বাংলাদেশে অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে এটা কি বাস্তব সত্য? আর রাজনৈতিক দল-উপদলগুলোর সংঘর্ষে মানুষ মারা যাচ্ছে, এটাও নিউইয়র্ক টাইমসের আবিষ্কার। বাংলাদেশে জনসমর্থনপুষ্ট কোনো গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে না পারায় জামায়াতের সশস্ত্র ক্যাডারদের সহায়তায় বিএনপি রাজপথে আকস্মিক হামলা চালিয়ে গাড়ি-বাড়ি পুড়িয়ে, ঘুমন্ত বাসযাত্রী হত্যা করে দেশে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তার বাইরে তারা কিছু করেনি। তাও পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে।
অন্যদিকে জামায়াত-শিবির ও তাদের ভাড়াটে গুণ্ডাদের অতর্কিত হামলায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগের দরুন অধিকাংশ মৃত্যু ঘটেছে। এমনকি জামায়াতের ক্যাডারদের হামলায় নিহত পুলিশের সংখ্যাও কম নয়। এগুলোকে মার্কিন পত্রিকাটি রাজনৈতিক দল-উপদলের সংঘর্ষে নিহত বলে চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার যে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করেছে, তাদের একজন আদালত কর্তৃক ‘হঠাৎ সম্পাদক’ হিসেবে বর্ণিত এবং তার মিথ্যা প্রচার সাংবাদিকতার সব মানকে অতিক্রম করেছিল। আর মানবাধিকার দলটি ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশে পুলিশ অসংখ্য লোককে হত্যা করেছে বলে নিহতদের যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে দেখা গেছে এই নামে কেউ নেই। সবটাই দুরভিসন্ধিমূলক প্রচারণা। আমেরিকায় মার্কিন স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের বানানো অভিযোগে হাওয়ার্ড ফাস্ট, চার্লি চ্যাপলিনের মতো বিখ্যাত মানুষ নির্যাতিত হয়েছেন। সেই দেশের একটি কাগজ বাংলাদেশে মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক দলনের নামে মায়াকান্না জুড়েছে, তা আর বিচিত্র কী?
উন্নয়নশীল বিশ্বের যেসব দেশে গণতন্ত্র ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে, সেসব দেশে গণতন্ত্রের বিকাশে বাধাদানে এবং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ রক্ষার কাজে অপপ্রচারে দি নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার কোনো জুড়ি নেই। একটি উদাহরণ দিই। ১৯৫৪ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক ও গণবিরোধী মুসলিম লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হয়ে প্রদেশে নতুন সরকার গঠন করে। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে এই গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিকাশ আমেরিকা তার স্বার্থের অনুকূল মনে করেনি। ফলে শুরু হয় হক সাহেবের বিরুদ্ধে চক্রান্ত।
ফজলুল হক বয়োবৃদ্ধ ছিলেন। তিনি তার এক পুরনো রোগের চিকিৎসার জন্য এ সময় কলকাতায় যান। সেখানে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। যে কলকাতায় বসে ছয় বছর তিনি অবিভক্ত বাংলার সরকার পরিচালনা করেছেন, দেশভাগের পর সেই কলকাতায় এসে বিপুল সংবর্ধনা পেয়ে তিনি অভিভূত হন এবং সংবর্ধনার জবাবে বলেন, ‘আমি দেশের রাজনৈতিক বিভাজনে কোনো গুরুত্ব দেই না।’ হক সাহেবের এই সংবর্ধনার সময় দি নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাংবাদিক ক্যালাহান তার কাগজে রিপোর্ট পাঠান- হক সাহেব কলকাতায় বলেছেন, ‘আমি দেশ ভাগ মানি না।’
মার্কিন পত্রিকার রিপোর্টার কর্তৃক ফজলুল হকের মুখে পুরে দেয়া এই বক্তব্য ঢাকায় ও করাচিতে মুসলিম লীগপন্থী কাগজগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হয়। ফজলুল হক ঢাকায় ফিরে এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ক্যালাহান সাহেবের এই রিপোর্টকে ভিত্তি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল ভোটে নির্বাচিত হক মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করে এবং মুখ্যমন্ত্রী হক সাহেবকে গৃহবন্দি করে। তাকে বলা হয়, ‘হিন্দুর দালাল, ভারতের চর’। আজ থেকে ৫৯ বছর আগেও এটাই ছিল দি নিউইয়র্ক টাইমসের সৎ সাংবাদিকতার নমুনা।
৫৯ বছর পর দি নিউইয়র্ক টাইমস একই সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে স্বাধীন বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে এবং দেশটির সাম্প্রদায়িক ও উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসী শিবিরের সমর্থক সেজেছে। হাসিনা সরকারকে শায়েস্তা করার জন্য আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্যাংশনস আরোপেরও সুপারিশ করেছে। এই স্যাংশনস আমেরিকা সাধারণত আরোপ করে তার শত্র“ দেশগুলোর ওপর। বাংলাদেশও কি তাহলে এখন আমেরিকার শত্র“ দেশ? দি নিউইয়র্ক টাইমস এ স্যাংশনস আরোপের জন্য যতই উস্কানি দিক, ওবামা প্রশাসন তাতে কান দেবে অথবা সুপারিশটিকে গুরুত্ব দেবে তা মনে হয় না। সত্তরের দশকের ব্যর্থ বিদেশনীতিতে আমেরিকা ফিরে যেতে চাইবে তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ এখনও ঘটেনি।
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সাম্প্রদায়িকতার রিংমাস্টারগণ
![]() |
| বেড়া ভাঙা, পায়রাগুলো ভীত হলেও যায়নি এখনো |
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিসরের জনগণ ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র চায় না
![]() |
| কামাল গাবালা |
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মশিউল আলম
প্রথম আলো : মিসরে আপনারা ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক স্বৈরশাসন হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন। প্রথমবারের মতো একজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলো। কিন্তু এমন কী ঘটল যে আজ সেই নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট কারারুদ্ধ এবং বিচারের মুুখোমুখি? কামাল গাবালা : এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে অনেক কথা বলতে হয়। কিন্তু সে অবকাশ তো এখানে নেই। সংক্ষেপে কিছু বলতে গেলেও শুরু করতে হয় ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে, যখন মিসরীয় বিপ্লবের সূচনা ঘটে। সেই সময় আমাদের সবার মনে আশা জেগেছিল যে কয়েক দশক অপেক্ষার পর আমরা অবশেষে একটা গণতান্ত্রিক, বেসামরিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছি।
প্রথম আলো : সেটার সূচনা তো ঘটেছিল, অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন করেছিলেন...
কামাল গাবালা : কিন্তু এসবের মধ্য দিয়ে মিসরে গণতন্ত্রের সূচনা ঘটেনি। মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতৃত্বে মিসরে একটা বেসামরিক, ধর্মভিত্তিক স্বৈরশাসন চালু হয়েছিল এবং ক্রমেই তা আরও বেশি স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠছিল।
প্রথম আলো : মিসরের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার কিন্তু মুসলিম ব্রাদারহুডকেই নির্বাচিত করে দেশের শাসনভার তাদের দিয়েছিল...
কামাল গাবালা : মুসলিম ব্রাদারহুড নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল, এটা সত্য। কিন্তু বোঝা প্রয়োজন, কেন ও কীভাবে সেটা ঘটেছিল। প্রথমত, মিসরের জনগণ এর আগে কখনো মুসলিম ব্রাদারহুডকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখার সুযোগ পায়নি। নির্বাচনের আগে অনেক মিসরীয় মনে করেছিল, ব্রাদারহুডের লোকজন ভালো, তারা গরিব-অসহায় মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। যুগ যুগ ধরে তারা শাসকদের দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছে, তারা কঠোর সংগ্রাম করে আসছে। এবার যখন আমরা নিজেদের সরকার নির্বাচিত করার সুযোগ পেয়েছি, তখন ব্রাদারহুডকেই ভোট দিয়ে দেখা যাক। তাদের একটা সুযোগ দেওয়া হোক। দ্বিতীয়ত, উদারপন্থী ও বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ নয়, সুসংগঠিতও নয়। কিন্তু ব্রাদারহুড ও অন্য ইসলামপন্থী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ এবং খুবই সংগঠিত। তৃতীয়ত, মিসরের অধিকাংশ মানুষ গরিব, তাদের ভোট কেনা যায়। সরাসরি টাকাপয়সা দিয়েও কেনা যায়, আবার নানা রকম সাহায্য-সহযোগিতার বিনিময়েও কেনা যায়। এসব ফ্যাক্টর মিলিতভাবে কাজ করেছে নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিজয়ের পেছনে।
প্রথম আলো : কিন্তু বছর না পেরোতেই সেই ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হলো কেন?
কামাল গাবালা : কারণ, মিসরীয় জনগণ ক্ষমতার বাইরে মুসলিম ব্রাদারহুডের যে চেহারা দেখেছিল, ক্ষমতাসীন ব্রাদারহুডের চেহারা তার থেকে ভীষণভাবে অন্য রকম। জনগণ চেয়েছিল একটা আধুনিক, অগ্রমুখী, সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। কিন্তু ব্রাদারহুড মিসরকে একটা ধর্মভিত্তিক, পশ্চাৎমুখী, স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট মুরসি বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমসহ রাষ্ট্র ও সরকারের সব স্তরে ব্যাপক রদবদল শুরু করেছিলেন। সব স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো থেকে ভিন্নমতাবলম্বী লোকদের সরিয়ে ইসলামপন্থী লোকজনকে বসাচ্ছিলেন। তারা মৌলবাদী, মধ্যযুগীয় চিন্তার মানুষ। পেশাগত দক্ষতা-যোগ্যতার বালাই ছিল না, ব্রাদারহুডের সমর্থক আর গোঁড়া ধর্মীয় চিন্তাভাবনার মানুষ হলেই হলো। নারীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসছিল; অনেক চাকরিজীবী নারী চাকরি হারিয়েছেন। পর্যটনশিল্পে ধস নেমেছে।
প্রথম আলো : কোনো ক্ষেত্রেই কি মুরসি সরকারের কোনো সাফল্য ছিল না?
কামাল গাবালা : অর্থনৈতিক অবস্থা আগের থেকে আরও খারাপ হয়েছে; নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়েছে। আশা করা হয়েছিল, নতুন নির্বাচিত সরকার এসে অন্তত রাজধানীর যানজট দূর করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটাবে। কিন্তু সেটা ঘটেনি; বরং কায়রোর যানজট আরও বেড়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে শহর। বিদ্যুৎ-ঘাটতি আরও বেড়েছে। ব্রাদারহুড নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার কোনোটাই পূরণ করতে পারেনি। তাই নির্বাচনের পর মাস ছয়েক না পেরোতেই জনগণের মোহভঙ্গ ঘটে। আরও একটা বড় ভুল করেছিলেন মুরসি। তিনি একটা প্রেসিডেনশিয়াল ডিক্লারেশন জারি করেন, যেখানে বলা হয়, প্রত্যেক মিসরীয়কে অবশ্যই প্রেসিডেন্ট মুরসিকে মেনে চলতে হবে, তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতা, তাঁর কোনো বিরোধিতা করা চলবে না। তিনি নিজেকে অনেকটা সৃষ্টিকর্তার জায়গায় স্থাপন করেন। মিসরের জনগণ এটাকে খারাপভাবে নিয়েছে।
প্রথম আলো : কিন্তু জনগণের মোহভঙ্গ কি এতই ব্যাপক ছিল যে জনগণ আর মুরসি সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চাচ্ছিল না? নাকি সামরিক বাহিনী সুযোগ নিয়েছে?
কামাল গাবালা : বাইরে থেকে মুসলিম ব্রাদারহুডকে যতটা জনপ্রিয় বলে মনে হয়, আসলে তারা ততটা জনপ্রিয় নয়। ব্রাদারহুড ও অন্য ইসলামপন্থী দলগুলোর মোট সমর্থন ২০ শতাংশেরও কম। কিন্তু নির্বাচনে তাদের সাফল্যের কারণ, তারা অন্য সব রাজনৈতিক দল ও গ্রুপের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত। জামাত ইসলামিয়া, সালাফি গোষ্ঠীসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পরে আমরা দেখলাম, তারা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছিল। মিসরীয় বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা এটা ছিল না যে মিসর ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী রাষ্ট্র হবে।
প্রথম আলো : কিন্তু যদি গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, তাহলে ব্রাদারহুডের সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করার জন্য পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করা কি উচিত ছিল না?
কামাল গাবালা : কিন্তু মুরসি সরকার নিজেই তো আর গণতন্ত্র মানছিল না। তারা নিজেদের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার জন্য, এমনকি চিরকাল ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার দুরভিসন্ধি নিয়ে যা কিছু করার—সব করছিল। তারা নিজেদের মতো করে সংবিধান প্রণয়ন করেছিল, যাতে মিসরীয় রাষ্ট্রের পরিচয় হয় একটা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে। শুধু তা-ই নয়, মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড স্বপ্ন দেখে, সারা পৃথিবীতে তারা একটা ইসলামি ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, বলা যায় একধরনের ইসলামি সাম্রাজ্য, যেটা পরিচালিত হবে মিসর থেকে। সারা পৃথিবীতে তাদের সমর্থক রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী আছে। এমনকি বাংলাদেশেও আছে জামায়াতে ইসলামী। পৃথিবীর যেখানেই উগ্রপন্থী ইসলামি সংগঠন আছে, তাদের সঙ্গে মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের যোগাযোগ আছে। ব্রাদারহুড অতিপ্রাচীন একটা সংগঠন; ১৯২৮ সালে এর জন্ম। পৃথিবীজুড়ে এর অনেক শাখা আছে। একটা হচ্ছে জামাত ইসলামিয়া বা জামায়াতে ইসলামী, আরও আছে আল-কায়েদা ও তালেবান। আল-কায়েদার নেপথ্যের নায়ক জাওয়াহিরি একজন মিসরীয়, ওসামা বিন লাদেন মিসরীয় না হলেও মুসলিম ব্রাদারহুডের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে এসেছেন সারা জীবন। সুতরাং, মুসলিম ব্রাডারহুডের স্বপ্ন শুধু মিসরকে নিয়েই নয়, সারা পৃথিবীকে নিয়ে। তারা মিসরের ক্ষমতায় গিয়ে পৃথিবীজুড়ে উগ্র ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে নতুন করে সংগঠিত করছিল, তাদের অর্থকড়ি জোগান দিচ্ছিল।
প্রথম আলো : কিন্তু তারা তো নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় গিয়েছিল। আপনারা কেন পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন না?
কামাল গাবালা : আমাদের পরবর্তী নির্বাচনের জন্য আরও চার বছর অপেক্ষা করার উপায় ছিল না। কারণ, প্রতিটি দিন অতিবাহিত হচ্ছিল আর মিসর তার সেক্যুলার আইডেনটিটি একটু একটু করে হারাচ্ছিল। যেসব সাধারণ নাগরিক ব্রাদারহুডকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিল, তারাও এটা চাচ্ছিল না। তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয়, ব্রাদারহুডকে আর এগোতে দেওয়া চলবে না, এক্ষুনি এসব থামাতে হবে। সে জন্যই আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন, মুরসি সরকারের বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ জানাতে কায়রোর রাস্তায় নেমে এসেছিল।
প্রথম আলো : তার মানে, ব্রাদারহুডের মৌলবাদী সরকারের থেকে সামরিক স্বৈরতন্ত্রই শ্রেয় বলে মিসরের মানুষ মনে করছে?
কামাল গাবালা : না। একদম না। আমরা এই কথা বলছি উচ্চ স্বরে: আমরা ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র যেমন চাই না, তেমনি সামরিক রাষ্ট্রও চাই না।
প্রথম আলো : কিন্তু সামরিক বাহিনী তো আবার ক্ষমতা নিয়েছে; মিসরের জনগণ কি সেটা মেনে নিয়েছে?
কামাল গাবালা : মিসর এখন সামরিক রাষ্ট্র নয়। আমরা এই ব্যবস্থা মেনে নিচ্ছি না। আপনি জানেন, গত জুন মাসের ৩০ তারিখে কী ঘটেছিল? দেড় কোটি থেকে তিন কোটি মিসরীয় নাগরিক সারা মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলে রাস্তায় নেমে এসেছিল মুরসি সরকারের পদত্যাগের দাবিতে। মুরসিকে বিদায় জানিয়ে জনগণ একটি আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছিল। কিন্তু মুরসি পদত্যাগ করতে রাজি হচ্ছিলেন না; উল্টা বরং প্রতিবাদী জনতাকে হত্যা করতে লাগলেন। প্রচুর মানুষের প্রাণহানি হলো। আর যেহেতু মুসলিম ব্রাদারহুড ও তার শরিক উগ্র ইসলামপন্থী দলগুলো বেশ সংগঠিত, তারাও চড়াও হতে লাগল বিক্ষোভকারীদের ওপর। এভাবে গোটা দেশের পরিস্থিতি ভীষণ সহিংস হয়ে উঠল। তখন সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া রক্তপাত বন্ধ করার কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু তার মানে এই না যে সামরিক বাহিনীকে মিসরের জনগণ ডেকে এনে আবার ক্ষমতায় বসিয়েছে। না, সেটা আর কখনোই হবে না...
প্রথম আলো : কিন্তু সামরিক বাহিনী কত দিন থাকবে? মিসরের ভবিষ্যৎ কী?
কামাল গাবালা : ৫০ সদস্যের একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে; তারা শিগগিরই সংবিধান প্রণয়ন করবে। তারপর পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে মিসরে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হবে, সামরিক বাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।
প্রথম আলো : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
কামাল গাবালা : ধন্যবাদ।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উচ্চশিক্ষা কমিশন প্রতিষ্ঠা জরুরি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অতীত ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের নাম এফ কেনেডি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
November
(403)
-
▼
Nov 25
(8)
- অবৈতনিক বনাম বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা by মহিউদ্দ...
- নিউইয়র্কে ইউনিসেফ-এর সদর দফতরে গৃহদাসী আদুরী, নিলু...
- ক্রিকেট ও নির্বাচনী খেলার টিকিট by মোঃ মাহমুদুর রহমান
- বাংলাদেশ নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রচার কাদের...
- সাম্প্রদায়িকতার রিংমাস্টারগণ
- মিসরের জনগণ ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র চায় না
- উচ্চশিক্ষা কমিশন প্রতিষ্ঠা জরুরি
- অতীত ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের নাম এফ কেনেডি
-
▼
Nov 25
(8)
-
▼
November
(403)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


