Wednesday, March 29, 2017

জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখতে হলে শর্ত পুরো বাস্তবায়ন করতে হবে -ইইউ প্রতিনিধি দলের ব্রিফিং



গার্মেন্ট শিল্পের সম্প্রতি অগ্রগতির বিষয়টি উল্লেখ করে ঢাকা সফরকারী ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা বলেছেন, এ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতিতে ঘোষিত ‘সাসটেইনেবিলিটি কমপেক্ট’-এর শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশী পণ্য যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় তা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে ওই শর্তগুলো বা কমপেক্ট-এর শর্তগুলো পূরণ করতে হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের দলের প্রধান আর্নে লিট্জ স্পষ্ট করে বলেন, আগামী ১৮ই মে কমপেক্ট’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে জেনেভায়। এসময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে তার অগ্রগতি দৃশ্যমান করতে হবে। গত ২৭শে মার্চ থেকে ২৯শে মার্চ পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে করে। বুধবার ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন প্রধান কার্যালয়ে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের সফরের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া লিখিত বক্তব্যে প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, সম্প্রতি সময়ে গার্মেন্ট শিল্পে বিশেষত ভবন নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি করেছে। এখাতের অগ্রগতিতে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যে রপ্তানি ক্ষেত্রে যে সুবিধা পায় তারসঙ্গে দু’টি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা হলো- সার্বজনীন মানবাধিকার এবং শ্রমিকদের অধিকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশের প্রতি এই উল্লিখিত দুুটি বিষয়সহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। তার অন্যতম হচ্ছে- ইপিজেড’র খসড়া আইন, বাংলাদেশ লেবার ল’কে ইউএন লেবার কনভেনশন মোতাবেক নিয়ে যাওয়া, ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা বা মুক্তভাবে তাদের করতে দেয়া। প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্য মন্ত্রী, শ্রম প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারি-বেসরকারি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে প্রতিনিধিদের দলের প্রধান আর্নে লিট্জ আশা করেন আগামী ১৮ই মে ‘সাসটেইনিবিলিটি কমপেক্ট’-এর যে রিভিউ এবং পরবর্তীতে আইএলও’র যে মধ্য জুনে কনফারেন্স হবে তার আগেই বাংলাদেশ এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে।

মসুলে অবরুদ্ধ ৩ লাখ মানুষ -একদিকে আইসিস, অন্যদিকে সেনাবাহিনীর গুলি

ইরাকের মসুল। এর পশ্চিমাঞ্চলে উভয় সংকটে সাধারণ মানুষ। একদিকে আইসিস। অন্যদিকে ইরাকি সেনাদের স্নাইপাররা। পশ্চিম পাশ থেকে টাইগ্রিস নদী পাড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করা হলে উভয় পক্ষই গুলি করে। ফলে সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তিন লাখ মানুষ। তাদের অবস্থা অবর্ণনীয়। খাদ্য নেই। পানি নেই। বিদ্যুৎ নেই। চারদিকে শুধু হাহাকার। অনেকে খাদ্য খুঁজছেন ময়লার স্তূপে। সন্তানের মুখে তুলে দেয়ার জন্য এভাবে ময়লার স্তূপে নিরন্তর খাবার খুঁজে চলেছেন কোনো মা অথবা বাবা। এক এক বীভৎস দৃশ্য। তারই বর্ণনা দিয়েছেন পশ্চিম মসুলে আটকে পড়া জসিম (৩৩)। লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, মসুলের পশ্চিমাঞ্চলে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন কমপক্ষে তিন লাখ মানুষ। তারা প্রতিক্ষণ লড়াই করছেন জীবন বাঁচাতে। তিন মাস তীব্র লড়াইয়ের পর ইরাকি সেনারা মসুলের পূর্ব ভাগ দখলমুক্ত করেছে জানুয়াতিে। এখন পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থা করুণ। জসিম বলেন, কোথাও কোনো সবজি নেই। নেই কোনো ফলমূল। এভাবেই চলছে। পিতামাতারা সন্তানদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তারা হন্যে হয়ে এখানে সেখানে ছুটছেন খাদ্যের সন্ধানে। যদিওবা কোনো স্থানে, বাজারে খাবার পাওয়া যায় তার দাম আকাশচুম্বী। তা কেনার সামর্থ্য অর্থবান মানুষ ছাড়া অন্যের পক্ষে সম্ভব নয়। যেখানে বেকারিতে খাবার তৈরি হয়, সেখানে অনেক নারী গিয়ে হাত পাতছেন। যাদের কাছে অর্থ আছে তাদের কাছে সন্তানের জন্য একটি রুটি কিনে দেয়ার করুণ আর্তি জানাচ্ছেন। তাতে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। পশ্চিম মসুলের বেশির ভাগ মানুষ শুধু রুটি খেয়ে কোনোমতে বেঁচে আছে। অনেক সময় পানিটুকু যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। কারণ, পানির একমাত্র উৎস কূপ। সেখান থেকে পাম্প করে পানি উত্তোলন করতে হয়। এই পাম্প চালাতে প্রয়োজন পেট্রল। একবার এই পাম্প চালাতে অনেক খরচ। তাতে প্রতি লিটার পানির পেছনে খরচ পড়ে ১৫ ডলার। রয়েছে বিদ্যুতের মারাত্মক সংকট। এমন কি অনেক এলাকায় বিদ্যুৎই নেই। জসিম বলেন, প্রতি তিন দিনে আমরা মাত্র দু’ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাই। এমন অনেক এলাকা আছে যেখানে গত মাসে কোনো বিদ্যুৎই ছিল না। ফলে মোবাইল ফোন চার্জ করতে তারা ছুটে যান অন্য এলাকায়। শুধু রাতে থাকে মোবাইল নেটওয়ার্ক। আরও ভয়াবহ অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন জসিম। তার বাস টাইগ্রিস নদীতে ৫ম ব্রিজের কাছে। জসিম বলেছেন, আমি মাকে উদ্ধার করে মসুলের পূর্ব পাড়ে যেতে চাই। কিন্তু এটা হবে অত্যন্ত বিপদজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ এক কাজ। আমার এলাকা থেকে নদী পাড়ি দিয়ে পূর্বভাগে যাওয়ার সময় তিনজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের  গুলি করেছে স্নাইপাররা। জসিমের দাবি, দায়েসের রয়েছে স্নাইপার। তারা টাইগ্রিস নদীর ৫ম ও ৬ষ্ঠ ব্রিজের মাঝে অবস্থান নিয়েছে। কাউকে পশ্চিম ভাগ থেকে পূর্বভাগে পালাতে দেখলেই ইরাকি সেনাদের স্নাইপাররা আইসিস ভেবে গুলি করে। দায়েস স্নাইপাররাও গুলি করে। ফলে ইরাকি সেনাদের মর্টার হামলা, গুলি ও স্নাইপারদের গুলিতে মারা যাচ্ছে বেসামরিক মানুষ। কয়েকদিন ধরেই ইরাকি নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা দাবি করছে টাইগ্রিস নদীর পশ্চিশ প্রান্ত থেকে পূর্ব প্রান্তে পালিয়ে আসার সময় আইসিস যোদ্ধাদের গুলি করে হত্যা করেছে তারা। তবে নিহত এসব মানুষের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। তারা উদ্ভূত সমস্যা থেকে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। নিজের এলাকায় বেসামরিক মানুষ হতাহতের বর্ণনা দিয়ে জসিম বলেছেন, প্রতিদিনই হত্যা করা হচ্ছে ডজন ডজন বেসামরিক লোক। এর মধ্যে রয়েছে শিশুরাও। ইরাকি সেনাদের ছোড়া মর্টার হামলায় সোমবারও নিহত হয়েছে দুই শিশু।

মৌলভীবাজারের দুই আস্তানায় ৬-৭ জঙ্গি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মৌলভীবাজারে ঘিরে রাখা দুটি জঙ্গি আস্তানায় মোট ৬-৭ জন জঙ্গি সদস্য থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।   তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছি মৌলভীবাজার শহরের আস্তানাটিতে তিন-চারজন এবং নাসিরপুরের আস্তানায় আরও দু'চারজন বেশি জঙ্গি থাকতে পারে। এদের মধ্যে নারী সদস্যও থাকতে পারেন দু'একজন। মৌলভীবাজারের আস্তানা দুটিতে বড় জঙ্গি নেতাদের কেউ আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বড় কেউ সেখানে থাকলেও থাকতে পারে। এটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবো। আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াট বাহিনী রওনা হয়েছে। তারা সেখানে গেলেই কাজ শুরু করবে। আপাতত সেনাবাহিনী সেখানে পাঠানো হচ্ছে না, তবে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বুধবার ভোর রাতে মৌলভীবাজারে পৃথক দুটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর একটি পৌরসভার বড়হাট এলাকার দ্বিতল বাড়িতে, অন্যটি সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার একতলা বাড়িতে। এই দুই বাড়ির মধ্যে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। দুটি বাড়িই ঘিরে রেখেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। এসময় দুই আস্তানা থেকেই জঙ্গিরা পর পর কয়েকটি গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুরে গণধর্ষণ মামলায় ৪ জনের ফাঁসি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. এ কে এম আবুল কাশেম এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট আবুল বাশার।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর রাতে আসামি সানা উল্যাহ, মো.রহিম, মো. হারুন ও আবুল কাশেম ঘরে প্রবেশ করে ওই গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর পালিয়ে যায়। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পাঁচ দিন পর তার জ্ঞান ফেরে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী ওই বছর ২৮ ডিসেম্বর কমলনগর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। পরে ২০১৫ সালের ৩১ মে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করে পুলিশ। প্রায় দুই বছর পরে বুধবার এ মামলায় রায় ঘোষণা করা হল।

বাঘায় 'জেএমবি সদস্য' মিল্টন গ্রেফতার

রাজশাহীর বাঘায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) তালিকাভুক্ত সদস্য মিল্টন হাবিব পিন্টু ওরফে ইকবালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে নিজ বাড়ি উপজেলার আড়ানী রুস্তমপুর ভারতীপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার মিল্টন হাবিব পিন্টু ওরফে ইকবাল (৩৮) উপজেলার আড়ানী রুস্তমপুর ভারতীপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে। এছাড়া মিল্টন হাবিব পিন্টু আড়ানী চকসিংগা কওমি ও এফতেদায়ী মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক। বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ আলী মাহমুদ বলেন, তার বিরুদ্ধ জেএমবির মামলা রয়েছে। এর আগে ২০০৫ সালে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান র‌্যাব-৫ তাকে আটক করেছিলো। মিল্টন হাবিব পিন্টু ওরফে ইকবাল বাঘা থানার ১৫৪ নম্বর জেএমবি সদস্য।

মৌলভীবাজারে ২ জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি

মৌলভীবাজারের পৃথক দুটি জঙ্গি আস্তানার আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মীর মাহবুবুর রহমান। এদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পৌরসভার বড়হাট এলাকার একটি দোতলা বাড়ি এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের সরকার বাজার এলাকার একটি একতলা বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃংখলা বাহিনী। এসময় দুই আস্তানা থেকেই জঙ্গিরা পর পর কয়েকটি গ্রেনেড ছোঁড়ে এবং গুলি বর্ষণ করে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। এদিকে ভোর থেকে জঙ্গি আস্তানার আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার সরকার বাজার এলাকার জঙ্গি আস্তানার আশপাশের ২ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
সূত্র জানায়, এই দুই বাড়ির মধ্যে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। বাড়ি দুটি লন্ডন প্রবাসী সাইফুল ইসলামের। দুটি বাড়িই ভাড়া দেয়া হয়েছে। কোনোটিতে মালিকপক্ষের কেউ থাকেন না। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল যুগান্তরকে জানান, ওই দুই জঙ্গি আস্তানা ঘিরে রাখার চার ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ৯টায় বাহাদুরপুর গ্রামের একতলা বাড়ি থেকে জঙ্গিরা র‌্যাব-পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও গুলি ছুড়তে থাকে। এসময় পুলিশ ও কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এদিকে পৌরসভার বড়হাটে দোতলা বাড়ি থেকেও জঙ্গিরা তিনটি গ্রেনেড ছোঁড়ে। এরমধ্যে দুটি বিস্ফোরিত হয়। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, দুটি আস্তানা কড়া নিরাপত্তায় ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। ভোর রাত থেকে কৌশলে এলাকাবাসীকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সৌদি আরবে নিক্ষেপের জন্য নতুন ক্ষেপণাস্ত্র

ইরান-সমর্থিত ইয়েমিনি গ্রুপ মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কাহহার এম২ তৈরি করেছে বলে ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন সাড়ে তিন শ’ কিলোগ্রাম এবং পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার। গতকাল এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কাহহারের উন্মোচন করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি সামরিক স্থাপনায় লক্ষ্য করে তিন দফা পরীক্ষামূলক হামলার পর কাহহার এম২ তৈরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হলো। এ দিকে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি স্নাইপারদের গুলিতে তিন সৌদি সেনা নিহত হয়েছে। সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানান হয়েছে। রিয়াদের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাবে সৌদি লক্ষবস্তুতে হামলা করছে ওই বাহিনী।
সূত্র : ওয়েবসাইট

গোশতে নিষেধাজ্ঞা : বিয়েতে ভিন্ন আয়োজন

ভারতের উত্তরপ্রদেশে অবৈধ কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার। আর তা নিয়ে সারা দেশে নয়া বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও সরকারের বক্তব্য, জনতা গোশত খাওয়া বন্ধ করুক তা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। ঘটনা হল, উত্তরপ্রদেশ জুড়ে গোশতের দোকান ও কসাইখান বন্ধ হওয়ায় নিত্যদিনের প্রয়োজনে যেমন সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তেমনই বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানে ভোজসভা করতে গিয়েও মহাবিপাকে পড়তে হচ্ছে বাড়ির কর্তা থেকে শুরু করে সবাইকে। এই সুযোগে দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে মাছের বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও বিয়ের মতো অনুষ্ঠানে পাতে গোশত পড়বে না, এটা যেন অনেকেই মানতে পারছেন না।
তবে এর পাশাপাশি অনেকেই রয়েছেন যারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন অন্যভাবে। মোরাদাবাদে মুসলমান সমাজের একটি গণবিয়ের আয়োজন ছিল। সেখানে একাধিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে নির্ঝঞ্ঝাটে। তবে গোশতের ঘাটতি থাকায় বাকি আনুষঙ্গিক সমস্ত রীতিই পালিত হয়েছে। এমনকী হয়েছে বিরিয়ানিও। তবে তাতে গোশত পড়েনি। নিরামিষ বিরিয়ানি পরিবেশন করা হয়েছে। আর সবাই মিলে তা উপভোগও করেছেন।
সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া

সংঘাত ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় বৈঠকে বসছেন আবর নেতারা

আরব নেতারা বার্ষিক সম্মেলনের উদ্দেশ্যে বুধবার জর্ডানে মিলিত হচ্ছেন। তবে তাদের বৈঠক থেকে এ অঞ্চলের সংঘাত বা সন্ত্রাস মোকাবেলায় বড় ধরনের তেমন কোন অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে না। ডেড সী উপকূলের সইমেহতে গ্রিনিচ মান সময় ০৯০০টা থেকে তাদের এ বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে। এতে যোগ দিতে যাওয়া আরব লীগের ২২ নেতার মধ্যে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান রয়েছেন। জাতিসংঘ প্রধান অ্যান্টোনিও গুতেরেস এবং সিরিয়া বিষয়ক তার বিশেষ দূত স্টাফান ডি মিস্টুরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জর্ডানের তথ্যমন্ত্রী জানান, সম্মেলনে সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেন যুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে নেতাদের আলোচনা করার কথা রয়েছে। আল-কুদস সেন্টার ফর পলিটিক্যাল স্টাডিজের প্রধান ওরাইব আল-রান্টাবি বলেন, ‘আমি মনে করি না এ সম্মেলন আগের আরব সম্মেলনগুলো থেকে আলাদা কিছু হবে।’ তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে নানা বিরোধের কারণে আরব অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অনেক বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

আস্তানার একটিতে তিন-চারজন, অন্যটিতে তারও কিছু বেশি থাকতে পারে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মৌলভাবাজারে সন্ধান পাওয়া দুই ‍উগ্রবাদী আস্তানার মধ্যে একটিতে তিন-চারজন আরেকটিতে তারও কিছু বেশি ‘জঙ্গি’ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আজ বুধবার সচিবালয়ে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা যায় মৌলভীবাজারের শহরের আস্তানাটিতে তিন-চারজন এবং নাসিরপুরের আস্তানায় আরও দু চারজন বেশি জঙ্গি থাকতে পারে।
এর মধ্যে দু একজন নারীও থাকতে পারেন। সেখানে জঙ্গিদের বিশেষ কেউ আছে কিনা-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, হয়তো বড় কেউ থাকতে পারে। তবে এখনই বলতে পারছি না। সেখানে গোলাগুলি হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, পুলিশের বিশেষ ইউনিট সোয়াট বাহিনী রওনা হয়েছে। তারা সেখানে গেলেই কাজ শুরু করবে। সিলেটের মতো এই অভিযানে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেয়া হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন হলে নেয়া হবে। তবে সোয়াট বাহিনীই যথেষ্ট।

মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অনুসন্ধান শুরু

আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও কোতোয়ালি উপজেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানানো হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক খান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে আগেই তদন্ত শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। কবে নাগাদ প্রাথমিক তদন্ত শেষ হবে, এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানাননি। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

মৌলভীবাজারের উগ্রবাদী আস্তানার আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি

মৌলভীবাজারের উগ্রবাদী আস্তানা হিসেবে ঘিরে রাখা দুই বাড়ীর দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে ঘিরে রাখা দুই জায়গাতেই থেমে থেমে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক জানান, বড়হাটের বাড়ি ঘিরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও কুসুমবাগ এলাকা এবং খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আশপাশের দুই কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় যানবাহন চলাচল করতে পারবে না, জনসাধারণের চলাচলও নিয়ন্ত্রিত থাকবে। তবে বড়হাটের ওই এলাকা সংলগ্ন ঢাকা-মৌলভীবাজার মহাসড়কে যান চলাচলে  কোনা সমস্যা নেই।

গ্রিসে তরুণ শরণার্থীদের নতুন জীবন

জাওয়াদ আহমাদি এক বছর আগে গ্রিসের লেসবস দ্বীপে পৌঁছান। সঙ্গে বড় ভাই ও চাচাতো ভাই। আহমাদির গন্তব্যস্থল ছিল জার্মানি। ভেবেছিলেন, কিছুদিনের জন্য গ্রিসে থাকবেন। কিন্তু গ্রিসে যখন পৌঁছালেন, তখন বন্ধ হয়ে গেছে ইউরোপের সীমান্ত। ফলে আটকে যান। ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়।আহমাদি বলেন, ‘আট মাস ধরে প্রতিদিন ঘুম থেকে জেগে জানতাম না যে দিনটা কাটবে কীভাবে? খুব দিশেহারা লাগত।’ চার মাস আগে আহমাদি এথেন্সের গ্রিক শরণার্থী ফোরাম ও গ্রিক ভাষা শিক্ষায় ভর্তি হন। এরপরই বদলে যায় জীবন। গ্রিক ভাষা শেখার পর আহমাদি এখন ফুটবল দল গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাগুলোর সহায়তায় শরণার্থীদের নতুন জীবন দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজের জীবনটাও গুছিয়ে নিচ্ছেন। আহমাদি বলেন, ‘আমি কম্পিউটার বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাই। একই সঙ্গে ফুটবলও খেলতে চাই। এটাই আমার আগ্রহের বিষয়।’ গ্রিসে থাকাটাকেই সৌভাগ্য বলে মনে করেন আহমাদি। তিনি বলেন, এখানে সরকার শরণার্থীদের সাহায্য করে না। এখানে জার্মানির চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। কারণ, জার্মানিতে শরণার্থীরা অনেক স্বস্তিতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনহিতকর সংস্থা মার্সি কর্পসের সহায়তায় আহমাদি এখন ফুটবল দল গড়ে তুলেছেন।
গ্রিস, স্পেন এবং ইউরোপীয় অন্য দেশের স্বেচ্ছাসেবী ও শরণার্থীদের নিয়ে গত জানুয়ারি মাস থেকে আহমাদির দল বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। মার্সি কর্পসের কর্মী মনিকা রাব্বি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এখানে শিশুদের অনেক রকম কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তবে ফুটবল দলে কিশোর ও তরুণ কিছু কম। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের সহায়তায় বিভিন্ন আর্থিক প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে।’ আহমাদি বলেন, গ্রিক ও ইউরোপীয় শরণার্থীদের মেলামেশার অন্যতম মাধ্যম খেলা। এই ক্যাম্পে গত বছরের মার্চ মাসে এসেছেন ২২ বছরের সিরীয় ইমান আল বোহতরি। তিনিও খেলাধুলা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছেন। মেলিসা এখন ভাস্কর্য তৈরির কাজ শিখছেন। আলু খোদাই করে তিনি বিভিন্ন পুতুল বানান। মার্সি কর্পসে জীবনকে অনেকটাই উপভোগ করছেন বোহতরি। সেখানে তিনি গিটার বাজান। দুই সন্তানের সিরীয় মা জোজেন ডাউড বলেন, ‘মার্সি কর্পসে বিভিন্ন কাজের মধ্য দিয়ে আমরা অনেকটাই আরামে আর আনন্দে থাকি। ক্লাসে আমরা অনেক আরামে আর স্বস্তিতে থাকি। যদিও বসবাসের জন্য গ্রিস কখনোই আমার প্রথম পছন্দের দেশ ছিল না। তারপরও এখানে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। এখানেই থাকা, এখানকার ভাষা শেখা ও চাকরির চেষ্টা করছি।’

হাজারীবাগে ট্যানারি অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ বহাল

রাজধানীর হাজারীবাগে থাকা চলমান সব ট্যানারি কারখানা অবিলম্বে বন্ধ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেওয়া আদেশ বহাল রয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া এ আদেশ সংশোধন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। ৬ মার্চ হাইকোর্টের একই বেঞ্চ অবিলম্বে হাজারীবাগে থাকা চলমান সব ট্যানারি কারখানা বন্ধ করতে ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ আদেশ সংশোধন চেয়ে আগামী ঈদুল আজহা পর্যন্ত সময় চেয়ে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফিনিশ লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন গত সপ্তাহে হাইকোর্টে আবেদন করে। দুই দিন উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। ৬ মার্চের আদেশের পর ট্যানারি মালিকদের পক্ষে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগেও আবেদন করা হয়। পরে তা খারিজ হয়। আদালতে ট্যানারি মালিকদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ ফজলে নূর তাপস ও মো. মেহেদী হাসান চৌধুরী। বেলার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও সাঈদ আহমেদ কবীর। শিল্প সচিবের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রইস উদ্দিন আহমদ। পরে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আজকের আদেশের ফলে আবেদন খারিজ হওয়ায় হাজারীবাগে সব ট্যানারি কারখানা অবিলম্বে বন্ধ ও গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেওয়া আদেশ বহাল থাকল। ১৯৯৪ সালে বেলার করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০১ সালে ‘লাল’ শ্রেণিভুক্ত সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের মধ্যে পরিবেশ দূষণরোধে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। এ আদেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বেলার করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ২৩ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের জন্য সরকার পক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
বেলার তথ্য অনুসারে, আদালত সর্বশেষ ২০১০ সালের ৩০ অক্টোবর ৬ মাসের জন্য সময় বর্ধিত করেন। পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয় আরও দুই বার ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের নির্মাণ সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও আদালত সময় বাড়ানোর কোনো নির্দেশ দেননি। এরপরও হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানো না হওয়ায় গত ১৬ জুন হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ সাভারে না সরানো পর্যন্ত ১৫৪টি ট্যানারি শিল্পকারখানার মালিকদের প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই অর্থ ঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না সময়-সময়ে তা তদারকি করে শিল্প সচিবকে নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়। এর বিরুদ্ধে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন আপিল বিভাগে আবেদন করলে গত ১৮ জুলাই আপিল বিভাগ হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত মালিকদের রোজ ১০ হাজার টাকা করে জমা দিতে বলেন। এরপর ক্ষতিপূরণ আদায়ের ওই নির্দেশনা সঠিকভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে না জানিয়ে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট শিল্প সচিব তলব করেন। শিল্পসচিব হাইকোর্টে প্রতিবেদন দেন। আইনজীবীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ওখানে ১৫৪টি কারাখানার গত আগস্ট থেকে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকে​য়া পড়েছে ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। শুনানি নিয়ে ২ মার্চ হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ বকেয়া ৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করতে ট্যানারি মালিকদের নির্দেশ দেন। এর আগে হাজারীবাগ থেকে ১৫৪টি ট্যানারিকে সাভারের পরিকল্পিত চামড়াশিল্প নগরে সরিয়ে নিতে ২০০৩ সালে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। তবে নানা কারণে ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও ট্যানারি সাভারে নেওয়া শেষ করা যায়নি। গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ট্যানারিগুলোকে সাভারে যাওয়ার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।এরপর ট্যানারি সরাতে আরও তিন মাস সময় বাড়ানো হয় বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে আসে।

আতিয়া মহলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের অপেক্ষায় পুলিশ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। গতকাল অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে সেনাবাহিনী পুলিশের কাছে বাড়িটি বুঝিয়ে দিলেও এখনো পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেনি। পুলিশ জানায়, আজ ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পৌঁছানোর পর তারা সেখানে কাজ শুরু করবে। ওই বাড়ির ভেতরে আরও বিস্ফোরক আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। থাকলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। এর পরে তারা নিরাপদ ঘোষণা করলে, পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা বাড়ির ভেতর ঢুকবে। আজ বুধবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকনউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এসে কাজ করবে। তারপর অন্যরা কাজ করবে। মোগলা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, আতিয়া মহলের ভেতরে এখনো নিহত দুই জঙ্গির লাশ রয়েছে।
এর আগে সোমবার যে দুজন জঙ্গির লাশ বের করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে থাকা এক নারী জঙ্গির পরিবারের সদস্য দাবিদার লোকজন আজ এসেছে শনাক্ত করতে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা এই বাড়ির নিচতলায় জঙ্গি থাকার খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। গত শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত গিয়ে অভিযানে অংশ নেয়। এরপর গত শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এ অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত এবং আরও ৪৪ জন আহত হন।

চলে গেলেন ম্যান্ডেলার সহযোগী কাথরাদা

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তিপ্রতিম নেতা প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার সহযোগী আহমেদ কাথরাদা গতকাল মঙ্গলবার মারা গেছেন। নেলসন ম্যান্ডেলা কুখ্যাত রোবেন দ্বীপের যে কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দী ছিলেন, সেখানে কাথরাদাও ১৮ বছর আটক ছিলেন। ম্যান্ডেলার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) নেতা আহমেদ কাথরাদার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার একজন কড়া সমালোচক ছিলেন। দেশটির বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু সরকারের শাসনামলে কাথরাদা দীর্ঘ মোট ২৬ বছর কারাগারে কাটান। জনপ্রিয় এই নেতা ‘আংকল ক্যাথি’ নামেও পরিচিত ছিলেন। কাথরাদার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে এই মাসের শুরুতে জোহানেসবার্গের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় কাথরাদার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। স্থানীয় সময় গতকাল ভোর ছয়টায় তাঁর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করে ফাউন্ডেশন। প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা জানান, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কাথরাদাকে শেষবিদায় জানানো হবে। এর আগ পর্যন্ত তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার শান্তিতে নোবেলজয়ী ধর্মযাজক ডেসমন্ড টুটু বলেন, 
দেশটির দীর্ঘ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাথরাদা দারুণ সহায়তা করেছেন। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন টুটু। কাথরাদার মা-বাবা ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের সুইজার-রেনেক শহরে ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ১২ বছর বয়সে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন কাথরাদা। তখন তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণ কমিউনিস্ট লীগের কর্মী হিসেবে প্রচারপত্র বিলি করতেন। ১৯৬৪ সালে ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবাদবিরোধী শীর্ষস্থানীয় সাতজন নেতার সঙ্গে কাথরাদাও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। রোবেন দ্বীপের কারাগারে ১৮ বছর ছিলেন তিনি। পরে ১৯৮২ সালে তাঁকে পোলসমোর কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ১৯৮৯ সালে তিনি মুক্তি পান। বেশ কিছু কেলেঙ্কারির কারণে জ্যাকব জুমার সমালোচনা করে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে কাথরাদা তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জিন্নাহর বাড়ি ভাঙার দাবি বিজেপির বিধায়কের

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের মুম্বাইয়ে থাকা পাকিস্তানের জাতির জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর বাসভবন ভেঙে ফেলার দাবি তুলেছেন রাজ্য বিজেপির এক বিধায়ক। বিধানসভায় গত সোমবার এই দাবি তুলে বিধায়ক মঙ্গলপ্রভাত লোঢা বলেন, বাড়িটি ভেঙে সেখানে একটি সংস্কৃতিকেন্দ্র গড়া উচিত, যেখানে ভারতের ইতিহাস-ঐতিহ্য স্থান পাবে। ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ রাজ্যসভা ও লোকসভায় সম্প্রতি পাস হয় শত্রু সম্পত্তি (সংশোধনী) বিল ২০১৬। এই আইন অনুযায়ী দেশভাগের সময় পাকিস্তান ও চীনে চলে যাওয়া নাগরিকদের বংশধরেরা ভারতে ফেলে যাওয়া সম্পত্তিতে কোনো অধিকার দাবি করতে পারবেন না। ওই আইনের কথা উল্লেখ করে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক মঙ্গলপ্রভাত লোঢা দাবি করেন, জিন্নাহর কোনো বংশধর এই প্রাসাদোপম বাড়ি দাবি করতে পারবেন না।
ওই বাড়িতেই ‘দেশভাগের চক্রান্ত’ হয়েছিল মন্তব্য করে তিনি সেটি ভেঙে সেখানে একটি সংস্কৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন। বিধায়কের পরামর্শ, সেই কেন্দ্রে থাকবে মহারাষ্ট্রের গৌরবগাথা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগুলোর নিদর্শন। তুলে ধরা হবে ভারতের ইতিহাসও। ১৯৩০ সালে দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মালাবার হিলসে আড়াই একর জায়গাজুড়ে তৈরি করা হয় বিশাল বাড়িটি। ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনারের বাসভবন হিসেবেও কয়েক দশক ব্যবহার করা হয় এটি। ১৯৮২ সালের পর থেকে বাড়িটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ২০০৭ সালে জিন্নাহর মেয়ে দিনা ওয়াদিয়া বাড়িটির মালিকানা দাবি করে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এখন এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে পূর্ত দপ্তর।

সাক্কু না সীমা?

বুধবার রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার সকালে ভোট। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দুই লাখ সাত হাজার ভোটার তাঁদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেবেন। মেয়র পদে চারজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের আঞ্জুম সুলতানা সীমা ও বিএনপির মনিরুল হক সাক্কুর মধ্যে। নারায়ণগঞ্জের পর কুমিল্লায় ফের নৌকা ও ধানের শীষের লড়াই। নারায়ণগঞ্জর মানুষ নৌকাকে বেছে নিয়েছিলেন। সেখানে আওয়ামী লীগারদের ভাষায় তাঁদের ম্যারাডোনা ছিলেন। এখানে কোনো দলে ম্যারাডোনা বা মেসি নেই। লড়াই হবে সমানে সমান। সে ক্ষেত্রে কুমিল্লাবাসী কাকে বেছে নেবেন? সেখানে যিনি পাঁচ বছর ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন, সেই মনিরুল হক সাক্কু, না কুমিল্লা সিটির প্রথম নারী প্রার্থী সীমা? রায়ের জন্য আমাদের কাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। নির্বাচনের আগে সবখানেই মোটামুটি উদ্বেগ-উত্তেজনা থাকে। প্রথম উদ্বেগ হলো নির্বাচনটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে কি না? ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না? কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনের এটি প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। অনেকের মতে, এটি নির্বাচন কমিশনের জন্য যেমন প্রথম পরীক্ষা, তেমনি আগামী জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে, তারও পূর্বাভাস। অন্য অনেক নির্বাচনের মতো এই নির্বাচন নিয়েও কম নাটকীয়তা হয়নি। প্রথম দিকে বিএনপি নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে দলীয় লোক বলে মানতেই চায়নি। কিন্তু কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে তাদের কথাবার্তায় আস্থার মনোভাবই প্রকাশিত হচ্ছে। সাধারণত, নির্বাচনের আগে বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধ নানা অভিযোগ উত্থাপন করে থাকে আর সরকারি দল সেটি নাকচ করে দেয়। কিন্তু কুমিল্লায় তার ব্যতিক্রমটিই লক্ষ করলাম। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধিদল সিইসি কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছে এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতার নামে আওয়ামী লীগের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছে বলে দাবি করেছে। তবে এইচ টি ইমাম তা সত্ত্বেও কমিশনকে সহায়তার করার কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে আওয়ামী লীগের ওপর নির্বাচন কমিশন নিষ্ঠুর আচরণ করবে—এটি কি বিশ্বাসযোগ্য? তাঁর এই মন্তব্য কিসের ইঙ্গিত, সে নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছে। অনেকে এটিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি বলেও মনে করেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার কথা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের কাজে সন্তুষ্ট নন। কমিশনের কাজ তার ওপর অর্পিত দায়িত্বটি পালন করা। কাউকে খুশি বা অখুশি করা নয়। যাক, দুই দলের আগাম মন্তব্য নিয়ে কুমিল্লার ভোটারদের চিন্তাভাবনার সময় আছে বলে মনে হয় না। তাঁরা ইতিমধ্যে মনস্থির করে ফেলেছেন, কে কোথায় ভোট দেবেন। এখন প্রশ্ন হলো, সেই কাজটি ভোটাররা নির্বিঘ্নে করতে পারবেন কি না। নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গ তাঁদের এই নিশ্চয়তা দিতে পারবেন কি না যে তাঁরা প্রত্যেকে পছন্দসই প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরে আসতে পারবেন। নির্বাচনের আগে-পরে কিংবা নির্বাচনের সময় তাঁদের কেউ ভয়ভীতি দেখাবে না। আজ বুধবার প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই দলেই উৎকণ্ঠা আছে। আওয়ামী লীগের উৎকণ্ঠা দলের অনৈক্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী এক নেতার অবস্থান নড়চড় হয় কি না, তা নিয়ে। আর বিএনপির উৎকণ্ঠা জাল ভোট, ভোটের দিন অদৃশ্যে প্রশাসনের ভূমিকা কী হয়, তা নিয়ে। দুই পক্ষের শঙ্কা ও উদ্বেগ দূর করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনেরই। আর রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর দায়িত্ব হলো ভোটের পরিবেশটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখা। কুমিল্লার ভোটের লড়াইয়ে যেই প্রার্থীই জয়ী হোন না কেন, নির্বাচনটি যেন পরাজিত না হয়।

প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে দিল্লির প্রস্তুতি নেই

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় ভারতের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা এবং গত সপ্তাহে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী চ্যাং ওয়াংকুয়ানের শ্রীলঙ্কা ও নেপাল সফরের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, ভারতের আশপাশে প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন হালচাল শুরু হয়েছে। ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতও এ সপ্তাহে বাংলাদেশ ও নেপাল সফরে যাচ্ছেন। কেউ এটাকে প্রতিবেশী দেশে রুটিন সফর ভাবতে পারেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে প্রতিরক্ষা বন্দোবস্ত আনুষ্ঠানিক রূপ পায়নি। এখন এটি হতে যাচ্ছে এমন সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকার গণমাধ্যমে বেশ উদ্বিগ্ন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার কেউ কেউ ভাবছেন, বাংলাদেশে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির রাশ টেনে ধরতেই নয়াদিল্লি এই চুক্তি করতে চাইছে। চীনের কাছ থেকে বাংলাদেশের দুটি সাবমেরিন কেনার ব্যাপারটিও এর মধ্যে আছে। আবার অন্যদের উদ্বেগ, ঢাকা দিল্লির একটু বেশি কাছে চলে যাচ্ছে। জেনারেল চ্যাংয়ের শ্রীলঙ্কা ও নেপাল সফরের প্রাক্কালে চীনা সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস-এ দিল্লিকে সতর্ক করা হয়, তারা যেন ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে বেইজিংয়ের কৌশলগত সহযোগিতায় নাক না গলায়। তারা অভিযোগ করে, দিল্লি ‘দক্ষিণ এশিয়া ও ভারত মহাসাগরকে পেছন-উঠান’ মনে করছে। ভারত যদি ‘চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে চায়’, তাহলে ‘বেইজিংকে পাল্টা লড়াই করতে হবে, কারণ এতে তার মূল স্বার্থ লঙ্ঘিত হবে’। গ্লোবাল টাইমস এমনিতে বেশ স্পষ্টভাষী, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদের এই বক্তব্য খুবই কড়া। এখানে কী হচ্ছে? ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে চীনের নিরাপত্তা সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে ভারতের নিরাপত্তা মহলের বহুদিনের উদ্বেগ। এই সহযোগিতার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি স্থানান্তরের মতো বিশেষ ব্যাপারও রয়েছে। আজ আমরা দেখছি, চীনের প্রতিরক্ষা বন্দোবস্ত পাকিস্তান ছাড়িয়ে ভৌগোলিকভাবে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। চীনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ব্যাপারটা এত দূর চলে গেছে যে, তারা এই অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটিও করতে পারে। কলম্বো ও হাম্বানটোটায় চীনের বন্দর নির্মাণের যে কৌশলগত মাত্রা আছে, সেটা কিন্তু শ্রীলঙ্কার পানিতে চীনা সাবমেরিনের ভুস করে মাথা তোলার মধ্য দিয়েই বোঝা গিয়েছিল। আফ্রিকার জিবুতিতে চীনের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের করাচি বন্দর ও গাদারে চীনা নৌবাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি আছে, যেটা অদূর ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনায় রূপান্তরিত হতে পারে। গ্লোবাল টাইমস নয়াদিল্লিকে উপদেশ দিয়েছে, ভারতের প্রতিবেশীদের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ব্যাপারটি দিল্লিকে মেনে নিতে হবে। ‘এসব দেশে বেশি বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান শিকড় গাড়তে শুরু করলে চীন অনিবার্যভাবেই তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করবে। শুধু চীনের নয়, এই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষার্থেও তাদের এটা করতে হবে।’ ভারত দেরিতে হলেও এই ব্যাপারটা আমলে নিতে শুরু করেছে। দিল্লি এখন বুঝতে পারছে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত সহায়তা বাড়তে থাকলে এর কৌশলগত রূপও দেখা যাবে, যার মধ্যে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারিও থাকতে পারে। ইউপিএ সরকার চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পকে আপত্তিসহকারে মেনে নিলেও নরেন্দ্র মোদির সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর সম্পর্কেও সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছে।
ভারত আন্তসীমান্ত যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা কূটনীতিও জোরদার করেছে। এতে যে বেইজিং ও দিল্লির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বাড়বে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং ভারত যে উপমহাদেশে চীনের ক্ষমতা বিস্তারের ব্যাপারে এত দিন পরে কার্যকরভাবে সাড়া দিল, সেটাই বরং বিস্ময়ের ব্যাপার। পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের বহুদিনের সামরিক সম্পর্ক এবং দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান হারে চীনের অস্ত্র বিক্রিকে ভারত এত দিন ভালোভাবে না নিলেও তারা আশপাশের দেশগুলোতে চীনের কৌশলগত প্রভাব বৃদ্ধির ব্যাপারে একেবারেই অপ্রস্তুত ছিল। দিল্লি অনেক দিন থেকেই উপমহাদেশে নিজের স্বাভাবিক শক্তি সম্পর্কে আত্মসন্তুষ্ট ছিল। স্বাধীনতার পর ভারত তার আশপাশে পশ্চিমা, বিশেষ করে ইঙ্গ-মার্কিন সামরিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ১৯৮০ সালে আফগানিস্তান দখল করে নেয়, তখন সে খুবই সতর্কতার সঙ্গে ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করেছে। কিন্তু বহুদূরের যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত প্রভাব আজ ২১ শতকে ক্ষয়ে যাচ্ছে, এখন চীনের সামরিক শক্তি ভারতকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানির কথা বলেছেন, কিন্তু তিনি এখনো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলস্য দূর করাতে পারেননি। এমনকি তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রতিরক্ষা কূটনীতির ব্যাপারটা গ্রহণ করাতে পারেননি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক বাহিনী বারবার অনুনয়-বিনয় করা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যাপক পরিসরে সামরিক বিনিময় করতে পারেনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের এ-বিষয়ক বর্তমান মনোভঙ্গি না বদলালে ‘ভারতীয় আঞ্চলিক আধিপত্য’ ও ‘উপমহাদেশের কৌশলগত একতা’ নিয়ে দিল্লির বাগাড়ম্বর দূর করতে বেইজিংয়ের তেমন একটা বেগ পেতে হবে না।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে নেওয়া।
সি রাজা মোহন: ভারতীয় কলামিস্ট।

পোশাক খাতের বাইরের শ্রমিকদের অধিকার কম গুরুত্ব পাচ্ছে

তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের অধিকার এবং কর্মপরিবেশ এ দেশে যতটা গুরুত্ব পায়, অন্য খাতের বেলায় তা ততটা গুরুত্ব পায় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তাই শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্য খাতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ‘প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক যোগসূত্র ও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গতকাল মঙ্গলবার এসব কথা বলেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স (বিআইজিডি) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় তিনটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বহুজাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান র‌্যান্ড, বিআইডিএস, বিআইজিডি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এসব গবেষণা করেন। কর্মশালায় র‌্যান্ডের গবেষক কৃষ্ণ কুমার ও শান্তি নটরাজ দুটি এবং বিআইডিএসের গবেষক মিনহাজ মাহমুদ একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত ছাড়াও এসব গবেষণার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই হাজার শ্রমিকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্প হওয়ায় পোশাকশিল্পের শ্রমনীতি ও কর্মপরিবেশ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু পোশাকশিল্পের বাইরে বাংলাদেশে যে বিরাট একটি অর্থনীতি, সেখানে শ্রমিকেরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে, সেটার দিকে সেভাবে নজর দেওয়া হয় না। নীতিগতভাবে শুধু পোশাক খাতের দিকে না তাকিয়ে সব খাতের শ্রমিকদের দিকে তাকাতে হবে। কর্মশালায় উপস্থাপিত প্রথম প্রবন্ধের বিষয়বস্তু ছিল প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ভূমিকা। প্রবন্ধে বলা হয়, গত দুই দশকে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি বৃদ্ধির সঙ্গে এ খাতের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—দুই খাতেই কর্মসংস্থান বেড়েছে। একই সঙ্গে স্ব-উদ্যোগে তৈরি কর্মসংস্থানও বেড়েছে।
অর্থাৎ একটি শিল্প খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিতীয় প্রবন্ধে বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান গত কয়েক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তারপরও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিক খাতের কাজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি। অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজের পরিমাণ কেন বাংলাদেশে বেশি, সেটির কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে গবেষণায়। সবশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলা হয়, বাংলাদেশে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে যেসব শ্রমিক কাজ করেন, তাঁদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়মের মধ্যে আনা গেলে তা শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশের বিষয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে ধরনের শ্রমনীতি মেনে চলা প্রয়োজন, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না। সে অর্থে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতিই এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক। বিআইডিএসের মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ ও বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমান যৌথভাবে কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন। প্রবন্ধের ওপর নিজেদের মতামত তুলে ধরে বক্তব্য দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদ জহির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সেলিম রায়হান, বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক কাজী আলি তৌফিক, জ্যেষ্ঠ গবেষক নাজনীন আহমেদ প্রমুখ।

রিজার্ভের অর্থ ফিরে পেতে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী



যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (নিউইয়র্ক ফেড) থেকে চুরি যাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আবারও আশাবাদ ব্যক্ত করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, অর্থ এখনো ফিলিপাইনে রয়ে গেছে, তাই ফিরিয়ে আনা যাবে। ফিলিপাইনসহ কেউই এ বিষয়ে অসহযোগিতা করছে না। গতকাল মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এর আগে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের জব্দ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার ও আইটি সরঞ্জাম ফেরত বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, গভর্নর ফজলে কবির, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহিদুল হক, অর্থসচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুনসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত হিসাব থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনে। ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) হয়ে ক্যাসিনোর মাধ্যমে তা চলে যায় একাধিক ব্যক্তির কাছে। আর দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায়। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের সিংহভাগই এখনো ফেরত আসেনি।

দক্ষিণ চীন সাগরে এবার যুদ্ধ বিমান মোতায়েন চীন

দক্ষিণ চীন সাগরে তৈরি কৃত্রিম দ্বীপে সামরিক প্রস্তুতি শেষ করতে চলেছে চীন এবং যেকোনো সময়ে যুদ্ধ বিমান মোতায়েন করতে পারে তারা৷ সোমবার একটি বিবৃতিতে এমনই জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন৷ ওয়াশিংটন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশানল স্টাডিজের অন্তর্গত দি এশিয়া মেরিটাইম ট্রান্সপারেন্সি ইনিসিয়েটিভ জানিয়েছে, কৃত্রিম দ্বীপগুলোতে সম্পূর্ণ হয়েছে নৌ ও বিমান সুরক্ষা৷ এছাড়া বসেছে রাডার ও ডিফেন্স প্রযুক্তি৷ যদিও আমেরিকার আনা এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন৷ তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে নেভিগেশন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতেই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তারা৷ একদিকে যখন সম্পদে পরিপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকার নিয়ে মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আদায় কাঁচ কলায়৷
তখন দক্ষিণ চীন সাগরে গভীর থেকে নজরদারি চালানোর চীনের এই পদক্ষেপ ঝামেলা আরো চূড়ান্ত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে৷ যদিও চীনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্লাটফর্মের নির্দিষ্ট পজিশনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি৷অনেক দিন ধরে দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের অধিকার ধরে রাখতে চাইছে চীন৷ এ জন্য নানা ধরনের পদক্ষেপও নিয়েছে তারা৷ কখনো কৃত্রিম যুদ্ধ বিমান ঘাঁটি বানিয়ে, কখনো বা সেনা মহড়া চালিয়ে সেই এলাকা নিজেদের দখলে রাখতে চাচ্ছে চীনারা৷ কারণ একটাই ওই অঞ্চলে সমুদ্রের তলায় থাকা খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল সম্ভারকে নিজেদের হস্তগত করা৷ দক্ষিণ চীন সাগরে শুধুমাত্র চীনের নয় ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই এবং তাইওয়ানেরও অধিকার রয়েছে বলে দেশগুলো দাবি করে থাকে৷ অন্যদিকে পূর্ব চীন সাগরে অবস্থিত দ্বীপগুলির উপরে অধিকার দাবি করছে জাপান৷

ভিয়েতনামে মালবাহী জাহাজ ডুবি : নিখোঁজ ৯

ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় বা রাইয়া-ভুং তাউ প্রদেশের ভুং তাউ নগরীর উপকূলে মঙ্গলবার একটি স্থানীয় মালবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। এতে জাহাজের নয় ক্রু নিখোঁজ হয়েছে। বুধবার প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে।
হাই থান ২৬ নামের তিন হাজার টন ওজনের জাহাজটির সঙ্গে অপর একটি মালবাহী জাহাজের সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নগরীর উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ ন্যটিক্যাল মাইল পূর্বে এ সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার পর দুই ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকাল নাগাদ উদ্ধার কর্মীরা নিখোঁজ নয় ক্রুর সন্ধানে তল্লাশী চালিয়ে যাচ্ছে।

সৌদি আরবে তৈরি হচ্ছে চিকিৎসা নগরী

রিয়াদে একটি চিকিৎসা নগরী তৈরির ব্যাপারে সোমবার সৌদি আরব ও জর্দানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেখানে রোগী ও চিকিৎসকদের জন্য চিকিৎসা ও বাসস্থানের সুব্যবস্থা থাকবে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের পক্ষ থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী খালেদ আল-জাওহার জানান, গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি)-এর সদস্য রাষ্ট্রসমূহের চিকিৎসা সেবা বিশেষত শারীরিক অসুস্থতার চিকিৎসার ব্যাপক চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১২ লাখ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে এই চিকিৎসা নগরী নির্মিত হবে। এর প্রাক্কালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ মার্কিন ডলার। আল-জাওহার বলেন, ‘এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আরো তিন হাজারের বেশি কর্মসংস্থান হবে ও বছরে এক লাখ ৭০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় তিনটি হাসপাতাল হবে। হাসপাতালগুলোকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
এখানে ১ হাজার ১শ’ শয্যা থাকবে। এছাড়াও হাসপাতাল কম্পাউন্ডের ভেতরে হোটেল থাকবে। সেখানে রোগী ও তার সঙ্গে আসা বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা থাকবে।’ এই প্রকল্পটি সৌদি সরকারের রূপকল্প ২০৩০ এর একটি অংশ। কারণ দেশটির সরকার দেশের স্বাস্থ্য সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। মঙ্গলবার প্রাইভেট হসপিটালস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ডা: ফওজি আল-হামোউরি বলেন, ‘এই চিকিৎসা কমপ্লেক্সে সৌদি নাগরিক ও বিদেশী রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে। এছাড়াও এখানে সৌদি তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’ কমপ্লেক্সটিতে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য থেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য ৬শ’ শয্যা রাখা হবে। ২৫০টি শয্যা জনস্বাস্থ্য সেবা ও অন্যান্য রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে। কমপ্লেক্সটির ৫৬টি ভবনে ১২০টি শয্যাবিশিষ্ট একটি হোটেল ও ১২টি স্যুট, ২২৩টি পর্যটন ভিলা, ১৫২টি হোটেল ভিলা, ৪৪৮টি অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও এখানে একটি বাণিজ্যিক মল, বিনোদন কেন্দ্র ও ব্যয়ামাগার, বাগান ও মসজিদ থাকবে।

ব্রেক্সিট শুরুর চিঠিতে স্বাক্ষর করলেন থেরেসা মে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিদায় বা ব্রেক্সিটের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ইইউ-র উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। চিঠিটি আগামী বুধবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্কের কাছে হস্তান্তর করা হবে। থেরেসা মে-র স্বাক্ষরিত চিঠিটি ডোনাল্ড টাস্কের কাছে হস্তান্তর করার পরই শুরু হবে এই বিচ্ছেদের শর্তাবলী নিয়ে দুই বছরব্যাপী দেনদরবার। লিসবন চুক্তির পঞ্চদশ অনুচ্ছেদের অধীনে ইইউ কর্মকর্তাদের এই চিঠিটি দেয়া হবে। মিসেস মে. আজ স্থানীয় সময় সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমপিদের উদ্দেশে একটি বিবৃতি দেবেন, যেখানে তিনি তাদের অবহিত করবেন যে, ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিদায়ের সময় গণনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি আলোচনার সময় যুক্তরাজ্যের প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবেন, যাদের মধ্যে ব্রিটেনে বসবাসরত ইইউ নাগরিকরাও রয়েছেন।
ব্রেক্সিটের ফলে তাদের ভাগ্যে কী হবে সেটি এখনো অনিশ্চিত। গতবছরের জুনে এক গণভোটে ব্রিটেনের ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় ব্রিটিশ নাগরিকরা। মিসেস মে তার বক্তব্যে ব্রেক্সিট ঘিরে যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে তা থেকে উত্তরণের বিষয়েও কথা বলবেন। এদিকে বিরোধীদল লেবারের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তার দল সম্মান করে, তবে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকেই তারা নজর রাখবে। পঞ্চদশ অনুচ্ছেদ দুই পক্ষকেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই বছর সময় দেবে। যদি দুই পক্ষই সময় বাড়াতে সম্মত না হয়, তবে ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ ইইউ থেকে বিদায় নেবে যুক্তরাজ্য।
সূত্র: বিবিসি

সিরিয়ায় অবরুদ্ধ ৪ এলাকা থেকে লোকজনকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে চুক্তি

সিরিয়ার অবরুদ্ধ চার এলাকা থেকে লোকজনকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে একটি চুক্তি হয়েছে। মানবাধিকার বিষয়ক যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সিরীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও কাতারের মধ্যস্থতায় করা এ চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সরকার নিয়ন্ত্রিত দুটি গ্রাম ফোয়াহ ও কাফ্রায়ার বাসিন্দারা বাসে করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসবে। এর বিনিময়ে দামেস্কের উপকণ্ঠের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দু’টি এলাকা মাদায়া ও জাবাদানির লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হবে। উল্লেখ্য, সিরিয়ার অবরুদ্ধ এ চারটি এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার লোক বাস করে। লোকজনকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই এ চুক্তির ব্যাপারে উভয় পক্ষ সম্মত হয়।
মঙ্গলবার রাত থেকে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় এসব এলাকা থেকে লোকজনকে চলে যাওয়ার সুযোগ দিতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিন মাস আগে ফোয়াহ ও কাফ্রায়া থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার আগের প্রচেষ্টা বিদ্রোহীরা বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ভন্ডুল করে দেয়। গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি সতর্ক করে দিয়ে জানায়, অবরুদ্ধ এলাকাগুলোর পরিস্থিতি ‘খুবই ভয়ংকর।’ মানবাধিকার কর্মীরা জানান, সেখানে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষধের অভাবে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু হচ্ছে।

ভারতে বিজেপি-শাসিত আরো ৪ রাজ্যে গোশতের দোকানে নিষেধাজ্ঞা

ভারতে উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ডের পর ৪ বিজেপি-শাসিত আরো ৪ রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বেআইনি কসাইখানার উপর। একইপথ অনুসরণ করতে চলেছে রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশ সরকার। শনিবার হরিদ্বারে ৩টি, রায়পুরে ১১টি ও ইন্দোরে একটি গোশতের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জয়পুর পৌরসভা নির্দেশ দিয়েছে, এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত বেআইনি কসাইখানা বন্ধ করতে হবে। তার জেরে বন্ধ হওয়ার মুখে ৪,০০০ বেআইনি গোশতের দোকানে। এই ৪,০০০ দোকানের মধ্যে ৯৫০টি বৈধ বলে গোশতবিক্রেতারা দাবি করলেও গত বছর ৩১ মার্চের পর আর তাদের লাইসেন্স রিনিউ করেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভাটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন,
পৌরসভা লাইসেন্স রিনিউকরণের ফি ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করে দেওয়ায় অনেকে আর তা করাননি। হরিদ্বারে অভিযান চালিয়ে দেখা গেছে, ৬টি গোশতের দোকানের মধ্যে মাত্র ৩টির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। ছত্তিশগড়ের রায়পুরে ১১টি বেআইনি গোশতের দোকানকে ৩ দিনের মধ্যে ঝাঁপ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করা না হলে দোকানগুলো সিল করে দেওয়া হবে। গোশতবিক্রেতারা বর্জ্য রাস্তার ধারে ফেলে পরিবেশে দূষণ ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। নিয়ম ভাঙায় ইন্দোরেও একটি গোশতের দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

সাঁতার না জানলে মিলবে না বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি

চীনের অন্যতম নামী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীদের বলা হয়েছে, স্নাতক ডিগ্রি পেতে হলে তাদেরকে অবশ্যই আগে সাঁতার শিখতে হবে। শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় ‘প্রাচ্যের হার্ভার্ড’। তাদের গ্রাজুয়েট ডিগ্রির সাথে সাঁতার শেখাকে এভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বলেছেন, যে দেশ এখন খরা মোকাবিলা করছে - সেখানে এ পদক্ষেপের যুক্তি কি? একজনের প্রশ্ন ছিল, চীনে যে এলাকায় নদী বা সাগর নেই সেখানকার ছাত্রদের তাহলে কি হবে?
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে বলছে, সাঁতার একটি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা, এটা শারীরিক ফিটনেস বাড়ায়। তা ছাড়া দেশের সেরা মাথাওয়ালা যারা - তাদেরকে সুইমিং পুলেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রির জন্য সাঁতারকে একটি পূর্বশর্ত করা হয়েছিল অনেক আগে - ১৯১৯ সালে। কিন্তু পরে এটা আবার বাদ দেয়া হয়েছিল - যার একটা কারণ ছিল বেইজিং-এ সুইমিং পুলের অভাব। কিন্তু সোমবার প্রকাশিত নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, নতুন ছাত্রদের যে কোন ধরনের সাঁতারে অন্তত ৫০ মিটার পার হবার দক্ষতা থাকতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় যদি কেউ সাঁতার না জানে, তাহলে তাকে স্নাতক ডিগ্রি পাবার আগেই তা শিখে নিতে হবে।
সূত্র : বিবিসি

ঝিকরগাছায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে চলছে হাজারো যান

আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বেনাপোল-যশোর সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মহাসড়কের ঝিকরগাছা বাজারে কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সেতুটি বয়স এখন ১১০ বছর। সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে হাজারও যানবহন। শতবর্ষী এই সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে বড় ধরনের বিপর্যয়ের হতে পারে। এই সেতু দিয়ে বেনাপোল ও ভোমরা বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানিকৃত পণ্যবোঝাই হাজারো ট্রাক রাত-দিন চলাচল করছে। সেতুটি এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে সামান্য সমস্যা হলেই বন্ধ হয়ে যাবে দুই দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। এছাড়া সড়কের ঝিকরগাছা কপোতাক্ষ সেতুর দুই পাশসহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানা-খন্দক সৃষ্টি হওয়ায় প্রায়ই গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকে। ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯০৭ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ১১৯ মিটার এই সেতুটি নির্মাণ করে। তবে স্বাধীনতা যুদ্ধোর সময় সেতুর মধ্যভাগ বোমা মেরে উড়িয়ে দেয় পাকিন্তানি বাহিনী। পরে তা মেরামত করা হয় বলে জানা গেছে। এই সেতু ওপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিকৃত পণ্যবোঝাই কয়েকশ’ ট্রাক। এছাড়া বেনাপোল ও সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে যশোর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহগামী বাস চলাচল করে থাকে এই সেতু দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি অনেক দিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোনো সমস্যা আছে বলে খালি চোখে মনে হয় না।
কারণ দৃশ্যমান ফাটল, পলেস্তরা উঠে যাওয়া প্রভৃতি কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামত করে। সেতুটিতে ফাটল দেখা গেলে উপরিভাগ কার্পেটিং করে দেওয়া হয়। কিন্তু এর দুই পাশের রেলিং ভেঙ্গে গেছে। যানবাহন চললে সেতুটি কাঁপতে থাকে। সেতুর কোনো কোনো স্থান দেবে গেছে। যে কারণে সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে মানুষ ও যানবাহনকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছর তিনেক আগে বিশেষজ্ঞরা জরিপ করে সেতুটি পুনঃ নির্মাণের জন্য মতামত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সুপারিশ আজো বাস্তবায়ন হয়নি। ঝিকরগাছার বাজারের ব্যাবসায়ী জুয়েল জানান, সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে এই সেতুতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, সীমাখালী ব্রিজের মতো যদি এটি ভেঙ্গে পড়ে তাহলে বন্ধ হয়ে যাবে দুই দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। সড়ক ও জনপথ বিভাগ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখানে আমি নতুন এসেছি¬¬।’ তবে ঝিকরগাছার সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য কোনো প্রস্তাব আসেনি বলে জানান তিনি।

১০-১১ জন আছেন দুই বাড়িতে?

মৌলভীবাজারে উগ্রবাদীদের অবস্থানের সন্দেহে দুটি বাড়িকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। মৌলভীবাজার জেলার সদর এলাকার বরহাট এবং শহর থেকে কিছুটা দূরে ফতেহপুর গ্রামে দুটো বাড়িকে এখন ঘিরে রেখেছে পুলিশ। মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মোঃ শাহ জালাল বিবিসি বাংলাকে টেলিফোনে বলেন, দুটি বাড়ির মালিক একই ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনপ্রবাসী। দুটি বাড়িতে যারা অবস্থান করছে তাদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন। দুটি বাড়ি মিলিয়ে কতজন বাসিন্দা রয়েছেন তা নিশ্চিত না হলেও, দশ-এগারোজন বলে মনে করা হচ্ছে। 'দুই মাস আগে বাড়িটিতে ওঠে ভাড়াটিয়ারা' মৌলভীবাজার মূল শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে খলিলপুর ইউনিয়নে ফতেহপুর গ্রামের একতলা টিনের চালা দেয়া বাড়িটি চার দিকে ইটের দেয়াল দিয়ে ঘেরা। খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অরবিন্দ পোদ্দার বাচ্চু জানান, এই বাড়িটিতে দুই মাস ধরে ভাড়াটিয়ারা এসেছে। প্রতিবেশীর বর্ণনায় কেমন বাসিন্দারা? ফতেহপুর গ্রামের ওই বাড়িটির দুটি বাড়ি পরেই রাজু আহমেদ চৌধুরীর বাসা।
ভোরবেলা তাদের ঘুম ভাঙে গ্রেনেড আর গুলির শব্দে। তিনিও জানান, দুমাস ধরে নতুন ভাড়াটিয়ারা বাড়িটিতে দুজন পুরুষ, একজন মহিলা এবং একটি শিশুও তিনি দেখেছেন। সব মিলিয়ে ছয়-সাতজন থাকতে পারে বলে ধারনা করছেন প্রতিবেশী মি. চৌধুরী। তবে তাদের খুব একটা বাড়ি থেকে বের হতে দেখেননি। ওই বাড়ির খুব কাছাকাছি কোনো বাড়ি নেই। বাড়িটির তত্ত্বাবধানকারী ব্যক্তি তাদের জানিয়েছেন, কোনও কিছু প্রয়োজন হলে পুরুষ সদস্য মাঝে-মধ্যে বের হয়ে বাজার করে আনতেন। অন্যদিকে মৌলভীবাজার শহরে বরহাট নামের এলাকায় ঘিরে রাখা বাড়িটি একটি নির্মাণাধীন ভবন। তৃতীয় তলার কাজ চলছে। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান জানান, বাড়ির মালিক বহুবছর ধরে পরিবার নিয়ে লন্ডনে বসবাস করছেন। সর্বশেষ তিনি জেলায় কবে এসেছিলেন সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই তাদের।ভিযানের প্রস্তুতি পুলিশ বলছে, অপারেশনাল টিম সোয়াত, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযান চালানো হবে। বিভিন্ন উগ্রবাদী হামলার প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই বাড়িটিকে ঘিরে অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয় বলে জানানা স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা। সিলেটের আতিয়া মহলে দীর্ঘ সময় ধরে চলা উগ্রবাদীবিরোধী অভিযান সমাপ্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৌলভীবাজারে উগ্রবাদী আস্তানা সন্দেহে পুলিশের এই অবস্থান।
সূত্র : বিবিসি

হাতিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা গোল্ডকাপ ফুটবলে চাচা ভাতিজা চ্যাম্পিয়ন

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী গোল্ডকাপের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে হাতিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে পৌরসভার লক্ষিদিয়া সুর্যদ্বয় ক্লাব একাদশ বনাম চাচা ভাতিজা একাদশ ক্লাবের মধ্যে অনুষ্ঠিত গোল্ডকাপের ফাইনাল খেলার প্রথমার্ধে ও দ্বীতিয়ার্ধে আপ্রান চেষ্ঠা করেও গোল শূন্য খেলা শেষ করে। পরে। ট্রাইবেকারে ৫-৪ গোলে সুর্যদ্বয় ক্লাবকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করেন চাচা ভাতিজা একাদ্বশ। টুর্ণামেন্টে ১৬টি দল অংশ গ্রহন করে।
এতে স্থানীয় ও জাতীয় খেলোয়াড় ছাড়া বিদেশী খেলোয়াড়রা অংশ নেয়। টুর্নামেন্টের কমিটির সভাপতি মোঃ ইউছুপের সভাপতিত্বে নোয়াখালী -৬ আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস প্রধান অতিথি হিসাবে চ্যাম্পিয়ান ও রানার্স আপ দলের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন। এ সময় হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ, পৌর মেয়র একেএম ইউছুপ আলী, থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ ও বিভিন্ন ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ইয়াবা সহ ইউপি মেম্বার গ্রেফতার

নোয়াখালীর সেনবাগ থানা পুলিশ উপজেলা ডমুরুংয়া ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপির মেম্বার মোঃ মানিক(৩৫ কে ইয়াবা গ্রেফতার করেছে। মানিক ডমুরুয়া ইউপির ৩নং ওয়াডের্র সাবেক মেম্বার। সে ওই গ্রামের বেলাল হোসেনে ছেলে। এসময় পুলিশ তার নিকট থেকে ৫পিছ ইয়াবা উদ্ধার করে।
সেনবাগ থানা এসআই মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ, ফোর্স মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ডমুরুয়া ইউপির নলুয়া আইয়ুব আলীর (ভাই-ভাই ব্রিকফিডে) অভিযান চালিয়ে তাকে ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। যোগাযোগ করলে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুন অর রশিদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এঘটনায় থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতকে বুধবার দুপুরে নোয়াখালীর বিচারিক আদালতে প্রেরন করা হয়।

সৈয়দপুরে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জামায়াতের খাদ্য বিতরণ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর উপজেলা শাখা। বুধবার উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের শ্বাসকান্দর মাঝাপাড়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫টি পরিবারের ১শ’ জনকে বসিয়ে ভাত ও মাংস খাওয়ানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার সেক্রেটারী মাওলানা গওহর আলী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা শাখার সভাপতি খয়রাত হোসেন বসুনিয়া, ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আছির উদ্দিন ও সেক্রেটারী আবু সাঈদ বসুনিয়াসহ এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অতি সম্প্রতি রান্নাঘরের আগুন থেকে অগ্নিকান্ডে ওই এলাকার ৫টি পরিবারের ১৫টি ঘর, আসবাবপত্র, নগদ অর্থসহ সবকিছু পুড়ে যায়। পরিবারের ফাতেমা আজাদি নামে সৈয়দপুর কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীর বইখাতা, পরীক্ষার কাগজপত্রসহ সার্টিফিকেট পুড়ে যায়। সরকারিভাবে পরিবারগুলো সেভাবে সাহায্য পায়নি। এই অসহায় অবস্থায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুরে নেতৃবৃন্দ এগিয়ে এসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ব্যতিক্রমী খাদ্য সহায়তা দিয়ে প্রকৃত অর্থে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন- মন্তব্য এলাকাবাসীর।

খুলনায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা

পারিবারিক কোন্দলে স্বামীর পিটুনিতে তাসলিমা খাতুন (৩৫) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছে। বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। ভোরে পুলিশ কয়রা উপজেলা সদরের উত্তর মদিনাবাদ গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে। নিহত তাসলিমা দু’ ছেলের মা। কয়রা থানার ওসি শেখ শমসের আলী জানান, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বদরতলা গ্রামের হযরত আলী গাজীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কয়রা উপজেলা সদর ইউনিয়নের উত্তর মদিনাবাদ গ্রামের আবুল গাজীর মেয়ে তসলিমা খাতুনের বিয়ে হয়। পরে হযরত আলী গাজী দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে তাসলিমা বাপের বাড়ি চলে আসেন। গত মঙ্গলবার বিকালে হযরত আলী শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। স্বামী-স্ত্রী রাতের খাবার খেয়ে ঘরে ঘুমাতে যান। এ সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে হযরত আলী স্ত্রী তাসলিমাকে বেদম প্রহার করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সে মারা যায়। এলাকাবাসী ঘটনাটি টের পেয়ে ঘাতক স্বামী হযরত আলীকে আটক করে রাখে। বুধবার ভোরে খবর পেয়ে পুলিশ নিহত তাসলিমার লাশ উদ্ধার ও ঘাতক স্বামী হযরত আলীকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় কয়রা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শ্রীমঙ্গলে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পাহাড়ী ছড়া থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্বার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার সকালে ভাড়াউড়া ও ভুরভুরিয়া চা বাগানের মধ্যবর্তী শাখামড়া ছড়া থেকে থানার পুলিশ লাশটি উদ্বার করে থানায় নিয়ে আসে।
শ্রীমঙ্গল থানার এসআই মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, ভাড়াউড়া চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার গৌতম দেব বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ পরিদর্শক জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে তিনিসহ সকালে ওই যুবকের মৃতদেহ ছড়া থেকে উদ্ধার করেন। মৃতদেহটির বাম কানের কিছু অংশ শিয়ালে খেয়ে ফেলেছে, মুখে আছলের চিহ্নও রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে পাশেই মদের পাট্টা থাকায় অতিরিক্ত মদ্যপানে যুবকের মৃত্যু হতে পারে। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

বগুড়ায় ওসির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বগুড়ার গাবতলী থানা ওসির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে থানা কোয়ার্টার থেকে গলায় রশি পেচানো তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় পুলিশ জানায়। তার নাম আবদুল্লাহ আল হাসান (৫২)।
গাবতলী থানার এসআই নূরুজ্জামান জানান, গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাড়ী রাজশাহীতে। প্রায় তিনমাস আগে তিনি গাবতলী থানায় যোগদান করেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতরা সনাক্ত হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নূরূল ইসলাম নাহিদ বলেছেন প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতরা সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে ধরা পেড়েছে।
বাকী সবাইকে আটক করা হবে। আজ সকালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সংক্রন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কাল

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বাসস’কে বলেন, নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন এজন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। এ নির্বাচনে ৪ জন মেয়র, ১০৪ জন কাউন্সিলর ও ৪০ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন। ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ জন ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে রিটানিং অফিসার রকিবউদ্দিন মন্ডল জানান, সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলোতে ইতোমধ্যে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই সিটিতে দলীয় প্রতীকে এটি প্রথম নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে টানা ১৪ দিনের প্রচারণা শেষ হয়েছে। প্রচার-প্রচারণায় আওয়ামী লীগের আঞ্জুম সুলতানা সীমা ও সদ্য সাবেক মেয়র বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুসহ অন্য মেয়র প্রার্থী ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে এ পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় এলাকার ভোটাররা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। আগামীকাল ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে এটিই প্রথম বড় কোন নির্বাচন হওয়ায় যে কোন মূল্যে সুষ্ঠু ভোটের সর্বোচ্চ আশ্বাসও দিয়েছে কমিশন। কমিশন সুত্র জানায়, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ নির্বাচনে ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ১০৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্য ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ১ হাজার ৬৭৬ জন পুলিশ সদস্য, ১ হাজার ২৩৬ জন আনসার, ৩২২ জন র‌্যাব ও ৪৮০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২৭ জন পর্যবেক্ষককে নিয়োগ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সোমবার থেকেই পুরো নগরীজুড়ে পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে ২৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। র‌্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

ব্যয়বহুল শহর হিসেবে দ. এশিয়ার শীর্ষে ঢাকা

ব্যয়বহুল শহর হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ স্থানটি ‘দখল’ করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। এমনই তথ্য উঠে এসেছে লন্ডনভিত্তিক ইকোনোমিস্ট গ্রুপের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিটের (ইআইইউ) দ্বিবার্ষিক জরিপে। এছাড়া বিশ্বের ১৩৩টি শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে পরিচালিত ওই জরিপে ঢাকার অবস্থান হয়েছে ৬২তম। অর্থাৎ ব্যয়ের দিক থেকে বিশ্বের মধ্যমমানের শহর ঢাকা। ইআইইউ সম্প্রতি কস্ট অব লিভিং সার্ভে ২০১৭ প্রকাশ করে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের শহর হিসেবে ঢাকার পরে আছে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো, ১০৮তম অবস্থানে। তৃতীয় অবস্থানে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু, তালিকায় স্থান ১১৬তম। ১৬০ ধরনের পণ্য ও সেবার দামের ভিত্তিতে এই তালিকা করা হয়। এগুলোর মধ্যে খাবার ও পানীয়, পোশাক, বাড়ি ভাড়া, গৃহস্থালি পণ্য, প্রসাধন সামগ্রী, পরিবহন ব্যয়, স্কুল খরচ, ইউটিলিটি বিল, বিনোদন ব্যয় ইত্যাদি রয়েছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি, মুম্বাই,
ব্যাঙ্গালুরু, চেন্নাই ও পাকিস্তানের করাচির চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল ঢাকা। তালিকায় সবচেয়ে কম ব্যয়ের ১০ শহরের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের এই শহরগুলোর অবস্থান। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে উঠে এসেছে সিঙ্গাপুর সিটির নাম। তালিকায় বিশ্বের ব্যয়বহুল শহরগুলোর ছয়টির মধ্যে পাঁচটিই এশিয়ার। সিঙ্গাপুরের পরে রয়েছে হংকং (দ্বিতীয়), টোকিও (চতুর্থ), ওসাকা (পঞ্চম) ও সিউল (ষষ্ঠ)। ব্যয়ের দিক থেকে তৃতীয় সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ইউরোপীয় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। উত্তর আমেরিকার শহরগুলোর মধ্যে নিউ ইয়র্ক সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের ১০টি শহরের মধ্যে আছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে কম ব্যয়ের শহর কাজাখস্তানের আলামাতি।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

তিন বছরের কোর্সে দুই বছরের জট

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তিন বছরের ফাজিল (পাশ) কোর্স ৫ বছরেও শেষ হচ্ছে না। এতে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী চরম হতাশায় ভুগছে। ফাজিল যেন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের। ফলপ্রার্থীরা বিভিন্ন চাকরিতে আবেদন করতে পারছে না। অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। এভাবে চলতে থাকলে ফাজিলের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হবে এবং দ্বীনি শিক্ষা হুমকির মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, ২০০৫ সালে দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ফাজিল ও কামিলের কার্যক্রম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। শুরুতে কিছুটা ভালোভাবে পরিচালিত হলেও ধীরে ধীরে অসহ্য জটের বোঝা জেঁকে বসে লাক্ষাধীক শিক্ষার্থীর কাঁধে। এর পর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফাজিল ও কামিলের কার্যক্রম আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরবর্তী সেশন থেকে ফাজিল, কামিল ও ফাজিল অনার্সের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। কিন্তু সমস্ত দায়িত্ব একসাথে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ফাজিল ও কামিল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই শেষ করতে হবে। সঙ্গত কারণেই এখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে ফাজিলের ও কামিলের বড় একটি অংশ। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিলে সর্বশেষ ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ১২-১৩, ১৩-১৪ এবং ১৪-১৫ এই তিন সেশন এখনো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে। এদের মধ্যে ১২-১৩ সেশন ফাজিল চূড়ান্ত বর্ষের, ১৩-১৪ সেশন দ্বিতীয় বর্ষের এবং ১৪-১৫ সেশস প্রথমবর্ষের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে ফজিলের দুইটি ব্যাচ। ২০১৫-১৬ সেশন এবং ১৬-১৭ সেশন। এদের মধ্যে ১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৫টি ব্যাচ রয়েছে। যেখানে থাকার কথাছিল তিনটি। তিন বছরের কোর্সে দুই বছরের বড় জটের কারণ হিসেবে ফাজিল ও কামিলের কাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের অভাব এবং দক্ষ জনবলের অভাবকেই দায়ী করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু প্রধান পরীক্ষাকের গাফিলতিকেও দায়ী করছেন তারা। তবে তারা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত সেশনগুলোর কার্যক্রম শেষ করার কথা বলছে। এদিকে তিন বছরের ফাজিল কোর্স ৫ বছরেও শেষ না হওয়ায় বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে পারছে না ফাজিল চূড়ান্ত বর্ষের প্রায় ৪৩ হাজার ফলপ্রার্থী। এনিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফোনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা। যশোর জেলার ‘ত্রিমহোনী দারুল ইসলাম ফাজিল মাদ্রাসার’ ১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা ফাজিলে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এতে দ্বীনী শিক্ষা প্রদিপ এদেশে থেকে খুব সহজেই নিভে যাবে।
সংশ্লিষ্ট মহল, দেশের আলেম সমাজ এবং ইসলাম প্রিয় নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। যে কোন মূল্যে ফাজিল ও কামিল শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতে হবে।’ পাবনা জেলার ‘পুষ্পপাড়া কামিল মাদ্রাসার’ ১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ফলপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, তিন বছরের কোর্স পাঁচ বছরেও শেষ করতে পারিনি। আমাদের মতো নি¤œবিত্ত পরিবারের পক্ষে এই জটের বোঝা বহন করা খুবই কষ্টসাধ্য। একটা সার্টিফিকেট পেলে আমি আমার বাবা-মায়ের অভাবের পরিবারকে একটু হলেও সাহায্য করতে পারব।’ ১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘প্রথম বর্ষ শেষ করতেই প্রায় দুই বছর লেগে যাচ্ছে। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাতে বসেছি’ সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল পরীক্ষা শেষ হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার প্রায় ৫ মাস হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ফল প্রকাশ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ কে আজাদ বলেন, ‘মাদ্রাসার শিক্ষকরা খাতা দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের স্ব স্ব প্রধান পরীক্ষকদের কাছে জমা দিয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন প্রধান পরীক্ষক এখন পর্যন্ত ফলাফল জমা দেয়নি। ফলে সময়মতো ফল প্রকাশ হচ্ছে না।’

সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সাথে ইইউ প্রতিনিধিদলের বৈঠক

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদল।
সন্ধ্যা ৭ টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠকটি হবে বলে জানিয়েছেন তার প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

বিচারবহির্ভূত হত্যা গুম উদ্বেগজনক পর্যায়ে

বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যুদণ্ডের আধিক্য ও কারাগারে মানবেতর পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিটি। কমিটি নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতাসহ সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ার বাড়ানো পরামর্শ দিয়েছে। একই সাথে জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার সমুন্নত রাখতে নির্বাচনের সময় সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) আলোকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে কমিটি গতকাল মঙ্গলবার জেনেভা থেকে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে। এর আগে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে থেকে প্রতিক্রিয়া চেয়েছিল। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সরকার লিখিতভাবে জবাব দিয়েছে। এরপর ৬ ও ৭ মার্চ জেনেভাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক ১৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে মৌখিকভাবে কমিটি সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। সব পক্ষের প্রতিবেদন ও মৌখিক জবাবের ভিত্তিতে কমিটি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য কমিটি বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তবে এ জন্য ১৪ বছর কালক্ষেপণ করায় উষ্মা প্রকাশ করেছে। পর্যবেক্ষণে কমিটি পুলিশ, র‌্যাব ও সৈন্যদের দ্বারা উচ্চ মাত্রায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও রাষ্ট্র কর্তৃক অত্যধিক শক্তি প্রয়োগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত ও জবাবদিহিতার অভাব এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কোনো ধরনের তথ্য সরবরাহ না করায় উদ্বেগ জানিয়েছে। কমিটির মতে, বাংলাদেশের আইন গুমকে কার্যকরভাবে অপরাধের আওতায় আনতে পারছে না এবং সরকার গুমের ঘটনা স্বীকারই করছে না। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সরবরাহ করা তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি দেখেছে, জিজ্ঞাসাবাদ বা স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা নির্যাতনের পথ বেছে নিলেও সরকার এসব ঘটনার কোনো তদন্ত করছে না। বাংলাদেশে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ অধ্যাদেশ-২০১৩ বলবৎ থাকলেও তার প্রয়োগ হচ্ছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এ অধ্যাদেশের বিলুপ্তি ও নির্যাতনের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি চেয়ে যে আবেদন করেছে- তাতে আরো উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান হারে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আইসিসিপিআরের অনুচ্ছেদ ৬(২) এর আওতায় ‘সর্বাধিক গুরুতর অপরাধ’ এর আওতায় না পড়লেও বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় চোরাচালান বা খাদ্যে ভেজাল দেয়া, ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মাদকদ্রব্য উৎপাদন, প্রস্তুতকরণ বা গ্রহণ এবং ১৯২৩ সালের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা অধ্যাদেশের আওতায় গোয়েন্দাগিরিসংক্রান্ত অপরাধ। কমিটি সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড রহিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কমিটি বাংলাদেশের কারাগারগুলোর করুণ অবস্থা, বিশেষ করে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত আসামি বা কয়েদি রাখা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কারারক্ষীদের চাঁদাবাজিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে সহিংসতা, রাষ্ট্র কর্তৃক অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং নির্বাচনে ভোটারদের অংশ নিতে বাধা দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি। জনগণের ভোট দেয়ার অধিকার সমুন্নত রাখতে নির্বাচনের সময় সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কমিটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পর্যবেক্ষণে আইসিসিপিআর ও কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা ২০২১ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

রাজনীতি ছেড়ে আলুর ব্যবসায় সাবেক ছাত্রনেতা

একসময়ের দাপুটে ছাত্রনেতা। কিন্তু এখন পুরোদস্তুর আলু-পেয়াজের ব্যবসায়ী। আবারো ফিরছেন রাজনীতিতে? এমন প্রশ্নের জবাবে একগাল হেসে তিনি বললেন, ‘আলু বেচে দিনে ১০০ টাকা উপার্জন করলেও শান্তি। দুর্নীতির ছোঁয়া নেই সেই টাকায়।’ এই সাবেক ছাত্র নেতার নাম বিনোদ ভগৎ। তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের অন্যতম রাজনৈতিক সংগঠন ‘ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’-এর (আজসু) প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক ছিলেন। পৃথক রাজ্যের আন্দোলনে তিনিও ছিলেন পুরোধা। কয়েক দশক আগেও তার জনসভায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতো। তার ডাকা হরতাল-অবরোধে স্তব্ধ হতো গোটা রাজ্য। এখন রাঁচীর মোরাবাদি ময়দানের লাগোয়া বাজারে আলু পেয়াজের ব্যবসা করেন। দোকানে তার ছবি দেখে প্রথমে চিনতে পারেননি পুরনো দিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। অবাক তার বন্ধু তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মরাণ্ডিও।
কেন ছাড়লেন রাজনীতির পথ? একরাশ ক্ষোভ নিয়ে বললেন বিনোদ ‘নেতা-মন্ত্রীরা গাড়ি হাঁকিয়ে ঘুরছেন। প্রান্তিক, গরিব আদিবাসীরা যেমন আগে ছিলেন, তেমনই রয়ে গেলেন। চারপাশে দুর্নীতি। এমন রাজ্যের স্বপ্ন তো আমি দেখিনি।’ নিজের অবস্থান প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে গরিব মানুষগুলোর জন্য যৌবনে আন্দোলন করেছি, এখনও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে চাই। চেয়ারে বসলে হয়তো এ সব করতে পারতাম না।’ আবার রাজনীতিতে ফিরছেন কিনা? ‘আমি এতেই খুশি’ — আগপিছ না ভেবেই বিনোদের জবাব। এতো কথা বলার সময় কোথায় তার? দোকানে যে ক্রেতার ভিড় জমে গেছে।  সূত্র: আনন্দবাজার।

সাঁতার না জানলে মিলবে না স্নাতক ডিগ্রী

সাঁতার না জানলে শিক্ষার্থীদের স্নাতক ডিগ্রী দেয়া হবে না, এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। গত সোমবার 'প্রাচ্যের হার্ভার্ড' খ্যাত চীনের শিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়মে ভর্তির জন্য আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীদের বলা হয়েছে, স্নাতক ডিগ্রি পেতে হলে তাদেরকে অবশ্যই আগে সাঁতার শিখতে হবে। নতুন ছাত্রদের যেকোনো ধরনের সাঁতারে অন্তত ৫০ মিটার পার হবার দক্ষতা থাকতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় কেউ সাঁতার না জানলেও স্নাতক শেষ হওয়ার আগেই তা শিখে নিতে হবে।
তবে গ্রাজুয়েট ডিগ্রির সঙ্গে সাঁতার শেখাকে এভাবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বলেছেন, যে দেশ এখন খরা মোকাবিলা করছে - সেখানে এ পদক্ষেপের যুক্তি কি? একজনের প্রশ্ন ছিল, চীনে যে এলাকায় নদী বা সাগর নেই সেখানকার ছাত্রদের তাহলে কি হবে? কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে বলছে, সাঁতার একটি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা, এটা শারীরিক ফিটনেস বাড়ায়। তা ছাড়া দেশের সেরা মাথাওয়ালা যারা - তাদেরকে সুইমিং পুলেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। ১৯১৯ সালেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রির জন্য সাঁতারকে একটি পূর্বশর্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বেইজিং-এ সুইমিং পুলের অভাবে এটা আবার বাদ দেয়া হয়েছিল।

রাশিয়ার হাতে অবিশ্বাস্য গতির ক্ষেপণাস্ত্র

শব্দের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ গতিসম্পন্ন দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে রাশিয়া। এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের যে কোনো শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ডুবিয়ে দেয়া সম্ভব বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, ‘জিরকন’ নামের এ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘণ্টায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ মাইল বেগে ছুটতে পারে। জিরকন প্রতি আড়াই মিনিটে ১৫৫ মাইল পথ পাড়ি দিতে পারবে। এটি ৫০০ মাইলের ভেতরে থাকা যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। চলতি বছরের শুরুর দিকে জিরকনের পরীক্ষা চালায় রাশিয়া।
পরমাণু শক্তিচালিত রুশ ক্রুজার ‘পিওতর ভেলিকিতে’ ২০১৮ সালে এটি স্থাপন করবে দেশটি। এদিকে রাশিয়ার নতুন দ্রুত গতিসম্পন্ন এ ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাজ্যের পক্ষে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা সম্ভব না। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ৬২০ কোটি পাউন্ড মূল্যের বিমানবাহী রণতরী ‘এইচএমএস কুইন এলিজাবেথ’ এবং ‘এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসকে’ এক আঘাতেই ডুবিয়ে দিতে পারবে জিরকন। বর্তমানে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কাছে যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩০০ মাইল গতির ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা সম্ভব। জিরকনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা কোনো ভাবেই কাজ করবে না। ফলে নিজেদের বিমানবাহী রণতরী রক্ষা করতে হলে সেগুলোকে ৫০০ মাইল পাল্লার দূরে রাখতে হবে যুক্তরাজ্যকে। এ সম্পর্কে ব্রিটিশ নৌ বিশেষজ্ঞ পেট স্যান্ডম্যান বলেন, জাহাজ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে শব্দের চেয়ে অতি দ্রুত গতির রুশ ক্ষেপণাস্ত্র জিরকন।

ভয়াবহ খাদ্য সংকটে চার মুসলিম দেশ

ভয়াবহ সংঘাতের কবলে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ৩ কোটি মানুষ খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি এমন যে, এক বেলা খাওয়ার পর পরের বার কি খাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। খবর এএফপির। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ বছরে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েক কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিমানের ব্যাপক অবনতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘ইরাক, সুদান,
সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলোতে ভয়াবহ খাদ্য ঘাটতি বিরাজমান। এসব দেশের জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতির ওপর চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব স্পষ্ট।’ ফাওয়ের সহকারী পরিচালক ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি আবদেস সালাম ওলাদ আহমেদ বলেন, যুদ্ধের কারণে ভয়াবহ পানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অনেক দেশের কৃষির ওপর প্রভাব ফেলছে। আরব বিশ্বের দরিদ্রতম দেশ ইয়েমেনের অবস্থা আরও শোচনীয়। দুই বছর আগে সৌদি জোটের আক্রমণে বিধ্বস্ত দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে। গত শুক্রবার ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম হুশিয়ারি দিয়ে জানায়, দেশটির ২২টি প্রদেশের এক-তৃতীয়াংশই এখন দুর্ভিক্ষের মুখে। এখানকার শতকরা ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। ফাও বলেছে, সিরিয়ার ছয় বছরের গৃহযুদ্ধ নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরই জরুরি খাদ্য সহায়তার প্রয়োজন।

বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে ‘আকাশে দেয়াল’ তুলবেন ট্রাম্প!

বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে ‘আকাশে দেয়াল’ তৈরির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদ্ধতিতে সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে পৃথিবীতে আনা হবে। ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণকারী জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প চালু রাখতেই এই প্রকল্প বেছে নেয়া হচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা এই প্রকল্পকে পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার দূষণবিরোধী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা ‘ক্লিন পাওয়ার প্ল্যান’ বাতিল করে নতুন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওই আদেশে স্বাক্ষর করতে পারেন তিনি। খবর বিবিসি ও ইনডিপেনডেন্টের। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, শিল্পকারখানা চালু রাখার সহজলভ্য উপায় কয়লা ও তেলভিত্তিক প্রকল্প কিংবা জীবাশ্ম জ্বালানি। তবে জীবাশ্ম জ্বালানিকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী মনে করা হয়। এ অবস্থায় বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষা ও বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে আকাশে দেয়াল তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে শূন্যে বিশেষ কায়দায় বিশুদ্ধ পানির কণা ছিটিয়ে দেয়া হবে। একই সঙ্গে দূষণ প্রতিরোধক নানারকম পদার্থ যেমন- সালফার ডাই-অক্সাইড উচ্চস্থানে বেলুনের সাহায্যে ছড়িয়ে দেয়া হবে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটা ‘জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং’। এতে পরিবেশের আরও ক্ষতি হবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড কেইথের নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী এই তথাকথিত আকাশে দেয়াল তৈরি বিষয়ে আগামী বছর পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছেন। গত ডিসেম্বরে জাতিসংঘ গৃহীত কনভেনশন অনুযায়ী, প্রকৃতির বিরুদ্ধে জিও-ইঞ্জিনিয়ারিং করা উচিত হবে না। এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ওবামা প্রশাসনের নেয়া পরিকল্পনা বাতিলে নির্বাহী আদেশ জারি করতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন নির্বাহী আদেশে ‘ক্লিন পাওয়ার প্ল্যান’ বাতিল করা হচ্ছে যেটি অঙ্গরাজ্যগুলোকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাধ্য করত। নতুন নির্বাহী আদেশে পরিবেশ সংরক্ষণ এজেন্সির অর্থ বরাদ্দও কমানো হবে।
তেল, গ্যাস ও কয়লা উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করে দেখা হবে। ট্রাম্প নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কার্বন নিঃসরণবিরোধী ‘গ্রিন রুল’গুলো বাতিল করবেন। কারণ তার মতে, এই আইনগুলো অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে স্বাক্ষর করা বৈশ্বিক উষ্ণতা নিরসন চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেবেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন নীতিমালায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎকে কম দামে ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে সরবরাহ করা যাবে, যার মাধ্যমে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং নতুন চাকরি সৃষ্টি হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলো বলেছে, এই নীতিমালা কার্যকর হলে দেশে ও বিদেশে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সির (ইপিএ) নতুন প্রধান স্কট প্র“ইট টেলিভিশন চ্যানেল এবিসির সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ‘দিস উইকে’ বলেন, কয়লানির্ভর কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে ওবামার ২০১৫ সালের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি পরিকল্পনা বাতিল করা হবে।

ঘূর্ণিঝড় ডেবির আঘাতে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ডেবির আঘাতে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের ফলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং লাখো বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে কুইন্সল্যান্ডের বোয়েন ও এয়ারলি সৈকতের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ক্যাটাগরি চার মাত্রার ঘূর্ণিঝড়টি অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে পৌঁছায় বলে জানায় বিবিসি।
ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ২৬৩ কিলোমিটার বেগে বাতাসের শক্তি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূল এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এটি দেশের ভিতরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে ক্যাটাগরি তিন মাত্রার ঝড়ে পরিণত হয়। এ সময়ের মধ্যে একজন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল সংসদকে জানান, তিনি একটি দুর্যোগ মোকাবেলা পরিকল্পনা সক্রিয় করে তুলেছেন। টার্নবুল বলেন, ‘অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়েছে। নিজেদের দিকে খেয়াল রাখুন আর নিরাপদে থাকুন। বুধবার পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার প্রস্তুতি নিন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ডেবির ক্ষয়ক্ষতির পুরো ছবি পেতে সময় লাগবে। কুইন্সল্যান্ডের প্রিমিয়ার আনাস্তাসিয়া পালাসে জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে- কারণ ব্যাপক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং ফোনে যোগাযোগও বিপর্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (আজ বুধবার) ঝড়ের পুরো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখে সবাই বিমর্ষ হবে। আমি এর জন্য প্রস্তুত।’
কুইন্সল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার আয়ান স্টুয়ার্ট জানিয়েছেন, প্রোসারপাইনে একটি দেয়াল ধসে এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়েছেন। ক্যারাভান পার্কের স্বত্বাধিকারী রোজ উয়িলকোকস জানিয়েছেন, বোয়েনের কাছে তার বিষয়-সম্পত্তি ‘আবর্জনায়’ পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, সেখানে অন্তত ৫০টি গাছ উপড়ে পড়েছে। প্রতিবেশীদের ছাদগুলো পার্কে এসে পড়েছে। আমাদের শেডগুলোও ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কখন স্বাভাবিক হবে তা বলতে পারছেন না তারা। বাইরে বের হওয়ার মতো নিরাপদ পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ঘরের ভিতরে অবস্থান করার বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালে কুইন্সল্যান্ডে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসির তাণ্ডবের পর এটাই ওই অঞ্চলে আসা সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন বলে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছিলেন।