Thursday, February 27, 2025
ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার কথা ভুলে যেতে বললেন ট্রাম্প
জেলেনস্কি বলেছেন, পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের প্রবেশের বিনিময়ে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত আছেন। তবে তার এই চাওয়া আর পূরণ হচ্ছেনা। ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার কোনা সুযোগ নেই বলে স্পস্ট করেছেন ট্রাম্প।
বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করতে হবে। জোটে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনার কারণেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে পৌঁছাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেও ছাড় দিতে হবে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন সফরে আসছেন। তিনি এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন যার ফলে আমেরিকা কিয়েভের লাভজনক ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজের ওপর বস্তুত অধিকার পাবে।
তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তার বিনিময়ে এই খনিজ চুক্তি চাইছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন আমেরিকার কাছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার পরিমাণ ঋণী। এই অর্থ তিনি ফেরত চান। ট্রাম্পের মতে, এই সহায়তা আমেরিকা এমনি এমনি দেয়নি।
তবে কিয়েভ প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সহায়তা হিসেবে এর চেয়ে অনেক কম পেয়েছে তারা আর ওই খসড়ায় ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান।
কিন্তু বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি (ইউক্রেনকে) খুব বেশি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে যাচ্ছি না। আমরা চাই ইউরোপ এটি করুক।’ ট্রাম্প আরও বলেন, আমেরিকা অন্য কোনো দেশের জন্য আর ত্যাগ স্বীকার করতে চায় না।
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে কারণে হাড় পচে যাচ্ছে বারনেত্তির
এতে বলা হয়, একটি নার্সিং হোমের পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিজের রাজ্য টিনেসিতে ২০২০ সালে যখন করোনা ভাইরাস মহামারী হানা দেয়, তখন তিনি রোগিদের সেবা দিচ্ছিলেন। তার চোখের সামনে রোগীরা মারা যাচ্ছিলেন। সন্তান তার কাছ থেকে করোনায় আক্রান্ত হবে এই ভয়ে নিজের ছেলের জন্মদিনে যোগ দেননি তিনি। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে করোনার টীকা চলে আসে। রোগিদের সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের জন্য নিজে একটি নামকরা কোম্পানির টীকা নিয়ে নেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বুঝতে পারেননি তিনি। কিন্তু ২০২১ সালের জুলাইয়ে তার নিতম্বের উভয় পাশে অসহনীয় বেদনা শুরু হয়। তাকে বলা হয় ৩১ বছর বয়সে তিনি আর্থাইটিসে আক্রান্ত হয়েছেন। যখন ব্যথায় হাঁটতে পারবেন না, তখন যেন তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন- এমন পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে এই ব্যথাকে অন্যকিছু মনে করে আরেকজন ডাক্তার তাকে এমআরআই করাতে পরামর্শ দেন। তাতে ধরা পড়ে মিস বারনেত্তির হাড় আক্ষরিক অর্থেই পচে যাচ্ছে। এ কারণে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার তার নিতম্বের প্রতিস্থাপনের অপারেশন করানো হয়। এর দু’এক মাস পরে ২০২২ সালে দ্বিতীয় অপারেশন করা হয়। এরপর প্রায় চার বছর ধরে মিস বারনেত্তিকে অপারেশনের টেবিলে বার বার শুয়ে পড়তে হয়েছে। তার দুই কাঁধ, হাঁটুতে অপারেশন করা হয়েছে। কনুইতে করা হয়েছে তিনটি অপারেশন। বাম পায়ে একটি অপারেশন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে তার ডানপায়ে আরেকটি অপারেশন হওয়ার কথা রয়েছে। মিস বারনেত্তির এই দুর্ভোগ শুরুর প্রায় এক বছরের মধ্যে একজন ডাক্তার তাকে বলেছেন, এই জটিলতার সঙ্গে ২০২২ সালের শেষের দিকের কোভিড এবং তারপর টীকার সম্পর্ক আছে।
মিস বারনেত্তি বলেন, এই ব্যথা এতটাই তীব্র যে আমার পুরো জীবনে এত কষ্ট কখনো ভোগ করিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি মানুষের যত্ন নিতে। ওদিকে তার শারীরিক এই অবস্থার কারণে একজন নার্স হিসেবে এবং প্রবীণদের যত্ন নেয়ার কেন্দ্রে পরিচালক হিসেবে কাজ করতে অক্ষম। তিনি বলেন, এখন আর সকালে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে পারি না। এটা বিপর্যয়কর। একটি ভাইরাস এবং একটি টীকার কারণে আমার জীবন হারিয়ে গেছে। আমি আর সেই জীবনে ফিরতে পারবো না। এতে আমার জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাকে এখন সবসময় বসে থাকতে হয়। আর পিছনের সব হিসাব মিলাই। ওদিকে গত সপ্তাহে ইয়েল ইউনিভার্সিটির একটি ছোটখাট গবেষণা এমন সব ভিকটিমকে সমর্থন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এসব সমস্যাকে পোস্ট-ভ্যাক্সিনেশন সিনড্রোম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
২০২৭ থেকে ২০২৯-এর মধ্যে বিজেপি শেষ হয়ে যাবে: মমতা by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য
মমতার দাবি, ‘পশ্চিমবঙ্গে এজেন্সি পাঠিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। পাঞ্জাব-হরিয়ানার বহু লোকের নাম এ রাজ্যের ভোটার তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। দিল্লি থেকে এসব করা হচ্ছে। আমি যতদূর জানতে পেরেছি অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্রিলিয়ান্ট মাইন্ডস, কোম্পানি ইন্ডিয়া ৩৬০ নামে দুটি এজেন্সি আছে। তারা ডেটা অপারেটদের কাছে গিয়ে এসব তথ্য নিয়েছে। কিছু বিএলআরও-কে সাথে নিয়ে অনলাইনে কারসাজি করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের লোক যাতে ভোট দিতে না পারে, তাই একই এপিক কার্ডে বাইরের লোকের নাম তুলেছে। নির্বাচন কমিশনের আশীর্বাদেই এ সব করা হচ্ছে।’
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তার বার্তা, 'ভোটার তালিকা পরিষ্কার করতে হবে। ২০২৬ সালে আবার খেলা হবে। সেই কাজটা শুরু হবে ভোটার তালিকা পরিষ্কার করার মধ্যে দিয়ে। জেলা সভাপতিদের বলব, বুথ কর্মীদের মাঠে নামান। প্রয়োজনে নির্বাচনের কমিশনের দফতরে ধর্না দেব।’
ভোটার তালিকা থেকে ‘ভূতুড়ে’ ভোটার মুক্তির জন্য ১০ দিনের ডেটলাইন বেঁধে দেন মমতা। ‘ভূতুড়ে’ ভোটার চিহ্নিতকরণে সুব্রত বক্সির নেতৃত্বে কমিটি গড়ে দেন। এই কমিটিতে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক শীর্ষনেতৃত্ব। জেলা থেকে এই কমিটির কাছে রিপোর্ট আসবে। ওই কমিটি কাজ না করলে প্রয়োজনে নিজে ‘ভূতুড়ে’ ভোটার বাছাইয়ের কাজ করবেন বলেও জানান মমতা। একইসঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে টার্গেট বেঁধে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আগামী বিধানসভা ভোটে ২১৫ টা আসন পেতেই হবে। ২১৫ টা আসনের টার্গেট কোনওমতেই কম নয়। এবার বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমের জামানত জব্দ করার পালা।’
বক্তব্যের শেষে কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, ‘মহারাষ্ট্র-দিল্লিতে ওরা বিজেপির খেলা ধরতে পারেনি। পশ্চিমবঙ্গে আমরা ধরব। যোগ্য জবাব দেব। ২০২৭ থেকে ২০২৯-এর মধ্যে বিজেপি শেষ হয়ে যাবে। বিজেপির আয়ু ২-৩ বছর।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা রাশিয়ার
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) কাতারের রাজধানী দোহা সফরে যান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলে সানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ল্যাভরভ। সেখানে বেশিরভাগ সময় তিনি ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে কথা বলেন।
ল্যাভরভ বলেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব রয়েছে। সে প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে যদি ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত করা হয় তাহলে গোটা অঞ্চলের ওপর তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এর ফলে একটি টাইম বোমাকে সক্রিয় করা হবে যা যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিগত কয়েক দশক ধরে বিকল্প যে পরিকল্পনাই হাতে নেয়া হয়েছে তার প্রত্যেকটি ব্যর্থ হয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে একটি শান্তি চুক্তির পথে ইসরায়েল যেসব প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তাতে মস্কো উদ্বিগ্ন। গাজাকে যেভাবে ধ্বংস করা হয়েছে তা মানব ইতিহাসে কলঙ্কজনক। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজা দখলে নেওয়ার যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন তা আরও ভয়ংকর।
ল্যাভরভ বলেন, ট্রাম্প সম্প্রতি গাজাবাসীকে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা উত্থাপন করেছেন। তিনি গাজাবাসীকে তাড়িয়ে দিয়ে সেখানে একটি সৈকত রিসোর্ট নির্মাণ করতে চান। কিন্তু তার এই পরিকল্পনা সামনে এগোলে তা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি ‘টাইম বোমা’ হিসেবে কাজ করবে।
এদিকে ট্রাম্প গতকাল তার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে তৈরি ভিডিওতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন গাজার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ট্রাম্প, ইলন মাস্ক ও নেতানিয়াহুকে নিয়ে তৈরি করা সেই ভিডিওতে গাজায় বড় বড় রিজোর্ট এবং বিনোদনকেন্দ্র দেখা যাচ্ছে।
গাজায় রিজোর্ট নির্মান নিয়ে শুধু চিন্তা করেই থেমে নেই ট্রাম্প। ট্রাম্পের পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টেভ উইটকফ মঙ্গলবার বলেছেন, গাজায় রিসোর্ট নির্মাণ করার বিষয়ে অচিরেই আঞ্চলিক রিয়াল স্টেট ডেভলপারদের নিয়ে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র : প্রেস টিভি
![]() |
| রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একটি আশার মৃত্যু
মায়ের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার
গাজায় হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ৬২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল ইসরাইলের। হঠাৎ সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। এই ঘটনায় নাজাতই একমাত্র ব্যক্তি নন, যিনি হতাশ। শনিবার হামাস ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইল থেকে আটক ছয়জন বন্দীকে তাদের কাছে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে ইসরাইলের বিভিন্ন সময়ে আটক ৬২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা না করার সিদ্ধান্ত নেয়, দাবি করে যে ছয় বন্দীর হস্তান্তর অনুষ্ঠান ‘উস্কানিমূলক’ ছিল। তাই ইসরাইল বন্দীদের মুক্তি বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। নাজাত বলছেন, ‘যখন তারা আমাদের বলল যে, আমার ছেলে মুক্তি পাবে না, আমি চিৎকার করে বলে উঠি ‘কেন? কেন?’ তারপর আমি সংজ্ঞা হারাই।’
শনিবার সকালে, নাজাত তার আরেক ছেলে মোহাম্মদ, তার স্ত্রী ও সন্তানরা এবং তার মেয়ে ওলা সন্তানদের নিয়ে সালাহ আল-দিন স্ট্রিট ধরে খান ইউনিসে পৌঁছানোর উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন। সেখানেই বন্দীদের মুক্তি দেবার কথা হচ্ছিলো। যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় ধরে নাজাত ও তার পরিবার বাস্তুচ্যুত ছিল। সালাহ আল-দিনই একমাত্র রাস্তা যেখানে ইসরাইল গাড়ি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। রাস্তায় ট্রাফিক দেখে নাজাতের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছিলো। ২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজায় হামলার সময় ইসরাইল যে খান ইউনিসে গোলাবর্ষণ করেছিল, সেখানে তাদের বিধ্বস্ত বাড়ি পৌঁছাতে এক ঘন্টারও বেশি সময় লেগেছে। এই যাত্রার দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৪ কিলোমিটার (১৫ মাইল)।
দিয়ার আসন্ন মুক্তি উদযাপন করতে নাজাতের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং বন্ধুবান্ধবরা জড়ো হয়েছিলেন। ৩৩ বছর পর অবশেষে ছেলে বাড়ি ফিরতে চলেছে তা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না হতভাগ্য মা। যখন নাজাত শুনলেন যে ইসরাইল অবশেষে দিয়াকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে, তখন তার হৃদয় আনন্দে উচ্ছসিত হয়ে ওঠে। মায়ের মনের এই আনন্দ হয়তো ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। নাজাত বলে চলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে এই দিনটির স্বপ্ন দেখছিলাম। ৩৩ বছর ধরে অপেক্ষা করার পর আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে এই জীবদ্দশায় আমি আমার ছেলেকে আর হয়তো দেখতে পাবো না।’ কিন্তু মায়ের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো না।
দিয়া আল-আঘা
আগে বন্দি বিনিময়ের তালিকায় দিয়া'র নাম ছিল। কিন্তু ইসরাইল তার অপরাধের কথা উল্লেখ করে দিয়াকে মুক্তি দেবার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে। ১৩ বছর বয়স থেকে ফাতাহ আন্দোলনের সদস্য দিয়া, ১৬ বছর বয়সে সশস্ত্র অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। এখন তিনি স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন। তার পাচনতন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। তার মায়ের অভিযোগ, ছেলেকে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। নাজাত তার পরিবারের অন্যান্য পুরুষদের জন্য অপেক্ষা করেছেন এবং প্রার্থনা করেছেন যাদের আগে আটক করা হয়েছিল। নাজাতের স্বামী জাকারিয়াকে ১৯৭৩ সালে প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং দুই বছর ইসরাইলি হেফাজতে কাটাতে হয়েছিল। ২০০৫ সালে স্ট্রোকের পর তিনি মারা যান, মৃত্যুর ঠিক আগের দিন ছেলে দিয়াকে কারাগারে দেখতে পেয়ে সেই শোক সামলাতে পারেননি তার বাবা। নাজাতের বড় ছেলে আজ্জামকে ১৯৯০ সালে ‘সন্ত্রাসী সামরিক শাখার’ সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল এবং চার বছর কারাগারে কাটাতে হয়েছিল, অন্যদিকে মোহাম্মদ ১২ বছর জেল খেটেছিলেন, ইসরাইলি সৈন্যদের উপর ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি চালানোর অভিযোগে। প্রতিবারই নাজাত অপেক্ষা করতেন, পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ফেরার দিন গুনতেন। মাঝে মাঝে তিনি দিয়াকে কারাগারে দেখতে যেতেন। নাজাতের কথায়, ‘আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি কারণ গাজা যুদ্ধের মাত্র এক মাস আগে আমি তাকে শেষবার দেখেছিলাম। সে সুস্থ এবং দৃঢ় মনোবলে ছিল।’
‘আমরা কি শুধুই বন্ধকী?’
দিয়ার মুক্তির দিন যত কাছে আসছিলো ততই নাজাতের মনে প্রত্যাশার পারদ চড়ছিলো। তিনি আশা নিরাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। নাজাত বলে চলেন, ‘আমি জানি ইসরাইলি কারারক্ষীরা মুক্তির আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বন্দীদের অপমান করে আনন্দ পায়। আমি বেশ ভয়ে ভয়ে ছিলাম।’ তা সত্ত্বেও ৩৩ বছর পর প্রথম রমজান ছেলের সাথে কাটানোর কল্পনা করেছিলেন নাজাত। ছেলেকে নিজের হাতে রান্না করে খাইয়ে দেবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন নাজাত। কিন্তু হঠাৎ এক বিরাট শূন্যতা গ্রাস করে এই হতভাগ্য মায়ের মনকে। যখন তিনি পরিবারের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন এবারও দিয়াকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। তার সন্তানেরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেছিল, আশ্বস্ত করেছিল এই বলে একটু দেরি হলেও দিয়াকে ছেড়ে দেয়া হবে । কিন্তু মায়ের মন মানেনি। তার চারপাশের পৃথিবী ক্রমেই ঝাপসা হতে শুরু করে। অজ্ঞান হয়ে যাবার আগে একটি কথাই তিনি শুধু বলতে পেরেছিলেন, ‘আমরা কি এভাবেই তাদের কাছে বন্ধক থাকবো ? তেত্রিশ বছরের অপেক্ষা কি যথেষ্ট নয়?’
তবে এতো সহজে হাল ছাড়তে রাজি নন নাজাত আল-আঘা। তিনি বলেছেন, ‘আমি যদি ৩৩ বছর অপেক্ষা করতে পারি, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে পারবো। আমার ছেলেকে কারাগারের বাইরে দেখতো পাবো।’
সূত্র : আলজাজিরা

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিল হামাস, ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে মুক্তি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, চারজন জিম্মির মরদেহবাহী কফিন তারা পেয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের মরদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রামাল্লা থেকে এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, তাঁরা ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি কারাবন্দীর দলকে বাস থেকে নেমে যেতে দেখেছেন। সম্ভবত তাঁদের গত সপ্তাহে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। জিম্মিদের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণের’ অভিযোগে ইসরায়েল তাঁদের মুক্তি স্থগিত করেছিল।
মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের উল্লাস করতে দেখা গেছে। তাঁদের অনেকে বন্ধু বা স্বজনেরা কাঁধে চড়ে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। অনেক নারীকে আনন্দে কাঁদতে দেখা যায়।
ইসরায়েলের কাছে হামাস যে চারজন জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে, তাঁরা হলেন ওহাদ ইয়াহালোমি, সাচি ইদান, ইতজিক এলগারাত ও সোলোমো মনসুর। ইসরায়েলি গণমাধ্যম তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী গত শনিবার ছয় ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেয় হামাস। তাঁদের সঙ্গে চার জিম্মির মৃতদেহও হস্তান্তর করে। বিনিময়ে ৬২০ ফিলিস্তিনি কারাবন্দীকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল ইসরায়েলের। কিন্তু মুক্তি দেওয়ার সময় হামাস জিম্মিদের সঙ্গে ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করছে অভিযোগ তুলে বন্দীদের মুক্তি স্থগিত করে ইসরায়েল।
হামাসের পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানিয়ে সেদিন জানানো হয়, আগে ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। তাহলেই কেবল গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করবে হামাস।
দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা
আজ জিম্মি ও বন্দিবিনিময়ের মধ্য দিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শেষ হতে যাচ্ছে। এখন দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।
গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইসরায়েলের প্রতিনিধিদল রওনা দিয়েছে।
স্টিভ উইটকফ গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘(দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে) আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এ জন্য ইসরায়েল একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। এই প্রতিনিধিদল কাতারের রাজধানী দোহা নয়তো মিসরের রাজধানী কায়রোয় যাবে, যেখানে মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হবে।’
গাজাকে নিয়ে ট্রাম্পের প্রচারিত ভিডিওর জবাব দিলো হামাস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গাজাকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) তৈরি যে ভিডিওটি প্রচার করেছেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এবার এ বিষয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস। সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখার মুখপাত্র বাসিম নাইম বলেছেন, গাজাকে নিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যে ধারণা প্রচার করেছেন তা উপত্যকাটির সংস্কৃতি ও স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে বলা হয়, ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্লাটফর্ম সোশ্যাল ট্রুথে যে ভিডিও প্রচার করেছেন সেখানে তার স্বর্ণের একটি মূর্তি দেখা যায়। যেটাকে অনেকেই স্বৈরশাসকের মূর্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া ভিডিওতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে ককটেল পানের একটি চিত্র রয়েছে।
নিউজউইকের সঙ্গে কথা বলার সময় হামাসের ওই মুখপাত্র বলেছেন, দুর্ভাগ্যবশত ট্রাম্প আবারও এমন ধারণা প্রস্তাব করেছেন যা জনগণের সংস্কৃতি এবং স্বার্থের পরিপন্থি। তিনি আরও বলেন, গাজার বাসিন্দারা ওই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে যখন তারা দেখতে পাবেন যে, গাজাকে পুনর্গঠন করতে এবং শিশুদের ভবিষ্যত নির্মাণে সেখানের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। তবে সেটাকে কারাগারে রূপান্তরিত করলে সেটা সম্ভব হবে না। গাজার বাসিন্দারা কারাগারের জন্য নয় বরং এই বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেতে লড়াই করছে বলে উল্লেখ করেন বাসিম নাইম। মূলত ট্রাম্পের ওই ভিডিও প্রচারের পর গাজার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমানে দীর্ঘ দেড় বছরের যুদ্ধ শেষে সেখানে যুদ্ধবিরতি চলছে। যার মধ্যেই গাজাকে নিয়ে একের পর এক অমানবিক পরিকল্পনার কথা সামনে আনছেন ট্রাম্প। যা বেশ উদ্বেগের।
![]() |
| মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিরা স্বজনকে জড়িয়ে ধরেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে রামাল্লায় ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীকে বাসে নিয়ে আসা হয়। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প কেন পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন
আর তাতেই গত শুক্রবার পেন্টাগনের ওপর দিয়ে রীতিমতো বরখাস্তের ঝড় বয়ে গেছে।
ওই দিন রাতে ট্রাম্প মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল চার্লস ‘কিউ’ ব্রাউন জুনিয়রকে বরখাস্ত করেন। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সেদিনই সংস্থার আরও ৫ হাজার ৪০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর আগের কয়েক সপ্তাহে পেন্টাগনে যে অস্থিরতা চলছিল, ট্রাম্প এ গণছাঁটাইয়ের মাধ্যমে হয়তো এক রাতেই তা শান্ত করে প্রতিরক্ষা দপ্তরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তিকেও চাকরিচ্যুত করা হয়। ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেছিলেন, তিনি বিমানবাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও নৌবাহিনীর শীর্ষ পদে পরিবর্তনের জন্য প্রার্থী খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমতি পেতে এ তিনজনের সই প্রয়োজন হয়।
পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তাদের কেউই এ কারণে বরখাস্ত হননি যে যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁরা দক্ষতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বা তাঁরা অবাধ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচিতে (ডিইআই) জেনারেল ব্রাউনের অতিরিক্ত মনোযোগের কথা আলাদা। হেগসেথ গত বছর প্রকাশিত তাঁর একটি বইয়ে বলেছেন, জেনারেল ব্রাউন ডিইআইয়ের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগী।
ট্রাম্প (নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে) পেন্টাগন ঢেলে সাজাতে চাইছেন। এ কারণে সেটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টই পেন্টাগনের কমান্ডার ইন চিফ, তাই পদাধিকারবলে তাঁর সেই ক্ষমতা রয়েছে।
তবে জেনারেল ব্রাউন ও অ্যাডমিরাল ফ্রানচেত্তিকে চাকরিচ্যুত করা এ ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে থাকার মূল যোগ্যতা তাঁর প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য। অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিরপেক্ষ রাখতে তাঁরা কতটা ভালো পরামর্শ দিতে পারেন, সেটি পরে বিবেচ্য। অথচ প্রেসিডেন্টের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে তাঁদের মূল কাজ হওয়ার কথা এটাই।
প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প দ্রুত নিজের চারপাশে জ্যেষ্ঠ জেনারেলদের ভিড় জমিয়ে ফেলেছিলেন। সেবার চার তারকাবিশিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জন কেলি ছিলেন ট্রাম্পের দ্বিতীয় চিফ অব স্টাফস।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। শৈশব থেকেই তিনি সামরিক বাহিনীর প্রতি আসক্ত। তিনি নিউইয়র্কে সামরিক কায়দার একটি আবাসিক স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর পছন্দের ব্যক্তিদের একজন জেনারেল জর্জ প্যাটন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে যুদ্ধক্ষেত্রে দারুণ আক্রমণাত্মক ছিলেন সাবেক এই মার্কিন কমান্ডার।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে শপথ গ্রহণের পর আরেক চার তারকাবিশিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জেমস ম্যাটিসকে নিজের প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসনের উচ্চপদে আরও বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা দেখা গিয়েছিল।
কিন্তু জেনারেলদের সঙ্গে ট্রাম্পের গভীর আস্থার সম্পর্ক একসময় তিক্ততার দিকে চলে যায়। কারণ, প্রশাসনে থাকাকালে কেলি, ম্যাটিস বা ম্যাকমাস্টার (সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল) প্রত্যেকে কোনো না কোনোভাবে ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী চলেননি।
ট্রাম্পের সঙ্গে ম্যাকমাস্টারের বিরোধ হয় আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা নিয়ে। ম্যাকমাস্টার আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার না করার পক্ষে ছিলেন। এমনকি তিনি দেশটিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন ট্রাম্পকে।
কিন্তু ট্রাম্প অনেক দিন ধরেই আফগানিস্তান থেকে সরে আসতে চাইছিলেন। তাই ম্যাকমাস্টারকেই পদ থেকে সরিয়ে দেন তিনি। ম্যাকমাস্টার এক বছরের সামান্য বেশি ট্রাম্প প্রশাসনে ছিলেন। তাঁকে বরখাস্ত করার পর ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনকে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যাপারে তালেবানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর নির্দেশ দেন।
ম্যাটিসের বেলায় ২০১৭ সালে ট্রাম্প যখন পরমাণু শক্তিধর দেশ উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়েছিলেন, তখন তৎকালীন এই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর (ম্যাটিস) ভয় ছিল, ট্রাম্প না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে বসেন। এ জন্য ম্যাটিস উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবস্থা কী হতে পারে, সে পরামর্শ দিতে ‘ধীরগতিতে’ অগ্রসর হন। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়েও তিনি সামরিক বিকল্পগুলো কী হতে পারে, তা জানাতে দেরি করেছিলেন তিনি।
ম্যাটিসের ওপর ট্রাম্পের আস্থায় চূড়ান্ত ফাটল ধরে সিরিয়ায় আইএসআইএসের সঙ্গে লড়াই নিয়ে। ম্যাটিস বিশ্বাস করতেন, আইএসআইএসকে পরাজিত করার পরও মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার না করে সিরিয়ায় রেখে দেওয়া উচিত হবে; যাতে আইএসআইএস পুনরায় সংগঠিত হয়ে ফিরে আসার সুযোগ না পায়।
ম্যাটিসের এ–ও মনে হয়েছিল, যদি সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়, তবে সেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে মিত্রগোষ্ঠী ‘সিরিয়ান কুর্দিস ফোর্স’–কে একা ফেলে রেখে আসা হবে।
সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছিল এ কুর্দি বাহিনী। প্রতিবেশী তুরস্কের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও সিরিয়ার কুর্দি বাহিনীকে আক্রমণ করে বসতে পারে—ম্যাটিসের ছিল সে আশঙ্কাও। কুর্দি বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে তুরস্ক সরকার।
২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর ট্রাম্প টুইটারে (বর্তমান নাম এক্স) এক পোস্টে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করার আদেশ দেওয়ার কথা জানান।
এর পরের কয়েক দিন ম্যাটিস ওভাল অফিসে গিয়ে ট্রাম্পকে তাঁর ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ট্রাম্প রাজি না হওয়ায় পদত্যাগ করেন ম্যাটিস।
কেলি ছিলেন ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ। হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালনের দিনগুলোয় তিনি প্রেসিডেন্টের নানা সিদ্ধান্তে নিজের দায়িত্ব থেকে অভিমত দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যেমন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার বা ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণের বেলায়।
ট্রাম্প অন্যের মতামত বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ‘ঘৃণা করতেন’। তাই কেলির সঙ্গে দ্রুতই ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কেলি হোয়াইট হাউস ছেড়ে বেরিয়ে যান।
ম্যাটিস পদত্যাগ করার পর ট্রাম্পকে নিয়ে খুব কম বাক্যই ব্যয় করেছেন। তবে সম্প্রতি তিনি একটি বেপরোয়া বিবৃতি দিয়েছেন। বলেছেন, ‘আমার জীবনে দেখা প্রথম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে এক করার চেষ্টা করেন না, এমনকি চেষ্টা করার ভানও করেন না; বরং তিনি আমাদের বিভক্ত করার চেষ্টায় আছেন।’
আগেরবার পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ক্ষত থেকেই হয়তো ট্রাম্প এবার প্রতিরক্ষা দপ্তরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে এতটা উদ্যোগী হয়েছেন।
ট্রাম্প যে এটা করতে চলেছেন, তার ইঙ্গিত তিনি প্রথম মেয়াদের শেষ কয়েক মাসেই দিয়েছিলেন। সেবার ট্রাম্প তাঁর একান্ত অনুগত ক্যাশ প্যাটেলকে পেন্টাগনে একটি প্রভাবশালী পদে বহাল করেন। এবার তাঁকে এফবিআইয়ের পরিচালক করেছেন। সম্প্রতি সিনেট ভোটে এর অনুমোদনও পাওয়া গেছে।
ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনে উচ্চপদে থাকা কর্মকর্তা ও পেন্টাগনের শীর্ষস্থানীয়দের কাছ থেকে প্যাটেলের সমপর্যায়ের আনুগত্যই প্রত্যাশা করেন। শুক্রবার রাতের ছাঁটাইঝড়ে ছয় জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার ঝরে পড়া হয়তো এ প্রত্যাশা পূরণের সূচনামাত্র। হেগসেথকে আগামী দিনগুলোয় তাঁর দপ্তরের লাখো কোটি ডলারের ব্যয় কমানোর উপায়ও খুঁজতে হবে। তাই তিনি খুব সম্ভবত তাঁর কর্মী বাহিনীর একটি বড় অংশকে হারাতে চলেছেন।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাশিয়ায় বিরল খনিজের মজুত কতটা, পুতিনের পরিকল্পনা কী
যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাবটি দেওয়ার সময় রুশ প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, প্রতিবেশী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের চেয়ে তাঁর দেশে বিরল খনিজ সম্পদের মজুত অনেক বেশি আছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। এই যুদ্ধ এখনো চলছে। জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি এই যুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক-আর্থিকসহ নানাভাবে ব্যাপক সাহায্য-সহযোগিতা করেন।
কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর দেশের ইউক্রেন-নীতিতে নাটকীয় বদল এনেছেন। তিনি এই যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগী হয়েছেন। এ জন্য ইউক্রেনকে বাইরে রেখেই তিনি রাশিয়ার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন।
একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধে ইউক্রেনকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন এই অর্থ তিনি ফেরত চান। ট্রাম্প এখন ইউক্রেনের সঙ্গে খনিজ চুক্তি করার পথে রয়েছেন। চুক্তিটি হলে ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগামীকাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন। তাঁর এই সফরে চুক্তিটি সই হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে খনিজ চুক্তির খসড়া নিয়ে আলাপ-আলোচনার মধ্যেই পুতিন তাঁর প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনকে দেন।
ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার ভূখণ্ডে থাকা খনিজও তিনি কিনতে চান। রাশিয়ায় কাছে খুব ভালো বিরল খনিজ আছে। ইউক্রেনের কাছেও তা আছে।
ট্রাম্প বলেছেন, খনিজ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি হলে মস্কো ও ওয়াশিংটন উভয়ে লাভবান হবে। উভয়ের ভালো হবে।
বিরল খনিজের বৈশ্বিক উৎপাদন-সরবরাহের ৯৫ শতাংশেরই নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে। এই খনিজ প্রতিরক্ষা, ভোক্তা ইলেকট্রনিকসের মতো শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। ফলে অন্যান্য দেশ এই খনিজের নিজস্ব অনুসন্ধান-উৎপাদন-সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টায় আছে।
রাশিয়ার কাছে কতটা বিরল খনিজ আছে, দেশটিতে এই শিল্পের অবস্থা কী, তা খতিয়ে দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রাশিয়ার মজুত
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুসারে, বিরল খনিজের মজুতে চীনের অবস্থান সবার ওপরে। এরপরের অবস্থানে ক্রমানুসারে আছে ব্রাজিল, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। এই খনিজের মজুতের দিক থেকে বিশ্বে রাশিয়ায় অবস্থান পঞ্চম।
ইউএসজিএসের অনুমিত হিসাব বলছে, রাশিয়ার মোট মজুতের পরিমাণ ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
নিজেদের সামগ্রিক মজুত নিয়ে রাশিয়ার অনুমিত হিসাব অবশ্য উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি।
রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটির বিরল খনিজের মোট মজুত ২৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন টন। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন উন্নয়নাধীন বা উন্নয়নের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় আছে।
রাশিয়ার খনিজ শিল্পের বিকাশ-উন্নয়ন নিয়ে দেশটির সরকারি নথি বলছে, এই খনিজের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম। একই সঙ্গে এই শিল্পের ক্ষেত্রে চীনের দিক থেকে রাশিয়া তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে। এ বিষয়গুলো রাশিয়ায় এই শিল্পের বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাশিয়ার এই খাতসংক্রান্ত উন্নয়নকৌশলের তথ্য অনুসারে, দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে বিরল খনিজ উৎপাদনকারী বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের একটি হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এই সময়ে তারা বৈশ্বিক বাজারের ১২ শতাংশ খনিজ উৎপাদন করতে চায়।
রাশিয়ার উৎপাদন
রাশিয়ায় বিরল খনিজের একমাত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সোলিকামস্ক ম্যাগনেশিয়াম প্ল্যান্ট। ২০২২ সালে সাবেক মালিকদের কাছ থেকে প্ল্যান্টটি নিয়ে নেয় রুশ সরকার। ২০২৩ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমের কাছে এটিকে হস্তান্তর করা হয়।
রোসাটম পারমাণবিক শক্তি নিয়ে কাজ করে। তবে প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির খাতেও বৈচিত্র্য আনতে ভূমিকা রাখছে। একটি বিশেষ জাতীয় প্রকল্পের আওতায় বিরল খনিজের উন্নয়নে কাজ করছে রোসাটম।
উত্তর রাশিয়ার মুরমানস্ক অঞ্চলের রোসাটম-নিয়ন্ত্রিত মজুত থেকে বিরল খনিজসমৃদ্ধ জমাটবাঁধা উপকরণের সরবরাহ আসে সোলিকামস্ক প্ল্যান্টে। রাশিয়ার একমাত্র এ স্থান থেকেই সক্রিয়ভাবে বিরল খনিজ উত্তোলন করা হয়।
প্ল্যান্টটি বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় চার হাজার টন জমাটবাঁধা উপকরণ প্রক্রিয়াকরণ করছে। আর রাশিয়ার বিরল খনিজের বর্তমান উৎপাদন বৈশ্বিক উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ। পরিমাণের হিসাবে তা প্রায় ২ হাজার ৬০০ টন।
রাশিয়ার পরিকল্পনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দিন কয়েক আগে ঘোষণা দেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিনিময় কার্যকর হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার দুই ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে পুতিন বিরল খনিজ নিয়ে একটি বৈঠক করেন। তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি অগ্রাধিকারমূলক খাত।
গত সপ্তাহে পুতিনের দীর্ঘদিনের বন্ধু বিজ্ঞানী মিখাইল কোভালচুক একটি সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। এই বিজ্ঞানী রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় একটি গবেষণাকেন্দ্র কুরচাটভ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টও। সম্মেলনে বিরল খনিজসহ অন্যান্য খনিজ নিয়ে কথা বলেন পুতিন।
পুতিন তাঁর বক্তৃতায় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিরল খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন ও তা ব্যবহারে দক্ষতা হারানোর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি কুরচাটভ ইনস্টিটিউট ও রোসাটমকে এই হারানও গৌরব পুনরুদ্ধারের দিকে মনোনিবেশ করার জন্য আহ্বান জানান।
রাশিয়ার বিরল খনিজের সবচেয়ে বড় মজুতকেন্দ্র টমটর। গত নভেম্বরে পুতিন টমটরের অপারেটরের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেন। অপারেটরের বিরুদ্ধে এই মজুতের উন্নয়ন-বিকাশ বিলম্বিত করার অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে পুতিন এই খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে পরামর্শ দেন। দরকারে তৃতীয় পক্ষের সাহায্য নিতে বলেন।
![]() |
| বিরল খনিজের নমুনা। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যাবতীয় সম্পদ বিক্রি করে কেন সাগরে ভাসছে এই পরিবার by জিনাত শারমিন
৪২ বছর বয়সী গৌরব জানান, তিনি যতক্ষণ পানির ওপর থাকেন, মনে হয়, বেঁচে আছেন। স্থলে, ইট-সিমেন্ট-কংক্রিটের বাসাবাড়িতে তাঁর দম নিতে কষ্ট হয়। এদিকে তাঁর স্ত্রী বৈদেহীও গণমাধ্যমে কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। তাঁর জীবনের একটাই ইচ্ছা, স্বাধীনভাবে বাঁচা। তাঁদের একমাত্র কন্যা খেয়ার ভালো লাগে না স্কুলে যেতে। তাই ২০২২ সালে এই পরিবার একটা নৌকা কিনে নিজেদের মতো করে গড়ে তুলে ভাসিয়ে দিয়েছেন সাগরে। কোনো দেয়াল নেই, নেই কোনো রুটিনের বেড়াজাল। কেবল চারপাশে সাগর, মাথার ওপর নীল আকাশ আর বিশুদ্ধ বাতাস।
২০২২ সালে গৌতম ও বৈহেদী দম্পতি তাঁদের বাড়ি, পারিবারিক সম্পত্তি, আসবাব—সব বিক্রি করে ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে তৈরি একটি নৌকা কেনেন। সেটাকে নিজেদের মতো করে মেরামত আর সংস্কারও করেন। আসবাব, বই, জামাকাপড়সহ যেসব জিনিস নিয়ে তাঁরা নৌকায় উঠেছেন, সব মিলিয়ে সেসবের ওজন মাত্র ১২০ কেজি!
দ্য বেটার ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৈদেহী বলেন, ‘আমরা শিখেছি, কীভাবে সবচেয়ে কম জিনিসে সবচেয়ে ভালোভাবে বাঁচা যায়। বাতাস আমাদের যেদিকে নিয়ে যায়, আমরা সেদিকেই যাই। ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলে দেখি, কোথায় এলাম। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দ্বীপে থামি। ঘুরে বেড়াই। মেয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে দোলনা বানিয়ে দোল খায়। ফলমূল সংগ্রহ করি। আবার নৌকায় উঠে পড়ি।’
বৈদেহী আরও জানান, তাঁরা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে আলো জ্বালেন। সংগ্রহ করেন বৃষ্টির পানি। মাছ ধরেন। নৌকার প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান। কয়েক মাস পর কোনো এক বন্দরে থেমে চা, নুন, মসলা ও তেলের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনে নেন।
গৌরব আর বৈভবী মনে করেন, তাঁদের ১৪ বছর বয়সী কন্যা স্কুলের তুলনায় ভালোই শিখছে। কেননা, সে জানে সাগরে ঝড় উঠলে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়। দুটি টি-শার্টে চালিয়ে দেওয়া যায় মাসের পর মাস। দুই বছরে সাগরে দিকনির্ণয় করে চলা, বাতাসকে ব্যবহার করা, পানিতে নেমে সামুদ্রিক প্রাণীদের সঙ্গে সাঁতার কাটা, সাগরে মাছ ধরায় সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছে সে। এই তিনজনের কেউই স্থলের জীবন মিস করছেন না মোটেও। আপাতত স্থলে ফেরার কোনো ইচ্ছাও নেই তাঁদের।
সূত্র: বেটার ইন্ডিয়া
![]() |
| গৌরব গৌতম ও বৈদেহী চিতনাভিস সাগরে ভাসছেন তাঁদের একমাত্র কন্যা খেয়াকে নিয়ে। ছবি: টিম রিভা |
![]() |
| খেয়া, গৌরব ও বৈভবীর আপাতত স্থলে ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই। ছবি: টিম রিভা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফঈদা–আফরার ফুটবল–পাগল বাবার স্বপ্ন পূরণের গল্প by মাসুদ আলম
সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর পৌরসভায় তাঁর বাস। ছোটখাটো ব্যবসা করেন। তবে ২০১১ সালে ‘স্টুডেন্টস ফুটবল একাডেমি’ নামে ফুটবলের-পাঠশালা খুলে ‘খেলোয়াড় তৈরির কারিগর’ তকমা লাগিয়েছেন গায়ে। জনা পঞ্চাশেক ছেলেমেয়ে ফুটবল শেখে তাঁর কাছে। পরশু বিকেলে ঢাকা থেকে আরিফ হাসানের সঙ্গে যখন মুঠোফোনে কথা হয়, তখনো তিনি সুলতানপুর পিএন উচ্চবিদ্যালয়ে মাঠে ছেলেমেয়েদের অনুশীলন করাচ্ছিলেন। জিমন্যাস্টিকস ও বক্সিং কোচও তিনি। খেলোয়াড় ছিলেন বলে খেলার প্রতি অসম্ভব প্রেম ৫৬ বছর বয়সী মানুষটার।
কতটা প্রেম, তা বোধহয় বোঝা যাবে তাঁর এই কথায়, ‘খুব ছোটবেলা থেকে খেলি। বলতে পারেন ফুটবল–পাগল ছিলাম। সাতক্ষীরা জেলা দলে খেলেছি। খুলনা বিভাগীয় যুব দলে খেলা হয়েছে। ঢাকায় শান্তিনগর ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে খেলেছি ১৯৮৯-৯০ সালে। এ কারণেই আমি চেয়েছি, আমার দুই মেয়েই খেলাধুলায় আসুক।’
বাবার ইচ্ছা পূরণ করেছেন মেয়েরা। বড় মেয়ে আফরা খন্দকার বক্সার হয়েছেন আগেই। বক্সিংয়ে এসেই জাতীয় পর্যায়ে স্বাধীনতা কাপে রুপা জেতেন। বিজয় দিবস, যুব গেমসে জেতেন সোনা। ২০২১ সালে সিনিয়র প্রতিযাগিতায় রুপা। পেশাদার বক্সার হিসেবে খেলেছেন তিনটি প্রতিযোগিতায়। একটিতে জিতেছেন, হেরেছেন দুটিতে।
আফরার তিন বছরের ছোট আফঈদা খন্দকারকে নতুন করে পরিচয় করানোর কিছু নেই। গত অক্টোবরে কাঠমান্ডুতে সাফ শিরোপা ধরে রাখা বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের অন্যতম সদস্য। মাত্রই গলায় ঝুলিয়েছেন একুশে পদক। সম্প্রতি কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ১৮ খেলোয়াড়ের মধ্যে ছিলেন না সেন্টার ব্যাক আফঈদা। তারই পুরস্কার হিসেবেই কি না, সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে জাতীয় দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে তাঁকে বেছে নিয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। গত রাতে আমিরাতের বিপক্ষে দুবাইয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে আফঈদার অভিষেক হয়েছে।
এমন মাহেন্দ্রক্ষণে খন্দকার পরিবারে উচ্ছ্বাসের ঢেউ বইছে। বোন আফরার ভাষায়, ‘বলতে পারেন আমাদের পরিবারে এখন খুশির বন্যা। আমাদের স্বপ্ন ছিল আফঈদা একদিন জাতীয় দলের অধিনায়ক হবে। সেটা পূরণ হয়েছে।’ বাবা মনে করছেন নতুন ভূমিকায়ও সফল হবে মেয়ে, ‘সে গত বছর সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্টে অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়ন করেছে বাংলাদেশকে। আমার বিশ্বাস, জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবেও খুব ভালো করবে। দলটা তরুণদের নিয়ে হলেও ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে।’
ফুটবলার আফঈদার ভিত্তিভূমি বিকেএসপি। ২০১৬ সালে সাভার বিকেএসপিতে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে পথচলা শুরু। বোন আফরাও বিকেএসপির সাবেক ছাত্রী। দুই বোনের সামনেই সিঁড়ি পেতে দেয় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেটাও অন্য রকম এক গল্প তৈরি করে। বাবার মুখেই শোনা যাক তা, ‘২০১৬ সালে আফরা সাভার বিকেএসপিতে চার মাসের ক্যাম্পে যায়। ছোট মেয়ে আফঈদাকে তখন বিকেএসপিতে নিয়ে যাই বড় বোন কোথায় অনুশীলন করে সেটা দেখাতে। পাকেচক্রে তখন দুই বোন একসঙ্গেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। টিকে যায় ছোট মেয়ে, বড় মেয়ে বাদ পড়ে। বুঝুন অবস্থা!’
একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে বিষাদ। খন্দকার পরিবারে তখন দুই রকম অনুভূতি। দুই বোনই কাঁদছেন। একদিকে প্রাপ্তি, অন্যদিকে প্রান্তি (দুজনের ডাক নাম, বাবার ডাক নাম প্রিন্স)। দুই বোন একে অন্যকে ছেড়ে থাকবে কী করে! ‘তখন আমরা ঠিক করি বড় মেয়েকেও বিকেএসপিতে ভর্তি করাতেই হবে। বাড়ি এনে ওকে ক্রিকেট সেট কিনে দিয়ে ছয় মাস একটানা অনুশীলন করাই আমি। এরপর ভর্তি করি সাতক্ষীরা শুটিং ক্লাবে। কিছুদিন পর সাতক্ষীরায় বক্সিং প্রতিভা অন্বেষণে আসে বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের প্রতিনিধিদল। আফরার ফিটনেস দেখে ওকে বক্সিংয়ে নির্বাচন করা হয়। পরে বক্সিং ফেডারেশনের সুপারিশে ২০১৭ সালে অষ্টম শ্রেণিতে বিকেএসপিতে ভর্তি করা হয় আফরাকে।’ আরিফ হাসানের কাছে সবকিছু এখন রোমাঞ্চকর লাগে।
বিকেএসপি থেকে ২০১৮ সালে আফঈদা বাফুফের ক্যাম্পে আসেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে আফরা বিকেএসপি থেকে বেরোন ২০২১ সালে। আফরা এখন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ে ক্রীড়াবিজ্ঞানে পড়ছেন। আফঈদা এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু আমিরাত সফরে যাওয়ায় তাঁর ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়ে বাফুফে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে।
দুই বোন একে অন্যের ভালো বন্ধু। ছোট বোনকে নিয়ে আফরা বলছিলেন, ‘ও চুপচাপ স্বভাবের। ছবি তুলতে পছন্দ করে না। তবে আমি এর বিপরীত।’ ওদিকে দুই মেয়েকে এক সুতোয় গাঁথতে পেরে তৃপ্ত বাবা, ‘আমার স্বপ্ন ছিল ওদের খেলাধুলা শেখাব। কারণ, আমি মনে করেছি খেলাধুলায়ও জীবন গড়া যায়। তাই নিজে ওদের খেলাধুলা শিখিয়েছি। আমি আজ সফল।’
কিন্তু শুরুটা মসৃণ ছিল না। আফরা তা মনে করে নিজেদের সুখী ভাবেন, ‘ছোটবেলায় বাবা আমাদের দুই বোনকে মাঠে নিয়ে যেতেন। ফুটবল শেখাতেন। আমরা যখন শুরু করি, লোকে নানা কথা বলত। মেয়েরা হাফপ্যান্ট পড়ে কেন খেলবে। তবে আমরা ভালো করায় এখন কেউ কিছু বলে না।’
দুই মেয়ে পিঠে পেয়েছেন মায়ের সহযোগিতার হাতও। মা মমতাজ খাতুন স্কুল, কলেজে অ্যাথলেটিকস করতেন। সাতক্ষীরা জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ছিলেন। খুলনা বিভাগীয় অদম্য নারী ২০২৪-এ সফল জননী পুরস্কার পেয়েছেন ২৩ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে আফঈদার নাম জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। আদরের ছোট মেয়ের কাছে এর চেয়ে বেশি আর কী চাইতেন পারতেন আরিফ-মমতাজ দম্পতি!
![]() |
| ফুটবলার আফঈদা খন্দকার ও বক্সার আফরা খন্দকারের সঙ্গে গর্বিত বাবা খন্দকার আরিফ হাসান। সৌজন্য ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৩০ বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায় ফিলিস্তিনি মা
১৯৯২ সালে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক কর্মকর্তাকে মারার কারণে কারাবন্দি হন দিয়া এল আঘা। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি কারাবাসে থাকা ১৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দির একজন তিনি।
মা নাজাত তার ফেরার আসা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছিলেন। তবে শনিবার ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি বন্দিদের বিনিময়ে যেসব ফিলিস্তিনি বন্দিকে ফিরিয়ে দেবার কথা ছিল, সেই তালিকায় ছিল দিয়ার নামও৷ ছেলের নাম এই তালিকায় দেখে মায়ের খুশি আর বাঁধ মানছে না।
ইসরায়েলি বোমা হামলায় ঘরবাড়ি সব হারিয়েছেন। থাকছেন খোলা আকাশের নিচে। তবুও বন্দি ছেলে ফিরে আসবে, সেই আনন্দে গাজার বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট হাতড়ে বেড়াচ্ছেন নাজাত৷ যদি কিছু পাওয়া যায়, যা দিয়ে ছেলেকে স্বাগত জানাতে পারেন তিনি।
নাজাত বলেন, ‘আমি গাজার ওমার আল মুখতার স্ট্রিটে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম, কীই বা দিতে পারি আমার ছেলেকে? জামা-কাপড়ে ভরে ফেলি ব্যাগ, টুথপিকও ভরেছিলাম ব্যাগে।’
১২ ঘণ্টা ধরে গাজার ইউরোপিয়ান হাসপাতালে বন্দি বিনিময়ের স্থানে অপেক্ষা করেন নাজাত। কিন্তু ৬২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ফেরত পাঠালেও নাজাতের ছেলে দিয়াকে পাঠায়নি ইসরায়েল। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাকি বন্দিদের মুক্ত করার আগে অবশিষ্ট ইসরায়েলি বন্দিদেরও মুক্ত করা হবে এমন নিশ্চয়তা চায় তারা।
এই খবর পাওয়ার মুহূর্ত থেকে নিজের আবেগ সামলাতে পারছেন না দিয়ার মা নাজাত। তিনি বলেন ‘আমি সব কিছু তার জন্য প্রস্তুত করেছি, তবুও সে মুক্তি পেলো না৷ আমাকে তারা বাধ্য করে বাসায় ফিরে যেতে, কিন্তু আমি চাইছিলাম সেখানেই বসে থাকি, যত দিন না দিয়া মুক্তি পায়।’
নাজাত হিসেব করে দেখেছেন, তার ছেলের বয়স সদ্য ৫০ পেরিয়েছে। এত দীর্ঘ সময় বন্দি থাকতে থাকতেই দিয়া তার বাবা ও বোনকে হারিয়েছে। কারাগারে তাকে ডাকা হয় ‘বন্দিদের অধ্যক্ষ’ নামে৷ তবে এই কারাগারের অধ্যক্ষের একজন আপন মানুষ এখনো পৃথিবীতে বেঁচে আছেন। তিনি হলেন তার মা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আশা ছাড়ছেন না নাজাত। ইসরায়েলি হামলায় ভেঙে পড়া তার বাসার গায়ে এখনো ঝুলছে একটি সাইনবোর্ড, যার গায়ে লেখা ‘এটা বন্দি দিয়া জাকারিয়া এল আঘার বাসস্থান।’
হামাস সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে ইসরায়েলি বন্দিদের ফেরত পাঠিয়েছে, তাকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছে৷ ইসরায়েলের মতে, এভাবে ফেরত পাঠানো বন্দিদের জন্য রীতিমতো অসম্মানজনক ছিল৷ তাই তারা শর্ত দিয়েছে এভাবে বন্দীদের স্টেজে তুললে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করবে ইসরায়েল।
তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, আরো ৬৩ জন জিম্মি বন্দি থাকার কথা গাজায়, যাদের মুক্তি দেয়ার কথা আছে এই চুক্তিতে৷ তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন বন্দির জীবিত থাকার কথা জানা গেছে৷
সূত্র : ডয়েচে ভেলে
![]() |
| ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়ির পাশে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছে গাজার একটি পরিবার। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজা ২০২৫: হোয়াট ইজ নেক্সট? গাজায় ট্রাম্প হোটেল, মূর্তি!
ওই ভিডিওতে ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হয়েছে- ‘গাজা ২০২৫: হোয়াট ইজ নেক্সট?’ এই ভিডিও কে তৈরি করেছে তা পরিষ্কার নয়। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই ভিডিও এটা নিশ্চিত। এতে সাহসী, চটকদারভাবে নতুন একটি ট্রাম্প হোটেল দেখানো হয়েছে। আছে ট্রাম্পের নিজের স্বর্ণের তৈরি একটি বিশাল মূর্তি। একটি শিশু ট্রাম্প-বেলুন নিয়ে ছুটছে ওই সমুদ্র সৈকতে। এতে ট্রাম্পের ‘ফাস্ট বাডি’ ইলন মাস্ককে দেখা যায় শিশু এবং পর্যটকদের অর্থ ছুড়ে মারছেন। ট্রাম্প নিজে এক বেলিড্যান্সারের সঙ্গে নাটছেন। ককটেল পান করছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। এই ভিডিও নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বহু এক্স ব্যবহারকারী একে চরমভাবে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কেউ একে ‘বিশ্বমঞ্চে নোংরামি’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যরা বলছেন, এটা ট্রাম্পের পরিকল্পনার সময়। তিনি গাজাকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশের ইতিহাসে খেলাপি ঋণের রেকর্ড
আলোচ্য সময় শেষে ব্যাংক খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
গত ৫ই আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পর খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করেছে। সাবেক সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিতে নানা সুবিধা দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কাগজে-কলমে কম দেখাতে নেয়া হয়েছিল একের পর এক নীতি। সরকার পরিবর্তনের পর সেই নীতি থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য বলছে, মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ২০.২ শতাংশ খেলাপি। এ সময়ের শেষে ব্যাংকিং খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৭৭৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি রেকর্ড ছিল সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে। সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা বা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশ। সে হিসাবে তিন মাসের ব্যবধানে ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। আর সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২ লাখ কোটি টাকা।
গত (২০২৩) ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতের ঋণস্থিতি ছিল ১৬ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয় ৯ শতাংশ। আর বছরের সেপ্টেম্বর (২০২৪) শেষে ব্যাংক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছিল ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। যার মধ্যে খেলাপি ঋণ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা বা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৬.৯৩ শতাংশ খেলাপি।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, আমাদের কাছে যতই নতুন তথ্য আসছে ততই বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আগামীতে হয়তো আরও বাড়বে। তবে কিভাবে সমস্যার সমাধান করা যায়, আমরা সে চেষ্টা করছি। তবে এখনো খেলাপি ঋণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’ তিনি আশ্বস্ত করেন, ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের টাকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।
বিভিন্ন আইন কঠোর করার চেষ্টা চলছে। আমরা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন করতে চাই। যেসব ব্যাংক একীভূত করার দরকার, সেগুলো একীভূত করবো অথবা নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে এসে পুনর্গঠন করা হবে। তা ছাড়া আইনগত সংস্কার হচ্ছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন রিভিউ হচ্ছে। এসব শেষ হলে ব্যাংক খাত আইন অনুযায়ী পুনর্গঠন করা হবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রী পিটালেন পাত্রকে, বাতিল বিয়ে
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে মালাবদল প্রক্রিয়া যখন শুরু হয় তখন রবীন্দ্র কুমার ভুল করে তার নববধূর পরিবর্তে তার সেরা বন্ধুর গলায় মালা পরিয়ে দেন। এক পর্যায়ে নিজের ভুল বুঝতে পারেন তিনি। ফলে সেই মালা খুলে নেন। তারপর তা একজন পুরুষ বন্ধুর গলায় পরিয়ে দেন। এরপর তা একজন বয়স্ক অতিথির গলায় পরিয়ে দেন। এতে উপস্থিত অতিথিরা বিস্ময়ে হা করে রইলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় রাধা দেবী (২১) উঠে গিয়ে রবীন্দ্র কুমারের মুখে থাপ্পড় বসিয়ে দেন। তারপর বিয়ের আসর থেকে উঠে যান। বাতিল করে দেন বিয়ে। এ ঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। একপক্ষ অন্যপক্ষের ওপর চেয়ার ছুড়ে মারতে থাকে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কনের পরিবার পরে থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করে। তাতে বলা হয়, যৌতুক হিসেবে চার লাখ ৫০ হাজার রুপি পরিশোধ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও রবীন্দ্র কুমারের পরিবার আরও যৌতুক দাবি করছিল। রাধা দেবীর ভাই ওমকারা বর্মা বলেন, পাত্রপক্ষ তাদেরকে অবমাননা করার নাটক সাজিয়েছিল। এ ছাড়া রবীন্দ্র কুমার নিজের পেশা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছে। রবীন্দ্র কুমার নিজেকে একজন কৃষক হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। আসলে সে একজন ট্রাকচালক। ওইদিন ভোর ৪টা পর্যন্ত রবীন্দ্র কুমার ও তার বন্ধুরা পুলিশি হেফাজতে ছিলেন। তার মেডিকেল পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তার শরীরে মাদকের ক্রিয়া রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতের যৌতুকবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। ওদিকে বিয়েটা মেনে নেয়ার জন্য পরিবার অনুরোধ সত্ত্বেও মিস রাধা দেবী তা বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড: নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পরিপন্থি by ডা. রফিকুর রহমান
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এটা ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। সমাজের নৈতিক ভিত্তি নড়বড়ে করে দেয়। মানুষের মননে অরাজকতার জন্ম দেয়। মানবিক সমাজ বিনির্মাণকে বাধাগ্রস্ত করে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কেন এখনো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও কেন এখনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তা ব্যাখ্যা করতে একই কায়দায় প্রায় একই স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করা হচ্ছে; যা স্বৈরাচারী হাসিনার সময়কালের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য ব্যবহৃত হতো।
সম্প্রতি মানবজমিনে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় (২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫, বৃহস্পতিবার) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে চাঁদ উদ্যান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দু’জন চাঁদ উদ্যান এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মানবজমিন উল্লেখ করেছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে যৌথ বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি চাঁদ উদ্যান এলাকায় বেশ কিছু সন্ত্রাসী বৈঠক করছে। এরই প্রেক্ষিতে যৌথ বাহিনীর একটি দল চাঁদ উদ্যানের লাউতলায় অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে যৌথ বাহিনীর সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। এভাবে কিছুক্ষণ গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে পাঁচ সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণকারীদের আটকের সময় তাদের দুই সহযোগীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। আটককৃতদের কাছ থেকে একটি রিভলভার ও কিছু গুলি পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।’
মানবজমিন পত্রিকায় ঘটনার দিনক্ষণ উল্লেখ না থাকলে এই সংবাদ পড়ে মনে হতো স্বৈরাচারী হাসিনার সময়কালের কোনো একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা। সেসময় ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের একটা মহোৎসব চলছিল বছরের পর বছর।
আজকের এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনাও একই রকম, এ যেন কপি অ্যান্ড পেস্ট। যাই হোক, এর দায়ভার সরকারের ওপরই বর্তায়। ৫ই আগস্টের চেতনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সরকারের সময়ে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কাম্য নয়। এই সরকার জনগণের সরকার। লুটেরা এবং স্বৈরাচারী সরকারের মতো নয়। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ম্যান্ডেট নিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত। যেকোনো বিবেচনায় এই সরকার বহু গুণে শক্তিশালী। কারণ, এ সরকার স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী এবং বহু রক্ত দিয়ে কেনা।
তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম নিহত দুইজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং ভয়ঙ্কর অপরাধী। তবে, অপরাধের মাত্রা যত বড়ই হোক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনো বিবেচনাই অনুমোদনযোগ্য নয়। এটা আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন। প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার রয়েছে জীবন ও নিরাপত্তার। আর এজন্যই অপরাধীরা বিচারের আওতায় আসবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব- এই অধিকার রক্ষা করা। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এই অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর। আদালতে বিচারকার্য সম্পন্ন করে আসামি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সে তার প্রাপ্য সাজা পাবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজ বিবেচনায় কাউকে কোনো ধরনের সাজা দেয়ার বিধান নেই। ৫ই আগস্টের চেতনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সরকারের সময়ে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কাম্য নয়। প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে যেখানে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির প্রত্যয় নিয়ে এই সরকার চলমান, সেখানে একই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিন্দুমাত্র কোনো স্থান নেই। কোনোরকম কালক্ষেপণ না করে এই সংস্কৃতি থেকে এখনই বেরিয়ে আসতে হবে।
আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশীয় অস্ত্র বহনকারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি করলে সন্ত্রাসী নিহত হয়, সেই বিবেচনায় পুরনো পদ্ধতিতে অভিযানে না গিয়ে নতুন উন্নত কৌশল প্রণয়ন করতে হবে; যাতে প্রাণহানি বন্ধ করা যায়। প্রয়োজনে আধুনিক কৌশল রপ্ত করার জন্য বিদেশে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
ন্যায়বিচার একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল ভিত্তি। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং আইনের শাসনকে একইসঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণ তাদের আস্থা হারায়। সরকারকে আর নিজের সরকার মনে করে না। সরকারের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব বেড়ে যায়।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা শুধু নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বই নয়। এটি দেশের মানবাধিকারের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্যও অপরিহার্য।
লেখক: ডা. রফিকুর রহমান
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক
mdr.rafiqur@gmail.com

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
February
(308)
-
▼
Feb 27
(15)
- ইউক্রেনকে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার কথা ভুলে যেতে বললেন ...
- যে কারণে হাড় পচে যাচ্ছে বারনেত্তির
- ২০২৭ থেকে ২০২৯-এর মধ্যে বিজেপি শেষ হয়ে যাবে: মমতা ...
- ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে বিস্ফোরক বার্তা রাশিয়ার
- একটি আশার মৃত্যু
- চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দিল হামাস, ৬০০ জনে...
- ট্রাম্প কেন পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন
- রাশিয়ায় বিরল খনিজের মজুত কতটা, পুতিনের পরিকল্পনা কী
- যাবতীয় সম্পদ বিক্রি করে কেন সাগরে ভাসছে এই পরিবার ...
- আফঈদা–আফরার ফুটবল–পাগল বাবার স্বপ্ন পূরণের গল্প by...
- ৩০ বছর ধরে ছেলের অপেক্ষায় ফিলিস্তিনি মা
- গাজা ২০২৫: হোয়াট ইজ নেক্সট? গাজায় ট্রাম্প হোটেল, ম...
- দেশের ইতিহাসে খেলাপি ঋণের রেকর্ড
- বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রী পিটালেন পাত্রকে, বাতিল বিয়ে
- বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড: নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে...
-
▼
Feb 27
(15)
-
▼
February
(308)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








