Sunday, November 22, 2015
বাবা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন : মুজাহিদের বড় ছেলে
আজ রোববার সকালে মুজাহিদের দাফন শেষে ফরিদপুরের আইডিয়াল মাদরাসা প্রাঙ্গণে উপস্থিত মুসল্লিদের তিনি একথা জানান। তাসদিদ বলেন, আমার পিতা সারাজীবন কোরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সারাজীবন আন্দোলন করে গেছেন। কারো কাছে ভিক্ষার আবেদন তিনি করেননি। রাষ্ট্রপতির কাছেও প্রাণভিক্ষার আবেদন করেননি।
প্রিয় ফরিদপুরবাসী সম্বোধন করে তাসদিদ বলেন, আজ আমরা আপনাদের মাঝে আপনাদের প্রিয় নেতাকে রেখে গেলাম। তার দোয়া আপনাদের কাছে পৌঁছে দিতে এসেছি। যে ময়দানে আজ আমরা উনাকে (মুজাহিদ) রেখে গেলাম, তার পাশেই যে মসজিদ সেখানে তিনি প্রতি রমজানে ইতেকাফ করতেন আপনারা সাক্ষি। ওনার পিতা এটি ওনাকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ওয়াকফ করে গেছেন। উনি (মুজাহিদ) উনার জীবনে উনার সামর্থ্য অনুযায়ী কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী এই সমাজকে গড়ার লক্ষ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। যার সাক্ষি আপনারা। তারই ফলশ্রুতিতে আজকে বাতিলের কোপানলে পড়ে আল্লাহর দরবারে উনি শাহাদাতের মর্যাদা নিয়েছেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। উনি আপনাদের সবাইকে সালাম জানিয়েছেন, দোয়া করেছেন।
![]() |
| আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের কফিন |
এসময় জামায়াতের অঞ্চল দায়িত্বশীল দেলোয়ার হোসেন, সহকারী অঞ্চল দায়িত্বশীল সামসুল আলম বরাটি, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব, সেক্রেটারি মওলানা বদরুদ্দিন বক্তব্য দেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বাতিলের বিরুদ্ধে হকের পথে কথা বলার জন্য যুগে যুগে অনেক নবি রাসুলকে হত্যা করা হয়েছে। এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনে তার এ আত্মদান অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করুন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শরণার্থী শিশু আর মার্কিন শিশুতে ফারাক নেই
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘ইউ আর আন্ডার এরেস্ট’ by ডক্টর তুহিন মালিক
দুই. আমার দুই দশকেরও বেশি দীর্ঘ আইন পেশায় এরকম বহু মামলায় দেখেছি শুধুমাত্র মানুষের পকেটের টাকা নিজের পকেটে ভরার লোভে কিভাবে পুলিশ নিরীহ মানুষকে জেলে ঢুকাচ্ছে। বছর দশেক আগে এক মামলায় একজন মালয়েশিয়া প্রবাসী দীর্ঘ নয় বছর পর ঈদের ছুটিতে মাত্র পনের দিনের জন্য দেশে এসে হত্যা মামলার আসামি হয়ে যায়। কিন্তু ঘটনার আসল মোটিভ ছিল ওই প্রবাসীর নয় বছরের প্রবাস জীবনের রোজগারের টাকাগুলোকে হাতিয়ে নেয়া। এভাবে হাজার হাজার মামলায় গুটিকয়েক প্রকৃত অপরাধী ছাড়া গণ- গ্রেপ্তারের সিংহভাগই হচ্ছে দেশের সাধারণ নিরপরাধ মানুষ। গণগ্রেপ্তারের রয়েছে বিশাল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি! এই অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি আবার বিবিধ রেটের সঙ্গে ওঠানামা করে। অজ্ঞাত আসামি না হতে চাইলে এক রেট। নাশকতার মামলা থেকে ছাড়া পেতে আরেক রেট। ভয় দেখিয়ে মামলা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে একরকমের রেট। থানা থেকে মুক্তি পেতে লাগে অন্য রেট। কোর্ট থেকে মুক্তি পেতে আরেক রেট। বেইলবন্ড তৈরি করতে আর জামিননামা তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে তদবির নামক রেট। জেল গেটে দেখা করতে ভিন্ন রেট। রিমান্ড কাটাতে এক ধরনের রেট। আবার রিমান্ডে ভালো আচরণের নিশ্চয়তায় আরেক রেট। বিস্ফোরক বা অস্ত্র উদ্ধার থেকে বাঁচতে চাইলে স্পেশাল রেট। হাতে ইসলামী বইকে ‘জেহাদি বই’ বলে ধরিয়ে দিয়ে মিডিয়ার সামনে হাজির করা থেকে বাঁচতে চাইলে হাদিয়ার রেট। বিদেশী হত্যা বা তাজিয়া মিছিলে বোমা মামলা থেকে বাঁচার জন্য রয়েছে ভিআইপি রেট (রাজনৈতিক অনুমতি সাপেক্ষে)। জেলের ভেতর ভালো থাকতে বিশেষ রেট। ভালো খেতে আলাদা রেট। বেশি রেটে জেলের হাসপাতালে থাকারও সুবন্দোবস্ত রয়েছে। তবে ডাক্তারি সার্টিফিকেট তৈরি করার রেটের পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়। মামলাকে হালকা করার জন্য রয়েছে এক ধরনের রেট। চার্জশিটে নাম বাদ দেয়ার জন্য আছে বড় ধরনের রেট। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চাইলে বিশাল রেট। ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে চাইলে সর্বোচ্চ রেট। এ যেন এক মহা-বাণিজ্য, সুবিশাল অর্থনীতি! নিরীহ মানুষের রক্ত শোষণের অদ্ভুত এক গণগ্রেপ্তার সংস্কৃতি। আর বড় বিচিত্র এই ‘আটক অর্থনীতি’!
তিন. বাংলাদেশ প্রতিদিনের শিরোনাম, দেশের ৬৮টি কারাগারে ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার, বন্দি ৭৮ হাজার। এগারো দিনে গণগ্রেপ্তার ৫২৫৪ জন। ধারণ ক্ষমতার ১৩০ শতাংশ বেশি বন্দি দিয়ে ভরে গেছে কারাগারগুলো। এদের প্রায় প্রত্যেককেই নাশকতামূলক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার মানবজমিন রিপোর্ট করেছে, ১৫ দিনে গ্রেপ্তার ৮০০০ জন। গত ৫ই নভেম্বর থেকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের গণগ্রেপ্তার চলছে। কারাগারগুলো যেন মুড়ির টিনের মতো মানুষ দিয়ে ঠেসে ভর্তি করা হচ্ছে। জেল কোড অনুযায়ী প্রত্যেক বন্দির জন্য জায়গা বরাদ্দ থাকার কথা ৩৬ বর্গফুট। অথচ বাস্তবে এই ৩৬ বর্গফুটের মধ্যে একাধিক বন্দিকে শিফট করে ঘুমাতে হচ্ছে। কেউ ঘুমালে অন্যদের তখন দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একবার যৌতুক মামলায় অভিযুক্ত এক আসামি মাত্র তিন মাস জেল খেটে জামিনে বের হলে আদালত চত্বরে তার সঙ্গে কথা হলো। সারা শরীর চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি জানালেন, জেলের ভেতর প্রচ- গরমে একজনের ঘামের উপর আরেকজনকে ঘুমাতে হয়। তার ভাগ্য ভালো ছিল, তাই তাকে রান্নাঘরে কাজ করার মতো সহজ সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিল। সে কারণে প্রতিদিন হাজারো কয়েদির রুটি গুলাতে গিয়ে তার হাত দুটিতে মাত্র তিন মাসেই পচন ধরে যায়। আসলে আমাদের বন্দি ব্যবস্থাপনার সরকারি যে বাজেট বরাদ্দ রয়েছে তা দিয়ে একটা গৃহপালিত পশুরও পুষ্টির যোগান দেয়া সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই বন্দিরা পাঁচগুণ দাম দিয়ে বাইরের খাওয়া ম্যানেজ করে। আর এই খাওয়া সাপ্লাইয়েরও রয়েছে বিশাল একটা বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট।
চার. গণগ্রেপ্তারের রাজনৈতিক দিকটি আরও নির্মম, নিষ্ঠুর। শুধুমাত্র দলীয় সমর্থনের কারণে হাজারো মানুষ আজ কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্টে দিন অতিবাহিত করছে। সঙ্গে দাড়ি-টুপি বা মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলে তো দুনিয়াই যেন তার জন্য জাহান্নাম! অজ্ঞাত আসামিদের মধ্যে সবচেয়ে ‘দামি আসামি’ এরাই। পুলিশের সঙ্গে কিংবা স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঠিকমত ‘সেটিং’ দিতে না পারলে বীভৎস সব নিষ্ঠুরতা। চাহিদামাফিক টাকার যোগান দিতে গিয়ে অনেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট শূন্য হয়ে গেছে। কারো কারো সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে প্রভাবশালী নেতাদের দিতে হয়েছে। আর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে যে কত শত সহস্র কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে তা সচেতন মানুষরা সবাই জানেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে যাদের টাকা পয়সা আছে, তাদের সম্পদ এখন প্রতিপক্ষের নেতাদের পকেটে। এই সুযোগে পুলিশও বেজায় খুশি। দুইটা বাণিজ্য নেতারা করলে আটটা বাণিজ্য তারা করবে না কেন? কে কাকে রুখবে? পুলিশকে দিয়ে অন্যায় কাজ করালে পুলিশকে খবরদারি করার নৈতিক ভিত্তি আর অবশিষ্ট থাকে না। তাই পুলিশও আজান দিয়েই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অন্যদিকে সাধারণ মানুষ গণগ্রেপ্তার হলেও গ্রেপ্তার হয় না শিশুকে গুলি করা এমপি সাহেবরা। গ্রেপ্তার হয় না সচিবালয়ে সচিবের অফিস ভাঙচুর করা মন্ত্রীরা। হাইকোর্টের আদেশ দেয়ার পরও গ্রেপ্তার করা যায় না গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ মারা এমপির ছেলেকে। আসলে গণগ্রেপ্তারের নামে বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে সরকার একেবারে নিশ্চিহ্ন করতে চাচ্ছে। এই সুযোগে পুলিশও তাদের আখের গোছাচ্ছে। তারা জানে, ক্ষমতা চলে গেলে যখন তারা দেশছাড়া হবে, তখন বিদেশের মাটিতে বাড়ি-গাড়ি-ব্যাংক ব্যালেন্সের ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। কিংবা নতুন সরকারের দুর্নীতিবাজদের ম্যানেজ করার জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার যোগান ঠিক রাখতে হবে। আসলে যে সমস্যাটি রাজনৈতিক, তা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। প্রশাসন দিয়ে গদি রক্ষা সম্ভব হলেও রাজনীতি রক্ষা সম্ভব নয়। গত সাত বছরে আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে শুধু দলীয়করণ করে নাই; দলকেও প্রশাসনিক করেছে। প্রশাসনের কর্মচারীরা আওয়ামী লীগের নেতাদের মতোই কথা বলছে। আর দলীয় নেতারা প্রশাসনের মতোই হুকুম নির্দেশ দিচ্ছে।
পাঁচ. গণগ্রেপ্তারের সবচেয়ে মারাত্মক দিকটি হচ্ছে, একজন নিরীহ মানুষ যখন বিনা অপরাধে জেল জীবনের করুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে তখন রাষ্ট্র ও আইনের প্রতি তার প্রবল অশ্রদ্ধাবোধের জন্ম নেয়। তাতে সে চরমপন্থার দিকে সহজেই আকৃষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া জেল জীবনে দাগি আসামিদের সাহচর্যে নিজেকে তখন আর অপরাধ জগতের অচেনা মানুষ মনে হয় না নিজের কাছে। ‘আটক অর্থনীতির’ এই মারাত্মক কু-প্রভাবে সমাজে অপরাধবোধেরও জন্ম দিচ্ছে। আর আইনকানুন-কোর্ট-কাচারীর সীমাহীন ভ্রষ্টাচারের কারণেও মানুষ আজ ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না’Ñ নামক নীতিকে নিছক বাংলা সিনেমার সংলাপই মনে করছে। আইন যখন ময়লার গাড়ি পোড়ানো মামলায় অজ্ঞাত আসামির খোঁজে প্রতিপক্ষ দলের শীর্ষ নেতাদের নিশ্চিহ্ন করায় ব্যস্ত থাকে, তখন সাধারণ মানুষ আইনকে নিছক ক্ষমতার ছড়ি হিসেবেই ভাবে। এদেশে যে কেউ, যে কোন সময়, যে কোন পেন্ডিং মামলার আসামি হয়ে যখন গণগ্রেপ্তার হয়, তখন আইনের শাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাবোধ আর অবশিষ্ট থাকে না। ‘নাশকতার অভিযোগ’ নামক রাজনৈতিক জুজু যেভাবে আমাদের রাজনীতিকে পংকিল করে দিয়েছে, ঠিক তেমনি ভাবেই বিচারিক প্রশাসনকেও অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। কোর্ট-কাচারিতে এখন আর সাধারণ চোর-ডাকাত পাওয়া যায় না। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দুর্ধর্ষ অপরাধীকে পর্যন্ত বিএনপি বা জামায়াত-শিবির কর্মী বানিয়ে চালান দেয়া হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এলাকায় তো এখন পুরুষ মানুষ খুঁজে পাওয়াই দুরুহ ব্যাপার। এই সুযোগে দিব্যি বেঁচে যাচ্ছে পেশাদার অপরাধীরা। শুধুমাত্র বিএনপি-জামায়াত নিধনে ব্যস্ত পুলিশের পক্ষে সে কারণেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এতটা দুরুহ হয়ে পড়েছে। আর সে কারণেই পুলিশ প্রধানকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের পক্ষে সবাইকে নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।’
ছয়. নভেম্বর মাসের ৫ তারিখ থেকে বিএনপি-জামাতের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ৩২ জেলায় র্যাব-পুলিশ-বিজিবি দিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হাজারো মানুষকে গণগ্রেফতার করা হচ্ছে। এই অভিযানের আগে প্রতিটি জেলার এসপিকে বিএনপি-জামাতের নেতা-কর্মীদের লিস্ট হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সেই তালিকা ধরে বিএনপি-জামাত নির্মুল অভিযানে নেমেছে। ঘরের মা-বোনদেরকে পর্যন্ত জামাতের সমর্থক বলে কোমড়ে দড়ি বেঁধে কোর্টে চালান দেয়া হচ্ছে। এর সাথে ‘আটক অর্থনীতির’ প্রভাবে আরো হাজারো নিরীহ সাধারণ মানুষ পুলিশের খপ্পড়ে পড়ে কারাগারে চলে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অভিযানের নামে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে এইসব সাধারণ নিরাপরাধ মানুষগুলোই। পুলিশ যেন প্রকাশ্যেই ‘ডেথ ওয়ারেন্ট’ নিয়ে তাড়া করছে সাধারণ মানুষগুলোকে। রাজনৈতিক কর্মীদের অবস্থাও যে এর চেয়ে ভালো তা বলা যাবে না। জামিনে মুক্তি মিললেও কারাফটক থেকে আবারো গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অনেকে তো এটাকেও মন্দের ভালো বলছে। কারণ গ্রেফতারের পর পুলিশ যদি আটকের কথা অস্বীকার করে বসে, তবে তো সর্বনাশ। লাশও খুঁজে পাবে না স্বজনরা।
সাত. দেশে এখন কোন গণ-আন্দোলন হচ্ছে না। কোন হরতাল-অবরোধ নাই। অসহযোগ আন্দোলন তো দূরের কথা সামান্য মানববন্ধন পর্যন্ত করার অনুমতি নাই। মাঠে সরকারের কোন প্রতিপক্ষই নাই। শেষবারের মত সভা সমাবেশ কবে হয়েছিল বলা মুশকিল। সরকারের সাথে আঁতাত করে ও দলকে নিস্ক্রিয় করে কিছু নেতা সরকারের সাথে ম্যানেজ করেই তো চলছে। বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থাও প্রায় ভঙ্গুর। অন্যদিকে বিএনপির দুর্নীতিবাজ একটা অংশ নিজেদের লুটের মাল সামলানোতে ব্যস্ত। জামাতের র্শীষ নেতাদের প্রায় সবাই ফাঁসি কাষ্ঠে। বাকিরা হয় জেলে, না হয় ঘরছাড়া, আর না হয় হাসপাতালে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার দৃশ্যমান কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না এখন। প্রতিপক্ষের কথা বলার সব মিডিয়া বন্ধ করে মিডিয়ার উপর সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রন এখন সরকারের একক হাতে। ইতিমধ্যে ফেইসবুক, ভাইবার, হোয়াটসআপ, ম্যাসেঞ্জারের মত সবগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে কোন কিছুই আর প্রকাশ হবার রাস্তা অবশিষ্ট নাই। তারপরও সরকারের এত ভয় কিসের? গণহারে কেন হাজারো মানুষকে এভাবে ধরপাকড় করা হচ্ছে? প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের লোকদের হাত গুটিয়ে আত্মসমর্পন করা অবস্থায়ও কেন নিস্কৃতি মিলছে না? বিরোধী মতধারা মনের ভিতর গোপনে ধারন করেও রক্ষা মিলছে না কেন? বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপি যাতে দল গোছাতে না পারে, তৃণমূলের সম্মেলন যাতে না ডাকতে পারে, পৌর নির্বাচনে প্রতিপক্ষরা যাতে প্রার্থীতা না দিতে পারে, আর বিএনপি চেয়ারপারসন দেশে ফিরে এসে যাতে আন্দোলনের ডাক না দিতে পারে - গণগ্রেফতারের আসল উদ্দেশ্য এটাই। অপরদিকে কেউ কেউ বলছে, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের জন্যই এই গণগ্রেফতার। কিন্তু সাঁড়াশি নিধন অভিযান না চালিয়েও তো সরকার প্রতিপক্ষের এইসব কর্মকান্ড-আন্দোলন রুখতে পারে। তাই আসল কারণটা হচ্ছে ভিন্ন কিছু। অতি নিকটবর্তী অবস্থানে চলে এসেছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রমের নিস্পত্তি। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক প্রক্রিয়াও প্রায় শেষের দিকে। তাই গণগ্রেফতার নাটকের চূড়ান্ত সংলাপ হতে যাচ্ছে বিএনপির র্শীষ নেতৃত্বের প্রতি ‘ইউ আর আন্ডার এরেস্ট’।
লেখক: আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ
e-mail: drtuhinmalik@hotmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারে অস্থিরতা by সোহরাব হাসান
মাস খানেক আগে কথা নেই, বার্তা নেই সরকার হঠাৎ করেই ধনুর্ভঙ্গ পণ করে দেশবাসীকে জানিয়ে দিল, এখন থেকে সব স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে। এ ব্যাপারে তারা বিশেষজ্ঞ, সাংসদ, রাজনৈতিক দল—কারও সঙ্গেই আলোচনার প্রয়োজন বোধ করল না। আর সব বিষয়ে যেমনটি হয়ে থাকে, ওয়েস্টমিনস্টার সিস্টেমের দোহাই পাড়তে গিয়ে নীতিনির্ধারকেরা ভারতের ও যুক্তরাজ্যের উদাহরণ দিলেন। সেখানে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন হতে পারলে বাংলাদেশে হতে দোষ কী?
না, দোষ নেই। কিন্তু এ রকম একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে হলে কী কী সমস্যায় পড়তে হতে পারে, সেগুলো আমলে নেওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু সেসব না করে একদিন সকালে সরকার দেশবাসীকে জানিয়ে দিল, এখন থেকে সব স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে। যথা আজ্ঞা। এমনকি সরকার জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে একটি অধ্যাদেশও জারি করিয়ে নিল।
আর অমাদের ‘জি হুজুর মার্কা’ নির্বাচন কমিশন সোৎসাহে বলে উঠল, কোনো অসুবিধা নেই। সরকার চাইলে তারা দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন সুসম্পন্ন করতে প্রস্তুত আছে। আমাদের এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি এতই স্বাধীন যে, সরকারের আইন মন্ত্রণালয় যেখানে বলেছে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কিংবা তাঁদের পদমর্যাদার কেউ প্রচারে অংশ নেওয়া ঠিক হবে না, তারা বলে দিল অসুবিধা নেই। একে বলে ‘পোপের চেয়েও বেশি খ্রিষ্টান’। নির্বাচন কমিশন এখনো বলে যাচ্ছে, কুচ পরোয়া নেই। সরকার চাইলেই দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচনটি তারা করে দিতে পারবে এবং ডিসেম্বরেই। তবে তারা যে কথাটি বলেনি তা হলো, সেই নির্বাচনটি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের মতো হবে, না ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মতো। দুটোই করেছে নির্বাচন কমিশন।
দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন করা দোষের কিছু নয়। কিন্তু সে জন্য কিছুটা প্রস্তুতির প্রয়োজন। এখন দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীনেরা যে দলীয় নেতা-কর্মীদের কথা মাথায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নিল, তাঁরাই এতে সায় দিতে পারছেন না। আলোচনাকালে একটি বৃহৎ পৌরসভার বর্তমান মেয়র, যিনি আওয়ামী লীগের, তিনি জানান, গত পাঁচ বছর পৌরবাসীর জন্য কাজ করেছি। নির্দলীয় নির্বাচন হলে দলমত-নির্বিশেষে সবার ভোট পেতাম। কিন্তু এখন আর সেটি পাওয়া যাবে না। ক্ষমতাসীন দলের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার প্রধান সমস্যা হলো, দলের সব বদনাম ও ব্যর্থতার দায়ভারও সরকার-সমর্থক প্রার্থীকে নিতে হবে। শত ভালো প্রার্থী হলেও তাঁকে জিতিয়ে আনা কঠিন হবে।
কিন্তু সাংসদেরা চান না, দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হোক। কারণ, তাঁরা চান না, তাঁদের ওপর কেউ খবরদারি করুক। তাঁরা যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচিত হয়ে প্রশাসনের ওপর এককভাবে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন, অন্য কাউকে সেই সুযোগ দিতে চান না।
সাংসদদের আপত্তির মুখে সরকার বলল, ভয় নেই। এই ব্যবস্থা কেবল পৌরসভা নির্বাচনের জন্য। অন্যান্য স্থানীয় সরকার সংস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত পরে হবে। একপর্যায়ে সাংসদদের চাপে প্রস্তাবিত আইনটি থেকে জেলা পরিষদ বাদ দেওয়া হলো। স্বাধীনতার পর সামরিক-বেসামরিক কোনো সরকারই জেলা পরিষদের নির্বাচন করেনি। বর্তমান সরকার অনির্বাচিত দলীয় লোকদের প্রশাসক নিয়োগ করে জেলা পরিষদ চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে সাংসদদের ভয় হলো, একটি জেলায় ২ থেকে ১২-১৪টি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা আছে। নির্বাচিত জেলা পরিষদ সাংসদদের ওপর কর্তৃত্ব করবে।
সাংসদ জেলা ও উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হলেও পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে এ রকম কোনো বিধান নেই। আইনগতভাবে তারা সাংসদের খবরদারিমুক্ত। তদুপরি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলে তাদের কর্তৃত্ব আরও কমে যাবে। দুজনেই দলের টিকিট পাওয়া, কেউ কারও অধীনতা মানবেন না।
সরকার দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন করে যে বাড়তি সুবিধা নিতে চেয়েছিল, এখন মনে হচ্ছে সেটি বুমেরাং হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।
প্রথম আলোর খবর থেকে আমরা জানতে পারি, গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার প্রস্তাব অনুমোদন করে। পৌরসভা নির্বাচন আসন্ন বিধায় এর আইনটি সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির সিদ্ধান্ত হয়। তিন সপ্তাহ ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম শেষে ২ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি ওই অধ্যাদেশ অনুমোদন করেন । এত কিছুর পর সরকার হঠাৎ নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়, পৌরসভা অধ্যাদেশ নয়, আইন হবে। সেই অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের বাকি চারটি সংশোধিত আইনের সঙ্গে পৌর আইনটি বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয়। পৌরসভা নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় আইনের বদলে অধ্যাদেশ করার বিষয়ে মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়ে তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়ার পর সেখান থেকে পিছিয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত আইনের খসড়ায় স্থানীয় সরকারের সব স্তরে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়। এর এক মাসের মাথায় সেখান থেকে পিছিয়ে আসে সরকার। এখন কিছুটা দলীয়, কিছুটা নির্দলীয় পন্থায় নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ায় তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
একই পরিষদে কিছুটা দলীয়, কিছুটা নির্দলীয় ব্যবস্থা সোনার পাথরবাটির মতো। এই দোদুল্যমানতা থেকে বেরিয়ে এসে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আসলে তারা স্থানীয় সরকার সংস্থার স্বতন্ত্র অবস্থান চায় কি না। এই প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর ওপর সাংসদদের খবরদারি কমাতেই হবে। আর ‘না’ হলে ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার বলে ‘কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ অবস্থা হবে। সেটি কেবল জনগণের ক্ষমতায়নের বিরোধী নয়, বাংলাদেশের সংবিধানেরও পরিপন্থী।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্ষমার আবেদন নিয়ে ধূম্রজাল
গতকাল দুপুরের পর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয় আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করেছেন। কিন্তু দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে তা সরাসরি অস্বীকার করা হয়।
আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমদ মাবরুর বলেন, ক্ষমার আবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যমূলক এবং বিভ্রান্তিকর।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে ফজলুল কাদের চৌধুরীও বলেন, বাবা ক্ষমার আবেদন করবেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর তারা যখন তার সাথে দেখা করতে যান তখন তিনি তাদের জানিয়েছেন তিনি ক্ষমার আবেদন করবেন না। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী এবং আরেক ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরীও জানিয়েছেন এ বিষয়ে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
এ দিকে গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকে ক্ষমার আবেদনবিষয়ক খবর প্রচার করা হলেও কারাকর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ ধরনের খবর প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়। ক্ষমার আবেদন নিয়ে আইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যও গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
এ দিকে গতকাল দিনের বেলায় আলী আহসান মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীরা কারাগারে তাদের সাথে দেখা করতে চেয়ে অনুমতি পাননি। বিশেষ করে ক্ষমার আবেদনবিষয়ক খবর প্রচারের পর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দেখা করার চেষ্টা করা হয়।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে গতকাল একটি চিঠি নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে। কিন্তু তাদের চিঠি গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচার নিয়ে যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে সেগুলো তুলে ধরে এবং জমা দেয়া ডকুমেন্ট বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি নিয়ে গিয়েছিলেন তারা।
ক্ষমার আবেদন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য : গতকাল সাড়ে বেলা ৩টার দিকে বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ক্ষমার আবেদন করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসির কাছে নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য। সূত্রটি জানায়, আবেদন দুইটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেয়া হয়েছে।
সেখান থেকে আবেদন দুইটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসিকে বলেছেন, আবেদন দুইটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে এলে আজই (শনিবার) তা রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে। ‘এ ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে’।
বিকেল সাড়ে ৫টায় বিবিসির আরেক খবরে বলা হয় ক্ষমার আবেদন প্রাথমিক যাচাই বাছাই শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অপর দিকে দেশের প্রথম সারির একটি দৈনিক পত্রিকার অনলাইনে গতকাল দুপুরের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে উদ্ধৃত করে বলা হয় ‘আমি জেনেছি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ক্ষমার আবেদন করেছেন। তবে এখনো তা আমার কাছে আসেনি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বেলা ৩টার দিকে বলেন, ‘আমিও বিষয়টি শুনেছি। যেহেতু আমি বাসায়, এ ব্যাপারটা এখনো নিশ্চিত নই।’
এরপর বেলা পৌনে ৪টার দিকে স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, সালাহউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদের ক্ষমার আবেদন তার হাতে এসেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন এটি মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
আরেকটি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয় বেলা আড়াইটার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমার আবেদন মন্ত্রণালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে। কারাকর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
ক্ষমার আবেদন অস্বীকার পরিবারের : আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর বলেছেন, ক্ষমার আবেদন বিষয়ে যে খবর প্রচারিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিমূলক, উদ্দেশ্যমূলক ও দুঃখজনক। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। আমাদের সাথে ও আইনজীবীর সাথে কথা না বলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানাবেন নাÑ এটিই আমরা জানি।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেছেন, ‘হুম্মাম কাদের চৌধুরী (আরেক ছেলে) আজ শনিবার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে একটি আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সেটি গ্রহণ করেনি। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমার বাবা মার্সি পিটিশন করেছেন। কিন্তু আমরা এ বিষয়ে অবগত নই। আমাদের এটি বিশ্বাস হয় না। আমরা যখন দুই দিন আগে তার সাথে দেখা করেছিলাম, তখন তিনি আমাদের জানিয়েছিলেন আইনজীবীদের সাথে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু আইনজীবীদের তার সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। তাই আমরা দেখা করে তার পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী সেটি জানতে এসেছি।’
তবে দেখা করার অনুমতি না পেয়ে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ফিরে যান তারা। ৫টা ১০ মিনিটের দিকে একটি গাড়িতে করে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী, মেয়ে ও অন্যরা আসেন। আরেকটি গাড়িতে করে চৌধুরীর দুই ছেলে ও মেয়ের জামাই জাফর খান আসেন।
চৌধুরীর স্ত্রী ও সন্তানেরা গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন, ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
জামায়াতের অস্বীকার : আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে ক্ষমা চাননি বলে দাবি করেছে তার দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে এক বিবৃতির মাধ্যমে এ দাবি জানান দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে কারা অধিদফতরের বরাত দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করেছেন। প্রচারিত এ খবরটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। পরিবারের সাথে সাক্ষাৎকালে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন বিষয়ে আইনজীবীদের সাথে পরামর্শের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। তিনি পরিবারের কাছে ক্ষমার আবেদন বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যেও জানানো হয়েছে, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ আইনজীবীদের সাথে পরবর্তী আইনি বিষয়ে পরামর্শ করতে চান।’
তিনি বলেন, ‘আইনজীবীরা মুজাহিদের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কারা কর্তৃপক্ষ মুজাহিদের ইচ্ছানুযায়ী এখনো আইনজীবীদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্ষমা চাওয়ার যে খবর প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয়। আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে মুজাহিদের সাথে আইনজীবীদেরকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করছি। সেই সাথে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।’
দেখা পাননি আইনজীবী : সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের সাথে তাদের আইনজীবীকে গতকালও দেখা করার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে মুজাহিদের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম বলেন, গণমাধ্যমে মুজাহিদের ক্ষমার আবেদনের খবর পেয়েছেন তার পরিবারের লোকজন। বিষয়টি সঠিক কি না, তা জানতে তাকে মুজাহিদের সাথে দেখা করতে বলেছেন। তাই তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ সদস্যের আইনজীবীর একটি প্রতিনিধিদলের দেখা করার আবেদন করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। এর আগে গত শুক্রবারও তারা দেখা করার অনুমতি পাননি।
সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম আল ফেসানীও গতকাল কারাগারে যান দেখা করার জন্য। বেলা দেড়টার দিকে গণমাধ্যমে ক্ষমার আবেদনের খবর পেয়ে তার পরিবার তাকে ও আরেক আইনজীবীকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দেখা করার আবেদন করতে পাঠান। তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের দেখা করার অনুমতি চেয়ে দু’টি আবেদন করেন।
এ ছাড়া সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে ফজলুল কাদের চৌধুরী ফাইয়াজ বিকেল ৫টায় কারাগারের সামনে আসেন। তিনি বলেন, ‘মার্সি পিটিশন নিয়ে একটি কনফিউশন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা জানতে আমাদের আইনজীবীরা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের দেখা করতে দেয়া হয়নি। এ জন্য এসেছি।’
আবেদন গ্রহণ করেনি বঙ্গভবন : ত্রুটিপূর্ণ বিচার (মিস ট্রায়েল) বিবেচনার আবেদন নিয়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করতে গেলেও আবেদনপত্র জমা দিতে পারেননি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
বঙ্গভবন থেকে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বেরিয়ে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তিনি।
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, এখান থেকে আমাকে বলা হয়েছে সরাসরি কোনো চিঠি জমা নেয়া হয় না। তাই এটি মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে সেখান থেকে তা ফরওয়ার্ড হবে। আমার ধারণা, এটি আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
চিঠি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী যে ডকুমেন্টগুলো জমা দিয়েছিলেন, সেগুলো ভেরিফাই করে বিচার করার জন্য আমরা একটা আবেদন করেছি। সেই কপিটাই এখানে দিতে এসেছিলাম।’
বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে গাড়ি নিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছান তিনি। গাড়িটি বাইরে রেখে হেঁটেই ৪টা ২৮ মিনিটে বঙ্গভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরীকে গাড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়।
বঙ্গভবনে ঢোকার সময় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘এটি একটি মিস ট্রায়ালের আবেদন। রাষ্ট্রপতি যেহেতু সংবিধানের অভিভাবক এ জন্য আমরা তার কাছে পুনর্বিচারের আবেদন করছি।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1447)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ▼ 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




