Thursday, August 4, 2016
ট্রাম্পের দলে হাঙ্গামা
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানকে ৪০ কোটি ডলার মুক্তিপণ ওবামা প্রশাসনের!
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিএনডি এখন মরণ বাঁধ
ডিএনডি বাঁধ এলাকায় অসহায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন বাসিন্দারা। অন্যদিকে কয়েক দশকের পুরনো পাম্প দিয়ে উপরোক্ত এলাকাগুলো সারাদিন সেচ করেও জলাবদ্ধতা কমানো যাচ্ছে না। জানা গেছে, ১৯৬৮ সালের যন্ত্রাংশ দিয়ে এখনও সেচ কার্যক্রম চলে। ডিএনডি বাঁধ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য চারটি পাম্প রয়েছে, যা দিয়ে সেকেন্ডে ১৫ কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা যাচ্ছে; কিন্তু প্রতি সেকেন্ডে ৭৮ কিউসেক পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজন। পাউবো ঢাকা মহানগর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সাইদ জানিয়েছেন, পাম্পের ক্ষমতা কমে গেছে। দ্রুত নতুন ৪টি পাম্প স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি বাঁধ এলাকার ৯৪ কিলোমিটার খাল সংস্কার ও দখলমুক্ত করতে হবে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। তিনি জানান, ২০১০ সালে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়। সেই প্রতিবেদনে ২৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পাম্প স্থাপন, খাল সংস্কার ও দক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো উঠে আসে। প্রকল্পটি ২০১১ সালে একনেকে অনুমোদন পেলেও টাকার অভাবে কাজ শুরু করা যায়নি। পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (পাম্প হাউজ) জীবন কুমার সাহা জানান, বহুদিনের পুরনো পাম্পগুলো আর সর্বোচ্চ ৩ বছর চালানো সম্ভব। এখনই প্রস্তুতি না নিলে ডিএনডি এলাকাসহ ঢাকার একটি বড় অংশে বর্ষা মৌসুমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। ডিএনডি পাম্প হাউসে একযুগ ধরে কর্মরত প্রকৌশলী লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, দুই বছরের মধ্যে বাঁধ এলাকার পানি নিষ্কাশনের সব উৎস অকেজো হয়ে যাবে। এখান থেকে কোনো পানিই নিষ্কাশন হবে না। বিকল্প ব্যবস্থা করতে না পারলে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাবে। কিছু করতে হলে এখনই শুরু করতে হবে। কারণ একটি পাম্প বসাতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই বছর।’
ডিএনডি বাঁধের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বছরের পর বছর ফাইল বন্দি। ডিএনডি বাঁধ সূত্রমতে, ডিএনডির বর্তমান মোট আয়তন ৩২ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটার। ১৯৬৫ সালে সেচ প্রকল্প ছিল ৫ হাজার ৬৪ হেক্টর। অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে ২৩৩ দশমিক ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয় ডিএনডি প্রকল্পের অবস্থান। ১৯৬৫ সালে শুরু করে ১৯৬৮ সালে ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়েছিল। বাঁধের ভেতরে কংস নদ নামে একটি বড় ও প্রশস্ত খাল ছিল। এছাড়া ছিল পাগলার খাল ও মালখালী খালের মতো ৯টি খাল। ১৯৯২ সালে জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকা সমীক্ষা চালিয়ে ডিএনডিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমান পাম্প হাউজের মতো ৫টি নতুন পাম্প হাউজ স্থাপন ছাড়াও একাধিক প্রস্তাব রাখে। ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে কর্তৃপক্ষ এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে নামলেও পাঁচটি পাম্প অদ্যাবধি নির্মাণ করা হয়নি। ডিএনডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ২৩৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিএনডির জলাবদ্ধতা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের জন্য আইনের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পাদন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে, যা ড্রেনেজ ইম্প্রুভমেন্ট অব ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা প্রজেক্ট নামে পরিচিত। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ডিএনডির অভ্যন্তরে অল্প বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব হতো বলে মনে করা হয়।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ২০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিএনডি বাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতায় আটকে গেছে। গত ২৭ জুলাই যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিস্তারিতভাবে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়েছে। পানি জমে থাকার কারণে প্রতিবছর পাকা করার পরও ভালো ভালো রাস্তা ভেঙে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ডিএনডি বাঁধের ভেতরের কারখানার বর্জ্য পানি বিভিন্ন খাল, বিশেষ করে পাগলার খাল দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ পাম্প মেশিন দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে মিশে নদীর পানিও ব্যবহারের অনুপযোগী করে ফেলে। প্রতিবছর বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা ডিএনডি বাঁধের ভেতর বন্যা সৃষ্টি হয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়। বর্ষাকালে এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারে না। মেরামতকৃত এবং নতুন পাকা রাস্তা ভেঙে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়। ১৯৯৮ সালে ডিএনডি বাঁধের ভেতর ভয়াবহ বন্যার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাতুয়াইলসহ ডেমরা এলাকার বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। পাশে ছিলেন মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও ডেমরা থানার স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিবুর রহমান মোল্লা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরাও ত্রাণ বিতরণ করেছেন। আমরা ডিএনডি বাঁধের ভেতর এই ভয়াবহ বন্যার কবল থেকে বাঁচতে চাই। ডিএনডি বাঁধের ভেতরে বসবাসকারী মানুষ এখন বিপদগ্রস্ত। তাদের এলাকায় বসবাসসহ সন্তানদের লেখাপড়া অনেকটাই হুমকির মুখে। এলাকার ২০ লাখ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর মুখপানে তাকিয়ে আছে।
মো. সিদ্দিকুর রহমান ও এমএ ছিদ্দিক মিয়া : যথাক্রমে আহ্বায়ক ও সদস্য, প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার সুরক্ষা ফোরাম
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরব বসন্ত ব্যাকফায়ার করেছে এখন দরকার নতুন এক মধ্যপ্রাচ্য
আপত্তি ছিল না, যদি এসব কথিত মার্কসবাদী মতবাদটিকে যুগোপযোগী করার প্রয়াস নিতেন। টমাস পিকেটি যা করে চলেছেন। ৪৭ বছর বয়সী এই ফরাসি অর্থনীতিবিদকে দুনিয়াজুড়ে এখন বলা হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর কার্ল মার্কস। বিশেষত ইউরোপের সম্পদ বৈষম্যকে তিনি নতুন দৃষ্টিতে দেখছেন। আমাদের বামপন্থীরা হয়তো পিকেটির নামও শোনেননি। ব্রিটিশ মিউজিয়াম লাইব্রেরিতে মার্কস যে চেয়ারটায় বসে পড়াশোনা করতেন, সেটাতে বসে দেখেছি কেমন লাগে; গা শিউরে উঠেছিল। কিন্তু এই আমিই লন্ডনে তার কবরের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে দুই হাত জোড় করে বলেছিলাম- তোমার কল্পিত সমাজে আমি নিজস্ব নিয়মে বিকশিত হতে পারব না বলে তোমাকে ত্যাগ করেছি মার্কস। দুঃখিত, তুমি কিছু মনে করো না। আমাদের বামপন্থীরা সেই যে মার্কস-লেনিন-মাও জে দংকে পীর ধরেছেন, এখনও আচ্ছন্ন হয়ে আছেন সেই পীরতন্ত্রে।
আমাদের কথিত ডেমোক্রেট অথবা লিবারেল ডেমোক্রেটরাও কি কম অনাধুনিক! আওয়ামী লীগের কথাই ধরি। পৃথিবী অথবা এই দেশ যে কোথায় চলে গেছে, তাদের হুঁশ নেই। তাই কথায় কথায় গত শতাব্দীর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের উদাহরণ টেনে আনেন তারা। অতীতের কোন্ ঘটনাকে শুধুই ইতিহাস হিসেবে দেখতে হবে আর কোনটাকে মেলাতে হবে বর্তমানের সঙ্গে, এই জ্ঞান তাদের নেই। তারা তাই বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা তুলে সেই ইতিহাসকে গ্লোরিফাই করে ক্রেডিট নিতে চান, কিন্তু জানেন না বর্তমান বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে দৃশ্য দেখি আমরা, মোটামুটি সহনীয় হলেও তার ভিত্তিটা দিনদিন দুর্বল হচ্ছে। কবে যে উপরি কাঠামোটা ধুপ করে পড়ে যায়! হ্যাঁ এই বাংলাদেশেই বাবা-মা এখন সন্তানের নাম এমন বাংলায় রাখতে চান না, যাতে গন্ধ শুঁকে হিন্দুত্ব খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। হ্যাঁ এখানেই, বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নালোকিত এই বাংলাদেশেই এমন অনেক পরিবার আছে, যেখানে সন্তানের প্রতি নির্দেশ থাকে স্কুলে তার পানির বোতলটি যেন কোনো হিন্দু সহপাঠী না ছোঁয়। এই বাংলাদেশকে ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট আর ছয় দফা দিয়ে সামলানো যাবে? অথবা আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি ছেঁটে যে মহা কাণ্ডটি ঘটানো হয়েছিল এককালে, তার কি কোনোই উপযোগিতা আছে বর্তমানকালে?
আর বিএনপি? পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে তাকিয়ে তারা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই দেখতে পান বলে অনেক কষ্টে ভাসানীকে বিকল্প দাঁড় করিয়ে নিরর্থক অতীত চর্চা করেন। কখনও কখনও ভাসানীতে না কুলোলে তারা সিরাজউদ্দৌলা পার হয়ে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি পর্যন্ত ছুটে যান। তাদের দরকার মুসলমান বীর, তিনি যত দূর ইতিহাসেরই হোন। বাংলাদেশ এখন যেভাবে দ্রুতই পাল্টে যাচ্ছে, এ ধরনের ইতিহাস চর্চা দিয়ে তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো যাবে?
২. বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ নিয়ে লিখতে গিয়ে এত কথা বললাম এজন্য যে, বাংলাদেশের রাজনীতিকদের মতো বিশ্বনেতৃত্বকেও এখন অনাধুনিক বলা যায়। তারা বুঝতেই পারছেন না একটি নতুন ধরনের world order বা বিশ্ব-শৃংখলাই কেবল পারে বৈশ্বিক জঙ্গিবাদ দমন করতে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র কেন নতুন world order-এর ব্যাপারে আগ্রহী নয়, তা যে আমরা বুঝি না, তা নয়। আমাদের বুঝটা নিখাদ যে, আপাতদৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় এজেন্ডা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা এমন কোনো সমীকরণে যাবেন না, যা তাদের অস্ত্র ব্যবসাসহ নানাবিধ সম্প্রসারণবাদী স্বার্থের প্রতিকূলে থাকে। বরং জঙ্গিবাদ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিটা অনেকটা জামায়াতকে নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মতোই। নিষিদ্ধ করো না, জিইয়ে রাখো। মারোয়ারি ব্যবসা-বুদ্ধি আর কাকে বলে! দরিদ্র দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিটাও অনাধুনিক। ওরা আমাদের ডাকে ‘তৃতীয় বিশ্ব’। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল কিংবা স্বল্পোন্নত অভিধা আমরা মেনে নিয়েছি; কারণ বাস্তবতা অস্বীকার করবে কে? কিন্তু তৃতীয় বিশ্ব কেন? মূল বিশ্ব বলে কিছু আছে নাকি? গ্রামের একজন গতরখাটা মানুষকে আমরা দরিদ্র বলি, কিন্তু তাকে কি কোনোভাবেই সাব-হিউম্যান বলা যায়? নাকি ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো মিলিয়েই তৈরি করেছি আমরা মানবজাতি? আসলে এই সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাক, তাতে পশ্চিমা সরকারগুলোর কিছু যায়-আসে না, তারা পুরনো ধারণা থেকে সরে আসবেন না। মলমূত্র ছাড়া তারা কিছুই ত্যাগ করতে জানেন না।
আজকের যে জঙ্গিবাদ, তা পরাশক্তিদের অতীত ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেরই খেসারত। অবশ্য ভুল না বলে স্বার্থবাদী সিদ্ধান্ত বলাই ভালো। বলা বাহুল্য, পরবর্তীকালে ওইসব সিদ্ধান্তের যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে, সেগুলোর মীমাংসা না করে সিরিয়ায় এয়ার স্ট্রাইক বা অন্য কোনো উপায়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যাবে না। প্রথমত, প্রথম মহাযুদ্ধের পর ভার্সাই চুক্তির ভেতর যেমন লুকিয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শর্ত, তেমনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীনই তখনকার দুই পরাশক্তি (যুক্তরাষ্ট্র তখনও পরাশক্তি হয়ে ওঠেনি) ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার সাইকস-পিকট চুক্তি (এই চুক্তিতে ব্রিটেনের পক্ষে মার্ক সাইকস ও ফ্রান্সের পক্ষে ফ্রাঁসোয়া জর্জেজ পিকট স্বাক্ষর করেছিলেন) সূত্রপাত ঘটিয়েছিল আজকের জঙ্গিবাদের। এই চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলগুলোকে ব্রিটিশ, সিরিয়া ও লেবাননকে ফরাসি এবং ইস্তান্বুলকে জারের রুশ শাসনে নিয়ে আসা হয়। এই বিভাজন মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীবিরোধী মনোভাবেরই জন্ম দেয় না শুধু, তাদের আশা-আকাক্সক্ষাও মারাত্মকভাবে আহত করে। দ্বিতীয় ভুলটি সংঘটিত হয় ইরাককে কেন্দ্র করে। ইরাক আক্রমণের আগেই পশ্চিমা মিডিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, সাদ্দামকে পরাস্ত করে সেখানে মার্কিন উপস্থিতি ঘটালে ইরাক শিয়া, সুন্নি ও কুর্দিপ্রধান তিন ভূখণ্ডে বিভাজিত হয়ে পড়বে। বাস্তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে তা ঘটেছেও। ইরাক আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র যত বড় ভুল করেছে, সাদ্দামকে পরাস্ত করার পর তার সেনাবাহিনীকে বিলুপ্ত করার ভুলটি তার চেয়ে কম কিছু নয়। এত বড় এক বাহিনী, যাদের রয়েছে সামরিক প্রশিক্ষণ ও দৈহিক সামর্থ্য, বিপরীতে নেই কোনো কাজ- তারা তাহলে কী করবে? বলা যায়, আইএসের ভিত্তিই রচনা করেছে সাদ্দামের বিলুপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের একাংশ। এক কথায় বললে, ঔপনিবেশিক শাসনেরও কিছু পজিটিভ সিস্টেম থাকতে হয়; কিন্তু ইরাকে ইঙ্গ-মার্কিন জোট কোনো সিস্টেমেরই ধার ধারেনি। মালেকীকে তারাই বসিয়েছে, আবার শিয়া-ডমিনেটেড এই সরকারের সঙ্গে শিয়াপ্রধান ইরানের ন্যাচারাল সখ্য যাতে গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য এই সরকারকে সাইজে রাখতে সুন্নিদের উসকেও দেয়া হয়েছে। সোজা কথা, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শিয়া-সুন্নির যে প্রকট দ্বন্দ্ব, যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থে সেটার বিশ্রী ব্যবহার করেছে।
বস্তুত আরব বসন্ত ব্যাকফায়ার করার পর থেকেই এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল যে, সাইকস-পিকট চুক্তির পর দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যবাসীর মধ্যে যে ক্ষোভ ঘনীভূত হচ্ছিল, তার অন্যরকম প্রকাশ ঘটবে। তিউনিসিয়ায় শুরু হওয়া বসন্তের যে বাতাস ছড়িয়ে দেয়া হল লিবিয়া, মিসর ও সিরিয়া পর্যন্ত, সেই বাতাসে যদি মধ্যপ্রাচ্যবাসীর হৃদয় জুড়াতো, তাহলেও আইএসের জন্ম হতো না। কিন্তু কী হল? লিবিয়ায় গাদ্দাফিকে সরানো হল বটে, প্রতিস্থাপিত দুর্বল সরকার কি রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করতে পারল? মিসরে এলো চরমপন্থার ব্রাদারহুড, সেটাকে সরিয়ে আবার সামরিক শাসক। অর্থাৎ সেখানেও রাজনৈতিক অস্থিরতা। সিরিয়ায় আসাদ টিকে গেলেন বটে; কিন্তু অস্থিরতা গেল কি? সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যবাসীর আকাঙ্ক্ষা, তারা পশ্চিমা প্রভাবমুক্ত একটি স্থিতিশীল সমাজে বাস করবে, বঞ্চনাবোধ থেকে মুক্ত হবে। সেটা হল না। আরব বসন্তের আগ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য যে স্থিতিশীল ছিল, তার একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। পানি ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাষ্প হয়। কিন্তু ৯৯ ডিগ্রি পর্যন্ত বোঝা যায় না যে, পানিটা কিছুক্ষণের মধ্যেই বাষ্প হওয়া শুরু করবে। আসলে পানি তাপ কনজিউম করতে থাকে এবং নির্দিষ্ট তাপ পাওয়ার পরই হঠাৎ বাষ্পীয়ভবন শুরু হয়। পৃথিবীর প্রায় সব বিপ্লবী অথবা গণআন্দোলনের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে। ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর বিরুদ্ধে খোমেনির বিপ্লবও তাই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধও ঘটেছে ২৪ বছরের শোষণজনিত বঞ্চনার কারণে, বঙ্গবন্ধু না থাকলে হয়তো সময়টা আরও দীর্ঘায়িত হতো। পশ্চিমা আধিপত্য ও স্ব স্ব দেশের স্বৈরতন্ত্র থেকে ক্ষোভ জমা হচ্ছিল। সেই ক্ষোভ সামাজিক বিজ্ঞান দ্বারা নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ করা মাত্রই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছিল দক্ষিণা হাওয়া। কিন্তু এই হাওয়ায় প্রাণ জুড়াল না, কারণ এতে মিশে গেল পশ্চিমা ঘূর্ণি বাতাস।
আরব বসন্ত ব্যাকফায়ার করার পর বিকল্প শক্তি দিয়ে মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করার চিন্তা আসতেই পারে এবং তা এসেছে। আবার গোটা অঞ্চলটাই যেহেতু মুসলমানপ্রধান, তাই সেই শক্তি অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে ইসলাম ধর্ম থেকেই। এবার আর আল কায়দার মতো শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র নয়, সমগ্র আরব ভুবনকেই খেলাফত শাসনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, অতঃপর সম্ভব হলে গোটা বিশ্বকে। জন্ম হল আইএসের। প্রশ্ন উঠতেই পারে, আইএস যাদের হত্যা করছে, তারা তো সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ট কিংবা তাদের আদর্শের চিহ্নিত শত্রু নয়। তাদের হত্যাকাণ্ড তো নির্বিচার। উত্তর হল, তারা একটা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শক্তি প্রদর্শনই তাদের উদ্দেশ্য। ডিফিকাল্ট অথবা বলা যায় আলটিমেট টার্গেটকে আক্রমণ করার শক্তি এখনও অর্জন করতে পারেনি বলে তাদের যেন কেউ দুর্বল ভাবতে না পারে, সেজন্য তারা ইজি টার্গেটেই আঘাত করে বলতে চাইছে- রিহার্সালের শক্তিটা বুঝে নাও, আসল শক্তি পরে দেখতে পাবে। এটা এক অদ্ভুত ব্যাপার, আটলান্টিকের ওপাড়ে রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য কোনো রাষ্ট্র সহজে দখলে নিতে পারবে না, অথচ রাষ্ট্রটি দুনিয়াজুড়ে বিছিয়ে রেখেছে সামরিক চাদর। নাবিকদের নাকি বন্দরে বন্দরে বউ থাকে, যুক্তরাষ্ট্রেরও যেখানে পানি, সেখানেই ফ্লিট। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের একটা প্রশ্ন করাই যেতে পারে, তাদের কাছে কোনটা বড়- সভ্যতার স্বাভাবিক বিকাশ, নাকি সভ্যতা কোথায় যাবে যাক, আমার মাতব্বরিটা ঠিক থাকতে হবে? ঠিক আছে, মাতব্বরি করতে দেয়া হলই না হয়, বিচারসভায় চোখ টেপাটেপি কেন? খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে ইসলামের ততো বিরোধ নেই, যতটা আছে ইহুদি ধর্মের সঙ্গে। তো মুসলমান ফিলিস্তিনিকে উপেক্ষার চোখে দেখে ইহুদি ইসরাইলির দিকে রোমান্টিক দৃষ্টি দেয়ার অর্থ কী? তার মানে যৌনাকাঙ্ক্ষার কাছে কখনও কখনও যেমন হার মানে ধর্মীয় চেতনা, নীতিবোধ; ব্যাপারটা তেমন কিছু?
হ্যাঁ জঙ্গিবাদ রুখতে হলে এক নতুন মধ্যপ্রাচ্য শুধু নয়, এক অন্যরকম পৃথিবীর খোঁজ করতে হবে। সেই বিশ্বব্যবস্থা গড়তে নেতৃত্ব নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকেই। এই প্রক্রিয়ায় থাকা চলবে না ডাবল-ডিলিং, কনটেইন করতে হবে সমগ্র পৃথিবীকে। গরিবের বউকে সত্যি সত্যিই ‘ভাবী’ ডাকতে হবে, কোনো কু-মতলবে নয়। আর তা না পারলে জঙ্গিরা একসময় এই সভ্যতা জ্বালিয়ে দিয়েই ক্ষান্ত হবে না, সেই আগুনে পুড়ে খাবে আলু। কীভাবে তেমন একটি পৃথিবী গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে কিছু কথা আমারও আছে। সেটা আরেকদিন হবে।
মাহবুব কামাল : সাংবাদিক
mahbubkamal08@yahoo.com
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কী পেল চট্টগ্রাম?
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পরিণীতি সমাচার
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1331)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ▼ 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
