Tuesday, April 13, 2010

কিছু ঝুঁকি, কিছু কেলেঙ্কারি থাকবেই by আবু আহমেদ

তপন আমার ওপর অনেকটা রাগ হয়ে গেলেন। বয়সে ছোট এবং অখ্যাত হলে মনে হয় ঘর থেকেই বের করে দিতেন। বয়সে ভারী বলে এবং চেনাজানা বলে অনেকটা অনুযোগের সুরে বললেন, আপনারা কিছু লোক সব সময় শেয়ারবাজারে জুয়া দেখেন এবং কেলেঙ্কারি খোঁজেন। আপনারা এসব করেন বলে সংবাদমাধ্যমও ওইগুলোর পিছু লেগে আছে। দেখুন, ওদের খবর, ওরা মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে কারসাজি দেখে, আর মূল্য পড়ার মধ্যে ষড়যন্ত্র দেখে। তাহলে শেয়ারবাজারটা কি এক মূল্যের বাজার হবে? আর আপনারা যাঁরা মৌলভিত্তির কথা বলে অহরহ বক্তব্য দেন, তাঁরা একবারও ভেবে দেখেছেন, এখানে মৌলভিত্তিও মিথ্যা? এখানে শুধু কোম্পানিই মিথ্যা কথা বলে না, অডিটরও মিথ্যা কথা বলে। তাদের সম্পর্ক হলো পারস্পরিক সুবিধার এবং দেনা-পাওনার। তাহলে একটা বিরাট মিথ্যার ওপর তো শেয়ারবাজার দাঁড়িয়ে। এই অবস্থায় এই বাজারে সত্যতা খোঁজেন কেন? আর এই বাজারে জুয়া না থাকলে এবং কেলেঙ্কারি না ঘটলে কি এত বিনিয়োগকারী আসত?
লাখ লাখ লোকের মধ্যে কেউ ঝুঁকি নেবেন, জুয়া খেলবেন, কেউ শেয়ার ব্যবসায়ী হবেন, আর কেউ শেয়ার বিনিয়োগকারী হবেন। অথচ আপনারা সবাইকে বিনিয়োগকারী বানাতে চান! এটা সম্ভবও নয়, প্রয়োজনও নেই। বরং বাজারটাকে আপন পথে চলতে দিন। দেখবেন, সবই ঠিক হয়ে যাবে। আর আপনারা সব বিনিয়োগকারী তথা শেয়ার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবেন না। এটা হতেই পারে না। যাঁরা খেলতে গিয়ে হারবেন, তাঁরা তো অর্থ হারাবেনই। কাউকেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না, এমন শেয়ারবাজার বিশ্বে একটাও নেই। তাহলে তো শেয়ারবাজারকেই বাদ দিতে হয়। এতক্ষণে তপনের চা এসে গেছে। তপন থেকে বেশি শুনতে চাইলাম। কারণ, তিনি অনেক বিনিয়োগকারীর ভাবনাকেই আমার সামনে তুলে ধরতে চাইছেন। তপন একজন ব্রোকারও বটে। ব্রোকার হিসেবে তাঁকেও বিনিয়োগকারীদের কিছু মতামত দিতে হয়। তপনের কথা হলো, গত দুই বছরে এই বাজারে জুয়াড়িরাই ভালো করেছে এবং সামনেও তা-ই হবে। তপনের দুঃখ বোধ হয় ওই সব বুদ্ধিহীন বিনিয়োগকারীর জন্য, যাঁরা শুধু কোম্পানির মৌল অর্জন দেখে শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন।
তপন এও বললেন, তিনি আগে একটা ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন এবং ওই সব জায়গায় আরও বড় জালিয়াতি সংঘটিত হচ্ছে। অথচ কেউ কিছু বলছে না। তপন তাঁর এক আত্মীয়কে নিয়ে একটা বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। মাত্র তিন দিনে ওই আত্মীয়ের ব্যয় হয়েছে এক লাখ টাকা। তিনি রাগের সঙ্গে বললেন, ওইটা কোন নৈতিকতা! শেয়ারবাজারের ক্ষেত্রে তো রেগুলেটর, এসইসি আছে। চিকিৎসক এবং হাসপাতালগুলোর ক্ষেত্রে কোনো রেগুলেটর বা কমিশন আছে? তাহলে যাঁরা বড় এবং প্রভাবশালী, তাঁরা তো অন্যত্র অন্যায় কাজগুলো ঠিকই করে যাচ্ছে। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর ডাক্তার এবং ল্যাবের মালিকেরা লোকদের সর্বনাশ করছে। আপনার সরকার সেটা নিয়ে চিন্তা করে না। কিন্তু শেয়াবাজারে একটু মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে অমনি ম্যানুপুলেশন আর সিন্ডিকেট ট্রেডিংয়ের গন্ধ পান!
করপোরেট গভর্নেসের কোনো খবর নেই। অথচ আমরা ব্রোকারেরা একটু অন্যায় করলে দরজায় যমদূত এসে হাজির হয়। আপনি এবং সংবাদমাধ্যমের তো আরও এক শ গুণ বেশি বলা উচিত ছিল রেগুলেটরের অদক্ষতা নিয়ে এবং করপোরেট গভর্নেসের উন্নয়নের জন্য। আজতক কয়টা অডিটর কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে? অথচ তাদের তো নিয়োগ দেওয়া হয় কোম্পানির আদ্যোপান্ত এবং সবই দেখার জন্য। আপনাদের এসইসিই বা কয়টা অডিট রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে? আপনারা বললেন, ডাইরেক্ট লিস্টিং হবে না, তাহলে পরে কীভাবে দুটো কোম্পানি ডাইরেক্ট লিস্টিং পেল? আর ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে তো অনেকগুলো তথ্য শেয়ার ক্রেতাদের জানানোর কথা, কিন্তু কী পরিমাণ তথ্য আপনারা দেখতে পেয়েছেন এসব ক্ষেত্রে? আসলে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রে যারা পারভ্যালুর ৩০ গুণে শেয়ারগুলো কিনছেন, তাঁরা আপনাদের ব্যাখ্যাকৃত মূল্যায়ন পদ্ধতির ধারে কাছেও যাননি। বলতে পারেন অনেকটা জুয়া খেলছেন। তাহলে জুয়া খেলার সুযোগটা তো এসইসি দিচ্ছে, এটাকে নিয়ে আপনাদের এত আফসোস কেন?
আমারও চা খাওয়া শেষ। তপনের হুল ফুটানো কথাগুলোর সব উত্তর আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমিও তাঁর সঙ্গে একমত হয়েছি। উঠতে উঠতে ভাবলাম, তপন তো সত্য কথা বলেছে। কিন্তু এই সত্যতা সবাই সমভাবে বোঝে না বলে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী শুধু অর্থই হারাবেন। আমি এও বুঝি যে একেবারে জুয়ার আমেজ থাকবে না যে বাজারে, সেখানে অন্য কিছু হলেও অন্তত শেয়ারবাজার হবে না। কিন্তু এই বাজারে যে সবার সমান দক্ষতা ও শক্তি নেই। রেগুলেটরের কাজ তো হলো সবাইকে সমান ময়দান তৈরি করে দেওয়া। রেগুলেটর কি সেই কাজটি করছে? তদুপরি রেগুলেটরের বড় কাজ হলো অতি দুর্বলদের রক্ষা করা। কিন্তু রেগুলেটর যদি নিজেই ম্যানুপুলেটেড হয়, তাহলে তাদের পক্ষে দাঁড়ানোর কেউ থাকে না। কেউ কি কোনো দিন শুনেছে, আর্থিক বাজারে বড় খেলোয়াড়েরা মার খায়!
তপন আরও একটা কথা বলেছিলেন, সেটা হলো সরকারি শেয়ারের বিক্রয় নিয়ে। তপন বলেছিলেন, আপনারা তো সরকারি শেয়ারগুলো বিক্রির জন্য অনেকই বললেন। কিন্তু শেয়ারগুলো বেচা হয়েছে কি? হয়ওনি, হবেও না। অর্থমন্ত্রী নির্দেশনা দিলে কী হবে, তাঁর নির্দেশনাকে থামিয়ে দেওয়ার অনেক লোক আছে। যাঁরা সরকারি শেয়ার বিক্রয়ে বাধা দিচ্ছেন, তাঁদের হাত অনেক শক্তিশালী। এবং তাঁরা অর্থমন্ত্রী যেথায় পৌঁছাতে পারেন না, সেথায় পৌঁছতে পারেন। অর্থমন্ত্রী তো শেয়ারগুলো বিক্রয়ের জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। আপনি এর মধ্যে কোনো অগ্রগতি লক্ষ করেছেন? সুতরাং বেশি আশা করে লাভ নেই। অর্থনীতি তো অন্যত্র স্থবির আছে, এখন শেয়ারবাজারকেও যদি স্থবিরতায় ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে না।
তপনের আর এক অভিযোগ হলো, তাঁকে এসইসি নতুন শাখা খুলতে দিচ্ছে না। তিনি বললেন, ‘আগে যাঁরা বিনা অনুমতিতে ব্রোকারেজ ফার্মসের শাখা খুলে পরে অনুমতি নিয়েছেন, তাঁরা ভালো আছেন। আমরা এখন পূর্বানুমতি নিয়ে শাখা খুলতে গিয়ে আটকে গেছি।’ এখানে আমি তপনকে থামালাম। বললাম, এত শাখার বাজার কি আমাদের শেয়ারবাজারে আছে? এমনিতেই আমরা বলছি, শেয়াবাজারে অর্থ ও বিনিয়োগকারী বেশি এসে গেছে। সে অবস্থায় আরও শাখা খোলা মানে তো আরও অর্থ ও আরও বিনিয়োগকারী। তাতে তো শেয়ারের মূল্য শুধু বাড়তেই থাকবে। তপন আমার এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত হতে পারলেন না। তিনি তাঁর ব্যবসায়িক যুক্তির ওপর শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর কথা হলো, মানুষ অযৌক্তিক মূল্যে শেয়ার কিনবে না, আর কিনলেই বা কী! এক অযৌক্তিক লোক আরেক অযৌক্তিক লোকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে, তাতে কার কী ক্ষতি আছে।
আমি বললাম, বিশ্বের কোথাও এ ধরনের প্রতিযোগিতা রেগুলেটর অনুমোদন দেয় না। আমাদের এই বাজারেও দেওয়া ঠিক হবে না। যা হওয়া উচিত, বাজারের সম্প্রসারণটা শেয়ার সরবরাহের সঙ্গে সংগতি রেখে হওয়া উচিত। আর আমাদের মতো দেশে রেগুলেটরের ওপর চাপ থাকে। চাপ দেয় উদ্যোক্তারা, ব্রোকারেরা এবং ফান্ড ম্যানেজাররা, এই চাপকে মোকাবিলা করেই রেগুলেটরকে সিদ্ধান্ত দিতে হয়। তবে রেগুলেটর দুর্বল হলে চাপটা বেশি আসে। এবং তখন অনেক সিদ্ধান্ত বাজারের তথা বিনিয়োগকারীদের বিপক্ষে যায়। এই যে এতগুলো মিউচুয়াল ফান্ডের দরখাস্ত এসইসিতে জমা আছে, তার পেছনে কারণ কী? আমাদের বাজার এতগুলো মিউচুয়াল ফান্ড ধারণ করার জন্য কি উপযুক্ত? আর মিউচুয়াল ফান্ড তো শেয়ার নয়, এটা কি বিনিয়োগকারীকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে? এত মিউচুয়াল ফান্ডকে ঘিরে প্লেসমেন্ট বাণিজ্য হচ্ছে, এটাও কি রেগুলেটর দেখছে না? ভবিষ্যতে তো কেলেঙ্কারি হলে এসব ফান্ডকে ঘিরেই তা হবে।
আবু আহমেদ: অর্থনীতিবিদ। অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আগে আইন, পরে নিয়োগ- বিচারপতি নিয়োগ by শাহদীন মালিক

বেশ কয়েক বছর ধরে ‘ল ১০১’ পড়াই। কিছুটা বিদেশি স্টাইলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোর্স বা সাবজেক্ট আমরা সংখ্যা দিয়ে বুঝাই—‘ল ১০১’। যে বিষয়টা পড়াই, সেটা হলো বাংলাদেশের আইনব্যবস্থা, যেটা সংক্ষেপে ‘ল ১০১’। অর্থাৎ যারা আইন পড়তে ভর্তি হয়, তাদের জন্য একেবারে প্রথম বিষয়। প্রথম বর্ষের বিষয়গুলো একশ র ঘরের সংখ্যা অর্থাৎ ‘ল ১০১’, ‘ল ১০২’ ইত্যাদি। দ্বিতীয় বর্ষের বিষয়গুলো দুই শর ঘরে, অর্থাৎ ল ২০১, ল ২০২ এবং এভাবেই তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের বিষয়গুলোকে তিন শ ও চার শর ঘরের সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ক্লাস বা পরীক্ষার রুটিন বা অন্যান্য ব্যাপারে পুরো টাইটেল যেমন ল অব ট্রাস্ট অ্যান্ড ইকুইটি না লিখে আমরা সংক্ষেপে ব্যবহার করি ‘ল ২০৪’। ছাত্রছাত্রীরা জানে ‘ল ২০৪’ মানে কোন বিষয়।
প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারে সদ্য ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আনকোরা ছাত্রছাত্রীদের ‘ল ১০১’ পড়াতে গিয়ে প্রথম সপ্তাহেই যে বিষয় দিয়ে শুরু করি তা হলো—অ্যাডভোকেট কাহাকে বলে, উহা কত প্রকার ও কী কী।
বুঝিয়ে বলি, অ্যাডভোকেট মূলত তিন প্রকার—ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের অ্যাডভোকেট, হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট আর আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট। আরও এক বিশেষ ধরনের অ্যাডভোকেট আছেন, যাঁরা হলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট। এখানে বয়সের কারণে একজন অ্যাডভোকেট সিনিয়র হয়ে যান না। ‘সিনিয়র অ্যাডভোকেট’ একটা বিশেষ পদবিগোছের—প্রধান বিচারপতি অন্য বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ সাপেক্ষে গুটিকতক বিশিষ্ট আইনজীবীকে এই পদবি প্রদান করেন। আগে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হয়েছেন এবং তারপর সিনিয়র অ্যাডভোকেট হয়েছেন এমন উদাহরণও দু-একটা আছে। আর সবাই বিচারপতি হন সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদবি পাওয়ার অনেক আগে। গত প্রায় চল্লিশ বছরে যে দুই শতাধিক বিচারপতি নিয়োগ পেয়েছেন, তার মধ্যে (আমার জানামতে) কুল্লে দুজন ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট।
আগেই বলেছি, প্রথম ধাপ জেলা বা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট। এলএলবি পাস করে, ছয় মাস শিক্ষানবিশি শেষ করে বার কাউন্সিলের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে ওকালতির সনদ পেয়ে কোনো একটা জেলা বারে নাম লিখিয়ে অ্যাডভোকেট হন। ইংল্যান্ডের এলএলবি পাস করে ওই দেশের বার কাউন্সিলের পরীক্ষা পাস করলে ইংল্যান্ডের অ্যাডভোকেটকে বলে ব্যারিস্টার, অর্থাৎ আপনি বিলাতি আইন জানেন, বিলাতি কোর্টে ওকালতি করতে পারবেন। বিলাতি ব্যারিস্টারদেরও বাংলাদেশে এসে শিক্ষানবিশি করে বাংলাদেশের বার কাউন্সিলের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করে অ্যাডভোকেটের সনদ নিতে হয়। অ্যাডভোকেট না হয়ে শুধু ব্যারিস্টার হওয়ার কারণে বা যোগ্যতায় বাংলাদেশের কোনো আদালতে ওকালতি করা যায় না।
যা হোক, জেলা বা জজকোর্টের অ্যাডভোকেট হওয়ার পর দুই বছরের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হলে হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট হওয়ার জন্য দরখাস্ত করা যায়। আবার সেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা; এ ধাপে কড়াকড়িটা একটু বেশি। এ ধাপ উতরাতে পারলে হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট।
তারপর অন্তত এক যুগ হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার পর অনেকেই আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট হওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি বরাবর দরখাস্ত করেন। আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট হিসেবে অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে হাইকোর্ট বিভাগের প্রত্যেক বিচারপতির মতামত নেওয়া হয়। কারণ বিচারপতিরা তাঁদের কোর্টে কে কত দক্ষ, বিচক্ষণ ও আইনজান্তা, তার মূল্যায়ন করতে পারেন।
আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট হওয়ার পর আপিল বিভাগের বিচারপতিরা কাকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট পদবি প্রদান করবেন তা নির্ধারণ করেন।

২.
বিচারপতি নিয়োগসংক্রান্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদটি নিম্নরূপ: ‘প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিগণ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।’
গত বিএনপি আমলে তার আগের আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত বেশ কয়েকজন অতিরিক্ত বিচারপতির ‘স্থায়ীকরণ’ না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত মামলা-মোকাদ্দমা, যা ‘দশ বিচারপতির মামলা’ হিসেবে প্রচলিত হয়েছে—শেষতক বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির মতামতের প্রাধান্য স্বীকৃত হয়েছে। অর্থাৎ প্রথমে অতিরিক্ত বিচারপতি এবং দুই বছর পর অতিরিক্ত বিচারপতিদের ‘স্থায়ী’ (যদিও ‘স্থায়ী’ শব্দটা সংবিধানে নেই) করার ব্যাপারে প্রধান বিচারপতির মতামত প্রাধান্য পাবে।
অবশ্য সংশ্লিষ্ট রায়ে (বাংলাদেশ বনাম মো. ইদ্রিসুর রহমান, ২৯ বিএলডি এডি ৭৫) এটাও বলা হয়েছে, বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তির আইনি দক্ষতা, বিচক্ষণতা ইত্যাদির বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পূর্বাপর বৃত্তান্ত (Antecedent) সম্পর্কে সরকারের মতামত গ্রহণযোগ্য হবে। অর্থাৎ আইনজীবীর আইনি দক্ষতা বা যোগ্যতার ব্যাপারগুলো প্রধান বিচারপতির বিবেচ্য। কিন্তু আইনি জগতের বাইরের যে জীবন, সে ব্যাপারে সরকারের কোনো তথ্য থাকলে উভয় বিষয় পর্যালোচনা করে যোগ্যতম ব্যক্তিদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, প্রধান বিচারপতি কীভাবে এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন? বর্তমানে বা নিকট অতীতে যাঁরা প্রধান বিচারপতি আছেন বা ছিলেন, তাঁরা প্রধান বিচারপতি হওয়ার আগে কমবেশি প্রায় এক দশক আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে কাজ করেছেন। হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট, যাঁরা আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হননি, তাঁরা তো আপিল বিভাগে ওকালতি করেন না।
এই লেখা যখন প্রকাশিত হবে, ততক্ষণে হয়তো অনেক নতুন অস্থায়ী বিচারপতির নিয়োগ হয়ে যাবে। বেশ কয়েক দিন ধরে অনেকেরই নাম নিয়ে আলাপ-আলোচনা-গুঞ্জন চলছে। কিছু নাম পত্রপত্রিকায়ও এসেছে। জানা মতে, বেশির ভাগই আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত নন।

৩.
সংবিধানে বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার শুধু দুটি যোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে—সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা অথবা বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা। একইভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওযার জন্য সংবিধানে দুটি যোগ্যতা (বাংলাদেশের নাগরিক ও অন্তত ২৫ বছর বয়স) এবং পাঁচটি অযোগ্যতা (অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশি নাগরিক ইত্যাদি) উল্লেখ করা আছে। তবে এর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, সংশ্লিষ্ট ৬৬ অনুচ্ছেদের ২(ছ) উপ-অনুচ্ছেদ, যেখানে বলা হয়েছে, অযোগ্যতার ব্যাপারে শর্ত আরোপ করে আইন করা যাবে, অর্থাৎ আইনের দ্বারা আরও অযোগ্যতা নির্ধারণ করা যাবে। এই ৬৬(২)(ছ) উপ-অনুচ্ছেদের আওতায় জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ বিভিন্ন সময় অনেক অযোগ্যতা—ঋণখেলাপি বা বিলখেলাপি না হওয়া, সরকারি চাকরি অবসানের পর অন্তত তিন বছর অতিবাহিত হওয়া, সরকারের সঙ্গে ব্যবসায়িক বা চুক্তিগত কোনো সম্পর্ক না থাকা ইত্যাদি।
একইভাবে বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারে আগে উল্লিখিত সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে ১০ বছর অভিজ্ঞতাসংক্রান্ত যোগ্যতার পর ৯৫(২)(গ)তে বলা আছে যে, আইন দ্বারা বিচারপতি নিয়োগ লাভের অন্যান্য যোগ্যতা নির্ধারণ করা যাবে।
সংবিধানের বয়স ৪০ বছর ছুঁইছুঁই করছে। বিচারপতি পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতাসংক্রান্ত আইন এখনো হয়নি। গত প্রায় ৪০ বছরে প্রণীত আইনের (সংশোধনী আইনসহ) সংখ্যা অন্তত দুই হাজার। কিন্তু বিচারপতির নিয়োগ ও যোগ্যতাসংক্রান্ত আইন এখনো নেই। এই আইন কেন হয়নি, তা পাঠক অতি সহজেই অনুমান করতে পারবেন। বিচার বিভাগ যাতে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়, সে জন্য এই আইনটা অত্যাবশ্যক; তাও পাঠক নিশ্চয় আঁচ করতে পারবেন।
ভালো, যোগ্য, বিজ্ঞ, দক্ষ লোককে বিচারপতি নিয়োগ করার আগে এ-সংক্রান্ত আইন এখন অত্যাবশ্যক। শুধু প্রধান বিচারপতির ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। বিশেষত প্রধান বিচারপতি যখন এমন অনেক অ্যাডভোকেটের নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন তার তালিকায়, যাঁরা সম্ভবত তাঁর সামনে আইনজীবী হিসেবে একটা মামলাও করেননি।
লোকমুখে শুনেছি, অতীতে প্রধান বিচারপতিরা বিচারপতি নিয়োগের তালিকা তৈরির আগে অন্যান্য বিচারপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতেন। সেটা এখন আর হয় না বলেই জানি। অবশ্য আমার সব ‘জানা’ যে সঠিক, সে দিব্যি দিতে পারব না।
৫০ বছরের কম বয়সী কাউকে বিচারপতি নিয়োগ করা সম্পূর্ণ অসমীচীন। এসএসসি থেকে এমএ বা এলএলবি পর্যন্ত পাবলিক পরীক্ষায় অন্তত একটা ফার্স্ট ডিভিশন/ক্লাস থাকা বাঞ্ছনীয়। নিদেনপক্ষে কোনো থার্ড ক্লাস/ডিভিশন যাতে না থাকে, সেটা তো নিশ্চিত করতে হবে। হাইকোর্টের যাঁরা জ্যেষ্ঠ বিচারপতি অর্থাৎ কমবেশি ১০ বছর বিচারপতি হিসেবে বিচার করেছেন, তাঁদের মতামত নিতে হবে। প্রধান বিচারপতি যেহেতু বহু বছর আপিল বিভাগে বসেন, সেহেতু হাইকোর্ট ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিরাই কোন আইনজীবী বিচারপতি হওয়ার যোগ্য, সে ব্যাপারে বেশি ওয়াকিবহাল।
এখন তো টিন (TIN) নম্বর এবং অন্তত গত পাঁচ বছরের আয়কর রিটার্নের ফিরিস্তি এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী ছাড়া বিচারপতি নিয়োগের প্রশ্নই ওঠা উচিত নয়।
আইন দ্বারা যোগ্যতা নির্ধারিত না হলে স্বেচ্ছাচারিতা হতে বাধ্য। মামলার জট আছে জানি যুগ যুগ ধরে। দুই মাস পর বিচারপতিদের নিয়োগ করলে মামলার ভারে সুপ্রিম কোর্ট ভেঙে পড়বে না। আইন ছাড়া নিয়োগ করলে আস্থাহীনতার চাপে বরং কোর্ট নুয়ে পড়তে পারে।
‘দশ বিচারপতি’ রায়ে ওপরে উল্লিখিত বিএলডির ১৩৪ পৃষ্ঠায় আছে: ‘Therefore, the entire process of consultation leading to appointment should be put into writing containing the materials considered against each candidate in support of their suitability.’ অর্থাৎ প্রধান বিচারপতি বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য যাঁদের নাম সুপারিশ করেছেন, সেই প্রতিটি সুপারিশের পক্ষে কারণ বা বক্তব্য লিপিবদ্ধ করতে হবে। আইন পাস হওয়ার আগেই আবার যদি বিচারপতি নিয়োগ হয়, তাহলে আমরা প্রধান বিচারপতির লিখিত বক্তব্য জানতে চাইব। কারণ, এই রায়েই বলা আছে, নিয়োগ-প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে।
ড. শাহদীন মালিক: অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট।

লাল শার্টের বিদ্রোহীরা -থাইল্যান্ড by হান্না বিখ

ব্যাংককের এক প্রমোদকেন্দ্রে এক বিদেশি জানতে চান, ‘লাল শার্টদের সমর্থক কারা?’ দামি বোরদৌ মদের ছিপি খুলতে খুলতে এক থাই উত্তর দেন, ‘কেউ না’। তারপর বিড়বিড় করে বলেন, ‘তবে গরিবেরা ছাড়া’।
গত মার্চের মাঝামাঝি বিরোধী ‘লাল শার্টরা’ ব্যাংককে বিরাট বিক্ষোভের ডাক দিলে নগরের মেয়র অধিবাসীদের ‘ঘরে থাকার’ অনুরোধ করেন। বাসে, ট্রাকে, নৌকায়, পিকআপে করে হাজার হাজার মানুষ গ্রামাঞ্চল থেকে ব্যাংকক অভিমুখে রওনা হলে ব্যাংককের মিডিয়া বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি জানায়। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে গেল অপ্রত্যাশিতভাবে। মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাল শার্টের গাড়িবহর ব্যাংককে ঢুকছে আর ঘর থেকে বেরিয়ে আসছে শহরের গরিব ও মধ্যবিত্তরা। বাবুর্চিরা তাদের খুন্তি নাড়াচ্ছে, বিউটি পার্লারের মেয়েরা নাড়ছে রুমাল, স্টারবাক বারিস্তার পরিচারকেরা তালে তালে দিচ্ছে হাততালি। ব্যাংককের এয়ারকন্ডিশন-শোভিত অভিজাত এলাকা থেকে দূরে, ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার ঘামে ঝরতে ঝরতে নগরের নিম্নবিত্তরা বলছে সেই কঠিন কথাটি, ‘আমরা লালদের ভয় পাই না, কারণ আমরাও লাল।’ লাল শার্ট পরা আন্দোলনকারীরা একে বলছে ‘শ্রেণীসংগ্রাম’। এই অভিধা কেবল নামেই নয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় থাইল্যান্ড ছিল মার্কিন সেনাদের লীলাভূমি। সেখান থেকে দেশটি পরিণত হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার পণ্য প্রস্তুতকারী, পৃথিবীর বৃহত্তম ধান রপ্তানিকারক এবং গোটা দুনিয়ার প্রমোদকেন্দ্রে। এর পরও অনেক থাইকে ধানখেতে কিংবা মাছের খামারে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে থাকতে হয়। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি যা হয়েছে তার দেখা তারা পায়নি, সুফল নিয়ে নিয়েছে বড়লোকেরা। এ অঞ্চলে এখন থাইল্যান্ডের আয়বৈষম্য সবচেয়ে মারাত্মক। রাজধানী ব্যাংকক কাঁপানো লাগাতার বিক্ষোভে যে লাখো লাল শার্ট পরা মানুষ জড়ো হয়েছে, তারা থাইল্যান্ডের জনগণের এই ক্ষোভেরই প্রতিনিধি। বছরের পর বছর ধরে বঞ্চনার বিরুদ্ধে দানা বাঁধা ক্ষোভই এখন বিস্ফোরিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভার সরকারের বিরুদ্ধে।
রাজপথের এই বিক্ষোভ কেবল অক্সফোর্ড পাস অর্থনীতিবিদ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই নয়; জনগণের অনেকের চোখেই সমগ্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও সামরিক মহল গরিববিরোধী। যদিও অভিজিত্ ক্ষমতায় এসে কিছু কিছু গরিবমুখী কর্মসূচি নিয়েছিলেন, তার পরও মানুষ এর স্থায়ী প্রতিকার চায়।
২০০৬ সালে জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী থাকসিন এক সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান। ওই বছরই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পায় থাকসিন-সমর্থক দল। নতুন সরকার থাকসিনকে ফিরিয়ে আনবে এই ভয়ে অভিজাত ও ধনীদের সমর্থক হলুদ শার্টরা সেনাবাহিনীর মদদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বিমানবন্দর দখল করে নেয়। ওদিকে উচ্চ আদালত কারচুপির কথা বলে বিজয়ী দলকে বঞ্চিত করেন। পর্দার আড়ালের দেনদরবারের মাধ্যমে অভজিতের নেতৃত্বাধীন জোটই সুযোগ পায় সরকার গঠনের। লাল শার্টদের এক শীর্ষস্থানীয় নেতার অভিযোগ, ‘এটা জনগণের নির্বাচিত সরকার নয়। অভিজিত্ বিদায় হও এবং জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দাও।’
লাল শার্ট নেতারা জানেন, তাঁদের জনপ্রিয়তার ভিত্তি হলো বড়লোকদের বিরুদ্ধে গরিবদের বিদ্বেষ। তাঁদের চোখে এটি অভিজাতদের বিরুদ্ধে ভূমিদাসদের লড়াই। যদিও তাঁদের কোনো কোনো নেতা ধনিক শ্রেণীর লোক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন নিজেও ছিলেন দেশের শীর্ষ ধনীদের একজন, তথাপিও তিনি তাঁর ক্ষমতা ব্যবহার করে গরিবদের অর্থনৈতিক সুবিধার ব্যবস্থা করে ভোটারদেন মন জয় করে ফেলেন। প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ টেলিভিশনে বলেন, ‘থাইল্যান্ডে আর শ্রেণী নেই, সব মানুষ সমান, তবে সবার সুযোগ সমান নয়।’ কিন্তু চুয়ালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের কথা হলো, ‘গরিবেরা খাটে বেশি, দেয়ও বেশি। তার পরও তারা ভিড়ের মধ্যে লক্কড়ঝক্কড় বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে, আর বড়লোকেরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত লিমুজিনে করে ঘোরে।’
থাকসিন ধনকুবের হয়েও গ্রামীণ গরিবদের ক্ষমতা ও সচ্ছলতার স্বাদ দিয়েছিলেন। তাঁর ব্যাপক ভর্তুকির স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি, বিনা সুদে ক্ষুদ্রঋণের মতো জনমুখী কর্মসূচি তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে। এসব কারণেই তিনি থাই ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে যান। কিন্তু ২০০৬ সালে জনপ্রিয় এই নেতা সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারান।
বর্তমানে ধনী ২০ শতাংশ মানুষ থাইল্যান্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ সম্পদের মালিক। অভিজিতের মুখপাত্র পানিতান বলছেন, ‘ব্যাংককের অনেক এলাকাতেই ধনী আর গরিবেরা পাশাপাশি বাস করছে। আয়বৈষম্য সেখানে এত প্রকট; হয়তো এখনই ল্যাটিন আমেরিকার মতো সংঘর্ষ লেগে যাচ্ছে না, কিন্তু অচিরেই গণবিক্ষোভ স্থায়ী ব্যাপারে পরিণত হবে।’
বিক্ষোভকারীরা এখনই নির্বাচন চায়। অভিজিত্ সেটা মানছেন না। (গত শুক্রবার ব্যাংককে সেনা-জনতা সংঘর্ষে নয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে) কেননা, এই মুহূর্তে নির্বাচন হলে থাকসিন-সমর্থকেরাই বিজয়ী হবে। এর মুখে গত মার্চে লাল শার্টরা অভিজিতের বাড়ি ও দপ্তরের সামনে নিজেদের শরীরের রক্ত ঢেলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি জানিয়ে দেয়। সরকার ও ধনীদের বিরুদ্ধে তাদের স্লোগান হলো, ‘দেশ জ্বলছে’।
তবু লালদের এত বিপুল বিক্ষোভের পরও বোঝা যাচ্ছে না, কীভাবে থাইল্যান্ড সামনের দিকে এগোবে। দুদিকেই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অভিজিত্ সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু গত চার বছরে এ ধরনের সংলাপে কোনো সমাধান আসেনি। ওদিকে থাইল্যান্ডের রাজনীতির শেষ ভরসা রাজা ভূমিবল গত সেপ্টেম্বর থেকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ পর্যন্ত তাঁর মুখে কোনো বাণী ফোটেনি।
কিন্তু পরিস্থিতি বলছে, থাইল্যান্ডের বর্তমান সেনা-সমর্থিত সরকারের জায়গায় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা এবং অভিজাত শ্রেণীর বিপরীতে গরিব ও মধ্যবিত্তদের দাবি দিনকে দিন জোরালোই হয়ে উঠবে।
টাইম ম্যাগাজিন থেকে নেওয়া, সংক্ষেপিত ভাষান্তর ফারুক ওয়াসিফ
হান্না বিখ: টাইম এর প্রতিবেদক।

নারী কাউন্সিলরের মামলা -ব্যক্তির খেয়াল-খুশিমতো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি টানা দুবার বাণিজ্যিক রাজধানী বলে খ্যাত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধির জনপ্রিয়তা যে মাঝেমধ্যে জন-অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সম্প্রতি মেয়রের কাজকর্মে সেটাই প্রতিভাত হচ্ছে। একজন নারী কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। দলীয় সদস্যপদ নবায়ন উপলক্ষে সম্প্রতি মহানগরের বালুচড়া এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেয়র জনসমক্ষে তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে মহানগর আদালতে দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশের উপকমিশনারকে (উত্তর) নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ মামলাটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নাজুক হয়, এমন কিছু করা কারও উচিত নয়। অথচ মামলা প্রত্যাহারের জন্য নারী কাউন্সিলরের প্রতি চাপ সৃষ্টি, তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা তাঁর বাসার সামনে কতিপয় দলীয় নেতা-কর্মীর ঝাড়ু মিছিল বের করা আমাদের অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। আইনের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা থাকলে এসব কাজ তাঁরা করতে পারতেন না। নারী কাউন্সিলর অন্য দলের হলে এই মামলাকে না হয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে চালিয়ে দেওয়া যেত। কিন্তু তিনি ও মেয়র একই দলের।
নারী কাউন্সিলরদের প্রতি পুরুষ সহকর্মীদের আচরণ নিয়ে এর আগেও বহু লেখালেখি হয়েছে, কাগজপত্রে নীতিমালাও ঘোষিত হয়েছে, কিন্তু তাতে পুরুষ জনপ্রতিনিধিদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে, তা হলফ করে বলা যাবে না। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নারী কাউন্সিলর যে অভিযোগ এনেছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক তার প্রতিকার হওয়া প্রয়োজন। কারও ব্যক্তিগত খেয়াল-খুশিমতো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগরে হাজারো সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্তব্য আত্মকলহে সময় নষ্ট না করে তার প্রতি নজর দেওয়া এবং নগরবাসীর কল্যাণে একযোগে কাজ করা।

মানবাধিকার কমিশন -সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ চাই

২০০৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কতগুলো অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল। অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছিল, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার কমিশন গঠন ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে।’
নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৫ মাস পেরিয়ে গেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আগের চেয়ে কমেছে, এমন কোনো পরিসংখ্যান কোনো সূত্রেই নেই। আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করা হবে। কিন্তু ক্রসফায়ার বা এনকাউন্টারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। এই সম্পাদকীয় যখন লেখা হচ্ছে, সেদিনের সংবাদপত্রেও ছাপা হয়েছে ক্রসফায়ারে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর।
আসলে মানবাধিকারের বিষয়টি সরকারের কাছে যে গুরুত্বপূর্ণ, তার লক্ষণ স্পষ্ট নয়। বরং আইন পাসের নয় মাস পরও যখন দেখা যায়, মানবাধিকার কমিশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ, কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড় করানোর কোনো উদ্যোগ নেই, তখন সরকারের আন্তরিকতা নিয়েই প্রশ্ন জাগে। আইনমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু তার প্রমাণ কোথায়? শুধু চেয়ারম্যান অর্থাৎ এক ব্যক্তিকে নিয়ে চলছে মানবাধিকার কমিশন। বিধিমালা তৈরি করা হয়নি, তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়নি, অন্যান্য লোকবলও নেই। আইনানুযায়ী, চেয়ারম্যান ছাড়া অনধিক ছয়জন কমিশনারের পদ রয়েছে মানবাধিকার কমিশনে। নয় মাস আগে দুজন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন, তার পর থেকে মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান-সর্বস্ব এক অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলছে। এ চলাকে চলা বলে না। প্রায় চার মাস আগে সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি বৈঠক করে কমিশনার পদে যোগ্য লোক খোঁজার দায়িত্ব দিয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়কে। আইন মন্ত্রণালয় কি যোগ্য লোক খুঁজে পাচ্ছে না?
এ অবস্থা হতাশাব্যঞ্জক। প্রাথমিক একটি পদক্ষেপ হলো, মানবাধিকার কমিশনের জন্য একটি বিধিমালা। বিধি প্রণয়নে সরকার কমিশনকে কোনো সহযোগিতা করেনি, শেষে চেয়ারম্যান নিজেই বিধির খসড়া তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। গত বছরের আগস্ট থেকে সেটি পড়ে আছে আইন মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় সেটি এখনো চূড়ান্ত করেনি। এটা কি সরকারের আন্তরিকতার নমুনা? বিধিমালা ছাড়া কমিশন কোনো অভিযোগের তদন্ত করতে পারে না; কমিশনের কোনো তদন্ত কর্মকর্তাও নেই, নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাই কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পেলে তা তদন্তের জন্য সাহায্য নিতে হয় পুলিশ ও র‌্যাবের। কমিশনের চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের সহযোগিতার অভাব আছে।
মানবাধিকার কমিশন একটি লোক-দেখানো প্রতিষ্ঠান হিসেবে চলবে—এটা কোনো কাজের কথা নয়। কমিশনকে পূর্ণাঙ্গভাবে গঠন করতে হবে। বিধিমালা চূড়ান্ত করতে হবে, ছয়জন কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে, পর্যাপ্তসংখ্যক তদন্ত কর্মকর্তাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য লোকবল নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে। মানবাধিকারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের আন্তরিকতা মুখের কথায় নয়, কাজের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়।

পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের উপজাতি অধ্যুষিত ওরাকজাইয়ে গতকাল রোববার সরকারি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ জঙ্গি নিহত হয়েছে। ওরাকজাইয়ের সাম ও কানগরা গ্রামে গতকাল সকালে এ ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান। এ এলাকা থেকে তালেবান জঙ্গিদের বিতাড়িত করার জন্য সে দেশের সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। খবর এএফপি।
স্থানীয় প্রশাসন কর্মকর্তা সাজিদ আহমাদ বলেন, ওই বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ১৩ জঙ্গি নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছে। এদিকে পেশোয়ারের এক আধাসামরিক কর্মকর্তা সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে তালেবানের গোপন আস্তানায় গোলা বর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ সংঘর্ষে আধাসামরিক বাহিনীর তিনজন সদস্য আহত হয়েছে।
এদিকে সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে, ওরাকজাইতে গত মাসের শেষের দিক থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছে। যদিও নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাকিস্তান পরমাণু বিজ্ঞানী কাদির খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে

পাকিস্তান সরকার সুবিধাজনক সময়ে সে দেশের পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ইরান ও ইরাককে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে তাঁর সহায়তার চেষ্টার দাবির বিষয়ে তাঁকে এ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সরকারের এক শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী আহমের বিলাল সুফি এ কথা জানান। পিটিআই অনলাইন।
সুফি বলেন, কাদির খান ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরান ও ইরাককে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে তাঁর সহায়তার চেষ্টার কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি এও দাবি করেন, পাকিস্তান সরকারের জ্ঞাতসারে তিনি এটি করেছেন। কাজেই পাকিস্তান সরকার এটি সহজেই ছাড়তে পারে না। কারণ এটি খুুবই স্পর্শকাতর বিষয় এবং এটি পাকিস্তানের পরমাণু কর্মসূচিকে প্রশ্নের সম্মুখীন করতে পারে।

সংবাদকর্মীদের দৃষ্টি এড়িয়ে মেয়ের খেলা দেখলেন ওবামা

প্রটোকল ভেঙে সংবাদকর্মীদের অগোচরে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শনিবার সকালে হঠাৎ ‘উধাও’ হয়ে যান তিনি। অন্যান্য কার্যদিবসের মতো দিনের শুরুতেই হোয়াইট হাউসে জড়ো হন সংবাদকর্মীরা। হোয়াইট হাউস থেকে তখন তাঁদের জানানো হয়, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রেসিডেন্ট বেরিয়ে পড়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায় সংবাদকর্মীদের। তাঁরা জানতে পারেন, ওয়াশিংটন নগরের উত্তর পাশে এক খেলার মাঠে গেছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। মেয়ের ফুটবল খেলা দেখতেই সাংবাদিকদের ফাঁকি দিয়েছেন তিনি।
প্রথা অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনো সংবাদকর্মীদের অগোচরে বাইরের কর্মসূচিতে যান না। সংবাদকর্মীরা প্রেসিডেন্টের প্রতিটি পদক্ষেপকে অনুসরণ করেন। প্রেসিডেন্টের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড জনগণকে নিয়মিত অবহিত করার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে প্রথাটি জোরালোভাবে চালু আছে। তা ছাড়া ইতিহাসের উপাদানের জন্যও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সার্বক্ষণিক অনুসরণ করতে থাকেন একদল ঝানু সংবাদকর্মী ও আলোকচিত্রী।
শনিবার সকালে দীর্ঘদিনের প্রথাটি ভেঙে পড়ে। খোঁজখবর নিয়ে সংবাদকর্মীরা দ্রুতই খেলার মাঠে পৌঁছান। কিন্তু ততক্ষণে মাঠে মেয়ের ফুটবল খেলা শেষ। সংবাদকর্মীরা মাঠে গিয়ে প্রেসিডেন্টকে না পেয়ে সাড়ে ১০টায় পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রটোকল ভাঙার এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলে সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন।
পরে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা সকাল নয়টা ২০ মিনিটে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেন। চুপচাপ মেয়ের খেলা দেখে ১০টা ১৭ মিনিটেই আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন।

গুজরাট দাঙ্গা নিয়ে প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ নরেন্দ্র মোদি

২০০২ সালে গুজরাটের দাঙ্গা নিয়ে জার্মানির একটি পার্লামেন্টারি দলের প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই পার্লামেন্টারি দল সম্প্রতি এক দিনের গুজরাট সফর করে ২০০২ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে ঘিরে একটি প্রতিবেদন পেশ করে। ওই প্রতিবেদনে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় তাঁকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
এই খবর পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হন গুজরাটের বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ওই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কাছে একটি চিঠি লিখে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানান।
নরেন্দ্র মোদি তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ওই প্রতিবেদনের জন্য প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি জার্মান পার্লামেন্টারি দলের সদস্যরা যাতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, সে ব্যাপারে যেন ভারত সরকারের পক্ষ থেকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোদি তাঁর চিঠিতে আরও লিখেছেন, ওই প্রতিবেদনে শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে অবমাননা করা হয়নি, অসম্মান করা হয়েছে ভারতকেও। মোদি প্রশ্ন তোলেন, আহমেদাবাদ শহরে এক দিনের জন্য এসে কী করে জার্মান আইনপ্রণেতারা বুঝে গেলেন, দাঙ্গার সময় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি গুজরাটে আইনের শাসন বলবত্ করেননি। তিনি বলেন, ওই প্রতিবেদন বিদ্বেষপ্রসূত ও কুিসত।

সাপ খুঁজতে লাখ ইউরো

হারিয়ে যাওয়া একটি গোখরা সাপকে খুঁজে বের করতে প্রায় এক লাখ ইউরো খরচ করেছে জার্মানির মুয়েলহেম নগর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা বহু লোক টানা তিন সপ্তাহ তন্নতন্ন করে খুঁজে অবশেষে সাপটির হদিস পেয়েছে। তবে জীবিত নয়, মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে সাপটিকে।
সিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র ভলকার উইবেলস জানিয়েছেন, গত মাসে সাপটি তার খাঁচা থেকে বের হয়ে যায়। এতে পুরো অ্যাপার্টমেন্টে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাপটিকে খুঁজে বের করতে দমকল বাহিনী পুরো অ্যাপার্টমেন্ট খালি করে ফেলে। সেটিকে ধরতে নানা জায়গায় ফাঁদও পাতা হয়। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার সাপের মালিকের ফ্ল্যাটেই মৃত অবস্থায় সেটিকে পাওয়া যায়। ততক্ষণে অভিযানের ব্যয় গিয়ে ঠেকেছে এক লাখ ইউরোতে।
উইবলস জানান, সাপটি জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে পারত। তাই করদাতাদের কাছ থেকে ৪০ হাজার ইউরো আদায় করা হবে। বাকি অর্থ সাপের মালিককেই দিতে হবে। তিনি একটি মেলা থেকে সাপটি মাত্র ৭০ ইউরো দিয়ে কিনেছিলেন। তবে সাপের মালিকের পক্ষে এখনই ৬০ হাজার ইউরো দেওয়া সম্ভব নয়। কেননা, আপাতত তিনি ‘বেকার’।

নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

ইরান ব্যাপক হারে নতুন এক ধরনের মাঝারি পাল্লার বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা শুরু করেছে। সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বরাত দিয়ে গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ কথা জানিয়েছে। খবর এএফপির।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমাদ ভাহিদি বলেছেন, নতুন ওই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম ‘মেরশাদ’। এটি নিম্ন ও মাঝারি উচ্চতায় চলমান বিমানকে সফলভাবে আঘাত করতে সক্ষম। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা কত তা তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেননি।
ভাহিদি বলেন, ব্যাপক হারে এ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন শুরু হয়েছে। উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এ বছরই সশস্ত্র বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আইএসআই এখনো তালেবানকে সমর্থন দিচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা (আইএসআই) এখনো তালেবানকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। গতকাল রোববার ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রতি আফগান তালেবানের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মোল্লা আবদুল গনি বারাদারের গ্রেপ্তারকে অবস্থান পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে মনে করা হয়েছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এখন মনে করছেন, বারাদার ও অন্যান্য জঙ্গি নেতাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করলেও আইএসআইয়ের হাতে আটক অন্তত দুজন জ্যেষ্ঠ আফগান তালেবান সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রভাবশালী এ পত্রিকা জানায়, তালেবান সদস্যদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর প্রভাবশালী সদস্যদের একাংশ এখনো আফগান তালেবানকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা জানান, তালেবান সদস্যদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার চোখে ধরা পড়লেও বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।
পত্রিকাটি জানায়, মুক্তি পাওয়া তালেবান সদস্যদের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে তাঁরা বলেছেন, মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা তালেবানের শীর্ষস্থানীয় সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের গ্রেপ্তার করতে চায়।
পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করতে আইএসআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আটকের পর কোনো তালেবান সদস্যকে মুক্তি দেওয়ার কথা তাঁরা অস্বীকার করেছেন।
পত্রিকাটি বলেছে, মার্কিন কর্মকর্তারা একমত যে সিআইএ ও আইএসআইয়ের মধ্যে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান হারে এ ইঙ্গিত মিলছে যে আইএসআইয়ের কোনো কোনো কর্মকর্তা তালেবানের কোনো অংশকে আশ্রয়সহ অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সিআইএ কর্মকর্তাদের ধারণা, তালেবানের সঙ্গে আইএসআইয়ের যোগাযোগ এখনো সক্রিয়।
একজন মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা বলেছেন, তবে এ সহযোগিতার মাত্রা কত ব্যাপক বা এ সহযোগিতার বিষয়টি কারা কারা জানেন এটা পরিষ্কার নয়।

পোল ভল্টের সম্রাজ্ঞী

পোল ভল্ট থেকে সাময়িক অবসর নেবেন বলেজানিয়েছেন দিয়েছেন ইয়েলেনা ইসিনবায়েভা। সাময়িকঅবসরকে যদি হুট করে স্থায়ী অবসরে পরিণত করে ফেলেন তাহলেই একটি স্বপ্ন অতৃপ্ত থেকে যাবে মেয়েদের পোল ভল্টের সব রেকর্ড নিজের করে নেওয়া এই রুশ তারকার। ইনডোর-আউটডোর মিলে মোট ২৭ বার বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছেন এই ২৭ বছর বয়সী। মেয়েদের পোল ভল্টে আর কেউই তাঁর ধারেকাছে নেই। শুধু তা-ই নয়, ইসিনবায়েভা আসলে ছুটে চলেছেন পুরুষদের রেকর্ডটা ভেঙে দেওয়ার দিকেই। তাঁর ‘হিরো’ সের্গেই বুবকা মোট ৩৫ বার রেকর্ড ভেঙেছিলেন। আর কয়েক বছর খেললে হয়তো সেই রেকর্ডটা নিজের করে নিতে পারতেন প্রথম নারী হিসেবে ৫ মিটার উচ্চতা পেরিয়ে যাওয়া এই উড়ালকন্যা। তবে সাময়িক অবসর তো আর ক্যারিয়ারের শেষ নয়, অলিম্পিক এবংবিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন। সুতরাং বুবকার রেকর্ড ভাঙার সুযোগটা তাঁর থাকছেই।

ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন সৌরভ

আর কারও সমালোচনা করার দরকার নেই, যা বলার সৌরভ গাঙ্গুলীই বলে দিয়েছেন। পরশু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ৭ উইকেটে হারের পর হতাশ সৌরভ কলকাতা নাইট রাইডার্সের পারফরম্যান্সকে ‘একেবারেই জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে সতীর্থ ক্রিকেটারদের তীব্র সমালোচনা করেছেন সৌরভ। বলেছেন, ‘প্রথম ১০ ওভার খুবই ভালো ক্রিকেট খেলেছি আমরা। কিন্তু পরের ১০ ওভার খেলেছি জঘন্য। এক কথায়, আমাদের পারফরম্যান্স একেবারেই জঘন্য।’ এবারের আইপিএলে এটা কলকাতা নাইট রাইডার্সের ষষ্ঠ হার। সৌরভ অবশ্য হারটাকে গুরুত্ব না দিয়ে বড় করে দেখছেন মাঠে দলের মানসিকতাকেই, ‘হারে আমার সমস্যা নেই, কিন্তু বাস্তবতা হলো মাঠে আমাদের অবস্থা ছিল করুণ। আমি ওদের সঙ্গে কথা বলতে পারি, তাদের মনোবল চাঙা করতে পারি, কিন্তু তাদের নিজেদেরই নিজেদের টেনে তুলতে হবে। আমি তো আর তাদের হয়ে বোলিং বা ফিল্ডিং করে দিয়ে আসতে পারব না।’
প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৬০ রান করেছিল সৌরভের দল কেকেআর। জবাবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স প্রথম ১০ ওভারে ৭৬ রান তুলেছিল ১ উইকেটে। ম্যাচটা এর পর থেকেই আস্তে আস্তে কেকেআরের হাতছাড়া হতে থাকে। সৌরভের দৃষ্টিতে, বোলারদের বাজে বোলিংয়েরই মাশুল দিতে হলো তাদের।
পয়েন্ট টেবিলে এখনো সৌরভের দলের নিচে থাকলেও পরশু কেকেআর অধিনায়কের ঠিক উল্টো মেজাজেই ছিলেন ডেকান চার্জার্স অধিনায়ক অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। চেন্নাই সুপার কিংসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টে এখনো টিকে আছে তাঁর দল। শুধু তা-ই নয়, পরশুর জয়ের পর দলের মধ্যে উন্নতিও দেখছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার, ‘এখনো আমাদের সম্ভাবনা আছে। আমরা আমাদের সেরা অবস্থায় আছি বলব না, তবে আমাদের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে। সেরা ফর্মে না থেকেও যদি এ রকম কয়েকটা জয় পেয়ে যাই, সেটাও কিন্তু ভালো লক্ষণ।’
এ ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলে মুত্তিয়া মুরালিধরনকে না দেখে একটু অবাকই হয়েছেন গিলক্রিস্ট, ‘এই উইকেটে মুরালিকে খেলা খুবই কঠিন হতো। খেলোয়াড় তালিকায় তাকে না দেখে একটু অবাকই হয়েছি।’ তবে চেন্নাই অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ম্যাচের পরও যুক্তি দেখালেন তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে, ‘অশ্বিনের চেয়ে ভালো বল করতে পারত না মুরালি। মুরালি গ্রেট বোলার সন্দেহ নেই, তবে টিম কম্বিনেশনে তো তাকে আসতে হবে। আর মুরালির একার পক্ষে তো ১০ উইকেট নেওয়া সম্ভব না। ব্যাপারটা সেরা একাদশের নয়, সেরা কম্বিনেশনের। সমস্যা হলো দলের অন্য বিভাগগুলোও ভালো করছে না।

সবার আগে শেষ চারে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস

৫৯ বলে অপরাজিত ৮৯ রানের ইনিংসটা শুধু এবারের আইপিএলে এখন পর্যন্ত শচীন টেন্ডুলকারকে সর্বোচ্চ স্কোরারই বানাল না, ৩৭ রানের জয়ে তাঁর দল মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে তুলে দিল সেমিফাইনালে। ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শেষ চারে তারাই গেল সবার আগে।
মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের ৫ উইকেটে ১৭৪ রানের জবাবে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৭ রান রাজস্থান রয়্যালসের। ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারানো রাজস্থান ১৭৪ রান তাড়া করার মতো ব্যাটিং কখনোই করেনি। অষ্টম উইকেটে অভিষেক রাউত আর আদিত্য দোলের ৫০ রানের জুটি পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে কেবল।
এর আগে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ১২ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের। পয়েন্ট তালিকায় এখনো সবার নিচে, তবু বাকি দুটি ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালে ওঠার আশাটা থাকে।
কাল প্রথমে ব্যাট করে শেবাগ-গম্ভীরের দল করে ১১১ রান। পাঞ্জাব মামুলি লক্ষ্যটা ছুঁয়েছে ৮ বল বাকি থাকতেই। ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট দিল্লির।

নির্ভার আবাহনীর ১৫তম জয়

সবারই যখন শেষ বাঁশির অপেক্ষা, তখনই গোল করে ম্যাচের স্কোরলাইনে নিজের নামটা তুললেন শেরিফ দ্বীন মোহাম্মদ।
গোলটা না হলেও ক্ষতি ছিল না আবাহনীর। তার আগেই মুক্তিযোদ্ধার জালে চারটি গোল ঢুকে গেছে। তার পরও ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার গোল না পেলে তাঁর বড় দুঃখ থেকে যেত। আবাহনী গোলের খাতা খোলার আগেই যে তাঁর হ্যাটট্রিক হয়ে যাওয়ার কথা!
তা হয়নি বলে আবাহনীর চিন্তারও কিছু ছিল না। প্রতিপক্ষ দলটা মুক্তিযোদ্ধা এবং আগের দুই ম্যাচে তারা শেখ রাসেল ও মোহামেডানের কাছে তিনটি করে গোল হজম করেছে। এই পরিসংখ্যান মাথায় রেখে খেলতে নামা আবাহনীকে জয়ের জন্য কখনোই আসলে ভাবতে হয়নি।
তবে ৫-০ নয়, এদিন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনী জিততে পারত অন্তত ১০ গোলে। বলা বাহুল্য, গোলের পাশাপাশি গোল মিসের মহড়াও ছিল। শুরুটা অবশ্য বেশ ভালোই করেছিল মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু তা আর ধরে রাখতে পারল না অবনবমন অঞ্চলে থাকা দলটি। আবাহনী নিজেদের সেরা ফুটবল না খেলেও গোল-উৎসব করতে পারল এ কারণেই। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধার রক্ষণ খেই হারিয়ে আবাহনীকে গোল-উৎসব করারই সুযোগ করে দেয়।
আবাহনী তা ছাড়বে কেন? পেশাদার ফুটবলে হ্যাটট্রিক শিরোপা ঘরে তোলার মিশনটাকে নিশ্ছিদ্র রেখেই এগোনোর চেষ্টা করছে আবাহনী। একের পর এক জয় তুলে আবাহনীর জয়রথ ছুটছে। ১৬ ম্যাচে ১৫ জয় ও একমাত্র ড্র থেকে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী ধরে রেখেছে তাদের অগ্রগামিতা। ১৫ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডানের পয়েন্ট ৩৯। এখনো অবশ্য লিগে অনেক নাটক ঘটতে পারে।
নাটকীয় কিছু ঘটুক সেটা চাইবে না আবাহনী। তাদের কাজ জয় তুলে মাঠ ছাড়া। কাল এই জয়ের সন্ধানে আবাহনী প্রথম গোলটা পায় ১৯ মিনিটে। ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করেন ইব্রাহিম। তিন মিনিট পরই মেহেদি হাসানের (উজ্জ্বল) গড়ানো শটে ২-০। তৃতীয় গোলটা পেতে আবাহনীর অপেক্ষা ছিল ৭১ মিনিট পর্যন্ত। বদলি স্ট্রাইকার এনামুল মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক নিজাম মজুমদারকে কাটিয়ে করে দেন ৩-০। আরেক বদলি মিডফিল্ডার আবুল ৮০ মিনিটে ৪-০ করার পর অতিরিক্ত সময়ে শেরিফের গোলে ৫-০।
মুক্তিযোদ্ধার জন্য স্বস্তির খবর, বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ তাদের। ১৬ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট ভান্ডারে, সামনে ছোট ম্যাচ, অবনমন এড়ানোর সুযোগ থাকছে।
চট্টগ্রামে ড্র: এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে স্থানীয় আবাহনীর সঙ্গে কাল ড্র করেছে ব্রাদার্স। চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দ্বিতীয়ার্ধে দুদলের খেলোয়াড় দেদার ফাউল করায় ম্যাচে কোনো সৌন্দর্য ছিল না। একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুদলের খেলোয়াড়েরা। চট্টগ্রাম আবাহনীর এক কর্মকর্তা মাঠেও ঢুকে পড়েন।
৩০ মিনিটে ব্রাদার্সের দিদারুল আলম বল জালে জড়ালেও সহকারী রেফারি জালাল উদ্দিন অফসাইডের পতাকা তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত ব্রাদার্স ম্যানেজার আমের খান ম্যাচ রেফারি আর আলমের কাছে রেফারিং নিয়ে আপত্তি জানান। পাঁচ মিনিট পর ইউসুফের সৌজন্যে আত্মঘাতী গোল খেয়ে যায় ব্রাদার্স।
চার মিনিট পরই ব্রাদার্সকে ম্যাচে ফেরান এনক বেন্টিল। এই বেন্টিলই জেতাতে পারতেন দলকে। সহজ সুযোগ নষ্ট করে দলকে তিন পয়েন্ট থেকে বঞ্চিতই করেছেন এই স্ট্রাইকার।
১৫ ম্যাচে ব্রাদার্সের পয়েন্ট ১৫। সমান ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট ১৭।