Showing posts with label চাঁদপুর. Show all posts
Showing posts with label চাঁদপুর. Show all posts

Saturday, October 5, 2019

ইলিশের বাড়ি আসলে কোথায়: চাঁদপুর না বরগুনায়? by সানজানা চৌধুরী

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার আলাদা ইতিহাস ও ঐতিহ্য, সেইসঙ্গে স্বীকৃত পণ্য আছে। সে হিসাবে চাঁদপুর জেলা ব্যাপকভাবে সমাদৃত ইলিশ উৎপাদনের জন্য।
এজন্য এই জেলাকে "ইলিশের বাড়ি" বলা হয়ে থাকে।
তবে ইলিশের মোট উৎপাদনের হিসেবে এবার বরগুনা জেলা থেকে দাবি তোলা হয়েছে যেন তাদেরকে "ইলিশের জেলা" ঘোষণা করা হয়।
ইলিশের বাড়ি কোথায় এ নিয়ে হঠাৎ এই বিতর্কের কারণ কী?

বরগুনা কেন হতে চায় ইলিশের জেলা

বিতর্কের শুরু হয়েছিল গতকাল বুধবার বরগুনায় অনুষ্ঠিত এক ইলিশ উৎসবে।
সেখানে আয়োজকরা দাবি করেন যে বরগুনা জেলার ৬টি উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার মৎস্যজীবী রয়েছেন, এবং ইলিশ উৎপাদনেও তাদের অবস্থান চাঁদপুরের চাইতে কয়েক ধাপ এগিয়ে।
তারা বলছেন, সেকারণে বরগুনাই "ইলিশের জেলা" হওয়ার দাবিদার।
ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৮৫% উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ও সাগর থেকে প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করা হয়।
ইলিশ উৎপাদনের হিসেবে বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার স্থান শীর্ষে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই জেলায় মোট ইলিশ আহরণ হয় এক লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টনের মতো।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বরগুনা। গত অর্থ বছরে এই জেলা থেকে আহরিত ইলিশের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন।
বরগুনার প্রধান তিনটি নদী বিষখালী, বুড়িশ্বর (পায়রা) ও বলেশ্বর নদী থেকে আহরণ করা হয় ৪৯০০ মেট্রিক টন। এবং সাগর থেকে ৯১,০০০ মেট্রিক টন।
অন্যদিকে, একই অর্থবছরে চাঁদপুর থেকে ইলিশ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। ইলিশ আহরণের হিসাবে এই জেলার অবস্থান ষষ্ঠ স্থানে, এবং এই চাঁদপুর 'ইলিশের বাড়ি' বলে পরিচিত।
তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
চাঁদপুরকে ইলিশের বাড়ি কেন বলা হয় এটা নিয়ে কোন আপত্তি নেই বরগুনাবাসীর।
বরগুনা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, "আমরা চাই বরগুনাকে ইলিশের জেলা হিসেবে দেখতে। কারণ আমরাই সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদন করছি। দেশের প্রায় এক পঞ্চমাংশ ইলিশ এই বরগুনায় আহরিত হয়। এবং সারা দেশে যত ইলিশ পাওয়া যায় তার বেশিরভাগ যায় বরগুনা থেকে।"
এছাড়া বরগুনার নদী থেকে আহরিত ইলিশের স্বাদ পদ্মার ইলিশের চাইতে অনেক সুস্বাদু বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, "বরগুনার ইলিশ অন্য যেকোনো জেলার ইলিশের চাইতে সুস্বাদু। আর এই জেলার ইলিশ সাইজেও বড় থাকে। একেকটা ইলিশ প্রায় এক কেজির মতো। তেলও হয় প্রচুর। এখন উৎপাদন, স্বাদ, গড়ন সবদিক থেকে বরগুনা এগিয়ে আছে, আমরাই ইলিশের ভাণ্ডার, তাই ইলিশের জেলা হওয়ার দাবি আমরা করতেই পারি।"
জাতীয় মাছ ইলিশকে বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং করার পেছনে বরগুনা সবচেয়ে বেশি ভূমিকার রেখেছে বলেও দাবি সেখানকার মানুষের।
বরগুনার পাথরঘাটায় রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য পাইকারি ও বাজারকেন্দ্র বিএফডিসি।
এরকম আরেকটি ইলিশ-বন্দর (যেখানে ইলিশ এনে রাখা হয়) স্থাপন এবং একটি ইলিশ গবেষণা কেন্দ্র নির্মাণের প্রচেষ্টা রয়েছে বলে ইলিশ উৎসবে আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
মাছ ধরার নৌকা, ঘাটগুলোর আধুনিকায়নের মাধ্যমে বরগুনাকে ইলিশের জেলা হিসেবে ঘোষণা করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করবেন বলেও জানান।
তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে: রগুনার এত অর্জন থাকা সত্ত্বেও এখনও চাঁদপুরকেই কেন ইলিশের বাড়ি বলা হয়।

চাঁদপুর কেন ইলিশের বাড়ি

চাঁদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি জানান, বরগুনা উপকূলের কাছাকাছি জেলা হওয়ায় সেখানকার জালে মাছ ধরা পড়ে বেশি তবে প্রজননের সময় মা ইলিশগুলো এই চাঁদপুরের আশেপাশের নদীতেই আসে। এ কারণেই এই জেলাকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "ইলিশ বিচরণ করে লোনা পানিতে, কিন্তু ডিম পাড়ার সময় তারা মিঠা পানির মোহনায় আসে। চাঁদপুরের পদ্মা নদীতে প্রচুর পরিমাণে প্ল্যাঙ্কটন আছে, যেটা মা ইলিশের প্রধান খাবার। এই প্ল্যাঙ্কটন আর অন্য কোন জেলায় নেই। পানির মান আর খাবার থাকায় মা ইলিশ এখানে ডিম ছাড়তে আসে। তার মানে এটা তাদের বাড়ি।"
মা ইলিশের ডিম ছাড়ার সময় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় চাঁদপুরে ইলিশের আহরণ কম হয়।
অন্যদিকে ডিম ছাড়ার মৌসুম শেষে যখন আবার ইলিশ ধরা শুরু হয় ততদিনে এই ইলিশগুলো উপকূলীয় জেলাগুলোর দিকে চলে যাওয়ায় সেখানে স্বাভাবিকভাবে ইলিশ বেশি ধরা পড়ে বলে তিনি জানান।
এদিকে, চাঁদপুরে ইলিশ আহরণ তুলনামূলক কম হলেও ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার এই জেলাতেই।
স্থানীয় সাংবাদিক ফারুক আহম্মদ বলেন, " দেশের ৩০% ইলিশ চাঁদপুর থেকে আহরণ করা হয়। তাছাড়া ভোলা, বরিশাল, নোয়াখালিসহ অন্যান্য কয়েকটি জেলায় আহরণ করা সব ইলিশ আগে আনা হয় চাঁদপুরের বাজারে। এখান থেকেই সারা দেশে মাছ সরবরাহ করা হয়। দেশের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় অর্ধেক এই বাজারগুলো থেকেই সারাদেশে পাঠানো হয়।"
তাই চাঁদপুর অন্য যেকোন জেলার চাইতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
২০১৫ সালে চাঁদপুরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সবুর মণ্ডল ইলিশের ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম শুরু করেন । চাঁদপুর জেলাকে 'ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর' নামে ব্র্যান্ডিং করেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকেও পরে এই দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

Wednesday, August 7, 2019

ডেঙ্গুতেই প্রাণ গেল ডেঙ্গু সচেতন শিশুটির by ইকবাল হোসেন

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নিহত মদিনা
স্কুল থেকে বাড়ি ফিরেই শিশু মদিনা ঝাড়ু হাতে নেমে পড়তো পরিষ্কার-পরিছন্নতায়। মাকে বলতো,‘স্কুলের স্যারেরা বলেছে ময়লা আবর্জনা জমে থাকেলে এডিশ মশা হয়। এডিশ মশায় কামড়ালে ডেঙ্গু জ্বর হয়।’ ডেঙ্গু নিয়ে এমনই সচেতনতা ছিল মদিনার। কিন্তু সেই ডেঙ্গু জ্বরেই প্রাণ গেল তার।

মতলব উত্তর উপজেলার ঝিনাইয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মিজান ঢালীর মেয়ে মদিনা(৮)। মৃত্যুর আগে মোবাইল ফোনে প্রবাসী বাবাকে এডিশ মশা আর ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক করেছিল সে। বলেছিল, ‘বাবা ঘুমানোর আগে মশারি টাঙিয়ে নিও।’ এটাই ছিল তার বাবার সঙ্গে শেষ কথা। আর কোন দিনই মদিনা কথা বলবে না। সেই শেষ কথার স্মৃতি কিভাবে ভুলবে পরিবার। এমন বিলাপ করে কাদঁতে কাঁদতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মদিনার মা ময়না আক্তার।

স্থানীয় অক্সফোর্ড কিন্ডার গার্টেন নামে একটি স্কুলে কেজি ওয়ানে পড়তো মদিনা। সোমবার রাত ১২টার দিকে  ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। স্কুলের স্যারদের কাছে শুনে ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কথা তার মা ও ভাইয়ের কাছে বলতো। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বলতো মাকে।

নিহতের পারিবার জানায়, গত ২ আগস্ট স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে শরীর ব্যাথা ও জ্বর হয় মদিনার। প্রথমে এ বিষয়ে তারা গুরুত্ব না দিলেও পরের দিনই স্থানীয় ছেংগারচর বাজারের একটি ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। দ্রুত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর ৩ আগস্ট সকালে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুদিন চিকিৎসার পর অবনতি দেখে চাঁদপুর সদর থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজে আইসিইউ সিট না পাওয়ায় বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে ভর্তি করানো হয় ধানমন্ডির কিডনি জেনারেল হাসপাতালে। সোমবার রাত ১২টার দিকে সেখানে মারা যায় মদিনা। পরে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মতলব উত্তর উপজেলায় ঝিনাইয়া এলাকায় পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মা ময়না আক্তার বলেন, ডেঙ্গু আতঙ্কের কথা মেয়ে আমাকে প্রায়ই জানাতো। স্কুলের শিক্ষকরা নাকি ডেঙ্গুর বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক থাকতে বলতো এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে বলেছে। কে জানে সেই ডেঙ্গুই আমার মেয়ের প্রাণ নেবে।

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মদিনার ভাই মেহেরাজ বলে, আমার বোন লেখাপড়ায় ভালো এবং খুবই সচেতন ছিল। বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোন কিছুর মধ্যে পানি জমে থাকার বিষয়ে আমাদের সচেতন করতো। এতো সচেতন থেকেও আমার বোনটি বাঁচতে পারলো না।

মেজরের স্ত্রী ও ছয় শহীদ সন্তানের মা এখন ভিক্ষুক

মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও ৬ শহীদ সন্তানের জননী মেহেরজান বিবি, এখন ভিক্ষা করে বেঁচে আছেন। সব হারিয়ে তার ঠাঁই হয়েছে এখন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর আবাসন ও আশ্রয়ন প্রকল্পের ৩ নং ব্যারাকের ১১ নং কক্ষে।
বয়সের ভারে ন্যুজ্ব ৮৮ বছর বয়স্কা অসহায় মেহেরজান বিবি প্রতিদিন মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করেন। তাঁর দুঃখে ভারাক্রান্ত জীবন কাহিনী বলতে বলতে অঝোরে চোখ বেয়ে নেমে আসে বেদনার অশ্রু। নিজে কাঁদেন এবং অন্যকেও কাঁদান। এই বয়সে দুই বগলে স্টেচারে ভর দিয়ে গ্রামের দারে দারে দু’মুঠো ভিক্ষার জন্য ঘুরে বেড়ান মেহেরজান। চরম অসহায়ত্বের মাঝে দিন কাটছে তাঁর। সহায় সম্বলহীন মেহেরজারেন আকুতি এখন একটু বেঁচে থাকার।
পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর সদর উপজেলার বাবুর হাটস্থ ২৬ নং দক্ষিণ তরপুর চন্ডী গ্রামে ১০ অক্টোবর ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন মেহেরজান বিবি। তার বাবা ইব্রাহীম উকিল, মা বিবি হনুফা। তারা ছিলেন ৬ ভাই বোন। সোনাগাজী উপজেলার ৬নং চরছান্দিয়ার বড়ধলী হাজী বাড়ির মরহুম মমতাজ উদ্দিনের ছেলে সুবেদার মেজর এ টি এম সামসুদ্দিনের সাথে মেহেরজান বিবির বিয়ে হয়। পঞ্চাশের দশকে বড়ধলী গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হলে নিঃস্ব হয়ে তারা শহরে চলে আসেন। বাসা ভাড়া করেন ঢাকার মিরপুর ১ নাম্বারে জালাল দারগার বাড়িতে।
মেহেরজান বিবি’র ভাষ্য মতে, তাঁর ৮ পুত্র ও ২ মেয়ে ছিল। তাঁর ছয় পুত্র এবং স্বামী এ টি এম সামসুদ্দিন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হন।
শহীদ ছেলেরা হলেন- ছায়েদুল হক (তৎসময়ে সিলেটে রিলিফ অফিসার পদে কর্মরত), দেলোয়ার হোসেন, বেলায়েত হোসেন, খোয়াজ নবী, নুরের জামান ও আবুল কালাম। বাকী দু’পুত্র শাহ আলম ও শাহ জাহান, তাঁর খোঁজ-খবর নেন না এবং তাদের সন্ধানও তিনি জানেন না। দুই মেয়ে মরিয়ম বিবি ও হাসনা বিবিও মারা গেছেন।
মেহেরজান বিবি জানালেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী তাঁর স্বামী ও ৬ সন্তানকে হত্যা করে খ্যান্ত হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার জানতে পেরে মিরপুরে তাঁদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্বে তিনি ঢাকার মিরপুরে বাংলা মিডিয়াম হাই স্কুল (বর্তমানে মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়) এর শিক্ষিকা ছিলেন বলে জানান।
মেহেরজান বিবি জানান, স্বাধীনতার পর তাঁর দুঃখ-কষ্টের কথা শেখ মনির দৈনিক বাংলা বানী পত্রিকায় ছাপা হলে তখন তিনি বঙ্গবন্ধুর নজরে আসেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে ও তাঁর এক পুত্রবধূ করফুলের নেছাকে ডেকে নিয়ে দুই হাজার টাকা করে অনুদান দেন এবং বঙ্গবন্ধু মেহেরজান বিবিকে পবিত্র হজ্ব পালন করান।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পর স্বামী সন্তানদের শহীদ হওয়ার খবরে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনেও তাঁর পুরাপুরি মানসিক সুস্থতা ফিরে আসেনি। স্বজনদের হারিয়ে চরম অসহায়ত্বে পড়ে ভিক্ষাভিত্তির পথ বেছে নেন তিনি।
২০০৯ সালে ফেনী রেল স্টেশনে ভিক্ষা করতে দেখে জনৈক জিআরপি পুলিশ তাঁকে ফেনী জেলা প্রশাসনে পাঠায়। তখন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁকে পুর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হয় ধর্মপুর আবাসন প্রকল্পে। সেই থেকে তিনি এখানে বসবাস করছেন।
সোনাগাজী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ নাসির উদ্দিন জানান, মেহেরজান বিবি সম্পর্কে পত্র-পত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে, তবে কোন কাজ হয়নি। তাঁর স্বামী-সন্তান যে শহীদ হয়েছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। আমি গেজেটে তাঁর নামও দেখেছি।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফেনী জেলা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার আবদুর রহমান মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিন থেকে মেহেরজান বিবির সাথে আমার সম্পর্ক। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করেন এবং ছেলে ডাকেন।
ফেনীর জেলা প্রসাশক মনোজ কুমার রায় বলেন, আশ্রায়ন প্রকল্পে সুবিধা ভোগীর একজন মেহেরজান। আমরা তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ছয় সন্তান ও স্বামী হারিয়েছেন। এই ছাড়া তাঁর অনেক করুন কাহিনী শুনেছি। তাঁর জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

Saturday, April 13, 2019

লোককথার চাঁদ ফকিরের নামে ‘চাঁদপুর’

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল আয়তনের বাংলাদেশের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি, দৃষ্টিনন্দন জীবনাচার মন কাড়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ঐতিহাসিক মসজিদ ও মিনার, নদী, পাহাড়, অরণ্যসহ হাজারও সুন্দরের রেশ ছড়িয়ে আছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত।
দেশের আট বিভাগে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ) ৬৪ জেলা। পণ্য, খাবার, পর্যটন আকর্ষণ কিংবা সাংস্কৃতিক বা লোকজ ঐতিহ্যে বাংলাদেশের জেলাগুলো স্বতন্ত্রমণ্ডিত। প্রতিটি জেলার নামকরণের সঙ্গে রয়েছে ঐতিহ্যপূর্ণ ইতিহাস। প্রতিটি স্থানের নামকরণের ক্ষেত্রে কিছু জনশ্রুতি রয়েছে। এসব ঘটনা ভ্রমণপিপাসু উৎসুক মনকে আকর্ষণ করে। বাংলা ট্রিবিউন জার্নির ধারাবাহিক প্রতিবেদন থেকে জানানো হচ্ছে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
চাঁদপুর জেলা
হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির বহমান ধারায় সিক্ত নদীমাতৃক বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর রূপ-বৈচিত্র্য আর পাহাড়-সমতলের সবুজ শ্যামলিমার মায়া ছাপিয়ে রূপের অনন্ত বিভায় নিরন্তর আনন্দে উচ্ছ্বল করে রেখেছে তেরশত নদীর অমৃত জলধারা। পদ্মা ও মেঘনা এই নদীমাতৃক বাংলাদেশের বৃহৎ দুটি ধারা। এর সঙ্গে দুরন্ত ডাকাতিয়া দলবেঁধে গড়ে তুলেছে ত্রিনদীর মোহনা। মনজুড়ানো এই ত্রি-ধারার মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’।
১৭৭৯ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ জরিপকারী মেজর জেমস রেনেল তৎকালীন বাংলার যে মানচিত্র এঁকেছিলেন তাতে চাঁদপুর নামে একটি জনপদ ছিল। তখন চাঁদপুরের দক্ষিণে নরসিংহপুর নামক (বর্তমানে যা নদীগর্ভে বিলীন) স্থানে অফিস-আদালত ছিল। পদ্মা ও মেঘনার মিলনস্থল ছিল বর্তমান স্থান থেকে পাওয়া প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে। মেঘনা নদীর ভাঙাগড়ার খেলায় এই এলাকা বর্তমানে বিলীন।
লোককথার প্রসিদ্ধ চাঁদ সওদাগরের নাম কিংবা পুরিন্দপুর মহল্লার চাঁদ ফকিরের নামানুসারে এই অঞ্চলের নাম হয়েছে ‘চাঁদপুর’। বার ভূঁইয়াদের আমলে অঞ্চলটি বিক্রমপুরের জমিদার চাঁদরায়ের দখলে ছিল। ইতিহাসবিদ জে.এম সেনগুপ্তের মতে, চাঁদরায়ের নামানুসারে ‘চাঁদপুর’ নামটি এসেছে।
কথিত আছে, শাহ আহমেদ চাঁদ নামে একজন প্রশাসক দিল্লি থেকে পঞ্চদশ শতকে এখানে এসে একটি নদীবন্দর স্থাপন করেছিলেন। তার নামানুসারে ‘চাঁদপুর’ নামটির উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। তিনি থাকতেন পুরিন্দপুর এলাকায়। ১৯৮৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে চাঁদপুর।
ইতিহাসের গরবিনী নদী-বিধৌত চাঁদপুর ভ্রমণপিপাসু মানুষের মনের জানালায় ইলিশের জন্য বেশি চেনা। ইলিশ এক অনন্য রূপালি সম্পদ, অনিন্দ্য জলজ সম্ভার। ইলিশ গভীর সমুদ্রের মাছ হলেও চাঁদপুরের মেঘনার জলে তারা বেশকিছু সময় কাটায়। অনেকটা সন্তানবতী মেয়ে যেমন বাবার বাড়ি আসে, তেমনই ডিম ছাড়ার সময় মা ইলিশ চলে আসে মেঘনায়, চলে আসে চাঁদপুরে। ডিম ছাড়ে মেঘনার মিঠা পানিতে। বাচ্চা ইলিশগুলো বড় হয় এখানে। তাই চাঁদপুর যেন ইলিশের বাড়ি।
মেঘনায় নৌ-বিহার ও জোছনা আস্বাদন কিংবা মেঘনার চরে যান্ত্রিক জীবনের ক্লেশ এড়িয়ে নির্মল অবকাশযাপনের জন্য চাঁদপুর অতুলনীয়। বিশ্বে অনন্য তিন নদীর মিলনস্থল ও চাঁদপুর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ডাকাতিয়া নদীতে রাতের আলোয় ঝলমলে রূপ-মাধুর্য এককথায় চোখধাঁধানো। চাঁদপুরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ইতিহাস-নন্দিত স্থাপনা।
জেলায় দর্শনীয় চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড (ত্রিনদীর মোহনা), রক্তধারা, ইলিশ চত্বর, অঙ্গীকার, শপথ চত্বর, হরিণা ফেরিঘাট, চাঁদপুর স্টেডিয়াম, রাজরাজেশ্বর চর, অরুণ নন্দী সুইমিং পুল, জেলা প্রশাসকের বাংলোয় দুর্লভ জাতের নাগলিঙ্গম গাছ, চৌধুরী বাড়ি, নুনিয়া দত্তের বাড়ি ও পূজা মন্দির, ডাকাতিয়ায় বেদেপল্লী, পুরান বাজার বড় মসজিদ, চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, চাঁদপুর নৌবন্দর, শাহরাস্তিতে রাস্তি শাহের (র.) মাজার ও দীঘি, সাধক সর্বানন্দ ঠাকুরবাড়ি, নাওড়া মঠ ও মেহের কালীবাড়ি, মতলব উত্তরে ষাটনল পর্যটন কেন্দ্র, মতলব দক্ষিণে কাশিমপুর রাজবাড়ি বারদুয়ারি ও জগন্নাথ দেবের মন্দির।
হাইমচরে পান-সুপারি বাগান, ঈশানবালা চর ও মধ্যচর। কচুয়ায় উজানী বখতিয়ার খাঁ মসজিদ, পালগিরি মসজিদ, মনসা মুড়া। ফরিদগঞ্জে রূপসা জমিদার বাড়ি, কড়ৈতলী জমিদার বাড়ি, লোহাগড়া মঠ, সাধু যোসেফের গির্জা, সাহেবগঞ্জ দুর্গ। হাজীগঞ্জে অলিপুর শাহী মসজিদ, বিজয় স্তম্ভ, হাজীগঞ্জ বড় মসজিদ, নাসিরকোট স্মৃতিসৌধ, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ। কচুয়ায় সাচারের প্যারা সন্দেশ ও ফরিদগঞ্জের মিষ্টি বেশ মুখরোচক খাবার।
জেলার উল্লেখযোগ্য মেলাগুলো হলো চাঁদপুর সদরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, বড় স্টেশন মোলহেড চত্বরের পহেলা বৈশাখের মেলা, বাবুর হাটের বৈশাখী মেলা, কচুয়ায় সাচারের রথের মেলা, ফরিদগঞ্জে পহেলা বৈশাখের মেলা ও আষ্টার মহামায়ার বৈশাখী মেলা, শাহরাস্তিতে মেহের কালীবাড়ির কালীপূজার মেলা ও বৈশাখী মেলা, হাজীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, মতলব দক্ষিণে মেহেরনের রথের মেলা, মতলব উত্তরে ঐতিহ্যবাহী লেংটার মেলা, হাইমচরে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা।
সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন

Saturday, April 14, 2018

বৈশাখ উদযাপন: ১২০ টন ইলিশ মজুত by মোরশেদ আলম

মজুত ইলিশ দিয়ে চাঁদপুরে বৈশাখ উদযাপন। এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ১২০ টন ইলিশ মজুত করেছে জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে খন্দকার ফিশ প্রসেসিং কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ। ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে মিয়ানমারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় স্বাদবিহীন ইলিশ দিয়েই হবে এবারের পহেলা  বৈশাখ উদযাপন। অবশ্য বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে ইলিশের চাহিদা থাকলেও চাঁদপুর নৌ-সীমানার মতলবের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ্থ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষণা করায় নদীতে কোনো প্রকার জাল ফেলা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ফলে নদীতে জাল ফেলে ইলিশ ধরতে পারছে না জেলেরা। তাই মজুত ইলিশের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে বৈশাখ উদযাপনে।
চাঁদপুর জেলার একমাত্র ইলিশ মজুত করার বেসরকারি কোল্ড স্টোরেজ খন্দকার ফিশ প্রসেসিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মালেক খন্দকার জানান, সরকারি অনুমতি নিয়ে তিনি এ বছর ১২০ টন ইলিশ মজুত করেছেন। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মজুত করা ইলিশ সরবরাহ করা হচ্ছে। ১০ কেজি করে প্যাকেটজাত করা হয়েছে এসব ইলিশ। এর মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৩৫০ টাকা কেজি, ৫০০ গ্রাম থেকে কেজি পর্যন্ত ৮০০ থেকে ১ হাজার পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গত বছর চাহিদা বেশি থাকলেও এ বছর কিছুটা কম। তাই দামও কিছুটা কম রয়েছে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, জাটকা ধরা প্রতিরোধে চাঁদপুরের এই এলাকা অভয়াশ্রমের মধ্যে রয়েছে। তাই এবছর খন্দকার ফিশ প্রসেসিং কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ১২০ টন বাইরের ইলিশ মজুত করেছে।
সরজমিনে চাঁদপুরের ইলিশের মাছঘাট বড়স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এ রকম চিত্র। ইলিশ মাছ নেই। তাই মাছের আড়ৎদাররা শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রুই কাতলাসহ বিভিন্ন মাছ নিয়ে কিছুটা সময় কাটাচ্ছে। আবার কেউ কেউ নিষেধাজ্ঞা কেটে যাওয়ার আগেই নিজেদের আড়ৎ ও আশপাশের এলাকা অবকাঠামো নতুন করে মেরামত করছেন। ব্যস্ত মাছ ঘাট অনেকটাই নীরব। চৈত্র পেরিয়ে বৈশাখ আসার সময় হয়েছে, তাই ব্যবসায়ীরা তাদের অভ্যন্তরীণ হিসাব মেলাতে ব্যস্ত।
মাছঘাটে উপস্থিত মাছের ক্রেতা প্রফেসর অরুন চন্দ্র সরকার জানান, পহেলা বৈশাখে ইলিশ খেতে হবে, তা কেন। আমরা অন্য কিছু খাবো। জাটকা রক্ষা করতে পারলে আমরা বড় ইলিশ খেতে পারবো। তাছাড়া দামও হাতের নাগালে থাকবে। পহেলা বৈশাখে না হয় দুধের স্বাদ ঘোলেই মেটাবো।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত জানান, ইলিশ মাছ চাঁদপুরের ব্র্যান্ডিং হওয়ায় এখন আমাদেরকে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। মাছ ঘাটে পৌঁছার পর থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যন্ত সবকিছুই এখন তদারকির আওতায়। আন্তর্জাতিক সংগঠন হেসাফও আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তারা বছরে কয়েকবার চাঁদপুর মাছঘাট পরিদর্শন করে। এ সময় তিনি ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় ইলিশ রপ্তানির দ্বার খুলে দেয়ার দাবি জানান।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আঃ খালেক মাল জানান, ২ মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেকার এখানকার ব্যবসায়ীরা। বৈশাখে মজুত ইলিশের উপরই আমাদের ভরসা করতে হবে। তিনি জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার ইলিশের চাহিদা কম।
মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ী আলী আকবরের দোকানে গিয়ে দেখা গেল, ফ্রিজে ইলিশ মাছ। এই ইলিশ মাছের কথা জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, এগুলো অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি কোল্ড স্টোরেজ খন্দকার ফিশ প্রসেসিং থেকে সরবরাহকৃত। তিনি জানান, এখানে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ হলেও সুরেশ্বরসহ বিভিন্ন স্থানে অবাধে বড় ও জাটকা ইলিশ ধরা হচ্ছে। এগুলো রুখবে কে?

Sunday, December 3, 2017

চাঁদপুরে আঞ্চলিক ইজতেমা সম্পন্ন

আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক ইজতেমা সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা জোবায়ের। এতে আল্লাহর কাছে নিজেদের ক্ষমা প্রার্থনাসহ দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি এবং বিশ্বের সব মুসলমানের জন্য দোয়া করা হয়। আখেরি মোনাজাতে জেলার ৮ উপজেলার নির্ধারিত মুসল্লিসহ হাজার হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে আশপাশের বাড়িতে নারীদেরও আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক ইজতেমা শুরু হয় চাঁদপুর সদরের পুরান বাজার এলাকার জাফরাবাদ গ্রামের মেঘনা নদীর পাড়ে। এদিকে শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় লাখো মুসল্লির সমাগম ঘটে ইজতেমা মাঠে। যাতে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিসহ লোকজন অংশগ্রহণ করেন।

Thursday, March 23, 2017

সিজারে নবজাতকের নাড়ি-ভুঁড়ি ও কলিজা বের করে ফেলার অভিযোগ

'মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে, দ্রুত বাড়িতে নিয়ে যান' সিজারের পর পরই হাসপাতালে কর্মকর্তারা স্বজনদের এ কথা বলে প্যাকেট করে মৃত বাচ্চা বুঝিয়ে দেন। যেমন কথা তেমন কাজ। নবজাতকের পরিবার মাকে হাসপাতালে রেখে শিশুটিকে প্যাকেটজাত অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যান। সকালে শিশুটিকে দাফন করার জন্য প্যাকেট খুললে দেখতে পান ভিন্ন চিত্র। নবজাতকের পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি ও কলিজা বের হওয়া। পাশে পড়ে রয়েছে সিজারের কাজে ব্যবহৃত কাচিসহ আনুসাঙ্গিক যন্ত্রপাতি। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সদর সেন্ট্রাল হাসপাতালে সিজার করার সময় এই ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে চাঁদপুর পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নবজাতক শিশুটির বাড়ি উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম দায়চারা গ্রামে। নবজাতকের নানী সাজেদা বেগম জানান, তার মেয়ে খাদিজার (২০) প্রসব বেদনা উঠলে বুধবার রাতে প্রথমে সিনিয়র ভিজিটর শামীমা ইসলামের কাছে নিলে তিনি আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য সেন্ট্রাল হাসপাতালে পাঠান। রোগীর অবস্থা গুরুতর বলে  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিজারের পরামর্শ দেন।
পরে রাত ১১টায় খাদিজার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক ডা. মাহমুদার সিজারিয়ান অপারেশন করেন বলে সাজেদা বেগম জানান। সিজারিয়ান অপারেশন শেষে হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, শিশুটি মৃত জন্মগ্রহণ করেছে। পরে প্যাকেটজাত অবস্থায় শিশুটির লাশ দ্রুত তাদের কাছে দিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। সকালে শিশুটিকে দাফন করার জন্য প্যাকেট খুললে এই অবস্থা দেখতে পান শিশুটির পরিবার। পরে তারা শিশুটিকে ফরিদগঞ্জ থানায় নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে সেন্ট্রাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বেলাল জানান, রাতে কি হয়েছে তা তিনি জানেন না। সকালে এসে তিনি ঘটনা জানতে পারেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম শিপন জানান, শিশুটি জন্ম হওয়ার সময় পরির্পূণতা নিয়ে আসেনি। তার পেটের ওয়াল ছিল না। ফলে পেটের ভেতরের সব কিছু বের হয়ে গেছে। ফরিদগঞ্জ থানার ওসি শাহ্ আলম জানান,  এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের হচ্ছে। চাঁদপুর পুলিশ সুপার সামছুন্নাহার জানান, শিশুর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসেছেন। অপরাধ হয়ে থাকলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।