Thursday, July 16, 2015

সরকারি চিকিৎসকদের কাজ- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের নীতিমালা কই?

সরকারি চিকিৎসকদের ৮০ শতাংশই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার সংবাদটি দ্ব্যর্থবোধক। তাঁরা কি সরকারি পদাধিকারী হওয়ার সুবিধা নিয়ে চিকিৎসা-বাণিজ্যে যুক্ত, নাকি তাঁদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত হচ্ছে? তথ্যটি বোঝায়, চিকিৎসকের অপ্রতুলতার সুবিধা নিয়ে সরকারি চিকিৎসকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় ব্যস্ত।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) করা গবেষণা থেকে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, মোট চিকিৎসকের ৬২ শতাংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করে। আর এতে জড়িত আছেন ৮০ শতাংশ সরকারি চিকিৎসকও। দুটি তথ্যের সমীকরণ যে সত্যটি তুলে ধরে, তা হলো বেসরকারি বাণিজ্যিক চিকিৎসা খাতই সর্বাধিক সংখ্যক চিকিৎসকের আয়ের উৎস। এটি চিকিৎসা খাতের আশঙ্কাজনক বাণিজ্যিকীকরণের বাস্তবতাই তুলে ধরে। যদি সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের বিস্তার আরও ঘটত, তাহলে এই চিকিৎসকেরা সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থার অংশ হতেন এবং রোগীরাও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অধিকতর কম খরচে চিকিৎসা পেতে পারতেন।
প্রথমত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের বিনিময়ে সময় ও দক্ষতা ব্যয় করার পর, সরকারি হাসপাতালের জন্য কতটুকু সময় ও সামর্থ্য অবশিষ্ট থাকে ওই চিকিৎসকদের? মূলত সরকারি চিকিৎসকদের ওপরই নির্ভরশীল বেসরকারি চিকিৎসা-বাণিজ্য।
সরকারি চাকরি করে বাণিজ্যিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে সেবা দেওয়ার ফলে নিশ্চিতভাবেই এসব চিকিৎসক যে জনগণের করের পয়সায় বেতন নিচ্ছেন, তঁাদের প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিতে পারছেন না।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় বিধিবিধান কার্যকর করা জরুরি। আইসিডিডিআরবি যে সমীক্ষা করেছে, এ ধরনের সমীক্ষা সরকারি প্রতিষ্ঠান কেন করে না? কেননা নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নের আগে তো বাস্তবতার পূর্ণ চিত্রটা জানা চাই। যেমন এই গবেষণায় বিভিন্ন বিভাগে চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসকের সংখ্যার বৈষম্য দেখা যায়। এই বৈষম্য দূর করতে হলে যথাযথ জরিপ ও গবেষণা প্রয়োজন।
চিকিৎসাসেবার বাণিজ্যিকীকরণের রাশ টানা এবং চিকিৎসক ঘাটতি পূরণের দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

দশ শর্তে বন্দি দুদকের দুর্নীতির অনুসন্ধান by তাসকিনা ইয়াসমিন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বয়স প্রায় একযুগ হলেও নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধান কার্যক্রম ১০ শর্তে বন্দি হয়ে আছে। সময়ের ব্যবধানে দুর্নীতির ধরন পাল্টালেও পুরনো আইনের কারণে নতুন ধরনের দুর্নীতি অনুসন্ধানে ভূমিকা রাখতে পারছে না দুদক। ফলে, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য দুদকের কাছে গিয়ে হোঁচট খেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে।
এদিকে, গত এপ্রিল মাসে দুদকে আসা অভিযোগের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ অনুসন্ধানের জন্য নিয়েছে সংস্থাটি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে করে জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি কাটাতে দুদক ডাটা তৈরি করে তাদের কাছে আসা অভিযোগ কেন গ্রহণ করা হলো না তা জনগণের কাছে প্রকাশ করতে পারে।
দুদক সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর আলোকে দুর্নীতি দমন ব্যুরো থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়। বর্তমানে দুদক দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর আলোকে দুদকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দুদকের কাজের সুবিধার জন্য দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে ১০টি শর্ত বেছে নিয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে  অর্থ ও মুদ্রা পাচার, ভূমি, ভূমি রাজস্ব ও ইজারা, ঘুষ (অর্থ, সম্পদ ও সেবা), অবৈধ উপায়ে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ অর্জন, নির্মাণ কাজ ও যোগাযোগ খাতে দুর্নীতি, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ও বেসরকারি সংস্থাগুলোতে দুর্নীতি, শুল্ক ও কর, রাজস্ব, ব্যবসায়ী/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো, সরকারি ক্রয়-বিক্রয়, লাইসেন্স ইস্যু করা, অঙ্গীকারের শপথ ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুদক আইন ২০০৪-এর তফসিলে উল্লিখিত অপরাধগুলোসহ অন্যান্য। দুদক শুধু এই ১০টি শর্তের অধীনে থাকা অনুসন্ধানগুলোই করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, দুদকে আসা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দশটি দিক বিবেচনায় নেয় দুদকের যাচাই-বাছাই শাখা। সেগুলো হচ্ছে অভিযোগটি দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ কি-না, কাকে সম্বোধন করে অভিযোগটি পাঠানো হয়েছে, অভিযোগকারীর পরিচয়, নাম-ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর যথার্থ কি-না, প্রাপ্ত অভিযোগটি সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ কি-না, পক্ষ-বিপক্ষ কর্তৃক (শত্রুতাবশত) অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যেই অভিযোগটি দেয়া হয়েছে কি-না, অভিযুক্ত ব্যক্তির দফতর, তার দাফতরিক পদ মর্যাদা, বর্ণিত অপরাধ করার ক্ষমতা ও সুযোগ আছে কি-না ইত্যাদি, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময়-কাল, অভিযোগের দরখাস্তে বর্ণিত অপরাধের ব্যক্তি ও অর্থ-সঙ্গতির পরিমাণ, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সম্বলিত জেলা কার্যালয় কর্তৃক অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্ত করা হতে পারে, প্রাপ্ত অভিযোগটি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ ও দুর্নীতি দমন বিধিমালা-২০০৭ মোতাবেক কার্য সম্পাদন শেষে কোর্টে অপরাধ প্রমাণ করা যাবে কি-না, প্রমাণে কি পরিমাণ অর্থ, শ্রম, মেধা, সময় এবং উপকরণ প্রয়োজন হবে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি অনুসন্ধানের জন্য অভিযোগ গ্রহণ করে।
দুদকের তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সালে দুদকে অনুসন্ধানের জন্য অভিযোগ জমা হয় ১২ হাজার ৫শ’টি। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই কমিটির বাছাইয়ে বাতিল হয় ১০ হাজার ৫৭৪টি। আর অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত হয় ১৬৮৯টি, ২৩৭টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে কমিশন আগের বছরের শেষ না হওয়া অনুসন্ধানসহ মোট ৭ হাজার ৭৭৫টি অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৭৭৫টি নিষ্পত্তি করেছে। যার মধ্যে ৩৩৩টি মামলা দায়ের করেছে। অন্যদিকে, গত এপ্রিল মাসে দুদকের প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা ৬১৭টি। যাচাই-বাছাই করে কমিশন অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করেছে ৪৯টি। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগে পাঠিয়েছে ১২টি। কমিশনের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় বা সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকায়  ৫৫৬টি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত দুর্নীতি সংক্রান্ত বিবেচ্য প্রতিবেদন সংখ্যা ৭টি এবং যাচাই-বাছাই করে অনুসন্ধানের জন্য নেয়া প্রতিবেদনের সংখ্যা ১টি। জানুয়ারি-এপ্রিল মাসে প্রাপ্ত অভিযোগের সংখ্যা ২ হাজার ৭৯৮টি। কমিশন মামলা নিয়েছে ২৩২টি, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরিত ৬৯টি, তফসিলভুক্ত না হওয়ায় বাতিল ২৪৯৭টি, বিভিন্ন পত্রিকা থেকে নেয়া অভিযোগের সংখ্যা ৪১টি এবং যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গৃহীত অভিযোগের সংখ্যা ১২টি।
দুদক সূত্র জানায়, দেশের মানুষের দুদকের কাছে প্রত্যাশা অনেক। কিন্তু দুদকের জনবল কম হওয়ায় সংস্থাটির পক্ষে তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে দুদকের কাজের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ হলে তা দুদকের জন্য ভালো এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, দুদকে যে অভিযোগগুলো আসে তার বেশির ভাগই বাদ পড়ে। তবে এটা সত্যি দুদকের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। যে অভিযোগগুলো সরাসরি দুর্নীতি সম্পর্কিত, সেগুলো হয়ত দুদকের তফসিল বহির্ভূত হতে পারে। দুদকের শিডিউল অনুযায়ী অভিযোগটি পড়ছে কিনা সেটা দুদক যাচাই-বাছাই করে থাকে। দুদকের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে যথার্থতা, স্বচ্ছতা, বিশেষ কোন অভিযোগকে ছাড় দেয়ার প্রবণতা না থাকলে সেটাকে সুনির্দিষ্টভাবে বাছাই সঠিক হচ্ছে না বলা কঠিন। যদি এমন হয় দুদকে যে ৯৫ শতাংশ অভিযোগ বাছাই থেকে বাদ পড়ছে সেগুলো দুদকের সিডিউলের আওতাভুক্ত না হওয়ায় বাদ পড়েছে সেক্ষেত্রে দুদক ডাটাবেজ তৈরি করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এবং সেগুলো কেন নেয়া সম্ভব হয়নি তার কোথায় কোথায় ঘাটতি ছিল তা প্রকাশ করে দুদক জনগণকে জানাতে পারে। এটা করা সম্ভব। আর এটা হলে কিসের ভিত্তিতে কেন দুদকের যাচাই-বাছাইয়ে এটি বাদ পড়ল তা জানা যাবে।

দুর্ভোগ নতুন কিছু নয় by এম আবদুল হাফিজ

এমন দুর্ভোগের কথা প্রতি ঈদেই শুনে আসছি। শুনে আসছি ঈদ আসার অনেক আগে থেকেই সরকার ও প্রশাসনের গালভরা প্রতিশ্রুতি যে এবারের রমজান ও ঈদে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত মুনাফায় রোজা সংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্যের বিক্রি হতে দেয়া হবে না। ভেজাল খাদ্যের বিক্রি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তাছাড়াও ঈদ ভ্রমণের নিষ্কণ্টক ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিশ্রুতির ইত্যাকার ফুলঝুরির সঙ্গে আমরা প্রতিবারই পরিচিত।
কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে ও অভিজ্ঞতার আলোকে ওসব শুধু কথার কথা। বলতে হয় তাই বলা। কর্তা ব্যক্তিরা যারা এসব প্রতিশ্রুতির বিস্তার করেন তারাও জানেন যে তাদের ওইসব প্রতিশ্রুতি কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তবু সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে সম্ভবত তারা ওইসব কথা বলে থাকেন। মন্ত্রী, এমপি বা দলীয় হেভিওয়েট যারা প্রতিশ্রুতি দেয়ার ক্ষমতা রাখেন তাদের অনেকেই জনদুর্ভোগের স্বরূপটাই জানেন না। সাধারণ মানুষকে উৎসবে-পার্বণে কতটা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের সে অভিজ্ঞতাও নেই। এদের অনেকেই পুরো রামাদানেই ইফতার পার্টি নামক বিশেষ ভোজে আপ্যায়িত হয়ে থাকে না। সেই নির্ভেজাল ভোজের মাজেজা তাদের জানা থাকার কথা নয়।
তবে রামাদান বাজার বা সেখানে বিক্রীত পণ্যের মান ও মূল্য যে একেবারে মনিটরিং করা হয় না তা বলা যাবে না। আমাদের দেশে অন্তত দায়সারা লোক দেখানো একটা মনিটরিং প্রতিটি এমন উৎসবের মৌসুমে করা হয়ে থাকে। আখেরে তার ফলাফল শূন্য। তা নাহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ব্রাজিল থেকে আমদানি করা পচা পোকাধরা গম যা অন্য কোনো দেশে হয়তো পশু খাদ্য হিসেবেও বিকাবে না তাকেও রীতিমতো মানব খাদ্য হিসেবে চালিয়ে দেয়ার সাহস হয় সংশ্লিষ্ট আমলাদের। এ দেশেই শুধু তা সম্ভব।
আমরা অত্যন্ত সচেতন জাতি হলেও কিছুটা হার মেনে বা কষ্ট স্বীকার করেও সব কিছুতে কুরুক্ষেত্র বাধাতে চাই না। ঘুষ-ঘাস দিয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে কোনো ছ্যাকড়া বাসে আধমরা পরিবার নিয়ে ঈদের নামাজ রাস্তায়ই সেরে জীর্ণশীর্ণ বাস্তুভিটায় পৌঁছতে পারলেই আমাদের মুখের হাসি চওড়া হয়ে আসে। ভুলে যাই দীর্ঘ যাত্রাপথের ঝক্কি-ঝামেলার কথা। মনে করি যে বৌ-বাচ্চা নিয়ে নির্ঝামেলায় ঈদ করতে যাওয়া একটি বিশেষ শ্রেণীর একচেটিয়া। আমাদের এই-ই তো যথেষ্ট যে আমরা সমুদ্র জয় করেছি, স্থল সীমান্তের একটি সুরাহা করে ছিটমহল অদলবদল করার পদক্ষেপ নিয়েছি। উপরন্তু ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয়েছি।
আমরা সামান্যই উপলব্ধি করি যত যা-ই করি না কেন দেশবাসীর মধ্যকার পারস্পরিক বৈষম্য দুস্তর পারাবার সম। আমাদের এই বৈষম্য ঘোচাতে না পারলে ঈদই হোক বা পূজাপার্বণ এক শ্রেণী চিরকালই দুর্ভোগ নতুন কিছু নয়ভেজালই খাবে। বোকার মতো অধিক মূল্যে খাদ্য সামগ্রী কিনবে, উৎসবে-পার্বণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করবে। আমরা দেশ স্বাধীন করার মধ্য দিয়েই এই বৈষম্য ঘোচাতে চেয়েছিলাম। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের এজেন্ডায় এক পর্যায়ে সমাজতন্ত্র যুক্ত হয়েছিল এবং স্বাধীন বাংলার চার মূলনীতির অন্যতম সমাজতন্ত্র ছিল অতঃপর কোথায় যেন কি হয়ে গেল। সমাজতান্ত্রিক জীবনের ধ্যান-ধারণাকে ওলটপালট করে দিয়ে কিছু মানুষ কল্পনাতীতভাবে ধনবান হতে থাকল। এরা মূলত ভণ্ড ব্যবসায়ী যারা সরকারি আনুকূল্যে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলল। তাদের সঙ্গে একই সরকারি আনুকূল্যে ঠিকাদারী, ইজারাদারী, সাপ্লায়ার্সের কাজ বাগিয়ে রাতারাতিই আনুকূল্য প্রাপ্তরা হাজার টাকার মালিক।
সমাজের তলানিতে যাদের স্থান সেই সুবিধা ও সুযোগ বঞ্চিতরা যে তিমিরে সেই তিমিরেই থেকে গেল। আমরা যত মধ্যম আয়ের দেশ হই না কেন, মাথাপিছু আয় যতই বৃদ্ধি পাক এবং উন্নয়নের মহাসড়কে সামনে এগোই অর্থনৈতিক ও তার ফলে সামাজিক বিভাজনটা থেকেই যাচ্ছে; বিভাজনের কোন পাশে আপনার অবস্থান তার ওপর নির্ভর করবে যে আপনার ঈদ উদযাপনটা কেমন হবে।
স্বাভাবিক নিয়মেই সব কিছুতেই অগ্রাধিকার থাকবে ক্ষমতাবান ও ধনবানদের জন্য। তাদের প্রয়োজন আকণ্ঠ মিটবার পর যে ছিটেফোঁটা অবশিষ্ট থাকে সেটাই বণ্টন হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশবাসীর জন্য। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে তবু কর্তৃপক্ষ আমাদের কথা চিন্তা করেই কিছু সুবচন ছড়ান, আশার আলো জ্বালান। কিন্তু বাস্তবে ওটাই হবে যা অতীতেও হয়েছে।
অবাক হয়ে ভাবি এত অগ্রগতি সত্ত্বেও দেশে এহেন অব্যবস্থা থাকবে কেন, পর্যাপ্ত রেলবগি বা নিরাপদ জলযানেরই অপ্রতুলতা থাকবে কেন। বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগ নেই কেন, দেশেই কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান হয় না কেন? জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তারা মানব পাচারকারীদের প্ররোচনার শিকার হয় কেন?
প্রতিশ্রুতি, প্রলোভন বা প্ররোচনা কি তাহলে একটি ট্রাডিশন যা সমানে চলছে এবং তারই একটি অংশ ঈদ পার্বণে অন্তহীন জনদুর্ভোগ যা শুরু হয় একটি সাবলীল উৎসব উদযাপন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়ে। আর মাত্র দিন দশেক বাকি। এই দিনগুলোও কেটে যাবে। তারপর কে মনে রাখবে কোন অপ্রাপ্তির কথা? দুর্ভোগের দুঃসহ স্মৃতি অন্তরে পুষে রাখা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবে অনাগত ভবিষ্যতের জন্যও এই ট্রাডিশন বহাল থাকবে।
লেখক: সাবেক মহাপরিচালক বিআইআইএসএস ও কলামিস্ট। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক সেনাপ্রধান

ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনার আগাম ভাবনা by মুস্তাফা নূরউল ইসলাম

পবিত্র ঈদুল ফিতর আসন্ন। মানুষের ঈদযাত্রা প্রস্তুতিও প্রায় শুরু হয়ে গেছে বলা যায়। মানুষ দুটি ঈদে নাড়ির টানে ছোটে বাড়ির দিকে পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উৎসব উদযাপন করতে। কিন্তু প্রতি বছরই লক্ষ্যও করা যায়, ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনার অন্ত থাকে না। প্রতিবছরই সরকারের দায়িত্বশীল মহলগুলোর তরফে এ ব্যাপারে যথাযথ প্রস্তুতির কথা বলা হলেও কখনোই মানুষ নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারেনি এই তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। মানুষ তার পরও কষ্ট এবং বিড়ম্বনা সহ্য করেও ছোটে বাড়ির দিকে সবাইকে নিয়ে ঈদ উৎসব পালন করতে। পথে পথে নানারকম হয়রানি সহ্য করেও মানুষ এসব বিষয়কে তুচ্ছ মনে করেই ছুটে যায় স্বজনদের কাছে।
ঈদ কিংবা ঈদের পরবর্তী দিনগুলোর দিকে লক্ষ্য করে দেখা গেছে এই ঢাকা অর্থাৎ আমাদের রাজধানী বেশ কয়েকদিন ফাঁকা থাকে। রাস্তায় কোনো ভিড় দেখা যায় না, চিরচেনা অসহনীয় যানজটও তখন থাকে না। এতে প্রতীয়মান হয় বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে যান যারা নানারকম জীবিকায় যুক্ত এই ঢাকায়। এর মধ্যে নিম্ন কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য যারা মফস্বলে কাজ না পেয়ে জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে ঢাকামুখী হয়েছেন। এবার ঈদযাত্রা এরই মধ্যে শুরু হয়ে যাবে। ট্রেন-বাস-লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে কিংবা হবে এরই মধ্যে। এই টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে নানারকম হয়রানির মুখোমুখি হতে হয় মানুষকে। সুযোগসন্ধানী একটি চক্র এ সময়ে অধিকতর তৎপর হয়ে ওঠে, টিকিট ওদের মুঠোবন্দি থাকে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নানারকম অপকৌশলও চোখে পড়ে প্রকটভাবেই। বাড়তি ভাড়ার থাবা তো আছেই এর সঙ্গে শোনা যায় অতি পরিচিত শব্দগুলো ‘টিকিক নাই’। তার পরও টিকিট পাওয়া যায় এবং তা অত্যন্ত চড়ামূল্যে সংগ্রহ করতে হয় অপরাধী চক্রের কাছ থেকে। এদের দমনের কিংবা অপতৎপরতা বন্ধের কথা প্রশাসনের তরফে বরাবরই শোনা যায়। খুব দৃঢ়তার সঙ্গে বলা হয় এদের দমনে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কার্যক্ষেত্রে দেখা যায় এরা তার পরও তৎপরই থাকে তাদের অপতৎপরতা চালাতে। এটি নতুন কোনো দৃশ্য নয়। এবারো ইতোমধ্যে দায়িত্বশীল নানা মহল থেকে বলা হয়েছে মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সবরকম ব্যবস্থাই নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু পত্রিকান্তরে প্রকাশ এখনই টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে বাসের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ শুরু হয়ে গেছে বিড়ম্বনা। তার পরও আমরা আশা করব দায়িত্বশীলদের প্রতিশ্রুতি উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও বিড়ম্বনামুক্ত করা হবে।
ঘরমুখো মানুষের বিড়ম্বনার আগাম ভাবনাঈদে ঘরমুখো মানুষের জন্য সড়ক ও নৌপথ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর পশ্চাৎকারণ সচেতন মানুষ মাত্রই জানা আছে। চলাচলের অনুপযোগী নৌযান ও সড়কযান তখন বেশি মাত্রায় নামে এবং নিজেদের লাভালাভের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে তারা জননিরাপত্তার বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করে সবরকম অপক্রিয়াই চালিয়ে থাকে। এর ফলে সৃষ্টি হয় মর্মন্তুদ অধ্যায়ের এবং এমন কয়েকটি ঘটনা অতীতে ঘটেছে যেগুলোর প্রতিকার চিত্র উজ্জ্বল নয়। এক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতার অভাবও কম দায়ী নয়। রেলপথ অনেকটাই এক্ষেত্রে নিরাপদ হলেও আমাদের রেলওয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনাগত নানারকম ত্রুটি এক্ষেত্রে প্রশ্নবোধক চিহ্নের মতো দাঁড়িয়ে আছে। এবার রেল বহরে ঈদ উপলক্ষে প্রায় ১৭০টি কোচ (বগি) ও ২৫টি ইঞ্জিন যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও পত্রিকান্তরে প্রকাশ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগুলো রেল বহরে যুক্ত করা সম্ভব হবে কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে। রেলের সেবার মানও প্রশ্নবিদ্ধ। শিডিউল বিপর্যয় এবং কোনা কোনো ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও বড় উদ্বেগের কারণ। মানুষ নানা কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এখন রেলবিমুখ অনেকটাই। তারা ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াতের অন্য মাধ্যম বেছে নিতে বাধ্য হয়। সারা বিশ্বে রেলের যখন ক্রম প্রসার ঘটছে, সেবাচিত্র উজ্জ্বল হচ্ছে তখন আমাদের এখানে পরিলক্ষিত হচ্ছে এর প্রায় বিপরীত চিত্র। রেলপথ অনেকটা সংকুচিত হয়ে গেছে আবার সাম্প্রতিক সময়ে রেল দুর্ঘটনার কয়েকটি ঘটনাও প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে, আমাদের রেলওয়ে এভাবে ধুঁকে ধুঁকেই কি চলবে? পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করেও কাক্সিক্ষত মাত্রায় রেলকে নিয়ে যাওয়া যায়নি। রেল একটি লোকসানি খাতে পরিণত হয়েছে দায়িত্বশীল অনেকের অদূরদর্শিতা-অস্বচ্ছতা-স্বেচ্ছাচারিতা-অনিয়ম ইত্যাদির কারণে। রেল হৃত শ্রী ফিরে পাক এটি আমরা বরাবরই প্রত্যাশা করি।
নানারকম শঙ্কা আছে এর পরও আমরা আশা করি ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্নকল্পে সরকার ও প্রশাসন যথাযথ সব ব্যবস্থাই নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। কথার বৃত্তে বন্দি থাকলে চলবে না উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করাটাই হলো সবচেয়ে জরুরি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ মানুষ যাতে কোনো অপশক্তির দ্বারা হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করার দায় যাদের তারা দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে নিষ্ঠ হলেই মঙ্গল। সবসময়ই শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তার প্রত্যাশা মানুষ করে। মানুষের শান্তি-স্বস্তি-নিরাপত্তা হরণে যে অশুভ মহল সদা তৎপর তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকারের মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব। ঈদে ঘরমুখো মানুষদের জন্য সরকার ও প্রশাসনের দায়-দায়িত্ব যেমন সীমাহীন তেমনি জনসচেতনতার বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এক্ষেত্রে মানুষকে নিজেদের দায়িত্বেই তা করতে হবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সবরকম পদক্ষেপ নিয়েছেন কিন্তু তার পরও অপশক্তি সক্রিয় রয়েছে এ বিষয়টি মনে রেখেই তাদের কাজ করে যেতে হবে। মানুষ যাদের কাছে নিরাপত্তা ও প্রতিকার আশা করে তাদের জবাবদিহিতা এবং দায়বদ্ধতার পাঠ অবশ্যই পোক্ত করতে হবে। তাদের তরফে কোনোরকম অজুহাত দাঁড় করানোর অবকাশই নেই। ঈদে সবার বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন হোক এ কামনা সর্বক্ষণের।
লেখক : শিক্ষাবিদ

সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট মামলায় ২২শে জুলাই চার্জ গঠন

আগামী ২২শে জুলাই ভারতের মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে আইনি প্রয়োজনে বসবাসরত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলায় চার্জ গঠনের দিন নির্ধারণ করেছে আদালত। গতকাল বিকালে শিলংয়ের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএমএল নং ব্রি উভয়পক্ষের আইনজীবীদের সামনে এই ঘোষণা প্রদান করেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইসি ঝা জানান, এদিন মূলত কনসিডারেশন অব দ্য চার্জের শুনানি হয়েছে। সরকারপক্ষের আইনজীবী ছাড়াও সালাহউদ্দিনের আইনজীবী এসপি মোহান্ত এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি চার্জ গঠনের সময় নিয়ে কোন আপত্তি জানাননি। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়ার ২৩ দিনের মধ্যেই শিলং পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পি লামারাই সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে চার্জশিট দেন। মেঘালয় পুলিশ ৩রা জুন অতিরিক্ত সহকারী কমিশনারের (জুডিশিয়াল) আদালতে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিএনপির এ নেতার উপস্থিতি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি অভিযোগের বিচার এড়াতে তিনি ভারতে এসেছেন। এরপর সালাহউদ্দিনের আইনজীবী তার গুম হওয়া ও পরবর্তীতে নানা ঘটনা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেন। ওই সব কাগজপত্র দেখে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি আদালত। এর আগে প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর গত ১১ই মে ভারতের শিলংয়ে উদ্ধার হন সালাহউদ্দিন আহমেদ। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে আটক করে মানসিক হাসপাতাল মিমহানসে নিয়ে যায়। একদিন পর মিমহানস থেকে আবার তাকে পাঠানো হয় শিলংয়ের সিভিল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালের আন্ডার প্রিজনার সেলে (ইউটিপি) তাকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। সিভিল হাসপাতালে বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে বিশেষায়িত হাসপাতাল নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সেস (নেগ্রিমস) হাসপাতালে এক সপ্তাহ ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। ৩রা মে সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’ এ দায়ের করা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মেঘালয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ চার্জশিট জমা দেয়া হয়। চার্জশিটে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারা অনুযায়ী বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে। নেগ্রিমস থেকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার পর ২৭শে মে আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে ১৪ দিন বিচারিক হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর ৫ই মে শিলংয়ের আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামিন পেয়ে শিলংয়ের একটি ছায়াঘেরা কটেজে কাটছে তার দিন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। তাদের সময় দিচ্ছেন সালাহউদ্দিন। এক প্রকার নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায়ই থাকছেন তিনি। এদিকে শিলং শহরের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, ২২শে জুলাই চার্জ গঠনের দিনে সালাহউদ্দিন তার দোষ স্বীকার করলে সাজা ঘোষণার তারিখ দেয়া হবে। অস্বীকার করলে অনুপ্রবেশের ওই মামলার বিচার শুরু হবে। ভারতের দণ্ডবিধিতে অনুপ্রবেশের মামলায় সর্বোচ্চ ৫ বছরের সাজা এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তৃতীয় ছেলেটিও গেল ইসরায়েলি গুলিতে

ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় মুক্তি আন্দোলনের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয় দুই ভাই সামির (১৫) ও ইয়াসির (১১)। দুই ছেলে হারানোর শোক এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি বাঁধানো ছবিতে ধারণ করে আসছিল ফিলিস্তিনির একটি পরিবার। দিন দশেক আগে পরিবারটির শহীদ সন্তানের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরেকটি নাম, আরেকটি ছবি। ফাতিমা ও সামি কাসবার তৃতীয় ছেলে মোহাম্মদও (১৭) ইসরায়েলি সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সবশেষ এই ঘটনা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে জন্ম দিয়েছে ক্ষোভ। ঘটনাটির ভিডিওচিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলেও শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ফিলিস্তিনি কিশোর মোহাম্মদের দাফন হয় গত ৩ জুলাই। ছবি: এএফপি
মোহাম্মদের নিহত হওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রাথমিকভাবে যে বিবরণ দিয়েছে, ভিডিওচিত্রে তা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত ৩ জুলাই দখল করা পশ্চিম তীরে একটি তল্লাশি চৌকির কাছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি সামরিক যান লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে মোহাম্মদ। এরপরই তাকে গুলি করে হত্যা করে এক ইসরায়েলি সেনা। ঘটনার তদন্ত করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গুলির ঘটনার পর ইসরায়েল দাবি করে, সেনাদের জন্য বিপদ আসন্ন হওয়ায় গুলি ছোড়া হয়েছে। ইসরায়েলের একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ওই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেছে। এনজিওর ভাষ্য, এক কর্মকর্তা দৌড়ে এসে ওই ছেলেটিকে গুলি করেছে। বিনা চিকিৎসায় রাখার ফলে সে মারা যায়। ঘটনাটির বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া গেলেও বাস্তবতা হচ্ছে, ফিলিস্তিনি পরিবারটি তাদের তৃতীয় ছেলেটিকেও হারিয়েছে।
হতভাগ্য সামি কাসবার ভাষ্য, ‘প্রতিদিন এখানে কেউ না কেউ শহীদ হচ্ছে। এটা শুধু আমাদের পরিবারে নয়, ফিলিস্তিনির সব পরিবারেই ঘটছে।’
সামি বলেন, ‘কেউ আহত হচ্ছে, কেউ নিহত হচ্ছে, কেউ গ্রেপ্তার হচ্ছে। এখানে এটাই ঘটছে। এটাই দখলদারিত্ব।’
তৃতীয় ছেলের মৃত্যুর ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সামি বলেন, ‘চিকিৎসক আমাকে ডেকে বললেন, “তোমার ছেলে নিহত হয়েছে।”
দুই ভাইকে হারানোর সময় মোহাম্মদ ছিল একেবারেই শিশু। দ্বিতীয় ইন্তেফাদার শুরুর এক বছর পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয় ইয়াসির। এর এক বছর পর রামাল্লায় ইসরায়েলি সেনার গুলিতে প্রাণ হারায় সামির।
তৃতীয় ছেলের নিহত হওয়ার বিষয়ে বাবা সামি কাসবার প্রশ্ন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বর্ণনা অনুযায়ী, মোহাম্মদ যদি সন্ত্রাসীও হয়, তারা কেন তাকে গ্রেপ্তার করল না বা তার পায়ে গুলি করল না? তারা কেন তাকে হত্যা করল?
দেয়ালে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত দুই ভাই সামির ও ইয়াসিরের ছবি। ছবি: এএফপি
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, কাছ থেকে রকেট ছুড়ছিল ছেলেটি। সন্দেহভাজন ব্যক্তি হিসেবে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে সেনাবাহিনী। কিন্তু ইসরায়েলের মানবাধিকার গোষ্ঠী বি’তসেলেম দেশটির সেনাবাহিনীর এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করে তারা বলছে, পাথর ছুড়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় ওই কিশোরকে খুব কাছ থেকে পেছনে গুলি করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডকে অযৌক্তিক ও বেআইনি হিসেবে বর্ণনা করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীটি।

গণতন্ত্র ও আইনের শাসনছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অসম্ভব নিউইয়র্কে সেমিনারে বক্তাদের অভিমত

বাংলাদেশে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রাধিক ধারা অব্যাহত না থাকায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও ভুলণ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বিভক্তিও গণমাধ্যমের দুর্দশার বড় কারণ। রাষ্ট্রকর্তৃক নির্যাতিত হচ্ছেন সাংবাদিকরা এবং এসবের কোনও প্রতিকার নেই। দেশটিতে এখন অবস্থা এমন সরকারের প্রশংসা করতে রাজি হলে স্বাধীনতার কোনও অভাব নেই। আর সমালোচনা করতে চাইলে স্বাভাবিকভাবে বাঁচার স্বাধীনতাও নেই। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক  সেমিনারে এসব কথা বলা হয়। এতে প্রবাসের সিনিয়র সাংবাদিকরা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার দু’জন সাংবাদিক এবং মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মিডিয়াবিষয়ক একজন পরিচালকও অংশ নেন।  সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশের অনলাইন নিউজপোর্টাল জাস্ট নিউজ বিডি ডটকম।
পোর্টালটির সম্পাদক মুশফিকুল ফজল আনসারীর সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড নেশন্স করসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ইউএনসিএ’র সভাপতি জিয়াম পাওলো পিওলিও, যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট ফরেন প্রেস সেন্টারের পরিচালক প্রিন্স ড্যাল। সাংবাদিক ইমরান আনসারীর মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন নিউইয়র্ক টাইমসের সিনিয়র সাংবাদিক মিস ডুল সিলিমব্যাক, সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নিউইয়র্কভিত্তিক টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সিনিয়র সাংবাদিক মনির হায়দার।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট ফরেন প্রেস সেন্টারের পরিচালক প্রিন্স ড্যাল সেমিনারে ওবামা প্রশাসনের অনুসৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক নীতির বিষয়টি তুলে ধরে বলেন,  বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত বাংলাদেশ ইস্যুতেও স্টেট ডিপার্টমেন্ট সচেতন। প্রতিবছর একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট-এর ২০১৪ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে স্থান পেয়েছে।
ইউএনসিএ’র সভাপতি জিয়াম পাওলো পিওলি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কাঙ্খিত হলেও তা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন। পৃথিবীর  দেশে  দেশে এই স্বাধীনতা বিপন্ন হচ্ছে। জাতিসংঘে নিজের দীর্ঘ ৪০ বছরের  পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের মতো অনেক  দেশেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দুর্ভাগ্যজনক।
নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বিভাগের সাবেক প্রধান মিস ডুল সিলিমব্যাক বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যে প্রতিকূলতার মধ্যে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছে, তা সত্যি প্রসংশাযোগ্য। তিনি বলেন, সাধারনভাবেই সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা; বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে এই চ্যালেঞ্জ আরও ব্যাপক। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে ডুলসি বলেন, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বিহীন সমাজ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। আমি আশা করছি বাংলাদেশ এই অন্ধকার কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দিন নাসের বলেন, সরকারের দমন-নীতি অতীতের সকল মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। মিডিয়া সরকারের আক্রমনের শিকার। প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই কারান্তরীন হতে হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের প্রক্রিয়াকে পাকাপোক্ত করতে নিত্য-নতুন আইন ও বিধি-বিধান তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোনও রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন না থাকলে সেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটা অসম্ভব ব্যাপার।
টাইম টিভির সিইও আবু তাহের বলেন, এটা সত্যি যে বাংলাদেশে অনেক মিডিয়া এখন সংবাদ প্রকাশও প্রচার করছে। কিন্তু দেখতে হবে এসব মিডিয়ার নীতি-নির্ধারক কারা? অতীতেও এমনটি হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার এসেই বিরোধীমতের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে সম্পাদককে তার অফিস থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালানো এবং বছরের পর বছর তাকে আটকিয়ে রাখা, অসংখ্য মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা। এছাড়া চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভিসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া সবগুলো প্রতিষ্ঠানই হচ্ছে বিরোধী মতের মালিকানার গণমাধ্যম। এসব অব্যাহত থাকলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা এখন রাজনীতিকরণ হয়ে গেছে। যা আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে ছিলনা। এটা সত্যিই দুঃখজনক। দেশের এই দূরবস্থার জন্য নিজেদের বিভাজনকেই দায়ী করেন তিনি। বিচার বিভাগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে যথাযথ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
সিনিয়র সাংবাদিক মনির হায়দার বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়াকে অন্যসব অগণতান্ত্রিক দেশের মিডিয়ার দুরবস্থার সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবেনা। কারণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকারের ইস্যুতেই লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়ে এই রাষ্ট্র তৈরি করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই রাষ্ট্রটিতে এখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা দুরের কথা, সরকারের অন্ধ সমর্থক না হলে বেঁচে থাকার অধিকারই থাকছেনা।
অন্যদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সাপ্তাহিক প্রবাসের প্রধান সম্পাদক ওলিয় উল আলম, ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম, সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদিন প্রমুখ। তারা বলেন, আইসিটি অ্যাক্ট নামের বিশেষ আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর সরকারের নিপীড়ন ও নিয়ন্ত্রণ অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

রাশিয়ার সহযোগিতা ছাড়া পরমাণু সমঝোতা সম্ভব ছিল না: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ পরমাণু আলোচনা শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সহায়তা করেছেন। ইউক্রেন নিয়ে ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্কের ক্ষেত্রে টানাপড়েন তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও এ সহায়তা করেন পুতিন। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন ওবামা।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পরমাণু সমঝোতার ক্ষেত্রে রাশিয়া সহায়তা করেছে। ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্য বজায় থাকা সত্ত্বেও ভূমিকা রেখেছে মস্কো। পুতিন এবং রুশ সরকারের সহায়তায় বিস্মিত হওয়ার কথা স্বীকার ওবামা বলেন, রাশিয়া যদি আমেরিকাসহ ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে না থাকতো তাহলে হয়ত এ সমঝোতা সম্ভব হতো না। তবে রাশিয়া এ আলোচনার ঠিক কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের সহযোগিতা করেছে তা জানাননি বারাক ওবামা।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেব না: হিলারি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলে ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেবেন না হিলারি ক্লিনটন। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে এ কথা জোর দিয়ে বলেন সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের হয়ে লড়ার আশা করছেন তিনি।
আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ইরানকে সন্দেহকারী যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মতো হিলারিও মনে করেন, হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘ইরানের জন্য এটা জোরালো আর পরিষ্কার বার্তা যে, তাদেরকে কখনো একটি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেব না।’
এই সমঝোতার সমালোচনা করে হিলারি বলেন, এই চুক্তি ইরানকে বরং পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথকে মসৃণ করে দেবে। ওই অস্ত্র বাগাতে তাদের একটু দেরি হবে—এই যা।
হিলারি বলেন, প্রেসিডেন্ট হলে নাছোড় ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের সব অস্ত্র প্রয়োগ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই ফার্স্টলেডি বলেন, চুক্তির পরিকল্পনা তিনি এখনো খতিয়ে দেখছেন। তিনি অবশ্য এই চুক্তির বিষয়টিকে সমর্থন করেন বলে জানান। কারণ এটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখবে। গতকাল মঙ্গলবার দীর্ঘ আলোচনার পর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্ব শক্তির পারমাণবিক সমঝোতা হয়।
পরমাণু চুক্তি মানবে না ইসরাইল: নেতানিয়াহু
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি মানবে না তেলআবিব। মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।   ইরান অব্যাহতভাবে ইসরাইলকে ধ্বংস করতে তৎপর উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এ চুক্তি মানবে না তেল আবিব। ভিয়েনায় জাতিসংঘ ভবনে যা ঘটছে তাকে ‘ঐতিহাসিক মহাভুল’ বলে দাবি  করে তিনি বলেন, ইরানকে যাতে নিজস্ব পথ থেকে সরে দাঁড়াতে না হয় তার সব সুযোগে এতে করে দেয়া হয়েছে। ইরান পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তার আগের দাবিও আবারো তুলে ধরেন নেতানিয়াহু।   এর আগেও চুক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইরানকে পরমাণু বোমা বানানো থেকে বিরত রাখার জন্য যে সব ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল তা করা হয় নি বরং সে সব ক্ষেত্রে সুদূর প্রসারী ছাড় দেয়া হয়েছে।   এ ছাড়া, এর আগে পরমাণু চুক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী মোশে ইয়ালুন। গতকাল তিনি দাবি করেছেন, তেল আবিব মনে করে  ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর একটি খারাপ পরমাণু চুক্তি হতে যাচ্ছে।–আইআরআইবি
‘পরমাণু চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে’ -ফেডেরিকা মোগেরিনি
ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যকার পরমাণু চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে। এ কথা বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোগেরিনি।   তিনি বলেন, “এ চুক্তি বিশ্বের জন্য আশার প্রতীক বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য যেখানে এমন আশা খুব বেশি প্রয়োজন কারণ এ অঞ্চল উগ্রবাদ ও যুদ্ধে পরিপূর্ণ।” অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় দীর্ঘ ১৮ দিন আলোচনা শেষে ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হওয়ার পর ইরানের প্রেস টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মোগেরিনি এ কথা বলেছেন।   তিনি বলেন, “প্রকৃতপক্ষে এ চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দৃশ্যপট পাল্টে দিতে পারে যদি আমরা আস্থা তৈরি করতে পারি এবং এই আস্থা মধ্যপ্রাচ্যের বড় বড় সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।”   মোগেরিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সহিংসতা ও সংঘাত পুরো বিশ্বের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। তবে আজকের শিক্ষা হচ্ছে কূটনীতিই পারে কয়েক দশকের সংকট ও উত্তেজনাকে দূর করতে। তিনি জানান, পরমাণু আলোচনার সময় দু পক্ষের শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণেই এ চুক্তি সম্ভব হয়েছে। এই রাজনৈতিক বিনিয়োগ একটা ফলাফল আনতে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ ক্ষেত্রে ইরানের আলোচক দল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান মোগরিনি।   ইরানের ব্যাংকিং, অর্থনৈতিক, তেল, গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, বাণিজ্য, ইন্স্যুরেন্স ও পরিবহন খাতের ওপর আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে এ চুক্তির কারণে তা উঠে যাবে। আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ১৫৯ পৃষ্ঠার এ যৌথ পূর্ণাঙ্গ কর্ম পরিকল্পনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হবে এবং তা আনুষ্ঠানিক দলিলে পরিণত হবে।   চুক্তির ফলে একটি পারস্পরিক সমঝোতা কাঠামোর আওতায় ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞাও  তুলে নেয়া হবে।–আইআরআইবি
(বাঁ থেকে) উচ্ছ্বসিত ইইউ কর্মকর্তা ফেদেরিকা মগেরিনি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ, ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ছবি: এএফপি

ইরানে খুশির জোয়ার এনেছে সমঝোতা

সমঝোতার খবরে মঙ্গলবার নেচেগেয়ে উল্লাস করেন ইরানিরা। ছবি: রয়টার্স
সমঝোতার খবরে মঙ্গলবার নেচেগেয়ে উল্লাস করেন ইরানিরা। ছবি: রয়টার্স
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে ছয় পরাশক্তির ঐতিহাসিক সমঝোতার খবরে ইরানি জনতার মধ্যে আনন্দের ঢল নেমেছে। ইসলামি বিপ্লবের ৩৬ বছর পর এই খুশির খবরে নেচেগেয়ে উল্লাসে মেতেছেন ইরানিরা।
সমঝোতার খবরে মঙ্গলবার নেচেগেয়ে উল্লাস করেন ইরানিরা। ছবি: রয়টার্স
দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সমঝোতার খবরে গতকাল মঙ্গলবার রাতের বেলা হাজারো ইরানি রাস্তায় নেমে আসেন।  উচ্ছ্বসিত জনতা সমঝোতার বিষয়টিকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা রাজপথে জড়ো হয়ে বিজয় উদ্‌যাপন করেন।
সমঝোতার খবরে মঙ্গলবার নেচেগেয়ে উল্লাস করেন ইরানিরা। ছবি: রয়টার্স
এ সময় অনেকে নেচেগেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। শুরু হয় চিৎকার, হুল্লোড়। অনেকে মোটরগাড়ি চালিয়ে ভেঁপু বাজিয়ে সাড়া দেন। বিজয়ের প্রতীক হিসেবে অনেকেই ‘ভি’ চিহ্ন দেখান।
সমঝোতার খবরে মঙ্গলবার নেচেগেয়ে উল্লাস করেন ইরানিরা। ছবি: রয়টার্স
শুধু রাজধানী তেহরান নয়, অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরেও ইফতারের পর মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। যোগ দেন বিজয়-উৎসবে। এ সময় অনেকে ওড়ান ইরানের জাতীয় পতাকা।  উদ্‌যাপন দেখা গেছে, যোগাযোগের সামাজিক মাধ্যমেও।
সমঝোতার খবরে মঙ্গলবার নেচেগেয়ে উল্লাস করেন ইরানিরা। ছবি: রয়টার্স
ভিয়েনায় টানা সর্বশেষ দফা আলোচনার ১৮তম দিনে গতকাল চুক্তিটি হয়। এতে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। বিশ্বনেতারা এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর পরিবারে আমেজহীন ঈদ by আক্তার আহমদ শাহেদ

মুসলমানদের জন্য ঘরে ঘরে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদ। ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা থাকে পুরো দেশ। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ছুটে চলে মানুষ নাড়ির টানে। শত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারের সঙ্গে ঈদের সময়টুকু কাটাবেন এমনটাই প্রত্যাশা। প্রিয়জনরাও পথ চেয়ে বসে থাকেন প্রিয় মানুষটির জন্য, কখন ফিরবে সে। কিন্তু দীর্ঘ ৩ বছরের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন গাড়ি চালক আনসার আলী। এরই মধ্যে কেটে গেছে ৬টি ঈদ। এখনও প্রিয় মানুষটির সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। র‌্যাব-পুলিশ কেউ তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। থেমে গেছে উদ্ধার তৎপরতা। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন, পরিবারের সদস্য কেউ জানেন না। কোথায় আছেন এম ইলিয়াস আলী। তিনি জীবিত না মৃত এ তথ্য দিতে পারেনি রাষ্ট্র বা সরকার। দেখতে দেখতে ঘনিয়ে এলো আরেকটি ঈদ। আর মাত্র কয়েক দিন পর সারা দেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে উদযাপিত হবে মুসলমাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু ঈদের আমেজ নেই নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের সাবেক সাংসদ ইলিয়াস আলীর পরিবারে। পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে ছাড়া এ পরিবারের সকল সদস্যকে ৭ম বারের মতো পালন করতে হবে ঈদ উৎসব। এ যেন ইলিয়াস পরিবারের নিয়ম রক্ষার ঈদ। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার পরিবার শুধু নিয়ম রক্ষার খাতিরেই ইলিয়াসের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে ঈদ উদযাপন করতে আসেন। এমনটি জানিয়েছেন ইলিয়াসের স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। ঈদকে ঘিরে ইলিয়াস পরিবারের এখন কোন আনন্দ অনুভূতি নেই। ইলিয়াস আলীকে ঘিরেই তাদের ঈদের সব আনন্দ, যা এখন কেবলই স্মৃতি। ইলিয়াস আলীর পথ চেয়ে তার জনম দুঃখী মা, স্ত্রী সন্তানেরা। এ নিয়ে ছয়টি ঈদ কাটিয়েছেন কিন্তু অসহনীয় এ প্রতীক্ষার অবসান কবে হবে তা জানে না ইলিয়াসের পরিবার। ৩ বছর আগেও এ পরিবারের সদস্যদের কাছে ঈদ ছিল রঙিন। আজ যা বর্ণহীন। আপনজন ছাড়া ঈদ যে   কতটা নিরানন্দের তা শুধু ভুক্তভোগীরাই জানেন। প্রতি বছর ২০-২২ রোজার দিকে ইলিয়াস আলী ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঢাকার কোন অভিজাত শপিং মহলে ঈদের কেনাকাটা করতে যেতেন। কখনও সন্তানদের পছন্দে আবার কখনও নিজের পছন্দে পোশাক কিনে দিতেন নিজ হাতে। ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ির ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতেন ইলিয়াস আলী। আজ এগুলো শুধু স্মৃতি। প্রিয় বাবার অনুপস্থিতিতে অনেকটাই শান্ত ও নিশ্চুপ হয়ে পড়েছে ইলিয়াস কন্যা সাইয়ারা। গত রোজার ঈদেও সাইয়ারার বিশ্বাস ছিলো তার বাবা ফিরে আসবেন। হয়তো সে বিশ্বাস এ ঈদেও ছোট মেয়েটির মধ্যে কাজ করছে। কথা হলে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার সাথে। তিনি বলেন, সত্যি বলতে কি আমাদের এখন আর ঈদের আনন্দ বলতে কিছু নেই। শুধু শাশুড়িকে সঙ্গ দেয়ার জন্যই নিয়ম রক্ষা করতেই ঈদে বিশ্বনাথে আসা হয়। সেখানে খুব সীমিতভাবে কিছু দুস্থ পরিবারের মাঝে যাকাতের কাপড় বণ্টন করি। আমরা ভালো নেই। কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকবে না। তাই আমরাও কোন রকমে জীবন পার করছি।

সামরিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় আমজাদ খান

রাষ্ট্রীয় সম্মানের মধ্য দিয়ে সমাহিত করা হলো দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীকে। গতকাল বিকাল সাড়ে তিনটায় মরহুমের মরদেহ বনানী সামরিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। কবরস্থানে উপস্থিত মুসল্লিরা জানান, মরদেহ কবরে রাখার আগে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সেনাসদস্যরা গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, গণস্বাস্থ্যের সভাপতি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক সেনাপ্রধান নূর উদ্দিন ও মরহুমের ভক্ত, গুণগ্রাহী এবং পরিবারের সদস্যরা।
প্রাণ সেন্টার থেকে জানায়, গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল সেন্টারে আমজাদ খান চৌধুরীর মরদেহ আনা হয়। সেখানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা। এতে প্রতিষ্ঠানটির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে প্রাণ-আরএফএল সেন্টার থেকে আমজাদ খান চৌধুরীর মরদেহ বিজয় সরণিস্থ বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর মাঠের উদ্দেশে নেয়া হয়। দুপুর সোয়া ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন। জানাজা শেষে মরদেহ বনানী সামরিক গোরস্থানে আনা হয়।
এর আগে সকাল ৮টায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ প্রাণ-আরএফএল সেন্টারে নেয়া হয়।
গত ৮ই জুলাই বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় ডিউক মেডিক্যাল হাসপাতালে ৭৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আমজাদ খান চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিক ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। ১৪ই জুলাই বিকাল পৌনে ৬টায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।
ঘোড়াশালে আমজাদ খান চৌধুরীর প্রথম জানাযা
পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি জানায়, বাংলাদেশ কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের পথিকৎ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মেজর জেনারেল (অব.) আমজাদ খান চৌধুরীর প্রথম জানাযার নামাজ গতকাল  সকাল ৮টায় পলাশের ঘোড়াশাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ কামরুল আশরাফ খান পোটন, পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন, পৌর মেয়র মো. শরীফুল হক শরীফ, মরহুম আমজাদ খান চৌধুরীর দুই ছেলে আজাহার খান চৌধুরী ও আহসান খান চৌধুরী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ১০ হাজার লোক অংশ নেয়। আমজাদ খান চৌধুরী দীর্ঘদিন থেকে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। ৮ই জুলাই বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭-১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় ডিউক মেডিক্যাল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ২ মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। জানাযার আগে সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান পোটন, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন, পৌর মেয়র মো. শরীফুল হক শরীফ ও বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ মরহুমের প্রতি ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত সিল করে দেয়ার নির্দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের সঙ্গে সে দেশের সীমান্ত সিল করে দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও আসাম রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। বলা হয়েছে, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ রোধে গৃহীত নীতিমালাগুলো যথেষ্ট কার্যকর নয়। অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া এই খবর দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে একটি রিপোর্ট দেয়ার জন্য কমিশনার নিয়োগ দিয়েছিল। সেই কমিশনার অতি সম্প্রতি একটি রিপোর্ট জমা দেন। রিপোর্ট পর্যালোচনা করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক রঞ্জন গগৈ ও রহিন্তন এফ নরিম্যান মত দেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা যথেষ্ট নয়। আদালতের ওই বেঞ্চ থেকে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ হয়নি। অনপুবেশ প্রতিরোধে সীমান্তে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ-বিএসএফ মোতায়েন করা হয়নি। এ কারণে কেন্দ্রীয় সরকার ও আসাম রাজ্য সরকারকে সীমান্ত সিল করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সরজমিন  পরিস্থিতি অবলোকনের জন্য কর্মকর্তাদের সীমান্তে পাঠানোর জন্য সরকারকে নির্দেশ দেন। গত মে মাসে আদালত অ্যাডভোকেট হাজারিকাকে কমিশনার নিযুক্ত করেন। স্মরণ করা যায় যে, গত ডিসেম্বরে আদালতের তরফে অন্য এক রায়ে বাংলাদেশের দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়, যেসব মানুষের আসামে বসবাস করার অধিকার নেই তাদের কারণে আসামের সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে।

লা-জবাব by তালহা বিন নজরুল

বাঘে সিংহে নয়, এ যেন বাঘ-মুষিকের লড়াই। কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারেনি বিশ্বের অন্যতম সেরা দলটি। প্রথমে বলে, পরে ব্যাটকে চাবুক বানিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান বাংলাদেশ এখন অদম্য-অপ্রতিরোধ্য। বোলারদের গড়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে সৌম্য-তামিম সহজ এক জয় উপহার দেন দেশবাসিকে। ৯ উইকেটের এ জয় যেন জাতিকে ক্রিকেটারদের ঈদ-উপহার। টসে জিতে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ৪০ ওভারে করা ১৬৯ রানের জবাবে ২৬.১ ওভারেই দেয় বাংলাদেশ মাত্র এক উইকেট হারিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের অক্ষত এক উইকেট যেন হারায় বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের পর তিন ম্যাচের সিরিজ খুব কমই হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। না, স্বপ্ন নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও সিরিজ জয়। পাকিস্তান ও ভারতের পর দক্ষিণ আফ্রিকাও কাবু। বিশ্বকাপ থেকে নতুন বাংলাদেশ দেখছে ক্রিকেট বিশ্ব। এ বছর টানা তিন সিরিজে তিন টেস্ট খেলুড়ে দেশকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তারও আগে গত বছর হারায় জিম্বাবুয়েকে। বাংলাদেশ দল টানা চারটি সিরিজ জয় দেখেছিল এর আগে ২০০৯-১০ মওসুমে। ওই চার সিরিজ ছিল ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার চারটি ভিন্ন দলের বিপক্ষে টানা সিরিজ জিতলো তারা। ওপেনিংয়ে ১৫৪ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে প্রোটিয়াদের নতুন করে জাত চেনালো টাইগাররা। টি-২০ সিরিজ জয়ের পর প্রথম ওয়ানডেতে হেরে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ দল। এরপর বোর্ড সভাপতির উদ্দীপনায় বদলে গেল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই ঘুরে দাঁড়ালো টাইগাররা, শুইয়ে দিল আফ্রিকান লায়নদের। সিরিজে সমতা ফেরানোর পর অপেক্ষা ছিল সিরিজ জয়ের। সংশয় ছিল সমর্থকদের। কিন্তু আরও দুর্দান্তভাবে জয় ছিনিয়ে আনলো বাংলাদেশ। সিরিজ জিতলো ২-১এ। প্রথমটিতে ৮ উইকেটে হারের পর দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ জিতেছিল ৭ উইকেটে। যাদের বিরুদ্ধে ২০০৭ এর পর কোন জয় ছিল না তাদের পর পর দুই খেলায় হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকেও ছুঁয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। গত বছরের নভেম্বর থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ১৫টি ওয়ানডে। গতকালের জয়ে বাংলাদেশের সংখ্যাটাও দাঁড়ালো ১৫তে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে ১৬ ম্যাচে বাংলাদেশের এটি দশম জয়।
তামিম ইকবাল আর সৌম্য সরকার যখন নামেন তখন কেউ ভাবেনি এত সহজেই তারা দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেবেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আগের ওপেনিং জুটির রেকর্ড ছিল ৫০এর নিচে (৪৫)। এবার তা তিন গুণের বেশি হলো। তবে আর ১৬টি রান হলে তারা ছুঁতে পারতেন মেহরাব-শাহরিয়ারের রেকর্ড যা ১৬ বছর ধরে অক্ষত রয়েছে। সৌম্যের মারের সামনে সংযমী হয়ে খেলতে থাকেন মারমুখী স্বভাবের তামিম। সৌম্য যেখানে ৪১ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেন সেখানে তামিম ৫০ করেন ৭০ বলে। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম খেলায় ৬০ রান করার পর তামিমের চার ইনিংস ছিল ১৩, ৫,০,৫। এবার ঘরে মাঠে অপরাজিত থাকলেন ৬১ রানে। খেলেন ৭৭ বল, হাঁকান ৭টি চার। তার আগে শতরানের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার। ৯০ রান করে ইমরান তাহিরের বলে হাশিম আমলার হাতে ধরা পড়েন তিনি। তবে আগের খেলায় ৮৮ রান করা সৌম্যের ম্যাচসেরা হওয়া আটকে যায়নি। সিরিজসেরাও হয়েছেন তিনি। ৭৫ বলে ৯০ রান করার পথে ১৩টি চারের পাশাপাশি ছক্কাও হাঁকান একটি। তামিম-সৌম্যের ১৫৪ রানের জুটি যে কোন উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সেরা আর সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অষ্টম সেরা জুটি। ১৭৮ নিয়ে সবার ওপরে আছে তামিম-মুশফিক জুটি। এ বছরই পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে তারা ওই জুটি গড়েন।
তামিম এই ফিফটি দিয়ে দেশর হয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৭টি (৬টি সেঞ্চুরি) ফিফটিপ্লাস ইনিংসের মালিক হলেন। সাকিবের রয়েছে ৩৬টি। আর গতকালের ইনিংস দিয়ে সৌম্য এখন ওয়ানডেতে বাংরাদেশের সবচেয়ে বেশি গড়ের অধিকারী। তার গড় এখন ৪৯.৪২। ১৬ ম্যাচে সংগ্রহ ৬৯২ , সর্বোচ্চ ১২৭, ফিফটি চার।
এর আগে প্রোটিয়াদের স্পিন ভেলকি ও পেস ধামাকায় আটকে রাখে টাইগাররা। ফলে প্রবল লড়াইয়ের পুঁজিই পায়নি তারা। দলীয় ৫০ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে প্রোটিয়া শিবিরে স্বস্তি ফেরে বৃষ্টিতে। ইনিংসের  ২৩তম ওভারে বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এসময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ছিল ৭৮/৪। দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষায় রেখে খেলা ফের মাঠে গড়ায় তিন ঘন্টা পর। তবে কমে যায় ম্যাচের পরিসর। সীমিত করা হয় ৪০ ওভারে। তবে টাইগার বোলাররা দম ফেলতে দেয়নি প্রোটিয়াদের। ৪০ ওভারে ১৬৮/৯ নিয়ে থামে সফরকারীদের ইনিংস। দলীয় মাত্র ৮ রানে উইকেট খোয়ান প্রোটিয়া ওপেনার কুইন্টন ডি কক। হন্তারক মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশের ১৯ বছরের এ পেসারের কোনাকুনি ফুলার ডেলিভারি স্টাম্প উপড়ে নেয় ডি ককের। এতে ২০১৫ সালে ওয়ানডেতে ডি ককের রানের গড় ১৭.৫। আগের দুই বছর তার রানের গড় ছিল ৪০ ছাড়িয়ে। দলীয় ১৯ রানে ফাফ ডু প্লেসির উইকেট তুলে নেন সাকিব আল হাসান। সিরিজে তৃতীয় ম্যাচে এসে উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের এ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সাকিবের বলে ব্যক্তিগত ১১ রানে জীবন পান আমলা। তবে ১৫ রানে তিনি কাটা পড়েন সাকিব আল হাসানের স্পিনেই। এতে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০ উইকেট পূর্ণ হয় সাকিবের। ৪৫ বছরের ওয়ানডে  ইতিহাসে ব্যাটে বলে ৪০০০ রান ও ২০০ উইকেটের ‘ডবল’ কৃতিত্ব দেখানো মাত্র সপ্তম ক্রিকেটার তিনি। বোলিং পরিবর্তনে এদিনও ম্যাজিক দেখান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান রাইলি রুসোকে সাজঘরে পাঠান নিজের প্রথম ওভারেই। বৃষ্টি শেষে খেলায় ফিরে ব্যাট হাতে ইনিংস গোছাতে মনোযোগী হন ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনি। কিন্তু প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের ওপর বাংলাদেশী পেস-স্পিনের সাঁড়াশি আক্রমণ অব্যাহত থাকে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত। ব্যাট হাতে বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন ডেভিড মিলার। তবে ‘কিলার মিলার‘ খ্যাত এ প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাশরাফির ডেলিভারিতে পয়েন্টে দারুণ ক্যাচ নেন সাব্বির রহমান। এতে গর্বের রেকর্ডে ওঠেন মাশরাফি মুর্তজাও। ১৫৭ ম্যাচে এটি মাশরাফির ২০০তম উইকেট। সাকিব আল হাসানের বলে ইনিংসের শুরুতে হাশিম আমলার ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিলেন সাব্বির রহমান। তবে পরে দারুণ নৈপুণ্যে সাকিবকে তার প্রাপ্য ফেরত দেন সাব্বির। সাকিবের বলে তিনি বাউন্ডারি দড়ির কাছে দারুণ ক্যাচ লুফে নিয়ে সাজঘরে ফেরত পাঠান প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান ফারহান বেহারদিনকে। কাগিসো রাবাদাকে বোল্ড আউট করেন মুস্তাফিজ। আর শেষ ওভারে জোড়া আঘাত হানেন পেস তারকা রুবেল হোসেন। নিজের বিশেষ দিনে ব্যাট হাতে ১ রানে অপরাজিত থাকে প্রোটিয়া পেস তারকা মরনে মরকেল। এটি ছিল ক্যারিয়ারে মরনে মরকেলের ১০০তম ওয়ানডে।

মামলা তদন্তে ডিবি এসআই প্রত্যাহার by চৌধুরী মুমতাজ আহমদ

সিলেটে নির্মম নির্যাতনে নিহত শিশু রাজন হত্যার ঘটনায় জনতাই এখন অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। লাশ উদ্ধার, একের পর এক আসামি আটক, ভিডিও ফুটেজ মিডিয়ায় সরবরাহ সবই হচ্ছে জনতার স্বতঃস্ফূর্ততায়। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৩৪টি দেশের টেলিভিশনে রাজনের ওপর নির্মম নির্যাতনের ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। গতকাল বিকালে এ মামলার অন্যতম আসামি দুলালকে এবং মঙ্গলবার রাতে এজাহারভুক্ত আসামি চৌকিদার ময়নাকে জনতা আটক করে পুলিশে দেয়। ময়নাকে আটকে তার মা ছায়ারুননেসা পুলিশ-জনতাকে সহায়তা করেন। এদিকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলামকে। এ ছাড়া থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলা সরিয়ে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাকে গতকাল আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের পরপরই থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়। জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকায় তাকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। কমিটি গঠনের ৪ ঘণ্টার মাথায় সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আমিনুলকে জালালাবাদ থানা থেকে প্রত্যাহার ও ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই থানা পুলিশের কাছ থেকে মামলা সরিয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়ার নির্দেশনা জারি করেন।
গতকাল বিকালে এ মামলার অন্যতম আসামি দুলালকে কুমারগাঁও শেখপাড়া থেকে জনতা আটক করে পুলিশের কাছে দেয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে এজাহারভুক্ত আসামি চৌকিদার ময়নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ময়নাকে তার মা ছায়ারুননেসা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তুলে দেন। ময়নাকে আটকের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের হাত থেকে ময়নাকে ছিনিয়ে নিতে চায়। সিলেট মেট্রোপলিটান পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ মানবজমিনকে জানান, এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে ঘেরাও করে ফেলে, কেউবা জুতা ছুড়ে মারে। অনেক জুতা আমার শরীরেও পড়েছে। তিনি বলেন, উপায় না পেয়ে ময়নাকে জনরোষ থেকে বাঁচাতে জালালাবাদ থানায় নেয়া নিরাপদ মনে না হওয়ায় কোতোয়ালি থানায় নিয়ে আসি।
শিশু রাজন হত্যার ঘটনায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয় আটজন। এদের মধ্যে মুহিত আলম, ময়না, দুলাল এবং সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশীদের হাতে আটক কামরুল ইসলাম সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। এ ছাড়া ফিরোজ আলী ও আজমত আলী ঘটনার দুই প্রত্যক্ষদর্শী। আটক আছে মুহিতের তালতো ভাই ইসমাইল হোসেন আবলুস ও রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামি মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগম। লিপি বেগমকে সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় জালালাবাদ থানা পুলিশ গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার গোবিন্দগঞ্জের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আটক করে। কামরুলের সৌদি গমন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে ইসমাইল হোসেন আবলুস ও মুহিতের স্ত্রী লিপি বেগমকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছেন। এদিকে সোমবার থেকে মুহিত আলম ও মঙ্গলবার থেকে ইসমাইল হোসেন আবলুসকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে জালালাবাদ থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা দিয়েছেন ফিরোজ আলী ও আজমত আলী। গতকাল চৌকিদার ময়নাকে জালালাবাদ থানা পুলিশ আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মঙ্গলবার বিকাল থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে গঠিত ৩ সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর বক্তব্য শুনেছেন।
নিহত রাজনের বাবা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, ৮ই জুলাই রাত সাড়ে ৯টায় এসআই আমিনুলের মোবাইল ফোনে রাজনের লাশের ছবি দেখেন। এরপর হাসপাতাল মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে থানায় যান মামলা করতে। কিন্তু রাজনের বাবা থানায় পৌঁছার আগেই এসআই আমিনুল দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে মুহিত আলম ও চৌকিদার ময়নাকে আসামি করে মামলা রুজু করে ফেলেন। রাজনের বাবা তার সন্তান রাজন হত্যায় সংশ্লিষ্ট সব আসামির নাম উল্লেখ করে মামলা করতে চাইলে এসআই আমিনুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে রাজনের বাবাকে গলাধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। রাজনের বাবা অভিযোগ করে আরও বলেন, মামলার পরও পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কোন উদ্যোগ নেয়নি। চার দিন পর পত্রিকায় খবর বের হলে পুলিশ তৎপর হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ মানবজমিনকে জানান, মঙ্গলবার বিকাল থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে গঠিত ৩ সদস্যের কমিটি কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাবাসীর বক্তব্য শুনেছেন। জালালাবাদ থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন- কথা বলেছেন নিহত রাজনের বাবা আজিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাজনের হত্যা মামলা তদন্ত তদারকিতে গঠিত কমিটিও কাজ শুরু করেছে। মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, পুলিশ দিন-রাত এ মামলার পেছনে কাজ করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে তদন্ত তদারকিতে গঠিত কমিটির সদস্যরা ময়নাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। রাজন হত্যার মোটিভ ‘শুধু চুরি’ না অন্য কিছু- এমন প্রশ্নের জবাবে সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, বিষয়টি আমদেরও তাড়া করছে। বলাৎকারের একটি বিষয় সামনে এসেছিল, এ নিয়ে ময়নাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মানবজমিনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলার অভিযোগকারী জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম প্রধান আসামি করেন মুহিত আলমকে। যে পেশায় একজন মাইক্রোবাসের চালক এবং রাজনের লাশ তার গাড়িতে করে নদীতে ফেলে দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। অপরজন চৌকিদার ময়না চোর সন্দেহে যে রাজনকে আটকে রেখেছিল। মাইক্রোবাসে রাজনের মৃতদেহ তুলে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুপুর ১২টায় মুহিত-কামরুলকে ধরে এলাকাবাসী এসআই আমিনুলের কাছে হস্তান্তর করে। গাড়ির চালক মুহিত আলম রাজনকে চিনতো। ভাল করে চিনত তার বাবাকেও। এমনকি মুহিত আলম থানায় এসআই আমিনুলকে ঘটনা খুলে বলার পরও এসআই আমিনুল থানা থেকে কামরুলকে ছেড়ে দেন এবং বেওয়ারিশ হিসেবে রাজনের লাশ ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়ে দেন। এ ছাড়া ১০ই জুলাই মুহিতের বড় ভাই ছাত্রলীগ নেতা আলী আহমদকে থানায় এনে কথাবার্তা বলে ছেড়ে দেয় জালালাবাদ থানা পুলিশ। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুলের সঙ্গে বৈঠক করে কামরুল ও মুহিত। জালালাবাদ থানা চত্বরে রাখা রাজনের লাশ বহনকারী মাইক্রোবাসের পেছনের খালি জায়গায় এ বৈঠকটি হয়। ওই বৈঠকেই চুক্তি হয় ১২ লাখ টাকার। ৬ লাখ টাকা হাতে পেয়ে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল মামলার প্রধান আসামি কামরুলকে সৌদি আরব পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। বাকি ৬ লাখ টাকা হাতে পেলে জনতার হাতে আটকের পর গ্রেপ্তার হওয়া কামরুলের বড় ভাই মুহিত আলমকেও ছেড়ে দেবে বলে কথা দেয় পুলিশ। এ সময় রাজনকে নির্যাতনের ভিডিও দেখেন পুলিশের এ দুই কর্মকর্তা। পুলিশ তখনই জানতে পারে এ ভিডিওটি কামরুলের মোবাইল ফোনে ধারণ করে সাইফুল নামে কামরুলের এক বন্ধু। ১০ই জুলাই বিজি ৪০৪-যোগে সিলেট বিমানবন্দর ছাড়ে কামরুল। নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিতের দায়িত্ব পালন করেন ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুহিত-কামরুল পরিবারের অন্ধকার অধ্যায়ের কিছু অংশ। মুহিত-কামরুলের অন্ধকার জীবনের শুরু নগরীর লালবাজার থেকে। এখানে থেকেই তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়ায়। তাদের বাবা শেখপাড়া গ্রামের আবদুল মালিক ৭-৮ বছর আগেও নগরীর লালবাজারের তৃষ্ণা হোটেল রমজান মাসে দিনের বেলা পরিচালনার জন্য ভাড়া নিতেন। মুহিত-কামরুল পরিবারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী দুবার আবদুল মালিকের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
রাজন হত্যাই এখন গোটা নগরবাসীর আলোচনার প্রধান বিষয়। শুধু সিলেট নয় গোটা দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচনায় স্থান পেয়েছে রাজন হত্যা। ১৩৪টি দেশের টেলিভিশনে রাজনের ওপর নির্মম নির্যাতনের ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। আলোচনার টেবিলে বলাবলি হচ্ছে, রাজন হত্যার ঘটনা ঠিকই পুলিশ চাপা দিয়ে দিতো-রাজনের বাবার সাধ্য ছিল না মুহিত-কামরুল পরিবার ও পুলিশের সঙ্গে লড়ার। কিন্তু মোবাইল ফোনে নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করে ফেসবুকে আপলোড করে নিজেরা ধরা পড়েছে।

মন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে রাজনের মা আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দিন

‘টানা চার ঘণ্টা শিশু রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়েছে কামরুল ও শামীম। ভোর থেকেই তারা রাজনের দেহে একের পর এক আঘাত করতে তাকে। আর এ খবরটি আমার কানে পৌঁছামাত্র লাশ গুমের চেষ্টা চালাই।’ রিমান্ডে দ্বিতীয় দিনে এসব তথ্য দিয়েছে সিলেটের শিশু রাজন খুনের মামলার প্রধান আসামি শেখপাড়া গ্রামের মুহিত আলম। গতকাল এ মামলার তদন্তে থাকা মনিটরিং টিমের সদস্য ওসি আক্তার হোসেন মানবজমিনকে জানিয়েছে, ‘মুখ খুলছে মুহিত। প্রথম দিনই কামরুলের কথা স্বীকার করেছিল। বুধবার বললো শামীমের কথা। ধীরে ধীরে সব কথা বলবে সে।’ তিনি বলেন, ‘আর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আজমতসহ দুজন মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এতেও উঠে উঠেছে রাজন হত্যার মিশনে অংশ নেয় ৫ জন।’ মুহিত হচ্ছে কামরুল ও শামীমের ভাই। আর মামলার অপর আসামি আলীও হচ্ছে মুহিতের আপন ভাই। চার ভাই-ই রাজনকে খুন, লাশ গুম করার প্রক্রিয়া চালিয়েছিল। মুহিত যখন ঘটনাস্থলে আসে তখন দেখে শিশু রাজন পানি পানি করতে করতে কাতর হয়ে গেছে। নড়াচড়া নেই শরীরে। একটু পর মারা গেলে সেই রাজনের লাশ গুম করার চেষ্টা চালাই। মামলা, জেল থেকে রক্ষা পেতে এমনটি করে বলে গতকাল পুলিশকে জানিয়েছে মুহিত। অন্যদিকে রিমান্ডে থাকা আবলু গতকাল পর্যন্ত মুখ খুলেনি। জালালাবাদ থানা পুলিশ জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে, সে কিছই দাবি করেনি। এদিকে, মঙ্গলবার রাতে টুকের বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা পাহারাদার ময়না মিয়াকে গতকাল ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে গেছে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি রহমতুল্লাহ মানবজমিনকে জানিয়েছে, ময়নাকে আটকের পর সিলেটের কোতোয়ালি থানা হাজতে রেখে তাকে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ময়না পুরো ঘটনা এড়িয়ে যায়। এ কারণে পুলিশ দুপুরে তাকে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাহেদুল করিমের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে তার ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালত এ সময় আলোচিত এ মামলাটির সটিক তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। এডিসি রহমতুল্লাহ জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মতো মামলাটি ডিবি পুলিশে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পোস্টারিংয়ে ছেয়ে গেছে সিলেট নগর। রাজনের খুনিদের ফাঁসি চেয়ে যে পোস্টার নগরীতে সাঁটানো হয়েছে সেটি নজর কেড়েছে সিলেটবাসীর। আর পোস্টারে ঘাতকের তালিকায় আছে দুলালের ছবি। মামলার এজাহারে না থাকলেও গতকাল টুকের বাজারের জনতা দুলালকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয় শেখপাড়া গ্রামে দুলাল আত্মগোপনে ছিল বলে জানিয়েছেন ওসি আক্তার হোসেন।
রাজনের বাড়িতে প্রতিমন্ত্রী চুমকি: প্রতিদিনই দলে দলে লোকজন যাচ্ছেন ঘাতকদের নির্মম নির্যাতনে খুন হওয়া সামিউল আলম রাজনদের বাদেআলী গ্রামের বাড়ি। এই গ্রামটি সুরমা নদীর তীর ঘেষে অবস্থিত। এই গ্রামে গতকাল ছুটে গেলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বিমানের ফ্লাইটে সিলেটে আসেন। এরপর সার্কিট হাউসে খানিক বিশ্রাম নিয়ে ছুটে যান রাজনের গ্রামের বাড়ি। তার আগেই সেখানে পৌঁছেন সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদসহ নেতাকর্মীরা। বাড়িতে গিয়ে দেখা গেলো এমপি কেয়া বসে আছেন রাজনের মায়ের পাশে। মা লুবনা বেগম আহাজারি করছেন রাজনের জন্য। বলছেন ছেলেটা এত ভদ্র ছিল যে মৃত্যুর সময়ও ঘাতকদের ‘আপনে’ বলে সম্বোধন করেছে। মাটির কুটিরে ছোট দুটি রুমে রাজনদের সংসার। এক রুমে মা লুবনা ও অপর রুমে বসে আছেন পিতা আজিজুর রহমান। চলতে ফিরতে পারেন না। বিছানায় শুয়ে কাটছে তাদের দিন। বেলা দুই টার দিকে রাজনদের বাড়ি গিয়ে পৌঁছলেন প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। সঙ্গে সিলেটের পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান, সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী। গাড়ি থেকে নেমে মন্ত্রী সোজা চলে যান রাজনের মায়ের ঘরে। এ সময় রাজনের মা লুবনা বেগম প্রতিমন্ত্রীকে জাপটে ধরে কান্না শুরু করেন। বলেন, ‘আমার বুকের ধন কই। আমি আর কিছুই চাই না। টাকা, পয়সা, ধন, ধৌলত সব নিয়ে যান। আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দিন।’ এ সময় তার আর্তনাদে কেঁদে উঠেন সবাই। প্রতিমন্ত্রী চুমকি মুখ মুছেন। পিঠে হাত দিয়ে সান্ত্বনা দেন লুবনা বেগমকে। এ সময় মন্ত্রী রাজনের মাকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় বসেন। সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, সান্ত্বনা দেয়ার কোন ভাষা নেই। আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেখতে এসেছি। আল্লাহ আপনাকে সান্ত্বনা দেবেন। কষ্ট একটাই-আমরা রাজনকে বাঁচাতে পারলাম না। এ সময় প্রতিমন্ত্রীকে দেখে কান্না ভেঙে পড়েন রাজনের পিতা আজিজুর রহমান। কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, আমার বাচ্চাকে যে ধুঁকে ধুঁকে মারছে আপনারার দেশবাসী। সেটি আমি ভুলতে পারছি না। বলেনই কান্না শুরু করলেন তিনি। সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী এ সময় বললেন, ‘আমি ২৮ মিনিটের পুরো ফুটেজটি দেখতে পারিনি। আমাকেও অনেকেই বলেছেন তারাও ফুটেজটি দেখতে পারিনি।’ প্রতিমন্ত্রী চুমকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজন খুনের ঘটনায় শোকাহত। তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাড়ির উঠানে স্থাপিত মঞ্চে ভাষন দেন প্রতিমন্ত্রী চুমকি। তিনি বলেন, রাজন হত্যার বিচার শেষ করতে প্রয়োজনে বিশেষ ট্র্যাইবুনাল গঠন করা হবে। তিনি বলেন, সরকার আন্তরিক রয়েছে। যখন যেখানে যা করা প্রয়োজন তখন সেখানেই তা করবে। কোনভাবেই বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখা হবে না। তিনি বলেন, আর এই ঘটনায় প্রশাসনের কারও কর্তব্যে অবহেলা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আরও নেয়া হবে বলে জানান তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চেক প্রদান:  প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সফরকালে রাজনের মা লুবনার হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদানের এক লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজন খুনের বিচারে খুবই আন্তরিক। আমরা পাশে আছি। যখন যা দরকার আমরা দেখবো। এ সময় তিনি বলেন, রাজনের ভাই সাজনের জন্য প্রতি মাসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। সিলেটের জেলা প্রশাসক সেটি করবেন বলে জানান তিনি।
রাজনের পিতার প্রশ্ন: প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে রাজনের পিতা আজিজুর রহমান বলেন, আমি থানায় এজাহার নিয়ে গেলে পুলিশ আমাকে ধমকায়। বলে, মামলা হয়ে গেছে। ছেলে মারা গেছে আমার। আর পুলিশ করলো মামলা। তার কারণ কী। তিনি বলেন, দালালদের নিয়ে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করা কেন হলো? সে বিষয়ে তিনি জানতে চান। কাঁদো কাঁদো গলায় বলেন, ‘ম্যাডাম রাজনের কী বাচার অধিকার ছিল না।’ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক: বিকাল মহিলা ও শিশু শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সিলেটের জেলা প্রশাসনে সম্মেলন কক্ষে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি রাজনের খুনিদের গ্রেপ্তার, মামলার তদন্ত, বিচারে যাতে কোন গাফিলতি না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। এসময় প্রতিমন্ত্রী পুলিশ প্রশাসনের উপর কিছুটা ক্ষোভ ঝাড়েন। বৈঠকের সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন ছাড়া আওয়ামী লীগসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

ইরান–বিশ্বশক্তি ঐতিহাসিক সমঝোতা

অবশেষে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির সঙ্গে ছয় পরাশক্তির সমঝোতা হলো। এর ফলে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করবে। বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। বিশ্বনেতারা এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। খবর এএফপি, এনবিসি নিউজ ও বিবিসির। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় টানা সর্বশেষ দফা আলোচনার ১৮তম দিনে গতকাল মঙ্গলবার চুক্তিটি সম্পাদিত হয়। চড়াই-উতরাই আর অনিশ্চয়তায় ভরপুর দীর্ঘ এ আলোচনা-প্রক্রিয়াকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুদিন আগেই বর্ণনা করেছিলেন ‘কষ্টকর রকম ধীরগতির’ বলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গতকাল মঙ্গলবার বলেন, এ চুক্তির মধ্য দিয়ে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পথ বন্ধ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্ব আগের চেয়ে আরও নিরাপদ ও অধিকতর সুরক্ষিত হলো।
ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে বলেন, ‘চুক্তিটি বিশ্বের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে “নতুন অধ্যায়ের” সূচনা করেছে। এটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তাঁরা পারস্পরিক অবিশ্বাস ধাপে ধাপে কমাতে পারবেন। এটা একটা পারস্পরিক চুক্তি, দুই পক্ষকেই এটি মানতে হবে। ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না।’
ইরান যাতে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে বোমা বানাতে না পারে, এর জন্য প্রায় এক দশক ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। তবে ইরান বরাবর দাবি করে এসেছে তার পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ।
বিভিন্ন মহলের বিরোধিতা চুক্তিটি বিলম্বিত হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলীয় সদস্যরা এই চুক্তির বিপক্ষে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন। সৌদি আরবও বিরোধিতা করেছিল এই ধারণা থেকে যে এতে তার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাব বাড়বে।
চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বয়ে আনতে সহায়তা করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মগেরিনি বলেছেন, চুক্তিটি সারা বিশ্বের জন্য এক নতুন আশার ইঙ্গিত। ইরান-বিশ্বশক্তির সমঝোতার ফলে বিশ্ববাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেন, চুক্তিতে ইরান যেসব অঙ্গীকার করেছে সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা যাচাই করে দেখতে পারবেন বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ‘বড় বিজয়’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে ইরানকে শত্রু বিবেচনা করা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ চুক্তি একটি ঐতিহাসিক ভুল বলে মন্তব্য করেছেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া এবং জার্মানির প্রতিনিধিরা ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার জন্য ২০০৬ সাল থেকে দেশটির সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যম বলেছে, চুক্তি বাস্তবায়ন হলে দেশটির তেল ও গ্যাস-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক লেনদেন, উড়োজাহাজ ও জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। ফলে দেশটি বিপুল অঙ্কের বাণিজ্য ও সম্পদ আবার সচল হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে পরমাণুকেন্দ্রের দুই-তৃতীয়াংশ সেন্ট্রিফিউজ অপসারণ করে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের তত্ত্বাবধানে মজুত করতে হবে। দেশটিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের ৯৮ শতাংশই বাদ দিতে হবে। পাশাপাশি আইএইএকে যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। চুক্তির যেকোনো শর্ত লঙ্ঘন করলে বিভিন্ন অবরোধ দ্রুত পুনর্বহাল করা হবে বলে সতর্ক করে দেন ওবামা।
পরমাণু চুক্তিতে কী আছে
চুক্তির মূল দলিল ১০০ পৃষ্ঠার। সঙ্গে পাঁচ পাতার সংযুক্তি আছে। আলোচনা একেবারে শেষ হলে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দলকে ইরানের সামরিক ক্ষেত্রগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণের অনুরোধ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে ইরান
ইরান শর্ত অমান্য করলে ৬৫ দিনের মধ্যে তাদের ওপর আবার অবরোধ
অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপারে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলো যথাক্রমে আরও পাঁচ ও আট বছর বহাল থাকবে
ইরানের শত শত কোটি ডলার দামের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা হবে
চুক্তির প্রথম ১০ বছরে ইরান উন্নত সেন্ট্রিফিউজের জন্য গবেষণা করতে পারবে
(বাঁ থেকে) উচ্ছ্বসিত ইইউ কর্মকর্তা ফেদেরিকা মগেরিনি, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ, ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান আলী আকবর সালেহি, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ছবি: এএফপি

আতরের তোলা ৪০,০০০ by উৎপল রায়

আতরের নাম ‘উদ আল জাজাব’। মধ্য প্রাচ্যের দুবাইয়ের বিখ্যাত ‘আজমল’ কোম্পানির আতর এটি। এক তোলা আতরের দাম হাঁকা হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের ‘বরকতি আতর হাউস’-এ পাওয়া যাচ্ছে উদ আল জাজাব। এছাড়া নুরানী আতর হাউসে সিলেটের বিখ্যাত ‘আগর’ আতর বিক্রি হচ্ছে তোলা প্রতি ৩০ হাজার টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের রাজা, বাদশা, ধনকুবের ও শেখরা এসব সুগন্ধি ব্যবহার করেন। তবে, বাংলাদেশের সৌখিন উচ্চবিত্তদের মধ্যেও এসব দামি সুগন্ধি ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। দাম বেশি হলেও বিত্তবানদের অনেকেই দোকানদারদের তাগিদ দিয়ে এসব দামি ও সুগন্ধি আতর নিচ্ছেন। ঈদের দিন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নতুন পোশাকের সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সুগন্ধি আতর ব্যবহার করবেন। সবাই মিলে যাবেন ঈদের জামাতে। এজন্য আতর কেনার ধুম লেগেছে। রাজধানীর অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাথের দোকানগুলোতে বিভিন্ন মানের ও দামের আতর বিক্রি হচ্ছে দেদার। বায়তুল মোকাররম, পুরানা পল্টন, কাকরাইল মসজিদ, নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বিভিন্ন ধরনের আতর কিনছেন। বায়তুল মোকাররমের বিভিন্ন আতরের শোরুমগুলো ঘুরে দেখা গেছে আতর কেনার চিত্র। বরকতি আতর হাউসে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা তোলার উদ আল জাজাব আতরের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে, আজমল কোম্পানির হাতকড়া উদ প্রতি প্যাকেট (১০০ মিলিগ্রাম) ৪০ হাজার টাকা, আল থোরাইয়া প্রতি প্যাকেট ৩৫ হাজার টাকা, আসিম প্রতি প্যাকেট ১৫ হাজার টাকা, আতিফা প্রতি প্যাকেট ৭ হাজার ৫০০ টাকা, থাউজেন্ড ওয়ান নাইট প্রতি প্যাকেট ১০ হাজার ৫০০ টাকা, বাখুরখজ প্রতি প্যাকেট ৩ হাজার টাকা, জিজিয়ান প্রতি প্যাকেট ২ হাজার ৫০০ টাকা, বাহরাইন পার্ক-৬ হাজার টাকা বোতল, আল রিয়েল উদ প্রতি বোতল ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিখ্যাত এরাবিয়ান কোম্পানির সুইস এরাবিয়ান, জান্নাতুল ফেরদৌস, জান্নাতুল নাঈম, হাবখুশ, মোখাল্লাত মালকি, নূরা, রাশিকা, মাইসুন মোখাল্লাত আল বারাক নামের আতর ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্যাকেট ও বোতলে বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামে। এসবের পাশাপাশি আরও পাওয়া যাচ্ছে উদ আল মানাসেক, উদ মালিকি আতিক, উদ আমিরি, খালতাত আল মুলুক, খালতাত আল জাওয়াহের, আল হারামাইন স্পেশাল, খালতাত আল থানি, মুখাল্লাত মালিকি, খালতাত নৌফ, আতর আল কসুর, মুবাখার মালিকি, মুবাখার আতিক, আতর লামহা, বদর আল হায়াত, মুখামারিয়া আতিক, খালতাত আল মাহা, দুবাই টাওয়ার, আলমাস, আল খালিজ কপ, মাতার আল হাব, মুখামারিয়া মালিকি, বুরুজ আল হারামাইন, সাফিনা আল আরব, নাইট ড্রিম, তোফা আতর, আল বোরাক, টুইন ফ্লাওয়ার, মমতাজ, রেইনবো নামের আতর। মান ও ওজনভেদে এসব আতরের দাম পড়ছে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। আতর ব্যবসায়ী মো. আবদুল গাফফার বলেন, প্রতি ঈদুল ফিতরে আমাদের প্রতিষ্ঠানে বিচিত্র ও বাহারি মানের আতরের সম্ভার থাকে। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানের ক্রেতারা বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত ও বিত্তবান শ্রেণীর এবং তারা সৌখিন। আমরা নামীদামি সুগন্ধি সরবরাহ করে তাদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করি। ৪০ হাজার টাকা তোলার উদ আল জাজাব আতরের বিষয়ে তিনি বলেন, এ আতর সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের রাজা, বাদশা ও ধনকুবেররা ব্যবহার করেন। তবে, বিশেষ দিনে বাংলাদেশের বিত্তবানদের মাঝেও হাতকড়া উদ ও উদ আল জাজাব আতর ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। তাদের অনেকেই অর্ডার দিয়ে আতর আনিয়েছেন। আমরাও যথাসাধ্য তা সরবরাহ করছি। বায়তুল মোকাররমের বর্ধিত সুপার মার্কেটের নুরানী আতর হাউসে বিক্রি হচ্ছে মৌলভিবাজারের বড়লেখার সুজানগরের বিখ্যাত আগর আতর। দাম জানতে চাইলে প্রতি তোলা ৩০ হাজার টাকার কথা বলেন দোকানিরা। নুরানী আতর হাউসের ব্যবস্থাপক ওমর ফারুখ জানান, আগর নামের গাছ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে এ সুগন্ধি আতর তৈরি হয়। বাংলাদেশে এর চেয়ে ভাল আতর আর নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই আতরের কদর রয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সকল দেশে। সেখানকার রাজা, শেখ ও ধনকুবেররা আগর আতর ব্যবহার করেন। বাংলাদেশেও বিশেষ দিনে আগর আতর ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ কেউ অর্ডার দিলে আমরা এই সুগন্ধি সরবরাহ করি। দাম একটু বেশি হলেও এর মান যথেষ্ট ভাল বলে জানান তিনি। আগর আতর ছাড়াও তাইফি রোজ প্রতি তোলা ১২ হাজার টাকা, ইরানি জাফরান ৮ হাজার টাকা, বসরাই গোলাপ ২ হাজার টাকা, ভারতীয় মেশকে আম্বর ৩ হাজার টাকা, ভারতীয় সস ২ হাজার ৪০০ টাকা, কাশ্মীরি বেলি ৮০০ টাকা, পাকিস্তানি দরগা ১২০০ টাকা, জান্নাতুল ফেরদৌস ১২০০ টাকা, পাকিস্তানি কস্তুরি ২৪০০ টাকা তোলা বিক্রি হচ্ছে আতরের শোরুমগুলোতে। বায়তুল মোকাররমে সুগন্ধি আতর কিনতে আসা ধানমন্ডির ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, অনেক দিন ধরেই সুগন্ধি আতর ব্যবহার করি। আর ঈদ হলেতো কথাই নেই। পরিবারের সবার জন্যই সবচেয়ে ভাল আতরের সন্ধানে থাকি। দাম একটু বেশি লাগলেও ভাল মানের সুগন্ধিই আমাদের চাই। এ দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টন, গুলিস্তান, নিউ মার্কেট, কাকরাইল মসজিদ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ আসন্ন হওয়ায় ফুটপাথের আতরের দোকানগুলোতেও আতর কিনছেন সাধারণ মানুষ। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলী, জুই, রজনীগন্ধা, গোলাপ ফুলের সুগন্ধিযুক্ত তোলা ও প্যাকেট আতর বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত।