Saturday, July 3, 2010

যুক্তরাষ্ট্রে মহামন্দার পরে আর্থিক খাত সংস্কারের বৃহত্তম বিল অনুমোদন

আমেরিকার ওয়ালস্ট্রিট তথা ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে আনা একটি ঐতিহাসিক বিল চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ।
১৯৩০ সালের মহামন্দার পরে এটিই হচ্ছে আমেরিকায় আর্থিক খাতের সংস্কারে সবচেয়ে বড় বিল।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বাক্ষর করার পরে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে বিলটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিলটির ওপর সিনেটে ভোটাভুটি হবে মধ্য জুলাইয়ের দিকে।
২০০৭-০৯ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের সংস্কারে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অঙ্গীকার করেছিলেন।
প্রতিনিধি পরিষদে বিলটির পক্ষে ২৩৭টি ভোট পড়ে। আর বিপক্ষে ভোট দেন ১৯২ জন কংগ্রেসম্যান। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগপ্রবণতা ঠেকাতে এটি হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য একটি হাতিয়ার বা উপকরণ।
বিলটি অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে বলেন, এটি হচ্ছে আমেরিকার সব নাগরিকের বিজয়, যাঁরা বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অর্থনৈতিক লেনদেনের কারণে দুর্ভোগের মুখে পড়েছিলেন। কারণ এতে লাখ লাখ মানুষ তাঁদের চাকরি হারান এবং দেশের কয়েক লাখ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়।

এসিআই ফর্মুলেশনসের ২৫% লভ্যাংশ অনুমোদন

এসিআই ফর্মুলেশনস লিমিটেড ২০০৯ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ টাকা মূল্যমানের শেয়ারের বিপরীতে আড়াই টাকা করে অর্থাৎ ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছে।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির ১৪তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আনিস উদ দৌলা। সভায় কোম্পানির পরিচালক এফ এইচ আনসারি, আরিফ দৌলা, সি এম মুর্শেদ, নাজমা দৌলা ও সুস্মিতা আনিস সালাম এবং পরিচালক ও সচিব সীমা আবেদ রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এম আনিস উদ দৌলা জানান, বিক্রয় ও উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই এসিআই ফর্মুলেশনস ২০০৯ সালে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।

ব্যাংক খাত ছয় মাসে আকর্ষণীয় পরিচালন মুনাফা করেছে

দেশের ব্যাংক খাত ২০১০ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আকর্ষণীয় পরিচালন মুনাফা করেছে।
সাম্প্রতিক বিশ্বমন্দার প্রথম কারণ হচ্ছে, ব্যাংক ও আর্থিক, বিশেষত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণবাজারে বিপর্যয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং সে সময়ও ব্যাংকগুলো বেশি মুনাফা করতে সক্ষম হয়।
তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংকই ঋণের বদলে শেয়ারবাজারকেন্দ্রিক তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে মুনাফার প্রবৃদ্ধি ভালো করেছে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো ঋণ ব্যবসায় খুব মুনাফা করতে পারেনি, এমন কথাও বলা হচ্ছে।
বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নিজস্ব উদ্যোগে সংগ্রহ করা সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, বরাবরের মতো অর্ধবার্ষিকীর হিসাবে পরিচালন মুনাফার পরিমাণের দিক থেকে সর্বাধিক আয় হয়েছে ইসলামী ব্যাংকের। ছয় মাসে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৪৯৫ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪০৪ কোটি টাকা।
তবে ইসলামী ব্যাংকের আমানত ও বিনিয়োগ (ঋণ) পদ্ধতি ভিন্ন। উপরন্তু, ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ বেসরকারি একক কোনো ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি।
বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে পরিচালন মুনাফা প্রকাশের ওপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালন মুনাফা প্রকাশ করতে পারে না। এই বিধিনিষেধ এসেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) থেকে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকও তাতে সম্মতি দিয়েছে।
তবে শেয়ারবাজারে যাঁরা প্রতিনিয়ত কেনাবেচা করেন এবং যাঁদের হাতে কোনো ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, তাঁরা ব্যক্তি যোগাযোগের মাধ্যমেই এ তথ্য আগেভাগেই পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী পরিচালন মুনাফা প্রকাশ একটি সাধারণ ঘোষণার বিষয়। তবে নিট মুনাফাই ব্যাংকের প্রকৃত আয়। বছর শেষে পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি (প্রভিশন) এবং কর (৪২.৫ শতাংশ) বাদ দিয়ে নিট মুনাফার হিসাব হয়। ফলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীকে অপেক্ষা করতে হয় নিট বা প্রকৃত মুনাফার হিসাব পাওয়া পর্যন্ত।
বিভিন্ন ব্যাংক থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, প্রাইম ব্যাংক গত ছয় মাসে পরিচালন মুনাফা করেছে ৩৩৫ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ে করেছিল ২৫০ কোটি টাকা। এবি ব্যাংক এবার করেছে ৪০০ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময় করেছিল ২০০ কোটি টাকা। পূবালী ব্যাংক করেছে ২৮৪ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১৮০ কোটি টাকা। সাউথইস্ট ব্যাংক করেছে ২৯৫ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১৭৭ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক করেছে ৩৬৫ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১৬৪ কোটি টাকা। এনসিসি ব্যাংক করেছে ১৮৫ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১৪৫ কোটি টাকা। ইউসিবিএল ২২৬ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১৩২ কোটি টাকা। ঢাকা ব্যাংক করেছে ১৮১ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১৩০ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়া করেছে ২১৫ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১০৮ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংক করেছে ২১০ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১০৭ কোটি টাকা। মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২৩০ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ১০৫ কোটি টাকা। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মুনাফা করেছে ২২০ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ৯৩ কোটি টাকা। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১৬০ কোটি, আগের বছর করেছিল ৮১ কোটি টাকা। আল-আরাফাহ্ ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১৪০ কোটি টাকা, আগের বছরের একই সময় করেছিল ৮০ কোটি টাকা। ইস্টার্ন ব্যাংক ২০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। এসআইবিএল করেছে ১০৫ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ৭৫ কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ৬২ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ৭৫ কোটি টাকা। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক করেছে ১৩৯ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ৭১ কোটি টাকা। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক করেছে ১০৪ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ৭০ কোটি টাকা। ওয়ান ব্যাংক করেছে ১৬৪ কোটি টাকা, আগের বছর করেছিল ৬৮ কোটি টাকা। সিটি ব্যাংক ১৫০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। প্রিমিয়ার ব্যাংক ১১৫ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে, গত বছর করেছিল ৫০ কোটি টাকা। ব্র্যাক ব্যাংক ২৫০ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে।

দুঙ্গার মাঝমাঠে বিশাল শূন্যতা

এলানোর পায়ে চোট, ফেলিপ মেলোর অ্যাঙ্কেলে সমস্যা, হুলিও ব্যাপ্টিস্টাও ভুগছেন চোটে। আর রামিরেস দুই হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় কাটা পড়েছেন। হল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিলের মাঝমাঠে হাহাকার আর শূন্যতা! আরিয়েন রোবেন ফিট হয়ে ফেরায় হল্যান্ডের কোচ বার্ট ফন মারউইক যখন কাকে রেখে কাকে নামাবেন ভাবছেন, ব্রাজিল কোচ দুঙ্গাকে তখন মাঝমাঠ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে—কাকে যে মাঠে নামাই!
এলানো ইনজুরিতে পড়েছেন আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ম্যাচে। সেই ম্যাচেই লাল কার্ড দেখেছিলেন কাকা। পর্তুগালের ম্যাচে কাকার জায়গায় নেমেছিলেন ব্যাপ্টিস্টা। কিন্তু চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যেতে হয় তাঁকেও। মেলোর জন্যও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল পর্তুগালের ম্যাচটি। মেলোর চোট চিলির বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে রামিরেসকে সুযোগ করে দিয়েছিল শুরুর একাদশে খেলার। কিন্তু প্রথম ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখা রামিরেস চিলির বিপক্ষে আবার দেখলেন হলুদ কার্ড। ওয়েবসাইট।
কাকা আর জিলবার্তো সিলভার সঙ্গে ব্রাজিলের মাঝমাঠে আজ তাহলে আর দুজন কারা? এমন নয় যে, ব্রাজিল আর কোনো মিডফিল্ডার নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যায়নি। প্রশ্নটা হচ্ছে, হাতে থাকা হোসেয়ু আর ক্লেবারসনের ওপরে কতটা নির্ভর করা যায়। ডিফেন্ডার হুয়ানের ব্রাজিলের বেঞ্চের ওপরও বড় আস্থা, ‘আমরা একটা গ্রুপ। এর ওপর ভিত্তি করেই কাজ করি আমরা। কোনো সমস্যা হবে না বলেই মনে করি আমি।’

যেভাবে রবিনহোর প্রত্যাবর্তন

কার্লোস দুঙ্গা যা-ই করেন, ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গালি দেয়। বিশ্বকাপের জন্য যখন দল ঘোষণা করলেন, তখনো গালি ছুটে এল। কেউ বললেন, রোনালদিনহো নেই কেন? কেউ প্রশ্ন করলেন, পাতো কেন দলে নেই? আবার কারও চিৎকার, ‘বাতিল’ রবিনহো কেন বিশ্বকাপ দলে!
দুঙ্গা কখনোই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে উৎসাহ দেখান না। জবাবটা মাঠে দিতেই পছন্দ যেন তাঁর। সেই জবাবটা তাঁর হয়ে দেওয়া শুরু করেছেন রবিনহো। যে রবিনহোকে সংবাদমাধ্যম বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল, যে রবিনহো ইনজুরি আর ফর্মহীনতার সঙ্গে লড়তে লড়তে ফিরে এসেছিলেন ব্রাজিলের সান্তোসে; সেই রবিনহো বিশ্বকাপ শুরু হতেই স্বমহিমায় আবির্ভূত। এখন তো দুঙ্গার কথা বলার পালা।
কথা দুঙ্গা বলছেন। তাঁর সমালোচকেরাও বিস্মিত হয়ে শুনছেন। সবার বিস্ময়, সেই পুরোনো রবিনহোকে কীভাবে ফিরিয়ে আনলেন! দুঙ্গা প্রথমে একটু রহস্য রেখেই বললেন, ‘আমরা আসলে আমাদের কাজের ফল দেখতে পাচ্ছি।’
কৈশোরেই সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার পেলের সঙ্গে তুলনা শুনে বড় হয়ে উঠেছেন রবিনহো। আর কেউ নন, স্বয়ং পেলে তুলনাটা করেছিলেন। সান্তোসের পর রিয়াল মাদ্রিদে এসেও এই নামের ভারটা বহন করে যাচ্ছিলেন। ২০০৩ সালে জাতীয় অভিষেকের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকেও দেখিয়েছেন, কেন তাঁকে পেলের সঙ্গে তুলনা করা হয়।
কিন্তু নিজেই কী যেন করে ফেললেন নিজেকে। ২০০৮-০৯ মৌসুমে দুনিয়াকে চমকে দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিলেন। সেখানে শুরুতে নিজের ঝলক দেখালেও, আস্তে আস্তে দলের মতো বিবর্ণ হয়ে পড়লেন।
রবিনহোকে ফেরালেন দুঙ্গা। কীভাবে ফেরালেন, সেই তথ্যটাও এবার জানিয়ে দিলেন, ‘রবিনহো বিভিন্ন পজিশনে খেলছে। ও আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘‘আমার ভূমিকাটা কী হবে?’’ আমি বলেছিলাম, ‘‘তুমি কি এখনকার পজিশনে অস্বস্তিতে ভুগছ? তাহলে বলো, তুমি কোথায় খেলতে চাও?’’ ও বলল, ‘‘না, আমি স্রেফ মাঠে নেমে দলের জন্য কিছু করতে চাই।” আসলে দ্রুত চিন্তা করতে পারা এবং প্রতিভাধর খেলোয়াড়েরা যেকোনো পজিশনে খেলতে পারে।’
আর এই ‘যেকোনো পজিশনে’ খেলার স্বাধীনতা দিয়েই পুরোনো রবিনহোকে ফিরিয়ে আনলেন দুঙ্গা।

কাঠগড়ায় রোনালদো

কোচের সঙ্গে দলের মূল খেলোয়াড়দের শীতল সম্পর্কই কি তবে পর্তুগালের ব্যর্থতার কারণ? স্পেনের বিপক্ষে দল হারার পর থেকে যা ঘটছে, তাতে তো মনে হচ্ছে তেমনটাই। ম্যাচশেষে কোচ কার্লোস কুইরোজকে খোঁচা মেরে অসন্তুষ্টিটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার উল্টো রোনালদোর দিকেই তোপ দাগালেন কুইরোজ।
কুইরোজ প্রশ্ন তুলছেন পর্তুগালের প্রতি রোনালদোর নিবেদন নিয়েই, ‘পর্তুগালের রোনালদোকে প্রয়োজন। কিন্তু কেউ (পড়ুন রোনালদো) যদি জাতীয় দলের জার্সিটার মূল্য না বোঝে তাহলে অন্তত আমি যত দিন আছি, তাঁর এখানে থাকারই প্রয়োজন নেই। কেউ একজন নিজেকে জাতীয় স্বার্থের চেয়েও ওপরে রাখবে, এটা হতে দেওয়া যায় না।’ রোনালদোর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা কখনোই সহজ ছিল না, এমন অভিযোগেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে অ্যালেক্স ফার্গুসনের সাবেক সহকারী কুইরোজ, ‘আমি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে চাই না, চাই তার শ্রদ্ধা। আমি আমার খেলোয়াড়দের আরও ভালো করতে চাই।’
শুধু রোনালদো নয়, এর আগে কুইরোজকে নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ডেকোও। স্পেনের বিপক্ষে হারের পর যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল দলে বোঝাপড়া ঠিক আছে কি না, ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার বলেছিলেন, ‘খেলোয়াড়দের মধ্যে আছে।’ ইঙ্গিতটা পরিষ্কার, কোচের সঙ্গে নেই!
এর আগেও বাছাইপর্বে রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন কুইরোজ। দল বাদ পড়ার পর পর্তুগালের মিডিয়াতেও রোনালদোর কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। তবে সাবেক ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার পাশে পাচ্ছেন তাঁর ক্লাব দলের নতুন কোচকে। স্বদেশি কুইরোজকে স্বভাবসুলভ খোঁচা দিয়েই মরিনহো বলেছেন, ‘আমার দলে যখন আমরা জিতি, তখন সবাই জিতি; কিন্তু যখন হারি, তখন শুধু আমি হারি। দায়ভার আমি নিই। আমি কখনোই পরাজয়ের দায়ভার রোনালদোর ওপর চাপাব না। আমার মনে হয় রোনালদোর আপাতত নিজের মতো করে আরামে ছুটিটা উপভোগ করা উচিত।

অনেক কাঁটা সরিয়ে

বিশ্বকাপ কতজনকেই তো কত কিছু দিচ্ছে। কাউকে ইতিহাসের অংশ বানিয়ে দিচ্ছে, কাউকে দিচ্ছে তারকাখ্যাতি। লিওনেল মেসি, মেসুত ওজিল বা টমাস মুলারদের মতো তারকাখ্যাতি নেলসন ভালদেস পাননি। তবে ব্যক্তিগত কিছু না পেলেও পুরো দলের সঙ্গে তিনিও হয়ে গেছেন ইতিহাসের অংশ। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠেছে তাঁর দেশ প্যারাগুয়ে।
শুধু কি বিশ্বকাপ, আসলে ফুটবলই ভালদেসকে অনেক দিয়েছে। বিশ্বকাপ তো চার বছরে একবার আসে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টের আগেই প্যারাগুয়ের এই স্ট্রাইকারের জীবনে ফুল ফুটিয়েছে ফুটবল। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে ফুটবল গৃহহীন ভালদেসকে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে। দিয়েছে দুবেলা দুমুঠো খাওয়ার নিশ্চিত নির্ভরতা।
প্যারাগুয়ের কাগুয়াজুতে জন্ম নেওয়া ভালদেসকে ছোটবেলা থেকেই লড়তে হয়েছে ক্ষুধা-তৃষ্ণা আর দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। গরিব মা-বাবার সন্তান, নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে জন্ম নেওয়ায় ছোট্টবেলায়ই জীবনসংগ্রামে নেমে পড়তে হয় ভালদেসকে। শৈশবের উদ্দীপনা নিয়ে অন্যরা যখন নিয়মিত স্কুলে যেত, ভালদেস দূরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ত—‘ইস্, যদি আমিও পারতাম!’ বিকেলে সমবয়সীরা যখন ফুটবল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ত, ছোট্ট ভালদেসকে করতে হতো দুমুঠো খাবারের অন্বেষণ।
কিন্তু এর মধ্যেও ফুটবল তাঁকে টানত চুম্বকের মতো। ফুটবলের টানে প্যারাগুয়ের টিমবিয়েত্রে ক্লাবের আশপাশে ঘুরঘুর করত ১৫ বছর বয়সী ভালদেস। স্টেডিয়ামে বাক্স কুড়াতেন, তা বিক্রি করেই মিটত ক্ষুধা। আর রাতে ঘুমটাও হতো স্টেডিয়ামের ভেতরেই। এভাবেই ক্লাবটার সঙ্গে এক ধরনের সখ্য গড়ে ওঠে ভালদেসের। এক দিন টিমবিয়েত্রে ক্লাবে একজন নিরাপত্তাকর্মীর প্রয়োজন পড়ে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ ভাবে, ছেলেটা যখন স্টেডিয়ামেই ঘুমায়, সে-ই তো কাজটা করতে পারে!
কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে খেলতেও শুরু করে ছেলেটি। রাতে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করে, দিনের বেলা সময় পেলেই বল নিয়ে মাঠে নেমে পড়ে। আস্তে আস্তে ফুটতে থাকে ছেলেটির ফুটবল-প্রতিভাও। একসময় সুযোগ পেয়ে যান এই ক্লাবেরই যুবদলে। সেই শুরু ভালদেসের, এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
জীবনে যা কিছু সুযোগ পেয়েছেন, সেটিই কাজে লাগিয়েছেন ঠিকমতো। বদলে গেছে জীবনটাই। একদিন যে ভালদেস একমুঠো খাবারের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন, সেই তিনিই এখন যা ইচ্ছে খেতে পারেন, যেখানে ইচ্ছে যেতে পারেন। একদিন যে ভালদেস একটু শান্তিতে ঘুমানোর জন্য উষ্ণ একটা জায়গা খুঁজতেন, সেই ভালদেসের এখন ঘুমানোর জায়গার অভাব নেই।
এই সবকিছুই ভালদেসকে দিয়েছে ফুটবল। ফুটবলের ঋণ ভালদেস কখনোই ভুলবেন না, ‘আমার জীবনে যা কিছু পেয়েছি, তা ফুটবলের কল্যাণেই। ফুটবলের কাছে আমি ঋণী।’ ফুটবলের মতো জীবনে যে কষ্টের পথ ফেলে এসেছেন পেছনে, সেটাও ভুলতে চান না ভালদেস। ফেলে আসা এই কণ্টকাকীর্ণ পথই যে তাঁর প্রেরণা, ‘কষ্টের এই জীবন নিয়ে আমার কোনো দুঃখ নেই। অনেক মানুষ বা অনেক ফুটবলারের চেয়েই আলাদা হলেও এটাই আমাকে গর্বিত করে। আমাকে ভালো কিছু করতে উৎসাহ দেয়।’

শুরু করলেন শোয়েনস্টাইগার

চার বছর আগে স্নায়ুক্ষরা কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ‘মারমুখী’ আচরণ দেখেছিলেন। বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার বলছেন, চার বছর পরও আর্জেন্টিনার নাকি স্বভাব পাল্টায়নি। মাঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় কিংবা রেফারিদের প্রতি যথেষ্ট সম্মান আর্জেন্টিনা দেখায় না বলেই অভিযোগ এই জার্মান মিডফিল্ডারের।
‘আমি খেয়াল করে দেখেছি মাঠে আর্জেন্টাইনরা যে আচরণ করে, রেফারির উদ্দেশে ওদের যা ভাবভঙ্গি, সেটি মোটেও সম্মানজনক কিছু নয়’—বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সমালোচনার শুরুটা এভাবেই করেছেন শোয়েনস্টাইগার। কথার ঝাঁজ বেড়েছে ক্রমান্বয়ে।
গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি নিজেও ছিলেন। ওই ম্যাচে রবার্তো আয়ালার গোলে ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। এমন সময় মিরোস্লাভ ক্লোসা সমতায় ফেরান স্বাগতিকদের। ম্যাচ অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও অনিষ্পন্ন থাকে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকার। এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোর শট জার্মান গোলরক্ষক জেন্স লেম্যান ঠেকিয়ে দিলে আর্জেন্টিনার বিদায় নিশ্চিত হয়। এর পরই দুই পক্ষের খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় একরকম হাতাহাতি।
শোয়েনস্টাইগারের দাবি, উত্তেজনার বারুদে প্রথম আগুন আর্জেন্টাইনরাই দিয়েছিল, ‘আমাদের এখনো ওই ম্যাচের কথা মনে আছে। পেনাল্টির সময় আমি বেঞ্চে ছিলাম। সেদিনের ম্যাচ সম্পর্কে আমার স্মৃতিতে সবচেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে হাতাহাতির ঘটনা, যেটার শুরু করেছিল আর্জেন্টাইনরাই।’
আর্জেন্টিনা-মেক্সিকো ম্যাচের উদাহরণ টেনে জার্মানির সহ-অধিনায়ক বলেছেন, আগামীকালের ম্যাচেও আর্জেন্টিনা তাদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করবে। সতীর্থদের তাই তিনি সাবধান করে দিয়েছেন সেই ফাঁদে যেন তারা পা না দেয়, ‘এই ম্যাচ জেতার সব রসদই আমাদের হাতে আছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছি, সেই খেলাটা খেলতে পারলে আমরাই জিতব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ওদের উসকানিতে পাল্টা জবাব বা কোনো রকম সাড়া আমাদের দেওয়া যাবে না। আশা করি, রেফারি তীক্ষ নজরও রাখবেন। মেক্সিকো-আর্জেন্টিনা ম্যাচের সময় যা দেখেছি, সেটি আবারও ঘটতে পারে।’
খেলোয়াড় তো বটেই, আর্জেন্টিনার দর্শকেরাও দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি, ‘তাকালেই দেখবেন, আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা স্টেডিয়ামের একটা জায়গায় জড়ো হয়ে চেঁচামেচি শুরু করে। এখান থেকেই তাদের মানসিকতা আর চরিত্র বোঝা যায়।’
মেসি প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাড়াবাড়ি রকমের ফাউলের শিকার হচ্ছেন বলে আর্জেন্টাইন শিবির থেকে দাবি করা হচ্ছে। মেসির প্রতি রেফারির বাড়তি মনোযোগও দাবি করেছেন ম্যারাডোনা। এ ব্যাপারেও সাংবাদিকেরা জানতে চেয়েছিল শোয়েনস্টাইগারের কাছে। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক, আপনি যদি বেশিক্ষণ বল পায়ে রাখেন, তা হলে আগে-পরে যেকোনো সময় ফাউলের শিকার তো হবেনই। তবে ইচ্ছে করে প্রতিপক্ষকে আমরা ফাউল করি না। এটি আমাদের চরিত্রের সঙ্গে মানায় না।’

হারকিউলিসের সামনে সুয়ারেজ

গত বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার পর ঘানার এক ফুটবলার জার্সি খুলে দেখালেন তাঁর বুকে লেখা, ‘রক অব জিব্রাল্টার’। ঘানায় তাঁকে ওই নামেই ডাকা হতো। ওই নামের সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে আরেকটি নাম ‘দ্য পিলার অব হারকিউলিস’।
জন মেনশার নামগুলোর পেছনে সুঠাম দেহ তো একটা ভূমিকা রেখেছেই, তবে এমন নামগুলো সার্থকতা পেয়েছে বছরের পর বছর ধরে ঘানার ডিফেন্সে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য। ২০০১ এক সালে ১৯তম জন্মদিনের সাত দিন পর অভিষেক, সেই থেকেই ঘানার ডিফেন্স সামলাচ্ছেন দারুণ আস্থায়। মেনশাকে বলা হয় ঘানা দলটার মেরুদণ্ড। গত বছর দুয়েক দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও তাঁর হাতে। গত দুটি আফ্রিকান নেশনস কাপে ছিলেন সেরা তিন ফুটবলারের একজন। এই বিশ্বকাপে এত কম গোল করেও যে ঘানা আজ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে, এতে বড় অবদান মেনশার নেতৃত্বে ঘানার ডিফেন্সের। এএফপি।
এই ডিফেন্সে চিড় ধরাতে আজ চেষ্টার কোনো কমতি রাখবেন না লুইস সুয়ারেজ। আয়াক্স আমস্টারডামের হয়ে এ মৌসুমে ৪৮ ম্যাচে ৪৯ গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছিলেন, কিন্তু ডাচ লিগ ইউরোপের শীর্ষগুলোর একটি নয় বলে সেভাবে ঠিক আলোচনা হয়নি তাঁকে নিয়ে। কিন্তু আলো ছড়িয়েছেন বড় মঞ্চেও। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাঁর দুই গোলেই জিতেছে উরুগুয়ে, এর একটি আবার টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা। ৪০ বছর পর দলকে সেমিফাইনালে তুলতে আজ আবারও জ্বলে উঠতে হবে সুয়ারেজকে।

স্বপ্নপূরণ হবে লুগানোর

বিশ্ব ফুটবলে বড় তারকাখ্যাতি হয়তো জোটাতে পারেননি। তবে ডিয়েগো লুগানো তাঁর দেশে বেশ জনপ্রিয়। উরুগুয়ের রক্ষণভাগের নেতা হতে পারেন, কিন্তু ডিয়েগো দেখতে অনেকটা মডেলদের মতো। আর তাই মন্টেভিডিওতে বড় পর্দায় তাঁকে দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন নারী ভক্তরা!
বয়স ২৯। গতি তেমন নেই। বড় সম্পদ উচ্চতা। ৬ ফুট ১ ইঞ্চির লুগানো বাতাসে খুব ভালো। যেটি ব্যবহার করে দলকে টেনে নিতে রাখছেন বড় অবদান। ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে উরুগুয়ের স্বপ্ন আরও সামনে যাওয়া। প্রতিটি ম্যাচের আগে উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট হোসে মুজিকা ফোন করে সেটাই মনে করিয়ে দেন লুগানোকে।
কোচ অস্কার তাবারেজের প্রিয় পাত্রও এই লুগানো। ২০০৬ সালে উরুগুয়ে দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই লুগানোকে পছন্দ হয়ে যায় তাঁর। অধিনায়কত্ব দেন লুগানোকে। সেই আস্থার প্রতিদানই এখন পাচ্ছেন উরুগুয়ের কোচ।
প্রতিপক্ষ কোচরাও লুগানোয় মুগ্ধ। ২০০৭ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে উরুগুয়ের বিপক্ষে জেতার পর ব্রাজিল কোচ কার্লোস দুঙ্গা দরাজ গলায় সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন, ‘লুগানো দারুণ এক ডিফেন্ডার।’
২০০৬ থেকে তুর্কি ক্লাব ফেনারবাচে খেলছেন। জিতেছেন দুটি লিগ শিরোপা। লুগানো কেমন ডিফেন্ডার, সেটি শুধু এই তথ্য দিয়েই বোঝানো যাচ্ছে না। বাছাইপর্বে ব্রাজিলের কাছে ০-৪ গোলে হেরে যায় উরুগুয়ে, বহিষ্কৃত থাকায় ওই ম্যাচে খেলতে পারেনি লুগানো। বিশ্বকাপের টিকিট পেতে প্লে-অফে তাঁর গোলেই কোস্টারিকার বিপক্ষে মহামূল্যবান ম্যাচ জিতেছিল দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
এবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ে একটিও গোল খায়নি। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডে দক্ষিণ কোরিয়া ১-১ করেছিল উরুগুয়ের রক্ষণদেয়াল ভেঙে। লি চুংয়ের করা সেই গোলে দায় ছিল লুগানোরও। তিন সন্তানের বাবা লুগানো ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘পেনাল্টির কথা ভেবে আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাইনি। ডিফেন্সেও আমি কোনো সতীর্থের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।’ ওই ম্যাচে তার পরও উরুগুয়ে ২-১ গোলে জিতছে লুইস সুয়ারেজের দুর্দান্ত গোলে। এরপর তো শেষ আটেই উঠে গেল উরুগুয়ে। এ রকম কিছু যে হবে, সেটা যেন আগেই অনুমান করতে পেরেছিলেন লুগানো। গত জানুয়ারিতে বলেছিলেন, ‘আমরা মানুষকে চমকে দিতে পারি এবং আমরা সম্ভবত সেমিফাইনাল-ফাইনালেও যেতে পারি। ওই পর্যন্ত যাওয়ার সামর্থ্য আছে আমাদের।’ আজকের ম্যাচে বোঝা যাবে, তাঁর অনুমান কতটা নির্ভুল ছিল!

ব্রাজিলকে পেয়ে খুশি ফন ডার ভার্ট

একমাত্র দেশ হিসেবে খেলেছে সব কটি বিশ্বকাপ। সাতবার ফাইনালে খেলে পাঁচবারই জিতেছে শিরোপা। বিশ্বের সেরা পরাশক্তি ব্রাজিলকে সমীহ করা, বিশ্বকাপ-মঞ্চে সাম্বাদের এড়িয়ে যাওয়া—এসব প্রার্থনা করে সবাই। ফন ডার ভার্ট সেখানে দারুণ ব্যতিক্রম। তিনি কিনা ব্রাজিলকে শেষ আটে পেয়ে খুশিই!
আজ পোর্ট এলিজাবেথে কোয়ার্টার ফাইনালে হল্যান্ডের প্রতিপক্ষ দুঙ্গা-কাকাদের ব্রাজিল। ব্রাজিলকে পেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুরই তুলছেন হল্যান্ডের মিডফিল্ডার ফন ডার ভার্ট। কারণ তাঁর দৃষ্টিতে ব্রাজিল নয়, শিরোপার প্রশ্নে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা আর ভিসেন্তে দেল বস্কের স্পেনই পরিষ্কার ফেবারিট। ব্রাজিল ‘মহারণে’ নামার আগে জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএকে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এবং স্পেনই ফেবারিট।’
২৭ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ফন ডার ভার্ট খেলেন রিয়াল মাদ্রিদে। সেখানে ম্যারাডোনার প্রধান গোলমেশিন গঞ্জালো হিগুয়েইন তাঁর সতীর্থ। ক্লাব সতীর্থ বিশ্বমঞ্চেও ভালো খেলছেন, ইতিমধ্যেই করেছেন ৪ গোল। হিগুয়েইনের এই সাফল্যে ফন ডার ভার্ট দারুণ খুশি, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। আমি পাপার (হিগুয়েইন) জন্য খুশি যে তারা (আর্জেন্টিনা) ভালো করছে।’
২০০৪ ও ২০০৮-এর ইউরো এবং ২০০৬ বিশ্বকাপ খেলা এই মিডফিল্ডার খেলেছেন গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই। কিন্তু মাংসপেশিতে চোট পাওয়ায় স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে ছিলেন দর্শক। আশা করছেন, সুস্থ হয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে ঠিকই খেলতে পারবেন তিনি।
ফন ডার ভার্ট ফেরা মানেই একাদশ নির্বাচনে কোচ ফন ডার মারউইকের মধুর বিড়ম্বনা। ওয়েসলি স্নাইডার, আরিয়েন রোবেন, ডির্ক কিউট এবং ফন ডার ভার্ট—এই চারজনের মধ্য থেকে মারউইককে বেছে নিতে হবে তিনজনকে। কাকে বসাবেন কোচ?
চার ম্যাচের চারটিতেই জয়। তবে ০-২ গোলে হারলেও স্লোভাকিয়া লড়াই করে গেছে শেষ পর্যন্ত। ভার্টও স্বীকার করেছেন, স্লোভাকিয়ার ম্যাচটি কঠিন ছিল। কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে তাই সতর্ক ৮১ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই মিডফিল্ডার, ‘আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে, বিশেষ করে আক্রমণে।’

পাল্টা জবাব ম্যারাডোনার

শোয়েনস্টাইগার যেসব মন্তব্য করেছেন, তার যেকোনো একটি ম্যারাডোনার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে প্রথম প্রথম সাংবাদিকেরা তাঁর কানে তুললেও সেটিকে খুব একটা পাত্তা দেননি আর্জেন্টাইন কোচ। তবে বেশিক্ষণ চুপও থাকতে পারলেন না। জার্মান মিডফিল্ডারের দিকে তাঁর পাল্টা তোপ—‘শোয়েনস্টাইগার আসলে নার্ভাস হয়ে পড়েছে।’
২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালটাকে পুঁজি করে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে জার্মানি। সহ-অধিনায়ক শোয়েনস্টাইগার, কোচ জোয়াকিম লো, অধিনায়ক ফিলিপ লাম থেকে শুরু করে ম্যানেজার অলিভার বিয়েরহফ সবারই একটা মন্তব্য, আর্জেন্টিনা আসলে হারটাকে মেনে নিতে জানে না। এ নিয়ে মারধর করে!
ম্যারাডোনা নিজেও একবার কেঁদেছেন জার্মানির কাছে বিতর্কিত পেনাল্টিতে ১৯৯০-এর ফাইনাল হেরে। তবে পোড়-খাওয়া অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বলছেন, ‘শোয়েনস্টাইগার কী বলল, সেটি নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো সময় আমাদের হাতে নেই। ছেলেরা নিজেদের নিয়েই ভাবছে। ওরা পেনাল্টি কিক, পরাজয় সহজভাবে নেওয়ার মানসিকতা নেই—এসব নিয়ে কী বলল, আমার তাতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। প্রতিটি ম্যাচই একেকটি আলাদা খেলা। এই ম্যাচটাও আলাদা, কারণ এবার আমরা ওদের আক্রমণের পর আক্রমণ করে ছিন্নভিন্ন করে দেব। এ কারণেই ওরা আসলে নার্ভাস হয়ে পড়েছে।’
এর পর ম্যারাডোনা-সুলভ কায়দায় সরাসরি তাকিয়েছেন ক্যামেরার দিকে। জার্মান উচ্চারণ নকল করার ভঙ্গিতে বলেছেন, ‘তোমার সমস্যা কী শোয়েনস্টাইগার? তুমি কি নার্ভাস!’

রোবেনের সামনে ‘মানব-পর্বত’

বিশ্বকাপে দল ৩৬০ মিনিট খেলেছে, তিনি খেলতে পেরেছেন মাত্র ৮৮ মিনিট। কিন্তু আরিয়েন রোবেন এটুকুতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন ইনজুরিতে অনিশ্চিত হওয়ার পরও তাঁকে দলে রেখেছিলেন কোচ, রোবেনকে ছাড়াই সবার আগে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করার পরও কেন তাঁর জন্য হল্যান্ড কোচের কণ্ঠে ছিল এত হাহাকার। বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তাঁকে বলা হয় হল্যান্ড দলের অক্সিজেন।
গ্রুপের শেষ ম্যাচে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ৭৩ মিনিটের সময় বিশ্বকাপে প্রথম মাঠে নেমেই অবদান রেখেছিলেন দলকে জয় এনে দেওয়া গোলে, তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ফিরতি বলে গোল করেন ইয়ান ক্লাস হান্টলার। পরের ম্যাচে সেরা একাদশে ফিরলেন। এবার আর করানো নয়, নিজেই অসাধারণ এক গোল করে হলেন ম্যাচ-সেরা। তবে রোবেনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা আজ।
পুরো দেশের প্রত্যাশা নিয়ে এই উইঙ্গার আজ এমন এক দেশের বিপক্ষে মাঠে নামবেন যাদের রক্ষণভাগ দুর্ভেদ্য ও সুরক্ষিত এক দুর্গ। সবচেয়ে বড় কথা, গোল পেতে হলে রোবেনকে আজ ডিঙাতে হবে আস্ত একটা পর্বত! ব্রাজিলের ডিফেন্সে এমন একজন আছেন, দীর্ঘদেহ আর অবিচল আস্থায় ক্লাব ও দেশের রক্ষণ সামলানোর জন্য যাঁর নামই হয়ে গেছে ‘মানব পর্বত’। দলের অধিনায়কও তিনি, লুসিও। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে ইন্টার মিলানের ট্রেবল জয়ে বড় ভূমিকা রাখা লুসিও বিশ্বকাপেও খেলছেন অসাধারণ। শুধু রোবেনই নয়, স্নাইডার, পন পার্সিদেরও আজ কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে এই পর্বতের সামনে।

সামান্য সহানুভূতিও পাচ্ছে না নাইজেরিয়া দল

বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ হয়ে দুই বছরের জন্য নাইজেরিয়া ফুটবল দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথন। প্রেসিডেন্টের এই নিষেধাজ্ঞার পর নিশ্চয়ই সহানুভূতি প্রত্যাশা করেছিল নাইজেরিয়ার দল। তবে কারও ন্যূনতম সহানুভূতিটুকুও পাচ্ছে না তারা। ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে এতটাই ক্ষুব্ধ যে সরকার, বিরোধী দল, মিডিয়া, সমর্থক—একই কাতারে দাঁড়িয়েছে সবাই। এবার যেন নাইজেরিয়া দলকে একটা শিক্ষা দিয়েই ছাড়বেন সবাই।
সরকার শেষ পর্যন্ত ফুটবল দলের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে, এটা একটা ভালো লক্ষণ—ফুটবলারদের প্রতি আস্থা হারিয়ে রয়টার্সকে বলছিলেন নাইজেরিয়ার সরকারি কর্মচারী বেঞ্জামিন সিদেব্রে। ৫৪ বছর বয়সী সুরকার ইকুজেনিয়োর ক্ষোভটা যেন আরও বেশি। স্কুলপড়ুয়া ছাত্রদের সঙ্গে নাইজেরিয়ার ফুটবলারদের তুলনা করেছেন তিনি। ইকুজেনিয়ো বলছেন, ‘এ ধরনের খেলা স্কুলের ছেলেরা খেলে। একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকে ফুটবলারদের শুরু করা উচিত।’ আরেক সমর্থক বলছেন, ‘নাইজেরিয়ার ফুটবলারেরা যেভাবে খেলছেন, তাতে নিষেধাজ্ঞাটা আরও বাড়ানো উচিত। সাবেক সামরিক শাসক ক্ষমতায় থাকলে শাস্তিটা একটু বেশিই হতো।’
নাইজেরিয়ার প্রায় সব সংবাদপত্র ফুটবল দলের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছে। তারা মনে করছে, বুড়িয়ে যাওয়া ও ক্লান্ত দলকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্তটি সঠিক। নাইজেরিয়া দলকে নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে ফিফা। তবে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সুর মিলিয়ে নাইজেরিয়ার বিরোধী দল অ্যাকশন কংগ্রেস বলছে, ‘ফিফা কী ভাবছে সেটা কোনো বিষয় নয়। নাইজেরিয়া ফুটবলের সোনালি অতীত ফিরে পেতে এ নিষেধাজ্ঞার বিকল্প ছিল না।’

তাঁদের চোখে সেরা

ব্রাজিল। এই ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করা কঠিন। অন্যবার ব্রাজিল তিন গোল করলে দুই গোল খেত। এবার ওদের রক্ষণ খুবই জমাট। দুঙ্গা ট্রফির জন্য লালায়িত হয়ে সুন্দর ফুটবল বিসর্জন দিয়েছেন—এমন সমালোচনা থাকলেও ব্রাজিল আসল কাজটা তো করে চলেছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক এই ব্রাজিলের খেলায় লাতিন আমেরিকা-ইউরোপ ঘরানা মিশে গেছে এবং অনেকের চোখে তা আগের মতো সুন্দরও নয়। তার পরও ব্রাজিল এখনো ব্রাজিলই।
গোল
ডিয়েগো ফোরলানের। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রায় ৩০-৩৫ গজ দূর থেকে গোলটি করেছিল উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। পরিপূর্ণ একজন স্ট্রাইকারের গোল এটি। বলটা বাঁক খাইয়ে জালে পাঠিয়েছে। ফোরলানের ওই গোলই উরুগুয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে নিয়ে এসেছে। মেক্সিকোর বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার তেভেজের দ্বিতীয় গোলটিও দারুণ। তবে ফোরলানের গোলটিই এক নম্বর।
খেলোয়াড়
ডেভিড ভিয়া। স্ট্রাইকার হলেও দলের স্বার্থে খেলছে উইংয়ে। গোল করে দলকে পার করে নিচ্ছে। স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালে আসার পেছনে ভিয়ার অবদানই ৬০ ভাগ। কদিন আগে আমার কলামে মেসিকে এগিয়ে রেখেছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টাইন তারকাকে টপকে গেছে ভিয়া।
ফ্লপ
ওয়েইন রুনি। আমার কোনো প্রত্যাশাই ছিল না, কিন্তু ইংলিশরা তো আশা করেছে ওর কাছে! সেটিতে ও জল ঢেলে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের ভরসা আসল সময়ে কিছুই করতে পারল না। রুনির নিষ্প্রভ ফুটবল দেখে ইংলিশরা হতাশ, আমিও।
অঘটন
জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ল্যাম্পার্ডের গোলটা না দেওয়া। একটা দল দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ২-২ হলে মনোবল ফিরে আসে। এই সময় পরিষ্কার গোল না পেলে দলের মনোবল আরও ভেঙে যায়। যার প্রভাবে দল ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং ইংল্যান্ড হয়েছেও। স্পেন-সুইজারল্যান্ড ম্যাচকে অনেকে অঘটন বলছেন। কিন্তু আমার চোখে ওটাঅঘটন নয়, এমন হতেই পারে।
মুহূর্ত
পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের পাসিং ফুটবল। ভিয়া জয়সূচক গোলটি করার আগের দশ মিনিট স্পেনের পাসিং আর আক্রমণাত্মক ফুটবল দারুণ উপভোগ করেছি। রাইট উইংব্যাক সার্জিও রামোসের ওপরে ওঠানামা ভুলি কী করে? যে গতিতে তখন পাসিং চলছিল এবং খেলোয়াড়েরা রিসিভ করছিল, যেন পায়ের সঙ্গে চুম্বক লাগানো আছে!
আপত্তি
জাবুলানি বল। এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বলটা এত বাঁক নিচ্ছে যে গোলরক্ষকদের পক্ষে এই বল আটকানো কঠিন। দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেনের ক্যাসিয়াসের মতো গোলরক্ষকের বুক থেকে বল বেরিয়ে গেছে। অনেক বাজে গোল তো হচ্ছেই। এটি নিয়ন্ত্রণ করা কখনো কখনো প্রায় অসম্ভব। টুর্নামেন্টের আরও এক-দেড় বছর আগে দলগুলোকে এই বল দিলে তারা অভ্যস্ত হতে পারত।
ভবিষ্যদ্বাণী
হল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল জিতবে। শতকরা সম্ভাবনা ব্রাজিল ৬৫, হল্যান্ড ৩৫। আর্জেন্টিনা-জার্মানি ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৫৫, জার্মানি ৪৫। ঘানা-উরুগুয়ে ম্যাচে উরুগুয়ে জিতবে, ৬০-৪০ বলতে পারেন। স্পেন-প্যারাগুয়ে ম্যাচে অবশ্যই স্পেন। স্পেন ৭০, উরুগুয়ে ৩০।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার খেসারত

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল হজমের খেসারত নাকি উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়েরা দিতে পারেন সরকারি কয়লাখনিতে শ্রম দিয়ে—রাজনৈতিক কারণে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া দেশটির জাতীয় দলের সাবেক কোচ মুন কি নামের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন শঙ্কাই প্রকাশ করেছে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।
উত্তর কোরীয় ফুটবলারদের এমন ভাগ্যবরণ করতে হয়েছে শুনলে মনে মনে নিজেদের ভাগ্যবানই মনে করতে পারেন ইংল্যান্ডের ফুটবলারেরা। কারণ ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোর তীক্ষ সমালোচনা ছাড়া আর তেমন কিছুই সইতে হয়নি তাদের।
গতকালই জানা গেছে, বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে নাইজেরীয় সরকার আগামী দুবছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাইজেরীয় সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত প্রায় সবাই।
১৯৯৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও গতবারের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়ায় দেশটির সংসদীয় তদন্ত কমিটির সামনে হাজিরা দিতে হয়েছে কোচ রেমন্ড ডমেনেখ ও ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানকে।
উত্তর কোরিয়া দলকে আদৌ কয়লাখনিতে কাজ করতে হবে কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সাবেক কোচ মুন কি নাম নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটিতে এমন পারফরম্যান্সের পর উত্তর কোরিয়া দল যদি বাকি দুটি ম্যাচেও সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখত তাহলে হয়তো উত্তর কোরীয় সরকার দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে একটি করে বাড়ি ও গাড়ি দিয়ে পুরস্কৃত করত। অঢেল অর্থ পুরস্কারের জোয়ারেও ভাসত দলের খেলোয়াড়েরা। কিন্তু পর্তুগালের বিপক্ষে সাত গোল ও আইভরিকোস্টের বিপক্ষে আরও তিন গোল হজম করায় কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়াতে সরকার যদি শাস্তি হিসেবে বিশ্বকাপ দলকে কয়লাখনিতে কাজ করতে বলে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।’ অতীতেও নাকি উত্তর কোরিয়ার অনেক ক্রীড়া দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্যর্থতার জন্য এমন শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।’
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত শাসক সাদ্দাম হোসেনের ছেলে উদে হোসেন ৯৮-র বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ ইরাকি দলকে শাস্তি দিয়েছিলেন ইলেকট্রিক বেত দিয়ে পিটিয়ে। সে সময় উদের সেই শাস্তি বিশ্বব্যাপী ঘৃণা ও ধিক্কারের জন্ম দিয়েছিল।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় সবচেয়ে করুণ খেসারত দিতে হয়েছিল কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারকে নিজের জীবন দিয়ে। ৯৪-র বিশ্বকাপে কলম্বিয়া-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে এসকোবার একটি আত্মঘাতী গোল করেছিলেন। সেই গোলেই হেরে কলম্বিয়াকে বিদায় নিতে হয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে। এসকোবার বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মাথায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। কোনো এক মাফিয়া ডন নাকি কলম্বিয়ার পক্ষে বাজি ধরে বিপুল অঙ্কের টাকা খুইয়েছিল। সেই ক্ষতির প্রতিশোধ সে নেয় ভাড়াটে গুন্ডাদের দিয়ে এসকোবারকে খুন করিয়ে।বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল হজমের খেসারত নাকি উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়েরা দিতে পারেন সরকারি কয়লাখনিতে শ্রম দিয়ে—রাজনৈতিক কারণে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়া দেশটির জাতীয় দলের সাবেক কোচ মুন কি নামের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন শঙ্কাই প্রকাশ করেছে একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা।
উত্তর কোরীয় ফুটবলারদের এমন ভাগ্যবরণ করতে হয়েছে শুনলে মনে মনে নিজেদের ভাগ্যবানই মনে করতে পারেন ইংল্যান্ডের ফুটবলারেরা। কারণ ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলোর তীক্ষ সমালোচনা ছাড়া আর তেমন কিছুই সইতে হয়নি তাদের।
গতকালই জানা গেছে, বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে নাইজেরীয় সরকার আগামী দুবছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাইজেরীয় সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত প্রায় সবাই।
১৯৯৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও গতবারের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়ায় দেশটির সংসদীয় তদন্ত কমিটির সামনে হাজিরা দিতে হয়েছে কোচ রেমন্ড ডমেনেখ ও ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধানকে।
উত্তর কোরিয়া দলকে আদৌ কয়লাখনিতে কাজ করতে হবে কি না, সেটা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও সাবেক কোচ মুন কি নাম নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটিতে এমন পারফরম্যান্সের পর উত্তর কোরিয়া দল যদি বাকি দুটি ম্যাচেও সেই পারফরম্যান্স ধরে রাখত তাহলে হয়তো উত্তর কোরীয় সরকার দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে একটি করে বাড়ি ও গাড়ি দিয়ে পুরস্কৃত করত। অঢেল অর্থ পুরস্কারের জোয়ারেও ভাসত দলের খেলোয়াড়েরা। কিন্তু পর্তুগালের বিপক্ষে সাত গোল ও আইভরিকোস্টের বিপক্ষে আরও তিন গোল হজম করায় কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়াতে সরকার যদি শাস্তি হিসেবে বিশ্বকাপ দলকে কয়লাখনিতে কাজ করতে বলে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই।’ অতীতেও নাকি উত্তর কোরিয়ার অনেক ক্রীড়া দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ব্যর্থতার জন্য এমন শাস্তি ভোগ করতে হয়েছে।’
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত শাসক সাদ্দাম হোসেনের ছেলে উদে হোসেন ৯৮-র বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ ইরাকি দলকে শাস্তি দিয়েছিলেন ইলেকট্রিক বেত দিয়ে পিটিয়ে। সে সময় উদের সেই শাস্তি বিশ্বব্যাপী ঘৃণা ও ধিক্কারের জন্ম দিয়েছিল।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় সবচেয়ে করুণ খেসারত দিতে হয়েছিল কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারকে নিজের জীবন দিয়ে। ৯৪-র বিশ্বকাপে কলম্বিয়া-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে এসকোবার একটি আত্মঘাতী গোল করেছিলেন। সেই গোলেই হেরে কলম্বিয়াকে বিদায় নিতে হয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে। এসকোবার বিশ্বকাপ থেকে দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মাথায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। কোনো এক মাফিয়া ডন নাকি কলম্বিয়ার পক্ষে বাজি ধরে বিপুল অঙ্কের টাকা খুইয়েছিল। সেই ক্ষতির প্রতিশোধ সে নেয় ভাড়াটে গুন্ডাদের দিয়ে এসকোবারকে খুন করিয়ে।