Thursday, March 24, 2011

‘নিউজিল্যান্ড বাড়তি প্রেরণাই পাবে’

বিশ্বকাপ খেলতে এসে দেশ থেকে বিরাট এক দুঃসংবাদ পেয়েছে নিউজিল্যান্ড দল। ক্রাইস্টচার্চে প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়েছে জনপদ। মারা গেছেন ৭৫ জনেরও বেশি, নিখোঁজ তিন শতাধিক। চকিতে, এই সংবাদ রীতিমতো স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো নিউজিল্যান্ড দলকে।
কাল নাগপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামবে কিউইরা। ট্রান্স তাসমানিয়ান লড়াইয়ের আগে এই ভূমিকম্পের চিন্তায় নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়েরা অস্থির থাকবেন, আর এই ফাঁকে অসিরা বাজিমাত করবে—এমন চিন্তা মাথায় না আনার জন্য অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়দের সাবধান করে দিয়েছেন ৮৭’র বিশ্বকাপজয়ী অসি অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার। তিনি বলেছেন, ‘এই খেলায় নিউজিল্যান্ডাররা একটু আবেগপ্রবণ থাকবে, সন্দেহ নেই। তবে সেই আবেগ কিউইদের শক্তি ও ভালো খেলার উজ্জীবনী শক্তি হিসেবে কাজ করবে।’
‘এমনিতেই নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে উজ্জীবিত থাকে, ক্রাইস্টচার্চের ভূমিকম্প ও এতে মৃতরা নাগপুরেও নিউজিল্যান্ডকে বাড়তি প্রেরণা জোগাবে।’ বলছিলেন বোর্ডার।
বোর্ডার আরও বলেন, ‘এর মানে এই নয় কোনো ঐশ্বরিক শক্তি নিউজিল্যান্ডকে শক্তি জোগাবে, কিন্তু ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া নিউজিল্যান্ডের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেও খেলোয়াড়েরা ভালো খেলার চেষ্টা করবে।’
ক্রাইস্টচার্চের এই ভূমিকম্পে ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির শিকার নিউজিল্যান্ডের ফিজিও ডেল শ্যাকল ইতিমধ্যেই চেন্নাই থেকে ক্রাইস্টচার্চে উড়ে গেছেন।

বাজারে সূচক এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে

সপ্তাহের চতুর্থ কর্মদিবসের লেনদেনে আজ বুধবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের সঙ্গে কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সময় বাড়ার সঙ্গে সূচক ধীরে ধীরে কমতে থাকে। দিন শেষে সূচক ১১২ পয়েন্ট কমে যায়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের সঙ্গে কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
ডিএসইতে আজ দিনের লেনদেন শেষে সাধারণ সূচক ১১০.৯৩ পয়েন্ট কমে ৬,৩৪০.৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ ডিএসইতে মোট ২৫৬টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ১৭৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। মোট লেনদেন হয়েছে ১,০৬৩ কোটি টাকার।
সিএসইর প্রেসিডেন্ট ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার খুব বেশি বাড়বে এমন আশা করাটা যেমন ঠিক নয়, তেমনি খুব বেশি যে কমে যাবে তাও নয়। নতুন কোন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার আসার আগ পর্যন্ত ধৈর্য হারানো হারানো ঠিক হবে না।
সিএসইতে আজ সূচক ১৭৩.২৮ পয়েন্ট কমে ১৮.০৩৮.৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আজ মোট ২০১টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ৬৩টির, কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। মোট লেনদেন হয়েছে ১১৯ কোটি টাকার।

এমজেএলের তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত কাল

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড তালিকাভুক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে কাল বৃহস্পতিবার। ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এমজেএলের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গতকাল মঙ্গলবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসইর তালিকাভুক্তির বিষয়টি কমিটি পরিচালনা পর্ষদের সভায় পাঠায়।
নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে হয়। এ নিয়ম অনুযায়ী ৩১ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তির সময়সীমা শেষ হবে।
এদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গত ২০ জানুয়ারি এ পদ্ধতিটি অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে স্থগিত করে এসইসি। ২৩ জানুয়ারি এমজেএল ও এমআই সিমেন্টের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এর মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করে ফেলে। এ জন্য আইনি জটিলতা এড়াতে শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠান দুটিকে আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়।
শর্ত দুটি হচ্ছে তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বরাদ্দমূল্যের চাইতে দর কমে গেলে কোম্পানি শেয়ার বাইব্যাক করবে। এ শর্ত মেনে প্রতিষ্ঠান দুটি আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বাইব্যাক বিষয়ে কোনো আইন না থাকায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে এসইসির পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এসইসির শর্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আজ নির্দেশ দেয় কমিশন।
এমআই সিমেন্ট: এ দিকে লেনদেন শুরুর ছয় মাস পর্যন্ত বরাদ্দমূল্যের চেয়ে বাজারমূল্য কমে গেলে প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে এমআই সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ। আজ শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত একটি চিঠি এসইসিতে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।

ডিএসইর নোটিশের জবাব দিয়েছে চার প্রতিষ্ঠান

শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দেওয়া নোটিশের জবাব দিয়েছে তালিকাভুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো দেশ গার্মেন্টস, জিকিউ বলপেন, আনলিমা ইয়ার্ন ও সাফকো স্পিনিং।
প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, তাদের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল্য সংবেদনশীল কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

গ্রামীণ ব্যাংক ও মুহাম্মদ ইউনূস by মোহীত উল আলম

ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে আমি প্রথম শুনি ১৯৬৪ সালে। আমি তখন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছি। তিনি একই স্কুল থেকে বহুকাল আগে পাস করেছিলেন। স্কুলের কারণে আমি তাঁর কথা শুনিনি, শুনেছিলাম অন্য একটি প্রসঙ্গে। ড. ইউনূস নাকি আমেরিকা থেকে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছিলেন। সে সময় ছিল ট্রাংক কলের যুগ। চট্টগ্রাম থেকে সামান্য দূরত্বে কাপ্তাইয়ে কথা বললেও ট্রাংক কলে কথা বলতে হতো। সে জায়গায় আমেরিকা থেকে কথা বলা! এখনকার ভাষায়, এটা তখন চট্টগ্রাম শহরের টক অব দ্য টাউন হয়েছিল।
ড. ইউনূস সম্পর্কে আমার মনে এখনো এ ঘোর লাগার ব্যাপারটা আছে। চট্টগ্রামের লোকেরা বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার লোকদের চেয়ে অনেক বেশি পরিবারবাদী লোক। সে জন্য ড. ইউনূস প্রথমে, এবং পরে তাঁর ভাইয়েরা একে একে সুনাম অর্জন করলে, পরিচয় একটাই থাকল যে এঁরা হাজি দুলা মিঞা সওদাগরের ছেলে। হাজি দুলা মিঞা সওদাগর, বলা বাহুল্য, তাঁর আমলে সবচেয়ে নামকরা স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন। পাঁচলাইশ এলাকায় তাঁর তৈরি নিরিবিলি নামে চারতলা বাড়িটি সৌন্দর্যে ও আভিজাত্যে একটি পথিকৃৎ বাড়ি ছিল। তিনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হলেও খুব কৃচ্ছ্র সাধন করে চলতেন। ড. ইউনূস তাঁকে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে দেওয়া একটি নাগরিক সংবর্ধনায় (তখনো তিনি নোবেল পুরস্কার পাননি) সশ্রদ্ধ চিত্তে পিতার এ গুণটির কথা স্মরণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তাঁর দারিদ্র্যমুক্তির ব্রত নেওয়ার পেছনে পিতার আজীবন চর্চাটি প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে আমার তেমন খোঁজখবর না থাকলেও, দুজন বন্ধুর কারণে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে আমার একটি দূর-সম্পর্ক বজায় থাকে। একজন হলেন জান্নাতে কাউনাইন, যিনি আমার ইংরেজিতে সহপাঠী ছিলেন। তিনি এখন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রচার দপ্তরের প্রাধ্যক্ষ। যখন মেয়েরা শিক্ষকতা করা ছাড়া অন্য কোনো চাকরির চিন্তা করত না, তখন জান্নাত গ্রামীণ ব্যাংকে যোগ দেন এবং দেখা হলেই গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালনের কথা বলতেন। শুনে ভালো লাগত যে জান্নাত ব্যাংকিং জগতে নারী কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। আজকাল ব্যাংকিংয়ে নারী ভূরি ভূরি, কিন্তু জান্নাতদের ওঠার সময় এ পদচারণ ছিল খুব ক্ষীণ।
আমার দ্বিতীয় বন্ধু হলেন এমদাদুল হক। তিনি মুহসীন হলে আমার রুমমেট ছিলেন। হিসাববিজ্ঞানের ছাত্র। পাস করে গ্রামীণ ব্যাংকে যোগ দেন। পরে চাকরি ছেড়ে আফ্রিকার কোনো একটা দেশে চাকরি করতে যান। একদিন এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হলেন। বাঁচা-মরার সন্ধিক্ষণে ড. ইউনূস ব্যাপারটি জানতে পেরে চিকিৎসার জন্য তাঁকে আমেরিকায় পাঠান। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর আমার সে বন্ধু মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলেও চিরজনমের জন্য পঙ্গু হয়ে যান। তাঁর কোমর থেকে নিচে আর কোনো স্পর্শবোধ থাকে না। ড. ইউনূস তাঁকে বিদেশ থেকে নিয়ে এসে গ্রামীণ ফান্ডের জিএম পদে নিয়োগ দিলেন। একটি সার্বক্ষণিক মাইক্রোবাসসহ দুজন পরিচারক দিলেন, যাঁরা তাঁকে হুইলচেয়ারে গাড়ি থেকে ওঠান এবং গাড়ি থেকে নামান। আমার এ বন্ধু ভয়ানক রকম পঙ্গু হলেও তাঁর জীবনযাত্রা কোথাও থেমে নেই। এ বন্ধুর স্ত্রী সরকারি দলের একজন নির্বাচিত সাংসদ।
তো এবার যখন ড. ইউনূসের সংকট যাচ্ছিল তখন গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্যোগে তাদের ভূমিকার পক্ষে অনলাইন প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। জান্নাতের মেইল প্রতিদিন পেতে লাগলাম—এ পেপার কাটিং, সে পেপার কাটিংয়ের। এর মধ্যে বেশির ভাগ হচ্ছে বিদেশের পত্রপত্রিকাগুলো—ড. ইউনূস ও তাঁর ব্যাংকের কী রকম সুখ্যাতি গাইছে, তার বিবরণ। একদিন এল আটলান্টা নামে অতি অল্প পরিচিত একটি পত্রিকার কাটিং। খানিকটা বিরক্ত হয়ে জান্নাতকে তাৎক্ষণিক একটি প্রত্যুত্তর দিলাম। বললাম, এটিই হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রচার-ধারণার সমস্যা। গ্রামীণ ব্যাংক বা ড. ইউনূসকে নিয়ে বিদেশে, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশে—কোনো বিভ্রান্তি নেই। বিভ্রান্তি আছে দেশের ভেতরে (ফেসবুকে অনেকে আমাকে এই বিভ্রান্তির কথা জানাচ্ছেন। একজন ১৯ বছরের বান্ধবী বলেছেন, কোনটা সত্য বুঝতে পারছেন না)। বললাম, প্রধানমন্ত্রী যখন ধারণা করলেন যে গ্রামীণ ব্যাংক গরিব লোকদের রক্ত চুষে ব্যবসা করছে, তখন ড. ইউনূস বা গ্রামীণ ব্যাংক প্রামাণিক জবাব দেওয়ার পথে না গিয়ে ড. ইউনূস টিভিতে এসে বললেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত এবং এটা প্রকাশ করার তাঁর অধিকার আছে। অথচ সাধারণ জ্ঞানে বলছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য একটি প্রতিনিধিত্বমূলক বক্তব্য, শুধু ব্যক্তিগত বক্তব্য হতে পারে না। দেশের একাংশের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে এই বিভ্রান্তি আছে বলে অনুরূপ বক্তব্য বের হয়ে এসেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে গ্রামীণ ব্যাংকের তরফ থেকে পত্রপত্রিকায় ও টিভিতে সয়লাব করে দেওয়া উচিত ছিল এমন এমন প্রতিবেদন, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝত যে এরা গরিবের রক্ত চোষে না, গরিবের হেফাজত করে।
গ্রামীণ ব্যাংকের সংকটটা তৈরি হয়েছে, আমার মতে, ইমেজ তৈরি করাতে তাদের ভুল ধারণা নিয়ে অগ্রসর হওয়াতে। ড. ইউনূস যখন ২০০৬ সালে নোবেল পুরস্কার পেলেন, তখন দেশের শক্তিশালী বামপন্থী কলামিস্ট বদরুদ্দীন উমর সমকাল পত্রিকায় এবং আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী তাঁর জনপ্রিয় কলামগুলোতে সিরিজ লিখে জাতিকে জানালেন, আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানে বিরাট অঙ্কের চাঁদা প্রদানের বিনিময়ে ড. ইউনূস নোবেলটা পান এবং ড. ইউনূসকে নাকি দেশে বিপ্লব প্রতিরোধ করার জন্য বিদেশি শক্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এঁদের দুজনের কলামে শুধু আবেগ থাকলে কথা ছিল না, ছিল যথেষ্ট যুক্তি, তর্ক ও তথ্য। এঁরা যে ড. ইউনূসকে বাজার অর্থনীতির ছায়ায় পুঁজিবাদী অর্থনীতির নব্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর প্রতিনিধি বলেছিলেন বা বলেছিলেন, দারিদ্র্য উপশমের নামে মানুষের প্রতিবাদী চেতনা হরণ করার প্রয়াসে নেমেছেন—তারও সুষ্ঠু জবাব আজ পর্যন্ত সাধারণভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে আমার চোখে পড়েনি।
এখন ড. ইউনূসকে হিলারি ক্লিনটনের পাশে বা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছবি ওঠাতে দেখে বাংলাদেশের শিক্ষিত উচ্চাকাঙ্ক্ষী মহল উল্লসিত বা ক্ষেত্রবিশেষে ঈর্ষান্বিত হতে পারে, কিন্তু এ ছবিগুলো ঠিক গ্রামীণ ব্যাংকের দারিদ্র্য দূরীকরণের দর্শনের পক্ষে কথা বলে মনে হয় না। যদি ধরেও নিই যে প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোতে ড. ইউনূসের ভূমিকার কারণে তাঁর ওপর আক্রোশ পোষণ করেন, তার পরও এ কথা তো থাকে যে তিনি যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, সে দেশের বেশির ভাগ লোক এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। দরিদ্র দেশের প্রধানমন্ত্রীর সে দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য নোবেলজয়ীর কাছে দু-একটি প্রশ্ন থাকতেও পারে। তাঁর প্রশ্নটি অন্যদের মনেও যে নেই, তা নয়।
এবারের সংকটের সময় একটি খবর এসেছে, ড. ইউনূসকে নিয়ে হয়রানির ব্যাপারে মার্কিন সিনেটর জন কেরি উদ্বিগ্ন। এটা যখন প্রচারিত হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে যে অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনাটি ছায়া ফেলে তা হলো, মার্কিন সিনেটররা কখনো তাঁদের স্বার্থ ছাড়া উদ্বিগ্ন হন না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জার একদিন আমাদের ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছিলেন। সেই অপমানটা আমরা গায়ে মাখার অনেক দিন পরে বুঝেছিলাম, ওই উক্তিটাতে শুধু শয়তানি ছিল না, ছিল সত্যের অপলাপও।
তাই জান্নাতকে লিখেছিলাম যে গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষে বিদেশি প্রচার যতই জোরদার হচ্ছে, ততই দেশের ভেতরের লোকের সন্দেহ বাড়ছে।
সাদা চোখে আরেকটা জিনিস ধরা পড়ে। দারিদ্র্যের জন্য কাজ করার সুবর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে বাংলাদেশ। ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প অনুসরণ করে গ্রামীণ ব্যাংক তো বটেই, অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও যথেষ্ট অর্থায়ন করছে পল্লিসমাজে। কিন্তু যে জিনিসটি বুঝতে পারি না, কেন ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আন্দোলনে দেশে দারিদ্র্যমোচনের প্রক্রিয়াটি কখনো সমুদ্রসমান দৃশ্যমান হলো না। রাস্তাঘাটে, গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে যেখানে যাই, এটা কখনো চোখে পড়ে না যে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রচেষ্টায় অমুক গ্রামটা দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে বা অমুক অঞ্চলের নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হয়েছে। আমি চোখে দেখিনি হয়তো আমার ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে, কিন্তু অন্যরা চোখে দেখছে, তা-ও বলতে বা লিখতে শুনি না। বাংলাদেশের অন্য যেকোনো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করলে পাঠক এ রহস্যাবৃত পার্থক্যটি বুঝতে পারবেন।
তবু আমি মনে করছি, গ্রামীণ ব্যাংক বা ড. ইউনূসের দারিদ্র্য দূরীকরণের স্বপ্নে কোনো অমহৎ কিছু নেই, কিন্তু আমার মনে হয়েছে, প্রচারকৌশলের মধ্যে তাঁদের যথেষ্ট দুর্বলতা রয়ে গেছে। তাঁরা ভেবেছেন, শুধু বিদেশি সার্টিফিকেটের ওপর নির্ভর করলে চলবে।
ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান হলে কথা ছিল না, কিন্তু যে প্রতিষ্ঠান নোবেল পেল, যাঁর কর্ণধারও নোবেল পেলেন, তাঁদের উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতির সংকটে, প্রাকৃতিক সংকটে, শিক্ষার সংকটে, যোগাযোগের সংকটে এবং সর্বোপরি খোদ দারিদ্র্য নিরসনের সংকটে চামচকাটা জল সিঞ্চনের মতো ভূমিকা পালন করলে একটা বিস্ময়বোধ জাগেই।
এ জন্যই প্রধানমন্ত্রীর মনে প্রশ্ন উঠেছে, এ জন্যই বাংলাদেশের মানুষ গ্রামীণ ব্যাংককে বুক পেতে গ্রহণ করতে পারছে বলে মনে হচ্ছে না।
মোহীত উল আলম: বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইংরেজি বিভাগ, ইউল্যাব।
mohit_13_1952@yahoo.com

ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে ওবামা

লিবিয়ায় হামলা শুরুর পর ঘরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলেছেন, লিবিয়ায় সামরিক হামলার আগে ওবামা কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেননি। সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, মার্কিন স্বার্থের জন্য লিবিয়া তেমন গুরত্বপূর্ণ নয়। তাই সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ ঠিক হয়নি। এটা ওবামার রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত।
চীন, রাশিয়া ও আরব লিগও লিবিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার সমালোচনা করেছে। তবে ওবামা লিবিয়ায় সামরিক হামলার সমর্থনে জোরালো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন।
লিবিয়ায় সামরিক হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন উদারপন্থী একদল ডেমোক্র্যাট সদস্য। তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত একদল বিশ্লেষক। তাঁদের অভিমত হচ্ছে, মার্কিন স্বার্থের জন্য লিবিয়া তেমন গুরুত্বপূর্ণ দেশ নয়। তাই দেশটিতে হামলা করা ঠিক হয়নি।
যুদ্ধবিরোধী একটি সংগঠন লিবিয়ায় হামলার প্রতিবাদে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ নয়টি অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।
বৈদেশিক-সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলের সদস্য জেমস লিন্ডেসি বলেছেন, লিবিয়ায় হামলা চালিয়ে ওবামা খুব বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছেন।
সিনেটর রিচার্ড লুগার বলেছেন, হামলার আগে অনেক বিষয় নির্ধারণ করা উচিত ছিল। গাদ্দাফির পর লিবিয়ায় কী ঘটবে, কারা ক্ষমতায় আসবেন, এগুলো ঠিক না করেই সেখানে হামলা চালানো হয়েছে। কাজের কাজ না করে ওবামা শুধু বাগাড়ম্বর করে যাচ্ছেন।
জেরল্ড নাডেলার, ডোনা এওয়ার্ড, বারবারা লিসহ একদল উদারপন্থী ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অবশ্য লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের সমর্থন করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন। তিনি বলেছেন, লিবিয়ার বিরোধীদের সাহায্যের ক্ষেত্রে ওবামা অনেক দেরি করে ফেলেছেন।
পাঁচ দিনের লাতিন আমেরিকা সফরে থাকা প্রেসিডেন্ট ওবামা লিবিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়ে যাচ্ছেন। চিলিতে বক্তৃতার সময় তিনি বলেন, গত সপ্তাহে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যে প্রস্তাব পাস করেছে, তা বাস্তবায়নের জন্যই মার্কিন সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। তাঁরা দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির সেনাদের হামলা থেকে বেসামরিক লোকজনকে রক্ষা করতে চান। গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করাও তাঁদের লক্ষ্য।
সমালোচনার মুখে ওবামা গত সোমবার কংগ্রেসের কাছেও একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ-সমর্থিত বহুজাতিক বাহিনীর অন্য সদস্যদের কাছে তাঁরা খুব দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেনা কমান্ডের দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

২০০৬ সালেই সব ধরনের পদ ছেড়ে দিই: কাস্ত্রো

কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে অসুস্থ হওয়ার পরপরই তিনি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানসহ সরকারি সব ধরনের পদ ছেড়ে দেন। গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত মন্তব্য প্রতিবেদনে কাস্ত্রো এ কথা জানান।
আগামী মাসে পার্টির সম্মেলনের আগে কাস্ত্রো তাঁর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে এ মতামত প্রকাশ করলেন। এর আগে ধারণা ছিল, পার্টির নেতা হিসেবে কাস্ত্রো কাজ না করলেও তিনি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন না।
কাস্ত্রো বলেন, ‘২০০৬ সালের ৩১ জুলাই অসুস্থতার কারণে আমি নির্দ্বিধায় সরকারি ও রাজনৈতিক সব পদ ছেড়ে দিই। এমনকি দলের প্রথম সম্পাদকের পদ থেকেও আমি পদত্যাগ করি।’
ওই সময় কাস্ত্রো সাময়িকভাবে তাঁর ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেন।
কাস্ত্রো জানান, ‘পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর আমি ওই পদগুলোর কোনো কাজে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা কখনোই করিনি।’

ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্টের সাত বছর কারাদণ্ড

ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির দায়ে ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোসে কাতসভকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলের একটি আদালত এ রায় দেন।
কাতসভের বিরুদ্ধে তাঁর এক সাবেক কর্মচারীকে ধর্ষণ এবং অপর দুই নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।
একসময়ের রাষ্ট্রপ্রধানকে সাজা দেওয়ার ঘটনা ইসরায়েলে এটিই প্রথম। এর মাধ্যমে নারী অধিকার আদায়ে ইসরায়েলের আইনব্যবস্থার জয় হলো। কাতসভ ১৯৯৮ সালে পর্যটনমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর এক নারী কর্মচারীকে দুই দফা ধর্ষণ করেন। এ ছাড়া ২০০০-০৭ সালে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি আরও দুই নারীকে যৌন হয়রানি করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে আদালতে এ দুটি অভিযোগেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হন।

ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূতদের পদত্যাগ শুরু

ইয়েমেনে বিক্ষোভে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। রাজধানী সানায় রক্তক্ষয়ী হামলায় অর্ধশত বিক্ষোভকারী নিহতের ঘটনায় দেশটির মন্ত্রী, সরকারি দলের প্রভাবশালী সদস্য এবং সেনা কর্মকর্তাদের পর এবার বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূতেরা একের পর এক পদত্যাগ করছেন।
গালফ নিউজ ডেইলি গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, ওমান, স্পেন ও দুবাইয়ে নিয়োজিত ইয়েমেনের রাষ্ট্রদূতেরাও পদত্যাগ করে প্রেসিডেন্টবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এসব রাষ্ট্রদূত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী তরুণ ও তাঁদের দাবির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।

ব্রিটেনের নীলনকশায় খুন হন লেনিন!

ব্রিটেনের নীলনকশা অনুযায়ী বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন ঘাতকের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, অনেকে এমন ধারণা করলেও ব্রিটেন বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তবে লেনিনের একজন জীবনীকার ও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ বলেছেন, ওই হত্যার ঘটনায় ব্রিটেন আসলেই জড়িত ছিল বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাফেজখানায় রক্ষিত নথিপত্র ঘেঁটে দেখলে এ বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
১৯১৮ সালে মস্কোয় এক রুশ নারীর গুলিতে লেনিন নিহত হন। তখন থেকেই ধারণা করা হয়, রাশিয়ায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ এজেন্ট রবার্ট ব্রুস লকহার্ট এ হত্যাকাণ্ডে পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছিলেন।
লেনিনের জীবনীকার অধ্যাপক রবার্ট সার্ভিস বলেছেন, লেনিন নিহত হওয়ার অল্প কিছুদিন আগে তৎকালীন ব্রিটিশ ওয়ার কেবিনেট সদস্য লর্ড কার্জনের কাছে লকহার্ট একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। তাতে লেনিনকে হত্যা করা হতে পারে বলে পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে।

মনোনয়ন এবং জোট নিয়ে ক্ষোভ কংগ্রেস ও তৃণমূলে

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস একযোগে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিলেও তা মেনে নিতে পারেননি কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস জোট গঠনের পর বিক্ষুব্ধ কংগ্রেসের ওই নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁরা জোট মানবেন না। বিক্ষুব্ধ নেতাদের মধ্যে আছেন সাংসদ দীপা দাসমুন্সী, সাংসদ অধীর চৌধুরী ও শংকর সিং। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেসের দুর্জয় ঘাঁটি মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরে তাঁরা কোনো জোট মানবেন না। তাঁদের দাবি, সব আসনেই কংগ্রেসের প্রার্থী দিতে হবে।
অন্যদিকে গত নির্বাচনে জয়ী কংগ্রেসের ২১ জন বিধায়কের মধ্যে এখন পর্যন্ত দুই বিধায়ককে মনোনয়ন না দিয়ে তাঁদের আসনে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই দুই কংগ্রেস বিধায়ক রাম পেয়ারি রাম ও আবদুল খালেক । তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন কলকাতা বন্দর এবং মেটিয়াবুরুজ আসনে তাঁরা নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়বেন।

কাশ্মীরে বিনা বিচারে ২০ হাজার লোক আটক

ভারতে প্রচলিত জননিরাপত্তা আইনকে (পিএসএ) ‘কঠোর’ বলে অভিহিত করে আইনটির সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গত সোমবার ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে প্রকাশিত সংস্থাটির একটি নতুন প্রতিবেদনে এই সমালোচনা করা হয়।
সংস্থাটির ভাষ্য, ওই আইন বলে কাশ্মীরে ২০ হাজার লোককে বিনা বিচারে আটক করা হয়েছে। সংস্থাটি আইনটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে কোনো অভিযোগ ছাড়াই যেকোনো ব্যক্তিকে দুই বছর পর্যন্ত আটক রাখা যায়।
কাশ্মীরে বিনা বিচারে আটক ব্যক্তিদের মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ভারতের বিচার বিভাগেরও সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি। সাংবাদিকেরা জানান, অ্যামনেস্টির ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে ভারত সরকার কোনো মন্তব্য করেনি।
কাশ্মীরে ১৯৮৯ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সহিংস কর্মকাণ্ড শুরু করে। তখন থেকে সেখানকার লোকজনকে বিনা বিচারে আটক করা শুরু হয়। ভারতে অ্যামনেস্টির এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তা বিক্রমজিৎ বাটরা বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ পিএসএ ব্যবহার করে এসব লোকজনের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগ ওঠার সুযোগ দিচ্ছে না। এতে তারা আটকাবস্থা থেকে বের হওয়ার আইনি সুযোগ পাচ্ছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সন্দেহভাজন সদস্য ও সমর্থক, আইনজীবী, সাংবাদিকেরা রয়েছেন।

কংগ্রেস-বিজেপির হট্টগোলে রাজ্যসভা তিন দফা মুলতবি

উইকিলিকসে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে তুমুল বিতর্কের মুখে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার অধিবেশনে গতকাল মঙ্গলবার ব্যাপক হট্টগোল হয়েছে। এনডিএ শাসনামলে টেলি-দুর্নীতি, দেশটির পারমাণবিক শক্তির নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে বিজেপি ও কংগ্রেস সদস্যদের বাগিবতণ্ডা ও হট্টগোলের মুখে অধিবেশন তিনবার মুলতবি করতে হয়।
দিবসের শুরুতেই বিরোধীদলীয় নেতা অরুণ জেটলি তাঁর দুটি নোটিশের ওপর আলোচনা তোলেন। কিন্তু কংগ্রেস সদস্যদের বিরোধিতার মুখে তিনি বক্তব্য রাখতে পারছিলেন না। বিজেপি সদস্যরা জেটলিকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বার বার দাবি জানাতে থাকেন। কিন্তু সরকারি দলের সদস্যরা এ সময় হৈচৈ করতে থাকেন। তাঁরা একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন তুলে ধরে দেখাতে থাকেন। ওই ম্যাগাজিনে এনডিএ শাসনামলের টেলি-দুর্নীতি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এ সময় জেটলিকে কথা বলার সুযোগ দিতে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান রহমান খান বার বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর তিনি ১৫ মিনিটের জন্য অধিবেশন বন্ধ ঘোষণা করেন।
পরে আবার অধিবেশন শুরু হলে দুই পক্ষই প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বাক্যবাণ শুরু করেন। এ অবস্থায় বেলা দুইটার দিকে আবারও অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
মধ্যাহ্নভোজের পর ফের অধিবেশন শুরু হয়। এ সময় বিজেপি সদস্যরা ক্ষমতাসীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ-সম্পর্কিত আলোচনার দাবি তোলেন। এতে কংগ্রেস সদস্যরাও উল্টো হট্টগোল শুরু করেন। ডেপুটি চেয়ারম্যান কে রহমান হট্টগোলের মধ্যেই ডি রাজাকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বক্তব্য শুরু করলেও বিজেপি ও কংগ্রেস সদস্যরা হট্টগোল চালিয়ে যেতে থাকেন। এ অবস্থায় এক পর্যায়ে সভা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন কে রহমান।
গতকালের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বিরোধীদলীয় নেতা অরুণ জেটলি দুজনই উপস্থিত ছিলেন। পরে জেটলি সাংবাদিকদের বলেন, কংগ্রেস ও বিজেপি দুই পক্ষেরই হট্টগোলে অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হওয়াটা দুঃখজনক।

যুদ্ধের ডামাডোলে শিশু দিবস!

লিবিয়ায় এখন যুদ্ধের ডামাডোল। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত সেনাদের অভিযান, পাল্টা প্রতিরোধ ও পশ্চিমা জোটের হামলা—এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্রান্তিকাল পার করছে দেশটি। এ সময় সেখানে কোনো উৎসব উদ্যাপনের কথা ভাবাই যায় না। কিন্তু গত সোমবার তা-ই হয়েছে। রাজধানী ত্রিপোলিতে সরকারঘোষিত শিশু দিবস উদ্যাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে ত্রিপোলির বিভিন্ন প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে শিশু শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয় আকর্ষণীয় উপহার। পশ্চিমা বিশ্লেষক অনেকের মতে, শত্রুপক্ষের হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ওই দিন এসব শিশুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন গাদ্দাফি।
সোমবারে সেজেগুজে বিদ্যালয়ে যায় শিশুরা। তবে বোমা হামলার ভয়ে উপস্থিতি ছিল কম। লিবিয়ার কর্মকর্তারা বারবি পুতুলসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেন তাদের হাতে। এ সময় তারা গাদ্দাফির সমর্থনে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
মিদাক স্কুলের প্রধান শিক্ষক লায়লা মোহাম্মদ বলেন, তাঁদের তিনতলা স্কুল ভবনে প্রতিদিন গড়ে ২০০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে। কিন্তু সোমবার মাত্র ৫০ জন ছিল। তিনি জানান, বোমা হামলার ভয়ে অনেকেই আসেনি। পশ্চিমা জোটের বিমান হামলায় কিছু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে কেউ নিহত হয়নি।
শিক্ষার্থী শাহাদ আবদেল হাকিম বিদেশী সাংবাদিকদের জানায়, ‘আজ শিশু দিবস। আমাদের বিদ্যালয়ে একটি বড় উৎসব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বোমার ভয়ে অনেকে আসেনি বলে হয়নি।

আইনপ্রণেতাদের সমর্থন

ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা লিবিয়ায় সামরিক অভিযানে সে দেশের জড়িত হওয়ার বিষয়ে গত সোমবার সমর্থন দিয়েছেন। এদিকে ব্রিটেনের বেশির ভাগ নাগরিক লিবিয়ায় সামরিক অভিযানের বিরোধী।
সোমবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হয়। এতে ৫৫৭ জন আইনপ্রণেতা সামরিক অভিযানের পক্ষে ভোট দেন। মাত্র ১৩ জন আইনপ্রণেতা এর বিপক্ষে ভোট দেন।

লিবিয়ায় মিত্র জোটের হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই

লিবিয়ায় নো ফ্লাই জোন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গাদ্দাফি বাহিনীর ওপর সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে ভারত বলেছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলোর লিবিয়া বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই। গতকাল মঙ্গলবার ভারতের লোকসভায় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি আইন প্রণেতাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
প্রণব মুখার্জি বলেন, অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে একটি দেশের মধ্যে যাই ঘটুক না কেন বাইরের কোনো শক্তির তাতে নাক গলানো উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, একটি দেশের শাসনক্ষমতার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বাইরের কোনো দেশ নিতে পারে না। এটি নেবে সে দেশের জনগণ।
লিবিয়ায় সামরিক হামলার ব্যাপারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল ভারত।

ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবি মোরালেসের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। গত সোমবার সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন। মোরালেস বলেন, লিবিয়ায় সামরিক হামলার অনুমতি দেওয়ায় প্রমাণিত হয়েছে যে ওবামা এই সম্মান পাওয়ার যোগ্য নন।
লিবিয়ায় বেসামরিক লোকদের রক্ষা করার ব্যাপারে সেখানে সামরিক হামলা চালানোর প্রস্তাব জাতিসংঘে অনুমোদিত হয়। এর অংশ হিসেবে লিবিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সেনা হামলা চালানোর নির্দেশ দেন ওবামা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোরালেস সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা ওবামার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু তিনি কি এখন শান্তির সপক্ষে কোনো কাজ করছেন? এর বদলে তিনি কি সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন না?

জাপানের পারমাণবিক চুল্লি থেকে ধোঁয়া ও বাষ্প উড়ছে

জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিস্ফোরণের ঘটনায় সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়তার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে জাপান কর্তৃপক্ষ এ পরীক্ষা শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি থেকে গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে ধোঁয়া ও বাষ্প উড়তে দেখা গেছে। এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংকট এবং সম্প্রতি তুষারপাতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত যে মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয়েছে, তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ১১ মার্চ ভূমিকম্প ও সুনামি আঘাত হানার পর ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে ২৫ বছর আগে চেরনোবিলে দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ পরমাণু-সংকটের সৃষ্টি হয়।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার পর সৃষ্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানি-সংকট এবং সম্প্রতি তুষারপাতের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম জাপানে এটা সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। তবে ত্রাণকর্মীরা বলছেন, বিধ্বস্ত রাস্তা পুনরায় চালু এবং কিছু নতুন বাড়ি নির্মিত হওয়ায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি থেকে গতকালও নতুন করে ধোঁয়া ও বাষ্প উড়তে দেখা গেছে। ১১ মার্চের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োদো এ কথা জানায়।
কিয়োদো জানায়, গতকাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই নম্বর চুল্লি থেকে সাদা বাষ্প এবং তিন নম্বর চুল্লি থেকে কুয়াশাচ্ছন্ন ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। পারমাণবিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎসংযোগ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনা প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক কোম্পানি (টেপকো) জানিয়েছে, চুল্লি থেকে নতুন করে ধোঁয়া ও বাষ্প নির্গমন কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। টেপকো পারমাণবিক কেন্দ্রে বিদ্যুৎসংযোগ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা আবারও শুরু করেছে।
জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী বানরি কেয়দা বলেন, ‘পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাচ্ছে, এটা বলা কঠিন।’
এদিকে জাপানের জাতীয় পুলিশ সংস্থা (এনপিএ) ১১ মার্চের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ চিত্র প্রকাশ করেছে। এনপিএ জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত এই দুর্যোগে নয় হাজার ৭৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১২ হাজার ৬৪৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।
এনপিএ জানায়, দেশজুড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে তিন লাখ ১৮ হাজার ৬১৪ জন মানুষ অবস্থান করছে। ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকার সব মানুষকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে। এর আগে এ এলাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে সীমাবদ্ধ ছিল। পুলিশ সংস্থা জানিয়েছে, এ এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩০ কিলোমিটার এলাকার লোকজনকে ঘরের মধ্যে অবস্থান করতে বলেছে।
তোহুকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি জানিয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোর দুই লাখ ১৬ হাজার বাড়িতে এখনো বিদ্যুৎ নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ১১টি প্রশাসনিক জেলার অন্তত আট লাখ ৮০ হাজার বাড়িতে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পুলিশ সংস্থা জানিয়েছে, দুর্যোগে অন্তত ১৭ হাজার ৭১৩টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বেসরকারি পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতির পরিমাণ ১২ হাজার ২০০ কোটি ডলার থেকে ২৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা জাপানের জিডিপির ২ দশমিক ৫ থেকে ৪ শতাংশ।

লিবিয়ায় হামলা নিয়ে বিভক্ত আরব বিশ্ব

লিবিয়ায় পশ্চিমাদের বিমান হামলার ব্যাপারে আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্সের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অনেক বেসামরিক লোক নিহত হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ।
জাতিসংঘ আরোপিত নো ফ্লাই জোন বাস্তবায়ন করতে যেসব দেশ কাজ করছে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আরব বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ কাতার। দেশটির যুদ্ধবিমানগুলো অংশ নিচ্ছে ওই প্রস্তাব বাস্তবায়নের কাজে। আরব বিশ্বের আরেক দেশ ইরাক ও লিবিয়ায় পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে দেশটির প্রভাবশালী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদর লিবিয়ায় পশ্চিমাদের বিমান হামলার নিন্দা করেছেন।
লিবিয়ার বিদ্রোহীরাও পশ্চিমা বিশ্বের বিমান হামলাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ওই হামলার কারণে বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি বেনগাজিতে লিবীয় নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি বাহিনীর অগ্রাভিযান থেমে যায়। বিদ্রোহীরা এখন বলছে, তারা রাজধানী ত্রিপোলির দখল নিতে চায়। এ জন্য তাদের বিদেশি সেনার সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। শুধু গাদ্দাফি বাহিনীর ওপর বোমা হামলা করে গেলেই হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরাক ও আফগানিস্তানে সেনা পাঠালেও লিবিয়ায় সেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলিয়াঁ জুপ্পি জানিয়েছেন, আরব বিশ্ব লিবিয়ায় ন্যাটোর নেতৃত্বে কোনো সামরিক অভিযান দেখতে চায় না। পশ্চিমাদের অন্যতম মিত্র তুরস্ক লিবিয়ায় হামলার সমালোচনা করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইপে এরদোগান বলেছেন, লিবিয়ায় গাদ্দাফি বাহিনীর বিরুদ্ধে যত দ্রুত সম্ভব সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত, যাতে লিবিয়ার ভবিষ্যৎ সে দেশের নাগরিকেরাই নির্ধারণ করতে পারে।
গ্যাবনের প্রেসিডেন্ট ওমর বঙ্গো ওদিম্বা শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। আরব লীগের মহাসচিব আমর মুসা লিবিয়ায় বিমান হামলার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘আমরা চাই বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষা। তাদের ওপর বিমান হামলা নয়।’
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন লিবিয়ার ওপর হামলাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। দেশটির ভেটো ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লিবিয়াসংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের সময় দেশটি ভেটো প্রয়োগ না করে ভোটদানে বিরত থাকে। চীন, জার্মানি ও ইতালিও লিবিয়ায় হামলার সমালোচনা করেছে।

শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন শোয়েব?

অনুশীলনে মন নেই শোয়েব আখতারের। ওয়ার্ম আপের সময়টায় হাত-পা ছুড়লেন, তার চেয়ে বেশি রোদচশমা চোখে তাকালেন এদিক-সেদিক। সবাই যখন ওয়ার্ম আপ শেষ করে নেট প্র্যাকটিসের জন্য একাডেমি মাঠের দিকে হাঁটা ধরলেন, পিন্ডি এক্সপ্রেসের গতি সবচেয়ে কম। এনার্জি ড্রিংকের বোতল হাতে, না পারতেই যেন হাঁটছেন!
অনুশীলনে শোয়েব আখতারের নিরাসক্তির কারণ জানা হয়ে গেছে তার আগেই।্রসংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি বলে এসেছেন, অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তার মানে, আজকের কোয়ার্টার ফাইনালে শোয়েব বাদ। খেলবেন না জেনেও তাঁর মতো খেয়ালি একজন বোলার কীভাবে অনুশীলনে সিরিয়াস হবেন?
আফ্রিদিকে দুবার বলতে হয়েছে কথাটা। প্রথমবার বললেন, ‘একাদশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আজ (গতকাল) সন্ধ্যায় নেওয়া হবে। তবে আমি আমার উইনিং কম্বিনেশন নিয়ে সন্তুষ্ট।’ পরে আবার বলেছেন, ‘আমরা উইনিং কম্বিনেশন নিয়েই খেলতে চাই। তার পরও দেখা যাক...।’
আগের ম্যাচের জয়ী দল ধরে রাখার ইচ্ছাটা অধিনায়ক এভাবে জানিয়ে দেওয়ার পর আজ শোয়েবের খেলার সম্ভাবনা থাকে না। বিশ্বকাপের পর অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রাখা শোয়েব হয়তো ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটাও খেলে ফেলেছেন এরই মধ্যে। আজ হারলে তো পাকিস্তানই বাদ বিশ্বকাপ থেকে। আর জিতলে সেমিফাইনালের আগেও কি উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে চাইবেন আফ্রিদি?
নিউজিল্যান্ড ম্যাচে এক ওভারে ২৮ রান (সব মিলিয়ে ৯ ওভারে ৭০) দেওয়ার মাশুলই শোয়েব দিলেন পরপর তিন ম্যাচে বাদ পড়ে। কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপে তাঁর উইকেট মাত্র ৩টি! তার ওপর পাকিস্তানি মিডিয়ার খবর, অধিনায়ক আফ্রিদি এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে শোয়েবের যাচ্ছে শীতল সম্পর্ক। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ক্যাচ ছাড়ার পর উইকেটকিপার কামরান আকমলের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণে দলের অনেক ক্রিকেটারও ক্ষুব্ধ তাঁর ওপর। আফ্রিদি যতই ‘শোয়েব-কামরানের মধ্যে কিছুই হয়নি’ বলে বিতর্কটাকে উড়িয়ে দিতে চান, দলে শোয়েবের বন্ধু বলতে কেউ নেই। এমনকি বিশ্বকাপের দলের সঙ্গে যে তিনি এখনো আছেন, সেটাও নাকি বিদায়বেলার সম্মান এবং আপাতত তাঁর মুখটা বন্ধ রাখতে!
শোয়েবের মুখ বন্ধ নেই। তবে পাকিস্তানের জন্য স্বস্তির কথা, বাদ পড়ার হতাশা থেকে কাউকে আক্রমণ করে বসছেন না তিনি। ইএসপিএন স্টার ডট কমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শোয়েবের বরং বিনয়ী চেহারাটাই ফুটে উঠেছে। আড়াই শ উইকেটের আগেই (২৪৭) ওয়ানডে ক্যারিয়ার থেমে যাচ্ছে বলেও নাকি দুঃখ নেই তার মনে, ‘তরুণদের পথ করে দিতে চেয়েছি। কাজেই ২৫০ উইকেট যদি নাও পাই, সমস্যা নেই। ওখানে পৌঁছাটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার হতো। কিন্তু না হলে কিছু তো করার নেই। তবে আমি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে জোরে বল করা বোলার।’ এও বলেছেন, তাঁর নিজের খেলার চেয়ে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জেতাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘আমার কাছে দেশের স্বার্থ আগে। আমি সেভাবেই চিন্তা করি। কাজেই দলের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’
সেটা মেনেই কি কাল অনুশীলনে অত নির্ভার থাকলেন শোয়েব!

চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি স্যামিরা

আজ ড্যারেন স্যামির ভুল করে মনে হতেও পারে, ‘পাকিস্তানে চলে এলাম না তো!’ জাগতে পারে বিস্ময়, ‘গ্যালারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একজনও সমর্থক নেই, ঘটনা কী!’
যদি তাই হয়, ভেবে বসবেন না, বাংলাদেশে পাকিস্তানি সমর্থকদের গিজগিজে ভিড়। হ্যাঁ, এখানে শহীদ আফ্রিদিদের সমর্থক সংখ্যা ফেলনা নয় বটে। তবে আজ সাধারণ দর্শক যতটা না পাকিস্তানকে সমর্থন দেবে, হয়তো তার চেয়েও বেশি করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরোধিতা। এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে বাংলাদেশকে দুঃখ দিয়েছে, হতাশায় পুড়িয়েছে দু-দুবার!
আটান্নর সেই লজ্জা বুকের কোণে লুকিয়ে রেখে ক্যারিবীয়দের জোর সমর্থন দিয়েছিল বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটায়। যে ম্যাচে স্যামির দল জিতলে আজ বাংলাদেশকে এভাবে স্রেফ দর্শক হয়ে যেতে হয় না। ১৬ কোটি মানুষের সমর্থন নিয়েও পারল না!
স্যামি অবশ্য আশা করছেন, আজও তাঁদের সমর্থন দিয়ে যাবে অনেক মানুষ, ‘এখানে আবার আসার পর থেকে অবশ্য মানুষের ভালোবাসাই পেয়েছি। গতবার যা ঘটেছে, সেটা দুঃখজনক। তবে সেটা আমরা পেছনেই ফেলে এসেছি। আমরা জানি, বাংলাদেশের মানুষ খুবই অতিথিপরায়ণ। তারা তো আসলে ক্রিকেটই ভালোবাসে।’
তা বটে। বিশেষ করে, ক্রিস গেইলের ভক্তও তো বাংলাদেশে আছে অনেক। টি-টোয়েন্টির মাধ্যমে যেমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন কাইরন পোলার্ড। গেইল গত ম্যাচ খেলেননি। হালকা চোট আছে। রোচও খেলেননি। তবে আজ দুজনই একাদশে থাকবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক, ‘গেইল-রোচ দুজনই আজ (গতকাল) অনুশীলনে ছিল। রোচ বল করেছে, গেইল ব্যাটিংও করেছে। ওরা ভালোই আছে। দলের সবাই উজ্জীবিত। ম্যাচটা জিততে আমরা সেরা একাদশই বেছে নেব।’
সেই একাদশে শিবনারায়ণ চন্দরপল থাকছেন তো? গত দুটো ম্যাচে চন্দরপলকে খেলানো হয়নি। তবে আজ তাঁকে খেলানোর কথাই ভাবছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের মধ্যে স্পিনটা সবচেয়ে ভালো খেলেন। চন্দরপলের অন্তর্ভুক্তি মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞতাও বাড়াবে। স্যামি সে রকম ইঙ্গিতই দিলেন, ‘কোয়ার্টার ফাইনালে ওকে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। খুব সম্ভবত ওকে আমরা আগামীকাল (আজ) খেলাচ্ছি।’
মিডল অর্ডারে দলের শক্তিবৃদ্ধির প্রয়োজন পড়ছে গত দুই ম্যাচে শেষের দিকে ব্যাটিং ধসের কারণে। ইংল্যান্ডের পর ভারতের বিপক্ষেও হুড়মুড়িয়ে পড়েছে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। গত ম্যাচে ৩৪ রানে শেষ ৮ উইকেট পড়েছে। স্যামি অবশ্য জানালেন, ভুল থেকেই তাঁরা শিক্ষা নিয়েছেন, ‘এ অবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতেই হবে। এভাবে উইকেট পড়ার বড় মাশুল গুনতে হয়। ম্যাচের ফলাফলই ঠিক হয়ে যায়। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ওঠার ফলে আমাদের সামনে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেই সুযোগ হাতছাড়া করা চলবে না।’
সুযোগ বলতে আর একটি ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনাল, সেখানে জিতলে ফাইনাল। কিন্তু সেই যাত্রাপথে আজ তাদের সামনে বড় বাধা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিনের বিপক্ষে ‘ঐতিহ্যগত’ভাবেই দুর্বল বলে একটা ধারণা আছে। আর টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিই তো শহীদ আফ্রিদি।
স্যামিও চ্যালেঞ্জটা টের পাচ্ছেন, ‘ওদের অধিনায়ক সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ওরা দুজন অফ স্পিনার আর একজন বাঁহাতি স্পিনার খেলাচ্ছে। ওদের খেলা আমরা দেখেছি। আমরা প্রস্তুত।’

পন্টিংয়ের পাশে হাসি

চোখে-মুখে ঔজ্জ্বল্য নেই। তবে আত্মবিশ্বাসটা এখনো ষোলোআনাই আছে। এ কারণেই মাইক হাসির মুখে শোনা যায়, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতে এসে ভারতের বিপক্ষে আমরা ভালো করেছি। আশা করছি, এবারও তেমনই হবে।’
হাসির আশা পূরণ হলে আগামীকাল ভারতের বিপক্ষে মহারণ জিতে যাওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল তো আর দশটা ম্যাচের মতো নয়। তার ওপর শেষ গ্রুপ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হার টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের আকাশ থেকে নামিয়ে এনেছে মাটিতে। পরের ম্যাচেই সফল উড্ডয়ন চাইলেই তো হয় না!
হাসি মনে করছেন, সফল উড্ডয়ন সম্ভব। তাঁর ভাষায়, ‘এ জন্য চাই ব্যাটে-বলে ভালো পারফরম্যান্স।’ শুধু এটাই কি যথেষ্ট? বিতর্ক এবং নিজের পারফরম্যান্স—দুটি মিলিয়ে কোণঠাসা রিকি পন্টিং সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিতে কতটা তৈরি?
সরদার প্যাটেল স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে কাল দুপুরে হাসি তাঁর অধিনায়কের পাশেই থাকলেন, ‘অবশ্যই দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এখনো রিকিই সেরা পছন্দ। দলের শতভাগ সমর্থন সে পাচ্ছে।’
নিজেও কি পাচ্ছেন না? চোট তাঁকে বিশ্বকাপ দল থেকে ছিটকে ফেলার পর অনেক নাটক হয়েছে, শেষমেশ দলে ঢুকে নিজের অপরিহার্যতাও প্রমাণ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার মিডল-অর্ডারের এই পরীক্ষিত সৈনিক। সংবাদ সম্মেলনেও সব প্রশ্ন খেললেন সোজা ব্যাটে। তবে হ্যাঁ, একটা জায়গায় এসে একটু থামলেন, ‘আমরা মনে করছি, ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালটা পার হলে আমরা বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত যাব। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় এক ম্যাচ। এবং বড় বাধাও। কেননা, ভারত খুবই ভালো দল।’
বড় বাধা কি এখানকার কন্ডিশন নয়? ‘আমরা ভারতে অনেকবার খেলেছি কাজেই এটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়’—বললেন হাসি। অস্ট্রেলিয়ার অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভেঙে যাওয়াকেও খুব বড় করে দেখছেন না, ‘আমরা একটা দল হয়ে খেলে এসেছি। একটা দিন খারাপ গেছে মাঠে। এটা হতেই পারে।’ পরক্ষণেই বলতে ভুললেন না, ‘আমরা এখন কঠোর পরিশ্রম করছি এবং সবাই দলে অবদান রাখতে তৈরি। আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী। জয়ের ভালো সুযোগ আছে আমাদের।’
সরদার প্যাটেল স্টেডিয়ামের উইকেট হতে পারে স্পিন সহায়ক, সে ক্ষেত্রে এটিকে কোনো সমস্যা মনে করেন না হাসি। ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার রবি রামপল গতি-নিশানা আর বাউন্সে টলিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের।
ব্রেট লিরা তেমন কিছু করতে কতটা তৈরি—এমন প্রশ্নে হাসির মুখে হাসি, ‘ভারতীয়রা কীভাবে বাউন্সার সামলাবে, সেটা তারা ভালো জানে। নিশ্চয়ই এ নিয়ে অনুশীলন করবে।’

টেলর-ভেট্টোরিকে সমীহ বোথার

স্টেইন-মরকেল নেই বলে যাঁরা ভেবেছিলেন নতুন বলের সমূহ বিপদ থেকে বেঁচে গেল বাংলাদেশ, পরে ভুল ভেঙেছে তাঁদের। আতঙ্ক হয়ে গেলেন বাঁহাতি পেসার লনওয়াবো সতসোবে। তবে সতসোবের ছোবলের পর বাংলাদেশ দল তো ধসে পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকার ঘূর্ণি বলেই। তিন স্পিনার ইয়োহান বোথা, রবিন পিটারসন আর ইমরান তাহির মিলেই নিলেন বাংলাদেশের ৬ উইকেট!
পরশু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালটাও যখন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, নতুন বলে স্টেইন-মরকেলের পাশাপাশি স্পিনারদের দিকেও নিশ্চয়ই তাকিয়ে থাকবে প্রোটিয়ারা। কাল অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে বোথাও বললেন, ‘আমাদের তিন স্পিনারের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে এবং বিশ্বকাপে সেটাই আমাদের এত উইকেট এনে দিয়েছে। এ ছাড়া দলে বিশ্বমানের ফাস্ট বোলার আছে। এখন পর্যন্ত তারা তাদের কাজটা ভালোভাবে করছে।’
এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে ৪ উইকেট—এবারের বিশ্বকাপে খুব কি আলো ফেলতে পারল বাংলাদেশের বিপক্ষে নতুন বলে ইনিংস শুরু করা বোথার অফ স্পিন? বোথা অবশ্য বলেছেন, তাঁর কাজটা উইকেট নেওয়া নয়, দলের হয়ে বোলিংয়ের নাটাইটা ধরে রাখা, ‘আমার কাজ হলো এক প্রান্ত থেকে ব্যাটসম্যানদের আটকে রাখা। এতে রবিন আর ইমরান আরও বেশি উইকেট পায়। দলের জন্য এটাই ভালো মনে হচ্ছে।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে এসে ঢাকায় প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকার। বাংলাদেশ ম্যাচের পর কালই প্রথম অনুশীলন করলেও কোয়ার্টার ফাইনালের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময়টা কাজে লেগেছে তাদের। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড দল ঢাকায় পৌঁছালই কাল। বোথা এটাকে দেখছেন বাড়তি সুবিধা হিসেবে। তার পরও দক্ষিণ আফ্রিকান স্পিন আক্রমণের সামনে রস টেলরকে হুমকি মনে হচ্ছে বোথার, ‘খুব ভালো ফর্মে আছে সে। বিশ্বকাপেও দারুণ খেলছে। রস আর ব্রেন্ডন ম্যাককালামই তাদের মূল ব্যাটসম্যান।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার আগে প্রতিপক্ষের বোলারদের নিয়ে বলতে গেলে সবাই আগে ড্যানিয়েল ভেট্টোরির কথাই বলে। বোথাও ব্যতিক্রম নন, ‘ভেট্টোরি বিশ্বমানের বোলার, র্যাঙ্কিংয়ের ওপরের দিকের বোলারদেরই একজন, আমরা তাকে সমীহও করি। তবে আমাদের ব্যাটসম্যানরা স্পিন ভালোই খেলে।’
গ্রুপ পর্বে মাত্র একটা ম্যাচ হারা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘চোকার্স’ অপবাদ ঘোচানোর আরও একটা সুযোগ পাচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনালে। তবে এই ম্যাচের আগে খুব সতর্ক বোথা। প্রতিপক্ষ হিসেবে নিউজিল্যান্ডকে প্রাপ্য সম্মান দিয়ে বললেন, ‘আগের বা এখনকার ফর্ম নিয়ে নিউজিল্যান্ড দলকে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। তাদের দিনে যে কাউকেই তারা হারাতে পারে। মনে হচ্ছে, দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচই হবে।’ শেষ কথাটা বলে দিলেন এরপরই, ‘শেষ হাসিটা হাসব আমরাই।’

তপ্ত দুপুরেও ধোনিরা নির্বিকার

প্রায় ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রায় আকাশের নিচে মাঝদুপুরে দাঁড়ানো অসম্ভব। ঝাঁজালো রোদ থেকে নিস্তার পেতে ছায়ার খোঁজ সর্বত্র। কিন্তু ভরদুপুরে ভারতীয় দলকে দেখে একটুও মনে হলো না, রোদের উত্তাপ লাগছে শরীরে। না হলে কী করে টানা তিন ঘণ্টা অমন অনুশীলন সম্ভব হলো?
উত্তর—এক দিন বাদেই যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মহারণ। জিতলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। হারলে বিদায়। এমন উত্তেজনার মধ্যে ৪০ ডিগ্র্রি তাপমাত্রাও গায়ে আঁচড় কাটার কথা নয়। বরং খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা বলে দিল, ভেতরে ভেতরে গোটা দল যেন থরথর করে কাঁপছে। বিশ্বকাপ জয়ের চাপটা গোটা শিবিরে চিন্তার চাদর হয়ে জড়িয়ে ধরেছে।
এক দিন আগেই এই শহর মেতে উঠেছিল হোলি খেলায়। শহরময় রং ছিটানো এখানকার ঐতিহ্য। কালকের স্থানীয় নামী খবরের কাগজে তারই এক পাতার ছবি। আহমেদাবাদের সবচেয়ে বড় উৎসব মাসব্যাপী ঘরে ঘরে ‘নবরাত্রি’ চলে গেছে গত জানুয়ারিতে। ভারত আগামীকালের মহারণ জিতলে এবং শচীন টেন্ডুলকার তাঁর শততম সেঞ্চুরিটা এখানেই পেলে নিশ্চিত থাকুন, নবরাত্রির জন্য পরের জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না স্থানীয় জনতা!
কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কি আর সেটি হতে দেবে! সংবাদ সম্মেলনে এসে এই হুঁশিয়ারিই যেন দিয়ে গেলেন মাইক হাসি। শুধু ভারত নয়, এটি তো অস্ট্রেলিয়ার জন্যও অনেক বড় ম্যাচ। গত তিনবারের টানা চ্যাম্পিয়নরা এবার শেষ চারের আগেই দেশে ফেরে কি না, সেটি এখন ‘টক অব দ্য বিশ্বকাপ’।
ভারতীয় দল মাঠ ছাড়ল, অনুশীলন শুরু করল অস্ট্রেলিয়া। তখনো কড়া রোদ সরদার প্যাটেল স্টেডিয়ামে। কিন্তু এই দিনে রোদ, গরম—এসব কোনো সমস্যা হতে পারে না! অস্ট্রেলিয়াও তো সমানে তেতে রয়েছে।
শিল্পশহর, চামড়ার জন্য বিখ্যাত, ‘পূর্ব ভারতের ম্যানচেস্টার’, কিংবা গান্ধী আশ্রমের শহর—যে নামেই আহমেদাবাদকে ডাকুন, কাল শহরের ক্রিকেটমঞ্চে দুটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়াল। বীরেন্দর শেবাগ এবং যুবরাজ সিং কোথায়? ভারতীয় দল অনুশীলনের প্রথম পর্বে ফুটবল খেলল এই দুজনকে ছাড়াই। এ নিয়ে নানা গুঞ্জন। ভেতরে কোনো ‘গল্প’ তৈরি হলো কি না, ব্রেকিং নিউজ খুঁজতে উঠেপড়ে লাগল কেউ কেউ!
শেবাগ আগের ম্যাচ খেলেননি হাঁটুর হালকা চোটের কারণে। কাল ফুটবল খেললেন না অতিরিক্ত সাবধানী হওয়ায়। শেষ পর্যন্ত ব্রেকিং নিউজ কল্কে পেল না। শেবাগ নেট করলেন এবং নিশ্চিত হওয়া গেল, আগামীকালের মহারণে থাকছেন। যুবরাজের ব্যাপারে টিম ম্যানেজমেন্ট জানাল, হোটেলে নাকি বিশ্রাম নিচ্ছেন গ্রুপ পর্বের ৬ ম্যাচের তিনটিরই ম্যাচ-সেরা।
এই তথ্য নিয়ে অনেকের আবার অবিশ্বাস—ঠিক বলেছে তো টিম ম্যানেজমেন্ট? সংবাদমাধ্যম থেকে ক্রিকেটারদের ১০০ হাত দূরে রাখতে বেশ সফল বিসিসিআই। ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সেদিন সাংবাদিকদের নাকি বলেছিলেন, ‘আপনারা এদের (ভারতীয় ক্রিকেট দল) বেশি বেশি প্রচার দেন। না দিলে কী হয়!’
অন্য দলগুলো অনুশীলনের আগে-পরে অন্তত একজন ক্রিকেটারকে পাঠায়, ভারতীয় দল ব্যতিক্রম। কালও দূর থেকে অনুশীলন দেখেই মিডিয়ার পত্রপাঠ বিদায়। একজন রসিকতা করে বললেন, ‘ইন্ডিয়া টিম হচ্ছে উঁচুতলার টিম। তাই কাউকে পাত্তা দেয় না!’
এর মধ্যেই কারও কারও কাছে প্রাপ্তি শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে একটা ছবি তুলতে পারা। ফুটবল খেলে ড্রেসিংরুমে ঢোকার পথে ভারতীয় কয়েকজন সাংবাদিকের ডাকে টেন্ডুলকার তাঁদের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দী হলেন। ড্রেসিংরুমের সিঁড়িতে মুহূর্তেই আর দাঁড়ানোর জায়গা রইল না। আশপাশের অনেকেই চলে এসেছেন ছবি তুলতে।
আইসিসির সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার ক্ষোভ সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রতি, ‘এরা এখানে এল কী করে?’ উত্তর পেলেন, ‘শচীনজি চাহিয়ে...ম্যায় ক্যায়া করে গা...।’
নেটে নিবিড় অনুশীলন করলেন। সব রকম শটই খেললেন টেন্ডুলকার। নিজের ব্যাটটাকে তলোয়ার বানিয়ে কাল আরেকবার অস্ট্রেলিয়াকে খুন করতে তৈরিই মনে হলো রেকর্ডের বরপুত্রকে। অস্ট্রেলিয়াকে সামনে পেলে একটু বেশিই উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে তাঁর ব্যাট। ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রার শক্তি নেই সেটি থামানোর!

‘আনপ্রেডিক্টেবল’দের লড়াই

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের নয় নম্বর দল হিসেবে। বাংলাদেশের চেয়েও একধাপ নিচে থেকে। বিশ্বকাপের আগে তাদের তেমন কোনো চমক জাগানো পারফরমেন্সও ছিল না। প্রথম পর্বেই তাদের বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারে, এমন ধারণাও করেছিল অনেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট ঘাম ঝরিয়ে হলেও প্রথম পর্বের বাধাটা টপকে গেছে ক্যারিবিয়ানরা। আজ ঢাকায় শেষ আটের লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পাকিস্তানের।
শেষ আটের অন্য দলগুলোর সঙ্গে তুলনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খুব বেশি শক্তিশালী হয়তো বলা যাবে না। আজকের ম্যাচেও অনেকে এগিয়ে রেখেছেন পাকিস্তানকেই। কিন্তু ক্যারিবীয় শিবিরের কেউ কেউ নিজেদের দিনে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারেন। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের রুদ্রমূর্তি যে কতটা বিধ্বংসী হতে পারে, তা তো সবারই জানা। মিডল অর্ডারে কাইরন পোলার্ডের ঝড়ও উড়িয়ে দিতে পারে প্রতিপক্ষের বোলারদের। এ ছাড়া ডেভন স্মিথ, ড্যারেন ব্রাভোদের ব্যাট ঝলসে উঠলেও বিপদে পড়তে হতে পারে পাকিস্তানকে। বোলিং আক্রমণেও কোমার রোচ, সুলিমান বেন ও রবি রামপালরা ঘুরিয়ে দিতে পারেন ম্যাচের মোড়।
পাকিস্তানের গায়ে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমাটা তো আগে থেকেই আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাম্প্রতিক পারফরমেন্সের পর তাদেরকেও ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলে ডাকা শুরু করেছে অনেকে। সব মিলিয়ে নক আউট পর্বের শুরুটা জমজমাট, শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই হবে—এমন আশাই করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

আসলে তো বোলারদের লড়াই

হাউজ দ্যাট! ফুটবল মাঠে রেফারির কাছে ক্রিকেটীয় ভঙ্গিতে আবেদন করতে দেখেছেন কখনো? অদ্ভুত সেই দৃশ্য দেখা গেল কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। দুই পাশে দুটি মিনি গোলপোস্ট বানিয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে নেমে পড়লেন স্যামি-সারওয়ানরা। আন্দ্রে রাসেল বল নিয়ে বিপজ্জনক ভঙ্গিতে ঢুকছিলেন। একরকম ল্যাং মেরেই তাঁকে ফেলে দিলেন কাইরন পোলার্ড। সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আপত্তি জানিয়ে রেফারির দিকে তাকালেন রাসেলের সতীর্থরা। চিৎকার করে উঠলেন—হাউজ দ্যাট!
পুরো ব্যাপারটায় সবচেয়ে বেশি মজা পাচ্ছিলেন রেফারিই। আদুল গায়ে, মুখে একটা বাঁশি নিয়ে সেই মিনি ফুটবল ম্যাচ পরিচালনার কাজটা করছিলেন কেমার রোচ। কালকের অনুশীলনে সবচেয়ে খোশমেজাজে পাওয়া গেল এই ফাস্ট বোলারকেই। তা তো যাবেই। ৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন। একটা হ্যাটট্রিকও আছে। উইকেটপ্রতি রান খরচ হয়েছে মাত্র ১২।
শহীদ আফ্রিদির সঙ্গে নিশ্চয়ই ম্যাচের আগে দেখা হয়েছে রোচের। চাইলে রোচ এই ঠাট্টা করতেই পারতেন, ‘তোমাকে নির্ভার রাখতেই তো গত ম্যাচটা খেললাম না। না হলে আমার উইকেটও তো হয়ে যেতে পারত ১৮টি!’ আফ্রিদিও পাল্টা জবাবে বলতে পারতেন, ‘অসুবিধা কী, এই ম্যাচে তো মুখোমুখি লড়াই হয়েই যাচ্ছে। দেখা যাক, তুমি কী করো, আমি কী করি।’
আফ্রিদি-রোচের এই ‘মুখোমুখি লড়াই’ থেকে একটা বার্তাও খুঁজে নিতে পারেন। বিশ্বকাপের শেষ আটের এই দুটি দলের লড়াই মূলত তাদের বোলিং আক্রমণেরই লড়াই। পাকিস্তানকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন বোলাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও তা-ই। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ২৫ জনের তালিকা দেখুন। সেখানে এই দুই দল মিলিয়েই একজনকে পাবেন। ডেভন স্মিথ। ৬ ইনিংস মিলিয়ে রান করেছেন ২৯৩। পাকিস্তানের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ২১১ রান নিয়ে তালিকার ২৭ নম্বরে উমর আকমল।
এবার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের, না ২৫ জনের তালিকা করতে হবে না, ১০ জনের তালিকা দেখুন। সেখানে পাকিস্তানের দুজন, ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও তা-ই। সব মিলে এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পর্যন্ত বোলাররা উইকেট (রানআউট বাদ দিয়ে) নিয়েছেন ৫৮৩টি। পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররাই নিয়েছেন ১০০টি উইকেট। সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া চার দলের দুটোই পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৬০ উইকেট তুলে নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা শীর্ষে। ভারতের উইকেট ৫৪টি। ৫৩টি করে উইকেট পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
বোলারদের দাপটের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি যদি হয় প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়া, সেখানে সর্বাগ্রে তো অবশ্যই ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশকে ৫৮-র লজ্জা তো রোচ-স্যামি-বেনরাই দিয়েছেন। এবার বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন পাঁচটি ইনিংসের তিনটিই এই দুই দলের বিপক্ষে।
পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা প্রথম ছয় ম্যাচে সেই অর্থে জ্বলে উঠেছেন প্রথম দুই ম্যাচে। এর পর থেকেই রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে তাদের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান তো ১৯২ রানে অলআউট হয়ে গেল। এর চেয়েও বড় লজ্জায় তারা পড়েছিল পুঁচকে কানাডার বিপক্ষে। যে ম্যাচে পাকিস্তান ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে পরাজয়ের শঙ্কাতেই কাঁপছিল। একপর্যায়ে কানাডার স্কোর ছিল ১০৪/৩! সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন আফ্রিদি। পাকিস্তান অধিনায়ক আসলে প্রথম তিন ম্যাচেই ভালো করেছেন। তাঁর ১৭ উইকেটের ১৪টিই প্রথম তিন ম্যাচে। শেষ তিনটি ম্যাচ আবার উমর গুলের। তাঁর ১৩ উইকেটের ৯টিই এ সময়ে।
আজ হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তান একে অন্যের প্রতিপক্ষ। তবে আক্ষরিক অর্থেই ‘বল’-এর জায়গাটিতে তারা এক মঞ্চে। যে মঞ্চের নায়ক বোলাররাই।

‘এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা’

অনেক আগে থেকেই কথাটা বলাবলি হচ্ছিল। এবারের বিশ্বকাপটাই শচীন টেন্ডুলকারের ২১ বছরের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, হরভজন সিংসহ অন্য ভারতীয় ক্রিকেটাররা তো বলেই দিয়েছিলেন, তাঁরা বিশ্বকাপটা জিততে চান শচীন টেন্ডুলকারের জন্য। ক্যারিয়ারে যে শুধু এ একটাই অপূর্ণতা থেকে গেছে লিটল মাস্টারের। শুধু নিজের ব্যক্তিগত অর্জনই না, ক্রিকেট খেলাটাকেই একটা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ভারতের এই ব্যাটিং বিস্ময়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদটা পাওয়া হয়নি। এবার শচীন টেন্ডুলকার নিজেও স্বীকার করেছেন, এবারের বিশ্বকাপটাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট।
১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন টেন্ডুলকার। এবার তিনি খেলছেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ক্রিকেট অঙ্গনকে কবে বিদায় জানাবেন, সেটা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও এটাই যে ৩৭ বছর বয়সী টেন্ডুলকারের শেষ বিশ্বকাপ সেটা নিয়ে কোনোই সংশয় নেই। নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এ বিশ্বকাপটা জিতে ক্যারিয়ারের শেষটাও স্বপ্নের মতোই করতে চান টেন্ডুলকার। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা। আমার মতো সবাই চায় এবার ভারত অনেক ভালো করুক। এখন আমার যেটুকু করার আছে, সেটা আমি খুব মন দিয়েই করতে চাই।’
আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো এবারও লিটল মাস্টার তাঁর কাজ ভালো মতোই করে যাচ্ছেন। গ্রুপ পর্বের ছয়টি ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরিসহ ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন ৩২৬ রান। শুধু ভারতের শিরোপা জয়ই না, তাঁর বর্ণিল ক্যারিয়ারের চমত্কার একটা সমাপ্তি দেখার জন্যও অপেক্ষা করছে অনেকে।

ইয়েমেনে মন্ত্রিসভা বরখাস্ত

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ তাঁর মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেছেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে রাজধানী সানার রাজপথে ট্যাংক নামানো হয়েছে। দেশটিতে সহিংসতায় গতকাল সোমবার আরও ২০ জন নিহত হয়েছে। এদিকে সালেহর নিজ গোত্রের লোকজন তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
ইয়েমেনে গত শুক্রবার সৈন্য ও সরকার সমর্থকদের গুলিতে ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভ দমনে রাজধানী সানার রাস্তায় ট্যাংক নামানো হয়েছে। পরিস্থিতি দমনের কৌশল হিসেবে প্রেসিডেন্ট সালেহ তাঁর মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করেছেন।
সালেহর নিজ গোত্র হাশিদের লোকজনই এখন তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাও গতকাল প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে স্বপক্ষ ত্যাগ করে বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এই তিনজন সেনা কর্মকর্তাই প্রভাবশালী হাশিদ গোত্রের। তাঁদের একজন হলেন মেজর জেনারেল আলি মোহসেন আল-আহমার। তিনি প্রেসিডেন্ট সালেহর ৩২ বছরের শাসনামলের অধিকাংশ সময়ই তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।

সিরিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগুন

সিরিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বহাল জরুরি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। গত রোববার বিক্ষোভকারীরা দেরা শহরে ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির প্রধান কার্যালয়সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রোববার বিক্ষোভকারীরা প্রধান আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন ভবনে আগুন লাগায়। পুড়িয়ে দেয় দুটি টেলিফোন কোম্পানির শাখা কার্যালয়। এর মধ্যে একটি কোম্পানি হচ্ছে সিরিয়াটেল, যার মালিক সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় রামি মাখলুফ।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, তাঁরা নিপীড়ন ও দুর্নীতির প্রতীক পুড়িয়েছেন। এসব ভবনের পাশে থাকা ব্যাংক ভবন তাঁরা স্পর্শও করেননি। আগুন লাগানোর সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেয়, ‘আমরা জরুরি আইন চাই না, স্বাধীনতা চাই।’
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে ৪০ জন আহত হয়। তাদের ওমরি মসজিদে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রিটিশ সেনা পরিবারের সদস্যরা

ব্রিটেন সম্প্রতি প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের ব্যয় হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থায় ইরাক ও আফগানিস্তানের পর লিবিয়ায় আবার একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ব্রিটেনের সেনা পরিবারের সদস্যরা।
লাকি অলড্রিজের ছেলে উলিয়াম ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য। তিনি নিহত হন ২০০৯ সালের জুলাই মাসে আফগানিস্তানে।
অলড্রিজ বলেন, ‘লিবিয়ায় যুদ্ধ করতে যাওয়া সরকারের সম্পূর্ণ পাগলামি ছাড়া কিছুই নয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমি হতবাক হয়েছি। বিশেষ করে, দেশের সামরিক বাজেটে যখন বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে, সেনাবাহিনীতে লোকবলের ঘাটতি রয়েছে, তখন সরকার নতুন যুদ্ধে কীভাবে নামে? এই অর্থের জোগান কীভাবে দেওয়া হবে?’
প্রতিরক্ষা পর্যালোচনার পর গত অক্টোবরে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী থেকে ১৭ হাজার সদস্য ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয় ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে রাজকীয় বিমানবাহিনী দুই সপ্তাহ আগে অতিরিক্ত সেনা ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। সেনা ও নৌবাহিনীও আগামী মাসে একই ধরনের ঘোষণা দেবে।
এলেসি ম্যানিংয়ের পাঁচ সন্তানের সবাই ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মেয়ে শ্যারন ইলিয়ট (৩৪) ২০০৬ সালে মারা যান ইরাক যুদ্ধে। অন্যরা এখনো সেনাবাহিনীতেই আছেন।
ম্যানিং বলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের সন্তানেরা মারা যাচ্ছে আর ডেভিড ক্যামেরন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলছেন, আমাদের সেনারা অসম সাহসী। তাঁরা অবশ্যই সাহসী, কিন্তু যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরলে সবাই সে কথা ভুলে যান। ক্যামেরনও তা-ই।’
ম্যানিং আরও বলেন, ‘আফগানিস্তানকে সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সেনাই তাদের নেই। তাহলে তারা আবার আরেক যুদ্ধে যাচ্ছে কেন? এখন নিশ্চয়ই সদ্য ইরাক-আফগানিস্তান ফেরত সেনাদের লিবিয়ায় পাঠানো হবে।’
লিবিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় ব্রিটেনে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হ্রাসের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।
খবর পাওয়া গেছে, স্কটল্যান্ডে অবস্থিত রাজকীয় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি নতুন করে প্রস্তুত করা হচ্ছে লিবিয়ায় হামলার জন্য, যেখানে কিছুদিন আগেও এই ঘাঁটি বন্ধ করার কথা উঠেছিল।
স্কটল্যান্ডের ওই ঘাঁটির বিমান প্রকৌশলীদের একজন জন। তাঁর স্ত্রী চেলি ডে জানান, প্রয়োজন হলে লিবিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তাঁর স্বামী। তবে চেলি বলেন, ‘তাঁদের কাজ যদি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে তাঁদের এভাবে অবহেলা পেতে হচ্ছে কেন। কেবল সংঘাতের সময় তাঁদের ব্যবহার করা হবে, আর প্রয়োজন ফুরালেই খাদের মধ্যে ফেলে দেওয়া হবে—এটা কেমন কথা।

মিসরে দুই মেয়াদের বেশি প্রেসিডেন্ট হওয়া যাবে না

গণভোটে মিসরের জনগণ সংশোধিত নতুন সংবিধান অনুমোদন করেছে। এ অনুমোদনের ফলে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম হলো। সংবিধান সংশোধনের ফলে মিসরে দুই মেয়াদের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত এ গণভোটে মিসরের প্রায় সাড়ে চার কোটি ভোটারের ৪১ শতাংশ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গত রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহমেদ আত্তিয়া নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে এবং ২২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
গণভোটে পাস হওয়া সংশোধিত নতুন এ সংবিধানে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদ ছয় বছর থেকে কমিয়ে চার বছর করা হয়েছে। সংশোধিত এ সংবিধান অনুসারে কেউ দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট বেছে নিতে হবে। প্রেসিডেন্টের বয়স ৪০ বছরের বেশি হতে হবে এবং তাঁর স্ত্রী মিসরীয় হতে হবে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং প্রধান বিরোধী দল মুসলিম ব্রাদারহুড সংবিধান সংশোধনের পক্ষে ছিল। মুসলিম ব্রাদারহুড জনগণকে হ্যাঁ ভোট দিতে ব্যাপক প্রচার চালায়।

যুক্তরাষ্ট্র গাদ্দাফিকে হত্যা করতে চায়: শাভেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ লিবিয়ায় হামলার সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গাদ্দাফিকে হত্যা করতে চায়। তিনি বহুজাতিক বাহিনীর ওই হামলাকে অন্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।
গত রোববার শাভেজ তাঁর সাপ্তাহিক বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে বলেন, লিবিয়ায় আগ্রাসন শুরু হয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে। উত্তর আফ্রিকার একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিবাদের জবাব বোমাবর্ষণের মাধ্যমে হতে পারে না।
দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শাভেজ যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিদ্রোহীদের বিদ্রোহের সুযোগ নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে, এমনকি তাঁকে হত্যা পর্যন্ত করতে চাইছে। তারা লিবিয়ায় রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে দেশটির তেলসম্পদ হস্তগত করতে চায়।

কংগ্রেস-তৃণমূল জোট একসঙ্গে লড়বে

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস-তৃণমূল আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কংগ্রেস হাইকমান্ড সোনিয়া গান্ধীর হস্তক্ষেপে এই সমঝোতা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে কলকাতা ও দিল্লিতে দুটি পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতা শাকিল আহমেদ।
এর আগে গত শুক্রবার মমতা কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে ২৯৪ আসনের বিধানসভার ২২৮টি আসনে তাঁর দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। অবশ্য তিনি ৬৪টি আসন কংগ্রেসের জন্য রেখে দেন। আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে মমতার এই একতরফা সিন্ধান্ত দুই শরিকের মধ্যে সংকট সৃষ্টি করে। জোট ভাঙনের মুখোমুখি হয়। এ সময় সোনিয়া গান্ধী বিদেশে থাকায় কংগ্রেস চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে অপেক্ষা করে সোনিয়ার দেশে ফেরার জন্য। রোববার সোনিয়া দিল্লিতে ফেরেন। এরপর কথা বলেন কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়, জনার্দন পূজারী ও শাকিল আহমেদের সঙ্গে। তারপর সোনিয়ার বার্তা চলে যায় মমতার কাছে।
অবশেষে মমতা আরও একটি আসন ছাড়তে সম্মত হন। একই সঙ্গে তিনটি আসন বদল করতেও রাজি হন। কংগ্রেসও তা মেনে নেয়। এখন ২৯৪ আসনের বিধানসভায় তৃণমূল লড়বে ২২৯টি আসনে। আর কংগ্রেস লড়বে ৬৫টি আসনে। তৃণমূল অবশ্য তার ভাগের ২২৯টি আসন থেকে দুটি আসন শরিক এসইউসিআইকে দিয়েছে।
গতকাল বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

হামলা নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ইইউ

লিবিয়ায় জোট বাহিনীর হামলা ও ন্যাটোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে তুমুল মতভেদ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭ জাতির বৈঠকে এ নিয়ে তারা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
ইইউর একদল সদস্য লিবিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধরনকে জাতিসংঘ অনুমোদিত সিদ্ধান্তের লঙ্ঘন বলে মনে করছে। অন্যরা এ হামলাকে সম্পূর্ণ বৈধ বলে মত দিয়েছে। প্রথম থেকেই আরব লীগ লিবিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর হস্তক্ষেপ করা উচিত বলে মন্তব্য করে আসছে। কিন্তু তিন দিন ধরে ত্রিপোলিতে জোট বাহিনীর নির্বিচার রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গত রোববার আরব লীগের মহাসচিব আমর মুসা হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে জোট বাহিনীর ওপর থেকে আরব লীগের সমর্থন প্রত্যাহারের আভাস পাওয়া যায়।
লিবিয়ায় অভিযান পরিচালনাকারী অন্যতম দেশ ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্কো ফ্রাত্তিনি আরব লীগের বিষয়টি উল্লেখ করে গতকাল বলেন, ‘লিবিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা ঠিক হবে না।’ তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ঠিকমতো অভিযান পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা সতর্কভাবে আমরা খতিয়ে দেখতে চাই।’
ব্রিটেনের ইউরোপবিষয়কমন্ত্রী ডেভিড লিডিংটোন বলেছেন, লিবিয়ার জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ইউরোপীয় দেশগুলোকে জাতিসংঘের প্রস্তাবের ব্যাপারে একমত হতে হবে।
তবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডো ভেস্তারভেলে বলেছেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি, আমরা সেখানে সেনা পাঠাব না। এর মানে এই নয়, আমরা নিরপেক্ষ বা গাদ্দাফির প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে।

লিবিয়ায় হামলা বন্ধে আবারও আহ্বান জানাল ভারত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা লিবিয়ায় বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিমান হামলায় লিবিয়ার নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, বিদেশি জনগণ ও কূটনৈতিক মিশনগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কৃষ্ণা বলেন, লিবিয়ায় যে বিমান হামলা চলছে, তাতে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। পারস্পরিক ব্যবধান কমিয়ে আনতে ভারত সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার এবং সব ধরনের হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। তিনি বলেন, জোট বাহিনীর বিমান হামলায় লিবিয়ার বেসামরিক নাগরিক এবং দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি আরও বলেন, ভারত ঐতিহ্যগতভাবেই জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে থাকে।
এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, তিনি চান উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ বাইরের কারও হস্তক্ষেপ ছাড়াই তাদের নিজেদের সিদ্ধান্তগুলো নিক।
এর আগে গত রোববার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিবিয়ায় বিমান হামলা চালানোয় উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ঘটনায় ভারত উদ্বিগ্ন। এমনিতেই লিবিয়ার মানবিক পরিস্থিতি সংকটের মুখে। এ হামলা সে সংকট যাতে আরও বাড়িয়ে না দেয়, সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানায় ভারত।

ক্যানসার-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে জাপানে

জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়া তেজস্ক্রিয়তা ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে পানি, দুধ, সবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে। তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে সরকারিভাবে জানানো হলেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে মানুষ। তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে ক্যানসারের আতঙ্ক।
ফুকুশিমা কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে হিতাচি এলাকায় সবজি পরীক্ষা করে নিরাপদ মাত্রার চেয়ে ২৭ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয় আয়োডিন পাওয়া গেছে। এরপর ওই এলাকার শাক-সবজি বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
এ ছাড়া রাজধানী টোকিওতে সরবরাহ লাইনের পানিতেও অস্বাভাবিক মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গেছে। ফুকুশিমা কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী এলাকার দুধ ও শিমে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারের মুখপাত্র ইয়োকিও এদানো জানিয়েছেন, খাদ্য ও পানিতে যে মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গেছে, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য তা ঝুঁকিপূর্ণ নয়।
ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা কেন্দ্রের চুল্লিতে বিস্ফোরণের পরপরই সরকার কেন্দ্রের চারপাশের ৩০ কিলোমিটার এলাকার লোকজনকে সরিয়ে নেয়। কিন্তু ওই ৩০ কিলোমিটারের বাইরে যারা আছে, তারাও উদ্বেগমুক্ত নয়। কেননা, ফুকুশিমা কেন্দ্র থেকে কয়েক শ কিলেমিটার দূরেও অস্বাভাবিক মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া যাচ্ছে।
ফুতাবা এলাকার বাসিন্দা সুগুমি হাসেগাওয়া বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, আমাদের আশ্বস্ত করতেই তারা (সরকার) ঝুঁকির মাত্রা কম করে দেখাচ্ছে কি না। বুঝতে পারছি না কার কথা বিশ্বাস করা যায়।’
তেজস্ক্রিয়তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জাপানের বাইরেও। পোল্যান্ডে আয়োডিন ট্যাবলেট কেনার জন্য লোকজন ভিড় করছে ওষুধের দোকানে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, অত দূরে তেজস্ক্রিয়তা পৌঁছানোর তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু পোল্যান্ডের মানুষ চেরনোবিল দুর্ঘটনার সময় তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হওয়ায় এবারও তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গতকাল জানিয়েছে, জাপানের তেজস্ক্রিতার বিষয়টি আগের ধারণার চেয়েও উদ্বেগজনক। সংস্থার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মুখপাত্র পিটার কর্ডিংলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সবাই প্রথমে ধারণা করেছিল যে তেজস্ক্রিয়তার সমস্যা ২০-৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সমস্যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক।’
স্বল্পমাত্রার তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হলে ক্লান্তি ও বিরাগবোধ, বোমি ও ডায়রিয়া হয়ে থাকে। তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা বেশি হলে জ্বর ও রক্তবমি হবে। আরও বেশি হলে মাথার চুল পড়ে যাবে, শরীরে ক্ষত সৃষ্টি কবে এবং তা সহজে সারবে না। এতে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ইউনূসের বিষয়টির সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা চলছে: গওহর রিজভী

সরকার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিষয়টি একটি সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা করছে। ফলে নোবেল বিজয়ী এ অর্থনীতিবিদ দেশের জন্য যে গৌরব বয়ে এনেছেন তাঁর মর্যাদা যেন রক্ষা করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর একটি স্থানীয় হোটেলে ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন। তিনি এ সময় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম) আয়োজিত মাসিক মধ্যাহ্ন ভোজসভায় বক্তৃতা করছিলেন।
গওহর রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরালো হয়েছে। যেকোনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যেও মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু সে মতপার্থক্য পুরো সম্পর্কের মধ্যে প্রভাব ফেলবে তা আমি মনে করি না।’
মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুটি কারণে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে আমি চাই না। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ সম্পর্কে কথা বলা সমীচীন হবে না। দ্বিতীয়ত, বিষয়টি সুরাহার জন্য প্রধানমন্ত্রী অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি করেছেন। এ বিষয়ে তিনিই একমাত্র কথা বলতে পারেন। তবে এ প্রসঙ্গে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিমত জানাতে পারি। আমি মনে করি, সরকার বিষয়টি সম্মানজনকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে। যাতে নোবেল বিজয়ী এ অধ্যাপক দেশের জন্য যে গৌরব বয়ে এনেছেন তা যেন রক্ষা করা যায়।’
অ্যামচেম সভাপতি আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘ড. ইউনূসকে কেন্দ্র করে যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে, তা দূর না হলে ব্যবসা ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

দুই ইনস্যুরেন্স কোম্পানির রাইট শেয়ার অনুমোদন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং মার্কেন্টাইল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের রাইট শেয়ার অনুমোদন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ মঙ্গলবার এসইসির নিয়মিত সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিশন সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ঘোষিত ১:১ রাইট শেয়ার অনুমোদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি রাইট শেয়ারের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২৭ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে প্রতিটি শেয়ারের দাম পড়বে ১৫ টাকা। প্রতিটি শেয়ারে পাঁচ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া বর্তমানে বাজারে প্রতিষ্ঠানটির এক কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে।
আজ মার্কেন্টাইল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের মূলধন বৃদ্ধির লক্ষে ঘোষিত ১:১ রাইট শেয়ারও অনুমোদন করা হয় । প্রতিষ্ঠানটি রাইট শেয়ারের মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করবে। এ ক্ষেত্রে ৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যে প্রতিটি শেয়ারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতিষ্ঠানটির ১৬ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

পদক্ষেপ নিতে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে এসইসির নির্দেশ

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেডের তালিকাভুক্তির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) নির্দেশ দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার এসইসির কমিশন সভায় সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। এসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণের তারিখ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে এসইসিতে তালিকাভুক্ত হতে হয়।
বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় গত ২০ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে এসইসি এ পদ্ধতিটি স্থগিত করেছিল। গত ২৩ জানুয়ারি মবিল যমুনা ও এমআই সিমেন্টের আইপিও প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠান দুটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আইপিওর মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ করে। এ জন্য আইনি জটিলতা এড়াতে শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠান দুটিকে আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়।
শর্ত হচ্ছে তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বরাদ্দ মূল্যের চাইতে দর কমে গেলে কোম্পানি শেয়ার বাইব্যাক করবে। এ শর্ত মেনে প্রতিষ্ঠান দুটি আইপিও লটারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বাইব্যাক বিষয়ে কোনো আইন না থাকায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে এসইসির পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এসইসির শর্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আজ নির্দেশ দেয় কমিশন।

এক বিমানে ঢাকায় পাকিস্তান-উইন্ডিজ

হোটেলে ঢুকেই হাতে লাল গোলাপ পেয়ে একটু কি হাসলেন ক্রিস গেইল? কিংবা চেক ইন করে লিফটের দিকে যেতে যেতে...? রামনরেশ সারওয়ান ও শিবনারায়ণ চন্দরপলের মুখেও হাসি। শেরাটনের লবিতে আম্পায়ার আলিম দারের সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়ার পর কী একটা নিয়ে খুনসুটিও করলেন পরের জন।
বাংলাদেশকে ৫৮ রানে অলআউট করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল প্রথমবার এসে বাসে ঢিল খেয়ে গিয়েছিল। ক্রিস গেইল তাতে এমনই প্রতিক্রিয়া দেখালেন যে, বাংলাদেশে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায় যায় অবস্থা। সে ধাক্কার কথা মনে রেখে কাল সন্ধ্যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর পাকিস্তানের আগমনকে ঢেকে ফেলা হলো রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বেড়াজালে।্রবিমানবন্দর থেকে সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে কড়া নিরাপত্তায় দুই দলের বাস পৌঁছাল হোটেলে।
আগেরবার পেয়ে যাওয়া ভয়টা এই যাত্রায় দূর হয়ে যাওয়াতেই হয়তো গেইল-সারওয়ান-চন্দরপলরা অমন স্বস্তিতে। চেন্নাই থেকে কলম্বো হয়ে ভাড়া করা বিমানে পাকিস্তান দলের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর ঢাকায় পৌঁছা—ঘোরা পথের এই ভ্রমণেও এতটুকু ক্লান্তির ছাপ নেই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের মুখে। দলের মিডিয়া ম্যানেজারও ফিলিপ স্পুনার আশ্বস্ত করলেন, ‘দলের সবাই ভালো আছে। কোনো সমস্যা হয়নি। কাল (আজ) সকাল ১০টায় অনুশীলন।’
নিরাপত্তার বেড়াজাল এমনই ছিল যে, হোটেল লবিতে এক মিডিয়া ম্যানেজার ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কারও সঙ্গেই কথা বলার সুযোগ মিলল না। পাকিস্তান দলকে ঘিরেও ছিল একই নিরাপত্তা। শেরাটনের মারবেল রুমে চেক ইনের আনুষ্ঠানিকতা সেরে তারাও সোজা যে যার রুমে। আজ দুপুরে মিরপুরে পাকিস্তান দলের অনুশীলন করার কথা। আগে থেকেই ঢাকায় থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অনুশীলন সকালে। আর নিউজিল্যান্ড অনুশীলন করবে দুপুরে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ‘ব্ল্যাক ক্যাপ’দের আজ সকালেই পৌঁছার কথা ঢাকায়।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগামীকাল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক দিন বিরতি দিয়ে ২৫ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই। এ ছাড়া ২৪ মার্চ আহমেদাবাদে ভারত-অস্ট্রেলিয়া এবং ২৬ মার্চ কলম্বোতে ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা খেলবে অন্য দুটি কোয়ার্টার ফাইনালে।

ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাবেন অশ্বিন

কেন তাঁকে একাদশে না নেওয়ায় এত সমালোচনার ঝড় সেটা প্রথম ম্যাচেই কিছুটা বুঝিয়ে দিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। পরশু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন এই অফ স্পিনার। ১০ ওভার বোলিং করে ৪১ রান খরচায় নিয়েছেন ২টি উইকেট। আহামরি কিছু না হলেও অশ্বিনের এই বোলিং ভারতীয়দের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে লাগিয়েছে নতুন রং। কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বলেই দিলেন, ‘অশ্বিন ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাবে।’ আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলে (স্টার ক্রিকেট) বিশেষজ্ঞ মতামত দিতে গিয়ে এটা বলেছেন গাভাস্কার, সুতরাং কৌতুক বলে উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই।
অশ্বিনের প্রতি আস্থা অবশ্যই আছে। তবে ভারতের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে একজন বাঁহাতি বিশেষজ্ঞ স্পিনারের বড় প্রয়োজন ভারতের। হরভজন, চাওলা, অশ্বিন—ভারতের বিশ্বকাপ দলের তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনারই ডানহাতি। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি পূর্বসূরি গাভাস্কারের এই দাবি মেটাবেন কীভাবে? ওয়েবসাইট।

পন্টিংই অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতা!

অধিনায়ক হিসেবে রিকি পন্টিংয়ের অবস্থান কোথায়? যদি বলা হয়, কানাডার আশিস বাগাই, আয়ারল্যান্ডের উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড, হল্যান্ডের পিটার বোরেনদেরও নিচে! অনেকে হা রে রে করে তেড়ে আসতে পারেন। ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সফল অধিনায়ককে কিনা ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অখ্যাতদেরও পেছনে!
যদি বলা হয়, এবার বিশ্বকাপে রান তোলার দিক দিয়ে অধিনায়কদের তালিকা করুন, পাঁড় পন্টিং-ভক্তকেও কিন্তু মানতে হবে; অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের অবস্থান নেই দশে। গ্রুপ পর্বে ১০২ রান করেছেন পন্টিং, গড় ২০.৪০। কোনো ফিফটি নেই। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসটি ৩৬ রানের! যুবরাজ সিং তাই বলছেন, এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাটিই হলো তাদের অধিনায়ক। মোক্ষম আঘাতটা তাই হানতে হবে সেখানেই।
যুবরাজ যেন পন্টিংয়ের ভাগের রানগুলোও চুরি করে বসে আছেন। কী দারুণ ফর্মেই না আছেন! অথচ গত বছর বাদও পড়তে হয়েছিল তাঁকে। খেলাই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। গ্রুপ পর্বেই তিনবার ম্যাচসেরা হওয়া যুবরাজ পরশু সেঞ্চুরিও করেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে তোপ দাগানোর দায়িত্বটাও এই বাঁহাতিই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
এমনিতে অস্ট্রেলিয়া তাঁর প্রিয় প্রতিপক্ষও। নিজের অভিষেক ইনিংসটাই ছিল অস্ট্রেলীয়দের বিপক্ষে। ২০০০ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির যে ম্যাচের কোয়ার্টার ফাইনালে যুবরাজের ৮৪ ‘নকআউট’ করে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। বৃহস্পতিবার যুবরাজ হয়ে উঠতে পারেন অস্ট্রেলিয়া-হন্তারক।
বিশ্বকাপে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য ভারতের জন্য প্রেরণাদায়ী নয় মোটেও। ৯ ম্যাচের মাত্র দুটি জিতেছে তারা। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের সর্বশেষ জয়টিও সেই ১৯৮৭ সালে। যুবরাজ কিন্তু বলছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া খুবই ভালো দল সন্দেহ নেই। ওরা গত তিনবারের চ্যাম্পিয়নও। কিন্তু এই দলটায় গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়ার্ন, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের মতো খেলোয়াড় নেই। পন্টিং থাকলেও ওর ব্যাটে রান-খরা। ওদের দুর্বল জায়গাতে আঘাত হেনেই আমরা ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব।’
অস্ট্রেলিয়াও নিশ্চয়ই আঘাত হানবে ভারতের দুর্বল জায়গায়। তবে এখানেও দেখা যাচ্ছে যুবরাজ আগে থেকেই প্রস্তুত। টেইট-লি-জনসন—পেসত্রয়ী যে একের পর এক শর্ট বল ছুড়বে, যুবরাজ সেটি ভালো করেই জানেন, ‘দেখুন, শর্ট বলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা টেস্ট-ওয়ানডের এক নম্বর দল ছিলাম। শর্ট বল খেলতে না পারলে তো আর বিশ্বসেরা হতে পারতাম না। আমরা খুব ভালো করেই জানি অস্ট্রেলিয়ার শক্তি হলো তাদের গতি। যে গতি দিয়ে ওরা উইকেটও পেয়েছে। আমরা তাই এর জন্য প্রস্তুত।’
অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখিটা একটু আগেই হয়ে গেল কিনা, এ নিয়ে ভারতের একটা অংশের মনে প্রশ্ন আছে। যুবরাজ অবশ্য বলছেন, শিরোপা জিততে চাইলে যেকোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা থাকতে হবে। বোঝাই যাচ্ছে, যুবরাজ বেশ আত্মবিশ্বাসী। তা ছাড়া ভারত খেলবে নিজেদের মাটিতে।
আত্মবিশ্বাসী পন্টিংও। কদিন আগে বলেছিলেন, বড় ম্যাচের জন্য রান জমিয়ে রাখছেন। কে জানে, এই ম্যাচই সেই ম্যাচ কিনা। পন্টিংয়ের নিজের দাবি, রান না পাওয়াটা নেহাত দুর্ভাগ্য, ‘টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত যদি দেখেন, আমি প্রথম ম্যাচে রানআউট হলাম। এর পর লেগ সাইড দিয়ে স্টাম্পিং। এদিন (পাকিস্তানের বিপক্ষে) এমনভাবে মেরেছিলাম, বল কিপারকে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়াই উচিত ছিল। কিন্তু বল আটকে গেল গ্লাভসে।’

আকিবের সহকারীর জীবন

আপনার চুলগুলো তো দারুণ ছিল, ছেঁটে ফেললেন কেন?
সময়...সময়ে সবকিছু বদলে যায়, এটাই প্রকৃতির নিয়ম!
জীবনে যে শব্দটা সবচেয়ে বেশি শুনতে হয়েছে, সেটাই এখন আকিব জাভেদের কণ্ঠে—‘সময়!’ ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্যবার শুনেছেন, নিজেও বারবার উপলব্ধি করেছেন জন্ম হয়েছে তাঁর ভুল সময়ে। যে প্রতিভা ও সামর্থ্য ছিল তাতে ২২টি টেস্ট নয়, জন্মটা বছর দশেক এদিক-সেদিক হলে হয়তো ৭০-৮০টি টেস্ট খেলে ফেলতেন। ওয়ানডে অবশ্য খেলেছেন ১৬৩টি, কিন্তু তাঁর মানের একজনের জন্য এটাকে যে মনে হয় বড্ড কম!
মাত্র ১৬ বছর বয়সে অভিষেক, সুইং ও নিয়ন্ত্রণ দিয়ে দ্রুতই দলে জায়গা পাকা করলেন। ১৯ বছর বয়সে ওয়ানডের কনিষ্ঠতম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন। ভারতের বিপক্ষে শারজার ওই ম্যাচের ৩৭ রানে ৭ উইকেট ওয়ানডের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড ছিল দীর্ঘদিন। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পাকিস্তানের জয়ের অন্যতম নায়ক, ওয়ানডেতে চারবার ৫ উইকেট, এই বোলারটিই কিনা জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ২৬ বছর বয়সে!
খেলোয়াড়ি জীবনে পেসার আকিব ঢাকা পড়েছেন ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের ছায়ায়। এখনো তিনি ‘ডব্লু’র ছায়ায়। পাকিস্তানের মূল কোচ ওয়াকার, তাঁর সহকারী আকিব, বোলিং কোচ। তাঁর জীবনটাই কি তবে সহকারীর? আকিব হাসেন, ‘ওয়াসিম-ওয়াকারের সহকারী হওয়াও তো চাট্টিখানি কথা নয়! সত্যি বলছি, ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কোনো কষ্ট নেই। বরং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। ওয়াসিম-ওয়াকার-ইমরানের পাশে খেলতে পারাটাই তো অনেক। ওদের মতো বোলার থাকার পরও দলে আমার একটা ভূমিকা ছিল, এটাই বা কম কী! এটা তো মানতেই হবে ওয়াসিম-ওয়াকাররা বিশ্বের সর্বকালের সেরা বোলারদের মধ্যে থাকবে।’
যুক্তি দিয়ে যতই বোঝানোর চেষ্টা করুন, এটা তো সত্যি যে প্রাপ্তির চেয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের অপ্রাপ্তিই আগে চোখে পড়ে। ‘আকিব জাভেদ’ বললেই সবকিছুর আগে সবার মনে ভাসে ‘ভুল সময়!’ সামর্থ্য আর প্রাপ্তির হিসাব মেলাতে গেলে আক্ষেপ না হয়ে পারেই না।
তবে শুধু আক্ষেপের গল্পই নয়, আছে স্মরণীয় অনেক স্মৃতিও। শারজার সেই হ্যাটট্রিক, হেডব্যান্ড পরে বোলিং, টেন্ডুলকার, আজহার, রবি শাস্ত্রী তিনজনই এলবিডব্লু—সব যেন চোখের সামনে দেখতে পান। সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে ’৯২ বিশ্বকাপ জয়, ‘ওই সময়টাই ছিল অসাধারণ। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আমরা ভারতে নেহরু কাপ জিতেছিলাম, যেটাও ছিল একরকম বিশ্বকাপ। শারজায় অনেক টুর্নামেন্ট জিতেছি। তবে ১৯৯২ অবশ্যই সবচেয়ে স্পেশাল। আমার নিজের কাছে আরও বেশি স্পেশাল, কারণ ওয়াকার ইনজুরড হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পর আমার ওপর অনেক দায়িত্ব এসে পড়ে। আমি সেটা পূরণ করতে পেরেছিলাম।’
মাত্র ৩০ বছর বয়সে ক্রিকেট ছেড়েছিলেন ক্রিকেটেই থাকবেন বলে। প্রস্তাব পেয়েছিলেন ধারাভাষ্য দেওয়ার, কিন্তু মন সায় দিল না। বরং বেছে নিলেন কঠিন পথ ‘ওই এসি রুমে বসে অনেক কিছুই বলা যায়। কিন্তু ক্যারিয়ারে যা শিখলাম, সেগুলো যদি শেয়ার করতে না পারি, তাহলে এর মূল্য কী? কোচিং করানো কঠিন চ্যালেঞ্জিং। নিজের অভিজ্ঞতা তরুণদের সঙ্গে শেয়ার করার মাঝে আনন্দ অনেক।’ লেভেল ১, ২, ৩ শেষ করেই কোচিংয়ে এসেছেন, পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭, ১৯—সব দলকেই কোচিং করিয়েছেন। বাংলাদেশে ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের কোচ ছিলেন তিনিই। এরপর জাতীয় দল। পাকিস্তানের অনুশীলনে সবচেয়ে বেশি ঘাম ঝরানো ব্যক্তিটিও তিনিই। এই বোলারকে টিপস দিচ্ছেন, হাতে-কলমে দেখিয়ে দিচ্ছেন, ফিল্ডিং প্র্যাকটিস করাচ্ছেন, আবার নক করার জন্য ব্যাটসম্যানদের বল ছুড়ে যাচ্ছেন অবিরাম। তাঁর কোচিং-দর্শনটাই এমন ‘কোচিং মানে কিন্তু নির্দেশনা দেওয়া নয়, সাহায্য করা। ব্যাটসম্যানরা চাইলে আমি সারা দিন নেটে বল থ্রো করতে পারি। কোচিং মানে শুধু টেকনিক নয়, যেভাবে পারা যায় সাহায্য করা।’
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য জাতীয় দলের মূল কোচ হওয়া, পাকিস্তানের বা অন্য কোনো দলের। আর সারা জীবন থাকতে চান ক্রিকেটের সঙ্গে। কারণ, ‘ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা!’
শুধু কি এটাই? আরেকটা কারণও না থেকে পারেই না, খেলোয়াড়ি জীবনের অপূর্ণতাগুলো যতটা পারা যায় ঘোচানো!

শ্রীলঙ্কাকে ভয় পাচ্ছে না ইংল্যান্ড

ক্যামেরা যন্ত্রটা অদ্ভুত। ইচ্ছে হলে কাছের ছবি তোলা যায়, কখনো আবার কাছের জিনিস ঝাপসা করে দিয়ে ছবি ওঠানো যায় দূরের কোনো জিনিসের। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইংল্যান্ড দলও যেন ক্যামেরা হয়ে গেছে!
কষ্টেসৃষ্টে কোয়ার্টারে উঠেছে ইংল্যান্ড। নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনাল ভাগ্যের জন্য ইংলিশদের তাকিয়ে থাকতে হয়েছে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের দিকে। দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশকে হারিয়ে দেওয়ার পরই শেষ আট নিশ্চিত হয়েছে আয়ারল্যান্ড ও বাংলাদেশের কাছে পরাজিত ইংল্যান্ডের। নিকট অতীতটা খুব একটা ভালো নয় ইংল্যান্ডের। এখানে দৃষ্টি দিলে আত্মবিশ্বাস নিংড়ে নেওয়ার মতো উপাদান খুব একটা নেই।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগামী শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তাই কাছের অতীতটাকে ঝাপসা করে দিয়ে ইংল্যান্ড তাকাতে চায় দূর অতীতে। গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর ২০০৭-এর শ্রীলঙ্কা সফরে।
এবারের মতো পরিস্থিতি ইংল্যান্ডের গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও হয়েছিল। গ্রুপ পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারার পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। কষ্টেসৃষ্টে নকআউট পর্বে উঠে সেই ইংল্যান্ডই ফিরেছে শিরোপা নিয়ে। পরশু দিল্লি থেকে ইংল্যান্ড কলম্বো গেছে আরও একটি স্মৃতি নিয়ে। ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে এই কলম্বো থেকেই সিরিজ জিতে ফিরেছিল ইংল্যান্ড।
অনেকেই শ্রীলঙ্কা-ইংল্যান্ড ম্যাচে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলেও অতীতকে টেনে এনে পল কলিংউড বলেছেন, ‘টুর্নামেন্ট এখন নকআউট পর্বে ঢুকে গেছে। আমার বিশ্বাস, এই পর্বটায় আমরা মানিয়ে নিতে পারব। আর মাত্র তিনটি ম্যাচ। জিতলেই শিরোপা নিয়ে বাড়ি ফিরব আমরা।’
ইংল্যান্ডের তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দলে ছিলেন গ্রাহাম গুচ। ১৯৭৯ সালের ফাইনালে হেরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। ’৮৭-তে অস্ট্রেলিয়া আর ১৯৯২ সালে পাকিস্তানের কাছে বিসর্জন গিয়েছিল গুচের বিশ্বকাপ শিরোপা-স্বপ্ন। এই বিশ্বকাপেও এসেছেন গুচ। এবার তিনি ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ। এবার অতৃপ্তিটা ঘুচবে বলে বিশ্বাস গুচের, ‘আমি বিশ্বকাপ জিততে পারিনি, তবে এ দলটির বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য আছে।’
সামর্থ্যের প্রশ্ন উঠলে শ্রীলঙ্কাকেই বরং এগিয়েই রাখতে হয়। ব্যাটিং, বোলিং অথবা ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই বিশ্বসেরা সব খেলোয়াড় আছে শ্রীলঙ্কার। প্রথম রাউন্ড শেষে সেরা ১০ ব্যাটসম্যানের তালিকায় সবার ওপরে শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। ১২১ গড়ে ৬ ম্যাচে ৩৬৩ রান তাঁর। সাঙ্গাকারার বিশ্বাস, কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও কথা বলবে তাঁর ব্যাট, ‘রান করতে পারাটা দারুণ। আমাদের আত্মবিশ্বাসের জন্যও এটা ভালো। কোয়ার্টার ফাইনালে বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। আশা করছি, রান পাব সেখানেও।’
সাঙ্গাকারার ব্যাট যেমন আছে, তেমনি আছে মুত্তিয়া মুরালিধরনের ঘূর্ণি। ইংল্যান্ডের বড় দুর্বলতা যে স্পিন। নিকট অতীতটাকে ভুলে যেতে চাইলেও ইংলিশ খেলোয়াড়েরা এসব সামলে কি এগিয়ে যেতে পারবে? গুচের কথা, ‘আমরা আরও অনেক ভালো খেলতে পারি। সেটা যদি পারিই, তাহলে অন্য যেকোনো দলের মতোই আমাদেরও বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা আছে।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলবে জিম্বাবুয়ে

২০০৫ সালের পর থেকে আর কোন টেস্ট খেলে নি জিম্বাবুয়ে। কেউ তাদের টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়ন স্বেচ্ছায় নিজেদেরকে সরিয়ে নিয়েছিল ক্রিকেটের এই আদি সংস্করণটি থেকে। সেসময় দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার চরম প্রভাব পড়েছিল তাদের ক্রিকেট অঙ্গনে। প্রধান প্রধান সব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারকে বাধ্য করা হয়েছিল অবসর গ্রহণের জন্য। এর প্রতিবাদেই টেস্ট অঙ্গন থেকে এই স্বেচ্ছা অবসর।
তবে দীর্ঘদিন পর আবার টেস্ট অঙ্গনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। আগস্ট মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস খেলার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এতে রাজিও হয়েছে। গতকাল সোমবার পিসিবির এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা আগস্টে জিম্বাবুয়ে সফরে যাব। সেসময় ওয়ানডে সিরিজের সঙ্গে একটা টেস খেলার পরিকল্পনাও আছে আমাদের। আর আগামীতে আমরা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটা সিরিজের পরিকল্পনাও করব।’
২০১১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেও টেস্ট খেলতে পারবে বলে আশা করছেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট বোর্ড। এছাড়াও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতেও একটা সিরিজ আয়োজনের কথা ভাবছে পাকিস্তান।

দক্ষিণ আফ্রিকাকেই এগিয়ে রাখছেন স্টিভ ওয়াহ

১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ-যাত্রা শুরু করার পর থেকে বারবার দুর্ভাগ্যই সঙ্গী হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রথমবারই তারা চলে গিয়েছিল ফাইনালের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু বৃষ্টি আইনের জটিল কিছু মারপ্যাঁচের ফাঁদে পড়ে সেবার আর সেমিফাইনালের গণ্ডিটা পেরোতে পারেনি। ১৯৯৯ সালের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিখ্যাত সেই টাই ম্যাচটার কথা তো এখনো ভুলতে পারেনি ক্রিকেটপ্রেমীরা। সেবারও দক্ষিণ আফ্রিকার বিদায়টা ছিল মহা-ট্র্যাজিক। গত বিশ্বকাপে আবারও সেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল প্রোটিয়ারা। এরপর থেকেই ‘চোকার্স’ অভিধাটা তাদের গায়ে জড়িয়ে গেছে বেশ ভালোভাবেই। সব সময়ই মোটামুটি ধারাবাহিক পারফরমেন্স থাকলেও কখনোই ‘ফেবারিট’ বলে ডাকা হয় না দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার বা সমর্থকদের এ ব্যাপারটা নিশ্চয়ই খুব কষ্ট দেয়। তবে এবার এটা তাদের জন্য শাপে বর হয়েছে বলে মনে করছেন স্টিভ ওয়াহ। খুব বেশি আলোচনায় না থাকা বা ফেভারিট তকমা না থাকার ফলে তারা অনেক ভারমুক্ত হয়ে খেলতে পারবে বলে মত দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। হিন্দুস্তান টাইমসের এক কলামে স্টিভ ওয়াহ লিখেছেন, ‘শেষ আটের প্রতিটি দলই গ্রুপ পর্বে অন্তত একটি করে ম্যাচ হেরেছে। কাজেই কোনো দলকেই আলাদাভাবে এগিয়ে রাখার সুযোগ নেই। তার পরও যদি কারও নাম বলতে হয়, তাহলে আমি দক্ষিণ আফ্রিকার কথাই বলব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটাতেই তারা শুধু কিছু ভুল করেছিল। তারপর থেকে তাদের একটা পদক্ষেপেও ভুল হয়নি। আলোচনার বাইরে থাকা বা ফেবারিট তকমা না থাকায় তারা অনেক লাভবানও হয়েছে। তাদের ওপর প্রত্যাশার চাপও অনেক কম। আর তারা সব ক্ষেত্রেই খুব ভালো পারফরমেন্স দেখিয়েছে।’
উপমহাদেশের স্পিনার-বান্ধব কন্ডিশনে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন আক্রমণটা খুবই শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন স্টিভ ওয়াহ। বলেছেন, ‘উপমহাদেশের কন্ডিশনে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রদর্শনটা দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ ভালোমতোই করেছে। স্পিন আক্রমণটা তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। ইমরান তাহির ও রবিন পিটারসেন খুব ভালো বোলিং করছে।’

অধিনায়কত্ব হারাতে হতে পারে পন্টিংকে

অ্যাশেজ সিরিজের পর থেকেই মূলত পন্টিংয়ের অধিনায়কত্ব নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছিল। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার টানা দুবারের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ককে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্যও জোর দাবি উঠেছিল অসি সমর্থকদের কাছ থেকে। বিশ্বকাপের আগ দিয়ে এ ধরনের চিন্তা মাথায় আনার সাহস করেননি অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকেরা। তবে বিশ্বকাপের পর থেকে সত্যিই হয়তো আর অস্ট্রেলিয়ার দলপতি রূপে দেখা যাবে না অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল এ অধিনায়ককে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।
টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে এসে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন রিকি পন্টিং। প্রথমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে রান আউট হয়ে আসার পর সাজঘরের টেলিভিশন ভেঙে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছিলেন। কানাডার বিপক্ষে ম্যাচটায় সতীর্থ স্টিভেন স্মিথের সঙ্গে প্রকাশ্য রাগারাগির ফলেও অনেক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর ‘ওয়াক’ বিতর্ক তো এখনো বেশ জোরেশোরেই চলছে। কথাবার্তা উঠছে তাঁর অখেলোয়াড়সুলভ মনোভাব নিয়েও। সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে কিছুটা বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যেই আছেন ৩৬ বছর বয়সী পন্টিং।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। দলে এখন অবশ্যই কিছু পরিবর্তন আনতে হবে।’ পন্টিংয়ের পরে মাইকেল ক্লার্কের হাতেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। বিশেষত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-১-এ ওয়ানডে সিরিজ জেতাটা এ সিদ্ধান্তের পেছনে নিশ্চিতভাবেই অনেক জোরালো ভূমিকা পালন করবে।

আবার বিতর্কে শোয়েব আকতার

অবসরের ঘোষণাটা দিয়ে দেওয়ার পরেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না শোয়েব আকতারের। অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে শোয়েব খেলবেন, যদি তাঁকে সত্যিকার অর্থেই প্রয়োজন পড়ে। অন্যথায় বাকি ম্যাচগুলোতে তাঁর খেলার কোনোই সম্ভাবনা নেই।
শোয়েব আকতার ফর্মে ছিলেন না, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ওভারে ২৮ রান দিয়েছেন—সবই ঠিক আছে। কিন্তু সত্যিই কি শোয়েব ফর্মের কারণে বাকি ম্যাচগুলোতে সুযোগ পাচ্ছেন না, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ‘অন্য কোনো কারণে’র কথাই জানিয়েছে শোয়েবের না খেলার নেপথ্য কারণ হিসেবে।
পিটিআই জানিয়েছে, শোয়েব আকতার অবসরের ঘোষণা দিলেও এ মুহূর্তে অনেক খেলোয়াড়ই একেবারে সহ্য করতে পারছেন না। তাঁকে একাদশে নিলে টিম স্পিরিট ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এমন আশঙ্কায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁকে বসিয়ে রাখারই সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমনকি তাঁকে এ মুহূর্তে অধিনায়ক আফ্রিদিও একেবারেই সহ্য করতে পারছেন না, এমন সংবাদও দিয়েছে পিটিআই।
ম্যানেজার ইন্তিখাব আলম, কোচ ওয়াকার ইউনুস, সহকারী কোচ আকিব জাভেদ কারোরই ‘গুডবুকে’ তিনি যে নেই, এ কথাও স্পষ্ট হয়ে গেছে। শোয়েবের এ পরিণতির একমাত্র কারণ, তাঁর আচরণ—দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র পিটিআইকে এ তথ্যও দিয়েছে।
খবরে প্রকাশ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সময় কামরান আকমল যখন তাঁর বলে রস টেইলরের ক্যাচ ফেলে দিলেন, শোয়েব আকতার তখন অকথ্য ভাষায় কামরানকে গালিগালাজ করেন। এমনকি তিনি নাকি তাঁকে ধাক্কাও দিয়েছেন। এ কারণে, টিম ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে তাঁর দুই হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়।
একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে বয়সে অনেক ছোট কামরানকে গালি দেওয়া ও তাঁর গায়ে হাত তোলার ঘটনায় ম্যানেজার ইন্তিখাব নাকি ক্ষুব্ধ হয়ে শোয়েবকে বলেছেন, ‘তোমার এ মুহূর্তেই ক্রিকেট থেকে অবসরে যাওয়া উচিত।’ এ ঘটনার ফলেই শোয়েব প্রথমে দলের প্র্যাকটিস সেশনে ও পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন। অবসর ঘোষণা করে, ই মুহূর্তে একেবারে বন্ধুহীন অবস্থাতেই তিনি দলের সঙ্গে রয়েছেন।
পাকিস্তান দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে পিটিআই জানিয়েছে, শোয়েব যে মাপের খেলোয়াড়, তাঁর সম্মান রক্ষার্থেই এসব ঘটনা চাউর হোক, তা চায়নি পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট। সে কারণেই মর্যাদার সঙ্গে তাঁকে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তারা।
ম্যানেজার ইন্তিখাব আলম অবশ্য পিটিআইর এসব তথ্যের সত্যতা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শোয়েবের সঙ্গে কামরানের এমন কিছু হয়নি, যার কারণে আমি তাঁকে অবসরে যাওয়ার নির্দেশ দেব। সে নিজের বিচার-বুদ্ধি বলে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

‘আফ্রিদি, ওয়াকারকে কৃতিত্ব দিতেই হবে’

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে মাত্র ৩৭ বলে ৬০ রান করে পাকিস্তানকে ফাইনালে তুলেছিলেন তখনকার টগবগে মুলতানি তরুণ ইনজামাম-উল হক। ফাইনালেও ৪২ রানের একটি ত্বরিত ইনিংসে দলের শিরোপা জয়ে রেখেছিলেন মহাগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এরপর থেকে সেই অখ্যাত মুলতানি তরুণ হয়ে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের সব সাফল্য-ব্যর্থতার একচ্ছত্র অঙ্গ। অনেক বিশ্লেষকই তাঁকে বসিয়েছেন লারা, টেন্ডুলকারের সঙ্গে এক কাতারে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটিং গ্রেটের মর্যাদা। অধিনায়ক হিসেবে দলকে তেমন সাফল্য দিতে পারেননি। তাঁর অধিনায়কত্বেই ২০০৭ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল পাকিস্তান। পাকিস্তানের বিদায় বাজিয়ে দিয়েছিল ইনজামামের ক্যারিয়ারেরও বিদায় ধ্বনি। গতবারের ব্যর্থতা তাঁর ক্যারিয়ারে কাঁটা হয়ে বিঁধে থাকলেও পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী অন্যতম এই ক্রিকেটার এবার নিজ দেশের পারফরম্যান্সে কিন্তু দারুণ খুশি। তাঁর মতে, পাকিস্তানের এই পারফরম্যান্সের মূল কৃতিত্ব দিতে হবে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি ও কোচ ওয়াকার ইউনুসকে। এর পাশাপাশি, সহকারী কোচ আকিব জাভেদ, ম্যানেজার ইন্তিখাব আলম নিজেদের অভিজ্ঞতার পুরোটা দিয়েই দলকে সাহায্য করে যাচ্ছেন। এঁদের কল্যাণেই একটি ইউনিট হয়ে দল খেলতে পারছে বলে তাঁরা গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারিয়েছে।
‘পাকিস্তানি টিম ম্যানেজমেন্ট দলের তরুণ খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে দারুণ কাজ করে যাচ্ছে। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারছে বলেই দল ভালো করছে।’ ইনজামামের মন্তব্য।
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন ওপেনিং জুটিতে রদবদলের কথা। ইনজামামের মতে, ‘এবার পাকিস্তান দলের যে ব্যাপারটি সবচেয়ে পীড়াদায়ক ছিল সেটি হলো, ওপেনারদের পারফরম্যান্সহীনতা। টানা পাঁচ ম্যাচ বাজে খেলেছে আহমেদ শাহজাদ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আহমেদ শেহজাদকে বাদ দিয়ে ম্যানেজমেন্ট সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিয়েছে।’
ইনজামাম বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া পাকিস্তান দলকে যেভাবে চিত্রিত করেছিল, সেটা ঠিক ছিল না। সব সময়ই দলটির ভালো করার সম্ভাবনা ছিল। দলটি প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ। বিশ্বকাপের আগে আবুধাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ও নিউজিল্যান্ডে পাকিস্তান দল তার প্রমাণ রেখেছিল।’
আহমেদ শেহজাদকে বাদ দিয়ে ওপেনিংয়ে কামরান আকমলকে তুলে নিয়ে আসার প্রশংসা করে ইনজামাম বলেন, ‘দলের স্বার্থে এ সিদ্ধান্তটি ছিল দুর্দান্ত। ওয়াকার তাঁর মেধার পুরোটাই দলের জন্য ঢেলে দিয়েছেন। কামরানকে ওপেনিংয়ে পাঠানোটা ওপেনিং সমস্যার ভালো সমাধান তৈরি করবে।’
কাল ঢাকায় কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে তাঁর দেশ পাকিস্তান। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের সাডেন ডেথ পর্ব নিয়ে কোনো আগাম মন্তব্য করতে চান না ইনজামাম। তিনি বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপের চরিত্রই বলছে, কোনো আগাম মন্তব্য করে লাভ নেই। নির্দিষ্ট দিনে যে দল ভুল কম করবে, যারা ভালো খেলবে—বিজয়মালা সে দলেরই খেলোয়াড়েরা পরতে পারবে।’