Wednesday, August 16, 2017

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভা কাল

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের এক সভা কাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানিয়ে বলা হয়, সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

জেলেদের জালে পাওয়া গেল চুয়েট-ছাত্রের লাশ

জেলেদের জালে পাওয়া গেল সৈকতে নিখোঁজ চুয়েটের মেধাবী ছাত্র খাব্বাবের লাশ। কুমিল্লার মেধাবী ছাত্র নাকিব মোহাম্মদ খাব্বাব সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সৈকতে বন্ধুদের সাথে সাগরে বেড়াতে গিয়ে গত মঙ্গলবার ৩টায় নিখোঁজ হন। নিখোঁজের ২২ ঘন্টা পর জেলেদের জালে বুধবার দুপুর ১টায় তার লাশ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাব্বাবের মামা নাঈমুল বারী। খাব্বাব চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ১৩তম ব্যাচের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র এবং কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মু. শফিকুল আলম হেলালের বড় ছেলে। তিনি ইবনে তাইমিয়া স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের ধনিশ্বর গ্রামে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার বাবা মু. শফিকুল আলম হেলাল পবিত্র হজ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরব রয়েছেন।
দাফন : বুধবার চারটায় সীতাকুন্ডের সাদেক মাস্তান উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে চুয়েটের শিক্ষক ও তার সহপাঠিরা মেধাবী ছাত্র খাব্বাবের প্রথম জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা এবং বাদ এশা ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে তৃতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার ইবনে তাইমিয়া ট্রাস্ট, গভর্নিংবডির সদস্য, শিক্ষক ও কর্মচারীরা। তারা তার রূহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

কাশ্মীর ঢুকে পড়ার চেষ্টা চীনা সেনাদের, মারপিট

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ সীমান্তে দুই দফা ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছে চীনা সেনারা। মঙ্গলবার কাশ্মীরের লাদাখে পশ্চিম হিমালয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ভারতীয় সেনারা বাধা দিলে তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে চীনা সেনারা। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষে ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। সিকিম সীমান্তে ডোকলামকে ঘিরে চীন ও ভারতের মধ্যে গত দুই মাস ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে লাদাখে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলো চীনা সেনারা। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তের সামরিক পরিস্থিতি অবহিত করা হয়েছে নয়াদিল্লির এমন একটি সূত্র সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, লাদাখের পাংগং হৃদের কাছে চীনা সেনা বাহিনীর একটি দলের ভারতীয় সীমান্তে ঢুকে পড়ার চেষ্টা নস্যাত করে দেয়া হয়েছে। এ সময় চীনা সেনাদের হাতে লোহার রড এবং পাথর ছিল। উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে উভয় পক্ষে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছে বলে জানায় সূত্র। তবে ঘটনার ব্যাপারে চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। চীন ও ভারত প্রায় সময়েই পরষ্পরের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে থাকে। কিন্তু তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা খুবই বিরল। ভারতীয় সামরিক বাহিনী ঘটনার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। ঘটনার বিষয়ে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পাংগং হৃদের কাছে উভয় পক্ষের বিবাদ হয়েছে। এছাড়া শ্রীনগেরর একটি সেনা সূত্রও বলেছে, চীনা সেনারা পাংগং হৃদ এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষে বিবাদের ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৬টা এবং সকাল ৯টার দিকে পাংগং হৃদ সংলগ্ন ফিঙ্গার ফোর ও ফিঙ্গার ফাইভ অঞ্চল দিয়ে চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করে। চীনা সেনার সামনে এগোতে থাকলে ভারতীয় জওয়ানরা মানবপ্রাচীর গড়ে তুলে তাদের বাধা দেয়। এ সময় চীনা সেনারা তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। জবাবে ভারতীয় সেনারাও পাথার ছোড়ে। এনিয়ে উভয়পক্ষে কয়েকজন আহত হয়। সেনা সূত্রের বরাতে এবিপি আনন্দ জানায়, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সংঘাত চলে। তবে পরিস্থিতি মাত্রাতিরিক্ত অবনতি হওয়ার আগে উভয় পক্ষই নিয়মমাফিক ব্যানার ড্রিল করে নিজ নিজ জায়গায় ফিরে যায়। উল্লেখ্য, কাশ্মীরের বিখ্যাত পাংগাং হৃদের ৯০ কিলোমিটার চীনের এবং ৪৫ কিলোমিটার ভারতের দখলে রয়েছে। তবে উভয় দেশই পুরো হৃদের মালিকানা দাবি করে আসছে। ১৯৯০ সালে ভারত ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ দাবি করলে চীন তা নাকচ করে দেয়। পরে দেশটি ফিঙ্গার ফোর অঞ্চল পর্যন্ত পাকা সড়ক তৈরি করে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলে। এখন সিকিম সেক্টরে ডোকালাম নিয়ে চীন ও ভারতের সেনাদের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পাংগাংয়ে হানা দিল চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।

আমরা তো ইলিশের গন্ধও পাই না : প্রধান বিচারপতি

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত আপিল শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, আপনার বাড়ি পদ্মার পাড়ে তাই ইলিশ দেখেন; আমরা তো ইলিশের গন্ধও পাই না। বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময়সীমা আবারো বৃদ্ধি করেন। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই সময় বাড়িয়েছেন আদালত। এ সংক্রান্ত শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, এখনও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। তখন  প্রধান বিচারপতি বলেন, কেন আমরা তো আদেশ দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমার বাড়ি পদ্মার পাড়ে। আমি তো এখনও দেখি, কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার বাড়ি পদ্মার পাড়ে তাই আপনি ইলিশ দেখেন; আমরা তো ইলিশের গন্ধও পাই না। প্রধান বিচারপতি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর না হলে আমাদের কী করার আছে। যত তাড়াতাড়ি এটা (ভ্রাম্যমান আদালত আইন) ঠিক করবেন, ততই সরকারের লাভ। এর আগে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, আমি আপনাকে একটা তালিকা দেবো। সিআরপিসি’র সঙ্গে এর কয়েকটি ধারা সাংঘর্ষিক। এগুলো ঠিক হওয়া উচিত। আমরা আইনের বাইরে বিচার করবো না। আইনের অধীনেই বিচার করবো।’ পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদন মঞ্জুর করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ ১০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। এ নিয়ে কয়েক দফায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালানোর সময় নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ২১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

দেশে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা নেই: অর্থমন্ত্রী

দেশে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা নেই এবং খাদ্যের মজুদ ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বুধবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে প্রাণ ডেইরির এক চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে দেশে যে বিপত্তি হচ্ছে, তা খুবই সাময়িক। বন্যার কারণে চালের দাম বেড়ে গেছে। এ জন্য অনেক চাল আমদানি করা হচ্ছে। এতে অনেক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তবে দেশের মানুষের জন্য সরকার উচ্চ ব্যয়েই চাল আমদানি করবে। মন্ত্রী এসময় আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রে ১০-১২ বছর ধরে প্রবৃদ্ধি হলে ওই রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার আশংকা থাকে না। আমরা আট বছর ধরে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আগামী দুই বছর ক্ষমতায় থাকব এবং প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

'নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই'

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে গণমাধ্যমের সংলাপে মত দিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান। বুধবার ইসির সঙ্গে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের সংলাপ শেষে বের হয়ে দুপুরে সাংবাদিকদের নিজের এ মত জানান শফিকুর রহমান। প্রেসক্লাব সভাপতি সংলাপে বলেন, 'আমাদের দেশে আইন-শৃঙ্খলা কন্ট্রোলের জন্য পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার ভিডিপি আছে। তারাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সক্ষম। যখন জাতীয় বিপর্যয় হয় তখনই কেবল সেনাবাহিনী আহ্বান করা দরকার হয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনী ছিল। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।' শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে আহ্বান করলে পুলিশ-র‌্যাব সাইডলাইনে চলে যাবে। তখন অবস্থা তেমন ভালো থাকবে না। তিনি বলেন, 'নির্বাচনের সময় পর্যবেক্ষণ দল নামে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংগঠন নির্বাচনে প্রভাব খাটায়। তারা শৃঙ্খলা নয় শুধু বিশেষ প্রার্থী ও বিশেষ দলের পক্ষে মাঠে নামে। এরা বিদেশি সাম্রাজ্যবাদীর পয়সায় চলে। এদেশে তারা সরকার পরিবর্তন করতে চায়। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এটা আমি দেখেছি।' প্রেসক্লাব সভাপতি আরও জানান, ‘অনেকেই নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলেছেন। আমি সেটা সমর্থন করেছি। প্রত্যেকটি নির্বাচনের আগে ও পরে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হয়। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে বিশেষ নজর রাখতে হবে।' প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে সংলাপে অন্যান্য কমিশনার ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

দিন দিন যমুনা নদীর পানি আরও ফুলে ফেঁপে উঠছে। বিগত সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে, সিরাজগঞ্জহ জেলার নদী তীরবর্তী ৫টি উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এ উপজেলাগুলোর দুর্গম চরাঞ্চলের অবস্থা আরও নাজুক।  গবাদি পশু, শিশু, বয়োবৃদ্ধ ও প্রসূতি মায়েদের নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে জেলার বন্যাদুর্গতরা। বন্যদুর্গত অঞ্চলে জ্বালানি, ওষুধ, ত্রাণ, সেনিটেশন ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে পানিবন্দি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এদিকে মরার উপর খরার ঘায়ের মতো চরাঞ্চলে রাতে ডাকাতের উৎপাত, দিনের বেলায় ঘরের মাঁচায় সাপসহ পোকা মাকড়ের ভয় এ অঞ্চলের মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে জেলার বানভাসি মানুষেরা চরম দুর্ভোগে দিনাতিপাত করছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে বুধবার দুপুর ১২টায় যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে জেলার নদী তীরবর্তী সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ওইসব এলাকার মানুষজন গবাদি পশু ও নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাব নিয়ে বাড়িঘর ছেড়ে কেউ আশ্রয় নিয়েছেন ওয়াপদা বাঁধে, আবার কেউ আশ্রয় নিয়েছেন দূরের কোনো আত্মীয়ের বাড়ি অথবা নিরাপদ স্থানে। এমন পরিস্থিতিতে খেয়ে না খেয়ে নিজেদের জীবন যেনতেনভাবে বাঁচালেও গবাদি পশুর আশ্রয় ও খাবার সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন বানভাসি মানুষেরা। ফলে, এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র গোখাদ্য সংকটও। বেড়ে গেছে খর, খৈল, ভূষিসহ অন্যান্য খাবারের দাম। সরেজমিনে জেলার কয়েকটি বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব দুর্গত মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভূক্তভোগীরা জানান, সামনে কোরবানির ঈদ, আমাদের খাদ্য দিয়ে বাঁচানোর আগে গবাদি পশুগুলোকে খাদ্য দিয়ে বাঁচানোও জরুরি হয়ে পড়েছে। সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের বয়োবৃদ্ধ তারা মিয়া (৭০) বলেন- তিনদিন ধরে বাড়িতে বুক পানি। উপায়ান্তর না দেখে ওয়াপদা বাঁধে ৫টি গরুসহ পরিবারের ৯জন সদস্যকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। নিজেরা কোনমতে শাক-পাতা খেয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু গরুগুলোকে খেতে দিতে পারছি না। কোথাও কোন খালি মাঠ নেই, যেখানে নিয়ে গরুগুলোকে খাওয়াবো। একই এলাকার ওবায়দুল (৪৭) জানান, সোমবার বিকালে বাড়িতে পানি ওঠে। এসময় আমার একটি গাভী বাচ্চা প্রসব করে। কিন্তু বাড়িতে কোনো শুকনো জায়গা না থাকায় বাচ্চাটি নদীর পানিতে পড়ে তখনই মারা যায়। পরে, পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। খোকশাবাড়ি পূর্বপাড়ার আছাতন বেওয়া (৭০) বলেন, শ্বশুরের দেয়া ৪ শতক জায়গায় দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতাম। বড় ছেলে মানসিক প্রতিবন্ধী, ছোট ছেলে ঢাকায় রিকশা চালায়। মেয়ে থাকে শ্বশুর বাড়ি। নিজের কর্মক্ষমতা না থাকায় পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে চেয়েচিন্তে খাই। পানি ঢুকে ঘরদুয়ার ভেঙে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। কখন যে পাত্তারি গোটাতে হবে তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। এখন আমি কি করবো? বাকি জীবন কিভাবে কাটবে জানি না। বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলের মৃত হবিবর আলীর ছেলে আলম, এফরান আলীর ছেলে আমীর হোসেনসহ অনেকেই বলেন- আমরা চরাঞ্চলবাসী চরম দুর্ভোগ দিন কাটাচ্ছি। নৌকার অভাবে পাড়াপাড় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে দিনের বেলায় সাপ পোকা-মাকড়ের ভয় ও রাতে চোর-ডাকাতের ভয়ে নির্ধুম রাত কাটাচ্ছি। ঘরে কিছু খাদ্য থাকলেও জ্বালানি সংকটে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য জনপ্রতিনিধিদের খুঁজে পাচ্ছি না। বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ ও ত্রাণ তৎপরতা অপ্রতুল হওয়ায় চরম সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতর থেকে এ পর্যন্ত  ১৭৫ মেট্টিকটন চাল ও নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখনও বেশ কিছু ত্রাণ মজুদ রয়েছে। এব্যাপারে খোকশাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ মোল্লা বুধবার বলেন, আমার ইউনিয়নের কমপক্ষে দেড় হাজার বাড়িঘর বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। এসব পরিবারের মধ্যে প্রায় চার থেকে পাঁচশ’ পরিবার ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। ৪টি আশ্রয় কেন্দ্র থাকলেও দূরত্বের কারণে কেউ সেখানে যেতে চান না। মঙ্গলবার বরাদ্দপ্রাপ্ত পাঁচ টন চাউল বুধবার সকালে দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ব্লিচিং পাউডার মজুদ রয়েছে।

চীন-ভারত সৈন্যদের সংঘর্ষ, টান টান উত্তেজনা

চীন ভারত সীমান্তে হিমালয়ের বিতর্কিত ভূখণ্ডে উভয় দেশের সৈন্যদের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার কর্মকর্তারা এ কথা জানান। উভয় সীমান্তে দু’দেশের সামরিক বাহিনীর মাসব্যাপী অবস্থানের পর সংক্ষিপ্ত এ সংঘর্ষে উত্তেজনা আরো তীব্র রূপ নিয়েছে। ভারতের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার পনগং লেকের কাছে ভারতীয় সৈন্যদের লক্ষ্য করে চীনের সৈন্যরা পাথর ছুঁড়ে মারে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এলাকাটি পর্যটকদের কাছে অনেক আকর্ষণীয়। তিনি আরো জানান, চীনের সৈন্যরা দু’দফা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এএফপি’কে বলেন, ‘এটি একটি সামান্য ঘটনা। চীনের সৈন্যরা কিছু পাথর ছুঁড়ে মারলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।’ তিনি আরো জানান, ভারত ও চীনের সৈন্যরা তাদের স্ব স্ব অবস্থানে ফিরে গেলে সংক্ষিপ্ত এ সংঘর্ষের অবসান হয়।

কলম্বিয়ায় ফার্কের সঙ্গে ৫০ বছরের যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্টোস মঙ্গলবার দেশটিতে ফার্ক গেরিলাদের সঙ্গে ৫০ বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার শেষ কন্টেইনারভর্তি অস্ত্র গলিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্টোস ফার্কের একটি দুর্গম ঘাঁটি থেকে শেষ অস্ত্রের চালানটি বের করে আনার পর নিজে সেটি বন্ধ করেন। জাতিসংঘের পরিদর্শকদের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়। জাতিসংঘ রেভোল্যুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া (ফার্ক) বিদ্রোহীদের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি তত্ত্বাবধান করেছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধের অবসান হল। সান্টোস বলেন, ‘এটা বাস্তবিকই আমাদের দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’ খবর এএফপি’র। বামপন্থী বিদ্রোহী বাহিনীটি জানিয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। দলটির সিনিয়র নেতা ইভান মার্কেজ মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে বলেন, শিগগিরই তারা নতুন একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করবেন। দলটির নাম হবে ‘অলটারনেটিভ রেভল্যুশনারি ফোর্স অব কলম্বিয়া।’ ১৯৬৪ সালের মে মাস থেকে ফার্ক বিদ্রোহী তৎপরতা শুরু করে। পাঁচ দশক ধরে চলা এই সংঘাত সহিংসতায় তিন লাখেরও বেশি লোক নিহত ও আরো ৬০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়। বাস্তুচ্যুত হয় প্রায় ৭০ লাখ লোক।

বেড়ায় হাজার মানুষ পানিবন্দী

বেড়ার নগরবাড়ী মথুরা পয়েন্টে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বণ্যা পরিস্থিতির অবনতিতে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির আশঙ্কায় অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। এদিকে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় তাঁত শিল্প চরম লোকসানের মুখে পড়েছে। সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে, স্থানীয় মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে এই দুর্ভোগের চিত্র উঠে এসেছে। বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নগড়বাড়ির মথুরা পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি ৩০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া বাঘাবাড়ি পয়েন্টে হুরাসাগর নদীর পানি বিপদসীমার ৬০ সেমি উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। নগড়বাড়ি থেকে বাধেরহাট পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। বেড়া উপজেলার নিন্মাঞ্চলসহ হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার পরিবার, নতুন ভারেঙ্গা ও পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার, কৈটলা ইউনিয়নের দেড় হাজার পরিবার ও ঢালারচর ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঢালারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোরবান আলী জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আজ রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। নতুন করে আরো প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়বে। প্রতিটি ইউনিয়নের চিত্র প্রায় একই রকম। বন্যার পানি বৃদ্ধিতে মারাত্বক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এলাকার তাঁত শিল্প। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এ অঞ্চলের তাঁত কারখানায় লুঙ্গি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লুঙ্গি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সুতা শুকানোর জায়গা না থাকায় এ শিল্পে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হাটুরিয়া নাকালিয়া তাঁত শিল্প ২ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ওয়াজেদ আলী সরকার জানান, মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এসব তাঁত শিল্প পরিচালিত হয়। ঈদে লোকসান হলে ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে না। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শামীম এহসান জানান, বন্যা দুর্গত এলাকার চেয়ারম্যানরা এখন পর্যন্ত তাদের এলাকায় বণ্যার ক্ষয়ক্ষতি তথ্য এবং সাহায্যের জন্য কোন আবেদন করেননি। আজ (বুধবার) ইউপি চেয়ারম্যনদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে।

ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ৭২ ঘন্টায় (৩ দিন) আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এই সময় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে। ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার। আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৩৪ মিনিটে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমী বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় বিরাজ করছে।

ষোড়শ সংশোধনীর রায় : সার্টিফায়েড কপি চেয়ে সরকারের আবেদন

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড কপি(সত্যায়িত) চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ বুধবার আবেদন করার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল। এর আগে গত ১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৩ জুলাই খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। ‘বিচারকদের পদের মেয়াদ’-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বিল অনুসারে, সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের ২ দফায় বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতাসংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘প্রমাণিত ও অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাবে না।’ ৩ দফায় বলা হয়েছে, এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন প্রস্তাব-সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করবে। একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ৫ মে হাইকোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত ৪ জানুয়ারি আপিল করে। আপিলের ওপর গত ৮ মে শুনানি শুরু হয়, যা ১১তম দিনে গত ১ জুন শেষ হয়। ওই দিন আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। গত ৩ জুলাই রায়ের সংক্ষিপ্তসার ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বন্যা পরিস্থিতির সংকট মোকাবিলায় সরকার সক্ষম: অর্থমন্ত্রী

বন্যার কারণে দেশে যে বিপত্তি হচ্ছে, তা খুবই সাময়িক। সরকার অতি সহজেই সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, আকস্মিক বন্যার কারণে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। চালের দাম বেড়ে গেছে। এ জন্য সামনে অনেক চাল আমদানি করা হচ্ছে। এতে অনেক ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। তবে দেশের মানুষের জন্য সরকার উচ্চ ব্যয়েই চাল আমদানি করবে। আজ সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে প্রাণ ডেইরির এক চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রে ১০-১২ বছর ধরে প্রবৃদ্ধি হলে ওই রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। আমরা আট বছর ধরে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। আগামী দুই বছর ক্ষমতায় থাকব এবং প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।’ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সোনালী ব্যাংক ও প্রাণ ডেইরির মধ্যে চুক্তির আওতায় দুগ্ধখামারিরা সোনালী ব্যাংক থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন।

ড্রেসিং সম্পন্ন, ভালো আছে মুক্তামণি

রক্তনালির টিউমারে আক্রান্ত মুক্তামণির অস্ত্রোপচার হয়েছে গত শনিবার। আজ বুধবার সকালে ক্ষতস্থানের ভেতরটা দেখতে ড্রেসিং পরিবর্তন করেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অজ্ঞান করা হয়। পরে তার জ্ঞান ফিরেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ জানান, এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছে মুক্তামণি। তার সার্বিক অবস্থা ভালো। শনিবার অস্ত্রোপচার করে তার হাতের তিন কেজি ওজনের টিউমার অপসারণ করেন চিকিৎসকেরা। সাতক্ষীরায় জন্মের দেড় বছর বয়স থেকে মুক্তামণির ডান হাতের সমস্যার শুরু। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তার ডান হাতটি ফুলে অনেকটা কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। সে বিছানাবন্দী হয়ে পড়ে। মুক্তামণির রোগ নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। গত ১১ জুলাই মুক্তামণিকে ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন।

সুবহানের আপিল শুনানি ১৬ অক্টোবর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুহাম্মদ আবদুস সুবহানের করা আপিল শুনানির জন্য ১৬ অক্টোবর তারিখ ধার্য করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ আজ বুধবার এই তারিখ ধার্য করেন। আদেশে আদালত বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলকারী পক্ষ আপিলের সংক্ষিপ্তসার জমে দেবে। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের সংক্ষিপ্তসার দেবে। উভয় পক্ষকে লিখিত বক্তব্য দাখিল করতে হবে। আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী জয়নাল আবেদীন তুহিন। সুবহানের আপিলটি আজ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চের কার্যতালিকার তিন নম্বর ক্রমিকে আদেশের জন্য ছিল। এই বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। এর আগে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারের করা পৃথক আপিল ১৩ আগস্ট আদেশ প্রদানের জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত আপিল দুটি শুনানির জন্য ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেন, সেই সঙ্গে ২৪ আগস্টের মধ্যে উভয় পক্ষকে আপিলের সংক্ষিপ্তসার জমা দিতে নির্দেশ দেন। এর দুই দিনের মাথায় সুবহানের আপিল কার্যতালিকায় এল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুবহানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। রায়ে সুবহানের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগের মধ্যে ছয়টি প্রমাণিত হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ১৮ মার্চ আপিল করেন সুবহান। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুবহানকে আটক করে। ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

দক্ষিণ কোরিয়া কি সমাধান দিতে পারবে?

উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং-উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কথার লড়াই চলছেই। এর মধ্যেই উভয় কোরিয়া স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ১৯৪৫ সালে তারা জাপানি ঔপনিবেশিক শাসনের হাত থেকে মুক্ত হয়। এদিন এলে বোঝা যায়, উভয় দেশের অভিন্ন ইতিহাস রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দুই দেশের সামরিক বাহিনীর এই মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটানোর বিশেষ যোগ্যতা যে দক্ষিণ কোরিয়ার আছে, সেটাও বোঝা যায়। কিম জং-উন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে যত মজাই পান না কেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই উত্তর কোরিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল না; বরং বিপরীতভাবে উত্তর কোরিয়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে কিম জং-উনের শাসন রক্ষা করা এবং তাঁর নেতৃত্বে দুই কোরিয়া একত্র করা। সে কারণে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মুখে আছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তার বিবাদ মিটিয়ে ফেলার প্রয়োজনীয়তাও অত্যন্ত বেশি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্ষিক যৌথ মহড়ার (আলচি ফ্রিডম গার্ডিয়ান-ইউএফজি) লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশকেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করা। তাই এর মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার লক্ষ্য অর্জিত হবে না; বরং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যখন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে রয়েছে, তখন এই মহড়ার (২১ আগস্ট শুরু হবে) কারণে দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে চলে যেতে পারে। এমনকি স্বাভাবিক সময়েও উত্তর কোরিয়া এই মহড়ার ব্যাপারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। গত বছর এই মহড়ার পর তারা পঞ্চম পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ ঘটায়। আর এবার তো উত্তর কোরিয়া মার্কিন ভূমি গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিচ্ছে। ট্রাম্প যদি কিমকে আরও উসকানি দেন, তাহলে এবার উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া তেমন প্রতীকী হবে না, সেটা আরও বিপর্যয়কর হবে। এখন উত্তর কোরিয়া যদি আঘাত করে, তাহলে দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র যে নিরোধের নীতি গ্রহণ করেছে, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নিরোধের নীতি হলো, প্রতিপক্ষকে গুরুতর শাস্তির বিশ্বাসযোগ্য হুমকি দিয়ে সামরিক সংঘাতে জড়িত হওয়া থেকে বিরত রাখা। তা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের হুমকিকে অর্থহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এই মাসের যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা যদি সামরিক সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে এই নিরোধের নীতি ব্যর্থ হবে। এই দুই নেতা পরস্পরকে বিশ্বাস করেন না, পৃথিবীও তাঁদের বিশ্বাস করে না। চীনা নেতারা বহুদিন ধরে ট্রাম্পকে অনির্ভরযোগ্য মনে করেন। এবার ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে যে আবেগীয় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, তাতে চীন মনে করছে, এ ব্যাপারে যুক্ত হওয়ার তেমন কারণ নেই। যে শিনজো আবে পূর্ব এশিয়ায় ট্রাম্পের সবচেয়ে কট্টর সমর্থক, তিনিও ট্রাম্পের এই বিপজ্জনক নীতির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক হয়ে উঠেছেন। জাপান উত্তর কোরিয়ার চূড়ান্ত ঐতিহাসিক শত্রু, ফলে কিমের ওপর তাদের প্রভাব নেই। এই পরিস্থিতিতে একমাত্র দক্ষিণ কোরিয়াই বিশ্বাসযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের অনুপ্রেরণা দিতে পারে।
কিন্তু দেশটি এখন পর্যন্ত কূটনীতি ও শত্রুতার মধ্যবর্তী পথ মাড়িয়েছে। তারা একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ ব্যাপারে একমত যে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও সামরিক প্রস্তুতি রাখতে হবে, যার মধ্যে আছে থাড ক্ষেপণাস্ত্র নিরাপত্তাব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ মোতায়েন। অন্যদিকে তারা এই ইঙ্গিত দিয়েছে উত্তরের সঙ্গে যৌথ সামরিক সংলাপের ব্যাপারে তারা রাজি। এমনকি তারা কিমের সরকারকে যৌথভাবে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াকে এখন শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে। দুর্বল প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে তাদের আক্রমণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত হবে, এ বছরের যৌথ মহড়া অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার অনুরোধ করা। ব্যাপারটা হলো দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এ বছরের মার্চ-এপ্রিল এবং ২০১৬ সালে ৩ লাখ ২০ হাজার সেনার বিশাল যৌথ মহড়া করেছে, যা উল্লিখিত ইউএফজির সম্মিলিত শক্তির ছয় গুণ বেশি। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইক ফোর্স মোতায়েন করেছিল, যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ ইউএসএস কার্ল ভিনসনও ছিল। তারা বলেছিল, এটি বেপরোয়া আক্রমণ ঠেকাতে পারবে। তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় ইউএসএস মিশিগান নামের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন ইউএসএস মিশিগান নোঙর করেছিল। এমনকি তারা উত্তর কোরিয়ায় ঢুকে কিম জং-উনকে উৎখাতেরও প্রস্তুতি নিয়েছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে যৌথ সামরিক মহড়া বাতিল করা হলে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সংলাপ চালানো যাবে। একই সঙ্গে দুই দেশের হটলাইন চালু করা সম্ভব হবে, যা গত বছর কেটে দেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার উচিত হবে, উত্তর কোরিয়াকে যৌথভাবে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া। কোরীয়দের জন্য এটা প্রায় পবিত্র দিবস। সাবেক অভিন্ন কোরিয়া ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য একীভূত কোরিয়ার প্রতীক। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের প্রশাসন ইতিমধ্যে সেই প্রস্তাব দিয়ে সফলকাম হয়নি। তবে যৌথ মহড়া স্থগিত করে তিনি সেটা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া বিবাদে দক্ষিণ কোরিয়া মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ধামাধরা নয়। ফলে পরিস্থিতি ঠান্ডা হলে তিন পক্ষের আলোচনার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় পরিস্থিতি ঠান্ডা করার ক্ষেত্রে সে অনন্য অবস্থানে আছে। এতে তার লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা এত বেশি যে এই চেষ্টা তার না করার কারণ নেই।
স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন।
ক্যাথারিন এইচ এস মুন: ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অনিবাসী জ্যেষ্ঠ ফেলো।

কলম্বিয়ায় ৫০ বছরের যুদ্ধের অবসান ঘোষণা

কট্টর বামপন্থী ফার্ক বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের সঙ্গে কলম্বিয়ায় ৫০ বছরের যুদ্ধ অবসানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হুয়ান মানুয়েল সান্তোস। গতকাল মঙ্গলবার শেষ কন্টেইনারভর্তি অস্ত্র গলিয়ে ফেলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গৃহযুদ্ধের অবসান হলো। প্রেসিডেন্ট হুয়ান মানুয়েল সান্তোস নিজে শেষ অস্ত্রের কন্টেইনার বন্ধ করেন। পরে তা জাতিসংঘের পরিদর্শকদের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রেসিডেন্ট সান্তোস বলেন, ‘সংঘর্ষ সত্যিই শেষ হয়েছে। আমাদের জাতি একটি নতুন পর্যায় শুরু করতে যাচ্ছে। আমাদের জন্য এটা সত্যিই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮ বছরের একটি প্রজাতন্ত্র আমাদের। এর আগে এমন যুদ্ধের ইতিহাস নেই কলম্বিয়ার। আজ সত্যিই এই যুদ্ধ শেষনিশ্বাস ত্যাগ করল।’ অনুষ্ঠানে ফার্ক বিদ্রোহীরা জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন তাঁরা। জ্যেষ্ঠ ফার্ক নেতা ইভান মার্কেজ গতকালের অনুষ্ঠানে বলেন, শিগগিরই তাঁরা নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করবেন। এই দলের নাম হবে ‘অলটারনেটিভ রেভল্যুশনারি ফোর্স অব কলাম্বিয়া’। মার্কেজ জানান, আগের মতোই বিপ্লবী দল হিসেবে থাকবে ফার্ক। প্রায় চার বছর কলম্বিয়ার ভেতরে-বাইরে শান্তি আলোচনার পর প্রথমবারের মতো গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর দেশের মাটিতে প্রেসিডেন্ট সান্তোস ও ফার্ক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা তিমোশেঙ্কো শান্তিচুক্তি করেন। শান্তির প্রতীক হিসেবে সাদা একটি কলম দিয়ে চুক্তিতে সই করেন তাঁরা। উষ্ণ করমর্দনও করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন বামপন্থী ফার্ক গেরিলারা। লাতিন আমেরিকায় ফার্ক-কলম্বিয়া সরকারের লড়াইই সবচেয়ে পুরোনো গৃহযুদ্ধ। এই গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারায় ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি লোক। পাঁচ দশকের এ যুদ্ধে নিখোঁজ হয়েছে আরও ৬০ হাজার মানুষ। ঘরবাড়ি হারিয়েছে কয়েক লাখ।

বন্যায় ভাসছে দক্ষিণ এশিয়া

ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ২২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ১৫ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে পানিবন্দী হয়ে পড়া গ্রামগুলোতে তল্লাশি চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন। ভারতে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আসাম, মেঘালয়, বিহার, হিমাচল প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কলকাতা প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বন্যাকবলিত এলাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে হাঁটুসমান পানিতে দাঁড়িয়ে। পশ্চিমবঙ্গে নদীর পানিতে ডুবছে একের পর এক এলাকা। দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানকার বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। গতকাল বৃষ্টি কম হলেও পানি কমেনি। ভুটান, নেপাল ও বিভিন্ন বাঁধের ছেড়ে দেওয়া পানির তোড়ে ভেসে গেছে বহু এলাকা। মালদহে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ডুবেছে হরিশ্চন্দ্রপুর। মহানন্দার পানিতে প্লাবিত হয়েছে চাঁচল ও ইংরেজ বাজার। রায়গঞ্জে ফুঁসছে গামারি, কুলিক ও নাগর নদ। প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বহু এলাকা। ডালখোলায় ভেঙে পড়েছে রেলসেতু। আসামে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ২২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মেঘালয় ও আসামের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে ওই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়েছে এবং বিমানবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত রাজ্যগুলোতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা পাঠানো হচ্ছে বলে এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিন দিন ধরে নেপালসহ বিহারে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় রাজ্যের পাঁচটি জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। মহানন্দা ও কানকাই নদের পানি বেড়ে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ট্রেন চলাচলও মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী বহু ট্রেন গতকালও বাতিল করা হয়েছে। এখনো ডুবে আছে কিষাণগঞ্জ রেলস্টেশন। কলকাতা থেকে দার্জিলিং, নিউ জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, গুয়াহাটি, আগরতলাগামী কোনো ট্রেনই ছাড়েনি কলকাতা থেকে। বন্ধ রয়েছে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার সব বাস। বন্ধ আছে কলকাতা-ভুটান বাসও। ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ভারতের সাত রাজ্যের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিলিগুড়ি হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার। এখান থেকে সড়কপথে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মণিপুর রাজ্যে যোগাযোগের পথ রয়েছে। ফলে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি সড়ক ও রেলপথে আসা বন্ধ হয়ে গেছে বন্যার কারণে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে কলকাতার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক ও রেল যোগাযোগ। নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের জনবহুল নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হাজার হাজার বাড়িঘর পানিতে ডুবে গিয়ে এলাকার অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ দুর্ভোগের কবলে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনার্দন শর্মা গতকাল পার্লামেন্টে জানান, ‘আমাদের হাতে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে ১১১ জন মারা গেছেন। ৩৫ জন নিখোঁজ আছেন। তাঁদের সন্ধানে অভিযান চলছে।’ বন্যায় বাংলাদেশেরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২৯ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রিয়াজ আহমেদ বলেন, বন্যায় ১৫ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের আশ্রয় দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি আশ্রয় শিবির তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত এবং বন্যাকবলিতদের সহযোগিতা ও বন্যায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃষ্টিপাতে ডুবছে শহর, শুষ্ক থাকছে গ্রামাঞ্চল

জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বেড়ে ক্রমশ আরও বেশি বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন শহর। কিন্তু শুষ্ক থেকে যাচ্ছে গ্রামাঞ্চল ও চাষাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজমি। অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণায় এ ফলাফল পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের (ইউএনএসডব্লিউ) গবেষকেরা তাঁদের গবেষণার ফলাফলে দেখেছেন, ক্রমেই বেশি উষ্ণ আবহাওয়া শহরাঞ্চলে শক্তিশালী ঝড় ও ভারী বর্ষণ সৃষ্টি করছে। এতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিচ্ছে। আবার এই উষ্ণতা মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে ফেলছে। এর ফলে বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও দ্রুতই পানি শোষিত হচ্ছে এবং গ্রাম্য নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ কমছে। গত শুক্রবার নেচার সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনটি। বিশ্বের ১৬০টি দেশের প্রায় অর্ধলাখ বর্ষণপ্রবণ ও নদী পর্যবেক্ষণ স্থানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন। ইউএনএসডব্লিউয়ের জলবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আশিষ শর্মা এএফপিকে বলেন, ‘বেশি উষ্ণতায় যখন (শহরে) বড় ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটছে তখন আকস্মিক বন্যা দেখা দিচ্ছে। এই পানির একটা বড় অংশই মাটি শোষণ করে ফেলছে। তাই শহরের বাইরে পানিপ্রবাহ ঘটছে কম।’ বিশেষজ্ঞরা বলেন, গ্রামাঞ্চল ও কৃষিজমিতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়াটা চাষাবাদ ও খাদ্যনিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করছে। আগামী দুই দশকের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যা ২৩ শতাংশ বেড়ে ৯০০ কোটিতে উন্নীত হতে পারে। এ অবস্থায় বিষয়টিতে জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অতিবৃষ্টিজনিত আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় শহরের অবকাঠামো হিমশিম খাচ্ছে। বন্যায় ২০১৩ সালে বিশ্বজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। আগামী ২০ বছরে ক্ষয়ক্ষতির এ পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গবেষণা প্রতিবেদনের মূল রচয়িতা ইউএনএসডব্লিউয়ের অধ্যাপক কনরাড ওয়াস্কো বলেন, ‘এটা একটা দ্বিগুণ সংকট।’ তিনি বলেন, ‘দিনে দিনে বন্যা আরও খারাপ আকার ধারণ করছে, মানুষ ক্রমেই বেশি হারে শহরমুখী হচ্ছে।’

গুলি-গালি নয়, কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে চাই ভালোবাসা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, গুলি বা গালির মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হবে না। সমাধানের জন্য প্রয়োজন ভালোবাসা। ভালোবেসে কাশ্মীরিদের বুকে জড়াতে হবে। হিংসা উপদ্রুত উপত্যকার যুব সম্প্রদায়কে মূল স্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা গণতন্ত্রের ভাষায় কথা বলুন। গণতন্ত্র সেই অধিকার দিয়েছে। সরকার আপনাদের সব অভিযোগ দূর করবে। ভারতের ৭০তম স্বাধীনতাবার্ষিকীতে নয়াদিল্লির লাল কেল্লা থেকে তাঁর দেওয়া চতুর্থ ভাষণে গতকাল মঙ্গলবার মোদি বলেন, সামান্য কিছু সন্ত্রাসবাদী নানা কায়দায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। সরকার তাদের কড়া হাতে দমন করবে। তিনি বলেন, যুব সম্প্রদায় হিংসা ছেড়ে এগিয়ে আসুক, সরকার কাশ্মীরকে ফের ভূস্বর্গে পরিণত করবে। মোদির এই বছরের ভাষণ ছিল সংক্ষিপ্ততম। এক ঘন্টারও কম। তিনি বলেন, ২০২২ সালে দেশ যখন স্বাধীনতার ৭৫তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন করবে, তখন সব মানুষের মাথায় কংক্রিটের ছাদ থাকবে, কৃষকের আয় দ্বিগুণ হবে, যুবা ও মহিলাদের উন্নতির জন্য সুযোগ বেড়ে যাবে এবং দেশ হবে জাতপাত, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত। এটাই সরকারের অঙ্গীকার। সেটাই হবে নতুন ভারত। এই প্রথম ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের উভয় কক্ষের পরিচালকেরা বিজেপির নীতি ও আদর্শে দীক্ষিত। স্বাধীনতার ৭০তম বার্ষিকী এই কারণে বিজেপির কাছে উল্লেখযোগ্য। এই সাফল্যের পাশাপাশি সরকারকে সমালোচিত হতে হচ্ছে গরু নিয়ে বাড়াবাড়ির জন্য। লাল কেল্লা থেকে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার ধর্ম ও বিশ্বাসের নামে হিংসা বরদাশত করবে না। গো-রক্ষার নামে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে বাড়াবাড়ি হচ্ছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত শান্তির দেশ। এই দেশের শক্তি হলো একতা ও সংহতি। জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতা কাউকে এগিয়ে নিয়ে যাবে না। তিনি বলেন, গান্ধীজি ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, এবার শুরু হোক ‘ভারত জোড়’ আন্দোলন। সীমান্তপারের সন্ত্রাসের উল্লেখ করলেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেননি। উল্লেখ করেননি ডোকলাম নিয়ে চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধেরও। তবে উল্লেখ না করলেও মোদি বলেন, সন্ত্রাসবাদকে বরদাশত করা হবে না। দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাতেও দেশের সেনাবাহিনী সদা প্রস্তুত। সরকারের সাফল্য হিসেবে কালোটাকার বিরুদ্ধে অভিযান ও সারা দেশে অভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা কর প্রচলনের উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, এটা এক বিরাট পদক্ষেপ। সরকারের পদক্ষেপগুলো লুটেরাদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

আশ্রয় নেই, ত্রাণও নেই

‘এমন বান আগে দেহিনি। রাতেই হুড়মুড়ি ঘর তলাই গেল। তিন মাইয়া নিয়ে কোনো রহম রেলগাড়ির বগির মধ্যে উঠছি। এহনও সগলেই না খাইয়ে রইছে। এত কষ্টের মধ্যে থাকলেও কেউ খাউন দিতে আইলো না।’ বলছিলেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডালবাড়ী গ্রামের পারভীন আক্তার (৪৫)। দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত বগিতে পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছেন পারভীন। বানভাসি অন্যদের চেয়ে এ পরিবারের কষ্টটা একটু বেশি। পারভীনের স্বামী মনজুরুল ইসলাম আগে ইজিবাইক চালাতেন। অসুস্থ হয়ে অনেক দিন ধরে তিনি বেকার। ঘরে আছে তিন মেয়ে। এই পাঁচজনের সংসার চলে পারভীনের একার আয় দিয়ে। তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে যৎসামান্য আয় করেন। কিন্তু বন্যা সেই পথও বন্ধ করে দিয়েছে। মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘বউ মানষের বাড়িতে কাজ কইরে যা আনে, এতে সংসার চলে। দিন আনি দিন খাই। ঘরে কোনো খাউন নাই। আমগরে সাহায্য না দিলে, মরণ ছাড়া উপায় নাই।’ দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছে মোট ১৫-২০টি বানভাসি পরিবার। এ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের সামনেও হাঁটুপানি। উপজেলার প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে খুব কাছে হলেও এখানে গতকাল পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই রেলস্টেশনে আশ্রয় নেওয়া মানুষের খবর আমার জানা ছিল না। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত সেখানে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।’ জামালপুরে যমুনা নদীর পানি উপচে পড়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে বন্যা শুরু হয়েছে। বন্যায় এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ দুটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষের দুর্ভোগ আর ত্রাণের জন্য হাহাকার চোখে পড়ে। সকালে নৌকায় ইসলামপুর উপজেলার বানিয়াবাড়ী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পানির স্রোত বইছে। এ গ্রামে ছোট একটি উঁচু রাস্তার ওপরে ২৫টি পরিবার গবাদিপশুসহ আশ্রয় নিয়েছে। রাস্তার কিনারে ভিড়তেই ত্রাণের নৌকা মনে করে অনেকে এগিয়ে এলেন। মমেনা বেগম নামের একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘দুই দিন হলো পাকশাক নাই। কয়টা টাকার চিড়া-মুড়ি নিয়ে কী চলে?
এত বড় বন্যা কেউ খুঁজ লয়লো না। গেদাগেদি (ছেলেমেয়ে) নিয়ে কুঠাই যামু। এই কষ্টের মধ্যে মরণ ছাড়া উপায় নাই।’ ইসলামপুরের পাথর্শী, বলিয়াহদ, পশ্চিম বলিয়াদহ, পূর্ব বলিয়াদহ, পূর্ব বামনা দেলিরপাড়, ছোট দেলিরপাড় জারুলতলা, ঘুনাপাড়, মাঝিপাড়া গ্রাম ঘুরে একই চিত্র পাওয়া যায়। সব বাড়িঘরে গলাসমান পানি। কোথায়ও এক টুকরো শুকনো জায়গা থাকলেই সেখানে মানুষের ভিড়। এর বাইরে গ্রামগুলো মানুষশূন্য। বাড়িছাড়া মানুষগুলো গুঠাইল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, পশ্চিম বামনা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বেলগাছা-জারুলতলা রাস্তা, ইসলামপুর-গুঠাইল রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছে। পশ্চিম বামনা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে প্রায় ৩০০ পরিবার গবাদিপশু ও আসবাব নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। দুই দিন ধরে সেখানে থাকলেও কোনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছায়নি। মধ্যবয়সী পান ফুল বলেন, ‘ঘরবাড়ি সব বানে ভাসায় নিছে। দুই দিন খাউন ছাড়াই পড়ে আছি। আমগরে খুঁজ কেউ লয় না। এখান থেকে চেয়ারম্যানের বাড়ি কাছেই। কই, কেউ তো আহে নাই।’ ইসলামপুরের দেলিরপাড় গ্রামে গিয়েও দেখা যায় ত্রাণের জন্য মানুষের প্রাণপণ কাতরতা। নৌকা দেখেই ভেবে বুকসমান পানি ঠেলে এগিয়ে আসেন মধ্যবয়সী হালিমা খাতুন। কিন্তু ত্রাণের নৌকা নয়, জানতে পেরে হতাশ হন। হালিমার কাছে থাকা কলসিতে বিশুদ্ধ পানি। এই পানি তিনি এনেছেন এক কিলোমিটার দূর থেকে। জামালপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর প্রথম আলোকে বলেন, ১২৮ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই সব বরাদ্দের ত্রাণ দুর্গত এলাকায় বিতরণ শুরু করা হয়েছে। সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের মধ্যে এই ত্রাণসামগ্রী কি পর্যাপ্ত? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুর্গত এলাকার সব মানুষ ত্রাণসামগ্রী পাওয়ার মতো নয়। যেসব মানুষ খুবই দরিদ্র তারাই ত্রাণসামগ্রী পাবে।’

সেনাবাহিনীর সাহায্য চায় এলাকাবাসী

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত তারাকান্দি-ভুয়াপুর সড়ক বাঁধ যমুনা নদীর ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। যমুনা নদীর পানি বাড়ায় বাঁধটি যেকোনো সময় পানির তোড়ে ভেঙে যেতে পারে। বাঁধ রক্ষায় এলাকাবাসী সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি করেছে। সরেজমিনে ঘুরে ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তারাকান্দি-ভুয়াপুর সড়কের বাঁধের পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামা ও রাধানগর এলাকায় ভাঙনের হুমকি দেখা দিয়েছে। জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সড়ক ও জনপথের (সওজ) লোকজন ও এলাকাবাসী দুদিন ধরে বালুর বস্তা, জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ রক্ষায় কাজ করছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। যমুনা সার কারখানা থেকে ১৯ জেলায় সার পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে। গত সোমবার বিকেলে শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাস ঘাচাইলের মেয়র গাজী মোস্তফা ফোয়াদ রাধানগর অংশের বাঁধ পরিদর্শন করেন। বাঁধ রক্ষায় জামালপুরের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী, সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোবাশ্বেরা সাদিয়া হকের নেতৃত্বে এলাকাবাসী কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে এ সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাধানগরের আমজাদ হোসেন (৬০) বলেন, ‘পানির মধ্যে লোকজন কাজ করতে আইছে। শুকনার সময় এই কাজ করলে বাঁধ হুমকির মধ্যে পড়ত না।’ একই গ্রামের মাজম আলী (৮০) বলেন, ‘বাঁধ রক্ষায় আমরা সেনাবাহিনীর সাহায্য চাই।’ রাধানগর গ্রামের শুক্কুর আলী (৭৫) বলেন, ‘বাঁধ ভাঙ্গে আমগো ভাসাইয়া নিয়ে যাব। তাই দুই দিন ধইরে বাঁধে কাজ করছি।’ পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন বলেন, বাঁধ রক্ষায় এলাকাবাসী সেনাবাহিনী মোতায়েন চাইছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে শহীদ সালাহ উদ্দিন সেনানিবাস ঘাটাইলসহ জামালপুর-টাঙ্গাইল জেলার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। জামালপুরের পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী বলেন, সড়ক বাঁধটি হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাঁধ রক্ষায় লোকজন কাজ করে যাচ্ছে। ইউএনও সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী বলেন, সেনাবাহিনীর একটি দল বাঁধ পরিদর্শন করেছে। বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সিরাজগঞ্জে বন্যায় ২১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

সিরাজগঞ্জে বন্যার কারণে ১৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভবনে পানি উঠেছে। ফলে এগুলোসহ মোট ২১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে আজ বুধবার যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ মিটার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার কারণে জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর, কাজীপুর, বেলকুচি ও চৌহালী এই পাঁচটি উপজেলা বেশি বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ হাসান ইমাম জানান, ‘যমুনা নদীতে পানি আগামী আরও এক বা দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এখন পর্যন্ত বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে আমরা ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছি।’ জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭০টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে পানি উঠে পড়েছে। এগুলোসহ মোট ২১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। ৫০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের দিনই আবেদনটি করা হয়। বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে দিতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় ১ আগস্ট প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়। এই রায়, বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থী আইনজীবীরা। আওয়ামী লীগ মনে করছে, রায়ের পর্যবেক্ষণে রাজনীতি রয়েছে। এ জন্য এই রায়কে যতটা সম্ভব প্রশ্নবিদ্ধ করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে বর্ণনা করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি।

হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় যুবলীগ নেতা চপল গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জে হাওরে ফসলহানি ও ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা ওরফে চপল। খায়রুল হুদা জেলা শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি এবং বাঁধ নির্মাণের অন্যতম ঠিকাদার। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দুদক। চপল বর্তমানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) পরিচালক। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুটের ছোট ভাই। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য আজ বুধবার দুপুরে খায়রুল হুদার গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেছেন। গত ২ জুলাই সুনামগঞ্জের হাওরে হাজার কোটি টাকার ফসলহানির ঘটনা ও ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমদ। মামলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ১৫ কর্মকর্তাসহ বাঁধের কাজের ৪৬ জন ঠিকাদারকে আসামি করা হয়। চপল এই মামলার অন্যতম আসামি। ওই দিনই দুদক ঢাকা থেকে পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিন ও বাঁধের কাজের এক ঠিকাদার মো. বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এই দুজন বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। দুদকের মামলা ছাড়াও একইভাবে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ৩ আগস্ট সুনামগঞ্জের বিশেষ আদালতে আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল হক। এই মামলায় দুদকের মামলার ৬১ আসামিসহ বাঁধের কাজের ৭৮ জন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলাও তদন্ত করছে দুদক। গত এপ্রিল মাসে সুনামগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে ১৫৪টি হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যায়। এতে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬১২ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার ৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯০টি কৃষক পরিবার। এই কৃষকেরা ফসল হারিয়ে এখন নিঃস্ব। হাওরে ফসলডুবির পরই বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও চরম গাফিলতির অভিযোগ ওঠে।

লন্ডনে হাসপাতালে মেয়র আনিসুল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক সেন্ট্রাল লন্ডনের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এক মাস ধরে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। চার দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে লন্ডন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত। মেয়রের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মিজানুর রহমান বলেন, মস্তিষ্কের রক্তনালির প্রদাহজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মেয়র আনিসুল হক। তাঁর এই অসুখ বাংলাদেশে ধরা না পড়লেও তিনি প্রায় দুই মাস মস্তিষ্কজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে স্টেরয়েডসহ বিভিন্ন ওষুধ দিয়েছেন। তিনি এখন আইসিউতে আছেন। দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে মেয়র দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান তিনি। মিজানুর রহমান বলেন, লন্ডনের একটি হাসপাতালে আগে থেকেই তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। চার দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা তাঁকে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কথা বলতে নিষেধ করেছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। শিগগিরই দেশে ফিরবেন।

বিপর্যস্ত যোগাযোগ: শক্তিক্ষয় মানুষের

লোকজন নানা জায়গায় প্রতিবাদে সড়কে ধানের চারা পর্যন্ত লাগিয়েছেন; এখন তারও উপায় নেই, ডুবন্ত সড়কে সাঁতার কাটা ছাড়া। কয়েক বছরের অতিবৃষ্টিতে দেশের সড়ক যেন আর সড়ক নেই। যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়ের সড়ক একসময় দেশের সবচেয়ে মসৃণ সড়ক ছিল। এখন সেখানেও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। তার সঙ্গে দুটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০-২৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে। অথচ একসময় ঈদযাত্রায়ও সেখানে যানজট হতো না। এই পরিস্থিতিতে আমরা আবারও যমুনা সেতু-পূর্ব সময়ে ফিরে গেছি। তখন ফেরি পার হয়ে বগুড়া যেতে ছয়-সাত ঘণ্টা সময় লাগত, এখন যমুনা সেতু দিয়ে বগুড়া যেতে আট-নয় ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। ফলে মানুষের কর্মসময় ও শক্তি নষ্ট হচ্ছে। পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এদিকে দেশে নতুন করে বন্যা শুরু হয়েছে, আবার সামনে ঈদ, ফলে তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।  দুর্যোগ বা ঈদের সময় সড়কে এমন জট লাগা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এখন স্বাভাবিক সময়েও এমনটা হচ্ছে। ব্যাপারটা বুঝতে একটি তথ্য দেওয়া দরকার। সেটা হলো, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কে প্রতিদিন হাজার তিনেক যানবাহন চলাচল করত। এখন স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১২ হাজারের ওপরে যানবাহন চলাচল করে। সর্বশেষ গত ঈদে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৭ হাজার পর্যন্ত যানবাহন চলাচল করেছে।
ফলে সহজেই অনুমেয়, যে সড়ক একসময় দিনে সাড়ে তিন হাজার যানবাহনের ভার বহন করত, তার পক্ষে এখন সাড়ে ১২ হাজার যানবাহনের ভার বহন করা কঠিন। তার সঙ্গে গত কয়েক বছরের অতিবৃষ্টিতে সড়কের বিটুমিন আর জমাট বেঁধে থাকতে পারছে না। বিটুমিনের ধর্মই এটা, পানি জমলে সে টিকে থাকবে না। এই যানবাহন বেড়ে যাওয়াটা আমাদের সামাজিক গতিশীলতার লক্ষণ। এই ১৩-১৪ বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যখন ট্রেনে চেপে বাড়িতে (টাঙ্গাইল) আসতাম, তখন ট্রেন একরকম ফাঁকা থাকত। এমনকি ঈদ বা বড় কোনো ছুটির সময়ও ছাত্ররা ট্রেনের এক আসনে বসে সামনের আসনে পা তুলে দিত। শুধু তা-ই নয়, পায়ের ওপর চাদর বিছিয়ে তাস পেটাত। এর জন্য যে অন্য যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হতো, তা নয়। অর্থাৎ তখন এত যাত্রী হতো না। মনে আছে, যখন সরাসরি ঢাকা-রাজশাহী ট্রেন চালু হলো, তখন পাবনার কোনো এক স্টেশনে মানুষকে বলতে শুনেছি, এখন আমরা সরাসরি ট্রেনে ঢাকা যেতে পারি, এ অনেক বড় সৌভাগ্য! অর্থাৎ তখন উত্তরবঙ্গের খুব বেশি মানুষ ঢাকা আসতেন না। এখন আসছেন। অভ্যন্তরীণ অভিবাসন মানুষের উন্নতির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। কিন্তু সমস্যা হলো, এই অভিবাসীদের গন্তব্য প্রায় ব্যতিক্রমহীনভাবে ঢাকা। দেহের সব রক্ত যেমন মুখে এসে জমা হওয়া স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়, তেমনি দেশের সবকিছু রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়াটাও অর্থনীতির স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। পরিকল্পনা করার সময় আমরা খুব বেশি দূর দেখতে পাই না। পরিকল্পনাকারীদের ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা আছে। যমুনা সেতু চালুর সময়ই তাঁরা যদি আজকের অবস্থা কল্পনা করতে পারতেন, তাহলে আজ এ রকম লেজে-গোবরে অবস্থা হতো না। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এখন চার লেনের কাজ চলছে। অথচ এটা তো যমুনা সেতু নির্মাণের সময়ই করা উচিত ছিল। অবশ্য কাজ একবারে না করে বারবার করলে ঠিকাদারসহ রাজনৈতিক নেতাদের লাভই হয়! আবার ১০ বছর পর হয়তো দেখা যাবে, এটাও যথেষ্ট নয়। যাহোক, দেশে একধরনের সামাজিক পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। মানুষ অবস্থার উন্নতির জন্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছে। এই শক্তি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সড়কে যেমন যানের গতি বাড়াতে হবে, তেমনি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আমাদের দেশে প্রচুর খাল-বিল আছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকলেও বর্ষাকালে তো এসবে পানি থাকে। তাহলে তখন আমরা নৌপথ ব্যবহার করি না কেন? আঞ্চলিক যোগাযোগের জন্যও কেন মহাসড়ক ব্যবহার করতে হবে? অন্যদিকে রেল যোগাযোগ উন্নত করতে হবে। যোগাযোগের গতি বাড়াতে না পারলে মানুষের শক্তিক্ষয়ই হবে, সেই শক্তি পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে না, এটা মাথায় রাখা দরকার।

গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপে ইসি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিক সংলাপের অংশ হিসেবে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আগারগাঁও নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে সংলাপ শুরু হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ ৩৪ জন গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক নেতা সংলাপে অংশ নিচ্ছেন। আগামীকালের সংলাপের জন্য আমন্ত্রিত হয়েছেন ৩৭ জন।  সংলাপে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের মধ্যে মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তরের সাইফুল আলম, ভোরের কাগজের শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নঈম নিজাম, আমাদের অর্থনীতির নাইমুল ইসলাম খান, বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, প্রথম আলোর আনিসুল হক, সোহরাব হাসান প্রমুখ উপস্থিত আছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দুদিনের সংলাপে গণমাধ্যমের ৭১ জন প্রতিনিধিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আজ বুধবার বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে সংলাপ হচ্ছে। কাল বিভিন্ন টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই থেকে সংলাপ শুরু করে ইসি। প্রথম দিন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচনে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, ‘না’ ভোট প্রবর্তন করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন।

শেখ মুজিব হত্যার পর জিয়া যে মন্তব্য করেছিলেন

অন্যান্য দিনের মতোই রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ই অগাস্ট রাত ৮টা নাগাদ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে ফেরেন। খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত ১২টার মধ্যেই সে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যায়। তখন সে বাড়ির নীচ তলায় একটি কক্ষে কর্মরত ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মুহিতুল ইসলাম। রাত তিনটা নাগাদ ঘুমাতে যান মি: ইসলাম। এর কিছুক্ষণ পরেই সে বাড়িতে টেলিফোনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি মি: ইসলামকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। কারণ রাষ্ট্রপতি তার সাথে কথা বলতে চেয়েছেন। মুহিতুল ইসলাম ২০১৬ সালে মারা যান। ১৯৯৬ সালে মি: ইসলাম শেখ মুজিব হত্যা মামলার বাদী হয়েছিলেন। এর আগে ২০১০ সালে বিবিসি বাংলার সাথে এক সাক্ষাতকারে মি: ইসলাম বলেন, " বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, সেরনিয়াবাত সাহেবের বাসায় আক্রমণ করছে। ঐ অবস্থায় আমি পুলিশকে টেলিফোনের চেষ্টা করছিলাম। তারপরে বঙ্গবন্ধু উপর থেকে নিচে নেমে এলেন। গেঞ্জি গায়ে লুঙ্গি পরা। তখন উনি আমাকে বললেন যে আমার কাছে দে। "আমার কাছ থেকে তিনি রিসিভারটা নিলেন। নিয়ে বললেন যে , হ্যালো আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি। উনি একথা বলার সাথে সাথেই বৃষ্টির মতো গুলি আসা শুরু হলো। উনি গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে বললেন যে পুলিশ সেন্ট্রি,আর্মি সেন্ট্রি - এতো গুলি চলছে তোমরা কী করো? আমিও ওনার পিছু এসে দাঁড়ালাম। উনি একথা বলেই উপরে উঠে চলে গেলেন।" এ গোলাগুলির সময় রাষ্ট্রপতিসহ তাঁর বাড়ির কেউ ঘটনা সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন নি। শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলে শেখ কামালকে যখন বাড়ির নিচ তলায় গুলি করে হত্যা করা হয় তখন ঘটনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছিল, বলছিলেন মুহিতুল ইসলাম। ধানমন্ডির সে বাড়িতে সশস্ত্র হত্যাকারীরা প্রথমে হত্যা করে শেখ কামালকে। গোলাগুলির আওয়াজ শোনার পর ঘটনা সম্পর্কে জানতে বাড়ির নিচ তলায় নেমে আসেন শেখ কামাল। "পাঁচ-ছয়জন আর্মি, কেউ কালো পোশাকধারী কেউ খাকি পোশাকধারী - ওনার সামনে এসে বললো হ্যান্ডস আপ। কামাল ভাই বলছে, আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। তখনই সাথে-সাথে ব্রাশ ফায়ার।" গুলিতে বুক ঝাঁঝরা হয়ে মুখ তুবড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শেখ কামাল। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে যখন আক্রমণ হয় তখন কোন ধরনের প্রতিরোধ ছাড়াই হত্যাকারীরা পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। মুহিতুল ইসলাম বলছিলেন, একজন রাষ্ট্রপতির বাড়িতে যে ধরণের নিরাপত্তা থাকা দরকার সেটি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে ছিল না। তাছাড়া রাষ্ট্রপতির বাড়িতে আক্রমণের পরেও কোন তরফ থেকে কোন ধরনের সহায়তা আসেনি। শেখ কামালকে হত্যার পর হত্যাকারীরা বেপরোয়া গুলি চালিয়ে বাড়ির উপরের দিকে যাচ্ছিল। উপরে উঠেই শুরু হয় নির্বিচার হত্যাকাণ্ড। চারিদিকে তখন শুধু গুলির শব্দ। " উপরে তো তাণ্ডবলীলা চলছে। চারিদিকে একটা বীভৎস অবস্থা। ঠিক সে মুহূর্তে উপর থেকে চিৎকার শুরু করলো যে পাইছি পাইছি। এরপরে বঙ্গবন্ধুর একটা কণ্ঠ শুনলাম। তিনি বললেন, তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যেতে চাস? এরপরে ব্রাশ ফায়ার। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ আমরা আর শুনতে পাইনি," সে রাতের ঘটনা এভাবে বর্ণনা করলেন মুহিতুল ইসলাম । মি: ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী ধানমন্ডির সে বাড়িটিতে সর্বশেষ হত্যা করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলকে। তখন তার বয়স মাত্র দশ বছর। এ হত্যাকাণ্ডটি হয়েছিল মুহিতুল ইসলামের সামনে। "রাসেল দৌড়ে এসে আমাকে জাপটে ধরে। আমাকে বললো, ভাইয়া আমাকে মারবে না তো? ওর সে কণ্ঠ শুনে আমার চোখ ফেটে পানি এসেছিল। এক ঘাতক এসে আমাকে রাইফেলের বাট দিয়ে ভীষণ মারলো। আমাকে মারতে দেখে রাসেল আমাকে ছেড়ে দিল। ও (শেখ রাসেল) কান্নাকাটি করছিল যে 'আমি মায়ের কাছে যাব, আমি মায়ের কাছে যাব'। এক ঘাতক এসে ওকে বললো, 'চল তোর মায়ের কাছে দিয়ে আসি'। বিশ্বাস করতে পারিনি যে ঘাতকরা এতো নির্মমভাবে ছোট্ট সে শিশুটাকেও হত্যা করবে। রাসেলকে ভিতরে নিয়ে গেল এবং তারপর ব্রাশ ফায়ার।" রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সব সদস্যকে হত্যার পর ঘাতকরা একে অপরকে বলছিল, "অল আর ফিনিশড (সবাই শেষ)"। সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িত ছিল সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা। সে সময় ঢাকা সেনানিবাসে লেফট্যানেন্ট কর্নেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন আমিন আহমেদ চৌধুরী, যিনি পরে মেজর জেনারেল হয়েছিলেন। মি: চৌধুরী ২০১৩ সালে মারা যান। ২০১০ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর পাঁচটার দিকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত একজন সেনা কর্মকর্তা মেজর রশিদের নেতৃত্বে একদল সেনা তার বাড়ি ঘিরে ফেলে। আমিন আহমেদ চৌধুরী তখনো জানতেন না যে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। মেজর রশিদের নেতৃত্বে সৈন্যরা আমিন আহমেদ চৌধুরী এবং তৎকালীন কর্নেল শাফায়াত জামিলকে নিয়ে যায় মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের বাড়িতে। জেনারেল জিয়া তখন সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান।জেনালের জিয়াউর রহমানের বাড়িতে ঢোকার সময় রেডিওর মাধ্যমে আমিন আহমেদ চৌধুরী জানতে পারেন যে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। "জেনারেল জিয়া একদিকে শেভ করছেন একদিকে শেভ করে নাই। স্লিপিং স্যুটে দৌড়ে আসলেন। শাফায়াতকে জিজ্ঞেস করলেন, 'শাফায়াত কী হয়েছে?' শাফায়াত বললেন, 'এপারেন্টলি দুই ব্যাটালিয়ন স্টেজ এ ক্যু। বাইরে কী হয়েছে এখনো আমরা কিছু জানি না। রেডিওতে এনাউন্সমেন্ট শুনতেছি প্রেসিডেন্ট মারা গেছেন।' তখন জেনারেল জিয়া বললেন, সো হোয়াট? লেট ভাইস প্রেসিডেন্ট টেক ওভার। উই হ্যাভ নাথিং টু ডু উইথ পলিটিক্স।" সেনানিবাসের দুটি ব্যাটালিয়ন এ অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকলেও পুরো সেনাবাহিনী সেটার পক্ষে ছিল না বলে উল্লেখ করেন আমিন আহমেদ চৌধুরী। ঢাকা সেনানিবাসে যখন এ অভ্যুত্থানের খবর ছড়িয়েছে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনার খবর কেন আগে জানা সম্ভব হয়নি এবং কেন সেনাবাহিনীর অন্য কোন ইউনিট এগিয়ে আসেনি সেটি আজও এক বিরাট প্রশ্ন। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট আক্রমণের সময় শেখ মুজিবুর রহমান তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিনকে ফোন করে তার বাড়িতে আক্রমণের কথা জানিয়েছিলেন। কর্নেল জামিল তখন সাথে সাথে রওনা হয়েছিলেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ির দিকে। কিন্তু সোবহানবাগ মসজিদের কাছে পৌঁছলে তার গাড়ি রোধ করে অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সৈন্যরা। সে বাধা উপেক্ষা করে কর্নেল জামিল সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত সেনাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সকাল ১০টার দিকে আমিন আহমেদ চৌধুরী গিয়েছিলেন সে বাড়িতে। ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ হত্যাকাণ্ড হলেও তখন সেখানে মৃতদেহ দেখেছেন মি: চৌধুরী। সামরিক পোশাক পর অবস্থায় মি: চৌধুরী সেখানে গেলেও তাকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না সৈন্যরা। মি: চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, " আর্টিলারি রেজিমেন্টের কিছু ট্রুপস ছিল সেখানে। মেজর হুদা ছিলেন। আমি যে যেহেতু হুদাকে চিনতাম, তাকে বলার পর সে আমাকে ঢুকতে দেয়। আমি দোতলার সিঁড়িতে উঠতেই বঙ্গবন্ধুর লাশটা দেখি। তার চশমা ও পাইপটাও পড়ে ছিল। দূর থেকে ভেতরে দেখলাম বেগম মুজিব পড়ে আছেন। যে লোকটার অঙ্গুলি হেলনে পঁচাত্তর মিলিয়ন লোক উঠছে বসছে, সে লোকটাকে তার সৃষ্ট আর্মি মেরে ফেললো। এটা কী করে সম্ভব? পাকিস্তানীদের কাছে মারা যায় নাই, মারা গেল শেষ পর্যন্ত বাঙালীর কাছে।" সে অভ্যুত্থানের পর অনেকে তাকিয়ে ছিলেন তৎকালীন রক্ষীবাহিনীর প্রতিক্রিয়ার দিকে। সেনাবাহিনীর সাথে রক্ষীবাহিনীর কোন সংঘাত তৈরি হয় কী না সেটি নিয়েও অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ধরণের কিছু ঘটেনি। রক্ষীবাহিনীর দিকে থেকে কোন প্রতিক্রিয়া না হওয়ায় অনেকে অবাক হয়েছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর উল্টো রক্ষীবাহিনী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বলে জানান আমিন আহমেদ চৌধুরী। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে আমিন আহমেদ চৌধুরী দুপুর নাগাদ পৌঁছেন সাভারে অবস্থিত রক্ষীবাহিনীর সদরদপ্তরে। মি: চৌধুরীর দায়িত্ব ছিল রক্ষীবাহিনী যাতে আতঙ্কগ্রস্ত না হয় সে বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া। " আমি সেখানে গিয়ে বলি যে সেনাবাহিনীর কিছু লোক এটার (হত্যাকাণ্ড) সাথে জড়িত থাকলেও পুরো সেনাবাহিনী এর সাথে জড়িত নয়। সে হিসেবে সেনা প্রধানের বানী নিয়ে আমি এখানে আসছি," বলছিলেন মি: চৌধুরী। হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী পরিষদের সদস্য খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সামগ্রিকভাবে ১৫ আগস্ট সারাদিন সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অভ্যুত্থানের খবর জানাজানি হবার পরে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যেই এক ধরনের অবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন আমিন আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় অনেকে হতবিহবল হয়ে পড়েছিলেন। কী করতে হবে তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলেন না। মি: চৌধুরীর বর্ণনায়, "যখন সকাল হয়ে গেছে তখন দেখা যাচ্ছে কোন পলিটিকাল ডিরেকশন আসতেছে না। বঙ্গবন্ধু মারা গেছে, এখন আমরা কী করবো? কার পেছনে দাঁড়াবো? তারা তো খন্দকার মোশতাককে বসিয়ে দিয়েছে। এখন আমরা এখন তাকে ডিজলস (ক্ষমতাচ্যুত) করবো? এর বিরুদ্ধে গেলে পুরোপুরি যুদ্ধ করতে হবে। কারণ ওরা ট্যাংক বের করে অলরেডি বঙ্গভবনে বসে গেছে, ফার্মগেটের সামনে বসে গেছে, জাহাঙ্গীর গেটের ভেতরে অলরেডি মুভ করছে। পরিস্থিতি অ্যাসেস করতে হচ্ছে। আমরা কি পারবো? আমাকে তো জানতে হবে আমার কাছে কত সৈন্য আছে এবং কত অ্যামুনিশন আছে। এতে গিয়া গোলমাল হয়ে গেল। কনফিউশনটা খুব বেশি ছিল।" খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত ঘাতক জুনিয়র সেনা কর্মকর্তারা। সে থেকে পরবর্তী প্রায় ১৫ বছর বাংলাদেশের ইতিহাস সেনাবাহিনীর ভেতরে অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের ইতিহাস।

মুক্তামনি কেমন আছে

অস্ত্রোপচারের পর বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মুক্তামনির ড্রেসিং সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকালে মুক্তামনির ড্রেসিং করা হয়। ড্রেসিং করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম ও সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন। এ বিষয়ে সামন্ত লাল সেন বলেন, ড্রেসিংয়ের সময় মুক্তামনিকে রক্ত দেয়া হয়েছে। এখন সে বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) আছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো। গত শনিবার সকালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দ্বিতীয় তলার অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) মুক্তামনির অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।  সে সময় টিউমারের মতো দেখতে তার হাতের বাড়তি অংশ কেটে ফেলা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে দ্বিতীয় তলার আইসিইউর ৫ নম্বর কেবিনে রাখা হয়। গত ৫ আগস্ট সকালে মুক্তামনির ডান হাতের বায়োপসি পরীক্ষা করা হয়। এর পর ৮ আগস্ট মুক্তামনির চিকিৎসার জন্য গঠিত ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার বায়োপসি রিপোর্ট পর্যালোচনা করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। গত মাসে সাতক্ষীরা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তামনিকে সরকারি উদ্যোগে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুটির খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার খরচ বহনের কথা জানান। মুক্তামনিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমের তাঁর শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেখেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারে করতে আগ্রহী নন বলে জানান। তখন ঢামেকের চিকিৎসকরাই সাহস করে মুক্তামনির অস্ত্রোপচারে এগিয়ে আসেন। মুক্তামনি সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের ইব্রাহিম হোসেনের মেয়ে। তার এখন ১২ বছর বয়স। ছয় মাস বয়সে তার ডান হাতে একটি গোটা দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে তা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেটি তার হাত থেকে বড় হয়ে যায়। ফলে চলাফেরা করতে সমস্যা দেখা দেয়। প্রায় তিন বছর ধরে সে বিছানায় ছিল। বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনিকে সরকারি উদ্যোগে গতমাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমান তখন জানান, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ডা. সামন্ত লাল সেনের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এজন্য আট সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। শিশু মুক্তামনির বাবা সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কামারবায়সা গ্রামের মুদি দোকানি ইব্রাহীম হোসেন। ঢাকায় অবস্থানরত শিশু মুক্তার মা আয়েশা খাতুন মেয়েকে ভর্তির পর জানিয়েছিলেন, ডা. সামন্তলাল তাদের মেয়ের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে তার রক্তশূন্য দেহে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উন্নত মানের খাবার খাইয়ে তাকে সুস্থ করে তুলবার পর মূল চিকিৎসা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তার। এখন মেয়ের রোগমুক্তি নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন মুক্তামনির মা। চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুধু অবহেলার কারণেই আজ মুক্তামনির করুণ পরিণতি। তবে মুক্তামনি দ্রুত সেরে উঠবেন বলে জানান ডা. সামন্তলাল সেন। শিশুটির চিকিৎসায় গঠন করা হয়েছে আট সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। শিশুটির এমন অবস্থার জন্য শুধু অবহেলাকেই দায়ী করেন চিকিৎসক। খুলনার আবুল বাজানদারের মতো মুক্তামনিও সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানান চিকিৎসক। উল্লেখ্য, ১২ বছরের শিশু মুক্তামনির দেহে জন্মের দেড় বছর পর একটি ছোট মার্বেলের মতো গোটা দেখা দেয়। এরপর থেকে সেটি বাড়তে থাকে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়েও তার কোনো চিকিৎসা হয়নি। তার আক্রান্ত ডানহাত এখন ছোট আকারের গাছের গুড়ির রূপ নিয়ে প্রচণ্ড ভারি হয়ে উঠেছে। এতে পচন ধরেছে। পোকাও জন্মেছে। দিন রাত চুলকানি ও যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে থাকে মুক্তামনি। আক্রান্ত স্থান থেকে বিকট গন্ধ ছুটছে। এ রোগ তার দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। সম্প্রতি মুক্তামনির এই বিরল রোগ নিয়ে ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মুক্তামনি ভালো আছে
সফল অস্ত্রোপচারের পর বিরল রোগে আক্রান্ত সাতক্ষীরার শিশু মুক্তামনি এখন ভালো আছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন মুক্তামনি রোববার তার মা-বাবা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছে। ঐদ্নি সকাল থেকে তাকে স্যুপ জাতীয় খাবার দেওয়া হচ্ছে। বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, মুক্তামনি ভালো আছে। তার সঙ্গে অনেক সময় কথা হয়েছে। টিউমার অপসারণের কারণে ডান হাত হালকা অনুভব করছে বলে সে জানিয়েছে। সকালের দিকে ক্ষুধা লাগার কথাও জানিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্যুপ জাতীয় খাবার দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে তাকে স্বাভাবিক খাবার দেওয়া হয়। এর আগে গত শনিবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে মুক্তামনির ডান হাতের টিউমার অপসারণ করা হয়। পরে চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, টিউমার মুক্তামনির শরীরের অনেক জায়গায় ছড়িয়েছে। প্রথম অস্ত্রোপচারে হাতের অংশে থাকা টিউমারটি অপসারণ করা হয়েছে। অন্য টিউমারগুলো অপসারণ করতে আরও পাঁচ থেকে ছয়টি অস্ত্রোপচার লাগবে। ফুসফুসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা থাকার কারণে তাকে এখনই ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গত ১৪ আগস্ট সোমবার রাত আটটার দিকে জর্জিয়ার অদূরে উইলকিংসন কাউন্টি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জর্জিয়া স্টেট পেট্রল পুলিশ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। নিহত দুজন হলেন ইমতিয়াজ ইকরাম আলী (২৬) ও প্রাচিতা দত্ত টুম্পা (২৫)। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা শারলট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করছিলেন। ইকরাম, প্রাচিতা ও ফারজানা নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে ফ্লোরিডা যাচ্ছিলেন। পথে দুর্ঘটনা ঘটে। ইকরাম-প্রাচিতার বন্ধু ফাইরুজ সাকিব তানজিম জানান, দুই সপ্তাহ আগে ফারজানা যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা শারলট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে আসেন। দুই দিন আগে বাংলাদেশে তাঁর বাবা মারা যান। এই খবর পেয়ে ফারজানা নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে ফ্লোরিডায় তাঁর বোনের বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে দুর্ঘটনা ঘটে। ফাইরুজ জানান, ২০১১ সালে তাঁরা চার বন্ধু ঢাকায় মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন। পিএইচডি করতে তাঁরা ২০১৬ সালের আগস্টে একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।

ইয়েমেনে ভয়াবহ কলেরা

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র চার মাসে এত বিশালসংখ্যক মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই তথ্য জানিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই পানিবাহিত কলেরা রোগের সংক্রমণ শুরু হয়। এরপর থেকেই দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ পর্যন্ত এক হাজার ৯৭৫ জন মানুষ কলেরা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ডব্লিউএইচও জানায়, জুলাই মাসে কলেরা সংক্রমণের সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রতিদিন পাঁচ হাজার মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হচ্ছেন। দূষিত পানি পান ও অস্বাস্থ্যকর পয়ঃনিষ্কাশনের কারণে কলেরা রোগ ছড়ায়। যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের প্রায় দেড় কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বড় শহরগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও স্থবির হয়ে পড়েছে। কলেরা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ অনেক ক্ষেত্রে থাকে না বা থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু হয়। কলেরার সংক্রমণ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইয়েমেনের স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষ। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা রয়েছে দেশটিতে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেনে কলেরা রোগের ওষুধের স্বল্পতা রয়েছে। গত এক বছর ধরে ৩০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী কোনো বেতন পাচ্ছেন না। সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম বলেন, ইয়েমেনের স্বাস্থ্যকর্মীরা অসম্ভব কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করছে। কয়েক লাখ মানুষ অসুস্থ। কিন্তু নেই পর্যাপ্ত হাসপাতাল, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি।

রাশিয়া তৈরি করেছে ‘অদৃশ্য’ সুপারসনিক জেট

‘অদৃশ্য’ সুপারসনিক জঙ্গি বিমানের একটি নতুন বহর নির্মাণের কথা ঘোষণা করেছে রাশিয়া। তারা গর্ব করে বলেছে, এটি হবে বিশ্বে তাদের শত্রু বিমানবাহিনীর জন্য ঈর্ষণীয়। সুখোই-৫৭ নামে সুপারসনিক বিমানটির দাম হবে ১২ কোটি মার্কিন ডলার। এর সর্বোচ্চ গতিবেগ হবে ঘণ্টায় এক হাজার ৬১৫ মাইল। এই বিমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জঙ্গিবিমানগুলো হচ্ছে আমেরিকার এফ-২২ এবং চীনের চেংডু জে-২০। ক্রেমলিনের কর্মকর্তারা বলেছেন, পঞ্চম প্রজন্মের এই জেট নতুন জন্ম নেয়া শিশুর মতোই যার নাম দেয়া হয়েছে এসইউ-৫৭। ২০১৯ সালে এটি সামরিক বহরে যুক্ত হওয়ার বছরখানেক আগেই এর একটি পরীক্ষা চালানো হবে। দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান ভিক্টর বন্ডরেভ এটাকে ‘বিস্ময়কর হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর আগে গত মাসে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রত্যেকটা দেশই সম্ভবত যে ধরনের বিমান কামনা করে, আমাদের কাছে সে ধরনেরই এ বিমান আছে।’ এই বিমানটির নির্মাণপর্যায়ে নাম দেয়া হয়েছিল ‘প্যাক এফএ’ এবং ‘টি-৫০’। রাশিয়া বলেছে, এসইউ-৫৭ বিমানটিকে শত্রুপক্ষের রাডার যাতে দেখতে না পায় সে জন্য এতে অত্যাধুনিক স্টিলথ প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। নিউজউইক জানিয়েছে, নতুন এই বিমানটিকে কে-৭৭এম ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত করা হয়েছে যার পাল্লা ১২৫ মাইল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা এখনকার সর্বাধুনিক এইম-১২০ডি ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা ১০০ মাইল। ২০১৫ সালে এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, এই বিমানটি ঘণ্টায় দুই হাজার ৬০০ কিলোমিটার গতিতে সর্বোচ্চ ২০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মার্কিন প্রযুক্তির সমমানের এই বিমানের প্রতিটি তৈরি করতে খরচ হবে ১২ কোটি মার্কিন ডলার। পরীক্ষার জন্য দেশের বিমানবাহিনীকে প্রাথমিকভাবে ১২টি জেট দেয়া হবে।

গলায় ছুরি ধরে ট্যাক্সি চালককে ধর্ষণ সুন্দরী তরুণীর

তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও লুটের অভিযোগ। আদালত তাকে ৪ বছরের হাজতবাসের সাজা দিয়েছে। তবুও তার মুখে হাসি। ২৩ বছরের তরুণী ব্রিটনি কার্টার-এর এভাবেই চমকে দিলেন পুলিশ কর্মকর্তাদের। বন্ধুর সঙ্গে এক ট্যাক্সি চালককে যৌননিগ্রহ ও লুটের অভিযোগ রয়েছে ব্রিটনির বিরুদ্ধে। গত এপ্রিলে আমেরিকার ওহায়ো শহরের এক হোটেল থেকে বেরিয়ে বন্ধু কোরি জ্যাকসনকে নিয়ে একটি ট্যাক্সি বুক করে ব্রিটনি। এরপর চালককে নির্জন এক জায়গায় নিয়ে যেতে বলে, সেখানে পৌঁছলে কোরি চালকের গলায় ছুরি ধরে লুট শুরু করে। অভিযোগ, একইসময়ে চালকের সঙ্গে ওরাল সেক্স করেন ব্রিটনি। এরপর কোরি ছুরি ধরে থাকা অবস্থায় চালককে ধর্ষণ করে ওই তরুণী। যদিও ব্রিটনি কেন হঠাৎ এমন করল, তা স্পষ্ট নয় পুলিশের কাছে।

তিন সৌদি যুবরাজকে অপহরণ

বিবিসির এক তদন্তে উঠে এসেছে যে ভিন্ন মতাবলম্বী এক সৌদি রাজপুত্রকে অপহরণ করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কয়েকজন পশ্চিমা সাক্ষী এই বিষয়ে কথা বলেছেন। এরা গত বছর প্রিন্স সুলতান বিন তুর্কী বিন আব্দুল আজিজের এক সফরের সঙ্গী ছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, বিমানে চড়ে তারা ফ্রান্স থেকে মিশরে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রাইভেট জেট বিমান অবতরণ করে সৌদি আরবে। এরপর থেকে যুবরাজের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই অভিযোগের ব্যাপারে সৌদি সরকার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিবিসির সংবাদদাতা রেদা আল মাওয়ি বলছেন, ইউরোপে বাস করতেন এমন তিনজন সৌদি যুবরাজ গত দু'বছরে নিখোঁজ হয়েছেন। এরা তিনজনই সৌদি সরকারের সমালোচক ছিলেন। এমন প্রমাণ আছে যে এই তিনজনকেই অপহরণ করা হয়েছে এবং বিমানে করে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে - এবং তার পর থেকে এদের কোন খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। জেনেভা শহরের উপকণ্ঠে ২০০৩ সালের ১২ জুন এক সৌদি প্রিন্সকে গাড়িতে করে একটি প্রাসাদে নিয়ে যাওয়া হয়। এই প্রিন্সের নাম সুলতান বিন তুরকি বিন আবদুলআজিজ। প্রাসাদটি হচ্ছে তার চাচা মরহুম বাদশাহ ফাহদের। আর যিনি এই প্রিন্সকে প্রাতরাশের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, তিনি হলেন বাদশাহ ফাহদের প্রিয় পুত্র প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন ফাহদ। আবদুলআজিজ সুলতানকে বললেন, সৌদি আরবে ফিরে যেতে- কারণ সুলতান সৌদি নেতৃত্বের যে সমালোচনা করেছেন তা নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে এবং তার নিষ্পত্তি করতে হবে। সুলতান তা মানলেন না। এর পর প্রিন্স আবদুলআজিজ একটা ফোন করতে ঘরের বাইরে গেলেন। তার সাথেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রী শেখ সালেহ আল-শেখ। কয়েক মুহূর্ত পরই ঘরে ঢুকলো মুখোশধারী কয়েকজন লোক। তারা সুলতানকে মারধর করলো, তার হাতে পরিয়ে দিল হাতকড়া। এর পর তার ঘাড়ে ঢুকিয়ে দেয়া হলো একটা ইনজেকশনের সূঁচ। সুলতান সংজ্ঞা হারালেন। তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হলো জেনেভা বিমানবন্দরে। সেখানে অপেক্ষা করছিল একটি বিমান। অনেক বছর পর সুলতান সুইজারল্যান্ডের এক আদালতে এ ঘটনার বর্ণনা দেন। প্রিন্সি সুলতান কি করেছিলেন যে তার পরিবারের লোকেরাই তাকে এভাবে অপহরণ করলো? এর আগের বছর ইউরোপে চিকিৎসার জন্য এসে প্রিন্স সুলতান সৌদি সরকারের মানবাধিকার রেকর্ড, যুবরাজ ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির সমালোচনা করে কিছু সাক্ষাৎকার দেন, এবং কিছু সংস্কারের আহ্বান জানান। সৌদি আরবে ১৯৩২ সালে বাদশাহ আবদুলআজিজ ইবনে সৌদ ক্ষমতাসীন হবার পর থেকেই দেশটি একটি রাজতন্ত্র এবং এখানে ভিন্নমত সহ্য করা হয় না। রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে প্রভাবশালী প্রিন্স তুরকি বিন বান্দার এর আগে জেল খেটেছেন। ছাড়া পাবার পর তিনি প্যারিসে পালিয়ে যান এবং সৌদি আরবে সংস্কার দাবি করে ইউটিউবে ভিডিও ছাড়েন। তখন তার ওপর চাপ দেয়া হয় দেশে ফেরার জন্য। তাকে ফোন করেন ডেপুটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আল-সালেম। সেই টেলিফোন আলাপ রেকর্ড করে রাখেন প্রিন্স, এবং পরে তা অনলাইনে প্রকাশ করেন। আলাপটি ছিল এইরকম : "সবাই আপনার প্রত্যাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে। জাযাকআল্লাহ খায়ের।" "আমার ফেরার জন্য? তোমার অফিসাররা যে আমাকে চিঠি লিখেছে 'বেশ্যার সন্তান, তোকে আমরা সুলতান বিন তুরকির মতো টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাবো।'" "ওরা আপনার গায়ে হাত দেবে না"- ডেপুটি মন্ত্রী আশ্বাস দিলেন। তুরকি বললেন, "না, ওরা তোমারই লোক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওদের পাঠায়।"  প্রিন্স তুরকি ২০১৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ভিডিও পোস্ট করেন। তার কিছুদিন পরই তিনি হঠাৎ উধাও হয়ে যান। সৌদি ব্লগার ওয়ায়েল আল-খালাফ বলেন, "পরে আমি একজন কর্মকর্তার কাছে শুনেছি যে তুরকি বিন বান্দার তাদের সাথেই আছেন। তার মানে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে মরক্কোর এক পত্রিকায় দেখেছি তাকে মরক্কোতেই গ্রেফতার করা হয়, এবং সৌদি আরবের অনুরোধে সেথানে পাঠিয়ে দেয়া হয়।" একই সময় প্রিন্স সৌদ বিন সাইফ আল-নাসর নামের আরেক জন যুবরাজেরও একই পরিণতি হয়। তিনি ইউরোপের ক্যাসিনো এবং ব্যয়বহুল হোটেল পছন্দ করতেন। ২০১৪ সালে তিনি সউদি রাজতন্ত্রের সমালোচনা করে টুইট করতে শুরু করেন। তার ভাষায় যেসব সৌদি কর্মকর্তা মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসিকে উৎখাত করায় সমর্থন দিয়েছিলেন - তাদের বিচার দাবি করেন তিনি। এর পর ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি আরো দুঃসাহসিক কাজ করেন। বাদশাহ সালমানকে উৎখাত করার আহ্বান জানিয়ে দুটি চিঠি লেখেন এক অজ্ঞাত যুবরাজ, এবং প্রিন্স আল-নাসর তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। রাজপরিবারে কেউ এর আগে এ কাজ করেন নি, এবং এটা ছিল রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এর কয়েক দিন পরই তার টুইটার একাউন্টটি নিরব হয়ে যায়। প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান নামে আরেকজন ভিন্নমতাবলম্বী সৌদি যুবরাজ খালেদ বিন ফারহান ২০১৩ সালে জার্মানি পালিয়ে যান। কিন্তু সেখান থেকে তাকে কৌশলে রিয়াদে নিয়ে যায় সম্ভবত সৌদি গোয়েন্দারা - বলেন ব্লগার আল-খালাফ। ইতিমধ্যে বন্দী অবস্থায় প্রিন্স সুলতান অসুস্থ হয়ে পড়ায় ২০১০ সালে রাজপরিবার তাকে আমেরিকার বস্টন শহরে চিকিৎসার জন্য যাবার অনুমতি দেয়। আর সেখান থেকেই প্রিন্স সুইস কোর্টে এক মামলা ঠুকে দেন - এবং তাতে তিনি তাকে অপহরণের জন্য প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন ফাহদ, এবং শেখ সালেহ আল-শেখকে দায়ী করেন। তবে সুইস সরকার এ মামলায় তেমন কোন উৎসাহ দেখায়নি। কিভাবে সুইস বিমানবন্দর থেকে তাকে বিমানে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো তার তেমন কোনো তদন্তও হয়নি। গত বছর জানুয়ারি মাসে সুলতান ছিলেন প্যারিসের একটি হোটেলে। তিনি কায়রোতে তার পিতাকে দেখতে যাচ্ছিলেন। তখন সৌদি কনস্যুলেট তার যাত্রার জন্য একটি প্রাইভেট জেট বিমান দেবার প্রস্তাব দেয়। ২০০৩ সালের ঘটনা সত্বেও প্রিন্স তা গ্রহণ করেন। তার সাথে ছিলেন তার নিজস্ব ডাক্তার এবং প্রায় ইউরোপীয় ও আমেরিকান দেহরক্ষী সহ ১৮ জন লোক। পরে - নাম প্রকাশ না করার শর্তে - ওই দলের দুজন বর্ণনা করেছেন যে বিমানে কি হয়েছিল। "আমরা একটি বিশাল বিমানে উঠলাম, তার গায়ে সৌদি আরবের নাম লেখা ছিল। আমরা দেখলাম তাতে প্রচুর ক্রু আছেন, এবং তারা সবাই পুরুষ। আমাদের কেমন যেন লাগলো।" "বিমানের ভেতরে মনিটরে দেখা যাচ্ছিল আমরা কায়রো যাচ্ছি। কিন্তু আড়াই ঘন্টা পর মনিটরগুলো অন্ধকার হয়ে গেল।" "প্রিন্স সুলতান ঘুমোচ্ছিলেন, তবে ল্যান্ডিংএর এক ঘন্টা আগে তিনি জেগে উঠলেন। জানলা দিয়ে তাকালেন। তাকে উদ্বিগ্ন মনে হলো।" "আরোহীরা যখন বুঝতে পারলেন যে তারা সৌদি আরবে অবতরণ করতে যাচ্ছেন, তখন সুলতান ককপিটের দরজায় বার বার করাঘাত করতে লাগলেন, সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে লাগলেন। ক্রুদের একজন প্রিন্সের সঙ্গীদের সিটে বসে থাকতে বললো।" বিমান নামার পর রাইফেলধারী কিছু লোক বিমানটি ঘিরে ফেললো। সৈন্য এবং কেবিন ক্রুরা মিলে সুলতানকে বিমান থেকে টেনে হিঁচড়ে নামালো। তিনি চিৎকার করে তার দলকে বলছিলেন আমেরিকান দূতাবাসে ফোন করতে। প্রিন্স এবং তার চিকিৎসকদের একটি ভিলায় নিয়ে সশস্ত্র প্রহরায় আটকে রাখা হলো। তার সফর সঙ্গীদের তিনদিন হোটেলে আটকে রাখার পর যার যার দেশে ফেরত পাঠানো হলো। এ ঘটনার পর থেকে প্রিন্স সুলতানের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই অপহরণের অভিযোগের ব্যাপারে সৌদি সরকার মন্তব্য করতেও অস্বীকার করে। প্রিন্স খালেদ যিনি এখনো জার্মানিতে আছেন, আশংকা করছেন তাকেও একদিন জোর করে রিয়াদে নিয়ে যাওয়া হবে। তার কথা, সৌদি রাজপরিবারের সমালোচনা করেছে এমন ওই পরিবারের চারজন সদস্য ইউরোপে ছিল।
তিনি বলেন, "তিনজনকে অপহরণ করে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুধু আমিই বাকি।" এর পর কি তার পালা? "আমি নিশ্চিত যে তাই। অনেক দিন ধরেই। তারা যদি পারতো এত দিনে কাজটা করেও ফেলতো। আমি খুবই সাবধানে থাকি, তবে এটা আমার স্বাধীনতার মূল্য।"

লাদাখ দিয়ে ভারতে প্রবেশ চীনা সেনাবাহিনীর!

লাদাখ সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিল চীনা সেনাবাহিনী। কিন্তু ভারতীয় বাহিনী তা প্রতিরোধ করে দিয়েছে। তবে কোনো পক্ষই তাজা বুলেট ছোঁড়েনি। তারা একে অপরের দিকে পাথরবৃষ্টি বর্ষণ করেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ভারতের কয়েকটি মিডিয়া এ খবর প্রকাশ করেছে। খবরে প্রকাশ, মঙ্গলবার পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জওয়ানরা লাদাখের বিখ্যাত প্যাঙ্গং হৃদ লাগোয়া দুটি অঞ্চল— ফিঙ্গার ফোর ও ফিঙ্গার ফাইভ দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার চেষ্টা করে। জানা গিয়েছে, এই দুজায়গাতেই একবার ভোর ৬টা এবং ফের একবার সকাল ৯টা নাগাদ অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করে চীনা বাহিনী। কিন্তু, প্রতিবারই চীনা আগ্রাসন রুখে দেয় সদাসতর্ক ভারতীয় ফৌজ। জানা গিয়েছে, চীনা সেনা এগোতেই, ভারতীয় জওয়ানরা তাদের সামনে মানবপ্রাচীর গড়ে তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চীনা বাহিনী ভারতীয় ফৌজকে লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি শুরু করে। পাল্টা পাথর ছোঁড়ে ভারতও। এতে দুপক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেনা সূত্রে খবর, প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এই সংঘাত চলে। তবে, পরিস্থিতি বেশি জটিল হওয়ার আগে দুপক্ষই নিয়মমাফিক ব্যানার ড্রিল করে নিজ নিজ জায়গায় ফিরে যায়। নয়াদিল্লিতে সেনার এক মুখপাত্র এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। সেনা সূত্রে খবর, চীনা সেনা ফিঙ্গার ফোর এরিয়া পর্যন্ত এগিয়ে এসেছিল। এই জায়গার দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। কারণ, উভয় দেশই এই অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। নয়ের দশকের শেষের দিকে আলোচনার সময় ভারত এই জায়গার আধিপত্য নিয়ে দাবি করলে, চীন পাল্টা দাবি করে জানায়, এটি আকসাই চীনের অঙ্গ।
এমনকী, নিজেদের দখল প্রমাণ করতে এই এলাকায় ফিঙ্গার ফোর পর্যন্ত একটি পাকা রাস্তাও তৈরি করে ফেলে বেইজিং। এই ফিঙ্গার ফোর এলাকাটি লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি)-র পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে সিরি জাপ অঞ্চল(ভারতীয় দিকে) পর্যন্ত অবস্থিত। আগে, এই হৃদের উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ে চীনা প্যাট্রলিং ভেসেল প্রায়ই আসত। এই হৃদের ৯০ কিলোমিটার চীনা দিকে পড়ছে। আর ৪৫ কিলোমিটার ভারতের দিকে। কিন্তু, এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অত্যাধুনিক ইন্টারসেপ্টর বোট কিনে ভারত এই জায়গার নিয়মিত নজরদারি চালায়। ওই নৌকাগুলি অত্যন্ত দ্রুতগতির। তাতে লাগানো রয়েছে অত্যাধুনিক রেডার, ইনফ্রা-রেড ও জিপিএস। খবরে বলা হয়, এর আগেও লাদাখে চীনা সেনা আগ্রাসন ঘটিয়েছে। ২০১৩ সালের মে মাসে লেহ-র দৌলত বেগ ওল্ডি (ডিবিও)-র ডেপসাং উপত্যকায় তিন-সপ্তাহ ধরে দুই সেনার মধ্যে সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।৪ ডোকালাম-ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুদেশের সেনার মধ্যে সার্বিক সংঘাতের পরিবেশে তৈরি হয়েছে, তাতে নিঃসন্দেহে ঘৃতাহুতি দেবে এদিনের ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে।

ছয় লাখের বেশি সিরীয় ঘরে ফিরেছে

চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত ছয় লাখের বেশি সিরীয় নাগরিক নিজ এলাকায় ফিরে গেছে। এদের বেশির ভাগই আলেপ্পোর বাসিন্দা। জাতিসঙ্ঘের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে আইওএম জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ছয় লাখ দুই হাজার ৭৫৯ জন সিরীয় তাদের ঘরে ফিরেছে। যে অঞ্চল থেকে তারা পালিয়ে গিয়েছিল, সেখানকার অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার কারণেই এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজ বাসস্থানে ফিরে গেছে। ফিরে আসা সিরীয়দের মধ্যে ৮৪ শতাংশই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ছিল।

গুয়ামে হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করল উত্তর কোরিয়া

প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন অঞ্চল গুয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা আপাতত ‘স্থগিত’ করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। গতকাল মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। অন্য দিকে যেকোনো মূল্যে এই অঞ্চলে যুদ্ধ ঠেকাতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া। দুই সপ্তাহ পর প্রথম প্রকাশ্যে এসে কিম জং উন গত সোমবার উত্তর কোরীয় সেনাবাহিনীর গুয়াম হামলার প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করেন। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির(কেসিএনএ) এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গুয়ামে অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। তবে এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিয়ে আরো কিছুদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চান কিম। কেসিএনএ তাদের রিপোর্টে বলেছে, ‘তিনি (কিম) বলেছেন, মার্কিনিরা যদি তাদের অদম্য কর্মকাণ্ড চালাতেই থাকে তাহলে আরো কিছুদিন পর সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, যা ইতোমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে’। গত সপ্তাহেই গুয়ামের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করে উত্তর কোরিয়া, যার ফলে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবারও উত্তর কোরিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘যেকোনো ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে তা কেবল পারমাণবিক যুদ্ধেই রূপ নেবে।’ এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া বোকার মতো কিছু করলে তার সেনাবাহিনীও প্রস্তুত আছে।
যুদ্ধ ঠেকাতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া
কোরীয় উপদ্বীপে যেকোনো ধরনের যুদ্ধ এড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া। এ বিষয়ে সহায়তার জন্য মার্কিন মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। কূটনৈতিকভাবে সঙ্কট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়া সফররত মার্কিন সেনাকর্মকর্তাদের প্রতি এসব আহ্বান জানান মুন জায়ে। সোমবার এক বৈঠকে মার্কিন সেনাকর্মকর্তাদের মুন জায়ে বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থই আমাদের কাছে প্রাধান্য পাবে। আর আমাদের জাতীয় স্বার্থ হলো শান্তি। আমি বিশ্বাস করি আমাদের নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শান্তভাবে ও দায়িত্বশীলতার সাথে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করবে।’ বৈঠকের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে ব্রিফ করা হয়। বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডানফোর্ড মুনকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রাধান্য দেয়। তবে সামরিক অভিযানেরও প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির খবর অস্বীকার ইউক্রেনের
উত্তর কোরিয়ার কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউক্রেন। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে দাবি করা হয়েছিল ইউক্রেনের একটি কারখানায় নির্মিত রকেট ইঞ্জিন কিনে থাকতে পারে উত্তর কোরিয়া। এই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বিষয়টি অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের মন্ত্রী ওলেক্সান্দার তারচিনভ বলেন, ইউক্রেন কখনো রকেট ইঞ্জিন বা কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উত্তর কোরিয়াকে সরবরাহ করেনি। পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সর্বশেষ উ. কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার বিপরীতে মার্কিন প্রস্তাবে সমর্থন দিয়ে জাতিসঙ্ঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।

হাওর পাড়ে শুধুই দীর্ঘশ্বাস

হাওরপাড়ের মানুষগুলোর শেষ নিঃশ্বাসটাই যেন কেবল উপলব্ধি করা যায়। বেঁচে থাকাটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়া যেন আর কিছুই নয় দুর্যোগ, দুর্ভোগ কবলিত হাওরবাসী জীবনে। এই দুর্ভোগের শেষ কোথায় এই প্রশ্নই ঘুপাক খাচ্ছে হাওরবাসীর মনে। বারবার বন্যার শিকার হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে ক্ষতি শিকার হতে হচ্ছে প্রতি বছরই। সুনামগঞ্জ জেলায় বছরের শুরুতেই পানিতে ডুবে বোরো ধানের ক্ষতি সামাল দিতে না দিতেই এখন শুরু হয়েছে বন্যা। অকালে বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাবার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় সহায়তা। তা দিয়ে কোনো রকমে জীবনযাপন করছিল হাওরবাসী। এখন তা বন্ধ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আবারো চালু দাবি জানিয়েছে হাওরপাড়ের হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্তরা। সরকারি যে সহায়তা দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। আর বর্তমানে এখনো সরকারি সহায়তা পায়নি জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যন্ত এলাকার মানুষজন। জানাযায়, জেলায় ৭টি উপজেলায় গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার ছোট ছোট দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রামগুলোর চারদিকে পানিতে থৈথৈ করছে। বসত-বাড়িতে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে মা, বাবা রয়েছেন উদ্ধেগ আর উৎকন্ঠা মধ্যে। এদিকে বন্যার পানি নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জেলা ও উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা। ফলে বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় পানিবন্দি হয়ে আছে হাওরপাড়ের লাখ লাখ মানুষ অসহায় সাধারণ মানুষ। তবুও খোলা হয়নি আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। পানির জন্য কর্মহীন অবস্থায় থাকায় ও বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় খাবার সংকটে রয়েছে হাওর পাড়ের হাজার হাজার মানুষ। অসহায় হাওরবাসীর মাঝে এখন বিরাজ করছে শুধু বুক ভরা দীর্ঘশ্বাস। আরো জানাযায়,জেলার তাহিরপুর বিশ্বাম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগড়, দোয়ারা, ছাতক, দিরাই-শাল্লা উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে গেছে হাওর পাড়ে টিউবওয়েলগুলো। ফলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি সংকট। বিশুদ্ধ পানি অভাবে দেখা দিচ্ছে নানা পানিবাহিত রোগ। এছাড়াও ভেঙ্গে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। নিম্নাঞ্চলের স্কুল, হাট-বাজার, বসত-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট বন্যার পানি ডুবে আছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাসাপাতাল, বিভিন্ন হাট-বাজার, স্কুলগুলোতে ছাত্ররা আসতে না পারায় ক্লাস বন্ধ রয়েছে।
জেলার সীমান্ত এলাকার ছোট-বড় অর্ধশতাধিক ছড়া দিয়ে প্রবল বেগে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে পাহাড় ধসের আতংকের মধ্যে রয়েছে সীমান্ত এলাকায় ও নদী তীরবর্তী ঘর-বাড়িগুলো রক্ষা করার জন্য ঐ এলাকার লোকজন করছে পানির সাথে যুদ্ধ। তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজার ঔষধ কোম্পানীর ফারিয়ার সভাপতি সুহেল আহমদ সাজু, ব্যবসায়ী সাদেক আলী, ডাঃ হাফিজ উদ্দিন জানান, জেলা শহরসহ আশপাশের উপজেলাগুলোর সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সীমাহীন ভোগান্তিতে আছে উপজেলাবাসীর। ডুবে যাওয়া হাট-বাজারের দোকানের মালামাল অনত্র সরিয়ে নিচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশ সমান। খেটে খাওয়া দিন মজুর শ্রমিকরা আছে মহাবিপদে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখঞ্জি জানান, বন্যার কারণে তাহিরপুর উপজেলার হাওর এলাকার দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রামগুলোতে বসবাসকারী মানুষ রয়েছেন উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা মধ্যে। যে পরিমাণ সরকারি সহায়তা পেয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। সরকারি সহায়তা দ্রুত আরো বাড়ানো প্রয়োজন। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, জেলার সব কটি উপজেলায় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুত আছি।