Saturday, September 12, 2015

সশস্ত্র ড্রোনের মালিক হয়ে ভারতকে পিছনে ফেলল পাকিস্তান

অত‌্যাধুনিক সশস্ত্র ড্রোনের মালিক হল পাকিস্তান। সৌজন‌্যে সম্ভবত চিন। যদিও ইসলামাবাদের দাবি, এই নতুন ড্রোন ‘বারাক’ পুরোপুরি পাক প্রযুক্তিতেই তৈরি। কিন্তু তা মানতে নারাজ পশ্চিমি দেশগুলির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তবে যে কারখানাতেই ‘বারাক’ তৈরি হয়ে থাক, তার দৌলতে কিন্তু ড্রোন সমরকৌশলের অভিজাত ক্লাবে ঢুকে পড়ল ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার আফগান সীমান্তের কাছে সশস্ত্র ড্রোন ‘বারাক’ জঙ্গি ডেরায় হামলা চালিয়েছে। বারাক থেকে ছোড়া লেসার-নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র তিন জন জঙ্গির প্রাণও নিয়েছে। বারাকের মতো অত‌্যাধুনিক ড্রোন হাতে আসার কথা পাকিস্তান অবশ‌্য আগেই জানিয়েছিল। গত মার্চেই ইসলামাবাদ ঘোষণা করে, বারাক থেকে নিক্ষেপ করা হবে ‘বার্ক’ ক্ষেপণাস্ত্র। আঘাত হানা হবে নির্ভুল লক্ষ‌্যে। আর জানানো হয়েছিল, সব ধরনের আবহাওয়াতেই কাজ করতে সক্ষম বারাক। এর বাইরে বারাকের ক্ষমতা বা প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি নিয়ে আর একটি শব্দও খরচ করতে চায়নি পাকিস্তান। রবিবারের অভিযানে বারাকের সাফল‌্যের কথা তুলে ধরলেও, এর প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে পাক সেনার মুখপাত্ররা এখনও স্পিকটি নট।
চালকহীন বিমান এখন আর বিশ্বের কাছে নতুন কিছু নয়। অনেক দেশের হাতেই এই প্রযুক্তি রয়েছে। তবে নজরদারির কাজেই তা মূলত ব‌্যবহৃত হয়। হাতে গোনা কয়েকটি দেশ যুদ্ধে হামলা চালানোর কাজে ড্রোন ব‌্যবহার করে। সশস্ত্র ড্রোন ব‌্যবহারকারীদের তালিকায় এতদিন ছিল শুধুমাত্র আমেরিকা, ইজরায়েল, ব্রিটেন এবং নাইজিরিয়া। এ বার পঞ্চম দেশ হিসেবে সেই ক্লাবে যোগ দিল পাকিস্তান। সে দেশের তরফে বার বার দাবি করা হচ্ছে, পাক বিজ্ঞানীরাই তৈরি করেছেন বারাক। কিন্তু, বারাকের প্রযুক্তিগত বিষয় নিয়ে পাকিস্তানের ঢাক ঢাক গুড় গুড় সন্দেহ বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশষজ্ঞদের। লন্ডনের রয়‌্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর এলিজাবেথ কুইন্টানা খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন, “পাকিস্তান নিশ্চিত ভাবে চিনের সাহায‌্য নিয়েছে।” চিন তাদের সশস্ত্র ড্রোন সিএইচ-৩ যে বিদেশে রফতানি করছে, তা আগেই প্রকাশ‌্যে এসেছিল। গত জানুয়ারিতে নাইজিরিয়ার বোর্নো প্রদেশে একটি সিএইচ-৩ ড্রোন ভেঙে পড়ে। ওই ড্রোনটির সাহায‌্যে নাইজিরিয়ার সরকার বোকো হারাম জঙ্গিদের ঘঁটিতে আক্রমণ চালাচ্ছিল। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। তাতেই জানা যায়, চিন নাইজিরিয়াকে সশস্ত্র ড্রোন বিক্রি করেছে।
গত মাসে চিনের তরফে সে দেশের সরকারি সংবাদমাধ‌্যম জিনহুয়াতে জানানো হয়, কিছু উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন রফতানি করা সরকার বন্ধ করবে। কারণ, তা চিনের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। এর থেকেই স্পষ্ট অগস্টের আগে পর্যন্ত চিন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন অন‌্য দেশকে বিক্রি করেছে। আর পাকিস্তান গত মার্চেই জানিয়েছিল, তাদের অস্ত্রাগারে বারাকের অন্তর্ভুক্তির কথা।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ স্বাভাবিক ভাবেই দু’য়ে-দু’য়ে চার করেছে। চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতাও তারা ভালো চোখে দেখছে না। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিওরিটি-র কর্তা কেলি সেলার বললেন, “যদি ড্রোন ব‌্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও সীমারেখা না থাকে, বিশেষত সীমান্ত পার হয়ে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে, তাহলে বিষয়টি স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে।”
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কত ভ্যাট আদায় হবে?

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিকে ঘিরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা এবং সরকার এখন মুখোমুখি অবস্থানে। শিক্ষার্থীরা এই ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবিতে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল থেকে তিন দিনের ধর্মঘটও শুরু হতে যাচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মালিকদের সমিতিও এই ভ্যাট তুলে নেবার আহ্বান জানিয়েছে।
কিন্তু সরকারও তার অবস্থানে অনড়। ভ্যাট প্রত্যাহার করা হবে এমন কোনো ইঙ্গিত এখনো পর্যন্ত সরকারের দিক থেকে নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভ্যাট বাবদ সরকার কত কর আদায় করার আশা রাখে, যার জন্য তারা এরকম একটি অনমনীয় অবস্থান নিয়েছে?
বাংলাদেশ সরকার কেবল এ বছরের বাজেটেই শিক্ষাখাতে বরাদ্দ রেখেছে ২০ হাজার কোটি টাকা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রায় পুরো খরচ নির্বাহ হয় এই সরকারি বরাদ্দ থেকে। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলছেন, এই বাজেট থেকে একটি টাকাও বেসরকারি খাতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়নি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই বৈষম্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন, সরকার এখন যে ভ্যাটের বোঝা চাপিয়ে দিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর, তাতে করে এই বৈষম্য এখন আরো বাড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সাড়ে সাত শতাংশ হারে ভ্যাট বাবদ সরকারের কোষাগারে আসলে কত অর্থ ‌আসবে, তার কোনো পরিস্কার হিসেব কারো কাছে নেই।
প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি-কে ভিত্তি ধরে যদি হিসাব করা হয়, তাহলে এই খাত থেকে সরকার হয়তো আড়াইশো হতে তিনশো কোটি টাকা ভ্যাট বাবদ পেতে পারে।
এবছর সরকার প্রায় পৌণে দুলাখ কোটি টাকার যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে, সেখানে এটা একেবারেই উল্লেখ করার মত কিছু নয় বলে মনে করেন অনেকে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান পাটোয়ারি বলেছেন, সরকারের গত কিছুদিনের চেষ্টা হচ্ছে ভ্যাটের ভিত্তি বাড়িয়ে রাজস্ব আয় কিভাবে বাড়ানো যায়। সেজন্যে নতুন নুতন খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার তো শুধু আজকের কথা ভেবেই নীতি ঠিক করছে না, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এসব করা হচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

পরকীয়ায় সব হারালেন শ্যামলী by রুদ্র মিজান

শ্যামলী সরকারি চাকরি করেন। স্কুল পড়ুয়া একমাত্র সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর ইন্দ্রিরা রোডে থাকতেন তিনি। তার স্বামী থাকতেন মধ্যপ্রাচ্যে। স্বামীর এই দূরত্বটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় শ্যামলীর জীবনে। কারণ এই সুযোগে তার জীবনে জড়িয়ে যায় আনিস। দীর্ঘদিন ছুটিয়ে প্রেম করেছেন আনিসের সঙ্গে। এই আনিসের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েই জীবনের সর্বনাশ ঘটিয়েছেন এই নারী। এখন তার স্বামী নেই, আনিসও নেই। এখন একলা চলছেন তিনি।
শুরুটা ছিলো স্মরণীয়। সময়টা ২০০৭ সাল। দ্বিতীয় শ্রেণীতে পুড়ুয়া মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন তিনি। আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই দেখা হতো এক যুবকের সঙ্গে। সুঠামদেহী এই যুবক অপলক তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কিছু একটা বোঝাতে চেষ্টা করতেন শ্যামলীকে। সুযোগ পেলেই এই যুবক যে তার সঙ্গে কথা বলবে এতে কোন সন্দেহ নেই। ত্রিশোর্ধ শ্যামলী তা বেশ উপভোগ করতেন। কিন্তু এসবে জড়ানোর কোন ইচ্ছে ছিলো না তখন। যুবকের আচরণে কলেজ জীবনের প্রথম বর্ষের দিনগুলো মনে পড়তো খুব। কিন্তু এখন সেই সময়, অবস্থান নেই। শ্যামলীর স্বামী আছে। সন্তান আছে। তিনি জড়াতে চান না কিছুতেই। যদিও যুবককের সঙ্গে কখনও কখনও দেখা না হলে কিছু খারাপ লাগে- তা অনুভব করেন। তবু তাকে পাত্তা দিতে রাজি না তিনি।
কিন্তু যুবক নাছোড়বান্দা। একদিন একদম কাছাকাছি দুজন। সেদিন বাসে চড়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গুলশানে যাচ্ছিলেন তিনি। বাসে প্রচন্ড ভীড়। এরমধ্যেই তাকে উঠতে হয়। নারী সীটগুলো যাত্রীতে পূর্ণ দাঁড়িয়ে থাকেন। পাশে একটি সীট ছেড়ে যাত্রী নামেন। তাড়াহুড়া করে বসতেই দেখেন পাশের জন সেই যুবক। যুবকও চমকে উঠেন। তিনিও ভাবতে পারেননি এভাবে এই নারীর কাছাকাছি বসার সৌভাগ্য হবে তার। পথচলতে বারবার দেখার সুবাধে যুবকই জিজ্ঞাসা করেন, কেমন আছেন? তারপর পুরো পরিচয়, পরিবারে কে কে থাকেন.. কিছুই বাদ যায়নি তাদের আলাপচারিতায়। এই যুবকের নাম আনিস। কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মতিঝিলে। মহাখালীতে যানজটে আটকে যায় বাস। আনিস মুচকি হাসেন। ভালোই হলো, আপনার সঙ্গে আরও কিছু সময় কাটানো যাবে। নিজের অজান্তেই মিষ্টি হাসির আভা ছড়িয়ে যায় শ্যামলীর ঠোঁট থেকে। আনিস তাতেই আপ্লুত। শ্যামলীর ছোট্ট মেয়েটির গাল টেনে আদর করে দেন আনিস। গুলশান-১ নেমে যান শ্যামলী। আনিস জানালা দিয়ে হাত নেড়ে বিদায় জানান। জবাবে শ্যামলী মিষ্টি হাসি দেন।
এর দিন পরে মেয়েকে স্কুলে দিতে গেলে দেখা হয় আনিসের সঙ্গে। সেদিন পাশের কফি হাউসে বসেন দুজন। কফি পান করেন। ওই দিনই ফোন নম্বর চেয়ে নেন আনিস। তারপর থেকেই শ্যামলীর প্রতি দায়িত্বশীল আনিস। প্রতিদিনই ফোনে খোঁজ-খবর নেন। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে। প্রথমে অল্প সময়। পরে আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় কথা হয় তাদের। হাসি-তামাশা হয়। এরমধ্যেই প্রবাসী স্বামী কল দিয়ে ফোন ব্যস্ত পান দীর্ঘ সময়। পরে মিথ্যা কথা বলে রক্ষা পান শ্যামলী। বিষয়টি আনিসের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। পরবর্তীতে নতুন সংযোগসহ শ্যামলীকে একটি মোবাইলফোন উপহার দেন আনিস। ওই ফোনেই কথা হয় দুজনের। এই ফোনটি শুধুই আনিসের জন্য। আগের মোবাইলফোনে স্বামীসহ অন্যান্যরা কথা বলেন। আনিসের সঙ্গে কথা হয় গভীর রাত পর্যন্ত। বিশেষ করে বন্ধের দিনের আগের পুরো রাতই কথা বলে পার করে দেন তারা।
মোটরসাইকেলে করে শ্যামলীকে অফিসে পৌঁছে দেন। আবার বাসায় নিয়ে যান। বন্ধের দিন ছোট্ট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তারা বেড়াতে যান বিভিন্নস্থানে। এভাবে আর ভালো লাগে না। কাছে পেতে ইচ্ছে করে দুজনকে দুজনেরই। অবিবাহিত আনিস জানান, শ্যামলীর স্বামী-সন্তান না থাকলে তাকে বিয়ে করতেন তিনি। এভাবে থাকা খুব কষ্টকর। তারপর থেকে মাঝে মাঝে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে বাসায় সময় কাটাতেন আনিস ও শ্যামলী। বিশেষ করে শ্যামলীর মেয়েটি যখন স্কুল থাকতো। ওই সময়টাই বেছে নিতেন তারা। এভাবে চলতে থাকে কয়েক মাস। পরে কখনও কখনও রাতেও একসঙ্গে থাকতেন তারা। বিষয়টি বাড়ির প্রহরীর দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। এক বিকালে শ্যামলীর কাছে জানতে চান, ম্যাডাম ওই লোকটি প্রায়ই বাসায় আসেন। তিনি কি হোন আপনার?
শ্যামলীর গলা শুকিয়ে যায়। অবশ্য সময় নেননি। ছটফট বলে দেন- আমার খালাতো ভাই। ঢাকাতেই থাকেন। আমার স্বামী এলে এ বাসাতেই থাকবেন তিনি। তারপর গতি বেড়ে যায় আনিস-শ্যামলীর প্রেমের। এরমধ্যে কক্সবাজারে দুই দিন ছিলেন তারা। অফিসের সহকর্মীদের সঙ্গে ভ্রমনে যাচ্ছেন অজুহাতে সন্তানকে বোনের বাসায় রেখে যান। সম্পর্কের বিষয়টি বেশি দিন গোপন কথা গোপন রাখতে পারেননি তিনি। ২০১০ সালে আসে বড় ঝড়টি। স্বামী তখন দেশে। স্বামীকে নিয়ে ব্যস্ত শ্যামলী। আনিসকে সময় দেওয়ার মতো সুযোগ কম। মাঝে-মাঝে অফিসের পাশে দেখা হয় তাদের। তা অল্প সময়ের জন্য। এমন পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেন না আনিস। এরমধ্যেই গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন শ্যামলীর স্বামী। আনিসকে ফোনে খবরটি জানান শ্যামলী। দ্রুত শ্যামলীর বাসায় ছুটে যান আনিস। এর কিছু সময়ের মধ্যেই হঠাৎ ডাকা বাস ধর্মঘটের কারণে বাসায় ফিরে কলিং বেল চাপেন শ্যামলীর স্বামী। কিন্তু দরজা খোলা হয় না। আবার বেল চাপেন। এভাবে কয়েক মিনিট। তারপর দরজা খোলে দেন শ্যামলী। ড্রয়িংরুমে মেহমানের মতো বসে আছেন আনিস। চোখ বড় বড় হয়ে যায় শ্যামলীর স্বামীর। জানতে চান কে? সহকর্মী বলে পরিচয় দেন তিনি। তারপর ভেতরের কক্ষে গিয়ে এলোমেলো বিছানাটা চোখে পড়ে তার। বাসা থেকে বের হওয়ার আগেও যা গোছানো ছিলো। তারপর স্বামীর মুখে কোন রাঁ নেই।
এরমধ্যেই শ্যামলীর স্বামী খোঁজ নিতে শুরু করেন। পরদিন কথা বলেন বাড়ির প্রহরীর সঙ্গে। ওই রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচন্ড বাকবিতন্ডা হয়। বাসা থেকে বের হয়ে ভাইয়ের বাসায় চয়ে যান। এর কিছুদিনের মধ্যেই শ্যামলীকে ডিভোর্স দেন তার স্বামী। ডিভোর্স লেটার হাতে পেয়ে আনিসের সঙ্গে দেখা করে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন শ্যামলী। আনিস আমতা আমতা করেন। মাথা ঠান্ডা রাখতে বলেন। তারপর থেকেই আনিসের ফোন বন্ধ। যে বাসায় থাকতেন আনিস সেই বাসাতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বাসার মালিক জানিয়েছেন কয়েক দিন আগেই বাসা ছেড়েছেন তিনি। আনিসের বাড়ি বরিশালের পটুয়াখালীতে। এরচেয়ে বেশি জানা নেই শ্যামলীর। আনিসের কর্মস্থল মতিঝিলে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নাম কখনও জানতে চাননি তিনি।
এখন একমাত্র কন্যাকে নিয়ে ধানমন্ডির শঙ্করে বাস করেন এই নারী। তার প্রাক্তন স্বামী নতুন বিয়ে করেছেন। মেয়ের জন্য নির্দিষ্ট টাকা পাঠান তিনি। অন্যদিকে এখন আর আনিসকে খুঁজেন না শ্যামলী। শুধু চোখের জলে সিক্ত হন নিজের ভুলের কথা স্মরণ করে। স্বপ্ন দেখেন মেয়েকে নিয়ে। বলেন, আমার জীবন আমিই নষ্ট করেছি। আমার নিজেকে নিয়ে কোন স্বপ্ন নেই। আনিসের মতো ব্যক্তির খপ্পড়ে যেন কেউ না পড়েন এই কামনাই করেন তিনি। এ বিষয়ে হিইম্যান রিসোর্স এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আলমগীর সেলিম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী শুনলেই এক শ্রেণীর পুরুষ ওই নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়াতে চান। এটা অবশ্যয়ই ভালো উদ্দেশ্য না। মূলত জৈবিক উদ্দেশ্য থেকেই এটা হয়। এ থেকে সাবধান এবং সচেতন থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হতে হবে। প্রবাসে থাকলেও স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগে সক্রিয় থাকা উচিত। দীর্ঘদিন দূরে না থাকাই ভালো বলে মনে করেন তিনি।

জামায়াতের ‘সংস্কারপন্থীদের’ দৃষ্টিতে ইসলামী দলগুলোর ভবিষ্যৎ

জামায়াতের সংস্কারপন্থীদের এক বৈঠকে ‘রাজনৈতিক সংস্কার কৌশল’ শীর্ষক একটি কী নোট পেপার উত্থাপন করা হয়েছিল। মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সম্পাদিত ‘ কামারুজ্জামানের চিঠি এবং জামায়াতের সংস্কার প্রসঙ্গ’ শীর্ষক গ্রন্থে ওই কী নোট পেপারটি মুদ্রিত হয়েছে। ওই কী নোট পেপারে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশে গত তিন-চার দশকের ইসলামী রাজনীতি প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনতে পারেনি। সেক্যুলার আওয়ামী লীগ, জাতীয়তাবাদী বিএনপি ও সুবিধাবাদী জাতীয় পার্টি ঘুরেফিরে বিভিন্ন মেয়াদে ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু এ তিনটি দলের বৈশিষ্ট কম-বেশি একই। মূলত ক্ষমতার মোহ, বস্তুগত স্বার্থলিপ্সা, অসততা ও অদক্ষতা, প্রতিহিংসা পরায়ণতা ইত্যাদি কারণে জাতি খুব বেশি আগাতে পারেনি। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্যান্য দলগুলোর সাংগঠনিক ও জনভিত্তি উল্লেখ করার মতো নয়।
বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে জামায়াতের ইসলামীর কোনো বিকল্প আপাতত দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু সবচেয়ে পুরানো রাজনৈতিক দল হওয়া সত্বেও জামায়াত নির্বাচনী দৌঁড়ে বেশ পেছনে পড়ে আছে। বাস্তবতা এমন দাঁড়িয়েছে যে, সততার সুনাম থাকা সত্বেও বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে জামায়াতের পক্ষে ভবিষ্যতে এককভাবে সরকার গঠনের মত জনপ্রিয়তা অর্জন করা আদৌ সম্ভব নয় বলে কেউ কেউ অভিমত প্রকাশ করেন। জামায়াতে ইসলামীর সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিম্নের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারে:
(এক) ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করায় জামায়াতের প্রথম সারির বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রচারণা থাকায় সর্বজন গ্রহণযোগ্য জাতীয়ভিত্তিক ইমেজ বিল্ডিং তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, যে কোনো দেশে বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। ১৯৭১ সালে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং বলাই বাহুল্য ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের পক্ষে বিরাট সমর্থন দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক রীতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগেরই সরকার গঠনের অধিকার ছিল। কিন্তু পাকিস্তানী সামরিক জান্তা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টি করে এবং অধিকন্তু পাশবিক ও নির্মমভাবে হত্যাযজ্ঞ চালায়। কোনো বিবেকবান মানুষ তা সমর্থন করতে পারে না। জামায়াত ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণের আশঙ্কা থেকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করার বিষয়টি রাজনৈতিক মতপার্থক্য হিসেবে গণ্য করা গেলেও পাকিস্তানী সামরিক জান্তার পক্ষে যে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল তা দেশের জনগণ কর্তৃক গ্রহণযোগ্য হয়নি। পাকিস্তানী সামরিক জান্তার পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক কৌশলেরও পরাজয় ঘটেছে। কোনো পরাজিত শক্তির পক্ষে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের নেতৃত্ব দেয়ার নৈতিক অধিকার থাকে না। প্রায় চার দশকের ব্যবধানে বিষয়টি জাতি ভুলতে বসেছিল; কিন্তু সেক্যুলার রাজনৈতিক দল, মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটি বিষয়টিকে প্রচার-প্রপাগান্ডার মাধ্যমে আবার জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এর কারণ হলো- আওয়ামী লীগের পরিবর্তে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিক জোট গঠন করা। বিষয়টি সাধারণ জনগণের মধ্যে কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা পরিমাপ করা না গেলেও নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে তা বলা যেতে পারে। এর পেছনে প্রতিবেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক স্বার্থান্বেষী মহলের মদদ রয়েছে।
(দুই) শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের দুর্বলতা
দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে কেউ কেউ বৃদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং নতুন উদ্যমে দলকে এগিয়ে নেয়ার মতো সামর্থ তাদের নেই।
(তিন) সংগঠনে রেজিমেন্টেড এনভায়রনমেন্ট
জামায়াতের বদ্ধদুয়ার পরিবেশ (রেজিমেন্টেড এনভায়রনমেন্ট) থাকায় ইসলামী মূল্যবোধ সম্পন্ন উদারনৈতিক ব্যক্তিরা ঐ দলে প্রবেশ করতে পারে না। দলটিতে সৎ মানুষের অভাব না হলেও দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেয়ার মতো উপযুক্ত ও দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। জামায়াতের বাইরে যেসব সৎ ও দক্ষ লোক রয়েছে তারা যে কোনো পর্যায়ে জামায়াতে যোগ দিতে উৎসাহবোধ করে না। এর প্রধান কারণ- প্রথমত, জামায়াতের বদ্ধদুয়ার পরিবেশ; দ্বিতীয়ত, জামায়াতের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা।
(চার) নেতিবাচক প্রচার-প্রপাগান্ডা
বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যম ও কতিপয় বুদ্ধিজীবী জামায়াতকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, স্বাধীনতাবিরোধী ইত্যাদি অভিধায় আখ্যায়িত করে দলটিকে মোটামুটি বিতর্কিত করে তুলতে সক্ষম হয়েছে। জামায়াত নেতাকর্মীরা এট সরাসরি কতটা উপলব্ধি করে, তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভোটারদের মধ্যে এর বেশ প্রভাব পড়েছে।
(পাঁচ) রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আধুনিক ধ্যান-ধারণার অভাব
বিশ্বায়নের পরিবর্তনের ধারায় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আধুনিক ধ্যান-ধারণা নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে জামায়াত নেতাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইন প্রণয়ন, উন্নয়ন কৌশল, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতির মতো মৌলিক বিষয়ে জামায়াতের বক্তব্য জনগণের কাছে যেমন স্পষ্ট নয়; তেমনি আকর্ষনীয়ও নয়। সমস্যা সংকুল বাংলাদশের বেশ কিছু মৌলিক সমস্যা রয়েছে। সব দলই এসব বিষয়ে কোনো না কোন বক্তব্য দিয়ে থাকে। এসব সমস্যার অগ্রাধিখার নির্ণয় করে জামায়াত উত্তম বিকল্প কোনো সমাধানের দিকনির্দেশনা জাতির সামনে পেশ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির অসৎ নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে জামায়াত নেতারা তাদের দলকে জাতির সামনে তুলে ধরতে পারেননি।
(ছয়) ভোটের রাজনীতিতে কৌশলের অভাব
বাংলাদেশে ভোটের রাজনীতিতে কিছু কৌশলের আশ্রয় না নিলে নির্বাচনে জয়লাভ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের বেশ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, জামায়াত ভোটারদের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কথা বলার পরিবর্তে ইসলামী আদর্শের প্রতি ভোটারদের বেশি আহ্বান করে যা পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের নির্বাচনী সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায় না। দ্বিতীয়ত, ভোটের রাজনীতিতে বিপুল অর্থ ব্যয়, অপব্যয় ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে হয়। এসব প্রবণতা যেমন ইসলামী আদর্শের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, তেমনি সেগুলো না করলে নির্বাচনী সাফল্য লাভ করাও কঠিন।
(সাত) নতুন প্রজন্মের চিন্তা-চেতনার আলোকে নিজেদের উপস্থাপনে ব্যর্থতা
নতুন প্রজন্মের ভোটারদের চিন্তা-চেতনা ও আশা-আকাঙ্খা বতৃমান মিডিয়া প্রচারণার দ্বারা বহুলভাবে প্রভাবিত। গতানুগতিক ধারায় ইসলামী আদর্শের প্রতি আহ্বান জানানোর কৌশল কার্যকর হচ্ছে না। এ জন্য প্রয়োজন আধুনিক পরিভাষার ব্যবহার ও উপস্থাপনার নতুন আংগিক। বিষয়টি অনুধাবনে জামায়াত নেতারা খুব একটা সফল হননি।
(আট) ভূম-লীয় রাজনীতি ও বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন নতুন কৌশল
আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বন্ধুহীন হয়ে কোনঠাসা ও একলা চলো নীতি গ্রহণ করে টেকসই রাজনীতি করা বাস্তবসম্মত নয়। নীতি ও আদর্শের সাথে আপস না করেও কৌশলগত কারণে উদারনীতি অনুসরন করে সমর্থনের পরিধি বৃদ্ধির দৃষ্টিভঙ্গি জামায়াতের নেই।

এক হাজার টাকার মধ্যে আমি বলছি ৭৫ টাকা দাও : অর্থমন্ত্রী

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যন্ত উচ্চহারে ফিস আছে। আমি একটা হিসাব করে দেখেছি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র এক হাজার টাকা দিনে খরচ করেন। এটা লাগে থাকা, খাওয়া, চলা, বইয়ের জন্য। এই টাকা তারা দিনে খরচ করেন। আর আমি তার কাছ থেকে কত চাচ্ছি? ৭৫ টাকা। এই এক হাজার টাকার মধ্যে আমি বলছি ৭৫ টাকা দাও। এটাই হচ্ছে ভ্যাট। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বলেছি তারা যে ফিস নেন সেখান থেকে দেবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজিও হয়েছে।’ তিনি আজ শনিবার দুপুরে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত দেশের সর্ববৃহৎ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘বিতর্ক বিকাশ’র গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। ব্র্যাক, এটিএন বাংলা এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি যৌথভাবে দেশব্যাপি দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে ‘যুক্তির আলোয় খুজি মানুষের মুক্তি’ স্লোগানে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা যদি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নজরটা না দেও তাহলে আগামী বছর থেকে ভ্যাটটা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তোমাদের ওপর পার্সেল করে করে দেবে। ফিস, টিস, ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ইত্যাদি ধরে সেখান থেকে আবার আদায় করে নেবে। সে ব্যাপারে সতর্ক করেই বলেছি, আগামী বছরের জন্য প্রস্তুতি নাও। যাতে তোমাদের ফিস এই সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাটের জন্য আবার না বেড়ে যায়। এটা প্রতিহতের প্রচেষ্টা নেও।’
তিনি বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর যে ভ্যাট আরোপ করলাম সেটা নিয়ে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সবাই আন্দোলনে চলে গেলেন। আমাদের রাজস্ব বাড়াতে হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাত থেকে হুকুম আসছে। এই হুকুম মানতে গেলে বিভিন্ন জায়গায় খোঁচা দিতে হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এসে অন্যান্য যেসব বিষয় এলো সে সম্বন্ধেও আমি কিছু মন্তব্য করলাম। সেটা বোধ হয় আমার চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য। সেসব বিষয় সম্বন্ধে আমি কিছু মন্তব্য করি। অনেক সময় একটু এদিক সেদিক ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যায়। তারপরে সেটার জন্যে আবার মন্তব্য করতে হয়।’
তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া বিতার্কিকদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, অনেক দিন পর এ ধরণের বিতর্ক অনুষ্ঠানে এসে ভালো লাগছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসেও সুন্দর বিতর্ক করছে শিক্ষার্থীরা। এটা অবশ্যই অনেক ভালো দিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষাসচিব মো: নজরুল ইসলাম খান, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, ব্রাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ মুসা, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই ভ্যাটের বিষয়ে একটা বিতর্ক হতে পারে। আমি যদি আন্দোলনের নেতা হতাম তাহলে বলতাম, আমি ভ্যাট দেব। কিন্তু এ জন্য একটি ট্রাস্ট করতে হবে। সেখানে ভ্যাটের টাকা জমা হবে। সরকারকেও সমপরিমাণ টাকা সেখানে দিতে হবে। ট্রাস্টের নাম হবে রিসার্চ ফান্ড বা রিসার্চ ট্রাস্ট। আমরা গবেষণায় অনেক পিছিয়ে আছি। এই ফান্ডের টাকা গবেষণায় ব্যয় হবে। এটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের সুবিধা বঞ্চিত প্রায় দুই হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠে মুন্সীগঞ্জের বজ্রযোগিনী জে কে উচ্চ বিদ্যালয় এবং নাটোরের অগ্রাণ উচ্চ বিদ্যালয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় বজ্রযোগিনী জে কে উচ্চ বিদ্যালয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন একই প্রতিষ্ঠানের সুরভি আক্তার অধরা।

ভারতের পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্নপূরণ কত দূর? by শহীদ জাভেদ বুরখি

গত বছরের মে মাসে ভারতের লোকসভায় নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপির বিপুল বিজয় ছিল অনেক দিক দিয়েই চমকের। এমন বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নিকট অতীতে দেশটির আর কোনো রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করতে পারেনি। মোদির ব্যক্তিত্ব এবং বক্তব্যের নতুনত্ব দেশটির সাধারণ মানুষ যে গ্রহণ করেছিল তা পরিষ্কার। মোদির বিজয় নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনাও কম হয়নি। নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতা গ্রহণ অনুষ্ঠানেও ছিল চমক। দরবার হলের আনুষ্ঠানিকতার বদলে শামিয়ানার নিচে বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন তিনি। চিরশত্রু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও ছিলেন সেখানে। মোদি ইনিংসের শুরুটা নিঃসন্দেহে ছিল দুর্দান্ত।
সরকার গঠনের পর সবার আলোচনার বিষয় ছিল মোদি সরকার বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশটিকে কোথায় নিয়ে যেতে পারবেন। নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পররাষ্ট্রনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার যে স্বপ্ন তিনি দেখিয়েছিলেন তা বাস্তব রূপ নিতে আর কতটা সময় বাকি। সরকার গঠনের পর এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি ক্ষমতাধর দেশে সফরের মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন আসলেই তিনি একটা কিছু করতে যাচ্ছেন। গড়িয়ে চলল সময়। একে একে পার হলো পাঁচ বছর ক্ষমতার মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ তথা ১৫টি মাস। এখন কিন্তু কেউ আর স্বপ্নের জগৎ আর কথার ফুলঝুরির মাঝে বিচরণ করতে চাইছেন না। চাইছেন বাস্তব জগতে ফিরে আসতে। কোথাও পৌঁছতে হলে কোথাও থেকে শুরু করতে হবে।
মোদির স্বপ্নগুলোর কয়টি বাস্তবায়নের পথে যাত্রা শুরু করেছে সেই হিসাব এখন মেলাতে বসেছেন বিশ্লেষকেরা। এসব স্বপ্নে একটি ছিল তৃতীয় বিশ্বের তকমা ছুড়ে ফেলে দিয়ে অন্তত ‘উদীয়মান’ শক্তির খেতাবটি ধারণ করতে পারা। এই ‘উদীয়মান’ শব্দের প্রতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আকর্ষণের একটি কারণ ছিল এটা শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে অগ্রসর হবে না, এর সাথে জড়িয়ে আছে এই উপমহাদেশের পাশাপাশি এশিয়ার অনেক ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রশ্ন।
২৯টি রাজ্য এবং সাতটি ইউনিয়ন টেরিটরির মোটামুটি বিশাল দেশ ভারত। এ কথা বলাই বাহুল্য, এর প্রতিটি রাজ্যই বিশ্বের অনেক স্বাধীন রাষ্ট্রের চেয়ে বহু গুণ বড়। এ বিচারে যদি দেশটির উন্নয়নের প্রতি নজর দেয়া যায় তাহলে দেখা যাবে এ পর্যন্ত সেখানে কেবল একটি রাজ্যেই মোটামুটি ভালো উন্নয়ন হয়েছে। আর তা হলো গুজরাট। দেশের পশ্চিমাংশে অবস্থিত এই রাজ্যের রাজনীতির মধ্য দিয়েই বলতে গেলে মোদির উত্থান। বহু বছর এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদে ছিলেন তিনি। ভালো উদ্যোক্তা হিসেবে এ রাজ্যবাসীর বেশ সুনাম রয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রভাগে রয়েছে এখানকার বেসরকারি খাত। দেশটির যেকোনো রাজ্যের তুলনায় এটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বহুলাংশে এগিয়ে। নির্বাচনের আগে মোদির অঙ্গীকার ছিল গুজরাটের উন্নয়ন মডেল সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। ভোটাররা তা বিশ্বাসও করেছিল।
ক্ষমতার চেয়ারে বসেই প্রথমে নজর দিলেন পররাষ্ট্রনীতির দিকে। তার মনে বিশ্বাস জন্মেছিল, ভারত একটি বিশাল এবং উদ্যমী জাতি। তিনি বিশ্ববাসীকেও তা বিশ্বাস করাতে চাইলেন এবং চাইলেন বিশ্ববাসী যেন তার দেশকে একটি পরাশক্তি হিসেবেই দেখে। গত ১৫ মাসে তিনি এতসংখ্যক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যে তার পূর্বসূরি মনমোহন সিং দুই মেয়াদে ১০ বছর ক্ষমতা থাকার পরও সে সুযোগ পাননি। মোদির পরাশক্তি হওয়ার দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পর্যন্ত মেনে নিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্কও তৈরি হয়। মোদি ওয়াশিংটন সফরে গেলে এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়, যা খুব কম নেতার ভাগ্যেই জোটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুধু তাকে স্বাগতই জানাননি হেঁটে মার্টিন লুথার কিং মেমোরিয়াল পর্যন্ত ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন।
গুণমুগ্ধ মোদিও এ বছরের জানুয়ারিতে প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে আসেন ওবামাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেই ধন্য হননি, মোদির পাশে বসে উপভোগ করেছেন ট্যাংক, মিসাইল ও ভারী সরঞ্জাম সজ্জিত শক্তিধর ভারতীয় বাহিনীর শক্তি প্রদর্শনের উৎসব। হিন্দু চরমপন্থীগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ বা আরএসএস-এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত মোদি ক্ষমতায় আসার পর অনেকে ধারণা করেছিলেন তিনি যেহেতু পূর্বসূরিদের চেয়ে ব্যক্তিক্রম হয়তো ভারত এবার তার পশ্চিম প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কে বরফ গলানোর দিকে নজর দেবেন। কিন্তু আদতে তা হয়নি।
বরং ঘটেছে উল্টো। যার প্রকাশ ঘটে গত ২৪ আগস্ট। সেদিন দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। আলোচনার বিষয়বস্তুতে ভারত নাকি কিছু অগ্রহণযোগ্য শর্ত দিয়েছিল। তাই আলোচনা বাতিল করে পাকিস্তান। এর মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদ কি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে, পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশকে হেলাফেলা করা উচিত নয়? তাই স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, দুই দেশের সম্পর্ক এখন সর্বনিম্নপর্যায়ে অবস্থান করছে।
পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চীনের কাছাকাছি নিয়ে যেতে যে সংস্কারের অঙ্গীকার করেছিলেন মোদি তাও এখনো দেখা যাচ্ছে না। তিনি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ স্লোগান চালু করে দেশের উৎপাদন খাতের আধুনিকায়নের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন দেশকে শিল্পোন্নত দেশের কাছাকাছি নিয়ে যাবেন বলে। কিন্তু স্লোগান আর বাস্তবতার মধ্যে যে দুস্তর ব্যবধান এই ১৫ মাসেই তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ভারতের অর্থনীতিতে উৎপাদন খাতের সবচেয়ে বেশি অবদানের সময়টি ছিল বিগত শতাব্দীর শেষ দশকের মাঝামাঝি।
ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনের ‘স্কামপিটার ব্লগ’-এ লেখা হয়, ভারতের অর্থনৈতিক ‘পুনরুজ্জীবন ঘটলে বিশ্বনেতাদের ভালোই লাগবে।’ ম্যাগাজিনটি আরো লেখে, ‘‘সমস্যা অনুসন্ধানের জন্য সেই ১৯৯১ সালে ফিরে যেতে হবে। যখন দেশটি পণ্যের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার জন্য তার বাজার খুলে দিয়েছিল। কিন্তু বাজারের কিছু চালিকাশক্তি ভূমি, শ্রম ও পুঁজি থেকে যায় সাবেকী অবস্থায়। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় কারখানাগুলোর সহসাই প্রয়োজন হয়ে পড়ে আয়তনে বড় হওয়ার, আরো সুসজ্জিত হওয়ার। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতিপ্রবণ ভারতে পুঁজির মূল্য ছিল অত্যধিক চড়া। এই মূল্য আরো বেড়ে যায় যখন সমস্যাকবলিত ব্যাংকগুলো আদালতে ছুটছিল খাতকদের কাছ থেকে পাওনা ঋণ আদায়ের জন্য। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় ব্যাংকগুলো ছিল কাহিল। সেই সাথে শিল্প বা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য কৃষিভূমি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে। দেশটির শ্রম আইনের বেশির ভাগ লেখা হয় সেই ১৯৪০-এর দশকে। উৎপাদকেরা উৎপাদন করবেন কী, নীতি আর বিধানের বোঝা সামাল দিতে গিয়েই হিমশিম খেতে থাকেন। তাই তারা লে-অফ কর্মীদের দূরে রাখতে স্বল্প শ্রমিক গ্রহণের দিকে মনোযোগ দেন।” সহজে ব্যবসা করা যায়- এ বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের যে তালিকা রয়েছে সেখানে শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে ভারতকে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন মোদি। সর্বশেষ প্রকাশিত সেই তালিকায় দেশটির অবস্থান ১৪২তম।
১৫ মাসের মাথায় ভারতের জনগণ এখন রাস্তায় নামতে শুরু করেছেন। এই রাস্তাই তো তাদের দাবি জানানো ও আদায়ের আসল জায়গা। পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুম্বাইয়ে বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে। এই তো ২৬ আগস্ট মোদির চিরচেনা গুজরাটের রাজধানী আহমদাবাদে দাঙ্গায় নিহত হয় ছয়জন নিম্নসম্প্রদায়ের মানুষ। চাকরিতে উচ্চ শ্রেণীর মানুষকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে আইন করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে নি¤œ শ্রেণীর লোকজন।
স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশটির জনসংখ্যার অনুপাতে হিন্দুদের সংখ্যা ৮০ শতাংশের নিচে নেমে আসার খবর শুনে মাঠে নেমেছে জাতীয়তাবাদী হিন্দুরা। সরকারি হিসেবে মুসলমানেরা এখন ১৪.২৫ শতাংশ। বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় আদমশুমারির এই ফল প্রকাশে কয়েক মাস বিলম্ব করেছিল মোদি সরকার।
এ সব কিছুতে ভারতের শিক্ষা যেন একটিই- বিশ্ববাসীকে পাকিস্তানের প্রতি কঠোর হতে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানানো। আসল ঘটনা যে মোদির নিজের ঘরেই, তা আর কে বলবে। নিজের ঘর সামাল দিতে না পারলে মোদির পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্ন হয়তো অপূর্ণই থেকে যাবে।
লেখক : বিশ্ব¦ব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট, অনুবাদ : মাসুম বিল্লাহ

গণিতে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ by মাহবুব মজুমদার

আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী বাংলাদেশি দল
‘শিক্ষা ক্ষেত্রে, গণিতে বাংলাদেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে শীর্ষে চলে আসবে—এটি অবিশ্বাস্য,’ বললেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
বস্তুত, কয়েক দিন আগে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডে’ (আইএমও) বাংলাদেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সব দেশকে পরাজিত করেছে। ক্রিকেট খেলায় ভারতকে পরাজিত করা নিঃসন্দেহে একটি বড় আনন্দ ও গর্বের বিষয় ছিল। তবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গণিতে ভারতকে পরাজিত করা সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলো যে শত বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশের সত্যিকারের প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীরা ভারতের মতো প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও অর্থনৈতিকভাবে অপেক্ষাকৃত সমৃদ্ধ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ছেলেমেয়েদের শুধু সমতুল্য নয়, তাদের থেকে সেরাও হতে পারে।
আইএমও একটি অত্যন্ত কঠিন প্রতিযোগিতা। এটি গণিতের অত্যন্ত জটিল সমস্যা সমাধানের প্রতিযোগিতা, যা ‘এ’ বা ‘ও’ লেভেল অথবা এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার মতো নয়। গণিতশাস্ত্রে পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের অনেকেও এর কঠিন সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন না। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ যখন প্রথম এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়, তখন দেশের অনেক বরেণ্য গণিতবিদই এ উদ্যোগ সম্পর্কে আগ্রহ প্রদর্শন করেননি। তাঁদের ধারণা ছিল যে বাংলাদেশের কোনো ছাত্রছাত্রীর পক্ষেই আইএমওর প্রতিযোগিতায় দেওয়া ছয়টি সমস্যার একটিরও সমাধান করা সম্ভব নয়। সেই বছরের প্রতিযোগিতায় ২৫২ নম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছিল মাত্র ৩।
কিন্তু এই বছর আমাদের একজন ছাত্র প্রায় চারটি এবং আরেকজন তিনটি সমস্যার সমাধান করে। ফলে আমাদের সানজিদ আনোয়ার রৌপ্যপদক এবং অন্য চারজন আদিব হাসান, আসিফ-ই-এলাহী, সাব্বির রহমান ও সাজিদ আকতার ব্রোঞ্জ মেডেল পায়। এ ছাড়া নাঈমুল ইসলাম পায় সম্মানজনক স্বীকৃতি। এবারের বাংলাদেশের মোট নম্বর ছিল ৯৭ এবং ভারতের ৮৬। প্রতিযোগী ১০৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩ এবং ভারতের ৩৭।
এই প্রতিযোগিতা দুই দিন ধরে অনুষ্ঠিত হয়। এর জন্য প্রতিদিন সাড়ে চার ঘণ্টার পরীক্ষা দিতে হয়। প্রত্যেককে ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় এবং প্রতিটি প্রশ্নের মান ৭। একজন প্রতিযোগীর সর্বোচ্চ নম্বর হতে পারে ৪২। পরীক্ষার পরের তিন দিন একটি অতি কঠিন চাপ সৃষ্টিকারী পরিবেশে পরীক্ষার খাতা দেখা হয়। এ সময় পরীক্ষার্থীদের টিম লিডার এবং স্বাগতিক দেশের পরীক্ষকদের মধ্যে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়।
এই প্রতিযোগিতায় শ খানেক দেশ অংশ নেয়। প্রতিটি টিমে ছয়জন প্রতিযোগী থাকে। মোট ১২ দিনের এই অনুষ্ঠানে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি অংশ নেয়। এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং এতে দুই মিলিয়ন ডলারের মতো ব্যয় হয়। এর জন্য গুগল প্রতিবছর এক মিলিয়ন ডলার দান করে থাকে।
বাংলাদেশের এবারের অভূতপূর্ব সাফল্য থেকে কি বলা যায় আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরা ভারতের সমতুল্য? কোনোভাবেই না। এমনকি কাছাকাছিও না। ভারতের অনেক বেশি মেধাবী ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তারা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে অনেক এগিয়ে। তারা অনেক বেশি উঁচুমানের বিজ্ঞানী সৃষ্টি করে। তবে এবারের সফলতা থেকে সুস্পষ্ট হলো যে যদি চায় বাংলাদেশও বিশ্বমানের প্রতিভা ও বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে। সফলতাও দেখাতে পারে।
বাংলাদেশের অনেক ব্যর্থতার মধ্যেও বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কেন এত সফল? এর প্রথম কারণ হলো এটি একটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাব্রতী প্রচেষ্টা। কেউ এর থেকে কোনো অর্থকড়ি পায় না। এর ফলে এতে স্বার্থান্বেষীদের কোনো রকম সম্পৃক্ততা নেই।
দ্বিতীয়ত, এর সঙ্গে একদল সত্যিকারের দেশপ্রেমিক ও অত্যন্ত নিবেদিত ব্যক্তি জড়িত। অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অধ্যাপক জাফর ইকবাল ও অন্য সদস্যরা বাংলাদেশে গণিত অলিম্পিয়াড শুরু করার ব্যাপারে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। মুনির হাসানের নিষ্ঠা অতুলনীয় এবং তিনি একজন অসাধারণ সংগঠক। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী এতে বটবৃক্ষের ভূমিকা পালন করেছেন। এর সঙ্গে জড়িত নূর মোহাম্মদ শফিউল্লা, মাসুম বিলাল, জাহিদুল হাসান, মির্জা তানজিম মুগ্ধ, কাজী হাসান জোবায়ের, সিদ্দিকুর রহমানের মতো আরও অনেক নিঃস্বার্থ স্বেচ্ছাব্রতী ও সাবেক ছাত্র, যাঁরা প্রতিযোগীদের প্রশিক্ষণ দেন ও প্রস্তুত করেন। এ ছাড়া দ্য ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারের সঙ্গে জড়িত একদল স্বেচ্ছাব্রতী তরুণ ‘গণিত উৎসব’কে বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এই অনন্য উদ্যোগ অবশ্য শুরুই হতো না প্রথম আলোর প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ছাড়া। অন্যদিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে জাতীয় গণিত উৎসব ও অলিম্পিয়াডের ব্যাপক প্রসার কঠিন হতো।
ব্যক্তিগতভাবে আমি ১০ বছর ধরে আইএমওর ন্যাশনাল কোচ ও দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমি যে দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়েছি তা হলো আমাদের তরুণেরা পারে এবং তাদের জন্য কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমি তাদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন করেছি। এক কথায়, ১৬ বছর বয়সে আমি নিজে যেমন ছিলাম, আমি তাদের সেভাবে দেখার চেষ্টা করেছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে আমি নিজে বহু গণিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি এবং অনেক পুরস্কার পেয়েছি। তাই আমি মেধাবী তরুণদের মানসিকতার সঙ্গে পরিচিত এবং আমি জানি, তাদের পক্ষে সব অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব। আমি জানি, যথাযথভাবে পরিচর্যা এবং উৎসাহিত করলে কোনো বাধাই তাদের জন্য অনতিক্রম্য নয়। দুর্ভাগ্যবশত এ ধরনের বিশ্বাস ও আস্থার অভাবই আমি লক্ষ করেছি বাংলাদেশের অনেক শিক্ষকের মধ্যে।
বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের সঙ্গে যুক্ত ছেলেমেয়েরা অনেক দিক থেকেই এইচএসসি এবং ও লেভেল পাস করা ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রসর। তারা কঠিন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে অনেক বেশি দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। এর ফলে তাদের অনেকেই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা এমআইটিসহ আরও অনেক বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের পাঠাতে সক্ষম হয়েছি। এদের একজন এমনকি কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে হার্ভার্ডে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। আমি নিশ্চিত, এরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যথাযথ গণিত ও বিজ্ঞানের সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। এদের অনেকেই এখন গণিত সম্পর্কিত বিষয়ে পিএইচডি শুরু করছে এবং গণিত অলিম্পিয়াডের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন ছাত্রদের উৎসাহ দিচ্ছে।
আমি বিশ্বাস করি যে একটি সমাজ তখনই দ্রুত এগিয়ে যায়, যখন তাদের সবচেয়ে মেধাবী তরুণদের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটে এবং তাদের মধ্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মানসিকতার সৃষ্টি হয়। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের প্রতিভাবান তরুণেরা উপেক্ষিত থেকে যায় এবং তাদের যথাযথভাবে পরিচর্যা করা হয় না। গণিত অলিম্পিয়াড বাংলাদেশের সেই অভাব পূরণ করারই প্রচেষ্টায় নিয়োজিত, যাতে আমাদের তরুণেরা অন্য যেকোনো দেশের প্রতিযোগীদের পরাজিত করতে পারে। তাই বাংলাদেশের তরুণেরা আজ শুধু ক্রিকেটের মতো প্রতিযোগিতায় নয়, বরং শিক্ষা ক্ষেত্রের অতি মর্যাদাবান প্রতিযোগিতায় হারাতে পারে।
ড. মাহবুব মজুমদার: অধ্যাপক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড টিমের জাতীয় কোচ ও দলনেতা।

ভারতে মুসলিম অনুপ্রবেশের তত্ত্ব ধাপ্পাবাজি -আনন্দবাজারে দুই অর্থনীতিবিদের নিবন্ধ

অনুপ্রবেশ রোধে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব
অবশেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার দল বিজেপির শীর্ষ নেতারা ভারতে তথাকথিত মুসলিম অনুপ্রবেশ নিয়ে যে রূপকল্প তৈরি করেছিলেন তাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন শুভনীল চৌধুরী ও শাশ্বত ঘোষ। তারা দুজনেই কলকাতা ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অর্থনীতির শিক্ষক। গতকাল আনন্দবাজার পত্রিকায়  তারা এক নিবন্ধ লিখেছেন। এর শিরোনাম হলো ‘অনুপ্রবেশের তত্ত্ব হলো ধাপ্পাবাজি’। তারা স্পষ্ট লিখেছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলো অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গেছে, এই বক্তব্যের কোন সারবত্তা নেই। এই নিবন্ধ প্রকাশ করা হলো এমন একটি সময়ে যখন  বিধানসভা ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘বাংলাদেশী’ মুসলিম বিরাধী একটি কার্ড খেলার তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছিল।
ওদিকে ইঙ্গিত করেই দুই গবেষক উল্লেখ করেন যে, ‘‘কিন্তু একদিকে যেমন সামপ্রদায়িক রাজনীতির মাধ্যমে মুসলমান সমপ্রদায়ের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদীদের লাগাতার প্রচার চলছে, অন্য দিকে এই সমপ্রদায়ের উন্নয়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো কোন নতুন দিশা দেখাতে পারছে না। যে রাজনীতি চলছে, তাতে মুসলমানদের উন্নতি অসম্ভব। বরং, রঙ্গরাজন কমিটির সুপারিশ মেনে মুসলমান সমপ্রদায়ের উল্লেখযোগ্য অংশকে অনগ্রসর শ্রেণীর আওতায় এতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে সরকারি চাকরিতে বা সমাজের অন্যান্য অংশে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা উচিত।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘কিন্তু সমস্ত সমস্যার সমাধান এতেই হয়ে যাবে না। উপরোক্ত সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে যেখানে  মুসলমান সমপ্রদায়ের মানুষ সংখ্যাগুরু সেখানে স্কুল সংখ্যা অন্যান্য এলাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। হাসপাতালের ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা যাচ্ছে। তাই মুসলমান প্রধান এলাকায় যথার্থ পরিকাঠামো গড়ে তোলার দায়িত্ব সরকারকে পালন করতে হবে। সেই দায়িত্ব পালন না করে একদিকে সামপ্রদায়িকতার তাস খেলে আর অন্যদিকে মৌলভীদের ভাতা দিয়ে মুসলমানদের উন্নতি হবে না।’’
ওই দুই গবেষক ১০ই সেপ্টেম্বর সরকারি তথ্য দিয়েই দাবি করেছেন যে, পরিসংখ্যান বলছে, অনুপ্রবশের ফলে এই রাজ্যে মুসলমানের সংখ্যা  বাড়েনি। বরং, অশিক্ষা বা দারিদ্র্যের মতো উন্নয়নের (অভাবের) সূচকের সঙ্গেই মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির হারের সম্পর্ক।
তারা বলেছেন, ‘ধর্মভিত্তিক জনগণনার পরিসংখ্যান সামনে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের ছবিটা নিয়ে স্বভাবতই আলোচনা হয়েছে, হচ্ছে। অনুপ্রবেশ ইত্যাদি মিলিয়ে প্রশ্নটা তো রাজনৈতিক ছিলই। এবার তাতে পরিসংখ্যানের ধুনোর গন্ধ লাগলে হিন্দুত্ববাদীরা মনে বিশেষ জোর পাবেন, তা আর বিচিত্র কী? কিন্তু, রাজনীতি সরিয়ে রাখলে, পশ্চিমবঙ্গের ছবিট কেমন?
এই রাজ্যের জনসংখ্যায় হিন্দুদের অনুপাত ২০০১ সালের ৭২.৫% থেকে ২০১১ সালে কমে হয়েছে ৭০.৫%, যেখানে মুসলমানদের ক্ষেত্রে এই অনুপাত একই সময়ে ২৫.২% থেকে বেড়ে হয়েছে ২৭%। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে হিন্দু জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ছিল ১৪.২% যা ২০০১ থেকে ২০১১ সালে কমে হয় ১০.৮%। একই সময়ে মুসলমানদের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ২৫.৯% থেকে কমে হয় ২১.৮%। অর্থাৎ, সমপ্রদায়-নির্বিশেষে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে হিন্দুদের ক্ষেত্রে ৩.৪ শতাংশ-বিন্দু, মুসলমানদের ক্ষেত্রে ৪.১ শতাংশ-বিন্দু।’
উল্লেখ্য যে, শুভনীল চৌধুরী ও শাশ্বত ঘোষ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে,  নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, যারা বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন, তাদের মধ্যে যারা দুর্গাপূজা করেন তারা শরণার্থী, আর যারা করেন না তারা অনুপ্রবেশকারী। অর্থাৎ, অনুপ্রবেশকারী মানে মুসলমান সমপ্রদায়ের মানুষ। পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ধর্মের ভিত্তিতে জনসংখ্যায় কোন মৌলিক তারতম্য দেখা যায়নি, বিপুল পরিমাণে অনুপ্রবেশকারী রাজ্যে প্রবেশ করলে যা ঘটত।’
কেউ বলতেই পারেন, রাজ্যের জেলাওয়াড়ি হিসেবের মধ্যেই, বিশেষত সীমান্তবর্তী জেলাগুলির ক্ষেত্রে, লুকিয়ে আছে অনুপ্রবেশের তত্ত্বের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য। পরিসংখ্যান যখন আছে, তখন দেখে নেওয়াই তো ভাল।
ওই নিবন্ধে একটি সারণি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তারা বলেন, প্রথমে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর দিকে তাকানো যাক। দেখা যাচ্ছে যে সেই জেলাগুলিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কোন নির্দিষ্ট একটি প্রবণতা নেই। একদিকে যেমন উত্তর দিনাজপুরে মুসলমানদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার রাজ্যের মুসলমান সমপ্রদায়ের গড়ের তুলনায় ৮ শতাংশ-বিন্দু বেশি, সেখানে আবার নদিয়ায় তা প্রায় ৪ শতাংশ-বিন্দু কম, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭.৫ শতাংশ-বিন্দু কম। দ্বিতীয়ত, যে জেলায় মুসলমানদের বৃদ্ধির হার রাজ্য গড়ের তুলনায় বেশি, সেখানে হিন্দুদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেমন, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ইত্যাদি। আবার, যেখানে মুসলমানদের বৃদ্ধির হার এই সমপ্রদায়ের রাজ্য গড়ের তুলনায় কম, সেই জেলাগুলিতে হিন্দুদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তৃতীয়ত, পুরুলিয়ার মতো জেলাও রয়েছে যা সীমান্তবর্তী জেলা না হওয়া সত্ত্বেও এই জেলাতে মুসলমান ও হিন্দু উভয়েরই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিজ নিজ রাজ্য গড়ের তুলনায় বেশি।
ওই দুই গবেষকের নিবন্ধ এরপর তুলে ধরা হলো। তারা লিখেছেন, এখন এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কিছু সিদ্ধান্তে খুব সহজেই পৌঁছনো সম্ভব। প্রথমত, সীমান্তবর্তী জেলাগুলি অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গেছে, এই বক্তব্যের কোন সারবত্তা নেই, কারণ এই  জলাগুলিতে কোন একটি বিশেষ সমপ্রদায়ের জনসংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধিকে কোন নির্দিষ্ট ছকে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, ধার্মিক পরিচয়ের তুলনায় অন্য কয়েকটি সূচক অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। যেমন, যে  জেলাগুলিতে হিন্দু ও মুসলমান উভয়েরই বৃদ্ধির হার রাজ্যে গড়ের তুলনায় অনেকটা বেশি, সেই জেলাগুলির স্বাক্ষরতার হার অন্য জেলাগুলোর তুলনায় অনেক কম। স্বাক্ষরতার নিরিখে উত্তর দিনাজপুরের স্থান সবার নিচে, তার ঠিক উপরেই রয়েছে মালদা, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ। আবার তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা জেলা যেমন কলকাতা, হাওড়া, বর্ধমান, হুগলি বা উত্তর ২৪ পরগনা উভয় সমপ্রদায়ের ক্ষেত্রেই জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার নিজ নিজ রাজ্যে গড়ের থেকে কম। স্বাক্ষরতার নিরিখেও এই জেলাগুলোর স্থান অনেক উপরে।
বিশেষত উল্লেখযোগ্য যে কলকাতায় মুসলমানদের জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার শূন্য (২০০১-২০১১র মধ্যে)। এবং কলকাতার জন্মহার ভারতের ৬৪০টি  জেলার মধ্যে বর্তমানে সর্বনিম্ন (১.২ সন্তান প্রতি দম্পতি)। জনসংখ্যাবিদদের মতে, সাধারণত অর্থনৈতিক অনুন্নয়ন, সামাজিক পশ্চাৎপদতা এবং জন্মহারের মধ্যে সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক। তাই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার  কমাতে হলে অনুপৃবেশের মত বিভেদপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরে বাজার গরম না করে বরং মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করা বেশি জরুরি।
তা যদি হয়, তবে আমাদের রাজ্যের মুসলমান সমপ্রদায়ের সম্পর্ক আরও কিছু কথা বলা আবশ্যিক। ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা (ঝঘঅচ ও এঁরফধহপব এঁরষফ কর্তৃক) অনুযায়ী, মুসলমানদের মধ্যে ১৭.৩% পরিবার নিরক্ষর, এবং আরও ১১.৮% পরিবারের সদস্যরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোননি। ৮০% মুসলমান সমপ্রদায়ের মানুষকে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় কায়িক শ্রম ও দিনমজরির মধ্য দিয়ে। এই সমপ্রদায়ের মাত্র ১৭% মানুষ শহরে বসবাস করেন, এবং ডাক্তারি, ওকালতি বা অধ্যাপকের মত পেশা আছে মাত্র ০.৪% মানুষের। অর্থাৎ, রাজ্যের মুসলমান সমপ্রদায়ের আর্থ সামাজিক অবস্থা খুবই খারাপ। এই পরিস্থিতিতে এই সমপ্রদায়ের জন্মহার অন্য সমপ্রদায়ের থেকে বেশি হওয়াতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
তা সত্ত্বেও, রাজ্যে মুসলমান সমপ্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। এর অনেক কারণ রয়েছে। আমরা শুধু দুটি কারণের উল্লেখ করবো। এক, গর্ভ নিরোধক পদ্ধতির ব্যবহারের হার গোটা দেশের মুসলমানদের মধ্যে এ রাজ্যে সর্বোচ্চ।
দ্বিতীয় কারণটি কলকাতা শহরের নিরিখে বর্তমান নিবন্ধের এক লেখকের গবেষণায় উঠে এসেছে। সেই গবেষণার ফল বলছে, পরিবারের সন্তানদের আরও ভাল করে বড় করে তোলা এবং উন্নত জীবন  দেয়ার আকাঙ্ক্ষা মুসলমান পরিবারেও দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সন্তান সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা বাড়ছে। মুসলমান সমাজের এই আকাঙ্ক্ষাকে  স্বচ্ছ ও ন্যায্য ভাবে বাস্তবায়িত করা পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে অতি জরুরি।

বাঁধনের ব্যাখ্যা

‘মন পাবি, দেহ পাবি, তবু ভ্যাট পাবি না ’- এমন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া রহমান বাঁধনের একটি ছবি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নাদিয়া। তিনি লিখেছেন, যদি সরকার আমাদের কথা মানে তাহলে আমরা সরকারের উপর খুব হ্যাপি হবো (মন পাবি)। যদি পুলিশ দিয়ে গুলি করতে চায় তাও রেডি আছি (দেহ পাবি), কিন্তু কোনো ভ্যাট নয়। এই সিম্পল কথাটা না বুঝে যারা উল্টা-পাল্টা কমেন্ট করছে তাদের কিছু বলার নেই আমার। অন্যদের শ্রদ্ধা করলেই কেবল আপনি কারো কাছ থেকে শ্রদ্ধা পেতে পারেন। বাঁধন দাবি করেন, তিনি অনেক প্ল্যাকার্ড নিয়েই ছবি তুলেছেন, তবে এসবের একটাও তার নিজের নয়। তিনি আরও লিখেছেন, এই প্ল্যাকার্ডের লেখাটা ফানি (মিনিংলেস না, কিন্তু সেটা বোঝার ক্ষমতা সবার নেই)। আমি মেয়ে বলে আসলে আমার প্ল্যাকার্ড ধরা ঠিক হয়নি? আমি নিজেকে মানুষ ভাবতে পছন্দ করি, নিজেকে সেভাবেই ট্রিট করি।

ইউরোপে শরণার্থীদের মহাভ্রমণ

গ্রিক-মেসিডোনিয়া সীমান্তে মুষলধারে বৃষ্টি। এই বৃষ্টির মধ্যে ব্যাগ-বোচকা নিয়ে দাঁড়িয়ে প্রায় সাত হাজার মানুষ। ছেলেমেয়েরা গড়াগড়ি খাচ্ছে কাদায়। টেনে তুলছেন বাবা-মা। বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য আশপাশে কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন না। ছাতা দূরে থাক, পলিথিনের কাগজ কিংবা প্লাস্টিক শিটও নেই। এরা সবাই সিরিয়া থেকে এসেছে পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার আশায়। এদের কোনো আশ্রয় নেই। বৃষ্টিতে ভেজা, রোদে পোড়া তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।
কায়-ক্লেশ তাদের আর পরাস্ত করতে পারে না। সীমান্তবর্তী বিশেষ জ্যাকেটে মোড়া পুলিশের পিটুনি খেয়েও তারা গন্তব্যে ছুটে যেতে অনড়। ৩০ বছর বয়সী ওয়াসিম আবসি নামের একজন বললেন, ‘আমি কোনো কিছুতেই আর ভয় পাই না।’ সিরিয়ার আরিহা শহর থেকে এসেছেন তিনি। মাথায় একটি তাবুর কাপড় দিয়ে বৃষ্টির মধ্যে চার বন্ধুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি জানালেন, তার এখনকার লক্ষ্য নেদারল্যান্ডসে পৌঁছে যাওয়া তার স্বজনদের সঙ্গে যে করেই হোক মিলিত হবেন তিনি। ওয়াসিমের মতো লক্ষাধিক অভিবাসী বলকান রুটের গ্রিস হাঙ্গেরি পাড়ি দিয়েছে চলতি বছর। আর এই দীর্ঘ পথযাত্রায় তৈরি হয়েছে মহাপরিভ্রমণের এক বিপজ্জনক ইতিহাস। মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কিংবা সাগর পার হয়ে, কাঁটাতার পেরিয়ে, রেললাইন ধরে দৌড়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঢুকেছে। অধিকাংশ সময়ই পায়ে হেঁটে কেটেছে তাদের।
এর মধ্যে সীমান্তবর্তী পুলিশদের বাধা পিটুনি, নিরাপত্তাবলয় ভেদ করতে কত নির্যাতন সইতে হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। সাগর পাড়ি দেয়ার চেয়ে বিপজ্জনক ছিল সার্বিয়া-হাঙ্গেরি সীমান্ত পেরোনো।
কাঁটাতারের সূচালো বেড়া পাড়ি দিতে হয়েছে রাতের আঁধারে, হামাগুঁড়ি দিয়ে, মাটি কামড়ে। শরীরে বিদ্ধ হয়েছে রেজর-লোহার শিক। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পাহাড়ি ঢালে গড়িয়ে পড়েছে, রেললাইনের স্লিপারে ধাক্কা খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
এমন দীর্ঘ পদযাত্রার কায়ক্লিষ্ট মহাপরিভ্রমণ কেবল আশ্রয়হীন অভিবাসীদের পক্ষেই সম্ভব।

মাকে জড়িয়ে কাঁদলেন আরিফ

আগামীকাল রোববার আদালতে হাজির করা হচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশনের কারাবন্দি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। ওই দিন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জগঠন করা হতে পারে। এ কারণেই চার্জগঠনের শুনানির ৪ দিন আগেই ঢাকা মেডিক্যালের প্রিজন সেল থেকে তাকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে, আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবীরা ইতিমধ্যে মামলা থেকে তাকে বাদ দিতে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন। এই আবেদনের শুনানি না হলে মামলার চার্জগঠন হবে না বলে অভিমত জানিয়েছেন আইনজীবীরা। দীর্ঘ ৮ মাস পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরেছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আরিফুল হক চৌধুরী। গেলো ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিনি হবিগঞ্জের আদালতে জামিন নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। এরপর তাকে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার অধিকতর তদন্তের চার্জশিট গত বছরে দাখিল করে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। ওই চার্জশিটে কিবরিয়া হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। ওই সময় আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। তার নাম চার্জশটের অন্তর্ভুক্তির পর হবিগঞ্জ আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়। একই সঙ্গে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে প্রায় দেড় মাস অন্তরালে থাকার পর ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে গিয়ে আদালতে হাজির হন। এ সময় আদালতে আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে তার আইনজীবী জামিন প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত জামিন বাতিল করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন। এদিকে, হবিগঞ্জের আদালত চার্জশিট আমলে নিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করতে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মকবুল হোসেনের আদালতে মামলা স্থানান্তর করেন। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে মামলাটি সিলেটে আসার পর থেকে চার্জ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতিমধ্যে চার্জগঠনের জন্য দশমবারের মতো শুনানি পিছিয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হবিগঞ্জের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া মেয়র জিকে গৌছসহ সকল আসামিকে আদালতে হাজির করা হলেও কেবলমাত্র আরিফুল হক চৌধুরীকে হাজির করা হয়নি। এর কারণ হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরী অসুস্থ বলে আদালতে জানিয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। গত ৬ই সেপ্টেম্বর আদালতে দশম বারের মতো চার্জ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনই আরিফুল হক চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়নি। এরপর আদালত আগামীকাল রোববার মামলার তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিকে, কয়েক মাস ধরে ঢাকা মেডিক্যালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার তাকে মেডিক্যাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স করে তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে নিয়ে আসা হয়। সিলেটে আনার পর আরিফুল হক চৌধুরী পরিবারের লোকজনের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন। বুধবার তার স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী ছোট মেয়েকে নিয়ে আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এদিকে, আরিফুল হক চৌধুরীর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে মামলা থেকে আরিফুল হক চৌধুরীকে অব্যাহতি দিতে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানানো হয়। রোববার আরিফুল হক চৌধুরীকে আদালতে হাজির করলে তারা আবেদনের শুনানি করবেন।
মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ: দীর্ঘ ৮ মাস পর মা রহিমা খাতুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো কারাবন্দি আরিফুল হক চৌধুরীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মা ও ছেলের সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আরিফ এবং তার মা উভয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন। দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন আরিফের মা ও তার স্ত্রী শ্যামা হক। এর প্রায় ১০ মিনিট পর একটি হুইল চেয়ারে করে আরিফ তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। এ সময় আরিফের পরনে সাদা রঙের শার্ট ও কালো রঙের প্যান্ট ছিল। তার হাতে একটি স্ক্রেচ ছিল। আরিফ তার মাকে পা ছুঁয়ে সালাম করেন। তার মা তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করেন। একপর্যায়ে উভয়ই কান্নায় ভেঙে পড়েন। রহিমা খাতুন আরিফুল হক চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খবর নেন। পরে বেরিয়ে এসে আরিফুল হকের মা রহিমা খাতুন জানিয়েছেন, ৮ মাস আগে তার ছেলের সঙ্গে দেখা হয়েছে। আরিফ বেশ শুকিয়ে গেছে। এবং তার শারীরিক অবস্থা তেমন ভাল নয়। ছেলের জন্য রহিমা খাতুন সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
কাঁদলেন জহির সুফিয়ানের জন্য
বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট থেকে জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক পদহারা মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এখন নিজের শহরে। বাসায় নয়, আছেন মাইলখানেক দূরে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায়। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় পদ হারিয়ে অনেক দিন ধরেই তিনি কারাবন্দি। শরীরের অবস্থা খুব বেশি ভাল না হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাকে উপস্থিত করতে না পারায় কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জ গঠনও বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। মামলার কার্যক্রম সচল রাখতে তাই শেষমেষ অসুস্থ অবস্থায়ই তাকে সিলেট কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে। বুধবার ভোর রাতে তিনি সিলেট কারাগারে পৌঁছেন, আছেন ডিভিশন বন্দি হিসেবে।
আরিফুল হক চৌধুরী ভাল নেই। শরীরের অবস্থা তার খুবই খারাপ। বৃহস্পতিবার তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী। মানবজমিন কথা বলে শ্যামা হকের সঙ্গে। তিনিই জানান, একেবারে ভেঙে পড়েছেন আরিফুল হক। কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না। তিন-চারজনে ধরে হুইল চেয়ারে বসাতে হয় তাকে। গলা ও কোমরে বেল্ট বাঁধা। গলা দিয়ে কথা বেরোতে চায় না। শ্যামা হক জানান, শারীরিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রতিদিন তাকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হতো। সিলেট আসার পর থেকে তাও বন্ধ আছে। এ কারণে শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে তার।
শ্যামা হক মানবজমিনকে বলেন, অসুস্থতার মাঝেও আরিফুল হক চৌধুরী নগরবাসীর দিন কেমন কাটছে, কি অবস্থায় আছেন তার কাছ থেকে সে খবরও নিয়েছেন। বৃষ্টিতে নগরীর পথে জল জমেছে কিনা তারও খোঁজ নেন। আরিফুল হক প্রিয় নগরবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছেন জানিয়ে শ্যামা হক বলেন, আরিফুল হক বিশ্বাস করেন, যেহেতু তিনি নির্দোষ তাই এ বন্দি অবস্থা থেকে শিগগিরই মুক্তি পাবেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী যেদিন সিলেট পৌঁছেন সেদিনই মারা যান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান। ভিন্ন ঘরানার রাজনীতিবিদ হলেও তার সঙ্গে আরিফুল হকের সুসম্পর্ক ছিল। শ্যামা হক মানবজমিনকে বলেন, আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েন আরিফুল হক। এতো কাছে থেকেও তার জানাজায় অংশ নিতে না পারায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, সুফিয়ান ভাই আমাকে খুব স্নেহ করতেন, তার স্নেহের মূল্য আমি দিতে পারলাম না।

গণতন্ত্রের ক্ষয় বন্ধ করুন

শুধু নির্বাচন আয়োজন করেই একটি রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয়ে যায় না। সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জরুরি। ১৫ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসকে সামনে রেখে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের দুই বিশেষজ্ঞ আলফ্রেড দে জায়াস ও মাইনা কিয়াই। তারা আরও বলেছেন, দমনমূলক নীতির কারণে বিশ্বের কয়েকটি দেশে গণতন্ত্র অব্যাহতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এ পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর প্রতি গণতন্ত্র রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়, ওএইচসিএইচআর এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বার্তা দেন ‘গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক নিয়ম শৃঙ্খলা প্রচারণা’ বিষয়ক স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ আলফ্রেড দে জায়াস এবং ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা’ বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ের মাইনা কিয়াই। গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে বিভিন্ন দেশে দমননীতি ছাড়াও জনগণের ইচ্ছাকে আমলে না নিয়ে কতিপয় অংশের প্রভাব বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন তারা। এ বছর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য হলো নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা। জাতিসংঘের এ দুই বিশেষজ্ঞ বলেন, গণতন্ত্র এখন অতিরিক্ত ব্যবহৃত এক শব্দে পরিণত হয়েছে। এমনটি স্বৈরশাসকরাও গণতন্ত্রের কথা বলছেন। শুধুমাত্র নির্বাচন আয়োজন করেই একটি রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয়ে যায় না। নির্বাচনগুলোর মাঝখানের সময়ে কি ঘটছে তা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ কি কথা বলতে পারছে কি না? তারা যাদের নির্বাচিত করেছে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারছে কি না? তাদের প্রভাবিত করতে পারছে কি না? মানুষের প্রয়োজন, ইচ্ছা আর তাদের ওপর প্রভাব রাখে এমন নীতির মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না? দুঃখ দুর্দশার কথা প্রকাশ করার অন্য সব উপায় ব্যর্থ হওয়ার পর মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করতে পারছে কি না? শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত পোষণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে কি না এবং অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে কি না যেন একটি গ্রুপের দ্বারা একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার না হয়। এ বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এগুলো হওয়ার জন্য নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এটা নিঃসন্দেহে সত্যিকারের গণতন্ত্রের জন্য জরুরি। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে আমরা সকল রাষ্ট্রের প্রতি এটা উপলব্ধি করার আহ্বান জানাই। দুঃখজনকভাবে বর্তমানে নাগরিক সমাজের স্বাধীনতা দ্রুত সঙ্কুচিত হচ্ছে। আপাত গণতান্ত্রিক এবং গণতন্ত্রের ঐতিহ্য নেই- দুই ধরনের রাষ্ট্রেই এ পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। নির্বাচিত কর্মকর্তা আর জনগণের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই এমন কতিপয় গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের ফলে গণতন্ত্র ক্ষয় হওয়ার উদ্বেগজনক ঘটনাপ্রবাহ আমরা লক্ষ্য করেছি। গণতান্ত্রিক সুশাসন তাদের দ্বারা দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে যারা গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পড়ে না। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সুশাসনে প্রকৃত অংশগ্রহণের দাবি জানানোর মাধ্যমে সুশীল সমাজকে তাদের প্রাপ্য স্থান পুনরুদ্ধার করতে হবে। গণতন্ত্র শুধু একটি মোড়ক নয়। গণতন্ত্রকে একটা অন্তসারশূন্য শব্দে পরিণত হতে দেয়া উচিত নয়। এটা পদক্ষেপ গ্রহণের দৃঢ় আত্মসংকল্প। এটা অধিকতর শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত এবং স্থিতিশীল বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করতে একটি প্রয়োজনীয় মাধ্যম। আর মহৎ এ লক্ষ্য অর্জনে নাগরিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এ কারণে আমরা সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নাগরিক সমাজের জন্য অধিকতরা স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানাই যেন তারা গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী হিসেবে তাদের ন্যায্য অবস্থান নিতে পারেন।

বিচার পাননি নির্যাতিতা ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয় ফেসবুকে

মায়ের সামনে মেয়েকে এবং মেয়ের সামনে মাকে গণধর্ষণের দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু প্রতিকার পাননি নির্যাতিতা মা ও মেয়ে। ধর্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই এই লোমহর্ষক ঘটনা। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তা প্রচারের হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে তাদের সম্পত্তি। তারপরও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয় এই ভিডিও। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৩ সালে ফেনীর দাগনভূঞায়। এ ঘটনার মূলহোতা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মামুন। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন নির্যাতিতা ওই নারী। ওই নির্যাতিতা নারী জানান, আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদিন মামুন ও তার ভাই লিঠুসহ ১৪ জন তাকে ও তার কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করে। ২০১২ সালে তার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে জয়নাল আবেদিন মামুন তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। তাকে বিয়ে করতে চাইলে রাজি হননি। পরবর্তীতে স্থানীয় জামাল উদ্দীনকে বিয়ে করলে আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের হুমকির কারণে দুই মাস পর তাদের বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে নানাভাবে তাকে জিম্মি করতে চেষ্টা করে মামুন। ২০১৩ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর তার বড় মেয়েকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় মামুনের লোকজন। খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করতে মামুনের বাসায় যান ওই নারী। তখন ঘরে আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করে মামুন। নির্যাতিতা জানান, ধর্ষণের পর মামুনের ছোট ভাই লিটু তাকে নিয়ে অন্য একটি বাড়িতে যায়। সেখানে তার ১৩ বছরের ছোট মেয়ের সামনে তাকে ও তার বড় মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়। পালাক্রমে ১৪ দুর্বৃত্ত তাদের ধর্ষণ করে বলে তিনি জানান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে র‌্যাবের একটি টিম তাদের উদ্ধার করে। ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই বিধবার কাছ থেকে ছয়টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় মামুন। পরবর্তীতে কয়েকটি দোকানসহ তার সম্পত্তি দখল করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে ওই ভিডিওটি ফেসবুকের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে। কিন্তু ধর্ষকরা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হওয়ায় শুরুতে মামলা গ্রহণ করেনি ফুলগাজী থানা পুলিশ। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতা মামুনকে আসামি থেকে বাদ দিয়ে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ (মামলা নং ২৭/১৫)। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে নির্যাতিতা বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নারী। তার দলের নাম ভাঙিয়ে কাউকে এরকম অপকর্ম করার অধিকার কাউকে দেননি তিনি। বিষয়টি তিনি অবগত হলে নিশ্চয়ই আমরা বিচার পাবো। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জয়নাল আবেদিন মামুন হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে থাকায় তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বাস টিকিটের জন্য গভীর রাত থেকে অধীর অপেক্ষা

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঈদের আগাম
টিকিট কিনতে মানুষের ভিড়। শুক্রবারের ছবি-যুগান্তর
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বাসের আগাম টিকিট শুক্রবার থেকে বিক্রি শুরু করেছে গাবতলীকেন্দ্রিক পরিবহনগুলো। কাঙ্ক্ষিত টিকিট সংগ্রহে বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই গাবতলী, মাজার রোড ও টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে ভিড় জমান যাত্রীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তাদের অনেকেই কাক্সিক্ষত দিন ও সময়ের টিকিট পাননি। এছাড়া ঈদ সামনে রেখে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৫০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন তারা। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলাগুলোতে চলাচলকারী বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। ১৭ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের আগাম টিকিট বিক্রি করা হলেও ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বরের টিকিটের চাহিদা বেশি। বিআরটিসির বাসের আগাম টিকিট আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি শুরু হবে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বাস কাউন্টারগুলোর সামনে টিকিটপ্রত্যাশীদের লম্বা লাইন। রৌদ্র-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাক্সিক্ষত টিকিটের জন্য অপেক্ষা করছেন বিভিন্ন বয়সীরা। টিকিট ইস্যুতে দেরি হওয়া ও লাইন উপেক্ষা করে টিকিট নেয়ার চেষ্টা হলেই উচ্চস্বরে হইচই করেন যাত্রীরা। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। যাত্রীদের দাঁড়ানোর সুবিধার্থে হানিফ, শ্যামলী, নাবিলসহ কয়েকটি বাস কোম্পানি যাত্রীদের সুবিধার্থে কাউন্টারের সামনে ত্রিপল দিয়ে শামিয়ানা টানিয়ে দেয়। মানুষের ভিড় বেশি থাকায় লাইন শামিয়ানার বাইরে চলে যায়। এছাড়া বেশির ভাগ কাউন্টারে যাত্রীদের দাঁড়ানোর সুবিধার্থে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা। মাজার রোডে নাবিল পরিবহনের আগাম টিকিট সংগ্রহের পর একটি গ্রুপ অব কোম্পানির অ্যাকাউন্ট অফিসার শফিউল হোসেন সরকার বলেন, মিরপুর-১০ নম্বর বাসা হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় আগাম টিকিট পেতে বাস কাউন্টারে এসেছি। সকাল সাড়ে ১০টায় নীলফামারীর গাড়ির দুটি টিকিট পেয়েছি। তিনি বলেন, সকাল ৬টায় টিকিট বিক্রি শুরুর কথা থাকলেও শুরু হয়েছে ৭টায়। টিকিট ইস্যুতে অনেক বেশি সময় নিচ্ছেন কাউন্টারম্যানরা। এ কারণে লাইনে দাঁড়ানো যাত্রীরা কিছুক্ষণ পরপরই হইচই করছেন। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য সময়ে নাবিল পরিবহন নীলফামারীর ভাড়া ৬৫০ টাকা নিলেও এখন ৭২০ টাকা নিয়েছে। নাবিল পরিবহনের কাউন্টারের সামনে গিয়ে দেখা গেছে, গাড়ির নিজস্ব পার্কিং এলাকায় টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। দুটি কাউন্টারে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা বুথ করা হয়েছে।
গাবতলী পর্বত সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় আগাম টিকিট বিক্রি করেছে হানিফ এন্টারপ্রাইজ। আগাম টিকিট বিক্রির জন্য বেশ কয়েকটি বুথ খোলা হলেও যাত্রীদের দিনভর উপচেপড়া ভিড় ছিল। এ কোম্পানির রাজশাহীর টিকিট পাওয়ার পর জিএম কসমেটিকস নামক প্রতিষ্ঠানের কর্মী বারিকুল ইসলাম জানান, আগাম টিকিট পেতে মোহাম্মদপুর থেকে রাত ৪টায় বাস কাউন্টারে এসেছেন। তার আগেই আরও অনেক যাত্রী এসে লাইন ধরেছেন। যাত্রীদের অনেকেই তাস খেলে, কেউ গল্প করে আবার কেউ মাটিতে পত্রিকা বিছিয়ে বসে রাত পার করতে দেখেছেন। তিনি বলেন, আমি রাজশাহী গেলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভাড়া ৫৬০ টাকা দিতে হয়েছে। আগে একই পথের ভাড়া ৪৫০ টাকা নেয়া হতো। বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ করে আরেক যাত্রী মো. আজমল বলেছেন, নীলফামারীর ভাড়া ৭৫০ টাকা নিয়েছে, আগে এই ভাড়া ৬৫০ টাকা ছিল। হানিফ কাউন্টারের সামনে একসঙ্গে টিকিট সংগ্রহ করেন চার বন্ধু। তাদের একজন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, টিকিট পেতে ভোররাতেই গাবতলীতে এসেছেন। দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ পর্যন্ত ভাড়া ৬৭০ টাকা নিয়েছে। আগে একই পথের ভাড়া ৬০০ টাকা ছিল।
বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে হানিফ এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মোশাররফ হোসেইন বলেন, আমরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছি না। প্রতিযোগিতা ও যাত্রী কম থাকায় স্বাভাবিক সময়ে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার কম নিয়ে থাকি। ঈদে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছি। তিনি বলেন, ঈদের সময়ের বাসগুলো যাত্রী নিয়ে গেলেও খালি ফেরত আসে। তাই ভাড়া কম নিলে পোষাতে পারব না। তিনি আরও বলেন, ঈদে হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসগুলো রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে চলবে। প্রতিদিন প্রায় ৩৫০টি ট্রিপ দেয়ার আশা রয়েছে তাদের।
শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার আলমগীর কবির জানান, ঈদে ভাড়া বাড়েনি। শ্যামলী পরিবহনের বাসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ৪৮০ টাকা, কক্সবাজার ৮০০ টাকা, সিলেট ৪৭০ টাকা, গাইবান্ধা ৫২০ টাকা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৬০ টাকা, নওগাঁ ৪৭০ টাকা, রংপুর ৬০০ টাকা, দিনাজপুর ৬৫০ টাকা, মেহেরপুর ৫৫০ টাকা, কুষ্টিয়া ৫০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ঈদে ভালো সার্ভিস দিতে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। যাত্রীসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, মালিক সমিতির সিদ্ধান্তের পরও অনেক বাস কোম্পানি ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করেনি। বাড়তি ভাড়া আদায়ের আশায় এসব পরিবহন টিকিট বিক্রি না করে এক ধরনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। মিরপুরের আনসার ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, রাত ৪টা থেকে আল হামরা পরিবহনের কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সকাল ৭টায় ওই কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হবে। কিন্তু আমাদের কারখানা ছুটি হবে ২২ বা ২৩ সেপ্টেম্বর। বাধ্য হয়ে হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসের টিকিট নিয়েছি। তিনি বলেন, মূলত ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বরের বাসের টিকিটের চাহিদা বেশি। সংকট সৃষ্টি করে ওই সময়ের টিকিটের দাম বাড়াতেই মূলত টিকিট দিচ্ছে না। ইউনিক পরিবহনের গাবতলী কাউন্টার মাস্টার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার থেকেই আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করেছেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকার দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বাড়াবে এমন আশায় বাস কোম্পানিগুলো শুক্রবার থেকে টিকিট বিক্রি করছে। তবে আমরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বেশি ভাড়া আদায় করব না। তাই সাধারণ সময়ের মতোই ভাড়া আদায় করছি। তিনি জানান, ইউনিক পরিবহনের বাসে চট্টগ্রাম ৪৮০ টাকা, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান ৬২০ টাকা, কক্সবাজার ৮০০ টাকা ও সিলেট ৪৭০ টাকা ভাড়া নিয়েছেন। এ কাউন্টারে টিকিট এখনও রয়েছে বলে জানান তিনি।

‘ফাইট করে বাঁচতে হবে’ by মানসুরা হোসাইন

ছেলে মোহাম্মদ বিন আলীম ও মেয়ে
চিরশ্রী জামানের সঙ্গে জয়শ্রী জামান
‘যারা আত্মহত্যা করার কথা চিন্তা করে তারা বুঝতে পারে না সামনের দিনগুলো সুন্দর হতে পারে। আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়। মরে গেলে এই পৃথিবীর কারও কিছু এসে যায় না। তাই ফাইট করে বাঁচতে হবে।’ —কথাগুলো দুই সন্তানহারা মা জয়শ্রী জামানের।
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ছেলে মোহাম্মদ বিন আলীম ও মেয়ে চিরশ্রী জামান একসঙ্গে আত্মহত্যা করে। দুই সন্তানকে হারিয়ে জীবন থেকে হারিয়ে যাননি জয়শ্রী। আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে গড়ে তুলেছেন ‘ব্রাইটার টুমোরো’ নামের একটি সংগঠন। তিনি সংগঠনটির আহ্বায়ক। চলতি বছরের ২৮ মে ছেলে মোহাম্মাদের জন্মদিনে এ সংগঠনের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য, এই পৃথিবীতে আর কোনো মায়ের সন্তান আত্মহত্যা করবে না।
সংগঠন চালানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) নিয়মিত অফিস করাসহ বিভিন্নভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই জয়শ্রী জামান।
গতকাল সোমবার জয়শ্রীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয়। জয়শ্রী বলেন, তাঁর ছেলে মেয়েরা মূলত তাদের বাবার ওপর অভিমান করে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। তিনি বলেন, গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ছেলে ও মেয়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা করার সময় মেয়ে চিরশ্রী জামানের বয়স ছিল ১৯ বছর। আর ছেলে মোহাম্মদ বিন আলীমের বয়স ছিল সাড়ে ১৪ বছর। জয়শ্রী জামান ওদের আদর করে ডাকতেন মনো-বিজু।
জয়শ্রী জামান বলেন, ‘আমার মনো-বিজু কই গেল? আশ্চর্য লাগে ওরা আমার কাছে নেই। ওরা মাকে ছেড়ে আছে কীভাবে? প্রতি সেকেন্ডেই তো ওদের মাকে লাগত। ওরা অল্প কয়েকটা দিন অপেক্ষা করলেই ওদের আর কোনো কষ্ট থাকত না। কিন্তু ওরা অপেক্ষা করল না। ওরা আসলে মনে হয় আমাকে ভালোবাসেনি। ভালোবাসলে এভাবে কষ্ট দিতে পারত?’
দুই সন্তানহারা মাকে কি কোনো প্রশ্ন করা যায়? তাই শুধুই মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা। জয়শ্রী জামানের মনে অনেক কথা। কিন্তু কথা বলতে গেলেই বুকের ভেতরের কষ্টে তাঁর নাক মুখ লাল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে যে অনেক স্মৃতি। জয়শ্রী জামান বলেন, ‘ওদের আত্মহত্যার আগের দিন পিৎজা এনে খাওয়ালাম। ঘটনার দিন সকালে রান্না করলাম। ছেলে লেমন জুস খেতে পছন্দ করত। তাও বানালাম। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে, ঘুমন্ত মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে বের হলাম। তারপর...। সেই দিনের পর থেকে শরীরের কোথায় যেন ব্যথা হচ্ছে, কিন্তু ব্যথার জায়গাটা খুঁজে পাই না।’
ক্যানসারে বাবা মারা যাওয়ার পর জয়শ্রী জামানের মা মারা যান। বিয়ের ১৪ বছরের মাথায় স্বামী তালাক দেন। দুই ছেলেমেয়ে এক সঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনা সব মিলে জয়শ্রী জামানের পৃথিবীটা অন্য রকম হয়ে গেছে। তবে তিনি মুষড়ে যাননি বা থেমে যাননি।
আজ সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরে জয়শ্রীর বোনের বাসাতেই কথা হয় তাঁর সঙ্গে। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন জয়শ্রী জামান। তারপরও সময় দিলেন।
জয়শ্রী জামান বলেন, ‘মা ধমক দিল, কিংবা কোনো ছেলেকে ভালো লাগার পর তাকে পাওয়া গেল না-এ ধরনের কারণে ছেলে মেয়েরা দুম করে মরে যাচ্ছে। তারা একবারও ভাবছে না তারা এভাবে মরে গেলে তাদের আশপাশের মানুষগুলোর কতটা কষ্ট হয়। আত্মহত্যা করা এক ধরনের স্বার্থপর চিন্তা। মানুষের আবেগ, ভালোবাসা এত হালকা হবে কেন?’
জয়শ্রী জামান জানালেন, মাত্র সাড়ে আট বছর বয়সে ছেলে আর মেয়ের ১৩ বছর বয়সে ওদের বাবা ওদের ছেড়ে চলে যান। এর আগ পর্যন্ত অন্য আট দশটা শিশুর মতোই ওরা বেড়ে উঠেছে। বাবার আদর পেয়েছে। তারপর এক সময় ওদের জীবনটা পাল্টে গেল। ওদের বাবার ফেসবুকে দেখত অন্য স্ত্রী ও সন্তানের ছবি। বাবা টাকা পাঠাত। তবে সেখানেও ছিল বৈষম্য।
জয়শ্রী জামান বলেন, ‘আত্মীয় বা কোথাও গেলে ছেলে মেয়েদের অন্যরা বাজে কথা শোনাবে সে ভয়ে ওদের নিয়ে কারও বাসায় যেতাম না। ওদের কোনো বন্ধু ছিল না। ওদের একটু ভালো রাখার জন্য নিজের চাকরি, তারপর অন্যান্য কাজ করে টাকা রোজগারে ব্যস্ত হয়ে যাই। ছোট মানুষ দুটো এসব অবহেলা, বিশেষ করে বাবার অবহেলা মেনে নিতে পারেনি। প্রায়ই বলত, “চলো বাবাকে পানিশমেন্ট দেওয়ার জন্য আমরা তিনজন একসঙ্গে সুইসাইড করি। ” ছেলে বলত-মরে গেলেই তো সব কষ্ট থেকে বাঁচা যাবে। তখন বুঝতে পারিনি, ওরা আসলেই এসব নিয়ে ভাবছে। ওদের মনে ক্ষোভ জমতে জমতে এ পর্যায়ে চলে গেছে। ওদের মৃত্যুর পর বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছি। এখন মনে হয়, ওদের যদি একটু সময় দিতাম, ওদের যদি পৃথিবীর বাস্তবতার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে দিতাম, একটু শাসন করতাম তাহলে এমন হতো না। ওরা টাকা পয়সার অভাব তেমন বুঝতে পারেনি বা বুঝতে দিইনি, তবে ওরা চারপাশ থেকে আদর পায়নি।’
ছেলে মেয়ের সব ধরনের আবদার পূরণ করার পরও তারা তাদের মাকে কেনো বুঝতে পারল না নিজেই নিজেকে সে প্রশ্ন করছিলেন জয়শ্রী জামান। এখন আত্মহত্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে জানতে পারছেন অনেক কিছু। আবেগপ্রবণ সন্তানদের জন্য বাবা মায়েদের কী করা উচিত, কীভাবে বড় করে তুলতে হবে-এই কথাগুলো কেন আগে জানতে পারেননি তা নিয়ে আফসোস করছিলেন।
জয়শ্রী জামান আত্মহত্যা প্রতিরোধে সংগঠন গড়ে তোলার সংগ্রাম সম্পর্কে বলেন, আত্মহত্যা এমন একটি বিষয়, বলতে গেলে বিজ্ঞানও তার পুরোপুরি ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এটি প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। বাংলাদেশসহ অনুন্নত বিশ্বে বছরে ৬ লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করছে। আত্মহত্যা প্রবণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। এই মানুষগুলোকে বাঁচাতে রাষ্ট্রকেই মূল দায়িত্ব নিতে হবে। আর এ ধরনের কাজে অনেক বেশি অর্থেরও প্রয়োজন নেই। শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছা ও গুরুত্ব দিয়ে কাজটি করা। আর আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজটি শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই।

শুধুই মানবিকতা নাকি পাপমোচন?

চার সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শরণার্থীদের নাম নিবন্ধনের কাজ করছেন ফ্রাংক দিত্রিচ। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। শরণার্থী নিবন্ধন কেন্দ্রে বসে তিনি বললেন, আমার সময়গুলোর শ্রেষ্ট ব্যবহার চলছে এখন। বাসায় টেলিভিশনের সামনে বসে থাকার চেয়ে এই কাজ অতি উত্তম। হাজার হাজার মানুষ নিবন্ধনের অপেক্ষায়। সরকার একা সামলাতে পারছে না। এখন দরকার জনগণের সাহায্য।
দিত্রিচের মতো কয়েক হাজার জার্মান এগিয়ে এসেছেন শরণার্থীদের সহায়তায়। কেউ ত্রাণ বিতরণ করছেন, কেউ বাচ্চাদের পোশাক-খাবার দিচ্ছেন, কেউ জার্মান ভাষা বোঝানোর কাজে দোভাষীর দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় শরণার্থী কেন্দ্র খোলা হয়েছে জার্মানিতে। চলতি বছর প্রায় ৮ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিতে হচ্ছে দেশটিকে।
দিত্রিচ বলেন, এটা আমাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। প্রতিটি জার্মান পরিবারে কেউ না কেউ একসময় শরণার্থী ছিলেন। জার্মানির নোবেলবিজয়ী লেখিকা হার্তা মুলার পত্রিকায় আমিও শরণার্থী ছিলাম নামে একটি উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। সেখানে তিনি স্মরণ করেছেন, নাৎসি শাসনামলে হাজার হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। কীভাবে কমিউনিস্ট পূর্ব ইউরোপ ও পূর্ব জার্মানি থেকে লাখ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়েছিল।
মুলার লিখেছেন, আমিও রোমানিয়ার শরণার্থী ছিলাম। নাৎসি আমলে জার্মান শরণার্থীদের জন্য অন্য দেশ যা করেছিল, আজ অন্যদের জন্য আমাদের তা করার সময় এসেছে। জার্মান ঐতিহাসিক আরনাফ বারিং বলেন, আমরা আজ যা ভালো কাজ করছি, তা অতীতের পাপমোচন, নাৎসি আমল আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপরাধের কাফফারা।
মুলারের ভাষায়, ইতিহাস আমাদের অনেক দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু ভালোবাসা দেখানো মানবিকতারও অংশ। মানবিকতা আর পাপমোচন যে কারণেই হোক না কেন প্রতি পাঁচজন জার্মানির একজন শরণার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে।

কিশোরগঞ্জে মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় অটোরিকশা চালককে হাত-পা-চোখ বেঁধে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

বেপরোয়া সন্ত্রাসীদের নেশার আড্ডার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অকালেই হারিয়ে গেল শামীম। মাদকাসক্ত সন্ত্রাসীদের নৃশংসতার বলি হয়ে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই পৃথিবীকে বিদায় জানাতে হলো তাকে। শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র মানুষটিকে। আগুন দেয়ার আগে শামীমকে মারপিট করে তার হাত, পা ও চোখ বেঁধে পৈশাচিক উল্লাসে মাতে ঘাতকেরা। আর্তচিৎকার আর আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলেও তারা বাঁচাতে পারেননি শামীমকে। কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার পথে ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শামীম। পৈশাচিক এ ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের আমাটি শিবপুর গ্রামে। নিহত শামীম আমাটি শিবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত চার দুর্বৃত্তের মধ্যে হোতা জনিকে শুক্রবার বিকালে মিঠামইনের গোপদিঘি ইউনিয়নের খাসাপুর গ্রামের মীরফত আলী মীর নামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমগঞ্জের ন্যামতপুর এলাকা থেকে সহযোগী সাজনকে কৌশলে আটক করে পুলিশ। নিহতের চাচা মানিক মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা মামলার দুজনেই এজাহারভুক্ত আসামি। এদের মধ্যে জনি একই এলাকার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে এবং সাজন প্রতিবেশী লাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত শামীমের বাড়ির পাশের গুনু মিয়ার ফিশারির পাড়ে স্থানীয় কয়েক সন্ত্রাসী নিয়মিত মাদকের আসর বসাতো। শামীম তাদের নিষেধ করায় এ নিয়ে প্রায়ই ওই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হতো। একইভাবে গত বুধবার ফিশারির পাড়ে মাদকের আসর জমালে শামীম তাদের বাধা দেয়। এ সময় স্থানীয় চার সন্ত্রাসী জনি, আল-আমিন, শফিক ও সাজন তাকে মারধর করে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শামীম অটোরিকশা চালানো শেষে শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে জনি, আল আমিন, শফিক ও সাজন তাকে ফিশারিতে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় শামীমকে মারপিট করে তার হাত, পা ও চোখ বেঁধে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় শামীমের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শামীম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এদিকে শামীম হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দারি করে গতকাল শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জনির মা ও আল আমিনের মা এবং স্থানীয় দুই যুবকসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনোজ কুমার রায় জানিয়েছেন, ভিকটিমের শরীরের ৭০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামীমের পিতার নাম জাহাঙ্গীর হোসেন। প্রায় ১২ বছর আগে শামীমের মা আমেনা আক্তার মারা যায়। মাতৃহীন শামীম দরিদ্রতার মাঝে বড় হলেও ছিলেন খুবই মিশুক প্রকৃতির। যে কারণে এলাকার সবার প্রিয় ছিল সে। পিতা জাহাঙ্গীর হোসেন দ্বিতীয় বিয়ে করেন। শামীম তার সৎমা পারভীন আক্তারের কাছেও খুব প্রিয় ছিল। সৎমা পারভীন আক্তারের তৃতীয় শ্রেণী পড়ুয়া সুরমা (১০) নামে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সুরমাকেও শামীম নিজের বোনের মতোই দেখতো।
গ্রামের চাচা সম্পর্কের বিল্লাল মিয়া বলেন, শামীম বড় ভালো ছেলে ছিল। শামীমের বাবা বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীন। পরিবারের রুটি-রোজগারের কথা চিন্তা করে সে অটোরিকশা চালানোর কাজ শুরু করে। এর মাধ্যমে তাদের সংসার ভালভাবেই চলে যাচ্ছিল।
এদিকে শামীমের মৃত্যুর খবরে পিতা জাহাঙ্গীর হোসেন একেবারেই নির্বাক হয়ে যান। সৎমা পারভীন আক্তার বারবার মূর্ছা যান। ছোট বোন সুরমা বারবার ও-ভাই ও-ভাই করে ঢুকরে কেঁদে ওঠে। স্বজনেরা সান্ত্বনা দিতে গিয়ে চোখের জল ফেলেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ।
এদিকে নিহত শামীমের লাশ ময়নাতদন্তশেষে শুক্রবার বিকালে আমাটি শিবপুর গ্রামে নিয়ে আসার পর সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মাগরিবের নামাজের পর স্থানীয় গোরস্তান মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে সংলগ্ন গোরস্তানে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের চাচা মানিক মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে দায়ের করা মামলায় একই এলাকার ইসলাম উদ্দিনের ছেলে জনি, মন্নাছ মিয়ার ছেলে আল-আমিন, চাঁন মিয়ার ছেলে শফিক ও লাল মিয়ার ছেলে সাজনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, এরই মধ্যে প্রধান আসামি জনি এবং এজাহারভুক্ত আসামি সাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছে। তাদের ধরতেও সম্ভাব্য স্থানসমূহে অভিযান চালানো হচ্ছে। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই তাদেরও গ্রেপ্তার সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জে নেশার ছোবল দিন দিনই বাড়ছে। হাত বাড়ালেই মিলছে সব ধরনের মাদক। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামেও মাদকাসক্তদের সংখ্যা ও মাদক সন্ত্রাস ক্রমশ বাড়ছে। গত ৬ই সেপ্টেম্বর সদর উপজেলা ও পৌর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সম্মেলনে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মীর মোশাররফ হোসেন নিজেও মাদক সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে গত ৩০শে মে রাতে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে মাদক কেনার জন্য টাকা ছিনিয়ে নিতে না পেরে শাওন (২৮) নামে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী ঠেলাচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। শহরের আরজত আতরজান উচ্চবিদ্যালয়ের পূর্বপাশের সড়কে তাজুল ইসলাম কালা মিয়া (৪০) নামের ওই ঠেলাচালককে বাঁচাতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম নামে এক কলেজছাত্রও ছুরিকাহত হয়। পরে এলাকাবাসী শাওনকে আটক করে পুলিশে দেয়।

টেলিফোনে বিয়ে, অতঃপর... by ওয়েছ খছরু

প্রেম ছিল খসরু ও সাদিয়ার। দুজন দুজনকে মনেপ্রাণে ভালবাসতেন। খসরু চলে গেলেন লন্ডনে। এরপরও তাদের প্রেমের ইতি ঘটেনি। ওখান থেকে দুজন টেলিফোনে বিয়ে করলেন। বিয়ের পর খসরু দেশে এসে সাদিয়াকে নিয়ে হোটেলে দিনের পর দিন কাটালেন। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসের পর খসরু চলে গেলেন প্রবাসে। সেখান থেকে তিনি স্ত্রী সাদিয়ার সঙ্গে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে আপলোড করে বেকায়দায় পড়েছেন। সাদিয়া এখন তাকে ভুলে গেছেন। বিয়ে হয়নি বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আর এ ঘটনায় সাদিয়া থানায় জিডিও করেছেন। পুলিশ জিডির তদন্ত করছে। জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে খসরু মিয়া। আর সাদিয়ার বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার দেওলগ্রামে। ২০০৬ সালে সিলেট মহিলা কলেজে পড়ালেখার সময়ই খসরুর সঙ্গে পরিচয় হয় সাদিয়ার। এক বান্ধবীর মাধ্যমে প্রথমে তাদের পরিচয় হলেও পরে সেটি প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। এরই মধ্যে ২০১০ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় লন্ডন চলে যান খসরু মিয়া। আর সাদিয়া রয়ে যান দেশে। খসরু লন্ডনে গেলেও তাদের মধ্যে সম্পর্কের ঘাটতি হয়নি। বরং লন্ডন থেকে খসরু মিয়া প্রেমিকা সাদিয়ার পড়ালেখার জন্য খরচ পাঠাতেন। ওদিকে, লন্ডনে খসরুর স্বজনরা বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তখন খসরু প্রেমিকা সাদিয়ার পরামর্শ মতো বিয়ে এড়াতে ২০১১ সালে লন্ডন থেকে স্পেনে চলে যান। সেখানে গিয়ে একটি দোকান খুলেন। এবং ওই দোকানের আয়ের টাকা তিনি সাদিয়ার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। ২০১১ সালের শেষের দিকে সাদিয়া অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করেন। এ সময় খসরু তাকে দুই লাখ টাকা দেন। কিন্তু সাদিয়া অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ভিসা পাননি। পরবর্তীকালে ২০১২ সালে সাদিয়া ফের অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করেন। সেটিও হয়নি। এরপর সাদিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া শুরু হয়। সাদিয়া বিষয়টি খসরুকে জানান। কিন্তু খসরু স্পেনে অবস্থান করার কারণে বিয়ে হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। একপর্যায়ে সাদিয়া খসরুকে প্রস্তাব দেন তারা টেলিফোনে বিয়ে করে ফেলবেন। এত দিনের প্রেমের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে খসরুও সে প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। উভয়পক্ষ রাজি হওয়ায় ২০১২ সালের ১৪ই অক্টোবর টেলিফোনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ে পড়ান সিলেটের লাক্কাতোড়া কাজী অফিসের কাজী আবুল হোসেন। আর বিয়েতে সাদিয়ার মা রাহেনা বেগমসহ আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। টেলিফোনে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর খসরু সাদিয়াকে আরও দুই লাখ টাকা পাঠান। এর কয়েক মাস পর ২০১৩ সালের ২৭শে জুলাই মাসে ছুটি কাটাতে দেশে আসেন খসরু। ওই সময় সাদিয়া সিলেটের একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। খসরু দেশে আসার পর সাদিয়াকে নিয়ে সিলেট নগরীর মীরের ময়দানের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। সেখানে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করেন। ওদিকে দেশে আসার ১০ দিন পর খসরু ও সাদিয়া একে অপরের পরিবারের কাছে বিয়ের খবর জানান। কিন্তু পারিবারিকভাবে উভয়পক্ষ তাদের গোপন বিয়ের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। দুজনের পিতা বিয়েতে অসম্মতি প্রকাশ করেন। এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাদিয়াকে ঘরে তুলতে পারেননি খসরু। এই অবস্থায় খসরুর ছুটির মেয়াদ শেষ হলে তিনি স্পেনে চলে যান। যাওয়ার আগে সাদিয়াকে জানান, তিনি পুরোপুরি বসবাসের বৈধতা পাওয়ার জন্য তাকেও স্পেনে নেয়ার আবেদন জানাবেন। ওই সময়ও খসরু সাদিয়াকে তার হাত খরচ বাবদ দুই লাখ টাকা প্রদান করেন। খসরু প্রবাসে চলে যাওয়ার পর সাদিয়া পুনরায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। আর এই বিষয়টি জেনে যান খসরু। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে সাদিয়া খসরুর ফোন ধরাও বন্ধ করে দেন। ওদিকে দেশে যখন খসরু অবস্থান করছিলেন তখন তারা দুজন একসঙ্গে অনেক ছবি তুলেছিলেন। এই ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবি খসরু তার নিজের ফেসবুকে আপলোড করলে রেগে যান সাদিয়া। তিনি এ ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন। ওই জিডিতে সাদিয়া খসরুকে পরপুরুষ দাবি করে বিচার প্রার্থনা করেন। স্পেনে বসবাসরত খসরু জানিয়েছেন, সাদিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ২০০৬ সাল থেকে। আর বিয়ে হয়েছে ২০১২ সালে। বিয়ের পরও তাদের সম্পর্ক ভাল ছিল। ওই সময় তিনি তার প্রবাস জীবনে উপার্জিত সব টাকা সাদিয়ার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এখন ওই সাদিয়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। আর বিয়ে অস্বীকার করছেন। তিনি বলেন, তিনি দেশে এসে এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন। এ ব্যাপারে সিলেটের লাক্কাতোড়া কাজী অফিসের কাজী আবুল হোসেন মানবজমিনকে বলেন, সাদিয়া তার মা ও স্বজনদের নিয়ে কাজী অফিসে গিয়ে টেলিফোনে বিয়ে সম্পন্ন করেন। ওই সময় কাবিনে সাদিয়াসহ সাক্ষীদের স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু খসরু মিয়া দেশে এলেও কাবিনে দস্তখত করেননি। নিয়ম অনুযায়ী কোন পক্ষের স্বাক্ষর না থাকলে কাবির পরিপূর্ণ হয় না কিংবা রেজিস্ট্রি করা যায় না। তবে, টেলিফোনে বিয়ে হয়েছে যে সেটি সত্য বলে দাবি করেন। মেয়ের মামা শামীম আহমদ জানিয়েছেন, সাদিয়ার সঙ্গে খসরুর বিয়ে হওয়া ডাহা মিথ্যা খবর। বরং খসরু ফেসবুকের মাধ্যমে সাদিয়ার ইজ্জতহানি ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় সিলেটের কোতোয়ালি, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার থানায় জিডি করা হয়েছে। আর সাদিয়ার সঙ্গে খসরুর পরিচয় আছে কি না সে ব্যাপারে তারা অবগত নয় বলেও জানান। খসরুর কাছ থেকে টাকা নেয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।