Showing posts with label শিশুশ্রম. Show all posts
Showing posts with label শিশুশ্রম. Show all posts

Wednesday, March 7, 2018

যমুনার চরাঞ্চলে বেড়েই চলছে শিশুশ্রম

জামালপুরের ইসলামপুরের যমুনার চরাঞ্চল গুলোতে শিশুশ্রমের আদিক্য দিন দিন বেড়েই চলছে। এতে চরাঞ্চলের হাজার হাজার শিশু অশিক্ষার মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠছে। এসব শিশুর ভবিষৎ কি তা কেউ জানে না। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভা নিয়ে ইসলামপুর উপজেলা গঠিত। দেশের দু’টি জাতীয় নদ-নদী উপজেলাটির বুক চিড়ে প্রবাহিত হয়েছে। একটি যমুনা নদী অন্যটি ব্রহ্মপুত্র নদ। যে কারণে এটি দেশের দরিদ্রমত উপজেলা গুলোর মধ্যে অন্যতম উপজেলা। দু’টি নদ-নদী উপজেলাটিকে ত্রি-খন্ডে বিভক্ত করে রেখেছে। নদী ভাঙন, বন্যা খড়াসহ নানা প্রাকৃতিক দূর্যোগের সাথে মোকাবেলা করে এ উপজেলার মানুষকে বেঁেচ থাকতে হয়। যে কারণে এ অঞ্চলের শিশুদের ঘাড়ে চেপে বসেছে দারিদ্রতার অভিশাপ। এতে অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে তাদের আগামী উজ্ঝল ভবিষৎ। রাক্ষুসী যমুনা নদী উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম গ্রাস করেছে। এতে প্রায় ৩০টি দূর্গম চরাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। চর গলোর মধ্যে মুন্নিয়া, বরুল, জিগাতলা, শিলদহ, বেরকুশা, সিন্দুরতলী, সাপধরী, কাসারী ডোবা, চর শিশুয়া, কোদাল ধোঁয়া ও বিশরশি গ্রাম অন্যতম। এ সব চরে শিক্ষার আলো তো দুরের কথা সভ্যতার আলোও সঠিক ভাবে পৌছাঁয়নি। স্থানীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে জানা যায়, এ সব গ্রামে ২০-২৫ হাজার শিশু রয়েছে যাদের অধি কাংশই স্কুলে যায় না। শিশুরা হাটতে শিখলেই তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় রোজগারের পথে। এদের মধ্যে মুন্নিয়া গ্রামের হোটেল শ্রমিক আব্দুল করিম (৮) এবং ভ্যান গাড়ি চালক আব্বাছ (১১)সহ চরাঞ্চলের শত শত শিশু সকাল হলেই বেড়িয়ে পড়ে রোজগারের পথে। ফলে যমুনার পাড়ের শিশুরা অশিক্ষার মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠছে। এসব শিশুর ভবিষৎ কি তা কেউ জানে না। স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়,যমুনার চরাঞ্চলের প্রায় ৩০টি গ্রামে ২০-২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুইটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি দাখিল মাদরাসাসহ প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসাটিতে শিক্ষার পরিবেশ কিছুটা থাকলেও ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো চলছে নামে মাত্র। এ সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়া লেখার কোন বালাই নেই।
এলাকাবাসী জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর বেশির ভাগ শিক্ষক ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও ইসলামপুর উপজেলা সদরে বসবাস করে কোচিং বাণিজ্য চালচ্ছে। তারা কর্মক্ষেত্রে আসেন কালেভদ্রে। এলাকার কতিপয় শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতি সামান্য বেতনে প্রক্সি শিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন। কিছু কিছু স্কুল চলছে নৈশপ্রহরী কাম পিয়ন দিয়ে। এরমধ্যে সাপধরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম উপজেলা সদরের পাটনি পাড়ায় বছরের পর বছর ধরে কোচিং চালাচ্ছেন। ওই স্কুলের শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছে নৈশপ্রহরী। এমনেতেই যমনার চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষায় আগ্রহ নেই তার মধ্যে যারাও স্কুলে আশে স্কুল গুলোতে শিক্ষক না আসায় ছাত্রছাত্রীরা হৈহুল্লুড করে বাড়ি ফিরে যায়। সাপধরী উইপি চেয়ারম্যান ও সাপধরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষিত করতে হলে শিশুশ্রম ও বাল্য বিবাহ বন্ধের পাশাপাশি চরের মানুষের অর্থনৈতিক মক্তি আনতে হবেএলাবাসীর অভিযোগ, যমুনার চরের স্কুল গুলোতে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তদের কোন তদারকি নেই। যে কারণে শিক্ষকরা চাকরি না করে সরকারের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এব্যাপরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ কামারুজ্জাম নয়া দিগন্তকে বলেন, কয়েক জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষর পরিবেশ অনেকটা ফিরে এসেছে। সাপধরী উইপি চেয়ারম্যান ও সাপধরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষিত করতে হলে শিশুশ্রম ও বাল্য বিবাহ বন্ধের পাশাপাশি চরের মানুষের অর্থনৈতিক মক্তি আনাসহ শিক্ষকদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, যমুনার চরের স্কুলগুলো অত্যান্ত দূর্গম অঞ্চলে হওয়ার প্রশাসনের অনেকটা নাগালের বাইরে এ ছাড়া এলাকাবাসীও অতিদরিদ্রতার মধ্যে বসবাস করেন। ফলে এখানে শিশুশ্রম বন্ধ করতে এবং শিক্ষর পরিবেশ সৃষ্টি করতে সামাজিক সচেনতা বাড়াতে হবে।

Wednesday, January 17, 2018

শিশুশ্রম নিরুৎসাহিত করুন

জাতীয় শিশু সনদের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৮ বছরের কমবয়সী সবাই শিশু। এক জরিপে জানা যায়, দেশের জনসংখ্যার শতকরা ৪৫ ভাগই শিশু। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা প্রকাশিত এক তথ্য থেকে জানা যায়, বিশ্বে ১৬ কোটির মতো শিশুশ্রমিক রয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই শিশুশ্রমিকদের শতকরা ৪৭ ভাগই মেয়ে। সারা বিশ্বের শিশুশ্রমিকদের মধ্যে শতকরা প্রায় ৫ জনই এশিয়ার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও ইউনিসেফ পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে প্রায় ৩০১ ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুরা বিরামহীনভাবে শ্রম দিচ্ছে দিনের পর দিন। কুলিগিরি, হকারি, রিকশাচালনা, পতিতাবৃত্তি, ফুল বিক্রি, আবর্জনা সংগ্রহ, ইট-পাথর ভাঙা, হোটেলের শ্রম, মাদকদ্রব্য বহন, ঝালাই কারখানার শ্রম ইত্যাদি কাজে শিশুদের নিয়োজিত করা হয় বেশি। শিশুশ্রম মূলত দারিদ্র্যেরই ফল। সংসারের অভাব-অনটনের কারণেই শিশুরা অল্পবয়সেই শ্রমিক হতে বাধ্য হয়। বেশিরভাগ শিশুশ্রমিকের জীবনের গল্প অকল্পনীয় হৃদয়বিদারক। অসচেতনতা ও শিক্ষা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকার দরুন অসচেতন বাবা-মা তাদের শিশু সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় আয়-রোজগার করতে। এভাবে তারা নিজেরাই নিজেদের শিশুকে আদর-সোহাগ করার পরিবর্তে শ্রমিক বানিয়ে তোলে। আমাদের দেশের শিশুদের শ্রমিক হওয়ার পেছনে ব্যাপকভাবে দায়ী দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হয় সেই শিশুরাও, যারা স্কুলে যায়। তাদের বেশিরভাগ অভিভাবকই তাদের লেখাপড়ার খরচ বহন করতে ব্যর্থ হয়।
ফলে তারা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে স্কুলে পাঠানোর উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। মাসখানেক আগে মাগুরা থেকে ফেরার পথে এক বাস হেলপারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বয়স ১১/১২ বছর হবে। সে চামচিকার মতো বাসের পেছনের দরজায় ঝুলছিল আর গাড়ির দরজায় থাবড়াচ্ছিল। অনবরত বলছিল, গাড়ি বাড়ান! গাড়ি বাড়ান!! কখনও বা বলছিল, নামার আছে! রাত তখন ৯.৩০টার মতো হবে। আমার খুব কৌতূহল হল ছেলেটার সঙ্গে কথা বলার। জিজ্ঞেস করলাম, বাড়ি কোথায়? জানাল, ধল্লা। স্কুলে যাও না? বলল, যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কপাল খুবই খারাপ, মা মারা যাওয়ার পর আব্বা আরেকটা বিয়ে করেছে। আর সেই মা বাড়ি থাকতে দেয় না। আব্বা শুধু ওই মায়ের কথাই শোনে আর মারধর করে। তাই গ্রামের এক ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে এই গাড়ি জগতে এসেছি। আমাদের দেশের শিশুদের শ্রমিক হয়ে ওঠার একটা বড় কারণ হল সৎমায়ের উৎপাত। শিশুশ্রম শিশুর জীবনের এক অমানবিক অধ্যায়। শিশুশ্রম শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করে। বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগগত, সামাজিক ও নৈতিক জীবনকে বিষিয়ে তোলে। এছাড়াও অন্য শিশুদের মনে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উদ্ভব ঘটায়। শিশুশ্রম শিশুর মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করে এবং শিশু হয়ে ওঠে অপরাধপ্রবণ। তখন তারা সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। শিশুশ্রম বন্ধ করতে হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। সব শ্রেণীর শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুশ্রম আইনে সংশোধন এনে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। শিশুশ্রমে উৎসাহ প্রদানকারীদের আইনের আওতায় এনে শিশুশ্রমকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।
এসআর শানু খান : প্রাবন্ধিক, শালিখা, মাগুরা