Wednesday, September 16, 2015

কেন ভাঙছে সংসার?

বিয়ের সম্পর্ক নাকি তৈরি হয় স্বর্গে! কিন্তু ভাঙে গিয়ে আদালতে। দশক কাল আগেও যেখানে ১ হাজারে ১টি বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা হত, সেখানে এখন সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১৩-য়। কিন্তু হঠাত্সংখ্যাটা এত বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? মনোবিদ এবং ম্যারেজ কাউন্সিলর ড. নিশা খান্না বলেন, এর জন্য উচ্চাকাঙ্খা এবং একটা অলীক আশাই প্রধানত দায়ী। বিয়ের আগে সকলেই ভাবেন এটা যেন রূপকথার গল্প। ফলে এক বিরাট আশা-আকাঙ্খার বোঝা মাখায় নিয়েই বিয়ে করেন অনেকে। আশাহত হতে বেশি সময় লাগে না। এর থেকেই বদলে যাচ্ছে মানসিকতা। বিশেষত, যাঁরা নতুন বিয়ে করছেন, তাঁদের মধ্যে মানিয়ে নেওয়ার প্রণতাও কমে যাচ্ছে। এর ফলেই ভাঙছে বহু ঘর।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘ দিন ধরে প্রায় ভেঙে যাওয়া বিয়েকে জোড়া লাগাতে গিয়ে তিনি এমন সব অদ্ভূত কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা হতে দেখেছেন যা শুনে হয়তো লোকে হাসবেন, তবে এমনটাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী দিনে নিঃসন্দেহে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার সংখ্যা ভয়ানক হারে বেড়ে যাতে পারে। প্রাথমিকবাবে ৫টি কারণ তিনি উল্লেখ করেছেন, যার জন্য ডিভোর্সের মামলা হচ্ছে।
১) স্ত্রী যথেষ্ট সুন্দরী নন হয়তো বিশ্বাসযোগ্য নয়, তবে এটাই ডিভোর্সের মামলার অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে উঠে এসেছে। গুণটা এখানে একেবারেই বিচার্য বিষয় নয়। রূপে মুগ্ধ না হতে পেরে বহু পুরুষ বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করছেন। এটা ভাবার কারণ নেই, যে অভিভাবকদের ঠিক করে দেওয়া পাত্রীকে বিয়ে করার ক্ষেত্রেই এই সংখ্যা বেশি। যাঁরা নিজেরা পছন্দ করে বিয়ে করছেন, তাঁদের মধ্যেও অনেকে এই কারণেই বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করছেন।
২) শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুটো গয়না দেওয়া হয়েছে একবিংশ শতাব্দীতেও বিয়ের সময় দেওয়া-নেওয়াটা সমাজের রক্ত-মজ্জায় চেপে বসে রয়েছে। বিয়ের সময় ঝুটো গয়না দেওয়া হয়েছে, এই কারণ দেখিয়ে অনেক মহিলারা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে সরাসরিই অভিযোগটি করা হচ্ছে পাত্র পক্ষের বাবা-মায়ের দিকে। অনেক মহিলার বক্তব্য তাঁদের ঠকানো হয়েছে। এর বিরুদ্ধেই বিয়ের সম্পর্কে ভেঙে দেওয়ার কথা চিন্তা করছেন তাঁরা।
৩) অনুষ্ঠানে স্বামীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে বলা হয়েছে আজ্ঞা হ্যাঁ, এটাও একটা কারণ। ড. নিশার মতে, কিছু মহিলা রয়েছেন যাঁরা বাস্তবের একটা দিককে সম্পূর্ণ দেখতে পান না। খুব সামান্য কারণেও তাই তাঁদের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। সামাজিক রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে অনেক স্ত্রী শুধু এটা বিচার করতেই ব্যস্ত থাকেন, আমি নীচু হব কেন? ফলে এ সমস্ত কারণেও বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা।
৪) স্বামী সমাজে অচল স্বামী যেমন পোশাক পরিচ্ছদ পরেন, তাঁকে নিয়ে জনসমক্ষে বেরনো যায় না। তিনি বুদ্ধিদীপ্ত কথাবার্তা বলারও অনুপযুক্ত। ভারতীয় পুরুষদের মতো মহিলারাও তাঁদের স্বামীর পোশাক-পরিচ্ছদ, কথাবার্তার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করছেন। এ কারণে মামলার সংখ্যাটাও চমকে দেওয়ার মতো। ড. খান্না-র মতে, বিয়ের আগে কেন তাঁরা এই সামান্য ব্যাপারটি দেখে নিতে পারেন না, যার জন্য একটা ঘর-সংসার ভেঙে দিতে হচ্ছে।
৫) আগে অনেক সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতাম বড় বাড়ি, বড় ঘর, মুখের সামগ্রীর কোনও অভাবই ছিল না। বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে সে সব কিছুই পাচ্ছেন না। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা হচ্ছে এ কারণেও। এটা যে শুধু অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের ক্ষেত্রে হচ্ছে তা নয়। পাত্র-পাত্রী নিজেরা দেখেশুনে বিয়ে করলেও এ সমস্যার কারণে মাস খানেক, কী বছরের মধ্যেই বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে। কখনও সম্পূর্ণ বৈষয়িক কারণ, কখনও শাশুড়ির গঞ্জনার অভিযোগে মাত্র বছর খানেকের মধ্যে বিয়ে ভাঙতে আদালতে যাচ্ছেন স্ত্রী-রা। ড. খান্নার মতে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এটা শুধুমাত্র নারীদের ক্ষেত্রেই নয়, পুরুষদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে ভারতী প্রেক্ষাপটে যে হেতু মেয়েরা বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে চলে যান, তাই দায়টা অনেকাংশে মেয়েদের উপর বর্তায়। এ ছাড়াও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে অভিভাবকদের অত্যন্ত নাক গলানোটাও ভাঙছে বহু ঘর।
সূত্র: এই সময়

দেশে নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতা চলছে : বিএফইউজে-ডিইউজের সমাবেশে বক্তারা

বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, যে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই সেদেশে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। এখন যা চলছে তা নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকতা। এ সরকার বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার বলতে অবশিষ্ট কিছুই নেই। বক্তারা বলেন, দেশে সুস্থ্য রাজনৈতিক ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। অবিলম্বে বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিতে হবে। দেশে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বিরোধী মত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে। বিরোধী মত দমন-পীড়নের সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে সরকারই একসময় অস্তীত্বহীন হয়ে পড়বে। ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, অনেক সাংবাদিকের রক্তে এই সরকারের হাত রঞ্জিত হয়েছে। এই অবৈধ সরকারের আমলে ২২ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। সাংবাদিক হত্যার বিচার করার কথা বললেও কারও কোনো বিচার হয়নি। তিনি বলেন, সাগর-রুনির প্রকৃত খুনীদেরতো গ্রেফতার করাই হয়নি। যারা সাগর-রুনির আন্দোলনের সাথে, রক্তের সাথে বেঈমানী করেছে সরকার তাদের পুরস্কৃত করেছে। এই সরকারের আমলে সত্য বললে নির্যাতন আর মিথ্যা বললে পুরস্কার।
শওকত মাহমুদ বলেন, মাহমুদুর রহমান সেই সাহসি সাংবাদিক যিনি সত্য কথা তুলে ধরেছেন। তিনি ছিলেন নির্ভীক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন মাহমুদুর রহমান। এরকম সত্য কথা বলার জন্য ইটিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম ও জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক কনক সরোয়ারকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি আজ শুধু সাংবাদিক সমাজের নয়, গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৩ আগস্ট মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা দুর্নীতি মামলার রায় দেয়া হবে। সরকার মাহমুদুর রহমানের সাথে অন্যায় আচরণ করতে পারে। কিন্তু আমরা আশা করি আদালত ন্যায় বিচার করবে। কারণ মাহমুদুর রহমান সত্যের প্রতীক। নির্ভীক ও সাহসি সাংবাদিক। তিনি সত্য কথা তুলে ধরেছিলেন। আদালত মাহমুদুর রহমানকে খালাস দেবে এটা বাংলার মানুষের প্রত্যাশা। এসময় তিনি আমারদেশ, দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টিভিসহ সকল বন্ধ গণমাধ্যম অবিলম্বে খুলে দেয়ারও আহবান জানান।
সমাবেশে শওকত মাহমুদ বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তির নিঃশর্ত দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও আগামী ১৩ আগস্ট একইস্থানে গণঅবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব এম এ আজিজ বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই। অনেকগুলো গণমাধ্যম বন্ধ রয়েছে। সাংবাদিকরা আজ নিগৃহিত। গুম, খুন অপরহরণ এখন নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্য কথা বললে এখন হামলা করা হয়, মামলা দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসন চলছে। এই জায়গা থেকে যদি পরিবর্তন করতে হয় তাহলে বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিতে হবে।
এম এ আজিজ বলেন, বিরোধী দলকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হামলা করে মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না। যদি মাহমুদুর রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয় তাহলে সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। এসময় তিনি বন্ধ গণমাধ্যম খুলে না দিলে এবং মাহমুদুর রহমানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য খন্দকার আলমগীর হোসেন।
আরো বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সিনিয়র সহ সভাপতি এম আব্দুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, মফস্বল সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত ইবনে মঈন চৌধুরী, ডিইউজের সহ সভাপতি সৈয়দ আলী আসগর, শাহীন হাসনাত, ডিইউজের নয়া দিগন্তের ইউনিট চীফ ফয়েজ উল্লাহ ভুঁইয়া প্রমুখ।

হাঙ্গেরি-সার্বিয়া সীমান্তে পুলিশ-শরণার্থী সংঘর্ষ

হাঙ্গেরি-সার্বিয়া সীমান্তে প্রবেশের সময় পুলিশের সঙ্গে শরণার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার হাঙ্গেরি-সার্বিয়া সীমান্তে সার্বিয়ান শহর হরগোসে পুলিশের সঙ্গে শরণার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ শরণার্থীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছুড়েছে। এ সময় শরণার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বোতল ও পাথর ছুড়ে মারে। শরণার্থীরা জার্মানি ও হাঙ্গেরি যেতে যায়।
এদিকে এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি ও আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, হাঙ্গেরিতে প্রবেশের পথ বন্ধ। শরণার্থীরা তাই অন্য পথ বেছে নিচ্ছে। সার্বিয়া থেকে সীমানা পেরিয়ে বুধবার ক্রোয়েশিয়ায় ঢুকেছে প্রায় ১৫০ জন শরণার্থী। সেখান থেকে স্লোভেনিয়া হয়ে উত্তর ইউরোপের পথ ধরবে তারা। লক্ষ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমৃদ্ধ কোনো দেশে আশ্রয়।
হাঙ্গেরির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ এখন বলকান অঞ্চলে ঘুরছে। উত্তর বা পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার জন্য তারা ক্রোয়েশিয়া ও রোমানিয়ার ভূখণ্ড অতিক্রম করার চেষ্টা করতে পারে। এ দুটি দেশ ইইউর অন্তর্ভুক্ত হলেও শেংগেন অঞ্চলের বাইরে। শরণার্থীদের আপাতত জায়গা দিলেও পরে তাদের কাঙ্ক্ষিত অন্য দেশের ‘পথ দেখিয়ে দিতে’ প্রস্তুত রয়েছে ক্রোয়েশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জোরান মিলানোভিচ আজ পার্লামেন্টে এ কথা বলেছেন। মূলত সিরিয়া থেকে ইউরোপে গেছে এসব মানুষ। তারা জার্মানিতে যেতে চায়। কিন্তু এই শরণার্থীদের জায়গা দেওয়া নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
শত শত অভিবাসী এখনো সার্বিয়ায় হাঙ্গেরি সীমান্তের কাছে রয়ে গেছে। বুদাপেস্টের কর্তৃপক্ষ ওই সীমান্ত এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে এবং শরণার্থীদের প্রবেশ রুখতে শত শত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে। সীমান্ত পেরিয়ে যে রেলপথে হাজার হাজার শরণার্থী ইউরোপীয় শেংগেন অঞ্চলে (পাসপোর্ট ভিসামুক্ত চলাচলের সুবিধা রয়েছে) প্রবেশ করে, হাঙ্গেরির পুলিশ সেটা বন্ধ করে দিয়েছে। অনুপ্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে তারা আজ শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩৬৭ জন আশ্রয়প্রার্থীকে আটক করেছে।
ইইউর সীমান্ত সংস্থা বলছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থী ইইউর বিভিন্ন দেশের সীমান্তে গেছে। এসব মানুষের অধিকাংশই সিরিয়া থেকে পালিয়েছে। দেশটিতে ২০১১ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। গত সোমবার পর্যন্ত শরণার্থীদের অনেকে হাঙ্গেরি এবং অস্ট্রিয়া হয়ে জার্মানিতে পৌঁছায়। কিন্তু এ জনস্রোত ঠেকাতে জার্মানি ও অস্ট্রিয়ার সীমান্তে কড়াকড়ি এখন অনেক বেশি। হাঙ্গেরির সরকার বলেছে, তারা রোমানিয়া সীমান্তেও কাঁটাতারের বেড়া দিতে পারে। কারণ, শরণার্থীরা ওই সীমান্তপথেও প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তবে রোমানিয়া বলেছে, হাঙ্গেরি এ ধরনের কাজ করলে সেটা ‘ইউরোপীয় চেতনাবিরোধী’ হবে।
সার্বিয়া সীমান্তে সন্তানকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন অসহায় এক বাবা। হাঙ্গেরির পুলিশের সঙ্গে শরণার্থীদের সংঘর্ষ চলাকালে আহত হয়েছেন তিনি। ছবিটি গতকালের। ছবি: রয়টার্স

জামায়াতের রাজনীতির রূপান্তর -আনন্দবাজারের নিবন্ধ

কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকাশিত মইদুল ইসলামের লেখা-লিমিটস অব ইসলামিজম, জামায়াত-ই-ইসলামী ইন কন্টেম্পোরারি ইন্ডিয়া এন্ড বাংলাদেশ- শীর্ষক বইটি এরইমধ্যে বিপুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় বইটি নিয়ে লিখেছেন- কিংশুক চট্টোপাধ্যয়। তিনি লিখেছেন-
ভারতীয় উপমহাদেশে আনুমানিক প্রতি তিনজন মানুষের এক জন মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত; বিশ্বের কোথাও এত সংখ্যক মুসলিম থাকেন না। কিন্তু সাধারণত যে ধরনের রাজনীতিকে আমরা ‘ইসলামি রাজনীতি’ বলে মনে করি, তা ভারতীয় উপমহাদেশে বহুলাংশেই দেখা যায় না। এই কথাতেই কেউ কেউ ‘গেল গেল’ রব তুলতেই পারেন। বলতে পারেন পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের কথা যেখানে কিছু মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন রাজনীতির আঙিনায় বেশ সক্রিয়। সে ক্ষেত্রে বলতেই হবে যে, মুসলিমদের রাজনৈতিক সংগঠন মাত্রই ‘ইসলামি রাজনীতি’ অনুসরণ করে না। ‘ইসলামি রাজনীতি’ হল এমন একটি রাজনৈতিক চিন্তন, যার মৌলিক উপপাদ্যগুলি কথিত ভাবে ইসলামি মূল্যবোধ এবং/অথবা ইসলামি জীবনচর্যার নির্যাস। সেই নিরিখে ভারতবর্ষে তো বটেই, এমনকি পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের রাজনীতির মূলস্রোতেও খুব অল্পসংখ্যক রাজনৈতিক দলই আছে, যারা প্রকৃত অর্থে ইসলামি রাজনীতির কাণ্ডারী। ভারতীয় উপমহাদেশে জামাত-ই-ইসলামি সেই মুষ্টিমেয় কিছু দলের মধ্যে পড়ে, যারা এই ধরনের রাজনীতির প্রবক্তা।
জামাতের জন্ম পরাধীন ভারতবর্ষে। মৌলানা মৌদুদির মতো নেতার দৌলতে সমাজে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধকল্প এই আন্দোলনটি কালক্রমে পাকিস্তান আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে যায়, এবং উপমহাদেশ দু’টি রাষ্ট্রে বিভক্ত হওয়ার পরে স্বাভাবিক কারণেই ভারতের তুলনায় পাকিস্তানে বেশি প্রভাবশালী সাব্যস্ত হয়। পরে বাংলাদেশের জন্মক্ষণে জামাত অবিভক্ত পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অস্তিত্ব মেনে নিয়ে সেই দেশেও যথেষ্ট প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতা এবং প্রভাবের বিচারে জামাতের সংগঠন পাকিস্তানে সব থেকে বেশি পরিচিত এবং প্রভাবশালী হলেও আজ জামাত তুলনামূলক ভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক বেশি শক্তিশালী, এবং ভারতবর্ষের রাজনীতিতেও জামাতের কার্যকলাপের পরিসর ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু মজার কথা হল, পাকিস্তানে জামাতের ভূমিকা নিয়ে একাধিক গবেষণাধর্মী কাজ হলেও ভারত বা বাংলাদেশে জামাতের ভূমিকা বা রাজনীতি নিয়ে তেমন কাজ হয়নি। সেই দিক থেকে দেখলে মইদুলের আলোচ্য বইটি একটা বড় অভাব দূর করবে।
ভারত এবং বাংলাদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ এবং সক্রিয় জামাতি কার্যকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎকার এবং দুই দেশের রাজনীতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে মইদুল দেখিয়েছেন যে, ইসলামি রাজনীতির কাণ্ডারী বলে বাইরে থেকে জামাত-ই-ইসলামিকে একটি অভিন্ন সংগঠন মনে হলেও আসলে আদৌ তা নয়। জন্মলগ্নে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার ফলে ১৯৭০ দশকের গোড়ায় জামাত সে দেশের রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মুজিবুর রহমানের ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতির আধুনিকীকরণে যে প্রকল্প নিয়েছিল তা ব্যর্থ হওয়ায় মুজিবের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই জামাত বাংলাদেশের জনজীবনে তাদের প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পায়। ১৯৮০-র দশকে জেনারেল জিয়া এবং এরশাদের শাসনকালে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে জামাত নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসে এবং বিএনপি-র সহযোগী দল হিসেবে সরকারেও যোগ দেয়। অন্য দিকে, ভারতবর্ষে জামাতের উপস্থিতি পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো দেশব্যাপী আদপেই নয়, কিন্তু কেরলের মতো আঞ্চলিক রাজনীতির সীমিত পরিসরে আটকে থাকা জামাত বর্তমান ভারতের রাজনীতিতে প্রান্তিক হলেও সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েনি।
তুলনামূলক বিচার করে মইদুল দেখিয়েছেন পরিণামের মতোই ভারত এবং বাংলাদেশে জামাতের রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিত, চরিত্র এবং কর্মসূচি প্রায় সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতে নব্য-উদারপন্থা বা উদারীকরণের রাজনীতির বিরোধিতাকেই জামাত তাদের কর্মসূচির কেন্দ্রে রেখে বাম এবং অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলির সঙ্গে পুরোদস্তুর বিশ্বায়ন-বিরোধী রাজনীতির আঙিনায় নেমে এসেছে। ফলে ইসলাম ধর্মাবলম্বী নয় এমন মানুষও এখন জামাতের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করেছেন। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশে সরকারে প্রবেশ করার পরে জামাত অর্থনীতির বিশ্বায়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত হয়ে রয়েছে। ফলে সাধারণত যেটি ইসলামি রাজনীতির অন্যতম নির্দেশক বলে মনে করা হয়, সেই পুঁজিবাদ তথা নিরবচ্ছিন্ন মার্কিন-বিরোধিতাও বাংলাদেশের জামাতি রাজনীতিতে আজ বিরল। বাংলাদেশে জামাতের মূল পুঁজি আজ তাই রক্ষণশীল ইসলামি সামাজিক মূল্যবোধ।
পাঠকরা যদি ভেবে বসেন যে, মইদুল ভারত এবং বাংলাদেশে জামাতি রাজনীতির দু’টি ভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন, তবে সেটা হয়তো খুব ভুল হবে না। ভারতে সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তর্গত অন্ত্যজ শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে, অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরিণামে মানুষের (অর্থনৈতিক) অস্তিত্বের সংকটকে প্রাধান্য দিয়ে মানুষের (ধর্মীয়) সত্তার সংকটকে জামাত রাজনৈতিক ভরকেন্দ্র থেকে সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হয়ে সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে ইসলামি সত্তাকে আঁকড়ে ধরলেও বৃহত্তর সমাজের স্বার্থে তারা অর্থনৈতিক উদারীকরণের পক্ষ নিতে বাধ্য হয়েছে।
মইদুলের পরিশ্রম অকুণ্ঠ প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। এই কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য, গবেষণার প্রাথমিক উপাদান হিসেবে জামাতিদের সঙ্গে নেওয়া সাক্ষাৎকারের ভূমিকা। সমস্যা হল, যে কোনও প্রশ্ন কে কাকে কখন করছে, তার উপরেই নির্ভর করে উত্তর কী হবে বা কী হবে না। সেই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অভীষ্ট বোঝার জন্য লিখিত উপাদান এবং যে কোনও রাজনৈতিক প্রতর্ক (ডিসকোর্স) বুঝতে মূল বা আকর ভাষায় লিখিত উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। মইদুলের আলোচনায় জামাতের যে-সমস্ত সাংগঠনিক পুস্তিকা বা রচনার ব্যবহার রয়েছে, তা প্রায় সবই হয় ইংরাজিতে লেখা, নয় অনূদিত। মালয়ালি বা উর্দু তো ছেড়েই দিলাম, একটা বাংলা পুস্তিকাও ব্যবহার করেননি মইদুল— করলে ক্ষতি হত না।
পরিশেষে আরেকটি কথা। বইয়ের গোড়ায় গবেষণার বৌদ্ধিক উপাদানগুলি আলোচনা করতে গিয়ে মইদুল ইসলামি রাজনীতির একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অভিজ্ঞতা বলে, যে কোনও সংজ্ঞাই যতটা কম নির্দিষ্ট হয়, ততই ভাল; রাজনীতির ক্ষেত্রে তো বটেই। ইসলামি রাজনীতির নির্দেশক বলতে আমরা ধরেই নিই রক্ষণশীল সামাজিক মূল্যবোধ, শরিয়তের বিধান অনুসারে জীবনযাপন, পুঁজিবাদের বিরোধিতা, ইত্যাদি। মনে রাখা দরকার, আমাদের এই ধারণাগুলি বর্তমান আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে আধুনিক চিন্তনের বিপ্রতীপে একটি ‘বৌদ্ধিক অপর’ (ইন্টেলেকচুয়াল আদার) হিসেবে গড়ে উঠেছে। তাই বাঁধাধরা গণ্ডির বাইরে গেলেই মনে হতে পারে ‘এই বুঝি ইসলামি রাজনীতির সীমানা টপকে গেল।’ সময়বিশেষে যে কোনও রাজনীতিরই ব্যবহারিক সীমারেখা থাকে, কিন্তু রাজনৈতিক চিন্তনের কোনও সীমারেখা থাকলে বিবর্তন হবে কেমন করে? তাই মইদুল যেগুলিকে ইসলামিজম-এর সীমাবদ্ধতা বলছেন, সেগুলি বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি রাজনীতির সীমাবদ্ধতা মনে হলেও, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক চিন্তনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।

গাড়ি চালিয়ে মাকে নিয়ে গেলেন তারেক by তানজির আহমেদ রাসেল

চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে লন্ডনে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০দলীয় জোট নেতা বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭ টায় তিনি এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে-৫৮৫ ফ্লাইটে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন বেগম জিয়া। হিথ্রো বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে বেগম জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ। ভিআইপি টার্মিনাল থেকে বের হয়ে খালেদা জিয়া টার্মিনালে অপেক্ষমান বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছেলে তারেক রহমানের সাক্ষাতের সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। টার্মিনালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার এম এ সালাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার  সহকারি প্রেস সেক্রেটারী মুশফিুক ফজল আনসারী, যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটি সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, এম লুৎফর রহমান, আক্তার হোসাইন, মঞ্জুরুস সামাদ চৌধুরী মামুন, আনোয়ার হোসেন খোকন,  শেখ শামসুদ্দীন শামীম, ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান, প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মামুন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, তাজ উদ্দিন, ও কামাল উদ্দিন, সহ-যুগ্ম সম্পাদক সামছুর রহমান মাহতাব, সাংগঠনিক সম্পাদক খসরুজ্জামান খসরু প্রমূখ। বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মা বেগম জিয়াকে নিয়ে হিথ্রো বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৫ এ সফিটেল হোটেলের সামনে  যান, সেখানে খালেদা জিয়া গাড়ী থেকে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। পরে তারেক রহমান মাকে নিয়ে ওয়েষ্ট এন্ড এলাকার একটি হোটেলে যান। ওয়েষ্ট এন্ড এলাকার ওই হোটেলে পৌঁছলে সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান পুত্রবধু ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, দুই কন্যা জাফিয়া রহমান, জাহিয়া রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
লন্ডনে দুই সপ্তাহ অবস্থান করবেন বেগম জিয়া। এ সময় তিনি  চোখ ও পায়ের চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। ইতিমধ্যেই বেগম জিয়ার জন্য চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছেন তার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান। তিনি নিজেই তার শাশুড়ির চিকিৎসার বিষয়টি দেখভাল করবেন। এছাড়া দল পুনর্গঠন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ও বিএনপির ভবিষ্যত রূপরেখা  নিয়ে গুরুত্বপুর্ণ বৈঠক করবেন দলের দুই শীর্ষ নেতা। খালেদা জিয়া লন্ডন অবস্থানকালে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নাগরিক সংবর্ধনা, মিট দ্য প্রেস,  ও ঈদের দিন  শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে বেগম জিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর। পাশাপাশি বৃটেনের মূলধারার একাধিক রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, বৃটিশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক হয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের বাইরে এবারই প্রথমবারের মতো সপরিবারে ঈদ উদযাপন করবেন বেগম খালেদা জিয়া। ১/১১ এর প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে লন্ডনে সপরিবারে বসবাস করছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান আর মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই কন্যা। তারা ইতিমধ্যে লন্ডন পৌঁছেছেন। সফর শেষে আগামী ১লা অক্টোবর বেগম জিয়ার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সেক্স রোবট তৈরিতে নিষেধাজ্ঞার দাবী

যৌনকর্মে ব্যাবহার হয় এমন রোবট তৈরিতে নিষেধাজ্ঞার দাবীতে একটি প্রচারণা শুরু হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের নেতা ড. ক্যাথরিন রিচার্ডসন বলেছেন, এ ধরণের প্রযুক্তি অপ্রয়োজনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।
সেক্স ডল বলে পরিচিত যেসব পণ্য এখন বাজারে পাওয়া যায়, সেগুলোকে আরো আধুনিক করা হচ্ছে এবং এখন আশা করা হচ্ছে এসব প্রযুক্তির সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যোগ করা হবে।
লেইচেস্টারের ডে মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটির রোবট বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ডসন বলছেন, রোবট শিল্পে এখন ক্রমবর্ধমান হারে নজর দেয়া হচ্ছে সেক্স রোবটের দিকে। এগুলি দেখতে কেমন হবে, কি কাজ সেগুলোকে দিয়ে করানো হবে তার নকশা তৈরি করা হচ্ছে, যা খুবই পীড়াদায়ক।
অ্যাবিস ক্রিয়েশনস নামে একটি প্রতিষ্ঠান যেটি পুরুষ ও মহিলাদের সেক্স টয় বিক্রি করে, সেটি এখন তাদের পণ্যকে যান্ত্রিক করে তুলতে শুরু করেছে।
এদিকে, ট্রু কম্প্যানিয়ন ঘোষণা করেছে তারা বিশ্বের প্রথম সেক্স রোবট তৈরি করছে।
এ বছরের শেষ দিকে তাদের প্রথম এ ধরণের রোবট রক্সি বাজারে আসবে বলেও তারা ঘোষণা দিচ্ছে।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডগলাস হাইনস বিশ্বাস করেন রক্সির মতো পণ্যের সত্যিকারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
আমরা একজন স্ত্রী সরবরাহ করছি না, কিংবা বান্ধবীর কোনও বিকল্প দিচ্ছি না। এটা তাদের জন্য সমাধান যারা স্ত্রী হারিয়েছেন কিংবা এই মুহূর্তে কোনও সম্পর্কের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন না।
তবে ড. রিচার্ডসন বলছেন, এর ফলে মহিলাদের সম্পর্কে প্রাচীন সেই ধারণাটিই পোক্ত হবে যেখানে মহিলাদেরকে যৌন-সঙ্গী বলে আর কিছুই মনে করা হয় না।।
>>>সুত্রঃ বিবিসি

সিপিবি-বাসদের অবরোধ পণ্ড, আটক ১৫

গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে আজ বুধবার রংপুরের মিঠাপুকুরে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের মহাসড়ক অবরোধ ও সমাবেশ পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়েছে। ১৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এই কর্মসূচি পূর্বঘোষিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা বাজারে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে মাইক লাগিয়ে সংগঠনের কয়েকশ নেতা-কর্মী অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ ৪ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে। এ সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জেলা শাখার আহ্বায়ক সাদেক হোসেন, অর্থ সম্পাদক মৌসুমী আকতার ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন আহত হন। পুলিশ কর্মসূচির ব্যানার খুলে নিয়ে যায়।
কমিউনিস্ট পার্টি রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহীন রহমান বলেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে তাঁদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালিয়ে তা পণ্ড করে দিয়েছে।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, অবৈধভাবে মহাসড়ক বন্ধ করে তাঁরা সমাবেশ করছিলেন। গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় ৪ রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছুড়ে তাঁদের হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৫ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (‍বাসদ) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুরের মিঠাপুকুরে জেলা সিপিবি ও বাসদ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আজ বুধবার বিক্ষোভ মিছিল করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করতে গেলে পুলিশের বাধায় তা পণ্ড হয়। ছবিটি উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে আজ দুপুরে তোলা। ছবি: মঈনুল ইসলাম, রংপুর

পৃথিবীটাই জলের তলায় চলে যাবে?

আমার-আপনার ঘরবাড়ি—সবকিছু চলে যাবে জলের তলায়?
তলিয়ে যাবে জমিজিরেত? আমাদের পরিবার-পরিজনও?
আর বড়জোর হাজার কি দেড় হাজার বছর।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গোটা পৃথিবীর ‘নিয়তি’ এটাই! যদি এই গ্রহে কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো যত জ্বালানি এখনও মজুত রয়েছে, তার সবটুকুই পুড়ে যায়। আর সেটা হলে আন্টার্কটিকায় যত বরফ রয়েছে, তার সবটুকুই গলে যাবে। সমুদ্রতল উঠে যাবে আরও পঞ্চাশ মিটার উঁচুতে। অনিবার্য হয়ে উঠবে আমাদের সলিলসমাধি!
জার্মানির পোস্টড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক একটি গবেষণার ফলাফল জানিয়েছে, এভাবেই মানবসভ্যতার বিনাশ হবে। আর তা হয়তো হবে আগামী সহস্রাব্দেই। ওদিকে, ব্রিটেনের হাওয়া-অফিস বলছে, সামনের দু‘বছর চরম গরম পডতে চলেছে গোটা বিশ্বে। তবে শুধু ব্রিটেনেই গ্রীষ্মকালটা হবে এবার অনেকটাই কম গরমের।
এই গ্রহে সবচেয়ে বেশি বরফ রয়েছে আন্টার্কটিকায়। তবে আগের চেয়ে তার পরিমাণ কমেছে। আরও কমবে, অদূর ভবিষ্যতে। আমরাই এতদিন কয়লা, খনিজ তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাস  যথেচ্ছ পুড়িয়ে ওই বরফ গলিয়েছি। তাতে ইতিমধ্যেই সমুদ্রতলের উচ্চতা দশ শতাংশ বেড়েছে।
গবেষণা জানাচ্ছে, ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’-এর ফলে পৃথিবীর ‘জ্বর’ বাড়লেও আন্টার্কটিকা কিন্তু এখনও ঠান্ডাই রয়েছে। তার তাপমাত্রা এখনও হিমাঙ্কের অনেক নীচে। তবে গত বছরের মে মাসে দেখা গিয়েছে, সেই হাড় হিম-করা আন্টার্কটিকা আর নেই। ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’ বরফ অনেকটাই গলিয়ে দিয়েছে পশ্চিম আন্টার্কটিকার। তাতে যথেষ্টই ক্ষতি হয়েছে আমাদের। ওই গলে যাওয়া বরফই আগামী দু’-এক শতাব্দীর মধ্যে সমুদ্রতলের উচ্চতা কমকরে চার মিটার বাড়িয়ে দেবে।
পূর্ব আন্টার্কটিকার বরফে অবশ্য এখনও চিড় ধরেনি। কিন্তু পৃথিবীতে মজুত কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সবটুকু পুড়ে গেলে, সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে সেই বরফও পুরোপুরি গলে যাবে। আমাদের ভয়টা তখনই।
ওই গবেষণা জানিয়েছে, ‘গ্রিনহাউস গ্যাস’-এর জন্য পৃথিবীর গায়ের তাপ যদি দুই ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের চেয়ে বেশি না-বাড়ে, তাহলে সমুদ্রতলের উচ্চতা সামান্য কয়েক মিটার বাড়বে।
কিন্তু পরিস্থিতি যদি হাতের বাইরে চলে যায়? যদি পৃথিবীতে মজুত কয়লা, খনিজ তেল আর প্রাকৃতিক গ্যাসের পুরোটাই পুড়িয়ে ফেলি আমরা, তাহলে কী হবে? যদি পৃথিবীর ‘জ্বর’ বেড়ে যায় দশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেরও বেশি?
গবেষণা বলছে, তাহলেই মহা-সর্বনাশ। আমাদের ‘শেষের দিন’ গোনা শুরু করে দিতে হবে। প্রতি ১০ বছরে তখন সমুদ্রতলের উচ্চতা ৩০ সেন্টিমিটার করে বাড়বে। তার ফলে, এই সহস্রাব্দের শেষে সমুদ্রতলের উচ্চতা বাড়বে ৩০ মিটার। আর আগামী সহস্রাব্দের মাঝ-পর্বে সেই উচ্চতা ৬০ মিটার বাড়বে।
আমাদের তলিয়ে যাওয়ার দিন তবে খুব দূরে নয়?
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

শরণার্থী চুক্তিতে ইউরোপ ব্যর্থ

শরণার্থী বিষয়ে কোনো ঐকমত্য পৌঁছাতে পারেনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ২৮ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সোমবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত জরুরি এ বৈঠক ঐকমত্য ছাড়াই শেষ হয়েছে। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়ে ছিল এক লাখ ২০ হাজার জরুরি আশ্রয়প্রার্থীকে ইইউয়ের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বণ্টন করা। তবে এ ব্যাপারে একমত হতে পারেননি নেতারা। লুক্সেমবার্গ ও জার্মানি বলছে, বণ্টনের পক্ষে নীতিগতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র একমত। কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত চুক্তির জন্য সামনের মাসে অনুষ্ঠিতব্য আরেকটি বৈঠক পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। এদিকে নমনীয় জার্মানিও হঠাৎ কঠোর মনোভাব দেখাচ্ছে। দেশটির সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যদিও জার্মানি বলছে এ ব্যবস্থা সাময়িক। মধ্য ইউরোপের যেসব রাষ্ট্র কোটা পদ্ধতি মানতে চাইছে না, তাদের অমতেই এ পরিকল্পনাটি গ্রহণে অন্য অনেক রাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে ইইউ বলছে, ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থেই তারা আবারও বৈঠকে বসবে। কোটা মানতে নারাজ এমন রাষ্ট্রগুলোর যুক্তি হল, কোটা পদ্ধতি চালু হলে আরও অনেক বেশি মানুষ জীবন বিপন্ন করে ইউরোপের দিকে ছুটে আসবে।
শরণার্থী না নিলে শাস্তি : শরণার্থী বণ্টনের প্রশ্নে ঐকমত্যে অনিচ্ছুক সদস্য দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে জার্মানি ইইউ সাহায্য তহবিলে কাটছাঁটের প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। সোমবার ইইউর বৈঠক শেষে এ প্রস্তাব দিয়েছে জার্মানি। এএফপি। নামেই সংহতি, কাজে নয়। ইউরোপীয় পরিবারের দুর্দিনে সব সদস্য দেশ শরণার্থীদের বোঝা ভাগ করে নিতে এখনও প্রস্তুত নয়। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে এ প্রশ্নে ঐকমত্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো তাদের অবস্থানে অটল রয়েছে। হাঙ্গেরি, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া ও রোমানিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে শরণার্থীদের বণ্টনের প্রস্তাব মেনে নিতে একেবারেই প্রস্তুত নয়। এ অবস্থায় ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লোদ ইয়ুংকার এসব দেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টোমাস ডেমেজিয়ের এমন প্রস্তাব সমর্থন করেন।
শরণার্থী ইস্যুতে ইইউর বিশেষ সম্মেলন : ইউরোপে জেঁকে বসা শরণার্থী সংকট নিরসনে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইইউ বিশেষ সম্মেলনের প্রস্তাব অস্ট্রিয়া ও জার্মানির। মঙ্গলবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ইইউ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ককে টেলিফোনে আগামী সপ্তাহে এ সম্মেলনে বসতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ সমস্যা গোটা ইউরোপের। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের এর সমাধান করতে হবে।
সীমান্ত পার হলেই গ্রেফতার
ইউরোপে অভিবাসীপ্রত্যাশীদের ঢল থামাতে এ-সংক্রান্ত একটি কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে হাঙ্গেরি। ইউরোপে অবৈধ অভিবাসীদের যে ঢল নেমেছে তা প্রতিরোধ এ আইন ‘নতুন যুগের সূচনা’ করবে বলে দাবি করেছে দেশটি। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য লোক ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস ও ইতালি উপকূলে আসছে। সেখান থেকে এরা সার্বিয়া ও হাঙ্গেরি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পূর্ব জার্মানি ও অস্ট্রিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছেন। হাঙ্গেরি শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে রাজি নয়। এমনকি শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত সপ্তাহে যে বাধ্যতামূলক কোটার ঘোষণা দিয়েছিল, দেশটি তাও মানতে নারাজ। শরণার্থীদের ঢল ঠেকাতে গত মাসে সার্বিয়া সীমান্তজুড়ে ১৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করে হাঙ্গেরি। গত সপ্তাহেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান জানিয়েছিলেন, শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর আইন করা হবে। মঙ্গলবার থেকে ওই আইন কার্যকর হবে। নতুন আইন মতে, সার্বিয়া বা অন্য কোনো দেশের সীমান্ত দিয়ে হাঙ্গেরিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ আটক করতে পারবে।

খ্রিস্টানরা পানির ওপর দিয়ে হাঁটো, মুসলিম শিশুরা ডুবে যাও

এবার বিপন্ন মানবতার সাক্ষ্য বহনকারী সিরীয় শিশু আয়লান কুর্দিকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছে ফরাসি রম্য ম্যাগাজিন শার্লি হেবদো। তবে এতে কাকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। কেউ বলছেন, প্রকাশিত কার্টুনে আয়নালকে বিদ্রুপ করা হয়েছে। কেউ আবার বলছেন, বিদ্রুপের লক্ষ্য ছিল অমানবিক ইউরোপ। তুরস্ক উপকূলে আয়লান কুর্দির মুখ থুবড়ে পড়ে থাকার ছবি প্রকাশ করে যখন মানবতার বিপন্নতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ঠিক সেসময়ে আয়লানকে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে শার্লি হেবদো নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে উল্লেখ করেছে মরক্কোর সংবাদমাধ্যম মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজ।
শার্লি হেবদোতে প্রকাশিত আয়লানের ব্যঙ্গচিত্রটি প্রকাশ করে মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে আয়লান কুর্দিকে নিয়ে দুটি বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ব্যঙ্গচিত্রে আয়লানের মুখ থুবড়ে পড়ে থাকার দৃশ্যটি এঁকে বলা হয়েছে, ‘ম্যাকডোনাল্ড হ্যাপি মিল- একটির মূল্যে দুটি শিশুর খাবারের মেন্যু’। এর টাইটেল দেয়া হয়েছে ‘তার লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি’। দ্বিতীয় ছবির টাইটেল দেয়া হয়েছে, ‘ইউরোপ যে খ্রিস্টানদের তার প্রমাণ’ আর তার সঙ্গে যুক্ত করা ব্যঙ্গচিত্রে দেখানো হয় ছোট্ট শিশুটি ডুবে যাচ্ছে। অন্যদিকে ‘যিশুর আদলে’ এক ব্যক্তি দাঁড়ানো। তিনি বলছেন, খ্রিস্টানরা, পানির ওপর দিয়ে হাঁট। আর মুসলিম শিশুরা, ডুবে যাও’। মরক্কো ওয়ার্ল্ড নিউজ জানায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শার্লি হেবদোর এ দুটি ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা চলছে। এ ধরনের পদক্ষেপকে ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে অনেক টুইটার ব্যবহারকারী।

পাশ্চাত্যে ইসলামভীতি by সাহাদত হোসেন খান

পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ইসলামকে ভীতির চোখে দেখা হচ্ছে এবং মুসলমানের প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রদর্শন করা হচ্ছে। ইংরেজিতে এ ভীতিকে বলা হচ্ছে ‘ইসলামোফোবিয়া’। শব্দটি ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা, বিদ্বেষ অথবা তাদের ভীতি বুঝাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলা থেকে ‘ইসলামোফোবিয়া’ শব্দটির ব্যাপক প্রচলন। কেউ বা বলছেন, পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষ দেশগুলোতে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে ইসলামোফোবিয়ার জন্ম হয়েছে। এমন একটি বর্ণবাদী ভীতি জন্ম নেয়ায় স্পষ্টত পৃথিবী উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট- এ দু’টি কৃত্রিম শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। পাশ্চাত্য সভ্যতা নিজেদেরকে উৎকৃষ্ট ও মুসলমানদের নিকৃষ্ট হিসেবে গণ্য করছে।
১৯৩০-এর দশকে যেভাবে অ্যান্টি-সেমেটিক বা ইহুদি-বিরোধী ভীতিকে নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে ব্যবহার করা হতো, স্নায়ুযুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে সেভাবে ইসলামোফোবিয়াকে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৯৪১ সালের ২১ নভেম্বর নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলারের সাথে ফিলিস্তিনি আরব নেতা, মুফতি আমিন আল-হুসাইনির সাক্ষাতের একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে। নাৎসিবাদের সাথে একাকার করে ফেলা হচ্ছে ইসলামকে এবং এ দু’টিকে সমান্তরাল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। নাৎসিবাদের সাথে ইসলামের সাদৃশ্য বুঝাতে এঁকে দেয়া হচ্ছে নাৎসি প্রতীক স্বস্তিকা চিহ্ন।
মেরিয়াম ওয়েবস্টার অভিধান অনুযায়ী ইসলামোফোবিয়া হলো বিশেষ কোনো বস্তু, বিশেষ কোনো শ্রেণী বা পরিস্থিতির ব্যাপারে অতিরঞ্জিত, ব্যাখ্যাতীত ও অযৌক্তিক ভীতি। এ ভীতির উৎস খুঁজে বের করা কঠিন হলেও এর অস্তিত্ব বিদ্যমান। বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন ভিন্নভাবে ইসলামোফোবিয়াকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি অতিরঞ্জিত ভীতি, ঘৃণা ও বৈরিতা বিরাজ করায় সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক জীবনে অংশগ্রহণ থেকে তাদের বঞ্চিত এবং কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে।
২০১১ সালের ১১-১৩ ডিসেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইউনাইটেড ন্যাশন্স অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশন (ইউএনএওসি) এবং এ সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, লিগ অব আরব স্টেটের চতুর্থ সম্মেলনে ইসলামোফোবিয়াকে একটি গভীর উদ্বেগের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, মার্কিন সরকার ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে ১৬০ জনের বেশি মুসলিম-আমেরিকান সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও অপরাধীকে চিহ্নিত করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর হাজার হাজার সন্ত্রাসী ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। সরকারি নির্যাতন এবং প্রচারণার জোরে সন্দেহভাজন মুসলিম-আমেরিকানরা জাতির মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
বামপন্থী ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা রানিমেড ট্রাস্ট ১৯৯৬ সালে সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার গর্ডন কোনওয়ের নেতৃত্বে মুসলিম অ্যান্ড ইসলামোফোবিয়া-বিষয়ক একটি কমিশন গঠন করেছিল। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে ‘ইসলামোফোবিয়া : অ্যা চ্যালেঞ্জ ফর আস অল’ শিরোনামে কমিশনের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা এবং ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ২০০৪ সালে রানিমেড ট্রাস্ট তাদের পরবর্তী রিপোর্ট প্রকাশ করে। দ্বিতীয় রিপোর্টে দেখা যায়, সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ব্রিটিশ মুসলমানদের জীবন দুরূহ হয়ে উঠেছে। প্রথম রিপোর্টের মুখবন্ধে বলা হয়, অষ্টাদশ শতাব্দী থেকেই ইউরোপীয় সমাজে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বৈরিতা বিদ্যমান ছিল। বিভিন্ন সময় এ বৈরিতা ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পঞ্চদশ শতাব্দীতে স্পেনে প্রদর্শিত বৈরিতার সাথে ক্রুসেডে প্রদর্শিত বৈরিতার মিল নেই। একইভাবে, অটোমান সাম্রাজ্যের সাথে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিবাদকালে প্রদর্শিত বৈরিতাও এক নয়। ১৯৬০-এর দশকে পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলোতে মুসলিম অভিবাসীর সংখ্যা দেড় কোটিতে উন্নীত হলে বৈরিতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। আরেকটি কারণ হলো, বিশ্বমঞ্চে তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর অধিক গুরুত্ব। দেশগুলোর বেশির ভাগই মুসলিম। আরেকটি কারণ হলো, মুসলিম দেশগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘন। চতুর্থ কারণটি হচ্ছে, মুসলিম দেশগুলোতে ইসলামি রাজনৈতিক দলের উত্থান।
কোথাও কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে বিনা প্রমাণে ইসলাম ও মুসলমানদের দায়ী করা হয়। জিহাদকে সন্ত্রাসবাদের উৎস হিসেবে রায় দেয়া হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত প্রতিটি মুসলিম গ্রুপ পাশ্চাত্যের এ ধারণার তীব্র বিরোধিতা করছে। তারা বলছেন, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের আগ্রাসী শক্তি ইসরাইলের প্রতি পাশ্চাত্যের সহানুভূতি থেকে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে এবং ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোনো সম্পর্ক নেই।
২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট জোহানেস ক্যান্ডেল ‘ইসলামোফোবিয়া-অন দ্য ক্যারিয়ার অব অ্যা কন্ট্রোভার্সিয়াল টার্ম’ শিরোনামে এক নিবন্ধে বলেছেন, ‘ইসলামোফোবিয়া’ হলো, একটি অস্পষ্ট শব্দ। শব্দটি মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রতিটি বোধগম্য ও কল্পিত কার্যকলাপে পরিব্যাপ্ত। ব্রিটিশ সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক ডগলাস মারে ‘ফরগেট ইসলামোফোবিয়া : লেট’স ট্যাকল ইসলামিজম’ শীর্ষক এক নিবন্ধে লিখেছেন, ইসলামোফোবিয়া শব্দটি এত অযথার্থ যে, এ সংজ্ঞার মধ্যে কুরআনসহ ইসলামের প্রতি অবমাননা এবং ক্ষতিসাধনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর মার্কসবাদী ওয়েবসাইট পলিটিক্যাল ডট নেটের সাথে সাক্ষাৎকারে ‘মেকিং মুসলিম দ্য এনিমি’ শিরোনামে বইয়ের লেখক, অধ্যাপক পিটার গোটচক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার আগেও ইসলামোফোবিয়ার অস্তিত্ব ছিল। আমরা আমেরিকান বিপ্লবের আগে আমেরিকায় ইসলামোফোবিয়ার প্রমাণ দেখতে পাই। মজার ব্যাপার হচ্ছে, স্পেনীয়রা আমেরিকায় তাদের উপনিবেশগুলোতে ক্রীতদাসপ্রথা চালু করার সময় কোনো আফ্রিকান মুসলিম দাস আছে কি না, সে ব্যাপারে প্রায়ই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠত। কেননা তারা আশঙ্কা করত যে, মুসলিম ক্রীতদাসরা সম্ভবত বিদ্রোহ করবে। তাদের অধীনে যেসব দাস ছিল তাদের তারা বলপূর্বক ‘মরো বনাম খ্রিষ্টান’ নামে একটি নাটকে অভিনয় করতে বাধ্য করত। এ নাটক মঞ্চস্থ করার মধ্য দিয়ে মরো মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেডিং খ্রিষ্টান বাহিনীর আইবেরীয় উপদ্বীপ পুনর্দখল (রিকনকুয়েস্টা) উদযাপন করা হতো। ইতঃপূর্বে আফ্রিকান মুসলমানেরা রাজনৈতিকভাবে আইবেরীয় উপদ্বীপে আধিপত্য করত। অধ্যাপক গোটচক আরো বলেন, ইসলামোফোবিয়াকে আমেরিকার আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির যৌক্তিকতা প্রমাণে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক কার্টুনিস্টরা ইসলামকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন অঙ্কন করছেন।
ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক করিনা বালাশ ক্যারের মতো কয়েকজন পণ্ডিত ইসলামোফোবিয়াকে এক ধরনের বর্ণবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং ২০০৭ সালে সোসিওলোজি জার্নালের এক নিবন্ধে ইসলামোফোবিয়াকে মুসলিম বিরোধী বর্ণবাদ এবং এশীয় ও আরব বিরোধী অব্যাহত বর্ণবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ব্রিটিশ শ্রমিক দলের রাজনীতিবিদ জন ডেনহ্যাম লন্ডনের দ্য টাইমসে ‘ফ্যাসিজিম ফিয়ার্স’ শিরোনামে এক নিবন্ধে আধুনিক ইসলামোফোবিয়া এবং ১৯৩০-এর দশকে বিদ্যমান ইহুদিবিরোধিতার মধ্যে একটি সাদৃশ্য অঙ্কনের চেষ্টা করেছেন। সাবেক সুইডিশ রাজনীতিবিদ মাউদ এলিজাবেথ ওলোফসন এবং লান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি ও রিলিজিয়াস স্টাডিজের এমিরিটাস অধ্যাপক জান হাজারপিও অনুরূপ চেষ্টা করেছেন। কেউ কেউ কল্পিত ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রিন্স আল-ওয়ালিদ ইসলামিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের গবেষণা সহযোগী জোসেলিন ক্যাসারি লিখেছেন যে, গবেষকেরা এখনো শব্দটির বৈধতা নিয়ে বিতর্ক করছেন এবং বর্ণবাদ, মুসলিমবিরোধিতা, ইসলামবিরোধিতা ও ইহুদিবিরোধিতার মতো শব্দগুলো কিভাবে ইসলামোফাবিয়া থেকে পৃথক, তা দেখানোর চেষ্টা করছেন। তুর্কি আন্ডার সেক্রেটারি বুরাক আরদেনির একটি গবেষণাধর্মী নিবন্ধে লিখেছেন: ‘সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের আর্বিভাবের সময় থেকে ইউরোপে মুসলমানদের উপস্থিতি ছিল। তিনটি পর্বে ইউরোপে মুসলমানদের আগমন ঘটেছে। আইবেরীয় উপদ্বীপে মুর সভ্যতা বা উত্তর আফ্রিকান মুসলিম বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপে প্রথম মুসলিম অভিবাসন ঘটেছিল। উত্তরাঞ্চলীয় স্লাভ অঞ্চলে তাতার মুসলমানেরা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলে দ্বিতীয়পর্যায়ের অভিবাসন ঘটে। অটোমান মুসলমানদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপে তৃতীয়পর্যায়ে মুসলিম অভিবাসন ঘটে। বিংশ শতাব্দীতে ইসলাম ইউরোপের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছে যায়। ক্রুসেড এবং ইউরোপে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ইউরোপীয় ও মুসলমানেরা একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে মুসলমান অভিবাসীরা চতুর্থ বৃহত্তম জনগোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মুসলমানেরা সাবেক উপনিবেশ ও অনুন্নত দেশগুলো থেকে মূলত অভিবাসী হিসেবে ইউরোপে অভিবাসন করে।
পরবর্তী দশকগুলোয় আন্তর্জাতিক যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ এবং নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতায় আরো বহু মুসলমান শরণার্থী হিসেবে ইউরোপে প্রবেশ করেছে। অভিবাসী, শ্রমিক, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ইউরোপে একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। এতে বিদ্যমান মুসলিমবিরোধী ভাবাবেগ তীব্রতর হয়ে ওঠে। কদাচিৎ তাদের ইউরোপের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। তাদের সমাজ ও শহরের ঘেটোতে কোণঠাসা করে রাখা হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউরোপীয়দের সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল সীমিত। ইরানের ইসলামি বিপ্লব, ধর্মবিদ্বেষী, ব্রিটিশ লেখক সালমান রুশদিকে হত্যার ফতোয়া, ফ্রান্সে হিজাব পরিধান নিয়ে বিরোধ, মাদ্রিদ ও লন্ডনের পাতাল ট্রেনে বোমা বিস্ফোরণ এবং ডেনমার্কে মহানবীর সা: কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলে ইউরোপে মুসলমানদের প্রতি ইতিবাচক ধারণার অবসান ঘটে। মুসলমানদের ভাবমূর্তি কথিত আগ্রাসীতে রূপান্তরিত হয়।
২০১১ সালের ১১ মার্চ ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্সে অ্যালান জনসন ‘দ্য আইডিয়া অব ইসলামোফোবিয়া’ শিরোনামে এক নিবন্ধে লিখেছেন, কখনো কখনো ইসলামোফোবিয়া ধর্মীয় মোড়কে বর্ণবাদ এবং বদ্ধমূল বিদ্বেষের চেয়ে বেশি কিছু হয়ে দেখা দেয়। উদাহরণ দিয়ে তিনি লিখেছেন, ২০০৬ সালে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এথনিসিটি অ্যান্ড কালচার স্টাডি সেন্টারের পরিচালক তাহির আব্বাস বলেছেন, যুক্তরাজ্যকে একটি লাগামহীন ইসলামোফোবিয়া গ্রাস করছে এবং মুসলমানদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে বিঘ্নিত, অস্থিতিশীল ও কার্যকরভাবে অপসারণে একটি ভূরাজনৈতিক অভিযান তাকে সহায়তা করছে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে আইনগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের জন্য যুক্তরাজ্যকে তিনি অভিযুক্ত করেন।

বিচারবর্হিভূত সব হত্যাকাণ্ডই অবৈধ : সুলাতানা কামাল

‘‘শুধু অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় নয়, যে সময়ই বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ঘটুক না কেন, সেটা অবৈধ৷'' আর অবৈধ এ সব হত্যাকাণ্ডকে দায়মুক্তি দিয়ে বিগত সরকার যে আইন করেছিল, এবার সেটাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করল হাইকোর্ট৷
২০০২ সালের ১৬ই অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনী, তৎকালীন বিডিআর, পুলিশ, আনসার ও বেসরকারি প্রশাসনের সহায়তায় যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়৷ তৎকালীন বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য এই অভিযানের নির্দেশ দেয়৷ পরে ২০০৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যৌথ অভিযানের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে আইন পাশ করে সরকার৷ এরপর গত রবিবার হাইকোর্ট ওই দায়মুক্তিকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে৷ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ডয়চে ভেলের মুখোমুখি হন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল৷
অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল
ডিডাব্লিউ : এর আগেও কি কখনও এই ধরনের দায়মুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে?
সুলতানা কামাল : বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরও একই ঘটনা ঘটেছিল৷ সেক্ষেত্রে হত্যাকারীদের দায়মুক্তি দেয়া হয়েছিল৷ পরে সেই দায়মুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করে আদালত৷ এরপর অবশ্য বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়৷ আর এক্ষেত্রেও ঐ একই ঘটনা ঘটেছে৷ এটা খুবই স্বাভাবিক যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আর দায়মুক্তি দেয়া যায় না৷ সেটা তো আইন বর্হিভূত, পাশাপাশি অসাংবিধানিকও বটে৷
উচ্চ আদালত সেই কাজটা করেছে৷ যার অর্থ, এখন ওই সময়কার ক্ষতিগ্রস্ত কেউ চাইলে বিচার চাইতে বা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা করতে পারেন৷
এখনো তো দেশে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে?
শুধু অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় নয়, যে কোনো বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডই অবৈধ৷ এখনো যেসব বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ঘটছে সেগুলোও অবৈধ৷ আমরা হাজার বার বলছি যে, বিচারবির্হভূত হত্যাকাণ্ড ঘটা উচিত নয়৷ এটা ঘটতে দেয়াও উচিত নয়৷ একটি গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে চলতে পারে না৷ এর একটা শেষ হওয়া উচিত৷ আমরা এর অব্যহত প্রতিবাদ করছি৷ আমার মতে, সরকারকে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এখানে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগও নেই৷

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল থেকে প্রতি বছর বিক্রি হচ্ছে হাজারো ‘যৌনদাসী’

বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল থেকে প্রতি বছর হাজারো নারীকে যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। এসব নারীর স্থান হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের ‘দাস-বাজার’ আর ‘যৌন কারাগারে’ নিপীড়নের শিকার হচ্ছে তাদের অনেকে। পাচারকারী এ চক্রের ট্রানজিট পয়েন্ট হলো নয়াদিল্লি, মুম্বই ও কলকাতা। ভারতের অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে ভয়াবহ এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে এয়ারলাইন্স ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। কয়েক মাস আগে ২৪ বছরের নেপালি যুবতী রিমাকে (ছদ্মনাম) তার পিতা-মাতা এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। তার গন্তব্য হতে চলেছিল মধ্যপ্রাচ্যের দাস বাজারে। ২৭শে জুলাই রিমা সহ আরও ছয় জনকে দুবাইগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার সময় আটক করা হয় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে। এ ঘটনার পর বিভিন্ন বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কগুলোকে মানব পাচারের বিষয়ে সতর্ক করে দেয়া হয়। পাচারকারী চক্রও এতে সতর্ক হয়ে নারীদের প্রথমে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মরক্কো ও ব্যাংকক পাঠাচ্ছে। পরে সেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ভিসা নিয়ে পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি অনেক বড় একটি পাচারকারী চক্রের তথ্য উঠে এসেছে। এতে সম্পৃক্ত রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়ার দুই কর্মকর্তা মনিষ গুপ্ত ও কপিল কুমার। তারা বোর্ডিং পাস ইস্যু করতো। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাই সফররত পাচারের শিকার ৭৬ নেপালি মেয়েকে উদ্ধার করে দিল্লি পুলিশ। এদিকে, ২রা সেপ্টেম্বর গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ দিল্লি পুলিশকে সতর্কবার্তায় জানায় যে, বাংলাদেশী মেয়েদের নয়াদিল্লি থেকে পাচার করা হচ্ছে। র’-এর ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘ভারতভিত্তিক ৩১শে আগস্টে এক চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের এক নারীবিষয়ক সহযোগীকে জানানো হয়েছে যে, সে নয়াদিল্লিতে প্রয়োজনীয় সব যোগাযোগ সম্পন্ন করেছে। এর মাধ্যমে সে বাংলাদেশীদের জন্য কুয়েত, সৌদি আরব ও দুবাইয়ের ভিসা নিতে সক্ষম হবে। পাচারকারীদের বড় একটি সক্রিয় চক্র নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো দিল্লি পুলিশ, ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন ও বিমানবন্দর কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, মে মাসে নেপালের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো দেশটির যেসব মেয়ে ও নারীকে সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের কাছে ‘যৌনদাসী’ হিসেবে পাচার করা হয়েছে সে সম্পর্কিত তথ্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দিয়েছে। নেপালের পুলিশ সংস্থাগুলো আরও জানিয়েছে যে, এসব নারীকে ভারতের মধ্য দিয়ে পাচার করা হচ্ছে; বিশেষ করে দিল্লি দিয়ে। রিমা ঘটনার পর বিস্তারিত তদন্তে আরও উঠে আসে যে, দিল্লিতে আরও নেপালি মেয়েদের আনা হয়েছে। তাদের মহিপালপুরে রাখা হয়েছে। পুলিশ ২৫শে জুলাই একটি অভিযান চালিয়ে নেপালি দুই এজেন্ট বিষ্ণু তামাং ও দয়া রামকে গ্রেপ্তার করে। উদ্ধার করা হয় ২১ জন নেপালি মেয়ে ও নারীকে। এদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের গন্তব্য ছিল দুবাই। গ্রেপ্তারকৃত এজেন্টরা জানিয়েছে, আগের দুই মাসে তারা ৭ শতাধিক নারীকে পাচার করেছে। আর জনপ্রতি তারা কমিশন পেয়েছে ৫ হাজার রুপি। গত বছর পুলিশ উদ্ধার করেছে ২৩৫ নারীকে। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ১৬০। এর মধ্যে নেপালি নারী ৪৩ জন। ২০১২ সালে দিল্লি পুলিশ উদ্ধার করেছে ১৮৫ নারীকে। এর মধ্যে ৪২ জন নেপালি। এ বছর পুলিশ দিল্লি থেকে আটক করেছে ৬২ মানবপাচারকারীকে। এর মধ্যে ৮ জন নারী। গত বছর আটক করেছে ১৯৯ জনকে।  এর মধ্যে ৩১ জনই নারী। ২০১৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৮৬ জন। এর মধ্যে ৪০ জনই নারী। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ পরিসংখ্যান বলে যে, দিল্লি পুলিশ গত দু’বছর পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ছিল নমনীয় অবস্থানে। দিল্লি পুলিশের একটি সূত্র বলেছেন, কোন মেয়ের বয়স ১৮ বছরের অধিক তা নির্ধারণ করা তাদের কাছে খুবই কঠিন বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাচারকারীরা নিরাপত্তা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে ফাঁকি দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন নতুন পন্থা উদ্ভাবন করছে। তাই কোন দেশ থেকে নারীদের পাচার করতে হলে তারা সরাসরি সেই দেশ থেকে পাচার করে না। প্রথমে তারা অন্য একটি দেশে কাজের টোপ দিয়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদেরকে পাচার করে। যেমন কাঠমান্ডু থেকে পশ্চিম আফ্রিকার কোন দেশে সরাসরি কোন ফ্লাইট নেই। আরও একটি তথ্য আছে। যেসব মেয়ে পাচার করা হয় উচ্চ মূল্যে তাদেরকে নেয়া হয় কাঠমান্ডু থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম মেলচি ও সিন্ধুপাল চক শহর থেকে। এসব স্থানের মেয়ের গায়ের রঙ ফর্সা থাকে। তাদের চেহারা সুন্দর হয়। ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের হাতে এসেছে এমন একটি প্রামাণ্য ডকুমেন্ট। ডকুমেন্টে দেখা গেছে, ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে উদ্ধার করা নারীদের মধ্যে নেপালি মেয়েই বেশি। ওদিকে ক্রমবর্ধমান হারে অপরাধ বাড়ছে উপজাতি প্রধান এলাকা ঝাড়খণ্ডের জুমলা, লোহারদাগা, খুন্তি ও সিমদেগায়। জলপাইগুঁড়ি, কুচবিহার, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশির ভাগ পাচারকারীর সঙ্গে রয়েছে হোটেলের সম্পর্ক।

লন্ডন গেলেন খালেদা জিয়া

চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে লন্ডন গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। গত রাত সাড়ে ৯টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের (ফ্লাইট নম্বর-৫৮৫) একটি বিমানে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি। আজ ভোরে হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছবেন বিরোধী জোটের এই শীর্ষ নেতা। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও যুক্তরাজ্য বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অভ্যর্থনা জানানোর কথা রয়েছে। এর আগে রাত ৮টা ১০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসা থেকে শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা গুলশান থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত তাকে এগিয়ে দেন। দলের তরফে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে, লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও জিয়া পরিবারের বড় ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান ও নাতনি জাইমা রহমান এবং ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান, দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ ৮ বছর পর পারিবারিক আবহে ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন খালেদা জিয়া। দেশের বাইরে এবারই সপরিবারে প্রথমবারের মতো ঈদ করছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত প্রায় ৮ বছর ধরে সপরিবারে লন্ডনে বসবাস করছেন তারেক রহমান। তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেও পরবর্তীতে আইনি জটিলতার কারণে ফেরা হয়নি। নির্দেশ সত্ত্বেও আদালতে হাজিরা না দেয়ায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এছাড়া, লন্ডনে পড়াশোনা করছেন তার মেয়ে জায়মা রহমান। এদিকে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই কন্যা লন্ডন যাওয়ার কথা রয়েছে। তারাও প্রায় ৮ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বাস করছেন। সম্প্রতি ও লেভেল পরীক্ষায় ভাল রেজাল্টের পর কোকোর বড় মেয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়া লন্ডনের অভিজাত এলাকা গ্রিন পার্কের রিডস হোটেল বা ক্যানারি ওয়ার্ফের হোটেল রেডিসনে উঠবেন। দুটি হোটেলেই পৃথক দুটি বুকিংসহ তার অন্যান্য সফরসূচির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল জানান, ব্যক্তিগত সফরে খালেদা জিয়া লন্ডন যাচ্ছেন। এ সফরের উদ্দেশ্য চোখ ও পায়ের চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো। ইতিমধ্যেই বেগম জিয়ার জন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেছেন তার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি নিজেই তার শাশুড়ির চিকিৎসার বিষয়ে সমন্বয় ও দেখভাল করবেন। সফর শেষে আগামী ১লা অক্টোবর তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এদিকে বিএনপি নেতারা জানান, খালেদা জিয়া লন্ডন যাওয়ায় বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের পদের দায়িত্বে থাকা নেতারা একযোগে বিদেশে অবস্থান করছেন। এতে দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো কোন শীর্ষ নেতা দেশে নেই। দুই সপ্তাহ লন্ডনে থাকবেন খালেদা জিয়া। তবে এই সময়ের মধ্যে দল পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে খালেদা জিয়া অনানুষ্ঠানিকভাবে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান এবং যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহানের সমন্বয়ে একটি টিম করে দল পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার জন্য বলেছেন খালেদা জিয়া। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে ফিরলে ওই টিমে তিনিও যুক্ত হবেন। ওদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে এবার সফর সঙ্গী হিসেবে নেই নেতারা। তার সঙ্গে গেছেন একজন একান্ত সচিব ও একজন গৃহকর্মী। তবে দলের একাধিক সূত্র জানায়, দেশ থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুকসহ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা লন্ডনে তার সঙ্গে যোগ দেবেন। এছাড়াও নিজস্ব উদ্যোগে দলের কয়েকজন নেতা একই ফ্লাইটে লন্ডন যাওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, লন্ডন সফরকালে খালেদা জিয়া চোখ ও পায়ের চিকিৎসা নেবেন। এ সফরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, দল পুনর্গঠন, পরবর্তী করণীয় ও নির্বাচন নিয়ে একান্তে কথা বলবেন বিএনপি শীর্ষ দুই নেতা। চূড়ান্ত করবেন আগাম নির্বাচনের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। গুরুত্বপূর্ণ এ সফরে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরকালে মিট দ্য প্রেস, প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নাগরিক সংবর্ধনা, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বৃটেনের মূলধারার কয়েকজন রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, বৃটিশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কয়েক কর্মকর্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে এগিয়ে দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাবেক মহিলা এমপি হেলেন জেরিন খান ও শাম্মী আকতারসহ বিএনপি ও অঙ্গ দলের নেতাকর্মীরা।

গণতন্ত্র দিবস পালিত: সুশীল সমাজকে জায়গা করে দেয়ার আহ্বান

বিশ্বজুড়ে পালিত হলো গণতন্ত্র দিবস। এ দিবস উপলক্ষে সারা বিশ্বে পালিত হয় বিভিন্ন কর্মসূচি। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য ‘স্পেস ফর সিভিল সোসাইটি’ বা ‘সুশীল সমাজকে জায়গা করে দিন’। বিবিসি বাংলার এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এমন সময়ে এই দিনটি পালন করা হয়েছে যখন বাংলাদেশে গত পৌনে দু’বছর ধরে দেশটির বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল সরকার প্রক্রিয়ার বাইরে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রওনক জাহান বিবিসিকে বলছেন, ‘এটাকে ঠিক তত ভাল গণতন্ত্র বলে মনে করা হচ্ছে না। অনেকদিন ধরে মান নিয়ে প্রশ্ন চলছিল। কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ কোন নির্বাচন যতদিন হচ্ছিল না, ততদিন নিম্নমানের হলেও এটাকে লোকে গণতন্ত্র বলেই দেখতো। কিন্তু ২০১৪’র পর থেকে যখন নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন আরম্ভ হলো এবং একটা একতরফা নির্বাচন হয়ে গেল তারপর থেকেই গণতান্ত্রিক যে অবস্থান সেটা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল নানা প্রশ্ন করে চলেছে’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বিবিসিকে বলেছেন- এখনকার অবস্থায় গণতন্ত্র নির্বাসিত বলেই আমি মনে করি। কারণ হলো, গত বছরের ৫ই জানুয়ারি যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, কোন ভোট না পেয়েও নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য হয়েছেন। সংবিধান অনুযায়ী এর ব্যাখ্যা কি হবে, এটা তার সাংবিধানিক ব্যাখ্যা কর্তারা দিক।  কিন্তু গণতন্ত্র- এ কথা বলতেও কষ্ট হয় আমার। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনের শাসন যে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিশ্চিত করার কথা, মনে হচ্ছে সেগুলোতে বড় ধরনের রাজনীতিকরণ ও দলীয়করণ করা হয়েছে। যার ফলে মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আমি মনে করছি দুর্বলতার দিকে যাচ্ছে।  বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, আমি মনে করি না যে, গণতন্ত্র ও নির্বাচন দুটি সমান। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে না- এটা আমি গ্রহণ করছি না এ অর্থে- আমি মনে করি গণতান্ত্রিক বোধ বাংলাদেশের মানুষের আছে। সরকার মানুষের প্রয়োজনের অংশগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। গণতন্ত্র মানে এই নয় যে, এখানে যথেচ্ছাচার হবে। ওদিকে বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী রবার্ট ওয়াটকিন্স তার এক নিবন্ধে লিখেছেন, নাগরিক সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ, যা তাদের পরিচয়ের মধ্যেই গ্রথিত রয়েছে। এসব সংগঠন কোন একক ও স্বতন্ত্র সত্তার প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং তা অনেক কণ্ঠের সমাবেশ, যা মতানৈক্যের সময় অভিন্ন প্রশ্নে সবাইকে এক জায়গায় মিলিত করে জাতিগত, ভাষাগত, ধর্মীয় এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পক্ষে মত দেয়। নাগরিক সমাজ জনগণের ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে,  যেখানে লোকজন বিভিন্ন মত, আলোচনা ও সংস্কারের কথা বলে, যা হতে পারে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সৃজনশীলতা ও সমাধানের উৎস। নাগরিক সমাজের প্রবণতাই হচ্ছে মাঝে মধ্যে বিদ্যমান অবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা, যা আরও উদার ও অংশীদারিত্বমূলক সমাজের দিকে ধাবিত হতে পারে। যার জন্য সমাজে শুধু ভিন্নমত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সহনশীলতাই নয়; অর্থবহ, ইতিবাচক সংলাপ ও বিতর্কের জন্য উদারতারও প্রয়োজন। শক্তিশালী নাগরিক সমাজ যুগপৎভাবে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত এবং এর পরিণতি। জাতিসংঘ মনে করে, নাগরিক সমাজকে কোন রকম বাধা-বিঘ্ন ছাড়া বিকশিত হতে দিলেই উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সবচেয়ে ভালোভাবে কার্যকর হয়। নাগরিক সমাজ, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগের বিষয়টি সত্যিকার অর্থে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে বাংলাদেশে। গতিশীল ও শক্তিশালী নাগরিক সমাজের কারণে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ছাত্র, কর্মী ও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নিয়ে গড়ে ওঠা ভাষা আন্দোলন, যা চূড়ান্ত পরিণতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছে, তার মধ্যেই এর উৎস খুঁজে পাওয়া যায়। সেটি ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষা, পরিবর্তনের পূর্বাভাস ও সুনিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের সত্যিকারের বহিঃপ্রকাশ। ক্ষুদ্রঋণ এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি সাহায্য সংস্থার জন্মস্থান হওয়ার মধ্য দিয়ে নাগরিক সমাজ স্বাধীনতার পর অব্যাহতভাবে বিকশিত হয়েছে। আজ বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ তার দেশজ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে দিয়েছে, যা দেশে দুই হাজারের বেশি জাতীয় নাগরিক সমাজ ও  বেসরকারি সংস্থা এবং এরচেয়ে বেশি সংখ্যায় সমাজভিত্তিক গোষ্ঠীকে নিয়ে সবার জন্য আরও উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। যখন বৈচিত্র্যময় ও বহুমতের কণ্ঠস্বরগুলো একটি অবাধ ও মুক্ত গণতন্ত্রে চলমান থাকে, তখন অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সেরা সহযোগী হিসেবে কাজ করে নাগরিক সমাজ। বাংলাদেশ যখন মধ্যম আয়ের দেশের অবস্থানে প্রবেশ করেছে, সে সময়টাতে দেশের সেরা ঐতিহ্যগুলোকে মনে করাটা সংগত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ যখন  দেশের জনগণকে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে বলে উদ্বিগ্ন, তখন সুস্থ মত ও চিন্তার চর্চা বিকাশের ধারা বজায় রাখতে যথাযথ পরিবেশ যাতে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আমাদের সবাইকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

মক্কায় ক্রেন দুর্ঘটনায় প্রত্যেক নিহতের জন্য ৬২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

মক্কা শরিফের মসজিদ আল হারামে ভয়াবহ ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১০৭ জনের পরিবারকে ৩২ মিলিয়ন সউদি রিয়াল ক্ষতিপূরণ দেবে সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানি। এতে প্রত্যেক পরিবার প্রায় ৬২ লাখ টাকা করে পাবে। মঙ্গলবার সৌদির আল-হায়াত পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সৌদি গেজেট। হারাম শরিফের সম্প্রসারণ প্রকল্পের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি এ টাকা পরিশোধ করবে।
একজন বিমা বিশেষজ্ঞ জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হতে পারে ৩২ মিলিয়ন সউদি রিয়াল। সেই হিসেবে প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পাবেন ৩ লক্ষ সৌদি রিয়াল।
ইন্স্যুরেন্স বিশেষজ্ঞ আদহাম জাদ আল হায়াতকে বলেন, সৌদি আরবে ভ্রমণকারীদের জন্য ন্যূনতম ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত বিমা ঝুঁকি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ক্ষেত্র বিশেষে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য বড় ধরনের আপদকালীন সময়ে তা বাড়ানো হয়।
বাদশা আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বিমা বিষয়ের অধ্যাপক আব্দুলিলাহ আল সাতি বলেন, বিমা কোম্পানিগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্পূর্ণ ঝুঁকি বহন করতে বাধ্য। সেই মোতাবেক এই দুর্যোগে নিহতের আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও আহতদের যাবতীয় ব্যয়ভার তাদের বহন করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে মক্কা শরিফের সম্প্রসারণ কাজে নিয়োজিত একটি ক্রেন ভেঙ্গে ছাদের উপর পড়লে ছাদ ধসে ১০৭ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় ২০০ জন। এ ঘটনায় একজন বাংলাদেশী নিহত ও ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।