Showing posts with label লক্ষ্মীপুর. Show all posts
Showing posts with label লক্ষ্মীপুর. Show all posts

Thursday, February 13, 2025

‘বইগুলো ব্যাগের ভেতরেই আছে, আমি আবার আসব’

‘ম্যাডাম আমার বইগুলো ব্যাগের ভেতরেই আছে। একটু যত্ন করে রাখবেন। আমি তো আবার ক্লাসে আসব।’

কথাগুলো চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম আক্তারের (১০)। কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস মরিয়মকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান। তখন সে তার শিক্ষককে এসব কথা বলে। ২২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মরিয়মের মৃত্যু হয়।

গত ২২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় মরিয়ম আক্তার ও রাফসি আহসান (১০)। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মরিয়মের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসকেরা। অপর আহত তৃতীয় শ্রেণির রাফসির এক হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। সে বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস দাবি করেন, ‘ছাদে সব সময় তালা দেওয়া থাকে। কে বা কারা তালা খুলে দিয়েছে, তা দেখেননি তিনি। অসাবধানতাবশত পল্লি বিদ্যুতের খোলা লাইনে লেগে দুই শিক্ষার্থী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।

মরিয়ম আক্তার তার মামাবাড়িতে থাকত। তার মামা আবদুর রহমান জানান, ‘বিদ্যালয় ঘেঁষে ৪৪ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার রয়েছে। এ কারণে পুরো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে আমার ভাগনিকে জীবন দিতে হয়েছে।’

অপর শিক্ষার্থী রাফসি আহসানের অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে তার বাবা মো. রনি জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসক চেষ্টা করছেন তাকে সুস্থ করে তুলতে। রাফসির ডান হাত কেটে ফেলা হয়েছে। দুটি পা কেটে ফেলা হবে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. শফিউল আলম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনায় ঢাকা থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত টিম এসেছে। বিষয়টি এখনো তদন্ত চলছে। অনেক বছর আগে বিদ্যালয়ের ভবনের পেছন দিয়ে বিদ্যুতের লাইনটি নির্মিত হয়েছে। এ কারণে এটি আমাদের নজর এড়িয়ে যায়।’

স্কুলের ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মরিয়ম আক্তার ২২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানল
স্কুলের ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মরিয়ম আক্তার ২২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানল। ছবি: সংগৃহীত

Friday, November 8, 2024

জেলে থেকে শত কোটি টাকার মালিক আলমগীর

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদ ও চররমনী মোহন ইউপি’র সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি নিজ দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। জমি দখল, ঘাট দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, মামলাই ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে নেমে আসতো নির্মম নির্যাতন। তার ভয়ে আতঙ্কিত চররমনী মোহন ও মজুচৌধুরীহাটসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা। তার বিরুদ্ধে সদরসহ বিভিন্ন থানায় নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া ৪ঠা আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়ে চার শিক্ষার্থী নিহত ও তিনশ’র বেশি গুলিবিদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এরপর ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে চলে যায় আলমগীর হোসেন। তার রয়েছে লক্ষ্মীপুর শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বহুতল বাড়ি ও কয়েক একর জমি। চর মেঘাতে সরকারি কয়েকশ’ একর খাস জমি দখল করে ৫শ’র বেশি মহিষ লালন-পালন করছেন। এ ছাড়া মজুচৌধুরীরহাটে রয়েছে বালু মহল। বর্তমানে শত কোটি টাকার মালিক বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মজুচৌধুরীরহাট এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, জেলা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য এবং চররমনী মোহন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতেন আলমগীর হোসেন। এই সুবাদে সরকারি খাস জমি দখল ও ঘাট দখল বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও অবৈধভাবে বালুমহল দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক এখন। শহরের গোহাটা সড়কে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় ৫ তলা বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া কয়েক একর জমি ও বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্লট রয়েছে তার।
মেঘনা বেষ্টিত জেলা লক্ষ্মীপুর। জেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষি কাজ ও নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর এসব অসহায় মানুষদের শাসন ও শোষন করে চরাঞ্চলের এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা। এসব প্রভাবশালীর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন মেম্বার ওরফে আলমগীর। তার নেতৃত্বে রয়েছে বিশাল এক লাঠিয়াল বাহিনী। এই লাঠিয়াল বাহিনীর চাঁদাবাজি, জমিদখল ও ঘাট দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ চরাঞ্চলের জেলে থেকে শুরু করে সব শ্রেণির-পেশার লোকজন। আলমগীর মেম্বারের জন্মস্থান ভোলার সাবাসপুর হলেও স্বাধীনতার পর  চররমনী মোহন এলাকায় এসে রাজত্ব শুরু করে। এরপর থেকে আলমগীর হোসেন আর পিছনে ফিরতে হয়নি। এক সময় নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন শতকোটি টাকার মালিক। কীভাবে এত টাকার মালিক, এটাই এখন প্রশ্ন স্থানীয়দের। তার সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা।
অনেকটা টানা-পড়েনের সংসার ছিল তার। স্থানীয়দের মতে, রাজনীতির মাধ্যমেই আয় তার শত কোটি টাকা। তবে রাজনীতিবিদ হিসেবে খুব একটা জনপ্রিয় ছিলেন না আলমগীর। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও না পেয়ে দুইবার চররমনী মোহন ইউনিয়নে আবু ইউসুফ ছৈয়ালের সঙ্গে চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন। সেই ভোটে বিপুল ব্যবধানে হেরে যান তিনি। ওই সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আলমগীর। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি নয়নের আশির্বাদ পুষ্ট আলমগীর দুইবার জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদসহ জেলে পল্লীতে যত অনিয়ম তার হাত ধরেই শুরু হয়।
আলমগীর মেম্বারের লক্ষ্মীপুরে আগমন: আলমগীর মেম্বারের মূল বাড়ি ভোলার সাহাবাসপুর এলাকায়। তার পিতা নুরুল্লাহ মিয়া জেলে ছিলেন। বাবার সঙ্গে জেলের কাজ করতেন আলমগীর। মেঘনার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে স্বাধীনতার পরপরই সপরিবার চলে আসেন লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার মজুচৌধুরীরহাট এলাকায়। ঘাঁটি করেন চররমনী মোহন এলাকার  ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। তার বাবা নুরুল্লাহ মিয়া দুই বিয়ে করেন। তারা চার ভাই পাঁচ বোন। আলমগীর মেম্বার পরের ঘরের সন্তান। আলমগীর মেম্বারের পরিবারের সিন্ডিকেটে রয়েছে ভাতিজা হুমায়ূন কবির, ইউসুফ হোসেন জাবেদ, ভাগিনা ইউপি সদস্য মাদক ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম, ভাই বারেক মিয়া। বারেক মিয়ার ছেলে হত্যা মামলার আসামি শাকিল। সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারি খাল দখল, বেড়িবাঁধ দখল, মাছ ঘাট দখল, বালু মহল দখল, মাদক ব্যবসাসহ সকল অপকর্ম তাদের নিত্যদিনের ব্যবসা।
মজুচৌধুরীরহাট এলাকার বাসিন্দা আবদুল আজিজ বলেন, আলমগীর হোসেন মেম্বার ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। চর মেঘায় সরকারি কয়েকশ’ একর জমি দখল করে মহিষ লালন-পালন করছেন। কয়েক মাস আগে ইউপি সদস্য মনির হোসেন বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। অর্থাৎ মাদক ব্যবসা, বালু মহল ও লঞ্চ ও ফেরিঘাট নিয়ন্ত্রণ করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
চররমনী মোহন এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, আলমগীর ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারে চররমনী মোহন এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। তার কথামতো না চললে দেয়া হতো মামলা ও নির্যাতন। পাশাপাশি তার আত্মীয়স্বজনরা জমি দখল, ঘাট দখল ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে দোকান-পাট গড়ে তুলে বিক্রি করতেন। পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী বলেন, এই ওয়ার্ডে আলমগীর মেম্বার জমি কিনে পাঁচতলা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। অথচ এই আলমগীর ছিলেন এক সময়ে ইউপি মেম্বার ও মজুচৌধুরীরহাট ঘাট এলাকার আতঙ্ক। আওয়ামী লীগ করে গত ১৭ বছরে হয়েছেন শতকোটি টাকার মালিক।
তবে এসব বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে এডভোকেট হাসানুজ্জামান বলেন, রাজনীতির প্রতিহিংসার কারণে অনেকেই নানান কথা বলছেন। এ ছাড়া ব্যাংক লোন নিয়ে বহুতল বাড়ি নির্মাণ করছে বাবা। এখনো অনেক টাকা দেনা রয়েছে। বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে ষড়যন্ত্রের শিকার।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল মোন্নাফ বলেন, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
পুলিশ সুপার মো. আকতার হোসেন বলেন, অন্যায়কারী যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন? আইনের কাছে সে অপরাধী। আইনের অধীনে প্রত্যেক অপরাধীর বিচার হবে। এ ছাড়া আলমগীর মেম্বারসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

mzamin

Saturday, October 26, 2024

গণহত্যার জন্য আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আল্লামা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেছেন, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধে প্রমাণ করে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেশে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অধিকার নেই। দেশে গণহত্যা ও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। এটাই এখন মানুষের দাবি। গতকাল দুুপুরে শহরের এন. আহাম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে খেলাফত মজলিসের গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখনো ষড়যন্ত্র শেষ হয়নি। ষড়যন্ত্র চলছে। তাই সামনের দিনগুলোতে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। নয় তো যে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে, সেটা ছিনতাই হতে পারে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মহান বিজয় কয়েকমাসের মধ্যে ছিনতাই করে নিয়েছে ভিনদেশি একটি রাষ্ট্র। বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং এই দেশের ৭ কোটি মানুষের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে ভিনদেশি আরেকটি রাষ্ট্রের সংবিধানের মূলনীতিগুলো কলমের খোঁচায় একটি প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের একটি নতুন চেতনা তৈরি করা হয়েছে। এর চেয়ে দুঃখের বিষয় হলো ১৯৭২ সালের চেতনাকে সবসময় বাংলাদেশের মানুষের কাছে ৭১ সালের চেতনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এইভাবে ৭২ সালের চেতনার মাধ্যমে ৭১ সালের চেতনাকে ছিনতাই করা হয়েছে। গত ৫০ বছর ধরে খুনি হাসিনা নিজ দলের নেতাকর্মী ও দেশের মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর গণহারে যেভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে, এটা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না। শুধুমাত্র ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বছরের পর বছর হত্যা, গুম ও খুন নির্যাতন চালিয়েছে স্বৈরাচার হাসিনা। কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেনি। এদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ভারতে। ভারত কীভাবে হাজার হাজার মানুষ খুনের আসামি শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে- এটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ভারতের প্রশ্রয়ে শেখ হাসিনা সেখানে বসে দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ বানাতে পাঁয়তারা করছে। কিন্তু দেশের মানুষ কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না। অনতিবিলম্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে খুনি শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের দেশে এনে বিচার করতে হবেই হবে।

খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে এ সময় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদে, তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, আতাউল্যাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান হেলাল, মো. ফয়সালসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা-উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

mzamin

Tuesday, October 15, 2024

লক্ষ্মীপুরে ফিলিং স্টেশনে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, নিহত ৩

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের মুক্তিগঞ্জ এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে বাসে গ্যাস নেয়ার সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। রোববার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সদর উপজেলার চরমনসার বটুমিয়ার ছেলে সুমন হোসেন (৩০), বাঞ্চানগর এলাকার সুজামিয়ার ছেলে মো. ইউসুফ মিয়া (৪৫) ও হৃদয় হোসেন (২৩)। তারা সবাই সিএনজি চালক।

বিস্ফোরণে সুমন হোসেন, রকি ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন, সিরাজ মিয়া, হৃদয় ইসলাম, শান্ত খান ও আবদুল মালেকসহ ২০ জন অগ্নিদগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতরা বাস ও সিএনজির চালক বলে জানান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আল আমিন।

ফিলিং স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত পৌনে ২টার দিকে মেঘনা পরিবহন নামে একটি বাস গ্রীনলাইফ ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে আসে। বাসে গ্যাস ভরার সময় হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এতে চারদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেলে স্টেশনে থাকা সিএনজি চালকরা ছোটাছুটি শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে সিএনজির তিন চালক মারা যান। আহত হন আরো ২০জন।

সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে তিনজন মারা গিয়েছেন। গুরুতর আহত হন ২০ জন। আহতদের মধ্যে কারো পা, কারো হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার বলেন, ‘গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ জন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাসের গ্যাস সিলিন্ডারটি মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নিম্নমানের হওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি।

mzamin

Friday, August 23, 2024

লক্ষ্মীপুরে নয়নের শাসন by মারুফ কিবরিয়া ও মো. ইউসুফ

লক্ষ্মীপুর মানেই আবু তাহের পরিবার। গত কয়েক বছর আগেও এই অঞ্চলে ত্রাসের নাম ছিল পরিবারটি। পৌরসভার মেয়রের চেয়ার হারানোর পর কিছুটা হোঁচট খায় এ পরিবার। পরে আবার নিজেদের রাজনৈতিক শক্তির জানান দেন তাহেরের ছেলেরা। যদিও লক্ষ্মীপুর-২ আসনে নাটকীয় উত্থান হয় সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের। কেউ বলেন সম্রাট, কেউ বলেন বাদশা। অল্প সময়েই নয়ন হয়ে ওঠেন লক্ষ্মীপুরের নিয়ন্ত্রক। শহরে প্রচলিত, মূলত সাবেক এমপি কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলের পতনেই ভাগ্য খুলে যায় নয়নের। এমপি’র আসনে বসেই লক্ষ্মীপুরে একাধারে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি। আর এসব কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন নিজের আত্মীয়দের।

স্থানীয়দের মতে, সাবেক এমপি’র অনিয়ম দুর্নীতি অনেকটা মাল্টি লেভেল মার্কেটিং ব্যবসার মতো। নিজে মূল নিয়ন্ত্রক থেকে পরিবার আত্মীয়স্বজনদের উপজেলা ইউনিয়নের বিভিন্ন পদে বসিয়ে রাজত্ব কায়েম করেছেন। নুর উদ্দিন নয়নের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ সালে লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনের ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ততা রয়েছে তার। খুনের ঘটনায় মূল আসামি আবুল কাশেম জিহাদীর সঙ্গে এক সপ্তাহ আগেই বৈঠক হয় সাবেক এই এমপি’র।  তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

যেভাবে উত্থান নয়নের: লক্ষ্মীপুরের জেলা উপজেলায় বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। বাবা ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অনেকটা টানাপড়েনের সংসার বলা চলে। নয়ন নিজে আইনজীবী হলেও স্থানীয়দের মতে, রাজনীতির মাধ্যমেই আয় করেছেন শত কোটি টাকা। তবে রাজনীতিবিদ হিসেবে খুব একটা জনপ্রিয় ছিলেন না তিনি। ২০০৯ সালে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়েছিলেন নয়ন। সেই ভোটে বিপুল ব্যবধানে হেরে যান। ওই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন নয়ন। পরবর্তীতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। এই সময়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় যত অনিয়ম তার হাত ধরেই শুরু হতে থাকে। নিয়োগ বাণিজ্য, দলীয় পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মতো বড় ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যবসায়ী কাজী সহিদ ইসলাম পাপুলের উদয় হয়। তিনি কোনো রাজনীতিক ছিলেন না। তখন পাপুলকে প্রার্থী করা ও সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে ছিলেন এই নয়নই। স্থানীয় একাধিক রাজনীতিবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পাপুলকে রাজনীতিতে আনা ও এমপি বানিয়ে তার কাছ থেকে নয়ন কমপক্ষে দুইশ’ কোটি টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে পাপুল কুয়েতে মানব পাচারের মামলায় ফেঁসে গেলে সেই নয়নই আবার এমপি হন।
নিয়োগ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি: লক্ষ্মীপুর জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি নিয়োগে মোটা অংকের কমিশন না পেলে কারও চাকরি হতো না। সেই কমিশন দেয়া লাগতো নয়নকে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই তার এই নিয়োগ বাণিজ্যের কাজটি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক বলেন, আমার নিয়োগের জন্য ৭ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এ রকম আমার সঙ্গে আরও কয়েকজনকে দিতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, যেকোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন কমিশন নিতেন।
নিয়োগের বাইরেও সড়কে চাঁদার টাকার বড় অংশ যেতো নয়নের কোষাগারে। লক্ষ্মীপুর শহরে যত সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে সবক’টি তার নিয়ন্ত্রণে। পরিবহনের এই খাতে নয়নের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন কুলি চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। এই চৌধুরীর ছেলে বর্তমান লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রকি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়,  জেলায় প্রায় ১০ হাজারের মতো সিএনজি চলাচল করে। এসব সিএনজির প্রতিটি সড়কে নামানোর আগে সাড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দেয়া লাগতো চৌধুরীকে। এ ছাড়া প্রতিমাসে একেকটি সিএনজি বাবদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা চাঁদা আসতো। এই খাত থেকে বছরে অন্তত ২০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হতো যার বেশিরভাগ অংশ যেতো এমপি নয়নের কাছে।
মনোনয়ন বাণিজ্য: নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের আয়ের বড় একটি উৎস মনোনয়ন বাণিজ্য। লক্ষ্মীপুর জেলায় কোন ইউনিয়নে কে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন, কোন উপজেলায় কে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন সব নির্ধারণ করতেন সাবেক এই এমপি। তার ইশারা ছাড়া কোনো প্রার্থীই মনোনয়ন পাবেন না। ইউপি কিংবা উপজেলায় নৌকা প্রতীক পেতে হলে নয়নকে দিতে হবে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা। কারও কারও ক্ষেত্রে কম বা বেশিও নেয়া হতো। ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় রায়পুরের দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আবদুর রশিদ মোল্লা। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু টাকা দিয়েও মেলেনি নৌকা। পরে রশিদ মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। তিনি মানবজমিনকে বলেন, টাকা দেইনি বলে মনোনয়ন পাইনি। কাকে টাকা দেননি জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে যান তিনি। তবে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রশিদ মোল্লা সাবেক এমপি নয়নকে ৪০ লাখ টাকা দেন নৌকা প্রতীকের জন্য। কিন্তু নয়ন সেই ইউনিয়নে অন্য এক প্রার্থীকে বেশি টাকা নিয়ে মনোনয়নের ব্যবস্থা করে দেন। উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন শহীদ উল্লাহ বিএসসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি এমপি নয়নেরই আত্মীয়। কিন্তু টাকা দিয়েও মনোনয়ন পাননি। এ বিষয়ে শহীদ উল্লাহ বলেন, আমার কাছে কেউ টাকা চায়নি। আমি এসব কিছু জানি না।  
নয়নের ডান হাত বাকি বিল্লাহ: সাবেক এমপি নুর উদ্দিন নয়নের ডান হাত ছিলেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকি বিল্লাহ। রায়পুর শহরে একটি জলসাঘরে নিয়মিত আসর বসাতেন। এই আসরে ঠিকাদারির নিয়ন্ত্রণ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের চাঁদা, থানার সালিশ বাণিজ্য, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরে চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করা হতো। এসবের নেতৃত্ব দিতেন বাকি বিল্লাহ। রায়পুর থেকে আদায় করা চাঁদার টাকার বড় অংশ যেতো নুর উদ্দিন নয়নের কোষাগারে। রায়পুর পৌরসভায় সাইফুদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীর ৫টি দোকান ছিল। সেই দোকানগুলো দখলে নেন বাকি বিল্লাহ। সেখানেই  সাজানো হয় জলসাঘর। সাইফুদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, বাকি বিল্লাহ আমার দোকান দখল করে জলসাঘর সাজিয়েছিল। এখানে বসে রায়পুরের সব কুকীর্তির পরিকল্পনা করতো সে। আমাকেও মারধর করেছে। আমার পরিবারের ওপরও নির্যাতন করেছে। এসব নিয়ে আমি মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। শুনেছি এমপি’র ইন্ধনে এসব অপকর্ম করে বেড়াতো তারা।

আত্মীয়ের সিন্ডিকেট এবং সঙ্গী তাহের পরিবার:
লক্ষ্মীপুরের সাবেক ও প্রয়াত পৌর মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। এক সময় তার ইশারাতেই চলতো পুরো লক্ষ্মীপুর। সবশেষ পৌরসভার নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি তাহের। তার বছর দেড়েকের মাথায় মৃত্যু হয় তার। এরপর লক্ষ্মীপুরের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই চলে যায় নুর উদ্দিন নয়নের হাতে। তবে তাহের পরিবার তার আত্মীয় হওয়ায় সেই পরিবারকে হাতে রাখেন সাবেক এমপি। জানা যায়, আবু তাহেরের মেজো ছেলে সদ্য অপসারিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান  ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম সালাউদ্দিন টিপু। তিনি সাবেক এমপি’র মামাতো বোনের জামাই। সদর উপজেলায় যত চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য সবই নিয়ন্ত্রণে রাখেন টিপু। অস্ত্রও সঙ্গে রাখতেন তিনি। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর নির্বিচারে গুলি করার ভিডিও চিত্র ধরা পড়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের ক্যামেরায়। জানা যায়, ৪ঠা আগস্ট টিপু ও তার সঙ্গীদের গুলিতেই নিহত হন অন্তত ৪ জন। এ ছাড়া ৪শ’র বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওইদিন তার দুই বাড়িতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধরা। এ সময় টিপুর ৭ সহযোগী গণপিটুতে নিহত হয়।
নয়নের ভগ্নিপতি রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলার অপসারিত চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ ও তার মামা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চররুহিতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর পাটোয়ারী। এ ছাড়া রায়পুরের সোনাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিউল আজম চৌধুরী সুমন সাবেক এমপি’র শ্যালক। এই ৩ আত্মীয়ের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে যত চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ সব ধরনের অনিয়ম কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন নয়ন। বিভিন্ন স্তরে দলীয় পদ ব্যবহারের মাধ্যমে অনিয়মের মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন সাবেক এমপি’র আত্মীয়রাও।
শুধু তাই নয়, নয়নের স্ত্রী লুবনা চৌধুরীও ছিলেন এই লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য আতঙ্কের নাম। স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্থানীয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ বাগিয়ে নিতেন। ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন লুবনা।
সরকার পতনের পর আত্মগোপনে যাওয়া নুর উদ্দিন তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রেখেছেন। এ কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Wednesday, March 18, 2020

মতিরহাটে মেঘনার পাড়ে সৈকতের আমেজ by জুনাইদ আল হাবিব

মতিরহাটে মেঘনার অপরূপ দৃশ্য
চোখজুড়ানো বিশাল জলরাশি। ওপরে উন্মুক্ত আকাশের ভিন্ন ভিন্ন দৃশ্যপটে নিচে নদীর রঙ বদলায়। কূলে দাঁড়িয়ে এমন মোহনীয় মুহূর্ত ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বেশ উপভোগ্য। বিকেলে মেঘনার জলে সূর্যের বিকিরণ দেখলে মনে পড়ে যায় কুয়াকাটা সৈকতে সূর্যাস্তের দৃশ্য।
এ এক অনিন্দ্যসুন্দর চিত্র। দক্ষিণাঞ্চলের পূর্ব উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে কমলনগরের ঐতিহ্যবাহী বড় বাজার মতিরহাটে সৈকতের আমেজ পেতে প্রতিদিন সমবেত হন অনেকে। লোকমুখে জায়গাটি ‘মতিরহাট মেঘনা সৈকত’ নামে পরিচিত। অনেকে এর নাম দিয়েছেন ‘মিনি কক্সবাজার’।
দিনভর নদীর বুক চিরে আসা ঢেউ আছড়ে পড়ে তীরে। সেই জলে পা ভিজিয়ে হাঁটেন ভ্রমণপিপাসুরা। অনেকে নৌকায় চড়ে ঢেউয়ের তালে তালে মেতে ওঠেন ভ্রমণের আনন্দে। ভাসতে ভাসতে তাদের চোখে পড়ে রূপালি ইলিশ শিকারে ব্যস্ত একদল জেলেকে।
মতিরহাটে মেঘনার তীরে ভ্রমণপ্রেমীরা
মতিরহাটে মেঘনার তীরে ভ্রমণপ্রেমীরা
প্রায় একযুগ আগেও এখানে চলছিল মেঘনার ভয়াবহ ভাঙন। এ কারণে বাজার রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। ফলে ভাঙন থেমে দক্ষিণে প্রায় আধ কিলোমিটার ও উত্তরে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিশাল বেলাভূমি সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এই জায়গা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
শুধু বেলাভূমি নয়, মতিরহাটে নির্মাণ করা বেড়িবাঁধে দাঁড়ালে মেঘনার স্বচ্ছ জল মনকে সিক্ত করে দেয়। যতদূর চোখ যাবে, কেবল মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশি চোখে পড়ে। জাহাজ, লঞ্চ, ফেরির মতো নৌ-যান নিয়মিত চলাচল করে এর বুকে।
মতিরহাটে মেঘনার অপরূপ দৃশ্য
মতিরহাটে মেঘনার অপরূপ দৃশ্য
মতিরহাটে মেঘনার পাড়ে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের দারুণ সময় হলো বিকেলবেলা। এ সময় মতিরহাটে আনন্দ উপভোগ করতে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। তখন যদি নদীতে ভাটা থাকে তাহলে তো কথাই নেই! ভ্রমণপ্রেমীরা হারিয়ে যান প্রকৃতির রূপে। 
দুপুরে এসে দাবদাহ এড়াতে অনেকে মেঘনায় নেমে পড়েন গোসলে। কেউ কেউ নদীর জলে লাফ দিয়ে আনন্দ খোঁজেন। নদীর পাড়ে বসে গানের সুর তোলার দৃশ্যও চোখে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেগুলো লাইভে দেখান ঘুরতে আসা মানুষেরা। পেছনে নদীর জল রেখে সেলফি আর ছবি তোলা তো চলেই।
মতিরহাটে মেঘনার অপরূপ দৃশ্য
মতিরহাটে মেঘনার অপরূপ দৃশ্য
নদীর তীরে সুবিশাল নারিকেল ও সুপারি বাগান আর ইলিশ বেচাকেনার দৃশ্য অন্যরকম। এছাড়া মতিরহাট বেলাভূমির অদূরে মেঘনার বুকে জেগে ওঠা চর দেখা যায় অনায়াসে। সব মিলিয়ে শহরের যান্ত্রিকতার বিপরীতে প্রকৃতির অপরূপ সান্নিধ্যে প্রশান্তি মেলে এখানে।
ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসবে অথবা শুক্রবারসহ ছুটির দিনের বিকেলে মতিরহাটে থাকে উপচেপড়া ভিড়। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশেপাশের জেলা থেকে ভ্রমণপিপাসুরা সিএনজি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য যানবাহনে চড়ে মতিরহাটে ঘুরতে আসেন।
মতিরহাটে মেঘনার তীরে ভ্রমণপ্রেমীরা
মতিরহাটে মেঘনার তীরে ভ্রমণপ্রেমীরা
যেভাবে আসবেন
ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে চাঁদপুর আসতে হবে প্রথমে। এরপর লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের ঝুমুর ইলিশ স্কয়ার। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সড়কপথে ঝুমুরে এসে সেখান থেকে লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়ক বাস অথবা সিএনজিতে তোরাবগঞ্জ যেতে হবে। তারপর মতিরহাট সড়কে সিএনজি করে মেঘনার পাড়ে বেলাভূমিতে চলে আসুন।
চট্টগ্রাম থেকে লক্ষ্মীপুরের যেকোনও গাড়িতে একইভাবে মতিরহাট আসা যাবে। বন্দরনগরীতেও লঞ্চ আছে। ভোলা ও বরিশাল থেকে লঞ্চে মতিরহাট আসা যায়। তবে ফেরি দিয়ে কেবল ভোলা থেকে আসতে পারেন ভ্রমণপিপাসুরা। এক্ষেত্রে সড়কপথের সুবিধা নেই।
যেখানে থাকবেন
দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য মতিরহাটে কোনও রিসোর্ট কিংবা হোটেল গড়ে ওঠেনি। তবে জেলা শহরে উন্নতমানের বেশকিছু গেস্ট হাউজ রয়েছে। কেউ চাইলে এগুলোতে থাকতে পারেন।
>>>ছবি: লেখক

Tuesday, November 12, 2019

ভ্রমণপিপাসুদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চর শামছুদ্দিন by জুনাইদ আল হাবিব

মেঘনার বুক চিরে জেগে ওঠা লক্ষ্মীপুরের রমণীমোহন দ্বীপের একটি অংশে ভ্রমণপিপাসুদের সমাগম দেখা যায়। এটাই চর শামছুদ্দিন। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে চেপে এখানকার নয়নাভিরাম প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি ভ্রমণপিপাসুরা দ্বীপের মানুষের জীবন ও রাখালের গরু-মহিষের বাথান চরানোর দৃশ্য উপভোগ করেন।
প্রায় দুই দশক আগে মেঘনার বুকে চরটি জেগে ওঠে। দ্বীপের খুব কাছেই জেলার কমলনগরের চর কালকিনির একটি গ্রামের নাম থেকে চর শামছুদ্দিনের নামকরণ হয়। মতিরহাটের কাছেই অবস্থিত বলে এটি ‘মতিরহাটের চর’ নামেই লোকমুখে পরিচিত।
চর শামছুদ্দিন
ঈদ কিংবা বিভিন্ন উৎসব ছাড়াও এই দ্বীপে বিভিন্ন সময়ে পর্যটকদের পদচারণা লক্ষ্য করা যায়। দ্বীপে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির দেখা মেলে। বর্ষায় দ্বীপের প্রকৃতি হয়ে ওঠে অনিন্দ্যসুন্দর। তাই এ সময়টা বেশি উপভোগ্য। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রধান প্রফেসর মাহবুবে এলাহি সানি বলেন, ‘দ্বীপটিতে আমার বেশ কয়েকবারই যাওয়া হয়েছে। শুধু লক্ষ্মীপুর নয়, বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে এটি ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম তীর্থস্থান বলা চলে।’
ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে চর শামছুদ্দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে দ্বীপের এপারে অর্থাৎ মতিরহাট মেঘনাতীরের ভূমিকা রয়েছে। বিশাল বেলাভূমি নিয়ে সৃষ্ট মতিরহাটে ঘুরতে জেলা ও বাইরে থেকে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুর উপস্থিতি চোখে পড়ে। এখান থেকে চর শামছুদ্দিনে পৌঁছাতে লাগে মাত্র ৫-১০ মিনিট। ফলে মতিরহাট মেঘনাতীরে ঘুরতে আসা বেশিরভাগ মানুষ দ্বীপের সৌন্দর্য দেখতে যান। মতিরহাট খেয়াঘাট থেকে দ্বীপে আসা-যাওয়ার খরচ জনপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা। দলবেঁধে গেলে রিজার্ভে ট্রলার ভাড়া নেওয়া যায়।
চর শামছুদ্দিন
শুরুতে এখানে মানুষের তেমন বসতি ছিল না। চারদিক থাকতো মরুভূমির মতো। বর্তমানে এই চরে ২৫টি পরিবারের চার শতাধিকেরও বেশি মানুষের বসবাস। বিভিন্ন স্থান থেকে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখানে বসতি স্থাপন করেছেন তারা। তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা দেড় শতাধিক।
দ্বীপে এখনও কোনও মসজিদ-মাদ্রাসা কিংবা স্কুল গড়ে ওঠেনি। বিশুদ্ধ পানির জন্য নেই কোনও নলকূপ। নদী বা খালের পানির বিকল্প নেই বাসিন্দাদের। গ্রীষ্মকালে ওপার থেকে খাবারের জন্য পানি আনা হয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও সুবিধাজনক নয়। দুর্যোগ প্রতিরোধে এখনও গড়ে ওঠেনি সবুজ বলয়। দ্বীপের মানুষ গরু, ছাগল ও মহিষ বর্গায় লালন-পালনসহ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
চর শামছুদ্দিন
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকার সুবাদেও ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে চর শামসুদ্দিনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের সঙ্গে মতিরহাটের মেঘনার তীরে তাজা ইলিশ ভোজন ও মহিষের খাঁটি দধির স্বাদ নেওয়া যায়।

যেভাবে যাবেন
রাজধানী ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সড়কপথে বাসে অথবা সদরঘাট থেকে লঞ্চে চাঁদপুর হয়ে লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর স্টেশন আসতে হবে। তারপর লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের যেকোনও গাড়িতে তোরাবগঞ্জ নেমে সেখান থেকে মতিরহাট সড়ক দিয়ে মেঘনাপাড়ে পৌঁছান। এরপর ট্রলারে চড়ে চর শামছুদ্দিনের নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতে আসুন।
>>ছবি: লেখক
চর শামছুদ্দিনে ভ্রমণপিপাসুরা

Wednesday, November 6, 2019

নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের যত দর্শনীয় স্থান by জুনাইদ আল হাবিব

নিঝুম দ্বীপ
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীতীরবর্তী জেলা নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর। প্রাচীন নদী ভুলুয়া আর বর্তমানের খরস্রোতা মেঘনার মায়া জড়ানো বিশাল আয়তনের এই জনপদ দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার মানুষের জীবন প্রকৃতি অনেক সংগ্রামের। ঝড়-ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় তাদের। তবে এর মাঝেও রয়েছে বহু সম্ভাবনা। সেসব চিত্র পাওয়া যায় এই দুই জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে।
শুরুতে নোয়াখালীর গল্প বলা যাক। এ জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম নিঝুম দ্বীপ, মুছাপুর ক্লোজার, বজরা শাহী মসজিদ, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, গান্ধী আশ্রম নোয়াখালী।
নিঝুম দ্বীপ
নিঝুম দ্বীপ
নিঝুম দ্বীপ
নোয়াখালীর সর্বদক্ষিণের দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় জেগে উঠেছে একটি দ্বীপ। চারটি প্রধান দ্বীপ আর কয়েকটি চরের সমষ্টি নিয়ে গঠিত এটি। এর নামই নিঝুম দ্বীপ। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়। কেওড়ার বন, বন্য হরিণ আর প্রকৃতি অনিন্দ্যসুন্দর হওয়ায় নিঝুম দ্বীপ অনায়াসে সবার মন কেড়ে নেয়।
মুছাপুর ক্লোজার
মুছাপুর ক্লোজার
মুছাপুর ক্লোজার
নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার মুছাপুর গ্রামে অবস্থিত মুছাপুর ক্লোজার ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য মনমাতানো একটি জায়গা। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা ও ফেনী নদীর পাশে অবস্থিত এটি। সমুদ্র সৈকতের অপরূপ প্রকৃতিতে চোখ ফেরালে দেখা মেলে পাখির ঝাঁক, বন্যপ্রাণীসহ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। মুছাপুর ক্লোজার ও মুছাপুর ফরেষ্ট বাগান দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর
মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে একজন শহীদ মো. রুহুল আমিন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির সন্তান। তাঁর গ্রামে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। ২০০৮ সালের ২০ জুলাই এটি স্থাপন করা হয়। এতে একটি সুপরিসর ও সুসজ্জিত পাঠ-কক্ষ ছাড়াও আছে অভ্যর্থনা কক্ষ। তত্ত্ববধায়ক ও লাইব্রেরিয়ানের জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষ।
বজরা শাহী মসজিদ
বজরা শাহী মসজিদ
বজরা শাহী মসজিদ
নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত বজরা শাহী মসজিদ। দিল্লির শাহী জামে মসজিদের অনুকরণে নির্মিত হয়েছিল এটি। জনশ্রুতি আছে, দিল্লির সম্রাট বাহাদুর শাহ বেগমগঞ্জের বজরা অঞ্চলের জমিদারি দান করেছিলেন দুই সহোদর আমান উল্যা ও ছানা উল্যাকে। তারা একটি দীঘি খনন ও মসজিদ নির্মাণের জন্য ১০০ একর জমির বন্দোবস্ত দেন। বজরা শাহী মসজিদের সম্মুখভাগেই সেই দীঘি। মার্বেল পাথরের তৈরি মসজিদটির প্রধান ফটকের দুই পাশে আছে দুটি দেয়ালঘড়ি।
গান্ধী আশ্রম নোয়াখালী
গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। জেলা সদর মাইজদী কোর্ট থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশেই এর অবস্থান। তৎকালীন জমিদার ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে এটি স্থাপিত হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৪৬ সালের শেষভাগে সারা ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। তখন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রভাব নোয়াখালীতে পড়ে। সেই থেকে ইতিহাসে গান্ধী আশ্রমের গুরুত্ব অনেক।
অন্যান্য
সোনাপুরে লুর্দের রানীর গির্জা, নোয়াখালীর উপকূলে নতুন জেগে ওঠা চরে বন বিভাগের সৃজনকৃত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, মাইজদী শহরে অবস্থিত নোয়াখালী জেলা জামে মসজিদ, নোয়াখালী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মাইজদী বড় দীঘি, কমলা রানীর দীঘি ভ্রমণপ্রেমীদের ভালোলাগার জায়গা।
এবার জানা যাক লক্ষ্মীপুর জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর কথা। বহু সংকটের আড়ালে নানান সম্ভাবনায় ঘেরা জেলা এটি। এখানে রয়েছে বেশকিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দালাল বাজার জমিদার বাড়ি, রায়পুরের জিনের মসজিদ, কামানখোলা জমিদার বাড়ি। এছাড়াও প্রকৃতির মায়া জড়ানো বেশকিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতিরহাট মেঘনার তীর, আলেকজান্ডার মেঘনার তীর, তেগাছিয়া স্লুইস গেট ও বিশাল ঝাউবন।
দালাল বাজার জমিদার বাড়ি
দালাল বাজার জমিদার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের অন্যতম ও ঐতিহাসিক স্থান। জেলা সদরের পশ্চিম-লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজারে এর অবস্থান। জমিদার রাজা লক্ষ্মী নারায়ণের বাড়িটির স্থাপত্যশৈলীতে প্রাচীন যুগের নিপুণতার ছোঁয়া রয়েছে। এটি দেখতে প্রতিনিয়ত জ্ঞানপিপাসুদের আসতে দেখা যায়। বাড়িটি নিয়ে মানুষের কৌতূহলের যেন শেষ নেই। তবে সংরক্ষণের অভাবে দিন দিন এর জৌলুসে ভাটা পড়েছে। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, জঙ্গল তৈরি হওয়ায় বিবর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে বাড়িটি।
কামান খোলা জমিদার বাড়ি
জেলা সদরের পশ্চিম-লক্ষ্মীপুর গ্রামের কামাল খোলা বাজারের আধা কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত হরেন্দ্র বাবুর বাড়িটি। প্রাচীন জমিদার বাড়ি হিসেবে এর পরিচিতি আছে। এটিই কামান খোলা জমিদার বাড়ি। দুইশ’ বছরের পুরনো বাড়িটির সামনে একটি দ্বিতল ঠাকুরঘর। সুরক্ষিত প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ভেতরে গেলে চোখে পড়বে রাজপ্রাসাদ। এমন সুন্দর বাড়ি দেখতে প্রতিনিয়ত দর্শনার্থীদের ভিড় জমে।
রায়পুরের জিনের মসজিদ
জনশ্রুতি আছে, ৩০ বছরের আগে জিনেরা রাতের আঁধারে মসজিদটি নির্মাণ করেছে। মসজিদটি তৈরিতে টাকার যোগান দিয়েছে তারাই! এরপর কয়েক বছর ইবাদতও করেছে জিনেরা! গভীর রাতে তাদের জিকিরের আওয়াজ ভেসে আসতো। এর নাম মসজিদ-ই-আবদুল্লাহ। ১৮৮৮ সালে রায়পুর শহরের দেনায়েতপুর এলাকায় ৫৭ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় মসজিদটি। এর দৈর্ঘ্য ১১০ ফুট ও প্রস্থ ৭০ ফুট। এতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ ও চারটি মিনার।
এবার লক্ষ্মীপুর জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়ানো বেশকিছু দর্শনীয় স্থানের কথা। লক্ষ্মীপুরের উপকূলে মেঘনাপাড়ের বেশকিছু জায়গায় আছে সৈকতের আমেজ, যেখানে পড়ন্ত বিকেল বা সন্ধ্যা নামার মুহূর্তটা উপভোগ্য। এর মধ্যে রয়েছে তেগাছিয়া স্লুইস গেট, ঝাউবন, আলেকজান্ডার মেঘনাপাড়, মতিরহাট মেঘনাতীর, দ্বীপ রমণীমোহন মেঘনাপাড়, মাতাব্বরহাট মেঘনাতীর। বিকেল গড়ানোর পর এসব স্থানে প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়ালে প্রশান্তি পেতে পারে মন।
তেগাছিয়া স্লুইস গেট ও বিশাল ঝাউবন
জেলার সর্বদক্ষিণের জনপদ রামগতির দক্ষিণ-পূর্বে তেগাছিয়া বাজার পেরিয়ে মেঘনার কূলেই স্লুইস গেট। এখানে রয়েছে বেশ প্রশস্ত বিশাল ঝাউবন। সূর্যাস্তে মেঘনাতীর একদিকে যেমন অনিন্দ্যসুন্দর, তেমনই সারি সারি ঝাউগাছের মাঝে বিকেলের সূর্যের উঁকি মন ছুঁয়ে যায়। তবে এতদিন এখানকার তেমন পরিচিতি ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে কিছুসংখ্যক তরুণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে তেগাছিয়াকে তুলে ধরায় ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করেছে।
নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের দর্শনীয় কয়েকটি স্থান
নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরের দর্শনীয় কয়েকটি স্থান
আলেকজান্ডার মেঘনাপাড়
নদী রক্ষা বাঁধ থেকে দর্শনীয় স্থানটির শুরু। এখানে মেঘনাতীরে বিকেলবেলায় পশ্চিম থেকে হেলে পড়া সূর্যাস্তের চিকচিক আলো আর নদীর বুকে জোয়ার-ভাটার ঢেউ খেলা জলের নিবিড় সখ্য নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে। নদী রক্ষা বাঁধ আঁকা-বাঁকা হওয়াতে পূর্ব দিক থেকে সূর্যাস্তের দারুণ দৃশ্যের মাঝে হারিয়ে যান অনেকে। এটি জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অন্যতম একটি। বিভিন্ন উৎসবে এখানে হাজার হাজার পর্যটকের হৃদয়ের জানালা খুলে দেয় এমন দৃশ্য।
মতিরহাট মেঘনাতীর ও দ্বীপ রমণীমোহনের চর শামছুদ্দিন
জেলার কমলনগর উপজেলার মতিরহাট বাজার। বলতে গেলে মেঘনার কোলেই জেগে আছে মতিরহাট। বাজারের উত্তর-দক্ষিণ প্রান্তে মেঘনার জলের সঙ্গে মিশে থাকা তীরকে অনেকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলে। এখানে বিকেলবেলার সূর্যরশ্মির সঙ্গে জোয়ার-ভাটার দৃশ্য বেশ ঝলমলে। এখানকার দৃশ্যটা অন্য স্থানগুলোর তুলনায় একটু ব্যতিক্রম। এছাড়া মাত্র পাঁচ মিনিটের নদী পেরিয়ে পা রাখা যায় দ্বীপ রমণীমোহনের চর শামছুদ্দিনে। বিকেলবেলায় সেখানে বেশ চমৎকার দৃশ্য চোখে পড়ে।
মাতব্বরহাট মেঘনাতীর
আলেকজান্ডার নদীতীরের মতোই এর গল্প। নদী ভাঙন থেকে কমলনগরকে রক্ষার জন্য এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর এই স্থানও পর্যটকদের প্রিয় হয়ে উঠেছে। পর্যটন কেন্দ্রটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য। তাই গোধূলিতে এখানে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা জমে ওঠে।
>>>ছবি: লেখক

Monday, April 22, 2019

এবার স্ত্রীর স্বীকৃতি চাওয়ায় তরুনীকে পুড়িয়ে হত্যা, ইউপি সদস্যসহ আটক ৪

স্ত্রীর স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে লক্ষ্মীপুরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া তরুণী শাহেনুর আক্তার মারা গেছেন। আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত তরুনী শাহেনূর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সোনাগাজি গ্রামের জাফর আলমের মেয়ে।
এর আগে গতকাল বিকালে জেলার কমলনগর উপজেলার চরফলকনের আইয়ুবনগর এলাকার একটি সয়াবিন ক্ষেত থেকে দগ্ধ অবস্থায় তরুনীকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে প্রথমে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ  সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই মারা যান শাহেনুর আক্তার।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল (রোববার) রাতেই চরফলকন ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন ও একই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ আবু তাহের এবং অভিযুক্ত সালাউদ্দিনেরসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে, খবর পেয়ে সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সদর হাসপাতালে ওই তরুণীকে দেখতে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, তরুনী নিজে গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে না অন্য কেউ লাগিয়ে দিয়েছে কিনা, সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন ও গ্রাম পুলিশসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
তবে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে শাহেনুর জানিয়েছিলেন, মোবাইল  ফোনে সালাউদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। একপর্যায়ে প্রায় দেড় বছর আগে কাজী অফিসে তাদের বিয়ে হয়। প্রায় ৬ মাস আগে জানতে পারে সালাউদ্দিন বিবাহিত। এ কথা শুনে কিছুদিন আগেও কমলনগর আসেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর স্বীকৃতি পান নি। ফের শুক্রবার আবার লক্ষ্মীপুরে আসেন। কিন্তু এবারও স্ত্রী স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি বলেন, স্ত্রীর স্বীকৃতি চাওয়ায় আমার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় সালাউদ্দিন। অভিযুক্ত সালাউদ্দিন স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে গ্রামে বসবাস করেন। সালাউদ্দিন পেশায় রিকসা চালক। তার বাবার নাম মহর আলী।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ই এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ করায় তাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনার ১৫ দিনের মাথায় স্ত্রী স্বীকৃতি চাওয়ায় লক্ষীপুরের কমলনগরে নৃশংস এই ঘটনা ঘটলো।

Wednesday, January 23, 2019

কে দেখবে নূর আলমের পরিবার: বোনদের আহাজারি by আব্বাস হোসেন

সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী নূর আলম। পরিবারের সকলের স্বপ্ন পূরণ করতেন তিনি। কিন্তু আজ ভোরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিলো তার প্রাণ। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটির সামনেও এখন শুধুই অন্ধকার। অসহায় দুই বোন তাই বাবাকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছে। তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠেছে। লক্ষীপুরের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের মধ্যে একজন সিএনজি চালক এই নূর আলম।  
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩ টা বাজে। হঠাৎ নূর আলম ঘুম থেকে উঠে বলে বাবা আমি গ্যাসের জন্য পাম্পে যাচ্ছি।
গ্যাস নিয়ে এসে সকালে নোয়াখালী চাটখিল যাবো। গ্যাস নিয়ে আসার পথে চন্দ্রগঞ্জ পৌঁছলে একটি শিশুসহ ৫ জন যাত্রী গাড়ির অপেক্ষা। তখন নূর আলম তাদেরকে নিয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল উদ্দেশ্য রওনা হলে লক্ষ্মীপুর-ঢাকা মহাসড়কের পশ্চিম মান্দারী পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ট্রাক তার সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে নূর আলমসহ তার ৬ যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার-সার্ভিসে কর্মীরা এসে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠাই।
সকাল ১১ টার দিকে লাশ কাটা ঘরে পাশে বসে নূর আলমের বৃদ্ধ বাবা নূর মোহাম্মদ আকাশের দিকে তাকিয়ে বাকরুদ্ধ অবস্থায় বসে ছিলেন। মাঝে-মাঝে কান্নাকাটিও করছিলেন। কিছুক্ষণ পর তার দুই মেয়ে পাকি বেগম ও লাকি আক্তার দুই পাশে বসে বৃদ্ধ বাবাকে জড়িয়ে কান্না ভেঙে পড়েন। মাঝে-মাঝে তাদের ভাঙা-ভাঙা কন্ঠে বেরিয়ে আসে নূর আলমকে নিয়ে নানা কথা। তারা বলছিলেন তাদের বাস্তবতা। কী হবে এখন তাদের সংসারের? কে তাদের বাবা-মাকে দেখবে? নূর আলমের প্রতিবন্ধী ৬ বছরের ছেলেরই কী হবে? ৭ মাস বয়সী মিরাজ বুঝি বাবা বলে ডাকতে পারবে না! এমন শত প্রশ্ন পাকি ও লাকির মুখে। সিএনজি (চালক) নূর আলম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ৬ নং বাঙাখাঁ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের মাঝের বাড়ির নূর মোহাম্মদের একমাত্র ছেলে।

Sunday, September 16, 2018

মেঘনায় বিলীন ৫ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি by আব্বাছ হোসেন

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন, চর কালকিনি চর সাহেবের হাট ও চর পাটওয়ারীর হাট এ চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন মেঘনা নদীর ভাঙন চলছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে গত এক বছরে ৮ বার ধস নামে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর আগে ১৫শে জুলাই ভোররাতে ওই বাঁধের দক্ষিণাংশের প্রায় ২০০ মিটারে ধস নামে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় বাঁধের দুই পাশের এলাকায় অব্যাহতভাবে ভাঙছে। আশেপাশের এলাকায় ভাঙনের কারণে বাঁধ ধসে পড়েছে। গত বর্ষা মৌসুমেও ওই বাঁধে পাঁচ বার ধস নামে। অনিয়মের মধ্য দিয়ে নিম্নমানের কাজ করায় বার বার বাঁধে ধস নামছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। হুমকির মুখে রয়েছে পুরো বাঁধ। বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে কমলনগর উপজেলার দু-লক্ষাধিক মানুষ। গত কয়েকদিনের তীব্র স্‌্েরাতে নদীর তীর এলাকার ঘরবাড়ি প্রতিদিন ভেঙে পড়ছে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে কমলনগর উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে ব্যয় হয় ৪৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। উক্ত কাজ পায় ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্ক লিমিটেড (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান)। কিন্তু ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি না করে ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংকে দিয়ে তখন কাজ শুরু করেন। শুরুতে নিম্নমানের বালু ও জিও ব্যাগ দিয়ে কাজ শুরু করায় স্থানীয়দের চাপের মুখে পড়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনসহ নানান কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। এদিকে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙনে গত এক বছরে গৃহহীন হয়ে পড়েছে ৫ হাজার পরিবার। এছাড়া কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনা।
তীব্র স্রোতে এক কিলোমিটার নির্মাণাধীন বাঁধের দু’পাশে ব্লক সরে ধসে পড়ছে। এতে করে জোয়ারের পানি ডুকে পড়েছে কিছু এলাকায়। এছাড়া ব্লক থেকে ব্লকের দূরত্ব বাড়?ায় বাঁধের বেশ কিছু অংশ ফাঁকা হয়ে গেছে। ধস ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বিশেষ ব্যাগ) ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করলে কোনোভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছে না বাঁধ। এলাকাবাসীর দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ায় অনিয়মের কারণেই বার বার বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে আরো ৮ কিলোমিটার কাজ রামগতি আলেকজান্ডরের মতো সেনাবাহিনী দিয়ে করলেই জেলার মানচিত্র থেকে কমলনগর উপজেলা রক্ষা পাবে।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. মুসা ভাঙনের কথা স্বীকার করে জানন, আমরা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছি। অনুমোধন পেলে কাজ শুরু করবো।

Tuesday, May 29, 2018

একই পরিবারের পাঁচ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কষ্ট

জন্ম থেকে একই পরিবারের পাঁচজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তারা সরকারি ভাতা ছাড়া অন্য কিছুই পান না। এর মধ্যেও আরেক প্রতিবন্ধী ছেলের ঘরে রাবেয়া নামের একমাত্র শিশুকন্যা (৩) দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পরেই হাসপাতালের বিছানায় সে বড় হয়ে উঠছে। দুই লাখ টাকা যোগাতে না পারায় শিশুটির পিতা তাকে বাড়ি নিয়ে আসে। রোববার লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের পূর্ব কেরোয়া গ্রামের মাঈনুদ্দীন বেপশুরী বাড়িতে গিয়ে এই মানবেতর জীবনযাপনের করুণ চিত্র দেখা গেছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে শিশুটির সুচিকিৎসাসহ পরিবারটি সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
শিশুটির পিতা দৃষ্টিহীন আয়াতউল্যা জানান, তার পিতা হাফেজ ইসমাইল (৫৫), ফুফু আমেনা বেগম (৬৫), ভাই রহমত উল্যা (৩২), নেয়ামত উল্যা (১১), ও একমাত্র শিশু কন্যা রাবেয়া আক্তার (৩) জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী। একমাত্র তাদের মা হাজেরা বেগম মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া সরকারিভাবে কোনো কিছুই পান না। হাফেজ ইসমাইল বাড়ির সামনেই একটি ফোরকানিয়া মাদরাসা পরিচালানা করেন। অন্যরা গৃহকর্মী মা ও দৃষ্টিহীন  বাবার উপর ভরসা করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রায় তিন বছর আগে আয়তউল্যার ঘরে জন্ম নেন দৃষ্টিহীন শিশু রাবেয়া। তাকে ঢাকা ফার্মগেট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ডাক্তার সাজ্জাদ ইফতেখারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের চিকিৎসা খরচ না যোগাতে না পেরে গত একমাস আগে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ডাক্তার বলেছেন রাবেয়া যেন চোখে দেখতে পারে ২০০০+১৭০০ পাওয়ারের চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রায় ২ লাখ টাকার ব্যবস্থা হলে শিশুকে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে তার দুই চোখে আলো দেখতে পাবে। তাই দেশের সরকারসহ ভিত্তবানদের কাছ সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: আয়াতউল্যা, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ১৩৮৪৮, ইসলামী ব্যাংক রায়পুর শাখা, লক্ষ্মীপুর। মোবাইল: বিকাশ (০১৭২৭৫৬০৪৩৭)। কেরোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাজাহান কামাল বলেন, সরকারি ভাতার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে দৃষ্টিহীন পরিবারকে সহযোগিতা করে আসছি। শিশু রাবেয়ার চোখের চিকিৎসার সহযোগিতা জন্য সরকার ও ভিত্তবানদের প্রতি আমারও আহবান রইলো।

Monday, May 28, 2018

হতাশায় মেঘনা নদীর জেলেরা by আব্বাছ হোসেন

লক্ষ্মীপুরে গত এক সপ্তাহে ধরে মেঘনা নদীতে ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। মাছ না পাওয়ায় হাজার হাজার জেলে পরিবারের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। মাছ ঘাটগুলোতে ইলিশের আমদানি না হওয়ায় অলস সময় কাটাচ্ছেন  জেলে ও আড়তদাররা। তবে, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার কারণে নদীতে মাছের আকাল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মাছ আরো বেশি ধরা পড়বে বলে আশা করেন জেলা মৎস্য বিভাগ।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এ জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে নিবন্ধিত রয়েছে ২৭ হাজার ৮শ’ জেলে। এদের অধিকাংশই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১শ’ কি.মি. পর্যন্ত মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে থাকেন এখানকার জেলেরা। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্য মার্চ-এপ্রিল দু’মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার ২৬ দিন পার হলেও জেলেদের জালে মিলছে না ইলিশ। মতিরহাট, মজুচৌধুরী হাট, লধুয়াঘাট ও মোল্লারহাটসহ বিভিন্ন হাটে ঘুরে দেখা যায়, ঘাটে তেমন মাছ নেই বললে চলে। জেলে ও আড়তদাররা অলস সময় পার করছেন। এ সময় জেলে কবির হোসেন, মনির মাঝি, সালামত উল্যাহ ও আড়তদার লিটন মেম্বারসহ অনেক জেলে অভিযোগ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে অনেক আগে কিন্তু নদীতে মাছ নেই। সারাদিন নদীতে জাল ফেলে এবং মাছ শিকার করলে দুই/চারটার মাছ পাওয়া যায়। এ দিয়ে ইঞ্চিন চালিত নৌকার তেলের খরচও জোগাড় করা যায় না। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময় দুই মাস ও মে-জুন দুই মাসসহ চার মাস ৪০ কেজি হারে চাল দেয়ার কথা। কিন্তু এসব ঘাটের আশপাশের তেমন কোনো জেলেই চাল পায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে তাদের চাল দেয়া হয়। এসব তালিকার বেশিরভগই জেলে নয় বিভিন্ন পেশার লোকজন বলে দাবি তাদের। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত  ভিজিএফের কার্ড নিতে এক হাজার টাকা করে আদায় করছেন চেয়ারম্যানরা। এরপরও চাউল দেয়া হয়নি। পুরোটায় আত্মসাৎ করে নেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। গত এক সপ্তাহে ধরে হঠাত করে নদীতে মাছ নেই। জেলেদের জালে ইলিশ মাছ ধরা না পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছে।  অপরদিকে জেলেদের দাদন দিয়ে এখন বেকাদায় পড়ছে দাদন ব্যবসায়ীরা। মাছ ধরা না পড়ায় তারা মহাজনের দাদনের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। বর্তমানে জেলেরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া জাটকা নিধনের ফলে মাছের আকাল বলেও দাবি করেন তারা।
এ দিকে সদর উপজেলার চরমনী মোহন ও চরকালকিনির ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল ও মোহাম্মদ সাইুফল্লাহ এসব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব এলাকায় যে পরিমাণ জেলে রয়েছে, তার অর্ধেকও নিবন্ধিত নয়। এ কারণে কার্ড পায়নি। যারা কার্ড পায়নি তারা চাল না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। পর্যায়ক্রমে সব জেলে যেন তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারে, সে চেষ্টা করা হবে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এইচএম মহিব উল্যাহ জানান. জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্যে ওপর ভারসাম্যহীন আঘাতের ফলে মেঘনা নদীর গভীরতা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে নদীতে ভরা মৌসুমে ইলিশ মাছের অকাল দেখা দিয়েছে। জাটকা ইলিশ যেখানে প্রতিপালিত হয় সে ৮/১০টি স্পট আছে সেগুলো দিন দিন ভরাট হয়ে গেছে ওই স্পটগুলো ড্রেজিং করলে আবার নদীতে ইলিশের দেখা মিলতে পারে এমনটাই মনে করেন জেলা মৎস্য বিভাগ।

ছাত্রলীগ নেতাকে গণধোলাই, পুলিশে সোপর্দ

লক্ষ্মীপুরে আপত্তিকর অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন বিপ্লবকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে পুলিশে দেয়া হয়। শনিবার রাতে সদর উপজেলার চরউভূতির চকবাজার এলাকার আবদুল জাহেরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গণধোলাইয়ের শিকার ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন বিপ্লব কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চরউভূতির চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী (আবদুল জাহেরের) স্ত্রীর সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতার রাকিব হোসেন বিপ্লব  অবৈধ সর্ম্পক চলে আসছিল। এসব অপকর্মের বিষয়ে স্থানীয়রা যেনেও রাকিব হোসেন বিপ্লবের ভয়ে  প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। শনিবার রাতে তারাবির নামাজ পড়তে লোকজন মসজিদের দিকে চলে গেলে এ সুযোগে রাকিব হোসেন বিপ্লব ঘরে ঢুকে ওই ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে অপকর্ম লিপ্ত হয়। এ খবর পেয়ে মুসল্লিরা নামাজ শেষ করে একত্রিত হয়ে ওই ব্যবসায়ীর ঘর ঘোরাও করে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন বিপ্লব ও নারীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। পরে গণধোলাই দিয়ে বিপ্লব ও ওই নারীকে পুলিশে সোপর্দ করে। অভিযোগ রয়েছে, রাকিব হোসেন বিপ্লব ছাত্রলীগের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে তোরাবগঞ্জ বাজারে তার বাসায় ভাড়া থাকতো টেইলার্স ব্যবসায়ী আবদুল জাহের ও স্ত্রী এবং তার দুই সন্তান। এরপর থেকে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে  রাকিব হোসেন বিপ্লববের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠে। এসব বিষয়ে জানাজানির পর তার বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যায় তারা। কিন্তু তাদের অবৈধ সম্পর্কে ভাটা পড়েনি। বরং আরো সম্পর্ক গভীর হয়। এ বাড়িতে প্রায়ই আসা-যাওয়া করত বিপ্লব। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন হুমকি-ধুমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে সে। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতে না বলে জানান অনেকে।  এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভবানীগঞ্জ ইউনয়ন পরিষদের ৪নং চরউভূতি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. নাছির উদ্দিন জানান, স্থানীয় এক/দেড়শ লোক রাকিব হোসেন বিপ্লব ও ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে আপত্তির অবস্থায় আটক করে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে দু’জনকে থানায় নিয়ে যায়। কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জানান, রাকিব হোসেন বিপ্লব কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তার দায়িত্ব উপজেলা ছাত্রলীগ নিবে না। তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফয়সাল আহমদ রতন জানান, রাকিব হোসেন বিপ্লব সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে সে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এ ঘটনার খবর শুনেছি। তবে বাস্তবতা কি? সেটা আমি জানি না। যেহেতু ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারণে ঘটনাটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাকিব হোসেন বিপ্লব ও ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sunday, May 13, 2018

৩৫ বছর ধরে সাঁকোই ভরসা by মো. আব্দুল লতিফ

১৫টি গ্রাম ও পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ প্রায় ৩০ হাজার মানুষের ডাকাতিয়া নদী পারাপারে একমাত্র বাঁশের সাঁকোই ভরসা। প্রায় ৩৫ বছর আগে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ও খরচে তৈরি করেছেন এ সাঁকো। দু’পাশে সড়ক থাকায় তার আগে পারাপার হতেন নৌকা দিয়ে। মাঝেমধ্যে প্রবল বৃষ্টি হলে বন্যার পানির তোড়ে সাঁকো ভেসেও যায়। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৫নং চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর গ্রামের চিত্র এটি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রায়পুর উপজেলার প্রায় ইউনিয়নের সরকারের উন্নয়নের কাজ চললেও তাদের ইউনিয়নে প্রয়োজনীয় রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নির্মিত হয়নি। গাজীনগর গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর পারাপারের ব্যবস্থা গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগেই করেছেন। ১৫টি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার ভোটারসহ বসবাস করা অর্ধলক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। দীর্ঘদিনেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্কুল, কলেজগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ পথচারীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। নদীর দু’পাশের সড়কটি পাকা হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ স্থানে একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে না। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ভোটে নির্বাচিত মেম্বার, চেয়ারম্যান এমনকি সংসদ সদস্যরাও নির্বাচনের আগে সেতু নির্মাণের কথা বললেও তা আর নির্মিত হয়নি। ৭০ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকোটিও যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। তাই দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান এলাকাবাসী।
সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশের এই সাঁকোই একমাত্র ভরসা চরপাতা ইউনিয়নের শায়েস্তানগর ইসলামি মিশন দাখিল মাদরাসা, শায়েস্তানগর বানাতুল মুসলেমিন দাখিল মাদরাসা, গাজীনগর চরপাতা দারুসুন্নত দাখিল মাদরাসা ও চরপাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাহমুবা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র-ছাত্রী। এ ছাড়াও পূর্বলাছ, দেবিপুর, চরপলোয়ান, গাজীনগর, চরপাতা, ফদিরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ও দক্ষিণ আলনিয়া, বিরামপুর, সন্দেশপুর, সাহেবগঞ্জসহ ১৫টি গ্রামের  প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে। শুধু তাই নয় দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষ এবং ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে এই সাঁকো দিয়েই। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
নদীর তীরবর্তী শায়েস্তানগর ইসলামীয়া মিশন দাখিল মাদরাসা সুপার শেখ মো. আবদুল কুদ্দুছ ফারুকী বলেন, ‘এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে এলাকার মানুষ ও স্কুল-মাদরাসা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর যাতায়তসহ কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হবে।’ ‘ব্রিজ না থাকায় এই ইউনিয়নটি অবহেলিত। বর্ষাকালে সাধারণ মানুষসহ স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। তাই ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ ৫নং চরপাতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পরেও ডাকাতিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। উপজেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে বিষয়টি বারবার উত্থাপন করার পরও এর কোনো সমাধান হয়নি।’ 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী রায় বলেন, ‘চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর এলাকার বাঁশের সাঁকোর বিষয়টি আমার জানা আছে, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে সাঁকোর স্থলে সেতু নির্মাণ করা হবে।’ এ ছাড়াও ‘আমাদের বর্তমান সংসদ সদস্যও ব্রিজের জন্য তৎপর রয়েছেন। আশা করি দ্রুত তা নির্মাণ করা হবে।’

Saturday, May 12, 2018

টানা বৃষ্টিতে পচে গেল সয়াবিন ক্ষেত

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরে পাকা সয়াবিনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সয়াবিন ক্ষেতে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সোনার ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ঋণের টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ও  হতাশ হয়ে পড়েছেন সয়াবিন চাষিরা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিবিভাগ জানা যায়, দেশের উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ ভাগ  উৎপাদিত হয় এ জেলায়।  সয়াবিন চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কৃষক। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে সপ্তাহ খানেক পর মাঠের সয়াবিন ঘরে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল কৃষকরা। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর-সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার চরাঞ্চলের পাকা সয়াবিন ক্ষেত পানিতে ডুবে পচন ধরেছে। সয়াবিন পচা দুর্গন্ধে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কিভাবে সামনের দিন কাটবে সে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সয়াবিন চাষিরা। ইতিমধ্যে প্রায় ৬শ’ হেক্টর সয়াবিন ক্ষেত পানিতে ডুবে পচে গেছে। যার বাজার মূল্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন জেলা কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জেলায় সয়াবিনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৪১ হাজার ২৭০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় ৯ হাজার হেক্টর কম। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা।  তোরাবগঞ্জ বাজারের সয়াবিন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন, মোল্লারহাট বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন মোল্লাসহ কয়েকজন চাষি জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাকা সয়াবিন ক্ষেত পচে যাচ্ছে। ফসল তুলতে পারছে না চাষিরা। সয়াবিনের পচা দুর্গন্ধে বাসাবাড়ি ও রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। স্বপ্নের সয়াবিন ঘরে তুলতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে দিন কাটবে সে দুঃচিন্তায় আছে সয়াবিন চাষিরা। ঋণের টাকা নিয়ে দুঃচিন্তায় ও হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। গত বছরের টানা বৃষ্টির কারণেও লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে চাষিদের। তাদের অভিযোগ, খাল বিল সংস্কার না করায় বৃষ্টির পানি জমে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। গত তিন বছরের টানা লোকসানে আগামীতে ফসল ছেড়ে দেয়ার কথাও বলেন অনেকে।  লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন খাঁন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার সয়াবিন নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসেব করা হচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ। তবে, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের নানান পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

Monday, May 7, 2018

অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না হকার সহিদ

রামগঞ্জ উপজেলার পত্রিকার প্রবীণ হকার সহিদ উল্যাহ আর্থিক সংকটে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। যক্ষ্মা মুক্ত হওয়ার পর পেটে টিউমার ও লিভারক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার মাঝেই পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ায় সহিদ অর্ধহারে-অনাহারে উঠানে চেয়ারে বসে সময় কাটাচ্ছে। এতে তার জীবনে যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।
সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভার শ্রীপুর বেপারি বাড়ির সহিদ উল্যাহ ১৯৯১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে রামগঞ্জ এনায়েত উল্যার মালিকানাধীন নিউজ কর্নার পত্রিকার এজেন্সির মাধ্যমে পত্রিকার হকার জীবন শুরু করে। পত্রিকার কমিশন দিয়ে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। এরই মধ্যে ২০১৬ সালের শেষ দিকে সহিদ অসুস্থ হয়ে পড়লে রামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। দীর্ঘ কয়েক মাস চিকিৎসা নেয়ার পরও রোগ শনাক্ত না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যক্ষ্মা ধরা পড়ে। ব্র্যাকের দেয়া ওষুধে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা চলা অবস্থায় পেটে টিউমার ও লিভারক্ষত ধরা পড়ে। সহিদ পরিবার ও সন্তানদের জন্য গচ্ছিত সব সম্পদ দিয়ে নিজের চিকিৎসা করেন। কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে ২৭শে এপ্রিল পত্রিকা বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে পাগলা কুকুরের কামড়ের শিকার হয়। দ্রুত হাসপাতালে গেলে ডাক্তার কুকুরে কামড়ের ইনজেকশন দেয় ও অন্য রোগের চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়। এতে সহিদ আরো অসুস্থ হয়ে বর্তমানে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। হকার সহিদকে কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতা করতে চাইলে মো. সহিদ উল্যা, হিসাব নং-এসবি-৯২৬৯, রুপালী ব্যাংক, রামগঞ্জ শাখা, লক্ষ্মীপুর। বসতঘরের সামনে চেয়ারে বসা সহিদ ভাঙা কণ্ঠে বলেন, আমার যেকোনো সময় মৃত্যু হবে। স্ত্রী ও তিন সন্তানের জন্য কিছুই রেখে যেতে পারলাম না। পত্রিকার হকার বলে কেউ সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে না। পত্রিকার হকারের ২৮ বছর জীবনে কতো মানুষ টাকা মেরে খেয়েছে। যার কারণে এজেন্টে এবং পারিবারিকভাবে ঋণগ্রস্ত রয়েছি।

Tuesday, May 16, 2017

মেঘনায় নৌকাডুবি, ২ জেলে নিহত

লক্ষ্মীপুরের রামগতির মেঘনা নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় দুই জেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। মঙ্গলবার সকালে নদী থেকে দুই জেলের লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। নিহতরা হলেন, উপজেলার বালুর চর গ্রামের হারুনের ছেলে বাগন আলী (১৫) ও একই এলাকার বাসিন্দা নুর নবী (৪২)। তবে নিখোঁজ মো. হেলালের (৩২) পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে সোমবার দিনগত রাত ২টার দিকে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। রামগতি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইন উদ্দিন জানান, রাতে মেঘনায় নৌকা নিয়ে মাছ শিকারে যান চার জেলে। ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের নৌকাটি উল্টে ডুবে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আরেকটি নৌকার জেলেরা একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বাকিদের মধ্যে মঙ্গলবার স্থানীয়রা দু'জনের লাশ উদ্ধার করেন। এক জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

Wednesday, May 3, 2017

কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনতাই, আহত ৪

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে কোস্টগার্ড ও মৎস্য কর্মকর্তা ওপর হামলা চালিয়ে জব্দকৃত প্রায় ১০ লাখ চিংড়ি পোনা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এসময় আহত হয়েছেন উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তাসহ চারজন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে কোস্টগার্ড ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বিবিরহাট গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন,  কোস্টগার্ড সদস্য মো. আহসান, আহসান ও নৌকার মাঝি নুর আলম। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রামগতি উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন,  মেঘনা নদী থেকে ধরা ৭০ পাতিলে প্রায় ১০ লাখ চিংড়ি পোনা ট্রাকে করে অন্যত্র নেয়া হচ্ছিল।
এমন খবরে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ চিংড়ি পোনা জব্দ করে। জব্দকৃত চিংড়ি পোনা নদীতে অবমুক্ত করার সময় দুর্বৃত্তরা ইট নিক্ষেপ করে ও লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা চালিয়ে চিংড়ি পোনাগুলো ছিনিয়ে নেয়। এসময় ছোঁড়া ইটে দুই কোস্টগার্ড সদস্য ও নৌকার মাঝিসহ আমরা চারজন আহত হই। এসময় আত্মরক্ষায় কোস্টগার্ডও গুলি চালায়। রামগতি কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার তসলিম উদ্দিন জানান, জব্দকৃত মাছ নদীতে অবমুক্ত করার সময় আমাদের ওপর হামালা চালানো হয়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করা হয়। প্রসঙ্গত, প্রতি বছর বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য দুই মাস লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর রামগতি ও কমলনগরে একটি চক্র নেট জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা শিকার করে। এতে চিংড়ি পোনার সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হয়।

Wednesday, April 12, 2017

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভাই ও মামার মৃত্যু

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় আপন দুই ভাই ও মামার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে দেশটির মিজুওয়া-মাসকট মহাসড়কের সালালাহ নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তিনজনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায়। তারা সম্পর্কে আপন ভা্ই ও মামা। নিহতরা হলেন, উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা সাহাবউদ্দিন খলিফার দুই ছেলে মাসুদ আলম (৩২) ও জুয়েল রানা (২৭) এবং তাদের মামা চরমার্টিন এলাকার হায়দার আলী ছেলে মো. জসিম (৩৬)। তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সল আহাম্মদ রতন জানান, মঙ্গলবার রাতে চার বাংলাদেশীকে বহনকারী একটি প্রাইভেটকার ওমানের মাসকট শহরের দিকে যাচ্ছিলো। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী একটি লরির সঙ্গে প্রাইভেটকারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাইভেটকার যাত্রী দু’ভাই মাসুদ ও জুয়েল এবং তাদের মামা জসিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আহত হন প্রাইভেটকারের অপর এক যাত্রী। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আহত ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় পাওয়া না গেলেও তার বাড়ি কমলনগর উপজেলায় বলে জানা গেছে। এদিকে, নিহত মাসুদ ও জুয়েলের চাচা সাকায়েত উল্যাহ জানান, মামা জসিমসহ ওই দুই ভাই ওমানে ইলেট্রিক কাজ করতেন। কাজ শেষে নিজেদের প্রাইভেটকারে করে বাসায় ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনায় শিকার হন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ খবর পৌঁছলে বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে। পুত্র হারানোর শোকে মূহ্যমান সাহাব উদ্দিন খলিফা। এক সঙ্গে দুই ছেলে ও ভাই হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী সায়েদা খাতুন। তাদের শোকে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।