Wednesday, January 7, 2015

সন্ধ্যার পরে রাজধানীতে ৫টি পরিবহনে আগুন, বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, মিছিল

(আজ সন্ধ্যায় পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনের সামনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ছবি: ফোকাস বাংলা) সারাদেশে ২০ দলীয় জোটের অবরোধের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭ টার মধ্যে রাজধানীতে পাঁচটি পরিবহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে আজিমপুরের এতিমখানা মোড়ে সেফটি পরিবহনের একটি বাসে, ৬টা ২০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম এলাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহন করা একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। অপরদিকে পৌনে ৭টার দিকে পল্টনের বায়তুল মোকাররম মসজিদের পাশে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনইসি) ভবনের সামনের সড়কে তানজিল পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এদিকে, রাজধানীর সদরঘাট মোড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) গেটের সামনে তানজিল পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়া হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে পেট্রোল ঢেলে ওই বাসে (ঢাকা মেট্রো-জ-১১-২৩৮৪) আগুন ধরিয়ে  দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসটি সদরঘাট থেকে মিরপুর যাচ্ছিল। অপরদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মধ্য বাড্ডায় একটি পিকাপ ভ্যানে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়া হয়। তবে এসব ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর গোলাম মোস্তফা জানান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গেছেন। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার সময় সরোয়ার আলম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে পেট্রোলসহ আটক করেছে পুলিশ। ওদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে খিলগাঁও থানা জোড়পুকুর এলাকা থেকে সরোয়ার নামে এক ব্যাক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পানির বোতলে করে বাসে আগুন দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানান খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  মোস্তাফিজুর রহমান।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, মিছিল
রাজধানীর কদমতলী রায়েরবাগ এলাকায় পরপর ৪টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মো. আরিফ (২৫) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কদমতলী রায়েরবাগের হাশেম রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আরিফকে ঢাকা  মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে অবরোধ সর্মথনে রামপুরা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিবির। এ সময় তারা অন্তত ৪ টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। সন্ধ্যা সোয়া ৭ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যার পরপরই শিবিরের একদল নেতাকর্মী মিছিল বের করে। এ সময় তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এদিকে প্রায় একই সময় বাসাবো এলাকায় মিছিল করে শিবির কর্মীরা। মিছিল শেষে তারা দুইটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

নোয়াখালীতে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ২

(নোয়াখালীর চৌমুহনীতে আজ বিকেলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন নিহত হন। ছবি: ফোকাস বাংলা) নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ গুলি চালিয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মো. রুবেল (৩০) ও মহসিন (৩২) নামের দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রুবেল সেনবাগ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। তিনি চৌমুহনী বড়পুলের কাছে একটি কনফেকশনারির দোকানের মালিক। মহসিন চৌমুহনীর হাজীপুর এলাকার খোরশেদ বাবুর্চির ছেলে। নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী এ দুজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুলিতে তাঁদের মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সন্ধ্যার পর রুবেলকে নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, মহসিনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চৌমুহনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক সাইফুল শিকদারসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক জাহাঙ্গীর, রাজমিস্ত্রি সাহাবুদ্দিন, দোকানের কর্মচারী মাসুদুর রহমান ও সোনালী ব্যাংকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্য কামাল হোসেন। তাঁদের নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জাহাঙ্গীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চৌমুহনী রেলগেট থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করেন। মিছিলটি পূর্ব বাজারের কাচারিবাড়ী মসজিদ পর্যন্ত গিয়ে আবার রেলগেটে ফিরে আসে। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধ্বস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএনপির কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশ পিছু হটে পাবলিক হল গেটে চলে যায়। বিএনপির কর্মীরা সড়কের পাশে থাকা চারটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন। বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালান তাঁরা। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে ও গুলি ছোড়ে। পরে জেলা পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফসহ দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

নারায়ণগঞ্জে আদালতে আইনজীবীদের হাতাহাতি, আহত ৫

(নারায়ণগঞ্জের আদালত প্রাঙ্গণে আজ দুপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হন। পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ছবি: ফোকাস বাংলা) নারায়ণগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী দুদল আইনজীবীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় পাঁচ আইনজীবী আহত হয়েছেন। এ সময় আদালতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বুধবার বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটূক্তি এবং আদালত চত্বরে বহিরাগতদের নিয়ে মিছিল করার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা বি‌ক্ষোভ মিছিল বের করে। অন্যদিকে একই সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গুলশানের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় নিন্দা, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। এ সময় দুপক্ষের আইনজীবীরা একে অন্যকে উদ্দেশ করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিরা হলেন আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল বারী ভুইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাঈনউদ্দিন আহম্মেদ, সদস্য আইতুল বোরহান ও সরকার হুমায়নু কবির। জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা আইনজীবী। আমাদের আদালত চত্বরে মিছিল ও মিটিং করার অধিকার রয়েছে। জেলা জজ আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আমাদের আইনজীবীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় আমাদের পাঁচ আইনজীবী আহত হয়েছেন।’ তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী খোকন সাহা বলেন, ‘আমরা মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ করি, তখন বহিরাগত সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে এবং উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়। যুবদলের নেতারা আইনজীবীদের মিছিলে প্রবেশ করে এই হামলা চালায়।’

মেরন সান স্কুল এন্ড কলেজের সাথে রবি”র কর্পোরেট চুক্তি স্বাক্ষরিত

ক্লাস নির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্টান  মেরন  সান স্কুল এন্ড কলেজের সাথে রবি”র কর্পোরেট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি  চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্টান চকবাজার ক্যাম্পাসে অনুষ্টিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, মেরন  সান স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্টাতা অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ ও মেরিট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জয়নাল আবেদিন লিটন, রবির পক্ষে ছিলেন রবি মেট্রো ওয়ান চট্টগ্রাম অফিসের এস বি এম মোস্তাফিজুর রহমান, রিয়াদ আহমদ জয়, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, ইফতেখার উদ্দিন ও সাংবাদিক ওচমান জাহাঙ্গীর।

খুশিতে হারিয়ে যাওয়ার একদিন- আনন্দ ভ্রমণ ২০১৫ -মানবজমিন পরিবার

দুই বছরের প্রতীক্ষার অবসান। শীতের সকালে রোধ ঝিলিক দেয়নি তখনও। তার আগেই মানবজমিন অফিস সরগরম। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উপস্থিতি। চেনা-অচেনা মুখ। তবে সবাই মানবজমিন পরিবারের সদস্য। কেউ সহকর্মী কেউ বা তাদের পরিবারের সদস্য। সবার মাঝে আনন্দের ঝলকানি আর একটি উৎসবমুখর দিন অতিবাহিত করার প্রত্যাশা। মানবজমিন পরিবারের বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ। এই আনন্দ উৎসবটি আয়োজনে ছিল দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি। সকাল তখন ৯টা। উদ্দেশ্য রাজধানীর অদূরে ধামরাইর মোহাম্মদী গার্ডেন। কাওরান বাজার মানবজমিন অফিসের সামনে থেকে একে একে ৬টি বাস গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে, ভ্রমণে অংশ নেয়া প্রতিটি সদস্যের মাঝে তখন খুশির জোয়ার। এর আগে অফিসে সকালের নাস্তা ও উপহার সামগ্রী হস্তান্তরের মাধ্যমে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এ নিয়ে দিনব্যাপী ছিল নানা আয়োজন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল র‌্যাফেল ড্র।
এবারের আয়োজনে ঢাকা অফিসে কর্মরত কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গী ছিলেন ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার স্টাফ রিপোর্টার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও। প্রায় সোয়া ঘণ্টা সড়কপথে যাত্রার পর মোহাম্মদী গার্ডেনে পৌঁছালে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানানো হয় মানবজমিনের সংবাদকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের। সবার আগে গিয়ে পৌঁছান মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী। তাদের সঙ্গে ছিলেন টেকনিক্যাল এডিটর ব্যারিস্টার মেহজাবিন রহমান চৌধুরী মিশু। সেখানে গিয়েই শুরু হয় হই-হুল্লোড়। বিশাল বাগান। সুইমিংপুল। খালি মাঠ। পুকুর। ওয়াচ টাওয়ার। বড়রা গার্ডেনে ঢুকেই ফটোসেশন শুরু করেন। শিশুরা খোলা জায়গা পেয়ে শুরু করে দৌড়াদৌড়ি আর খেলাধুলা।
আনন্দ ভ্রমণের আগের দিন থেকে সেখানে গিয়ে আয়োজনের সমন্বয় করছিলেন বিনোদন বিভাগের মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন। দুপুরের খাবার আয়োজন থেকে শুরু করে স্পটের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দেখাশোনা ছিল মূলত তার উপরই। তাকে সহযোগিতা করেন মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি রিপন আনসারী, ধামরাই প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম রাজু, সাটুরিয়ার প্রতিনিধি মতিয়ার রহমান এবং সাভারের স্টাফ রিপোর্টার হাফিজ উদ্দিন। ঢাকা থেকে সাজিয়ে নেয়া হয় দিনের কর্মসূচি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম ও ফটোসেশনের পর শিশুদের খেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ছিল মহিলাদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা মিউজিক্যাল পিলো ও মিউজিক্যাল চেয়ার। এসময়ই প্রস্তুতি শুরু হয় পুরো আনন্দ ভ্রমণের বিশেষ ও উত্তেজনাপূর্ণ আয়োজন ফুটবল খেলা। দুটি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত খেলায় সাদা-কালো রঙের জার্সি গায়ে দিয়ে মাঠে নামেন প্রধান সম্পাদক দলের সদস্য রিপোর্টিং বিভাগের কর্মীরা। আর লাল-সাদা জার্সি পরে মাঠ দাবড়ে বেড়ান সম্পাদক দলের হয়ে প্রশাসন এবং বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মীরা। এই জার্সিগুলো দেয়া হয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট সংগঠক হানিফ ভূঁইয়ার সৌজন্যে। ৩০ মিনিটেই খেলার প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য। তবে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথমেই জয়সূচক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন প্রধান সম্পাদক দলের কাফি কামাল। খেলাটি শেষ হয় ১-০ গোলের ব্যবধানে। প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক বাবর আশরাফুল হক। খেলায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন স্পোর্টসের সামন হোসেন। এদিকে খেলা চলাকালে স্টেজে সংগীতানুষ্ঠান শুরু হয়। গান পরিবেশন করেন বিটিভি ও বেতারের শিল্পী লুতু সরকার, রেজানুর রহমান এবং মানবজমিনের আল আমিন। জোহরের নামাজ ও খাবারের পর শুরু হয় মূল আকর্ষণ র‌্যাফেল ড্র। মানবজমিন পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই এতে পুরস্কৃত হন। ল্যাপটপ থেকে শুরু করে ফ্রিজ, মোবাইল ফোন, ট্যাব, বিমান টিকিটসহ ছিল দামি পুরস্কার। প্রত্যেকেই মঞ্চে এসে টোকেন তুলে নিজের ভাগ্য নিজে নির্ধারণ করেন। এ পর্ব পরিচালনা করেন মানবজমিন-এর নির্বাহী সম্পাদক শামীমুল হক, বার্তা সম্পাদক কাজল ঘোষ, ফিচার এডিটর মু.আ. কুদ্দুস ও প্রধান প্রতিবেদক লুৎফর রহমান। এবারই প্রথম আনন্দ ভ্রমণে অংশ নেয়া মানবজমিন পরিবারের সদস্যদের জন্য লটারির মাধ্যমে বিশেষ পুরস্কার দেন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। এ পুরস্কার পান সম্পাদনা সহকারী বিভাগের জহিরুল ইসলাম রাকিব।
লটারির জন্য নিজের টোকেন তুলতে নাম ডাকা হয় একে একে। পুরস্কার নিতে এসে আনন্দ ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, এ আয়োজন সফল হয়েছে সবার অংশগ্রহণে। তিনি আয়োজনে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, স্পন্সর করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি মোহাম্মদী গার্ডেন কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানান। আর সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রতিবছর আনন্দ ভ্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
যাদের প্রতি কৃতজ্ঞ
এবারের র‌্যাফেল ড্রতে যাদের সৌজন্যে পুরস্কার দেয়া হয় তারা হচ্ছেন- প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তেলায়েত হোসেন, ক্যাবল অপারেটর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ, কৃষিবিদ রেজাউল ইসলাম মুকুল, বেঙ্গল সাইয়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহের উদ্দিন সরকার, নাসা গ্রুপের পরিচালক শহিদুল ইসলাম মিঠু, অভিনেতা মতিউর রহমান, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নূরুজ্জামান খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফয়জুর রহমান (বকুল), আফজাল হোসেন এবং বুড়িগঙ্গা মৎস্য বাজার-এর মালিক আবু বকর সিদ্দিক, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ডা. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, সাবেক এমপি ও জাসদ নেতা এডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন, সিদ্ধিরগঞ্জ যুবলীগের সভাপতি আলহাজ মতিউর রহমান মতি, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সভাপতি জাকির চৌধুরী, নাভানা গ্রুপ, শাহনুর ইলেক্ট্রনিক্স (টিসিএল), হামদর্দ ল্যাবরেটরি (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ, ওয়ালটন, সিটিসেল, প্রাণ গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, জিসান ইন্টারন্যাশনাল, ওকাপিয়া, গাজী ট্রেডার্স, মমতাজ হারবাল প্রোডাকটস, লোলেন কসমেটিক্স, মিজান হারবাল, ফ্যাশন প্যারাডাইস, প্রিয়ন্তি, প্রতিভা কমিউনিকেশন, ইউনিভার্সেল ফুড লিমিটেড, অডিও প্রযোজনা সংস্থা লেজারভিশন, সাংস্কৃতিক সংগঠন মেলোডি এন্টারটেইনমেন্ট, এইমটেল, হাজারী এন্টারপ্রাইজসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।

সানির নতুন চমক

একাধিক ছবি, আইটেম গান, খোলামেলা উপস্থিতি- সব মিলিয়ে বর্তমানে বলিউডের সর্বাধিক আলোচিত তারকা হলেন সানি লিওন। গুগল সার্চের ক্ষেত্রে এখনও সানি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি অভিনয় করছেন ‘কুচ কুচ লোচা হে’ ছবিতে। এক সপ্তাহ ধরে এ ছবির শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন তিনি। নতুন খবর হলো, এ ছবির জন্য সম্প্রতি একটি গানের শুটিংয়ে নগ্ন হয়ে অংশ নিয়েছেন সানি। গানটিতে ডিম্পল কাপাডিয়ারূপে দেখা যাবে তাকে। ১৯৮৪ সালের ‘জানে দোনা’ নামক হিট নাম্বারটির রিমেক থাকছে ‘কুচ কুচ লোচা হে’ ছবিতে। সেই গানে খোলামেলারূপে ক্যামেরাবন্দি হয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন ডিম্পল। গানটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন ঋষি কাপুর। এবার সেই গানটিতেই পারফরম করবেন সানি। এরই মধ্যে গানটির সংগীতায়োজন করেছেন আরকো প্রেভো মুখার্জি। গানটিতে নগ্ন হয়ে কিছু দৃশ্যে দেখা যাবে সানিকে। তার সঙ্গে গানটিতে সহশিল্পী হিসেবে থাকবেন  টিভির ব্যস্ত অভিনেতা রাম কাপুর। বড় আয়োজনে এ গানটির শুটিং হবে আগামী সপ্তাহে।  জানা গেছে, গানটিতে সানি নগ্নতায় ডিম্পলের চেয়ে বেশি চমক দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর এ চমক হবে নতুনে ভরা। এরই মধ্যে গানটির রিহার্সেলে একাধিকবার অংশ নিয়েছেন সানি। এর আগে ‘রাগিনি এমএমএস-২’ ছবিতেও নগ্ন হয়ে ক্যামেরাবন্দি হয়েছিলেন এই সাবেক পর্নো তারকা। এবার ডিম্পলরূপে গান করতে যাওয়ায় বেশ উত্তেজিত ও আনন্দিত সানি লিওন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ডিম্পল কাপাডিয়ার অনেক ছবি আমি দেখেছি। তবে এ গানটি করার বিষয়টি যখন পাকাপাকি হলো তখন ‘জানে দোনা’ গানটি আমি কমপক্ষে ১০০ বার দেখেছি। বলিউডের অন্যতম আবেদনময়ী অভিনেত্রী ছিলেন ডিম্পল। এবার তার পারফরম করা জনপ্রিয় এ গানে আমি পারফরম করবো। তাই ভাল লাগছে। নিজের শতভাগ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো। দেখা যাক কি হয়।

ফ্রান্সে পত্রিকা অফিসে গুলিতে নিহত ১০

(ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি পত্রিকা অফিসে বন্দুকধারীদের হামলায় আহত একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা। এ হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: এএফপি) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি ব্যাঙ্গ রসাত্মক সংবাদপত্রের অফিসে গুলি করে অস্ত্রধারীরা হত্যা করেছে ১০ জনকে। আহত হয়েছে ৫ জন। এ ঘটনা ঘটেছে ‘চার্লি হেবডো’ নামের পত্রিকা অফিসে। ফ্রান্স ইনফো রেডিও বলেছে, একে-৪৭ অস্ত্রসহ মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা ওই ভবন ঘিরে ফেলে। তাদের কিছু সংখ্যক ভিতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। পাশের ভবনে ছিলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তিনি বলেছেন, কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা দু’ ব্যক্তি কালাশনিকভ রাইফেল হাতে ওই ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রচ- গুলির শব্দ পাওয়া যায়। অনেকগুলো গুলির পর তাদেরকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, এই পত্রিকাটি কিছুদিন আগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)কে নিয়ে ব্যাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করেছিল। তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় সারাবিশ্বে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, লুক পোয়েগন্যান্ট নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, গোলাগুলিহেত কমপক্ষে একজন সাংবাদিক নিহত হওয়ার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত হতে পেরেছেন।

চট্টগ্রাম মা-ও-শিশু হাসপাতাল এর ৩৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত



চট্টগ্রাম মা-ও-শিশু হাসপাতাল এর ৩৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রধান অতিথি মাননীয় গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের সাথে অতিথিরা

২ টাকায় ফুলকপি

চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে বাম্পার ফলন হয়েছে ফুলকপির। তবুও হাসি নেই কৃষকের মুখে। ফুলকপি বিক্রি করতে রীতিমত বিপাকেই পরেছে কৃষক। এক হালি ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকায়। যা উৎপাদন খরচ তো দুরের কথা বাজারে বহন করে আনার খরচও উঠছে না। এমনি দৃশ্য দেখা গেছে জেলার বিভিন্ন হাট- বাজারে। বুধবার সরেজমিনে জেলার বৃহত্তর সাপ্তাহিক হাট ঘিওর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বিক্রির জন্য প্রচুর পরিমান ফুল কপি নিয়ে বসে আছে কৃষকেরা। ক্রেতা নেই বললেই চলে।  আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তি মাঝারি আকারের ৫ টি ফুলকপি ক্রয় করেছে ১০ টাকা দিয়ে। ফুলকপি বিক্রেতা রাধাকান্তপুর গ্রামের মোঃ মুন্নাফ মিয়া জানান, ৫০ টাকা ভ্যান ভাড়া দিয়ে এক ঝুড়ি ফুল কপি নিয়ে আসছি। একটিও বিক্রি হয়নি। অপর সবজী বিক্রেতা মো: রশিদ মিয়া জানান, ফুলকপি বিক্রিতে প্রথমদিকে বেশী দামে কিনে আরো চড়া দামে বিক্রি করতে পেরেছি। তাতে লাভ ভাল পেয়েছি। এখন সস্তা পেয়ে বিক্রিতেও ধস নেমেছে। কৃষকেরও বারোটা বেজে গেছে।
ঘিওর কৃষি অফিসের কর্মকর্তা রেজোয়ানা রহমান জানান, মৌসুমের প্রথম দিকে যারা ভাল ফলন করতে পেরেছে তারা বেশ চাহিদা ও উচ্চ মুল্য পেয়ে আর্থিক লাভবান হয়েছেন। এখন যা বাজার তাতে মূলধন ফিরে পাওয়াও মুশকিল।
খোজ নিয়ে জানা যায়,  অনেক চাষী ফুলকপি বিক্রি করতে না পেরে হাটেই ফেলে রেখে গেছে। জেলার ৭ টি উপজেলাতেই বিগত কয়েক বছরে ফুলকপি আর বাধাকপির বাম্পার ফলন হয়। এতে লাভজনক ফসল হিসেবে অনেক কৃষকই অতি উৎসাহী হয়ে আবাদ করেন। যার কারনে এ বছর চাহিদার তুলনায় ফলন অনেক বেশী হয়েছে বলে জানা যায়। তারই প্রভাব পরেছে স্থানীয় বাজার গুলিতে। এ ছারা ঢাকার কাওরান বাজারে ও আশুলিয়ার বাইপাইল পাইকারী সবজী আরতের এক তৃতীয়াংশ ফুলকপি যায় মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে। ঢাকার বাজারেও অন্য বছরের চাইতে এ বছর চাহিদার তুলনায় আমদানী অনেক বেশী হওয়ায় সঠিক মুল্য পাচ্ছে না চাষীরা। ফুল কপি চাষ করে এভাবে লোকসান হলে আগামীতে এর আবাদ কমে যাবে বলে ধারনা করছে স্থানীয় কৃষকরা।

তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

আইনের দৃষ্টিতে পলাতক থাকায় লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য দেশের সকল গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশে অর্ন্তবর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই সঙ্গে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা এ মর্মে ৪ সপ্তাহের রুল দিয়েছেন আদালত। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার না করার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আজ এ আদেশ দেন বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা। তার পক্ষে আইনজীবী হিসাবে শুনানি করেন সানজিদা খানম । রিটে বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিটিভির মহাপরিচালক, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, একুশে টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক, কালের কণ্ঠের সম্পাদকসহ গণমাধ্যমকে। রিটকারী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা বলেন, একজন ফেরারি আসামির বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচার হতে পারে না। যাকে আদালত খুঁজে পাচ্ছেন না, তার বক্তব্য প্রচারযোগ্য নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি এ রিটটি দায়ের করেছি। ভবিষ্যতে কোনো পত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে তারেক রহমানের কোনো বক্তব্য প্রকাশ, প্রচার, সম্প্রচার, পুন:উৎপাদন না করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তথ্য সচিবের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয় রিট আবেদনে।   রিটে বলা হয়, ফেরারি তারেক রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে নানা অপরাধমূলক কথা বলছেন। যা দন্ডবিধি অনুসারে অপরাধ। এর মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন। এছাড়া তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি শান্তিভঙ্গ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছেন বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল কায়েদার নিউজ প্রচারিত হচ্ছে না? -খন্দকার মাহবুব
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আল কায়েদার নিউজ দিচ্ছে না। বড় সন্ত্রাসীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে বক্তব্য দিচ্ছে না। আমরা অতীতে দেখেছি, অনেক আন্ডারগ্রাউন্ড নেতা,  ফেরারি আসামি বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশে কোন বিধি নিষেধ সরকার দেয়নি, আদালতও দেননি। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আজ আদালত যে রুল জারি করেছে, তা পাক-ভারত উপমহাদেশের জন্য নতুন ধরনের রুল। বিদেশে অন্য কোথাও এ ধরনের আদেশের কথা আমার জানা নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, রুল শুনানির পর বাক স্বাধীনতা খর্ব করে আদালত কোন নির্দেশনা দিবে না। আমি যা বলেছি, সেটা বাক স্বাধীনতার পরিধি অতিক্রম করা হয়েছে কি-না, সেটা আদালত নির্ধারণ করবেন। তার আগেই সেটাকে বন্ধ করে দেয়া সঠিক না। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বাক স্বাধীনতার মানে যা খুশি বলা, যা খুশি করা না। দেশের প্রচলিত আইন মেনেই বাক স্বাধীনতা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ফখরুল কারাগারে, জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুর

(গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। গতকাল বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে বের হওয়ার পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবিটি আজ সিএমএম কোর্ট এলাকা থেকে তোলা । ছবি: হাসান রাজা) গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পল্টন থানায় করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই মামলায় ফখরুলকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম তারেক মইনুল ইসলাম ভূইয়া এ আদেশ দেন। বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মির্জা ফখরুলকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
৪ জানুয়ারি রাতে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পল্টন থানায় করা একটি মামলায় বিএনপি নেতা ফখরুলের ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু জানান, ফখরুলের জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ফখরুলের পক্ষে আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া জানান, একই ধরনের মামলায় বিএনপির দুই নেতা জামিনে আছেন। সে কারণে মির্জা ফখরুলেরও জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে পুলিশ ৪ জানুয়ারি পল্টন থানায় দুটি ও মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে। এর আগে ২৮ ডিসেম্বর পল্টন থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। পৃথক চারটি মামলায় গতকাল হাইকোর্টে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিন আবেদন করা হয়। বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ওই আবেদন করা হয়।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে পরদিন বুধবার বিকেল পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অবস্থানকে কেন্দ্র পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উত্তেজনা চলে। গতকাল বিকেল চারটার দিকে সংবাদ ব্রিফিং করে বের হওয়ার পর প্রেসক্লাবের মূল ফটকে অপেক্ষমাণ পুলিশ ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে।

বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের নাগরিকদের সতর্ক করেছে দূতাবাস

বাংলাদেশে অবস্থানরত থাইল্যান্ডের নাগরিকদের সতর্ক করেছে দেশটির ঢাকাস্থ দূতাবাস। এতে থাই নাগরিকদের অতি সতর্কভাবে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে সরকারি অফিস ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যুগুলো এড়িয়ে চলতে। একই সঙ্গে যেসব শহরে সহিংসতা দেখা দিয়েছে সেখানেও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ৫ই জানুয়ারির সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার পর  আজই প্রথম এমন সতর্কতা ঘোষণা করেছে থাই দূতাবাস। অনলাইন ব্যাংকক পোস্ট এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৫ই জানুয়ারি প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও তার মিত্ররা ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে সহিংসতা ঘটে রাজপথে। এর জবাবে সরকার বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার অফিসে অবরুদ্ধ করে রাখে। এরই প্রেক্ষিতে তিনি তার সমর্থশদেও প্রতি সড়ক, রেল, মহাসড়ক ও নৌরুট অবরোধের আহ্বান জানান সমর্থকদের প্রতি। সরকার যাতে নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় সে জন্য এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাই যেহেতু পরিস্থিতি ক্রমাগত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে সে জন্য পরিস্থিতি থাইল্যান্ডের নাগরিকদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সতক্য করা হয়েছে। সফরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদেরকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, সরকারি বাসভবন, বড় বড় সরকারি অফিস, রাজনৈতিক দলগুলোর অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বড় বড় শহর এড়িয়ে চলতে। বিক্ষোভ চলাকালে তাদেরকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বাসায় অবস্থান করতে। নিশ্চিত হতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, তাদের ঘরে প্রতিবাদের এই সময়ে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানি আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে। জরুরি প্রয়োজনে থাই নাগরিকদের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে কয়েকটি টেলিফোন নম্বর দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো +৮৮(০২) ৮৮১২৭৯৫, +৮৮(০২)৮৮১২৭৯৬ এক্সটেনশন-১০১ ও ১০৭, +৮৮(০১) ৬৮১৭৯২২৬২। অথবা ইমেইলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ইমেইল ঠিকানা হলো: thaidac@mfa.go.th

অবরোধে সরকারি বাসও বন্ধ! by মানসুরা হোসাইন

অবরোধের মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই বেসরকারি পরিবহন মালিকদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু অবরোধের মধ্যে খোদ সরকারি বাসের চলাচল বন্ধ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বে দেশে চলমান অবরোধ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পরিচালিত বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে আনা-নেওয়ার জন্য ঢাকার ভেতরের সার্ভিসও বন্ধ। ৫ জানুয়ারি থেকেই বলতে গেলে এ সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি বাস সুযোগ বুঝে চলাচল করছে। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন এসব বাসে যাতায়াতকারী যাত্রীরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্যই এ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন একটি সংস্থা। এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য মতে, বোর্ডের কল্যাণ কার্যক্রমের আওতায় স্টাফ বাস সার্ভিস পরিচালিত হচ্ছে। এতে বড় বাস, মিনি বাস ও বিআরটিসির ভাড়া করা বাসসহ মোট বাসের সংখ্যা ৮৩টি। ঢাকা মহানগর, শহরতলি, পার্শ্ববর্তী জেলায় মোট ৮১টি রুটে বাস চলাচল করছে। এতে যাতায়াতকারী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা আট হাজার ৫০০ জন। তবে কর্মকর্তাদের চেয়ে কর্মচারীর সংখ্যাই বেশি। এ কর্মসূচির আওতায় বড় ও মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা হারে ভাড়া দিতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার একদিকে বলছে দেশে কোনো অবরোধ নেই। সব স্বাভাবিক, আবার সরকারের পরিচালিত বাসই বন্ধ। আমাদের অফিসে না এসে উপায় নেই। সরকারি গাড়িতেই যদি সরকার আমাদের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তাহলে আর কোথায় নিরাপত্তা পাব? ফলে জানটাকে হাতে নিয়েই চলাচল করছি। আর কতদিন এভাবে করতে হবে কে জানে।’
নরসিংদী থেকে যাতায়াতকারী আরেকজন সরকারি কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘নরসিংদী থেকে প্রতিদিন যাতায়াত করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। সরকারি বাস সার্ভিস কবে থেকে চালু হবে তা-ও ঠিক করে বলছে না। ৫ জানুয়ারি থেকেই এ অবস্থা চলছে। আমাদের কারও কারও তবু ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু কর্মচারীদের ভোগান্তি বেশি। তাঁদের ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে বেশি ভাড়া দিয়ে আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।’
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক কানিজ ফাতেমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নীতিগতভাবে বাস বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা নেই। তবে আমরা জেনেশুনে তো আগুনে ঝাঁপ দিতে পারি না। মানুষের জান আগে। যাত্রীদের স্বার্থেই বাসের চালক ও হেলপারদের বুঝেশুনে গাড়ি বের করতে বলা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি পল্টনে আমাদের যে বাস পোড়ানো হলো বাস থেকে নামতে চালক আর কয়েক সেকেন্ড দেরি করলেই পুড়ে মারা যেতেন। আমাদের বাসের দামও অনেক। তবে সম্পদের চেয়েও আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিই।’
কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘আপনারাও জানেন কোন কোন রুট স্পর্শকাতর। যেমন যাত্রাবাড়ী। চালকদের স্পর্শকাতর রুট এভয়েড করতে বলেছি। তবে যেসব রুটে কিছু বাস চলছে সেখানে পুলিশ থাকছে। সামনে বিপদ চলে আসলে সেখানেই গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের ভিন্ন উপায়ে যেতে বলছেন। সবাইকে কয়দিন একটু সামলে চলতে বলেছি শুধু। আমাদের দিক থেকে বাস চলাচলে বাধা নেই বা বন্ধ করে দেইনি।’

মনে ভয় কখন কী হয়! by একরামুল হুদা

‘অবরোধের কারণে সমস্যা হচ্ছে না। তবুও ভয়ভীতি কাজ করে।’ গাড়িতে স্টিকার লাগানোর সময় এ কথা বলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. জহির। স্টিকারে লেখা ‘জরুরি মেডিকেল সরবরাহ’। অবরোধের মতো পরিস্থিতিতে গাড়িতে এমন স্টিকার লাগিয়ে চলাচল করেন বলে জানান তিনি। বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের বসেরও নির্দেশ আছে।’ আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলে কথা হয় জহিরের সঙ্গে। মালামালসহ গাড়ি ও নিজেকে অবরোধ-সমর্থকদের হামলা থেকে রক্ষা করতেই এ ব্যবস্থা বলে জানান তিনি। বিএনপির নেতৃত্বে ২০-দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের দ্বিতীয় দিন আজ। অবরোধের কারণে ঢাকার সাধারণ জনগণের চলাচলের তেমন সমস্যা না হলেও যেকোনো মুহূর্তে বোমাবাজি ও হামলার মধ্যে পড়ার আতঙ্কে আছেন সবাই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অবরোধে মন্দা চলছে তাঁদের ব্যবসায়। সকাল নয়টায় পল্টন মোড়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অখিল কুমার দত্ত। গন্তব্য নাবিস্কো মোড়। তিনি বলেন, ‘গাড়ি একটু কম, তবে কোনো সমস্যা তো হচ্ছে না। ঢাকার বাইরে যেতে একটু সমস্যা হচ্ছে শুনলাম, এখানে তো সমস্যা দেখছি না।’ একই কথা বলেন ব্যবসায়ী মাসুদ মণ্ডলও। মতিঝিল এলাকায় গাড়ি কিছুটা কম থাকলেও গাড়ির চাপ আছে পল্টন, শাহবাগ, কাকরাইল ও ফার্মগেটে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা খুব কম। মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ায় যেখানে রাস্তার দুই পাশে ব্যক্তিগত গাড়িগুলো দাঁড় করিয়ে রাখা হয়, আজ সেখানে ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি দেখা যায়নি। মতিঝিলের একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আরিফুল আরেফিন জানান, হামলার মধ্যে পড়ার আতঙ্কে তিনি গাড়ি নিয়ে বের হননি। একই কারণে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীরা বুঝেশুনে সতর্কভাবে উঠছেন। একজন যাত্রী বলেন, ‘যত দূরেই হোক, রিকশায় আসার চেষ্টা করি।’
শাহবাগ থেকে গুলশান যাবেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ইমরান হাসান। তাঁর ভাষ্য, গাড়ির তেমন সমস্যা নেই। গতকালও কোনো সমস্যা ছিল না। তবে আতঙ্কে আছেন, কখন কী ঘটে! গাড়ি অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম থাকলেও সকাল নয়টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায় দৈনিক বাংলা মোড়, পল্টন মোড়, মৎস্যভবন, শাহবাগ, কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় ও ফার্মগেটে ট্রাফিক সংকেত দেখে থামতে হচ্ছে রাস্তায় থাকা গাড়িগুলোকে। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কম থাকায় যানজট অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক কম। মতিঝিল ও পল্টন এলাকার খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অবরোধের কারণে মানুষ কম থাকায় তাঁদের বিক্রি কম হচ্ছে। মতিঝিলের ব্যবসায়ী আবদুল হালিম শেখ বলেন, ‘বেচাবিক্রি অনেক কম। অফিসে খাওয়ার জন্য যে যা কেনে তাই বিক্রি হচ্ছে। কেউ বাসার জন্য কিনছে না। পুঁটলা (প্যাকেট) নিয়ে কেউ যাইতে চাই না এ সময়।’
পল্টন এলাকার আরেক খুচরা ব্যবসায়ী আবদুস সবুরও বলেন, তাঁর বিক্রিও খুব কম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাইনষের প্রতি হ্যাগো মায়া নাই। দ্যাশটারে শেষ কইরা দিলেই পারে। খালি চেয়ারটা ঠিক থাকলেই হইল।’

সিলেটের মেয়র ও হবিগঞ্জের পৌর মেয়র বরখাস্ত

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জি কে গউছকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আরিফুল হক চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনটি স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন শাখা থেকে জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সরোজ কুমার নাথ। আর স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ এর ৩১(১) বিধান অনুযায়ী জি কে গউছকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয় পৌর শাখা থেকে। এটিতে স্বাক্ষর করেন উপসচিব খলিলুর রহমান।
আরিফুলের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলায় গত ১৩ নভেম্বর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির নেতা আরিফুল হক চৌধুরীসহ নতুন করে নয়জনকে অভিযুক্ত করে তৃতীয় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে আরিফুল আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। কারাগারে আটক থাকায় তাঁর দ্বারা মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থে পরিপন্থী। সে জন্য তাঁকে সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯ এর ১২ (১) ধারার বিধানে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একই মামলায় গত ২৮ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ হবিগঞ্জের আমলি আদালত-১-এ আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পরপরই জি কে গউছকে হবিগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে গত ১৩ নভেম্বর আদালতে তৃতীয় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুননেসা পারুল। এতে আরিফুল হক, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছসহ নয়জনকে নতুন করে অভিযুক্ত করা হয়। এ নিয়ে এই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৩৫ জনে দাঁড়াল। আর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংখ্যা ২২ জন।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন শাহ এ এম এস কিবরিয়া। একই ঘটনায় আরও নিহত হন স্থানীয় আওয়ামী লীগের চার নেতা-কর্মী। আহত হন ৭০ জন। এ ঘটনার পরদিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক) ও সাংসদ আবদুল মজিদ খান হবিগঞ্জ সদর থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন।
তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের ৫০ দিন পর ২০০৫ সালের ২০ মার্চ প্রথম অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান। এতে আসামি করা হয় ১০ জনকে। তাঁরা হলেন শহীদ জিয়া শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও তৎকালীন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম, ব্র্যাক ব্যাংকের স্থানীয় কর্মকর্তা আয়াত আলী, সাইনবোর্ড লেখক কাজল মিয়া, জেলা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক সেলিম আহমেদ, স্কুলশিক্ষক শাহেদ আলী, তাজুল ইসলাম, একই এলাকার জয়নাল আবেদীন জালাল, লস্করপুর বিএনপির নেতা জমির আলী, ডাকপিয়ন জয়নাল আবেদীন মোমিন ও ছাত্রদলের কর্মী মহিবুর রহমান।
২০১১ সালের ২০ জুন দ্বিতীয় দফায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম। এতে নতুন করে আসামি করা হয় ১৬ জনকে। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সম্পৃক্ততা খুঁজে পান তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। দ্বিতীয় অভিযোগপত্রে নতুন করে যাঁদের আসামি করা হয় তাঁরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হুজি নেতা মুফতি হান্নান, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি সফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, আবু জান্দাল, মহিব উলাহ, শরীফ সাহেদুল আলম, হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ, বদরুল আলম মিজান, মিজানুর রহমান, আবুল মাজেদ বাট, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আলী, হাসান উল্লাহ ও ইউসুফ বিন শরীফ।
প্রথম ও দ্বিতীয় দফা অভিযোগপত্র নিয়ে আপত্তি করেন কিবরিয়ার পরিবার ও বাদী। তাঁদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিবরিয়ার পরিবার ও সেই সময়কার হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এমদাদুল হকের সঙ্গে কথা বলা, মূল পরিকল্পনাকারী শনাক্ত করা, মদদদাতা ও আশ্রয়দাতা এবং গ্রেনেডের উৎস বের করাসহ পাঁচটি নির্দেশনা দিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন সিআইডিকে।

‘মনোবল অটুট খালেদা জিয়ার’

শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বেশ দূর্বল হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মনোবল অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবীন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। দুপুরে গুলশানে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। খালেদা জিয়া কথা বলার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কোন আলোচনা করার মতো অবস্থা ছিলনা। তবু যা কিছু বলার তার সহকারীরা বলবেন। এদিকে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তার গুলশান কাযার্লয়ে গেছেন ইউনিভারসিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ইউট্যাব)এর একটি প্রতিনিধি দল। ইউট্যাব সভাপতি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার টফিসহ শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেথা করতে চাইলে প্রথমে দায়িত্বরত পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তারা ভেতরে প্রবেশ করেন। খালেদা জিয়া শিক্ষক প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানান তারা।

কারাগারে স্বামী-স্ত্রীর সহবাস অধিকার

কারাগারে বন্দী স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। এই ঐতিহাসিক রায় দিযেছে ভারতের একটি আদালত। পাঞ্জাব ও হরিয়াণা হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার একটি রায়ে জানিয়েছে, কারাগারে বন্দী স্বামী-স্ত্রীর সহবাস এবং সন্তান ধারণের আকাঙ্খা মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। পাতিয়ালা কারাগারে এক হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দম্পতি যশবীর সিং ও সোনিয়া সিং আদালতে এক আবেদনে দুজনে একসঙ্গে থেকে সহবাসের অনুমতি চেয়েছিলেন। বিয়ের আটমাসের মাথাতেই দুজনে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেইমত কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তারা আবেদনে জানিয়েছিলেন, ব্যাক্তিগত যৌন ক্ষুধা মেটানোর জন্যই তিনি এই অনুরোধ জানাচ্ছেন না। সেই মামলা যশবীরের ভয়ঙ্কর অপরাধের নিরিখে  খারিজ  করে দিলেও বিচারক সূর্য্য কান্ত বৃহত্তর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে কারাগারে স্বামী-স্ত্রীর যৌনতাকে মৌলিক অধিকারের মধ্যেই ফেলেছেন।  সেইসঙ্গে বিচারক সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে বসে বিষযটি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

খালেদার বিরুদ্ধে খুনের মামলা হতে পারে :আনন্দবাজার

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে খুনের মামলা হওয়ার সম্ভবানা প্রকাশ করেছে ভারতের কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। আজ প্রকাশিত পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সরকার বন্দী করেই রেখেছে। তার বিরদ্ধে খুনের মামলা হতে পারে। মানবজমিনের পাঠকদের সুবিধার্থে আনন্দবাজারের প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এখানে তুলে ধরা হলো।
‘বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবারও বন্দী রাখল বাংলাদেশ পুলিশ। কবে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, বিরোধী নেত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে আটকে রেখেছে পুলিশ। পুলিশ যখন মনে করবে, তার জীবন বিপন্ন নয়, তখন তিনি নিজের বাড়ি যেতে পারবেন। ঢাকার গুলশান এলাকার বিএনপি দফতরে দু’দিন ধরে খালেদা জিয়াকে আটকে রেখেছে পুলিশ।
একটি সূত্র জানাচ্ছে, বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা আনতে পারে সরকার। তবে এই খবরের সত্যতা কেউ স্বীকার করেনি। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শুধু জানান, গত সপ্তাহে খালেদার দলের সমর্থকেরা তিন জনকে পুড়িয়ে দিয়েছে। সেই সূত্রে বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধেও খুনের মামলা দায়ের হতে পারে। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, খালেদার ওপর চাপ সৃষ্টির জন্যই এমন কথা বলা হচ্ছে।
খালেদা-পুত্র তারেক রহমানের একটি বক্তৃতা সম্প্রচার করে সরকারের কোপে পড়েছে একটি বেসরকারি চ্যানেল। তারেকের ওই বক্তৃতা দেখানোর কিছু ক্ষণের মধ্যেই ওই  চ্যানেলের কর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অপারেটরদের দিয়ে বন্ধ করিয়ে দেওয়া হয় সম্প্রচারও। সরকারি ভাবে বলা হচ্ছে, অশ্লীল ছবি দেখানোর দায়ে ওই চ্যানেল কর্তাকে আটক করা হয়েছে। ওই চ্যানেলেরই এক সিনিয়র সম্পাদক অবশ্য অন্য কথা বলছেন। এক মহিলা প্রায় দু’মাস আগে ওই চ্যানেলের বিরুদ্ধে অশ্লীল ছবি দেখানোর অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তার প্রশ্ন, হঠাৎ এখন কেন তড়িঘড়ি চ্যানেল কর্তাকে গ্রেপ্তার করা হলো? পুলিশ অবশ্য নীরব।
তবে গত দু’দিনের মতো মঙ্গলবারও উত্তপ্ত থাকল বাংলাদেশ। বিএনপির লাগামছাড়া হিংসায় কাল থেকে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের জনজীবন। কালকের হিংসায় চার জনের মৃত্যু হয়েছিল। সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের তান্ডবে উত্তপ্ত ছিল রাজধানী লাগোয়া ডেমরা শহরতলি এলাকা। সেখানে শাসক দল আওয়ামী লিগের একটি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় বিরোধী দল বিএনপির সমর্থকেরা। কদমতলি এলাকায় এক আধাসেনা গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা তার ভ্যানে আগুন জ্বালিয়ে দিলে জখম হন তিনি।’

যে গ্রামে দরজা রাত-দিন খোলা

(ভারতের শনি শিংনাপুর গ্রামের সব ঘরের দরজাই এমন কবাটহীন। ঘরের বাইরে খেলছে দুই শিশু। ছবি: এএফপি) ঘরের দরজা আছে বটে, কবাট নেই। এক্কেবারে উদোম। তাই বলে চোর গিয়ে হানা দেবে—উঁহু, তা হবে না। শনি দেবীর কোপানলে পড়তে হবে। এই বিশ্বাস ও ভরসা থেকেই ভারতের ওই গ্রামের কোনো বাড়িতে দরজায় কবাট নেই। এমনকি ব্যাংকের দরজায়ও তালা নেই। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শনি শিংনাপুর গ্রামে এমন অরক্ষিত দরজা রয়েছে প্রতিটি বাড়িতে। দরজা উদোম ঘরে নিশ্চিন্তে টাকাপয়সা, গয়নাগাঁটি রেখে বাইরে কাজে যান গ্রামের বাসিন্দারা। থাকেন নির্ভাবনায়। বংশপরম্পরা চলে আসছে এভাবেই। এএফপির খবরে জানা যায়, ঘরে দরজার কবাট না থাকার কারণ জানতে চাইলে গৃহবধূ জয়শ্রী গাড়ে বলেন, বহু বছর আগে শনি দেবী গ্রামের বাসিন্দাদের স্বপ্নে দেখা দেন। দেবী বলেন, তিনিই তাঁদের সবকিছু রক্ষা করবেন। এর পর থেকে গ্রামে এই প্রথা চলে আসছে। কারখানার শ্রমিক বালাসাহেব বরুদ জানান, শনি দেবী শক্তিমতী ও করুণাময়ী। রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে চুরি করলেও দেবীর কৃপায় সকালে সে আবার সেই বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হবে। তবে কয়েকজন গ্রামবাসীর ভাষ্য, বুনো জন্তুর হাত থেকে রক্ষা পেতে রাতে তাঁরা ঘরের কবাট হালকাভাবে চাপিয়ে রাখেন। ৩০০ বছর আগে গ্রামটিতে বন্যা হয়। সে সময় লোহা ও পাথর দিয়ে দেবীর স্তম্ভ বানানো হয়। ফুল দিয়ে দেবীকে পূজা দেন গ্রামের বাসিন্দারা। তবে কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, বন্যপ্রাণীর কবল থেকে রক্ষা পেতে তাঁরা কয়েকটি বাড়ির দরজা আলগাভাবে বন্ধ করে রাখেন। গ্রামের সরকারি ব্যাংক ইউসিওর কাচের দরজাতেও কোনো তালা লাগানো হয় না। ব্যাংক কর্মকর্তা নগেন্দ্র সেহওয়াত বলেন, এ ব্যবস্থায় তাঁদের কোনো সমস্যা হয় না। গ্রামটি থেকে মহারাষ্ট্রে ফুল সরবরাহ করা হয়। সেই ফুল বিভিন্ন ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়। পর্যটকদের কাছেও ফুলের চাহিদা রয়েছে। সিংনাপুরের গোলাপ এখন বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। দেবীর ওই স্তম্ভের ট্রাস্টি ছায়ারাম ব্যাংকার বলেন, সবাই জানে সিংনাপুরের গ্রামের ঘরে কোনো দরজা নেই। গাছ আছে, ছায়া নেই। দেবী আছেন, মন্দির নেই।’
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রামে চুরির ঘটনাও ঘটে খুব কম। ২০১০ সালে সেখানে আসা এক পর্যটক অভিযোগ করেছিলেন তাঁর গাড়ি থেকে ৩৫ হাজার রুপি চুরি গেছে। তবে তা গ্রামের বাইরের ঘটনা। গ্রামে চোর-ডাকাত ও দুষ্ট সংখ্যাও কম। গ্রামের বাসিন্দারা মনে করেন, ঐতিহ্যের ধারা অব্যাহত থাকবে। দেবীই তাঁদের গ্রামের অভিভাবক। হোটেলের ব্যবস্থাপক অমিত শর্মা বলেন, এটিই হলো এই দেবীর বিশেষত্ব। তিনিই এই গ্রামের অভিভাবক।

কাশ্মীর সীমান্তের ১০ হাজার মানুষ বাড়িছাড়া- প্রচণ্ড গোলাগুলি চলছেই

(গুলির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত নিজের বাড়ির সীমানাপ্রাচীর দেখাচ্ছেন এক ভারতীয় গ্রামবাসী। সীমান্তে পাকিস্তানি ও ভারতীয় বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির জের ধরে জম্মুর দক্ষিণে অবস্থিত বাইনগ্লাদ নামের এই গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার লোক বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে l ছবি: রয়টার্স) ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে প্রচণ্ড গোলাগুলির কারণে স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে গেছে। লড়াইয়ে সোমবার থেকে পাকিস্তানে পাঁচজন এবং ভারতে একজন প্রাণ হারিয়েছে। খবর রয়টার্স, এএফপি ও এনডিটিভির। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্ররিবতি লঙ্ঘন করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বেশ কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে গত সোমবার রাত থেকে গুলি ছুড়ছে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে গত সোমবার বলা হয়, পূর্বাঞ্চলীয় শিয়ালকোট শহরের কাছাকাছি বিএসএফের গোলার আঘাতে পাকিস্তানের এক কিশোর এবং এক নারীসহ চার বেসামরিক নাগরিক এবং এক সেনা নিহত হয়েছেন। এনডিটিভির খবরে বলা হয়, কাশ্মীর সীমান্তের প্রায় ২০০ কিলোমিটারজুড়ে গোলাগুলি চলছে। আশপাশের কয়েকটি এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার ভেতরে চক্র, শেরপুর ও লোনডি ইত্যাদি এলাকায় পাকিস্তানি গোলা আঘাত হেনেছে। সামবা ও হীরানগর এলাকায় গত সোমবার পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের হামলায় আহত বিএসএফের এক জওয়ান পরে মারা যান। শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্যাম কুমার রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধের মতো অবস্থা চলছে। পাকিস্তানি সেনারা দূরপাল্লার অস্ত্র ছুড়ছে। এই প্রথম এ ধরনের তীব্র গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে।
বিএসএফের একজন কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তের কয়েকটি অংশে গতকাল মঙ্গলবারও দুই পক্ষের মধ্যে গুলি ও মর্টারের গোলা বিনিময় হয়েছে। গোলাগুলি চলছেই এবং তারা পাকিস্তানি হামলার জবাব দিচ্ছেন। এ অভিযোগের ব্যাপারে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জম্মু অঞ্চলের বিভাগীয় কমিশনার শান্তমানু বলেন, সোমবার রাতে গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর প্রায় ছয় হাজার বেসামরিক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে চলে যায়। আর গত সপ্তাহে লড়াই শুরু হওয়ার পর চার হাজার মানুষ ঘর ছাড়ে। ভারত ও পাকিস্তানের কাশ্মীর সীমান্তে গত অক্টোবর থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের অন্তত ১০ সেনা গত সপ্তাহে নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি অধিকতর আলোচনার জন্য ভারত ও পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

চার দিন ধরে অবরুদ্ধ খালেদা

চতুর্থ দিনেও অবরুদ্ধ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে পুলিশ। তবে আজ পুলিশের সংখ্যা কিছুটা কম। আজও প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। কার্যালয়ের সামনের সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য রাখা ১১টি ট্রাক গতকাল রাতে সরিয়ে নেওয়া হলেও খালেদা জিয়ার বাইরে বের হওয়ার পথ আগের মতো অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কার্যালয় থেকে বের হয়ে ডান বা বাঁয়ে কোনো দিকেই যাওয়ার উপায় নেই। বের হয়ে বাঁ দিকে যাওয়ার রাস্তায় আড়াআড়িভাবে পুলিশের একটি জলকামান রাখা হয়েছে। আর ডান দিকে যাওয়ার পথে দুটি পুলিশ ভ্যান আড়াআড়িভাবে রাখা হয়েছে। তবে ৮৬ নম্বর সড়কে ঢোকার মুখে রাখা সাঁজোয়া যান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ উপাচার্য আ ফ ম ইউসুফ হায়দারের নেতৃত্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষক কার্যালয়ের ভেতরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছেন। খালেদা জিয়ার আত্মীয়স্বজনের বাসা থেকে তাঁর জন্য খাবার পাঠানো হয়েছে। ফটকে পরীক্ষার পরে খাবার ভেতরে যেতে দেওয়া হয়।
গতকাল গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের ওই কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এক সারিতে নারী পুলিশ এবং আরেক সারিতে পুরুষ পুলিশকে দিনভর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গতকাল প্রধান ফটকের ছোট দরজাটি (পকেট গেট) খুলে দেওয়া হয়। সেই পথ দিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের যাতায়াত করতে দেওয়া হয়েছে। কার্যালয়ের ভেতরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানসহ ছয়জন নারী নেতা এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীসহ ২৫ জন অবস্থান করছেন। গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ রাশিদুল হাসান ওই কার্যালয়ে যান। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এমাজউদ্দীন আহমদ বাইরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন অসুস্থ। তবে তিনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে অটল আছেন। ভয়ভীতি, অবরুদ্ধ করে তাঁকে দমানো যাবে না। তিনি বলেন, বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচি কী হবে, তা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে খালেদা জিয়া তাঁদের জানিয়েছেন। রাতে মারুফ কামাল খান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়া শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তাঁকে মাঝে মাঝে অক্সিজেনও দিতে হচ্ছে। এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাবলিগ জামাতের কয়েকজন সদস্য বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যান। প্রথমে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া না হলেও পরে অনুমতি নিয়ে ভেতরে যান। তাঁরা বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী ও প্রেস সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। ৯ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব ইজতেমার বিষয়টি অবহিত করা হয়। অবশ্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁদের কোনো কথা হয়নি।

লেবাননে প্রবেশে সিরীয় শরণার্থীদের নতুন বাধা

সিরীয় শরণার্থীদের লেবাননে প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রতিবেশী দেশ লেবানন। গতকাল সোমবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এর আগে দুই দেশের নাগরিকেরা অনেকটা বাধাহীনভাবেই একে অন্যের দেশে প্রবেশ করতে পারতেন। খবর বিবিসি। লেবাননের সরকারের এই কড়াকড়ি আরোপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থার (ইউএনএইচআরসি) মুখপাত্র রোন রেডমন্ড বলেছেন, গত ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে লেবানেন আশ্রয়প্রার্থী সিরীয়দের সংখ্যা অনেক কমেছে। সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত সিরীয়দের লেবাননে প্রবেশের সুযোগ দিতে দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল ঘোষিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে লেবাননে প্রবেশের আগে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে সিরীয়দের। আগে লেবাননে প্রবেশের পর কোনো কাগজপত্র ছাড়াই ছয় মাস থাকতে পারতেন সিরীয় নাগরিকেরা। এখন থেকে তাঁদের লেবাননে প্রবেশের সময় সীমান্ত প্রবেশপথগুলোতে ভিসা পেতে নানা আনুষ্ঠানিকতার মুখে পড়তে হবে। কেন তাঁরা লেবাননে যেতে চান, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভিসা দেবে। এ ছাড়া লেবাননে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে ইচ্ছুক সিরীয়দের লেবাননের কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানির কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেতে হবে।
বিপুলসংখ্যক সিরীয় শরণার্থীর চাপে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে লেবাননের সরকার। এই শরণার্থী সমস্যা দেশটির আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সিরিয়া গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রতিবেশী লেবাননকে উদ্বাস্তু সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশটিতে তালিকাভুক্ত ১১ লাখ শরণার্থী অবস্থান করছেন। তবে তালিকার বাইরে আছেন আরও পাঁচ লাখের বেশি শরণার্থী। সব মিলিয়ে ছোট দেশ লেবাননে বর্তমানে প্রতি তিনজন মানুষের একজন সিরীয়। এসব শরণার্থীর বেশির ভাগই শরণার্থী শিবিরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সিরিয়ায় ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। এর পর থেকে লাখো সিরীয় দেশ থেকে পালিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

জোট বেঁধে ক্ষমতায় যাওয়ার পক্ষে রাজ্য বিজেপি

মুখ্যমন্ত্রিত্ব ভাগাভাগির দাবিতে অনড় না থেকে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের বিজেপি বিধায়কেরা চাইছেন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) সঙ্গে জোট বেঁধে প্রথমবারের জন্য রাজ্যে দল ক্ষমতায় আসুক। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠকে গতকাল সোমবার রাজ্য নেতৃত্ব এ বিষয়েই জোর দিয়েছেন। তবে রাজ্য সভাপতি যুগল কিশোর জানিয়েছেন, দল তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরোধী। অমিত শাহ রাজ্য নেতাদের মন বোঝার জন্যই গতকালের ওই বৈঠক ডেকেছিলেন। বৈঠকে দলের সাধারণ সম্পাদক রামমাধবও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ওপরেই দায়িত্ব ছিল এই জোটের। বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধার আড়ষ্টতা কাটিয়ে পিডিপি এই যে রাজি হওয়ার মতো জায়গায় এসেছে, তার ভালোমন্দই প্রধানত এই বৈঠকে আলোচিত হয়। বিজেপির নির্বাচনী স্লোগান ছিল রাজ্যকে প্রথম হিন্দু মুখ্যমন্ত্রী উপহার দেওয়া। কিন্তু পিডিপির সেখানে ঘোরতর আপত্তি। তারা মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে কোনো দরকষাকষিতে আদৌ রাজি নয়। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব সেখানেই তাঁদের মতামত জানান। বৈঠকে তাঁরা জানান, এমন কিছু করা উচিত নয়,
যাতে পিডিপির মধ্যে জোটবিরোধীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। সে ক্ষেত্রে বিজেপি উপমুখ্যমন্ত্রিত্বে খুশি হবে। বৈঠকে পিডিপির অন্য শর্তগুলোও আলোচিত হয়। তাদের শর্ত প্রধানত চারটি। প্রথমত, সংবিধানের ৩৭০ ধারা অটুট রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনীর বিশেষ অধিকার আইন ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। অন্তত এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জোট গঠনের সময় জানাতে হবে। তৃতীয়ত, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির পাকিস্তান নীতিকে অনুসরণ করতে হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধ থাকা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করতে হবে। এবং চতুর্থত, রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরও আলোচনার আবর্তে আনতে হবে। এই শর্তগুলো কতটা মানা সম্ভব, সোমবারের বৈঠকে সেগুলোই আলোচিত হয়। এরপর বিজেপি নেতৃত্ব কথা বলবেন পিডিপি নেতৃত্বের সঙ্গে। ১৯ জানুয়ারির মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গড়তে হবে। ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে বিজেপি-পিডিপি জোট অবধারিত হতে চলেছে।

সময় নষ্ট করল ফিলিস্তিন

ইসরায়েলি দখলদারত্ব অবসানে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তুলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কেবল সময়ই নষ্ট করেছে। কারণ, প্রস্তাবটি যে সেখানে পাস হবে না, সেটি আগেই জানা গিয়েছিল। এর পরও এমন উদ্যোগ নিয়ে তারা অযথা ইসরায়েলকে প্রতীকী হলেও একটা কূটনৈতিক জয় পাইয়ে দিল। ফিলিস্তিনের পক্ষে জর্ডানের তোলা প্রস্তাবটি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি হয় গত ৩০ ডিসেম্বর। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে সেটি পাস হওয়ার জন্য নয় ভোটের দরকার ছিল। তবে পক্ষে পড়ে আট ভোট। পাঁচটি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া ভোট দেয় বিপক্ষে। প্রস্তাবটিতে ইসরায়েলকে এক বছরের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ২০১৭ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে দখলদারত্বের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল। সাধারণত কোনো প্রস্তাব তোলার আগে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়। তাই যেই প্রস্তাব উত্থাপন করুক না কেন, ভোটাভুটির ফল কী হতে যাচ্ছে, তা আগে থেকেই সে জানে। এই প্রস্তাবটির ক্ষেত্রেও কোনো ব্যতিক্রম ছিল না। কার্যত ভোটাভুটি করতে দেরি করার পেছনে সদস্যদেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ার বিষয়টিই ছিল প্রাথমিক কারণ। তাহলে নাকচ হতে যাচ্ছে জেনেও প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদে তোলা হলো কেন? এমনকি প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন ভোটের নিশ্চয়তা পেলেও যুক্তরাষ্ট্র যে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রস্তাবটি আটকে দিতে পারে, সেটাও তো ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অজানা ছিল না। ইসরায়েলের কিঞ্চিৎ সমালোচনা করে কোনো প্রস্তাব তোলা হলে আমেরিকানরা বরাবরই সেটা করেছে। এবারের বেলায় তো তারা রাখঢাক না করেই ঘোষণা দিয়েছিল,
প্রয়োজন হলে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। বিষয়টা যদি তেমনই হয়ে থাকে তবে ফিলিস্তিনের পক্ষে জাতিসংঘে প্রস্তাব তোলা জর্ডানের রাষ্ট্রদূত দিনা কাওয়ারের বক্তব্যটা বেশ ধাঁধাপূর্ণ। তিনি বলেছেন, তাঁর এটা মনে হয়েছিল যে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা অনেক বেশি সময় পাবে। তাহলে আমেরিকানরা যে ভেটো দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছিল, সে বিষয়ে কী বলা হবে? ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই তিনি বারবার প্রস্তাবটি স্থগিত করেছিলেন। আব্বাস কি এটা মনে করেছিলেন যে তিনি যা বলছেন বা করছেন তার ফলে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের চাপ তুলে নেবে বা দেশটি শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবটি মেনে নেবে? বাস্তবতা হলো, মাসের পর মাস দেনদরবার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কেবল দীর্ঘসূত্রতাই ঘটানো হয়েছে। এতে করে প্রস্তাবটির ভাষা কেবল দুর্বল থেকে দুর্বলতর করা হয়েছে। এর বেশি কিছু আর অর্জন করা যায়নি। পাশাপাশি প্রস্তাবটিকে পরিচ্ছদ-৭ হিসেবে উত্থাপন করা হয়নি। সেটি করা হলে এবং প্রস্তাবটি না মেনে চললে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকত। তার মানে, প্রস্তাবটি পাস হলেও ইসরায়েলের টিকিটি ছোঁয়া যেত না। অনায়াসে তারা এটিকে অবজ্ঞা করতে পারত। অতীতেও তারা সেটা করে পার পেয়ে গেছে। এককথায়, প্রস্তাবটিতে এমন কোনো ভাষা ছিল না, যাতে ইসরায়েলের চিন্তিত হওয়ার কারণ রয়েছে। অর্থাৎ এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে ফিলিস্তিনিরা কেবলই সময়ের অপচয় করেছে। এ থেকে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার কিছুই পায়নি ফিলিস্তিনিরা।

সেরা গাছের দৌড়ে মেজর ওক

যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত বন শেরউড ফরেস্টের গাছ ‘মেজর ওক’ দেশের বছরের সেরা গাছ নির্বাচিত হয়েছে। মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডের লোকগাথার চরিত্র গরিবের উপকার করা দস্যু রবিন হুডের আস্তানা হিসেবে সুপরিচিত শেরউড ফরেস্ট। শোনা যায়, বনের ওই প্রাচীন ওক গাছেই লুকিয়ে থেকে অনেকবার রাজার সেপাইদের নজর এড়িয়েছেন রবিন হুড। আর এই ‘মেজর ওক’ এবার ১৩টি গাছের সঙ্গে লড়বে গোটা ইউরোপের ২০১৫ সালের সেরা গাছের শিরোপা পেতে। খবর বিবিসির। যুক্তরাজ্যের সেরা গাছ হতে গিয়ে মেজর ওককে দুটো ‘বিখ্যাত’ গাছের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। এর একটি হলো, যে গাছটি থেকে আপেল পড়ার পর বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্বের আবিষ্কার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়, সেই গাছটি। আর রাজা জন যেখানে ম্যাগনা কার্টায় স্বাক্ষর করেছিলেন, রানিমেডের সেই ইউ গাছটি। এ দুটিসহ অন্যদের হারিয়ে হাজার বছরেরও বেশি বয়সী আনুমানিক ২৩ টন ওজনের মেজর ওকই সেরা গাছ হয়ে উঠল। মেজর ওকের সেরা মনোনীত হওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে শেরউড ফরেস্টের ব্যবস্থাপক আইজি ব্যানটন বলেন, ‘গাছটির দিকে তাকালে অবাক হতে হয়। সবুজ পত্রপল্লবে আচ্ছাদিত। এত পুরোনো গাছের জন্য যেটি সত্যিই বিস্ময়কর।’
পুরোনো গাছ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জিল বাটলার বলেন, ‘ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির মতো আমাদের দেশে মানুষের তৈরি যে চারটি বিস্ময়কর জায়গা আছে, মেজর ওক এর একটি।’ মেজর ওকের নাম হয়েছে মেজর হেম্যান রোকের নাম অনুসারে। অষ্টাদশ শতকে তিনি এই গাছটি নিয়ে লিখেছিলেন।
সমর্থকরা মনে করেন, বুলগেরিয়ার স্লিভেন শহরের বড় এলম (দেবদারুর মতো গাছ) গাছটিকে পেছনে ফেলে মেজর ওক জয়ী হবে। বুলগেরিয়ার ওই গাছটি এক অনলাইন জরিপে ৭৭ হাজারেরও ভোট বেশি পেয়ে ২০১৪ সালের ইউরোপের সেরা নির্বাচিত হয়। ইউরোপীয় কমিশনের অঙ্গসংগঠন এনভায়রনমেন্টাল পার্টনারশিপ অ্যাসোসিয়েশন (ইপিএ) ২০১৫ সালের ইউরোপের সেরা গাছের প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে। মার্চ মাসে অনলাইন ভোটের মাধ্যমে সেরা গাছটির নাম ঘোষণা করা হবে। মেজর ওকের এক শক্ত প্রতিযোগী যুক্তরাজ্যেরই ওয়েলসের ল্যানফিলিন শহরের পাইনগাছটি গত শীতে ঝড়ে ভেঙে গেছে। সেরা গাছের প্রতিযোগিতার চেক প্রজাতন্ত্রের এক আয়োজক বলেন, কেবল প্রাচীন, দুর্লভ, বড় বা দেখতে সুন্দর হওয়া বিজয়ী হওয়ার মাপকাঠি হবে না।
প্রতিযোগিতার সমন্বয়কারী আন্দ্রে ক্রপোভা বলেন, ‘আমরা আসলে সেই গাছটিই খুঁজছি, যেটিকে সবচেয়ে বেশি মানুষ ভালোবাসে। যে গাছটি ঘিরে আছে ইতিহাস। আর যেটি একটি সম্প্রদায়ের নানা মানুষকে একত্র করেছে।’ প্রতিযোগিতায় আরও আছে স্পেন, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার গাছ।

উইলফোর্স দিয়ে রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না by মাহবুব কামাল

দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক ভদ্রলোকের সঙ্গে সম্প্রতি বাজি ধরেছি আমি। সেটি বলতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বন্ধুদের সঙ্গে ধরা তিনটি বাজির কথা মনে এলো। পাঠকের সঙ্গে সেগুলো শেয়ার করি আগে।
১.
সবে ভুট্টোর ফাঁসির আদেশ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্দীন হলের গেস্টরুমে বসে কথা বলছিলাম মিলন ভাইয়ের সঙ্গে। মিলন ভাই (আলী সানোয়ার, বর্তমানে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় কর্মরত) এক ভয়ংকর দাহ্য পদার্থ; কিন্তু জ্বলে উঠতে পারলেন না। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম বলেছেন, প্রত্যেক মানুষই কিছু না কিছু আগুন নিয়ে জন্মায়, তার উচিত সেই আগুন ছড়িয়ে দেয়া। এই পণ্ডিত ভারতীয় সমাজ বলেই হয়তো নিজে নিজেই জ্বলতে পেরেছিলেন। এদেশে জ্বলতে হলে দাহ্য পদার্থ হলেই চলে না, দেশলাই লাগে। এই দেশলাই যাদের পকেটে, তারা তোষামুদের গায়ে কাঠি ঘষেন। আর তাই, যার মুদি দোকানদার হওয়ার কথা ছিল, তিনি হয়ে যান মন্ত্রী আর যার মন্ত্রী হওয়ার কথা, অনুরোধ করতে সংকোচ লাগে বলে পাস জোগাড় করতে পারেন না, তাই সচিবালয়ের ভেতরটা কেমন, সেটাও জানেন না। তোষামোদের ব্যাপারটি এখন বিশ্রী পর্যায়ে চলে গেছে। যাকগে।
ভুট্টোর ফাঁসি কার্যকর হবে কি-না, তা নিয়ে কথা বলছি, মিলন ভাই পনেরো মিনিটের একটা অ্যাকাডেমিক লেকচার দিলেন। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও গ্লোবাল রাজনীতির নানা ইকুয়েশন দেখিয়ে তিনি বললেন- ফাঁসির রায় কার্যকর হবে না। সিক্সথ সেন্স কখনও কখনও পরাক্রম যুক্তির চেয়েও শক্তিশালী হয়। মিলন ভাইয়ের কথা শেষ হলে আমি বললাম, কারণটা আপনার মতো ব্যাখ্যা করতে পারব না, তবে ফাঁসি হয়ে যাবে। শেষমেশ ফাঁসি হওয়া-না হওয়া নিয়ে পাঁচশ’ টাকার বাজি ধরি আমরা।
আমি যে বাজি জিতেছিলাম, সেটা সিক্সথ সেন্সের জোরেও নয়। সিক্রেটটা বলি। ভুট্টোর মামলা চলছিল যখন, নিউজউইকে জিয়াউল হকের একটি সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। সেখানে তিনি বলেছিলেন- I will hang that bastard (আমি ওই বাস্টার্ডটাকে ঝোলাবো)। তাকে পাল্টা বলা হল- আপনার মনে কি কোনো ভয় নেই? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন- Not at all. Higher you fly, the harder you fall (মোটেই না। আপনি যত উপরে উঠবেন, নিচে পড়ে যাওয়া ততো কঠিন হয়ে পড়বে)।
উপরের কথাগুলো জিয়াউল হকের যে মনস্তত্ত্ব তুলে ধরে, সেটাই পাঁচশ’ টাকার ঝুঁকি নিতে সাহস জুগিয়েছে আমাকে। এক অপ্রতিরোধ্য, লজ্জা-সংকোচহীন, নির্ভয়, মরিয়া, দুর্দান্ত, বেপরোয়া জিয়াউল হকের ছবি দেখতে পেয়েছিলাম আমি ওই সাক্ষাৎকারে। জিঘাংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে এই লোক কোনো তত্ত্ব মানবেন না, বুঝতে চাইবেন না মানবতার কোনো বাণী, ভাবতে চাইবেন না কোনো ঝুঁকি; তিনি রাষ্ট্র, এমনকি নিজের জীবন বিপন্ন করে হলেও ঝোলাবেন ভুট্টোকে।
২.
ইরাক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। রিয়াজ, দিলু, মাসুদসহ আমরা আড্ডা মারছি প্রয়াত বন্ধু জিএম গাউসের ফকিরাপুলস্থ অফিসে। সবার মুখে এক কথা- আমেরিকা এবার টের পাবে সাদ্দাম কী জিনিস। আমি চুপ মেরে যাই। ভাবতে থাকি- আমরা যে পরস্পর বন্ধু হলাম, সেটা কীসের ভিত্তিতে? ঘটনাচক্রে মিলন ঘটলেই বন্ধু হওয়া যায়? চিন্তার ঐক্য কিংবা সমউচ্চতার ইনটেলেক্ট প্রয়োজন পড়ে না? হবে হয়তো। আমরা আসলে ল.সা.গু অর্থাৎ লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণনীয়কের ভিত্তিতেই বন্ধুত্ব গড়ে তুলি। দু’একটি বিষয়ে কমন পড়লেই চলে। ভালো চুটকি বলতে পারে অথবা প্রেমিকার সঙ্গে ডেট করার জায়গা করে দিল কিংবা খবর দিল অমুক পত্রিকায় চাকরির বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে- ব্যস, হয়ে গেল বন্ধু! তা না হলে আমারই বন্ধু হয়ে তারা সাদ্দাম কী জিনিস বোঝাতে চায়, আমেরিকা কী জিনিস জানে না।
শুধু আমার এই বন্ধুরা কেন, সাদ্দামের বিজয় কামনা করে প্রার্থনা চলছিল তখন চারদিকে। কিন্তু রাব্বুল আলামিন কোন প্রার্থনা কবুল করবেন আর কোনটা করবেন না, সেটা একমাত্র তিনিই জানেন। আমরা যারা বান্দা, তারা কেন ধরে নেব তিনি আমাদের প্রার্থনা কবুল করতে বাধ্য? ইউরোপিয়ান কে যেন বলেছিলেন- আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি, তবে ঈশ্বর আমার সঙ্গে পরামর্শ করেই আমার ভাগ্য নির্ধারণ করেন। সাদ্দামের ভাগ্যও তিনি নিজেই নির্ধারণ করেছেন। আমি নিশ্চিত ছিলাম (এটা অবশ্য গৌরবের কিছু নয়, সাধারণ বুদ্ধিতেই কুলোয় এটা), বীজ না বুনে শুধু প্রার্থনায় যেমন ফসল ফলবে না, ১৪০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দেশ আমেরিকার কাছে তেমন মাত্র কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশের পরাজয় শুধু প্রার্থনা দিয়ে ঠেকানো যাবে না। সাদ্দাম বিজয়ী হলে ব্যক্তিগতভাবে আমিও খুশি হতাম। তাতে অন্তত কুর্দি হত্যাসহ সাদ্দামের স্বৈরতান্ত্রিক অপকর্মগুলো ছাপিয়ে মার্কিনিদের বলা যেত- তোমরা আটলান্টিকের ওই পাড়েই থাকো, এই পাড়ে মাতব্বরি ফলাতে এসো না। ঝঘঅঋট তত্ত্বও অসার হয়ে পড়ত তখন। একসময় মার্কিন প্রশাসন যখন তাদের জন্য বিপজ্জনক শক্তি দমন করতে সৈন্য পাঠাত, তারা অকুস্থলে পৌঁছার দুই ঘণ্টার মধ্যেই হোয়াইট হাউসে টেলেক্স (তখন কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি ছিল না) পাঠাত- SNAFU DONE (SNAFU বিস্তারিত করলে দাঁড়ায়- Situation normal, all fucked up)।
কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই আমি বাজি ধরি। কেন থাকবে দ্বিধা? আমি তো জানি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করে আমেরিকা যে দুটি বিষয়ে চরম উৎকর্ষ সাধন করেছে, তার একটি চিকিৎসাশাস্ত্র, অন্যটি সমরবিদ্যা। সেই ’৮১ সালেই জেনেছিলাম, আমেরিকার সমরশক্তি যা, তাতে সমগ্র পৃথিবীকে অন্তত ১৭ বার ধ্বংস করা সম্ভব। আমেরিকার শক্তির দাপট খর্ব করতে পারে কেবল আমেরিকানরাই। আমরা বরং সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতে পারি, তিনি যেন এমন এক আমেরিকান নেতৃত্বের জন্ম দেন, যিনি তার পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনবেন, অবনত মস্তকে সম্মান করবেন এই পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষের অধিকার।
দ্বিতীয় যে কারণে আমেরিকার জয়ের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম তা হল, ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে টাইম ম্যাগাজিনের একটি নিবন্ধে দেখেছিলাম- আমেরিকা যদি মানবিক ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চায়, তাহলে সময় লাগবে কম-বেশি দুই মাস। আর তা না চাইলে তিন দিনেই কেল্লা ফতে। টাইম ধরনের পত্রিকার ভবিষ্যদ্বাণী আদালতের রায়ের মতোই মান্য করে থাকি আমি।
৩.
’৯১-এর নির্বাচনের ঠিক আগের দিন আমি পাটগ্রাম থেকে রংপুর হয়ে ঢাকায় পৌঁছাই। সন্ধ্যায় যাই চিরচেনা শাহবাগের সিনোরিটায়। সেখানে আড্ডা শুরু হয়েছে বিকেলেই, আড্ডাবাজদের মধ্যে আছে আমেরিকান এম্বেসির নাসির (বর্তমানে রুয়ান্ডায় ইউএসএইডে কর্মরত), স্কলাসটিকার কাজী দীশু, গ্রীন হেরাল্ডের ড্যানিসহ আরও অনেকে। আমাকে দেখেই সবাই বলে ওঠে- এই যে বাহের দেশের লোক পাওয়া গেছে। বলো কামাল, রংপুরের খবর কী।
তারা কী জানতে চায়, তা তো বোঝাই যায়। বলি, গ্রেটার রংপুরের এভরি সিঙ্গল।
মানে?
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের টিচার হয়ে ইংরেজি বোঝো না? বৃহত্তর রংপুরের সব আসনই পাবে এরশাদ।
আমি একের পর এক গালি খেতে থাকি। lunatic (পাগল), insane (উন্মাদ), provincial (শব্দটির অর্থ প্রাদেশিক, গালি যখন, তখন অর্থ ক্ষ্যাত) আরও কত কী! এরশাদের দালাল বলতে বাকি থেকেছে শুধু। এদের চিন্তার দুর্বলতাটুকু বুঝতে পারি আমি খুব। আকাঙ্ক্ষা কখনও কখনও বিশ্বাসের জন্ম দেয়। নবীন লেখক আকাক্সক্ষা করে, তার বই সবাই কিনুক। এরপর বিশ্বাস জন্মায়, তার বই সবাই কিনবে এবং তাই যে বই একশ’ ছাপলেই চলে, সেটা তিনি ছাপান এক হাজার। যা হওয়ার তা-ই হয়। দশ কপিও বিক্রি হয় না। আমার এই বন্ধুরাও চেয়েছিল এরশাদ সমূল উৎপাটিত হোক রাজনীতি থেকে। তাই এদের বিশ্বাস জন্মেছিল, তিনি রংপুরেও কোনো আসন পাবেন না।
কোনো কোনো রিপোর্টারও কি কম করেছেন! রিপোর্ট তৈরি হয় মাঠে-ঘাটে অথচ এদের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে মাথায়! পাঠক, বাস্তবজ্ঞানের কী ছিরি দেখুন। জরিপ পরিচালনাকারীরা এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ২২০টি আসন দিয়ে দিয়েছিল! আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করুন। কোনো নির্বাচনের আগে আপনি যদি বলেন, আওয়ামী লীগ জিতবে, শ্রোতা ধরে নেবে আপনি আওয়ামী লীগার। অথচ আপনি হিসাব করে দেখেছেন আওয়ামী লীগই জিতবে। বিএনপির বিজয় কামনা করেও ব্যক্তিত্বের স্বার্থে আপনার বুঝটাই বলা উচিত নয় কি আপনার? আমি যা চাই, সেটা না ঘটে যা ঘটবে- সেটা আমি বলতে পারব না? কিছু রিপোর্টার চেয়েছেন, জাতীয় পার্টি নির্মূল হোক আর তাই রিপোর্টও সাজিয়েছেন সেভাবে। তারা বরং রিপোর্ট না লিখে কলাম লিখে রংপুরের ভোটারদের লাঙ্গলে ভোট দিতে বারণ করতে পারতেন। যা হোক।
আমি বন্ধুদের বলি, দেখ গতকাল আমি রংপুর শহরে মিজান চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির শেষ নির্বাচনী মিছিলটি দেখেছি। এই মিছিলের তরঙ্গাভিঘাত গ্রেটার রংপুরের আনাচে-কানাচে আছড়ে পড়েছে। তাছাড়া রংপুরের মানুষের স্বভাব-চরিত্র তোমরা বুঝবে না।
তারা কেউই আমার কথায় সায় দেয় না। এরপর বাজির প্রস্তাবটা আমিই দিই। কথা হয়, নির্বাচন হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি; ১ মার্চ আমি সবাইকে চাইনিজ খাওয়াব, না হয় তারা সবাই মিলে আমাকে খাওয়াবে। আমি নির্বাচনের পরের দিনই পাটগ্রামে ফিরে গিয়েছিলাম বলে চাইনিজটা আর খাওয়া হয়নি।
যে বাজির নিষ্পত্তি হয়নি, সেটার কথা বলি এখন। বিএনপি-সমর্থকদের একটি টাইপ হল- তারা নিরপেক্ষতার ছদ্মাবরণে এমনভাবে কথা বলেন যে, মনেই হবে না তারা বিএনপিকেই সবসময় ক্ষমতায় দেখতে চান। বিএনপি বিরোধী দলে থাকলে তারা দ্রুত নির্বাচন দাবি করতে থাকেন ক্রমাগত এবং বাংলাদেশে শতকরা একশ’ ভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না বলে এই সত্যকে পুঁজি করে বলেন- কে ক্ষমতায় আসবে সেটা বড় কথা নয়, নির্বাচনটা ফেয়ার হতে হবে। বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে, এরা পুনঃনির্বাচন দাবি করেন না। তখন সরকারের ব্যর্থতার কথা তুললে বলেন- আওয়ামী লীগ আমলে কি এমনটা হয়নি?
এই টাইপের একজন বিএনপি-সমর্থক কয়েকদিন আগে বললেন, বিএনপি ২০১৫তেই ক্ষমতায় আসবে। বললাম, সেটা কীভাবে? বিষয়টা তো এমন নয় যে, শেখ হাসিনা এখন যে চেয়ারটায় বসেন, সেখান থেকে তাকে ফেলে দিয়ে সেখানে খালেদা জিয়াকে বসিয়ে দিলাম। আপনারা যদি আন্দোলন তুঙ্গে তুলতে পারেন, সেক্ষেত্রে এই সরকারের পতন হবে বুঝলাম। কিন্তু তার মানে তো বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া নয়। যার অধীনেই হোক, একটা নির্বাচন লাগবে এবং তাতে জিততে হবে।
২০১৫ সালে বিএনপি কীভাবে ক্ষমতায় আসবে, এই ভদ্রলোকের কাছে সেই রূপরেখা কী ছিল জানি না, তবে আমার যুক্তি শুনে তিনি বললেন- ২০১৫ সালেই নির্বাচন হবে।
বললাম, কীভাবে হবে? এ সরকার তো নির্বাচন দেবে না। তাদের নির্বাচন দিতে বাধ্যও করানো যাবে না।
এবার তিনি যা বললেন, আমি তেমনটাই আন্দাজ করেছিলাম। বললেন, আবার এক-এগারোর মতো কিছু ঘটবে। তারাই নির্বাচন দেবে।
টিকটিকির উইলফোর্স ঈর্ষণীয়। সে অন্য পক্ষকে উইলফোর্স দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যে কীট বা পতঙ্গটিকে সে টার্গেট করে, তার ওপর এমন সম্মোহনী দৃষ্টি ফেলে যে, ওটা আর নড়তে চড়তে পারে না। এরপর খপ করে মুখে পুরে ওটাকে।
টিকটিকি তার টার্গেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও মানুষ তার উইলফোর্স দিয়ে সোশ্যাল ডিনামিক্স প্রভাবিত করতে পারে না। সোসাইটি আসলে প্রভাবিত, নিয়ন্ত্রিত, পরিবর্তিত হয় সামাজিক শক্তিগুলোর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। এই ভদ্রলোক উইলফোর্স দিয়ে আরেকটি এক-এগারো ঘটাতে চাচ্ছেন! বুঝতে পারি, আন্দোলন প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হতে হতে শেষ পর্যন্ত তিনি উইলফোর্সের দ্বারস্থ হয়েছেন। আমি বললাম, দেখুন বর্তমানে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে আমারও মন ভালো না। কিন্তু আবারও এক-এগারো ঘটবে না। যদি ঘটেও, আগেরটার মতো হবে না সেটা।
লোকটি শিক্ষিত। বললেন, কেন? ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে না কি? বললাম, আপনারা শুধু জানেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে। বাকিটুকু জানেন না। কার্ল মার্কস বাকিটা বলে দিয়েছেন। বলেছেন- History repeats itself; first as tragedy, second as farce (ইতিহাস পুনরাবৃত্তি ঘটায় এবং প্রথমবার যদি তা ট্রাজেডি নাটক, দ্বিতীয়বার তা হয় প্রহসন)। ইতিহাসের হুবহু পুনরাবৃত্তি ঘটে না কখনও।
যা হোক, শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে কী আসবে না- এই ইস্যুতে বাজি ধরি আমরা। এই বাজি জেতার জন্য একটা বছর অপেক্ষা করতে হবে! অবশ্য এ বছর দুই দলের সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন যদি অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং তাতে বিএনপি জেতে, তাহলে গণতন্ত্রের প্রতি আমার নির্ভেজাল পক্ষপাতিত্বের কারণে বাজি হেরে গেলেও এক ধরনের বিজয়ের স্বাদ পাব আমি।
মাহবুব কামাল : সাংবাদিক

পৃথিবী বাঁচাতে নিউক্লিয়ার বোমা!

(পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুকে উড়িয়ে দিতে নিউক্লিয়ার বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা) পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুগুলো মানুষের অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। গ্রহাণুর আঘাত থেকে পৃথিবীকে সুরক্ষার উপায় নিয়ে ভাবছেন মার্কিন গবেষকেরা। পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বিপজ্জনক গ্রহাণুগুলোর গতিপথ পাল্টে দিতে বা গ্রহাণুগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে নিউক্লিয়ার অস্ত্র প্রয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন মার্কিন গবেষকেরা। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে পিটিআই। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পারমাণবিক অস্ত্র গবেষণা কাজে নিয়োজিত বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, ‘আমাদের ধারণার চেয়েও গ্রহাণুর আঘাতের প্রভাব মারাত্মক হবে। তাই গ্রহাণুকে ধ্বংস করে দেওয়া বা গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়ার জন্য নিউক্লিয়ার অস্ত্র নিয়ে আরও বেশি গবেষণা করা দরকার।’
সম্প্রতি সানফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়নের বার্ষিক সভায় লস অ্যালামোসের গবেষক রকার্ট ওয়েভার এ-সংক্রান্ত নিবন্ধ জমা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিউক্লিয়ার বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্ষতিকর বস্তুগুলো দূর করার ক্ষেত্রে প্রভাবগুলো নিয়ে গবেষণা করা।’
ওয়েভার দাবি করেন, পৃথিবীতে কোনো গ্রহাণু আঘাত হানলে তা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। পুরো শহর ধ্বংস হতে পারে কিংবা সুনামির মতো কোনো মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। এ ছাড়া বৈশ্বিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও রয়েছে। ২০১৩ সালে ছোট আকারের একটি গ্রহাণুর আঘাতেই রাশিয়ায় সাত হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও এক হাজার ৫০০ মানুষ আহত হয়েছিল।

সহিংসতার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জনগণ যাতে অবাধে, শান্তিপূর্ণভাবে তাদের রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে- সহিংসতার খবরে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে আমরা সব পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করার আহ্বান জানাই। প্রাণহানি, আহত হওয়া ও সহায় সম্পত্তির ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই বিবৃতিতে সব রাজনৈতিক দলকে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন পরিহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ৫ই জানুয়ারি গত জাতীয় নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পরস্পরবিরোধী কর্মসূচি হাতে নেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও ক্ষমতাসীনরা। এতে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। কিন্তু তা ভঙ্গ করে ঢাকায় পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। তা প্রতিহতের ঘোষণায় উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে। ওইদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপিপন্থি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন কমপক্ষে ৪ জন। আগুন দেয়া হয় গাড়িতে, প্রতিপক্ষের স্থানীয় অফিসে, বাড়িতে। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নাটোর, চট্টগ্রাম, সিলেট সহ দেশের প্রতিটি এলাকা। গতকাল প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। বিদেশী কোন কোন মাধ্যম এ নিয়ে মন্তব্য করছে যে, এর মাধ্যমে দেশকে প্রতিবাদের উপলক্ষ্য তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ রাজনৈতিক মতপার্থক্য কমিয়ে সংলাপের মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছার আহ্বান জানাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও দেশে যে সহিংস অবস্থা বিরাজ করছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র ওই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

উত্তেজনা বাড়ছে

বাংলাদেশে বিতর্কিত নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে ব্যাপক সহিংসতার পর ক্রমেই বাড়ছে উত্তেজনা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্র হয়ে টালমাটাল হয়ে পড়ছে। গতকাল এ কথা বলা হয়েছে জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম অনলাইন ডয়েচে ভেলে’তে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুপরিচিত এমন কয়েকজন রাজনীতিক, বোদ্ধার মন্তব্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনটি  তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এমন অবস্থায় একদলের মত অন্যদলের ওপর চাপিয়ে দেয়া একটি ভুল পদক্ষেপ। এতে আরও হতাশার সৃষ্টি হবে। যদি বাংলাদেশে জননিরাপত্তার জন্য প্রতিবাদ বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয় তাহলে তা প্রয়োগ করতে হবে সব দলের জন্য। এমন মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সাবেক সহকারী উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স-এর সিনিয়র ফেলো এলিসা আয়রিস, ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিনের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ তোবিয়াস বার্গার, নয়া দিল্লি ভিত্তিক ইন্সটিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড এনালাইসিস-এর রিসার্স ফেলো শ্রুতি পট্টনায়েক। এতে তারা রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে সোমবার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশের সংঘর্ষের ফলে কমপক্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ খবরে ২০ দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করেছেন। গতকাল তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার হুমকি দিয়েছে সরকার। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার ছেলে, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার করার পরে কর্তৃপক্ষ একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ওই চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, পর্নোগ্রাফিক বিষয় প্রচার করার কারণে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অন্যরা সরকারি এ ব্যাখ্যাকে মিথ্যা বলে দাবি করছেন। শ্রুতি পট্টনায়েক বলেছেন, বিএনপি বর্তমানে যে সুযোগ পেয়েছে তা ব্যবহার করে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে। তাহলো গত বছরের বিতর্কিত নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য। তোবিয়াস বার্গার মনে করেন, বিএনপি যাতে বিক্ষোভ প্রতিবাদ করতে না পারে সবার আগে আওয়ামী লীগ তা প্রতিরোধ করছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজধানীতে যাতে বিক্ষোভে নেতাকর্মীর উপস্থিত সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে চেষ্টা করছে। এটাই সরকারের উদ্দেশ্য। তাই সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে মনে হয় তারা খালেদা জিয়াকে তার অফিসে অবরুদ্ধ রেখে ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, রাজনৈতিক বিক্ষোভ মাঝে-মধ্যেই সহিংসতায় রূপ নেয়। রাজনৈতিক সমাবেশে, মিছিল-মিটিংয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরও ৫ই জানুয়ারি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ করতে দেয়া হয়েছে। তাই এলিসা আয়রিস বলেছেন, একপক্ষের মত অন্যপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেয়া ভুল। সব দলের জন্য একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত। তোবিয়াস বার্গার বিশ্বাস করেন, বিএনপি ও তার মিত্ররা সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে এবং নতুন নির্বাচন দিতে রাজি করানোর মতো যথেষ্ট শক্তি নেই। স্বল্প সময়েই দেশের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সহিংসতা সমাধানের জন্য ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন। প্রকৃত ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমেই এই অচলাবস্থা সমাধানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তোবিয়াস বার্গার বলেন, বর্তমানে সরকার বা বিরোধী দল কোন পক্ষই সেই দিকে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।

‘আটকে রাখা অদূরদর্শী পদক্ষেপ’

অনর্থক বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার অদূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এতে প্রতিবাদের আরও উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীনরা সংবেদনশীল একটি বোমার ওপর বসে আছেন। মধ্যরাতে বিরোধী নেতাদের বাড়িতে হানা দিয়ে গ্রেপ্তারের সংবাদ শুভ লক্ষণের পূর্বাভাস নয়। খালিজ টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে গতকাল এ কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়, বিরোধীদের বর্জন করা বিতর্কিত নির্বাচনের এক বছর পর প্রতিবাদকারীরা রাজপথে তাদের অবস্থান জানাতে নেমেছে। এতগুলো বছরে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব ইতিমধ্যে অনেক প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আজকের দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। নির্বাচনের প্রথম বছর পূর্তির প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অনর্থক বিরোধী নেতা খালেদা জিয়াকে আটকে রাখার যে অদূরদর্শী পদক্ষেপ নিয়েছে তা আরও প্রতিবাদের উপলক্ষ তৈরি করে দিয়েছে। সরকার যদিও বলছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এটা ছিল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। রাজনৈতিকভাবে ক্রিয়াশীল দেশটির চিরাচরিত রীতি থেকে ইঙ্গিত মিলছে আরও ঝঞ্ঝাট ঘনীভূত হচ্ছে। বিরোধী নেতৃস্থানীয় নেতাদের বাড়িতে মধ্যরাতে হানা দিয়ে গ্রেপ্তারের সংবাদ শুভ লক্ষণের পূর্বাভাস নয়। বিএনপি এবং শক্ত অবস্থানে না থাকা অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো এ অভিযানকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে তাদের প্রতিবাদ প্রচারণা বাড়াতে পারে। সহিংসতা চলাকালে মানুষের মৃত্যুর সংবাদে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের এটা উপলব্ধি করতে হবে যে, তারা সংবেদনশীল একটি বোমার ওপর বসে রয়েছেন, যেখানে সংসদে প্রায় কোন বিরোধী নেই আর বিএনপি ও তাদের ইসলামপন্থি জোট শরিকদের আরও ধাক্কা দিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিলে পরিণতি অফলপ্রসূ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ নির্বাচনের বছরপূর্তিতে গণতন্ত্র আর সংবিধানের জয় উদযাপন করছেন। তার উচিত, বিরোধীদের প্রতি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করা। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো। উপযোগী একটি পরিবেশ তৈরি করতে সরকারের কাছ থেকে ন্যূনতম এতটুকু প্রয়োজন। একইসঙ্গে বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে দেয়া উচিত। বাংলাদেশের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি প্রয়োজন, এমন রাজনীতি নয় যেটা একদলীয়।

পিপার স্প্রেতে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া

গুলশানের নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। গতকাল সকাল থেকে দু’বার বমি করেছেন তিনি। দিনভর ছিল বমি বমি ভাব। চোখ ও নাক দিয়ে ঝরছে পানি। মাথা ব্যথা ও  জ্বালা-পোড়া করছে শরীর। শ্বাসকষ্ট ও ঘন ঘন কাশি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শারীরিক সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া। সোমবার বিকালে তার গাড়ি লক্ষ্য করে পুলিশের ছোড়া পিপার স্প্রেতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার খবরে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণে তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রাত আটটার দিকে গুলশান কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারি নিরাপত্তার নামে ‘অবরুদ্ধ’ খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে পুলিশ ভয়ঙ্কর পিপার স্প্রে করেছিল। এ ঘটনা সারা দেশের মানুষ অবলোকন করেছে। এরপর থেকেই দেশের নানা প্রান্তে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। এরই প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার নির্দেশক্রমে দেশবাসীকে জানাচ্ছি, তার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভাল নেই। মারুফ কামাল বলেন, সকাল থেকে দুইবার বমি করেছেন খালেদা জিয়া। এছাড়া, সারাদিন তার বমি বমি ভাব অব্যাহত ছিল। ব্যক্তিগত চিকিৎসক মামুনুর রহমান মামুনসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে বিএনপি চেয়ারপারসনকে অক্সিজেন ও নেবুলাইজার দেয়া হচ্ছে। দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার চিকিৎসা করছেন। খালেদা জিয়ার চোখ এবং নাক দিয়ে পানি ঝরছে। তার শরীর জ্বালা-পোড়া করছে। মারুফ কামাল বলেন, এর আগে শিক্ষকদের ওপর এই পিপার স্প্রে করা হয়েছিল। কয়েকজন আহতসহ একজন শিক্ষক পিপার স্প্রের যন্ত্রণায় নিহতও হয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে এই স্প্রে ব্যবহার না করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশও আছে। হাইকোর্টের এ নির্দেশ অমান্য করে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসনকে লক্ষ্য করে পিপার স্প্রে করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি। রাতে গুলশানের অবরুদ্ধ কার্যালয়ের ভেতরে যে ক’জন সাংবাদিক রয়েছেন, তারাই এ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। বাইরে থেকে কোন সাংবাদিককে পুলিশ প্রবেশ করতে দেয়নি।
অবরুদ্ধ গুলশান কার্যালয়: এদিকে অবরুদ্ধ অবস্থায় নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে টানা তিনদিন পার করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। ৫ই জানুয়ারির সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৩রা জানুয়ারি রাত থেকেই নিজের কার্যালয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূর্বঘোষিত সমাবেশে অংশ নিতে ৫ই জানুয়ারি বিকালে কার্যালয় থেকে বেরুনোর চেষ্টা করলেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও গেটের বাইরে বালু, পাথর, ইট ও মাটি ভর্তি ট্রাকের অবস্থান এবং বাইরে থেকে গেটে তালাবদ্ধ থাকায় বের হতে পারেননি তিনি। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় পিপার স্প্রে। তবে ৫ই জানুয়ারি সন্ধ্যার পর গেটের সামনে থেকে ট্রাক সরিয়ে নেয়া হলেও এখনও ঝুলছে তালা। গেটের দুদিকে ৫০ মিটার দূরে রাস্তায় আড়াআড়ি করে জলকামান রেখে অবরোধ বহাল রেখেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে গতকালও দিনভর ছিল পুলিশের কড়া পাহারা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা। গুলশান-২ এ খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনের রাস্তাটিতে যানচলাচল বন্ধ রাখার পাশাপাশি চারদিকে লোকজনের চলাফেরায় আরোপ রয়েছে কড়াকড়ি। সকালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফের জোরদার করা হয়। বাড়ানো হয় র‌্যাবের টহল। কার্যালয়ের সামনে ও দুদিকে বেশকিছু পুলিশের পিকআপ অবস্থান করছে। চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি রাস্তার মুখেই অবস্থান করতে দেখা গেছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের। এ ব্যাপারে গুলশান থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফিরোজ বলেন, সকাল থেকে এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুধু কার্যালয়ের এলাকাতেই দুইশ’ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওপরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল উপস্থিতির কারণে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার কার্যালয়মুখী হতে পারেননি নেতাকর্মীরা। আর খালেদা জিয়ার সঙ্গে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খানসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। ওদিকে বিকাল তিনটার সময় মাওলানা আবদুর রহিমের নেতৃত্বে তাবলীগ জামাতের একটি প্রতিনিধি দল বিএনপি চেয়ারপারসন অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত দিতে তার কার্যালয়ে যান।  নিজেদের পরিচয় দিয়ে তারা আগমণের কারণ জানালে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা তাদের শরীর তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। এ সময় প্রতিনিধি দলে তার সঙ্গে ছিলেন মাওলানা আবদুল আউয়াল ও মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে মাওলানা আবদুর রহিম সাংবাদিকদের জানান, আমরা বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি। ওনার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান ও একান্ত সচিব শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস আমাদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া আমাদের দাওয়াত গ্রহণ করছেন। তিনি বলেছেন, প্রতিবারই আমি ইজতেমার মোনাজাতে শরিক হই। এবারও ইচ্ছা আছে। পরিবেশ-পরিস্থিতি ঠিক থাকলে এবারও আমি মোনাজাতে শরিক হব। ওদিকে পরে ইফতেখার আহমেদের নামে তাবলীগ জামাত পরিচয়ে আরেকটি দল দাওয়াত দিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যান। তবে অনুমতি না থাকায় তারা কেউ ভেতরে যেতে পারেননি। পরে ইফতেখার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ব ইজতেমার দাওয়াত দিতে ও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতেই তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। কিন্তু অনুমতি না থাকায় তিনি এবং তার দলের কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেননি। এদিকে গতকাল বিকেল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করতে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত কুশল ও সহমর্মিতা জানাতে এসেছিলাম। এসে দেখি তিনি খুবই অসুস্থ বোধ করছেন। তার শারীরিক অবস্থা খুব খারাপ। তাকে যেভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তা এখনকার জামানায় রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে অচল। খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোন কর্মসূচির কথা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি তো রাজনীতি করি না। আমার সঙ্গে কোন রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। কর্মসূচির বিষয়ে তিনি তার রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ সময় তার সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর রাশেদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। এদিকে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, অবরুদ্ধ থাকার কারণে তিনি আদালতে যাবার সম্ভাবনা কম। উল্লেখ্য, জানুয়ারির নির্বাচনের বর্ষপূতির দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ ঘোষণা করে রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশের পাশাপাশি সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০দল।

প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়েই গ্রেপ্তার

প্রায় ২৭ ঘণ্টা জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবস্থানের পর গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকাল সোয়া ৪টায় প্রেস ক্লাব থেকে বের হতে চাইলে গেটেই আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে মির্জা আলমগীরকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত সোমবার দুপুর সোয়া ১টায় সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের একটি  সমাবেশে যোগ দিতে প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করেন মির্জা আলমগীর। সমাবেশে বক্তব্য দেয়া শেষে বেলা ২টার দিকে প্রেস ক্লাব থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এসময় প্রেস ক্লাব চত্বরে আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের একটি সমাবেশ চলছিল। এই সুযোগে প্রেস ক্লাবে ঢুকে পড়েন আওয়ামী প্রজন্ম লীগের নেতাকর্মীরা। মির্জা আলমগীর বের হওয়ার সময় প্রজন্ম লীগ নেতাকর্মী ও আওয়ামীপন্থি সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন। এসময় তাদের সঙ্গে পেশাজীবী পরিষদের নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।  নিরাপত্তার জন্য মির্জা আলমগীরকে প্রেস ক্লাবের দোতলায় নিয়ে যান পেশাজীবী পরিষদের নেতারা। মির্জা আলমগীরের সঙ্গে আটকা পড়েন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। এদিকে বিকাল থেকেই মির্জা আলমগীরকে গ্রেপ্তার করার জন্য প্রেস ক্লাবের তিনটি প্রবেশমুখে অবস্থান নেয় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটকে রাখা হয় জলকামান, রায়ট কার, পুলিশ ভ্যান। এতে প্রেস ক্লাবেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন মির্জা আলমগীর ও শফিউল আলম প্রধান। রাত কাটান সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে। ওদিকে তাদের অবস্থানকে ঘিরে গতকাল সকাল থেকেই প্রেস ক্লাব চত্বরে উত্তেজনা বিরাজ করে। আওয়ামী প্রজন্ম লীগে কর্মীরা সকালে লাটিসোটা হাতে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয়। দুপুরের পর কয়েক দফায় তারা লাঠিসোটা নিয়ে প্রেস ক্লাবের ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ নিয়ে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। ওদিকে মির্জা আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করবেন-এ খবরে সকাল থেকেই ভিড় করেন সাংবাদিকরা। দুপুরের দিকে প্রেস ক্লাবে দোতলায় আসেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোহবান চৌধুরী, সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আওয়ামী লীগপন্থি সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদসহ অর্ধশতাধিক সাংবাদিক। এসময় জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে শাবান মাহমুদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক মিছিল করেন। কয়েক দফা মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের রুমে অবস্থান করা মির্জা আলমগীরের রুমের সামনে যান এবং বহিরাগতদের বের করে দেয়ার দাবি জানান। উপস্থিত সিনিয়র সাংবাদিকরা তাদের নিবৃত করেন। দুপুর দেড়টার দিকে প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সাংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগপন্থি সাংবাদিক নেতারা। এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে বেলা ২টার মধ্যে প্রেস ক্লাব ত্যাগ করার আলটিমেটাম দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোহবান চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রেস ক্লাব রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অবস্থানের জায়গা নয়। ক্লাব সাংবাদিকদের পবিত্র জায়গা। এখানে ক্লাবের নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয় দিয়ে রাজনৈতিক আস্তানায় পরিণত করেছেন। আমি বেলা ২টার মধ্যে বহিরাগতদের প্রেস ক্লাব ত্যাগ করার অনুরোধ করছি। একইসঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য প্রস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করছি। এই আলটিমেটামে প্রেস ক্লাবের ভেতরে উত্তেজনা বিরাজ করে। এরপর বেলা সোয়া ৩টার দিকে ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপিপন্থি সাংবাদিক নেতারা। বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, যে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজনৈতিক নেতাদের প্রেস ক্লাবে আশ্রয় দেয়া একটি ঐতিহ্য। দেশ আজ গভীর সংকটে। জাতীয় নেতারা আজ কোথাও নিরাপদ নয়। তাই এই জাতীয় নেতাকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। এসময় বিএনপিপন্থি সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমীন গাজী, ডিইউজে (একাংশ) সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। বিএনপিপন্থি সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন মির্জা আলমগীর। এসময় তিনি প্রেস ক্লাবে অবস্থান করার কারণ ব্যাখ্যা করেন।  বিকাল সোয়া ৪টার দিকে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেই নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তার গাড়ি ঘিরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন আওয়ামী লীগপন্থি সাংবাদিক নেতারা। তারা ‘খালেদার আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও, ‘ধর ধর ফখরুল ধর’ ‘ফখরুল তুই রাজাকার এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’ বলে আপত্তিকর স্লোগান দিতে থাকেন। প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটক দিয়ে  বের হওয়া মাত্রই মির্জা আলমগীরের গাড়ি ঘিরে ধরে গোয়েন্দা পুলিশ। সেখানে আগে থেকেই গোয়েন্দা পুলিশের একটি মাইক্রোবাস, একটি প্রিজন ভ্যান, একটি রায়ট কার, জলকামান ও একটি পুলিশ ভ্যান অবস্থান করছিল। এসময় মিনিট পাঁচেক বিএনপিপন্থি সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সাংবাদিকদের লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয়। এসময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য মির্জা আলমগীরের গাড়িতে উঠে পড়েন। তারপর গাড়িটি মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ের দিকে রওনা হয়। মির্জা আলমগীরের গাড়িকে সামনে-পেছনে ডিবির মাইক্রোবাস, প্রিজন ভ্যান ও পুলিশ ভ্যান কর্ডন করে নিয়ে যায়। মির্জা আলমগীরকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে মোড়ে দুটি ককটেলের বিক্ষোরণ ঘটে। এদিকে সম্প্রতি রাজধানীর বকশীবাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।
সংগ্রামে সবাইকে শরিক হওয়ার আহ্বান ফখরুলের
সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার দাবিতে বিরোধী জোটের শীর্ষনেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন তাতে সবাইকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকালে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশবাসীকে এ আহ্বান জানান। মির্জা আলমগীর বলেন, ৫ই জানুয়ারি  প্রহসনের নির্বাচন হওয়ায় ওইদিনটিকে স্মরণ করার জন্য ২০ দল থেকে রাজধানীতে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার আমাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। সমাবেশকে প  করতে সরকার রাজধানীতে ১৪৪ ধারা জারি করে। নয়াপল্টন থেকে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর নয়াপল্টন কার্যালয় ও গুলশান কার্যালয়ে তালা  ঝুলিয়ে দিয়েছে পুলিশ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তার কার্যালয়ের সামনে ১৩টি বালু ও ইটভর্তি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। ঢাকামুখী দূরপাল্লার সকল যানবাহন বন্ধ করে দেয় সরকার। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। সরকারের বাধা সত্ত্বে দেশের বিভিন্ন জেলায় নানা কর্মসূচি পালন করেছে ২০ দলের নেতাকর্মীরা। এসময় পুলিশের গুলিতে ৪ জন নিহত ও সহস্রাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সমাবেশ করার জন্য ২০ দলকে অনুমতি দিয়েছিল প্রশাসন।  তারপরও সমাবেশ পন্ড  করার জন্য বিনা উস্কানিতে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আওয়ামী লীগ এভাবে সারা দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। গুম-হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে দমননীতি চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সারা দেশে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।  বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইটিভির চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ক্যাবল অপারেটরদের চাপ দিয়ে একুশে টিভির সমপ্রচার করা বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। চ্যানেলটির চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করেছে। এর কারণ চ্যানেলটি সত্য কথা প্রচার করতো। সরকার একের পর এক মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষ শতবছর সংগ্রাম করেছে। সেই গণতন্ত্র আজ বিপন্ন। ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় বাক কায়েমের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।  দেশবাসীকে চলমান সংগ্রামে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, মানুষের ভোটের অধিকার ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য সব দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার সেই ডাকে দেশবাসীকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।  প্রেস ক্লাবে অবস্থানের বিষয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ৫ই জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত একটি সমাবেশে যোগ দিতে প্রেস ক্লাবে এসেছিলাম। সমাবেশ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলাম। এসময় দেখি, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রেস ক্লাব থেকে বের হওয়ার সবগুলো পথ বন্ধ করে রেখেছে। এরপর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত নিরাপত্তাজনিত কারণে আর বাইরে যাইনি। সাংবাদিকদের আতিথেতার কারণে প্রেস ক্লাবেই রাত যাপন করি। তারা যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতা করেছেন এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। সংবাদ সম্মেলনের পরপরই প্রেস ক্লাব থেকে বের হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।