Wednesday, December 31, 2025
খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার নিন্দায় ভারতের দুই প্রভাবশালী দৈনিক, মোদি–বিজেপি নীরব
বড়দিন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লির এক গির্জায় প্রার্থনা জানান। প্রার্থনা শেষে সামাজিক মাধ্যমে শান্তি, ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও শুভেচ্ছার বার্তা দেন। অথচ তার আগের দিন থেকে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বজরঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) মতো উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী ও হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হানতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা অগ্রাহ্য করে বড়দিনের দিনেও হামলা অব্যাহত থাকে।
বিস্ময় এই যে ভারতজুড়ে ওই তাণ্ডবের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত একটি কথাও বলেননি। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিজেপিও ঘটনাপ্রবাহের নিন্দা করে কোনো বিবৃতি প্রচার করেনি। শুধু মধ্যপ্রদেশ বিজেপির জব্বলপুর শাখা দলের অন্যতম নেত্রী অঞ্জু ভার্গবকে একটি চিঠি দিয়ে বলেছে, তাঁকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
মধ্যপ্রদেশের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বড়দিন উদ্যাপন উপলক্ষে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী খ্রিষ্টান নারীর সঙ্গে অঞ্জু দুর্বব্যহার করছেন।
চলতি বছর বজরঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দেশজুড়ে যেভাবে বড়দিন উদ্যাপনের বিরোধিতা করেছে, অতীতে তা হয়নি। বিজেপিশাসিত রাজ্য আসাম, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, ওডিশা এবং দিল্লির পাশাপাশি বামশাসিত রাজ্য কেরালা ও আম আদমি পার্টি শাসিত (আপ) পাঞ্জাবে এই দুই সংগঠনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘও (আরএসএস) বড়দিন উদ্যাপনের বিরোধিতা করেছে। বড়দিনের উৎসবে মেতে ওঠা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকেও বাধা দেওয়া হয়।
বিপণিবিতান থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের দোকানে বিক্রির জন্য রাখা ক্রিসমাস ট্রি, সান্তার টুপিসহ অন্য সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয় হিন্দুত্ববাদীরা। গির্জায় ঢুকে ক্যারল গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য হিন্দুস্তান টাইমস উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আজ শনিবারের কাগজে সম্পাদকীয় লিখেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীয়র শিরোনাম ‘পানিশ দ্য গুনস্, হোয়াই বিজেপি শুড রেসপন্ড স্ট্রংলি টু ক্রিসমাস অ্যাটাক্স’ এবং হিন্দুস্তান টাইমসের শিরোনাম ‘নো প্লেস ফর ফেথ ভিজিল্যান্টেস: অ্যাটেম্পটস টু ডিসরাপ্ট ক্রিসমাস সেলিব্রেশনস গো অ্যাগেইনস্ট ইন্ডিয়াস সিভিলাইজেশনাল ইথস’।
দেশজোড়া তাণ্ডবের বর্ণনা দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, বজরঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) আচরণ ঘৃণ্য বেদনাদায়ক ও লজ্জার। তারা ক্রিসমাসের জন্য জমায়েত মানুষদের হয়রান করেছে। ক্যারল গাইয়েদের ভয় দেখিয়ে গান থামিয়েছে। স্কুল ও গির্জায় জবরদস্তি ঢুকে পড়েছে। সান্টা ক্লজের টুপি বিক্রেতা গরিব মানুষদের মারধর করেছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, কেরালা ছাড়া আর কোথাও পুলিশ কি এই অপরাধ নজরে এনেছে? ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯৬(২) ও ২৯৯ ধারায় এফআইআর দাখিল করেছে, যে ধারায় মানুষে মানুষে শত্রুতা বাড়ানো বা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে? ভিডিও দেখে যাদের সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে, তাদের কাউকে কি গ্রেপ্তার করা হয়েছে? এরা সবাই উৎসবের সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের জন্য দায়ী।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার সম্পাদকীতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজেপি ও আরএসএসকে এই জঙ্গিপনা বন্ধ করতে হবে। এরা শুধু দলের ক্ষতিই করছে না, এরা হিন্দু বিরোধীও। ধর্মের নামে কোনো হিন্দু এই বর্বরতা অনুমোদন করে না। ইউনাইটেড ক্রিশ্চান ফোরাম অভিযোগ জানিয়েছে, এই বছর বড়দিনের সময় সারা দেশে এমন ধরনের ৬০০–এর বেশি ঘটনা ঘটেছে। গুন্ডাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে। একটি ছাড়া সব কটি রাজ্যই বিজেপিশাসিত। দলটি দেশেরও শাসক। এতে বিশ্বে তার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেই কারণে আরও বেশি করে বিজেপি নেতৃত্বের সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার তুলনায় হিন্দুস্তান টাইমসের সম্পাকদীয় দীর্ঘ। প্রধানমন্ত্রীর গির্জায় যাওয়া, প্রার্থনা করা এবং সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার উল্লেখের পর তারা লিখেছে—আসাম ও ছত্তিশগড়ে সংঘ পরিবারের ধর্মপ্রহরীরা কীভাবে বড়দিনের আগে থেকেই খ্রিষ্টানদের হয়রান করেছে, উদ্যাপন বানচাল করেছে।
মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে বিজেপি নেত্রীর হেনস্তা করার ভিডিওটি বিরক্তিকর জানিয়ে হিন্দুস্তান টাইমস সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ছত্তিশগড়ে বড়দিনের দিন বন্ধ্ পালনের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী প্রহরীরা ভয়ের যে বাতাবরণ সৃষ্টি করেছিল, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল, সেটার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি বলে মত দেয়। শুধু আইনগতভাবে নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
খ্রিষ্টান সম্প্রদায় ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও কম। প্রধানত উত্তর–পূর্বাঞ্চল ও কেরালায় তাদের অবস্থান জানিয়ে উপসম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, সংবিধান সবাইকে বাধাহীন ধর্মাচরণের স্বাধীনতা দিয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে ধর্মান্তরণ বিরোধী কোনো আইন নেই। কোনো কোনো রাজ্য এই সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন করেছে, জবরদস্তি অথবা লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তরণ বন্ধ করতে। ধর্মপ্রহরীরা সেই আইনকেই হাতিয়ার করে অহিন্দুদের হেনস্তা করছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, রাষ্ট্রের উচিত এই ধরনের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি রাজনৈতিক দিক থেকেও সক্রিয় হওয়া জরুরি, যাতে কেউ লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম না করে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ক্ষতের প্রলেপ হবে।
সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, বিজেপির বোঝা উচিত, ধর্মপ্রহরীরা তাদের ক্ষতি করছে। বিজেপি নেতৃত্বের বোঝা উচিত এদের প্রশ্রয় দিলে সম্প্রীতির জন্য দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বার্তা বিফলে যাবে। ভারতীয় সভ্যতার মূল মন্ত্র ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’, যার অর্থ—গোটা পৃথিবীই এক পরিবার।
![]() |
| ভারতের বিহারে ক্যাথলিক গির্জায় শিশু জেসাসকে চুমু দিচ্ছেন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এক নারী। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, পাটনা। ছবি: এএনআই |
Sunday, December 28, 2025
খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা, বড়দিনের ছুটি বাতিল—ভারত সরকারের নীরবতা কী বার্তা দিচ্ছে by অমল চন্দ্র
বড়দিনের ছুটি বাতিল কেবল একটা ‘ছুটি বাতিল’ নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতীকীভাবে বর্জন এবং তাঁদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার এক গভীর চিত্র।
ভারতের কেরালা রাজ্যের লোক ভবনের কর্মীদের বড়দিনের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্তটি কেবল প্রশাসনিক শিষ্টাচারের প্রশ্ন নয়, বরং এটি ভারতজুড়ে জনরোষের সৃষ্টি করেছে। লোক ভবনের কর্মীদের ২৫ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সুশাসন দিবস’-এর সরকারি কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
লোক ভবনের এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কারণ, এর আগে তাদের সরকারি ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি মাসের পাতায় ভি ডি সাভারকারের প্রতিকৃতি দেখা যায়। বিষয়টিকে নিছক ঐতিহাসিক তথ্য হিসেবে না দেখে বরং একটি নির্দিষ্ট আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই দুটি ঘটনাকে বিশ্লেষণ করলে বড় দিনের ছুটি বাতিলকে আর কাকতালীয় কোনো ঘটনা বলে মনে হয় না। ২৫ ডিসেম্বরের কর্মসূচিকে দাপ্তরিক রুটিন কর্মসূচি বলা হলেও এর রাজনৈতিক তাৎপর্য এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বড়দিন কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটি ভারতের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে পবিত্র দিন। বিশেষ করে যে রাজ্যে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ অনেক বেশি, সেই কেরালা রাজ্যে বড়দিনে বাধ্যতামূলক উপস্থিতির নির্দেশ দেওয়াকে নিরপেক্ষতা নয়, বরং সংখ্যাগুরুবাদী আধিপত্যের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বর্তমানে ভারতের ক্রমবর্ধমান ‘হিন্দুত্ববাদী’ রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ক্ষুদ্র নমুনা, যেখানে জনজীবনে ধর্মীয় সহনশীলতা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
এই ধারাটি কেবল কেরালায় সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর প্রদেশেও যোগী আদিত্যনাথ সরকার ঘোষণা দিয়েছে, বড়দিনে স্কুলগুলো বন্ধ থাকবে না এবং শিক্ষার্থীদের অটল বিহারি বাজপেয়ির জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হবে। খ্রিষ্টান সংগঠন এবং মানবাধিকারকর্মীরা এর তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এটি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে কোণঠাসা করছে এবং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কেরালার ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঐতিহাসিকভাবে এই রাজ্যটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। অথচ এখানেও ইদানীং বড়দিনের উৎসবে বাধা দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ক্যাথলিক বিশপ ও বিভিন্ন ধর্মীয় সংস্থা সংঘ পরিবারের সমর্থকদের বড়দিনের প্রদর্শনী এবং ক্যারল-সংগীত অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি জনসমক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত উসকানি।
প্রতীকীভাবে একঘরে করার বাইরেও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার পরিসংখ্যান আরও ভয়াবহ। ‘ইভানজেলিক্যাল ফেলোশিপ অব ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ২০২৩ সালে হয়েছিল ৬০১টি। আর ২০২৪ সালে সেটা বেড়ে অন্তত ৮৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছর কত হামলা হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।
এসব সহিংসতার মধ্যে রয়েছে শারীরিক আক্রমণ, প্রার্থনায় বাধা, গির্জা ভাঙচুর, সামাজিকভাবে বর্জন এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ তুলে যাজকদের হেনস্তা করা।
সহিংসতার এই মানচিত্রটি লক্ষ করলে একটি রাজনৈতিক ধরন চোখে পড়ে। এবার সবচেয়ে বেশি সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে উত্তর প্রদেশ থেকে। এরপর রয়েছে ছত্তিশগড়, রাজস্থান, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা। এসব রাজ্যে চরমপন্থী বয়ান এখন স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কাজেও প্রভাব ফেলছে।
এসব আক্রমণের নিষ্ঠুরতা এখন ব্যক্তিগত পর্যায়েও পৌঁছেছে। ওডিশার বালাসোর জেলায় বহুল আলোচিত এক ঘটনায় ক্যাথলিক যাজক ও সন্ন্যাসিনীরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে একদল উগ্রবাদীর আক্রমণের শিকার হন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তরের’ অভিযোগ আনা হয়েছিল। ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া এই হামলাকে একটি উদ্বেগজনক জাতীয় প্রবণতার অংশ বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে ধর্মীয় গুরুদের ক্রমেই সন্দেহ ও সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরে পরিস্থিতি আরও খারাপ। সেখানে স্থানীয় ডায়োসিসের ভিকার জেনারেলসহ জ্যেষ্ঠ যাজকেরা থানার ভেতরেই লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁরা মূলত সন্দেহজনক অভিযোগে আটক খ্রিষ্টান পুণ্যার্থীদের পক্ষে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলেন। জনরোষের মুখে একটি এফআইআর দায়ের করা হলেও সঙ্গে সঙ্গে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এই পরিস্থিতি প্রাতিষ্ঠানিক যোগসাজশ এবং আইনের পক্ষপাতমূলক প্রয়োগ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শারীরিক সহিংসতা ও আইনি বলপ্রয়োগ কীভাবে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারে ছত্তিশগড়। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে অসংখ্য প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাচার বা জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগে রেলস্টেশন ও গণপরিবহন পয়েন্টগুলো থেকে খ্রিষ্টান যাজক ও সন্ন্যাসিনীদের আটক করা হয়েছে। তাঁরা বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং খুব কমই এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো যুক্তি দিয়েছে, আইন প্রয়োগের চেয়েও এসব ব্যক্তির গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো জনপরিসরে খ্রিষ্টানদের উপস্থিতিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা।
এমনকি গির্জাগুলোও হামলার নিশানায় পরিণত হয়েছে। ছত্তিশগড়ের ধামতরি জেলায় গত ৮ জুন বোর্সি গ্রামে রোববার সকালের প্রার্থনার সময় একদল হিন্দু চরমপন্থী পিনিয়েল প্রেয়ার ফেলোশিপে হামলা চালায়। তারা গির্জা ভাঙচুর করে, চেয়ার ও বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলে, বাইবেল পুড়িয়ে দেয় এবং প্রার্থনারত ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়।
উগ্রবাদী হিন্দুদের হামলার সময় একজন যাজক অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। হামলাকারীরা সে সময় ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিচ্ছিল এবং সেখানে সমবেত হতে নিষেধ করছিল। এরপর ভয়ে অনেক খ্রিষ্টান ভক্ত সেখানে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, কীভাবে পবিত্র স্থানগুলো এখন সহিংসতার মুখে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে।
এই বৈরী আবহাওয়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক হুমকির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা সহিংসতার পর্যায়ে না গেলেও সামাজিকভাবে খ্রিষ্টানদের বর্জনকে স্বাভাবিক করে তুলছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বিবৃতি দিয়ে হিন্দুদের বড়দিন পালন থেকে বিরত থাকতে বলছে। এর মাধ্যমে খ্রিষ্টানদের সাংস্কৃতিক প্রকাশকে ‘বিদেশি’ ও ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হচ্ছে।
উত্তরাখন্ডের হরিদ্বারে বড়দিনের সব অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে। কারণ, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো সেগুলোকে ‘হিন্দুবিরোধী’ বলে দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
এসব ঘটনার কোনোটিই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বেশ কিছু বিজেপিশাসিত রাজ্যে এখন ধর্মান্তরবিরোধী আইন বলবৎ আছে, যা খ্রিষ্টানদের জন্য একটি আইনি ঝুঁকি তৈরি করেছে। ফলে সাধারণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকেও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে সাজানো সম্ভব হচ্ছে। এসব আইন জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে খ্রিষ্টানদের সুরক্ষার চেয়ে বরং অনেক সময় উগ্রপন্থীদের আইন হাতে তুলে নেওয়াকে বৈধতা দিচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী জনতাকে হস্তক্ষেপ করতে উৎসাহিত করছে।
এই ধারাবাহিক শত্রুতার মানবিক মূল্য অপরিসীম। শারীরিক আঘাতের বাইরেও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও ভয়ের মধ্যে বসবাস করছেন। তাঁদের পরবর্তী প্রার্থনা সভা বা উৎসবের অনুষ্ঠান পুলিশের তল্লাশি নাকি উগ্র জনতার হামলার শিকার হবে—এসব নিয়ে তাঁরা অনিশ্চয়তায় ভোগেন।
বর্তমান সময়টিকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক করে তুলছে, তা হলো এ ধরনের সামাজিক বর্জনকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবে মেনে নেওয়া। যখন ধর্মীয় ছুটি বাতিল, যাজকদের ওপর হামলা বা গির্জা ভাঙচুরের ঘটনাকে কোনো সাংবিধানিক জরুরি অবস্থা হিসেবে না দেখে কেবল প্রতিদিনের নিয়মিত সংবাদ হিসেবে দেখা হয়, তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্রের অবনমন ঘটছে। এই পরিস্থিতি কেবল খ্রিষ্টান সম্প্রদায় নয়, সব ভারতীয় নাগরিকের জন্যই চিন্তার বিষয়।
ভারতের সংবিধান ধর্মের স্বাধীনতা এবং সমান নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয়। অথচ বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, এই অধিকারগুলো এখন রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপরই বেশি নির্ভরশীল।
তাই কেরালার লোক ভবনে বড়দিনের ছুটি বাতিলের ঘটনাকে কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি আসলে একটি বৃহত্তর আদর্শিক পরিবর্তনের লক্ষণ। এখানে জনপরিসরকে সূক্ষ্ম ও ধারাবাহিকভাবে সংখ্যাগুরুবাদী অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পুনর্গঠিত করা হচ্ছে। জাতির সামগ্রিক কল্পনায় এটি সংখ্যালঘুদের প্রতীকী ও বস্তুগত জায়গা সংকুচিত হওয়ারই চিহ্ন।
এ ধারা পরিবর্তনের জন্য কেবল মাঝেমধ্যে নিন্দা জানানো যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন এমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যারা দ্ব্যর্থহীনভাবে সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতাকে রক্ষা করবে। দরকার এমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, যারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। সর্বোপরি দরকার এমন গণমাধ্যম, যা সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে প্রান্তিক খবর হিসেবে না দেখে ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করবে। ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে উৎপন্ন স্বেচ্ছাচারী আইন লঙ্ঘনকে যুক্তি দিয়ে খণ্ডন না করে সরাসরি মোকাবিলা করতে হবে।
যে দেশ বৈচিত্র্য ও সভ্যতাগত বহুত্ববাদ নিয়ে গর্ব করে, সেখানে বড়দিনের ছুটি বাতিল থেকে শুরু করে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর শারীরিক আক্রমণ গুরুতর এক কলঙ্ক। একটি ছুটির দিন বাতিল হওয়া হয়তো ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এটি একটি গভীর অসুস্থতাকে ধারণ করে। আর তা হলো রাজনৈতিক সংখ্যাগুরুবাদের যুগে অন্যকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতিকে স্বাভাবিক করে তোলা।
ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত ঐক্যের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিচার করা হবে না। বরং ঘৃণা ছড়ানোর মতো কাজ থেকে দেশটি তার সবচেয়ে অসহায় নাগরিকদের কতটা দৃঢ়ভাবে সুরক্ষা দিচ্ছে, তা দিয়েই বিচার করা হবে।
ছত্তিশগড়ের ধামতরি জেলায় গত ৮ জুন একটি প্রার্থনা সভায় হিন্দুত্ববাদীরা হামলা চালিয়ে গির্জা ভাঙচুর করেছে, বাইবেল পুড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রার্থনারত ব্যক্তিদের মারধর করে। সেখানে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে উগ্রবাদী হিন্দুরা ভবিষ্যতে আর প্রার্থনা না করার হুমকি দেয়।
এই বৈরী পরিবেশ কেবল শারীরিক সহিংসতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) মতো সংগঠনগুলো হিন্দুদের বড়দিনের উৎসব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। উত্তরাখন্ডের হরিদ্বারে বিক্ষোভের মুখে বড়দিনের অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে।
বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে কার্যকর হওয়া ‘ধর্মান্তরবিরোধী আইন’ খ্রিষ্টানদের আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সাধারণ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এসব আইন অনেক সময় সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত করছে।
এই শত্রুতার মানবিক মূল্য অনেক। শারীরিক আঘাতের বাইরেও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতে সব সময় এক মনস্তাত্ত্বিক চাপের মধ্যে বসবাস করছেন। তাঁরা জানেন না, পরবর্তী প্রার্থনা বা উৎসবে কখন পুলিশি ঝামেলা বা হামলার শিকার হতে হবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এসব ঘটনা এখন ভারতে ‘স্বাভাবিক’ হয়ে উঠছে। বড়দিনের ছুটি বাতিল বা গির্জা ভাঙচুরের খবর যখন আর সাংবিধানিক সংকট হিসেবে দেখা হয় না, তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্রের অবনমন ঘটছে। ভারতের সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমনাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে তা রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
কেরালা লোক ভবনের একটি ছুটির ঘটনা আসলে একটি বড় আদর্শিক পরিবর্তনের লক্ষণ। যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে সংখ্যাগুরুদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজানো হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জন্য প্রতীকী ও বাস্তব জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে।
ভারতের বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদের যে অহংকার রয়েছে, সেখানে খ্রিষ্টানদের ওপর এই ক্রমাগত আক্রমণ এক বড় কলঙ্ক। একটি ছুটির দিন বাতিল হওয়া হয়তো ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু এটি এক গভীর অসুস্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর সেটি হচ্ছে সংখ্যাগুরুবাদী রাজনীতির যুগে অন্যকে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতিকে স্বাভাবিক করে তোলা। ভারতের গণতন্ত্রের সার্থকতা কেবল মুখে ঐক্যের কথায় নয়, বরং এটি তার দুর্বলতম নাগরিকদের কতটা সুরক্ষা দিতে পারছে, তার ওপরই নির্ভর করছে।
![]() |
| ভারতের পাতিয়ালায় সেন্ট পিটার গির্জায় বড়দিনের উৎসবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ। ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, পাতিয়ালা। ছবি: এএনআই |
Sunday, December 26, 2010
পৃথিবীজুড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরে আসুক- শুভ বড়দিন
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(2249)
-
▼
October
(177)
-
▼
Oct 17
(14)
- মুসলিম বিশ্বে ‘মুহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রা...
- মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন রণতরি তাড়াতে ইরানের নতুন ...
- এডেন বিমানবন্দরে হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল যাত্...
- হুথিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সমর্থিত ‘সরকারি বাহিনী’ ক...
- গণহত্যার মুখে ভারতের মুসলমানরা by মেহেদী হাসান
- ফিলিস্তিনিদের জলপাই ‘চুরি’র অনুমতি দিলেন ইহুদি ধর্...
- রোহিঙ্গা গ্রাম ধ্বংস করে রাখাইনে সেনাচৌকি!
- রয়টার্সের প্রতিবেদন: ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য...
- ইরানের নিখুঁত হামলায় বিপর্যস্ত উপসাগরীয় দেশ, চাপে ...
- ইসরাইলের নির্বাচনে ক্ষমতার চাবিকাঠি হতে পারেন আরব ...
- ‘নেতানিয়াহু মিথ্যাবাদী, তার হাতে ফিলিস্তিনি শিশুদে...
- ইয়েমেনে রণক্ষেত্রে উত্তেজনার কেন্দ্রে তাইজ, শহরটি ...
- ভারতে মুসলিম হওয়াই কি অপরাধ, প্রাণনাশে পুলিশের হুম...
- নেটফ্লিক্সের ৬৫০ কোটি রুপির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিলেন...
-
▼
Oct 17
(14)
-
▼
October
(177)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

