Thursday, August 18, 2016

ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ৭০ ভাগ আইএস জঙ্গি

ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বেশিরভাগ সদস্যই ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ অথবা খুবই কম জানে। আইএসের জঙ্গিগোষ্ঠীটির ফাঁস হওয়া নথি এবং সংগঠনটির পুরনো কিছু সদস্যের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা এপি। এপি’র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আইএসে যোগ দেয়া সদস্যদের মধ্যে ৭০ শতাংশের ইসলামের শুধু মৌলিক জ্ঞান আছে। সিরিয়ার সাইট জামান আল-অসেলের সংগৃহীত হাজার হাজার নথি বিবেচনা করে সংবাদ সংস্থাটি জানাচ্ছে, ২৪ শতাংশ আইএস সদস্যের ইসলাম সম্পর্কে ধারণা ‘মধ্যম’ পর্যায়ের। তাদের মধ্যে শুধু ৫ শতাংশ কুরআন মুখস্থ পারে। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে সিরিয়ায় গিয়ে আইএসে যোগ দেয়া ৪০৩০ জনের পূরণকৃত ফরম থেকে পাওয়া গেছে এ তথ্য। আইএসে যোগদানের সময় যোগদানকারীদের যে ফরম দেয়া হয়, সেখানে তাদের ইসলামের জ্ঞান সম্পর্কে বোঝার জন্য কিছু প্রশ্ন করা হতো। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আইএসে যোগদান করতে আসা বেশিরভাগ নতুন সদস্যই ফরমে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেননি কিংবা হিমশিম খেয়েছেন। দু’জন ব্রিটিশ এবং এক ইউরোপীয় বাসিন্দা বলেন, তারা জিহাদে অংশগ্রহণ করার জন্য আমাজন থেকে ইসলাম ফর ডাম্মিস এবং দ্য কোরইন ফর ডাম্মিস ক্রয় করেছিলেন। তারা বলেন, যোগদানের ফরম পূরণের সময় ইমামদের একটি অংশ তাদের ইসলাম সম্পর্কে বোঝাতেন।
ওইসব ইমাম ‘শহীদদের’ প্রশংসা করতেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইসলামিক স্টেটে যোগদানের ক্ষেত্রে ধর্ম আসলে কোনো প্রভাব বিস্তার করে না। ইসলাম সম্পর্কে যাদের ধারণা কম এবং ধর্মে যার বিশ্বাস যত কম তাকে তত সহজে যোগদান করানো যায়। ব্রাসেলসভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, এসব জঙ্গি যতটা না গোড়া ইসলামপন্থী তার চেয়ে বেশি ইসলামপন্থী ধর্মান্ধ। নিঃসঙ্গ, অযোগ্য এবং সামাজিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তরুণরাই আইএসের দিকে বেশি ঝুঁকছে। তবে তুর্কি সীমান্তে কড়াকড়ি এবং রণাঙ্গনে তাৎপর্যপূর্ণ পরাজয়ের কারণে আইএসের বিদেশী যোদ্ধা নিয়োগের প্রবণতা দিন দিনই কমছে। এপির অনুসন্ধানের এই ফল আইএসের ইসলাম সম্পর্কে বিশ্বাস এবং ইসলাম প্রচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গের বাসিন্দা করিম মোহাম্মদ আগাদ সিরিয়া আইএসে যোগদান শেষে আবার দেশে ফেরত আসেন। এরপর গ্রেফতার করা হলে আদালতে তিনি স্বীকার করেন যে তারা সিরিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মের কোনো ভূমিকা ছিল না। তাদের নেকড়ের মতো ফাঁদে ফেলেছিল আইএস। আদালত তাকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেন। উদাহরণ আরও আছে। গত মাসে ফ্রান্সের নিসে শহরে ট্রাক চাপা দিয়ে ৮৪ জনকে হত্যাকারী যুবক ধূমপান করত, মদ খেত এবং ইসলামবিরোধী প্রায় সব কাজই করত। এমনকি সে তার স্ত্রীকেও পেটাত।
সিরতে থেকে বিতাড়িত হচ্ছে আইএস : লিবিয়ার উপকূলীয় নগরী সিরতে আইএসের হাত থেকে মুক্ত করার পথে আরও অগ্রসর হয়েছে লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। নগরীর কেন্দ্রীয় ‘ডিস্ট্রিক্ট টু’ নিজেদের দখলে নিয়েছে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী শিগগির সমগ্র শহরের পুনর্দখল নিতে সক্ষম হবেন তারা। মঙ্গলবার সিরতের পার্শ্ববর্তী শহর মিসতারায় লিবিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘ডিস্ট্রিক্ট টু’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর এখন ‘ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান’ দখলের জন্য লড়াই চলছে। এটিই এই নগরীতে আইএসের দখলে থাকা সর্বশেষ এলাকা। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ডিস্ট্রিক্ট টু’ মুক্ত করা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে আশার আলো

আইন পেশা, মহৎ পেশা। অভিজাত পেশা। বিশ্বজুড়ে রাজকীয় পেশা হিসেবে স্বীকৃত। তবে বাংলাদেশে এ পেশা যেন দিন দিন তার জৌলুস আর আভিজাত্য হারাতে বসেছিল। হারাতে বসেছিল তার গৌরবের মুকুট। এর কারণ দেশের ক্রমাবনতমুখী আইন শিক্ষার মান। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগগুলোর শিক্ষার মান নিয়ে কখনও সেভাবে গুরুতর আপত্তি ওঠেনি। এর কারণ যতটা না ‘যোগ্য শিক্ষক’, তার চেয়ে বেশি ‘যোগ্য শিক্ষার্থী’। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এলএলবি (অনার্স) কোর্সের প্রথম বর্ষে আসন সংখ্যা অনূর্ধ্ব ১০০০। চাহিদার তুলনায় এ সংখ্যা খুবই নগণ্য। ফলে ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীদের এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। যোগ্যতার চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সীমিত কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীই কেবল এখানে পড়ার সুযোগ পায়। মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তি এবং মোটামুটি মানসম্পন্ন শিক্ষক ও শিক্ষাদানের কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার মান কখনও অতটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। বিপরীতে ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত আইন কলেজে ২ বছরের এলএলবি (পাস) কোর্স। বাছ-বিচারহীনভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি, স্বল্পমেয়াদি শিক্ষাকোর্স, খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান- ইত্যাদি কারণে এ শিক্ষার মান ক্রমশ ছিল পড়তির দিকে।
তারপর ১৯৯২ সালে এল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন। তাতে দেশের আনাচে-কানাচে গজিয়ে উঠল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়। যত্রতত্র কোচিং সেন্টারের মতো দেখা দিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, আইন বিভাগ। স্থানে স্থানে গজাল কোনো কোনোটির শাখা-প্রশাখা। ওই শাখা ক্যাম্পাসের মালিকানা বা কর্তৃত্ব নিয়ে আবার মারামারি, কামড়া-কামড়ি, কোর্ট-কাচারি। সব মিলিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে যখন চূড়ান্ত নৈরাজ্য, তখন ২০১০ সালে এসে ১৯৯২ সালের আইনটা বাতিল করা হল। করা হল নতুন আইন। তাতেও অবস্থার খুব একটা হেরফের হল না। ততদিনে পাস করে বেরিয়েছে হাজার হাজার আইন গ্র্যাজুয়েট। কারও হাতে চার বছরের অনার্স সার্টিফিকেট। কারও হাতে ২ বছরের পাস কোর্সের সার্টিফিকেট। হাতেগোনা কয়েকটা ছাড়া বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়তে যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয় না। অর্থই এখানে প্রধান যোগ্যতা। টাকার বিনিময়ে এখানে যে কেউ আইনের স্নাতক/স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হতে পারে। শিক্ষার এ অবাধ বাণিজ্যিকীকরণে বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও বাণিজ্যের সঙ্গে গুণগত মানের সংযোগ যে ঘটেনি, তা নয়। কিন্তু দুর্বল অবকাঠামো, কম যোগ্যতাসম্পন্ন স্থায়ী শিক্ষক, অনুন্নত পাঠদান-সব মিলিয়ে সিংহভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষার মান ছিল বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত সংখ্যক আইনে স্নাতক/স্নাতকোত্তরের বিপরীতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত আইন কলেজ থেকে বছর বছর বের হচ্ছে বিপুলসংখ্যক স্নাতক/স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।
তাতে দেশের আইন শিক্ষার সামগ্রিক চিত্রটা দিন দিন রুগ্ন থেকে রুগ্নতর হবে- এটাই তো স্বাভাবিক। তবে হালে এ চিত্র বদলের একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে; দেশের জরাগ্রস্ত আইন শিক্ষাব্যবস্থা আবার মাথা তুলে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা জাগাচ্ছে। তার কারণ সম্প্রতি হাইকোর্টের দেয়া একটি যুগান্তকারী রায়। দারুল ইহসান প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিকে কেন্দ্র করে ২০০৬-২০১৩ পর্যন্ত সময়ে ১৩টি রিট করা হয়। রিটগুলোর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৩ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পায় কয়েকদিন আগে। ১২৬ পৃষ্ঠার ওই মাইলফলক রায়ে দারুল ইহসানসহ সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন কলেজে আইন শিক্ষাকার্যক্রম বিষয়ে আদালত ৩৩টি নির্দেশনা দেন। রায়ে পাঁচটি ডিগ্রিকে বৈধ আইনের ডিগ্রি ('A degree in law') হিসেবে ঘোষণা করা হয়- ১. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি (অনার্স) কোর্স, ২. বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ পাওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি (অনার্স) কোর্স, ৩. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অনুমোদিত বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি (অনার্স) কোর্স, ৪. ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য কোনো বিদেশী এলএলবি (অনার্স) বা আইনের ওপর অন্য কোনো বিদেশী কোর্স এবং ৫. ২০২০ সাল পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ বছরের এলএলবি (পাস) কোর্স। ২০২০ সালের পর এ ডিগ্রি অবৈধ। আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা ২ বছরের এলএলবি (পাস) কোর্সও কোনো ‘আইনের ডিগ্রি’ নয়। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় (সব শাখাসহ) ও অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটার ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষাকার্যক্রম সম্পর্কে রায়ে বলা হয়, এখন থেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের (সংক্ষেপে ‘বার’) ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ ছাড়া কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এলএলবি (অনার্স) কোর্স চালাতে পারবে না। তজ্জন্য বারের অ্যাকাউন্টে অফেরতযোগ্য ১০ লাখ টাকা এবং ১০ জন পূর্ণকালীন স্থায়ী শিক্ষকের সিভি (একাডেমিক সনদসহ) জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে ‘বারের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বাইরে কাউকে আইন কোর্সে ভর্তি করাবে না’ মর্মে একটা লিখিত অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।
আবেদনের তিন মাসের মধ্যে ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ দেয়া হবে। অবশ্য তার আগে সুপ্রিমকোর্টের দু’জন মাননীয় বিচারক ওই বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে যাবেন। পরিদর্শনকালে তারা আইনের ছাত্রদের জন্য পাঁচটি উপযুক্ত রুম, ১০ জন পূর্ণকালীন, স্থায়ী এবং দক্ষ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট আইন বিভাগের সার্বিক পরিবেশ আইনের স্নাতক তৈরির জন্য আদর্শ কিনা ইত্যাদি খতিয়ে দেখবেন। পরিদর্শনের পর তারা ইতিবাচক প্রতিবেদন দিলে, তবেই কেবল ওই সার্টিফিকেট মিলবে। যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে এ কোর্স চালু আছে, তাদেরও ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে একই প্রক্রিয়ায় ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের’ জন্য আবেদন করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এ কোর্স চালাতে চাইলে আগেই এ সার্টিফিকেট নিতে হবে। নইলে ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে আইন কোর্স চালানোর অনুমতি দেবে না। তাছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন থেকে সরাসরি এলএলবি (অনার্স) কোর্সে কাউকে ভর্তি করাতে পারবে না। তজ্জন্য বার কাউন্সিল প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। পরীক্ষার ধরন হবে অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষার মতো। গঈছ থাকবে। সঙ্গে লিখিত পরীক্ষাও হবে। এইচএসসিতে যারা জিপিএ-৫ এবং ইংরেজিতে ৭০ নম্বর বা ওঊখঞঝ-এ ৬ ব্যান্ড পেয়েছে কিংবা ইংলিশ মিডিয়ামে বি-গ্রেডে অ লেভেল পাস করেছে, তারাই কেবল এ পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবে। পরীক্ষা শেষে বার একটি মেধা তালিকা প্রকাশ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওই তালিকা থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে। ভর্তি পরীক্ষা শেষে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে এলএলবি (অনার্স) প্রথম বর্ষের ছাত্র তালিকা বারে পাঠাতে হবে। তাছাড়া রায়ে বলা হয়, এক শিক্ষাবর্ষে ১০০’র বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে না। ২ বছর মেয়াদি কোর্স চালানো যাবে না। রায়ে ২০২০ সালের পর ২ বছর মেয়াদি এলএলবি পাস কোর্স বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয়; তার পরিবর্তে ৪ বছর মেয়াদি এলএলবি (অনার্স) চালু করতে হবে। যেসব কলেজে এখনও ওই ২ বছরের কোর্স চলছে, সেখানে কমপক্ষে ১০ জন স্থায়ী পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তজ্জন্য প্রয়োজনে ওখানকার স্থায়ী শিক্ষকদের শিক্ষা সনদসহ সিভি তলব করা হবে। অনলাইন ভর্তি সিস্টেম চালু করতে হবে।
কোনো আইন কলেজে বছরে ১০০’র বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১ মাসের মধ্যে হাইকোর্টের এ নির্দেশনার বিষয়টি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রত্যেক আইন কলেজকে জানাবে। রায়ে ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ ছাড়া এলএলবি (অনার্স) কোর্সের অনুমোদন না দিতে ইউজিসিকে নির্দেশ দেয়া হয়। আরও বলা হয়, ইউজিসি এ আদেশপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে ‘ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ গ্রহণের বিষয়টি জানিয়ে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিশ ইস্যু করবে। রায়ে সরকারকে অনতিবিলম্বে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় (সব শাখাসহ) এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আউটার ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়। এ রায় বাস্তবায়িত হলে নিশ্চিতভাবে আইন শিক্ষার গুণগত মান বহুলাংশে বাড়বে। আইন পেশা ও আইন সংশ্লিষ্ট সবার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। জানি না, বাস্তবায়নটা পুরোপুরি হবে কিনা। তবে আশার আলো দেখছি। ইতিমধ্যে সরকার দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। বার কাউন্সিল ‘আইন বিষয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসংক্রান্ত সতর্কতামূলক ’ বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছে। আমাদের প্রত্যাশা, মহামান্য আপিল বিভাগও জনস্বার্থে এ রায় বহাল রাখবেন।
আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট
aftabragib@yahoo.com

লেবানন-জর্ডান সফরের অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি আমি জর্ডান ও লেবানন সফর করি। সেখানে বাংলাদেশী কর্মীদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়া, তাদের সমস্যার সমাধান করা এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারিত করাই ছিল এ সফরের মূল উদ্দেশ্য। ওই দুই দেশের তিনজন মন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। ফলাফল আমাদের পক্ষে। আমি এ বিষয়ের ওপর বিশদ আলোচনা না করে দেশ দুটির সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করব। জর্ডানে সমতল ভূমি নেই বললেই চলে। উঁচু পাহাড়-পর্বতের চাদরে ঢাকা দেশটি। পাহাড়গুলোতে বড় বড় পাথর, পাথরের ভারে পাহাড়গুলো যেন নুয়ে পড়ছে। আকাশ ভেদ করা পর্বতগুলো যেন কেঁদে স্রষ্টার কাছে পাথরমুক্ত হতে প্রার্থনা করছে দিন-রাত। কিছু কিছু পাথর এরই মধ্যে ঠেলে ওপরে বের করে দিলেও বেশির ভাগ পাথর বুক চিরে অন্তরে অবস্থান করছে।
পাথরের ওপর কোনো গাছপালা জন্মাতে পারে না। দু-একটি গাছ পাথরের কাঠিন্য ভেদ করে আকাশের দিকে ওঠার চেষ্টা করছে। জর্ডানে বহু ঐতিহাসিক জায়গা আছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) সিরিয়ায় যাওয়ার সময় যে গাছটির ছায়ায় বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেটি এখনও আছে। কারও কারও মতে, গাছটির বয়স ২ হাজার বছর। জর্ডানের পেট্রা একটি আকর্ষণীয় জায়গা। পেট্রার সুড়ঙ্গগুলো কত বছর আগে আবিষ্কৃত তা ইতিহাসই বলতে পারে। তবে পাথরের পাহাড় কী করে দু-তিন ভাগ হয়ে মধ্যখানে সুড়ঙ্গ তৈরি করেছে তা দেখার বিষয়। আমরা সুড়ঙ্গ দিয়ে অনেক দূর এগিয়েছিলাম। ভয় করে যদি মাথার ওপর ঝুলন্ত পাথর ছিটকে পড়ে। ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে আমরা ভেতরে ঢুকেছি। যখন ফেরত আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, মনে হল কে যেন পেছন দিক থেকে আরেকটু এগিয়ে যেতে চিৎকার করছে। আরও ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি ফেরত আসি। এবার লেবাননের কথায় আসি। জর্ডানের মতো লেবাননেও সমতল ভূমি নেই। দু-চারটি জায়গায় ঢালু জায়গা আছে। ঢালু জায়গায় কলাবাগান, জয়তুন গাছের বাগান প্রচণ্ড রোদে প্রকৃতির সঙ্গে খেলা করছে। কলাগুলো ভারি মিষ্টি। লেবাননেও সুড়ঙ্গ পথ আছে। এ সুড়ঙ্গ পথ দু’ভাগে বিভক্ত। একভাগে শুধু পাহাড়।
পাহাড়ে দীর্ঘদিন বৃষ্টির পানি চুইয়ে চুইয়ে কেলসিফিকেশন হয়েছে এবং এ কেলসিফিকেশন থেকে নানা রঙের পিলারের সৃষ্টি হয়েছে, পিলারগুলো চিকচিক করছে। যত আলো পড়ে চিকচিক বেড়ে যায়। চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করা দায়। স্রষ্টার এ কী লীলা-খেলা। অন্য ভাগে শুধু পানি আর পানি। আমরা পানিতে নৌকায় করে ভেতরে প্রবেশ করি। স্বচ্ছ পানি। সমগ্র লেবাননে এ স্বচ্ছ পানি পান করার জন্য বিতরণ করা হয়। পাথর ভেদ করে খালের মতো এত পানির উৎস কী তা কেউ বলতে পারে না। জর্ডান ও লেবাননের মানুষ বন্ধুসুলভ। বিদেশীদের এরা সম্মানের চোখে দেখে। খাদ্যাভ্যাস আমাদের মতো নয়। এরা রুটি, চিজ, নানা ধরনের সালাদ খেতে অভ্যস্ত। খাবার খেতে আমাদের খুব বেশি অসুবিধা হয়নি। মহিলারা বোরকা পরে; কিন্তু সাজগোজ পশ্চিমাদের মতো। এখানে মহিলারাও গাড়ি চালায়। দেখে মনে হয় মহিলাদের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। আমরা যখন দেশে ফিরে আসার জন্য বিমানে উঠি, বারবার ইচ্ছা করছিল আরও কিছুদিন সেখানে থেকে যেতে। লেবাননের মাটি যেন বারবার ডাকছে পেছনে- আরও কিছুদিন আমার কাছে থেকে যাও। তোমাদের পেয়ে আমরা ধন্য। আমাদের বঞ্চিত করো না। থেকে যাও।
নুরুল ইসলাম বিএসসি : প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, কলাম লেখক

চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে জার্মান প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

অবশেষে বে-টার্মিনাল নির্মাণে জট খুলতে শুরু করেছে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিংয়ের পক্ষে বেনজামিন লিডার ও চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. খালেদ ইকবাল চুক্তিতে সই করেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বন্দরের সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি সই হয়। বন্দর সূত্র জানায়, বিভিন্নভাবে সমীক্ষা চালিয়ে রিপোর্ট প্রদান করবে হামবুর্গ পোর্ট কনসালটিং প্রতিষ্ঠানটি। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ৮ থেকে ৯ মাস সময় লাগবে।
রিপোর্ট পাওয়ার পর অন্যান্য কার্যক্রম শুরু হবে। ফিজিবিলিটি স্টাডি করে রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রায় আট কোটি টাকা খরচ হবে। বে-টার্মিনাল নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের অনাপত্তি এবং পুলিশের অনাপত্তিপত্রের কাগজপত্রও জমা দেয়া হয়েছে। এর জন্য ৯০৭ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। এই চুক্তির ফলে বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রক্রিয়া এক ধাপ এগিয়ে গেল জানালেন বন্দর চেয়ারম্যান এম. খালেদ ইকবাল। শিগগির প্রতিষ্ঠানটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জীবনে একবারই মাত্র ‘দেরি’ করেছেন বোল্ট

উসাইন বোল্ট জীবনে দেরি করেছেন মাত্র একবার। যে সময়ে জন্ম নেয়ার কথা ছিল এই কিংবদন্তি দৌড়বিদের, তার ১০ দিন পর ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। তার মা জেনিফার বলছেন, ‘উসাইনের বয়স যখন তিন সপ্তাহ, তখন থেকেই তিনি টের পেতে শুরু করেছিলেন যে বড় কিছু একটা করার জন্যই তার ছেলের জন্ম হয়েছে।’ তবে উইলিয়াম নিব হাইস্কুলে পড়ার সময় বোল্টের আকর্ষণ ছিল ক্রিকেটের প্রতি। সেসময় তিনি ক্রিকেট ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারতেন না। স্কুলের পিটি শিক্ষক লর্না থর্পই প্রথম উসাইনকে অ্যাথলেটিক্সে আসার জন্য উপদেশ দেন। ‘আমি তাকে বলেছিলাম, ভালো করে ট্রেনিং শুরু করো। তোমার লম্বা পায়ের ভেতর সোনার খনি লুকানো আছে’, বলছিলেন মিসেস থর্প। উসাইন বোল্টের জীবনের ওপর এই শিক্ষকের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে।
উসাইন সেটি অস্বীকার করেন না। ‘তিনি ছিলেন মায়ের মতো। স্কুলে পড়ার সময় তিনি সব সময় আমার খোঁজখবর রাখতেন। স্কুল ও স্কুলের বাইরে। সব সময় চাইতেন আমি যেন আমার মনোযোগ ধরে রাখি। আমার জীবনে তার বড় ভূমিকা রয়েছে’, বলেছেন বোল্ট। উসাইন বোল্টের জীবনে প্রথমবারের মতো খ্যাতি আসে যখন তার বয়স মাত্র ১৫। ২০০২ সালে জ্যামাইকায় বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে এ কিশোর স্বর্ণপদক জয় করে সবার দৃষ্টি কেড়ে নেন। সে সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা সবাই ছিল তার চেয়ে অন্তত চার বছর বড়। সেই ইভেন্টের পর থেকে উসাইন বোল্টকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বাবা ওয়েলৈস্লি বোল্ট জানাচ্ছেন, উসাইন হারতে চাইতেন না। ছেলেবেলায় তিনি যখন জ্যামাইকার ট্রলনিতে পাড়ার মাঠে দৌড়াতেন, তখন অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় হেরে গেলে তিনি কান্নাকাটি করতেন। জেনিফার বলেন, ‘পাঁচ বছর বয়স থেকে উসাইন স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে রেস করত। প্রতিবারই জিতত।’ ভাই সাদিকি এবং বোন শেরিন বলছেন, ‘ছোটবেলা থেকেই উসাইন হাসিখুশি এক ছেলে।’

ঈদের ছবির লড়াই শুরু

ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের প্রতিটি অঙ্গনেই আয়োজনের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরাও ব্যাপক আয়োজন নিয়ে হাজির হন। এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে না বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনও। প্রতি ঈদে রেকর্ড সংখ্যক নতুন ছবি মুক্তি দেন পরিচালক-প্রযোজকরা। আসছে ঈদুল আজহা উপলক্ষেও শুরু হয়েছে একাধিক ছবি মুক্তির তোড়জোড়। এরইমধ্যে নিজেদের ছবির প্রচারণাও শুরু করেছেন কলা-কুশলীরা। আসছে ঈদুল আজহায় মুক্তি প্রতীক্ষিত ছবিগুলো নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন অনিন্দ্য মামুনআসছে ঈদে ছবি নিয়ে ত্রিমুখী যুদ্ধে নামছেন ঢাকাই ছবির শীর্ষ নায়ক শাকিব খান, বাপ্পি সাহা ও কলকাতার ওম। এর মধ্যে রয়েছে শামিম আহমেদ রনি পরিচালিত শাকিব খান অভিনীত ‘বসগিরি’, হিমেল আশরাফর পরিচালিত ও বাপ্পি অভিনীত ‘সুলতানা বিবিয়ানা’ ও যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত সুদীপ্ত সরকারের পরিচালনায় ওম অভিনীত ‘প্রেম কী বুঝিনি’। এ ছবিগুলো ঈদে মুক্তির বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। উল্লেখিত ছবিগুলোতে শাকিবের নায়িকা হিসেবে থাকছেন নবাগতা বুবলি, বাপ্পির নায়িকা আঁচল, ওমের বিপরীতে রয়েছেন কলকাতার শুভশ্রী। ছবি মুক্তি নিয়ে ইতিমধ্যে আঁটঘাঁট বেঁধে প্রচারণায় নেমেছেন সুলতানা বিবিয়ানা ছবির কলাকুশলীরা। ভার্সেটাইল মিডিয়া প্রযোজিত এ ছবিটি নিয়ে বেশ আশাবাদীও তারা।
এ প্রসঙ্গে ছবির প্রযোজক আরশাদ আদনান বলেন, ‘দর্শকদের ভালো মানের ছবি উপহার দিতেই আমাদের এ প্রচেষ্টা। সম্পূর্ণ মৌলিক গল্প নিয়ে ছবিটি তৈরি হয়েছে। গ্রামীন পটভূমিতে নির্মিত হলেও এর গল্প এবং নির্মাণে রয়েছে আধুনিকতা। আশা করি এ ছবিটি দেখে দর্শকরা নিরাশ হবেন না। আমার বিশ্বাস, ঈদে কোনো ধরণের রাজনীতি না হলে এ ছবিটি দর্শক চাহিদার শীর্ষে থাকবে।’ এরইমধ্যে ছবিটির শুটিং, এডিটিং, ডাবিং শেষ হয়েছে। বর্তমানে ভারতের চেন্নাইতে চলছে কালার কারেকশনের কাজ। শিগগিরই ছবিটি সেন্সরে জমা দেওয়া হবে বলে প্রযোজক জানান। এতে অভিনয় করেছেন বাপ্পি ও আঁচল। এ ছবিটির মধ্য দিয়ে শাকিব খানের সঙ্গে বাপ্পির লড়াইটা বেশ জমে উঠবে। পাশাপাশি এ ছবিটি বাপ্পি ও আঁচলের ক্যারিয়ারে ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি সুযোগ বলেও অনেকের মন্তব্য। ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষিত আরেক ছবি ‘বসগিরি’। এটি নিয়েও বেশ আশাবাদী পরিচালক শামিম আহমেদ রনি। যদিও শেষ পর্যন্ত ছবির প্রযোজক টপি খানের মাথায় টুপি পরিয়ে জাজই এ ছবির দখলদারিত্ব নিয়েছে। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন দেশের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। গেল ঈদে ‘শিকারি’ ছবিতে যেমন শাকিব খানকে ভিন্নরূপে দেখতে পেয়েছেন দর্শক তেমনি বসগিরিতেও নাকি ভিন্ন আরেক রূপে দেখতে পাবেন- এমনই দাবি পরিচালকের। ছবিটিতে নায়িকা হিসেবে নেয়া হয়েছে নবাগতা বুবলিকে।
শাকিব খানের সঙ্গে নতুন নায়িকা বুবলিরে ক্যামিস্ট্রি নিয়ে পরিচালক কতটা সফল হতে পারেন সেটিই এখন দেখার বিষয়। এছাড়াও দেশের বিতর্কিত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গের এসকে মুভিজের ব্যানারে নির্মিত ‘প্রেম কী বুঝিনি’ ছবিটিও আসছে ঈদে মুক্তির মিছিলে রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাজের কর্ণধার আবদুল আজিজ। পরিমণি অভিনীত ‘রক্ত’ ছবিটি ঈদে মুক্তি পাবে বলে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে জানিয়েছিল জাজ। কিন্তু ছবিটিতে অভিনীত শিল্পীদের অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণের পাশাপাশি নানা কারণে ছবিটির শুটিং শেষ করতে পারেনি। তাই হাতে থাকা যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত প্রেম কী বুঝিনি ছবিটি মুক্তির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ঈদে ছবিটি মুক্তি বিষয়ে চূড়ান্ত করা হলেও নায়ক-নায়িকা দু’জনই বিদেশী হওয়ায় ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ কমই থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়াও ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত নায়িকা ববিকে নিয়ে বাপ্পির অভিনীত ‘ওয়ান ওয়ে’ ও পরিমনী ও বাপ্পী জুটির ‘আপন মানুষ’ ছবিগুলোও ঈদে মুক্তির ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ছবি যে কয়টিই মুক্তি পাক, লড়াইটা হবে শাকিব খান আর বাপ্পির মধ্যেই। কারণ শাকিব খানের জনপ্রিয়তা দেশে তুঙ্গে হলেও বাপ্পিও এখন দেশের আলোচিত নায়ক। অন্যদিকে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে নায়ক-নায়িকা হিসেবে রয়েছেন ওম ও শুভশ্রী। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ওম অভিনীত একাধিক ছবি মুক্তি পেলেও কোনো ছবিই ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পায়নি। তবে অনেকের মন্তব্য রোজার ঈদের মতো এবারের ঈদেও ব্যবসায়িকভাবে ছবিগুলো সফল হবে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। কারণ গত ঈদ থেকে সিনেমায় সাফল্যের যে হাওয়া শুরু হয়েছে সেটি আগামীর ঈদেও দেখা যাবে।

উগ্রপন্থী আনজেম চৌধুরী দোষী সাব্যস্ত

আনজেম চৌধুরী
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) সহায়তা দিতে উদ্বুদ্ধ করার দায়ে যুক্তরাজ্যের উগ্র ধর্মীয় নেতা আনজেম চৌধুরী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাঁদের দুজনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ব্রিটিশ পুলিশ বলেছে, আইএসকে সহায়তা দিতে উদ্বুদ্ধ করার দায়ে আনজেম চৌধুরীকে ২০১৪ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বক্তব্য শোনার পর অনেকেই মারাত্মক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের চেষ্টা করেছেন। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের প্রধানেরা প্রায় ২০ বছর বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা করেছেন। তরুণদের উগ্রপন্থায় দীক্ষিত করার দায়ে তাঁর সংগঠনকেও ধরার চেষ্টা করেছেন। সর্বশেষ চৌধুরী ও তাঁর সহযোগী মিজানুর রহমানকে সন্ত্রাস আইনের অভিযুক্ত করা হয়। গত ২৮ জুলাই এই দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও গত মঙ্গলবার এই রায় প্রকাশ করা হয়।
আদালতে বলা হয়, আনজেম চৌধুরী ও তাঁর সহযোগী একাধিক বক্তব্যে আইএসে যোগ দিতে অনেককে আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে আইএসের প্রতি তাঁদের সমর্থন জানান। আনজেম চৌধুরী একসময় আল-মোহাজিরুন নামের একটি সংগঠনের মুখপাত্র ছিলেন। এই সংগঠনটি একাধিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই সংগঠনের নেতা ওমর বাকরি মোহাম্মদ ২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের পর যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে যান। শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পুরো ইউরোপে উগ্র ইসলামি নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন চৌধুরী। আদালতে ২০১৩ সালের মার্চে দেওয়া এক বক্তব্য শোনানো হয়। সেখানে চৌধুরী এটি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি চান মুসলিমরা সমগ্র বিশ্ব শাসন করুক। ২০১৪ সালে আইএস ‘খিলাফত’ ঘোষণার পর চৌধুরী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে পূর্ব লন্ডনের একটি দোকানে বৈঠক করেন। এখন লেবাননের কারাগারে বন্দী ওমর বাকরির সঙ্গে খিলাফত নিয়ে কথাও বলেন চৌধুরী।

তামিলনাড়ুর বিধানসভায় হট্টগোল ৮০ সদস্য বহিষ্কৃত

তামিলনাড়ুর বিধানসভা থেকে গতকাল এক
বিধায়ককে পাঁজাকোলা করে বের করে দেওয়া হয়
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিধানসভায় গতকাল বুধবার প্রবল হট্টগোল হয়েছে। একপর্যায়ে বিরোধী দল দ্রাবিড় মুনাত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) ৮০ জন বিধায়ককে বের করে দেওয়া হয়। পরে সাত দিনের জন্য বিধানসভা থেকে তাঁদের বহিষ্কারও করা হয়। বিধানসভার গতকালের অধিবেশনে রাজ্যে ক্ষমতাসীন অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনাত্রা কাজাগামের (এআইএডিএমকে) বিধায়ক গুনাসেকেরা বিরোধী নেতা এম কে স্টালিনের নামাক্কু নামে (গণসংযোগ কর্মসূচি) নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। গত মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্টালিন এই কর্মসূচি নিয়েছিলেন। এর প্রতিবাদে সরব হন ডিএমকের বিধায়কেরা। তবে স্পিকার বিধায়কের বক্তব্যকে এই বলে সমর্থন দেন যে তিনি কারও নাম নেননি, বরং একটি কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেছেন।
স্পিকারের এই যুক্তি মেনে নিতে নারাজ ডিএমকে বিধায়কেরা ক্ষমতাসীন দলের বিধায়কের মন্তব্য কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু স্পিকার তা না করলে প্রবল হট্টগোল শুরু হয়। ডিএমকের বিধায়কেরা প্রচণ্ড চিৎকার শুরু করে দেন। ক্ষুব্ধ স্পিকার একপর্যায়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের বারবার সতর্ক করছি এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সহযোগিতা চাইছি। কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, আপনারা তা করছেন না। তাই আপনাদের বের করে দেওয়ার জন্য আমি নির্দেশ দিচ্ছি।’ এরপর বিধানসভার নিরাপত্তারক্ষীরা বিরোধী নেতা স্টালিনকে ওপরে তুলে ধরেন। পরে তাঁকে লবিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে বিধানসভায় সরকারি দলের নেতা এবং অর্থমন্ত্রী ও পান্নেরসিলভাম ডিএমকের সব বিধায়ককে এক সপ্তাহের জন্য বহিষ্কারের প্রস্তাব করলে তা পাস হয়। তবে ডিএমকের জোটসঙ্গী দলগুলোর আট বিধায়ক বিধানসভায় যোগ দিতে পারবেন।