Sunday, May 25, 2014

জামায়াতের বিচারপথে এ কোন অশুভ ছায়া? by আজাদুর রহমান চন্দন

মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের লক্ষ্যে চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল হওয়ার সম্ভাবনা উঁকি দিয়েই যেন মিলিয়ে যেতে বসেছে। গত ১৪ মে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দল বা প্রসিকিউশনের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, এ মাসের শেষ সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হতে পারে। জাতির জন্য এটি একটি সুসংবাদই ছিল বটে। কিন্তু ওই সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সপ্তাহ না পেরুতেই একটি দুঃসংবাদ জাতিকে হতাশায় ডুবিয়ে দিতে বসেছে। রাষ্ট্রপক্ষ বা প্রসিকিউশনের যে আইনজীবীদলটি জামায়াতের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ তৈরির কাজ করছিল, তারা সেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রসিকিউশনেরই একাংশের হস্তক্ষেপে। এ নিয়ে এখন চলছে দুই পক্ষের বাদানুবাদ। এ দ্বন্দ্বের ডামাডোলে আড়ালে থেকে যেতে পারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেটি হলো- জামায়াতের বিচারে আইনের ফাঁক। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ সংশোধন করে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের বিচারের বিধান যুক্ত করা হলেও অপরাধী সংগঠনের শাস্তি কী হবে, তা আইনে উল্লেখ নেই।

>>বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শান্তিপূর্ণ ...পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ-মিছিল পন্ড করতে পুলিশ এ হামলা ...
জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার পেশ করা তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তৈরি করার জন্য প্রসিকিউশনের যে দলটি কাজ করছিল, এর প্রধান হলেন প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ। তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের পাশাপাশি দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকেও নিষিদ্ধ করার আবেদন জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া দলটির মুখপত্র হিসেবে দৈনিক সংগ্রামও নিষিদ্ধ করার আবেদন থাকবে। তুরিন আফরোজ বলেছিলেন, মামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মামলার সব বিষয় খুঁটিনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যত দ্রুত সম্ভব ফরমাল চার্জ দাখিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য দিনরাত কাজ চলছে। তবে তা খুবই সতর্কতার সঙ্গে করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভুলত্রুটির সুযোগ কেউ নিতে না পারে।
প্রসিকিউটররা যতই সতর্কতার সঙ্গে কাজ করুন না কেন, সংগঠন হিসেবে জামায়াত বা এর ছাত্র সংগঠনের বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনের অস্পষ্টতা বা ফাঁক দূর হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি কী হবে, সে নিয়ে বিতর্ক রয়েই গেছে। প্রসিকিউশন জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেই যে বিদ্যমান আইনে দলটির শাস্তি নিশ্চিত হবে, তা জোর দিয়ে বলা যায় না।

মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র এবং এসব অপরাধ ঠেকাতে ব্যর্থতার সাতটি অভিযোগে জামায়াতের বিচার করার জন্য ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত ২৭ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশনের কাছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে আমরা নজির সৃষ্টি করতে যাচ্ছি। কারণ ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে নাৎসি বাহিনীর বিচারের পর বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালে প্রথমবারের মতো কোনো সংগঠনের বিচার করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো সংগঠনের বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নামের সংগঠনের সংশ্লিষ্ট অঙ্গসংগঠনগুলো ও দৈনিক সংগ্রাম বন্ধের কথাও বলা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের বিচার চাইনি। বিচার চেয়েছি সংগঠন হিসেবে ১৯৭১ সালে জামায়াত যে অপরাধ সংঘটন করেছে, তার। সে সঙ্গে জামায়াতের প্রভাবে যেসব অঙ্গসংগঠন অপরাধ করেছে, তাদেরও বিচার চাওয়া হয়েছে।’ (সূত্র : কালের কণ্ঠ, ২৮ মার্চ, ২০১৪)

এর কিছুদিন আগে তুরিন আফরোজ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্টে ‘ব্যক্তি’র (পারসন) সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, কম্পানি, অ্যাসোসিয়েশন বা ব্যক্তিগোষ্ঠীও ‘ব্যক্তি’ বিবেচিত হবে। সে ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের আইনে ২০ ধারায় উলি্লখিত ‘ব্যক্তির’ মধ্যে সংগঠনও পড়বে। আর ট্রাইব্যুনালের যেকোনো সাজা দেওয়ার ক্ষমতা আইনেই আছে। তিনি যুক্তি দেখান, যাবজ্জীবন, ৯০ বছর বা আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজার কোনো উল্লেখ আইনে নেই; কিন্তু ‘যেকোনো সাজার’ আওতায় ট্রাইব্যুনাল ওই দণ্ড দিয়েছেন। সংগঠনের ক্ষেত্রেও একইভাবে শাস্তি দেওয়া সম্ভব। তবে তুরিন আফরোজ স্বীকার করেন, ‘অপরাধী সংগঠন’ হিসেবে জামায়াতের বিরুদ্ধে মামলা হলে বিচারের সময় এ বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যে অন্যতম আইনি বিতর্কের সৃষ্টি করবে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের যুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী। (সূত্র : প্রথম আলো, ২৪ মার্চ, ২০১৪)

তুরিন আফরোজ যতই আশাবাদী হোন না কেন, আইনের এ অস্পষ্টতাটুকু রেখে জামায়াতের বিচার শুরু হলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকবেন। এমন তো নয় যে এ অস্পষ্টতা দূর করার সুযোগ নেই বা এটা খুবই কঠিন কাজ। শুধু আইন নয়, সংবিধান সংশোধন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংসদে আছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের। তাহলে এ আইনি অস্পষ্টতা দূর করার উদ্যোগ নিতে সরকারের বাধা কোথায়?

তুরিন আফরোজ জেনারেল ক্লজেজ অ্যাক্টের পাশাপাশি ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের দৃষ্টান্ত টেনেছেন। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার যে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কিন্তু বিতর্কও কম হয়নি। ওই বিচার হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল মিলিটারি ট্রাইব্যুনালে। সেই বিচারে আসামিপক্ষের আপিলের সুযোগ পর্যন্ত ছিল না। আর আমাদের দেশের আলোচ্য এ বিচার এমনিতেই বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক নানা সংগঠনের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তুরিন আফরোজ আশাবাদী হয়ে নিজেই স্বীকার করেছেন, বিচারের সময় শাস্তির বিষয়টি দুই পক্ষের মধ্যে অন্যতম আইনি বিতর্কের সৃষ্টি করবে।

শুধু বিচারের সময় কেন, এখনই বিষয়টি যথেষ্ট বিতর্ক কি তৈরি করে ফেলেনি? ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এরই মধ্যে বলেছেন, ‘আইনে দণ্ডের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট না থাকলে বিচারক কাউকে দণ্ড দিতে পারেন না। তবে তিরস্কার করতে পারেন।’ আইন, আদালত ও সংবিধানবিষয়ক প্রতিবেদকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) উদ্যোগে গত ২৩ মার্চ আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। প্রশ্নটি যদিও ছিল আদালত অবমাননার বিষয়ে। তবে মন্ত্রী হওয়ার আগে আনিসুল হক মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের বিচার প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন-১৯৭৩ সংশোধন করে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনের বিচারের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু বিচারে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অপরাধী সংগঠনের শাস্তি কী হবে- এ বিষয়ে আইনে কিছু বলা নেই। এ ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হতে পারে।’ ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোয় তাঁর ওই বক্তব্য ছাপা হয়েছিল।

আইনে সংগঠনের বিচারের বিধান যুক্ত হওয়ার পর গত বছরের ১৮ আগস্ট জামায়াতের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে তদন্ত সংস্থা। এর আগে ১ আগস্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। তিন সদস্যের ওই হাইকোর্ট বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম সংগঠনের বিচারের ক্ষেত্রে এ-সংক্রান্ত আইনের দুর্বলতা নিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ দেন। তাতে বলা হয়, ‘মূল আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য কোনো দল বা গোষ্ঠীকে বিচারের সম্মুখীন করার বিধান না থাকলেও সম্প্রতি আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত দলকে (organisation) বিচারের সম্মুখীন করার বিধান করা হয়েছে (ধারা-৩)। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে ওই আইনে কোনো দল মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হলে ওই দলকে কী ধরনের দণ্ড এবং সাজা প্রদান করা হবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু উল্লেখ নেই। আমার নিঃসংকোচ অভিমত এই যে ওই আইনে মানবতাবিরোধী কোনো দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে, সেই দলের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দণ্ড আরোপের বা গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান করা প্রয়োজন।’ কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আইনে কোনো সংশোধন আসেনি। আর বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান।

এ অবস্থায় প্রসিকিউটররা যত সহজে আশাবাদী হতে পারেন, তত সহজে আশাবাদী হওয়া সবার পক্ষে সম্ভব কি? যে সমস্যার সহজ সমাধান সরকারের হাতে রয়েছে, সে সমস্যাটিকে জিইয়ে রাখা হলে সংশয়ী হওয়া মোটেই অস্বাভাবিক নয়। সময় কিন্তু এখনো ফুরিয়ে যায়নি। জামায়াতের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করার আগে আইনের অস্পষ্টতাটুকু ঘুচিয়ে ফেলা যায়। রাষ্ট্রপক্ষের দ্বন্দ্বও মিটিয়ে ফেলা জরুরি। এ দুটি বিষয়ে আশু পদক্ষেপ না নেওয়া হলে লাভ জামায়াতের। আর পদক্ষেপ নেওয়া হলে অশুভ ছায়া কেটে ফুটবে আলোর রেখা।

অধ্যাপক জাফর ইকবালের বক্তব্যের সঙ্গে কিছু কথা by নুরুল ইসলাম নাহিদ

আমাদের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল সম্প্রতি ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস’ বিষয়ে কয়েক দিনের ব্যবধানে পত্রপত্রিকায় তিনটি কলাম লিখেছেন। তাঁর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাগিদকে আমি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তাঁর জোরালো বক্তব্য আমাদের শক্তি জোগাবে এই জঘন্য অপরাধীদের খুঁজে বের করতে এবং ভবিষ্যতে বিভ্রান্ত করতে না পারে, সে ব্যবস্থা গ্রহণে স্থায়ী পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করবে।

একরাম হত্যা-র‌্যাবের কাছে স্বীকার করলেন গ্রেফতার ৮ যুবক

উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে গুলি করে আবিদ। পিস্তল সংগ্রহ করেন জাহিদ চৌধুরী। শিবলু নামের এক যুবক কিলারদের পিস্তল চালানো শিখিয়ে দেয়। ফেনী পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ হেল বাকি ওরফে শিবলু কমিশনার ২৫-৩০ জন কিলারকে সংগঠিত করেন এবং তাদের সবার হাতে অস্ত্র তুলে দেন।

হত্যাকারী শনাক্ত ও গ্রেফতার- এবার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একরামুল হককে দুর্বৃত্তরা গত মঙ্গলবার প্রকাশ্য দিবালোকে প্রথমে গাড়িতে গুলি চালিয়ে, অতঃপর গানপাউডার দিয়ে গাড়িটি জ্বালিয়ে যে নৃশংসতায় হত্যা করেছে, সেই শোকাবহ স্মৃতি মানুষের মধ্যে এখনও জ্বলজ্বল করছে। তবে আশার কথা, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শুধু শনাক্তই করা হয়নি, তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে আটককৃত আটজনের মধ্যে ছয়জনই সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। আরও নিশ্চিত হওয়া গেছে, একরামুল হককে প্রথম গুলিটি করেছিল ফেনী-২ আসনের এমপি নিজামউদ্দিন হাজারীর মামাতো ভাই আবিদুল ইসলাম ওরফে আবিদ।

এটা কি সাম্প্রদায়িকতা? by বদরুদ্দীন উমর

আওয়ামী ঘরানার কিছু বুদ্ধিজীবী ও সংবাদপত্রের কথাবার্তা, বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রচারণার দিকে তাকালে মনে হবে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু অর্থাৎ হিন্দুদের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ ও নির্যাতন এখন ব্যাপক আকারে হচ্ছে এবং তারা শুধু বাড়িঘর ছেড়েই নয়, দেশ ছেড়েও পালাচ্ছেন। এ পরিস্থিতির জন্য তারা ধর্মীয় রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপিকে দায়ী করে আওয়ামী লীগকে সংখ্যালঘুদের রক্ষক হিসেবে প্রচার করেন। ভারতের সাম্প্রদায়িক মহলও এ প্রচারণার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সাম্প্রদায়িকতার কথা বলে ভারতের সাম্প্রদায়িকতাকে লঘুভাবে দেখানোর চেষ্টা করে এবং দুই দেশেই সাম্প্রদায়িকতা আছে এ কথা বলে সেমিনার, আলোচনা সভা ইত্যাদির ব্যবস্থা করে।

ঝুঁকিপূর্ণ জীবন ও জীবিকা

আজ ২৫ মে। ২০০৯ সালের এ দিনে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আইলা বাংলাদেশ ও ভারতের একাংশে আঘাত হানে। এ ঘূর্ণিঝড়ে কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৩৯ লাখ মানুষের মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশির সত্তরোর্ধ্ব ছকিনা খাতুনের ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। এই বৃদ্ধা হারিয়েছেন তাঁর ছোট মেয়ে ও দেবরকে। এ ছাড়া সুন্দরবনের গোলপাতা ও কাঠ দিয়ে তৈরি তাঁর দোচালা ঘরটি ১২০ কিলোমিটার গতিবেগে আসা ঝড়ের শুরুতেই খড়কুটোর মতো উড়ে যায় এবং সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর ফসলি জমি এবং মরে যায় তাঁর গবাদিপশু। সহায়-সম্পদ ও আপনজন হারানোর ক্ষত ছকিনা খাতুন আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। আর ছকিনার মতো এ রকম অসংখ্য হতদরিদ্র মানুষ আইলা–আক্রােন্তর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মানবেতর জীবন যাপন করছে। আইলার ধ্বংসলীলায় বাংলাদেশের যে কয়েকটি এলাকা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার মধ্যে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা অন্যতম। সুন্দরবনের কোলে গড়ে ওঠা এ জনপদ সেদিন এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। এখনো এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত হয়নি। সেই জোড়াতালির বেড়িবাঁধ, খুপরিতে মানুষের বসবাস, অনাবাদি ফসলি জমি, আয়-উপার্জনক্ষম পেশার অভাবের ফলে অন্যত্র কাজের সন্ধানে চলে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোর মেরামত সংস্কারের অভাবে পুরো জনপদ এখনো যেন সেই ধ্বংসলীলার সাক্ষী হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রমের অভাব এখনো দৃশ্যমান।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দাতা সংস্থানির্ভর এনজিও কার্যক্রমও ঝিমিয়ে পড়েছে। একটু জোয়ারের পানিতেই অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে৷ ফলস্বরূপ দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মাণে দীর্ঘসূত্র ও তৎসংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভৌত অবকাঠামো, বিশেষ করে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও এখনো সেভাবে দৃশ্যমান নয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, অক্সফাম, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইসলামিক রিলিফ, রূপান্তরসহ বেসরকারি সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জীবন-জীবিকা পুনর্গঠন, ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, উচুঁকরণ ও ছোটখাটো কিছু রাস্তাঘাট মেরামত করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। মানুষের কাজ নেই, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি নেই, বসবাসের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ঘর নেই, অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নেই। এ রকম অসংখ্য ‘নেই’-এর মধ্যে বসবাস করছে এখানকার মানুষ। কাজের সুবাদে সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে গিয়ে আমি দেখেছি এসব মানুষের অবর্ণনীয় দুর্দশার চিত্র। সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি সংস্থা পরিচালিত সংস্থার জরিপ মতে, আইলা-পরবর্তী চার বছরে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে হতদরিদ্র লোকের সংখ্যা ৪৩ শতাংশ বেড়েছে এবং ৪৩ শতাংশ লোক মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র ও হতদরিদ্রে পরিণত হয়েছে। তা ছাড়া, চিংড়ি চাষ তুলনামূলকভাবে সক্ষম, সচ্ছল ও পেশিশক্তিসম্পন্ন মানুষদের লাভজনক বযবসায় পরিণত হওয়ায় দরিদ্র ও সহায়-সম্বলহীন মানুষদের এ পেশা থেকে আয়ের সুযোগ যৎসামান্য।
আবার, চিংড়ি চাষের সুবিধার্থে যত্রতত্র বাঁধ নির্মাণ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন-জীবিকায়নে এবং কাজের সন্ধানে প্রতিদিন মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার ২০১৩ সালের জরিপ মতে, আইলা-পরবর্তী সময়ে খুলনা এবং তৎসংলগ্ন সাতক্ষীরার প্রায় এক লাখ ২০ হাজার লোক বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আমরা দেখেছি বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য সংগ্রাম করা একজন গর্ভবতী নারীকে, যিনি প্রতিদিন প্রায় দুই কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এক কলস বিশুদ্ধ পানি আনেন। আর রোগবালাই, বিশেষ করে পানিবাহিত রোগ এখানকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। আইলাবিধ্বস্ত এ জনপদে এখন দরকার বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং তার সুষ্ঠু ও সময়মতো বাস্তবায়ন। দেশের এ অঞ্চলটির জন্য বিশেষ বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। সমন্বিত উন্নয়ন ও সবার জবাবদিহি নিশ্চিতকল্পে এই অঞ্চলের সাংসদদের নিয়ে ‘বিশেষ সংসদীয় ককাস’ গঠন করা যেতে পারে, যাঁরা এ এলাকার সমস্যা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন। এ ছাড়া বহুদিনের পুরোনো বেড়িবাঁধগুলোর টেকসই সংস্কার ও উন্নয়ন দরকার, পাশাপাশি বেড়িবাঁধসহ অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আশু প্রয়োজন। তুলনামূলকভাবে অধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ, গুচ্ছগ্রাম পদ্ধতিতে হতদরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্প খরচে ঘর ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধাদি নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। সুন্দরবনকে তার মতো করে বেড়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে হবে।
মোহাম্মদ আলমগীর: উন্নয়ন যোগাযোগকর্মী।

সব দায় কি বাংলাদেশ ব্যাংকের?

ব্যাংকিং খাতের যেকোনো ক্ষতি, অনিয়ম বা বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ব্যাংক তত্ত্বাবধায়ক বা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তোলা অনেকটা নিয়মিত প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক কালের কিছু ব্যাংকের অনিয়মের ঘটনা এবং অতি সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতের ঋণ শ্রেণীকরণের বা খেলািপ ঋণের বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া দেখে তাই প্রতীয়মান হয়। শেয়ারবাজার চাঙা না হওয়ার পেছনেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতিবাচক দৃষ্টিভিঙ্গ খোঁজা হয়েছিল। এমনকি ২০১৩ সালের শেষার্ধে রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে সহায়তা তথা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহীত বিশেষ ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকেও নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের অভিভাবক হিসেবে এ খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নজরদাির এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বের কথা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। তবে সব ধরনের ক্ষতি বা অনিয়মের দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের—এমনটি ভাবা কি যুক্তিযুক্ত? বাংলাদেশ ব্যাংক কি এককভাবে ব্যাংকের সব ক্ষতি বা অনিয়ম প্রতিরোধ করতে পারে? আমাদের ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালনব্যবস্থা কি এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে পর্যাপ্ত সহায়তা করছে? এসব প্রশ্নের উত্তরগুলোর মাঝে লুকিয়ে আছে বিভিন্ন ব্যাংকের সাম্প্রতিক অনিয়মের পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় কতটুকু। এই লেখা এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি প্রচেষ্টা। গত বছরের শেষের দিকের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে যে গুরুতর অস্থিতিশীলতা এসেছিল, তা সবাই জানি। সে সময় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হুমকির মুখে পড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের দায় মেটাতে অসমর্থ হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতির বিদ্যমান নিয়মাবিলর কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ব্যবসায়ীদের সহায়তা করার অবস্থায় ছিল না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ দেয় এবং সঞ্চিতি বিধিমালা কিছুটা শিথিল করে। বিশেষ অবস্থায় অর্থনীতি ও ব্যবসার চাকা সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এহেন উদারতা কি অনভিপ্রেত? বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, শ্রেণীকৃত বা খেলািপ ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিধিমালা শৈথিল্যকরণকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তাদের ব্যাংকের সহায়তায় অপব্যবহার করেছে। কিন্তু অনেক ভালো ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকিং খাত এ পদক্ষেপ থেকে লাভবানও হয়েছে। আমি মনে করি, ওই সময়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক গৃহীত পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ছিল। অনিয়মের কিছু ঘটনার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ ইতিবাচক প্রচেষ্টার পুরোটাই ব্যর্থ হয়েছে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই; বরং শ্রেণীকরণকৃত/খেলাপি ঋণের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য সৃষ্ট পরিস্থিতিকেই দায়ী করা যায়। অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওই নাজুক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি প্রচলিত বিধিমালায় অবিচল থাকত, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত এবং অর্থনীতির ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উত্তরণ আরও বিলম্বিত হতো। অবশ্যই খেলািপ ঋণের বৃদ্ধি অনাকাঙ্ক্ষিত, তবে বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক বিচারে তা অস্বাভাবিক নয়। আমি মনে করিয়ে দিই, সাম্প্রতিক বিশ্বমন্দার সময়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমৃদ্ধ ও সুগঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারকে নিয়মের বাইরে এসে ব্যাংকগুলোকে অর্থ সাহায্য দিতে হয়েছে, যা বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মের আওতায় অগ্রহণযোগ্য হলেও অর্থনৈতিক বিবেচনায় কাম্য ছিল। আমরা অবগত আছি যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কিছু অনিয়মের ঘটনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ সময়ের অনিয়মের দায়ভারও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এটা স্পষ্ট যে কিছু অসাধু ব্যাংকারের সহায়তা ছাড়া এসব কর্মকাণ্ড সম্ভব ছিল না, যা অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালনব্যবস্থার নজরদারিতে না আসার কোনো কারণ নেই। অথচ এ বিষয়গুলো পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাধারণত ব্যাংকের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন এ ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করে, তখন সেটিকে প্রতিরোধ করার মতো পর্যাপ্ত সময় থাকে না। হয়তো শাস্তি বা পরবর্তী অনিয়ম মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এসব অনিয়ম প্রতিরোধ করতে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালনব্যবস্থার সুষ্ঠু প্রয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহায়তা করার কোনো বিকল্প নেই। এ কথা প্রতিষ্ঠিত যে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালনব্যবস্থার সহায়তার সাপেেক্ষই কেবল ব্যাংক তত্ত্বাবধানের সর্বোত্তম সুফল পাওয়া সম্ভব। এ কথা অনস্বীকার্য যে, ব্যাংকিং খাতকে টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংক তত্ত্বাবধান এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার নজরদািরর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঋণ শ্রেণীকরণ ও সঞ্চিতির নিয়মাবলি কঠিনতর করার পরেও ব্যাংকগুলোতে খেলাপি বা ঋণ শ্রেণীকরণের পরিমাণ কমে এসেছে এবং কিছু অনিয়ম ও জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ব্যাংকিং খাতে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। আমার বিশ্বাস, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধান ও নজরদারির ক্ষেত্রে যে গুণগত পরিবর্তন এসেছে, তার ফলে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় উত্তরোত্তর ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
ড. শাহ্ মো. আহসান হাবীব: অধ্যাপক ও পরিচালক প্রশিক্ষণ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)৷

নিয়ন্ত্রণহীন সরকারি দল

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের লোকজন যেভাবে নিজেরা নিজেরা খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ছেন, তাতে মনে হচ্ছে যে দলটি কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় রয়েছে। সরকারি দলের লোকজনের বিরুদ্ধে যখন খুনের অভিযোগ ওঠে বা তাঁরা যখন এ ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়েন, তখন সমাজে চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরও আওয়ামী লীগের নির্বিকার মনোভাব হতাশাজনক। নারায়ণগঞ্জে দিনদুপুরে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি নূর হোসেন সরকারি দলের স্থানীয় নেতা ও সিটি কাউন্সিলর। আবার এ ঘটনার অন্যতম শিকার নজরুল ইসলামও ছিলেন সরকারি দলের নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর। মূল অভিযুক্ত নূর হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় সরকারি দলের সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠতা কতটুকু, সেটা অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর তঁাদের টেলিফোন আলাপের মধ্য দিয়ে আরও পরিষ্কার হয়েছে। হত্যা মামলার প্রধান আসামি যখন সরকারি দলের সাংসদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় পান, তখন আইন নিজের মতো চলতে পারে না৷ ফেনীতে আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা দেশবাসীকে স্তম্ভিত করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হিসেবে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর নাম এসেছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত হিসেবে এ পর্যন্ত যাঁরা চিহ্নিত ও আটক হয়েছেন, তাঁরাও সরকারি দলের সঙ্গে জড়িত। যিনি একরামকে গুলি করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছেন,
তিনি ফেনী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ছেলে এবং সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারীর মামাতো ভাই। খুনোখুনি চলছে লক্ষ্মীপুরেও। সাড়ে পাঁচ মাসে খুন হয়েছেন ৩৪ জন, সম্প্রতি খুন হয়েছেন আওয়ামী লীগের দুজন নেতা এবং ছাত্রলীগের এক নেতা। খুন, হত্যার শিকার হচ্ছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরাও। এসবের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সরকারি দলের লোকজনের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক এসব কর্মকাণ্ডে এটা পরিষ্কার হয়েছে যে সরকারি দলটি কার্যত একটি নিয়ন্ত্রণহীন সংগঠনে পরিণত হয়েছে। দল বা দলের শৃঙ্খলা—এসব দেখার যেন কেউ নেই। হয় দুর্বৃত্ত চক্র সংগঠনটির নানা পর্যায়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না দলটি অথবা এ ধরনের লোকজনকেই পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের এসব নেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও তাঁদের মনোনয়ন দিয়ে, কাউকে সাংসদ, কাউকে কাউন্সিলর বানানো হয়েছে৷ এটি দলের জন্য ক্ষতিকর, তেমনি দেশের জন্যও বিপজ্জনক৷ সরকারকে পরিচালনা করে সরকারি দল। দলের লোকজনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সরকার পরিচালনা বা আইনশৃঙ্খলাজনিত ব্যর্থতার দায় চূড়ান্ত বিচারে সরকারকেই নিতে হয়। দলের মধ্যে এ ধরনের লোকজনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এবং অভিযোগ থাকার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকারি দল যে তাদেরই ক্ষতি করছে, সে বোধোদয় দলটির আদৌ হবে কি?

এএপি ছাড়লেন

আম আদমি পার্টি (এএপি) ছাড়লেন সাজিয়া
ইলমি ও জি আর গোপীনাথ। ছবি: সংগৃহীত
আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাবেক টিভি সাংবাদিক সমাজকর্মী সাজিয়া ইলমি এবং দলের আরেক নেতা বেসরকারি উড়োজাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠান এয়ার ডিকেনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন জি আর গোপীনাথ পদত্যাগ করেছেন। সাজিয়া ইলমি পদত্যাগের কারণ হিসেবে দলের অভ্যন্তরে ‘গণতন্ত্রের চর্চার অভাব’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে গোপীনাথ বলেছেন, দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য’ বাড়ছে বলে তিনি দল ছেড়েছেন। খবর এনডিটিভির৷

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রাহুলকে চান দলের নেতারা

রাহুল গান্ধী
ভারতে কংগ্রেস দলের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীকে দেশের পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে চান তাঁর দলের নেতাদের অনেকেই৷ তবে রাহুল নিজে এ বিষয়ে খুব আগ্রহী নন৷ এদিকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের সংসদীয় দলের বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীকে পুনরায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত করা হয়৷ খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির৷ ভারতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা মনে করেন, দুঃসময়ে রাহুলেরই দলের প্রধান হওয়া উচিত৷ রাহুল বিরোধীদলীয় নেতা হলে নরেন্দ্র মোদির মোকাবিলা করার সুযোগ পাবেন৷
দলের এই অংশে আছেন দিগ্বিজয় সিং ও বিরাপ্পা মৌলির মতো নেতারা৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে কংগ্রেসের এক সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাঁর মতে রাহুলেরই বিরোধীদলীয় নেতা হওয়া উচিত৷ এতে তিনি ও দল উভয়ই উপকৃত হবে৷ অনেক নেতার মতে, সোনিয়ারই পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতা হওয়া উচিত৷ কারণ, কংগ্রেসের প্রায় সবার কাছেই সোনিয়ার গ্রহণযোগ্যতা আছে৷ তবে কমলনাথের মতো কংগ্রেসের কোনো প্রবীণ নেতাও ওই পদে মনোনীত হতে পারেন৷

থাইল্যান্ডে সিনেটও বিলুপ্ত, অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গতকাল অভ্যুত্থানবিরোধী
বিক্ষোভে বাধা দেন সেনাসদস্যরা। ছবি: রয়টার্স
থাইল্যান্ডে অভ্যুত্থান-পরবর্তী ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে৷ সেনাবাহিনী গতকাল শনিবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট বিলুপ্ত করেছে৷ সেনা কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদসহ আরও ৩৫ জনকে৷ এই অবস্থার মধ্যেও রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে৷ এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির৷ থাইল্যান্ডে গত বৃহস্পতিবার সেনা অভ্যুত্থান ঘটার পর শুক্রবার ইংলাকসহ শতাধিক রাজনীতিককে সমন করা হয়৷ ওই দিনই আটক করা হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে৷ তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি৷ তাঁকে ব্যাংককের উত্তরে সারাবুরি প্রদেশের সেনা ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যম জানালেও তা নাকচ করে দিয়েছেন তাঁর একজন সহযোগী৷ নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তিনি একটি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন... তিনি কোনো সেনা-শিবিরে আটক নেই৷’ এর আগে শুক্রবার রাজনীতিকসহ ১৫৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সেনা কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিল সেনাবাহিনী৷
তাঁদের বেশির ভাগকে হাজিরা দেওয়ার পর আটক করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমগুলো ধারণা করছে৷ সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, শুক্রবার সেনা কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ পাওয়া শতাধিক রাজনীতিকের মধ্যে যাঁরা এখনো হাজির হননি, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ সেনা অভ্যুত্থান ঘটার পর ব্যাংককে প্রথমবারের মতো গতকাল বিক্ষিপ্তভাবে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে৷ অবশ্য, কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি৷ প্রথমে একটি সেনা স্থাপনার কাছে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করেন কিছু লোক৷ সেনারা আটকে দিলে একপর্যায়ে তাঁরা ব্যাংককের ঐতিহাসিক ভিক্টরি মনুমেন্টের দিকে রওনা হন৷ ৪৫ বছর বয়সী একজন বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা রেড শার্ট (ইংলাকের সমর্থক গোষ্ঠীর সংগঠন) নই৷ আমরা কেবল গণতন্ত্র চাই৷ আমরা সেনাবাহিনীকে পছন্দ করি না৷’ আরেকজন বয়স্ক ব্যক্তির হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বীর সেনারা, ব্যারাকে ফিরে যাও৷ আমরা ভোট চাই৷’ সেনাবাহিনীর একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, সেনাপ্রধান প্রাইউথ শান-ওশা অভ্যুত্থানের বিষয়ে অবগত করতে রাজা ভূমিবলকে চিঠি দিয়েছেন৷ অতীতেও বিভিন্ন সময় সেনা অভ্যুত্থানের পর রাজার আশীর্বাদ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে৷ যুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ডকে বার্ষিক সাড়ে ১০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়ে থাকে৷ এর মধ্যে সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা স্থগিত করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর৷

জুমা দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন

জ্যাকব জুমা
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিয়েছেন নেতা জ্যাকব জুমা৷ তাঁর দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) গত ৭ মে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন৷ খবর বিবিসির৷ প্রধান বিচারপতি মগোয়েং মগোয়েং গতকাল শনিবার দুপুরে প্রিটোরিয়ার ইউনিয়ন বিল্ডিংয়ে জ্যাকব জুমাকে শপথবাক্য পাঠ করান৷ এ সময় দেশ-বিদেশের চার হাজারের বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন৷
নির্বাচনে দলের বিজয়ের পর গত বুধবার পার্লামেন্টে দ্বিতীয় দফায় পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট মনোনীত করা হয় জ্যাকব জুমাকে৷ শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি৷ তবে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শুক্রবার টেলিফোনে জুমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন৷ শপথ অনুষ্ঠানে জিম্বাবুয়ের নেতা রবার্ট মুগাবে, নাইজেরিয়ার গুডলাক জনাথন, উগান্ডর প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেবেনি এবং রাশিয়া, চীন ও ভারতের প্রতিনিধি অংশ নেন৷

হাসিনার জাপান সফরে বাংলাদেশ কী পাবে by মনজুরুল হক

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন জাপানে৷ ৫ জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের জন্য এটা হবে বিশ্বের অগ্রসর অর্থনীতির রাষ্ট্রগুলোর জোট জি-সেভেনের একটি দেশে প্রথম সরকারি সফর। সেদিক থেকে এই সফরের তাৎপর্য ও গুরুত্ব বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের জন্য অপরিসীম। কেননা, প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের মধ্য দিয়ে জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে যাওয়া পশ্চিমা বিশ্বের দুয়ার বাংলাদেশ সরকারের সামনে নতুন করে উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে, যা আমাদের অর্থনীতি আর পররাষ্ট্রনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একসঙ্গে সরকারে ও বিরোধী দলে থাকা যায় না- বিশেষ সাক্ষাৎকারে গোলাম মোহাম্মদ কাদের by মিজানুর রহমান খান

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের কোচবিহারের দিনহাটায়। রংপুরের কারমাইকেল কলেজ পেরিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ১৯৬৯ সালে। ১৯৭০ সালে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে। এর অবসান ঘটে ২১ বছর পরে, ১৯৯১ সালের বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনমলে। পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালকের (প্ল্যানিং অ্যান্ড অপারেশন) পদ থেকে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল। তিনবারের নির্বাচিত সাংসদ, প্রথম ১৯৯৬ সালে। বিগত মহাজোট সরকারে তিনি প্রথমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন এবং পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

অনুপ চেটিয়ার হস্তান্তর নিয়ে বিজেপির সঙ্গে দরকষাকষি?

আসামের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক আসাম ট্রিবিউন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তর নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাকে নিয়ে ঢাকা ভবিষ্যতে দিল্লির সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারে। কারণ ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি কি ধরনের মনোভাব গ্রহণ করে সেটা ঢাকা এখন পর্যবেক্ষণ করছে। গত ডিসেম্বরের মধ্যে অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরে আশ্বাস দিয়েছিল বাংলাদেশ।

‘শহরের চেহারা হবে সবুজ এবং নীল’ —নজরুল ইসলাম

অধ্যাপক নজরুল ইসলামের জন্ম ১৯৩৯ সালে, ফরিদপুর জেলার ভেদরপুর গ্রামে। পড়াশুনা— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগ থেকে এমএ (প্রথম শ্রেণীতে প্রথম)। এরপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অনটেরিও, যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই ইউনিভার্সিটি ও লন্ডন ইউনিভার্সিটিতে। শিক্ষকতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগে। ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেন কেমব্রিজসহ বিশ্বের নামকরা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান।
২২ এপ্রিল ধরিত্রী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘গ্রিনসিটি’ বা সবুজ নগর। এ বিষয়কে ধরে কথা হয় এই নগরপরিকল্পনাবিদের সঙ্গে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ ফারুক আহমেদমোহাম্মদ আসাদ

ধরিত্রী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গ্রিনসিটি’ (সবুজ নগর)। বাংলাদেশের শহরগুলোর নিয়ামক হিসেবে সবুজের অবস্থান কোথায়?
নজরুল ইসল‍াম: গ্রিন সিটি বা সবুজ নগর—বাংলাদেশের জন্য খুব পরচিত ধারণা। আজ থেকে ৫০ বছর আগে আমাদের  শহরগুলো যে অবস্থায় ছিল সেগুলোকে আমরা সত্যিকারের সবুজ নগর বলতে পারতাম। আমাদের সবচেয়ে বৃহৎ শহর ঢাকায় প্রচুর গাছপালা ছিল। পুরনো ঢাকায় কখনই গাছপালা ছিল না, সেখানে শুধুই ভবন আর ভবন। কিন্তু ঢাকার দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নির্মল কিছু জায়গা ছিল। তারও দক্ষিণে দিগন্ত বিস্তারী কিছু জায়গা কেরানিগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ। ঢাকার অধিকাংশ জায়গাই সবুজ ছিল। সবুজ আর নীল, নীল মানে জলাশয়। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, খুলনা, রাজশাহী সবইতো ছিল সবুজ। এখনও রাজশাহী খুবই সবুজ। উদ্যান নগরীর মত। কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহও তাই। আমাদের শহরগুলো মূলত নিসর্গ নির্ভর। নদী-গাছপালা এই নিয়ে শহর ছিল। সে জন্য সবুজ নগর বা গ্রিন সিটি ধারণাটা আমাদে বোঝতে সহজ। কিন্তু জনসংখ্যা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। ১৯৪৮ সনে চার কোটি লোক ১৯৭১ হয়ে গেল সাত কোটি। ২০১১ সালে তা১৫ কোটি। এখন বোধহয় ১৬-১৭ কোটি। ১৬ কোটি মানুষের এতটুকু দেশ, এখানে নগরায়ণ হয়ে গেছে দেশের এক চতুরতাংশ জায়গায়। বড় শহর, মাঝারি শহর, ছোট শহর মিলিয়ে ২৮ ভাগ মানুষ নগরে থাকে। এর মধ্যে মাঝারি ও ছোট শহরগুলো এখনও সবুজ। বড় শহরগুলোতে সবুজ কমে যাচ্ছে।

সবুজ, গাছপালা কমে যাওয়ার কারণ কী?
নজরুল ইসল‍াম: এ নগরে ৫০ বা ৩০ বছর আগে যে পরিমাণ সবুজ ছিল এখন তা নাই। কারণ সকল প্লট নতুন নতুন নির্মাণে ভরে গেছে। দোতলা থেকে চার তলা, চারতলা থেকে ছয় তলা। এখন ১০,১৫ বা ২০তলা পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা হচ্ছে, এটা হওয়াটা খুব সাভাবিক। ঢাকা শহরে ৭১’-এ জনসংখ্যা ছিল নয়, এখন ৯০ লক্ষ। তারপর প্রতি বছর পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ নতুন মানুষ প্রবেশ করে। এসে এরা এখানেই থেকে যায়। এদের আবাসন, কর্মক্ষেত্র লাগে। অর্থাৎ এদের জন্য নতুন নতুন বাড়িঘর তৈরি করতেই হবে, রাস্তা বানতে হবে। এসব কারণে যেটা হয়, খোলা জায়গা গাছপালা যেখানে আছে সেসব জমির ওপর। এখন রাজেন্দ্রপুর বনের মধ্যে সমস্ত নির্মাণ হচ্ছে। প্রথমে বাগানবাড়ি, তারপরে রিসোর্ট, তারপর হাউজিং অথবা ইউনিভার্সিটি। এই কারণে সবুজ কমে যাচ্ছে।

এর ফলে যে শঙ্কার তৈরি হচ্ছে, একেকটা নগর উদ্যানহীন-বৃক্ষশূন্যতায় রূপ নিচ্ছে। একজন নগর পরিকল্পনাবি হিসেবে আপনার মতে এর থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী বলে মনে করেন?
নজরুল ইসল‍াম: আমরা যদি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করি যে শহর সবুজ থাকুক, তাহলে ওই ধারণা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। আমি একটা উদ্যান শহর তৈরি করব। নিসর্গভিত্তিক, নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত; প্রচুর সবুজের সমারোহ রেখে একটা শহর তৈরি করতে হবে, এটা সম্ভব। লোকজনহয়তো বলবে ক্রমবর্ধমান মানুষকে জায়গা দেওয়ার জমি পাব কোথায়? সবুজ রেখে, আরো বেশি সবুজ সহযোগে বাড়িঘর করা যায়। সেটা হচ্ছে বহুতল ভবন নির্মাণ। আমাদের দেশে বসবাসের সর্বোচ্চ ভবন ২৮ তলা ৩০ তলা। বহুতলের বেশির ভাগই ২০ তলা বা তার কাছাকাছি। আমরা যদি হংকং, মুম্বাই, ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরের দিকে দেখি, সেখানে কী দেখি? বেশিরভাগ আবাসিক ভবনই বহুতল। আমাদের দেশও সেই দিকেই যাচ্ছে। তবে আমাদের দেশে একাধিক বাধা আছে। একটা হলো বিদ্যুৎ, আরেকটা জ্বালানি আর গ্যাস ও পানি সরবরাহ। পানির ব্যাপারে অন্য দেশের তুলনায় আমরা ভাগ্যবান। কিন্তু পানির উৎস বা নদী-জলাশয়লো আমরা ধ্বংস করছি। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সরকার যে পদ্ধতিতে উৎপাদন করছে, সরবরাহ করছে, তা অতি উচ্চ মূল্যে। এখন পাঁচতলা ভবন যদি ৫০তলা হয় তা তো হবে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎনির্ভর। তা-না হলে পরিচালনা করা যাবে না। আমাদের জমির অভাব বলে এসব চিন্তা করতে হবে। ২০, ৩০, ৪০ তলা ভবন তৈরি করতে হবে। সৌদি আরব, দুবাই ইত্যাদি সুউচ্চ ভবন তৈরি করছে। তাদের তো জায়গার অভাব নেই। সিঙ্গাপুর সবচেয়ে ভালো মডেল, হংকং ভালো মডেল। এত উচ্চ ঘনত্ব, এরা উপরের দিকে উঠছে। এদের ভুমিটা সবুজ। আরেকটা হলো বহুতল সবুজও আছে। সেই ব্যাভিলনের শূন্যউদ্যানের মতো। এসব দেশে উ‍ঁচু ভবনে অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দায় বা ব্যালকনিতে বা ছাদে সবুজের ব্যবস্থা রাখে। বনায়ণও হয় না, তবে সবুজে আচ্ছাদন হয়। শহরের চেহারা এটাই হওয়া উচিত। আমি বলব শহরের চেহারা হবে সবুজ এবং নীল। অর্থাৎ গাছপালা এবং জলাশয় এই দুটোকে রক্ষা করতে হবে। সবুজ বলতে সবুজে বুঝায় না, নিশ্চয় তারা জলাশয়কেও অন্তর্ভূক্ত করেছে। আরেকটা হলো বাদামি বা মটি। তাইলে সবুজ, বাদামি ও নীল এই তিনের সমন্বয়ে শহর তৈরি করতে হবে। সেইটা করতে গেলে বহুতল হতে হবে। এর বিকল্প নেই। বাংলাদেশ হলো আর্দ্র-ক্রান্তিয় এলাকা। একই অক্ষাংশে হলো সৌদি আরব, মিশর। তারা তো মরুভূমি। আমরা ভাগ্যবান, আমরা একই অক্ষাংশে থেকেও সবুজ। আমরা বৃষ্টিপ্রবন; কারণ আমাদের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে হিমালয়। এ কারণে বৃষ্টি পাই, উষ্ণ-আর্দ্র এবং বৃষ্টিপ্রবণ বলেই আমাদের দেশ এতো সবুজ। তা-না হলে সৌদি আরব হয়ে যেত, সিন্ধু হয়ে যেত। আমাদের এখানে গাছপালা হওয়া সহজ এবং স্বাভাবিক। এ কারণে আমরা শহর তৈরি করব গাছপালা এবং জলাশয়কে কেন্দ্রে রেখে। উন্মুক্ত জায়গা যত রাখা যায়, বনাঞ্চল যত রাখা যায়, সবুজ আচ্ছাদন যত রাখা যায়, নীল বা জলাশয় যত রাখা যায় ততই মঙ্গল।

প্রতিনিয়তই মহানগরে নতুন নতুন স্থাপনা তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় স্থপতি-প্রকৌশলীর পরামর্শ বা নকশ‍া ছাড়াই নতুন নতুন ভবন গড়ে উঠছে। গাছপালা তো বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ফলে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হয়ে ওঠা এই নগরে ভবন তৈরি ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন?
নজরুল ইসল‍াম: আমাদের জলবায়ুবান্ধব ভবন তৈরি করতে হবে, আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভবনাদি ডিজাইন করা প্রয়োজন। স্থাপত্যিক নকশা, ইঞ্জিনিয়ারিং নকশা এমনভাবে করা, যাতে আমাদের উষ্ণ তাপমাত্র, বৃষ্টিবহুলতা, ঝড়ো হাওয়া, সূর্যালোক ইত্যাদি জিনিসগুলো পরিকল্পনায় থাকে। আগে ছিল একরকম— ছোট, খোলামেলা বাড়ি, দক্ষিণটা খোলা হতেই হবে ইত্যাদি। আগে যেহেতু শীতাতপ যন্ত্র ছিল না, এমনকি ইলেকট্রিক পাখাও ছিল না। অতএব প্রাকৃতিকভাবে জলবায়ু বান্ধব, তাপবান্ধব ভবন হতো। এখন অনেক কিছু এসে গেছে, সুউচ্চ ভবন হচ্ছে। এখন আর্কিট্যাক্টরা এভাবেই নকশা করেন বা করতে পারেন। যদি জলবায়ুর ‍অবস্থাকে সম্পৃক্ত করে ডিজাইন করা হয় অর্থাৎ দিনের বেলায় সূর্যালোক পাবে ইলেক্ট্রিসিটি লাগবে না, আলো-বাতাস ভাল খেলবে, এইটা করতে গেলে শুধু বিল্ডিং ডিজাইন করলে হয় না। পুরো একটা এলাকা, এমনকী পুরো শহরটাকে চিন্তা করতে হবে। এখন যতোই একটা বিল্ডিং আলো-বাতাস প্রবেশ করবে তেমন বানানো হোক না কেন, তার চারদিকের বিল্ডিংগুলো যদি একই রকম না হয় তাহলে তো আটকে যাবে। কোন লাভ হবে না। এজন্য এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা করতে হবে। যেমন— সিঙ্গাপুর করে, অন্যান্য উন্নত দেশে করে।

সেক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে?
নজরুল ইসল‍াম: পুরো শহরটাকে পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। শহরের বিভিন্ন অংশকে যেমন— ধানমন্ডি একটি আবাসিক এলাকা বা মহল্লা অথবা বনানী একটা মহল্লা। ইংরেজিতে এসব এলাকা বা মহল্লাকে বলে মডেল টাউন। বনানীকে বলা হয়েছিল মডেল টাউন, ধানমন্ডিকে বলা হয় রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া। গুলশান, বারিধারা, উত্তরা মডেল টাউন। পুরো এলাকাকে একটি টাউন হিসেবে চিন্তা করা হয়েছে। তাহলে এর আর ছোট থাকে না। তাছাড়া জনসংখ্যাও তো বাড়ছেই দিন দিন। ফলে গোটা এলাকাটা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এলাকার ভিতরে আবার ব্লক, ছোট ছোট মহল্লা, ছোট ছোট এলাকা। চারটা রাস্তা দিয়ে ঘেরা যে এলাকা সেটা একটা ব্লক। সেই ব্লকটাকে একক চিন্তা করে প্লান করতে হবে। সেখানে হয়তো ১৬টা প্লট; সেই ১৬টা প্লটের জন্যও প্লান হতে পারে। অথবা চারটা ব্লক বা ৬৪টা প্লটের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা হতে পারে। সেখানে ছোট্ট একটি মাঠ থাকবে, গাছপালার সমারোহ থাকবে। মূল উদ্দেশ্য হলো পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখতে হবে। পর্যাপ্ত চলাচলের জায়গা রাখতে হবে, রাস্তা-ঘাট এবং তার আশপাশ পর্যাপ্ত সবুজ রাখতে হবে। প্রত্যেকটি এলাকায় পর্যাপ্ত জলাশয় রাখতে হবে। যা আগে ছিল। কুমিল্লাকে বলা হতো ‘সিটি অব ব্যাংকস এন্ড ট্যাঙ্কস। কুমিল্লার নামই ছিল পুকুর এবং ব্যাংকের শহর। কেননা পুকুর খনন করে করে শহরটাকে তৈরি করা হয়েছে। অনেকগুলো ব্যাংক ছিল এই শহরে। মানে সমৃদ্ধ শহর। ঢাকার শহরেও অসংখ্য পুকুর ছিল। প্রত্যেকের বাড়িতেই একটি করে পুকুর ছিল বড় লোকদের। সবার জন্য ছিল লেক। ছিল অনেকগুলো খাল।

তার মানে এই মহানগরের চেহারা গত ৫০ বছরে আমূল বদলে গেছে। সবজশূন্য, ন্যাড়া-কংক্রিটময় এক শহরে পরিণত হয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী বা বাসযোগ্য এক শহরের রূপ দিতে কাকে দায়িত্ব নিতে হবে?

নজরুল ইসল‍াম: নির্মাণাদিসহ পুরো শহরের পরিকল্পনার দায়িত্বে আছে রাজউক। রাজউকের একক দায়িত্ব গোটা শহরের পরিকল্পনা বা মাস্টার প্লান তৈরি করা । তা সে নিজেরা করুক অথবা কনসাল্টেন্ট দিয়ে করাক। কিন্তু তার অধীনে হবে। প্রতিষ্ঠানটির নামই হচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষ। তারা এই উন্নয়ন করবে কীভাবে,কী পরিকল্পনার মাধ্যমে।
তার বড় একটা বিভাগ হলো পরিকল্পনা বিভাগ, আরেকটা বিভাগ হলো নির্মাণ বিভাগ অথবা জমিজমার বিভাগ। রাজউকের সর্বোচ্চ, প্রধান এবং মৌলিক দায়িত্ব হলো ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখার জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন। রাজউক যেন সেই কাজটি করার জন্য পর্যাপ্ত শক্তিশালী হয়, ক্ষমতাবান হয় এবং দক্ষ হয়। সেখানে পর্যাপ্ত পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী থাকতে হবে। পকিল্পনাগুলো আন্তরিকভাবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। দুর্নীতির আশ্রয় নিলেই সর্বনাশ, যেটা হয়েছে। কারণ পরিকল্পনা সঠিক হতে হবে, আবার বাস্তবায়নও সঠিক হতে হবে। তারা নিজেরা বা প্রাইভেট সেক্টর অথবা মলিকরা ব্যাক্তিগতভাবে, যারাই ডেভল‍াপ করবে। তারাই ওই এলাকায় কী নিয়মকানুন হবে, তার প্লানিং করে দিবে রাজউক। শহরে কোন এলাকায় কী ধরনের বাড়ি হবে, তাও বলে দিবে রাজউক। রাজউক যদি বলে এই এলাকায় ছয় তলার বেশি হবে না, সেখানে ছয় তলার বেশি হবে না। সেখানে সাততলাও করা যাবে না। রাজউক যদি বলে এই এলাকায় ১০ তলাই হবে, (কোরিয়ার সিউলে নিয়ম হলো আমাদের উল্টো, সেখানে কেন্দ্রীয় এলাকায় ১৫ তলার নিচে কোন বিল্ডিং হতে পারবে না। আর আমাদের এখানে ১৫ তলার ওপরে  হতে পারবে না। আমাদের দেশে এমন হওয়া উচিত ছিল কেন্দ্রীয় এলাকায় ২০ তলা ৩০ তলা হলে ভালো। যে পারবে সে নিজে করবে। যে পারবে না সে জমি রাজউককে দিয়ে দিবে। রাজউক সেটা বিল্ডিং বানিয়ে তাকে ভাগ দিয়ে দিবে)। এই গোছানোর দায়িত্ব রাজউকের, সরকারের।